(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: -)
كيف نستفيد من الكتب الحديثية الستة   (عبد المحسن العباد)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: كيف نستفيد من الكتب الحديثية الستة

المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر

الناشر: دار المغني، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1423هـ/2002م

عدد الصفحات: 35

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আমরা কীভাবে হাদিসের ছয়টি কিতাব থেকে উপকৃত হব   (আবদুল মহসিন আল-আব্বাদ)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


কিতাব: আমরা কীভাবে হাদিসের ছয়টি কিতাব থেকে উপকৃত হব

লেখক: আবদুল মহসিন বিন হামাদ বিন আবদুল মহসিন বিন আবদুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বদর

প্রকাশক: দারুল মুগনি، রিয়াদ، সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরি/২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

كيف نستفيد من الكتب الحديثية الستة

محاضرة ألقاها: عبد المحسن بن حمد العباد البدر بالجامعة الإسلامية بالمدينة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيِّئات أعمالنا، مَن يهده الله فلا مُضلَّ له، ومَن يُضلل فلا هاديَ له، وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبدُه ورسولُه، أرسله بالهدى ودينِ الحقِّ ليُظهرَه على الدِّين كلِّه، فبلَّغ الرسالةَ، وأدَّى الأمانةَ، ونَصح الأمَّةَ، اللَّهم صلِّ وسلِّم وبارِك على عبدك ورسولك نبيِّنا محمد وعلى آله وأصحابه، ومَن سلَك سبيلَه واهتدى بِهُداه إلى يوم الدِّين.

أما بعد:

فهذه لَمحاتٌ يسيرةٌ في الاستفادة من كتب الحديث الستة وهي؛ صحيح البخاري، وصحيح
ভূমিকা

…

ছয়টি হাদিস গ্রন্থ থেকে আমরা কীভাবে উপকৃত হতে পারি

মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বদর কর্তৃক প্রদত্ত একটি বক্তৃতা

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। তিনি তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে অন্য সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন। তিনি রিসালাতের পয়গাম পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মাহর কল্যাণ কামনা করেছেন। হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসুল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীবর্গের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথ অনুসরণ করবে ও তাঁর হেদায়েত অনুযায়ী চলবে, তাদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন।

অতঃপর:

ছয়টি হাদিস গ্রন্থ থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়ে এগুলো কিছু সংক্ষিপ্ত আলোকপাত। সেগুলো হলো: সহীহ বুখারী এবং সহীহ
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
مسلم، وسنن أبي داود، وسنن النسائي، وجامع الترمذي، وسنن ابن ماجة.

فأقول: إنَّ أعظمَ نعمة أنعم اللهُ تعالى بها على أمّة محمد صلى الله عليه وسلم أن بَعث فيها رسولَه الكريم محمداً عليه أفضل الصلاة وأتَمّ التسليم، ليُخرجهم به من الظلمات إلى النور، فقام بهذه المهمة خيرَ قيام، وأدَّى ما أرسله الله تعالى به على التمام والكمال، فما ترك خيراً إلَاّ دلَّ الأمّة عليه ورغّبها فيه، وما ترك شرّاً إلَاّ حذَّرها منه ونَهاها عنه، صلوات الله وسلامه وبركاته عليه.

وكان التوفيقُ حليفَ صحابته الكرام رضي الله تعالى عنهم وأرضاهم؛ إذ اختارهم الله تعالى لصحبته، وشرَّف أبصارَهم في الحياة الدنيا بالنَّظر إلى طلعته، ومتَّع أسماعَهم بسماع حديثه الشريف مِن فمه الشريف صلوات الله وسلامه عليه، فتَلَقَّوا عنه
মুসলিম, সুনান আবু দাউদ, সুনান নাসায়ি, জামি তিরমিজি এবং সুনান ইবনে মাজা।

আমি বলছি: মহান আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতি যে সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত দান করেছেন তা হলো, তাদের মাঝে তাঁর সম্মানিত রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক) প্রেরণ করা; যাতে তিনি এর মাধ্যমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসেন। তিনি এই সুমহান দায়িত্ব অত্যন্ত নিপুণভাবে পালন করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে যে বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা পূর্ণাঙ্গ ও সার্থকভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি এমন কোনো কল্যাণই অবশিষ্ট রাখেননি যার দিকে উম্মতকে দিকনির্দেশনা দেননি এবং সে বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেননি, আর এমন কোনো অকল্যাণই বাকি রাখেননি যা থেকে তিনি তাদেরকে সতর্ক করেননি এবং তা হতে নিষেধ করেননি। তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

আর তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ছিলেন মহান আল্লাহর তাওফিকপ্রাপ্ত; যেহেতু আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে তাঁর নবীর সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছিলেন, দুনিয়ার জীবনে তাঁর পবিত্র চেহারা দর্শনের মাধ্যমে তাঁদের দৃষ্টিকে ধন্য করেছিলেন এবং তাঁর পবিত্র মুখনিঃসৃত শরিফ হাদিস শ্রবণের মাধ্যমে তাঁদের কর্ণকুহরকে তৃপ্ত করেছিলেন (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)। অতঃপর তাঁরা তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন—
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
القرآن، وكلَّ ما صدر عنه صلى الله عليه وسلم مِن قول أو فعل أو تقرير، وأدّوه إلى مَن بعدهم على التمام والكمال، فصاروا بذلك أسبقَ الناس إلى كلِّ خير، وأفضلَ هذه الأمّة التي هي خير الأمم. ثمَّ بعد أن انقرض عصر الصحابة بدأ تدوينُ الحديث وجمعه بأسانيده إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتتابع التأليفُ في تدوين السنة حتى جاءت المائة الثالثة التي ازدهر فيها التأليف، وكان مِن أهمِّ المؤلفات التي أُلِّفت في السُّنَّة على الإطلاق؛ صحيح الإمام أبي عبد الله محمد ابن إسماعيل البخاري رحمه الله، المولود سنة (194هـ) والمتوفى سنة (256هـ) ، وصحيح الإمام أبي الحسين مسلم بن الحجّاج النيسابوري، المولود سنة (204هـ) - وهي السنة التي توفي فيها الإمام الشافعي رحمه الله والمتوفى سنة (261هـ) ، ثمَّ سنن الأئمة الأربعة: أبي داود سليمان بن الأشعث السجستاني المتوفى سنة (275هـ) ،

কুরআন এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা কিছু কথা (قول), কাজ (فعل) বা মৌনসম্মতি (تقرير) হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে, সাহাবায়ে কেরাম তা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁতভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। এর ফলে তাঁরা প্রতিটি কল্যাণের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে অগ্রগামী এবং এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তিবর্গে পরিণত হয়েছেন, যা সকল উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উম্মত। অতঃপর সাহাবায়ে কেরামের যুগ অতিবাহিত হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত এর সনদসমূহ (أسانيد) সহ হাদিস সংকলন ও তা একত্র করার কাজ শুরু হয়। সুন্নাহ সংকলনের ক্ষেত্রে গ্রন্থ রচনার ধারা অব্যাহত থাকে যতক্ষণ না তৃতীয় হিজরি শতক আসে, যাতে গ্রন্থ রচনার কাজ সমৃদ্ধি লাভ করে। সুন্নাহর ওপর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকলনগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রহিমাহুল্লাহ)-এর সহিহ বুখারি, যিনি ১৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া রয়েছে ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নিশাপুরি (রহিমাহুল্লাহ)-এর সহিহ মুসলিম, যিনি ২০৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন—যে বছর ইমাম শাফেয়ি (রহিমাহুল্লাহ) মৃত্যুবরণ করেন—এবং ২৬১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। অতঃপর চার ইমামের সুনান গ্রন্থসমূহ: আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশ'আস আস-সিজিস্তানি, যিনি ২৭৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وأبي عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي المتوفى سنة (303هـ) ، وأبي عيسى محمد بن عيسى الترمذي المتوفى سنة (279هـ) ، وأبي عبد الله محمد بن يزيد بن ماجة القزويني المتوفى سنة (273هـ) .

وهذه الكتبُ هي التي اشتهرت بالكتب الستة، وقد لَقيت عنايةً خاصةً واهتماماً كبيراً من العلماء فيما يتعلق بمتونها ورجالها.

وأوَّلُ هذه الكتب صحيح الإمام أبي عبد الله البخاري رحمه الله، وهو أصَحُّ الكتب المؤلَّفة في الحديث على الإطلاق، ويليه في الصحة صحيحُ الإمام مسلم رحمه الله، وهذان الكتابان لقيا عنايةً فائقةً، وذلك لعناية مؤلِّفِيهما بجمع كثير مِمَّا صَحَّ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولَم يسْتوعبَا كلَّ صحيح، ولَم يلتزِمَا ذلك، بل يوجدُ خارج الصحيحين أحاديثُ كثيرةٌ صحيحة، ولكن الذي في الصحيحين جملةٌ
এবং আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ি (মৃত্যু ৩০৩ হিজরি), আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিযি (মৃত্যু ২৭৯ হিজরি) এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ আল-কাযউইনি (মৃত্যু ২৭৩ হিজরি)।

এই কিতাবগুলোই কুতুবুস সিত্তাহ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এগুলোর মূল পাঠ (متن) এবং বর্ণনাকারী (رجال) সংক্রান্ত বিষয়ে আলেমগণ বিশেষ যত্ন ও গভীর মনোযোগ প্রদান করেছেন।

এই কিতাবগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো ইমাম আবু আবদুল্লাহ আল-বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সহিহ বুখারি। এটি হাদিসের ক্ষেত্রে সংকলিত কিতাবগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিশুদ্ধ (أصح)। বিশুদ্ধতার দিক থেকে এর পরেই ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সহিহ মুসলিমের অবস্থান। এই কিতাব দুটি অত্যন্ত বিশেষ যত্ন লাভ করেছে; কারণ এর সংকলকদ্বয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত অনেক বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস এখানে সংগ্রহ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁরা সমস্ত বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস এখানে অন্তর্ভুক্ত করেননি এবং এর কোনো বাধ্যবাধকতাও আরোপ করেননি। বরং সহিহাইন-এর বাইরেও অনেক বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস বিদ্যমান রয়েছে, তবে সহিহাইন-এর অন্তর্ভুক্ত হাদিসসমূহ সামগ্রিকভাবে...
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
كبيرة من الحديث الصحيح الثابت عن رسول الله عليه الصلاة والسلام.

وما اتَّفقَ عليه الشيخان البخاري ومسلم - رحمهما الله - هو أعلى درجة مِمَّا انفرد به أحدهما، وعلى ذلك فإنَّ درجات الصحيح بالنسبة لما رواه البخاري ومسلم أو لَم يَرْوِيَاه سبعُ درجات:

الأولى: ما اتفق عليه البخاري ومسلم، والثانية: ما انفرد به البخاري، والثالثة: ما انفرد به مسلم، والرابعة: ما كان على شرط البخاري ومسلم ولم يخرِّجاه، والخامسة: ما كان على شرط البخاري ولم يُخرِّجه، والسادسة: ما كان على شرط مسلم ولم يخرّجه، والسابعة: ما لم يكن في الصحيحين وليس على شرطهما وهو صحيح.

فهذه درجاتٌ سبع للحديث الصحيح، وأعلاها كما تقدم ما اتفق عليه البخاري ومسلم، وأحسنُ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) ও সুসাব্যস্ত (ثابت) হাদিসের একটি বড় অংশ।

শায়খাইন অর্থাৎ ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন—যে হাদিসের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তা তাঁদের কোনো একজনের এককভাবে বর্ণিত হাদিসের চেয়ে উচ্চতর পর্যায়ের (درجة)। সেই অনুযায়ী, বুখারি ও মুসলিম যা বর্ণনা করেছেন কিংবা যা তাঁরা বর্ণনা করেননি, তার প্রেক্ষিতে সহিহ (صحيح) হাদিসের স্তরসমূহ (درجة) সাতটি:

প্রথম: যে হাদিসের ব্যাপারে বুখারি ও মুসলিম ঐকমত্য পোষণ করেছেন; দ্বিতীয়: যা বুখারি এককভাবে বর্ণনা করেছেন; তৃতীয়: যা মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন; চতুর্থ: যা বুখারি ও মুসলিম উভয়ের শর্ত (شرط) অনুযায়ী হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা তা বর্ণনা করেননি; পঞ্চম: যা বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী হওয়া সত্ত্বেও তিনি তা বর্ণনা করেননি; ষষ্ঠ: যা মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী হওয়া সত্ত্বেও তিনি তা বর্ণনা করেননি; এবং সপ্তম: যা সহিহাইন গ্রন্থে নেই এবং তাঁদের শর্ত (شرط) অনুযায়ীও নয়, অথচ তা সহিহ (صحيح)।

সহিহ (صحيح) হাদিসের এই হলো সাতটি স্তর (درجة); আর এগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো বুখারি ও মুসলিমের ঐকমত্য পোষণকৃত হাদিসসমূহ, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর সবচেয়ে উত্তম...
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
كتاب أُلِّف في ذلك كتاب "اللؤلؤ والمرجان فيما اتفق عليه الشيخان" للشيخ محمد فؤاد عبد الباقي المتوفى سنة (1388هـ) ، وقد رتَّبه وفقاً لترتيب الإمام مسلم، وأمّا النص الذي يثبته فمن صحيح البخاري، حيث يختار أقربَ لفظ في صحيح البخاري يوافق ما في صحيح مسلم فيثبته، وإنَّما أتى به على ترتيب مسلم؛ لأنَّ الإمام مسلماً رحمه الله يجمع الأحاديث المتعلقة بموضوع واحد في مكان واحد فيسردها، ويذكر حديثاً يعتبره أصلاً ثمَّ يأتي بالطرق الأخرى والأسانيد ويذكر الإضافات والنقصَ والفروقَ التي بينها وبين الحديث الذي اعتبره أصلاً، فيثبت الشيخ محمد فؤاد عبد الباقي لفظَ الحديث عند البخاري في موضعه من صحيح مسلم ثمَّ يقول: أخرجه البخاري في كتاب كذا، باب كذا، ويذكر رقم الكتاب ورقم الباب، وإنَّما لم يثبته على ترتيب البخاري؛ لأنَّ

এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে, যার নাম "আল-লুলু ওয়াল মারজান ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিশ শায়খান"। এটি শেখ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি (মৃত্যু ১৩৮৮ হিজরি) কর্তৃক রচিত। তিনি এটি ইমাম মুসলিমের বিন্যাস অনুযায়ী সাজিয়েছেন। আর তিনি যে পাঠটি এখানে সাব্যস্ত করেছেন তা সহীহ বুখারী থেকে গৃহীত; সেখানে তিনি সহীহ বুখারীর সেই নিকটতম শব্দচয়নটি বেছে নিয়েছেন যা সহীহ মুসলিমের পাঠের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, অতঃপর তা লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি এটি ইমাম মুসলিমের বিন্যাস অনুযায়ী উপস্থাপন করেছেন; কারণ ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) একটি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহ এক স্থানে একত্র করে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেন। তিনি একটি হাদিসকে মূল (أصل) হিসেবে উল্লেখ করেন, অতঃপর অন্যান্য সূত্র (طرق) ও সনদসমূহ (أسانيد) উল্লেখ করেন এবং মূল (أصل) হিসেবে গণ্য হাদিসটির সাথে সেগুলোর যে আধিক্য, ঘাটতি বা পার্থক্য রয়েছে তা বর্ণনা করেন। অতঃপর শেখ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি সহীহ মুসলিমের বিন্যাস অনুযায়ী বুখারীর হাদিসের শব্দগুলো সেখানে লিপিবদ্ধ করেন এবং বলেন: "এটি বুখারী অমুক কিতাব ও অমুক অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন"; এবং তিনি কিতাব ও অধ্যায় নম্বর উল্লেখ করেন। তিনি এটি সহীহ বুখারীর বিন্যাস অনুযায়ী সংকলন করেননি, কারণ...

(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
البخاريَّ يُقطِّع الأحاديث ويفرّقها في أبواب متعددة للاستدلال بها على ما يترجم به من المسائل، لأنَّه أراد أن يكون كتابه كتاب رواية ودراية، وقد بلغ مجموع الأحاديث في كتاب "اللؤلؤ والمرجان" (1906) حديث.

ويقول العلماء عند العزو لما كان في الصحيحين: رواه البخاري ومسلم، أو أخرجه الشيخان، أو متفق عليه، وعبارة"متفق عليه" في الاصطلاح المراد بها اتفاق البخاري ومسلم، إلَاّ عند المجد ابن تيمية جدّ شيخ الإسلام ابن تيمية صاحب "منتقى الأخبار" الذي شرحه الشوكاني في "نيل الأوطار"، فإنه يريد "بمتفق عليه" بالإضافة إلى البخاري ومسلم، الإمام أحمد في المسند، فإذا قال: متفق عليه، فإنه يعني الثلاثة.
ইমাম বুখারি হাদিসসমূহকে খণ্ডিত করেন এবং সেগুলোকে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেন যাতে সেসব বিষয়ের ওপর দলিল পেশ করার জন্য তা ব্যবহার করা যায় যা তিনি শিরোনামে উল্লেখ করেছেন। কারণ তিনি চেয়েছিলেন তাঁর গ্রন্থটি বর্ণনা (رواية) ও অনুধাবন (دراية) উভয় বিষয়ের কিতাব হোক। "আল-লু'লু ওয়াল মারজান" গ্রন্থে মোট হাদিসের সংখ্যা হলো ১৯০৬টি।

আর আলিমগণ যখন দুই সহিহ গ্রন্থে বিদ্যমান হাদিস উদ্ধৃত করেন তখন বলেন: 'বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন', অথবা 'দুই শায়খ এটি সংকলন করেছেন', অথবা 'সর্বসম্মত (متفق عليه)'। পারিভাষিক (اصطلاح) ক্ষেত্রে "সর্বসম্মত (متفق عليه)" শব্দসমষ্টি দ্বারা বুখারি ও মুসলিমের ঐক্যমত্যকে বোঝানো হয়; তবে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার দাদা 'মাজদ ইবনে তাইমিয়া'-এর বিষয়টি স্বতন্ত্র, যিনি "মুনতাকা আল-আখবার" গ্রন্থের রচয়িতা যা শাওকানি "নাইল আল-আওতার" গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বুখারি ও মুসলিমের পাশাপাশি মুসনাদ গ্রন্থে ইমাম আহমাদকেও "সর্বসম্মত (متفق عليه)" শব্দের অন্তর্ভুক্ত করেন। সুতরাং তিনি যখন বলেন 'সর্বসম্মত (متفق عليه)', তখন তিনি এই তিনজনকে উদ্দেশ্য করেন।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
1 -‌‌ صحيح البخاري

صحيح الإمام البخاري أصحُّ كتب السُّنَّة، وموضوعُه الأحاديث المسندة المرفوعة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد أراد البخاري أن يكون كتابُه كتابَ دراية، بالإضافة إلى كونه كتابَ رواية؛ كتاب حديث وفقه، من أجل ذلك اتَّبع طريقةً تَميَّز بها عن الإمام مسلم في صحيحه، وذلك بتقطيع الأحاديث وتفريقها وإيرادها تحت أبواب، من أجل الاستدلال بها على ما يترجم به، ومع تكرار الأحاديث في مواضع متعددة لا يخلي المقامَ من فائدة إسنادية أو متنية. وذلك أنَّه إذا أورد الحديث مكرراً يورده عن شيخ آخر، فيُستفاد من ذلك تعدُّدُ طرق الحديث، والأحاديث التي كررها إسناداً ومتناً قليلةٌ جداً تزيد على العشرين قليلاً، كما أشار إلى ذلك الحافظ في الفتح (11/340) وكما في كتاب كشف الظنون (/363) .
1 -‌‌ সহীহ বুখারী

ইমাম বুখারীর সহীহ হলো সুন্নাহর গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ। এর বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সম্পৃক্ত মারফু (المرفوعة) এবং সনদযুক্ত (المسندة) হাদিসসমূহ। ইমাম বুখারী চেয়েছিলেন তাঁর এই গ্রন্থটি বর্ণনাভিত্তিক (رواية) হওয়ার পাশাপাশি যেন গূঢ়তত্ত্ব বা বিচারবুদ্ধি (دراية) বিষয়ক গ্রন্থও হয়; অর্থাৎ হাদিস ও ফিকহের গ্রন্থ। এই কারণেই তিনি এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইমাম মুসলিম থেকে স্বাতন্ত্র্য লাভ করেছেন। আর তা হলো হাদিসসমূহকে খণ্ডন করা, বিভিন্ন স্থানে বিন্যস্ত করা এবং সেগুলোকে বিভিন্ন পরিচ্ছেদের অধীনে উল্লেখ করা, যাতে করে তিনি যে শিরোনাম নির্ধারণ করেছেন সে বিষয়ে ওই হাদিসগুলো দ্বারা দলিল পেশ করা যায়। বিভিন্ন স্থানে হাদিসের পুনরাবৃত্তি থাকা সত্ত্বেও তা কোনো না কোনো সনদগত (إسنادية) অথবা মতন সংক্রান্ত (متنية) উপকারিতা থেকে খালি নয়। কারণ, যখন তিনি কোনো হাদিস পুনরাবৃত্তি করেন, তখন তিনি তা অন্য একজন শায়খের সূত্রে বর্ণনা করেন, যার ফলে হাদিসের বহুবিধ সূত্র (طرق) সম্পর্কে জানা যায়। আর তিনি সনদ (إسناداً) এবং মতন (متناً) উভয় দিক থেকে পুনরাবৃত্তি করেছেন এমন হাদিসের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য, যা বিশের কিছু বেশি। যেমনটি হাফেজ (ইবনে হাজার আসকালানী) ফাতহুল বারী (১১/৩৪০) গ্রন্থে এবং কাশফুয যুনুন (৩৬৩) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وقد ذكرت مواضع تلك الأحاديث في الفائدة (254) من كتابي "الفوائد المنتقاة من فتح الباري وكتب أخرى".

وهذه الطريقة التي اتَّبعها البخاري في تفريقه الأحاديث على الأبواب ترتَّب عليها وجودُ بعض الأحاديث في غير مَظنَّتها، فظنَّ بعضُ العلماء خلوَّ الكتاب منها كما حصل للحاكم رحمه الله في المستدرك حيث استدرك على البخاري أحاديث، وقال إنَّه لم يخرجها مع وجودها في صحيح البخاري، ومن أمثلة ذلك الحديث الذي رواه البخاري (2284) في كتاب الإجارة في النهي عن عَسْب الفَحْل، فقد استدركه الحاكم على البخاري فوهم، قال الحافظ في شرح الحديث: "وقد وهم في استدراكه، وهو في البخاري كما ترى، وكأنّه لَمّا لَم يره في كتاب البيوع توهم أنَّ البخاري لم يخرجه".
আমি উক্ত হাদিসগুলোর স্থানসমূহ আমার "আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাহ মিন ফাতহিল বারি ওয়া কুতুবিন উখরা" গ্রন্থের ২৫৪ নং ফায়েদায়ে উল্লেখ করেছি।

ইমাম বুখারি হাদিসসমূহকে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তার ফলে কিছু হাদিস এমন স্থানেও বিদ্যমান রয়েছে যা সচরাচর সেগুলোর জন্য নির্ধারিত স্থান নয়। এর ফলে কিছু আলেম ধারণা করেছেন যে গ্রন্থটি সেই হাদিসগুলো থেকে শূন্য; যেমনটি ইমাম হাকেম (রহ.)-এর ক্ষেত্রে আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে ঘটেছে। সেখানে তিনি বুখারির ওপর কিছু হাদিস সংযোজন (استدرك) করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি সেগুলো বর্ণনা (أخرج) করেননি, অথচ সেগুলো সহিহ বুখারিতেই বিদ্যমান ছিল। এর একটি উদাহরণ হলো সেই হাদিস যা বুখারি (২২৮৪) কিতাবুল ইজারা-তে পুরুষ পশুর প্রজনন ভাড়া নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকেম এটি বুখারির ওপর সংযোজন (استدرك) করতে গিয়ে ভ্রমে (وهم) পতিত হয়েছেন। হাফেজ হাদিসটির ব্যাখ্যায় বলেন: "তিনি তাঁর এই সংযোজন প্রক্রিয়ায় (استدراك) ভ্রমে (وهم) পতিত হয়েছেন, অথচ আপনি দেখতেই পাচ্ছেন এটি বুখারিতে বিদ্যমান। সম্ভবত যখন তিনি এটি কিতাবুল বিয়ু-তে দেখতে পাননি, তখন তিনি ধারণা (توهم) করেছেন যে বুখারি এটি বর্ণনা (أخرج) করেননি"।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وأمَّا فقهُ البخاري فهو واضح من تراجمه التي وصفها الحافظ ابن حجر في مقدمة الفتح بكونها حيَّرت الأفكارَ وأدهشت العقولَ والأبصارَ، وبكونها بعيدةَ المنال منيعةَ المثال، انفرد بتدقيقه فيها عن نظرائه، واشتهر بتحقيقه لها عن قرنائه.

ومن أمثلة دقَّته في تراجمه قوله في كتاب الإجارة: "باب إذا استأجر أجيراً ليعمل له بعد ثلاثة أيام أو بعد شهرٍ أو بعد سنة جاز وهما على شرطهما الذي اشترطاه إذا جاء الأجل" والمقصودُ من هذه الترجمة أنَّ مدة الإجارة لا يشترط فيها أن تكون تالية لوقت إبرام العقد، وأورد تحت هذه الترجمة حديث عائشة رضي الله عنها (2264) في استئجار النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وأبي بكر رضي الله عنه رجلاً من بنِي الدِّيل هادياً خرِّيتاً ودفعَا إليه راحلتيهما، ووعداه غار ثور بعد ثلاث ليال.

ومن منهج البخاري في صحيحه أنه قد يروي
আর ইমাম বুখারির ফিকহ তাঁর অধ্যায়ের শিরোনামসমূহ (تراجم) থেকেই স্পষ্ট, যেগুলোকে হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীর ভূমিকায় এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যে তা চিন্তাজগতকে বিভ্রান্ত করে এবং বুদ্ধি ও দৃষ্টিকে বিস্ময়াভিভূত করে। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, এগুলো অর্জন করা অত্যন্ত দুঃসাধ্য এবং এর দৃষ্টান্ত মেলা ভার। এই শিরোনামগুলোর সূক্ষ্ম বিন্যাসে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য ছিলেন এবং এগুলোর গবেষণালব্ধ বিশ্লেষণে তিনি তাঁর সহকর্মীদের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।

তাঁর শিরোনামগুলোর (تراجم) সূক্ষ্মতার একটি উদাহরণ হলো কিতাবুল ইজারা-তে তাঁর এই উক্তি: "পরিচ্ছেদ: যখন কেউ তিন দিন, এক মাস বা এক বছর পর কাজ করার জন্য কোনো শ্রমিক নিয়োগ করে, তবে তা বৈধ হবে এবং যখন নির্ধারিত সময় আসবে তখন তারা উভয়ে তাদের কৃত শর্তের ওপর বহাল থাকবে।" এই শিরোনামটির (ترجمة) উদ্দেশ্য হলো, ইজারা বা ভাড়ার মেয়াদের ক্ষেত্রে চুক্তির সময়ের পরপরই তা শুরু হওয়া শর্ত নয়। এই শিরোনামের অধীনে তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস (২২৬৪) উল্লেখ করেছেন, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বনু আদ-দিল গোত্রের একজন অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শককে নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং তাঁরা তাঁর কাছে তাঁদের সওয়ারি দুটি সোপর্দ করেছিলেন এবং তিন রাত পর সাওর গুহায় আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইমাম বুখারির পদ্ধতি (منهج) হলো যে, তিনি মাঝে মাঝে বর্ণনা করেন...
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الحديث في موضع واحد بإسنادين عن شيخين فيجعل المتن للشيخ الثاني منهما، أشار إلى ذلك الحافظ ابن حجر في الفتح (1436) وقال:"وقد ظهر بالاستقراء من صنيع البخاري أنَّه إذا أورد الحديثَ عن غير واحد فإنَّ اللَّفظَ يكون للأخير، والله أعلم".

ومن منهج البخاري أيضاً في صحيحه أنَّه إذا مرَّت به لفظةٌ غريبةٌ توافق كلمةً في القرآن أتى بتفسير تلك الكلمة التي من القرآن، فيكون بذلك جمع بين تفسير غريب القرآن والحديث، أشار إلى ذلك الحافظ في الفتح في مواضع متعددة انظر على سبيل المثال (3/196، 324، 343) .

والحافظ ابن حجر - عليه رحمة الله - تَمكَّن من معرفة اصطلاحات البخاري ومنهجه في صحيحه، وقد ذكرتُ في كتاب "الفوائد المنتقاة من فتح الباري
একটি হাদিস এক স্থানে দুজন উস্তাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত দুটি সনদ (إسناد) সহকারে উল্লেখ করা হলে তিনি হাদিসের মূল পাঠ বা মতন (متن) দ্বিতীয় উস্তাদের জন্য সাব্যস্ত করেন। হাফিজ ইবনে হাজার আল-ফাতহ (১৪৩৬) গ্রন্থে এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেন: "ইমাম বুখারীর কর্মপদ্ধতি নিবিড় পর্যবেক্ষণের (استقراء) মাধ্যমে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, তিনি যখন একাধিক ব্যক্তি থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, তখন তার শব্দগত পাঠ (لفظ) সাধারণত সর্বশেষ ব্যক্তির হয়ে থাকে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।"

সহিহ বুখারীতে ইমাম বুখারীর অন্যতম একটি পদ্ধতি (منهج) হলো, যখন তিনি এমন কোনো অপরিচিত শব্দ (غريب) পান যা কুরআনের কোনো শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তখন তিনি সেই কুরআনী শব্দের তাফসির (تفسير) বা ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এর মাধ্যমে তিনি কুরআনের অপরিচিত শব্দ এবং হাদিসের অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যার মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। হাফিজ ইবনে হাজার আল-ফাতহ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন; উদাহরণস্বরূপ দেখুন (৩/১৯৬, ৩২৪, ৩৪৩)।

হাফিজ ইবনে হাজার -রহিমাহুল্লাহ- ইমাম বুখারীর পরিভাষা (اصطلاحات) এবং তাঁর সহিহ গ্রন্থের কর্মপদ্ধতি (منهج) অনুধাবনে বিশেষভাবে সক্ষম ছিলেন। আমি 'আল-ফাওয়ায়েদ আল-মুনতাক্বাহ মিন ফাতহিল বারী' নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছি যে...
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكتب أخرى" جملةً كبيرةً من الفوائد المتعلقة بذلك من الفائدة (226) إلى (284) .

ولأهميَّة صحيح البخاري لقي عنايةً من العلماء في مختلف العصور، وكان على رأس الذين وفِّقُوا للعناية بهذا الكتاب الحافظ ابن حجر العسقلاني المتوفى سنة (852هـ) ، فقد شرحه شرحاً نفيساً واسعاً جمع فيه ما اقتبسه من غيره مِمَّن تقدَّمَه، وما وفَّقَه الله لفهمه واستنباطه من ذلك الكتاب العظيم، وذلك في كتابه "فتح الباري" الذي يُعتبر حداً فاصلاً بين مَن سبقه ومَن لحقه، فالذين تقدَّموه جَمع ما عندهم، والذين تأخروا عنه صار كتابُه مرجعاً لهم، وقد طُبع كتاب "فتح الباري" في المطبعة السلفية في مصر، واشتملت الأجزاء الثلاثة الأولى منه على تعليقات نفيسة لشيخنا الشيخ عبد العزيز بن باز
"এবং অন্যান্য গ্রন্থ" এই সংক্রান্ত ফায়দা (فوائد) সমূহের এক বিশাল সংকলন যা ২২৬ থেকে ২৮৪ নম্বর ফায়দা পর্যন্ত বিস্তৃত।

সহিহ বুখারি-র গুরুত্বের কারণে বিভিন্ন যুগে আলেমগণ এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। যারা এই কিতাবের খিদমতে তাওফিক লাভ করেছেন তাদের শীর্ষে রয়েছেন হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত ৮৫২ হিজরি)। তিনি এই কিতাবের এক অত্যন্ত মূল্যবান ও সুবিস্তৃত ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন, যেখানে তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের থেকে যা গ্রহণ করেছেন এবং এই মহান গ্রন্থ থেকে আল্লাহ তাঁকে যা বোঝার ও মাসয়ালা উদ্ভাবন (استنباط) করার তাওফিক দিয়েছেন তার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। এটি তাঁর "ফাতহুল বারি" নামক কিতাবে সন্নিবেশিত হয়েছে, যা তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের মধ্যে এক সুস্পষ্ট বিভাজনরেখা হিসেবে বিবেচিত। তাঁর পূর্ববর্তীদের জ্ঞান তিনি এতে সংকলন করেছেন, আর পরবর্তীদের জন্য তাঁর এই কিতাবটি একটি মূল উৎস (مرجع) হয়ে দাঁড়িয়েছে। "ফাতহুল বারি" কিতাবটি মিসরের সালাফিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর প্রথম তিন খণ্ডে আমাদের শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায-এর মূল্যবান টীকা (تعليقات) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
رحمه الله1، وقد أُثبت في هذه الطبعة ترقيم أحاديث الكتاب التي وضعها الشيخ محمد فؤاد عبد الباقي. وطريقته في الترقيم أنَّه يُثبت في أوَّل موضع يَرِدُ فيه ذكرُ الحديث أرقامَه في المواضع الأخرى التي تأتي بعد ذلك، وعند ورود الحديث في تلك المواضع لا يشير إلى الموضع الأول الذي ذُكرت فيه الأرقام، ويمكن الاهتداء إلى الموضع الأول بالنظر في شرح الحافظ ابن حجر للحديث، فقد يشير فيه إلى المواضع المتقدمة، ويمكن ذلك أيضاً بالرجوع إلى "فهارس البخاري" لرضوان محمد رضوان، فإنَّه عندما يأتي للمواضع التي تكرر فيها ذكر الحديث يقول: انظر كذا رقم كذا، مشيراً إلى الكتاب الذي ورد فيه ذكر الحديث

--------------------------------------------

1 ألقيت هذه المحاضرة قبل عشرين سنة، وجرى تحريرها لطباعتها هذا العام (1423هـ) ، وكانت وفاة شيخنا رحمه الله في السابع والعشرين من شهر المحرم عام (1420هـ) .
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন১, এবং এই সংস্করণে শেখ মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী কর্তৃক নির্ধারিত কিতাবটির হাদিস নম্বরসমূহ বহাল রাখা হয়েছে। নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি হলো, কোনো হাদিস যেখানে প্রথমবার উল্লিখিত হয়েছে, সেখানেই তিনি পরবর্তী অন্যান্য স্থানে আসা ওই হাদিসের নম্বরগুলো লিখে দেন। কিন্তু পরবর্তী স্থানগুলোতে যখন হাদিসটি পুনরায় আসে, তখন তিনি আর সেই প্রথম স্থানের কথা উল্লেখ করেন না যেখানে নম্বরগুলো দেওয়া হয়েছিল। হাফেজ ইবনে হাজার কৃত হাদিসের ব্যাখ্যা দেখার মাধ্যমে প্রথম স্থানটির দিশা পাওয়া যেতে পারে, কারণ তিনি সেখানে পূর্ববর্তী স্থানগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করতে পারেন। এছাড়া রেদওয়ান মুহাম্মাদ রেদওয়ান সংকলিত "ফাহারেসে বুখারি" দেখার মাধ্যমেও এটি সম্ভব; কারণ যেখানেই কোনো হাদিস পুনরাবৃত্তি হয়েছে, সেখানে তিনি বলেন: "অমুক কিতাবের অমুক নম্বরটি দেখুন", এর মাধ্যমে তিনি সেই কিতাবের প্রতি ইঙ্গিত করেন যেখানে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১. এই বক্তৃতাটি বিশ বছর আগে প্রদান করা হয়েছিল এবং এই বছর (১৪২৩ হিজরি) মুদ্রণের জন্য এটি সম্পাদনা করা হয়েছে। আমাদের শাইখের মৃত্যু (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ১৪২০ হিজরি সনের ২৭শে মহরম তারিখে হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
أول مرة ورقمه.

وعددُ كتب صحيح البخاري سبعةٌ وتسعون كتاباً، وعددُ أحاديثه بالتكرار كما في ترقيم الشيخ محمد فؤاد عبد الباقي (7563) حديثٍ، وفي صحيح البخاري اثنان وعشرون حديثاً ثلاثياً.
প্রথমবার এবং এর নম্বর।

সহীহ বুখারীর কিতাবসমূহের সংখ্যা সাতানব্বইটি। শাইখ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির নম্বর বিন্যাস অনুযায়ী পুনরাবৃত্তিসহ (بالتكرار) এর হাদিস সংখ্যা সাত হাজার পাঁচশ তেষট্টি (৭৫৬৩) টি। সহীহ বুখারীতে বাইশটি সুলাসি বা তিন রাবী বিশিষ্ট (ثلاثياً) হাদিস রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
2 -‌‌ صحيح مسلم

وصحيحُ الإمام مسلم يلي صحيحَ البخاري في الصحة، وقد اعتنى مسلمٌ رحمه الله بترتيبه، فقام بجمع الأحاديث المتعلقة بموضوع واحد فأثبتها في موضع واحد، ولَم يُكرِّر شيئاً منها في مواضع أخرى، إلَاّ في أحاديث قليلة بالنسبة لحجم الكتاب، ولَم يضع لكتابه أبواباً، وهو في حكم المُبوَّب؛ لجمعه الأحاديث في الموضوع الواحد في موضع واحد.

ومِمَّا تَميّز به صحيح الإمام مسلم إثبات الأحاديث بأسانيدها ومتونها كما هي من غير تقطيع
২ -‌‌ সহিহ মুসলিম

বিশুদ্ধতার (الصحة) মানদণ্ডে ইমাম মুসলিমের সহিহ মুসলিমের স্থান সহিহ বুখারির পরেই। ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) এর বিন্যাসের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন; ফলে তিনি একই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলোকে একত্রিত করে এক স্থানে উপস্থাপন করেছেন। গ্রন্থের কলেবরের তুলনায় সামান্য কিছু হাদিস ব্যতীত তিনি কোনো হাদিস অন্য কোথাও পুনরাবৃত্তি করেননি। তিনি তাঁর গ্রন্থের জন্য কোনো অধ্যায় (أبواب) বিন্যাস করেননি, তবে এটি অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত (المبوب) কিতাবের পর্যায়ভুক্ত; কেননা তিনি একই বিষয়ের হাদিসসমূহকে এক স্থানে সংকলন করেছেন।

ইমাম মুসলিমের সহিহ গ্রন্থের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো হাদিসসমূহকে তাদের সনদসমূহ (أسانيد) ও মূল পাঠসমূহ (متون) সহ কোনো প্রকার সংক্ষিপ্তকরণ (تقطيع) ছাড়াই অবিকলভাবে লিপিবদ্ধ করা।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
أو رواية بمعنى، مع المحافظة على ألفاظ الرواة، وبيان مَن يكون له اللفظ منهم، ومن عبَّر منهم بلفظ حدثنا، وبلفظ أخبرنا، وقد أثنى الحافظُ ابن حجر في ترجمة الإمام مسلم في كتابه "تهذيب التهذيب" على حُسن عنايته في وضع صحيحه، فقال:"قلت: حصل لمسلم في كتابه حظٌّ عظيم مفرط لَم يحصل لأحد مثله، بحيث إنَّ بعضَ الناس كان يُفضِّله على صحيح محمد بن إسماعيل، وذلك لِمَا اختَصَّ به من جَمع الطرق وجَودة السياق والمحافظة على أداء الألفاظ كما هي، من غير تقطيع ولا رواية بمعنى، وقد نهج على منواله خَلقٌ من النيسابوريين فلم يبلغوا شَأْوَه، وحفظت منهم أكثرَ مِن عشرين إماماً مِمَّن صنف المستخرج على مسلم، فسبحان المعطي الوهاب".

وقد قام الشيخ محمد فؤاد عبد الباقي رحمه الله
অথবা অর্থগত বর্ণনা (رواية بالمعنى), যেখানে বর্ণনাকারীদের (رواة) শব্দাবলি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং কাদের শব্দ কী ছিল তা স্পষ্ট করা হয়েছে, আর তাদের মধ্যে কে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثنا) এবং কে 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا) শব্দ ব্যবহার করেছেন তা বর্ণনা করা হয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থে ইমাম মুসলিমের জীবনী (ترجمة) আলোচনায় তাঁর সহিহ গ্রন্থটি সংকলনে সুনিপুণ যত্নের প্রশংসা করে বলেছেন: "আমি বলছি: ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবের মাধ্যমে এমন এক বিশাল ও অনন্য মর্যাদা লাভ করেছেন যা তাঁর মতো অন্য কেউ পায়নি। এমনকি কিছু লোক এটিকে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের সহিহ গ্রন্থের ওপরও প্রাধান্য দিতেন। আর তা ছিল বর্ণনাসূত্র (طرق) একত্রিত করা, বিন্যাসের উৎকর্ষ এবং শব্দাবলিকে কোনো প্রকার বিচ্ছিন্নকরণ (تقطيع) বা অর্থগত বর্ণনা (رواية بالمعنى) ব্যতিরেকে হুবহু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তাঁর বৈশিষ্ট্যের কারণে। নিশাপুরের একদল আলেম তাঁর এই পথ অনুসরণ করেছিলেন, কিন্তু তাঁরা তাঁর উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি। আমি তাঁদের মধ্য থেকে বিশজনেরও বেশি এমন ইমামের নাম স্মরণ করতে পারি যাঁরা মুসলিমের ওপর মুস্তাখরাজ (مستخرج) গ্রন্থ রচনা করেছেন। সুতরাং সকল পবিত্রতা মহান দাতা ও অবারিত দানশীল সত্তার জন্য।"

এবং শেখ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি (রহিমাহুল্লাহ)
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
بالعناية بإخراج صحيح مسلم ووضع فهارس له متعددة مفصلة، وطُبع الكتاب بعمله هذا في أربعة مجلدات أَثبت فيها تراجم الأبواب التي وضعها الإمام النووي رحمه الله وهي ليست من عمل مسلم، كما قام بترقيم الأحاديث الأصلية فيه فبلغت

(3033) حديثٍ، وبلغ مجموع كتب صحيح مسلم أربعة وخمسين كتاباً، ووضع الشيخ محمد فؤاد عبد الباقي مجلداً خامساً مشتملاً على الفهارس المتنوعة المفصلة لصحيح مسلم رحمه الله، وأعلى الأسانيد في صحيح مسلم الرباعيات.
সহিহ মুসলিম সম্পাদনা এবং এর জন্য একাধিক বিস্তারিত নির্ঘণ্ট তৈরির প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে; তাঁর এই শ্রমের মাধ্যমে বইটি চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, যেখানে তিনি ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক নির্ধারিত অধ্যায়ের শিরোনাম (تراجم الأبواب) গুলোকে সাব্যস্ত করেছেন, যা ইমাম মুসলিমের নিজস্ব কাজ ছিল না। পাশাপাশি তিনি এতে মূল হাদিসগুলোর নম্বর প্রদান করেছেন, যা পৌঁছেছে

(৩০৩৩) টি হাদিসে। সহিহ মুসলিম-এর মোট কিতাবের সংখ্যা চুয়ান্নটি। শাইখ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি সহিহ মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জন্য বিভিন্ন বিষয়ের বিস্তারিত নির্ঘণ্ট সম্বলিত একটি পঞ্চম খণ্ড যুক্ত করেছেন। সহিহ মুসলিম-এর সর্বোচ্চ সনদসমূহ (الأسانيد) হলো চতুষ্পদী সনদ (الرباعيات)।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
3 -‌‌ سنن أبي داود

كتاب السنن لأبي داود كتابٌ ذو شأن عظيم، عُنِيَ فيه مؤلِّفه بجمع أحاديث الأحكام وترتيبها وإيرادها تحت تراجم أبواب تَدلُّ على فقهه وتَمَكُّنه في الرواية والدراية، قال فيه أبو سليمان الخطابي في
৩ -‌‌ সুনানে আবু দাউদ

আবু দাউদের ‘সুনান’ গ্রন্থটি অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন একটি কিতাব। এর লেখক এতে বিধান সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহ সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করার এবং সেগুলোকে এমন সব অধ্যায়ের শিরোনামের অধীনে উপস্থাপন করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, যা তাঁর ফিকহ এবং বর্ণনা (رواية) ও বিশ্লেষণ (دراية) শাস্ত্রে তাঁর গভীর পারদর্শিতার প্রমাণ দেয়। এই গ্রন্থটি সম্পর্কে আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি বলেছেন-
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
أول كتاب "معالم السنن": "وقد جَمع أبو داود في كتابه هذا من الحديث في أصول العلم وأمهات السنن وأحكام الفقه ما لا نعلم متقدِّماً سبقه إليه ولا متأخراً لحقه فيه".

وللحافظ المنذري تهذيب لسنن أبي داود وللإمام ابن القيم تعليقات على هذا التهذيب، وقد وصف ابن القيم رحمه الله "سنن أبي داود" و"تهذيب" المنذري وما علقه عليه فقال: "ولَمَّا كان كتاب السنن لأبي داود سليمان بن الأشعث السجستاني رحمه الله من الإسلام بالموضع الذي خصَّه الله به، بحيث صار حكماً بين أهل الإسلام، وفصلاً في موارد النزاع والخصام، فإليه يتحاكم المنصفون، وبِحُكمه يرضى المحققون، فإنَّه جمع شَملَ أحاديث الأحكام، ورتَّبها أحسن ترتيب، ونظمها أحسن نظام، مع انتقائها أحسن انتقاء، واطّراحه منها
"মাআলিমুস সুনান" গ্রন্থের শুরুতে বলা হয়েছে: "আবু দাউদ তাঁর এই গ্রন্থে ইলমের মূলনীতি (أصول العلم), সুনানের প্রধান বিষয়সমূহ (أمهات السنن) এবং ফিকহী বিধান সম্পর্কিত এমন সব হাদিস সংকলন করেছেন, যার নজির তাঁর পূর্ববর্তী কারও মাঝে আমাদের জানা নেই এবং পরবর্তী কেউ তাঁর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।"

হাফিজ আল-মুনজিরি সুনান আবু দাউদ-এর একটি পরিমার্জিত সংস্করণ (تهذيب) প্রস্তুত করেছেন এবং ইমাম ইবনুল কায়্যিম এই পরিমার্জিত সংস্করণের ওপর টীকা (تعليقات) লিখেছেন। ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) "সুনান আবু দাউদ", আল-মুনজিরির "তাহজিব" এবং তাঁর সংযোজিত টীকা সম্পর্কে বলেন: "আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশ’আস আস-সিজিস্তানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর সুনান গ্রন্থটি ইসলামের ইতিহাসে এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত যা আল্লাহ তাকে দান করেছেন; ফলে এটি মুসলিমদের মাঝে একটি মানদণ্ড এবং বিরোধ ও বিতর্কের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হিসেবে গণ্য হয়েছে। ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিরা এর নিকট বিচার প্রার্থনা করে এবং গবেষকরা এর সিদ্ধান্তে তুষ্ট থাকে। কারণ এতে আহকাম সম্পর্কিত হাদিসসমূহ (أحاديث الأحكام) সংকলিত হয়েছে এবং সেগুলোকে অত্যন্ত চমৎকার বিন্যাস ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে সাজানো হয়েছে। সেই সাথে তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে হাদিসগুলো নির্বাচন করেছেন এবং বর্জন করেছেন..."
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أحاديث المجروحين والضعفاء، وكان الإمام العلامة الحافظ زكي الدين أبو محمد عبد العظيم المنذري - رحمه الله تعالى - قد أحسن في اختصاره وتهذيبه، وعزوِ أحاديثه وإيضاح علَله وتقريبه، فأحسن حتَّى لَم يكد يدع للإحسان موضعاً، وسبق حتى جاء من خلفه له تبعاً: جعلت كتابه من أفضل الزاد، واتخذته ذخيرة ليوم المعاد. فهذَّبتُه نحو ما هذَّب هو به الأصل، وزِدتُّ عليه من الكلام على عِلَل سكت عنها أو لَم يُكملها، والتعرض إلى تصحيح أحاديث لم يصححها، والكلام على متون مشكلة لم يفتح مُقفلَها، وزيادة أحاديث صالحة في الباب لَم يشر إليها، وبسطت الكلام على مواضع جليلة، لعلَّ الناظرَ المجتهد لا يجدها في كتاب سواه".

وكتاب سنن أبي داود مقدَّمٌ على غيره من كتب السنن الأخرى، وقد بلغ مجموع كتبه خمسة وثلاثين
আহত বা সমালোচিত (المجروحين) এবং দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের হাদিসসমূহ। ইমাম, আল্লামা, হাফিজ জাকিউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিম আল-মুনজিরি —রহিমাহুল্লাহ তাআলা— এর সংক্ষিপ্তকরণ ও পরিমার্জন, হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ এবং এগুলোর ত্রুটিসমূহ (علله) স্পষ্টীকরণ ও একে সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিপুণতা দেখিয়েছেন। তিনি এতোটাই উৎকর্ষ সাধন করেছেন যে সংস্কারের জন্য তিনি আর কোনো স্থান বাকি রাখেননি এবং তিনি এতোটাই অগ্রগামী ছিলেন যে তার পরবর্তীগণ কেবল তার অনুসরণই করেছেন। আমি তার কিতাবটিকে শ্রেষ্ঠ পাথেয় হিসেবে গণ্য করেছি এবং একে পরকালের জন্য সঞ্চয় হিসেবে সাব্যস্ত করেছি। তিনি যেভাবে মূল গ্রন্থটিকে পরিমার্জিত করেছিলেন, আমিও একে সেভাবে পরিমার্জন করেছি। আর আমি এতে এমন সব ত্রুটি (علل) নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি করেছি যে ব্যাপারে তিনি নীরব ছিলেন অথবা যা তিনি পূর্ণ করেননি; আর এমন হাদিসসমূহের বিশুদ্ধতা ঘোষণা (تصحيح) করেছি যা তিনি করেননি এবং এমন সব জটিল মূল পাঠ (متون) নিয়ে আলোচনা করেছি যার জট খোলা হয়নি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে তিনি ইঙ্গিত করেননি এমন কিছু গ্রহণযোগ্য (صالحة) হাদিসও এতে সংযোজন করেছি। আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, যা সম্ভবত একজন পরিশ্রমী পাঠক অন্য কোনো গ্রন্থে খুঁজে পাবেন না।

এবং সুনান আবি দাউদ গ্রন্থটি অন্যান্য সুনান গ্রন্থসমূহের ওপর অগ্রগণ্য; এর মোট অধ্যায়ের সংখ্যা পঁয়ত্রিশে উপনীত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
كتاباً، وبلغ مجموع أحاديثه (5274) حديث.

وأعلى الأسانيد في سنن أبي داود الرباعيات وهي التي يكون بينه وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها أربعة أشخاص. ولسنن أبي داود عدة شروح من أشهرها عون المعبود لأبي الطيب شمس الحق العظيم آبادي.
টি কিতাব, এবং এর মোট হাদিস সংখ্যা (৫২৭৪) টি হাদিসে পৌঁছেছে।

সুনান আবি দাউদ-এর সর্বোচ্চ সনদসমূহ (أعلى الأسانيد) হলো রুবাইয়াত (الرباعيات); আর এগুলো হচ্ছে সেইসব হাদিস যেখানে তাঁর এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে মাত্র চারজন ব্যক্তি রয়েছেন। সুনান আবি দাউদ-এর বেশ কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলো আবু তৈয়ব শামসুল হক আজিমাবাদীর আউনুল মাবুদ।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
4 -‌‌ سنن النسائي

صنَّف الإمامُ النسائي - عليه رحمة الله - في السنن كتابين هما؛ السنن الكبرى، والصغرى التي اختصرها منها، ويُقال لها المجتبى أي: المختارة من الكبرى، والسنن الصغرى هي التي لقيت عنايةً خاصة من العلماء، وهي التي اعتُبِرَت أحد الكتب الحديثية الستة، وهو كتاب عظيم القدر، كثير الأبواب، وتراجم أبوابه تدل على فقه مؤلفه، بل إنَّ منها ما تظهر فيه دقَّةُ الإمام النسائي في الاستنباط، ومن أمثلة ذلك: قوله في أوائل كتاب الطهارة:"الرخصة في
4 -‌‌ সুনান আন-নাসাঈ

ইমাম নাসাঈ - তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক - সুনান বিষয়ে দুটি কিতাব রচনা করেছেন, সেগুলো হলো: সুনান আল-কুবরা এবং সুনান আস-সুগরা যা তিনি পূর্বোক্ত কিতাব থেকে সংক্ষিপ্ত করেছেন। একে 'আল-মুজতাবা' বলা হয়, যার অর্থ হলো: সুনান আল-কুবরা থেকে নির্বাচিত। আর সুনান আস-সুগরা-ই আলেমদের নিকট বিশেষ মনোযোগ ও গুরুত্ব লাভ করেছে এবং এটিই হাদিসের ছয়টি প্রসিদ্ধ কিতাবের অন্যতম হিসেবে পরিগণিত। এটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও বহু পরিচ্ছেদ সংবলিত একটি গ্রন্থ। এর অধ্যায়গুলোর শিরোনাম (تراجم) লেখকের ফিকহি পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেয়; এমনকি এর কোনো কোনোটিতে মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط)-এর ক্ষেত্রে ইমাম নাসাঈর গভীর সূক্ষ্মতা প্রকাশ পায়। এর একটি উদাহরণ হলো: কিতাবুত তাহারাহ-এর শুরুর দিকে তাঁর উক্তি: "অনুমতি (رخصة)..."
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
السِّواك بالعشي للصائم"، وهي مسألة للعلماء فيها قولان: أحدهما: منع الاستياك بعد الزوال، قالوا: لأنَّه يُذهب الخُلُوف الوارد في قوله صلى الله عليه وسلم: "لَخُلُوف فمِ الصائم أَطيَبُ عند الله مِن ريحِ المسك"، والقول الثاني: الجواز لدخوله تحت عموم قوله صلى الله عليه وسلم: "لولا أن أَشُقَّ على أُمَّتي لأمرتُهم بالسِّواك عند كل صلاة"، وقد أورد النسائي هذا الحديث تحت هذه الترجمة، وهو أرجح القولين في المسألة لدلالة الحديث على ذلك، قال السِّندي في حاشيته على السنن مُنَوِّهاً بدقة الإمام النسائي قال:"ومنه يؤخذ ما ذكره المصنف من الترجمة، ولا يخفى أنَّ هذا من المصنف استنباط دقيق وتيقظ عجيب، فللَّه درُّه ما أدقَّ وأحدَّ فهمه".

وأعلى الأسانيد في سنن النسائي الرباعيات، وقد بلغ مجموع كتبه واحداً وخمسين كتاباً وبلغت
"রোজাদারের জন্য শেষ বিকেলে মেসওয়াক করা"; এটি এমন একটি মাসআলা যেখানে আলেমদের দুটি অভিমত রয়েছে: একটি হলো: সূর্য ঢলে যাওয়ার পর মেসওয়াক করা নিষিদ্ধ; তাঁরা বলেন: কারণ এটি সেই মুখের গন্ধ (خلوف) দূর করে দেয় যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধময়"। দ্বিতীয় অভিমতটি হলো: বৈধতা (الجواز); কারণ এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আমি তাদের প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম"। ইমাম নাসায়ি এই হাদিসটি এই শিরোনামের (ترجمة) অধীনে উল্লেখ করেছেন এবং হাদিসের নির্দেশনার কারণে এই মাসআলায় এটিই অধিক অগ্রগণ্য (أرجح) মত। আল-সিন্দি সুনান-এর ওপর তাঁর টিকায় ইমাম নাসায়ির সূক্ষ্মতার প্রশংসা করে বলেছেন: "মুসান্নিফ (গ্রন্থকার) যে শিরোনাম (ترجمة) উল্লেখ করেছেন তা এখান থেকেই গৃহীত হয়েছে। এটি স্পষ্ট যে, মুসান্নিফের পক্ষ থেকে এটি একটি সূক্ষ্ম উদ্ভাবন (استنباط) এবং বিস্ময়কর সতর্কতা; তাঁর মেধা কতই না সূক্ষ্ম ও প্রখর!"।

সুনান নাসায়ির সর্বোচ্চ পর্যায়ের সনদসমূহ (أسانيد) হলো রুবাইয়াত (الرباعيات), এবং তাঁর কিতাবসমূহের মোট সংখ্যা ৫১টি পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং তা পৌঁছেছে...
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أحاديثه"5774" حديثٍ، وأحسن طبعات هذا الكتاب الطبعة التي حققها ورقمها ووضع فهارسها مكتب تحقيق التراث الإسلامي - دار المعرفة بيروت، فإنَّه عند كل حديث يذكر رقمه، وأرقام مواضعه الأخرى عند النسائي، ويذكر تخريج بقية أصحاب الكتب الستة، وأرقام الحديث عندهم، ورقمه في تحفة الأشراف.
এর হাদিস সংখ্যা ৫৭৭৪টি; আর এই কিতাবটির সর্বোত্তম সংস্করণ হলো সেই সংস্করণটি যা মাকতাব তাহকীক আত-তুরাস আল-ইসলামি - দার আল-মা'রিফাহ, বৈরুত কর্তৃক সম্পাদিত, সংখ্যায়িত এবং নির্ঘণ্ট সংবলিত। কারণ এতে প্রতিটি হাদিসের নম্বরের পাশাপাশি নাসায়ি-তে এর অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্থানের নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে এবং কুতুবে সিত্তাহর অবশিষ্ট সংকলকদের থেকে এর উৎস নির্দেশ (تخريج), তাদের কিতাবসমূহে হাদিসের নম্বর এবং তুহফাতুল আশরাফ-এ প্রদত্ত নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
5 -‌‌ سنن الترمذي

سنن الترمذي ويقال له الجامع، مِن أهم كتب الحديث وأكثرها فوائد، اعتنى فيه مؤلِّفُه بجمع الأحاديث وترتيبها، وبيان فقهها، وذكر أقوال الصحابة والتابعين وغيرهم في المسائل الفقهية، ومن لم يذكر أحاديثهم من الصحابة أشار إليها بقوله: وفي الباب عن فلان وفلان، واعتنى ببيان درجة الأحاديث من الصحة والحسن والضعف، وفيه
5 -‌‌ সুনান আত-তিরমিযী

সুনান আত-তিরমিযী, যাকে আল-জামিও বলা হয়, হাদিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যন্ত উপকারী একটি গ্রন্থ। এর সংকলক এতে হাদিসসমূহ সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা, সেগুলোর ফিকহ বর্ণনা করা এবং ফিকহি মাসআলাসমূহে সাহাবী, তাবিঈ ও অন্যদের মতামত উল্লেখ করার ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। আর যেসব সাহাবীর হাদিস তিনি (সরাসরি) উল্লেখ করেননি, তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন: "এই অধ্যায়ে অমুক ও অমুক থেকেও বর্ণনা রয়েছে"। এছাড়া তিনি হাদিসসমূহের মান তথা বিশুদ্ধ (صحيح), গ্রহণযোগ্য (حسن) ও দুর্বল (ضعيف) হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, এবং এতে...
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
أحاديث رباعية كثيرة، وفيه حديث ثلاثي واحد أخرجه الترمذي في كتاب الفتن (2260) فقال: "حدثنا إسماعيل بن موسى الفزاري بن ابنة السدي الكوفي، حدثنا عمر بن شاكر، عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يأتي على الناس زمان الصابر فيهم على دينه كالقابض على الجمر".وقال: هذا حديث غريب من هذا الوجه" انتهى.

وفي إسناده عمر بن شاكر وهو ضعيف، لكن الحديث صحيح بالشواهد، انظر "السلسلة الصحيحة" للألباني رقم (957) .

وعددُ كتب جامع الترمذي خمسون كتاباً، وعدد أحاديثه (3956) حديثٍ، وأحسن شروح جامع الترمذي كتاب "تحفة الأحوذي" للشيخ عبد الرحمن المباركفوري المتوفى سنة (1353هـ) .
এতে অনেক চতুষ্টয় (رباعية) হাদিস রয়েছে এবং এতে একটি মাত্র ত্রয়ী (ثلاثي) হাদিস রয়েছে যা তিরমিজি কিতাবুল ফিতান (২২৬০) এ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: "আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনে মুসা আল-ফাজারি, যিনি আস-সুদ্দি আল-কুফির দৌহিত্র, তিনি বর্ণনা করেছেন; আমাদের নিকট উমর ইবনে শাকির বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন তাদের মধ্যে স্বীয় দ্বীনের ওপর ধৈর্যশীল বা অটল থাকা ব্যক্তি জ্বলন্ত অঙ্গার মুষ্টিবদ্ধকারীর ন্যায় হবে'।" তিনি আরও বলেছেন: "এই হাদিসটি এই সূত্র থেকে বিরল (غريب)।" সমাপ্ত।

এর বর্ণনাসূত্রে (إسناد) উমর ইবনে শাকির রয়েছেন এবং তিনি দুর্বল (ضعيف), তবে অন্যান্য সমর্থক বর্ণনার (شواهد) মাধ্যমে হাদিসটি সহিহ (صحيح); দেখুন আলবানীর 'আস-সিলসিলাতুস সহিহা', নং (৯৫৭)।

জামে তিরমিজির অধ্যায় সংখ্যা পঞ্চাশটি এবং এর হাদিস সংখ্যা ৩৯৫৬টি। জামে তিরমিজির সর্বোত্তম ব্যাখ্যাগ্রন্থ হলো শেখ আব্দুর রহমান আল-মুবারকপুরী (মৃত্যু ১৩৫৩ হিজরি) রচিত 'তুহফাতুল আহওয়াযি'।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
6 -‌‌ سنن ابن ماجه

سنن ابن ماجه سادس الكتب الستة على القول المشهور وهو أقلُّها درجة، قال الحافظ ابن حجر في ترجمة ابن ماجه في تهذيب التهذيب: "كتابه في السنن جامعٌ جيِّدٌ كثيرُ الأبواب والغرائب وفيه أحاديث ضعيفة جدًّا، حتى بلغني أنًَّ السريَّ كان يقول: مهما انفرد بخبر فيه فهو ضعيفٌ غالباً، وليس الأمرُ في ذلك على إطلاقه باستقرائي، وفي الجملة ففيه أحاديثُ كثيرةٌ منكرةٌ، والله المستعان".

وإنَّما اعتُبِر سادسُ الكتب الستة لكثرة زوائده على الكتب الخمسة، وقيل سادسها الموطأ لعُلُوِّ إسناده، وقيل السادس سنن الدارمي.

وأحسن طبعاته الطبعة التي أخرجت بعناية الشيخ محمد فؤاد عبد الباقي التي رقم فيها الأحاديث فبلغت (4341) حديثٍ، وبلغت كتبه سبعة وثلاثين كتاباً،
6 -‌‌ সুনান ইবনে মাজাহ

সুনান ইবনে মাজাহ প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী কুতুবে সিত্তাহর ষষ্ঠ গ্রন্থ এবং এটি মর্যাদার দিক থেকে সেগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। হাফেজ ইবনে হাজার 'তাহজিবুত তাহজিব' গ্রন্থে ইবনে মাজাহর জীবনীতে বলেছেন: "সুনান বিষয়ক তার কিতাবটি একটি উত্তম সংকলন (جامع), যা প্রচুর অধ্যায় ও দুর্লভ (غرائب) বর্ণনায় সমৃদ্ধ। এতে অনেক অতি দুর্বল (ضعيفة جدًّا) হাদিস রয়েছে, এমনকি আমার কাছে এ কথা পৌঁছেছে যে, আস-সাররি বলতেন: ইবনে মাজাহ যখনই কোনো বর্ণনায় একক (انفرد) হন, তখন তা সাধারণত দুর্বল (ضعيف) হয়ে থাকে। তবে আমার অনুসন্ধানে বিষয়টি নিঃশর্তভাবে সব ক্ষেত্রে এমন নয়। সামগ্রিকভাবে এতে অনেক আপত্তিকর (منكرة) হাদিস রয়েছে, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।"

মূলত অন্য পাঁচটি কিতাবের অতিরিক্ত বর্ণনার প্রাচুর্যের কারণেই একে কুতুবে সিত্তাহর ষষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কারো মতে, সনদের উচ্চতা (علو إسناده)-এর কারণে এর ষষ্ঠ গ্রন্থ হলো মুওয়াত্তা। আবার বলা হয় যে, ষষ্ঠ গ্রন্থ হলো সুনান আদ-দারিমি।

এর সর্বোত্তম সংস্করণ হলো শেখ মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত সংস্করণটি, যেখানে তিনি হাদিসগুলো নম্বরযুক্ত করেছেন এবং এর সংখ্যা ৪৩৪১-এ পৌঁছেছে। আর এর মূল অধ্যায় বা কিতাবের সংখ্যা সাঁইত্রিশটি।
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وذكر الشيخ محمد فؤاد عبد الباقي في كلام له في آخر السنن أنَّ أحاديثَه الزائدة على الكتب الخمسة بلغت (1339) حديثٍ.

وفي سنن ابن ماجة خمسة أحاديث ثلاثيات الإسناد، كلُّها من طريق جُبارة بن المغلِّس، عن كثير ابن سُليم، عن أنس رضي الله عنه، ثلاثةٌ منها في كتاب الأطعمة (3356) (3357) ، (3310) ، وفي كتاب الزهد واحد (4292) ، وواحد في كتاب الطب (3479) ، وجُبارة وكَثير انفرد ابن ماجة عن بقية أصحاب الكتب الستة بإخراج حديثهما، وقال عنهما الحافظ ابن حجر في تقريب التهذيب إنَّهما ضعيفان، وهذه الأحاديث الخمسة من زوائد سنن ابن ماجة على الكتب الخمسة.

وقد ألَّف الشيخ أحمد بن أبي بكر البوصيري المتوفى سنة (840هـ) كتاب "مصباح الزجاجة في
শায়খ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি সুনান-এর শেষে তাঁর এক আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, পাঁচটি কিতাবের অতিরিক্ত (زوائد) তাঁর হাদিস সংখ্যা (১৩৩৯) টিতে পৌঁছেছে।

আর সুনান ইবনে মাজাহ-তে পাঁচটি তিন-স্তর বিশিষ্ট সনদ (ثلاثيات الإسناد) সংবলিত হাদিস রয়েছে, যার সবগুলোই জুবাহরাহ বিন আল-মুগাল্লিস, তিনি কাসির ইবনে সুলাইম থেকে এবং তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন; এর মধ্যে তিনটি আহার সংক্রান্ত অধ্যায়ে (৩৩৫৬), (৩৩৫৭), (৩৩১০), একটি দুনিয়া বিমুখতা সংক্রান্ত অধ্যায়ে (৪২৯২) এবং একটি চিকিৎসা সংক্রান্ত অধ্যায়ে (৩৪৭৯) রয়েছে। জুবাহরাহ এবং কাসির—এই দুজনের হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনে মাজাহ ছয়টি কিতাবের অবশিষ্ট সংকলকদের থেকে এককভাবে (انفرد) বর্ণনা করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার 'তাকরিবুত তাহজিব' গ্রন্থে তাদের সম্পর্কে বলেছেন যে, তারা উভয়েই দুর্বল (ضعيف); আর এই পাঁচটি হাদিস হলো পাঁচটি কিতাবের বিপরীতে সুনান ইবনে মাজাহ-র অতিরিক্ত (زوائد) হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

এবং ৮৪০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী শায়খ আহমদ বিন আবু বকর আল-বুসিরি "মিসবাহুজ জুজাজাহ" নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) কাইফা নাস্তাফীদু মিনাল কুতুবিল হাদীসিয়্যাতিস সিততাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
زوائد ابن ماجة"، وبلغت أحاديثه في بعض طبعاته (1552) حديثٍ.

وهذه الكتب الستة لَقيت من العلماء عنايةً في أطرافها ورجالها، وأحسن ما ألِّف في أطرافها كتاب أبي الحجاج المزي "تحفة الأشراف بمعرفة الأطراف" وقد رتَّبه على أسماء الصحابة رضي الله عنهم، وعند كلِّ صحابي يَذكر أسماء التابعين الذين رووا عنه على الترتيب، ثمَّ يذكر الأسانيد من الأئمة أصحاب الكتب الستة إلى التابعين، وهذا الكتاب العظيم يُعتبر بالنسبة للأسانيد بمثابة نُسَخ أخرى لتلك الكتب الستة.

وأحسنُ ما أُلِّف في رجالها بل في رجال مؤلفات أصحابها كتاب "تهذيب الكمال في أسماء الرجال" لأبي الحجاج المزي، فإنَّه مشتملٌ على أسماء رجال الكتب الستة ورجال مؤلفات أخرى لأصحاب
"জাওয়ায়েদু ইবনে মাজাহ", এবং এর কোনো কোনো মুদ্রণে হাদিস সংখ্যা ১৫৫২ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এই ছয়টি কিতাব এবং এর সূত্র নির্দেশক অংশ (أطراف) ও বর্ণনাকারীদের (رجال) বিষয়ে আলেমগণ বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এই সূত্র নির্দেশক অংশ (أطراف) বিষয়ে রচিত কিতাবগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিজ্জির কিতাব "তুহফাতুল আশরাফ বি-মা'রিফাতিল আতরাফ"। তিনি এটি সাহাবী (صحابة) (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছেন। প্রত্যেক সাহাবীর (صحابي) অধীনে তিনি তাঁদের থেকে বর্ণনা করা তাবেয়ীগণের (تابعين) নাম ক্রমানুসারে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি ছয়টি কিতাবের ইমামগণ থেকে তাবেয়ীগণ (تابعين) পর্যন্ত সনদসমূহ (أسانيد) উল্লেখ করেছেন। এই মহান কিতাবটি সনদসমূহের (أسانيد) ক্ষেত্রে ওই ছয়টি কিতাবের অন্যান্য পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য হয়।

আর এই কিতাবগুলোর বর্ণনাকারী (رجال), বরং এই গ্রন্থকারদের অন্যান্য রচনার বর্ণনাকারীদের (رجال) বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আবু আল-হাজ্জাজ আল-মিজ্জির কিতাব "তাহযীবুল কামাল ফি আসমাইল রিজাল"। কেননা এটি কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারী (رجال) এবং সেই গ্রন্থকারদের অন্যান্য রচনার বর্ণনাকারীদের (رجال) নামকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।