(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: -)
أثر الشك والوسواس في وجود الله عز وجل على عقيدة المسلم   (نهار العتيبي)

القسم: العقيدة


الكتاب: أثر الشك والوسواس في وجود الله عز وجل على عقيدة المسلم -دراسة عقدية-

المؤلف: نهار بن عبد الرحمن العتيبي

عدد الصفحات: 58

[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 جُمادَى الأولى 1444

মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ ও কুমন্ত্রণার প্রভাব মুসলিম আকিদার ওপর   (নাহার আল-উতায়েবী)

বিভাগ: আকিদা


বই: মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ ও কুমন্ত্রণার প্রভাব মুসলিম আকিদার ওপর -একটি আকিদাগত গবেষণা-

লেখক: নাহার বিন আব্দুর রহমান আল-উতায়েবী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮

[শামেলা নাম্বারিং সম্বলিত ই-বুক]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ জুমাদাল উলা ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين؛ أما بعد

يعاني الكثير من المسلمين من كثرة الشكوك والوساوس في وجود الله عز وجل، مع كثرة المشككين في وجود الله عز وجل، وانتشارهم في وسائل الإعلام المختلفة؛ لا سيما في الشبكة العنكبوتية، ووسائل التواصل الاجتماعي، مما يعني ضرورة بيان حكم الشك والوسواس في وجود الله عز وجل، فإن ذلك يتعلق بالله عز وجل، وشرف العلم بشرف المعلوم، ولا سيما هذا العلم المتعلق بأعظم أصول الإيمان، وهو الإيمان بالله عز وجل. فإن البحث في مسألة وجود الله عز وجل هو أهم البحوث وأعلاها فإن الإيمان بوجوده سبحانه وتعالى بالنسبة لبقية الأصول والفروع؛ كأصل الشجرة بالنسبة للسوق والفروع، فهو أصل الأصول، وقاعدة الدين، وكلما كان حظ المرء من الإيمان بالله عظيما كان حظه في الإسلام كبيراً، وإن تشكيك المسلم في وجود الله عز وجل جعل كفر النّاس أعظم، حتى قال أحد المتخصصين في العقيدة " كان حريّاً بنا ألا نقف عند أدلة وجود الله كثيراً، لأنّ الفطرة الإنسانية تشهد بذلك، ولا يكاد يعرف منكر لوجود الخالق في الماضي إلا النزر اليسير، وهم لا يمثلون في البشرية نسبة تذكر. إلا أن الانحراف اليوم وصل الدّرك الأسفل، فأصبحنا نرى أقواماً يزعمون أن لا خالق، ويجعلون هذه المقولة مذهباً يقيمون عليه حياتهم، وقد قامت دول على هذا المذهب تعدّ بمئات الملايين من البشر. وانتشرت هذه المقولة في كل مكان، وألفت فيها كتب، وأصبح لها فلسفة تدرس، وحاول أصحابها أن يسموها بالمنهج العلمي، ويدللوا عليها ".(1)

ومع انتشار الوسوسة عند كثير من الناس كان هناك ضرورة كبيرة لبيان حكم الوسوسة في وجود الله عز وجل، ومعرفة مدى تأثيرها على عقيدة المسلم، وماهي الأحكام التي تترتب على تلك الوسوسة، وكيف يتعامل المسلم معها.

--------------------------------------------

(1) العقيدة في الله، عمر بن سليمان الأشقر، دار النفائس، ط 2، 1419 هـ، الأردن، (72).
ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং মহান আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর; অতঃপর—

অনেক মুসলিম মহান আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ ও কুমন্ত্রণায় (ওয়াসওয়াসা) ভুগছেন, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে মহান আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে সংশয়বাদীদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিশেষ করে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ব্যাপক বিস্তারের কারণে। ফলে মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে এই সন্দেহ ও কুমন্ত্রণার বিধান বর্ণনা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কেননা এটি মহান আল্লাহর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, আর কোনো বিষয়ের জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে সেই বিষয়ের মর্যাদার ওপর। বিশেষ করে এই জ্ঞান যখন ঈমানের সবচেয়ে মহান মূলভিত্তি অর্থাৎ মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার সাথে সম্পৃক্ত। কারণ মহান আল্লাহর অস্তিত্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চতর গবেষণা। কেননা মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর ঈমান আনা হলো দ্বীনের অন্যান্য মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখার জন্য গাছের মূলের মতো, যার ওপর কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা দাঁড়িয়ে থাকে। এটিই সমস্ত মূলের মূল এবং দ্বীনের ভিত্তি। আর আল্লাহর প্রতি কোনো ব্যক্তির ঈমানের অংশ যত মহান হবে, ইসলামে তার অংশ তত বড় হবে। মুসলমানদের মনে মহান আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করার ফলে মানুষের কুফরি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এমনকি আকিদা শাস্ত্রের একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, "আমাদের জন্য আল্লাহর অস্তিত্বের দলীল নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করার প্রয়োজন ছিল না, কারণ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি এর সাক্ষ্য দেয়। অতীতে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব অস্বীকারকারী তেমন কাউকে চেনাই যেত না—খুব সামান্য কিছু মানুষ ছাড়া, যারা মানবজাতির সামগ্রিক তুলনায় নগণ্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিচ্যুতি সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে, ফলে আমরা এমন সব জনসমষ্টিকে দেখছি যারা দাবি করে যে কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই এবং তারা এই দাবিকে একটি জীবনদর্শন হিসেবে গ্রহণ করেছে যার ওপর ভিত্তি করে তারা জীবন পরিচালনা করে। এমনকি এই মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে এমন সব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেখানে কোটি কোটি মানুষ বসবাস করে। এই মতবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, এর ওপর বইপত্র লেখা হয়েছে, এটি একটি পাঠযোগ্য দর্শনে পরিণত হয়েছে এবং এর অনুসারীরা একে 'বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি' হিসেবে অভিহিত করার ও এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে।"(১)

যেহেতু অনেক মানুষের মধ্যে এই কুমন্ত্রণা বা ওয়াসওয়াসা ছড়িয়ে পড়েছে, তাই মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে এই কুমন্ত্রণার বিধান স্পষ্ট করা, মুসলিমের আকিদাতে এর প্রভাবের সীমা জানা এবং এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিধান ও একজন মুসলিম কীভাবে এর মোকাবিলা করবে—তা জানার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-আকিদাহ ফিল্লাহ, উমার বিন সুলাইমান আল-আশকার, দারুন নাফাইস, ২য় সংস্করণ, ১৪১৯ হিজরি, জর্ডান, (৭২)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌التعريف بالمصطلحات العلمية:

‌‌1 - أولاً: تعريف الأثر لغة واصطلاحاً:

‌‌أ - الأثر لغة:

يطلق على عدة معني. قال ابن فارس (ت 395 هـ): (أثر) له ثلاثة أصول: تقديم الشيء. ذكر الشيء، ورسم الشيء الباقي.(1)

وقال ابن منظور (ت 711 هـ): الأثر بالتحريك - ما بقي من رسم الشيء، والتأثر إبقاء الأثر في الشيء، وأثر في الشيء ترك فيه أثرا.(2)

 

‌‌ب - الأثر اصطلاحا: لا يخرج استعمال لفظ ال (أثر) عن المعاني اللغوية، ويستعمل للدلالة على ثلاث معاني: الأول بمعنى النتيجة، وهو الحاصل من الشيء، والثاني العلامة، والثالث بمعنى الجزء، أو ما يترتب على الشيء.(3) ولذلك فإن السلف رحمهم الله يرون أن الأثر يراد به العلم، أو خاصة العلم، أو علم يستخرج، أو نتيجة للشيء. قال ابن جرير رحمه الله في تفسير قوله تعالى: {أَوْ أَثَارَةٍ مِّنْ عِلْمٍ إِنْ كُنتُمْ صَادِقِينَ} [الأحقاف: 4] أي: " البقية من علم لأن ذلك هو المعروف من كلام العرب ".(4)

--------------------------------------------

(1) معجم مقاييس اللغة، تحقيق: عبد السلام هارون، دار الكتب العلمية، كتاب الهمزة -باب الهمزة والتاء وما يثلثهما، (1/ 53).

(2) لسان العرب، مادة (أثر) (1/ 52).

(3) كتاب التعريفات، علي بن محمد بن علي الجرجاني، تحقيق إبراهيم، دار الكتاب العربي، الطبعة الرابعة، 1418 هـ، بيروت (23)، مجلة البحوث الإسلامية، عدد 66، لعام 1423 هـ، (66/ 259).

(4) جامع البيان عن تأويل القرآن، محمد بن جرير الطبري، دار السلام، ط 1، 1425 هـ (9/ 7392 - 7393).
পারিভাষিক শব্দাবলির পরিচয়:

১ - প্রথমত: আছার (Athar)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:

ক - আভিধানিক অর্থে আছার:

এটি বেশ কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইবনে ফারিস (মৃত্যু ৩৯৫ হি.) বলেন: (আছার) শব্দটির তিনটি মূল ভিত্তি রয়েছে: কোনো কিছুকে অগ্রবর্তী করা, কোনো কিছুর উল্লেখ করা এবং কোনো জিনিসের অবশিষ্ট চিহ্ন।(১)

ইবনে মঞ্জুর (মৃত্যু ৭১১ হি.) বলেন: আছার (আলিফ ও সা-তে হরকতসহ) হলো - কোনো জিনিসের অবশিষ্ট চিহ্ন; আর 'তাআসসুর' হলো কোনো জিনিসের মধ্যে চিহ্ন বাকি রাখা, এবং কোনো কিছুতে আছার (প্রভাব) সৃষ্টি করা মানে তাতে চিহ্ন রেখে যাওয়া।(২)

 

খ - পারিভাষিক অর্থে আছার: 'আছার' শব্দের ব্যবহার আভিধানিক অর্থের বাইরে নয়। এটি তিনটি অর্থ বুঝাতে ব্যবহৃত হয়: প্রথমটি ফলাফল অর্থে, যা কোনো কিছু থেকে অর্জিত হয়; দ্বিতীয়টি নিদর্শন বা চিহ্ন অর্থে; এবং তৃতীয়টি অংশ অর্থে অথবা যা কোনো কিছুর ফলস্বরূপ ঘটে।(৩) এজন্যই সালফে সালেহীন (রহিমাহুমুল্লাহ) মনে করেন যে, আছার বলতে ইলম (জ্ঞান), বা বিশেষ কোনো জ্ঞান, অথবা উদ্ধারকৃত জ্ঞান, কিংবা কোনো কিছুর ফলাফল বোঝানো হয়। ইবনে জারীর (রাহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা জ্ঞানের কোনো অবশিষ্টাংশ, যদি তোমরা সত্যবাদী হও} [সূরা আল-আহকাফ: ৪]-এর তাফসীরে বলেন, অর্থাৎ: "জ্ঞানের অবশিষ্টাংশ, কারণ আরবদের কথাবার্তায় এটিই প্রসিদ্ধ।"(৪)

--------------------------------------------

(১) মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ, তাহকীক: আবদুস সালাম হারুন, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, কিতাবুল হামজাহ - বাবু হামজাহ ওয়াত তা ওয়া মা ইউসাল্লিসুহুমা, (১/ ৫৩)।

(২) লিসানুল আরব, মাদ্দাহ (আ-ছা-রা) (১/ ৫২)।

(৩) কিতাবুত তারিফাত, আলি বিন মুহাম্মদ বিন আলি আল-জুরজানি, তাহকীক ইবরাহিম, দারুল কিতাবিল আরাবি, চতুর্থ সংস্করণ, ১৪১৮ হি., বৈরুত (২৩), মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ, সংখ্যা ৬৬, ১৪২৩ হি., (৬৬/ ২৫৯)।

(৪) জামিউল বায়ান আন তাওয়িলিল কুরআন, মুহাম্মদ বিন জারীর আত-তাবারী, দারুস সালাম, ১ম সংস্করণ, ১৪২৫ হি. (৯/ ৭৩৯২ - ৭৩৯৩)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌ثانياً: تعريف الشك لغة واصطلاحاً

‌‌الشك لغة:

يطلق الشك ويراد به عدة أمور من أهمها:

1 - التداخل فيقال: شككته بالرمح أي طعنته به؛ فدخل سنانه في جسمه.(1)

2 - الشك بمعنى عدم اليقين؛ فقوله: شككت في الأمر أو تشككت فيه أي ذهب يقيني، لأن الشاك كأنه شُك له الأمران في مشك واحد؛ وهو لا يتيقن واحد منهما، ولذلك يقال: شككت بين ورقتين، أذا أنت غرزت العود فيهما فاجتمعا.(2)

3 - التردد: أي التردد بين شيئين؛ دون ترجيح لأحدهما.(3) ومنه قوله تعالى: (فَإِنْ كُنْتَ فِي شَكٍّ مِمَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ فَاسْأَلِ الَّذِينَ يَقْرَءُونَ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكَ لَقَدْ جَاءَكَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ) [يونس: 94].

--------------------------------------------

(1) معجم مقاييس اللغة، ابن فارس، (3/ 173).

(2) معجم مقاييس اللغة، ابن فارس، (3/ 173).

(3) المصباح المنير، أحمد المغربي، طبعة دار الكتب العلمية، (د. ت)، (167).
দ্বিতীয়ত: সংশয়ের আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা

আভিধানিকভাবে সংশয়:

সংশয় (শক) শব্দটি বেশ কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে প্রধান হলো:

১ - পরস্পর প্রবিষ্ট হওয়া: বলা হয়ে থাকে, ‘আমি তাকে বর্শা দিয়ে গেঁথে ফেলেছি’ (শাকাকতুহু), অর্থাৎ আমি তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করেছি; ফলে এর ফলা তার শরীরের ভেতরে ঢুকে গেছে।(১)

২ - নিশ্চিত বিশ্বাসের অভাব অর্থে সংশয়: যেমন বলা হয়, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে সংশয়ে পড়েছি’ (শাকাকতু ফিল আমরি) বা ‘সংশয় পোষণ করছি’ (তাশাককাকতু ফিহি), অর্থাৎ আমার নিশ্চিত বিশ্বাস চলে গিয়েছে। কারণ সংশয়কারী ব্যক্তির কাছে যেন দুটি বিষয়কে একটি বিঁধনি দিয়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে (শুক্কা); সে দুটির কোনো একটির ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারে না। এই কারণেই বলা হয়, ‘আমি দুটি কাগজের মাঝে গেঁথে দিয়েছি’ (শাকাকতু বাইনা ওরাকাতাইনি), যখন আপনি সেগুলোর মাঝে একটি কাঠি বিঁধিয়ে দেন এবং কাগজ দুটি একত্রিত হয়ে যায়।(২)

৩ - দ্বিধা-দ্বন্দ্ব: অর্থাৎ কোনো একটিকে প্রাধান্য না দিয়ে দুটি বিষয়ের মাঝে দোদুল্যমান থাকা।(৩) এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আপনার প্রতি আমি যা অবতীর্ণ করেছি সে সম্পর্কে যদি আপনি সংশয়ে থাকেন, তবে যারা আপনার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে তাদের জিজ্ঞেস করুন। নিশ্চয়ই আপনার রবের নিকট থেকে আপনার কাছে সত্য এসেছে, সুতরাং আপনি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না) [ইউনুস: ৯৪]।

--------------------------------------------

(১) মু’জাম মাকায়িসুল লুগাহ, ইবন ফারিস, (৩/ ১৭৩)।

(২) মু’জাম মাকায়িসুল লুগাহ, ইবন ফারিস, (৩/ ১৭৩)।

(৩) আল-মিসবাহুল মুনীর, আহমদ আল-মাগরিবি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ, (বি. দ্র.), (১৬৭)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الشك اصطلاحاً

تعريف الشك في الاصطلاح لا يبعد عن التعريف اللغوي، فيعرف الشك بأنه: "ما يناقض اليقين، ويتردد صاحبه بين شيئين "(1)، وعلى هذا يدل أحد تفسيري قوله تعالى: {قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى} [إبراهيم: 10].

قال الحافظ ابن كثير رحمه الله: " أفي وجوده شك، فإن الفطر شاهدة بوجوده، ومجبولة على الإقرار به، فإن الاعتراف به ضروري في الفطر السليمة، ولكن قد يعرض لبعضها شك واضطراب، فتحتاج إلى النظر في الدليل الموصل إلى وجوده; ولهذا قالت لهم الرسل ترشدهم إلى طريق معرفته بأنه (فاطر السماوات والأرض) الذي خلقها وابتدعها على غير مثال سبق، فإن شواهد الحدوث والخلق والتسخير ظاهر عليها، فلا بد لها من صانع، وهو الله لا إله إلا هو، خالق كل شيء وإلهه و مليكه ".(2)

فالشك في وجود الله عز وجل هو التردد في وجوده سبحانه؛ وعدم اليقين في وجوده سبحانه وتعالى.(3)

--------------------------------------------

(1) تفسير القرآن العظيم، الحافظ ابن كثير، (2/ 691 - 692).

(2) تفسير القرآن العظيم، الحافظ ابن كثير، (قال رحمه الله: " والمعنى الثاني في قولهم: (أفي الله شك) أي: أفي إلهيته وتفرده بوجوب العبادة له شك، وهو الخالق لجميع الموجودات، ولا يستحق العبادة إلا هو، وحده لا شريك له; فإن غالب الأمم كانت مقرة بالصانع، ولكن تعبد معه غيره من الوسائط التي يظنونها تنفعهم أو تقربهم من الله زلفى ". (المرجع السابق، 2/ 692).

(3) تجريد التوحيد الفيد، العلامة أحمد بن علي المقريزي، (766 - 845 هـ)، طبع ونشر الرئاسة العامة للبحوث العلمية والإفتاء بالمملكة العربية السعودية، ط 2، 1432 هـ، الرياض، ص: 48
পারিভাষিক অর্থে সন্দেহ

পারিভাষিক অর্থে সন্দেহের সংজ্ঞা আভিধানিক সংজ্ঞার চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়। সুতরাং সন্দেহকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যে: "এটি নিশ্চিত বিশ্বাসের (ইয়াকিন) বিপরীত, যার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দুটি বিষয়ের মধ্যে দোদুল্যমান থাকে", আর মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্যতম তাফসির এই অর্থটিকেই নির্দেশ করে: "তাদের রসূলগণ বলেছিলেন, আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি স্রষ্টা? তিনি তোমাদেরকে আহ্বান করছেন তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করার জন্য এবং এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দেওয়ার জন্য।" [ইব্রাহিম: ১০]।

হাফিজ ইবনে কাসির (রহ.) বলেন: "অর্থাৎ তাঁর অস্তিত্বে কি কোনো সন্দেহ আছে? কেননা মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি তাঁর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয় এবং তাঁর স্বীকৃতির ওপরই তা সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতিতে তাঁকে স্বীকার করে নেওয়া অপরিহার্য। তবে কখনো কারো মনে সন্দেহ ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, তখন তাঁর অস্তিত্বের দিকে পৌঁছে দেয় এমন প্রমাণের প্রতি লক্ষ্য করার প্রয়োজন পড়ে; আর একারণেই রসূলগণ তাদের আল্লাহর পরিচয়ের পথের দিকে নির্দেশনা দিয়েছেন এই বলে যে, তিনি (আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি স্রষ্টা) যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই উদ্ভাবন করেছেন। কেননা কোনো কিছুর নতুনভাবে অস্তিত্ব লাভ করা, সৃষ্টি হওয়া এবং অনুগত হওয়ার প্রমাণাদি এগুলোর ওপর সুস্পষ্ট। সুতরাং এগুলোর একজন নির্মাতা থাকা আবশ্যক, আর তিনি হলেন আল্লাহ, তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা, ইলাহ ও মালিক।"

অতএব, মহান আল্লাহর অস্তিত্বে সন্দেহ বলতে বুঝায় তাঁর অস্তিত্ব সম্পর্কে দোদুল্যমান থাকা এবং মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে সুদৃঢ় বিশ্বাসের অভাব।

--------------------------------------------

(১) তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, হাফিজ ইবনে কাসির, (২/ ৬৯১ - ৬৯২)।

(২) তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, হাফিজ ইবনে কাসির, (তিনি রহ. বলেন: "এবং তাদের উক্তি (আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে) এর দ্বিতীয় অর্থ হলো: তাঁর উলুহিয়্যাত বা ইবাদত পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর একক অধিকারের ব্যাপারে কি কোনো সন্দেহ আছে? অথচ তিনি সকল বিদ্যমান বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি ছাড়া আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। কেননা অধিকাংশ উম্মত একজন স্রষ্টাকে স্বীকার করত, কিন্তু তারা তাঁর সাথে এমন সব মধ্যস্থতাকারীদের ইবাদত করত যাদের সম্পর্কে তারা ধারণা করত যে তারা তাদের উপকার করবে অথবা আল্লাহর অধিক নৈকট্য লাভে সাহায্য করবে।" (পূর্বোক্ত উৎস, ২/ ৬৯২)।

(৩) তাজরিদু তাওহিদিল মুফিদ, আল্লামা আহমদ বিন আলি আল-মাকরিজি, (৭৬৬ - ৮৪৫ হিজরি), সৌদি আরবের জেনারেল প্রেসিডেন্সি অব স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা কর্তৃক মুদ্রিত ও প্রকাশিত, ২য় সংস্করণ, ১৪৩২ হিজরি, রিয়াদ, পৃষ্ঠা: ৪৮।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ثالثاً: تعريف الوسواس لغة واصطلاحاً

‌‌الوسواس لغة

الوسواس: " الشيطان، وهمس الصائد والكلاب، وصوت الحَلْي، والوسوسة؛ حديث النفس والشيطان بما لا نفع فيه:.(1)

الوسواس اصطلاحاً الوسواس والوسوسة هي: ما يلقى في القلب، ويخفى على الخلق فلا يطلعون عليه، إما حديث النفس أو بفعل الشيطان، وهي مجرد خاطر لم يساكن القلب فضلاً عن أن يعقد القلب عليه، بل يكرهه.(2)

وقيل الوسوسة هي: "الخواطر التي ليست بمستقرة، ولا اجتلبتها شبهة طرأت، ولا أصل لها "(3)

الفرق بين الشك والوسواس

نظراً لوجود خلط لدى كثير من المسلمين بين الشك والوسواس؛ فلا بد من بيان الفرق بينهما، فإن الفرق بينهما له أثر على حكم كل منهما كما سيتبين في المباحث الآتية إن شاء الله تعالى، فإن السلف رحمهم الله يرون أن الشك يناقض اليقين؛ ولا يجتمع شك ويقين، وأما الوسواس فهو الخواطر والأفكار فقط إما بما توسوس به النفس أو بما يوسوس به الشيطان؛ مع بقاء اليقين في القلب بوجود الله عز وجل،(4) بدليل قول الله عز وجل: {إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} [النحل: 99]. فهو ليس له تسلط على المؤمنين لاطمئنان قلوبهم بالإيمان.

--------------------------------------------

(1) القاموس المحيط، محمد بن يعقوب الفيروزآبادي، دار الكتب العلمية، الطبعة الثانية، 1428 هـ، بيروت (603) تحت (الوس).

(2) الفتاوى، شيخ الإسلام ابن تيمية، (7/ 281)، الرد على المنطقيين، الطبعة القيمة، بومباي، 1368 هـ، (508).

(3) شرح النووي على مسلم، يحيي بن شرف أبو زكريا النووي، دار الخير، 1416 هـ، كتاب الإيمان، باب بيان الوسوسة في الإيمان وما يقوله من وجدها، (3/ 318).

(4) عقيدة السلف وأصحاب الحديث، اسماعيل بن عبد الرحمن الصابوني، تحقيق: الدكتور ناصر بن عبد الرحمن الجديع، دار العاصمة، الطبعة الثانية، 1419 هـ، الرياض (296).
‌‌তৃতীয়ত: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ওয়াসওয়াসার (কুমন্ত্রণা) সংজ্ঞা

‌‌আভিধানিক অর্থে ওয়াসওয়াসা

ওয়াসওয়াসা: "শয়তান, শিকারী ও কুকুরের চুপি চুপি শব্দ, অলংকারের মৃদু শব্দ এবং ওয়াসওয়াসা; নফস (প্রবৃত্তি) ও শয়তানের এমন প্ররোচনা যার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।"(১)

পারিভাষিক অর্থে ওয়াসওয়াসা: ওয়াসওয়াসা ও ওয়াসওয়াসাহ্ হলো: যা অন্তরে প্রক্ষেপ করা হয় এবং যা সৃষ্টিজগত থেকে গোপন থাকে ফলে তারা তা জানতে পারে না; তা হয় নফসের প্ররোচনা অথবা শয়তানের কাজ। এটি নিছক একটি কল্পনা মাত্র যা অন্তরে স্থায়ী হয় না, আর অন্তরের মাধ্যমে এটি দৃঢ় করার তো প্রশ্নই আসে না; বরং অন্তর এটিকে অপছন্দ করে।(২)

বলা হয়েছে, ওয়াসওয়াসাহ্ হলো: "এমন সব কল্পনা যা স্থির নয়, কোনো উদ্ভূত সংশয় একে টেনে আনেনি এবং যার কোনো ভিত্তি নেই।"(৩)

সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসার মধ্যে পার্থক্য

অনেক মুসলিমের মধ্যে সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসার সংমিশ্রণ ঘটে যাওয়ার কারণে এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করা আবশ্যক; কারণ তাদের মধ্যকার পার্থক্যের প্রভাব উভয়ের বিধানের ওপর পড়ে, যেমনটি ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পরিচ্ছেদসমূহে স্পষ্ট হবে। নিশ্চয়ই সালফে সালেহীন (রহিমাহুমুল্লাহ) মনে করতেন যে, সন্দেহ ইয়াকীন বা নিশ্চিত বিশ্বাসের পরিপন্থী; এবং সন্দেহ ও ইয়াকীন একত্রে জমা হতে পারে না। আর ওয়াসওয়াসা হলো কেবল কল্পনা ও চিন্তাধারা, যা হয় নফস কুমন্ত্রণা দেয় অথবা শয়তান কুমন্ত্রণা দেয়; অথচ মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে অন্তরে ইয়াকীন অবশিষ্ট থাকে।(৪) এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের রবের ওপর তাওয়াক্কুল করে, তাদের ওপর তার (শয়তানের) কোনো আধিপত্য নেই} [আন-নাহল: ৯৯]। সুতরাং মুমিনদের ওপর তার কোনো কর্তৃত্ব নেই, যেহেতু তাদের অন্তর ঈমানের মাধ্যমে প্রশান্ত।

--------------------------------------------

(১) আল-কামুসুল মুহীত, মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪২৮ হিজরি, বৈরুত (৬০৩), 'ওয়াস' (الوس) শব্দের অধীনে।

(২) আল-ফাতাওয়া, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, (৭/ ২৮১), আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন, আত-তাবআতুল কাইয়্যিমাহ, বোম্বে, ১৩৬৮ হিজরি, (৫০৮)।

(৩) সহীহ মুসলিমের শারহ নববী, ইয়াহইয়া বিন শারাফ আবু যাকারিয়া আন-নববী, দারুল খাইর, ১৪১৬ হিজরি, কিতাবুল ঈমান, ঈমানের ক্ষেত্রে ওয়াসওয়াসা এবং তা অনুভবকারী যা বলবে তার বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়, (৩/ ৩১৮)।

(৪) আকিদাতুস সালাফ ওয়া আসহাবিল হাদীস, ইসমাইল বিন আবদুর রহমান আস-সাবুনী, তাহকীক: ডক্টর নাসের বিন আবদুর রহমান আল-জুদী', দারুল আসিমাহ, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৯ হিজরি, রিয়াদ (২৯৬)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد يأتي الشك بمعنى الوسواس، ويتضح ذلك من السياق؛ كما في قول النبي صلى الله عليه وسلم: (نحن أحق بالشك من إبراهيم)(1)، قال ابن عباس رضي الله عنهما: " هذا لما يعرض في الصدور ويوسوس به الشيطان، فرضي الله من إبراهيم عليه السلام بأن قال: بلى ".(2) " فالمراد بالشك هنا الخواطر التي لا تثبت، وأما الشك المصطلح وهو التوقف بين الأمرين من غير مزية لأحدهما عن الآخر؛ فهو منفي عن الخليل قطعاً لأنه يبعد وقوعه ممن رسخ الإيمان في قلبه، فكيف بمن بلغ مرتبة النبوة ".(3)

--------------------------------------------

(1) البخاري، كتاب أحاديث الأنبياء، باب قوله عز وجل ونبئهم عن ضيف إبراهيم، حديث رقم (3372)، ومسلم، كتاب الإيمان، باب زيادة طمأنينة القلب، حديث رقم (151).

(2) فتح الباري شرح صحيح البخاري، أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، دار السلام، الطبعة الأولى، 1421 هـ، الرياض (6/ 498).

(3) فتح الباري، ابن حجر (6/ 500)، العواصم من القواصم في الذب عن سنة أبي القاسم، محمد بن إبراهيم بن الوزير اليماني، تحقيق: شعيب الأرناؤوط، مؤسسة الرسالة، ط 2، بيروت، (1/ 212).
কখনো কখনো 'সন্দেহ' শব্দটি 'কুমন্ত্রণা' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা প্রাসঙ্গিক বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয়; যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীতে রয়েছে: "আমরা ইব্রাহিম অপেক্ষা সন্দেহের অধিক হকদার"(১)। ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: "এটি সেই সব খটকা যা অন্তরে উদিত হয় এবং শয়তান প্ররোচনা দেয়। মহান আল্লাহ ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তিনি বললেন: 'হ্যাঁ'।"(২) "সুতরাং এখানে 'সন্দেহ' বলতে সেই সব ক্ষণস্থায়ী চিন্তা বা খটকা বোঝানো হয়েছে যা মনে স্থির থাকে না। পক্ষান্তরে পারিভাষিক 'সন্দেহ'—যা হলো কোনো বিষয়ের বিশেষত্ব ছাড়াই দুটি বিষয়ের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত থাকা—তা খলীল (ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম) থেকে নিশ্চিতভাবে নাকচ করা হয়েছে। কেননা যার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়েছে, তার পক্ষেই এমনটি হওয়া অসম্ভব; তাহলে যিনি নবুওয়াতের স্তরে পৌঁছেছেন তাঁর ক্ষেত্রে এটি কীভাবে সম্ভব হতে পারে!"(৩)

--------------------------------------------

(১) বুখারি, আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম) এর হাদিসসমূহ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: 'তাদেরকে ইব্রাহিমের মেহমানদের খবর দাও', হাদিস নং (৩৩৭২), এবং মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: অন্তরের প্রশান্তি বৃদ্ধি পাওয়া, হাদিস নং (১৫১)।

(২) ফাতহুল বারী শারহু সহীহিল বুখারি, আহমাদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানী, দারুস সালাম, প্রথম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি, রিয়াদ (৬/ ৪৯৮)।

(৩) ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার (৬/ ৫০০), আল-আওয়াসিম মিনাল কাওয়াসিম ফিয যাব্বি আন সুন্নাতি আবিল কাসিম, মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-ওয়াজির আল-ইয়ামানি, সম্পাদনা: শুআইব আল-আরনাউত, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ২য় সংস্করণ, বৈরুত, (১/ ২১২)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌رابعاً: تعريف العقيدة لغة واصطلاحاً

‌‌أ - العقيدة لغة: مأخوذة من العقد وعَقَدَ الحبلَ يَعقِده أي شدًّه(1)، والعَقْد الرَبْط بشدّة ومنه الإحكام، والإبرام، والتماسك، والمُراصّة، والإثبات، والتَّوثّق،(2) وتطلق على مافي القلب فيقال اعتقد كذا بقلبه(3). قال الله تبارك وتعالى: {لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِن يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الأَيْمَانَ} [المائدة: 89]. "وهي: الحكم الذي لا يقبل الشك فيه لدى معتقده، فالعقيدة في الدين ما يقصد به الاعتقاد دون العمل؛ كعقيدة وجود الله وبعث الرسل. والجمع: عقائد وخلاصة ما عقد الإنسان عليه قلبه جازماً به؛ فهو عقيدة، سواء كان حقاً، أم باطلاً "(4).

‌‌ب - العقيدة اصطلاحاً:

العقيدة في الاصطلاح العام هي: "الأمور التي يجب أن يصدق بها القلب، وتطمئن إليها النفس؛ حتى تكون يقيناً ثابتاً لا يمازجها ريب، ولا يخالطها شك. أي: الإيمان الجازم الذي لا يتطرق إليه شك لدى معتقده، ويجب

أن يكون مطابقاً للواقع، لا يقبل شكاً ولا ظنا؛ فإن لم يصل العلم إلى درجة اليقين الجازم لا يسمى عقيدة ".(5)

العقيدة الإسلامية: هي " الإيمان الجازم بالله وما يجب له في ألوهيته وربوبيته، وأسمائه وصفاته، والإيمان بملائكته وكتبه ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره، وبكل ما جاءت به النصوص الصحيحة من أصول الدين، وأمور الغيب وأخباره، وما أجمع عليه السلف، والتسليم لله تعالى في الحكم والأمر، والقدر والشرع، ولرسوله صلى الله عليه وسلم بالطاعة والتحكيم والاتباع ".(6)

والعقيدة من حيث كونها علماً بمفهوم أهل السنة والجماعة فإنها تشمل الموضوعات التالية: التوحيد - توحيد الألوهية؛ وتوحيد الربوبية؛ وتوحيد الأسماء والصفات -، والإيمان، والإسلام، والغيبيات، والنبوات، والقدر، والأخبار، وأصول الأحكام القطعية، وسائر أصول الدين والاعتقاد، ويتبعه الرد على أهل الأهواء والبدع وسائر الملل والنحل الضالة، والموقف منهم(7)

--------------------------------------------

(1) - القاموس المحيط، الفيروز أبادي، تحت: (عقد)، (324).

(2) - لسان العرب، أبو الفضل جمال الدين ابن منظور، دار صادر، بيروت، ج 3، ص: 295 - 300، المعجم الوسيط، مجمع اللغة العربية بمصر، دار احياء التراث الإسلامي، ج 2، ص: 620 - 621

(3) - مختار الصحاح، محمد بن أبي بكر بن عبدالقادر الرازي، ط 11، 1426 هـ، مؤسسة الرسالة، بيروت، لبنان، ص: 390

(4) الوجيز في عقيدة السلف الصالح أهل السنة والجماعة، عبد الله بن عبد الحميد الأثري، الطبعة الثالثة، 1425 هـ، دار الراية، الرياض، ص: 29

(5) الوجيز في عقيدة السلف الصالح، الأثري، ص: 30

(6) مباحث في عقيدة أهل السنة والجماعة، العقل ناصر بن عبدالكريم، ص: 9

(7) المرجع السابق، (6).
চতুর্থত: আকিদাহর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা

‌‌ক - আকিদাহর শাব্দিক অর্থ: এটি ‘আল-আকদ’ শব্দ থেকে গৃহীত। ‘আকাদাল হাবলা’ এর অর্থ হলো সে রশিটি বাঁধল বা একে শক্ত করল(১)। ‘আল-আকদ’ বলতে বোঝায় দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ করা, যার অন্তর্ভুক্ত হলো—সুদৃঢ় করা, পাকাপোক্ত করা, সংহতি, সুসংবদ্ধতা, সাব্যস্ত করা এবং দৃঢ়ীকরণ(২)। এটি অন্তরে যা বিদ্যমান তার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, তাই বলা হয়—সে তার অন্তরে এমন বিশ্বাস (আকাদাহ) পোষণ করেছে(৩)। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: {তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করবেন না, কিন্তু তোমরা যে শপথ দৃঢ়ভাবে করো সে জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন} [আল-মায়িদাহ: ৮৯]। “এটি হলো এমন এক ফয়সালা যা বিশ্বাসকারীর নিকট কোনো প্রকার সন্দেহ গ্রহণ করে না। তাই দ্বীনের ক্ষেত্রে আকিদাহ বলতে সেই বিষয়সমূহকে উদ্দেশ্য করা হয় যেগুলোর লক্ষ্য কেবল বিশ্বাস স্থাপন করা, আমল নয়; যেমন আল্লাহর অস্তিত্ব এবং রাসুল প্রেরণের বিষয়ের ওপর বিশ্বাস। এর বহুবচন হলো: আকাইদ। মানুষ তার অন্তরে দৃঢ়ভাবে যা গেঁথে নেয় এবং যা সম্পর্কে সে সুনিশ্চিত হয়, তা-ই হলো আকিদাহ; চাই তা সত্য হোক বা মিথ্যা।”(৪)

‌‌খ - আকিদাহর পারিভাষিক অর্থ:

সাধারণ পরিভাষায় আকিদাহ হলো: “সেই সকল বিষয় যেগুলোর প্রতি অন্তর দিয়ে সত্যারোপ করা আবশ্যক এবং যার প্রতি আত্মা প্রশান্ত থাকে; যাতে তা এমন এক অটল নিশ্চিত বিশ্বাসে পরিণত হয় যাতে কোনো সংশয় বা সন্দেহ মিশ্রিত থাকে না। অর্থাৎ: এমন এক দৃঢ় ঈমান যা বিশ্বাসকারীর নিকট কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ রাখে না এবং তা অবশ্যই বাস্তবসম্মত হতে হবে, যা কোনো সন্দেহ বা ধারণাকে গ্রহণ করে না। যদি জ্ঞান দৃঢ় নিশ্চিত বিশ্বাসের স্তরে না পৌঁছায় তবে তাকে আকিদাহ বলা যাবে না।”(৫)

ইসলামি আকিদাহ: এটি হলো “আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান এবং তাঁর উলুহিয়্যাত, রুবুবিয়্যাত এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাঁর যা প্রাপ্য সে বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করা; এবং তাঁর ফেরেশতামণ্ডলী, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, শেষ দিবস, তকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহ, গায়বি বিষয় ও সংবাদের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ দলিল (নস) সমূহে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে এবং সালাফগণ যে বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা; ফয়সালা, আদেশ, তকদির ও শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সমীপে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা এবং আনুগত্য, ফয়সালা মেনে নেওয়া ও অনুসরণের মাধ্যমে তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অনুগত থাকা।”(৬)

আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ধারণা অনুযায়ী একটি ইলম বা শাস্ত্র হিসেবে আকিদাহ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে: তাওহিদ—তাওহিদ উলুহিয়্যাত, তাওহিদ রুবুবিয়্যাত এবং তাওহিদ আসমা ওয়া সিফাত—, ঈমান, ইসলাম, গায়বি বিষয়সমূহ, নবুওয়াতসমূহ, তকদির, সংবাদসমূহ, অকাট্য বিধানাবলির মূলনীতিসমূহ এবং দ্বীন ও বিশ্বাসের যাবতীয় মূলনীতি। এর অনুগামী হিসেবে প্রবৃত্তি পূজারী, বিদআতি এবং অন্যান্য ভ্রান্ত মতবাদ ও ফেরকাগুলোর খণ্ডন এবং তাদের ব্যাপারে অবস্থানের বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত।(৭)

--------------------------------------------

(১) - আল-কামুস আল-মুহিত, ফিরোজাবাদি, (আকদ) শব্দের অধীনে, (৩২৪)।

(২) - লিসানুল আরব, আবুল ফজল জামালুদ্দিন ইবনে মানজুর, দার সাদির, বৈরুত, ৩য় খণ্ড, পৃ: ২৯৫ - ৩০০; আল-মুজাম আল-ওয়াসিত, মাজমাউল লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ মিসর, দার ইহয়াউত তুরাস আল-ইসলামি, ২য় খণ্ড, পৃ: ৬২০ - ৬২১

(৩) - মুখতারুস সিহাহ, মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আব্দুল কাদির আর-রাজি, ১১তম প্রকাশ, ১৪২৬ হিজরি, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, লেবানন, পৃ: ৩৯০

(৪) আল-ওয়াজিজ ফি আকিদাতিস সালাফিস সালিহ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হামিদ আল-আসারি, তৃতীয় সংস্করণ, ১৪২৫ হিজরি, দারুর রায়াহ, রিয়াদ, পৃ: ২৯

(৫) আল-ওয়াজিজ ফি আকিদাতিস সালাফিস সালিহ, আল-আসারি, পৃ: ৩০

(৬) মাবাহিস ফি আকিদাতি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, আল-আকল নাসের বিন আব্দুল কারিম, পৃ: ৯

(৭) পূর্বোক্ত উৎস, (৬)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الأول: حقيقة وجود الله عز وجل

حقيقة وجود الله عز وجل هي حقيقة ثابتة عند السلف الصالح رحمهم الله تعالى، فالأصل عندهم اليقين بوجود الله عز وجل بخلاف الفرق المنحرفة من أهل الكلام؛ ومن وافقهم قديما؛ وفي عصرنا الحاضر، فإن الأصل عندهم الشك وليس اليقين، خلافاً للسلف الصالح أهل السنة والجماعة " وقد وجد الانحراف في تقرير وجود الله تعالى عند الجهمية والمبتدعة، نتيجة عن التأثر بالزنادقة والهنود السمنية، اتسع انحراف المتكلمين من المعتزلة(1) وغيرهم، فاشترطوا النظر والاستدلال، والشك لحصول العلم بالصانع بزعمهم، وقد فند شيخ الإسلام

--------------------------------------------

(1) المعتزلة هي فرقة ضالة خالفوا قول الأمة في مرتكب الكبيرة بزعامة واصل بن عطاء وعمرو بن عبيد في زمن الحسن البصري، ويعتقد المعتزلة بأصول خمسة يخالفون فيها أهل السنة والجماعة، وهي: التوحيد، والعدل، والوعد والوعيد، والمنزلة بين المنزلتين، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، يرون من خلالها الخروج على الحاكم وقتاله. (فرق معاصرة تنتسب للإسلام وبيان موقف الإسلام منها، دكتور غالب بن علي عواجي، المكتبة العصرية الذهبية، ط 5، 1426 هـ، جدة، 3/ 1163 - ، 1198، آراء المعتزلة الأصولية دراسة وتقويماً، الدكتور علي بن سعد بن صالح الضويحي، مكتبة الرشد، ط 2، 1417 هـ، الرياض، ص: 45 وما بعدها).
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র অস্তিত্বের বাস্তবতা

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র অস্তিত্বের বাস্তবতা সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর নিকট একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য। তাঁদের নিকট মূল ভিত্তি হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র অস্তিত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্বাস (ইয়াকিন); যা আহলে কালামের বিভ্রান্ত দলগুলোর বিপরীত। আর অতীতে এবং আমাদের বর্তমান যুগে যারা তাদের সাথে একমত পোষণ করেছে, তাদের নিকট মূল ভিত্তি হলো সন্দেহ, ইয়াকিন নয়; যা সালাফে সালেহীন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পরিপন্থী। জাহমিয়া ও বিদআতিদের মধ্যে আল্লাহর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে, যা যিনদিক এবং ভারতীয় সুমানিয়াদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ফলাফল। মুতাজিলা(১) এবং অন্যান্য কালামপন্থীদের বিচ্যুতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে; কারণ তারা তাদের ধারণা অনুযায়ী স্রষ্টা সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ, দলিল উপস্থাপন এবং সন্দেহ পোষণকে শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। আর শায়খুল ইসলাম তা খণ্ডন করেছেন

--------------------------------------------

(১) মুতাজিলা হলো একটি পথভ্রষ্ট দল যারা হাসান বসরীর যুগে ওয়াসিল বিন আতা এবং আমর বিন উবায়েদের নেতৃত্বে কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির বিষয়ে উম্মতের ঐকমত্যের বিরোধিতা করেছিল। মুতাজিলারা পাঁচটি মূলনীতিতে বিশ্বাস করে যার মাধ্যমে তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিরোধিতা করে, সেগুলো হলো: তাওহিদ, আদল (ন্যায়বিচার), ওয়াদ ও ওয়াইদ (প্রতিশ্রুতি ও ধমক), আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন (দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান) এবং আমর বিল মা'রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ); যেগুলোর মাধ্যমে তারা শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও যুদ্ধ করাকে বৈধ মনে করে। (ফিরাক মুআসিরাহ তান্তাসিবু লিল ইসলাম ওয়া বায়ানু মাওকিফিল ইসলাম মিনহা, ডক্টর গালিব বিন আলী আওয়াজি, আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ আজ-যাহাবিয়্যাহ, ৫ম সংস্করণ, ১৪২৬ হিজরি, জেদ্দা, ৩/ ১১৬৩ - ১১৯৮; আরাউল মুতাজিলা আল-উসুলিয়্যাহ দিরাসাতান ওয়া তাকউইমান, ডক্টর আলী বিন সাদ বিন সালেহ আদ-দুওয়াইহি, মাকতাবাতুর রুশদ, ২য় সংস্করণ, ১৪১৭ হিজরি, রিয়াদ, পৃষ্ঠা: ৪৫ ও পরবর্তী)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১২)
هذا الزعم الباطل، فقال: ليس هذا قول أحد من سلف الأمة ولا أئمتها، ولا قاله أحد من الأنبياء والمرسلين، ولا هو قول المتكلمين، ولا غالبهم، بل هذا قول محدث في الإسلام، ابتدعه متكلمو المعتزلة، ونحوهم من المتكلمين الذين اتفق سلف الأمة وأئمتها على ذمهم، وقد نازعهم في ذلك طوائف من المتكلمين من المرجئة، والشيعة، وغيرهم، وقالوا: بل الإقرار بالصانع فطري ضروري بديهي، لا يجب أن يتوقف على النظر والاستدلال؛ بل قد اتفق سلف الأمة وأئمتها على أن معرفة الله، والإقرار به لا يقف على هذه الطرق التي يذكرها أهل النظر"(1)، فالمعتزلة ومن وافقهم يرون أن أول واجب على المكلف هو النظر المؤدي للمعرفة ولذلك قالوا بوجوب الشك بينما أول واجب عند السلف هو التوحيد لأن الله تعالى أمر به، فالمعرفة تؤدي إلى التوحيد، وقد فطر الله تعالى الناس على معرفته، ونص على ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم في وصيته لمعاذ عندما بعثه إلى اليمن، فقال: (وليكن أول ما تدعوهم له أن يوحدوا الله) وفي رواية: شهادة ألا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله صلى الله عليه وسلم(2).(3)

--------------------------------------------

(1) نقض تأسيس الجهمية، شيخ الإسلام ابن تيمية، (5/ 473)، مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، أحمد بن عبدالحليم ابن تيمية، تحقيق: عبدالرحمن بن محمد بن قاسم، الطبعة الأولى، 1398 هـ (6/ 350)، العقيدة الإسلامية وجهود علماء السلف في تقريرها والدفاع عنها حتى نهاية العصر الأموي، عطا الله بخيت حماد المعايطة، دار الآفاق الفكرية، الطبعة الأولى، 1422 هـ، مصر (13).

(2) البخاري، كِتَاب التَّوْحِيدِ، بَاب مَا جَاءَ فِي دُعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ، حديث رقم (6848) ورواه مسلم في كتاب الإيمان، باب بيان أركان الإسلام ودعائمه العظام، حديث رقم (16).

(3) يرى الماتريدية أن معرفة الله لا تتم بالمعرفة الضرورية الفطرية بل لا تكون إلا بالاكتساب العقلي فلذا كان من الأصول التي تنبني عليها عقيدتهم (وجوب معرفة الله بالعقل) ورتبوا على ذلك إيجاب النظر والاستدلال وجعلوه أول واجب على العبد. واختلفت الأشاعرة عباراتهم في أول واجب على المكلف بعد أن اتفقوا على أن الأمر بعبادته ليس أول واجب. فحكى الأشاعرة عن الأشعري القول بأن أول واجب على المكلف هو المعرفة. والمعرفة عندهم معناها معرفة وجود الله وتفرده بخلق العالم. وعند الباقلاني أول واجب: النظر فقال: أول ما فرض الله عز وجل على جميع العباد النظر في آياته. والثاني من فرائض الله عز وجل على جميع العباد الإيمان به والإقرار بكتبه ورسله، والمراد بالنظر عندهم: ترتيب أمرين معلومين ليتوصل بترتيبهما على علم مجهول. (مجموع الفتاوى، (2/ 37038)، درء تعارض العقل والنقل، (8/ 8).
এই বাতিল দাবি সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "এটি উম্মাহর সালাফ বা তাঁদের কোনো ইমামের কথা নয়, কোনো নবী বা রাসূলও এটি বলেননি। এটি মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদ) কথা নয়, এমনকি তাদের অধিকাংশের বক্তব্যও এটি নয়; বরং এটি ইসলামে এক নতুন উদ্ভাবিত কথা, যা মুতাজিলা মুতাকাল্লিমরা এবং তাদের সমমনা সেই সকল মুতাকাল্লিমরা উদ্ভাবন করেছে যাদের নিন্দা করার ব্যাপারে উম্মাহর সালাফ ও ইমামগণ একমত হয়েছেন। এ বিষয়ে মুতাকাল্লিমদের মধ্য হতে মুরজিয়া, শিয়া এবং অন্যান্য দলগুলো তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা বলেছে: বরং সৃষ্টিকর্তার স্বীকৃতি দেওয়া সহজাত (ফিতরাতি), অপরিহার্য এবং স্বতঃসিদ্ধ বিষয়; একে চিন্তা ও দলীল-প্রমাণের (নযর ও ইস্তিদলাল) ওপর স্থগিত রাখা আবশ্যক নয়। বরং উম্মাহর সালাফ ও ইমামগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আল্লাহর পরিচয় এবং তাঁর স্বীকৃতি সেই সব পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল নয় যা যুক্তিবিদরা (আহলুন নযর) উল্লেখ করে থাকেন।"(1) মুতাজিলা ও তাদের অনুসারীদের মতে, একজন মুকাল্লাফ বা শরীয়তের দায়বদ্ধ ব্যক্তির ওপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব কাজ হলো চিন্তা ও গবেষণা (নযর) করা যা মারেফাত বা পরিচয়ের দিকে নিয়ে যায়। এ কারণেই তারা সন্দেহ করাকে (শাক) ওয়াজিব বলেছে। অপরদিকে সালাফদের নিকট সর্বপ্রথম ওয়াজিব হলো তাওহীদ, কারণ আল্লাহ তাআলা এরই নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং মারেফাত তাওহীদের দিকে নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তাআলা মানুষকে তাঁর মারেফাতের ওপর সৃষ্টিগত স্বভাব (ফিতরাত) দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুআয রাযিআল্লাহু আনহুকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন তাঁর অসিয়তে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছিলেন: (তুমি তাদের সর্বপ্রথম যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দেবে তা যেন হয় আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা/তাওহীদ কায়েম করা)। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: (এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল)।(2)।(3)

--------------------------------------------

(1) নাক্বদ তা'সীসুল জাহমিয়্যাহ, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, (৫/ ৪৭৩); মাজমুউ ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, আহমদ বিন আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাহকীক: আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন কাসিম, প্রথম সংস্করণ, ১৩৯৮ হি. (৬/ ৩৫০); আল-আকিদাহ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়া জুহুদু উলামাউস সালাফ ফী তাকরীরিহা ওয়া দিফাউ আনহা হাত্তা নিহায়াতিল আসরিল উমাভী, আতাউল্লাহ বাখীত হাম্মাদ আল-মুআইতাহ, দারুল আ ফাক আল-ফিকরিয়্যাহ, প্রথম সংস্করণ, ১৪২২ হি., মিশর (১৩)।

(2) বুখারী, কিতাবুত তাওহীদ, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুআ সংক্রান্ত আলোচনা, হাদীস নং (৬৮৪৮); এবং মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ঈমান অধ্যায়ে, ইসলামের রুকন ও এর সুদৃঢ় স্তম্ভসমূহের বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে, হাদীস নং (১৬)।

(3) মাতুরিদিয়াদের মতে, আল্লাহর পরিচয় সহজাত ফিতরাতি জ্ঞানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না, বরং তা কেবল বুদ্ধিভিত্তিক অর্জনের (ইকতিসাব আক্বলী) মাধ্যমেই সম্ভব। তাই তাদের আকিদাহর অন্যতম মূলনীতি হলো (বিবেকের মাধ্যমে আল্লাহকে চেনা ওয়াজিব হওয়া)। এর ওপর ভিত্তি করে তারা চিন্তা ও দলীল-প্রমাণ (নযর ও ইস্তিদলাল) অনুসন্ধান করাকে ওয়াজিব সাব্যস্ত করেছে এবং একে বান্দার ওপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব কাজ হিসেবে গণ্য করেছে। অন্যদিকে আশআরিদের মতে, ইবাদতের নির্দেশ যে সর্বপ্রথম ওয়াজিব নয়—এ বিষয়ে একমত হওয়ার পর, মুকাল্লাফের ওপর প্রথম ওয়াজিব কী হবে সে সম্পর্কে তাদের বক্তব্য বিভিন্ন রকম হয়েছে। আশআরিরা ইমাম আশআরি থেকে বর্ণনা করেন যে, মুকাল্লাফের ওপর প্রথম ওয়াজিব হলো 'মারেফাত' বা জ্ঞান। তাদের নিকট মারেফাত মানে হলো আল্লাহর অস্তিত্ব এবং জগত সৃষ্টিতে তাঁর একত্বের জ্ঞান। আল-বাকিল্লানির মতে প্রথম ওয়াজিব হলো: 'নযর' বা চিন্তা-গবেষণা। তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা সকল বান্দার ওপর যা সর্বপ্রথম ফরয করেছেন তা হলো তাঁর নিদর্শনাবলির প্রতি চিন্তা বা নযর করা। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে দ্বিতীয় ফরয হলো তাঁর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর কিতাব ও রাসূলগণের স্বীকৃতি দেওয়া। তাদের নিকট 'নযর' বলতে বুঝায়: দুটি জানা বিষয়কে বিন্যস্ত করা যাতে সেই বিন্যাসের মাধ্যমে একটি অজানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। (মাজমুউল ফাতাওয়া, ২/ ৩৭-৩৮; দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি, ৮/ ৮)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولذلك يعبر عنه السلف بالمعرفة أي معرفة الله عز وجل ولهذا يقول السفاريني(1) في الدرة المضية في عقد أهل الفرقة المرضية:

أول واجب على العبيد معرفة الإله بالتسديد(2)

قال الشيخ محمد العثيمين رحمه الله معلقاً على ذلك: " فالصحيح ما قاله المؤلف رحمه الله أن أول واجب معرفة الله، أما النظر فلا نقول إنه واجب، ولكن لو فرض أن الإنسان احتاج للنظر فحينئذ يجب عليه النظر ".(3)

ولقد دلت الأدلة الكثيرة جداً على ما ذهب إليه السلف وأن الله تعالى موجود، سواء كان الدليل من الفطرة التي فطر الله تعالى الناس عليها، أو كان الدليل من كتاب الله تعالى أو سنة نبيه عليه الصلاة والسلام، أو كان الدليل دليلاً عقلياً، أو كان دليلاً حسياً، والأصل في ذلك عند السلف رحمهم الله تعالى هو الدليل من كتاب الله تعالى وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، ثم تأتي بقية الأدلة للاستئناس بها، ويمكن إيضاح ذلك فيما يلي:

--------------------------------------------

(1) هو الإمام الحبر الهمام العلامة محمد بن أحمد بن سالم بن سليمان السفاريني، النابلسي الحنبلي، صاحب التصانيف المشهورة، ولد بقرية سفّارين من قرى نابلس سنة 1114 هـ، وتلا القرآن العظيم ثم رحل إلى دمشق لطلب العلم فأخذ العلم عن العديد من المشايخ، وله العديد من المؤلفات ومنها: شرح ثلاثيات مسند أحمد، وشرح نونية الصرصيري، وتحبير الوفاء في سيرة المصطفى، وغذاء الألباب في شرح منظومة الآداب، وغيرها، توفي رحمه الله عام 1188 هـ وهو على معتقد أهل السنة والجماعة لكن عليه بعض المآخذ لتأثره ببعض عبارات أهل الكلام مثل قوله: (القرآن كلام الله القديم) وقوله: وسائر صفاته الفعلية من الاستواء والنزول والإتيان والمجيء والتكوين ونحوها قديمة لله تعالى ليس شيء منها محدث) ومثل حديثه حول تفويض الكلام وهذا لا يقدح في علمه رحمه الله تعالى فهو على عقيدة السلف الصالح. (عبد الرحمن بن قاسم، مقدمة حاشية الدرة المضية للسفاريني، 5 - 6، لوائح الأنوار السنية ولواقح الأفكار السُنّيّة شرح قصيدة أبي داود الحائية في عقيدة أهل الآثار السلفية، محمد بن أحمد بن سالم السفاريني، تحقيق: الدكتور عبد الله بن محمد بن سليمان البصيري، مكتبة الرشد، ط 1، 1421 هـ، الرياض، 1/ 50 - 53).

(2) شرح العقيدة السفارينية 0 الدرة المضية في عقد أهل الفرقة المرضية)، محمد بن صالح العثيمين، مدار الوطن، ط 2، 1434 هـ، الرياض، ص: 147.

(3) المرجع السابق، ص: 149
এজন্যই সালাফগণ একে ‘মা’রিফাত’ অর্থাৎ মহান আল্লাহর পরিচয় হিসেবে ব্যক্ত করেছেন। একারণেই আস-সাফফারিনি(১) ‘আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফী আকদিল ফিরকাতিল মারদিয়্যাহ’ গ্রন্থে বলেন:

বান্দাদের ওপর প্রথম ওয়াজিব হলো সঠিক পন্থায় ইলাহকে চেনা(২)

শাইখ মুহাম্মদ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) এর ওপর টীকা প্রদান করতে গিয়ে বলেন: "লেখক (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তা-ই সঠিক যে, প্রথম ওয়াজিব হলো আল্লাহর পরিচয় লাভ করা। তবে ‘নজর’ (যৌক্তিক পর্যবেক্ষণ)-এর ব্যাপারে আমরা বলব না যে এটি ওয়াজিব; কিন্তু যদি ধরে নেওয়া হয় যে কোনো মানুষের জন্য ‘নজর’ করা প্রয়োজন, তবে সেই ক্ষেত্রে তার ওপর এটি ওয়াজিব হবে।"(৩)

সালাফগণ যে মত পোষণ করেছেন তার সপক্ষে প্রচুর প্রমাণাদি বিদ্যমান যে, মহান আল্লাহ অস্তিত্ববান। সেই প্রমাণ মানুষের ফিতরাত বা সহজাত স্বভাব থেকে হতে পারে যার ওপর মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, অথবা আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সুন্নাহ থেকে হতে পারে, কিংবা যৌক্তিক দলিল অথবা ইন্দ্রিয়জাত দলিল হতে পারে। এ বিষয়ে সালাফদের (রাহিমাহুমুল্লাহ) নিকট মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর দলিল। এরপর অন্যান্য দলিলগুলো আসে যা সহায়ক হিসেবে কাজ করে। বিষয়টি নিম্নরূপে স্পষ্ট করা যেতে পারে:

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইমাম, বরেণ্য আলেম আল্লামা মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সালিম বিন সুলাইমান আস-সাফফারিনি, আন-নাবলুসি আল-হাম্বলি, প্রখ্যাত গ্রন্থসমূহের রচয়িতা। তিনি ১১১৪ হিজরিতে নাবলুসের সাফফারিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মহাগ্রন্থ কুরআন তিলাওয়াত সম্পন্ন করেন এবং এরপর জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে দামেস্ক সফর করেন এবং অনেক শাইখের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: শরহু সুলাসিয়াতি মুসনাদি আহমদ, শরহু নূনিইয়াতিস সরসারী, তাহবীরুল ওয়াফা ফী সিরাতিল মুস্তাফা, গিযাউল আলবাব ফী শরহি মানযুমাতিল আদাব ইত্যাদি। তিনি ১১৮৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার ওপর ছিলেন, তবে ইলমুল কালামের কিছু পরিভাষা দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণে তাঁর ব্যাপারে কিছু আপত্তি রয়েছে, যেমন তাঁর বক্তব্য: (কুরআন আল্লাহর অনাদি কালাম) এবং তাঁর বক্তব্য: (তাঁর অন্যান্য কর্মগত গুণাবলি যেমন উঠা, অবতরণ করা, আসা, আগমন করা এবং সৃষ্টি করা ইত্যাদি আল্লাহর জন্য অনাদি, এর কোনটিই নতুন সৃষ্টি নয়)। অনুরূপভাবে কালামের তাফবীদ সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্যও রয়েছে। তবে এটি তাঁর ইলমি মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে না (রাহিমাহুল্লাহ), কেননা তিনি সালাফে সালেহীনের আকিদার ওপরই ছিলেন। (আবদুর রহমান বিন কাসিম, মুকাদ্দিমাতু হাশিয়াতিদ দুররাতিল মুদিয়্যাহ লিস সাফফারিনি, ৫-৬; লাওয়াইহুল আনওয়ারিস সানিয়্যাহ ওয়া লাওয়াইহুল আফকারিস সুন্নিয়্যাহ শরহু কাসিদাতি আবি দাউদ আল-হায়িয়্যাহ ফী আকিদাতি আহলিল আসারিস সালাফিয়্যাহ, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সালিম আস-সাফফারিনি, তাহকীক: ড. আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-বুসাইরি, মাকতাবাতুর রুশদ, ১ম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি, রিয়াদ, ১/৫০-৫৩)।

(২) শরহু আকিদাতিস সাফফারিনিয়্যাহ (আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফী আকদিল ফিরকাতিল মারদিয়্যাহ), মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন, মাদারুল ওয়াতান, ২য় সংস্করণ, ১৪৩৪ হিজরি, রিয়াদ, পৃষ্ঠা: ১৪৭।

(৩) পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা: ১৪৯।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌أولاً: دليل الفطرة

أهل الفطر كلهم متفقون على الإقرار بالله عز وجل.(1) "فإن الإقرار بالخالق سبحانه، وكماله، أمر فطري ضروري في حق من سلمت فطرته "(2)، "فالفطرة السليمة تشهد بوجود الله من غير دليل:، ولم يُطل القرآن في الاستدلال على وجود الله تعالى، لأنّ القرآن يقرّر أنّ الفطر السليمة، والنفوس التي لم تتقذر بأقذار الشرك، مفطورة على الاقرار بوجوده سبحانه وتعالي، بل إنّ توحيده - سبحانه - أمر فطري بدهي؛ قال الله تعالى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [الروم: 30]. وقد نصّ الرسول صلى الله عليه وسلم على فطرة الإقرار بالخالق، ففي الصحيحين عن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (كل مولود يولد على الفطرة، فأبواه يهودانه، أو ينصرانه، أو يمجسانه، كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء؛ هل تحسون فيها من جدعاء) ثم يقول أبو هريرة رضي الله عنه: اقرؤوا إن شئتم (فطرة الله التي فطر الناس عليها)(3). ولم يقل صلى الله عليه وسلم في الحديث ويُسلمانِه، لأنّ الإسلام مُوافقٌ للفطرة ".(4)

ولذلك لم يكثر السلف رحمهم الله الخوض في إثبات وجود الله تعالى، وحشد الأدلة لتقريره، لأنه من القضايا المسلمة المستقرة في الفطرة البشرية ".(5)

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى، شيخ الإسلام ابن تيمية (6/ 386).

(2) المرجع السابق، (6/ 73).

(3) رواه البخاري برقم كتاب الجنائز، باب ما قيل في أولاد المشركين، برقم (1385)، ورواه مسلم في كتاب القدر، باب كل مولود يولد على الفطرة، برقم (2658).

(4) العقيدة في الله، عمر سليمان الأشقر، دار النفائس، 1419 هـ، الأردن، (69 - 70).

(5) المسائل العقدية التي حكى فيها ابن تيمية الإجماع، خالد بن مسعود الجعيد وآخرون ' دار الهدي النبوي؛ دار الفضيلة، مصر - السعودية، الطبعة الأولى، 1428 هـ، (239).
প্রথমত: ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তির প্রমাণ

সুস্থ স্বভাবসম্পন্ন সকলেই মহান আল্লাহর অস্তিত্বের স্বীকৃতির ব্যাপারে একমত।(১) "নিশ্চয়ই সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলার স্বীকৃতি এবং তাঁর পূর্ণতা এমন এক স্বভাবজাত ও অপরিহার্য বিষয় যার স্বভাব অক্ষুণ্ণ রয়েছে তার ক্ষেত্রে"(২), "কেননা সুস্থ স্বভাব কোনো প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয়:" আর কুরআন মহান আল্লাহর অস্তিত্বের স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘায়িত করেনি, কারণ কুরআন এটিই সাব্যস্ত করে যে, সুস্থ স্বভাব এবং সেই সব আত্মা যা শিরকের অপবিত্রতায় কলুষিত হয়নি, সেগুলো মহান আল্লাহর অস্তিত্বের স্বীকৃতির ওপরই সৃষ্টি করা হয়েছে। বরং তাঁর তাওহীদ বা একত্ববাদ একটি স্বভাবজাত স্বতঃসিদ্ধ বিষয়; আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনে প্রতিষ্ঠিত করো। আল্লাহর সেই ফিতরাত (স্বভাব), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।} [রূম: ৩০]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টিকর্তার স্বীকৃতির ফিতরাত বা স্বভাবজাত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাত বা স্বভাবের ওপরই জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়; যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করে; তোমরা কি তাতে কোনো কান-কাটা বা খুঁতযুক্ত বাচ্চা দেখতে পাও?) অতঃপর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: তোমরা চাইলে পাঠ করো: (আল্লাহর সেই ফিতরাত, যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন)(৩)। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিসে 'তাকে মুসলিম বানায়' কথাটি বলেননি, কারণ ইসলাম স্বভাবের অনুকূল।"(৪)

আর একারণেই সালাফগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) মহান আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের গভীরে প্রবেশ করা এবং তা সাব্যস্ত করার জন্য দলীল জড়ো করার বিষয়ে অধিক কথা বলেননি; কারণ এটি মানব স্বভাবের মাঝে সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত একটি বিষয়।"(৫)

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৬/ ৩৮৬)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, (৬/ ৭৩)।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, জানাযা অধ্যায়, মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে অনুচ্ছেদে, হাদিস নম্বর (১৩৮৫); এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন তাকদীর অধ্যায়, প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে অনুচ্ছেদে, হাদিস নম্বর (২৬৫৮)।

(৪) আল-আকিদাহ ফিল্লাহ, উমর সুলাইমান আল-আশকার, দারুন নাফায়েস, ১৪১৯ হিজরী, জর্ডান, (৬৯ - ৭০)।

(৫) আল-মাসায়িলুল আকিদিয়্যাহ আল্লাতি হাকা ফিহা ইবনু তাইমিয়্যাহ আল-ইজমা, খালিদ বিন মাসউদ আল-জুয়াইদ ও অন্যান্য, দারুল হাদিন নববী; দারুল ফাজিলাহ, মিশর - সৌদি আরব, প্রথম সংস্করণ, ১৪২৮ হিজরী, (২৩৯)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ثانياً: دلالة الشرع

عند النظر في الأدلة الشرعية من الوحي المعصوم نجد أنها تدل على وجود الله عز وجل من خلال إثبات صفاته عز وجل التي تدل على حياته وقيوميّته وعلوه وعلمه وسائر صفاته الدالة على وجوده عز وجل، سواء كان ذلك في كتاب الله تعالى أو في سنة نبيه صلى الله عليه وسلم، ففي كتاب الله تعالى يقول جل وعلا: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ .. الآية} [البقرة: 255]. قال الحافظ ابن كثير رحمه الله: " {الْحَيُّ الْقَيُّومُ} أي الحي في نفسه الذي لا يموت أبداً القيم لغيره ".(1)

ويقول النبي الكريم عليه الصلاة والسلام مبيناً أن الله عز وجل موجود، وأنه الخالق لجميع المخلوقات، بما فيها السماوات والأرض: (كان الله ولم يكن شيء قبله، وكان عرشه على الماء، ثم خلق السموات والأرض، وكتب في الذكر كل شيء).(2) وفي رواية: (كان الله ولم يكن شيء غيره، وكان عرشه على الماء، وكتب في الذكر كل شيء، وخلق السموات والأرض).(3)

ولذلك فالسلف رحمهم الله يرون أن الإيمان بالله تعالى لا يكون إلا بالإيمان بوجوده، وربوبيته، وأسمائه وصفاته سبحانه وتعالى، وأن العبد لا يكون مؤمناً حتى يؤمن بأركان الإيمان الستة؛ وهي: الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، والإيمان باليوم الآخر، وبالقدر خيره وشره"(4)، "وأن الإيمان بالله تعالى هو التصديق بما قال به وأمر به وافترضه ونهى عنه؛ من كل ماجاءت به الرسل ونزلت فيه الكتب "(5).

--------------------------------------------

(1) تفسير القرآن العظيم، الحافظ اسماعيل بن كثير الالقرشي الدمشقي، دار الفيحاء - دمشق- دار السلام - الرياض، ط 1، 1414 هـ، (1/ 413)

(2) أخرجه البخاري رحمه الله في كتاب التوحيد (ص 403 ج 13).

(3) خرجه البخاري رحمه الله في كتاب بدء الخلق (ص 286 ج 6).

(4) كتاب الإيمان، ابن مندة، (1/ 124 - 128).

(5) كتاب الاعتقاد، محمد بن القاضي أبي يعلى الفراء الحنبلي، تحقيق: الدكتور محمد بن عبد الرحمن الخميس، مكتبة المعارف، ط 5، 1426 هـ، الرياض، ص: 24
দ্বিতীয়ত: শরিয়তের প্রমাণ

নির্ভুল ওহি থেকে প্রাপ্ত শরয়ি দলীলগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, তা মহান আল্লাহর গুণাবলি প্রমাণের মাধ্যমে তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়, যা তাঁর জীবন, সর্বসত্তার ধারকতা (কাইয়্যুমিয়্যাত), উচ্চতা, জ্ঞান এবং তাঁর অস্তিত্ব নির্দেশক অন্যান্য সকল গুণাবলির প্রমাণ বহন করে। চাই তা মহান আল্লাহর কিতাবে হোক অথবা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহতে। মহান আল্লাহর কিতাবে আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না... আয়াত} [আল-বাকারা: ২৫৫]। হাফেজ ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "{চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক} অর্থাৎ তিনি স্বীয় সত্তায় জীবিত যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না এবং অন্যদের জন্য ধারক ও পরিচালক"।(১)

সম্মানিত নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বিদ্যমান এবং তিনি আসমান ও জমিনসহ সমস্ত সৃষ্টির স্রষ্টা: (আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে। অতঃপর তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেন এবং লওহে মাহফুজে সবকিছু লিখে রাখেন)।(২) অন্য বর্ণনায় এসেছে: (আল্লাহ ছিলেন এবং তিনি ব্যতীত কিছুই ছিল না, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, তিনি লওহে মাহফুজে সবকিছু লিখে রাখেন এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেন)।(৩)

এজন্যই সালাফে সালেহীন (রাহিমাহুমুল্লাহ) মনে করেন যে, আল্লাহর প্রতি ঈমান কেবল তাঁর অস্তিত্ব, তাঁর রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব) এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির ওপর ঈমান আনার মাধ্যমেই সম্ভব। আর একজন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না সে ঈমানের ছয়টি রুকনের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে; আর সেগুলো হলো: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।(৪) "আর আল্লাহর প্রতি ঈমান হলো তিনি যা বলেছেন, আদেশ করেছেন, ফরজ করেছেন এবং যা নিষেধ করেছেন—অর্থাৎ রাসূলগণ যা কিছু নিয়ে এসেছেন এবং কিতাবসমূহে যা নাজিল হয়েছে—তার সবকিছুকে সত্য বলে স্বীকার করা।"(৫)

--------------------------------------------

(১) তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, হাফেজ ইসমাইল বিন কাসির আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি, দারুল ফায়হা - দামেস্ক - দারুস সালাম - রিয়াদ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি, (১/৪১৩)।

(২) বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) এটি কিতাবুত তাওহিদ-এ বর্ণনা করেছেন (পৃষ্ঠা ৪০৩, খণ্ড ১৩)।

(৩) বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) এটি কিতাবু বাদউল খালক-এ বর্ণনা করেছেন (পৃষ্ঠা ২৮৬, খণ্ড ৬)।

(৪) কিতাবুল ঈমান, ইবনে মানদাহ, (১/১২৪ - ১২৮)।

(৫) কিতাবুল ইতিকাদ, মুহাম্মদ বিন আল-কাদি আবু ইয়ালা আল-ফাররা আল-হাম্বলি, তাহকিক: ডক্টর মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-খুমাইস, মাকতাবাতুল মাআরিফ, ৫ম সংস্করণ, ১৪২৬ হিজরি, রিয়াদ, পৃষ্ঠা: ২৪।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ثالثاً: دلالة العقل على وجود الله عز وجل

دل العقل السليم عَلَى وُجُودِ اللهِ تَعَالَى، ووافق نصوص الشرع في ذلك ويتضح ذلك جلياً فيما يلي:

1 - دليل الخلق والإيجاد: إن هَذِهِ الْمَخْلُوقَاتِ سَابِقُهَا وَلَاحِقُهَا لَا بُدَّ لَهَا مِنْ خَالِقٍ أَوْجَدَهَا؛ إِذْ لَا يُمْكِنُ أَنْ تُوجِدَ نَفْسَهَا بِنَفْسِهَا، وَلَا يُمْكِنُ أَنْ تُوجَدَ صُدْفَةً. فَهِيَ لَا يُمْكِنُ أَنْ تُوجِدَ نَفْسَهَا بِنَفْسِهَا؛ لِأَنَّ الشَّيْءَ لَا يَخْلُقُ نَفْسَهُ؛ لِأَنَّهُ قَبْلَ وُجُودِهِ كَانَ عَدَمًا؛ فَكَيْفَ يَكُونُ خَالِقًا؟! وَلَا يُمْكِنُ أَنْ تُوجَدَ صُدْفَةً؛ لِأَنَّ كُلَّ حَادِثٍ لَا بُدَّ لَهُ مِنْ مُحْدِثٍ، وَلِأَنَّ وُجُودَهَا عَلَى هَذَا النِّظَامِ الْبَدِيعِ المُحْكَمِ، وَالتَّنَاسُقِ الْمُتَآلِفِ، وَالِارْتِبَاطِ الْمُلْتَحِمِ بَيْنَ الْأَسْبَابِ وَمُسَبَّبَاتِهَا، وَبَيْنَ الْكَائِنَاتِ بَعْضِهَا مَعَ بَعْضٍ يَمْنَعُ مَنْعًا بَاتًّا أَنْ يَكُونَ وُجُودُهَا صُدْفَةً. وَإِذَا لَمْ يُمْكِنْ أَنْ تُوجِدَ هَذِهِ الْمَخْلُوقَاتُ نَفْسَهَا بِنَفْسِهَا، وَلَا أَنْ تُوجَدَ صُدْفَةً، تَعَيَّنَ أَنْ يَكُونَ لَهَا مُوجِدٌ؛ وَهُوَ اللهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ. وَقَدْ ذَكَرَ اللهُ تَعَالَى هَذَا الدَّلِيلَ الْعَقْلِيَّ وَالْبُرْهَانَ الْقَطْعِيَّ فِي سُورَةِ الطُّورِ؛ حَيْثُ قَالَ تَعَالَى: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ} [الطور: 35]؛ يَعْنِي أَنَّهُمْ لَمْ يُخْلَقُوا مِنْ غَيْرِ خَالِقٍ، وَلَا هُمُ الَّذِينَ خَلَقُوا أَنْفُسَهُمْ؛ فَتَعَيَّنَ أَنْ يَكُونَ خَالِقُهُمْ هُوَ اللهُ تبارك وتعالى؛ وَلِهَذَا لَمَّا سَمِعَ جُبَيْرُ بْنُ مُطْعِمٍ رضي الله عنه رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ سُورَةَ الطُّورِ فَبَلَغَ هَذِهِ
তৃতীয়ত: মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর বিবেকের প্রমাণ

সুস্থ বিবেক মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং এ বিষয়ে তা শারঈ দলীলসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ। নিচের বিষয়গুলোর মাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে:

১ - সৃষ্টি ও অস্তিত্বদানের প্রমাণ: নিশ্চয়ই এই সৃষ্টিজগত—এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যা কিছু আছে—সবকিছুর জন্য একজন স্রষ্টা থাকা আবশ্যক যিনি এগুলোকে অস্তিত্ব দান করেছেন; কারণ এগুলোর পক্ষে নিজেকে নিজে অস্তিত্ব দেওয়া অসম্ভব, আবার দৈবক্রমে বা আকস্মিকভাবে অস্তিত্ব লাভ করাও অসম্ভব। এগুলোর পক্ষে নিজেকে নিজে সৃষ্টি করা সম্ভব নয়; কারণ কোনো বস্তু নিজেকে সৃষ্টি করতে পারে না, কেননা অস্তিত্ব লাভের পূর্বে তা ছিল অনস্তিত্ব বা অবিদ্যমান; সুতরাং তা স্রষ্টা হয় কীভাবে?! আবার এগুলো দৈবক্রমে বা আকস্মিকভাবে সৃষ্টি হওয়াও সম্ভব নয়; কারণ প্রতিটি নতুন বিষয়ের জন্য একজন উদ্ভাবক বা সংঘটনকারী থাকা আবশ্যক। তাছাড়া এই সৃষ্টিজগত যে এক অপূর্ব ও সুদৃঢ় শৃঙ্খলা, সুসামঞ্জস্যপূর্ণ বিন্যাস এবং কার্যকারণ ও সৃষ্টির মধ্যকার পরস্পর নিবিড় সম্পর্কের ওপর টিকে আছে, তা এগুলো দৈবক্রমে সৃষ্টি হওয়াকে চূড়ান্তভাবে অসম্ভব করে দেয়। আর যখন এই সৃষ্টিজগতের পক্ষে নিজেকে নিজে অস্তিত্ব দান করা অসম্ভব এবং দৈবক্রমে সৃষ্টি হওয়াও অসম্ভব, তখন এটি সুনিশ্চিত যে এগুলোর একজন অস্তিত্বদানকারী রয়েছেন; আর তিনি হলেন আল্লাহ, জগৎসমূহের প্রতিপালক। আল্লাহ তাআলা সূরা আত-তূরে এই বুদ্ধিভিত্তিক দলিল ও অকাট্য প্রমাণ উল্লেখ করেছেন; যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন: {তারা কি কোনো কিছু (স্রষ্টা) ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা?} [সূরা আত-তূর: ৩৫]; অর্থাৎ তারা স্রষ্টা ব্যতীত সৃষ্টি হয়নি এবং তারা নিজেরাও নিজেদের সৃষ্টি করেনি; সুতরাং এটি অবধারিত যে তাদের স্রষ্টা হলেন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা। এই কারণেই যখন জুবায়ের ইবনে মুতয়িম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সূরা আত-তূর পাঠ করতে শুনলেন এবং তিনি যখন এই আয়াতে পৌঁছালেন—
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭)
الْآيَاتِ: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ * أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَلْ لَا يُوقِنُونَ (36) أَمْ عِنْدَهُمْ خَزَائِنُ رَبِّكَ أَمْ هُمُ الْمُصَيْطِرُونَ} [الطور: 35 - 37]، وَكَانَ جُبَيْرٌ يَوْمَئِذٍ مُشْرِكًا، قَال: (كَادَ قَلْبِي أَنْ يَطِيرَ، وَذَلِكَ أَوْلَ مَا وَقَرَ الْإِيمَانُ فِي قَلْبِي)(1).(2) فالله عز وجل خلق المخلوقات، ومن أهمها الإنسان، الذي أوجده الله تعالى من العدم، يقول الله جل وعلا مبينا ذلك: {أَوَلَا يَذْكُرُ الْإِنسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِنْ قَبْلُ وَلَمْ يَكُ شَيْئًا} [مريم: 67] " والاستدلال على الخالق بخلق الانسان في غاية الحسن والاستقامة، وهو طريقة عقلية صحيحة، وهي شرعية؛ دل القرآن عليها وهدى الناس إليها، وبينها وأرشد إليها "(3).

ولذلك دل القرآن الكريم على خلق الخلق وأن الله تعالى هو خالقهم في آيات كَثِيرَة؛ مِنْهَا قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} [الأعراف: 54]. وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ} [يونس: 3].

ويقول سبحانه وتعالى مبيناً أنه الخالق وما سواه مخلوق، ومادام أنه خالق سبحانه لكل شيء فإنه موجود جل وعلا: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ (62) لَهُ مَقَالِيدُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ} [الزمر: 63].

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري، كتاب تفسير القرآن، باب تفسير سورة (والطور) حديث رقم (4375).

(2) مجموع فتاوى ورسائل ابن عثيمين، (5/ 107)

(3) النبوات، شيخ الإسلام ابن تيمية، تحقيق الدكتور عبد العزيز الطويان، أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية، الطبعة الثانية، 1420 هـ، (1/ 292).
আয়াতসমূহ: {তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? (৩৬) না কি তারা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না। (৩৭) না কি তাদের নিকট তোমার রবের ধনভান্ডার রয়েছে, না কি তারা এর নিয়ন্ত্রক?} [আত-তুর: ৩৫ - ৩৭]। জুবায়ের তখন মুশরিক ছিলেন, তিনি বললেন: (আমার হৃদয় যেন উড়ে যেতে চাইছিল, আর এটাই ছিল আমার হৃদয়ে ঈমান দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হওয়ার প্রথম মুহূর্ত)(১)।(২) সুতরাং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সৃষ্টিসমূহ সৃষ্টি করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো মানুষ, যাকে আল্লাহ তাআলা অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা এটি স্পষ্ট করে দিয়ে বলেন: {মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে এর আগে সৃষ্টি করেছি যখন সে কিছুই ছিল না?} [মারইয়াম: ৬৭]। "আর মানুষের সৃষ্টির মাধ্যমে স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ পেশ করা অত্যন্ত সুন্দর ও যথার্থ। এটি একটি সঠিক যৌক্তিক পদ্ধতি এবং এটি শরীয়তসম্মত; কুরআন এর দিকে পথ দেখিয়েছে এবং মানুষকে এর প্রতি হেদায়েত দান করেছে, এটি বর্ণনা করেছে এবং এর দিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে।"(৩).

আর এই কারণেই পবিত্র কুরআন সৃষ্টিজগত সৃষ্টি এবং আল্লাহ তাআলাই যে তাদের স্রষ্টা, তা অনেক আয়াতে প্রমাণ করেছে; তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে ঢেকে দেন, যা তাকে দ্রুত অনুসরণ করে; আর সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আজ্ঞাধীন। জেনে রেখো, সৃষ্টি ও আদেশ তাঁরই। বিশ্বজগতের রব আল্লাহ কত বরকতময়!} [আল-আ’রাফ: ৫৪]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি সব বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব; সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদত করো। তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} [ইউনুস: ৩]।

আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা এটি স্পষ্ট করে বলছেন যে, তিনিই স্রষ্টা এবং তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুই সৃষ্টি, আর যেহেতু তিনি সুবহানাহু প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা, তাই তিনি জাল্লা ওয়া আলা অবশ্যই বিদ্যমান: {আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা এবং তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর কর্মবিধায়ক। (৬২) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর চাবিকাঠি তাঁরই নিকট। আর যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।} [আয-যুমার: ৬২-৬৩]।

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক সংগৃহীত, কিতাবুত তাফসীর, সূরা (ওয়াত-তূর) এর তাফসীর অধ্যায়, হাদীস নং (৪৩৭৫)।

(২) মাজমু ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল ইবনে উসাইমীন, (৫/ ১০৭)।

(৩) আন-নুবুওয়াত, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাহকীক: ডক্টর আব্দুল আজিজ আত-তুআইয়ান, আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ, সৌদি আরব, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪২০ হিজরী, (১/ ২৯২)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
2 - دليل العناية والاتقان: عناية الله تعالى بعباده بإرسال الرسل دليل على وجوده سبحانه، فإن ما جاءت به الرسل من شرائع الله تعالى المتضمنة لجميع ما يصلح الخلق يدل على أن الذي أرسلهم بها رب رحيم حكيم، ولا سيما هذا القرآن المجيد الذي أعجز البشر والجن أن يأتوا بمثله.(1) يقول الله سبحانه وتعالى مبيناً إرساله الرسل إلى عباده: (إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَإِنْ مِّنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ) [فاطر: 24]. قال ابن كثير رحمه الله: وما من أمة خلت من بني آدم إلا وقد بعث الله إليهم النذر، وأزاح عنهم العلل ".(2)

ولا شك أن النظر والتدبر في السموات والأرض وما بينهما من المخلوقات، وما فيها من فعل معجز وتدبير محكم وعناية واتقان؛ يدل بوضوح على وجود الرب الخالق الحكيم؛ الذي أتقن كل شيء خلقه، يقول الله جل وعلا مبيناً هذا الاتقان: {لَا الشَّمْسُ يَنبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ} [يس: 40].

وقد وردت آيات كثيرة تشير إلى هذا المعنى؛ ومنها قوله تعالى: {أَلَمْ نَجْعَلْ الأَرْضَ مِهَادًا وَالْجِبَالَ أَوْتَادًا وَخَلَقْنَاكُمْ أَزْوَاجًا} [النبأ: 6 - 8]، وقوله تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا مُنِيرًا} [الفرقان: 61] وقوله تعالى: {أَفَلَا يَنْظُرُونَ إِلَى الإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ وَإِلَى الْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ وَإِلَى الأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ ([الغاشية: 17 - 19]. " وهذه الآيات تدل على الحث على التفكر في مخلوقات الله تعالى الدالة على توحيده سبحانه، فإذا تم توحيده، لزم الإقرار بوجوده سبحانه.(3)

--------------------------------------------

(1) شرح العقيدة الواسطية، محمد العثيمين، دار ابن الجوزي، الطبعة السادسة، 1421 هـ، الدمام (32 - 33).

(2) تفسير القرآن العظيم، اسماعيل بن كثير الدمشقي، دار الفيحاء- دمشق، دار السلام- الرياض، الطبعة الأولى، 1414 هـ، (3/ 729).

(3) تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، عبد الرحمن بن ناصر السعدي، تحقيق: عبد الرحمن بن معلا اللويحق، الطبعة الأولى، 1421 هـ، مؤسسة الرسالة، بيروت، (906، 922).
২ - বিশেষ যত্ন ও নিপুণতার প্রমাণ: আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর বান্দাদের প্রতি রাসূল প্রেরণের মাধ্যমে যত্ন প্রদর্শন তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ। কেননা রাসূলগণ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যে শরীয়তসমূহ নিয়ে এসেছেন, যা সৃষ্টির সংশোধন ও কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, তা একথাই প্রমাণ করে যে, যিনি তাঁদের পাঠিয়েছেন তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও প্রজ্ঞাময় রব। বিশেষ করে এই মহিমান্বিত কুরআন, যা মানুষ ও জিন জাতিকে এর অনুরূপ কিছু আনতে অক্ষম করে দিয়েছে।(১) মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি রাসূল প্রেরণের বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন: (নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি। আর এমন কোনো জাতি নেই যার নিকট সতর্ককারী অতিক্রান্ত হয়নি) [ফাতির: ২৪]। ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আদম সন্তানদের এমন কোনো জাতি অতিক্রান্ত হয়নি যাদের নিকট আল্লাহ সতর্ককারী পাঠাননি এবং তাদের ওজর-আপত্তি দূর করেননি।"(২)

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আসমান ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সৃষ্টিরাজি, তাতে বিদ্যমান অলৌকিক কর্মতৎপরতা, সুদৃঢ় পরিচালনা এবং বিশেষ যত্ন ও নিপুণতার প্রতি দৃষ্টিপাত ও চিন্তা-গবেষণা করা স্পষ্টভাবে সৃষ্টিকর্তা প্রজ্ঞাময় রবের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়; যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে নিপুণ করেছেন। মহান আল্লাহ এই নিপুণতা বর্ণনা করে বলেন: {সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া, আর রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে ছাড়িয়ে যাওয়া; আর প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে।} [ইয়াসিন: ৪০]।

এই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে আরও অনেক আয়াত বর্ণিত হয়েছে; তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কি জমিনকে শয্যা এবং পাহাড়কে পেরেক সদৃশ বানাইনি? আর আমি তোমাদের জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি।} [আন-নাবা: ৬ - ৮], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কত বরকতময় তিনি যিনি আসমানে নক্ষত্রপুঞ্জ স্থাপন করেছেন এবং তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ ও আলো বিকিরণকারী চাঁদ।} [আল-ফুরকান: ৬১] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি উটের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, তাকে কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আসমানের দিকে যে, তাকে কীভাবে উচ্চে তুলে ধরা হয়েছে? এবং পাহাড়গুলোর দিকে যে, সেগুলোকে কীভাবে গেড়ে দেওয়া হয়েছে? এবং জমিনের দিকে যে, তাকে কীভাবে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে?} [আল-গাশিয়াহ: ১৭ - ১৯]। "আর এই আয়াতগুলো মহান আল্লাহর সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করতে উৎসাহিত করার প্রমাণ বহন করে, যা তাঁর তাওহীদের (একত্ববাদের) দিকনির্দেশনা দেয়। সুতরাং যখন তাঁর তাওহীদ প্রমাণিত হয়, তখন তাঁর অস্তিত্বের স্বীকৃতি প্রদান করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।"(৩)

--------------------------------------------

(১) শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ, মুহাম্মদ আল-উসাইমীন, দার ইবনুল জাওযী, ষষ্ঠ সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি, দাম্মাম (৩২ - ৩৩)।

(২) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ইসমাঈল বিন কাসীর আদ-দামেশকী, দারুল ফাইহা- দামেস্ক, দারুস সালাম- রিয়াদ, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি, (৩/ ৭২৯)।

(৩) তাইসীরুল কারীমির রাহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী, তাহকীক: আব্দুর রহমান বিন মুআল্লা আল-লুওয়াইহিক, প্রথম সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, (৯০৬, ৯২২)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
رابعاً: دلالة الحس على وجود الله عز وجل

دل الحس على وجود الله، فإن الإنسان يدعو الله عز وجل، يقول: يا رب! ويدعو بالشيء، ثم يستجاب له فيه، وهذه دلالة حسية، هو نفسه لم يدع إلا الله، واستجاب الله له، رأى ذلك رأي العين. وكذلك نحن نسمع عمن سبق وعمن في عصرنا، أن الله استجاب لهم. فالأعرابي الذي دخل والرسول صلى الله عليه وسلم يخطب الناس يوم الجمعة قال: هلكت الأموال، وانقطعت السبل فادع الله يغيثنا قال أنس: والله، ما في السماء من سحاب ولا قزعة (أي: قطعة سحاب) وما بيننا وبين سلع (جبل في المدينة تأتي من جهته السحب) من بيت ولا دار. وبعد دعاء الرسول صلى الله عليه وسلم فوراً خرجت سحابة مثل الترس، وارتفعت في السماء وانتشرت ورعدت، وبرقت، ونزل المطر، فما نزل الرسول صلى الله عليه وسلم إلا والمطر يتحادر من لحيته عليه الصلاة والسلام.(1) وهذا أمر واقع يدل على وجود الخالق دلالة حسية. وفي القرآن الكثير من الأدلة على ذلك منها قوله تعالى: {وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ * فَاسْتَجَبْنَا لَه .. ا} لآية [الأنبياء: 83 - 84].(2)

ومن الادلة الحسية كذلك على وجود الله عز وجل هو مشاهدة معجزات الأنبياء، فإنها تدل على أن مرسلهم موجود سبحانه وتعالى، وفي القرآن الكريم ما يؤيد دلالة المعجزة على إثبات وجود الخالق سبحانه وتعالى، وذلك في المحاورة التي وقعت بين موسى عليه السلام وفرعون الجاحد لرب العالمين حيث قال الله تعالى: {قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ قَالَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إنْ كُنتُمْ مُوقِنِينَ*قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُ أَلَا تَسْتَمِعُونَ*قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمْ الأَوَّلِينَ*قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمْ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ*قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ*قَالَ لَئِنْ اتَّخَذْتَ إِلَهَاً غَيْرِي لأَجْعَلَنَّكَ مِنْ الْمَسْجُونِينَ*قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَيْءٍ مُبِينٍ*قَالَ فَأْتِ بِهِ

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري برقم (933)، ومسلم برقم (897)

(2) شرح العقيدة الواسطية، محمد بن صالح العثيمين، دار ابن الجوزي، الطبعة الثانية، 1415 هـ الدمام، (1/ 56).
চতুর্থত: মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর ইন্দ্রিয়লব্ধ প্রমাণের নির্দেশনা।

ইন্দ্রিয়লব্ধ প্রমাণ আল্লাহর অস্তিত্বকে নির্দেশ করে। কেননা মানুষ মহান আল্লাহকে ডাকে, সে বলে: হে রব! এবং সে কোনো কিছুর জন্য দোয়া করে, এরপর তার সেই দোয়া কবুল করা হয়। এটি একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণ; সে নিজে আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ডাকেনি এবং আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দিয়েছেন, যা সে সচক্ষে দেখেছে। একইভাবে আমরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে এবং আমাদের সমসাময়িকদের সম্পর্কে শুনি যে, আল্লাহ তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। যেমন সেই মরুবাসী আরব, যে প্রবেশ করেছিল যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমার দিন লোকদের সামনে খুতবা দিচ্ছিলেন। সে বলল: ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পথসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, অতএব আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দান করেন। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আল্লাহর কসম, আকাশে তখন কোনো মেঘ বা মেঘের সামান্য অংশও ছিল না এবং আমাদের ও 'সালা' পাহাড়ের (মদিনার একটি পাহাড় যেদিক থেকে মেঘ আসে) মাঝখানে কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দোয়ার পরপরই ঢালের মতো একটি মেঘ বের হলো, তা আকাশে উঠল, ছড়িয়ে পড়ল, গর্জন করল এবং বিদ্যুৎ চমকাল। এরপর বৃষ্টি শুরু হলো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বর থেকে নামার আগেই দেখা গেল তাঁর দাড়ি মোবারক বেয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছে।(১) এটি একটি বাস্তব ঘটনা যা স্রষ্টার অস্তিত্বের ওপর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণ দেয়। কুরআনে এ সংক্রান্ত অনেক দলিল রয়েছে, যার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণী অন্যতম: {আর আইয়ুবের কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি তাঁর রবকে ডেকেছিলেন— আমি তো দুঃখ-কষ্টে পড়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। অতঃপর আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম...} আয়াত [আল-আম্বিয়া: ৮৩-৮৪]।(২)

মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর অনুরূপ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণের অন্তর্ভুক্ত হলো নবীদের মুজিযা প্রত্যক্ষ করা। কেননা এটি প্রমাণ করে যে, তাঁদের প্রেরণকারী সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিদ্যমান। পবিত্র কুরআনে স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে মুজিযার দলিলের সমর্থনে আয়াত রয়েছে, যা মূসা (আলাইহিস সালাম) এবং রাব্বুল আলামিনকে অস্বীকারকারী ফেরাউনের মধ্যকার কথোপকথনে ফুটে উঠেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {ফেরাউন বলল, জগতসমূহের রব আবার কে? মূসা বললেন, তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। ফেরাউন তার চারপাশের লোকদের বলল, তোমরা কি শুনছ না? মূসা বললেন, তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও রব। ফেরাউন বলল, তোমাদের নিকট প্রেরিত তোমাদের এই রাসূল তো নিশ্চয়ই একজন পাগল। মূসা বললেন, তিনি পূর্ব ও পশ্চিম এবং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা জ্ঞান সম্পন্ন হও। ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমি ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো, তবে আমি তোমাকে অবশ্যই কারারুদ্ধ করব। মূসা বললেন, আমি যদি তোমার কাছে কোনো স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আসি তবুও কি? ফেরাউন বলল, তাহলে তুমি তা নিয়ে এসো...}

--------------------------------------------

(১) বুখারি কর্তৃক বর্ণিত, নম্বর (৯৩৩) এবং মুসলিম, নম্বর (৮৯৭)।

(২) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়া, মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন, দার ইবনিল জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৫ হিজরি, দাম্মাম, (১/৫৬)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২০)
إِنْ كُنْتَ مِنْ الصَّادِقِينَ*فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ*وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِين ([الشعراء: 23 - 33].

فهذه الآيات تبين أن فرعون أنكر الرب تعالى، وأن موسى عليه السلام أقام عليه الحجة التي تعتبر دليلاً على صدق كونه رسولاً من رب العالمين، والآيات هي اليد والعصى، كما أن هناك آيات أخرى وهي، نقض الثمرات، والسنين والطوفان، والجراد، والقمل، والضفادع، والدم. وهي تسع آيات بينات(1). وأما معجزات عيسى عليه السلام فكانت متعددة يبينها قول الله تعالى: {وَرَسُولاً إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُمْ مِنْ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنْفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْرًا بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُبْرِئُ الأَكْمَهَ وَالأَبْرَصَ وَأُحْيِ الْمَوْتَى بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا تَأْكُلُونَ وَمَا تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآَيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنينَ} [ال عمران: 49](2). وأما معجزات النبي الكريم محمد صلى الله عليه وسلم فكثيرة؛ ولكن أعظمها معجزة القرآن الكريم. وذلك لأنها معجزة باقية على مر الزمن، ناطقة بنبوته عليه الصلاة والسلام في كل زمان ومكان، بينما سائر المعجزات الأخرى التي أيد الله تعالى بها سائر أنبيائه قد انتهت وذهبت وأصبحت تاريخاً يُذكر. قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: " وأما الذين سلكوا طريق الحكمة، فلهم أيضاً مسالك؛ مثل أن يقال: إن الله سبحانه وتعالى إذا بعث رسولاً أمر الناس بتصديقه وطاعته، فلا بد أن ينصب لهم دليلاً يدل على صدقه، فإن إرسال رسولاً بدون علامة وآية تعرف المرسل إليهم أنه رسول: قبحٌ، وسفه في صرائح العقول، وهو نقص في جميع الفطر ".(3)

--------------------------------------------

(1) الرسل والرسالات، عمر بن سليمان الأشقر، مكتبة الفلاح، الطبعة الأولى، الكويت، 1401 هـ (128).

(2) الرسل والرسالات، الأشقر، (130).

(3) النبوات، ابن تيمية، (2/ 889).
যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও। তখন তিনি তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, ফলে হঠাৎ তা এক সুস্পষ্ট অজগর হয়ে গেল। আর তিনি তাঁর হাত বের করলেন, ফলে তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে শুভ্র প্রতিভাত হলো [আশ-শুআরা: ২৩ - ৩৩]।

এই আয়াতগুলো স্পষ্ট করে যে, ফেরাউন মহান রবকে অস্বীকার করেছিল এবং মুসা (আলাইহিস সালাম) তার বিরুদ্ধে এমন প্রমাণ পেশ করেছিলেন যা রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল হওয়ার সত্যতার দলিল হিসেবে গণ্য হয়। আর সেই নিদর্শনগুলো ছিল হাত এবং লাঠি। এছাড়াও আরও অন্যান্য নিদর্শন রয়েছে, আর তা হলো: ফসলের ঘাটতি, দুর্ভিক্ষ, প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ এবং রক্ত। এগুলো ছিল নয়টি সুস্পষ্ট নিদর্শন(১)। আর ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মুজিজাসমূহ ছিল বহুমুখী, যা মহান আল্লাহর এই বাণী স্পষ্ট করে: {আর বনী ইসরাঈলের জন্য তাকে রাসূল হিসেবে পাঠাবেন (যিনি বলবেন), নিশ্চয়ই আমি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি যে, আমি তোমাদের জন্য কাদা মাটি দিয়ে পাখির অবয়ব তৈরি করব, তারপর তাতে ফুঁ দেব, ফলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে তা পাখি হয়ে যাবে। আর আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করব এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে মৃতকে জীবিত করব। আর তোমরা যা আহার করো এবং যা তোমাদের ঘরে জমা রাখো, তা আমি তোমাদের জানিয়ে দেব। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যদি তোমরা মুমিন হও} [আল ইমরান: ৪৯](২)। আর সম্মানিত নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুজিজাসমূহ অসংখ্য; তবে সেগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কুরআনুল কারীমের মুজিজা। কারণ এটি এমন এক মুজিজা যা যুগ যুগ ধরে অবশিষ্ট রয়েছে এবং যা প্রতিটি সময়ে ও স্থানে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াতের সাক্ষ্য দিচ্ছে। পক্ষান্তরে অন্যান্য সকল মুজিজা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা অন্যান্য নবীদের সাহায্য করেছিলেন, তা শেষ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে কেবল ইতিহাস হিসেবেই রয়ে গেছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর যারা হিকমত বা প্রজ্ঞার পথ অনুসরণ করেছেন, তাদেরও কিছু পদ্ধতি রয়েছে; যেমন এটি বলা যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন কোনো রাসূল প্রেরণ করেন, তখন মানুষকে তাঁকে বিশ্বাস করার ও তাঁর আনুগত্য করার নির্দেশ দেন। সুতরাং অবশ্যই তাদের জন্য এমন কোনো দলিল স্থাপন করা আবশ্যক যা তাঁর সত্যতাকে প্রমাণ করবে। কারণ, কোনো চিহ্ন বা নিদর্শন ছাড়াই এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করা, যার মাধ্যমে সম্বোধিত ব্যক্তিরা জানতে পারবে যে তিনি একজন রাসূল—তা সুস্থ বিবেকের দৃষ্টিতে অত্যন্ত কদর্য ও নির্বুদ্ধিতা এবং এটি সকল সৃষ্টিগত স্বভাবের (ফিতরাত) মধ্যে একটি অসম্পূর্ণতা।"(৩)

--------------------------------------------

(১) আর-রুসুল ওয়াল রিসালাত, উমর বিন সুলাইমান আল-আশকার, মাকতাবাতুল ফালাহ, প্রথম সংস্করণ, কুয়েত, ১৪০১ হিজরি (১২৮)।

(২) আর-রুসুল ওয়াল রিসালাত, আল-আশকার, (১৩০)।

(৩) আন-নুবুওয়াত, ইবনে তাইমিয়্যাহ, (২/ ৮৮৯)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الثاني: أثر الشك في وجود الله عز وجل على عقيدة المسلم

الإيمان بالله تعالى هو أحد أركان الإيمان، ويدخل في الإيمان بالله تعالى الإيمان بوجوده سبحانه وتعالى؛ وهو أمر من أمور الغيب الواجب الإيمان بها، ومن أنكر شيئاً من أمور الغيب فهو خارج من الإسلام، فإن من اركان الإيمان: الإيمان بالله تعالى بمعرفته والتيقن بوجوده والإيمان بربويته وأسمائه وصفاته(1)، ويرى السلف رحمهم الله أن الإيمان قول باللسان واعتقاد بالقلب وعمل بالجوارح، ويقولون: هو قول وعمل ومعرفة، أي: اعتقاد ونية(2).

والشك في وجود الله تعالى مخالف للفطر السليمة كما تقدم؛ لكن نظراً لانتشاره في السنوات الأخيرة بشكل مخيف في البلاد الإسلامية(3)، كان لزاماً بيان أثره على عقيدة المسلم، فإن الشك في وجود الله عز وجل هو في الحقيقة شك في ربوبيته سبحانه وتعالى، فمن شك أنه لا يوجد رب خالق مالك متصرف في هذا الكون فقد وقع في الكفر، ومن أنكر ربوبية الله عز وجل فإنه سينكر ألوهيته من باب أولى؛ إذ لا يمكن أن يتعبد الإنسان معدوماً؛ ونظراً لأن الشك في ربوبية الله تعالى يؤدي إلى الكفر؛ لتعلقه بالاعتقاد الذي يجب على المسلم اعتقاده(4)؛ فسأبين في هذا المبحث؛ حكم الشك في وجود الله تعالى، وما يترتب على الشك في وجوده سبحانه وتعالى؛ فيما يلي:

--------------------------------------------

(1) اعتقاد أهل السنة والجماعة، الإمام عدي من مسافر (467 - 558 هـ)، تحقيق: أحمد فريد المزيد، مطبوع مع كتاب أصول السنة للإمام أحمد، دار الكتب العلمية، 1427 هـ، بيروت، ص: (283).

(2) شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة، هبة الله بن الحسن اللالكائي، دار ابن حزم، ط 1، 1426 هـ، بيروت، (2/ 95)، (4/ 403 - 415)، كتاب اعتقاد أهل السنة، الاسماعيلي، ص: (43)، كتاب الإيمان، أبو بكر عبد الله بن محمد بن أبي شيبة، تحقيق: ناصر الدين الألباني، المكتب الإسلامي، ط 2، 1403 هـ، بيروت، ص: (50)،.

(3) الموسوعة الميسرة في الأديان والمذاهب والأحزاب المعاصرة، مانع بن حماد الجهني، الطبعة الخامسة، 1424 هـ، دار الندوة العالمية، الرياض (2/ 803 - 804).

(4) الاعتقاد على مذهب السلف أهل السنة والجماعة، الحافظ أبو بكر أحمد بن الحسن البيهقي، دار الكتب العلمية، ط 2، 1406 هـ، لبنان، ص: (95)، كتاب الإيمان، الحافظ محمد بن إسحاق بن يحي بن مندة، تحقيق: أ. د. علي بن محمد الفقيهي، دار الفضيلة، ط 4، 1421 هـ، الرياض، (1/ 123)، كتاب اعتقاد أهل السنة، الحافظ أبو بكر أحمد بن إبراهيم الاسماعيلي (277 - 371)، ط 1، دار المنهاج، 1430 هـ، الرياض، ص: (35).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর (মহা মহিমান্বিত) অস্তিত্বের ব্যাপারে সন্দেহের প্রভাব মুসলিমের আকিদাহর ওপর

মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা হলো ঈমানের অন্যতম রুকন। মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর অস্তিত্বের ওপর ঈমান আনা; আর এটি গায়েবি বা অদৃশ্য বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব বা আবশ্যিক। যে ব্যক্তি গায়েবের কোনো বিষয়কে অস্বীকার করবে সে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত হবে। কেননা ঈমানের রুকনসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ ও তাঁর অস্তিত্বের দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে তাঁর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর রুবুবিয়্যাহ (প্রভৃত্ব), নামসমূহ ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনা(১)। সালাফগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) মনে করেন যে, ঈমান হলো জিহ্বা দ্বারা স্বীকৃতি, অন্তরে বিশ্বাস এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা। তাঁরা বলেন: এটি হলো কথা, কাজ ও পরিচিতি; অর্থাৎ বিশ্বাস ও নিয়ত(২)।

মহান আল্লাহর অস্তিত্বে সন্দেহ পোষণ করা সুস্থ স্বভাবজাত প্রবৃত্তির পরিপন্থী, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে; কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম দেশগুলোতে এটি আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে(৩), মুসলিমের আকিদাহর ওপর এর প্রভাব বর্ণনা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কেননা মহান আল্লাহর অস্তিত্বে সন্দেহ পোষণ করা প্রকৃতপক্ষে তাঁর রুবুবিয়্যাহর (প্রভৃত্বের) ক্ষেত্রেই সন্দেহ পোষণ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মহাবিশ্বে একজন স্রষ্টা, মালিক ও পরিচালক রবের অস্তিত্ব নেই বলে সন্দেহ পোষণ করল, সে কুফরে পতিত হলো। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর রুবুবিয়্যাহকে অস্বীকার করবে, সে তো স্বাভাবিকভাবেই তাঁর উলুহিয়্যাহকে (ইবাদত বা উপাস্যতা) অস্বীকার করবে; কারণ মানুষ কোনো অনস্তিত্বশীল সত্তার ইবাদত করতে পারে না। যেহেতু মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাহর ক্ষেত্রে সন্দেহ পোষণ করা কুফরের দিকে ধাবিত করে—কারণ এটি সেই বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট যা পোষণ করা একজন মুসলিমের জন্য আবশ্যিক(৪)—তাই আমি এই পরিচ্ছেদে মহান আল্লাহর অস্তিত্বে সন্দেহ করার হুকুম এবং তাঁর অস্তিত্বে সন্দেহ করার ফলে যা যা সাব্যস্ত হয়, তা নিম্নে বর্ণনা করব:

--------------------------------------------

(১) ইতিকাদু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, ইমাম আদি বিন মুসাফির (৪৬৭ - ৫৫৮ হিজরি), তাহকিক: আহমদ ফরিদ আল-মাজীদ, ইমাম আহমদের উসূলুস সুন্নাহ গ্রন্থের সাথে মুদ্রিত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪২৭ হিজরি, বৈরুত, পৃষ্ঠা: (২৮৩)।

(২) শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, হিবাতুল্লাহ বিন হাসান আল-লালকাঈ, দার ইবনু হাযম, ১ম সংস্করণ, ১৪২৬ হিজরি, বৈরুত, (২/ ৯৫), (৪/ ৪০৩ - ৪১৫); কিতাবু ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ, আল-ইসমাঈলী, পৃষ্ঠা: (৪৩); কিতাবুল ঈমান, আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবি শাইবাহ, তাহকিক: নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী, আল-মাকতাবুল ইসলামী, ২য় সংস্করণ, ১৪০৩ হিজরি, বৈরুত, পৃষ্ঠা: (৫০)।

(৩) আল-মাওসুআতুল মুয়াসসারাহ ফিল আদইয়ানি ওয়াল মাযাহিবি ওয়াল আহযাবিল মুআসিরাহ, মানে' বিন হাম্মাদ আল-জুহানি, পঞ্চম সংস্করণ, ১৪২৪ হিজরি, দারুন নাদওয়াতিল আলামিয়্যাহ, রিয়াদ (২/ ৮০৩ - ৮০৪)।

(৪) আল-ইতিকাদ আলা মাযহাবিস সালাফ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন হাসান আল-বাইহাকী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ২য় সংস্করণ, ১৪০৬ হিজরি, লেবানন, পৃষ্ঠা: (৯৫); কিতাবুল ঈমান, হাফেজ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াহইয়া বিন মানদাহ, তাহকিক: প্রফেসর ড. আলী বিন মুহাম্মদ আল-ফাকীহী, দারুল ফযীলাহ, ৪র্থ সংস্করণ, ১৪২১ হিজরি, রিয়াদ, (১/ ১২৩); কিতাবু ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ, হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন ইব্রাহিম আল-ইসমাঈলী (২৭৭ - ৩৭১), ১ম সংস্করণ, দারুল মিনহাজ, ১৪৩০ হিজরি, রিয়াদ, পৃষ্ঠা: (৩৫)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌أولاً: حكم الشك في وجود الله تعالى

لكي يتضح حكم الشك في وجود الله تعالى؛ فلا بد من بيان اعتقاد السلف في حكم من شك في وجود الله تعالى، وإيضاح الرد على من احتج بشك الأنبياء، وأن الشك في وجود الله تعالى يؤدي إلى الكفر فيما يلي:

1 - اعتقاد السلف في حكم من شك في وجود الله تعالى

يعتقد السلف رحمهم الله أن الله تعالى موجود؛ وأنه رب العباد وخالقهم ومُوجدهم من العدم، وأنه خالق كل شيء(1)، وأن الله تعالى ممستوي على عرشه بائن من خلقه أحاط بكل شيء علماً ليس كمثله شيء وهو السميع البصير(2). ولهذا يقول السلف رحمهم الله: " إثبات الله عز وجل إثبات وجود لا إثبات كيفية "(3).

ويعتقد السلف بأن الإيمان بالله تعالى هو أحد أركان الإيمان الستة لقول النبي صلى الله عليه وسلم في حديث جبريل المشهور: (الإِيمَان أَنْ تُؤْمِنَ بِالله وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ)(4).

وبناء على ذلك فإن أول أركان من ركن الإيمان هو الإيمان بالله عز وجل، ويتضمن الإيمان بالله عز وجل الإيمان بما يلي(5):

--------------------------------------------

(1) الاعتقاد على مذهب السلف، البيهقي، ص: (8 - 10)، بيان المعاني في شرح مقدمة أبي زيد القيرواني، صالح بن فوزان الفوزان، دار ابن الجوزي، ط 1، 1435 هـ، الدمام، ص: (50).

(2) أصول السنة واعتقاد الدين، الإمام عبد الرحمن بن حاتم الرازي، (ت 327 هـ)، تحقيق: أحمد فريد، طبع مع كتاب أصول السنة للإمام أحمد، دار الكتب العلمية، 1427 هـ، بيروت، ص: (133).

(3) جواب أبي بكر الخطيب البغدادي عن سؤال بعض أهل دمشق في الصفات، طبع بذيل كتاب اعتقاد أهل السنة للاسماعيلي، تقريظ: حماد الأنصاري، ط 2، دار المنهاج، 1430 هـ، الرياض، ص: (72).

(4) أخرجه مسلم، كتاب الإيمان، باب بيان الإيمان والإسلام والإحسان رقم (8).

(5) شرح أصول الإيمان، محمد بن صالح العثيمين، دار الوطن، الطبعة الأولى، 1410 هـ، الرياض، ص: 15 - 23
প্রথমত: মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহের বিধান

মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহের বিধান স্পষ্ট করার লক্ষ্যে আল্লাহর অস্তিত্বে সন্দেহ পোষণকারীর বিধান সম্পর্কে সালাফদের আকিদা বর্ণনা করা, নবীদের সন্দেহের বিষয়ে যারা দলিল পেশ করে তাদের খণ্ডন করা এবং আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ যে কুফরির দিকে ধাবিত করে—তা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন:

১ - মহান আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ পোষণকারীর বিধান বিষয়ে সালাফদের আকিদা

সালাফগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) বিশ্বাস করেন যে, মহান আল্লাহ বিদ্যমান; তিনি বান্দাদের রব, তাদের স্রষ্টা এবং অনস্তিত্ব থেকে তাদের অস্তিত্বদানকারী। তিনি সবকিছুর স্রষ্টা(১)। মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক, তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে, তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা(২)। একারণেই সালাফগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহর সাব্যস্তকরণ হলো তাঁর অস্তিত্বের সাব্যস্তকরণ, তাঁর ধরন (কাইফিয়াত) সাব্যস্তকরণ নয়"(৩)।

সালাফগণ বিশ্বাস করেন যে, মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান হলো ঈমানের ছয়টি রুকনের অন্যতম। জিবরীলের প্রসিদ্ধ হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী এর প্রমাণ: (ঈমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস করবে আল্লাহকে, তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর কিতাবসমূহকে, তাঁর রাসূলদের, পরকালকে এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দকে)(৪)।

এরই ভিত্তিতে ঈমানের রুকনসমূহের মধ্যে প্রথম রুকন হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা। আর আল্লাহর প্রতি ঈমান নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে(৫):

--------------------------------------------

(১) আল-ইতিকাদ আলা মাযহাবিস সালাফ, আল-বাইহাকী, পৃষ্ঠা: (৮ - ১০), বায়ানুল মাআনি ফী শারহি মুকাদ্দিমাতি আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানি, সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান, দার ইবনিল জাওযি, ১ম প্রকাশ, ১৪৩৫ হিজরি, দাম্মাম, পৃষ্ঠা: (৫০)।

(২) উসুলুস সুন্নাহ ওয়া ইতিকাদুদ দ্বীন, ইমাম আবদুর রহমান বিন হাতিম আর-রাজি, (মৃত্যু: ৩২৭ হিজরি), তাহকিক: আহমাদ ফরিদ, ইমাম আহমাদের উসুলুস সুন্নাহ কিতাবের সাথে মুদ্রিত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪২৭ হিজরি, বৈরুত, পৃষ্ঠা: (১৩৩)।

(৩) জাওয়াবু আবি বকর আল-খতিব আল-বাগদাদি আন সুয়ালি বাদি আহলি দিমাস্ক ফিস সিফাত, আল-ইসমাঈলির ইতিকাদু আহলিস সুন্নাহ কিতাবের শেষে মুদ্রিত, তাকরিজ: হাম্মাদ আল-আনসারি, ২য় প্রকাশ, দারুল মিনহাজ, ১৪৩০ হিজরি, রিয়াদ, পৃষ্ঠা: (৭২)।

(৪) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: ঈমান, ইসলাম ও ইহসানের বর্ণনা, নম্বর (৮)।

(৫) শারহু উসুলিল ঈমান, মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন, দারুল ওয়াতান, প্রথম সংস্করণ, ১৪১০ হিজরি, রিয়াদ, পৃষ্ঠা: ১৫ - ২৩।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৩)
أ - الإيمان بوجوده، أي: أنه موجود سبحانه وتعالى.

ب - الإيمان بربوبيته، أي: أنه سبحانه هو الرب لا شريك له ولا معين.

ت - الإيمان بألوهيته، أي: أنه الإله الحق لا شريك له.

ث - الإيمان بأسمائه وصفاته، أي: إثبات ما أثبتع الله تعالى في كتابه، أو أثبته رسوله صلى الله عليه وسلم في سنته من الأسماء والصفات على الوجه اللائق به؛ من غير تحريف ولا تعطيل، ولا تكييف ولا تمثيل.

وأما الشك في وجود الله تعالى فيرى السلف أنه كفر بالله سبحانه وتعالى، وهو ما يسمونه كفر الشك،(1) وهو التردد، وعدم الجزم بصدق الرسل، ويقال له كفر الظن، وهو ضد الجزم

--------------------------------------------

(1) قسم العلماء الكفر إلى عدة أقسام تندرج تحتها كثير من صور الشرك وأنواعه وهي:

1) كفر الجحود والتكذيب: وهذا الكفر تارة يكون تكذيباً بالقلب ــ وتارة يكون تكذيبا باللسان أو الجوارح وذلك بكتمان الحق وعدم الانقياد له ظاهرا مع العلم به ومعرفته باطناً، ككفر اليهود بمحمد صلى الله عليه وسلم فقد قال الله تعالى عنهم: (فلما جاءهم ما عرفوا كفروا به) [البقرة: 89] وقال سبحانه أيضا: (وإن فريقا منهم ليكتمون الحق وهم يعلمون) (البقرة: 146) وذلك أن التكذيب لا يتحقق إلا ممن علمَ الحقَّ فرده ولهذا نفى الله أن يكون تكذيب الكفار للرسول صلى الله عليه وسلم على الحقيقة والباطن وإنما باللسان فقط؛ فقال تعالى: (فَإِنَّهُمْ لا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ) الأنعام/ 33 وقال عن فرعون وقومه: (وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْماً وَعُلُوّاً) [النمل/ 14]، ويلحق بهذا الكفر كفر الاستحلال فمن استحل ما عَلِم من الشرع حرمته فقد كذَّب الرسول صلى الله عليه وسلم فيما جاء به، وكذلك من حَرَّم ما عَلِم من الشرع حِله.

[(أعلام السنة المنشورة 177) و (نواقض الإيمان القولية والعملية، عبد العزيز آل عبد اللطيف (36 – 46)، ضوابط التكفير، عبد الله القرني (183 – 196)]

2) كفر الإعراض والاستكبار: ككفر إبليس إذ يقول الله تعالى فيه: (إِلا إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ) [البقرة/ 34]. وكما قال تعالى: (وَيَقُولُونَ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَمَا أُولَئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ) النور/ 47 فنفى الإيمان عمن تولى عن العمل، وإن كان أتى بالقول. فتبين أن كفر الإعراض هو: ترك الحق لا يتعلمه ولا يعمل به سواء كان قولا أو عملا أو اعتقادا. يقول تعالى: (وَالَّذِينَ كَفَرُوا عَمَّا أُنْذِرُوا مُعْرِضُونَ) [الأحقاف/ 3] فمن أعرض عما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم بالقول كمن قال لا أتبعه، أو بالفعل كمن أعرض وهرب من سماع الحق الذي جاء به أو وضع أصبعيه في أذنيه حتى لا يسمع، أو سمعه لكنه أعرض بقلبه عن الإيمان به، وبجوارحه عن العمل فقد كفرَ كُفْر إعراض.

3) كفر النفاق: وهو ما كان بعدم تصديق القلب وعمله، مع الانقياد ظاهرا رئاء الناس ككفر ابن سلول وسائر المنافقين الذين قال الله تعالى عنهم: (وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ. يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ .. الخ الآيات) البقرة/ 8–20

4) كفر الشك والريبة: وهو التردد في اتباع الحق أو التردد في كونه حقاً، لأن المطلوب هو اليقين بأن ما جاء به الرسول حق لا مرية فيه، فمن جوَّز أن يكون ما جاء به ليس حقا ًفقد كفر؛ كفر الشك أو الظن كما قال تعالى: (وَدَخَلَ جَنَّتَهُ وَهُوَ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ قَالَ مَا أَظُنُّ أَنْ تَبِيدَ هَذِهِ أَبَداً. وَمَا أَظُنُّ السَّاعَةَ قَائِمَةً وَلَئِنْ رُدِدْتُ إِلَى رَبِّي لأجِدَنَّ خَيْراً مِنْهَا مُنْقَلَباً. قَالَ لَهُ صَاحِبُهُ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَكَفَرْتَ بِالَّذِي خَلَقَكَ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ سَوَّاكَ رَجُلاً. لَكِنَّا هُوَ اللَّهُ رَبِّي وَلا أُشْرِكُ بِرَبِّي أَحَداً) [الكهف: 35 - 38].
ক - তাঁর অস্তিত্বের ওপর ঈমান আনা, অর্থাৎ তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিদ্যমান।

খ - তাঁর রুবুবিয়্যাতের ওপর ঈমান আনা, অর্থাৎ তিনি সুবহানাহু একমাত্র রব, তাঁর কোনো শরিক বা সাহায্যকারী নেই।

গ - তাঁর উলুহিয়্যাতের ওপর ঈমান আনা, অর্থাৎ তিনি সত্য ইলাহ, তাঁর কোনো শরিক নেই।

ঘ - তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির ওপর ঈমান আনা, অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহতে আল্লাহর জন্য যে সকল নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন, তা তাঁর শানের উপযোগী পন্থায় সাব্যস্ত করা; কোনো প্রকার বিকৃতি ও অস্বীকার ছাড়াই এবং কোনো ধরন নির্ধারণ ও সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই।

আর আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহের ব্যাপারে সালাফদের অভিমত হলো—এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে কুফরি। একে তাঁরা 'সন্দেহের কুফর' বলেন,(১) আর তা হলো দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং রাসূলগণের সত্যবাদিতার বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাসের অভাব। একে ধারণাপ্রসূত কুফরও বলা হয়, যা দৃঢ় বিশ্বাসের বিপরীত।

--------------------------------------------

(১) আলেমগণ কুফরকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছেন, যার অধীনে শিরকের অনেক রূপ ও প্রকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেগুলো হলো:

১) অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কুফর: এই কুফর কখনো অন্তরে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মাধ্যমে হয়—আবার কখনো জিহবা বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে হয়; অর্থাৎ সত্য গোপন করা এবং অন্তরে তা জানা ও চেনা সত্ত্বেও বাহ্যিকভাবে তার আনুগত্য না করা। যেমন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ইহুদিদের কুফর। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (অতঃপর তাদের কাছে যখন তা আসলো যা তারা চিনত, তখন তারা তা অস্বীকার করল) [আল-বাকারাহ: ৮৯] এবং তিনি আরও বলেছেন: (আর তাদের এক দল অবশ্যই সত্য গোপন করে, অথচ তারা তা জানে) (আল-বাকারাহ: ১৪৬)। কারণ মিথ্যা প্রতিপন্ন করা কেবল তখনই সম্ভব যখন কেউ সত্য জানার পর তা প্রত্যাখ্যান করে। এ কারণেই আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কাফেরদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করাকে প্রকৃত ও অভ্যন্তরীণ দিক থেকে নাকচ করেছেন, বরং তা কেবল জিহবায় সীমাবদ্ধ ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: (তারা তো আপনাকে মিথ্যাবাদী বলছে না, বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকেই অস্বীকার করছে) আল-আন’আম/ ৩৩। তিনি ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেন: (তারা অন্যায় ও অহংকারবশত সেগুলো অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো নিশ্চিত সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল) [আন-নামল/ ১৪]। এই কুফরের সাথে কোনো কিছুকে হালাল মনে করার কুফরও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি শরিয়তের কোনো হারাম বিষয়কে হারাম জেনেও হালাল মনে করল, সে মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তাতে তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি শরিয়তের কোনো হালাল বিষয়কে হালাল জেনেও হারাম করল।

[(আলামুস সুন্নাহ আল-মানশুরাহ ১৭৭) এবং (নাওয়াকিদুল ঈমান আল-কাউলিইয়াহ ওয়াল আমালিইয়াহ, আব্দুল আজিজ আল-লতিফ ৩৬–৪৬), দাওয়া বিতুত তাকফির, আব্দুল্লাহ আল-কারনি ১৮৩–১৯৬)]

২) বিমুখতা ও অহংকারের কুফর: যেমন ইবলিসের কুফর, যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: (কিন্তু ইবলিস অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হলো) [আল-বাকারাহ/ ৩৪]। আল্লাহ আরও বলেন: (তারা বলে, আমরা আল্লাহ ও রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি এবং আমরা আনুগত্য করছি; অতঃপর তাদের একটি দল এর পরে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তারা মুমিন নয়) আন-নূর/ ৪৭। এখানে আমল থেকে বিমুখ ব্যক্তির ঈমান নাকচ করা হয়েছে, যদিও সে মুখে স্বীকার করেছে। সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, বিমুখতার কুফর হলো: সত্য বর্জন করা, তা না শেখা এবং সে অনুযায়ী আমল না করা—তা কথা, কাজ বা বিশ্বাস যাই হোক না কেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর কাফেররা তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে তা থেকে বিমুখ) [আল-আহক্বাফ/ ৩]। সুতরাং যে ব্যক্তি কথা দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল—যেমন কেউ বলল 'আমি তাঁকে অনুসরণ করব না'; অথবা কাজের মাধ্যমে মুখ ফিরিয়ে নিল—যেমন কেউ রাসূলের আনীত সত্য শোনা থেকে পালিয়ে বেড়াল বা কানে আঙুল দিয়ে রাখল যাতে শুনতে না পায়; অথবা সত্য শুনল কিন্তু অন্তর দিয়ে তার ওপর ঈমান আনতে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে আমল করতে বিমুখ হলো, তবে সে বিমুখতার কুফর করল।

৩) নিফাকের কুফর: আর তা হলো মানুষের সামনে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বাহ্যিক আনুগত্যের সাথে অন্তরের বিশ্বাস ও আমলের অনুপস্থিতি। যেমন ইবনে সালুল এবং অন্যান্য মুনাফিকদের কুফর, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছি, অথচ তারা মুমিন নয়। তারা আল্লাহ ও মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়, অথচ তারা কেবল নিজেদেরই ধোঁকা দিচ্ছে এবং তারা তা উপলব্ধি করতে পারছে না... ইত্যাদি আয়াতসমূহ) আল-বাকারাহ/ ৮–২০

৪) সন্দেহ ও সংশয়ের কুফর: আর তা হলো সত্যের অনুসরণে দ্বিধা করা অথবা তা সত্য হওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা। কারণ কাম্য হলো এই দৃঢ় বিশ্বাস যে, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা সন্দেহাতীত সত্য। সুতরাং যে ব্যক্তি রাসূলের আনীত বিষয় সত্য না হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, সে কুফরি করল; যা সন্দেহ বা ধারণার কুফর। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আর নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বলল, আমার মনে হয় না যে এটি কখনো ধ্বংস হবে। আর আমি মনে করি না যে কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমাকে যদি আমার রবের কাছে ফিরিয়ে নেওয়াও হয়, তবে আমি অবশ্যই এর চেয়েও উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল পাব। তার সঙ্গী তাকে বিতর্ককালে বলল, তুমি কি সেই সত্তাকে অস্বীকার করছ যিনি তোমাকে মাটি থেকে, তারপর বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর পূর্ণাঙ্গ মানুষরূপে গড়েছেন? কিন্তু আমি বলি, আল্লাহই আমার রব এবং আমি আমার রবের সাথে কাউকে শরিক করি না) [আল-কাহফ: ৩৫ - ৩৮]।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
واليقين. وقد يعبر عنه السلف بالنية؛ قال ابن مندة رحمه الله(1): " ذكر وجوب النية للإسلام والإيمان بالله وحده لا شريك له "(2).

والدليل على كفر الشك قوله تعالى: {وَدَخَلَ جَنَّتَهُ وَهُوَ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ قَالَ مَا أَظُنُّ أَنْ تَبِيدَ هَذِهِ أَبَدًا وَمَا أَظُنُّ الساعَةَ قَائِمَةً وَلَئِنْ رُدِدْتُ إِلَى رَبِّي لأجِدَنَّ خَيْرًا مِنْهَا مُنْقَلَبًا قَالَ لَهُ صَاحِبُهُ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَكَفَرْتَ بِالَّذِي خَلَقَكَ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ سَواكَ رَجُلًا لَكِنا هُوَ اللَّهُ رَبِّي وَلا أُشْرِكُ بِرَبِّي أَحَدًا} [الكهف: 35 - 38]. قال ابن جرير الطبري رحمه الله: " {وَهُوَ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ} وظلمه نفسه: كفره بالبعث، وشكه في قيام الساعة، ونسيانه المعاد إلى الله تعالى، فأوجب لها بذلك سخط الله وأليم عقابه، وقوله: {قَالَ مَا أَظُنُّ أَنْ تَبِيدَ هَذِهِ أَبَدًا} يقول جلّ ثناؤه: قال لما عاين جنته، ورآها وما فيها من الأشجار والثمار والزروع والأنهار المطردة شكاً في المعاد إلى الله: ما أظنّ أن تبيد هذه الجنة أبدا، ولا تفنى ولا تَخْرب، وما أظنّ الساعة التي وعد الله خلقه الحشر فيها

--------------------------------------------

(1) هو الإمام الحافظ أبو عبد الله محمد بن إسحاق بن يحي بن مندة، ولد في سنة عشر وثلاثمائة أو إحدى عشر وثلاثمائة بأصبهان، ونشأ نشأة علمية فوالده وجده أئمة، رحل في طلب العلم إلى نيسابور والعراق والمدينة وغيرها، توفي سنة 395 هـ، (مقدمة كتاب الإيمان، ابن مندة، مرجع سابق، (1/ 22 - 51).

(2) كتاب الإيمان، ابن مندة، (1/ 154).
এবং দৃঢ় বিশ্বাস। সালাফগণ কখনো একে ‘নিয়ত’ শব্দ দিয়েও প্রকাশ করেছেন; ইবনু মান্দাহ (রাহিমাহুল্লাহ)(১) বলেছেন: "একমাত্র আল্লাহ, যাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁর প্রতি ইসলাম ও ঈমানের জন্য নিয়তের আবশ্যকতা প্রসঙ্গে আলোচনা।"(২).

সন্দেহজনিত কুফরির প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর সে নিজের প্রতি জুলুম করে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বলল, ‘আমার মনে হয় না যে এটি কখনো ধ্বংস হবে। আর আমি মনে করি না যে কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমাকে যদি আমার রবের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হয়-ই, তবে আমি অবশ্যই এর চেয়েও উত্তম কোনো প্রত্যাবর্তনস্থল পাব।’ তার সঙ্গী তার সাথে আলাপকালে তাকে বলল, ‘তুমি কি সেই সত্তাকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে মাটি থেকে, এরপর শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সবশেষে তোমাকে পূর্ণাঙ্গ মানুষে রূপ দান করেছেন? কিন্তু আমি তো বলি, তিনিই আল্লাহ আমার রব এবং আমি আমার রবের সাথে কাউকে শরিক করি না।’} [সূরা আল-কাহফ: ৩৫ - ৩৮]। ইবনু জারীর আত-তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "{আর সে নিজের প্রতি জুলুম করে} আর নিজের ওপর তার এই জুলুম হলো: পুনরুত্থানকে অস্বীকার করা, কিয়ামত সংঘটিত হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ করা এবং আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার কথা ভুলে যাওয়া। এর মাধ্যমে সে নিজের ওপর আল্লাহর ক্রোধ ও তাঁর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি অবধারিত করে নিয়েছে। আর তাঁর বাণী: {সে বলল, ‘আমার মনে হয় না যে এটি কখনো ধ্বংস হবে’} মহান আল্লাহ বলছেন: সে যখন তার বাগান প্রত্যক্ষ করল এবং সেখানে গাছপালা, ফলমূল, শস্যক্ষেত ও প্রবহমান নদীসমূহ দেখল, তখন আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে বলল: আমি মনে করি না যে এই বাগানটি কখনো বিলুপ্ত হবে, কিংবা এটি ধ্বংস বা বরবাদ হয়ে যাবে। আর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির হাশরের জন্য যে কিয়ামতের ওয়াদা করেছেন, তা সংঘটিত হবে বলে আমি মনে করি না।}

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইমাম হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মান্দাহ। তিনি ৩১০ হিজরি অথবা ৩১১ হিজরিতে ইস্পাহানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি ইলমি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, কারণ তাঁর পিতা ও দাদা উভয়ই ছিলেন ইমাম। তিনি ইলম অন্বেষণে নিশাপুর, ইরাক, মদিনা এবং অন্যান্য স্থানে সফর করেছেন। তিনি ৩৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (কিতাবুল ঈমানের ভূমিকা, ইবনু মান্দাহ, পূর্বোক্ত সূত্র, ১/২২ - ৫১)।

(২) কিতাবুল ঈমান, ইবনু মান্দাহ, (১/১৫৪)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
تقوم فتحدث، ثم تمنى أمنية أخرى على شكّ منه، فقال: (وَلَئِنْ رُدِدْتُ إِلَى رَبِّي) فرجعت إليه، وهو غير موقن أنه راجع إليه "(1)

ومن الأدلة الواضحة كذلك على كفر من شك في وجود الله عز وجل قول الله سبحانه وتعالى: {قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى} [إبراهيم: 10]، قال ابن كثير: أفي الله شك؟ وهذا يحتمل شيئين؛ أحدهما؛ أفي وجوده شك، إن الفطر شاهدة بوجوده، ومجبولة على الإقرار به، فإن الاعتراف به ضروري في الفطر السليمة، ولكن قد يعرض لبعضها شك واضطراب، فتحتاج إلى النظر في الدليل الموصل إلى وجوده; ولهذا قالت لهم الرسل ترشدهم إلى طريق معرفته بأنه (فاطر السماوات والأرض) الذي خلقها وابتدعها على غير مثال سبق، فإن شواهد الحدوث والخلق والتسخير ظاهر عليها، فلا بد لها من صانع، وهو الله لا إله إلا هو، خالق كل شيء وإلهه ومليكه.

والمعنى الثاني في قولهم: (أفي الله شك) أي: أفي إلهيته وتفرده بوجوب العبادة له شك، وهو الخالق لجميع الموجودات، ولا يستحق العبادة إلا هو، وحده لا شريك له; فإن غالب الأمم كانت مقرة بالصانع، ولكن تعبد معه غيره من الوسائط التي يظنونها تنفعهم أو تقربهم من الله زلفى "(2).

والسلف رحمهم الله لا يفرقون بين من شك في الله، أو في الملائكة، أو في الرسل، أو في البعث، أو في الجنة، أو في النار، أو في شيء مما بلغه عن خبر الله وخبر رسوله صلى الله عليه وسلم: فيقولون هو كافر، ويستدلون على ذلك بما رواه أبِي هُرَيْرَةَ، عن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قال: (أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ، لَا يَلْقَى اللهَ بِهِمَا عَبْدٌ غَيْرَ شَاكٍّ

--------------------------------------------

(1) جامع البيان عن تأويل آي القران، محمد بن جرير الطبري، تحقيق: أحمد عبد الرزاق البكري وآخرون، دار السلام، الطبعة الأولى، 1425 هـ، القاهرة (7/ 5350).

(2) تفسير القران العظيم، ابن كثير، (2/ 691).
দাঁড়িয়ে কথা বলত, এরপর নিজের সন্দেহের বশবর্তী হয়ে অন্য আরেকটি আকাঙ্ক্ষা করত, সে বলল: (আর যদি আমাকে আমার রবের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হয়) তবে সে তাঁর কাছে ফিরে গেল, অথচ সে নিশ্চিত ছিল না যে সে তাঁর কাছে ফিরে যাবে।(১)

মহান আল্লাহর অস্তিত্বে সন্দেহ পোষণকারীর কুফরির ব্যাপারে অন্যতম স্পষ্ট দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের রাসুলগণ বলেছিলেন, আল্লাহর ব্যাপারে কি কোনো সন্দেহ আছে, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা? তিনি তোমাদের আহ্বান করছেন যাতে তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করেন এবং তোমাদের এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন।} [ইবরাহিম: ১০], ইবনে কাসীর বলেন: আল্লাহর ব্যাপারে কি কোনো সন্দেহ আছে? এটি দুটি অর্থ বহন করে; প্রথমটি হলো; তাঁর অস্তিত্বে কি কোনো সন্দেহ আছে? নিশ্চয়ই মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি (ফিতরাত) তাঁর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয় এবং তাঁর স্বীকৃতির ওপরই তা গঠিত। সুস্থ ফিতরাতে তাঁর স্বীকারোক্তি অপরিহার্য, কিন্তু কখনও কখনও কারও ফিতরাতে সন্দেহ ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, তখন তা তাঁর অস্তিত্ব প্রমাণকারী দলিলের দিকে মুখাপেক্ষী হয়; এই কারণেই রাসুলগণ তাঁদেরকে তাঁর পরিচয়ের পথের দিকে দিশা দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি (আসমান ও জমিনের স্রষ্টা) যিনি এগুলোকে কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই সৃষ্টি ও উদ্ভাবন করেছেন, কেননা এগুলোর ওপর নশ্বরতা, সৃষ্টি এবং আজ্ঞাবহ হওয়ার চিহ্নসমূহ প্রকাশ্য, ফলে এগুলোর একজন নির্মাতা থাকা আবশ্যক, আর তিনি হলেন আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা, ইলাহ ও মালিক।

তাদের কথা: (আল্লাহর ব্যাপারে কি কোনো সন্দেহ আছে) এর দ্বিতীয় অর্থ হলো: তাঁর উলুহিয়্যাত (একমাত্র উপাস্য হওয়া) এবং তাঁরই ইবাদত করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কি কোনো সন্দেহ আছে? অথচ তিনিই সমস্ত বিদ্যমান বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি ছাড়া আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই; কারণ অধিকাংশ জাতিই স্রষ্টাকে স্বীকার করত, কিন্তু তারা তাঁর সাথে এমন সব মাধ্যমগুলোর ইবাদত করত যাদের ব্যাপারে তারা ধারণা করত যে, তারা তাদের উপকার করবে অথবা আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী করবে।(২).

সালাফে সালেহীন (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহ, ফেরেশতাগণ, রাসুলগণ, পুনরুত্থান, জান্নাত, জাহান্নাম অথবা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সংবাদ থেকে যা কিছু পৌঁছেছে, সেগুলোতে সন্দেহ পোষণকারীর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না; তাঁরা বলেন যে সে কাফির, এবং এর সপক্ষে তাঁরা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল, কোনো বান্দা এই দুই সাক্ষ্যের ব্যাপারে কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করলে...)

--------------------------------------------

(১) জামিআল বায়ান আন তাবীলি আয়িল কুরআন, মুহাম্মাদ ইবনে জারীর আত-তাবারী, তাহকীক: আহমাদ আব্দুর রাজ্জাক আল-বাকরী ও অন্যান্য, দারুস সালাম, প্রথম প্রকাশ, ১৪২৫ হিজরি, কায়রো (৭/ ৫৩৫০)।

(২) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ইবনে কাসীর, (২/ ৬৯১)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৬)
فِيهِمَا، إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ(1). وبما ثبت في الصحيحين أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (أُوحِيَ إِلَيَّ: أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي قُبُورِكُمْ، يُقَالُ: مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ؟ فَأَمَّا المُؤْمِنُ أَوِ المُوقِنُ فَيَقُولُ: هُوَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّه ِ، جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالهُدَى، فَأَجَبْنَا وَاتَّبَعْنَا، هُوَ مُحَمَّدٌ ثَلَاثًا، فَيُقَالُ: نَمْ صَالِحًا قَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُوقِنًا بِهِ، وَأَمَّا المُنَافِقُ أَوِ المُرْتَابُ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ)(2). فسبب الكفر هنا هو الشك فالحديث الأول دل على أن من شروط لا إله إلا الله؛ اليقين المنافي للشك(3)، وأما الحديث الثاني فيدل على يقين المؤمن بشهادة أن محمداً رسول الله، إذا يقال له: (قد علمنا إن كنت لموقناً به، وأما المنافق فهو شاك محتار؛ ولذلك يقول: (سمعت الناس يقولون شيئاً فقلته). ويدل على ذلك أيضاً حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أن النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ عن الميت: (وَيُجْلَسُ الرَّجُلُ السُّوءُ فِي قَبْرِهِ، فَزِعًا مَشْعُوفًا، فَيُقَالُ لَهُ: فِيمَ كُنْتَ؟ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، فَيُقَالُ لَهُ: مَا هَذَا الرَّجُلُ؟ فَيَقُولُ: سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ قَوْلًا، فَقُلْتُهُ، … إلى أن قال عليه الصلاة والسلام: فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ، عَلَى الشَّكِّ كُنْتَ، وَعَلَيْهِ مُتَّ، وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ، إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى).(4)

ومن الأدلة كذلك على كفر من شك بالله تعالى، هو عدم اليقين بما جاء في كتاب الله تعالى، فإن ذلك تكذيب للقرآن الكريم الذي هو كلام الله تعالى، ومن كذب الله تعالى فلا شك في كفره.(5) والنبي صلى الله عليه وسلم هو المبلغ عن ربه عز وجل فمن شك في

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في كتاب الإيمان، باب مَنْ لَقِي اللَّهَ بِالْإِيمَانِ وَهُو غَيْرُ شَاكٍّ فِيهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَحُرِّمَ عَلَى النَّارِ (27).

(2) رواه البخاري في كتاب العلم، باب من أجاب الفتيا بإشارة اليد والرأس، حديث رقم (86)، ورواه مسلم في كِتَاب الْمَسَاجِدِ وَمَوَاضِعِ الصَّلَاةَ، بَابُ اسْتِحْبَابِ التَّعَوُّذِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، حديث رقم (963).

(3) ذكر أهل العلم أن ل لاإله إلا الله سبعة شروط وهي: (العلم ـ اليقين – الإخلاص – الصدق – المحبة – الانقياد – القبول (معارج القبول بشرح سلم الوصول إلى علم الأصول، حافظ بن أحمد حكمي، الطبعة الثالثة، دار ابن القيم، 1415 هـ، الدمام، 1/ 32).

(4) رواه ابن ماجة (4268) وصححه الألباني في " صحيح ابن ماجة ".

(5) شرح السنة، حسن بن علي بن خلف البربهاري، ط 1، دار الآثار، 1429 هـ، القاهرة، ص: (455).
এই দুটিতে (সন্দেহ না রেখে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে(১)। আর সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ যা সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমার প্রতি ওহী করা হয়েছে যে, তোমাদেরকে তোমাদের কবরে পরীক্ষা করা হবে। বলা হবে: এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কী? তখন মুমিন অথবা দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তি বলবে: তিনি মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, তিনি আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন, সুতরাং আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তিনি মুহাম্মদ—এ কথা তিনবার বলবে। তখন তাকে বলা হবে: তুমি নেককার হিসেবে ঘুমিয়ে থাকো, আমরা জানতাম যে তুমি তাঁর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলে। আর মুনাফিক অথবা সংশয়বাদী ব্যক্তি বলবে: আমি জানি না, আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছি তাই আমিও তা বলেছি)(২)। সুতরাং এখানে কুফরের কারণ হলো সন্দেহ। প্রথম হাদীসটি নির্দেশ করে যে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর শর্তসমূহের মধ্যে একটি হলো ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস), যা সন্দেহের পরিপন্থী(৩)। আর দ্বিতীয় হাদীসটি মুমিনের 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল' এই সাক্ষ্যের প্রতি ইয়াকীনের প্রমাণ দেয়; যখন তাকে বলা হয়: (আমরা জানতাম যে তুমি তাঁর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলে)। পক্ষান্তরে মুনাফিক হলো বিভ্রান্ত সংশয়বাদী; আর একারণেই সে বলে: (আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছি তাই আমিও তা বলেছি)। এর ওপর আরও প্রমাণ দেয় আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন: (মন্দ ব্যক্তিকে তার কবরে আতঙ্কিত ও বিহ্বল অবস্থায় বসানো হবে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে: তুমি কিসে ছিলে? সে বলবে: আমি জানি না। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে: এই ব্যক্তিটি কে? সে বলবে: আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছি, তাই আমিও তা বলেছি... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: তাকে বলা হবে: এই তোমার ঠিকানা। তুমি সন্দেহের ওপর ছিলে, তার ওপরই তোমার মৃত্যু হয়েছে এবং তার ওপরই তোমাকে পুনরুত্থিত করা হবে, ইনশাআল্লাহু তা'আলা)।(৪)

একইভাবে আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণকারীর কুফরের অন্যতম প্রমাণ হলো, আল্লাহর কিতাবে যা এসেছে তার ওপর ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাস না রাখা। কারণ এটি কুরআন কারীমকে অস্বীকার করার নামান্তর, যা আল্লাহর কালাম। আর যে আল্লাহ তা'আলাকে অস্বীকার করল, তার কাফির হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।(৫) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহা পরাক্রমশালী রবের পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দেন, সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহ করল...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি সন্দেদমুক্ত ঈমান নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তার জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে যাবে (২৭)।

(২) বুখারী বর্ণনা করেছেন, ইলম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি হাত ও মাথার ইশারায় ফতোয়া দেন, হাদীস নং (৮৬); এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন, মাসজিদ ও সালাতের স্থান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনার মুস্তাহাব হওয়া, হাদীস নং (৯৬৩)।

(৩) বিজ্ঞ আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সাতটি শর্ত রয়েছে, সেগুলো হলো: (জ্ঞান, দৃঢ় বিশ্বাস, ইখলাস, সত্যবাদিতা, ভালোবাসা, আনুগত্য এবং কবুল করা (মাআরিজুল কবুল বি শারহি সুল্লামিল উসুল ইলা ইলমিল উসুল, হাফেজ ইবন আহমদ হাকামী, ৩য় সংস্করণ, দার ইবনুল কায়্যিম, ১৪১৫ হিজরী, দাম্মাম, ১/৩২)।

(৪) ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (৪২৬৮) এবং আলবানী একে "সহীহ ইবনে মাজাহ"-তে সহীহ বলেছেন।

(৫) শারহুস সুন্নাহ, হাসান ইবন আলী ইবন খালাফ আল-বারবাহারী, ১ম সংস্করণ, দারুল আসার, ১৪২৯ হিজরী, কায়রো, পৃষ্ঠা: (৪৫৫)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৭)
صدقه؛ فهو مكذب به، قال القاضي عياض رحمه الله بعد أن ذكر بعض المكفرات -: " وكذلك من أضاف إلى نبينا صلى الله عليه وسلم تعمد الكذب فيما بلغه وأخبر به، أو شك في صدقه، أو سبه، فهو كافر بإجماع "(1).

ولذلك يرى السلف رحمهم الله أن من قال: لا إله إلا الله لا يدخل الجنة إلا إذا قالها غير شاك بها، وإنما متيقناً معتقداً بقلبه.(2) والشك في وجود الله من المسلم ردة عن الإسلام، فإن "الردة قد تكون بالقول أو الفعل أو الاعتقاد، فمن اعتقد عدم وجود الله عز وجل أو شك في ذلك فإنه مرتد خارج من الإسلام"(3).

2 - جواب السلف على من احتج بشك الأنبياء

فيما تقدم تبين اعتقاد السلف في حكم من شك في وجود الله تعالى، ونظراً لأن هناك من يحتج بما حصل من بعض الأنبياء من شك كما ذكره الله تعالى عنهم كإبراهيم، ولوط، ويوسف عليهم السلام(4)، فإن هذه الحجة ليست صحيحة وهي داحضة ولا يلتفت إليها، وذلك لأن جميع الأنبياء قد زكاهم الله تعالى في كتابه الكريم في آيات كثيرة؛ منها قوله تعالى: {أُولَئِكَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِم مِنَ النَّبِيِّينَ مِنْ ذُرِّيَّةِ آدَمَ وَمِمَّنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ وَمِنْ ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْرَائِيلَ وَمِمَّنْ هَدَيْنَا وَاجْتَبَيْنَا إِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا} [58]، وأما قول إبراهيم عليه السلام كما أخبر الله تعالى عنه: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِن قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِي} [البقرة: 260]. فقد ذكر أهل

--------------------------------------------

(1) الشفا، القاضي عياض، (2/ 608).

(2) كتاب الإيمان، ابن مندة، (1/ 212 - 227).

(3) العذر بالجهل تحت المجهر الشرعي، مدحت بن الحسن ال فراج، مكتبة الرشد، ط 6، 1428 هـ، الرياض، ص: (206).

(4) كتاب الإيمان، ابن مندة، مرجع سابق (1/ 488 - 489).
তাকে সত্যয়ন করা; ফলে সে একে অস্বীকারকারী। কাজী আইয়াজ (রাহিমাহুল্লাহ) কুফরি সাব্যস্তকারী কিছু বিষয় উল্লেখ করার পর বলেন: "অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা পৌঁছে দিয়েছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন সে বিষয়ে নবীজির প্রতি ইচ্ছাকৃত মিথ্যারোপ করে, অথবা তাঁর সত্যবাদিতার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে, কিংবা তাঁকে গালি দেয়, তবে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির"(১)।

এ কারণেই সালাফগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ) মনে করেন যে, যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না সে তা কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে বলে, বরং তাকে এটি হৃদয়ে দৃঢ় বিশ্বাস ও একীন পোষণ করে বলতে হবে।(২) আর একজন মুসলিমের পক্ষ থেকে আল্লাহর অস্তিত্বে সন্দেহ পোষণ করা ইসলাম থেকে মুরতাদ হওয়ার নামান্তর। কেননা "মুরতাদ হওয়া কখনও কথা, কাজ কিংবা বিশ্বাসের মাধ্যমে হতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর অস্তিত্বহীনতায় বিশ্বাস করে অথবা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে, তবে সে মুরতাদ এবং ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত"(৩)।

২ - নবীদের সন্দেহ পোষণ করার বিষয়ে যারা যুক্তি দেয় তাদের প্রতি সালাফদের উত্তর

উপরে মহান আল্লাহর অস্তিত্বের বিষয়ে সন্দেহ পোষণকারীর বিধান সম্পর্কে সালাফদের আকিদা স্পষ্ট হয়েছে। যেহেতু এমন কিছু লোক আছে যারা কিছু নবীদের ক্ষেত্রে ঘটা তথাকথিত ‘সন্দেহ’ দ্বারা দলিল পেশ করে—যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম, লুত এবং ইউসুফ (আলাইহিমুস সালাম) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন(৪)—তবে এই দলিল সঠিক নয় এবং এটি অসার ও অগ্রহণযোগ্য। কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবের অনেক আয়াতে সমস্ত নবীদের পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {এরাই তারা, নবীদের মধ্য হতে যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; আদমের বংশধর হতে এবং যাদেরকে আমি নুহের সাথে (নৌকায়) আরোহণ করিয়েছিলাম তাদের বংশধর হতে, আর ইব্রাহিম ও ইসরাঈলের বংশধর হতে এবং যাদেরকে আমি পথ প্রদর্শন করেছি ও মনোনীত করেছি। যখন তাদের কাছে রহমানের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হতো, তখন তারা কাঁদতে কাঁদতে সিজদায় লুটিয়ে পড়ত} [মারইয়াম: ৫৮]। আর ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর উক্তি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা যেমন সংবাদ দিয়েছেন: {আর স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিম বলল, ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে দেখান, আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন।’ তিনি বললেন, ‘তবে কি তুমি বিশ্বাস করোনি?’ সে বলল, ‘অবশ্যই (বিশ্বাস করি), কিন্তু তা কেবল আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য’} [বাকারা: ২৬০]। আলেমগণ উল্লেখ করেছেন

--------------------------------------------

(১) আশ-শিফা, কাজী আইয়াজ, (২/ ৬০৮)।

(২) কিতাবুল ইমান, ইবনে মান্দাহ, (১/ ২১২ - ২২৭)।

(৩) আল-উজরু বিল জাহলি তাহতাল মিজহারিশ শারয়ি, মিদহাত বিন হাসান আল ফরাজ, মাকতাবাতুর রুশদ, ৬ষ্ঠ সংস্করণ, ১৪২৮ হিজরি, রিয়াদ, পৃষ্ঠা: (২০৬)।

(৪) কিতাবুল ইমান, ইবনে মান্দাহ, পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৪৮৮ - ৪৮৯)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৮)
العلم أن ذلك من الوساوس التي تأتي الإنسان وقلبه مطمئن بالإيمان، وذلك لا يؤثر على اليقين، وعلى هذا بوب ابن مندة رحمه الله في كتاب الإيمان بقوله: ذكر درجات الأنبياء في الوساوس مع اليقين، قال ابن حجر رحمه الله: " واختلف السلف في المراد بالشك هنا، فحمله بعضهم على ظاهره وقال: كان ذلك قبل النبوة، وحمله أيضا الطبري على ظاهره وجعل سببه حصول وسوسة الشيطان، لكنها لم تستقر ولا زلزلت الإيمان الثابت. عن ابن عباس رضى الله عنهما قال: أرجى آية في القرآن هذه الآية وإذ قال إبراهيم رب أرني كيف تحيي الموتى الآية، قال ابن عباس: هذا لما يعرض في الصدور ويوسوس به الشيطان، فرضي الله من إبراهيم عليه السلام بأن قال: بلى. وذهب آخرون إلى تأويل ذلك، قال " لما اتخذ الله إبراهيم خليلا استأذنه ملك الموت أن يبشره فأذن له " فذكر قصة معه في كيفية قبض روح الكافر والمؤمن، قال " فقام إبراهيم يدعو ربه: رب أرني كيف تحيي الموتى حتى أعلم أني خليلك " وفي رواية قال " ليطمئن قلبي بالخلة " وعن سعيد بن جبير قال: ليطمئن قلبي أني خليلك " وعن ابن عباس " لأعلم أنك أجبت دعائي، ثم اختلفوا في معنى قوله صلى الله عليه وسلم نحن أحق بالشك فقال بعضهم: معناه نحن أشد اشتياقا إلى رؤية ذلك من إبراهيم، وقيل معناه إذا لم نشك نحن فإبراهيم أولى أن لا يشك، أي لو كان الشك متطرقا إلى الأنبياء لكنت أنا أحق به منهم، وقد علمتم أني لم أشك فاعلموا أنه لم يشك. وإنما قال ذلك تواضعا منه، أو من قبل أن يعلمه الله بأنه أفضل من إبراهيم، وقيل: معناه هذا الذي ترون أنه شك أنا أولى به لأنه ليس بشك إنما هو طلب لمزيد البيان، وله: (قال أولم تؤمن) الاستفهام للتقرير، ووجهه أنه طلب الكيفية وهو مشعر بالتصديق بالإحياء. قوله: (بلى ولكن ليطمئن قلبي) أي ليزيد سكونا بالمشاهدة المنضمة إلى اعتقاد القلب، لأن

এটি জানা প্রয়োজন যে, এগুলো হচ্ছে এমন কুমন্ত্রণা যা মানুষের কাছে আসে যখন তার অন্তর ঈমানের ওপর প্রশান্ত থাকে, এবং এটি দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ইবন মানদাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'কিতাবুল ঈমান'-এ এই শিরোনামে পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন: "দৃঢ় বিশ্বাসের পাশাপাশি কুমন্ত্রণার ক্ষেত্রে নবীদের স্তরের বর্ণনা।" ইবন হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এখানে সন্দেহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সালাফগণ মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এটিকে এর বাহ্যিক অর্থের ওপর গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: এটি নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে ছিল। তাবারীও এটিকে এর বাহ্যিক অর্থের ওপর গ্রহণ করেছেন এবং এর কারণ হিসেবে শয়তানের কুমন্ত্রণা আসাকে উল্লেখ করেছেন, তবে তা স্থায়ী হয়নি এবং প্রতিষ্ঠিত ঈমানকেও টলাতে পারেনি। ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কুরআনের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক আয়াত হলো এই আয়াতটি: 'আর যখন ইবরাহীম বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখান আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন...' (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। ইবন আব্বাস বলেন: এটি ঐ বিষয়ের জন্য যা অন্তরে উদিত হয় এবং শয়তান যা নিয়ে কুমন্ত্রণা দেয়। তাই আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: 'অবশ্যই'। অন্যরা এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, 'যখন আল্লাহ ইবরাহীমকে তাঁর বন্ধু (খালীল) হিসেবে গ্রহণ করলেন, তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তাঁকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে অনুমতি চাইলেন এবং তাঁকে অনুমতি দেওয়া হলো।' এরপর তিনি তাঁর সাথে কাফির ও মুমিনের প্রাণ হরণের পদ্ধতি সম্পর্কে একটি ঘটনা উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন, 'অতঃপর ইবরাহীম দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতিপালককে ডাকলেন: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখান কীভাবে আপনি মৃতকে জীবিত করেন, যাতে আমি নিশ্চিতভাবে জানতে পারি যে আমি আপনার বন্ধু।' অন্য এক বর্ণনায় আছে, 'যাতে বন্ধুত্বের ব্যাপারে আমার অন্তর প্রশান্ত হয়।' সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'যাতে আমার অন্তর প্রশান্ত হয় যে আমি আপনার বন্ধু।' ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত: 'যাতে আমি জানতে পারি যে আপনি আমার দুআ কবুল করেছেন।' এরপর তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী 'সন্দেহের ব্যাপারে আমরা ইবরাহীমের চেয়ে বেশি হকদার' -এর অর্থ নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো আমরা ইবরাহীমের চেয়েও এটি দেখার জন্য অধিক আকাঙ্ক্ষী। আবার কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো: যদি আমরা সন্দেহ না করি, তবে ইবরাহীমের সন্দেহ না করা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। অর্থাৎ, যদি নবীদের অন্তরে সন্দেহের অবকাশ থাকত, তবে তাঁদের চেয়ে আমিই এর বেশি হকদার হতাম। অথচ তোমরা জানো যে আমি সন্দেহ করিনি, সুতরাং তোমরা জেনে রেখো যে তিনিও সন্দেহ করেননি। তিনি এটি বিনয়বশত বলেছিলেন, অথবা আল্লাহ তাঁকে ইবরাহীমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হিসেবে অবহিত করার আগে বলেছিলেন। আরও বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো, যেটিকে তোমরা সন্দেহ মনে করছ, আমি তার জন্য অধিক উপযুক্ত, কারণ এটি সন্দেহ নয় বরং এটি হচ্ছে আরও স্পষ্ট বিবরণের দাবি। তাঁর উক্তি: '(আল্লাহ বললেন) তুমি কি বিশ্বাস করোনি?' -এখানে প্রশ্নবোধক বাক্যটি স্বীকৃতির জন্য। এর দিক হলো তিনি পদ্ধতি জানতে চেয়েছেন, যা পুনরুত্থানকে বিশ্বাস করারই প্রমাণ বহন করে। তাঁর উক্তি: 'অবশ্যই (বিশ্বাস করি), তবে আমার অন্তর যাতে প্রশান্ত হয়' -অর্থাৎ অন্তরের বিশ্বাসের সাথে চাক্ষুষ দর্শনের সমন্বয়ে স্থিরতা আরও বৃদ্ধি পায়, কারণ..."

(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৯)
تظاهر الأدلة أسكن للقلوب، وكأنه قال أنا مصدق، ولكن للعيان لطيف معنى. وقال عياض: لم يشك إبراهيم بأن الله يحيي الموتى، ولكن أراد طمأنينة القلب وترك المنازعة لمشاهدة الإحياء فحصل له العلم الأول بوقوعه، وأراد العلم الثاني بكيفيته ومشاهدته، ويحتمل أنه سأل زيادة اليقين وإن لم يكن في الأول شك لأن العلوم قد تتفاوت في قوتها فأراد الترقي من علم اليقين إلى عين اليقين والله أعلم. "(1). وأما ما قيل عن شك لوط عليه السلام في قدرة الله عز وجل؛ فقال ابن حجر رحمه الله مفنداً ذلك: "قوله: (يغفر الله للوط إن كان ليأوي إلى ركن شديد)(2) أي إلى الله سبحانه وتعالى، ويشير صلى الله عليه وسلم إلى قوله تعالى: لو أن لي بكم قوة أو آوي إلى ركن شديد ويقال إن قوم لوط لم يكن فيهم أحد يجتمع معه في نسبه لأنهم من سدوم وهي من الشام وكان أصل إبراهيم ولوط من العراق، فلما هاجر إبراهيم إلى الشام هاجر معه لوط، فبعث الله لوطا إلى أهل سدوم فقال: لو أن لي منعة وأقارب وعشيرة لكنت أستنصر بهم عليكم ليدفعوا عن ضيفاني"(3). قال رحمه الله: " وله: (ولو لبثت في السجن طول ما لبث، يوسف لأجبت الداعي)(4) أي أسرعت الإجابة في الخروج من السجن ولما قدمت طلب البراءة، فوصفه بشدة الصبر حيث لم يبادر بالخروج وإنما قاله صلى الله عليه وسلم تواضعا، والتواضع لا يحط مرتبة الكبير بل يزيده رفعة وجلالا، وقيل هو من جنس قوله لا تفضلوني على يونس وقد قيل إنه قاله قبل أن يعلم أنه أفضل من الجميع ".(5)

--------------------------------------------

(1) فتح الباري، ابن حجر، (6/ 498 - 500).

(2) رواه البخاري في كتاب أحاديث الأنبياء، باب ولوطا إذ قال لقومه، حديث رقم (33375).

(3) فتح الباري، ابن حجر، (6/ 503 - 504).

(4) رواه البخاري، كتاب الأنبياء، باب ونبئهم عن ضيف إبراهيم، برقم (3372) ورواه مسلم في كتاب الفضائل في باب من فضائل إبراهيم الخليل عليه السلام، حديث رقم (2369).

(5) فتح الباري، ابن حجر (6/ 500).
দলিলের আধিক্য হৃদয়ের স্থিরতার জন্য অধিক সহায়ক, আর তিনি যেন বলতে চেয়েছেন—আমি বিশ্বাস স্থাপন করেছি, তবে চাক্ষুষ দর্শনের এক সূক্ষ্ম তাৎপর্য রয়েছে। আর আয়াজ বলেন: ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) আল্লাহ মৃতকে জীবিত করতে পারেন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ করেননি, বরং তিনি হৃদয়ের প্রশান্তি এবং পুনর্জীবিত করার দৃশ্য দর্শনের মাধ্যমে মানসিক দ্বিধা দূর করতে চেয়েছিলেন। ফলে ঘটনাটি ঘটার ব্যাপারে তাঁর প্রথম স্তরের জ্ঞান অর্জিত হয়েছিল এবং তিনি চাক্ষুষ দর্শনের মাধ্যমে এর পদ্ধতি সম্পর্কে দ্বিতীয় স্তরের জ্ঞান অর্জন করতে চেয়েছিলেন। আর এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে, তিনি ইয়াকিন বা নিশ্চিত বিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন যদিও শুরুতে কোনো সন্দেহ ছিল না; কারণ জ্ঞানের শক্তির মাঝে তারতম্য হতে পারে। তাই তিনি 'ইলমুল ইয়াকিন' থেকে 'আইনুল ইয়াকিন'-এ উন্নীত হতে চেয়েছিলেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।(১) আর লুত (আলাইহিস সালাম)-এর আল্লাহর ক্ষমতার ব্যাপারে সন্দেহ করার বিষয়ে যা বলা হয়, তার খণ্ডন করে ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তাঁর বাণী: (আল্লাহ লুতকে ক্ষমা করুন, তিনি এক শক্তিশালী আশ্রয়ের দিকে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন)(২) অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দিকে। আর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহান আল্লাহর এই বাণীর দিকেই ইঙ্গিত করেছেন: 'হায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা আমি কোনো শক্তিশালী স্তম্ভের আশ্রয় নিতে পারতাম!' বলা হয়ে থাকে যে, লুত (আলাইহিস সালাম)-এর কওমের মধ্যে তাঁর বংশগতভাবে সম্পৃক্ত কেউ ছিল না, কারণ তারা ছিল সাদুমের অধিবাসী যা শামের অন্তর্ভুক্ত, আর ইবরাহিম ও লুতের আদি নিবাস ছিল ইরাক। অতঃপর ইবরাহিম যখন শামে হিজরত করেন, লুতও তাঁর সাথে হিজরত করেন। পরে আল্লাহ লুতকে সাদুমবাসীদের নিকট প্রেরণ করেন। তখন তিনি বলেছিলেন: 'আমার যদি প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং আত্মীয়স্বজন ও গোত্র থাকত, তবে আমি তাদের মাধ্যমে তোমাদের বিরুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করতাম যাতে তারা আমার মেহমানদের রক্ষা করতে পারে'।"(৩) তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: "এবং তাঁর বাণী: (ইউসুফ যতদিন কারাগারে কাটিয়েছিলেন, আমি যদি ততদিন কাটাতাম, তবে আমি অবশ্যই আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিতাম)(৪) অর্থাৎ আমি কারাগার থেকে বের হওয়ার আহ্বানে দ্রুত সাড়া দিতাম এবং নির্দোষিতা প্রমাণের দাবি পেশ করতে দেরি করতাম না। এখানে তিনি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর চরম ধৈর্যশক্তির বর্ণনা দিয়েছেন যেহেতু তিনি কারাগার থেকে বের হতে তাড়াহুড়া করেননি। আর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিনয়বশত এ কথা বলেছিলেন; আর বিনয় কোনো মহান ব্যক্তির মর্যাদাকে হ্রাস করে না বরং তাঁর সম্মান ও গাম্ভীর্য আরও বৃদ্ধি করে। আরও বলা হয় যে, এটি তাঁর 'তোমরা আমাকে ইউনুসের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না'—বাণীর সমজাতীয়। এটাও বলা হয়েছে যে, তিনি এটি জানার আগে বলেছিলেন যে তিনি সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।"(৫)

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি, ইবনে হাজার, (৬/ ৪৯৮ - ৫০০)।

(২) বুখারি কর্তৃক হাদিসটি আম্বিয়া অধ্যায়, 'এবং লুত যখন তাঁর কওমকে বললেন' পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৩৩৩৭৫)-এ বর্ণিত।

(৩) ফাতহুল বারি, ইবনে হাজার, (৬/ ৫০৩ - ৫০৪)।

(৪) বুখারি কর্তৃক আম্বিয়া অধ্যায়, 'ইবরাহিমের মেহমানদের সম্পর্কে সংবাদ দান' পরিচ্ছেদ, নং (৩৩৭২) এবং মুসলিম কর্তৃক ফাযায়েল অধ্যায়, 'ইবরাহিম খলিল (আ.)-এর ফাযায়েল' পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (২৩৬৯)-এ বর্ণিত।

(৫) ফাতহুল বারি, ইবনে হাজার (৬/ ৫০০)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌ثانياً: ما يترتب على الشك في وجود الله عز وجل

تبين لنا فيما سبق أن من شك في وجود الله عز وجل فقد كفر بالله وخرج من الإسلام، وبالتالي فيحكم بردته ويترتب على ذلك ما يترتب على الردة من أحكام، ويمكن بيان ذلك فيما يلي:

1 - يستتاب إذا أظهر ما يدل على ذلك فإن تاب وإلا قتل: فإن المرتد لا يُقْتَلُ حَتَّى يُسْتَتَابَ ثَلاثًا. هَذَا قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ؛ لأَنَّ الرِّدَّةَ إنَّمَا تَكُونُ لِشُبْهَةٍ، وَلا تَزُولُ فِي الْحَالِ، فَوَجَبَ أَنْ يُنْتَظَرَ مُدَّةً يَرْتَئِي فِيهَا، وَأَوْلَى ذَلِكَ ثَلاثَةُ أَيَّامٍ "(1). وقد دلت السنة الصحيحة على وجوب قتل المرتد، فعن ابْن عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قال رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ)(2). وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا يحل دم امرئ مسلم يشهد أن لا إله إلا الله، وأني رسول الله إلا بإحدى ثلاث: النفس بالنفس، والثيب الزاني، والتارك لدينه المفارق للجماعة)(3).

2 - حبوط عمله لردته: لقول الله تعالى: {وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [البقرة: 217].(4)

--------------------------------------------

(1) المغني، ابن قدامة (9/ 18). أحكام المرتد في الشريعة الإسلامية، الدكتور نعمان عبد الرزاق السامرائي، دار العلوم، الطبعة الثانية، 1303 هـ، الرياض، (164 - 171).

(2) رواه البخاري برقم (6922).

(3) رواه البخاري برقم (6484)، ومسلم برقم (1676).

(4) أحكام الردة، السامرائي، (265).
দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহর অস্তিত্বে সন্দেহ করার পরিণামসমূহ

পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর অস্তিত্বে সন্দেহ পোষণ করে, সে আল্লাহর সাথে কুফরি করল এবং ইসলাম থেকে বের হয়ে গেল। ফলশ্রুতিতে, তাকে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হিসেবে বিচার করা হবে এবং এর ফলে মুরতাদের ওপর প্রযোজ্য বিধানসমূহ তার ওপর বর্তাবে। তা নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করা যেতে পারে:

১ - যদি সে এমন কিছু প্রকাশ করে যা তার সন্দেহের প্রমাণ দেয়, তবে তাকে তওবা করতে বলা হবে। যদি সে তওবা করে (তবে ভালো), অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। কেননা, মুরতাদকে তিনবার তওবা করার সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত হত্যা করা হয় না। এটিই অধিকাংশ আহলে ইলম বা জ্ঞানীর অভিমত; কারণ ধর্মত্যাগ কোনো সন্দেহের কারণে হতে পারে, যা তাৎক্ষণিকভাবে দূর হয় না। তাই তাকে চিন্তাভাবনা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা ওয়াজিব বা আবশ্যক, আর এর জন্য সর্বোত্তম সময় হলো তিন দিন। সহিহ সুন্নাহ মুরতাদকে হত্যা করা ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (যে ব্যক্তি তার দ্বীন বা ধর্ম পরিবর্তন করবে, তাকে তোমরা হত্যা করো)। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (এমন কোনো মুসলমান ব্যক্তির রক্ত হালাল নয়, যে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল; তবে তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত: প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, বিবাহিত ব্যভিচারী এবং যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন ত্যাগ করে মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে)।

২ - ধর্মত্যাগের কারণে তার আমল বাতিল হয়ে যাওয়া: মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে। আর তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে} [আল-বাকারা: ২১৭]।

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনী, ইবনে কুদামা (৯/ ১৮)। আহকামুল মুরতাদ ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়া (ইসলামী শরীয়তে মুরতাদের বিধানসমূহ), ডক্টর নুমান আব্দুল রাজ্জাক আস-সামাররাঈ, দারুল উলুম, দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৩ হিজরি, রিয়াদ, (১৬৪ - ১৭১)।

(২) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নম্বর (৬৯২২)।

(৩) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নম্বর (৬৪৮৪), এবং মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নম্বর (১৬৭৬)।

(৪) আহকামুর রিদ্দাহ (ধর্মত্যাগের বিধানসমূহ), আস-সামাররাঈ, (২৬৫)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩১)
3 - خروجه من الإسلام لقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ * إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ * وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ} [المائدة: 54 - 56].(1)

والخروج من الإسلام هنا هو ردة كما تقدم، قال الحافظ ابن كثير رحمه الله: " قوله تعالى هاهنا: (يا أيها الذين آمنوا من يرتد منكم عن دينه) أي: يرجع عن الحق إلى الباطل ".(2)

4 - ينفسخ نكاحه، ويفرق بينه وبين زوجته.(3) وعلى ذلك يدل قوله تعالى: {وَلَا تُنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ} [البقرة: 221]. وهذا عام لا تخصيص فيه، سواء كان كافراً كفراً أصلياً، أو مرتداً عن الإسلام.(4)

5 - لا يغسل، ولا يكفن، ولا يرث ولا يورث، ولا يصلى عليه، ولا يدفن في مقابر المسلمين.(5) لقول الله تعالى: {وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [البقرة: 217]. فحبوط العمل هنا لفقد شرط الإسلام؛ واستمرار المرتد على ردته.(6)

6 - يُمنَع من التصرُّف في ماله في مدة استتابته، فإن أسلَم فهو له، وإلا صار لبيت المال، من حين قتله، أو موتِه على الردة، وقيل: من حين ارتداده يُصرَف في مصالح المسلمين.(7)

--------------------------------------------

(1) أحكام الردة، السامرائي، (61).

(2) تفسير القرآن العظيم، ابن كثير، 2/ 97

(3) أحكام الردة، السامرائي (217).

(4) تيسير الكريم المنان، ابن سعدي، (99)

(5) أحكام الردة، السامرائي، (233).

(6) تيسير الكريم المنان، ابن سعدي، (97).

(7) أحكام الردة، السامرائي، (198).
৩ - ইসলাম থেকে তার বের হয়ে যাওয়া, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যাবে, তবে অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে; তারা মুমিনদের প্রতি নম্র হবে এবং কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে; তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোনো নিন্দুকের নিন্দার ভয় করবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং যারা ঈমান এনেছে—যারা সালাত কায়েম করে এবং রুকুকারী অবস্থায় যাকাত প্রদান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তবে আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে} [আল-মায়িদাহ: ৫৪ - ৫৬]।(১)

আর এখানে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়া হলো মুরতাদ হওয়া, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। হাফেয ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “মহান আল্লাহর বাণী এখানে: (হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যাবে) অর্থাৎ: সত্য থেকে বাতিলের দিকে ফিরে যাবে।”(২)

৪ - তার বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে এবং তার ও তার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়া হবে।(৩) এর ওপর মহান আল্লাহর এই বাণী প্রমাণ বহন করে: {আর তোমরা মুশরিকদের সাথে (তোমাদের নারীদের) বিয়ে দিয়ো না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিন দাস একজন মুশরিকের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে} [আল-বাকারাহ: ২২১]। এটি একটি সাধারণ হুকুম যার কোনো বিশেষীকরণ নেই, চাই সে জন্মগত কাফির হোক অথবা ইসলাম থেকে মুরতাদ হোক।(৪)

৫ - তাকে গোসল করানো হবে না, কাফন পরানো হবে না, সে উত্তরাধিকার লাভ করবে না এবং কেউ তার উত্তরাধিকারী হবে না, তার জানাযার নামায পড়া হবে না এবং মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা হবে না।(৫) কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের মধ্যে যারা নিজেদের দ্বীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে। আর এরাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে} [আল-বাকারাহ: ২১৭]। এখানে আমল নিষ্ফল হওয়ার কারণ হলো ইসলামের শর্ত না থাকা এবং মুরতাদের স্বীয় মুরতাদ অবস্থায় অটল থাকা।(৬)

৬ - তওবা করার সময়কালে তাকে তার সম্পদ ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা হবে। যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে তবে তা তার জন্যই থাকবে, অন্যথায় তাকে হত্যা করার সময় থেকে বা মুরতাদ অবস্থায় তার মৃত্যুর পর থেকে তা বায়তুল মালের অন্তর্ভুক্ত হবে। আবার বলা হয়েছে যে: তার মুরতাদ হওয়ার সময় থেকেই তা মুসলিমদের জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।(৭)

--------------------------------------------

(১) আহকামুর রিদ্দাহ, আস-সামাররায়ী, (৬১)।

(২) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ইবনে কাসীর, ২/ ৯৭

(৩) আহকামুর রিদ্দাহ, আস-সামাররায়ী (২১৭)।

(৪) তাইসীরুল কারীমিল মান্নান, ইবনে সা’দী, (৯৯)

(৫) আহকামুর রিদ্দাহ, আস-সামাররায়ী, (২৩৩)।

(৬) তাইসীরুল কারীমিল মান্নান, ইবনে সা’দী, (৯৭)।

(৭) আহকামুর রিদ্দাহ, আস-সামাররায়ী, (১৯৮)।
(খণ্ড: ১) আসারুশ শাককি ওয়াল ওয়াসওয়াসি ফী উজুদিল্লাহি আজ্জা ওয়া জাল্লা আলা আকীদাতিল মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌المبحث الثالث: أثر الوسواس في وجود الله عز وجل على عقيدة المسلم

يعرض للمسلم وسواس في وجود الله عز وجل، وقد يقع المسلم في حرج من هذه الوسواس، لا سيما وهذه الوسواس يتعلق بالله سبحانه وتعالى، وفيما يلي بيان لهذا الوسواس وحكمه:

 

‌‌1 - الوسواس في وجود الله عز وجل

هناك فرق واضح بين الشك والوسواس؛ فالشك كما سبق بيانه هو عدم اليقين، ولا يجتمع الشك مع اليقين مطلقاً، بينما الوسواس هو أمر طارئ مع وجود اليقين في القلب، والشك يكون باختيار الإنسان؛ أما الوسوسة فبغير اختياره، يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله " هناك فرق بين الشك والوسوسة، فالوسوسة هي مما يهجم على القلب بغير اختيار الإنسان، فإذا كرهه العبد ونفاه كانت كراهته صريح الإيمان "(1).

ويعتقد السلف أن الله سبحانه خلق الشياطين؛ وأنهم يوسوسون للآدميين، ويقصدون استزلالهم، والترصد لهم، لقول الله عز وجل: {إِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ} [الأنعام: 121]، وأن الله تعالى يسلطهم على من يشاء ويعصم من كيدهم ومكرهم من يشاء، قال الله تعالى: {وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُم بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِم بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ وَعِدْهُمْ وَمَا يَعِدُهُمُ الشَّيْطَانُ إِلَّا غُرُورًا * إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوي (14/ 18) وانظر: الضياء الشارق، سليمان بن سحمان، عبد السلام بن برجس آل عبد الكريم، رئاسة إدارة البحوث العلمية والإفتاء، الطبعة الخامسة، 1414 هـ، (374).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার অস্তিত্ব সম্পর্কে কুমন্ত্রণার (ওয়াসওয়াসা) প্রভাব মুসলিমের আকিদার ওপর

একজন মুসলিমের মনে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার অস্তিত্ব নিয়ে কুমন্ত্রণা আসতে পারে এবং এই কুমন্ত্রণার কারণে মুসলিম ব্যক্তি সংকটের সম্মুখীন হতে পারেন, বিশেষ করে যেহেতু এই কুমন্ত্রণা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে সম্পর্কিত। নিম্নে এই কুমন্ত্রণা এবং এর বিধানের বর্ণনা দেওয়া হলো:

 

১ - আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার অস্তিত্ব সম্পর্কে কুমন্ত্রণা

সন্দেহ (শাক্ক) এবং কুমন্ত্রণার (ওয়াসওয়াসা) মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সন্দেহ হলো—যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে—দৃঢ় বিশ্বাসের (ইয়াকিন) অভাব, আর সন্দেহ কখনোই দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে একত্রে থাকতে পারে না। অন্যদিকে, কুমন্ত্রণা হলো হৃদয়ে দৃঢ় বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ উদয় হওয়া একটি বিষয়। সন্দেহ মানুষের ইচ্ছাধীন হয়ে থাকে, কিন্তু কুমন্ত্রণা তার ইচ্ছা ছাড়াই ঘটে থাকে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সন্দেহ ও কুমন্ত্রণার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কুমন্ত্রণা হলো এমন বিষয় যা মানুষের ইচ্ছা ছাড়াই হৃদয়ে আক্রমণ করে। সুতরাং বান্দা যখন একে ঘৃণা করে এবং তা প্রত্যাখ্যান করে, তখন তার এই ঘৃণাই হলো সুস্পষ্ট ঈমান।"(১)

সালাফে সালেহীনগণ বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা শয়তানদের সৃষ্টি করেছেন; তারা মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয় এবং তাদেরকে পদস্খলিত করার ও তাদের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকার সংকল্প করে। মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্রতি ইঙ্গিত পাঠায় তোমাদের সাথে বিবাদ করার জন্য। আর যদি তোমরা তাদের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয় তোমরা মুশরিক হয়ে যাবে} [আল-আন‘আম: ১২১]। আর আল্লাহ তাআলা তাদের যাকে ইচ্ছা তার ওপর প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ দেন এবং যাকে ইচ্ছা তাদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থেকে রক্ষা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তাদের মধ্যে যাকে পারো তোমার কণ্ঠস্বর দিয়ে প্রলুব্ধ করো, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করো, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হয়ে যাও এবং তাদের প্রতিশ্রুতি দাও। আর শয়তান তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা কেবল প্রতারণা বৈ কিছুই নয়। নিশ্চয় আমার বান্দাদের ওপর...}

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (১৪/১৮) এবং দেখুন: আদ-দিয়াউশ শারিক, সুলাইমান বিন সাহমান, আবদুস সালাম বিন বারজাস আল-আবদুল কারীম, রিয়াসাতু ইদারাতিল বুহুসিল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা, পঞ্চম সংস্করণ, ১৪১৪ হিজরি, (৩৭৪)।