(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: -)
كيف تتخلص من السحر   (عبد الله الطيار)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: كيف تتخلص من السحر

المؤلف: أ. د / عبد الله بن محمد بن أحمد الطيار

الناشر: دار المتعلم، الزلفي، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى 1424هـ/ 2003 م

عدد الصفحات: 64

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

যাদু থেকে কীভাবে মুক্তি পাবেন   (আবদুল্লাহ আত-তায়্যার)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: যাদু থেকে কীভাবে মুক্তি পাবেন

লেখক: প্রফেসর. ড. / আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আত-তায়্যার

প্রকাশক: দারুল মুতাআল্লিম, জুলফি, সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৪ হিজরি/ ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১)
كيف تتخلص من السحر

تأليف: عبد الله بن محمد الطيار

ال‌‌مقدمة

إن الحمدلله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا. من يهده الله فلامضل له ومن يضلل فلاهادي له وأشهد أن لاإله إلا الله وحده لاشريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ {102} (آل عمران) .

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً {1} (النساء) .

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً {70} يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً
জাদু থেকে মুক্তির উপায়

রচনায়: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-তাইয়্যার

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (১০২) (আল-ইমরান) .

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট প্রার্থনা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} (১) (আন-নিসা) .

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২)
وبعد:

فقد شاع بين الناس ظلم بعضهم لبعض ومن أعظم الظلم الذي نراه بأم أعيننا ونسمع عنه بآذاننا هو الظلم الناتج عن السحر والشعوذة والدجل وخاصة في عصرنا الذي يموج بالفتن ليل نهار، والمعصوم من عصمه الله تبارك وتعالى.

ونتج عن هذا الانحراف الديني أن ابتلي المسلمون فيه بمصائب كثيرة أعظمها الذهاب إلى الدجالين والمشعوذين والعرافين والسحرة وسؤالهم الشفاء أو سؤالهم طلب الحاجات وغيرها مما هو من خصائص الرب تبارك وتعالى.

ولما كانت هذه الأمور محرمة في ديننا وشريعتنا كانت هذه البلاد حفظها الله ورعاها لها بالمرصاد؛ فقامت بمحاربتها بشتى الوسائل والطرق، وهذا كله نابع من حرصها على تطبيق شرع الله الذي به تحيا القلوب وتطمئن النفوس ويأمن الإنسان على أهله وماله.

وانطلاقاً من مبدأ النصح لكل مسلم ودعوة الناس إلى مافيه صلاح الدنيا والآخرة كتبت هذا البحث الذي يتناول قضية السحر وقد تناول الموضوعات التالية:

تعريف السحر.
অতঃপর:

মানুষের মাঝে একে অপরের ওপর জুলুম তথা অন্যায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা আমাদের স্বচক্ষে যা দেখি এবং কানে যা শুনি, তার মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ জুলুম হলো যাদু, ভণ্ডামি ও প্রতারণা থেকে উদ্ভূত জুলুম; বিশেষ করে আমাদের বর্তমান যুগে, যা দিনরাত ফিতনা (فتنة) দ্বারা আলোড়িত হচ্ছে। আর সংরক্ষিত (معصوم) কেবল সেই ব্যক্তিই, যাকে মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা রক্ষা করেছেন।

এই ধর্মীয় বিচ্যুতি বা ইনহিরাফ (انحراف)-এর ফলে মুসলমানরা বহু বিপদে লিপ্ত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো ভণ্ড, জাদুকর, গণক ও তান্ত্রিকদের কাছে যাওয়া এবং তাদের কাছে আরোগ্য কিংবা প্রয়োজন পূরণের আর্জি জানানো, যা মূলত মহান রবের একান্ত বৈশিষ্ট্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত।

যেহেতু এই বিষয়গুলো আমাদের দ্বীন ও শরীয়তে নিষিদ্ধ (محرم), তাই এই ভূখণ্ড—আল্লাহ একে হিফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণ করুন—এসবের বিরুদ্ধে সদা তৎপর থেকেছে। ফলে তারা বিভিন্ন উপায়ে ও পদ্ধতিতে এসবের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আর এসবই আল্লাহর শরীয়াহ (شريعة) বাস্তবায়নের প্রতি তাদের ঐকান্তিক আগ্রহ থেকে উৎসারিত, যার মাধ্যমে হৃদয়গুলো প্রাণবন্ত হয়, আত্মাগুলো প্রশান্তি পায় এবং মানুষ তার পরিবার ও সম্পদের নিরাপত্তা লাভ করে।

প্রত্যেক মুসলিমের প্রতি নসিহত (نصح) প্রদান এবং মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দিকে আহ্বান করার মূলনীতি থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি এই গবেষণাটি রচনা করেছি, যা যাদুর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোকপাত করে। এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে:

যাদুর সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৩)
أدلة وقوعه من الكتاب والسنة.

حكم من قام بالسحر في شريعتنا.

أقسام السحر.

سؤال في حكم مشاهدة ألعاب السيرك المتضمنة للسحر.

العلامات التي يعرف بها الساحر.

هل يجوز حل السحر بسحر مثله؟.

كيفية إبطال السحر.

ضرر السحر على الفرد والمجتمع.

تسلط السحرة في هذا الزمان.

أسأل الله سبحانه وتعالى أن ينفع بهذا البحث وأن يجعله في ميزان الحسنات وأن يرزقنا الإخلاص في القول والعمل إنه سميع قريب وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم

كتبه أبومحمد عبد الله بن محمد بن أحمد الطيار

الزلفي ص ب 188 الرمز البريدي 11932
কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর সংঘটিত হওয়ার প্রমাণসমূহ।

আমাদের শরিয়তে জাদু (سحر) সম্পাদনকারীর বিধান।

জাদু (سحر)-এর প্রকারভেদ।

জাদু (سحر) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এমন সার্কাস প্রদর্শনী দেখার বিধান প্রসঙ্গে একটি প্রশ্ন।

যেসব নিদর্শনের মাধ্যমে জাদুকর (ساحر)-কে চেনা যায়।

জাদু (سحر) কি অনুরূপ জাদু (سحر) দ্বারা ছাড়ানো বৈধ?

জাদু (سحر) বাতিল করার পদ্ধতি।

ব্যক্তি ও সমাজের ওপর জাদু (سحر)-এর অপকারিতা।

বর্তমান যুগে জাদুকরদের (سحرة) উপদ্রব।

আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই গবেষণার দ্বারা কল্যাণ দান করেন এবং একে নেক আমলের পাল্লায় (ميزان) যুক্ত করেন এবং আমাদের কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা (إخلاص) দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-তায়ইয়ার

আল-জুলফি, পি.ও. বক্স ১৮৮, পোস্টাল কোড ১১৯৩২
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৪)
أولاً:‌‌ تعريف السحر:

في اللغة: يطلق السحر في اللغة على عدة معان منها:

الخداع، والصرع، والاستمالة، والتمويه، وكل مالطف ودق وخفي سببه فهو سحر.

أما في الاصطلاح:

فقد تعددت أقوال العلماء في تعريفه اصطلاحاً وكل التعريفات ترجع إلى معنىً واحد وخلاصة هذه التعريفات وأوضحها معنىً هو أن يقال:

هو عقد ورقى وكلام يتكلم به أو يكتبه الساحر أو يعمل به شيئاً يؤثر في بدن المسحور أو قلبه أو عقله من غير مباشرة له عليه وله حقيقة فمنه مايقتل ومنه ما يمرض ومنه ما يأخذ الرجل عن امرأته فيمنعه وطأها ومنه مايفرق بين المرء وزوجه ومنه مايبغض المرأة إلى زوجها أو العكس أو يحبب بين اثنين كل هذه الأشياء واقعة بين الساحر والشيطان الموكل بعمل ذلك وذلك لايتم إلابحصول منفعة بينهما فيقوم الساحر بفعل المحرمات والشركيات والكفريات في مقابل مساعدة الشيطان له وطاعته فيما يطلب منه.
اولاً:‌‌ সিহরের (سحر) সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে: আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিহর (سحر) শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

প্রতারণা, বিভ্রান্তি, বশ করা বা আকৃষ্ট করা, অলীক প্রদর্শন এবং এমন প্রতিটি সূক্ষ্ম ও প্রচ্ছন্ন বিষয় যার কারণ অস্পষ্ট, তাকেই সিহর (سحر) বলা হয়।

আর পরিভাষায়:

পরিভাষায় সিহরের (سحر) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আলেমদের বহুবিধ উক্তি রয়েছে এবং সকল সংজ্ঞার সারমর্ম মূলত একই। এই সংজ্ঞাগুলোর নির্যাস এবং অর্থগতভাবে সবচেয়ে স্পষ্টটি হলো এভাবে বলা যে:

এটি হচ্ছে এমন কিছু গিঁট, ঝাড়ফুঁক (رقى) এবং বাক্য যা জাদুকর উচ্চারণ করে অথবা লিখে থাকে অথবা এমন কিছু কাজ করে যা জাদুকৃত ব্যক্তির শরীর, অন্তর কিংবা মস্তিষ্কে সরাসরি স্পর্শ ছাড়াই প্রভাব ফেলে। এর বাস্তব বাস্তবতা (حقيقة) রয়েছে; ফলে এর মধ্যে কোনটি মৃত্যু ঘটায়, কোনটি অসুস্থ করে দেয়, আবার কোনটি পুরুষকে তার স্ত্রীর নিকট যেতে বাধা দেয় (সঙ্গমে অক্ষম করে), কোনটি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়, আবার কোনটি স্ত্রীর মনে স্বামীর প্রতি বা স্বামীর মনে স্ত্রীর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে অথবা দুই ব্যক্তির মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে। এই সকল বিষয় জাদুকর এবং এই কাজে নিয়োজিত শয়তানের পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। আর এটি ততক্ষণ সম্পন্ন হয় না যতক্ষণ না তাদের উভয়ের মধ্যে স্বার্থ বিনিময় হয়; ফলে জাদুকর বিভিন্ন হারাম, শিরক (شركيات) এবং কুফরি (كفريات) কার্যাবলি সম্পাদন করে, যার বিনিময়ে শয়তান তাকে সাহায্য করে এবং তার চাহিদা অনুযায়ী আনুগত্য করে।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৫)
وقد يسأل سائل فيقول هل من الممكن ذكر بعض الشركيات أو الكفريات التي يقوم بها الساحر لكي يساعده الشيطان على سحره؟ نقول: نعم نذكر شيئاً من ذلك لنبين للقارىء الكريم خطورة السحرة وبيان كفرهم بالله رب العالمين، فمن هذه الأشياء:

أولاً: يجب أن يعلم أن الساحر لكي يساعده الشيطان لابد له من الكفر بالله إما أن يأتي بذلك بالقول كأن يقول كفرت بالله وأنا مشرك وغير ذلك من الألفاظ الكفرية والشركية أو يأتي بأعمال صريحة في ردته في كفره منها:

1ـ أنه يرتدي المصحف في قدميه ويدخل به الخلاء.

2ـ ومنهم من يكتب القرآن الكريم بالقذارة أو بدم الحيض.

3ـ ومنهم من يكتب آيات القرآن على أسفل قدميه.

4ـ ومنهم من يكتب الفاتحة معكوسة.

5ـ ومنهم من يؤدي الصلاة بلاوضوء.

6ـ ومنهم من يذبح للشيطان فلايذكر اسم الله على المذبوح ويرمي به في مكان يحدده له شيطانه.

7ـ ومنهم من يسجد للكواكب ويخاطبها.
একজন প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন যে, শয়তান যাতে জাদুকরকে তার জাদুকর্মে সাহায্য করে, সেজন্য জাদুকর যে সকল শিরক (شرك) বা কুফরি (كفر) কাজ করে থাকে তার কিছু উল্লেখ করা কি সম্ভব? আমরা বলি: হ্যাঁ, সম্মানিত পাঠকের সামনে জাদুকরদের ভয়াবহতা এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর সাথে তাদের কুফরি (كفر) এর বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমরা এর কিছু অংশ উল্লেখ করছি। সেই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: এটি জানা আবশ্যক যে, শয়তান যাতে জাদুকরকে সাহায্য করে, সেজন্য তাকে অবশ্যই আল্লাহর সাথে কুফরি (كفر) করতে হয়। এটি হয় মৌখিক কথার মাধ্যমে হতে পারে, যেমন সে বলে— 'আমি আল্লাহকে অস্বীকার করলাম' অথবা 'আমি একজন অংশীবাদী (مشرك)' এবং এ জাতীয় অন্যান্য কুফরি (كفر) ও শিরকি (شرك) শব্দাবলি। অথবা সে তার ধর্মত্যাগ ও কুফরি (كفر) এর অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু প্রকাশ্য কর্ম সম্পাদন করে, যার মধ্যে রয়েছে:

১. সে তার পায়ে পবিত্র অনুলিপি (مصحف) পরিধান করে এবং তা নিয়ে শৌচাগারে প্রবেশ করে।

২. তাদের মধ্যে কেউ কেউ অপবিত্রতা বা ঋতুস্রাবের রক্ত দিয়ে কুরআন মাজীদ লেখে।

৩. তাদের কেউ কেউ তার পায়ের তলায় কুরআনের আয়াত (آيات) লেখে।

৪. তাদের মধ্যে কেউ সূরা ফাতিহা উল্টোভাবে লেখে।

৫. তাদের মধ্যে কেউ কেউ অজু ছাড়া সালাত আদায় করে।

৬. তাদের কেউ শয়তানের উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করে, ফলে জবেহকৃত পশুর ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না এবং শয়তান তার জন্য নির্ধারিত স্থানে তা ফেলে দিয়ে আসে।

৭. তাদের মধ্যে কেউ কেউ গ্রহ-নক্ষত্রকে সেজদা করে এবং সেগুলোকে সম্বোধন করে কথা বলে।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৬)
8ـ ومنهم من يأتي أمه أو ابنته نعوذ بالله من ذلك كله.

وبالجملة كل ما كان الساحر أشد كفراً بالله كان الشيطان أكثر طاعة له وذلك بتنفيذ أمره وبسرعة في ذلك.

ثانياً: أدلة وقوع السحر:

لما ضل من ضل من المعتزلة وغيرهم في إنكار حقيقة السحر كان ولابد من إثبات أدلة وقوع السحر حقيقة لاتخيلا كما زعمه أولئك.

فقد ذهب أهل السنة إلى أن السحر ثابت وله حقيقة وسنذكرأدلة ذلك من الكتاب والسنة.

1ـ من أدلة الكتاب:

قوله تعالى: {وَاتَّبَعُواْ مَا تَتْلُواْ الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيْاطِينَ كَفَرُواْ يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُم بِضَآرِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَاّ بِإِذْنِ اللهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ وَلَقَدْ
৮ـ তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে নিজের মা অথবা মেয়ের সাথে কামাচারে লিপ্ত হয়; আমরা এই সবকিছু থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সারকথা হলো, জাদুকর আল্লাহর প্রতি যত বেশি কুফরি (كفر) অবলম্বন করে, শয়তান তার প্রতি তত বেশি অনুগত হয়। আর তা ঘটে জাদুকরের নির্দেশ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

দ্বিতীয়ত: জাদু সংঘটিত হওয়ার প্রমাণসমূহ:

যেহেতু মুতাজিলা ও অন্যান্যদের মধ্য থেকে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তারা জাদুর বাস্তবতাকে অস্বীকার করেছে, তাই জাদু যে নিছক কল্পনা নয় বরং বাস্তবে সংঘটিত হওয়া একটি সত্য, তার প্রমাণাদি উপস্থাপন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, যেমনটি তারা ধারণা করেছে।

আহলুস সুন্নাহ এই মত পোষণ করেন যে, জাদু সুপ্রমাণিত এবং এর বাস্তবতা রয়েছে। আমরা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর প্রমাণাদি উল্লেখ করব।

১ـ কুরআন থেকে সংগৃহীত প্রমাণাদি:

মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা ঐসব বিষয়ের অনুসরণ করল যা সুলাইমানের রাজত্বকালে শয়তানরা পাঠ করত। সুলাইমান কুফরি (كفر) করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরি (كفر) করেছিল। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত এবং বাবিলে হারুত ও মারুত—এই দুই ফেরেশতার ওপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছিল তাও শিক্ষা দিত। তারা কাউকে তা শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না এই কথা বলত যে, "আমরা তো কেবল একটি পরীক্ষা (فتنة), সুতরাং তোমরা কুফরি (كفر) করো না।" অতঃপর তারা তাদের নিকট থেকে এমন বিদ্যা শিখত যার দ্বারা তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত। অথচ আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তারা তা দিয়ে কারো কোনো ক্ষতি করতে পারত না। তারা এমন বিষয় শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং তাদের কোনো উপকারে আসত না। আর তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে...}
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৭)
عَلِمُواْ لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْاْ بِهِ أَنفُسَهُمْ لَوْ كَانُواْ يَعْلَمُونَ {102} (البقرة) .

قوله تعالى: {فَلَمَّا أَلْقَوْاْ سَحَرُواْ أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ {116} (الأعراف) .

وقوله تعالى: {فَلَمَّا أَلْقَواْ قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُم بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ {81} (يونس) .

وقوله تعالى في بيان ماقاله سحرة فرعون: {إِنَّا آمَنَّا بِرَبِّنَا لِيَغْفِرَ لَنَا خَطَايَانَا وَمَا أَكْرَهْتَنَا عَلَيْهِ مِنَ السِّحْرِ وَاللَّهُ خَيْرٌ وَأَبْقَى {73} (طه) .

والآيات التي جاءت في ثبوت السحر كثيرة.
...তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে, যে কেউ তা ক্রয় করবে, পরকালে তার জন্য কোনো অংশ নেই। আর তারা যার বিনিময়ে নিজেদের সত্তাকে বিক্রয় করেছে, তা কতই না মন্দ, যদি তারা জানত! {১০২} (আল-বাকারা) ।

মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা যখন (জাদুর সরঞ্জাম) নিক্ষেপ করল, তখন তারা মানুষের চোখে জাদু করল এবং তাদেরকে আতঙ্কিত করে তুলল; আর তারা এক মহা জাদু প্রদর্শন করল} {১১৬} (আল-আরাফ) ।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মুসা বললেন, তোমরা যা নিয়ে এসেছ তা হলো জাদু; আল্লাহ অবশ্যই তা বাতিল করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের কর্ম সংশোধন করেন না} {৮১} (ইউনুস) ।

এবং ফেরাউনের জাদুকররা যা বলেছিল তা বর্ণনা করে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছি যাতে তিনি আমাদের ভুলত্রুটিসমূহ এবং আপনি আমাদের যে জাদুর ওপর বাধ্য করেছেন তা ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহই শ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী} {৭৩} (ত্বহা) ।

জাদুর বাস্তবতা সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত আয়াতসমূহ অনেক।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৮)
2ـ أدلة السنة في ثبوت ذلك ومن هذه الأدلة:

حديث عائشة رضي الله عنها قالت: (سُحِرَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِنَّهُ لَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهُ يَفْعَلُ الشَّىْءَ وَمَا فَعَلَهُ حَتَّى إِذَا كَانَ ذَاتَ يَوْمٍ وَهْوَ عِنْدِى دَعَا اللَّهَ وَدَعَاهُ ثُمَّ قَالَ: " أَشَعَرْتِ يَا عَائِشَةُ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَفْتَانِى فِيمَا اسْتَفْتَيْتُهُ فِيهِ ". قُلْتُ: وَمَا ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: "جَاءَنِى رَجُلَانِ فَجَلَسَ أَحَدُهُمَا عِنْدَ رَأْسِى وَالآخَرُ عِنْدَ رِجْلَىَّ ثُمَّ قَالَ: أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ مَا وَجَعُ الرَّجُلِ قَالَ: مَطْبُوبٌ. قَالَ وَمَنْ طَبَّهُ قَالَ: لَبِيدُ بْنُ الأَعْصَمِ الْيَهُودِىُّ مِنْ بَنِى زُرَيْقٍ. قَالَ: فِي مَاذَا قَالَ فِى مُشْطٍ وَمُشَاطَةٍ وَجُفِّ طَلْعَةٍ ذَكَرٍ. قَالَ: فَأَيْنَ هُوَ قَالَ: فِى بِئْرِ ذِى أَرْوَانَ" قَالَ: فَذَهَبَ النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم فِى أُنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ إِلَى الْبِئْرِ فَنَظَرَ إِلَيْهَا وَعَلَيْهَا نَخْلٌ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى عَائِشَةَ فَقَالَ: " وَاللَّهِ لَكَأَنَّ مَاءَهَا نُقَاعَةُ الْحِنَّاءِ وَلَكَأَنَّ نَخْلَهَا رُءُوسُ الشَّيَاطِينِ ". قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَأَخْرَجْتَهُ قَالَ: " لَا أَمَّا أَنَا فَقَدْ عَافَانِى اللَّهُ وَشَفَانِى وَخَشِيتُ أَنْ أُثَوِّرَ عَلَى النَّاسِ مِنْهُ شَرًّا ". وَأَمَرَ بِهَا فَدُفِنَتْ"1.
২. এটি সাব্যস্ত হওয়ার স্বপক্ষে সুন্নাহর দলীলসমূহ এবং এই দলীলসমূহের মধ্যে রয়েছে:

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জাদু করা হয়েছিল, এমনকি তাঁর এমন বিভ্রম হতো যে, তিনি কোনো কাজ করেছেন বলে মনে করতেন অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি তা করেননি। অবশেষে একদিন তিনি যখন আমার নিকট ছিলেন, আল্লাহর নিকট বারবার দোয়া করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "হে আয়েশা! তুমি কি অনুধাবন করেছ যে, আমি যে বিষয়ে আল্লাহর নিকট সমাধান চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে সে বিষয়ে সমাধান দান করেছেন?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! সেটি কী? তিনি বললেন: "আমার নিকট দুইজন ব্যক্তি এলেন। তাঁদের একজন আমার শিয়রে এবং অন্যজন আমার পায়ের নিকট বসলেন। অতঃপর তাঁদের একজন তাঁর সঙ্গীকে জিজ্ঞাসা করলেন: এই লোকটির পীড়া কী? তিনি উত্তর দিলেন: তিনি জাদুগ্রস্ত (مطبوب)। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: কে তাঁকে জাদু করেছে? তিনি বললেন: বনু যুরাইক গোত্রের ইহুদি লাবীদ ইবনুল আসম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: কীসের মাধ্যমে? তিনি বললেন: একটি চিরুনি, চিরুনির সময় ঝরে পড়া চুল এবং পুরুষ খেজুর গাছের মোচার খোসার মাধ্যমে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: সেটি কোথায়? তিনি উত্তর দিলেন: যি আরওয়ান নামক কূপে।" তিনি (আয়েশা) বলেন: অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কয়েকজন লোক নিয়ে সেই কূপের দিকে গেলেন এবং সেটি দেখলেন; সেখানে খেজুর গাছ ছিল। অতঃপর তিনি আয়েশার নিকট ফিরে এসে বললেন: "আল্লাহর শপথ! তার পানি যেন মেহেন্দির গোলানো লাল পানি এবং তার খেজুর গাছগুলো যেন শয়তানদের মস্তক।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি তা বের করেছেন? তিনি বললেন: "না। আমাকে আল্লাহ তাআলা আরোগ্য দান করেছেন এবং সুস্থ করেছেন। আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, এর ফলে মানুষের মাঝে কোনো অনিষ্টের উদ্রেক ঘটবে।" অতঃপর তিনি সেটির ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান করলে তা দাফন করা হলো।)১।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৯)
ومنها أيضاً حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:" اجتنبوا السبع الموبقات، قالوا يارسول الله وماهي؟ قال: الشرك بالله، والسحر، وقتل النفس التي حرم الله إلا بالحق، وأكل الربا، وأكل مال اليتيم، والتولي يوم الزحف، وقذف المحصنات المؤمنات الغافلات". 1

عن ابن عباس رضي اله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من اقتبس علماً من النجوم اقتبس شعبة من السحر زاد مازاد " 2

فهذه الأدلة وغيرها تدل على وقوعه وأن السحر له حقيقة وهي أدلة تدل أيضاً على تحريمه فقد حكم أنه يكفر من قام بعمله وجعله النبي صلى الله عليه وسلم من السبع الموبقات التي أمرنا باجتنابها.

وخلاصة القول في حكمه أنه حرام بنص الكتاب والسنة وإجماع أهل العلم من الصحابة وغيرهم.
এগুলোর অন্তর্ভুক্ত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস, যেখানে নবি (সা.) বলেছেন: "তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক (الموبقات) কাজ পরিহার করো।" তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসুল, সেগুলো কী?" তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শরিক করা, জাদু, আল্লাহ যে প্রাণ সংহার করা হারাম (حرام) করেছেন তা অন্যায়ভাবে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের মাল ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা এবং সচ্চরিত্রা মুমিন সরলমনা নারীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া।" ১

ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কোনো জ্ঞান অর্জন করল, সে মূলত জাদুরই একটি শাখা (شعبة) অর্জন করল; সে যতটুকু বৃদ্ধি করবে (জাদুর গুনাহও) ততটুকু বৃদ্ধি পাবে।" ২

সুতরাং এই সকল দলিল এবং অন্যান্য প্রমাণাদি জাদুর অস্তিত্ব এবং এর বাস্তব সত্যতা থাকার ওপর প্রমাণ পেশ করে। এসব দলিল এর নিষিদ্ধতা (تحريم) সম্পর্কেও প্রমাণ দেয়। কেননা সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে, যে ব্যক্তি জাদুর চর্চা করে সে কুফরি (يكفر) করে এবং নবি (সা.) একে সেই সাতটি ধ্বংসাত্মক (الموبقات) কর্মের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা পরিহার করতে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর বিধান (حكم) সম্পর্কে সারকথা হলো যে, কিতাব ও সুন্নাহর অকাট্য ভাষ্য (نص) এবং সাহাবী ও অন্যান্য আলেমগণের সর্বসম্মত ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে এটি হারাম (حرام)।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১০)
ثالثاً: وإذا كان السحر حراماً وأنه من الكفر فما حكم من قام به في شريعتنا؟ وهل تقبل توبته في إسقاط الحد عنه؟.

لاشك أن شريعتنا الإسلامية كلها مبناها على الرحمة بالعباد وذلك بحفظ نفوسهم وأرواحهم وأجسادهم ولذا شددت على من يرتكب هذه الفعلة الشنيعة وأمرت بقتله.

فقد اتفق الأئمة الأربعة على قتل الساحر حفاظاً على أفراد الأمة ومجتمعاتها.

فالحاصل أن الساحر حده في شريعتنا القتل ولكن هل يستتاب أم لاعلى خلاف بين أهل العلم ولأحمد رحمه الله روايتان، المشهور في مذهبه أنه يقتل من غير استتابة وبهذا قال مالك لأن الصحابة لم يستتيبوا السحرة الذين حكموا بقتلهم.

والخلاف بين الأئمة رحمهم الله هو في إسقاط الحد عند التوبة أي هل إذا تاب من سحره يُقتل أم لايُقتل؟ والصحيح ماذكرناه أنه يُقتل حتى وإن تاب وذلك لشناعة فعله وتحذيراً لغيره من ارتكاب هذه الفعلة فما شرعت إقامة الحدود إلا للحفاظ على الحياة البشرية ولذا قال تعالى: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ}
তৃতীয়ত: যদি জাদু হারাম এবং কুফর হিসেবে গণ্য হয়, তবে আমাদের শরিয়তে যে ব্যক্তি এটি করে তার বিধান কী? এবং তার ওপর থেকে নির্ধারিত দণ্ডবিধি (حد) রহিত করার ক্ষেত্রে তার তওবা কি কবুল হবে?

নিঃসন্দেহে আমাদের ইসলামি শরিয়তের সম্পূর্ণ ভিত্তি হলো বান্দাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন, আর তা তাদের জান, প্রাণ ও দেহের সুরক্ষার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। এ কারণেই শরিয়ত এই জঘন্য কাজে লিপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে।

উম্মাহর সদস্য ও সমাজকে রক্ষা করার লক্ষ্যে চার ইমাম জাদুকরকে হত্যা করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

সারকথা হলো, আমাদের শরিয়তে জাদুকরের নির্ধারিত দণ্ডবিধি (حد) হলো মৃত্যুদণ্ড। তবে তার কাছে তওবা আহ্বান করা হবে কি না, সে বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে; তাঁর মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতটি হলো, তওবা আহ্বান করা ছাড়াই তাকে হত্যা করা হবে। ইমাম মালিকও এই মত ব্যক্ত করেছেন; কারণ সাহাবীগণ (صحابة) সেই জাদুকরদের কাছে তওবা আহ্বান করেননি যাদের ব্যাপারে তাঁরা হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আইম্মায়ে কিরাম (রহ.)-এর মধ্যে মতপার্থক্য মূলত তওবা করার কারণে দণ্ডবিধি (حد) রহিত হওয়ার বিষয়ে। অর্থাৎ, সে যদি তার জাদু থেকে তওবা করে, তবে কি তাকে হত্যা করা হবে নাকি হবে না? বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি যে, সে তওবা করলেও তাকে হত্যা করা হবে। কারণ তার কাজ অত্যন্ত জঘন্য এবং এটি অন্যদের এই অপরাধ করা থেকে সতর্ক করার জন্য। নির্ধারিত দণ্ডবিধি (حدود) কার্যকর করার বিধান তো কেবল মানুষের জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যেই প্রবর্তিত হয়েছে। তাই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে বুদ্ধিমানগণ! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।"
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১১)
ففي قتله حياة للبشرية وتخلص من شره وتنبيه لغيره.

أما توبته فيما بينه وبين ربه سبحانه وتعالى فمن ذا الذي يحول بينه وبينها فإن كانت توبته صادقة، واستوفت شروطها فلاشك إن شاء الله بقبولها.

مسألة في ساحر أهل الكتاب:

اختلف أهل العلم في ساحر أهل الكتاب هل يقتل بسحره أم لا؟.

فذهب أبو حنيفة إلى القول بقتله وذلك للآتي:

أولاً: لعموم الأخبار التي جاءت بقتل الساحر.

ثانياً: لأن السحر جناية أوجبت قتل المسلم فأوجبت قتل الذمي كالقتل.

وذهب مالك رحمه الله إلى القول بأنه لايقتل إلا أن يقتل بسحره فيقتل.

وقال أيضا: أنه إذا أدخل بسحره ضرراً على مسلم لم يعاهد عليه نقض العهد بذلك فيحل قتله.

وذهب الشافعي رحمه الله إلى ماقاله مالك أولاً بأنه لايقتل إلا أن يقتل بسحره فيقتل.
কেননা তাকে হত্যার মধ্যেই রয়েছে মানবজাতির জন্য জীবন, তার অনিষ্ট থেকে মুক্তি এবং অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা।

আর তার ও তার প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তায়ালার মধ্যকার তাওবার ব্যাপারে বলা যায় যে, কে আছে যে তার এবং তাওবার মাঝে প্রতিবন্ধক হবে? যদি তার তাওবা সত্যনিষ্ঠ হয় এবং এর শর্তাবলি পূরণ করে, তবে ইনশাআল্লাহ তা কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

আহলে কিতাব জাদুকর সংক্রান্ত মাসআলা:

আহলে কিতাব জাদুকরকে তার জাদুর কারণে হত্যা করা হবে কি না, সে বিষয়ে বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেন।

ইমাম আবু হানিফা তাকে হত্যার মত পোষণ করেছেন এবং এর কারণগুলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: জাদুকরকে হত্যার বিষয়ে যে সকল বর্ণনা (أخبار) এসেছে তার ব্যাপকতার কারণে।

দ্বিতীয়ত: যেহেতু জাদু এমন একটি অপরাধ যা একজন মুসলিমের জন্য মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য করে তোলে, তাই এটি জিম্মি (ذمي) ব্যক্তির ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড আবশ্যক করবে, যেমনটি হত্যার দণ্ডের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি এই মত পোষণ করেছেন যে, তাকে হত্যা করা হবে না যতক্ষণ না সে তার জাদুর মাধ্যমে কাউকে হত্যা করে; এমতাবস্থায় তাকে হত্যা করা হবে।

তিনি আরও বলেছেন: যদি সে তার জাদুর মাধ্যমে কোনো মুসলিমের এমন কোনো ক্ষতি সাধন করে যার ব্যাপারে কোনো চুক্তি করা হয়নি, তবে এর দ্বারা তার নিরাপত্তা চুক্তি ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং তখন তাকে হত্যা করা বৈধ হবে।

ইমাম শাফেঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি ইমাম মালিকের প্রথমোক্ত মতটিই গ্রহণ করেছেন যে, তাকে হত্যা করা হবে না যতক্ষণ না সে তার জাদুর মাধ্যমে কাউকে হত্যা করে; এমতাবস্থায় তাকে হত্যা করা হবে।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২)
والصحيح أنه يقتل بسحره إذا تسبب في قتل أحد أو ضرره لأن تعاطيه السحر نقض للعهد فيقتل به.
আর সঠিক (الصحيح) অভিমত হলো এই যে, তাকে তার জাদুর কারণে হত্যা করা হবে যদি সে কারো মৃত্যু বা ক্ষতির কারণ হয়; কারণ জাদু চর্চা করা হলো অঙ্গীকার ভঙ্গের শামিল, তাই এর কারণে তাকে হত্যা করা হবে।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২)
رابعا:‌‌ أقسام السحر:

ذكر الرازي أقساماً ثمانية للسحر وكل هذه الأقسام أدخلها الرازي بناءاً على التعريف اللغوي لأن السحر في اللغة كما بينَّا هو عبارة عما لطف وخفي سببه ولكن هنا الذي يعنينا من أقسامه هي التي تتعلق بالسحر حقيقة والتي سببها ظاهر ويستعين الساحر فيها بالجن والشياطين بغرض الإفساد في الأرض والإضرار بالبشرية فمن هذه الأقسام:

1- سحر يؤثر من تلقاء نفسه وهو مايصدر عن الشيطان أو من يعاونه على ذلك وهو أقواها أي أقوى أنواع السحر.

2- سحر يقوم الساحر بمساعدة الأرواح الشريرة وهو أضعفها ولايدوم مفعوله إلا إذا تكرر عمله ومن السهل علاجه وإبطال مفعوله.

سحر يستعين فيه الساحر بقوة الحروف الهجائية والأعداد والكواكب والأجرام السماوية وهو أصعب أنواع السحر ويستلزم الحيطة والحذر منه وهذا يجهله أكثر الناس ولكن هنا في النوع الأخير من أقسام السحر ينبغي أن ننبه
চতুর্থত:‌‌ জাদুর প্রকারভেদ:

ইমাম আল-রাজি জাদুর আটটি প্রকার উল্লেখ করেছেন। তিনি এই সকল প্রকারকে জাদুর আভিধানিক সংজ্ঞার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; কারণ আমরা যেমনটি স্পষ্ট করেছি যে, আভিধানিক পরিভাষায় জাদু হলো এমন বিষয় যার কারণ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গোপন। তবে এখানে জাদুর সেই প্রকারগুলোই আমাদের উদ্দেশ্য যা প্রকৃত জাদুর সাথে সম্পৃক্ত এবং যার কারণ প্রকাশ্য। এতে জাদুকর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি ও মানবজাতির ক্ষতি করার অভিপ্রায়ে জিন ও শয়তানদের সাহায্য গ্রহণ করে। এই প্রকারগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১- এমন জাদু যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করে। এটি শয়তান অথবা তার সহযোগীদের পক্ষ থেকে প্রকাশ পায় এবং এটি জাদুর প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রকার।

২- এমন জাদু যা জাদুকর অশুভ আত্মাগুলোর সহায়তায় সম্পাদন করে। এটি জাদুর সবচেয়ে দুর্বল প্রকার এবং এর কার্যকারিতা স্থায়ী হয় না, যদি না আমলটি পুনরায় করা হয়। এর চিকিৎসা করা এবং এর কার্যকারিতা বাতিল করা সহজ।

এমন জাদু যাতে জাদুকর বর্ণমালা, সংখ্যা, নক্ষত্র এবং মহাজাগতিক বস্তুসমূহের শক্তির সাহায্য নেয়। এটি জাদুর সবচেয়ে কঠিন প্রকার এবং এ ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক। অধিকাংশ মানুষ এ বিষয়ে অজ্ঞ। তবে জাদুর এই শেষোক্ত প্রকারটি সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করা প্রয়োজন—
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩)
على أنه إن صح هذا القسم من الاستعانة بالكواكب والحروف الهجائية ونحوها فينبغي أن يُعلم أن التأثير الذي يحدث للمسحور لايكون من تأثير الكواكب ولكن من تأثير الشياطين وذلك لإضلال السحرة وفتنتهم"1 "

سؤال: كثيراً مانسمع عما يقوم به المشعوذون من أعمال يشاهدها أبناء المسلمين إما عن طريق التلفاز أو المشاهدة عياناً في بعض البلدان الأخرى وذلك بقيام المشعوذ بعمل أعمال خفية فتصرف الأبصار إليها كإماتة طير وإحيائه أو إخراج الطائر من البيضة على يديه وهكذا فما حكم مشاهدة هذه الأشياء وهل هي من السحر؟.

نقول نعم هذه الأشياء ضرب من ضروب السحر ويسمى سحر التخييل وهو قسم من أقسام السحر الذي هو يشبه سحر سحرة فرعون الذي قال الله فيه: {يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِن سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى {66} (طه) .

--------------------------------------------

1 انظر كتاب الصارم البتار ص 51.
তদুপরি, গ্রহ-নক্ষত্র এবং বর্ণমালার অক্ষর ইত্যাদির সাহায্য গ্রহণের এই বিষয়টি যদি সঠিক (صحيح) বলেও গণ্য হয়, তবুও এটি জানা আবশ্যক যে, জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির উপর যে প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তা গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাবে হয় না; বরং তা শয়তানদের প্রভাবে হয়ে থাকে, যা মূলত জাদুকরদের পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়। "১"

প্রশ্ন: ভণ্ড জাদুকররা যেসব কর্মকাণ্ড করে সে সম্পর্কে আমরা প্রায়ই শুনে থাকি, যা মুসলিম সন্তানরা হয় টেলিভিশনের মাধ্যমে অথবা বিভিন্ন দেশে সরাসরি প্রত্যক্ষ করে থাকে। জাদুকর কিছু গোপন কৌশলের আশ্রয় নেয় যা মানুষের দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে; যেমন কোনো পাখিকে মেরে ফেলে পুনরায় জীবিত করা অথবা নিজের হাতের সাহায্যে ডিম থেকে পাখি বের করে আনা ইত্যাদি। এই ধরনের দৃশ্য দেখার বিধান কী এবং এগুলো কি জাদুর অন্তর্ভুক্ত?

আমরা বলছি, হ্যাঁ—এই বিষয়গুলো জাদুরই একটি প্রকার এবং একে দৃষ্টিভ্রমকারী জাদু (سحر التخييل) বলা হয়। এটি জাদুর সেই প্রকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা ফেরাউনের জাদুকরদের জাদুর সদৃশ, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তাদের জাদুর প্রভাবে তার কাছে মনে হচ্ছিল যে, সেগুলো (দড়ি ও লাঠিগুলো) ছুটোছুটি করছে।" (ত্বহা: ৬৬)।

--------------------------------------------

১. দেখুন আস-সারিমুল বাত্তার, পৃষ্ঠা ৫১।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال فيه أيضا: {قَالَ أَلْقُوْاْ فَلَمَّا أَلْقَوْاْ سَحَرُواْ أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ {116} (الأعراف) .

وهذه الأشياء التي يقوم بها المشعوذون في هذا النوع من السحر لاحقيقة لها بل هي خداع وتخيلات يقوم بفعلها المشعوذ لكي يصرف أبصار الناس عما يتعاطاه بخفة يده.

أما كونها سحراً لأن الله سبحانه وتعالى سماها بذلك فقال في سحرة فرعون: {وَجَاءوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ {116} (الأعراف) .

لكن هنا ماحكم رؤية هذه الأعمال؟.

لاشك أنه لا يجوز ويحرم على الإنسان رؤيتها وينبغي عليه أن يحذر أبناءه من مشاهدة هذه الأشياء.

ودليل ذلك قوله تعالى: {وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُواْ فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ {68} (الأنعام) .

وقوله تعالى للمؤمنين: {وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ
তিনি এতে আরও বলেছেন: {তিনি বললেন, ‘তোমরা নিক্ষেপ করো।’ অতঃপর তারা যখন নিক্ষেপ করল, তখন তারা মানুষের চোখকে জাদুগ্রস্ত করল এবং তাদের আতঙ্কিত করে তুলল এবং তারা এক মহা জাদু প্রদর্শন করল।} {১১৬} (আল-আরাফ)।

জাদুর এই প্রকারভেদে ভেলকিবাজরা যা কিছু করে থাকে তার কোনো প্রকৃত বাস্তবতা নেই; বরং এগুলো হচ্ছে স্রেফ প্রতারণা ও বিভ্রম, যা ভেলকিবাজ তার হাতের কৌশলের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিকে যা সে করছে তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য করে থাকে।

আর এটি জাদু হওয়ার কারণ হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে এই নামেই অভিহিত করেছেন। ফেরাউনের জাদুকরদের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: {আর তারা এক মহা জাদু নিয়ে এল।} {১১৬} (আল-আরাফ)।

কিন্তু এখানে এই কাজগুলো দেখার বিধান কী?

নিঃসন্দেহে এটি দেখা বৈধ নয় এবং মানুষের জন্য এগুলো দেখা হারাম। মানুষের উচিত তার সন্তানদের এই বিষয়গুলো দেখা থেকে সতর্ক করা।

এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আপনি তাদের দেখেন যারা আমার আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাসমূলক আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন যতক্ষণ না তারা অন্য কোনো আলোচনায় মগ্ন হয়। আর যদি শয়তান আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর আপনি আর সেই জালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসবেন না।} {৬৮} (আল-আনআম)।

এবং মুমিনদের প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি তো কিতাবে তোমাদের প্রতি নাজিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনতে পাবে...}
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৫)
آيَاتِ اللهِ يُكَفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُواْ مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُواْ فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذاً مِّثْلُهُمْ إِنَّ اللهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعاً {140} (النساء) .

فرؤية المنكر مع عدم القدرة على الإنكار نهينا عن الجلوس مع من يقوم به لأن الجلوس معه يوحي بالرضى به.

والسحر منكر عظيم ينبغي البعد عن أماكنه وعن من يقوم به.

وكذلك في هذه الألعاب شركيات وكفريات كما هو معلوم فالمشعوذ الذي يقوم بعمل هذه الأشياء يدعي صفة الربوبية وهي القدرة على الإحياء بعد الإماتة ومن ادعى ذلك كفر لأن هذا من خصائص ربوبية الرب سبحانه وتعالى.

فالمهم هنا أننا نقول بأنه لايجوز رؤية الألعاب التي يقوم بها المشعوذون وتشتمل على سحر التخييل المتضمن لأشياء كفرية أو شركية أومحرمة سواء كان من خلال أجهزة الإعلام أوغيرها.
"আল্লাহর আয়াতসমূহকে যখন অস্বীকার করা হয় এবং তা নিয়ে উপহাস করা হয়, তখন তোমরা তাদের সাথে উপবেশন করো না যতক্ষণ না তারা অন্য কোনো হাদিস বা আলোচনায় লিপ্ত হয়। অন্যথায় তোমরাও তাদের মতো হয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুনাফিক ও কাফিরদের সকলকে জাহান্নামে একত্রিত করবেন।" {১৪০} (আন-নিসা)।

সুতরাং অন্যায় বা প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয় প্রত্যক্ষ করা সত্ত্বেও তা প্রতিহত করার সক্ষমতা না থাকলে, তা সম্পাদনকারীর সাথে উপবেশন করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। কেননা তার সাথে উপবেশন করা সেই কাজের প্রতি সন্তুষ্টির ইঙ্গিত বহন করে।

আর জাদু এক মহা অন্যায় বা প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয়; তাই জাদুর স্থান এবং জাদুকর থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

তদ্রূপ এই খেলাগুলোতে শিরক ও কুফর বিদ্যমান থাকে যেমনটি সবার জানা; কারণ যে ভেলকিবাজ এই কাজগুলো করে সে রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্বের গুণ দাবি করে, যা হলো মৃত্যু প্রদানের পর জীবন দান করার ক্ষমতা। আর যে ব্যক্তি এমন দাবি করবে সে কুফরি করল, কারণ এটি মহান রব্ব সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রভুত্বের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।

মূল কথা হলো, ভেলকিবাজদের প্রদর্শিত সেসব খেলা দেখা বৈধ নয় যা দৃষ্টিভ্রমকারী জাদুর অন্তর্ভুক্ত এবং যা কুফরি, শিরক বা হারাম বিষয়াদি ধারণ করে, চাই তা গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে হোক।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৬)
خامساً: العلامات التي يعرف بها الساحر:

إن من رحمة الله بعباده أنه أوضح لهم بل كشف لهم خبايا أهل الزيغ والضلال من السحرة والمشعوذين ليكونوا منهم على حذر حتى أصبح العامي والجاهل يعرف الساحر من غيره.

فمن العلامات التي يمكننا أن نستدل بها على الساحر:

1. أنه يسأل المريض عن اسمه واسم أمه.

2. أنه يأخذ أثراً من آثار المريض مثل ثوب، شماغ، غترة، منديل، فانيلة، سروال، طاقية وغيرها من ملابس أو غيرها مما يستخدمه المصاب.

3. أحيانا يطلب حيواناً بصفات معينة ليذبحه ولا يذكر اسم الله عليه، وربما لطخ بدمه أماكن الألم من المريض أو يرمي به في مكان خرب.

4. كتابة الطلاسم والتعوذات الشركية.

5. تلاوة الطلاسم والعزائم غير المفهومة.

6. إعطاء المريض حجاباً يحتوي على مربعات بداخلها حروف أو أرقام.

7. أن يأمر المريض أن يعتزل الناس فترة معينة في غرفة لا تدخلها الشمس ويسميها العامة "الحجبة".
পঞ্চমত: জাদুকরকে চেনার লক্ষণসমূহ:

বান্দাদের প্রতি আল্লাহর এটি অন্যতম রহমত যে, তিনি তাদের নিকট জাদুকর ও ভণ্ড তান্ত্রিকদের মতো বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট লোকদের গোপন রহস্যগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বরং উন্মোচিত করে দিয়েছেন; যাতে তারা তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পারে। এমনকি বর্তমানে একজন সাধারণ ও অজ্ঞ ব্যক্তিও জাদুকরকে অন্যদের থেকে পৃথক করে চিনতে পারে।

জাদুকরকে শনাক্ত করার জন্য আমরা যেসব লক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণ পেতে পারি, তা হলো:

১. সে রোগীকে তার নাম এবং তার মায়ের নাম জিজ্ঞাসা করে।

২. সে রোগীর ব্যবহৃত কোনো নিদর্শন বা চিহ্ন গ্রহণ করে; যেমন: পোশাক, শামাগ, গুতরা, রুমাল, গেঞ্জি, পায়জামা, টুপি অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত এই জাতীয় অন্যান্য কাপড় বা সামগ্রী।

৩. অনেক সময় সে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের কোনো পশু জবেহ করার দাবি করে এবং তাতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না। সম্ভবত সেই পশুর রক্ত রোগীর ব্যথার স্থানে মাখিয়ে দেয় অথবা পশুটিকে কোনো পরিত্যক্ত বা জনমানবহীন স্থানে নিক্ষেপ করে।

৪. শিরকপূর্ণ মন্ত্রতন্ত্র ও তুকতাক লেখা।

৫. দুর্বোধ্য তিলিসমাতি ও মন্ত্রাদি পাঠ করা।

৬. রোগীকে এমন কোনো কবজ প্রদান করা যাতে বর্গাকার ঘর সম্বলিত নকশা থাকে এবং যার ভেতরে বিভিন্ন বর্ণ বা সংখ্যা থাকে।

৭. রোগীকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এমন এক কক্ষে অবস্থান করতে বলা যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করে না; সাধারণ মানুষ একে "হুজবা" বলে থাকে।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৭)
8. أحيانا يطلب من المريض ألايمس الماء مدة معينة غالباً تكون أربعين يوما.

9. يعطي المريض أشياءاً يدفنها في الأرض.

10. يعطي المريض أوراقاً يحرقها ويتبخربها.

11. يتمتم بكلام غير مفهوم وخارج تماماً عن اللغة العربية.

12. أحيانا يخبر الساحر المريض باسمه واسم بلده ومشكلته التي جاء من أجلها بدون أن يذكرله المريض ذلك.

13. يكتب للمريض حروفاً مقطعة في ورقة "حجاب" أو في طبق من الخزف الأبيض ويأمر المريض بإذابته وشربه.

14. أنه عدو لدود لجميع الأديان ويظهر سخطه عليها واستهزاءه بها في كل مناسبة ولايدخل بتاتاً أي محل للعبادة إلا بقصد تدنيسه أو تلويث معداته متبرئاً من دينه ومن جميع الكتب المنزلة مع تمزيقها وحرقها واستعمالها في أغراض دنيئة.

15. يقضي معظم الأوقات بعيداً عن الناس ولايعاملهم ولايتصل بهم لأنه دائماً يخلو بشيطانه الذي يسخره لأعمال سحرية أو إلحاق الضرر بالناس فإذا جاء إليه من يريد منه سحراً قام إليه.
8. মাঝেমধ্যে রোগীকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানি স্পর্শ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা সাধারণত চল্লিশ দিন হয়ে থাকে।

9. সে রোগীকে এমন কিছু বস্তু দেয় যা মাটিতে পুঁতে রাখতে হয়।

10. রোগীকে কিছু কাগজ দেয় যা সে পুড়িয়ে তার ধোঁয়া গ্রহণ করে।

11. সে এমন কিছু অবোধ্য শব্দে বিড়বিড় করে যা আরবি ভাষার পরিমণ্ডলের সম্পূর্ণ বাইরে।

12. মাঝেমধ্যে জাদুকর রোগীকে তার নাম, তার এলাকার নাম এবং যে সমস্যার কারণে সে এসেছে তা রোগী নিজে উল্লেখ করার আগেই বলে দেয়।

13. সে রোগীর জন্য একটি কাগজে "তাবিজ" হিসেবে অথবা সাদা চীনামাটির থালায় বিচ্ছিন্ন বর্ণসমূহ (حروف مقطعة) লিখে দেয় এবং রোগীকে তা গুলিয়ে পান করার নির্দেশ দেয়।

14. সে সকল ধর্মের কট্টর শত্রু এবং প্রতিটি সুযোগে সেগুলোর প্রতি তার ঘৃণা ও উপহাস প্রকাশ করে। সে কোনো উপাসনালয়ে কেবল তা অপবিত্র করার উদ্দেশ্যে অথবা সেখানকার আসবাবপত্র কলুষিত করার উদ্দেশ্যেই প্রবেশ করে; সে নিজের ধর্ম এবং সকল অবতীর্ণ আসমানি কিতাব থেকে নিজেকে সম্পর্কহীন ঘোষণা করার পাশাপাশি সেগুলো ছিঁড়ে ফেলে, পুড়িয়ে ফেলে এবং হীন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।

15. সে অধিকাংশ সময় মানুষের থেকে দূরে নির্জনে কাটায় এবং তাদের সাথে কোনো প্রকার লেনদেন বা যোগাযোগ রাখে না। কারণ সে সর্বদা তার সেই শয়তানের সাথে নিভৃতে অবস্থান করে, যাকে সে জাদুর কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা মানুষের ক্ষতি সাধনের জন্য বশীভূত করে রেখেছে। অতঃপর যখন জাদুর উদ্দেশ্যে কেউ তার নিকট আসে, তখন সে তার প্রতি মনোনিবেশ করে।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৮)
فهذه جملة من العلامات التي يُستدل بها على الساحر فعلى كل مسلم ومسلمة أن يتنبهوا لهذه العلامات وإلا وقعوا في المحظور وهو قوله صلى الله عليه وسلم:" من أتى عرافاً أو كاهناً فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد ". 1
সুতরাং এগুলো এমন কিছু আলামত বা লক্ষণের সমষ্টি যা দ্বারা একজন জাদুকরকে শনাক্ত করা যায়। অতএব, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উচিত এই আলামতগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা, অন্যথায় তারা নিষিদ্ধ (محظور) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে। আর তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: “যে ব্যক্তি কোনো গণক (عراف) অথবা জ্যোতিষীর (كاهن) নিকট আসলো এবং সে যা বলল তা বিশ্বাস করল, তবে সে মুহাম্মাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরি করল (كفر)।” ১
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌حكم حل السحر بسحر مثله

…

سادساً: هل يجوز حل السحر بالسحر؟.

كثير من الناس يخفى عليهم هذا الحكم فتجده إذا عجز عن الشفاء من السحر الذي ألم به يذهب إلى السحرة والمشعوذين بل تجده من أول وهلة أصابته يذهب إلى أولئك الكفرة ويستعين بهم في حل سحره ولخطورة هذا الأمر أحببنا أن ننبه على هذا الحكم.

هل يجوز الذهاب للسحرة بغرض حل السحر عن المسحور؟.

اختلفت أقوال الناس في ذلك فمنهم من قال بالجواز إذا كان الغرض الإصلاح لا الإفساد ومنهم من قال بأنه لايجوز إطلاقاً الذهاب إليهم بأي شكل من الأشكال.

وإذا نظرت إلى نصوص الشريعة تجد أنها جاءت واضحة في بيان النهي عن الذهاب للسحرة سواء كان للإفساد أو الإصلاح وعندئذ نقول لانلتفت إلى أقوال من قال بجواز حل السحر عن المسحور باستخدام السحرة والمشعوذين لأن ذلك عارٍ عن الدليل.

أما دليل ذلك فهو:

1ـ أدلة النهي عن الذهاب إلى السحرة مطلقاً ومن هذه الأدلة

قوله صلى الله عليه وسلم: " مَنْ أَتَى كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ
‌‌অনুরূপ জাদুর মাধ্যমে জাদু দূর করার বিধান (حكم)

…

ষষ্ঠত: জাদুর সাহায্যে কি জাদু দূর করা বৈধ?

অনেক মানুষের নিকট এই বিধান (حكم) টি অস্পষ্ট। ফলে দেখা যায়, যখন কেউ তার ওপর আপতিত জাদু থেকে আরোগ্য লাভে অক্ষম হয়, তখন সে জাদুকর ও তান্ত্রিকদের কাছে যায়। এমনকি দেখা যায় যে, আক্রান্ত হওয়ার প্রথম মুহূর্ত থেকেই সে ওই সকল কাফিরদের নিকট গমন করে এবং নিজের জাদু কাটানোর জন্য তাদের সাহায্য গ্রহণ করে। এই বিষয়টি অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ার কারণে আমরা এই বিধান (حكم) টি সম্পর্কে সতর্ক করতে চেয়েছি।

জাদুক্রান্ত ব্যক্তির জাদু কাটানোর উদ্দেশ্যে জাদুকরদের কাছে যাওয়া কি বৈধ?

এ বিষয়ে মানুষের বক্তব্যের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে বৈধতার (جواز) পক্ষে মত দিয়েছেন যদি উদ্দেশ্য অনিষ্ট করা না হয়ে বরং সংশোধন করা হয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, কোনোভাবেই তাদের কাছে যাওয়া মোটেও বৈধ নয়।

আপনি যদি শরিয়তের প্রামাণ্য পাঠ (نصوص) গুলোর দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে জাদুকরদের কাছে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সেগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট; চাই তা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে হোক বা সংশোধনের উদ্দেশ্যে। এমতাবস্থায় আমরা বলব, জাদুকর ও ওঝাদের ব্যবহারের মাধ্যমে জাদুক্রান্ত ব্যক্তির জাদু দূর করার বৈধতার কথা যারা বলেছেন, তাদের মতের প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপ করা হবে না; কারণ তা প্রমাণ (دليل) বিহীন।

এর প্রমাণ (دليل) হলো:

১- সাধারণভাবে জাদুকরদের নিকট যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার প্রমাণসমূহ (أدلة); আর এ সকল প্রমাণের (أدلة) অন্তর্ভুক্ত হলো:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে আসল এবং সে যা বলল তা বিশ্বাস করল..."
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২০)
فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ". 1

وقوله: " مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَىْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ". 2

فقوله صلى الله عليه وسلم "فَسَأَلَهُ عَنْ شَىْءٍ" يحتمل أن يسأله الشفاء أو يسأله الإضرار لأن كلمة شَىْءٍ نكرة تحتمل هذاوهذا فلما كان الاحتمال موجودا كان استثناء الإصلاح يحتاج إلى دليل ولادليل على ذلك.

ومما احتج به من قال بجوازذلك حديث " النُّشْرَةِ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ ". 3

وهذا الحديث في الحقيقة حجة لمن قال بعدم جواز النشرة إلاماجاء الدليل بجوازه ولذا قال ابن القيم رحمه الله في بيان تعريف النشرة وحكمها: النشرة حل السحر عن المسحور وهي نوعان:

أحدهما: حله بسحر مثله وهو الذي من عمل الشيطان وعليه
"...সে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরি (كفر) করল।" ১

এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো গণকের (عراف) নিকট আসলো এবং তাকে কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, চল্লিশ রাত তার সালাত কবুল করা হবে না।" ২

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "তাকে কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল"—এর মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে যে, সে তার কাছে আরোগ্য লাভের জন্য জিজ্ঞাসা করল অথবা ক্ষতি করার জন্য; কারণ "বিষয়" (شيء) শব্দটি অনির্দিষ্ট (نكرة) হওয়ায় এটি উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রাখে। যেহেতু এই সম্ভাবনা বিদ্যমান, তাই সংশোধনের বা উপকারের বিষয়টি এর থেকে আলাদা করার জন্য প্রমাণের (دليل) প্রয়োজন, অথচ এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ (دليل) নেই।

যারা এটি বৈধ হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন তাদের বর্ণিত একটি হাদিস হলো: "নুশরা (النشرة) শয়তানের কাজের অন্তর্ভুক্ত।" ৩

মূলত এই হাদিসটি প্রকৃতপক্ষে তাদের স্বপক্ষেই দলিল (حجة) যারা নুশরা (النشرة) জায়েজ নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন, যতক্ষণ না এটি বৈধ হওয়ার সপক্ষে কোনো প্রমাণ (دليل) পাওয়া যায়। এজন্যই ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) নুশরার (النشرة) সংজ্ঞা ও বিধান বর্ণনায় বলেছেন: নুশরা (النشرة) হলো জাদুক্রান্ত ব্যক্তি থেকে জাদু দূর করা; আর এটি দুই প্রকার:

প্রথমত: জাদুর অনুরূপ জাদু দিয়ে তার চিকিৎসা করা, যা শয়তানি কাজের অন্তর্ভুক্ত এবং এর ওপর...
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২১)
يحمل قول الحسن البصري فيتقرب الناشر والمنتشر إلى الشيطان بمايحب فيبطل عمله عن المسحور.

والثاني: النشرة بالرقية والتعوذات والدعوات المباحة فهذا جائز.1
হাসান বসরীর উক্তিটি সেই প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করা হয় যেখানে জাদুমুক্তকারী এবং যার জন্য জাদুমুক্তি করা হয় তারা শয়তানের পছন্দনীয় বিষয়ের মাধ্যমে তার নৈকট্য লাভ করে, যার ফলে জাদুকৃত ব্যক্তির ওপর থেকে জাদুর ক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়।

আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: রুকইয়া (الرقية), আশ্রয় প্রার্থনা এবং বৈধ দোয়ার মাধ্যমে জাদুমুক্তি (النشرة), আর এটি বৈধ (جائز)।১
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২২)
سابعاً:‌‌ كيفية إبطال السحر:

قد يسأل سائل فيقول ذكرتم فيما سبق أنه لايجوز الاستعانه بالسحرة في حل السحر عن المسحور إذاً فما هي طرق إبطال السحر أعني بها الطرق الشرعية التي يمكن للمسحور استخدامها لكي يذهب عنه ما هو فيه.

نقول وبالله التوفيق.

يجب أن يعلم أن الله ما أنزل من داء إلا وجعل له دواء علمه من علمه وجهله من جهله ولاشك أن السحر مرض يصاب به الإنسان ولقد جاءت نصوص السنة تبين كيفية العلاج منه وسنذكر هنا بعض الطرق التي يمكن استخدامها في علاج المسحور منها.

أولاً: أول هذه الطرق هو التوجه إلى رب العالمين الذي بيده ملكوت كل شىء ولذا قال إبراهيم عليه السلام: {وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ {80} (الشعراء)

فالتوجه إلى الرب سبحانه وتعالى بالدعاء والتضرع بين يديه لاشك أنه من أعظم الأمور التي تنفع في ذهاب ماألم بالإنسان من سحر.
সপ্তম:‌‌ জাদু বাতিল করার পদ্ধতি:

জনৈক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন যে, আপনারা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছেন যে জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির জাদু অপসারণের ক্ষেত্রে জাদুকরদের সাহায্য গ্রহণ করা বৈধ নয়; তাহলে জাদু বাতিল করার পদ্ধতিগুলো কী? আমি এখানে সেই শরয়ি পদ্ধতিগুলোর কথা বুঝাতে চাচ্ছি, যা একজন জাদুগ্রস্ত ব্যক্তি তার বর্তমান অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করতে পারেন।

আমরা বলছি, আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করছি।

এটি জানা আবশ্যক যে, আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার প্রতিকার তিনি সৃষ্টি করেননি; কেউ তা জানে, আবার কেউ তা জানে না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জাদু একটি ব্যাধি যা মানুষকে আক্রান্ত করে। সুন্নাহর ভাষ্যসমূহে এর থেকে আরোগ্য লাভের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। জাদুগ্রস্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে এমন কিছু পদ্ধতি আমরা এখানে উল্লেখ করব।

প্রথমত: এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো রাব্বুল আলামীনের অভিমুখী হওয়া, যাঁর হাতে প্রতিটি বিষয়ের সার্বভৌম কর্তৃত্ব রয়েছে। এ কারণেই ইবরাহিম আলাইহিস সালাম বলেছেন: {আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন।} (সূরা আশ-শুয়ারা: ৮০)

সুতরাং দোয়া ও রোনাজারির মাধ্যমে মহান রবের নিকট আকুল আবেদন করা নিঃসন্দেহে মানুষের ওপর আপতিত জাদুর কষ্ট দূর করার ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও কার্যকর উপায়।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৩)
ثانيا: التعرف على مكان السحر وإبطاله ويكون ذلك بدعاء رب العالمين كما فعل النبي صلى الله عليه وسلم حينما سحره لبيد بن الأعصم وفيه أنه صلى الله عليه وسلم لما سحر سأل ربه في ذلك فدل عليه فاستخرجه من بئر فكان في مشط ومشاطة وجف طلعة ذكر فلما استخرجه ذهب مابه حتى كأنما نشط من عقال 1.

قال ابن القيم رحمه الله: " فهذا أبلغ ما يعالج به المطبوب وهذا بمنزلة إزالة المادة الخبيثة وقلعها من الجسد بالاستفراغ 2.

وقد يقول قائل إن رسول الله صلى الله عليه وسلم دل على السحر بطريقة الوحي فكيف ندل عليه؟.

نقول الإجابة على ذلك تكون بما يلي:

1- الرؤيا في المنام. فبعد أن يدعو العبد ربه بمعرفة مكان السحر فيراه في منامه هذا من تمام رحمة الله بالعبد.

2- أن يوفق لرؤيته أثناء البحث والتنقيب.

3- أن يعرف مكان السحر عن طريق الجن وذلك بالقراءة على

المسحور فيتكلم الجن على لسان المريض فيعرف من خلاله

مكان وضع السحر
দ্বিতীয়ত: জাদুর স্থান শনাক্ত করা এবং তা অকার্যকর করা। আর এটি রাব্বুল আলামীনের নিকট দোয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেছিলেন যখন লাবীদ ইবনুল আসম তাঁকে জাদু করেছিল। এ সম্পর্কিত বর্ণনায় এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জাদুক্রান্ত হলেন, তখন তিনি এ বিষয়ে তাঁর রবের নিকট প্রার্থনা করেন। অতঃপর তাঁকে জাদুর সন্ধান দেওয়া হয় এবং তিনি একটি কূপ থেকে তা উদ্ধার করেন। সেটি একটি চিরুনি, চিরুনি দিয়ে আঁচড়ানোর সময় ঝরে পড়া চুল এবং পুরুষ খেজুর গাছের শুকনো মোচার খোসার মধ্যে রাখা ছিল। যখন তিনি তা বের করে আনলেন, তখন তাঁর কষ্ট এমনভাবে দূর হয়ে গেল যেন তিনি কোনো বন্ধন থেকে মুক্ত হলেন। ১।

ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এটি জাদুকৃত ব্যক্তির চিকিৎসার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি এবং এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান নির্গতকরণ ও নিষ্কাশনের মাধ্যমে তা সমূলে উৎপাটন করার সমতুল্য।" ২।

কেউ হয়তো বলতে পারেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তো ওহীর মাধ্যমে জাদুর সন্ধান দেওয়া হয়েছিল, তাহলে আমরা কীভাবে এর সন্ধান পেতে পারি?

আমরা বলব, এর উত্তর নিম্নরূপ:

১- ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখা। যখন কোনো বান্দা জাদুর স্থান জানার জন্য তার রবের নিকট দোয়া করে, অতঃপর সে স্বপ্নে তা দেখতে পায়; এটি বান্দার প্রতি আল্লাহর পূর্ণ রহমতেরই বহিঃপ্রকাশ।

২- অনুসন্ধান ও তল্লাশি চালানোর সময় তা খুঁজে পাওয়ার তাওফিক লাভ করা।

৩- জিনের মাধ্যমে জাদুর স্থান জানতে পারা। এটি জাদুকৃত ব্যক্তির ওপর তিলাওয়াত করার মাধ্যমে সম্ভব হয়, ফলে জিন রোগীর জিহ্বা দিয়ে কথা বলে এবং তার মাধ্যমেই জাদু রাখার স্থানটি জানা যায়।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৪)
غير أنني أنبه إلى أن أكثر حال الجن الكذب فلا بد من التثبت منه والتأكد لئلا يظلم أحد بسببهم.

4. ومن الأمور التي يمكن من خلالها إبطال السحر.

إخراج الجني الموكل بالسحر من جسم المريض هذا إذا كان هناك جني موكل بالمريض في أذيته مثلا فإن استطاع الراقي للمريض إخراج الجني من جسد المريض فإن السحر يبطل بإذن الله تعالي.

5. الاستفراغ.

وذلك بأن يكون في المحل الذي يصل إليه أذى السحر، قال ابن القيم رحمه الله " فإن للسحر تأثيراً في الطبيعة وهيجان أخلاطها وتشويش مزاجها فإذا ظهر أثر في عضو وأمكن استفراغ المادة الرديئة من ذلك العضو نفع جدا ومن الاستفراغات النافعة بإذن الله تعالى في دفع السحر الحجامة. 1

6. النشرة.

والمراد بها هنا النشرة الشرعية والمرادبها قراءة القرآن والأدعية
তবে আমি সতর্ক করছি যে, জিনদের অধিকাংশ অবস্থাই হলো মিথ্যা (الكذب); তাই এই বিষয়ে অবশ্যই সত্যতা যাচাই ও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে তাদের কারণে কেউ অন্যায়ের শিকার না হয়।

৪. এমন কিছু বিষয় যার মাধ্যমে জাদু বাতিল করা সম্ভব।

জাদুর কাজে নিয়োজিত জিনকে রোগীর শরীর থেকে বের করে আনা। এটি তখন প্রযোজ্য যখন রোগীকে কষ্ট দেওয়ার জন্য কোনো জিন নিযুক্ত থাকে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ঝাড়ফুঁককারী রোগীর শরীর থেকে জিন বের করে আনতে সক্ষম হন, তবে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় জাদু বাতিল হয়ে যায়।

৫. বমন বা নিষ্কাশন (الاستفراغ)।

আর তা হতে হবে শরীরের এমন অঙ্গে যেখানে জাদুর প্রভাব পৌঁছেছে। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, "প্রকৃতির ওপর জাদুর প্রভাব রয়েছে, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ উপাদানসমূহকে উত্তেজিত করে এবং শারীরিক মেজাজকে বিশৃঙ্খল করে দেয়। সুতরাং যখন কোনো অঙ্গে এর প্রভাব প্রকাশ পায় এবং সেই অঙ্গ থেকে মন্দ পদার্থ নিষ্কাশন (استفراغ) করা সম্ভব হয়, তখন তা অত্যন্ত ফলদায়ক হয়। আর আল্লাহর ইচ্ছায় জাদু দূর করার ক্ষেত্রে অন্যতম উপকারী নিষ্কাশন পদ্ধতি হলো রক্তমোক্ষণ বা হিজামা।" ১

৬. নুশরাহ (النشرة)।

এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরয়ী নুশরাহ (النشرة الشرعية), আর এর অর্থ হলো কুরআন তিলাওয়াত এবং দুআসমূহ।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৫)
التي وردت في ذلك وسوف نوفي الرقية الشرعية مع ذكر الأحاديث التي وردت فيها أن شاء الله عند كلامنا عن التحصينات الشرعية من السحر.
যা এ বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, জাদু থেকে সুরক্ষার শরয়ি পদ্ধতিসমূহ নিয়ে আমাদের আলোচনার সময় আমরা শরয়ি রুকইয়াহর বিস্তারিত বিবরণ এবং এতে বর্ণিত হাদিসসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে প্রদান করব।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৬)
4. أنه يؤدي إلى العداوة الأسرية فتجد أن العداوة تقوم بين الزوج وزوجته على أتفه الأسباب وبالتالي يؤدي إما إلى طلاقها أو هجرها أو ضربها ونحوه.

4. أنه قد يؤدي إلى فشل الطالب في دراسته كما رأينا ذلك وسمعنا عنه فبعد أن يكون الطالب نجيبا في دراسته إذا به يتحول إلى طالب فاشل لاهدف له فيترك الدراسة بسبب ذلك.

5. أنه قد يكون سببا في قتل بعض الأفراد.

6. أنه يؤدي بالإنسان إلى الوقوع في المحظورات الشرعية كالذهاب إلى الكهنة والعرافين للنظر في شكواه وبالتالي يأمره هؤلاء السحرة إما بالشرك كأن يأمروه بالذبح للجن وسدنته وهذا كله من الشرك الأكبر وإما بفعل المعاصي أعاذنا الله وإياكم منها.

7. أنه يؤدي إلى كثرة الوسواس في حياة الفرد فتجده في حياته موسوساً إما في عباداته أو عاداته فلايستقيم للإنسان حال ولا يهدأ له بال.

8. أنه يلقي الشكوك بين الفرد وأفراد عائلته سواء كانوا أبناءه أو زوجاته.
4. এটি পারিবারিক শত্রুতার দিকে ধাবিত করে; ফলে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে অতি তুচ্ছ কারণে বৈরিতা সৃষ্টি হতে দেখা যায়। পরিণামে এটি হয় তালাক, অথবা স্ত্রীকে বর্জন, কিংবা প্রহার বা এই জাতীয় পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়।

4. এটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে ব্যর্থতার কারণ হতে পারে, যেমনটি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি ও শুনেছি। একসময়ের মেধাবী ছাত্র লক্ষ্যহীন এক ব্যর্থ ছাত্রে রূপান্তরিত হয় এবং এই কারণে পড়াশোনা পরিত্যাগ করে।

5. এটি কোনো কোনো ব্যক্তির জীবনহানির কারণও হতে পারে।

6. এটি মানুষকে শরয়ি নিষিদ্ধ বিষয়সমূহে লিপ্ত হওয়ার দিকে পরিচালিত করে। যেমন—নিজের অভিযোগ বা সমস্যার সমাধানের জন্য গণক ও জ্যোতিষীদের নিকট গমন করা। ফলশ্রুতিতে এই জাদুকররা তাকে হয় শিরক করার নির্দেশ দেয়—যেমন জিন ও তার সেবকদের উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা, যা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত—অথবা পাপাচারের আদেশ দেয়; আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের তা থেকে রক্ষা করুন।

7. এটি ব্যক্তির জীবনে অত্যধিক কুমন্ত্রণা বা সংশয় সৃষ্টি করে। ফলে তাকে তার ইবাদত কিংবা প্রাত্যহিক অভ্যাসে সংশয়গ্রস্ত দেখা যায়; এতে মানুষের কোনো অবস্থাই স্বাভাবিক থাকে না এবং চিত্তও স্থির হয় না।

8. এটি ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের মাঝে—তারা সন্তান হোক কিংবা স্ত্রী—সন্দেহ ও সংশয় তৈরি করে।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهناك الأمراض الكثيرة التي تحمل في طياتها خطورة هذه الفعلة الشنيعة في حياة الفرد.

ثانياً: أما عن ضرر السحر في حياة المجتمع:

إذا أردت أن تتعرف على خطورة السحر فانظر إلى حال من يصاب به من أفراد المجتمع ثم تخيل أن كل المجتمع مصاب به فماذا يكون حال المجتمع لاشك أنه يكون مجتمعاً تسوده أعلى درجات الفوضوية والانحلال والتخلف فمن ضرره على المجتمع:

1. أنه يورث العداوة والبغضاء بين أفراد المجتمع وكذا الحقد والحسد.

2. أنه يزرع الشكوك والشبه بين أفراده.

3. أنه يدعو إلى الانتقام بكل وسيلة متاحة لاسيما إذا عرف المسحور من سحره وبالتالي يكثر القتل بين أفراد المجتمع.

4. أنه يحل مكان الأمن والطمأنينة والأخلاق الجميلة الخوف والزعزعة وحب الجريمة.

5. أنه ينشر الرذيلة بين أفراد المجتمع.

6. أنه يضعف كيان الأمة في توكلها على رب العالمين وكمال

اليقين به وذلك من ذهاب أفراد المجتمع إلى السحرة والمنجمين ونحوهم والاستعانة بهم وترك رب العالمين.
ব্যক্তির জীবনে এই জঘন্য কাজের ভয়াবহতা বহনকারী অসংখ্য ব্যাধি রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: সামাজিক জীবনে জাদুর ক্ষতি সম্পর্কে:

আপনি যদি জাদুর ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে চান, তবে সমাজের আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবস্থার দিকে লক্ষ্য করুন; অতঃপর কল্পনা করুন যে পুরো সমাজই এতে আক্রান্ত, তাহলে সমাজের অবস্থা কী হবে? নি:সন্দেহে এটি এমন এক সমাজে পরিণত হবে যেখানে চরম বিশৃঙ্খলা, অবক্ষয় এবং অনগ্রসরতা বিরাজ করবে। সুতরাং সমাজের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো হলো:

1. এটি সমাজের সদস্যদের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা এবং সেই সাথে বিদ্বেষ ও হিংসার জন্ম দেয়।

2. এটি সমাজের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় বপন করে।

3. এটি সম্ভাব্য সকল উপায়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে প্ররোচিত করে, বিশেষ করে যদি জাদুগ্রস্ত ব্যক্তি জানতে পারে কে তাকে জাদু করেছে; ফলে সমাজের সদস্যদের মধ্যে হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পায়।

4. এটি নিরাপত্তা, প্রশান্তি ও সচ্চরিত্রের পরিবর্তে ভয়, অস্থিরতা ও অপরাধপ্রবণতাকে স্থলাভিষিক্ত করে।

5. এটি সমাজের সদস্যদের মধ্যে অনৈতিকতা ছড়িয়ে দেয়।

6. এটি রব্বুল আলামীনের ওপর ভরসা এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ

দৃঢ় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে উম্মাহর ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়; আর তা হয় সমাজের সদস্যদের জাদুকর, জ্যোতিষী ও তাদের ন্যায় অন্যদের কাছে যাতায়াত এবং রব্বুল আলামীনকে ত্যাগ করে তাদের নিকট সাহায্য কামনার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) কাইফা তাতখাল্লাসু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৮)
7. أنه يحوِّل المجتمع المسلم المحافظ على دينه وعرضه إلى مجتمع يسوده الإشراك بالله وكثرة الموبقات والمهلكات.

8. وبالجملة فإن السحر من أخطر الأمراض التي تصاب بها المجتمعات فتقوض بنيانها وتهد أركانها وينتشر بسببه العدوان وانتهاك الأعراض وقتل الأبرياء وسرقة الأموال فضلاً عن الشرك بالله والكفر به، وبالتالي يكون المجتمع ليس له هدف ولاغاية يصير مجتمعاً همه معالجة أفراده مما ألم بهم، نسأل الله تعالى أن يحمي مجتمعنا ومجتمعات أمة الإسلام من كيد الحاقدين من السحرة والمنجمين إنه سميع قريب.
৭. এটি (জাদু) এমন এক মুসলিম সমাজকে যারা তাদের ধর্ম ও সম্মান রক্ষায় সচেষ্ট, এমন এক সমাজে রূপান্তরিত করে যেখানে আল্লাহর সাথে শিরক এবং ধ্বংসাত্মক ও প্রাণঘাতী পাপাচারের আধিক্য বিরাজ করে।

৮. সারকথা হলো, জাদু হচ্ছে সেই সকল মারাত্মক ব্যাধিগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা দ্বারা সমাজসমূহ আক্রান্ত হয়; ফলে এটি সমাজের কাঠামোকে ভেঙে দেয় এবং এর স্তম্ভসমূহকে ধসিয়ে দেয়। এর কারণে শত্রুতা, সম্মানহানি, নিরপরাধ হত্যা এবং সম্পদ লুণ্ঠন ছড়িয়ে পড়ে—আল্লাহর সাথে শিরক ও কুফরের বিষয়টি তো রয়েছেই। ফলশ্রুতিতে, সেই সমাজের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে না এবং এটি এমন এক সমাজে পরিণত হয় যার প্রধান চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় আক্রান্ত সদস্যদের পোহাতে হওয়া কষ্টসমূহ থেকে মুক্ত করা। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সমাজ এবং মুসলিম উম্মাহর সকল সমাজকে জাদুকর ও জ্যোতিষীদের ন্যায় বিদ্বেষপরায়ণদের চক্রান্ত থেকে হিফাজত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী।