(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر خليل القسم: الفقه المالكي
الكتاب: مختصر العلامة خليل
المؤلف: خليل بن إسحاق بن موسى، ضياء الدين الجندي المالكي المصري (ت 776هـ)
المحقق: أحمد جاد
الناشر: دار الحديث/القاهرة
الطبعة: الأولى، 1426هـ/2005مـ
عدد الصفحات: 264
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুখতাসার খলীল বিভাগ: মালিকি ফিকহ
বই: আল্লামা খলীলের মুখতাসার
লেখক: খলীল বিন ইসহাক বিন মুসা, জিয়াউদ্দিন আল-জুন্দি আল-মালিকি আল-মিসরি (মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি)
সম্পাদক: আহমদ জাদ
প্রকাশক: দারুল হাদিস/কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি/২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৪
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلف
يقول الفقير المضطر لرحمة ربه المنكسر خاطره لقلة العمل والتقوى خليل بن إسحاق المالكي: الحمد لله حمدا يوافي ما تزايد من النعم وَالشُّكْرُ لَهُ عَلَى مَا أَوْلَانَا مِنْ الْفَضْلِ والكرم لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْهِ هُوَ كَمَا أَثْنَى على نفسه ونسأله اللطف والإعانة في جميع الأحوال وحال حلول الإنسان في رمسه1 والصلاة والسلام على محمد سيد العرب والعجم المبعوث لسائر الأمم وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ وَأُمَّتِهِ أَفْضَلِ الأمم.
وبعد:
فَقَدْ سَأَلَنِي جَمَاعَةٌ أَبَانَ اللَّهُ لِي وَلَهُمْ معالم التحقيق وسلك بنا وبهم أنفع طريق مُخْتَصَرًا عَلَى مَذْهَبِ الْإِمَامِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رحمه الله تعالى مبينا لما به الفتوى فأجبت سؤالهم بعد الاستخارة مشيرا بـ"فيها" للمدونة وبـ"أول" إلى اختلاف شارحيها في فهمها وبـ"الاختيار" للخمي2 لَكِنْ إنْ كَانَ بِصِيغَةِ الْفِعْلِ فَذَلِكَ لِاخْتِيَارِهِ هو في نفسه وبالاسم فذلك لاختياره من الخلاف وبـ"الترجيح" لابن يونس3
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকা
নিজ রবের করুণার প্রতি মুখাপেক্ষী ও অভাবী, অল্প আমল ও তাকওয়ার কারণে ভগ্নহৃদয় খলিল ইবনে ইসহাক আল-মালিকি বলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর ক্রমবর্ধমান নিয়ামতের সমপর্যায়ের। এবং তাঁরই শুকরিয়া সেই অনুগ্রহ ও দয়ার জন্য যা তিনি আমাদের দান করেছেন। আমি তাঁর প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; তিনি তেমনই যেমনটি তিনি নিজের প্রশংসা নিজেই করেছেন। আমরা সকল অবস্থায় এবং মানুষের কবরে শায়িত হওয়ার সময় তাঁর নিকট কোমলতা ও সাহায্য প্রার্থনা করি। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আরব ও অনারবদের সরদার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি প্রেরিত হয়েছেন সমস্ত উম্মতের প্রতি এবং তাঁর পরিবার, তাঁর সঙ্গীগণ, তাঁর সহধর্মিণীগণ, তাঁর বংশধর এবং শ্রেষ্ঠ উম্মতের ওপর।
অতঃপর:
একদল লোক—আল্লাহ আমার ও তাদের জন্য সত্যানুসন্ধানের পথসমূহ স্পষ্ট করে দিন এবং আমাদের ও তাদের সবচাইতে উপকারী পথে পরিচালিত করুন—ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মাযহাব অনুযায়ী একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনার জন্য অনুরোধ করেছেন, যা ফতোয়া প্রদানের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে। আমি ইস্তিখারার পর তাদের অনুরোধ কবুল করেছি; এতে 'ফিহা' শব্দ দ্বারা 'আল-মুদাওওয়ানা' গ্রন্থকে, 'আউয়াল' শব্দ দ্বারা এর ব্যাখ্যাকারীদের ব্যাখ্যার ভিন্নতাকে এবং 'আল-ইখতিয়ার' শব্দ দ্বারা লাখমি-র পছন্দকে নির্দেশ করেছি। তবে যদি তা ক্রিয়া হিসেবে উল্লিখিত হয় তবে সেটি তাঁর নিজস্ব পছন্দ, আর যদি তা বিশেষ্য হিসেবে থাকে তবে সেটি বিদ্যমান মতপার্থক্যের মধ্য থেকে তাঁর মনোনীত পছন্দ। আর 'আত-তারজিহ' শব্দ দ্বারা ইবনে ইউনুস-এর প্রাধান্য দেওয়া মতকে নির্দেশ করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ১২)
كذلك وبـ"الظهور" لابن رشد1 كذلك وبـ"القول" للمازري2 كذلك وَحَيْثُ قُلْت: "خِلَافٌ" فَذَلِكَ لِلِاخْتِلَافِ فِي التَّشْهِيرِ3 وَحَيْثُ ذَكَرْت قَوْلَيْنِ أَوْ أَقْوَالًا فَذَلِكَ لِعَدَمِ مختصر اطلاعي في الفرع على أرجحية منصوصة وأعتبر من المفاهيم مفهوم الشرط فقط وأشير بـ"صحح" أو "استحسن" إلى أن شيخا غير الذين قدمتهم صحح هذا أو استظهره وبـ"التردد" لِتَرَدُّدِ الْمُتَأَخِّرِينَ فِي النَّقْلِ أَوْ لِعَدَمِ نَصِّ المتقدمين وبـ"لو" إلى خلاف مذهبي.
يالله أَسْأَلُ أَنْ يَنْفَعَ بِهِ مَنْ كَتَبَهُ أَوْ قَرَأَهُ أَوْ حَصَّلَهُ أَوْ سَعَى فِي شَيْءٍ مِنْهُ والله يعصمنا من الزلل ويوفقنا في القول والعمل ثُمَّ أَعْتَذِرُ لِذَوِي الْأَلْبَابِ مِنْ التَّقْصِيرِ الْوَاقِعِ في هذا الكتاب وأسأل بلسان التضرع والخشوع وخطاب التذلل وَالْخُضُوعِ أَنْ يُنْظَرَ بِعَيْنِ الرِّضَا وَالصَّوَابِ فَمَا كَانَ مِنْ نَقْصٍ كَمَّلُوهُ وَمِنْ خَطَأٍ أَصْلَحُوهُ فَقَلَّمَا يَخْلُصُ مُصَنِّفٌ مِنْ الْهَفَوَاتِ أَوْ يَنْجُو مؤلف من العثرات.
--------------------------------------------
অনুরূপভাবে ইবনে রুশদ ১-এর ক্ষেত্রে "আয-যুহুর" এবং মাজিরি ২-এর ক্ষেত্রে "আল-কাওল" শব্দ দ্বারাও একই উদ্দেশ্য। আর যেখানে আমি "খিলাফ" বলেছি, তা প্রসিদ্ধকরণের (তাশহীর) ক্ষেত্রে মতভেদের কারণে ৩। আর যেখানে আমি দুটি মত বা একাধিক মত উল্লেখ করেছি, তা সংশ্লিষ্ট শাখা মাসআলায় কোনো প্রাধান্যপ্রাপ্ত উদ্ধৃতি সম্পর্কে আমার অবগতির সীমাবদ্ধতার কারণে। আমি 'মাফাহিম' (প্রাসঙ্গিক অর্থসমূহ) এর মধ্যে কেবল 'মাফহুমুশ শারত' (শর্তযুক্ত অর্থ)-কে ধর্তব্য মনে করি। আমি "সাহহাহা" (সঠিক বলেছেন) বা "ইসতাহসানা" (উত্তম বলেছেন) শব্দ দ্বারা ইঙ্গিত করি যে, আমার পূর্বে উল্লেখিত শাইখগণ ব্যতীত অন্য কোনো শাইখ এটিকে সহীহ বলেছেন বা এর সমর্থন প্রকাশ করেছেন। আর "তারাদদুদ" (দ্বিধা) শব্দ দ্বারা পরবর্তী যুগের আলিমদের বর্ণনার ক্ষেত্রে দ্বিধা অথবা পূর্ববর্তী যুগের আলিমদের সুস্পষ্ট বর্ণনার অভাবকে নির্দেশ করেছি। এবং "লাও" (যদি) শব্দ দ্বারা মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের প্রতি ইঙ্গিত করেছি।
হে আল্লাহ! আমি প্রার্থনা করি যেন এর মাধ্যমে তাকে উপকৃত করা হয় যে এটি লিখেছে, অথবা পড়েছে, অথবা সংগ্রহ করেছে, অথবা এর কোনো বিষয়ে প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আর আল্লাহ আমাদের ভুল-ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন এবং কথা ও কাজে তাওফীক দান করুন। এরপর আমি জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিকট এই কিতাবে ঘটে যাওয়া ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং বিনীত প্রার্থনা, একাগ্রতা ও মস্তক অবনত করে আরজ করছি যে, তারা যেন সন্তুষ্টি ও সংশোধনের দৃষ্টিতে এটি দেখেন। সুতরাং যা কিছু ঘাটতি রয়েছে তারা যেন তা পূর্ণ করে দেন এবং যা কিছু ভুল রয়েছে তা যেন সংশোধন করে দেন। কেননা খুব কম গ্রন্থকারই চ্যুতি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত থাকতে পারেন অথবা খুব কম লেখকই পদস্খলন থেকে রক্ষা পান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القسم الأول: في العبادات وما يتعلق بها
باب في أحكام الطهارة وما يناسبهما
مدخل…باب في أحكام الطهارة وما يناسبهما
يرفع الحدث وحكم الخبث بالمطلق وهو ما صدق عليه اسم ماء بلا قيد وإن جمع من ندى أو ذاب بعد جموده أو كان سؤر بهيمة أو حائض أو جنب أو فضلة طهارتهما أو كثيرا خلط بنجس لم يغيره أو شك في مغيره هل يضر1 أو تغير بمجاوره2 وإن بدهن لاصق أو برائحة قطران وعاء مسافر أو بمتولد منه أو بقراره كملح أو بمطروح3 فيه ولو قصدا من تراب أو ملح والأرجح السلب بالملح4 وفي الاتفاق على السلب به إن صنع تردد5 لَا بِمُتَغَيِّرٍ لَوْنًا أَوْ طَعْمًا أَوْ رِيحًا بِمَا يُفَارِقُهُ غَالِبًا مِنْ طَاهِرٍ أَوْ نَجَسٍ كدهن خالط أو بخار مصطكي وحكمه كمغيره.
ويضر بين تغير بحبل سانية كغدير بروث ماشية أَوْ بِئْرٍ بِوَرَقِ شَجَرٍ أَوْ تِبْنٍ وَالْأَظْهَرُ في بئر البادية بهما الجواز وفي جعل المخالط الموافق كالمخالف نظر وَفِي التَّطْهِيرِ بِمَاءٍ جُعِلَ فِي الْفَمِ قَوْلَانِ وكره ماء مستعمل في حدث وفي غيره تردد وَيَسِيرٌ كَآنِيَةِ وُضُوءٍ وَغُسْلٍ بِنَجَسٍ لَمْ يُغَيَّرْ أو ولغ فيه كلب وراكد يغتسل فيه وسؤر شارب خمر وما أدخل يده فيه وَمَا لَا يُتَوَقَّى نَجِسًا مِنْ مَاءٍ لَا إنْ عَسُرَ الِاحْتِرَازُ مِنْهُ أَوْ كَانَ طَعَامًا كمشمس6 وَإِنْ رِيئَتْ7 عَلَى فِيهِ وَقْتَ اسْتِعْمَالِهِ عُمِلَ
--------------------------------------------
প্রথম ভাগ: ইবাদাত ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি প্রসঙ্গেপবিত্রতার বিধান এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়াবলি বিষয়ক অধ্যায়ভূমিকা…পবিত্রতার বিধান এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়াবলি বিষয়ক অধ্যায়
হাদাস (অশুচিতা) দূর করা হয় এবং খাবাস (নাজাসাত)-এর হুকুম রহিত করা হয় মুত্বলাক পানি দ্বারা। আর মুত্বলাক পানি হলো তা-ই, যার ওপর কোনো শর্ত ছাড়াই 'পানি' শব্দটি প্রযোজ্য হয়; যদিও তা শিশির থেকে সংগৃহীত হয়, অথবা জমে যাওয়ার পর বিগলিত হয়, কিংবা তা চতুষ্পদ জন্তু, ঋতুবতী নারী বা অপবিত্র (গোসল ফরজ হওয়া) ব্যক্তির উচ্ছিষ্ট হয়, কিংবা তাদের পবিত্রতা অর্জনের পর অবশিষ্ট পানি হয়। অথবা এমন প্রচুর পরিমাণ পানি হয় যাতে অপবিত্র বস্তু মিশ্রিত হয়েছে কিন্তু তার কোনো পরিবর্তন ঘটায়নি। অথবা এমন পানি যার পরিবর্তনকারী বস্তু সম্পর্কে সন্দেহ হয় যে তা ক্ষতির কারণ হবে কি না। অথবা যা পার্শ্ববর্তী কোনো বস্তুর কারণে পরিবর্তিত হয়েছে, যদিও তা লেগে থাকা তেলের কারণে কিংবা মুসাফিরের পাত্রের আলকাতরার গন্ধের কারণে হয়। অথবা যা পানির ভেতরেই জন্ম নেয় তার কারণে, কিংবা তার অবস্থানস্থলের কারণে যেমন লবণ। অথবা তাতে নিক্ষিপ্ত বস্তুর কারণে, যদিও তা ইচ্ছাকৃতভাবে মাটি বা লবণ নিক্ষেপ করা হয়। তবে অধিকতর সঠিক মত হলো লবণের মাধ্যমে পবিত্র করার ক্ষমতা অপসারিত হওয়া। আর যদি লবণ কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়, তবে তার দ্বারা পবিত্র করার ক্ষমতা অপসারিত হওয়ার ঐকমত্যের ব্যাপারে সংশয় রয়েছে। এমন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন হবে না যার বর্ণ, স্বাদ বা ঘ্রাণ সাধারণত পানির সাথে মেশে না এমন কোনো পবিত্র বা অপবিত্র বস্তুর কারণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে; যেমন মিশ্রিত তেল বা মস্তকি (এক প্রকার সুগন্ধি বৃক্ষনির্যাস)-এর বাষ্প; আর এর হুকুম পরিবর্তনকারী বস্তুর হুকুমেরই অনুরূপ।
কোনো সেচযন্ত্রের রশি দ্বারা স্পষ্ট পরিবর্তন ক্ষতিকর, যেমন গবাদি পশুর বিষ্ঠার কারণে ডোবার পানি কিংবা গাছের পাতা বা খড়ের কারণে কূপের পানির পরিবর্তন। তবে মরূদ্যানের কূপের ক্ষেত্রে এই দুটির মাধ্যমে পরিবর্তন সত্ত্বেও তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন জায়েজ হওয়া অধিক স্পষ্ট মত। পানির গুণাগুণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মিশ্রিত বস্তুকে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ বস্তুর মতো গণ্য করার বিষয়ে তাত্ত্বিক মতভেদ রয়েছে। মুখে রাখা পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে। হাদাস দূর করতে ব্যবহৃত পানি মাকরূহ, আর হাদাস ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহৃত পানির ব্যাপারে সংশয় রয়েছে। অল্প পরিমাণ পানি যেমন ওজু বা গোসলের পাত্র, যাতে নাপাকি পড়লেও কোনো পরিবর্তন হয়নি, অথবা যদি তাতে কুকুর মুখ দেয়, কিংবা আবদ্ধ পানি যাতে গোসল করা হয়, এবং মদপায়ীর উচ্ছিষ্ট, এবং যাতে এমন ব্যক্তি হাত ঢুকিয়েছে যে নাজাসাত থেকে বেঁচে থাকে না এবং যে পানি নাজাসাত থেকে সুরক্ষিত নয়, [এসব পানি ব্যবহার করা মাকরূহ]; তবে যদি তা থেকে বেঁচে থাকা কঠিন হয় তবে মাকরূহ হবে না। অথবা যদি তা খাদ্যদ্রব্য হয়, যেমন রৌদ্রে উত্তপ্ত পানি। আর যদি ব্যবহারের সময় তার মুখে নাজাসাত দেখা যায়, তবে সেই অনুযায়ী ফয়সালা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
عليها وَإِذَا مَاتَ بَرِّيٌّ ذُو نَفْسٍ سَائِلَةٍ بِرَاكِدٍ وَلَمْ يَتَغَيَّرْ نُدِبَ نَزْحٌ بِقَدْرِهِمَا لَا إنْ وقع ميتا وَإِنْ زَالَ تَغَيُّرُ النَّجَسِ لَا بِكَثْرَةِ مُطْلَقٍ فاستحسن الطهورية وعدمها أرجح وَقُبِلَ خَبَرُ الْوَاحِدِ إنْ بَيَّنَ وَجْهَهَا أَوْ اتفقا مذهبا وإلا فقال: يستحسن تركه وورود الماء على النجاسة كعكسه.
তার ওপর। আর যদি কোনো প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট স্থলচর প্রাণী বদ্ধ পানিতে মারা যায় এবং পানির কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তবে প্রাণী ও পানির পরিমাণ অনুযায়ী কিছু পানি সেচে ফেলা মুস্তাহাব; কিন্তু যদি প্রাণীটি মৃত অবস্থায় পানিতে পড়ে থাকে তবে তা মুস্তাহাব নয়। আর যদি নাপাকির কারণে ঘটা পরিবর্তন দূরীভূত হয়—তবে তা প্রচুর পরিমাণ সাধারণ পানির সংমিশ্রণ ছাড়া হলে—পবিত্র হওয়াকে উত্তম গণ্য করা হয়েছে, যদিও পবিত্র না হওয়াটাই অধিকতর বিশুদ্ধ মত। নাপাকির ব্যাপারে একক ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণযোগ্য হবে যদি তিনি নাপাক হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন অথবা সংবাদ দাতা ও গ্রহণকারী উভয়ে একই মাযহাবের অনুসারী হন। অন্যথায় তিনি বলেন: এ সংবাদ বর্জন করা উত্তম। আর নাপাকির ওপর পানি আসা এবং পানির ওপর নাপাকি পড়া উভয়টি হুকুমের দিক থেকে সমান।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فصل في بيان الأعيان الطاهرة من الأعيان النجسةالطاهر ميت ما لا دم له1 والبحري ولو طالت حياته ببر2 وما ذكي3 وجزؤه إلا محرم الأكل وَصُوفٌ وَوَبَرٌ وَزَغَبُ رِيشٍ وَشَعْرٌ وَلَوْ مِنْ خنزير إن جزت وَالْجَمَادُ وَهُوَ جِسْمٌ غَيْرُ حَيٍّ وَمُنْفَصِلٌ عَنْهُ إلا المسكر والحي ودمعه وعرقه ولعابه ومخاطه وبيضه ولو أكل نجسا إلا المذر4 والخارج بعد الموت ولبن آدمي إلا الميت5 ولبن غيره تابع6 وبول وعذرة من مباح إلا المغتذي بنجس وقيء إلا المتغير عن الطعام وصفراء وبلغم ومرارة مباح ودم لم يسفح ومسك وفأرته وزرع بنجس7 وخمر تحجر أو خلل. والنجس ما استثني وميت غير ما ذكر ولو قملة أو آدميا والأظهر طهارته وما أبين من حي وميت من قرن وظلف وعظم وظفر وعاج وقصب ريش وجلد ولو دبغ ورخص فيه مطلقا إلَّا مِنْ خِنْزِيرٍ بَعْدَ دَبْغِهِ فِي يَابِسٍ وماء وفيها كراهة العاج والتوقف في الكيمخت8 ومني ومذي
--------------------------------------------
অপবিত্র বস্তুসমূহ থেকে পবিত্র বস্তুসমূহের বর্ণনায় একটি পরিচ্ছেদযাতে রক্ত নেই এমন প্রাণীর মৃতদেহ পবিত্র ১, এবং সামুদ্রিক প্রাণী যদিও তা স্থলে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে ২। যা জবেহ করা হয়েছে ৩ এবং তার প্রতিটি অংশ পবিত্র, তবে যা ভক্ষণ করা হারাম তার অংশবিশেষ ব্যতীত। পশম, কোমল লোম, পালকের গোঁড়া এবং চুল—এমনকি শুকরের হলেও যদি তা কেটে নেওয়া হয় (তবে তা পবিত্র)। জড় পদার্থ; যা হলো প্রাণহীন বস্তু এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন অংশসমূহ পবিত্র, তবে নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যতীত। জীবিত প্রাণী এবং তার চোখের জল, ঘাম, লালা, শ্লেষ্মা ও ডিম—যদিও সে অপবিত্র বস্তু ভক্ষণ করে থাকে (তা পবিত্র), তবে নষ্ট হয়ে যাওয়া ডিম ব্যতীত ৪ এবং মৃত্যুর পর নির্গত অংশ ব্যতীত। মানুষের দুধ পবিত্র, তবে মৃত মানুষের দুধ ব্যতীত ৫। অন্য প্রাণীর দুধের বিধান তার মূলের অনুগামী ৬। বৈধ (হালাল) প্রাণীর প্রস্রাব ও বিষ্ঠা পবিত্র, তবে যা অপবিত্র বস্তু ভক্ষণ করে হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে তা ব্যতীত। বমি পবিত্র, তবে যা খাদ্যের রূপ পরিবর্তন করে ফেলেছে তা ব্যতীত। পিত্তরস, কফ এবং হালাল প্রাণীর পিত্ত পবিত্র। প্রবাহিত হয়নি এমন রক্ত, কস্তুরী ও তার থলি, অপবিত্র বস্তু দ্বারা উৎপন্ন ফসল ৭ এবং যে মদ জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে গেছে অথবা সিরকায় পরিণত হয়েছে (তা পবিত্র)। আর অপবিত্র হলো সেইসব যা (পবিত্রতার তালিকা থেকে) ব্যতিক্রম করা হয়েছে এবং উল্লেখিত প্রাণী ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীর মৃতদেহ—যদিও তা উকুন হোক। আর মানুষের মৃতদেহ (অপবিত্র), তবে অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো মানুষের মৃতদেহ পবিত্র। জীবিত বা মৃত প্রাণী থেকে বিচ্ছিন্ন শিং, খুর, হাড়, নখ, হাতির দাঁত, পালকের ডাঁটা এবং চামড়া—যদিও তা দাবাগাত (চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ) করা হয়—তা অপবিত্র। তবে দাবাগাত করার পর চামড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুকনো বস্তু ও পানির পাত্র হিসেবে ঢালাওভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে শুকরের চামড়া দাবাগাত করার পর ব্যবহারের অনুমতি নেই। আর এতে (মাযহাবে) হাতির দাঁত অপছন্দনীয় (মাকরূহ) বলা হয়েছে এবং 'কিমখত' ৮ এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। বীর্য ও মযী অপবিত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وودي وقيح وصديد ورطوبة فرج ودم مسفوح ولو من سمك وذباب وسوداء ورماد نجس ودخانه وبول وعذرة من آدمي ومحرم ومكروه وينجس كثير طعام مائع بنجس قل: كجامد إن أمكن السريان وإلا فبحسبه وَلَا يَطْهُرُ زَيْتٌ خُولِطَ وَلَحْمٌ طُبِخَ وَزَيْتُونٌ ملح وبيض صلق بنجس وفخار بغواص وَيُنْتَفَعُ بِمُتَنَجِّسٍ لَا نَجَسٍ فِي غَيْرِ مَسْجِدٍ وآدمي ولا يصلى بلباس كافر بخلاف نسجه ولا بما ينال فيه مصل آخر ولا بثياب غير مصل إلا كرأسه ولا بمحاذي فرج1 غير عالم وحرم استعمال ذكر محلى ولو منطقة وآلة حرب إلا المصحف والسيف والأنف وربط سن مطلقا وخاتم الفضة لا ما بعضه ذهب ولو قل وإناء نقد واقتناؤه وإن لامرأة وَفِي الْمُغَشَّى وَالْمُمَوَّهِ وَالْمُضَبَّبِ وَذِي الْحَلْقَةِ وَإِنَاءِ الجوهر قولان وجاز للمرأة الملبوس مطلقا ولو نعلا لا: كسرير.
--------------------------------------------
ওয়াদি, পুঁজ, পচা রক্তমিশ্রিত পানি, যৌনাঙ্গের আর্দ্রতা এবং প্রবাহিত রক্ত—এমনকি তা মাছ ও মাছির হলেও; পিত্ত, অপবিত্র ছাই ও তার ধোঁয়া, মানুষের প্রস্রাব ও বিষ্ঠা এবং হারাম ও মাকরুহ প্রাণীর মলমূত্র অপবিত্র। প্রচুর পরিমাণ তরল খাদ্য অল্প নাপাক পড়ার কারণে অপবিত্র হয়ে যায়; যেমনটি কঠিন খাদ্যের ক্ষেত্রে হয় যদি তাতে নাপাকি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে, অন্যথায় তা অবস্থাভেদে (নাপাকি স্পর্শের স্থান অনুযায়ী) বিবেচিত হবে। নাপাকির সাথে মিশ্রিত তেল, রান্না করা গোশত, লবণাক্ত জলপাই, নাপাক পানিতে সেদ্ধ করা ডিম এবং ছিদ্রযুক্ত মাটির পাত্র পবিত্র হয় না। নাপাকি লেগে অপবিত্র হওয়া বস্তু দ্বারা উপকার গ্রহণ করা জায়েজ, কিন্তু সত্তাগতভাবে নাপাক বস্তু দ্বারা নয়; তবে মসজিদ এবং মানুষের ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা জায়েজ নয়। কাফেরের পরিহিত পোশাকে সালাত আদায় করা যাবে না, তবে তাদের বুননকৃত কাপড়ের বিষয়টি ভিন্ন। তেমনি এমন পোশাকে সালাত আদায় করা যাবে না যা অন্য কোনো নামাজি ব্যবহার করে, কিংবা বেনামাজির পোশাকেও নয়—তবে তার টুপির মতো পোশাকের বিষয়টি ভিন্ন। এছাড়া অজ্ঞাতসারে যৌনাঙ্গের সরাসরি সংস্পর্শে থাকা পোশাকে১ সালাত আদায় করা যাবে না। পুরুষের জন্য অলঙ্কার ব্যবহার করা হারাম, এমনকি তা কোমরবন্ধ বা যুদ্ধের সরঞ্জাম হলেও; তবে কুরআন মাজিদ, তলোয়ার এবং কৃত্রিম নাক এর ব্যতিক্রম। সাধারণভাবে দাঁত বাঁধানো এবং রূপার আংটি ব্যবহার বৈধ, তবে যার কোনো অংশ স্বর্ণের—তা বৈধ নয় যদিও পরিমাণে অতি সামান্য হয়। সোনা ও রূপার পাত্র ব্যবহার করা এবং তা সংগ্রহে রাখা হারাম, এমনকি তা নারীর জন্যও। তবে প্রলেপ দেওয়া, গিল্ট করা, জোড়া লাগানো, আংটাযুক্ত পাত্র এবং মণি-মুক্তার পাত্রের ব্যবহারের বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। নারীর জন্য পরিধানযোগ্য সকল পোশাক ও অলঙ্কার সাধারণভাবেই জায়েজ, এমনকি তা জুতা হলেও; তবে খাটের মতো আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে তা বৈধ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فصل في حكم إزالة النجاسة وما يعفى عنه منهاهل إزالة النجاسة عن ثوب مصل ولو طرف عمامته وبدنه ومكانه لا طرف حصيره سنة أو واجبة إن ذكر وقدر وإلا أعاد الظهرين للاصفرار؟ خلاف2 وسقوطها في صلاة مبطل كذكرها فيها لا قبلها أو كانت أسفل نعل فخلعها وعفي عما يعسر كحدث مستنكح وَبَلَلِ بَاسُورٍ فِي يَدٍ إنْ كَثُرَ الرَّدُّ أو ثوب وثوب مرضعة تجتهد وندب لها ثوب للصلاة ودون درهم من دم مطلقا وقيح وصديد وبول فرس لغاز بأرض حرب وأثر ذباب من عذرة وموضع حجامة مسح فإذا برىء غسل وَإِلَّا أَعَادَ فِي الْوَقْتِ.
وَأُوِّلَ بِالنِّسْيَانِ وَبِالْإِطْلَاقِ وكطين مطر وإن اختلطت العذرة بالمصيب لا إن
--------------------------------------------
নাপাকি দূর করার বিধান এবং যা ক্ষমাযোগ্য সেই বিষয়ক পরিচ্ছেদনামাযীর কাপড় থেকে নাপাকি দূর করা—চাই তা তার পাগড়ির প্রান্ত হোক, তার শরীর হোক কিংবা তার নামাযের জায়গা হোক, তবে তার পাটির অপর প্রান্ত নয়—সুন্নত নাকি ওয়াজিব, যদি তার স্মরণে থাকে এবং সে সক্ষম হয়? অন্যথায় সে যোহর ও আসর পুনরায় পড়বে আসরের হলুদাভ সময় পর্যন্ত? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। নামাযের মধ্যে নাপাকি পতিত হওয়া নামায বাতিলকারী, যেমন নামাযরত অবস্থায় নাপাকি স্মরণে আসা নামায বাতিল করে, তবে নামাযের আগে স্মরণ হওয়া এমন নয়। অথবা যদি নাপাকি জুতার নিচে থাকে এবং সে তা খুলে ফেলে (তবে সমস্যা নেই)। আর যা পরিহার করা কঠিন তা ক্ষমাযোগ্য, যেমন নিরবচ্ছিন্ন অসুস্থতা (ইস্তিনকাহ), অর্শরোগের আর্দ্রতা যা হাতে লাগে যদি বারবার স্পর্শ করতে হয়, অথবা কাপড়ে লাগে। অনুরূপভাবে দুগ্ধদানকারী মহিলার কাপড় (ক্ষমাযোগ্য) যে সতর্ক থাকার চেষ্টা করে, তবে তার জন্য নামাযের জন্য পৃথক কাপড় রাখা মুস্তাহাব। আর দিরহামের চেয়ে কম পরিমাণ রক্ত সাধারণভাবে, এবং পুঁজ, ক্ষত নিঃসৃত রস, এবং যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধার জন্য ঘোড়ার পেশাব (ক্ষমাযোগ্য)। এছাড়া মলের ওপর বসা মাছির চিহ্ন এবং সিঙা লাগানোর স্থান যা মুছে ফেলা হয়েছে (তা ক্ষমাযোগ্য); অতঃপর যখন আরোগ্য লাভ করবে তখন ধৌত করবে। অন্যথায় সে ওয়াক্তের মধ্যে নামায পুনরায় পড়বে।
আর একে বিস্মৃতির ওপর এবং সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর বৃষ্টির কাদার মতো, যদিও নাপাকি তার সাথে মিশে যায়; তবে যদি না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
غلبت وظاهرها العفو ولا إن أصاب عينها وَذَيْلِ امْرَأَةٍ مُطَالٍ لِلسَّتْرِ وَرِجْلٍ بُلَّتْ يَمُرَّانِ بنجس يبس يطهران بما بعده وَخُفٍّ وَنَعْلٍ مِنْ رَوْثِ دَوَابَّ وَبَوْلِهَا إنْ دلكا لَا غَيْرِهِ فَيَخْلَعُهُ الْمَاسِحُ لَا مَاءَ مَعَهُ ويتيمم وَاخْتَارَ إلْحَاقَ رِجْلِ الْفَقِيرِ وَفِي غَيْرِهِ لِلْمُتَأَخِّرِينَ قولان وَوَاقِعٍ عَلَى مَارٍّ وَإِنْ سَأَلَ صَدَّقَ الْمُسْلِمَ.
وكسيف صقيل لإفساده من دم مباح وأثر دمل لم ينك وندب إن تفاحش كدم البراغيت إلا في صلاة ويطهر محل النجس بلا نية بِغَسْلِهِ إنْ عُرِفَ وَإِلَّا فَبِجَمِيعِ الْمَشْكُوكِ فِيهِ: ككميه بخلاف ثوبيه فيتحرى بطهور منفصل كذلك ولا يلزم عصره مَعَ زَوَالِ طَعْمِهِ لَا لَوْنَ وَرِيحَ عَسِرَا والغسالة المتغيرة نجسة ولو زال عين النجاسة بغير المطلق لم يتنجس ملاقي محلها وَإِنْ شَكَّ فِي إصَابَتِهَا لِثَوْبٍ وَجَبَ نَضْحُهُ وإن ترك أعاد الصلاة: كالغسل وهو رش باليد بلا نية لا إن شك في نجاسة المصيب أو فيهما وَهَلْ الْجَسَدُ كَالثَّوْبِ أَوْ يَجِبُ غَسْلُهُ؟ خِلَافٌ وَإِذَا اشْتَبَهَ طَهُورٌ بِمُتَنَجِّسٍ أَوْ نَجَسٍ صَلَّى بعدد النجس وزيادة إناء وَنُدِبَ غَسْلُ إنَاءِ مَاءٍ وَيُرَاقُ لَا طَعَامٍ وَحَوْضٍ تَعَبُّدًا سَبْعًا بِوُلُوغِ كَلْبٍ مُطْلَقًا لَا غيره عِنْدَ قَصْدِ الِاسْتِعْمَالِ بِلَا نِيَّةٍ وَلَا تَتْرِيبٍ ولا يتعدد بولوغ كلب أو كلاب.
যা প্রবল হয় এবং বাহ্যত তা ক্ষমার যোগ্য, তবে নাপাকির মূল অংশটি যদি তাতে লেগে থাকে তবে নয়। এবং পর্দার জন্য লম্বা করা নারীর কাপড়ের প্রান্তভাগ এবং ভেজা পা, যা কোনো শুকনো নাপাকির ওপর দিয়ে অতিক্রম করে, পরবর্তী পবিত্র স্থানের মাধ্যমে তা পবিত্র হয়ে যায়। এবং পশুর গোবর ও পেশাব থেকে মোজা ও জুতা ঘষার মাধ্যমে পবিত্র হয়, অন্য কোনো নাপাকির ক্ষেত্রে নয়; ফলে মোজা মাসাহকারী ব্যক্তি তা খুলে ফেলবে যদি তার কাছে পানি না থাকে এবং সে তায়াম্মুম করবে। তিনি দরিদ্র ব্যক্তির পা-কে এর অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি পছন্দ করেছেন; আর অন্যদের ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের আলিমদের দুটি মত রয়েছে। এবং পথচারীর ওপর যা পতিত হয় তার ক্ষেত্রে যদি সে জিজ্ঞাসা করে, তবে মুসলমানের কথাকে সত্য বলে গ্রহণ করবে।
এবং পালিশ করা তলোয়ারের মতো যা ধুলে নষ্ট হয়ে যায়—তা বৈধ রক্ত থেকে এবং ফোঁড়ার চিহ্ন যা ফেটে যায়নি তা থেকে পবিত্র করার ক্ষেত্রে একই বিধান; আর যদি তা অত্যধিক হয় তবে তা ধোয়া মুস্তাহাব যেমন ছারপোকার রক্ত, তবে তা নামাজের মধ্যে নয়। নাপাকির স্থান যদি জানা থাকে তবে নিয়ত ছাড়াই তা ধোয়ার মাধ্যমে পবিত্র হয়, অন্যথায় সন্দেহের পুরো স্থানটি ধুতে হবে; যেমন জামার হাতা; তবে দুটি আলাদা কাপড়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, সে ক্ষেত্রে পবিত্রতা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান করতে হবে। একইভাবে পৃথক পবিত্র পানি দিয়ে ধুতে হবে এবং নাপাকির স্বাদ দূর হয়ে গেলে কাপড় নিংড়ানো আবশ্যক নয়, যদি রঙ ও গন্ধ দূর করা কঠিন হয়। পরিবর্তিত ধৌত পানি নাপাক; আর যদি নাপাকির মূল সত্তা সাধারণ পানি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে দূর করা হয়, তবে সেই স্থানের স্পর্শকারী বস্তু নাপাক হবে না। যদি কাপড়ে নাপাকি লাগার ব্যাপারে সন্দেহ হয় তবে তা সিক্ত করা (পানি ছিটানো) ওয়াজিব; আর যদি তা বর্জন করা হয় তবে নামাজ পুনরায় পড়তে হবে: যা ধৌত করার মতো এবং তা হলো নিয়ত ছাড়াই হাত দিয়ে পানি ছিটানো; তবে যদি স্পর্শকারী বস্তু বা উভয়ের নাপাকির ব্যাপারে সন্দেহ হয় তবে তা করতে হবে না। আর শরীর কি কাপড়ের মতো নাকি তা ধোয়া ওয়াজিব? এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। যখন পবিত্র পানি নাপাক বা অপবিত্র পানির সাথে মিশে যায়, তখন নাপাক পাত্রের সংখ্যার চেয়ে একটি পাত্র বাড়িয়ে সেই সংখ্যক বার অজু করে নামাজ পড়বে। পানির পাত্র ধোয়া মুস্তাহাব এবং সেই পানি ঢেলে ফেলতে হবে—তবে খাবার ও বড় হাউজের ক্ষেত্রে নয়—ইবাদত হিসেবে কুকুরের মুখ দেওয়ার কারণে নিঃশর্তভাবে সাতবার ধুতে হবে, অন্য কোনো প্রাণীর জন্য নয়; ব্যবহারের ইচ্ছা করার সময় নিয়ত ও মাটি ছাড়াই এটি করতে হবে; আর একটি বা একাধিক কুকুরের মুখ দেওয়ার কারণে ধোয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে না।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فصل في فرائض الوضوء وسننه وفضائلهفرائض الوضوء: فرائض الوضوء غسل ما بين الأذنينومنابت شعر الرأس المعتاد والذقن وظاهر اللحية فيغسل الوترة وأسارير جبهته وظاهر شفتيه بتخليل شعر تظهر البشرة تحته لا جرحا برىء أو خلق غائرا ويديه بمرفقيه وبقية معصم إن قطع: ككف بمنكب بتخليل أصابعه لا إجالة خاتمه1 ونقض غيره ومسح ما على الجمجمة بعظم صدغيه مع المسترخي ولا ينقض ضفره رجل أو امرأة ويدخلان يديهما تحته في
--------------------------------------------
ওযুর ফরয, সুন্নাত ও ফযীলতসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদওযুর ফরযসমূহ: ওযুর ফরযসমূহ হলো—উভয় কানের মধ্যবর্তী স্থান, মাথার চুল গজানোর স্বাভাবিক সীমানা, থুতনি এবং দাড়ির উপরিভাগ ধৌত করা। সুতরাং নাকের নরম পর্দা (ওয়াতারা), কপালের ভাঁজসমূহ এবং ঠোঁটের বহির্ভাগ ধৌত করবে; সাথে এমন চুলের খিলাল করবে যার নিচ থেকে চামড়া দেখা যায়। তবে আরোগ্য লাভ করা ক্ষত বা জন্মগত গভীর গর্ত (ধৌত করা আবশ্যক) নয়। আর উভয় হাত কনুইসহ ধৌত করা এবং কব্জির অবশিষ্ট অংশ যদি হাত কাটা থাকে—যেমন কাঁধের সাথে যুক্ত হাতের তালু (ধৌত করা হয়), সাথে আঙ্গুলসমূহের খিলাল করা। নিজের আংটি নাড়াচাড়া করা১ এবং তা ব্যতীত অন্য কিছু খোলা আবশ্যক নয়। আর মাথার খুলির ওপরের অংশ মাসেহ করা দুই কানের পার্শ্বস্থ হাড়সহ এবং ঝুলে থাকা চুলসহ। পুরুষ বা নারী কেউ তাদের চুলের বেণী খুলবে না এবং তারা উভয়ে তাদের হাত তার নিচে প্রবেশ করাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
رد المسح1 وغسله مجز وغسل رجليه بكعبيه الناتئين بمفصلي الساقين وندب تخليل أصابعهما وَلَا يُعِيدُ مَنْ قَلَّمَ ظُفْرَهُ أَوْ حَلَقَ رأسه وفي لحيته قولان2 وهل الموالاة واجبة إن ذكر وقدر وَبَنَى بِنِيَّةٍ إنْ نَسِيَ مُطْلَقًا وَإِنْ عَجَزَ مَا لَمْ يُطِلْ بِجَفَافِ أَعْضَاءٍ بِزَمَنٍ اعْتَدَلَا أو سنة؟ خلاف3 ونية رفع الحدث عِنْدَ وَجْهِهِ أَوْ الْفَرْضِ أَوْ اسْتِبَاحَةِ مَمْنُوعٍ4 وإن مع تبرد أو أخرج بعض المستباح أو نسي حدثا لا أخرجه أو نوى مطلق الطهارة أو استباحة ما ندبت له أو قال: إن كنت أحدثت فله أو جدد فتبين حدثه أو ترك لمعة فانغسلت بنية الفضل أَوْ فَرَّقَ النِّيَّةَ عَلَى الْأَعْضَاءِ وَالْأَظْهَرُ فِي الأخير الصحة وعزوبها بعده5 ورفضها مغتفر وفي تقدمها بيسير خلاف.
--------------------------------------------
মাথা মোছা পুনরায় করা এবং তা ধৌত করা যথেষ্ট। আর দুই পায়ের দুই নাতী’ (উঁচু) টাখনুসহ ধৌত করা যা নলার দুই জোড়ার সন্ধিস্থলে অবস্থিত। পায়ের আঙুলসমূহের খিলাল করা মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি তার নখ কাটল অথবা তার মাথা মুন্ডন করল, সে (অযু) পুনরায় করবে না। আর তার দাড়ির ব্যাপারে (মুন্ডন করলে উক্ত স্থান ধোয়ার বিষয়ে) দুটি অভিমত রয়েছে। স্মরণ থাকা এবং সক্ষম হওয়ার শর্তে ‘মুয়ালাত’ (অঙ্গসমূহ বিরতিহীনভাবে ধৌত করা) কি ওয়াজিব? আর যদি ভুলে যায় তবে সে নিয়তসহ (অবশিষ্টাংশ) পূর্ণ করবে, চাই সময় দীর্ঘ হোক বা না হোক। আর যদি অক্ষম হয় তবে যতক্ষণ স্বাভাবিক সময়ে ও স্বাভাবিক আবহাওয়ায় অঙ্গসমূহ শুকিয়ে না যায় ততক্ষণ সে তা পূর্ণ করতে পারবে। নাকি এটি সুন্নাত? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আর মুখমন্ডল ধোয়ার সময় অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করার নিয়ত করা, অথবা ফরয আদায়ের নিয়ত করা, অথবা (সালাতের মতো) নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করার নিয়ত করা আবশ্যক। যদিও তা শীতল হওয়ার নিয়তের সাথে হয়, অথবা যদি সে অনুমোদিত বিষয়গুলোর কিছু বাদ দেয়, অথবা যদি কোনো অপবিত্রতার কথা ভুলে যায় কিন্তু তাকে (নিয়ত থেকে) বহিষ্কার না করে, অথবা যদি সাধারণ পবিত্রতার নিয়ত করে, অথবা এমন বিষয়ের বৈধতার নিয়ত করে যার জন্য অযু মুস্তাহাব, অথবা সে বলল: "যদি আমি অপবিত্র হয়ে থাকি তবে এটি তার জন্য", অথবা সে অযু নবায়ন করল এরপর প্রকাশ পেল যে সে অপবিত্র ছিল, অথবা যদি একটি সামান্য স্থান ধৌত করা বাদ পড়ে যায় এরপর তা নফলের নিয়তে ধৌত হয়ে যায়, অথবা যদি সে প্রতিটি অঙ্গের জন্য আলাদা আলাদা নিয়ত করে; আর শেষোক্ত ক্ষেত্রে (অযু) সহীহ হওয়া অধিক স্পষ্ট। মুখমন্ডল ধোয়ার পর নিয়ত থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং নিয়ত বর্জন করা ক্ষমারযোগ্য, আর আমলের সামান্য আগে নিয়ত করার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
سنن الوضوءوسننه: غسل يديه أولا ثلاثا تعبدا بِمُطْلَقٍ وَنِيَّةٍ وَلَوْ نَظِيفَتَيْنِ أَوْ أَحْدَثَ فِي أثنائه مفترقتين ومضمضة واستنشاق وبالغ مفطر6 وفعلهما بست أفضل7 وجازا أو إحداهما بغرفة واستنثار ومسح وجهي كل أذن وتجديد مائهما ورد مسح رأسه
--------------------------------------------
ওযুর সুন্নাতসমূহএবং এর সুন্নাতসমূহ হলো: ইবাদতের উদ্দেশ্যে প্রথমে তিনবার দুই হাত ধোয়া, পবিত্র সাধারণ পানির মাধ্যমে এবং নিয়তের সাথে, যদিও হাত দুটি পরিষ্কার থাকে। অথবা ওযুর মাঝখানে ওযু ভঙ্গকারী কিছু ঘটলে (পুনরায় ধোয়া)। পৃথকভাবে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া; আর যে ব্যক্তি রোজা রাখেনি, সে এগুলোতে অতিরঞ্জন (মুবালাগা) করবে।6 এ দুটি কাজ ছয়টি অঞ্জলি পানির মাধ্যমে করা উত্তম।7 এ দুটি অথবা এর যেকোনো একটি এক অঞ্জলি পানির মাধ্যমে করাও জায়েজ। আর নাক ঝাড়া, প্রত্যেক কানের উভয় পিঠ মাসেহ করা, কানের জন্য নতুন পানি নেওয়া এবং মাথা মাসেহ করে হাত পুনরায় ফিরিয়ে আনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
وترتيب فرائضه1 فَيُعَادُ الْمُنَكِّسُ وَحْدَهُ إنْ بَعُدَ بِجَفَافٍ وَإِلَّا مع تابعه ومن ترك فرضا أتى به وبالصلاة وسنة فعلها لما يستقبل.
--------------------------------------------
এবং এর ফরযসমূহের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।১ সুতরাং যে অংশটি ক্রমলঙ্ঘন করে করা হয়েছে, অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে কেবল সেটিই পুনরায় করবে, অন্যথায় তার পরবর্তী অংশসমূহসহ পুনরায় করবে। আর যে ব্যক্তি কোনো ফরয ছেড়ে দিয়েছে, সে তা এবং সালাত পুনরায় আদায় করবে; আর সুন্নাত হলে তা ভবিষ্যতের জন্য পালন করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
فضائل الوضوءوفضائله: موضع وقلة الماء بلا حد كالغسل وَتَيَمُّنُ أَعْضَاءٍ وَإِنَاءٍ إنْ فَتَحَ وَبَدْءٌ بِمُقَدَّمِ رأسه وشفع غسله وتثليثه وهل الرجلان كذلك؟ أو المطلوب الإنقاء2 وهل تكره الرابعة أو تمنع خلاف وترتيب سننه أو مع فرائضه وسواك وإن بإصبع كصلاة بعدت منه وتسمية وتشرع في غسل وتيمم وأكل وشرب وزكاة وَرُكُوبِ دَابَّةٍ وَسَفِينَةٍ وَدُخُولٍ وَضِدِّهِ لِمَنْزِلٍ وَمَسْجِدٍ وَلُبْسٍ وَغَلْقِ بَابٍ وَإِطْفَاءِ مِصْبَاحٍ وَوَطْءٍ وَصُعُودِ خطيب منبرا وتغميض ميت ولحده ولا تندب إطالة الغرة3 ومسح الرقبة وترك مسح الأعضاء وإن شك في ثالثة ففي كراهتها وندبها قولان قال: المازري كَشَكِّهِ فِي صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ هَلْ هُوَ العيد؟
--------------------------------------------
ওযুর মুস্তাহাবসমূহএর মুস্তাহাবসমূহ হলো: [পবিত্র] স্থান নির্বাচন করা এবং গোসলের ন্যায় কোনো নির্দিষ্ট সীমা ছাড়াই অল্প পানি ব্যবহার করা; অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করা এবং পানির পাত্রটি খোলা থাকলে তা ডান পাশে রাখা; মাথার সামনের দিক থেকে মাসেহ শুরু করা; অঙ্গসমূহ দুইবার ও তিনবার করে ধোয়া। দুই পায়ের ক্ষেত্রেও কি একই বিধান? নাকি কেবল পরিচ্ছন্নতা অর্জন করাই উদ্দেশ্য? চতুর্থবার ধোয়া কি মাকরূহ নাকি নিষিদ্ধ—এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সুন্নাত কাজগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অথবা ফরয কাজগুলোর সাথে সুন্নাতগুলোর তারতীব রক্ষা করা। মিসওয়াক করা, যদিও তা আঙুল দিয়ে হয়, যেমন নামাজের জন্য যদি পূর্বের মিসওয়াক থেকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। বিসমিল্লাহ বলা; আর এটি গোসল, তায়াম্মুম, আহার, পান, যাকাত প্রদান, পশু ও নৌযানে আরোহণ, ঘরে ও মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়া, পোশাক পরিধান, দরজা বন্ধ করা, প্রদীপ নেভানো, সহবাস, খতীবের মিম্বারে আরোহণ, মৃত ব্যক্তির চক্ষু বন্ধ করা এবং কবরে শায়িত করার সময় বিধিবদ্ধ। 'গুররাহ' (অঙ্গ ধোয়ার নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অংশ ধোয়া) দীর্ঘ করা, ঘাড় মাসেহ করা এবং অঙ্গসমূহ মোছা বর্জন করা মুস্তাহাব নয়। যদি তৃতীয়বার ধোয়ার ব্যাপারে সন্দেহ হয়, তবে তা মাকরূহ নাকি মুস্তাহাব—এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। আল-মাযিরী বলেন: এটি আরাফাহর দিনে রোজা রাখার সন্দেহের মতো যে, দিনটি কি ঈদের দিন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২০)
فصل في آداب قضاء الحاجة والاستنجاءنُدِبَ لِقَاضِي الْحَاجَةِ جُلُوسٌ وَمُنِعَ بِرَخْوٍ نَجِسٍ4 وتعين القيام واعتماد على رجل واستنجاء بيد يسريين وَبَلُّهَا قَبْلَ لُقِيِّ الْأَذَى وَغَسْلُهَا بِكَتُرَابٍ بَعْدَهُ وَسَتْرٌ إلَى مَحِلِّهِ وَإِعْدَادُ مُزِيلِهِ وَوِتْرِهِ وَتَقْدِيمُ قبله وتفريج فخذيه واسترخاؤه وتغطية رأسه.
--------------------------------------------
শৌচকার্য এবং পবিত্রতা অর্জনের আদবসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদশৌচকার্য সম্পাদনকারীর জন্য বসা মুস্তাহাব এবং নরম ও অপবিত্র স্থানে (প্রস্রাব করা) নিষিদ্ধ৪। এবং (প্রয়োজনে) দাঁড়িয়ে থাকা, বাম পায়ের ওপর ভর দেওয়া, বাম হাতের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা, নাপাকির সংস্পর্শে আসার পূর্বে হাত ভিজিয়ে নেওয়া, শৌচকার্যের পরে মাটির ন্যায় কিছু দিয়ে হাত ধৌত করা, নির্দিষ্ট স্থান পর্যন্ত পৌঁছানো অবধি সতর ঢেকে রাখা, নাপাকি দূরকারক বস্তু প্রস্তুত রাখা ও তা বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার করা, পেছনের আগে সামনের অংশ পরিষ্কার করা, দুই উরু প্রশস্ত রাখা, শরীর শিথিল করা এবং মাথা ঢেকে রাখা মুস্তাহাব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
وعدم التفاته وذكر ورد بعده وقبله فإن فات ففيه إن لم يعد وسكوت إلا لمهم وبالفضاء تستر
وبعد واتقاء جحر وريح ومورد وطريق وشط وظل وصلب وبكنيف نحى ذكر الله ويقدم يُسْرَاهُ دُخُولًا وَيُمْنَاهُ خُرُوجًا عَكْسُ مَسْجِدٍ وَالْمَنْزِلُ يمناه بهما وجاز بمنزل وطء وبول مستقبل قبلة ومستدبرا وَإِنْ لَمْ يَلْجَأْ وَأَوَّلَ بِالسَّاتِرِ وَبِالْإِطْلَاقِ لَا في الفضاء وبستر قولان تحتملهما والمختار الترك لا القمرين1 وبيت المقدس وَوَجَبَ اسْتِبْرَاءٌ بِاسْتِفْرَاغِ أَخْبَثَيْهِ مَعَ سَلْتِ ذَكَرٍ ونثر خفا وندب جمع ماء وحجر ثم ماء وتعين في مني وحيض ونفاس وبول امرأة ومنتشر عن مخرج كثيرا ومذي بغسل ذكره كله فَفِي النِّيَّةِ وَبُطْلَانِ صَلَاةِ تَارِكِهَا أَوْ تَارِكِ كله قولان. ولا يستنجي من ريح وجاز بيابس طاهر منق غير مؤذ ولا محترم لَا مُبْتَلٍّ وَنَجِسٍ وَأَمْلَسَ وَمُحَدَّدٍ وَمُحْتَرَمٍ مِنْ مطعوم ومكتوب وذهب وفضة وجدار وعظم وروث فإن أنقت أجزأت كاليد ودون الثلاث
--------------------------------------------
এবং এদিক-ওদিক না তাকানো এবং এর আগে ও পরে বর্ণিত জিকিরসমূহ পাঠ করা; আর যদি তা ছুটে যায় তবে সে স্থান ত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত তা পড়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় বিষয় ছাড়া নীরব থাকা এবং উন্মুক্ত স্থানে আড়াল গ্রহণ করা।
এবং দূরে যাওয়া এবং গর্ত, বাতাসের অভিমুখ, পানি সংগ্রহের স্থান, পথ, নদীর পাড়, ছায়া ও শক্ত ভূমি পরিহার করা এবং শৌচাগারে প্রবেশের সময় আল্লাহর জিকির সংবলিত বস্তু সরিয়ে রাখা। প্রবেশের সময় বাম পা এবং বের হওয়ার সময় ডান পা আগে বাড়ানো, যা মসজিদের নিয়মের বিপরীত; আর ঘরের ক্ষেত্রে উভয় সময়েই ডান পা আগে বাড়ানো। ঘরে কিবলামুখী হয়ে বা কিবলাকে পেছনে রেখে সহবাস ও প্রস্রাব করা জায়েজ, যদিও তা নিরুপায় অবস্থায় না হয়। কেউ একে আড়ালের উপস্থিতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন, আবার কেউ একে নিঃশর্তভাবে বৈধ বলেছেন। এটি উন্মুক্ত প্রান্তরের জন্য নয়। তবে উন্মুক্ত প্রান্তরে আড়াল থাকলে জায়েজ কি না সে বিষয়ে দুটি মত রয়েছে যা উভয় ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে; এক্ষেত্রে পছন্দনীয় মত হলো তা বর্জন করা। সূর্য ও চন্দ্র১ এবং বায়তুল মুকাদ্দাস (কিবলা হিসেবে মুখ করা বা পিঠ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ) নয়। এবং দুই নাপাকি নির্গমনের পথ পুরোপুরি খালি করার মাধ্যমে ইস্তিবরা করা ওয়াজিব, সাথে পুরুষাঙ্গ মৃদুভাবে টেনে নেওয়া এবং হালকাভাবে ঝেড়ে নেওয়া। পানি ও পাথর এবং এরপর পানির সমন্বয় করা মুস্তাহাব। বীর্য, ঋতুস্রাব, নিফাস, নারীর প্রস্রাব, নির্গমন পথ থেকে অধিক ছড়িয়ে পড়া নাপাকি এবং মজি-এর ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার করা নির্ধারিত; মজি-এর ক্ষেত্রে পুরো পুরুষাঙ্গ ধৌত করতে হবে। এমতাবস্থায় নিয়ত করা এবং সম্পূর্ণ ধৌত করা বর্জনকারীর সালাত বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে দুটি মত রয়েছে। বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে ইস্তিনজা করতে হয় না। শুষ্ক, পবিত্র, পরিষ্কারকারী, কষ্টদায়ক নয় এবং যা সম্মানিত নয় এমন বস্তু দিয়ে ইস্তিনজা করা জায়েজ। সিক্ত, নাপাক, মসৃণ, ধারালো এবং সম্মানিত বস্তু যেমন খাদ্যদ্রব্য, লিখিত কাগজ, সোনা, রুপা, দেয়াল, হাড় ও গোবর দ্বারা ইস্তিনজা করা জায়েজ নয়। যদি তা পরিষ্কার করে ফেলে তবে তা যথেষ্ট হবে, যেমনটা হাতের ক্ষেত্রে বা তিনটির কম পাথরের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২১)
فصل في نواقض الوضوءنقض الوضوء بِحَدَثٍ وَهُوَ الْخَارِجُ الْمُعْتَادُ فِي الصِّحَّةِ لَا حصى ودود ولو ببلة وبسلس فارق أكثر: كسلس مذي قدر على رفعه وَنُدِبَ إنْ لَازَمَ أَكْثَرَ لَا إنْ شَقَّ2 وَفِي اعْتِبَارِ الْمُلَازَمَةِ فِي وَقْتِ الصَّلَاةِ أَوْ مطلقا تردد من مخرجيه أَوْ ثُقْبَةٍ تَحْتَ الْمَعِدَةِ إنْ انْسَدَّا وَإِلَّا فقولان وَبِسَبَبِهِ وَهُوَ زَوَالُ عَقْلٍ وَإِنْ بِنَوْمٍ ثَقُلَ ولو قصر لاخف وندب إن طال ولمس يلتذ صاحبه به عادة ولو لظفر أو شعر أو حائل وأول بالخفيف وبالإطلاق إن قصد لذة أو وجدها لا انتفيا إلا القبلة بفم مطلقا وإن
--------------------------------------------
ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদহাদাস তথা শরীর থেকে অপবিত্রতা নির্গত হওয়ার মাধ্যমে ওযু ভঙ্গ হয়। আর তা হলো সুস্থ অবস্থায় স্বাভাবিক পথ দিয়ে যা সাধারণত নির্গত হয়; পাথর বা কৃমি নির্গত হওয়া ওযু ভঙ্গের কারণ নয়, যদিও তাতে সিক্ততা বা আর্দ্রতা থাকে। তদ্রূপ এমন অনিয়ন্ত্রিত স্রাব যা অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে, যেমন সেই মযি নির্গত হওয়া যা বন্ধ করতে ব্যক্তি সক্ষম। যদি এই অনিয়ন্ত্রিত নিঃসরণ অধিকাংশ সময় চলতে থাকে তবে ওযু করা মুস্তাহাব, যদি না তা কষ্টকর হয়। এই নিরবচ্ছিন্নতা কেবল সালাতের সময়ের সাথে বিবেচনা করা হবে নাকি সর্বাবস্থায়, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। এই নির্গমন হতে হবে স্বাভাবিক উভয় পথ দিয়ে অথবা পাকস্থলীর নিচে অবস্থিত এমন কোনো ছিদ্র দিয়ে যদি স্বাভাবিক পথ দুটি বন্ধ থাকে; অন্যথায় (স্বাভাবিক পথ খোলা থাকলে) এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। ওযু ভঙ্গ হয় হাদাসের কারণ তথা হিতাহিত জ্ঞান লোপ পাওয়ার মাধ্যমে; যদিও তা গভীর নিদ্রার কারণে হয়, চাই তা অল্প সময়ের জন্য হোক। তবে হালকা ঘুমের কারণে ওযু ভঙ্গ হয় না। অবশ্য হালকা ঘুম দীর্ঘ হলে ওযু করা মুস্তাহাব। এছাড়া এমন স্পর্শের মাধ্যমে ওযু ভঙ্গ হয় যা দ্বারা স্পর্শকারী সাধারণত তৃপ্তি লাভ করে, যদিও তা নখ, চুল বা কোনো আবরণের উপর দিয়ে হয়। একে হালকা আবরণের ক্ষেত্রে এবং সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—যদি সে তৃপ্তি লাভের ইচ্ছা করে অথবা তৃপ্তি পায়। তবে যদি ইচ্ছা বা তৃপ্তি—উভয়টিই অনুপস্থিত থাকে তবে ওযু ভঙ্গ হবে না, কেবল মুখ দিয়ে চুম্বনের বিষয়টি ব্যতীত যা নিঃশর্তভাবে ওযু ভঙ্গ করে যদিও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
بِكُرْهٍ أَوْ اسْتِغْفَالٍ لَا لِوَدَاعٍ أَوْ رَحْمَةٍ ولا لذة بنظر كإنعاظ ولذة بمحرم على الأصح وَمُطْلَقُ مَسِّ ذَكَرِهِ الْمُتَّصِلِ وَلَوْ خُنْثَى مُشْكِلًا بِبَطْنٍ أَوْ جَنْبٍ لِكَفٍّ أَوْ أُصْبُعٍ وَإِنْ زائدا حس وبردة وَبِشَكٍّ فِي حَدَثٍ بَعْدَ طُهْرٍ عُلِمَ1 إلَّا المستنكح2 وبشك في سابقهما لَا بِمَسِّ دُبُرٍ أَوْ أُنْثَيَيْنِ أَوْ فَرْجِ صغيرة وقيء وأكل لحم جزور وذبح وحجامة وصد وَقَهْقَهَةٍ بِصَلَاةٍ وَمَسِّ امْرَأَةٍ فَرْجَهَا وَأُوِّلَتْ أَيْضًا بعدم الإلطاف3 وندب غسل من لحم ولبن وتجديد وضوء إن صلى به وَلَوْ شَكَّ فِي صَلَاتِهِ ثُمَّ بَانَ الطُّهْرُ لَمْ يعد ومنع حدث صلاة وطوافا ومس مصحف وَإِنْ بِقَضِيبٍ وَحَمْلِهِ وَإِنْ بِعَلَاقَةٍ أَوْ وِسَادَةٍ إلا بأمتعة قصدت وإن على كافر لا درهم4 وتفسير ولوح لمعلم ومتعلم وإن حائضا وجزء لمتعلم وإن بلغ وحرز بساتر وإن لحائض.
--------------------------------------------
অনীচ্ছায় বা অসাবধানতাবশত (স্পর্শ করা), বিদায় বা মমতাবশত নয়; এবং অধিক সঠিক মতানুসারে দেখার মাধ্যমে অর্জিত তৃপ্তি, যেমন কামোত্তেজনা বা হারাম পদ্ধতিতে লব্ধ তৃপ্তির কারণে (অযু ভঙ্গ হবে না)। আর সাধারণভাবে নিজের সংযুক্ত লিঙ্গ স্পর্শ করা—এমনকি খুন্সা মুশকিল (উভয়লিঙ্গ ব্যক্তি) হলেও—হাতের তালুর ভেতরের অংশ বা আঙ্গুলের পার্শ্বদেশ দ্বারা, যদিও সেই আঙ্গুল অতিরিক্ত হয় এবং তাতে অনুভূতি ও প্রাণ থাকে। এবং নিশ্চিত পবিত্রতার পর অপবিত্রতা (হাদাস) অর্জিত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহের কারণে১ (অযু ভঙ্গ হবে), তবে মুস্তানকিহ২ (সন্দেহগ্রস্থ রোগী) ব্যতীত; এবং দুটির (পবিত্রতা ও অপবিত্রতা) মধ্যে কোনটি আগে ঘটেছে তা নিয়ে সন্দেহের কারণেও অযু ভঙ্গ হবে। মলদ্বার, অণ্ডকোষদ্বয় বা ছোট শিশুর যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে এবং বমি, উটের গোশত ভক্ষণ, যবেহ করা, সিঙ্গা লাগানো (হিজামা), রক্তমোক্ষণ (ফাসদ), নামাযে অট্টহাসি দেওয়া এবং নারীর নিজ যৌনাঙ্গ স্পর্শ করার কারণে অযু ভঙ্গ হয় না। আর নারীর স্পর্শের বিষয়টি ‘ইলতাফ’৩ (যৌনাঙ্গের অভ্যন্তরে হাত প্রবেশ করানো) না হওয়ার শর্তে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। গোশত ও দুধ খাওয়ার পর ধুয়ে ফেলা এবং অযু থাকা অবস্থায় নামায পড়লে পুনরায় অযু (তাজদীদ) করা মুস্তাহাব। যদি কেউ নামাযের মধ্যে সন্দেহে পড়ে এবং পরে পবিত্রতা প্রকাশ পায়, তবে তাকে নামায পুনরায় পড়তে হবে না। অপবিত্রতা (হাদাস) নামায, তাওয়াফ এবং কুরআন (মুসহাফ) স্পর্শ করা নিষিদ্ধ করে, এমনকি কাঠি দ্বারা হলেও। এবং কুরআন বহন করাও নিষিদ্ধ, এমনকি ফিতা বা বালিশের সাহায্যে হলেও, তবে যদি অন্য আসবাবপত্রের সাথে (আনুষঙ্গিক হিসেবে) বহন করার উদ্দেশ্য থাকে তবে তা জায়েজ। এমনকি কাফিরের ওপর বহন করার ক্ষেত্রেও (একই বিধান), তবে দিরহাম৪ (মুদ্রা) নয়। আর তাফসীর, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর জন্য তখতি (বোর্ড)—যদিও সে ঋতুবতী হয়—এবং শিক্ষার্থীর জন্য কুরআনের অংশবিশেষ—যদিও সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়—এবং আবরণীযুক্ত তাবিজ ব্যবহার করা জায়েজ, এমনকি ঋতুবতীর জন্যও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২২)
فصل في أحكام الغسلموجباته:
يجب غسل ظاهر الجسد بمنى. وإن بنوم أَوْ بَعْدَ ذَهَابِ لَذَّةٍ بِلَا جِمَاعٍ وَلَمْ يغتسل إلا بلا لذة أو غير معتادة ويتوضأ كمن جامع فاغتسل ثم أمنى ولا يعيد الصلاة وبمغيب حشفة بالغ لا مراهق
أو قدرها في فرج وإن من بهيمة وميت وندب لمراهق كصغيرة وطئها بالغ لا بمني وصل للفرج ولو التذت وَبِحَيْضٍ وَنِفَاسٍ بِدَمٍ وَاسْتُحْسِنَ وَبِغَيْرِهِ لَا بِاسْتِحَاضَةٍ وندب لانقطاعه.
গোসলের বিধানাবলি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদগোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ:
বীর্যপাতের কারণে শরীরের বহির্ভাগ ধৌত করা ওয়াজিব। যদিও তা ঘুমের মধ্যে হয় অথবা সঙ্গম ব্যতিরেকে কামভাব দূরীভূত হওয়ার পর হয়। আর যদি কামভাব ছাড়াই বীর্যপাত হয় অথবা তা অস্বাভাবিক পন্থায় হয়, তবে সে অজু করবে; যেমন ঐ ব্যক্তি যে সঙ্গম করার পর গোসল করেছে, অতঃপর তার বীর্য নির্গত হয়েছে, এক্ষেত্রে সে সালাত পুনরায় আদায় করবে না। এবং প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির লিঙ্গাগ্র প্রবিষ্ট হওয়ার কারণে (গোসল ওয়াজিব হয়), কিশোরের ক্ষেত্রে নয়।
অথবা লিঙ্গযোনিতে সেই পরিমাণ অংশ প্রবিষ্ট হওয়ার কারণে, যদিও তা কোনো চতুষ্পদ জন্তু বা মৃতদেহের ক্ষেত্রে হয়। আর কিশোরের জন্য এটি মুস্তাহাব, যেমনটি ঐ নাবালিকা মেয়ের জন্য যার সাথে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সঙ্গম করেছে কিন্তু বীর্য যোনি পর্যন্ত পৌঁছেনি, যদিও সে তৃপ্তি লাভ করে থাকে। এবং রক্তসহ ঋতুস্রাব ও নিফাসের কারণে (গোসল ওয়াজিব হয়), যা উত্তম বলে গণ্য, আর রক্তহীন হলেও (ওয়াজিব)। তবে ইস্তিহাজার কারণে (গোসল ওয়াজিব) নয়, বরং তা বন্ধ হওয়ার পর গোসল করা মুস্তাহাব।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
واجباته:
وَيَجِبُ غُسْلُ كَافِرٍ بَعْدَ الشَّهَادَةِ بِمَا ذُكِرَ وَصَحَّ قَبْلَهَا وَقَدْ أَجْمَعَ عَلَى الْإِسْلَامِ لَا الإسلام إلا لعجز وإن شك أمذي أو مني؟ اغتسل وأعاد من آخر نومة كتحققه فرع في واجبات الغسل وواجبه نية وموالاة كالوضوء وَإِنْ نَوَتْ الْحَيْضَ وَالْجَنَابَةَ أَوْ أَحَدَهُمَا نَاسِيَةً لِلْآخَرِ أَوْ نَوَى الْجَنَابَةَ وَالْجُمُعَةَ أَوْ نِيَابَةً عن الجمعة حصلا وإن نسي الجنابة أو قصد نيابة عنها انتفيا1 وتخليل شعر وضغث مضفوره لانقضه ودلك ولو بعد الماء أو بخرقة أو استنابة وإن تعذر سقط.
سننه: وَسُنَنُهُ غَسْلِ يَدَيْهِ أَوَّلًا وَصِمَاخِ أُذُنَيْهِ وَمَضْمَضَةٌ واستنشاق واستنثار.
مندوباته: وَنُدِبَ بَدْءٌ بِإِزَالَةِ الْأَذَى ثُمَّ أَعْضَاءِ وُضُوئِهِ كاملة مرة وأعلاه وميامينه وتثليث رأسه وقلة الماء بلا حد كغسل فرج جنب لعوده لجماع ووضوئه لنوم لا تيمم ولم يبطل إلا بجماع وَتَمْنَعُ الْجَنَابَةُ مَوَانِعَ الْأَصْغَرِ وَالْقِرَاءَةَ إلَّا كَآيَةٍ لتعوذ ونحوه ودخول مسجد ولو مجتازا: ككافر وإن أذن مسلم وللمني تدفق ورائحة طلع أو عجين ويجزىء عن الوضوء وإن تبين عدم جنابته وَغَسْلُ الْوُضُوءِ عَنْ غَسْلِ مَحَلِّهِ وَلَوْ نَاسِيًا لجنابته2: كلمعة منها وإن عن جبيرة.
--------------------------------------------
এর ওয়াজিবসমূহ:
শাহাদাতের পর কাফিরের জন্য উল্লিখিত কারণে গোসল করা ওয়াজিব এবং তা শাহাদাতের পূর্বেই শুদ্ধ হয়। সে ইসলামের ওপর সংকল্পবদ্ধ হয়েছে। অক্ষমতা ব্যতীত ইসলাম (পূর্ণ) হবে না। যদি বীর্য নাকি মজি—এ নিয়ে সন্দেহ হয়? তবে সে গোসল করবে এবং সর্বশেষ ঘুমের পর থেকে আদায়কৃত নামাজগুলো পুনরায় পড়বে, যেন সে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। গোসলের ওয়াজিবসমূহ সম্পর্কিত একটি শাখা: এর ওয়াজিব হলো নিয়ত এবং অজুর ন্যায় মুওয়ালাত (অবিচ্ছিন্নতা)। যদি কোনো নারী ঋতুস্রাব ও জানাবাত উভয়ের নিয়ত করে, অথবা অন্যটি ভুলে গিয়ে একটির নিয়ত করে; কিংবা যদি কেউ জানাবাত ও জুমার গোসলের নিয়ত করে অথবা জুমার নিয়তের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার নিয়ত করে, তবে উভয়টিই অর্জিত হবে। আর যদি সে জানাবাতের কথা ভুলে যায় অথবা কেবল জুমার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার নিয়ত করে, তবে উভয়টিই বাতিল হয়ে যাবে১। আর চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো এবং বিনুনি না খুলে তা ভালোভাবে কচলে দেওয়া। এবং ডলন (দাল্ক), পানি ব্যবহারের পর হলেও চলবে, অথবা কোনো কাপড়ের মাধ্যমে কিংবা অন্যের সাহায্য নিয়ে; আর যদি তা অসম্ভব হয় তবে তা রহিত হয়ে যাবে।
এর সুন্নাতসমূহ: এর সুন্নাতগুলো হলো—প্রথমে দুই হাত ধোয়া, কানের ছিদ্রপথ ধোয়া, কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং নাক ঝাড়া।
এর মানদুব (পছন্দনীয়) বিষয়সমূহ: প্রথমে অপবিত্রতা দূর করার মাধ্যমে শুরু করা মানদুব, অতঃপর অজুর অঙ্গসমূহ একবার করে পূর্ণভাবে ধোয়া, শরীরের উপরিভাগ এবং ডান দিক থেকে শুরু করা, মাথায় তিনবার পানি দেওয়া এবং কোনো নির্দিষ্ট সীমা ছাড়াই অল্প পানি ব্যবহার করা। যেমন—সহবাসে পুনরায় লিপ্ত হওয়ার জন্য জুনুবি ব্যক্তির লজ্জাস্থান ধোয়া, এবং ঘুমের জন্য তার অজু করা, তায়াম্মুম নয়। আর সহবাস ব্যতীত তা (অজু) বাতিল হয় না। জানাবাত ওইসব কাজকে বাধা দেয় যা ছোট অপবিত্রতা (হাদাসে আসগর) বাধা দেয়; এবং কুরআন পাঠ করা—তবে আশ্রয় প্রার্থনা বা এই জাতীয় কোনো উদ্দেশ্যে এক আয়াত পাঠ করা জায়েজ। আর মসজিদে প্রবেশ করা—যদিও তা অতিক্রম করার উদ্দেশ্যে হয়; যেমন কাফিরের ক্ষেত্রেও একই বিধান, যদিও কোনো মুসলিম তাকে অনুমতি দেয়। বীর্যের বৈশিষ্ট্য হলো সজোরে নির্গত হওয়া এবং খেজুরের কচি মোচড় বা আটার খামিরের মতো গন্ধ হওয়া। আর এটি (গোসল) অজুর স্থলাভিষিক্ত হয় যদিও পরে প্রকাশ পায় যে তার জানাবাত ছিল না। আর অজুর অঙ্গ ধোয়া ওই নির্দিষ্ট স্থানটি ধোয়ার জন্য যথেষ্ট হবে, যদিও সে তার জানাবাতের কথা ভুলে গিয়ে থাকে২: যেমন শরীরের কোনো শুষ্ক স্থান, এমনকি তা জাবীরার (ব্যান্ডেজ) উপরে হলেও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فصل في المسح على الخفرخص لرجل وامرأة وإن مستحاضة بحضر أو سفر مسح جورب جلد ظاهره وباطنه وخف ولو على خف بلا حائل: كطين إلا المهماز3 ولا حد بشرط جلد
--------------------------------------------
মোজার ওপর মাসেহ করার পরিচ্ছেদপুরুষ ও নারীর জন্য অনুমতি রয়েছে, এমনকি তিনি মুস্তাহাযা (প্রদর রোগে আক্রান্ত) হলেও, মুকীম অবস্থায় বা সফরে; এমন মোজা মাসেহ করা যার বাইরের ও ভেতরের উভয় অংশ চামড়ার এবং চামড়ার মোজার (খুফ) ওপর মাসেহ করা, এমনকি তা যদি অন্য একটি চামড়ার মোজার ওপরেও হয়, যদি কাদার মতো কোনো প্রতিবন্ধক না থাকে। তবে মেহমায ব্যতীত। আর চামড়া হওয়ার শর্তে এর (পুরুত্বের) কোনো সীমা নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
طاهر خرز وستر محل الفرض وأمكن تتابع المشي به بِطَهَارَةِ مَاءٍ كَمُلَتْ بِلَا تَرَفُّهٍ وَعِصْيَانٍ بِلُبْسِهِ أو سفره1 فلا يمسح واسع ومخرق قدر ثلث القدم وإن بشك بل دونه إن التصق كمنفتح صغر أَوْ غَسَلَ رِجْلَيْهِ فَلَبِسَهُمَا ثُمَّ كَمَّلَ أَوْ رِجْلًا فَأَدْخَلَهَا حَتَّى يَخْلَعَ الْمَلْبُوسَ قَبْلَ الْكَمَالِ ولا محرم لم يضطر وفي خف غصب تردد وَلَا لَابِسٍ لِمُجَرَّدِ الْمَسْحِ أَوْ لِيَنَامَ وَفِيهَا يكره2 وكره غسله وتكراره وتتبع غضونه وبطل بغسل وجب وبخرقه كثيرا وَبِنَزْعِ أَكْثَرِ رِجْلٍ لِسَاقِ خُفِّهِ لَا الْعَقِبِ وإن نَزَعَهُمَا أَوْ أَعْلَيَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا بَادَرَ لِلْأَسْفَلِ كالموالاة وَإِنْ نَزَعَ رِجْلًا وَعَسُرَتْ الْأُخْرَى وَضَاقَ الْوَقْتُ فَفِي تَيَمُّمِهِ أَوْ مَسْحِهِ عَلَيْهِ أَوْ إنْ كثرت قيمته وإلا مزق أقوال وندب نزعه كل جمعة وَوَضَعَ يُمْنَاهُ عَلَى أَطْرَافِ أَصَابِعِهِ وَيُسْرَاهُ تَحْتَهَا ويمرهما لكعبيه وَهَلْ الْيُسْرَى كَذَلِكَ أَوْ الْيُسْرَى فَوْقَهَا تَأْوِيلَانِ ومسح أعلاه وأسفله وَبَطَلَتْ إنْ تَرَكَ أَعْلَاهُ لَا أَسْفَلَهُ فَفِي الوقت.
--------------------------------------------
পবিত্র হতে হবে, সেলাইযুক্ত হতে হবে, ওযুর ফরয স্থান (পা) আবৃতকারী হতে হবে এবং এর দ্বারা অনবরত হাঁটা সম্ভব হতে হবে। এটি পূর্ণ পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের পর পরিধান করতে হবে, এবং পরিধানের উদ্দেশ্য বিলাসিতা হবে না কিংবা পরিধান করা বা সফরের ক্ষেত্রে কোনো পাপাচার থাকবে না। সুতরাং প্রশস্ত মোজা (যাতে পা স্থির থাকে না) এবং পায়ের এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ ছিদ্রযুক্ত মোজার ওপর মাসেহ করা যাবে না, যদিও ছিদ্রের পরিমাণ নিয়ে সন্দেহ থাকে। তবে ছিদ্র এর চেয়ে কম হলে এবং তা পায়ের সাথে লেগে থাকলে মাসেহ করা যাবে, যেমন ছোট কোনো ছিদ্র। অথবা যদি কেউ তার দুই পা ধুয়ে মোজা পরিধান করে এরপর ওযু পূর্ণ করে, অথবা এক পা ধুয়ে তা মোজার ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়, তবে ওযু পূর্ণ হওয়ার আগে পরিহিত সেই মোজা খুলে ফেলতে হবে। ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তি নিরুপায় না হলে মাসেহ করবে না। আর জোরপূর্বক দখলকৃত মোজার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। শুধুমাত্র মাসেহ করার উদ্দেশ্যে অথবা ঘুমানোর জন্য যে ব্যক্তি মোজা পরেছে সে মাসেহ করবে না; মুদাওওয়ানা গ্রন্থে একে মাকরূহ বলা হয়েছে। মোজা ধোয়া, তা বারবার মাসেহ করা এবং এর ভাঁজগুলো অনুসন্ধান করাও মাকরূহ। ফরয গোসল ওয়াজিব হলে, মোজা বেশি ছিঁড়ে গেলে এবং মোজার নলার দিক থেকে পায়ের অধিকাংশ অংশ বেরিয়ে গেলে মাসেহ বাতিল হয়ে যাবে, তবে গোড়ালির দিক থেকে বের হলে নয়। যদি সে মোজা দুটি বা তার ওপরের জোড়া অথবা কোনো একটি খুলে ফেলে, তবে সাথে সাথে নিচের অংশ ধোয়ার জন্য দ্রুততা অবলম্বন করবে। যদি কেউ এক পা বের করে এবং অন্য পা বের করা কষ্টসাধ্য হয় আর সময়ও সংকীর্ণ হয়ে আসে, তবে সে তায়াম্মুম করবে নাকি এর ওপর মাসেহ করবে, অথবা যদি মোজার মূল্য বেশি হয় (তবে মাসেহ করবে) অন্যথায় তা ছিঁড়ে ফেলবে—এ সম্পর্কে একাধিক মত রয়েছে। প্রতি জুমুয়াবার মোজা খুলে রাখা মুস্তাহাব। মাসেহ করার পদ্ধতি হলো ডান হাত পায়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগের উপরে রাখা এবং বাম হাত তার নিচে রাখা, এরপর উভয় হাত গোড়ালি পর্যন্ত টেনে আনা। বাম পায়ের ক্ষেত্রেও কি অনুরূপ হবে নাকি বাম হাত উপরে থাকবে—এ বিষয়ে দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে। মোজার উপরের এবং নিচের অংশ মাসেহ করতে হবে। যদি কেউ উপরের অংশ ছেড়ে দেয় তবে মাসেহ বাতিল হয়ে যাবে, তবে নিচের অংশ ছেড়ে দিলে ওয়াক্তের মধ্যে পুনরায় মাসেহ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فصل في التيمميَتَيَمَّمُ ذُو مَرَضٍ وَسَفَرٍ أُبِيحَ لِفَرْضٍ وَنَفْلٍ وحاضر صح لجنازة إن تعينت وفرض غير جمعة ولا يعيد لا سنة إن عدموا ماء كافيا أَوْ خَافُوا بِاسْتِعْمَالِهِ مَرَضًا أَوْ زِيَادَتَهُ أَوْ تأخر برء أو عطش محترم معه أو بطلبه تلف مال أو خروج وقت: كعدم مناول أو آلة وهل إن خاف فواته باستعماله؟ خلاف وَجَازَ جِنَازَةٌ وَسُنَّةٌ وَمَسُّ مُصْحَفٍ وَقِرَاءَةٌ وَطَوَافٌ وَرَكْعَتَاهُ بِتَيَمُّمِ فَرْضٍ أَوْ نَفْلٍ إنْ تَأَخَّرَتْ لا فرض آخر وإن قصدا وبطل الثاني ولو مشتركة لا بتيمم لمستحب ولزم موالاته وقبول هبة ماء لا ثمن أو قرضه وأخذه بثمن اعتيد لم يحتج له وإن بذمته وَطَلَبَهُ لِكُلِّ صَلَاةٍ وَإِنْ تَوَهَّمَهُ لَا تَحَقَّقُ عدمه طلبا لا يشق به: كرفقة قليلة أو حوله من
তায়াম্মুম বিষয়ক পরিচ্ছেদঅসুস্থ ব্যক্তি এবং বৈধ সফরে থাকা মুসাফির ব্যক্তি ফরজ ও নফল ইবাদতের উদ্দেশ্যে তায়াম্মুম করবেন। সুস্থ মুকিম ব্যক্তি জানাজার নামাজের জন্য তায়াম্মুম করতে পারবেন যদি তা আদায় করা তার জন্য নির্ধারিত (ফরজে আইন) হয়ে যায়, এবং জুমা ব্যতীত অন্যান্য ফরজ নামাজের জন্যও; এমতাবস্থায় তিনি নামাজ পুনরায় আদায় করবেন না। তবে সুন্নাত নামাজের জন্য তায়াম্মুম বৈধ নয়। (তারা তায়াম্মুম করবেন) যদি তারা পর্যাপ্ত পানি না পান, অথবা পানি ব্যবহারের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ার, কিংবা অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ার, অথবা আরোগ্য লাভ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা করেন, অথবা নিজের সাথে থাকা কোনো সম্মানিত প্রাণের পিপাসার্ত হওয়ার ভয় থাকে, অথবা পানি খুঁজতে গিয়ে জান-মালের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে কিংবা নামাজের ওয়াক্ত পার হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে; যেমন পানি এগিয়ে দেওয়ার মতো কেউ না থাকা অথবা পানি সংগ্রহের উপকরণের অভাব থাকা। আর যদি পানি ব্যবহারের ফলে ওয়াক্ত পার হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে (তবে তায়াম্মুম করা যাবে কি না), এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ফরজের তায়াম্মুম বা নফলের তায়াম্মুম দ্বারা জানাজা, সুন্নাত নামাজ, কুরআন স্পর্শ, তিলাওয়াত, তওয়াফ এবং তওয়াফের দুই রাকাত সালাত আদায় করা বৈধ হবে যদি সেগুলো তায়াম্মুমের পরে সম্পাদিত হয়। কিন্তু একই তায়াম্মুমে অন্য কোনো ফরজ নামাজ আদায় করা যাবে না যদিও তা নিয়ত করা হয়, এবং দ্বিতীয় নামাজটি বাতিল হয়ে যাবে যদিও তা (পূর্ববর্তী নামাজের সাথে) সংশ্লিষ্ট হয়। মুস্তাহাব কার্যের তায়াম্মুম দিয়ে (অন্য কিছু) হবে না। তায়াম্মুমের কার্যাবলীর মধ্যে নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখা এবং পানির দান গ্রহণ করা আবশ্যক, তবে পানির মূল্যের দান গ্রহণ করা আবশ্যক নয়। পানি ঋণ নেওয়া এবং পানির প্রয়োজন না থাকলে স্বাভাবিক মূল্যে তা ক্রয় করা আবশ্যক, যদিও তা বাকিতে হয়। প্রত্যেক নামাজের জন্য পানি অন্বেষণ করা আবশ্যক যদি পানির অস্তিত্বের ধারণা থাকে এবং পানি না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত না হয়। এই অন্বেষণ এমন হতে হবে যা সাধ্যাতীত কষ্টের কারণ না হয়; যেমন স্বল্প সঙ্গীবিশিষ্ট কাফেলার মধ্যে বা নিজের আশপাশে পানির খোঁজ করা।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كثيرة إن جهل بخلهم به وَنِيَّةُ اسْتِبَاحَةِ الصَّلَاةِ وَنِيَّةُ أَكْبَرَ إنْ كَانَ ولو تكررت ولا يرفع الحدث وتعميم وجهه وكفيه لكوعيه ونزع خاتمه وصعيد طهر: كتراب وهو الأفضل ولو نقل وثلج وخضخاض وفيها جفف يديه - روي بجيم وخاء - وجص لم يطبخ ومعدن غير نقد وجوهر ومنقول كشب وملح ولمريض حائط لبن أو حجر لا بحصير وخشب وفعله في الوقت فَالْآيِسُ أَوَّلَ الْمُخْتَارِ وَالْمُتَرَدِّدُ فِي لُحُوقِهِ أَوْ وجوده وسطه والراجي: آخره وفيها تأخيره المغرب للشفق1 وَسُنَّ تَرْتِيبُهُ وَإِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَتَجْدِيدُ ضَرْبَةٍ لِيَدَيْهِ وندب تسمية وَبَدْءٌ بِظَاهِرِ يُمْنَاهُ بِيُسْرَاهُ إلَى الْمِرْفَقِ ثُمَّ مَسْحُ الْبَاطِنِ لِآخِرِ الْأَصَابِعِ ثُمَّ يُسْرَاهُ كَذَلِكَ. وَبَطَلَ بِمُبْطِلِ الْوُضُوءِ وَبِوُجُودِ الْمَاءِ قَبْلَ الصَّلَاةِ لا فيها إلا ناسيه ويعيد المقصر في الوقت وصحت إن لم يعد: كواجده بقربه أو رحله لا إن ذهب رحله وخائف لص أو سبع ومريض عدم مناولا وراج قدم ومتردد في لحوقه وناس ذكر بعدها: كمقتصر على كوعيه لا على ضربة وَكَمُتَيَمَّمٍ عَلَى مُصَابِ بَوْلٍ وَأُوِّلَ بِالْمَشْكُوكِ وَبِالْمُحَقَّقِ وَاقْتَصَرَ عَلَى الْوَقْتِ لِلْقَائِلِ بِطَهَارَةِ الْأَرْضِ بِالْجَفَافِ ومنع مع عدم ماء تقبيل متوض وجماع مغتسل إلا لطول وإن نسي إحدى الخمس تيمم خمسا وَقُدِّمَ ذُو مَاءٍ مَاتَ وَمَعَهُ جُنُبٌ إلَّا لخوف عطش ككونه لهما وضمن قيمته وتسقط صلاة وقضاؤها بعدم ماء وصعيد.
--------------------------------------------
পানি প্রচুর থাকলে, যদি তাদের কৃপণতা সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকে। এবং সালাত বৈধ হওয়ার নিয়ত করা এবং বড় নাপাকি থাকলে তার নিয়ত করা, যদিও তা বারবার ঘটে। এবং এটি নাপাকি দূর করে না। এবং মুখমণ্ডল ও উভয় কবজি পর্যন্ত উভয় হাতের তালু পুরোপুরি মসেহ করা এবং আংটি খোলা। এবং পবিত্র ভূপৃষ্ঠ: যেমন মাটি, যা সর্বোত্তম যদিও তা স্থানান্তরিত করা হয়; এবং বরফ ও পাতলা কাদা। আর ‘মুদাওওয়ানা’ গ্রন্থে রয়েছে—তিনি তার হাত শুকিয়ে নিলেন (এটি জীম এবং খা উভয় বর্ণে বর্ণিত হয়েছে)। এবং কাঁচা চুন যা পোড়ানো হয়নি, এবং স্বর্ণ-রুপা ও মূল্যবান পাথর ব্যতীত অন্যান্য খনিজ দ্রব্য এবং পরিবাহিত বস্তু যেমন ফিটকিরি ও লবণ। এবং অসুস্থ ব্যক্তির জন্য কাঁচা ইটের দেয়াল বা পাথর ব্যবহার করা বৈধ, চাটাই বা কাঠ নয়। এবং ওয়াক্তের মধ্যে এটি সম্পাদন করা; সুতরাং পানি পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ ব্যক্তি ইখতিয়ারি ওয়াক্তের শুরুতে তয়ায়ম্মুম করবে, আর পানি পাওয়ার বা উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তি ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে, আর আশাবাদী ব্যক্তি ওয়াক্তের শেষে। এবং ‘মুদাওওয়ানা’ গ্রন্থে রয়েছে মাগরিবকে শফক (সন্ধ্যাবেলার লালিমা) পর্যন্ত বিলম্ব করা। এবং এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সুন্নাত, এবং কনুই পর্যন্ত মসেহ করা এবং উভয় হাতের জন্য পুনরায় মাটিতে আঘাত করা। এবং ‘বিসমিল্লাহ’ বলা মুস্তাহাব এবং বাম হাত দিয়ে ডান হাতের পিঠ থেকে শুরু করে কনুই পর্যন্ত মসেহ করা, এরপর হাতের তালুর দিক থেকে আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত মসেহ করা, অতঃপর বাম হাতও একইভাবে মসেহ করা। এবং উযু ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর দ্বারা তয়ায়ম্মুম বাতিল হয়ে যায় এবং সালাতের পূর্বে পানি পাওয়া গেলে; সালাতের মধ্যে নয়, তবে যদি সে পানি থাকার কথা ভুলে গিয়ে থাকে তবে বাতিল হবে। এবং অবহেলাকারী ব্যক্তি ওয়াক্তের মধ্যে সালাত পুনরায় আদায় করবে, আর পুনরায় আদায় না করলেও তা সহীহ হবে: যেমন যে ব্যক্তি তার নিকটে বা আসবাবপত্রের মধ্যে পানি পেয়েছে, তবে যদি তার আসবাবপত্র হারিয়ে গিয়ে থাকে তবে নয়; এবং চোর বা হিংস্র পশুর ভয় থাকলে, এবং এমন অসুস্থ ব্যক্তি যে পানি এগিয়ে দেওয়ার মতো কাউকে পায়নি, এবং পানি পাওয়ার আশাবাদী ব্যক্তি যে শুরুতে তয়ায়ম্মুম করে নিয়েছে, এবং পানি পাওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তি, এবং বিস্মৃত ব্যক্তি যে সালাতের পরে স্মরণ করেছে: যেমন যে ব্যক্তি কেবল কবজি পর্যন্ত মসেহ করার ওপর সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এক আঘাতের ওপর সীমাবদ্ধ থাকলে পুনরায় আদায় করা সহীহ হবে না। এবং যেমন সেই ব্যক্তি যে প্রস্রাব লাগা স্থানের ওপর তয়ায়ম্মুম করেছে, আর এটিকে সন্দেহযুক্ত বা নিশ্চিত নাপাকি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এবং যারা বলেন মাটি শুকিয়ে গেলে পবিত্র হয়, তাদের মতে এটি কেবল ওয়াক্তের ওপর সীমাবদ্ধ। এবং পানি না থাকা অবস্থায় উযুবিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য চুম্বন করা এবং গোসল ফরয হওয়া ব্যক্তির জন্য সহবাস করা নিষিদ্ধ, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ব্যতীত। এবং যদি সে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কোনো একটি ভুলে যায়, তবে সে পাঁচবার তয়ায়ম্মুম করবে। এবং যদি কোনো ব্যক্তি পানি সাথে থাকা অবস্থায় মারা যায় এবং সেখানে একজন জানাবতগ্রস্ত ব্যক্তি থাকে, তবে সেই পানি মৃত ব্যক্তির জন্য অগ্রাধিকার পাবে, তবে তৃষ্ণার ভয় থাকলে ব্যতীত; যেমন যদি পানি উভয়ের মালিকানাধীন হয়, তবে সে এর মূল্য পরিশোধ করবে। এবং পানি ও পবিত্র ভূপৃষ্ঠ উভয়ের অনুপস্থিতিতে সালাত এবং তার কাজা উভয়ই রহিত হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فصل في المسح على الجرح أو الجبيرة أو العصابةإن خيف غسل جرح: كالتيمم مسح ثم جبيرته ثم عصابته: كفصد ومرارة وقرطاس صدغ وعمامة خيف بنزعها وإن بغسل أو بلا طهر وانتشرت إنْ صَحَّ جُلُّ جَسَدِهِ أَوْ أَقَلُّهُ وَلَمْ يضر غسله وإلا ففرضه التتيمم كأن قل جدا كيد وإن غسل أجزأ
ক্ষতস্থান, জাবীরা (ভাঙা অঙ্গে বাঁধার পট্টি) অথবা ব্যান্ডেজের ওপর মাসাহ করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদযদি ক্ষতস্থান ধৌত করার ব্যাপারে আশঙ্কা থাকে—যেমন তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে—তবে মাসাহ করবে; প্রথমে সরাসরি ক্ষতের ওপর, অতঃপর জাবীরার (ভাঙা হাড়ের পট্টি) ওপর, তারপর ব্যান্ডেজের ওপর: যেমন রক্তমোক্ষণ, পিত্তের চিকিৎসা, রগের ওপর লাগানো কাগজ এবং এমন পাগড়ি যা খুলে ফেলার ফলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। যদিও তা ধৌত করার মাধ্যমে হয় অথবা পবিত্রতা ব্যতীত লাগানো হয় এবং তা (ক্ষতের বাইরে) ছড়িয়ে পড়ে; যদি তার শরীরের অধিকাংশ বা সামান্য অংশ সুস্থ থাকে এবং তা ধৌত করা ক্ষতিকর না হয়। অন্যথায় তার ওপর তায়াম্মুম করা ফরজ, যেমন সুস্থ অংশ যদি অতি সামান্য হয়, যেমন শুধু একটি হাতের মতো। আর যদি সে ধৌত করে ফেলে, তবে তা যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَإِنْ تَعَذَّرَ مَسُّهَا وَهِيَ بِأَعْضَاءِ تَيَمُّمِهِ تَرَكَهَا وتوضأ وإلا فثالثها يتيمم إن كثظ ورابعها يجمعها وَإِنْ نَزَعَهَا لِدَوَاءٍ أَوْ سَقَطَتْ وَإِنْ بِصَلَاةِ قطع وردها ومسح وإن صح غسل ومسح متوض رأسه.
আর যদি তার ওপর মাসেহ করা দুঃসাধ্য হয় এবং তা তায়াম্মুমের অঙ্গসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা বর্জন করবে এবং অজু করবে। অন্যথায় তৃতীয় মতটি হলো, যদি তা অধিক হয় তবে তায়াম্মুম করবে এবং চতুর্থ মত হলো, সে উভয়টিই (অজু ও তায়াম্মুম) একত্র করবে। আর যদি ঔষধ প্রয়োগের জন্য তা উন্মোচন করে অথবা তা পড়ে যায়—এমনকি সালাতরত অবস্থায় হলেও—তবে সালাত ছিন্ন করবে এবং পুনরায় লাগিয়ে মাসেহ করবে। আর যদি আরোগ্য লাভ করে তবে ধৌত করবে এবং অজু অবস্থায় থাকা ব্যক্তি তার মাথা মাসেহ করবে।
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فصل في الحيض والنفاس والإستحاضةالحيض: دم كصفرة أو كدرة خَرَجَ بِنَفْسِهِ مِنْ قُبُلِ مَنْ تَحْمِلُ عَادَةً وإن دفعة وأكثره لمبتدأة نصف شهر: كأقل الطهر ولمعتادة ثَلَاثَةٌ اسْتِظْهَارًا عَلَى أَكْثَرِ عَادَتِهَا مَا لَمْ تجاوزه ثم هي طاهر وَلِحَامِلٍ بَعْدَ ثَلَاثَةِ أَشْهُرٍ النِّصْفُ وَنَحْوُهُ وَفِي سِتَّةٍ فَأَكْثَرَ عِشْرُونَ يَوْمًا وَنَحْوُهَا وَهَلْ مَا قَبْلَ الثَّلَاثَةِ كَمَا بَعْدَهَا أَوْ كَالْمُعْتَادَةِ؟ قَوْلَانِ وَإِنْ تَقَطَّعَ طُهْرٌ لَفَّقَتْ أَيَّامَ الدَّمِ فَقَطْ على تفصيلها ثم هي مستحاضة1 وتغتسل كلما انقطع الدم وتصوم وتصلي وتوطأ والمميز بعد طهر تم حيض ولا يستظهر على الأصح والطهر بجفوف أو قصة وهي أبلغ لمعتادتها فتنتظرها لآخر المختار وفي المبتدأة2 تردد وَلَيْسَ عَلَيْهَا نَظَرُ طُهْرِهَا قَبْلَ الْفَجْرِ بَلْ عند النوم والصبح فرع النفاس ومنع صحة صلاة وصوم ووجوبهما وطلاقا وبدء عدة ووطء فرج أَوْ تَحْتَ إزَارٍ وَلَوْ بَعْدَ نَقَاءٍ وَتَيَمُّمٍ ورفع حدثها ولو جنابة ودخول مسجد فلا تعتكف ولا تطوف ومس مصحف لا قراءة فرع الإستحاضة والنفاس دم خرج للولادة ولو بين توأمين وأكثره ستون فإن تخللهما فنفاسان وتقطعه ومنعه كالحيض ووجب وضوء بهاد والأظهر نفيه.
--------------------------------------------
ঋতুস্রাব, নেফাস ও ইস্তিহাযা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদঋতুস্রাব (হায়েয): হলো এমন পীত বা কর্দমাক্ত বর্ণের রক্ত যা অভ্যাসগতভাবে গর্ভধারণে সক্ষম নারীর যোনিপথ দিয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে নির্গত হয়, যদিও তা একবারের জন্য হয়। যার ঋতুস্রাব নতুন শুরু হয়েছে (মুবতাদিআ), তার সর্বোচ্চ মেয়াদ অর্ধ মাস; যা পবিত্রতার সর্বনিম্ন মেয়াদের অনুরূপ। আর যার নিয়মিত অভ্যাস রয়েছে (মুতাদাহ), সে তার স্বাভাবিক অভ্যাসের সর্বোচ্চ মেয়াদের সাথে অতিরিক্ত তিন দিন পর্যবেক্ষণ (ইস্তিজহার) করবে যতক্ষণ না তা পনের দিন অতিক্রম করে; এরপর সে পবিত্র বলে গণ্য হবে। তিন মাসের পরবর্তী গর্ভবতী নারীর জন্য মেয়াদ পনের দিন বা এর কাছাকাছি এবং ছয় মাস বা তার বেশি হলে বিশ দিন বা এর কাছাকাছি। তিন মাসের পূর্বের অবস্থা কি তিন মাস পরের মত নাকি নিয়মিত অভ্যাসের মত—এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। যদি পবিত্রতা দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে রক্ত আসে, তবে সে বিস্তারিত বর্ণনা অনুযায়ী কেবল রক্ত আসার দিনগুলো যোগ করবে। এরপর সে ইস্তিহাযাগ্রস্ত বলে গণ্য হবে১ এবং প্রতিবার রক্ত বন্ধ হওয়ার পর গোসল করবে এবং রোযা রাখবে, নামায পড়বে ও তার সাথে সহবাস করা যাবে। পবিত্রতা পূর্ণ হওয়ার পর যে নারী রক্তের পার্থক্য করতে সক্ষম (মুমাইয়িযাহ), তার ক্ষেত্রে তা ঋতুস্রাব হবে এবং বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী সে অতিরিক্ত দিন (ইস্তিজহার) যোগ করবে না। পবিত্রতা অর্জিত হয় শুষ্কতা অথবা সাদা নিঃসরণের মাধ্যমে; আর যার অভ্যাস আছে তার জন্য সাদা নিঃসরণই পবিত্রতার অধিক নিশ্চিত চিহ্ন, তাই সে ইখতিয়ারি সময়ের শেষ পর্যন্ত এর অপেক্ষা করবে। নতুন ঋতু শুরু হওয়া নারীর২ ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। ফজর হওয়ার আগে পবিত্রতা যাচাই করা তার দায়িত্ব নয়, বরং ঘুমানোর সময় এবং সকালে যাচাই করবে। নেফাস অনুচ্ছেদ: এটি নামায ও রোযা সহীহ হওয়া এবং এ দুটির আবশ্যকতাকে বাধা প্রদান করে। তদ্রূপ তালাক প্রদান, ইদ্দত গণনা শুরু করা এবং যোনিপথে বা শরীরের নিম্নাংশে সহবাস করাকেও নিষিদ্ধ করে, এমনকি রক্ত বন্ধ হওয়া ও তায়াম্মুম করার পরেও। এটি নাপাকি দূর করা (এমনকি জানাবাত হলেও) এবং মসজিদে প্রবেশ করাকে বাধা দেয়; ফলে সে ইতিকাফ বা তওয়াফ করবে না। এছাড়া এটি মুসহাফ স্পর্শ করাকেও নিষিদ্ধ করে, তবে কুরআন পাঠ করা নয়। ইস্তিহাযা ও নেফাস অনুচ্ছেদ: সন্তান প্রসবের কারণে যে রক্ত নির্গত হয় তা-ই নেফাস, এমনকি যমজ সন্তানের মাঝে নির্গত হলেও। এর সর্বোচ্চ মেয়াদ ষাট দিন। যদি দুই সন্তানের মাঝখানে দীর্ঘ বিরতি থাকে তবে তা দুটি পৃথক নেফাস হিসেবে গণ্য হবে। এর বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং নিষেধাজ্ঞাসমূহ ঋতুস্রাবের ন্যায়। ইস্তিহাযার কারণে ওযু করা আবশ্যক বলা হয়েছে, তবে অধিক স্পষ্ট মতানুসারে এটি আবশ্যক নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
باب في احكام الصلاة
بيان أوقات الصلوات الخمس…بيان أوقات الصلوات الخمس
الْوَقْتُ الْمُخْتَارُ لِلظُّهْرِ: مِنْ زَوَالِ الشَّمْسِ لِآخِرِ القامة بغير ظل الزوال وهو أول وقت العصر للإصفرار وَاشْتَرَكَا بِقَدْرِ إحْدَاهُمَا وَهَلْ فِي آخِرِ الْقَامَةِ الأولى أو أول الثانية؟ خلاف ولمغرب غروب الشمس يقدر بفعلها بعد شروطها وَلِلْعِشَاءِ مِنْ غُرُوبِ حُمْرَةِ الشَّفَقِ لِلثُّلُثِ الْأَوَّلِ وللصبح من الفجر الصادق للإسفار الأعلى وهي الوسطى وَإِنْ مَاتَ وَسَطَ الْوَقْتِ بِلَا أَدَاءً لَمْ يعص إلا أن يظن الموت والأفضل لفذ تقديمها مطلقا وعلى جماعة آخره وللجماعة تقديم غَيْرِ الظُّهْرِ وَتَأْخِيرُهَا لِرُبْعِ الْقَامَةِ وَيُزَادُ لِشِدَّةِ الحر وفيها ندب تأخير العشاء قليلا وإن شَكَّ فِي دُخُولِ الْوَقْتِ لَمْ تَجُزْ وَلَوْ وقعت فيه1 وَالضَّرُورِيُّ بَعْدَ الْمُخْتَارِ لِلطُّلُوعِ فِي الصُّبْحِ وَلِلْغُرُوبِ في الظهرين وللفجر في العشاءين وتدرك فيه الصبح بركعة لا أقل والكل أداء والظهران والعشاءان بفصل ركعة عن الأولى لا الأخيرة كحاضر سافر وقادم وَأَثِمَ إلَّا لِعُذْرٍ بِكُفْرٍ وَإِنْ بِرِدَّةٍ وَصِبًا وَإِغْمَاءٍ وَجُنُونٍ وَنَوْمٍ وَغَفْلَةٍ: كَحَيْضٍ لَا سُكْرٍ والمعذور وغير كافر يقدر له الطهر وَإِنْ ظَنَّ إدْرَاكَهُمَا فَرَكَعَ فَخَرَجَ الْوَقْتُ قَضَى الأخيرة وَإِنْ تَطَهَّرَ فَأَحْدَثَ أَوْ تَبَيَّنَ عَدَمُ طَهُورِيَّةِ الماء أو ذكر ما يرتب فالقضاء وَأَسْقَطَ عُذْرٌ حَصَلَ غَيْرُ نَوْمٍ وَنِسْيَانٍ: الْمُدْرَكَ وأمر صبي بها لسبع وضرب لعشر ومنع نفل وقت طلوع شمس وغروبها وخطبة جمعة وَكُرِهَ بَعْدَ فَجْرٍ وَفَرْضِ عَصْرٍ إلَى أَنْ ترتفع قيد رمح وتصلى المغرب إلا ركعتي الفجر والورد
--------------------------------------------
সালাতের বিধানাবলি বিষয়ক অধ্যায়
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়ের বর্ণনা…পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়ের বর্ণনা
যোহরের পছন্দনীয় সময় (ওয়াক্তুল মুখতার): সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে বস্তুর ছায়া (যাওয়ালের ছায়া ব্যতিরেকে) এক গুণ হওয়া পর্যন্ত। আর এটাই আসরের সময়ের শুরু, যা সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। যোহর ও আসর উভয় সালাত একটি সালাত আদায়ের সমপরিমাণ সময়ে একে অপরের সাথে শরিক হয়। আর এই অংশীদারিত্ব কি প্রথম গুণের শেষে নাকি দ্বিতীয় গুণের শুরুতে? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। মাগরিবের সময় হলো সূর্যাস্ত, যা তার শর্তাবলি পূরণের পর সালাত আদায়ের সমপরিমাণ সময় দ্বারা নির্ধারিত হয়। ইশার সময় হলো লালিমা (শাফাক) অন্তর্হিত হওয়ার পর থেকে রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। সুবহে সাদেকের সময় হলো ফজর হওয়া থেকে পূর্ণ ফর্সা হওয়া পর্যন্ত এবং এটিই 'সালাতুল উস্তা' (মধ্যবর্তী সালাত)। যদি কেউ সালাত আদায় না করে ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে মারা যায়, তবে সে গুনাহগার হবে না; তবে যদি তার মৃত্যুর প্রবল ধারণা থাকে (এবং সে আদায় না করে), তবে ভিন্ন কথা। একাকী ব্যক্তির জন্য সর্বদা ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করা উত্তম। আর জামাতের ক্ষেত্রে যোহরের শেষ সময়ে আদায় করা উত্তম। জামাতের জন্য যোহর ব্যতীত অন্যান্য সালাত শুরুতে আদায় করা এবং যোহরকে বস্তুর ছায়া এক-চতুর্থাংশ হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করা উত্তম, আর প্রচণ্ড গরমে আরও বৃদ্ধি করা হয়। এই মাযহাবে ইশার সালাত সামান্য বিলম্ব করা মুস্তাহাব। যদি ওয়াক্ত প্রবেশের বিষয়ে সন্দেহ থাকে, তবে সালাত জায়েজ হবে না, এমনকি যদি তা ওয়াক্তের মধ্যেই সংঘটিত হয় তবুও। পছন্দনীয় সময়ের পর 'জরুরি সময়' (ওয়াক্তুদ দারুরি) শুরু হয়; যা সুবহে সাদেকের ক্ষেত্রে সূর্যোদয় পর্যন্ত, যোহর ও আসরের ক্ষেত্রে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং মাগরিব ও ইশার ক্ষেত্রে ফজর হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময়ে এক রাকাত পেলে সুবহে সাদেক পাওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে, এর কম হলে নয়, এবং পুরো সালাত আদায় হিসেবে গণ্য হবে। যোহর-আসর এবং মাগরিব-ইশার ক্ষেত্রে প্রথম সালাতটি এক রাকাত পরিমাণ সময়ের ব্যবধানে পাওয়া যায়, শেষটি নয়; যেমন মুকিম ব্যক্তির সফরে বের হওয়া বা মুসাফিরের গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হয়। ওজর ছাড়া এই জরুরি সময় পর্যন্ত সালাত বিলম্ব করা গুনাহের কাজ। ওজরগুলো হলো— কুফর (যদিও তা মুরতাদ হওয়ার কারণে হয়), অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, মূর্ছা যাওয়া, পাগল হওয়া, ঘুম এবং বিস্মৃতি; যেমন ঋতুস্রাব, কিন্তু নেশাগ্রস্ততা ওজর নয়। ওজরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং কাফের ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে পবিত্রতা অর্জনের সময়টুকু হিসেবে ধরা হবে। যদি কেউ দুটি সালাত পাওয়ার ধারণা করে এবং রুকু করে, এরপর ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, তবে সে পরের সালাতটি কাজা করবে। আর যদি সে পবিত্রতা অর্জন করে অতঃপর ওজু নষ্ট হয়ে যায়, অথবা পানির অপবিদ্রতা প্রকাশ পায়, অথবা এমন কোনো সালাতের কথা মনে পড়ে যা ধারাবাহিকতা রক্ষার অন্তর্ভুক্ত, তবে কাজা করতে হবে। ঘুম ও বিস্মৃতি ব্যতীত অন্য কোনো ওজর দেখা দিলে তা অতিক্রান্ত সময়ের বাধ্যবাধকতা রহিত করে দেয়। সাত বছর বয়সে শিশুকে সালাতের নির্দেশ দিতে হবে এবং দশ বছর বয়সে শাসন করতে হবে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এবং জুমার খুতবার সময় নফল সালাত নিষিদ্ধ। সুবহে সাদেকের পর এবং আসরের ফরজের পর সূর্য এক বর্শা পরিমাণ উপরে উঠা পর্যন্ত নফল পড়া মাকরুহ। অনুরূপভাবে মাগরিবের সালাত আদায়ের পর (নফল মাকরুহ), তবে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ও নিয়মিত ওজিফার (উইর্দ) ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قبل الفرض لنائم عنه وجنازة وسجود تلاوة قبل إسفار واصفرار وقطع محرم بوقت نهي وجازت بمربض بقر أو غنم كمقبرة ولو لمشرك ومزبلة ومحجح ومجزرة إنْ أُمِنَتْ مِنْ النَّجَسِ وَإِلَّا فَلَا إعَادَةَ على الأحسن إن لم تتحقق وكرهت بكنيسة ولم تعد وَبِمَعْطِنِ إبِلٍ وَلَوْ أَمِنَ وَفِي الْإِعَادَةِ قَوْلَانِ وَمَنْ تَرَكَ فَرْضًا أُخِّرَ لِبَقَاءِ رَكْعَةٍ بِسَجْدَتَيْهَا مِنْ الضَّرُورِيِّ وَقُتِلَ بِالسَّيْفِ حَدًّا وَلَوْ قَالَ: أنا أفعل وَصَلَّى عَلَيْهِ غَيْرُ فَاضِلٍ وَلَا يُطْمَسُ قَبْرُهُ لا فائتة على الأصح والجاحد كافر1.
--------------------------------------------
সালাত থেকে ঘুমিয়ে পড়া ব্যক্তির জন্য ফরয আদায়ের পূর্বে এবং জানাযার সালাত ও তিলাওয়াতের সিজদাহ (সুবহে সাদিকের) ফর্সা হওয়া এবং (আসর পরবর্তী) সূর্য হলুদ হওয়ার পূর্বে আদায় করা বৈধ। আর নিষিদ্ধ সময়ে শুরু করা হারাম সালাত বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। গরু বা ছাগলের খোঁয়াড়ে সালাত জায়েজ, যেমন কবস্থানে—চাই তা মুশরিকদের কবরই হোক না কেন—এবং আবর্জনার স্তূপ, রাস্তার মধ্যভাগ ও কসাইখানায়; যদি নাপাকি থেকে নিরাপদ হওয়া যায়। অন্যথায়, যদি নাপাকির বিষয়টি নিশ্চিত না হয়, তবে সর্বোত্তম মত অনুযায়ী পুনরায় আদায়ের প্রয়োজন নেই। গির্জায় সালাত আদায় করা মাকরূহ এবং পুনরায় আদায় করতে হয় না। আর উটের আস্তাবলে সালাত (মাকরূহ), যদিও তা নাপাকি থেকে নিরাপদ হয়; আর পুনরায় আদায়ের বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। যে ব্যক্তি ফরয সালাত বর্জন করে, তাকে জরুরি সময়ের শেষভাগে দুই সিজদাহসহ এক রাকাআত পড়ার সমপরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া হবে; অতঃপর তাকে ‘হদ’ হিসেবে তরবারি দ্বারা হত্যা করা হবে, যদিও সে বলে: ‘আমি তা আদায় করব’। কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত অন্য সাধারণ কেউ তার জানাযার সালাত পড়বে এবং তার কবর নিশ্চিহ্ন করা হবে না। বিশুদ্ধ মতানুসারে এটি ছুটে যাওয়া (কাযা) সালাতের ক্ষেত্রে নয়। আর (সালাত) অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফির।১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুখতাসারু খালীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فصل في الأذان والإقامة ومايتعلق بها[سُنَّ الْأَذَانُ لِجَمَاعَةٍ طُلِبَتْ غَيْرُهَا] فِي فَرْضٍ وقتي ولو جمعة وهو مثنى ولو: الصلاة خير من النوم مرجع الشهادتين بأرفع من صوته أولا مجزوم بلا فصل ولو بإشارة لكسلام وبنى إن لم يطل غَيْرَ مُقَدَّمٍ عَلَى الْوَقْتِ إلَّا الصُّبْحَ فَبِسُدُسِ الليل الأخير وصحته بإسلام وعقل وذكورة وبلوغ وَنُدِبَ مُتَطَهِّرٌ صَيِّتٌ مُرْتَفِعٌ قَائِمٌ إلَّا لِعُذْرٍ مستقبل إلا لإسماع وحكايته لسامعه لمنتهى الشهادتين مثنى ولو متنفلا لا مفترضا وأذان فذ إن سافر لَا جَمَاعَةٌ لَمْ تُطْلَبْ غَيْرُهَا عَلَى الْمُخْتَارِ وجاز أعمى وتعدده وترتبهم إلا المغرب وجمعهم كل على أذانه وإقامة غير من أذن وحكايته قبله وأجرة عليه أو مع صلاة وكره عليها وسلام عليه: كملب وإقامة راكب أو معيد لصلاته: كأذانه وَتُسَنُّ إقَامَةٌ مُفْرَدَةٌ وَثُنِّيَ تَكْبِيرُهَا لِفَرْضٍ وَإِنْ قضاء وصحت ولو تركت عمدا وإن أقامت المرأة سرا فحسن وليقم معها أو بعدها بقدر الطاقة.
আযান, ইকামাত এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ[আযান সেই জামাতের জন্য সুন্নাত যারা অন্যদের সালাতে আহ্বান করে] ওয়াক্তিয়া ফরয সালাতের ক্ষেত্রে, এমনকি তা জুমুআ হলেও। আযানের শব্দগুলো হবে দুই দুইবার করে, এমনকি 'আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাউম' বাক্যটিও। প্রথমবার উচ্চারিত কণ্ঠস্বরের চেয়ে উচ্চৈঃস্বরে শাহাদাতদ্বয়ের পুনরাবৃত্তি (তারজি) করতে হবে। আযান কোনো বিচ্ছেদ ছাড়াই জযম (থামা) সহকারে দিতে হবে, এমনকি সালামের জবাব দেওয়ার মতো ইশারা করাও যাবে না। যদি দীর্ঘ বিরতি না হয় তবে পূর্বের অংশের ওপর ভিত্তি করে আযান পূর্ণ করবে। ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দেওয়া যাবে না, তবে ফজরের ক্ষেত্রে রাতের শেষ ষষ্ঠাংশে আযান দেওয়া বৈধ। আযান সহীহ হওয়ার জন্য ইসলাম, আকল (বিবেচনাশক্তি), পুরুষ হওয়া এবং বালেগ হওয়া শর্ত। পবিত্র অবস্থায় থাকা, উচ্চকণ্ঠী হওয়া, উঁচুতে অবস্থান করা এবং দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া মুস্তাহাব, তবে ওজর থাকলে ভিন্ন কথা। কিবলামুখী হয়ে আযান দিবে, তবে অন্যদের শোনানোর প্রয়োজন হলে তা পরিহার করা যাবে। শ্রবণকারীর জন্য শাহাদাতদ্বয়ের শেষ পর্যন্ত দুই দুইবার করে আযানের বাক্যগুলো পুনরাবৃত্তি করা মুস্তাহাব, এমনকি সে নফল সালাতে থাকলেও, তবে ফরয সালাতে লিপ্ত ব্যক্তি নয়। একাকী মুসাফিরের জন্য আযান দেওয়া সুন্নাত। নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী এমন জামাত যারা অন্যদের আহ্বান করে না তাদের জন্য আযান দেওয়া সুন্নাত নয়। অন্ধ ব্যক্তির আযান দেওয়া, মুয়াযযিনের সংখ্যা একাধিক হওয়া এবং মাগরিব ব্যতীত অন্যান্য সালাতে তাদের পর্যায়ক্রমে আযান দেওয়া জায়েয। আর তারা সবাই নিজ নিজ আযানের ওপর একত্রিত হতে পারে। আযানদাতা ছাড়া অন্য ব্যক্তির ইকামাত প্রদান করা এবং ইকামাতের পূর্বে আযানের শব্দগুলো পুনরাবৃত্তি করা জায়েয। আযানের জন্য কিংবা সালাতের সাথে আযানের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ, তবে শুধু ইকামাতের জন্য পারিশ্রমিক নেওয়া মাকরূহ। মুয়াযযিনের ওপর সালাম দেওয়া মাকরূহ; যেমন তালবিয়া পাঠকারীর ওপর সালাম দেওয়া মাকরূহ। আরোহী ব্যক্তি বা সালাত পুনরায় আদায়কারীর ইকামাত দেওয়া তার আযানের মতোই মাকরূহ। ফরয সালাতের জন্য একবার করে বাক্য পাঠের মাধ্যমে ইকামাত দেওয়া সুন্নাত এবং এর তাকবীরগুলো দুই দুইবার বলা সুন্নাত, যদিও তা কাজা সালাত হয়। ইকামাত ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করলেও সালাত সহীহ হয়ে যাবে। নারী যদি নিচু স্বরে ইকামাত দেয় তবে তা উত্তম। আর ইকামাতের সাথে সাথে বা ইকামাত শেষ হওয়ার পর সামর্থ্য অনুযায়ী সালাতের জন্য দাঁড়াবে।