(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
كتابة السنة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة وأثرها في حفظ السنة النبوية   (رفعت بن فوزي عبد المطلب)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: كتابة السنة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة وأثرها في حفظ السنة النبوية

المؤلف: رفعت بن فوزي عبد المطلب

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 97

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণের যুগে সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণ এবং নববী সুন্নাহ সংরক্ষণে এর প্রভাব   (রিফাত বিন ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


গ্রন্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণের যুগে সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণ এবং নববী সুন্নাহ সংরক্ষণে এর প্রভাব

লেখক: রিফাত বিন ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারার পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
كتابة السنة في عهدي النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة وأثرها في حفظ السنة النبوية

أ. د. رفعت فوزي عبد المطلب

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة البحث

الحمد لله رب العالمين حمدًا كثيرا طيباً مباركاً فيه، وصلى الله تعالى وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد:

فهذا البحث يهدف إلى إثبات أن كثيراً من السنة قد كتب في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته رضوان الله عليهم.

وطبعي أنه لا يتسع مجاله المحدود لتقديم ما كتب في هذين العهدين وشواهده التي تثبت لها الكتابة تبعاً - كما بينا.

ولكنه مدخل جيد لهذا الأمر، لا يترك مجالاً للشك في أن السنة لم تكن عرضة للنسيان والتحريف في هذين العهدين؛ لأنها لم تكتب، كما يرجف المرجفون.

وسنقدم في القريب العاجل إن شاء الله طائفة كبيرة من السنة المكتوبة في هذين العهدين؛ ليبدو واضحاً لكل ذي بصيرة أن بين أيدينا كثيراً من هذه السنن، والله عز وجل يهدي إلى سواء السبيل.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও সাহাবীগণের যুগে সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণ এবং নববী সুন্নাহ সংরক্ষণে এর প্রভাব

প্রফেসর ড. রিফাত ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌গবেষণার ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময়। আর আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন। অতঃপর:

এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলো এটি প্রমাণ করা যে, সুন্নাহর একটি বড় অংশ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।

স্বাভাবিকভাবেই এর সীমিত পরিসরে এই দুই যুগে যা যা লেখা হয়েছে এবং এর সপক্ষে যে সকল সমর্থনমূলক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে তা বিস্তারিত উপস্থাপনের অবকাশ নেই—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

তবে এটি এই বিষয়ের একটি উত্তম প্রবেশদ্বার, যা এই সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না যে, সুন্নাহ এই দুই যুগে বিস্মৃতি বা বিকৃতির (تحريف) ঝুঁকিতে ছিল না কেবল এই কারণে যে তা লেখা হয়নি—যেমনটি অপপ্রচারকারীরা রটনা করে থাকে।

ইনশাআল্লাহ নিকট ভবিষ্যতে আমরা এই দুই যুগে লিপিবদ্ধ সুন্নাহর একটি বড় অংশ পেশ করব; যাতে করে প্রতিটি প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আমাদের হাতে এই সুন্নাহগুলোর অনেক কিছুই সংরক্ষিত রয়েছে। মহান আল্লাহ সঠিক পথের দিশা দান করেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌تمهيد:

هناك لبس فهم من التأريخ لتدوين السنة المشرفة، أدى هذا اللبس إلى أن السنةلم تكتب إلا في نهاية القرن الأول وبداية القرن الثاني الهجريين، وبالتحديد ابتداء من عهد عمر بن عبد العزيز رحمه الله حين أمر بتدوين السنة.

وممن دونها في هذا العهد بأمر من عمر بن عبد العزيز محمد بن مسلم ابن شهاب الزهري (ت124هـ) الذي قال: "لم يدون هذا العلم أحد قبل تدويني"؛ قال ابن حجر (1) : "وأول من دون الحديث ابن شهاب الزهري على رأس المائة بأمر عمر بن عبد العزيز.

"ويقول السيوطي (2) : وأما ابتداء تدوين الحديث فإنه وقع على رأس المائة في خلافة عمر بن عبد العزيز. وفي الحلية عن مالك قال: أول من دون العلم ابن شهاب (3) .

فهم من هذا وغيره أن كتابة السنة لم تكن إلا في عهد عمر بن عبد العزيز وبعده، وأنه كان يعتمد في حفظها قبل ذلك على الصدور.

وتلقف ذلك المستشرقون، فجعلوا ذلك دليلاً على أن السنة كانت عرضة للنسيان والتغيير، ولا يفيدها أنها دونت بعد تسعين عاماً أو أكثر.

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (1/208) .

(2) تدريب الراوي للسيوطي (1/94) .

(3) حلية الأولياء: (3/362) .
ভূমিকা:

সম্মানিত সুন্নাহ সংকলনের (تدوين) ইতিহাস নিয়ে একটি অস্পষ্টতা বা ভুল বুঝাবুঝি রয়েছে। এই অস্পষ্টতা এই ধারণার জন্ম দিয়েছে যে, সুন্নাহ হিজরি প্রথম শতাব্দীর শেষভাগ এবং দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুর আগে লিপিবদ্ধ করা হয়নি; সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর যুগ থেকে এটি শুরু হয়েছে, যখন তিনি সুন্নাহ সংকলনের (تدوين) নির্দেশ প্রদান করেন।

উমর ইবনে আব্দুল আজিজ-এর নির্দেশে এই যুগে যারা এটি সংকলন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আল-জুহরি (মৃত্যু ১২৪ হিজরি), যিনি বলেছিলেন: "আমার সংকলন করার (تدوين) পূর্বে কেউ এই ইলম সংকলন (تدوين) করেনি।" ইবনে হাজার (১) বলেন: "উমর ইবনে আব্দুল আজিজ-এর নির্দেশে শততম হিজরির প্রারম্ভে সর্বপ্রথম হাদিস সংকলন (تدوين) করেন ইবনে শিহাব আল-জুহরি।

"সুয়ূতী (২) বলেন: "আর হাদিস সংকলনের (تدوين) সূচনা শততম হিজরির প্রারম্ভে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ-এর খিলাফতকালে সংঘটিত হয়েছে। হিলইয়াহ গ্রন্থে মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "সর্বপ্রথম ইলম সংকলন (تدوين) করেছেন ইবনে শিহাব (৩)।

এসব বর্ণনা এবং অন্যান্য বিষয় থেকে এটি বোঝা যায় যে, সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার কাজ উমর ইবনে আব্দুল আজিজ-এর যুগ এবং তার পরেই কেবল হয়েছে; আর তার আগে সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য কেবল মুখস্থ বা অন্তরের (الصدور) ওপর নির্ভর করা হতো।

প্রাচ্যবিদরা (المستشرقون) এই বিষয়টি লুফে নিয়েছেন এবং একে এই কথার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন যে, সুন্নাহ বিস্মৃতি ও পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে ছিল; আর নব্বই বছর বা তারও বেশি সময় পরে এটি সংকলিত (تدوين) হওয়া কোনো ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে না।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (১/২০৮)।

(২) সুয়ূতীর তাদরীবুর রাবী (১/৯৪)।

(৩) হিলয়াতুল আউলিয়া: (৩/৩৬২)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
وكان هذا الاتهام في عصرنا، أما المصنفون القدماء فكانوا على يقين أن السنة حفظت؛ سواء كانت في الصدور أو في الصحف والكتب؛ بل كانوا على يقين من أنه كانت هناك كتابات - وكثيرة في هذه السنين، قبل عهد عمر بن عبد العزيز - كما سيتبين في هذه الصفحات.

وكانوا يعنون بتدوين السنة جمعها في دواوين وليس ابتداء كتابتها، كما يدل على ذلك لفظ التدوين فمعناه هو تجميع الصحف في ديوان.

يقول ابن منظور في اللسان (1) : "الديوان: مجتمع الصحف"، فعلى ضوء هذا نفهم أن السنة كانت قبل نهاية القرن الأول في صحف، ثم ابتدئ في تجميعها، أي في تدوينها في عهد عمر بن عبد العزيز، وهذا ما فعله ابن شهاب الزهري، وحق له أن يقول: لم يدون هذا العلم أحد قبل تدويني، أي ما جمعه أحد قبلي، كما سبق.

ولا شك في أن استعمال الكتابة بمعنى التدوين في الأعصر المتأخرة واستعمال التدوين بمعنى الكتابة أسهم في هذا اللبس، وكان مادة خصبة للمستشرقين ومن لف لفهم وسار على تلبيسهم للطعن في السنة والوثوق بها.

ومما يدل على التفرقة بينهما قول ابن حجر: إن آثار النبي صلى الله عليه وسلم لم تكن في عصر أصحابه وكبار من تبعهم مدونة في الجوامع ولا مرتبة (2) .

--------------------------------------------

(1) اللسان: (دون) .

(2) هدي الساري: ص (6) .
আমাদের যুগে এই অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তবে প্রাচীন গ্রন্থকারগণ সুনিশ্চিত ছিলেন যে সুন্নাহ সংরক্ষিত হয়েছে; তা হৃদয়ে সংরক্ষিত হোক কিংবা পাণ্ডুলিপি (صحف) ও কিতাবসমূহে। বরং তাঁরা সুনিশ্চিত ছিলেন যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ-এর যুগের পূর্বের বছরগুলোতে অনেক লিখনী ছিল—যেমনটি এই পৃষ্ঠাগুলোতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে।

আর তাঁরা সুন্নাহর সংকলন (تدوين) বলতে সেগুলোকে দপ্তর (ديوان)-সমূহে একত্রিত করা বুঝতেন, লিখন (كتابة)-এর সূচনা নয়; যেমনটি সংকলন (تدوين) শব্দটির অর্থ দ্বারাই প্রমাণিত হয়, যার অর্থ হলো পাণ্ডুলিপি (صحف)-সমূহকে একটি দপ্তরে (ديوان) একত্রিত করা।

ইবনে মানজুর 'লিসানুল আরব' (১)-এ বলেন: "দিওয়ান (ديوان) হলো পাণ্ডুলিপি (صحف)-সমূহের সমষ্টি।" এই ব্যাখ্যার আলোকে আমরা বুঝতে পারি যে, প্রথম হিজরি শতাব্দী শেষ হওয়ার পূর্বেই সুন্নাহ বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে (صحف) বিদ্যমান ছিল, অতঃপর তা সংকলন করা শুরু হয় অর্থাৎ উমর ইবনে আব্দুল আজিজ-এর যুগে তা সংকলন (تدوين) করা হয়। ইবনে শিহাব আল-জুহরি ঠিক একাজটিই করেছিলেন, আর তাঁর জন্য একথা বলা যথার্থ ছিল যে: "আমার সংকলন (تدوين)-এর পূর্বে এই ইলম কেউ সংকলন (تدوين) করেনি," অর্থাৎ আমার পূর্বে কেউ তা এভাবে একত্রিত করেনি, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পরবর্তী যুগে লিখন (كتابة)-কে সংকলন (تدوين) অর্থে এবং সংকলন (تدوين)-কে লিখন (كتابة) অর্থে ব্যবহার করা এই বিভ্রান্তি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। আর এটিই প্রাচ্যবিদ এবং তাঁদের অনুসারী ও তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদের জন্য সুন্নাহর প্রামাণিকতা ও নির্ভরযোগ্যতার ওপর আঘাত হানার একটি উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেছে।

উভয়ের মাঝে পার্থক্যের একটি প্রমাণ হলো ইবনে হাজার-এর এই উক্তি: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ও কর্মসমূহ (آثار) তাঁর সাহাবীগণ এবং প্রবীণ তাবেঈগণের যুগে জামে গ্রন্থগুলোতে সংকলিত (مدونة) বা সুবিন্যস্ত ছিল না" (২)।

--------------------------------------------

(১) লিসান: (দুন)।

(২) হাদি আস-সারি: পৃষ্ঠা (৬)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
فتأمل في قوله: "مدونة في الجوامع" أي في كتب جامعة. وفي قوله: "ولا مرتبة":

أي ليست مرتبة كما كانت في المصنفات المرتبة بعد هذه الفترة. ولا يعني ذلك أن الحديث لم يكتب في صحف في القرن الأول الهجري ابتداء من عصر رسول الله صلى الله عليه وسلم. ومما يزيد الأمر وضوحاً أن ابن حجر قال بعد هذا: " ثم حدث في أواخر عصر التابعين تدوين الآثار وتبويب الأخبار … فأول من جمع ذلك الربيع بن صبيح، وسعيد بن أبي عروبة وغيرهما، وكانوا يصنفون كل باب على حدة، إلى أن قام كبار أهل الطبقة الثالثة، فدونوا الأحكام" (1) .

فهذا النص في غاية من الأهمية في مسألة الكتابة والتدوين والتصنيف، فبالإضافة إلى قوله "مدونة في الجوامع" أي جمعت ما كان موجوداً، وقوله و"تبويب الأخبار" يعني أن هذه المرحلة لم تكن مرحلة الإنشاء، وإنما مرحلة التبويب.

بالإضافة إلى ذلك نجد أن قوله: "فأول من جمع ذلك" يفيد أن الجمع يعني أكثر من عمل التسجيل، وكأن هناك كتابات جمعت في هذا العصر.

وكذلك قوله "وكانوا يصنفون كل باب على حدة إلى أن قام كبار أهل الطبقة الثالثة، فدونوا الأحكام، فصنف الإمام مالك".

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق: ص (6)
তার এই বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করুন: "জাওয়ামি গ্রন্থাবলিতে সংকলিত (مدونة)" অর্থাৎ ব্যাপক বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থাবলিতে। এবং তার বক্তব্য: "বিন্যস্ত (مرتبة) নয়":

অর্থাৎ সেগুলো সেভাবে বিন্যস্ত (مرتبة) ছিল না, যেমনটা এই সময়ের পরবর্তী বিন্যস্ত মুসান্নাফাত গ্রন্থাবলিতে ছিল। এর অর্থ এই নয় যে, প্রথম হিজরি শতাব্দীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে হাদিস পুস্তিকা (صحف) আকারে লেখা হয়নি। বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয় যখন ইবনে হাজার এর পরে বলেন: "অতঃপর তাবেয়িগণের (التابعين) যুগের শেষভাগে আছার (الآثار) সংকলন (تدوين) এবং বর্ণনাগুলোর (الأخبار) পরিচ্ছেদ বিন্যাস (تبويب) শুরু হয় … সর্বপ্রথম যারা তা সংগ্রহ (جمع) করেন তারা হলেন রবী ইবনে সাবিহ, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ এবং অন্যান্যরা। তারা প্রতিটি অধ্যায় পৃথকভাবে শ্রেণিবিন্যাস করতেন (يصنفون), শেষ পর্যন্ত যখন তৃতীয় স্তরভুক্ত (الطبقة) শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ আবির্ভূত হলেন, তখন তারা বিধানসমূহ (الأحكام) সংকলন (تدوين) করেন" (১) ।

লিখন (كتابة), সংকলন (تدوين) এবং বিন্যাস (تصنيف) সংক্রান্ত বিষয়ে এই বক্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। "জাওয়ামি গ্রন্থাবলিতে সংকলিত (مدونة)"- তার এই বক্তব্যের পাশাপাশি এর অর্থ হলো যা বিদ্যমান ছিল তা সংগ্রহ (جمع) করা হয়েছে। আর "বর্ণনাগুলোর (الأخبار) পরিচ্ছেদ বিন্যাস (تبويب)"- তার এই বক্তব্যের অর্থ হলো, এই পর্যায়টি কোনো কিছু উদ্ভাবনের পর্যায় ছিল না, বরং এটি ছিল পরিচ্ছেদ বিন্যাস (تبويب) করার পর্যায়।

এছাড়া আমরা দেখতে পাই যে, "সর্বপ্রথম যারা তা সংগ্রহ (جمع) করেন"- তার এই বক্তব্যটি নির্দেশ করে যে, সংগ্রহ (جمع) বলতে কেবল নথিবদ্ধ করার চেয়েও ব্যাপক কাজ বোঝায়, যেন সেই যুগে এমন কিছু লিখন ছিল যা একত্রিত বা সংগ্রহ (جمع) করা হয়েছিল।

অনুরূপভাবে তার বক্তব্য: "তারা প্রতিটি অধ্যায় পৃথকভাবে শ্রেণিবিন্যাস করতেন (يصنفون), শেষ পর্যন্ত যখন তৃতীয় স্তরভুক্ত (الطبقة) শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ আবির্ভূত হলেন, তখন তারা বিধানসমূহ (الأحكام) সংকলন (تدوين) করেন এবং ইমাম মালিক শ্রেণিবিন্যাস (صنف) করেন"।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস: পৃষ্ঠা (৬)
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
فإذاً كانت هذه المرحلة مرحلة ترتيب وتصنيف وجمع كل باب على حِدَة، وهذا غير الكتابة في القرن الأول التي سنجدها واقعاً عملياً إن شاء الله عز وجل.

وهذا على الرغم من أن كلمة التدوين تستعمل بمعنى الكتابة الآن، ولكن هذا لا يحجب عنا الحقيقة، وهي أنهما كانا يستعملان بمعنيين مختلفين.

ومهما يكن من أمر فمن الثابت أن هناك صحفاً كتبت في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحابته، وذلك ما يُعْنَى به هذا البحث.

وحتى تسلم لنا هذه الحقيقة إجمالاً لابد لنا من التعرض لأمرين:

الأمر الأول النهي عن الكتابة: هو مارُوي من أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن كتابة السنة.

1- روى مسلم في صحيحه من طريق زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار عن أبي سعيد الخدري، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا تكتبوا عني، ومن كتب عني غير القرآن فليمحه" (1) .

2- وعن سفيان بن عيينة، عن عبد الرحمن بن زيد بن أسلم، عن أبيه، عن عطاء بن يسار عن أبي سعيد الخدري قال: جهدنا بالنبي صلى الله عليه وسلم أن يأذن لنا في الكتاب فأبى (2) .

--------------------------------------------

(1) م: (4/2298) (53) كتاب الزهد والرقائق (16) باب التثبت في الحديث وحكم كتابة العلم.

من طريق زيد بن أسلم، عن عطاء بن يسار، عن أبي سعيد الخدري عن رسول الله صلى الله عليه وسلم به.

(2) المحدث الفاصل. (ص:379) .
সুতরাং এটি ছিল সাজানো, শ্রেণিবিন্যাস এবং প্রতিটি অধ্যায়কে আলাদাভাবে সংকলন (تدوين) করার একটি পর্যায়; আর এটি প্রথম শতাব্দীর সেই লেখার চেয়ে ভিন্ন যা আমরা ইনশাআল্লাহ অচিরেই বাস্তব ক্ষেত্রে দেখতে পাব।

যদিও বর্তমানে তদ্বীন বা সংকলন (تدوين) শব্দটি লেখা বা লিপিবদ্ধকরণ অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে তা আমাদের কাছে এই সত্যটি গোপন করে না যে, তখন শব্দ দুটি ভিন্ন দুটি অর্থে ব্যবহৃত হতো।

বিষয়টি যাই হোক না কেন, এটি সুপ্রমাণিত যে রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবীদের যুগে এমন কিছু সহিফা বা পাণ্ডুলিপি লেখা হয়েছিল, যা এই গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য।

এই সত্যটি সামগ্রিকভাবে গ্রহণ করার জন্য আমাদের সামনে দুটি বিষয়ে আলোকপাত করা জরুরি:

প্রথম বিষয়টি হলো লেখা নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত: আর তা হলো রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক সুন্নাহ (سنة) লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করার বর্ণনা।

1- ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে যায়েদ ইবনে আসলামের সূত্রে, আতা ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা আমার পক্ষ থেকে (কুরআন ছাড়া) কিছু লিখো না; আর যে ব্যক্তি কুরআন ছাড়া আমার পক্ষ থেকে অন্য কিছু লিখেছে সে যেন তা মুছে ফেলে।" (১)।

2- সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী (সা.)-এর কাছে লিখে রাখার অনুমতি দেওয়ার জন্য অনেক অনুনয়-বিনয় করলাম, কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন (২)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম: (৪/২২৯৮) (৫৩) কিতাবুয যুহদ ওয়ার রাকায়িক (১৬) হাদিস যাচাই (تثبت) এবং ইলম লিপিবদ্ধ করার বিধান সংক্রান্ত অধ্যায়।

যায়েদ ইবনে আসলামের সূত্রে, আতা ইবনে ইয়াসার থেকে এবং আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-এর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে।

(২) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল। (পৃষ্ঠা: ৩৭৯)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
هذا ما هو مرفوع عن النبي صلى الله عليه وسلم في النهي عن كتابة السنة. وهناك آثار في كراهة الكتابة سنعلق عليها فيما بعد.

والحديث الثاني فيه عبد الرحمن بن زيد بن أسلم، وهو ضعيف (1) .

والأول، وإن كان رواه مسلم إلا أن من النقاد من أعله وقال: الصواب وقفه على أبي سعيد. قاله البخاري وغيره (2) .

إلا أننا نميل إلى تصحيح مسلم رحمه الله تعالى، ونسلك سبيل التوفيق بينه وبين أحاديث الإذن بالكتابة، وذلك بعد أن نوردها.

أحاديث الإِذن بالكتابة:

إذا كنا لا نجد إلا حديثاً واحداً في النهي عن الكتابة، رواه مسلم وأعلَّه بعض النقاد بالوقف - فهناك أكثر من حديث في الإِذن بالكتابة، وهناك كتابة للحديث في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم واقعاً وعملاً.

1- روى البخاري ومسلم بسنديهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "اكتبوا لأبي شاه" قالها صلى الله عليه وسلم بعد أن طلب منه أبو شاه أن تكتب له خطبة من خطبه صلى الله عليه وسلم عام الفتح (3) .

--------------------------------------------

(1) عبد الرحمن بن زيد بن أسلم ضعفه أحمد وغيره، وقال ابن معين: ليس حديثه بشيء، توفي اثنتين وثمانين ومائة (التذكرة بمعرفة رجال الكتب العشرة (1/988 رقم 3875) .

(2) فتح الباري: (1/208) .

(3) متفق عليه:

خ: (1/56) (3) كتاب العلم (39) باب كتابة العلم. رقم (112)

م: (2/988) (15) كتاب الحج (82) باب تحريم مكة وصيدها. رقم (445/1353)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সুন্নাহ লিখে রাখার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে এটি হলো সেই রাসুল পর্যন্ত পৌঁছানো (مرفوع) হাদিস। আর লিখন অপছন্দনীয় হওয়ার বিষয়ে কিছু বর্ণনা (آثار) রয়েছে, যেগুলোর ওপর আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করব।

আর দ্বিতীয় হাদিসটিতে আব্দুর রহমান বিন যাইদ বিন আসলাম রয়েছেন, আর তিনি হলেন দুর্বল (ضعيف) (১)।

আর প্রথমটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করলেও সমালোচকদের (النقاد) মধ্য থেকে কেউ কেউ একে ত্রুটিযুক্ত (أعل) সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন: সঠিক হলো এটি আবু সাঈদের ওপর স্থগিত (موقوف)। এটি ইমাম বুখারি ও অন্যান্যরা বলেছেন (২)।

তবে আমরা ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর সহিহ (تصحيح) সাব্যস্ত করার দিকেই ঝুঁকেছি এবং এই হাদিস ও লিখন অনুমোদনের হাদিসগুলোর মাঝে সমন্বয়ের পথ অবলম্বন করছি, যা আমরা সেগুলো উল্লেখ করার পর করব।

লিখন অনুমোদনের হাদিসসমূহ:

যদি আমরা লিখন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইমাম মুসলিম বর্ণিত এবং কিছু সমালোচক (النقاد) কর্তৃক স্থগিত (موقوف) হিসেবে ত্রুটিযুক্ত (أعل) সাব্যস্তকৃত একটিমাত্র হাদিস পাই, তবে লিখনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে একাধিক হাদিস রয়েছে। তদুপরি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে হাদিস লিখনের বাস্তব প্রয়োগ ও আমল বিদ্যমান ছিল।

১- বুখারি ও মুসলিম তাদের নিজ নিজ সনদে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা আবু শাহ-এর জন্য লিখে দাও।" এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বলেছিলেন, যখন মক্কা বিজয়ের বছর আবু শাহ তাঁর নিকট তাঁর কোনো একটি খুতবা লিখে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) আব্দুর রহমান বিন যাইদ বিন আসলামকে ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা দুর্বল (ضعف) বলেছেন। ইবনে মাইন বলেছেন: তাঁর হাদিস কিছুই নয়। তিনি একশত বিরাশি হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (আত-তাযকিরা বি-মা'রিফাতি রিজালিল কুতুবিল আশারাহ (১/৯৮৮, নং ৩৮৭৫)।

(২) ফাতহুল বারি: (১/২০৮)।

(৩) সর্বসম্মত (متفق عليه):

বুখারি: (১/৫৬) (৩) কিতাবুল ইলম (৩৯) বাবু কিতাবাতিল ইলম। নং (১১২)

মুসলিম: (২/৯৮৮) (১৫) কিতাবুল হাজ্জ (৮২) বাবু তাহরিমি মাক্কাতা ওয়া সয়দিহা। নং (৪৪৫/১৩৫৩)
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
2- وكان مع علي بن أبي طالب صحيفة كتبت في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها أمور كثيرة عنه صلى الله عليه وسلم (1) .

وسنعرض لها إن شاء الله عز وجل وتعالى.

3- وكتب عبد الله بن عمرو عن رسول الله صلى الله عليه وسلم صحيفة سماها الصادقة فيها الكثير من الأحاديث التي روى منها الكثير الإمام أحمد في مسنده (2) ، والتي رواها عنه حفيده عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده عبد الله بن عمرو.

وقد أشار إلى ذلك أبو هريرة حين قال: ما من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أحد أكثر حديثاً عنه مني إلا ما كان من عبد الله بن عمرو، فإنه كان يكتب ولا أكتب (3) .

4- ولما اشتد بالنبي صلى الله عليه وسلم وجعه قال: ائتوني بكتاب أكتب لكم كتاباً لا تضلوا بعده.

قال عمر: إن النبي صلى الله عليه وسلم غلبه الوجع، وعندنا كتاب الله، حسبنا، فاختلفوا، وكثر اللغط، قال: قوموا عني، ولا ينبغي عندي التنازع.

فخرج ابن عباس يقول: إن الرَّزية كل الرزية ما حال بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين كتابه (4) .

--------------------------------------------

(1) متفق عليه.

خ: (1/56) (3) كتاب العلم (39) باب كتابة العلم. رقم (111) .

م: (2/995) (15) كتاب الحج (85) باب فضل المدينة. رقم (467/1370) .

(2) انظر مسند أحمد (11/ 240-386) – أرقام: (6659-6772) .

(3) خ: (1/57) الكتاب والباب السابقين. رقم: (113) .

(4) متفق عليه:

خ: (1/57) في الكتاب والباب السابقين: رقم: (114) .

م: (3/1257/1258) (25) كتاب الوصية (5) باب ترك الوصية لمن له شيء يوصي عنه. رقم: (20/1637) .
2- আলী ইবন আবু তালিব (রা.)-এর নিকট একটি সহিফা (পুস্তিকা) ছিল যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে লিখিত হয়েছিল এবং তাতে তাঁর (সা.) থেকে বর্ণিত অনেক বিষয় ছিল (১)।

এবং আমরা অচিরেই তা উপস্থাপন করব, ইনশাআল্লাহ।

3- আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে একটি সহিফা লিপিবদ্ধ করেছিলেন যার নাম তিনি দিয়েছিলেন 'আস-সাদিকাহ'; এতে প্রচুর হাদিস ছিল, যার একটি বড় অংশ ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ বর্ণনা করেছেন (২), এবং যা তাঁর থেকে তাঁর পৌত্র আমর ইবন শুআইব তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা আবদুল্লাহ ইবন আমর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: নবী (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন আমর ব্যতীত আমার চেয়ে অধিক হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ নেই; কারণ তিনি লিখে রাখতেন আর আমি লিখতাম না (৩)।

4- যখন নবী (সা.)-এর রোগযন্ত্রণা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি বললেন: তোমরা আমার নিকট লিখার উপকরণ নিয়ে এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন একটি লিপি লিখে দেব যার পর তোমরা আর পথভ্রষ্ট হবে না।

উমর (রা.) বললেন: নবী (সা.) ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েছেন, আর আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব রয়েছে যা আমাদের জন্য যথেষ্ট। তখন তারা মতভেদ করলেন এবং হট্টগোল বেড়ে গেল। তিনি (সা.) বললেন: তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও, আমার নিকট বিবাদ করা সমীচীন নয়।

ইবন আব্বাস (রা.) এই বলতে বলতে বেরিয়ে এলেন: চরম বিপর্যয় হলো সেটিই যা রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর লিপি রচনার মাঝে অন্তরায় হয়েছিল (৪)।

--------------------------------------------

(১) সর্বসম্মত (متفق عليه)।

বুখারি: (১/৫৬) (৩) কিতাবুল ইলম (৩৯) অনুচ্ছেদ: ইলম লিখে রাখা। নম্বর (১১১)।

মুসলিম: (২/৯৯৫) (১৫) কিতাবুল হজ (৮৫) অনুচ্ছেদ: মদিনার ফজিলত। নম্বর (৪৬৭/১৩৭০)।

(২) দেখুন: মুসনাদ আহমাদ (১১/ ২৪০-৩৮৬) – নম্বর: (৬৬৫৯-৬৭৭২)।

(৩) বুখারি: (১/৫৭) পূর্ববর্তী কিতাব ও অনুচ্ছেদ। নম্বর: (১১৩)।

(৪) সর্বসম্মত (متفق عليه):

বুখারি: (১/৫৭) পূর্ববর্তী কিতাব ও অনুচ্ছেদে: নম্বর: (১১৪)।

মুসলিম: (৩/১২৫৭/১২৫৮) (২৫) কিতাবুল ওসিয়্যাহ (৫) অনুচ্ছেদ: যার নিকট অসিয়ত করার মতো সম্পদ আছে তার অসিয়ত করার বিধান। নম্বর: (২০/১৬৩৭)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وغير ذلك من الأحاديث القولية والعملية التي تثبت أن أحاديث كتبت في عهده صلى الله عليه وسلم.

وهذا جعل العلماء يوفقون بين هذه الأحاديث وبين نهي رسول الله صلى الله عليه وسلم في حديث أبي سعيد الخدري عن الكتابة.

وقد أوجز ذلك ابن حجر بقوله: "والجمع بينهما أن النهي خاص بوقت نزول القرآن خشية التباسه بغيره، والإذن في غير ذلك".

"أو أن النهي خاص بكتابة غير القرآن مع القرآن في شيء واحد والإذن في تفريقهما".

"أو النهي متقدم والإذن ناسخ له عند الأمن من الالتباس، وهو أقربها مع أنه لاينافيها".

"وقيل: النهي خاص بمن خُشِي منه الاتكال على الكتابة دون الحفظ، والإذن لمن أُمِن منه ذلك" (1) .

واختار ابن القيم النسخ وفصَّل فيه فقال: "قد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم النهي عن الكتابة والإذن فيها، والإذن متأخر، فيكون ناسخاً لحديث النهي؛ فإن النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال في غزاة الفتح: "اكتبوا لأبي شاه" - يعني خطبته التي سأل أبو شاه كتابتها، وأذن لعبد الله بن عمرو في الكتابة، وحديثه متأخر عن النهي؛ لأنه لم يزل يكتب، ومات وعنده كتابته، وهي الصحيفة التي كان يسميها الصادقة، ولو كان النهي عن الكتابة متأخراً

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (1/208) .
এ ছাড়াও এমন আরও অনেক মৌখিক (قولية) এবং ব্যবহারিক (عملية) হাদিস রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হাদিস লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।

আর এটিই আলেমদের এই হাদিসগুলো এবং আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণিত হাদিস—যাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস লিখতে নিষেধ করেছেন—এর মধ্যে সমন্বয় সাধনে উদ্বুদ্ধ করেছে।

ইবনে হাজার একে সংক্ষেপে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: "উভয় প্রকার হাদিসের মধ্যে সমন্বয় হলো এই যে, কোরআন নাজিল হওয়ার সময় এর সাথে অন্য কিছু মিশে যাওয়ার আশঙ্কায় নিষেধাজ্ঞাটি নির্দিষ্ট ছিল, আর এ অবস্থা ব্যতীত অন্য সময় হাদিস লিখনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।"

"অথবা নিষেধাজ্ঞাটি ছিল একই বস্তুতে কোরআনের সাথে অন্য কিছু লেখার ক্ষেত্রে, আর পৃথকভাবে লেখার ক্ষেত্রে অনুমতি ছিল।"

"অথবা নিষেধাজ্ঞাটি ছিল পূর্ববর্তী এবং যখন কোনো কিছু মিশে যাওয়ার ভয় দূর হলো, তখন অনুমতি প্রদানকারী হাদিসগুলো তার রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে সাব্যস্ত হলো। এটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত, যদিও এটি অন্য মতগুলোর বিরোধী নয়।"

"বলা হয়ে থাকে যে, নিষেধাজ্ঞাটি ছিল ওই ব্যক্তির জন্য যার ব্যাপারে আশঙ্কা ছিল যে সে মুখস্থ করার পরিবর্তে কেবল লেখার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, আর যার ক্ষেত্রে এমন ভয় ছিল না তার জন্য অনুমতি ছিল।" (১) .

ইবনুল কাইয়্যিম রহিতকরণ (النسخ)-এর মতটি গ্রহণ করেছেন এবং এর বিস্তারিত ব্যাখ্যায় বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস লিখনে নিষেধাজ্ঞা এবং অনুমতি উভয়টিই বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত। আর অনুমতির আদেশটি পরবর্তী সময়ের, ফলে এটি নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদিসটির জন্য রহিতকারী (ناسخ) হবে; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের যুদ্ধে বলেছিলেন: 'তোমরা আবু শাহর জন্য লিখে দাও'—অর্থাৎ তাঁর সেই খুতবাটি যা লিখে দেওয়ার জন্য আবু শাহ আবেদন করেছিলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে হাদিস লেখার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তাঁর হাদিসটি নিষেধাজ্ঞার হাদিসের পরবর্তী সময়ের; কারণ তিনি নিয়মিত হাদিস লিখতেন এবং তাঁর মৃত্যু অবধি সেই লিখিত পাণ্ডুলিপি তাঁর কাছেই ছিল, যেটিকে তিনি আস-সাদিকা নামে অভিহিত করতেন। আর যদি হাদিস লিখনে নিষেধাজ্ঞাটি পরবর্তী সময়ের হতো..."

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি (১/২০৮) ।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
لمحاها عبد الله؛ لأمر النبي صلى الله عليه وسلم بمحو ما كتب عنه غير القرآن، فلما لم يمحها وأثبتها دلَّ على أنَّ الإذن في الكتابة متأخر عن النهي عنها. وهذا واضح والحمد لله" (1) .

ومهما يكن من أمر فقد ثبتت كتابة أحاديث في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ومما يثبت أن النهي لم يكن قائماً - كما قررت في دراسة سابقة - أن بعضاً من الصحابة كرهوا كتابة الحديث، لكن أغلبهم لم يعلل هذه الكراهة بكون رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الكتابة، وإنما كانوا يعللون بعلل أخرى. ومن يتأمل تقييد العلم للخطيب البغدادي يتأكد من ذلك (2) .

وقد بيَّن الخطيب البغدادي في "تقييد العلم" الأسباب التي كره من أجلها بعض السلف الكتابة، فلم يذكر منها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهاهم إلا ما كان في أول الإسلام؛ لقلة الفقهاء والمميزين بين الوحي وغيره.

يقول الخطيب: "فقد ثبت أن كراهة مَنْ كره الكتاب من الصدر الأول إنما هي لئلا يُضاهى بكتاب الله تعالى غيره، أو يشتغل عن القرآن بسواه، ونهى عن الكتب القديمة أن تتخذ (التوراة والانجيل) لأنه لا

--------------------------------------------

(1) تهذيب مختصر سنن أبي داود، مع المختصر. (5/245) .

هذا ومع وضوح أن الإذن كان متأخرًا وكون بعض ما هو مكتوب كان في قائم سيف - رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعزم رسول الله صلى الله عليه وسلم على أن يكتب لهم كتابًا مع وضوح كل ذلك يرى رشيد رضا أن النهي هو المتأخر، ويكون بالتالي ناسخًا للإذن! (مجلة المنار 10/767) .

وتلقف ذلك محمود أبو رية في كتابه أضواء على السنة المحمدية، ص (48) .

(2) تقييد العلم: (ص 36 – 60) وانظر مزيدًا في هذا الباب في توثيق السنة في القرن الثاني الهجري (ص:43 – 56) .
আবদুল্লাহ এটি মুছে ফেলতেন; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআন ব্যতীত তাঁর থেকে যা কিছু লেখা হয়েছে তা মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন তিনি তা মুছেননি বরং তা বহাল রেখেছেন, তখন এটিই প্রমাণ করে যে, লেখার অনুমতি (إذن) প্রদানের বিষয়টি তা নিষিদ্ধ (النهي) করার পরবর্তী সময়ের। এটি একটি স্পষ্ট বিষয়, আলহামদুলিল্লাহ।

যাই হোক না কেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে হাদিস লিখে রাখার বিষয়টি প্রমাণিত।

পূর্ববর্তী একটি গবেষণায় আমি যেমনটি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছি, নিষেধ (النهي) যে তখন কার্যকর ছিল না তার একটি প্রমাণ হলো—কিছু সাহাবী হাদিস লেখাকে অপছন্দ করতেন, কিন্তু তাদের অধিকাংশ এই অপছন্দের কারণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লেখা থেকে নিষেধ (نهى) করেছেন এমনটি উল্লেখ করেননি; বরং তারা অন্যান্য কারণ দর্শাতেন। খতিব আল-বাগদাদির 'তাকয়ীদুল ইলম' গ্রন্থটি যে ব্যক্তি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারবেন (২)।

খতিব আল-বাগদাদি 'তাকয়ীদুল ইলম' গ্রন্থে সেই কারণগুলো বর্ণনা করেছেন যার জন্য কিছু সালাফ (السلف) হাদিস লেখাকে অপছন্দ করতেন। সেখানে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিষেধ (نهى) করেছিলেন এমন কোনো কারণ উল্লেখ করেননি—কেবল ইসলামের প্রাথমিক যুগের কথা ভিন্ন; কারণ তখন ফকিহ (الفقهاء) এবং ওহি ও অন্যান্যের মধ্যে পার্থক্য করার মতো বিচক্ষণ লোকের অভাব ছিল।

খতিব বলেন: "এটি প্রমাণিত যে, প্রথম যুগের যারা লেখা অপছন্দ করতেন, তারা কেবল এজন্যই করতেন যাতে আল্লাহর কিতাবের সাথে অন্য কিছুর সাদৃশ্য তৈরি না হয় অথবা কুরআন ছেড়ে অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে না পড়ে। আর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ (তাওরাত ও ইনজিল) গ্রহণ করতে নিষেধ (نهى) করা হয়েছিল কারণ..."

--------------------------------------------

(১) তাহজিব মুখতাসার সুনান আবি দাউদ, মুখতাসার সহ। (৫/২৪৫)।

অনুমতি (الإذن) যে পরবর্তী সময়ের এবং লিখিত কিছু বিষয় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তলোয়ারের হাতলে ছিল, এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জন্য একটি কিতাব লিখে দেওয়ার সংকল্প করেছিলেন—এই সব কিছু স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও রশিদ রিদা মনে করেন যে, নিষেধ (النهي) ছিল পরবর্তী সময়ের এবং ফলস্বরূপ তা অনুমতির (الإذن) রহিতকারী (ناسخ)! (মাজাল্লাতুল মানার ১০/৭৬৭)।

মাহমুদ আবু রাইয়্যাহ তার 'আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়া' (পৃ. ৪৮) গ্রন্থে এই মতটি লুফে নিয়েছেন।

(২) তাকয়ীদুল ইলম: (পৃ. ৩৬–৬০) এবং এ বিষয়ে আরও দেখুন 'তাওসিকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি' (পৃ. ৪৩–৫৬)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
يعرف حقها من باطلها، وصحيحها من فاسدها، مع أن القرآن كفى عنها، وصار مهيمناً عليها، ونهى عن كتْب العلم في صدر الإسلام وَجِدَّتِهِ؛ لقلة الفقهاء في ذلك الوقت، والمميزين بين الوحي وغيره؛ لأن أكثر الأعراب لم يكونوا فقهوا في الدين، ولا جالسوا العارفين، فلم يؤمن أن يلحقوا ما يجدون من الصحف بالقرآن، ويعتقدوا أن ما اشتملت عليه كلام الرحمن" (1) .

الأمر الثاني: الذي نتعرض له حتى يسلم لنا أن السنة ابتدئ في كتابتها في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وما بعده هو أن المكتوبات من السنة في هذا العهد وكذلك عهد الصحابة رضوان الله عليهم لم ينص على أنها مكتوبة عند رواية أحاديثها.

ولنأخذ مثالين على ذلك في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم: صحيفة عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما، وصحيفة همام بن منبه في عهد الصحابة رضوان الله عليهم.

أما صحيفة عبد الله بن عمرو فتروى أحاديثها منها دون إشارة إلى أنها كانت مكتوبة في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ولولا أنه قد أثيرت قضية أن أحاديثها: هل هي متصلة أو منقطعة نقلت من كتاب لم نعرف أن شعيباً حفيد عبد الله بن عمرو أخذها كتابة من صحيفة جده.

--------------------------------------------

(1) تقييد العلم: (ص: 57) .
এর সত্যকে মিথ্যা থেকে এবং এর সহিহ (صحيح) অংশকে অশুদ্ধ (فاسد) অংশ থেকে পৃথকভাবে চেনা যায়, যদিও কুরআন এসবের জন্য যথেষ্ট ছিল এবং সেগুলোর ওপর প্রাবল্য বিস্তারকারী ছিল। ইসলামের প্রারম্ভিক সময়ে এবং এর নতুনত্ব বজায় থাকাকালে ইলম লিখে রাখতে নিষেধ করা হয়েছিল; কারণ সে সময় ফকিহদের এবং ওহি ও অন্যান্যের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। যেহেতু অধিকাংশ মরুবাসী বেদুইন দ্বীনের সঠিক বুঝ রাখত না এবং তারা বিজ্ঞদের সান্নিধ্য লাভ করেনি, ফলে তারা বিভিন্ন পত্রে যা পেত তা কুরআনের সাথে যুক্ত করে ফেলার এবং তাতে যা রয়েছে তাকে রহমানের কালাম মনে করার আশঙ্কা ছিল।" (১)।

দ্বিতীয় বিষয়টি: যা আমরা পর্যালোচনা করব যাতে আমাদের কাছে এটি সুনিশ্চিত হয় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করা শুরু হয়েছিল, তা হলো—এই যুগে এবং সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমগণের যুগে সুন্নাহর লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে হাদিস বর্ণনার সময় সেগুলো যে লিখিত ছিল তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হতো না।

এ বিষয়ে আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের দুটি উদাহরণ গ্রহণ করতে পারি: আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর সহিফা এবং সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুমগণের যুগে হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ-এর সহিফা।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর-এর সহিফার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, এর হাদিসগুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে লিখিত ছিল—এমন কোনো ইঙ্গিত ছাড়াই তা থেকে বর্ণনা করা হতো।

যদি এই বিষয়টি আলোচিত না হতো যে, এর হাদিসগুলো কি অবিচ্ছিন্ন (متصلة) নাকি বিচ্ছিন্ন (منقطعة) এবং তা কোনো কিতাব থেকে উদ্ধৃত হয়েছে কি না—তবে আমরা জানতে পারতাম না যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর-এর নাতি শুআইব এটি তাঁর দাদার সহিফা থেকে লিখিত আকারে গ্রহণ করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তাকিয়িদুল ইলম: (পৃষ্ঠা: ৫৭)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
هذا مع إجماع كل من الفريقين على أنها نقلت كتاباً، والاختلاف في كون هذه الصحيفة نقلت سماعاً والتقى شعيب بجده أولا.

أما صحيفة همام بن منبه فمن الواضح أن المصنفين بعدها تداولوها صحيفة كالبخاري ومسلم، ومن هنا نشأ الكلام في كيفية رواية أحاديث من هذه الصحيفة وأمثالها، وكانت للبخاري مثلاً طريقته، ولمسلم طريقته في ذلك (1) .

لكن واحداً منهما أو من غيرهما لم يذكر عند هذه الأحاديث أنها من صحيفة، ذلك أن الاهتمام كله كان منصبَّا على إظهار الالتقاء والسماع، واتصال الأسانيد، ولم يكن منصبَّا على الكتابة التي قد يصاحبها الوجادة، ورواية الأحاديث بها، وبخاصة في الأعصر المتقدمة غير مشروع، وغير معترف به طريقاً لنقل الأحاديث موثقة عند جمهورهم.

وهذا نتذكره دائمًا عند الكلام على صحيفة ما، ولا نجد إلا إشارات عن الكتابة في قليل من أسانيدها.

وعلى هذا فلا يعطي عدم ذكر الكتابة في رواية الأحاديث دليلاً على أن الأحاديث كانت غير مكتوبة.

وفي ظني أنه لولا هذا لظهر كثير مما كتب، مما روي سماعاً في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وعهد صحابته رضوان الله تعالى عليهم.

--------------------------------------------

(1) تدريب الراوي: (1/553/554) .
উভয় পক্ষের ঐকমত্য (إجماع) থাকা সত্ত্বেও যে এটি একটি কিতাব হিসেবে স্থানান্তরিত হয়েছে, মতপার্থক্য কেবল এই বিষয়ে যে, এই সহিফাটি কি শ্রবণ (سماعاً)-এর মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং শুআইব কি আদৌ তার দাদার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন কি না।

হামমাম বিন মুনাব্বিহ-এর সহিফার ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট যে, পরবর্তী গ্রন্থকারগণ যেমন বুখারি ও মুসলিম একে একটি সহিফা হিসেবেই আদান-প্রদান করেছেন। এখান থেকেই এই সহিফা ও এর অনুরূপ অন্যান্য উৎস থেকে হাদিস বর্ণনা (رواية) করার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনার সূত্রপাত হয়। উদাহরণস্বরূপ, এই ক্ষেত্রে বুখারির একটি নিজস্ব পদ্ধতি ছিল এবং মুসলিমের ছিল নিজস্ব পদ্ধতি (১)।

কিন্তু তাদের কেউ বা অন্য কেউ এই হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে উল্লেখ করেননি যে এগুলো কোনো সহিফা থেকে নেওয়া। এর কারণ হলো, সমস্ত মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল সাক্ষাৎ ও শ্রবণ (السماع) এবং সনদসমূহের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال الأسانيد) প্রদর্শনের ওপর। মনোযোগ সেই লিখিত রূপের ওপর ছিল না যার সাথে 'ওয়াজাদাহ' বা প্রাপ্তি (الوجادة) জড়িত থাকতে পারে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী যুগে এর মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা (رواية) করা শাস্ত্রীয়ভাবে অনুমোদিত (غير مشروع) ছিল না এবং জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের (جمهور) নিকট নির্ভরযোগ্য (موثقة) হাদিস স্থানান্তরের পদ্ধতি হিসেবে এটি স্বীকৃত ছিল না।

যেকোনো সহিফা সম্পর্কে আলোচনার সময় আমাদের এটি সর্বদা স্মরণে রাখা উচিত। আমরা এর খুব অল্প সংখ্যক সনদ (أسانيد)-এই কেবল লিখিত রূপের ইঙ্গিত পাই।

অতএব, হাদিস বর্ণনা (رواية)-এর ক্ষেত্রে লিখিত রূপের উল্লেখ না থাকা এই কথার দলিল হতে পারে না যে, হাদিসগুলো লিখিত অবস্থায় ছিল না।

আমার ধারণায়, যদি এমনটি না হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের যুগে শ্রবণ (سماعاً)-এর মাধ্যমে বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে যা কিছু লিখিত হয়েছিল, তার অনেক কিছুই প্রকাশ পেত।

--------------------------------------------

(১) তাদরীব আল-রাবি: (১/৫৫৩/৫৫৪)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌القسم الأول: كتابة السنة في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم

‌‌الفصل الأول: ما كتب في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم على وجه الإجمال

وسنتناول منها ما له أثر في الرواية فيما بعد عهده صلى الله عليه وسلم من العصور:

1- صحيفة علي بن أبي طالب رضى الله عنه:

وهذه الصحيفة كانت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم، وخص بها عليًّا رضى الله عنه كما قررنا في دراسة مستقلة لصحيفة علي (1) .

2- الصحيفة الصادقة لعبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما.

عن عبد الله بن عمرو قال: كنت أكتب كل شيء أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم أريد حفظه، فنهتني قريش، فقالوا: إنك تكتب كل شيء تسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورسول الله صلى الله عليه وسلم بشر يتكلم في الغضب والرضا،

--------------------------------------------

(1) صحيفة علي بن أبي طالب رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم دراسة توثيقية دار السلام - بالقاهرة - 1406?/1986م.
প্রথম অংশ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণ

প্রথম পরিচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে যা সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল

আমরা তার মধ্য থেকে এমন বিষয়গুলো আলোচনা করব, যার প্রভাব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরবর্তী যুগসমূহের বর্ণনা (رواية) প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান রয়েছে:

১- আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাহিফা (صحيفة):

এই সাহিফাটি (صحيفة) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিল এবং তিনি এটি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বিশেষভাবে প্রদান করেছিলেন, যেমনটি আমরা আলী (রা)-এর সাহিফা সংক্রান্ত একটি স্বতন্ত্র গবেষণায় স্থির করেছি (১)।

২- আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর আস-সাহিফাতুস সাদিকাহ।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু শুনতাম, তা মুখস্থ (حفظ) করার উদ্দেশ্যে লিখে রাখতাম। অতঃপর কুরাইশরা আমাকে এটি করতে নিষেধ করল। তারা বলল: "তুমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শোনো তার সবকিছুই লিখে রাখো? অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মানুষ, তিনি ক্রোধ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থাতেই কথা বলেন।"

--------------------------------------------

(১) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাহিফা (صحيفة): একটি প্রামাণ্য (توثيقية) গবেষণা, দারুস সালাম - কায়রো - ১৪০৬ হিজরি / ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فأمسكت عن الكتابة. فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "اكتب، فوالذي نفسي بيده ما خرج مني إلا حق" (1) .

وعنه قال: "قلت يا رسول الله، أكتب ما أسمع منك؟ قال: نعم. قلت في الرضا والسخط؟ قال: نعم، فإنه ما ينبغي لي أن أقول في ذلك إلا حقًّا".

وفي رواية: "يا رسولَ الله إني أسمعُ منك أشياء، فأكتبها؟ قال: نعم" (2) .

--------------------------------------------

(1) إسناده صحيح.

حم: (11/57 – 58) رقم (6510)

من طريق يحيى بن سعيد، عن عبيد الله بن الأخنس، عن الوليد بن عبد الله، عن يوسف بن ماهك، عن عبد الله ابن عمرو به.

وهذا الإسناد صحيح، رجاله ثقات رجال الشيخين، غير الوليد بن عبد الله، وهو ابن أبي مغيث العبدري، وهو ثقة.

المستدرك (1/104 – 105) (2) كتاب العلم. من طريقين عن الليث بن سعد، عن خالد بن يزيد، عن عبد الواحد ابن قيس، عن عبد الله بن عمرو، به.

وقال: هذا حديث صحيح الإسناد أصل في نسخ الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولم يخرجاه. وقد احتجا بجميع رواته إلا عبد الواحد بن قيس وهو شيخ من أهل الشام، وابنه عمر بن عبد الواحد الدمشقي أحد أئمة الحديث، وقد روى عبد الواحد بن قيس عن جماعة من الصحابة، منهم أبو هريرة وأبو أمامة الباهلي وواثلة بن الأسقع – رضي الله عنهم، وروى عنه الأوزاعي أحاديث.

ولهذا الحديث شاهد قد اتفقا على إخراجه على سبيل الاختصار: عن همام بن منبه، عن أبي هريرة أنه قال: ليس أحد من أصحاب النبي – صلى الله عليه وسلم أكثر حديثًا مني إلا عبد الله بن عمرو؛ فإنه كان يكتب وكنت لا أكتب.

وعن عمرو بن دينار، عن وهب بن منبه، عن أخيه همام، عن أبي هريرة نحوه، وقد وافقه الذهبي.

أقول: حديث همام ووهب هو من أفراد البخاري، وليس في مسلم. كما ذكر الحاكم.

(2) صحيح

حم: (11/523 –524)

عن يزيد بن هارون ومحمد بن يزيد، عن محمد بن إسحاق، عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده.

ومحمد بن إسحاق وإن كان مدلسًا فقد توبع كما ترى.

المستدرك: (1/105 - 106) (2) كتاب العلم. من طريق ابن وهب عن عبد الرحمن بن سلمان، عن عقيل ابن خالد، عن عمرو بن شعيب، أن شعيبًا حدثه ومجاهدًا، أن عبد الله بن عمرو حدثهم.

ثم قال: فليعلم طالب هذا العلم أن أحدًا لم يتكلم قط في عمرو بن شعيب؛ وإنما تكلم مسلم في سماع شعيب من عبد الله بن عمرو؛ فإذا جاء الحديث عن عمرو بن شعيب عن مجاهد، عن عبد الله بن عمرو فإنه صحيح.

كما قدم الحاكم لهذا الحديث بروايته عن إسحاق بن إبراهيم الحنظلي قوله: إذا كان الراوي عن عمرو بن شعيب ثقة فهو كأيوب عن نافع عن ابن عمر.

ومعروف أن هذا من أصح الأسانيد.
অতঃপর আমি লেখা থেকে বিরত থাকলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "তুমি লেখো, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমার থেকে সত্য ব্যতীত অন্য কিছু বের হয় না" (১)।

তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার থেকে যা শুনি তা কি লিখে রাখব? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম, সন্তুষ্টি এবং অসন্তুষ্টি—উভয় অবস্থাতেই? তিনি বললেন: হ্যাঁ, কারণ আমার জন্য সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলা সমীচীন নয়।"

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শুনি, আমি কি সেগুলো লিখে রাখব? তিনি বললেন: হ্যাঁ" (২)।

--------------------------------------------

(১) এর সূত্র (إسناد) সঠিক (صحيح)।

মুসনাদে আহমাদ: (১১/৫৭ – ৫৮) হাদিস নং (৬৫১০)

ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ-এর সূত্রে, উবাইদুল্লাহ ইবনুল আখনেস থেকে, ওয়ালিদ ইবন আবদুল্লাহ থেকে, ইউসুফ ইবন মাহাক থেকে, আবদুল্লাহ ইবন আমর-এর মাধ্যমে বর্ণিত।

এই সূত্রটি (إسناد) সঠিক (صحيح), এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং শায়খায়নের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাকারী, তবে ওয়ালিদ ইবন আবদুল্লাহ ব্যতীত; তিনি হলেন ইবন আবি মুগিস আল-আবদারি এবং তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।

মুস্তাদরাক (১/১০৪ – ১০৫) (২) কিতাবুল ইলম। লাইস ইবন সা’দ-এর দুই সূত্রে, খালিদ ইবন ইয়াযিদ থেকে, আবদুল ওয়াহিদ ইবন কায়েস থেকে, আবদুল্লাহ ইবন আমর-এর মাধ্যমে বর্ণিত।

তিনি (হাকিম) বলেন: এই হাদিসটির সূত্রের ভিত্তি (إسناد) সঠিক (صحيح), যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস অনুলিপকরণের মূল ভিত্তি এবং তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। তাঁরা আবদুল ওয়াহিদ ইবন কায়েস ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারীর বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি শাম অঞ্চলের একজন শায়খ এবং তাঁর পুত্র উমর ইবন আবদুল ওয়াহিদ আদ-দামেশকি হাদিসের অন্যতম ইমাম। আবদুল ওয়াহিদ ইবন কায়েস সাহাবিদের এক জামাত থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু হুরায়রা, আবু উমামা আল-বাহিলি এবং ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। তাঁর থেকে আওযায়ি বেশ কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন।

এই হাদিসটির একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে যা তাঁরা সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনার ব্যাপারে একমত হয়েছেন: হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহ থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবিদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন আমর ব্যতীত আমার চেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ নেই; কারণ তিনি লিখে রাখতেন আর আমি লিখতাম না।

আমর ইবন দীনার থেকে, ওয়াহাব ইবন মুনাব্বিহ থেকে, তাঁর ভাই হাম্মাম থেকে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

আমি বলছি: হাম্মাম ও ওয়াহাব-এর হাদিসটি সহিহ বুখারির একক বর্ণনা (أفراد), এটি সহিহ মুসলিম-এ নেই, যেমনটি হাকিম উল্লেখ করেছেন।

(২) সঠিক (صحيح)

মুসনাদে আহমাদ: (১১/৫২৩ – ৫২৪)

ইয়াযিদ ইবন হারুন ও মুহাম্মদ ইবন ইয়াযিদ থেকে, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে, আমর ইবন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক যদিও তাদলিসকারী (مدلس) ছিলেন, তবে এখানে দেখা যাচ্ছে যে তাঁর সমর্থক বর্ণনা (توبع) রয়েছে।

মুস্তাদরাক: (১/১০৫ - ১০৬) (২) কিতাবুল ইলম। ইবন ওয়াহাব-এর সূত্রে আবদুর রহমান ইবন সালমান থেকে, উকাইল ইবন খালিদ থেকে, আমর ইবন শুআইব থেকে, শুআইব তাঁকে ও মুজাহিদকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন আমর তাঁদের কাছে বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর তিনি বলেন: ইলমে হাদিসের ছাত্রের জেনে রাখা উচিত যে, কেউ কখনো আমর ইবন শুআইব সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেননি; বরং ইমাম মুসলিম কেবল আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে শুআইব-এর সরাসরি শ্রবণ (سماع) সম্পর্কে কথা বলেছেন। সুতরাং যখন আমর ইবন শুআইব থেকে মুজাহিদের মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবন আমর-এর সূত্রে হাদিস আসে, তখন তা সঠিক (صحيح)।

যেমন হাকিম এই হাদিসটির ভূমিকা হিসেবে ইসহাক ইবন ইব্রাহিম আল-হানজালি-এর বর্ণনায় তাঁর এই উক্তিটি পেশ করেছেন: "যখন আমর ইবন শুআইব থেকে বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন, তখন এটি আইয়ুব-নাফি-ইবন উমর সূত্রের মতো হয়।" আর এটি সুপরিচিত যে, এটি সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সূত্রগুলোর (أصح الأسانيد) অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعنه قال: استأذنت النبي صلى الله عليه وسلم في كتاب ما سمعت منه. قال: فأذن لي فكتبته، فكان عبد الله يسمي صحيفته تلك الصادقة (1) .

وعن مجاهد قال: رأيت عند عبد الله بن عمرو صحيفة فسألت عنها فقال: هذه الصادقة، فيها ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ليس بيني وبينه فيها أحد (2) .

وعن عبد الله بن عمرو قال: ما يرغبني في الحياة إلا خصلتان: الصادقة والوَهْطَة (3) ، فأما الصادقة فصحيفة كتبتها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم (4) .

وسنتناول هذه الصحيفة فيما بعد من جوانب أخرى.

3- صحيفة عمرو بن حزم

استعمله النبي صلى الله عليه وسلم على أهل نجران.

وكتب - رسول الله صلى الله عليه وسلم معه كتاباً في الفرائض والصدقات والديات.

--------------------------------------------

(1) طبقات ابن سعد: (2/321 – 322) .

(2) المصدر السابق: (2/322) .

(3) أرض بالطائف تصدَّق بها عمرو بن العاص، السير (5/176) .

(4) سير أعلام النبلاء (5/175-176) .
তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-এর নিকট তাঁর থেকে যা শ্রবণ করেছি তা লিপিবদ্ধ করার অনুমতি চেয়েছিলাম। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন এবং আমি তা লিপিবদ্ধ করলাম। আবদুল্লাহ তাঁর সেই পাণ্ডুলিপিকে (صحيفة) 'আস-সাদিকাহ' নামে অভিহিত করতেন (১)।

মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন আমরের নিকট একটি পাণ্ডুলিপি (صحيفة) দেখতে পেলাম এবং সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এটি 'আস-সাদিকাহ', এতে তা-ই রয়েছে যা আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ করেছি, আমার ও তাঁর মাঝে এতে অন্য কেউ নেই (২)।

আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: দু’টি বিষয় ব্যতীত আর কোনো কিছুই আমাকে ইহকালীন জীবনের প্রতি আগ্রহী করে না: 'আস-সাদিকাহ' এবং 'আল-ওয়াহতাহ' (৩)। 'আস-সাদিকাহ' হলো সেই পাণ্ডুলিপি (صحيفة) যা আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট থেকে লিপিবদ্ধ করেছি (৪)।

আমরা পরবর্তীতে অন্যান্য দিক থেকে এই পাণ্ডুলিপিটি (صحيفة) নিয়ে আলোচনা করব।

৩- আমর বিন হাজমের পাণ্ডুলিপি (صحيفة)

নবী (সা.) তাঁকে নাজরানবাসীদের ওপর (গভর্নর হিসেবে) নিযুক্ত করেছিলেন।

আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁর সাথে উত্তরাধিকার আইন (فرائض), দান-সদকা এবং রক্তপণ (ديات) সংক্রান্ত একটি লিপি লিখে দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তাবাকাত ইবনে সাদ: (২/৩২১ – ৩২২)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস: (২/৩২২)।

(৩) তায়েফে অবস্থিত একটি ভূমি যা আমর বিন আস দান করেছিলেন, আস-সিয়ার (৫/১৭৬)।

(৪) সিয়ারু আলামিন নুবালা (৫/১৭৫-১৭৬)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال ابن سعد: وكتب رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمرو بن حزم حيث بعثه إلى اليمن عهداً يعلمه فيه شرائع الإسلام وفرائضه وحدوده، وكتب أُبَي (1) .

وقال ابن عبد البر: "وكتب له كتاباً فيه الفرائض والسنن والصدقات والديات (2) .

4- كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في الصدقات.

عن الزهري، عن سالم، عن أبيه، قال: كتب رسول الله صلى الله عليه وسلم كتاب الصدقة فلم يخرجه إلى عماله حتى قبض، فقرنه بسيفه، فعمل به أبو بكر حتى قبض، ثم عمل به عمر حتى قبض (3) …

وهو نفسه - إن شاء الله - كتاب أبي بكر الذي رواه البخاري بسنده عن أنس، ورواه عنه حفيده ثمامة بن عبد الله: أن أبا بكر رضى الله عنه

--------------------------------------------

(1) طبقات ابن سعد (1/230)

وقال في موضع آخر: "كان في كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي كتبه لعمرو بن حزم حين بعثه إلى نجران: ألا يمس القرآن إلا طاهر ولا يصلي الرجل وهو معتقص، ولا يحتبي الرجل، وليس بين فرجه وبين السماء شيء … إلخ (الطبقات 5/318) .

(2) الاستيعاب 2/437.

(3) المستدرك (1/392 – 394)

قال الحاكم بعد روايته: هذا حديث كبير في هذا الباب يشهد بكثرة الأحكام التي في حديث ثمامة عن أنس (الذي رواه البخاري) إلا أن الشيخين لم يخرجا لسفيان بن حسين الواسطي في الكتابين، وسفيان بن حسين أحد أئمة الحديث وثقه يحيى بن معين … ويصححه على شرط الشيخين حديث عبد الله بن المبارك، عن يونس بن يزيد، عن الزهري، وإن كان فيه أدنى إرسال، فإنه شاهد صحيح لحديث سفيان ابن حسين.

ثم روى حديث الزهري، ثم روى كتاب النبي صلى الله عليه وسلم إلى عمرو بن حزم شاهداً صحيحاً لهذا الكتاب. ووافقه الذهبي.
ইবনে সাদ বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমর ইবনে হাযমকে যখন ইয়ামেনে পাঠালেন, তখন তাঁর জন্য একটি অঙ্গীকারনামা লিখে দিলেন, যাতে তিনি তাঁকে ইসলামের বিধিবিধান, আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ এবং দণ্ডবিধি শিক্ষা দেন। আর এটি লিখেছিলেন উবাই (১)।

ইবনে আবদিল বার বলেন: "তিনি তাঁর জন্য একটি কিতাব লিখেছিলেন যাতে আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ, সুন্নাহসমূহ, সদকা এবং রক্তপণ সংক্রান্ত বিষয়াদি ছিল (২)।

৪- সদকা বিষয়ক রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিতাব।

যুহরী থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সদকা বিষয়ক একটি কিতাব লিখেছিলেন, কিন্তু তাঁর ওফাত পর্যন্ত তিনি তা তাঁর গভর্নরদের কাছে পাঠাননি। তিনি এটি তাঁর তরবারির সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। এরপর আবু বকর তাঁর ওফাত পর্যন্ত এর ওপর আমল করেন এবং তারপর ওমর তাঁর ওফাত পর্যন্ত এর ওপর আমল করেন (৩) …

আর এটিই—ইনশাআল্লাহ—আবু বকরের সেই কিতাব যা বুখারি তাঁর সনদে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর পৌত্র সুমামা ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর (রা.)

--------------------------------------------

(১) তবাকাত ইবনে সাদ (১/২৩০)

তিনি অন্য স্থানে বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমর ইবনে হাযমকে যখন নাজরানে পাঠিয়েছিলেন, তখন যে কিতাবটি লিখে দিয়েছিলেন তাতে ছিল: পবিত্র ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ যেন কুরআন স্পর্শ না করে, কোনো ব্যক্তি যেন তার মাথার চুল বাঁধা অবস্থায় সালাত আদায় না করে, কোনো ব্যক্তি যেন ইহতিবা (দুই হাত দিয়ে হাঁটু পেঁচিয়ে বসা) না করে এবং যখন তার লজ্জাস্থান ও আকাশের মাঝে কোনো আড়াল না থাকে... ইত্যাদি (তবাকাত ৫/৩১৮)।

(২) আল-ইসতিআব ২/৪৩৭।

(৩) আল-মুস্তাদরাক (১/৩৯২ – ৩৯৪)

হাকীম এটি বর্ণনার পর বলেন: এই অনুচ্ছেদে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস যা সুমামা কর্তৃক আনাস থেকে বর্ণিত হাদিসে (যা বুখারি বর্ণনা করেছেন) বিদ্যমান বিধানসমূহের প্রাচুর্যের সাক্ষ্য দেয়। তবে শাইখাইন তাঁদের কিতাবদ্বয়ে সুফিয়ান ইবনে হুসাইন আল-ওয়াসিতির কোনো বর্ণনা গ্রহণ করেননি। অথচ সুফিয়ান ইবনে হুসাইন হাদিসের অন্যতম ইমাম এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাইন তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন... আর শাইখাইনের শর্তানুযায়ী (على شرط الشيخين) আবদুল্লাহ ইবনে মুবারকের হাদিসটি—যা ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন—একে বিশুদ্ধ (صحيح) সাব্যস্ত করে। যদিও তাতে সামান্য বিচ্ছিন্নতা (إرسال) রয়েছে, তবুও এটি সুফিয়ান ইবনে হুসাইনের হাদিসের জন্য একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সমর্থনকারী বর্ণনা (شاهد)।

এরপর তিনি যুহরীর হাদিস বর্ণনা করেন, অতঃপর আমর ইবনে হাযমের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিতাবটিকে এই কিতাবের একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সমর্থনকারী বর্ণনা (شاهد) হিসেবে উল্লেখ করেন। আর যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
كتب له هذا الكتاب لما وجهه إلى البحرين. وقال: بسم الله الرحمن الرحيم؛ هذه فريضة الصدقة التي فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم على المسلمين (1) .

والكتب كثيرة تلك التي كتبت في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولكننا لا ندري ألها أثر في نقل أحاديثها فيما بعد أم لا؟ ونظرة إلى كتاب الوثائق السياسية للعهد النبوي والخلافة الراشدة، ومكاتيب رسول الله صلى الله عليه وسلم تعطينا عددا كبيراً من الكتب التي كتبت في عهده صلى الله عليه وسلم (2) .

وسنكتفي بهذه لندرس بعضها، ونرى كم هي أسهمت في نقل حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم موثقًا بالكتابة مع السماع في الكثير من الأحاديث.

وهناك أحاديث كتبها الصحابة رضوان الله عليهم، ولكننا لا ندري هل كتبوها في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أو بعده، وسنتناولها فيما بعد حين نعرض لما كتب في عهد الصحابة رضوان الله عليهم.

--------------------------------------------

(1) خ: (1/449 – 450) (24) (38) باب زكاة الغنم. رقم (1454) وأطرافه التي تجمع بين متفرقه في البخاري: (1448، 1450 – 1451، 1453 – 1455، 2487، 3106، 5878، 6955) .

(2) الكتب التي ألفت في كتب الرسول صلى الله عليه وسلم:

1- إعلام السائلين عن كتب سيد المرسلين لابن طولون الدمشقي (953) .

2- المصباح المضيّ في كُتَّاب النبيّ لمحمد بن علي بن أحمد بن حديدة الأنصاري (783 هـ) .

3- مكاتيب الرسول صلى الله عليه وسلم.
যখন তিনি তাঁকে বাহরাইনের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন তখন তাঁর জন্য এই পত্রটি লিখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম; এটি সদকার সেই বিধান (فريضة) যা আল্লাহর রাসূল (সা.) মুসলমানদের ওপর নির্ধারণ (فرض) করেছিলেন (১)।

আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর যুগে লিখিতপত্রের সংখ্যা অনেক, তবে আমরা জানি না যে পরবর্তীকালে সেই হাদিসগুলো বর্ণনা করার (نقل) ক্ষেত্রে এগুলোর কোনো প্রভাব ছিল কি না? 'আল-ওয়াসায়িক আস-সিয়াসিয়াহ লিল-আহদিন নাবাউয়ি ওয়াল খিলাফাতি রাশিদাহ' এবং 'মাকাতিবুর রাসূল (সা.)' গ্রন্থের দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে লিখিত বিপুল সংখ্যক পত্রের সন্ধান পাই (২)।

আমরা এর মধ্য থেকে কতিপয় বিষয় অধ্যয়ন করার জন্য যথেষ্ট মনে করব এবং দেখব যে, অনেক হাদিসের ক্ষেত্রে শ্রবণের (سماع) পাশাপাশি লিখনীর মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যভাবে (موثقًا) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস বর্ণনা করার (نقل) ক্ষেত্রে এগুলো কতটা অবদান রেখেছে।

এছাড়া এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তবে আমরা জানি না যে তাঁরা সেগুলো আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর যুগে লিখেছিলেন নাকি তাঁর পরে; আমরা সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগে যা কিছু লিখিত হয়েছে সে বিষয়ে আলোচনার সময় তা নিয়ে পরবর্তীতে আলোকপাত করব।

--------------------------------------------

(১) বুখারি: (১/৪৪৯ - ৪৫০) (২৪) (৩৮) ছাগলের যাকাত অধ্যায়। নম্বর (১৪৫৪) এবং এর অন্যান্য অংশ যা বুখারি-এর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বিদ্যমান রয়েছে: (১৪৪৮, ১৪৫০ - ১৪৫১, ১৪৫৩ - ১৪৫৫, ২৪৮৭, ৩১০৬, ৫৮৭৮, ৬৯৫৫)।

(২) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পত্রাবলি বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ:

১- ইবনে তুলুন আদ-দিমাশকি (৯৫৩) রচিত ইলামুস সাইলিন আন কুতুবি সাইয়িদিল মুরসালিন।

২- মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ বিন হাদিদা আল-আনসারী (৭৮৩ হি.) রচিত আল-মিসবাহুল মুদি ফি কুততবিন নাবি।

৩- মাকাতিবুর রাসূল (সা.)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الفصل الثاني: دراسة مفصلة لنماذج كتبت في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم

أولا: صحيفة علي رضى الله عنه.

هناك دلالة قوية من نصوص الصحيفة على أنها كتبت في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم كما قررت في دراسة سابقة (1) .

فعلي رضى الله عنه قال: "ما عندنا شيء من الوحي، أو قال: كتاب من رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا ما في كتاب الله وهذه الصحيفة.

وفي رواية ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم غير كتاب الله الذي أنزل إلا وقد بَلَّغْتُهُ غير هذا:

"بسم الله الرحمن الرحيم، محمد رسول الله قال: لكل نبي حرم، وحرمي المدينة".

فالصحيفة كانت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأعطاها لعلي، وهذا هو الذي يمكن أن يفهم من الخصوصية لعلي رضى الله عنه، إذ الذي في الصحيفة ليس خاصاً به، ولا بآل البيت، فقد نقله كثير من الصحابة رضوان الله عليهم - كما سنذكر - إن شاء الله تعالى - بل هناك ما يثبت أن شيئاً ما في الصحيفة كان مكتوباً عند بعض الصحابة رضوان الله عليهم.

--------------------------------------------

(1) صحيفة علي بن أبي طالب – رضي الله عنه: (ص 39) .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে লিখিত নমুনাসমূহের বিস্তারিত পর্যালোচনা

প্রথমত: আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সহীফা।

সহীফাটির মূল পাঠ (نصوص) থেকে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে লিখিত হওয়ার বিষয়ে শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায়, যা আমি পূর্ববর্তী একটি গবেষণায় (১) ব্যক্ত করেছি।

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "আমাদের নিকট ওহী (وحي) সংক্রান্ত এমন কিছুই নেই—অথবা তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হতে প্রাপ্ত কোনো কিতাব নেই—যা আল্লাহর কিতাব এবং এই সহীফাটিতে যা আছে তা ব্যতীত।"

একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব ব্যতীত অন্য কিছু রেখে যাননি, তবে আমি এটি ব্যতীত যা পৌঁছে দিয়েছি:

"বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রত্যেক নবীরই একটি হারাম বা পবিত্র এলাকা (حرم) রয়েছে, আর আমার হারাম হলো মদিনা।"

মূলত এই সহীফাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিল এবং তিনি এটি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে প্রদান করেছিলেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বিশেষ মর্যাদার (خصوصية) বিষয়টি এভাবেই অনুধাবন করা সম্ভব; কেননা এই সহীফার বিষয়বস্তু কেবল তাঁর নিজের বা আহলে বাইত-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল না। বরং অনেক সাহাবী (صحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুম এটি বর্ণনা (نقل) করেছেন—যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ সামনে উল্লেখ করব—বরং এমন কিছু প্রমাণও রয়েছে যে, এই সহীফার বিষয়বস্তুর কিছু অংশ অন্য কিছু সাহাবী (صحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর নিকটও লিখিত অবস্থায় ছিল।

--------------------------------------------

(১) সহীফা আলী বিন আবি তালিব – রাদিয়াল্লাহু আনহু: (পৃষ্ঠা ৩৯)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فقد روى مسلم بسنده عن نافع بن جبير أن مروان بن الحكم خطب الناس، فذكر مكة وأهلها وحرمتها، ولم يذكر المدينة وأهلها وحرمتها، فناداه رافع بن خديج فقال: ما لي أسمعك ذكرت مكة وأهلها وحرمتها، ولم تذكر المدينة وأهلها وحرمتها؟ وقد حرَّم رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بين لابتيها، وذلك عندنا في أديم خَوْلاني، إن شئت أَقْرَأتكه (1) .

وفي بعض الروايات تصريح بأنه أخذها من رسول الله صلى الله عليه وسلم (2) .

محتويات هذه الصحيفة:

عن الأعمش، عن إبراهيم التيمي، عن أبيه قال: قال علي رضى الله عنه ما عندنا كتاب نقرؤه إلا كتاب الله غير هذه الصحيفة. قال: فأخرجها، فإذا فيها أشياء من الجراحات وأسنان الإبل.

قال: وفيها: المدينة حرَمٌ ما بين عَيْرٍ إلى ثَوْر، فمن أحدث فيها حدثًا، أو آوى محدثاً فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل منه يوم القيامة صرف ولا عدل، وذمة المسلمين واحدة يفي بها أدناهم، فمن أخفر مسلماً فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يُقبل منه يوم القيامة صَرْفٌ ولا عدْل.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (ص40) .

(2) حم (1/119)

عن يحيى بن آدم، عن شريك، عن مخارق عن طارق بن شهاب، عن علي: "وهذه الصحيفة أعطانيها رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها فرائض الصدقة".

وفي رواية أخذتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم، رواها المحاملي في أماليه بالسند المذكور (ص155) رقم: (124) .
ইমাম মুসলিম তাঁর সনদ (سند) সহকারে নাফি ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মারওয়ান ইবনে হাকাম জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দানকালে মক্কা, এর অধিবাসী এবং এর পবিত্রতার কথা উল্লেখ করলেন, কিন্তু মদিনা, এর অধিবাসী ও এর পবিত্রতার বিষয়টি উল্লেখ করলেন না। তখন রাফি ইবনে খাদিজ তাকে ডেকে বললেন: "আমি কেন শুনতে পাচ্ছি যে আপনি মক্কা, এর অধিবাসী ও এর পবিত্রতার কথা বলছেন, অথচ মদিনা, এর অধিবাসী ও এর পবিত্রতার কথা বলছেন না? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনার দুই পাথুরে প্রান্তরের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। এটি আমাদের নিকট খাওলানি চামড়ায় লিখিত রয়েছে, আপনি চাইলে আমি আপনাকে তা পড়ে শোনাতে পারি (১)।"

এবং কিছু বর্ণনায় (رواية) স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, তিনি এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন (২)।

এই সহিফার (صحيفة) বিষয়বস্তু:

আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (রা.) বলেছেন, "আল্লাহর কিতাব এবং এই সহিফা (صحيفة) ব্যতীত আমাদের নিকট পাঠ করার মতো অন্য কোনো কিতাব নেই।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি সেটি বের করলেন, দেখা গেল তাতে জখমের ক্ষতিপূরণ এবং উটের বয়স সংক্রান্ত (যাকাত সংশ্লিষ্ট) কিছু বিষয় রয়েছে।

তিনি বলেন, তাতে আরও বর্ণিত আছে: মদিনা 'আইর' থেকে 'সওর' পর্বত পর্যন্ত পবিত্র এলাকা (حرم)। যে ব্যক্তি এখানে নতুন কোনো বিষয়ের (বিদআত) উদ্ভব ঘট্টালে কিংবা কোনো অপরাধীকে আশ্রয় দিলে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতামণ্ডলী এবং সকল মানুষের লানত বা অভিশাপ। কিয়ামতের দিন তার কোনো ফরজ (صرف) বা নফল (عدل) ইবাদত কবুল করা হবে না। মুসলমানদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি এক ও অভিন্ন, তাদের সাধারণ স্তরের কেউ যদি কাউকে নিরাপত্তা দেয় তবে তাও কার্যকর হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দেওয়া নিরাপত্তা বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতামণ্ডলী এবং সকল মানুষের অভিশাপ। কিয়ামতের দিন তার কোনো ফরজ (صرف) বা নফল (عدل) ইবাদত কবুল করা হবে না।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা ৪০)।

(২) মুসনাদে আহমাদ (১/১১৯)

ইয়াহইয়া ইবনে আদম থেকে, তিনি শারিক থেকে, তিনি মুখারিক থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আলী (রা.) সূত্রে বর্ণনা করেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এই সহিফা (صحيفة) দান করেছেন, যাতে সদকার বিধানসমূহ রয়েছে।"

অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "আমি এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে গ্রহণ করেছি।" আল-মাহামিলি তাঁর আমালি গ্রন্থে উল্লেখিত সনদ (سند) সহকারে এটি বর্ণনা করেছেন (পৃষ্ঠা ১৫৫) নম্বর: (১২৪)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي حديث آخر: إن إبراهيم حرم مكة، وإني أحرم المدينة؛ حَرَمٌ ما بين حرتيها، وحماها كله، لا يُخْتَلىَ خلاها، ولا ينفر صيدها، ولا تلتقط لقطتها إلا لمن أشار بها، ولا تقطع شجرة إلا أن يعلف رجل بعيره، ولا يحمل فيها السلاح لقتالٍ.

وفي هذه الرواية: ألا لا يقتل مؤمن بكافر، ولا ذو عهد في عهده.

وفي حديث منها: وما في الصحيفة؟ قال: العقل، وفكاك الأسير، وألا يقتل مسلم بكافر.

وفي حديث آخر: ومن ادعى إلى غير أبيه، أو انتمى إلى غير مواليه فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين، لا يقبل الله منه يوم القيامة صرفاً ولا عدلاً.

وفي حديث: "وفيها فرائض الصدقات".

وفي حديث: "لعن الله من ذبح لغير الله، ولعن الله من سرق منار الأرض، ولعن الله من لعن والده، ولعن الله من آوى مُحْدِثا".

وهكذا حفلت الصحيفة بموضوعات شتى.

1- حرم المدينة.

2- ذمة المسلمين وأمانتهم.

3- تكافؤ دماء المسلمين.

4- قتل المسلم بالكافر.

5- فكاك الأسير.

6- بعض الكبائر وعقابها.
অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয় ইব্রাহিম (আ.) মক্কাকে পবিত্র (حرم) ঘোষণা করেছেন, আর আমি মদিনাকে পবিত্র (حرم) ঘোষণা করছি; এর দুই পাথুরে প্রান্তরের মধ্যবর্তী স্থান পবিত্র এবং এর সম্পূর্ণ চারণভূমি সংরক্ষিত। এর ঘাস কাটা যাবে না, এর শিকারকে তাড়ানো যাবে না, এর পড়ে থাকা বস্তু কুড়ানো যাবে না কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে তা প্রচারের (শনাক্তকরণের ঘোষণা) উদ্দেশ্যে তুলে নেয়। কোনো গাছ কাটা যাবে না কেবল কোনো ব্যক্তি তার উটের খাদ্যের প্রয়োজন ছাড়া, আর যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সেখানে অস্ত্র বহন করা যাবে না।"

এবং এই বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "সাবধান! কোনো মুমিনকে কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না এবং কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে (ذو عهد) তার চুক্তিকালীন অবস্থায় হত্যা করা যাবে না।"

এর অন্তর্ভুক্ত একটি হাদিসে রয়েছে: "আর সহিফায় (الصحيفة) কী আছে? তিনি বললেন: দিয়ত (العقل), যুদ্ধবন্দীর মুক্তি এবং কোনো মুসলিমকে কাফিরের পরিবর্তে হত্যা না করা।"

অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি স্বীয় পিতা ব্যতীত অন্য কাউকে পিতা বলে দাবি করে, অথবা নিজের অভিভাবক (مواليه) ছাড়া অন্য কারও সাথে নিজেকে সম্বন্ধযুক্ত করে, তবে তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার পক্ষ থেকে কোনো ফরজ (صرفاً) বা নফল (عدلاً) ইবাদত কবুল করবেন না।"

একটি হাদিসে রয়েছে: "আর তাতে সদকার নির্ধারিত বিধানসমূহ (فرائض الصدقات) রয়েছে।"

একটি হাদিসে রয়েছে: "আল্লাহর লানত তার ওপর যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে জবেহ করে, আল্লাহর লানত তার ওপর যে জমির সীমানা চিহ্ন চুরি করে, আল্লাহর লানত তার ওপর যে স্বীয় পিতাকে অভিশাপ দেয় এবং আল্লাহর লানত তার ওপর যে কোনো বিদআতকারী বা অপরাধীকে (مُحْدِثا) আশ্রয় দেয়।"

এভাবেই সহিফাটি (الصحيفة) নানাবিধ বিষয়ে সমৃদ্ধ ছিল।

১- মদিনার পবিত্রতা (حرم)।

২- মুসলিমদের জিম্মা (ذمة) ও তাদের নিরাপত্তা।

৩- মুসলিমদের রক্তের সমতা।

৪- কাফিরের পরিবর্তে মুসলিমকে হত্যা।

৫- যুদ্ধবন্দীর মুক্তি।

৬- কিছু কবিরা গুনাহ ও তার শাস্তি।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
7- المعاقل (الديات والجراحات) .

8- فرائض الصدقة.

وجدير بالذكر أن في هذه الصحيفة إشارات إلى موضوعات كبيرة، ولم يرد في الصحيفة منها إلا هذه الإشارات.

وذلك كالديات، وتفصيلها يطول في الروايات والأحاديث، بل ويطول في صحف أخرى كما سنرى، وكما في صحيفة عمرو بن حزم.

وكذلك فرائض الصدقة كما سنرى تفصيلها في كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي كان عند أبي بكر، ثم عند عمر.

ويحتمل أن هناك أموراً أخرى في هذه الصحيفة.

وقد رُوي أنها كانت في قائم سيف رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد روت السيدة عائشة أجزاء من هذه الصحيفة وقالت: إنها كانت في قائم سيف رسول الله صلى الله عليه وسلم:

عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: وجدت في قائم سيف رسول الله صلى الله عليه وسلم كتاباً:

إن أشدَّ الناس عتوًّا مَنْ ضرب غير ضاربه، ورجل قَتَلَ غيرَ قاتله، ورجل تولىَّ غيرَ أهلِ نعمته.

فمن فعل ذلك فقد كفر بالله ورسوله، لا يقبل الله منه صرفاً ولا عدلاً.

وفي الآخر: المؤمنون تتكافأ دماؤهم، ويسعى بذمتهم أدناهم، لا يقتل مسلم بكافر، ولا ذو عهد في عهده، ولا يتوارث أهل ملتين، ولا
7- রক্তপণ (المعاقل) (রক্তপণ (الديات) ও জখমের বিধান (الجراحات))।

8- সদকার বিধানসমূহ (فرائض الصدقة)।

উল্লেখ্য যে, এই সহিফায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে, তবে সহিফাটিতে কেবল এই ইঙ্গিতগুলোই বর্ণিত হয়েছে।

যেমন রক্তপণ (الديات), যার বিস্তারিত বিবরণ বর্ণনা (الروايات) ও হাদিসসমূহে অনেক দীর্ঘ, বরং অন্যান্য সহিফাতেও তা দীর্ঘভাবে এসেছে যেমনটি আমরা সামনে দেখব, এবং যেমনটি রয়েছে আমর বিন হাজমের সহিফায়।

একইভাবে সদকার বিধানসমূহ (فرائض الصدقة), যার বিস্তারিত বিবরণ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই কিতাবে দেখতে পাব যা আবু বকর (রা.)-এর কাছে এবং পরবর্তীতে ওমর (রা.)-এর কাছে ছিল।

এবং সম্ভাবনা রয়েছে যে এই সহিফায় আরও অন্যান্য বিষয়ও ছিল।

বর্ণিত (رُوي) হয়েছে যে, এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তলোয়ারের হাতলে ছিল। আয়েশা (রা.) এই সহিফার কিছু অংশ বর্ণনা (روت) করেছেন এবং বলেছেন: এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তলোয়ারের হাতলে ছিল:

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তলোয়ারের হাতলে একটি লিপি পেয়েছি:

নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবাধ্য সেই ব্যক্তি, যে তাকে আঘাত করেনি এমন ব্যক্তিকে আঘাত করে; এবং সেই ব্যক্তি, যে তার হত্যাকারী ছাড়া অন্য কাউকে হত্যা করে; আর সেই ব্যক্তি, যে তার প্রকৃত অভিভাবক বা অনুগ্রহকারী ব্যতীত অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে।

যে ব্যক্তি এমনটি করল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরি করল; আল্লাহ তার কোনো তওবা (صرفاً) বা বিনিময় (عدلاً) কবুল করবেন না।

আর এর শেষাংশে রয়েছে: মুমিনদের রক্তের মূল্য সমান, তাদের মধ্যকার নিম্নপর্যায়ের ব্যক্তিও তাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা (ذمة) প্রদানের অধিকার রাখে; কোনো মুসলিমকে কোনো কাফেরের বিনিময়ে হত্যা করা যাবে না, এবং কোনো চুক্তিবদ্ধ (ذو عهد) অমুসলিমকেও তার চুক্তিকালীন সময়ে হত্যা করা যাবে না, এবং দুই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা একে অপরের ওয়ারিশ হতে পারবে না, এবং...
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
تنكح المرأة على عمتها، ولا على خالتها، ولا صلاة بعد العصر حتى تَغرب الشمس، ولا تسافر المرأة ثلاث ليالٍ مع غير ذي محرم (1) .

وكما ترى، في هذه الصحيفة ما يلتقي مع صحيفة علي، وما هو زائد عليها مما يجعلنا نرجح أن عليًّا رضى الله عنه لم يذكر كل ما في الصحيفة، وكذلك السيدة عائشة رضي الله عنها.

أما متابعات الصحيفة وشواهدها فسنعرض لها في فصل قادم.

ثانياً: الصحيفة الصادقة.

وهي صحيفة عبد الله بن عمرو بن العاص الذي كتبها في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم كما سبق أن ذكرنا.

والإجماع على أنها نقلت كتابة عن عبد الله بن عمرو، والخلاف إنما هو في اتصالها أو عدم اتصالها.

ولا نريد أن نخوض في تفصيلات ذلك، فهو مفصل في مصادر عدة، ولا تحتمله عجالتنا هذه.

ولكننا نجتزئ بشهادة إمامين جليلين، أحدهما متقدم والآخر متأخر، وهما الإمام الترمذي والإمام ابن تيمية، وقد لخصا في كلمات معدودات ما قيل في هذه الصحيفة والحكم الأرجح عليها.

--------------------------------------------

(1) مسند أبي يعلى 8/197 رقم 401/4757

وقال في مجمع الزوائد: رجاله رجال الصحيح غير مالك بن أبي الرجال، وقد وثقه ابن حبان، ولم يضعفه أحد (6/292 – 293)

وانظر السنن الكبرى للبيهقي (8/30)

وفيها: وُجد في قائم سيف رسول الله صلى الله عليه وسلم كتابان. وسياق حديث أبي يعلى يقتضي ذلك.
কোনো নারীকে তার ফুফু অথবা তার খালার সাথে (একই ব্যক্তির সাথে বিবাহে) একত্র করা যাবে না, আসরের পর সূর্য না ডোবা পর্যন্ত কোনো সালাত নেই এবং কোনো নারী তার মাহরাম ব্যতীত তিন রাতের (দূরত্বের) সফর করতে পারবে না (১)।

আপনি যেমনটি দেখছেন, এই সহিফায় এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আলীর (রা.) সহিফার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কিছু অতিরিক্ত বিষয়ও রয়েছে; যা আমাদের এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সাহায্য করে যে, আলী (রা.) এবং আয়েশা (রা.) সহিফার সব বিষয় উল্লেখ করেননি।

এই সহিফার সমর্থনকারী বর্ণনা (متابعات) এবং এর সাক্ষ্যসমূহ (شواهد) নিয়ে আমরা আগামী অধ্যায়ে আলোচনা করব।

দ্বিতীয়ত: আস-সহিফাতুস সাদিকাহ।

এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-এর সেই সহিফা, যা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে লিপিবদ্ধ করেছিলেন, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

এ বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) রয়েছে যে এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে লিখিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, তবে এর নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) বা নিরবচ্ছিন্নতার অভাব নিয়ে মতভেদ (خلاف) রয়েছে।

আমরা এর বিস্তারিত বিবরণে লিপ্ত হতে চাই না, কারণ এটি বিভিন্ন উৎসে সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে এবং আমাদের এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা সম্ভব নয়।

তবে আমরা কেবল দুইজন মহান ইমামের সাক্ষ্য উল্লেখ করছি, যাঁদের একজন পূর্ববর্তী যুগের এবং অপরজন পরবর্তী যুগের; তাঁরা হলেন ইমাম তিরমিযী এবং ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ। তাঁরা এই সহিফা সম্পর্কে প্রচলিত মতামত এবং এর ওপর অগ্রগণ্য ফয়সালা (حكم) বা সিদ্ধান্ত সংক্ষেপে ব্যক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুসনাদ আবি ইয়ালা ৮/১৯৭, নম্বর ৪০১/৪৭৫৭

মাজমাউজ জাওয়াইদ-এ বলা হয়েছে: মালিক ইবনে আবি আল-রিজাল ব্যতীত এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী। ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন এবং কেউ তাঁকে দুর্বল (ضعيف) বলেননি (৬/২৯২–২৯৩)।

আরও দেখুন আস-সুনানুল কুবরা লিল-বায়হাকি (৮/৩০)।

এতে বর্ণিত হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তলোয়ারের হাতলে দুটি লিপি পাওয়া গিয়েছিল। আবু ইয়ালার হাদিসের প্রেক্ষাপটও এটিই নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
قال الإمام الترمذي: وعمرو بن شعيب هو ابن محمد بن عبد الله بن عمرو بن العاص وشعيب قد سمع من جده عبد الله بن عمرو.

وقد تكلم يحيى بن سعيد في حديث عمرو بن شعيب، وقال: هو عندنا واهٍ.

ومن ضعفه فإنما ضعفه من قبل أنه يحدث عن جده عبد الله بن عمرو، وأما أكثر أهل الحديث فيحتجون بحديث عمرو بن شعيب ويثبتونه، منهم أحمد وإسحاق وغيرهما (1) .

وقال ابن تيمية:

"وكان عند آل عبد الله بن عمرو بن العاص نسخة كتبها عن النبي صلى الله عليه وسلم وبهذا طعن بعض الناس في حديث عمرو بن شعيب، عن أبيه شعيب، عن جده، وقالوا: هي نسخة، وشعيب هو شعيب بن محمد بن عبد الله بن عمرو بن العاص، وقالوا: عن جدِّه الأدنى محمد، فهو مرسل، فإنه لم يدرك النبي صلى الله عليه وسلم، وإن عنى جده الأعلى فهو منقطع، فإن شعيباً لم يدركه.

وأما أئمة الإسلام وجمهور العلماء فيحتجون بحديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده إذا صح النقل إليه، مثل مالك بن أنس وسفيان بن عيينة ونحوهما، ومثل الشافعي، وأحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، وغيرهم قالوا: الجد هو عبد الله، فإنه يجيء مسمى، ومحمد أدركه.

--------------------------------------------

(1) جامع الترمذي (2/26) .
ইমাম তিরমিজি বলেন: আমর বিন শুয়াইব হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আসের পুত্র, এবং শুয়াইব তার দাদা আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে শ্রবণ করেছেন।

ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমর বিন শুয়াইবের হাদিস সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন: সেটি আমাদের নিকট অত্যন্ত দুর্বল (واهٍ)।

আর যারা তাকে দুর্বল (ضعفه) গণ্য করেছেন, তারা মূলত এজন্য দুর্বল বলেছেন যে, তিনি তার দাদা আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণনা করেন। তবে অধিকাংশ হাদিস বিশারদ আমর বিন শুয়াইবের হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (يحتجون) করেন এবং একে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত (يثبتونه) করেন; তাদের মধ্যে আহমদ, ইসহাক ও অন্যান্যরা রয়েছেন (১)।

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন:

"আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আসের পরিবারের নিকট একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) ছিল যা তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে লিখেছিলেন। এই কারণেই কিছু লোক আমর বিন শুয়াইব, তার পিতা (শুয়াইব), তার দাদা থেকে বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন: এটি কেবল একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة)। আর শুয়াইব হলেন শুয়াইব বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস। তারা বলেন: যদি 'দাদা' বলতে তার নিকটতম দাদা মুহাম্মদকে বোঝানো হয়, তবে তা মুরসাল (مرسل), কারণ তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাননি। আর যদি তার ঊর্ধ্বতন দাদাকে বোঝানো হয়, তবে তা বিচ্ছিন্ন (منقطع), কারণ শুয়াইব তাকে পাননি।

পক্ষান্তরে ইসলামের ইমামগণ এবং জমহুর (جمهور) আলেমগণ আমর বিন শুয়াইবের হাদিসকে—তার পিতা ও দাদার সূত্রে—দলিল হিসেবে গ্রহণ (يحتجون) করেন যদি তার কাছে পৌঁছানো বর্ণনাটি সহিহ (صح) হয়। যেমন মালিক বিন আনাস, সুফিয়ান বিন উয়াইনা ও তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ; এবং শাফিয়ি, আহমদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন রাহওয়াইহি ও অন্যান্যরা। তারা বলেছেন: এখানে 'দাদা' হলেন আবদুল্লাহ, কারণ তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হয়, এবং মুহাম্মদ তাকে পেয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) জামি তিরমিজি (২/২৬)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
قالوا: وإذا كانت نسخة مكتوبة من عهد النبي صلى الله عليه وسلم كان هذا أوكد لها وأدلَّ على صحتها.

ولهذا كان في نسخة عمرو بن شعيب من الأحاديث الفقهية التي فيها مقدرات ما احتاج إليه عامة علماء الإسلام" (1) .

ونوافق الإمام ابن تيمية في كون صحيفة عمرو بن شعيب يحتج بها أئمة الإسلام وجمهور العلماء، وأنها متصلة في الرواية مع كونها مكتوبة.

ولكن العلماء فسروا الإسناد على نحو آخر، وهو أن شعيباً روى عن جده عبد الله بن عمرو، فالضمير في "جده" يرجع إلى شعيب لا إلى عمرو.

قال الذهبي: "الرجل لا يعني بجده إلا جده الأعلى عبد الله رضى الله عنه، وقد جاء كذلك مصرحاً به في غير حديث، يقول: "عن جده عبد الله"، فهذا ليس بمرسل، وقد ثبت سماع شعيب والده من جده عبد الله بن عمرو (2)

--------------------------------------------

(1) الفتاوى الكبرى: (18/8-9) .

(2) نقل الذهبي روايات فيها تصريح بأن الجد عبد الله بن عمرو، قال:

الدارقطني في "سننه" حدثنا أبو بكر النيسابوري، حدثنا أحمد بن عبد الرحمن، حدثني عمي، حدثنا مخرمة ابن بكير، سمعت عمرو بن شعيب، يقول: سمعت شعيبًا، يقول: سمعت عبد الله بن عمرو، يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم: "في البَيِّعين بالْخِيَار" (الدارقطني 3/50)

(د: 3456 س: 7/251 – 252 ت 1247)

أحمد: حدثنا عبد الرزاق، أنبأنا ابن جريج، قال: قال عمرو بن شعيب: عن أبيه، عن عبد الله بن عمرو، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " أيما امرأة نكحت على صداق أو عدة أو حباء قبل عصمة النكاح، فهو لها ".

(حم 2/182: جه 1955 س 6/120)

حرملة: حدثنا ابن وهب، أخبرني أسامة، عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن عبد الله بن عمرو، عن رسول الله: "مثل الذي يسترد ما وهب، كمثل الكلب يقيء". (د. 354 ت 2133 وقال: حسن صحيح) .

ثم قال:

وعندي عدة أحاديث سوى ما مرَّ يقول: عن أبيه، عن عبد الله بن عمرو، فالمطلق محمول على المقيَّد المفسر بعبد الله، والله أعلم.

سير أعلام النبلاء: (5/172-173) .
তারা বলেছেন: যদি কোনো অনুলিপি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকে লিখিত অবস্থায় থাকে, তবে তা আরও সুনিশ্চিত হয় এবং তার বিশুদ্ধতা (صحة)-এর ওপর অধিকতর প্রমাণ বহন করে।

এ কারণেই আমর ইবনে শুআইবের অনুলিপিতে এমন কিছু ফিকহ-সংক্রান্ত হাদিস রয়েছে যাতে নির্ধারিত পরিমাপসমূহ বিদ্যমান, যার প্রয়োজন ইসলামের সাধারণ আলেমগণ অনুভব করেছেন (১)।

আমর ইবনে শুআইবের পাণ্ডুলিপিকে ইসলামের ইমামগণ এবং অধিকাংশ (جمهور) আলেম দলিল হিসেবে গ্রহণ (يحتج) করেন এবং তা লিখিত হওয়া সত্ত্বেও বর্ণনার দিক থেকে অবিচ্ছিন্ন (متصلة), এই বিষয়ে আমরা ইমাম ইবনে তাইমিয়ার সাথে একমত।

কিন্তু আলেমগণ সনদ (إسناد)-টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, আর তা হলো শুআইব তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে "তার দাদা" শব্দটির সর্বনামটি শুআইবের দিকে ফিরেছে, আমরের দিকে নয়।

যাহাবি বলেন: "ব্যক্তিটি তার দাদা বলতে তার উর্ধ্বতন দাদা আবদুল্লাহ (রাযিআল্লাহু আনহু)-কেই বুঝিয়েছেন। এটি অন্য হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে: "তার দাদা আবদুল্লাহ থেকে"; সুতরাং এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) নয়। আর শুআইব তথা তার পিতার তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনে আমরের থেকে শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত হয়েছে (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা: (১৮/৮-৯)।

(২) যাহাবি এমন কিছু বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যাতে দাদা যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। তিনি বলেন:

দারাকুতনি তার "সুনান" গ্রন্থে বর্ণনা করেন: আবু বকর আন-নাইসাবুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার চাচা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মাখরামা ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আমর ইবনে শুআইবকে বলতে শুনেছি: আমি শুআইবকে বলতে শুনেছি: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বলতে শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "ক্রয়-বিক্রয়কারী উভয়ের ইখতিয়ার বা নির্বাচনের অধিকার রয়েছে" (দারাকুতনি ৩/৫০)।

(দ: ৩৪৫৬ স: ৭/২৫১-২৫২ ত ১২৪৭)

আহমাদ: আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের জানিয়েছেন, আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে নারী বিবাহের বন্ধনের পূর্বে মোহরানা, প্রতিশ্রুতি বা উপঢৌকনের বিনিময়ে বিবাহিত হয়, তা তারই প্রাপ্য।"

(হাম ২/১৮২: জেহ ১৯৫৫ স ৬/১২০)

হারমালা: ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসামা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: "প্রদত্ত দান যে ফিরিয়ে নেয় তার উদাহরণ সেই কুকুরের মতো যে বমি করে।" (দ. ৩৫৪ ত ২১৩৩ এবং তিনি বলেছেন: উত্তম বিশুদ্ধ (حسن صحيح))।

এরপর তিনি বলেন:

আমার কাছে ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদিসগুলো ছাড়াও আরও বেশ কিছু হাদিস রয়েছে যাতে বলা হয়েছে: "তার পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে"; সুতরাং নিঃশর্ত (مطلق) বর্ণনাটি আবদুল্লাহর মাধ্যমে ব্যাখ্যায়িত শর্তযুক্ত (مقيد) বর্ণনার ওপরই আরোপিত হবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: (৫/১৭২-১৭৩)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومن معاوية وابن عباس وابن عمر، وغيرهم، وما علمنا بشعيب بأسًا، رُبِّي يتيماً في حجر جده عبد الله، وسمع منه، وسافر معه، ولعله ولد في خلافة علي أو قبل ذلك، ثم لم نجد صريحاً لعمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده محمد بن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم ولكن ورد نحو من عشرة أحاديث هيئتها عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده عبد الله بن عمرو، وبعضها: "عن عمرو عن أبيه، عن جده عبد الله، ولا أدري هل حفظ شعيب شيئاً من أبيه أم لا؟ وأنا عارف بأنه لازم جده، وسمع منه" (1) .

وأما تعليل بعضهم بأنها صحيفة وروايتها وجادة بلا سماع، فمن جهة أن الصحف يدخل في روايتها التصحيف، لا سيما في ذلك العصر، إذ لا شكل بَعْدُ في الصحف ولا نقط، بخلاف الأخذ من أفواه الرجال (2) .

وقد أثبت الحاكم سماع شعيب من جده عبد الله، قال في المستدرك: وقد أكثرت في هذا الكتاب الحجج في تصحيح روايات عمرو بن

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (5/173)

(2) المصدر السابق: (5/174) .
মুয়াবিয়া, ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর এবং অন্যদের থেকেও [বর্ণিত হয়েছে]। আমরা শুয়াইবের মধ্যে কোনো সমস্যা (بأسًا) আছে বলে জানি না। তিনি তাঁর দাদা আব্দুল্লাহর কোলে ইয়াতিম হিসেবে লালিত-পালিত হয়েছেন, তাঁর থেকে শ্রবণ (سمع) করেছেন এবং তাঁর সাথে সফর করেছেন। সম্ভবত তিনি আলীর খিলাফতকালে বা তার পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছেন। অতঃপর আমরা আমর ইবনে শুয়াইব, তাঁর পিতা থেকে, তাঁর দাদা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সরাসরি কোনো স্পষ্ট (صريحاً) বর্ণনা পাইনি। তবে আমর ইবনে শুয়াইব, তাঁর পিতা থেকে, তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর-এর সূত্রে প্রায় দশটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আর কিছু বর্ণনা এভাবে: "আমর থেকে, তাঁর পিতা থেকে, তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ থেকে"। আমি জানি না শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে কিছু মুখস্থ (حفظ) করেছিলেন কি না? তবে আমি জানি যে তিনি তাঁর দাদার সাথে সার্বক্ষণিক ছিলেন এবং তাঁর থেকে শ্রবণ (سمع) করেছেন (১) ।

আর কারো কারো একে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত (تعليل) করার কারণ হলো এটি একটি পাণ্ডুলিপি (صحيفة) এবং এর বর্ণনা হলো শ্রবণ (سماع) ব্যতীত পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি (وجادة) ভিত্তিক। এর কারণ হলো পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে লিপিক্রমিক প্রমাদ বা বিকৃতি (تصحيف) ঘটার সম্ভাবনা থাকে, বিশেষ করে সেই যুগে, যেহেতু তখন পাণ্ডুলিপিতে কোনো হরকত (شكل) বা নুকতা (نقط) ছিল না; যা সরাসরি বর্ণনাকারীদের মুখ থেকে গ্রহণের পরিপন্থী (২) ।

আল-হাকিম তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ থেকে শুয়াইবের শ্রবণ (سماع) করার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন। তিনি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে বলেছেন: "আমি এই কিতাবে আমর ইবনে শুয়াইবের বর্ণনাগুলোকে বিশুদ্ধ সাব্যস্ত (تصحيح) করার সপক্ষে প্রচুর দলিল উপস্থাপন করেছি..."

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (৫/১৭৩)

(২) পূর্বোক্ত উৎস: (৫/১৭৪) ।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
شعيب إذا كان الراوي عنه ثقة، وكنت أطلب الحجة الظاهرة في سماع شعيب بن محمد بن عبد الله بن عمرو، فلم أصل إليها إلا في هذا الوقت.

ثم روى من الحديث ما يثبت ذلك، ثم قال بعده: هذا حديث ثقات رواته حفاظ، وهو كالآخذ باليد في صحة سماع شعيب بن محمد عن جده عبد الله بن عمرو (1) .

وعدَّ الحاكم صحيفة عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده من القسم الخامس من الصحيح المتفق على هذه الأقسام (2) .

وجعل الذهبي في "الموقظة" حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده من أعلى مراتب الحسن (3) .

يقول: وهو قسم متجاذب بين الصحة والحسن، فإنَّ عدة من الحفاظ يصححون هذه الطرق وينعتونها بأنها أدنى من مراتب الصحيح (4) .

ومهما يكن من أمر فقد كان لهذه الصحيفة الأثر الكبير في حفظ السنة مدونة منذ عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم على نطاق واسع.

كما سيتبين لنا ذلك في فصل تالٍ.

محتويات الصحيفة

في هذه النسخة ما عرفناه منها أكثر من مائتي حديث:

--------------------------------------------

(1) المستدرك: (2/65) كتاب البيوع.

(2) المدخل إلى معرفة كتاب الإكليل (ص 64) .

(3) الموقظة في علم مصطلح الحديث للذهبي: (ص:32) .

(4) المصدر السابق: (ص: 33) .
শুআইব (এর বর্ণনা গ্রহণ করা হয়) যখন তাঁর থেকে বর্ণনাকারী (الراوي) নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন। আমি শুআইব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের শ্রবণের (سماع) স্বপক্ষে প্রকাশ্য প্রমাণের অনুসন্ধান করছিলাম, কিন্তু বর্তমান সময়ের আগে আমি তা লাভ করতে পারিনি।

অতঃপর তিনি এমন হাদিস বর্ণনা করেন যা এটি প্রমাণ করে। তারপর তিনি বলেন: এটি এমন এক হাদিস যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও হাফেজ (حفاظ); এটি শুআইব ইবনে মুহাম্মদের তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের থেকে শ্রবণের (سماع) বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণের ন্যায়।

এবং ইমাম হাকেম 'আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে' বর্ণিত পাণ্ডুলিপিকে সহিহ (صحيح) হাদিসের পঞ্চম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যে প্রকারগুলোর ওপর ঐকমত্য রয়েছে।

এবং ইমাম যাহাবি তাঁর 'আল-মুকিজাহ' গ্রন্থে 'আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে' বর্ণিত হাদিসকে হাসান (حسن) হাদিসের সর্বোচ্চ স্তরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

তিনি বলেন: এটি এমন এক প্রকার যা বিশুদ্ধতা (صحة) এবং হাসান (حسن) হওয়ার মধ্যবর্তী। কেননা একদল হাফেজ (حفاظ) এই সূত্রগুলোকে (طرق) সহিহ (صحيح) আখ্যা দেন এবং এগুলোকে সহিহ (صحيح) এর নিম্নতর স্তর বলে অভিহিত করেন।

যাই হোক না কেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকেই সুন্নাহকে ব্যাপকভাবে লিখিত অবস্থায় সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই পাণ্ডুলিপির এক বিশাল প্রভাব ছিল।

যা আমাদের কাছে পরবর্তী পরিচ্ছেদে স্পষ্ট হবে।

পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তু

এই পাণ্ডুলিপির যে অংশটুকু আমরা জানতে পেরেছি, তাতে দুইশরও বেশি হাদিস রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) আল-মুস্তাদরাক: (২/৬৫) কিতাবুল বুয়ু।

(২) আল-মাদখাল ইলা মা'রিফাতি কিতাবিল ইকলিল (পৃষ্ঠা ৬৪)।

(৩) যাহাবি রচিত আল-মুকিজাহ ফি ইলমি মুস্তালাহিল হাদিস: (পৃষ্ঠা ৩২)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস: (পৃষ্ঠা ৩৩)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
في الأدب، والأدعية، وأشراط الساعة، والأشربة والأطعمة والأضحية والعقيقة، والأقضية، والإيمان بالقدر، والأيمان والنذور، والبيعة والبيوع، والترجل، والجزية، والجنائز، والجهاد، والحج والعمرة، والحجر، والحدود، والحضانة، والحلف، وخصائص رسول الله صلى الله عليه وسلم، والديات، والردة، والزكاة، والسفر، والشهادات، والصلاة، والصيد، والطب، والطلاق، والطهارة، والغنائم، والفتن، وفضائل عبد الله بن عمرو، والقتل في الحرم، والقذف، والقضاء، والكفارات، وفي كتابة الحديث، وفي اللباس، واللقطة، والمراء، والمكاتبة، والنسب، والمواريث، والنكاح، والنهي عن المثلة، والهبات والصدقات، والوديعة، والوصايا، ويوم القيامة.

وهذه - كما ترى - موضوعات متعددة وكثيرة، ولهذا احتاج إليها كثير من الفقهاء، وأودعها كثير من المحدثين في مصنفاتهم.

والسنن الأربع فيها الكثير منها؛ في أبي داود (73) حديثاً، والترمذي (32) والنسائي (59) وابن ماجه (69) . ومنها في مسند أحمد (199) حديثاً وفي المحلى لابن حزم (115) والمستدرك للحاكم (90) وسنن البيهقي (121) وسنن الدارقطني (127) ومصنف ابن أبي شيبة (122) ومصنف عبد الرزاق (69) . (1)

--------------------------------------------

(1) صحيفة عمرو بن شعيب لمحمد بن على بن الصديق (ص 133) .
শিষ্টাচার, দুআসমূহ, কিয়ামতের আলামতসমূহ, পানীয় ও খাদ্যদ্রব্য, কুরবানি ও আকিকা, বিচারিক ফয়সালাসমূহ, তকদীরে বিশ্বাস, শপথ ও মানতসমূহ, বায়আত ও ক্রয়-বিক্রয়, সাজসজ্জা, জিজিয়া, জানাজা, জিহাদ, হজ ও উমরা, আর্থিক লেনদেনে বিধি-নিষেধ, দণ্ডবিধি, শিশুর লালন-পালন, মৈত্রীচুক্তি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ, রক্তপণসমূহ, ধর্মত্যাগ, যাকাত, সফর, সাক্ষ্যপ্রদান, নামাজ, শিকার, চিকিৎসা, তালাক, পবিত্রতা, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, ফিতনা বা গোলযোগসমূহ, আবদুল্লাহ ইবনে আমরের মর্যাদা, হারাম শরীফে হত্যা, অপবাদ আরোপ, বিচারকার্য, কাফফারা, হাদিস লিপিবদ্ধকরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু, বাকবিতণ্ডা, দাসের মুক্তিচুক্তি, বংশপরিচয়, উত্তরাধিকার, বিবাহ, মৃতদেহ বিকৃতকরণে নিষেধাজ্ঞা, দান ও সদকা, আমানত, অসিয়ত এবং কিয়ামত দিবস প্রসঙ্গে।

আর এগুলো—যেমনটি আপনি দেখছেন—বহুমুখী ও প্রচুর বিষয়বস্তু; এই কারণেই বহু ফকিহ এই বর্ণনাগুলোর মুখাপেক্ষী হয়েছেন এবং বহু মুহাদ্দিস তাদের সংকলনগুলোতে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

চারটি সুনান গ্রন্থে এগুলোর অনেক বর্ণনা রয়েছে; আবু দাউদে ৭৩টি হাদিস, তিরমিজিতে ৩২টি, নাসায়িতে ৫৯টি এবং ইবনে মাজাহ-তে ৬৯টি। এছাড়াও মুসনাদে আহমাদে ১৯৯টি হাদিস এবং ইবনে হাজমের আল-মুহাল্লা-তে ১১৫টি, হাকেমের আল-মুস্তাদরাক-এ ৯০টি, সুনানে বায়হাকিতে ১২১টি, সুনানে দারাকুতনিতে ১২৭টি, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বায় ১২২টি এবং মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাকে ৬৯টি হাদিস বর্ণিত রয়েছে। (১)

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে সিদ্দিক রচিত 'সহিফাতু আমর ইবনে শুআইব' (পৃষ্ঠা ১৩৩)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وإذا كانت أحاديث أبي هريرة كثيرة فصحيفة عبد الله بن عمرو فيها أكثر، فقد قال أبو هريرة: ما من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أحد أكثر حديثاً عنه، إلا ما كان من عبد الله بن عمرو فإنه كان يكتب ولا أكتب. (1)

ثالثا: صحيفة عمرو بن حزم.

كتبها رسول الله صلى الله عليه وسلم له - كما سبق أن ذكرنا - وهذا الكتاب رواه جمع من الأئمة، وإن كان بعضهم صححه وبعضهم ضعفه، وهذا من ناحية إسناده، ولكنه اشتهر بين العلماء وتناولوه بالقبول، وهذا كافٍ عندهم في صحته. بل قد صححه من حيث إسناده ابن حبان والحاكم.

فإذا كان الذين ضعفوه قالوا: إن في إسناده سليمان بن داود اليمامي، وهو ضعيف. فقد قال ابن حبان بعد أن رواه: "سليمان بن داود هذا هو سليمان بن داود الخَولاني من أهل دمشق، ثقة مأمون، وسليمان بن داود اليمامي لا شيء، وجميعاً يرويان عن الزهري. (2)

وقال الحاكم بعد روايته: هذا حديث كبير مفسر في هذا الباب يشهد له أمير المؤمنين عمر بن عبد العزيز، وإمام العلماء في عصره محمد ابن مسلم الزهري بالصحة، وسليمان بن داود الدمشقي الخولاني معروف بالزهري، وإن كان يحيى بن معين غمزه فقد عَدَّله غيرُه … عن عبد الرحمن بن أبي حاتم قال: سمعت أبي، وسئل عن حديث عمرو بن

--------------------------------------------

(1) خ: (1/57 رقم 113) .

(2) صحيح ابن حبان (الإحسان 14/515) .
আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসসমূহ সংখ্যায় অধিক হলেও আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর সহিফায় তার চেয়েও বেশি হাদিস সংরক্ষিত ছিল। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: "নবী (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ব্যতীত অন্য কারো কাছে আমার চেয়ে বেশি হাদিস ছিল না; কারণ তিনি লিখে রাখতেন, আর আমি লিখতাম না।" (১)

তৃতীয়ত: আমর ইবনে হাযম (রা.)-এর সহিফা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এটি তার জন্য লিখে দিয়েছিলেন—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—এবং এই কিতাবটি একদল ইমাম বর্ণনা করেছেন। যদিও তাদের কেউ কেউ একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন এবং কেউ কেউ একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন, আর এটি সনদের (إسناد) দিক থেকে। কিন্তু এটি আলেমদের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং তারা এটিকে গ্রহণযোগ্যতার সাথে গ্রহণ করেছেন, যা তাদের নিকট এর বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য যথেষ্ট। বরং ইবনে হিব্বান ও হাকেম একে এর সনদের (إسناد) দিক থেকে বিশুদ্ধ (صححه) বলে অভিহিত করেছেন।

সুতরাং যারা একে দুর্বল (ضعفوه) বলেছেন তারা যদি বলে থাকেন যে: এর সনদে (إسناد) সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-ইয়ামামি রয়েছেন, আর তিনি দুর্বল (ضعيف); তবে ইবনে হিব্বান এটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: "এই সুলাইমান ইবনে দাউদ হলেন দামেস্কের অধিবাসী সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-খাওলানি, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون)। আর সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-ইয়ামামি মূল্যহীন (لا شيء); তারা উভয়েই জুহরি থেকে বর্ণনা করেন।" (২)

হাকেম এটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: "এটি এই অধ্যায়ে একটি বিশদ ও ব্যাখ্যামূলক হাদিস, যার বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ এবং তার যুগের আলেমদের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আজ-জুহরি সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর সুলাইমান ইবনে দাউদ আদ-দিমাশকি আল-খাওলানি জুহরির বর্ণনাকারী হিসেবে সুপরিচিত। যদিও ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাকে অভিযুক্ত (غمزه) করেছেন, তবে অন্যগণ তাকে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে সাব্যস্ত (عَدَّله) করেছেন … আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, যখন তাকে আমর ইবনে... এর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি: (১/৫৭ নম্বর ১১৩) ।

(২) সহিহ ইবনে হিব্বান (আল-ইহসান ১৪/৫১৫) ।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
حزم في كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي كتبه له في الصدقات فقال: سليمان بن داود الخولاني عندنا لا بأس به. قال ابن أبي حاتم: وسمعت أبا زرعة يقول ذلك.

ووافقه الذهبي (1) .

وإذا كان بعض العلماء لم يسلم للحاكم وابن حبان قبله بهذا فقد وثقت الصحيفة من حيث شهرتها وقبول العلماء لها:

قال ابن حجر: "وقد صحح الحديث بالكتاب المذكور جماعة من الأئمة، لا من حيث الإسناد بل من حيث الشهرة، فقال الشافعي في رسالته: "لم يقبلوا هذا الحديث حتى ثبت عندهم أنه كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقال ابن عبد البر: هذا كتاب مشهور عن أهل السير، معروف ما فيه عند أهل العلم معرفة يستغني بشهرتها عن الإسناد؛ لأنه أشبه بالتواتر في مجيئه؛ لتلقي الناس له بالقبول والمعرفة. قال: ويدل على شهرته ما روى ابن وهب عن مالك، عن الليث بن سعد، عن يحيى بن سعيد، عن سعيد بن المسيب قال: وجد كتاب عند آل حزم يذكرون أنه كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وقال العقيلي: هذا حديث ثابت محفوظ إلا أنَّا نرى أنه كتاب غير مسموع عمن فوق الزهري.

وقال يعقوب بن سفيان: لا أعلم في جميع الكتب المنقولة كتاباً أصح من كتاب عمرو بن حزم هذا؛ فإن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم والتابعين يرجعون إليه، ويَدَعون رأيهم". (2)

--------------------------------------------

(1) المستدرك (1/395 – 397) .

(2) التلخيص الحبير (4/35-36) .
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকা বিষয়ক যে লিপিটি হাজমের জন্য লিখেছিলেন, সে সম্পর্কে তিনি (আল-হাকিম) বলেন: সুলাইমান বিন দাউদ আল-খাওলানি আমাদের নিকট মন্দ নয় (لا بأس به)। ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আবু জুরআকেও অনুরূপ কথা বলতে শুনেছি।

আর ইমাম আয-যাহাবিও তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন (১)।

যদিও কোনো কোনো আলেম আল-হাকিম এবং তাঁর পূর্বে ইবনে হিব্বানের এই মতটি মেনে নেননি, তবুও এই পাণ্ডুলিপিটি এর প্রসিদ্ধি এবং আলেমদের নিকট গ্রহণযোগ্যতার কারণে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত (وثقت) হয়েছে:

ইবনে হাজার বলেন: "একদল ইমাম উল্লিখিত কিতাবের মাধ্যমে হাদিসটিকে বিশুদ্ধ সাব্যস্ত করেছেন (صحح); এটি সনদের (الإسناد) দিক থেকে নয়, বরং এর প্রসিদ্ধির কারণে। ইমাম শাফেঈ তাঁর রিসালা গ্রন্থে বলেন: 'তারা এই হাদিসটি ততক্ষণ গ্রহণ করেননি, যতক্ষণ না তাদের নিকট এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লিপি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।' ইবনে আবদিল বার বলেন: এটি সীরাত বিশেষজ্ঞদের নিকট একটি প্রসিদ্ধ (مشهور) লিপি। এর বিষয়বস্তু আলেমদের নিকট এমনভাবে পরিচিত যে, এর প্রসিদ্ধিই সনদের (الإسناد) প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। কারণ এর আগমন পদ্ধতি মুতাওয়াতির (بالتواتر) বিষয়ের সদৃশ; যেহেতু মানুষ একে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির সাথে গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন: এর প্রসিদ্ধির প্রমাণ হলো ইবনে ওয়াহাব কর্তৃক মালেক থেকে, তিনি লাইস বিন সাদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে এবং তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াত, যেখানে তিনি বলেন: হাজম পরিবারের কাছে একটি লিপি পাওয়া গেছে, যা তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের লিপি বলে উল্লেখ করেন।

আল-উকাইলি বলেন: এই হাদিসটি সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت) ও সংরক্ষিত (محفوظ), তবে আমাদের মতে এটি এমন একটি লিপি যা যুহরি পরবর্তী কারো নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ করা হয়নি।

ইয়াকুব বিন সুফিয়ান বলেন: বর্ণিত সকল কিতাবের মধ্যে আমর বিন হাজমের এই কিতাবটির চেয়ে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) কোনো কিতাব সম্পর্কে আমার জানা নেই। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এবং তাবিঈগণ এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতেন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত মতামত বর্জন করতেন।" (২)

--------------------------------------------

(1) আল-মুস্তাদরাক (১/৩৯৫-৩৯৭)।

(2) আত-তালখিসুল হাবির (৪/৩৫-৩৬)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুস সুন্নাহ ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াস সাহাবাহ ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويصح هذا الحديث أيضا بشواهده ومتابعاته، كما سنبين بعض ذلك في فصل قادم إن شاء الله عز وجل (1) .

ما في الصحيفة:

رواها الحاكم (2) وابن حبان (3) كاملة، ونورد نصها كما رواها الحاكم:

عن الزهري، عن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم، عن أبيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم: أنه كتب إلى أهل اليمن بكتاب فيه الفرائض، والسنن، والديات، وبعث مع عمرو بن حزم، فقرأت على أهل اليمن وهذه نسختها:

بسم الله الرحمن الرحيم من محمد النبي إلى شُرَحْبيل بن عبد كلال، والحارث بن عبد كلال، ونعيم بن عبد كلال قِيل ذي رُعَيْن، ومعافر، وهمدان أما بعد.. فقد رجع رسولكم وأعطيتم من المغانم خمس الله، وما كتب الله على المؤمنين من العُشْرِ في العقار، ما سقت السماء، أو كان سيحاً أو كان بعلاً ففيه العشر إذا بلغ خمسة أوسق، وما سُقِيَ بالرشاء والدَّاِلية ففيه نصف العشر، إذا بلغ خمسة أوسق.

وفي كل خمس من الإبل السائمة شاة، إلى أن تبلغ أربعاً وعشرين، فإذا زادت واحدة على أربع وعشرين ففيها ابنة مخاض، فإن لم توجد

--------------------------------------------

(1) وانظر شواهد الحديث في تحقيق صحيح ابن حبان (الإحسان 14/502 - 510) وقد اجتهد المحقق اجتهادًا محمودًا، ومأجورًا عليه إن شاء الله عز وجل أن يبين شواهد كل جزء من أجزاء هذا الكتاب في هذه الصفحات.

(2) المستدرك (1/395 - 397) (14) كتاب الزكاة.

(3) الإحسان (14/502 - 511) (60) كتاب التاريخ (7) باب كتب النبي صلى الله عليه وسلم ذكر كِتْبَة المصطفى إلى أهل اليمن.
এই হাদিসটি এর সাক্ষী বর্ণনাসমূহ (شواهد) এবং সমর্থনমূলক বর্ণনাসমূহ (متابعات) দ্বারাও বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি আমরা সামনে একটি অধ্যায়ে এর কিছু অংশ ইনশাআল্লাহ عز وجل বর্ণনা করব (১)।

সহিফায় যা রয়েছে:

এটি ইমাম হাকেম (২) এবং ইবনে হিব্বান (৩) পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা হাকেমের বর্ণনা অনুযায়ী এর মূল পাঠ উল্লেখ করছি:

যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হাজম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে: তিনি ইয়েমেনবাসীদের কাছে একটি পত্র লিখেছিলেন যাতে উত্তরাধিকারের বিধান (فرائض), সুন্নতসমূহ এবং রক্তপণ (ديات) সংক্রান্ত আলোচনা ছিল। তিনি এটি আমর বিন হাজমের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন। অতঃপর তা ইয়েমেনবাসীদের সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং এটি হলো তার অনুলিপি:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। নবী মুহাম্মদের পক্ষ থেকে শুরাহবিল বিন আবদ কুলাল, হারিস বিন আবদ কুলাল এবং নুয়াইম বিন আবদ কুলাল—যিনি যী রুআইন, মাআফির ও হামদানের সর্দার—তাদের প্রতি। অতঃপর... আপনাদের দূত ফিরে এসেছে এবং আপনারা গণিমতের মাল থেকে আল্লাহর নির্ধারিত এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করেছেন। আর মুমিনদের স্থাবর সম্পত্তির ওপর আল্লাহ যা ওশর বা দশমাংশ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তা হলো: যা আকাশের বৃষ্টিতে সিক্ত হয় অথবা যা প্রাকৃতিকভাবে প্রবাহিত পানিতে কিংবা মাটির নিচের আর্দ্রতায় পুষ্ট হয়, তাতে ওশর বা দশমাংশ প্রদান করতে হবে যদি তা পাঁচ ওয়াসাক (أوسق) পরিমাণ হয়। আর যা বালতি বা দুলন্ত পাত্রের সাহায্যে সেচ দেওয়া হয়, তাতে নিসফে-ওশর বা বিশাংশ (نصف العشر) প্রদান করতে হবে যদি তা পাঁচ ওয়াসাক (أوسق) পরিমাণ হয়।

আর প্রত্যেক পাঁচটি বিচরণকারী (سائمة) উটের জন্য একটি বকরি প্রদান করতে হবে, যতক্ষণ না তা চব্বিশটি পর্যন্ত পৌঁছায়। যখন চব্বিশের চেয়ে একটি বৃদ্ধি পাবে, তখন তাতে একটি বিনতে মাখাদ (ابنة مخاض) বা এক বছর বয়সী মাদি উট প্রদান করতে হবে। যদি তা পাওয়া না যায়...

--------------------------------------------

(১) হাদিসটির সাক্ষী বর্ণনাসমূহ (شواهد) দেখার জন্য দেখুন: তাহকীক সহিহ ইবনে হিব্বান (আল-ইহসান ১৪/৫০২ - ৫১০)। মুহাক্কিক এখানে প্রশংসনীয় পরিশ্রম করেছেন এবং আল্লাহ চাহেন তো তিনি এর জন্য প্রতিদান পাবেন যে, তিনি এই বইয়ের প্রতিটি অংশের সাক্ষী বর্ণনাসমূহ (شواهد) এই পৃষ্ঠাগুলোতে স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।

(২) আল-মুস্তাদরাক (১/৩৯৫ - ৩৯৭), (১৪) কিতাবুয যাকাত।

(৩) আল-ইহসান (১৪/৫০২ - ৫১১), (৬০) কিতাবুত তারিখ, (৭) পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্রসমূহ, ইয়েমেনবাসীদের প্রতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্রের বর্ণনা।