(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
كتابة الحديث في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته وأثرها في حفظ السنة النبوية القسم: علوم الحديث
الكتاب: كتابة الحديث في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته وأثرها في حفظ السنة النبوية
المؤلف: أحمد بن معبد بن عبد الكريم بن سليمان بن حسن كُلَيْبَاتِى
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 44
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণের যুগে হাদিস লিখন এবং সুন্নাহে নববী সংরক্ষণে এর প্রভাব বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণের যুগে হাদিস লিখন এবং সুন্নাহে নববী সংরক্ষণে এর প্রভাব
লেখক: আহমদ বিন মাবাদ বিন আব্দুল কারীম বিন সুলাইমান বিন হাসান কুলাইবাতি
প্রকাশক: কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর দ্য প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন, মদিনা মুনাওয়ারা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وبعد..
فإن العناية بتلقي السنة النبوية المطهرة عن مصدرها المباشر، وهو الرسول صلى الله عليه وسلم، ثم عن صحابته الكرام فمن بعدهم، قد توافر فيها ثلاثة جوانب، متزامنة، ومتكاملة، وهي:
1- حفظ الصدور 2- حفظ السطور
3- حفظ التطبيق العملي بالقلوب والجوارح آناء الليل والنهار.
وتناول مسيرة هذه الجوانب الثلاثة بالتفصيل وبيان مظاهرها وثمارها يضيق عنه المقام، وليس من مطالب هذا البحث.
حيث إن مقصوده هو تناول معالم فترة معينة في جانب معين وهو كتابة الحديث في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، وصحابته رضي الله عنهم وأثرها في حفظ السنة المطهرة، وذلك لأن هذا الجانب في هذه الفترة قد خفي الكثير من حقائقه على عدد غير قليل من الباحثين الشرقيين والمستشرقين، وبالتالي اختلفت الأنظار حوله حتى وجهت إلى السنة المطهرة بسبب التصور الخاطئ له بعض الانتقادات المغرضة، كما سنشير إلى ذلك في موضعه من هذا البحث إن شاء الله.
ভূমিকা:সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ রাসুল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
অতঃপর..
পবিত্র সুন্নাহকে তার সরাসরি উৎস অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে, এরপর তাঁর সম্মানিত সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী অনুসারীদের থেকে গ্রহণের ক্ষেত্রে যে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে, তাতে তিনটি যুগপৎ ও পরিপূরক দিক বিদ্যমান ছিল। সেগুলো হলো:
১- অন্তরে সংরক্ষণ ২- লেখনীতে সংরক্ষণ
৩- দিবা-রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে ব্যবহারিক প্রয়োগে সংরক্ষণ।
এই তিনটি ধারার বিস্তারিত পরিক্রমা এবং এদের স্বরূপ ও ফলাফল আলোচনা করার অবকাশ এখানে নেই, আর তা এই গবেষণার মূল প্রতিপাদ্যও নয়।
বরং এর উদ্দেশ্য হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি বিশেষ দিকের গতিপ্রকৃতি আলোচনা করা; আর তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগে হাদিস লিখন এবং পবিত্র সুন্নাহ সংরক্ষণে তার প্রভাব। কেননা এই সময়ের এই বিশেষ দিকটির অনেক বাস্তবতা বহু সংখ্যক প্রাচ্য গবেষক ও প্রাচ্যবিদদের নিকট অস্পষ্ট থেকে গেছে। ফলে এ নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি হয়েছে, এমনকি এই বিষয়ে ভুল ধারণার কারণে পবিত্র সুন্নাহর ওপর কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনাও করা হয়েছে, যা আমরা ইনশাআল্লাহ এই গবেষণার যথাস্থানে উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
تمهيد:الأُمِيُّون وحفظ السنة في الصدور:
يقول الله عز وجل: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] . والذكر هنا هو القرآن الكريم، وقد قررت هذه الآية بوضوح وتأكيد أن الله تعالى بعظمته العليا كما تفرد بإنزاله على رسوله الكريم، فقد تفرد أيضا بحفظه وصيانته العامة الأبدية من أي تحريف أو دخيل، ومن لوازم حفظه
-سبحانه- لكتابه العظيم، أنه حفظ أيضًا سنة رسوله صلى الله عليه وسلم التي جعلها بيانا له معصوما من الخطأ، لصدوره من مقام النبوة الذي لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى، ولما كانت بداية بعثته صلى الله عليه وسلم في الأميين لحكم سامية، فإن المرحلة الأولى لتلك البعثة قد شاعت فيها أمية القراءة والكتابة بلغة العرب التي اختارها -الله تعالى- لتكون لغة القرآن الكريم، ولم تكن تلك الأمية مثل أمية عصورنا هذه التي تحول بين صاحبها وبين سلامة النطق واستقامة الفهم لما يسمعه، بل كان من دلائل نبوته صلى الله عليه وسلم كونه أميًا، وكان الأمي من العرب الخلص يتمتع بسليقة أصيلة تجعله ينطق العربية نطقًا صحيحًا، ويفهمها فهمًا سديدًا.
كما كان العربي الأمي يتمتع أيضًا بحافظة تفوق قوتها ودقتها الوصف بحيث جعل الغالب فيهم تعويله الأصلي عليها بما يعوضه في غالب أمره عن حفظ الكتابة والقراءة، بل إن محمد بن عكرمة بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام قال:"كان ابن شهاب يختلف إلى الأعرج -يعني عبد الرحمن بن هرمز صاحب أبي هريرة فيسأله الحديث، ثم يأخذ قطعة ورق فيكتب بها ثم يتحفظ،
উপস্থাপনা:নিরক্ষরগণ এবং অন্তরে সুন্নাহর সংরক্ষণ:
মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আমিই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক} [আল-হিজর: ৯]। আর এখানে যিকর বলতে পবিত্র কুরআনকে বোঝানো হয়েছে। এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে এবং জোরালোভাবে সাব্যস্ত করেছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর সুউচ্চ মহিমায় যেমন তাঁর সম্মানিত রাসূলের ওপর এটি নাযিল করার ক্ষেত্রে একক, তেমনি যে কোনো বিকৃতি বা অনুপ্রবেশ থেকে এর চিরস্থায়ী সাধারণ সুরক্ষা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও তিনি একক। মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর মহান কিতাব সংরক্ষণের একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলো এই যে, তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকেও সংরক্ষণ করেছেন, যাকে তিনি এই কিতাবের ব্যাখ্যা হিসেবে ভুল থেকে সুরক্ষিত (معصوم) করেছেন; যেহেতু তা নবুওয়াতের মাকাম থেকে নির্গত হয়েছে, যা নিজের খেয়ালখুশি থেকে কথা বলে না, বরং তা তো কেবল প্রত্যাদেশ (وحي), যা নাযিল করা হয়। যখন তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের সূচনা কিছু সুউচ্চ হিকমতের কারণে নিরক্ষরদের মধ্যে হয়েছিল, তখন সেই নবুওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়ে আরবদের ভাষায় লিখন ও পঠনের নিরক্ষরতা ব্যাপক ছিল, যে ভাষাকে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের ভাষা হিসেবে মনোনীত করেছেন। আর সেই নিরক্ষরতা বর্তমান যুগের নিরক্ষরতার মতো ছিল না, যা ব্যক্তির সঠিক উচ্চারণ এবং শ্রবণকৃত বিষয়ের যথাযথ উপলব্ধির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়; বরং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিরক্ষর হওয়া ছিল তাঁর নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন। আর বিশুদ্ধ আরবদের মধ্যে যারা নিরক্ষর ছিলেন, তারা এমন এক সহজাত প্রকৃতির অধিকারী ছিলেন যা তাদের আরবি ভাষাকে সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে এবং তা যথাযথভাবে বুঝতে সাহায্য করত।
তেমনি নিরক্ষর আরবরা এমন প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন যার শক্তি ও নির্ভুলতা বর্ণনাতীত; যা তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে লেখা এবং পড়ার অভাব পূরণ করার জন্য এর ওপরই মৌলিক নির্ভরতা সৃষ্টি করেছিল। এমনকি মুহাম্মদ ইবনে ইকরিমাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-হারিস ইবনে হিশাম বলেন: "ইবনে শিহাব আল-আরাজ—অর্থাৎ আবু হুরায়রার সাথী আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজের নিকট যাতায়াত করতেন এবং তাকে হাদিস জিজ্ঞাসা করতেন, তারপর একটি কাগজের টুকরো নিয়ে তাতে লিখে নিতেন এবং এরপর তা মুখস্থ (تحفظ) করতেন।"
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
فإذا حفظ الحديث مزق الرقعة". وفي رواية: كنا نأتي الأعرج ويأتيه ابن شهاب، فنكتب، ولا يكتب ابن شهاب، فربما كان الحديث فيه طول فيأخذ ابن شهاب ورقة من ورق الأعرج ثم يكتب، ثم يقرأ، ثم يمحوه مكانه، وربما قام بما معه فيقرؤها ثم يمحوها (1) .
وروى الفسوي في تاريخه من طريق عبد الرحمن بن سلمة الجمحي قال: سمعت عبد الله بن عمرو بن العاص يحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثًا فكتبته، فلما حفظته محوته: "قد أفلح من أسلم وكان رزقه كفافًا وصبر على ذلك" (2) .
ومن هذا يستفاد أهمية الحفظ للسنة في الصدور ومدى الاعتماد عليه في عهد الصحابة والتابعين.
--------------------------------------------
"অতঃপর যখন তিনি হাদিস মুখস্থ (حفظ) করে ফেলতেন, তখন চিরকুটটি ছিঁড়ে ফেলতেন।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "আমরা আল-আ'রাজ-এর নিকট আসতাম এবং ইবনে শিহাবও তাঁর নিকট আসতেন; আমরা লিখতাম, কিন্তু ইবনে শিহাব লিখতেন না। অনেক সময় হাদিসটি দীর্ঘ হতো, তখন ইবনে শিহাব আল-আ'রাজ-এর কাগজগুলো থেকে একটি পাতা নিতেন এবং লিখতেন, অতঃপর তা পাঠ করতেন এবং তৎক্ষণাৎ তা মুছে ফেলতেন। আবার কখনও তিনি যা লিখেছেন তা নিয়েই উঠে পড়তেন এবং পাঠ করার পর তা মুছে ফেলতেন (১)।"
আল-ফাসাবি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে আব্দুর রহমান বিন সালামাহ আল-জুমাহি-এর সূত্রে (طريق) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি, তখন আমি তা লিখে নিয়েছিলাম। অতঃপর যখন আমি তা মুখস্থ (حفظ) করে ফেললাম, তখন তা মুছে ফেললাম। হাদিসটি হলো: "ঐ ব্যক্তি সফল হয়েছে যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, যার জীবিকা হয়েছে পর্যাপ্ত এবং সে তার ওপর ধৈর্য ধারণ করেছে" (২)।
এ থেকে অন্তরে সুন্নাহ মুখস্থ (حفظ) করে রাখার গুরুত্ব এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের যুগে এর ওপর নির্ভরতার বিষয়টি অনুধাবন করা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
كتابة الحديث في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته وأثرها في حفظ السنة
إعداد الأستاذ الدكتور/ أحمد معبد عبد الكريم
بسم الله الرحمن الرحيم
المبحث الأول: الإذن النبوي العام لمن سمع منه صلى الله عليه وسلم أن يكتب ما سمع ورد الشبه عن ذلك إجمالالكن رغم هذا فإن الرسول صلى الله عليه وسلم استعمل الكتابة وأذن في استعمالها في حفظ السنة النبوية طالما توافر تمييزها عن المكتوب من القرآن الكريم من جهة، وكانت الكتابة محققة لغاية الحفظ المطلوب للسنة أو لتبليغها للغير من جهة أخرى.
وبهذا صارت السنة النبوية تحفظ عن الرسول صلى الله عليه وسلم وعن صحابته بطريقين متكاملين ومتزامنين في أوقات كثيرة.
الأولى: طريقة التلقي بالسماع أو المشاهدة أو غيرهما، وحفظ المُتلَقّي في الذاكرة فقط دون كتابة.
والثانية: طريقة الكتابة بجانب الحفظ في الذاكرة وذلك في ما كان متيسرًا مما يكتب عليه حينذاك، من العظام والجلود والأوراق.
لكن هذه الطريقة الثانية لم تأخذ حظًا كافيًا من إظهار دلائلها وصور العناية بها، وتعداد من قام بها من الصحابة والتابعين في مباحث خاصة بذلك، ولعل ذلك لأنها لم تكن محل شك أو إنكار في عصور تدوين السنة في مصنفات خلال القرن الثاني والثالث.
لكن جاء في العصور المتأخرة غير واحد، ممن ينسبون إلى البحث والاطلاع والتمحيص ينتقدون السنة النبوية من جهة عدم العناية بكتابتها وتدوين مروياتها وتصنيفها في مصنفات متداولة إلا في وقت متأخر عن عصر الرسول صلى الله عليه وسلم وصحابته، ويرتبون على ذلك الزعم بكثرة الدخيل فيها عند
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবিদের যুগে হাদিস লিখন এবং সুন্নাহ সংরক্ষণে এর প্রভাব
প্রস্তুতিতে: অধ্যাপক ড. আহমদ মাবাদ আব্দুল কারিম
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যারা শ্রবণ করেছেন তাদের জন্য শোনা কথাগুলো লিখে রাখার সাধারণ অনুমতি এবং এই সংক্রান্ত সংশয়গুলোর সামগ্রিক নিরসনতা সত্ত্বেও, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিখন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং সুন্নাহ সংরক্ষণে তা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন; যতক্ষণ একদিকে পবিত্র কুরআনের লিখিত অংশের সাথে এর পার্থক্যের নিশ্চয়তা ছিল এবং অন্যদিকে এই লিখন পদ্ধতি সুন্নাহর কাঙ্ক্ষিত সংরক্ষণ বা অন্যদের নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্য সফল করছিল।
এর ফলে সুন্নাহ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবিদের কাছ থেকে দুটি পরিপূরক এবং বহুলাংশে সমসাময়িক পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হতে থাকে।
প্রথমটি: শ্রবণ (سماع) বা প্রত্যক্ষকরণ (مشاهدة) অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে গ্রহণ (تلقي) করার পদ্ধতি এবং গ্রহণকারী কর্তৃক লিখন ব্যতিরেকে শুধুমাত্র স্মৃতিতে তা সংরক্ষণ করা।
দ্বিতীয়টি: স্মৃতিতে সংরক্ষণের পাশাপাশি লিখন পদ্ধতি, যা সেই সময়ে সহজলভ্য হাড়, চামড়া ও কাগজের ওপর সম্পন্ন হতো।
কিন্তু এই দ্বিতীয় পদ্ধতিটি—অর্থাৎ এর প্রমাণাদি উপস্থাপন, এর প্রতি যত্নের স্বরূপ এবং সাহাবি ও তাবেয়িদের (تابعين) মধ্যে যারা এই কাজ সম্পন্ন করেছেন তাদের সংখ্যা নিরূপণের ক্ষেত্রে—স্বতন্ত্র গবেষণায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। সম্ভবত এর কারণ ছিল এই যে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে বিভিন্ন সংকলনে সুন্নাহর লিপিবদ্ধকরণের (تدوين) যুগে এটি কোনো সন্দেহ বা অস্বীকৃতির বিষয় ছিল না।
তবে পরবর্তী যুগে গবেষণা, অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার দাবিদার এমন একাধিক ব্যক্তি সুন্নাহর সমালোচনা করেছেন। তাদের সমালোচনার ভিত্তি হলো—নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবিদের যুগের অনেক পরে ছাড়া সুন্নাহর বর্ণনাগুলো (مرويات) লিপিবদ্ধকরণ (تدوين) এবং প্রচলিত গ্রন্থাবলিতে সংকলন (تصنيف) করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি। এই দাবির ওপর ভিত্তি করে তারা সুন্নাহর মধ্যে অনুপ্রবেশকারী (دخيل) উপাদানের আধিক্যের অভিযোগ তোলেন...
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
تصنيفها المتأخر عن عصر النبوة والصحابة.
وقد نهض -بحمد الله- من الباحثين المخلصين مَن ناقش هذه الانتقادات وردها جملة وتفصيلاً بالأدلة المناسبة، وذلك مثل الشيخ المعلمي رحمه الله في كتاب: "الأضواء الكاشفة" والدكتور محمد عجاج الخطيب في كتابه: "السنة قبل التدوين" يعني قبل كتابتها كتابة عامة بأمر الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز في مدونات جامعة، والأستاذ الدكتور محمد مصطفى الأعظمي في كتابه: "دراسات في الحديث النبوي" (1) وغير هؤلاء كثير.
وما أقدمه اليوم هو مساهمة متواضعة في البيان الواقعي للعناية الظاهرة بكتابة السنة النبوية في عصره صلى الله عليه وسلم وعصر صحابته الكرام، مع الإذن العام في ذلك فمن وقائع عنايته صلى الله عليه وسلم بكتابة السنة: ما رواه رافع بن خديج رضي الله عنه قال: مر علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم يومًا ونحن نتحدث فقال: "ما تحدثون؟ " فقلنا: ما سمعنا منك يا رسول الله، قال: "تحدثوا وليتبوأ مقعده مَن كذب عليَّ من جهنم" ومضى لحاجته، وسكت القوم فقال: "ما شأنهم لا يتحدثون؟ " قالوا: للذي سمعناه منك يا رسول الله. قال: "إني لم أرد ذلك، إنما أردت مَن تعمد ذلك" فتحدثنا، قال: قلت: يا رسول الله إنا نسمع منك أشياء أفنكتبها؟ قال: "اكتبوا ذلك ولا حرج" (2) .
--------------------------------------------
নবুওয়াত ও সাহাবায়ে কেরামের যুগের পরবর্তী সময়ে এগুলোর সংকলন হওয়া।
আল্লাহর প্রশংসায়—নিষ্ঠাবান গবেষকদের মধ্য থেকে এমন অনেকে এগিয়ে এসেছেন যারা উপযুক্ত দলিলের মাধ্যমে এই সমালোচনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সামগ্রিকভাবে ও বিস্তারিতভাবে তা খণ্ডন করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ আল-মুয়াল্লিমী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-আদওয়াউল কাশিফাহ' গ্রন্থে, ডক্টর মুহাম্মদ আজ্জাজ আল-খতীব তাঁর 'আস-সুন্নাহ কবলাত তাদউইন' গ্রন্থে—অর্থাৎ খলিফায়ে রাশেদ উমর বিন আব্দুল আজিজের আদেশে ব্যাপক সংকলন হিসেবে লিখিত হওয়ার পূর্বের সময়কাল সম্পর্কে—এবং প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ মোস্তফা আল-আযামী তাঁর 'দিরাসাত ফিল হাদিস আন-নাবাবী' (১) গ্রন্থে। এছাড়া আরও অনেকে রয়েছেন।
আজ আমি যা পেশ করছি তা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের যুগে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার প্রতি স্পষ্ট গুরুত্ব প্রদানের বাস্তব বর্ণনায় একটি বিনীত প্রচেষ্টা। এই বিষয়ে সাধারণ অনুমতির সাথে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার প্রতি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গুরুত্ব প্রদানের অন্যতম ঘটনা হলো—রাফে বিন খাদিজ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমরা কথা বলছিলাম। তিনি বললেন: "তোমরা কী নিয়ে আলোচনা করছো?" আমরা বললাম: "হে আল্লাহর রাসুল, আপনার থেকে যা শুনেছি তা নিয়ে।" তিনি বললেন: "তোমরা আলোচনা করো, তবে যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এরপর তিনি তাঁর প্রয়োজনে চলে গেলেন। উপস্থিত লোকজন চুপ হয়ে গেল। তিনি পুনরায় এসে বললেন: "তাদের কী হলো যে তারা কথা বলছে না?" তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসুল, আপনার থেকে যা শুনলাম তার কারণে।" তিনি বললেন: "আমি তো ওই উদ্দেশ্য বুঝাইনি, বরং আমি বুঝিয়েছি যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা করবে।" তখন আমরা আলোচনা শুরু করলাম। আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আপনার থেকে অনেক কিছু শুনি, আমরা কি তা লিখে রাখব?" তিনি বললেন: "তা লিখে রাখো, এতে কোনো সমস্যা নেই" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وفي الحديث كما نرى أمر بمعنى الإذن في كتابة الحديث عمومًا مع اجتناب الكذب عليه صلى الله عليه وسلم قولاً وكتابة.
وللحديث شواهد منها:
ما أخرجه الحاكم في المستدرك (1/106) من طريق عبد الله بن المؤمل، والنسائي في الكبرى (التحفة 3/ 8885) من طريق الوليد بن مسلم، كلاهما عن ابن جريج عن عطاء بن أبي رباح، عن عبد الله بن عمرو بن العاص- رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "قيدوا العلم" قلت: وما تقييده؟ قال: "كتابته".
وروي الحديث عن أنس رضي الله عنه مرفوعًا وموقوفًا (1) وتضعيف المرفوع ينجبر بالشاهد السابق والآتي.
ولفظ رواية النسائي: إن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: يا رسول الله إنا نسمع منك أحاديث أفتأذن لنا أن نكتبها؟ قال: "نعم" فكان أول ما كَتبَ: كتاب النبي صلى الله عليه وسلم إلى أهل مكة. "لا يجوز شرطان في بيع واحد، ولا بيع وسلف جميعًا
…" الحديث.
وما في سند هذا الحديث من عنعنة ابن جريج ينجبر بباقي الطرق
--------------------------------------------
এই হাদিসে যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি, মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি মিথ্যা আরোপ পরিহার সাপেক্ষে সাধারণভাবে হাদিস লিপিবদ্ধ করার অনুমতির অর্থে একটি নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এই হাদিসের কিছু সমর্থনকারী বর্ণনা (شواهد) রয়েছে, যার মধ্যে কিছু হলো:
যা হাকেম আল-মুস্তাদরাক (১/১০৬)-এ আবদুল্লাহ বিন আল-মুআম্মাল-এর সূত্রে এবং নাসায়ি আস-সুনান আল-কুবরা (আত-তুহফাহ ৩/৮৮৮৫)-এ ওয়ালিদ বিন মুসলিম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা বিন আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা জ্ঞানকে আবদ্ধ করো।" আমি জিজ্ঞাসা করলাম: একে আবদ্ধ করার পদ্ধতি কী? তিনি বললেন: "তা লিখে রাখা।"
হাদিসটি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু (مرفوعًا) এবং মাওকুফ (موقوفًا) (১) উভয় প্রকারেই বর্ণিত হয়েছে। মারফু বর্ণনার দুর্বলতা (تضعيف) পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমর্থনকারী বর্ণনার (شاهد) মাধ্যমে দূরীভূত হয়।
নাসায়ি-এর বর্ণনার পাঠ হলো: আবদুল্লাহ বিন আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার থেকে অনেক হাদিস শ্রবণ করি, আপনি কি আমাদের তা লিখে রাখার অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" সুতরাং তিনি সর্বপ্রথম যা লিখেছিলেন তা হলো মক্কাবাসীদের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পত্র: "একই বিক্রয় চুক্তিতে দুটি শর্ত বৈধ নয় এবং একই সাথে বিক্রয় ও ঋণ প্রদান জায়েজ নেই…" হাদিসটি।
এই হাদিসের সনদ (سند)-এ ইবনে জুরাইজ-এর আন’আনাহ (عنعنة) জনিত যে বিষয়টি রয়েছে, তা অন্যান্য সূত্রের (الطرق) মাধ্যমে দূরীভূত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
السابقة واللاحقة فيرتقي إلى الصحيح لغيره (1) وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: كنت أكتب كل شيء أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم فنهتني قريش، وقالوا: تكتب كل شيء تسمعه ورسول الله صلى الله عليه وسلم بشر يتكلم في الغضب والرضا؟ فأمسكت عن الكتابة، فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فأومأ بإصبعه إلى فيه فقال: "اكتب فوالذي نفسي بيده ما يخرج منه إلا حق" (2) .
وأخرج البخاري في صحيحه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: ما من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أحد أكثر حديثًا عنه مني إلا ما كان من عبد الله بن عمرو فإنه كان يكتب ولا أكتب (3) .
وفي رواية لأحمد وغيره أن أبا هريرة رضي الله عنه قال: إلا ما كان من عبد الله بن عمرو فإنه كان يكتب بيده ويعي بقلبه، وكنت أعي ولا أكتب بيدي، واستأذن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الكتابة فأذن له (4) .
وبهاتين الروايتين ينجبر ضعف غيرهما مما تقدم، من حديث رافع بن خديج وأنس وبعض طرق حديث عبد الله بن عمرو ويكون ما ذكره الشيخ رشيد رضا رحمه الله في مجلة المنار (5) وتابعه غيره (6) من الاقتصار على تضعيف بعض طرق حديث عبد الله بن عمرو، وحديث أنس -رضي الله
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী [বর্ণনাগুলোর] মাধ্যমে এটি লিগাইরিহি সহিহ (الصحيح لغيره) স্তরে উন্নীত হয় (১)। এবং আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে যা কিছু শুনতাম তা লিখে রাখতাম। তখন কুরাইশরা আমাকে নিষেধ করল এবং বলল: তুমি কি যা কিছু শোনো তাই লিখে রাখো? অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন মানুষ; তিনি রাগান্বিত ও সন্তুষ্ট উভয় অবস্থাতেই কথা বলেন। তখন আমি লেখা বন্ধ করে দিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তখন তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে তাঁর পবিত্র মুখের দিকে ইশারা করে বললেন: "তুমি লেখো। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এখান থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না" (২)।
এবং ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে আবদুল্লাহ বিন আমর ব্যতীত আর কেউ আমার চেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন না। কেননা তিনি লিখে রাখতেন আর আমি লিখতাম না (৩)।
এবং আহমদ ও অন্যদের একটি বর্ণনায় এসেছে যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: কেবল আবদুল্লাহ বিন আমরের বিষয়টি ভিন্ন ছিল; কেননা তিনি নিজ হাতে লিখতেন এবং হৃদয়ে ধারণ করতেন, আর আমি হৃদয়ে ধারণ করতাম কিন্তু হাতে লিখতাম না। আর তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে লেখার অনুমতি প্রার্থনা করেছিলেন এবং তিনি তাঁকে অনুমতি দিয়েছিলেন (৪)।
আর এই দুটি বর্ণনার মাধ্যমে পূর্বে বর্ণিত অন্যান্য বর্ণনার দুর্বলতা (ضعف) দূরীভূত হয়, যেমন রাফে ইবনে খাদিজ ও আনাস (রা.)-এর হাদিস এবং আবদুল্লাহ বিন আমরের হাদিসের কিছু সূত্র (طرق)। শায়খ রশিদ রেজা (রহ.) আল-মানার ম্যাগাজিনে (৫) এবং পরবর্তীতে অন্যরা (৬) যে মত ব্যক্ত করেছেন—যেখানে তাঁরা আবদুল্লাহ বিন আমরের হাদিসের কিছু সূত্র (طرق) এবং আনাস (রা.)-এর হাদিসের দুর্বল সাব্যস্তকরণের (تضعيف) ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন— [রাজিয়াল্লাহু আনহু...]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
عنه- مِنْ بعض طرقه مردود عليه بوجود ما يشهد له من الصحيح والحسن كما ترى.
كما أن حديث أبي هريرة السابق ينبغي أن يلاحظ فيه أمران متعلقان بموضوعنا:
الأمر الأول: المنافسة الظاهرة بين أبي هريرة وبين عبد الله بن عمرو رضي الله عنهم في حفظ ما تلقياه عن الرسول صلى الله عليه وسلم بما يدل على علو همة مَنْ تصدَّى لهذه المهمة من الصحابة الكرام، وحرصه على القيام بها على أتم وجه.
الأمر الثاني: توافر عوامل طريقتي الحفظ معًا وهما حفظ الصدور من أبي هريرة، وحفظ الصدور والسطور من عبد الله بن عمرو -رضي الله عن الجميع- بحيث لا يُظن من اقتصار أبي هريرة عن حفظ الصدور أن محصلته كانت أقل أو ضبطه كان أضعف.
وذلك لأن ابن الجوزي وغيره ذكروا أن أبا هريرة قد رُوي عنه (5374) حديثًا (1) في حين ذكروا أن عبد الله بن عمرو قد روي عنه (700) حديث وقيل أقل من ذلك (2) .
كما أن أبا هريرة أتيحت له فرصة ذهبية جعلت لحفظه مزية عليا حيث إن رسول الله صلى الله عليه وسلم حدَّث يومًا وقال: " أيكم يبسط ثوبه فيأخذ من حديثي هذا، ثم يجمعه إلى صدره، فإنه لم ينس شيئًا سمعه؟ " قال أبو هريرة: فبسطت بردة عليّ حتى فرغ من حديثه، ثم جمعتها إلى صدري فما نسيت
--------------------------------------------
তার বর্ণিত কিছু সূত্রের প্রেক্ষিতে তার ওপর যে আপত্তি করা হয়েছে তা প্রত্যাখ্যাত (مردود); কারণ তার স্বপক্ষে সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) পর্যায়ের সাক্ষ্য বা সমর্থনকারী বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে, যেমনটি আপনি দেখছেন।
অনুরূপভাবে, আবু হুরায়রা বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসের ক্ষেত্রে আমাদের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট দুটি বিষয় লক্ষ্য করা উচিত:
প্রথম বিষয়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে যা গ্রহণ করেছেন তা মুখস্থ করার ক্ষেত্রে আবু হুরায়রা ও আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্যে প্রকাশ্য প্রতিযোগিতা; যা সেইসব সম্মানিত সাহাবীদের সুউচ্চ সংকল্পের প্রমাণ দেয় যারা এই মহান দায়িত্ব পালনে ব্রতী হয়েছিলেন এবং তা পূর্ণাঙ্গভাবে আঞ্জাম দিতে সচেষ্ট ছিলেন।
দ্বিতীয় বিষয়: মুখস্থ রাখার উভয় পদ্ধতির উপাদানের সমন্বয়। আবু হুরায়রার ক্ষেত্রে ছিল স্মৃতিতে সংরক্ষণ (حفظ الصدور), আর আবদুল্লাহ ইবনে আমরের ক্ষেত্রে ছিল স্মৃতি ও লেখনী উভয় মাধ্যমে সংরক্ষণ (حفظ الصدور والسطور) -আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন- ফলে আবু হুরায়রা কেবল স্মৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন বলে যেন এমন মনে করা না হয় যে, তার সংগৃহীত হাদিসের পরিমাণ কম ছিল অথবা তার নির্ভুলতা ও ধারণক্ষমতা (ضبط) দুর্বল (أضعف) ছিল।
এর কারণ হলো ইবনুল জাওযি ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, আবু হুরায়রা থেকে ৫৩৭৪টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে (১), যেখানে তারা উল্লেখ করেছেন যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে ৭০০টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, আবার কারো মতে এর চেয়েও কম (২)।
এছাড়া আবু হুরায়রা একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন যা তার মুখস্থ রাখার বিষয়টিকে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য দান করেছে। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কে আছে যে তার কাপড় বিছিয়ে দিবে এবং আমার এই কথাগুলো গ্রহণ করবে, এরপর তা নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিবে, তবে সে যা শুনেছে তার কিছুই ভুলবে না?" আবু হুরায়রা বললেন: অতঃপর আমি আমার চাদরটি বিছিয়ে দিলাম যতক্ষণ না তিনি তার কথা শেষ করলেন। এরপর আমি তা আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম, ফলে আমি আর কিছুই ভুলিনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بعد ذلك اليوم شيئا حدثني به (1) . ومن أجل ذلك قال الذهبي: كان حفظ أبي هريرة الخارق، من معجزات النبوة (2) ، وشهد له به غير واحد من الصحابة عن رؤية ومعايشة علمية، واختبار (3) .
--------------------------------------------
ঐ দিনের পর তিনি আমাকে যা কিছু বর্ণনা করেছেন (১)। আর এই কারণেই আয-যাহাবি বলেছেন: আবু হুরায়রা-র অসাধারণ স্মৃতিশক্তি (حفظ) ছিল নবুওয়াতের অন্যতম মুজিযা (معجزات) (২); আর একাধিক সাহাবী চাক্ষুষ দর্শন, ইলমি সান্নিধ্য এবং পরীক্ষানিরীক্ষার (اختبار) (৩) ভিত্তিতে তাঁর এই যোগ্যতার সাক্ষ্য দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثاني: مما كتبه وصنفه الصحابةقد سبق أن ذكرت أن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قد أذن له الرسول صلى الله عليه وسلم بأن يكتب عنه كل ما يصدر منه في كافة أحواله من الغضب والرضا، وأن العلماء استدلوا بهذا على جواز ذلك أيضًا لغير عبد الله ابن عمرو من الصحابة.
وقد جاء عن عبد الله بن عمرو نفسه ما يفيد وقوع ذلك فعلاً، فعن أبي قبيل المعافري قال: كنا عند عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنه وسُئِل: أي المدينتين تفتح أولاً: القسطنطينية (1) أو رُومِيَّة؟ (2) ، قال: فدعا عبد الله بن عمرو بصندوق له حَلَق، قال: فأخرج منه كتابًا فجعل يقرؤه، قال: فقال عبد الله: بينما نحن حول رسول الله صلى الله عليه وسلم نكتب، إذ سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم أي المدينتين تفتح أولاً: قسطنطينية أو رومية؟
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "بل مدينة هرقل أولاً تفتح" (3) يعني القسطنطينية.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবীগণের লিখনী ও সংকলনসমূহইতিপূর্বে আমি উল্লেখ করেছি যে, আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর থেকে যা কিছু প্রকাশ পায়—রাগ বা সন্তুষ্টির সকল অবস্থায়—তা লিখে রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন। আর ওলামায়ে কেরাম এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবন আমর ছাড়া অন্যান্য সাহাবীগণের জন্যও তা জায়েয হওয়ার দলিল পেশ করেছেন।
স্বয়ং আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে এটি বাস্তবে ঘটার প্রমাণ পাওয়া যায়। আবু কবিল আল-মাআফিরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট ছিলাম। তাঁকে প্রশ্ন করা হলো: কোন শহরটি আগে বিজিত হবে: কনস্টান্টিনোপল (১) না রোম? (২) বর্ণনাকারী বলেন: তখন আবদুল্লাহ ইবন আমর কড়া লাগানো একটি সিন্দুক আনতে বললেন। তিনি সেটি থেকে একটি কিতাব বের করে পড়তে শুরু করলেন। তিনি বললেন: আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চারপাশে বসে লিখছিলাম, তখন তাঁকে প্রশ্ন করা হলো: কোন শহরটি আগে বিজিত হবে: কনস্টান্টিনোপল না রোম?
অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "বরং হিরাক্লিয়াসের শহরটি আগে বিজিত হবে" (৩), অর্থাৎ কনস্টান্টিনোপল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وتقدم في حديث عبد الله بن عمرو هذا أيضًا: قلت: يا رسول الله إنا نسمع منك أحاديث لا نحفظها، أفلا نكتبها؟ قال: "بلى فاكتبوها" فمن قول عبد الله بن عمرو رضي الله عنه "أفلا نكتبها"، وقوله صلى الله عليه وسلم "اكتبوها". ومن قوله في الحديث السابق "بينما نحن حول رسول الله صلى الله عليه وسلم نكتب" يستفاد أن الكتابة للسنة كانت تقع بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم مباشرة، بعلمه وموافقته، وأن عبد الله بن عمرو استأذن الرسول صلى الله عليه وسلم لنفسه ولجماعة معه، وأذن الرسول صلى الله عليه وسلم لجماعتهم فقال: "اكتبوها". وبمقتضى هذا الإذن كانوا يجتمعون حوله صلى الله عليه وسلم ويكتبون كتابة جماعية، كما يستفاد من الحديث الأول أن عبد الله بن عمرو كان يعتني بصيانة ما كان يكتبه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في صندوق خاص حتى لا يتطرق إليه تلف أو ضياع أو دخيل، وهذا يعد تأصيلاً لما ذكره علماء المصطلح في ضبط الكتاب، دون أن يذكروا له مثالاً كهذا، ويستفاد كذلك أن عبد الله بن عمرو كان يخرج المكتوبات التي في هذا الصندوق، ويحدث منها بقراءته ويسمع منه جماعة الحاضرين، ومنهم من يسأله، كما يفيده قول الراوي عنه: "كنا عند عبد الله بن عمرو رضي الله عنه وسئل…" وقول الراوي: إن الصندوق الذي أخرج عبد الله منه المكتوب الذي حدثهم به كان له "حلق" إشارة منه لتأكده من مناسبة الحديث وملابساته، ووجود تلك الحَلَق في الصندوق تفيد، إما كبر حجمه، بحيث وُضع له حَلَق تُسهل حملَه ونقلَه، وإما مزيد العناية بوضع حلق فيه لإحكام إغلاقه.
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর-এর এই হাদিসটিতেও ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার নিকট থেকে এমন কিছু হাদিস শ্রবণ করি যা আমরা মুখস্থ রাখতে পারি না, তবে কি আমরা তা লিপিবদ্ধ করব না? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তোমরা তা লিপিবদ্ধ করো।" সুতরাং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি "আমরা কি তা লিপিবদ্ধ করব না" এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "তোমরা তা লিপিবদ্ধ করো" থেকে এবং পূর্ববর্তী হাদিসে তাঁর উক্তি "যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চারপাশে অবস্থান করে লিখছিলাম" থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে সরাসরি তাঁর জ্ঞান ও সম্মতিক্রমেই সম্পন্ন হতো। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নিজের জন্য এবং তাঁর সাথে থাকা একদলের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের দলটিকে অনুমতি প্রদান করে বলেছিলেন: "তোমরা তা লিপিবদ্ধ করো।" এই অনুমতির পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁরা তাঁর চারপাশে সমবেত হতেন এবং সমষ্টিগতভাবে লিপিবদ্ধ করতেন। যেমনটি প্রথম হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে যা কিছু লিপিবদ্ধ করতেন, তা বিনষ্ট হওয়া, হারিয়ে যাওয়া কিংবা কোনো বিজাতীয় উপাদানের অনুপ্রবেশ থেকে রক্ষার জন্য একটি বিশেষ সিন্দুকে অত্যন্ত যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করতেন। এটি হাদিস পরিভাষার পণ্ডিতগণ (علماء المصطلح) কর্তৃক বর্ণিত কিতাব সংরক্ষণ (ضبط الكتاب)-এর একটি শাস্ত্রীয় মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়, যদিও তাঁরা সচরাচর এরুপ কোনো উদাহরণ উল্লেখ করেন না। এর থেকে আরও প্রতীয়মান হয় যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর সেই সিন্দুক থেকে পাণ্ডুলিপিগুলো বের করতেন এবং সেগুলো দেখে পাঠ করার মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং উপস্থিত জনতা তাঁর থেকে তা শ্রবণ করতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে প্রশ্নও করতেন, যেমনটি বর্ণনাকারীর (راوي) উক্তিতে ফুটে উঠেছে: "আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের নিকট উপস্থিত ছিলাম এবং তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল…"। বর্ণনাকারীর এই বর্ণনা যে, যে সিন্দুক থেকে আব্দুল্লাহ পাণ্ডুলিপি বের করে তাঁদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছিলেন তাতে 'আংটা' ছিল; এটি মূলত হাদিসটির প্রাসঙ্গিকতা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে তাঁর সুনিশ্চিত হওয়ার প্রতি একটি ইঙ্গিত। সিন্দুকে উক্ত আংটাগুলোর উপস্থিতি নির্দেশ করে যে, হয় সিন্দুকটি বিশালাকার হওয়ার কারণে বহন ও স্থানান্তরের সুবিধার্থে আংটা লাগানো হয়েছিল, নতুবা এটি অত্যন্ত যত্ন সহকারে মজবুতভাবে আবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
كما أن هذا يدل على أن ما كتبه عبد الله بن عمرو عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يكن صحيفته المشهورة فقط، والتي كان يعتز بها، ويسميها (الصادقة) كما سيأتي ذكره، ولكن كان ما كتبه عنه صلى الله عليه وسلم أكثر، بحيث احتاج في حفظه وصيانته إلى صندوق له حَلَق مما يدل على أنه كان كبير الحجم.
وقد حكم الذهبي بتحسين حديث الصندوق المذكور، ثم قال: "وهو دال على أن الصحابة كتبوا عن النبي صلى الله عليه وسلم بعض أقواله
…، ثم قال: وكتبوا عنه كتاب الديات، وفرائض الصدقة، وغير ذلك" (1) .
وقال أيضًا عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنه:"وكَتَبَ الكثيرَ بإذن النبي صلى الله عليه وسلم وترخيصه له في الكتابة بعد كراهيته للصحابة أن يكتبوا عنه سوى القرآن، وسوَّغ ذلك النبيُّ صلى الله عليه وسلم ثم انعقد الإجماع بعد اختلاف الصحابة رضي الله عنهم على الجواز والاستحباب لتقييد العلم
… ثم قال الذهبي أيضًا: والظاهر أن النهي كان أولاً لتتوافر هممهم على القرآن وَحْدَه، وليمتاز القرآن بالكتابة عما سواه من السنة النبوية، فيؤمن اللبس، فلما زال المحذور واللبس ووضح أن القرآن لا يشتبه بكلام الناس، أذن في كتابة العلم، والله أعلم" (2) .
وقد تقدم أن مجمل مرويات عبد الله بن عمرو بن العاص بلغت (700) حديث أو أقل، ولو أننا استعرضنا ما توافر لدينا من أدلة معتد بها على ما كتبه عبد الله بن عمرو بنفسه، وما كتبه عنه بعض من سمع منه، فسنجد أن ذلك يكوِّنُ نسبة غير قليلة من مجموع ما تقدم ذكره من أحاديثه المدونة في كتب الحديث الأصلية من الصحيحين والسنن والمسانيد وغيرها.
--------------------------------------------
এটি আরও নির্দেশ করে যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে যা লিখেছিলেন তা কেবল তাঁর সেই বিখ্যাত পাণ্ডুলিপি (صحيفة)-ই ছিল না, যেটিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন এবং ‘আস-সাদিকাহ’ নামে অভিহিত করতেন—যার উল্লেখ সামনে আসবে। বরং রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে তাঁর লিখিত সংকলন ছিল আরও অনেক বেশি, যার সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কড়া লাগানো একটি সিন্দুকের প্রয়োজন হতো; যা প্রমাণ করে যে সেটি ছিল বিশাল আকারের।
ইমাম যাহাবী উল্লিখিত সিন্দুক বিষয়ক হাদিসটিকে হাসান (حسن) বলে হুকুম দিয়েছেন এবং বলেছেন: "এটি এই কথার প্রমাণ দেয় যে, সাহাবায়ে কেরাম নবী (সা.)-এর কিছু বাণী লিখে রাখতেন
…"; অতঃপর তিনি বলেন: "এবং তারা তাঁর থেকে রক্তপণ সংক্রান্ত কিতাব (كتاب الديات), সদকার বিধান এবং আরও অনেক কিছু লিখে নিয়েছিলেন।" (১)।
তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) সম্পর্কে আরও বলেন: "তিনি নবী (সা.)-এর অনুমতি ও তাকে লিখনীর সুযোগ প্রদানের ভিত্তিতে প্রচুর (হাদিস) লিখেছিলেন; অথচ এর আগে সাহাবায়ে কেরামের জন্য কুরআনের বাইরে অন্য কিছু লেখা অপছন্দনীয় ছিল। নবী (সা.) তা বৈধ করে দেন। অতঃপর সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মধ্যকার মতভেদের পর ইলম সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তা লিখে রাখার বৈধতা (جواز) ও মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়
…। অতঃপর যাহাবী আরও বলেন: বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, নিষেধাজ্ঞাটি প্রথমে এই উদ্দেশ্যে ছিল যেন তাদের সকল মনোযোগ কেবল কুরআনের ওপর নিবদ্ধ থাকে এবং লেখনীর মাধ্যমে কুরআন যেন সুন্নাহ (سنة) থেকে স্বতন্ত্র থাকে, যাতে কোনো সংশয় সৃষ্টি না হয়। পরবর্তীতে যখন সেই আশঙ্কার কারণসমূহ দূর হয়ে গেল এবং এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে কুরআন মানুষের বাণীর সাথে সদৃশ হবে না, তখন ইলম লিখে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন" (২)।
ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-এর বর্ণিত মোট হাদিসের সংখ্যা সাতশত (৭০০) বা তার কিছু কম। আমরা যদি আবদুল্লাহ ইবনে আমরের নিজের লেখা এবং তাঁর থেকে যারা শুনেছিলেন তাদের থেকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণসমূহ পর্যালোচনা করি, তবে আমরা দেখতে পাব যে সহিহাইন, সুনান, মুসনাদ এবং অন্যান্য মৌলিক হাদিস গ্রন্থসমূহে সংকলিত তাঁর মোট হাদিসগুলোর মধ্যে এই অংশটি কোনো নগণ্য অনুপাত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كما جاءت عنه بعض روايات أنه كان يحتفظ ببعض الآثار الموقوفة:
فروى عمرو بن شعيب قال: وجدنا في كتاب عبد الله بن عمرو، عن عمر بن الخطاب قال: "إذا عبث المعتوه (1) بامرأته، أُمر وَليُّهُ أن يُطلِّق" (2) .
وفي رواية أن عمر كتب إلى عمرو بن العاص: "أنه يُؤجَّل سَنَةً، فإن برئ، وإلا فرق بينه وبين امرأته" (3) .
وجاء عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنه أن مما كتبه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم صحيفة سماها (الصادقة) فعن مجاهد قال: أتيت عبد الله بن عمرو فتناولت صحيفة من تحت مفرشه، فمنعني، قلت: ما كنت تمنعني شيئًا، قال: "هذه الصادقة، هذه ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس بيني وبينه (فيها) أحد، إذا سلمتْ لي هذه، وكتاب الله تبارك وتعالى والوَهْط (4) فما أبالي ما كانت
--------------------------------------------
যেমন তাঁর সম্পর্কে কিছু বর্ণনা এসেছে যে, তিনি কিছু মাওকুফ বর্ণনা (الآثار الموقوفة) সংরক্ষণ করতেন:
আমর ইবনে শুয়াইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহ ইবনে আমরের কিতাবে পেয়েছি, উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "যখন কোনো অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অসদাচরণ করে, তখন তার অভিভাবককে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।" (২)।
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে যে, উমর (রা.) আমর ইবনুল আস (রা.)-এর নিকট লিখেছিলেন: "তাকে এক বছর সময় দেওয়া হবে, যদি সে সুস্থ হয় (তবে ভালো), অন্যথায় তার ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়া হবে।" (৩)।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট থেকে যা লিখেছিলেন তার মধ্যে একটি সহিফা ছিল যার নাম তিনি দিয়েছিলেন 'আস-সাদিকাহ'। মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমরের কাছে আসলাম এবং তাঁর বিছানার নিচ থেকে একটি সহিফা গ্রহণ করতে চাইলাম, কিন্তু তিনি আমাকে বাধা দিলেন। আমি বললাম: আপনি তো আমাকে কোনো কিছুতে বাধা দিতেন না! তিনি বললেন: "এটি আস-সাদিকাহ, এটি আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট থেকে যা শুনেছি তা-ই, আমার ও তাঁর মাঝে (এটিতে) কেউ নেই। যদি এটি আমার কাছে নিরাপদ থাকে, আর আল্লাহর কিতাব এবং আল-ওয়াহ্ত (৪) সংরক্ষিত থাকে, তবে অন্য কোনো কিছুর পরোয়া আমি করি না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عليه الدنيا" (1) ، ومن ذلك يفهم أن عنايته بكتابة السنة، لم تشغله عن عنايته بالقرآن الكريم.
وجاءت عنه رواية أخرى قال فيها: أما الصادقة فصحيفة كتبتها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأما الوَهْط فأرض تصدق بها عمرو بن العاص، وكان يقوم عليها (2) .
ونقل الذهبي عن بعض العلماء قوله: ينبغي أن تكون تلك الصحيفة أصح من كل شيء؛ لأنها مما كتبه عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم والكتابة أضبط من حفظ الرجال (3) .
ويذكر الدارسون: أن هذه الصحيفة الصادقة هي التي رواها عمرو بن
--------------------------------------------
দুনিয়াই তাকে দেওয়া হয়েছে" (১); এ থেকে বোঝা যায় যে, সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগ তাঁকে পবিত্র কুরআনের প্রতি যত্নবান হওয়া থেকে বিচ্যুত করেনি।
তাঁর থেকে বর্ণিত অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, যেখানে তিনি বলেছেন: আস-সাদিকাহ হলো সেই সহীফা (নথিপত্র), যা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে লিখেছি। আর আল-ওয়াহ্ত হলো সেই ভূমি যা আমর বিন আস (রা.) সদকা করেছিলেন এবং তিনি এর তত্ত্বাবধান করতেন (২)।
যাহাবী জনৈক আলেমের উক্তি বর্ণনা করেছেন যে: সেই সহীফাটি অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ (أصح) হওয়া বাঞ্ছনীয়; কেননা এটি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে লিপিবদ্ধ করেছেন, আর লিখন পদ্ধতি মানুষের মুখস্থ রাখার চেয়ে অধিক সুসংরক্ষিত। (৩)।
গবেষকগণ উল্লেখ করেন যে: এই আস-সাদিকাহ সহীফাটিই আমর বিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
شعيب عن أبيه عن جده عبد الله بن عمرو (1) .
فإذاً ومَنْ يقف على وصف محتوياتها يظهر له أن تسميتها صحيفة ليس معناه أنها عبارة عن ورقة واحدة كما هو المتبادر؛ بل كانت أوراقًا كثيرة، فقد وقف ابن حبان على نسخة منها ورواها عن شيخه أبي يعلى الموصلي وقال: في نسخة كتبناها عنه طويلة (2) .
فالمراد بالصحيفة أو النسخة في اصطلاح المحدثين: مجموعة الأحاديث التي رُويت بإسناد واحد ولو بلغت أوراقًا كثيرة مثل صحيفة أو نسخة عمرو ابن شعيب عن أبيه عن جده، وبهز بن حكيم عن أبيه عن جده (3) .
وقد أطلق ابن معين وغيره على صحيفة عمرو بن شعيب اسم "الكتاب" (4) .
ومن آخر البحوث المتخصصة عن عدد أحاديثها ما قرر فيه صاحبه أنها تبلغ (231) حديثًا غير المكرر أكثر من مرة، وذلك بعد إحصائه لها من عدد من كتب السنن والمسانيد، وعلم الرجال حيث روى كل منها بعض أحاديثها (5) .
لكن بعض تلاميذ عبد الله بن عمرو غير: شعيب والد عمرو هذا،
--------------------------------------------
শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন (১)।
সুতরাং, যারা এর বিষয়বস্তুর বিবরণ পর্যবেক্ষণ করবেন তাদের নিকট এটি স্পষ্ট হবে যে, এর নামকরণ সহিফা (صحيفة) হওয়ার অর্থ এই নয় যে এটি কেবল একটি একক পৃষ্ঠা, যেমনটি সাধারণভাবে মনে হতে পারে; বরং এটি ছিল অনেকগুলো পৃষ্ঠা সম্বলিত। ইমাম ইবনে হিব্বান এর একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাঁর উস্তাদ আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী থেকে তা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমরা তাঁর থেকে একটি দীর্ঘ পাণ্ডুলিপি (نسخة) লিখে নিয়েছি" (২)।
মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় সহিফা (صحيفة) বা পাণ্ডুলিপি (نسخة) বলতে এমন সব হাদিসের সংকলনকে বোঝায় যা একটিমাত্র সনদে (إسناد) বর্ণিত হয়েছে, যদিও তা অনেকগুলো পৃষ্ঠা ব্যাপি বিস্তৃত হয়। যেমন: আমর ইবন শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত সহিফা (صحيفة) বা পাণ্ডুলিপি (نسخة), এবং বাহজ ইবন হাকিম তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত পাণ্ডুলিপি (৩)।
ইবনে মাঈন এবং অন্যান্যগণ আমর ইবন শুয়াইবের এই সহিফাকে (صحيفة) "কিতাব" (الكتاب) নামেও অভিহিত করেছেন (৪)।
এর হাদিস সংখ্যা সম্পর্কে করা সাম্প্রতিক একটি বিশেষ গবেষণায় গবেষক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, পুনরাবৃত্তি ছাড়াই এর হাদিস সংখ্যা ২৩১টি। তিনি বিভিন্ন সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহ এবং ইলমুর রিজাল (علم الرجال) শাস্ত্র থেকে এই সংখ্যাটি পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বের করেছেন, যেখানে এই গ্রন্থগুলোর প্রত্যেকটিই এর কিছু কিছু হাদিস বর্ণনা করেছে (৫)।
কিন্তু আবদুল্লাহ ইবন আমরের কিছু ছাত্র যারা এই আমরের পিতা শুয়াইব ব্যতীত অন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومحمد بن عبد الله بن عمرو، جد شعيب، جاء عنهم أيضًا ما يفيد وجود مكتوبات متعددة عنده، وكان يُسمعهم منها.
فتلميذه أبو راشد الحمراني (1) قال: أتيت عبد الله بن عمرو بن العاص فقلت له: حدثنا ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم فألقى بين يدي صحيفة فقال: هذا ما كتب لي رسول الله صلى الله عليه وسلم فنظرت فيها فإذا فيها: أن أبا بكر الصديق قال: يا رسول الله علمني ما أقول إذا أصبحت وإذا أمسيت، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا أبا بكر قل: اللهم فاطر السموات والأرض عالم الغيب والشهادة، لا إله إلا أنت
…" الحديث (2) وقوله: "هذا ما كتب لي رسول الله صلى الله عليه وسلم" أي: أذن لي بكتابته عنه، كما في الروايات الأخرى التي سبق بعضها.
وكلام أبي راشد هذا، يفيد أنه كان بمفرده عندما جاء إلى عبد الله بن عمرو وأطلعه على صحيفة مما كتبه، ويعتبر صنيع عبد الله بن عمرو هذا مع تلميذه أبي راشد، من تأصيل التحمل بالمناولة، حيث ألقى بين يديه الصحيفة المكتوب فيها الحديث، وأخبره بأنها مما أذن له الرسول صلى الله عليه وسلم بكتابته عنه، ثم مكنه من النظر فيها، وقراءة الحديث المذكور منها. ويبدو أن جماعة غير أبي راشد قد رأوا هذه الصحيفة أيضًا، وتحملوا منها رواية الحديث السابق نفسه بلفظ مقارب، فقد قال أبو عبد الرحمن الحُبلي المصري، تلميذ عبد الله بن عمرو أيضًا: أخرج لنا عبد الله بن عمرو قرطاساً (3) وقال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
শুআইবের দাদা মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর; তাঁদের সম্পর্কে এমন বর্ণনাও এসেছে যা প্রমাণ করে যে, তাঁর নিকট একাধিক লিখিত পাণ্ডুলিপি ছিল এবং তিনি তাঁদেরকে সেগুলো থেকে হাদিস শোনাতেন।
তাঁর ছাত্র আবু রাশিদ আল-হুবরানি (১) বলেছেন: আমি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস-এর নিকট এসে তাঁকে বললাম, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে আপনি যা শুনেছেন তা আমাদের কাছে বর্ণনা করুন।" তখন তিনি আমার সম্মুখে একটি সহিফা (صحيفة) রাখলেন এবং বললেন, "এটি রাসূলুল্লাহ (সালล์লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে লিখে দিয়েছিলেন (অর্থাৎ লেখার অনুমতি দিয়েছিলেন)।" আমি তাতে দৃষ্টিপাত করলাম এবং দেখলাম যে তাতে বর্ণিত আছে: আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! সকাল ও সন্ধ্যায় আমি যা বলব তা আমাকে শিখিয়ে দিন।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, "হে আবু বকর! তুমি বল: হে আল্লাহ! আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, আপনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই..." হাদিসের শেষ পর্যন্ত (২)। আর তাঁর কথা: "এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে লিখে দিয়েছিলেন" এর অর্থ হলো: তিনি তাঁর নিকট থেকে এটি লিপিবদ্ধ করার অনুমতি দিয়েছিলেন, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত অন্যান্য বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে।
আবু রাশিদের এই বক্তব্যটি প্রমাণ করে যে, তিনি যখন আব্দুল্লাহ বিন আমরের নিকট এসেছিলেন তখন তিনি একাকী ছিলেন এবং তিনি তাঁকে তাঁর লিখিত সহিফাগুলোর মধ্য থেকে একটি প্রদর্শন করেছিলেন। আব্দুল্লাহ বিন আমরের তাঁর ছাত্র আবু রাশিদের সাথে এই আচরণটি 'হাদিস গ্রহণ' (التحمل)-এর ক্ষেত্রে 'মুনাওয়ালাহ' (المناولة) বা হস্তান্তর পদ্ধতির একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে গণ্য। কেননা তিনি তাঁর সামনে হাদিস লিখিত সেই সহিফাটি পেশ করেছিলেন এবং তাঁকে অবহিত করেছিলেন যে, এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে তাঁর নিকট লিপিবদ্ধ করার অনুমোদিত কপি, অতঃপর তিনি তাঁকে সেটি দেখার এবং তা থেকে উল্লেখিত হাদিসটি পাঠ করার সুযোগ প্রদান করেছিলেন। প্রতীয়মান হয় যে, আবু রাশিদ ছাড়াও একদল লোক এই সহিফাটি দেখেছিলেন এবং তাঁরা এর মধ্য থেকে প্রায় একই শব্দে পূর্বোক্ত হাদিসটি গ্রহণ (تحمل) করেছিলেন। আব্দুল্লাহ বিন আমরের অপর ছাত্র আবু আব্দুর রহমান আল-হুবলি আল-মিসরিও বলেছেন: আব্দুল্লাহ বিন আমর আমাদের জন্য একটি কাগজ (قرطاس) বের করলেন (৩) এবং বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يعلمنا، يقول: "اللهم فاطر السموات والأرض عالم الغيب والشهادة أنت رب كل شيء
…" الحديث (1) .
فقول أبي عبد الرحمن الحبلي: "أخرج لنا" يفيد أنهم كانوا جماعة، وأن عبد الله بن عمرو قرأ عليهم المكتوب. ومن تلاميذه من روى بعض الأحاديث التي كتبها عبد الله بن عمرو وأرسل بها إليه، فأرض "الوهْط" التي كانت ل عبد الله بن عمرو - كما تقدم - كان له فيها عامل زراعيّ يقال له: "سالم مولى عبد الله بن عمرو" وعرض عليه جيرانه أن يشتروا منه ما يفيض عن حاجة عبد الله بن عمرو من المياه، قال سالم: أعطَوْنِي بفضل الماء من أرضه بالوهْط ثلاثين ألفًا، قال: فكتبت إلى عبد الله بن عمرو، فكتب إلي: لا تبعه، ولكن أقِمْ قِلْدَك (2) ثم اسق الأدنى فالأدنى، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى عن بيع فضل الماء (3) .
وجاء عن أحد تلاميذ عبد الله أنه أملى عليه بعض حديثه وكتبها عنه في صحيفة وهو: أبو سبرة الهذلي، فقد قال لعبيد الله بن زياد - لما سمعه يجادل في حوض رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي جعله الله له في الآخرة -: ألا أحدثك حديثًا فيه شفاء هذا، إن أباك بعث معي بمالك إلى معاوية، فلقيت عبد الله بن عمرو بن العاص، فحدثني مما سمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم وأملى عليَّ، فكتبت بيدي فلم أزد حرفًا، ولم أنقص حرفًا، حدثني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله لا يحب
--------------------------------------------
তিনি আমাদের শিক্ষা দিতেন, তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ! আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, আপনি সকল কিছুর রব..." হাদিস (১)।
আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলীর উক্তি: "তিনি আমাদের নিকট বের করে আনলেন" এর দ্বারা বোঝা যায় যে তারা একটি দল ছিলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর তাদের সামনে লিখিত পাণ্ডুলিপি পাঠ করেছিলেন। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যারা আবদুল্লাহ ইবনে আমর কর্তৃক লিখিত কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন যা তিনি তাদের নিকট পাঠিয়েছিলেন। 'আল-ওয়াত' নামক ভূমি যা আবদুল্লাহ ইবনে আমরের মালিকানাধীন ছিল—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—সেখানে তাঁর একজন কৃষি ব্যবস্থাপক ছিলেন যাকে 'আবদুল্লাহ ইবনে আমরের মুক্তদাস (مولى) সালেম' বলা হতো। তাঁর প্রতিবেশীরা আবদুল্লাহ ইবনে আমরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি তাঁর নিকট থেকে ক্রয় করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সালেম বলেন: তারা আমাকে আল-ওয়াত ভূমির অতিরিক্ত পানির বিনিময়ে ত্রিশ হাজার (মুদ্রা) দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি বলেন: তখন আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমরের নিকট (চিঠি) লিখলাম। তিনি আমাকে লিখে পাঠালেন: "তা বিক্রি করো না, বরং তোমার পানির পালার (২) হক রক্ষা করো, এরপর নিকটবর্তী এবং তারপর তার নিকটবর্তী জমিকে সেচ দাও। কেননা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অতিরিক্ত পানি বিক্রি করতে নিষেধ করতে শুনেছি।" (৩)।
আবদুল্লাহর জনৈক ছাত্রের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (আবদুল্লাহ) তাকে কিছু হাদিস শ্রুতলিপি হিসেবে দিয়েছিলেন এবং তিনি তা তাঁর নিকট থেকে একটি সহিফায় লিখে নিয়েছিলেন; তিনি হলেন আবু সাবরা আল-হুজালি। তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদকে বলেছিলেন—যখন তিনি তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাওজ সম্পর্কে বিতর্ক করতে শুনলেন যা আল্লাহ পরকালে তাঁর জন্য নির্ধারণ করেছেন—: "আমি কি তোমাকে এমন একটি হাদিস শোনাব না যাতে এর প্রতিকার রয়েছে? তোমার পিতা তোমার সম্পদসহ আমাকে মুয়াবিয়ার নিকট পাঠিয়েছিলেন, সেখানে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে যা শুনেছেন তা থেকে আমাকে হাদিস বর্ণনা করেন এবং আমাকে শ্রুতলিপি প্রদান করেন। আমি নিজ হাতে তা লিখেছিলাম, আমি তাতে একটি অক্ষরও বাড়াইনি এবং একটি অক্ষরও কমাইনি। তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الفحش، أو يبغض الفاحش والمتفحش، قال: ولا تقوم الساعة حتى يظهر الفحش والتفاحش وقطيعة الرحم وسوء المجاورة، وحتى يؤتمن الخائن، ويُخوَّن الأمين، وقال: "ألا إن موعدكم حوضي عرضه وطوله واحد وهو كما بين أيلة (1) ومكة".. الحديث وفيه: "من شرب منه لم يظمأ بعده أبدًا" فقال عبيد الله: ما سمعت في الحوض حديثًا أثبت من هذا، فصدق به، وأخذ الصحيفة فحبسها عنده (2) .
وفي رواية أخرى للحديث: أنه لما حبس عبيد الله بن زياد الكتاب عنده، قال أبو بُسرة: فجزعت عليه، فلقيني يحيى بن يعمر، فشكوت إليه، فقال: والله لأنا أحفظ له من السورة من القرآن فحدثني به كما كان في الكتاب سواء (3) .
وهذه الرواية تفيد أن حفظ الصدور، وحفظ الكتاب كانا متضافرين على صيانة السنة وتعويض أحدهما ما فُقد من الآخر، وأن حفظ الصدور كان من القوة بحيث يطمأن إلى نيابته عن الكتابة عند افتقادها.
وجاء أيضًا عن أحد تلاميذ عبد الله بن عمرو من التابعين المصريين، وهو شُفَى بن ماتع الأصبحي المصري (4) : أنه سمع من عبد الله بن عمرو كتابين:
--------------------------------------------
অশ্লীলতা, কিংবা তিনি (আল্লাহ) অশ্লীল ও কটুভাষী ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন। তিনি বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না অশালীনতা, কটুচারিতা, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এবং প্রতিবেশীর সাথে অসদাচরণ প্রকাশ পায়; এবং যতক্ষণ না বিশ্বাসঘাতককে আমানতদার মনে করা হয় আর আমানতদার ব্যক্তিকে বিশ্বাসঘাতক সাব্যস্ত করা হয়।" তিনি আরও বলেছেন: "জেনে রেখো, তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাতের স্থান হলো আমার হাউজ, যার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান এবং তা আয়লা ও মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়।"... হাদিসটি এবং এতে রয়েছে: "যে ব্যক্তি সেখান থেকে পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।" অতঃপর উবাইদুল্লাহ বললেন: "আমি হাউজ সম্পর্কে এর চেয়ে অধিকতর সুদৃঢ় (أثبت) কোনো হাদিস শুনিনি।" অতঃপর তিনি এটি সত্য বলে বিশ্বাস করলেন এবং সহিফাটি গ্রহণ করে নিজের কাছে রেখে দিলেন।
হাদিসটির অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: যখন উবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদ কিতাবটি নিজের কাছে আটকে রাখলেন, তখন আবু বুসরা বললেন: "আমি এ ব্যাপারে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হলাম। অতঃপর ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামারের সাথে আমার দেখা হলো এবং আমি তাঁর কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করলাম। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি এটি কুরআনের সূরার চেয়েও বেশি মুখস্থ রাখি। অতঃপর তিনি আমাকে কিতাবে যেভাবে ছিল ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করে শোনালেন।"
এই বর্ণনা (رواية) থেকে প্রতীয়মান হয় যে, স্মৃতিতে মুখস্থ রাখা এবং কিতাবে লিখে রাখা—উভয় পদ্ধতিই সুন্নাহ সংরক্ষণে এবং একে অপরের অনুপস্থিতিতে পরিপূরক হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে পরস্পর সহযোগিতামূলক ছিল। আর স্মৃতিতে মুখস্থ করার শক্তি এতোটাই প্রখর ছিল যে, লেখনীর অনুপস্থিতিতে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা রাখা যেত।
আবদুল্লাহ ইবনে আমরের অন্যতম ছাত্র মিসরীয় তাবেয়ীগণের (التابعين) অন্তর্ভুক্ত শুফা ইবনে মাতি আল-আসবাহি আল-মিসরি থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে দুটি কিতাব শুনেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أحدهما: عبارة عن أحاديث قولية وفعلية مرفوعة.
والآخر: فيه ما يتعلق بما يقع آخر الزمن من الفتن وعلامات الساعة إلى يوم القيامة، وذكر ابن يونس: أن نسختي هذين الكتابين قد افتقدتا بإلقاء أحد الناس لهما في النيل (1) ووصفهما بأنهما كتابان، مع بيان مشتملاتهما إِجمالاً، يستفاد منه أن حجمهما كان كبيرًا، لكن قد عوضنا الله - تعالى- عنهما بما حفظه لنا بعض تلاميذ شُفَي هذا، إما صدرًا، وإما كتابة، ووصل إلينا مدونًا في بعض كتب السنن (2) والمسانيد وغيرها (3) .
وهكذا يظهر لنا من خلال ما تقدم: أن ماكتبه عبد الله بن عمرو بن العاص عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان قدرًا كبيرًا، فمنه ما كان يحفظه في صندوق ذي حلقات، ومنه ما كان يعتز به أكثر فيحفظه تحت فراشه؛ ليكون قريبًا منه.
وبلغت نسخة عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده، وحدها قرابة مائتين وخمسين حديثًا مرفوعًا بدون المكرر منها مرة فأكثر لما قدمت.
كما يظهر لنا أن عددًا آخر من تلاميذ عبد الله بن عمرو من غير أهله، قد تلقوا عنه مدونات في أكثر من كتاب، مشتملة على سنن فعلية، أو قولية، في العقيدة والشريعة، كما اشتملت أيضًا على بعض سنن الخلفاء الراشدين.
ويظهر لنا أيضًا أن ما أملاه عبد الله بن عمرو، أو كتب عنه عمومًا، قد
--------------------------------------------
এর একটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা ও কাজ সম্পর্কিত উদ্ধৃত (مرفوع) হাদিসসমূহের সমষ্টি।
আর অন্যটি: এতে শেষ জামানায় সংঘটিত ফিতনা এবং কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের কিয়ামতের আলামত সম্পর্কিত বিষয়াদি রয়েছে। ইবনে ইউনুস উল্লেখ করেছেন যে, এই দুটি কিতাবের পাণ্ডুলিপি (نسخة) দুখানি হারিয়ে গেছে কারণ এক ব্যক্তি এগুলো নীল নদে নিক্ষেপ করেছিল (১)। তিনি কিতাব দুটিকে বর্ণনা করেছেন এবং এগুলোর বিষয়বস্তু সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন, যা থেকে বোঝা যায় যে এগুলোর কলেবর বেশ বড় ছিল। তবে আল্লাহ তাআলা আমাদের এর পরিবর্তে এমন কিছু দান করেছেন যা এই শুফাইয়ের কিছু ছাত্র আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন—তা মুখস্থ (صدر) হোক বা লিখিত (كتابة) আকারে। আর তা সুনান ও মুসনাদ এবং অন্যান্য কিতাবে সংকলিত অবস্থায় আমাদের কাছে পৌঁছেছে (৩)।
এভাবে পূর্বোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু লিখেছিলেন তা ছিল বিশাল পরিমাণের। এর কিছু অংশ তিনি বলয়যুক্ত একটি সিন্দুকে সংরক্ষণ করতেন, আর কিছু অংশকে তিনি অধিক মূল্যায়ন করতেন বিধায় নিজের বিছানার নিচে রাখতেন, যাতে তা তাঁর কাছাকাছি থাকে।
আর 'আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে' বর্ণিত পাণ্ডুলিপি (نسخة) একাই ছিল প্রায় দুইশত পঞ্চাশটি উদ্ধৃত (مرفوع) হাদিস, পূর্বোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী যা পুনরাবৃত্ত (مكرر) হাদিস ব্যতিরেকে।
এটিও আমাদের কাছে প্রতিভাত হয় যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমরের পরিবারের বাইরের অন্য একদল ছাত্রও তাঁর থেকে একাধিক কিতাবে সংকলিত তথ্য লাভ করেছিলেন, যা আকিদা ও শরিয়ত সংক্রান্ত নবীজির কর্ম ও কথা সম্পর্কিত সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও এতে খোলাফায়ে রাশেদীনের কিছু সুন্নাহও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আরও স্পষ্ট হয় যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর যা কিছু শ্রুতলিপি (إملاء) দিয়েছিলেন অথবা সাধারণভাবে তাঁর থেকে যা কিছু লেখা হয়েছিল, তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
انتشر بواسطة تلاميذه في أقطار الإسلام شرقًا وغربًا، كالشام، ومصر، والعراق، وغيرها.
ولم تقتصر عناية الصحابة على الكتابة الإجمالية لمروياتهم دون تنظيمها في مصنفات وأبواب موضوعية، بل وجدنا منهم من يجمع مما تلقاه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أحاديث متعلقة بموضوع واحد في تصنيف خاص به.
من ذلك أن جابر بن عبد الله بن عمرو بن حرام الأنصاري رضي الله عنه المتوفى سنة 78هـ بالمدينة المنورة قد عُرف بأنه حمل عن النبي صلى الله عليه وسلم علما كثيرا نافعا، وعرف بالفقه والفتوى والرحلة في طلب الحديث، ومروياته المسندة -كما ذكر الحافظ الذهبي - (1540) حديثاً.
ويعد من أول من صنف الحديث على الموضوعات من الصحابة حيث ذكر الذهبي أن له منسكاً (1) صغيراً في الحج، أخرجه مسلم في صحيحه (2) .
وعند مراجعة صحيح مسلم نجد مصداق ذلك فعلا حيث إنه في كتاب الحج باب حجة النبي صلى الله عليه وسلم أخرج من طريق حاتم بن إسماعيل المدني عن جعفر ابن محمد عن أبيه قال: دخلنا على جابر بن عبد الله، فسأل عن القوم (3) حتى انتهى إلىَّ فقلت أنا محمد بن علي بن حسين، فأهوى بيده إلى رأسي، فنزع زِرّي الأعلى (4) ثم نزع زري الأسفل، ثم وضع كفه بين ثدْيَيَّ وأنا يومئذ غلام شباب فقال مرحبا بك يا بن أخي، سل عما شئت، فسألته وهو أعمى
--------------------------------------------
এটি তাঁর ছাত্রদের মাধ্যমে ইসলামের প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, যেমন— শাম, মিশর, ইরাক ও অন্যান্য স্থানে।
সাহাবীগণের গুরুত্বারোপ কেবল তাঁদের বর্ণনাসমূহ (مرويات) কোনো সংকলন (مصنفات) বা বিষয়ভিত্তিক অধ্যায়সমূহ (أبواب موضوعية) অনুযায়ী বিন্যস্ত করা ছাড়াই সামগ্রিকভাবে লিখে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং আমরা তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের পাই যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে যা গ্রহণ করেছেন, তাঁর মধ্য থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহকে একটি বিশেষ সংকলনে (تصنيف) একত্রিত করেছেন।
এর একটি উদাহরণ হলো জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হারাম আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু), যিনি ৭৮ হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনেক উপকারী ইলম অর্জন করার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি ফিকহ, ফতোয়া এবং হাদিস অন্বেষণে সফরের (رحلة) জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। হাফেজ আয-যাহাবী যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তাঁর বর্ণিত মুসনাদ বর্ণনাসমূহের (مرويات) সংখ্যা হলো ১৫৪০টি হাদিস।
তাঁকে সাহাবীগণের মধ্যে হাদিসকে বিষয়ভিত্তিক বিন্যাসে সংকলন (صنف) করা প্রথম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়। যাহাবী উল্লেখ করেছেন যে, হজ পালনের নিয়মাবলি বিষয়ে তাঁর একটি ছোট মানসাক রয়েছে, যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ মুসলিমে বর্ণনা করেছেন।
সহিহ মুসলিম পর্যালোচনা করলে আমরা এর যথার্থতা খুঁজে পাই। সেখানে কিতাবুল হাজ্জ-এর ‘নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হজ্জ’ অধ্যায়ে হাতেম ইবনে ইসমাইল আল-মাদানির সূত্র (طريق) হয়ে জাফর ইবনে মুহাম্মদ তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমরা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি আগত লোকসকল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন, শেষ পর্যন্ত আমার কাছে পৌঁছালে আমি বললাম, আমি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন। তখন তিনি তাঁর হাত আমার মাথার দিকে বাড়িয়ে দিলেন এবং আমার ওপরের বোতামটি খুলে দিলেন, এরপর নিচের বোতামটি খুলে দিলেন। তারপর তিনি তাঁর হাতের তালু আমার বুকের মাঝে রাখলেন—আর আমি তখন এক যুবক তরুণ ছিলাম। এরপর তিনি বললেন, ‘তোমাকে স্বাগতম হে ভাতিজা, যা ইচ্ছা জিজ্ঞাসা করো’। তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আর তিনি তখন দৃষ্টিহীন ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وحضر وقت الصلاة، فقام في نساجة (1) ملتحفا بها، كلما وضعها على منكبه رجع طرفاها إليه من صغرها، ورداؤه إلى جنبه على المشجب (2) فصلَّى بنا، فقلت: أخبرني عن حجة رسول الله صلى الله عليه وسلم الحديث بطوله (3) ، ويقع في ست صفحات من المطبوع، ثم أخرج رواية أخرى هذه من طريق غياث بن طلق عن جعفر بن محمد عن أبيه قال: أتيت جابر بن عبد الله فسألته عن حجة رسول الله صلى الله عليه وسلم وأحال ببقية المتن على الرواية السابقة بنحوها، ثم ذكر زيادة في هذه الرواية تبلغ ثلاثة أسطر، وأتبعها برواية ثانية من طريق غياث أيضا بذكر زيادة نحو سطرين، ورواية ثالثة من طريق سفيان عن جعفر عن أبيه به بزيادة نحو سطرين، ورواية من طريق مالك وخامسة من طريق مالك وابن جريج كلاهما عن جعفر بن محمد عن أبيه، بزيادة تتعلق بالطواف (4) وقد انفرد مسلم عن البخاري برواية هذا الحديث فعلا (5) . ويلاحظ أن الحديث اشتمل على سنة فعلية في أوله وهي صلاة جابر رضي الله عنه بجماعة الحاضرين عنده إمامًا وعليه لباس معين، كما اشتملت الرواية على وصفه في هذه الحالة بأنه كان أعمى، والمعروف أنه رضي الله عنه عَمِيَ في آخر عمره - ومقتضاه أنه حدثهم الحديث بطوله من حفظه، لا من كتاب، لكن جاء في روايات أخرى أن راوي الحديث عن جابر وهو محمد بن علي بن الحسين كان يذهب مع مجموعة إلى جابر بن عبد الله رضي الله عنه
--------------------------------------------
নামাজের সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি একটি বুননকৃত কাপড়ে (১) নিজেকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। সেটি ছোট হওয়ার কারণে তিনি যখনই তা কাঁধের ওপর রাখতেন, তখনই তার দুই প্রান্ত ফিরে আসত; অথচ তাঁর চাদরটি পাশেই আলনায় (২) রাখা ছিল। এরপর তিনি আমাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। আমি বললাম: "আমাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজ সম্পর্কে বলুন।" এরপর পুরো হাদিসটি আলোচিত হয়েছে (৩), যা মুদ্রিত সংস্করণের ছয় পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে। এরপর তিনি গিয়াস বিন তালকের সূত্র (طريق) ধরে জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে তাঁর পিতার বরাতে আরেকটি বর্ণনা (رواية) উদ্ধৃত করেছেন। তিনি (পিতা) বলেন: "আমি জাবির বিন আবদুল্লাহর কাছে এসে তাঁকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম।" এরপর তিনি মূল পাঠের (متن) বাকি অংশ আগের বর্ণনার (رواية) অনুরূপ হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এরপর তিনি এই বর্ণনায় (رواية) প্রায় তিন লাইনের একটি অতিরিক্ত অংশ (زيادة) উল্লেখ করেছেন। এর পরপরই তিনি পুনরায় গিয়াসের সূত্র (طريق) ধরে দ্বিতীয় আরেকটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন যেখানে প্রায় দুই লাইনের অতিরিক্ত অংশ (زيادة) রয়েছে। এরপর সুফিয়ানের সূত্র (طريق) ধরে জাফর থেকে তাঁর পিতার মাধ্যমে তৃতীয় একটি বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছেন যাতে দুই লাইনের মতো অতিরিক্ত অংশ (زيادة) রয়েছে। এরপর মালেকের সূত্র (طريق) ধরে চতুর্থ একটি এবং মালেক ও ইবনে জুরাইজ উভয়ের সূত্র (طريق) ধরে জাফরের মাধ্যমে পঞ্চম আরেকটি বর্ণনা (رواية) এসেছে যাতে তাওয়াফ সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত অংশ (زيادة) রয়েছে (৪)। প্রকৃতপক্ষে ইমাম বুখারীর বিপরীতে ইমাম মুসলিম এককভাবে (انفرد) এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন (৫)। লক্ষণীয় যে, এই হাদিসটির শুরুতে একটি কর্মগত সুন্নাহ (سنة فعلية) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, আর তা হলো জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ইমাম হিসেবে নামাজ পড়ানো, এমতাবস্থায় যে তাঁর গায়ে একটি নির্দিষ্ট পোশাক ছিল। বর্ণনায় (رواية) ওই অবস্থায় তাঁর অন্ধ হওয়ার বিষয়টিও বর্ণিত হয়েছে। আর এটি সুপরিচিত যে, তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু জীবনের শেষভাগে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এই দীর্ঘ হাদিসটি তাঁর স্মৃতি থেকে বর্ণনা করেছিলেন, কোনো কিতাব থেকে নয়। তবে অন্যান্য বর্ণনায় (رواية) এসেছে যে, জাবির থেকে হাদিসের বর্ণনাকারী মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন একটি দলের সাথে জাবির বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে যেতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ويتلقون عنه الحديث كتابة وتعلما فأخرج ابن عدي والخطيب من طريق يعقوب القُمي عن عبد الله بن محمد بن عقيل بن أبي طالب قال: كنت أنطلق أنا ومحمد بن علي أبو جعفر ومحمد بن الحنفية إلى جابر بن عبد الله الأنصاري، فنسأله عن سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم وعن صلاته، فنكتب عنه ونتعلم منه (1) .
ويلاحظ أن هذه الرواية معبرة عما جاء في رواية مسلم السابقة لأنها ذكرت سؤال محمد بن علي ومن معه لجابر عن سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم التي منها مناسك حجته صلى الله عليه وسلم التي أمر بأن تؤخذ عنه، وفيها الصلاة وفيها كتابة السائلين لما حدثهم به، وتعلمهم منه كيفية الصلاة. وفي لفظ آخر من طريق يعقوب القمي أيضا: أن عبد الله بن محمد بن عقيل قال: كنا نأتي جابرا فنسأله عن سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم فنكتبها (2) .
وفي رواية من طريق محمد بن علي السلمي عن ابن عقيل قال: كنت أختلف أنا وأبو جعفر إلى جابر بن عبد الله فنكتب عنه في الألواح (3) وفي لفظ للخطيب "معنا ألواح نكتب فيها" (4) .
ومن ذلك يستفاد أن جابراً صنف منسكه هذا وهو مبصر، وكان مع ذلك يحفظه في صدره، ويسمعه إملاء لمن سأله عنه، وبذلك تلازم وتزامن الحفظان معا: حفظ الصدور وحفظ السطور. ولو من صحابي واحد.
--------------------------------------------
এবং তাঁরা তাঁর নিকট থেকে লিখন ও শিখনের মাধ্যমে হাদিস গ্রহণ করতেন। ইবনে আদি ও আল-খাতিব ইয়াকুব আল-কুম্মীর সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকিল ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি, মুহাম্মদ ইবনে আলি আবু জাফর এবং মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারির নিকট যেতাম। আমরা তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহসমূহ ও তাঁর নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম। অতঃপর আমরা তাঁর নিকট থেকে তা লিখে নিতাম এবং তাঁর নিকট থেকে শিখতাম" (১)।
লক্ষণীয় যে, এই বর্ণনাটি (رواية) ইমাম মুসলিমের পূর্ববর্তী বর্ণনায় (رواية) যা এসেছে তারই বহিঃপ্রকাশ; কারণ এতে মুহাম্মদ ইবনে আলি ও তাঁর সঙ্গীদের পক্ষ থেকে জাবিরকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হজ্জের নিয়মাবলি (مناسك) যা তাঁর নিকট থেকে গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এতে নামাজের কথা এবং প্রশ্নকারীদের শ্রবণকৃত বিষয়সমূহ লিখে নেওয়া ও তাঁর নিকট থেকে নামাজের পদ্ধতি শেখার বিষয়টিও রয়েছে। ইয়াকুব আল-কুম্মীর অন্য একটি পাঠে (لفظ) বর্ণিত হয়েছে: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকিল বলেন: "আমরা জাবিরের নিকট আসতাম এবং তাঁকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম, অতঃপর আমরা সেগুলো লিখে নিতাম" (২)।
মুহাম্মদ ইবনে আলি আস-সুলামির সূত্রে ইবনে আকিল থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেন: "আমি এবং আবু জাফর জাবির ইবনে আবদুল্লাহর নিকট যাতায়াত করতাম এবং আমরা তাঁর নিকট থেকে ফলকসমূহে (ألواح) লিখে নিতাম" (৩)। আল-খাতিবের একটি পাঠে (لفظ) এসেছে, "আমাদের সাথে ফলক (ألواح) থাকত যাতে আমরা লিখতাম" (৪)।
এ থেকে এটিই প্রতিভাত হয় যে, জাবির তাঁর হজ্জের এই নিয়মাবলি সংকলন করেছিলেন যখন তিনি দৃষ্টিশক্তিমান ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি তা অন্তরে সংরক্ষণ (حفظ) করে রাখতেন এবং যারা তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করত তাদের নিকট তা শ্রুতিলিপি (إملاء) হিসেবে পাঠ করতেন। এর মাধ্যমে উভয় প্রকার সংরক্ষণ পদ্ধতিই যুগপৎভাবে কার্যকর ছিল: অন্তরে সংরক্ষণ (حفظ الصدور) এবং লেখনীতে সংরক্ষণ (حفظ السطور); যদিও তা মাত্র একজন সাহাবির পক্ষ থেকেই হোক না কেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومما صنفه الصحابة أيضا كتاب الفرائض لزيد بن ثابت رضي الله عنه، وهو المعروف بكتابة الوحي القرآني أيضا بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وممن قام بجمعه في مصحف واحد، وكان مبرزاً في علم الفرائض، وباشر القضاء وتوفي سنة 45هـ على الراجح (1) وتعد وفاته مبكرة جدا عن وفاة جابر رضي الله عنه كما تقدم ذكرها.
وقد أخرج الفسوي بسنده إلى الزهري قال: لولا أن زيد بن ثابت كتب الفرائض رأيت أنها ستذهب من الناس (2) .
فيعد كتاب زيد هذا مؤلفا مخصصاً لموضوع المواريث الشرعية، وتاريخ وفاة زيد سنة 45هـ يجعل تأليفه هذا مبكرًا جدا، ومن الروايات التي توافرت عنه، يفهم أن زيداً جمع في كتابه هذا بين الأحاديث المرفوعة، وبين الآثار التي رواها عن بعض الخلفاء الراشدين، وبين تفسير منه لبعض آيات المواريث، وبين اجتهاد منه هو (3) .
كما يفهم أنه كتب بعض هذا الكتاب لعمر بن الخطاب رضي الله عنه لما سأله في الجد، وقرأه عمر رضي الله عنه ناسباً إياه إلى زيد مع إقراره له (4) .
--------------------------------------------
সাহাবিগণ যা সংকলন করেছেন তার মধ্যে জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর ফারায়েজ (الفرائض) বিষয়ক কিতাবটিও অন্তর্ভুক্ত। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে কুরআনের ওহী লিখনের জন্য এবং যারা একটি মুসহাফে কুরআন সংকলন করেছিলেন তাদের একজন হিসেবেও সুপরিচিত। তিনি ফারায়েজ (الفرائض) শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন, বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অধিকতর সঠিক (الراجح) মতানুসারে ৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (১)। তাঁর মৃত্যু জাবের (রা.)-এর ইন্তেকালের অনেক আগের ঘটনা, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল-ফাসায়ি স্বীয় সনদের মাধ্যমে যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যদি জায়েদ ইবনে সাবিত ফারায়েজ (الفرائض) লিখে না যেতেন, তবে আমি মনে করি তা মানুষের মাঝ থেকে হারিয়ে যেত" (২)।
সুতরাং জায়েদের এই কিতাবটি শরয়ি মিরাস বা উত্তরাধিকার বিষয়ের জন্য নিবেদিত একটি সংকলন হিসেবে বিবেচিত হয়। জায়েদের ওফাতকাল ৪৫ হিজরি হওয়ায় তাঁর এই সংকলনটি অত্যন্ত প্রাচীন স্তরের। তাঁর সম্পর্কে প্রাপ্ত বর্ণনাসমূহ থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, জায়েদ তাঁর এই কিতাবে মারফু (المرفوعة) হাদিস, খুলাফায়ে রাশেদিনের থেকে বর্ণিত আসার (الآثار), মিরাস সংক্রান্ত কিছু আয়াতের তাফসির এবং তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর সমন্বয় ঘটিয়েছেন (৩)।
আরও বোঝা যায় যে, তিনি এই কিতাবের কিছু অংশ ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জন্য লিখেছিলেন যখন তিনি তাঁকে দাদার উত্তরাধিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। ওমর (রা.) সেটি পাঠ করেন এবং জায়েদের প্রতি তা সম্বন্ধযুক্ত করেন এবং তাঁর বক্তব্যের অনুমোদন (إقرار) প্রদান করেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثم كتب به إلى معاوية رضي الله عنه في خلافته، وذكر له فيه ما أقره عليه عمر وعثمان رضي الله عنهما (1) وقد صار الكتاب يُروَى وينقل مجموعا ومتفرقا بالأسانيد عن زيد بواسطة الرواة عنه وبخاصة كبراء أولاده وآله مثل سعيد بن سليمان بن زيد، عن أبيه عن جده (2) وعن خارجة بن زيد عن أبيه، ومن هذا الطريق اشتهرت رواية الكتاب عند المتقدمين ومن بعدهم من المشارقة والمغاربة (3) .
ويفهم من مراجعة نصوص هذا الكتاب المتفرقة في المصنفات الحديثية كما سبقت الإحالة عليها أن كتاب زيد رضي الله عنه في الفرائض، كان أكبر حجما من كتاب جابر رضي الله عنه في حجة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
أمّا ما أخرجه الطبراني من امتناع زيد بن ثابت عن كتابة مروان بن الحكم للحديث عنه، وروايته أن النبي صلى الله عليه وسلم نهاهم أن يكتبوا حديثه (4) فإنه لو صح عنه أو عن غيره فالجواب عنه مع مثله من أحاديث النهي، قد ذكره الحافظ ابن حجر حيث قال: إن هذه الأحاديث الصحيحة المفيدة لإذنه صلى الله عليه وسلم في كتابة الحديث عنه، والأحاديث أيضاً التي اشتملت على نهيه عن ذلك كحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عند مسلم، أنه صلى الله عليه وسلم قال: "لا
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি তাঁর খিলাফতকালে মুয়াবিয়া (রা.)-এর কাছে এটি লিখে পাঠান এবং এতে উমর ও উসমান (রা.) যা অনুমোদন করেছিলেন তা তিনি তাঁর কাছে উল্লেখ করেন (১)। এই কিতাবটি যাইদ (রা.)-এর নিকট থেকে তাঁর বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে, বিশেষ করে তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান ও পরিজনদের মাধ্যমে যেমন—সাঈদ ইবনে সুলাইমান ইবনে যাইদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে (২) এবং খারিজাহ ইবনে যাইদ তাঁর পিতা থেকে—সমষ্টিগত ও বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন সনদসমূহের (الأسانيد) মাধ্যমে বর্ণিত ও স্থানান্তরিত হতে থাকে। এই সূত্র (طريق) থেকেই কিতাবটির বর্ণনা পূর্ব ও পশ্চিমের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করে (৩)।
হাদিস বিষয়ক সংকলনগুলোতে (المصنفات الحديثية) উল্লিখিত এই কিতাবের বিক্ষিপ্ত পাঠগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি বোঝা যায়—যেমনটি পূর্বে নির্দেশ করা হয়েছে—যে মিরাস বা ফারায়েজ বিষয়ে যাইদ (রা.)-এর কিতাবটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হজ সংক্রান্ত জাবির (রা.)-এর কিতাবের তুলনায় আকারে বড় ছিল।
আর তাবারানি যাইদ বিন সাবিত (রা.) থেকে যা বর্ণনা (أخرجه) করেছেন যে, তিনি মারওয়ান ইবনে হাকামকে তাঁর থেকে হাদিস লিখে নিতে বাধা প্রদান করেছিলেন এবং তাঁর বর্ণিত সেই হাদিস যে নবী (সা.) তাঁদেরকে তাঁর হাদিস লিখতে নিষেধ করেছেন (৪); এটি যদি তাঁর থেকে বা অন্য কারো থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিতও হয়, তবে এর উত্তর এবং এই জাতীয় নিষেধমূলক হাদিসগুলোর জবাব হাফিজ ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: হাদিস লিখে রাখার ব্যাপারে নবী (সা.)-এর অনুমতির প্রমাণ বহনকারী এই সহিহ (الصحيحة) হাদিসগুলো এবং হাদিস লিখতে নিষেধ সম্বলিত হাদিসগুলো—যেমন মুসলিমে বর্ণিত আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-এর হাদিস যাতে নবী (সা.) বলেছেন: "তোমরা (লিখবে) না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تكتبوا عني شيئاً غير القرآن" (1) يمكن الجمع بينها بوجوه متعددة ومعتبرة، وقال الحافظ: إن أقربها أن النهي متقدم زمنا، والإذن ناسخ له عند الأمن من الالتباس، ثم قال: وقيل إن النهي خاص بمن خُشي منه الاتكال على الكتابة دون الحفظ، والإذن لمن أُمِنَ منه ذلك، ثم قال الحافظ قال العلماء: كره جماعة من الصحابة والتابعين كتابة الحديث، واستحبوا أن يؤخذ عنهم حفظا، كما أخذوا حفظا، لكن لما قصرت الهِمَمُ وخشِيَ الأئمة ضياع العلم دونوه.
ثم قال: وأول من دون الحديث ابن شهاب الزهري على رأس المائة، بأمر عمر بن عبد العزيز، ثم كثر التدوين، ثم التصنيف، وحصل بذلك خير كثير، فلله الحمد (2) .
--------------------------------------------
"আমার থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখো না" (১) - এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর মধ্যে একাধিক ও গ্রহণযোগ্য (معتبرة) উপায়ে সমন্বয় সাধন সম্ভব। হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী সমাধান হলো, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সময়ের বিচারে পূর্ববর্তী ছিল, আর যখন (কুরআনের সাথে হাদিস) সংমিশ্রণের আশঙ্কা দূর হলো, তখন অনুমতির বিধান একে রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে আসে। এরপর তিনি বলেন: এমনও বলা হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞাটি মূলত তাদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল যাদের ক্ষেত্রে মুখস্থ করার পরিবর্তে কেবল লেখার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ভয় ছিল, আর অনুমতি ছিল তাদের জন্য যাদের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা ছিল না। অতঃপর হাফিজ বলেন, উলামাগণ বলেছেন: সাহাবী ও তাবেয়ীদের একটি দল হাদিস লিপিবদ্ধ (كتابة) করা অপছন্দ করতেন; তারা পছন্দ করতেন যেন তাদের নিকট থেকে তা মুখস্থকরণের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়, ঠিক যেভাবে তারা নিজেরাও মুখস্থ করেছিলেন। কিন্তু যখন মানুষের মনোবল ও হিম্মত কমে গেল এবং ইমামগণ ইলম বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করলেন, তখন তারা তা সংকলন (تدوين) করেন।
অতঃপর তিনি বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজের আদেশে প্রথম শতাব্দীর শেষ ভাগে ইবনে শিহাব আল-জুহরিই সর্বপ্রথম হাদিস সংকলন (تدوين) করেন। এরপর ব্যাপকভাবে সংকলন (تدوين) ও বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস (تصنيف) শুরু হয় এবং এর মাধ্যমে প্রভূত কল্যাণ সাধিত হয়; সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المبحث الثالث: الإذن النبوي الخاص لبعض أفراد الصحابة بالكتابة ورد الشبه عنهوبجانب ما أفادته الأحاديث السابقة من إذنه صلى الله عليه وسلم العام في كتابة الصحابة الحديث عنه، فقد جاءت أحاديث أخرى بإذنه بالكتابة لأسباب ودواع خاصة: فمن ذلك: أنه في عام الفتح لما قتل رجل من خزاعة رجلاً من بني ليث، ركب صلى الله عليه وسلم راحلته ليخطب الناس، فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: "إن الله حبس عن مكة الفيل، وسلط عليها رسوله والمؤمنين"
… الحديث في حرمة مكة وحُكْم مَنْ يقتل فيها، فقام أبو شاه -رجل من أهل اليمن- قال اكتبوا لي يا رسول الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اكتبوا لأبي شاه" قال الوليد ابن مسلم- راوي الحديث عن الأوزاعي - قلت للأوزاعي: ما قوله: اكتبوا لي يا رسول الله؟ قال: هذه الخطبة التي سمعها من رسول الله صلى الله عليه وسلم (1) وفي رواية للبخاري أيضا إن الرجل قال: اكتب لي يا رسول الله. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اكتبوا لأبي شاه" (2) .
وتحديد زمن الحديث بأنه عام الفتح صريح في صحة تأخر الإذن بالكتابة؛ لأن الفتح كان في أواخر حياته صلى الله عليه وسلم كما هو معلوم.
ولفظ الحديث كما ترى بصيغة الأمر بالكتابة، وتنفيذ الصحابة لذلك،
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কতিপয় সাহাবীকে হাদিস লিপিবদ্ধ করার জন্য নবীজি (সা.)-এর বিশেষ অনুমতি এবং এ সংক্রান্ত সংশয় নিরসনপূর্ববর্তী হাদিসগুলো থেকে সাহাবীগণ কর্তৃক হাদিস লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যে সাধারণ অনুমতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, তার পাশাপাশি কতিপয় বিশেষ কারণ ও প্রেক্ষাপটে হাদিস লিখে রাখার অনুমতি প্রদানের অন্যান্য হাদিসও বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো: মক্কা বিজয়ের বছর যখন খুজাআ গোত্রের এক ব্যক্তি বনু লাইস গোত্রের এক ব্যক্তিকে হত্যা করল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর উটে চড়ে লোকজনের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মক্কা থেকে হাতিকে রুখে দিয়েছেন এবং সেখানে তাঁর রাসূল ও মুমিনদের কর্তৃত্ব দান করেছেন" … মক্কার পবিত্রতা এবং সেখানে কাউকে হত্যা করার বিধান সংক্রান্ত দীর্ঘ হাদিস। তখন ইয়েমেনের অধিবাসী আবু শাহ নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য (এ ভাষণটি) লিখে দিন।' তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তোমরা আবু শাহর জন্য লিখে দাও।" এই হাদিসের বর্ণনাকারী (راوي) ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বলেন, আমি আওজায়িকে জিজ্ঞেস করলাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য লিখে দিন'—বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, এই ভাষণটি যা তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে শুনেছেন (১)। বুখারীর অন্য একটি বর্ণনাতেও এসেছে যে, এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য লিখে দিন।' তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তোমরা আবু শাহর জন্য লিখে দাও" (২)।
হাদিসটির সময়কালকে 'মক্কা বিজয়ের বছর' হিসেবে নির্ধারণ করা হাদিস লিপিবদ্ধ করার অনুমতি পরবর্তী সময়েও বহাল থাকার নির্ভুলতার (صحة) ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ; কারণ সর্বজনবিদিত যে, মক্কা বিজয় ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের শেষ ভাগের ঘটনা।
আর হাদিসের শব্দাবলি যেমনটি আপনারা দেখছেন, তা লিপিবদ্ধ করার নির্দেশের রূপ (صيغة الأمر) হিসেবে এসেছে এবং সাহাবীগণ তা বাস্তবায়নও করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فعلاً، يفيد الحمل على الوجوب فتكون دلالته على الإذن من باب أولى.
وقد علق عبد الله بن أحمد رضي الله عنه على رواية الحديث في المسند بقوله: " ليس يُروى في كتابة الحديث شيء أصح من هذا الحديث؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمرهم فقال: "اكتبوا لأبي شاه" ما سمع النبي صلى الله عليه وسلم، خطبته" (1) .
ويلاحظ أن هذا الإذن بمناسبته المذكورة، ولسائل معين، ومع ذلك قرر عبد الله بن أحمد أنه أصح ما يروى في كتابة الحديث مطلقا دون تقييد.
وهناك ما ذُكر أن سبب الإذن في كتابته كان خشية النسيان أو عدم فهم المعنى المراد حال السماع، فقد أخرج الإمام أحمد وغيره من طرق عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده - يعني عبد الله بن عمرو بن العاص
رضي الله عنهما قال: قلتُ يا رسول الله، إنا نسمع منك أحاديث لا نحفظها أفلا نكتبها؟
قال: بلى فاكتبوها (2) .
وفي لفظ "أن عبد الله بن عمرو قال: إني أسمع منك أشياء أحب أن أعيها، فأستعين بيدي مع قلبي؟ قال: نعم (3) وفي لفظ أن عبد الله بن عمرو قال: إني أسمع منك أشياء أخاف أن أنساها، فتأذن لي أن أكتبها؟ قال:
--------------------------------------------
প্রকৃতপক্ষে, এটি অপরিহার্যতা (وجوب)-এর দিকে নির্দেশ করে, ফলে অনুমতির (إذن) ক্ষেত্রে এর প্রমাণিকতা আরও জোরালোভাবে প্রযোজ্য হয়।
মুসনাদ-এ হাদিসের বর্ণনা (رواية) প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ (রা.) মন্তব্য করেছেন: "হাদিস লিখে রাখার বিষয়ে এই হাদিসের চেয়ে অধিকতর সহিহ (أصح) আর কিছু বর্ণিত হয়নি; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন: 'আবু শাহর জন্য লিখে দাও', যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খুতবা থেকে শুনেছিলেন।" (১) ।
লক্ষণীয় যে, এই অনুমতি (إذن) উল্লিখিত বিশেষ প্রেক্ষাপটে এবং একজন নির্দিষ্ট প্রশ্নকারীর জন্য ছিল; তা সত্ত্বেও আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, হাদিস লিখে রাখার বিষয়ে কোনো প্রকার সীমাবদ্ধতা (تقييد) ছাড়াই এটি নিঃশর্তভাবে (مطلقا) সর্বাধিক সহিহ (أصح) বর্ণনা।
সেখানে এমনটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তা লিখে রাখার অনুমতির (إذن) কারণ ছিল বিস্মৃতির আশঙ্কা অথবা শ্রবণকালে উদ্দিষ্ট অর্থ বুঝতে না পারা। ইমাম আহমদ এবং অন্যরা আমর ইবনে শুআইব, তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে—অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বিভিন্ন সূত্রসমূহ (طرق)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার কাছ থেকে এমন অনেক হাদিস শুনি যা আমাদের মুখস্থ থাকে না, তবে কি আমরা সেগুলো লিখে রাখব না?
তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তোমরা সেগুলো লিখে রাখো।" (২) ।
অন্য একটি শব্দবিন্যাস (لفظ)-এ রয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর বললেন: "আমি আপনার কাছ থেকে এমন কিছু বিষয় শুনি যা আমি সংরক্ষণ করতে পছন্দ করি, তবে কি আমি আমার হৃদয়ের সাথে হাতের সাহায্য নিতে পারি? তিনি বললেন: হ্যাঁ" (৩)। অন্য একটি শব্দবিন্যাস (لفظ)-এ রয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর বললেন: "আমি আপনার কাছ থেকে এমন কিছু শুনি যা ভুলে যাওয়ার ভয় করি, আপনি কি আমাকে তা লিখে রাখার অনুমতি (إذن) দেবেন? তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
اكتبها (1) وفي رواية زيادة أن ذلك كان أول ما كتب عبد الله بن عمرو (2) ،وما في بعض طرقه من ضعف ينجبر بطرقه الأخرى، فيرتقي إلى الصحيح لغيره، وبه يندفع تضعيف الشيخ رشيد رضا رحمه الله للحديث من طريق عمرو بن شعيب وحدها دون البحث أو النظر فيما يعضدها (3) .
وأخرج الترمذي من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: كان رجل من الأنصار يجلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم فيسمع منه الحديث فيعجبه فشكا ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله: إني أسمع منك الحديث فيعجبني ولا أحفظه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "استعن بيمينك" وأومأ بيده للخط.
وقد ضعف الترمذي الحديث بإسناده الذي أخرجه به، ولكن أشار إلى أن ضعفه ينجبر بما يشهد له من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما فقال: وفي الباب عن عبد الله بن عمرو (4) وهو حديث صحيح كما تقدم.
--------------------------------------------
এটি লিখে নাও (১)। একটি বর্ণনায় (رواية) অতিরিক্ত অংশ রয়েছে যে, এটিই ছিল প্রথম বিষয় যা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর লিখেছিলেন (২)। এর কিছু সূত্রের (طرق) মধ্যে যে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, তা অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে নিরসন হয়ে যায় (ينجبر); ফলে এটি লি-গাইরিহি সহিহ (الصحيح لغيره) স্তরে উন্নীত হয়। এর মাধ্যমেই শায়খ রশিদ রেজা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর হাদিসটিকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্তকরণটি খন্ডিত হয়, যা তিনি কেবল আমর ইবনে শুয়াইবের সূত্রের ওপর ভিত্তি করে করেছিলেন, এর সাহায্যকারী (يعضد) বর্ণনাগুলো অনুসন্ধান বা পর্যবেক্ষণ করা ছাড়াই (৩)।
তিরমিজি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক আনসারী ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বসতেন এবং তাঁর কাছ থেকে হাদিস শুনতেন যা তাঁর কাছে ভালো লাগত। অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সে বিষয়ে অভিযোগ করে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার কাছ থেকে হাদিস শুনি যা আমার কাছে ভালো লাগে, কিন্তু আমি তা মুখস্থ রাখতে পারি না। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও" এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে লেখার দিকে ইশারা করলেন।
তিরমিজি যে সনদে (إسناد) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন সেটির কারণে তিনি একে দুর্বল (ضعف) বলেছেন; কিন্তু তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এর দুর্বলতা (ضعف) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসের মাধ্যমে নিরসন হয়ে যায় (ينجبر), যা এর সাক্ষী (يشهد) হিসেবে বিদ্যমান। তিনি বলেছেন: "এই অধ্যায়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (৪) থেকে হাদিস বর্ণিত আছে" এবং এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীস ফী আহদিন নাবীয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সাহাবাতিহি ওয়া আসারুহা ফী হিফজিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الرابع: الأمر الوجوبي من الرسول صلى الله عليه وسلم بالكتابة ولا سيَّما للولاة والقبائل والمعاهدات، ورؤساء الدولفلم يقتصر صلى الله عليه وسلم على الإذن الخاص والعام لصحابته الكِرام بالكتابة بأنفسهم أو بواسطة بعضهم لبعض ما تلقوه عنه من السنن، وإنما صدرت منه أوامر متعددة ونُفذت فعلاً على جهة الوجوب، مع تضمن المكتوب أنواعاً من التشريعات والأحكام.
فمن ذلك ما تقدم من أمره صلى الله عليه وسلم بالكتابة لأبي شاه، وتنفيذ الصحابة فعلاً لذلك، حيث كتب بعضهم لأبي شاه ما سمعه حين ذاك من الرسول صلى الله عليه وسلم من أحكام الحج.
ومن ذلك ما أمر بكتابته لولاته على البلاد والقبائل من الصحابة، مثل عمرو بن حزم الأنصاري رضي الله عنه وكان ممن شهد غزوة الخندق، وقد استعمله النبي صلى الله عليه وسلم على نجران، وكتب له كتابا إلى أهل اليمن، فيه الفرائض من صلاة وزكاة وديات وغيرها، وقد أخرج ابن حبان في صحيحه نسخة هذا الكتاب في نحو ست صفحات، وذلك من طريق محمد بن عمرو بن حزم عن أبيه عن جده أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كتب إلى أهل اليمن بكتاب فيه الفرائض والسنن والديات، وبعث به مع عمرو بن حزم فقرئت على أهل اليمن وهذه نسختها: ثم ساقها، وقد أخرجها غير ابن حبان أيضا مختصرة ومطولة (1) .
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক লিখে রাখার আবশ্যিক (وجوبي) নির্দেশ, বিশেষ করে গভর্নর, গোত্রসমূহ, চুক্তিনামা এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের ক্ষেত্রে।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণকে নিজেরা লিখে রাখার বা একে অপরের মাধ্যমে তাঁর নিকট থেকে প্রাপ্ত সুন্নাহসমূহ লিপিবদ্ধ করার বিশেষ ও সাধারণ অনুমতি দিয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তাঁর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকার আদেশ জারি হয়েছিল এবং সেগুলো আবশ্যিক (وجوب) ভিত্তিতে বাস্তবে কার্যকর করা হয়েছিল, যার মধ্যে বিভিন্ন প্রকার শরিয়ত প্রণয়ন ও বিধিবিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর একটি উদাহরণ হলো ইতোপূর্বে উল্লিখিত আবু শাহর জন্য লিখে দেওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ এবং সাহাবীগণ কর্তৃক তা বাস্তবে কার্যকর করা; যেখানে তাঁদের কেউ কেউ আবু শাহর জন্য সে সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শোনা হজের বিধিবিধানগুলো লিখে দিয়েছিলেন।
এর মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সাহাবীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন ভূখণ্ড ও গোত্রের গভর্নরদের জন্য তাঁর লিখে দেওয়ার নির্দেশ, যেমন আমর ইবনে হাযম আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি খন্দকের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নাজরানের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন এবং তাঁর জন্য ইয়েমেনবাসীর উদ্দেশে একটি পত্র লিখে দিয়েছিলেন, যাতে সালাত, জাকাত, রক্তপণ (ديات) এবং অন্যান্য ফরজ (فرائض) বিধানাবলি ছিল। ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই পত্রের অনুলিপি প্রায় ছয় পৃষ্ঠাজুড়ে বর্ণনা করেছেন। এটি মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়েমেনবাসীর নিকট একটি পত্র লিখেছিলেন যাতে ফরজ (فرائض), সুন্নাহ (سنن) এবং রক্তপণ (ديات) সংক্রান্ত বিধিবিধান ছিল। তিনি এটি আমর ইবনে হাযমের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন এবং তা ইয়েমেনবাসীর নিকট পাঠ করা হয়েছিল। আর এটিই হলো তার অনুলিপি: এরপর তিনি তা পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান ছাড়াও অন্যান্য ইমামগণ এটি সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন (১)।
--------------------------------------------