(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: -)
كتابة الحديث في عهد النبي صلى الله عليه وسلم بين النهي والإذن   (ناصر بن إبراهيم العبودي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: كتابة الحديث في عهد النبي صلى الله عليه وسلم بين النهي والإذن

المؤلف: ناصر بن إبراهيم العبودي

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 79

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হাদিস লিখন: নিষেধাজ্ঞা (النهي) ও অনুমতির (الإذن) মাঝে   (নাসের বিন ইব্রাহিম আল-আবুদি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হাদিস লিখন: নিষেধাজ্ঞা (النهي) ও অনুমতির (الإذن) মাঝে

লেখক: নাসের বিন ইব্রাহিম আল-আবুদি

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১)
ال‌‌مقدمة:

ن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه، وعلى آله وصحبه وسلم، أما بعد:

فيقول الله تعالى في كتابه العزيز: {وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُم بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَآئِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُواْ بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُواْ النُّورَ الَّذِيَ أُنزِلَ مَعَهُ أُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ فَآمِنُوا بِاللهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [الأعراف: 156-158] .

ويقول تعالى - أيضاً -: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي
ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হেদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে বলেন: {আর আমার দয়া প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। সুতরাং আমি তা তাদের জন্য নির্ধারিত করব যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত প্রদান করে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলিতে ঈমান আনে। যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের, যিনি উম্মি নবী, যাঁর উল্লেখ তারা তাদের নিকট রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়। তিনি তাদের সৎকাজের নির্দেশ দেন ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের জন্য হারাম করেন। আর তিনি তাদের ওপর থেকে সেই গুরুভার ও শৃঙ্খলসমূহ মোচন করেন যা তাদের ওপর ছিল। সুতরাং যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান ও সহযোগিতা করেছে এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূরের অনুসরণ করেছে, তারাই সফলকাম। বলুন: হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল, যাঁর অধিকারে আসমান ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সেই উম্মি নবীর প্রতি ঈমান আনো—যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীর প্রতি ঈমান রাখেন; আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা হেদায়াত প্রাপ্ত হও।} [সূরা আল-আরাফ: ১৫৬-১৫৮]।

তিনি আরও বলেন: {তিনিই উম্মিদের মাঝে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে ছিল নিশ্চিত...
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২)
ضَلَالٍ مُّبِينٍ} [الجمعة:2] .

ويقول صلى الله عليه وسلم في الحديث المتفق عليه: "إنَّا أمّةٌ أميةٌ، لا نكتب ولا نحسب" (1) .

من خلال هذه النصوص يتبين لنا بوضوح لا مرية فيه أن القرآن الكريم يصف النبي صلى الله عليه وسلم ب "الأمي"، ويصف أمته التي بعث فيها، وهم العرب ب "الأميين" (2) ، فيمتنّ عليهم بذلك. أي: أنهم مع كونهم أميين قد بعث الله منهم رجلاً أمياً - مثلهم لا يقرأ ولا يكتب - بشرعٍ عظيمٍ كاملٍ شاملٍ لجميع الخلق، فيه تزكيتهم وتهذيب نفوسهم، وهدايتهم، والبيان لكل ما يحتاجون إليه من أمر معاشهم ومعادهم. وهذا من أقوى براهين حجته وصدق نبوته صلوات الله وسلامه عليه (3) .

فلما بُعث النبي صلى الله عليه وسلم بالإسلام – دين العلم والتعلم – اهتمَّ صلى الله عليه وسلم بتعليم المسلمين الكتابة، فأذن لأسرى بدر من أهل مكة أن يفدوا أنفسهم بتعليم

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في الصوم باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: "لا نكتب ولا نحسب " 149: ح 1913، ومسلم في الصيام باب وجوب صوم رمضان لرؤية الهلال 850: ح 1080.

(2) أقول: هذا لا يعني عدم وجود من يعرف الكتابة من العرب في الجاهلية على الإطلاق، وإنما المقصود به الغالب والصفة العامة لهم، فإن وُجد من يكتب منهم فإنما هم قلة، والظاهر أنهم في مكة أكثر عدداً منهم في المدينة؛ لأن مكة بلدٌ تجاري يفد الناس إليه، فاحتيج إلى أن يكون فيهم من يعرف الكتابة والقراءة، يشهد لذلك أنه صلى الله عليه وسلم أذن لأسرى بدر المكيين أن يفدي كلُّ كاتبٍ منهم نفسه بتعليم عشرة من صبيان المدينة القراءة والكتابة. انظر: " طبقات ابن سعد " 2: 22.

(3) انظر: "تفسير ابن كثير" 4: 385.
স্পষ্ট পথভ্রষ্টতা।" [জুমুআ: ২]।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিসে বলেন: "নিশ্চয়ই আমরা এক নিরক্ষর জাতি; আমরা লিখি না এবং হিসাবও করি না" (১)।

এই সকল উদ্ধৃতির মাধ্যমে আমাদের নিকট কোনো প্রকার সংশয় ব্যতিরেকেই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, কুরআনুল কারীম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে "উম্মী" (নিরক্ষর) হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং তাঁর উম্মত যাদের মাঝে তিনি প্রেরিত হয়েছেন—অর্থাৎ আরবদের—"উম্মিয়্যিন" (নিরক্ষর জাতি) (২) হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এর মাধ্যমে তাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ: তারা নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্য থেকেই তাদেরই মতো একজন নিরক্ষর ব্যক্তিকে—যিনি পড়তে বা লিখতে জানতেন না—এমন এক মহান, পূর্ণাঙ্গ ও সকল সৃষ্টির জন্য ব্যাপক শরীয়ত দিয়ে পাঠিয়েছেন, যাতে রয়েছে তাদের আত্মশুদ্ধি, তাদের নফসের সংশোধন, হিদায়াত এবং তাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা। আর এটি তাঁর সত্যতা ও নবুওয়াতের অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ (৩)।

অতঃপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম—যা জ্ঞান ও শিক্ষার ধর্ম—সহ প্রেরিত হলেন, তখন তিনি মুসলমানদের লিখন পদ্ধতি শেখানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করলেন। তাই তিনি মক্কার অধিবাসী বদরের বন্দীদের এই মর্মে অনুমতি প্রদান করলেন যে, তারা যেন শিক্ষা প্রদানের বিনিময়ে নিজেদের মুক্তিপণ আদায় করে...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, সিয়াম অধ্যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমরা লিখি না এবং হিসাব করি না" অনুচ্ছেদ, ১৪৯: হাদিস ১৯১৩; এবং মুসলিম, সিয়াম অধ্যায়, চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমজানের রোজা ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, ৮৫০: হাদিস ১০৮০।

(২) আমি বলব: এর অর্থ এই নয় যে, জাহেলি যুগে আরবদের মধ্যে একেবারেই কেউ লিখতে জানত না; বরং এর দ্বারা তাদের অধিকাংশের অবস্থা ও সাধারণ বৈশিষ্ট্য বোঝানো হয়েছে। তাদের মধ্যে যদি কেউ লিখতে জানতও, তবে তারা ছিল সংখ্যায় নগণ্য। আর এটি স্পষ্ট যে, মদিনার তুলনায় মক্কায় তাদের সংখ্যা বেশি ছিল; কারণ মক্কা ছিল একটি বাণিজ্যিক শহর যেখানে মানুষের আনাগোনা ছিল, ফলে তাদের মধ্যে এমন লোকের প্রয়োজন ছিল যারা পড়তে ও লিখতে জানত। এর প্রমাণ হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের মক্কী বন্দীদের মধ্যে যারা লিখতে জানত, তাদের প্রত্যেককে মদিনার দশজন শিশুকে পড়া ও লেখা শেখানোর বিনিময়ে মুক্তিপণ আদায়ের অনুমতি দিয়েছিলেন। দেখুন: "তাবাকাত ইবনে সাদ", ২: ২২।

(৩) দেখুন: "তাফসিরে ইবনে কাসির", ৪: ৩৮৫।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৩)
عشرة من صبيان الأنصار القراءة والكتابة (1) ، وكان بعض المسلمين يتعلمون القراءة والكتابة في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم، حيث تطوّع بعض المعلمين بتعليمهم مثل: عبد الله بن سعيد بن العاص، وسعد بن الربيع الخزرجي، وبشير بن سعد بن ثعلبة، وأبان بن سعيد بن العاص (2) ، فكثر عدد الكاتبين حتى زاد عدد كتاب الوحي على أربعين كاتباً (3) ، ومع وجود عددٍ من الكتّاب في عهده صلى الله عليه وسلم، وأمره لبعضهم بكتابة القرآن الكريم، نجده لم يأمر أحداً بكتابة الحديث النبوي كما أمر بكتابة القرآن، بل نهى عن ذلك وأمر بمحو ما كُتب منه (4) ، ولعله أراد بذلك ألا يتكلوا على الكتاب، وأن يداوموا على ملكة الحفظ التي كان العرب يمتازون بها، ويعتمدون عليها في ضبط تواريخهم وأيامهم، ولاسيما أن الحديث تجوز روايته بالمعنى، بخلاف القرآن الذي هو معجزٌ بلفظه ومعناه، ومن ثمّ لا تجوز روايته بالمعنى، وللتخلص – أيضاً – من احتمال انشغال بعضهم به عن القرآن، أو حدوث التباس عند عامة المسلمين، فيخلطون القرآن بالحديث باختلاط صحف بعضهما مع بعض، وبخاصة في أول الإسلام قبل معرفة ألفاظ القرآن وتميز أسلوبه (5) ، لذلك اقتضت الحكمة

--------------------------------------------

(1) انظر التعليقة رقم 1.

(2) انظر: "طبقات ابن سعد" 3: 531، "الاستيعاب" لابن عبد البر 1: 64، "بحوث في تاريخ السنة" د. أكرم العمري: 287، "السنة قبل التدوين": 299.

(3) انظر: "عيون الأثر" لابن سيد الناس 1: 315، "تهذيب الكمال" للمزي 1: 196، "زاد المعاد" لابن القيم 1: 117، "المصباح المضيء في كتّاب النبي الأمّيّ" لابن حديدة 1: 28.

(4) انظر: المبحث الرابع في سياق أحاديث النهي عن الكتابة.

(5) انظر: ص 47، 48، 52.
আনসারদের দশজন কিশোরকে পড়া ও লেখা [শেখানো হয়েছিল] (১), এবং কিছু মুসলিম রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদে পড়া ও লেখা শিখতেন, যেখানে কিছু শিক্ষক স্বেচ্ছায় তাঁদের শিক্ষা প্রদান করতেন; যেমন: আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনুল আস, সাদ ইবনুর রাবি আল-খাজরাজি, বশির ইবনে সাদ ইবনে সালাবা এবং আবান ইবনে সাঈদ ইবনুল আস (২)। এভাবে লেখকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, এমনকি ওহি লেখকদের সংখ্যা চল্লিশ জনেরও বেশি হয়ে গিয়েছিল (৩)। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লেখক থাকা এবং তাঁদের কাউকে কাউকে কুরআন কারিম লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও, আমরা দেখতে পাই যে তিনি কাউকে নববী হাদিস লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেননি যেভাবে তিনি কুরআন লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বরং তিনি তা করতে নিষেধ করেছিলেন এবং যা কিছু লেখা হয়েছিল তা মুছে ফেলার আদেশ দিয়েছিলেন (৪)। সম্ভবত তিনি এর মাধ্যমে চেয়েছিলেন যেন তাঁরা লেখার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পড়েন এবং যেন তাঁদের মুখস্থ করার সহজাত দক্ষতা বজায় রাখেন, যে গুণে আরবরা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল এবং তাদের ইতিহাস ও ঘটনাবলি সঠিকভাবে সংরক্ষণের (ضبط) ক্ষেত্রে তারা এর ওপরই নির্ভর করত। বিশেষত হাদিসের ক্ষেত্রে মর্মগত বর্ণনা (رواية بالمعنى) বৈধ, পক্ষান্তরে কুরআন তার শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকেই মুজিজা বা অলৌকিক, যার ফলে এর মর্মগত বর্ণনা (رواية بالمعنى) বৈধ নয়। এছাড়া এর আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল কেউ যেন কুরআনের পরিবর্তে হাদিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে না পড়ে, অথবা সাধারণ মুসলিমদের মাঝে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, যার ফলে তারা কুরআনের পাতার সাথে হাদিসের পাতা মিশিয়ে ফেলে কুরআন ও হাদিসকে সংমিশ্রিত করে ফেলে। বিশেষত ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে যখন কুরআনের শব্দাবলি সম্যকভাবে পরিচিতি লাভ করেনি এবং এর বিশেষ শৈলী পুরোপুরি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়নি (৫)। এ কারণেই প্রজ্ঞা দাবি করেছিল...

--------------------------------------------

(১) দেখুন ১ নম্বর টিকা।

(২) দেখুন: "তাবাকাত ইবনে সাদ" ৩: ৫৩১, ইবনে আব্দুল বার রচিত "আল-ইস্তিয়াব" ১: ৬৪, ড. আকরাম আল-উমারি রচিত "বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ": ২৮৭, "আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদউইন": ২৯৯।

(৩) দেখুন: ইবনে সাইয়্যিদুন নাস রচিত "উয়ুনুল আসার" ১: ৩১৫, মিযযি রচিত "তাহযিবুল কামাল" ১: ১৯৬, ইবনুল কাইয়্যিম রচিত "যাদুল মাআদ" ১: ১১৭, ইবনে হাদিদাহ রচিত "আল-মিসবাহুল মুদি ফি কুততাবিন নাবি আল-উম্মি" ১: ২৮।

(৪) দেখুন: চতুর্থ পরিচ্ছেদ, লিখন নিষিদ্ধ হওয়া বিষয়ক হাদিসসমূহের প্রেক্ষাপট।

(৫) দেখুন: পৃষ্ঠা ৪৭, ৪৮, ৫২।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৪)
حصر جهود الكاتبين في نطاق تدوين القرآن الكريم دون الحديث، فلما تميّز القرآن ورسخت معرفة الصحابة به، وأمِن صلى الله عليه وسلم عليهم خلطهم غيره به أذن لهم في الكتابة، فكتب بعضهم صحائف وكتباً لأنفسهم، وكتب هو صلى الله عليه وسلم بعض الكتب والمكاتبات الكثيرة التي كان يبعث بها لإبلاغ هذا الدين، وهمّ قُبَيْل موته أن يكتب كتاباً للناس لا يضلون بعده أبداً.

فلما توفي صلى الله عليه وسلم كثر عدد من يكتب الحديث من الصحابة والتابعين، وأحجم آخرون عن ذلك تورعاً بسبب النهي الوارد، واستمر الأمر على ذلك، بعضهم يكتب، وبعضهم لا يكتب. إلى أن جاء عهد الخليفة الزاهد عمر بن عبد العزيز، الذي دعا إلى جمع السنة وتدوينها. قال البخاري في كتاب العلم: باب كيف يقبض العلم:34: وكتب عمر بن عبد العزيز إلى أبي بكر بن حزم – عامله على المدينة-: "انظر ما كان من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فاكتبه؛ فإني خفت دروس العلم وذهاب العلماء"، وبدعوته انتهى الخلاف في كتابة الحديث.

واستقر الأمر على استحباب كتابة الحديث، وبعهده ابتدأ التدوين الرسمي الشامل للأحاديث، الذي يقصد به جمع شتات الأحاديث وما تفرق منها في صحائف العلماء ومحفوظاتهم في كتابٍ واحدٍ يتداوله عامة الناس، فكان "أول من دوّن الحديث ابن شهاب الزهري (ت 124هـ) على رأس المائة الأولى بأمر عمر بن عبد العزيز" (1) ، ثم انتشر التدوين وأخذ صفة العموم في هذا القرن -أعني القرن الثاني – ولم يزل التدوين يقوى ويشتد، حتى بلغ

--------------------------------------------

(1) انظر: " فتح الباري "1: 208.
লেখকদের প্রচেষ্টাকে হাদিস ব্যতিরেকে শুধুমাত্র পবিত্র কুরআন লিপিবদ্ধ করার (تدوين) গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। অতঃপর যখন কুরআন স্বতন্ত্র রূপ লাভ করল এবং সাহাবীগণের এ বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জিত হলো, আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পক্ষ থেকে কুরআনের সাথে অন্য কিছু মিশিয়ে ফেলার ব্যাপারে আশঙ্কামুক্ত হলেন, তখন তিনি তাদেরকে লেখার অনুমতি প্রদান করলেন। ফলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের জন্য কিছু সহীফা (صحائف) ও পাণ্ডুলিপি রচনা করলেন। স্বয়ং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীন প্রচারের জন্য বহু চিঠি ও পত্রাদি লিখেছিলেন যা তিনি প্রেরণ করতেন। এমনকি তিনি তাঁর ওফাতের অল্পকাল পূর্বে মানুষের জন্য এমন একটি কিতাব লিখে দেওয়ার সংকল্প করেছিলেন যার পর তারা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না।

অতঃপর যখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত লাভ করলেন, তখন সাহাবী ও তাবিঈগণের (التابعين) মধ্যে হাদিস লিপিবদ্ধকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। আর অন্য অনেকে পূর্বের নিষেধাজ্ঞার কারণে পরহেযগারিতা (تورعاً) বশত তা থেকে বিরত থাকলেন। বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকল; কেউ লিখতেন আবার কেউ লিখতেন না। শেষ পর্যন্ত যাহিদ (الزاهد) খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের যুগ এল, যিনি সুন্নাহ সংগ্রহ (جمع) ও সংকলনের (تدوين) আহ্বান জানালেন। ইমাম বুখারী তাঁর 'কিতাবুল ইলম'-এর 'ইলম কীভাবে উঠিয়ে নেওয়া হবে' অনুচ্ছেদে বলেন: উমর ইবনে আব্দুল আজিজ মদীনার গভর্নর আবু বকর ইবনে হাযমের নিকট লিখলেন— "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহের দিকে লক্ষ করো এবং তা লিপিবদ্ধ করো; কেননা আমি ইলম বিলুপ্ত হওয়া এবং আলেমগণের বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা করছি।" তাঁর এই আহ্বানের মাধ্যমেই হাদিস লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে যে মতবিরোধ ছিল তার অবসান ঘটে।

আর হাদিস লিপিবদ্ধ করা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়টি স্থির হলো এবং তাঁর যুগেই হাদিসের আনুষ্ঠানিক ও ব্যাপক সংকলন (التدوين) শুরু হলো, যার উদ্দেশ্য ছিল আলেমগণের বিভিন্ন সহীফা (صحائف) ও স্মৃতির ভাণ্ডারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাদিসগুলোকে একটি কিতাবের মধ্যে একত্রিত করা যা সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত থাকবে। সুতরাং "উমর ইবনে আব্দুল আজিজের আদেশে প্রথম শতাব্দীর শেষে ইবনে শিহাব যুহরীই (মৃ. ১২৪ হিজরী) সর্বপ্রথম হাদিস সংকলন (دوّن) করেন।" (১) অতঃপর এই শতাব্দীতে—অর্থাৎ দ্বিতীয় শতাব্দীতে—সংকলন (التدوين) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সাধারণ রূপ লাভ করে। এই সংকলন প্রক্রিয়া ক্রমেই শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হতে থাকে, যতক্ষণ না এটি পৌঁছেছে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "ফাতহুল বারী" ১: ২০৮।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৫)
عنفوانه، واستوى على سوقه في القرن الثالث، خاتمة القرون الثلاثة المفضلة، والذي يمكن أن يطلق عليه العصر الذهبي للتدوين (1) .

ومنذ ذلك العهد وعلماء الإسلام يُعنون بخدمة السنة النبوية، والتصنيف فيها، والترتيب لها، وتقريب معانيها، واستنباط الأحكام منها، وبذل الوسع في بيان صحيحها من سقيمها، والدفاع عنها وردِّ الشبه القديمة والحديثة المثارة حولها، واستمرت سلسلة العناية بالسنة النبوية حتى يومنا هذا، فأتم اللاحق ما بدأه السابق، فأُنشِئت الجمعيات والمراكز العلمية، وشُيِّدت الكليات الشرعية، وأُقيمت الندوات المتخصصة التي تُعنى بالسنة والسيرة النبوية، مما كان له أبرز الأثر في خدمة السنة النبوية، وإثراء المكتبة العلمية بالبحوث المتخصصة فيها، ونشر كتب السنة، وإبرازها للناس بتحقيقٍ علميٍ موثَّق، ولعل هذا جزءٌ من العناية التي تحظى به السنة النبوية في هذا البلد المبارك بلد الحرمين - المملكة العربية السعودية - بتوجيهٍ ودعمٍ متواصلين من خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز حفظه الله تعالى، وسدَّد خطاه في خدمة الإسلام والمسلمين.

ومما يشهد لذلك هذه الندوة المباركة – إن شاء الله تعالى – التي ينظمها مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة، بعنوان:

"عناية المملكة العربية السعودية بالسنة والسيرة النبوية"

--------------------------------------------

(1) انظر: كتاب "دفاع عن السنة" لفضيلة الدكتور محمد أبوشهبة: 23، "منهج النقد في علوم الحديث" للدكتور نور الدين عتر: 45.
এটি তার পূর্ণ শক্তি ও যৌবনে পৌঁছেছিল এবং তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা সর্বোত্তম তিন যুগের সর্বশেষ পর্যায়। একে হাদিস সংকলনের (تدوين) স্বর্ণযুগ হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে (১)।

সেই কাল থেকে ইসলামের আলিমগণ সুন্নাহর সেবা, সুন্নাহ বিষয়ক গ্রন্থ রচনা ও বিন্যাসকরণ, এর অর্থসমূহকে সহজবোধ্য করা এবং তা থেকে বিধি-বিধান আহরণ (استنباط) করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আসছেন। তাঁরা সুন্নাহর বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনাগুলো পৃথক করার জন্য এবং সুন্নাহর প্রতিরক্ষা ও একে কেন্দ্র করে উত্থাপিত প্রাচীন ও আধুনিক সংশয়সমূহ নিরসনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। সুন্নাহর প্রতি যত্নের এই ধারাবাহিকতা আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে, যেখানে পরবর্তী প্রজন্ম পূর্ববর্তীদের কাজকে পূর্ণতা দান করেছে। এর ফলে বিভিন্ন তাত্ত্বিক সমিতি ও কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শরীয়াহ অনুষদসমূহ নির্মিত হয়েছে এবং সুন্নাহ ও সীরাত (السيرة) বিষয়ক বিশেষায়িত সেমিনার আয়োজিত হয়েছে। যা সুন্নাহর সেবায় এবং বিশেষায়িত গবেষণার মাধ্যমে ইলমি লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করতে, সুন্নাহর কিতাবসমূহ প্রকাশ করতে এবং নির্ভরযোগ্য তাত্ত্বিক যাচাই ও সম্পাদনার (تحقيق) মাধ্যমে মানুষের সামনে তা তুলে ধরতে অনন্য প্রভাব ফেলেছে। সম্ভবত এটি এই বরকতময় দেশ—দুই পবিত্র মসজিদের দেশ সৌদি আরব রাজ্যে—খাদেমুল হারামাইন শরীফাইন বাদশাহ ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের সেবায় তাঁর পদক্ষেপকে সুদৃঢ় করুন)-এর নিরন্তর দিকনির্দেশনা ও সমর্থনে সুন্নাহর প্রতি প্রদর্শিত বিশেষ যত্নেরই একটি অংশ।

এর অন্যতম প্রমাণ হলো—ইনশাআল্লাহ—এই বরকতময় সেমিনার, যা মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন আয়োজন করেছে, যার শিরোনাম হলো:

"সুন্নাহ ও সীরাতুন্নবী (السيرة النبوية) সংরক্ষণে সৌদি আরব রাজ্যের অবদান"

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ড. মুহাম্মদ আবু শাহবাহ রচিত 'দিফা আনিল সুন্নাহ': ২৩; ড. নূরুদ্দীন ইতর রচিত 'মানহাজুন নাকদ ফি উলুমিল হাদিস': ৪৫।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৬)
يلتقي للتواصل والمشاركة فيها عددٌ كبيرٌ من صفوة العلماء والباحثين المهتمين بهذين المجالين من مختلف أقطار العالم، ولقد دُعيتُ للمشاركة في فعاليات هذه الندوة، وتقديم بحث في أحد موضوعات المحور الأول من محاورها، بعنوان:

"كتابة الحديث في عهد النبي صلى الله عليه وسلم بين النهي والإذن "

فوقع ذلك في قلبي، واستجبت للمشاركة في الكتابة فيه، وقدَّمتُ له بهذه المقدمة التي تطرّقتُ فيها إلى تطور كتابة الحديث في العهد النبوي، وما مر بكتابة الحديث من المراحل على سبيل الإجمال، ثم قسمته إلى عدة مباحث:

* المبحث الأول: في سياق الأحاديث الواردة في الإذن بكتابة الحديث، مع تخريجها، ودراسة أسانيدها، والحكم عليها.

* المبحث الثاني: في ذكر بعض الصحف والكتابات والمكاتبات التي وُجدت في عهده صلى الله عليه وسلم.

* المبحث الثالث: في إثبات تواتر الأحاديث في وقوع الكتابة في عهده صلى الله عليه وسلم.

* المبحث الرابع: في سياق الأحاديث الواردة في النهي عن كتابة الحديث، مع تخريجها، ودراسة أسانيدها، والحكم عليها.

* المبحث الخامس: في ذكر آراء العلماء في التوفيق بين أحاديث الإذن والنهي، وتحقيق المسألة في ذلك.

* المبحث السادس: في الرد على الشبه المثارة حول السنة من جهة كتابتها.

* الخاتمة: وتشتمل على أهم نتائج البحث.
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই ক্ষেত্র দুটিতে আগ্রহী একদল বরেণ্য আলেম ও গবেষক পারস্পরিক যোগাযোগ ও অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে এই সেমিনারে একত্রিত হন। আমাকে এই সেমিনারের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার এবং এর প্রথম মূল প্রতিপাদ্যের অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয়ের ওপর গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যার শিরোনাম হলো:

"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে হাদিস লিখন: নিষেধাজ্ঞা (نهي) এবং অনুমতি (إذن)-এর মধ্যবর্তী অবস্থা"

বিষয়টি আমার মনে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে এবং আমি এই বিষয়ে গবেষণায় অংশগ্রহণের প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। আমি এতে একটি ভূমিকা পেশ করেছি যেখানে আমি নবী যুগে হাদিস লিখনের বিবর্তন এবং সামগ্রিকভাবে হাদিস লিখন যে সকল পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে তা সংক্ষেপে আলোচনা করেছি। অতঃপর আমি একে কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

* প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিস লিখনের অনুমতি (إذن) সংক্রান্ত হাদিসসমূহের বর্ণনা, সেগুলোর উৎসের অনুসন্ধান (تخريج), সনদসমূহ (أسانيد) পর্যালোচনা এবং সেগুলোর ওপর সিদ্ধান্ত (حكم) প্রদান প্রসঙ্গে।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে বিদ্যমান কিছু পাণ্ডুলিপি, লিখন ও পত্রাবলি উল্লেখ প্রসঙ্গে।

* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে হাদিস লিখনের বিষয়টির নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা (تواتر) প্রমাণের বিষয়ে।

* cuarto পরিচ্ছেদ: হাদিস লিখন নিষেধাজ্ঞা (نهي) সংক্রান্ত হাদিসসমূহের বর্ণনা, সেগুলোর উৎসের অনুসন্ধান (تخريج), সনদসমূহ (أسانيد) পর্যালোচনা এবং সেগুলোর ওপর সিদ্ধান্ত (حكم) প্রদান প্রসঙ্গে।

* পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অনুমতি (إذن) ও নিষেধাজ্ঞা (نهي) সংক্রান্ত হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় (توفيق) সাধনে আলেমগণের মতামত এবং এ বিষয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ (تحقيق) প্রসঙ্গে।

* ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: হাদিস লিখন কেন্দ্রিক সুন্নাহর বিষয়ে উত্থাপিত সংশয়সমূহের (شبهات) নিরসন প্রসঙ্গে।

* উপসংহার: এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৭)
* الفهارس، ولقد اقتصرت فيها على:

- فهرس المصادر والمراجع التي رجعت لها في هذا البحث؛ لقرب مباحثه وقلة أحاديثه.

هذا، والله تعالى أسال أن يجعل هذا البحث خالصاً لوجهه الكريم، وأن يجعله من العلم النافع والعمل الصالح، وأن يغفر لي ولوالدي، ولعموم المسلمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
* নির্ঘণ্টসমূহ, আর আমি এতে কেবল নিম্নোক্ত বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি:

- এই গবেষণায় ব্যবহৃত উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট; এর আলোচনার পরিধি সংক্ষিপ্ত এবং হাদিসসমূহের সংখ্যা অল্প হওয়ার কারণে।

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই গবেষণাকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং একে উপকারী জ্ঞান ও সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত করেন; আর তিনি যেন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সাধারণ সকল মুসলিমকে ক্ষমা করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৮)
كتابة الحديث في عهد النبي صلى الله عليه وسلم بين النهي والإذن

إعداد: الدكتور ناصر بن إبراهيم العبودي

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المبحث الأول: في سياق الأحاديث الواردة في الإذن بكتابة الحديث النبوي، مع تخريجها، ودراسة أسانيدها، والحكم عليها

‌‌الحديث الأول:

عن أبي هريرة –رضي الله عنه– قال: كان رجلٌ من الأنصار يجلس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيسمع من النبي صلى الله عليه وسلم الحديث فيعجبه ولا يحفظه، فشكا ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: يا رسول الله، إني لأسمع منك الحديث، فيعجبني ولا أحفظه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "استعن بيمينك"، وأومأ بيده للخط.

تخريج الحديث:

هذا الحديث أخرجه الترمذي وغيره من حديث أبي هريرة –رضي الله عنه– ومدار أغلب أسانيده على: "الخليل بن مرة، عن يحيى بن أبي صالح، عن أبي هريرة"، إلا أنه اختلف فيه على الخليل:

* فمرة روي عنه كما تقدم:

- أخرجه الترمذي (1) عن قتيبة، والخطيب في "الجامع لأخلاق الراوي" (2) من طريق داود بن منصور، كلاهما عن الليث بن سعد، عن الخليل، به، بلفظه، وعند الخطيب لُقِّب يحيى بن أبي صالح ب "السمان".

قال الترمذي: هذا حديثٌ ليس إسناده بذاك القائم، وسمعت محمد بن إسماعيل يقول: الخليل بن مرة منكر الحديث.

--------------------------------------------

(1) كتاب العلم باب ما جاء في الرخصة فيه – يعني: كتابة العلم – 1920: ح 2666.

(2) 1: 249: ح 503.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হাদিস লিখন: নিষেধ ও অনুমতির মধ্যবর্তী অবস্থা

সংকলনে: ড. নাসির বিন ইব্রাহিম আল-আবউদি

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: নববী হাদিস লিখনের অনুমতির ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসসমূহের প্রাসঙ্গিক আলোচনা, সেগুলোর তাখরিজ (تخريج), সনদসমূহ (أسانيد) বিশ্লেষণ এবং সেগুলোর উপর হুকুম (حكم) প্রদান

‌‌প্রথম হাদিস:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসতেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে হাদিস শুনতেন যা তাকে মুগ্ধ করত কিন্তু তিনি তা মুখস্থ করতে পারতেন না। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এই মর্মে অভিযোগ করে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার নিকট থেকে হাদিস শুনি যা আমাকে মুগ্ধ করে কিন্তু আমি তা মুখস্থ রাখতে পারি না। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও", এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে লিখনের ইশারা করলেন।

হাদিসের তাখরিজ (تخريج):

এই হাদিসটি তিরমিজি এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। এর অধিকাংশ সনদের (أسانيد) মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো: "খলিল বিন মুররা, ইয়াহিয়া বিন আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে", তবে খলিলের বর্ণনায় মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে:

* এক পর্যায়ে তাঁর থেকে এভাবে বর্ণিত হয়েছে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে:

- এটি তিরমিজি (১) কুতায়বা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং খতিব "আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি" (২)-তে দাউদ বিন মানসুরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে লাইস বিন সাদ থেকে, তিনি খলিল থেকে, সেই একই সূত্রে ও একই শব্দে বর্ণনা করেছেন। খতিবের বর্ণনায় ইয়াহিয়া বিন আবু সালিহকে "আস-সাম্মান" উপাধি দেওয়া হয়েছে।

তিরমিজি বলেন: এই হাদিসটির সনদ (إسناد) খুব একটা সুদৃঢ় নয়। এবং আমি মুহাম্মদ বিন ইসমাইলকে বলতে শুনেছি: খলিল বিন মুররা হলেন প্রত্যাখ্যাত (منكر الحديث) বর্ণনাকারী।

--------------------------------------------

(১) কিতাবুল ইলম, অধ্যায়: এতে (অর্থাৎ: ইলম লিখনে) অনুমতির বিবরণ – ১৯২০: হাদিস নং ২৬৬৬।

(২) ১: ২৪৯: হাদিস নং ৫০৩।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৯)
*ومرة روي: "عنه، عن علي بن أبي صالح السمان، عن أبي هريرة" أخرجه ابن عدي في "الكامل" (1) عن علان، عن عيسى، عن الليث، عن الخليل، به، بنحوه مختصراً.

*ومرة روي: "عنه، عن أبي صالح السمان، عن أبي هريرة":

- أخرجه ابن عدي في "الكامل" (2) عن عبد الرحمن بن سليمان بن برد، عن عيسى بن حماد، عن الليث، عن الخليل، به، بنحوه مختصراً.

*ومرة روي "عنه، عن يحيى بن أبي صالح السمان، عن أبيه، عن أبي هريرة ":

- أخرجه الخطيب في "تقييد العلم" (3) من طرق عن النعمان بن عبد السلام وعبد الأعلى بن محمد وعثمان بن رقاد،

- وابن عدي في "الكامل" (4) من طريق عبد الله بن عبد الله الأموي، أربعتهم عن الخليل، به، بنحوه.

· النظر في اختلاف روايات الحديث:

لم يتبين لي إمكان الترجيح بين روايات الحديث السابقة أو الجمع بينها، وعليه فإن الحديث يكون بهذا الإسناد مضطرباً بهذه الاختلافات، فضلاً عن ضعفه بسبب وجود الخليل بن مرة فيه، وهو: الخليل بن مرة الضبعي البصري، نزيل الرَّقة، أحد الصالحين، ضعفه بعضهم

--------------------------------------------

(1) 3: 928.

(2) 3: 928.

(3) 66- 67.

(4) 3: 928.
*আবার একবার বর্ণিত হয়েছে: "তার থেকে, তিনি আলী বিন আবি সালিহ আস-সাম্মান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে"। ইবনে আদি আল-কামিল গ্রন্থে (১) আল্লান থেকে, তিনি ঈসা থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি খলিল থেকে, উক্ত সূত্রে (به) এর অনুরূপ (بنحوه) সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছেন।

*আবার একবার বর্ণিত হয়েছে: "তার থেকে, তিনি আবু সালিহ আস-সাম্মান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে":

- ইবনে আদি আল-কামিল গ্রন্থে (২) আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান বিন বারদ থেকে, তিনি ঈসা বিন হাম্মাদ থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি খলিল থেকে, উক্ত সূত্রে (به) এর অনুরূপ (بنحوه) সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণনা করেছেন।

*আবার একবার বর্ণিত হয়েছে "তার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি সালিহ আস-সাম্মান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে":

- আল-খতিব তাকয়িদুল ইলম গ্রন্থে (৩) নুমান বিন আব্দুস সালাম, আব্দুল আলা বিন মুহাম্মদ এবং উসমান বিন রক্কাদ এর বিভিন্ন সূত্র (طرق) থেকে বর্ণনা করেছেন,

- এবং ইবনে আদি আল-কামিল গ্রন্থে (৪) আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-উমায়ির সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা চারজনই খলিল থেকে, উক্ত সূত্রে (به) এর অনুরূপ (بنحوه) বর্ণনা করেছেন।

· হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনার পর্যালোচনা:

হাদিসের পূর্বোক্ত বর্ণনাগুলোর মধ্যে কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়া (ترجيح) অথবা সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় (جمع) করা আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি। অতএব, এই মতপার্থক্যগুলোর কারণে এই সনদ (إسناد) অনুযায়ী হাদিসটি সংঘাতপূর্ণ (مضطرب)। তদুপরি, এতে খলিল বিন মুররাহ-এর উপস্থিতির কারণে হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। আর তিনি হলেন: খলিল বিন মুররাহ আদ-দবায়ি আল-বাসরি, রাক্কাহর অধিবাসী এবং একজন নেককার ব্যক্তি (صالح); তবে কেউ কেউ তাকে দুর্বল (ضعيف) বলে অভিহিত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ৩: ৯২৮।

(২) ৩: ৯২৮।

(৩) ৬৬- ৬৭।

(৪) ৩: ৯২৮।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১০)
تضعيفاً شديدا، كالبخاري – كما تقدم في تخريج الحديث – وغيره، ووثقه آخرون، وذكره ابن عدي في "الكامل في الضعفاء" (1) ، وساق له بعض الأحاديث المنتقدة، ثم قال: ولم أر في أحاديثه حديثاً منكراً قد جاوز الحد، وهو في جملة من يكتب حديثه، وليس هو بمتروك الحديث. أ. هـ، وقد روى له الترمذي، مات سنة (160هـ) (2) .

·متابعٌ للخليل بن مرة:

هذا وقد تابع الخليلَ بنَ مرة على رواية هذا الحديث الخصيبُ بنُ جحدر،

إلا أنه قد اختلف فيه عليه – أيضاً -:

*فمرة روي: "عنه، عن أبي صالح، عن أبي هريرة".

- أخرجه الطبراني في "الأوسط" (3) ،

- والخطيب في "تقييد العلم" (4) ،

- والعقيلي في "الضعفاء" (5) ، ثلاثتهم من طرق عن عبد الصمد بن سليمان، عن الخصيب بن جحدر، به، بنحوه مختصراً.

قال الطبراني: لم يرو هذا الحديث عن أبي صالح إلا الخصيب بن جحدر.

--------------------------------------------

(1) 3: 928.

(2) انظر: " الكامل " 3: 928، " تهذيب الكمال " 8: 342، " الكاشف " 1: 376، " ديوان الضعفاء والمتروكين ": 89، " التقريب ": 196.

(3) 1: 446: ح 805.

(4) 65.

(5) 3: 83.
তাকে কঠোরভাবে দুর্বল (تضعيفاً) সাব্যস্ত করা হয়েছে, যেমন ইমাম বুখারি—হাদিসের তাখরিজে ইতিপূর্বে যেমনটি আলোচিত হয়েছে—এবং অন্যান্যরা। আবার কেউ কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। ইবনে আদি তাকে ‘আল-কামিল ফিদ দুয়াফা’ (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তার কিছু সমালোচিত হাদিস উপস্থাপন করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: “আমি তার বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে এমন কোনো মুনকার (منكراً) হাদিস দেখিনি যা সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি ওই সমস্ত বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত যাদের হাদিস লিখে রাখা হয় এবং তিনি হাদিস বর্ণনায় পরিত্যক্ত (متروك) নন।” সমাপ্ত। ইমাম তিরমিজি তার সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৬০ হিজরি সনে (২) মৃত্যুবরণ করেন।

·খলিল বিন মুররাহ-এর জন্য একটি মুতাবি বা সমর্থক বর্ণনা (متابع):

এই হাদিসটি বর্ণনার ক্ষেত্রে আল-খাসিব বিন জাহদার খলিল বিন মুররাহ-এর অনুসরণ (تابع) করেছেন,

তবে এক্ষেত্রেও তার বর্ণনায় মতভেদ (اختلف) পরিলক্ষিত হয়েছে:

*কখনো বর্ণিত হয়েছে: “তার সূত্রে, আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে।”

- ইমাম তাবারানি ‘আল-আউসাত’ (৩) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন,

- এবং খাতিব ‘তাকয়ীদুল ইলম’ (৪) গ্রন্থে,

- আর উকাইলি ‘আদ-দুয়াফা’ (৫) গ্রন্থে; তারা তিনজনই আবদুস সামাদ বিন সুলাইমান থেকে, তিনি আল-খাসিব বিন জাহদার থেকে, এই সনদে সংক্ষেপে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম তাবারানি বলেছেন: ‘আবু সালিহ থেকে আল-খাসিব বিন জাহদার ছাড়া আর কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেনি।’

--------------------------------------------

(১) ৩: ৯২৮।

(২) দেখুন: ‘আল-কামিল’ ৩: ৯২৮, ‘তাহযীবুল কামাল’ ৮: ৩৪২, ‘আল-কাশিফ’ ১: ৩৭৬, ‘দিওয়ানুয দুয়াফা ওয়াল মাতরুকিন’: ৮৯, ‘আত-তাক্বরীব’: ১৯৬।

(৩) ১: ৪৪৬: হা: ৮০৫।

(৪) ৬৫।

(৫) ৩: ৮৩।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১১)
وقد ذكر الهيثمي هذا الحديث في "مجمع الزوائد" (1) وقال: رواه البزار، وفيه الخصيب بن جحدر، وهو كذاب. قال محقق "الأوسط ": قوله رواه البزار خطأ، والصحيح رواه الطبراني في الأوسط.

- وأخرجه الخطيب في "تقييد العلم " (2) ،

- وابن عدي في "الكامل " (3) ، كلاهما من طريق طالوت بن عباد، عن الربيع بن مسلم، عن الخصيب، به، بنحوه مختصراً.

-وأخرجه الخطيب في "تقييد العلم " (4) من طريق مسعدة بن اليسع، عن أبي الفضل رجل من أهل الشام، عن أبي صالح، عن أبي هريرة، به.

قلت: الظاهر أن أبا الفضل هذا، والذي أُبهم في الإسناد، ووصف بأنه رجلٌ من أهل الشام هو الخصيب بن جحدر، والله تعالى أعلم.

*ومرة روي: "عنه، عن عبيد الله بن أبي بكر بن أنس، عن أنس". يعني: بجعله من مسند أنس رضي الله عنه.

أخرجه الطبراني في "الأوسط " (5) ،

والخطيب في "تقييد العلم" (6) عن الحسن بن أبي بكر، عن محمد ابن أحمد الصواف، كلاهما عن إبراهيم بن هاشم البغوي، عن إسماعيل

--------------------------------------------

(1) 1: 152.

(2) 65.

(3) 3: 68.

(4) 67.

(5) 3: 393: ح 2846.

(6) 67.
ইমাম হাইসামি এই হাদিসটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি আল-বাজ্জার বর্ণনা করেছেন, এতে আল-খাসিব বিন জাহদার রয়েছে, আর সে হলো চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)। "আল-আওসাত"-এর মুহাক্কিক (গবেষক) বলেছেন: তাঁর উক্তি "এটি আল-বাজ্জার বর্ণনা করেছেন" একটি ভুল, বরং সঠিক (الصحيح) হলো এটি তাবারানি "আল-আওসাত" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

- এবং খতিব এটি "তাকয়িদুল ইলম" (২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন,

- এবং ইবনে আদি এটি "আল-কামিল" (৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই তালুত বিন আব্বাদ-এর সূত্রে, তিনি রাবি বিন মুসলিম থেকে, তিনি আল-খাসিব থেকে, একইভাবে সংক্ষিপ্ত আকারে এটি বর্ণনা করেছেন।

- এবং খতিব এটি "তাকয়িদুল ইলম" (৪) গ্রন্থে মুসাদা বিন আল-ইয়াসা-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি সিরিয়াবাসী জনৈক ব্যক্তি আবুল ফাদল থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: প্রতীয়মান হয় যে, এই আবুল ফাদল—যার নাম সনদে (الإسناد) অস্পষ্ট (مبهم) রাখা হয়েছে এবং যাকে সিরিয়াবাসী জনৈক ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে—তিনি মূলত আল-খাসিব বিন জাহদার। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

*অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "তার সূত্রে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন আনাস থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে"। অর্থাৎ: এটিকে আনাস (রা.)-এর মুসনাদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

এটি তাবারানি "আল-আওসাত" (৫) গ্রন্থে এবং খতিব "তাকয়িদুল ইলম" (৬) গ্রন্থে হাসান বিন আবু বকর থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সাওয়াফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই ইব্রাহিম বিন হাশিম আল-বাগাওয়ি থেকে, তিনি ইসমাইল থেকে...

--------------------------------------------

(১) ১: ১৫২।

(২) ৬৫।

(৩) ৩: ৬৮।

(৪) ৬৭।

(৫) ৩: ৩৯৩: হাদিস ২৮৪৬।

(৬) ৬৭।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১২)
- ابن سيف، عن محمد بن عبد الواحد بن أخي حزم القطعي، عن الخصيب بن جحدر (1) ، عن عبيد الله بن أبي بكر بن أنس، عن أنس، به، بنحوه مختصراً.

قال الطبراني: لا يروى هذا الحديث عن عبيد الله بن أبي بكر إلا بهذا الإسناد، تفرد به إسماعيل.

وقال الهيثمي في "مجمع الزوائد" (2) : رواه الطبراني في "الأوسط"، وفيه إسماعيل بن سيف، وهو ضعيف.

أقول: هكذا ضعّف الهيثمي هذا الحديث هنا ب إسماعيل بن سيف، مع أنَّ في إسناده من هو أضعف منه، وهو الخصيب بن جحدر، كما سبق أن ضعف الحديث هو بنفسه به، كما تقدم في تخريج الوجه الأول من روايات هذا الحديث في الصفحة السابقة.

--------------------------------------------

(1) في "الأوسط": "عن الخصيب بن جحدر، عن عبيد الله بن جحدر، عن عبيد الله بن أبي بكر بن أنس، عن أنس"، وما أثبته من "مجمع البحرين في زوائد المعجمين" 1: 246 ح 278، ولعله هو الصواب، والله تعالى أعلم.

(2) 1: 152.
ইবনে সাইফ, মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আখি হাযম আল-কাতয়ী থেকে, তিনি আল-খাসিব বিন জাহদার (১) থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আবি বকর বিন আনাস থেকে, তিনি আনাস থেকে; এর মাধ্যমে অনুরূপভাবে সংক্ষেপে বর্ণিত।

তাবারানি বলেন: উবায়দুল্লাহ বিন আবি বকর থেকে এই হাদিসটি এই সনদ (إسناد) ব্যতীত বর্ণিত হয়নি, ইসমাইল এটি বর্ণনায় একক (تفرد) হয়ে গেছেন।

হাইসামি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (২)-এ বলেন: তাবারানি এটি "আল-আওসাত"-এ বর্ণনা করেছেন এবং এতে ইসমাইল বিন সাইফ রয়েছেন, আর তিনি দুর্বল (ضعيف)।

আমি বলছি: হাইসামি এখানে ইসমাইল বিন সাইফের কারণে এই হাদিসটিকে এভাবে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন, অথচ এর সনদে (إسناد) এমন ব্যক্তি রয়েছেন যিনি তার চেয়েও অধিক দুর্বল (أضعف), আর তিনি হলেন আল-খাসিব বিন জাহদার; যেমনটি তিনি নিজেই ইতিপূর্বে তাঁর মাধ্যমে হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছিলেন, যা গত পৃষ্ঠায় এই হাদিসের বর্ণনাগুলোর প্রথম সূত্রের তাখরিজে (تخريج) অতিবাহিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) "আল-আওসাত"-এ রয়েছে: "আল-খাসিব বিন জাহদার থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন জাহদার থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন আবি বকর বিন আনাস থেকে, তিনি আনাস থেকে", আর আমি যা "মাজমাউল বাহরাইন ফি যাওয়াইদিল মু'জামাইন" ১: ২৪৬, হাদিস নং ২৭৮ থেকে সাব্যস্ত করেছি, সম্ভবত সেটিই সঠিক, আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।

(২) ১: ১৫২।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৩)
· الترجيح بين روايتي الحديث:

رجَّح الخطيب البغدادي في "تقييد العلم" (1) الرواية الأولى للحديث، والتي فيها جُعل الحديث من مسند أبي هريرة، فقال – بعد أن رواه من حديث أنس-: لا أعلم رواه عن الخصيب، عن عبيد الله بن أبي بكر، عن أنس إلا ابن أخي حزم، والمحفوظ: عن الخصيب، عن أبي هريرة، كما قدَّمناه.

· الحكم على الحديث:

وبعد تخريج روايات هذا الحديث بإسناديه السابقين، يتبين لنا أن الحديث ضعيفٌ جداً بهما، أما إسناده الأول: فلاضطرابه، ووجود الخليل بن مرة فيه، وهو ضعيف – كما تقدم بيان ذلك، وأما إسناده الثاني، ففيه الخَصِيب بن جَحْدَر، وهو كذاب: كذَّبه شعبة والقطان وابن معين والبخاري، وقال أحمد: لا يكتب حديثه (2) .

هذا وقد ذكر ابن أبي حاتم هذا الحديث في كتابه "علل الحديث" (3) ، فقال -بعد سؤال أبيه عنه-: سمعت أبي يقول: هذا حديثٌ منكر.

--------------------------------------------

(1) 68.

(2) انظر ترجمته في: "التاريخ الكبير" للبخاري 3: 221، "الجرح والتعديل" لابن أبي حاتم 3: 397، "المجروحين" لابن حبان: 1: 278. " الميزان " 1: 653، "لسان الميزان" 2: 398، "الكشف الحثيث عمن رمي بوضع الحديث": (167) .

(3) 2: 339.
· হাদিসের দুটি বর্ণনার (رواية) মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদান:

খতিব আল-বাগদাদি তাঁর "তাকয়িদুল ইলম" (১) গ্রন্থে হাদিসটির প্রথম বর্ণনাটিকে (رواية) অগ্রাধিকার প্রদান করেছেন, যেখানে হাদিসটিকে আবু হুরায়রার মুসনাদ (مسند) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তিনি -আনাস থেকে হাদিসটি বর্ণনা করার পর- বলেন: "আমি জানি না খাসিব থেকে, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি বকর থেকে, আনাস থেকে ইবনে আখি হাযম ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন কি না। আর সংরক্ষিত (محفوظ) হলো: খাসিব থেকে, আবু হুরায়রা থেকে, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উপস্থাপন করেছি।"

· হাদিসের ওপর হুকুম (حكم):

এই হাদিসের পূর্বোক্ত দুটি সূত্রের (إسناد) মাধ্যমে বর্ণনাসমূহ (روايات) তাখরিজ (تخريج) করার পর আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, উভয় সূত্রেই হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً)। প্রথম সূত্রটির (إسناد) ক্ষেত্রে: এর বিপর্যস্ততা (اضطراب)-এর কারণে এবং এতে খলিল ইবনে মুররাহ্-এর উপস্থিতির কারণে, আর তিনি দুর্বল (ضعيف) - যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর দ্বিতীয় সূত্রটির (إسناد) ক্ষেত্রে: এতে খাসিব ইবনে জাহদার রয়েছে, আর সে একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب); শুবা, আল-কাত্তান, ইবনে মাঈন ও বুখারি তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন এবং আহমাদ বলেছেন: "তার হাদিস লেখা যাবে না" (২)।

এছাড়া ইবনে আবি হাতিম তাঁর "ইলালুল হাদিস" (৩) গ্রন্থে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর পিতার নিকট এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি বলেছেন: "আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: এটি একটি বর্জিত (منكر) হাদিস।"

--------------------------------------------

(১) ৬৮।

(২) তাঁর জীবনী দেখুন: বুখারির "আত-তারিখুল কাবীর" ৩: ২২১, ইবনে আবি হাতিমের "আল-জারহ ওয়াত তাদীল" ৩: ৩৯৭, ইবনে হিব্বানের "আল-মাজরুহীন" ১: ২৭৮, "আল-মিজান" ১: ৬৫৩, "লিসানুল মিজান" ২: ৩৯৮, "আল-কাশফুল হাসিস আম্মান রুমিয়া বি-ওয়াদউল হাদিস": (১৬৭)।

(৩) ২: ৩৩৯।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৩)
*‌‌ الحديث الثاني:

عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "قيدوا العلم". قلت: وما تقييده؟. قال: "كتابته".
*‌‌ দ্বিতীয় হাদিস:

আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা জ্ঞানকে আবদ্ধ করো"। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এর আবদ্ধকরণ কী? তিনি বললেন: "তা লিখে রাখা"।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৪)
* تخريج الحديث:

هذا الحديث – بهذا اللفظ – أخرجه الحاكم وغيره من حديث عبد الله ابن عمرو بن العاص –رضي الله عنه – ومدار أغلب أسانيده على: "عبد الله بن مؤمل، عن ابن جريج، عن عطاء، عنه"، إلا أنه اختلف فيه على ابن المؤمل:

* فمرة روي عنه كما تقدم:

- أخرجه الحاكم (1) من طريق محمد بن شاذان وصالح بن محمد بن حبيب كلاهما عن سعيد بن سليمان الواسطي، عن ابن المؤمل، به، بلفظه.

قال الحاكم: أسنده شيخٌ من أهل مكة غير معتمد عن ابن جريج.

وقال الذهبي: قلت: ابن المؤمل ضعيف.

- وأخرجه الطبراني في "الأوسط" (2) عن محمد بن النضر الأزدي، عن سعيد بن سليمان، به، بنحوه.

قال الطبراني: لم يرو هذا الحديث عن ابن جريج إلا عبد الله بن المؤمل.

- وأخرجه الطبراني – أيضا – في "الأوسط" (3) ،

- والخطيب في "تقييد العلم" (4) من طريق محمد بن أحمد بن يعقوب، كلاهما عن أحمد بن يحيى الحلواني، عن سعيد بن سليمان، به، بنحوه.

أقول: سقط ابن جريج من سند الطبراني في هذا الموضع، فالظاهر أن

--------------------------------------------

(1) 1: 106.

(2) 6: 26: ح 5052.

(3) 1: 469: ح 852.

(4) 68.
হাদিস বিশ্লেষণ (تخريج):

এই হাদিসটি – এই শব্দে – আল-হাকিম এবং অন্যান্যরা আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন। এর অধিকাংশ সূত্রের ভিত্তি (مدار) হলো: "আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াম্মিল, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি তাঁর থেকে"; তবে এতে ইবনে মুয়াম্মিলের বর্ণনায় ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে:

* কখনও তাঁর থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যেভাবে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে:

- আল-হাকিম (১) এটি মুহাম্মদ ইবনে শাযান এবং সালিহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব-এর সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে সাঈদ ইবনে সুলাইমান আল-ওয়াসিতি থেকে, তিনি ইবনে মুয়াম্মিল থেকে, একই সূত্রে এবং একই শব্দে বর্ণনা করেছেন।

আল-হাকিম বলেন: মক্কার জনৈক অনির্ভরযোগ্য (غير معتمد) শায়খ ইবনে জুরাইজ থেকে এটি সূত্রযুক্ত করে বর্ণনা (أسند) করেছেন।

আর আয-যাহাবি বলেন: আমি বলছি: ইবনে মুয়াম্মিল হলেন দুর্বল (ضعيف)।

- এবং আত-তাবারানি এটি "আল-আওসাত" (২)-এ মুহাম্মদ ইবনে নাদর আল-আযদি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সুলাইমান থেকে, একই সূত্রে এর অনুরূপ বর্ণনা (أخرج) করেছেন।

আত-তাবারানি বলেন: ইবনে জুরাইজ থেকে আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াম্মিল ব্যতীত অন্য কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেনি।

- এবং আত-তাবারানি এটি আরও বর্ণনা (أخرج) করেছেন "আল-আওসাত" (৩)-এ,

- এবং আল-খাতিব "তাকয়িদুল ইলম" (৪)-এ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব-এর সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হালওয়ানি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সুলাইমান থেকে, একই সূত্রে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আমি বলছি: আত-তাবারানির এই স্থানের সূত্রে (سند) ইবনে জুরাইজের নাম বিচ্যুত (سقط) হয়েছে, তাই প্রতীয়মান হয় যে...

--------------------------------------------

(১) ১: ১০৬।

(২) ৬: ২৬: হা ৫০৫২।

(৩) ১: ৪৬৯: হা ৮৫২।

(৪) ৬৮।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৫)
ذلك وهمٌ، إذ إن الخطيب روى الحديث –كما تقدم– عن شيخ الطبراني بإثبات ابن جريج على الجادة، ومما يدل على إسقاطه عنده أنه قال بعد تخريجه:

لم يرو هذا الحديث عن عطاء إلا عبد الله بن المؤمل (1) .

وقد ذكر الهيثمي هذا الحديث في "مجمع الزوائد" مرتين في موضع واحد (2) وقال: رواه الطبراني في الكبير والأوسط، وفيه عبد الله بن المؤمل وثّقه ابن معين وابن حبان، وقال ابن سعد: ثقة قليل الحديث، وقال الإمام أحمد: أحاديثه مناكير؛ ثم ذكره مرة أخرى، وقال: رواه الطبراني في الأوسط، وفيه عبد الله بن المؤمل، وقد تقدم الكلام فيه قبل هذا الحديث تراه.

- وأخرجه الخطيب في "تقييد العلم" (3) ، ومن طريقه:

- ابن الجوزي في "العلل المتناهية" (4) عن الحسن بن أبي بكر، عن محمد بن عبد الله الشافعي، عن محمد بن بشر بن مطر، عن سعيد بن سليمان، به، بنحوه. أقول: قرن الخطيب مع الحسن بن أبي بكر محمد بن عمر النرسي.

- وأخرجه الخطيب –أيضا– من طريق حنبل بن إسحاق ومحمد بن سليمان الباغندي، كلاهما عن سعيد بن سليمان، به، بنحوه.

- وأخرجه ابن عبد البر في "جامع بيان العلم" (5) من طريق محمد بن سنجر وأحمد بن زهير –فرقهما– كلاهما عن سعيد بن سليمان، به، بنحوه.

--------------------------------------------

(1) انظر –أيضا– "مجمع البحرين" 1: 247، 248: ح 279، 280.

(2) 1: 152.

(3) 68.

(4) 1: 78 ح 96.

(5) 88.
এটি একটি বিভ্রম (وهم), কারণ আল-খতিব হাদিসটি বর্ণনা করেছেন—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—তাবারানির শাইখের সূত্রে ইবনে জুরাইজকে সাব্যস্ত করার মাধ্যমে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী। তার নিকট এটি বাদ পড়ার প্রমাণ হলো তিনি হাদিসটি তাখরিজ (تخريج) করার পর বলেছেন:

"আতা থেকে আবদুল্লাহ বিন আল-মুআম্মাল ব্যতীত অন্য কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেনি (১)।"

আল-হাইসামি এই হাদিসটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" গ্রন্থে এক স্থানে দুবার উল্লেখ করেছেন (২) এবং বলেছেন: তাবারানি এটি আল-কাবীর এবং আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, আর এতে আবদুল্লাহ বিন আল-মুআম্মাল রয়েছেন; ইবনে মাঈন ও ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثّقه)। ইবনে সা'দ বলেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), স্বল্প হাদিস বর্ণনাকারী। ইমাম আহমদ বলেছেন: তার বর্ণিত হাদিসসমূহ অস্বীকৃত বা মুনকার (مناكير); অতঃপর তিনি এটি পুনরায় উল্লেখ করেন এবং বলেন: তাবারানি এটি আল-আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এতে আবদুল্লাহ বিন আল-মুআম্মাল রয়েছেন, তার ব্যাপারে আলোচনা এই হাদিসের পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে, আপনি তা দেখে নিতে পারেন।

- আল-খতিব এটি "তাকয়িদুল ইলম" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৩) এবং তার সূত্রে:

- ইবনুল জাওযি "আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়াহ" গ্রন্থে (৪) আল-হাসান বিন আবি বকর থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-শাফিঈ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন বিশর বিন মাতার থেকে, তিনি সাঈদ বিন সুলায়মান থেকে, এর সমার্থবোধক বর্ণনা করেছেন। আমি বলছি: আল-খতিব আল-হাসান বিন আবি বকরের সাথে মুহাম্মদ বিন উমর আল-নারসিকে যুক্ত (قرن) করেছেন।

- আল-খতিব—আরও—হাম্বল বিন ইসহাক এবং মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-বাগিন্দি, উভয়ের সূত্রে সাঈদ বিন সুলায়মান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

- ইবনে আবদিল বার এটি "জামি' বয়ানিল ইলম" গ্রন্থে (৫) মুহাম্মদ বিন সাঞ্জার এবং আহমদ বিন জুহাইর—উভয়কে পৃথকভাবে—সাঈদ বিন সুলায়মান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আরও দেখুন— "মাজমাউল বাহরাইন" ১: ২৪৭, ২৪৮: হা ২৭৯, ২৮০।

(২) ১: ১৫২।

(৩) ৬৮।

(৪) ১: ৭৮ হা ৯৬।

(৫) ৮৮।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৬)
- وأخرجه أبو نعيم في "الحلية" (1) عن محمد بن أحمد بن الحسن، عن محمد بن نصر الصائغ، عن سعيد بن سليمان، به، بنحوه.

قال أبونعيم: غريب من حديث ابن جريج، عن عطاء، لم نكتبه إلا من حديث ابن المؤمل.

* متابعٌ لعبد الله بن المؤمل على هذه الرواية:

هذا وقد تابع عبدَ الله بنَ المؤمل على هذه الرواية الوليدُ بنُ مسلم:

- أخرجه ابن حبان (2) عن عمر بن محمد

- والنسائي في "الكبرى" (3) كلاهما عن عمرو بن عثمان بن سعيد، عن الوليد، عن ابن جريج، عن عطاء (4) ، عن عبد الله بن عمرو، به، بمعناه، وفيه زيادات في آخره.

--------------------------------------------

(1) 3: 321.

(2) الإحسان" 10: 161: ح 4321.

(3) 5: 53: ح 5010.

(4) هكذا جاء عطاء في أسانيد هذا الحديث مهملاً غير منسوب، وقد اختلف في تعيينه: هل هو الخراساني أو ابن أبي رباح المكي؟! والراجح الأول. قال الزيلعي في "نصب الراية" 4: 143: اعلم أن النسائي وابن حبان لم ينسباه، وذكره ابن عساكر في أطرافه في ترجمة عطاء ابن أبي رباح، عن عبد الله بن عمرو – أقول: وتبعه المزي في "التحفة" 10: 362: ح 8885 – ولم يذكر في كتابه لعطاء الخراساني عن عبد الله بن عمرو شيئاً، وكأنه وهم في ذلك، فقد ذكر عبد الحق أنه عطاء الخراساني، وهو جاء منسوباً في مصنف عبد الرزاق، فقال: أخبرنا ابن جريج، عن عطاء الخراساني، عن عبد الله ابن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم فذكره.أ. هـ كلام الزيلعي، وقال محقق "موارد الظمآ" 1: 477: ح 1108 بعد أن ذكر هذا الحديث: جاء في حاشية الأصل من خط شيخ الإسلام ابن حجر رحمه الله: هو في النوع 66 من القسم الثالث، وقد قال النسائي في العتق بعد أن أخرجه: عطاء هو الخراساني، ولم يسمع من عبد الله بن عمرو، ولا أعلم أحداً ذكر له سماعاً منه.
আবু নুআইম "আল-হিলইয়া" (১)-তে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে নাসর আস-সায়িগ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সুলাইমান থেকে, তার সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবু নুআইম বলেন: ইবনে জুরাইজ থেকে আতা-এর সূত্রে এটি একটি অপরিচিত (غريب) হাদিস, আমরা এটি ইবনুল মুয়াম্মিলের হাদিস ব্যতীত লিপিবদ্ধ করিনি।

* এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনুল মুয়াম্মিলের জন্য একজন সমর্থক বর্ণনাকারী (متابع) রয়েছেন:

বস্তুত আবদুল্লাহ ইবনুল মুয়াম্মিলকে এই বর্ণনায় ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম সমর্থন (تابع) করেছেন:

- এটি ইবনে হিব্বান (২) উমর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

- এবং আন-নাসাঈ "আল-কুবরা" (৩)-এ; তারা উভয়েই আমর ইবনে উসমান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ওয়ালিদ থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা (৪) থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তার সূত্রে একই অর্থে বর্ণনা করেছেন, এবং এর শেষে কিছু অতিরিক্ত অংশ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ৩: ৩২১।

(২) "আল-ইহসান" ১০: ১৬১: হাদিস নং ৪৩২১।

(৩) ৫: ৫৩: হাদিস নং ৫০১০।

(৪) এই হাদিসের সনদগুলোতে 'আতা' নামটি এভাবেই অনির্ধারিত (مهملاً) হিসেবে এসেছে, তার নিসবত বা পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। তার পরিচয় নির্ধারণে মতভেদ হয়েছে: তিনি কি আল-খুরাসানি নাকি মক্কার ইবনে আবি রাবাহ?! অধিকতর সঠিক মত হলো প্রথমটি। যাইলায়ী "নাসবুর রায়াহ" ৪: ১৪৩-এ বলেছেন: জেনে রাখুন যে, আন-নাসাঈ এবং ইবনে হিব্বান তার বংশপরিচয় উল্লেখ করেননি। ইবনে আসাকির তার "আতরাফ"-এ আতা ইবনে আবি রাবাহ-এর জীবনবৃত্তান্তে এটি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে উল্লেখ করেছেন—আমি (যাইলায়ী) বলছি: আল-মিযযিও "আত-তুহফা" ১০: ৩৬২: হাদিস নং ৮৮৮৫-এ তাকে অনুসরণ করেছেন—এবং তিনি তার কিতাবে আতা আল-খুরাসানি থেকে আবদুল্লাহ ইবনে আমর-এর সূত্রে কোনো বর্ণনা উল্লেখ করেননি। সম্ভবত তিনি এক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয়েছেন। কেননা আবদুল হক উল্লেখ করেছেন যে তিনি আতা আল-খুরাসানি। আর এটি "মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক"-এ নির্দিষ্ট পরিচয়ে এসেছে; তিনি বলেছেন: ইবনে জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আতা আল-খুরাসানি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন... (যাইলায়ীর বক্তব্য সমাপ্ত)। "মাওয়ারিদুজ জামআন" ১: ৪৭৭: হাদিস নং ১১০৮-এর মুহাক্কিক এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: মূল পাণ্ডুলিপির টীকায় শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর হস্তাক্ষরে এসেছে: এটি তৃতীয় অনুচ্ছেদের ৬৬তম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। আন-নাসাঈ "আল-ইতক" অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: আতা হলেন আল-খুরাসানি, এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে সরাসরি শোনেননি (لم يسمع), এবং আমার জানা মতে কেউ তার থেকে শোনার কথা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৭)
- هذا وقد ذكر المزي هذا الحديث في "التحفة" (1) وقال: قال النسائي: هذا الحديث حديثٌ منكر، وهو عندي خطأ.

* ومرة روي "عنه، عن ابن أبي مليكة، عن عبد الله بن عمرو":

- أخرجه الخطيب في "تقييد العلم" (2) ، ومن طريقه:

- ابن الجوزي في "العلل المتناهية" (3) كلاهما من طريق العباس الدوري، عن سريج بن النعمان، عن ابن المؤمل، به، بنحوه مختصراً.

* ومرة روي "عنه، عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده":

- أخرجه الخطيب في "تقييد العلم" (4) من طريق معن بن عيسى وقاسم بن يزيد الجرمي –فرق حديثيهما– كلاهما عن ابن المؤمل، به، بنحوه، وحديث قاسم بن يزيد بمعناه.

· الترجيح بين روايات الحديث والحكم عليه:

الذي يظهر لي أن أرجح روايات هذا الحديث هي أكثرها، وهي الرواية الأولى، رواية "ابن المؤمل، عن ابن جريج، عن عطاء، عن عبد الله بن عمرو "والتي تابعه عليها الوليد بن مسلم – كما تقدم في تخريج الحديث – وعلى كلٍ فإن الحديث ضعيفٌ الإسناد؛ لأمرين: أحدهما: انقطاعه بين عطاء الخراساني وبين عبد الله بن عمرو، فإنه لا يعرف له سماعٌ منه – كما تقدم الإشارة إلى ذلك من كلام النسائي في حاشية الصفحة السابقة –والثاني: وجود ابن المؤمل فيه، وهو: عبد الله بن المؤمل بن وهب المخزومي المكي،

--------------------------------------------

(1) 6: 362: ح 8885.

(2) ص 68.

(3) 1: 77: ح 94.

(4) 69، 75.
আল-মিযযি এই হাদিসটি "তুহফাতুল আশরাফ" (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: নাসায়ি বলেছেন: এই হাদিসটি একটি অগ্রহণযোগ্য (منكر) হাদিস এবং আমার মতে এটি একটি ভুল।

* এবং এক সময় এটি "তার থেকে, ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে" বর্ণিত হয়েছে:

- আল-খাতিব "তাকয়িদুল ইলম" (২) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার সূত্রে:

- ইবনুল জাওযি "আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়াহ" (৩) গ্রন্থে; উভয়েই আব্বাস আদ-দুরি-এর সূত্রে, সুরাইজ ইবনে আন-নুমান থেকে, ইবনে আল-মুয়াম্মিল থেকে, একইভাবে এর সংক্ষিপ্ত রূপ বর্ণনা করেছেন।

* এবং এক সময় এটি "তার থেকে, আমর ইবনে শুআইব থেকে, তার পিতা থেকে, তার দাদা থেকে" বর্ণিত হয়েছে:

- আল-খাতিব "তাকয়িদুল ইলম" (৪) গ্রন্থে মান ইবনে ঈসা এবং কাসিম ইবনে ইয়াযিদ আল-জারমি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন—তাদের হাদিসদ্বয় পৃথক বর্ণনা হিসেবে—উভয়েই ইবনে আল-মুয়াম্মিল থেকে, একইভাবে বর্ণনা করেছেন, এবং কাসিম ইবনে ইয়াযিদের হাদিসটি এর সমার্থক।

· হাদিসের বর্ণনাগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদান এবং এর ওপর হুকুম:

আমার কাছে যা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় তা হলো, এই হাদিসের বর্ণনাগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকারযোগ্য বর্ণনা হলো যা অধিক বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো প্রথম বর্ণনাটি—"ইবনে আল-মুয়াম্মিল, ইবনে জুরাইজ থেকে, আতা থেকে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে"—যার সমর্থনে আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম অনুসরণ করেছেন—যেমনটি হাদিসের তাখরিজ (تخريج)-এ পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। যা-ই হোক, হাদিসটির সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); দুটি কারণে: প্রথমত: আতা আল-খুরাসানি এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমরের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع), কেননা তার থেকে তার কোনো শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত নয়—যেমনটি পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার টীকায় নাসায়ি-র বক্তব্য থেকে নির্দেশ করা হয়েছে—এবং দ্বিতীয়ত: এতে ইবনে আল-মুয়াম্মিলের উপস্থিতি, আর তিনি হলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আল-মুয়াম্মিল ইবনে ওয়াহাব আল-মাখযুমি আল-মাক্কি।

--------------------------------------------

(১) ৬: ৩৬২: হা ৮৮৮৫।

(২) পৃষ্ঠা ৬৮।

(৩) ১: ৭৭: হা ৯৪।

(৪) ৬৯, ৭৫।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৮)
ضعفه الأكثر، ووثقه بعضهم، وقال ابن عدي: أحاديثه عليها الضعف بيِّن، وفي التقريب: ضعيف الحديث، مات سنة (160هـ) (1) .

هذا وقد جاء لهذا الحديث طريقٌ أخرى ضعيفةٌ جداً – أيضاً - أخرجها:

- الخطيب في "تقييد العلم" (2) ،

- وابن الجوزي في "العلل المتناهية" (3) كلاهما من طريق الدارقطني، عن أحمد بن عمار، عن عبد الله بن أيوب، عن إسماعيل بن يحيى، عن ابن أبي ذئب، عن عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده، به، بنحوه مختصراً. قال الخطيب: قال الدارقطني: تفرد به إسماعيل، عن ابن أبي ذئب. وقال

ابن الجوزي: فيه –يعني: هذا الطريق– إسماعيل بن يحيى. قال الدارقطني: كذابٌ متروكٌ.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: " الكامل" لابن عدي 4: 1454، "تهذيب الكمال" 16: 187، "الميزان" للذهبي2: 510، "التقريب": 325.

(2) (69) .

(3) 1: 78: ح 97.
অধিকাংশ তাকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন, এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন। ইবনে আদি বলেছেন: "তার বর্ণিত হাদিসগুলোতে দুর্বলতা (الضعف) স্পষ্ট।" আর 'তাকরীব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি হাদিসে দুর্বল (ضعيف الحديث), মৃত্যু ১৬০ হিজরি (১)।

এছাড়া এই হাদিসটির আরেকটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيفة جداً) সূত্র (طريق) বর্ণিত হয়েছে—যা সংকলন করেছেন:

- খতিব আল-বাগদাদি 'তাকয়ীদুল ইলম' গ্রন্থে (২),

- এবং ইবনে আল-জাওজি 'আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ' গ্রন্থে (৩)। তারা উভয়ে এটি আদ-দারা কুতনির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমাদ বিন আম্মার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আইয়ুব থেকে, তিনি ইসমাইল বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ইবনে আবি যিব থেকে, তিনি আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে—অনুরূপ সংক্ষিপ্ত আকারে। খতিব বলেছেন: দারা কুতনি বলেছেন: ইসমাইল এককভাবে (تفرد) এটি ইবনে আবি যিব থেকে বর্ণনা করেছেন। আর

ইবনে আল-জাওজি বলেছেন: এতে—অর্থাৎ এই সূত্রে—ইসমাইল বিন ইয়াহইয়া রয়েছেন। দারা কুতনি বলেছেন: তিনি বড় মিথ্যাবাদী (كذاب) এবং বর্জনীয় (متروك)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন তার জীবনী: ইবনে আদির 'আল-কামিল' ৪: ১৪৫৪, 'তাহযীবুল কামাল' ১৬: ১৮৭, আয-যাহাবির 'আল-মিযান' ২: ৫১০, 'তাকরীব': ৩২৫।

(২) (৬৯) ।

(৩) ১: ৭৮: হাদিস নং ৯৭।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৮)
·‌‌ الحديث الثالث:

عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنه قال: كنت أكتب كلَّ شيءٍ أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم أريد أحفظه، فنهتني قريشٌ، وقالوا: أتكتب كلَّ شيءٍ تسمعه، ورسول الله صلى الله عليه وسلم بشرٌ يتكلم في الغضب والرضا؟!، فأمسكت عن الكتاب، فذكرت ذلك إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأومأ بإصبعه إلى فيه، فقال: "اكتب، فوالذي نفسي بيده ما يخرج منه إلا حقٌ".
·‌‌ তৃতীয় হাদিস:

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে যা কিছু শুনতাম, তা মুখস্থ করার অভিপ্রায়ে লিখে রাখতাম। অতঃপর কুরাইশরা আমাকে নিষেধ করল এবং তারা বলল: "তুমি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে যা শোনো সবই লিখে রাখো? অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন মানুষ, যিনি ক্রোধ এবং সন্তুষ্টি উভয় অবস্থাতেই কথা বলেন।" তখন আমি লেখা থেকে বিরত থাকলাম এবং বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে নিজের মুখের দিকে ইঙ্গিত করলেন এবং বললেন: "তুমি লিখে রাখো, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এখান থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না।"
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৯)
* تخريج الحديث:

حديث عبد الله بن عمرو هذا أخرجه أبوداود وأحمد وصححه الحاكم وغيرهم من طرقٍ عنه، وقد خرَّج أغلب هذه الطرق الخطيب البغدادي في "تقييد العلم" (1) ، ولعل أحسن هذه الطرق وأشهرها طريقان:

* الأول: "يحيى بن سعيد، عن عبيد الله بن الأخنس، عن الوليد بن عبد الله، عن يوسف بن ماهك، عن عبد الله بن عمرو"،

* والثاني: "عمرو بن شعيب، عن أبيه، عن جده"، ويأتي مجاهدٌ مقروناً بأبيه أحياناً، وسأقتصر في التخريج على الأول منهما؛ خشية الإطالة، ولحصول المقصود من ثبوت الحديث بذلك، فأقول -وبالله التوفيق- هذا الحديث:

- أخرجه أبو داود في العلم باب كتابة العلم (2) ، ومن طريقه:

- الخطيب في "تقييد العلم" (3) ،

- وابن عبد البر في "جامع بيان العلم" (4) ،

- والقاضي عياض في "الإلماع" (5) ، عن مسدد وابن أبي شيبة، كلاهما عن يحيى بن سعيد، به، بلفظه.

--------------------------------------------

(1) من ص74 حتى ص82.

(2) السنن1493: ح 3646.

(3) 80.

(4) 1: 85.

(5) 146.
হাদিস তাখরিজ (تخريج الحديث):

আবদুল্লাহ ইবনে আমরের এই হাদিসটি আবু দাউদ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন (أخرج) এবং হাকিম ও অন্যান্যগণ তাঁর থেকে বর্ণিত বিভিন্ন সূত্রের (طرق) কারণে হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) ঘোষণা করেছেন। খতিব বাগদাদি তাঁর "তাকয়িদুল ইলম" (১) গ্রন্থে এই অধিকাংশ সূত্র (طرق) বর্ণনা করেছেন (خرج) এবং সম্ভবত এই সূত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও প্রসিদ্ধ সূত্র হলো দুটি:

* প্রথমটি: "ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, উবাইদুল্লাহ ইবনে আখনেস থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে মাহাক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে";

* দ্বিতীয়টি: "আমর ইবনে শুআইব, তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে", কখনো কখনো মুজাহিদ তাঁর পিতার সাথে যুক্তভাবে (مقروناً) বর্ণিত হন। আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার ভয়ে এবং এর মাধ্যমেই হাদিসের প্রামাণ্যতা (ثبوت) প্রমাণিত হওয়ার উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়ায় আমি তাখরিজের (تخريج) ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রথম সূত্রটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকব। আমি বলছি—আর আল্লাহর তাওফিকেই (التوفيق) সফলতা—এই হাদিসটি:

- আবু দাউদ 'ইলম' অধ্যায়ের 'ইলম লিখে রাখা' পরিচ্ছেদে (২) বর্ণনা করেছেন (أخرج); এবং তাঁর সূত্র (طريق) থেকে:

- খতিব "তাকয়িদুল ইলম" (৩) গ্রন্থে,

- এবং ইবনে আবদিল বার "জামেউ বয়ানিল ইলম" (৪) গ্রন্থে,

- এবং কাজি ইয়াজ "আল-ইলমা" (৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা মুসাদ্দাদ ও ইবনে আবি শাইবা উভয় থেকে, তাঁরা উভয়ই ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে উক্ত সনদে (به) এবং একই শব্দে (بلفظه) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ৭৪ পৃষ্ঠা থেকে ৮২ পৃষ্ঠা পর্যন্ত।

(২) সুনান ১৪৯৩: হাদিস ৩৬৪৬।

(৩) ৮০।

(৪) ১: ৮৫।

(৫) ১৪৬।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২০)
- وأخرجه ابن أبي شيبة في "المصنف "كتاب الأدب باب من رخص في كتاب العلم (1) عن يحيى، به، بلفظه.

- وأخرجه الدارمي في المقدمة باب من رخص في كتابة العلم (2) عن مسدد، عن يحيى، به، بلفظه.

- وأخرجه الحاكم في كتاب العلم، باب الأمر بكتابة العلم (3) من طريق مسدد، به، بلفظه.

- وأخرجه أحمد (4) ، ومن طريقه:

- الخطيب في "تقييد العلم" (5) عن يحيى بن سعيد، به، بلفظه.

· الحكم على الحديث:

وبعد النظر في رجال إسناد هذا الحديث يتبين لنا أنهم كلهم ثقاتٌ، قد خرج لهم الجماعة، غير الوليد بن عبد الله، وهو: ابن أبي مغيث العبدري، فمن رجال أبي داود وابن ماجه، وهو ثقة، وقد اتفق العلماء على توثيقهم، غير عبيد الله بن الأخنس، فقد وثقه الأئمة إلا ابن حبان انفرد بقوله فيه في "الثقات" (6) : "يخطئ كثيراً"، ولعل ذلك مما عرف عنه من

--------------------------------------------

(1) 9: 49: ح 6479.

(2) السنن 1: 103: ح 490.

(3) المستدرك 1: 105.

(4) المسند 11: 57، 406: ح 6510، ح 6802.

(5) ص 80.

(6) 7: 147.
- এবং ইবনে আবি শাইবাহ এটি তাঁর "আল-মুসান্নাফ"-এর শিষ্টাচার অধ্যায় (কিতাবুল আদাব), জ্ঞান লিখে রাখার অনুমতি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ (১)-এ ইয়াহইয়া-এর সূত্রে, একই শব্দে বর্ণনা করেছেন।

- এবং আদ-দারিমি এটি মুকাদ্দিমার (ভূমিকা) জ্ঞান লিখে রাখার অনুমতি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ (২)-এ মুসাদ্দাদ ও ইয়াহইয়া-এর সূত্রে, একই শব্দে বর্ণনা করেছেন।

- এবং আল-হাকিম এটি জ্ঞান অধ্যায় (কিতাবুল ইলম), জ্ঞান লিখে রাখার নির্দেশ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ (৩)-এ মুসাদ্দাদ-এর সূত্রে, একই শব্দে বর্ণনা করেছেন।

- এবং আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন (৪), এবং তাঁর সূত্র ধরে:

- আল-খাতিব "তাকয়িদুল ইলম" (৫)-এ ইয়াহইয়া বিন সাঈদ-এর সূত্রে, একই শব্দে বর্ণনা করেছেন।

· হাদিসের ওপর হুকুম:

এই হাদিসের বর্ণনাকারীদের সনদ (إسناد) পর্যালোচনা করার পর আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল্লাহ ব্যতীত তাঁরা সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং আল-জামাআহ (الجماعة) তাঁদের হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি হলেন: ইবনে আবি মুগিছ আল-আবদারি, তিনি আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)। ওলামায়ে কেরাম উবায়দুল্লাহ বিন আল-আখনাস ব্যতীত বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق)-এর বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ইমামগণ উবায়দুল্লাহকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত (وثقه) করলেও কেবল ইবনে হিব্বান তাঁর "আত-থিকাত" (৬) গ্রন্থে এককভাবে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি অধিক ভুল করেন (يخطئ كثيراً)", সম্ভবত এটি তাঁর সম্পর্কে যা জানা যায় তা থেকেই...

--------------------------------------------

(১) ৯: ৪৯: হা ৬৪৭৯।

(২) আস-সুনান ১: ১০৩: হা ৪৯০।

(৩) আল-মুস্তাদরাক ১: ১০৫।

(৪) আল-মুসনাদ ১১: ৫৭, ৪০৬: হা ৬৫১০, হা ৬৮০২।

(৫) পৃষ্ঠা ৮০।

(৬) ৭: ১৪৭।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২১)
التشدد في الجرح، ولذا فإن ابن حجر لما ذكره في "الفتح" (1) قال: "شذّ ابن حبان، فقال في الثقات: يخطئ كثيراً"، وعليه يكون هذا الحديث صحيحا بهذا الإسناد، والله تعالى أعلم.

--------------------------------------------

(1) 10: 199.
জরাহ্ বা সমালোচনা (الجرح)-এর ক্ষেত্রে কঠোরতা; আর একারণেই ইবনে হাজার যখন 'ফাতহুল বারী' (১)-তে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: "ইবনে হিব্বান এক্ষেত্রে একক মত পোষণ করেছেন (شذ); তিনি তাঁর 'আস-সিকাত' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি অধিক ভুল করেন।" এর ভিত্তিতে এই সনদ (الإسناد) অনুযায়ী এই হাদিসটি সহিহ (صحيح) হবে। আর আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত।

--------------------------------------------

(১) ১০: ১৯৯।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২১)
·‌‌ الحديث الرابع:

عن أبي قبيل قال: كنا عند عبد الله بن عمرو بن العاص –رضي الله عنه– وسئل: أي المدينتين تفتح أولاً القسطنطينيّة أو رومية؟، فدعا عبد الله بصندوقٍ له حِلَقٌ، فأخرج منه كتاباً، فقال: "بينما نحن حول رسول الله صلى الله عليه وسلم نكتب إذ سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي المدينتين تفتح أولاً، أقسطنطينية أو رومية؟، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مدينة هرقل تفتح أولاً". يعني: قسطنطينية.

· تخريج الحديث الرابع:

- هذا الحديث أخرجه أحمد (1) ،

- وابن أبي شيبة في "المصنف"كتاب الجهاد (2) ،

- والدارمي في المقدمة باب من رخص في كتابة العلم (3) عن عثمان بن محمد، ثلاثتهم عن يحيى بن إسحاق، عن يحيى بن أيوب، عن أبي قبيل، به، بلفظه، ولفظ الدارمي فيه اختصار.

- وأخرجه الحاكم (4) من طريق ابن وهب،

--------------------------------------------

(1) المسند 503: ح 6645.

(2) 5: 329.

(3) السنن 1: 104: ح 492.

(4) المستدرك 4: 508، 555.
·চতুর্থ হাদিস:

আবু কুবাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট অবস্থান করছিলাম। এমতাবস্থায় তাঁকে প্রশ্ন করা হলো: কনস্টান্টিনোপল ও রোম—এই দুই শহরের মধ্যে কোনটি আগে বিজিত হবে? তখন আবদুল্লাহ আংটাযুক্ত একটি সিন্দুক আনার নির্দেশ দিলেন এবং তা থেকে একটি কিতাব বের করে বললেন: "আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চারপাশ ঘিরে বসে (হাদিস) লিখছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রশ্ন করা হলো: কনস্টান্টিনোপল ও রোম—এই দুই শহরের মধ্যে কোনটি আগে বিজিত হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেন: 'হিরাক্লিয়াসের শহরটি আগে বিজিত হবে'। অর্থাৎ: কনস্টান্টিনোপল।"

· চতুর্থ হাদিসের উৎসনির্দেশ (تخريج):

- এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ (১),

- এবং ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর "আল-মুসান্নাফ"-এর কিতাবুল জিহাদে (২),

- এবং আদ-দারিমি তাঁর মুকাদ্দিমার 'যারা ইলম লিখে রাখার অনুমতি দিয়েছেন' পরিচ্ছেদে (৩) উসমান ইবনে মুহাম্মাদের সূত্রে; তাঁরা তিনজনই ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কুবাইল থেকে একই সূত্রে এবং একই পাঠে (لفظ) এটি বর্ণনা করেছেন; তবে আদ-দারিমির বর্ণনায় কিছুটা সংক্ষিপ্তকরণ (اختصار) রয়েছে।

- এবং আল-হাকিম (৪) এটি ইবনে ওয়াহাব-এর সূত্রে (طريق) বর্ণনা করেছেন,

--------------------------------------------

(১) আল-মুসনাদ ৫০৩: হা ৬৬৪৫।

(২) ৫: ৩২৯।

(৩) আস-সুনান ১: ১০৪: হা ৪৯২।

(৪) আল-মুস্তাদরাক ৪: ৫০৮, ৫৫৫।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২২)
- وابن عبد الحكم في "فتوح مصر" (1) عن سعيد بن عفير، كلاهما عن يحيى بن أيوب، به، بنحوه، ولفظ الحاكم في الموضع الأول فيه اختصار.

قال الحاكم: هذا حديثٌ صحيح الإسناد، ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي.

· الحكم على الحديث:

هذا الحديث صححه الحاكم ووافقه الذهبي – كما تقدم في تخريجه – وذكره الألباني في "سلسلة الأحاديث الصحيحة" (2) وقال بعد أن نقل تصحيح الحاكم والذهبي له -: "وهو كما قالا"، وقد ذكره الهيثمي في "مجمع الزوائد" (3) وقال: رواه أحمد، ورجاله رجال الصحيح، غير أبي قبيل، وهو ثقةٌ.

--------------------------------------------

(1) 285.

(2) 1: 7: ح 4.

(3) 6: 219.
এবং ইবনে আবদিল হাকাম তাঁর "ফুতুহ মিসর" (১) গ্রন্থে সাঈদ বিন উফাইর থেকে, তাঁরা উভয়ই ইয়াহইয়া বিন আইয়ুবের সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; আর প্রথম স্থানে হাকিমের শব্দ চয়নে কিছুটা সংক্ষিপ্ততা রয়েছে।

হাকিম বলেন: এটি সঠিক সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট একটি হাদিস, তবে তাঁরা এটি সংকলন করেননি এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

· হাদিসের ওপর হুকুম (الحكم):

হাকিম এই হাদিসটিকে সহিহ (صححه) বলে অভিহিত করেছেন এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন—যেমনটি ইতিপূর্বে এর উৎসায়ন বা তখরিজ (تخريج) বর্ণনায় অতিবাহিত হয়েছে। আলবানি এটি "সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা" (২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং হাকিম ও যাহাবীর করা সহিহ সাব্যস্তকরণের বিষয়টি উদ্ধৃত করার পর বলেন: "তাঁরা যেমনটি বলেছেন বিষয়টি তেমনই।" হাইসামি এটি "মাজমাউয যাওয়াইদ" (৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি আহমদ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (الصحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী, শুধু আবু কাবিল ব্যতীত; আর তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।

--------------------------------------------

(১) ২৮৫।

(২) ১: ৭: হাদিস ৪।

(৩) ৬: ২১৯।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২২)
·‌‌ الحديث الخامس:

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "قيدوا العلم بالكتاب".

· تخريج الحديث:

هذا الحديث أخرجه الخطيب في "تقييد العلم"والحاكم وغيرهما من حديث أنسٍ رضي الله عنه ومداره على: "عبد الله بن المثنى، عن عمه ثمامة بن عبد الله بن أنس، عن جده أنس"، إلا أنه اختلف فيه على ابن المثنى:
·‌‌ পঞ্চম হাদিস:

আনাস বিন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা লেখনীর মাধ্যমে জ্ঞানকে আবদ্ধ করো।"

· হাদিসের তাখরীজ (تخريج):

এই হাদিসটি আল-খতিব তাঁর "তাকয়িদুল ইলম" গ্রন্থে, আল-হাকিম এবং অন্যান্যরা আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন এবং এর মূল কেন্দ্র (مدار) হলো: "আব্দুল্লাহ ইবনুল মুসান্না, তাঁর চাচা সুমামা বিন আব্দুল্লাহ বিন আনাস থেকে, তিনি তাঁর দাদা আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে"; তবে ইবনুল মুসান্নার বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ (اختلاف) পরিলক্ষিত হয়েছে:
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২৩)
* فمرة رُوي عنه مرفوعا إلى النبي صلى الله عليه وسلم:

- أخرجه الخطيب في "تقييد العلم" (1) ، وفي "تاريخ بغداد " (2) ،

- وابن عبد البر في "جامع بيان العلم" (3) ،

- وأبو الشيخ في "طبقات المحدثين بأصبهان" (4) ، جميعهم من طريق عبد الحميد بن سليمان، عن ابن المثنى، به، بلفظه.

قال الخطيب في "تقييد العلم": تفرد برواية هذا الحديث عبد الحميد بن سليمان الخزاعي المدني أخو فليح، عن عبد الله بن المثنى، وغيره يرويه موقوفاً على أنس.

- ومرة رُوي عنه موقوفاً على أنس من قوله: - أخرجه الحاكم (5) ،

- وابن سعد في "الطبقات الكبرى" (6) ، كلاهما من طريق محمد بن عبد الله الأنصاري،

- والدارمي (7) عن مسلم بن إبراهيم،

- والطبراني في "الكبير" (8) من طريق خالد بن خداش،

- والقاضي عياض في "الإلماع" (9) من طريق سعيد بن عبد الجبار، أربعتهم عن عبد الله بن المثنى، به، موقوفاً على أنس من قوله.

--------------------------------------------

(1) 70.

(2) 10: 46.

(3) 86.

(4) 4: 142.

(5) 1: 106.

(6) 7: 22.

(7) السنن 1: 104: ح 497.

(8) 1: 218: ح 700.

(9) 147.
কখনও কখনও তাঁর থেকে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (مرفوعا) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে:

- খতিব এটি "তাকয়িদুল ইলম" (১) এবং "তারিখে বাগদাদ" (২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন,

- এবং ইবনে আব্দুল বার "জামেউ বায়ানিল ইলম" (৩) গ্রন্থে,

- এবং আবুশ শেখ "তাবাকাতুল মুহাদ্দিসিনা বি-আসবাহান" (৪) গ্রন্থে; তাঁরা সকলেই আব্দুল হামিদ বিন সুলাইমানের সূত্রে, ইবনুল মুসান্না থেকে, একই সনদে ও একই শব্দে বর্ণনা করেছেন।

খতিব "তাকয়িদুল ইলম" গ্রন্থে বলেছেন: আব্দুল্লাহ বিন মুসান্না থেকে এই হাদিসটি বর্ণনায় ফুলিহ-এর ভাই আব্দুল হামিদ বিন সুলাইমান আল-খুজায়ি আল-মাদানি একক (تفرد) হয়ে গেছেন, অথচ অন্যরা এটিকে আনাস-এর ওপর মাওকুফ (موقوفاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

- আবার কখনও এটি আনাস-এর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে তাঁর ওপর মাওকুফ (موقوفاً) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: - হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন (৫),

- এবং ইবনে সাদ "তাবাকাতুল কুবরা" (৬) গ্রন্থে, তাঁরা উভয়েই মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারির সূত্রে,

- এবং দারেমি (৭) মুসলিম বিন ইবরাহিমের সূত্রে,

- এবং তাবারানি "আল-কাবির" (৮) গ্রন্থে খালিদ বিন খিদাসের সূত্রে,

- এবং কাজি ইয়াজ "আল-ইলমা" (৯) গ্রন্থে সাঈদ বিন আব্দুল জব্বারের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা চারজনই আব্দুল্লাহ বিন মুসান্না থেকে একই সনদে এটিকে আনাস-এর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে তাঁর ওপর মাওকুফ (موقوفاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ৭০।

(২) ১০: ৪৬।

(৩) ৮৬।

(৪) ৪: ১৪২।

(৫) ১: ১০৬।

(৬) ৭: ২২।

(৭) সুনান ১: ১০৪: হাদিস ৪৯৭।

(৮) ১: ২১৮: হাদিস ৭০০।

(৯) ১৪৭।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২৪)
قال عياض: قال موسى بن إبراهيم: اتفق الأنصاري ومسلم بن إبراهيم وسعيد على هذا في قول أنس، ورفعه عبد الحميد، ولا يصح رفعه.

وقال الحاكم: الرواية عن أنس بن مالك صحيحة من قوله، وقد أُسنِد -يعني: رُفِع إلى النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه معتمد.

· الترجيح بين روايتي الحديث والحكم عليه:

وبهذا يتبين لنا ترجيح رواية الوقف، وهي رواية الأكثرين على رواية الرفع، والتي تفرد بها عبد الحميد بن سليمان – كما رجح ذلك الحاكم والخطيب والقاضي عياض – علماً بأن رواية الوقف قد صححها الحاكم

- كما تقدم - وقال عنها الهيثمي في "مجمع الزوائد" (1) : رجالها رجال الصحيح.

أقول: عبد الله بن المثنى فيه ضعف، إلا أنه قد احتج بحديثه البخاري في مواضع من صحيحه من روايته عن عمه ثمامة، عن جده أنس رضي الله عنه، وروى له الترمذي وابن ماجه (2)

--------------------------------------------

(1) 1: 152.

(2) انظر: " الكاشف" 1: 592، " هدي الساري": 416، " التقريب": 320.
আইয়ায বলেন: মুসা ইবনে ইব্রাহিম বলেছেন: আনাস (রা.)-এর উক্তি হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আল-আনসারি, মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম এবং সাঈদ একমত হয়েছেন; আর আব্দুল হামিদ একে মারফূ (رفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এর মারফূ (رفعه) হওয়াটি সহিহ (يصح) নয়।

হাকিম বলেন: আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনাটি তাঁর নিজস্ব উক্তি হিসেবে সহিহ (صحيحة); তবে এটি মুসনাদ (أُسنِد) হিসেবে—অর্থাৎ নবী (সা.)-এর প্রতি মারফূ (رُفِع) হিসেবে—বর্ণিত হয়েছে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য (معتمد) সূত্র ছাড়াই।

· হাদিসের দুটি বর্ণনার মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদান এবং এর উপর হুকুম (الحكم) আরোপ:

এর মাধ্যমে আমাদের কাছে মাওকূফ (الوقف) বর্ণনার অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়, যা মারফূ (الرفع) বর্ণনার বিপরীতে অধিকাংশ বর্ণনাকারীর বর্ণনা; আর এই মারফূ বর্ণনাটি আব্দুল হামিদ ইবনে সুলাইমান এককভাবে বর্ণনা (تفرد بها) করেছেন—যেমনটি হাকিম, খাতিব এবং কাজি আইয়ায অগ্রাধিকার দিয়েছেন—উল্লেখ্য যে, হাকিম মাওকূফ (الوقف) বর্ণনাটিকে সহিহ (صححها) সাব্যস্ত করেছেন।

—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—এবং হাইসামি "মাজমাউয যাওয়াইদ" গ্রন্থে এর সম্পর্কে বলেছেন (১): এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (الصحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারী।

আমি বলছি: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুসান্নার মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে, তবে ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে তাঁর চাচা সুমামা ও তাঁর দাদা আনাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত তাঁর হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ (احتج) করেছেন। তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ-ও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। (২)

--------------------------------------------

(১) ১: ১৫২।

(২) দেখুন: "আল-কাশিফ" ১: ৫৯২, "হাদিউস সারি": ৪১৬, "আত-তাকরিব": ৩২০।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২৪)
·‌‌ الحديث السادس:

عن رافع بن خديج رضي الله عنه قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "تحدَّثوا، وليتبوأ مَنْ كذب عليَّ مقعده من جهنم". قلت: يا رسول الله، إنا نسمع منك أشياء، أفنكتبها؟، فقال: "اكتبوا ولا حرج".
·‌‌ ষষ্ঠ হাদিস:

রাফি ইবনে খাদিজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: "তোমরা (আমার কথা) বর্ণনা করো; আর যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার থেকে অনেক বিষয় শুনি, আমরা কি তা লিখে রাখব? তিনি বললেন: "তোমরা লেখো, এতে কোনো বাধা নেই।"