(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: -)
كتابة الحديث بين النهي والإذن   (أحمد بن محمد حميد)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: كتابة الحديث بين النهي والإذن

المؤلف: أحمد بن محمد حميد

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 87

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাদিস লিখন: নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতির প্রেক্ষাপটে   (আহমদ বিন মুহাম্মদ হুমাইদ)

বিষয়: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


গ্রন্থ: হাদিস লিখন: নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতির প্রেক্ষাপটে

লেখক: আহমদ বিন মুহাম্মদ হুমাইদ

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারাহ-স্থিত পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১)
كتابة الحديث بين النهي والإذن

الدكتور: أحمد بن محمد حميِّد

بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة:

الحمد لله الذي علّم بالقلم، علم الإنسان ما لم يعلم، أحمده حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له كتب على نفسه الرحمة، وأشهد أن محمداً النبيَّ الأميَّ عبدُه ورسولُه أقام به الحجة على العالمين صلى الله عليه وعلى آله وصحبه الكرام الطيبين وسلم تسليماً أما بعد:

فقد أكرم الله تعالى هذه الأمة بنعم عظيمة وآلاء جسيمة، فجعلها خير أمة أخرجت للناس، فهي أمة الوسط، الشهيدة على الناس، وأكمل لها الدين وأتمَّ عليها النعمة، وتعهد بحفظ الدين وإظهاره على الدين كله ولو كره الكافرون، وحمل هذا الدين أقوامٌ نصحوا لله ولرسوله ولكتابه ولأئمة المسلمين وعامتهم، فحملوا العلم، واستفرغوا الوسع، وبذلوا الجهد، وواصلوا الليل بالنهار حتى وصل هذا العلم لمن بعدهم غضّاً طريّاً، وقد اتخذوا في نقله وسائل متعددة، واشترطوا شروطاً دقيقة في نقله ونقلته، بما لم يسبقوا إليه من الأمم السابقة، فرضي الله عنهم وأرضاهم وجزاهم عن الإسلام خير الجزاء، وكان من جملة الوسائل التي ساهمت في حفظ مصدري الدين الأساسين الكتاب والسنة تدوينهما وحفظهما في صحف وكتب حتى وصلت إلينا، وهي وإن لم تكن شرطاً في نقل العلم فإن وجودها مع توافر الشروط التي شرطها الأئمة رحمهم الله يزيد العلم وثوقاً، ويحفظه من الزيادة والنقص. واندراس العلم لأن حملته يفنون، وأما كتبهم فلا، وقد حث النبي صلى الله عليه وسلم على كتابة العلم وحفظه وتبليغه دل على هذا قوله وفعله والوقائع المتكاثرة وكلها
হাদিস লিখন: নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতির মাঝে

ডক্টর: আহমদ বিন মুহাম্মদ হুমাইয়িদ

পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল-‌ভূমিকা (مقدمة):

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। আমি তাঁর অধিক পরিমাণে পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি নিজের ওপর রহমত অবধারিত করেছেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মি নবী, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; যাঁর মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীর ওপর প্রমাণ (حجة) কায়েম করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর সম্মানীত ও পবিত্র পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে মহান নেয়ামত ও বিশাল অনুগ্রহ দ্বারা সম্মানিত করেছেন এবং একে মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন। এটি একটি মধ্যপন্থী (وسط) উম্মত এবং মানুষের ওপর সাক্ষী। তিনি তাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং তাদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন। তিনি এই দ্বীন হিফাজত করার এবং একে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করার অঙ্গীকার করেছেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। এই দ্বীনকে এমন একদল লোক বহন করেছেন যারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব এবং মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের হিতাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। তারা ইলম (জ্ঞান) বহন করেছেন, নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু ব্যয় করেছেন, প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং দিন-রাত এক করেছেন যাতে এই ইলম পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সতেজ ও অবিকৃত অবস্থায় পৌঁছে যায়। তারা এটি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নানাবিধ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন এবং এর বর্ণনা ও বর্ণনাকারীদের (نقلة) ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্ম শর্তাবলি (شروط) আরোপ করেছেন, যা পূর্ববর্তী কোনো উম্মত করেনি। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাদের সন্তুষ্ট রাখুন এবং ইসলামের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। দ্বীনের মৌলিক দুটি উৎস—কুরআন ও সুন্নাহ—সংরক্ষণে যে মাধ্যমগুলো অবদান রেখেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল এগুলোর লিপিবদ্ধকরণ (تدوين) এবং পাণ্ডুলিপি ও কিতাবে সংরক্ষণ করা, যা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। যদিও এটি ইলম স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো শর্ত (شرط) নয়, তবুও ইমামগণের (রহমাতুল্লাহি আলাইহিম) নির্ধারিত শর্তাবলির উপস্থিতিতে এর বিদ্যমানতা ইলমের নির্ভরযোগ্যতা (وثوق) বৃদ্ধি করে এবং একে হ্রাস-বৃদ্ধি ও বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করে। কেননা জ্ঞান বহনকারীরা মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু তাদের কিতাবসমূহ থেকে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইলম লিপিবদ্ধ করা, তা মুখস্থ করা এবং তা পৌঁছে দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তাঁর বাণী, কর্ম এবং অসংখ্য ঘটনা এর ওপর প্রমাণ বহন করে এবং এ সবই...
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২)
تبين أن النبي صلى الله عليه وسلم استخدم الكتابة وحث على استعمالها، وقد ورد عنه أيضاً أحاديث فيها نهي صريح عن كتابة السنة، واستغلها المناوئون للسنة ليستدلوا بها على أن السنة لم تدون على عهد النبي صلى الله عليه وسلم وأن الصحابة امتثلوا لهذا النهي فلم يكتبوا، وأن كثيراً من السنة لم تُدون، وهذا الأمر وإن كان عماده أوهى من بيت العنكبوت إلا أنهم طاروا به وزوقوه وجعلوه مطية لهم للطعن في السنة من وجه خفي، وهم يظنون أن عدم تدوينه - على زعمهم- أضاع كثيراً من الأحاديث، وأن ما حفظ لا يسلم من التبديل والتغيير؛ لأن الحافظة خوانة، والذاكرة عرضة للنسيان، وجهلوا أو تجاهلوا ما لهذه الأمة الأميّة من خصائص لم تكن لمن سبق وأغمضوا أعينهم عن الوقائع المتكاثرة التي حصل فيها تدوين للسنة النبوية، وأغمضوا أعينهم كذلك من أن كراهة بعض الصحابة لكتابة الحديث ليس من أجل ما ذكر من نهي المصطفى صلى الله عليه وسلم وإنما لأمور ذكروا عللها؛ ولذا كان لابد من تأصيل هذه المسألة وبيان أثرها، ولقد كان هذا الموضوع يراودني، وجمعت فيه نبذاً حتى هيأ الله لي هذه الفرصة الطيبة من خلال هذه الندوة المباركة - إن شاء الله تعالى- ندوة عناية المملكة العربية السعودية ـ وفقها الله ـ بالسنّة والسيرة النبوية، وكان أحد موضوعات محاورها "كتابة حديث النبي صلى الله عليه وسلم بين النهي والإذن" فوافق مرادي وتقوًّتْ بها النية على استكمال هذا الموضوع، وقد وفق الله تعالى أن كتبت هذا البحث وفق الخطة التالية:
এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লিখন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং এর ব্যবহারের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। আবার তাঁর থেকে এমন কিছু হাদিসও বর্ণিত হয়েছে যেগুলোতে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা (نهي) এসেছে। সুন্নাহ-বিরোধীরা এটিকে পুঁজি করে এই দলিল পেশ করতে চেয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণ (تدوين) সম্পন্ন হয়নি এবং সাহাবীগণ এই নিষেধাজ্ঞা (نهي) পালন করেছেন বিধায় তাঁরা কিছু লেখেননি, ফলে সুন্নাহর এক বিশাল অংশ লিপিবদ্ধ (تدوين) হয়নি। যদিও এ বিষয়ের ভিত্তি মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল, তবুও তারা এটিকে নিয়ে মেতে উঠেছে এবং সুশোভিত করেছে; সুন্নাহর ওপর সূক্ষ্মভাবে আঘাত হানার জন্য তারা একে বাহন হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা মনে করে যে, তাদের দাবি অনুযায়ী—এটি লিপিবদ্ধ (تدوين) না হওয়ার কারণে অনেক হাদিস হারিয়ে গেছে এবং যা সংরক্ষিত হয়েছে তাও পরিবর্তন ও পরিমার্জন থেকে নিরাপদ নয়; কারণ স্মৃতিশক্তি বিশ্বাসঘাতক এবং মেধা বিস্মৃতির শিকার। তারা এই নিরক্ষর উম্মতের সেই সকল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেছে বা অজ্ঞতার ভান করেছে যা পূর্ববর্তীদের ছিল না এবং তারা সেই অসংখ্য ঘটনার প্রতি চোখ বন্ধ করে রেখেছে যেখানে সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণের (تدوين) বিষয়টি প্রমাণিত। তারা এ বিষয়টির প্রতিও দৃষ্টিপাত করেনি যে, হাদিস লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে কিছু সাহাবীর অনীহা কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণিত সেই নিষেধাজ্ঞার (نهي) কারণে ছিল না, বরং তা ছিল অন্য কিছু বিষয়ের কারণে যেগুলোর কারণসমূহ (علل) তাঁরা উল্লেখ করেছেন। তাই এই বিষয়টির তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রদান (تأصيل) এবং এর প্রভাব স্পষ্ট করা অপরিহার্য ছিল। এই বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরে আমার ভাবনায় ছিল এবং এ নিয়ে আমি কিছু অংশ সংগ্রহও করেছিলাম। অবশেষে আল্লাহ তাআলা এই বরকতময় সেমিনারের মাধ্যমে আমার জন্য এই উত্তম সুযোগটি তৈরি করে দিলেন—ইনশাআল্লাহু তাআলা—যা হলো 'সুন্নাহ ও সিরাতে নববীর প্রতি সৌদি আরব রাজতন্ত্রের যত্ন' শীর্ষক সেমিনার। এর অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয় ছিল "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস লিখন: নিষেধাজ্ঞা (نهي) ও অনুমতির (إذن) মধ্যবর্তী অবস্থা"। এটি আমার উদ্দেশ্যের সাথে মিলে গেল এবং এর মাধ্যমে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ করার সংকল্প আরও সুদৃঢ় হলো। আল্লাহ তাআলা তাওফিক দিয়েছেন যে, আমি নিমোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী এই গবেষণাটি লিখেছি:
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمة.

الفصل الأول: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: تعريف الكتابة في اللغة والاصطلاح.

المبحث الثاني: إطلاقات الكتابة في الشرع.

الفصل الثاني: الكتابة زمن البعثة النبوية وفيه مبحثان:

المبحث الأول: علاقة العرب زمن البعثة بالكتابة.

المبحث الثاني: الكتبة في العهد النبوي، والسبل التي وجهت إليها كتابتهم.

الفصل الثالث: فضل الكتابة وأثرها وفيه مبحثان:

المبحث الأول: فضل الكتابة.

المبحث الثاني: أثر الكتابة في حفظ العلم وقيمته.

الفصل الرابع: كتابة السنة على ضوء الأحاديث وفيه مبحثان:

المبحث الأول: الأحاديث الواردة في النهي عن الكتابة.

المبحث الثاني: الأحاديث المتضمنة إباحة الكتابة.

الفصل الخامس: فهم الأحاديث السابقة وحكم كتابة الحديث وفيه مبحثان:

المبحث الأول: العلماء وموقفهم من الكتابة للحديث على ضوء ما ورد.

المبحث الثاني: فهم المخالفين لأحاديث النهي والإباحة.

الخاتمة وفيها نتائج البحث.

فهرس المراجع.

فهرس الموضوعات.
ভূমিকা।

প্রথম অধ্যায়: এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে লিখনের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরিয়তে লিখনের প্রয়োগসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: নবুওয়াতের যুগে লিখন এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: নবুওয়াতের যুগে আরবদের সঙ্গে লিখনের সম্পর্ক।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবীজির যুগের লেখকগণ এবং যে সকল পথে তাদের লিখন পরিচালিত হয়েছিল।

তৃতীয় অধ্যায়: লিখনের মর্যাদা ও প্রভাব এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: লিখনের মর্যাদা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইলম সংরক্ষণে লিখনের প্রভাব ও এর গুরুত্ব।

চতুর্থ অধ্যায়: হাদিসসমূহের আলোকে সুন্নাহ লিখন এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: লিখন নিষিদ্ধকরণ (النهي) সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লিখনের বৈধতা (إباحة) সংবলিত হাদিসসমূহ।

পঞ্চম অধ্যায়: পূর্বোক্ত হাদিসসমূহের অনুধাবন এবং হাদিস লিখনের বিধান (حكم) এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বর্ণিত হাদিসসমূহের আলোকে হাদিস লিখনের ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের অবস্থান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নিষেধজ্ঞা (النهي) ও বৈধতা (إباحة) সংক্রান্ত হাদিসসমূহের ব্যাপারে বিরোধীদের বুঝ।

উপসংহার: এতে গবেষণার ফলাফল আলোচিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র তালিকা।

বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৪)
وكانت أبرز ملامح منهج البحث ما يلي:

1- تأصيل عناصره قدر الإمكان من الكتاب والسنة، وعزو الأقوال إلى قائليها وبيان موضعها.

2- عزوت الآية بذكر رقمها من السورة عقب إيرادها.

3- خَرَّجْتُ الأحاديث في الحاشية إلا أحاديث النهي والإباحة فإنها من صلب البحث.

4- عزوت إلى الكتاب والباب والجزء إذا كان الحديث في الكتب الستة، فإن ذكرت الرقم بين قوسين فهو رقم الحديث في الكتاب، وإن جردته منه فهو رقم الصفحة، وإن كان من غير الكتب الستة اقتصرت على الجزء والصفحة أو الرقم بالقيد المذكور.

5- الأحاديث التي أوردها للاستشهاد اقتصرت على ما في الصحيحين أو أحدهما، فإن لم يكن فيهما عمدت إلى الثابت من غيرهما ودراسة سنده والحكم عليه مع الاستعانة بأقوال أهل العلم إن وجدت.

6- ما أوردته من أحاديث وكان في الصحيحين أو أحدهما اقتصرت بالعزو إليهما عن العزو إلى غيرهما وكذا الحكم عليها، إذ وجودها فيهما كاف عن الحكم بصحته، ما لم يكن فيه علة نص عليها أحد الأئمة الذين يُعْتَدُّ بهم.

7- توسعت في تخريج ودراسة الأحاديث المتضمنة النهي عن الكتابة أو الإباحة؛ لأن قيمة الكلام عليها تقوم على مدى ثبوتها.
গবেষণা পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল নিম্নরূপ:

1- যথাসম্ভব কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর উপাদানগুলোর ভিত্তি নিশ্চিত করা এবং উক্তিগুলোকে সেগুলোর প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধ করা ও তার উৎস নির্দেশ করা।

2- আয়াত উল্লেখ করার পর সূরার নামসহ আয়াতের নম্বর যুক্ত করেছি।

3- আমি পাদটীকায় হাদিসগুলোর উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি, তবে (লিখনের) নিষেধ ও অনুমতির হাদিসগুলো বাদে, কারণ সেগুলো মূল গবেষণার অন্তর্ভুক্ত।

4- হাদিসটি যদি কুতুবুস সিত্তা-র অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে আমি কিতাব, অধ্যায় ও খণ্ডের রেফারেন্স দিয়েছি। যদি বন্ধনীর ভেতরে সংখ্যা উল্লেখ করি, তবে তা কিতাবের হাদিস নম্বর; আর যদি বন্ধনী ছাড়া হয়, তবে তা পৃষ্ঠা নম্বর। আর যদি কুতুবুস সিত্তা-র বাইরে হয়, তবে উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী খণ্ড ও পৃষ্ঠা অথবা নম্বরের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি।

5- প্রমাণের জন্য আমি যে সব হাদিস উল্লেখ করেছি, সেগুলো সহীহাইন অথবা তার যেকোনো একটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি। যদি সেগুলোতে না থাকে, তবে অন্য কিতাব থেকে প্রমাণিত (ثابت) হাদিসের ওপর নির্ভর করেছি এবং তার সনদ (سند) পর্যালোচনা করে তার ওপর সিদ্ধান্ত (حكم) প্রদান করেছি, পাশাপাশি আলেমদের বক্তব্য থাকলে সেগুলোরও সহায়তা নিয়েছি।

6- আমি যে সব হাদিস উল্লেখ করেছি এবং তা যদি সহীহাইন অথবা তার যেকোনো একটিতে থাকে, তবে অন্য গ্রন্থের উদ্ধৃতি ও তার ওপর সিদ্ধান্ত (حكم) প্রদানের পরিবর্তে এগুলোর উদ্ধৃতির ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি। কেননা সহীহাইন-এ কোনো হাদিস বিদ্যমান থাকা তার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য যথেষ্ট, যতক্ষণ না কোনো নির্ভরযোগ্য ইমামের পক্ষ থেকে তাতে কোনো ত্রুটি (علة) বর্ণিত হয়।

7- আমি লিখন নিষিদ্ধ বা অনুমোদিত হওয়ার বিষয় সংবলিত হাদিসগুলোর উৎস নির্দেশ (تخريج) ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করেছি; কারণ এ বিষয়ে আলোচনার গুরুত্ব তা সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৫)
8- اقتصرت في التخريج إذا ما كان من طريق شيخ واشترك أكثر من مصدر في تخريج هذا الطريق على أعلى المصادر، إلا إذا كانت هناك فائدة من زيادة أو نحوها.

9- إذا كان سبب حسن الحديث أو ضعفه أحد الرواة فإني أحيل على تهذيب الكمال أو لسان الميزان، وإحالتي عليهما من باب الاختصار إذ إن هذه الإحالة تقتضي الرجوع إلى مصادر ترجمة كل راو في تلك الكتب.

10- رأيت من تمام الفائدة أن أشير إلى من كره الكتابة من الصحابة رضي الله عنهم وتخريج ما ورد عنهم وعلاقة هذه الكراهة بما ورد من النهي عنها.

11- لما كان هذا البحث يخاطب المتخصصين فإني لم أترجم لأحد من العلماء الواردين في البحث؛ لشهرتهم عند أهل العلم.

12- اختصرت أسماء الكتب عن ذكرها كاملة ولا يخفى هذا عن أهل العلم.

13- كل ما ورد في هذا البحث من علماء الإسلام الذين لهم بادرة السبق، وأسأل الله أن يجزيهم خير الجزاء سائلاً أن يجمعني بهم في مستقر رحمته.

ولا يسعني في ختام هذه المقدمة إلا أن أتقدم بالشكر لله تعالى أولاً أن وفقني إلى كتابة هذا البحث، وثم الشكر لولاة الأمر في هذا البلد المبارك على عنايتهم بالعلم وأهله، ثم إلى وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد‘ ممثلةً في مجمع الملك فهد حفظه الله لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة على إتاحة الفرصة لكاتب هذا البحث للمشاركة في هذه الندوة سائلاً الله للجميع التوفيق والسداد.
8- সূত্রোল্লেখের (تخريج) ক্ষেত্রে, যদি একাধিক উৎস কোনো একজন শায়খের সূত্রে বর্ণিত এই পথটি (তরিক) বর্ণনায় শরিক থাকে, তবে আমি কেবল উচ্চ পর্যায়ের উৎসগুলোর বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছি; তবে যদি কোনো বর্ধিত অংশ বা এ জাতীয় অন্য কোনো বিশেষ উপকারিতা বিদ্যমান থাকে তবে ভিন্ন কথা।

9- হাদিস হাসান (حسن) অথবা দুর্বল (ضعيف) হওয়ার কারণ যদি বর্ণনাকারীদের (رواة) কেউ হয়ে থাকেন, তবে আমি তাহজিবুল কামাল অথবা লিসানুল মিজান গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছি। আমার পক্ষ থেকে এই গ্রন্থদ্বয়ের উদ্ধৃতি প্রদানের বিষয়টি মূলত সংক্ষেপণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে; কেননা এই উদ্ধৃতি দেওয়ার অর্থ হলো ওই গ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত প্রত্যেক বর্ণনাকারীর (راو) জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত মূল উৎসগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা।

10- বিষয়টির পূর্ণাঙ্গতার স্বার্থে আমি সেই সকল সাহাবী (صحابة) সম্পর্কে ইঙ্গিত করা সমীচীন মনে করেছি যারা লিখনী অপছন্দ করতেন, এবং তাদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার সূত্রোল্লেখ (تخريج) করেছি। সেই সাথে এই অপছন্দনীয়তার সাথে লিখনী নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বর্ণিত বিষয়াবলির কী সম্পর্ক রয়েছে তাও আলোচনা করেছি।

11- যেহেতু এই গবেষণাটি বিশেষায়িত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে রচিত, তাই গবেষণায় উল্লিখিত কোনো আলিমের জীবনী আমি উল্লেখ করিনি; কারণ ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট তারা অত্যন্ত সুপরিচিত।

12- গ্রন্থসমূহের পূর্ণ নাম উল্লেখ না করে আমি সেগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি, যা বিজ্ঞজনদের নিকট অস্পষ্ট নয়।

13- এই গবেষণায় যা কিছু এসেছে তা ইসলামের সেই সকল আলিমের অবদান যারা এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন; আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং আমাকে তাঁর রহমতের আলয়ে তাঁদের সাথে একত্রিত করেন।

এই ভূমিকার শেষে আমি সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি যিনি আমাকে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেছেন। অতঃপর এই বরকতময় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ইলম ও আহলে ইলমদের প্রতি তাঁদের বিশেষ যত্নের জন্য। এরপর মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স-এর প্রতিনিধিত্বকারী ইসলামি বিষয়াদি, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা এই গবেষণার লেখককে উক্ত সেমিনারে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি সকলের জন্য আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفصل الأول: في تعريف الكتابة وإطلاقاتها في الشرع

‌‌المبحث الأول: في تعريف الكتابة في اللغة والاصطلاح

‌‌أولاً: الكتابة في اللغة

…

الفصل الأول: في تعريف الكتابة وإطلاقاتها في الشرع

المبحث الأول: تعريف الكتابة في اللغة والاصطلاح

أولاً: الكتابة في اللغة:

الكتابة مصدر من كتب الشيءَ يكتُبُه كَتْباً وكِتاباً، وكتابةً أصلها من الكَتْبِ - بفتح الكاف وإسكان التاء هو ضم أديم إلى أديم بالخياطة، والكُتْبَةُ بالضم السير يخرز به، وكتب الدابة يكتبُها ويكتِبها كتباً، وكتبَ عليها: خُزِمَ حياؤها بحلقة حديد، وجُمِعَ شفراها لئلا يُنْزى عليها.

وكتّبَ الشيء تكتيباً هيَّأه، وأكتبتُ القربة إذا شددتها بالوكاء.

فالكتابة إذاً مأخوذة من الضم والجمع، ولذا سميت الخيل كتيبة، ويتحصل فيها جمع الحروف بعضها إلى بعض ولذا سميت كتابة (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر: مختار الصحاح / 562، لسان العرب 3/216، القاموس المحيط 1/121.
প্রথম পরিচ্ছেদ: লিখন (كتابة)-এর সংজ্ঞা এবং শরয়ি প্রয়োগ প্রসঙ্গে

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে লিখনের সংজ্ঞা

প্রথমত: আভিধানিক অর্থে লিখন (كتابة)

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: লিখন (كتابة)-এর সংজ্ঞা এবং শরয়ি প্রয়োগ প্রসঙ্গে

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে লিখনের সংজ্ঞা

প্রথমত: আভিধানিক অর্থে লিখন (كتابة):

লিখন (كتابة) শব্দটি 'কাতাবা' ক্রিয়ামূল থেকে নির্গত। এর মূল উৎস হলো 'আল-কাতব' — কাফ বর্ণে ফাতহ (জবর) এবং তা বর্ণে সুকুন (জজম) যোগে — যার অর্থ হলো সেলাইয়ের মাধ্যমে এক চামড়াকে অন্য চামড়ার সাথে যুক্ত করা। আর কাফ বর্ণে পেশ যোগে 'আল-কুতবাতুন' বলতে সেই চামড়ার ফিতাকে বোঝায় যা দিয়ে সেলাই করা হয়। চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে 'কাতাবা' করার অর্থ হলো লোহার আংটা দিয়ে তার লজ্জাস্থান ছিদ্র করা এবং এর উভয় পাশ মিলিয়ে দেওয়া যাতে তার প্রজনন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে।

কোনো বিষয়কে 'তাকতিব' করার অর্থ হলো তা প্রস্তুত করা। আর মশক বা পানির থলের মুখ রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধার ক্ষেত্রে 'আকতাবতু' শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

অতএব, লিখন (كتابة) শব্দটি মূলত 'একত্রিত করা' ও 'জুড়ে দেওয়া'র অর্থ থেকে গৃহীত। এই কারণেই ঘোড়সওয়ার বাহিনীকে 'কাতিবাহ' বলা হয়। একইভাবে লিখনের ক্ষেত্রেও যেহেতু বর্ণগুলোকে একে অপরের সাথে একত্রিত করা হয়, তাই একে লিখন (كتابة) বলা হয়। (১)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুখতারুস সিহাহ / ৫৬২, লিসানুল আরব ৩/২১৬, আল-কামুস আল-মুহিত ১/১২১।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ثانياً: تعريف الكتابة في الاصطلاح

تعددت تعريفات الكتابة ولعل أجمعها:

ما عرفها به ابن خلدون فقال: ـ بعد أن ذكرها في الصناعات ـ هي رسوم وأشكال حرفية تدل على الكلمات المسموعة الدالة على ما في النفس (2) .

--------------------------------------------

(2) مقدمة ابن خلدون /417.
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক অর্থে (اصطلاح) লিখন (الكتابة)-এর সংজ্ঞা

লিখন (الكتابة)-এর বহুবিদ সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে, তবে সম্ভবত সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলো:

ইবনে খালদুন একে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন; তিনি একে বিভিন্ন শিল্পের অন্তর্ভুক্ত উল্লেখ করার পর বলেন: এটি হলো এমন কিছু লৈখিক চিহ্ন ও বর্ণমালার রূপ যা সেই সব শ্রুত শব্দের প্রতি নির্দেশ করে যা মনের ভাবকে ব্যক্ত করে (২)।

--------------------------------------------

(২) মুকাদ্দিমা ইবনে খালদুন /৪১৭।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৮)
فهذا تعريف مانع خرج به التصوير الذي يدل على الكلمات المسموعة والمراد بالكلمات المسموعة أصل الكلام لأن اكتسابه سماعي، وهذا الكلام معبّر عما في نفس المتكلم.

وهناك تعريفات أخرى أعرضت عنها إما لغموضها (1) ، أو لقصورها عن المراد (2) .

--------------------------------------------

(1) صبح الأعشى 2/82.

(2) البرهان في علوم القرآن 1/376، التوقيف على مهمات التعاريف /600.
এটি একটি ব্যাবর্তক (مانع) সংজ্ঞা, যার মাধ্যমে এমন চিত্রায়ণকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা শ্রুত শব্দের নির্দেশক। আর শ্রুত শব্দ দ্বারা বাচনের মূল ভিত্তি উদ্দেশ্য, যেহেতু এর অর্জন শ্রবণলব্ধ (سماعي); আর এই কথা বক্তার অন্তরের অভিপ্রায়কে ব্যক্ত করে।

আরও কিছু সংজ্ঞা রয়েছে যা আমি এড়িয়ে গিয়েছি, হয় সেগুলোর অস্পষ্টতার কারণে (১), অথবা কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য প্রকাশে সেগুলোর অপর্যাপ্ততার কারণে (২)।

--------------------------------------------

(১) সুবহুল আশা ২/৮২।

(২) আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন ১/৩৭৬, আত-তাওকিফ আলা মুহিম্মাতিত তারিফ /৬০০।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المبحث الثاني: إطلاقات الكتابة في الشرع:

قد جاءت الكتابة ومشتقاتها في القرآن الكريم والسنّة النبوية لتدل على عدة معانٍ.

فالأصل في الكتابة النظم بالخط، وقد يقال ذلك للمضموم بعضه إلى بعض باللفظ، ويطلق كل واحد منها على الآخر، ولذا سمى كلام الله وإن لم يكتب كتاباً، كما قال جل ذكره: {الم، ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ} [البقرة:1، 2] .

والكتاب اسم للصحيفة مع المكتوب فيه كما قال تعالى: {وَلَوْ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ كِتَابًا فِي قِرْطَاسٍ} [الأنعام:7] .

والكتابة وسيلة لمقصد في النفس، فقد تطلق الوسيلة على الشيء المراد في النفس ولذلك أطلقت الكتابة على أمور عدة وردت في الوحيين منها:

1ـ العلم كما قال تعالى: {أَمْ عِندَهُمُ الْغَيْبُ فَهُمْ يَكْتُبُونَ} [القلم:47] .

2ـ الحكم كما قال تعالى: {وَأُوْلُواْ الأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ فِي كِتَابِ اللهِ} [الأنفال:75] .

3ـ تطلق على الفرض كما قال تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} [البقرة:183] .

4ـ تطلق على التقدير والإيجاب كما قال تعالى: {كَتَبَ اللَّهُ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরিয়তে ‘কিতাবাত’ (লিখন) শব্দের প্রয়োগসমূহ:

পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহয় ‘কিতাবাত’ (লিখন) এবং এর ব্যুৎপন্ন শব্দসমূহ একাধিক অর্থ প্রকাশের জন্য এসেছে।

মূলত ‘কিতাবাত’ বলতে লিপি বা রেখার মাধ্যমে বিন্যস্ত করাকে বোঝায়। কখনও কখনও মুখে উচ্চারিত শব্দের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করাকেও ‘কিতাবাত’ বলা হয় এবং এই দুটি অর্থ একে অপরের স্থলে ব্যবহৃত হয়। এ কারণেই আল্লাহর বাণীকে ‘কিতাব’ বা গ্রন্থ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে, যদিও তা লিখিত অবস্থায় ছিল না। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: “আলিফ-লাম-মীম। এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক।” [সূরা আল-বাকারাহ: ১, ২]

‘কিতাব’ হলো লিখিত বিষয়সহ কাগজের নাম, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর যদি আমি আপনার প্রতি কাগজে লিখিত কোনো কিতাব অবতীর্ণ করতাম।” [সূরা আল-আনআম: ৭]

লিখন হলো মনের কোনো উদ্দেশ্য প্রকাশের একটি মাধ্যম। কখনও কখনও এই মাধ্যমটি সেই উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপরও প্রয়োগ করা হয়। এই কারণেই ওহী তথা কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যে ‘কিতাবাত’ (লিখন) শব্দটি বেশ কিছু অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১. জ্ঞান (علم); যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “নাকি তাদের নিকট অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, তারা তা লিখে রাখে?” [সূরা আল-কালাম: ৪৭]

২. বিধান (حكم); যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর আল্লাহর বিধানে রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়গণ একে অপরের অধিক হকদার।” [সূরা আল-আনফাল: ৭৫]

৩. এটি ফরজ (فرض) বা আবশ্যকতা অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে।” [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৩]

৪. এটি নির্ধারণ (تقدير) এবং আবশ্যকতা (إيجاب) অর্থে ব্যবহৃত হয়; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আল্লাহ লিখে দিয়েছেন (নির্ধারণ করেছেন)...”
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১০)
لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي} [المجادلة:21] .

5ـ تطلق على التقدير والقضاء كما قال تعالى: {قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَاّ مَا كَتَبَ اللهُ لَنَا} [التوبة:51] .

6ـ تطلق على الحجة الثابتة من الله تعالى كما قال: {وَمِنَ النَّاسِ مَن يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُّنِيرٍ} [الحج: 8] .

7ـ تطلق على اختلاق الشيء وافتعاله كما قال تعالى: {أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَهَا} [الفرقان:5] .

8ـ تطلق بأصلها اللغوي كما قال تعالى: {فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ} [آل عمران: 53] . أي ضمنا في زمرتهم.

9ـ وأهل الكتاب من أُنْزِل عليهم كتاب من الله كاليهود والنصارى، وورد في آيات عديدة.

10ـ يطلق الكتاب على الكتب السابقة كما قال تعالى: {وَمَا كَانَ هَذَا الْقُرْآنُ أَن يُفْتَرَى مِن دُونِ اللهِ وَلَكِن تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتَابِ} [يونس:37] .

11ـ يطلق على القرآن الكريم: {نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ} [آل عمران:3] .

12ـ يطلق على الكتب المنزلة جميعاً كما قال تعالى: {كُلٌّ آمَنَ بِاللهِ
"...আমি এবং আমার রাসূলগণ অবশ্যই বিজয়ী হব।" [আল-মুজাদালা: ২১]।

৫- এটি ভাগ্য নির্ধারণ (التقدير) এবং ফয়সালা (القضاء) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "বলুন, আমাদের নিকট তা-ই পৌঁছাবে যা আল্লাহ আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।" [আত-তাওবা: ৫১]।

৬- এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুদৃঢ় দলিল (الحجة) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন তিনি বলেছেন: "মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানহীনভাবে, কোনো পথনির্দেশনা ছাড়া এবং কোনো জ্যোতির্ময় কিতাব ছাড়াই বিতর্ক করে।" [আল-হাজ্জ: ৮]।

৭- এটি কোনো বিষয় উদ্ভাবন (اختلاق) এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি (افتعال) করা অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "এগুলো পূর্ববর্তীদের উপকথা যা সে লিখিয়ে নিয়েছে।" [আল-ফুরকান: ৫]।

৮- এটি এর শাব্দিক মূল (الأصل اللغوي) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "সুতরাং আপনি আমাদের সাক্ষ্যদানকারীদের (الشاهدين) অন্তর্ভুক্ত করুন।" [আল-ইমরান: ৫৩]। অর্থাৎ: আমাদের তাদের দলের অন্তর্ভুক্ত করুন।

৯- আর আহলে কিতাব তারা যাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে যেমন ইহুদি ও খ্রিষ্টানগণ; এটি কুরআনের বহু আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে।

১০- 'কিতাব' শব্দটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "এই কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও দ্বারা রচিত হওয়া সম্ভব নয়; বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়ন এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা।" [ইউনুস: ৩৭]।

১১- এটি পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়: "তিনি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছেন।" [আল-ইমরান: ৩]।

১২- এটি সকল অবতীর্ণ কিতাবের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "প্রত্যেকেই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে..."
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১১)
وَمَلآئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ} [البقرة:285] .

13ـ تطلق على ابتياع العبد نفسه من سيده، بما يؤديه من كسبه، كما قال تعالى: {وَالَّذِينَ يَبْتَغُونَ الْكِتَابَ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَكَاتِبُوهُمْ} [النور:33] .

14ـ تطلق على من ضم اسمه في ديوان الغزاة كما في الحديث أن رجلاً قال للنبي صلى الله عليه وسلم "إن امرأتي خرجت حاجة وإني اكتتبت في غزوة كذا وكذا" (1) .

15ـ الكتيبة هي الطائفة من الجيش وتكرر ذكرها في الحديث (2) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في الجهاد باب من اكتتب في جيش فخرجت امرأته حاجة أو كان له عذر هل يؤذن له رقم (3006) عن قتيبة، وفي النكاح باب لا يخلون رجلٌ بامرأة إلا ذو محرم رقم (5233) عن علي بن المديني، ومسلم في الحج باب الحج عن العاجز لزمانة وهرم ونحوه رقم (3272) عن أبي بكر بن أبي شيبة وزهير بن حرب أربعتهم عن سفيان بن عيينة عن عمرو بن دينار عن أبي معبد عن ابن عباس رضي الله عنهما وتمامه قال صلى الله عليه وسلم "انطلق فحج مع امرأتك".

(2) مفردات القرآن /638، النهاية في غريب الحديث 4/147.
এবং তাঁর ফেরেশতাগণ ও তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি} [আল-বাকারাহ: ২৮৫]।

১৩. এটি কোনো দাসের তার উপার্জিত সম্পদের বিনিময়ে স্বীয় মুনিবের নিকট থেকে নিজেকে ক্রয় করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের মালিকানাধীন দাসদের মধ্যে যারা মুক্তির চুক্তিনামা (المكاتبة) চায়, তাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হও} [আন-নূর: ৩৩]।

১৪. এটি কোনো ব্যক্তির নাম যোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি হাদিসে এসেছে যে, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: "নিশ্চয়ই আমার স্ত্রী হজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নাম অন্তর্ভুক্ত (اكتتبت) করেছি" (১)।

১৫. আল-কাতিবাহ (الكتيبة) হলো সেনাবাহিনীর একটি দল, হাদিসে এর উল্লেখ বারবার এসেছে (২)।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন জিহাদ অধ্যায়ে, 'যে ব্যক্তি সেনাবাহিনীতে নাম লিখিয়েছে এমতাবস্থায় তার স্ত্রী হজে বের হয়েছে অথবা তার কোনো ওজর আছে তাকে কি অনুমতি দেওয়া হবে' অনুচ্ছেদে, হাদিস নং (৩০০৬) কুতাইবাহ থেকে; এবং নিকাহ (বিবাহ) অধ্যায়ে, 'মাহরাম ব্যতীত কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে' অনুচ্ছেদে, হাদিস নং (৫২৩৩) আলী ইবনুল মাদিনী থেকে; এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন হজ অধ্যায়ে, 'বার্ধক্য ও পঙ্গুত্বের কারণে অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ করা' অনুচ্ছেদে, হাদিস নং (৩২৭২) আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ ও যুহাইর ইবনে হারব থেকে। তারা চারজনই সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে, তিনি আবু মাবাদ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদিসটির পূর্ণরূপ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে হজ করো।"

(২) মুফরাদাতুল কুরআন /৬৩৮, আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ৪/১৪৭।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الثاني: الكتابة زمن البعثة النبوية

‌‌المبحث الأول: علاقة العرب زمن البعثة النبوية بالكتابة

كان المجتمع العربي الذي بعث الله تعالى فيه نبيه صلى الله عليه وسلم مجتمعاً ثقافته ومعرفته محدودتان بسبب طبيعة معيشته، إذ كان أكثرهم بدواً رحلاً منشغلين بالحل والترحال، أو حضراً مستقرين في حواضر بسيطة عماد معيشتها على تحصيل الحاجيات الضرورية عن طريق التجارة والزراعة والرعي والصناعة، فكانت كما وصفها الله جل وعلا أمة أمية في مواضع عدة من كتابه الكريم، وكانت منته الكبرى عليهم بأن بعث فيهم خاتم النبيين صلى الله عليه وسلم فنهض بها بعد أن كانت قعيدة، وملأها نوراً بالعلم والهداية بعد أن كانت تعيش في ظلمات الضلال والجهل والخرافة، وصارت به متبوعة عزيزة منيعة مرهوبة الجانب بعد أن كانت ذليلة ضعيفة، وجمعها بعد أن كانت مفرقة مشتتة، ومننه جل شأنه عليها به لا تعد ولا تحصى، كما قال تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوامِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ} [الجمعة:2] . وقد فسّر النبي صلى الله عليه وسلم معنى الأميين بقوله: "إنا أمة أمية لا نكتب ولا نحسب، الشهر هكذا وهكذا وهكذا"، وعقد الإبهام في الثالثة، "والشهر هكذا وهكذا"، يعني تمام ثلاثين" (1) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في الصوم باب قول النبي صلى الله عليه وسلم "لا نكتب ولا نحسب" رقم (1913) عن آدم بن أبي إياس، ومسلم في الصيام باب وجوب صيام رمضان برؤية الهلال رقم (2511) عن محمد بن جعفر كلاهما عن شعبة عن الأسود بن قيس عن سعيد بن عمرو بن سعيد عن ابن عمر رضي الله عنهما به واللفظ لمحمد بن جعفر.
‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়: নবুয়ত প্রাপ্তির যুগে লিখন পদ্ধতি

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: নবুয়ত প্রাপ্তির যুগে আরবদের সাথে লিখন পদ্ধতির সম্পর্ক

আরব সমাজ, যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছিলেন, তাদের জীবনযাত্রার প্রকৃতির কারণে তাদের সংস্কৃতি ও জ্ঞান ছিল সীমিত। কারণ তাদের অধিকাংশ ছিল যাযাবর বেদুইন, যারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতে ব্যস্ত থাকত; অথবা তারা ছিল সহজ-সরল জনপদে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী নাগরিক, যাদের জীবিকার মূল ভিত্তি ছিল ব্যবসা, কৃষি, পশুপালন ও শিল্পের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জীবনোপকরণ সংগ্রহ করা। ফলে তারা তেমনই ছিল যেমনটি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর পবিত্র কিতাবের বিভিন্ন স্থানে নিরক্ষর (أمية) জাতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর তাদের প্রতি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ ছিল তাদের মধ্য থেকেই সর্বশেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করা; যার মাধ্যমে তিনি এই স্থবির জাতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। পথভ্রষ্টতা, অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকার পর তিনি তাদের জ্ঞান ও হিদায়াতের আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন। তাঁর মাধ্যমেই তারা লাঞ্ছিত ও দুর্বল অবস্থা থেকে এমন এক মর্যাদাবান ও শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হয়েছে যাদের অন্যরা অনুসরণ করে এবং যাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি রয়েছে। তিনি তাদের বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত অবস্থাকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তাঁর মাধ্যমে তাদের ওপর মহান আল্লাহর নেয়ামতসমূহ অপরিসীম, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তিনিই সেই সত্তা, যিনি নিরক্ষরদের (الأميين) মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদের পবিত্র করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিল} [সূরা আল-জুমুআ: ২]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরক্ষর (أمية) শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "আমরা এক নিরক্ষর (أمية) জাতি, আমরা লিখি না এবং হিসাবও করি না। মাস হলো এভাবে, এভাবে এবং এভাবে," এবং তৃতীয়বারে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি বন্ধ করলেন, "আর মাস হলো এভাবে এবং এভাবে," অর্থাৎ পূর্ণ ত্রিশ দিন (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه) বুখারী রোজা অধ্যায়ে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমরা লিখি না এবং হিসাব করি না" পরিচ্ছেদে, হাদিস নম্বর (১৯১৩), আদম ইবনে আবি ইয়াস থেকে; এবং মুসলিম সিয়াম অধ্যায়ে, চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমজানের রোজা ওয়াজিব হওয়া পরিচ্ছেদে, হাদিস নম্বর (২৫১১), মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে; তাঁরা উভয়েই শু’বাহ থেকে, তিনি আসওয়াদ ইবনে কাইস থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাদিসের শব্দসমূহ মুহাম্মদ ইবনে জাফরের।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৪)
وهذا الوصف خرج مخرج الغالب من العرب، فقد وجدت القراءة والكتابة عند بعضهم، ولكن هذا لا ينافي وصف الأمة بأنها أمية (1) ، مثلما وجد منهم بعض الحنفاء ومن كان يتمسك بالكتاب الأول لم ينف أنها أمة جاهلية فالاعتبار للأغلب.

والجزيرة العربية قامت فيها مدنيات قديمة بائدة قبل عصور طويلة من زمن البعثة النبوية كالدولة المعينية (2) والقتبانية (3) والسبئي (4) والحميرية (5) وغيرها، وعن الأخيرة أخذ المناذرة (6) خط، ومن عاصمة تلك الدولة وهي الحيرة أخذه

--------------------------------------------

(1) انظر أحكام القرآن للجصاص5 /335، فتح الباري 5/127 وقد قال جماعة من المفسرين إن المراد بالأمية أي لا كتاب عندهم ولا أثر لرسالة سماوية فيهم، ولا منافاة بين القولين ـ والله أعلم ـ لأن لفظ الأمي يشمل المعنيين، وقد يكون المرء أمياً من جهة ـ بمعنى لا يحسن القراءة والكتابة ـ وعالماً من جهة أخرى، كحال أكثر الأمة إبان تشرفها بحمل الرسالة، فهي أمية من الجهة الأولى، وعالمة من الجهة الثانية، وقد يكون المرء محسناً للقراءة والكتابة، وهو أمي باعتبار عدم علمه بما يقرأ كما قص الله علينا من نبإ بعض أهل الكتاب أن منهم أميين وهم يتلون الكتاب، انظر مجموع الفتاوى 17/434.

(2) دولة قامت في اليمن 2000ق. م ونسبتها إلى عاصمتها معين الواقعة بين نجران وشمال حضرموت، وتوسعت حتى شمل نفوذها خارج الجزيرة العربية، وانتهت على يد السبئيين.

انظر دراسات في تاريخ العرب القديم /213.

(3) من الدول القديمة في الجنوب العربي يرجع بعض الباحثين عهدها إلى 1100ق. م وقد تفردت بأنظمة تسير أمورها ومن أشهر مدنها قتبان وتمنع وحريب وغيرها.

المصدر السابق /247.

(4) من أشهر الدول القديمة في اليمن قص الله شيئاً من نبئها في سورة سبإ والنمل ومن مدنها الشهيرة صرواح ومأرب.

المصدر السابق /271.

(5) آخر الدول التي قامت في اليمن ملوكها التبابعة من مدنها ظفار وجرش ونجران، وانتهت على يد الأحباش.

المصدر السابق /335.

(6) دولة كانت تتبع الفرس تسكن الحيرة إلى الغرب من الفرات استمر حكمها نحو أربعمائة وخمس وستين سنة من عام 268 ـ 633م وسقطت على يد خالد بن الوليد رضي الله عنه.

المصدر السابق /557.
এই বর্ণনাটি আরবদের অধিকাংশের অবস্থার উপর ভিত্তি করে দেয়া হয়েছে; যদিও তাদের কারও কারও মধ্যে পড়া ও লেখার প্রচলন ছিল, তবে এটি এই উম্মতকে নিরক্ষর (أمية) হিসেবে অভিহিত করার পরিপন্থী নয় (১), ঠিক যেমন তাদের মধ্যে কিছু একত্ববাদী (حنفاء) এবং পূর্ববর্তী আসমানি কিতাব আঁকড়ে ধরে রাখা ব্যক্তিদের অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের জাহিলিয়াহ (جاهلية) উম্মত হওয়ার বিষয়টিকে নাকচ করে না। কেননা প্রাধান্য সাধারণত সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে।

আর আরব উপদ্বীপে নবুওয়াত প্রাপ্তির দীর্ঘকাল পূর্বে প্রাচীন ও বিলুপ্ত বহু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, যেমন: মাইনীয় (২), কাতবানি (৩), সাবায়ি (৪), হিময়ারি (৫) রাষ্ট্র ইত্যাদি। আর এই সর্বশেষ রাষ্ট্রটি থেকেই মুনাযিরা (৬) তাদের লিপি গ্রহণ করেছিল এবং সেই রাষ্ট্রের রাজধানী হিরা থেকে তারা তা গ্রহণ করে।

--------------------------------------------

(১) জাসসাস রচিত আহকামুল কুরআন ৫/৩৩৫, ফাতহুল বারি ৫/১২৭ দেখুন। একদল মুফাসসির (مفسرين) বলেছেন যে, নিরক্ষরতা (أمية) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের নিকট কোনো কিতাব ছিল না এবং তাদের মাঝে কোনো আসমানি রিসালাত (رسالة سماوية)-এর প্রভাব ছিল না। এই দুই মতের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই—আল্লাহই ভালো জানেন—কারণ নিরক্ষর (أمي) শব্দটি উভয় অর্থকেই শামিল করে। কোনো ব্যক্তি একদিক থেকে নিরক্ষর (أمي) হতে পারেন—অর্থাৎ তিনি পড়তে ও লিখতে জানেন না—আবার অন্য দিক থেকে তিনি জ্ঞানবান (عالماً) হতে পারেন, যেমনটি ছিল এই উম্মতের অধিকাংশের অবস্থা যখন তারা রিসালাতের দায়িত্ব বহনের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। তারা প্রথম দিক থেকে নিরক্ষর (أمية) ছিলেন এবং দ্বিতীয় দিক থেকে জ্ঞানবান (عالمة) ছিলেন। আবার কোনো ব্যক্তি সুন্দরভাবে পড়তে ও লিখতে জানা সত্ত্বেও যা পড়ছেন সে সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব হেতু নিরক্ষর (أمي) হতে পারেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা আমাদের নিকট আহলে কিতাবদের কিছু খবর বর্ণনা করেছেন যে, তাদের মধ্যে এমন নিরক্ষর (أميين) লোক রয়েছে যারা কিতাব তিলাওয়াত করে। দেখুন মাজমুউল ফাতাওয়া ১৭/৪৩৪।

(২) এটি এমন একটি রাষ্ট্র যা খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দে ইয়ামেনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এর রাজধানী নাজরান ও উত্তর হাজরামাউতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত 'মাইন'-এর দিকে সম্বন্ধ করে এর নামকরণ করা হয়েছিল। এর প্রভাব আরব উপদ্বীপের বাইরেও বিস্তৃত ছিল এবং সাবায়িদের হাতে এর পতন ঘটে।

দিরাসাত ফি তারিখিল আরবিল কাদিমি পৃষ্ঠা ২১৩ দেখুন।

(৩) দক্ষিণ আরবের প্রাচীন রাষ্ট্রগুলোর অন্যতম। কিছু গবেষক এর সময়কালকে খ্রিষ্টপূর্ব ১১০০ অব্দ পর্যন্ত নিয়ে যান। এটি নিজস্ব শাসন ব্যবস্থার কারণে স্বতন্ত্র ছিল এবং এর প্রসিদ্ধ শহরগুলোর মধ্যে ছিল কাতবান, তামান্না, হারিব ইত্যাদি।

পূর্বোক্ত উৎস পৃষ্ঠা ২৪৭।

(৪) ইয়ামেনের প্রাচীনতম রাষ্ট্রগুলোর অন্যতম। আল্লাহ তাআলা সূরা সাবা ও সূরা আন-নামলে এর কিছু ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এর প্রসিদ্ধ শহরগুলোর মধ্যে ছিল সিরওয়াহ ও মারিব।

পূর্বোক্ত উৎস পৃষ্ঠা ২৭১।

(৫) ইয়ামেনে প্রতিষ্ঠিত সর্বশেষ রাষ্ট্রগুলোর একটি। এর রাজাগণ 'তাবাবিআহ' নামে পরিচিত ছিলেন। এর শহরগুলোর মধ্যে ছিল জোফার, জারাস ও নাজরান। হাবশিদের হাতে এর পতন ঘটে।

পূর্বোক্ত উৎস পৃষ্ঠা ৩৩৫।

(৬) এটি পারস্যদের অনুগত একটি রাষ্ট্র ছিল যারা ফোরাত নদীর পশ্চিমে হিরা নামক স্থানে বসবাস করত। এর শাসনকাল ২৬৮ থেকে ৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৪৬৫ বছর স্থায়ী ছিল এবং খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-এর হাতে এর পতন ঘটে।

পূর্বোক্ত উৎস পৃষ্ঠা ৫৫৭।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৫)
أهل الحجاز وتعلموا منهم الكتابة كما هو مشهور عند أكثر أهل العلم (1) ، وكان العرب يعظمون القراءة والكتابة ويعلون من شأن العالم بها، فكانوا يلقبون من أتقن الكتابة وأحسن العوم والرمي بالكامل (2) ؛ لأنهم يطلقون الكاتب على العالم، لأن الغالب على من كان يعلم الكتابة أن يكون عنده علم ومعرفة (3) .

وإنما لم يكن النشاط الكتابي ظاهراً لأمور عديدة من أبرزها:

1- أنهم كانوا أمة بدوية بسيطة مقتصرة في حياتها على الضروريات، وإتقان الكتابة والمعرفة بها تابع للمدنية التي يعيشها أصحابها، فمتى توافرت أسباب المعيشة الضرورية انتقلوا إلى تحصيل الكماليات والتوسع فيها مثل الكتابة وتعاطي العلم ونحو ذلك (4) .

2- أنهم كانوا يعتمدون على الحفظ في الصدور لما آتاهم الله من قوة في الحافظة، وصفاء الطبع، وسيلان الذهن، وحدّة الخاطر فاستغنوا بها عن الكتابة (5) .

3- ندرة تحصيل أدوات الكتابة من أقلام وصحائف فلم يكن هناك انتشار لهذه الوسائل، وعمدوا إلى وسائل بدائية للكتابة من أمثال العظام

--------------------------------------------

(1) انظر فتوح البلدان /456، المصاحف /4، الأوائل /57، مقدمة ابن خلدون /428 والباحثون المعاصرون يختلفون اختلافاً شديداً في منشأ الخط العربي ومصدره بناءً على ما توافر من نقوش أثرية مؤرخة في عهد الدول السابق ذكرها وغيرها.

(2) الطبقات الكبرى 3/502، 566، 573.

(3) النهاية في غريب الحديث والأثر 4/148.

(4) مقدمة ابن خلدون /400.

(5) هدى الساري/ 6، مناهل العرفان 1/286.
হিজাজবাসী এবং তারা তাদের কাছ থেকে লিখতে শিখেছিল যেমনটি অধিকাংশ আলেম (عالم) বা জ্ঞানীর নিকট প্রসিদ্ধ (1)। আর আরবরা পঠন ও লিখনকে অত্যন্ত সম্মান করত এবং যারা এতে পারদর্শী ছিল তাদের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখত। যারা লেখায় নিপুণ ছিল এবং সাঁতার ও তীরন্দাজিতে দক্ষ ছিল, তারা তাদের 'আল-কামিল' (2) উপাধিতে ভূষিত করত; কারণ তারা লেখককে আলেম (عالم) হিসেবে অভিহিত করত। কেননা সাধারণত যে ব্যক্তি লিখন জানতেন, তার নিকট জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বিদ্যমান থাকত (3)।

তবে বেশ কিছু কারণে সে সময় লিখন কার্যক্রম ততোটা প্রকাশ্য ছিল না, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

1- তারা ছিল একটি সহজ-সরল যাযাবর জাতি যারা তাদের জীবনে কেবল মৌলিক প্রয়োজনাদির ওপর সীমাবদ্ধ ছিল। আর লিখন ও জ্ঞানের পারদর্শিতা সেই সভ্যতার বিকাশের ওপর নির্ভরশীল যা তার অধিবাসীরা যাপন করে। যখন জীবনধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ সহজলভ্য হয়, তখন মানুষ বিলাসিতা ও জ্ঞানের প্রসারের দিকে ধাবিত হয়, যেমন লেখালেখি ও জ্ঞানচর্চা এবং এর অনুরূপ বিষয়াদি (4)।

2- তারা তাদের বক্ষে মুখস্থ (حفظ) রাখার ওপর নির্ভর করত। আল্লাহ তাআলা তাদের যে প্রখর স্মৃতিশক্তি (حافظة), নির্মল প্রকৃতি, তীক্ষ্ণ মেধা ও উপস্থিত বুদ্ধি দান করেছিলেন, তার কারণে তারা লিখন থেকে অমুখাপেক্ষী ছিল (5)।

3- কলম ও কাগজের মতো লিখন উপকরণের দুষ্প্রাপ্যতা। এই মাধ্যমগুলো তখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি এবং তারা হাড়ের মতো আদিম লিখন মাধ্যমগুলোর আশ্রয় গ্রহণ করত...

--------------------------------------------

(1) দেখুন: ফুতুহুল বুলদান/৪৫৬, আল-মাসাহিফ/৪, আল-আওয়াইল/৫৭, মুকাদ্দিমা ইবনু খালদুন/৪২৮। সমকালীন গবেষকগণ প্রাচীন রাষ্ট্রসমূহের প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক শিলালিপির ওপর ভিত্তি করে আরবি লিপির উৎপত্তি ও উৎসের ব্যাপারে ব্যাপক মতভেদ পোষণ করেন।

(2) আত-তাবাকাতুল কুবরা ৩/৫০২, ৫৬৬, ৫৭৩।

(3) আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার ৪/১৪৮।

(4) মুকাদ্দিমা ইবনু খালদুন/৪০০।

(5) হাদি আস-সারি/৬, মানাহিলুল ইরফান ১/২৮৬।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وألواح الخشب، وسعف النخيل والحجارة وتحصيل هذه الوسائل وإعداده صعب جداً، فاقتصروا في الاستفادة بها على الضروريات من وثائق ومكاتبات ونحوهما (1) .

ويمكن أن تُحصر الأمور التي استفاد بها العرب من الكتابة على قلتها في جوانب شتى تظهر بالاستقراء مثل:

أـ كتب الديانات السابقة.

ب ـ كتابة العهود والمواثيق المنظمة لشؤون الأفراد والمجتمعات.

ج ـ الصكوك التجارية وحفظ الحقوق.

د ـ الرسائل الشخصية.

هـ ـ مكاتبة الرقيق.

وـ القصائد الشعرية والمفاخر القبلية والأنساب (2) .

ز ـ الحكم والوصايا (3) .

ح ـ كتب الأساطير القديمة (4) .

ط ـ النقوش الحجرية كشواهد القبور (5) .

وقد ورد عن العرب إقامة كتاتيب لتعليم القراءة والكتابة، في أماكن مختلفة مثل مكة المكرمة، والطائف ودومة الجندل.

--------------------------------------------

(1) مصادر الشعر الجاهلي /77 فما بعدها.

(2) مصادر الشعر الجاهلي /61 ـ 73، 109، 164، 165.

(3) المعمرون والوصايا/ 23، 24.

(4) سيرة ابن هشام 1/358.

(5) في شمال غرب الجزيرة (الفهارس) .
কাঠের তক্তা, খেজুরের ডাল ও পাথর; আর এসব উপকরণ সংগ্রহ ও প্রস্তুত করা ছিল অত্যন্ত দুরুহ। ফলে তারা এর ব্যবহারকে কেবল অতি প্রয়োজনীয় নথিপত্র, চিঠিপত্র এবং এই জাতীয় বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন (১)।

আরবরা লিখন পদ্ধতির যে যৎসামান্য ব্যবহার করত, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিভিন্ন দিক থেকে এভাবে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে, যেমন:

ক. পূর্ববর্তী ধর্মসমূহের গ্রন্থাবলি।

খ. ব্যক্তি ও সমাজের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র লিখন।

গ. বাণিজ্যিক দস্তাবেজ ও অধিকার সংরক্ষণ।

ঘ. ব্যক্তিগত চিঠিপত্র।

ঙ. ক্রীতদাসদের সাথে লিখিত মুক্তিচুক্তি (مكاتبة)।

চ. কবিতা, গোত্রীয় গৌরবগাথা ও বংশলতিকা (الأنساب) (২)।

ছ. প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা ও অসিয়তনামা (৩)।

জ. প্রাচীন উপকথার বই (৪)।

ঝ. কবরের ফলকের মতো পাথরের খোদাই করা লিপি (৫)।

আরবদের মাঝে পড়া ও লেখা শেখানোর জন্য মক্কা মুকাররমা, তায়েফ এবং দুমাতুল জান্দালের মতো বিভিন্ন স্থানে মক্তব (كتاتيب) প্রতিষ্ঠার কথা বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মাসাদিরুশ শির আল-জাহিলি / ৭৭ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ।

(২) মাসাদিরুশ শির আল-জাহিলি / ৬১-৭৩, ১০৯, ১৬৪, ১৬৫।

(৩) আল-মুআম্মারুন ওয়াল ওয়াসায়া / ২৩, ২৪।

(৪) সিরাত ইবনে হিশাম ১/৩৫৮।

(৫) আরব উপদ্বীপের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে (সূচিপত্রসমূহ)।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وكان لأهل الكتاب اهتمام بتعليم الصبية القراءة والكتابة في الأماكن التي أقاموا فيها مثل المدينة المنورة (1) .

وكثير مما سبق ذكره من الشواهد يتوقف ثبوته على صحة سند روايته لكن وجود من يجيد القراءة والكتابة في عصر المبعث النبوي يدل على وجود حركة علمية - وإن كانت محدودة - خرّجت مثل أولئك الكتبة.

--------------------------------------------

(1) فتوح البلدان /457، 459.
আহলে কিতাবদের সেই স্থানগুলোতে শিশুদের পঠন ও লিখন শেখানোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ ছিল যেখানে তারা বসবাস করত, যেমন মদিনা মুনাওয়ারা (১)।

পূর্বে উল্লেখিত নিদর্শনগুলোর অনেক কিছুরই সাব্যস্ত হওয়া (ثبوت) নির্ভর করে তার বর্ণনার (رواية) সনদের (سند) বিশুদ্ধতার (صحة) ওপর। তবে নবুওয়াত প্রকাশের যুগে পঠন ও লিখনে পারদর্শী ব্যক্তিদের উপস্থিতি একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের অস্তিত্ব নির্দেশ করে—যদিও তা ছিল সীমিত—যা এই ধরনের লিপিকারদের তৈরি করেছিল।

--------------------------------------------

(১) ফুতুহুল বুলদান / ৪৫৭, ৪৫৯।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الثاني: الكتبة في العهد النبوي والسبل التي وجهت إليها كتابتهم

اتخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم من أصحابه الذين كانوا يحسنون الكتابة كتبة يكتبون بين يديه، وقد اعتنى العلماء بجمع أسمائهم، واختلفوا في تعدادهم، وتحصل لي من خلال الكتب التي عدّدتهم أربعة وأربعون كاتباً (2) ،وجملة هؤلاء قد ينازع في ذكرهم، وقد يضاف إليهم آخرون وهذا يحتاج إلى تقصٍ واستقراء ودراسة أسانيد خبر كل واحد منهم.

--------------------------------------------

(2) تاريخ خليفة /299، أنساب الأشراف 2/192، تاريخ ابن جرير 3/182، سنن البيهقي 10/126، تاريخ دمشق 4/324، الكامل في التاريخ 2/13، سيرة الدمياطي /67، عيون الأثر 2/383، زاد المعاد 1/117، البداية والنهاية 5/339، الإشارة /402، السيرة الحلبية 3/422، شرح المواهب اللدنية 4/533، وانظر: فتح الباري 9/22 والعجيب أنهم جميعاً رحمهم الله لم يذكروا عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما ضمن العدد المذكور، مع أن ما ورد في إثبات كتابته أصح بكثير ممن ينازع في ذكرهم ضمن الكتبة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবুওয়াতী যুগে লিপিকারগণ এবং তাঁদের লেখার ক্ষেত্রসমূহ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সেই সকল সাহাবীদের মধ্য থেকে লিপিকার (كاتب) নিয়োগ করেছিলেন যারা সুন্দরভাবে লিখতে পারতেন, যাতে তাঁরা তাঁর সম্মুখে লিখতে পারেন। আলেমগণ তাঁদের নাম সংগ্রহ করার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং তাঁদের সংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। লিপিকারদের সংখ্যা গণনা করা হয়েছে এমন কিতাবসমূহের মাধ্যমে আমার নিকট ৪৪ জন লিপিকারের (كاتب) নাম সুস্পষ্ট হয়েছে (২)। তাঁদের এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত অনেকের ব্যাপারে দ্বিমত থাকতে পারে, আবার তাঁদের সাথে অন্যদেরও যুক্ত করা যেতে পারে। আর এটি প্রত্যেক ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট সংবাদের বর্ণনা সূত্রসমূহ (أسانيد) বিস্তারিত অনুসন্ধান, গভীর পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার দাবি রাখে।

--------------------------------------------

(২) তারিখ খলিফা /২৯৯, আনসাবুল আশরাফ ২/১৯২, তারিখ ইবনে জারীর ৩/১৮২, সুনান আল-বায়হাকী ১০/১২৬, তারিখ দামেশক ৪/৩২৪, আল-কামিল ফিত তারিখ ২/১৩, সিরাত আদ-দামইয়াতি /৬৭, উয়ুনুল আসার ২/৩৮৩, যাদুল মা'আদ ১/১১৭, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫/৩৩৯, আল-ইশারাহ /৪০২, আস-সিরাত আল-হালাবিয়্যাহ ৩/৪২২, শারহুল মাওয়াহিব আল-লাদুননিয়্যাহ ৪/৫৩৩ এবং দেখুন: ফাতহুল বারী ৯/২২। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, তাঁরা সকলেই (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) উল্লিখিত সংখ্যার মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নাম উল্লেখ করেননি; অথচ তাঁর লেখার বিষয়টি প্রমাণের ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তা সেই সকল ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক বেশি বিশুদ্ধ (صحيح) যাদের লিপিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৮)
وإذا ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم استفاد من هؤلاء الكتاب رضي الله عنهم فاستعماله لهم لا يخرج عن الوحيين الكتاب والسنّة.

فأما الأول فلا جدال في استعماله للكتبة في كتابة ما يوحى إليه من القرآن حيث كان يأمرهم بالكتابة عنه متى ما تنزل عليه الوحي، وهذا معلوم ضرورة لا يحتاج إلى شواهد وبيان.

وأما السنة وهي وحي من الله كما قال الله جل ذكره: {وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3، 4] فكل ما صدر منه عليه الصلاة والسلام من أقوال وأفعال وتقريرات وأحوال داخل في السنة وقد استعمل الكتابة في أمور كثيرة، مما يدل على مشروعية كتابة السنة وأنه قد كتب منها شيء كثير، وإن اتخذ البعض منها صور المراسلات والمعاهدات والوصايا أو بيان أحكام، فلا تخرج كلها عن السنة المطهرة، وقد ثبت أن الصحابة رضي الله عنهم كانوا يكتبون حديثه بنظره وإقراره كما قال عبد الله ابن عمرو رضي الله عنهما "بينما نحن حول رسول الله صلى الله عليه وسلم نكتب إذ سئل أي المدينتين تفتح أولاً.... الحديث" (1) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد 2/167 عن يحيى بن إسحاق، وأبو زرعة الدمشقي في تاريخه رقم (1514) عن سعيد بن عفير، والطبراني في الكبير 13/68 عن سعيد بن أبي مريم، والحاكم 4/555 عن ابن وهب أربعتهم عن يحيى بن أيوب عن أبي قبيل المعافري عن عبد الله رضي الله عنهم. قال الحاكم: صحيح، وقال الذهبي في السير 3/87: حسن غريب، وهو كما قال يحيى بن أيوب هو الغافقي المصري مختلف فيه، وتكلم فيه من جهة حفظه، ويوجز ابن عدي حاله فيقول في الكامل 7/2673 ولا أرى في حديثه إذا روى عنه ثقة أو هو يروى عن ثقة حديثاً منكراً فأذكره، وهو عندي صدوق لا بأس به. وأما أبو قبيل فهو حيي ابن هانيء أطلق القول بتوثيقه أحمد وابن معين والعجلي وأبو زرعة وأحمد بن صالح، وروى الساجي منقطعاً عن يحيى بن معين أنه قال ضعيف، وذكره ابن حبان في الثقات وقال: كان يخطئ، وتوثيق ابن معين الأول مقدم لصحة نسبته إليه ولموافقته الجماعة، وأما ابن حبان فمشهور بالشدة في الجرح كما هو معلوم من حاله رحمه الله، وانظر ترجمة أبي قبيل في تهذيب الكمال7/490، فالحديث لا ينحط عن درجة الحسن والله أعلم.
আর যখন এটি প্রমাণিত যে, নবী (সা.) এই সকল লেখকদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সহায়তা গ্রহণ করেছেন, তখন তাদের প্রতি তাঁর এই নিয়োগ বা ব্যবহার কুরআন ও সুন্নাহ নামক দুই ওহী বা প্রত্যাদেশের বাইরে নয়।

প্রথমটির ক্ষেত্রে, কুরআনের যা কিছু তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হতো তা লিখে রাখার জন্য লেখকদের ব্যবহারের বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কেননা যখনই তাঁর প্রতি ওহী নাযিল হতো, তখনই তিনি তা লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দিতেন। এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় যা কোনো প্রমাণ বা ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী নয়।

আর সুন্নাহ প্রসঙ্গে বলা যায়, এটিও আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী, যেমনটি সুমহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তিনি মনগড়া কথাও বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।" [আন-নাজম: ৩, ৪]। সুতরাং তাঁর (সা.) পক্ষ থেকে প্রকাশিত সকল কথা, কাজ, অনুমোদন (تقريرات) এবং অবস্থা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। তিনি বহুবিধ কাজে লেখার ব্যবহার করেছিলেন, যা সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার বৈধতা প্রমাণ করে এবং এটিও প্রমাণ করে যে সুন্নাহর এক বিশাল অংশ লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। যদিও এর কিছু অংশ পত্রবিনিময়, চুক্তি, অসিয়তনামা বা বিধিবিধান বর্ণনার রূপ ধারণ করেছিল, তবুও এর কোনোটিই পবিত্র সুন্নাহর বাইরে নয়। এটিও প্রমাণিত যে, সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং তাঁর স্বীকৃতির (إقرار) ভিত্তিতেই তাঁর হাদিস লিপিবদ্ধ করতেন। যেমন আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন, "আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পাশে বসে লিখছিলাম, তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন শহরটি আগে বিজিত হবে... হাদিস।" (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ২/১৬৭ ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক থেকে; আবু যুরআ আদ-দিমাশকি তাঁর তারিখ গ্রন্থে নং (১৫১৪) সাঈদ ইবনে উফাইর থেকে; তবারানি আল-কাবিরে ১৩/৬৮ সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে; এবং আল-হাকিম ৪/৫৫৫ ইবনে ওয়াহাব থেকে। তাঁরা চারজনই ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কাবিল আল-মাআফিরি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম বলেছেন: এটি বিশুদ্ধ (صحيح)। আয-যাহাবি সিয়ার গ্রন্থে (৩/৮৭) বলেছেন: এটি উত্তম-একক (حسن غريب)। বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব হলেন আল-গাফেকি আল-মিসরি, যাঁর সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে (مختلف فيه), এবং তাঁর মুখস্থ শক্তির (حفظ) দিক দিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। ইবনে আদি তাঁর অবস্থা সংক্ষেপে আল-কামিল গ্রন্থে (৭/২৬৭৩) বর্ণনা করে বলেন: "আমি তাঁর হাদিসে যখন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি তাঁর থেকে বর্ণনা করে অথবা তিনি কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তখন কোনো অস্বীকৃত (منكراً) বর্ণনা দেখি না যা আমি উল্লেখ করব। তিনি আমার নিকট সত্যবাদী (صدوق), তাঁর মধ্যে কোনো অসুবিধা নেই (لا بأس به)।" আর আবু কাবিল হলেন হাইয়্য ইবনে হানি; আহমাদ, ইবনে মাঈন, আল-আজলি, আবু যুরআ এবং আহমাদ ইবনে সালেহ তাঁকে নির্ভরযোগ্য (توثيقه) বলে অভিহিত করেছেন। আস-সাজি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বিচ্ছিন্ন (منقطعاً) সনদে বর্ণনা করেছেন যে তিনি তাঁকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন। ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (الثقات) বিষয়ক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি ভুল করতেন"। তবে ইবনে মাঈনের প্রথম নির্ভরযোগ্যতার মতটিই অগ্রগণ্য, কারণ এটি তাঁর দিকে সঠিকভাবে সম্পৃক্ত এবং জমহুর বা সংখ্যাধিক্য ওলামার মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর ইবনে হিব্বান সমালোচনার (الجرح) ক্ষেত্রে কঠোরতার জন্য সুপরিচিত, যেমনটি তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় (রহিমাহুল্লাহ)। আবু কাবিলের জীবনী দেখুন তাহযীবুল কামাল গ্রন্থে (৭/৪৯০)। সুতরাং হাদিসটি উত্তম (حسن) পর্যায়ের নিচে নামবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ১৯)
واستقصاء ما كتبه رسول الله صلى الله عليه وسلم مما يطول المقام بذكره وسأقتصر ههنا بإيراد بعض الشواهد التي تبين الوجوه التي استعملت فيها، وقيام الحجة بها من الصحيحين أو أحدهما:

أ- الرسائل الموجهة إلى ملوك الأرض في زمنه صلى الله عليه وسلم يدعوهم إلى الله جل وعلا ويبين فيها واجبهم تجاه أقوامهم، وأن لهم ثواب قومهم مع ثوابهم إن هم أطاعوه، وإثمهم إن هم عصوه، وتضمنت تقرير الوحدانية لله وحده، وبعثته صلى الله عليه وسلم إلى الناس كافة (1) .

ب- المعاهدات والصلح، وقد صالح النبي صلى الله عليه وسلم وعاهد جماعة ودونت هذه المعاهدات والصلح وكتبها له أصحابه، وهي متضمنة أحكاماً واضحة في كيفية المعاهدات والأحكام المترتبة عليها (2) .

ج- كتبه إلى عماله يبين لهم فيها ما يحتاجون إليه من أحكام شرعية وأمور تمس الحاجة إليها بتفصيل أحياناً وبإجمال في أحيان أخرى.

د- كتابة لمن لم يستطع أن يحفظ الحديث الذي سمعه منه، وكتابة العلم تكون معينة على حفظ العلم وعدم نسيانه.

--------------------------------------------

(1) انظر كتابه صلى الله عليه وسلم إلى هرقل في صحيح البخاري في بدء الوحي حديث رقم (7) وفي الجهاد باب دعاء النبي صلى الله عليه وسلم إلى الإسلام والنبوة رقم (2940) ، وفي التفسير باب قل يا أهل الكتاب تعالوا إلى كلمة سواء رقم (4553) ، وفي الاستئذان باب كيف يكتب الكتاب إلى أهل الكتاب رقم (6260) ، وفي التوحيد باب ما يجوز من تفسير التوراة وغيرها من كتب الله بالعربية وغيرها رقم (6541) ، ومسلم في الجهاد وباب كتب النبي صلى الله عليه وسلم إلى هرقل رقم (4607) من حديث الزهري عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة عن ابن عباس عن أبي سفيان رضي الله عنهم، وانظر طبقات ابن سعد 1/222، وزاد المعاد 1/119 فهناك نماذج كثيرة لهذا النوع.

(2) انظر صلح الحديبية في صحيح البخاري كتاب الشروط باب الشروط في الجهاد والمصالحة رقم (2731) ، من حديث الزهري عن عروة عن مروان والمسور بن محزمة رضي الله عنهم.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু লিখেছিলেন তার বিস্তারিত অনুসন্ধান আলোচনার ব্যাপ্তিকে দীর্ঘ করবে; তাই আমি এখানে কেবল এমন কিছু সমর্থক বর্ণনা (شواهد) উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব যা এর ব্যবহারের দিকসমূহ স্পষ্ট করে এবং সহিহাইন (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) অথবা তার যেকোনো একটি থেকে প্রাপ্ত দালিলিক প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠা করে:

ক- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমসাময়িক বিশ্বের রাজন্যবর্গের প্রতি প্রেরিত পত্রাবলি, যাতে তিনি তাঁদের মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাঁদের প্রজাসাধারণের প্রতি তাঁদের কর্তব্য বর্ণনা করেছেন। আর এটিও উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা যদি তাঁর আনুগত্য করেন তবে তাঁদের নিজস্ব সওয়াবের পাশাপাশি তাঁদের জাতির সওয়াবও তাঁরা পাবেন; আর যদি তাঁরা অবাধ্য হন তবে তাঁদের গুনাহের বোঝাও তাঁদের ওপর বর্তাবে। এসব পত্র আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা এবং সকল মানুষের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত হওয়ার বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল (১)।

খ- চুক্তি ও সন্ধিপত্র। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিভিন্ন দলের সাথে সন্ধি ও চুক্তি করেছিলেন এবং এই চুক্তি ও সন্ধিগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল যা তাঁর সাহাবীগণ তাঁর পক্ষ থেকে লিখেছিলেন। এগুলোতে চুক্তির পদ্ধতি এবং এর ফলে উদ্ভূত বিধানাবলি (أحكام) সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা ছিল (২)।

গ- তাঁর কর্মকর্তাদের নিকট প্রেরিত পত্রসমূহ, যাতে তিনি তাঁদের প্রয়োজনীয় শরয়ি বিধানাবলি (أحكام) এবং অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলো বর্ণনা করতেন; কখনো বিস্তারিতভাবে আবার কখনো সংক্ষিপ্তসার (إجمال) হিসেবে।

ঘ- যিনি তাঁর নিকট থেকে শোনা হাদিস মুখস্থ রাখতে সক্ষম ছিলেন না, তাঁর জন্য তা লিখে দেওয়া। ইলম (علم) লিখে রাখা তা সংরক্ষণ করতে এবং বিস্মৃতি রোধে সহায়ক হয়।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি-তে হিরাক্লিয়াসের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত পত্রটি দেখুন: ওহীর সূচনা অধ্যায়, হাদিস নম্বর (৭); জিহাদ অধ্যায়, 'নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইসলাম ও নবুওয়তের প্রতি আহ্বান' অনুচ্ছেদ, নম্বর (২৯৪০); তাফসির অধ্যায়, 'হে আহলে কিতাবগণ! এসো এমন এক বাণীর দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন' অনুচ্ছেদ, নম্বর (৪৫৫৩); অনুমতি গ্রহণ অধ্যায়, 'আহলে কিতাবদের নিকট কিভাবে পত্র লিখতে হয়' অনুচ্ছেদ, নম্বর (৬২৬০); তাওহিদ অধ্যায়, 'তাওরাত ও আল্লাহর অন্যান্য কিতাব আরবি ও অন্য ভাষায় অনুবাদ করার বৈধতা সংক্রান্ত' অনুচ্ছেদ, নম্বর (৬৫৪১); এবং সহিহ মুসলিম-এ জিহাদ অধ্যায়, 'হিরাক্লিয়াসের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পত্র' অনুচ্ছেদ, নম্বর (৪৬০৭)। হাদিসটি জুহরি থেকে উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবাহ-এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস ও আবু সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত। আরও দেখুন: ইবনে সা’দের তাবাকাত ১/২২২; যাদুল মা’আদ ১/১১৯; এই প্রকারের অনেক নমুনা সেখানে বিদ্যমান।

(২) সহিহ বুখারি-র 'শর্তাবলি' কিতাবে হুদায়বিয়ার সন্ধি দেখুন: 'জিহাদ ও সন্ধির ক্ষেত্রে শর্তাবলি' অনুচ্ছেদ, নম্বর (২৭৩১)। হাদিসটি জুহরি থেকে উরওয়াহ-এর মাধ্যমে মারওয়ান ও মিসওয়ার বিন মাখরামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২০)
هـ- المكاتبات الحربية إلى الأعداء لمساءلتهم وإنذارهم وعرض ما لديه عليهم (1) .

و مكاتبات الأمان التي يؤمن بها الأعداء إذا سلّموا أو أسلموا (2) .

ز- أمره صلى الله عليه وسلم أن يكتب له أسماء الناس الذين أسلموا (3) ليضع الأساس لمشروعية كتابة دواوين الجيوش (4) .

ح- الكتابة عنه صلى الله عليه وسلم تكون سبباً إلى رفع التنازع بين الأمة.

ط- نشر وتعميم الأحكام الشرعية إلى البلاد المجاورة (5) .

هذه نماذج جمعتها من الصحيحين وفيها كفاية لبيان كيفية استفادة النبي صلى الله عليه وسلم من الكتابة، وكتب السنة الأخرى تحتوي على نماذج كثيرة تحقق هذا المعنى.

--------------------------------------------

(1) كما في مكاتبة النبي صلى الله عليه وسلم لأهل خيبر حينما قتل عبد الله بن سهل أخرجه البخاري في الأحكام باب كتاب الحاكم إلى عماله والقاضي إلى أمنائه رقم (7192) عن عبد الله بن يوسف وإسماعيل بن أبي أويس، ومسلم في القسامة رقم (4349) عن بشر بن عمر ثلاثتهم عن مالك عن أبي ليلى بن سهل عن سهل بن أبي حثمة عن كبار قومه به

(2) كما في حديث مطاردة سراقة بن مالك رضي الله عنه للنبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر يوم الهجرة وكتابة أبي بكر رضي الله عنه بأمر النبي صلى الله عليه وسلم كتاباً لسراقة يؤمنه فيها أخرجه البخاري في مناقب الأنصار، باب هجرة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه إلى المدينة رقم (3906) عن يحيى بن بكير عن الليث عن عقيل عن ابن شهاب عن عبد الرحمن بن مالك عن أبيه عن سراقة به.

(3) أخرجه البخاري في الجهاد باب كتابة الإمام الناس رقم (3060) حدثنا محمد بن يوسف حدثنا سفيان عن الأعمش عن أبي وائل عن حذيفة رضي الله عنه قال النبي صلى الله عليه وسلم "اكتبوا لي من تلفظ بالإسلام من الناس..... الحديث".

(4) انظر ص 5.

(5) حديث ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم كتب إلى أهل جُرش ينهاهم عن خليط التمر والزبيب، أخرجه مسلم في الأشربة باب بيان أن جميع ما ينبذ مما يتخذ من النخل والعنب يسمى خمراً رقم (5162) حدثنا أبو بكر ابن أبي شيبة عن علي بن مسهر عن الشيباني عن حبيب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما به.
ঙ- শত্রুদের জিজ্ঞাসাবাদ, সতর্কীকরণ এবং তাঁদের নিকট যা রয়েছে তা পেশ করার উদ্দেশ্যে প্রেরিত যুদ্ধকালীন পত্রসমূহ (১)।

চ- নিরাপত্তা প্রদানের পত্রসমূহ, যার মাধ্যমে শত্রুরা আত্মসমর্পণ করলে বা ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁদের নিরাপত্তা প্রদান করা হতো (২)।

ছ- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশ যে, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাঁদের নাম যেন লিখে রাখা হয় (৩), যাতে তিনি সামরিক বাহিনীর রেজিস্টার বা দিওয়ান সংরক্ষণের বৈধতার ভিত্তি স্থাপন করতে পারেন (৪)।

জ- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত লিখিত বিষয়াদি উম্মতের মধ্য থেকে বিবাদ নিরসনের মাধ্যম হয়।

ঝ- পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে শরয়ী বিধানাবলি প্রচার ও প্রসার ঘটানো (৫)।

এগুলো হলো কিছু নমুনা যা আমি সহীহাইন থেকে সংগ্রহ করেছি এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কীভাবে লেখালেখি থেকে উপকৃত হতেন তা বর্ণনার জন্য এগুলোই যথেষ্ট। সুন্নাহর অন্যান্য কিতাবসমূহও এই অর্থ বহনকারী বহু নমুনায় সমৃদ্ধ।

--------------------------------------------

(১) যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক খায়বারবাসীদের নিকট প্রেরিত পত্রের ক্ষেত্রে ঘটেছিল যখন আব্দুল্লাহ ইবনে সাহল নিহত হন। এটি বুখারি 'আহকাম' অধ্যায়, 'শাসকের তাঁর আমিলদের প্রতি এবং বিচারকের তাঁর আমীনদের প্রতি পত্র' পরিচ্ছেদে (হাদিস নং ৭১৯২) আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ও ইসমাইল ইবনে আবি উয়াইস হতে বর্ণনা করেছেন। এবং মুসলিম 'কাসামাহ' অধ্যায়ে (হাদিস নং ৪৩৪৯) বিশর ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তিনজনই মালেক হতে, তিনি আবু লায়লা ইবনে সাহল হতে, তিনি সাহল ইবনে আবি হাসমাহ হতে এবং তিনি তাঁর গোত্রের প্রবীণদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) যেমনটি হিজরতের দিন সুরাকা ইবনে মালেক (রা.) কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও আবু বকর (রা.)-কে ধাওয়া করার হাদিসে বর্ণিত হয়েছে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদেশে আবু বকর (রা.) কর্তৃক সুরাকার জন্য একটি নিরাপত্তা পত্র লিখে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে। এটি বুখারি 'মানাকিবুল আনসার' অধ্যায়, 'নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের মদিনায় হিজরত' পরিচ্ছেদে (হাদিস নং ৩৯০৬) ইয়াহিয়া ইবনে বুকাইর হতে, তিনি লাইস হতে, তিনি আকিল হতে, তিনি ইবনে শিহাব হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মালেক হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি সুরাকা হতে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) বুখারি এটি 'জিহাদ' অধ্যায়, 'ইমাম কর্তৃক মানুষের নাম তালিকাভুক্ত করা' পরিচ্ছেদে (হাদিস নং ৩০৬০) বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি আবু ওয়াইল হতে এবং তিনি হুজাইফা (রা.) হতে বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে যারা মৌখিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করেছে, তাদের নাম আমার জন্য লিখে রাখো..." হাদিস।

(৪) দেখুন পৃষ্ঠা ৫।

(৫) ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুরাশবাসীদের নিকট খেজুর ও কিশমিশ একত্রে মিশিয়ে নবীজ তৈরি করতে নিষেধ করে পত্র পাঠিয়েছিলেন। এটি মুসলিম 'আশরিবা' অধ্যায়, 'খেজুর ও আঙুর থেকে প্রস্তুতকৃত যা কিছু ভিজিয়ে রাখা হয় তাকে মদ (খামর) বলা হয় এর বর্ণনা' পরিচ্ছেদে (হাদিস নং ৫১৬২) বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শাইবা, তিনি আলী ইবনে মুসহির হতে, তিনি শাইবানি হতে, তিনি হাবিব হতে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের হতে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) হতে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الفصل الثالث: فضل الكتابة، وأثرها

‌‌المبحث الأول: فضل الكتابة

استخلف الله جل وعلا آدم في الأرض، وتوالت عليه نعمه الجليلة، فخلقه من عدم، ورباه بالنعم، وأسبغ عليه نعمه ظاهرةً وباطنة، وعلمه العلم الذي يكون به جديراً لهذا الاستخلاف، وكان من أجل نعمه أن علمه البيان ليتعامل مع غيره، ويستفيد مما خلقه الله له فإن الإنسان تتمثل له المعاني في ذهنه، فيريد التعبير عنها فجعل له وسيلتين للبيان عما في ذهنه: أولاهما: البيان اللفظي، فجعل له آلة اللسان التي يعبر بها عن تلك المعاني ويترجم عنها بها لغيره، وثانيتهما: البيان الرسمي الخطي الذي يرسم به تلك الألفاظ فيتبين للناظر معانيها كما يتبين للسامع معاني الألفاظ، وقرر فضل البيان في سياق نعمه التي امتن بها على عباده فقال: {الرَّحْمَنُ، عَلَّمَ الْقُرْآنَ، خَلَقَ الْإِنسَانَ، عَلَّمَهُ الْبَيَانَ} [الرحمن:1-4] ، وامتن بتعليم الكتابة والقراءة خاصة في أول سورة أنزلت على النبي صلى الله عليه وسلم فقال: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ، خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ، اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ، الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ، عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق: 1ـ 5] .

وكان من جلال هذه النعمة أن ربط هذه النعم باسم الرحمن مفرداً، وباسم الأكرم على صيغة أفعل الذي هو الغاية في الكرم فلا شيء ولا نقص فيه (1) .

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى 16/295، مفتاح دار السعادة 1/278.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: লিখনের মর্যাদা ও এর প্রভাব

প্রথম অনুচ্ছেদ: লিখনের মর্যাদা

মহান ও উচ্চমর্যাদাবান আল্লাহ আদম (আ.)-কে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন এবং তাঁর ওপর একের পর এক মহান নিয়ামত বর্ষণ করেছেন। তিনি তাকে অনস্তিত্ব থেকে সৃষ্টি করেছেন, নিয়ামত দিয়ে লালন-পালন করেছেন এবং তার ওপর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নিয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। তিনি তাকে এমন জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন যার মাধ্যমে সে এই প্রতিনিধিত্বের যোগ্য হয়ে ওঠে। তাঁর মহান নিয়ামতসমূহের অন্যতম হলো এই যে, তিনি তাকে বর্ণনাশৈলী শিক্ষা দিয়েছেন যাতে সে অন্যদের সাথে লেনদেন করতে পারে এবং আল্লাহ তার জন্য যা সৃষ্টি করেছেন তা থেকে উপকৃত হতে পারে। মানুষের অন্তরে যখন কোনো ভাব বা অর্থের উদয় হয়, তখন সে তা ব্যক্ত করতে চায়। তাই আল্লাহ তার মনের ভাব প্রকাশের জন্য দুটি মাধ্যম নির্ধারণ করেছেন: প্রথমটি হলো মৌখিক বর্ণনা, যার জন্য তিনি জিহ্বা নামক অঙ্গ দিয়েছেন যার মাধ্যমে সে ওই ভাবগুলো ব্যক্ত করে এবং অন্যদের কাছে তার ব্যাখ্যা প্রদান করে। দ্বিতীয়টি হলো লৈখিক বর্ণনা, যার মাধ্যমে সে শব্দগুলোকে অঙ্কন করে; ফলে পাঠকের কাছে এর অর্থগুলো স্পষ্ট হয়ে যায় যেমনভাবে শ্রোতার কাছে শব্দের অর্থগুলো স্পষ্ট হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি যেসব নিয়ামতের অনুগ্রহ করেছেন তার প্রেক্ষাপটে এই বর্ণনাশৈলীর মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি বলেছেন: {পরম করুণাময়, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন, সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনাশৈলী।} [আর-রহমান: ১-৪]। বিশেষভাবে লিখন ও পঠন শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি তাঁর অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ প্রথম সূরায়। তিনি বলেছেন: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার পালনকর্তা মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।} [আল-আলাক: ১-৫]।

এই নিয়ামতের মাহাত্ম্যের একটি দিক হলো যে, তিনি এই নিয়ামতসমূহকে এককভাবে 'আর-রহমান' নামের সাথে এবং 'আল-আকরাম' নামের সাথে সম্পর্কিত করেছেন যা শ্রেষ্ঠত্ববাচক বা আধিক্যবোধক রূপে এসেছে, যা দান ও মহানুভবতার চূড়ান্ত পর্যায় নির্দেশ করে, যাতে কোনো প্রকার ঘাটতি বা ত্রুটি নেই (১)।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া ১৬/২৯৫, মিফতাহু দারিস সাআদাহ ১/২৭৮।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد تواردت الآيات والأحاديث في فضل الكتابة ومنزلتها من الشرع المطهر، فالقدر الذي هو ركن الإيمان السادس لا يتم الإيمان به إلا إذا آمن المرء أن الله كتب مقادير كل شيء بالقلم الذي قدّر به مقادير الخلائق قبل خلقها في كتاب عنده لا يضل ولا ينسى كما قال صلى الله عليه وسلم "إن أول شيء خلقه الله تعالى القلم، وأمره أن يكتب كل شيء" (1) . وهذا دليل على شرف الكتابة، فقد استأذن جماعة قتادة بن دعامة في الكتابة، فقالوا: نكتب ما نسمع منك؟ قال: وما يمنعك أن تكتب وقد أخبرك اللطيف الخبير أنه يكتب (2) .

والملائكة عليهم السلام يكتبون، وكل له اختصاص في كتابته. وشرف الكتابة وما يتعلق به مما يطول المقام بذكره. وكفى به شرفاً أن أقسم الله بالكتابة وآلتها وهي القلم كما قال تعالى: {ن وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ} [القلم:1] .

قال الشمس ابن القيّم رحمه الله: "فأقسم الله بالكتاب وآلته وهو القلم وهو إحدى آياته وأول مخلوقاته الذي جرى به قدره وشرعه، وكتب به الوحي، وقُيِّد به الدين، وأثبتت به الشريعة، وحفظت به العلوم وقامت به مصالح العباد في المعاش والمعاد فوطدت به الممالك وأُمّنت به السبل والمسالك

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو يعلى 3/7 عن أحمد بن جميل وابن أبي عاصم في السنة 1/50. عن يعمر بن بشر، وابن جرير في التفسير 14/16 عن نعيم بن حماد، وأبو نعيم في الحلية 8/181 عن أحمد بن يحيى الحلواني، وحبان ابن موسى خمستهم عن ابن المبارك عن رباح بن زيد عن عمر بن حبيب عن القاسم بن أبي بزة عن سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما به، وهذا إسناد صحيح وانظر في معناه التبيان في أقسام القرآن /28.

(2) تقييد العلم / 103.
পবিত্র শরিয়তে লেখার ফজিলত ও এর মর্যাদার বিষয়ে অসংখ্য আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ঈমানের ষষ্ঠ রুকন হলো তাকদির, যার প্রতি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না মানুষ এই বিশ্বাস স্থাপন করে যে, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির পূর্বেই তাঁর কাছে থাকা একটি কিতাবে সেই কলমের মাধ্যমে সবকিছুর পরিমাণ লিখে রেখেছেন যার দ্বারা তিনি মাখলুকের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন; যা পথভ্রষ্ট হয় না এবং বিস্মৃতও হয় না। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম, অতঃপর তাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন সে সবকিছু লিখে রাখে।" (১)। এটি লেখার শ্রেষ্ঠত্বের একটি প্রমাণ। একদল লোক কাতাদাহ ইবনে দিয়ামাহ-এর কাছে লেখার অনুমতি প্রার্থনা করলেন এবং বললেন: 'আমরা আপনার থেকে যা শুনি তা কি লিখে রাখব?' তিনি বললেন: 'তোমাদের লিখতে বাধা কিসে, অথচ মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ (আল্লাহ) তোমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি লিখেন (২)।'

ফেরেশতাগণ (আলাইহিমুস সালাম) লিখে থাকেন এবং প্রত্যেকের লেখার জন্য নির্ধারিত ক্ষেত্র রয়েছে। লেখার শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি এতই বিস্তৃত যে তা আলোচনা করলে দীর্ঘ হবে। এর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনায় এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা লেখা এবং এর সরঞ্জাম তথা কলমের শপথ করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {নুন, শপথ কলমের এবং তারা যা লিখে তার} [সূরা কলম: ১]।

শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা কিতাব এবং এর সরঞ্জাম তথা কলমের শপথ করেছেন। এটি তাঁর অন্যতম নিদর্শন এবং তাঁর প্রথম সৃষ্টি যা দিয়ে তাঁর তাকদির ও বিধান কার্যকর হয়েছে, যা দিয়ে ওহি লিপিবদ্ধ হয়েছে, দ্বীন সংরক্ষিত হয়েছে, শরিয়ত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ইলমসমূহ সংরক্ষিত হয়েছে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে বান্দাদের কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমেই রাজত্ব সুদৃঢ় হয়েছে এবং রাস্তা ও পথসমূহ নিরাপদ হয়েছে।"

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা ৩/৭-এ আহমদ ইবনে জামিল থেকে; এবং ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' ১/৫০-এ ইয়ামুর ইবনে বিশর থেকে; এবং ইবনে জারির 'আত-তাফসির' ১৪/১৬-এ নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ থেকে; এবং আবু নুয়াইম 'আল-হিলয়াহ' ৮/১৮১-তে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি থেকে; এবং হিব্বান ইবনে মুসা থেকে—তাঁরা পাঁচজনই ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি রাবাহ ইবনে যায়িদ থেকে, তিনি ওমর ইবনে হাবিব থেকে, তিনি আল-কাসিম ইবনে আবি বাজজাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এই সূত্র (إسناد) টি বিশুদ্ধ (صحيح)। এর অর্থ সম্পর্কে আরও দেখুন 'আত-তিবইয়ান ফি আকসামিল কুরআন'/২৮।

(২) তাকয়িদুল ইলম / ১০৩।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأقام في الناس أبلغ خطيب وأفصحه وأنفعه لهم وأنصحه، وواعظاً تشفِي مواعظه القلوب من السقم، وطبيباً يبرِّئ بإذنه أنواع الألم، يكسر العساكر العظيمة على أنه الضعيف الوحيد، ويخاف سطوته وبأسه ذو البأس الشديد، وبالأقلام تدبر الأقاليم، وتساس الممالك، والقلم لسان الضمير يناجيه بما استتر عن الأسماع فينسج حلل المعاني في الطرفين فتعود أحسن من الوشى المرقوم، ويودعها حكمه فتصير بوادر الفهوم والأقلام نظام للأفهام، وكما أن اللسان بريد القلب، فالقلم بريد اللسان، وتولّدُ الحروف المسموعة عن اللسان كتولد الحروف المكتوبة عن القلم، والقلم بريد القلب ورسوله وترجمانه ولسانه الصامت (1) ".

ولأهمية الكتابة وشرفها عُني الشرع المطهر بها فحث على تعلمها وتعليمها وظهر ذلك من رفع شأن الكتبة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فشرَّفهم بكتابة القرآن الكريم، وتدوين سنته صلى الله عليه وسلم، وقد جعل النبي صلى الله عليه وسلم فداء أسرى بدر لمن لم يستطع فداء نفسه بالمال أن يعلم صبيان الأنصار الكتابة (2) ، وأذن للنساء بتعلم الكتابة وتعليمها (3) ، وكن جماعة من النساء الصحابيات رضي

--------------------------------------------

(1) التبيان في أقسام القرآن /206.

(2) أخرجه أحمد 1/247 عن علي بن عاصم، والحاكم 2/140 عن خالد بن عبد الله الواسطي كلاهما عن داود بن أبي هند عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: "كان ناس من الأسرى يوم بدر لم يكن لهم فداء، فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم فداءَهم أن يعلموا أولاد الأنصار الكتابة". قال الحاكم: صحيح الإسناد وهو كما قال.

(3) جاء في حديث الشفاء بنت عبد الله رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لها: "ألا تعلمين هذه - يعني حفصة - رقية النملة كما علمتيها الكتابة" أخرجه أبو داود في الطب باب الرقى 4/11 عن علي بن مسهر، والنسائي في الطب من الكبرى باب رقية النملة 3/366، عن محمد بن بشر، والطحاوي في معاني الآثار 4/326 عن أبي معاوية، والطبراني في الكبير 24/313 عن أبي نعيم وعبد الله بن داود خمستهم عن عبد العزيز بن عمر بن عبد العزيز عن صالح بن كيسان عن أبي بكر بن سليمان بن بي حثمة عن الشفاء به، وهذا إسناد حسن، في عبد العزيز كلام من جهة حفظه لا ينزله عن درجة الحسن كما في تهذيب الكمال 18/173، إلا أن الحديث فيه اختلاف على صالح بن كيسان ومن تابعه وهم الزهري ومحمد بن المنكدر ورجح الدارقطني في العلل 5/194/ب، 195 إرساله.
তিনি মানুষের মাঝে সবচেয়ে প্রাঞ্জল ও সুনিপুণ বাগ্মী এবং তাদের জন্য সবচেয়ে উপকারী ও হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দণ্ডায়মান হলেন। তিনি এমন একজন উপদেশদাতা, যাঁর উপদেশসমূহ অন্তরকে রোগমুক্ত করে এবং এমন একজন চিকিৎসক, যাঁর চিকিৎসায় আল্লাহর অনুমতিতে সব ধরণের ব্যথা উপশম হয়। তিনি দৃশ্যত একক ও দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও বিশাল বিশাল বাহিনীকে পরাস্ত করেন; অথচ প্রবল পরাক্রমশালী ব্যক্তিরাও তাঁর প্রভাব ও বীরত্বকে ভয় পায়। কলমের মাধ্যমেই ভূখণ্ডসমূহ পরিচালিত হয় এবং সাম্রাজ্যগুলো শাসিত হয়। কলম হলো বিবেকের জিহ্বা, যা কানের অগোচরে হৃদয়ের সাথে সংগোপনে কথা বলে এবং অর্থের সূক্ষ্ম বুননে সুনিপুণ ভাবপ্রকাশের পোশাক তৈরি করে, যা অলংকৃত কারুকাজের চেয়েও সুন্দর হয়। তিনি এতে স্বীয় প্রজ্ঞা গচ্ছিত রাখেন, যা বোধশক্তির অগ্রদূত হয়ে ওঠে। কলম হলো জ্ঞানসমূহকে বিন্যস্ত করার মাধ্যম। জিহ্বা যেমন হৃদয়ের দূত, কলম তেমনি জিহ্বার দূত। জিহ্বা থেকে উচ্চারিত অক্ষরসমূহ যেমন জন্ম নেয়, কলম থেকে লিখিত অক্ষরগুলোও তেমনি জন্ম নেয়। কলম হলো হৃদয়ের বার্তাবাহক, তার প্রতিনিধি, তার দোভাষী এবং তার নীরব জিহ্বা (১)।

লিখনশৈলীর গুরুত্ব ও মর্যাদার কারণে পবিত্র শরিয়ত এর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে এবং তা শিখতে ও শেখাতে উৎসাহিত করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে যারা লেখক ছিলেন, তাদের উচ্চ মর্যাদার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে; তিনি তাঁদেরকে পবিত্র কুরআন লিপিবদ্ধ করার এবং তাঁর সুন্নাহ সংকলনের মহান দায়িত্বে ভূষিত করে সম্মানিত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে যাদের মুক্তিপণ দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না, তাদের মুক্তিপণ হিসেবে আনসারদের সন্তানদের লেখা শেখানোর শর্ত নির্ধারণ করেছিলেন (২)। তিনি নারীদেরও লেখা শিখতে ও শেখাতে অনুমতি দিয়েছিলেন (৩)। নারী সাহাবীগণের একটি দল ছিল...

--------------------------------------------

(১) আত-তিবইয়ান ফি আকসামিল কুরআন / ২০৬।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ১/২৪৭, আলী বিন আসিম থেকে; এবং হাকীম ২/১৪০, খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াসিতি থেকে; তাঁরা উভয়ে দাউদ বিন আবি হিন্দ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "বদরের যুদ্ধে এমন কিছু যুদ্ধবন্দী ছিল যাদের কোনো মুক্তিপণ ছিল না, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মুক্তিপণ নির্ধারণ করেন যে তারা আনসারদের সন্তানদের লেখা শেখাবে।" হাকীম বলেন: এর সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), এবং বিষয়টি তেমনই।

(৩) শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: "তুমি কি তাকে —অর্থাৎ হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)— পিঁপড়ার কামড়ের ঝাড়ফুঁক শিখিয়ে দেবে না, যেমনটি তাকে লেখা শিখিয়েছ?" এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ 'চিকিৎসা' অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: 'ঝাড়ফুঁক' ৪/১১, আলী বিন মুশহির থেকে; নাসায়ি 'আস-সুনানুল কুবরা'র 'চিকিৎসা' খণ্ডে, অনুচ্ছেদ: 'পিঁপড়ার কামড়ের ঝাড়ফুঁক' ৩/৩৬৬, মুহাম্মদ বিন বিশর থেকে; তহবি 'মাআনিউল আসার' ৪/৩২৬-এ আবু মুয়াবিয়া থেকে; এবং তাবারানি 'আল-মুজামুল কাবীর' ২৪/৩১৩-এ আবু নুয়াইম ও আব্দুল্লাহ বিন দাউদ থেকে। তাঁরা পাঁচজনই আব্দুল আজিজ বিন উমর বিন আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি সালিহ বিন কায়সান থেকে, তিনি আবু বকর বিন সুলায়মান বিন আবি হাসমাহ থেকে, তিনি শিফা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এই সনদটি হাসান (إسناد حسن)। আব্দুল আজিজের হেফজ বা মুখস্থ শক্তির ব্যাপারে কিছু সমালোচনা আছে, তবে তা তাকে হাসানের (الحسن) স্তর থেকে নিচে নামিয়ে দেয় না, যেমনটি 'তহজিবুল কামাল' ১৮/১৭৩-এ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই হাদিসের সনদে সালিহ বিন কায়সানের বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে। তাঁর অনুসরণকারীগণ হলেন যুহরি ও মুহাম্মদ বিন মুনকাদির। দারা কুতনি 'আল-ইলাল' ৫/১৯৪/খ, ১৯৫-এ একে মুরসাল (إرساله) হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২৫)
الله عنهن ومنهن بعض أمهات المؤمنين رضي الله عنهن يكتبن (1) .

وقد جعل الشرع الكتابة سبباً في إثبات الحقوق، وسد باب التنازع فأمر بكتابة الدين وألا يسأم من كتابته صغر أم كبر حفظاً له واحتياطاً عليه وإشفاقاً من دخول الريب فيه.

وجعل الله كتابة الشهادة فيما يتعاطاه الناس من الحقوق بينهم عوناً عند الجحود وتذكرة عند النسيان، وجعل عدمها عند من يدّعي على غير ما فيها أوكد الحجج ببطلان ما ادعوا فيها، كما ورد في السنة المطهرة عندما تحاكم اليهود إلى النبي صلى الله عليه وسلم في زانيين فغيروا حكم الله، وادعوا أن في التوراة الحكم الذي ادعوه، فأمرهم أن يأتوا بالتوراة فكان حكم الرجم ثابتاً فيها غير مموه (2) .

وفي مجادلة النبي صلى الله عليه وسلم لمن اتخذ الأصنام آلهة قال لهم: {أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِي السَّمَاوَاتِ اِئْتُونِي بِكِتَابٍ مِّن قَبْلِ هَذَا أَوْ أَثَارَةٍ مِّنْ عِلْمٍ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ} [الأحقاف: 4] (3) .

--------------------------------------------

(1) انظر: فتوح البلدان / 458، دراسات في الحديث النبوي وتاريخ تدوينه 1/109، 113،140، 141.

(2) الحديث عن ابن عمر رضي الله عنهما أخرجه البخاري في المناقب باب قول الله تعالى: {يعرفونه كما يعرفون أبناءهم} رقم 3635 عن عبد الله بن يوسف، وفي الحدود باب أحكام أهل الذمة وإحصانهم إذا زنوا ورفعوا إلى الإمام رقم (6841) عن إسماعيل بن أبي أويس، ومسلم في الحدود باب رجم اليهود أهل الذمة في الزنى رقم (4438) ، عن أيوب وابن وهب، أربعتهم عن مالك عن نافع عن ابن عمر رضي الله عنهم، وفي الباب عن جابر وأبي هريرة والبراء رضي الله عنهم.

(3) انظر تقييد العلم /73.
আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাদের মধ্যে কয়েকজন উম্মুল মুমিনীনও (রা.) ছিলেন যারা লিখতে পারতেন (১)।

শরিয়ত লেখাকে অধিকার সাব্যস্ত করার মাধ্যম এবং বিবাদের পথ বন্ধ করার উপায় হিসেবে নির্ধারণ করেছে। তাই ঋণ লিখে রাখার নির্দেশ প্রদান করেছে এবং এটি ছোট হোক বা বড়—তা লিখতে অলসতা করতে নিষেধ করেছে; যাতে তা সংরক্ষিত থাকে, সতর্কতা বজায় থাকে এবং এতে কোনো সন্দেহের উদ্রেক না হয়।

আর মানুষের পারস্পরিক লেনদেন সংক্রান্ত অধিকারসমূহের ক্ষেত্রে আল্লাহ সাক্ষ্য লিখে রাখাকে অস্বীকৃতির সময় সহায়ক এবং বিস্মৃতির সময় স্মারক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর যারা দলিলের বিপরীতে দাবি করে, তাদের দাবির অসারতা প্রমাণের জন্য দলিলের অনুপস্থিতিকে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেছেন। যেমনটি পবিত্র সুন্নাহয় বর্ণিত হয়েছে, যখন ইয়াহুদিরা দুইজন ব্যভিচারীর বিচারের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসেছিল, তখন তারা আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করে ফেলেছিল এবং দাবি করেছিল যে তাওরাতে তাদের দাবিকৃত বিধানই বিদ্যমান। তখন তিনি তাদের তাওরাত নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। ফলে তাতে রজম (رجم) বা পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ডের বিধানটি কোনো সংশয় ছাড়াই স্পষ্টভাবে সাব্যস্ত হলো (২)।

প্রতিমা উপাসকদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিতর্কের বর্ণনায় আল্লাহ তাদের লক্ষ্য করে বলেছেন: {তোমরা আমাকে দেখাও তারা জমিনের কী সৃষ্টি করেছে? নাকি আসমানসমূহে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব আছে? এর পূর্ববর্তী কোনো কিতাব অথবা পরম্পরাগত জ্ঞান আমার কাছে নিয়ে এসো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও} [আল-আহকাফ: ৪] (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফুতুহুল বুলদান / ৪৫৮; দিরাসাত ফিল হাদিসিন নববী ওয়া তারিখি তাদওয়িনিহি ১/১০৯, ১১৩, ১৪০, ১১১।

(২) ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি বুখারি 'মানাকিব' (মর্যাদা) অধ্যায়ে, আল্লাহর বাণী: {তারা তাকে চেনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে} পরিচ্ছেদে, আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ থেকে ৩৬৩৫ নম্বরে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া 'হুদুদ' (দণ্ডবিধি) অধ্যায়ে, 'আহলে জিম্মিদের ব্যভিচার এবং তারা ইমামের কাছে বিচারপ্রার্থী হলে তাদের হুকুম ও পবিত্রতা' পরিচ্ছেদে ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস থেকে (৬৮৪১) নম্বরে বর্ণনা করেছেন। মুসলিম 'হুদুদ' অধ্যায়ে, 'ব্যভিচারের ক্ষেত্রে আহলে জিম্মি ইয়াহুদিদের রজম (رجم) করার বিধান' পরিচ্ছেদে (৪৪৩৮) নম্বরে আইয়ুব ও ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা চারজনই মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে জাবির, আবু হুরায়রা ও বারা (রা.) থেকেও বর্ণনা রয়েছে।

(৩) দেখুন: তাকিয়িদুল ইলম / ৭৩।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المبحث الثاني: أثر الكتابة في حفظ العلم وقيمته:

كان للكتابة أثر كبير في الشريعة المطهرة من جهة الفوائد المترتبة عليها وظهر هذا في:

أ- تدوين القرآن الكريم وحفظه في المصاحف.

ب- تدوين السنة المطهرة وحفظها في الدواوين.

ج- تدوين العلم الشرعي بكافة تخصصاته وتشعباته العلمية.

فلولا التدوين لاندرست معالم هذا الدين، وضاعت معالمه، لأن أصحاب الصدور يفنون، وأما ما دونوه في السطور فلا يفنى.

ومما ينبغي ذكره ههنا أنه ليس بالتدوين فقط حُفِظ العلم وقامت به الحجة، فإنه لا قيمة للعلم المكتوب إلا باعتبار نقلته وكتبته إلينا، وأما وجوده في الكتب فلا قيمة له إلا إذا كان كتبته عدولاً ضابطين ومن نقل إلينا هذه الكتب كذلك، وأعني به خصيصة الأمة الإسلامية عن سائر الأمم وهي:

1- البحث في أحوال النقلة من جهة العدالة والضبط.

2- اتصال السند من أول سلسلته إلى منتهاها.

فإذا نقل الرواة إلينا العلم محفوظاً بالصدور والسطور معاً مع الخصيصتين السالفتين فقد كان هذا هو الغاية والنهاية في المحافظة، وإن نقل إلينا بأحدهما كفى هذا في الصيانة ما دامت الخصيصتان متحققتين معاً، وأما وجوده مكتوباً دون هاتين الخصيصتين أو إحداهما فلا قيمة للعلم الموجود، وكذلك انفراد أحدهما دون هاتين الخصيصتين أو إحداهما فلا قيمة له البتة، ولا نثق بأي شيء من المكتوب - إذا كان هذا حاله - لاحتمال تعرضه للتبديل والتحريف. فلينظر إلى التوراة والإنجيل مكتوبان نعم، ولكن وقع التحريف
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জ্ঞান সংরক্ষণে লেখনীর প্রভাব ও এর গুরুত্ব:

শরিয়তে মুতাহহারায় লেখনীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এর থেকে অর্জিত নানাবিধ উপকারের প্রেক্ষিতে, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে পরিলক্ষিত হয়েছে:

ক- কুরআন মাজিদ সংকলন এবং মুসহাফসমূহে তা সংরক্ষণ।

খ- সুন্নাহ সংকলন এবং তা সংগ্রহশালাগুলোতে (দেওয়ান) সংরক্ষণ।

গ- শরয়ি জ্ঞানকে তার সকল বিশেষায়িত শাখা ও বৈজ্ঞানিক উপশাখাগুলোসহ লিপিবদ্ধকরণ।

যদি এই লিপিবদ্ধকরণ না থাকত তবে দ্বীনের নিদর্শনসমূহ বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ হারিয়ে যেত। কারণ যারা অন্তরে জ্ঞান ধারণ করেন তারা নশ্বর, কিন্তু যা কাগজের পাতায় লিপিবদ্ধ থাকে তা অবিনশ্বর।

এখানে যা উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, কেবল লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমেই ইলম সংরক্ষিত হয়নি এবং এর দ্বারা হুজ্জত বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কেননা, লিখিত ইলমের কোনো মূল্য নেই যদি না আমাদের কাছে তা পৌঁছানো বর্ণনাকারী এবং লেখকদের অবস্থা বিবেচনা করা হয়। আর কিতাবসমূহে ইলমের অস্তিত্বের কোনো মূল্য নেই, যতক্ষণ না এর লেখকরা ন্যায়পরায়ণ (عدول) ও নির্ভুল বর্ণনাকারী (ضابطين) হন এবং যারা আমাদের নিকট এই কিতাবগুলো বর্ণনা করেছেন তারাও অনুরূপ হন। আর আমি এর দ্বারা মুসলিম উম্মাহর সেই অনন্য বৈশিষ্ট্যকে বুঝাচ্ছি যা অন্যান্য উম্মত থেকে একে আলাদা করেছে, আর তা হলো:

১- ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) ও নির্ভুলতার (الضبط) দিক থেকে বর্ণনাকারীদের অবস্থা নিয়ে গবেষণা করা।

২- সিলসিলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সনদের ধারাবাহিকতা (اتصال السند) থাকা।

সুতরাং বর্ণনাকারীগণ (الرواة) যদি উল্লিখিত দুটি বৈশিষ্ট্যসহ মুখস্থ ও লিখিত উভয় মাধ্যমেই আমাদের কাছে ইলম পৌঁছে দেন, তবে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এটিই হচ্ছে চূড়ান্ত ও সর্বোচ্চ পর্যায়। আর যদি এই দুটির যেকোনো একটির মাধ্যমেও আমাদের কাছে পৌঁছায়, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত এই বৈশিষ্ট্য দুটি বিদ্যমান থাকবে ততক্ষণ তা সংরক্ষণের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই দুটি বৈশিষ্ট্য বা এর কোনো একটি ছাড়া কেবল লিখিত আকারে বিদ্যমান ইলমের কোনো মূল্য নেই। একইভাবে এই দুটি বৈশিষ্ট্য বা এর কোনো একটি ছাড়া এককভাবে কোনো মাধ্যমে বর্ণনা হলেও তার বিন্দুমাত্র মূল্য নেই। আর লিখিত কোনো বিষয়ের অবস্থা যদি এমন হয়, তবে আমরা তার ওপর কোনোভাবেই আস্থা রাখি না, কারণ তাতে পরিবর্তন ও বিকৃতির (تحريف) সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং তাওরাত ও ইঞ্জিলের দিকে লক্ষ্য করুন, সেগুলো লিপিবদ্ধ ঠিকই, কিন্তু তাতে বিকৃতি (تحريف) ঘটেছে।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২৭)
والتبديل فيهما لما تجرد نقلتهم من العدالة والضبط، وانقطع سندهم إليهما من عصور تالية لنزولهما، بل يستطيع المسلم أن يجزم بأنهما مخالفان لأصلهما الذين نزلا عليه كما قال تعالى: {فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِندِ اللهِ لِيَشْتَرُواْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَّهُمْ مِّمَّا يَكْسِبُونَ} [البقرة:79] (1) .

فالكتابة حينئذ وسيلة من الوسائل لحفظ العلم ولا يعني أن العلم إذا كتب يكون حجة بها، وأن صيانة الحجة متوقفة عليها، ألا ترى إلى كتاب الله جل وعلا وهو حجة الله على خلقه قد نزله على نبيه صلى الله عليه وسلم منجماً يتنزل به الروح الأمين عليه، وهو عليه الصلاة والسلام معصوم بعصمة الله، فقامت به الحجة، ولم يحتج أن يتنزل به على النبي صلى الله عليه وسلم مكتوباً ليكون أبلغ في الحجة على الأمة إذ هو نبي أمي لا يقرأ ولا يكتب، فأتاهم بما يعجزهم ولو اجتمعوا على أن يأتوا بمثله.

وشريعة الدين العظمى وهي الصلاة لا يمكن لأحد أن يهتدي إلى كيفيتها من القرآن وحده، بل لا بد من بيان الرسول صلى الله عليه وسلم، ولم يثبت أنه أمر بكتابة كيفيتها التي شرحها بقوله وفعله، ولو كانت الكتابة من لوازم الحجية لما جاز أن يترك النبي صلى الله عليه وسلم هذا الأمر الخطير.

وخلاصة الأمر أن الكتابة لا تلزم بها الحجة وحدها، بل الأصل ما تقدم تقريره من حال النقل والنقلة (2) .

--------------------------------------------

(1) انظر مجموع الفتاوى 17/435.

(2) انظر الفصول الماتعة التي سطرها العلامة د. عبد الغني عبد الخالق رحمه الله في كتابة حجية السنة: 398 ـ 484.
আর সে দুটির (পূর্ববর্তী কিতাবদ্বয়) মধ্যে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, কারণ তাদের বর্ণনাকারীগণ ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও মুখস্থশক্তির সঠিকতা (ضبط) থেকে বঞ্চিত ছিল এবং তাদের অবতীর্ণ হওয়ার পরবর্তী যুগগুলো থেকে সেগুলোর প্রতি তাদের সনদ (سند) বিচ্ছিন্ন (انقطع) হয়ে গিয়েছিল। বরং একজন মুসলিম নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন যে, কিতাব দুটি তাদের মূল পাণ্ডুলিপির বিরোধী যাতে সেগুলো নাজিল হয়েছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং নগণ্য মূল্য পাওয়ার জন্য বলে, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে।’ অতএব তাদের হাত যা লিখেছে তার জন্য তাদের ধ্বংস এবং তারা যা উপার্জন করছে তার জন্য তাদের দুর্ভোগ।} [বাকারা: ৭৯] (১)।

অতএব, লিখনশৈলী তখন জ্ঞান সংরক্ষণের একটি মাধ্যম মাত্র; এর অর্থ এই নয় যে জ্ঞান লিখে রাখা হলেই তা দলীল (حجة) হিসেবে গণ্য হবে, কিংবা দলীল (حجة) সংরক্ষণ করা লেখার ওপর নির্ভরশীল। আপনি কি মহান আল্লাহর কিতাবের দিকে লক্ষ্য করেন না, যা তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর এক অকাট্য দলীল (حجة)? তিনি তা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছেন যা রুহুল আমীন তাঁর কাছে নিয়ে আসতেন। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর নিরাপত্তায় নিষ্পাপ (معصوم) ছিলেন। ফলে এর মাধ্যমেই দলীল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উম্মতের ওপর দলীল (حجة) হিসেবে অধিকতর কার্যকর হওয়ার জন্য এটি নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে লিখিত আকারে নাযিল হওয়ার প্রয়োজন হয়নি। যেহেতু তিনি একজন নিরক্ষর নবী ছিলেন যিনি পড়তে বা লিখতে জানতেন না। তবুও তিনি তাদের কাছে এমন কিছু নিয়ে এসেছেন যা তাদের অক্ষম করে দিয়েছে, এমনকি তারা সকলে একত্রিত হয়েও এর অনুরূপ কিছু আনতে সক্ষম নয়।

দ্বীনের মহান বিধান তথা সালাতের পদ্ধতি কেবল কুরআন থেকে জানা কারো পক্ষে সম্ভব নয়; বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণনার প্রয়োজন অনিবার্য। অথচ এটি প্রমাণিত নয় যে, তিনি সালাতের পদ্ধতির লিখিত রূপ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা তিনি তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছিলেন। যদি লেখা দলীল বা প্রামাণিকতা (حجية)-এর জন্য অপরিহার্য হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ছেড়ে দিতেন না।

সংক্ষেপে কথা হলো, কেবল লেখার মাধ্যমেই দলীল (حجة) সাব্যস্ত হয় না, বরং মূল ভিত্তি হলো বর্ণনা (نقل) এবং বর্ণনাকারীদের (نقلة) অবস্থা যা পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ১৭/৪৩৫।

(২) আল্লামা ড. আব্দুল গনি আব্দুল খালিক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর হাজ্জিয়াতুস সুন্নাহ কিতাবে যে চমৎকার পরিচ্ছেদগুলো লিখেছেন তা দেখুন: ৩৯৮-৪৮৪।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وكون المرء كاتباً أو قارئاً لا يلزم منه أن يكون عالماً، فإنه لا تلازم بينهما البتة، ألا ترى إلى النبي صلى الله عليه وسلم وكثير من الصحابة الكرام كانوا أميين لا يحسنون القراءة والكتابة، ومع ذلك فهم أعلم الناس، وانظر إلى كثير ممن يحسن القراءة والكتابة في هذا الزمان وله في ذلك درجات عليا في كثير من العلوم الدنيوية وهو لا يحسن قراءة القرآن، ومعرفة شرائع الدين، وتقدم ما قصَّه الله علينا من نبإ أهل الكتاب إذ هم يكتبونه ولا يعقلونه، فمن هنا يظهر أنها وسيلة من الوسائل لا تستقل بنفسها بل بما يحيط بها فبذلك تكون الحجة. وفي الأحكام العملية نرى أن الوصايا والأوقاف والطلاق ونحوها إذا كان مكتوباً دلت الأدلة على إنفاذه، ولكن هذا الإنفاذ متوقف على صحة نسبة الخط إلى كاتبه، وحصول العلم بذلك وليس بمجرد كونها مكتوبة والخلاف الذي حصل بعد ذلك لا في أن الكتابة المقترنة بالقرائن السابقة لا تقوم بها حجة بل للتوثق وإبراء الذمة فمنهم من يشترط الشهود والبينة ونحو ذلك، وهذا لتغير أحوال الناس واجتراء بعضهم على التزوير والكذب، وهذا لا يلغي أصل الحكم بثبوت العمل بها متى تحقق صحة نسبتها إلى صاحبها (1) .

وصحت الرواية بالمكاتبة عند جمهور أهل العلم عند حصول شروط القبول في المتكاتبين ومعرفة المكتوب إليه بخط الكاتب أو إشارته أو مختوماً بخاتمه، وأمانة ناقله ونحو ذلك (2) .

--------------------------------------------

(1) أعلام الموقعين 4/265، الطرق الحكمية /299.

(2) المحدث الفاصل /452، الكفاية /336، المقدمة /156، اختصار علوم الحديث /102، النكت للزركشي 3/544، فتح الباري 1/155، فتح المغيث 2/135.
একজন ব্যক্তি লেখক বা পাঠক হলেই যে তাকে আলিম হতে হবে এমন কোনো আবশ্যকতা নেই, কারণ এই দুইয়ের মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই। আপনি কি দেখেন না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অনেক সম্মানিত সাহাবী নিরক্ষর ছিলেন, তারা পড়তে বা লিখতে জানতেন না; অথচ তারা ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী। আবার বর্তমান সময়ের অনেকের দিকে তাকান, যারা পড়তে ও লিখতে পারদর্শী এবং জাগতিক অনেক বিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রিধারী, কিন্তু তারা কুরআন তিলাওয়াত করতে জানে না এবং দীনের বিধিবিধান সম্পর্কেও সম্যক অবগত নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের কাছে আহলে কিতাবদের যে সংবাদ দিয়েছেন তা আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা কিতাব লিখত কিন্তু তা বুঝত না। এখান থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি (লিখন বা পঠন) অন্যতম একটি মাধ্যম মাত্র, যা নিজে নিজে স্বতন্ত্র নয়, বরং পারিপার্শ্বিক অবস্থার মাধ্যমে তা প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হয়। এবং ব্যবহারিক বিধানসমূহের (আহকাম) ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে—অসিয়ত, ওয়াকফ, তালাক এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো যদি লিখিত আকারে থাকে, তবে দলিল-প্রমাণ সেগুলোকে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এই কার্যকারিতা নির্ভর করে লেখকের হাতের লেখার নিসবত বা সম্বন্ধ সঠিক হওয়ার এবং সে সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জনের ওপর; কেবল তা লিখিত হওয়ার কারণে নয়। পরবর্তীতে যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে, তা এই নিয়ে নয় যে—পূর্বোক্ত আলামতগুলোর সাথে লিখিত বিষয় প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে না; বরং এটি করা হয়েছে বিষয়টিকে সুসংহত করা এবং দায়মুক্তির জন্য। তাই তাদের কেউ কেউ সাক্ষী এবং প্রমাণের (بينة) শর্তারোপ করেছেন। এটি মূলত মানুষের অবস্থার পরিবর্তন এবং কারো কারো জালিয়াতি ও মিথ্যাচারের দুঃসাহস দেখানোর কারণে। আর এটি মূল বিধানকে বাতিল করে না যে, যখন কোনো লেখা তার প্রকৃত মালিকের বলে সাব্যস্ত হওয়া নিশ্চিত হবে, তখন সে অনুযায়ী আমল করা সাব্যস্ত হবে (১)।

অধিকাংশ আলিমের নিকট পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে বর্ণনা (رواية بالمكاتبة) সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য হয়, যখন উভয় পক্ষের মধ্যে গ্রহণের শর্তাবলি (شروط القبول) পাওয়া যায় এবং পত্র প্রাপক প্রেরকের হাতের লেখা বা তার ইঙ্গিত চিনতে পারে অথবা প্রেরকের মোহর দ্বারা তা চিহ্নিত হয় এবং পত্র বাহকের বিশ্বস্ততা ও এ জাতীয় বিষয়গুলো নিশ্চিত হয় (২)।

--------------------------------------------

(১) اعلام الموقعين (আ'লাম আল-মুওয়াক্কিইন) ৪/২৬৫, الطرق الحكمية (আত-তুরুক আল-হুকমিয়্যাহ) /২৯৯।

(২) المحدث الفاصل (আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল) /৪৫২, الكفاية (আল-কিফায়াহ) /৩৩৬, المقدمة (আল-মুকাদ্দিমাহ) /১৫৬, اختصار علوم الحديث (ইখতিসার উলুম আল-হাদিস) /১০২, النكت للزركشي (আন-নুকাতি লিজ-যারকাশী) ৩/৫৪৪, فتح الباري (ফাতহুল বারী) ১/১৫৫, فتح المغيث (ফাতহুল মুগীস) ২/১৩৫।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ২৯)
ومثل هذا في الوجادة فقد مضى جماعة من أهل العلم على النقل بها وفي الصحيح جملة كرواية أبي سفيان طلحة بن نافع عن جابر، والشعبي عن جابر، وصحح العلماء رواية عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده ووهب بن منبه عن جابر، وبهز بن حكيم عن أبيه عن جده، والحكم بن عتيبة عن مقسم، والحسن عن سمرة رضي الله عنهم أجمعين وغيرهم.

فمن قبلها فبناء على ثقة الناقل وصحة السند إليه، ثم حصول العلم بوجود الكتاب الذي يرويه منه، وأنه ثابت عن كاتبه أو ممليه، وهذا حاصل في الأمثلة السابقة (1) .

فلم تكن الكتابة وحدها حجة بل بما يقترن بها، وهذا أمر مهم فهمه، مخرج للإنسان من بعض الشبه التي حاول منكرو السنة أن يثيروها.

--------------------------------------------

(1) انظر الكتب السابقة مع العواصم والقواصم لابن الوزير 1/231، توضيح الأفكار 2/243.
অনুরূপভাবে ‘ওয়াজাদাহ’ (الوجادة)-এর ক্ষেত্রেও উলামায়ে কেরামের একটি দল এর মাধ্যমে বর্ণনা হস্তান্তরের রীতি অনুসরণ করেছেন। সহিহ গ্রন্থসমূহে এর অনেক উদাহরণ বিদ্যমান, যেমন: জাবির (রা.) থেকে আবু সুফিয়ান তালহা ইবনে নাফি-এর বর্ণনা এবং জাবির (রা.) থেকে শা’বি-এর বর্ণনা। এছাড়া উলামায়ে কেরাম আমর ইবনে শুয়াইব-এর তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত বর্ণনা, ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ-এর জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনা, বাহজ ইবনে হাকিম-এর তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত বর্ণনা, হাকাম ইবনে উতাইবাহ-এর মিকসাম থেকে বর্ণিত বর্ণনা এবং হাসান-এর সামুরা (রা.) —তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন— থেকে বর্ণিত বর্ণনা এবং অন্যদের বর্ণনাকেও বিশুদ্ধ (صحيح) বলে গণ্য করেছেন।

আর যারা এগুলো গ্রহণ করেছেন, তারা বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) এবং তার পর্যন্ত সনদের বিশুদ্ধতা (صحة السند)-এর ওপর ভিত্তি করেই তা করেছেন। এরপর যে মূল গ্রন্থ থেকে তিনি বর্ণনা করছেন তার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান লাভ এবং তা লেখক বা শ্রুতলিপি প্রদানকারীর পক্ষ থেকে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে তা গ্রহণ করেছেন; আর পূর্বোক্ত উদাহরণগুলোতে এই শর্তসমূহ অর্জিত হয়েছে (১)।

সুতরাং কেবল লিখিত রূপটিই দলীল (حجة) ছিল না, বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয়াদিও যুক্ত ছিল। এটি অনুধাবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা মানুষকে সেই সকল সংশয় থেকে রক্ষা করে, যা সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা (منكرو السنة) উত্থাপন করার চেষ্টা করেছে।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল উজির রচিত আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ১/২৩১ এবং তাওদিহুল আফকার ২/২৪৩-সহ পূর্বোক্ত গ্রন্থসমূহ দেখুন।
(খণ্ড: ১) কিতাবাতুল হাদীসি বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الفصل الرابع: كتابة السنة على ضوء الأحاديث

‌‌المبحث الأول: الأحاديث الواردة في النهي عن الكتابة

وردت أحاديث عدة عن النبي صلى الله عليه وسلم تضمنت النهي عن كتابة حديثه، استدل بها من لم ير كتابة الحديث ونهى عنها، ولا شك أن تخريجها من مصادرها والحكم على أسانيدها بعد دراستها معين في بيان قيمة هذا القول وأثره. وسأعرض هذه الأحاديث في هذا المبحث بالتفصيل:

أولاً: عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال "لا تكتبوا عني ومن كتب عني غير القرآن فليمحه، وحدثوا عني ولا حرج، ومن كذب علي - قال همام: أحسبه قال: متعمداً ـ فليتبوأ مقعده من النار".

أخرجه مسلم في الزهد باب التثبت في الحديث وحكم كتابة العلم رقم (7510) عن هداب بن خالد واللفظ له.

والنسائي في فضائل القرآن من الكبرى باب كتابة القرآن 5/10 عن يزيد وعفان وفي لفظهما "عنى شيئاً غير القرآن ـ الحديث إلى قوله فليمحه" وأحمد 3/12 عن إسماعيل بن علية نحوه، وعن شعيب بن حرب ولفظه "لا تكتبوا عني شيئاً فمن كتب عني شيئاً فليمحه".

و3/21 عن يزيد، 39 عن أبي عبيد وأتم الحديث نحو مسلم، 55 عن عفان وتمامه "وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج، وحدثوا عني ولا تكذبوا عليّ" وتمامه مثل مسلم.

وأبو يعلى 2/97 عن أبي الوليد الطيالسي مثل لفظ عفان عند النسائي وصححه الحاكم من هذا الوجه على شرطهما 1/126، وأخرجه ابن حبان 1/265 عن كثير بن يحيى.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাদিসের আলোকে সুন্নাহ লিখন

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: লিখন নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যাতে তাঁর হাদিস লিখে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। যারা হাদিস লিখে রাখা সমীচীন মনে করেননি এবং তা থেকে নিষেধ করেছেন, তাঁরা এগুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। নিঃসন্দেহে এই হাদিসগুলো তাদের মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত (تخريج) করা এবং পর্যালোচনার পর সেগুলোর সনদ (أسانيد) সমূহের ওপর মান নির্ধারণ করা এই মতের গুরুত্ব ও প্রভাব স্পষ্ট করতে সহায়ক হবে। আমি এই অনুচ্ছেদে উক্ত হাদিসগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করছি:

প্রথমত: আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা আমার থেকে (কিছু) লিখো না। আর যে ব্যক্তি কুরআন ছাড়া আমার থেকে অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে। তোমরা আমার থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যারোপ করলো—হাম্মাম বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন: ইচ্ছাকৃতভাবে—সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।"

এটি ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবুয যুহদ-এর 'হাদিস বর্ণনায় সতর্কতা ও ইলম লিখনের বিধান' পরিচ্ছেদে (হাদিস নং ৭৫১০) হুদাব ইবনে খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো তাঁরই।

এবং নাসায়ি তাঁর সুনানে কুবরা-এর 'ফাযায়িলুল কুরআন' অংশের 'কুরআন লিখন' পরিচ্ছেদে (৫/১০) ইয়াজিদ ও আফফান থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের উভয়ের শব্দে রয়েছে: "আমার থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু—হাদিসটির 'সে যেন তা মুছে ফেলে' অংশ পর্যন্ত।" আহমদ (৩/১২) ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর শুআইব ইবনে হারব থেকে বর্ণিত শব্দ হলো: "তোমরা আমার থেকে কিছুই লিখো না, সুতরাং যে ব্যক্তি আমার থেকে কিছু লিখেছে সে যেন তা মুছে ফেলে।"

এবং (মুসনাদে আহমদে) ৩/২১ পৃষ্ঠায় ইয়াজিদ থেকে, ৩৯ পৃষ্ঠায় আবু উবায়দাহ থেকে এবং হাদিসটি মুসলিমের বর্ণনার ন্যায় পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন। ৫৫ পৃষ্ঠায় আফফান থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং এর পূর্ণ অংশ হলো: "তোমরা বনী ইসরাইল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর তোমরা আমার থেকে বর্ণনা করো এবং আমার প্রতি মিথ্যারোপ করো না" এবং এর পূর্ণাঙ্গ রূপ মুসলিমের বর্ণনার মতো।

আর আবু ইয়া’লা (২/৯৭) আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি থেকে নাসায়ির নিকট আফফানের শব্দের ন্যায় বর্ণনা করেছেন। হাকেম (১/১২৬) এই সূত্রে এটিকে বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح) বলেছেন। ইবনে হিব্বান (১/২৬৫) কাসীর ইবনে ইয়াহইয়া থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।