(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: -)
كتابة الحديث النبوي في عهد النبي صلى الله عليه وسلم بين النهي والإذن القسم: علوم الحديث
الكتاب: كتابة الحديث النبوي في عهد النبي صلى الله عليه وسلم بين النهي والإذن
المؤلف: حسناء بنت بكري نجار
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 55
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হাদিস লিখন: নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতির প্রেক্ষাপটে বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হাদিস লিখন: নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতির প্রেক্ষাপটে
লেখক: হাসনা বিনতে বকরি নাজ্জার
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله أما بعد:
فإن السنة النبوية هي المصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي، فهي تلي كتاب الله تعالى في المكانة والتشريع ولا غنى عنها لمعرفة دين الله ومقاصده في كتابه الكريم، فهي إما موافقة لما جاء فيه أو مبينة له، أو موجبة لما سكت عنه.
لذلك كانت غرضاً لأعداء الدين من عرب ومستشرقين، فتارة يدخلون عليها من باب المكانة ويحاولون الانتقاص منها، وتارة يدخلون عليها من باب التوثيق، يريدون أن يلحقوا بها الزيف والبطلان، لكن الله سبحانه وتعالى لهم بالمرصاد، فقد وعد -ووعده الحق- بحفظ هذا الدين وحفظ دعائمه وهما كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، فقد تكفل الله بحفظ القرآن، وهذا يستلزم تكفله بحفظ بيانه وهو السنة قال تعالى: {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} [القيامة:19] فحفظ الله السنة قولاً وعملاً وتقريراً في صدور الصحابة رضي الله عنهم وفي سطورهم حتى دونت وصنفت فيها المصنفات، إلا أن هناك ممن سبق ذكرهم من ادعى بأن السنة لم تكتب في حياة النبي صلى الله عليه وسلم، ومنهم من ادعى بأنها بقيت طوال قرن أو أكثر يتناقلها العلماء حفظاً دون أن يكتب منها شيء، وحملهم على ذلك اشتهار حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن الرسول صلى الله عليه وسلم نهى عن كتابة غير القرآن.
ভূমিকা:নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর:
নিশ্চয়ই নববী সুন্নাহ হলো ইসলামী বিধান প্রণয়নের (تشريع) উৎসসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় উৎস। মর্যাদা ও বিধান প্রণয়নের (تشريع) ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাবের পরেই এর অবস্থান। মহান আল্লাহর দ্বীন এবং তাঁর পবিত্র কিতাবের উদ্দেশ্যসমূহ বোঝার জন্য সুন্নাহ অপরিহার্য। এটি হয় কিতাবুল্লাহতে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুকূলে আসে, অথবা তার ব্যাখ্যামূলক (مبينة) হিসেবে আসে, কিংবা এমন কোনো বিধানকে আবশ্যক করে যা সম্পর্কে কিতাবুল্লাহ নীরব রয়েছে।
এ কারণেই এটি আরব ও প্রাচ্যবিদদের মধ্য হতে দ্বীনের শত্রুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। কখনও তারা এর মর্যাদার দিক দিয়ে প্রবেশ করে একে খাটো করার চেষ্টা করে, আবার কখনও প্রামাণ্যতা (توثيق) যাচাইয়ের দিক দিয়ে প্রবেশ করে এর মধ্যে মিথ্যা ও অসারতা আরোপ করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের ওপর নজর রাখছেন। তিনি এই দ্বীন এবং এর দুই স্তম্ভ—আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী (সা.)-এর সুন্নাহ—হিফাজত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য। আল্লাহ কুরআন হিফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন, আর এটি তার ব্যাখ্যা তথা সুন্নাহ হিফাজতের দায়িত্বকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই} [আল-কিয়ামাহ: ১৯]। সুতরাং আল্লাহ সুন্নাহকে কথা (قولاً), কাজ (عملاً) ও মৌনসম্মতি (تقريراً) হিসেবে সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর অন্তরে এবং তাঁদের লেখনীতে সংরক্ষিত করেছেন, এমনকি এ বিষয়ে কিতাবসমূহ সংকলিত ও শ্রেণীবিন্যস্ত হয়েছে। তবে পূর্বোল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা দাবি করেন যে, নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করা হয়নি। আবার কেউ কেউ দাবি করেন যে, সুন্নাহ এক শতাব্দী বা তারও বেশি সময় ধরে আলিমদের স্মৃতিতে সংরক্ষিত ছিল কিন্তু তার কিছুই লেখা হয়নি। তাদেরকে এই পথে ধাবিত করার মূল কারণ ছিল আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বর্ণিত সেই প্রসিদ্ধ হাদিসটি, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখতে নিষেধ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ২)
وبعض هؤلاء اعترف بكتابة الحديث في العصر النبوي، بعد اطلاعه على ما رواه الخطيب البغدادي في كتابه (تقييد العلم) من الأدلة على ذلك، ومنها: إذن النبي صلى الله عليه وسلم بالكتابة وأمره بها وكتابة الصحابة رضوان الله عليهم بين يديه، إلا أنه حاول أن يدس السم بالعسل، ففرض خلافا بين أهل الحديث وأهل الرأي حول كتابة الأحاديث أدى إلى وضع كل مذهب لأحاديث تناسب رأيه مما أسفر عن وجود نوعين من الأحاديث المتضاربة، منها الذي ينهى عن الكتابة، ومنها ما يأذن بها وبذلك نسب وضع الأحاديث لكلتا الطائفتين، وغيَّب الحكمة من نهي النبي صلى الله عليه وسلم عن الكتابة وإذنه بها، وعرَّض ما كتب من الحديث للتهمة بسبب نزاع هذين الفريقين
والحقيقة أنه ليس هناك صراع بين أهل الرأي وأهل الحديث على كتابة الحديث، فمن هؤلاء من كره الكتابة ومنهم من كتب، ومن الفريق الثاني أيضا مثل ذلك وقد تصدى العلماء للرد على هذه الافتراءات رداً مدعما بالحجة والدليل (1) .
أما الأحاديث التي رويت عن النبي صلى الله عليه وسلم في النهي عن كتابة الحديث والأحاديث التي وردت عنه في الإذن في ذلك فكان لي معها هذه الوقفات من خلال هذه المفصول بعد المقدمة المذكورة:
الفصل الأول: الكتابة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وفيه مبحثان:
المبحث الأول: الكتابة عند العرب قبل الإسلام.
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে কেউ কেউ নবিজির যুগে হাদিস সংরক্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, বিশেষ করে খতিব আল-বাগদাদি তাঁর তাকয়ীদুল ইলম গ্রন্থে এ সম্পর্কিত যেসব দলিল পেশ করেছেন তা দেখার পর। এর মধ্যে রয়েছে: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক হাদিস লেখার অনুমতি ও নির্দেশ প্রদান এবং তাঁর সামনে সাহাবীগণের (রা.) হাদিস লিপিবদ্ধ করার প্রমাণ। তবে তিনি 'মধুর সাথে বিষ মিশিয়ে' দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি হাদিস লেখা নিয়ে 'আহলুল হাদিস' ও 'আহলুর রায়'-এর মধ্যে এমন এক কৃত্রিম বিবাদ কল্পনা করেছেন, যার ফলে প্রতিটি মাযহাব নিজেদের মতের স্বপক্ষে হাদিস জাল (وضع) করার পথে পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে দুই ধরণের পরস্পরবিরোধী হাদিসের উদ্ভব ঘটে—যার একদল হাদিস লিখতে নিষেধ করে এবং অন্যদল অনুমতি দেয়। এভাবে তিনি উভয় দলের প্রতি হাদিস জাল (وضع) করার অপবাদ দিয়েছেন এবং হাদিস লেখা থেকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধ ও অনুমতির প্রকৃত হিকমতকে আড়াল করেছেন। ফলে এই দুই দলের বিবাদের কারণে লিখিত হাদিসগুলোকেও সন্দেহের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
প্রকৃত সত্য হলো, হাদিস সংকলনের বিষয়ে 'আহলুর রায়' ও 'আহলুল হাদিস'-এর মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। কারণ তাদের মধ্যে যেমন হাদিস লেখা অপছন্দকারী ব্যক্তি ছিলেন, তেমনি লেখকও ছিলেন। একইভাবে দ্বিতীয় দলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। উলামায়ে কেরাম তথ্য-প্রমাণ ও দলিলের ভিত্তিতে এই অপবাদগুলোর সমুচিত জবাব দিয়েছেন (১)।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস লিখতে নিষেধ করা সম্পর্কিত যে হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে অনুমতি সংক্রান্ত যে হাদিসগুলো এসেছে, উল্লিখিত ভূমিকা পরবর্তী এই পরিচ্ছেদগুলোতে আমি সেগুলোর ওপর আলোকপাত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে লিখন। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রাক-ইসলামি যুগে আরবদের লিখন পদ্ধতি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ৩)
والمبحث الثاني: الكتابة عند العرب بعد الإسلام.
الفصل الثاني: الأحاديث الواردة في النهي عن الكتابة والإذن فيها، وفيه مبحثان:
المبحث الأول: الأحاديث الواردة في النهي.
المبحث الثاني: الأحاديث الواردة في الإذن.
الفصل الثالث: التوفيق بين أحاديث النهي والإذن. وفيه مباحثان:
المبحث الأول: منهج التعليل.
المبحث الثاني: دفع التعارض.
ثم الخاتمة، وفهرس المصادر والمراجع، وفهرس الموضوعات.
هذا وأسأل الله سبحانه أن أكون وفقت في تجلية غموض هذا الموضوع الذي بحث فيه العلماء قديماً وحديثاً، فإن كان ذلك فبفضل الله، وإن كانت الأخرى فأسأل الله أن يعلمنا ما ينفعنا وأن ينفعنا بما علمنا، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলাম-পরবর্তী যুগে আরবদের মাঝে লিখনরীতি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: লিখনরীতি নিষিদ্ধকরণ এবং এর অনুমতির ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসসমূহ; আর এতে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অনুমতির বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ।
তৃতীয় অধ্যায়: নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতির হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয়সাধন। এতে রয়েছে দুটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কারণ দর্শানোর (تعليل) পদ্ধতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিরোধ (تعارض) নিরসন।
অতঃপর উপসংহার, তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জি এবং বিষয়সূচি।
পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন প্রাচীন ও আধুনিক আলেমগণ যে বিষয়ে গবেষণা করেছেন, সেই বিষয়ের অস্পষ্টতা দূরীকরণে আমি সফল হই। যদি তা সফল হয় তবে তা কেবল আল্লাহর অনুগ্রহে; আর যদি অন্যথা হয়, তবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের উপকারী জ্ঞান শিক্ষা দেন এবং আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তা থেকে আমাদের উপকৃত করেন। আমাদের সর্বশেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ৪)
الفصل الآول: الكتابة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم
المبحث الأول: الكتابة عند العرب قيل الإسلام.
…الفصل الأول: الكتابة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: الكتابة عند العرب قبل الإسلام.
المبحث الثاني: الكتابة عند العرب بعد الإسلام.
প্রথম অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে লিখনরীতিপ্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামপূর্ব আরবদের মাঝে লিখনরীতি.
…প্রথম অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে লিখনরীতি
এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামপূর্ব আরবদের মাঝে লিখনরীতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলাম-পরবর্তী আরবদের মাঝে লিখনরীতি।
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ৫)
المبحث الأول: الكتابة عند العرب قبل الإسلام
أثبتت الدراسات الحديثة للنقوش والبرديات الجاهلية أن العرب عرفوا الكتابة وكتبوا بالخط العربي الذي عرف فيما بعد بالخط الكوفي منذ مطلع القرن الرابع الميلادي أي قبل الإسلام بثلاثة قرون تقريباً، كما عرفوا النقط والإعجام (1) .
وقد انتقلت الكتابة إلى العرب عن طريق "الأنبار" وهم تعلموها من أهل "الحيرة" التي عرفت فيما بعد "بالكوفة"؛ فقد كانت مركزاً ثقافياً منذ زمن بعيد، واستخدمت فيها اللغة العربية في بلاط الحكام العرب.
وانتقلت الكتابة إلى الحجاز عن طريق "حرب بن أمية" وكان له صحبة مع "بشر بن عبد الملك" أخو "أكيدر" صاحب "دومة الجندل" بسبب تجارته إلى "العراق" فتعلم منه الكتابة، ثم سافرا معاً إلى مكة فتزوج "بشر" "الصهباء" أخت "أبي سفيان"، وتعلم منه الكتابة جماعة من أهل مكة (2) .
ويذكر أنه ممن كان يكتب في تلك الفترة:"عبد المطلب" جد النبي صلى الله عليه وسلم وكذلك جده الأكبر "قصي" (3) .
ومن الطبيعي أن تنتشر الكتابة في "مكة" بعد ذلك بوصفها مركزاً دينياً وتجارياً، ولابد أن يكون هذا الانتشار عن طريق التعليم، إذ وجدت أماكن
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাক-ইসলামী যুগে আরবদের লিখন পদ্ধতি
শিলালিপি এবং জাহেলী যুগের প্যাপিরাস সংক্রান্ত আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, আরবরা লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং তারা আরবি লিপিতে লিখত, যা পরবর্তীতে চতুর্থ খ্রিস্টীয় শতাব্দীর শুরু থেকে—অর্থাৎ ইসলামের প্রায় তিন শতাব্দী আগে থেকে—কুফী লিপি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পাশাপাশি তারা নুকতাহ (النقط) এবং ই'জাম (الإعجام) (১) সম্পর্কেও জানত।
আরবদের মাঝে লিখন পদ্ধতি "আনবার"-এর মাধ্যমে পৌঁছেছিল এবং তারা এটি "হীরা"-বাসীদের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছিল, যা পরবর্তীতে "কুফা" নামে পরিচিত হয়; এটি প্রাচীনকাল থেকেই একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল এবং সেখানে আরব শাসকদের রাজদরবারে আরবি ভাষা ব্যবহৃত হতো।
হিজাজে লিখন পদ্ধতি "হারব ইবনে উমাইয়া"-এর মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়। ইরাকে ব্যবসার সুবাদে "দুমাতুল জান্দাল"-এর অধিপতি "আকাইদির"-এর ভাই "বিশর ইবনে আব্দুল মালিক"-এর সাথে তাঁর সখ্যতা ছিল এবং তিনি তাঁর নিকট থেকে লিখন পদ্ধতি শেখেন। অতঃপর তাঁরা উভয়ে মক্কায় সফর করেন এবং "বিশর" "আবু সুফিয়ান"-এর বোন "সাহবা"-কে বিবাহ করেন। মক্কার একদল লোক তাঁর নিকট থেকে লিখন পদ্ধতি শিক্ষা লাভ করে (২)।
বর্ণিত আছে যে, সেই সময়ে যারা লিখতে পারতেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাদা "আব্দুল মুত্তালিব" এবং তাঁর প্রপিতামহ "কুসাই" (৩)।
স্বাভাবিকভাবেই এর পর একটি ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে "মক্কায়" লিখন পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়ে এবং এই বিস্তার অবশ্যই শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমেই হয়েছিল, যেহেতু সেখানে এমন সব স্থান পাওয়া গিয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ৬)
للتعليم في مكة (1) ، والمدينة (2) ، ودومة الجندل (3) ، وغيرها.
كما كانت تعقد في مكة مجالس للعلم تتدارس فيها الأخبار والأشعار والأنساب، وكان منها مجالس أبي بكر رضي الله عنه، قال ابن عباس رضي الله عنهما: "كانت قريش تألف منزل أبي بكر لخصلتين: العلم والطعام، فلما أسلم أسلم عامة من كان مُجالسه" (4) .
وقد أدرك العرب قيمة الكتابة والكاتبين فأطلقوا صفة الكمال على من أتقن أمورا ثلاثة، أحدها: الكتابة. قال ابن سعد: "كان الكامل عندهم في الجاهلية وأول الإسلام الذي يكتب بالعربية ويحسن العوم والرمي" (5) .
قال في " مختار الصحاح: "والكاتب عند العرب العالم" (6) .
أما الموضوعات التي أثر عن عرب الجاهلية كتابتها: فهي تشمل كل شؤون حياتهم الخاصة والعامة، فكانوا يكتبون أنسابهم (7) ، وأشعارهم (8) ، ومآثرهم، وحكم بلغائهم (9) ، وأيام حروبهم (10) ، وعهودهم ومواثيقهم،
--------------------------------------------
মক্কায় (১), মদিনায় (২), দুমাতুল জান্দালে (৩) এবং অন্যান্য স্থানে শিক্ষার জন্য।
তেমনিভাবে মক্কায় ইলমের মজলিসসমূহ অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে সংবাদ, কবিতা এবং বংশপরম্পরা (الأنساب) নিয়ে পঠন-পাঠন চলত। আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মজলিসও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "কুরাইশরা দুটি বৈশিষ্ট্যের কারণে আবু বকরের গৃহের প্রতি অনুরাগী ছিল: ইলম এবং আপ্যায়ন। অতঃপর তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন তাঁর মজলিসে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষেরাও ইসলাম গ্রহণ করল" (৪)।
আরবরা লিখন পদ্ধতি এবং লেখকদের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিল, তাই যারা তিনটি বিষয়ে পারদর্শী ছিল তাদের তারা 'কামিল' (الكامل) গুণের অধিকারী হিসেবে অভিহিত করত, যার অন্যতম ছিল লিখন পদ্ধতি। ইবনে সাদ বলেন: "জাহেলিয়া যুগ এবং ইসলামের শুরুর দিকে তাদের নিকট 'কামিল' (الكامل) ছিল সেই ব্যক্তি যে আরবি লিখতে জানত এবং সাঁতার ও তীরন্দাজিতে দক্ষ ছিল" (৫)।
"মুখতারুস সিহাহ" গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আরবদের নিকট লেখক মানেই ছিল আলিম (العالم)" (৬)।
জাহেলী যুগের আরবদের থেকে যে বিষয়গুলো লিখিত আকারে বর্ণিত হয়েছে, তা তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের সকল ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। তারা তাদের বংশলতিকা (الأنساب) (৭), তাদের কবিতা (الأشعار) (৮), তাদের কীর্তিগাঁথা, তাদের বাগ্মীদের প্রজ্ঞা বা হিকমত (حكم) (৯), তাদের যুদ্ধের ইতিহাস বা দিনলিপি (أيام حروبهم) (১০) এবং তাদের চুক্তি ও অঙ্গীকারনামাসমূহ লিখে রাখত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ৭)
وأحلافهم (1) ، ومراسلاتهم الشخصية (2) ، وديونهم فقد جاء في كتاب رسول صلى الله عليه وسلم إلى ثقيف: "وما كان لثقيف من دَين في صحفهم اليوم الذي أسلموا عليه في الناس فإنه لهم" (3) .
على أن هذه المعرفة للقراءة والكتابة لم تكن عامة عند الجميع، فهي تختلف باختلاف البيئات والمواطن تطوراً وازدهاراً، فالقبيلة الواحدة قد يكون قسم منها ضارباً في جوف الصحراء، وقسم تحضَّر واستقرَّ، وسكن المدن والقرى، وقسم بين هذين القسمين يبتعد في جوف الصحراء، ولكنه لا ينزل قلب المدن والقرى، وإنما يستوطن باديتها، وظاهرها، وعلى ذلك كانت قريش، والأوس، والخزرج وهذيل، وأكثر قبائل العرب (4) .
وعن ذلك يقول "ابن فارس" -بعد أن عرض لذكر بعض الأعراب ممن كان لا يحسن الكتابة- "
… فأما من حكي عنه من الأعراب الذين لم يعرفوا الهمز والجر والكاف والدال فإنا لم نزعم أن العرب كلها مدرا ووبرا قد عرفوا الكتابة كلها والحروف أجمعها، وما العرب في قديم الزمان إلا كنحن اليوم فما كل يعرف الكتابة والخط والقراءة
… " (5) .
كما أن هذا لا ينافي ما وصفهم الله به في كتابه الكريم من أنهم أمة أمية وذلك في ثلاث آيات هي: قوله تعالى {وَقُلْ لِلَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْأُمِّيِّينَ أَأَسْلَمْتُمْ} [آل عمران:20] ، وقوله تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَيْسَ
--------------------------------------------
এবং তাদের মৈত্রীচুক্তি (১), তাদের ব্যক্তিগত চিঠিপত্র (২), এবং তাদের ঋণসমূহ। সাকীফ গোত্রের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত পত্রে উল্লেখ রয়েছে: "সাকীফ গোত্রের লোকদের যে ঋণ তাদের নথিপত্রে রয়েছে, যেদিন তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে সেদিনের হিসেবে, তা তাদের জন্যই প্রাপ্য থাকবে।" (৩) .
তবে পড়া ও লেখার এই জ্ঞান সকলের মধ্যে সাধারণ ছিল না; বরং পরিবেশ ও জনপদের ভিন্নতা অনুযায়ী এর উন্নয়ন ও প্রসারে পার্থক্য ছিল। একই গোত্রের একটি অংশ হয়তো মরুভূমির গভীরে যাযাবর জীবন অতিবাহিত করত, আবার অন্য অংশটি সভ্য ও স্থায়ী হয়ে শহর ও গ্রামে বসবাস করত। আবার এমন এক অংশও ছিল যারা এই দুইয়ের মাঝামাঝি—মরুভূমির গভীরে থাকলেও তারা শহর বা গ্রামের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ না করে বরং এর প্রান্তসীমায় বা শহরতলীতে বসতি স্থাপন করত। কুরাইশ, আওস, খাজরাজ, হুযাইল এবং অধিকাংশ আরব গোত্রের অবস্থা এমনই ছিল (৪) .
এই প্রসঙ্গে "ইবনে ফারিস"—যাদের লিখতে পারতেন না এমন কিছু মরুবাসীর বর্ণনা দেওয়ার পর—বলেন: "...আর সেই সকল মরুবাসীদের সম্পর্কে যাদের বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে যে তারা হামযাহ (همزة), কাসরা (جر), কাফ ও দাল চিনত না; আমরা কখনোই দাবি করি না যে আরবের সকল অধিবাসী—চাই তারা স্থায়ী গৃহের বাসিন্দা (مدرا) হোক বা পশম-নির্মিত তাঁবুর বাসিন্দা (وبرا) হোক—লিখন পদ্ধতির সবকিছু এবং বর্ণমালার সকল অক্ষর জানত। প্রাচীনকালের আরবরা ঠিক আমাদের বর্তমান সময়ের মতোই ছিল, যেখানে সকলেই লিখনশৈলী, হস্তলিপি ও পাঠপদ্ধতি সম্পর্কে পারদর্শী নয়..." (৫) .
তদুপরি, এটি আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে তাদেরকে যে নিরক্ষর জাতি (أمة أمية) হিসেবে বর্ণনা করেছেন তার পরিপন্থী নয়। এটি তিনটি আয়াতে এসেছে, যথা: মহান আল্লাহর বাণী: {আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদেরকে এবং নিরক্ষরদের (الأميين) বলো, তোমরা কি ইসলাম গ্রহণ করেছ?} [আলে ইমরান: ২০], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এটি একারণে যে তারা বলেছিল (আমাদের জন্য) কোনো পথ নেই...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ৮)
عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيلٌ} [آل عمران:75] ، وقوله تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولاً مِنْهُمْ} [الجمعة:2] . لأن الأمية بهذا المعنى كانت غالبة على كثرتهم والكتابة فيهم قليلة نادرة (1) .
وقد ادَّعى البعض أن وصف العرب بالأمية لا ينافي معرفتهم بالقراءة والكتابة، وأن المراد بالأمية هي الأمية الدينية أي الجهل بالشريعة؛ لأنهم لم يكونوا أهل كتاب، وما كان محمد صلى الله عليه وسلم أمياً إلا لأنه نبي هؤلاء الأميين لتعليمه إياهم شريعة الله (2) .
وهو حمل لظاهر معنى النص القرآني على غير المراد منه من غير قرينة، وذلك لأنه يقتضي التفريق بين تفسير الأميين -وهم العرب- بأنهم جهلة الدين والشريعة، وبين تفسير ما وصف به الرسول صلى الله عليه وسلم من الأمية في قوله تعالى: {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ} [الأعراف:157] بأنه الذي لا يعرف القراءة والكتابة، وهو الأصل المراد من ظاهر النص والذي فهمه جمهور المفسرين، وبيَّنه قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنا أمة أمية لا نكتب ولا نحسب" (3) .
--------------------------------------------
{নিরক্ষরদের (الأميين) ব্যাপারে আমাদের ওপর কোনো দায় নেই} [আলে ইমরান: ৭৫], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি নিরক্ষরদের (الأميين) মধ্য থেকে তাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন} [আল-জুমুআ: ২]। কারণ এই অর্থে নিরক্ষরতা (الأمية) তাদের অধিকাংশের ওপর প্রবল ছিল এবং তাদের মধ্যে লিখনশৈলী ছিল নগণ্য ও বিরল (১)।
কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, আরবদের নিরক্ষরতা (الأمية) গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করা তাদের পড়া ও লেখার জ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। বরং তাদের মতে নিরক্ষরতা (الأمية) বলতে ধর্মীয় নিরক্ষরতা অর্থাৎ শরীয়াহ (شريعة) সম্পর্কে অজ্ঞতা বোঝানো হয়েছে; কারণ তারা আহলে কিতাব (أهل كتاب) ছিল না। আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিরক্ষর (أمياً) ছিলেন কেবল একারণেই যে, তিনি এই নিরক্ষরদের (الأميين) নবী ছিলেন যাতে তাদের আল্লাহর শরীয়াহ (شريعة) শিক্ষা দিতে পারেন (২)।
এটি কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ইংগিত (قرينة) ছাড়াই কুরআনের মূল পাঠের প্রকাশ্য অর্থকে (ظاهر معنى النص) উদ্দেশ্য বহির্ভূত অর্থের দিকে ধাবিত করা। কারণ এটি একদিকে নিরক্ষরদের (الأميين) —যারা মূলত আরব— এমনভাবে ব্যাখ্যা করার দাবি রাখে যে তারা দ্বীন ও শরীয়াহ (الشريعة) সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল, এবং অন্যদিকে মহান আল্লাহর বাণী: {যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের, যিনি নিরক্ষর (الأمي) নবী} [আল-আরাফ: ১৫৭]-এ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যে নিরক্ষরতা (الأمية) গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে, তাকে এমন ব্যক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে যিনি পড়া ও লেখা জানেন না। অথচ এটিই হলো মূল পাঠের প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر النص) থেকে উদ্দিষ্ট মূল বিষয় যা অধিকাংশ মুফাসসির (جمهور المفسرين) অনুধাবন করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী দ্বারাও তা স্পষ্ট হয়: "আমরা এক নিরক্ষর জাতি (أمة أمية), আমরা লিখি না এবং হিসাবও করি না" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الثاني: الكتابة عند العرب بعد الإسلامرأينا في المبحث السابق كيف أن الكتابة كانت معروفة عند العرب قبل الإسلام، لذلك نعجب لما ذكره بعض المؤرخين (1) من أسماء سبعة عشر رجلا من قريش هم فقط الذين يعرفون الكتابة عند دخول الإسلام. وقد استبعد بعض الباحثين أن تكون هذه الإحصائية دقيقة لما تتمتع به " مكة " من موقع جغرافي وتجاري وديني وخاصة أنه لم يذكر فيها بعض من اشتهر بالكتابة والعلم أمثال " أبي بكر الصديق " و" سفيان بن حرب " وغيرهم، إضافة إلى أنه ذكرت أسماء بعض النساء المسلمات الكاتبات، منهن أم المؤمنين "حفصة" رضي الله عنها و" الشفاء بنت عبد الله القرشية " رضي الله عنها وغيرهن (2) .
وهذا يدل على أن ما ذكره بعض المؤرخين يفيد في قلة عدد الكاتبين حين ذاك دون حصرهم جميعاً.
وقد أحصى أحد الباحثين المعاصرين عدد المتعلمين في مكة عند ظهور الإسلام وجزم بأنه نحو سبعين متعلماً (3) .
أما في المدينة فلم يتجاوز عدد الذين يعرفون الكتابة على ما ذكره بعض المؤرخين أحد عشر رجلا، وما قيل في مكة يقال في المدينة.
على أن هذه الحالة وإن كانت دقيقة إلا أنها لم تدم طويلا بعد انتشار الإسلام وما نزل من القرآن في الأمر بالقراءة في أول سورة منه، والأمر
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামের পর আরবদের মাঝে লিখনরীতিআমরা পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে দেখেছি যে, ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবদের মাঝে লিখনরীতি প্রচলিত ছিল। তাই কিছু ঐতিহাসিক (১) কুরাইশ বংশের মাত্র সতেরো জন ব্যক্তির যে নাম উল্লেখ করেছেন যে তাঁরাই কেবল ইসলাম আগমনের সময় লিখতে জানতেন—তা আমাদের বিস্মিত করে। কোনো কোনো গবেষক এই পরিসংখ্যানটি নির্ভুল হওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। কারণ ভৌগোলিক, বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় অবস্থানের দিক থেকে ‘মক্কা’র যে গুরুত্ব ছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে এটি অসম্ভব বলে মনে হয়। বিশেষ করে এই তালিকায় লিখন ও ইলম বা জ্ঞানের জন্য সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি, যেমন: ‘আবু বকর আল-সিদ্দিক’ ও ‘সুফিয়ান বিন হারব’ এবং অন্যান্য। তদুপরি, এখানে কিছু মুসলিম নারী লেখকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন উম্মুল মুমিনিন ‘হাফসা’ রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং ‘শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-কুরাশিয়া’ রাদিয়াল্লাহু আনহা প্রমুখ (২)।
এটি নির্দেশ করে যে, কিছু ঐতিহাসিকের দেওয়া তথ্য তৎকালীন লেখকদের স্বল্প সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে মাত্র, তাঁদের সকলকে সীমাবদ্ধ করার জন্য নয়।
একজন সমসাময়িক গবেষক ইসলামের আবির্ভাবকালে মক্কায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের সংখ্যা গণনা করেছেন এবং দৃঢ়তার সাথে মত দিয়েছেন যে, এই সংখ্যা ছিল প্রায় সত্তর জন (৩)।
আর মদিনার ক্ষেত্রে কিছু ঐতিহাসিকের বর্ণনা অনুযায়ী লিখন জানা ব্যক্তির সংখ্যা এগারো জনের বেশি ছিল না। মক্কার ব্যাপারে যা বলা হয়েছে, মদিনার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই প্রযোজ্য।
তবে এই পরিস্থিতি—যদিও তা সঠিক ছিল—ইসলামের প্রসার এবং কোরআনের প্রথম সুরায় পাঠ করার যে নির্দেশ অবতীর্ণ হয়েছিল, তারপর তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ১০)
بكتابة ما يخص المسلم من أموال ومعاملات، إلى غير ذلك من الآيات التي جعلت الكتاب حجة، والآيات التي بينت فضل العلم والعلماء، وفي حث الرسول صلى الله عليه وسلم على طلب العلم وما قام به من أعمال من شأنها أن تأخذ بأيدي الناس نحو حب العلم والمعرفة، من ذلك أمره صلى الله عليه وسلم بتعليم الكتابة للرجال (1) والنساء (2) ، وإرسال المعلمين في كل جهة لنشر العلم حتى كان التعليم في البيوت وفي المساجد، ومن هذه الأماكن "دار الأرقم" في "مكة" و "دار القراء" في "المدينة" (3) وغيرهما.
كما شجع بعض الصحابة على تعلم لغات أخرى فطلب من زيد بن ثابت أن يتعلم العبرية والسريانية فتعلمهما في خمسة عشر يوماً، فكان يكتب لرسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كتب ويقرأ له إذا كُتب إليه (4) .
وقد أثمرت سياسة الرسول صلى الله عليه وسلم التعليمية أينع الثمار، فأضحى بين يديه صلى الله عليه وسلم خمسون كاتباً يكتبون الوحي، والصدقات والمغانم وسائر العقود والمعاملات والمداينات والمعاهدات وكل ما يَهُمُّ الدولة الإسلامية في شؤونها السياسية والاجتماعية، اختصَّ كل كاتب منهم بكتابة نوع من هذه الأنواع (5) .
--------------------------------------------
মুসলমানদের ধন-সম্পদ ও লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়সমূহ লিখে রাখার নির্দেশ সম্বলিত আয়াতসমূহ থেকে শুরু করে অন্যান্য আয়াত পর্যন্ত, যা লিখনকে দলিল (حجة) হিসেবে সাব্যস্ত করেছে; এবং ঐ সকল আয়াত যা জ্ঞান ও জ্ঞানীদের মর্যাদা বর্ণনা করেছে। এছাড়া জ্ঞান অর্জনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উৎসাহ প্রদান এবং মানুষের মনে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টিতে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপসমূহ—যার মধ্যে পুরুষ (১) ও নারী (২)-দের লিখন পদ্ধতি শেখানোর নির্দেশ এবং জ্ঞান প্রচারের জন্য প্রতিটি অঞ্চলে শিক্ষক প্রেরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল, এমনকি ঘর ও মসজিদেও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এসব স্থানের মধ্যে মক্কার "দারুল আরকাম" এবং মদিনার "দারুল কুররা" (৩) ও অন্যান্য স্থান উল্লেখযোগ্য।
তেমনিভাবে তিনি কোনো কোনো সাহাবীকে অন্য ভাষা শিখতেও উৎসাহিত করতেন। তিনি যায়িদ বিন সাবিত (রা.)-কে হিব্রু ও সুরিয়ানি ভাষা শেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তিনি মাত্র পনের দিনে তা শিখে নিয়েছিলেন। ফলে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে পত্র লিখতেন এবং তাঁর কাছে কোনো পত্র আসলে তা পাঠ করে শুনাতেন (৪)।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই শিক্ষা নীতি অত্যন্ত চমৎকার ফল বয়ে এনেছিল। তাঁর সামনে তখন পঞ্চাশজন লেখক উপস্থিত থাকতেন যারা ওহি, সদকা, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ এবং যাবতীয় চুক্তি, লেনদেন, ঋণ ও সন্ধিপত্রসহ ইসলামী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু লিখে রাখতেন। তাঁদের মধ্য থেকে প্রত্যেক লেখক নির্দিষ্ট কোনো একটি বিষয় লেখার কাজে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ১১)
وانتشرت الكتابة حتى اشتهرت بإتقانها بعض القبائل كقبيلة ثقيف في الطائف، مما دعا عمر بن الخطاب رضي الله عنه أن يجعل كتبة المصحف من قريش وثقيف، ودعا عثمان إلى أن يقول: " اجعلوا المملي من هذيل والكاتب من ثقيف (1) .
وهذا يشير إلى كثرة عدد الكاتبين، الأمر الذي جعل الخليفة يتخير منهم من يراه صالحاً لهذا الأمر الجليل.
وبذلك تبين لنا أن الصحابة عرفوا الكتابة وأتقنوها، فهل قاموا بكتابة حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم كما كتبوا القرآن؟
لا شك أن هذا يحتاج إلى أمر وتكليف من رسول الله صلى الله عليه وسلم كما هو الحال في أمره بكتابة القرآن.
فهل أمرهم بذلك أو نهاهم عنه؟
وهل كتب الصحابة شيئاً من الحديث في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم بدون أن يأمرهم بذلك؟
هذا ما ستجيب عنه الفصول التالية إن شاء الله، مع الأخذ بعين الاعتبار أن ما سنتحدث عنه هو كتابة الحديث لا تدوينه أو تصنيفه، وأرى أن أعَرِّف بهذه المصطلحات كما عرفها علماء اللغة حتى يتضح المراد للقارىء الكريم.
فالكتابة هي: قال في اللسان: "كَتَبَ الشيء يكتبه كَتْباً وكِتاباً وكِتابة، وكَتَبه: خَطَّه، فكتابة الشيء: خَطُّه" (2) .
--------------------------------------------
লিখন পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং এমনকি তায়েফের সাকিফ গোত্রের মতো কিছু গোত্র এতে পারদর্শিতার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। একারণেই উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) কুরআন লিপিবদ্ধকারীদের কুরাইশ ও সাকিফ গোত্র থেকে নির্ধারণ করেছিলেন এবং উসমান (রা.)-কে বলতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন: "তোমরা শ্রুতি লেখক হুযাইল থেকে এবং লেখক সাকিফ থেকে নির্ধারণ করো (১)।"
এটি লেখকদের সংখ্যার আধিক্যের প্রতি নির্দেশ করে, যা খলিফাকে এই মহান কাজের জন্য তাঁদের মধ্য থেকে উপযুক্ত ব্যক্তিদের বাছাই করার সুযোগ করে দিয়েছিল।
এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, সাহাবীগণ লিখন পদ্ধতির সাথে পরিচিত ছিলেন এবং এতে পারদর্শী ছিলেন। তবে তাঁরা কি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস সেভাবেই লিখেছিলেন যেভাবে কুরআন লিখেছিলেন?
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর জন্য আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে আদেশ ও দায়িত্ব প্রদানের প্রয়োজন ছিল, যেমনটি কুরআন লিপিবদ্ধ করার আদেশের ক্ষেত্রে হয়েছিল।
তিনি কি তাঁদের এ ব্যাপারে আদেশ করেছিলেন নাকি নিষেধ করেছিলেন?
আর সাহাবীগণ কি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তাঁর পক্ষ থেকে আদেশ ছাড়াই হাদিসের কোনো অংশ লিখেছিলেন?
পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে ইনশাআল্লাহ এরই উত্তর প্রদান করা হবে। তবে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে যে, আমরা যা নিয়ে আলোচনা করব তা হলো হাদিস লিখন (كتابة), তার সংকলন (تدوين) বা শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف) নয়। আমি মনে করি, সম্মানিত পাঠকের কাছে উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার লক্ষ্যে ভাষাবিদগণ যেভাবে এই পরিভাষাগুলোর সংজ্ঞা দিয়েছেন, সেভাবে এগুলোর পরিচয় তুলে ধরা প্রয়োজন।
লিখন (كتابة) হলো: লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: "সে বিষয়টি লিখেছে, লিখছে... কোনো কিছু লেখা মানে তা রেখায়িত বা অঙ্কিত করা" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ১২)
والتدوين هو: قال في اللسان: "والديوان مجتمع الصحف" (1) ، وقال في تاج العروس (2) : "وقد دوَّنه تدويناً جمعه". وعليه فالتدوين هو: جمع الصحف المفرقة في ديوان ليحفظها.
أما التصنيف: فقال في اللسان (3) : "والتصنيف تمييز الأشياء بعضها من بعض، وتصنيف الشيء جعله أصنافاً".
فالتدوين هو جمع المتفرق المشتت في ديوان أو في كتاب ليحفظ من الضياع، وهو أوسع من التقييد بمعناه المحدود، والتصنيف أدق من التدوين، فهو ترتيب ما دوِّن في فصول محددة وأبواب مميزة. والمقصود في بحثنا هو الكتابة فقط.
--------------------------------------------
তাদউইন বা সংকলন (تدوين) হলো: লিসান গ্রন্থে বলা হয়েছে: "দিওয়ান হলো পত্র-পৃষ্ঠার সমষ্টি" (১), এবং তাজুল আরুস গ্রন্থে বলা হয়েছে (২): "তিনি এটি সংকলন (تدويناً) করেছেন অর্থাৎ এটি একত্রিত করেছেন"। সেই হিসেবে সংকলন (تدوين) হলো: ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিচ্ছিন্ন পত্র-পৃষ্ঠাগুলোকে একটি সংকলনে (ديوان) একত্রিত করা যাতে সেগুলো সংরক্ষিত থাকে।
আর শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف) সম্পর্কে লিসান গ্রন্থে বলা হয়েছে (৩): "শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف) হলো বস্তুসমূহকে একে অপর থেকে পৃথক করা এবং কোনো বিষয়কে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা"।
সুতরাং সংকলন (تدوين) হলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোকে একটি সংকলনে (ديوان) বা কিতাবে জমা করা যাতে তা হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়, যা এর সীমিত অর্থে লিপিবদ্ধকরণ (تقييد)-এর চেয়ে অধিক ব্যাপক। আর শ্রেণিবিন্যাস (تصنيف) হলো সংকলন (تدوين) অপেক্ষা সূক্ষ্মতর; কারণ এটি হলো সংকলিত বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট পরিচ্ছেদ (فصول) ও স্বতন্ত্র অধ্যায়ে (أبواب) বিন্যস্ত করা। আমাদের এই গবেষণায় কেবল লিখন বা লিপিবদ্ধ করাকেই উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الثاني: الأحاديث الواردة في النهي عن الكتابة والإذن فيها
المبحث الأول: الأحاديث الواردة في النهي…الفصل الثاني: الأحاديث الواردة في النهي عن الكتابة، والإذن فيها
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: الأحاديث الواردة في النهي.
المبحث الثاني: الأحاديث الواردة في الإذن.
দ্বিতীয় অধ্যায়: হাদিস লিখে রাখার নিষেধাজ্ঞা এবং এর অনুমতি প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসসমূহ
প্রথম পরিচ্ছেদ: নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসসমূহ…দ্বিতীয় অধ্যায়: হাদিস লিখে রাখার নিষেধাজ্ঞা এবং এর অনুমতি প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসসমূহ
এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অনুমতি প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসসমূহ।
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الأول: الأحاديث الواردة في النهي عن كتابة الحديث النبوي
أولاً: الأحاديث المرفوعة
وهي مروية عن ثلاثة من الصحابة رضي الله عنهم هم: أبو سعيد الخدري، وأبو هريرة، وزيد بن ثابت أخرج رواياتهم الخطيب البغدادي في "تقييد العلم" سأذكرها بإيجاز ومن أخرجها من أصحاب الكتب المشهورة وأتبعها بما روي عن الصحابة من الأحاديث الموقوفة في هذا الموضوع.
أولاً: ما رواه أبو سعيد الخدري رضي الله عنه في النهي:
أخرج الخطيب البغدادي في "تقييد العلم" بإسناده إلى عفان قال: ثنا همام أخبرنا زيد بن أسلم، عن عطاء بن يسار، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لا تكتبوا عني شيئاً سوى القرآن -قال (الصاغاني) غير القرآن- ومن كتب عني غير القرآن فليمحه، وقال: حدثوا عني ولا تكذبوا علي، ومن كذب علي - قال همام: أحسبه قال: متعمداً - فليتبوأ مقعده من النار " (1) .
وفي رواية من طريق همام أيضاً زاد: "وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج" (2) .
قال الخطيب بعد رواية هذا الحديث: "تفرد همام برواية هذا الحديث عن زيد بن أسلم هكذا مرفوعا. وقد روي عن سفيان الثوري أيضاً عن زيد، ويقال إن المحفوظ رواية هذا الحديث عن أبي سعيد الخدري من قوله غير
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবীজির হাদিস লিখে রাখার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত হাদিসসমূহ
প্রথমত: মারফু (مرفوع) হাদিসসমূহ
এই হাদিসগুলো তিনজন সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: আবু সাঈদ খুদরী, আবু হুরায়রা এবং যায়েদ ইবনে সাবিত। খতিব আল-বাগদাদী তাঁর "তাকয়ীদুল ইলম" গ্রন্থে তাঁদের বর্ণনাগুলো সংকলন করেছেন। আমি সেগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করব এবং প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের লেখকদের মধ্যে যারা সেগুলো সংকলন করেছেন তাঁদের নাম উল্লেখ করব। এরপর এই বিষয়ে সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত মওকুফ (موقوف) হাদিসগুলো অনুসরণ করব।
প্রথমত: নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে:
খতিব আল-বাগদাদী "তাকয়ীদুল ইলম" গ্রন্থে তাঁর সনদ (إسناد) সহকারে আফফান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জায়েদ ইবনে আসলাম, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখো না— (সাগানী) বলেন: কুরআন ছাড়া অন্য কিছু— আর যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে। আর তোমরা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো মিথ্যাচার করো না। আর যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে —হাম্মাম বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: ইচ্ছাকৃতভাবে— সে যেন জাহান্নামে তার আবাসন নির্ধারণ করে নেয়।" (১)
হাম্মামের সূত্রে বর্ণিত অপর একটি বর্ণনায় অতিরিক্ত এসেছে: "আর বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো সংকীর্ণতা নেই।" (২)
এই হাদিসটি বর্ণনার পর খতিব বলেন: "হাম্মাম এককভাবে (تفرد) যায়েদ ইবনে আসলামের সূত্রে এই হাদিসটি এভাবে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান সাওরী থেকেও যায়েদের সূত্রে এটি বর্ণিত হয়েছে। তবে বলা হয় যে, সংরক্ষিত (محفوظ) মতানুসারে এই হাদিসটি আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর নিজস্ব বক্তব্য তথা মওকুফ (موقوف) হিসেবে বর্ণিত..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم".
قلت: نسب ابن حجر هذا القول إلى البخاري فقال: "ومنهم من أعلَّ حديث أبي سعيد وقال الصواب وقفه على أبي سعيد، قاله البخاري وغيره" (1) .
- وأخرج بسنده من طريق ابن عيينة عن ابن زيد بن أسلم عن أبيه عن عطاء عن أبي سعيد قال: "استأذنت النبي صلى الله عليه وسلم أن أكتب الحديث، فأبى أن يأذن لي".
وفي رواية: " استأذنا النبي صلى الله عليه وسلم في الكتاب، فأبى أن يأذن لنا " (2) .
ثانياً: ما رواه أبو هريرة رضي الله عنه في النهي:
روى الخطيب بسنده من طريق عبد الرحمن بن زيد بن أسلم عن أبيه عن عطاء بن يسار عن أبي هريرة قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نكتب الأحاديث فقال: "ما هذا الذي تكتبون؟ " قلنا: أحاديث سمعناها منك، قال: " أكتاباً غير الله تريدون؟ ما أضلَّ الأممَ من قبلكم إلا ما اكتتبوا من الكتب مع كتاب الله ".
قال أبو هريرة: فقلت أنتحدث عنك يا رسول الله؟ قال: "نعم تحدَّثوا عني ولا حرج، فمن كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار".
وفي رواية قلنا: فنتحدث عن بني إسرائيل؟ قال: "حدثوا ولا حرج،
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত।"
আমি (লেখক) বলছি: ইবনে হাজার এই অভিমতটিকে বুখারীর দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং বলেছেন: "তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবু সাঈদ বর্ণিত হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত (أعلَّ) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন যে, সঠিক হলো এটি আবু সাঈদের ওপর মাওকুফ (وقفه) হওয়া; ইমাম বুখারী ও অন্যান্যরা এমনটিই বলেছেন" (১) ।
- তিনি স্বীয় সনদে (بسند) ইবনে উইয়ায়নার সূত্রে, ইবনে যায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু সাঈদ বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হাদিস লিপিবদ্ধ করার অনুমতি প্রার্থনা করলাম, কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেন।"
অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিতাব (লিপিবদ্ধকরণ) বিষয়ে অনুমতি চাইলাম, কিন্তু তিনি আমাদের অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেন" (২) ।
দ্বিতীয়ত: নিষেধের ব্যাপারে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা বর্ণিত হয়েছে:
আল-খতিব স্বীয় সনদে (بسند) আবদুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলামের সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াসার থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এমন অবস্থায় আসলেন যখন আমরা হাদিসসমূহ লিখছিলাম। তিনি বললেন: "তোমরা এগুলো কী লিখছো?" আমরা বললাম: এগুলো আপনার কাছ থেকে শোনা হাদিসসমূহ। তিনি বললেন: "তোমরা কি আল্লাহর কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাব চাচ্ছো? তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতসমূহ কেবল আল্লাহর কিতাবের সাথে অন্যান্য কিতাব লিখে রাখার কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছে।"
আবু হুরায়রা বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার থেকে বর্ণনা করব? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আমার থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। তবে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন আগুনের মধ্যে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়।"
অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে যে আমরা বললাম: আমরা কি বনী ইসরাঈল সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারি? তিনি বললেন: "বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فإنكم لم تحدثوا عنهم بشيء إلا وقد كان فيهم أعجب منه ". قال أبو هريرة: "فجمعناها في صعيد واحد فألقيناها في النار".
وفي رواية: " أكتاب مع كتاب الله؟ أمحضوا كتاب الله وأخلصوه" (1) .
وفي رواية: بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم أن ناساً قد كتبوا حديثه، فصعد المنبر، فحَمِدَ الله وأثنى عليه ثم قال: "ما هذه الكتب التي بلغني أنكم قد كتبتم، إنما أنا بشر من كان عنده منها شيء فليأت به"، فجمعناها فأحرقت. فقلنا: يا رسول الله نتحدث عنك؟ قال: "تحدثوا عني ولا حرج، ومن كذب عليّ متعمداً فليتبوأ مقعده من النار" (2) .
كل هذه الروايات من طريق عبد الرحمن بن زيد عن أبيه (3) .
ثالثاً: ما رواه زيد بن ثابت رضي الله عنه في النهي:
وأخرج الخطيب من طريق كثير بن زيد عن المطلب بن عبد الله بن حنطب قال: دخل زيد بن ثابت على معاوية فسأله عن حديث فأمر إنساناً يكتبه، فقال له زيد: "إن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمرنا أن لا نكتب شيئا من حديثه" فمحاه.
وفي رواية: "أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يكتب حديثه" (4) .
--------------------------------------------
"কেননা তোমরা তাদের থেকে এমন কিছু বর্ণনা করোনি যার চেয়ে অধিক বিস্ময়কর বিষয় তাদের মাঝে বিদ্যমান ছিল না।" আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: "অতঃপর আমরা সেগুলো একস্থানে সমবেত করলাম এবং আগুনে নিক্ষেপ করলাম।"
অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "আল্লাহর কিতাবের সাথে কি অন্য কোনো কিতাব? তোমরা আল্লাহর কিতাবকে বিশুদ্ধ করো এবং একে একনিষ্ঠ করো" (১)।
অন্য এক বর্ণনায় (رواية) আছে: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে, কিছু লোক তাঁর হাদিস লিখে রেখেছে। তখন তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর বললেন: "এসব কিতাব কী, যে সম্পর্কে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তোমরা তা লিখেছ? আমি তো কেবল একজন মানুষ মাত্র। যার কাছে এগুলোর কিছু আছে, সে যেন তা নিয়ে আসে।" অতঃপর আমরা সেগুলো একত্র করলাম এবং তা পুড়িয়ে ফেলা হলো। তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার থেকে হাদিস বর্ণনা করব? তিনি বললেন: "আমার থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। তবে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়" (২)।
এই সকল বর্ণনা (روايات) আবদুর রহমান বিন জাইদ তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন (৩)।
তৃতীয়ত: নিষেধ প্রসঙ্গে যা জায়েদ বিন সাবিত (রা.) বর্ণনা করেছেন:
খতিব [আল-বাগদাদি] কাসীর বিন জাইদ-এর সূত্রে মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন হানতাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জায়েদ বিন সাবিত (রা.) মুয়াবিয়া (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলেন। তখন তিনি তাঁকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং একজনকে তা লিখতে নির্দেশ দিলেন। জায়েদ (রা.) তাঁকে বললেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা তাঁর হাদিসের কিছুই না লিখি।" তখন তিনি তা মুছে ফেললেন।
অন্য এক বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "নিশ্চয়ই নবী (সা.) তাঁর হাদিস লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করেছেন" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثانياً: الأحاديث الموقوفة عن الصحابة رضي الله عنهم في النهي عن كتابة الحديث
وهي مروية عن سبعة من الصحابة رضي الله عنهم سأذكر لكل واحد منهم رواية أو أكثر بحيث تشتمل الرواية عنه على معظم المقاصد والأحكام التي أراد هؤلاء الصحابة إبلاغها لمن بعدهم، بخاصة أنه وردت عن بعضهم روايات مقرونة بالعلة التي ورد لأجلها النهي عن كتابة الحديث، وهي التي ستثري البحث أثناء التوفيق بين أدلة النهي عن الكتابة وأدلة الإذن.
وهؤلاء الصحابة هم: أبو سعيد الخدري، وعبد الله بن مسعود، وأبو موسى الأشعري، وأبو هريرة، وعبد الله بن عباس، وعبد الله بن عمر، والذين ذكرت رواياتهم علة النهي هم: عمر بن الخطاب، وأبو موسى الأشعري، وابن مسعود.
1 - الرواية عن أبي سعيد الخدري:
روى الخطيب من طريق أبي نضرة قال: قلنا لأبي سعيد "لو كتبتم لنا فإنا لا نحفظ"، قال: "لا نُكتبكم ولا نجعلها مصاحف؛ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحدثنا فنحفظ، فاحفظوا عنا كما كنا نحفظ عن نبيكم" (1) .
وفي رواية: وكان أبو سعيد يقول: "تريدون أن تجعلوها مصاحف، فإن نبيكم صلى الله عليه وسلم كان يحدثنا، فاحفظوا منا كما حفظنا" (2) .
وفي رواية: "قال أتتخذونه قرآناً، اسمعوا كما كنا نسمع".
وفي رواية قال: " قلنا لأبي سعيد إنا اكتتبنا حديثا من حديث رسول الله
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: হাদিস লিপিবদ্ধ করার নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সাহাবিদের (রা.) সূত্রে বর্ণিত (الموقوفة) হাদিসসমূহ।
এগুলো সাতজন সাহাবি (রা.) থেকে বর্ণিত (مروية) হয়েছে। আমি তাঁদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক বা একাধিক বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করব, যাতে এই বর্ণনাগুলো (رواية) সেই অধিকাংশ উদ্দেশ্য ও বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে যা এই সাহাবিগণ তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে তাঁদের কারো কারো কাছ থেকে এমন বর্ণনা (رواية) এসেছে যা সেই কারণের (العلة) সাথে সম্পৃক্ত যার জন্য হাদিস লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করা হয়েছে; আর এটিই সেই বিষয়টি যা লেখনীর নিষেধাজ্ঞার প্রমাণাদি এবং অনুমতির (الإذن) প্রমাণাদির মধ্যে সমন্বয় (التوفيق) করার সময় গবেষণাকে সমৃদ্ধ করবে।
এই সাহাবিগণ হলেন: আবু সাঈদ আল-খুদরি, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু মুসা আল-আশআরি, আবু হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর। আর যাঁদের বর্ণনায় (روايات) নিষেধাজ্ঞার কারণ (علة) উল্লিখিত হয়েছে তাঁরা হলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব, আবু মুসা আল-আশআরি এবং ইবনে মাসউদ।
১ - আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা (الرواية):
খতিব আবু নদরার সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আবু সাঈদকে বললাম, “আপনি যদি আমাদের জন্য লিখে দিতেন, কারণ আমরা মুখস্থ রাখতে পারি না।” তিনি বললেন, “আমি তোমাদের জন্য লিখব না এবং আমরা এগুলোকে মুসহাফ (مصاحف) বানাব না; আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করতেন আর আমরা তা মুখস্থ করতাম, সুতরাং তোমরাও আমাদের কাছ থেকে মুখস্থ করো যেভাবে আমরা তোমাদের নবী থেকে মুখস্থ করতাম।” (১) ।
অন্য এক বর্ণনায় (رواية): আবু সাঈদ বলতেন: “তোমরা কি এগুলোকে মুসহাফ (مصاحف) বানাতে চাও? অথচ তোমাদের নবী (সা.) আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করতেন, সুতরাং তোমরা আমাদের থেকে মুখস্থ করো যেমনটি আমরা মুখস্থ করেছি।” (২) ।
অন্য এক বর্ণনায় (رواية): তিনি বলেছেন: “তোমরা কি একে কুরআন হিসেবে গ্রহণ করছ? শোনো, যেভাবে আমরা শুনতাম।”
অন্য এক বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেন: “আমরা আবু সাঈদকে বললাম যে আমরা আল্লাহর রাসুলের হাদিস থেকে কিছু হাদিস লিখে নিয়েছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
صلى الله عليه وسلم " قال: " امحه ".
وفي رواية: قلت لأبي سعيد: " إنك تحدثنا بأحاديث معجبة، وإنا نخاف أن تزيد أو تنقص، فلو أنا كتبنا "، قال: " لن نكتبكم، ولن نجعله قرآناً، ولكن احفظوا عنا كما حفظنا " (1) .
2 - الرواية عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه:
وأخرج الخطيب من طريق عبد الرحمن بن عبد الله بن مسعود رضي الله عنهما قال: كنا نسمع الشيء فنكتبه، ففطن لنا عبد الله، فدعا أم ولده، ودعا بالكتاب وبإجَّانة (2) من ماء فغسله ".
وفي رواية من طريق مسروق قال: حَّدث ابن مسعود بحديث فقال ابنه: " ليس كما حدثت " قال: " وما علمك؟ " قال": كتبته "، قال: " فهلم الصحيفة "، فجاء بها فمحاها (3) .
3 - الرواية عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه:
وروى الخطيب من طريق أبي بردة قال: كتبت عن أبي كتباً كثيرة فمحاها وقال: "خذ عنا كما أخذنا" (4) .
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটি মুছে ফেলো।"
আর একটি বর্ণনায় (رواية): আমি আবু সাঈদকে বললাম: "আপনি আমাদের কাছে বিস্ময়কর সব হাদিস বর্ণনা করেন, আর আমরা ভয় পাই যে আপনি তাতে বৃদ্ধি করবেন অথবা হ্রাস করবেন, তাই আমরা যদি তা লিখে রাখতাম।" তিনি বললেন: "আমরা তোমাদের লিখে দেব না এবং একে আমরা কুরআনের সমতুল্য করব না; বরং তোমরা আমাদের থেকে মুখস্থ করো যেভাবে আমরা মুখস্থ করেছি।" (১) ।
২ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية):
আর খতিব আল-বাগদাদি আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর সূত্রে (طريق) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা কিছু শুনতাম এবং তা লিখে রাখতাম। আবদুল্লাহ বিষয়টি টের পেয়ে গেলেন, অতঃপর তিনি তাঁর উম্মু ওয়ালাদকে (সন্তানের জননী দাসী) ডাকলেন এবং লিখিত পাণ্ডুলিপি ও একটি পানির পাত্র (২) আনতে বললেন, তারপর তিনি তা ধুয়ে ফেললেন।"
মাসরুকের সূত্রে (طريق) বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেন: ইবনে মাসউদ একটি হাদিস বর্ণনা করলেন, তখন তাঁর পুত্র বললেন: "আপনি যেভাবে বর্ণনা করেছেন বিষয়টি তেমন নয়।" তিনি বললেন: "তোমার কাছে এ বিষয়ে কীসের জ্ঞান আছে?" সে বলল: "আমি এটি লিখে রেখেছি।" তিনি বললেন: "তাহলে সহিফাটি (পাণ্ডুলিপি) নিয়ে এসো।" সে সেটি নিয়ে এলে তিনি তা মুছে ফেললেন (৩) ।
৩ - আবু মুসা আল-াশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية):
আর খতিব আবু বুরদাহ-এর সূত্রে (طريق) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আমার পিতার থেকে অনেক কিতাব লিখেছিলাম, কিন্তু তিনি তা মুছে ফেললেন এবং বললেন: 'আমাদের থেকে ঠিক সেভাবেই গ্রহণ করো যেভাবে আমরা গ্রহণ করেছি'" (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
4 - الرواية عن أبي هريرة رضي الله عنه:
وروى الخطيب بإسناده إلى سعيد بن أبي الحسن قال: لم يكن من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أكثر من أبي هريرة حديثا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإن مروان زَمَنَ هو على المدينة، أراد أن يُكتبه حديثه، فأبى وقال: " ارووا كما روينا " فلما أبى عليه، تغفله فأقعد له كاتباً لَقِناً ثَقِفاً، ودعاه، فجعل أبو هريرة يحدثه، ويكتب الكاتب، حتى استفرغ حديثه أجمع، قال ثم قال مروان: "تعلم أنا قد كتبنا حديثك أجمع؟ " قال: " وقد فعلتم؟ " قال: نعم قال: " فاقرأوه عليّ إذاً " قال فقرأوه عليه، فقال أبوهريرة: " أما إنكم قد حفظتم، وإن تطعني تمحه " قال فمحاه (1) .
وفي رواية عن أبي كثير قال سمعت أبا هريرة يقول: " لا نكتم ولا نُكتب" (2) .
5 - الرواية عن عبد الله بن عباس:
عن طاووس قال: إن كان الرجل يكتب إلى ابن عباس يسأله عن الأمر، فيقول للرجل الذي جاء: " أخبر صاحبك أن الأمر كذا وكذا، فإنّا لا نكتب في الصحف إلا الرسائل والقرآن " (3) .
وعن سعيد بن جبير: أن ابن عباس رضي الله عنهما كان ينهى عن كتاب العلم، وأنه قال: " إنما أضل من قبلكم الكتب " (4) .
--------------------------------------------
৪ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ:
খতিব তাঁর বর্ণনাসূত্র (إسناد) সহ সাঈদ ইবনে আবুল হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্যে আবু হুরায়রার চেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ ছিলেন না। মারওয়ান যখন মদিনার গভর্নর ছিলেন, তখন তিনি তাঁর (আবু হুরায়রার) হাদিসগুলো লিখে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আবু হুরায়রা তা অস্বীকার করে বলেন: "আমরা যেভাবে বর্ণনা করেছি আপনারাও সেভাবেই বর্ণনা করুন।" তিনি যখন অস্বীকৃতি জানালেন, তখন মারওয়ান কৌশলে একজন তীক্ষ্ণ মেধাবী ও দক্ষ লেখককে আড়ালে বসিয়ে দিলেন এবং তাঁকে (আবু হুরায়রাকে) ডাকলেন। আবু হুরায়রা হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং লেখক তা লিখতে থাকলেন, যতক্ষণ না তিনি তাঁর সকল হাদিস শেষ করলেন। এরপর মারওয়ান বললেন: "আপনি কি জানেন যে আমরা আপনার সমস্ত হাদিস লিখে ফেলেছি?" তিনি বললেন: "আপনারা কি সত্যিই তা করেছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" আবু হুরায়রা বললেন: "তাহলে সেগুলো আমাকে পড়ে শোনান।" এরপর সেগুলো তাঁর সামনে পাঠ করা হলো। তখন আবু হুরায়রা বললেন: "আপনারা তো ভালোভাবেই তা সংরক্ষণ করেছেন, তবে আপনারা যদি আমার কথা শোনেন তবে তা মুছে ফেলুন।" তখন মারওয়ান তা মুছে ফেললেন (১)।
আবু কাসীর থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি: "আমরা (হাদিস) গোপন করি না এবং লিখিও না" (২)।
৫ - আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ:
তাউস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের কাছে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করে চিঠি লিখলে তিনি (চিঠিবাহক) ব্যক্তিকে বলতেন: "তোমার সঙ্গীকে গিয়ে বলো যে বিষয়টি এমন এবং এমন। কারণ আমরা পত্রাবলি এবং কুরআন ছাড়া অন্য কিছু পাতায় লিখি না" (৩)।
সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা ইলম (জ্ঞান) লিখে রাখতে নিষেধ করতেন এবং বলতেন: "তোমাদের পূর্ববর্তীরা কিতাবসমূহের কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছিল" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ২০)
6 - الرواية عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما:
عن سعيد بن جبير قال: " كنا إذا اختلفنا في الشيء كتبته حتى ألقى به ابن عمر، ولو يعلم بالصحيفة معي، لكان الفيصل بيني وبينه " (1) .
العلة في كراهة كتابة الحديث كما وردت عن بعض الصحابة رضي الله عنهم
1 - الرواية عن عمر بن الخطاب:
أراد أن يكتب السنن فاستشار في ذلك أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فأشاروا عليه أن يكتبها، فطفق عمر يستخير الله فيها شهراً ثم أصبح وقد عزم الله له، فقال: "إني كنت أردت أن أكتب السنن وإني ذكرت قوماً كانوا قبلكم كتبوا كتباً، فأكبُّوا عليها، وتركوا كتاب الله تعالى، وإني والله لا ألبس كتاب الله بشيء أبدا" (2) .
2 - الرواية عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه:
قال: " إنما أهلك من كان قبلكم باتباعهم الكتب وتركهم كتابهم " (3) .
--------------------------------------------
6 - আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية):
সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমাদের মধ্যে যখন কোনো বিষয়ে মতভেদ তৈরি হতো, আমি তা লিখে রাখতাম যতক্ষণ না ইবনে উমরের সাথে আমার সাক্ষাৎ হতো। তিনি যদি আমার কাছে থাকা এই সহীফা (পুস্তিকা) সম্পর্কে জানতেন, তবে তা আমার ও তাঁর মাঝে ফয়সালা হয়ে দাঁড়াত।" (১) ।
সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর পক্ষ থেকে বর্ণিত হাদিস লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অপছন্দনীয়তার কারণ
১ - উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية):
তিনি সুন্নাহ (السنن) লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করেন এবং এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেন। তাঁরা তাঁকে তা লিখে রাখার পরামর্শ দেন। অতঃপর উমর (রা.) এক মাস ধরে এ বিষয়ে আল্লাহর কাছে ইসতিখারা করতে থাকেন। এরপর একদিন সকালে আল্লাহ তাঁর জন্য বিষয়টি স্থির করে দিলেন, তখন তিনি বললেন: "আমি সুন্নাহ (السنن) লিপিবদ্ধ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার ঐ সকল জাতির কথা মনে পড়ল যারা তোমাদের পূর্বে ছিল; তারা অনেক কিতাব লিখেছিল এবং সেগুলোর ওপর নিবিষ্ট হয়েছিল আর আল্লাহর কিতাব বর্জন করেছিল। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর কিতাবকে কখনোই কোনো কিছুর সাথে সংমিশ্রিত করব না" (২) ।
২ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية):
তিনি বলেন: "তোমাদের পূর্ববর্তীগণ মূলত বিভিন্ন কিতাবের অনুসরণ ও তাদের মূল কিতাব বর্জনের কারণেই ধ্বংস হয়েছে" (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال: " إنما هذه القلوب أوعية فأشغلوها بالقرآن ولا تشغلوها بغيره" (1) .
ووردت عن الصحابة روايات أخرى وكلها تدور حول هذه العلة.
3 - الرواية عن أبي موسى رضي الله عنه:
قال ": إن بني إسرائيل كتبوا كتاباً واتبعوه، وتركوا التوراة " (2) .
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই অন্তরগুলো হচ্ছে পাত্রবিশেষ, সুতরাং তোমরা একে কুরআন দ্বারা মগ্ন রাখো এবং অন্য কিছু দ্বারা একে ব্যস্ত করো না" (১)।
সাহাবীদের থেকে অন্যান্য বর্ণনা (رواية) বর্ণিত হয়েছে এবং এর সবগুলোই এই কারণের (علة) ওপর আবর্তিত।
৩ - আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية):
তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈলরা একটি কিতাব লিখেছিল এবং তারা সেটির অনুসরণ করেছিল, আর তারা তাওরাত বর্জন করেছিল" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الثاني: الأحاديث الواردة في الإذن…المبحث الثاني: الأحاديث الواردة في إباحة الكتابة
وهي واردة عن تسعة من الصحابة رضي الله عنهم، منها ما هو مرفوع إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومنها ما هو موقوف على الصحابة رضي الله عنهم، وبعضٌ من هؤلاء الصحابة قد روى الأحاديث في النهي عن الكتابة، وهم أبو سعيد الخدري، وعمر بن الخطاب، وأبو هريرة، وابن عباس رضي الله عنهم.
منهم من روى رغبة رسول الله صلى الله عليه وسلم في الكتابة، وهو في مرض وفاته صلى الله عليه وسلم وهو ابن عباس، ومنهم من روى أمره بالكتابة لأحد الصحابة وهو أبو هريرة، ومنهم من روى إذنه وهو بالكتابة لمن استأذنه في ذلك، وهو عبد الله بن عمرو بن العاص، ومنهم من روى إذناً عاماً بالكتابة، وهو رافع بن خديج.
كما أن هذه الروايات بينت من كتب مِن الصحابة، وهم أبو بكر، وعلي، وابن عباس، وأنس، وأبو سعيد الخدري، ومن استحسن الكتابة وهو أبو أمامة، ومن أمر بها وهما عمر بن الخطاب، وأنس، ومن شجع عليها، وهو علي رضوان الله عليهم أجمعين، فإلى هذه الروايات:
1 - الرواية عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما:
أخرج البخاري عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: لما اشتد بالنبي صلى الله عليه وسلم وجعه قال: "ائتوني بكتاب أكتب لكم كتاباً لا تضلوا بعده". قال عمر: إن النبي صلى الله عليه وسلم غلبه الوجع وعندنا كتاب الله حسبنا، فاختلفوا، وكثر اللغط، قال: " قوموا عني ولا ينبغي عندي التنازع"، فخرج
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অনুমতি প্রদানের বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লিখনের বৈধতার (ইবাহাহ - إباحة) বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ
এগুলো নয়জন সাহাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সম্পৃক্ত (মারফু - مرفوع), আর কিছু সাহাবিদের ওপর স্থগিত (মাওকুফ - موقوف)। এই সাহাবিদের মধ্যে কেউ কেউ লিখন নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়েও হাদিস বর্ণনা করেছেন; তাঁরা হলেন আবু সাঈদ আল-খুদরি, উমর ইবনুল খাত্তাব, আবু হুরাইরা এবং ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
তাঁদের মধ্য থেকে কেউ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যুরোগের সময় লিখনের প্রতি তাঁর আগ্রহের কথা বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন ইবনে আব্বাস। তাঁদের মধ্যে কেউ জনৈক সাহাবিকে লিখনের নির্দেশ প্রদানের কথা বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন আবু হুরাইরা। তাঁদের মধ্যে কেউ সেই ব্যক্তির জন্য লিখনের অনুমতির কথা বর্ণনা করেছেন যিনি তাঁর কাছে এ বিষয়ে অনুমতি চেয়েছিলেন, তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস। আর তাঁদের মধ্যে কেউ লিখন সম্পর্কে সাধারণ অনুমতির কথা বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন রাফে ইবনে খাদিজ।
তেমনিভাবে এই বর্ণনাগুলো (রিওয়ায়াত - روايات) স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সাহাবিদের মধ্যে কারা লিখেছিলেন; তাঁরা হলেন আবু বকর, আলী, ইবনে আব্বাস, আনাস এবং আবু সাঈদ আল-খুদরি। আর কে লিখনকে উত্তম মনে করেছেন, তিনি হলেন আবু উমামা। আর কারা এর নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা হলেন উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আনাস। এবং কে এ বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন, তিনি হলেন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমায়িন)। সুতরাং এই বর্ণনাগুলো (রিওয়ায়াত - روايات) লক্ষ্য করুন:
1 - আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (রিওয়ায়াত - رواية):
ইমাম বুখারি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসুস্থতা তীব্র হলো, তখন তিনি বললেন: "তোমরা আমার কাছে লিখার সরঞ্জাম নিয়ে এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন কিছু লিখে দেব যার পর তোমরা আর পথভ্রষ্ট হবে না।" উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রোগযন্ত্রণা প্রবল হয়েছে, আর আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব রয়েছে যা আমাদের জন্য যথেষ্ট। তখন তাঁদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হলো এবং হট্টগোল বেড়ে গেল। তিনি (নবীজি) বললেন: "তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও, আমার সামনে বিবাদ করা সমীচীন নয়।" এরপর তিনি বেরিয়ে এলেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ابن عباس يقول: إن الرزية كل الرزية ما حال بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين كتابه" (1) .
وأخرج الخطيب من طريق عبيد الله بن أبي رافع قال: كان ابن عباس يأتي أبا رافع فيقول: ما صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم كذا؟ ما صنع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم كذا؟ ومع ابن عباس ألواح يكتب فيها (2) .
2 - الرواية عن أبي هريرة رضي الله عنه:
أخرج البخاري عن أبي هريرة قال: "ما مِن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أكثر حديثاً عنه مني، إلا ما كان من عبد الله بن عمرو فإنه كان يكتب ولا أكتب".
وفي رواية " ما كان أحد أعلم بحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم مني، إلا عبد الله بن عمرو، فإنه كان يكتب بيده فاستأذن رسول الله في أن يكتب ما سمع منه، فأذن له، فكان يكتب بيده ويعي بقلبه، وإنما كنت أعي بقلبي " (3) .
وأخرج الترمذي عن أبي هريرة قال: كان رجل من الأنصار يجلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم فيسمع من النبي الحديث فيعجبه ولا يحفظه، فشكا ذلك إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله إني أسمع منك الحديث
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস বলেন: "প্রকৃত বিপর্যয়, চরম বিপর্যয় হলো তা-ই, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর লিখনের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়েছিল" (১)।
আল-খতিব উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু রাফি'র সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস আবু রাফি'র নিকট আসতেন এবং জিজ্ঞাসা করতেন: অমুক দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করেছিলেন? অমুক দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করেছিলেন? এমতাবস্থায় ইবনে আব্বাসের নিকট কিছু ফলক থাকত যাতে তিনি লিখে নিতেন (২)।
২ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية):
ইমাম বুখারী আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ব্যতীত আর কারো কাছে আমার চেয়ে বেশি হাদিস ছিল না; কারণ তিনি লিখে রাখতেন আর আমি লিখতাম না" ।
অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "আবদুল্লাহ ইবনে আমর ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী আর কেউ ছিল না। কারণ তিনি নিজ হাতে লিখতেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যা শুনতেন তা লিখে রাখার অনুমতি প্রার্থনা করেছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁকে অনুমতি দেন। ফলে তিনি নিজ হাতে লিখে রাখতেন এবং হৃদয়ে সংরক্ষণ করতেন, আর আমি শুধু হৃদয়েই সংরক্ষণ করতাম" (৩)।
ইমাম তিরমিজি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনসারদের জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস শুনতেন; যা তাঁর কাছে চমৎকার লাগত কিন্তু তিনি তা মুখস্থ রাখতে পারতেন না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সে বিষয়ে অভিযোগ করে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট থেকে হাদিস শুনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فيعجبني ولا أحفظه، فقال صلى الله عليه وسلم: "استعن بيمينك" وأومأ
بيده للخط (1) .
- وروى أبو داود في سننه عن أبي هريرة قال: لما فتحت مكة قام النبي صلى الله عليه وسلم فذكر الخطبة - خطبة النبي صلى الله عليه وسلم قال: فقام رجل من أهل اليمن يقال له أبو شاه فقال: يا رسول الله اكتبوا لي، فقال: "اكتبوا لأبي شاه" (2) .
3 - الرواية عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما:
وأخرج أبو داود في سننه عن عبد الله بن عمرو قال: " كنت أكتب كل شيء أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم أريد حفظه، فنَهَتني قريش وقالوا: أتكتب كل شيء تسمعه ورسول الله صلى الله عليه وسلم بشر يتكلم في الغضب والرضا؟ فأمسكت عن الكتابة، فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فأومأ بإصبعه إلى فيه فقال: "اكتب فوالذي نفسي بيده ما يخرج منه إلا حق" (3) .
وعن عبد الله بن عمرو قال: " هذه الصادقة، هذه ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس بيني وبينه أحد، إذا سلمت لي هذه وكتاب الله
--------------------------------------------
তা আমার ভালো লাগে কিন্তু আমি তা মুখস্থ রাখতে পারি না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তুমি তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও" এবং তিনি ইঙ্গিত করলেন
তাঁর হাত দিয়ে লেখার প্রতি (১)।
- এবং আবু দাউদ তাঁর সুনানে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন মক্কা বিজিত হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং খুতবা প্রদান করলেন—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খুতবা। তিনি বলেন: তখন ইয়ামেনের অধিবাসীদের মধ্য থেকে আবু শাহ নামক এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি আমার জন্য লিখে দিন। তিনি বললেন: "তোমরা আবু শাহর জন্য লিখে দাও" (২)।
৩ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية):
আবু দাউদ তাঁর সুনানে আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা কিছু শুনতাম, তা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে লিখে রাখতাম। অতঃপর কুরাইশরা আমাকে নিষেধ করল এবং তারা বলল: তুমি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা শুনো সবই লিখবে? অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন মানুষ, যিনি ক্রোধ এবং সন্তুষ্টি উভয় অবস্থায় কথা বলেন। ফলে আমি লেখা থেকে বিরত থাকলাম। পরবর্তীতে আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে নিজের মুখের দিকে ইঙ্গিত করলেন এবং বললেন: 'তুমি লিখো, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এখান থেকে সত্য ছাড়া আর কিছুই বের হয় না'" (৩)।
এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এটি হলো আস-সাদিকাহ, এটি আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি, আমার এবং তাঁর মাঝে অন্য কেউ নেই। যদি এটি এবং আল্লাহর কিতাব আমার কাছে সুরক্ষিত থাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تبارك وتعالى فما أبالي ما كانت عليه الدنيا " (1) .
وعنه قال: " قلت: يا رسول الله أقيد العلم؟ قال: "نعم" (2) .
4 - الرواية عن أنس بن مالك رضي الله عنه:
وعن هبيرة بن عبد الرحمن قال: " كانوا إذا كثروا على أنس بن مالك في الحديث أتاهم بمجالّ فقال:" هذه كتبتها ثم قرأتها على رسول الله صلى الله عليه وسلم"
وقال أنس: " كنا لا نعد علم من لم يكتب علمه علماً " (3) .
وعن ثمامة قال: " حدثني أنس أن أبا بكر كتب له فرائض الصدقة الذي سَنَّهُ رسول الله صلى الله عليه وسلم " (4) .
وكان يقول لبنيه: " قيدوا العلم بالكتاب " (5) .
5 - الرواية عن أبي أمامة رضي الله عنه:
وعن الحسن بن جابر أنه سأل أبا أمامة عن كتابة العلم فقال:" لا بأس بذلك" (6) .
6 - الرواية عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه:
وعن أبي المتوكل عن أبي سعيد الخدري قال: " ما كنا نكتب غير
--------------------------------------------
تبارক وتعالى, তাই দুনিয়া যে অবস্থায় থাকুক আমি তার পরোয়া করি না।" (১) ।
তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি ইলম লিপিবদ্ধ করব? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ'" (২) ।
৪ - আনাস ইবন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত বর্ণনা:
হুবায়রা ইবন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "লোকেরা যখন হাদিসের জন্য আনাস ইবন মালিকের কাছে ভিড় করত, তখন তিনি তাদের কাছে কিছু পাণ্ডুলিপি নিয়ে আসতেন এবং বলতেন: 'এগুলো আমি লিখেছি এবং পরে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পড়ে শুনিয়েছি'।"
আনাস (রা.) বলতেন: "আমরা সেই ব্যক্তির জ্ঞানকে জ্ঞান মনে করতাম না, যে তার জ্ঞান লিখে রাখত না" (৩) ।
সুমামা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আনাস আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, আবু বকর (রা.) তাঁর জন্য সাদাকাহর ফরজ বিধানসমূহ লিখে দিয়েছিলেন, যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবর্তন করেছিলেন" (৪) ।
তিনি তাঁর সন্তানদের বলতেন: "লেখার মাধ্যমে জ্ঞানকে আবদ্ধ করো" (৫) ।
৫ - আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত বর্ণনা:
হাসান ইবন জাবির থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু উমামাকে ইলম লিখে রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "এতে কোনো দোষ নেই" (৬) ।
৬ - আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত বর্ণনা:
আবুল মুতাওয়াক্কিল থেকে বর্ণিত, আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বলেন: "আমরা... ব্যতীত কিছুই লিখতাম না"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
القرآن والتشهد" (1) .
7 - الرواية عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه:
وعن عمرو بن أبي سفيان قال: سمعت عمر بن الخطاب يقول: " قيدوا العلم بالكتاب " (2) .
8 - الرواية عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه:
أخرج البخاري عن أبي جحيفة قال قلت لعلي: هل عندكم كتاب؟ قال: لا إلا كتاب الله أو فهم أعطيه رجل مسلم أو ما في هذه الصحيفة، قال فقلت: فما في هذه الصحيفة؟ قال: " العَقْل، وفكاك الأسير، ولا يقتل مسلم بكافر ".
وعن طارق قال: رأيت علياً على المنبر وهو يقول: " ما عندنا كتاب نقرؤه عليكم إلا كتاب الله عزوجل وهذه الصحيفة، وصحيفة معلقة في سيف عليه حلقة من حديد وبكراته من حديد، فيها فرائض الصدقة قد أخذها من رسول الله صلى الله عليه وسلم " (3) .
وعن المنذر بن ثعلبة عن علي رضي الله عنه قال: "من يشتري مني علماً بدرهم؟ قال أبو خيثمة: "يقول يشتري صحيفة بدرهم يكتب فيها العلم" (4) .
9- الرواية عن رافع بن خديج رضي الله عنه:
عن رافع بن خديج عن رافع رضي الله عنه قال: قلنا يا رسول الله إنا نسمع منك أشياء أفنكتبها قال: " اكتبوا ولا حرج" (5) .
--------------------------------------------
কুরআন এবং তাশাহহুদ" (১)।
৭ - ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনা:
আমর ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি: "তোমরা লিখে রাখার মাধ্যমে ইলমকে আবদ্ধ করো" (২)।
৮ - আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনা:
বুখারি আবু জুহাইফা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলীকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনাদের কাছে কি কোনো কিতাব আছে? তিনি বললেন: না, আল্লাহর কিতাব অথবা কোনো মুসলিম ব্যক্তিকে প্রদত্ত বোধশক্তি কিংবা এই সহিফায় যা আছে তা ছাড়া আর কিছু নেই। আমি বললাম: এই সহিফায় কী আছে? তিনি বললেন: "রক্তপণ (আকল), বন্দি মুক্তি এবং কাফিরের বিনিময়ে কোনো মুসলিমকে হত্যা করা হবে না।"
তারেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আলীকে মিম্বরে উপবিষ্ট অবস্থায় বলতে দেখেছি: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কিতাব এবং এই সহিফাটি ছাড়া আমাদের কাছে এমন কোনো কিতাব নেই যা আমরা তোমাদের কাছে পাঠ করব।" উক্ত সহিফাটি তলোয়ারের সাথে ঝুলানো ছিল, যাতে একটি লোহার আংটা এবং লোহার কপিকল ছিল। তাতে সদকার বিধানাবলি ছিল যা তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন (৩)।
মুনজির ইবনে সা’লাবা থেকে বর্ণিত, আলী (রা.) বলেন: "কে আমার কাছ থেকে এক দিরহামের বিনিময়ে ইলম ক্রয় করবে? আবু খাইসামা বলেন: "অর্থাৎ সে এক দিরহাম দিয়ে একটি সহিফা ক্রয় করবে যাতে সে ইলম লিখে রাখবে" (৪)।
৯- রাফে ইবনে খাদিজ (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনা:
রাফে ইবনে খাদিজ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শুনি, আমরা কি তা লিখে রাখব? তিনি বললেন: "তোমরা লিখে রাখো, এতে কোনো অসুবিধা নেই" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الثالث: التوفيق بين أحاديث النهي والإذن
المبحث: منهج التعليل…الفصل الثالث: التوفيق بين أحاديث النهي والإذن
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: منهج التعليل.
المبحث الثاني: دفع التعارض.
তৃতীয় অধ্যায়: নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতি বিষয়ক হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় (التوفيق) সাধন
পরিচ্ছেদ: ত্রুটি চিহ্নিতকরণ পদ্ধতি (منهج التعليل)…তৃতীয় অধ্যায়: নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতি বিষয়ক হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় (التوفيق) সাধন
এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ত্রুটি চিহ্নিতকরণ পদ্ধতি (منهج التعليل)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিরোধ নিরসন (دفع التعارض)।
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
التوفيق بين أحاديث النهي وأحاديث الإذن
نستطيع أن نقول إننا أمام منهجين للتوفيق بين أحاديث النهي وأحاديث الإذن وهما:
1- منهج التعليل.
2 - ومنهج دفع التعارض.
وهذا ما سنتناوله في المبحثين التاليين:
নিষেধসূচক হাদিস ও অনুমতি প্রদানকারী হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় (التوفيق)
আমরা বলতে পারি যে, নিষেধসূচক হাদিস ও অনুমতি প্রদানকারী হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য আমাদের সামনে দুটি পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো হলো:
১- কারণ বিশ্লেষণ (التعليل) পদ্ধতি।
২ - এবং বিরোধ নিরসন (دفع التعارض) পদ্ধতি।
আমরা পরবর্তী দুটি পরিচ্ছেদে এই বিষয়গুলোই আলোচনা করব:
(খণ্ড: ১)
কিতাবাতুল হাদীসিন নাবাওয়্যি ফী আহদিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইনান নাহয়ি ওয়াল ইযন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الأول: منهج التعليل
وهو القول بأن أحاديث النهي عن الكتابة كانت لعلة، ومن المعلوم أن الأحكام تدور مع العلل وجوداً وعدماً، فمتى وجدت العلة وجد الحكم، ومتى انعدمت العلة انعدم الحكم.
والذي يدقق النظر في أحاديث النهي يجدها أشارت إلى التعليل، كما في رواية أبي هريرة رضي الله عنه قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نكتب الأحاديث فقال "ما هذا الذي تكتبون؟ " قلنا: أحاديث سمعناها منك، قال: "أكتابَ غير الله تريدون؟ ما أضل الأمم من قبلكم إلا أنهم اكتتبوا من الكتب مع كتاب الله". قال أبو هريرة: فقلت: أنتحدث عنك يا رسول الله؟ قال: "نعم، تحدَّثوا ولا حرج، فمن كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار" (1) .
واستنبط العلماء عللا أخرى عبروا عنها في كتبهم بما يلي:
قال الخطابي: ".. وقد قيل: إنه إنما نهى أن يكتب الحديث مع القرآن في صحيفة واحدة لئلا يختلط به ويشتبه على القارئ" (2) .
وقال ابن القيم: " وهذا كان في أول الإسلام خشية أن يختلط الوحي الذي يتلى بالوحي الذي لا يتلى " (3) .
وذكر الصنعاني: أن النهي عن الكتابة إنما كان في أول الأمر " بسبب أنه لم يكن قد اشتد إلف الناس بالقرآن ولم يذكر حفاظه والمتقنون له، فلما ألفه
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: কারণ নির্দেশ পদ্ধতি (منهج التعليل)
আর তা হলো এই অভিমত যে, হাদিস লিপিবদ্ধকরণ নিষিদ্ধ হওয়ার হাদিসসমূহ কোনো একটি কারণ (علة)-এর ভিত্তিতে ছিল। আর এটি সুবিদিত যে, বিধানাবলি তার কারণ (علة)-এর বিদ্যমান থাকা বা না থাকার ওপর আবর্তিত হয়; সুতরাং যখন কারণ (علة) পাওয়া যায় তখন বিধানও কার্যকর হয়, আর যখন কারণ (علة) অনুপস্থিত থাকে তখন বিধানও বিলুপ্ত হয়।
যারা নিষেধাজ্ঞামূলক হাদিসসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তারা সেগুলোতে কারণ নির্দেশের (التعليل) ইঙ্গিত খুঁজে পান। যেমন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট আসলেন যখন আমরা হাদিস লিখছিলাম। তখন তিনি বললেন, "তোমরা এগুলো কী লিখছো?" আমরা বললাম: আপনার থেকে শোনা হাদিসসমূহ। তিনি বললেন, "তোমরা কি আল্লাহর কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাব চাচ্ছ? তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ কেবল এ কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছে যে, তারা আল্লাহর কিতাবের পাশাপাশি অন্যান্য কিতাব লিখে নিয়েছিল।" আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি আপনার থেকে বর্ণনা করব? তিনি বললেন, "হ্যাঁ, বর্ণনা করো, তাতে কোনো দোষ নেই। তবে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" (১)।
উলামায়ে কেরাম আরও কিছু কারণ (علل) উদ্ভাবন করেছেন যা তারা তাঁদের কিতাবসমূহে নিম্নোক্তভাবে ব্যক্ত করেছেন:
খাত্তাবি বলেন: "..বলা হয়ে থাকে যে, একই পত্রে কুরআনের সাথে হাদিস লিখতে নিষেধ করা হয়েছিল যাতে তা কুরআনের সাথে মিশে না যায় এবং পাঠকের নিকট অস্পষ্ট (يشتبه) না হয়ে পড়ে।" (২)।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "এটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ছিল এই আশঙ্কায় যে, পঠিত ওহীর সাথে অপঠিত ওহী যেন মিশে না যায়।" (৩)।
সানআনি উল্লেখ করেছেন: লেখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা কেবল প্রাথমিক অবস্থায় ছিল, "এর কারণ হলো তখন মানুষের কুরআন চর্চা তেমন গভীর হয়ে ওঠেনি এবং এর হাফেজ ও দক্ষ (المتقنون) ব্যক্তিরা তেমন সংখ্যাধিক্য ছিলেন না। অতঃপর যখন মানুষ এতে অভ্যস্ত হলো...
--------------------------------------------