(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب سيرة النبي صلى الله عليه وسلم القسم: السيرة النبوية
الكتاب: كتاب «سيرة النبي صلى الله عليه وسلم» للعلامة شبلي النعماني وتكملته للعلامة السيد سليمان الندوي
المؤلف: تقي الدين بن بدر الدين الندوي
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 47
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত গ্রন্থ বিভাগ: নবীর সীরাত
গ্রন্থ: আল্লামা শিবলী নুমানী রচিত এবং আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী কর্তৃক সম্পন্নকৃত «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত গ্রন্থ»
লেখক: তাকিউদ্দিন বিন বদরুদ্দিন নদভী
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারাহর পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد خاتم النبيين والمرسلين، المبعوث رحمة للعالمين وعلى آله وصحبه، ومن دعا بدعوته، واتبع هداه بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد:
فإن الله تعالى قد اختار محمداً صلى الله عليه وسلم رسولاً أميناً ومعلماً مبيناً، واختار له ديناً قويماً، وهداه في كتابه صراطاً مستقيماً، ارتضاه لجميع البشر إماماً وجعله للشرائع النبوية ختاما، فانتهت إليه سلسلة النبوءات، فقال تعالى: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيماً} [الأحزاب: 40] .
إن الشريعة التي جاء بها رسول الله صلى الله عليه وسلم هي شريعة تصلح لكل زمان ومكان، وصرَّح القرآن الكريم بأن هذا الدين قد بلغ طوره الأخير من الكمال والوفاء بحاجات البشر، والصلاحية للبقاء والاستمرار فقال:
{الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ َلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِيناً} [المائدة: 3] .
وكذلك وصف الله في القرآن الكريم رسوله صلى الله عليه وسلم الذي ختم به النبوة، بصفات تشير إشارة بليغة إلى خلود رسالته، وكونه قدوة صالحة وأسوة حسنة في كل عصر وجيل، ولكل طبقة من الناس، من غير تقييد بزمان ومكان، فقال: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً} [الأحزاب: 21] .
إن سيرة محمد صلى الله عليه وسلم هي السيرة الكاملة الشاملة لجميع
ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, যিনি নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী, যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাথীবর্গের ওপর, আর যারা তাঁর দাওয়াতের দিকে আহ্বান করবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করবে।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন আমানতদার রাসূল এবং সুস্পষ্ট শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করেছেন, তাঁর জন্য একটি সুদৃঢ় দ্বীন পছন্দ করেছেন এবং তাঁর কিতাবে তাঁকে সরল পথ প্রদর্শন করেছেন। তাঁকে সকল মানুষের জন্য ইমাম হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং নবুওয়াতের শরীয়তসমূহের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। তাঁর মাধ্যমেই নবুওয়াতের সিলসিলার সমাপ্তি ঘটেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।" [আল-আহজাব: ৪০]।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শরীয়ত নিয়ে এসেছেন তা এমন এক শরীয়ত যা সকল কাল ও পাত্রের জন্য উপযোগী। কুরআন কারীম স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, এই দ্বীন পূর্ণতা এবং মানুষের প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে এর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং টিকে থাকার ও অব্যাহত থাকার যোগ্যতা লাভ করেছে। তাই আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।" [আল-মায়িদাহ: ৩]।
একইভাবে আল্লাহ কুরআন কারীমে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে—যাঁর মাধ্যমে তিনি নবুওয়াত শেষ করেছেন—এমন সব বৈশিষ্ট্যে বর্ণনা করেছেন যা তাঁর রিসালাতের চিরস্থায়ী হওয়ার প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করে এবং তিনি যে প্রতিটি যুগ ও প্রজন্মের জন্য এবং মানুষের প্রতিটি স্তরের জন্য কাল ও স্থানের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই এক যোগ্য আদর্শ ও উত্তম নমুনা, তা ব্যক্ত করে। তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।" [আল-আহজাব: ২১]।
নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত হলো একটি পূর্ণাঙ্গ সীরাত যা সকলের জন্য ব্যাপক...
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২)
أطوار الحياة، ولا يمكن أن تكون حياة أحد كائناً من كان مثالاً يحتذى به إلا إذا توافر لها عنصران: أولهما: الدقة والصحة في نقل تفاصيل تلك الحياة، والآخر: أن يكون صاحبها متصفاً بالكمال في جميع جوانب حياته.
وهذان الأمران لم يتوافرا لأحد في التاريخ البشري المدون كما توافرا لنبي الإسلام محمد صلى الله عليه وسلم. وحياة رسولنا الأعظم صلى الله عليه وسلم من ميلاده إلى ساعة وفاته معلومة للذين عاصروه وشاهدوه، وحفظها التاريخ عنهم لمن بعدهم، ومعلومةٌ تفاصيل حياته صلى الله عليه وسلم، ليلها كنهارها.
نحن معشر المسلمين، نؤمن بجميع الأنبياء والمرسلين ونعظمهم بلا استثناء، مع علمنا بأنهم متفاضلون {تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ} [البقرة: 253] .
ولكن التدوين الكامل ما قدَّره الله إلا لسيرة آخر المرسلين وخاتم النبيين محمد صلى الله عليه وسلم، أما غيره من الأنبياء فلم تكن سيرتهم مدونة ولا خالدة ولا محفوظة؛ لأنهم قد أُرسلوا إلى أممهم في عهدهم، والذي سُجِّل في القرآن والسنة من ذلك قليل من كثير.
والذين ألَّفوا في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم من عهد الرسالة إلى يومنا هذا في مختلف البلاد الإسلامية والأجنبية في معظم لغات العالم، يعدُّون بالألوف، ولا يزالون ماضين في التأليف فيها.
بل نحن نجد جماعة من المؤلفين في الهند نفسها من الهنادك والسيخ وغيرهم من الذين لا يؤمنون بنبوته صلى الله عليه وسلم ولا يوقنون برسالته، وكذلك الأوربيون الذين لا يدينون بالإسلام، ولا يؤمنون بالرسالة المحمدية، ألَّفوا في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم مؤلفات، منهم المنصرون والمستشرقون، وتبلغ
জীবনের বিভিন্ন পর্যায়; যে কেউ হোক না কেন, তার জীবন তখনই অনুসরণযোগ্য আদর্শ হতে পারে যখন তাতে দুটি উপাদান বিদ্যমান থাকে: প্রথমত, সেই জীবনের খুঁটিনাটি বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভুলতা ও সঠিকতা; এবং দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার জীবনের সকল ক্ষেত্রে পূর্ণতায় ভূষিত হওয়া।
আর এই দুটি বিষয় লিপিবদ্ধ মানব ইতিহাসে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মতো অন্য কারো ক্ষেত্রে অর্জিত হয়নি। আমাদের মহান রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবন তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যারা তাঁর সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁকে দেখেছিলেন তাদের কাছে সুবিদিত ছিল। ইতিহাস তাদের কাছ থেকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তা সংরক্ষণ করেছে। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট।
আমরা মুসলিম জাতি সকল নবী ও রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি এবং কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই তাঁদের সম্মান করি। যদিও আমরা জানি যে তাঁদের মধ্যে মর্যাদাগত পার্থক্য রয়েছে: "সেই সকল রাসূল, আমি তাদের কাউকে কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি" [আল-বাকারা: ২৫৩]।
কিন্তু আল্লাহ তাআলা পূর্ণাঙ্গ লিপিবদ্ধকরণের বিষয়টি কেবল সর্বশেষ রাসূল ও নবীগণের সীলমোহর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতের জন্যই নির্ধারিত করেছেন। পক্ষান্তরে অন্যান্য নবীগণের জীবনী সেভাবে লিপিবদ্ধ, চিরস্থায়ী বা সংরক্ষিত ছিল না; কারণ তাঁরা কেবল তাঁদের সমসাময়িক জাতিগুলোর কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন। আর কুরআন ও সুন্নাহতে যা কিছু লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা অনেক কিছুর মধ্য থেকে সামান্য কিছু মাত্র।
আর যারা নবুওয়াতের যুগ থেকে আজ অবধি বিশ্বের অধিকাংশ ভাষায় এবং বিভিন্ন মুসলিম ও অমুসলিম দেশে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁদের সংখ্যা হাজারে হাজার। আজও সেই রচনার ধারা অব্যাহত রয়েছে।
এমনকি আমরা ভারতের মতো দেশেও হিন্দু, শিখ এবং এমন একদল লেখককে পাই যারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াতের প্রতি ঈমান রাখে না এবং তাঁর রিসালাতের প্রতিও বিশ্বাসী নয়। অনুরূপভাবে ইউরোপীয়রা, যারা ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে না এবং মুহাম্মাদী রিসালাতের প্রতি ঈমান রাখে না, তারাও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতের ওপর বহু গ্রন্থ রচনা করেছে। তাঁদের মধ্যে মিশনারি এবং প্রাচ্যবিদরাও রয়েছেন। আর এর সংখ্যা পৌঁছেছে...
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
مؤلفاتهم مئات.
وذكر العلامة السيد سليمان الندوي أنه قرأ في مجلة "المقتبس" التي كانت تصدر من دمشق قبل أربعين سنة إحصاء ما صنف في السيرة النبوية فبلغ ألفاً وثلاثمائة كتاب. وقد توفي العلامة الندوي سنة (1953م) .
ولو أضفنا إلى هذا العدد ما صدر بعد ذلك من علماء الغرب في السيرة لأربى على ذلك بكثير.
وذكر أيضاً العلامة الندوي الذين ألَّفوا في السيرة النبوية باللغة الأردية، مع أن هذه اللغة لم تكن لغة تأليف إلا منذ قرنين على الأكثر، وفي تقديري أن ما صنف بها وحدها في السيرة النبوية يبلغ ألفاً إن لم يزد عليه (1) .
ولما وصلت إليَّ الدعوة للمشاركة في الندوة عن السنة والسيرة بعنوان "عناية المملكة بالسنة والسيرة النبوية" تحت إشراف مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف، وطُلب مني تقديم بحث بعنوان أحد موضوعات المحور الرابع، اخترت عنوان البحث كتاب "سيرة النبي صلى الله عليه وسلم" للعلامة شبلي النعماني وتكملته للعلامة السيد سليمان الندوي "عرض وتحليل".
وهذا الكتاب أهم ما ألفه علماء الهند، واشتهر الكتاب في بلاد العرب والعجم أيضاً، فقد ذكر سماحة الشيخ أبي الحسن الندوي أهمية هذا الكتاب في بعض المحاضرات التي ألقاها في مصر والشام، قال:" أفضل ما ألف في موضوع السيرة النبوية كتاب " سيرة النبي " وهو في سبعة مجلدات كبار في اللغة الأردية للعلامة شبلي النعماني ولتلميذه الأستاذ الكبير السيد سليمان
--------------------------------------------
তাদের সংকলনসমূহ শত শত।
আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আজ থেকে চল্লিশ বছর পূর্বে দামেস্ক থেকে প্রকাশিত 'আল-মুকতাবাস' নামক সাময়িকীতে সীরাতুন্নবীর ওপর রচিত সংকলনসমূহের একটি পরিসংখ্যান পড়েছিলেন, যাতে দেখা গেছে যে এর সংখ্যা তেরো শত পর্যন্ত পৌঁছেছে। আর আল্লামা নদভী (১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে) ইন্তেকাল করেছেন।
যদি আমরা এই সংখ্যার সাথে পরবর্তীতে পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের দ্বারা সীরাতের ওপর যা প্রকাশিত হয়েছে তা যোগ করি, তবে তা এর চেয়ে অনেক বেশি হবে।
আল্লামা নদভী উর্দু ভাষায় সীরাতুন্নবীর ওপর যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের কথাও উল্লেখ করেছেন; যদিও এই ভাষাটি সর্বোচ্চ মাত্র দুই শতাব্দী আগে থেকে জ্ঞানচর্চা ও রচনার ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমার ধারণা মতে, শুধু এই একটি ভাষাতেই সীরাতুন্নবীর ওপর রচিত গ্রন্থাবলির সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছাবে, যদি তার বেশি না-ও হয় (১)।
যখন কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং দ্য হোলি কুরআন-এর তত্ত্বাবধানে 'সুন্নাহ ও সীরাতুন্নবীর প্রতি সৌদি রাজ্যের বিশেষ গুরুত্ব' শীর্ষক সুন্নাহ ও সীরাত বিষয়ক সেমিনারে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ আমার কাছে পৌঁছাল এবং আমার কাছে চতুর্থ মূল বিষয়ের একটি শিরোনামে প্রবন্ধ পেশ করার জন্য অনুরোধ করা হলো, তখন আমি প্রবন্ধের শিরোনাম হিসেবে আল্লামা শিবলী নুমানী ও আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী কর্তৃক সম্পন্নকৃত 'সীরাতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ' বইটি নির্বাচন করলাম।
এই বইটি ভারতের আলেমদের রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং বইটি আরব ও আজম উভয় দেশেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। মহামান্য শায়খ আবুল হাসান নদভী মিশর ও সিরিয়ায় প্রদত্ত কিছু ভাষণে এই বইটির গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেছেন: "সীরাতুন্নবীর বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'সীরাতুন্নবী' কিতাবটি, যা উর্দু ভাষায় আল্লামা শিবলী নুমানী ও তাঁর সুযোগ্য ছাত্র মহান উস্তাদ সাইয়্যিদ সুলাইমানের লেখা সাতটি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
الندوي، وهو كدائرة المعارف في السيرة النبوية وعلم الكلام والتوحيد " (1) .
ويتضمن البحث النقاط التالية:
1- التعريف بالمؤلفين بإيجاز.
2- سبب تأليف هذا الكتاب.
3- التعريف بكتاب السيرة النبوية، وما يشتمل عليه من الموضوعات.
4- اطلاع المؤلفين على كتب المستشرقين والرد على بعض آرائهم.
5- منهجهما في توثيق الروايات وتحليلها، وترجيح بعضها على بعض في هذا الكتاب.
6- ملاحظات على الكتاب.
7- خلاصة البحث.
8- توصيات ومقترحات.
ولقد حاولت في هذا البحث الموجز التعريف بهذا الكتاب، وبينت مزاياه ليكون توصية في هذه الندوة لنقله إلى اللغة العربية تحت إشراف لجنة من العلماء المختصين في الحديث الشريف.
علماً بأن الكتاب سوف يبلغ عشرة مجلدات باللغة العربية أو نحوها.
والله الموفق.
--------------------------------------------
নাদভী, যা সিরাতে নববী, ইলমুল কালাম এবং তাওহীদের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বকোষের মতো।" (১) ।
গবেষণাটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
১- লেখকদ্বয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
২- এই কিতাবটি রচনার কারণ।
৩- সীরাতুন্নবী কিতাবটির পরিচিতি এবং এতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলি।
৪- প্রাচ্যবিদদের কিতাবসমূহের ওপর লেখকদ্বয়ের পাণ্ডিত্য এবং তাদের কিছু মতামতের খণ্ডন।
৫- এই কিতাবে বর্ণনাগুলোর প্রামাণ্যতা যাচাই ও বিশ্লেষণ এবং একটির ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসৃত পদ্ধতি।
৬- কিতাবটির ওপর পর্যবেক্ষণসমূহ।
৭- গবেষণার সারসংক্ষেপ।
৮- সুপারিশ ও প্রস্তাবনা।
আমি এই সংক্ষিপ্ত গবেষণায় এই কিতাবটির পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছি, যাতে এই সেমিনারে হাদীস শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ আলেমদের একটি কমিটির তত্ত্বাবধানে এটি আরবি ভাষায় অনুবাদ করার সুপারিশ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, কিতাবটি আরবি ভাষায় প্রায় দশ খণ্ড হবে।
আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
كتاب "سيرة النبي صلى الله عليه وسلم" للعلامة شبلي النعماني وتكملته للعلامة السيد سليمان الندوي
" عرض وتحليل "
أ. د/ تقي الدين بن بدر الدين ندوي
بسم الله الرحمن الرحيم
المبحث الأول: التعريف بالمؤلفين بإيجازالعلامة شبلي النعماني:
هو العلامة الفاضل المؤرخ والأديب البحاثة والكاتب القدير والمتكلم الكبير، الشيخ محمد شبلي بن الشيخ حبيب الله، ولد بقرية "بندول" من أعمال (أعظم جراه) (1) سنة أربع وسبعين ومائتين وألف من الهجرة، الموافق لشهر مايو - أيار سنة 1857م (2) .
اعتنق جده الأعلى "شيوراج سنغ" الإسلام قبل أربعة قرون تقريباً، وكان أصله من "راجبوت" وهم طبقة عليا من الهندوس ومن خصائصهم الفروسية والشجاعة والقيادة.
سماه أبوه محمد شبلي، لكن شبلي اقتصر على (شبلي) وأضاف إليه النعماني، نسبة إلى مذهب الإمام أبي حنيفة النعمان بن ثابت رحمه الله تعالى.
وقد نشأ في بيئة علمية فتعلم القرآن واللغة الفارسية في قريته، وقرأ اللغة العربية على أستاذ العلماء فاروق علي العباسي (3) المتوفى سنة 1327? وأخذ منه المنطق والحكمة، وبرز فيهما ولازمه مدة طويلة حتى شهد له شيخه محمد فاروق الجرياكوتي بالمهارة في الحكمة، وكان يقول له: "أنا أسد وأنت شبلي" (4) .
وقد أخذ شبلي الفقه من العالم الفقيه الأصولي إرشاد حسين المجددي
--------------------------------------------
আল্লামা শিবলী নুমানী রচিত "সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" এবং আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী কর্তৃক এর পরিশিষ্ট: "একটি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ"
প্রফেসর ড. তাকীউদ্দীন বিন বদরুদ্দীন নদভী
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকদ্বয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিআল্লামা শিবলী নুমানী:
তিনি হলেন আল্লামা, বিদগ্ধ পণ্ডিত, ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক, গভীর গবেষক, দক্ষ লেখক এবং প্রথিতযশা কালামবিদ শায়খ মুহাম্মদ শিবলী বিন শায়খ হাবীবুল্লাহ। তিনি ১২৭৪ হিজরি মোতাবেক ১৮৫৭ সালের মে মাসে 'আযমগড়' (১) এর অন্তর্গত 'বিন্দুল' গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন (২)।
তাঁর উর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ 'শিওরাজ সিং' প্রায় চার শতাব্দী আগে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর মূল বংশ ছিল 'রাজপুত', যারা হিন্দুদের একটি উচ্চ বর্ণ এবং তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো বীরত্ব, সাহসিকতা ও নেতৃত্ব।
তাঁর পিতা তাঁর নাম রেখেছিলেন মুহাম্মদ শিবলী, কিন্তু শিবলী কেবল 'শিবলী' নামেই সীমাবদ্ধ থাকেন এবং এর সাথে 'নুমানী' যুক্ত করেন; যা ইমাম আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মাযহাবের প্রতি সম্পৃক্ততার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি একটি ইলমী পরিবেশে বেড়ে ওঠেন এবং নিজ গ্রামেই কুরআন ও ফারসি ভাষা শিক্ষা করেন। তিনি ওস্তাদুল উলামা ফারুক আলী আব্বাসী (৩) (মৃত্যু ১৩২৭ হি.)-এর নিকট আরবি ভাষা অধ্যয়ন করেন এবং তাঁর কাছ থেকে যুক্তিবিদ্যা (মানতিক) ও দর্শন (হিকমাহ) লাভ করেন। এই দুই শাস্ত্রে তিনি বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন, এমনকি তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ ফারুক চিরইয়াকোটী হিকমাহ শাস্ত্রে তাঁর দক্ষতার সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তিনি তাঁকে বলতেন: "আমি সিংহ আর তুমি সিংহশাবক (শিবলী)" (৪)।
আর শিবলী ফিকহ শাস্ত্র অর্জন করেন ফকীহ ও উসূলবিদ আলিম ইরশাদ হোসেন মুজাদ্দিদীর নিকট থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
الرامفوري (1) المتوفي سنة 1311هـ وسافر شبلي إلى لاهور ليأخذ الأدب العربي من الشيخ العالم الكبير فيض الحسن السهارنفوري المتوفي سنة 1304هـ وأنشأت صحبته للشيخ فيض الحسن (2) فيه ذوقاً أدبياً رفيعاً حتى حفظ ديوان "الحماسة"، وتدرَّب على الكتابة باللغة العربية الفصحى، ثم سافر إلى المحدِّث الشيخ مولانا أحمد علي السهارنفوري المتوفى سنة 1297هـ، وهو من أخص تلامذة المحدث الدهلوي الشيخ محمد إسحاق (3) المتوفى سنة 1262هـ.
قال العلامة شبلي: "إني سافرت لطلب الأدب والمنطق والحديث وأصول الفقه مسافات بعيدة إلى كبار الأساتذة في كل فن في الهند" (4) .
وقد اعترف العلامة عبد الحي الحسني أن شبلي قد فاق أقرانه في الإنشاء والشعر والأدب والتاريخ وكثير من العلوم والفنون (5) .
ثم ولي التدريس في كلية (علي جراه) وصحب الأساتذة الغربيين؛ لأن الكلية كانت مجمعاً لأساتذة الشرق والغرب، وهي أول كلية أنشئت بعد دخول الإنكليز في الهند لتدريس العلوم الجديدة، لذلك أتيحت له الفرصة للاطلاع على أفكار الغرب ودراساتهم، والتقى آرنولد في الكلية وتعلم شبلي
--------------------------------------------
রামপুরী (১) ১৩১১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। শিবলী লাহোরে সফর করেন প্রখ্যাত আলিম শাইখ ফয়জুল হাসান সাহারানপুরীর (মৃ. ১৩০৪ হি.) নিকট থেকে আরবি সাহিত্য শিক্ষা করার জন্য। শাইখ ফয়জুল হাসানের (২) সাহচর্য তাঁর মধ্যে উচ্চাঙ্গের সাহিত্যরুচি তৈরি করে, এমনকি তিনি 'দিওয়ানুল হামাসাহ' মুখস্থ করেন এবং বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় রচনার প্রশিক্ষণ লাভ করেন। অতঃপর তিনি মুহাদ্দিস শাইখ মাওলানা আহমদ আলী সাহারানপুরীর (মৃ. ১২৯৭ হি.) নিকট গমন করেন, যিনি ছিলেন মুহাদ্দিস দেহলভী শাইখ মুহাম্মদ ইসহাক (৩) (মৃ. ১২৬২ হি.)-এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ ছাত্র।
আল্লামা শিবলী বলেন: "আমি সাহিত্য, যুক্তিবিদ্যা, হাদীস এবং উসূলে ফিকহ অর্জনের অন্বেষণে ভারতের প্রতিটি শাস্ত্রের মহান উস্তাদদের নিকট দূর-দূরান্তে সফর করেছি" (৪)।
আল্লামা আব্দুল হাই হাসানী স্বীকার করেছেন যে, শিবলী রচনাশৈলী, কবিতা, সাহিত্য, ইতিহাস এবং বহু জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁর সমসাময়িকদের অতিক্রম করে গিয়েছিলেন (৫)।
অতঃপর তিনি (আলীগড়) কলেজে শিক্ষকতার দায়িত্ব লাভ করেন এবং পশ্চিমা অধ্যাপকদের সাহচর্য গ্রহণ করেন; কারণ কলেজটি ছিল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পণ্ডিতদের মিলনস্থল। ভারতে ইংরেজদের আগমনের পর আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার উদ্দেশ্যে এটিই ছিল প্রথম প্রতিষ্ঠিত কলেজ। একারণে তাঁর জন্য পাশ্চাত্যের চিন্তা-চেতনা ও তাদের গবেষণাসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি কলেজে আর্নল্ডের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং শিবলী শিক্ষা গ্রহণ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
منه اللغة الفرنسية، كما تعلم آرنولد منه اللغة العربية، واستفاد منه في التاريخ الإسلامي (1) .
وصحب شبلي السيد أحمد بن المتقي الدهلوي (2) ومال إلى التاريخ والسير، وصنف كتاباً في " سيرة المأمون العباسي " و " سيرة النعمان " في سيرة الإمام أبي حنيفة و " الفاروق "، وألف كتابه " الجزية " و " حقوق الذميين " و " حياة الرومي " و " شعر العجم " وغيرها. وقد زار شبلي سنة 1892م القسطنطينية والشام وبيروت وبيت المقدس والقاهرة، واطلع في رحلته هذه على المكتبات وكتب قيمة نادرة من العلوم والفنون المختلفة، وقد أكرمته الحكومة التركية بالوسام المجيدي، فلما اطلعت الحكومة الإنكليزية على ذلك في الهند أكرمته بلقب شمس العلماء سنة 1894م وقد أُكرم العلامة بهذا اللقب ولم يتجاوز عمره خمساً أو ستاً وثلاثين سنة.
وكان شبلي قد شارك في تأسيس ندوة العلماء، وله دور بارز في إصلاح مناهجها، وكان رئيس ندوة العلماء الشيخ محمد علي المونكري يقول: أنا مغرم بكفاءة العلامة شبلي، وأنا أرى أن النجاح لم يتحقق إلا بكفاءته وهمَّته (3) .
وقد توفي سنة 1332هـ عن سبع وخمسين سنة، ودفن في ساحة مجمع دار المصنفين الذي أسسه لإعداد المؤلفين والباحثين، وقد صدر عنه ما يقارب ثلاثمائة كتاب على مستوى عالٍ في البحث والتحقيق، ونشر منها كتاب "سيرة
--------------------------------------------
সেখান থেকে তিনি ফরাসি ভাষা শিখেছেন, যেমনটি আর্নল্ড তাঁর কাছ থেকে আরবি ভাষা শিখেছেন এবং ইসলামের ইতিহাসে তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হয়েছেন (১)।
শিবলী সাইয়্যেদ আহমদ বিন আল-মুত্তাকি আদ-দেহলভির (২) সান্নিধ্য লাভ করেন এবং ইতিহাস ও জীবনীর প্রতি ঝুঁকে পড়েন। তিনি "সিরাতে মামুন আব্বাসি", ইমাম আবু হানিফার জীবনীতে "সিরাতুন নুমান" এবং "আল-ফারুক" নামে গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি "আল-জিজিয়া", "হুকুকুজ জিম্মিয়্যিন", "হায়াতে রুমি", "শেরুল আজম" সহ আরও অনেক গ্রন্থ রচনা করেন। শিবলী ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে কনস্টান্টিনোপল, শাম, বৈরুত, বাইতুল মাকদিস ও কায়রো সফর করেন। এই সফরে তিনি বিভিন্ন পাঠাগার এবং বিভিন্ন বিজ্ঞান ও কলার দুর্লভ ও মূল্যবান গ্রন্থাদি পর্যবেক্ষণ করেন। তুরস্কের সরকার তাঁকে 'মাজিদি' পদক দিয়ে সম্মানিত করে। ভারতে ব্রিটিশ সরকার যখন এটি জানতে পারে, তখন তারাও ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে 'শামসুল উলামা' উপাধিতে ভূষিত করে। আল্লামা শিবলী এই উপাধিতে ভূষিত হন যখন তাঁর বয়স পঁয়ত্রিশ বা ছত্রিশ বছর অতিক্রম করেনি।
শিবলী নদওয়াতুল উলামা প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং এর পাঠ্যক্রম সংস্কারে তাঁর বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল। নদওয়াতুল উলামার সভাপতি শেখ মুহাম্মদ আলী মুঙ্গেরি বলতেন: "আমি আল্লামা শিবলীর যোগ্যতায় মুগ্ধ, এবং আমি মনে করি যে তাঁর যোগ্যতা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়েছে (৩)।"
তিনি ১৩৩২ হিজরিতে সাতান্ন বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এবং 'দারুল মুসান্নিফিন' চত্বরে সমাহিত হন, যা তিনি লেখক ও গবেষক তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখান থেকে উচ্চমানের গবেষণা ও পর্যালোচনার প্রায় তিনশ বই প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে "সিরাত... প্রকাশিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
النبي"، وصار في أسلوبه أحد المجيدين الخمسة للغة الأردية، وهو أصغرهم سناً، وقد اختار أسلوبه أكثر المؤلفين في الكتابة والبحث في اللغة الأردية.
وتتلمذ عليه عدد كبير من العلماء، وأشهرهم المحقق السيد سليمان الندوي، وهو خليفة العلامة شبلي، كان من أحلى أمانيه أن يكمل كتاب شيخه: "سيرة النبي صلى الله عليه وسلم" وقد وضع شبلي خطة الكتاب وبدأ تأليفه لكنه لم يؤلف إلا جزأين حتى وافاه الأجل، فخلفه تلميذه النابغة السيد سليمان الندوي، وأكمل الكتاب في سبعة مجلدات كبار.
নবী"; এবং তিনি তাঁর রচনাশৈলীর কারণে উর্দু ভাষার পাঁচজন শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকের অন্যতম হয়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে কনিষ্ঠতম। উর্দু ভাষায় লেখালেখি এবং গবেষণার ক্ষেত্রে অধিকাংশ লেখকই তাঁর শৈলীকে অনুসরণ করেছেন।
তাঁর কাছে অসংখ্য আলেম শিক্ষালাভ করেছেন, যাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন গবেষক সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী। তিনি ছিলেন আল্লামা শিবলীর উত্তরসূরি। তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর শায়খের গ্রন্থ ‘সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ সম্পন্ন করা। শিবলী গ্রন্থটির পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলেন এবং এর রচনা শুরু করেছিলেন, কিন্তু মৃত্যুর আগে তিনি মাত্র দুই খণ্ডই রচনা করতে পেরেছিলেন। এরপর তাঁর মেধাবী ছাত্র সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং সাতটি বৃহৎ খণ্ডে গ্রন্থটি সম্পন্ন করেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
العلامة السيد سليمان الندوي (1)
هو الشيخ العلامة الأستاذ السيد سليمان الندوي الحسيني، أحد العلماء المبرزين في علوم التفسير والتاريخ والأدب والكلام ونوابغ الفضلاء والمؤلفين في القارة الهندية.
ولد يوم الجمعة لسبع بقين من صفر سنة اثنتين وثلاثمائة وألف، الموافق 22 من نوفمبر سنة 1884م، ونشأ بدسنه - بكسر الدال وسكون السين المهملتين - وهي قرية من أعمال ولاية بهار.
وقرأ مبادئ العلم وبعض الكتب المتداولة، ثم التحق بدار العلوم ندوة العلماء سنة 1318?، وتخرج فيها ونال الشهادة سنة 1324?، ولا شك أن كبار العلماء والمدرسين قد اجتمعوا في عصره في ندوة العلماء، فقرأ عليهم واستفاد منهم، وكان منهم العلامة شبلي النعماني.
أخذ عنه السيد سليمان الندوي الأدب العربي، واستفاد منه استفادة عامة واختص به ولازمه، وتولى نيابة عنه تحرير مجلة "الندوة" ثلاث مرات، ولفت الأنظار بمقالاته العلمية التي تدل على نبوغه وتبشر بمستقبل الكاتب، وعيّن أستاذا في دار العلوم ندوة العلماء سنة 1325?، ثم استقدمه مولانا أبو الكلام سنة 1330? للمشاركة في تحرير جريدة (الهلال) ، ومكث فيها سنة، ثم اختير أستاذا في كلية بونا التابعة لجامعة بومبائي، وأقام فيها نحو ثلاث سنوات، وحاز ثقة الأساتذة والطلبة.
--------------------------------------------
আল্লামা আস-সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী (১)
তিনি হলেন শায়খ আল্লামা উস্তায আস-সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী আল-হুসাইনী। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের তাফসির, ইতিহাস, সাহিত্য ও ইলমুল কালাম শাস্ত্রের অন্যতম প্রথিতযশা আলেম এবং প্রতিভাবান গুণীজন ও লেখকদের অন্তর্ভুক্ত।
তিনি ১৩০২ হিজরি সনের সফর মাসের সাত দিন অবশিষ্ট থাকতে শুক্রবার জন্মগ্রহণ করেন, যা ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দের ২২শে নভেম্বর তারিখের সাথে সংগতিপূর্ণ। তিনি 'দিসনা'-তে বেড়ে ওঠেন—দাল অক্ষরে কাসরা (জের) এবং সিন অক্ষরে সুকুন (জজম) সহযোগে—যা বিহার প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম।
তিনি ইলমের প্রাথমিক বিষয়াদি এবং প্রচলিত কিছু কিতাব অধ্যয়ন করেন। এরপর ১৩১৮ হিজরিতে দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৩২৪ হিজরিতে শিক্ষা সমাপন করে সনদ লাভ করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর যুগে নদওয়াতুল উলামায় প্রখ্যাত আলেম ও শিক্ষকগণ সমবেত হয়েছিলেন; তিনি তাঁদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আল্লামা শিবলী নোমানী।
সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী তাঁর নিকট আরবি সাহিত্য শিক্ষা করেন এবং তাঁর থেকে সাধারণভাবে উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিশেষ সান্নিধ্য লাভ করেন ও তাঁর অনুগামী হন। তিনি তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে তিনবার 'আন-নদওয়াহ' সাময়িকীর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তাঁর গবেষণামূলক প্রবন্ধগুলোর মাধ্যমে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যা তাঁর মেধার পরিচয় দেয় এবং লেখকের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত প্রদান করে। ১৩২৫ হিজরিতে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। অতঃপর ১৩৩০ হিজরিতে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁকে 'আল-হিলাল' পত্রিকার সম্পাদনায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। সেখানে তিনি এক বছর অবস্থান করেন। এরপর বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ পুনা কলেজে শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন এবং সেখানে প্রায় তিন বছর অবস্থান করেন ও শিক্ষক-ছাত্রদের আস্থা অর্জন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثم طلبه أستاذه العلامة شبلي عند دنو الأجل، وفوض إليه إكمال سلسلة "سيرة النبي" على صاحبها الصلاة والسلام، التي بدأ بها، ونظارة دار المصنفين التي أسسها، وتوفي أستاذه على إثر ذلك، وذلك في سنة 1332?، وتولى تحرير مجلة "المعارف" الشهرية، وعكف على التأليف والتحقيق مكبّاً على إكمال "سيرة النبي صلى الله عليه وسلم" وزار لندن وباريس والقاهرة وأفغانستان، ولما عقد الملك عبد العزيز مؤتمر العالم الإسلامي سنة 1344? ودعا علماء المسلمين وزعماءهم، اختير العلامة السيد سليمان الندوي نائباً للرئيس في وقائع المؤتمر.
وقد طلبه ملك أفغانستان ليستفيد من تجاربه ودراساته فسافر مع الدكتور محمد إقبال والسيد رأس مسعود، وأكرمه الملك، واحتفت به البلاد، ومنحته جامعة علي جراه الإسلامية شهادة الدكتوراه الفخرية في الأدب اعترافاً بمكانته العلمية.
وطلبه حاكم ولاية بهوبال ليتولى رئاسة القضاء في الإمارة ورئاسة الجامعة الأحمدية والإشراف على التعليم الديني والأمور الدينية في بهوبال، فأجابه إلى ذلك، وأقام فيها ثلاث سنوات، وبعد انقسام الهند طلبه بعض أركان حكومة باكستان ليشارك في وضع الدستور الإسلامي للحكومة الوليدة فأجابهم إلى ذلك، في شعبان سنة 1369? وقرر الإقامة في باكستان. وكذا اختاره مجمع فؤاد الأول في مصر عضواً مراسلاً في سنة 1371?.
ووافاه الأجل غرة ربيع الآخر سنة 1373? في كراتشي، وحضر جنازته كبار العلماء وأعيان البلاد، وجمع كبير من الناس، ودفن في مقبرة كراتشي بجوار الشيخ شبير أحمد العثماني (1) صاحب كتاب "فتح الملهم شرح مسلم"،
--------------------------------------------
অতঃপর তার উস্তাদ আল্লামা শিবলী মৃত্যুর সন্নিকটে তাকে ডেকে পাঠান এবং তার শুরু করা "সীরাতুন্নবী" (যার ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সিরিজটি সমাপ্ত করার দায়িত্ব এবং তার প্রতিষ্ঠিত "দারুল মুসান্নিফীন"-এর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব তার হাতে অর্পণ করেন। এর অব্যবহিত পরেই ১৩৩২ হিজরি সনে তার উস্তাদ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মাসিক "আল-মাআরিফ" পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং "সীরাতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)" সমাপ্ত করার কাজে পূর্ণ একাগ্রতার সাথে গবেষণা ও গ্রন্থ রচনায় মগ্ন হন। তিনি লন্ডন, প্যারিস, কায়রো এবং আফগানিস্তান সফর করেন। যখন বাদশাহ আব্দুল আজিজ ১৩৪৪ হিজরি সনে বিশ্ব মুসলিম সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং মুসলিম উলামা ও নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানান, তখন আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভীকে সেই সম্মেলনের কার্যবিবরণী পরিচালনায় সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
আফগানিস্তানের বাদশাহ তার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানলব্ধ পাণ্ডিত্য থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য তাকে ডেকে পাঠান। ফলে তিনি ডক্টর মুহাম্মাদ ইকবাল এবং সাইয়্যেদ রাস মাসউদের সাথে সেখানে সফর করেন। বাদশাহ তাকে সম্মানিত করেন এবং দেশবাসী তাকে বিপুল সংবর্ধনা প্রদান করে। তার জ্ঞানগত উচ্চমর্যাদার স্বীকৃতিস্বরূপ আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সাহিত্যে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।
ভোপাল রাজ্যের শাসক তাকে সেই আমিরাতের প্রধান বিচারপতির পদ, জামিয়া আহমাদিয়্যার সভাপতিত্ব এবং ভোপালের ধর্মীয় শিক্ষা ও দ্বীনি বিষয়াদি তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। তিনি সেই আহ্বানে সাড়া দেন এবং সেখানে তিন বছর অবস্থান করেন। ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তান সরকারের কিছু নীতিনির্ধারক তাকে নবজাতক রাষ্ট্রের ইসলামি সংবিধান প্রণয়নে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। ১৩৬৯ হিজরির শাবান মাসে তিনি তাদের আহবানে সাড়া দেন এবং পাকিস্তানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। তদ্রূপ ১৩৭১ হিজরি সনে মিশরের ফুয়াদ আল-আউয়াল একাডেমি তাকে একজন পত্রচারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করে।
১৩৭৩ হিজরির পহেলা রবিউস সানি করাচিতে তার মৃত্যু হয়। তার জানাজায় দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষের বিশাল সমাগম ঘটে। তাকে করাচির কবরস্থানে "ফাতহুল মুলহিম শারহু মুসলিম"-এর লেখক শায়খ শাব্বির আহমাদ উসমানি (১)-এর কবরের পাশে দাফন করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
المتوفى سنة 1369هـ.
كان السيد سليمان الندوي: من كبار المؤلفين في هذا العصر، ومن المكثرين في الكتابة والتأليف، مع سعة علم ودقة بحث وتنوع مقاصد.
قال سماحة الشيخ أبي الحسن الندوي: "كان راسخاً في العلوم العربية وأدبها، دقيق النظر في علوم القرآن وعلم التوحيد والكلام، غزير المادة في التاريخ وعلم الاجتماع والمدنية، صاحب أسلوب أدبي في اللغة الأردية وكاتبا مترسلا في اللغة العربية" (1) .
وله مؤلفات عديدة منها:
* تكملة "سيرة النبي صلى الله عليه وسلم" لأستاذه في خمسة مجلدات كبار.
* "خطبات مدارس" من خير ما كتب في السيرة النبوية، ونقل إلى اللغة العربية باسم "الرسالة المحمدية" ونقل إلى الإنجليزية أيضاً.
* "أرض القرآن" في مجلدين في جغرافية القرآن، و"سيرة عائشة".
* "سيرة الإمام مالك" و "خيام" و"نقوش سليمان" و"حياة شبلي" في سيرة أستاذه، وغيرها من المؤلفات والبحوث والمقالات.
--------------------------------------------
১৩৬৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী ছিলেন এই যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক এবং বিপুল সংখ্যক গ্রন্থ প্রণেতা। তাঁর জ্ঞান ছিল বিস্তৃত, গবেষণা ছিল সুগভীর এবং রচনার পরিধি ছিল বহুমুখী।
শাইখ আবুল হাসান নদভী বলেন: "তিনি আরবি ভাষা ও সাহিত্যে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। কুরআন বিজ্ঞান, তাওহিদ এবং ইলমুল কালামে তাঁর দৃষ্টি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম। ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান এবং সভ্যতা বিষয়ে তাঁর তথ্যভাণ্ডার ছিল সমৃদ্ধ। উর্দু ভাষায় তিনি ছিলেন এক বিশেষ সাহিত্যশৈলীর অধিকারী এবং আরবি ভাষায় সাবলীল গদ্য লেখক।" (১)
তাঁর অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
* তাঁর উস্তাদ রচিত "সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" এর পরিশিষ্ট, যা পাঁচটি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত।
* "খুতবাতে মাদরাস", যা সীরাতুন্নবী সম্পর্কে রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর একটি। এটি "আর-রিসালাতুল মুহাম্মাদিয়া" নামে আরবিতে অনূদিত হয়েছে এবং ইংরেজিতেও অনূদিত হয়েছে।
* কুরআনের ভূগোলের ওপর দুই খণ্ডে রচিত "আরদুল কুরআন" এবং "সীরাতে আয়েশা"।
* "সীরাতে ইমাম মালেক", "খৈয়াম", "নুকুশে সুলাইমান" এবং তাঁর উস্তাদের জীবনীগ্রন্থ "হায়াতে শিবলী" সহ আরও অনেক গ্রন্থ, গবেষণা ও প্রবন্ধ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الثاني: سبب تأليف هذا الكتابألف العلامة شبلي مؤلفات عديدة في التاريخ والأدب، واشتهرت مؤلفاته ومقالاته في البلاد، وآخر كتبه الذي تشرف بتأليفه هو "سيرة النبي" صلى الله عليه وسلم، ويقول في بيت من الشعر مامعناه:
لقد مدحت العجم وألَّفت تاريخ بني العباس، كان من قدر الله أن أقيم عند الأغيار مدة من الزمن، ولكني وفقت أن أؤلف الآن سيرة خاتم النبيين، فالحمد والشكر لله على حسن الخاتمة بهذا العمل المبارك.
فلما أراد العلامة شبلي أن يؤلف هذا الكتاب توجَّه إلى الاطلاع على مؤلفات علماء الإسلام في السيرة قديماً وحديثاً، ولكن هذه المؤلفات كانت عبارة عن سرد الحوادث التاريخية فحسب، ولا علاقة لها بعلم الكلام، ولكن الناقدين المعاصرين يزعمون أن الدين لو كان عبارة عن الإيمان بالله فحسب فلا نقاش فيه، وإذا كان الدين يطالب بالإيمان بالرسول أيضاً فلابد لنا من معرفة شؤون حياته وعاداته وأخلاقه؛ لأنه هو الذي أنزل عليه الوحي وهو رسولٌ بين الله وخلقه.
إن مؤرخي الإفرنج الذين ألفوا في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم قدَّموا في مؤلفاتهم صورة مشوهة لحياته صلى الله عليه وسلم.
وأبناء الجيل الجديد الذين لم يدرسوا اللغة العربية والدراسات الإسلامية، إذا أراد أحد منهم معرفة شيء عن سيرة النبي صلى الله عليه وسلم لجأ إلى كتب المستشرقين المشوهة المملوءة بالمعلومات المسمومة، وهكذا تتسرب هذه السموم إلى نفوسهم، وتؤثر رويداً رويداً فيهم من غير أن يشعروا بها؛ لدرجة
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই গ্রন্থ রচনার কারণআল্লামা শিবলী ইতিহাস ও সাহিত্যে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং দেশে তাঁর গ্রন্থ ও প্রবন্ধসমূহ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তাঁর রচিত সর্বশেষ গ্রন্থ, যা রচনার সৌভাগ্য তিনি লাভ করেছেন, তা হলো "সীরাতুন্নবী" সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি এক পঙক্তি কবিতায় বলেন যার অর্থ হলো:
আমি অনারবদের প্রশংসা করেছি এবং বনু আব্বাসের ইতিহাস রচনা করেছি; আল্লাহর ফয়সালা ছিল যে আমি একটি দীর্ঘ সময় পরজাতীয়দের সান্নিধ্যে কাটিয়েছি। কিন্তু এখন আমি খাতামুন নবীয়্যীনের সীরাত রচনার তৌফিক লাভ করেছি। সুতরাং এই বরকতময় কাজের মাধ্যমে উত্তম সমাপ্তির জন্য আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা ও শোকর।
যখন আল্লামা শিবলী এই গ্রন্থটি রচনার সংকল্প করলেন, তখন তিনি সীরাত বিষয়ে প্রাচীন ও আধুনিক ইসলামি পণ্ডিতদের রচনাবলি পর্যালোচনায় মনোনিবেশ করলেন। কিন্তু এই গ্রন্থগুলো ছিল কেবল ঐতিহাসিক ঘটনাবলির বর্ণনা মাত্র, ইলমুল কালামের (তত্ত্বীয় ধর্মতত্ত্বের) সাথে এগুলোর কোনো সম্পর্ক ছিল না। অথচ সমকালীন সমালোচকদের দাবি হলো, ধর্ম যদি কেবল আল্লাহর ওপর ঈমান আনার নাম হতো, তবে তাতে কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকত না; কিন্তু ধর্ম যখন রাসূলের ওপরও ঈমান আনার দাবি করে, তখন অবশ্যই আমাদের তাঁর জীবনধারা, অভ্যাস ও চরিত্র সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ তাঁর ওপরই ওহী অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে রাসূল।
ইউরোপীয় ঐতিহাসিকগণ যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত রচনা করেছেন, তারা তাদের গ্রন্থসমূহে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের একটি বিকৃত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
আর নতুন প্রজন্মের সন্তানরা যারা আরবি ভাষা ও ইসলামি শিক্ষা অধ্যয়ন করেনি, তাদের কেউ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সম্পর্কে কিছু জানতে চায়, তখন সে প্রাচ্যবিদদের বিকৃত ও বিষাক্ত তথ্যে ভরপুর বইগুলোর দ্বারস্থ হয়। এভাবে এই বিষ তাদের অন্তরে প্রবেশ করে এবং তাদের অলক্ষ্যেই ধীরে ধীরে তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে; এমন পর্যায় পর্যন্ত যে-
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أنه قد ظهر في البلاد جماعة لا يفرقون بين المصلح والرسول، فالرسول عندهم مصلح محض.
هذه العوامل هي التي دعتني أخيراً إلى وضع كتاب ضخم في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم. ويبدو هذا العمل في بادئ الأمر سهلاً يسيراً؛ لأن هناك مئات من الكتب باللغة العربية، فلو أردت أن أؤلف كتاباً في السيرة كان عليّ أن أختار من هذه الكتب، ولم يكن يتطلب مني ذلك إلا بضعة شهور. ولكني لما قمت بهذه المهمة وجدتها صعبة وشاقة ودقيقة لم أواجه مثلها طول حياتي العلمية.
ثم إن مؤلفي السيرة النبوية لم يكتفوا في كتبهم بالروايات الصحيحة وحدها كما أشار إليه الحافظ زين الدين العراقي، وهو من شيوخ الحافظ ابن حجر العسقلاني قائلا:
وليعلم الطالب أن السيرا
… تجمع ما صحَّ وما قد أُنْكرا
ولهذا السبب تسربت الروايات الضعيفة والموضوعة إلى كتب السيرة، فكان من الضروري أن تجمع جميع الكتب الهامة في الحديث والرجال لتمحيص الروايات ونقدها؛ ليمكنني أن أؤلف كتابا في السيرة حتى يعدَّ ثقة بين الناس، ولا يستطيع شخص واحد أن يتصفح مئات من الكتب في هذا المجال ويقتبس منها المعلومات.
وكذلك كنت بحاجة إلى الاطلاع على الكتب الإفرنجية التي ألفت في حياة النبي صلى الله عليه وسلم، فهيأ الله أن كُوِّنت لجنة من المسلمين الباحثين العارفين باللغات الإفرنجية والعربية، وبعد ذلك لم تكن موانع للقيام بهذه المهمة (1) .
--------------------------------------------
দেশে এমন একদল লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা সংস্কারক ও রাসূলের মধ্যে পার্থক্য করে না; তাদের নিকট রাসূল কেবল একজন সংস্কারক মাত্র।
এই কারণগুলোই শেষ পর্যন্ত আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের ওপর একটি বিশাল গ্রন্থ রচনার দিকে আহ্বান করেছে। বাহ্যিকভাবে এই কাজটি শুরুতে সহজ মনে হতে পারে; কারণ আরবি ভাষায় শত শত বই বিদ্যমান। যদি আমি সীরাতের ওপর কোনো বই রচনা করতে চাইতাম, তবে আমাকে কেবল এই বইগুলো থেকে নির্বাচন করতে হতো এবং এর জন্য আমার মাত্র কয়েক মাস সময়ের প্রয়োজন হতো। কিন্তু যখন আমি এই মহান দায়িত্বে হাত দিলাম, তখন একে এমন কঠিন, শ্রমসাধ্য ও সূক্ষ্ম হিসেবে পেলাম যেটির মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন আমি আমার পুরো জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনে হইনি।
অতঃপর সীরাতে নববীর লেখকগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহে কেবল বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলোর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেননি, যেমনটি হাফেজ জয়নুদ্দীন আল-ইরাকি—যিনি হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানির অন্যতম উস্তাদ—উল্লেখ করে বলেছেন:
ছাত্রের জানা উচিত যে সীরাত গ্রন্থসমূহ
… সহীহ এবং যা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে—উভয়টিকেই একত্রিত করে।
এই কারণেই দুর্বল ও জাল বর্ণনাগুলো সীরাত গ্রন্থসমূহে প্রবেশ করেছে। তাই বর্ণনাগুলো যাচাই-বাছাই ও সমালোচনার জন্য হাদীস এবং রিজাল শাস্ত্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ কিতাব একত্রিত করা অপরিহার্য ছিল; যাতে আমি সীরাতের ওপর এমন একটি কিতাব রচনা করতে পারি যা মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য হয়। আর কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে এই ক্ষেত্রে শত শত কিতাব অধ্যয়ন করা এবং সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব নয়।
তেমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের ওপর রচিত ইউরোপীয় ভাষার কিতাবগুলো দেখারও আমার প্রয়োজন ছিল। আল্লাহ তাআলা এমন ব্যবস্থা করে দিলেন যে ইউরোপীয় এবং আরবি ভাষা জানা মুসলিম গবেষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠিত হলো এবং এরপর এই দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الثالث: التعريف بالكتاب وما يحتوي عليهوضع العلامة شبلي خطة الكتاب وبدأ تأليفه، ولكنه توفي وهو مشتغل بالجزء الثاني، فأتمَّ العلامة السيد سليمان الندوي ما نقص منه، ورجع إلى مصادر الكتاب، وقارن بينها وبين أصل الكتاب، فإذا وجد في العبارة إبهاماً أوضحه، وإذا اطلع على بعض الأمور المفيدة التي تستحق أن تزاد في الكتاب زادها، وكذلك في بعض الآراء خالف أستاذه، لكنه جعل ذلك بين هلالين ليتبين أصل الكتاب من زيادته، وهذا في غاية الأدب.
ثم انفرد بتأليف الكتاب واستعان ببعض أصحابه في تحقيق مسائل وفصول، لكنه وسع نطاق السيرة من سرد الأحداث، وبيان الشمائل، ووصف العادات إلى الرسالة المحمدية والتعليمات النبوية والشريعة الإسلامية وبحث شعبها المختلفة (1) .
المجلد الأول:
1- يشتمل على مقدمة تناول فيها أصول الرواية والدراية والحاجة إلى تأليف سيرة النبي صلى الله عليه وسلم، 2- الفرق بين السيرة والحديث، 3- بداية علم السيرة والتراث المكتوب فيها، 4- القراءة والكتابة في عهد الرسالة، 5- المغازي، 6- بداية عهد التأليف على أيدي الخلفاء، 7- العناية الخاصة بالمغازي، 8- مكانة الإمام الزهري في السيرة، 9- موسى بن عقبة والسيرة، 10- محمد بن إسحاق والسيرة، 11- ابن هشام والسيرة
(1) انظر "شخصيات وكتب" ص (69) .
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি এবং এর বিষয়বস্তুআল্লামা শিবলী কিতাবটির পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন এবং এর রচনা শুরু করেন, কিন্তু দ্বিতীয় খণ্ডের কাজ চলাকালীন তিনি ইন্তেকাল করেন। অতঃপর আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী এর অসম্পূর্ণ অংশ সমাপ্ত করেন। তিনি কিতাবটির উৎস গ্রন্থসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সেগুলোর সাথে মূল গ্রন্থের তুলনা করেন। যদি তিনি কোনো বাক্যে অস্পষ্টতা পেতেন, তবে তা স্পষ্ট করতেন। আর যদি তিনি এমন কোনো উপকারী বিষয় জানতে পারতেন যা কিতাবে যুক্ত করা প্রয়োজন, তবে তা যোগ করতেন। একইভাবে কিছু মতামতের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর উস্তাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তবে তিনি তা বন্ধনীভুক্ত করেছেন যাতে মূল কিতাব থেকে তাঁর সংযোজন পৃথক করা যায়; আর এটি অত্যন্ত উচ্চস্তরের শিষ্টাচার।
অতঃপর তিনি এককভাবে কিতাবটি রচনা করেন এবং বিভিন্ন মাসআলা ও অধ্যায় তাহকীক বা গবেষণায় তাঁর কতিপয় বন্ধুর সহযোগিতা গ্রহণ করেন। তবে তিনি সীরাতের পরিধিকে নিছক ঘটনাবলি বর্ণনা, শামায়েল বা গুণাবলি বর্ণনা এবং অভ্যাসের বর্ণনার গণ্ডি থেকে বিস্তৃত করে মুহাম্মদী রিসালাত, নববী শিক্ষা, ইসলামী শরীয়াহ এবং এর বিভিন্ন শাখার গবেষণার দিকে নিয়ে যান (১)।
প্রথম খণ্ড:
১- এতে একটি ভূমিকা রয়েছে যেখানে তিনি রেওয়ায়েত ও দেরায়েতের মূলনীতি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত রচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন, ২- সীরাত ও হাদীসের মধ্যে পার্থক্য, ৩- সীরাত বিজ্ঞানের সূচনা এবং এতে লিখিত ঐতিহ্য, ৪- রিসালাতের যুগে পঠন ও লিখন, ৫- আল-মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), ৬- খলিফাদের আমলে গ্রন্থ রচনার সূচনা, ৭- মাগাজির প্রতি বিশেষ যত্ন, ৮- সীরাত শাস্ত্রে ইমাম যুহরীর মর্যাদা, ৯- মুসা বিন উকবা ও সীরাত, ১০- মুহাম্মদ বিন ইসহাক ও সীরাত, ১১- ইবনে হিশাম ও সীরাত
(১) দেখুন "শাখাছিয়্যাত ওয়া কুতুব" পৃষ্ঠা (৬৯)।
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
12- الواقدي والسيرة، 13- ابن سعد والسيرة، 14- التاريخ الصغير والكبير للإمام البخاري والسيرة، 15- الإمام الطبري والسيرة.
ثم ذكر المصنفين الأوائل في السيرة ومصادر السيرة التي ألفت فيما بعد، ثم ذكر مقاييس المحدثين ومعاييرهم وبعض مؤلفاتهم، وبيَّن الفرق بين كتب الحديث والسيرة، ثم تناول الرواية بالمعنى وأخبار الآحاد والمستشرقين والسيرة النبوية وذكر أسباب أخطائهم، ثم تناول ذكر تاريخ العرب قبل الإسلام، وسلسلة نسب النبي صلى الله عليه وسلم، وولادته وبعثته وهجرته إلى المدينة المنورة، وغزواته وسراياه، والمعاهدة مع اليهود، ونقض اليهود العهود، وغزوة المريسيع وحادثة الإفك، وغزوة الأحزاب وصلح الحديبية، ورسائل النبي صلى الله عليه وسلم إلى السلاطين، وغزوة خيبر وعمرة القضاء، وحادثة الإيلاء، وغزوة تبوك، ومسجد الضرار، وحجة الإسلام، ونظرة في الغزوات. ويبلغ هذا المجلد (622) صفحة.
المجلد الثاني:
يشتمل على قيام الأمن في جزيرة العرب وانتشار الإسلام في قبائل العرب، ووفود القبائل إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وإقامة النظام الإسلامي، وحجة الوداع، ووفاة النبي صلى الله عليه وسلم، والشمائل والعادات، ومجالس النبي صلى الله عليه وسلم وعباداته وأخلاقه، وأزواجه المطهرات، وبناته الطاهرات وعشرته مع أزواجه. ويبلغ هذا المجلد (440) صفحة.
المجلد الثالث:
وتحدث في هذا المجلد عن المعجزات وأدلتها، وإمكان وقوعها في ضوء الفلسفة القديمة والقرآن وعلم الكلام والآيات والمعجزات، وبيَّن تفصيل آيات
১২- আল-ওয়াকিদি ও সীরাত, ১৩- ইবনে সাদ ও সীরাত, ১৪- ইমাম বুখারীর তারীখুস সাগীর ও তারীখুল কাবীর এবং সীরাত, ১৫- ইমাম তবারী ও সীরাত।
এরপর গ্রন্থকার সীরাত বিষয়ক আদি গ্রন্থকারদের কথা এবং পরবর্তীতে রচিত সীরাতের উৎসসমূহ উল্লেখ করেছেন। তারপর তিনি মুহাদ্দিসগণের মানদণ্ড ও মাপকাঠি এবং তাঁদের কিছু সংকলন নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি হাদীস ও সীরাত বিষয়ক কিতাবসমূহের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। এরপর তিনি মর্মগত বর্ণনা (রেওয়ায়াত বিল মা'না), আখবারে আহাদ, প্রাচ্যবিদ ও সীরাতুন্নবী নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রাচ্যবিদদের ভুলের কারণসমূহ উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি প্রাক-ইসলামী আরবের ইতিহাস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরম্পরা, তাঁর জন্ম, নবুওয়াত লাভ এবং মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরত, তাঁর যুদ্ধ ও অভিযানসমূহ, ইহুদীদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি, ইহুদীদের চুক্তিভঙ্গ, গাজওয়ায়ে মুরাইসী ও ইফকের ঘটনা, গাজওয়ায়ে আহযাব ও হুদায়বিয়ার সন্ধি, সমকালীন সুলতানদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্রাবলী, খায়বরের যুদ্ধ ও ওমরাতুল কাযা, ঈলার ঘটনা, তাবুক যুদ্ধ, মাসজিদে যিরার, হজ্জাতুল ইসলাম এবং যুদ্ধগুলোর ওপর একটি পর্যালোচনামূলক আলোচনা করেছেন। এই খণ্ডটি (৬২২) পৃষ্ঠা বিশিষ্ট।
দ্বিতীয় খণ্ড:
এতে রয়েছে আরব উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আরব গোত্রগুলোর মধ্যে ইসলামের প্রসার, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদলের আগমন, ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিদায় হজ্জ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল, তাঁর শামায়েল (শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য) ও অভ্যাসসমূহ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসসমূহ, ইবাদত ও আখলাক, তাঁর পবিত্র সহধর্মিণীগণ, তাঁর পবিত্রা কন্যাগণ এবং স্ত্রীদের সাথে তাঁর জীবনযাপন। এই খণ্ডটি (৪৪০) পৃষ্ঠা বিশিষ্ট।
তৃতীয় খণ্ড:
এই খণ্ডে তিনি মুজিযা ও তার প্রমাণাদি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং প্রাচীন দর্শন, কুরআন, ইলমে কালাম এবং নিদর্শন ও মুজিযার আলোকে এর সংঘটনযোগ্যতা বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও তিনি নিদর্শনসমূহের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন...
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم وخصائص النبوة، (كلام الله مع النبي إما بالوحي، أو من الرؤيا، أو بواسطة الملك) والإسراء والمعراج والقرآن الكريم، ثم أورد الروايات الصحيحة في الباب وانتقاده الروايات الموضوعة والضعيفة والواهية فيه.
ثم ذكر التبشير بالنبوة في الكتب السماوية وهي مؤيدة بالقرآن الكريم، ثم اهتم ببيان خصائص النبي صلى الله عليه وسلم. ويحتوي هذا المجلد على (868) صفحة.
المجلد الرابع:
يشتمل على مقدمة وفصول، وتحدث في المقدمة عن منصب النبوة، وبيَّن الفرق بين النبي والمصلح والحكيم، ثم ذكر حقيقة النبوة وخصائصها، وأدلة إثبات النبوة، وتحدث عن الظلام المطبق الذي كان مسيطراً على العالم عند زمان بعثة النبي صلى الله عليه وسلم، وكان هذا العصر أحط أدوار التاريخ، ثم ذكر الوضع الديني في هذا القرن، وأوضاع العرب في العقيدة والأخلاق، وخصائص العرب ومزايا أهل الجزيرة العربية، والولادة الكريمة، والتبليغ النبوي وأسباب نجاحه، ثم تناول العقائد بالتفصيل، وانتهى هذا المجلد ببيان نتائج الإيمان. ويبلغ (888) صفحة.
المجلد الخامس:
خصص هذا المجلد لبيان العبادات، الصلاة والزكاة والصيام والحج وذكر العبادات القلبية والإخلاص والتوكل والصبر والشكر وغيرها. ويبلغ (376) صفحة.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং নবুওয়তের বৈশিষ্ট্যসমূহ, (নবীর সাথে আল্লাহর কথোপকথন—হয় ওহীর মাধ্যমে, অথবা স্বপ্নের মাধ্যমে, অথবা ফেরেশতার মাধ্যমে), ইসরা ও মিরাজ এবং পবিত্র কুরআন; এরপর তিনি এই অধ্যায়ে সহীহ বর্ণনাগুলো উপস্থাপন করেছেন এবং এতে বিদ্যমান জাল, দুর্বল ও ভিত্তিহীন বর্ণনাগুলোর সমালোচনা করেছেন।
অতঃপর তিনি আসমানী কিতাবসমূহে নবুওয়তের সুসংবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা পবিত্র কুরআন দ্বারা সমর্থিত। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনায় গুরুত্ব প্রদান করেছেন। এই খণ্ডটি ৮৬৮ পৃষ্ঠা সম্বলিত।
চতুর্থ খণ্ড:
এটি একটি ভূমিকা ও কয়েকটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত। তিনি ভূমিকায় নবুওয়তের মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং নবী, সংস্কারক ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর তিনি নবুওয়তের হাকীকত ও বৈশিষ্ট্য এবং নবুওয়ত প্রমাণের দলিলসমূহ উল্লেখ করেছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরণের সময় বিশ্বে বিরাজমান ঘনীভূত অন্ধকার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এই যুগটি ছিল ইতিহাসের নিকৃষ্টতম অধ্যায়। এরপর তিনি এই শতাব্দীর ধর্মীয় অবস্থা, আকিদাহ ও আখলাকের ক্ষেত্রে আরবদের অবস্থা, আরবদের বৈশিষ্ট্য ও আরব উপদ্বীপের অধিবাসীদের বিশেষত্ব, পবিত্র জন্ম, নববী দাওয়াত এবং এর সফলতার কারণসমূহ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি আকিদাহসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন এবং ঈমানের ফলাফল বর্ণনার মাধ্যমে এই খণ্ডটি সমাপ্ত করেছেন। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮৮৮।
পঞ্চম খণ্ড:
এই খণ্ডটি ইবাদতসমূহ—সালাত, জাকাত, সিয়াম ও হজ্জ বর্ণনার জন্য নিবেদিত। এছাড়া এতে কলবি (অন্তরের) ইবাদতসমূহ যেমন: ইখলাস, তাওয়াক্কুল, সবর, শোকর ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৭৬।
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المجلد السادس:
شرح فيه فلسفة الأخلاق في الإسلام، وتحدَّث فيه عن الأخلاق في الإسلام، ومزايا النبي صلى الله عليه وسلم على معلِّمي الأخلاق، وفضائل الأخلاق ورذائلها، والآداب في الإسلام، ويحتوي هذا المجلد على (872) صفحة.
أما المجلد السابع:
فتناول فيه المعاملات في الإسلام، لكن الكتاب لم يتمه وطبع بعد وفاته مع تقديم سماحة الشيخ أبي الحسن الندوي رحمه الله له. ويبلغ هذا المجلد (220) صفحة.
ونال هذا الكتاب قبولاً عاماً، وطبع عدة مرات، ويطبع الآن في ثوب قشيب، ونقل إلى اللغة التركية، والإنكليزية، والبشتو.
ষষ্ঠ খণ্ড:
এতে তিনি ইসলামের নৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করেছেন এবং ইসলামের নৈতিকতা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এছাড়া নৈতিকতার শিক্ষকদের ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শ্রেষ্ঠত্ব, সচ্চরিত্রের গুণাবলি ও মন্দ স্বভাবসমূহ এবং ইসলামের শিষ্টাচার নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই খণ্ডটি (৮৭২) পৃষ্ঠা সম্বলিত।
পক্ষান্তরে সপ্তম খণ্ড:
এতে তিনি ইসলামের লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে তিনি বইটি সম্পন্ন করতে পারেননি এবং এটি তাঁর মৃত্যুর পর শাইখ আবুল হাসান নদভী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ভূমিকা সহকারে মুদ্রিত হয়। এই খণ্ডটি (২২০) পৃষ্ঠা বিশিষ্ট।
এই বইটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে এবং এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে। বর্তমানে এটি নতুন ও সুশোভন আঙ্গিকে মুদ্রিত হচ্ছে এবং এটি তুর্কি, ইংরেজি ও পশতু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الرابع: اطلاع المؤلفين على كتب المستشرقين والرد على بعض آرائهمكان العلامة شبلي من أوائل العلماء في الهند الذين انتبهوا على دسائس المستشرقين الحاقدين على الإسلام والناقمين على النبي عليه الصلاة والتسليم، وقد اطلع العلامة شبلي على مؤلفاتهم اطلاعاً عميقاً، ويشهد على ذلك أنه ذكر قائمة لمؤلفاتهم بلغ عددها سبعة وثلاثين كتاباً.
ثم قسم المستشرقين إلى ثلاث طوائف:
1- طائفة من الكتَّاب الذين لا يعرفون شيئاً عن اللغة العربية ومصادر التاريخ الأصيلة، وجُلُّ معلوماتهم تعتمد على المصادر الأجنبية غير العربية المترجمة والمؤلفة، ولم يكن لهم من مجهود إلا أن يظهروا تلك المعلومات الناقصة المشوشة المطبوعة في قلوبهم وميولهم ونزعاتهم أمام الناس، ومع ذلك نحن نعترف أن بعضاً منهم ينصفون في الكتابة، ولكنهم قليلون جداً.
2- وطائفة منهم أدباء يجيدون اللغة العربية إجادة تامة، ولكنهم يبعدون كل البعد عن العلوم الشرعية وفن السيرة النبوية، فتجرؤوا على الإسلام ونبيه عليه الصلاة والسلام، بما يبعث العجب كـ (سخاو) (SACHUA) ونولديكه (NOLDEKE) من الألمان.
3- هناك طائفة من المستشرقين الذين تخصصوا في العلوم الإسلامية والشريعة مثل بامر (PAMER) ومارجوليت (MARJOULIT) ولكن مع الأسف الشديد كانت دراساتهم مبنية على التعصب للديانة المسيحية والفكر
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যবিদদের কিতাবসমূহের প্রতি লেখকবৃন্দের অবগতি এবং তাদের কিছু মতামতের খণ্ডনআল্লামা শিবলী ভারতের সেই সকল আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা সর্বপ্রথম ইসলাম বিদ্বেষী এবং নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রাচ্যবিদদের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সজাগ হয়েছিলেন। আল্লামা শিবলী তাদের রচনাবলি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। এর প্রমাণ হলো তিনি তাদের গ্রন্থসমূহের একটি তালিকা উল্লেখ করেছেন যার সংখ্যা সাঁইত্রিশটি পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এরপর তিনি প্রাচ্যবিদদের তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন:
1- এমন একদল লেখক যারা আরবি ভাষা এবং ইতিহাসের মৌলিক উৎস সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাদের তথ্যের সিংহভাগই অনারবি অনূদিত এবং রচিত সূত্রের ওপর নির্ভরশীল। মানুষের সামনে তাদের সেই অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যসমূহ—যা তাদের হৃদয়ে বদ্ধমূল এবং তাদের প্রবৃত্তি ও ঝোঁকপ্রসূত—প্রকাশ করা ছাড়া তাদের আর কোনো প্রচেষ্টা ছিল না। এতদসত্ত্বেও আমরা স্বীকার করি যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ লেখালেখিতে ন্যায়বিচার করেন, তবে তারা সংখ্যায় খুবই নগণ্য।
2- তাদের মধ্যে এমন একদল সাহিত্যিক রয়েছেন যারা আরবি ভাষায় পূর্ণ পারদর্শিতা রাখেন, কিন্তু তারা শরয়ি উলুম এবং সীরাত শাস্ত্র থেকে যোজন যোজন দূরে। ফলে তারা ইসলাম ও তার নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ব্যাপারে এমন ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন যা বিস্ময় জাগায়; যেমন জার্মানির সাখাও (SACHAU) এবং নোলডেকে (NOLDEKE)।
3- প্রাচ্যবিদদের মধ্যে এমন একদল আছে যারা ইসলামি উলুম এবং শরিয়তে বিশেষজ্ঞ ছিলেন, যেমন পামার (PAMER) এবং মারগোলিয়াথ (MARJOULIT)। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, তাদের গবেষণা ছিল খ্রিস্টধর্মের গোঁড়ামি এবং চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে...
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
1- الغربي؛ ولذلك هم يشنون هجمات عنيفة على العلوم الإسلامية (1) .
كذلك كان للعلامة السيد سليمان الندوي دراسة واعية لكتابات المستشرقين؛ لأنه درس الاستشراق والمستشرقين دراسة عميقة (2) .
وأنا أذكر بعض الأمثلة لردهما على دراسات المستشرقين:
1- ذكر العلامة شبلي تاريخ مكة المكرمة في كتابه، وأثبت بأدلة أنها كانت مسكن إسماعيل عليه السلام وردَّ في خلال هذا البحث على رأي المستشرق مارجوليوس (MARJOLIOS) الذي ادعى أن مكة ليس لها تاريخ قديم، كما يقوله المسلمون. وهذه الدعوى لا أساس لها، فأورد شبلي أدلة قاطعة على إبطال رأي هذا المستشرق بأقوال المستشرقين أنفسهم مثل دوزي وكارلائل، وأثبت أن مكة هي أقدم وأشرف مركز للعبادة في الدنيا (3) .
2- ذكر شبلي سلسلة نسب النبي صلى الله عليه وسلم إلى معد بن عدنان وقال: هكذا في صحيح البخاري (4) ، ولكن ذكر البخاري في تاريخه من عدنان إلى إبراهيم عليه الصلاة والسلام، ثم ذكر أن لسيدنا إسماعيل عليه السلام اثني عشر ولداً، هم مذكورون في التوراة أيضاً، منهم: قيدار، وانتشر أولاده في الحجاز، ومن أولاده كان عدنان، والنبي صلى الله عليه وسلم كان منه.
ثم ذكر اختلاف المؤرخين في بيان سلسلة نسبه صلى الله عليه وسلم منه إلى عدنان قيل: عشر وسائط، وقيل: أكثر، وقيل: أقل. قال شبلي: "لو قبلنا
--------------------------------------------
১- পশ্চিমা; এজন্যই তারা ইসলামি উলুম বা জ্ঞানবিজ্ঞানের ওপর তীব্র আক্রমণ চালায় (১)।
অনুরূপভাবে আল্লামা সাইয়্যিদ সুলায়মান নদভীর প্রাচ্যবিদদের রচনার ওপর একটি সচেতন গবেষণা ছিল; কারণ তিনি প্রাচ্যবাদ ও প্রাচ্যবিদদের সম্পর্কে গভীর অধ্যয়ন করেছিলেন (২)।
আর আমি প্রাচ্যবিদদের গবেষণার ওপর তাঁদের উভয়ের খণ্ডনের কিছু উদাহরণ উল্লেখ করছি:
১- আল্লামা শিবলী তাঁর কিতাবে মক্কা মুকাররমার ইতিহাস উল্লেখ করেছেন এবং দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, এটি ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বাসস্থান ছিল। এই গবেষণার মাঝেই তিনি প্রাচ্যবিদ মারগোলিয়াস-এর মত খণ্ডন করেছেন, যিনি দাবি করেছিলেন যে, মক্কার কোনো প্রাচীন ইতিহাস নেই যেমনটি মুসলমানরা বলে থাকে। এই দাবিটি ভিত্তিহীন। তাই শিবলী স্বয়ং প্রাচ্যবিদদের বক্তব্য—যেমন ডোজি এবং কার্লাইল—এর মাধ্যমে এই প্রাচ্যবিদের মত বাতিলের ওপর অকাট্য দলিল পেশ করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন যে, মক্কা হলো দুনিয়ার বুকে ইবাদতের প্রাচীনতম ও সর্বশ্রেষ্ঠ কেন্দ্র (৩)।
২- শিবলী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরম্পরা মা'দ বিন আদনান পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: সহীহ বুখারীতে এমনই রয়েছে (৪)। তবে বুখারী তাঁর ইতিহাসে আদনান থেকে ইবরাহীম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের নেতা ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বারোজন সন্তান ছিল, যাদের কথা তাওরাতেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কাইদার। তাঁর বংশধররা হিজাজে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁরই বংশধরদের মধ্যে আদনান ছিলেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন তাঁরই বংশের।
অতঃপর তিনি আদনান থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত তাঁর বংশপরম্পরা বর্ণনায় ঐতিহাসিকদের মতপার্থক্য উল্লেখ করেছেন। বলা হয়েছে: দশজন মধ্যস্থতাকারী, আবার কেউ বলেছেন তার চেয়ে বেশি, কেউ বলেছেন কম। শিবলী বলেছেন: "যদি আমরা মেনে নিই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
أقوال من ذهب إلى عشرة أو تسعة فلا يكون أكثر من ثلاثمائة سنة، وهذا يخالف التاريخ، لأن الفاصل بينهما أكثر بكثير".
ثم أثبت شبلي أن الواسطة بين عدنان وإسماعيل عليه السلام أربعون (1) (2) .
لكن المستشرق (سر ويليم) أنكر نسبه صلى الله عليه وسلم من سيدنا إسماعيل عليه السلام، لاختلاف الروايات في ذلك، وقد ردَّ عليه شبلي أولاً بأقوال المستشرقين ومؤرخي اليهود، وثانيا بما جاء في مصادر التاريخ الإسلامي لبيان ثبوت نسبه صلى الله عليه وسلم إلى سيدنا إسماعيل عليه السلام (3) .
1- قصة الراهب بحيرى، جاءت هذه القصة مطولة في كتب السير والتاريخ ومعروف أنها وقعت في سفر الشام، وذلك أن أبا طالب خرج في ركب تاجراً إلى الشام، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ ذاك ابن اثنتي عشرة سنة، فتعلق به ورقَّ له، واستصحبه في هذه الرحلة، فلما نزل الركب (بصرى) من أرض الشام، وفيها راهب يقال له بحيرى في صومعة له، رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم وما صنع الله له من الخوارق للعادة، فسأله أشياخ من قريش ما عِلْمُك به؟
فقال: إنكم حينما أشرفتم من العقبة لم يبق شجر ولا حجر إلا خرّ ساجداً، ولا يسجدون إلا لنبي (4) .
هذه الرواية جاءت بألفاظ مختلفة.
فانتهز المستشرقون والمغرضون (سرويليم، ميور، دريبر، مارجوليوس)
--------------------------------------------
যারা দশ বা নয়জন পর্যন্ত গিয়েছেন তাদের বক্তব্য অনুযায়ী (সময়কাল) তিনশত বছরের বেশি হয় না, অথচ এটি ইতিহাসের পরিপন্থী; কারণ উভয়ের মধ্যকার ব্যবধান এর চেয়ে অনেক বেশি।"
অতঃপর শিবলী প্রমাণ করেছেন যে, আদনান এবং ইসমাঈল আলাইহিস সালামের মধ্যবর্তী যোগসূত্র হলো চল্লিশজন (১) (২)।
কিন্তু প্রাচ্যবিদ (স্যার উইলিয়াম) এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর ভিন্নতার কারণে সায়্যিদুনা ইসমাঈল আলাইহিস সালামের সাথে তাঁর (রাসূলুল্লাহ ﷺ)-এর বংশীয় যোগসূত্রকে অস্বীকার করেছেন। শিবলী প্রথমত প্রাচ্যবিদ ও ইহুদি ঐতিহাসিকদের বক্তব্যের মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়ত ইসলামী ইতিহাসের উৎসসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তার ভিত্তিতে সায়্যিদুনা ইসমাঈল আলাইহিস সালামের সাথে তাঁর (রাসূলুল্লাহ ﷺ)-এর বংশীয় সম্পর্কের সাব্যস্ততা বয়ান করে এর প্রত্যুত্তর দিয়েছেন (৩)।
১- পাদ্রী বুহাইরার ঘটনা: সীরাত ও ইতিহাসের গ্রন্থসমূহে এই ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং এটি সুপরিচিত যে, এটি সিরিয়া সফরের সময় সংঘটিত হয়েছিল। ঘটনাটি হলো, আবু তালিব কুরাইশদের একটি ব্যবসায়ী কাফেলার সাথে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ছিল বারো বছর। আবু তালিব তাঁর প্রতি অত্যন্ত মমত্ববোধ অনুভব করলেন এবং তাঁকে এই সফরে সফরসঙ্গী করলেন। অতঃপর যখন কাফেলাটি সিরিয়া ভূখণ্ডের 'বুসরা' নামক স্থানে পৌঁছাল—যেখানে একটি মঠে বুহাইরা নামক এক পাদ্রী ছিলেন—তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য যে সকল অলৌকিক নিদর্শনের ব্যবস্থা করেছিলেন তা লক্ষ্য করলেন। তখন কুরাইশদের প্রবীণ ব্যক্তিরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এ বিষয়ে আপনার কাছে কী তথ্য আছে?
তিনি বললেন: তোমরা যখন পাহাড়ের গিরিপথ দিয়ে আসছিলে, তখন এমন কোনো গাছ বা পাথর অবশিষ্ট ছিল না যা সিজদায় লুটিয়ে পড়েনি। আর তারা নবী ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করে না (৪)।
এই বর্ণনাটি বিভিন্ন শব্দে এসেছে।
প্রাচ্যবিদ এবং বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিরা (স্যার উইলিয়াম, মুইর, ড্রেপার, মারগোলিউথ) এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
وغيرهم الفرصة، ورأوا أن هذه الواقعة فيها فتح عظيم لمذهب النصارى، فادّعوا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم تعلم من الراهب بحيرا، ولقنه الأسرار وتعاليم التوحيد في هذا اللقاء القصير.
إن علماء الغرب يَعتدُّون بصحة هذه الرواية، مع أن الرواية -لو صحت- خالية من ذكر التعليم والتلقين، وما قاله علماء الغرب لا يقوله عاقل رُزق من سلامة العقل والإنصاف ذرة، وكيف يعقل أن غلاماً لا يتجاوز عمره اثنتي عشرة سنة على الأكثر أو تسع سنوات على الأصح، تلقى من شيخ لا يعرف لغته، ولم يجلس إليه إلا ما يستغرقه وقت الجلوس على المائدة، المسائل الدقيقة والتفاصيل العميقة في نقد عقيدة الشرك!؟
وانتقد العلامة شبلي صحة هذه القصة وقال: إنها مرسلة إن كان من روى هذه القصة من الصحابة (1) . وقال الترمذي (2) بعدما روى هذا الحديث: "حسن غريب، لا نعرفه إلا من هذا الوجه".
ومن الرواة عبد الرحمن بن غزوان، وقد تكلم فيه أكثر أهل العلم وقال الذهبي (3) : كان يروي الأحاديث المنكرة، وأشدها نكارة الرواية التي جاءت فيها قصة بحيرا.
وأخرج الحاكم هذا الحديث، وقال: "صحيح على شرط الشيخين"، وعلق عليه الذهبي في "تلخيص المستدرك" (4) وقال: "موضوع، وعبد الرحمن واهٍ".
ومما يقدح في هذا الحديث: أنه جاء فيه أن أبا طالب أرسل رسول الله
--------------------------------------------
...এবং অন্যরা একে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁরা মনে করেন যে, এই ঘটনাটি খ্রিস্টান মতবাদের জন্য এক মহা বিজয়। তাঁরা দাবি করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাদ্রি বাহিরা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতে পাদ্রি তাঁকে বিভিন্ন রহস্য ও তাওহিদের শিক্ষা প্রদান করেছেন।
নিশ্চয়ই পশ্চিমা পণ্ডিতগণ এই বর্ণনার বিশুদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দেন, যদিও এই বর্ণনাটি—যদি তা বিশুদ্ধও হয়—শিক্ষা দেওয়া বা নেওয়ার উল্লেখ থেকে মুক্ত। পশ্চিমা পণ্ডিতরা যা বলেছেন, তা সামান্যতম সুস্থ বিবেক ও ইনসাফ রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি বলতে পারেন না। এটি কীভাবে ভাবা সম্ভব যে, সর্বোচ্চ বারো বছর কিংবা অধিক সঠিক মতানুসারে নয় বছর বয়সের একজন কিশোর, এমন একজন বৃদ্ধের কাছ থেকে—যার ভাষা তিনি জানতেন না এবং যার সান্নিধ্যে খাবারের সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান করেননি—শির্কী আকিদার সমালোচনার মতো সূক্ষ্ম ও গভীর বিষয়াদি শিখে নিলেন!?
আল্লামা শিবলী এই গল্পের বিশুদ্ধতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন: যদি কোনো সাহাবী এটি বর্ণনা করে থাকেন তবে এটি একটি মুরসাল বর্ণনা (১)। ইমাম তিরমিযী (২) এই হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন: "এটি হাসান গারিব, আমরা কেবল এই সূত্রেই এটি সম্পর্কে জানি।"
বর্ণনাকারীদের মধ্যে আব্দুর রহমান ইবনে গাযওয়ান রয়েছেন, যার সম্পর্কে অধিকাংশ ইলম অন্বেষণকারী আলেম সমালোচনা করেছেন। ইমাম যাহাবী (৩) বলেন: তিনি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) হাদিস বর্ণনা করতেন, আর তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আপত্তিকর হলো সেই বর্ণনাটি যাতে বাহিরার গল্প এসেছে।
ইমাম হাকিম এই হাদিসটি সংকলন করেছেন এবং বলেছেন: "এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুসারে সহিহ", কিন্তু ইমাম যাহাবী 'তালখিসুল মুস্তাদরাক' (৪) গ্রন্থে এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "এটি বানোয়াট, এবং আব্দুর রহমান একজন দুর্বল বর্ণনাকারী।"
এই হাদিসের বিশুদ্ধতাকে যা ক্ষুণ্ণ করে তা হলো: এতে উল্লেখ রয়েছে যে, আবু তালিব আল্লাহর রাসূলকে পাঠিয়েছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
صلى الله عليه وسلم مع بلال، (وقع في كتاب الترمذي وغيره أنه بعث معه بلالا) وهذا من الغلط الواضح؛ فإن بلالاً إذ ذاك لم يكن موجوداً، وإن كان فلم يكن مع عمه ولا مع أبي بكر (1) .
1- كان النبي صلى الله عليه وسلم يكره قبل النبوة عبادة الأصنام ويمنع من كان قريباً منه من ذلك (2) .
لكن المستشرق (مارجوليوس) ادعى دعوى عجيبة وأتى لإثباتها بطريق الدجل والمكر بأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يعبد الصنم، واستدل عليها برواية "مسند أحمد" (3) وألفاظ الحديث هكذا:
حدَّثني جار لخديجة بنت خويلد أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول لخديجة: أي خديجة والله لا أعبد اللات أبداً، والله لا أعبد العزى أبداً، قال فتقول خديجة: خل العزى. قال: كانت صنمهم التي كانوا يعبدون ثم يضطجعون.
فردَّ العلامة شبلي على هذا المستشرق وقال: "جاء في الحديث بصيغة الجمع (كانوا) معنى ذلك أن العرب كانوا يعبدون اللات والعزى، ولو كانت الإشارة إلى النبي صلى الله عليه وسلم وخديجة لكان بصيغة التثنية، هذا يعرفه كل من له أدنى إلمام باللغة العربية، فصيغة هذه الرواية ترد على هذا المستشرق أيضاً (4) ".
--------------------------------------------
আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক বেলালের সাথে, (তিরমিযীর কিতাবে এবং অন্যান্য গ্রন্থে এসেছে যে তিনি তাঁর সাথে বেলালকে পাঠিয়েছিলেন) আর এটি একটি স্পষ্ট ভুল; কেননা বেলাল তখন অস্তিত্বশীল ছিলেন না, আর যদি থাকতেনও তবে তিনি তাঁর চাচার সাথেও ছিলেন না এবং আবু বকরের সাথেও ছিলেন না (১)।
১- নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) নবুওয়াতের পূর্বে মূর্তিপূজাকে ঘৃণা করতেন এবং তাঁর নিকটজনদের তা থেকে বিরত রাখতেন (২)।
কিন্তু প্রাচ্যবিদ (মারগোলিয়াথ) এক অদ্ভুত দাবি করেছেন এবং তা প্রমাণের জন্য প্রবঞ্চনা ও চাতুর্যের পথ অবলম্বন করে বলেছেন যে, নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) মূর্তিপূজা করতেন। তিনি এর স্বপক্ষে "মুসনাদে আহমাদ"-এর একটি বর্ণনা (৩) দলিল হিসেবে পেশ করেছেন এবং হাদীসের শব্দগুলো নিম্নরূপ:
খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদের একজন প্রতিবেশী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবীকে (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) খাদীজাকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনেছেন: হে খাদীজা, আল্লাহর কসম আমি কখনোই লাত-এর ইবাদত করব না এবং আল্লাহর কসম আমি কখনোই উযযার ইবাদত করব না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন খাদীজা বলতেন: উযযাকে বাদ দিন। বর্ণনাকারী বলেন: সেটি ছিল তাদের সেই মূর্তি যার তারা পূজা করত এবং এরপর বিশ্রাম নিত।
অতঃপর আল্লামা শিবলী এই প্রাচ্যবিদের প্রত্যুত্তর দিয়ে বলেন: "হাদীসে বহুবচন (তারা করত) শব্দে এসেছে, যার অর্থ হলো আরবরা লাত ও উযযার ইবাদত করত। যদি ইঙ্গিত নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ও খাদীজার প্রতি হতো তবে দ্বিবচন শব্দ ব্যবহৃত হতো। এটি আরবি ভাষা সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান রাখা যে কেউ অবগত আছেন। সুতরাং এই বর্ণনার শব্দ গঠনই এই প্রাচ্যবিদের দাবিকে খণ্ডন করে (৪)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هكذا بيَّن العلامة شبلي دسائس المستشرقين وشبهاتهم في كتابه، وردَّ عليهم، واقتدى به تلميذه العلامة السيد سليمان الندوي في هذا الكتاب.
1- ذكر العلامة شبلي في كتابه قصة الهجرة إلى الحبشة، وسؤال النجاشي وجواب جعفر الطيار رضي الله عنه، ولما سمع النجاشي كلامه، فقال: "فأنا أشهد أنه رسول الله، وأنه الذي بشر به عيسى بن مريم عليه السلام، ولولا ما أنا فيه من الملك لأتيته حتى أحمل نعليه، امكثوا في أرضي ما شئتم" إلى آخره (1) .
ذكر العلامة السيد سليمان الندوي على حاشية سيرة النبي: أن المستشرق مارجوليوس يدَّعي: أن محمداً صلى الله عليه وسلم لما شعر أنه لا يستطيع أن يقاوم قريشاً، وهو قد سمع أن أبرهة الأشرم ملك الحبشة ينوي أن يأتي لهدم الكعبة، فأرسل محمد وفداً إلى الحبشة قبل إتيانه ليتفق الوفد مع ملك الحبشة ويرغبه للمجيء إلى هدم الكعبة ليكسر قوة قريش، ثم رأى أنه لو تسلط الملك على مكة لم أستفد منه، لهذا سكت على ذلك.
قال العلامة السيد سليمان الندوي (2) : هذا يخالف الواقع والتاريخ، ثم هذا المستشرق يشك في صحة المكالمة التي دارت بين جعفر رضي الله عنه وملك الحبشة، لأنه ظن أن الملك ما كان يعرف اللغة العربية، فرد عليه العلامة السيد سليمان الندوي، أولاً: كان أهل الحبشة يعرفون اللغة العربية، وثانياً: كان عند كل ملك ترجمان، كما كان بين أبي سفيان وقيصر ملك الروم ترجمان.
سافر النبي صلى الله عليه وسلم إلى الطائف وعرض الدعوة على سادة ثقيف يوم ذلك، فهذا السفر دليلٌ على أهمية دعوة الزعماء، ولكن عند
--------------------------------------------
এভাবেই আল্লামা শিবলী তাঁর গ্রন্থে প্রাচ্যবিদদের ষড়যন্ত্র ও সংশয়সমূহ বর্ণনা করেছেন এবং তাদের জবাব দিয়েছেন; আর তাঁর ছাত্র আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী এই গ্রন্থে তাঁরই অনুসরণ করেছেন।
১- আল্লামা শিবলী তাঁর গ্রন্থে হাবশায় হিজরতের ঘটনা এবং নাজাশীর প্রশ্ন ও জাফর তাইয়্যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উত্তরের কথা উল্লেখ করেছেন। যখন নাজাশী তাঁর কথা শুনলেন, তখন তিনি বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রাসূল এবং তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁর সুসংবাদ ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) দিয়েছিলেন। আমি যদি এই রাজকার্যে ব্যস্ত না থাকতাম, তবে আমি তাঁর কাছে যেতাম এবং তাঁর জুতো জোড়া বহন করতাম। তোমরা আমার ভূমিতে যতদিন ইচ্ছা অবস্থান করো" শেষ পর্যন্ত (১)।
আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী 'সীরাতুন নবী'-র পাদটীকায় উল্লেখ করেছেন যে: প্রাচ্যবিদ মারগোলিউথ দাবি করেন যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন অনুভব করলেন যে তিনি কুরাইশদের মোকাবিলা করতে পারছেন না, আর তিনি শুনেছিলেন যে হাবশার রাজা আবরাহা আল-আশরাম কাবা ধ্বংস করার জন্য আসার পরিকল্পনা করছেন, তখন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর আসার পূর্বেই হাবশায় একটি প্রতিনিধিদল পাঠান যাতে তারা হাবশার রাজার সাথে চুক্তি করে এবং তাকে কাবা ধ্বংস করতে আসার জন্য প্ররোচিত করে, যাতে কুরাইশদের শক্তি ভেঙে যায়। এরপর তিনি ভাবলেন যে, রাজা যদি মক্কার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন তবে আমি এর থেকে কোনো সুবিধা পাব না, একারণে তিনি এ ব্যাপারে নীরব থাকেন।
আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী (২) বলেন: এটি বাস্তব ও ইতিহাসের পরিপন্থী। এরপর এই প্রাচ্যবিদ জাফর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও হাবশার রাজার মধ্যে সংঘটিত কথোপকথনের সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন যে রাজা আরবি ভাষা জানতেন না। এর জবাবে আল্লামা সাইয়্যিদ সুলাইমান নদভী বলেন, প্রথমত: হাবশার অধিবাসীরা আরবি ভাষা জানত; এবং দ্বিতীয়ত: প্রত্যেক রাজার কাছে দোভাষী থাকত, যেমন আবু সুফিয়ান ও রোম সম্রাট কায়সারের মাঝে দোভাষী ছিল।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তায়েফে সফর করেন এবং তৎকালীন সাকীফ গোত্রের নেতাদের কাছে দাওয়াত পেশ করেন। এই সফরটি নেতাদের দাওয়াত দেওয়ার গুরুত্বের প্রমাণস্বরূপ, কিন্তু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المستشرق مارجوليوس. ولكن المستشرق سروليم يخالفه ويعترف أن النبي صلى الله عليه وسلم مع شدة عداوة أهل مكة معه سافر إلى الطائف للدعوة، وهذا دليل على الثقة بالنفس، والفضل ما شهدت به الأعداء (1) .
وقد لخص العلامة شبلي النقاط التي ركز عليها الكُتَّاب الأوربيون في الافتراء على حياة النبي صلى الله عليه وسلم في:
1. أنه تحول من النبوة في مكة إلى الملك والقوة والسيطرة في المدينة، بكل ما يحمل ذلك من إشعال الحروب والقتل والردع وإراقة الدماء.
2. تعدد الزوجات والميل إلى النساء.
3. نشر الإسلام بالقوة.
4. إقرار الرق وممارسته.
5. اتباع الأساليب الدبلوماسية كما يمارسه الحكام الدنيويون (2) ، وقد ناقش الكاتب كل هذه الافتراءات في مواضعها، وردَّ عليها بكل إفاضة.
--------------------------------------------
প্রাচ্যবিদ মারগোলিউথ। তবে প্রাচ্যবিদ স্যার উইলিয়াম তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করেন এবং স্বীকার করেন যে, মক্কাবাসীদের তীব্র শত্রুতা সত্ত্বেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াতের উদ্দেশ্যে তায়েফে সফর করেছিলেন; আর এটি আত্মবিশ্বাসের একটি প্রমাণ, আর প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তো সেটিই যা শত্রুরাও স্বীকার করে (১)।
আর আল্লামা শিবলী সেই বিষয়গুলো সংক্ষেপ করেছেন যেগুলোর ওপর ইউরোপীয় লেখকরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনের ওপর অপবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আলোকপাত করেছেন:
১. তিনি মক্কায় নবুওয়াত থেকে মদীনায় রাজত্ব, শক্তি ও কর্তৃত্বের দিকে মোড় নিয়েছিলেন, যা যুদ্ধ বিগ্রহ উসকে দেওয়া, হত্যা, দমন-পীড়ন এবং রক্তপাতের সকল অনুষঙ্গ বহন করে।
২. বহুবিবাহ এবং নারীদের প্রতি আসক্তি।
৩. শক্তির মাধ্যমে ইসলাম প্রচার।
৪. দাসপ্রথা বহাল রাখা এবং তার চর্চা।
৫. পার্থিব শাসকদের ন্যায় কূটনৈতিক কৌশল অনুসরণ করা (২), আর লেখক এই সকল অপবাদ নিয়ে স্ব-স্ব স্থানে আলোচনা করেছেন এবং অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে সেগুলোর জবাব দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الخامس: الأسس التي أقام عليها العلامة شبلي تأليف كتابه1- ما جاء في القرآن الكريم هو المرجع الأعلى في السيرة.
2- ما جاء في الأحاديث الصحيحة. ورأى أن خطأ كبيراً حدث نتيجة البحث عن الموضوعات تحت عناوين معينة، فإذا لم يجدوا مالوا إلى الحديث الضعيف فاستعانوا به، بينما في كتب الحديث تفاصيل كثيرة جاءت كأنها حقائق ثانوية ضمن موضوع أساسي، ويمكن مع الدراسة العميقة جمع كل هذه التفاصيل الدقيقة والصحيحة عن حياة النبي صلى الله عليه وسلم.
فميزة هذا الكتاب أن الكاتب حاول أن يجمع فيه معظم التفاصيل من كتب الحديث، وأعاد تبويبها من جديد، وهي التي لم تجتذب أنظار المؤلفين السابقين.
3- فيما يتعلق بالأحداث اليومية اكتفى بما جاء به ابن سعد في طبقاته، وابن هشام في السيرة، والطبري في التاريخ، وإن كان للحادث قيمة كبيرة قام بتحقيقه تحقيقا علميا دقيقا.
4- إعداد كل المواد السابقة وتحقيقها (1) .
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আল্লামা শিবলী তাঁর গ্রন্থ রচনায় যেসব মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেছেন১- পবিত্র কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তা সীরাত বা নবী-চরিতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উৎস।
২- সহীহ হাদীসসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে। তিনি মনে করতেন যে, নির্দিষ্ট শিরোনামের অধীনে বিষয়বস্তু খোঁজার ফলে একটি বড় ভুল সংঘটিত হয়েছে; যখন তারা কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পেতেন না, তখন তারা দুর্বল হাদীসের দিকে ঝুঁকে পড়তেন এবং তার সাহায্য নিতেন। অথচ হাদীস গ্রন্থগুলোতে এমন অনেক বিবরণ রয়েছে যা কোনো মূল বিষয়ের অধীনে গৌণ তথ্য হিসেবে এসেছে; গভীর অধ্যয়নের মাধ্যমে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন সম্পর্কে এই সকল সূক্ষ্ম ও সহীহ বিবরণ সংগ্রহ করা সম্ভব।
সুতরাং এই গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য হলো, লেখক এতে হাদীস গ্রন্থগুলো থেকে অধিকাংশ বিবরণ সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছেন এবং সেগুলোকে নতুন করে বিন্যস্ত করেছেন, যা পূর্ববর্তী লেখকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি।
৩- দৈনন্দিন ঘটনাবলীর ক্ষেত্রে তিনি ইবনে সা'দ-এর 'তাবাকাত', ইবনে হিশাম-এর 'সীরাত' এবং তাবারী-এর 'তারীখ'-এ যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপরই নির্ভর করেছেন। তবে ঘটনাটির গুরুত্ব অধিক হলে তিনি তা সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই করেছেন।
৪- পূর্বোক্ত সকল উপকরণ প্রস্তুত করা এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করা (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث السادس: كتب المغازي والسير في ميزان العلمذكر العلامة شبلي قائمة المصادر الأولى للسيرة كما أشرنا إليه قبل ذلك وذكر قائمة كتب المتأخرين أيضا.
وذكر ترجمة لكل مؤلف باختصار.
وقال: "لا شك أن مؤرخي السير لم يلتزموا بقواعد المحدثين، ورب رجل مجروح وهو ثقة عند أهل السير، ولكن يختلف منهج علماء المسلمين عن مؤرخي التاريخ من غير المسلمين"، ويقول: "لما أرادت الأمم الأخرى من غير المسلمين أن تجمع في أطوار نهضتها أقوال رجالها ورواياتها كان قد فات عليهم زمن طويل، وانقضى بينها وبينهم عهد بعيد، فحاولوا كتابة شؤون أمة قد خلت، ولم يميزوا بين غث ذلك الماضي وسمينه، وصحيحه وسقيمه، بل لم يعلموا أحوال رواة تلك الأخبار ولا أسماءهم ولا تواريخ ولادتهم، فاكتفوا بأن اصطفوا من أخبار هؤلاء الرواة المجهولين ورواياتهم ما يوافق هواهم، ويلائم بيئتهم، وينطبق على مقاييسهم. ثم لم يمض غير زمن يسير حتى صارت تلك الخرافات معدودة كالحقائق التاريخية المدونة في الكتب. وعلى هذا المنهج السقيم صُنفت أكثر الكتب الأوربية مما يتعلق بالأمم الخالية وشؤونها، والأقوام القديمة وأخبارها، والأديان السابقة ومذاهبها ورجالها.
وأما المسلمون فقد جعلوا لرواية الأخبار والسير قواعد محكمة يرجعون إليها وأصولاً متقنة يتمسكون بها".
ثم ذكر تدوين أسماء الرجال عند المسلمين وذكر المصادر التي رجع إليها لتحقيق الروايات لتأليف هذا الكتاب منها:
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ইলমের মানদণ্ডে মাগাযী ও সীরাত গ্রন্থসমূহআল্লামা শিবলী সীরাতের প্রাথমিক উৎসসমূহের একটি তালিকা উল্লেখ করেছেন যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি, এবং তিনি পরবর্তী লেখকদের কিতাবসমূহের একটি তালিকাও উল্লেখ করেছেন।
এবং তিনি প্রত্যেক লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সীরাত ঐতিহাসিকগণ মুহাদ্দিসগণের মূলনীতিসমূহ পুরোপুরি মেনে চলেননি; অনেক সময় এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যিনি মুহাদ্দিসদের নিকট সমালোচিত হওয়া সত্ত্বেও সীরাত বিশেষজ্ঞদের নিকট নির্ভরযোগ্য। তবে মুসলিম আলেমদের অনুসৃত পদ্ধতি অমুসলিম ঐতিহাসিকদের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন।" তিনি আরও বলেন: "অমুসলিম জাতিসমূহ যখন তাদের জাগরণের যুগে তাদের পূর্বপুরুষদের কথা ও বর্ণনাগুলো সংকলন করতে চাইল, তখন তাদের মাঝে এক দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের ও সেই আদি যুগের মাঝে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছিল। ফলে তারা এক গত হয়ে যাওয়া জাতির বিষয়াদি লেখার চেষ্টা করেছিল, অথচ তারা সেই অতীতের অসার ও সারগর্ভ অথবা বিশুদ্ধ ও অশুদ্ধের মাঝে পার্থক্য করতে পারেনি। এমনকি তারা সেই সংবাদের বর্ণনাকারীদের অবস্থা, তাদের নাম, কিংবা তাদের জন্মতারিখ সম্পর্কেও অবগত ছিল না। ফলে তারা এই অজ্ঞাতনামা বর্ণনাকারীদের সংবাদ ও বর্ণনা থেকে কেবল তা-ই নির্বাচন করে তুষ্ট ছিল যা তাদের খেয়াল-খুশির অনুগামী হয়, তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খায় এবং তাদের নিজস্ব মানদণ্ডের সাথে মিলে যায়। অতঃপর খুব অল্প সময় অতিবাহিত হতে না হতেই সেই রূপকথাগুলো কিতাবে লিপিবদ্ধ ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গণ্য হতে শুরু করল। আর এই ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করেই অতীতের জাতি ও তাদের অবস্থা, প্রাচীন কওম ও তাদের সংবাদ এবং পূর্ববর্তী ধর্ম, মতবাদ ও ব্যক্তিবর্গ সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ইউরোপীয় গ্রন্থ রচিত হয়েছে।
পক্ষান্তরে মুসলিমগণ সংবাদ ও সীরাত বর্ণনার জন্য সুসংহত নিয়মাবলি তৈরি করেছেন যার দিকে তারা প্রত্যাবর্তন করেন এবং সুদৃঢ় মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন যা তারা আঁকড়ে ধরেন।"
অতঃপর তিনি মুসলিমদের নিকট বর্ণনাকারীদের জীবনবৃত্তান্ত সংকলনের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং সেই উৎসসমূহ বর্ণনা করেছেন যেগুলোর ওপর তিনি এই কিতাবটি রচনার ক্ষেত্রে বর্ণনাগুলোর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নির্ভর করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
(تهذيب الكمال) للحافظ المزي و (تهذيب التهذيب) و (لسان الميزان) و (تقريب التهذيب) للحافظ ابن حجر و (التاريخ الكبير) للبخاري، و (التاريخ الصغير) له، و (الثقات) لابن حبان، و (تذكرة الحفاظ) للإمام الذهبي، و (مشتبه النسبة) له، و (الأنساب) للسمعاني و (تهذيب الأسماء) للنووي، واستفاد منها (1) .
وذكر شبلي أننا ألقينا نظرة عابرة على التاريخ، والآن نتحدث في نواح علمية مختلفة. وقال: "ثمة مئات من كتب التاريخ، ولكنها جميعاً تعتمد على ثلاثة أو أربعة مصادر قديمة فقط، وهي: كتاب ابن إسحاق والواقدي وابن سعد والطبري، أما الكتب الأخرى فقد ألفت فيما بعد، ومعظمها مأخوذ من هذه الأمهات". قال شبلي:" أما كتاب الواقدي فلا يستحق أبداً أن ننظر إليه أو نعطيه أي اهتمام، لقد اتفق المحدِّثون على أنه اخترع الأحداث والوقائع، وكتابه يدل على الكذب والاختراع ".
وأما الكتب الثلاثة فتستحق الدراسة، لقد انتقد الإمام مالك ابنَ إسحاق وجرَّحه، ولكن روى عنه البخاري في رسالته " جزء القراءة " عدة روايات ووثق به، أما ابن سعد والطبري فهما من الثقات، ولكن هذا لا يدل على صحة كتبهم، ونجد كثيراً من رواتهما من الضعفاء.
كتاب ابن إسحاق ليس الآن في الهند، وهناك كتاب ابن هشام الذي رتب كتابه ونسقه تنسيقاً جديداً، لكن ابن هشام روى كتاب ابن إسحاق من طريق البكائي (2) (المتوفى سنة 183?) ، ولا شك أنه رجل عظيم ولكنه ضعيف.
--------------------------------------------
হাফিয আল-মিযযীর (তহযীবুল কামাল), (তহযীবুত তহযীব), (লিসানুল মীযান) এবং হাফিয ইবনে হাজারের (তাকরীবুত তহযীব), বুখারীর (আত-তারীখুল কাবীর) ও তাঁরই (আত-তারীখুস সাগীর), ইবনে হিব্বানের (আস-সিকাত), ইমাম আয-যাহাবীর (তাযকিরাতুল হুফফায) ও তাঁরই (মুশতাবিহুন নিসবাহ), আস-সামআনীর (আল-আনসাব) এবং আন-নববীর (তহযীবুল আসমা) এবং তিনি এগুলো থেকে উপকৃত হয়েছেন (১)।
শিবলী উল্লেখ করেছেন যে, আমরা ইতিহাসের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিপাত করেছি এবং এখন আমরা বিভিন্ন ইলমী দিক নিয়ে আলোচনা করব। তিনি বলেছেন: "ইতিহাসের শত শত কিতাব রয়েছে, তবে সেগুলো সব মূলত মাত্র তিন বা চারটি প্রাচীন উৎসের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো হলো: ইবনে ইসহাক, আল-ওয়াকদি, ইবনে সাদ এবং আত-তবারীর কিতাব। আর অন্যান্য কিতাবগুলো পরবর্তী সময়ে রচিত হয়েছে এবং সেগুলোর অধিকাংশ এই মূল কিতাবগুলো থেকে সংগৃহীত।" শিবলী বলেন: "ওয়াকদির কিতাবটি এমন যে, সেটির দিকে নজর দেওয়া বা সেটিকে কোনো গুরুত্ব দেওয়ার বিন্দুমাত্র যোগ্যতা তার নেই। মুহাদ্দিসগণ এ বিষয়ে একমত যে, তিনি ঘটনা ও বিষয়াদি উদ্ভাবন করতেন এবং তাঁর কিতাব মিথ্যা ও জালিয়াতিতর প্রমাণ দেয়।"
আর বাকি তিনটি কিতাব অধ্যয়নের যোগ্য। ইমাম মালিক ইবনে ইসহাককে সমালোচনা ও জরাহ করেছেন, তবে ইমাম বুখারী তাঁর 'জুযউল কিরাআহ' নামক পুস্তিকায় তাঁর থেকে বেশ কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য করেছেন। আর ইবনে সাদ ও আত-তবারী উভয়েই নির্ভরযোগ্য, কিন্তু এটি তাঁদের কিতাবসমূহের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে না; কারণ আমরা তাঁদের অনেক বর্ণনাকারীকে দুর্বল হিসেবে পাই।
ইবনে ইসহাকের কিতাবটি বর্তমানে ভারতে নেই; সেখানে ইবনে হিশামের কিতাবটি রয়েছে যিনি কিতাবটিকে নতুন বিন্যাসে সাজিয়েছেন। তবে ইবনে হিশাম আল-বুক্কায়ীর (মৃত্যু ১৮৩ হিজরী?) সূত্রে ইবনে ইসহাকের কিতাবটি বর্ণনা করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি একজন মহান ব্যক্তি ছিলেন কিন্তু তিনি বর্ণনাকারী হিসেবে দুর্বল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أما ابن سعد فنصف رواياته من طريق الواقدي، والواقدي ضعيف، وغير ثقة، ونصف الروايات التي رويت عن غير الواقدي تحتاج إلى فحص وتنقيح.
وفي روايات الطبري بعض كبار شيوخه، وهم من الضعفاء، ولذلك لا نقبل أي كتاب من كتب التاريخ إلا بعد الفحص والتحري.
ولا شك أن هذه الكتب تحتاج إلى بحث وتنقيح وتحقيق على القواعد التي وضعها علماء المسلمين لمعرفة الأخبار، وقد قام العلامة شبلي وتلميذه العلامة السيد الندوي بهذه المهمة في تأليف هذا الكتاب.
إن كتب السيرة كثيرة، ولكن هذه المؤلفات السالفة من أهم المراجع، وكل من ألف بعد هؤلاء اقتبس من كتبهم.
وقد ذكر شبلي ترجمة لكل واحد منهم، لذا فإني أذكر تراجمهم مع حذف وزيادة:
1- محمد بن إسحاق (1) المتوفى سنة 150هـ.
وهو أكثر الناس شهرة في المغازي والسير، لأنه من التابعين وقد رأى أنس بن مالك رضي الله عنه بالمدينة.
قال علي بن المديني: "مدار حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم على ستة" فذكرهم، ثم قال: "فصار علم الستة عند اثني عشر، أحدهم محمد بن
--------------------------------------------
ইবনে সা'দ সম্পর্কে বলতে গেলে, তার অর্ধেক বর্ণনা ওয়াকিদির সূত্রে প্রাপ্ত; আর ওয়াকিদি হলেন দুর্বল ও অবিশ্বস্ত। ওয়াকিদি ব্যতীত অন্য যেসব সূত্রে বর্ণনাগুলো বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর অর্ধেকাংশও যাচাই-বাছাই ও সংশোধনের মুখাপেক্ষী।
তাবারির বর্ণনাগুলোতে তার কিছু বড় শিক্ষক রয়েছেন যারা দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত। এই কারণে যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান ব্যতীত আমরা ইতিহাসের বইগুলোর কোনোটিই গ্রহণ করি না।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সংবাদ জানার জন্য মুসলিম উলামায়ে কেরাম কর্তৃক প্রণীত মূলনীতির আলোকে এই বইগুলো গবেষণা, পরিমার্জন ও তাহকিকের (যাচাইকরণের) প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আল্লামা শিবলী এবং তার ছাত্র আল্লামা সাইয়্যেদ নদভী এই বইটি রচনার ক্ষেত্রে সেই দায়িত্বটি পালন করেছেন।
সীরাতের কিতাব অনেক, তবে পূর্বোক্ত এই রচনাবলী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তীতে যারা সীরাত লিখেছেন, তারা সবাই এই কিতাবগুলো থেকেই উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।
শিবলী তাদের প্রত্যেকের জীবনী উল্লেখ করেছেন, তাই আমি কিছু বর্জন ও সংযোজনসহ তাদের জীবনী উল্লেখ করছি:
১- মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (১), মৃত্যু ১৫০ হিজরি।
মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) ও সীরাতের ক্ষেত্রে তিনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত, কারণ তিনি তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং মদীনায় আনাস ইবনে মালেক (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখেছিলেন।
আলী ইবনুল মাদিনী বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের আবর্তন ছয়জন ব্যক্তির ওপর" - এরপর তিনি তাদের উল্লেখ করেন। অতঃপর বলেন: "সেই ছয়জনের জ্ঞান বারোজন ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে, যাদের একজন হলেন মুহাম্মাদ ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবু সীরাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
إسحاق". سئل ابن شهاب الزهري عن المغازي، فقال: "هذا أعلم الناس بها"، يعني محمد بن إسحاق.
كان الإمام مالك يعارضه، ولكن الآخرين يثقون برواياته في المغازي والسير، قال الذهبي: "والذي يظهر لي أن ابن إسحاق حسن الحديث، صالح الحال، صدوق"، وذكره ابن حبان في " الثقات ".
قال يعقوب بن شيبة: سألت عليا –يعني ابن المديني-: كيف حديث ابن إسحاق عندك، صحيح؟ فقال: نعم، حديثه عندي صحيح، قلت: فكلام مالك فيه؟ قال: مالك لم يجالسه ولم يعرفه، وأي شيء حدَّث به ابن إسحاق في المدينة؟
قلت: فهشام بن عروة قد تُكُلم فيه، فقال علي: الذي قال هشام ليس بحجة إلخ. وهو الذي رفع شأن علم المغازي.
وذكر العلامة شبلي أن كتاب ابن اسحاق في "المغازي" ترجم إلى اللغة الفارسية في عصر الشاعر الشهير سعدي الشيرازي بأمر من أبي بكر سعد الزنكي، ومنه نسخة خطية في مكتبة إله آباد في الهند (1) .
2- ابن هشام
هو أبو محمد عبد الملك بن هشام بن أيوب الحميري المتوفى سنة 218هـ أو 213هـ مؤرخ ونسابة ونحوي، ولد في البصرة وعاش في مصر.
وقال السيوطي: وثقه أبو سعيد بن يونس (2) .
لخص ابن هشام في كتابه السيرة التي صنفها محمد بن إسحاق وهذبها،
--------------------------------------------
"ইসহাক"। ইবনে শিহাব আজ-জুহরিকে মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "এই ব্যক্তি এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী," অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক।
ইমাম মালিক তাঁর বিরোধিতা করতেন, কিন্তু অন্যরা মাগাজি ও সিরাত (জীবনী) বিষয়ে তাঁর বর্ণনার ওপর আস্থা রাখেন। আজ-জাহাবি বলেন: "আমার কাছে যা স্পষ্ট তা হলো, ইবনে ইসহাক হাসানুল হাদিস, নেককার এবং সত্যবাদী," আর ইবনে হিব্বান তাঁকে "আত-থিকাত" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
ইয়াকুব বিন শাইবা বলেন: আমি আলীকে—অর্থাৎ ইবনে আল-মাদিনিকে—জিজ্ঞাসা করলাম: আপনার নিকট ইবনে ইসহাকের হাদিস কেমন, তা কি সহিহ? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমার নিকট তাঁর হাদিস সহিহ। আমি বললাম: তাহলে তাঁর ব্যাপারে (ইমাম) মালিকের বক্তব্যের বিষয়ে কী বলবেন? তিনি বললেন: মালিক তাঁর সাথে বসেননি এবং তাঁকে চিনতেনও না; আর ইবনে ইসহাক মদিনায় কী-ই বা বর্ণনা করেছেন?
আমি বললাম: হিশাম বিন উরওয়াহ তো তাঁর সমালোচনা করেছেন। তখন আলী বললেন: হিশাম যা বলেছেন তা দলিলযোগ্য নয় ইত্যাদি। আর তিনিই মাগাজি শাস্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন।
আল্লামা শিবলী উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে ইসহাকের "মাগাজি" গ্রন্থটি বিখ্যাত কবি সাদি শিরাজি-র যুগে আবু বকর সাদ আল-জাঙ্কির আদেশে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল এবং এর একটি পাণ্ডুলিপি ভারতের এলাহাবাদ লাইব্রেরিতে রয়েছে (১)।
২- ইবনে হিশাম
তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক বিন হিশাম বিন আইয়ুব আল-হিময়ারি, যিনি ২১৩ হিজরি বা ২১৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একজন ঐতিহাসিক, বংশলতিকাবিদ এবং ব্যাকরণবিদ ছিলেন; তিনি বসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মিশরে বসবাস করেন।
আস-সুয়ুতি বলেন: আবু সাইদ বিন ইউনুস তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (২)।
ইবনে হিশাম তাঁর গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক কর্তৃক সংকলিত সিরাতকে সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত করেছেন,
--------------------------------------------