(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب التوحيد وقرة عيون الموحدين في تحقيق دعوة الأنبياء والمرسلين القسم: العقيدة
الكتاب: كتاب التوحيد وقرة عيون الموحدين في تحقيق دعوة الأنبياء والمرسلين
المؤلف: عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي
المحقق: بشير محمد عيون [ت 1431 هـ]
الناشر: مكتبة المؤيد، الطائف، المملكة العربية السعودية/ مكتبة دار البيان، دمشق، الجمهورية العربية السورية
الطبعة: الأولى، 1411 هـ/1990 م
عدد الصفحات: 332
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কিতাবুত তাওহিদ এবং নবী ও রাসূলগণের দাওয়াত বাস্তবায়নে মুওয়াহহিদগণের চক্ষুশীতলকারী বিভাগ: আকীদাহ
বই: কিতাবুত তাওহিদ এবং নবী ও রাসূলগণের দাওয়াত বাস্তবায়নে মুওয়াহহিদগণের চক্ষুশীতলকারী
লেখক: আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমী
সম্পাদক: বশীর মুহাম্মাদ উয়ুন [মৃত্যু ১৪৩১ হিজরী]
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মুয়াইয়্যাদ, তায়েফ, সৌদি আরব রাজ্য/ মাকতাবাতু দারিল বায়ান, দামেস্ক, সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরী/১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩২
[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة…كتاب التوحيد وقرة عيون الموحدين في تحقيق دعوة الأنبياء المرسلين
تأليف: عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وبعد: فهذا كتاب "قرة عيون الموحدين" للعلامة الشيخ عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب، المتوفي سنة "1285 " هـ، وقد وضع فيه بعض الحواشي المفيدة على كتاب جده شيخ الإسلام في عصره الشيخ محمد بن عبد الوهاب النجدي التميمي المتوفى سنة "1206 " هـ، الذي دعا إلى توحيد الله عز وجل وعدم الإشراك به، وقد تبعه في ذلك حفيده الشيخ عبد الرحمن، فوضع بعض الحواشي المختصرة في كتابه هذا الذي سماه "قرة عيون الموحدين "، وإنه بحق قرة عيون الموحدين في تحقيق دعوة الأنبياء والمرسلين، الذين دعوا إلى عبادة الله وحده وعدم الإشراك به، فبين الشيخ عقيدة التوحيد، وحذر مما يعد من الشرك الذي تساهل الناس فيه في عصرنا الحاضر، كالتمائم، والتبرك بالأحجار والأشجار وغيرهما، وبين أنه لا تجوز العبادة إلا لله تعالى، وأن الذبح أيضا لا يجوز إلا لله، وكذلك النذور لا تجوز إلا لله، وأن من الشرك أن يستغيث الإنسان بغير الله تعالى وأنه ينبغي أن لا يسأل غير الله تعالى، ولا يستعين إلا بالله، وقد قال رسول الله صلي الله عليه وسلم لابن عمه عبد الله بن عباس رضي الله عنهما: " وإذا سألت فاسأل الله، وإذا استعنت فاستعن بالله " 1 وقال تعالى في القرآن الكريم: {وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلا كَاشِفَ لَهُ إِلا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ} 2.
وبين رحمه الله أن سبب كفر بني آدم، الغلو في الصالحين حتى صارت كالأوثان تعبد من دون الله، وحذر الناس من السحر والكهانة، والتطير والتنجيم والاستسقاء بالأنواء، وبين أن من الشرك الحلف بغير الله تعالى، وأن على المؤمن أن يسأل الله تعالى بأسمائه الحسنى، وصفاته العلى، وبين أيضا رحمه الله أن رسول الله صلي الله عليه وسلم حمى التوحيد وسد طرق الشرك، ومن أراد في هذا شرحا وافيا فعليه أيضا بكتاب "فتح المجيد شرح كتاب التوحيد" الذي هو شرح أيضا للمؤلف نفسه
--------------------------------------------
ভূমিকা...কিতাবুত তাওহিদ ও একত্ববাদীদের চোখের প্রশান্তি: প্রেরিত নবীগণের দাওয়াত বাস্তবায়নের বর্ণনায়
রচনা: আব্দুর রহমান ইবনে হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
উপস্থাপনা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথপ্রদর্শন করতে পারে না।
অতঃপর: এটি আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (মৃত্যু ১২৮৫ হিজরি) রচিত 'কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহহিদিন' গ্রন্থ। তিনি এতে তাঁর দাদা, স্বীয় যুগের শাইখুল ইসলাম শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নাজদী তামিমি (মৃত্যু ১২০৬ হিজরি)-এর গ্রন্থের ওপর কিছু উপকারী টীকা যুক্ত করেছেন, যিনি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর তাওহিদের দিকে এবং তাঁর সাথে শিরক না করার জন্য দাওয়াত দিয়েছিলেন। তাঁর নাতি শাইখ আব্দুর রহমান এই ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর এই গ্রন্থে কিছু সংক্ষিপ্ত টীকা প্রদান করেছেন যার নাম তিনি রেখেছেন 'কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহহিদিন'। নিশ্চয়ই এটি নবী ও রাসূলগণের দাওয়াত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একত্ববাদীদের চোখের প্রকৃত প্রশান্তি, যাঁরা কেবল একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাঁর সাথে শিরক না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শাইখ এখানে তাওহিদের আকিদা বর্ণনা করেছেন এবং শিরক গণ্য হয় এমন বিষয়গুলো থেকে সতর্ক করেছেন যেগুলোতে বর্তমান যুগে মানুষ শিথিলতা প্রদর্শন করে, যেমন—তাবিয, পাথর ও গাছপালার মাধ্যমে বরকত গ্রহণ ইত্যাদি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা বৈধ নয় এবং জবাই করাও আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য বৈধ নয়। তদ্রূপ মানতও কেবল আল্লাহর জন্যই। আর শিরকের অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষ কর্তৃক মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করা এবং মানুষের উচিত আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে না চাওয়া এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা না করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলেছিলেন: "যখন তুমি কিছু চাইবে, আল্লাহর কাছেই চাইবে; আর যখন সাহায্য প্রার্থনা করবে, আল্লাহর কাছেই করবে।" ১ এবং মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন: {আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো কষ্টের স্পর্শ দেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী আর কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কোনো কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।} ২।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, বনী আদমের কুফরির কারণ হলো নেককার লোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা, যার ফলে তারা মূর্তির মতো হয়ে যায় এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ইবাদত করা হয়। তিনি মানুষকে জাদু, গণকগিরি, কুলক্ষণ গ্রহণ, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করা শিরক এবং মুমিনের উচিত আল্লাহর কাছে তাঁর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির মাধ্যমে প্রার্থনা করা। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাওহিদকে রক্ষা করেছেন এবং শিরকের সমস্ত পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। আর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চায়, তাকে একই লেখকের 'ফাতহুল মাজিদ শারহু কিতাবিত তাওহিদ' গ্রন্থটি অধ্যয়ন করতে হবে, যা লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২)
على كتاب جده "التوحيد"، فإنه قد أجاد فيه، وأفاد، جزاه الله تعالى خيرا.
وإننا نقدم للناس هذه الرسالة في وقت أحوج ما نكون فيه إلى تصحيح عقائد المسلمين والرجوع بها إلى النبع الصافي من كتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلي الله عليه وسلم وهي تعطينا صورة صادقة لما كانت عليه عقيدة الأمة الإسلامية في قرونها الخيرة التي تلقوها عن أئمتهم، وهي عقيدة السلف الصالح، وهي العقيدة السليمة والطريقة المستقيمة التي ينبغي على كل مسلم أن يسلك سبيلها، وأن يسير على منهاجها، نسأل الله تبارك وتعالى أن يميتنا على عقيدة أهل السنة والجماعة، وأن يحشرنا مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين، وحسن أولئك رفيقا، ذلك الفضل من الله وكفي بالله عليما.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
كتبه خادم السنة النبوية
عبد القادر الأرناؤوط
مقدمة المحقق
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي لا إله إلا هو وحده، والصلاة والسلام على محمد وآله وصحبه، وبعد، اعتمدت في تحقيق كتاب "قرة عيون الموحدين" على طبعة الأستاذ محمد رشيد رضا رحمه الله تعالى، الذي هو حاشية على "كتاب التوحيد" لشيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله تعالى، المطبوعة بمطبعة المنار سنة 1346هـ، وقد رأينا أن الفائدة لا تتم من الكتاب إلا إذا كان مصدر بكتاب التوحيد كاملا فكان عملنا:
1- صدرت "كتاب التوحيد" في أعلى الصفحات.
2- جعلت "كتاب قرة عيون الموحدين" حاشية له وبحرف مغاير للأول.
خرجت أحاديث الكتابين، وذلك بالرجوع إلى كتب السنة المطهرة، وإلى كتب الشيخين محمد ناصر الدين الألباني وعبد القادر الأرناؤوط، وألحقت بالكتاب فهرسا لأطراف الحديث وآخر لموضوعات الكتاب.
وأسأل الله تعالى أن ينفع بهذا الكتاب ويقر به عيون الموحدين، الذين يتبعون رسالاته ويخشونه ولا يخشون أحدا سواه.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
بشير محمد عيون
তাঁর দাদার গ্রন্থ "আত-তাওহীদ"-এর ওপর, নিশ্চয়ই তিনি এতে চমৎকার কাজ করেছেন এবং উপকৃত করেছেন, মহান আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।
আর আমরা মানুষের সামনে এই রিসালাহটি এমন এক সময়ে পেশ করছি যখন মুসলমানদের আকিদা সংশোধন করা এবং সেগুলোকে মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর স্বচ্ছ উৎসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আর এটি আমাদের সামনে সেই সত্য চিত্র তুলে ধরে যার ওপর ইসলামের শ্রেষ্ঠ শতাব্দীগুলোতে মুসলিম উম্মাহর আকিদা প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা তারা তাদের ইমামদের কাছ থেকে লাভ করেছিলেন। আর এটিই হলো সালাফে সালেহীনের আকিদা, এটিই সেই সঠিক আকিদা ও সরল পথ যার ওপর চলা এবং যার মানহাজ অনুসরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। আমরা বরকতময় ও মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদার ওপর মৃত্যু দান করেন এবং আমাদের হাশর যেন তাদের সাথে করেন যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ; আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না উত্তম। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহা অনুগ্রহ, আর পরিজ্ঞাত হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
আমাদের শেষ কথা হলো সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন সুন্নাহে নববীর খাদেম
আব্দুল কাদির আল-আরনাউত
মুহাক্কিকের ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর। অতপর, আমি "কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহহিদীন" কিতাবটি তাহকীক করার ক্ষেত্রে উস্তাদ মুহাম্মাদ রশীদ রিদা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি, যা শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বিরচিত "কিতাবুত তাওহীদ"-এর একটি টীকা। এটি ১৩৪৬ হিজরিতে আল-মানার প্রেসে মুদ্রিত হয়েছিল। এবং আমরা দেখেছি যে, কিতাবটি থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ উপকার পাওয়া সম্ভব নয় যতক্ষণ না একে পূর্ণাঙ্গ কিতাবুত তাওহীদ দ্বারা সমৃদ্ধ করা হয়। ফলে আমাদের কাজ ছিল:
১- আমি পৃষ্ঠার উপরিভাগে "কিতাবুত তাওহীদ" স্থাপন করেছি।
২- আমি "কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহহিদীন" কিতাবটিকে এর টীকা হিসেবে রেখেছি এবং প্রথমটির চেয়ে ভিন্ন ফন্ট ব্যবহার করেছি।
আমি উভয় কিতাবের হাদিসগুলোর তাখরীজ করেছি পবিত্র সুন্নাহর কিতাবসমূহ এবং দুই শাইখ—মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী ও আব্দুল কাদির আল-আরনাউত-এর কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে। এছাড়া আমি কিতাবের শেষে হাদিসের প্রথমাংশের একটি সূচি এবং কিতাবের বিষয়বস্তুর একটি সূচি যুক্ত করেছি।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কিতাবের মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং এর দ্বারা মুওয়াহহিদদের (একত্ববাদী) চক্ষু শীতল করেন, যারা তাঁর বাণীসমূহ অনুসরণ করে এবং তাঁকে ভয় করে আর তিনি ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না।
আমাদের শেষ কথা হলো সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
বশীর মুহাম্মাদ উয়ুন
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، وصلى الله على محمد وعلى آله وسلم
1-
باب " حق الله على العباد وحق العباد على الله "
وقول الله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلا لِيَعْبُدُونِ} 1.
وقوله: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 2 الآية.
..................................................................................................
بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر وأعن يا كريم
{بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} الكلام على البسملة بين مذكور في الشرح، والبداءة بها سنة، كما فعل البخاري وغيره من العلماء اتباعا للسنة في مراسلات النبي صلي الله عليه وسلم للملوك وغيرهم، وفي الأمر بالبداءة بها حديث معروف3. "كتاب التوحيد"المراد بالتوحيد توحيد العبادة، وكل رسول يفتتح دعوته لقومه بهذا التوحيد: {أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 4 كما في سورة الأعراف وهود وغيرهما. وقول الله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلا لِيَعْبُدُونِ} 5 دلت الآية على أن الله تعالى خلق الخلق لحكمة عظيمة، وهي القيام بما وجب عليهم من عبادته وحده بترك عبادة ما سواه، ففعل الأول وهو خلقهم ليفعلوا هم الثاني وهي العبادة.
قال شيخ الإسلام: العبادة اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال الظاهرة والباطنة. وقال أيضا: والعبادة اسم يجمع كمال الحب لله ونهايته، وكمال الذل لله ونهايته،
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর।
১-
পরিচ্ছেদ: "বান্দার ওপর আল্লাহর হক এবং আল্লাহর ওপর বান্দার হক" এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} ১।
এবং তাঁর বাণী: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} ২ আয়াত।
..................................................................................................
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে রব, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন, হে দয়াময়।
{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে} বিসমিল্লাহর আলোচনা ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে। এটি দিয়ে শুরু করা একটি সুন্নাহ, যেমনটি বুখারী ও অন্যান্য আলেমগণ করেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাজা-বাদশাহ ও অন্যদের কাছে পত্র প্রেরণের সুন্নাহর অনুসরণে। আর এটি দিয়ে শুরু করার নির্দেশ সম্পর্কে একটি প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে ৩। "কিতাবুত তাওহীদ": এখানে তাওহীদ বলতে ইবাদতের তাওহীদ বুঝানো হয়েছে। প্রত্যেক রাসূলই তাঁর জাতির কাছে তাঁর দাওয়াত এই তাওহীদ দিয়েই শুরু করেছেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} ৪। যেমনটি সূরা আল-আরাফ, হুদ ও অন্যান্য সূরায় রয়েছে। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} ৫। এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে এক মহান হিকমতের কারণে সৃষ্টি করেছেন। আর তা হলো, কেবল তাঁরই ইবাদত করার মাধ্যমে তাদের ওপর অর্পিত ওয়াজিব দায়িত্ব পালন করা এবং তিনি ছাড়া অন্য সবার ইবাদত বর্জন করা। সুতরাং তিনি প্রথম কাজটি অর্থাৎ তাদের সৃষ্টি করা সম্পন্ন করেছেন যেন তারা দ্বিতীয় কাজটি অর্থাৎ ইবাদত সম্পাদন করে।
শাইখুল ইসলাম বলেন: ইবাদত হলো এমন একটি ব্যাপক নাম যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সব প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি আরও বলেন: ইবাদত এমন একটি নাম যা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা ও তার চরম পর্যায় এবং আল্লাহর কাছে পূর্ণ হীনতা ও তার চরম পর্যায়ের সমষ্টি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقوله: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلا تَعْبُدُوا إِلا إِيَّاهُ
..................................................................................................
فالحب الخلي عن ذل والذل الخلي عن حب لا يكون عبادة، وإنما العبادة ما يجمع كمال الأمرين. وقال أيضا: وأما ما خلقوا له من محبة الله تعالى ورضاه فهو إرادته الدينية، فذلك مذكور في قوله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلا لِيَعْبُدُونِ} 1 2.
وقول الله تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 3 الآية. يخبر تعالى أنه بعث في كل قرن وطائفة من الأمم رسولا يدعوهم إلى عبادة الله وحده، وينهاهم عن عبادة ما زينه الشيطان لهم وأوقعهم فيه من عبادة ما سواه، فمنهم من هدى الله ووحده تعالى بالعبادة وأطاع رسله، ومنهم من حقت عليه الضلالة فأشرك مع الله غيره بعبادته، ولم يقبل هدى الله الذي جاءت به الرسل، كما قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا أَنَا فَاعْبُدُونِ} 4. وهذا التوحيد الذي خلقوا له ودعوا إليه هو توحيد الإلهية، توحيد القصد والطلب.
وأما توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات وتوحيد الأفعال، فهو توحيد العلم والاعتقاد، وأكثر الأمم قد أقروا به لله. وأما توحيد الإلهية فأكثرهم قد جحدوه، كما قال تعالى عن قوم هود لما قال لهم: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 5 {أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ} 6 وقال مشركو قريش: {أَجَعَلَ الآلِهَةَ إِلَهاً وَاحِداً إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} 7، وهذه الآية وهي قوله: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 8، هذه الآية تبين معنى الآية قبلها وكذلك الآيات بعدها، وأن المراد بالعبادة التي خلقوا لها هي العبادة الخالصة التي لم يلبسها شرك بعبادة شيء سوى الله كائنا ما كان، فلا تصح الأعمال إلا بالبراءة من عبادة كل ما يعبد من دون الله، والله تعالى خلق الثقلين ليعبدوه، فمنهم من فعل، ومنهم من أشرك وكفر، كما قال تعالى في هذه الآية: {فَمِنْهُمْ
--------------------------------------------
এবং তাঁর বাণী: {তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না}
..................................................................................................
সুতরাং হীনতা বা বিনয়শূন্য ভালোবাসা এবং ভালোবাসাশূন্য হীনতা ইবাদত হতে পারে না; বরং ইবাদত হলো এমন বিষয় যা এই উভয় গুণের পূর্ণতাকে একত্রিত করে। তিনি আরও বলেন: আর তাদের যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে—আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি—তা হলো তাঁর দ্বীনি ইচ্ছা। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লেখ রয়েছে: {আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} ১ ২।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} ৩ (আয়াত)। মহান আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি প্রত্যেক যুগে এবং প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন যেন তিনি তাদেরকে কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করার আহ্বান জানান এবং শয়তান তাদের জন্য যা সুশোভিত করেছে ও যাতে তাদের লিপ্ত করেছে—সেই আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করা থেকে নিষেধ করেন। তাদের মধ্যে কেউ এমন ছিল যাকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং সে ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করেছে ও তাঁর রাসূলদের আনুগত্য করেছে। আবার তাদের মধ্যে কেউ এমনও ছিল যার ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছিল, ফলে সে আল্লাহর সাথে অন্যের ইবাদতের মাধ্যমে শিরক করেছে এবং রাসূলগণ যে হিদায়াত নিয়ে এসেছিলেন তা গ্রহণ করেনি। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার কাছে এই ওহি পাঠাইনি যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই; অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো} ৪। আর এই তাওহীদ—যার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যার দিকে তাদের আহ্বান জানানো হয়েছে—তা হলো উলুহিয়্যাতের তাওহীদ, যা সংকল্প ও অন্বেষণের তাওহীদ।
পক্ষান্তরে রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ, আসমা ওয়া সিফাতের (নাম ও গুণাবলির) তাওহীদ এবং কার্যাবলির তাওহীদ হলো ইলম (জ্ঞান) ও বিশ্বাসের তাওহীদ; অধিকাংশ জাতিই আল্লাহর জন্য এটি স্বীকার করে নিয়েছে। কিন্তু উলুহিয়্যাতের তাওহীদ অধিকাংশ জাতিই অস্বীকার করেছে, যেমন মহান আল্লাহ হূদ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় সম্পর্কে বলেছেন যখন তিনি তাদের বলেছিলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} ৫ {তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যে আমরা যেন কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করি?} ৬ এবং কুরাইশ মুশরিকরা বলেছিল: {সে কি বহু ইলাহকে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? নিশ্চয়ই এটি এক আশ্চর্যজনক বিষয়} ৭। আর এই আয়াত—অর্থাৎ তাঁর বাণী: {আর আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} ৮—এই আয়াতটি এর পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আয়াতসমূহের অর্থ স্পষ্ট করে দেয়। আর তা হলো এই যে, যে ইবাদতের জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে তা হলো একনিষ্ঠ ইবাদত, যার সাথে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর ইবাদতের মাধ্যমে শিরকের মিশ্রণ ঘটানো হয়নি, তা যাই হোক না কেন। সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছুর ইবাদত করা হয়, তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা ব্যতীত কোনো আমলই সহীহ হয় না। আল্লাহ তাআলা জিন ও মানুষকে তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ তা পালন করেছে, আবার কেউ শিরক ও কুফরি করেছে, যেমন মহান আল্লাহ এই আয়াতে বলেছেন: {অতঃপর তাদের মধ্যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ} 1.وقال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ} 2 يبين أن حكمة الرب في خلقه للجن والإنس لا تقتضي أن كلا يفعل ما خلق له وأرسلت الرسل لأجله، ولهذه الحكمة أهلك الله من لم يعبده وحده، ولم يقبل ما جاءت به رسله، وشرع قتالهم لنبيه صلي الله عليه وسلم وأتباعه، فمنهم من أطاع وهم الأقلون، ومنهم من عصى وهم الأكثرون.
وهذا التوحيد هو دين الإسلام الذي لا يقبل الله من أحد دينا سواه، كما قال الكريم ابن الكريم ابن الكريم يوسف عليهم السلام: {إِنِ الْحُكْمُ إِلا لِلَّهِ أَمَرَ أَلا تَعْبُدُوا إِلا إِيَّاهُ} 3، وهذا هو الدين الذي بعث الله به رسله، وأنزل به كتبه، وأمر الرسل أن يقيموه، كما قال تعالى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحاً وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} 4، وقال لنبيه محمد صلي الله عليه وسلم: {قُلْ إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ وَلا أُشْرِكَ بِهِ إِلَيْهِ أَدْعُو وَإِلَيْهِ مَآبِ} 5، فأمره أن يعبده وحده وأن يدعو الأمة إلى ذلك. والقرآن كله في هذا التوحيد وبيانه وجزائه والرد على من جحده، كما قال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ. هْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} 6 وفي حديث معاذ الذي رواه أبو داود والترمذي وقال: حديث حسن صحيح، قال: قلت يا رسول الله دلني على عمل يدخلني الجنة ويباعدني عن النار، فقال: "سألت عن عظيم، وإنه ليسير على من يسره الله عليه: تعبد الله ولا تشرك به شيئا، وتقيم الصلاة وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان- وذكر الحج - ثم قال: ألا أخبرك برأس الأمر وعموده وذروة سنامه؟ " قلت: بلى يا رسول الله. قال: "رأس الأمر الإسلام وعموده الصلاة وذروه سنامه الجهاد في سبيل الله " 7.
فدل على أن الإسلام هو التوحيد، والفرائض من حقوقه. وقد أجمع الفقهاء على أن الإسلام شرط لصحة الصلاة وغيرها من الأعمال، وهو
--------------------------------------------
যাদের আল্লাহ হিদায়াত করেছেন, আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আছে যাদের ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। ১। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আমরা কোনো রাসূলকেই প্রেরণ করিনি কেবল আল্লাহর অনুমতিতে তাঁর আনুগত্য করার জন্য।" ২। এটি স্পষ্ট করে যে, জিন ও মানব সৃষ্টিতে রবের হিকমত বা প্রজ্ঞা এটা দাবি করে না যে, প্রত্যেকেই তা-ই করবে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং যার উদ্দেশ্যে রাসূলদের পাঠানো হয়েছে। আর এই হিকমতের কারণেই আল্লাহ তাদের ধ্বংস করেছেন যারা একমাত্র তাঁর ইবাদত করেনি এবং তাঁর রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করেনি। আর তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর অনুসারীদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিধান দিয়েছেন। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু লোক আনুগত্য করেছে, যারা সংখ্যায় অল্প; আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ অবাধ্য হয়েছে, যারা সংখ্যায় অধিক।
আর এই তাওহীদই হলো ইসলাম ধর্ম, যা ব্যতীত আল্লাহ কারো কাছ থেকে অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করবেন না। যেমনটি সম্মানিতর পুত্র সম্মানিত, তাঁর পুত্র সম্মানিত ইউসুফ (আলাইহিমুস সালাম) বলেছেন: "বিধান কেবল আল্লাহরই; তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করবে না।" ৩। আর এটাই সেই দ্বীন যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলদের পাঠিয়েছেন, যার সাথে তাঁর কিতাবসমূহ নাজিল করেছেন এবং রাসূলদের তা কায়েম করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই পথই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন, আর যা আমি তোমার কাছে ওহী পাঠিয়েছি এবং যার নির্দেশ আমি ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না।" ৪। আর তিনি তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন: "বলো, আমি কেবল আল্লাহর ইবাদত করতে এবং তাঁর সাথে কোনো শরিক না করতে আদিষ্ট হয়েছি। আমি তাঁর দিকেই আহ্বান করি এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন।" ৫। অতএব তিনি তাঁকে একমাত্র তাঁর ইবাদত করতে এবং উম্মতকে সেই দিকে আহ্বান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর পুরো কুরআনই এই তাওহীদ, এর বর্ণনা, এর প্রতিদান এবং যারা একে অস্বীকার করে তাদের খণ্ডন প্রসঙ্গে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: "অবশ্যই তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর (আলো) ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁর অনুমতিতে তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদের সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন।" ৬। এবং মুআয (রাযি.)-এর হাদীসে যা আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। তিনি (মুআয) বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বাতলে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: "তুমি অনেক বড় একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছ, তবে আল্লাহ যার জন্য সহজ করে দেন তার জন্য এটি অত্যন্ত সহজ: তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং রমযানের রোযা রাখবে - আর তিনি হজ্জের কথা উল্লেখ করলেন - অতঃপর তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে দ্বীনের মূল বিষয়, এর স্তম্ভ এবং এর সর্বোচ্চ চূড়া সম্পর্কে অবহিত করব না?" আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: "দ্বীনের মূল হলো ইসলাম, এর স্তম্ভ হলো সালাত এবং এর সর্বোচ্চ চূড়া হলো আল্লাহর পথে জিহাদ।" ৭।
সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামই হলো তাওহীদ, আর ফরজ কাজসমূহ এর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। ফকীহগণ এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, ইসলাম হলো সালাত ও অন্যান্য আমল সহীহ হওয়ার জন্য একটি শর্ত, আর এটি হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
{وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً} 1 الآية. وقوله: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} 2الآيه. وقوله: {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً}
..................................................................................................
مقتضى الشهادتين شهادة أن لا إله إلا الله، وشهادة أن محمدا رسول الله. فمعنى شهادة أن لا إله إلا الله: نفي الشرك والبراءة منه وممن فعله، وإخلاص العبادة لله وحده، والإيمان بالرسول وطاعته وهو معنى الآية الثالثة، وهي قوله تعالى: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلا تَعْبُدُوا إِلا إِيَّاهُ} 3 أي أمر ووصى. فقوله: " أَلا تَعْبُدُوا " فيه معنى "لا إله" وقوله: " إِلا إِيَّاهُ " فيه معنى " إِلا اللَّهَ ". وهذا معنى كلمة الإخلاص كما قال تعالى: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلا نَعْبُدَ إِلا اللَّهَ وَلا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئاً} 4 فقوله: " أَلا تَعْبُدُوا " فيه معنى "لا إِلَهَ" وقوله: " إِلا اللَّهَ " هو المستثنى في كلمة الإخلاص فسبحان الله كيف خفي هذا مع بيانه ووضوحه على الأذكياء من متأخري هذه الأمة؟.
وقول الله تعالى: {اعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} 5 - الآية.
وهذه الآية تبين العبادة التي خلقوا لها أيضا، فإنه تعالى قرن الأمر بالعبادة التي فرضها بالنهي عن الشرك الذي حرمه وهو الشرك في العبادة، فدلت هذه الآية على أن اجتناب الشرك شرط في صحة العبادة، فلا تصح بدونه أصلا، كما قال تعالى: {وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} 6، وقال تعالى: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ. بَلِ اللَّهَ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ} 7، فتقديم المعمول يفيد الحصر، أي بل الله فاعبد وحده لا غير، كما في فاتحة الكتاب {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} 8.
وقرر تعالى هذا التوحيد بقوله: {قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصاً لَهُ الدِّينَ} 9.
والدين هو العبادة بفعل ما أمر به وترك ما نهى عنه، كما قال العلامة ابن القيم رحمه الله تعالى:
والأمر والنهي الذي هو دينه وجزاؤه يوم المعاد الثاني.
وتقدم أن أصله وأساسه توحيد العبادة، فلا تغفل عما تقدم.
قوله: {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ
--------------------------------------------
{এবং পিতা-মাতার প্রতি সদয় ব্যবহার করো} ১ আয়াত। এবং তাঁর বাণী: {আর তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরিক করো না} ২ আয়াত। এবং তাঁর বাণী: {বলুন: এসো, তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন তা আমি তিলাওয়াত করি; তা এই যে, তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না}
..................................................................................................
দুই শাহাদাতের দাবি হলো—এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। সুতরাং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' শাহাদাতের অর্থ হলো: শিরককে অস্বীকার করা এবং শিরক ও শিরককারীর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা, একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা, এবং রাসুলের প্রতি ঈমান আনা ও তাঁর আনুগত্য করা। এটিই তৃতীয় আয়াতের অর্থ, যা মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না} ৩ অর্থাৎ তিনি আদেশ দিয়েছেন ও অসিয়ত করেছেন। সুতরাং তাঁর বাণী: "তোমরা ইবাদত করবে না" এর মধ্যে "লা ইলাহা" এর অর্থ রয়েছে এবং তাঁর বাণী: "একমাত্র তাঁর (আল্লাহর)" এর মধ্যে "ইল্লাল্লাহ" এর অর্থ নিহিত রয়েছে। আর এটিই ইখলাসের কালিমার অর্থ যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {বলুন: হে আহলে কিতাবগণ! এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান; তা এই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না} ৪। সুতরাং তাঁর বাণী: "আমরা ইবাদত করব না" এর মধ্যে "লা ইলাহা" এর অর্থ রয়েছে এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ ছাড়া" হলো ইখলাসের কালিমার ব্যতিক্রমী অংশ। সুবহানাল্লাহ! এই উম্মতের পরবর্তী যুগের মেধাবীদের নিকট এত স্পষ্ট ও পরিষ্কার হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি কীভাবে অস্পষ্ট রয়ে গেল?
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না} ৫ - আয়াত।
এই আয়াতটি সেই ইবাদতকেও বর্ণনা করে যার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর ফরযকৃত ইবাদতের নির্দেশের সাথে তাঁর হারামকৃত শিরকের নিষেধাজ্ঞাকে যুক্ত করেছেন, আর তা হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক। সুতরাং এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, শিরক বর্জন করা ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য একটি শর্ত; শিরক বর্জন ছাড়া ইবাদত আদৌ শুদ্ধ হয় না। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তারা যদি শিরক করত, তবে তারা যা আমল করত তা অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যেত} ৬ এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহি পাঠানো হয়েছে যে, তুমি যদি শিরক করো তবে তোমার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। বরং তুমি কেবল আল্লাহরই ইবাদত করো এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও} ৭। এখানে 'মা’মুল' (ইবাদতের পাত্র তথা আল্লাহ)-কে আগে আনা সীমাবদ্ধতা বা একনিষ্ঠতা (হাসর) প্রকাশ করে; অর্থাৎ বরং আপনি কেবল আল্লাহরই ইবাদত করুন, অন্য কারো নয়; যেমনটি সূরা ফাতিহাতে রয়েছে: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই} ৮।
এবং মহান আল্লাহ এই তাওহিদকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন: {বলুন, আমি আল্লাহর ইবাদত করতে আদিষ্ট হয়েছি তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে} ৯।
আর দ্বীন হলো নির্দেশিত বিষয়সমূহ পালন করা এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জনের মাধ্যমে ইবাদত করা। যেমনটি আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
আদেশ ও নিষেধই হলো তাঁর দ্বীন, আর এর প্রতিদান হবে পুনরুত্থান দিবসে।
ইতোপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, এর মূল ও ভিত্তি হলো ইবাদতের তাওহিদ; সুতরাং যা গত হয়েছে সে সম্পর্কে উদাসীন হয়ো না।
তাঁর বাণী: {বলুন: এসো, তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন তা আমি তিলাওয়াত করি; তা এই যে, তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
إِحْسَاناً} 1 أي حرم عليكم الشرك الذي نهاكم عنه بقوله: {أَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} 2 فالشرك أعظم ذنب عصي الله به أكبره وأصغره.
وقد وقع الأكثر من متأخري هذه الأمة في هذا الشرك الذي هو أعظم المحرمات، كما وقع في الجاهلية قبل مبعث النبي صلي الله عليه وسلم، عبدوا القبور والمشاهد والأشجار والأحجار والطواغيت والجن، كما عبد أولئك اللات والعزى ومناة وهبل وغيرها من الأصنام والأوثان، واتخذوا هذا الشرك دينا ونفروا إذا دعوا إلى التوحيد أشد نفرة، واشتد غضبهم لمعبوداتهم، كما قال تعالى: {وَإِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ} 3، وقال تعالى: {وَإِذَا ذَكَرْتَ رَبَّكَ فِي الْقُرْآنِ وَحْدَهُ وَلَّوْا عَلَى أَدْبَارِهِمْ نُفُوراً} 4، وقال: {إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ. وَيَقُولُونَ أَإِنَّا لَتَارِكُو آلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَجْنُونٍ} 5.
علموا أن لا إله إلا الله تنفي الشرك الذي وقعوا فيه، وأنكروا التوحيد الذي دلت عليه، فصار أولئك المشركون أعلم بمعنى هذه الكلمة: "لا إله إلا الله" من أكثر متأخري هذه الأمة، لا سيما أهل العلم منهم الذين لهم دراية في بعض الأحكام وعلم الكلام، فجهلوا توحيد العبادة، فوقعوا في الشرك المنافي له وزينوه، وجهلوا توحيد الأسماء والصفات وأنكروه، فوقعوا في نفيه أيضا. وصنفوا فيه الكتب لاعتقادهم أن ذلك حق وهو باطل.
وقد اشتدت غربة الإسلام حتى عاد المعروف منكرا، والمنكر معروفا، فنشأ على هذا الصغير، وهرم عليه الكبير، وقد قال النبي صلي الله عليه وسلم: " بدأ الإسلام غريبا وسيعود غريبا كما بدأ" 6.
--------------------------------------------
সদ্ব্যবহার করা} ১ অর্থাৎ, তিনি তোমাদের উপর সেই শিরককে হারাম করেছেন যা থেকে তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে নিষেধ করেছেন: {যাতে তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করো} ২। সুতরাং শিরক হলো আল্লাহর অবাধ্যতা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পাপ, চাই তা বড় হোক বা ছোট হোক।
এই উম্মতের পরবর্তী প্রজন্মের অধিকাংশ লোকই এমন শিরকে লিপ্ত হয়েছে যা সর্বাধিক বড় হারাম কাজ, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পূর্বে জাহেলী যুগে ঘটেছিল। তারা কবর, মাজার, গাছপালা, পাথর, তাগুত ও জিনের ইবাদত করেছে, যেমনটি তারা লাত, উযযা, মানাত, হুবাল এবং অন্যান্য মূর্তি ও প্রতিমার ইবাদত করত। তারা এই শিরককেই দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং যখনই তাদের তাওহীদের দিকে আহ্বান করা হয়েছে তারা তীব্রভাবে বিমুখ হয়েছে। তাদের উপাস্যগুলোর জন্য তাদের ক্রোধ অত্যন্ত প্রবল ছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন একমাত্র আল্লাহর কথা উল্লেখ করা হয়, তখন যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়; আর যখন তাঁকে ছাড়া অন্যদের উল্লেখ করা হয়, তখনই তারা আনন্দিত হয়} ৩। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {এবং যখন আপনি কুরআনে আপনার রবের একত্বের কথা উল্লেখ করেন, তখন তারা বিমুখ হয়ে তাদের পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়} ৪। তিনি আরও বলেন: {তাদের যখন বলা হতো ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’, তখন তারা অহংকার করত। এবং তারা বলত: আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করব?} ৫।
তারা বুঝতে পেরেছিল যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সেই শিরককে অস্বীকার করে যাতে তারা লিপ্ত ছিল, এবং তারা সেই তাওহীদকে অস্বীকার করল যার প্রতি এটি নির্দেশ করে। ফলে সেই যুগের মুশরিকরা এই উম্মতের পরবর্তী প্রজন্মের অনেক লোকের তুলনায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বাক্যের অর্থ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ছিল; বিশেষ করে সেই সব আলেমদের তুলনায় যাদের কিছু বিধান এবং ইলমুল কালামে পাণ্ডিত্য রয়েছে। তারা ইবাদতের তাওহীদ সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে গেল, ফলে তারা এর পরিপন্থী শিরকে লিপ্ত হলো এবং তাকে সুশোভিত করল। তারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলির তাওহীদ সম্পর্কেও অজ্ঞ থাকল এবং তা অস্বীকার করল, ফলে তারা একে অস্বীকার করার পাপেও লিপ্ত হলো। তারা এ বিষয়ে কিতাবসমূহ রচনা করল এই বিশ্বাসে যে সেটাই সত্য, অথচ তা বাতিল।
ইসলামের একাকীত্ব এতোটাই তীব্র হয়েছে যে, সুপরিচিত ন্যায় কাজ এখন অপছন্দনীয় মন্দ হিসেবে গণ্য হয়, আর মন্দ কাজ সুপরিচিত ন্যায় হিসেবে গণ্য হয়। এর উপরেই ছোটরা বেড়ে উঠেছে এবং বড়রা বৃদ্ধ হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইসলামের সূচনা হয়েছিল একাকীত্বের মাধ্যমে এবং অচিরেই তা সূচনালগ্নের মতো একাকী হয়ে পড়বে" ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
قال ابن مسعود رضي الله عنه: "من أراد أن ينظر إلى وصية محمد صلي الله عليه وسلم التي عليها خاتمه، فليقرأ تعالى: {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ} 1 إلى قوله: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً} " الآية.2.
..................................................................................................
وقد قال صلي الله عليه وسلم: " افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، وافترقت النصارى على اثنتين وسبعين فرقة، وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة، قالوا: ومن هي يا رسول الله؟ قال: "من كان على مثل ما أنا عليه اليوم وأصحابي" 3.
وهذا الحديث قد صح من طرق، كما ذكره العماد ابن كثير وغيره من الحفاظ، وهو في "السنن" وغيرها، ورواه محمد بن نصر في "كتاب الاعتصام".
وقد وقع ما أخبر به النبي صلي الله عليه وسلم بعد القرون الثلاثة، فلهذا عم الجهل بالتوحيد الذي هو أصل دين الإسلام، فإن أصله أن لا يعبد إلا الله، وأن لا يعبد إلا بما شرع، وقد ترك هذا وصارت عبادة الأكثرين مشوبة بالشرك والبدع، لكن الله تعالى - وله الحمد - لم يخل الأرض من قائم له بحججه، وداع إليه على بصيرة؛ لكي لا تبطل حجج الله وبيناته التي أنزلها على أنبيائه ورسله، فله الحمد والشكر على ذلك.
قوله: "التي عليها خاتمه " شبه هذه الوصية بوصية كتبت فختمت، أي فلم تتغير ولم تتبدل، أراد أن النبي صلي الله عليه وسلم لم يزل يدعو الأمة من حين بعثه الله تعالى إلى أن توفاه - صلوات الله وسلامه عليه - إلى ما تضمنته هذه الآيات المحكمات أمرا ونهيا، كما قال تعالى عن خليله عليه السلام: {إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ. وَوَصَّى بِهَا
--------------------------------------------
ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই অসিয়ত বা অন্তিম নির্দেশ দেখতে চায় যার ওপর তাঁর মোহর রয়েছে, সে যেন মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করে: 'বলুন, এসো তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন আমি তা তিলাওয়াত করি...' ১ থেকে আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: 'আর এটিই আমার সরল পথ'।" ২।
..................................................................................................
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইহুদিরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং নাসারারা (খ্রিস্টানরা) বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর এই উম্মত অচিরেই তেয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, যাদের মধ্যে একটি দল ব্যতীত সবাই জাহান্নামে যাবে।" তারা জিজ্ঞেস করল: "হে আল্লাহর রাসূল! সেই দলটি কারা?" তিনি বললেন: "আজ আমি এবং আমার সাহাবীগণ যে পথের ওপর আছি, যারা তার ওপর থাকবে।" ৩।
এই হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে সহীহ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যেমনটি আল-ইমাদ ইবনে কাসীর এবং অন্যান্য হাফেজগণ উল্লেখ করেছেন। এটি 'সুনান' গ্রন্থসমূহে ও অন্যান্য কিতাবে রয়েছে এবং মুহাম্মাদ বিন নাসর এটি 'কিতাবুল ইতিসাম'-এ বর্ণনা করেছেন।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সংবাদ দিয়েছিলেন তা প্রথম তিন শতাব্দীর পর সংঘটিত হয়েছে। এই কারণে তাওহীদ সম্পর্কে অজ্ঞতা ব্যাপক হয়ে গিয়েছে, যা ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি। কেননা এর মূল হলো এক আল্লাহ ব্যতীত আর কারো ইবাদত না করা এবং তাঁর প্রবর্তিত বিধান ছাড়া অন্য কোনোভাবে ইবাদত না করা। কিন্তু এটি বর্জিত হয়েছে এবং অধিকাংশ মানুষের ইবাদত শিরক ও বিদআতের দ্বারা কলুষিত হয়ে পড়েছে। তবে আল্লাহ তাআলা—তাঁরই জন্য সমস্ত প্রশংসা—জমিনকে এমন এক ব্যক্তি থেকে শূন্য করেননি যিনি তাঁর দলীলসমূহ নিয়ে আল্লাহর দ্বীনের ওপর দণ্ডায়মান থাকেন এবং দূরদর্শিতার সাথে তাঁর দিকে আহ্বান জানান; যাতে আল্লাহ তাঁর নবী ও রাসূলদের ওপর যে সকল প্রমাণ ও নিদর্শন অবতীর্ণ করেছেন তা বাতিল না হয়ে যায়। এর জন্য আল্লাহর নিকট প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা।
তাঁর উক্তি: "যার ওপর তাঁর মোহর রয়েছে"—এখানে এই অসিয়তটিকে এমন একটি অসিয়তপত্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা লিখে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ এতে কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন ঘটেনি। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ তাআলা কর্তৃক প্রেরিত হওয়ার সময় থেকে মৃত্যু পর্যন্ত—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—উম্মতকে এই মুহকাম (সুস্পষ্ট) আয়াতসমূহে বর্ণিত আদেশ ও নিষেধের দিকেই সর্বদা আহ্বান জানিয়েছেন। যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর খলীল (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলেছেন: "যখন তাঁর রব তাঁকে বললেন, 'আত্মসমর্পণ করো', তিনি বললেন, 'আমি জগতসমূহের রবের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম'।" এবং তিনি এর অসিয়ত করলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} وعن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال: " كنت رديف النبي صلي الله عليه وسلم على حمار فقال لي: " يا معاذ! أتدري ما حق الله على العباد، وما حق العباد على الله؟ " فقلت: الله ورسوله أعلم. قال: " فإن حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا، وحق العباد على الله أن لا يعذب من لا يشرك به شيئا"، فقلت: يا رسول الله أفلا أبشر الناس؟ قال: " لا تبشرهم فيتكلوا " أخرجاه في " الصحيحين"1.
..................................................................................................
قوله: " وعن معاذ بن جبل رضي عنه، قال: كنت رديف النبي صلي الله عليه وسلم على حمار فقال لي: يا معاذ أتدري ما حق الله على العباد، وما حق العباد، على الله.".
فساقه المصنف - رحمه الله تعالى - هنا لتضمنه معنى الآيات التي تقدمت، وذلك قوله: " حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا "2.
قال العلامة ابن القيم رحمه الله تعالى:
حق الإله عبادة بالأمر لا
… من غير إشراك به شيئا هما
لم ينج من غضب الإله وناره
… والناس بعد فمشرك بالهه
بهوى النفوس فذاك للشيطان
… سبب النجاة فحبذا السببان
إلا الذي قامت به الأصلان
… أو ذو ابتداع أو له الوصفان
"وحق العباد على الله أن لا يعذب من لا يشرك به شيئا"، ليس على الله حق واجب
--------------------------------------------
ইবরাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও (একই অসিয়ত করে বলেছে): হে আমার সন্তানেরা! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন, সুতরাং তোমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। এবং মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি একটি গাধার পিঠে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে বসা ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: 'হে মুয়াজ! তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর কী হক (অধিকার), আর আল্লাহর ওপর বান্দার কী হক?' আমি বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: 'বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর আল্লাহর ওপর বান্দার হক হলো তিনি এমন ব্যক্তিকে শাস্তি দেবেন না যে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না।' আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: 'তাদের সুসংবাদ দিয়ো না, কারণ তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে'।" ইমাম বুখারি ও মুসলিম এটি তাঁদের 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।১
..................................................................................................
তাঁর উক্তি: "মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একটি গাধার পিঠে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে বসা ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: হে মুয়াজ! তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর কী হক, আর আল্লাহর ওপর বান্দার কী হক।"
গ্রন্থকার —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দয়া করুন— হাদিসটি এখানে উল্লেখ করেছেন কারণ এটি পূর্বোক্ত আয়াতসমূহের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তা হলো তাঁর বাণী: "বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না।"২
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
ইলাহের হক হলো আদেশের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করা
… কোনো কিছু শরিক না করে; এই দুটিই হলো
আল্লাহর ক্রোধ ও তাঁর আগুন থেকে কেউ রক্ষা পায়নি
… আর এরপর মানুষ হয় তার ইলাহের সাথে শরিককারী
নফসের খেয়াল-খুশিতে, যা শয়তানের অনুসারী হওয়া
… নাজাতের উপায়, সুতরাং এই উপায় দুটি কতই না চমৎকার
কেবল তারাই ছাড়া যাদের মধ্যে এই দুটি মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত
… অথবা সে বিদআতি অথবা তার মধ্যে উভয় দোষই বিদ্যমান
"আর আল্লাহর ওপর বান্দার হক হলো তিনি এমন ব্যক্তিকে শাস্তি দেবেন না যে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না"; আসলে আল্লাহর ওপর কোনো হকই অপরিহার্য নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
فيه مسائل:
الأولى: الحكمة في خلق الجن والإنس.
الثانية: أن العبادة هي التوحيد، لأن الخصومة فيه.
الثالثة: أن من لم يأت به لم يعبد الله، ففيه معنى قوله: {وَلا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ} 1.
الرابعة: الحكمة في إرسال الرسل.
الخامسة: أن الرسالة عمت كل أمة.
السادسة: أن دين الأنبياء واحد.
السابعة: المسألة الكبيرة أن عبادة الله لا تحصل إلا بالكفر بالطاغوت; ففيه معنى قوله: {فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ} 2 الآية.
الثامنة: أن الطاغوت عام في كل ما عبد من دون الله.
التاسعة: عظم شأن ثلاث الآيات المحكمات في سورة الأنعام "151-153" عند السلف، وفيها عشر مسائل، أولها النهي عن الشرك.
العاشرة: الآيات المحكمات في سورة الإسراء، وفيها ثماني عشرة مسألة، بدأها الله بقوله: {لا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهاً آخَرَ فَتَقْعُدَ مَذْمُوماً مَخْذُولاً} 3 وختمها بقوله: {وَلا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهاً آخَرَ فَتُلْقَى فِي جَهَنَّمَ مَلُوماً مَدْحُوراً} 4، ونبهنا الله سبحانه على عظم شأن هذه المسائل بقوله: {ذَلِكَ مِمَّا أَوْحَى إِلَيْكَ رَبُّكَ مِنَ الْحِكْمَةِ} 5.
بالعقل كما تزعم المعتزلة، لكن هو سبحانه أحق ذلك على نفسه تفضلا وإحسانا على الموحدين المخلصين الذين لم يلتفتوا في إرادتهم ومهماتهم ورغباتهم ورهباتهم إلى أحد سواه، ولم يتقربوا بما يقولونه ويعملونه من الطاعات إلا إليه وحده، والله أعلم.
--------------------------------------------
এতে রয়েছে বেশ কিছু মাসআলা:
প্রথম: জিন ও মানুষ সৃষ্টির হিকমত (উদ্দেশ্য)।
দ্বিতীয়: ইবাদত হচ্ছে তাওহীদ, কারণ এ বিষয়টি নিয়েই দ্বন্দ্ব ও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল।
তৃতীয়: যে ব্যক্তি তাওহীদ নিয়ে আসেনি, সে আল্লাহর ইবাদত করেনি। আর এতেই আল্লাহর এই বাণীর মর্ম নিহিত: "আর তোমরা তাঁর ইবাদতকারী নও যাঁর ইবাদত আমি করি।" ১।
চতুর্থ: রাসূল প্রেরণের হিকমত (উদ্দেশ্য)।
পঞ্চম: রিসালাত বা রাসূল প্রেরণের বিষয়টি প্রত্যেক উম্মতের জন্যই ব্যাপক ছিল।
ষষ্ঠ: নবীদের দ্বীন অভিন্ন।
সপ্তম: মহান মাসআলাটি হলো, তাগুতকে অস্বীকার করা ছাড়া আল্লাহর ইবাদত সম্পন্ন হয় না। এতেই আল্লাহর এই বাণীর মর্ম নিহিত: "সুতরাং যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে..." ২ (আয়াতাংশ)।
অষ্টম: আল্লাহকে বাদ দিয়ে যা কিছুর ইবাদত করা হয়, তাগুত শব্দটি তার সবটুকুর জন্যই ব্যাপক।
নবম: সালাফদের নিকট সূরা আল-আনআমের তিনটি মুহকাম (সুস্পষ্ট) আয়াতের [১৫১-১৫৩] মাহাত্ম্য অনেক বড়; এর মধ্যে দশটি মাসআলা রয়েছে, যার প্রথমটি হলো শিরক থেকে নিষেধ।
দশম: সূরা আল-ইসরা’র মুহকাম আয়াতসমূহ, যেখানে আঠারোটি মাসআলা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা শুরু করেছেন এই বাণী দিয়ে: "তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ স্থির করো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে বসে পড়বে।" ৩ এবং শেষ করেছেন এই বাণী দিয়ে: "আর আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ স্থির করো না, অন্যথায় তুমি নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।" ৪ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের এই মাসআলাগুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন: "এসব হলো হিকমত বা প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত, যা তোমার রব তোমার প্রতি ওহী করেছেন।" ৫।
বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে নয়—যেভাবে মুতাজিলা সম্প্রদায় দাবি করে—বরং তিনি (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া স্বরূপ একে নিজের ওপর অবধারিত করে নিয়েছেন সেই সকল একনিষ্ঠ মুওয়াহহিদদের (তাওহীদপন্থীদের) জন্য, যারা তাদের ইচ্ছা, উদ্দেশ্য, আশা ও ভয়ের ক্ষেত্রে তিনি ব্যতীত অন্য কারও প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং তাদের কথা ও কাজের মাধ্যমে সম্পাদিত ইবাদতসমূহ দ্বারা একমাত্র তাঁরই নৈকট্য কামনা করেছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
الحادية عشرة: آية سورة النساء التي تسمى آية الحقوق العشرة، بدأها الله تعالى بقول: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} 1
الثانية عشرة: التنبيه على وصية رسول الله صلي الله عليه وسلم عند موته.
الثالثة عشرة: معرفة حق الله تعالى علينا.
الرابعة عشرة: معرفة حق العباد عليه إذا أدوا حقه.
الخامسة عثرة: أن هذه المسألة لا يعرفها أكثر الصحابة.
السادسة عشرة: جواز كتمان العلم للمصلحة.
السابعة عشرة: استحباب بشارة المسلم بما يسره.
الثامنة عشرة: الخوف من الاتكال على سعة رحمة الله.
التاسعة عشرة: قول المسئول عما لا يعلم: الله ورسوله أعلم.
العشرون: جواز تخصيص بعض الناس بالعلم دون بعض.
الحادية والعشرون: تواضعه صلي الله عليه وسلم لركوب الحمار مع الإرداف عليه.
الثانية والعشرون: جواز الإرداف على الدابة.
الثالثة والعشرون: فضيلة معاذ بن جبل.
الرابعة والعشرون: عظم شأن هذه المسألة.
--------------------------------------------
একাদশ বিষয়: সূরা আন-নিসার সেই আয়াত যাকে দশটি হকের আয়াত বলা হয়, যা আল্লাহ তাআলা শুরু করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরিক করো না} ১
দ্বাদশ বিষয়: মৃত্যুকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসিয়তের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ।
ত্রয়োদশ বিষয়: আমাদের ওপর আল্লাহ তাআলার হকের পরিচয় লাভ।
চতুর্দশ বিষয়: বান্দাগণ যখন আল্লাহর হক আদায় করে, তখন তাঁর নিকট বান্দার হকের পরিচয় লাভ।
পঞ্চদশ বিষয়: অধিকাংশ সাহাবীই এই বিষয়টি জানতেন না।
ষোড়শ বিষয়: কল্যাণের স্বার্থে জ্ঞান গোপন রাখার বৈধতা।
সপ্তদশ বিষয়: মুসলিমকে আনন্দদায়ক সংবাদ প্রদান করা মুস্তাহাব।
অষ্টাদশ বিষয়: আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততার ওপর অতি-ভরসা করার আশঙ্কা।
ঊনবিংশ বিষয়: অজানা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির এই কথা বলা যে: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত।
বিংশ বিষয়: অন্যদের বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে জ্ঞান প্রদানের বৈধতা।
একবিংশ বিষয়: পেছনে আরোহী নিয়ে গাধার পিঠে আরোহণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয়।
দ্বাবিংশ বিষয়: পশুর পিঠে পেছনে আরোহী বহনের বৈধতা।
ত্রয়োবিংশ বিষয়: মুয়াজ ইবনে জাবালের ফজিলত।
চতুর্বিংশ বিষয়: এই বিষয়ের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
2-
باب فضل التوحيد وما يكفر من الذنوبوقول الله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} 1 الآية.
..................................................................................................
"باب فضل التوحيد " الباب هو المدخل إلى الشيء. قوله: "وما يكفر من الذنوب". "ما " مصدرية أي وتكفيره الذنوب. ويجوز أن تكون موصولة والعائد محذوف، أي والذي يكفره من الذنوب، والمراد بالتوحيد توحيد العبادة، وهو إفراد الله تعالى بأنواع العبادة الباطنة والظاهرة. كالدعاء والذبح والنذر ونحوه، كما قال تعالى:
--------------------------------------------
২-
তাওহীদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তা যা গুনাহ মোচন করে তার অধ্যায়এবং মহান আল্লাহর বাণী: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত।" - আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
..................................................................................................
"তাওহীদের শ্রেষ্ঠত্বের অধ্যায়" - অধ্যায় হলো কোনো বিষয়ের প্রবেশপথ। তাঁর বাণী: "এবং যা গুনাহসমূহ মোচন করে"। এখানে ‘মা’ বর্ণটি মাসদারিয়াহ (ক্রিয়ামূলীয়), অর্থাৎ এবং গুনাহসমূহ মোচন করা। এটি মাওসূলাহ (সংশ্লিষ্ট সর্বনাম) হওয়াও সম্ভব এবং এর প্রত্যাবর্তিত সর্বনামটি এখানে উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ এবং যা তিনি গুনাহসমূহের মধ্য থেকে মোচন করেন। আর তাওহীদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইবাদতের তাওহীদ; যা হলো মহান আল্লাহকে তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল প্রকার ইবাদতের ক্ষেত্রে একক করা। যেমন দোয়া, পশু জবাই, মানত এবং এই জাতীয় ইবাদত, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: " من شهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدا عبده ورسوله، وأن عيسى عبد الله ورسوله، وكلمته ألقاها إلى مريم، وروح منه، والجنة حق، والنار حق، أدخله الله الجنة على ما كان من العمل " أخرجاه1.
ولهما في حديث عتبان: " فإن الله حرم على النار من قال: لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله " 2.
{فَادْعُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} 3، وقال تعالى: {فَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} 4.
..................................................................................................
وقول الله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} 5. واللبس الخلط. والمراد بالظلم هنا الشرك الأكبر؛ لما ثبت في حديث ابن مسعود وغيره مرفوعا: "إنما هو الشرك ألم تسمعوا إلى قول العبد الصالح {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ} " 6.
--------------------------------------------
উবাদাহ ইবনুন সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা একটি রূহ; আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য; আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যা-ই হোক না কেন।" উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন ১।
এবং বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় ইতবান-এর হাদীসে রয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহান্নামের জন্য সেই ব্যক্তিকে হারাম করেছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই) বলে" ২।
{অতএব তোমরা আল্লাহকে ডাকো তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে} ৩। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন: {অতএব তাঁকে ডাকো তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে} ৪।
..................................................................................................
আল্লাহ তাআলার বাণী: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত} ৫। 'লাবস' অর্থ হলো মিশ্রিত করা। আর এখানে 'জুলুম' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শিরকে আকবার (বড় শিরক); কেননা ইবনে মাসউদ ও অন্যদের মারফু হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে: "এটি কেবল শিরক; তোমরা কি নেককার বান্দার উক্তি শোনোনি: {নিশ্চয়ই শিরক হলো এক মহা জুলুম}" ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أراد أن من لم يجتنب الشرك لم يحصل له أمن ولا اهتداء بالكلية. وأما من سلم منه فيحصل له من الأمن والاهتداء بحسب مقامه في الإسلام والإيمان. فلا يحصل الأمن التام والاهتداء التام إلا لمن لم يلق الله بكبيرة مصرا عليها. وأما إن كان للموحد ذنوب لم يتب منها حصل له من الأمن والاهتداء بحسب توحيده. وفاته منه بقدر معصيته، كما قال: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللَّهِ} 1.
فالظالم لنفسه هو الذي خلط عملا صالحا وآخر سيئا. فهو تحت مشيئة الله إن شاء غفر له وإن شاء أخذه بذنبه ونجاه بتوحيده من الخلود في النار.
وأما المقتصد فهو الذي عمل بما أوجب الله عليه، وترك ما حرم عليه فقط، وهذه حال الأبرار.
وأما السابق فهو الذي حصل له كمال الإيمان باستفراغه وسعه في طاعة الله علما وعملا.
فهذان لهم الأمن التام والاهتداء التام في الدنيا والآخرة، فالكل للكل والحصة للحصة، لأن كمال الإيمان يمنع صاحبه من المعاصي وعقوباتها، فلم يلق ربه بذنب يعاقب به، كما قال تعالى: {مَا يَفْعَلُ اللَّهُ بِعَذَابِكُمْ إِنْ شَكَرْتُمْ وَآمَنْتُمْ} 2. وهذا الذي ذكرته في معنى هذه الآية هو ما قرره شيخ الإسلام ابن تيمية - رحمه الله تعالى -، وابن القيم رحمه الله في معناها، وهو الذي دل عليه القرآن، وهو قول أهل السنة والجماعة، خلافا لأهل البدع من الخوارج والمعتزلة ونحوهم.
قوله: "من شهد" لا ريب أن الشهادة لا تكون شهادة إلا إذا كانت عن علم ويقين وصدق، وأما مع الجهل والشك فلا تعتبر ولا تنفع، فيكون الشاهد والحالة هذه كاذبا لجهله بمعنى الذي شهد به، وقد تضمنت هذه الكلمة العظيمة نفيا وإثباتا، فنفت الإلهية عن كل ما سوى الله بقولك: "لا إله"، وأثبتت الإلهية لله وحده بقولك: "إلا الله". قال تعالى: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا هُوَ وَالْمَلائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِماً بِالْقِسْطِ لا إِلَهَ إِلا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} 3.
فكم ضل بسبب الجهل بمعناها من ضل وهم الأكثرون، فقلبوا حقيقة المعنى فأثبتوا الإلهية المنفية لمن نفيت عنه من المخلوقين أرباب القبور والمشاهد والطواغيت والأشجار والأحجار والجن وغير ذلك. واتخذوا ذلك دينا وشبهوا وزخرفوا واتخذوا التوحيد بدعة.
--------------------------------------------
তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, যে ব্যক্তি শিরক থেকে বিরত হয়নি, তার জন্য নিরাপত্তা ও সঠিক পথপ্রাপ্তি (হিদায়াত) কোনোভাবেই অর্জিত হয়নি। আর যে ব্যক্তি শিরক থেকে মুক্ত থেকেছে, তার জন্য ইসলাম ও ঈমানের স্তরের অনুপাতে নিরাপত্তা ও হিদায়াত অর্জিত হবে। সুতরাং পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও পূর্ণাঙ্গ হিদায়াত কেবল তারই অর্জিত হয় যে আল্লাহর সাথে এমন কোনো কবীরা গুনাহ নিয়ে সাক্ষাৎ করেনি যার ওপর সে অবিচল ছিল। আর যদি মুওয়াহহিদের (একত্ববাদী) এমন কোনো গুনাহ থাকে যা থেকে সে তাওবা করেনি, তবে তার তাওহীদের অনুপাতে তার জন্য নিরাপত্তা ও হিদায়াত অর্জিত হবে। আর তার নাফরমানির মাত্রা অনুযায়ী সে তা থেকে বঞ্চিত হবে, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদের যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি; তবে তাদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি অবিচারকারী, কেউ মধ্যপন্থী এবং কেউ আল্লাহর ইচ্ছায় কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী।" ১।
সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের প্রতি অবিচারকারী, সে হলো ঐ ব্যক্তি যে সৎকর্ম ও অসৎকর্ম মিশ্রিত করেছে। সে আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন, আর চাইলে তার গুনাহের কারণে তাকে শাস্তি দেবেন এবং তার তাওহীদের বরকতে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া থেকে তাকে মুক্তি দেবেন।
আর মধ্যপন্থী হলো ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহ যা ফরজ করেছেন তা পালন করেছে এবং যা হারাম করেছেন কেবল তা বর্জন করেছে; আর এটি হলো পুণ্যবানদের অবস্থা।
আর অগ্রগামী হলো ঐ ব্যক্তি যার মধ্যে ঈমানের পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে ইলম ও আমলের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যে তার পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করার দ্বারা।
এই দুই শ্রেণির জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও পূর্ণাঙ্গ হিদায়াত রয়েছে; সুতরাং পূর্ণের জন্য পূর্ণ এবং অংশের জন্য অংশ। কেননা ঈমানের পূর্ণতা তার অধিকারীকে গুনাহ ও তার শাস্তি থেকে বিরত রাখে, ফলে সে তার রবের সাথে এমন কোনো গুনাহ নিয়ে সাক্ষাৎ করে না যার জন্য তাকে শাস্তি পেতে হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো এবং ঈমান আনো, তবে তোমাদের শাস্তি দিয়ে আল্লাহ কী করবেন?" ২। এই আয়াতের অর্থে আমি যা উল্লেখ করেছি, তা-ই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- এবং ইবনুল কাইয়্যিম -রাহিমাহুল্লাহ- এর অর্থের ক্ষেত্রে নির্ধারণ করেছেন। এটিই কুরআন দ্বারা প্রমাণিত এবং এটিই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অভিমত; যা বিদআতি গোষ্ঠী খাওয়ারিজ, মুতাযিলা ও তাদের সমমনাদের বিপরীত।
তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল" - এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সাক্ষ্য ততক্ষণ পর্যন্ত সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হয় না যতক্ষণ না তা ইলম, ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) ও সততার সাথে হয়। আর অজ্ঞতা ও সন্দেহের সাথে সাক্ষ্য দিলে তা গণ্য হবে না এবং কোনো উপকারে আসবে না। এমতাবস্থায় সাক্ষ্যদাতা তার সাক্ষ্যকৃত বিষয়ের অর্থ না জানার কারণে মিথ্যাবাদী হিসেবে গণ্য হবে। এই মহান বাক্যটি একটি না-বোধক ও একটি হাঁ-বোধক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। "লা ইলাহা" (কোনো উপাস্য নেই) বলার মাধ্যমে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে উপাসত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং "ইল্লাল্লাহ" (আল্লাহ ছাড়া) বলার মাধ্যমে কেবল আল্লাহর জন্য উপাসত্বকে সাব্যস্ত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আর ফেরেশতারা ও জ্ঞানীগণও; তিনি ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" ৩।
এর অর্থ না জানার কারণে কত মানুষই না পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা প্রকৃত অর্থকে উল্টে দিয়েছে এবং যাদের থেকে উপাসত্ব অস্বীকার করা হয়েছে, সেই সব সৃষ্টি যেমন কবরের বাসিন্দা, মাজার, তাগুত, গাছপালা, পাথর, জিন ও অন্যান্যদের জন্য উপাসত্ব সাব্যস্ত করেছে। তারা একেই দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছে, একে সুশোভিত ও চাকচিক্যময় করেছে এবং তাওহীদকে বিদআত হিসেবে গণ্য করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأنكروه على من دعاهم إليه، فلم يعرفوا منها ما عرف أهل الجاهلية من كفار قريش ونحوهم1 فإنهم عرفوا معناها وأنكروا ما دلت عليه من الإخلاص، كما قال تعالى: {إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ. وَيَقُولُونَ أَإِنَّا لَتَارِكُو آلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَجْنُونٍ} 2. والمشركون من أواخر هذه الأمة أنكروا ما أنكره أولئك على من دعاهم إلى ترك عبادة ما كانوا يعبدونه من دون الله من القبور والمشاهد والطواغيت ونحوها، فأولئك عرفوا هذا المعنى وأنكروه، وهؤلاء جهلوا هذا المعنى وأنكروه، فلهذا تجده يقول لا إله إلا الله، وهو يدعو مع الله غيره.
قال ابن القيم - رحمه الله تعالى -: الإله هو الذي تألهه القلوب محبة وإجلالا وإنابة وإكراما وتعظيما، وذلا وخضوعا وخوفا ورجاء وتوكلا.
وقال الوزير أبو المظفر - رحمه الله تعالى - في "الإفصاح" قوله: شهادة أن لا إله إلا الله يقتضي أن يكون الشاهد عالما بأن لا إله إلا الله، كما قال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ} 3. قال: واسم الله مرتفع بعد إلا من حيث إنه الواجب له الإلهية، فلا يستحقها غيره سبحانه. قال: وجملة الفائدة في ذلك أن تعلم أن هذه الكلمة مشتملة على الكفر بالطاغوت وعلى الإيمان بالله، فإنك لما نفيت الإلهية وأثبت الإيجاب لله كنت ممن كفر بالطاغوت، وآمن بالله.
وقال ابن رجب رحمه الله تعالى: الإله هو الذي يطاع فلا يعصى هيبة له وإجلالا ومحبة وخوفا ورجاء وتوكلا عليه وسؤالا منه ودعاء له، ولا يصلح ذلك كله إلا لله عز وجل، فمن أشرك مخلوقا في شيء من هذه الأمور التي هي من خصائص الإلهية كان قدحا في إخلاصه في قول لا إله إلا الله، وكان فيه من عبودية المخلوق بحسب ما فيه من ذلك.
وقال البقاعي: "لا إله إلا الله"، أي انتفى نفيا عظيما أن يكون معبود بحق غير الملك الأعظم قال: وهذا العلم هو من أعظم الذكرى المنجية من أهوال الساعة، وإنما
--------------------------------------------
এবং তারা একে তাদের বিরুদ্ধে অস্বীকার করেছে যারা তাদের এই দিকে দাওয়াত দিয়েছে। তারা এ থেকে তা জানত না যা কুরাইশ কাফিরদের মতো জাহেলী যুগের লোকেরা জানত। কেননা তারা এর অর্থ জানত কিন্তু এর দ্বারা যা বুঝানো হয়েছে অর্থাৎ একনিষ্ঠতা, তা অস্বীকার করেছিল, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই তাদের যখন বলা হতো যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তখন তারা অহংকার করত। আর তারা বলত, আমরা কি একজন উন্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করব?}। আর এই উম্মতের শেষের দিকের মুশরিকরা তা-ই অস্বীকার করেছে যা পূর্ববর্তীগণ তাদের প্রতি অস্বীকার করেছিল যারা তাদের আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছুর—যেমন কবর, মাযার, তাগুত ইত্যাদির ইবাদত বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছিল। সুতরাং তারা এর অর্থ জানত কিন্তু অস্বীকার করত, আর এরা এর অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ এবং তা অস্বীকার করে। একারণেই আপনি তাকে দেখবেন যে সে বলছে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’, অথচ সে আল্লাহর সাথে অন্যকে ডাকছে।
ইবনুল কাইয়্যিম -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- বলেন: ইলাহ তিনিই যাঁর প্রতি হৃদয় ভালোবাসা, মর্যাদা, ফিরে আসা, সম্মান, মহিমা, দীনতা, বিনয়, ভয়, আশা এবং ভরসার সাথে ধাবিত হয়।
উজির আবু আল-মুজাফ্ফর -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- তাঁর 'আল-ইফসাহ' গ্রন্থে বলেছেন: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’—এই সাক্ষ্য দেওয়া দাবি করে যে, সাক্ষ্যদানকারী এ বিষয়ে অবগত থাকবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই}। তিনি বলেন: 'ইল্লা' (ব্যতীত) এর পর আল্লাহর নাম উচ্চকিত হয়েছে এই দিক থেকে যে, উপাস্য হওয়া কেবল তাঁরই প্রাপ্য, সুতরাং তিনি পবিত্র, তিনি ছাড়া আর কেউ এর যোগ্য নয়। তিনি বলেন: এর মূল উপকারিতা হলো আপনি জানবেন যে এই বাক্যটি তাগুতকে অস্বীকার করা এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার ওপর مشتمل (সংযুক্ত)। কারণ আপনি যখন উপাস্য হওয়াকে অন্যদের থেকে অস্বীকার করলেন এবং আল্লাহর জন্য তা সাব্যস্ত করলেন, তখন আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন যারা তাগুতকে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে।
ইবনে রজব -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- বলেন: ইলাহ তিনিই যাঁর আনুগত্য করা হয় এবং অবাধ্যতা করা হয় না—তাঁর প্রতি ভয়, সম্মান, ভালোবাসা, শঙ্কা, আশা, তাঁর ওপর ভরসা এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা ও দোয়ার মাধ্যমে। আর এ সবকিছুর উপযুক্ত কেবল মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ। সুতরাং যে ব্যক্তি সৃষ্টির কোনো কিছুকে এই বিষয়গুলোর কোনো একটিতে শরিক করল যা ইলাহ হওয়ার একান্ত বৈশিষ্ট্য, তা তার ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’ বলার একনিষ্ঠতায় আঘাত হিসেবে গণ্য হবে এবং তার মধ্যে সৃষ্টির দাসত্ব সেই পরিমাণ বিদ্যমান থাকবে যে পরিমাণ সে তাতে লিপ্ত হয়েছে।
আল-বিকায়ি বলেন: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই", অর্থাৎ মহান অধিপতি ছাড়া অন্য কোনো সত্য মাবুদ থাকার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নাকচ করা হয়েছে। তিনি বলেন: এই জ্ঞান কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে মুক্তিদানকারী সর্বশ্রেষ্ঠ স্মারকগুলোর একটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يكون علما إذا كان نافعا، وإنما يكون نافعا إذا كان مع الإذعان والعمل بما تقتضيه، وإلا فهو جهل صرف.
"قلت ": وهؤلاء المتأخرون جهلوا معنى الإله، وقلبوا حقيقة المعنى إلى معنى توحيد الربوبية، وهو القدرة على الاختراع فأثبتوا ما نفته "لا إله إلا الله" من الشرك، وأنكروا ما أثبتته من إخلاص العبادة لله جهلا منهم، وقد قال تعالى: {فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصاً لَهُ الدِّينَ} 1.
قال محيي الدين النووي: اعلم أن باب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، قد ضيع من أزمان متطاولة، ولم يبق في هذه الأزمان إلا رسوم قليلة جدا، وهو باب عظيم به قوام الأمر وملاكه، وإذا كثر الخبث عم العقاب الصالح والطالح.
قوله: في هذه الأزمان يعني القرن الخامس والسادس، وإذا كان كذلك فما الظن بالقرن العاشر وما بعده، وقد استحكمت فيها الغربة، ولشيخنا محمد بن عبد الوهاب - رحمه الله تعالى - في تفسير هذه الكلمة كلام بديع واضح لم يسبق إلى مثله، فليراجع لمسيس الحاجة إليه.
قوله في الحديث: "وحده لا شريك له " تأكيد لمعنى لا إله إلا الله الذي دلت عليه ووضعت له من باب اللف والنشر المقدم والمؤخر، وهو بيان لمعنى هذه الكلمة؛ لأنها دلت بجملتها على التوحيد، فلا إله تنفي الشرك في العبادة قليله وكثيره، وبينه بقوله: "لا شريك له" في إلهيته وهي العبادة.
وقوله: "وحده " هو معنى "إلا الله" فهو الإله الحق وحده دون كل ما سواه من أهل السماوات والأرض، كما دلت على ذلك الآيات المحكمات ومتواتر الأحاديث، فتدبر هذا البيان يطلعك على بطلان قول من يقول بجواز دعوة غير الله، والله تعالى يقول لنبيه: {فَلا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهاً آخَرَ فَتَكُونَ مِنَ الْمُعَذَّبِينَ} 2 وغيرها من الآيات الآتي ذكرها إن شاء الله تعالى.
فقوله: " وحده" تأكيد للإثبات.
وقوله: " لا شريك له " تأكيد للنفي.
وقوله: "وأن محمدا عبده ورسوله " أي وشهد أن محمدا عبده ورسوله، أي بصدق ويقين، وذلك يقتضي اتباعه وتعظيم أمره ونهيه ولزوم سنته صلي الله عليه وسلم، وأن لا تعارض بقول أحد؛ لأنه غيره صلي الله عليه وسلم يجوز عليه الخطأ، والنبي صلي الله عليه وسلم قد عصمه الله تعالى وأمرنا بطاعته والتأسي به، والوعيد على ترك طاعته بقوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ
--------------------------------------------
এটি তখনই জ্ঞান হিসেবে গণ্য হয় যখন তা উপকারী হয়, আর তা তখনই উপকারী হয় যখন তা আনুগত্য এবং এর দাবির ওপর আমল করার সাথে যুক্ত থাকে। অন্যথায়, এটি নিছক অজ্ঞতা।
"আমি বলি": এই পরবর্তী যুগের লোকেরা 'ইলাহ' শব্দের অর্থ বুঝতে ভুল করেছে এবং এর প্রকৃত অর্থকে 'তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ'-এর অর্থে রূপান্তরিত করেছে, যা হলো সৃষ্টি করার ক্ষমতা। ফলে তারা শিরকের সেই বিষয়গুলোকেই সাব্যস্ত করেছে যা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" অস্বীকার করেছে এবং তাদের অজ্ঞতার কারণে আল্লাহর জন্য ইবাদতের একনিষ্ঠতা—যা এটি সাব্যস্ত করেছে—তাকে অস্বীকার করেছে। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতএব আল্লাহর ইবাদত করো তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।" ১।
মুহিউদ্দীন আন-নববী বলেছেন: জেনে রাখুন যে, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত হয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে এর সামান্য কিছু চিহ্ন ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অথচ এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার ওপর দ্বীনের স্থায়িত্ব ও মূল ভিত্তি নির্ভর করে। যখন পাপাচার বৃদ্ধি পায়, তখন শাস্তি নেককার এবং গুনাহগার সবার ওপরই আপতিত হয়।
তাঁর উক্তি: "বর্তমান সময়ে" বলতে পঞ্চম ও ষষ্ঠ হিজরী শতাব্দীকে বোঝানো হয়েছে। যদি তখনকার অবস্থা এমন হয়, তবে দশম শতাব্দী ও তার পরবর্তী সময় সম্পর্কে কী ধারণা করা যায়, যখন ইসলামের এই অপরিচিতি আরও প্রকট হয়েছে? এই কালিমার ব্যাখ্যায় আমাদের শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এমন চমৎকার ও সুস্পষ্ট কথা বলেছেন যার কোনো নজির আগে পাওয়া যায় না। তাই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিধায় তা দেখে নেওয়া উচিত।
হাদিসের উক্তি: "তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই" এটি "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর সেই অর্থেরই তাকিদ (দৃঢ়করণ) যা এটি প্রকাশ করে এবং যার জন্য এটি নির্ধারিত হয়েছে। এটি 'লাফ ও নাশর' পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত। এটি মূলত এই কালিমার অর্থের একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা; কারণ কালিমাটি সামগ্রিকভাবে তাওহীদের প্রমাণ দেয়। সুতরাং "লা ইলাহা" ইবাদতের ক্ষেত্রে ছোট-বড় সব ধরনের শিরককে অস্বীকার করে এবং তিনি "তাঁর কোনো অংশীদার নেই" কথাটির মাধ্যমে তাঁর উলুহিয়্যাত বা ইবাদতের ক্ষেত্রে অংশীদারহীনতাকে স্পষ্ট করেছেন।
আর তাঁর উক্তি: "তিনি একক" এটিই হলো "ইল্লাল্লাহ"-এর অর্থ। সুতরাং আসমান ও জমিনের অধিবাসী অন্য সবকিছুকে বাদ দিয়ে একমাত্র তিনিই সত্য ইলাহ। সুষ্পষ্ট আয়াতসমূহ এবং মুতাওয়াতির হাদিসসমূহ এর প্রমাণ বহন করে। অতএব, এই বর্ণনার ওপর চিন্তা করুন, যা আপনাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকার বৈধতা দানকারীদের মতবাদের অসারতা বুঝিয়ে দেবে। অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে বলেছেন: "অতএব আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডেকো না, তাহলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" ২। এছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ সামনে উল্লেখ করা হবে।
সুতরাং তাঁর উক্তি: "তিনি একক" এটি ইতিবাচক সাব্যস্তকরণের (ইসবাত) তাকিদ।
আর তাঁর উক্তি: "তাঁর কোনো অংশীদার নেই" এটি নেতিবাচক অস্বীকারের (নাফি) তাকিদ।
আর তাঁর উক্তি: "এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল" অর্থাৎ সত্যবাদিতা ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেওয়া যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। এটি তাঁর অনুসরণ করা, তাঁর আদেশ ও নিষেধকে সম্মান করা এবং তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরাকে আবশ্যক করে—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর অন্য কারোর কথার মাধ্যমে যেন তাঁর বিরোধিতা করা না হয়; কারণ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্য যে কারও ক্ষেত্রে ভুল হওয়া সম্ভব। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তাআলা নিষ্পাপ করেছেন এবং আমাদের তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর আনুগত্য ত্যাগ করার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো ফয়সালা করেন, তখন কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} 1 الآية. وقال: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} 2.
قال الإمام أحمد - رحمه الله تعالى -: أتدري ما الفتنة؟ الفتنة الشرك، لعله إذا رد بعض قوله أن يقع في قلبه شيء من الزيغ فيهلك.
وقد وقع في التفريط في المتابعة وتركها وتقديم أقوال من يجوز عليهم الخطأ على قوله صلي الله عليه وسلم لا سيما من العلماء كما لا يخفى.
قوله: "وأن عيسى عبد الله ورسوله " فيه بيان الحق الذي يجب اعتقاده كما في الآيات المحكمات، وما فيه من الرد على كفار النصارى وهم ثلاث طوائف: طائفة قالوا: إن عيسى هو الله. وطائفة قالوا: ابن الله. وطائفة قالوا: ثالث ثلاثة: يعنون عيسى وأمه، فبين تعالى في كتابه الحق وأبطل الباطل فقال: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلا الْحَقَّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلا تَقُولُوا ثَلاثَةٌ انْتَهُوا خَيْراً لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلاً} 3 والآيات بعدها.
وقال تعالى: {لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ} في مواضع من المائدة 4.
وأخبر تعالى عما قاله المسيح عليه السلام وهو في المهد فقال تعالى: {فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ قَالُوا يَا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئاً فَرِيّاً. يَا أُخْتَ هَارُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيّاً. فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيّاً. قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيّاً. وَجَعَلَنِي مُبَارَكاً أَيْنَ مَا كُنْتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيّاً. وَبَرّاً بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّاراً شَقِيّاً. وَالسَّلامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيّاً. ذَلِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ يَمْتَرُونَ. مَا كَانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ سُبْحَانَهُ إِذَا قَضَى أَمْراً فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ. وَإِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ} 5.
فبين تعالى الصراط المستقيم الذي من سلكه نجا ومن خرج عنه هلك، وقال تعالى: {إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ. الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ} 6 فبين تعالى الصراط المستقيم بيانا شافيا ووافيا وأقام حججه على توحيده فأحق الحق وأبطل الباطل ولو كره المشركون.
قوله: {وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ} أي قوله: كن، فخلقه بكن فكان، ففيه إثبات صفة
--------------------------------------------
...কোনো বিষয়ে ফয়সালা করেন, তখন তাদের নিজ নিজ বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার বা সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না। ১ আয়াত। এবং তিনি বলেছেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক থাকে যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব আসবে।" ২।
ইমাম আহমাদ -রাহিমাহুল্লাহ তাআলা- বলেন: তুমি কি জানো ফিতনা কী? ফিতনা হলো শিরক। হতে পারে যখন সে তাঁর (রাসূলের) কোনো কথা প্রত্যাখ্যান করে, তখন তার অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি হয় এবং সে ধ্বংস হয়ে যায়।
অনুসরণের ক্ষেত্রে অবহেলা করা, তা বর্জন করা এবং যাদের ভুল হওয়া সম্ভব এমন ব্যক্তিদের কথাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি ঘটেছে, বিশেষ করে আলেমদের ক্ষেত্রে, যা অস্পষ্ট নয়।
তাঁর বাণী: "এবং ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল" - এতে সেই হকের বর্ণনা রয়েছে যা বিশ্বাস করা ওয়াজিব যেমনটি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহে এসেছে। এতে কাফের খ্রিস্টানদের প্রতিবাদও রয়েছে, যারা তিন দলে বিভক্ত: এক দল বলে: নিশ্চয় ঈসা স্বয়ং আল্লাহ। অন্য দল বলে: আল্লাহর পুত্র। আর এক দল বলে: তিনের তৃতীয় জন: অর্থাৎ ঈসা ও তাঁর মা। ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে হক বর্ণনা করেছেন এবং বাতিলকে অসার প্রমাণ করেছেন। তিনি বলেছেন: "হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর শানে সত্য ছাড়া কিছু বলো না। মারইয়াম তনয় মাসীহ ঈসা তো কেবল আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনো এবং বলো না যে, আল্লাহ তিনজন। এ থেকে বিরত থাকো, এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। আল্লাহ তো কেবল এক ইলাহ; তিনি সন্তান গ্রহণ করা থেকে পবিত্র। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই; আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।" ৩ এবং পরবর্তী আয়াতসমূহ।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয় তারা কাফের হয়ে গিয়েছে যারা বলে যে, মারইয়াম তনয় মাসীহ-ই আল্লাহ।" সূরা মায়িদার বিভিন্ন স্থানে ৪।
আল্লাহ তাআলা মাসীহ আলাইহিস সালাম দোলনায় থাকাবস্থায় যা বলেছিলেন তা সংবাদ দিয়ে বলেন: "অতঃপর সে তাকে কোলে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে নিয়ে এলো। তারা বলল: হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভুত কাণ্ড করে বসেছ। হে হারুনের বোন! তোমার পিতা কোনো অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মা-ও কোনো ব্যভিচারিণী ছিলেন না। তখন মারইয়াম সন্তানের দিকে ইশারা করল। তারা বলল: দোলনায় থাকা শিশুর সাথে আমরা কীভাবে কথা বলব? শিশুটি বলল: আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন। আমি যেখানেই থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন সালাত ও যাকাতের, যতদিন আমি জীবিত থাকি। আর আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। শান্তি আমার ওপর যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন জীবিত হয়ে পুনরুত্থিত হব। এই হলো মারইয়াম তনয় ঈসা; সেই ধ্রুব সত্য কথা যার ওপর তারা সন্দেহ পোষণ করছে। আল্লাহর জন্য এমনটি শোভনীয় নয় যে তিনি সন্তান গ্রহণ করবেন, তিনি পবিত্র; তিনি যখন কোনো কাজের সিদ্ধান্ত নেন তখন তার জন্য কেবল বলেন ‘হও’, আর তা হয়ে যায়। এবং নিশ্চয় আল্লাহ আমার রব ও তোমাদের রব, অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত করো। এটাই সরল পথ।" ৫।
আল্লাহ তাআলা সেই সরল পথ বর্ণনা করেছেন যাতে যে চলে সে নাজাত পায় আর যে তা থেকে বিচ্যুত হয় সে ধ্বংস হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয় আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো; তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বলেছেন ‘হও’, ফলে সে হয়ে গেল। সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে, সুতরাং তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।" ৬। আল্লাহ তাআলা সরল পথ অত্যন্ত পরিষ্কার ও পরিপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর তাওহীদের ওপর দলিল প্রমাণ কায়েম করেছেন। ফলে তিনি হককে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং বাতিলকে অসার প্রমাণিত করেছেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।
তাঁর বাণী: "এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন" অর্থাৎ তাঁর কথা: "হও"; ফলে তিনি তাকে ‘হও’ দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং সে হয়ে গেল। এতে গুণের (সিফাত) সাব্যস্তকরণ রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الكلام لله تعالى خلافا للجهمية أيضا.
قوله: {وَرُوحٌ مِنْهُ} أي من الأرواح التي استخرجها من صلب آدم عليه السلام، وأخذ عليها العهد على أنه تعالى ربهم وإلههم، كما قال تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا} 1 الآيات. وروح عيسى من تلك الأرواح التي خلقها الله تعالى.
وذكر ابن جرير عن وهب بن منبه قال: نفخ جبريل في جيب درع مريم حتى وصلت النفخة إلى الرحم فاشتملت. وعن السدي أن النفخة دخلت في صدرها فحملت. وقال ابن جريح: يقولون إنما نفخ في جيب درعها وكمها. انتهى مختصرا. فجبريل نفخ والله خلق يقول كن فكان كما قال تعالى: {فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي} 2، فسبحان من لا يخلق غيره ولا يعبد سواه، وقد أورد بعض النصارى على بعض علماء المسلمين قول الله تعالى: {وَرُوحٌ مِنْهُ} ، فقال في الجواب: هذا ليس خاصا بعيسى عليه السلام بل المخلوقات كذلك كلها كما قال تعالى: {وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً مِنْهُ} 3 أي خلقا وإيجادا، وعيسى كذلك خلقه وأوجده كسائر مخلوقاته، وفي هذا الحديث الرد على اليهود أعداء الله وأعداء أنبيائه ورسله فإنهم كانوا هم والنصارى في طرفي نقيض، فنسبوه إلى أنه ولد بغي قاتلهم الله فأكذبهم الله تعالى في كتابه وأبطل قولهم كما أبطل قول الغلاة من النصارى فيما تقدم من الآيات ونحوها.
فالنصارى غلوا في عيسى ابن مريم عليه السلام أعظم الغلو والكفر والضلال، واليهود جفوا في حقه غاية الجفاء، وكلاهما قد ضل ضلالا بعيدا، نبه الله تعالى في مواضع كثيرة من كتابه، وبين تعالى الحق والصدق ورفع قدر المسيح عليه السلام، وجعله من أولي العزم الخمسة المذكورين في سورة الأحزاب والشورى، وأمر نبيه صلي الله عليه وسلم أن يصبر كما صبروا فقال: {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُوا الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ} 4 فهم أفضل الرسل على التحقيق، والنبي صلي الله عليه وسلم أفضلهم صلوات الله وسلامه عليه، وعلى جميع الأنبياء والمرسلين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
قوله: "وأن الجنة حق" أعدها الله للمؤمنين يوم القيامة، وما فيها من القصور والثمار والفواكه والنعيم المقيم والنظر إلى وجه الله الكريم، كما قال تعالى: {عَطَاءً غَيْرَ مَجْذُوذٍ} 5، وقال: {فَلا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} 6.
"والنار حق" أعدها الله تعالى لمن كفر به وأشرك في إلهيته وربوبيته، وألحد في أسمائه وصفاته. ومن لم يؤمن بالجنة والنار فقد كفر بالقرآن والرسل، فإن الله تعالى بين
--------------------------------------------
কথা বলা মহান আল্লাহর একটি গুণ, যা জাহমিয়াদের মতবাদেরও পরিপন্থী।
তাঁর উক্তি: {এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ} অর্থাৎ ঐ সকল রূহ বা আত্মা থেকে যা তিনি আদম আলাইহিস সালামের পৃষ্ঠদেশ থেকে বের করেছিলেন এবং তাদের থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, মহান আল্লাহই তাদের রব ও ইলাহ, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যখন তোমার রব বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদের বের করলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী করে বললেন, ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম’} ১ আয়াতসমূহ। আর ঈসার রূহ সেই সব রূহেরই অন্তর্ভুক্ত যা মহান আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।
ইবনে জারীর ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরীল মারয়ামের জামার কলারের ছিদ্রপথে ফুঁ দিয়েছিলেন, এমনকি সেই ফুঁ জরায়ু পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল এবং তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন। আস-সুদ্দী থেকে বর্ণিত যে, ফুঁটি তাঁর বক্ষদেশে প্রবেশ করেছিল এবং তিনি গর্ভবতী হয়েছিলেন। ইবনে জুরাইজ বলেন: তারা বলে যে, কেবল তাঁর জামার কলার ও হাতার ছিদ্রে ফুঁ দেওয়া হয়েছিল। (সংক্ষেপে সমাপ্ত)। সুতরাং জিবরীল ফুঁ দিয়েছিলেন আর আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন; তিনি বলেন 'হও', ফলে তা হয়ে যায়। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করলাম এবং তাতে আমার পক্ষ থেকে রূহ ফুঁকে দিলাম} ২। সুতরাং পবিত্র সেই সত্তা, যিনি ছাড়া আর কেউ সৃষ্টি করতে পারে না এবং তিনি ব্যতীত আর কারো ইবাদত করা হয় না। কিছু খ্রিষ্টান জনৈক মুসলিম আলেমের কাছে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ} সম্পর্কে আপত্তি উত্থাপন করলে তিনি উত্তরে বলেছিলেন: এটি কেবল ঈসা আলাইহিস সালামের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং সমস্ত সৃষ্টিই অনুরূপ, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব কিছুই তিনি তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন তাঁর পক্ষ থেকে} ৩। অর্থাৎ সৃষ্টি ও অস্তিত্ব প্রদানের দিক থেকে। ঈসাও তেমনি, তাঁকে আল্লাহ তাঁর অন্যান্য সৃষ্টির মতোই সৃষ্টি করেছেন এবং অস্তিত্ব দিয়েছেন। আর এই হাদিসের মধ্যে আল্লাহর শত্রু এবং তাঁর নবী ও রাসূলদের শত্রু ইহুদিদের খণ্ডন রয়েছে। কেননা তারা এবং খ্রিষ্টানরা ছিল দুই বিপরীত মেরুতে। তারা তাঁকে (ঈসাকে) ব্যভিচারের সন্তান বলে অপবাদ দিয়েছিল—আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাদেরকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন এবং তাদের বক্তব্য বাতিল করেছেন, যেমনটি তিনি ইতিপূর্বে উল্লিখিত আয়াতসমূহ এবং এ জাতীয় অন্যান্যের মাধ্যমে খ্রিষ্টানদের মধ্যে যারা চরমপন্থী ছিল তাদের বক্তব্য বাতিল করেছেন।
খ্রিষ্টানরা ঈসা ইবনে মারয়াম আলাইহিস সালামের ব্যাপারে চরম সীমালঙ্ঘন, কুফরি ও পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়েছে, আর ইহুদিরা তাঁর হকের ব্যাপারে চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। উভয় দলই সুদূর পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের অনেক স্থানে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং সত্য ও সঠিক বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। তিনি মাসীহ আলাইহিস সালামের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন এবং তাঁকে সূরা আল-আহযাব ও সূরা আশ-শূরায় উল্লিখিত পাঁচজন 'উলুল আযম' (দৃঢ় সংকল্পধারী) রাসূলের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন যেভাবে তারা ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। তিনি বলেছেন: {অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ করো যেভাবে রাসূলদের মধ্যে দৃঢ় সংকল্পধারীরা ধৈর্য ধারণ করেছিলেন} ৪। প্রকৃতপক্ষে তাঁরাই শ্রেষ্ঠ রাসূল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর এবং সকল নবী ও রাসূলদের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর বর্ষিত হোক।
তাঁর উক্তি: "এবং জান্নাত সত্য" যা আল্লাহ কিয়ামতের দিন মুমিনদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। সেখানে রয়েছে প্রাসাদ, ফলমূল এবং চিরস্থায়ী নেয়ামত ও আল্লাহর সম্মানাময় চেহারার দিকে দৃষ্টিপাত করা। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {এমন এক দান যা কখনো ছিন্ন হবে না} ৫। তিনি আরো বলেন: {কেউ জানে না তাদের জন্য তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ চোখের শীতলতাকারী কী কী নেয়ামত লুকিয়ে রাখা হয়েছে} ৬।
"এবং জাহান্নাম সত্য" যা মহান আল্লাহ ঐ ব্যক্তির জন্য প্রস্তুত করেছেন যে তাঁকে অস্বীকার করেছে, তাঁর উলুহিয়্যাত ও রুবুবিয়্যাতে শিরক করেছে এবং তাঁর নাম ও গুণাবলিতে বিকৃতি ঘটিয়েছে। যে ব্যক্তি জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে না, সে কুরআন ও রাসূলদের অস্বীকার করল। কেননা মহান আল্লাহ তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الجنة وما أعد فيها من النعيم المقيم، وذكر أنها دار المتقين، وذكر النار وما فيها من العذاب وأنه أعدها لمن كفر به وأشرك.
قوله: "أدخله الله الجنة على ما كان من العمل" جواب من الشرطية أي من شهد أن لا إله إلا الله إلى آخره أدخله الله الجنة، أي بإخلاصه وصدقه والإيمان برسوله وما أرسل به، وخالف النصارى واليهود في الغلو والجفاء في حق عيسى، وعلم يقينا أنه عبد الله ورسوله، وآمن بالجنة والنار، فمن كان كذلك أدخله الله الجنة، وإن كان مقصرا وله ذنوب فهذه الحسنة العظيمة ترجح بجميع السيئات، فتدبر هذا الحديث فإنه عظيم والله أعلم.
قوله: "ولهما" أي البخاري ومسلم وهذا حديث طويل اختصره المصنف وذكر منه ما يناسب الترجمة وهو قوله: "من قال لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله"، وهذا هو حقيقة معناها الذي دلت عليه هذه الكلمة من الإخلاص ونفي الشرك، والصدق والإخلاص متلازمان لا يوجد أحدهما بدون الآخر، فإن من لم يكن مخلصا فهو مشرك، ومن لم يكن صادقا فهو منافق، والمخلص أن يقولها مخلصا الإلهية لمن لا يستحقها غيره وهو الله تعالى، وهذا التوحيد هو أساس الإسلام الذي قال الخليل عليه السلام: {رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ} 1. وقالت بلقيس: {رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ} 2، وقال الخليل عليه السلام: {إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفاً وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 3 والحنيف هو الذي ترك الشرك رأسا وتبرأ معه وفارق أهله وعاداهم، وأخلص أعماله الباطنة والظاهرة لله وحده، كما قال تعالى: {وَمَنْ يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى} 4 فإسلام الوجه هو إخلاص العبادة المنافي للشرك والنفاق وهو معنى الآية ونحوها إجماعا، فهذا هو الذي ينفعه قول: "لا إله إلا الله "، ولهذا قال تعالى: {فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى} 5، وهذا بخلاف من يقولها وهو يدعو غير الله ويستغيث به من ميت أو غائب لا ينفع ولا يضر، كما ترى عليه أكثر الخلق فهؤلاء وإن قالوها، فقد تلبسوا بما يناقضها فلا تنفع قائلها إلا بالعلم بمدلولها نفيا وإثباتا، والجاهل بمعناها وإن قالها لا تنفعه لجهله بما وضعت له الوضع العربي الذي أريد منها من نفي الشرك، وكذلك إذا عرف معناها بغير تيقن له، فإذا انتفى اليقين وقع الشك.
ومما قيدت به في الحديث قوله صلي الله عليه وسلم: " غير شاك" فلا تنفع إلا من قالها بعلم ويقين لقوله صدقا من قلبه خالصا من قلبه، وكذلك من قالها غير صادق في قوله، فإنها لا تنفعه لمخالفة القلب اللسان كحال المنافقين الذين يقولون بألسنتهم ما ليس في قلوبهم، وكذلك حال المشرك فلا تقبل من مشرك لمنافاة الشرك للإخلاص، ولما دلت عليه هذه الكلمة
--------------------------------------------
জান্নাত এবং সেখানে প্রস্তুতকৃত চিরস্থায়ী নেয়ামতরাজির বর্ণনা, এবং উল্লেখ করেছেন যে এটি মুত্তাকীদের আবাসস্থল। আর তিনি আগুনের কথা এবং তাতে বিদ্যমান আযাব সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন এবং তা তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন যারা তাঁর সাথে কুফরি করেছে এবং শিরক করেছে।
তাঁর বাণী: "আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যেমনই হোক না কেন" এটি একটি শর্তসূচক বাক্যের উত্তর। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—শেষ পর্যন্ত—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অর্থাৎ তার ইখলাস, সত্যবাদিতা এবং তাঁর রাসূল ও তিনি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তার প্রতি ঈমানের বিনিময়ে। আর সে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর হকের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও অবহেলার ক্ষেত্রে খ্রিস্টান ও ইহুদিদের বিরোধিতা করল এবং দৃঢ়ভাবে জানল যে তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আর সে জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি ঈমান আনল। সুতরাং যে ব্যক্তি এরূপ হবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যদিও সে ত্রুটিপূর্ণ হয় এবং তার গুনাহ থাকে। কারণ এই মহান নেকি সকল পাপাচারের ওপর প্রাধান্য পাবে। অতএব এই হাদিসটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করো, কারণ এটি অত্যন্ত মহান। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
তাঁর বাণী: "তাদের উভয়ের নিকট" অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিম। এটি একটি দীর্ঘ হাদিস যা লেখক সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এখান থেকে সেই অংশটি উল্লেখ করেছেন যা অধ্যায়ের শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর তা হলো তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে আল্লাহর চেহারা কামনা করে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে"। এটাই হলো সেই অর্থের হাকিকত যা এই কালিমা ইখলাস এবং শিরক অপনোদনের মাধ্যমে নির্দেশ করে। সত্যবাদিতা এবং ইখলাস একে অপরের জন্য আবশ্যক, একটি ছাড়া অন্যটি পাওয়া যায় না। কারণ যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ (মুখলিস) নয় সে মুশরিক, আর যে সত্যবাদী নয় সে মুনাফিক। আর মুখলিস হলো সে ব্যক্তি যে উপাস্য হওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করে এটি বলবে, যিনি ব্যতীত অন্য কেউ এর যোগ্য নয়। আর এই তাওহীদই হলো ইসলামের ভিত্তি যা সম্পর্কে খলীল (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: "হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত করুন।" ১। আর বিলকিস বলেছিল: "হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি এবং আমি সুলায়মানের সাথে জগতসমূহের রব আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করলাম।" ২। খলীল (আলাইহিস সালাম) আরও বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আমি একনিষ্ঠভাবে আমার চেহারা সেই সত্তার দিকে ফিরালাম যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।" ৩। আর হানিফ হলো সে ব্যক্তি যে শিরককে সমূলে বর্জন করেছে এবং তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, এর অনুসারীদের থেকে পৃথক হয়েছে ও তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছে এবং তার প্রকাশ্য ও গোপন সকল আমলকে একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করেছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর নিকট নিজের চেহারা সোপর্দ করে, সে মূলত এক মজবুত হাতল ধারণ করল।" ৪। সুতরাং চেহারার সমর্পণ হলো ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা যা শিরক ও নিফাকের পরিপন্থী। আর এটাই সর্বসম্মতিক্রমে এই আয়াত ও অনুরূপ আয়াতসমূহের অর্থ। অতএব এটিই সেই ব্যক্তিকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলায় উপকৃত করবে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সে এক মজবুত হাতল ধারণ করল।" ৫। এটি সেই ব্যক্তির বিপরীত যে এটি মুখে বলে অথচ আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকে এবং মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, যারা কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না, যেমনটি আপনি অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে দেখতে পান। এরা যদিও এটি মুখে বলে থাকে, তবুও তারা এমন কার্যে লিপ্ত যা এর পরিপন্থী। ফলে এর অর্থ (অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতি) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা ছাড়া এটি তার পাঠকারীকে কোনো উপকার দিবে না। আর যে ব্যক্তি এর অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ, সে এটি মুখে বললেও তার কোনো উপকারে আসবে না, কারণ এটি যে উদ্দেশ্যে আরবি ভাষায় গঠিত হয়েছে (শিরক অস্বীকার) সে সম্পর্কে সে অজ্ঞ। তদ্রূপ যদি কেউ এর অর্থ জানল কিন্তু তাতে তার দৃঢ় বিশ্বাস নেই, তবে দৃঢ়তা না থাকলে সেখানে সন্দেহ তৈরি হয়।
হাদিসে যে বিষয়টি শর্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "সন্দেহ পোষণ না করে।" সুতরাং এটি তাকেই কেবল উপকৃত করবে যে তা জ্ঞান ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে বলবে; কারণ তিনি বলেছেন: "অন্তর থেকে সত্যতার সাথে, অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে।" তদ্রূপ যে ব্যক্তি তার বলায় সত্যবাদী নয়, এটি তাকে উপকৃত করবে না কারণ তার অন্তর জিহবার বিরোধিতা করছে; যেমন মুনাফিকদের অবস্থা, যারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। একইভাবে মুশরিকদের অবস্থাও তাই; কোনো মুশরিকের পক্ষ থেকে এটি গ্রহণ করা হবে না কারণ শিরক ইখলাসের পরিপন্থী এবং এই কালিমা যা নির্দেশ করে তারও পরিপন্থী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وعن أبي سعيد الخدري عن رسول الله صلي الله عليه وسلم قال: " قال موسى: يا رب، علمني شيئا أذكرك وأدعوك به. قال: قل يا موسى: لا إله إلا الله. قال: يا رب كل عبادك يقولون هذا، قال: يا موسى، لو أن السماوات السبع وعامرهن غيري، والأرضين السبع في كفة، ولا إله إلا الله في كفة، مالت بهن لا إله إلا الله " رواه ابن حبان، والحاكم وصححه 1.
مطابقة، فإنها دلت على نفي الشرك والبراءة منه، والإخلاص لله وحده لا شريك له مطابقة، ومن لم يكن كذلك لم ينفعه قوله لا إله إلا الله، كما هو حال كثير من عبدة الأوثان يقولون لا إله إلا الله وينكرون ما دلت عليه من الإخلاص، ويعادون أهله وينصرون الشرك وأهله، وقد قال الخليل عليه السلام لأبيه وقومه: {إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ. إِلا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينِ. وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ} 2. وهي لا إله إلا الله، وقد عبر عنها الخليل بمعناها الذي وضعت له ودلت عليه، وهو البراءة من الشرك وإخلاص العبادة لله وحده لا شريك له، كما تقدم تقريره، وكذلك من قالها ولم يقبل ما دلت عليه من الإخلاص كان قوله لهذه الكلمة كذبا منه، بل قد عكس مدلولها فأثبت ما نفته من الشرك، ونفي ما أثبتته من الإخلاص.
فهذا الذي ذكرناه هو حال الأكثرين من هذه الأمة بعد القرون الثلاثة، وسبب ذلك الجهل بمعناها واتباع الهوى، فيصرفه عن اتباع الحق، وما بعث الله به رسله من توحيده الذي شرعه لعباده ورضيه لهم.
قوله: لا إله إلا الله ف "لا" نافية للجنس نفيا عاما إلا ما استثنى، وخبرها محذوف تقديره لا إله إلا الله. قال تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ} 3 فإلهيته تعالى هي الحق، وكل ما سواه من الآلهة فإلهيته باطلة، كما في هذه الآية ونظائرها فهذه كلمة عظيمة هي العروة الوثقى، وكلمة التقوى وكلمة الإخلاص، وهي التي قامت بها السماوات والأرض، وشرعت لتكميلها السنة
--------------------------------------------
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মূসা (আ.) বললেন: হে আমার রব! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যার মাধ্যমে আমি আপনাকে স্মরণ করব এবং আপনার কাছে দুআ করব। তিনি বললেন: হে মূসা! বলো: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই)। তিনি বললেন: হে রব! আপনার সমস্ত বান্দাই তো এটি বলে। তিনি বললেন: হে মূসা! যদি সাত আসমান ও আমি ব্যতীত এর সকল অধিবাসী এবং সাত জমিন এক পাল্লায় রাখা হয়, আর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' অন্য পাল্লায় রাখা হয়, তবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর পাল্লাটিই ভারী হবে।" এটি ইবনে হিব্বান ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সহীহ বলেছেন। ১।
এর সাথে মিল রয়েছে, কারণ এটি শিরককে অস্বীকার করা এবং তা থেকে দায়মুক্ত হওয়া এবং একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হওয়ার প্রমাণ দেয় যার কোনো শরিক নেই। আর যে ব্যক্তি এমন হবে না, তার 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা কোনো কাজে আসবে না। যেমন অনেক মূর্তিপূজারীদের অবস্থা; তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে কিন্তু এটি যে একনিষ্ঠতার প্রমাণ দেয় তা অস্বীকার করে, তাওহীদপন্থীদের সাথে শত্রুতা করে এবং শিরক ও মুশরিকদের সাহায্য করে। ইবরাহীম খলীল (আ.) তাঁর পিতা ও সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: {নিশ্চয় আমি তোমাদের উপাস্য বিষয়গুলো হতে বিমুখ। তবে সেই সত্তা ব্যতীত যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, কেননা তিনি অবশ্যই আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন। আর তিনি এটাকে তাঁর উত্তরসূরিদের মধ্যে এক চিরন্তন বাণী হিসেবে রেখে গেছেন} ২। আর এটি হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। খলীল (আ.) একে সেই অর্থেই প্রকাশ করেছেন যার জন্য এটি প্রবর্তিত হয়েছে এবং যা এটি নির্দেশ করে। আর তা হলো শিরক থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা যার কোনো শরিক নেই, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তেমনিভাবে যে ব্যক্তি এই বাণীটি পাঠ করল কিন্তু এর নির্দেশিত একনিষ্ঠতাকে গ্রহণ করল না, তবে তার এই কথা বলাটা হবে মিথ্যাচার। বরং সে এর অর্থের বিপরীত কাজ করল; ফলে এটি যে শিরককে অস্বীকার করেছে সে তাকেই সাব্যস্ত করল এবং এটি যে একনিষ্ঠতাকে সাব্যস্ত করেছে সে তাকেই অস্বীকার করল।
আমরা যা উল্লেখ করলাম, তা হলো প্রথম তিন প্রজন্মের পর এই উম্মতের অধিকাংশের অবস্থা। এর কারণ হলো এই বাণীর অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ, যা তাকে সত্য অনুসরণ থেকে বিমুখ করে দেয়। অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর রসূলদের যে তাওহীদসহ প্রেরণ করেছেন, তা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং তাদের জন্য পছন্দ করেছেন।
তাঁর উক্তি: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-তে 'লা' হলো সাধারণ অস্বীকৃতি জ্ঞাপক, যা ব্যতিক্রম ব্যতীত সাধারণভাবে অস্বীকার করে। আর এর খবর (বিধেয়) ঊহ্য রয়েছে, যার পূর্ণরূপ হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই'। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এটি এজন্য যে, আল্লাহই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা বাতিল, আর আল্লাহই সমুন্নত, মহান} ৩। সুতরাং মহান আল্লাহর ইলাহিয়াতই হলো সত্য, আর তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছুকে ইলাহ হিসেবে গণ্য করা হয় তা বাতিল। যেমনটি এই আয়াতে এবং এর সমজাতীয় আয়াতগুলোতে এসেছে। এটি এক মহান বাণী, এটিই হলো সুদৃঢ় হাতল, তাকওয়ার বাণী এবং একনিষ্ঠতার বাণী। এর ওপরই আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত এবং সুন্নাহ প্রবর্তিত হয়েছে একে পূর্ণতা প্রদানের জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
والفرض ولأجلها جردت سيوف الجهاد، وبها ظهر الفرق بين المطيع والعاصي من العباد. فمن قالها وعمل بها صدقا وإخلاصا، وقبولا ومحبة وانقيادا، أدخله الله الجنة على ما كان من العمل، وفي الحديث الصحيح: " أفضل الدعاء يوم عرفة، وأفضل ما قلت أنا والنبيون من قبلي: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير " 1. وفي حديث عبد الله بن عمرو مرفوعا: " يصاح برجل من أمتي على رءوس الخلائق يوم القيامة، فينشر له تسعة وتسعون سجلا كل سجل منها مد البصر ثم يقال: أتنكر من هذا شيئا؟. فيقول: لا يا رب فيقال: ألك عذر أو حسنة؟ فيهاب الرجل فيقول: لا، فيقال: بلى إن لك عندنا حسنة وإنه لا ظلم عليك، فيخرج له بطاقة فيها أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله. فيقول: يا رب ما هذه البطاقة مع هذه السجلات؟ فيقال: إنك لا تظلم، فتوضع السجلات في كفة والبطاقة في كفة، فطاشت السجلات وثقلت البطاقة " رواه الترمذي وحسنه2.
قوله: " لو أن السماوات السبع وعامرهن غيري "أي كل من في السماوات والأرض. وقوله "غيري" استثنى ممن في السماوات نفسه لأنه العلي الأعلى تعالى وتقدس كما قال تعالى {وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} 3 علو القهر وعلو القدرة وعلو الذات، فالثلاثة كلها صفته ودلت على كماله، كما قال تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} 4 {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ} 5 في سبعة مواضع من كتابه كما قال تعالى: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ} 6. وقال تعالى: {يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ} 7 وقال تعالى: {تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ} 8، وقال تعالى: {إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ} 9، وأمثال هذه الآيات. فمن سلب علو الله تعالى على خلقه فقد خالف صريح الكتاب والسنة وألحد في أسمائه وصفاته، ومعنى هذه الكلمة نفي الإلهية عن كل شيء
--------------------------------------------
এবং এটি একটি ফরজ বিধান এবং এরই কারণে জিহাদের তরবারিগুলো কোষমুক্ত করা হয়েছে, আর এর মাধ্যমেই ইবাদতকারীদের মধ্যে অনুগত ও অবাধ্যদের মাঝে পার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি বলেছে এবং সত্যনিষ্ঠা, আন্তরিকতা, গ্রহণযোগ্যতা, ভালোবাসা ও আনুগত্যের সাথে এর ওপর আমল করেছে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যেমনই হোক না কেন। সহিহ হাদিসে এসেছে: "আরাফাহ দিবসের শ্রেষ্ঠ দুআ এবং আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।" ১। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বর্ণিত মারফু হাদিসে এসেছে: "কিয়ামতের দিন সৃষ্টির সামনে আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে ডাকা হবে। অতঃপর তার জন্য নিরানব্বইটি দফতর (আমলনামা) খোলা হবে, প্রতিটি দফতর হবে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর তাকে বলা হবে: তুমি কি এর মধ্য থেকে কিছু অস্বীকার করো? সে বলবে: না, হে আমার রব। তখন বলা হবে: তোমার কি কোনো ওজর বা কোনো নেকি আছে? লোকটি ভীত হয়ে বলবে: না। তখন বলা হবে: অবশ্যই আমাদের কাছে তোমার একটি নেকি আছে এবং আজ তোমার ওপর কোনো জুলুম করা হবে না। অতঃপর তার জন্য একটি চিরকুট বের করা হবে যাতে লেখা আছে: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। সে বলবে: হে আমার রব! এই বিশাল আমলনামাগুলোর বিপরীতে এই সামান্য চিরকুটের কী মূল্য? তাকে বলা হবে: তোমার ওপর কোনো জুলুম করা হবে না। এরপর আমলনামাগুলো এক পাল্লায় এবং চিরকুটটি অন্য পাল্লায় রাখা হবে। ফলে আমলনামার পাল্লাগুলো হালকা হয়ে উপরে উঠে যাবে এবং চিরকুটের পাল্লাটি ভারী হয়ে যাবে।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন।২।
তাঁর বাণী: "যদি সাত আসমান এবং আমি ছাড়া এর অধিবাসীগণ" - অর্থাৎ আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা সবাই। আর তাঁর বাণী "আমি ছাড়া" এর মাধ্যমে আসমানে যা আছে তা থেকে তিনি নিজেকে স্বতন্ত্র করেছেন; কেননা তিনি সুউচ্চ, সর্বোচ্চ, মহান ও পবিত্র। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তিনি সুউচ্চ, অতি মহান} ৩। এটি আধিপত্যের উচ্চতা, ক্ষমতার উচ্চতা এবং সত্তাগত উচ্চতা - এই তিনটিই তাঁর গুণ এবং তাঁর পূর্ণতার দলিল। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {রহমান আরশের উপর উঠেছেন} ৪ এবং {অতঃপর রহমান আরশের উপর উঠেছেন} ৫ - তাঁর কিতাবের সাতটি স্থানে এমনটি এসেছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {পবিত্র বাণীসমূহ তাঁর দিকেই আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তা উপরে উঠিয়ে নেয়} ৬। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {তারা তাদের রবকে ভয় করে, যিনি তাদের উপরে রয়েছেন} ৭। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {ফেরেশতাগণ এবং রুহ তাঁর দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর} ৮। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমাকে পূর্ণ গ্রহণ করব এবং তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নেব} ৯ এবং এ জাতীয় আরও আয়াত। সুতরাং যে ব্যক্তি সৃষ্টির ওপর মহান আল্লাহর উচ্চতাকে অস্বীকার করল, সে মূলত কিতাব ও সুন্নাহর স্পষ্ট বিধানের বিরোধিতা করল এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে বিকৃতি ঘটাল। আর এই বাণীর অর্থ হলো সমস্ত কিছু থেকে উপাস্য হওয়ার যোগ্যতাকে অস্বীকার করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
سوى ما استثنى بها وهو الله تعالى، وفيه النص على أن الأرضين سبع كالسماوات، لكن هذه الكلمة العظيمة لا يحصل رجحانها إلا في حق من أتى بقيودها التي قيدت بها في الكتاب والسنة، وقد ذكر سبحانه في سورة براءة وغيرها كثيرا ممن يقولها ولم ينفعهم قولها، كحال أهل الكتاب والمنافقين على كثرتهم وتنوعهم في نفاقهم، فلم تنفعهم مع ما قام بهم من ترك تلك القيود، "فمنهم " من يقولها جاهلا بما وضعت له وبما دلت عليه من نفي الشرك والبراءة منه والصدق والإخلاص وغيرها كعدم القبول ممن دعا إليها علما وعملا، وترك الانقياد بالعمل بما تقتضيه كحال أكثر من يقولها قديما وحديثا، ولكن في أواخر هذه الأمة أكثر. "ومنهم " من يمنعه من محبتها والعمل بها ما قام بقلبه من كبر أو هوى أو غير ذلك من الأسباب وهي كثيرة منها قوله تعالى: {قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ} 1 إلى قوله: {فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} 2.
وأما أهل الايمان الخلص فهم الذين أتوا بهذه الكلمة، واجتمعت لهم قيودها التي قيدت بها علما ويقينا وصدقا وإخلاصا ومحبة وقبولا وانقيادا، وعادوا فيه ووالوا فيه وأحبوا فيه وأبغضوا فيه، وقد ذكرهم تعالى في مواضع من سورة براءة وغيرها وخصهم بالثناء عليهم، والعفو عنهم، وأعد لهم جنته وأنجاهم من النار كما قال تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} 3، وقال: {وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} 4 فهؤلاء ومن اتبعهم بإحسان هم أهل لا إله إلا الله وغير هذه من الآيات في الثناء عليهم وما أعد لهم في الدار الآخرة، فمن تدبر القرآن وعرف تفاوت الخلق في محبة ربهم وتوحيده والعمل بطاعته والهرب من معصيته، وإيثار ما يحبه تعالى رغبة وعملا وترك ما يكرهه خشية ورجاء، واعتبر الناس بأحوالهم وأقوالهم وأعمالهم ونياتهم وإرادتهم وما هم عليه من التفاوت البعيد تبين له خطأ المغرورين كما في الحديث الصحيح عن النبي صلي الله عليه وسلم أنه قال: " الكيس من دان نفسه وعمل لما بعد الموت، والعاجز من أتبع نفسه هواها وتمنى على الله الأماني " 5.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা ছাড়া যা এর দ্বারা ব্যতিক্রম করা হয়েছে তা ব্যতীত, এবং এতে সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে যে জমিনসমূহও আসমানসমূহের ন্যায় সাতটি। কিন্তু এই মহান বাণীর পাল্লা কেবল তখনই ভারী হবে যখন কেউ কিতাব ও সুন্নাহর নির্ধারিত শর্তাবলি সহকারে এটি নিয়ে আসবে। মহান আল্লাহ সূরা বারাআহ ও অন্যান্য সূরায় এমন অনেকের কথা উল্লেখ করেছেন যারা এই বাণী উচ্চারণ করে অথচ তা তাদের কোনো উপকারে আসে না; যেমন আহলে কিতাব এবং মুনাফিকদের অবস্থা, যাদের সংখ্যাধিক্য এবং নিফাকের বৈচিত্র্য সত্ত্বেও শর্তাবলি বর্জন করায় এই বাণী তাদের কোনো কাজে আসেনি। "তাদের মধ্যে" এমন কেউ আছে যে এই বাণীটি কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে এবং এটি শিরক বর্জন, শিরক থেকে দায়মুক্তি, সত্যবাদিতা ও ইখলাসসহ অন্যান্য যে বিষয়ের ওপর দালালত করে সে সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেই তা পাঠ করে। যেমন ইলম ও আমল সহকারে এই বাণীর দিকে আহ্বানকারীর দাওয়াত কবুল না করা এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করার আনুগত্য বর্জন করা—যা প্রাচীন ও বর্তমান কালের অধিকাংশ প্রবক্তার অবস্থা, তবে এই উম্মতের শেষ যুগে এর প্রাদুর্ভাব আরও বেশি। "তাদের মধ্যে" এমনও কেউ আছে যাদের এই বাণীর প্রতি ভালোবাসা ও এর ওপর আমল করা থেকে তাদের অন্তরে বিদ্যমান অহংকার, প্রবৃত্তি বা অন্য কোনো কারণ বাধা দেয়। এর কারণ অনেক, তন্মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী ও তোমাদের স্বগোত্রীয়রা} ১ থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {তবে অপেক্ষা করো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসেন। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না} ২।
পক্ষান্তরে খাঁটি ঈমানদারগণ তারাই যারা এই বাণী নিয়ে এসেছে এবং ইলম, ইয়াকিন, সততা, ইখলাস, ভালোবাসা, কবুলিয়াত ও আনুগত্যের মতো এর সকল শর্ত তাদের মধ্যে একত্রিত হয়েছে। তারা এর জন্যই শত্রুতা করেছে, এর জন্যই বন্ধুত্ব করেছে, এর জন্যই ভালোবেসেছে এবং এর জন্যই ঘৃণা পোষণ করেছে। আল্লাহ তাআলা সূরা বারাআহ ও অন্যান্য স্থানে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বিশেষভাবে তাদের প্রশংসা ও ক্ষমার কথা বলেছেন। তিনি তাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত করেছেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু; তারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে এবং সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। এরাই তারা যাদের ওপর আল্লাহ শীঘ্রই দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} ৩। এবং তিনি বলেছেন: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য} ৪। এরাই এবং যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, তারাই হচ্ছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর প্রকৃত অনুসারী। তাদের প্রশংসা এবং পরকালে তাদের জন্য যা প্রস্তুত করা হয়েছে সে বিষয়ে এছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে এবং স্বীয় রবের প্রতি ভালোবাসা, তাঁর তাওহিদ, তাঁর আনুগত্যের ওপর আমল করা ও তাঁর নাফরমানি থেকে পলায়ন করা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষায় তাঁর প্রিয় বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া ও ভয় ও আশার সাথে তাঁর অপছন্দনীয় বিষয়গুলো বর্জন করার ক্ষেত্রে সৃষ্টির মধ্যকার তারতম্য অনুধাবন করবে; আর মানুষের অবস্থা, কথা, কাজ, নিয়ত ও সংকল্প এবং তাদের মধ্যকার সুবিশাল ব্যবধান বিবেচনা করবে, তার কাছে আত্মপ্রবঞ্চিতদের ভুল স্পষ্ট হয়ে যাবে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে। আর অক্ষম সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে তার প্রবৃত্তির অনুগামী করে এবং আল্লাহর কাছে বৃথা আশা পোষণ করে" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
وللترمذي وحسنه عن أنس: سمعت رسول الله صلي الله عليه وسلم يقول: " قال الله تعالى: يا ابن آدم; لو أتيتني بقراب الأرض خطايا، ثم لقيتني لا تشرك بي شيئا لأتيتك بقرابها مغفرة " 1.
فيه مسائل:
الأولى: سعة فضل الله.
الثانية: كثرة ثواب التوحيد عند الله.
الثالثة: تكفيره مع ذلك للذنوب.
الرابعة: تفسير الآية " 82 " التي في سورة الأنعام.
الخامسة: تأمل الخمس اللواتي في حديث عبادة.
السادسة: أنك إذا جمعت بينه وبين حديث عتبان وما بعده، تبين لك معنى قول: " لا إله إلا الله" وتبين لك خطأ المغرورين.
السابعة: التنبيه للشرط الذي في حديث عتبان.
قوله: وللترمذي وحسنه عن أنس: سمعت رسول الله صلي الله عليه وسلم يقول: " قال الله تعالى: يا ابن آدم إنك لو أتيتني بقراب الأرض خطايا ثم لقيتني لا تشرك بي شيئا لأتيتك بقرابها مغفرة " 2.
في هذا الحديث ما بين معنى "لا إله إلا الله" التي رجحت بجميع المخلوقات، وجميع السيئات وأن ذلك هو ترك الشرك قليله وكثيره، وذلك يقتضي كمال التوحيد، فلا يسلم من الشرك إلا من حقق توحيده وأتى بما تقتضيه كلمة الإخلاص من العلم واليقين والصدق والإخلاص والمحبة والقبول والانقياد، وغير ذلك مما تقتضيه تلك الكلمة العظيمة كما قال تعالى: {يَوْمَ لا يَنْفَعُ مَالٌ وَلا بَنُونَ. إِلا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ} 3.
--------------------------------------------
এবং তিরমিযীতে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে এবং তিনি একে হাসান বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পূর্ণ পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে উপস্থিত হও, অতঃপর আমার সাথে কাউকে শরীক না করে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো, তবে আমি তোমার কাছে সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে উপস্থিত হব।" ১।
এতে বেশ কিছু মাসআলা রয়েছে:
প্রথম: আল্লাহর অনুগ্রহের প্রশস্ততা।
দ্বিতীয়: আল্লাহর কাছে তাওহীদের প্রতিদানের আধিক্য।
তৃতীয়: সেই সাথে এর মাধ্যমে গুনাহ মোচন হওয়া।
চতুর্থ: সূরা আল-আন'আমের ৮২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা।
পঞ্চম: উবাদাহ-র হাদীসে বর্ণিত পাঁচটি বিষয়ের প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করা।
ষষ্ঠ: আপনি যখন একে ইতবান-এর হাদীস এবং এর পরবর্তী হাদীসসমূহের সাথে একত্রিত করবেন, তখন আপনার কাছে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ স্পষ্ট হবে এবং আত্মপ্রবঞ্চনাকারীদের ভুল আপনার নিকট প্রতিভাত হবে।
সপ্তম: ইতবান-এর হাদীসে বর্ণিত শর্তটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ।
তাঁর উক্তি: এবং তিরমিযীতে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে এবং তিনি একে হাসান বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পূর্ণ পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে উপস্থিত হও, অতঃপর আমার সাথে কাউকে শরীক না করে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো, তবে আমি তোমার কাছে সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে উপস্থিত হব।" ২।
এই হাদীসে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর মর্মার্থ বর্ণিত হয়েছে, যা সকল সৃষ্টি এবং সকল পাপাচারের চেয়ে ভারী বা শ্রেষ্ঠ সাব্যস্ত হয়েছে। আর সেই মর্মার্থ হলো ছোট এবং বড় সকল প্রকার শিরক বর্জন করা। এটি তাওহীদের পূর্ণতা দাবি করে। সুতরাং শিরক থেকে কেবল সেই ব্যক্তিই মুক্তি পাবে, যে তার তাওহীদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে এবং ইখলাসের বাণীর দাবি অনুযায়ী ইলম (জ্ঞান), ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস), সিদক (সততা), ইখলাস (একনিষ্ঠতা), মহব্বত (ভালোবাসা), কবুল (গ্রহণ করা) এবং ইনকিয়াদ (আনুগত্য) সহ অন্যান্য সকল বিষয় নিয়ে উপস্থিত হবে যা এই মহান বাণী দাবি করে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না। কেবল সেই ব্যক্তি রক্ষা পাবে যে আল্লাহর নিকট সুস্থ ও পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে} ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الثامنة: كون الأنبياء يحتاجون للتنبيه على فضل لا إله إلا الله.
التاسعة: التنبيه لرجحانها بجميع المخلوقات، مع أن كثيرا ممن يقولها يخف ميزانه.
العاشرة: النص على أن الأرضين سبع كالسماوات.
الحادية عشرة: أن لهن عمارا.
الثانية عشرة: إثبات الصفات، خلافا للأشعرية.
الثالثة عشرة: أنك إذا عرفت حديث أنس، عرفت أن قوله في حديث عتبان: " فإن الله حرم على النار من قال: لا إله إلا الله، يبتغي بذلك وجه الله " 1 أنه ترك الشرك، ليس قولها باللسان.
الرابعة عشرة: تأمل الجمع بين كون عيسى ومحمد عبدي الله ورسوله.
الخامسة عشرة: معرفة اختصاص عيسى بكونه كلمة الله.
السادسة عشرة: معرفة كونه روحا منه.
السابعة عشرة: معرفة فضل الإيمان بالجنة والنار.
الثامنة عشرة: معرفة قوله" " على ما كان من العمل".
التاسعة عشرة: معرفة أن الميزان له كفتان.
العشرون: معرفة ذكر الوجه.
--------------------------------------------
অষ্টম: নবীগণেরও 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর ফযীলত সম্পর্কে অবগতির প্রয়োজন রয়েছে।
নবম: সমস্ত সৃষ্টির তুলনায় এর ভারিত্বের বা শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে অবগতি, যদিও এটি পাঠকারী অনেকেরই পাল্লা হালকা হবে।
দশম: আসমানসমূহের ন্যায় জমিনও যে সাতটি, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য।
একাদশ: এগুলোর (আসমান ও জমিনের) অধিবাসী রয়েছে।
দ্বাদশ: আশআরী মতবাদের বিপরীতে আল্লাহর গুণাবলী সাব্যস্ত করা।
ত্রয়োদশ: আপনি যখন আনাস (রা.)-এর হাদীসটি জানবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে, ইতবান (রা.)-এর হাদীসে বর্ণিত তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম হারাম করেছেন, যে আল্লাহর চেহারা লাভের উদ্দেশ্যে বলবে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'" ১, এর অর্থ হলো শিরক বর্জন করা, কেবল মুখে বলা নয়।
চতুর্দশ: ঈসা ও মুহাম্মদ (সা.) উভয়েই আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল—এই দুই গুণের সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা।
পঞ্চদশ: ঈসা (আ.)-এর বিশেষত্ব যে তিনি আল্লাহর বাণী, সে সম্পর্কে জানা।
ষোড়শ: তিনি যে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি রূহ, সে সম্পর্কে জানা।
সপ্তদশ: জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর ঈমান আনার ফযীলত সম্পর্কে জানা।
অষ্টাদশ: তাঁর এই বাণী সম্পর্কে জানা: "আমল যা-ই হোক না কেন"।
ঊনবিংশ: মিযানের যে দুটি পাল্লা রয়েছে, তা জানা।
বিংশ: আল্লাহর চেহারা উল্লেখ থাকার বিষয়টি জানা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3-
باب من حقق التوحيد دخل الجنة بغير حسابوقول الله تعالى: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتاً لِلَّهِ حَنِيفاً وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ}
..................................................................................................
باب من حقق التوحيد دخل الجنة بغير حساب
أي ولا عذاب، وتحقيقه تصفيته وتخليصه من شوائب الشرك والبدع والإصرار على الذنوب، فمن كان كذلك فقد حقق توحيده، وتحقيق التوحيد عزيز في الأمة لا يوجد إلا في أهل الإيمان الخلص الذين أخلصهم الله واصطفاهم من خلقه كما قال تعالى في يوسف عليه السلام: {كَذَلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوءَ وَالْفَحْشَاءَ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُخْلَصِينَ} 1 وفي قراءة:
--------------------------------------------
৩-
পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তাওহীদকে যথার্থভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে সে বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবেএবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় ইবরাহীম ছিলেন একাই এক উম্মত, আল্লাহর প্রতি একান্ত অনুগত ও একনিষ্ঠ এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।}
..................................................................................................
পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তাওহীদকে যথার্থভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে সে বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে
অর্থাৎ কোনো আযাব ছাড়াই; আর এর (তাওহীদের) যথাযথ রূপায়ণ হলো একে শিরক, বিদআত এবং পাপের ওপর অটল থাকার পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত ও পরিশুদ্ধ করা। কাজেই যে ব্যক্তি এমন হবে, সে-ই তার তাওহীদকে যথার্থভাবে প্রতিষ্ঠিত করল। উম্মতের মধ্যে তাওহীদের এই যথাযথ রূপায়ণ অত্যন্ত দুর্লভ; এটি কেবল সেই সমস্ত খাঁটি ঈমানদারদের মধ্যেই পাওয়া যায় যাদের আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে একনিষ্ঠ করেছেন এবং মনোনীত করেছেন, যেমন ইউসুফ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: {এভাবেই, যাতে আমি তার থেকে অনিষ্ট ও অশ্লীলতা দূর করে দেই। নিশ্চয় তিনি ছিলেন আমার একনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।} ১ এবং এক পঠনশৈলীতে (কিরাআতে):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
" المخلصين " وهم في صدر الأمة كثيرون وفي آخرها هم الغرباء وقد قلوا، وهم الأعظمون قدرا عند الله. وقال تعالى عن خليله عليه السلام: {يَا قَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ. إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفاً وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 1. أي أخلصت ديني وأفردت عبادتي للذي فطر السماوات والأرض، أي خلقهما وابتدعهما على غير مثال سبق. حنيفا: أي في حال كوني حنيفا أي مائلا عن الشرك إلى التوحيد، ولهذا قال: {وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 2، ونظائر هذه الآية في القرآن كثير كقوله: {وَمَنْ أَحْسَنُ دِيناً مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفاً وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً} 3، وقال تعالى: {وَمَنْ يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى} 4
قال العماد ابن كثير رحمه الله تعالى: في الآية يقول تعالى مخبرا عمن أسلم وجهه لله أي أخلص له العمل وانقاد لأوامره واتبع شرعه، ولهذا قال: {وَهُوَ مُحْسِنٌ} أي في عمله واتباع ما أمر به وترك ما عنه زجر، فدلت هذه الآية العظيمة على أن كمال الإخلاص إنما يوجد بترك الشرك والبراءة منه وممن فعله، كما تقدم في الباب قبل هذا.
وقول الله تعالى: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتاً لِلَّهِ حَنِيفاً وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 5 قال العماد ابن كثير -رحمه الله تعالى-: يمدح الله تعالى عبده ورسوله وخليله إبراهيم إمام الحنفاء بتبرئته من المشركين ومن اليهودية والنصرانية والمجوسية. والأمة: هو الإمام الذي يقتدى به. والقانت: هو الخاشع المطيع. والحنيف: المنحرف قصدا عن الشرك إلى التوحيد، ولهذا قال: {وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 6، وقال مجاهد: " كان إبراهيم أمة أي مؤمنا وحده والناس كلهم إذ ذاك كفار "
"قلت ": وكلا القولين حق فقد كان الخليل عليه السلام – كذلك، وقول مجاهد- والله أعلم- لما كان الخليل كذلك في ابتداء دعوته ونبوته ورسالته عليه السلام فمدحه الله تعالى بتبرئته من المشركين كما قال تعالى: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقاً نَبِيّاً. إِذْ قَالَ لأَبِيهِ يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لا يَسْمَعُ وَلا يُبْصِرُ وَلا يُغْنِي عَنْكَ شَيْئاً} 7 الآيات، وقوله: {وَإِنَّ مِنْ شِيعَتِهِ لإِبْرَاهِيمَ. إِذْ جَاءَ رَبَّهُ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ} 8 فهذا- والله أعلم- كان في ابتداء دعوته عليه الصلاة والسلام ولم يكن إذ ذاك على وجه الأرض مسلم غيره وبذلك جاء الحديث9.
--------------------------------------------
"নিষ্ঠাবানগণ"—তাঁরা উম্মতের শুরুর দিকে অনেক ছিলেন এবং উম্মতের শেষভাগে তাঁরা অল্প সংখ্যক অপরিচিত মানুষে পরিণত হয়েছেন, অথচ আল্লাহর নিকট তাঁরাই মর্যাদার দিক থেকে শ্রেষ্ঠতম। মহান আল্লাহ তাঁর খলীল (বন্ধু) আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন: {হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যা কিছু আল্লাহর সাথে শরীক করো তা থেকে নিশ্চয়ই আমি মুক্ত। আমি একনিষ্ঠভাবে আমার মুখমণ্ডল সেই সত্তার দিকে ফিরালাম যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই} ১। অর্থাৎ আমি আমার দীনকে খাঁটি করেছি এবং আমার ইবাদতকে কেবল তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট করেছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন; অর্থাৎ তিনি কোনো পূর্ব নমুনা ছাড়াই এগুলোকে সৃষ্টি ও উদ্ভাবন করেছেন। 'হানিফ' (একনিষ্ঠ) অর্থ: আমি হানিফ হওয়া অবস্থায়, অর্থাৎ শিরক থেকে তাওহীদের দিকে ঝুঁকে থাকা অবস্থায়। আর একারণেই তিনি বলেছেন: {এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই} ২। কুরআনে এই আয়াতের সমার্থবোধক আরও অনেক আয়াত রয়েছে, যেমন আল্লাহর বাণী: {আর দীনের ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কে যে সৎকর্মশীল হয়ে আল্লাহর নিকট নিজের মুখমণ্ডলকে সমর্পণ করল এবং ইবরাহীমের একনিষ্ঠ আদর্শ অনুসরণ করল? আর আল্লাহ ইবরাহীমকে খলীল (অকৃত্রিম বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন} ৩। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর নিকট নিজের মুখমণ্ডল সমর্পণ করে, সে তো এক মজবুত হাতল ধারণ করল} ৪
আল-ইমাদ ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এই আয়াতে মহান আল্লাহ সেই ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে আল্লাহর নিকট নিজের মুখমণ্ডল সমর্পণ করেছে; অর্থাৎ যে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আমলকে একনিষ্ঠ করেছে, তাঁর আদেশের আনুগত্য করেছে এবং তাঁর শরীয়ত অনুসরণ করেছে। একারণেই তিনি বলেছেন: {এবং সে সৎকর্মশীল} অর্থাৎ তার আমলে এবং যা নির্দেশিত হয়েছে তা পালনে এবং যা থেকে বারণ করা হয়েছে তা বর্জনে। সুতরাং এই মহান আয়াতটি প্রমাণ করে যে, ইখলাসের পূর্ণতা কেবল শিরক বর্জন, শিরক থেকে সম্পর্কচ্ছেদ এবং যারা শিরক করে তাদের থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণার মাধ্যমেই অর্জিত হয়, যেমনটি পূর্ববর্তী অধ্যায়ে অতিবাহিত হয়েছে।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিলেন এক 'উম্মাহ' (আদর্শ নেতা), আল্লাহর অনুগত, একনিষ্ঠ; এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না} ৫। আল-ইমাদ ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: মহান আল্লাহ তাঁর বান্দা, রাসূল এবং খলীল ইবরাহীমকে—যিনি একনিষ্ঠ মুমিনদের ইমাম—প্রশংসা করছেন মুশরিকদের থেকে এবং ইহুদী, খ্রিষ্টান ও অগ্নিপূজকদের থেকে তাঁকে মুক্ত ঘোষণা করার মাধ্যমে। 'উম্মাহ' অর্থ হলো: এমন ইমাম যাঁকে অনুসরণ করা হয়। 'কানিত' অর্থ হলো: বিনম্র ও অনুগত। 'হানিফ' অর্থ হলো: শিরক থেকে তাওহীদের দিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিচ্যুত বা ধাবিত ব্যক্তি। একারণেই তিনি বলেছেন: {এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না} ৬। মুজাহিদ বলেন: "ইবরাহীম ছিলেন এক 'উম্মাহ' অর্থাৎ তিনি একাই মুমিন ছিলেন অথচ তৎকালীন সময়ে পৃথিবীর সকল মানুষ ছিল কাফির।"
"আমি বলছি": উভয় বক্তব্যই সত্য। কেননা খলীল আলাইহিস সালাম তেমনই ছিলেন। আর মুজাহিদ-এর বক্তব্য—আল্লাহই ভালো জানেন—হয়তো এজন্য যে, খলীল আলাইহিস সালাম তাঁর দাওয়াতি কাজ, নবুয়ত ও রিসালাতের শুরুতে এমনই ছিলেন। তাই মহান আল্লাহ মুশরিকদের থেকে তাঁর বিমুক্ততার প্রশংসা করেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: {এই কিতাবে ইবরাহীমের কথা স্মরণ করো; নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ একজন নবী। যখন তিনি তাঁর পিতাকে বললেন: হে আমার প্রিয় পিতা! আপনি কেন এমন কিছুর ইবাদত করছেন যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো উপকারে আসে না?} ৭ —আয়াতসমূহ। এবং তাঁর বাণী: {আর অবশ্যই ইবরাহীম ছিলেন তাঁরই অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। যখন তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিকট ত্রুটিমুক্ত অন্তরে উপস্থিত হলেন} ৮। সুতরাং এটি—আল্লাহই ভালো জানেন—তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) দাওয়াতের শুরুর দিকে ছিল যখন ভূপৃষ্ঠে তিনি ছাড়া আর কোনো মুসলিম ছিল না, এবং এভাবেই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال: {إِنَّ الَّذِينَ هُمْ مِنْ خَشْيَةِ رَبِّهِمْ مُشْفِقُونَ. وَالَّذِينَ هُمْ بِآياتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ. وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لا يُشْرِكُونَ} 1.
..................................................................................................
وقوله: {وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} فقد فارق المشركين بالقلب واللسان والأركان، وأنكر ما كانوا عليه من الشرك بالله في عبادته، وكسر الأصنام وصبر على ما أصابه في ذات الله، وهذا هو تحقيق التوحيد وهو أساس الدين ورأسه كما قال تعالى: {إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} 2 وأنت تجد أكثر من يقول لا إله إلا الله، ويدعي الإسلام، يفعل الشرك بالله في عبادته بدعوة من لا يضر ولا ينفع من الأموات والغائبين والطواغيت والجن وغيرهم، ويحبهم ويواليهم ويخافهم ويرجوهم، وينكر على من دعا إلى عبادة الله وحده وترك عبادة ما سواه، ويزعم أن ذلك بدعة وضلالة، ويعادي من عمل به وأحبه وأنكر الشرك وأبغضه، وبعضهم لا يعد التوحيد علما ولا يلتفت إليه لجهله به وعدم محبته، فالله المستعان.
وقوله: "وقول الله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ هُمْ مِنْ خَشْيَةِ رَبِّهِمْ مُشْفِقُونَ} إلى قوله: {وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لا يُشْرِكُونَ} قال العماد ابن كثير - رحمه الله تعالى -: أي من إحسانهم وعملهم الصالح مشفقون من الله خائفون وجلون من مكره بهم كما قال الحسن البصري: " المؤمن من جمع إحسانا وشفقا. والمنافق من جمع إساءة وأمنا " {وَالَّذِينَ هُمْ بِآياتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ} 3 أي يؤمنون بآيات الله الكونية والشرعية لقوله تعالى عن مريم: {وَصَدَّقَتْ بِكَلِمَاتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهِ وَكَانَتْ مِنَ الْقَانِتِينَ} 4 أي أيقنت أن ما كان فهو من قدر الله وقضائه وما شرعه الله، وإن كان أمرا فهو ما يحبه الله ويرضاه وإن كان نهيا فهو ما يكرهه الله ويأباه، وإن كان خبرا فهو حق كما قال تعالى: {وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لا يُشْرِكُونَ} 5 أي لا يعبدون معه غيره بل يوحدونه ويعلمون أنه لا إله إلا الله الأحد الصمد الذي لا يتخذ صاحبة ولا ولدا وأنه لا نظير له.. انتهى.
"قلت": فترك الشرك يتضمن كمال التوحيد ومعرفته على الحقيقة ومحبته وقبوله والدعوة إليه كما قال تعالى: {قُلْ إِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ وَلا أُشْرِكَ بِهِ إِلَيْهِ أَدْعُو وَإِلَيْهِ مَآبِ} 6 وتضمنت هذه الآية كمال التوحيد وتحقيقه وبالله التوفيق.
--------------------------------------------
এবং তিনি বলেছেন: {নিশ্চয় যারা তাদের রবের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। আর যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে। এবং যারা তাদের রবের সাথে শিরক করে না} ১।
..................................................................................................
এবং তাঁর বাণী: {এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না}। সুতরাং তিনি অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে মুশরিকদের থেকে পৃথক হয়েছিলেন। এবং তিনি আল্লাহর ইবাদতে শিরক করার ক্ষেত্রে তারা যে অবস্থায় ছিল তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি প্রতিমাগুলো চূর্ণ করেছিলেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে যে বিপদ আপতিত হয়েছে তার ওপর ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। আর এটিই হলো তাওহীদের প্রকৃত বাস্তবায়ন, যা দ্বীনের ভিত্তি ও মূল। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যখন তাঁর রব তাঁকে বললেন, 'আত্মসমর্পণ করো', তিনি বললেন, 'আমি বিশ্বজাহানের রবের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম'} ২। অথচ আপনি দেখবেন যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে এবং ইসলামের দাবি করে, তাদের অধিকাংশ আল্লাহর ইবাদতে শিরক করে। তারা মৃত ব্যক্তি, অনুপস্থিত ব্যক্তি, তাগুত, জিন এবং অন্যদের নিকট দুআ করার মাধ্যমে শিরক করে—যারা কোনো ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না। তারা তাদেরকে ভালোবাসে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তাদের ভয় পায় এবং তাদের কাছে আশা রাখে। আর যে ব্যক্তি কেবল এক আল্লাহর ইবাদতের এবং গায়রুল্লাহর ইবাদত বর্জনের দাওয়াত দেয়, তারা তাকে অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে এটি একটি বিদআত ও পথভ্রষ্টতা। যারা এর ওপর আমল করে এবং একে ভালোবাসে, আর শিরককে অস্বীকার করে ও একে ঘৃণা করে, তারা তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ মূর্খতা ও ভালোবাসার অভাবের কারণে তাওহীদকে কোনো জ্ঞান হিসেবেই গণ্য করে না এবং এর দিকে ভ্রুক্ষেপও করে না। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় যারা তাদের রবের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত} থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং যারা তাদের রবের সাথে শিরক করে না}"—ইমাদ ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন: অর্থাৎ তারা সৎকর্ম ও নেক আমল করা সত্ত্বেও আল্লাহর কৌশলের বিষয়ে তাঁকে ভয় পায় এবং শংকিত থাকে। যেমনটি হাসান বসরী বলেছেন: "মুমিন ব্যক্তি হলো সে, যে ইহসান (সৎকর্ম) এবং শফকাহ (ভীতি) উভয়কে একত্র করে। আর মুনাফিক হলো সে, যে মন্দ কাজ এবং নির্ভয়তাকে একত্র করে।" {আর যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে} ৩ অর্থাৎ তারা আল্লাহর সৃষ্টিগত এবং শরঈ নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে। যেমন আল্লাহ তাআলা মারইয়াম সম্পর্কে বলেছেন: {এবং তিনি তাঁর রবের বাণী ও তাঁর কিতাবসমূহ সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত} ৪। অর্থাৎ তিনি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করেছিলেন যে, যা কিছু ঘটে তা আল্লাহর তাকদীর ও ফয়সালা অনুযায়ী এবং আল্লাহ যা বিধান দিয়েছেন তা-ই (সঠিক)। যদি কোনো আদেশ হয়, তবে তা আল্লাহ ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন; আর যদি কোনো নিষেধ হয়, তবে তা আল্লাহ অপছন্দ করেন ও প্রত্যাখ্যান করেন। আর যদি কোনো সংবাদ হয়, তবে তা সত্য। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যারা তাদের রবের সাথে শিরক করে না} ৫ অর্থাৎ তারা তাঁর সাথে অন্য কারো ইবাদত করে না, বরং তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করে এবং জানে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, অমুখাপেক্ষী; যিনি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করেন না এবং যাঁর কোনো সমকক্ষ নেই.. সমাপ্ত।
"আমি বলি": সুতরাং শিরক বর্জন করা তাওহীদের পূর্ণতা, এর প্রকৃত পরিচয়, এর প্রতি ভালোবাসা, এর কবুলিয়াত এবং এর দিকে দাওয়াত দেওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলো, আমি কেবল আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আমি তাঁর দিকেই ডাকি এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন} ৬। আর এই আয়াতটি তাওহীদের পূর্ণতা ও তা বাস্তবায়নের বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আল্লাহর মাধ্যমেই সফলতা আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عن حصين بن عبد الرحمن قال: كنت عند سعيد بن جبير فقال: أيكم رأى الكوكب الذي انقض البارحة؟ فقلت: أنا، ثم قلت: أما إني لم أكن في صلاة، ولكني لدغت، قال: فما صنعت؟ قلت: ارتقيت قال: فما حملك على ذلك؟ قلت: حديث حدثناه الشعبي، قال: وما حدثكم؟ قلت: حدثنا عن بريدة بن الحصيب أنه قال: " لا رقية إلا من عين أو حمة " 1 قال: قد أحسن
..................................................................................................
قوله: "عن حصين بن عبد الرحمن " هو الحارثي من تابعي التابعين عن الشعبي.
قال: "كنت عند سعيد بن جبير " هو الوالبي مولاهم الفقيه عن ابن عباس وخلق، قال اللالكائي: ثقة إمام حجة. قتله الحجاج بن يوسف فما أمهله الله بعده. قوله: "فقال: أيكم رأى الكوكب الذي انقض البارحة " يعني كوكبا رجم به تلك الليلة، يقال البارحة لليلة الماضية إذا زالت الشمس، وأما قبل الزوال فيقال: الليلة. قوله "فقلت: أنا " أي أنا رأيته "ثم قلت: أما إني لم أكن في صلاة " قال ذلك حذرا من الشرك لئلا يظن الحاضرون أنه قام من الليل للعبادة فيكون قد ادعى لنفسه ما لم يفعله، فما أشد حذر التابعين ومن قبلهم من الشرك دقيقه وجليله، والحذر من أن يحمد بما لم يفعله. فما أعز من سلم من الشرك كما سيأتي.
قوله: "ولكن حديث حدثناه الشعبي، قال: وما حدثكم؟ قلت: " حدثنا عن بريدة ابن الحصيب أنه قال: " لا رقية إلا من عين أو حمة " 2.
هذا الحديث قد روي مرفوعا، والشعبي اسمه عامر بن شراحيل الحميري الشعبي الإمام، روى عن عمر وعلي وابن مسعود ولم يسمع منهم. وعن أبي هريرة وعائشة وجرير وابن عباس وخلق. قال الشعبي: ما كتبت سوداء في بيضاء توفي سنة ثلاث ومائة. وبريدة هو ابن الحصيب ابن عبد الله بن الحارثي الأسلمي، أسلم قبل بدر وعمل على اليمن في أيام النبي صلي الله عليه وسلم صحابي مشهور.
قوله: " لا رقية إلا من عين أو حمة " 3 هذا- والله أعلم- في أول الأمر ثم رخص في الرقى إذا كانت بحق، والله اعلم.
قوله: "قد أحسن من انتهى إلى ما سمع ".
فيه حسن الأدب مع العلم وأهله، وأن من فعل شيئا سئل عن مستنده في فعله هل كان مقتديا أم لا، ومن لم يكن معه حجة شرعية فلا عذر له بما فعله. ولهذا ذكر ابن عبد البر الإجماع على أن المقلد ليس من أهل العلم فتفطن لهذا.
--------------------------------------------
হুসাইন বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সাঈদ বিন জুবাইরের নিকট ছিলাম। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের মধ্যে কে গতরাতে পতনশীল নক্ষত্র দেখেছ? আমি বললাম: আমি। এরপর আমি বললাম: তবে আমি সেই সময় সালাতে ছিলাম না, বরং আমি বিচ্ছু দ্বারা দংশিত হয়েছিলাম। তিনি বললেন: তবে তুমি কী করেছিলে? আমি বললাম: আমি ঝাড়ফুঁক (রুকইয়াহ) গ্রহণ করেছি। তিনি বললেন: তোমাকে এই কাজে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? আমি বললাম: একটি হাদিস যা আমাদের নিকট আশ-শা’বী বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: তিনি তোমাদের নিকট কী বর্ণনা করেছেন? আমি বললাম: তিনি আমাদের নিকট বুরাইদাহ বিন আল-হুসাইব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "বদনজর অথবা বিষাক্ত প্রাণীর দংশন ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে রুকইয়াহ নেই।" তিনি (সাঈদ) বললেন: যে ব্যক্তি যা শুনেছে সে অনুযায়ী আমল করেছে, সে ভালো করেছে।
..................................................................................................
তার উক্তি: "হুসাইন বিন আবদুর রহমান থেকে" - তিনি হলেন আল-হারিছী, আশ-শা’বী থেকে বর্ণনাকারী তাবে-তাবেয়ীনদের অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বললেন: "আমি সাঈদ বিন জুবাইরের নিকট ছিলাম" - তিনি হলেন আল-ওয়ালিবি, তাদের মুক্তদাস, ফকীহ। তিনি ইবনে আব্বাস ও আরও অনেক লোক থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-লালকাঈ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য, ইমাম এবং দলীলযোগ্য ব্যক্তি। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তাকে হত্যা করেছিল, আর আল্লাহ হাজ্জাজকে তার পরে আর বেশি সময় অবকাশ দেননি। তার উক্তি: "তোমাদের মধ্যে কে গতরাতে পতনশীল নক্ষত্র দেখেছ" - অর্থাৎ এমন একটি নক্ষত্র যা দ্বারা সেই রাতে শয়তানকে বিতাড়ন করা হয়েছে। সূর্য হেলার পর গত রাত বুঝাতে 'আল-বারীহাহ' বলা হয়, আর সূর্য হেলার আগে হলে তাকে 'আল-লাইলাহ' বলা হয়। তার উক্তি: "আমি বললাম: আমি" - অর্থাৎ আমি তা দেখেছি। "এরপর আমি বললাম: তবে আমি সালাতে ছিলাম না" - শিরক থেকে সতর্ক থাকার জন্য তিনি এ কথা বলেছিলেন, যাতে উপস্থিত কেউ এমনটা মনে না করে যে তিনি রাতে ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন; ফলে তিনি যা করেননি তার দাবিদার হয়ে যেতেন। তাবেয়ীন এবং তাদের পূর্ববর্তীরা সূক্ষ্ম ও প্রকাশ্য শিরক থেকে এবং যা তারা করেননি তার জন্য প্রশংসিত হওয়া থেকে কতটা সতর্ক ছিলেন! শিরক থেকে যারা মুক্তি পেয়েছেন তারা কতই না বিরল ও মূল্যবান, যেমনটি সামনে আসবে।
তার উক্তি: "বরং একটি হাদিস যা আমাদের নিকট আশ-শা’বী বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন: তিনি তোমাদের নিকট কী বর্ণনা করেছেন? আমি বললাম: তিনি আমাদের নিকট বুরাইদাহ বিন আল-হুসাইব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "বদনজর অথবা বিষাক্ত প্রাণীর দংশন ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে রুকইয়াহ নেই।"
এই হাদিসটি মারফু হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। আশ-শা’বীর নাম হলো আমির বিন শারাহীল আল-হিময়ারি আশ-শা’বী, তিনি একজন ইমাম। তিনি ওমর, আলী এবং ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন তবে তাদের থেকে সরাসরি শোনেননি। তিনি আবু হুরাইরাহ, আয়েশা, জারীর, ইবনে আব্বাস এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন। আশ-শা’বী বলতেন: আমি সাদা কাগজের উপর কালো কিছু লিখিনি (অর্থাৎ যা শুনেছি তা মুখস্থ করে ফেলেছি)। তিনি ১০৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। আর বুরাইদাহ হলেন ইবনে আল-হুসাইব বিন আবদুল্লাহ আল-হারিছী আল-আসলামী। তিনি বদরের যুদ্ধের আগে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ইয়ামেনের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী।
তার উক্তি: "বদনজর অথবা বিষাক্ত প্রাণীর দংশন ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে রুকইয়াহ নেই" - আল্লাহ ভালো জানেন, এটি ইসলামের শুরুর দিকের বিষয় ছিল, পরবর্তীতে যদি তা সঠিক পদ্ধতিতে হয় তবে রুকইয়াহ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তার উক্তি: "যে ব্যক্তি যা শুনেছে সে পর্যন্ত আমল করেছে, সে ভালো করেছে।"
এর মধ্যে ইলম এবং ইলমের অধিকারীদের সাথে উত্তম আদবের বহিঃপ্রকাশ রয়েছে। আর এটিও প্রতীয়মান হয় যে, কেউ যখন কোনো কাজ করে তখন তাকে তার কাজের ভিত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা উচিত যে সে কোনো দলীলের অনুসরণ করছে কি না। যার নিকট কোনো শরয়ী দলীল নেই, তার কাজের স্বপক্ষে কোনো ওজর বা অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণেই ইবনে আব্দুল বার সেই ইজমার কথা উল্লেখ করেছেন যে, মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী) ইলমের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়—এ বিষয়টি অনুধাবন করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিতাবুত তাওহীদ ওয়া কুররাতু উয়ুনিল মুওয়াহ্হিদীন ফী তাহক্বীক্বি দাওয়াতির আম্বিয়াই ওয়াল মুরসালীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
من انتهى إلى ما سمع، ولكن حدثنا ابن عباس عن النبي صلي الله عليه وسلم أنه قال: " عرضت علي الأمم، فرأيت النبي ومعه الرهط، والنبي ومعه الرجل والرجلان، والنبي وليس معه أحد إذ رفع لي سواد عظيم، فظننت أنهم،
..................................................................................................
قوله: "ولكن حدثنا ابن عباس " هو عبد الله بن عباس بن عبد المطلب بن هاشم، ابن عم النبيى حبر الأمة وترجمان القرآن، دعا له النبي صلي الله عليه وسلم فقال: " اللهم فقهه في الدين وعلمه التأويل " 1 وصار آية في العلم والفهم وكثرة ما روى من الأحاديث على أنه من صغار الصحابة لكن طلب الحديث من كبار الصحابة فحفظ الأكثر مما كان عندهم رضي الله عنهم أجمعين.
قوله: "أن النبي صلي الله عليه وسلم قال: عرضت علي الأمم ".
قلت: فالله أعلم متى عرضت، وعرضها أن الله تبارك وتعالى أراه مثالها إذا جاءت الأنبياء ومن تبعهم. فمن نجا بالإيمان بالله وما بعث به أنبياءه ورسله من دينه الذي شرعه لهم، وهو عبادته وحده لا شريك له وترك عبادة ما سواه، والأخذ بما أمرهم به وترك ما نهاهم عنه كما قال تعالى عن قوم نوح: {قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُبِينٌ. أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ وَأَطِيعُونِ} 2 فعبادته وتوحيده وطاعته بامتثال ما أمرهم به وترك ما نهاهم عنه وطاعة رسوله. هذا هو الدين أن لا يعبد إلا الله، وأن لا يعبد إلا بما شرع فعلا وتركا، وأن يقدم طاعة رسوله على ما يحبه ويهواه.
قوله: "فرأيت النبي ومعه الرهط " الرهط: العشره فما دون "والنبي ومعه الرجل والرجلان " أي أتباعه "والنبي وليس معه أحد " أي يبعث في قومه، فلا يتبعه منهم أحد. كما قال تعالى: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي شِيَعِ الأَوَّلِينَ. وَمَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ} 3، وفيه دليل على أن الناجي من الأمم هم القليل، والأكثر غلبت عليهم الطباع البشرية، فعصوا الرسل فهلكوا كما قال تعالى: {وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} 4 وقال: {وَمَا وَجَدْنَا لأَكْثَرِهِمْ مِنْ عَهْدٍ وَإِنْ وَجَدْنَا أَكْثَرَهُمْ
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি যা শুনেছে তা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকল (সে ভালো করল), কিন্তু আমাদের কাছে ইবনে আব্বাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমার সামনে উম্মতদের পেশ করা হলো। তখন আমি একজন নবীকে দেখলাম যার সাথে একটি ছোট দল ছিল, একজন নবীকে দেখলাম যার সাথে একজন বা দুইজন ব্যক্তি ছিল, এবং একজন নবীকে দেখলাম যার সাথে কেউ ছিল না। হঠাৎ আমার সামনে একটি বিশাল কালো জনসমষ্টি উত্থাপন করা হলো, তখন আমি মনে করলাম যে তারা...
..................................................................................................
তাঁর কথা: "কিন্তু আমাদের কাছে ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন" - তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম, নবীর চাচাতো ভাই, উম্মতের বিজ্ঞ আলিম এবং কুরআনের ব্যাখ্যাকার। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দোয়া করে বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং তাকে (কুরআনের) ব্যাখ্যা শিক্ষা দিন।" ১ এবং তিনি জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং প্রচুর হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে এক বিস্ময়কর নিদর্শনে পরিণত হয়েছিলেন, যদিও তিনি ছোট সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কিন্তু তিনি বড় সাহাবীদের কাছ থেকে হাদিস অন্বেষণ করতেন এবং তাঁদের কাছে যা ছিল তার অধিকাংশ তিনি মুখস্থ করেছিলেন, আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হন।
তাঁর কথা: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার সামনে উম্মতদের পেশ করা হলো।"
আমি বলি: আল্লাহই ভালো জানেন কখন এটি পেশ করা হয়েছিল। এটি পেশ করার অর্থ হলো যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁকে তাদের উদাহরণ দেখিয়েছেন যখন নবীগণ এবং তাঁদের অনুসারীরা আসবেন। সুতরাং যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে এবং তিনি তাঁর নবী ও রাসূলদের মাধ্যমে তাঁর যে দ্বীন পাঠিয়েছেন তার অনুসরণের মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছে—আর তা হলো কেবল তাঁরই ইবাদত করা যার কোনো শরিক নেই এবং তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছুর ইবাদত বর্জন করা, আর তিনি যা আদেশ করেছেন তা গ্রহণ করা এবং যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা—যেমনটি আল্লাহ তাআলা নূহের কওম সম্পর্কে বলেছেন: {তিনি বললেন, হে আমার কওম! নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী। এ বিষয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো} ২। অতএব, তাঁর ইবাদত, তাওহীদ এবং তাঁর আনুগত্য হলো তাঁর আদেশগুলো পালন করা এবং তাঁর নিষেধগুলো বর্জন করা এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা। এটাই হলো দ্বীন—যে আল্লাহ ব্যতীত আর কারও ইবাদত করা হবে না, এবং আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন (পালন বা বর্জনের মাধ্যমে) তা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে তাঁর ইবাদত করা হবে না, এবং নিজের পছন্দ ও খেয়ালখুশির ওপর রাসূলের আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তাঁর কথা: "তখন আমি একজন নবীকে দেখলাম যার সাথে একটি ছোট দল (রাহাত) ছিল" - রাহাত অর্থ হলো দশ বা তার কম সংখ্যক ব্যক্তি। "এবং একজন নবীকে দেখলাম যার সাথে একজন বা দুইজন ব্যক্তি ছিল" অর্থাৎ তাঁর অনুসারীবৃন্দ। "এবং একজন নবীকে দেখলাম যার সাথে কেউ ছিল না" অর্থাৎ তিনি তাঁর কওমের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন, কিন্তু তাদের কেউ তাঁর অনুসরণ করেনি। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর অবশ্যই আমি তোমার পূর্বে পূর্ববর্তী দলগুলোর মধ্যেও রাসূল পাঠিয়েছি। আর তাদের কাছে এমন কোনো রাসূল আসতেন না যাকে নিয়ে তারা বিদ্রূপ করত না} ৩। এর মধ্যে দলিল রয়েছে যে, উম্মতদের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্তরা হলো সংখ্যায় অল্প, আর অধিকাংশের ওপর মানবীয় স্বভাব প্রবল হয়েছে, ফলে তারা রাসূলদের অবাধ্য হয়েছে এবং ধ্বংস হয়েছে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যদি তুমি জমিনের অধিকাংশ লোকের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে} ৪। এবং তিনি বলেছেন: {আর আমি তাদের অধিকাংশের মধ্যে কোনো প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন পাইনি, বরং আমি তাদের অধিকাংশকেই...}
--------------------------------------------