(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: -)
القدر للفريابي   (الفريابي)

القسم: العقيدة


الكتاب: كتاب القدر

المؤلف: أبو بكر جعفر بن محمد بن الحسن بن المُسْتَفاض الفِرْيابِي (ت 301 هـ)

المحقق: عبد الله بن حمد المنصور

الناشر: أضواء السلف - السعودية

الطبعة: الأولى 1418 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 272

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 23 شوّال 1442

আল-ফিরইয়াবি প্রণীত আল-কদর   (আল-ফিরইয়াবি)

বিভাগ: আকিদা (বিশ্বাসতত্ত্ব)


গ্রন্থ: কিতাবুল কদর (তকদির সংক্রান্ত গ্রন্থ)

গ্রন্থকার: আবু বকর জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আল-মুস্তাফাদ আল-ফিরইয়াবি (মৃত্যু ৩০১ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: আবদুল্লাহ বিন হামাদ আল-মানসুর

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭২

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৩ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هادي له، وأشهد أن لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.

أما بعد:

فهذا كتاب جديد يطبع لأول مرة -فيما أعلم- من تصنيف الإمام الحافظ أبي بَكْرٍ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ المستفاض الفريابي، قمت بتحقيقه على نسختين خطيتين -سيرد وصفهما- موضوعه في باب من أبواب العقيدة، ألا وهو القدر، ويحتوي الكتاب على 448 نصاً، ما بين حديث

-----------------------------------

1 سورة آل عمران: الآية 102.

2 سورة النساء: الآية 1.

3 سورة الأحزاب: الآيتان 70، 71.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শক হওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল।

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।” ১।

“হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর সঙ্গিনীকে, আর তাঁদের উভল হতে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্তসম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।” ২।

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।” ৩।

অতঃপর:

এটি একটি নতুন গ্রন্থ যা আমার জানামতে প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হচ্ছে—এটি ইমাম হাফিজ আবু বকর জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আল-মুসতাফাদ আল-ফিরইয়াবির সংকলন। আমি এটি দুটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদনা (তাহকিক) করেছি—যেগুলোর বর্ণনা সামনে আসবে। গ্রন্থটির মূল বিষয়বস্তু আকিদার (বিশ্বাস) অন্যতম একটি অধ্যায়, তথা তাকদির (ভাগ্য) সংক্রান্ত। এই গ্রন্থে হাদিসসহ মোট ৪৪৮টি নস (মূল পাঠ বা উদ্ধৃতি) রয়েছে...

-----------------------------------

১ সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১০২।

২ সুরা আন-নিসা: আয়াত ১।

৩ সুরা আল-আহজাব: আয়াত ৭০, ৭১।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৬)
مرفوع، أو أثر موقوف، كما احتوى الكتاب في آخره على جملة طيبة من الآثار في الرد على أهل الأهواء والبدع.

ولأهمية المصنَّف، وجلالة المصنِّف، عملت جهدي في ظهور الكتاب إلي المسلمين، بعد أن كان أسيرًا لخزائن المخطوطات، عسى أن يرفع شبهة، أو يدفع فرية.

كما أشير إلى أهمية تزويدي بالملاحظات على الكتاب وتحقيقه، قيامًا بواجب التناصح، والله من وراء القصد.

وفي الختام أسأل الله عز وجل أن يجزي مؤلف الكتاب خير الجزاء، وأن يغفر لي ولوالديَّ ولجميع المسلمين، وأن يجمع كلمتهم على الحق، إنه على كل شيء قدير.

عبد الله بن حمد المنصور

1417/2/28 هـ

الرياض
মারফু (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী) অথবা মাওকুফ আসার (সাহাবীদের বক্তব্য); এ ছাড়াও গ্রন্থটির শেষাংশে প্রবৃত্তিপূজারী ও বিদআতপন্থীদের খণ্ডনে একগুচ্ছ উত্তম বর্ণনা সংকলিত হয়েছে।

এই গ্রন্থের গুরুত্ব এবং লেখকের মহানুভবতার কথা বিবেচনা করে, পাণ্ডুলিপি আকারে গ্রন্থাগারে বন্দি থাকা এই কিতাবটি মুসলিম উম্মাহর সামনে প্রকাশের জন্য আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি; যাতে এটি কোনো সংশয় নিরসন করতে পারে অথবা কোনো অপবাদকে প্রতিহত করতে পারে।

পারস্পরিক কল্যাণকামিতার দায়িত্ব পালনস্বরূপ এই কিতাব ও এর তাহকিক (সম্পাদনা ও যাচাইকরণ) সম্পর্কে আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ প্রদানের গুরুত্বের প্রতি আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আল্লাহই আমাদের মূল উদ্দেশ্যের লক্ষ্যস্থল।

পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যেন এই কিতাবের লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন, আমাকে, আমার পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।

আবদুল্লাহ বিন হামাদ আল-মানসুর

২৮/০২/১৪১৭ হিজরি

রিয়াদ
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌التعريف بالمصنِّف 1:

جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْمُسْتَفَاضِ الفريابي، الإمام الحافظ الثبت، قاضي الدينور، أحد أوعية العلم، ومن أهل المعرفة والفهم.

ولد سنة سبع ومائتين، وقال: أول ما كتبت الحديث سنة أربع وعشرين ومائتين.

قال أبو علي بن الصواف: سمعت الفريابي يقول: كل من لقيته لم أسمع منه إلا من لفظه، إلا ما كان من شيخين: أبي مصعب، فإنه ثقل لسانه، والمعلى بن مهدي، بالموصل.

قال أبو الفضل الزهري: لما سمعت من الفريابي كان في مجلسه من أصحاب المحابر، من يكتب حدود عشرة آلاف إنسان، ما بقي منهم غيري، هذا سوى من لا يكتب، ثم جعل يبكي.

قال الذهبي: سماعه منه كان في سنة ثمان وتسعين ومائتين.

وقال ابن عدي: كنا نشهد مجلس الفريابي، وفيه عشرة آلاف أو أكثر.

قال الدارقطني: قطع الفريابي الحديث في شوال، سنة ثلاث مائة.

-----------------------------------

1 مراجع الترجمة:

1 - تاريخ بغداد: جـ 199/ 7.

2 - تذكرة الحفاظ: جـ 692/ 2.

3 - سير أعلام البنلاء: جـ 96/ 14.
গ্রন্থকারের পরিচিতি ১:

জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আল-মুস্তাফাদ আল-ফিরইয়াবি; তিনি ছিলেন সুপ্রতিষ্ঠিত ইমাম ও হাফিজ, দিনাওয়ারের বিচারক (কাযী), ইলমের অন্যতম আধার এবং প্রজ্ঞা ও সমঝদার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি দুইশত সাত হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং বলেন: আমি দুইশত চব্বিশ হিজরি সনে প্রথম হাদীস লিপিবদ্ধ করতে শুরু করি।

আবু আলী বিন আল-সাওয়াফ বলেন: আমি ফিরইয়াবিকে বলতে শুনেছি: আমি যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই সরাসরি তাদের মুখনিঃসৃত বাণী শুনেছি, কেবল দুইজন শায়খ ব্যতীত: আবু মুসআব—কেননা তাঁর জিহ্বা ভারি হয়ে গিয়েছিল, এবং মসুলের মুআল্লা বিন মাহদী।

আবু আল-ফজল আল-জুহরি বলেন: যখন আমি ফিরইয়াবির নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করতাম, তখন তাঁর মজলিসে দোয়াত ও কলমধারী লেখক ছিলেন প্রায় দশ হাজার মানুষ; আজ তাদের মধ্যে আমি ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই। আর এটি ছিল লেখকগণ ব্যতীত উপস্থিত সাধারণ মানুষের সংখ্যা ছাড়া। অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন।

ইমাম যাহাবী বলেন: তাঁর থেকে জুহরির শ্রবণ ছিল দুইশত আটানব্বই হিজরি সনে।

ইবনে আদী বলেন: আমরা ফিরইয়াবির মজলিসে উপস্থিত হতাম, সেখানে দশ হাজার বা তারও বেশি মানুষ থাকত।

ইমাম দারাকুতনী বলেন: ফিরইয়াবি তিনশত হিজরি সনের শাওয়াল মাসে হাদীস পাঠদান বন্ধ করেন।

-----------------------------------

১. জীবনীর তথ্যসূত্র:

১ - তারিখ বাগদাদ: ৭/ ১৯৯।

২ - তাযকিরাতুল হুফফাজ: ২/ ৬৯২।

৩ - সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ১৪/ ৯৬।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৮)
وقال الحافظ أبو علي النيسابوري: دخلت بغداد، والفريابي حي، وقد أمسك عن التحديث، ودخلت عليه غير مرة، ونكتب بين يديه، كنا نراه حسرة.

قال الذهبي: نعم ما صنع، فإنه أنس من نفسه تغيرًا، فتورع وترك الرواية.

قال الدارقطني: مات الفريابي من المحرم، سنة إحدى وثلاث مائة.

وقال أبو حفص ابن شاهين: توفي ليلة الأربعاء في محرم، وهو ابن أربع وتسعين سنة، قال: وكان قد حفر لنفسه قبرًا في مقابر أبي أيوب، قبل موته بخمس سنين، ولم يقضَ أن يدفن فيه.

قال عيسى الرخجي: مات لأربع بقين من المحرم.

أشهر شيوخ الفريابي:

إسحاق بن راهويه، وقتيبة بن سعيد، وهشام بن عمار، وأبو بكر بن أبي شيبة، وعثمان بن أبي شيبة، وعلي بن المديني، وعبد الأعلى بن حماد، وهدبة بن خالد، وعمرو بن علي الفلاس، وعبد الله بن جعفر البرمكي، والهيثم بن أيوب الطالقاني، وأبو كامل الجحدري، وعبد الله بن معاذ، وأبو كريب محمد بن العلاء، ومنجاب بن الحارث، ومحمد بن مصفى، وخلق كثير، وللمزي مشيخة على المعجم للفريابي، أوردها تلميذه الذهبي في: سير أعلام النبلاء: جـ 101/14.

أشهر تلاميذ الفريابي:

أبو بكر النجاد، وأبو بكر الشافعي، وأبو علي بن الصواف، وأبو القاسم الطبراني، وأبو الطاهر الذهلي، وأبو بكر القطيعي، وأبو أحمد بن عدي، وأبو بكر الإسماعيلي، وأبو حفص عمر بن الزيات، وأبو بكر الآجُرِّي، وعبد الباقي بن قانع، وأبو الحسين محمد بن عبد الله، والد تمام الرازي، والحسن بن عبد الرحمن الرامهرمزي.
হাফেজ আবু আলী আন-নাইসাবুরি বলেন: আমি বাগদাদে প্রবেশ করলাম যখন আল-ফিরইয়াবি জীবিত ছিলেন, কিন্তু তিনি তখন হাদিস বর্ণনা করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমি একাধিকবার তাঁর কাছে গিয়েছি এবং তাঁর সামনে আমরা (অন্যদের হাদিস) লিখতাম; তাঁকে (হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতে) দেখে আমাদের আক্ষেপ হতো।

ইমাম আয-যাহাবি বলেন: তিনি যা করেছেন তা চমৎকার, কারণ তিনি নিজের মাঝে (স্মৃতিশক্তির) পরিবর্তন অনুভব করেছিলেন, তাই তিনি তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) বশবর্তী হয়ে হাদিস বর্ণনা করা ছেড়ে দিয়েছিলেন।

আদ-দারা কুতনি বলেন: আল-ফিরইয়াবি ৩০১ হিজরির মহররম মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

আবু হাফস ইবনে শাহিন বলেন: তিনি মহররম মাসের এক বুধবার দিবাগত রাতে ৯৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি আরও বলেন: তিনি তাঁর মৃত্যুর পাঁচ বছর আগে আবু আইয়ুবের কবরস্থানে নিজের জন্য একটি কবর খনন করেছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর দাফন হওয়া তকদিরে ছিল না।

ঈসা আল-রুখ্খাজি বলেন: তিনি মহররম মাসের চার দিন অবশিষ্ট থাকতে মৃত্যুবরণ করেন।

আল-ফিরইয়াবির প্রসিদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ:

ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ, হিশাম ইবনে আম্মার, আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ, উসমান ইবনে আবি শাইবাহ, আলী ইবনুল মাদিনি, আবদুল আ’লা ইবনে হাম্মাদ, হুদবাহ ইবনে খালিদ, আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আল-বারমাকি, আল-হাইসাম ইবনে আইয়ুব আত-তালিকানি, আবু কামিল আল-জাহদারি, আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াজ, আবু কুরাইব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা, মিনজাব ইবনুল হারিস, মুহাম্মাদ ইবনে মুসাফ্ফা এবং আরও অসংখ্য আলেম। আল-মিযযি আল-ফিরইয়াবির 'মু'জাম' (অভিধান)-এর ওপর ভিত্তি করে একটি 'মাশইয়াহ্' (শিক্ষক-তালিকা) তৈরি করেছেন, যা তাঁর ছাত্র আয-যাহাবি ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ গ্রন্থের ১৪তম খণ্ডের ১০১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

আল-ফিরইয়াবির প্রসিদ্ধ ছাত্রবৃন্দ:

আবু বকর আন-নাজ্জাদ, আবু বকর আশ-শাফিঈ, আবু আলী ইবনুল সাওয়াফ, আবু কাসিম আত-তাবারানি, আবু তাহের আয-যুহলি, আবু বকর আল-কুতিঈ, আবু আহমদ ইবনে আদি, আবু বকর আল-ইসমাঈলি, আবু হাফস উমর ইবনুল যায়্যাত, আবু বকর আল-আজুররি, আবদুল বাকি ইবনে কানি’, আবু হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ (তাম্মাম আর-রাযির পিতা) এবং হাসান ইবনে আবদুর রহমান আল-রামাহুরমুজি।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌وصف النسختين الخطيتين للكتاب

اعتمدت على مصورتين كاملتين للكتاب، وظهر لي من خلال العمل أن إحداهما منقولة من الأخرى، ووصفهما كما يلي:

1 نسخة الأصل: وهي موجودة في مكتبة الأسكوريال بأسبانيا، وتتكون من تسع وستين صفحة، في كل صفحة 25 سطرًا تقريبًا، وقد كتبت بخط نسخي مقروء، ومنقوط غالبًا، وتوجد استدراكات على الهامش، وقسمت إلى ثلاثة أجزاء، كتب سماع من بداية الجزء الثاني، وبداية الثالث، وتمكنت 1 من قراءة السماع في بداية الجزء الثاني، وصورته:

بلغ السماع في الأول على شيخنا العلامة عبد الحق السنباطي، بقراءة محمد العلامة الفتوحي … مسمعه الفاضل كمال الدين ولد المسمع، وحسن بن … محمد … ، وأحمد بن محمد الجمالي، ومن … محب الدين … المسمع، ومحمد بن الطنبغاني … البرديغي، وأجازني المسمع مرويه، وكتب أحد من سمع محمد بن أحمد المظفري، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.

والسماع في بداية قول المصنف: باب ما روي من أَوْلَادِ الْمُشْرِكِينَ، وَقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: "الله أعلم بما كانوا عاملين".

-----------------------------------

1 استفدت من تحقيق أحد طلاب الدراسات العليا لكتاب القدرة للفريابي، في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، وذلك في قراءة سماعات الكتاب، ولم أثبت إلا ما تأكدت من صحته، إن شاء الله تعالى.
গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিদ্বয়ের বিবরণ

আমি গ্রন্থটির দুটি পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। কাজ করার সময় আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এদের একটি অন্যটি থেকে নকল করা হয়েছে। তাদের বিবরণ নিম্নরূপ:

১. মূল পাণ্ডুলিপি: এটি স্পেনের এসকোরিয়াল (Escorial) লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। এটি উনসত্তর পৃষ্ঠার সমন্বয়ে গঠিত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় প্রায় ২৫টি লাইন রয়েছে। এটি সুস্পষ্ট ও পঠনযোগ্য নসখ (Naskh) লিপিতে লিখিত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নুকতাহ বা বিন্দুযুক্ত। পাণ্ডুলিপির হাশিয়া বা পার্শ্বটীকায় কিছু সংশোধন ও সংযোজন (istidrakat) রয়েছে। এটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত। দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ডের শুরুতে শ্রবণ-সনদ (sama') লিখিত রয়েছে। আমি ১ দ্বিতীয় খণ্ডের শুরুর শ্রবণ-সনদটি পাঠ করতে সক্ষম হয়েছি, যার পাঠ নিম্নরূপ:

আমাদের শাইখ আল্লামা আব্দুল হক আস-সুনবাতির নিকট প্রথম খণ্ডের শ্রবণ সম্পন্ন হয়েছে, মুহাম্মদ আল্লামা আল-ফুতুহি-এর পাঠের মাধ্যমে … শ্রবণকারী ফাযেল কামালুদ্দিন ইবনে মুসাম্মি' এবং হাসান বিন … মুহাম্মদ … , এবং আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-জামালি, এবং … মুহিউদ্দিন … শ্রবণকারী, এবং মুহাম্মদ বিন আত-তুনবাগান … আল-বারদিগি। শ্রবণকারী (মুসাম্মি') আমাকে তাঁর বর্ণিত বর্ণনার অনুমতি (ijaza) প্রদান করেছেন। শ্রবণকারীদের মধ্য হতে মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মুজাফফারি এটি লিপিবদ্ধ করেছেন। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আর শ্রবণ-সনদটি গ্রন্থকারের এই বক্তব্যের শুরুতে অবস্থিত: "মুশরিকদের সন্তানদের বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: 'তারা কী করত সে সম্পর্কে আল্লাহ অধিক অবগত' অনুচ্ছেদ।"

-----------------------------------

১. আমি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণার একজন ছাত্রের আল-ফারইয়াবি রচিত 'কিতাবুল কুদরাহ' (Kitab al-Qudra) গ্রন্থের সম্পাদনা (tahqiq) থেকে এই গ্রন্থের শ্রবণ-সনদগুলো পাঠ করার ক্ষেত্রে সহায়তা নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ তাআলা, কেবল যেগুলোর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত হয়েছি, সেগুলোই এখানে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ১০)
أما السماع المثبت في بداية الجزء الثالث، فلم يتبين لي؛ لرداءة التصوير، وعدم وضوح أكثر كلماته، وهو مثبت عند بداية نص 354.

والسنباطي هذا له ترجمة في: شذرات الذهب، طبع دار ابن كثير: جـ 248/10.

والفتوحي له ترجمة في: السحب الوابلة على ضرائح الحنابلة: جـ 156/1.

كما كتب المظفري له ترجمة في: الضوء اللامع: جـ 76/7 سماعان في أول الكتاب وفي آخره، صورة الأول:

الحمد الله وحده: سمع الحافظ أبو بكر محمد بن الشيخ تقي الدين عبد الله بن أحمد بن محمد بن المحب المقدسي، كتاب القدر على إسحاق بن يحيى الآمدي، ومحمد بن أحمد الزراد، وأبي عبد الله محمد بن المحب عبد الله بن أحمد المقدسي، بسماع الأول من الحافظ يوسف بن خليل الدمشقي، وبسماع الثاني، وحضور الثالث من نور الدين عبد الرحمن بن أبي الفهم اليلداني، بسماعهما من أبي القاسم يحيى بن أسعد بن بوش بسنده، فقرأه، وكتب محمد المظفري، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.

وأبو بكر المقدسي له ترجمة في: شذرات الذهب: جـ 529/8،

ومحمد بن أحمد الزراد له ترجمة في شذرات الذهب: جـ 130/8،

وأبو عبد الله محمد بن المحب عبد الله بن أحمد المقدسي، لم أتبين من هو، ونور الدين اليلداني له ترجمة في: شذرات الذهب: جـ 465/7،

ويحيي بن أسعد بن بوش له ترجمة في: شذرات الذهب: جـ 516/6، وصورة السماع الثاني في آخر الكتاب:

الحمد لله وحده، سمعت كتاب القدر للفريابي، بقراءة العلامة شهاب الدين الفتوحي، على شيخنا الإمام العلامة أبي الفضل شرف الدين
তৃতীয় খণ্ডের শুরুতে যে শ্রুতি-সনদ (সামা') সাব্যস্ত হয়েছে, তা ছবির নিম্নমান এবং অধিকাংশ শব্দের অস্পষ্টতার কারণে আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি; এটি ৩৫৪ নম্বর পাঠ্যের শুরুতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

আর এই সুন্বাতি-র জীবনী 'শাযারাতুয যাহাব' (দার ইবনে কাসীর সংস্করণ)-এর ১০ম খণ্ড, ২৪৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

এবং আল-ফুতুহী-র জীবনী 'আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ আলা দরায়িহিল হানাবিলাহ'-এর ১ম খণ্ড, ১৫৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

যেমন আল-মুযাফ্ফারী তাঁর একটি জীবনী 'আদ-দাওউল লামি'-এর ৭ম খণ্ড, ৭৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেন; বইটির শুরুতে এবং শেষে দুটি শ্রুতি-সনদ রয়েছে, প্রথমটির প্রতিলিপি নিম্নরূপ:

একমাত্র আল্লাহরই প্রশংসা: হাফেজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল শায়খ তাকিউদ্দীন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুহিব্ব আল-মাকদিসী 'কিতাবুল কদর' গ্রন্থটি শ্রবণ করেছেন ইসহাক ইবনে ইয়াহইয়া আল-আমিদী, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-যাররাদ এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল মুহিব্ব আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-মাকদিসীর নিকট। এখানে প্রথমজনের শ্রুতি ছিল হাফেজ ইউসুফ ইবনে খলিল আদ-দিমাশকী থেকে এবং দ্বিতীয়জনের শ্রুতি ও তৃতীয়জনের উপস্থিতি ছিল নূরুদ্দীন আবদুর রহমান ইবনে আবিল ফাহম আল-ইয়িলদানী থেকে; তাঁরা উভয়ই এটি শ্রবণ করেছেন আবু আল-কাসিম ইয়াহইয়া ইবনে আসআদ ইবনে বুশ থেকে তাঁর বর্ণিত সূত্রের মাধ্যমে। অতঃপর তিনি (আল-মাকদিসী) এটি পাঠ করেন এবং মুহাম্মদ আল-মুযাফ্ফারী তা লিপিবদ্ধ করেন। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আর আবু বকর আল-মাকদিসীর জীবনী 'শাযারাতুয যাহাব'-এর ৮ম খণ্ড, ৫২৯ পৃষ্ঠায় রয়েছে,

এবং মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-যাররাদের জীবনী 'শাযারাতুয যাহাব'-এর ৮ম খণ্ড, ১৩০ পৃষ্ঠায় রয়েছে,

আর আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল মুহিব্ব আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-মাকদিসী কে ছিলেন তা আমি নিশ্চিত হতে পারিনি, এবং নূরুদ্দীন আল-ইয়িলদানীর জীবনী 'শাযারাতুয যাহাব'-এর ৭ম খণ্ড, ৪৬৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে,

এবং ইয়াহইয়া ইবনে আসআদ ইবনে বুশের জীবনী 'শাযারাতুয যাহাব'-এর ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৫১৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। বইটির শেষে অবস্থিত দ্বিতীয় শ্রুতি-সনদের চিত্র নিম্নরূপ:

একমাত্র আল্লাহরই প্রশংসা, আমি আল-ফারিইয়াবীর 'কিতাবুল কদর' শ্রবণ করেছি আল্লামা শিহাবুদ্দীন আল-ফুতুহীর পাঠের মাধ্যমে আমাদের শায়খ ইমাম আল্লামা আবু আল-ফজল শরফুদ্দীনের নিকট...
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ১১)
عبد الحق السنباطي، عن شيخ الإسلام أحمد بن حجر الحافظ، والبرهان ابن مفلح بسندهما، وكانت قراءته في مجالس ستة، آخرها ثالث عشر شهر شوال سنة ثلاث عشرة وتستعمائة، وسمع المجلس الثالث ولدا القاسم بن تقي الدين، وسمع الأول من أحمد بن محمد الجمالي1، وأجاز المسمع مرويه، وكانت القراءة من نسخة غالبها بخط الحافظ أبي الحجاج الدمشقي يوسف بن الخليل، وكتب محمد بن أحمد المظفري، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم، الحمد لله صحيح ذلك، وكتبه عبد الحق بن محمد السنباطي الشافعى، حامداً مصلياً مسلِّماً.

وهذ النسخة واقعة ضمن مجموع، حيث يلي كتاب القدر: للفريابي، كتاب القدر: لابن وهب، وللأسف فقدت ورقة أو ورقتان من آخر المصورة، وفقد معها اسم الناسخ، غير أني وجدت الشيخ العثيم في تحقيقه لكتاب القدر: لابن وهب يذكر اسم الناسخ وسنة النسخ، حيث اعتمد على نفس المجموع في تحقيقه لكتاب: القدر: لابن وهب، وذكر اسم الناسخ وهو: شهاب الدين أحمد بن عثمان بن محمد بن عبد الله الكلوتاتي الحنفي، له ترجمة في كتاب: شذرات الذهبك جـ 309/9.

وذكر كذلك أن تاريخ نسخها هو سنة 786 هـ، حيث قال في آخر الكتاب: قد فرغ من نسخها في ثامن عشر من شهر جمادى الأولى سنة ست وثمانين وسبعمائة.

وهذا الناسخ نقل لنا الإسناد إلى ناسخ النسخة التي نقل عنها، حيث كتب في أول النسخة ما يلي:

كتاب القدر: وهو ثلاثة أجزاء، تأليف أبي بَكْرٍ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ المستفاض الفريابي،

رواية أبي محمد عبد الله بن محمد بن سليمان بن بابويه المخرمي عنه،

-----------------------------------

1 لعله المترجم في: الضوء اللامع: جـ 215/2.
আবদুল হক আস-সিনবাতি, শাইখুল ইসলাম আহমাদ বিন হাজার আল-হাফিজ এবং আল-বুরহান ইবনে মুফলিহ থেকে তাদের বর্ণনাপরম্পরা (ইসনাদ) সহ বর্ণনা করেছেন। এটি পাঠ করার জন্য ছয়টি মজলিস অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার শেষটি ছিল নয়শ তের হিজরি সনের শাওয়াল মাসের তেরো তারিখ। তৃতীয় মজলিসে কাসিম বিন তাকিউদ্দীনের দুই পুত্র উপস্থিত ছিলেন এবং প্রথম মজলিসটি আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-জামালি ১ এর নিকট থেকে শ্রবণ করা হয়েছে। বর্ণনাকারী (মুসমি) তার বর্ণিত বিষয়াদির অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন। এই পাঠটি এমন একটি পাণ্ডুলিপি থেকে সম্পন্ন হয়েছিল যার অধিকাংশ আল-হাফিজ আবু আল-হাজ্জাজ আদ-দিমাশকি ইউসুফ বিন আল-খলিল এর স্বহস্তে লিখিত ছিল। মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মুজাফফারি এটি লিপিবদ্ধ করেছেন। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এটি সঠিক। আবদুল হক বিন মুহাম্মাদ আস-সিনবাতি আশ-শাফিঈ আল্লাহর প্রশংসা করে, দরুদ পাঠ করে এবং সালাম পেশ করে এটি লিখেছেন।

এই পাণ্ডুলিপিটি একটি সংকলনের (মাজমুআ) অংশ, যেখানে আল-ফারিইয়াবির 'কিতাবুল কাদার'-এর পর ইবনে ওয়াহবের 'কিতাবুল কাদার' রয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, ফটোকপি করা কপির শেষ থেকে এক বা দুটি পাতা হারিয়ে গিয়েছে এবং এর সাথে অনুলিপিকারের (নাসিখ) নামও হারিয়ে গিয়েছে। তবে আমি শাইখ আল-উসাইমিনকে ইবনে ওয়াহবের 'কিতাবুল কাদার'-এর সম্পাদনায় (তাহকিক) অনুলিপিকারের নাম এবং অনুলিপি করার সন উল্লেখ করতে দেখেছি, কারণ তিনি তার সম্পাদনার কাজে এই একই সংকলনের ওপর নির্ভর করেছিলেন। তিনি অনুলিপিকারের নাম উল্লেখ করেছেন: শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন উসমান বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল-কালুতাতি আল-হানাফি। তার জীবনী 'শাযারাতুজ জাহাব' গ্রন্থের ৯ম খণ্ড, ৩০৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এর অনুলিপি সম্পন্ন করার তারিখ ছিল ৭৮৬ হিজরি সন। তিনি কিতাবের শেষে বলেছেন: 'সাতশ ছিয়াশি হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসের আঠারো তারিখে এর অনুলিপি সম্পন্ন হয়েছে।'

এই অনুলিপিকার আমাদের নিকট সেই পাণ্ডুলিপির অনুলিপিকার পর্যন্ত বর্ণনাপরম্পরা (ইসনাদ) পৌঁছিয়ে দিয়েছেন যেখান থেকে তিনি এটি নকল করেছিলেন। তিনি পাণ্ডুলিপির শুরুতে নিম্নরূপ লিখেছেন:

কিতাবুল কাদার: এটি তিন খণ্ডে বিভক্ত, রচনায়: আবু বকর জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন আল-মুস্তাফাদ আল-ফারিইয়াবি,

তার নিকট থেকে আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন বাবওয়াইহ আল-মাখরামি-এর বর্ণনা,

-----------------------------------

১ সম্ভবত এটি সেই ব্যক্তি যার জীবনী 'আদ-দাও আল-লামি' গ্রন্থের ২য় খণ্ড, ২১৫ পৃষ্ঠায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ১২)
رواية أبي القاسم، عبد العزيز بن أحمد الفضلي القرميسي عنه،

رواية أبي طالب، عبد القادر بن محمد بن عبد القادر بن أحمد عنه،

رواية أبي القاسم، يحيي بن أسعد بن محمد بن بوش عنه،

رواية أبي الحجاج، يوسف بن خليل بن عبد الله الدمشقي عنه،

رواية أبي العباس بن محمد بن عبد الله الظاهري عنه،

قال1: المنقول هذه النسخة من خطه، وهو ابن القماح، رواية كاتبه محمد بن أحمد بن إبراهيم القرشي الشافعي عنه إجازة.

فتبين من هذه السماعات أن الناسخ شهاب الدين أحمد الكلوتاتي الحنفي نقل هذه النسخة من نسخة أخرى أقدم منها، بخط محمد بن أحمد القرشي الشافعي المعروف بابن القماح، له ترجمة في: شذرات الذهب: جـ 230/8.

وقد نقل الكلوتاتي أيضًا سماعًا مكتوبًا على النسخة التي بخط محمد الشافعي المعروف بابن القماح، وهذه صورته:

على الأصل المكتوب منه هذه النسخة ما صورته: قرأت جميع هذا الجزء الأول والثاني بعده، وهو معلم عليهما بعد مقابلتهما بالأصل الذي قرأت منه، وهو بخط الحافظ أبي الحجاج يوسف بن خليل رحمه الله، على الشيخ الإمام العالم العلامة جمال الدين أبي العباس أحمد بن محمد بن عبد الله الظاهري بسماعه فيه، نقلًا من يوسف بن خليل، وسمع الشيخ علم الدين على بن أحمد بن الناصح المقدسي2، وصح ذلك في رابع شهر رجب الفرد سنة أربع عشرة وسبعمائة، وكتب عبد الكريم بن عبد النور بن منير الحلبي3، نقله من خطه كما شاهده بع: محمد بن أحمد بن إبراهيم القرشي الشافعي صح.

-----------------------------------

1 كاتب هذا هو الناسخ: شهاب الدين الكلوتاتي الحنفي.

2 له ترجمة في: الضوء اللامع: جـ 168/5.

3 له ترجمة في: شذرات الذهب: جـ 193/8.
আবু আল-কাসিম আবদুল আজিজ ইবনে আহমাদ আল-ফাজলি আল-কারমিসি-এর রিওয়ায়াহ (বর্ণনা), তাঁর থেকে (পূর্বোক্ত শায়খের সূত্রে),

আবু তালিব আবদুল কাদির ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল কাদির ইবনে আহমাদ-এর রিওয়ায়াহ, তাঁর থেকে,

আবু আল-কাসিম ইয়াহইয়া ইবনে আসআদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বুশ-এর রিওয়ায়াহ, তাঁর থেকে,

আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিল ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দিমাশকি-এর রিওয়ায়াহ, তাঁর থেকে,

আবু আল-আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আজ-জহিরি-এর রিওয়ায়াহ, তাঁর থেকে,

তিনি (১) বলেন: এই পাণ্ডুলিপিটি তাঁর (ইবনুল কাম্মাহ) হস্তলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। তিনি হলেন ইবনুল কাম্মাহ। তাঁর লেখক মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আল-কুরাশি আশ-শাফিয়ি-এর রিওয়ায়াহ, তাঁর থেকে ইজাজাহ (অনুমতি) সূত্রে।

এই শ্রবণপরম্পরা (সামা'আত) থেকে স্পষ্ট হয় যে, লিপিকার শিহাবুদ্দিন আহমাদ আল-কালুতাতী আল-হানাফি এই পাণ্ডুলিপিটি এর চেয়ে প্রাচীনতর অন্য একটি পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছেন, যা ইবনুল কাম্মাহ নামে পরিচিত মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-কুরাশি আশ-শাফিয়ি-এর হস্তলিপিতে ছিল। তাঁর জীবনী 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থের ৮ম খণ্ডের ২৩০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

আল-কালুতাতী সেই পাণ্ডুলিপির ওপর লিখিত একটি শ্রবণসনদও (সামা') উদ্ধৃত করেছেন যা মুহাম্মাদ আশ-শাফিয়ি (ইবনুল কাম্মাহ) এর হস্তাক্ষরে লিখিত ছিল। তার রূপটি নিম্নরূপ:

যে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি অনুলিপি করা হয়েছে, তাতে নিম্নোক্ত কথাটি লেখা আছে: "আমি এই প্রথম এবং পরবর্তী দ্বিতীয় জুয (অংশ) সম্পূর্ণ পাঠ করেছি। মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এই দুই অংশের মুকাবিলা (তুলনামূলক পাঠ) করার পর সেগুলোতে চিহ্ন প্রদান করা হয়েছে। মূল পাণ্ডুলিপিটি হাফিজ আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর হস্তলিপিতে লিখিত ছিল। এটি পাঠ করা হয়েছে শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম জামালুদ্দিন আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আজ-জহিরি-এর নিকট তাঁর শ্রবণ (সামা') অনুযায়ী, যা ইউসুফ ইবনে খলিল থেকে বর্ণিত। শায়খ আলমউদ্দীন আলি ইবনে আহমাদ ইবনে আন-নাসিহ আল-মাকদিসি (২) শ্রবণ করেছেন। ৭১৪ হিজরি সনের চতুর্থ রজব মাসে এটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি লিখেছেন আবদুল কারিম ইবনে আবদুন নূর ইবনে মুনির আল-হালাবি (৩)। তিনি এটি তাঁর (মূল লেখকের) হস্তলিপি থেকে অনুলিপি করেছেন যেমনটি তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আল-কুরাশি আশ-শাফিয়ি; এটি সঠিক।"

-----------------------------------

১ এর লেখক হলেন লিপিকার: শিহাবুদ্দিন আল-কালুতাতী আল-হানাফি।

২ তাঁর জীবনী 'আদ-দউ আল-লামি' গ্রন্থের ৫ নং খণ্ডের ১৬৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

৩ তাঁর জীবনী 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থের ৮ নং খণ্ডের ১৯৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
ويتبين مما سبق أن الكلوتاتي نقل من نسخة بخط محمد2 الشافعي المعروف بابن القماح، وابن القماح نقل من نسخة أقدم كتب عليها عبد الكريم الحلبي، أنها مقابلة على نسخة الحافظ أبي الحجاج يوسف بن خليل، ومن هنا يتبين لنا قيمة هذه النسخة، وأهميتها.

وقد رمزت لهذه النسخة بالأصل.

2 قام زين العابدين بنسخ الكتاب في سنة 1319هـ، وقام كذلك بنسخ كتاب القدر: لابن وهب؛ لأنه موجود في هذا المجموع، خلف كتاب القدر للفريابي.

وزين العابدين لعله المترجم في كتاب: نزهة الخواطر: جـ 497/8- 501.

والملاحَظ أن زين العابدين نقل الكتاب من النسخة السابقة كما سبق، وقد استفدت من نسخه لهذا الكتاب عدة أمور:

أسقطت الصفحة الثانية من النسخة الأصلية عند التصوير، واستدركتها كاملة من نسخة زين العابدين.

ب بعض الهوامش لم تظهر في النسخة الأصلية، وقد نقلها بوضوح زين العابدين في نسخته.

ونسخ زين العابدين تقع في 75 صفحة، في كل صفحة سبعة وعشرون سطرًا تقريبًا، وكتبت بخط جميل واضح معجم، وهي موجودة في المكتبة المركزية لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض.

وبعد، فإني أشكر كل من ساعد في تحقيق الكتاب، كما أنبه على من يجد خطأ أو خللًا أن يبادرني النصيحة، وفق الله الجميع للخير، والله أعلم.
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, কালুতাতি মুহাম্মাদ ইবনে শাফিয়ী—যিনি ইবনুল কাম্মাহ নামে পরিচিত—তার হস্তলিখিত একটি পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছেন। আবার ইবনুল কাম্মাহ একটি প্রাচীনতর পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছেন, যার ওপর আব্দুল কারীম আল-হালাবি লিখেছিলেন যে, এটি হাফেজ আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন খলিলের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে পাঠোদ্ধার ও সংশোধন (মুয়াকাবালাহ) করা হয়েছে। এ থেকেই আমাদের নিকট এই পাণ্ডুলিপির মান ও গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে 'আসল' (মূল পাঠ) হিসেবে চিহ্নিত করেছি।

২. জয়নুল আবেদীন ১৩১৯ হিজরি সালে গ্রন্থটি অনুলিপি করেন। তিনি ইবনে ওয়াহাব রচিত 'কিতাবুল কদর' গ্রন্থটিও অনুলিপি করেছিলেন; কারণ এটি এই সংকলনেই ফিরিয়াবীর 'কিতাবুল কদর' গ্রন্থের পরবর্তী অংশে বিদ্যমান ছিল।

সম্ভবত জয়নুল আবেদীন সেই ব্যক্তি, যার জীবনী 'নুজহাতুল খাওয়াত্বির' গ্রন্থের ৮ম খণ্ডের ৪৯৭-৫০১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

লক্ষণীয় যে, জয়নুল আবেদীন গ্রন্থটি পূর্বোক্ত পাণ্ডুলিপি থেকেই অনুলিপি করেছিলেন যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার করা অনুলিপি থেকে আমি বেশ কিছু বিষয়ে উপকৃত হয়েছি:<

ক) মূল পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি তৈরির (ছবি তোলার) সময় দ্বিতীয় পৃষ্ঠাটি বাদ পড়ে গিয়েছিল, যা আমি জয়নুল আবেদীনের অনুলিপি থেকে সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার করেছি।

খ) মূল পাণ্ডুলিপিতে কিছু পার্শ্বটীকা (হাশিয়া) অস্পষ্ট ছিল, যা জয়নুল আবেদীন তার অনুলিপিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

জয়নুল আবেদীনের অনুলিপিটি ৭৫ পৃষ্ঠার, যার প্রতিটি পৃষ্ঠায় প্রায় ২৭টি করে লাইন রয়েছে। এটি অত্যন্ত সুন্দর, স্পষ্ট এবং নুকতাহযুক্ত হস্তাক্ষরে লিখিত। বর্তমানে এটি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে।

পরিশেষে, আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই যারা এই গ্রন্থটির সম্পাদনায় (তাহকিক) সহায়তা করেছেন। পাশাপাশি আমি এই আহ্বান জানাই যে, কেউ যদি কোনো ভুল বা ত্রুটি খুঁজে পান, তবে যেন আমাকে সংশোধনের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন। আল্লাহ সবাইকে কল্যাণের তাওফিক দান করুন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ২১)
عملي في الكتاب

1 كان الاهتمام الكبير عندي إخراج النص سليمًا، ولذلك قمت بمراجعة الكتاب بعد تحقيقه على النسخ الخطية لاستدراك ما فات.

2 قمت بدراسة أسانيد المصنف، والحكم على بعضها بما يليق بحالها، حسب القواعد المتبعة في ذلك، مراعيًا في ذلك اتصال الأسانيد من انقطاعها، وغير ذلك من القواعد الحديثية المعروفة، كما أني لا أخلي المقام من أحكام العلماء السابقين على الأحاديث.

3 اعتمدت النسخة الأصلية للكتاب، وما زادته النسخة الثانية نبهت عليه مع إثباته، حيث لم تظهر بعض الحواشي في مصورتي النسخة الأصلية، وحفظها لنا ناسخ النسخة الثانية.

4 نقل الآَجُرِّيُّ في: الشريعة، الكثير من نصوص الكتاب، فكان بمثابة نسخة ثالثة، ولذلك تجد المقارنة بينهما في الهامش.

5 خرجت الأحاديث في الكتاب، وكذلك الآثار من دواوين السنة، على أني اكتفيت بالعزو للصحيحين أو أحدهما، إذا كان الحديث فيهما، أو في أحدهما.

6 إعداد الكتاب من حيث ترقيم نصوصه، ووضع علامات الترقيم لما في ذلك من أثر في تقريب مادة الكتاب، وضبطت بالشكل الأحاديث الواردة في الكتاب.
গ্রন্থে আমার সম্পাদিত কর্ম

১. আমার মূল লক্ষ্য ছিল কিতাবটির পাঠ্য (Text) নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করা। সে লক্ষ্যে পাণ্ডুলিপিগুলোর আলোকে সম্পাদনার (তাহকীক) কাজ সম্পন্ন করার পর কোনো ভুলত্রুটি সংশোধনের উদ্দেশ্যে আমি পুনরায় গ্রন্থটি পর্যালোচনা করেছি।

২. আমি গ্রন্থকারের বর্ণিত সনদসমূহ (বর্ণনাপরম্পরা) অধ্যয়ন করেছি এবং হাদীসশাস্ত্রের স্বীকৃত নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোর মান নির্ণয় করেছি। এক্ষেত্রে সনদের ধারাবাহিকতা (ইত্তিসাল), বিচ্ছিন্নতা (ইনকিতা) এবং ইলমুল হাদীসের অন্যান্য সুপরিচিত মূলনীতি বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাদীসগুলোর ব্যাপারে পূর্বসূরি আলিমগণের মতামতও উল্লেখ করেছি।

৩. আমি গ্রন্থের মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত যা কিছু পাওয়া গেছে, তা মূল পাঠে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সে বিষয়ে টীকা দিয়েছি। কেননা মূল পাণ্ডুলিপির ছায়ালিপিতে কিছু পার্শ্বটীকা অস্পষ্ট ছিল, যা দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির লিপিকার আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন।

৪. ইমাম আজুররী তাঁর ‘আশ-শারীআহ’ গ্রন্থে এই কিতাবের অনেক পাঠ উদ্ধৃত করেছেন, যা একটি তৃতীয় পাণ্ডুলিপির সমতুল্য হিসেবে গণ্য হয়েছে। এজন্য পাদটীকায় উভয়ের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্যগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

৫. আমি কিতাবে বর্ণিত হাদীস ও আসারসমূহ (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) সুন্নাহর মূল গ্রন্থগুলো থেকে খুঁজে বের (তাখরীজ) করেছি। তবে হাদীসটি যদি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) অথবা এর যেকোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে, তবে কেবল সেটির উদ্ধৃতি প্রদানকেই যথেষ্ট মনে করেছি।

৬. কিতাবের বিষয়বস্তু সহজবোধ্য করার লক্ষ্যে এর অনুচ্ছেদগুলো নম্বরযুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কিতাবে উল্লিখিত হাদীসগুলোকে হরকতসহ (স্বরচিহ্ন) বিন্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ২২)
7 وضعت الفهارس في آخر الكتاب، وهى تشمل فهرسًا للآيات الواردة في نصوص الكتاب، وفهرسًا آخر لأطراف الأحاديث والآثار مع ذكر رواتها أو قائليها.

8 قد تختلف النسختان في مثل: قال تعالى، وقال الله تعالى، وقال عز وجل، أو الترضي عن الصحابي، لم أشر إلى هذا الاختلاف، فليعلم ذلك، ثم إن ناسخ النسخة الثانية أخطأ في نسخه لبعض الكلمات، فمثلًا في الأصل: إسحاق بن سيار، فيكتب هو إسحاق بن يسار، فإني أهمل التنبيه على مثل هذا ما دام الأصل صحيحًا.

9 اختصر الناسخ حدثنا إلي نا، فكتبتها على الأصل حدثنا ومثلها أخبرنا.

10 حذفت قول راوي الكتاب: حدثنا جعفر، يعني المصنف، حيث كتبها قبل كثير من الأحاديث، فحذفتها فليعلم.
7 বইয়ের শেষে সূচিপত্রগুলো সংযোজন করা হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে মূল পাঠে (নصوص) বর্ণিত আয়াতসমূহের সূচি এবং হাদিস ও আসারসমূহের প্রথমাংশের (আতরাফ) একটি স্বতন্ত্র সূচি, যেখানে সেগুলোর বর্ণনাকারী বা প্রবক্তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

8 পাণ্ডুলিপি দুটির মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে, যেমন: মহান আল্লাহ বলেছেন (قال تعالى), আল্লাহ তাআলা বলেছেন (وقال الله تعالى), আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন (وقال عز وجل), অথবা সাহাবীর জন্য সন্তুষ্টির দুআ (আত-তারাদ্বী); আমি এই পার্থক্যগুলো নির্দেশ করিনি, বিষয়টি যেন অবগত থাকা হয়। তদুপরি, দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির অনুলিপিকারক কিছু শব্দ অনুলিপিতে ভুল করেছেন; উদাহরণস্বরূপ, মূলে আছে: 'ইসহাক ইবনে সাইয়্যার' (إسحاق بن سيار), কিন্তু তিনি লিখেছেন 'ইসহাক ইবনে ইয়াসার' (إسحاق بن يسار)। মূল পাঠ সঠিক থাকা পর্যন্ত আমি এ জাতীয় বিষয়ের প্রতি সতর্ক করা থেকে বিরত থেকেছি।

9 অনুলিপিকারক 'হাদ্দাসানা' (حدثنا) শব্দটিকে সংক্ষেপে 'না' (نا) লিখেছেন, কিন্তু আমি সেটিকে মূলে বর্ণিত পূর্ণরূপ 'হাদ্দাসানা' হিসেবেই লিখেছি এবং 'আখবারানা' (أخبرنا)-এর ক্ষেত্রেও অনুরূপ করেছি।

10 কিতাবটির বর্ণনাকারীর উক্তি: "জাফর আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন" (حدثنا جعفر)—অর্থাৎ গ্রন্থকার—যা তিনি অনেক হাদিসের আগে লিখেছেন, আমি তা বর্জন করেছি, বিষয়টি যেন অবগত থাকা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
كتاب القدر

تأليف أبي بَكْرٍ، جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ المستفاض الفريابي،

رواية أبي مُحَمَّدٍ، عُبَيْدُ اللَّهِ 1 بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بن بابويه المخرمي عنه،

رواية أبي القاسم، عبد العزيز بن أحمد الفضلي القرميسي عنه،

رواية أبي طالب، عبد القادر بن محمد بن عبد القادر بن أحمد عنه،

رواية أبي القاسم، يحيى بن أسعد بن يحيى بن يونس عنه،

رواية أبي الحجاج يوسف بن خليل بن عبد الله الدمشقي،

رواية أبي العباس محمد بن عبد الله الظاهري عنه،

وهذه ترجمة موجزة لرجال إسناد النسخة:

1 عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ بابويه بن فهرويه بن عبد الله بن مرزوق، أبو محمد الدقاق المخرمي، يعرف بابن جغوما، حدث عن أبيه، وعن جعفر بن محمد الفريابي، والحسين بن محمد بن عفير، وإبراهيم بن عبد الله بن أيوب المخرمي، وعلي بن الحسن بن العبد، قال الخطيب:

-----------------------------------

1 في: تاريخ بغداد: عبيد الله، وهكذا أيضًا في أول الكتاب، وعلى الغلاف الخارجي: عبد الله.
কিতাবুল কদর (তকদির বা ভাগ্যলিপি বিষয়ক গ্রন্থ)

রচনা করেছেন আবু বকর জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আল-মুসতাফায আল-ফিরইয়াবি,

তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ১ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন বাবুওয়াইহ আল-মুখাররামী,

তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আব্দুল আজিজ বিন আহমদ আল-ফাযলি আল-কিরমিসী,

তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন আবু তালিব আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কাদির বিন আহমদ,

তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম ইয়াহইয়া বিন আসআদ বিন ইয়াহইয়া বিন ইউনুস,

তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন খলিল বিন আব্দুল্লাহ আদ-দামেশকী,

তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-জাহিরি।

এই পাণ্ডুলিপির বর্ণনাকারীগণের (রিজাল) সংক্ষিপ্ত জীবনী নিম্নরূপ:

১. উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন বাবুওয়াইহ বিন ফাহরুওয়াইহ বিন আব্দুল্লাহ বিন মারজুক, আবু মুহাম্মদ আদ-দাক্কাক আল-মুখাররামী, যিনি ইবনে জুগুমা নামে পরিচিত। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা, জাফর বিন মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি, আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন উফাইর, ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আইয়ুব আল-মুখাররামী এবং আলি বিন হাসান বিন আল-আবদ থেকে। আল-খতিব (আল-বাগদাদি) বলেন:

-----------------------------------

১. 'তারিখে বাগদাদ'-এ রয়েছে: উবায়দুল্লাহ; একইভাবে গ্রন্থের শুরুতেও রয়েছে, তবে বাইরের প্রচ্ছদে (মলাটে) রয়েছে: আব্দুল্লাহ।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ২৪)
حدثنا عنه أحمد بن علي بن عثمان الخطبي، وبشرى بن عبد الله الرومي، وعبد العزيز الأزجي، وعبيد الله بن محمد بن عبيد الله النجار، وأبو القاسم التنوخي، وأحاديثه مستقيمة.

وكان قد عَمِي في آخر عمره، قال الخطيب: أخبرني الأزهرى أن ابن فهرويه المخرمي، مات في سنة ست وسبعين وثلاثمائة، تاريخ بغداد: جـ 363/ 10.

2 الشيخ الإمام، المحدث المفيد، أبو القاسم، عبد العزيز بن علي بن أحمد بن الفضل بن شكر البغدادي الأزجي.

سمع الكثير من ابن كيسان، وأبي عبد الله العسكري، وأبي الحسن بن لؤلؤ، وأبي سعيد الحرفي، وعبد العزيز الخرقي، ومحمد بن أحمد الجرجرائي المفيد، وابن المظفر، والدارقطني، وخلق، وعني بالحديث.

روى عنه الخطيب، والقاضي أبو يعلى، وعبد الله بن سبعون القيرواني، والحسين بن علي الكاشغري، وحمد بن إسماعيل الهمذاني، والمبارك بن الطيوري، وخلق.

له مصنف في الصفات لم يهذبه.

قال الخطيب: كتبنا عنه، وكان صدوقًا كثير الكتاب، مولده في سنة ست وخمسين وثلاث مائة، وتوفي في شعبان سنة أربع وأربعين وأربع مائة. سير أعلام النبلاء: جـ 18/ 18.

3 الشيخ الأمين، الثقة، العالم المسند، أبو طالب عبد القادر بن محمد بن عبد القادر بن محمد بن يوسف البغدادي اليوسفي ابن أبي بكر، ولد سنة نيف وثلاثين وأربع مائة.

وسمع المصنفات الكبار من أبي علي بن المذهب، وأبي إسحاق البرمكي، وأبي بكر بن بشران، وأبي محمد الجوهري، وعدة، وتفرد في وقته.
আহমদ ইবনে আলী ইবনে উসমান আল-খুতবী, বুশরা ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রুমী, আব্দুল আজিজ আল-আজিজি, উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ আন-নাজ্জার এবং আবুল কাসেম আত-তানূখী তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ নির্ভুল।

জীবনের শেষভাগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। আল-খতিব বলেন: আল-আযহারী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনে ফাহরুয়াহ আল-মুখররামী তিনশত ছিয়াত্তর হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। (তারিখ বাগদাদ: ১০/৩৬৩)।

২. শায়খ আল-ইমাম, প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস (আল-মুফিদ), আবুল কাসেম আব্দুল আজিজ ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে ফাদল ইবনে শুকর আল-বাগদাদী আল-আজিজি।

তিনি ইবনে কায়সান, আবু আব্দুল্লাহ আল-আসকারী, আবুল হাসান ইবনে লু'লু, আবু সাঈদ আল-হারফী, আব্দুল আজিজ আল-খিরাকী, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-জারজারাঈ আল-মুফিদ, ইবনে আল-মুজাফফর, আদ-দারা কুতনী এবং আরও অসংখ্য আলিমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং হাদিস শাস্ত্রের প্রতি নিবিষ্ট ছিলেন।

তাঁর থেকে আল-খতিব, আল-কাযী আবু ইয়া'লা, আব্দুল্লাহ ইবনে সাবউউন আল-কায়রাওয়ানী, আল-হুসাইন ইবনে আলী আল-কাশগারী, হামদ ইবনে ইসমাইল আল-হামাদানী, আল-মুবারক ইবনে আত-তিয়ূরী এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

মহান আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) বিষয়ে তাঁর একটি সংকলন রয়েছে যা তিনি পরিমার্জন বা বিন্যস্ত করে যেতে পারেননি।

আল-খতিব বলেন: আমরা তাঁর নিকট থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করেছি, তিনি সত্যবাদী ছিলেন এবং প্রচুর কিতাব বা পাণ্ডুলিপির অধিকারী ছিলেন। তাঁর জন্ম তিনশত ছাপ্পান্ন হিজরি সনে এবং তিনি চারশত চুয়াল্লিশ হিজরি সনের শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১৮/১৮)।

৩. আমানতদার শায়খ, নির্ভরযোগ্য, ইলমে হাদিসের উচ্চ সনদধারী আলিম (আল-মুসনিদ), আবু তালিব আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-বাগদাদী আল-ইউসুফী ইবনে আবি বকর। তিনি চারশত ত্রিশের কিছুকাল পর (৪৩০ এর দশকে) জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি আবু আলী ইবনুল মাযহাব, আবু ইসহাক আল-বারমাকী, আবু বকর ইবনে বিশরান, আবু মুহাম্মদ আল-জাওহারী এবং আরও অনেক আলিমের নিকট থেকে বৃহৎ হাদিস গ্রন্থসমূহ শ্রবণ করেছেন এবং নিজ সময়ে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ২৫)
حدث عنه السلفي، وأبو العلاء العطار، وهبة الله الصائن، وأبو بكر ابن النقور، والشيخ عبد القادر، وعبد الحق اليوسفي، وأبو منصور محمد بن أحمد الدقاق، ويحيي بن بوش، وعدد كثير.

قال السمعاني: شيخ صالح ثقة دين، متحرٍ في الرواية، كثير السماع، انتشرت عنه الرواية في البلدان، وحُمِل عنه الكثير.

وقال السلفي: تربي أبو طالب على طريقة والده في الاحتياط التام في الدين في التدين من غير تكلف، وكان كامل الفضل، حسن الجملة، ثقة متحريًا، إلى غاية ما عليها مزيد، قلَّ من رأيت مثله، وكان أبوه أبو بكر أزهد خلق الله، قال محمد بن عطاف: توفي أبو طالب في آخر يوم الجمعة ثامن عشر ذي الحجة، سنة ست عشرة وخمس مائة. سير أعلام النبلاء: جـ 386/ 19.

4 الشيخ المعمر، الرحلة، أبوالقاسم يحيى بن أسعد بن يحيى بن محمد بن بوش، البغدادي، الأزجي، الخباز.

سمع بإفادة خاله من أبي طالب بن يوسف، وأبي الغنائم محمد بن محمد، وعدة.

وأجاز له أبو القاسم بن بيان، وأبو علي الحداد، وأبو الغنائم النرسي، وجماعة.

وقال ابن الدبيثي: كان سماعه صحيحًا.

حدث عنه: الشيخ موفق الدين، والبهاء عبد الرحمن، وعدة.

مات في ثالث ذي القعدة فجاءةً، غص بلقمة، سنة ثلاث وتسعين وخمسمائة وله بضع وثمانون سنة.

5 يوسف بن خليل بن قراجا عبد الله، الإمام، المحدث، الصادق، الرحال النقال، شيخ المحدثين، راوية الإسلام، أبو الحجاج شمس الدين، الدمشقي الأدمي، الإسكاف، نزيل حلب، وشيخها.
তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন আস-সিলাফি, আবু আল-আলা আল-আত্তার, হিবাতুল্লাহ আস-সায়িন, আবু বকর ইবনুন নাক্কুর, আশ-শায়খ আব্দুল কাদির, আব্দুল হক আল-ইউসুফি, আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন আহমদ আদ-দাক্কাক, ইয়াহইয়া বিন বুশ এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তি।

আস-সামআনি বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন নেককার শায়খ, বিশ্বস্ত, ধর্মপ্রাণ, বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিশয় সর্তক, অধিক শ্রুত (হাদিসের বিপুল ভাণ্ডারের অধিকারী)। তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর নিকট থেকে প্রচুর ইলম গ্রহণ করা হয়েছে।

আস-সিলাফি বলেছেন: আবু তালিব তাঁর পিতার নিকট দ্বীনদারির ক্ষেত্রে কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই পূর্ণ সতর্কতার (ইহতিয়াত) সাথে গড়ে উঠেছেন। তিনি ছিলেন পূর্ণ ফযীলতসম্পন্ন, অমায়িক ব্যক্তিত্বের অধিকারী, চরম পর্যায়ের বিশ্বস্ত ও সতর্ক; আমি তাঁর মতো মানুষ খুব কমই দেখেছি। আর তাঁর পিতা আবু বকর ছিলেন আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুনিয়াবিমুখ (যাহিদ)। মুহাম্মদ বিন আতাফ বলেন: আবু তালিব ৫১৬ হিজরির ১৮ই জিলহজ জুমার দিনের শেষভাগে ইন্তেকাল করেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১৯তম খণ্ড, ৩৮৬ পৃষ্ঠা)।

৪. প্রবীণ শায়খ, দেশভ্রমণকারী পর্যটক (আর-রিহলাহ), আবুল কাসিম ইয়াহইয়া বিন আসআদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন বুশ, আল-বাগদাদি, আল-আযজি, আল-খাব্বায।

তিনি তাঁর মামার তত্ত্বাবধানে আবু তালিব বিন ইউসুফ, আবু আল-গানায়িম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ এবং আরও অনেকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।

তাঁকে (হাদিস বর্ণনার) অনুমতি (ইজাজাহ) প্রদান করেছেন আবুল কাসিম বিন বায়ান, আবু আলি আল-হাদ্দাদ, আবু আল-গানায়িম আন-নারসি এবং একদল উলামা।

ইবনুদ দুবাইসি বলেছেন: তাঁর হাদিস শ্রবণ বিশুদ্ধ ছিল।

তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন: শায়খ মুওয়াফ্ফাকুদ্দিন, আল-বাহাউ আব্দুর রহমান এবং আরও অনেকে।

তিনি ৫৯৩ হিজরির ৩রা জিলকদ হঠাৎ ইন্তেকাল করেন; গলায় খাবারের লোকমা আটকে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল আশি বছরের কিছু বেশি।

৫. ইউসুফ বিন খলিল বিন কারাজা আব্দুল্লাহ, ইমাম, মুহাদ্দিস, পরম সত্যবাদী, পর্যটক ও বর্ণনাকারী, মুহাদ্দিসকুলের শায়খ, ইসলামের বর্ণনাকারী, আবু আল-হাজ্জাজ শামসুদ্দিন, আদ-দামিশকি আল-আদামি, আল-ইসকাফ; যিনি আলেপ্পো শহরে বসবাস করতেন এবং সেখানকার প্রধান শায়খ ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولد في سنة خمس وخمسين وخمسمائة.

مشيخته نحو الخمس مائة، وصحب الحافظ عبد الغني، وتخرج به مدة.

قال الذهبي: روى لنا عنه الحافظ أبو محمد الدمياطي، والحافظ أبو العباس ابن الظاهري.

توفي إلى رحمة الله في عاشر جمادى الآخرة سنة ثمان وأربعين وست مائة وله ثلاث وتسعون سنة. سير أعلام النبلاء: جـ 151/ 23.

6 أحمد بن محمد بن عبد الله، الحافظ، القدوة، جمال الدين أبو العباس، الحلبي، الظاهري، شيخ الذهبي رحمهما الله، مولده في شوال سنة ست وعشرين وستمائة.

قال الذهبي: اشتغل وقرأ بالسبع على أبي عبد الله الفاسي، وسمع من ابن اللتي، والأربلي، والموفق يعيش، وابن رواحة، وأكثر عنه، وعن ابن خليل. شيوخه أزيد من سبعمائة شيخ.

مات في ربيع سنة ست وتسعين وستمائة، وله سبعون سنة. معجم شيوخ الذهبي: 84.
তিনি পাঁচশত পঞ্চান্ন হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর মাশায়েখের (উস্তাদ) সংখ্যা প্রায় পাঁচশত। তিনি হাফেজ আব্দুল গনির সান্নিধ্যে ছিলেন এবং দীর্ঘকাল তাঁর নিকট শিক্ষালাভ করেন।

ইমাম যাহাবী বলেন: হাফেজ আবু মুহাম্মদ আদ-দামইয়াতি এবং হাফেজ আবুল আব্বাস ইবনুজ জাহেরি আমাদের নিকট তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তিনি ছয়শত আটচল্লিশ হিজরীর ১০ই জমাদিউল আখের মহান আল্লাহর রহমতের দিকে পাড়ি জমান; তখন তাঁর বয়স ছিল ৯৩ বছর। সিয়ারু আলামিন নুবালা: খণ্ড ২৩, পৃষ্ঠা ১৫১।

৬. আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, হাফেজ, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, জামালুদ্দিন আবুল আব্বাস আল-হালাবি আজ-জাহেরি। তিনি ইমাম যাহাবীর উস্তাদ ছিলেন (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন)। তাঁর জন্ম ছয়শত ছাব্বিশ হিজরীর শাওয়াল মাসে।

ইমাম যাহাবী বলেন: তিনি জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত ছিলেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-ফাসির নিকট সাত কেরাআতে (আল-ক্বিরাআত আস-সাব‘আ) কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেন। তিনি ইবনুল লাতি, আল-ইরবিলি, মুয়াফফাক ইয়াইশ এবং ইবনু রাওয়াহা থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ইবনু রাওয়াহা এবং ইবনু খলিল থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। তাঁর উস্তাদ বা মাশায়েখের সংখ্যা সাতশতেরও অধিক।

তিনি ছয়শত ছিয়ানব্বই হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল সত্তর বছর। মু'জামু শুইউখিজ যাহাবী: ৮৪।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الأحاديث والآثار في خلق آدم عليه السلام

 

بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد سيد المرسلين، وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ بَالَوَيْهِ بْنِ فَهْرَوَيْهِ الْمَخْرَمِيُّ، ثنا أَبُو بَكْرٍ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْمُسْتَفَاضِ الْفِرْيَابِيُّ:

1 حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سعيد، حدثنا الليث بن سعد عن

-----------------------------------

1 - أخرجه الآجُرِّي في: الشريعة: صـ 191، أخبرنا الفريابي، وساقه، وأخرجه مختصراً من قول عبد الله بن سلام النسائي في: عمل اليوم والليلة: صـ 219 بمثل إسناد المصنف، وتابع ابن عجلان عليه محمد بن عبد الرحمن بن أبي ذئب، كما عند المصنف برقم 2، وابن منده في: التوحيد:61، والبيهقي في: الأسماء والصفات برقم 811، وتابعه كذلك أبو معشر نجيح، وهو ضعيف، اختلط، فرواه عن سعيد، عن عبد الله بن سلام بإسقاط أبي سعيد، وهذا عند ابن جرير في تاريخه: جـ 47/ 1، وأبي الشيخ في: العظمة برقم 885.

والأثر لبعض أجزائه شواهد موفوعة إلي النبي صلى الله عليه وسلم، فقد أخرج ابن حبان في: صحيحه 6167 - الإحسان، عن أبي هريرة مرفوعاً: "لما خلق الله آدم ونفخ فيه الروح عطس .. " الحديث، وإسناده صحيح.
‌আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টি সম্পর্কিত হাদীস ও আসারসমূহ (বর্ণনাসমূহ)

 

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

আমাদের নেতা, সকল রাসূলের শিরোমণি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আমাদের নিকট আবু মুহাম্মাদ উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন বালওয়াইহ বিন ফাহরাওয়াইহ আল-মাখরামী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন আল-মুস্তাফাদ আল-ফিরইয়াবী বর্ণনা করেছেন:

১. আমাদের নিকট কুতাইবাহ বিন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট লাইস বিন সা’দ বর্ণনা করেছেন... থেকে।

-----------------------------------

১ - আল-আজুররী তাঁর ‘আশ-শরীয়াহ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৯১) এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আল-ফিরইয়াবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং এরপর তিনি এটি বিস্তারিত উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম আন-নাসাঈ তাঁর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২১৯) আব্দুল্লাহ বিন সালামের উক্তি হিসেবে সংক্ষিপ্তাকারে গ্রন্থকারের সনদের অনুরূপ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি জি’ব এ বর্ণনায় ইবনে আজলানকে অনুসরণ করেছেন, যেমনটি গ্রন্থকারের নিকট ২ নং বর্ণনায় বিদ্যমান রয়েছে। এছাড়াও ইবনে মানদাহ তাঁর ‘আত-তাওহীদ’ গ্রন্থে (৬১ নং) এবং আল-বাইহাকী তাঁর ‘আল-আসমা ওয়াস-সিফাত’ গ্রন্থে (৮১১ নং) এটি বর্ণনা করেছেন। একইভাবে আবু মা’শার নাজীহ তাঁকে অনুসরণ করেছেন, তবে তিনি দুর্বল (যঈফ), শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিশক্তি বিকল হয়ে গিয়েছিল। তিনি আবু সাঈদকে বাদ দিয়ে সাঈদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন সালাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; এটি ইবনে জারীর তাঁর ইতিহাসের (১/৪৭) এবং আবুশ শাইখ তাঁর ‘আল-আজমাত’ গ্রন্থে (৮৮৫ নং) উল্লেখ করেছেন।

বর্ণিত এই আসারটির (বিবরণটির) কিছু অংশের সমর্থনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সরাসরি বর্ণিত (মারফু) হাদীস রয়েছে। যেমন ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহীহ’ (আল-ইহসান, হাদীস নং ৬১৬৭) গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁর মধ্যে রূহ ফুঁকে দিলেন, তখন তিনি হাঁচি দিলেন..."—হাদীসটির শেষ পর্যন্ত; এবং এর সনদ সহীহ (বিশুদ্ধ)।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩০)
مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ أَنَّهُ قَالَ: خَلَقَ اللَّهُ عز وجل الْأَرْضَ يَوْمَ الْأَحَدِ وَالِاثْنَيْنِ، وقدَّر فِيهَا أَقْوَاتَهَا، وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مَنْ فَوْقِهَا يَوْمَ الثُّلَاثَاءِ وَالْأَرْبِعَاءِ، ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ، وَهِيَ دُخَانٌ، فَخَلَقَهَا 1 يَوْمَ الْخَمِيسِ وَيَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا، وَخَلَقَ آدَمَ عليه السلام فِي آخِرِ سَاعَةٍ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عَلَى عَجَلٍ، ثُمَّ تَرَكَهُ أَرْبَعِينَ يَوْمًا 2 يَنْظُرُ إِلَيْهِ، وَيَقُولُ: {فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ}، ثُمَّ نَفَخَ فِيهِ مَنْ 3 رُوحِهِ، فَلَمَّا دَخَلَ فِي بَعْضِهِ الرُّوحُ، وَذَهَبَ لِيَجْلِسَ، قَالَ اللَّهُ عز وجل: {خُلِقَ الإِنسَانُ مِنْ عَجَلٍ} 4، فَلَمَّا تَتَابَعَ فِيهِ الرُّوحُ عَطَسَ، فَقَالَ اللَّهُ عز وجل لَهُ: {قُلِ الْحَمْدُ لِلَّه} فَقَالَ:5 الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: يَرْحَمُكَ رَبُّكَ، ثُمَّ قَالَ لَهُ: اذْهَبْ إِلَى أَهْلِ ذَلِكَ الْمَجْلِسِ مِنَ الْمَلَائِكَةِ، وَسَلِّمْ عَلَيْهِمْ، فَفَعَلَ، فَقَالَ: هَذِهِ تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ، ثُمَّ مَسَحَ ظَهْرَهُ بِيَدَيْهِ، فَأَخْرَجَ مِنْهَا مَنْ هُوَ خَالِقٌ مِنْ ذُرِّيَّتِهِ إِلَى أَنْ تَقُومَ السَّاعَةُ، ثُمَّ قَبَضَ يَدَيْهِ، وَقَالَ: اخْتَرْ يَا آدَمُ، فَقَالَ: اخْتَرْتُ يمينك

-----------------------------------

1 وأيضًا في كتاب: الشريعة: صـ 191: فخلقها، أما النسخة الثانية: فجعلها.

2 من كتاب: الشريعة: صـ 191، وليست في الأصل.

3 النسخة الثانية ليس فيها: فيه من.

4 سورة الأنبياء: الآية 37.

5 سقطت من الأصل، واستدركت على الهامش، وهي غير واضحة، ونقلتها من النسخة الثانية.

মুহাম্মাদ ইবনে আজলান থেকে বর্ণিত, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ রবিবার ও সোমবার পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে এর খাদ্যসম্ভার নির্ধারণ করেছেন। আর মঙ্গলবার ও বুধবার তিনি এর ওপর সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করলেন যখন তা ছিল ধোঁয়া সদৃশ। এরপর তিনি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তা সৃষ্টি করেন ১ এবং প্রত্যেক আকাশে তার সংশ্লিষ্ট বিধান প্রত্যাদেশ করলেন। তিনি শুক্রবারের শেষ সময়ে তাড়াহুড়োর সাথে আদমকে (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সৃষ্টি করলেন। এরপর তিনি তাঁকে চল্লিশ দিন ২ রেখে দিলেন এবং তাঁর দিকে তাকিয়ে বলতেন: {অতএব আল্লাহ কতই না বরকতময়, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা}। এরপর তিনি তাঁর মধ্যে নিজের রূহ (প্রাণ) থেকে ফুঁক দিলেন ৩। যখন রূহ তাঁর দেহের কিছু অংশে প্রবেশ করল এবং তিনি উঠে বসার চেষ্টা করলেন, তখন মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বললেন: {মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ত্বরপ্রবণ করে} ৪। যখন রূহ তাঁর পূর্ণ শরীরে ছড়িয়ে পড়ল, তিনি হাঁচি দিলেন। তখন মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাঁকে বললেন: {তুমি বলো: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য (আলহামদুলিল্লাহ)}। তখন তিনি বললেন: ৫ সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তখন মহান আল্লাহ বললেন: তোমার প্রতিপালক তোমার ওপর দয়া করুন। এরপর তিনি তাঁকে বললেন: ফেরেশতাদের ঐ মজলিসের কাছে যাও এবং তাঁদের সালাম দাও। তিনি তাই করলেন। তখন আল্লাহ বললেন: এটাই তোমার এবং তোমার ভবিষ্যৎ বংশধরদের অভিবাদন। এরপর আল্লাহ তাঁর হাত দিয়ে আদমের পিঠ মুছলেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর বংশধরদের মধ্যে যাদের তিনি সৃষ্টি করবেন তাদের বের করে আনলেন। এরপর তিনি তাঁর দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করলেন এবং বললেন: হে আদম, তুমি পছন্দ করো। আদম বললেন: আমি আপনার ডান হাতটি পছন্দ করলাম।

-----------------------------------

১. এছাড়াও ‘আশ-শারীআহ’ কিতাবের ১৯১ পৃষ্ঠায় রয়েছে: ‘অতঃপর তিনি তা সৃষ্টি করেন’, তবে দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘অতঃপর তিনি তা তৈরি করেন’।

২. ‘আশ-শারীআহ’ কিতাব থেকে (পৃষ্ঠা ১৯১), মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই।

৩. দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে ‘তার মধ্যে’ অংশটি নেই।

৪. সূরা আল-আম্বিয়া: আয়াত ৩৭।

৫. এটি মূল পাঠ থেকে বাদ পড়েছিল এবং পার্শ্বটীকায় যুক্ত করা হয়েছিল যা অস্পষ্ট ছিল, তাই আমি এটি দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি থেকে গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩১)
يَا رَبِّ وَكِلْتَا يَدَيْكَ يَمِينٌ، فَبَسَطَهَا فَإِذَا فِيهَا ذُرِّيَّتُهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، فَقَالَ: مَا هَؤُلَاءِ يَا رَبِّ؟، قَالَ: هُمْ مَنْ قَضَيْتُ أَنْ أَخْلُقَ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ إِلَى أَنْ تَقُومَ السَّاعَةُ، فَإِذَا فِيهِمْ مَنْ لَهُ وَبِيصٌ، فَقَالَ: مَنْ هَؤُلَاءِ يَا رَبِّ؟، قَالَ هُمُ الْأَنْبِيَاءُ، قَالَ: فَمَنْ هَذَا الَّذِي كَانَ لَهُ فَضْلٌ وَبِيصٌ؟، قَالَ: هُوَ ابْنُكَ دَاوُدُ، قَالَ: فَكَمْ جَعَلْتَ عُمُرَهُ؟، قَالَ: سِتِّينَ سَنَةً، قَالَ: فَكَمْ عُمُرِي، قَالَ: أَلْفُ سَنَةٍ، قَالَ: فَزِدْهُ يَا رَبِّ مِنْ عُمُرِي أَرْبَعِينَ سَنَةً، قَالَ: إِنْ شِئْتَ، قَالَ: فَقَدْ شِئْتُ، قَالَ: إِذَنْ يُكْتَبُ ثُمَّ يُخْتَمُ ثُمَّ لَا يُبَدَّلُ، ثُمَّ رَأَى مِنْ آخِرِ كَفِّ الرَّحْمَنِ مِنْهُمْ، آخرَ لَهُ فَضْلٌ وَبِيصٌ، قَالَ: فَمَنْ هذا يارب؟، قَالَ: هَذَا مُحَمَّدٌ، هُوَ آخِرُهُمْ، وَأَوَّلُهُمْ أُدْخِلُهُ الْجَنَّةَ، فَلَمَّا أَتَاهُ مَلَكُ الْمَوْتِ؛ لِيَقْبِضَ نَفْسَهُ1، قَالَ: إِنَّهُ قَدْ بَقِيَ مِنْ عُمُرِي أَرْبَعُونَ سَنَةً، قَالَ: أَوَلَمْ تَكُنْ وَهَبْتَهَا لِابْنِكَ دَاوُدَ، قَالَ: لَا، قَالَ: فَنَسِيَ آدَمُ، فَنَسِيَتْ ذُرِّيَّتُهُ، وَجَحَدَ آدَمُ، فَجَحَدَتْ ذُرِّيَّتُهُ، وَعَصَى آدَمُ فَعَصَتْ ذُرِّيَّتُهُ، وَذَلِكَ أَوَّلُ يَوْمٍ أُمِرَ بِالشُّهَدَاءِ.

2 حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ2 عَنْ سَعِيدِ بْنِ أبي سعيد المقبري، عن أبيه، عن

-----------------------------------

1 سقطت الورقة الثانية من الأصل، وهي تبدأ بقوله: قال:....، واستدركتها من النسخة الثانية.

2- انظر النص السابق.

2 كانت في الأصل: سعيد بن أبي ذئب، وهو خطأ، ولعل الناسخ انتقل بصره إلي شيخ ابن أبي ذئب.
হে প্রতিপালক! আপনার উভয় হস্তই ডান হাত (অর্থাৎ কল্যাণ ও বরকতময়), অতঃপর তিনি তা প্রসারিত করলেন এবং সেখানে তাঁর জান্নাতী বংশধরগণ দৃষ্টিগোচর হলো। তিনি বললেন: হে রব! এরা কারা? আল্লাহ বললেন: এরা তারা, যাদেরকে আমি তোমার বংশধরদের মধ্য থেকে জান্নাতী হিসেবে সৃষ্টির ফয়সালা করেছি কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত। অতঃপর তাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তিকে দেখা গেল যাদের বিশেষ ঔজ্জ্বল্য রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে রব! এরা কারা? আল্লাহ বললেন: তারা হলো নবীগণ। তিনি বললেন: তবে অধিকতর উজ্জ্বল এই ব্যক্তিটি কে? আল্লাহ বললেন: সে তোমার সন্তান দাউদ। আদম জিজ্ঞেস করলেন: আপনি তার আয়ু কত নির্ধারণ করেছেন? আল্লাহ বললেন: ষাট বছর। তিনি বললেন: তবে আমার আয়ু কত? আল্লাহ বললেন: এক হাজার বছর। আদম বললেন: হে রব! তবে আমার আয়ু থেকে চল্লিশ বছর তার জন্য বৃদ্ধি করে দিন। আল্লাহ বললেন: যদি তুমি চাও। আদম বললেন: আমি তা-ই চাই। আল্লাহ বললেন: তবে তা লিখে রাখা হলো এবং মোহর করে দেওয়া হলো, আর এতে কোনো পরিবর্তন করা হবে না। এরপর তিনি দয়াময় রহমানের হাতের তালুর শেষ প্রান্তে তাদের মধ্যে থেকে আরেকজনকে দেখলেন যার বিশেষ ঔজ্জ্বল্য রয়েছে। তিনি বললেন: হে রব! ইনি কে? আল্লাহ বললেন: ইনি মুহাম্মদ, তিনি তাদের সর্বশেষ এবং প্রথম ব্যক্তি যাকে আমি জান্নাতে প্রবেশ করাব। অতঃপর যখন মালাকুল মউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) তাঁর প্রাণ কবজ করার জন্য আসলেন; তিনি বললেন: আমার জীবনের তো এখনও চল্লিশ বছর বাকি আছে। ফেরেশতা বললেন: আপনি কি তা আপনার পুত্র দাউদকে দান করেননি? আদম বললেন: না। বর্ণনাকারী বলেন: আদম ভুলে গেলেন, ফলে তাঁর বংশধরও ভুলে যায়; আদম অস্বীকার করলেন, ফলে তাঁর বংশধরও অস্বীকার করে; এবং আদম অবাধ্যতা করলেন, ফলে তাঁর বংশধরও অবাধ্যতা করে। আর সেই দিন থেকেই সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আহমদ ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উসমান ইবনে উমর থেকে, তিনি ইবনে আবি যিব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে...

-----------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় পাতাটি হারিয়ে গিয়েছিল, যা শুরু হয়েছিল তাঁর এই কথা থেকে: তিনি বললেন:...। আমি দ্বিতীয় অনুলিপি থেকে এটি সংযোজন করেছি।

২- পূর্ববর্তী পাঠ্যটি দেখুন।

২. মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: সাঈদ ইবনে আবি যিব, যা ভুল। সম্ভবত লিপিকারের দৃষ্টি ইবনে আবি যিবের উস্তাদের দিকে চলে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩২)
عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ رضي الله عنه قَالَ: بَدَأَ اللَّهُ عز وجل خَلْقَ الْأَرْضِ، فَخَلَقَ سَبْعَ أَرَاضِينَ فِي يَوْمَيْنِ: يَوْمِ الْأَحَدِ وَيَوْمِ الِاثْنَيْنِ، وقدَّر فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي يَوْمَيْنِ: يَوْمِ الثُّلَاثَاءِ وَيَوْمِ الْأَرْبِعَاءِ، ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ، فَخَلَقَهُنَّ فِي يَوْمَيْنِ، فَقَضَاهُنَّ آخِرَ يَوْمِ الْجُمُعَةِ، وَهِيَ السَّاعَةُ الَّتِي خَلَقَ فِيهَا آدَمَ عَلَى عَجَلٍ، وَالسَّاعَةُ الَّتِي تَقُومُ فِيهَا السَّاعَةُ، مَا خَلَقَ اللَّهُ عز وجل مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا وَهِيَ تَفْزَعُ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ، إِلَّا الْإِنْسَانَ وَالشَّيْطَانَ.

3 حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "خَلَقَ الله آدم وطوله ستون ذراعًا، لما خَلَقَهُ، قَالَ: اذْهَبْ، فَسَلِّمْ عَلَى أُولَئِكَ، وَإِذَا نَفَرٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ جُلُوسٌ فَاسْمَعْ مَا يُحَيُّونَكَ، فَإِنَّهَا تَحِيَّتُكَ وَتَحِيَّةُ ذُرِّيَّتِكَ، فَذَهَبَ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالُوا: السَّلَامُ عَلَيْكَ وَرَحْمَةُ اللَّهِ فَزَادُوهُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ".

4 حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا حماد بن سلمة، عن علي بن

-----------------------------------

3- أخرجه البخاري: 6227، ومسلم: 2831 وغيرهما، وعندهما زيادة: "فكل من يدخل الجنة على صورة آدم، زاد مسلم: وطوله ستون ذراعًا، فلم يزل الخلق ينقص بعد حتى الآن".

4- فيه علي بن زيد بن جدعان، ضعيف، وأخرجه الطيالسي: 2692، وابن سعد في: الطبقات: جـ 28/1، وأحمد في مسنده: 2270 دار الفكر، وابن أبي عاصم في: السنة 204، وفي كتاب: الأوائل 4، وابن جرير في تاريخه: جـ 146/1، من طرق عن حماد بن سلمة به.

ولكن الحديث له شاهد من حديث أبي هريرة سيأتي عند المصنف برقم: 19 يرتقي به إلى درجة الصحيح.
আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী পৃথিবী সৃষ্টি শুরু করলেন। তিনি দুই দিনে সাতটি পৃথিবী সৃষ্টি করলেন: রবিবার ও সোমবার। আর এতে রিযিক বা খাদ্যের ব্যবস্থা করলেন দুই দিনে: মঙ্গলবার ও বুধবার। অতঃপর তিনি আসমানের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং দুই দিনে আকাশসমূহ সৃষ্টি করলেন। জুমাবার বা শুক্রবারের শেষ প্রহরে তিনি এই সৃষ্টি সম্পন্ন করলেন। আর এটিই সেই সময় যখন তিনি আদম (আলাইহিস সালাম)-কে দ্রুততার সাথে সৃষ্টি করেছিলেন, এবং এই সময়েই কিয়ামত সংঘটিত হবে। আল্লাহ তাআলা যত জীব সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে মানুষ ও শয়তান ব্যতীত প্রতিটি প্রাণীই জুমাবার বা শুক্রবারের ভয়ে ভীত থাকে।

৩. ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মা’মার হাম্মাম থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত। যখন তিনি তাঁকে সৃষ্টি করলেন, তখন বললেন: যাও এবং ওই দলটিকে সালাম দাও। সেখানে ফেরেশতাদের একটি দল বসা ছিল। তারা তোমার অভিবাদনের কী উত্তর দেয় তা মনোযোগ দিয়ে শোনো। কেননা সেটিই হবে তোমার এবং তোমার বংশধরদের অভিবাদন। অতঃপর তিনি গিয়ে বললেন: আস-সালামু আলাইকুম (আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। তারা উত্তরে বললেন: আস-সালামু আলাইকা ওয়া রহমতুল্লাহ (আপনার ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)। তারা ‘ওয়া রহমতুল্লাহ’ অংশটি বাড়িয়ে বললেন।"

৪. হুদবাহ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে...

-----------------------------------

৩- ইমাম বুখারি (৬২২৭) ও ইমাম মুসলিম (২৮৩১) এবং অন্যান্যগণ এটি বর্ণনা করেছেন। তাদের বর্ণনায় আরও বর্ধিত অংশ রয়েছে: "জান্নাতে প্রবেশকারী প্রত্যেকেই আদমের আকৃতিতে প্রবেশ করবে।" মুসলিম আরও উল্লেখ করেছেন: "তার উচ্চতা ছিল ষাট হাত। এরপর থেকে সৃষ্টির উচ্চতা বর্তমান পর্যন্ত ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে।"

৪- এর বর্ণনাকারী সূত্রে আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জুদআন রয়েছেন, যিনি দুর্বল (যঈফ)। এটি তায়ালিসি (২৬৯২), ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত' (১/২৮), আহমদ তাঁর 'মুসনাদ' (২২৭০ - দারুল ফিকর), ইবনে আবি আসিম তাঁর 'আস-সুন্নাহ' (২০৪) ও 'আল-আওয়াইল' (৪) এবং ইবনে জারির তাঁর ইতিহাসে (১/১৪৬) হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর সূত্রে বিভিন্ন মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তবে হাদিসটির সপক্ষে আবু হুরায়রার অন্য একটি বর্ণনা রয়েছে যা অত্র গ্রন্থকারের ১৯ নম্বর হাদিসে আসবে এবং এর মাধ্যমে হাদিসটি বিশুদ্ধ (সহিহ) স্তরে উন্নীত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
زَيْدٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَغَيْرِ وَاحِدٍ، عَنِ الْحَسَنِ1، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ آيَةُ الدَّيْنِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ أَوَّلَ مَنْ جَحَدَ آدَمُ عليه الصلاة والسلام، وَإِنَّ اللَّهَ عز وجل لَمَّا خَلَقَهُ مَسَحَ ظَهْرَهُ، وَأَخْرَجَ مِنْهُ مَا هُوَ ذَرَارِيُّ، فَجَعَلَ يَعْرِضُهُمْ عَلَيْهِ، فَرَأَى فِيهِمْ رَجُلًا أَزْهَرَ، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ، أَيُّ شَيْءٍ هَذَا؟، قَالَ: ابْنُكَ دَاوُدُ، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ: كَمْ عُمُرُهُ؟ قَالَ: سِتُّونَ سَنَةً، قَالَ: أَيْ رَبِّ زِدْهُ، قَالَ: لَا، إِلَّا أَنْ تزيده أَنْتَ مَنْ عُمُرِكَ، قَالَ: وَكَانَ عُمُرُهُ أَلْفَ سَنَةٍ، فَوَهَبَ لَهُ مِنْ عُمُرِهِ أَرْبَعِينَ سَنَةً، فَكَتَبَ عَلَيْهِ كِتَابًا وَأَشْهَدَ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةَ، فَلَمَّا احْتُضِرَ آدَمُ أَتَتْهُ الْمَلَائِكَةُ؛ لِيَقْبِضُوهُ، فَقَالَ: إِنَّهُ قَدْ بَقِيَ مِنْ عُمُرِي أَرْبَعُونَ سَنَةً، قَالُوا: قَدْ وَهَبْتَهَا لِابْنِكَ دَاوُدَ، قَالَ: مَا فَعَلْتُ. فَأَظْهَرَ اللَّهُ عز وجل الْكِتَابَ، وَشَهِدَتِ الْمَلَائِكَةُ، وَأُكْمِلَ لِآدَمَ أَلْفُ عَامٍ، وَأُكْمِلَ لِدَاوُدَ مِائَةُ سنة".

-----------------------------------

1 هكذا بالأصل، وليست في مصادر التخريج.
যায়েদ থেকে বর্ণিত, তিনি ইউসুফ ইবনে মিহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস ও আরও অনেকের সূত্রে এবং হাসান (১) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: যখন ঋণের আয়াত (আয়াতুদ দাইন) নাযিল হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম যিনি অস্বীকার করেছিলেন তিনি হলেন আদম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)। আর আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী যখন তাঁকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর পিঠে স্পর্শ করলেন এবং সেখান থেকে তাঁর বংশধরদের বের করলেন। এরপর তিনি তাদের তাঁর সামনে পেশ করতে লাগলেন। তখন তিনি তাদের মধ্যে একজন উজ্জ্বল ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন এবং বললেন: হে আমার রব, এই ব্যক্তি কে? আল্লাহ বললেন: এটি তোমার সন্তান দাউদ। তখন তিনি বললেন: হে আমার রব, তাঁর আয়ু কত? আল্লাহ বললেন: ষাট বছর। তিনি বললেন: হে আমার রব, তাঁর আয়ু বৃদ্ধি করে দিন। আল্লাহ বললেন: না, তবে তুমি চাইলে তোমার নিজের আয়ু থেকে তাকে বৃদ্ধি করে দিতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন: আর আদমের আয়ু ছিল এক হাজার বছর। তখন তিনি তাঁর আয়ু থেকে দাউদকে চল্লিশ বছর দান করলেন। অতঃপর আল্লাহ এ বিষয়ে একটি দলিল লিখে নিলেন এবং ফেরেশতাদের সাক্ষী রাখলেন। যখন আদমের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তখন ফেরেশতারা তাঁর জান কবজ করার জন্য এলেন। তখন তিনি বললেন: আমার বয়সের তো এখনও চল্লিশ বছর বাকি আছে। ফেরেশতারা বললেন: আপনি তো তা আপনার সন্তান দাউদকে দান করেছিলেন। তিনি বললেন: আমি তা করিনি। তখন আল্লাহ তাআলা সেই লিখিত দলিলটি প্রকাশ করলেন এবং ফেরেশতারা সাক্ষ্য দিলেন। ফলে আদমের জন্য এক হাজার বছর পূর্ণ করা হলো এবং দাউদের জন্য একশ বছর পূর্ণ করা হলো।"

-----------------------------------

1. মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে হাদীস যাচাইয়ের (তাখরীজ) উৎসসমূহে এটি পাওয়া যায়নি।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
5 حَدَّثَنَا خَالِدُ1 بْنُ يَحْيَى الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ هُوَ ابْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: يَا أَبَا عَبَّاسٍ السَّاعَةُ الَّتِي تُذْكَرُ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ؟ قَالَ: اللَّهُ أَعْلَمُ، خَلَقَ اللَّهُ عز وجل آدَمَ مِنْ أَدِيمِ الْأَرْضِ بَعْدَ الْعَصْرِ فِي آخِرِ سَاعَاتِ النَّهَارِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ، مِنْ أَدِيمِ الْأَرْضِ كُلِّهَا مِنْ أَسْوَدِهَا وَأَحْمَرِهَا وَطَيِّبِهَا وَخَبِيثِهَا؛ فَلِذَلِكَ مِنْ وَلَدِهِ الْأَحْمَرُ وَالْأَسْوَدُ وَالطَّيِّبُ وَالْخَبِيثُ، ثُمَّ نَفَخَ فِيهِ مِنْ رُوحِهِ، وَأَسْجَدَ لَهُ مَلَائِكَتَهُ، وَعَهِدَ إِلَيْهِ عَهْدًا فَنَسِيَ؛ فَلِذَلِكَ سُمِّيَ الْإِنْسَانُ، وَاللَّهِ مَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ حَتَّى أُخرج مِنْهَا، وَقَالَ مَرَّةً: وَاللَّهِ مَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ حتى أُخرِجَ من الجنة.

-----------------------------------

5- إن كان شيخ الفرياني هو زكريا بن يحيى البلخي، ووهم الناسخ في كتابته، فالإسناد صحيح، وأخرجه ابن منده في: التوحيد 76.

وأخرجه من طريق عطاء عن ابن عباس ابن منده في: التوحيد 75، والبيهقي في: الأسماء والصفات برقم 817، وإسناده صحيح، وكذلك الأصبهاني في الحجة في بيان المحجة برقم 213.

ولبعض أجزائه شاهد مرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم من حديث أبي موسى الأشعري، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إن الله خلق آدم من قبضة قبضها من جميع الأرض، فجاء بنو آدم على قدر الأرض، جاء منهم الأحمر والأبيض والأسود، وبين ذلك، والسهل والحزن، وبين ذلك والخبيث والطيب وبين ذلك".

أخرجه ابن سعد في: الطبقات، بسند صحيح، كما قال الشيخ ناصر الدين الألباني في: الصحيحة: 1630.

1 هكذا بالأصل، ولم أتبين من هو، إلا أن يكون زكريا بن يحيى البلخي.
৫. খালিদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-বালখি ১ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান—যিনি ইবনে উয়াইনাহ—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবরাহিম ইবনে নাফি থেকে, তিনি কায়স ইবনে সাদ থেকে, আর তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (সাঈদ) বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু আব্বাস! জুমার দিনে যে বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ করা হয় (সেটি কোনটি)? তিনি বললেন: আল্লাহই ভালো জানেন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা (মহামহিম ও মহিমান্বিত) জুমার দিন আসরের পর দিনের শেষ মুহূর্তগুলোতে সমগ্র জমিনের উপরিভাগের মাটি থেকে আদমকে সৃষ্টি করেছেন। কালো, লাল, ভালো ও মন্দ—জমিনের সব ধরনের মাটি থেকেই তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই কারণেই তাঁর সন্তানদের মধ্যে লাল, কালো, ভালো ও মন্দ প্রকৃতির লোক রয়েছে। অতঃপর তিনি তাতে তাঁর পক্ষ থেকে রুহ (আত্মা) ফুঁকে দেন এবং তাঁর প্রতি সিজদাহ করার জন্য ফেরেশতাদের নির্দেশ দেন। আর তিনি তাঁর সাথে একটি অঙ্গীকার করেছিলেন যা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন; আর একারণেই তাঁর নাম ‘ইনসান’ (মানুষ/বিস্মৃতিপরায়ণ) রাখা হয়েছে। আল্লাহর কসম, সেদিন সূর্য ডোবার আগেই তাঁকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি অন্য এক বর্ণনায় বলেছেন: আল্লাহর কসম, সেদিন সূর্য ডোবার আগেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

-----------------------------------

৫- যদি ফরিয়ানির উস্তাদ জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-বালখি হয়ে থাকেন এবং লিপিকার তা লিখতে ভুল করে থাকেন, তবে এই সনদটি সহিহ (বিশুদ্ধ)। ইবনে মানদাহ এটি তাঁর ‘আত-তাওহিদ’ (৭৬) গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

ইবনে মানদাহ তাঁর ‘আত-তাওহিদ’ (৭৫) গ্রন্থে এবং বায়হাকি তাঁর ‘আল-আসমা ওয়াস-সিফাত’ (৮১৭ নম্বর) গ্রন্থে আতার সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহিহ। একইভাবে আসবাহানিও ‘আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ’ (২১৩ নম্বর) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

এর কিছু অংশের জন্য আবু মুসা আল-াশআরির বর্ণিত একটি মারফু (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে এমন) হাদিস সাক্ষী হিসেবে রয়েছে। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে এক মুষ্টি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যা তিনি সমগ্র জমিন থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। ফলে আদম সন্তানরা মাটির প্রকৃতি অনুযায়ী জন্ম নিল। তাদের মধ্যে কেউ লাল, কেউ সাদা, কেউ কালো, আর কেউ এসবের মাঝামাঝি রঙের হলো; কেউ নম্র, কেউ কঠোর, কেউ মন্দ আর কেউ ভালো এবং কেউ এসবের মাঝামাঝি স্বভাবের হলো।"

ইবনে সাদ একে ‘আত-তবাকাত’ গ্রন্থে সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি শাইখ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি তাঁর ‘আস-সহিহাহ’ (১৬৩০) গ্রন্থে বলেছেন।

১ মূলে এভাবেই আছে, তবে তিনি কে তা আমি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত হতে পারিনি, তবে হতে পারে তিনি জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-বালখি।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
6 حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي كَرِيمَةَ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ خَصِيْف1، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ تَعَالَى آدَمَ، فَجَرَى فِيهِ الرُّوحُ عَطَسَ، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَقَالَ لَهُ رَبُّهُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ.

7 حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ: لما خلق الله تعالى آدم ونفح فِيهِ الرُّوحَ عَطَسَ، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَقَالَتِ الْمَلَائِكَةُ: رَحِمَكَ رَبُّكَ، فَذَهَبَ يَنْهَضُ قَبْلَ أَنْ تَمُورَ الرُّوحُ فِي رِجْلَيْهِ، فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {خُلِقَ الإِنسَانُ مِنْ عَجَلٍ} 2.

8 حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ نَحْوَهُ.

9 حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنِ ابْنِ جريج

-----------------------------------

6- صح مرفوعاً من حديث أبي هريرة، كما عند ابن حبان وغيره برقم 6167-الإحسان، وراجع النص رقم1.

1 هكذا بالأصل، ولعله حصين عن عكرمة.

7- إسناده صحيح، وراجع تخريج النص السابق.

2 سورة الأنبياء: الآية37.

8- إسناده صحيح.

9- عبيد بن عمير هو ابن قتادة الليثي، أبو عاصم المكي، ولد على عهد النبي صلى الله عليه وسلم، قاله مسلم، وعده غيره من كبار التابعين، وكان قاص أهل مكة، مجمع على ثقته، مات قبل ابن عمر، انظر: التقريب.
৬ ইসমাইল বিন আবি কারিমা আল-হাররানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন সালামাহ খাসিফ১ হতে, তিনি ইকরিমা হতে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন মহান আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন এবং তার মধ্যে রূহ (আত্মা) প্রবাহিত হলো, তখন তিনি হাঁচি দিলেন এবং বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য (আল-হামদুলিল্লাহ)। তখন তার প্রতিপালক তাকে বললেন: আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন (ইয়ারহামুকাল্লাহ)।

৭ ওয়াহাব বিন বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ হুসাইন হতে, তিনি ইকরিমা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন মহান আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন এবং তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দিলেন, তখন তিনি হাঁচি দিলেন এবং বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তখন ফেরেশতারা বললেন: তোমার প্রতিপালক তোমার ওপর রহম করুন। অতঃপর তার দুই পায়ে রূহ সঞ্চারিত হওয়ার আগেই তিনি উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেন। তখন মহান আল্লাহ বললেন: "মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ত্বরপ্রবণতা (তাড়াহুড়ো) দিয়ে" ২।

৮ উসমান বিন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর হুসাইন হতে, তিনি ইকরিমা হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৯ আমর বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম ইবনে জুরাইজ হতে...

-----------------------------------

৬- আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে মারফু (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত) হিসেবে এটি সহীহ, যেমনটি ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যদের নিকট রয়েছে (আল-ইহসান: ৬১৬৭), এবং ১ নম্বর পাঠটি দেখুন।

১ মূলে এভাবেই আছে, সম্ভবত এটি ইকরিমা হতে বর্ণিত 'হুসাইন' হবে।

৭- এর সানাদ (বর্ণনাসূত্র) সহীহ, এবং পূর্ববর্তী পাঠের তাখরীজ (উৎস বিশ্লেষণ) দেখুন।

২ সূরা আল-আম্বিয়া: আয়াত ৩৭।

৮- এর সানাদ সহীহ।

৯- উবাইদ বিন উমাইর হলেন ইবনে কাতাদাহ আল-লায়সী, আবু আসিম আল-মাক্কী। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে জন্মগ্রহণ করেন, ইমাম মুসলিম এ কথা বলেছেন। অন্যরা তাকে প্রবীণ তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি মক্কাবাসীদের ওয়াজকারী (নসীহতকারী) ছিলেন। তার নির্ভরযোগ্যতার (সিকাহ হওয়ার) ব্যাপারে সকলে একমত। তিনি ইবনে উমরের পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আত-তাকরীব।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
قَالَ: أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمَّا خَلَقَ آدَمَ عَطَسَ، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، فَقَالَ اللَّهُ عز وجل: رَحِمَكَ رَبُّكَ.

10 حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ أَنَّهُ سَمِعَ، عَبْدَ اللَّهِ، أَوْ سَلْمَانَ -قَالَ: وَلَا أُرَاهُ إِلَّا سَلْمَانَ- قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَمَّا خَمَّرَ طِينَةَ آدَمَ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً أَوْ أَرْبَعِينَ يَوْمًا، ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدَيْهِ فِيهِ، فَخَرَجَ كُلُّ طَيِّبٍ فِي يَمِينِهِ، وَكُلُّ خَبِيثٍ فِي يَدِهِ الْأُخْرَى، ثُمَّ خَلَطَ بَيْنَهُمَا، قَالَ: فَمِنْ ثَمَّ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ، وَالْمَيَّتَ مِنَ الْحَيِّ، أَوْ كَمَا قَالَ.

11 حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ فَذَكَرَ مِثْلَهُ.

12 حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَ سليمان بن أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ أَوِ ابْنِ مَسْعُودٍ فذكر مثله.

-----------------------------------

10- أخرجه ابن سعد في الطبقات: جـ 27/1، من طريق سلمان أن ابن مسعود قال: فذكره، والدرامي في الرد على بشر المريسي: صـ36 بالشك، وابن جرير في التاريخ: جـ 89/1، عن سلمان الفارسي من دون شك، وأبو الشيخ في كتاب العظمة: 1021 بالشك كذلك، والبيهقي في الأسماء والصفات: 716 بالشك أيضاً.

11- انظر النص السابق.

12- انظر نص 10.
তিনি বলেন: আমর ইবনে দিনার আমাকে অবহিত করেছেন, উবাইদ ইবনে উমাইর থেকে বর্ণিত: আল্লাহ তাআলা যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি হাঁচি দিলেন। এরপর তিনি বললেন: আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। তখন মহান আল্লাহ বললেন: তোমার প্রতিপালক তোমাকে রহমত (দয়া) দান করুন।

১০. ওবায়দুল্লাহ ইবনে মুয়ায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুতামির ইবনে সুলায়মান আমাদের নিকট তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আবু উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে তিনি আবদুল্লাহ বা সালমান—বর্ণনাকারী বলেন: আমার মনে হয় তিনি সালমানই ছিলেন—থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন: মহান আল্লাহ যখন আদমের মাটিকে চল্লিশ রাত বা চল্লিশ দিন পর্যন্ত গেঁজিয়ে (খামির করে) রাখলেন, অতঃপর তিনি তাতে তাঁর দুই হাত প্রসারিত করলেন (বা স্পর্শ করলেন), তখন তাঁর ডান হাতে সকল পবিত্র বস্তু বের হয়ে এল এবং অন্য হাতে সকল অপবিত্র বস্তু বের হয়ে এল। অতঃপর তিনি সেগুলোর মধ্যে মিশ্রণ ঘটালেন। বর্ণনাকারী বলেন: আর সেখান থেকেই তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন, অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন।

১১. মুহাম্মদ ইবনে আবদিল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুতামির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি অনুরুপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

১২. আহমদ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবনে আবু উসমান আমাদের অবহিত করেছেন, সালমান অথবা ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

-----------------------------------

১০- ইবনে সাদ এটি 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে (১/২৭) সালমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে ইবনে মাসউদ বলেছেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন; এবং আদ-দারিমী 'আর-রাদ্দ আলা বিশর আল-মারীসি' (পৃ. ৩৬) গ্রন্থে সন্দেহের সাথে এটি বর্ণনা করেছেন; এবং ইবনে জারির 'আত-তারিখ' (১/৮৯) গ্রন্থে সালমান আল-ফারিসির সূত্রে কোনো সন্দেহ ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন; এবং আবুশ শাইখ 'কিতাবুল আজমা' (১০২১) গ্রন্থে একইভাবে সন্দেহের সাথে বর্ণনা করেছেন; এবং আল-বায়হাকী 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত' (৭১৬) গ্রন্থেও সন্দেহের সাথে বর্ণনা করেছেন।

১১- পূর্ববর্তী পাঠটি দেখুন।

১২- অনুচ্ছেদ ১০ এর পাঠ দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
13 حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ الْمِصِّيصِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ1 الْفَزَارِيُّ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل خَمَّرَ طِينَةَ آدَمَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً فَذَكَرَ الْحَدِيثَ، وَقَالَ فِيهِ عَنْ سَلْمَانَ وَحْدَهُ.

14 حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ أَبُو مُحَمَّدٍ الثَّقَفِيُّ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مسلم، حدثنا الأوزاعي، حدثني يحيي بن

-----------------------------------

13- في إسناده شيخ المصنف عبد الملك بن حبيب، مقبول، وانظر النصوص السابقة.

1 في الأصل: إسحاق الفزاري، ولعل الصواب ما أثبت، ثم وجدت الآجري في الشريعة ساق الأثر: صـ 190، من طريق الفريابي وفيه أبو إسحاق الفزاري، والحمد لله.

14- رجاله ثقات، إلا شيخ المصنف فهو صدوق، فقد ترجم له ابن أبي حاتم: جـ 103/6، وقال عمر بن حفص بن شليلة الدمشقي، روى عن الوليد بن مسلم، روى عنه أبي وأبو زرعة، سئل أبي عنه، فقال: دمشقي صدوق، والحديث فيه يحيى بن أبي كثير يدلس، وقد عنعن.

وأخرجه من حديث أبي هريرة الترمذي: 3609، وقال: حسن صحيح غريب من حديث أبي هريرة لا نعرفه إلا من هذا الوجه، والحاكم في: المستدرك: جـ 609/2، وأبو نعيم في: دلائل النبوة برقم 8، وفي أخبار أصبهان: جـ 2/ 226، والبيهقي في: دلائل النبوة: جـ 130/2، والخطيب في: تاريخ بغداد: جـ 70/3، من طرق عن الوليد بن مسلم به.

وله شاهد يصح الحديث به، فانظر تخريج الحديث التالي.
১৩. আবু মারওয়ান আবদুল মালিক ইবন হাবিব আল-মিসসিসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আল-ফাজারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলায়মান আত-তায়মি থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদি থেকে, তিনি সালমান আল-ফারিসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ (আজ্জা ওয়া জাল্লা) আদমের মাটিকে চল্লিশ দিন অথবা চল্লিশ রাত পর্যন্ত খামির (গাজন) করে রেখেছেন।" এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং তাতে কেবল সালমানের বর্ণনার কথা বলেছেন।

১৪. উমর ইবন হাফস আবু মুহাম্মদ আস-সাকাফি আদ-দিমাশকি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ালিদ ইবন মুসলিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওজাই আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবন...

-----------------------------------

১৩- এর সনদে গ্রন্থকারের উস্তাদ আবদুল মালিক ইবন হাবিব রয়েছেন, যিনি গ্রহণযোগ্য (মাকবুল); পূর্ববর্তী পাঠগুলো দেখুন।

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ইসহাক আল-ফাজারি, তবে সম্ভবত যা আমরা সাব্যস্ত করেছি সেটিই সঠিক। এরপর আমি আল-আজররি-এর 'আশ-শরিয়াহ' গ্রন্থে বর্ণনাটি পেয়েছি (পৃষ্ঠা ১৯০), যা আল-ফিরইয়াবির সূত্র দিয়ে বর্ণিত এবং তাতে আবু ইসহাক আল-ফাজারি রয়েছে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

১৪- এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তবে গ্রন্থকারের উস্তাদ ব্যতীত, যিনি সত্যবাদী (সদুক)। ইবন আবি হাতিম তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন (৬/১০৩) এবং বলেছেন: উমর ইবন হাফস ইবন শুলাইলা আদ-দিমাশকি, তিনি ওয়ালিদ ইবন মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর থেকে আমার পিতা ও আবু জুরআ বর্ণনা করেছেন। আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: 'দিমাশকি, সত্যবাদী (সদুক)'। তবে হাদিসটিতে ইয়াহইয়া ইবন আবি কাসির রয়েছেন যিনি তাদলীস (বর্ণনাসূত্র গোপন) করেন, এবং তিনি এখানে 'আন' (সূত্র পরম্পরা সরাসরি উল্লেখ না করে) শব্দে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিজি এটি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন (৩৬০৯) এবং বলেছেন: এটি আবু হুরায়রার হাদিস হিসেবে হাসান সহীহ গরিব, এই সূত্র ছাড়া এটি আমরা জানি না। এছাড়া হাকেম 'আল-মুস্তাদরাক' (২/৬০৯), আবু নুআইম 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' (নম্বর ৮) ও 'আখবারু আসবাহান' (২/২২৬), বায়হাকি 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' (২/১৩০) এবং আল-খতিব 'তারিখু বাগদাদ' (৩/৭০)-এ ওয়ালিদ ইবন মুসলিমের বিভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

এর একটি সমর্থক বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে যার মাধ্যমে হাদিসটি সহীহ সাব্যস্ত হয়; পরবর্তী হাদিসের তথ্যসূত্র (তাখরিজ) দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَتَى وَجَبَتْ لَكَ النُّبُوَّةُ؟ قَالَ: "فِيمَا بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ، وَنَفْخِ الرُّوحِ فِيهِ".

15 حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ: قَالَ أَعْرَابِيٌّ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَتَى كُنْتَ نَبِيًّا؟ قَالَ لَهُ النَّاسُ: مَهْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "دَعُوهُ، كُنْتُ نَبِيًّا وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ".

-----------------------------------

15- سيأتي موصولاً عند المصنف برقم 17، وهذا الأعرابي جاء في بعض الطرق أنه ميسرة الفجر، وفي بعضها ابن أبي الجدعاء، كما سيأتي في التخريج، ولذلك قال ابن الأثير في أسد الغابة: قال ابن الفرضي: اسم ميسرة الفجر عبد الله بن أبي الجدعاء، وميسرة لقب له، ويشبه أن يكون كذلك، فإن عبد الله بن شقيق يروى عنهما: "متى كنت نبياً؟ ".

وأشار إلي هذا ابن حجر في الإصابة: جـ 470/3، فقال: قيل إنه عبد الله بن أبي الجدعاء الماضي في العبادلة، وميسرة لقب.

والحديث أخرجه ابن سعد في: الطبقات: جـ 148/1، 59/7، 60/7، وأحمد في: المسند: 20619، والبخاري في: التاريخ الكبير: جـ 374/1/4، وابن أبي عاصم في: السنة: 410، 411، وعبد الله بن الإمام أحمد في: السنة: 864، والحاكم في: المستدرك: جـ 608/2، وأبو نعيم في: الحلية: جـ 53/9، وابن الأثير في: أسد الغابة: جـ 285/5، من طرق عن عبد الله بن شقيق، وفي بعضها التصريح بأنه عبد الله بن أبي الجدعاء، وفي بعضها ميسرة الفجر وفي بعضها عن رجل، ولا ضير من هذا الاختلاف كما سبق.
আবু কাসীর হতে, তিনি আবু সালামাহ হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, "কখন আপনার জন্য নবুয়ত অবধারিত হয়েছে?" তিনি বললেন, "আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সৃষ্টি এবং তাঁর মধ্যে রুহ ফুঁকে দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে।"

১৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ ইবনে যুরায় আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ আল-হায্যা হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কখন থেকে নবী ছিলেন?" উপস্থিত লোকেরা তাকে বলল, "থামো!" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "তাকে বলতে দাও। আমি তখনই নবী ছিলাম যখন আদম (আলাইহিস সালাম) রুহ ও শরীরের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন।"

-----------------------------------

১৫- এটি গ্রন্থকারের নিকট ১৭ নম্বর হাদীসে নিরবচ্ছিন্নভাবে (মুত্তাসিল) আসবে। এই গ্রাম্য ব্যক্তির ব্যাপারে কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে তিনি মাইসারা আল-ফাজর, আবার কোনোটিতে ইবনে আবিল জাদআ; যেমনটি সামনে উৎস বর্ণনায় (তাখরীজ) আসবে। এই কারণেই ইবনুল আসীর ‘উসদুল গাবাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: ইবনুল ফারযী বলেছেন, মাইসারা আল-ফাজরের নাম আবদুল্লাহ ইবনে আবিল জাদআ, আর মাইসারা হলো তাঁর উপাধি। বিষয়টি সম্ভবত তেমনই, কেননা আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক উভয়ের সূত্রেই বর্ণনা করেছেন: "আপনি কখন থেকে নবী ছিলেন?"

হাফেজ ইবনে হাজার ‘আল-ইসাবাহ’ গ্রন্থে (৩/৪৭০) এই দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবিল জাদআ, যার উল্লেখ ইবাদিলাহ্ (আবদুল্লাহ নামীয় ব্যক্তিবর্গ) অধ্যায়ে অতিবাহিত হয়েছে এবং মাইসারা হলো তাঁর উপাধি।

হাদীসটি সংকলন করেছেন: ইবনে সাদ ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে (১/১৪৮, ৭/৫৯, ৬০), আহমাদ ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে (২০৬১৯), বুখারী ‘তারীখুল কবীর’ গ্রন্থে (১/৪/৩৭৪), ইবনে আবি আসিম ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে (৪১০, ৪১১), ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহ ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে (৮৬৪), হাকেম ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে (২/৬০৮), আবু নুআইম ‘হিলইয়াহ’ গ্রন্থে (৯/৫৩) এবং ইবনুল আসীর ‘উসদুল গাবাহ’ গ্রন্থে (৫/২৮৫)। তারা আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে বিভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। কোনো কোনো সূত্রে স্পষ্টভাবে তাঁকে আবদুল্লাহ ইবনে আবিল জাদআ বলা হয়েছে, কোনোটিতে মাইসারা আল-ফাজর এবং কোনোটিতে জনৈক ব্যক্তি হিসেবে। এই মতভেদে কোনো অসুবিধা নেই যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
16 حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَتَى كُنْتَ نَبِيًّا؟ قَالَ: "وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ".

17 حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ بُدَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ مَيْسَرَةَ الْفَجْرِ رضي الله عنه، قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى كُنْتَ نَبِيًّا؟ قَالَ: "وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ".

18 حدثنا أبو مروان

-----------------------------------

16- انظر النص التالي.

17- انظر نص 15 لتخريج الحديث.

18- في إسناده الحسن بن يحيى الخشني، صدوق كثير الغلط، وباقي رجاله موثقون، واسم أبي عبد الله مولى بني أمية، ناصح، ثقة.

وأخرجه من هذا الوجه الحكيم الترمذي في: نوادر الأصول، في: الأصل السادس بعد المائتين، فقال: حدثنا الفضل بن محمد، حدثنا هشام بن خالد الدمشقي، وساقه، كما في: إتحاف السادة المتقين: جـ 454/1.

كما أخرجه ابن أبي حاتم، فقال: حدثنا أبي، حدثنا هشام بن خالد، وساقه، وهذا عند ابن كثير في تفسيره: جـ 362/4، ط المنار، والآجري في: الشريعة: صـ167 من طريق المصنف، وأخرجه ابن عساكر في: تاريخ دمشق، فقال: وأخبرنا أبو العز أحمد بن عبد الله، أخبرنا محمد بن أحمد بن حسنون، أخبرنا أبو الحسن الدارقطني، حدثنا القاضي أبو طاهر محمد بن أحمد بن نصر، حدثنا جعفر بن محمد الفريابي، وساقه، وهذا في: إتحاف السادة المتقين: جـ 454/1.

وقد رواه عن أبي صالح أيضاً سمي مولى أبي بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، أخرجه ابن عدي في الكامل: جـ 269/6، والدارقطني في الغرائب، كما في إتحاف السادة المتقين: جـ 454/1، وفي إسناد محمد بن وهب، ضعيف كما في التقريب.

ولبعضه شاهد من حديث ابن عباس، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن أول شيء خلقه الله القلم وأمره فكتب كل شيء"، أخرجه أبو يعلى: 2329، وغيره بإسناد صحيح.
১৬. আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবাহ, তিনি বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে, তিনি বুদাইল ইবনে মাইসারাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কখন থেকে নবী ছিলেন? তিনি বললেন: "যখন আদম রুহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন।"

১৭. আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম, তিনি বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে, তিনি মানসুর ইবনে সাদ থেকে, তিনি বুদাইল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে, তিনি মাইসারাহ আল-ফজর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কখন থেকে নবী ছিলেন? তিনি বললেন: "যখন আদম রুহ ও দেহের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন।"

১৮. আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মারওয়ান...

-----------------------------------

১৬- পরবর্তী পাঠটি দেখুন।

১৭- হাদিসটির উৎস বর্ণনার (তাখরিজ) জন্য ১৫ নম্বর পাঠটি দেখুন।

১৮- এর বর্ণনা সূত্রে আল-হাসান ইবনে ইয়াহইয়া আল-খুশানি রয়েছেন, যিনি সত্যবাদী কিন্তু বর্ণনায় প্রচুর ভুল করেন (সাদুক কাসীরুল গালাত), এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। বনু উমাইয়ার মুক্তদাস আবু আবদুল্লাহর নাম হলো নাসিহ, যিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত (সিকাহ)।

আল-হাকিম আত-তিরমিজি এই একই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন 'নাওয়াদিরুল উসুল' গ্রন্থের ২০৬ তম মূলনীতির অধীনে; সেখানে তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফজল ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে খালিদ আদ-দিমাশকি থেকে... এবং তিনি হাদিসটি সেভাবে বর্ণনা করেছেন যেমনটি 'ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন' এর ১ম খণ্ড ৪৫৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

অনুরূপভাবে ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে খালিদ থেকে... এবং এটি ইবনে কাসিরের তাফসিরে (৪/৩৬২, আল-মানার সংস্করণ) এবং আল-আজুররির 'আশ-শরীয়াহ' গ্রন্থে (১৬৭ পৃষ্ঠা) অত্র গ্রন্থকারের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আসাকির এটি 'তারিখে দিমাশক' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ইযয আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাসনুন থেকে, তিনি আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি থেকে, তিনি বিচারক আবু তাহির মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে নাসর থেকে, তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি থেকে... এবং এটি 'ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন' এর ১ম খণ্ড ৪৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত হয়েছে।

এটি আবু সালেহ থেকেও সুমাইয়ি (আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-হারিস ইবনে হিশামের মুক্তদাস) বর্ণনা করেছেন; যা ইবনে আদি তার 'আল-কামিল' গ্রন্থে (৬/২৬৯) এবং দারা কুতনি তার 'আল-গারায়েব' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি 'ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন' (১/৪৫৪) এ বর্ণিত। এর সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে ওয়াহাব রয়েছেন, যিনি দুর্বল (যয়ীফ), যেমনটি 'আত-তাক্বরীব' গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে।

এর একাংশের জন্য ইবনে আব্বাসের হাদিসে একটি সমর্থনকারী বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম, অতঃপর তিনি একে আদেশ দিলেন এবং এটি সবকিছু লিখে ফেলল।" এটি আবু ইয়ালা (২৩২৯) এবং অন্যান্যরা সহিহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৪০)
هِشَامُ1 بْنُ خَالِدٍ الْأَزْرَقُ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى الْخُشَنِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مَوْلَى بَنِي أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: "أول شيء خلقه الله عز وجل القلم، ثُمَّ خَلَقَ النُّونَ، وَهِيَ الدَّوَاةُ، ثُمَّ قَالَ لَهُ: اكْتُبْ، قَالَ: وَمَا أَكْتُبُ، قَالَ: اكْتُبْ مَا يَكُونُ، وَمَا هُوَ كَائِنٌ مِنْ عَمَلٍ، أَوْ أَثَرٍ، أَوْ رِزْقٍ، أَوْ أَجَلٍ، فَكَتَبَ مَا يَكُونُ، وَمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ عز وجل: {ن وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ} 2، ثُمَّ خُتِمَ عَلَى فيِّ الْقَلَمِ فَلَمْ يَنْطِقْ، وَلَا يَنْطِقُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ خَلَقَ الْعَقْلَ، فَقَالَ: وَعِزَّتِي لَأُكْمِلَنَّكَ فِيمِنْ أَحْبَبْتُ، وَلَأُنْقِصَنَّكَ فِيمِنْ أَبْغَضْتُ".

19 حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شيبة، حدثنا الفضل بن دكين،

-----------------------------------

1 من هنا تبدأ نسخة الأصل، وينتهي السقط الذي وقع فيها بسبب الورقة التي سقطت من التصوير.

2 سورة القلم: الآية1.

19- أخرجه من هذا الوجه ابن سعد في الطبقات: جـ 27/1، والترمذي 3076، وقال: حسن صحيح، وأبو يعلى: 6654، والحاكم: جـ325/2، وقال: صحيح على شرط مسلم، ووافقه الذهبي.

والحديث روي عن أبي هريرة رضي الله عنه من غير طريق أبي صالح فقد رواه عطاء بن يسار عند ابن وهب في القدر: 8، وسعيد المقبري وحفص بن عاصم، وهذان عند ابن أبي عاصم في السنة: 205، 206، وقد اختلف فيه على هشام بن سعد، فانظر التعليق على النص الآتي.
হিশাম বিন খালিদ আল-আযরাক আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-খুশানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বনী উমাইয়া গোত্রের মুক্তদাস আবু আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। এরপর তিনি 'নূন' সৃষ্টি করলেন, আর তা হলো দোয়াত। তারপর তিনি তাকে বললেন: 'লেখো।' সে বলল: 'আমি কী লিখব?' তিনি বললেন: 'যা হয়েছে এবং যা হবে—তা আমল হোক, কর্মফল (আসার) হোক, রিযিক হোক অথবা হায়াত হোক—সবকিছু লেখো।' তখন কলম কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে এবং যা কিছু হবে তা লিখে ফেলল। আর এটাই মহান আল্লাহর বাণী: {নূন, শপথ কলমের এবং তারা যা লিখে তার}। এরপর কলমের মুখ সীল করে দেওয়া হলো, ফলে সে আর কথা বলেনি এবং কিয়ামত পর্যন্ত আর কথা বলবে না। এরপর তিনি বুদ্ধি (আকল) সৃষ্টি করলেন এবং বললেন: 'আমার ইজ্জতের শপথ! আমি যাকে ভালোবাসি তার মধ্যে তোমাকে পূর্ণতা দান করব এবং যাকে আমি অপছন্দ করি তার মধ্যে তোমাকে অপূর্ণ রাখব'।"

১৯. আবু বকর বিন আবি শায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফাদল বিন দুকাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,

-----------------------------------

১. এখান থেকে মূল পাণ্ডুলিপি শুরু হয়েছে, এবং এর আগের অংশটি যা ছবি থেকে পাতা পড়ে যাওয়ার কারণে বাদ পড়েছিল তা এখানে সমাপ্ত হলো।

২. সূরা আল-কালাম: আয়াত ১।

১৯- ইবনে সাদ তাঁর আত-তাবাকাত গ্রন্থে (২৭/১), তিরমিযি (হাদিস নং ৩০৭৬) এটি এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাসান সহীহ। এছাড়া আবু ইয়ালা (৬৬৫৪) এবং হাকেম (৩২৫/২) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, আর ইমাম যাহাবীও তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

হাদিসটি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে আবু সালিহ ছাড়াও অন্য সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যেমন আতা বিন ইয়াসার থেকে ইবনে ওয়াহাব 'আল-কদর' গ্রন্থে (৮), সাঈদ আল-মাকবুরি এবং হাফস বিন আসিম থেকে ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে (২০৫, ২০৬) এটি বর্ণনা করেছেন। হিশাম বিন সা’দ-এর বর্ণনায় এই সূত্রে মতভেদ রয়েছে, যা পরবর্তী পাঠের টীকায় দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৪১)
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ تَعَالَى آدَمَ عليه الصلاة والسلام مَسَحَ ظَهْرَهَ، فَسَقَطَ مِنْ ظَهْرِهِ كُلُّ نَسَمَةٍ هُوَ خَالِقُهَا مِنْ ذُرِّيَّتِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَجَعَلَ بَيْنَ عَيْنَيْ كُلِّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ وَبِيصًا مِنْ نُورٍ ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى آدَمَ، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ، مَنْ هَؤُلَاءِ؟ ، قَالَ: هَؤُلَاءِ ذُرِّيَّتُكَ، قَالَ: فَرَأَى رَجُلًا يُقَالَ لَهُ دَاوُدُ، فَقَالَ: أَيْ رَبِّ، كَمْ جَعَلْتَ عُمُرَهُ؟، قَالَ: سِتِّينَ سَنَةً، قَالَ: أَيْ رَبِّ فَزِدْهُ مِنْ عُمُرِي أَرْبَعِينَ سَنَةً، قَالَ فَلَمَّا انْقَضَى عُمُرُ آدَمَ جَاءَهُ مَلَكُ الْمَوْتِ، فَقَالَ: أَوَلَمْ يَبْقَ مِنْ عُمُرِي أَرْبَعُونَ سنة، قال: أو لم تُعْطِهَا ابْنَكَ دَاوُدَ، قَالَ فَجَحَدَ، فَجَحَدَتْ ذُرِّيَّتُهُ، وَنَسِيَ، فَنَسِيَتْ ذُرِّيَّتُهُ وَخَطِئَ، فَخَطِئَتْ ذُرِّيَّتُهُ".

20 حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ، حَدَّثَنَا أَصْبَغُ بْنُ الْفَرَجِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بن سعد عن زيد بن أسلم، عن عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قال: "لما

-----------------------------------

20- انظر التخريج السابق، وقد سئل أبو زرعة عن هذا الاختلاف على هشام بن سعد، فقال: حديث أبي نعيم أصح، وهم ابن وهب في حديثه، العلل: جـ 87/2.
হিশাম ইবনে সাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি জায়দ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা যখন আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি তাঁর পিঠে হাত স্পর্শ করলেন, যার ফলে কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পিঠ থেকে সেই সকল প্রাণ (নাসামাহ) ঝরে পড়ল যাদের তিনি তাঁর বংশধর হিসেবে সৃষ্টি করবেন। এরপর তিনি তাদের প্রত্যেক মানুষের দুই চোখের মাঝে নূরের একটি উজ্জ্বল আভা (ওয়াবিস) স্থাপন করলেন। অতঃপর তাদের আদমের সামনে পেশ করলেন। আদম (আলাইহিস সালাম) বললেন: হে আমার প্রতিপালক, এরা কারা? আল্লাহ বললেন: এরা তোমার বংশধর। তখন তিনি এক ব্যক্তিকে দেখে বললেন: হে প্রতিপালক, আপনি এর আয়ু কত নির্ধারণ করেছেন? আল্লাহ বললেন: ষাট বছর। আদম বললেন: হে প্রতিপালক, তবে আমার আয়ু থেকে তাকে চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দিন। অতঃপর যখন আদমের আয়ু শেষ হয়ে এল, তখন তাঁর কাছে মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) আসলেন। আদম (আলাইহিস সালাম) বললেন: আমার আয়ুর কি আরও চল্লিশ বছর বাকি নেই? তিনি বললেন: আপনি কি তা আপনার পুত্র দাউদকে দান করেননি? আদম (আলাইহিস সালাম) তা অস্বীকার করলেন, ফলে তাঁর বংশধররাও অস্বীকার করতে লাগল; তিনি ভুলে গেলেন, ফলে তাঁর বংশধররাও ভুলে গেল এবং তিনি ভুল করলেন, তাই তাঁর বংশধররাও ভুল করতে লাগল।"

২০. আহমাদ ইবনুল ফুরাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসবাগ ইবনুল ফারাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে সাদ যায়দ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন...

-----------------------------------

২০- পূর্ববর্তী উৎস নির্দেশ (তাখরীজ) দেখুন। হিশাম ইবনে সাদের বর্ণনার এই বৈচিত্র্য সম্পর্কে আবু যুরআ-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন: আবু নুআইমের বর্ণিত হাদীসটি অধিকতর বিশুদ্ধ; ইবনে ওয়াহাব তাঁর বর্ণনায় ভুল করেছেন। আল-ইলাল: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৭।
(খণ্ড: ১) আল-কাদরু লিল-ফারইয়াবী (পৃষ্ঠা: ৪২)
خَلَقَ اللَّهُ عز وجل آدَمَ، مَسَحَ ظَهْرَهَ، فَسَقَطَ مِنْ ظَهْرِهِ كُلُّ نَسَمَةٍ تَكُونُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، فَعَرَضَهُمْ عَلَى آدَمَ، فَرَأَى فِي وَجْهِ كُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ وَبِيصًا مِنْ نُورٍ، فَرَأَى رَجُلًا مِنْهُمْ لَهُ وَبِيصٌ أَعْجَبَهُ، فَقَالَ: مَنْ هَذَا يَا رَبِّ؟، قَالَ: هَذَا مِنْ وَلَدِكَ، اسْمُهُ دَاوُدُ، قَالَ: كَمْ عُمُرُهُ يَا رَبِّ، قَالَ: سِتُّونَ سَنَةً، قَالَ: زِدْهُ مِنْ عُمُرِي أَرْبَعِينَ سَنَةً، قَالَ: إِذَنْ يُكْتَبُ، وَيُخْتَمُ، وَلَا يُبَدَّلُ، قَالَ: فَلَمَّا نَفِدَ عُمُرُ آدَمَ إِلَّا الْأَرْبَعِينَ الَّتِي وَهَبَهَا لِدَاوُدَ، أَتَاهُ مَلَكُ الْمَوْتِ، فَقَالَ آدَمُ: إِنَّهُ قَدْ بَقِيَ مِنْ عُمُرِي أَرْبَعُونَ سَنَةً، فَقَالَ: أَلَمْ تُعْطِهَا ابْنَكَ دَاوُدَ، قَالَ: فَجَحَدَ آدَمُ، فَجَحَدَتْ ذُرِّيَّتُهُ، وَنَسِيَ، فَنَسِيَتْ ذُرِّيَّتُهُ، وَخَطِئَ، فَخَطِئَتْ ذُرِّيَّتُهُ، فَرَأَى فِيهِمُ الْقَوِيَّ وَالضَّعِيفَ وَالْغَنِيَّ وَالْفَقِيرَ وَالصَّحِيحَ وَالْمُبْتَلَى، قَالَ: يَا رَبِّ، أَلَا سَوَّيْتَ بَيْنَهُمْ، قَالَ: أَرَدْتُ أَنْ أُشْكَرَ".

21 حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَمَّنْ أَخْبَرَهُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه: إِنَّ اللَّهَ عز وجل خَلَقَ الْخَلْقَ، فَجَعَلَهُمْ نِصْفَيْنِ، فَقَالَ لِهَؤُلَاءِ: ادْخُلُوا الْجَنَّةَ هَنِيئًا، وقال لهؤلاء: ادخلوا النار ولا أبالي.

-----------------------------------

21- إسناده ضعيف، لجهالة الراوي عن عبد الله بن شداد، وأخرجه الآَجُرِّي في: الشريعة من طريق المصنف: صـ 186، وأخرجه عبد الرزاق 20094، والدارمي في: الرد على بشر المريسي: صـ 36، واللالكائي 1204، والبيهقي في: القضاء والقدر، مخطوط، ق20 من وجه آخر عن أبي بكر رضي الله عنه من رواية عبد الرحمن بن سابط عنه، وعبد الرحمن لم يسمع من كثير من الصحابة، كما في ترجمته من: التهذيب، ومعناه صحيح، فانظر نص 36.
মহান আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করলেন, অতঃপর তাঁর পৃষ্ঠদেশ স্পর্শ করলেন। ফলে কিয়ামত পর্যন্ত যত প্রাণ সৃষ্টি হওয়ার ছিল, তারা সবাই তাঁর পিঠ থেকে বেরিয়ে এল। এরপর তিনি তাদের আদমের সামনে পেশ করলেন। আদম তাদের প্রত্যেকের চেহারায় নূরের দ্যুতি দেখতে পেলেন। তাদের মধ্যে একজনকে দেখে তাঁর খুব পছন্দ হলো, যার মধ্যে বিশেষ উজ্জ্বলতা ছিল। তিনি বললেন: "হে আমার রব! এ কে?" আল্লাহ বললেন: "এ তোমার বংশধরদের একজন, তার নাম দাউদ।" আদম বললেন: "হে আমার রব! তার আয়ু কত?" আল্লাহ বললেন: "ষাট বছর।" আদম বললেন: "আমার আয়ু থেকে তাকে চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দিন।" আল্লাহ বললেন: "তবে তাই লিখে রাখা হলো এবং মোহর মেরে দেওয়া হলো, যা আর পরিবর্তন করা হবে না।" বর্ণনাকারী বলেন: যখন আদমের আয়ু শেষ হয়ে এল—কেবল সেই চল্লিশ বছর ব্যতীত যা তিনি দাউদকে দান করেছিলেন—তখন তাঁর কাছে মৃত্যুর ফেরেশতা এলেন। আদম বললেন: "আমার আয়ু তো এখনো চল্লিশ বছর বাকি আছে।" ফেরেশতা বললেন: "আপনি কি তা আপনার সন্তান দাউদকে দিয়ে দেননি?" বর্ণনাকারী বলেন: আদম (আলাইহিস সালাম) তখন অস্বীকার করেছিলেন, ফলে তাঁর বংশধররাও অস্বীকার করে; তিনি ভুলে গিয়েছিলেন, ফলে তাঁর বংশধররাও ভুলে যায়; এবং তিনি ভুল করেছিলেন, তাই তাঁর বংশধররাও ভুল করে। আদম তাদের মধ্যে শক্তিশালী, দুর্বল, ধনী, দরিদ্র, সুস্থ এবং বিপদগ্রস্ত—সব ধরনের মানুষ দেখতে পেলেন। তিনি বললেন: "হে আমার রব! আপনি কেন তাদের সবাইকে সমান করলেন না?" আল্লাহ বললেন: "আমি চেয়েছি যেন আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।"

২১. কুতাইবা ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি জনৈক তথ্যদাতার সূত্রে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: মহিমান্বিত আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করে তাদের দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। এরপর একদলকে উদ্দেশ্য করে বললেন: "তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে জান্নাতে প্রবেশ করো।" আর অন্য দলকে উদ্দেশ্য করে বললেন: "তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ করো, এতে আমি পরোয়া করি না।"

-----------------------------------

২১. এর বর্ণনাসূত্র দুর্বল, কারণ আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ থেকে বর্ণনাকারী রাবী অজ্ঞাত (জাহালাত)। আল-আজুরি তার 'আশ-শারিয়াহ' গ্রন্থে গ্রন্থকারের সূত্রে (পৃষ্ঠা ১৮৬) এটি উদ্ধৃত করেছেন। এছাড়া আবদুর রাজ্জাক (২০০৯৪), আদ-দারিমি 'আর-রাদ্দু আলা বিশরিল মারিসি' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩৬), আল-লালকাই (১২০৪), এবং আল-বায়হাকি 'আল-কাদা ওয়াল কাদার' (পাণ্ডুলিপি, ২০তম পৃষ্ঠা) গ্রন্থে আবদুর রহমান ইবনে সাবিত-এর সূত্রে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ভিন্নভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে আবদুর রহমান অনেক সাহাবীর কাছ থেকে সরাসরি কোনো বর্ণনা শোনেননি, যা 'আত-তাহজীব' গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য এর অর্থ সঠিক, দেখুন অনুচ্ছেদ ৩৬।