(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: -)
المنتخب من ذيل المذيل القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المنتخب من ذيل المذيل
المؤلف: محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي، أبو جعفر الطبري (ت 310هـ)
الناشر: مؤسسة الأعلمي للمطبوعات، بيروت - لبنان
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুনতাখাব মিন যাইলেিল মুযাইয়্যাল বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: মুনতাখাব মিন যাইলেিল মুযাইয়্যাল
লেখক: মুহাম্মাদ বিন জারীর বিন ইয়াযীদ বিন কাসীর বিন গালিব আল-আমুলী، আবু জাফর আত-তাবারী (ওফাত ৩১০ হিজরী)
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল আ'লামী লিল মাতবুয়াত، বৈরুত - লেবানন
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ১)
المنتخب من كتاب ذيل المذيل من تاريخ الصحابة والتابعيه
تصنيف أبى جعفر محمد بن جرير الطبري
(1358 هـ - 1939 م)
منشورات مؤسسة الأعلمي للمطبوعات، بيروت - لبنان، ص. ب. 7120
সাহাবী ও তাবিঈগণের ইতিহাস বিষয়ক ‘যাইলুল মুযাইয়্যাল’ গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত সংকলন
আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী কর্তৃক সংকলিত
(১৩৫৮ হিজরি - ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ)
আল-আলামী প্রকাশনা সংস্থা, বৈরুত - লেবানন, পি.ও. বক্স: ৭১২০
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيمقال أبو جعفر محمد بن جرير بن يزيد الطبري في كتاب ذيل المذيل من تأريخ الصحابة والتابعين:
(وأما) من النساء اللواتى متن قبل هجرة رسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة فزوجة رسول الله صلى الله عليه وسلم خديجة بنت خويلد بن أسد بن عبد العزى ابن قصى وكانت تكنى أم هند رضى الله عنها وهند ابن لها من أبى هالة بن النباش بن زرارة زوج كان لها قبل النبي صلى الله عليه وسلم كنيت به وتوفيت قبل الهجرة بثلاث سنين وهى يومئذ ابنة خمس وستين سنة كذاك حدثنى الحارث عن ابن سعد عن محمد بن عمر عن محمد بن صالح وعبد الرحمن بن عبد العزيز * وكانت وفاتها في شهر رمضان من هذه السنة ودفنت بالحجون رحمها الله (قال وممن مات في سنة 8 من الهجرة)
في أولها زينب بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت أسن بنات رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان سبب وفاتها أنها لما أخرجت من مكة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أدركها هباربن الاسود ورجل آخر فدفعها أحدهما فيما قيل فسقطت على صخرة فأسقطت فاهراقت الدم فلم يزل بها وجعها حتى ماتت منه * قال وممن قتل منهم جعفر بن أبى طالب بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف قتل بمؤتة شهيدا * حدثنا ابن حميد قال حدثنا سلمة وأبو تميلة عن ابن إسحاق عن يحيى بن عباد عن أبيه قال حدثنى أبى الذى أرضعني وكان أحد بنى مرة بن عوف وكان في تلك الغزوة غزوة مؤتة قال والله لكأنى أنظر إلى جعفر عليه السلام حين اقتحم عن فرس له شقراء فعقرها فقاتل القوم حتى قتل وكان جعفر عليه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির বিন ইয়াজিদ আত-তবারি সাহাবী ও তাবিঈদের ইতিহাসের পরিশিষ্ট 'জাইলুল মুজায়্যাল' কিতাবে বলেছেন:
(আর) মক্কায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের পূর্বে ইন্তেকালকারী নারীদের মধ্যে রয়েছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ বিন আসাদ বিন আব্দুল উজ্জা বিন কুসাই। তাঁর উপনাম ছিল উম্মে হিন্দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা); আর হিন্দ ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগে তাঁর স্বামী আবু হালাহ বিনুন নাব্বাশ বিন যুরারাহর ঔরসজাত তাঁর এক পুত্র, যার নামানুসারে তাঁর এই উপনাম রাখা হয়েছিল। তিনি হিজরতের তিন বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেন এবং সে সময় তাঁর বয়স ছিল পঁয়ষট্টি বছর। আল-হারিস আমাকে ইবনে সাদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন উমর থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সালিহ ও আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। * উক্ত বছরের রমজান মাসে তাঁর মৃত্যু ঘটে এবং তাঁকে হাজুন নামক স্থানে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। (তিনি বলেন, আর যারা হিজরি ৮ম সনে ইন্তেকাল করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন)
উক্ত বছরের শুরুর দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা যয়নব। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল এই যে, যখন তাঁকে মক্কা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভিমুখে বের করা হয়, তখন হিব্বার বিন আল-আসওয়াদ এবং অন্য এক ব্যক্তি তাঁর নাগাল পায়। বর্ণনা অনুযায়ী তাদের একজন তাঁকে ধাক্কা দেয়, ফলে তিনি একটি পাথরের ওপর পড়ে যান এবং তাঁর গর্ভপাত ঘটে ও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এরপর থেকে তিনি আমৃত্যু সেই ব্যথায় আক্রান্ত ছিলেন এবং তাতেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। * তিনি বলেন, তাদের মধ্যে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন জাফর বিন আবি তালিব বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আব্দু মানাফ, যিনি মুতাহ যুদ্ধে শহীদ হন। * ইবনে হুমাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে সালামাহ ও আবু তামীলা আমাদের কাছে ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি (পিতা) বলেন: আমার সেই পিতা যিনি আমাকে প্রতিপালন করেছেন এবং তিনি বনু মুররাহ বিন আউফ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি সেই মুতাহ যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন, তিনি আমাকে বলেছেন: আল্লাহর কসম! আমি যেন জাফরের (আলাইহিস সালাম) দিকে তাকিয়ে আছি যখন তিনি তাঁর একটি লালচে বর্ণের ঘোড়া থেকে অবতরণ করলেন এবং সেটির পা কেটে দিলেন, অতঃপর শত্রুসেনাদের সাথে যুদ্ধ করলেন যতক্ষণ না তিনি নিহত হলেন। আর জাফর ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ৩)
السلام أول رجل من المسلمين فيما قيل عقر في الاسلام * قال محمد بن عمر حدثنى عبد الله بن محمد بن عمر بن على بن أبيه قال ضربه يعنى جعفرا رجل من الروم فقطعه بنصفين فوقع أحد نصفيه في كرم فوجد في نصفه ثلاثون أو بضعة وثلاثون جرحا * وكان إسلام جعفر عليه السلام قبل أن يدخل رسول الله صلى الله عليه وسلم دار الأرقم ويدعو فيها وهاجر إلى أرض الحبشة الهجرة الثانية ومعه امرأته أسماء بنت عميس فلم يزل بأرض الحبشة حتى هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المدينة ثم قدم عليه من أرض الحبشة وهو بخيبر سنة 7 وقتل سنة 8 من الهجرة في جمادى الاولى منها وهو أحد أمراء رسول الله صلى الله عليه وسلم على السرية التى وجهها إلى الروم وكان جعفر يكنى أبا عبد الله * وزيد الحب بن حارثة بن شراحيل بن عبد العزى بن امرئ القيس بن عامر بن النعمان بن عامر بن عبدود بن عوف بن كنانة بن عوف بن عذرة بن زيد اللات ابن رفيدة بن ثور بن كلب بن وبرة بن تغلب بن حلوان بن عمران بن الحاف
ابن قضاعة واسمه عمرو بن مالك بن عمرو بن مرة بن مالك بن حمير بن سبأ يشجب بن يعرب بن قحطان ذكر أن أم زيد وهى سعدى بنت ثعلبة بن عبد عامر بن أفلت بن سلسلة من بنى معن من طئ زارت قومها وزيد معها فأغارت خيل لبنى القين بن جسر في الجاهلية فمروا على أبيات بنى معن رهط أم زيد فاحتملوا زيدا وهو يومئذ غلام يفعة قد أوصف فوافوا به سوق عكاظ فعرضوه للبيع فاشتراه منهم حكيم بن حزام بن خويلد بن أسد بن عبد العزى بن قصى لعمته خديجة بنت خويلد بأربعمائة درهم فلما تزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم وهبته له فقبضه رسول الله صلى الله عليه وسلم إليه وقد كان أبوه حارثة ابن شراحيل حين فقده قال بكيت على زيد ولم أدر ما فعل * أحى يرجى أم أتى دونه الاجل فوالله ما أدرى وإن كنت سائلا * أغالك سهل الارض أم غالك الجبل فياليت شعرى هل لك الدهر رجعة * فحسبي من الدنيا رجوعكك لى بجل
বলা হয় যে, জাফর ইসলামে প্রথম ব্যক্তি যিনি (যুদ্ধের ময়দানে) নিজ বাহনের পা কেটে পঙ্গু করেছিলেন। মুহাম্মদ ইবনে উমর বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আলী তাঁর পিতার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রোমের এক ব্যক্তি তাকে—অর্থাৎ জাফরকে—আঘাত করেছিলেন এবং তাকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে ফেলেছিলেন। তাঁর দেহের এক অংশ একটি আঙুর বাগানে পতিত হয় এবং সেই অংশে ত্রিশ বা ত্রিশের কিছু বেশি জখম পাওয়া গিয়েছিল। জাফর (আলাইহিস সালাম)-এর ইসলাম গ্রহণ ছিল আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দারুল আরকামে প্রবেশ ও সেখানে দাওয়াত প্রদানের পূর্বে। তিনি তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইসের সাথে দ্বিতীয় হিজরতে হাবাশা অভিমুখে হিজরত করেন। তিনি হাবাশায় অবস্থান করতে থাকেন যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় হিজরত করেন। এরপর তিনি ৭ম হিজরিতে হাবাশা থেকে আল্লাহর রাসূলের কাছে ফিরে আসেন যখন তিনি খায়বারে ছিলেন। তিনি হিজরি ৮ম সনের জুমাদাল উলা মাসে শাহাদাত বরণ করেন। তিনি সেই সেনাদলের অন্যতম সেনাপতি ছিলেন যাদের আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রোমানদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলেন। জাফরের উপনাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ। এবং যায়েদ—যিনি প্রিয়পাত্র হিসেবে পরিচিত—ইবনে হারিসা ইবনে শুরাহীল ইবনে আবদিল উযযা ইবনে ইমরুল কায়েস ইবনে আমির ইবনে নুমান ইবনে আমির ইবনে আবদুদ ইবনে আউফ ইবনে কিনানা ইবনে আউফ ইবনে উযরা ইবনে যায়েদ আল-লাত ইবনে রুফাইদা ইবনে সাওর ইবনে কালব ইবনে ওয়াবরা ইবনে তাগলিব ইবনে হুলওয়ান ইবনে ইমরান ইবনে হাফ
ইবনে কুযাআ—যার নাম ছিল আমর ইবনে মালিক ইবনে আমর ইবনে মুররা ইবনে মালিক ইবনে হিময়ার ইবনে সাবা ইয়াশজুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান। বর্ণিত আছে যে, যায়েদের মা সায়দা বিনতে সা’লাবা ইবনে আবদ আমির ইবনে আফলাত ইবনে সিলসিলা—যিনি তয় গোত্রের বনু মা’ন শাখার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান এবং যায়েদও তাঁর সাথে ছিলেন। জাহেলিয়াত যুগে বনু কায়েন ইবনে জাসরের অশ্বারোহী বাহিনী অতর্কিত আক্রমণ করে। তারা যায়েদের মায়ের গোত্র বনু মা’নের তাবুগুলোর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যায়েদকে তুলে নিয়ে যায়। সে সময় তিনি ছিলেন একজন কিশোর বালক যিনি যৌবনে পদার্পণ করেছিলেন। তারা তাকে উকাজ বাজারে নিয়ে আসে এবং বিক্রির জন্য উপস্থাপন করে। হাকিম ইবনে হিযাম ইবনে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই তাঁর ফুফু খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের জন্য তাকে চারশত দিরহামে ক্রয় করেন। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাদিজাকে বিবাহ করেন, তখন খাদিজা যায়েদকে তাঁকে উপহার দেন। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নিজের অভিভাবকত্বে গ্রহণ করেন। আর তাঁর পিতা হারিসা ইবনে শুরাহীল তাঁকে হারানোর পর শোকাতুর হয়ে বলেছিলেন: "আমি যায়েদের জন্য কেঁদেছি অথচ আমি জানি না তাঁর কী হয়েছে; সে কি জীবিত আছে যার প্রত্যাশা করা যায়, নাকি মৃত্যু তাকে গ্রাস করেছে? আল্লাহর কসম, আমি জানি না যদিও আমি অন্বেষণকারী—সমতল ভূমি তোমাকে কেড়ে নিয়েছে নাকি পাহাড় তোমাকে গ্রাস করেছে? হায়, যদি আমি জানতাম যামানায় কি তোমার প্রত্যাবর্তন ঘটবে? দুনিয়া থেকে তোমার ফিরে আসাই আমার জন্য যথেষ্ট হবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ৪)
تذكر نيه الشمس عند طلوعها * وتعرض ذاكراه إذا قارب الطفل وإن هبت الارواح هيجن ذكره * فيا طول ما حزنى عليه وما وجل سأعمل نص العيش في الارض جاهدا * ولا أسأم التطواف أو تسأم الابل حياتي أو تأتى على منيتى * وكل امرئ فان وإن غره الامل وأوصى به عمرا وقيسا كليهما * وأوصى يزيدا ثم من بعدهم جبل قال يريد جبلة بن حارثة أخا زيد بن حارثة وكان أكبر من زيد ويعنى بيزيد أخا زيد لامه وهو يزيد بن كعب بن شراحيل وحج ناس من كلب فرأوا زيدا فعرفهم وعرفوه فقال أبلغوا أهلى هذه الابيات فإنى أعلم أنهم قد جزعوا على وقال الكنى إلى قومي وإن كنت نائيا * بأنى قطين البيت عند المشاعر
فكفوا من الوجد الذى قد شجاعكم * ولا تعملوا في الارض نص الاباعر فإنى بحمدالله في خير أسرة * كرام معد كابرا بعد كابر فانطلق الكلبيون فأعلموا أباه فقال ابني ورب الكعبة ووصفوا له موضعه وعند من هو فخرج حارثة وكعب ابنا شراحيل بفدائه وقدما مكة فسألا عن النبي صلى الله عليه وسلم فقيل هو في المسجد فدخلا عليه فقالا يا ابن عبد الله يا ابن عبد المطلب يا ابن هاشم يا ابن سيد قومه أنتم أهل حرم الله وجيرانه وعند بيته تفكون العانى وتطعمون الاسير جئناك في ابننا عندك فامنن علينا وأحسن الينا في فدائه فإنا سنرفع لك في الفداء قال من هو قالوا زيد بن حارثة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فهلا غير ذلك قالوا ما هو قال ادعوه فأخيره فإن اختاركم فهو لكما بغير فداء وإن اختارني فوالله ما أنا بالذى أختار على من اختارني أحدا فقالا قد زدتنا على النصف وأحسنت فدعاه فقال تعرف هؤلاء قال نعم قال من هما قال هذا أبى وهذا عمى قال فأنا من قد علمت وعرفت ورأيت صحبته لك فاخترى أو اخترهما فقال زيد ما أنا بالذى أختار عليك أحدا أنت منى مكان الاب والعنم فقالا له ويحك يا زيد أتختار العبودية على الحرية وعلى أبيك وعمك وأهل بيتك قال نعم إنى قد رأيت من هذا الرجل شيئا ما أنا بالذى أختار عليه أحدا
সূর্য উদয়কালে সে তার কথা স্মরণ করে, আর সূর্য যখন অস্তমিত হতে থাকে তখন তার স্মৃতি স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে। যখনই বাতাস প্রবাহিত হয় তা তার কথা জাগিয়ে তোলে; হায়, তার জন্য আমার বিষাদ ও শঙ্কা কতই না দীর্ঘ! আমি সাধ্যমতো পৃথিবীতে পরিভ্রমণে সচেষ্ট থাকব, না আমি ক্লান্ত হব আর না উটগুলো শ্রান্ত হবে। এভাবেই আমার জীবন কাটবে অথবা মৃত্যু আমার নিকট উপস্থিত হবে; প্রতিটি মানুষই নশ্বর যদিও আশা তাকে বিভ্রান্ত করে। তিনি এ বিষয়ে আমর ও কায়স উভয়কে ওসীয়ত করেছেন, এবং ইয়াযিদকে ওসীয়ত করেছেন আর তাদের পরে জাবালকে। বর্ণনাকারী বলেন, জাবাল দ্বারা তিনি জায়েদ বিন হারিসার ভাই জাবালাহ বিন হারিসাকে বুঝিয়েছেন, যিনি জায়েদের চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। আর ইয়াযিদ বলতে তিনি জায়েদের বৈমাত্রেয় ভাই ইয়াযিদ বিন কাব বিন শুরাহিলকে বুঝিয়েছেন। কালব গোত্রের কিছু লোক হজ করতে এসে জায়েদকে দেখতে পেল। তারা তাকে চিনতে পারল এবং তিনিও তাদের চিনতে পারলেন। তখন জায়েদ বললেন: আমার পরিবারের কাছে এই কবিতাগুলো পৌঁছে দিও, কারণ আমি জানি তারা আমার জন্য অত্যন্ত মর্মাহত।
তিনি বললেন: আমার সম্প্রদায়ের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দাও যদিও আমি দূরে অবস্থান করছি, আমি পবিত্র স্থানগুলোর নিকট আল্লাহর ঘরের সান্নিধ্যে বসবাসকারী। সুতরাং তোমরা সেই শোক থেকে নিবৃত্ত হও যা তোমাদের ব্যথিত করেছে এবং আমাকে খুঁজতে পৃথিবীতে উট ছুটিয়ে আর ক্লান্ত হয়ো না। কারণ আল্লাহর প্রশংসায় আমি এক উত্তম পরিবারের মাঝে আছি, যারা বংশানুক্রমে মা'আদ বংশের সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। অতঃপর কালব গোত্রের লোকেরা ফিরে গিয়ে তার পিতাকে সংবাদ দিল। সংবাদ শুনে তিনি বললেন: কাবার রবের কসম, এ তো আমারই পুত্র! তারা তার কাছে জায়েদের অবস্থান এবং তিনি কার কাছে আছেন তা সবিস্তারে বর্ণনা করল। তখন শুরাহিলের দুই পুত্র হারিসা ও কাব মুক্তিপণ নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন এবং মক্কায় এসে পৌঁছালেন। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাঁদের জানানো হলো যে তিনি মসজিদে আছেন। তাঁরা তাঁর কাছে প্রবেশ করে বললেন: হে আবদুল্লাহর পুত্র, হে আবদুল মুত্তালিবের পুত্র, হে হাশিমের পুত্র, হে স্বীয় সম্প্রদায়ের নেতার পুত্র! আপনারা আল্লাহর পবিত্র ঘরের অধিবাসী ও তাঁর প্রতিবেশী। আপনারা বিপদগ্রস্তদের মুক্ত করেন এবং বন্দীদের অন্ন দান করেন। আমরা আপনার কাছে আমাদের সেই পুত্রের জন্য এসেছি যে আপনার কাছে রয়েছে; আপনি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন এবং তার মুক্তিপণের বিনিময়ে তাকে আমাদের হাতে সোপর্দ করার বিষয়ে সদয় হোন, আমরা আপনাকে প্রচুর মুক্তিপণ প্রদান করব। তিনি বললেন: সে কে? তাঁরা বললেন: জায়েদ বিন হারিসা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এর পরিবর্তে অন্য কোনো ব্যবস্থা কি হতে পারে না? তাঁরা বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: আমি তাকে ডাকি এবং তাকে ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) দিই; যদি সে তোমাদের বেছে নেয় তবে কোনো মুক্তিপণ ছাড়াই সে তোমাদের। আর যদি সে আমাকে বেছে নেয়, তবে আল্লাহর কসম, যে আমাকে বেছে নিয়েছে আমি তার বিনিময়ে অন্য কাউকে গ্রহণ করব না। তাঁরা বললেন: আপনি আমাদের ইনসাফের চেয়েও বেশি দিয়েছেন এবং অত্যন্ত মহানুভবতা প্রদর্শন করেছেন। অতঃপর তিনি তাকে ডাকলেন এবং বললেন: তুমি কি এদের চেনো? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এরা দুজন কে? সে বলল: ইনি আমার পিতা এবং ইনি আমার চাচা। তিনি বললেন: আর আমার অবস্থা তো তুমি জানো এবং আমার সাহচর্যও তুমি দেখেছ; সুতরাং তুমি চাইলে আমাকে বেছে নিতে পারো অথবা তাঁদের দুজনকে। তখন জায়েদ বললেন: আমি আপনার ওপর অন্য কাউকে প্রাধান্য দেওয়ার লোক নই; আপনি আমার কাছে পিতা ও চাচার স্থলাভিষিক্ত। তখন তাঁরা (পিতা ও চাচা) তাকে বললেন: ধিক তোমাকে হে জায়েদ! তুমি কি স্বাধীনতার পরিবর্তে দাসত্বকে এবং তোমার পিতা, চাচা ও পরিবারের ওপর অন্য কাউকে বেছে নিচ্ছ? সে বলল: হ্যাঁ, আমি এই ব্যক্তির মধ্যে এমন কিছু দেখেছি যার কারণে আমি তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকেই কখনো বেছে নিতে পারি না।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ৫)
أبدا فلما رأى ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم أخرجه إلى الحجر فقال يا من حضر اشهدوا أن زيدا ابني أرثه ويرثنى فلما رأى ذلك أبوه وعمه طالب أنفسهما وانصرفا فدعى زيد بن محمد حتى جاء الله عزوجل بالاسلام حدثنى بذلك كله الحارث عن ابن سعد عن هشام بن محمد عن أبيه وعن جميل بن مرثد الطائى وغيرهما وقد ذكر بعض الحديث عن أبيه عن أبى صالح عن ابن عباس وقال في إسناده عن ابن عباس فزوجه رسول الله
صلى الله عليه وسلم زينب بنت جحش بن رئاب الاسدية وأمهما أميمة بنت عبد المطلب ابن هاشم فطلقها زيد بعد ذلك فتزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم فتلكم المنافقون فيى ذلك وطعنوا فيه وقالوا محمد يحرم نساء الولد وقد تزوج امرأة ابنه زيد فأنزل الله عزوجل " ما كان محمد أبا أحد من رجالكم ولكن رسول الله وخاتم النبيين " إلى آخر الآية وقال " ادعوهم لآبائهم " فدعى يومئذ زيد بن حارثة ودعى الادعياء إلى آبائهم فدعى المقداد إلى عمرو وكان يقال له المقداد بن الاسود وكان الاسود ابن عبد يغوث قد تبناه وقتل زيد في جمادى الاولى من هذه السنة وهو ابن خمس وخمسين سنة وكان يكنى أبا سلمة فيما قيل * فقال محمد بن عمر حدثنا محمد بن الحسن ابن أسامة بن زيد عن أبيه قال كان بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين زيد عشر سنين، رسول الله صلى الله عليه وسلم أكبر منه وكان زيد رجلا قصيرا آدم شديد الادمة في أنفه فطس وكان يكنى أبا أسامة وشهد زيد بدرا وأحدا واستخلفه رسول الله صلى الله عليه وسلم على المدينة حين خرج إلى المريسيع وشهد الخندق والحديبية وخيبر وكان من الرماة المذكورين من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم * قال وثابت بن الجذع من بنى سلمة من الانصار وهو ثابت بن ثعلبة بن زيد بن الحارث بن حرام بن كعب والجذع ثعلبة بن زيد وسمى بذلك فيما قيل لشدة قلبه وصرامته ويقال أيضا ثابت بن ثعلبة الجذع وشهد ثابت العقبة مع السبعين الذين بايعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة العقبة من الانصار وشهد بدرا وأحدا والخندق والحديبية وخيبر وفتح مكة ويوم حنين والطائف وقتل يومئذ شهيدا
কখনও না। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা দেখলেন, তখন তিনি তাকে হিজরে (কাবাগৃহের হাতিমে) নিয়ে গেলেন এবং বললেন, 'হে উপস্থিতগণ! তোমরা সাক্ষী থাকো যে, যায়েদ আমার পুত্র; সে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং আমিও তার উত্তরাধিকারী হবো।' যখন তার পিতা ও চাচা তা দেখলেন, তখন তারা আশ্বস্ত হলেন এবং ফিরে গেলেন। এরপর থেকে তাকে যায়েদ ইবনে মুহাম্মাদ ডাকা হতো, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা ইসলাম নিয়ে আসলেন। আল-হারিস আমার কাছে ইবনে সা'দ থেকে, তিনি হিশাম ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং জামিল ইবনে মারছাদ আত-তাঈ ও অন্যদের থেকে এই পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তার পিতা থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন। তিনি ইবনে আব্বাসের বর্ণনাসূত্রে বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সাথে আসাদিয়া গোত্রের জয়নব বিনতে জাহাশ ইবনে রিয়াবকে বিয়ে দেন; জয়নবের মা ছিলেন উমাইমা বিনতে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম। পরবর্তীতে যায়েদ তাকে তালাক দেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বিয়ে করেন। মুনাফিকরা এ বিষয়ে কথা তুলল এবং এতে দোষারোপ করে বলতে লাগল, 'মুহাম্মাদ তো পুত্রবধূদের বিয়ে করা হারাম করেন, অথচ তিনি নিজেই নিজের পুত্র যায়েদের স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন।' তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: 'মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল ও নবীদের পরিসমাপ্তি'—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তিনি আরও বললেন: 'তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো।' সেদিন যায়েদ ইবনে হারিসাহ নামে ডাকা হলো এবং পালক পুত্রদের তাদের আসল পিতৃপরিচয়ে ডাকা শুরু হলো। মিকদাদকেও আমরের দিকে সম্বন্ধ করে (মিকদাদ ইবনে আমর) ডাকা হলো; তাকে মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ বলা হতো কারণ আসওয়াদ ইবনে আব্দ ইয়াগুস তাকে দত্তক নিয়েছিলেন। এই বছরের জুমাদাল উলা মাসে যায়েদ শহীদ হন, তখন তার বয়স ছিল পঞ্চান্ন বছর। বলা হয় যে, তার কুনিয়াত (উপনাম) ছিল আবু সালামাহ। মুহাম্মাদ ইবনে উমর বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে হাসান ইবনে উসামা ইবনে যায়েদ আমাদের কাছে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও যায়েদের বয়সের ব্যবধান ছিল দশ বছর; আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার চেয়ে বড় ছিলেন। যায়েদ ছিলেন বেটে গড়নের এবং অত্যন্ত কৃষ্ণবর্ণের, আর তার নাক ছিল চ্যাপ্টা। তার কুনিয়াত ছিল আবু উসামা। যায়েদ বদর ও ওহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আল-মুরাইসি অভিযানে যাওয়ার সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে মদিনার প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন। তিনি খন্দক, হুদাইবিয়া ও খাইবার যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের মধ্যে প্রখ্যাত তীরন্দাজদের একজন ছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, সাবিত ইবনুল জায্ আনসারদের বনু সালামাহ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি হলেন সাবিত ইবনে ছালাবা ইবনে যায়েদ ইবনে হারিস ইবনে হারাম ইবনে কাব। আর জায্ হলো ছালাবা ইবনে যায়েদ; বলা হয় যে, তার হৃদয়ের দৃঢ়তা ও কঠোরতার কারণে তাকে এই নামে ডাকা হতো। তাকে সাবিত ইবনে ছালাবা আল-জায্-ও বলা হয়। সাবিত সেই সত্তর জনের সাথে আকাবায় উপস্থিত ছিলেন যারা আকাবার রাতে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বদর, ওহুদ, খন্দক, হুদাইবিয়া, খাইবার, মক্কা বিজয়, হুনাইন ও তায়েফ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সেদিন শহীদ হন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ৬)
(قال وفى سنة 8 من الهجرة) ماتت أم كلثوم ابنة رسول الله صلى الله عليه وسلم في شعبان فصلى عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم ونزل في حرفتها فيما قيل على بن أبى طالب عليه السلام والفضل
ابن العباس وأسامة بن زيد وهى التى روى عن أم عطية أنها قالت غسلت إحدى بنات النبي صلى الله عليه وسلم * وروى عن أنس بن مالك أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لما وضعت في قبرها لا ينزل في قبرها أحد قارف أهله الليلة وقال أفيكم أحد لم يقارف أهله الليلة فقال أبو طلحة أنا يا رسول الله فقال انزل فنزل (قال وفى سنة 11 من الهجرة) توفيت فاطمة ابنة محمد صلى الله عليه وسلم لثلاث ليال خلون من شهر رمضان وهى ابنة تسع وعشرين سنه أو نحوها وقد اختلف في وقت وفاتها فروى عن أبى جعفر محمد بن على عليه السلام أنه قال توفيت فاطمة عليها السلام بعد النبي صلى الله عليه وسلم بثلاثة أشهر وأما عبد الله بن الحارث فإنه فيما روى يزيد بن أبى زياد عنه قال توفيت فاطمة ابنة رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد رسول الله بثمانية أشهر * وقال محمد بن عمر حدثنا معمر عن الزهري عن عروة عن عائشة * قال وحدثنا ابن جريج عن الزهري عن عروة أن فاطمة عليها السلام توفيت بعد النبي صلى الله عليه وسلم بستة أشهر قال ابن عمر وهو الثبت عندنا قال توفيت ليلة الثلاثاء لثلاث خلون من شهر رمضان سنة 11 وذكر عن جعفر بن محمد عليه السلام أنه قال كانت كنية فاطمة عليها السلام أم أبيها * قال وأبو العاص بن الربيع ابن عبد العزى بن عبدشمس بن عبد مناف بن قصى واسمه مقسم وأمه هالة ابنة خويلة بن أسد بن عبد العزى بن قصى وخالته خديجه ابنة خويلد زوج رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم زوجه ابنته زينب ابنة رسول الله قبل الاسلام فولدت له عليا وأمامة فتوفى عليه وهو صغير وبقيت أمامة فتزوحها على بن أبى طالب عليه السلام بعد وفاة فاطمة ابنة محمد رسول الله صلى الله
(তিনি বলেন, হিজরি অষ্টম বর্ষে) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা উম্মে কুলসুম শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জানাজা পড়ালেন এবং কথিত আছে যে, আলী ইবনে আবি তালিব আলাইহিস সালাম, ফজল ইবনুল আব্বাস এবং উসামা ইবনে যায়েদ তাঁর কবরে নেমেছিলেন।
তিনিই সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে উম্মে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন, "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক কন্যাকে গোসল করিয়েছি।" আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, যখন তাঁকে তাঁর কবরে রাখা হলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আজ রাতে যে তার স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছে, সে যেন তাঁর কবরে না নামে।" আবু তালহা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, আমি (ঘনিষ্ঠ হইনি)।" তিনি বললেন, "তুমি নামো।" অতঃপর তিনি নামলেন। (তিনি বলেন, হিজরি একাদশ বর্ষে) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা রমজান মাসের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ঊনত্রিশ বছর বা এর কাছাকাছি। তাঁর ইন্তেকালের সময় নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আলী আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, ফাতিমা আলাইহাস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের তিন মাস পর ইন্তেকাল করেন। অন্যদিকে আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে ইয়াজিদ ইবনে আবি যিয়াদ যা বর্ণনা করেছেন তা হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা আল্লাহর রাসূলের ইন্তেকালের আট মাস পর ইন্তেকাল করেন। মুহাম্মাদ ইবনে উমর বলেন, মামার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে। তিনি আরও বলেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে যে, ফাতিমা আলাইহাস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের ছয় মাস পর ইন্তেকাল করেন। ইবনে উমর বলেন, এটিই আমাদের কাছে অধিকতর নির্ভরযোগ্য। তিনি বলেন, তিনি হিজরি ১১ সনের রমজান মাসের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন। জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আলাইহিস সালাম থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বলেছেন, ফাতিমা আলাইহাস সালামের উপনাম ছিল 'উম্মু আবিহা' (তাঁর পিতার মা)। তিনি বলেন, আবুল আস ইবনুর রবি ইবনে আবদিল উযযা ইবনে আবদে শামস ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাই, যাঁর নাম মিকসাম এবং যাঁর মা হালা বিনতে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই। তাঁর খালা ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের পূর্বে তাঁর কাছে নিজের কন্যা যয়নাব বিনতে রাসূলুল্লাহকে বিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর গর্ভে আলী ও উমামাহ জন্মগ্রহণ করেন। আলী শৈশবেই ইন্তেকাল করেন এবং উমামাহ জীবিত থাকেন। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমার ইন্তেকালের পর আলী ইবনে আবি তালিব আলাইহিস সালাম তাঁকে বিয়ে করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ৭)
عليه وسلم وكان أبو العاص بن الربيع فيمن شهد بدرا مع المشركين فأسره
عبد الله بن جبير بن النعمان الانصاري فلما بعث أهل مكة في فداء أساراهم قدم في فداء أبى العاص أخوه عمرو بن ربيع.
فحدثنا ابن حميد قال حدثنا سلمة عن محمد قال حدثنين يحيى بن عباد بن عبد الله بن الزبير عن أبيه عباد عن عائشة قالت لما بعث أهل مكة في فداء أساراهم بعثت زينب بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم في فداء أبى العاص بمال وبعثت فيه بقلادة كانت خديجة أدخلتها بها على أبى العاص حين بنى عليها قالت فلما رآها رسول الله صلى الله عليه وسلم رق لها رقة شديدة وقال إن رأيتم أن تطلقوا لها أسيرها وتردوا عليها الذى لها فافعلوا فقالوا نعم يا رسول الله فأطلقوه وردوا عليها الذى لها ولم يزل أبو العاص معها على شركه حتى إذا كان قبيح الفتح فتح مكة خرج بتجارة إلى الشأم وبأموال من أموال قريش أبضعوها معه فلما فرغ من تجارته وأقبل قافلا لقيته سرية لرسول الله صلى الله عليه وسلم وقيل إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان هو الذى وجه السرية للعير التى كان فيها أبو العاص قافلة من الشأم وكانوا سبعين ومائة راكب أميرهم زيد بن حارثة وذلك في جمادى الاولى من سنة 6 من الهجرة فأخذوا في تلك العير من الاثقال وأسروا أناسا ممن كان في العير فأعجزهم أبو العاص هربا فلما قدمت السرية بما أصابوا أقبل أبو العاص من الليل حتى دخل على زينب ابنة رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى صلاة الصبح وكبر وكبر الناس معه فحدثنا ابن حميد قال حدثنا سلمة عن محمد بن إسحاق قال حدثنى يزيد بن رومان قال صرخت زينب أيها الناس إنى قد أجرت أبا العاص بن الربيع فلما سلم رسول الله صلى الله عليه وسلم من الصلاة أقبل على الناس فقال يا أيها الناس هل سمعتم ما سمعت قالوا نعم قال أما والذى نفس محمد بيده ما علمت بشئ كان حتى سمعت منه ما سمعتم إنه يجير على المسلمين أدناهم ثم انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخل على ابنته زينب فقال أي بنية أكرمي مثواه
ولا يخلصن إليك فإنك لا تحلين له (قال ابن إسحاق) وحدثني عبد الله بن أبى بكر
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আবুল আস ইবনুর রাবী মুশরিকদের সাথে বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাকে বন্দী করেছিলেন
আব্দুল্লাহ ইবনু জুবাইর ইবনু নুমান আল-আনসারী। অতঃপর যখন মক্কাবাসীরা তাদের বন্দীদের মুক্তিপণের জন্য লোক পাঠালো, তখন আবুল আসের মুক্তিপণের জন্য তার ভাই আমর ইবনু রাবী আসলেন।
ইবনু হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সালামা আমাদের নিকট মুহাম্মাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু আব্বাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবাইর তার পিতা আব্বাদের সূত্রে আমার নিকট আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, যখন মক্কাবাসীরা তাদের বন্দীদের মুক্তিপণ পাঠালো, তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা জাইনাব আবুল আসের মুক্তিপণের জন্য কিছু অর্থ পাঠালেন এবং তাতে একটি হারও পাঠিয়েছিলেন, যা খাদিজা (রা.) তাকে আবুল আসের সাথে বিয়ের সময় প্রদান করেছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন, যখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেটি দেখলেন, তখন তার মনে অত্যন্ত করুণার উদ্রেক হলো এবং তিনি বললেন, "তোমরা যদি সঙ্গত মনে করো যে তার বন্দীকে মুক্তি দেবে এবং তার সম্পদ তাকে ফিরিয়ে দেবে, তবে তাই করো।" তারা বললেন, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল।" অতঃপর তারা তাকে মুক্তি দিলেন এবং তার সম্পদ তাকে ফিরিয়ে দিলেন। আবুল আস তার (জাইনাবের) সাথে তার শিরকের ওপরই বহাল থাকলেন, এমনকি মক্কা বিজয়ের কিছুকাল পূর্বে তিনি কুরাইশদের কিছু মালামাল নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় বের হলেন, যা তারা তার নিকট বিনিয়োগ হিসেবে অর্পণ করেছিল। যখন তিনি তার ব্যবসা শেষ করে কাফেলাসহ ফিরছিলেন, তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি সেনাদলের (সারিইয়াহ) সাথে তার সাক্ষাৎ হলো। বলা হয়ে থাকে যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই সিরিয়া থেকে প্রত্যাগত সেই কাফেলার দিকে সেনাদল পাঠিয়েছিলেন যাতে আবুল আস ফিরছিলেন। তারা ছিল একশত সত্তর জন আরোহী এবং তাদের আমীর ছিলেন যাইদ ইবনু হারিসাহ। এটি ছিল হিজরি ষষ্ঠ সনের জমাদিউল উলা মাসের ঘটনা। তারা সেই কাফেলা থেকে মালামাল হস্তগত করলেন এবং কাফেলার কিছু লোককে বন্দী করলেন, কিন্তু আবুল আস পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন। যখন সেনাদলটি প্রাপ্ত মালামাল নিয়ে ফিরে আসলো, তখন আবুল আস রাতের বেলা আসলেন এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা জাইনাবের নিকট প্রবেশ করলেন। সুবহে সাদিকের সালাত পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকবীর দিলেন এবং মানুষও তার সাথে তাকবীর দিল। ইবনু হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সালামা আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইবনু রুমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, জাইনাব চিৎকার করে বললেন, "হে লোকসকল! আমি আবুল আস ইবনুর রাবীকে আশ্রয় দান করলাম।" যখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের সালাম ফিরালেন, তখন তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেন, "হে লোকসকল! আমি যা শুনেছি তোমরা কি তা শুনেছ?" তারা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না যতক্ষণ না তা শুনেছি যা তোমরা শুনেছ। নিশ্চয়ই মুসলিমদের মধ্যে সাধারণ স্তরের কেউও আশ্রয় প্রদান করতে পারে।" অতঃপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে গেলেন এবং তার কন্যা জাইনাবের নিকট প্রবেশ করে বললেন, "হে প্রিয় কন্যা! তার অবস্থানকে সম্মানজনক করো
এবং সে যেন তোমার একান্ত সান্নিধ্যে না আসে, কেননা তুমি তার জন্য হালাল নও।" (ইবনু ইসহাক বলেন) এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আবু বকর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ৮)
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث إلى السرية الذين أصابوا مال أبى العاص فقال لهم إن هذا الرجل منا حيث قد علمتم وقد اصبتم له مالا فإن تحسنوا تردوا عليه الذى له فإنا تحت ذلك وإن أبيتم ذلك فهو فئ الله الذى أفاءه اليكم وأنتم أحق به قالوا يا رسول الله بل نرده عليه قال فردوا عليه ماله حتى ان الرجل ليأتي بالحبل ويأتى الرجل بالشنة والادواة حتى إن أحدهم ليأتي بالشظاظ حتى ردوا عليه ماله بأسره لا يفقد منه شيئا ثم احتمل إلى مكة فأدى إلى كل ذى مال من مال قريش ماله ممن كان أبضع معه ثم قال يا معشر قريش هل بقى لاحد منكم عندي مال لم يأخذه قالوا لا جزاك الله خيرا فقد وجدناك وفيا كريما قال فإنى أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله وما منعنى من الاسلام عنده إلا تخوف أن تظنوا أنى إنما أردت أكل أموالكم فلما أداها الله عزوجل اليكم وفرغت منها أسلمت ثم خرج حتى قدم على رسول الله صلى الله عليه وسلم (قال ابن إسحاق) فحدثني داود بن الحصين عن عكرمة مولى ابن عباس عن ابن عباس قال رد رسول الله صلى الله عليه وسلم زينب بالنكاح الاول لم يحدث شيئا بعد ست سنين ثم إن أبا العاص رجع إلى مكة بعد ما أسلم فلم يشهد مع النبي صلى الله عليه وسلم مشهدا ثم قدم المدينة بعد ذلك وتوفى في ذى الحجة سنة 12 في خلافة أبى بكر وأوصى إلى الزبير بن العوام قال وذكر هشام بن محمد أن معروف بن خربوذ المكى حدثه قال خرج أبو العاص بن الربيع في بعض أسفاره إلى الشام فذكر امرأته زينب ابنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فأنشأ يقول ذكرت زينب لما وركت إرما * فقلت سقيا لشخص يسكن الحرما بنت الامين جراها الله صالحة * وكل بعل سيثنى بالذى علما
* قال وعكرمة بن أبى جهل واسم أبى جهل عمرو بن هشام بن المغيرة بن عبد الله بن عمربن مخزوم ذكر محمد بن عمر أن أبا بكر بن عبد الله بن أبى سبرة حدثه عن موسى بن عقبة عن أبى حبيبة مولى الزبير عن عبد الله بن الزبير قال لما كان يوم فتح مكة هرب عكرمة بن أبى جهل إلى اليمن وخاف أن يقتله رسول الله صلى الله
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই সেনাদলের কাছে লোক পাঠালেন যারা আবু আল-আসের সম্পদ হস্তগত করেছিল। তিনি তাদের বললেন, "তোমরা যেমনটি জানো, এই লোক আমাদেরই একজন। তোমরা তার সম্পদ লাভ করেছ। এখন তোমরা যদি অনুগ্রহ করে তার যা কিছু আছে তা তাকে ফিরিয়ে দাও, তবে আমরা তা পছন্দ করব। আর যদি তোমরা তা দিতে অস্বীকার করো, তবে তা আল্লাহর দেওয়া সম্পদ (ফাই) যা আল্লাহ তোমাদের দান করেছেন এবং তোমরাই এর ওপর অধিক হকদার।" তারা বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! বরং আমরা তা তাকে ফিরিয়ে দেব।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তারা তার সম্পদ তাকে ফিরিয়ে দিল, এমনকি কোনো ব্যক্তি রশি নিয়ে এল, কেউ চামড়ার থলি ও পানির পাত্র নিয়ে এল, এমনকি তাদের কেউ বস্তার কাঠের খিল পর্যন্ত নিয়ে এল। এভাবে তারা তার সমগ্র সম্পদ ফিরিয়ে দিল, তার কিছুই হারাল না। অতঃপর তিনি তা নিয়ে মক্কায় পৌঁছলেন এবং কুরাইশদের মধ্যে যার যার পুঁজি তার কাছে বিনিয়োগ করা ছিল, তাদের প্রত্যেকের পাওনা বুঝিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, "হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমাদের কারো কি কোনো সম্পদ আমার কাছে বাকি আছে যা তোমরা পাওনি?" তারা বলল, "না, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমরা আপনাকে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও মহানুভব পেয়েছি।" তিনি বললেন, "তবে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহর কসম, তাঁর কাছে থাকাকালীন ইসলাম গ্রহণ করতে আমাকে কেবল এই ভয়ই বাধা দিয়েছিল যে, পাছে তোমরা ধারণা করো যে আমি তোমাদের সম্পদ আত্মসাৎ করতে চেয়েছি। এখন যখন আল্লাহ তাআলা তা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমি এ থেকে দায়মুক্ত হয়েছি, তখন আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম।" অতঃপর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দরবারে উপস্থিত হলেন। (ইবনে ইসহাক বলেন) দাউদ ইবনুল হুসাইন আমাকে ইকরিমা (ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস) থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জয়নাবকে তাঁর পূর্বের বিবাহের ভিত্তিতেই ফিরিয়ে দিলেন, ছয় বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি নতুন করে কিছু করেননি। অতঃপর আবু আল-আস ইসলাম গ্রহণের পর মক্কায় ফিরে যান এবং নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে কোনো যুদ্ধে উপস্থিত হতে পারেননি। এরপর তিনি মদীনায় চলে আসেন এবং আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে ১২ হিজরির জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন। তিনি জুবায়ের ইবনুল আওয়ামের প্রতি অসিয়ত করে গিয়েছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, হিশাম ইবনে মুহাম্মদ উল্লেখ করেছেন যে, মারুফ ইবনে খারবুজ আল-মাক্কি তাকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু আল-আস ইবনুর রবি তার এক সফরে সিরিয়ায় যাওয়ার সময় তার স্ত্রী এবং আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কন্যা জয়নাবের কথা স্মরণ করে এই পঙক্তিমালা আবৃত্তি করেন: "আমি জয়নাবকে স্মরণ করলাম যখন আমি ইরামের পাদদেশে পৌঁছলাম * আর আমি বললাম, সেই ব্যক্তির ওপর রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হোক যিনি হারামে বসবাস করেন। আল-আমিনের (বিশ্বস্ত) কন্যা, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন * আর প্রত্যেক স্বামী তার জানা গুণানুসারেই (স্ত্রীর) প্রশংসা করবে।"
*
বর্ণনাকারী বলেন, আর ইকরিমা ইবনে আবি জাহল—যার পিতা আবি জাহলের নাম ছিল আমর ইবনে হিশাম ইবনুল মুগিরা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে মাখজুম। মুহাম্মদ ইবনে উমর উল্লেখ করেছেন যে, আবু বকর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি সাবরা তাকে মুসা ইবনে উকবা থেকে, তিনি জুবায়েরের মুক্তদাস আবু হাবিবা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের দিন ইকরিমা ইবনে আবি জাহল ইয়ামেনে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ভয় পাচ্ছিলেন যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে হত্যা করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ৯)
عليه وسلم وكانت امرأته أم حكيم ابنة الحارث بن هشام أمرأة لها عقل وكانت قد اتبعت رسول الله صلى الله عليه وسلم فجاءت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت ابن عمى عكرمة قد هرب منك إلى اليمن وخاف أن تقتله فآمنه قال قد آمنته بأمان الله فمن لقيه فلا يعرض له فخرجت في طلبه فأدركته في ساحل من سواحل تهامة وقد ركب البحر فجعلت تليح إليه وتقول يا ابن عم جئتك من أوصل الناس وأبر الناس وخير الناس لا تهلك نفسلك وقد استأمنت لك منه فآمنك فقال أنت فعلت ذلك قالت نعم أنا كلمته فآمنك فرجع معها فلما دنا من مكة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لاصحابه يأتيكم عكرمة بن أبى جهل مؤمنا مهاجرا فلا تسبوا أباه فإن سب الميت يؤذى الحى ولا يبلغ الميت قال فقدم عكرمة فانتهى إلى باب رسول الله صلى الله عليه وسلم وزوجته معه فسبقته فاستأذنت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخلت فأخبر عمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقدوم عكرمة فاستبشر ووثب قائما على رجليه وما على رسول الله صلى الله عليه وسلم رداء فرحاح بعكرمة وقال أدخليه فدخل فقال يا محمد إن هذه أخبرتني أنك آمنتني فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فأنت آمن قال عكرمة فقلت أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأنك عبد الله ورسوله وقلت أنت أبر الناس وأصدق الناس وأوفى الناس أقول ذلك وإنى لمطأطئ رأسي استحياء منه ثم قلت يا رسول الله استغفر لي كل عداوة عاديتكها أو مركب أو صعت فيه أريد إظهار الشرك فقال
رسول الله صلى الله عليه وسلم اللهم اغفر لعكرمة كل عداوة عادانيها أو مركب أوضع فيه يريد أن يصد عن سبيلك قلت يا رسول الله مرنى بخير ما تعلم فأعلمه قال قل أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله وجاهد في سبيله قال عكرمة أما والله يا رسول الله لا أدع نفقة كنت أنفقها في صد عن سبيل إله إلا أنفقت ضعفها في سبيل الله عزوجل ثم اجتهد في القتال حتى قتل شهيدا يوم أجنادين في خلافة أبى بكر وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم استعمله عام حجه على هوازن يصدقها فتوفى رسول الله صلى الله عليه وسلم وعكرمة يومئذ بتبالة
তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। তাঁর স্ত্রী ছিলেন হিশাম তনয় হারিসের কন্যা উম্মে হাকিম, যিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী এক নারী এবং তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন, "হে আমার চাচাতো ভাই ইকরিমা আপনার ভয়ে পলায়ন করে ইয়ামেনে চলে গিয়েছে; সে আশঙ্কা করছে যে আপনি তাকে হত্যা করবেন। অতএব আপনি তাকে নিরাপত্তা দান করুন।" তিনি বললেন, "আমি তাকে আল্লাহর জিম্মায় নিরাপত্তা দান করলাম। যে ব্যক্তিই তার দেখা পাবে, সে যেন তাকে কোনো কষ্ট না দেয়।" অতঃপর উম্মে হাকিম তার সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন এবং তিহামার উপকূলীয় একটি অঞ্চলে তাকে দেখতে পেলেন, যেখানে সে সমুদ্র যাত্রার জন্য নৌযানে আরোহণ করেছিল। তিনি তাকে ইশারা করতে লাগলেন এবং বলতে থাকলেন, "হে আমার চাচাতো ভাই! আমি আপনার কাছে এমন এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এসেছি যিনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় শ্রেষ্ঠ, মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পুণ্যবান এবং সর্বোত্তম। আপনি নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবেন না। আমি আপনার জন্য তাঁর কাছ থেকে নিরাপত্তা চেয়ে নিয়েছি এবং তিনি আপনাকে নিরাপত্তা দিয়েছেন।" ইকরিমা বললেন, "তুমি কি সত্যিই তা করেছ?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, আমি তাঁর সাথে কথা বলেছি এবং তিনি আপনাকে অভয় দিয়েছেন।" এরপর তিনি তাঁর সাথে ফিরে এলেন। যখন তিনি মক্কার নিকটবর্তী হলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন, "তোমাদের কাছে আবু জাহলের পুত্র ইকরিমা মুমিন ও হিজরতকারী হিসেবে আসছে। সুতরাং তোমরা তার পিতাকে গালি দিও না। কেননা মৃত ব্যক্তিকে গালি দেওয়া জীবিতকে কষ্ট দেয়, অথচ তা মৃতের কাছে পৌঁছায় না।" বর্ণনাকারী বলেন, ইকরিমা যখন আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরজায় পৌঁছালেন, তখন তাঁর স্ত্রী তাঁর আগেই ভেতরে প্রবেশ করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতি চাইলেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইকরিমার আগমনের কথা অবহিত করলে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং ইকরিমার প্রতি খুশিতে চাদর পরিধান ছাড়াই দ্রুত নিজের পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি বললেন, "তাকে ভেতরে আসতে দাও।" ইকরিমা ভেতরে প্রবেশ করে বললেন, "হে মুহাম্মদ! এই নারী আমাকে জানিয়েছে যে আপনি আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছেন।" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি নিরাপদ।" ইকরিমা বলেন, তখন আমি বললাম, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আপনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।" আমি আরও বললাম, "আপনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পুণ্যবান, সর্বাধিক সত্যবাদী এবং সর্বাধিক প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী।" লজ্জায় মাথা নিচু করে আমি এই কথাগুলো বলছিলাম। এরপর আমি নিবেদন করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার বিরুদ্ধে যে সকল শত্রুতা করেছি অথবা শিরক প্রচারের উদ্দেশ্যে আপনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যে সকল অভিযানে লিপ্ত হয়েছি, তার সবকিছুর জন্য আপনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।"
তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন, "হে আল্লাহ! ইকরিমা আমার সাথে যে শত্রুতা করেছে এবং আপনার পথ থেকে মানুষকে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যে সকল অভিযানে সে লিপ্ত হয়েছে, তার সবকিছু আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন।" আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে আপনার জানা সর্বোত্তম বিষয়টি নির্দেশ করুন যা আমি শিখতে পারি।" তিনি বললেন, "তুমি বলো: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আর তুমি আল্লাহর পথে জিহাদ করো।" ইকরিমা বললেন, "আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেওয়ার জন্য আমি যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছি, মহান আল্লাহর পথে আমি তার দ্বিগুণ ব্যয় করব।" অতঃপর তিনি যুদ্ধের ময়দানে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে আজনাদাইনের যুদ্ধে শহীদ হন। উল্লেখ্য যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজের বছর তাকে হাওয়াজিন গোত্রের যাকাত আদায়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন, ইকরিমা তখন তাবালা নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ১০)
(قال وممن هلك سنة 14 من الهجرة) نوفل بن الحارث بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف وكان يكنى أبا الحارث بابنه الحارث وكان نوفل فيما قيل أسن من أسلم من بنى هاشم وكان أسن من عميه حمزة والعباس وأسن من إخوته ربيعة وأبى سفيان وعبد شمس بنى الحارث وأسر نوفل بن الحارحث ببدر * قال ابن سعد أخبرنا على بن عيسى النوفلي عن أبيه عن عمه إسحاق بن عبد الله بن الحارث عن عبد الله بن الحارث بن نوفل قال لما أسر نوفل ابن الحارث ببدر قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم افد نفسك يا نوفل قال مالى شئ أفدى به يا رسول الله قال افد نفسك برماحك التى بجدة قال أشهد أنك رسول الله وفدى نفسه بها وكانت ألف رمح وآخى رسول الله صلى الله عليه وسلم بين نوفل والعباس ابن عبد المطلب وكانا قبل ذلك شريكين في الجاهلية متفاوضين في المال متحابين وشهد نوفل مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فتح مكة وحنينا والطائف وثبت يوم حنين مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وأعان رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة حنين بثلاثة آلاف رمح فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم كأنى أنظر إلى رماحك يا أبا الحارث تقصف أصلاب المشركين وتوفى نوفل بن الحارث بعد أن استخلف
عمر بن الخطاب بسنة وثلاثة أشهر فصلى عليه عمر ثم مشى معه إلى البقيع حتى دفن هناك وأبو سفيان بن الحارث بن عبد المطلب بن هاشم كان أخا رسول الله صلى الله عليه وسلم من الرضاعة أرضعته حليمة أياما وكان يألف رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم عاداه وهجاه وهجا أصحابه فمكث عشرين سنة مناصبا لرسول الله لا يتخلف عن موضع تسير فيه قريش لقتال رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما ذكر شخوص رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى مكة عام الفتح ألقى الله عزوجل في قلبه الاسلام فتلقى رسول الله صلى الله عليه وسلم تلقيه قبل نزوله الاواء فأسلم هو وابنه جعفر وخرج مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فشهد فتح مكة وحنينا قال أبو سفيان فلما لقينا العدو بحنين اقتحمت عن فرسى وبيدي السيف صلتا والله يعلم أنى أريد الموت دونه وهو ينظر إليه
(তিনি বলেন, হিজরি ১৪ সনে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন) নাওফাল ইবনুল হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ। তার পুত্র হারিসের নামানুসারে তার উপনাম (কুনিয়াত) ছিল আবু হারিস। নাওফাল সম্পর্কে বলা হয় যে, বনু হাশিমের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাদের মধ্যে তিনি বয়সে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। তিনি তাঁর দুই চাচা হামজা ও আব্বাস অপেক্ষা এবং তাঁর ভাই রবিআ, আবু সুফিয়ান ও আব্দ শামস ইবনুল হারিসের চেয়েও বয়সে বড় ছিলেন। বদরের যুদ্ধে নাওফাল ইবনুল হারিস বন্দি হন। ইবনে সাদ বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি ইবনে ঈসা আন-নাওফালি, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর চাচা ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে নাওফাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন বদরের যুদ্ধে নাওফাল ইবনুল হারিস বন্দি হলেন, তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে নাওফাল, নিজের মুক্তিপণ দাও। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমার কাছে মুক্তিপণ দেওয়ার মতো কিছুই নেই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জেদ্দায় তোমার যে বর্শাগুলো রাখা আছে সেগুলো দিয়ে নিজের মুক্তিপণ দাও। তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসুল। অতঃপর তিনি সেই বর্শাগুলো দিয়ে নিজের মুক্তিপণ প্রদান করেন, যার সংখ্যা ছিল এক হাজার। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাওফাল এবং আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দেন। ইতিপূর্বে জাহেলিয়াত যুগেও তারা একে অপরের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন, অর্থ-সম্পদের বিষয়ে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং পরস্পরের মধ্যে গভীর ভালোবাসা ছিল। নাওফাল আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কা বিজয়, হুনাইন ও তায়েফ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। হুনাইনের দিন তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অবিচল ছিলেন। তিনি হুনাইন যুদ্ধে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিন হাজার বর্শা দিয়ে সহায়তা করেছিলেন। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, হে আবু হারিস, আমি যেন দেখতে পাচ্ছি তোমার বর্শাগুলো মুশরিকদের পিঠ চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছে। উমর ইবনুল খাত্তাব খলিফা হওয়ার এক বছর তিন মাস পর নাওফাল ইবনুল হারিস মৃত্যুবরণ করেন। উমর তার জানাজার নামাজ পড়ান এবং জানাজার সাথে পায়ে হেঁটে জান্নাতুল বাকী পর্যন্ত যান এবং সেখানে তাকে দাফন করা হয়। আর আবু সুফিয়ান ইবনুল হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ছিলেন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুধভাই; হালিমা তাকে কয়েকদিন দুধ পান করিয়েছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু যখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভ করেন, তখন তিনি তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ শুরু করেন এবং তাঁকে ও তাঁর সাহাবীদের নিন্দা করে কবিতা রচনা করেন। বিশ বছর যাবত তিনি আল্লাহর রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করেন এবং কুরাইশরা যেখানেই আল্লাহর রাসুলের সাথে যুদ্ধের জন্য গিয়েছে, তিনি সেখান থেকে পিছিয়ে থাকেননি। অতঃপর মক্কা বিজয়ের বছর যখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কা অভিমুখে যাত্রার কথা আলোচনা হলো, তখন মহান আল্লাহ তাঁর অন্তরে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিলেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-আওয়া নামক স্থানে পৌঁছানোর আগেই তিনি তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে যান। অতঃপর তিনি ও তাঁর পুত্র জাফর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর রাসুলের সাথে মক্কা বিজয় ও হুনাইন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আবু সুফিয়ান বলেন, হুনাইন যুদ্ধে যখন আমরা শত্রুর মুখোমুখি হলাম, তখন আমি ঘোড়া থেকে লাফিয়ে নামলাম এবং আমার হাতে উন্মুক্ত তলোয়ার ছিল। মহান আল্লাহ জানেন যে আমি আল্লাহর রাসুলের সামনে থেকে মৃত্যুবরণ করতে চাচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ১১)
فقال العباس يا رسول الله هذا أخوك وابن عمك أبو سفيان بن الحارث فارض عنه قال قد فعلت فغفر الله عزوجل له كل عداوة عادانيها ثم التفت إلى فقال أخى لعمري فقبلت رجله في الركاب قالوا ومات أبو سفيان بن الحارث بالمدينة بعد أخيه نوفل بن الحارث بأربعة أشهر إلا ثلاث عشرة ليلة ويقال بل مات سنة 20 وصلى عليه عمر بن الخطاب ودفن في ركن دار عقيل بن أبى طالب بالبقيع وكان هو الذى حفر قبر نفسه قبل أن يموت بثلاثة أيام (قال وممن قتل في سنة 16) سعد بن عبيد بن النعمان بن قيس بن عمرو بن زيد بن أمية بن زيد وهو الذى يقال له سعد القارئ ويكنى أبا زيد وهو أحد الستة الذين روى عن أنس بن مالك أنهم جمعوا القرآن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم شهد بدرا وأحدا والخندق والمشاهد كلها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وقتل يوم القادسية
شهيدا سنة 16 وهو ابن أربع وستين سنة وفيها كانت وفاة مارية أم إبراهيم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم فصلى عليها عمر بن الخطاب وقبرها بالبقيع (ذكر من قتل أو مات منهم في سنة 23 من الهجرة) * قال منهم عمر بن الخطاب بن نفيل بن عبد العزى بن رياح بن عبد الله بن قرط بن رزاح بن عدى بن كعب وكان يكنى أبا حفص، قال ابن سعد أخبرنا يعقوب ابن إبراهيم بن سعد عن أبيه عن صالح بن كيسان قال قال ابن شهاب بلغنا أن أهل الكتاب كانوا أول من قال لعمر الفاروق وكان المسلمون يأثرون ذلك من قولهم ولم يبلغنا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر من ذلك شيئا قال ابن عمر حدثنى أبو بكر بن إسماعيل بن محمد بن سعد عن أبيه قال طعن عمر يوم الاربعاء لاربع ليال بقين من ذى الحجه سنة 23 ودفن يوم الاحد صباح هلال المحرم سنة 24 (قال وممن توفى سنة 32 من الهجرة) الطفيل بن الحارث بن المطلب بن عبد مناف أخو عبيدة بن الحارث الذى
অতঃপর আব্বাস বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইনি আপনার ভাই এবং আপনার চাচাতো ভাই আবু সুফিয়ান বিন আল-হারিস; অতএব আপনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তিনি বললেন, আমি সন্তুষ্ট হলাম। অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমার প্রতি তার কৃত সকল শত্রুতা ক্ষমা করে দিলেন। এরপর তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমার জীবনের কসম, সে আমার ভাই। তখন আমি শিবিকার মধ্যে থাকা অবস্থায় তাঁর পা চুম্বন করলাম। তারা বলেন, আবু সুফিয়ান বিন আল-হারিস মদিনায় তাঁর ভাই নওফাল বিন আল-হারিসের মৃত্যুর চার মাস হতে তেরো রাত কম সময় পর ইন্তেকাল করেন। আবার বলা হয় যে, তিনি ২০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন এবং উমর বিন আল-খাত্তাব তাঁর জানাজার সালাত পড়ান। তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে আকিল বিন আবি তালিবের ঘরের এক কোণায় দাফন করা হয়। তিনি নিজেই তাঁর মৃত্যুর তিন দিন আগে নিজের কবর খনন করেছিলেন। (তিনি বলেন, এবং ১৬ হিজরীতে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন) সাদ বিন উবাইদ বিন আল-নুমান বিন কাইস বিন আমর বিন যায়িদ বিন উমাইয়া বিন যায়িদ। তাঁকে সাদ আল-কারি বলা হয় এবং তাঁর উপনাম ছিল আবু যায়িদ। আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত সেই ছয়জন ব্যক্তির মধ্যে তিনি একজন, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কুরআন একত্রিত করেছিলেন। তিনি বদর, উহুদ, খন্দক এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৬ হিজরীতে কাদেসিয়ার যুদ্ধে চৌষট্টি বছর বয়সে শহীদ হন।
এই বছরেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র ইবরাহিমের মা মারিয়া ইন্তেকাল করেন। উমর বিন আল-খাত্তাব তাঁর জানাজার সালাত পড়ান এবং তাঁর কবর বাকিতে অবস্থিত। (২৩ হিজরীতে তাদের মধ্য থেকে যারা নিহত হয়েছেন বা ইন্তেকাল করেছেন তাদের আলোচনা) * তিনি বলেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন উমর বিন আল-খাত্তাব বিন নুফাইল বিন আব্দুল উযযা বিন রিয়াহ বিন আব্দুল্লাহ বিন কুরত বিন রিযাহ বিন আদি বিন কাব। তাঁর উপনাম ছিল আবু হাফস। ইবনে সাদ বলেন, ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম বিন সাদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি সালিহ বিন কায়সান থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইবনে শিহাব বলেছেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আহলে কিতাবরাই সর্বপ্রথম উমরকে 'আল-ফারুক' উপাধি দিয়েছিল এবং মুসলিমরা তাদের এই উক্তিটিই বর্ণনা করতেন। আমাদের কাছে এমন কোনো সংবাদ পৌঁছেনি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেছেন। ইবনে উমর বলেন, আবু বকর বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন সাদ তাঁর পিতা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ২৩ হিজরীর জিলহজ মাসের চার দিন অবশিষ্ট থাকতে বুধবার দিন উমর আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং ২৪ হিজরীর মুহাররম মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর রবিবার সকালে তাঁকে দাফন করা হয়। (তিনি বলেন, এবং ৩২ হিজরীতে যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন) তুফাইল বিন আল-হারিস বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদে মানাফ, যিনি উবাইদাহ বিন আল-হারিসের ভাই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ১২)
بارز عتبة بن ربيعة يوم بدر وشهد الطفيل بن الحارث بدرا وأحدا والمشاهد كلها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وتوفى سنة 32 وهو ابن سبعين سنة * والحصين بن الحارث بن المطلب بن عبدمناف وهو أخو عبيدة والطفيل ابني الحارث توفى في هذه السنة بعد أخيه الطفيل بأشهر وقد شهد الحصين بدرا وأحدا والمشاهد كلها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم * والعباس بن عبد المطلب ابن هاشم بن عبد مناف عم رسول الله صلى الله عليه وسلم أمه نتيلة ابنة جناب ابن كليب بن مالك بن عمرو بن عامر بن زيد مناة بن عامر ووالضحيان بن سعد ابن الخزرج بن تيم الله بن النمر بن قاسط بن هنب بن أفصى بن دعمى بن جديلة ابن أسد بن ربيعة بن نزار بن معد بن عدنان وكان العباس يكنى أبا الفضل
وكان الفضل أكبر ولده وكان العباس فيما قيل أسن من رسول الله صلى الله عليه وسلم بثلاث سنين ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل وولد العباس رحمه الله قبل ذلك بثلاث سنين وشهد العباس مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فتح مكة وحنينا والطائف وتبوك وثبت معه يوم حنين في أهل بيته حين انكشف الناس عنه قال ابن عمر حدثنا خالد بن القاسم البياضى قال أخبرني شعبة مولى ابن عباس قال كان العباس معتدل القناة وكان يخبرنا عن عبد المطلب أنه مات وهو أعدل قناة منه وتوفى العباس يوم الجمعة لاربع عشرة ليلة خلت من رجب سنة 32 في خلافة عثمان بن عفان وهو ابن ثمان وثمانين سنة ودفن بالبقيع في مقبرة بنى هاشم وذكر أن الذى ولى غسل العباس حين مات على بن أبى طالب وعبد الله وعبيد الله وقثم بن العباس وروى عن محمد بن على أنه كان يقول مات العباس بن عبد المطلب سنة 34 وصلى عليه عثمان ودفن بالبقيع (ذكر من مات أو قتل منهم في سنة 33 من الهجرة) * قال منهم المقداد بن عمرو بن ثعلبة بن مالك بن ربيعة بن ثمامة بن مطرود ابن عمرو بن سعد بن زهير وكان بعضهم يقول ابن سعد بن دهير بن لؤى ابن ثعلبة بن مالك بن الشريد بن أهون بن فاس بن دريم بن القين بن أهود بن
বদর যুদ্ধে উতবা বিন রাবীআর সাথে তিনি দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং তুফাইল বিন আল-হারিস বদর, উহুদ এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সকল যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ৩২ হিজরীতে সত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। * এবং আল-হুসাইন বিন আল-হারিস বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদে মানাফ, যিনি উবাইদাহ ও তুফাইলের ভাই ছিলেন। তিনি এই বছর তার ভাই তুফাইলের কয়েক মাস পর মৃত্যুবরণ করেন। আল-হুসাইন বদর, উহুদ এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সকল যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। * এবং আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ, যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা। তার মাতা ছিলেন নুতাইলা বিনতে জনাব ইবনে কুলাইব ইবনে মালিক ইবনে আমর ইবনে আমির ইবনে যাইদ মানাত ইবনে আমির এবং আদ-দাহিয়ান বিন সা’দ বিন আল-খাজরাজ বিন তাইমুল্লাহ বিন আন-নামির বিন কাসিত বিন হানাব বিন আফসা বিন দু’মি বিন জাদিদাহ ইবনে আসাদ বিন রাবীআ বিন নিজার বিন মা’দ বিন আদনান। আব্বাসের কুনিয়াত ছিল আবুল ফজল।
ফজল ছিলেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র। বর্ণিত আছে যে, আব্বাস আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে তিন বছরের বড় ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেন এবং আব্বাস (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) তার তিন বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আব্বাস আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কা বিজয়, হুনাইন, তায়েফ ও তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। হুনাইনের দিন যখন লোকজন রাসূলুল্লাহর চারপাশ থেকে সরে গিয়েছিল, তখন তিনি স্বীয় পরিবারের সদস্যদের সাথে তাঁর পাশে অবিচল ছিলেন। ইবনে ওমর বলেন, আমাদের নিকট খালিদ বিন আল-কাসিম আল-বায়াদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস শু’বা আমাকে অবহিত করেছেন যে, আব্বাস ছিলেন সুঠাম ও ঋজু দেহের অধিকারী। তিনি আমাদের নিকট আব্দুল মুত্তালিব সম্পর্কে বর্ণনা করতেন যে, তিনি যখন ইন্তেকাল করেন তখন তিনি তার (আব্বাসের) চেয়েও অধিক সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। আব্বাস ৩২ হিজরীর রজব মাসের চৌদ্দ তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর শুক্রবার উসমান বিন আফফানের খিলাফতকালে ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে জান্নাতুল বাক্বীর বনু হাশিম কবরস্থানে দাফন করা হয়। উল্লেখ করা হয়েছে যে, আব্বাসের মৃত্যুর পর যারা তাকে গোসল করিয়েছিলেন তারা হলেন আলী বিন আবি তালিব, আব্দুল্লাহ, উবাইদুল্লাহ এবং কুসাম বিন আব্বাস। মুহাম্মদ বিন আলী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলতেন, আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব ৩৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, উসমান তার জানাজার নামাজ পড়ান এবং তাকে বাক্বীতে দাফন করা হয়। (হিজরি ৩৩ সনে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন বা নিহত হয়েছেন তাদের আলোচনা) * তাদের মধ্য থেকে মিকদাদ বিন আমর বিন সা’লাবা বিন মালিক বিন রাবীআ বিন সুমামা বিন মাতরূদ বিন আমর বিন সা’দ বিন যুহাইর। কেউ কেউ তাকে ইবনে সা’দ বিন দুহায়র বিন লুয়াই ইবনে সা’লাবা বিন মালিক বিন আশ-শারীদ বিন আহওয়ান বিন ফাস বিন দারিম বিন আল-কাইন বিন আহওয়াদ বিন... হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بهراء بن عمر بن الحاف بن قضاعة وكان يكنى أبا معبد وكان حالف الاسود ابن عبد يغوث الزهري في الجاهلية فتبناه فكان يقال له المقداد بن الاسود فلما نزل القرآن " ادعوهم لآبائهم " قيل له المقداد بن عمرو وهاجر المقداد إلى أرض الحبشة الهجرة الثانية في رواية ابن إسحاق وابن عمر وشهد المقداد بدرا وأحدا واخندق والمشاهد كلها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان من الرماة المذكورين من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم
قال ابن سعد أخبرنا محمد بن عمر قال حدثنا موسى بن يعقوب عن عمته عن أمها كريمة ابنة المقداد أنها وصفت أباها لهم فقالت كان رجلا طوالا آدم ذا بطن كثير شعر الرأس يصفر لحيته وهى حسنة ليست بالعظيمة ولا بالخليفة أعين مقرون الحاجبين أقنى قالت ومات المقداد بالجرف على ثلاثة أميال من المدينة فحمل على رقاب الرجال حتى دفن بالمدينة وصلى عليه عثمان بن عفان وذلك سنة 33 وكان يوم مات ابن سبعين سنة أو نحوها قال ابن سعد وأخبرنا محمد بن عبد الله الاسدي قال حدثنا عمرو بن ثابت عن أبيه عن أبى فائد أن المقداد بن الاسود شرب دهن الخروع فمات (قال وممن قتل في سنة 36 من الهجرة) * الزبير بن العوام بن خويلد بن أسد بن عبد العزى بن قصى كان قديم الاسلام قيل كان رابعا أو خامسا حين أسلم وأسلم فيما ذكر هشام بن عروة عن أبيه قال أسلم الزبير وهو ابن ست عشرة سنة ولم يتخلف عن غزوة غزاها رسول الله صلى الله عليه وسلم وقتل وهو ابن بضع وخمسين سنة قال وهاجر إلى أرض الحبشة الهجرتين معا وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم آخى بينه وبين ابن مسعود وكان فيما ذكر رجلا ليس بالطويل ولا بالقصير خفيف اللحية أسمر اللون أشعر * حدثنى الحارث قال حدثنا عبد الله بن مسلمة بن قعنب قال حدثنا سفيان بن عيينة قال اقتسم ميراث الزبير على أربعين ألف ألف وقالوا خرج الزبير يوم الجمل وذلك يوم الخميس لعشر خلون من جمادى الآخرة من هذه السنة بعد الوقعة على فرس
বাহরা বিন আমর বিন আল-হাফ বিন কুদাআহ। তাঁর উপনাম ছিল আবু মা'বাদ। জাহেলিয়াতের যুগে তিনি যুহরী গোত্রের আসওয়াদ ইবনে আবদ ইয়াগুসের সাথে চুক্তিবদ্ধ মিত্র ছিলেন এবং আসওয়াদ তাঁকে পালকপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, ফলে তাঁকে মিকদাদ বিন আল-আসওয়াদ বলা হতো। যখন কুরআনের এই আয়াত নাযিল হলো— "তোমরা তাদেরকে তাদের পিতাদের নামে ডাকো"—তখন থেকে তাঁকে মিকদাদ বিন আমর বলা হতে লাগল। ইবনে ইসহাক এবং ইবনে আমরের বর্ণনা অনুযায়ী, মিকদাদ হাবশা অভিমুখে দ্বিতীয় হিজরতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মিকদাদ বদর, উহুদ, খন্দকসহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সকল যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ তীরন্দাজ ছিলেন।
ইবনে সাদ বলেন, মুহাম্মদ বিন উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মূসা বিন ইয়াকুব তাঁর ফুফুর সূত্রে এবং তিনি তাঁর মা কারিমা বিনতে মিকদাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, কারিমা তাঁর পিতার দৈহিক বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি ছিলেন দীর্ঘকায়, শ্যামলা বর্ণের এবং তাঁর পেট ছিল কিছুটা বড়। তাঁর মাথায় প্রচুর চুল ছিল এবং তিনি তাঁর দাড়িতে হলুদ খেজাব লাগাতেন; তাঁর দাড়ি ছিল সুন্দর, যা খুব বেশি ঘনও ছিল না আবার পাতলাও ছিল না। তাঁর চোখ ছিল বড়, ভ্রু দুটি ছিল জোড়া লাগানো এবং নাক ছিল খাড়া। কারিমা বলেন, মিকদাদ মদিনা থেকে তিন মাইল দূরে জুরফ নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তাঁকে মানুষের কাঁধে বহন করে মদিনায় নিয়ে আসা হয় এবং সেখানেই দাফন করা হয়। উসমান বিন আফফান তাঁর জানাযার নামায পড়ান এবং সেটি ছিল হিজরি ৩৩ সালের ঘটনা। মৃত্যুর দিন তাঁর বয়স ছিল সত্তর বছর বা তার কাছাকাছি। ইবনে সাদ আরও বলেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমর বিন সাবিত তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু ফায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মিকদাদ বিন আল-আসওয়াদ রেড়ির তেল পান করেছিলেন এবং তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। (তিনি বলেন, ৩৬ হিজরিতে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন) যুবায়ের বিন আল-আওয়াম বিন খুওয়াইলিদ বিন আসাদ বিন আব্দুল উযযা বিন কুসাই। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন। বলা হয় যে, তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তিনি চতুর্থ বা পঞ্চম ব্যক্তি ছিলেন। হিশাম বিন উরওয়া তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, যুবায়ের ষোল বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তার কোনোটি থেকেই তিনি পিছপা হননি। যখন তিনি নিহত হন তখন তাঁর বয়স ছিল পঞ্চাশ বছরের কিছু বেশি। তিনি হাবশার উভয় হিজরতেই অংশগ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এবং ইবনে মাসউদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন। বর্ণনামতে তিনি খুব বেশি দীর্ঘকায় বা খুব বেশি খাটো ছিলেন না, তাঁর দাড়ি ছিল পাতলা, গায়ের রঙ ছিল শ্যামলা এবং শরীরে প্রচুর লোম ছিল। হারিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন মাসলামা বিন কা'নব আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের বলেছেন যে, যুবায়েরের উত্তরাধিকার চার কোটি দিরহামের মতো বণ্টিত হয়েছিল। তাঁরা বলেন যে, জামাল যুদ্ধের দিন, যা ছিল সেই বছরের ১০ই জুমাদাল আখিরাত বৃহস্পতিবার, যুদ্ধের পর তিনি একটি ঘোড়ায় চড়ে সেখান থেকে প্রস্থান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
له يقال له ذوالخمار منطلقا نحو المدينة فقتل بوادي السباع ودفن هنالك وذكر عن عروة أنه قال قتل أبى يوم الجمل وقد زاد على الستين أربع سنين * وطلحة ابن عبيد الله بن عثمان بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم بن مرة وكان يكنى أبا محمد
وأمه الصعبة ابنة عبد الله الحضرمي قتل يوم الجمل قتله مروان بن الحكم وكان له ابن يقال له محمد وهو الذى يدعى السجاد وبه كان طلحة يكنى وقتل مع أبيه طلحة يوم الجمل وكان طلحة قديم الاسلام ولم يشهد بدرا (ذكر من مات أو قتل منهم في سنة 37 من الهجرة) منهم عمار بن ياسر بن عامر بن مالك بن كنانة بن قيس بن الحصين بن الوذيم بن ثعلبة ابن عوف بن حارثة بن عامر الاكبر بن يام بن عنس وهو زيد بن مالك بن أدد بن زيد بن يشجب بن عريب بن زيد بن كهلان بن سبأ بن يشجب بن يعرب بن قحطان وبنو مالك بن أدد من مذحج ذكر أن ياسر بن عامر ربما عمار بن ياسر وأخويه الحارث ومالكا قدموا من اليمن إلى مكة في طلب أخر لهم فرجع الحارث ومالك إلى اليمن وأقام ياسر بمكة وحالف أبا حذيفة بن المغيرة بن عبد الله بن عمر ابن مخزوم وزوجه أبو حذيفة أمة له يقال لها سمية بنت خباط فولدت له عمارا فأعتقه أبو حذيفة ولم يزل ياسر وعمار مع أبى حذيفة إلى أن مات وجاء الله بالاسلام فأسلام ياسر وسمية وعمار وأخوه عبد الله بن ياسر وكان لياسر ابن أكبر من عمار وعبد الله يقال له حريث فقتلته بنو الديل في الجاهلية وخلف على سمية بعد ياسر الازرق وكان روميا غلاما للحارث بن كلدة الثقفى وهو ممن خرج يوم الطائف إلى النبي صلى الله عليه وسلم مع عبيد أهل الطائف وفيهم أبو بكرة فأعتقهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فولدت للازرق سلمة بن الازرق فهو أخو عمار لامه ثم ادعى ولد سملة أن الازرق بن عمرو بن الحارث بن أبى شمر من غسان وأنه حليف لبنى أمية وشرفوا بمكة وتزوج الازرق وولده في بنى أمية كان لهم منهم أولاد وكان عمار يكنى أبا اليقظان وهاجر عمار بن ياسر في قول جميع من ذكرت من أهل السير إلى أراض الحبشة الهجرة الثانية وذكر ابن عمر عن عبد الله ابن جعفر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم آخى بين عمار بن ياسر وحذيفة
তাঁর একটি ঘোড়া ছিল যাকে যুল-খিমার বলা হতো, যা নিয়ে তিনি মদীনার দিকে যাচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি ওয়াদিউস সিবা-তে নিহত হন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। উরওয়াহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আমার পিতা জঙ্গে জামালের দিন নিহত হন এবং তখন তাঁর বয়স ষাট বছরের ওপর আরও চার বছর (অর্থাৎ ৬৪ বছর) হয়েছিল। * আর তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররাহ; তাঁর কুনিয়াত ছিল আবু মুহাম্মদ।
তাঁর মাতা ছিলেন আস-সাবআ বিনতে আবদুল্লাহ আল-হাদরামি। তিনি জঙ্গে জামালের দিন নিহত হন, মারওয়ান ইবনুল হাকাম তাঁকে হত্যা করেন। তাঁর মুহাম্মদ নামে এক পুত্র ছিল যাকে 'আস-সাজ্জাদ' বলা হতো এবং তাঁর নামেই তালহার কুনিয়াত রাখা হয়েছিল। তিনি তাঁর পিতা তালহার সাথে জঙ্গে জামালের দিন নিহত হন। তালহা ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু বদরের যুদ্ধে উপস্থিত থাকতে পারেননি। (হিজরি ৩৭ সনে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন বা নিহত হয়েছেন তাদের বিবরণ) তাদের মধ্যে ছিলেন আম্মার ইবনে ইয়াসির ইবনে আমির ইবনে মালিক ইবনে কিনানাহ ইবনে কায়স ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আল-ওয়াযিম ইবনে সা’লাবাহ ইবনে আউফ ইবনে হারিসাহ ইবনে আমির আল-আকবার ইবনে ইয়াম ইবনে আনাস, আর তিনি হলেন যায়েদ ইবনে মালিক ইবনে আদাদ ইবনে যায়েদ ইবনে ইয়াশজুব ইবনে আরীব ইবনে যায়েদ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা ইবনে ইয়াশজুব ইবনে ইয়া’রুব ইবনে কাহতান। আর বনু মালিক ইবনে আদাদ মাযহিজ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। বর্ণিত আছে যে, ইয়াসির ইবনে আমির —সম্ভবত আম্মার ইবনে ইয়াসির এবং তাঁর দুই ভাই আল-হারিস ও মালিক— তাদের এক ভাইকে খুঁজতে ইয়েমেন থেকে মক্কায় আসেন। এরপর আল-হারিস ও মালিক ইয়েমেনে ফিরে যান, কিন্তু ইয়াসির মক্কায় অবস্থান করেন এবং আবু হুযাইফা ইবনুল মুগীরা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখযুমের সাথে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হন। আবু হুযাইফা সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত নামক তাঁর এক দাসীকে ইয়াসিরের সাথে বিয়ে দেন। তাঁর গর্ভে আম্মার জন্ম নেন এবং আবু হুযাইফা তাঁকে মুক্ত করে দেন। আবু হুযাইফার মৃত্যু পর্যন্ত ইয়াসির ও আম্মার তাঁর সাথেই ছিলেন। এরপর আল্লাহ ইসলামের বাণী নিয়ে আসলেন এবং ইয়াসির, সুমাইয়া, আম্মার ও তাঁর ভাই আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াসির ইসলাম গ্রহণ করেন। ইয়াসিরের আম্মার ও আবদুল্লাহর চেয়ে বড় এক পুত্র ছিল যাকে হুরাইস বলা হতো, জাহিলিয়াত যুগে বনু দীল তাকে হত্যা করেছিল। ইয়াসিরের ইন্তেকালের পর আল-আযরাক সুমাইয়াকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন হারিস ইবনে কালদাহ আস-সাকাফির একজন রোমান গোলাম। তিনি ওই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তায়েফের যুদ্ধের দিন তায়েফবাসীদের দাসদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট চলে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে আবু বাকরাহ-ও ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মুক্ত করে দেন। সুমাইয়ার গর্ভে আল-আযরাকের সন্তান সালামাহ ইবনে আল-আযরাক জন্ম নেন; ফলে তিনি ছিলেন আম্মারের বৈমাত্রেয় ভাই। পরবর্তীতে সালামাহর বংশধররা দাবি করে যে, আযরাক ছিলেন গাসসান গোত্রের আমর ইবনুল হারিস ইবনে আবু শিমারের বংশধর এবং তিনি বনু উমাইয়ার মিত্র ছিলেন। তারা মক্কায় মর্যাদা লাভ করেন এবং আযরাক ও তাঁর সন্তানরা বনু উমাইয়া গোত্রে বিবাহ করেন এবং সেখানে তাদের সন্তানসন্ততি ছিল। আম্মারের কুনিয়াত ছিল আবুল ইয়াকযান। সীরাত বিশেষজ্ঞদের সকলের মতেই আম্মার ইবনে ইয়াসির আবিসিনিয়ার দ্বিতীয় হিজরতে অংশগ্রহণ করেন। ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম্মার ইবনে ইয়াসির ও হুযাইফার মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ابن اليمان قال عبد الله بن جعفر إن لم يكن حذيفة شهد بدرا فان إسلامه كان قديما وقالوا جميعا شهد عمار بن ياسر بدرا وأحدا والخندق والمشاهد كلها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ابن عمر حدثنى عبد الله بن نافع عن أبيه عن ابن عمر قال رأيت عمار بن ياسر يوم اليمامة على صخرة وقد أشرف يصيح يا معشر المسلمين أمن الجنة تفرون أنا عمار بن ياسر هلم إلى وأنا أنظر إلى أذنه قد قطعت فهى تذبذب وهو يقاتل أشد القتال قال ابن عمر وحدثني عبد الله بن أبى عبيدة عن أبيه عن لؤلؤة مولاة أم الحكم بنت عمار بن ياسر قالت لما كان اليوم الذى قتل فيه عمار والراية يحملها هاشم بن عتبة وقد قتل أصحاب على عليه السلام ذلك اليوم حتى كانت العصر ثم تقرب عمار من وراء هاشم يقدمه وقد جنحت الشمس للغروب ومع عمار ضيح من لبن ينتظر وجوب الشمس أن يفطر فقال حين وجبت الشمس وشرب الضيح سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول آخر زادك من الدنيا ضيح من لبن قال ثم اقترب فقاتل حتى قتل وهو ابن أربع وتسعين سنة رحمه الله قال ابن عمر حدثنى عبد الله بن الحارث عن أبيه عن عمارة بن خزيمة ابن ثابت قال شهد خزيمة بن ثابت الجمل وهو لا يسل سيفا وشهد صفين وقال أنا لا أضل أبدا حتى يقتل عمار فأنظر من يقتله فإنى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول تقتله الفئة الباغية قال فلما قتل عمار قال خزيمة قد بادنت لى الضلالة ثم اقترب فقاتل حتى قتل وكان الذى قتل عمار بن ياسر أبو غادية المزني طعنه برمح فسقط وكان يومئذ يقاتل فيمحفة فقتل يومئذ وهو ابن أربع وتسعين فلما وقع أكب عليه رجل آخر فاحتز رأسه فأقبلا يختصمان فيه كلاهما يقول أنا قتلته فقال عمرو بن العاص والله إن يختصمان إلا في النار فسمعها منه معاوية فلما انصرف الرجلان قال معاوية لعمرو ما رأيت مثل ما صنعت قوم بذلوا أنفسهم
دوننا تقول لهما إنكما تختصمان في النار فقال عمرو وهو والله ذاك والله إنك لتعلمه ولو ددت أنى مت قبل هذا بعشرين سنة قال ابن عمر وحدثني عبد الله بن جعفر عن ابن أبى عون قال قتل عمار وهو ابن إحدى وتسعين سنة وكان أقدم
ইবনুল ইয়ামান। আবদুল্লাহ বিন জাফর বলেন, হুজাইফা যদি বদরে উপস্থিত নাও হয়ে থাকেন, তবে তার ইসলাম গ্রহণ ছিল অনেক পূর্বের। তারা সকলে বলেছেন যে, আম্মার বিন ইয়াসির বদর, উহুদ, খন্দক এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সকল যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। ইবনে উমর বলেন, আবদুল্লাহ বিন নাফে’ তার পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি (ইবনে উমর) বলেন: আমি ইয়ামামার যুদ্ধের দিন আম্মার বিন ইয়াসিরকে একটি পাথরের উপর দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে বলতে দেখেছি, "হে মুসলিম জনতা! তোমরা কি জান্নাত থেকে পালিয়ে যাচ্ছ? আমি আম্মার বিন ইয়াসির, আমার দিকে এসো।" আমি তার কানের দিকে তাকিয়ে দেখলাম তা কেটে ঝুলে আছে, আর তিনি কঠোরভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইবনে উমর বলেন, আবদুল্লাহ বিন আবি উবাইদাহ তার পিতা থেকে এবং তিনি আম্মার বিন ইয়াসিরের মেয়ে উম্মুল হাকামের মুক্তদাসী লুলুয়াহ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যেদিন আম্মার নিহত হন, সেদিন হাশিম বিন উতবাহ পতাকা বহন করছিলেন। সেদিন আসর পর্যন্ত আলী আলাইহিস সালামের সাথীরা নিহত হতে থাকেন। এরপর সূর্য যখন অস্তগামী, তখন আম্মার হাশিমের পেছন থেকে তাকে সামনে এগিয়ে দিচ্ছিলেন। আম্মারের কাছে তখন পাতলা দুধ ছিল, তিনি সূর্য ডোবার অপেক্ষা করছিলেন যেন ইফতার করতে পারেন। যখন সূর্য অস্ত গেল এবং তিনি সেই দুধ পান করলেন, তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "দুনিয়াতে তোমার শেষ পাথেয় হবে পাতলা দুধ।" এরপর তিনি এগিয়ে গেলেন এবং নিহত হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করলেন। তখন তার বয়স ছিল চুরানব্বই বছর, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন। ইবনে উমর বলেন, আবদুল্লাহ বিন আল-হারিস তার পিতা থেকে এবং তিনি আমারা বিন খুজাইমাহ বিন সাবিত থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খুজাইমাহ বিন সাবিত জঙ্গে জামালে উপস্থিত ছিলেন কিন্তু তলোয়ার কোষমুক্ত করেননি। তিনি সিফফিনে উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন, আম্মার নিহত না হওয়া পর্যন্ত আমি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাব না; আমি দেখব তাকে কে হত্যা করে। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "তাকে একটি বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।" যখন আম্মার নিহত হলেন, তখন খুজাইমাহ বললেন, পথভ্রষ্টতা এখন আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। এরপর তিনি এগিয়ে গেলেন এবং নিহত হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করলেন। আম্মার বিন ইয়াসিরকে হত্যাকারী ব্যক্তি ছিল আবু গাদিয়া আল-মুজানি। সে তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করলে তিনি পড়ে যান। সেদিন তিনি হাওদার ওপর থেকে যুদ্ধ করছিলেন। চুরানব্বই বছর বয়সে তিনি নিহত হন। তিনি পড়ে গেলে অন্য একজন ব্যক্তি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তার মাথা কেটে নেয়। এরপর তারা দুজনে সেই মাথা নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হলো, প্রত্যেকেই বলছিল, "আমি তাকে হত্যা করেছি।" আমর বিন আল-আস বললেন, আল্লাহর কসম, তারা কেবল জাহান্নাম নিয়েই বিবাদ করছে। মুয়াবিয়া তার এই কথা শুনে ফেললেন। লোক দুটি চলে যাওয়ার পর মুয়াবিয়া আমরকে বললেন, আমাদের হয়ে যারা জীবন দিল, তাদের সাথে আপনার এমন ব্যবহার আমি কখনো দেখিনি; আপনি তাদের বললেন তারা জাহান্নাম নিয়ে বিবাদ করছে? আমর বললেন, আল্লাহর কসম, কথা এটাই এবং আল্লাহর কসম, আপনিও তা জানেন। আমি যদি এর বিশ বছর আগে মারা যেতাম! ইবনে উমর বলেন, আবদুল্লাহ বিন জাফর ইবনে আবি আউন থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আম্মার যখন নিহত হন তখন তার বয়স ছিল একানব্বই বছর এবং তিনি আরও বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
في الميلاد من رسول الله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم وكان أقبل إليه ثلاثة نفر عقبة بن عامر الجهنى وعمر بن الحارث الخولانى وشريك بن سلمة المرادى فانتهوا إليه جميعا وهو يقول والله لو ضربتمونا حتى تبلغوا بنا سعفات هجر لعلمنا أنا على حق وأنتم على باطل فحملوا عليه جميعا فقتلوه وزعم بعض الناس ان عقبة بن عامر هو الذى قتله ويقال بل الذى قتله عمر بن الحارث الخولانى (قال أبو جعفر) وأما هشام بن محمد فانه ذكر عن أبى مخنف أن عمارا لم يزل بهاشم بن عتبة حتى حمل ومع هاشم اللواء فنهض عمار في كتيبته ونهض إليه ذوالكلاع في كتيبته فاقتتلوا فقتلا جميعا واستؤصلت الكتيبتان وحمل على عمار حوى السكسكى وأبو غادية المزني فقتلاه فقيل لابي الغادية كيف قتلته قال لما دلف إلينا في كتيبته ودلفنا إليه نادى هل من مبارز فبرز إليه رجل من السكاسك فاضطربا بسيفيهما فقتل عمار السكسكى ثم نادى هل من مبارز فبرز إليه رجل من حمير فاضطربا بسيفيهما فقتل عمار الحميرى وأثخنه الحميرى ونادى من يبارز فبرزت فاختلفنا ضربتين وقد كانت يده ضعفت فانتحى عليه بضربة أخرى فسقط فضربته بسيفي حتى برد قال ونادى الناس قتلت أبا اليقظان قتلك الله فقلت اذهب إليك فوالله ما أبالى من كنت وبالله ما أعرفه يومئذ فقال له محمد ابن المنتشر يا أبا الغادية خصمك يوم القيامة ما زندر يعنى ضخما قال فضحك قال ابن عمر وحدثنا عبد الله بن أبى عبيدة بن محمد بن عمار عن أبيه عن لؤلؤة مولاة أم الحكم بنت عمار أنها وصفت لهم عمارا فقالت كان رجلا آدم طوالا مضطربا أشهل العينين بعيد ما بين المنكبين
وكان لا يغير شيبه قال ابن عمر الذى أجمع عليه في عمار أنه قتل رحمه الله مع على ابن أبى طالب عليه السلام بصفين في صفر سنة 37 وهو ابن ثلاث وتسعين ودفن هنالك بصفين * وعبد الله بن بديل بن ورقاء بن عبد العزى بن ربيعة بن جرى ابن عامر بن مازن بن عدى بن عمرو بن ربيعة شهد مع النبي صلى الله عليه وسلم فتح مكة وحنينا وتبوك وقتل يوم صفين مع أمير المؤمنين على بن أبى طالب عليه السلام * وخزيمة بن ثابت بن الفاكه بن ثعلبة بن ساعدة بن عامر بن غيان
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের জন্মবৃত্তান্ত প্রসঙ্গে: উকবাহ বিন আমির আল-জুহানি, উমর বিন আল-হারিস আল-খাওলানি এবং শারিক বিন সালামাহ আল-মুরাদি—এই তিনজন তাঁর (আম্মারের) দিকে অগ্রসর হলেন। তারা সবাই তাঁর নিকট পৌঁছালেন এমতাবস্থায় যে, তিনি বলছিলেন, "আল্লাহর কসম, তোমরা যদি আমাদের আঘাত করতে করতে হাজার-এর খেজুর বাগান পর্যন্ত নিয়ে যাও, তবুও আমরা নিশ্চিতভাবে জানব যে আমরা সত্যের ওপর আছি এবং তোমরা মিথ্যার ওপর আছ।" এরপর তারা সবাই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তাঁকে হত্যা করলেন। কিছু লোক দাবি করে যে, উকবাহ বিন আমির তাঁকে হত্যা করেছেন; আবার বলা হয় যে, বরং উমর বিন আল-হারিস আল-খাওলানি তাঁকে হত্যা করেছেন।
(আবু জাফর বলেন) আর হিশাম বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন আবু মিকনাফ থেকে যে, আম্মার হাশিম বিন উতবার সঙ্গ ছাড়েননি যতক্ষণ না তারা আক্রমণ করলেন। হাশিমের কাছে যুদ্ধের পতাকা ছিল। আম্মার তাঁর বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং যুল কালা' তাঁর বাহিনী নিয়ে তাঁর মোকাবিলায় অগ্রসর হলেন। তাদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হলো এবং তাঁরা উভয়েই নিহত হলেন এবং উভয় বাহিনীই প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। হুওয়াই আল-সাকসাকি এবং আবু গাদিয়া আল-মুজানি আম্মারের ওপর আক্রমণ করেন এবং তাঁকে হত্যা করেন। আবু গাদিয়াকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি তাঁকে কীভাবে হত্যা করলেন? তিনি বললেন, যখন তিনি তাঁর বাহিনী নিয়ে আমাদের দিকে এগিয়ে এলেন এবং আমরাও তাঁর দিকে অগ্রসর হলাম, তিনি উচ্চস্বরে ডাক দিলেন, "আছে কি কোনো দ্বন্দ্বযোদ্ধা?" তখন সাকসাক গোত্রের একজন ব্যক্তি তাঁর মোকাবিলায় বের হলেন। তারা উভয়েই তরবারি দিয়ে একে অপরকে আঘাত করলেন এবং আম্মার সেই সাকসাকি লোকটিকে হত্যা করলেন। এরপর তিনি আবার ডাক দিলেন, "আছে কি কোনো দ্বন্দ্বযোদ্ধা?" তখন হিময়ার গোত্রের একজন ব্যক্তি বের হলেন। তারা তরবারি দিয়ে যুদ্ধ করলেন এবং আম্মার সেই হিময়ারিকে হত্যা করলেন, যদিও হিময়ারি ব্যক্তিটি তাঁকে বেশ জখম করেছিলেন। এরপর তিনি আবার ডাক দিলেন, "কে লড়াই করবে?" তখন আমি বের হলাম। আমরা একে অপরকে দুটি আঘাত করলাম। তাঁর হাত দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তাই আমি তাঁর ওপর আরেকটি আঘাত হানলাম এবং তিনি পড়ে গেলেন। এরপর আমি তরবারি দিয়ে তাঁকে আঘাত করতে থাকলাম যতক্ষণ না তিনি নিথর হয়ে গেলেন।
তিনি বলেন, মানুষ চিৎকার করে বলতে লাগল, "আপনি আবুল ইয়াকযানকে হত্যা করেছেন, আল্লাহ আপনাকে ধ্বংস করুন!" আমি বললাম, "দূর হও! আল্লাহর কসম, তিনি কে ছিলেন তাতে আমার কিছু যায় আসে না, আর আল্লাহর কসম, সেদিন আমি তাঁকে চিনতামও না।" মুহাম্মদ ইবনুল মুনতাশির তাঁকে বললেন, "হে আবু গাদিয়া, কিয়ামতের দিন আপনার প্রতিপক্ষ হবেন এক বিশালকায় ব্যক্তি।" তিনি (আবু গাদিয়া) তা শুনে হেসে দিলেন। ইবনে উমর বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আবি উবাইদাহ বিন মুহাম্মদ বিন আম্মার তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আম্মারের কন্যা উম্মুল হাকামের মুক্তদাসী লু'লু'আ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আম্মারের শারীরিক বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন: তিনি ছিলেন শ্যামবর্ণের, দীর্ঘকায়, সুঠামদেহী, নীলাভ ও উজ্জ্বল চোখের অধিকারী এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানটা ছিল প্রশস্ত।
তিনি তাঁর বার্ধক্যের শুভ্র চুল পরিবর্তন করতেন না। ইবনে উমর বলেন, আম্মারের ব্যাপারে যে বিষয়ে সকলে একমত তা হলো যে, তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর পক্ষে সিফফিনের যুদ্ধে ৩৭ হিজরির সফর মাসে নিহত হন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর এবং তাঁকে সেখানেই সিফফিনে দাফন করা হয়। * আর আব্দুল্লাহ বিন বুদাইল বিন ওয়ারকা বিন আব্দুল উযযা বিন রাবীয়াহ বিন জারা ইবনে আমির বিন মাজিন বিন আদি বিন আমর বিন রাবীয়াহ। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কা বিজয়, হুনাইন এবং তাবুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সিফফিনের যুদ্ধে আমিরুল মুমিনীন আলী বিন আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর পক্ষে লড়াই করে নিহত হন। * আর খুজাইমাহ বিন সাবিত বিন আল-ফাকিহ বিন সা'লাবাহ বিন সায়িদাহ বিন আমির বিন গাইয়ান।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ابن عامر بن خطمة بن جشم بن مالك بن الاوس وهو ذو الشهادتين يكنى أبا عمارة وكان لخزيمة أخوان يقال لاحدهما وحوح وللآخر عبد الله وكانت راية خطمة بيده في غزوة الفتح وشهد خزيمة مع على بن أبى طالب عليه السلام صفين وقتل يومئذ سنة 37 من الهجرة * وسعد بن الحارث بن الصمة بن عمر بن عتيك بن عمرو ابن منبذول وهو عامر بن مالك بن النجار صحب النبي صلى الله عليه وسلم وشهد مع على بن أبى طالب عليه السلام صفين وقتل يومئذ وهو أخو أبى جهيم بن الحارث بن الصمة * وأبو عمرة واسمه بشير بن عمرو بن محصن بن عمرو بن عتيك بن عمرو ابن منذول وهو أبو عبد الرحمن بن أبى عمرة الذى روى عن عثمان بن عفان وقتل أبو عمرة بصفين مع على بن أبى طالب عليه السلام * وهاشم بن عتبة بن أبى وقاص بن أهيب بن عبدمناف بن زهرة أسلم هاشم بن عتبة يوم فتح مكة وهو المر قال وكان أعور فقئت عينه يوم اليرموك وهو ابن أخى سعد بن أبى وقاص شهد صفين مع على بن أبى طالب عليه السلام وكان يومئذ على الرجالة وهو الذي يقول أعور يبغى أهله محلا * قد عالج الحياة حتى ملا لابد أن يفل أو يفلا وقتل يوم صفين * وأبو فضالة الانصاري من أهل بدر قتل مع على
عليه السلام بصفين * وسهل بن حنيف بن واهب بن العكيم بن ثعلبة بن عمرو ابن الحارث بن مجدعة بن عمرو بن حنش بن عوف بن عمرو بن عوف ويكنى أبا سعد وقيل يكنى أبا عبد الله وجده عمرو بن الحارث وهو الذى يقال له بحزج وشهد سهل بدرا وأحدا وثبت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم أحد حين انكشف الناس عنه وبايعه على الموت وجعل ينضح يومئذ بالنبل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم نبلوا سهلا فإنه سهل وشهد أيضا الخندق والمشاهد كلها معه رسول الله صلى الله عليه وسلم وشهد سهل بن حنيف صفين مع على بن أبى طالب عليه السلام * قال أبو عمر حدثنى عبد الرحمن بن عبد العزيز عن محمد بن أبى أمامة بن سهل عن أبيه قال مات سهل بن حنيف بالكوفة سنة 38
ইবনে আমির বিন খাতমাহ বিন জাশম বিন মালিক বিন আল-আউস। তিনি যুশ-শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যের অধিকারী) উপাধিতে ভূষিত ছিলেন এবং তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) ছিল আবু উমারা। খুজাইমার দুই ভাই ছিল, যাদের একজনকে ওয়াহওয়াহ এবং অন্যজনকে আবদুল্লাহ বলা হতো। মক্কা বিজয়ের যুদ্ধে বনু খাতমাহ-এর পতাকা তাঁর হাতে ছিল। খুজাইমা আলী বিন আবি তালিব আলাইহিস সালামের সাথে সিফফিনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং হিজরি ৩৭ সালে সেই দিনই শাহাদাত বরণ করেন। * এবং সা'দ বিন আল-হারিস বিন আস-সিম্মাহ বিন উমর বিন আতিক বিন আমর ইবনুল মানযুল—যিনি আমের বিন মালিক বিন আন-নাজ্জার। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছিলেন এবং আলী বিন আবি তালিব আলাইহিস সালামের সাথে সিফফিনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সেই দিনই নিহত হন। তিনি আবু জুহাইম বিন আল-হারিস বিন আস-সিম্মাহ-এর ভাই ছিলেন। * আর আবু উমারা, যাঁর নাম বাশির বিন আমর বিন মুহসিন বিন আমর বিন আতিক বিন আমর ইবনুল মানযুল। তিনি আবু আবদুর রহমান বিন আবি উমারার পিতা, যিনি উসমান বিন আফফান থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু উমারা আলী বিন আবি তালিব আলাইহিস সালামের সাথে সিফফিনের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। * এবং হাশিম বিন উতবাহ বিন আবি ওয়াক্কাস বিন উহাইব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরাহ। হাশিম বিন উতবাহ মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন 'আল-মিরকাল' (দ্রুতগামী) উপাধিধারী। তিনি এক চক্ষু বিশিষ্ট ছিলেন, ইয়ারমুকের যুদ্ধে তাঁর এক চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাসের ভ্রাতুষ্পুত্র ছিলেন। তিনি আলী বিন আবি তালিব আলাইহিস সালামের সাথে সিফফিনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সেদিন তিনি পদাতিক বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন: "এক চক্ষু বিশিষ্ট ব্যক্তি তার পরিবারের জন্য নিরাপদ আবাসের সন্ধান করছে * সে জীবনকে এতোটাই সহ্য করেছে যে তাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে; তাকে অবশ্যই বিজয়ী হতে হবে অথবা পরাজিত (নিহত) হতে হবে।" তিনি সিফফিনের দিন নিহত হন। * এবং আবু ফাদালাহ আল-আনসারী, যিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আলী আলাইহিস সালামের সাথে সিফফিনের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন।
এবং সাহল বিন হুনাইফ বিন ওয়াহিব বিন আল-আকিম বিন সা'লাবাহ বিন আমর ইবনুল হারিস বিন মাজদাআহ বিন আমর বিন হানাস বিন আউফ বিন আমর বিন আউফ। তাঁর কুনিয়াত ছিল আবু সা'দ, আবার কেউ কেউ বলেন আবু আবদুল্লাহ। তাঁর পিতামহ ছিলেন আমর বিন আল-হারিস, যাঁকে 'বাহজাজ' বলা হতো। সাহল বদর এবং উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। উহুদ যুদ্ধের দিন যখন লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে সরে পড়েছিল, তখন তিনি অটল ছিলেন এবং মৃত্যুর বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। সেদিন তিনি তীর নিক্ষেপ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "সাহলকে তীর দাও, কারণ সে সহজ (দক্ষ তিরন্দাজ)।" তিনি খন্দক সহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সমস্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সাহল বিন হুনাইফ আলী বিন আবি তালিব আলাইহিস সালামের সাথে সিফফিনের যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন। * আবু উমর বলেন: আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আমার নিকট মুহাম্মদ বিন আবি উমামাহ বিন সাহল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সাহল বিন হুনাইফ ৩৮ হিজরিতে কুফায় ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وصل عليه على بن أبى طالب عليه السلام (ذكر ما مات منهم أو قتل سنة 40) فممن قتل منهم فيها أمير المؤمنين على بن أبى طالب عليه السلام واسم أبى طالب عبد مناف بن عبد المطلب بن هاشم بن عبدمناف بن قصى وكان يكنى أبا الحسن ضرب فيما قيل ليلة الجمعة لسبع عشرة خلت من شهر رمضان منها ومات ليلة الاحد لاحدى عشرة ب قيت منه منها وقد مضت أخباره في كتابنا المسمى المذيل * وذكر عن إسحاق بن عبد الله بن أبى فروة أنه قال سألت أبا جعفر محمد بن على عليه السلام قال قلت ما كانت صفة على عليه السلام قال رجل آدم شديد الادمة ثقيل العينين ذو بطن أصلع هو إلى القصر أقرب (ذكر من هلك منهم سنة 50) قال منهم سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل بن عبد العزى بن رياح بن عبد الله ابن قرط بن رزاح بن عدى بن كعب بن لؤى وكان يكنى أبا الاعور وكان
أبوه زيد بن عمرو بن نفيل قد فارق دين قومه من قريش وتوفى وقريش تبنى الكعبة وذلك قبل أن يوحى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بخمس سنين فروى عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال يبعث أمة وحده وأسلم سعيد بن زيد قبل أن يدخل رسول الله صلى الله عليه وسلم دار الارقم وقبل أن يدعو فيها وشهد سعيد ابن زيد بن عمرو بن نفيل أحدا والخندق والمشاهد كلها معه رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يشهد بدار * وذكر ابن عمر أن عبد الملك بن زيد من ولد سعيد ابن زيد حدثه عن أبيه قال توفى سعيد بن زيد بالعقيق فحمل على رقاب الرجال فدفن بالمدينة ونزل في حفرته سعد وابن عمر وذلك سنة 50 أو 51 وكان يوم مات ابن بضع وسبعين سنة وكان رجلا طوالا آدم أشعر * والمغيرة بن شعبة بن أبى عامر بن مسعود بن معبب بن مالك بن كعب بن عوف بن ثقيف واسمه قسى بن منبه ابن بكر بن هوازن بن عكرمة بن خصفة بن قيس بن عيلان بن مضر بن نزار كان يكنى أبا عبد الله وكان يقال له مغيرة الرأى كان داهية وقدم على النبي صلى الله عليه وسلم
আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর প্রসঙ্গ (৪০ হিজরি সনে তাঁদের মধ্য হতে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে অথবা শহীদ হয়েছেন তাঁদের আলোচনা)। এই বছরে যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)। আবি তালিবের নাম ছিল আবদে মানাফ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাই। তাঁর উপনাম ছিল আবুল হাসান। বর্ণিত রয়েছে যে, রমজান মাসের সতেরো তারিখ শুক্রবার রাতে তিনি হামলার শিকার হন এবং মাসের একুশ তারিখ (যখন এগারো দিন অবশিষ্ট ছিল) রবিবার রাতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ঘটনাবলি আমাদের 'আল-মুযায়্যাল' নামক গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ফারওয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আলীর (আলাইহিস সালাম) শারীরিক বৈশিষ্ট্য কেমন ছিল? তিনি বললেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত শ্যামবর্ণের পুরুষ, তাঁর চোখ জোড়া ছিল বড় ও ভারী, তিনি কিঞ্চিৎ উদরধারী ও টেকো মাথার ছিলেন। তিনি দীর্ঘদেহের চেয়ে খাটো গড়নের কাছাকাছি ছিলেন। (৫০ হিজরি সনে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের আলোচনা)। তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে রিয়াহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুর্ত ইবনে রাযাহ ইবনে আদি ইবনে কাব ইবনে লুয়াই। তাঁর উপনাম ছিল আবুল আওয়ার। এবং তিনি ছিলেন
তাঁর পিতা যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল তাঁর স্বগোত্র কুরাইশদের ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন এবং কুরাইশরা যখন কাবা পুনর্নির্মাণ করছিল তখন তিনি ইন্তেকাল করেন। এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহী আসার পাঁচ বছর পূর্বের ঘটনা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, "সে একাই একটি উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত হবে।" সাঈদ ইবনে যায়েদ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দারুল আরকামে প্রবেশ করার এবং সেখানে দাওয়াত শুরু করার পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে উহুদ, খন্দক এবং অন্যান্য সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তবে তিনি বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন না। ইবনে উমর উল্লেখ করেছেন যে, সাঈদ ইবনে যায়েদের বংশধর আব্দুল মালিক ইবনে যায়েদ তাঁর পিতার বরাতে তাঁকে জানিয়েছেন যে, সাঈদ ইবনে যায়েদ আকিক নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন। অতঃপর তাঁকে মানুষের কাঁধে বহন করে মদিনায় নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়। তাঁর কবরে নেমেছিলেন সাদ এবং ইবনে উমর। এটি ৫০ অথবা ৫১ হিজরি সনের ঘটনা। ইন্তেকালের দিন তাঁর বয়স হয়েছিল সত্তর বছরের কিছু বেশি। তিনি ছিলেন দীর্ঘকায়, শ্যামবর্ণ এবং ঘন পশমযুক্ত ব্যক্তি। এবং মুগিরা ইবনে শুবা ইবনে আবি আমির ইবনে মাসউদ ইবনে মুয়াত্তিব ইবনে মালিক ইবনে কাব ইবনে আউফ ইবনে সাকিফ। তাঁর নাম ছিল কাসি ইবনে মুনাব্বিহ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াযিন ইবনে ইকরামা ইবনে খাসাফা ইবনে কায়স ইবনে আইলান ইবনে মুদার ইবনে নিযার। তাঁর উপনাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ। তাঁকে 'মুগিরাতুর রাই' (বিজ্ঞ চিন্তাশীল মুগিরা) বলা হতো। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বুদ্ধিমান। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে উপস্থিত হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فأسلم وأقام معه حتى اعتمر عمرة الحديبية في ذى القعدة سنة 6 من الهجرة * وذكر ابن عمر أن عبد الله بن محمد بن عمر بن على حدثه عن أبيه قال قال على عليه السلام لما ألقى المغيرة بن شعبة خاتمه في قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت لا يتحدث الناس أنك نزلت في قبر رسول الله ولا تحدث أنت الناس أن خاتمك في قبره فنزل على عليه السلام وقد رأى موقعه فتناوله فدفعه إليه قال ابن عمر حدثنا محمد بن أبى موسى الثقفى عن أبيه قال مات المغيرة بالكوفة في شعبان سنة 50 في خلافة معاوية وهو ابن سبعين سنة وكان رجلا طوالا أعور وقيل كان أصهب الشعر أكشف جعدا يفرق رأسه فروقا أربعة أقلص الشفتين مهتوما ضخم الهامة عبل الذراعين بعيد ما بين المنكبين (قال أبو جعفر) والحسن بن على بن أبى طالب
عليه السلام قال ابن عمر حدثنى عبد الله بن جعفر عن أم بكر بنت المسور قالت كان الحسن بن على عليه السلام سم مرارا كل ذلك يفلت حتى كانت المرة الآخرة التى مات فيها فإنه كان يجتلف كبده فلما مات أقام نساء بنى هاشم النوح عليه شهرا قال ابن عمر وحدثنا حفص بن عمر عن أبى جعفر قال مكث الناس يبكون على الحسن بن على عليه السلام سبعا ما تقوم الاسواق قال ابن عمر وحدثتنا عبيدة بنت نابل عن عائشة بنت سعد قالت حد نساء بنى هاشم على الحسن بن على سنة قال وحدثنا داود بن سنان قال سمعت ثعلبة بن أبى مالك قال شهدنا حسن بن على عليه السلام يوم مات ودفناه بالبقيع ولقد رأيت البقيع ولو طرحت فيها إبرة ما وقعت إلا على رأس إنسان وقال على بن محمد حدثنى مسلمة بن محارث قال مات الحسن بن على عليه السلام سنة 50 في ربيع الاول لخمس خلون منه قال على بن محمد ويقال بل مات سنة 51 وهو ابن ست وأربعين سنة (ذكر الخبر عمن مات أو قتل منهم سنة 52) منهم أبو أيوب واسمه خالد بن زيد بن كليب بن ثعلبة بن عبد بن عوف بن غنم بن مالك بن النجار وهو أحد السبعين الذين بايعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة العقبة من الانصار في قول جميعهم وآخى رسول الله صلى الله عليه وسلم
অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হিজরি ৬ সনের জিলকদ মাসে হুদায়বিয়ার উমরা সম্পাদন করা পর্যন্ত তাঁর সাথেই অবস্থান করেন। ইবনে উমর উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আলী তাঁর পিতা থেকে তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী আলাইহিস সালাম বলেছেন: যখন মুগিরা ইবনে শুবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরে তাঁর আংটি ফেলে দিলেন, তখন আমি বললাম, "লোকেরা যেন এই আলোচনা না করে যে আপনি রাসূলুল্লাহর কবরে নেমেছিলেন, আর আপনিও লোকদের কাছে বলবেন না যে আপনার আংটি তাঁর কবরে।" অতঃপর আলী আলাইহিস সালাম কবরে নামলেন এবং আংটির অবস্থান দেখে সেটি তুলে নিলেন ও তাঁকে প্রদান করলেন। ইবনে উমর বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবি মুসা সাকাফি তাঁর পিতা থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুগিরা হিজরি ৫০ সনের শাবান মাসে মুয়াবিয়ার খেলাফতকালে কুফায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল সত্তর বছর। তিনি ছিলেন দীর্ঘদেহী এবং একচোখ অন্ধ। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ছিলেন লালচে চুলের অধিকারী, তাঁর চুল ছিল ঘন ও কোঁকড়া এবং তিনি তাঁর মাথার চুলকে চার ভাগে সিঁথি করতেন। তাঁর ঠোঁট দুটি ছিল সংকুচিত, সামনের দাঁত ভাঙা, বিশাল মাথা এবং সুঠাম বাহুবিশিষ্ট ও দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত। (আবু জাফর বলেন) এবং হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব
আলাইহিস সালাম। ইবনে উমর বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর উম্মে বকর বিনতে মিসওয়ার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী আলাইহিস সালামকে কয়েকবার বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল, প্রতিবারই তিনি আরোগ্য লাভ করতেন। অবশেষে শেষবার যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর কলিজা খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে গিয়েছিল। যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, বনু হাশিমের মহিলারা এক মাস পর্যন্ত তাঁর জন্য বিলাপ করেন। ইবনে উমর বলেন, হাফস ইবনে উমর আবু জাফর থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী আলাইহিস সালামের বিয়োগে লোকেরা সাত দিন পর্যন্ত রোদন করতে থাকে, যার ফলে বাজারগুলো বন্ধ ছিল। ইবনে উমর বলেন, উবাইদাহ বিনতে নাবিল আয়েশা বিনতে সাদ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বনু হাশিমের মহিলারা হাসান ইবনে আলীর জন্য এক বছর পর্যন্ত শোক পালন করেন। তিনি বলেন, দাউদ ইবনে সিনান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালাবা ইবনে আবি মালিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী আলাইহিস সালাম যেদিন ইন্তেকাল করেন আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং আমরা তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করি। আমি বাকি গোরস্থানকে এমনভাবে (জনপূর্ণ) দেখেছি যে, সেখানে একটি সুঁই নিক্ষেপ করলেও তা কোনো না কোনো মানুষের মাথায় গিয়ে পড়ত। আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, মাসলামা ইবনে মুহারিস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আলী আলাইহিস সালাম হিজরি ৫০ সনের রবিউল আউয়াল মাসের পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ইন্তেকাল করেন। আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, অন্যমতে তিনি হিজরি ৫১ সনে ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল ছেচল্লিশ বছর। (যাঁরা হিজরি ৫২ সনে মৃত্যুবরণ করেছেন বা নিহত হয়েছেন তাঁদের সংবাদ) তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু আইয়ুব, যাঁর নাম খালেদ ইবনে জায়েদ ইবনে কুলাইব ইবনে সালাবা ইবনে আবদ ইবনে আউফ ইবনে গানাম ইবনে মালিক ইবনে নাজ্জার। তিনি সেই সত্তর জন আনসারদের একজন ছিলেন যাঁরা আকাবার রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়আত বা শপথ গ্রহণ করেছিলেন—এটি সকলের সর্বসম্মত মত—এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ২০)
بينه وبين مصعب بن عمير وشهد بدرا وأحدا والخندق والمشاهد كلها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وتوفى عام غزا يزيد بن معاوية القسطنطينية في خلافة أبيه معاوية وقبره بأصل حصن القسطنطينية بأرض الروم فالروم فيما ذكر يتعاهدون قبره ويرمونه ويستسقون به إذا قحطوا (ذكر الخبر عمن مات أو قتل سنة 54) منهم حكيم بن حزام بن خويلد بن أسد بن عبد العزى بن قصى * ذكر ابن
عمر أن المنذر بن عبد الله حدثه عن موسى بن عقبة عن أبى حبيبة مولى الزبير قال سمعت حكيم بن حزام يقول ولدت قبل قدوم أصحاب الفيل بثلاث عشرة سنة وأنا أعقل حين أراد عبد المطلب أن يذبح ابنه عبد الله حين وقع نذره وذلك قبل مولد رسول الله صلى الله عليه وسلم بخمس سنين وشهد حكيم بن حزام مع أبيه الفجار وقتل أبوه حزام بن خويلد في الفجار الآخر وكان حكيم ينى أبا خالد وكان له من الولد عبد الله وخالد ويحيى وهشام وأمهم زينب ابنة العوام بن خويلد بن أسد بن عبد العزى بن قصى ويقال بل أم هشام بن حكيم مليكة ابنة مالك بن سعد من بنى الحارث بن فهر وقد أدرك ولد حكيم بن حزام كلهم النبي صلى الله عليه وسلم يوم الفتح وصحبوا رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان حكيم بن حزام فيما ذكر قد بلغ عشرين ومائة سنة ومر به معاوية عام حج فأرسل إليه بلقوح يشرب من لبنها وذلك بعد أن سأله أي الطعام يأكل قال أما مضغ فلا مضغ في فأرسل إليه باللقوح وأرسل إليه بصلة فأبى أن يقبلها وقال لم آخذ بعد النبي صلى الله عليه وسلم شيئا ودعانى أبو بكر وعمر إلى حقى فأبيت أن آخذه قال ابن عمر وحدثني ابن أبى الزناد عن أبيه قال قيل لحكيم بن حزام ما المال يا أبا خالد قال قلة العيال قال ابن عمر وقدم حكيم بن حزام المدينة ونزلها وبنى بها دارا ومات بالمدينة سنة 54 في خلافة معاوية وهو ابن مائة وعشرين سنة * ومخرمة بن نوفل ابن أهيب بن عبدمناف بن زهرة بن كلاب وأمه رقيقة ابنة أبى صيفي بن هاشم ابن عبد مناف فولد مخرمة صفوان وبه كان يكنى وهو الاكبر من ولده والمسور
তিনি এবং মুসআব বিন উমায়েরের মধ্যে (ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করা হয়েছিল)। তিনি বদর, উহুদ, খন্দক এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁর পিতা মুয়াবিয়ার খেলাফতকালে ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার কনস্টান্টিনোপল অভিযানের বছর ইন্তেকাল করেন। তাঁর কবর রোম ভূখণ্ডের কনস্টান্টিনোপল দুর্গের পাদদেশে অবস্থিত। বর্ণিত আছে যে, রোমানরা তাঁর কবরের দেখাশোনা করে, তা সংস্কার করে এবং যখন তারা অনাবৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়, তখন তাঁর অসিলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করে। (৫৪ হিজরীতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন বা নিহত হয়েছেন তাদের সংবাদ উল্লেখ): তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাকিম বিন হিজাম বিন খুয়াইলিদ বিন আসাদ বিন আব্দুল উজ্জা বিন কুসাই। ইবনে
উমর উল্লেখ করেছেন যে, মুনজির বিন আব্দুল্লাহ তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুসা বিন উকবা থেকে, তিনি জুবায়েরের মুক্তদাস আবু হাবিবা থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি হাকিম বিন হিজামকে বলতে শুনেছি, "হস্তিবাহিনীর আসার তেরো বছর আগে আমার জন্ম হয়েছে। যখন আব্দুল মুত্তালিব তাঁর মানত পূর্ণ করতে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহকে যবেহ করার ইচ্ছা করেছিলেন, তখন আমি বিষয়টি বোঝার মতো বয়সে উপনীত ছিলাম। আর তা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের পাঁচ বছর আগে।" হাকিম বিন হিজাম তাঁর পিতার সাথে ফিজার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর পিতা হিজাম বিন খুয়াইলিদ দ্বিতীয় ফিজার যুদ্ধে নিহত হন। হাকিমের উপনাম ছিল আবু খালিদ। তাঁর সন্তানদের মধ্যে ছিল আব্দুল্লাহ, খালিদ, ইয়াহইয়া এবং হিশাম। তাঁদের মা ছিলেন জয়নাব বিনতে আওয়াম বিন খুয়াইলিদ বিন আসাদ বিন আব্দুল উজ্জা বিন কুসাই। তবে বলা হয়ে থাকে যে, হিশাম বিন হাকিমের মা ছিলেন বনু হারিস বিন ফিহর গোত্রের মালিকা বিনতে মালিক বিন সাদ। হাকিম বিন হিজামের সকল সন্তান মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখা পেয়েছিলেন এবং তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেন। বর্ণিত আছে যে, হাকিম বিন হিজাম একশো বিশ বছর বয়স পেয়েছিলেন। মুয়াবিয়া হজের বছর তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর জন্য একটি দুগ্ধবতী উটনী পাঠিয়েছিলেন যাতে তিনি সেটির দুধ পান করতে পারেন। এটি ছিল তাঁকে তিনি কী খাবার খান সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর। তিনি বলেছিলেন, "চিবিয়ে খাওয়ার কথা বললে, আমার তো চিবিয়ে খাওয়ার মতো সামর্থ্য (দাঁত) নেই।" তখন তিনি তাঁর জন্য দুগ্ধবতী উটনী পাঠিয়েছিলেন। মুয়াবিয়া তাঁকে উপঢৌকনও পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে আমি কারও কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করিনি। আবু বকর ও উমর আমাকে আমার হকের জন্য ডেকেছিলেন, কিন্তু আমি তা নিতে অস্বীকার করেছিলাম।" ইবনে উমর বলেন, ইবনে আবিয যিনাদ তাঁর পিতার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাকিম বিন হিজামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "হে আবু খালিদ! সম্পদ আসলে কী?" তিনি বললেন, "পরিবারের সদস্য সংখ্যা কম হওয়া।" ইবনে উমর বলেন, হাকিম বিন হিজাম মদিনায় আসেন এবং সেখানে বসবাস শুরু করে একটি ঘর নির্মাণ করেন। তিনি মুয়াবিয়ার খেলাফতকালে ৫৪ হিজরীতে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল একশো বিশ বছর। এবং মাখরামা বিন নাওফেল ইবনে উহাইব বিন আব্দু মানাফ বিন জুহরা বিন কিলাব। তাঁর মাতা ছিলেন রুকাইকা বিনতে আবি সাইফি বিন হাশিম ইবনে আব্দু মানাফ। মাখরামার সাফওয়ান নামে এক পুত্র ছিল এবং তাঁর মাধ্যমেই তাঁর উপনাম রাখা হয়েছিল, সে ছিল তাঁর বড় সন্তান; এবং মিসওয়ার...
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ২১)
والصلت الاكبر وأم صفوان وأمهم عاتكة ابنة عوف بن عبد عوف بن عبد ابن الحارث بن زهرة أخت عبد الرحمن بن عوف وكانت من المهاجرات وأمها الشفاء ابنة عوف بن عبد بن الحارث بن زهرة وهى من المهاجرات أيضا
والصلت الاصغر وصفوان الاصغر والعطاف الاكبر والعطاف الاصغر ومحمدا وأسلم مخرمة بن نوفل عند فتح مكة وكان عالما بنسب قريش وأحاديثها وكانت له معرفة بأنصاب الحرم فكان عمر يبعثه وسعيد بن يربوع أبا هود وحويطب ابن عبد العزى وأزهر بن عبد عوف فيجددون انصاف الحرم لعلمهم بها ثم ذهب بصر مخرمة بن نوفل في خلافة عثمان وشهد مخرمة بن نوفل مع رسول الله صلى الله تعالى عليه وعلى آله وسلم يوم حنين وأعطاه من غنائم حنين خمسين بعيرا قال ابن عمر رأيت عبد الله بن جعفر ينكر أن يكون أخذ مخرمة من ذلك شيئا وقال ما سمعت أحدا من أهلى يذكر ذلك قال ومات مخرمة بالمدينة سنة 54 في خلافة معاوية وكان يوم مات ابن مائة وخمس عشرة سنة.
قال وحويطب بن عبد العزى بن أبى قيس بن عبدود بن نصر بن مالك بن حسل بن عامر بن لؤى قال ابن عمر حدثنى إبراهيم بن جعفر بن محمود ابن محمد بن مسلمة الاشهلى عن أبيه قال كان حويطب بن عبد العزى العامري قد عاش عشرين ومائة سنة: ستين سنة في الجاهلية وستين في الاسلام فلما ولى مروان بن الحكم المدينة في عمله الاول دخل عليه حويطب مع مشيخة جلة حكيم ابن حزام ومخرمة بن نوفل فتحدثوا عنده وتفرقوا فدخل عليه حويطب يوما بعد ذلك فتحدث عنده فقال مروان ماسنك فأخبره فقال له مروان تأخر إسلامك أيها الشيخ حتى سبقك الاحداث فقال حويطب: الله المستعان لقد هممت بالاسلام غير مرة كل ذلك يعوقنى أبوك عنه وينهاني ويقول تضع شرفك وتدع دين آبائك لدين محدث وتصير تابعا قال فأسكت والله مروان وندم على ماكان قال له ثم قال له حويطب أما كان أخبرك عثمان ما لقى من أبيك حين أسلم فازداد مروان غما ثم قال حويطب ما كان من قريش أحد من كبرائها الذين بقوا على
এবং আস-সলত আল-আকবার ও উম্মে সাফওয়ান; তাদের মা ছিলেন আতিকাহ বিনতে আউফ ইবনে আবদ আউফ ইবনে আবদ ইবনুল হারিস ইবনে জুহরাহ, যিনি আবদুর রহমান ইবনে আউফের বোন ছিলেন। তিনি মুহাজির নারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন আশ-শিফা বিনতে আউফ ইবনে আবদ ইবনুল হারিস ইবনে জুহরাহ, তিনিও মুহাজির নারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এবং আস-সলত আল-আসগার, সাফওয়ান আল-আসগার, আল-আত্তাাফ আল-আকবার, আল-আত্তাাফ আল-আসগার এবং মুহাম্মদ। আর মক্কা বিজয়ের সময় মাখরামাহ ইবনে নাওফাল ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি কুরাইশদের বংশলতিকা এবং তাদের ঘটনাবলী সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। হারামের সীমানা চিহ্নসমূহ সম্পর্কেও তাঁর জ্ঞান ছিল। উমর (রা.) তাঁকে এবং আবু হুদ সাঈদ ইবনে ইয়ারবু', হুওয়াইতিব ইবনে আবদিল উযযা এবং আযহার ইবনে আবদ আউফকে পাঠাতেন, ফলে তাঁরা হারামের সীমানা চিহ্নগুলো সংস্কার করতেন, কারণ এ বিষয়ে তাঁদের জ্ঞান ছিল। অতঃপর উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে মাখরামাহ ইবনে নাওফাল দৃষ্টিশক্তি হারান। মাখরামাহ ইবনে নাওফাল হুনাইনের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি তাঁকে হুনাইনের গনীমত থেকে পঞ্চাশটি উট প্রদান করেছিলেন। ইবনে উমর বলেন, আমি দেখেছি আবদুল্লাহ ইবনে জাফর অস্বীকার করছেন যে মাখরামাহ সেখান থেকে কিছু গ্রহণ করেছেন এবং তিনি বলতেন, আমি আমার পরিবারের কাউকে তা উল্লেখ করতে শুনিনি। বর্ণনাকারী বলেন, মাখরামাহ ৫৪ হিজরি সনে মুয়াবিয়া (রা.)-এর খিলাফতকালে মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর দিন তাঁর বয়স ছিল একশ পনের বছর।
বর্ণনাকারী বলেন, আর হুওয়াইতিব ইবনে আবদিল উযযা ইবনে আবি কায়স ইবনে আবদ ওয়াদ ইবনে নাসর ইবনে মালিক ইবনে হিসল ইবনে আমির ইবনে লুয়াই। ইবনে উমর বলেন, ইব্রাহিম ইবনে জাফর ইবনে মাহমুদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ আল-আশহালি তাঁর পিতার সূত্রে আমাকে বলেছেন যে, হুওয়াইতিব ইবনে আবদিল উযযা আল-আমিরি একশ বিশ বছর বেঁচেছিলেন: ষাট বছর জাহেলি যুগে এবং ষাট বছর ইসলামে। যখন মারওয়ান ইবনে হাকাম তাঁর প্রথম শাসনামলে মদীনার দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন, তখন হুওয়াইতিব তাঁর কাছে কয়েকজন গণ্যমান্য প্রবীণদের সাথে প্রবেশ করলেন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন হাকিম ইবনে হিযাম এবং মাখরামাহ ইবনে নাওফাল। তাঁরা তাঁর নিকট কথা বললেন এবং চলে গেলেন। এরপর একদিন হুওয়াইতিব তাঁর নিকট প্রবেশ করে কথা বললেন। মারওয়ান জিজ্ঞেস করলেন, আপনার বয়স কত? তিনি তাঁকে তা জানালেন। তখন মারওয়ান তাঁকে বললেন, হে বৃদ্ধ! আপনার ইসলাম গ্রহণ করতে বিলম্ব হয়ে গেছে, এমনকি অল্পবয়সীরাও আপনার আগে চলে গেছে। তখন হুওয়াইতিব বললেন: আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি; আমি বহুবার ইসলাম গ্রহণের সংকল্প করেছিলাম, কিন্তু প্রতিবারই তোমার পিতা আমাকে তা থেকে বাধা প্রদান করতেন এবং নিষেধ করতেন। তিনি বলতেন, তুমি কি তোমার মর্যাদা নষ্ট করবে এবং তোমার পূর্বপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করে এক নতুন ধর্ম গ্রহণ করবে এবং অনুসারী হয়ে পড়বে? বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর শপথ, এতে মারওয়ান স্তব্ধ হয়ে গেলেন এবং যা বলেছিলেন তার জন্য অনুতপ্ত হলেন। তারপর হুওয়াইতিব তাঁকে বললেন, উসমান কি তোমাকে বলেননি তোমার পিতার কাছ থেকে তিনি কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন? এতে মারওয়ানের দুঃখ আরও বেড়ে গেল। তারপর হুওয়াইতিব বললেন, কুরাইশদের সেই বড়দের মধ্যে কেউ ছিল না যারা অবশিষ্ট ছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ২২)
دين قومهم إلى أن فتحت مكة كان أكره لما هو عليه منى ولكن المقادير ولقد شهدت بدرا مع المشركين فرأيت عبرا رأيت الملائكة تقتل وتأسر بين السماءء والارض فقلت هذا رجل ممنوع ولم أذكر ما رأيت فانهزمنا أجمعين إلى مكة فأقمنا بمكة وقريش تسلم رجلا رجلا فلما كان يوم الحديبية حضرت وشهدت الصلح ومشيت فيه حتى تم وكل ذلك أريد الاسلام ويأبى الله عزوجل إلا ما يريد فلما كتبنا صلح الحديبية كنت أحد شهوده وقلت لا ترى قريش من محمد صلى الله عليه وسلم إلا ما يسؤوها قد رضيت أن دافعته بالراح ولما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم لعمرة القضية وخرجت قريش عن مكة كنت فيمن تخلف بكة أنا وسهيل بن عمرو لان نخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا مضى الوقت وهو ثلاث فلما انقضت الثلاث أقبلت أنا وسهيل بن عمرو فقلنا قد مضى شرطك فاخرج من بلدنا فصاح يا بلال لا تغب الشمس وأحد من المسلمين بمكة ممن قدم معنا قال ابن عمر وحدثني إبراهيم بن جعفر بن محمود عن أبيه قال وحدثني أبو بكر بن عبد الله بن أبى سبرة عن موسى بن عقبة عن المنذر بن جهم قال قال حويطب بن عبد العزى لما دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة عام الفتح خفت خوفا شديدا فخرجت من بيتى وفرقت عيالي في مواضع يأمنون فيها ثم انتهيت إلى حائط عوف وكنت فيه فإذا أنا بأبى ذر الغفاري وكانت بينى وبينه خلة والخلة أبدا نافعة فلما رأيته هربت منه فقال أبا محمد قلت لبيك قال مالك قلت الخوف قال لاخوف عليك تعال أنت آمن بأمان الله عزوجل فرجعت إليه وسلمت عليه فقال اذهب إلى منزلك قلت هل لى سبيل إلى منزلي والله ما أرانى أصل إلى بيتى حيا حتى ألقى فأقتل أو يدخل على منزلي فأقتل وإن عيالي لفى مواضع شتى قال فاجمع عيالك في موضع وأنا أبلغ معك منزلك فبلغ معى وجعل ينادى على بأبى إن حويطبا آمن فلا يهج ثم انصرف أبو ذر إلى
رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبره فقال أو ليس قد آمنا الناس كلهم إلا من أمرت بقلته قال فاطمأنت ورددت عيالي إلى مواضعهم وعاد إلى أبو ذر فقال
মক্কা বিজয় পর্যন্ত তাদের কওমের দ্বীন আমার কাছে যা ছিল তার চেয়ে বেশি অপছন্দনীয় ছিল, কিন্তু ভাগ্য নির্ধারিত ছিল। আমি মুশরিকদের সাথে বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম এবং সেখানে শিক্ষণীয় বিষয় প্রত্যক্ষ করেছি। আমি আকাশ ও জমিনের মাঝে ফেরেশতাদের হত্যা ও বন্দি করতে দেখেছি। তখন আমি মনে মনে বললাম, এই ব্যক্তি রক্ষাপ্রাপ্ত। আমি যা দেখেছি তা প্রকাশ করিনি। তারপর আমরা সবাই পরাজিত হয়ে মক্কার দিকে পলায়ন করলাম। আমরা মক্কায় অবস্থান করলাম এবং কুরাইশরা একে একে ইসলাম গ্রহণ করছিল। হুদায়বিয়ার দিন আমি উপস্থিত ছিলাম এবং সন্ধি প্রত্যক্ষ করেছি। এটি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত আমি এতে প্রচেষ্টা চালিয়েছি। এ সময়ে আমি ইসলাম গ্রহণ করতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু মহান আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া অন্য কিছু হতে দেননি। যখন আমরা হুদায়বিয়ার সন্ধিপত্র লিখলাম, তখন আমি এর অন্যতম সাক্ষী ছিলাম এবং আমি বলেছিলাম যে, কুরাইশরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে কেবল তা-ই দেখবে যা তাদের অপছন্দ হবে। আমি তাঁকে হাত দিয়ে প্রতিহত করতে পেরে সন্তুষ্ট ছিলাম। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উমরাতুল কাযা পালনের জন্য আসলেন এবং কুরাইশরা মক্কা ত্যাগ করল, তখন যারা মক্কায় রয়ে গিয়েছিল আমি এবং সুহাইল বিন আমর তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যাতে নির্ধারিত তিন দিন সময় অতিবাহিত হলে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বের করে দিতে পারি। যখন তিন দিন শেষ হলো, আমি এবং সুহাইল বিন আমর এগিয়ে গিয়ে বললাম, আপনার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সুতরাং আমাদের শহর থেকে বেরিয়ে যান। তখন তিনি উচ্চস্বরে ডাকলেন, হে বিলাল! আমাদের সাথে আগত কোনো মুসলিম যেন মক্কায় থাকা অবস্থায় সূর্য ডুবে না যায়। ইবনে উমর বলেন, ইব্রাহিম বিন জাফর বিন মাহমুদ তাঁর পিতার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি সাবরা মুসা বিন উকবা থেকে, তিনি মুনজির বিন জাহম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুয়াইতিব বিন আব্দুল উযযা বলেছেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন আমি ভীষণ ভীত হয়ে পড়লাম। আমি আমার ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম এবং আমার পরিবার-পরিজনকে নিরাপদ স্থানে ছড়িয়ে দিলাম। তারপর আমি আউফের বাগানে গিয়ে আশ্রয় নিলাম। হঠাৎ সেখানে আমি আবু যার আল-গিফারির দেখা পেলাম। আমার ও তাঁর মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ছিল, আর বন্ধুত্ব সবসময়ই উপকারে আসে। যখন আমি তাঁকে দেখলাম, আমি তাঁর কাছ থেকে পালাতে লাগলাম। তখন তিনি ডাকলেন, হে আবু মুহাম্মদ! আমি বললাম, আমি উপস্থিত। তিনি বললেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, ভয়। তিনি বললেন, তোমার কোনো ভয় নেই। এসো, তুমি মহান আল্লাহর নিরাপত্তায় নিরাপদ। তখন আমি তাঁর কাছে ফিরে গেলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, তুমি তোমার ঘরে ফিরে যাও। আমি বললাম, আমার ঘরে যাওয়ার কি কোনো পথ আছে? আল্লাহর কসম, আমি মনে করি না যে আমি জীবিত ঘরে পৌঁছাতে পারব; বরং পথেই আমাকে ধরে হত্যা করা হবে অথবা আমার ঘরে ঢুকে হত্যা করা হবে। আর আমার পরিবার-পরিজনও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে। তিনি বললেন, তুমি তোমার পরিবারকে এক জায়গায় জড়ো করো এবং আমি তোমার সাথে তোমার ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দেব। তিনি আমার সাথে আসলেন এবং উচ্চস্বরে আমার নাম ধরে ঘোষণা করতে লাগলেন: হুয়াইতিব নিরাপদ, তাকে কেউ যেন উত্যক্ত না করে। এরপর আবু যার ফিরে গেলেন
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এবং তাঁকে সংবাদ দিলেন। তখন তিনি বললেন, আমি যাদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছি তারা ব্যতীত আমরা কি সব মানুষকে নিরাপত্তা দেইনি? হুয়াইতিব বলেন, এতে আমি আশ্বস্ত হলাম এবং আমার পরিবারকে তাদের স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আসলাম। তারপর আবু যার পুনরায় আমার কাছে ফিরে আসলেন এবং বললেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يا أبا محمد حتى متى وإلى متى قد سبقت في المواطن كلها وفاتك خير كثير وبقى خير كثير فأت رسول الله فأسلم تسلم ورسول الله أبر الناس وأحلم الناس وأوصل الناس شرفه شرفك وعزه عزك قال قلت فأنا أخرج معك فآتيه فخرجت معه حتى أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم بالبطحاء وعنده أبو بكر وعمر فوقفت على رأسه وسألت أبا ذر كيف يقال إذا سلم عليه قال قل السلام عليك أيها النبي ورحمة الله فقلتها فقال وعليك السلام أحويطلب قال قلت أشهد أن لا إله إلا الله وأتنك رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم الحمدلله الذى هداك قال وسر رسول الله صلى الله عليه وسلم بإسلامى واستقرضنى مالا فأقرضته أربعين ألف درهم وشهدت معه حنينا والطائف وأعطاني من غنائم حنين مائة بعير (قال أبو جعفر) ثم قدم حويطب بعد ذلك المدينة فنزلها وله بها دار بالبلاط عند أصحاب المصاحف قال ابن عمر حدثنى عبد الرحمن بن أبى الزناد عن أبيه قال باع حويطب بن عبداالعزى داره بمكة من معاوية بأربعين ألف دينار وقيل له يا أبا محمد أربعين ألف دينار قال وما أربعون ألف دينار لرجل عنده خمسة من العيال قال عبد الرحمن بن أبى الزناد وهو والله يومئذ يوفر عليه القوت في كل شهر ومات حويطب بن عبد العزى بالمدينة سنة 54 في خلافة معاوية وكان له يوم مات مائة وعشرين سنة.
ومنهم الارقم بن أبى الارقم بن أسد بن عبد الله ابن عمر بن مخزوم واسم أبى الارقم عبد مناف وكان الارقم يكنى أبا عبد الله وذكر ابن عمر أن محمد بن عمران بن هند بن عبد الله بن عثمان بن الارقم بن أبى الارقم المخزومى حدثه أخبرني أبى عن يحيى بن عمران بن عثمان بن الارقم قال أخبرني
جدى عثمان بن الارقم أنه كان يقول أنا ابن سبع الاسلام أسلم أبى سابع سبعة وكان داره على الصفا وفى الدار التى كان النبي صلى الله عليه وسلم يكون فيها في أول الاسلام وفيها دعا الناس إلى الاسلام فأسلم فيها قوم كثير وشهد الارقم بن أبى الارقم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بدرا وأحدا والخندق والمشاهد كلها قال ابن عمر أخبرنا محمد بن عمران بن هند عن أبيه قال حضرت الارقم بن أبى الارقم الوفاة
হে আবু মুহাম্মদ! কতকাল এবং আর কতদিন? আপনি তো সকল ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন, অথচ অনেক কল্যাণ আপনার হাতছাড়া হয়ে গেছে এবং অনেক কল্যাণ এখনও অবশিষ্ঠ আছে। সুতরাং আল্লাহর রাসূলের কাছে যান এবং ইসলাম গ্রহণ করুন, আপনি নিরাপদ থাকবেন। আল্লাহর রাসূল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সদাচারী, সবচেয়ে ধৈর্যশীল এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখায় সবচেয়ে অগ্রগামী। তাঁর সম্মানই আপনার সম্মান এবং তাঁর মর্যাদাই আপনার মর্যাদা। তিনি (হুয়াইতিব) বলেন, আমি বললাম: তবে আমি আপনার সাথে বের হচ্ছি এবং তাঁর কাছে যাচ্ছি। অতঃপর আমি তাঁর সাথে বের হলাম এবং বাতাহ নামক স্থানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পৌঁছালাম। তাঁর কাছে তখন আবু বকর ও ওমর উপস্থিত ছিলেন। আমি তাঁর সামনে দাঁড়ালাম এবং আবু যারকে জিজ্ঞাসা করলাম, যখন তাঁকে সালাম দেওয়া হয় তখন কী বলতে হয়? তিনি বললেন: বলো, আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি তা বললাম। তিনি উত্তর দিলেন: ওয়া আলাইকাস সালাম, ওহে হুয়াইতিব? আমি বললাম: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আপনাকে হেদায়েত দিয়েছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার ইসলাম গ্রহণে আনন্দিত হলেন এবং আমার কাছে কিছু অর্থ ঋণ চাইলেন। আমি তাঁকে চল্লিশ হাজার দিরহাম ঋণ দিলাম। আমি তাঁর সাথে হুনাইন ও তায়েফের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম এবং তিনি আমাকে হুনাইনের গনিমতের মাল থেকে একশটি উট দান করেন। (আবু জাফর বলেন) এরপর হুয়াইতিব মদিনায় চলে আসেন এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন। সেখানে মাসহাফ লেখকদের নিকট 'বিলাত' নামক স্থানে তাঁর একটি বাড়ি ছিল। ইবনে ওমর বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ তাঁর পিতার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হুয়াইতিব ইবনে আব্দুল উযযা মক্কায় অবস্থিত তাঁর বাড়িটি মুয়াবিয়ার কাছে চল্লিশ হাজার দিনারে বিক্রি করেছিলেন। তাঁকে বলা হলো, হে আবু মুহাম্মদ! চল্লিশ হাজার দিনার? তিনি বললেন, যার পাঁচজন সন্তান আছে তার কাছে চল্লিশ হাজার দিনার আর কী? আব্দুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ বলেন, আল্লাহর কসম, সে সময় তাঁর প্রতি মাসের খাদ্যের সংস্থান করা কঠিন ছিল। হুয়াইতিব ইবনে আব্দুল উযযা ৫৪ হিজরিতে মুয়াবিয়ার খেলাফতকালে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল একশ বিশ বছর।
তাদের মধ্যে আরকাম ইবনে আবিল আরকাম ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনে মাখযুম অন্যতম। আবু আরকামের নাম ছিল আব্দুল মানাফ এবং আরকামের উপনাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ। ইবনে ওমর উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে ইমরান ইবনে হিন্দ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আরকাম ইবনে আবিল আরকাম আল-মাখযুমি তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন: আমার পিতা আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে ইমরান ইবনে উসমান ইবনে আরকাম থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন
আমার দাদা উসমান ইবনে আরকাম যে, তিনি বলতেন: আমি ইসলামের সপ্তম ব্যক্তির সন্তান; আমার পিতা সপ্তম ব্যক্তি হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। সাফা পাহাড়ের ওপর তাঁর একটি বাড়ি ছিল এবং সেই বাড়িতেই ইসলামের সূচনালগ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবস্থান করতেন। সেখানেই তিনি মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন এবং সেখানে অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন। আরকাম ইবনে আবিল আরকাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বদর, ওহুদ, খন্দক এবং সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ইবনে ওমর বলেন, মুহাম্মদ ইবনে ইমরান ইবনে হিন্দ তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের জানিয়েছেন: আরকাম ইবনে আবিল আরকামের যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فأوصى أن يصلى عليه سعد وكان مروان بن الحكم واليا لمعاوية على المدينة وكان سعد في قصره بالعقيق ومات الارقم فاحتبس عليهم سعد فقال مروان أيحبس صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم لرجل غائب وأراد الصلاة عليه فأبى عبيد الله بن الارقم ذلك على مروان وقامت معه بنو مخزوم ووقع بينهم كلام ثم جاء سعد فصلى عليه وذلك سنة 55 بالمدينة وهلك الارقم وهو ابن بضع وثمانين سنة * قال وأبو محذورة واسمه أوس بن معيربن لوذان بن ربيعة بن عويج بن سعد بن جمح وكان له أخ من أبيه وأمه يقال له أنيس قتل يوم بدر كافرا قال ابن سعد سمعت من ينسب أبا محذورة فيقول اسمه سمرة بن عمير بن لوذان بن وهب ابن سعد بن جمح وكان له أخ من أبيه وأمه اسمه أوس قال فولد أبو محذورة عبد الملك وحديرا وتوفى أبو محذورة بمكة سنة 59 ولم يهاجر ولم يزل مقيما بمكة حتى مات * والحسين بن على بن أبى طالب عليه السلام ولد في ليال خلون من شعبان سنة 4 من الهجرة يكنى أبا عبد الله وولد الحسين عليه السلام عليا الاكبر قتل مع أبيه بالطف وأمه آمنة بنت أبى مرة بن عروة بن مسعود بن معتب من ثقيف وأمها ابنة أبى سفيان بن حرب وفيها يقول حسان بن ثابت في رواية محمد بن عمر طافت بنا شمس النهار ومن رأى * من الناس شمسا بالعشاء تطوف أبو أمها أو في قريش بذمة * وأعمامها إما سألت ثقيف
(قال أبو جعفر) وهذان البيتان ينسبان إلى عمر بن أبى ربيعة وأنهما من شعره وينشد طافت بنا شمس عشاء ومن رأى * من الناس شمسا بالعشاء تطوف أبوأمهاا أوفى قريش بذمة * وأعمامها إما نسبت ثقيف وعليا الاصغر وله العقب من ولد الحسين عليه السلام وأما على الاكبر فلا عقب له وأم الاصغر أم ولد قال على بن محمد كانت تدعى سلافة (قال أبو جعفر) ويقال إن اسمهما جيدا وكان فاضلا سيدا وجعفرا لابقية له وفاطمة وأمها أم اسحاق ابنة طلحة بن عبيد الله وكانت قبله عند الحسن بن على فلما حضرته الوفاة
সুতরাং তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন সাদ তাঁর জানাযার সালাত পড়ান। তখন মারওয়ান বিন হাকাম মদিনায় মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে গভর্নর ছিলেন। সাদ তখন আকিকের প্রাসাদে অবস্থান করছিলেন। আরকাম মৃত্যুবরণ করলে লোকেরা সাদের অপেক্ষায় আটকে রইল। মারওয়ান বললেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবীকে কি একজন অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য আটকে রাখা হবে?" তিনি জানাযার সালাত পড়াতে চাইলেন, কিন্তু উবায়দুল্লাহ বিন আরকাম মারওয়ানের ব্যাপারে অসম্মতি জানালেন। বনু মাখজুম গোত্র তাঁর সাথে একমত হলো এবং তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলো। এরপর সাদ আসলেন এবং তাঁর জানাযার সালাত পড়ালেন। এটি ছিল মদিনায় ৫৫ হিজরি সালের ঘটনা। আরকাম আশির কোঠার কোনো এক বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি বলেন, আবু মাহজুরা—যাঁর নাম আউস বিন মুআইর বিন লুযান বিন রাবিয়াহ বিন উওয়াইয বিন সাদ বিন জুমাহ। তাঁর একজন আপন ভাই ছিল যার নাম আনিস, সে বদরের যুদ্ধে কাফের অবস্থায় নিহত হয়েছিল। ইবনে সাদ বলেন, আমি কাউকে আবু মাহজুরার বংশ বর্ণনা করতে গিয়ে বলতে শুনেছি যে, তাঁর নাম সামুরা বিন উমাইর বিন লুযান বিন ওয়াহাব বিন সাদ বিন জুমাহ এবং তাঁর আপন ভাইয়ের নাম আউস। তিনি বলেন, আবু মাহজুরার আব্দুল মালিক ও হুদাইর নামে দুই সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। আবু মাহজুরা ৫৯ হিজরি সালে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হিজরত করেননি এবং আমৃত্যু মক্কাতেই অবস্থান করেছিলেন।
হুসাইন বিন আলী বিন আবু তালিব (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) হিজরি চতুর্থ সালের শাবান মাসের কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কুনিয়াত ছিল আবু আব্দুল্লাহ। হুসাইন (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পুত্র আলী আল-আকবর তাঁর পিতার সাথে আল-তাফ-এ (কারবালা) নিহত হন। তাঁর মা ছিলেন সাকিফ গোত্রের আমিনা বিনতে আবি মুররা বিন উরওয়া বিন মাসউদ বিন মুআত্তিব। আমিনার মা ছিলেন আবু সুফিয়ান বিন হারবের কন্যা। তাঁর সম্পর্কে মুহাম্মদ বিন উমরের বর্ণনায় হাসসান বিন সাবিত বলেন: "দিনের সূর্য আমাদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করল, আর মানুষের মধ্যে কে এমন সূর্য দেখেছে যা সন্ধ্যায় প্রদক্ষিণ করে? তাঁর মাতামহ কুরাইশদের মধ্যে অঙ্গীকার রক্ষায় শ্রেষ্ঠ এবং যদি তুমি তাঁর চাচাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো তবে তারা সাকিফ গোত্র।"
(আবু জাফর বলেন) এই দুই পঙক্তি উমর বিন আবি রাবিয়াহ-এর প্রতিও সম্পৃক্ত করা হয় এবং এটি তাঁরই কবিতা। তিনি এভাবে আবৃত্তি করতেন: "সন্ধ্যার সূর্য আমাদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করল, আর মানুষের মধ্যে কে এমন সূর্য দেখেছে যা সন্ধ্যায় প্রদক্ষিণ করে? তাঁর মাতামহ কুরাইশদের মধ্যে অঙ্গীকার রক্ষায় শ্রেষ্ঠ এবং যদি তুমি তাঁর নসব বর্ণনা করো তবে তারা সাকিফ গোত্র।" এছাড়া (হুসাইনের পুত্র ছিলেন) আলী আল-আসগার, যাঁর মাধ্যমেই হুসাইন (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর বংশধারা বজায় রয়েছে। আলী আল-আকবরের কোনো বংশধর ছিল না। আসগারের মা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ। আলী বিন মুহাম্মদ বলেন, তাঁকে সুলাফা বলে ডাকা হতো। (আবু জাফর বলেন) বলা হয়ে থাকে যে তাঁর নাম ছিল জায়দা এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ ও নেতা স্থানীয়। আর ছিলেন জাফর—যাঁর কোনো বংশধর নেই এবং ফাতিমা—যাঁর মা উম্মে ইসহাক বিনতে তালহা বিন উবায়দুল্লাহ। তিনি এর আগে হাসান বিন আলীর স্ত্রী ছিলেন, অতঃপর যখন তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে এল...
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أوصى حسينا أن يتزوجها فتزوجها حسين فولدت له فاطمة وعبد الله قتل مع أبيه وسكينة وأمها الرباب ابنة امرئ القيس بن عدى بن أوس بن حابر بن كعب ابن عليم بن هبل بن كنانة بن بكر بن عوف بن عذرة بن زيد اللات ابن رفدة ابن ثور بن كلب وفى الرباب وسكينة يقول الحسين بن على عليه السلام لعمرك إننى لاحب دارا * تضيفها سكينة والرباب أحبهما وأبذل بعد مالى * وليس للاثمى فيها عتاب ولست لهم وإن عتبوا مطيعا * حياتي أو يغيبنى التراب قال على بن محمد عن حماد بن سلمة عن أبى المهزم قال كنا مع أبى هريرة في جنازة فلما رجعنا أعيا الحسين عليه السلام صعد فجعل أبو هريرة ينفض التراب عن قدميه بثوبه فقال له الحسين أنت يا أبا هريرة تفعل هذا قال دعني منك فلو يعلم الناس منك ما أعلم لحملوك على عواتقهم (قال أبو جعفر) وحدثت عن خالد ابن خداش قال لما قتل أهل فخ لبث حماد نحوا من شهر لا يجلس وكنت أراه محزونا ثم جلس بعد ذلك رقيقا تدمع عينه كثيرا شهرين أو ثلاثة سمعته يقول نحب
ولد على حب الاسلام وقال محمد بن عمر عن أبى معشر قتل الحسين عليه السلام لعشر خلون من المحرم قال الواقدي وهذا الثبت قال محمد بن عمرو حدثنا عطاء ابن مسلم أخبره عن عاصم بن أبى النجود عن زر بن حبيش قال أول رأس رفع على خشبة رأس الحسين عليه السلام وقال على بن محمد حدثنى على بن مجاهد عن حنش ابن الحارث عن شيخ من النخعي قال قال الحجاج من كان له بلاء فليقم فقام قوم فذكروا وقام سنان بن أنس فقال أنا قاتل الحسين عليه السلام فقال بلاء حسن ورجع إلى منزله فاعتقل لسانه وذهب عقله فكان يأكل ويحدث مكانه (قال وممن هلك سنة 64) المسور بن مخرمة بن نوفل بن أهيب بن عبدمناف بن زهرة بن كلاب ويكنى أبا عبد الرحمن وأمه عاتكة ابنة ععوف بن عبد عوف بن عبدبن الحارث بن زهرة ابن كلاب وهى أخت عبد الرحمن بن عوف وكانت من المهاجرات المبايعات
হুসাইনকে অসিয়ত করা হয়েছিল যে তিনি যেন তাকে বিবাহ করেন, ফলে হুসাইন তাকে বিবাহ করেন। তার গর্ভে ফাতিমা এবং আব্দুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন, যিনি তার পিতার সাথে নিহত হন। এছাড়াও সুকায়না জন্মগ্রহণ করেন। তাদের মাতা ছিলেন রবাব বিনতে ইমরাউল কায়েস ইবনে আদী ইবনে আউস ইবনে হাবের ইবনে কাব ইবনে আলিম ইবনে হুবাল ইবনে কিনানা ইবনে বকর ইবনে আউফ ইবনে উযরাহ ইবনে যাইদ আল-লাত ইবনে রাফাদা ইবনে সাওর ইবনে কালব। রবাব এবং সুকায়না সম্পর্কে হুসাইন ইবনে আলী (আলাইহিস সালাম) বলেন:
তোমার জীবনের কসম, আমি নিশ্চয়ই সেই ঘরকে ভালোবাসি,
যেখানে সুকায়না এবং রবাব অবস্থান করে।
আমি তাদের দুজনকে ভালোবাসি এবং আমার সম্পদ বিলিয়ে দেই,
এ বিষয়ে কোনো নিন্দুক আমাকে তিরস্কার করতে পারবে না।
তারা রাগ করলেও আমি তাদের অবাধ্য হব না,
যতদিন আমি জীবিত থাকি অথবা মাটি আমাকে ঢেকে ফেলে।
আলী ইবনে মুহাম্মদ, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আবু মুহাযযিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আবু হুরায়রার সাথে একটি জানাজায় ছিলাম। ফেরার পথে হুসাইন (আলাইহিস সালাম) ক্লান্ত হয়ে পড়লে আবু হুরায়রা তার কাপড় দিয়ে হুসাইনের পায়ের ধুলো ঝাড়তে শুরু করেন। তখন হুসাইন তাকে বললেন, হে আবু হুরায়রা! আপনি একি করছেন? তিনি বললেন, আমাকে করতে দিন; কেননা মানুষ যদি আপনার সম্পর্কে তা জানত যা আমি জানি, তবে তারা আপনাকে তাদের কাঁধে বহন করে চলত।
(আবু জাফর বলেন) খালিদ ইবনে খাদাশ থেকে আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: যখন 'ফাকখ'-এর অধিবাসীরা নিহত হলো, তখন হাম্মাদ প্রায় এক মাস পর্যন্ত না বসে কাটালেন। আমি তাকে অত্যন্ত শোকার্ত দেখতাম। এরপর তিনি দুই বা তিন মাস অত্যন্ত বিমর্ষ মনে থাকতেন এবং তার চোখ থেকে প্রচুর অশ্রু ঝরত। আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, আমরা ইসলামের প্রতি ভালোবাসার ওপর বড় হয়েছি।
মুহাম্মদ ইবনে উমর, আবু মা'শার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হুসাইন (আলাইহিস সালাম) মহররমের দশ তারিখ অতিবাহিত হওয়ার সময় নিহত হন। ওয়াকিদি বলেন, এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত মত।
মুহাম্মদ ইবনে আমর বলেন, আতা ইবনে মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আসেম ইবনে আবি নাজুদ থেকে, তিনি যির ইবনে হুবাইশ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: প্রথম যে মস্তকটি কাঠের উপর চড়ানো হয়েছিল, তা ছিল হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর মস্তক।
আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, আলী ইবনে মুজাহিদ আমার কাছে হানাস ইবনে হারিস থেকে এক নাখয়ি শায়খের বরাতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ বললেন, যার কোনো বীরত্বগাথা আছে সে দাঁড়িয়ে বলুক। তখন একদল লোক দাঁড়িয়ে তাদের কাজের কথা বলল। এরপর সিনান ইবনে আনাস দাঁড়িয়ে বলল, আমি হুসাইনের হন্তা। হাজ্জাজ বললেন, এটি একটি উত্তম পরীক্ষা (কৃতিত্ব)। এরপর সে যখন নিজ বাড়িতে ফিরল, তখন তার বাকশক্তি রুদ্ধ হয়ে গেল এবং সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলল। সে যেখানেই বসত সেখানেই খেত এবং সেখানেই মলমূত্র ত্যাগ করত।
(বর্ণনাকারী বলেন, ৬৪ হিজরিতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন) মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ ইবনে নাওফাল ইবনে উহাইব ইবনে আবদে মানাফ ইবনে যুহরাহ ইবনে কিলাব। তার উপনাম ছিল আবু আব্দুর রহমান। তার মাতা ছিলেন আতিকা বিনতে আউফ ইবনে আব্দে আউফ ইবনে আব্দ ইবনে হারিস ইবনে যুহরাহ ইবনে কিলাব। তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আউফের বোন ছিলেন এবং হিজরতকারী ও বায়আত গ্রহণকারী নারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقبض رسول الله صلى الله عليه وسلم والمسور بن مخرمة ابن ثمان سنين وذكر ابن عمر أن عبد الله بن جعفر حدثه عن أم بكر ابنة المسور بن مخرمة وأبى عون قالا أصاب المسور بن مخرمة حجر من المنجنيق ضرب البيت فانفلقت منه فلقة أصابت خد المسور وهو قائم يصلى فمرض منها أياما ثم هلك في اليوم الذى جاء فيه نعى يزيد مكة وابن الزبير يومئذ لا يتسمى بالخلافة الامر شورى قال محمد وحدثني عبد الله بن جعفر عن أبى عون وأم بكر ابنة المسور قالا مات المسور في اليوم الذى جاء فيه نعى يزيد بن معاوية لهلال شهر ربيع الآخر والمسور يومئذ ابن ثنتين وستين سنة (قال أبو جعفر) ولد المسور بعد الهجرة بسنتين وتوفى لهلال شهر ربيع الآخر سنة 64 وكان يحيى بن معين فيما حدثت عنه يقول مات المسور بن مخرمة سنة 73 (قال أبو جعفر) وهذا غلط من القول
(ذكر من هلك في سنة 65) منهم سليمان بن صرد بن الجون بن أبى الجون وهو عبد العزى بن منفذ بن ربيعة ابن اصرم بن ضبيس بن حرام بن حبشية بن كعب بن عمرو بن ربيعة بن حارثة ابن عمر ومزيقيا بن عامر ماء السماء بن حارثة الغطريف بن امرئ القيس بن ثعلبة ابن مازن بن الازد ويكنى أبنا مطرف أسلم وصحب النبي صلى الله عليه وسلم كان اسمه يسار فلما أسلم سماه رسول الله صلى الله عليه وسلم سليمان وكانت له سنن عالية وشرف ى قومه ونزل الكوفة حين نزلها المسلمون وشهد على عليه السلام صفين وكان ممن كتب إلى الحسين بن على عليه السلام يسأله قدوم الكوفة فلما قدمها ترك القتال معه فلما قتل الحسين عليه السلام ندم هو والمسيب بن نجبة الفزارى وجميع من خذله فلم يقاتل معه ثم قالوا ما لنا توبة مما فعلنا إلا أن نقتل أنفسنا في الطلب بدمه فعسكروا بالنخيلة مستهل شهر ربيع الآخر سنة 65 وولوا أمرهم سليمان بن صرد وخرجوا إلى الشأم في الطلب بدم الحسين عليه السلام فسموا التوابين وكانوا أربعة آلاف وقد ذكرنا خبرهم في كتابنا المسمى المذيل فقتل سليمان بن صرد في هذه الوقعة رماه يزيد بن الحصين بن نمير بسهم فقتله
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেন যখন মিসওয়ার বিন মাখরামার বয়স ছিল আট বছর। ইবনে উমর উল্লেখ করেছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন জাফর তাঁকে উম্মে বকর বিনতে মিসওয়ার বিন মাখরামা এবং আবু আউন থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: মিসওয়ার বিন মাখরামা মানজানিকের একটি পাথরের আঘাতে আহত হয়েছিলেন যা কাবা ঘরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তা থেকে একটি টুকরো ছিটকে এসে মিসওয়ারের গালে লাগে যখন তিনি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছিলেন। এর ফলে তিনি কয়েক দিন অসুস্থ থাকেন, এরপর সেই দিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন যেদিন ইয়াজিদের মৃত্যুর খবর মক্কায় পৌঁছায়। তখন ইবনে যুবাইর নিজেকে খলিফা হিসেবে ঘোষণা করেননি, বরং বিষয়টি ছিল পরামর্শভিত্তিক। মুহাম্মদ বলেন, আমাকে আব্দুল্লাহ বিন জাফর আবু আউন ও উম্মে বকর বিনতে মিসওয়ার থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: মিসওয়ার সেই দিন ইন্তেকাল করেন যেদিন রবিউস সানি মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার সময় ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার মৃত্যুর সংবাদ আসে। সে সময় মিসওয়ারের বয়স ছিল বাষট্টি বছর। (আবু জাফর বলেন) মিসওয়ার হিজরতের দুই বছর পর জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৪ হিজরির রবিউস সানি মাসের শুরুতে ইন্তেকাল করেন। ইয়াহইয়া বিন মাইন থেকে আমার কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলতেন, মিসওয়ার বিন মাখরামা ৭৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন। (আবু জাফর বলেন) এটি একটি ভুল বক্তব্য।
(৬৫ হিজরিতে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের বর্ণনা) তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুলাইমান বিন সুরাদ বিন আল-জাওন বিন আবিল জাওন, যিনি আব্দুল উজ্জা বিন মুনফিজ বিন রাবিয়া বিন আসরাম বিন দুবাইস বিন হারাম বিন হুবশিয়া বিন কাব বিন আমর বিন রাবিয়া বিন হারিসা বিন আমর মুযাইকিয়া বিন আমির মাউস সামা বিন হারিসা আল-গুত্রিফ বিন ইমরুল কায়েস বিন সা'লাবা বিন মাযিন বিন আল-আজদ। তাঁর উপনাম ছিল আবু মুতাররিফ। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। তাঁর নাম ছিল ইয়াসার, তিনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নাম রাখেন সুলাইমান। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান ছিলেন এবং নিজ গোত্রে তাঁর বিশেষ সম্মান ছিল। যখন মুসলমানরা কুফায় বসতি স্থাপন করে তখন তিনিও সেখানে আবাসন গ্রহণ করেন। তিনি আলী (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সিফফিনের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা হুসাইন বিন আলী (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে কুফায় আসার জন্য চিঠি লিখে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যখন কুফায় আসলেন, তখন তিনি তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। যখন হুসাইন (আলাইহিস সালাম) শহীদ হলেন, তখন তিনি, মুসাইয়িব বিন নাজাবা আল-ফাজারি এবং যারা তাঁকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হয়েছিল তারা সকলেই অনুতপ্ত হলেন। এরপর তারা বললেন: 'আমরা যা করেছি তা থেকে আমাদের তওবার আর কোনো পথ নেই, কেবল তাঁর রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করা ছাড়া।' ফলে ৬৫ হিজরির রবিউস সানি মাসের শুরুতে তারা নাখাইলায় শিবির স্থাপন করলেন। তারা সুলাইমান বিন সুরাদকে তাদের সেনাপতি নিযুক্ত করেন এবং হুসাইন (আলাইহিস সালাম)-এর রক্তের বদলা নিতে শামের দিকে যাত্রা করেন। ইতিহাসে তাঁরা 'তাওয়াবুন' (অনুতপ্তকারী) নামে অভিহিত হন এবং তাঁদের সংখ্যা ছিল চার হাজার। আমরা আমাদের 'আল-মুজায়্যাল' নামক গ্রন্থে তাঁদের কাহিনী সবিস্তারে বর্ণনা করেছি। সুলাইমান বিন সুরাদ এই যুদ্ধে নিহত হন; ইয়াজিদ বিন আল-হুসাইন বিন নুমাইর তাঁকে একটি তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وحمل رأسه ورأس المسيب بن نجبة إلى مروان بن الحكم أدهم بن محرز الباهلى وكان سليمان يوم قتل ابن ثلاث وتسعين سنة (ذكر من مات أو قتل سنة 68) قال ومنهم عبد الله بن العباس بن عبد المطلب بن هاشم بن عبدمناف بن قصى أمه أم الفضل وهى لبابة الكبرى ابنة الحارث بن حزن من بنى هلال بن عامر قال على بن محمد ولد عبد الله بن عباس عليا وهو سيد ولده ولد سنة 40 ويقال ولد عام الجمل سنة 36 وكان أجمل قرشي على الارض وأوسمه
وأكثره صلاة وكان يدعى السجاد وفى عقبه الخلافة وعباسا وهو أكبر ولده وبه كان يكنى ومحمدا وعبيد الله والفضل ولبابة أمهم زرعة ابنة مشرح بن معديكرب ابن وليعة ومشرح أحد الملوك الاربعة ولا بقية للعباس وعبيد الله والفضل ومحمد بن عبد الله بن عباس وأما لبابة ابنة عبد الله فإنها كانت تحت على بن عبد الله ابن جعفر بن أبى طالب رضى الله عنه فولدت له ولولدها أعقاب وأسماء ابنة عبد الله كانت عند عبد الله بن عبيد الله بن العباس فولدت له حسنا وحسينا أمها أم ولد قال ابن عمر لا اختلاف عند أهل العلم عندنا أن ابن عباس ولد في الشعب وبنو هاشم محصورون قبل خروجهم منه بيسير وذلك قبل الهجرة بثلاث سنين فتوفى رسول الله صلى الله عليه وسلم وابن عباس ابن ثلاث عشرة سنة ألا تراه يقول في حديث مالك عن الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عنه مررت في حجة الوداع على حمار أنا والفضل وقد راهقت يومئذ الاحتلام والنبى صلى الله عليه وسلم يصلى وذكر داود بن عمرو الضبى أن ابن أبى الزناد حدثه عن أبيه وعبد الله ابن الفضل بن عياش بن أبى ربيعة بن الحارث أخبرهما الثقة أن حسان بن ثابت قال إنا معاشر الانصار طلبنا إلى عمر أو إلى عثمانم يشك ابن أبى الزناد فمشينا بعبد الله بن عباس وبنفر معه من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فتكلم ابن عباس وتكلموا وذكروا الانصار ومناقبهم فاعتل الوالى قال حسان وكان أمرا شديدا طلبناه قال فمازال يراجعهم حتى قاموا وعذروه إلا عبد الله
এবং আদহাম বিন মুহরিজ আল-বাহিলি তার (সুলাইমানের) মাথা এবং মুসাইয়্যিব বিন নাজাবার মাথা মারওয়ান বিন আল-হাকামের কাছে বহন করে নিয়ে যান। সুলাইমান যেদিন নিহত হন সেদিন তাঁর বয়স ছিল ৯৩ বছর। (৬৮ হিজরীতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন বা নিহত হয়েছেন তাদের আলোচনা) তিনি বলেন, তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ বিন আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর মাতা ছিলেন উম্মুল ফাদল, যিনি হলেন বানু হিলাল বিন আমির গোত্রের আল-হারিস বিন হাযনের কন্যা লুবাবা আল-কুবরা। আলী বিন মুহাম্মদ বলেন, আবদুল্লাহ বিন আব্বাস আলীকে জন্ম দেন, যিনি ছিলেন তাঁর সন্তানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তিনি ৪০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন, আবার বলা হয় তিনি ৩৬ হিজরীতে উটের যুদ্ধের (জঙ্গে জামাল) বছর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পৃথিবীর বুকে কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, সুশ্রী এবং সর্বাধিক সালাত আদায়কারী। তাঁকে 'আস-সাজ্জাদ' বলা হতো এবং তাঁর বংশধরদের মধ্যেই খিলাফত নিহিত ছিল।
আর ছিলেন আব্বাস—যিনি তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং যাঁর নামানুসারে তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) রাখা হয়েছিল—এবং মুহাম্মদ, উবাইদুল্লাহ, ফাদল ও লুবাবা। তাঁদের মাতা ছিলেন যুরআ বিনতে মিশরাহ বিন মাদিকারিব বিন ওয়ালিআহ। মিশরাহ ছিলেন চার রাজার অন্যতম। আব্বাস, উবাইদুল্লাহ, ফাদল এবং মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আব্বাসের কোনো বংশধর অবশিষ্ট নেই। আর আবদুল্লাহর কন্যা লুবাবা সম্পর্কে বলা যায় যে, তিনি আলী বিন আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবি তালিব (রা.)-এর বিবাহাধীনে ছিলেন। তিনি তাঁর গর্ভে সন্তান জন্ম দেন এবং তাঁর সন্তানদের বংশধর রয়েছে। আবদুল্লাহর কন্যা আসমা ছিলেন আবদুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্বাসের স্ত্রী, তিনি তাঁর জন্য হাসান ও হুসাইনকে জন্ম দেন। তাঁর মাতা ছিলেন একজন উম্মে ওয়ালাদ (দাসী মাতা)। ইবনে উমর বলেন, আমাদের নিকট ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, ইবনে আব্বাস শায়বে (আবি তালিবে) জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন বনু হাশিম সেখানে অবরুদ্ধ ছিল, সেখান থেকে তাদের বের হওয়ার অল্পকাল আগে। এটি হিজরতের তিন বছর আগের ঘটনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন ইবনে আব্বাসের বয়স ছিল তেরো বছর। আপনি কি দেখেন না যে, তিনি মালিক কর্তৃক বর্ণিত যুহরি থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদিসে বলছেন: "আমি বিদায় হজের সময় একটি গাধার পিঠে চড়ে যাচ্ছিলাম—আমি এবং ফাদল—তখন আমি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার নিকটবর্তী ছিলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করছিলেন।" দাউদ বিন আমর আদ-দাব্বি উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আবিয যিনাদ তাঁর পিতার সূত্রে এবং আবদুল্লাহ ইবনুল ফাদল বিন আইয়াশ বিন আবি রাবিআ বিন আল-হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন—তাদের উভয়কে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যে, হাসসান বিন সাবিত বলেছেন: "আমরা আনসার সম্প্রদায় উমর বা উসমানের কাছে (ইবনে আবিয যিনাদ সন্দেহ পোষণ করেছেন কার কাছে) একটি আবেদন নিয়ে গেলাম। আমরা আবদুল্লাহ বিন আব্বাস এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীকে সাথে নিয়ে পথ চললাম। ইবনে আব্বাস কথা বললেন এবং তাঁরাও কথা বললেন এবং তাঁরা আনসারদের মর্যাদা ও গুণাবলী উল্লেখ করলেন। কিন্তু ওয়ালি (তৎকালীন শাসক) ওজর পেশ করলেন। হাসসান বলেন, আমরা যা চেয়েছিলাম তা ছিল অত্যন্ত কঠিন বিষয়। তিনি বলেন, তিনি (ইবনে আব্বাস) তাদের সাথে আলোচনা ও যুক্তি-তর্ক চালিয়ে যেতে থাকলেন যতক্ষণ না তারা উঠে দাঁড়ালেন এবং আবদুল্লাহ ছাড়া বাকি সবাই তাঁর ওজর গ্রহণ করে নিলেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ابن عباس قال لا والله ما للانصار من مترك لقد نصروا وآووا وذكر من فضلهم وقال إن هذا لشاعر رسول الله صلى الله عليه وسلم والمنافح عنه فلم يزل عبد الله يراجعه بكلام جوامع يسد عليه كل حجة فلم يجد بدا من أن قضى حاجتنا قال فخرجنا وقد قضى الله عزوجل حاجتنا بكلامه فمررت في المسجد بالنفر الذين
كان معه فلم يبلغوا ما بلغ فقلت حيث يسمعون إنه كان أولاكم بها قالوا أجل فقلت لعبد الله إنها والله صبابة النبوة ووراثة أحمد صلى الله عليه وسلم كان أحقكم بها قال حسان فقلت وأنا أشير إلى عبد الله إذا قال لم يترك مقالا لقائل * بملتقطات لا ترى بينها فصلا كفى وشفى مافى الصدور فلم يدع * لذى إربة في القول جدا ولا هزلا سموت إلى العليا بغير مشقة * فنلت ذراها لاذنيئا ولا وغلا وحدثني خالد بن القاسم البياضى عن شعبة قال سمعت ابن عباس يقول ولدت قبل الهجرة بثلاث سنين ونحن في الشعب وتوفى رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا ابن ثلاث عشرة سنة وتوفى ابن عباس سنة 68 وهو ابن إحدى وسبعين سنة.
قال ابن عمر وحدثني محمد بن عقبة ومحمد بن رفاعة بن ثعلبة بن أبى مالك عن شعبة مولى ابن عباس قال مات عبد الله بن عباس بالطائف سنة 68 وهو ابن اثنتين وسبعين سنة.
وقال ابن عمر حدثنى إسحاق بن يحيى قال حدثنا أبو سلمة الحضرمي قال رأيت قبر ابن عباس وابن الحنفية قائم عليه فأمر به أن يسطح وقال على بن محمد عن حفص بن ميمون عن أبيه قال توفى عبد الله بن عباس بالطائف فجاء طائر أبيض قدخل بين النعش والسرير فلما وضع في قبره سمعنا تاليا يتلو " يا أيتها النفس المطمئنة ارجعي إلى ربك راضية مرضية " وذكر بعضهم عن على بن محمد أنه قال توفى عبد الله بن عباس وهو ابن أربع وسبعين سنة (ذكر من توفى أو قتل منهم سنة 74) منهم أبو سعيد الخدرى واسمه سعد بن مالك بن سنان بن ثعلبة بن عبيد بن الايجر واسمه خدرة بن عوف بن حارث بن الخزرج وقد زعم بعضهم أن خدرة
ইবনে আব্বাস বললেন, "না, আল্লাহর শপথ, আনসারদের বর্জন করার কোনো অবকাশ নেই। তাঁরা সাহায্য করেছেন এবং আশ্রয় দিয়েছেন।" তিনি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করলেন এবং বললেন, "নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবি এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা প্রদানকারী।" অতঃপর আবদুল্লাহ (ইবনে আব্বাস) তাঁর সাথে এমন সারগর্ভ কথার মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে গেলেন যা সকল যুক্তি খণ্ডন করে দিচ্ছিল। ফলে তিনি আমাদের প্রয়োজন পূরণ না করে উপায়ান্তর পেলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বেরিয়ে এলাম এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর (ইবনে আব্বাসের) কথার মাধ্যমে আমাদের প্রয়োজন পূরণ করে দিলেন। অতঃপর আমি মসজিদে সেই দলটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যারা
তাঁর সাথে ছিল কিন্তু তাঁর ন্যায় সাফল্যে পৌঁছাতে পারেনি। আমি তাঁদের শ্রবণসীমার মধ্যে বললাম, "নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের মধ্যে এর সবচেয়ে বেশি হকদার ছিলেন।" তাঁরা বলল, "হ্যাঁ।" তখন আমি আবদুল্লাহকে বললাম, "আল্লাহর শপথ, এটি নবুওয়াতের অবশেষ এবং আহমাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তরাধিকার, যার জন্য আপনিই সবচেয়ে বেশি যোগ্য ছিলেন।" হাসসান বললেন, আমি আবদুল্লাহর দিকে ইশারা করে বললাম: "যখন তিনি কথা বলেন, তখন অন্য কোনো বক্তার জন্য কোনো বক্তব্যই অবশিষ্ট রাখেন না; এমন এক সুবিন্যস্ত চয়িত বাক্যের মাধ্যমে যার মাঝে কোনো বিচ্ছেদ বা অসংলগ্নতা দেখা যায় না। তিনি অন্তরের তৃষ্ণা মিটিয়েছেন এবং আরোগ্য দিয়েছেন, ফলে তিনি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য বাক্যালাপে গুরুত্ব বা কৌতুকপূর্ণ কোনো কথার অবকাশ রাখেননি। আপনি কোনো কষ্ট ছাড়াই উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছেন এবং এর চূড়া স্পর্শ করেছেন, কোনো হীন বা অখ্যাত ব্যক্তি হিসেবে নয়।" খালিদ বিন আল-কাসিম আল-বায়াদী শু'বা থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি, "আমি হিজরতের তিন বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছি যখন আমরা শিয়াবে (আবু তালিব) ছিলাম। আর যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন, তখন আমার বয়স ছিল তেরো বছর।" ইবনে আব্বাস ৬৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল একাত্তর বছর।
ইবনে উমর বলেন, মুহাম্মদ বিন উকবা এবং মুহাম্মদ বিন রিফায়া বিন সা'লাবা বিন আবি মালিক শু'বা (ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আব্বাস ৬৮ হিজরিতে তায়েফে ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল বাহাত্তর বছর।
ইবনে উমর বলেন, ইসহাক বিন ইয়াহইয়া আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু সালামা আল-হাদরামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: আমি ইবনে আব্বাসের কবর দেখেছি এবং ইবনে আল-হানাফিয়্যা তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, অতঃপর তিনি কবরটিকে সমান করার নির্দেশ দিলেন। আলী বিন মুহাম্মদ হাফস বিন মাইমুন থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন আব্বাস তায়েফে ইন্তেকাল করেন, তখন একটি সাদা পাখি এসে খাটিয়া ও শবাধারের মাঝে প্রবেশ করল। যখন তাঁকে কবরে রাখা হলো, তখন আমরা একজন পাঠকারীকে তিলাওয়াত করতে শুনলাম: "হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।" তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আলী বিন মুহাম্মদ থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন আব্বাস যখন ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বয়স ছিল চুয়াত্তর বছর। (৭৪ হিজরিতে যারা ইন্তেকাল করেছেন বা নিহত হয়েছেন তাঁদের উল্লেখ): তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু সাঈদ আল-খুদরি, তাঁর নাম হলো সাদ বিন মালিক বিন সিনান বিন সা'লাবা বিন উবাইদ বিন আল-আইজার, আর তাঁর উপনাম খুদরা বিন আউফ বিন হারিস বিন আল-খাযরাজ। তাঁদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে খুদরা...
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাখাবু মিন জাইলিল মুজাইয়্যাল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
هي أم الابجر وأخو أبى سعيد لامه قتادة بن النعمان الظفرى من أهل بدر قال ابن عمر حدثنى الضحاك بن عثمان عن محمد بن يحيى بن حبان عن ابن محيريز وأبى
صرمة عن أبى سعيد الخدرى قال خرجت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة بنى المصطلق قال ابن عمر وهو يومئذ ابن خمس عشرة سنة قال وشهد أيضا الخندق وما بعد ذلك من المشاهد قال ابن عمرو حدثنا سعيد بن أبى زيد عن ربيح بن عبد الرحمن بن أبى سعيد عن أبيه عن أبى سعيد قال عرضت يوم أحد على النبي صلى الله عليه وسلم وأنا ابن ثلاث عشرة سنة فجعل أبى يأخذ بيدى فيقول يا رسول الله إنه عبل العظام وإن كان مؤدنا قال وجعل النبي صلى الله عليه وسلم يصعد في البصر ويصوبه ثم قال رده فرده قال ابن عمر حدثنى عبد العزيز بن عقبة عن إياس بن سلمة بن الاكوع قال مات أبو سعيد الخدرى سنة 74 (ذكر الخبر عمن هلك منهم سنة 78) منهم جابر بن عبد الله بن عمرو بن حرام بن ثعلبة بن حرام بن كعب بن غنم بن كعب بن سلمة بن سعد بن على بن أسد بن ساردة بن تزيد بن جشم بن الخزرج وكان يكنى أبا عبد الله شهد العقبة في السبعين من الانصار الذين بايعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عندها وكان من أصغرهم يومئذ وأراد شهود بدر فخلفه أبوه على أخواته وكن تسعا وخلفه أيضا حين خرج إلى أحد وشهد ما بعد ذلك من المشاهد قال ابن عمر حدثنا إبراهيم بن جعفر عن أبيه قال سألت جابر بن عبد الله كم غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال سبعا وعشرين غزوة غزا بنفسه وغزوت معه منها ست عشرة غزوة ولم أقدر أن أغزو حتى قتل أبى بأحد كان يخلفني على اخواتى وكن تسعا فكان أول غزوة غزوتها معه حمراء الاسد إلى آخر مغازيه قال محمد بن عمرو حدثنى خارجة بن الحارث قال مات جابر بن عبد الله سنة 78 وهو ابن أربع وتسعين سنة وكان قد ذهب بصره قال ورأيت على سريره بردا وصلى عليه أبان ابن عثمان وهو والى المدينة
তিনি হলেন উম্মুল আবজার এবং আবু সাঈদের বৈপিত্রেয় ভাই হলেন কাতাদা বিন নুমান আল-জফরী, যিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের একজন ছিলেন। ইবন ওমর বলেন, যাহহাক বিন উসমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন হাব্বান থেকে, তিনি ইবন মুহাইরিজ ও আবু সারমাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বনী মুস্তালিকের যুদ্ধে বের হয়েছিলাম। ইবন ওমর বলেন, সে সময় তাঁর বয়স ছিল পনের বছর। তিনি খন্দক এবং তার পরবর্তী সকল যুদ্ধ ও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। ইবন ওমর বলেন, সাঈদ বিন আবু যায়েদ রবীহ বিন আবদুর রহমান বিন আবু সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওহুদ যুদ্ধের দিন আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে পেশ করা হলো, তখন আমার বয়স ছিল তের বছর। তখন আমার পিতা আমার হাত ধরে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে হাড়ের দিক থেকে বেশ মজবুত, যদিও সে অল্পবয়সী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দৃষ্টি নিচ থেকে উপরে এবং উপর থেকে নিচে সঞ্চালিত করলেন এবং বললেন, তাকে ফেরত দাও। অতঃপর তিনি তাকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। ইবন ওমর বলেন, আবদুল আজিজ বিন উকবা ইয়াস বিন সালামাহ বিন আকওয়া থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবু সাঈদ আল-খুদরী ৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (যারা ৭৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের সংবাদ): তাদের মধ্যে রয়েছেন জাবির বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম বিন সা’লাবা বিন হারাম বিন কা’ব বিন গানাম বিন কা’ব বিন সালামাহ বিন সা’দ বিন আলী বিন আসাদ বিন সারাদাহ বিন তাযীদ বিন জুশাম বিন খাযরাজ। তাঁর উপনাম ছিল আবু আবদুল্লাহ। তিনি আকাবার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সত্তর জন আনসারের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা সেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন, আর তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে বয়সে কনিষ্ঠতমদের একজন। তিনি বদর যুদ্ধে উপস্থিত হতে চেয়েছিলেন কিন্তু তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর বোনদের দেখাশোনার জন্য রেখে গিয়েছিলেন, তারা সংখ্যায় ছিল নয় জন। ওহুদ যুদ্ধে যাওয়ার সময়ও তিনি তাকে রেখে যান। এরপর তিনি পরবর্তী সকল যুদ্ধ ও অভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন। ইবন ওমর বলেন, ইব্রাহিম বিন জাফর তাঁর পিতা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জাবির বিন আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কতটি যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন? তিনি বললেন, তিনি সাতাশটি যুদ্ধে সশরীরে অংশ নিয়েছেন এবং আমি তাঁর সাথে এর মধ্যে ষোলোটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। ওহুদ যুদ্ধে আমার পিতা শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি যুদ্ধে যেতে সক্ষম হইনি, কারণ তিনি আমাকে আমার বোনদের জন্য রেখে যেতেন, তারা ছিল নয় জন। আমি তাঁর সাথে প্রথম যে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম তা ছিল হামরাউল আসাদ, এভাবে তাঁর শেষ যুদ্ধ পর্যন্ত আমি সাথে ছিলাম। মুহাম্মদ বিন আমর বলেন, খারিজাহ বিন হারিস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, জাবির বিন আবদুল্লাহ ৭৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল চুরানব্বই বছর। সে সময় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর লাশের খাটিয়ার ওপর একটি চাদর দেখেছি এবং আবান ইবন উসমান তাঁর জানাজার নামাজ পড়িয়েছেন, যিনি সে সময় মদীনার ওয়ালী ছিলেন।