(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: -)
فائدة جليلة في قواعد الأسماء الحسنى القسم: العقيدة
الكتاب: فائدة جليلة في قواعد الأسماء الحسنى
المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751هـ)
المحقق: عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر
الناشر: غراس، الكويت
الطبعة: الأولى، 1424هـ/2003م
عدد الصفحات: 50
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আসমাউল হুসনার মূলনীতিসমূহের বিষয়ে একটি মহান ফায়দা বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: আসমাউল হুসনার মূলনীতিসমূহের বিষয়ে একটি মহান ফায়দা
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন সা’দ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)
মুহাক্কিক: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বদর
প্রকাশক: গারাস, কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি/২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৫)
فائدة جليلة: في قواعد الأسماء الحسنى
تأليف: أبو عبد الله محمد بن أبي بكر المعروف بابن قيم الجوزية
تحقيق: عَبْد الرّزاق بن عَبد المحسِن البَدْر
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةالحمد للَّه المحمود على كال حال، الموصوف بصفات الجلال والكمال، له الأسماء الحسنى وهو الكبير المتعال.
أما بعد: فإنَّ من أجل العلوم وأعظمها نفعّا وأكثرها فائدةً معرفةً القواعد والأصول والضوابط الكلية الجامعة، ذلك أنَّ الأصول والقواعد للعلوم بمنزلة الأساس للبنيان والأصول للأشجار لا ثبات لها إلا بها، والأصول تبنى عليها الفروع، والفروع تثبت وتتقوى بالأصول، وبالقواعد والأصول يثبت العلم ويقوى وينمى نماءً مطردًا، وبها تعرف مآخذ الأصول، وبها يحصل الفرقان بين المسائل التي تشتبه كثيراً، كما أنَّها تجمع النظائر والأشباه التي من جمال العلم جمعها"1 إلى
--------------------------------------------
একটি মহান উপকারিতা: সুন্দরতম নামসমূহের নীতিমালা প্রসঙ্গে
রচনায়: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি বকর, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ নামে পরিচিত
তাহকীক: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল অবস্থায় প্রশংসিত, মহিমা ও পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত। তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং তিনি সুমহান ও সুউচ্চ।
অতঃপর: নিশ্চয়ই জ্ঞানসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম, সর্বাধিক কল্যাণকর এবং সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হলো সামগ্রিক ও সমন্বিত নীতিমালা, মূলনীতি ও বিধিবিধানের জ্ঞান। কেননা জ্ঞানরাজ্যের জন্য মূলনীতি ও নীতিমালাসমূহ ইমারতের ভিত্তিস্বরূপ এবং বৃক্ষের শিকড়স্বরূপ, যা ছাড়া এগুলোর কোনো স্থায়িত্ব নেই। মূলনীতির ওপরই শাখা-প্রশাখা নির্মিত হয়, আর শাখা-প্রশাখাগুলো মূলনীতির মাধ্যমেই সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হয়। নীতিমালা ও মূলনীতির মাধ্যমেই জ্ঞান সুসংহত হয়, শক্তিশালী হয় এবং ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পায়। এগুলোর মাধ্যমেই মূল বিষয়ের উৎসস্থলগুলো চেনা যায় এবং এর মাধ্যমেই সেই সব মাসআলা বা বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয় যেগুলোর মধ্যে প্রায়ই অস্পষ্টতা তৈরি হয়। একইভাবে এগুলো সমজাতীয় ও সদৃশ বিষয়গুলোকে একত্রিত করে, আর এ জাতীয় বিষয়গুলোকে একত্রিত করা জ্ঞানের সৌন্দর্যেরই অংশ।" ১ পর্যন্ত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৬)
غير ذلك من الفوائد العظيمة والمنافع الجليلة التي لا تحصى.
بل إنَّ "من محاسن الشريعة وكمالها وجمالها وجلالها: أنَّ أحكامها الأصولية والفروعية والعبادات والمعاملات وأمورها كلها لها أصول وقواعد تضبط أحكامها وتجمع متفرقها وتنشر فروعها وتردها إلى أصولها"1.
والقاعدة: هي أمر كليٌ ينطبق على جزئياتٍ كثيرةٍ تفهم أحكامها منها2.
فإذا ضُبطت القاعدة وفهم الأصل أمكن الإلمام بكثيرٍ من المسائل التي هي بمثابة الفرع لهذه القاعدة، وأُمن الخلطُ بين المسائل التي قد تشتبه، وكان فيها تسهيلٌ لفهم العلم وحفظه وضبطه، وبها يكون الكلام مبنيّا على علم متين وعدل وإنصاف.
ولذا يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "لابد أن يكون مع الإنسان أصولٌ كلية ترد إليها الجزئيات؟ ليتكلم بعلم
--------------------------------------------
এ ছাড়া রয়েছে অসংখ্য মহান উপকারিতা এবং সুমহান কল্যাণ যা গণনা করা সম্ভব নয়।
বরং "শরীয়তের অন্যতম সৌন্দর্য, পূর্ণতা, রূপ ও মহিমা হলো: এর মৌলিক ও শাখা-প্রশাখাগত বিধানাবলী, ইবাদত, লেনদেন এবং এর যাবতীয় বিষয়ের এমন কিছু মূলনীতি ও নিয়ম রয়েছে যা এর বিধানগুলোকে সুসংহত করে, বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করে, শাখা-প্রশাখাগুলোকে প্রসারিত করে এবং সেগুলোকে পুনরায় মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়"১।
আর মূলনীতি হলো: এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যা অনেক আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়, যেগুলোর বিধান এই মূলনীতি থেকেই বুঝা যায়২।
সুতরাং যখন মূলনীতিটি সুসংহত হয় এবং মূল ভিত্তিটি বোধগম্য হয়, তখন এমন অনেক মাসআলা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয় যা ওই মূলনীতির শাখা হিসেবে বিবেচিত। এর মাধ্যমে সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলাগুলোর মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটার ভয় থেকে নিরাপদ থাকা যায়। এতে ইলম বা জ্ঞান অর্জন করা, তা মুখস্থ রাখা এবং আয়ত্ত করা সহজ হয়। এর মাধ্যমেই আলোচনা সুদৃঢ় জ্ঞান, ন্যায়বিচার ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই কারণেই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মানুষের কাছে এমন কিছু সামগ্রিক মূলনীতি থাকা আবশ্যক যার দিকে আংশিক বিষয়গুলোকে ফিরিয়ে নেওয়া যায়, যাতে সে ইলম বা জ্ঞানের সাথে কথা বলতে পারে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وعدل، ثم يعرف الجزئيات كيف وقعت، وإلا فيبقى في كذب وجهل في الجزئيات، وجهل وظلم في الكليات فيتولد فسادٌ عظيمٌ) 1.
لأجل هذا عُني أهل العلم كثيراً. بوضع القواعد وجمعها في الفنون المختلفة، فلا تكاد تجد فناً من الفنون إلا وله قواعدُ كثيرةُ وضوابطُ عديدةٌ تجمع متفرقه، وتزيل مشتبهه، وتنير معالمه، وتيسر فهمه، وحفظه، وضبطه.
وهذا الجزءُ الذي بين يديك مشتمل على أصولٍ عظيمةٍ وقواعدَ وضوابطَ مهمةٍ في فقه أسماء الله الحسنى، مستمدةٍ من الشرع معلومةٍ بالاستقراء والتتبع لنصوص الكتاب والسنة، تعين مطالعها وقارئها على فهم الأسماء الحسنى فهماً صحيحاً سليمًا بعيداً عن شطط أهل الأهواء وانحرافاتهم الكثيرة في قواعدهم التي قعدوها وأصولهم التي أصلوها بعقولهم الفاسدةٍ، وأهوائهم المنحرفةِ، فناقضوا بها أصول الشريعة، وعارضوا بها النصوص المحكمة، وأضلوا بها كثيرًا، وضلوا عن سواء السبيل
--------------------------------------------
...এবং ন্যায়বিচার, অতঃপর আংশিক বিষয়গুলো কীভাবে ঘটেছে তা অবগত হওয়া। অন্যথায় সে আংশিক বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে মিথ্যা ও অজ্ঞতার মধ্যে এবং সামগ্রিক বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা ও জুলুমের মধ্যে নিমজ্জিত থাকবে, ফলে এক মহা বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে) ১।
এই কারণেই বিজ্ঞ আলেমগণ বিভিন্ন শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ প্রণয়ন ও সংকলনের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। ফলে আপনি প্রায় কোনো শাস্ত্রই পাবেন না যার অনেকগুলো মূলসূত্র ও বহুবিধ নীতিমালা নেই, যা তার বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করে, তার অস্পষ্টতা দূর করে, তার বৈশিষ্ট্যগুলোকে সমুজ্জ্বল করে এবং তার সম্যক উপলব্ধি, মুখস্থকরণ ও আয়ত্ত করাকে সহজতর করে।
আপনার সম্মুখে বিদ্যমান এই অংশটি আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের গভীর জ্ঞানের ক্ষেত্রে কতিপয় মহান মূলনীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম-কানুনের সমষ্টি, যা শরিয়ত থেকে গৃহীত এবং কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ আরোহী পদ্ধতি ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের মাধ্যমে লব্ধ। এগুলো এর পাঠক ও অধ্যয়নকারীকে আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ সম্পর্কে এমন এক সঠিক ও নির্ভুল সম্যক জ্ঞান লাভে সহায়তা করবে, যা প্রবৃত্তি পূজারীদের অতিরঞ্জন এবং তাদের সেই নানাবিধ বিচ্যুতি থেকে দূরে রাখবে যা তারা তাদের কলুষিত বুদ্ধি ও বিভ্রান্ত প্রবৃত্তির মাধ্যমে নিজেদের মনগড়া নীতি ও মূলনীতি হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। এর দ্বারা তারা শরিয়তের মূলনীতির বিরোধিতা করেছে, সুস্পষ্ট দলীলসমূহের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে এবং নিজেরাও সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأصله "فائدة جليلة"أودعها الإمام المحقق والعلامة المدقق ابن قيم الجوزية كتابه العظيم "بدائع الفوائد"1 نبه فيها رحمه الله على ضوابط مهمةٍ، وقواعد عظيمةٍ، وأصولٍ كليةٍ متينةٍ متعلقةٍ بفهم أسماء الله الحسنى وفقهها. قال في تمامها رحمه الله "فهذه عشرون فائدةً مضافةٌ إلى القاعدة التي بدأنا بها في أقسام ما يوصف به الربُ تبارك وتعالى، فعليك بمعرفتها ومراعاتها، ثم اشرح الأسماء الحسنى إن وجدت قلبّا عاقلاً، ولساناً قائلاً، ومحلاً قابلاً، وإلا فالسكوت أولى بك فجناب الربوبية أجلُّ وأعزُّ مما يخطر بالبال أو يعبر عنه المقال
… ".
وقد رأيت أنَّ من المفيد جدًّا إفراد هذه الفائدة الجليلة بالنشر، لتكثر فائدتها ولتكون سهلة التناول قريبة المأخذ، وقد تحصَّل لي بحمد الله ثلاث نسخ خطية لهذا الموضع من بدائع الفوائد:
الأولى: من مكتبة المخطوطات بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية تحت رقم (2976/ ف) ورمزت لها بالحرف (خ) .
--------------------------------------------
এর মূল হলো একটি "মহান শিক্ষা", যা গবেষক ইমাম ও সূক্ষ্মদর্শী আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ তাঁর মহান গ্রন্থ "বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ"-এ সন্নিবেশিত করেছেন। এতে তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ উপলব্ধি ও অনুধাবন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি, মহান নিয়মাবলী এবং সুদৃঢ় মৌলিক ভিত্তিগুলোর ওপর আলোকপাত করেছেন। তিনি এর শেষে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন, "এগুলো হলো বিশটি শিক্ষা, যা সেই মূলনীতির সাথে যুক্ত হয়েছে যা দিয়ে আমরা মহান ও বরকতময় রবকে যেসব বিশেষণে বিশেষিত করা যায় তার প্রকারভেদ বর্ণনা শুরু করেছিলাম। সুতরাং আপনার কর্তব্য হলো এগুলো জানা ও তা অনুসরণ করা। এরপর আপনি আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ব্যাখ্যা করুন যদি আপনি একটি বোধশক্তিসম্পন্ন অন্তর, সাবলীল জিহ্বা এবং একটি গ্রহণক্ষম ক্ষেত্র পান। অন্যথায় নীরব থাকাই আপনার জন্য শ্রেয়; কারণ রুবুবিয়্যাতের মাহাত্ম্য মনে যা উদিত হয় বা কথায় যা প্রকাশ পায় তার চেয়ে অনেক বেশি মহান ও সম্মানীয়
… "।
আমি মনে করেছি যে, এই মহান শিক্ষাটিকে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করা অত্যন্ত উপকারী হবে, যাতে এর উপকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং এটি সহজে নাগালে ও আয়ত্তযোগ্য হয়। আল্লাহর প্রশংসায়, আমার কাছে 'বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ'-এর এই অংশের জন্য তিনটি পাণ্ডুলিপি হস্তগত হয়েছে:
প্রথমটি: ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগার থেকে, যার নম্বর (২৯৭৬/ ফা) এবং আমি এটিকে (খা) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ৯)
والثانية: أيضا من مكتبة المخطوطات بجامعة الإمام محمد ابن سعود الإسلامية تحت رقم (105/ ف) ورمزت لها بالحرف (ص) .
والثالثة: من مكتبة الأخ الفاضل الشيخ الوليد بن عبد الرحمن الفريان وقد صورها من إحدى المكتبات الخاصة. ورمزت لها بالحرف (ب) .
فقابلت بين هذه النسخ الثلاث، والنسخة المطبوعة، ولوامع الأنوار البهية1 للسفاريني فقد نقل جملةً كبيرةً من هذه القواعد نصًا عن بدائع الفوائد؟ ونظرًا لكثرة الأخطاء الواقعة في النسخ الخطية الثلاث، وفي النسخة المطبوعة لم اعتمد شيئًا منها أصلاً أبني عليه، وإنَّما قابلت بين النسخ وأثبت في المتن ما رأيته صحيحًا صوابًا؛ وللسبب ذاته لم أر أيضًا إثقال الهوامش بإثبات جميع الفروقات الواقعة بين النسخ، وإنَّما رأيت الاقتصار على ما في إثباته فائدة، ثم إنّي مع هذا قد عزوت الآيات القرآنية إلى أماكنها، وخرجت
--------------------------------------------
এবং দ্বিতীয়টি: এটিও ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত, যার নম্বর (১০৫/ ফা) এবং আমি এটিকে (সদ) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
এবং তৃতীয়টি: সম্মানিত ভাই শেখ আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-ফারইয়ানের লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত, যা তিনি একটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। আমি এটিকে (বা) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
অতঃপর আমি এই তিনটি পাণ্ডুলিপি, মুদ্রিত সংস্করণ এবং সাফারিনির ‘লাওয়ামি আল-আনোয়ার আল-বাহিয়্যাহ’ গ্রন্থের মধ্যে তুলনা করেছি; কারণ তিনি এই নীতিমালাগুলোর একটি বিশাল অংশ ‘বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ’ থেকে হুবহু উদ্ধৃত করেছেন। তিনটি পাণ্ডুলিপি এবং মুদ্রিত সংস্করণে বিদ্যমান প্রচুর ভুলের কারণে আমি কোনোটিকেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করিনি। বরং আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক তুলনা করেছি এবং যা সঠিক ও নির্ভুল বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, তা-ই মূল পাঠে সাব্যস্ত করেছি। একই কারণে আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার সকল পার্থক্য উল্লেখ করে পাদটীকাকে ভারাক্রান্ত করা সমীচীন মনে করিনি; বরং শুধুমাত্র সেটুকু উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি যার মধ্যে ফায়দা রয়েছে। এর পাশাপাশি আমি কুরআনের আয়াতসমূহকে তাদের নির্দিষ্ট স্থানের দিকে নিসবত করেছি এবং হাদিসসমূহ তখরিজ করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১০)
الأحاديث باختصار، وعلقت على بعض المواطن اليسيرة، فأرجو اللَّه أنْ يكون هذا العمل متقبلاً عنده وسائر أعمالي إنَّه قريبٌ مجيب.
وكتب عبد الزراق بن عبد المحسن البدر
في 15/6/1415هـ
হাদীসসমূহ সংক্ষেপে, এবং আমি অল্প কিছু স্থানে টীকা প্রদান করেছি, আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এই আমলটি এবং আমার অন্যান্য সকল আমল তাঁর নিকট কবুল হয়; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে ও দোআ কবুলকারী।
লিখেছেন: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর
১৫/৬/১৪১৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
اقسام ما يجري صفة أو خبرا على الرب…النص المحقق
بسم الله الرحمن الرحيم
قال الإمام العلامة المحقق شمس الدين أبو عبد الله محمد ابن أبي بكر الزرعي الشهير بابن قيم الجوزية رحمه الله تعالى في كتابه القيم "بدائع الفوائد"ما نصه:
প্রভুর ওপর গুণ বা সংবাদ হিসেবে যা বর্ণিত হয় তার প্রকারভেদ…সম্পাদিত মূল পাঠ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ইমাম, আল্লামা, গবেষক শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আবু বকর আয-যুরয়ি, যিনি ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ নামে সুপরিচিত (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন), তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ"-এ যা বলেছেন তা নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فائدة جليلة: ما يجري صفةً أو خبراً على الرب تبارك وتعالى أقسامٌ:
أحدها: ما يرجعُ إلى نفس الذات؟ كقولك: ذات وموجود وشيء.
الثاني: ما يرجعُ إلى صفاتٍ معنويةٍ، كالعليم والقدير والسميع.
الثالث: ما يرجعُ إلى أفعاله؛ نحو: الخالق والرزاق.
الرابع: ما يرجعُ إلى التنزيه المحض. ولابد من تضمنه ثبوًا إذ لا كمال في العدم المحض؟ كالقدوس السلام.
الخامس: ولم يذكره أكثرُ الناس، وهو الاسم الدال على جملة أوصافٍ عديدةٍ لا تختصُ بصفةٍ معينةٍ، بل هو دالٌ على معانٍ1 لا على معنى مفردٍ؛ نحو: المجيد العظيم الصمد، فإنَّ المجيد من اتصف بصفاتٍ متعددةٍ من صفات الكمال، ولفظه يدل على هذا، فإنَّه موضوعٌ للسعة والكثرة والزيادة،
--------------------------------------------
মহান ফায়দা: বরকতময় ও মহান রবের ওপর সিফাত বা সংবাদ হিসেবে যা প্রয়োগ করা হয় তা কয়েক প্রকার:
প্রথমত: যা স্বয়ং সত্তার দিকে ফিরে যায়; যেমন আপনার বলা: সত্তা, বিদ্যমান এবং বস্তু।
দ্বিতীয়ত: যা অর্থগত গুণাবলির দিকে ফিরে যায়; যেমন সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান এবং সর্বশ্রোতা।
তৃতীয়ত: যা তাঁর কার্যাবলির দিকে ফিরে যায়; যেমন সৃষ্টিকর্তা এবং রিযিকদাতা।
চতুর্থত: যা কেবলই পবিত্রতা বর্ণনার দিকে ফিরে যায়। আর এর মধ্যে অবশ্যই ইতিবাচক কোনো কিছুর সাব্যস্তকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে, কারণ নিছক না-বাচকতা বা অভাবের মধ্যে কোনো পূর্ণতা নেই; যেমন অতি পবিত্র ও শান্তিদাতা।
পঞ্চমত: যা অধিকাংশ মানুষ উল্লেখ করেননি, আর তা হলো এমন নাম যা অনেকগুলো গুণের সমষ্টিকে নির্দেশ করে, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট গুণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি একাধিক অর্থের ১ নির্দেশক, কোনো একক অর্থের নয়; যেমন মহিমান্বিত, মহান এবং অমুখাপেক্ষী। কেননা 'মহিমান্বিত' তিনি, যিনি পূর্ণতার বহুবিধ গুণে গুণান্বিত, এবং এই শব্দরূপ একথাই নির্দেশ করে; কারণ এটি প্রশস্ততা, আধিক্য এবং প্রবৃদ্ধির অর্থের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومنه قولهم: "في كل شجر نار واستمجد المَرْخُ والعَفارُ"1 وأمجد الناقة علفًا، ومنه {ذُو الْعَرْشِ الْمَجِيدُ} 2 صفة للعرش لسعته وعظمه وشرفه.
وتأمل كيف جاء هذا الاسمُ مقترنًا بطلب الصلاة من الله على رسوله كما علمناه صلى الله عليه وسلم3؛ لأنه في مقام طلب المزبد
--------------------------------------------
এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের (আরবদের) উক্তি: "প্রত্যেক গাছেই আগুন রয়েছে, তবে মারখ এবং আফার গাছ অগ্নির প্রাচুর্য অর্জন করেছে"১ এবং "সে উটটিকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য প্রদান করল"। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো {আরশের অধিপতি, মহিমান্বিত}২ যা আরশের প্রশস্ততা, বিশালতা ও মর্যাদার কারণে আরশের একটি বিশেষণ হিসেবে এসেছে।
আর লক্ষ্য করুন, কীভাবে এই নামটি আল্লাহর কাছে তাঁর রাসূলের ওপর দরুদ কামনার সাথে যুক্ত হয়ে এসেছে, যেমনটি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের শিখিয়েছেন৩; কারণ এটি প্রাচুর্য প্রার্থনার একটি ক্ষেত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والتعرض لسعة العطاء وكثرته ودوامه، فأتى في هذا المطلوب باسم يقتضيه1؛ كما تقول: اغفر لي وارحمني إنك أنت الغفور الرحيم، ولا يحسن إنك أنت السميع البصير، فهو راجعٌ إلى المتوسل إليه2 بأسمائه وصفاته، وهو من أقرب الوسائل وأحبها إليه.
ومنه الحديث الذي في المسند والترمذي: "أَلِظُّوا بياذا الجلال والإكرام " 3 ومنه: "اللهم إني أسألك بأن لك الحمد
--------------------------------------------
এবং দান করার প্রশস্ততা, প্রাচুর্য ও স্থায়িত্ব প্রত্যাশা করা। ফলে এই কাম্য বিষয়ের ক্ষেত্রে তিনি এমন একটি নাম ব্যবহার করেছেন যা সেটির দাবি রাখে ১; যেমন আপনি বলেন: আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন, নিশ্চয় আপনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। কিন্তু 'নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা' বলা এখানে যথাযথ নয়। সুতরাং এটি তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁরই নিকট অসীলা ধরার সাথে সম্পৃক্ত ২; আর এটি তাঁর নিকট অন্যতম নিকটবর্তী ও প্রিয়তম মাধ্যম।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুসনাদ এবং তিরমিযীতে বর্ণিত সেই হাদীসটিও: "তোমরা 'ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম' (হে মহিমাময় ও মহানুভব) বাক্যটিকে আঁকড়ে ধরো।" ৩ এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এই অসীলায় যে, সকল প্রশংসা একমাত্র আপনারই..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২০)
لا إله إلا أنت المنان بديعُ السموات والأرض يا ذا الجلال والإكرام " 1.
فهذا سؤالٌ له وتسولٌ إليه بحمده2، وأنه الذي لا إله إلا هو المنان، فهو توسلٌ إليه بأسمائه وصفاته، وما أحق ذلك بالإجابة وأعظمه موقعًا عند المسؤول، وهذا بابٌ عظيمُ من أبواب التوحيد أشرنا إليه إشارةً، وقد فتح لمن بصره الله.
ولنرجع إلى المقصود وهو وصفه تعالى بالاسم المتضمن لصفاتٍ عديدةٍ، فالعظيم من اتصف بصفات كثيرة من صفات الكمال وكذلك الصمد، قال ابن عباس: "هو السيد الذي كمل ني سؤدده"3. وقال أبو وائل4: "هو السيد الذي
--------------------------------------------
"তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তুমি পরম দাতা, আসমানসমূহ ও জমিনের অভিনব স্রষ্টা, হে মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী।" ১।
এটি তাঁর প্রশংসার মাধ্যমে তাঁর নিকট করা একটি নিবেদন এবং প্রার্থনা, আর তিনিই সেই সত্তা যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি পরম দাতা; সুতরাং এটি তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর নিকট করা একটি উসিলা (মাধ্যম)। কবুল হওয়ার জন্য এটি কতই না উপযুক্ত এবং যাঁর নিকট প্রার্থনা করা হচ্ছে তাঁর কাছে এর মর্যাদা কতই না মহান! এটি তাওহীদের অন্যতম এক মহান অধ্যায় যার প্রতি আমরা সামান্য ইঙ্গিত করেছি, আর আল্লাহ যাকে অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন তার জন্য এটি উন্মোচিত হয়েছে।
চলুন আমরা মূল বিষয়ে ফিরে যাই, আর তা হলো মহান আল্লাহকে এমন এক নামের মাধ্যমে গুণান্বিত করা যা বহুবিধ গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং 'আল-আজিম' (মহান) হলেন সেই সত্তা যিনি পূর্ণতার বহুবিধ গুণে গুণান্বিত, আর 'আস-সামাদ' (অমুখাপেক্ষী) সত্তার বিষয়টিও তদ্রূপ। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "তিনিই সেই নেতা যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণতা লাভ করেছে।" ৩। আবু ওয়ায়েল ৪ বলেন: "তিনি সেই নেতা যিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২১)
انتهى سؤدده"1.
وقال عكرمة: "الذي ليس فوقه أحد"2.
وكذلك قال الزجاج: "الذى ينتهي إليه السؤدد ففد صمد له كل شيء"3.
وقال ابن الأنبارى: "لا خلاف بين أهل اللغة أنَّ الصمد السيد الذي ليس فوقه أحد الذي يصمد إليه الناس في حوائجهم وأمورهم"4 واشتقاقه يدل على هذا، فإنَّه من الجمع والقصد، فهو5 الذي اجتمع القصد نحوه، واجتمعت فيه صفات السؤدد، وهذا أصله في اللغة كما قال6:
--------------------------------------------
তার শ্রেষ্ঠত্ব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে"১।
ইকরিমা বলেন: "যাঁর উপরে আর কেউ নেই"২।
অনুরূপভাবে আয-যাজ্জাজ বলেছেন: "যাঁর কাছে শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্ব গিয়ে শেষ হয়, ফলে প্রতিটি সৃষ্টিই তাঁর মুখাপেক্ষী হয়"৩।
ইবনুল আম্বারি বলেন: "ভাষাবিদদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, 'আস-সামাদ' হলেন সেই মহান অধিপতি যাঁর উপরে আর কেউ নেই, যাঁর কাছে মানুষ তাদের প্রয়োজন ও বিষয়াদির জন্য ধাবিত হয়"৪। শব্দটির ব্যুৎপত্তিও একথাই প্রমাণ করে, কেননা এটি একত্রিত হওয়া এবং সংকল্পবদ্ধ হওয়ার অর্থ থেকে এসেছে; সুতরাং তিনি৫ এমন সত্তা যাঁর দিকে সকল সংকল্প ধাবিত হয় এবং যাঁর মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের সকল গুণাবলি একত্রিত হয়েছে। আর ভাষা বিজ্ঞানে এর মূল ভিত্তি হলো এমনটিই, যেমনটি কবি বলেছেন৬:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২২)
ألا بكر الناعي بخيري بني أسد
… بعمرو بن يربوع1 وبالسيد الصمد
والعرب تسمي أشرافها بالصمد؛ لاجتماع قصد القاصدين إليه، واجتماع صفات السيادة فيه.
السادس: صفة تحصل من اقتران أحد الاسمين والوصفين بالآخر، وذلك قدرٌ زائدٌ على مفرديهما؛ نحو: الغني الحميد، العفو القدير، الحميد المجيد، وهكذا عامة الصفات المقترنة والأسماء المزدوجة في القرآن. فإنَّ الغني صفة كمال، والحمد كذلك، واجتماع الغني مع الحمد كمال آخر، فله ثناءٌ من غناه، وثناءٌ من حمده، وثناءٌ من اجتماعهما. وكذلك العفو القدير، والحميد المجيد2، والعزيز الحكيم، فتأمله فإنَّه من أشرف المعارف.
وأما صفات السلب المحض فلا تدخل في أوصافه تعالى إلا
--------------------------------------------
হায়, মৃত্যুর বার্তাবাহক বনু আসাদের সর্বোত্তম দুই ব্যক্তির সংবাদ নিয়ে খুব ভোরে উপস্থিত হয়েছে
... আমর বিন ইয়ারবু১ এবং সেই নেতার ব্যাপারে যিনি ‘সামাদ’ (অমুখাপেক্ষী আশ্রয়স্থল)।
আর আরবরা তাদের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ‘সামাদ’ নামে অভিহিত করে; কারণ মানুষেরা তাদের প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে তাদের নিকট সমবেত হয় এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি সমন্বিত থাকে।
ষষ্ঠ: এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা দুটি নাম বা গুণের একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে অর্জিত হয়। এটি উভয় নামের একক অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত একটি তাৎপর্য বহন করে; যেমন: অভাবমুক্ত প্রশংসিত (আল-গণী আল-হামীদ), ক্ষমাশীল ক্ষমতাধর (আল-আফউউল ক্বাদীর), প্রশংসিত মহিমান্বিত (আল-হামীদুল মাজীদ)—কুরআনে বর্ণিত এই জাতীয় সকল যুক্ত গুণাবলি এবং দ্বৈত নামসমূহের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমনই। নিশ্চয় ‘গণী’ (অভাবমুক্ত হওয়া) একটি পূর্ণতার গুণ, অনুরূপভাবে ‘হামদ’ (প্রশংসা)-ও একটি পূর্ণতার গুণ। আর অভাবহীনতার সাথে প্রশংসার একত্র হওয়া অন্য একটি পূর্ণতা। সুতরাং তাঁর জন্য প্রশংসা রয়েছে তাঁর অভাবহীনতার কারণে, প্রশংসা রয়েছে তাঁর প্রশংসিত হওয়ার কারণে এবং প্রশংসা রয়েছে এই দুটি গুণের একত্রিত হওয়ার কারণে। অনুরূপভাবে ক্ষমাশীল ক্ষমতাধর, প্রশংসিত মহিমান্বিত২ এবং মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় (আল-আযীযুল হাকীম)-এর ক্ষেত্রেও। অতএব, আপনি এটি গভীরভাবে অনুধাবন করুন, কেননা এটি অত্যন্ত শ্রেষ্ঠতর জ্ঞান।
আর কেবল নেতিবাচক গুণাবলির ক্ষেত্রে—তা আল্লাহ তাআলার গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হয় না, তবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أن تكون متضمنةً لثبوتٍ؛ كالأحد المتضمن لانفراده بالربوبية والإلهية، والسلام المتضمن لبراءته من كل نقص يضاد كماله، وكذلك الإخبار عنه بالسلوب إنما1 هو لتضمنها ثبوتًا كقوله تعالى: {لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَوْمٌ} 2 فإنَّه متضمنٌ لكمال حياته وقيوميته، وكذلك قوله تعالى: {وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ} 3 متضمنٌ لكمال قدرته، وكذلك قوله: {وَمَا يَعْزُبُ عَنْ رَبِّكَ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ} 4 متضمنٌ لكمال علمه، وكذلك قوله: {لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ} 5 متضمنٌ لكمال صمديته وغناه، وكذلك قوله: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ} 6 متضمنٌ لتفرده بكماله وأنه لا نظير له، وكذلك قوله تعالى: {لا تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ} 7 متضمنٌ لعظمته وأنَّه جلَّ عن أن يُدرك بحيث يحاط به، وهذا مطردٌ في كلِّ ما وصف به نفسه من السلوب.
--------------------------------------------
সেগুলো সাব্যস্তকারী গুণাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন 'আল-আহাদ' (একক) যা তাঁর রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব) ও উলুহিয়্যাহ (উপাস্য হওয়া) তে এককত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং 'আস-সালাম' (শান্তিদাতা) যা তাঁর পূর্ণতার পরিপন্থী সকল ত্রুটি থেকে তাঁর মুক্ত থাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে। একইভাবে, তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক বা অস্বীকৃতিমূলক বর্ণনাগুলো কেবল এজন্যই দেওয়া হয়েছে যে সেগুলো ইতিবাচক বা সাব্যস্তকারী বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না}, কেননা এটি তাঁর জীবনের পূর্ণতা ও রক্ষণাবেক্ষণকারী হওয়ার পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: {আর কোনো ক্লান্তি আমাদের স্পর্শ করেনি} এটি তাঁর ক্ষমতার পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এবং তাঁর বাণী: {আপনার রবের নিকট থেকে অণু পরিমাণও গোপন থাকে না} এটি তাঁর জ্ঞানের পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তাঁর বাণী: {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি} এটি তাঁর অমুখাপেক্ষিতা ও স্বনির্ভরতার পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। তেমনিভাবে তাঁর বাণী: {আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই} এটি তাঁর পূর্ণতায় তাঁর একক হওয়া এবং তাঁর কোনো নজির বা সাদৃশ্য না থাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে। তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: {দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না} এটি তাঁর মহত্ত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তিনি এর চেয়ে অনেক মহান যে তাঁকে এমনভাবে প্রত্যক্ষ করা হবে যার ফলে তাঁকে পরিবেষ্টন করা যায়। আর এই নিয়মটি সেই সমস্ত গুণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা দ্বারা তিনি নিজেকে অস্বীকৃতিমূলক বিশেষণে বিশেষিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
باب الإخبار أوسع من باب الأسماء والصفات…ويجب أن يعلم هنا أمورٌ1:
أحدها: أنَّ ما يدخل في باب الإخبار عنه تعالى أوسع مما يدخل في باب أسمائه وصفاته؟ كالشيء والموجود والقائم بنفسه، فإنَّه2 يخبر به عنه ولا يدخل في أسمائه الحسنى وصفاته العليا3.
--------------------------------------------
সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্র আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্র অপেক্ষা অধিক বিস্তৃত…আর এখানে কয়েকটি বিষয় জানা আবশ্যক১:
তার মধ্যে একটি হলো: মহান আল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত হয়, তা তাঁর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে যা অন্তর্ভুক্ত হয় তা অপেক্ষা অধিক বিস্তৃত। যেমন—'বস্তু', 'বিদ্যমান' এবং 'স্বয়ং-অস্তিত্ববান'; কারণ২ এগুলো দ্বারা তাঁর সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়, কিন্তু এগুলো তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الثاني: أن الصفة إذا كانت منقسمة إلى كمال ونقص لم تدخل بمطلقها في أسمائه، بل يطلق عليه منها كمالها، وهذا كالمريد والفاعل والصانع، فإنَّ هذه الألفاظ لا تدخل في أسمائه؛ ولهذا غلط من سماه بالصانع عند الإطلاق، بل هو الفعَّالُ لما يريد فإنَّ الإرادة والفعل والصنع منقسمةٌ؛ ولهذا إنَّما أطلق على نفسه من ذلك أكمله فعلاً وخبرًا.
দ্বিতীয়: কোনো গুণ যদি পূর্ণতা ও অপূর্ণতা—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়, তবে তা নিঃশর্তভাবে আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে না; বরং তার মধ্য থেকে যা পূর্ণতা নির্দেশ করে, কেবল তাই তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আর এটি হচ্ছে ইচ্ছাকারী, সম্পাদনকারী ও নির্মাতা—এই শব্দগুলোর মতো; কেননা এই শব্দগুলো আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই কারণেই যে ব্যক্তি নিঃশর্তভাবে আল্লাহকে ‘নির্মাতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তিনি ভুল করেছেন। বরং তিনি হচ্ছেন যা ইচ্ছা তা-ই অত্যন্ত জোরালোভাবে সম্পাদনকারী। কেননা ইচ্ছা, কর্ম ও নির্মাণ হচ্ছে (পূর্ণতা ও অপূর্ণতায়) বিভক্ত; আর এই কারণেই তিনি নিজের জন্য এগুলোর মধ্য থেকে কর্ম ও বর্ণনার দিক দিয়ে যা সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ, কেবল তা-ই সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لا يلزم الإخبار عنه بالفعل مقيدا أن يشتق له من أسم مطلق…الثالث: أنَّه لا يلزم من الإخبار عنه بالفعل مقيدًا أن يشتق له منه اسمٌ مطلقٌ كما غلط فيه بعضُ المتأخرين فجعل من أسمائه الحسنى المضل الفاتن الماكر تعالى الله عن قوله، فإنَّ
সীমাবদ্ধ ক্রিয়া দ্বারা তাঁর সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে তাঁর জন্য কোনো শর্তহীন নাম গ্রহণ করা আবশ্যক হয় না…তৃতীয়ত: কোনো সীমাবদ্ধ ক্রিয়া দ্বারা তাঁর সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের কারণে তাঁর জন্য সেই ক্রিয়া থেকে কোনো শর্তহীন নাম প্রতিপাদন করা আবশ্যক হয় না, যে বিষয়ে পরবর্তীকালের কিছু লোক ভুল করেছেন। ফলে তারা ‘পথভ্রষ্টকারী’, ‘পরীক্ষাকারী’ ও ‘কৌশলী’-কে আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন; আল্লাহ তাদের এই উক্তি থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র। কেননা...
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
هذه الأسماء لم يطلق عليه شحانه منها إلا أفعالٌ مخصوصةٌ معينةٌ فلا يجوز أن يسمى بأسمائها المطلقة، واللَّه أعلم.
এই নামগুলোর মধ্য থেকে মহান আল্লাহর প্রতি কেবল সুনির্দিষ্ট ও বিশেষ কিছু কর্মই আরোপ করা হয়েছে; তাই তাঁকে এগুলোর নিরঙ্কুশ নামে নামকরণ করা বৈধ নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أسماء الله الحسنى أعلام وأوصاف والوصف لا ينافي العلمية…الرابع: أنَّ أسماءَه الحسنى هي أعلامٌ وأوصافٌ، والوصفُ بها لا يُنافي العَلَمِيَة، بخلاف أوصاف العباد فإنَّها تنافي علميتهم؛ لأن أوصافهم مشتركةٌ فنافتها العلميةُ المختصةُ بخلاف أوصافه تعالى1.
--------------------------------------------
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ হলো নাম এবং গুণাবলি, আর গুণবাচক হওয়া নাম হওয়ার পরিপন্থী নয়…চতুর্থত: তাঁর সুন্দর নামসমূহ একই সাথে নাম এবং গুণ; আর এগুলোর দ্বারা গুণ বর্ণনা করা নাম হওয়ার সঙ্গে কোনো বৈপরীত্য তৈরি করে না। এটি বান্দাদের গুণের বিপরীত, কারণ তাদের ক্ষেত্রে গুণ নাম হওয়ার পরিপন্থী। কেননা তাদের গুণাবলি সাধারণ বা অংশীদারিত্বমূলক, ফলে সুনির্দিষ্ট নাম হওয়ার বিষয়টি এর সাথে সাংঘর্ষিক হয়; যা মহান আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
دلالة الأسماء على الذات تكون بالمطابقة والتضمن الإلتزام…الخامس: أنَّ الاسم من أسمائه. له دلالات:
- دلالة على الذات والصفة بالمطابقة.
- ودلالة على أحدهما بالتضمن.
- ودلالة على الصفة الأخرى باللزوم2.
--------------------------------------------
সত্তার ওপর নামসমূহের নির্দেশনা পূর্ণ সামঞ্জস্য, অন্তর্ভুক্তি এবং অপরিহার্যতা প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে…পঞ্চম: তাঁর নামসমূহের মধ্য থেকে প্রতিটি নামের একাধিক নির্দেশনামূলক দিক রয়েছে:
- পূর্ণ সামঞ্জস্যের মাধ্যমে সত্তা এবং গুণ উভয়টির ওপর নির্দেশনা।
- অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সত্তা অথবা গুণ—উভয়ের যেকোনো একটির ওপর নির্দেশনা।
- এবং অপরিহার্যতার মাধ্যমে অন্য কোনো গুণের ওপর নির্দেশনা২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الأسماء الحسنى لها إعتبار من حيث الذات وإعتبار من حيث الصفات…السادس: أنَّ أسماءَه الحسنى لها اعتباران:
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ সত্তার দিক থেকে এবং গুণাবলির দিক থেকে বিবেচ্য…ষষ্ঠত: নিশ্চয়ই তাঁর সুন্দর নামসমূহের দুটি বিবেচনা রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
- اعتبار من حيث الذاتُ.
- واعتبار من حيث الصفاتُ.
فهي بالاعتبار الأول مترادفةٌ، وبالاعتبار الثاني متباينةٌ.
- সত্তার দিক থেকে বিবেচনা।
- এবং গুণাবলীর দিক থেকে বিবেচনা।
সুতরাং প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে সেগুলো সমার্থক, এবং দ্বিতীয় বিবেচনার ভিত্তিতে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন।
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عنه به نحو: الحي، بل يطلق عليه الاسم والمصدر1 دون الفعل، فلا يقال: حيي2.
--------------------------------------------
এর দ্বারা তাঁর সম্পর্কে ব্যক্ত করা হয় যেমন: আল-হাই (চিরঞ্জীব); বরং তাঁর ক্ষেত্রে নাম ও মাসদার (ক্রিয়ামূল)1 প্রয়োগ করা হয়, ক্রিয়া নয়। অতএব 'হাইয়া'2 বলা যাবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
السابع:
أنّ ما يطلق عليه في باب الأسماء والصفات توقيفيٌ، وما يطلق عليه في باب الإخبار1 لا يجب أن يكون توقيفيًا؛ كالقديم والشيء والموجود والقائم بنفسه. فهذا فصل الخطاب في مسألة أسمائه: هل هي توقيفيةٌ، أو يجوز أن يطلق عليه منها بعضُ ما لم يرد به السمع.
--------------------------------------------
সপ্তম:
নাম ও গুণাবলির অধ্যায়ে আল্লাহর প্রতি যা প্রয়োগ করা হয় তা শরয়ত নির্ধারিত (তাওকীফী), এবং সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে১ যা তাঁর প্রতি প্রয়োগ করা হয় তা শরয়ত নির্ধারিত হওয়া আবশ্যক নয়; যেমন— অনাদি, সত্তা, বিদ্যমান এবং স্বয়ম্ভূ। সুতরাং তাঁর নামসমূহের মাসআলায় এটিই চূড়ান্ত ফয়সালা: সেগুলো কি শরয়ত নির্ধারিত, নাকি তাঁর ওপর এমন কিছু প্রয়োগ করা বৈধ যা ওহীর দলিলে (নকলি দলিল) বর্ণিত হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الإسم إذ اطلق على الله جاز أن يشتق من المصدر والفعل…الثامن: أنَّ الاسم إذا أطلق عليه جاز أنْ يشتق منه المصدر والفعل فيخبر به عنه فعلاً ومصدراً؛ نحو: السميع البصير القدير، يطلق عليه منه السمع والبصر والقدرة ويخبر عنه بالأفعال من ذلك؛ نحو: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ} 2، {فَقَدَرْنَا فَنِعْمَ الْقَادِرُونَ} 3 هذا إنْ كان الفعل متعديًا، فإنْ كان لازمًالم يخبر
--------------------------------------------
নাম যখন আল্লাহর ওপর প্রয়োগ করা হয়, তখন তা থেকে ক্রিয়ামূল এবং ক্রিয়া গঠন করা জায়েয...অষ্টম: আল্লাহর ওপর যখন কোনো নাম প্রয়োগ করা হয়, তখন তা থেকে ক্রিয়ামূল ও ক্রিয়া গঠন করা জায়েয হয়, ফলে ক্রিয়া ও ক্রিয়ামূল উভয় রূপেই তাঁর সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা যায়। যেমন: সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বশক্তিমান; তাঁর ক্ষেত্রে এগুলো থেকে শ্রবণ, দর্শন এবং ক্ষমতা শব্দগুলো প্রয়োগ করা হয় এবং এগুলো থেকে নির্গত ক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়; যেমন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ শুনেছেন} ২, {অতঃপর আমরা নির্ধারণ করেছি, আর আমরা কতই না চমৎকার নির্ধারণকারী} ৩। এটি তখনই হয় যখন ক্রিয়াটি সকর্মক হয়। তবে যদি ক্রিয়াটি অকর্মক হয়, তবে সংবাদ দেওয়া হবে না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أفعال الرب صادرة عن أسمائه وصفاته…التاسع: أن أفعال الرب تبارك وتعالى صادرة عن أسمائه وصفاته، وأسماءُ المخلوقين صادرةٌ عن أفعالهم، فالرب تبارك وتعالى فِعاله عن كماله، والمخلوق كماله عن فعاله، فاشتقت له الأسماء بعد أنْ كمل بالفعل، فالرب لم يزل كاملاً فحصلت أفعاله عن كماله؟ لأنَّه كاملٌ بذاته وصفاته، فأفعاله صادرةٌ عن كماله؛ كَمُلَ ففعل، والمخلوق فعل فكمل الكمال الائق به.
রবের কার্যাবলি তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলি থেকে উৎসারিত…নবম: বরকতময় ও সুউচ্চ রবের কার্যাবলি তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলি থেকে উৎসারিত, আর সৃষ্টিজীবের নামসমূহ তাদের কার্যাবলি থেকে উৎসারিত। বরকতময় ও সুউচ্চ রবের কাজ তাঁর পূর্ণতা থেকে উৎসারিত, আর সৃষ্টিজীবের পূর্ণতা আসে তার কাজের মাধ্যমে। ফলে কাজের দ্বারা পূর্ণতা অর্জনের পর সৃষ্টিজীবের জন্য বিভিন্ন নাম ব্যুৎপন্ন হয়। পক্ষান্তরে রব সর্বদা পূর্ণ ছিলেন, তাই তাঁর কার্যাবলি তাঁর পূর্ণতা থেকেই উদ্ভূত হয়েছে। যেহেতু তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে পূর্ণ, তাই তাঁর কার্যাবলি তাঁর পূর্ণতা থেকেই উৎসারিত; তিনি পূর্ণ, তাই তিনি কাজ করেন; আর সৃষ্টিজীব কাজ করে, ফলে সে তার যোগ্য পূর্ণতা লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
العاشر:
إحصاءُ الأسماء الحسنى والعلمُ بها أصلٌ للعلم بكل معلوم، فإنِّ المعلومات سواه إمَّا أن تكون خلقًا له تعالى أو أمرًا، إمَّا علمٌ بما كونه، أو علمٌ بما شرعه. ومصدرُ الخلق والأمر عن أسمائه الحسنى، وهما مرتبطان بها ارتباط المقتضى3 بمقتضيه، فالأمرُ كلهُّ مصدره عن أسمائه
--------------------------------------------
দশম:
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ গণনা করা এবং সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা প্রতিটি জ্ঞাত বিষয়ের জ্ঞানের মূলভিত্তি, কেননা তিনি ব্যতীত অন্য সকল জ্ঞাত বিষয় হয় তাঁর সৃষ্টি অথবা তাঁর আদেশ; হয় তা তাঁর সৃষ্টিজগত সংক্রান্ত জ্ঞান অথবা তাঁর প্রবর্তিত শরীয়ত সংক্রান্ত জ্ঞান। সৃষ্টি ও আদেশের উৎস হলো তাঁর সুন্দর নামসমূহ, এবং এই দুটি তাঁর নামসমূহের সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ত যেভাবে কোনো অনিবার্য বিষয়৩ তার অপরিহার্য কারণের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। সুতরাং সকল আদেশের উৎস হলো তাঁর নামসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الحسنى، وهذا كلَّه حسنٌ1 لا يخرج عن مصالح العباد والرأفة والرحمة بهم والإحسان إليهم بتكميلهم بما أمرهم به ونهاهم عنه، فأمره كلُّه مصلحةٌ وحكمةٌ ورحمةٌ ولطفٌ وإحسانٌ، إذ مصدرهُ أسماؤه الحسنى، وفعله كلُّه لا يخرج عن العدل والحكمة والمصلحة والرحمة، إذ مصدره أسماؤه الحسنى فلا تفاوت في خلقه ولا عبث، ولم يخلق خلقه باطلاً ولا سدى ولا عبثًا، وكما أَنَّ كل موجودٍ سواه فبإيجاده فوجود من سواه تابعٌ لوجوده تبع المفعول المخلوق لخالقه، فكذلك العلمُ به2 أصلٌ للعلم بكل ما سواه.
فالعلم بأسمائه وإحصاؤها أصلٌ لسائر العلوم فمن أحصى أسماءَه كما ينبغي للمخلوق أحصى جميعَ العلوم، إذ إحصاءُ أسمائه أصلٌ لإحصاء كلِّ معلوم؛ لأنَّ المعلومات هي من مقتضاها3 ومرتبطةٌ بها. وتأمل صدور الخلق والأمر عن علمه وحكمته تعالى؛ ولهذا لا تجد فيها خللاً ولا تفاوتًا؛
--------------------------------------------
সুন্দরতম নামসমূহ; আর এ সবই সুন্দর, যা বান্দাদের কল্যাণ, তাদের প্রতি মমতা ও করুণা এবং তিনি যা আদেশ দিয়েছেন ও যা থেকে নিষেধ করেছেন তার মাধ্যমে তাদেরকে পূর্ণতা দান করার অনুগ্রহের বাইরে নয়। সুতরাং তাঁর সকল আদেশই হলো কল্যাণ, প্রজ্ঞা, রহমত, দয়া ও ইহসান; কারণ এর উৎস হলো তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ। আর তাঁর প্রতিটি কাজই ন্যায়বিচার, প্রজ্ঞা, জনকল্যাণ ও রহমতের গণ্ডিভুক্ত; যেহেতু এর উৎস হলো তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ। ফলে তাঁর সৃষ্টিতে কোনো অসামঞ্জস্যতা নেই এবং কোনো নিরর্থকতা নেই। তিনি তাঁর সৃষ্টিজগতকে অনর্থক, উদ্দেশ্যহীন বা বৃথা সৃষ্টি করেননি। আর যেভাবে তিনি ব্যতীত অন্য প্রতিটি অস্তিত্ব তাঁরই অস্তিত্ব দান করার মাধ্যমে অস্তিত্বশীল, তাই তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছুর অস্তিত্ব হলো তাঁর অস্তিত্বের অনুগামী, যেমনটি সৃষ্টি তার স্রষ্টার অনুগামী হয়ে থাকে। ঠিক তেমনিভাবে, তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান হলো অন্য সবকিছুর জ্ঞানের মূল ভিত্তি।
সুতরাং তাঁর নামসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং তা আয়ত্ত করা হলো অন্যান্য সমস্ত বিদ্যার মূল। অতএব, একজন সৃষ্টির জন্য যতটুকু সম্ভব সেভাবে যে ব্যক্তি তাঁর নামসমূহকে আয়ত্ত করল, সে যেন সমস্ত জ্ঞানকেই আয়ত্ত করল। কেননা তাঁর নামসমূহ আয়ত্ত করা হলো প্রতিটি জ্ঞাত বিষয়কে আয়ত্ত করার মূল ভিত্তি; কারণ জ্ঞাত বিষয়সমূহ হলো সেই নামসমূহেরই অনিবার্য দাবি এবং এগুলোর সাথেই সংশ্লিষ্ট। আর মহান আল্লাহর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকে সৃষ্টিজগত ও তাঁর আদেশের উদ্ভব হওয়ার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করো; এই কারণেই তুমি এতে কোনো ত্রুটি বা অসামঞ্জস্যতা খুঁজে পাবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফায়েদাহ জালীল্লাহ ফী কাওয়াইদিল আসমায়িল হুসনা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لأنَّ الخلل الواقع فيما يأمرُ في العبد أو يفعله؛ إمَّا أنْ يكون لجهله به، أو لعدم حكمته. وأمَّا الرب تعالى فهو العليم الحكيم، فلا يلحق فعله ولا أمره خللٌ ولا تفاوتٌ ولا تناقضٌ.
কেননা বান্দা যা নির্দেশ দেয় কিংবা যা সে করে, তাতে যে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়, তা হয় হয় তার সে বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে অথবা তার প্রজ্ঞার অভাবের কারণে। পক্ষান্তরে মহান রব হলেন সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়; ফলে তাঁর কর্ম কিংবা আদেশে কোনো ত্রুটি, অসামঞ্জস্যতা কিংবা বৈপরীত্য স্পর্শ করে না।