(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: -)
فضائل القرآن لمحمد بن عبد الوهاب   (محمد بن عبد الوهاب)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: فضائل القرآن (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الخامس)

المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)

المحقق: عبد العزيز بن زيد الرومي، وصالح بن محمد الحسين

الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود، الرياض، المملكة العربية السعودية

عدد الصفحات: 37

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রচিত ফাযায়িলুল কুরআন   (মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং উসূলে তাফসীর (أصول التفسير)


কিতাব: ফাযায়িলুল কুরআন (শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত, পঞ্চম খণ্ড)

গ্রন্থকার: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আল-তামিমী আল-নাজদী (মৃত্যু ১২০৬ হিজরী)

তাহকীককারী (محقق): আব্দুল আজিজ বিন যায়েদ আল-রূমী, এবং সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-হুসাইন

প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজত্ব

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ৩)
فضائل القرآن

تأليف: الإمام محمد بن عبد الوهاب

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌(1) باب فضائل تلاوة القرآن وتعلمه وتعليمه

وقول الله عز وجل: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} 1 وقوله تعالى: {مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَاداً لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ} 2.

وعن عاثشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الماهر بالقرآن مع السفرة الكرام البررة، والذي يقرأ القرآن ويتتعتع فيه وهو عليه شاق له أجران" 3 أخرجاه4. وللبخاري5 عن عثمان رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله

--------------------------------------------

1 سورة المجادلة آية: 11.

2 سورة آل عمران آية: 79.

3 البخاري: تفسير القرآن (4937) ، ومسلم: صلاة المسافرين وقصرها (798) ، والترمذي: فضائل القرآن (2904) ، وأبو داود: الصلاة (1454) ، وابن ماجه: الأدب (3779) ، وأحمد (6/48 ،6/94 ،6/98 ،6/110 ،6/170 ،6/192 ،6/239 ،6/266) ، والدارمي: فضائل القرآن (3368) .

4 البخاري في الصحيح 6: 138 في باب التفسير - تفسير سورة "عبس" - بلفظ "مثل الذي يقرأ القرآن وهو حافظ له مع السفرة الكرام، ومثل الذي يقرأ وهو يتعاهده وهو عليه شديد فله أجران": ومسلم بهذا اللفظ 1. 549 ، 550 في صلاة المسافرين "باب فضل الماهر بالقرآن والذي يتتعتع فيه". وأخرجه ابن ماجه - 2. 1242 في الأدب (باب فضل القرآن)

رقم الحديث 3779 وفيه "والذي يقرؤه يتتعتع فيه" بدون واو وأحمد في مسنده 6، 94 بلفظ "إن الذي يقرأ القرآن الماهر به مع السفرة الكرام البررة والذي يقرؤه تشتد عليه قراءته فله أجران". وأبو داود بمعناه رقم (1454) 2: 148 في ثواب قراءة القرآن. والترمذي 8: 112 في "باب ما جاء في فضل قارئ القرآن". والدارمي 2: 444 في "باب فضل من يقرأ القرآن ويشتد عليه" مع اختلاف يسير في لفظه.
কুরআনের ফযিলতসমূহ

রচনা: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

‌‌(১) পরিচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াত, এটি শেখা এবং শেখানোর ফযিলতসমূহ

মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের মর্যাদায় উন্নীত করবেন} ১ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কোনো মানুষের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করবেন, আর সে মানুষকে বলবে যে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার বান্দা হয়ে যাও; বরং সে বলবে যে, তোমরা রব্বানী হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে} ২।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনে দক্ষ, সে সম্মানিত ও অনুগত লিপিকার (ফেরেশতাদের) সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং তাতে আটকে যায় ও তা তার জন্য কষ্টকর হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব" ৩। তাঁরা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন ৪। এবং বুখারিতে ৫ উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ১১।

২ সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৭৯।

৩ বুখারি: তাফসীরুল কুরআন (৪৯৩৭), মুসলিম: সালাতুল মুসাফিরিন ওয়া কাসরুহা (৭৯৮), তিরমিযি: ফাযায়িলুল কুরআন (২৯০৪), আবু দাউদ: আস-সালাত (১৪৫৪), ইবনে মাজাহ: আল-আদাব (৩৭৭৯), আহমাদ (৬/৪৮, ৬/৯৪, ৬/৯৮, ৬/১১০, ৬/১৭০, ৬/১৯২, ৬/২৩৯, ৬/২৬৬), দারিমি: ফাযায়িলুল কুরআন (৩৩৬৮)।

৪ বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে ৬: ১৩৮, তাফসির পরিচ্ছেদে - সূরা ‘আবাসা’ এর তাফসির - এই শব্দে "সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে কুরআন পড়ে এবং সে তা হাফিজ (حافظ), সে সম্মানিত লিপিকারদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং সেটির চর্চা অব্যাহত রাখে অথচ তা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব": এবং মুসলিম এই শব্দে ১: ৫৪৯, ৫৫০, মুসাফিরের সালাত অধ্যায়ে "কুরআনে দক্ষ ব্যক্তি এবং যে তাতে আটকে যায় তার ফযিলত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ"। এবং ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন - ২: ১২৪২, আদাব অধ্যায়ে (কুরআনের ফযিলত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ)

হাদিস নং ৩৭৭৯ এবং তাতে "ওয়া" ছাড়াই "والذي يقرؤه يتتعتع فيه" রয়েছে এবং আহমাদ তার মুসনাদে ৬: ৯৪ এই শব্দে "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং তাতে দক্ষ, সে সম্মানিত ও অনুগত লিপিকারদের সাথে থাকবে; আর যে ব্যক্তি এটি পড়ে এবং তার জন্য পাঠ করা কঠিন হয়, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে"। এবং আবু দাউদ একই অর্থে এটি বর্ণনা করেছেন নং (১৪৫৪) ২: ১৪৮, কুরআন পাঠের সওয়াব অধ্যায়ে। এবং তিরমিযি ৮: ১১২, "কুরআন পাঠকারীর ফযিলত বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে" পরিচ্ছেদে। এবং দারিমি ২: ৪৪৪, "যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং তার জন্য তা কঠিন হয় তার ফযিলত" পরিচ্ছেদে, তবে এর শব্দে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ৪)
عليه وسلم

قال: "خيركم من تعلم القرآن وعلّمه" 1.

ولمسلم 2 عن أبي أمامة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "اقرؤوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعا لأصحابه. اقرؤوا الزهراوين: البقرة وسورة آل عمران؛

--------------------------------------------

1: 158 في فضائل القرآن "باب خيركم من تعلم القرآن وعلمه وزاد "قال: وأقرأ أبو عبد الرحمن في إمرة عثمان حتى كان الحجاج، قال: وذاك الذي أقعدني مقعدي هذا". ورواه أيضا بلفظ "إن أفضلكم من تعلم القرآن وعلمه". كما رواه الترمذي في ثواب القرآن "باب ما جاء في تعليم القرآن" بهذا اللفظ وبلفظ " خيركم أو أفضلكم … ". وابن ماجه 1: 76، 77 في المقدمة -باب فضل من تعلم القرآن وعلمه برقم (211) ولفظه "قال شعبة: خيركم، وقال سفيان: أفضلكم … وأبو داود 2: 147- في الصلاة "باب في ثواب قراءة القرآن". والدارمي 2: 437 في فضائل القرآن "باب خياركم من تعلم القرآن وعلمه" عن علي بلفظه وعن عثمان ومصعب بن سعد بمعناه مع زيادة يسيرة.

2 البخاري: فضائل القرآن (5027) ، والترمذي: فضائل القرآن (2907 ،2908) ، وأبو داود: الصلاة (1452) ، وابن ماجه: المقدمة (211) ، وأحمد (1/57 ،1/58 ،1/69) ، والدارمي: فضائل القرآن (3338) .

2 2: 197 في الصلاة "باب فضل قراءة القرآن وسورة البقرة بزيادة: قال معاوية: بلغني أن البطلة السحرة.
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।" ১.

এবং মুসলিম ২ আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তোমরা কুরআন পাঠ করো, কেননা কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে। তোমরা দুটি উজ্জ্বল সূরা তিলাওয়াত করো: সূরা আল-বাকারাহ এবং সূরা আল-ইমরান;

--------------------------------------------

১: ১৫৮, ফাদাইলুল কুরআন অধ্যায়, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দেয়" অনুচ্ছেদ এবং তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা (زاد) করেছেন: "তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আবু আবদুর রহমান উসমানের শাসনকাল থেকে হাজ্জাজের সময় পর্যন্ত পাঠদান করতেন। তিনি বলেন: আর এটাই আমাকে আমার এই আসনে বসিয়েছে।" এবং এটি এই শব্দেও (لفظ) বর্ণিত (رواه) হয়েছে: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যে কুরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দেয়।" যেমন এটি তিরমিজি বর্ণনা (رواه) করেছেন সাওয়াবুল কুরআন অধ্যায়ের "কুরআন শিক্ষা দেওয়া সংক্রান্ত" অনুচ্ছেদে এই শব্দে (لفظ) এবং এই শব্দে (لفظ): "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম অথবা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি …"। এবং ইবনে মাজাহ ১: ৭৬, ৭৭, মুকাদ্দিমা - "কুরআন শিক্ষা করা ও দেওয়ার ফদিলত" অনুচ্ছেদ, হাদিস নং (২১১); যার শব্দ বিন্যাস (لفظه) হলো: "শু'বা বলেছেন: তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম, আর সুফিয়ান বলেছেন: তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ …" এবং আবু দাউদ ২: ১৪৭- সালাত অধ্যায়, "কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ"। এবং দারেমি ২: ৪৩৭, ফাদাইলুল কুরআন অধ্যায়, "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কুরআন শেখে ও শেখায়" অনুচ্ছেদে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হুবহু শব্দে (بلفظه) এবং উসমান ও মুসআব ইবনে সা'দ থেকে এর মূল অর্থে (بمعناه), তবে সামান্য পরিবর্ধনসহ (زيادة يسيرة)।

২ বুখারি: ফাদাইলুল কুরআন (৫০২৭), তিরমিজি: ফাদাইলুল কুরআন (২৯০৭, ২৯০৮), আবু দাউদ: সালাত (১৪৫২), ইবনে মাজাহ: মুকাদ্দিমা (২১১), আহমদ (১/৫৭, ১/৫৮, ১/৬৯), এবং দারেমি: ফাদাইলুল কুরআন (৩৩৩৮)।

২ ২: ১৯৭, সালাত অধ্যায়, "কুরআন তিলাওয়াত এবং সূরা আল-বাকারাহর ফদিলত" অনুচ্ছেদে অতিরিক্ত বর্ণনা (بزيادة) সহ: মুয়াবিয়া বলেন: আমার কাছে পৌঁছেছে যে 'বাত্বালাহ' দ্বারা জাদুকরদের বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ৫)
فإنهما تأتيان 1 يوم القيامة كأنهما غمامتان، أو كأنهما غيايتان2، أو كأنهما فرقان من طير صواف تحاجان عن أصحابهما، 3 اقرأوا سورة البقرة فإن أخذها بركة، وتركها حسرة ولا تستطيعها البطلة". وله4 عن النواس بن سمعان قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "يؤتى بالقرآن يوم القيامة وأهله الذين كانوا يعملون به، تقدمه5 سورة "البقرة وآل عمران". وضرب لهما رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة أمثال ما نسيتهن بعد، قال: "كأنهما غمامتان أو ظلتان سوداوان بينهما شرق، أو كأنهما حزقان من طير صواف، تحاجان6 عن صاحبهما". وعن ابن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من قرأ حرفا من كتاب الله فله به7 حسنة، والحسنة بعشر أمثالها. لا أقول (الم)

--------------------------------------------

1 في الأصل "يأتيان".

2 في الأصل "غيابتان".

3 في الأصل "يحاجان لصاحبهما" والتصحيح في الجميع من مسلم.

4 2: 197، 198 في الصلاة، باب فضل قراءة القرآن وسورة البقرة". ورواه الترمذي 8: 98، 99 في ثواب القرآن وفضائله "باب ما جاء في سورة آل عمران" مع اختلاف في اللفظ، وانظر أحمد 5: 348 ، 352، والدارمي 2: 455، 451.

5 في الأصل "يقدمه".

6 في الأصل "يحاجان".

7 في الأصل "فله حسنة" ولفظ مسلم ما أثبتناه.
"নিশ্চয়ই তারা আসবে 1 কিয়ামতের দিন যেন তারা দুটি মেঘখণ্ড, অথবা যেন তারা দুটি ছায়াদানকারী মেঘ 2, অথবা যেন তারা ডানা প্রসারিত করা পাখির দুটি ঝাঁক যারা তাদের পাঠকারীদের পক্ষ হয়ে সুপারিশ করবে। 3 তোমরা সুরা আল-বাকারা পাঠ করো, কেননা তা গ্রহণ করা বরকতময় এবং তা বর্জন করা পরিতাপের কারণ, আর জাদুকর বা অলস ব্যক্তিরা এর মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়।" ইমাম মুসলিমের 4 নিকট নাওয়াস ইবনে সামআন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন কুরআন এবং এর সেই অনুসারীদের নিয়ে আসা হবে যারা এর ওপর আমল করত; তাদের অগ্রভাগে থাকবে 5 সুরা 'আল-বাকারা ও আল-ইমরান'।" রাসূলুল্লাহ (সা.) এ দুটির জন্য তিনটি উপমা বর্ণনা করেছেন যা আমি এরপর কখনো ভুলিনি, তিনি বলেছেন: "যেন তারা দুটি মেঘখণ্ড অথবা দুটি কালো ছায়াদানকারী মেঘ যে দুটির মাঝখানে আলো রয়েছে, অথবা যেন তারা ডানা প্রসারিত করা পাখির দুটি ঝাঁক, যারা তাদের পাঠকারীর পক্ষ হয়ে সুপারিশ 6 করবে।" এবং ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করল, তার জন্য এর বিনিময়ে 7 একটি নেকি রয়েছে; আর একটি নেকি দশ গুণ সওয়াবের সমান। আমি বলছি না যে (আলিফ-লাম-মীম)...

--------------------------------------------

1 মূলে "ইয়ায়তিয়ান" (يأتيان) শব্দটি রয়েছে।

2 মূলে "গিয়াবাতানি" (غيابتان) রয়েছে।

3 মূলে "তাদের পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে" রয়েছে এবং সবগুলোর সংশোধন মুসলিম থেকে নেওয়া হয়েছে।

4 ২: ১৯৭, ১৯৮; সালাত অধ্যায়, "কুরআন পাঠ ও সুরা আল-বাকারার ফজিলত" অনুচ্ছেদ। আর তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন ৮: ৯৮, ৯৯; কুরআনের সওয়াব ও এর ফজিলত অধ্যায়, "সুরা আল-ইমরান সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে" অনুচ্ছেদ, তবে শব্দগত পার্থক্যের (اختلاف في اللفظ) সাথে; আহমাদ ৫: ৩৪৮, ৩৫২ এবং দারেমি ২: ৪৫৫, ৪৫১ দেখুন।

5 মূলে "ইউকাদ্দিমুহু" (তিনি তাকে সামনে দেবেন) রয়েছে।

6 মূলে "ইউহাজ্জানি" (তারা সুপারিশ করবে) রয়েছে।

7 মূলে "তার জন্য একটি নেকি রয়েছে" রয়েছে এবং মুসলিমের শব্দ (لفظ) সেটিই যা আমরা সাব্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ৬)
حرف ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف" رواه الترمذي1 وقال: حديث حسن صحيح.

وله2، وصححه عن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يقال لصاحب القرآن: اقرأ وارتق، ورتل كما كنت ترتل في الدنيا، فإن منزلتك عند آخر آية تقرأ بها 3 ". ولأحمد4 نحوه من حديث أبي سعيد وفيه: "فيقرأ ويصعد بكل آية درجة، حتى يقرأ آخر شيء معه 5") ولأحمد6 أيضا عن بريدة مرفوعا:

--------------------------------------------

1 8: 115، 116 في ثواب القرآن "باب ما جاء فيمن قرأ حرفا من القرآن ما له من الأجر". ورواه الدارمي بمعناه 2: 429 في فضائل القرآن، باب فضل من قرأ القرآن".

2 8: 117 في ثواب القرآن.

3 في الأصل "عند آخر آية" والزيادة في الترمذي. ورواه أبو داود 2: 153 في الصلاة "باب استحباب الترتيل في القراءة" وفي آخره "فإن منزلك عند آخر آية تقرؤها". وأحمد 2: 192 بلفظ ".. اقرأ، وارق، ورتل.. تقرؤها".

4 3: 40 ورواه ابن ماجه 2: 1242 في الأدب "باب ثواب القرآن".

5 في الأصل "منه" ولفظ أحمد ما أثبتناه.

6 5: 348 وانظر صفحة 352 ، ورواه الدارمي 2: 450 ، 451 في فضائل القرآن "باب فضل سورة البقرة وآل عمران" بلفظ قريب من لفظ أحمد. وابن ماجه 2: 1242 مختصرا في الأدب- باب ثواب القرآن".
অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মিম একটি অক্ষর।" তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি সুন্দর-বিশুদ্ধ (حسن صحيح) হাদিস।

এবং তাঁরই (তিরমিজি) বর্ণনায়, এবং তিনি একে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "কুরআন পাঠকারীকে বলা হবে: পাঠ করো এবং উচ্চ সোপানে আরোহণ করো, আর তারতিলের সাথে পাঠ করো ঠিক যেভাবে দুনিয়াতে পাঠ করতে। কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পঠিত সর্বশেষ আয়াতের নিকট।" এবং আহমাদ-এ আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত হাদিসে অনুরূপ রয়েছে এবং তাতে আছে: "অতঃপর সে পাঠ করবে এবং প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে এক ধাপ করে উপরে উঠবে, এমনকি সে তার নিকট থাকা সর্বশেষ অংশটি পাঠ করবে।" এবং আহমাদ-এ বুরাইদাহ থেকেও উর্ধ্বগামী (مرفوعا) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:

--------------------------------------------

১ ৮: ১১৫, ১১৬ কুরআনের সওয়াব অধ্যায়ে "কুরআনের একটি অক্ষর পাঠকারীর বিনিময় সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে" পরিচ্ছেদ। দারেমি এটি সমার্থে ২: ৪২৯ কুরআন পাঠের ফজিলত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

২ ৮: ১১৭ কুরআনের সওয়াব অধ্যায়ে।

৩ মূলে রয়েছে "সর্বশেষ আয়াতের নিকট" এবং অতিরিক্ত অংশটুকু তিরমিজিতে রয়েছে। আবু দাউদ এটি ২: ১৫৩ সালাত অধ্যায়ে "কুরআন পাঠে তারতিল মুস্তাহাব হওয়া প্রসঙ্গে" পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন এবং শেষে রয়েছে "কেননা তোমার নিবাস হবে তোমার পঠিত সর্বশেষ আয়াতের নিকট"। আহমাদ ২: ১৯২-এ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "...পাঠ করো, আরোহণ করো এবং তারতিল করো... তুমি যা পাঠ করবে।"

৪ ৩: ৪০ এবং ইবনে মাজাহ এটি ২: ১২৪২ আদব অধ্যায়ে "কুরআন পাঠের সওয়াব" পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

৫ মূলে রয়েছে "তা থেকে", কিন্তু আহমাদের যে পাঠটি আমরা সাব্যস্ত করেছি তা-ই সঠিক।

৬ ৫: ৩৪৮ এবং পৃষ্ঠা ৩৫২ দেখুন। দারেমি এটি ২: ৪৫০, ৪৫১ কুরআন পাঠের ফজিলত অধ্যায়ে "সুরা বাকারাহ ও আলে ইমরানের ফজিলত" পরিচ্ছেদে আহমাদের পাঠের নিকটবর্তী শব্দে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ ২: ১২৪২ আদব অধ্যায়ে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ৭)
"تعلموا سورة البقرة" 1 فذكر مثل ما تقدم في الصحيح في البقرة وآل عمران، وفيه: "وإن القرآن يلقى صاحبه يوم القيامة حين ينشق عنه قبره كالرجل الشاحب، فيقول له: هل تعرفني؟ فيقول: ما أعرفك. فيقول له: هل تعرفني؟ فيقول: ما أعرفك، فيقول: أنا صاحبك القرآن الذي أظمأتك في الهواجر، وأسهرت ليلك، وإن كل تاجر من وراء تجارته، وإنك اليوم من وراء كل تجارة. فيعطى الملك بيمينه، والخلد بشماله، ويوضع على رأسه تاج الوقار، ويكسا والداه حلتين لا يقوم لهما أهل الدنيا، فيقولان: بم كسينا هذه؟ فيقال: بأخذ ولدكما القرآن. ثم يقال له: اقرأ واصعد في درجة الجنة وغرفها، فهو في صعود ما دام يقرأ هذًا كان أو ترتيلا2". وعن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أهل القرآن هم أهل الله وخاصته" 3 رواه أحمد والنسائي. 4

--------------------------------------------

1 أحمد (5/348) ، والدارمي: فضائل القرآن (3391) .

2 في الأصل زيادة ونقص في أماكن مختلفة من الحديث لم نر حاجة في الإشارة إلى كل منها ولفظ أحمد ما أثبتناه.

3 ابن ماجه: المقدمة (215) ، وأحمد (3/127 ،3/242) ، والدارمي: فضائل القرآن (3326) .

4 أحمد 3: 127 بأطول من هذا ولفظه عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن لله أهلين من الناس، فقيل: من أهل الله منهم؟ قال: أهل القرآن هم أهل الله وخاصته وانظر الصفحات 127 ، 128 ، 242 من الجزء نفسه. والنسائي. كما رواه ابن ماجه 1: 76 في المقدمة "باب فضل من تعلم القرآن وعلمه" ولفظه قريب من أحمد.
"তোমরা সূরা আল-বাকারাহ শিক্ষা করো।" ১ অতঃপর তিনি সূরা আল-বাকারাহ এবং আল-ইমরান সম্পর্কে ইতিপূর্বে সহিহ সংকলনে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুরূপ উল্লেখ করলেন। তাতে রয়েছে: "নিশ্চয়ই কুরআন কিয়ামতের দিন তার সাথীর (পাঠকের) সাথে সাক্ষাৎ করবে যখন তার কবর বিদীর্ণ হবে। কুরআন আসবে একজন বিবর্ণ ব্যক্তির বেশে এবং তাকে জিজ্ঞেস করবে: 'তুমি কি আমাকে চেনো?' সে উত্তর দেবে: 'আমি তোমাকে চিনি না।' সে পুনরায় জিজ্ঞেস করবে: 'তুমি কি আমাকে চেনো?' সে উত্তর দেবে: 'আমি তোমাকে চিনি না।' তখন কুরআন বলবে: 'আমিই তোমার সেই সাথী কুরআন, যে তোমাকে তপ্ত দ্বিপ্রহরে তৃষ্ণার্ত রেখেছিল এবং তোমার রাতগুলোকে বিনিদ্র করেছিল। নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যবসায়ী তার ব্যবসার মাধ্যমেই লাভবান হয়, আর আজ তুমি তোমার ব্যবসার (আমলের) মাধ্যমে সবকিছুর ঊর্ধ্বে লাভবান হবে।' অতঃপর তার ডান হাতে রাজত্ব এবং বাম হাতে চিরস্থায়িত্ব প্রদান করা হবে এবং তার মাথায় গাম্ভীর্যের মুকুট পরানো হবে। তার পিতামাতাকে এমন দুটি পোশাক পরানো হবে যার সমতুল্য দুনিয়াবাসী কোনো কিছুই করতে পারবে না। তারা জিজ্ঞেস করবে: 'আমাদের কেন এই পোশাক পরানো হয়েছে?' বলা হবে: 'তোমাদের সন্তানের কুরআন গ্রহণ করার কারণে।' অতঃপর তাকে বলা হবে: 'পড়তে থাকো এবং জান্নাতের স্তর ও কক্ষসমূহের দিকে আরোহণ করো।' সে যতক্ষণ পড়তে থাকবে ততক্ষণ সে উপরে আরোহণ করতে থাকবে, চাই সে দ্রুত পঠন করুক অথবা ধীরস্থিরভাবে পঠন করুক।" ২ আর আনাস (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুরআনের ধারক-বাহকরাই আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ ব্যক্তিবর্গ।" ৩ এটি আহমাদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন। ৪

--------------------------------------------

১ আহমাদ (৫/৩৪৮), এবং দারেমি: কুরআনের ফজিলত (৩৩৯১)।

২ মূল পাঠে হাদিসের বিভিন্ন স্থানে কিছু পরিবর্ধন ও পরিমার্জন রয়েছে যা আমরা বিস্তারিত উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করিনি; আহমাদ এর শব্দাবলিই এখানে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

৩ ইবনে মাজাহ: ভূমিকা (২১৫), আহমাদ (৩/১২৭, ৩/২৪২), এবং দারেমি: কুরআনের ফজিলত (৩৩২৬)।

৪ আহমাদ ৩: ১২৭-এ এর চেয়ে দীর্ঘ বর্ণনা রয়েছে এবং আনাস (রা.) হতে এর শব্দাবলি হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে আল্লাহর কিছু পরিজন রয়েছে।" জিজ্ঞেস করা হলো: "তাদের মধ্যে আল্লাহর পরিজন কারা?" তিনি বললেন: "কুরআনের ধারক-বাহকরাই আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ ব্যক্তিবর্গ।" একই খণ্ডের ১২৭, ১২৮ ও ২৪২ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য। এছাড়া নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ ১: ৭৬-এ ভূমিকা পর্বে "কুরআন শিক্ষা দেওয়া ও শিক্ষা গ্রহণ করার ফযিলত অধ্যায়"-এ এটি বর্ণনা করেছেন, যার শব্দবিন্যাস আহমাদের বর্ণনার কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌(2) باب ما جاء في تقديم أهل القرآن وإكرامهم

وكان القراء أصحاب مجلس عمر كهولا كانوا أو شبابا، عن أبي 1 مسعود أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يؤم القوم اقرؤهم لكتاب الله. فإن كانوا في القراءة سواء فأعلمهم بالسنة. فإن كانوا في السنة سواء فأقدمهم هجرة. فإن كانوا في الهجرة سواء فأقدمهم سنا" وفي رواية سلما "ولا يؤمن الرجل الرجل في سلطانه، ولا يقعد في بيته على تكرمته إلا بإذنه" 2 رواه مسلم3. وللبخاري4 عن جابر: "أنه صلى الله عليه وسلم كان يجمع

--------------------------------------------

1 في الأصل "ابن مسعود" والتصحيح من مسلم ولفظه عن أبي مسعود الأنصاري وذكر الحديث.

2 مسلم: المساجد ومواضع الصلاة (673) ، والترمذي: الصلاة (235) ، والنسائي: الإمامة (780 ،783) ، وأبو داود: الصلاة (582) ، وابن ماجه: إقامة الصلاة والسنة فيها (980) ، وأحمد (4/117 ،4/121 ،5/272) .

3 1: 465 في المساجد ومواضع الصلاة- "باب من أحق بالإقامة" ورواه النسائي 2: 86 في الإقامة بمعناه، وابن ماجه 1: 313، 314 في إقامة الصلاة "باب من أحق بالإقامة" وأحمد بمعناه 1: 118، 121، 5: 272.

4 2: 80 في كتاب الجنائز باب "72" وتمامه: "وقال: أنا شهيد كل هؤلاء يوم القيامة وأمر بدفنهم بدمائهم ولم يغسلوا ولم يصلَّ عليهم" وباب "75" وقال في آخره: "ولم يصلِّ عليهم، ولم يغسِّلهم". ورواه الترمذي 3: 411 في الجنائز "باب ما جاء في ترك الصلاة على الشهيد" وآخره "ولم يصلَّ عليهم ولم يغسَّلوا". وابن ماجه 1: 485 في الجنائز "باب ما جاء في الصلاة على الشهداء ودفنهم" وهو موافق للفظ البخاري في الباب (75) الا أنه زاد في لفظ "الثلاثة" حيث قال: "كان يجمع بين الرجلين والثلاثة. ". والنسائي 4: 62 في الصلاة على الشهداء وآخره: "ولم يصلِّ عليهم ولم يغسَّلوا". وأبو داود 3: 501 في الجنائز رقم (3138) وآخره "ولم يغسَّلوا وليس فيه ذكر الصلاة.
‌‌(২) অধ্যায়: পবিত্র কুরআনের ধারক-বাহকদের (আহলুল কুরআন) অগ্রাধিকার দান ও সম্মান প্রদর্শনের বর্ণনা।

উমর (রা.)-এর মজলিসের সদস্যগণ ছিলেন ক্বারীগণ (القراء), তাঁরা প্রৌঢ় হোন কিংবা যুবক। আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত (عن) যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "লোকদের ইমামতি করবে তারা, যারা আল্লাহর কিতাব অধিক পাঠ করতে পারে। যদি তারা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ (السنة) সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। যদি তারা সুন্নাহর (السنة) ক্ষেত্রেও সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে হিজরতে (هجرة) অগ্রগামী। আর যদি তারা হিজরতের (الهجرة) ক্ষেত্রেও সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে বয়সে বড়।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "ইসলাম গ্রহণে (سلما) অগ্রগামী।" "কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কর্তৃত্বাধীন স্থানে তার ইমামতি করবে না এবং তার ঘরে তার নির্দিষ্ট আসনে তার অনুমতি ব্যতীত বসবে না।" ২ এটি মুসলিম বর্ণনা (رواه) করেছেন ৩। আর বুখারি ৪ এ জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত (عن): "আল্লাহর রাসূল (সা.) একত্রিত করতেন...

--------------------------------------------

১ মূলে রয়েছে "ইবনে মাসউদ", তবে মুসলিম থেকে এর সংশোধন করা হয়েছে এবং তার পাঠ হলো: আবু মাসউদ আল-আনসারি থেকে বর্ণিত (عن)... এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

২ মুসলিম: মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিইস সালাহ (৬৭৩); তিরমিজি: আস-সালাহ (২৩৫); নাসায়ি: আল-ইমামাহ (৭৮০, ৭৮৩); আবু দাউদ: আস-সালাহ (৫৮২); ইবনে মাজাহ: ইক্বামাতুস সালাহ ওয়াস সুন্নাহ ফিহা (৯৮০); আহমাদ (৪/১১৭, ৪/১২১, ৫/২৭২)।

৩ ১: ৪৬৫, মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিইস সালাহ- "কে ইমামতির অধিক হকদার" অধ্যায়; এবং নাসায়ি এটি ২: ৮৬ পৃষ্ঠায় ইমামতি অধ্যায়ে একই অর্থে বর্ণনা (رواه) করেছেন; ইবনে মাজাহ ১: ৩১৩, ৩১৪, ইক্বামাতুস সালাহ- "কে ইমামতির অধিক হকদার" অধ্যায় এবং আহমাদ একই অর্থে ১: ১১৮, ১২১, ৫: ২৭২।

৪ ২: ৮০, জানায়িজ অধ্যায় "৭২", যার পূর্ণাঙ্গ পাঠ হলো: "তিনি বললেন: আমি কিয়ামতের দিন এদের সবার সাক্ষী হব। তিনি তাদের রক্তসহ দাফন করার নির্দেশ দিলেন, তাদের গোসল দেওয়া হয়নি এবং তাদের জানাজার নামাজও (صلَّ) পড়া হয়নি।" এবং অধ্যায় "৭৫", যার শেষে তিনি বলেছেন: "তিনি তাদের জানাজার নামাজ (صلِّ) পড়েননি এবং তাদের গোসল দেননি।" এটি তিরমিজি বর্ণনা (رواه) করেছেন ৩: ৪১১, জানায়িজ- "শহীদের জানাজার নামাজ (الصلاة) না পড়া সংক্রান্ত" অধ্যায়, যার শেষে রয়েছে: "তাদের জানাজা পড়া হয়নি এবং তাদের গোসল দেওয়া হয়নি।" ইবনে মাজাহ ১: ৪৮৫, জানায়িজ- "শহীদদের জানাজা (الصلاة) ও দাফন সংক্রান্ত" অধ্যায়, যা বুখারির অনুচ্ছেদ (৭৫)-এর পাঠের অনুরূপ, তবে তিনি "তিনজন" শব্দটি বৃদ্ধি করেছেন যেখানে বলা হয়েছে: "তিনি দুই বা তিনজনকে একত্রিত করতেন..."। নাসায়ি ৪: ৬২, শহীদদের জানাজা (الصلاة) অধ্যায়, যার শেষে রয়েছে: "তাদের জানাজা পড়া হয়নি এবং গোসল দেওয়া হয়নি।" আবু দাউদ ৩: ৫০১, জানায়িজ নং (৩১৩৮), যার শেষে রয়েছে: "তাদের গোসল দেওয়া হয়নি" এবং সেখানে জানাজার নামাজের (الصلاة) কথা উল্লেখ নেই।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ৯)
بين الرجلين من قتلى أُحد (في ثوب واحد) 1 ثم يقول: أيهم2 أكثر أخذًا للقرآن؟ فإذا أشير له3 إلى أحدهما قدمه في اللحد". وعن أبي موسى أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن من إجلال الله إكرام ذي الشيبة المسلم، وحامل القرآن غير الغالي فيه والجافي عنه، وإكرام ذي السلطان" 4 حديث حسن رواه أبو داود.5

--------------------------------------------

1 ليست في الأصل.

2 في الأصل "أيهما".

3 في الأصل "فإذا أشير إلى.. ".

4 أبو داود: الأدب (4843) .

5 5: 174 في الأدب 23- باب في تنزيل الناس منازلهم. وهذا لفظه، وفيه زيادة "المقسط" بعد قوله: "ذي السلطان".
"...উহুদ যুদ্ধে শহীদদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তিকে (একই কাপড়ে) ১ তারপর তিনি বলতেন: তাদের মধ্যে কে কুরআন অধিক অর্জন করেছেন? ২ যখন তাঁর কাছে তাদের মধ্যে একজনের দিকে ইশারা করা হতো, ৩ তখন তিনি তাকে লাহাদ (اللحد) বা কবরের গর্তে অগ্রবর্তী করতেন।" এবং আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর মাহাত্ম্য প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত হলো—মুসলিম বৃদ্ধকে সম্মান করা, কুরআনের সেই বাহককে সম্মান করা যে তাতে চরমপন্থা (الغالي) অবলম্বন করে না এবং তা থেকে বিমুখ (الجافي) থাকে না, এবং শাসককে সম্মান করা।" ৪ এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। ৫

--------------------------------------------

১ এটি মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।

২ মূলে রয়েছে "أيهما"।

৩ মূলে রয়েছে "فإذا أشير إلى.. "।

৪ আবু দাউদ: আল-আদাব (৪৮৪৩)।

৫ ৫: ১৭৪, আল-আদাব ২৩- মানুষের মর্যাদা অনুযায়ী তাদের মূল্যায়ন সংক্রান্ত অধ্যায়। এটি তাঁরই শব্দচয়ন, এবং এতে "ذي السلطান" শব্দের পর "ন্যায়পরায়ণ (المقسط)" শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌(3) باب وجوب تعلم القرآن وتفهمه واستماعه والتغليظ على من ترك ذلك

وقول الله تعالى: {وَجَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْراً} 1 وقال تعالى: {إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لا يَعْقِلُونَ} 2 وقوله: {وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكاً} 3 الآية.

عن أبي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مثل ما بعثني الله به من الهدى والعلم كمثل الغيث الكثير أصاب أرضا، فكان منها نقية قبلت الماء فأنبتت الكلأ والعشب الكثير. وكانت منها أجادب أمسكت الماء فنفع الله بها الناس، فشربوا وسقوا وزرعوا. وأصاب منها طائفة أخرى إنما هي قيعان لا تمسك ماء ولا تنبت كلأ. فذلك مثل من فقه في دين الله ونفعه ما بعثني الله به، فعلم وعلّم 4. ومثل5 من لم يرفع بذلك رأسا ولم يقبل هدى الله

--------------------------------------------

1 سورة الأنعام آية: 25.

2 سورة الأنفال آية: 22.

3 سورة طه آية: 124.

4 في الأصل: فتعلم وعمل ولفظ ابن حبان "فعلم وعمل".

5 في الأصل: ومن لم يرفع.. والتصحيح من البخاري ومسلم، وأحمد.
‌‌(৩) অধ্যায়: কুরআন শিক্ষা করা, তা অনুধাবন করা ও শ্রবণ করার আবশ্যকতা (وجوب) এবং যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করে তার প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি

আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ দিয়েছি যেন তারা তা অনুধাবন (يفقهوه) করতে না পারে এবং তাদের কানে দিয়েছি বধিরতা।} ১ এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম প্রাণী সেই সব বধির ও মূক, যারা কিছুই অনুধাবন (يعقلون) করে না।} ২ এবং তাঁর বাণী: {আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জন্য অবশ্যই হবে এক সংকীর্ণ জীবন।} ৩ আয়াত।

আবু মুসা হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা আমাকে যে হিদায়াত (الهدى) ও ইলম (العلم) দিয়ে পাঠিয়েছেন, তার উদাহরণ হলো এমন এক প্রচুর বৃষ্টির ন্যায় যা কোনো ভূমিতে পতিত হলো। তার মধ্যে এক টুকরো ভূমি ছিল উর্বর যা পানি গ্রহণ করল এবং প্রচুর ঘাস ও লতা-পাতা উৎপন্ন করল। আর ভূমির কিছু অংশ ছিল শক্ত যা পানি আটকে রাখল, ফলে আল্লাহ তা দ্বারা মানুষের উপকার করলেন; তারা পান করল, পানি পান করাল এবং চাষাবাদ করল। আর বৃষ্টির এক অংশ এমন নিচু সমতল ভূমিতে পড়ল যা পানিও ধরে রাখে না এবং ঘাসও উৎপন্ন করে না। এ হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে প্রজ্ঞা (فقه) অর্জন করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা তার উপকারে এসেছে; ফলে সে নিজে শিখল এবং অন্যদের শিক্ষা দিল ৪। আর ঐ ব্যক্তির উদাহরণ যে এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং আল্লাহর হিদায়াত (هدى) গ্রহণ করেনি ৫।"

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনআম, আয়াত: ২৫।

২ সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২২।

৩ সূরা ত্ব-হা, আয়াত: ১২৪।

৪ মূল পাণ্ডুলিপিতে (الأصل): "অতঃপর সে শিক্ষা করল এবং আমল করল", আর ইবনে হিব্বান-এর শব্দ (لفظ) হলো: "সে জানল এবং আমল করল"।

৫ মূল পাণ্ডুলিপিতে (الأصل): "এবং যে মাথা তুলেনি...", এর সংশোধনী (التصحيح) বুখারি, মুসলিম এবং আহমাদ থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ১১)
الذي أرسلت به" أخرجاه1. وعن ابن عمرو أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "2 ارحموا ترحموا، واغفروا يغفر الله لكم. ويل لأقماع القول ويل للمصرين الذين يصرون على ما فعلوا وهم يعلمون" رواه أحمد.3

--------------------------------------------

1 البخاري 1: 22، 23 في كتاب العلم 20- باب فضل من عَلِمَ وعلَّم بهذا اللفظ إلا قوله: "وأصاب منها طائفة أخرى" ففيه: وأصابت، ولفظ مسلم: " وأصاب طائفة منها أخرى" ومسلم 4: 1787 1788 في الفضائل 5- باب بيان مثل ما بعث النبي صلى الله عليه وسلم من الهدى والعلم مع اختلاف في بعض ألفاظ الحديث وأوله: "إن مثل ما بعثني الله به عز وجل.. ". وأخرجه أحمد 4: 399 عن أبي موسى قال: ولد لي غلام فأتيت به النبي صلى الله عليه وسلم فسماه إبراهيم وحنّكه بتمرة.. إلى أن قال: وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن مثل ما بعثني الله عز وجل به من الهدى والعلم كمثل غيث.. وذكر الحديث. ورواه ابن حبان 1: 3 باب الاعتصام بالسنة وما يتعلق بها نقلا وأمرا وزجرا.

2 في الأصل عن ابن عمر.. "واغفروا يغفر لكم" وصوابه من أحمد ما أثبتنا.

3 2: 165، 219 عن عبد الله بن عمرو بن العاص عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال -وهو على المنبر- "ارحموا تُرْحموا" الحديث.
"যা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে"—তারা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجاه)১। এবং ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ২ "তোমরা দয়া করো, তোমাদের প্রতি দয়া করা হবে; এবং ক্ষমা করো, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন। ধ্বংস সেই সকল ব্যক্তির জন্য যারা কথার পাত্রস্বরূপ (অর্থাৎ যারা কেবল শ্রবণ করে কিন্তু আমল করে না), ধ্বংস সেই সকল একগুঁয়ে ব্যক্তিদের জন্য যারা জেনেবুঝে তাদের কৃতকর্মের ওপর অটল থাকে।" এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (رواه)৩।

--------------------------------------------

১ বুখারি ১: ২২, ২৩; কিতাবুল ইলম, ২০- অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করল এবং শিক্ষা দিল তার শ্রেষ্ঠত্ব; এই শব্দেই বর্ণিত হয়েছে, তবে তাঁর এই উক্তি: "وأصاب منها طائفة أخرى" (এবং এর একাংশ অন্য এক খণ্ড ভূমিকে সিক্ত করল) ব্যতীত; কারণ সেখানে রয়েছে: "وأصابت"। মুসলিমের শব্দবিন্যাস হলো: "وأصاب طائفة منها أخرى"। মুসলিম ৪: ১৭৮৭, ১৭৮৮; কিতাবুল ফাযায়েল, ৫- অনুচ্ছেদ: নবী (সা.) যে হিদায়াত ও ইলম নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তার উপমার বিবরণ। হাদিসের কিছু শব্দে ভিন্নতা রয়েছে এবং এর শুরু হলো: "আল্লাহ তাআলা আমাকে যে হিদায়াত ও ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার উপমা..."। আহমাদ ৪: ৩৯৯-এ আবু মুসা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه), তিনি বলেন: আমার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিলে আমি তাকে নিয়ে নবী (সা.)-এর নিকট আসলাম, তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহিম এবং খেজুর দিয়ে তার তাহনিক করলেন... শেষ পর্যন্ত যেখানে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা আমাকে যে হিদায়াত ও ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার উপমা হলো প্রচুর বৃষ্টির ন্যায়..." এবং তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন। ইবনে হিব্বান ১: ৩; সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ণনা (نقلا), আদেশ (أمرا) ও নিষেধ (وزجرا) সংক্রান্ত অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন (رواه)।

২ মূল পাঠে ইবনে উমর থেকে... "তোমরা ক্ষমা করো, তোমাদের ক্ষমা করা হবে" বর্ণিত আছে। তবে সঠিক হলো আহমাদ-এর বর্ণনা অনুযায়ী যা আমরা স্থির করেছি।

৩ ২: ১৬৫, ২১৯; আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) মিম্বরে থাকা অবস্থায় বলেছেন— "তোমরা দয়া করো, তোমাদের প্রতি দয়া করা হবে" পূর্ণ হাদিস।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌(4) باب الخوف على من لم يفهم القرآن أن يكون من المنافقين

وقوله تعالى: {وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُ إِلَيْكَ حَتَّى إِذَا خَرَجُوا مِنْ عِنْدِكَ} 1 الآية، وقوله عز وجل {وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيراً مِنَ الْجِنِّ وَالْأِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لا يَفْقَهُونَ بِهَا} 2 الآية.

عن أسماء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " إنكم تفتنون في قبوركم مثل أو قريب ا 3 من فتنة الدجال؛ يؤتى أحدكم [فيقال: ما علمك بهذا الرجل؟ فأما المؤمن أو الموقن، لا أدري أي ذلك قالت أسماء] 4 فيقول: هو محمد رسول الله جاءنا بالبينات والهدى، فأجبنا وآمنا واتبعنا. فيقال: نم صالحا فقد علمنا إن كنت لمؤمنا 5. وأما المنافق أو المرتاب فيقول: لا أدري. سمعت الناس يقولون شيئا فقلته".

--------------------------------------------

1 سورة محمد آية: 16.

2 سورة الأعراف آية: 179.

3 في الأصل بياض بين قوله: "في قبوركم وقوله: أو قريبا من فتنة الدجال هكذا ".. في قبوركم أو قريبا.. ".

4 ما بين القوسين ليس في الأصل فنقلناه من البخاري لضرورة وضوح المعنى.

5 في الأصل: "إنك لمؤمن" وليس في ألفاظ البخاري، ولفظ مسلم: "قد كنا نعلم إنك لتؤمن به"
‌(৪) পরিচ্ছেদ: যারা কুরআন বোঝে না তাদের মুনাফিক (منافق) হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা আপনার কথা কান পেতে শোনে, কিন্তু যখন তারা আপনার কাছ থেকে বেরিয়ে যায়...} ১ (আয়াত), এবং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {আমি জিন ও মানুষের মধ্য থেকে অনেককে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না...} ২ (আয়াত)।

আসমা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কবরে দাজ্জালের ফিতনার অনুরূপ বা তার কাছাকাছি ফিতনার (পরীক্ষার) সম্মুখীন করা হবে। তোমাদের একজনকে (কবরে) আনা হবে [অতঃপর তাকে বলা হবে: এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কী? তখন মু'মিন (مؤمن) বা সুনিশ্চিত বিশ্বাসী (موقن) ব্যক্তি—আসমা (রা.) কোন শব্দটি বলেছিলেন তা আমি (বর্ণনাকারী) নিশ্চিত নই—সে বলবে: তিনি হচ্ছেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ; তিনি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন, অতঃপর আমরা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছি, তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তখন তাকে বলা হবে: তুমি শান্তিতে ঘুমাও, আমরা জানতাম যে তুমি অবশ্যই মু'মিন (مؤمن) ছিলে। পক্ষান্তরে মুনাফিক (منافق) বা সন্দেহ পোষণকারী (مرتاب) বলবে: আমি জানি না; লোকজনকে কিছু বলতে শুনেছিলাম, তাই আমিও তা-ই বলেছি।]"

--------------------------------------------

১ সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ১৬।

২ সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৭৯।

৩ মূল পাণ্ডুলিপিতে "তোমাদের কবরে" এবং "অথবা দাজ্জালের ফিতনার কাছাকাছি" শব্দদ্বয়ের মাঝে শূন্যস্থান ছিল এভাবে: "তোমাদের কবরে... অথবা কাছাকাছি..."।

৪ বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মূল পাঠে নেই; অর্থ স্পষ্ট করার প্রয়োজনে আমরা তা সহীহ বুখারী থেকে গ্রহণ করেছি।

৫ মূল পাঠে রয়েছে: "নিশ্চয়ই তুমি মু'মিন (مؤمن)", যা সহীহ বুখারীর শব্দাবলিতে নেই। সহীহ মুসলিমের শব্দ হলো: "আমরা জানতাম যে তুমি তাঁর প্রতি অবশ্যই ঈমান পোষণ করতে"।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
أخرجاه1. وفي حديث البراء 2 في 3 الصحيح: " أن المؤمن يقول: هو رسول الله، فيقولان: قرأت كتاب الله فآمنت به وصدقت" 4

--------------------------------------------

1 البخاري 1: 23، 24 في كتاب العلم 24- باب من أجاب الفتيا بإشارة اليد والرأس، 1: 40، 41 في الوضوء 37- باب من لم يتوضأ إلا من الغشي لمثقل، 2: 10 في الجمعة 28- باب من قال في الخطبة بعد الثناء: أما بعد، 2: 33 في المكسوف 10- باب صلاة النساء مع الرجال في الكسوف، 9: 77 في الاعتصام 3- باب الاقتداء بسنن رسول الله صلى الله عليه وسلم. ومسلم 2: 264 في الكسوف رقم 11. وأخرجه أحمد 6: 345، 346، ومالك في الموطأ 1: 188، 189 في الكسوف. هذا والمؤلف رحمه الله أورد الحديث بشيء من الاختصار كما يعلم ذلك بالرجوع إلى كتب الحديث.

2 أخرجه أبو داود في كتاب السنة مطولا 27- باب في المسألة في القبر وعذاب القبر رقم الحديث 4753 ، 4754 قال: عن أبي عمر زاذان قال: سمعت البراء عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكر نحوه وأحمد 4: 287 مطولا.3 كذا في الأصل. والأقرب الصحيح.

4 أبو داود: السنة (4753) .
তাঁরা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন১। এবং বারা’ ২ এর হাদিসে ৩ সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি বলবে: তিনি আল্লাহর রাসুল। তখন তাঁরা (ফেরেশতারা) বলবেন: আমি আল্লাহর কিতাব পাঠ করেছি, অতঃপর তার ওপর ইমান এনেছি এবং তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছি।" ৪

--------------------------------------------

১. বুখারি ১: ২৩, ২৪; কিতাবুল ইলম-এর অন্তর্গত ২৪- অনুচ্ছেদ: হাত ও মাথার ইশারায় ফতোয়া প্রদান; ১: ৪০, ৪১; অজু অধ্যায়, ৩৭- অনুচ্ছেদ: গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়া ব্যতীত অজু না করা; ২: ১০; জুমা অধ্যায়, ২৮- অনুচ্ছেদ: প্রশংসার পর খুতবায় ‘আম্মা বা’দু’ বলা; ২: ৩৩; কুসুফ অধ্যায়, ১০- অনুচ্ছেদ: সূর্যগ্রহণের সালাতে পুরুষদের সাথে নারীদের অংশগ্রহণ; ৯: ৭৭; ইতিসাম অধ্যায়, ৩- অনুচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ। মুসলিম ২: ২৬৪; কুসুফ অধ্যায়, হাদিস নং ১১। ইমাম আহমাদ ৬: ৩৪৫, ৩৪৬ এবং মালিক মুওয়াত্তায় ১: ১৮৮, ১৮৯ (কুসুফ অধ্যায়ে) এটি বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য যে, লেখক (রহ.) হাদিসটি কিছুটা সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করেছেন, যা হাদিসের কিতাবগুলো পর্যালোচনা করলে জানা যায়।

২. আবু দাউদ এটি কিতাবুস সুন্নাহ-তে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন; অনুচ্ছেদ ২৭- কবরের সওয়াল-জওয়াব ও কবরের আজাব প্রসঙ্গে, হাদিস নং ৪৭৫৩, ৪৭৫৪। তিনি বলেন: আবু উমর জাযান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বারা’ (রা.)-কে নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ ৪: ২৮৭ বিস্তারিতভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। ৩. মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই রয়েছে। তবে বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়াটাই অধিকতর সঙ্গত।

৪. আবু দাউদ: আস-সুন্নাহ (৪৭৫৩)।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌(5) باب قول الله تعالى: {وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ} الآية

وقوله: {مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَاراً} 1 الآية. عن أبي الدرداء قال: "كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم فشخص ببصره 2 إلى السماء، ثم 3 قال: " هذا أوان يختلس العلم من الناس حتى لا يقدروا منه على شيء 4". فقال زياد بن لبيد الأنصاري: كيف يختلس5 منا وقد قرأنا القرآن؟ فوالله لنقرأنه ولنقرئنه نساءنا6 وأبناءنا فقال: "ثكلتك أمك يا زياد إن كنت لأعدك من فقهاء المدينة 7. هذه التوراة والإنجيل عند اليهود والنصارى فماذا تغني عنهم؟ ".

--------------------------------------------

1 سورة الجمعة آية: 5.

2 في الأصل: فشخص بصره.

3 في الأصل: فقال.

4 في الأصل: "حتى لا يقدرون على شيء منه".

5 في الأصل: "زياد بن لبيد".

6 في الأصل: "فوالله لنقرئنه نساءنا".

7 في الأصل: "من فقهاء أهل المدينة".
‌(৫) মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক রয়েছে যারা কিতাব সম্পর্কে অলীক ধারণা ছাড়া কিছুই জানে না} আয়াতের অধ্যায়

এবং তাঁর বাণী: {যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের উদাহরণ সেই গাধার ন্যায় যে বিশাল কিতাবসমূহ বহন করে} ১ আয়াত। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা নবী (সা.)-এর সাথে ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন ২, অতঃপর ৩ বললেন: "এটি এমন এক সময় যখন মানুষের নিকট থেকে ইলম ছিনিয়ে নেওয়া হবে, এমনকি তারা তা থেকে কিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম হবে না ৪"। তখন জিয়াদ ইবনে লাবীদ আল-আনসারী বললেন: আমাদের থেকে ইলম কীভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হবে ৫ অথচ আমরা কুরআন পাঠ করেছি? আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্যই তা পাঠ করব এবং আমাদের নারী ৬ ও সন্তানদেরও পাঠ দান করব। তখন তিনি বললেন: "হে জিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারাক (এটি একটি আরবীয় প্রকাশভঙ্গি), আমি তো তোমাকে মদিনার ফকীহদের (فقهاء) ৭ অন্তর্ভুক্ত মনে করতাম। এই তাওরাত ও ইনজীল তো ইহুদি ও নাসারাদের কাছেও বিদ্যমান, তবে তা তাদের কী উপকারে আসছে?"।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত: ৫।

২. মূলে রয়েছে: "তার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো"।

৩. মূলে রয়েছে: "অতঃপর তিনি বললেন"।

৪. মূলে রয়েছে: "এমনকি তারা তার কোনো কিছুর ওপর সক্ষম হবে না"।

৫. মূলে রয়েছে: "জিয়াদ ইবনে লাবীদ"।

৬. মূলে রয়েছে: "আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই আমাদের নারীদের তা পাঠ করাব"।

৭. মূলে রয়েছে: "মদিনার অধিবাসী ফকীহদের (فقهاء) অন্তর্ভুক্ত"।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
رواه الترمذي 1 وقال: حسن غريب. وعن عائشة رضي الله عنها: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أنزل عليه: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ} ? إلى قوله: {سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} 2 قال: "ويل لمن قرأ هذه الآية ولم يتفكر فيها" رواه ابن حبان في صحيحه.

--------------------------------------------

1 7: 304 في كتاب العلم 5- باب ما جاء في ذهاب العلم. وانظر الدارمي 1: 77- باب في ذهاب العلم.

2 سورة آل عمران الآيتان: 190 - 191.
তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন ১ এবং বলেছেন: হাসান (حسن) গরিব (غريب)। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: "যখন আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হলো: {নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে...} থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আপনি মহাপবিত্র, অতএব আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন} ২ তখন তিনি বললেন: ‘ধ্বংস তার জন্য যে ব্যক্তি এই আয়াতটি পাঠ করল অথচ তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করল না’।" ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ ৭: ৩০৪, কিতাবুল ইলম-এ, ৫- অধ্যায়: ইলম বিলুপ্ত হওয়া প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে। এবং দেখুন দারেমি ১: ৭৭- অধ্যায়: ইলম বিলুপ্ত হওয়া প্রসঙ্গে।

২ সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৯০ - ১৯১।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌(6) باب إثم من فجر بالقرآن

وقوله تعالى: {وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ} 1 وقوله: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} 2 وقوله: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً} 3 الآية.

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يخرج في هذه الأمة - ولم يقل منها - قوم تحقرون صلاتكم مع صلاتهم يقرؤون القرآن لا يجاوز حناجرهم وحلوقهم، يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية، فينظر إلى نصله إلى رصافه، فيتمارى في فوقه، هل علق به من الدم شيء" 4 أخرجاه. 5

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية: 26. 2 سورة المائدة آية: 44. 3 سورة البقرة آية: 174.

4 البخاري: استتابة المرتدين والمعاندين وقتالهم (6931) ، ومسلم: الزكاة (1064) ، والنسائي: الزكاة (2578) وتحريم الدم (4101) ، وأبو داود: السنة (4764) ، وأحمد (3/4 ،3/31 ،3/33 ،3/56 ،3/60 ،3/64 ،3/65 ،3/68 ،3/72 ،3/73) .

5 البخاري 4: 109 في كتاب الأنبياء باب 9- 6: 162، 163 في فضائل القرآن 373- باب من رايا بقراءة القرآن أو تأكل به أو فجر به 5: 134 في المغازي 139- باب بعث النبي صلى الله عليه وسلم إلى بني جذيمة، 9: 102 في باب 22 وانظر الباب (55) باب قراءة الفاجر والمنافق وأصواتهم وتلاوتهم لا تجاوز حناجرهم من نفس الجزء ومسلم بلفظ قريب من هذا 2: 740 في الزكاة 47- باب ذكر الخوارج وصفاتهم رقم الحديث 147 وانظر رقم 742، 743، 745، 746، 747، 748، 750. ورواه أبو داود بمعناه 5: 122 وما بعدها في السنة 31- باب قتال الخوارج، والنسائي 5: 65 ، 66 في الزكاة- باب المؤلفة قلوبهم. ومالك في الموطأ 1: 204 كتاب القرآن 4- ما جاء في القرآن الحديث رقم 10 وأحمد مطولا 3: 5 ، 52 ، 60 ، 68 ، 73 ، 353 ، 486. وابن ماجه 1: 59 وما بعدها في المقدمة 12- باب في ذكر الخوارج.
(৬) অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কুরআনের মাধ্যমে পাপাচার (فجر) করে তার গুনাহ

আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তিনি এর দ্বারা কেবল পাপাচারীদেরকে (الفاسقين) বিভ্রান্ত করেন} ১ এবং তাঁর বাণী: {আর যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই তো কাফির (الكافرون)} ২ এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর নাজিলকৃত কিতাব গোপন করে এবং বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে} ৩ আয়াতে শেষ পর্যন্ত।

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এই উম্মতের মধ্যে—তিনি ‘তাদের থেকে’ বলেননি—এমন এক কওমের আবির্ভাব ঘটবে যে, তাদের সালাতের তুলনায় তোমরা তোমাদের সালাতকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী ও গলদেশ অতিক্রম করবে না। তারা দীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন শিকারী জন্তুর শরীর ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। অতঃপর (তীর নিক্ষেপকারী) তার তীরের ফলায় দেখে, তার জোড়ায় (তীরের কাঠের সাথে লোহার সংযোগস্থল) দেখে, তার তীরের শেষ মাথায় (পালকের গোড়ায়) তাকিয়ে দ্বিধায় ভোগে যে, সেখানে কি সামান্য রক্তও লেগেছে?" ৪ উভয় ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন। ৫

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারা আয়াত: ২৬। ২. সূরা আল-মায়েদাহ আয়াত: ৪৪। ৩. সূরা আল-বাকারা আয়াত: ১৭৪।

৪. বুখারী: মুরতাদ ও অবাধ্যদের তাওবা করানো এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ (৬৯৩১), এবং মুসলিম: যাকাত (১০৬৪), এবং নাসাঈ: যাকাত (২৫৭৮) ও রক্ত হারাম হওয়া (৪১০১), এবং আবু দাউদ: সুন্নাহ (৪৭৬৪), এবং আহমাদ (৩/৪, ৩/৩১, ৩/৩৩, ৩/৫৬, ৩/৬০, ৩/৬৪, ৩/৬৫, ৩/৬৮, ৩/৭২, ৩/৭৩)।

৫. বুখারী ৪: ১০৯ আম্বিয়া অধ্যায় ৯- ৬: ১৬২, ১৬৩ কুরআনের ফযীলত ৩৭৩- অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে রিয়া বা লোক দেখানো কাজ করে অথবা তা দ্বারা জীবিকা অন্বেষণ করে কিংবা পাপাচার (فجر) করে ৫: ১৩৪ মাগাযী ১৩৯- অনুচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বনু জাযীমার নিকট প্রেরণ, ৯: ১০২ অনুচ্ছেদ ২২ এবং দেখুন অনুচ্ছেদ (৫৫): পাপাচারী (الفاجر) ও মুনাফিকের (المنافق) কুরআন পাঠ এবং তাদের আওয়াজ ও তিলাওয়াত তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম না করা সম্পর্কিত; এবং মুসলিম প্রায় অনুরূপ শব্দে ২: ৭৪০ যাকাত ৪৭- খারেজীদের বর্ণনা ও তাদের গুণাবলী সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ হাদিস নং ১৪৭ এবং দেখুন নং ৭৪২, ৭৪৩, ৭৪৫, ৭৪৬, ৭৪৭, ৭৪৮, ৭৫০। আর আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এর অর্থগত দিক থেকে ৫: ১২২ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে সুন্নাহ ৩১- খারেজীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অনুচ্ছেদ, এবং নাসাঈ ৫: ৬৫, ৬৬ যাকাত- যাদের অন্তর আকৃষ্ট করা হয় (المؤلفة قلوبهم) অনুচ্ছেদ। এবং মালিক মুয়াত্তা ১: ২০৪ কুরআন অধ্যায় ৪- কুরআনের বর্ণনায় যা এসেছে হাদিস নং ১০ এবং আহমাদ বিস্তারিতভাবে ৩: ৫, ৫২, ৬০, ৬৮, ৭৩, ৩৫৩, ৪৮৬। এবং ইবনে মাজাহ ১: ৫৯ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে মুকাদ্দিমা ১২- খারেজীদের বর্ণনা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
وفي رواية "يقرؤون القرآن رطبا 1 ". وكان ابن عمر يراهم شرار الخلق وقال: "إنهم انطلقوا إلى آيات نزلت في الكفار فجعلوها على المؤمنين". وللترمذي 2 وحسنه عن أبي هريرة مرفوعا: " من سئل عن علم فكتمه، ألجمه الله يوم القيامة بلجام من نار" 3

--------------------------------------------

1 لعله يشير إلى رواية البخاري 5: 134 في المغازي. ومسلم 472 في الزكاة ونصها: "إنه يخرج من ضئضيء هذا قوم يتلون كتاب الله رطبا لا يجاوز حناجرهم".

2 7: 301 ، 302 في كتاب العلم 3- باب ما جاء في كتمان العلم بلفظ "ثم كتمه" وفيه زيادة (علمه) وأخرجه أحمد في المسند 2: 495 بلفظ: "من سئل عن علم يعلمه فكتمه ألجم يوم القيامة بلجام من نار وانظر صحيفتي 499 ، 508 من الجزء نفسه، وابن ماجه 1: 97 ، 98 في المقدمة 24- باب من سئل عن علم فكتمه.

3 الترمذي: العلم (2649) ، وأبو داود: العلم (3658) ، وابن ماجه: المقدمة (266) ، وأحمد (2/263 ،2/296 ،2/305 ،2/344 ،2/353 ،2/495) .
এবং একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী "তারা সাবলীলভাবে কুরআন পাঠ করে ১"। ইবনে উমর (রা.) তাদেরকে সৃষ্টির নিকৃষ্টতম মনে করতেন এবং বলতেন: "তারা কাফেরদের শানে নাযিল হওয়া আয়াতসমূহ গ্রহণ করে মুমিনদের ওপর প্রয়োগ করেছে।" তিরমিজিতে ২ এটি বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি একে হাসান (حسن) বলেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত: "যাকে কোনো ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন ৩"

--------------------------------------------

১ সম্ভবত এটি বুখারীর ৫: ১৩৪ মাগাযী অধ্যায়ের বর্ণনার (رواية) প্রতি ইঙ্গিত করছে। এবং মুসলিমের ৪৭২ যাকাত অধ্যায়ের পাঠ হলো: "নিশ্চয়ই এর বংশধর থেকে এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটবে যারা আল্লাহর কিতাব সাবলীলভাবে পাঠ করবে, যা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না।"

২ ৭: ৩০১, ৩০২ ইলম অধ্যায় ৩- 'ইলম গোপন করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে' অনুচ্ছেদে "অতঃপর সে তা গোপন করল" শব্দে বর্ণিত, এতে (তার ইলম) শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে। এবং আহমাদ এটি মুসনাদ গ্রন্থে ২: ৪৯৫ এ এই শব্দে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন: "যাকে তার জানা কোনো ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেওয়া হবে।" একই খণ্ডের ৪৯৯ ও ৫০৮ নং পৃষ্ঠা দেখুন। এবং ইবনে মাজাহ ১: ৯৭, ৯৮ মুকাদ্দিমা ২৪- 'যাকে ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল' অনুচ্ছেদ।

৩ তিরমিজি: ইলম (২৬৪৯), আবু দাউদ: ইলম (৩৬৫৮), ইবনে মাজাহ: মুকাদ্দিমা (২৬৬), আহমাদ (২/২৬৩, ২/২৯৬, ২/৩০৫, ২/৩৪৪, ২/৩৫৩, ২/৪৯৫)।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌(7) باب إثم من رايا بالقرآن

عن أبي هريرة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن أول الناس يقضى يوم القيامة عليه 1 رجل استشهد فأُتي به فعرّفه نعمه فعرفها قال: فما عملت فيها 2؟ قال: قاتلت فيك حتى استشهدت، قال: كذبت ولكنك قاتلت لأن يقال جريء فقد قيل، ثم أمر به فسحب على وجهه حتى ألقي في النار، ورجل تعلم العلم وعلمه وقرأ القرآن، فأُتي به فعرّفه نعمه فعرفها، قال: فما عملت فيها قال: تعلمت العلم وعلمته وقرأت فيك القرآن، قال: كذبت ولكنك تعلمت العلم 3 ليقال: عالم، وقرأت القرآن ليقال: هو قارئ، فقد قيل. ثم أمر به فسحب على وجهه حتى ألقي في النار، ورجل وسّع الله عليه وأعطاه من أصناف المال كله 4، فأُتي به فعرّفه نعمه فعرفها، قال: فما عملت فيها، قال: ما تركت من سبيل تحب أن ينفق فيه إلا أنفقت فيه لك، قال: كذبت، ولكنك فعلت ليقال:

--------------------------------------------

1 في الأصل تقديم "عليه" على "يوم القيامة".

2 لفظ (فيها) ساقط من الأصل. 3 لفظ (العلم) ساقط من الأصل.

4 لفظ (كله) ساقط من الأصل.
(৭) অনুচ্ছেদ: কুরআন নিয়ে লোকদেখানো (رياء) করার গুনাহ

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হলো এমন এক ব্যক্তি যে শহীদ (شهيد) হয়েছে। তাকে (আল্লাহর দরবারে) উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে প্রদত্ত নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন: ‘তুমি এই নেয়ামতগুলো দিয়ে কী আমল করেছ?’ সে বলবে: ‘আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য যুদ্ধ করেছি যতক্ষণ না আমি শহীদ (شهيد) হয়েছি।’ তিনি বলবেন: ‘তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি এ জন্য যুদ্ধ করেছ যেন তোমাকে সাহসী (جريء) বলা হয়; আর তা বলা হয়েছে।’ এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এমন এক ব্যক্তি যে ইলম (علم) অর্জন করেছে, তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে প্রদত্ত নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন: ‘তুমি এই নেয়ামতগুলো দিয়ে কী আমল করেছ?’ সে বলবে: ‘আমি ইলম (علم) শিক্ষা করেছি, তা অন্যদের শিখিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি।’ তিনি বলবেন: ‘তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি ইলম (علم) অর্জন করেছিলে যেন তোমাকে আলিম (عالم) বলা হয় এবং কুরআন পাঠ করেছিলে যেন তোমাকে ক্বারী (قارئ) বলা হয়; আর তা বলা হয়েছে।’ এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সচ্ছলতা দিয়েছিলেন এবং সব ধরনের ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে প্রদত্ত নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন: ‘তুমি এই নেয়ামতগুলো দিয়ে কী আমল করেছ?’ সে বলবে: ‘আপনি যে পথে ব্যয় করা পছন্দ করেন আমি তার কোনোটিই বাদ দিইনি, বরং আপনার সন্তুষ্টির জন্যই ব্যয় করেছি।’ তিনি বলবেন: ‘তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি এ কাজ করেছিলে যেন তোমাকে দানবীর (جواد) বলা হয়’...

--------------------------------------------

১. পাণ্ডুলিপির মূল পাঠে "عليه" শব্দটিকে "يوم القيامة" এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

২. মূল পাঠে "فيها" শব্দটি বাদ পড়েছে। ৩. মূল পাঠে "العلم" শব্দটি বাদ পড়েছে।

৪. মূল পাঠে "كله" শব্দটি বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
هو جواد 1 فقد قيل. ثم أمر به فسحب على وجهه ثم 2 أُلقي في النار".

رواه مسلم. 3

--------------------------------------------

1 لفظ هو ساقط من الأصل.

2 في الأصل لفظ "حتى" مكان "ثم" والتصحيح في الكل من مسلم.

3 3: 1513 ، 2414 في كتاب الإمارة 34- باب من قاتل ليقال: فلان جريء. وأحمد 2: 322 ولفظه قريب من مسلم.
তিনি অত্যন্ত দানশীল 1, আর তা (লোকমুখে) বলাও হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হলো, ফলে তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হলো এবং এরপর 2 তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হলো।"

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (رواه)। 3

--------------------------------------------

1 'هو' শব্দটি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

2 মূল পাণ্ডুলিপিতে 'ثم' (অতঃপর) শব্দের স্থলে 'حتى' (পর্যন্ত) শব্দ রয়েছে এবং সকল সংশোধনী মুসলিম থেকে গৃহীত।

3 ৩: ১৫১৩, ২৪১৪, কিতাবুল ইমারা, ৩৪- অনুচ্ছেদ (باب): যে ব্যক্তি বীর হিসেবে পরিচিত হওয়ার জন্য যুদ্ধ করে। এবং আহমাদ ২: ৩২২; যার শব্দবিন্যাস মুসলিমের বর্ণনার কাছাকাছি।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌(8) باب إثم من تأكل بالقرآن

عن جابر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "اقرؤوا القرآن وابتغوا به وجه الله1 عز وجل قبل أن يأتي يوم يقيمونه إقامة القدح يتعجلونه 2 ولا يتأجلونه" رواه أبو داود 3، وله معناه من حديث سهل بن سعد. وعن عمران "أنه مر برجل يقرأ على قوم فلما فرغ سأله، فقال عمران إنا لله وإنا إليه راجعون، إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من قرأ القرآن فليسأل الله تبارك وتعالى ب هـ 4 فإنه سيجيء قوم يقرؤون القرآن يسألون به الناس" رواه أحمد والترمذي. 5

--------------------------------------------

1 عبارة "وابتغوا به وجه الله" ليست في أبي داود وإنما ورد في المسند 3: 357 بلفظ "وابتغوا به الله عز وجل".

2 في الأصل "يستعجلونه".

3 1: 520 في كتاب الصلاة 139- باب ما يجزئ الأمي والأعجمي من القراءة. ورواه أحمد 3: 155، 357، 397، 5: 338.

4 لفظ "به" ساقط من الأصل.

5 أحمد 4: 432 بهذا اللفظ إلا قوله: "يسألون به الناس" فهو لفظ أبي داود ولفظ أحمد "يسألون الناس به" وانظر الصحائف 432 ، 433 ، 436 ، 437 ، 439 ، 445 من نفس الجزء وأبو داود 8: في ثواب القرآن 20- باب اسألوا الله بالقرآن. مع يسير اختلاف.
(৮) অনুচ্ছেদ: কুরআনের বিনিময়ে জীবিকা নির্বাহকারীর গুনাহ

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো এবং এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করো সেই দিন আসার পূর্বে, যেদিন এমন একদল লোক আসবে যারা একে (কুরআনকে) তীরের মতো সোজা করবে (অর্থাৎ সুর ও উচ্চারণে অতি লৌকিকতা করবে), তারা এর বিনিময় দুনিয়াতে দ্রুত পেতে চাইবে এবং আখেরাতের জন্য বিলম্বিত করবে না।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং সাহল বিন সাদ-এর হাদিসেও এর সমার্থবোধক বর্ণনা রয়েছে। ইমরান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে একদল লোকের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করছিল। যখন সে তিলাওয়াত শেষ করল, তখন সে (লোকদের কাছে) যাঞ্চা করল। এতে ইমরান (রা.) বললেন: "নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।" আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে সে যেন তার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করে। কারণ অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যারা কুরআন পড়বে এবং তার বিনিময়ে মানুষের কাছে যাঞ্চা করবে।" এটি আহমদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. "এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করো" বাক্যটি আবু দাউদ-এ নেই, তবে মুসনাদ (৩: ৩৫৭)-এ এটি "এবং এর মাধ্যমে মহান আল্লাহকে অন্বেষণ করো" শব্দে বর্ণিত হয়েছে।

২. মূল পাণ্ডুলিপিতে "তারা তড়িঘড়ি করবে" শব্দটি রয়েছে।

৩. ১: ৫২০, সালাত অধ্যায়, ১৩৯- অনুচ্ছেদ: নিরক্ষর ও অনারবদের তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে যা যথেষ্ট। এটি আহমদও বর্ণনা করেছেন ৩: ১৫৫, ৩৫৭, ৩৯৭ এবং ৫: ৩৩৮।

৪. "তার মাধ্যমে" শব্দটি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

৫. আহমদ ৪: ৪৩২-এ এই শব্দেই বর্ণনা করেছেন, তবে "তারা এর মাধ্যমে মানুষের কাছে যাঞ্চা করবে" অংশটি আবু দাউদ-এর শব্দবিন্যাস; আহমদের শব্দবিন্যাস হলো "তারা মানুষের কাছে এর মাধ্যমে যাঞ্চা করবে"। একই খণ্ডের ৪৩২, ৪৩৩, ৪৩৬, ৪৩৭, ৪৩৯, ৪৪৫ পৃষ্ঠাসমূহ এবং আবু দাউদ ৮: কুরআনের সওয়াব অধ্যায়, ২০- অনুচ্ছেদ: কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো—দ্রষ্টব্য। সামান্য পার্থক্যসহ বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌(9) باب الجفاء عن القرآن

عن سمرة بن جندب في حديث الرؤيا الطويل مرفوعا قال: "أتاني الليلة اثنان فذهبا بي، قالا: انطلق وإني انطلقت معهما وإنا أتينا على رجل مضطجع، وإذا آخر قائم عليه بصخرة، وإذا هو يهوي بالصخرة على رأسه فيثلغ رأسه، فيتدهده الحجر هاهنا فيتبع الحجر فيأخذه فلا يرجع إليه حتى يصبح رأسه كما كان. ثم يعود عليه فيفعل به مثل ما فعل في المرة الأولى. فقلت لهما: سبحان الله ما هذا؟ قالا: هذا رجل علمه الله القرآن فنام عنه بالليل، ولم يعمل فيه بالنهار. يفعل به إلى يوم القيامة" وفي رواية: 1 "الذي يأخذ القرآن فيرفضه وينام عن الصلاة المكتوبة " رواه البخاري 2

ولمسلم عن أبي موسى أنه قال لقراء البصرة: "اتلوه، ولا يطولن عليكم الأمد فتقسو قلوبكم كما قست قلوب من كان قبلكم" وعن "ابن مسعود قال: إن بني إسرائيل لما طال عليهم الأمد فقست قلوبهم فاخترعوا كتابا من عند أنفسهم استحلته أنفسهم، وكان الحق يحول بينهم وبين كثير من شهواتهم حتى نبذوا كتاب الله وراء ظهورهم"

--------------------------------------------

1 هي رواية البخاري في الجنائز والتي قبلها روايته في التعبير.

2 9: 37 ، 38 في التعبير -باب تعبير الرؤيا بعد صلاة الصبح. ورواه أيضا في الجنائز 2: 87 باب 93 وقد رواه في الموضوعين مطولا. ورواه أحمد 5: 8 ، 14.
‌(৯) কুরআন বিমুখতা পরিচ্ছেদ

সামুরা বিন জুনদুব থেকে স্বপ্নের দীর্ঘ হাদিসে নবী করিম (সা.)-এর প্রতি উদ্ধৃত (مرفوعا) হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আজ রাতে আমার নিকট দু'জন ব্যক্তি আসলেন এবং আমাকে নিয়ে গেলেন। তারা বললেন: চলুন। আমি তাদের সাথে চলতে লাগলাম। আমরা এমন এক ব্যক্তির কাছে আসলাম যে শুয়ে আছে, আর অপর একজন ব্যক্তি তার মাথার পাশে বিশাল পাথর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে পাথরটি তার মাথার ওপর নিক্ষেপ করছে এবং তাতে তার মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পাথরটি ছিটকে দূরে চলে যাচ্ছে, সে পাথরের পেছনে গিয়ে তা কুড়িয়ে আনছে। সে ফিরে আসার আগেই মাথাটি আগের মতো সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এরপর সে পুনরায় একই কাজ করছে যা সে প্রথমবার করেছিল। আমি তাদের বললাম: সুবহানাল্লাহ! এরা কারা? তারা বললেন: এ হলো সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন শিখিয়েছিলেন কিন্তু সে রাতে তা থেকে উদাসীন হয়ে ঘুমিয়ে থাকত এবং দিনে তদানুযায়ী আমল করত না। কিয়ামত পর্যন্ত তার সাথে এরূপ আচরণই করা হবে।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية): ১ "যে ব্যক্তি কুরআন গ্রহণ করার পর তা বর্জন (يرفضه) করে এবং ফরজ সালাত ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকে।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ২।

এবং মুসলিম-এ আবু মুসা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বসরার কুরআন পাঠকদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "তোমরা এটি তিলাওয়াত করো। তোমাদের ওপর যেন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত না হয়, নতুবা তোমাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে যাবে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল।" এবং ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "বনি ইসরাঈলদের ওপর যখন দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলো, তখন তাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে গেল। ফলে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে একটি কিতাব উদ্ভাবন করল যা তাদের প্রবৃত্তি পছন্দ করত। আর সত্য তাদের ও তাদের অনেক কুপ্রবৃত্তির মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, অবশেষে তারা আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করল।"

--------------------------------------------

১ এটি বুখারি-র জানাজা অধ্যায়ের বর্ণনা (رواية) এবং এর পূর্বেরটি স্বপ্নের ব্যাখ্যা অধ্যায়ের বর্ণনা।

২ ৯: ৩৭, ৩৮ স্বপ্নের ব্যাখ্যা অধ্যায়ে—ফজরের সালাতের পর স্বপ্নের ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ। এটি জানাজা অধ্যায়েও (২: ৮৭, পরিচ্ছেদ ৯৩) বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বুখারি উভয় স্থানেই হাদিসটি দীর্ঘাকারে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদও এটি বর্ণনা করেছেন ৫: ৮, ১৪।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌(10) باب من ابتغى الهدى من غير القرآن

وقول الله عز وجل {وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانا} 1 الآيتين وقوله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ} 2 الآية.

وعن زيد بن أرقم قال: "قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم خطيبا بماء يدعى: خما، فحمد الله وأثنى عليه ووعظ وذكر، ثم قال: أما بعد، أيها الناس إنما أنا بشر مثلكم يوشك أن يأتيني رسول من ربي فأجيب، وأنا تارك فيكم ثقلين: أولهما: كتاب الله، فيه الهدى والنور. فخذوا بكتاب الله واستمسكوا به. فحث على كتاب الله ورغب فيه. ثم قال: وأهل بيتي أذكركم الله في أهل بيتي " 3 (وفي لفظ) 4: "أحدهما كتاب الله، هو حبل الله، من تبعه كان على الهدى، ومن تركه كان على الضلالة " رواه مسلم، 5 وله 6 عن جابر

--------------------------------------------

1 سورة الزخرف آية: 36.

2 سورة النحل آية: 89.

3 مسلم: فضائل الصحابة (2408) ، وأحمد (4/366) ، والدارمي: فضائل القرآن (3316) .

4 أي لمسلم.

5 4: 873 ، 1874 في كتاب فضائل الصحابة 4- باب فضائل علي بن أبي طالب رضي الله عنه الحديث رقم 36 ، 37. وأخرجه أحمد 4: 367 ، 371. والدارمي: 2: 431 ، 432.

6 أي لمسلم 2: 952 في كتاب الجمعة 13- باب تخفيف الصلاة- والخطبة. وقد اقتصر الشيخ رحمه الله كعادته على ذكر ما يشهد للترجمة من الحديث. وأخرجه ابن ماجه 1: 17 في المقدمة 7- باب اجتناب البدع والجدل والنسائي 3: 53 في العيدين باب كيف الخطبة بلفظ: "إن أصدق الحديث كتاب الله وأحسن الهدي هدي محمد" وذكر الحديث ورواه عن جابر أيضا مختصرا 3: 49 في كتاب السهو- باب التعود في القرآن بلفظ: "أحسن الكلام كلام الله وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم. ورواه أحمد 3: 310 بلفظ: فإن أصدق الحديث، وأفضل الهدي. ، 319 بلفظ: إن أحسن الحديث كتاب الله عز وجل وأحسن الهدي هدي محمد. وانظر البخاري 7: 22 كتاب الأدب، 9: 75 كتاب الاعتصام.
‌‌(১০) পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কুরআন ছাড়া অন্য কিছু থেকে হেদায়াত অন্বেষণ করে

মহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি পরম দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি...} (সূরা যুখরুফ: ৩৬) আয়াতদ্বয় এবং তাঁর বাণী: {আমি আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনাদানকারী} (সূরা নাহল: ৮৯) আয়াত।

যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'খুম' নামক এক জলাশয়ের নিকট আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন এবং উপদেশ ও নসিহত প্রদান করলেন। অতঃপর বললেন: 'অতঃপর, হে লোকসকল! আমি তো কেবল তোমাদের মতোই একজন মানুষ। অচিরেই আমার প্রতিপালকের দূত আমার নিকট আসবেন এবং আমি তাতে সাড়া দেব। আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি। তার প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব, যাতে হেদায়াত ও নূর রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ করো এবং একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো।' এভাবে তিনি আল্লাহর কিতাবের প্রতি উৎসাহিত করলেন এবং এর প্রতি অনুপ্রেরণা দিলেন। এরপর বললেন: 'আর আমার আহলে বায়ত (পরিবারবর্গ); আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বায়তের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি'।" (এবং একটি শব্দবিন্যাসে (لفظ) রয়েছে): "তন্মধ্যে একটি হলো আল্লাহর কিতাব, যা আল্লাহর রশি। যে ব্যক্তি তা অনুসরণ করবে সে হেদায়াতের ওপর থাকবে, আর যে তা বর্জন করবে সে পথভ্রষ্টতার ওপর থাকবে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর (মুসলিম) জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য রেওয়ায়েত রয়েছে।

--------------------------------------------

১. সূরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৩৬।

২. সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৮৯।

৩. মুসলিম: ফাযায়েলুস সাহাবা (২৪০৮), আহমাদ (৪/৩৬৬), আদ-দারিমী: ফাযায়েলুল কুরআন (৩৩১৬)।

৪. অর্থাৎ ইমাম মুসলিমের বর্ণনায়।

৫. ৪: ১৮৭৩, ১৮৭৪; ফাযায়েলুস সাহাবা কিতাব, ৪- আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর মর্যাদা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩৬, ৩৭। এছাড়া আহমাদ ৪: ৩৬৭, ৩৭১ এবং আদ-দারিমী ২: ৪৩১, ৪৩২ এটি বর্ণনা করেছেন।

৬. অর্থাৎ মুসলিমের ২: ৯৫২; কিতাবুল জুমুআ, ১৩- সালাত ও খুতবা সংক্ষিপ্ত করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর নিয়মিত অভ্যাস অনুযায়ী হাদিসের কেবল সেই অংশটুকু উল্লেখ করেছেন যা শিরোনামের (الترجمة) স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন ১: ১৭; মুকাদ্দিমা, ৭- বিদআত ও ঝগড়া পরিহার সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ। নাসায়ী ৩: ৫৩; দুই ঈদ অধ্যায়, খুতবা দেওয়ার নিয়ম সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে শব্দবিন্যাসে (لفظ): "নিশ্চয়ই সত্যতম হাদিস হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ।" এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। তিনি এটি জাবের (রা.) থেকেও সংক্ষিপ্তভাবে (مختصرا) বর্ণনা করেছেন ৩: ৪৯; কিতাবুস সাহু, কুরআন দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে শব্দবিন্যাসে (لفظ): "সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কথা এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ।" আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন ৩: ৩১০, শব্দবিন্যাসে (لفظ): "নিশ্চয়ই সত্যতম হাদিস এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ।" এবং ৩: ৩১৯, শব্দবিন্যাসে (لفظ): "নিশ্চয়ই সর্বোত্তম হাদিস আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ।" দেখুন: বুখারি ৭: ২২ কিতাবুল আদব এবং ৯: ৭৫ কিতাবুল ইতিসাম।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
" أن رسول الله صلى الله عليه وسلم (كان) إذا خطب يقول: أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة" 1 وعن سعيد بن مالك قال: "نزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم: القرآن فتلاه عليهم زمانا، فقالوا: يا رسول الله لو قصصته، علينا، فأنزل الله عز وجل: {الر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ} 2 الآية فتلاه عليهم زمانا" رواه ابن أبي حاتم بإسناد حسن، وله عن المسعودي عن القاسم: "أن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ملوا ملة فقالوا حدثنا يا رسول الله فنزلت:

--------------------------------------------

1 مسلم: الجمعة (867) ، والنسائي: صلاة العيدين (1578) ، وابن ماجه: المقدمة (45) ، وأحمد (3/310 ،3/371) ، والدارمي: المقدمة (206) .

2 سورة يوسف الآية: 1.
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন তখন বলতেন: 'অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা।' এবং সাঈদ বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কুরআন অবতীর্ণ হলো এবং তিনি দীর্ঘকাল তাদের কাছে তা পাঠ করলেন। তখন তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আমাদের নিকট কিছু কাহিনী বর্ণনা করতেন। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {আলিফ-লাম-রা; এগুলি প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত} - এই আয়াতটি; তিনি দীর্ঘকাল এটি তাদের নিকট পাঠ করলেন।' এটি ইবনে আবি হাতেম একটি হাসান (حسن) সনদে বর্ণনা করেছেন। এবং মাসউদী হতে কাসেমের সূত্রে তার (ইবনে আবি হাতেমের) নিকট বর্ণিত রয়েছে যে: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ কিছুটা একঘেয়েমি অনুভব করলেন, তখন তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নিকট কিছু বর্ণনা করুন। তখন অবতীর্ণ হলো:'

--------------------------------------------

১ মুসলিম: আল-জুমুআ (৮৬৭), নাসায়ি: সালাতুল ঈদাইন (১৫৭৮), ইবনে মাজাহ: আল-মুকাদ্দিমা (৪৫), আহমাদ (৩/৩১০, ৩/৩৭১), দারেমি: আল-মুকাদ্দিমা (২০৬)।

২ সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
{اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَاباً مُتَشَابِهاً} 1. ثم ملوا ملة فقالوا: حدثنا يا رسول الله، فأنزل الله عز وجل: {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ} 2 الآية. ورواه عبيد عن بعض التابعين، وفيه: {فإن طلبوا الحديث دلهم على القرآن} .

وكان معاذ بن جبل يقول في مجلسه كل يوم - قلّ ما يخطئه أن يقول ذلك -: "الله حكم قسط. هلك المرتابون. إن وراءكم فتنًا يكثر فيها المال، ويفتح فيها القرآن حتى يقرأه المؤمن والمنافق والمرأة والصبي، فيوشك أحدهم أن يقول: قد قرأت القرآن فما أظن أن يتبعوني حتى ابتدع لهم غيره. فإياكم وما ابتدع، فكل بدعة ضلالة، وإياكم وزيغة الحكيم، وإن المنافق قد يقول كلمة الحق، فتلقوا الحق ممن جاء به، فإن على الحق نورا" الحديث رواه أبو داود 3 وروى البيهقي عن عروة بن الزبير "أن عمرأراد أن يكتب السنن فاستشار الصحابة، فأشاروا عليه بذلك. ثم استخار الله شهرا ثم قال: إني ذكرت قوما كانوا قبلكم كتبوا كتبا فأكبوا عليها وتركوا كتاب الله عز وجل، وإني لا ألبس كتاب الله بشيء أبدًا".

--------------------------------------------

1 سورة الزمر الآية: 23.

2 سورة الحديد الآية: 16.

3 5: 17 ، 18 في كتاب السنة 7- باب لزوم السنة مختصرا مع اختلاف في بعض ألفاظه.
{আল্লাহ সর্বোত্তম হাদিস অবতীর্ণ করেছেন, যা একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিতাব} ১। অতঃপর তারা একঘেয়েমি অনুভব করল এবং বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করুন। তখন মহামহিম আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি?} ২ — আয়াতটি। এটি উবাইদ কয়েকজন তাবেয়ি (التابعين) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: {যদি তারা হাদিস অন্বেষণ করে, তবে তিনি যেন তাদের কুরআনের দিকে পথপ্রদর্শন করেন}।

মুয়াজ ইবনে জাবাল তাঁর মজলিসে প্রতিদিন বলতেন—খুব কমই তিনি তা বলতে ভুল করতেন—: "আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠ বিচারক। সংশয়বাদীরা ধ্বংস হয়েছে। নিশ্চয়ই তোমাদের সামনে এমন ফিতনা আসবে যাতে সম্পদের প্রাচুর্য ঘটবে এবং কুরআন উন্মুক্ত হবে, এমনকি মুমিন, মুনাফিক (المنافق), নারী ও শিশু তা পাঠ করবে। তখন তাদের কেউ হয়ত বলতে উদ্যত হবে: আমি তো কুরআন পড়েছি, কিন্তু আমার মনে হয় না যে লোকে আমাকে অনুসরণ করবে যতক্ষণ না আমি তাদের জন্য নতুন কিছু উদ্ভাবন করি। সুতরাং তোমরা নব-উদ্ভাবিত বিষয় থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)। আর তোমরা জ্ঞানীর বিচ্যুতি থেকে সতর্ক থাকো, কারণ মুনাফিক (المنافق) কখনো কখনো সত্য কথা বলতে পারে; তাই সত্য যে নিয়ে আসুক না কেন তা গ্রহণ করো, কেননা সত্যের ওপর নূর (আলো) থাকে।" হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন ৩। আর বায়হাকি উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "উমর সুন্নাহসমূহ (السنن) লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন এবং সাহাবিদের (الصحابة) সাথে পরামর্শ করলেন। তাঁরা তাঁকে এই মর্মে পরামর্শ দিলেন। অতঃপর তিনি এক মাস আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলেন এবং বললেন: আমি তোমাদের পূর্ববর্তী এমন এক কওমের কথা স্মরণ করলাম যারা কিছু কিতাব লিখেছিল এবং সেগুলোর ওপর ঝুঁকে পড়ে মহান আল্লাহর কিতাব বর্জন করেছিল। আমি আল্লাহর কিতাবকে কখনোই কোনো কিছুর সাথে সংমিশ্রণ করব না।"

--------------------------------------------

১ সূরা আয-যুমার, আয়াত: ২৩।

২ সূরা আল-হাদিদ, আয়াত: ১৬।

৩ ৫: ১৭, ১৮, কিতাবুস সুন্নাহ, ৭- সুন্নাহর আবশ্যকতা পরিচ্ছেদ; সংক্ষেপে এবং কিছু শব্দের ভিন্নতাসহ।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌(11) باب الغلو في القرآن

فيه حديث الخوارج المتقدم 1 وفي الصحيح 2 عن عبد الله بن عمر قال: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ألم أخبر أنك تصوم الدهر، وتقرأ القرآن كل ليلة؟ قلت: بلى يا رسول الله، ولم أرد بذلك إلا الخير. قال: فصم صوم داود فإنه كان أعبد الناس، واقرأ القرآن كل شهر قلت: يا رسول الله إني أطيق أفضل من ذلك. قال: فاقرأه في كل عشر قلت: يا نبي الله إني أطيق أفضل من ذلك قال: فاقرأه في كل سبع، ولا تزد على ذلك" 3.

ولمسلم 4 عن ابن مسعود رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه

--------------------------------------------

1 في "باب إثم من فجر بالقرآن".

2 أي صحيح البخاري 2: 48 في التهجد باب 20 ، 3: 35 في الصوم 55- باب صوم الدهر، 7: 28 في النكاح 90- باب لزوجك عليك حق ، 8: 27 في الأدب 84- باب حق الضيف، ورواه مسلم بتمامه 2: 813 في الصيام 35- باب النهي عن صوم الدهر لمن تضرر به أو فوت به حقا أو لم يفطر العيدين والتشريق وبيان تفضيل صوم يوم وإفطار يوم. وأحمد 2: 200 والنسائي 4: 180 ، 181 مطولا في كتاب الصيام.

3 البخاري: الجمعة (1131 ،1153) والصوم (1975) والأدب (6134) ، ومسلم: الصيام (1159) ، والنسائي: الصيام (2391 ،2392) ، وأبو داود: الصوم (2427) ، وابن ماجه: الصيام (1712) ، وأحمد (2/158) ، والدارمي: فضائل القرآن (3486) .

4 4: 2055 في العلم 4- باب هلك المتنطعون. ونصه: عن الأحنف بن قيس عن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: هلك المتنطعون قالها ثلاثا. وأخرجه أحمد 1: 386 بلفظ "ألا هلك المتنطعون". وانظر سنن الدارمي "المقدمة" 1: 54.
(১১) কুরআন নিয়ে অতিরঞ্জন করার অধ্যায়

এতে ইতিপূর্বে উল্লিখিত খাওয়ারিজদের হাদিস ১ রয়েছে। আর সহিহ ২-এ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি সংবাদ পাইনি যে তুমি আজীবন রোজা রাখো এবং প্রতি রাতে কুরআন খতম করো? আমি বললাম: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, আর আমি এর মাধ্যমে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু কামনা করিনি। তিনি বললেন: তুমি দাউদ আলাইহিস সালামের রোজার ন্যায় রোজা রাখো, কেননা তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদতকারী। আর প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম করো। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি এর চেয়ে উত্তম কিছুর সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন: তবে প্রতি দশ দিনে খতম করো। আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী, আমি এর চেয়ে উত্তম কিছুর সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন: তবে প্রতি সাত দিনে খতম করো এবং এর চেয়ে বাড়াবাড়ি করো না।" ৩।

আর মুসলিম ৪-এ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...

--------------------------------------------

১. "কুরআনের অবমাননাকারীর পাপ" অধ্যায়ে।

২. অর্থাৎ সহিহ বুখারী ২: ৪৮, তাহাজ্জুদ অধ্যায় ২০; ৩: ৩৫, রোজা অধ্যায় ৫৫- আজীবন রোজা রাখা অনুচ্ছেদ; ৭: ২৮, বিবাহ অধ্যায় ৯০- তোমার স্ত্রীর তোমার ওপর হক রয়েছে অনুচ্ছেদ; ৮: ২৭, আদব অধ্যায় ৮৪- মেহমানের হক অনুচ্ছেদ। মুসলিম এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন ২: ৮১৩, রোজা অধ্যায় ৩৫- যার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে অথবা কোনো হক নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে অথবা যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও আইয়ামে তাশরীকের দিনগুলোতে রোজা ভঙ্গ করে না তার জন্য নিরবচ্ছিন্ন রোজা রাখার নিষেধাজ্ঞা এবং একদিন রোজা রাখা ও একদিন রোজা না রাখার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা অনুচ্ছেদ। এবং আহমাদ ২: ২০০ এবং নাসাঈ ৪: ১৮০, ১৮১ বিস্তারিতভাবে রোজা কিতাবে।

৩. বুখারী: জুমুআ (১১৩১, ১১৫৩), রোজা (১৯৭৫), আদব (৬১৩৪); মুসলিম: রোজা (১১৫৯); নাসাঈ: রোজা (২৩৯১, ২৩৯২); আবু দাউদ: রোজা (২৪২৭); ইবনে মাজাহ: রোজা (১৭১২); আহমাদ (২/১৫৮); দারেমী: কুরআনের ফজিলত (৩৪৮৬)।

৪. ৪: ২০৫৫, ইলম ৪- অতিরঞ্জনকারীরা ধ্বংস হয়েছে অনুচ্ছেদ। এর মূল পাঠ: আহনাফ ইবনে কায়েস থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অতিরঞ্জনকারীরা ধ্বংস হয়েছে", তিনি এটি তিনবার বলেছেন। আর আহমাদ ১: ৩৮৬-এ "সাবধান! অতিরঞ্জনকারীরা ধ্বংস হয়েছে" শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন। দেখুন সুনান দারেমী "মুকাদ্দিমা" ১: ৫৪।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
وسلم

قال: "هلك المتنطعون" 1. ولأحمد 2 عن عبد الرحمن بن شبل مرفوعًا: "اقرؤوا القرآن، ولا تغلوا فيه ولا تجفوا عنه، ولا تأكلوا به، ولا تستكثروا به".

وعن أبي رافع أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا ألفين 3 أحدكم متكئا على أريكته يأتيه الأمر من أمري 4 مما أمرت به أو نهيت عنه فيقول: لا أدري 5، ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه" رواه أبو داود والترمذي. 6

--------------------------------------------

1 مسلم: العلم (2670) ، وأبو داود: السنة (4608) ، وأحمد (1/386) .

2 3: 444 وما ذكره الشيخ هو لفظ أحمد وانظر الجزء 4: 437، 445.

3 في الأصل "لألفين".

4 هذا لفظ أبي داود ولفظ ابن ماجه: "يأتيه الأمر مما أمرت به" ولفظ الترمذي: "يأتيه أمر مما أمرت به".

5 هذا لفظ الترمذي وابن ماجه ولفظ أبي داود "لا ندري".

6 أبو داود 5: 12 في كتاب السنة 6- باب في لزوم السنة، والترمذي 7: 309، 310 في أبواب العلم 10- باب ما نهى عنه أن يقال عند حديث النبي. ورواه ابن ماجه 1: 6، 7 في المقدمة 2- باب تعظيم حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم والتغليظ على من عارضه.
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

তিনি বলেছেন: "চরমপন্থীরা ধ্বংস হয়েছে" ১। এবং আহমাদে ২ আব্দুর রহমান বিন শিবল থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণিত: "তোমরা কুরআন পাঠ করো, এতে অতিরঞ্জন করো না এবং এর থেকে দূরে থেকো না; এর মাধ্যমে আহার করো না এবং এর দ্বারা প্রাচুর্য অন্বেষণ করো না।"

আবু রাফে থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ—যা আমি আদেশ করেছি অথবা যা থেকে নিষেধ করেছি—পৌঁছাল আর সে বলল: 'আমি জানি না, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি তারই অনুসরণ করেছি'।" এটি আবু দাউদ এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। ৬

--------------------------------------------

১. মুসলিম: কিতাবুল ইলম (২৬৭০), আবু দাউদ: কিতাবুস সুন্নাহ (৪৬০৮), এবং আহমাদ (১/৩৮৬)।

২. ৩: ৪৪৪; এবং শায়খ যা উল্লেখ করেছেন তা আহমাদ-এর শব্দাবলি, দেখুন খণ্ড ৪: ৪৩৭, ৪৪৫।

৩. মূল পাঠে "লা-আলফিয়ান্না" শব্দবন্ধটি রয়েছে।

৪. এটি আবু দাউদ-এর শব্দাবলি; ইবনে মাজাহ-র শব্দাবলি হলো: "তার কাছে সেই নির্দেশ আসে যা আমি আদেশ করেছি" এবং তিরমিজি-র শব্দাবলি হলো: "তার কাছে এমন নির্দেশ আসে যা আমি আদেশ করেছি"।

৫. এটি তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ-র শব্দাবলি এবং আবু দাউদ-এর শব্দাবলি হলো: "আমরা জানি না"।

৬. আবু দাউদ ৫: ১২, কিতাবুস সুন্নাহ ৬- অনুচ্ছেদ: সুন্নাহর অপরিহার্যতা প্রসঙ্গে; এবং তিরমিজি ৭: ৩০৯, ৩১০, কিতাবুল ইলম ১০- অনুচ্ছেদ: নবীজির হাদিস বর্ণনার সময় যা বলা নিষিদ্ধ সে প্রসঙ্গে। এবং এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন ১: ৬, ৭, মুকাদ্দিমাহ ২- অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের সম্মান এবং যে এর বিরোধিতা করে তার প্রতি কঠোরতা।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌(12) باب ما جاء في اتباع المتشابه

في الصحيح 1 عن عائشة رضي الله عنها: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ} إلى قوله: {وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ} 2 فقال: إذا رأيت الذين يتبعون ما تشابه منه فأولئك الذين سمى الله فاحذروهم" انتهى.

وقال عمر: "يهدم الإسلام زلة عالم، وجدال منافق بالقرآن، وحكم الأئمة المضلين" ولما سأل صبيغ (عمر) 3 عن (الذاريات) وأشباهها (ضربه عمر) .

والقصة مشهورة. 4

--------------------------------------------

1 مسلم 4: 2053. في العلم 1- باب النهي عن اتباع متشابه القرآن والتحذير من متبعيه. ورواه الدارمي 1: 55 في المقدمة- باب من هاب الفتيا وكره التنطع والتبدع. ورواه أبو داود 5: 6 كتاب السنة 2- باب النهي عن الجدال واتباع المتشابه، والترمذي 8: 177 في تفسير القرآن.

2سورة آل عمران الآية: 7.

3 لفظ "عمر" ليس في الأصل وقد أثبت في الدرر ج 2 ص 8 وكذلك قوله: ضربه عمر. والمقام يقتضي إثباتهما.

4 انظر الدارمي 1: 54 ، 55.
(১২) অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) বিষয়ের অনুসরণের বর্ণনায় অধ্যায়

সহিহ (صحيح) গ্রন্থে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করলেন: {তিনিই আপনার প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু আয়াত সুস্পষ্ট (محكمات), সেগুলো কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো অস্পষ্ট বা রূপক (متشابهات)} আল্লাহর বাণী {আর কেবল বুদ্ধিমানগণই উপদেশ গ্রহণ করে} পর্যন্ত। অতঃপর তিনি বললেন: যখন তোমরা তাদের দেখবে যারা এর অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) বিষয়গুলোর অনুসরণ করে, তবে এরাই তারা যাদের কথা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন; সুতরাং তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাক।" সমাপ্ত।

উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "ইসলামকে ধ্বংস করে দেয় আলিমের বিচ্যুতি (زلة), কুরআন নিয়ে মুনাফিকের (منافق) বিতর্ক এবং পথভ্রষ্ট ইমামদের শাসন।" আর যখন সুবাইগ (উমরকে) 'আয-যারিয়াত' এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, (তখন উমর তাকে প্রহার করলেন)।

এই ঘটনাটি প্রসিদ্ধ (مشهورة)।

--------------------------------------------

১. মুসলিম ৪: ২০৫৩। 'ইলম' অধ্যায়ে, ১- কুরআনের অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) বিষয় অনুসরণের নিষেধাজ্ঞা এবং এর অনুসারীদের ব্যাপারে সতর্ককরণ পরিচ্ছেদ। এটি দারেমী ১: ৫৫ গ্রন্থে মুকাদ্দিমায় বর্ণনা করেছেন- যারা ফতোয়া দিতে ভয় পেতেন এবং গভীর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বিদআত অপছন্দ করতেন তাদের বর্ণনায় পরিচ্ছেদ। আবু দাউদ ৫: ৬ 'সুন্নাহ' অধ্যায়ে, ২- বিতর্ক ও অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) বিষয় অনুসরণ থেকে নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ এবং তিরমিযী ৮: ১৭৭ 'কুরআনের তাফসীর' অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন।

২. সূরা আল ইমরান, আয়াত: ৭।

৩. "উমর" শব্দটি মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, তবে 'আদ-দুরার' ২য় খণ্ড, ৮ম পৃষ্ঠায় এটি সাব্যস্ত করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে "উমর তাকে প্রহার করেছেন" কথাটিও। প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই দুটি শব্দ সাব্যস্ত করা আবশ্যক।

৪. দেখুন দারেমী ১: ৫৪, ৫৫।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌(13) باب وعيد من قال في القرآن برأيه وبما لا يعلم

وقول الله تعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ} 1 إلى قوله: {وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ} 2.

وعن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من قال في القرآن برأيه" 3 وفي رواية: "من غير علم فليتبوأ مقعده من النار" 4 رواه الترمذي وحسنه، 5 وعن جندب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من قال في القرآن برأيه فأصاب فقد أخطأ" 6 رواه أبو داود والترمذي 7 وقال: غريب.

--------------------------------------------

1 سورة الأعراف آية: 33.

2 سورة البقرة آية: 169.

3 الترمذي: تفسير القرآن (2951) ، وأحمد (1/233 ،1/269) .

4 الترمذي: تفسير القرآن (2950) ، وأحمد (1/233 ،1/269) .

5 8: 146، 147 في كتاب التفسير 1- باب ما جاء في الذي يفسر القرآن برأيه. ورواه أحمد 1: 233 ، 269 وانظر صفحة 323 ، 327 من نفس الجزء.

6 الترمذي: تفسير القرآن (2952) ، وأبو داود: العلم (3652) .

7 أبو داود 4: 64 في كتاب العلم 5- باب الكلام في كتاب الله بغير علم. ولفظه: من قال في كتاب الله عز وجل … والترمذي. 8: 147 في التفسير.
(১৩) অধ্যায়: পবিত্র কুরআন সম্পর্কে নিজস্ব মতামত এবং না জেনে কথা বলার কঠোর হুঁশিয়ারি

মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমার প্রতিপালক কেবল অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন, তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন} ১ থেকে আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং আল্লাহর সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না} ২।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআন সম্পর্কে নিজস্ব মতামত অনুযায়ী কিছু বলল" ৩ এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "বিনা জ্ঞানে কোনো কথা বলল, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়" ৪ এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান (حسن) বলেছেন। ৫ জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে নিজস্ব মতামত অনুযায়ী কিছু বলল এবং তা সঠিকও হলো, তবুও সে ভুল করল" ৬ এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন ৭ এবং তিনি (তিরমিজি) একে গরিব (غريب) বলেছেন।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩৩।

২ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৬৯।

৩ তিরমিজি: তাফসিরুল কুরআন (২৯৫১), এবং আহমাদ (১/২৩৩, ১/২৬৯)।

৪ তিরমিজি: তাফসিরুল কুরআন (২৯৫০), এবং আহমাদ (১/২৩৩, ১/২৬৯)।

৫ ৮: ১৪৬, ১৪৭, তাফসির অধ্যায়, ১- অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি নিজ রায় অনুযায়ী কুরআনের তাফসির করে। এটি আহমাদ (১: ২৩৩, ২৬৯) বর্ণনা করেছেন এবং একই খণ্ডের ৩২৩, ৩২৭ পৃষ্ঠা দেখুন।

৬ তিরমিজি: তাফসিরুল কুরআন (২৯৫২), আবু দাউদ: ইলম (৩৬৫২)।

৭ আবু দাউদ ৪: ৬৪, কিতাবুল ইলম, ৫- অনুচ্ছেদ: আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে না জেনে কথা বলা। এর শব্দাবলি হলো: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে বলল … এবং তিরমিজি ৮: ১৪৭, তাফসির অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌(14) باب ما جاء في الجدال في القرآن

قال أبو العالية آيتان ما أشدهما على من يجادل في القرآن: قوله تعالى: {مَا يُجَادِلُ فِي آيَاتِ اللَّهِ إِلَّا الَّذِينَ كَفَرُوا} 1، وقوله: {وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ} 2. عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "جدال في القرآن كفر" 3 رواه أحمد وأبو داود 4 وإسناده جيد، وفي حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده: "سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم قوما يتمارون في القرآن فقال: إنما هلك من كان قبلكم باختلافهم في الكتاب 5") .

--------------------------------------------

1 سورة غافر آية: 4.

2 سورة البقرة آية: 176.

3 أبو داود: السنة (4603) ، وأحمد (2/258) .

4 أحمد 2: 258 ، 478 ، 494 ، ورواه بلفظ: "مراء في القرآن كفر" 2: 503. وأبو داود 5: 9 في كتاب السنة 5- باب النهي عن الجدال في القرآن بلفظ "المراء في القرآن كفر".

5 رواه أحمد 1: 401 من حديث عبد الله بن مسعود بلفظ ".. فإنما هلك من كان قبلكم باختلافهم ثم قال: انظروا أقرأكم رجلا فخذوا بقراءته، وانظر صحيفة 421. ورواه مسلم من حديث عبد الله بن عمرو وذكر قصته 4: 2053 في كتاب العلم 1- باب النهي عن اتباع متشابه القرآن والتحذير من متبعيه والنهي عن الاختلاف في القرآن. قوله: "باختلافهم في الكتاب" ساقط من الأصل.
‌‌(১৪) কুরআন নিয়ে বিতর্ক করা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে

আবুল আলিয়া (রহ.) বলেন, কুরআনের দু’টি আয়াত এমন যা কুরআন নিয়ে বিতর্ককারীদের জন্য অত্যন্ত কঠোর: মহান আল্লাহর বাণী: {কাফেররা ব্যতীত কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্ক করে না} ১, এবং তাঁর বাণী: {আর নিশ্চয় যারা কিতাব নিয়ে মতভেদ করেছে, তারা অবশ্যই সুদূরপ্রসারী বিরোধে লিপ্ত} ২। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কুরআন নিয়ে বিতর্ক করা কুফরি।" ৩ এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) উত্তম (جيد)। ৪ আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) একদল লোককে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করতে শুনে বললেন: তোমাদের পূর্ববর্তীরা কিতাব নিয়ে তাদের মতভেদের কারণেই ধ্বংস হয়েছে ৫")।

--------------------------------------------

১ সূরা গাফির আয়াত: ৪।

২ সূরা বাকারা আয়াত: ১৭৬।

৩ আবু দাউদ: আস-সুন্নাহ (৪৬০৩), এবং আহমাদ (২/২৫৮)।

৪ আহমাদ ২: ২৫৮, ৪৭৮, ৪৯৪, এবং তিনি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "কুরআনে সংশয় (মীরা) কুফরি" ২: ৫০৩। আর আবু দাউদ ৫: ৯ আস-সুন্নাহ কিতাবে, ৫- কুরআন নিয়ে বিতর্ক নিষিদ্ধ বিষয়ক অধ্যায়, "কুরআনে সংশয় (মীরা) কুফরি" শব্দে।

৫ এটি আহমাদ ১: ৪০১-এ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "..তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের মতভেদের কারণেই ধ্বংস হয়েছে, তারপর বললেন: দেখ তোমাদের মধ্যে কে অধিক ভালো পাঠকারী, তার তিলাওয়াত গ্রহণ কর; এবং দেখুন পৃষ্ঠা ৪২১। আর মুসলিম এটি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ৪: ২০৫৩-এ ইলম অধ্যায়ে ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন, ১- কুরআনের রূপক বা অস্পষ্ট (متشابه) আয়াতের অনুসরণ নিষিদ্ধকরণ, অনুসরণকারীদের ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং কুরআনে মতভেদ করা নিষিদ্ধ বিষয়ক অধ্যায়। তাঁর উক্তি: "কিতাব নিয়ে তাদের মতভেদের কারণে" মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌(15) باب ما جاء في الاختلاف في القرآن في لفظه أو معناه

وقول الله عز وجل: {وَلا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ} 1 الآية، وقوله: {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ} 2 الآية.

وفي الصحيح 3 عن ابن مسعود قال: "سمعت رجلا يقرأ آية سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ خلافها، فأخذت بيده فانطلقت به إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذكرت ذلك له، فعرفت في وجهه الكراهة، فقال: كلاكما محسن فلا تختلفوا، فإن من كان قبلكم اختلفوا فهلكوا" 4. وفيه أيضا5 عن 6 ابن عمرو قال: "هجّرت إلى النبي صلى الله عليه وسلم وسمعت أصوات رجلين اختلفا في آية، فخرج علينا رسول الله صلى الله عليه

--------------------------------------------

1 سورة آية: 118-119.

2 سورة البقرة آية: 213.

3 أي صحيح البخاري 3: 106 في الخصومات باب 1 ما يذكر في الأشخاص والخصومة بين المسلم واليهودي، 4: 140 في كتاب الأنبياء باب 51- 6: 163 في فضائل القرآن باب 374 اقرأوا القرآن ما ائتلفت قلوبكم ورواه أحمد 1: 456 وانظر 1: 401 ، 421 ، 5: 124.

4 البخاري: الخصومات (2410) ، وأحمد (1/393 ،1/401 ،1/405 ،1/412 ،1/419 ،1/421 ،1/452 ،1/456 ،5/124) .

5 مسلم 4: 2053 في العلم 1- باب النهي عن اتباع متشابه القرآن والتحذير من متبعيه والنهي عن الاختلاف في القرآن. وأخرجه أحمد 2: 192.

6 في الأصل "ابن عمر".
‌‌(১৫) পরিচ্ছেদ: কুরআনের শব্দ বা অর্থের ভিন্নতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণী: {আর তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে, তবে তারা নয় যাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন} ১ আয়াত পর্যন্ত, এবং তাঁর বাণী: {মানুষ এক উম্মতভুক্ত ছিল, অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবিগণকে প্রেরণ করলেন} ২ আয়াত পর্যন্ত।

সহিহ (صحيح) গ্রন্থে ৩ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি এক ব্যক্তিকে একটি আয়াত পাঠ করতে শুনলাম অথচ নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এর ভিন্নভাবে পাঠ করতে শুনেছিলাম। আমি তার হাত ধরে তাকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে গেলাম এবং তাঁর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম। আমি তাঁর চেহারায় অপছন্দের চিহ্ন দেখতে পেলাম। তখন তিনি বললেন: তোমরা উভয়ই সঠিক কাজ করেছ, কাজেই তোমরা মতভেদ করো না। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা মতভেদ করেছিল এবং এর ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল" ৪। এতে আরও ৫ ইবনে আমর ৬ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি সাতসকালে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম এবং দুই ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম যারা একটি আয়াত নিয়ে মতভেদ করছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন...

--------------------------------------------

১ সুরা হুদ, আয়াত: ১১৮-১১৯।

২ সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৩।

৩ অর্থাৎ সহিহ বুখারি ৩:১০৬, 'বিরোধ' (খুসুমাত) অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ১: ব্যক্তিবর্গ এবং মুসলিম ও ইহুদির মধ্যকার বিরোধ নিয়ে যা বর্ণিত হয়েছে; ৪:১৪০, 'আম্বিয়া' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ৫১; ৬:১৬৩, 'কুরআনের ফজিলত' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ৩৭৪: 'ততক্ষণ কুরআন পাঠ করো যতক্ষণ তোমাদের অন্তরসমূহ এর ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকে'। আর আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন ১:৪৫৬; এবং দেখুন ১:৪০১, ৪২১, ৫:১২৪।

৪ বুখারি: বিরোধ (২৪১০), এবং আহমাদ (১/৩৯৩, ১/৪০১, ১/৪০৫, ১/৪১২, ১/৪১৯, ১/৪২১, ১/৪৫২, ১/৪৫৬, ৫/১২৪)।

৫ মুসলিম ৪:২০৫৩, 'ইলম' অধ্যায় ১—কুরআনের অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের অনুসরণ থেকে নিষেধাজ্ঞা, অনুসরণকারীদের সম্পর্কে সতর্কতা এবং কুরআন নিয়ে মতভেদ করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ। আর আহমাদ এটি বের করেছেন ২:১৯২।

৬ মূল পাঠে "ইবনে উমর" রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
وسلم

يعرف في وجهه الغضب، فقال: إنما هلك من كان قبلكم باختلافهم في الكتاب". وفي المسند 1 عنه من حديث عمرو بن شعيب قال: "كنا جلوسا بباب النبي صلى الله عليه وسلم فقال بعضهم: ألم يقل الله كذا وكذا؟ وقال بعضهم: ألم يقل الله كذا وكذا؟ (فسمع ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم . 2 فخرج كأنما فقئ في وجهه حب الرمان، فقال: أبهذا أُمرتم أو بهذا بعثتم، أن تضربوا كتاب الله بعضه ببعض؟ إنما ضلت الأمم قبلكم في مثل هذا، إنكم لستم مما هاهنا في شيء 3. انظروا الذي أمرتم به فاعملوا به والذي نهيتم عنه فانتهوا عنه" وفي رواية4: "خرج وهم يتنازعون في القدر". وكذا رواه الترمذي 5 من حديث أبي هريرة وفيه "خرج ونحن نتنازع في القدر" وقال: حسن.

--------------------------------------------

1 2: 196.

2 ساقط من الأصل.

3 في الأصل "إنكم لم تؤمروا بهذا" والتصحيح من أحمد.

4 أي لأحمد 2:178.

5 6: 306 في القدر 1- باب ما جاء في التشديد في الخوض في القدر.
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

তার চেহারা মুবারকে ক্রোধের আভা ফুটে উঠছিল, তখন তিনি বললেন: "তোমাদের পূর্ববর্তীরা আল্লাহর কিতাব নিয়ে মতভেদ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে।" এবং মুসনাদ ১-এ আমর ইবনে শুআইব থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরজার নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তাদের কেউ কেউ বলছিল: আল্লাহ কি এমন এমন বলেননি? আবার কেউ কেউ বলছিল: আল্লাহ কি এমন এমন বলেননি? (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেলেন। ২ অতঃপর তিনি এমন অবস্থায় বের হয়ে আসলেন যেন তার চেহারা মুবারকে ডালিমের দানা নিংড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: "তোমাদের কি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নাকি এই উদ্দেশ্যে তোমাদের পাঠানো হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর কিতাবের একাংশকে অপরাংশের মুখোমুখি দাঁড় করাবে? তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ কেবল এ ধরনের আচরণের কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। এ বিষয়ে তোমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই ৩। তোমাদের যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা লক্ষ্য করো এবং সে অনুযায়ী আমল করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকো।" এবং একটি বর্ণনায় ৪ এসেছে: "তিনি বের হলেন এমতাবস্থায় যে তারা তাকদির নিয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত ছিল।" অনুরূপভাবে তিরমিজি ৫ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "তিনি বের হলেন এমতাবস্থায় যে আমরা তাকদির নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত ছিলাম।" তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: এটি হাসান (حسن)।

--------------------------------------------

১ ২: ১৯৬।

২ মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বিলুপ্ত।

৩ মূল পাঠে রয়েছে "তোমাদের এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়নি" এবং আহমদ-এর বর্ণনা অনুযায়ী এটি সংশোধন করা হয়েছে।

৪ অর্থাৎ আহমদের বর্ণনা ২:১৭৮।

৫ ৬: ৩০৬ তাকদির অধ্যায়ে ১- তাকদির বিষয়ে অনর্থক তর্কে কঠোরতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।