(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: -)
فضائل القرآن لمحمد بن عبد الوهاب القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: فضائل القرآن (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الخامس)
المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)
المحقق: عبد العزيز بن زيد الرومي، وصالح بن محمد الحسين
الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود، الرياض، المملكة العربية السعودية
عدد الصفحات: 37
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রচিত ফাযায়িলুল কুরআন বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং উসূলে তাফসীর (أصول التفسير)
কিতাব: ফাযায়িলুল কুরআন (শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত, পঞ্চম খণ্ড)
গ্রন্থকার: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আল-তামিমী আল-নাজদী (মৃত্যু ১২০৬ হিজরী)
তাহকীককারী (محقق): আব্দুল আজিজ বিন যায়েদ আল-রূমী, এবং সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-হুসাইন
প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজত্ব
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
فضائل القرآن
تأليف: الإمام محمد بن عبد الوهاب
بسم الله الرحمن الرحيم
(1) باب فضائل تلاوة القرآن وتعلمه وتعليمهوقول الله عز وجل: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} 1 وقوله تعالى: {مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَاداً لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ} 2.
وعن عاثشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الماهر بالقرآن مع السفرة الكرام البررة، والذي يقرأ القرآن ويتتعتع فيه وهو عليه شاق له أجران" 3 أخرجاه4. وللبخاري5 عن عثمان رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله
--------------------------------------------
কুরআনের ফযিলতসমূহ
রচনা: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
(১) পরিচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াত, এটি শেখা এবং শেখানোর ফযিলতসমূহমহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের মর্যাদায় উন্নীত করবেন} ১ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কোনো মানুষের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করবেন, আর সে মানুষকে বলবে যে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার বান্দা হয়ে যাও; বরং সে বলবে যে, তোমরা রব্বানী হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে} ২।
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআনে দক্ষ, সে সম্মানিত ও অনুগত লিপিকার (ফেরেশতাদের) সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে এবং তাতে আটকে যায় ও তা তার জন্য কষ্টকর হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব" ৩। তাঁরা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন ৪। এবং বুখারিতে ৫ উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
عليه وسلم
قال: "خيركم من تعلم القرآن وعلّمه" 1.
ولمسلم 2 عن أبي أمامة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "اقرؤوا القرآن فإنه يأتي يوم القيامة شفيعا لأصحابه. اقرؤوا الزهراوين: البقرة وسورة آل عمران؛
--------------------------------------------
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
তিনি বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।" ১.
এবং মুসলিম ২ আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তোমরা কুরআন পাঠ করো, কেননা কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীদের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে। তোমরা দুটি উজ্জ্বল সূরা তিলাওয়াত করো: সূরা আল-বাকারাহ এবং সূরা আল-ইমরান;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
فإنهما تأتيان 1 يوم القيامة كأنهما غمامتان، أو كأنهما غيايتان2، أو كأنهما فرقان من طير صواف تحاجان عن أصحابهما، 3 اقرأوا سورة البقرة فإن أخذها بركة، وتركها حسرة ولا تستطيعها البطلة". وله4 عن النواس بن سمعان قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "يؤتى بالقرآن يوم القيامة وأهله الذين كانوا يعملون به، تقدمه5 سورة "البقرة وآل عمران". وضرب لهما رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة أمثال ما نسيتهن بعد، قال: "كأنهما غمامتان أو ظلتان سوداوان بينهما شرق، أو كأنهما حزقان من طير صواف، تحاجان6 عن صاحبهما". وعن ابن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من قرأ حرفا من كتاب الله فله به7 حسنة، والحسنة بعشر أمثالها. لا أقول (الم)
--------------------------------------------
"নিশ্চয়ই তারা আসবে 1 কিয়ামতের দিন যেন তারা দুটি মেঘখণ্ড, অথবা যেন তারা দুটি ছায়াদানকারী মেঘ 2, অথবা যেন তারা ডানা প্রসারিত করা পাখির দুটি ঝাঁক যারা তাদের পাঠকারীদের পক্ষ হয়ে সুপারিশ করবে। 3 তোমরা সুরা আল-বাকারা পাঠ করো, কেননা তা গ্রহণ করা বরকতময় এবং তা বর্জন করা পরিতাপের কারণ, আর জাদুকর বা অলস ব্যক্তিরা এর মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়।" ইমাম মুসলিমের 4 নিকট নাওয়াস ইবনে সামআন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন কুরআন এবং এর সেই অনুসারীদের নিয়ে আসা হবে যারা এর ওপর আমল করত; তাদের অগ্রভাগে থাকবে 5 সুরা 'আল-বাকারা ও আল-ইমরান'।" রাসূলুল্লাহ (সা.) এ দুটির জন্য তিনটি উপমা বর্ণনা করেছেন যা আমি এরপর কখনো ভুলিনি, তিনি বলেছেন: "যেন তারা দুটি মেঘখণ্ড অথবা দুটি কালো ছায়াদানকারী মেঘ যে দুটির মাঝখানে আলো রয়েছে, অথবা যেন তারা ডানা প্রসারিত করা পাখির দুটি ঝাঁক, যারা তাদের পাঠকারীর পক্ষ হয়ে সুপারিশ 6 করবে।" এবং ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করল, তার জন্য এর বিনিময়ে 7 একটি নেকি রয়েছে; আর একটি নেকি দশ গুণ সওয়াবের সমান। আমি বলছি না যে (আলিফ-লাম-মীম)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
حرف ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف" رواه الترمذي1 وقال: حديث حسن صحيح.
وله2، وصححه عن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يقال لصاحب القرآن: اقرأ وارتق، ورتل كما كنت ترتل في الدنيا، فإن منزلتك عند آخر آية تقرأ بها 3 ". ولأحمد4 نحوه من حديث أبي سعيد وفيه: "فيقرأ ويصعد بكل آية درجة، حتى يقرأ آخر شيء معه 5") ولأحمد6 أيضا عن بريدة مرفوعا:
--------------------------------------------
অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মিম একটি অক্ষর।" তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি সুন্দর-বিশুদ্ধ (حسن صحيح) হাদিস।
এবং তাঁরই (তিরমিজি) বর্ণনায়, এবং তিনি একে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "কুরআন পাঠকারীকে বলা হবে: পাঠ করো এবং উচ্চ সোপানে আরোহণ করো, আর তারতিলের সাথে পাঠ করো ঠিক যেভাবে দুনিয়াতে পাঠ করতে। কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পঠিত সর্বশেষ আয়াতের নিকট।" এবং আহমাদ-এ আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত হাদিসে অনুরূপ রয়েছে এবং তাতে আছে: "অতঃপর সে পাঠ করবে এবং প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে এক ধাপ করে উপরে উঠবে, এমনকি সে তার নিকট থাকা সর্বশেষ অংশটি পাঠ করবে।" এবং আহমাদ-এ বুরাইদাহ থেকেও উর্ধ্বগামী (مرفوعا) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
"تعلموا سورة البقرة" 1 فذكر مثل ما تقدم في الصحيح في البقرة وآل عمران، وفيه: "وإن القرآن يلقى صاحبه يوم القيامة حين ينشق عنه قبره كالرجل الشاحب، فيقول له: هل تعرفني؟ فيقول: ما أعرفك. فيقول له: هل تعرفني؟ فيقول: ما أعرفك، فيقول: أنا صاحبك القرآن الذي أظمأتك في الهواجر، وأسهرت ليلك، وإن كل تاجر من وراء تجارته، وإنك اليوم من وراء كل تجارة. فيعطى الملك بيمينه، والخلد بشماله، ويوضع على رأسه تاج الوقار، ويكسا والداه حلتين لا يقوم لهما أهل الدنيا، فيقولان: بم كسينا هذه؟ فيقال: بأخذ ولدكما القرآن. ثم يقال له: اقرأ واصعد في درجة الجنة وغرفها، فهو في صعود ما دام يقرأ هذًا كان أو ترتيلا2". وعن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أهل القرآن هم أهل الله وخاصته" 3 رواه أحمد والنسائي. 4
--------------------------------------------
"তোমরা সূরা আল-বাকারাহ শিক্ষা করো।" ১ অতঃপর তিনি সূরা আল-বাকারাহ এবং আল-ইমরান সম্পর্কে ইতিপূর্বে সহিহ সংকলনে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুরূপ উল্লেখ করলেন। তাতে রয়েছে: "নিশ্চয়ই কুরআন কিয়ামতের দিন তার সাথীর (পাঠকের) সাথে সাক্ষাৎ করবে যখন তার কবর বিদীর্ণ হবে। কুরআন আসবে একজন বিবর্ণ ব্যক্তির বেশে এবং তাকে জিজ্ঞেস করবে: 'তুমি কি আমাকে চেনো?' সে উত্তর দেবে: 'আমি তোমাকে চিনি না।' সে পুনরায় জিজ্ঞেস করবে: 'তুমি কি আমাকে চেনো?' সে উত্তর দেবে: 'আমি তোমাকে চিনি না।' তখন কুরআন বলবে: 'আমিই তোমার সেই সাথী কুরআন, যে তোমাকে তপ্ত দ্বিপ্রহরে তৃষ্ণার্ত রেখেছিল এবং তোমার রাতগুলোকে বিনিদ্র করেছিল। নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যবসায়ী তার ব্যবসার মাধ্যমেই লাভবান হয়, আর আজ তুমি তোমার ব্যবসার (আমলের) মাধ্যমে সবকিছুর ঊর্ধ্বে লাভবান হবে।' অতঃপর তার ডান হাতে রাজত্ব এবং বাম হাতে চিরস্থায়িত্ব প্রদান করা হবে এবং তার মাথায় গাম্ভীর্যের মুকুট পরানো হবে। তার পিতামাতাকে এমন দুটি পোশাক পরানো হবে যার সমতুল্য দুনিয়াবাসী কোনো কিছুই করতে পারবে না। তারা জিজ্ঞেস করবে: 'আমাদের কেন এই পোশাক পরানো হয়েছে?' বলা হবে: 'তোমাদের সন্তানের কুরআন গ্রহণ করার কারণে।' অতঃপর তাকে বলা হবে: 'পড়তে থাকো এবং জান্নাতের স্তর ও কক্ষসমূহের দিকে আরোহণ করো।' সে যতক্ষণ পড়তে থাকবে ততক্ষণ সে উপরে আরোহণ করতে থাকবে, চাই সে দ্রুত পঠন করুক অথবা ধীরস্থিরভাবে পঠন করুক।" ২ আর আনাস (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুরআনের ধারক-বাহকরাই আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ ব্যক্তিবর্গ।" ৩ এটি আহমাদ ও নাসায়ি বর্ণনা করেছেন। ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
(2) باب ما جاء في تقديم أهل القرآن وإكرامهموكان القراء أصحاب مجلس عمر كهولا كانوا أو شبابا، عن أبي 1 مسعود أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يؤم القوم اقرؤهم لكتاب الله. فإن كانوا في القراءة سواء فأعلمهم بالسنة. فإن كانوا في السنة سواء فأقدمهم هجرة. فإن كانوا في الهجرة سواء فأقدمهم سنا" وفي رواية سلما "ولا يؤمن الرجل الرجل في سلطانه، ولا يقعد في بيته على تكرمته إلا بإذنه" 2 رواه مسلم3. وللبخاري4 عن جابر: "أنه صلى الله عليه وسلم كان يجمع
--------------------------------------------
(২) অধ্যায়: পবিত্র কুরআনের ধারক-বাহকদের (আহলুল কুরআন) অগ্রাধিকার দান ও সম্মান প্রদর্শনের বর্ণনা।উমর (রা.)-এর মজলিসের সদস্যগণ ছিলেন ক্বারীগণ (القراء), তাঁরা প্রৌঢ় হোন কিংবা যুবক। আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত (عن) যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "লোকদের ইমামতি করবে তারা, যারা আল্লাহর কিতাব অধিক পাঠ করতে পারে। যদি তারা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে সুন্নাহ (السنة) সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী। যদি তারা সুন্নাহর (السنة) ক্ষেত্রেও সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে হিজরতে (هجرة) অগ্রগামী। আর যদি তারা হিজরতের (الهجرة) ক্ষেত্রেও সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যে বয়সে বড়।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "ইসলাম গ্রহণে (سلما) অগ্রগামী।" "কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কর্তৃত্বাধীন স্থানে তার ইমামতি করবে না এবং তার ঘরে তার নির্দিষ্ট আসনে তার অনুমতি ব্যতীত বসবে না।" ২ এটি মুসলিম বর্ণনা (رواه) করেছেন ৩। আর বুখারি ৪ এ জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত (عن): "আল্লাহর রাসূল (সা.) একত্রিত করতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
بين الرجلين من قتلى أُحد (في ثوب واحد) 1 ثم يقول: أيهم2 أكثر أخذًا للقرآن؟ فإذا أشير له3 إلى أحدهما قدمه في اللحد". وعن أبي موسى أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن من إجلال الله إكرام ذي الشيبة المسلم، وحامل القرآن غير الغالي فيه والجافي عنه، وإكرام ذي السلطان" 4 حديث حسن رواه أبو داود.5
--------------------------------------------
"...উহুদ যুদ্ধে শহীদদের মধ্য থেকে দুই ব্যক্তিকে (একই কাপড়ে) ১ তারপর তিনি বলতেন: তাদের মধ্যে কে কুরআন অধিক অর্জন করেছেন? ২ যখন তাঁর কাছে তাদের মধ্যে একজনের দিকে ইশারা করা হতো, ৩ তখন তিনি তাকে লাহাদ (اللحد) বা কবরের গর্তে অগ্রবর্তী করতেন।" এবং আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর মাহাত্ম্য প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত হলো—মুসলিম বৃদ্ধকে সম্মান করা, কুরআনের সেই বাহককে সম্মান করা যে তাতে চরমপন্থা (الغالي) অবলম্বন করে না এবং তা থেকে বিমুখ (الجافي) থাকে না, এবং শাসককে সম্মান করা।" ৪ এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
(3) باب وجوب تعلم القرآن وتفهمه واستماعه والتغليظ على من ترك ذلكوقول الله تعالى: {وَجَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَنْ يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْراً} 1 وقال تعالى: {إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لا يَعْقِلُونَ} 2 وقوله: {وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكاً} 3 الآية.
عن أبي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مثل ما بعثني الله به من الهدى والعلم كمثل الغيث الكثير أصاب أرضا، فكان منها نقية قبلت الماء فأنبتت الكلأ والعشب الكثير. وكانت منها أجادب أمسكت الماء فنفع الله بها الناس، فشربوا وسقوا وزرعوا. وأصاب منها طائفة أخرى إنما هي قيعان لا تمسك ماء ولا تنبت كلأ. فذلك مثل من فقه في دين الله ونفعه ما بعثني الله به، فعلم وعلّم 4. ومثل5 من لم يرفع بذلك رأسا ولم يقبل هدى الله
--------------------------------------------
(৩) অধ্যায়: কুরআন শিক্ষা করা, তা অনুধাবন করা ও শ্রবণ করার আবশ্যকতা (وجوب) এবং যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করে তার প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারিআল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আমি তাদের অন্তরের ওপর আবরণ দিয়েছি যেন তারা তা অনুধাবন (يفقهوه) করতে না পারে এবং তাদের কানে দিয়েছি বধিরতা।} ১ এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম প্রাণী সেই সব বধির ও মূক, যারা কিছুই অনুধাবন (يعقلون) করে না।} ২ এবং তাঁর বাণী: {আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জন্য অবশ্যই হবে এক সংকীর্ণ জীবন।} ৩ আয়াত।
আবু মুসা হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা আমাকে যে হিদায়াত (الهدى) ও ইলম (العلم) দিয়ে পাঠিয়েছেন, তার উদাহরণ হলো এমন এক প্রচুর বৃষ্টির ন্যায় যা কোনো ভূমিতে পতিত হলো। তার মধ্যে এক টুকরো ভূমি ছিল উর্বর যা পানি গ্রহণ করল এবং প্রচুর ঘাস ও লতা-পাতা উৎপন্ন করল। আর ভূমির কিছু অংশ ছিল শক্ত যা পানি আটকে রাখল, ফলে আল্লাহ তা দ্বারা মানুষের উপকার করলেন; তারা পান করল, পানি পান করাল এবং চাষাবাদ করল। আর বৃষ্টির এক অংশ এমন নিচু সমতল ভূমিতে পড়ল যা পানিও ধরে রাখে না এবং ঘাসও উৎপন্ন করে না। এ হলো সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে প্রজ্ঞা (فقه) অর্জন করেছে এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা তার উপকারে এসেছে; ফলে সে নিজে শিখল এবং অন্যদের শিক্ষা দিল ৪। আর ঐ ব্যক্তির উদাহরণ যে এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং আল্লাহর হিদায়াত (هدى) গ্রহণ করেনি ৫।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
الذي أرسلت به" أخرجاه1. وعن ابن عمرو أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "2 ارحموا ترحموا، واغفروا يغفر الله لكم. ويل لأقماع القول ويل للمصرين الذين يصرون على ما فعلوا وهم يعلمون" رواه أحمد.3
--------------------------------------------
"যা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে"—তারা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجاه)১। এবং ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ২ "তোমরা দয়া করো, তোমাদের প্রতি দয়া করা হবে; এবং ক্ষমা করো, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন। ধ্বংস সেই সকল ব্যক্তির জন্য যারা কথার পাত্রস্বরূপ (অর্থাৎ যারা কেবল শ্রবণ করে কিন্তু আমল করে না), ধ্বংস সেই সকল একগুঁয়ে ব্যক্তিদের জন্য যারা জেনেবুঝে তাদের কৃতকর্মের ওপর অটল থাকে।" এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (رواه)৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
(4) باب الخوف على من لم يفهم القرآن أن يكون من المنافقينوقوله تعالى: {وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُ إِلَيْكَ حَتَّى إِذَا خَرَجُوا مِنْ عِنْدِكَ} 1 الآية، وقوله عز وجل {وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيراً مِنَ الْجِنِّ وَالْأِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لا يَفْقَهُونَ بِهَا} 2 الآية.
عن أسماء أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " إنكم تفتنون في قبوركم مثل أو قريب ا 3 من فتنة الدجال؛ يؤتى أحدكم [فيقال: ما علمك بهذا الرجل؟ فأما المؤمن أو الموقن، لا أدري أي ذلك قالت أسماء] 4 فيقول: هو محمد رسول الله جاءنا بالبينات والهدى، فأجبنا وآمنا واتبعنا. فيقال: نم صالحا فقد علمنا إن كنت لمؤمنا 5. وأما المنافق أو المرتاب فيقول: لا أدري. سمعت الناس يقولون شيئا فقلته".
--------------------------------------------
(৪) পরিচ্ছেদ: যারা কুরআন বোঝে না তাদের মুনাফিক (منافق) হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গেএবং মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা আপনার কথা কান পেতে শোনে, কিন্তু যখন তারা আপনার কাছ থেকে বেরিয়ে যায়...} ১ (আয়াত), এবং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {আমি জিন ও মানুষের মধ্য থেকে অনেককে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না...} ২ (আয়াত)।
আসমা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কবরে দাজ্জালের ফিতনার অনুরূপ বা তার কাছাকাছি ফিতনার (পরীক্ষার) সম্মুখীন করা হবে। তোমাদের একজনকে (কবরে) আনা হবে [অতঃপর তাকে বলা হবে: এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কী? তখন মু'মিন (مؤمن) বা সুনিশ্চিত বিশ্বাসী (موقن) ব্যক্তি—আসমা (রা.) কোন শব্দটি বলেছিলেন তা আমি (বর্ণনাকারী) নিশ্চিত নই—সে বলবে: তিনি হচ্ছেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ; তিনি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন, অতঃপর আমরা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছি, তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তখন তাকে বলা হবে: তুমি শান্তিতে ঘুমাও, আমরা জানতাম যে তুমি অবশ্যই মু'মিন (مؤمن) ছিলে। পক্ষান্তরে মুনাফিক (منافق) বা সন্দেহ পোষণকারী (مرتاب) বলবে: আমি জানি না; লোকজনকে কিছু বলতে শুনেছিলাম, তাই আমিও তা-ই বলেছি।]"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أخرجاه1. وفي حديث البراء 2 في 3 الصحيح: " أن المؤمن يقول: هو رسول الله، فيقولان: قرأت كتاب الله فآمنت به وصدقت" 4
--------------------------------------------
তাঁরা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন১। এবং বারা’ ২ এর হাদিসে ৩ সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি বলবে: তিনি আল্লাহর রাসুল। তখন তাঁরা (ফেরেশতারা) বলবেন: আমি আল্লাহর কিতাব পাঠ করেছি, অতঃপর তার ওপর ইমান এনেছি এবং তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছি।" ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(5) باب قول الله تعالى: {وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ} الآيةوقوله: {مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَاراً} 1 الآية. عن أبي الدرداء قال: "كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم فشخص ببصره 2 إلى السماء، ثم 3 قال: " هذا أوان يختلس العلم من الناس حتى لا يقدروا منه على شيء 4". فقال زياد بن لبيد الأنصاري: كيف يختلس5 منا وقد قرأنا القرآن؟ فوالله لنقرأنه ولنقرئنه نساءنا6 وأبناءنا فقال: "ثكلتك أمك يا زياد إن كنت لأعدك من فقهاء المدينة 7. هذه التوراة والإنجيل عند اليهود والنصارى فماذا تغني عنهم؟ ".
--------------------------------------------
(৫) মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক রয়েছে যারা কিতাব সম্পর্কে অলীক ধারণা ছাড়া কিছুই জানে না} আয়াতের অধ্যায়এবং তাঁর বাণী: {যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তারা তা বহন করেনি, তাদের উদাহরণ সেই গাধার ন্যায় যে বিশাল কিতাবসমূহ বহন করে} ১ আয়াত। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা নবী (সা.)-এর সাথে ছিলাম, এমতাবস্থায় তিনি আকাশের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন ২, অতঃপর ৩ বললেন: "এটি এমন এক সময় যখন মানুষের নিকট থেকে ইলম ছিনিয়ে নেওয়া হবে, এমনকি তারা তা থেকে কিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম হবে না ৪"। তখন জিয়াদ ইবনে লাবীদ আল-আনসারী বললেন: আমাদের থেকে ইলম কীভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হবে ৫ অথচ আমরা কুরআন পাঠ করেছি? আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্যই তা পাঠ করব এবং আমাদের নারী ৬ ও সন্তানদেরও পাঠ দান করব। তখন তিনি বললেন: "হে জিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারাক (এটি একটি আরবীয় প্রকাশভঙ্গি), আমি তো তোমাকে মদিনার ফকীহদের (فقهاء) ৭ অন্তর্ভুক্ত মনে করতাম। এই তাওরাত ও ইনজীল তো ইহুদি ও নাসারাদের কাছেও বিদ্যমান, তবে তা তাদের কী উপকারে আসছে?"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
رواه الترمذي 1 وقال: حسن غريب. وعن عائشة رضي الله عنها: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أنزل عليه: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ} ? إلى قوله: {سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} 2 قال: "ويل لمن قرأ هذه الآية ولم يتفكر فيها" رواه ابن حبان في صحيحه.
--------------------------------------------
তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন ১ এবং বলেছেন: হাসান (حسن) গরিব (غريب)। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: "যখন আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হলো: {নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে...} থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আপনি মহাপবিত্র, অতএব আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন} ২ তখন তিনি বললেন: ‘ধ্বংস তার জন্য যে ব্যক্তি এই আয়াতটি পাঠ করল অথচ তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করল না’।" ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
(6) باب إثم من فجر بالقرآنوقوله تعالى: {وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ} 1 وقوله: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} 2 وقوله: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً} 3 الآية.
وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يخرج في هذه الأمة - ولم يقل منها - قوم تحقرون صلاتكم مع صلاتهم يقرؤون القرآن لا يجاوز حناجرهم وحلوقهم، يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية، فينظر إلى نصله إلى رصافه، فيتمارى في فوقه، هل علق به من الدم شيء" 4 أخرجاه. 5
--------------------------------------------
(৬) অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কুরআনের মাধ্যমে পাপাচার (فجر) করে তার গুনাহআল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তিনি এর দ্বারা কেবল পাপাচারীদেরকে (الفاسقين) বিভ্রান্ত করেন} ১ এবং তাঁর বাণী: {আর যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই তো কাফির (الكافرون)} ২ এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় যারা আল্লাহর নাজিলকৃত কিতাব গোপন করে এবং বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে} ৩ আয়াতে শেষ পর্যন্ত।
আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এই উম্মতের মধ্যে—তিনি ‘তাদের থেকে’ বলেননি—এমন এক কওমের আবির্ভাব ঘটবে যে, তাদের সালাতের তুলনায় তোমরা তোমাদের সালাতকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী ও গলদেশ অতিক্রম করবে না। তারা দীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন শিকারী জন্তুর শরীর ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। অতঃপর (তীর নিক্ষেপকারী) তার তীরের ফলায় দেখে, তার জোড়ায় (তীরের কাঠের সাথে লোহার সংযোগস্থল) দেখে, তার তীরের শেষ মাথায় (পালকের গোড়ায়) তাকিয়ে দ্বিধায় ভোগে যে, সেখানে কি সামান্য রক্তও লেগেছে?" ৪ উভয় ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন। ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وفي رواية "يقرؤون القرآن رطبا 1 ". وكان ابن عمر يراهم شرار الخلق وقال: "إنهم انطلقوا إلى آيات نزلت في الكفار فجعلوها على المؤمنين". وللترمذي 2 وحسنه عن أبي هريرة مرفوعا: " من سئل عن علم فكتمه، ألجمه الله يوم القيامة بلجام من نار" 3
--------------------------------------------
এবং একটি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী "তারা সাবলীলভাবে কুরআন পাঠ করে ১"। ইবনে উমর (রা.) তাদেরকে সৃষ্টির নিকৃষ্টতম মনে করতেন এবং বলতেন: "তারা কাফেরদের শানে নাযিল হওয়া আয়াতসমূহ গ্রহণ করে মুমিনদের ওপর প্রয়োগ করেছে।" তিরমিজিতে ২ এটি বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি একে হাসান (حسن) বলেছেন, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত: "যাকে কোনো ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন ৩"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
(7) باب إثم من رايا بالقرآنعن أبي هريرة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن أول الناس يقضى يوم القيامة عليه 1 رجل استشهد فأُتي به فعرّفه نعمه فعرفها قال: فما عملت فيها 2؟ قال: قاتلت فيك حتى استشهدت، قال: كذبت ولكنك قاتلت لأن يقال جريء فقد قيل، ثم أمر به فسحب على وجهه حتى ألقي في النار، ورجل تعلم العلم وعلمه وقرأ القرآن، فأُتي به فعرّفه نعمه فعرفها، قال: فما عملت فيها قال: تعلمت العلم وعلمته وقرأت فيك القرآن، قال: كذبت ولكنك تعلمت العلم 3 ليقال: عالم، وقرأت القرآن ليقال: هو قارئ، فقد قيل. ثم أمر به فسحب على وجهه حتى ألقي في النار، ورجل وسّع الله عليه وأعطاه من أصناف المال كله 4، فأُتي به فعرّفه نعمه فعرفها، قال: فما عملت فيها، قال: ما تركت من سبيل تحب أن ينفق فيه إلا أنفقت فيه لك، قال: كذبت، ولكنك فعلت ليقال:
--------------------------------------------
(৭) অনুচ্ছেদ: কুরআন নিয়ে লোকদেখানো (رياء) করার গুনাহআবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হলো এমন এক ব্যক্তি যে শহীদ (شهيد) হয়েছে। তাকে (আল্লাহর দরবারে) উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে প্রদত্ত নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন: ‘তুমি এই নেয়ামতগুলো দিয়ে কী আমল করেছ?’ সে বলবে: ‘আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য যুদ্ধ করেছি যতক্ষণ না আমি শহীদ (شهيد) হয়েছি।’ তিনি বলবেন: ‘তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি এ জন্য যুদ্ধ করেছ যেন তোমাকে সাহসী (جريء) বলা হয়; আর তা বলা হয়েছে।’ এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এমন এক ব্যক্তি যে ইলম (علم) অর্জন করেছে, তা শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে প্রদত্ত নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন: ‘তুমি এই নেয়ামতগুলো দিয়ে কী আমল করেছ?’ সে বলবে: ‘আমি ইলম (علم) শিক্ষা করেছি, তা অন্যদের শিখিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি।’ তিনি বলবেন: ‘তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি ইলম (علم) অর্জন করেছিলে যেন তোমাকে আলিম (عالم) বলা হয় এবং কুরআন পাঠ করেছিলে যেন তোমাকে ক্বারী (قارئ) বলা হয়; আর তা বলা হয়েছে।’ এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সচ্ছলতা দিয়েছিলেন এবং সব ধরনের ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে প্রদত্ত নেয়ামতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে। তিনি জিজ্ঞেস করবেন: ‘তুমি এই নেয়ামতগুলো দিয়ে কী আমল করেছ?’ সে বলবে: ‘আপনি যে পথে ব্যয় করা পছন্দ করেন আমি তার কোনোটিই বাদ দিইনি, বরং আপনার সন্তুষ্টির জন্যই ব্যয় করেছি।’ তিনি বলবেন: ‘তুমি মিথ্যা বলছ, বরং তুমি এ কাজ করেছিলে যেন তোমাকে দানবীর (جواد) বলা হয়’...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
هو جواد 1 فقد قيل. ثم أمر به فسحب على وجهه ثم 2 أُلقي في النار".
رواه مسلم. 3
--------------------------------------------
তিনি অত্যন্ত দানশীল 1, আর তা (লোকমুখে) বলাও হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হলো, ফলে তাকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হলো এবং এরপর 2 তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হলো।"
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (رواه)। 3
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
(8) باب إثم من تأكل بالقرآنعن جابر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "اقرؤوا القرآن وابتغوا به وجه الله1 عز وجل قبل أن يأتي يوم يقيمونه إقامة القدح يتعجلونه 2 ولا يتأجلونه" رواه أبو داود 3، وله معناه من حديث سهل بن سعد. وعن عمران "أنه مر برجل يقرأ على قوم فلما فرغ سأله، فقال عمران إنا لله وإنا إليه راجعون، إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من قرأ القرآن فليسأل الله تبارك وتعالى ب هـ 4 فإنه سيجيء قوم يقرؤون القرآن يسألون به الناس" رواه أحمد والترمذي. 5
--------------------------------------------
(৮) অনুচ্ছেদ: কুরআনের বিনিময়ে জীবিকা নির্বাহকারীর গুনাহজাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো এবং এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করো সেই দিন আসার পূর্বে, যেদিন এমন একদল লোক আসবে যারা একে (কুরআনকে) তীরের মতো সোজা করবে (অর্থাৎ সুর ও উচ্চারণে অতি লৌকিকতা করবে), তারা এর বিনিময় দুনিয়াতে দ্রুত পেতে চাইবে এবং আখেরাতের জন্য বিলম্বিত করবে না।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং সাহল বিন সাদ-এর হাদিসেও এর সমার্থবোধক বর্ণনা রয়েছে। ইমরান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে একদল লোকের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করছিল। যখন সে তিলাওয়াত শেষ করল, তখন সে (লোকদের কাছে) যাঞ্চা করল। এতে ইমরান (রা.) বললেন: "নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।" আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে সে যেন তার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করে। কারণ অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যারা কুরআন পড়বে এবং তার বিনিময়ে মানুষের কাছে যাঞ্চা করবে।" এটি আহমদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
(9) باب الجفاء عن القرآنعن سمرة بن جندب في حديث الرؤيا الطويل مرفوعا قال: "أتاني الليلة اثنان فذهبا بي، قالا: انطلق وإني انطلقت معهما وإنا أتينا على رجل مضطجع، وإذا آخر قائم عليه بصخرة، وإذا هو يهوي بالصخرة على رأسه فيثلغ رأسه، فيتدهده الحجر هاهنا فيتبع الحجر فيأخذه فلا يرجع إليه حتى يصبح رأسه كما كان. ثم يعود عليه فيفعل به مثل ما فعل في المرة الأولى. فقلت لهما: سبحان الله ما هذا؟ قالا: هذا رجل علمه الله القرآن فنام عنه بالليل، ولم يعمل فيه بالنهار. يفعل به إلى يوم القيامة" وفي رواية: 1 "الذي يأخذ القرآن فيرفضه وينام عن الصلاة المكتوبة " رواه البخاري 2
ولمسلم عن أبي موسى أنه قال لقراء البصرة: "اتلوه، ولا يطولن عليكم الأمد فتقسو قلوبكم كما قست قلوب من كان قبلكم" وعن "ابن مسعود قال: إن بني إسرائيل لما طال عليهم الأمد فقست قلوبهم فاخترعوا كتابا من عند أنفسهم استحلته أنفسهم، وكان الحق يحول بينهم وبين كثير من شهواتهم حتى نبذوا كتاب الله وراء ظهورهم"
--------------------------------------------
(৯) কুরআন বিমুখতা পরিচ্ছেদসামুরা বিন জুনদুব থেকে স্বপ্নের দীর্ঘ হাদিসে নবী করিম (সা.)-এর প্রতি উদ্ধৃত (مرفوعا) হিসেবে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আজ রাতে আমার নিকট দু'জন ব্যক্তি আসলেন এবং আমাকে নিয়ে গেলেন। তারা বললেন: চলুন। আমি তাদের সাথে চলতে লাগলাম। আমরা এমন এক ব্যক্তির কাছে আসলাম যে শুয়ে আছে, আর অপর একজন ব্যক্তি তার মাথার পাশে বিশাল পাথর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে পাথরটি তার মাথার ওপর নিক্ষেপ করছে এবং তাতে তার মাথা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পাথরটি ছিটকে দূরে চলে যাচ্ছে, সে পাথরের পেছনে গিয়ে তা কুড়িয়ে আনছে। সে ফিরে আসার আগেই মাথাটি আগের মতো সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এরপর সে পুনরায় একই কাজ করছে যা সে প্রথমবার করেছিল। আমি তাদের বললাম: সুবহানাল্লাহ! এরা কারা? তারা বললেন: এ হলো সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন শিখিয়েছিলেন কিন্তু সে রাতে তা থেকে উদাসীন হয়ে ঘুমিয়ে থাকত এবং দিনে তদানুযায়ী আমল করত না। কিয়ামত পর্যন্ত তার সাথে এরূপ আচরণই করা হবে।" অন্য একটি বর্ণনায় (رواية): ১ "যে ব্যক্তি কুরআন গ্রহণ করার পর তা বর্জন (يرفضه) করে এবং ফরজ সালাত ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকে।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ২।
এবং মুসলিম-এ আবু মুসা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বসরার কুরআন পাঠকদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "তোমরা এটি তিলাওয়াত করো। তোমাদের ওপর যেন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত না হয়, নতুবা তোমাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে যাবে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল।" এবং ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "বনি ইসরাঈলদের ওপর যখন দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলো, তখন তাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে গেল। ফলে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে একটি কিতাব উদ্ভাবন করল যা তাদের প্রবৃত্তি পছন্দ করত। আর সত্য তাদের ও তাদের অনেক কুপ্রবৃত্তির মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, অবশেষে তারা আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করল।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
(10) باب من ابتغى الهدى من غير القرآنوقول الله عز وجل {وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانا} 1 الآيتين وقوله تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ} 2 الآية.
وعن زيد بن أرقم قال: "قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم خطيبا بماء يدعى: خما، فحمد الله وأثنى عليه ووعظ وذكر، ثم قال: أما بعد، أيها الناس إنما أنا بشر مثلكم يوشك أن يأتيني رسول من ربي فأجيب، وأنا تارك فيكم ثقلين: أولهما: كتاب الله، فيه الهدى والنور. فخذوا بكتاب الله واستمسكوا به. فحث على كتاب الله ورغب فيه. ثم قال: وأهل بيتي أذكركم الله في أهل بيتي " 3 (وفي لفظ) 4: "أحدهما كتاب الله، هو حبل الله، من تبعه كان على الهدى، ومن تركه كان على الضلالة " رواه مسلم، 5 وله 6 عن جابر
--------------------------------------------
(১০) পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কুরআন ছাড়া অন্য কিছু থেকে হেদায়াত অন্বেষণ করেমহান আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি পরম দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি...} (সূরা যুখরুফ: ৩৬) আয়াতদ্বয় এবং তাঁর বাণী: {আমি আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনাদানকারী} (সূরা নাহল: ৮৯) আয়াত।
যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'খুম' নামক এক জলাশয়ের নিকট আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন এবং উপদেশ ও নসিহত প্রদান করলেন। অতঃপর বললেন: 'অতঃপর, হে লোকসকল! আমি তো কেবল তোমাদের মতোই একজন মানুষ। অচিরেই আমার প্রতিপালকের দূত আমার নিকট আসবেন এবং আমি তাতে সাড়া দেব। আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি। তার প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব, যাতে হেদায়াত ও নূর রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ করো এবং একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো।' এভাবে তিনি আল্লাহর কিতাবের প্রতি উৎসাহিত করলেন এবং এর প্রতি অনুপ্রেরণা দিলেন। এরপর বললেন: 'আর আমার আহলে বায়ত (পরিবারবর্গ); আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বায়তের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি'।" (এবং একটি শব্দবিন্যাসে (لفظ) রয়েছে): "তন্মধ্যে একটি হলো আল্লাহর কিতাব, যা আল্লাহর রশি। যে ব্যক্তি তা অনুসরণ করবে সে হেদায়াতের ওপর থাকবে, আর যে তা বর্জন করবে সে পথভ্রষ্টতার ওপর থাকবে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর (মুসলিম) জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য রেওয়ায়েত রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
" أن رسول الله صلى الله عليه وسلم (كان) إذا خطب يقول: أما بعد فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها وكل بدعة ضلالة" 1 وعن سعيد بن مالك قال: "نزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم: القرآن فتلاه عليهم زمانا، فقالوا: يا رسول الله لو قصصته، علينا، فأنزل الله عز وجل: {الر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْحَكِيمِ} 2 الآية فتلاه عليهم زمانا" رواه ابن أبي حاتم بإسناد حسن، وله عن المسعودي عن القاسم: "أن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ملوا ملة فقالوا حدثنا يا رسول الله فنزلت:
--------------------------------------------
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন তখন বলতেন: 'অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা।' এবং সাঈদ বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কুরআন অবতীর্ণ হলো এবং তিনি দীর্ঘকাল তাদের কাছে তা পাঠ করলেন। তখন তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি আমাদের নিকট কিছু কাহিনী বর্ণনা করতেন। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {আলিফ-লাম-রা; এগুলি প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত} - এই আয়াতটি; তিনি দীর্ঘকাল এটি তাদের নিকট পাঠ করলেন।' এটি ইবনে আবি হাতেম একটি হাসান (حسن) সনদে বর্ণনা করেছেন। এবং মাসউদী হতে কাসেমের সূত্রে তার (ইবনে আবি হাতেমের) নিকট বর্ণিত রয়েছে যে: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ কিছুটা একঘেয়েমি অনুভব করলেন, তখন তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নিকট কিছু বর্ণনা করুন। তখন অবতীর্ণ হলো:'
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
{اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَاباً مُتَشَابِهاً} 1. ثم ملوا ملة فقالوا: حدثنا يا رسول الله، فأنزل الله عز وجل: {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ} 2 الآية. ورواه عبيد عن بعض التابعين، وفيه: {فإن طلبوا الحديث دلهم على القرآن} .
وكان معاذ بن جبل يقول في مجلسه كل يوم - قلّ ما يخطئه أن يقول ذلك -: "الله حكم قسط. هلك المرتابون. إن وراءكم فتنًا يكثر فيها المال، ويفتح فيها القرآن حتى يقرأه المؤمن والمنافق والمرأة والصبي، فيوشك أحدهم أن يقول: قد قرأت القرآن فما أظن أن يتبعوني حتى ابتدع لهم غيره. فإياكم وما ابتدع، فكل بدعة ضلالة، وإياكم وزيغة الحكيم، وإن المنافق قد يقول كلمة الحق، فتلقوا الحق ممن جاء به، فإن على الحق نورا" الحديث رواه أبو داود 3 وروى البيهقي عن عروة بن الزبير "أن عمرأراد أن يكتب السنن فاستشار الصحابة، فأشاروا عليه بذلك. ثم استخار الله شهرا ثم قال: إني ذكرت قوما كانوا قبلكم كتبوا كتبا فأكبوا عليها وتركوا كتاب الله عز وجل، وإني لا ألبس كتاب الله بشيء أبدًا".
--------------------------------------------
{আল্লাহ সর্বোত্তম হাদিস অবতীর্ণ করেছেন, যা একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিতাব} ১। অতঃপর তারা একঘেয়েমি অনুভব করল এবং বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করুন। তখন মহামহিম আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে তাদের হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি?} ২ — আয়াতটি। এটি উবাইদ কয়েকজন তাবেয়ি (التابعين) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: {যদি তারা হাদিস অন্বেষণ করে, তবে তিনি যেন তাদের কুরআনের দিকে পথপ্রদর্শন করেন}।
মুয়াজ ইবনে জাবাল তাঁর মজলিসে প্রতিদিন বলতেন—খুব কমই তিনি তা বলতে ভুল করতেন—: "আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠ বিচারক। সংশয়বাদীরা ধ্বংস হয়েছে। নিশ্চয়ই তোমাদের সামনে এমন ফিতনা আসবে যাতে সম্পদের প্রাচুর্য ঘটবে এবং কুরআন উন্মুক্ত হবে, এমনকি মুমিন, মুনাফিক (المنافق), নারী ও শিশু তা পাঠ করবে। তখন তাদের কেউ হয়ত বলতে উদ্যত হবে: আমি তো কুরআন পড়েছি, কিন্তু আমার মনে হয় না যে লোকে আমাকে অনুসরণ করবে যতক্ষণ না আমি তাদের জন্য নতুন কিছু উদ্ভাবন করি। সুতরাং তোমরা নব-উদ্ভাবিত বিষয় থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)। আর তোমরা জ্ঞানীর বিচ্যুতি থেকে সতর্ক থাকো, কারণ মুনাফিক (المنافق) কখনো কখনো সত্য কথা বলতে পারে; তাই সত্য যে নিয়ে আসুক না কেন তা গ্রহণ করো, কেননা সত্যের ওপর নূর (আলো) থাকে।" হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন ৩। আর বায়হাকি উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "উমর সুন্নাহসমূহ (السنن) লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন এবং সাহাবিদের (الصحابة) সাথে পরামর্শ করলেন। তাঁরা তাঁকে এই মর্মে পরামর্শ দিলেন। অতঃপর তিনি এক মাস আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলেন এবং বললেন: আমি তোমাদের পূর্ববর্তী এমন এক কওমের কথা স্মরণ করলাম যারা কিছু কিতাব লিখেছিল এবং সেগুলোর ওপর ঝুঁকে পড়ে মহান আল্লাহর কিতাব বর্জন করেছিল। আমি আল্লাহর কিতাবকে কখনোই কোনো কিছুর সাথে সংমিশ্রণ করব না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
(11) باب الغلو في القرآنفيه حديث الخوارج المتقدم 1 وفي الصحيح 2 عن عبد الله بن عمر قال: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ألم أخبر أنك تصوم الدهر، وتقرأ القرآن كل ليلة؟ قلت: بلى يا رسول الله، ولم أرد بذلك إلا الخير. قال: فصم صوم داود فإنه كان أعبد الناس، واقرأ القرآن كل شهر قلت: يا رسول الله إني أطيق أفضل من ذلك. قال: فاقرأه في كل عشر قلت: يا نبي الله إني أطيق أفضل من ذلك قال: فاقرأه في كل سبع، ولا تزد على ذلك" 3.
ولمسلم 4 عن ابن مسعود رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه
--------------------------------------------
(১১) কুরআন নিয়ে অতিরঞ্জন করার অধ্যায়এতে ইতিপূর্বে উল্লিখিত খাওয়ারিজদের হাদিস ১ রয়েছে। আর সহিহ ২-এ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি কি সংবাদ পাইনি যে তুমি আজীবন রোজা রাখো এবং প্রতি রাতে কুরআন খতম করো? আমি বললাম: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, আর আমি এর মাধ্যমে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু কামনা করিনি। তিনি বললেন: তুমি দাউদ আলাইহিস সালামের রোজার ন্যায় রোজা রাখো, কেননা তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদতকারী। আর প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম করো। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি এর চেয়ে উত্তম কিছুর সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন: তবে প্রতি দশ দিনে খতম করো। আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী, আমি এর চেয়ে উত্তম কিছুর সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন: তবে প্রতি সাত দিনে খতম করো এবং এর চেয়ে বাড়াবাড়ি করো না।" ৩।
আর মুসলিম ৪-এ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وسلم
قال: "هلك المتنطعون" 1. ولأحمد 2 عن عبد الرحمن بن شبل مرفوعًا: "اقرؤوا القرآن، ولا تغلوا فيه ولا تجفوا عنه، ولا تأكلوا به، ولا تستكثروا به".
وعن أبي رافع أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا ألفين 3 أحدكم متكئا على أريكته يأتيه الأمر من أمري 4 مما أمرت به أو نهيت عنه فيقول: لا أدري 5، ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه" رواه أبو داود والترمذي. 6
--------------------------------------------
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
তিনি বলেছেন: "চরমপন্থীরা ধ্বংস হয়েছে" ১। এবং আহমাদে ২ আব্দুর রহমান বিন শিবল থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণিত: "তোমরা কুরআন পাঠ করো, এতে অতিরঞ্জন করো না এবং এর থেকে দূরে থেকো না; এর মাধ্যমে আহার করো না এবং এর দ্বারা প্রাচুর্য অন্বেষণ করো না।"
আবু রাফে থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ—যা আমি আদেশ করেছি অথবা যা থেকে নিষেধ করেছি—পৌঁছাল আর সে বলল: 'আমি জানি না, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি তারই অনুসরণ করেছি'।" এটি আবু দাউদ এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। ৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(12) باب ما جاء في اتباع المتشابهفي الصحيح 1 عن عائشة رضي الله عنها: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأ: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ} إلى قوله: {وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ} 2 فقال: إذا رأيت الذين يتبعون ما تشابه منه فأولئك الذين سمى الله فاحذروهم" انتهى.
وقال عمر: "يهدم الإسلام زلة عالم، وجدال منافق بالقرآن، وحكم الأئمة المضلين" ولما سأل صبيغ (عمر) 3 عن (الذاريات) وأشباهها (ضربه عمر) .
والقصة مشهورة. 4
--------------------------------------------
(১২) অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) বিষয়ের অনুসরণের বর্ণনায় অধ্যায়সহিহ (صحيح) গ্রন্থে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করলেন: {তিনিই আপনার প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছেন, যার কিছু আয়াত সুস্পষ্ট (محكمات), সেগুলো কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো অস্পষ্ট বা রূপক (متشابهات)} আল্লাহর বাণী {আর কেবল বুদ্ধিমানগণই উপদেশ গ্রহণ করে} পর্যন্ত। অতঃপর তিনি বললেন: যখন তোমরা তাদের দেখবে যারা এর অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) বিষয়গুলোর অনুসরণ করে, তবে এরাই তারা যাদের কথা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন; সুতরাং তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাক।" সমাপ্ত।
উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "ইসলামকে ধ্বংস করে দেয় আলিমের বিচ্যুতি (زلة), কুরআন নিয়ে মুনাফিকের (منافق) বিতর্ক এবং পথভ্রষ্ট ইমামদের শাসন।" আর যখন সুবাইগ (উমরকে) 'আয-যারিয়াত' এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, (তখন উমর তাকে প্রহার করলেন)।
এই ঘটনাটি প্রসিদ্ধ (مشهورة)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(13) باب وعيد من قال في القرآن برأيه وبما لا يعلموقول الله تعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ} 1 إلى قوله: {وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ} 2.
وعن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من قال في القرآن برأيه" 3 وفي رواية: "من غير علم فليتبوأ مقعده من النار" 4 رواه الترمذي وحسنه، 5 وعن جندب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من قال في القرآن برأيه فأصاب فقد أخطأ" 6 رواه أبو داود والترمذي 7 وقال: غريب.
--------------------------------------------
(১৩) অধ্যায়: পবিত্র কুরআন সম্পর্কে নিজস্ব মতামত এবং না জেনে কথা বলার কঠোর হুঁশিয়ারিমহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমার প্রতিপালক কেবল অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন, তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন} ১ থেকে আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং আল্লাহর সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না} ২।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি পবিত্র কুরআন সম্পর্কে নিজস্ব মতামত অনুযায়ী কিছু বলল" ৩ এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "বিনা জ্ঞানে কোনো কথা বলল, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়" ৪ এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান (حسن) বলেছেন। ৫ জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে নিজস্ব মতামত অনুযায়ী কিছু বলল এবং তা সঠিকও হলো, তবুও সে ভুল করল" ৬ এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন ৭ এবং তিনি (তিরমিজি) একে গরিব (غريب) বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(14) باب ما جاء في الجدال في القرآنقال أبو العالية آيتان ما أشدهما على من يجادل في القرآن: قوله تعالى: {مَا يُجَادِلُ فِي آيَاتِ اللَّهِ إِلَّا الَّذِينَ كَفَرُوا} 1، وقوله: {وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ} 2. عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "جدال في القرآن كفر" 3 رواه أحمد وأبو داود 4 وإسناده جيد، وفي حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده: "سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم قوما يتمارون في القرآن فقال: إنما هلك من كان قبلكم باختلافهم في الكتاب 5") .
--------------------------------------------
(১৪) কুরআন নিয়ে বিতর্ক করা প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছেআবুল আলিয়া (রহ.) বলেন, কুরআনের দু’টি আয়াত এমন যা কুরআন নিয়ে বিতর্ককারীদের জন্য অত্যন্ত কঠোর: মহান আল্লাহর বাণী: {কাফেররা ব্যতীত কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্ক করে না} ১, এবং তাঁর বাণী: {আর নিশ্চয় যারা কিতাব নিয়ে মতভেদ করেছে, তারা অবশ্যই সুদূরপ্রসারী বিরোধে লিপ্ত} ২। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কুরআন নিয়ে বিতর্ক করা কুফরি।" ৩ এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) উত্তম (جيد)। ৪ আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) একদল লোককে কুরআন নিয়ে ঝগড়া করতে শুনে বললেন: তোমাদের পূর্ববর্তীরা কিতাব নিয়ে তাদের মতভেদের কারণেই ধ্বংস হয়েছে ৫")।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
(15) باب ما جاء في الاختلاف في القرآن في لفظه أو معناهوقول الله عز وجل: {وَلا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ} 1 الآية، وقوله: {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ} 2 الآية.
وفي الصحيح 3 عن ابن مسعود قال: "سمعت رجلا يقرأ آية سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ خلافها، فأخذت بيده فانطلقت به إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذكرت ذلك له، فعرفت في وجهه الكراهة، فقال: كلاكما محسن فلا تختلفوا، فإن من كان قبلكم اختلفوا فهلكوا" 4. وفيه أيضا5 عن 6 ابن عمرو قال: "هجّرت إلى النبي صلى الله عليه وسلم وسمعت أصوات رجلين اختلفا في آية، فخرج علينا رسول الله صلى الله عليه
--------------------------------------------
(১৫) পরিচ্ছেদ: কুরআনের শব্দ বা অর্থের ভিন্নতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছেআল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণী: {আর তারা সর্বদা মতভেদ করতে থাকবে, তবে তারা নয় যাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন} ১ আয়াত পর্যন্ত, এবং তাঁর বাণী: {মানুষ এক উম্মতভুক্ত ছিল, অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবিগণকে প্রেরণ করলেন} ২ আয়াত পর্যন্ত।
সহিহ (صحيح) গ্রন্থে ৩ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি এক ব্যক্তিকে একটি আয়াত পাঠ করতে শুনলাম অথচ নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এর ভিন্নভাবে পাঠ করতে শুনেছিলাম। আমি তার হাত ধরে তাকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে গেলাম এবং তাঁর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম। আমি তাঁর চেহারায় অপছন্দের চিহ্ন দেখতে পেলাম। তখন তিনি বললেন: তোমরা উভয়ই সঠিক কাজ করেছ, কাজেই তোমরা মতভেদ করো না। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা মতভেদ করেছিল এবং এর ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল" ৪। এতে আরও ৫ ইবনে আমর ৬ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি সাতসকালে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম এবং দুই ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম যারা একটি আয়াত নিয়ে মতভেদ করছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল কুরআন লি-মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وسلم
يعرف في وجهه الغضب، فقال: إنما هلك من كان قبلكم باختلافهم في الكتاب". وفي المسند 1 عنه من حديث عمرو بن شعيب قال: "كنا جلوسا بباب النبي صلى الله عليه وسلم فقال بعضهم: ألم يقل الله كذا وكذا؟ وقال بعضهم: ألم يقل الله كذا وكذا؟ (فسمع ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم . 2 فخرج كأنما فقئ في وجهه حب الرمان، فقال: أبهذا أُمرتم أو بهذا بعثتم، أن تضربوا كتاب الله بعضه ببعض؟ إنما ضلت الأمم قبلكم في مثل هذا، إنكم لستم مما هاهنا في شيء 3. انظروا الذي أمرتم به فاعملوا به والذي نهيتم عنه فانتهوا عنه" وفي رواية4: "خرج وهم يتنازعون في القدر". وكذا رواه الترمذي 5 من حديث أبي هريرة وفيه "خرج ونحن نتنازع في القدر" وقال: حسن.
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
তার চেহারা মুবারকে ক্রোধের আভা ফুটে উঠছিল, তখন তিনি বললেন: "তোমাদের পূর্ববর্তীরা আল্লাহর কিতাব নিয়ে মতভেদ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে।" এবং মুসনাদ ১-এ আমর ইবনে শুআইব থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরজার নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তাদের কেউ কেউ বলছিল: আল্লাহ কি এমন এমন বলেননি? আবার কেউ কেউ বলছিল: আল্লাহ কি এমন এমন বলেননি? (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেলেন। ২ অতঃপর তিনি এমন অবস্থায় বের হয়ে আসলেন যেন তার চেহারা মুবারকে ডালিমের দানা নিংড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: "তোমাদের কি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নাকি এই উদ্দেশ্যে তোমাদের পাঠানো হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর কিতাবের একাংশকে অপরাংশের মুখোমুখি দাঁড় করাবে? তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ কেবল এ ধরনের আচরণের কারণেই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। এ বিষয়ে তোমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই ৩। তোমাদের যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা লক্ষ্য করো এবং সে অনুযায়ী আমল করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকো।" এবং একটি বর্ণনায় ৪ এসেছে: "তিনি বের হলেন এমতাবস্থায় যে তারা তাকদির নিয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত ছিল।" অনুরূপভাবে তিরমিজি ৫ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "তিনি বের হলেন এমতাবস্থায় যে আমরা তাকদির নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত ছিলাম।" তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: এটি হাসান (حسن)।
--------------------------------------------