(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: -)
الحوار مع أصحاب الأديان مشروعيته وشروطه وآدابه   (أحمد بن سيف الدين تركستاني)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الحوار مع أصحاب الأديان مشروعيته وشروطه وآدابه

المؤلف: أحمد بن سيف الدين تركستاني

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 39

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 61

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে সংলাপ: এর বৈধতা, শর্তাবলি ও শিষ্টাচার   (আহমদ বিন সাইফুদ্দীন তুর্কিস্তানি)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে সংলাপ: এর বৈধতা, শর্তাবলি ও শিষ্টাচার

লেখক: আহমদ বিন সাইফুদ্দীন তুর্কিস্তানি

প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক (আওকাফ) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্যসূত্র ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত সংস্করণ) : ৩৯

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১

শামেলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১)
الحوار مع أصحاب الأديان مشروعيته وشروطه وآدابه إعداد

د. أحمد بن سيف الدين تركستاني

الأستاذ المشارك بقسم الإعلام

كلية الدعوة والإعلام - جامعة الإمام

بسم الله الرحمن الرحيم‌‌ تمهيد الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد:

فيمكن للمرء أن يسمي هذا العصر بعصر تقارب الثقافات وتعايشها وتحاورها. وما سبق أن توقعه البروفيسور (مارشال ماكلوهان) قبل نحو أربعين عاماً تحقق إلى حد كبير، إذ إن الدفع التقني مضى قدماً إلى الأمام بأسرع مما كان يدور في خلد ذلك المنظر الإعلامي الرائد. من كان يتصور قبل عقود قليلة أن شبكة المعلومات العالمية (الإنترنت) يمكن أن تربط العالم بهذا الشكل سواء بنقل المعلومات فورياً، أو بالسماح بالحوار عبر المعمورة بحرية كاملة وتكاليف قليلة هي رمزية في معظم الأحيان؟! هذا فضلاً عما حدث من تقدم في وسائل الاتصال الأخرى، وتيسر السفر والانتقال والتبادل التجاري وغير ذلك من الوسائل التي توفر فرصاً لا تحصى للقاء بين الشعوب والتعرف على مختلف الثقافات والحضارات.
অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে সংলাপ: এর বৈধতা, শর্তাবলি এবং আদবসমূহ; উপস্থাপনায়:

ড. আহমদ বিন সাইফউদ্দিন তুর্কিস্তানি

সহযোগী অধ্যাপক, গণমাধ্যম বিভাগ

দাওয়াহ ও গণমাধ্যম অনুষদ - ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।‌‌ উপক্রমণিকা যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

বর্তমান যুগকে সংস্কৃতিসমূহের নৈকট্য, সহাবস্থান এবং সংলাপের যুগ হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। প্রায় চল্লিশ বছর আগে অধ্যাপক মার্শাল ম্যাকলুহান যা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তা বহুলাংশে বাস্তবায়িত হয়েছে। কেননা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সেই অগ্রগামী গণমাধ্যম তাত্ত্বিকের ভাবনার চেয়েও দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়েছে। মাত্র কয়েক দশক আগে কে কল্পনা করতে পেরেছিল যে, বিশ্বব্যাপী তথ্যজাল (ইন্টারনেট) বিশ্বকে এভাবে সংযুক্ত করতে সক্ষম হবে? হোক তা তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে, অথবা পুরো বিশ্বজুড়ে পূর্ণ স্বাধীনতা এবং নামমাত্র খরচে—যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতীকী—সংলাপের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে। এছাড়া যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমে যে অগ্রগতি হয়েছে এবং ভ্রমণ, যাতায়াত ও বাণিজ্যিক বিনিময়সহ অন্যান্য যে সকল উপায় সহজলভ্য হয়েছে, তা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষাৎ এবং ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও সভ্যতার সাথে পরিচিত হওয়ার অগণিত সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২)
وقد جاء انحسار الحرب الباردة وانتهاء الاستقطاب السياسي الدولي القديم ليتيح فرصاً ثقافية وفكرية يمكن أن تقلل من آفات التعصب والتربص بالآخر والإصرار على غزوه فكرياً. لقد أصبح ممكناً أكثر من ذي قبل نشر الأفكار على نحو طبيعي دون أن تقف من ورائه - في الغالب - الأحزاب والدول، وإنما جماعات غير منظمة ولا ممولة بشكل جيد تعمل جهدها لنشر أفكارها بهدوء دون العوائق المعروفة تاريخياً، وهذا وضع أقرب إلى تحقيق التعايش الثقافي السلمي والتبادل الحضاري الذي يفتح الفرص أمام جميع الأطراف.

هذا الأمر يدعونا إلى كيفية الاستفادة من هذه الفرص المتاحة في الحوار وطرح الآراء بعيداً عن الإكراه والقسر. كما أنه يقودنا إلى مكانة الحوار مع الآخر في ديننا الإسلامي وتراثنا الطويل.
শীতল যুদ্ধের অবসান এবং প্রাচীন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মেরুকরণের পরিসমাপ্তি এমন সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সুযোগের দ্বার উন্মোচন করেছে, যা গোঁড়ামি, অন্যের প্রতি ওত পেতে থাকা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ওপর অবিচল থাকার ন্যায় ব্যাধিগুলো হ্রাস করতে পারে। বর্তমানে পূর্বের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে চিন্তাধারা প্রচার করা অনেক বেশি সম্ভব হয়েছে, যার পেছনে সাধারণত কোনো দল বা রাষ্ট্রের মদদ থাকে না; বরং সুসংগঠিত নয় এবং সু-অর্থায়নপ্রাপ্ত নয় এমন সব গোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত বাধা-বিপত্তি ছাড়াই শান্তভাবে তাদের চিন্তা-চেতনা প্রসারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি এমন এক পরিস্থিতি যা সাংস্কৃতিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সভ্যতাগত আদান-প্রদান অর্জনে অধিকতর সহায়ক, যা সকল পক্ষের সামনে সুযোগ উন্মুক্ত করে দেয়।

এই বিষয়টি আমাদের এই লভ্য সুযোগগুলোকে জবরদস্তি ও বলপ্রয়োগ থেকে দূরে থেকে সংলাপ ও মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেদিকে আহ্বান জানায়। এটি আমাদের ইসলাম ধর্ম ও আমাদের দীর্ঘ ঐতিহ্যে অন্যের সাথে সংলাপের গুরুত্ব ও অবস্থানের দিকেও আমাদের পরিচালিত করে।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৩)
إن حوار المسلمين مع أصحاب الأديان الأخرى لم ينقطع قط، لأنه مسجل في القرآن الكريم ويتلوه المسلمون صباح مساء في آيات كثيرة مثل قوله تعالى: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا} (آل عمران / 64) وقوله تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَلْبِسُونَ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} (آل عمران / 71) وقوله تعالى: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَى شَيْءٍ حَتَّى تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ} (المائدة / 68) وقوله تعالى: {قُلْ مَنْ أَنْزَلَ الْكِتَابَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَى نُورًا وَهُدًى لِلنَّاسِ تَجْعَلُونَهُ قَرَاطِيسَ تُبْدُونَهَا وَتُخْفُونَ كَثِيرًا وَعُلِّمْتُمْ مَا لَمْ تَعْلَمُوا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ} (الأنعام / 91) وقوله تعالى: {وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ} (البقرة / 144) وقوله تعالى: {وَلَئِنْ أَتَيْتَ
অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে মুসলমানদের সংলাপ কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি, কারণ এটি পবিত্র কুরআনে লিপিবদ্ধ আছে এবং মুসলমানরা সকাল-সন্ধ্যায় অসংখ্য আয়াতের মাধ্যমে তা তিলাওয়াত করে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! এসো এমন এক বাণীর দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; যেন আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত না করি এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করি।} (আলে ইমরান: ৬৪) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে আহলে কিতাবগণ! কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করছ এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন করছ?} (আলে ইমরান: ৭১) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা কোনো ভিত্তির ওপর নেই যতক্ষণ না তোমরা তাওরাত, ইনজিল এবং তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করো।} (আল-মায়িদাহ: ৬৮) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, সেই কিতাব কে অবতীর্ণ করেছেন যা মূসা নিয়ে এসেছিলেন মানুষের জন্য আলো ও পথনির্দেশ স্বরূপ? তোমরা তাকে বিভিন্ন কাগজে বিভক্ত করেছ, যার কিছু তোমরা প্রকাশ করো এবং অনেক কিছু গোপন করো। আর তোমাদের এমন সব বিষয় শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতেন না।} (আল-আনআম: ৯১) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা অবশ্যই জানে যে, এটি তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আসা সত্য।} (আল-বাকারাহ: ১৪৪) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি আপনি নিয়ে আসেন...
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৪)
الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ بِكُلِّ آيَةٍ مَا تَبِعُوا قِبْلَتَكَ وَمَا أَنْتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ وَمَا بَعْضُهُمْ بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ} (البقرة / 145) ، وغير ذلك من آي الذكر الحكيم التي تذكر مشاهد الحوار بين المسلمين وأهل الكتاب وهي آيات تعد بالعشرات وتتخلل كثيراً من سور القرآن الكريم.
{যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে, আপনি যদি তাদের নিকট সমস্ত নিদর্শন উপস্থিত করেন, তবুও তারা আপনার কিবলার অনুসরণ করবে না এবং আপনিও তাদের কিবলার অনুসারী নন; আর তাদের একদল অন্য দলের কিবলার অনুসারী নয়। আপনার নিকট জ্ঞান আসার পর যদি আপনি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।} (আল-বাকারা / ১৪৫), এছাড়া প্রজ্ঞাময় জিকিরের আরও অনেক আয়াত রয়েছে যেখানে মুসলিম ও আহলে কিতাবদের মধ্যকার সংলাপের দৃশ্যসমূহ বর্ণিত হয়েছে; এ জাতীয় আয়াতের সংখ্যা কয়েক ডজন যা পবিত্র কুরআনের বহু সূরার মাঝে পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৫)
وفي سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم مواقف عديدة للحديث مع أهل الكتاب والحوار معهم بدءاً من قصة بحيرا الراهب الذي رأى خاتم النبوة على ظهر النبي صلى الله عليه وسلم وأوصى بالنبي صلى الله عليه وسلم خيراً، وورقة بن نوفل النصراني الذي قال حينما عرف بحديث الوحي: " لقد جاءك الناموس الأكبر الذي جاء موسى ". ويروي ابن هشام مؤرخ سيرة النبي صلى الله عليه وسلم في حواره صلى الله عليه وسلم مع اليهود حول الروح: " قال ابن إسحاق: وحدثت عن ابن عباس أنه قال: «لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة، قال أحبار يهود: يا محمد، أرأيت قولك: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا} إيانا تريد، أم قومك؟ قال: كلاً، قالوا: فإنك تتلو فيما جاءك: أنا قد أوتينا التوراة فيها بيان كل شئ. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنها في علم الله قليل، وعندكم في ذلك ما يكفيكم لو أقمتموه. قال: فأنزل الله تعالى عليه فيما سألوه عنه من ذلك: {وَلَوْ أَنَّمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلَامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ مَا نَفِدَتْ كَلِمَاتُ اللَّهِ إِنَّ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতে আহলে কিতাবদের সাথে কথা বলা এবং তাদের সাথে সংলাপের অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। এর সূচনা হয়েছে পাদ্রী বাহীরার ঘটনা থেকে, যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিঠে নবুওয়তের মোহর দেখেছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যাপারে কল্যাণের অসিয়ত করেছিলেন। এছাড়া রয়েছেন খ্রিষ্টান ওরাকা বিন নওফল, যিনি ওহীর বিবরণ সম্পর্কে অবগত হয়ে বলেছিলেন: "আপনার নিকট সেই মহান দূত এসেছেন যিনি মূসার নিকট আসতেন।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত ঐতিহাসিক ইবনে হিশাম ইহুদিদের সাথে রূহ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সংলাপের বিষয়ে বর্ণনা করেছেন (يروي): "ইবনে ইসহাক বলেন: আমার নিকট ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে (حدثت) যে, তিনি বলেছেন: 'যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় আগমন করেন, তখন ইহুদি পণ্ডিতরা বলল: হে মুহাম্মদ, আপনার এই বক্তব্য—"আর তোমাদের সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে"—এর মাধ্যমে কি আপনি আমাদের বুঝিয়েছেন নাকি আপনার সম্প্রদায়কে? তিনি বললেন: উভয়কেই। তারা বলল: আপনি তো আপনার নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে পাঠ করেন যে, আমাদের তাওরাত প্রদান করা হয়েছে এবং তাতে সবকিছুর বিবরণ রয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আল্লাহর ইলমের তুলনায় তা অতি সামান্য, আর তোমাদের নিকট যা রয়েছে তা-ই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হতো যদি তোমরা তা প্রতিষ্ঠিত করতে। বর্ণনাকারী বলেন: তারা এ বিষয়ে যা জিজ্ঞাসা করেছিল, সে প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর অবতীর্ণ করলেন: "আর পৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে তা যদি কলম হয় এবং সমুদ্র—তার সাথে যদি আরও সাতটি সমুদ্র যুক্ত হয়—তবুও আল্লাহর বাণী শেষ হবে না। নিশ্চয়ই..."'"
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৬)
اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} : أي أن التوراة في هذا من علم الله قليل» (ابن هشام، ج 2 / 308) .
আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} : অর্থাৎ, এই বিষয়ে তাওরাত আল্লাহর জ্ঞানের সামান্য অংশ মাত্র» (ইবনে হিশাম, খণ্ড ২ / ৩০৮) ।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৭)
كما يروي ابن هشام كذلك قصة وفد من نصارى الحبشة جاؤوا وحاوروا رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد وآمنوا، ثم يروي قصة حوارهم بعد أن آمنوا مع من تصدى لردهم عن الإسلام. فيقول: " قال ابن إسحاق: ثم «قدم على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو بمكة، عشرون رجلاً أو قريب من ذلك من النصارى، حين بلغهم خبره من الحبشة، فوجدوه في المسجد، فجلسوا إليه وكلموه وسألوه، ورجال من قريش في أنديتها حول الكعبة، فلما فرغوا من مسألة رسول الله صلى الله عليه وسلم عما أرادوا دعاهم رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الله عز وجل وتلا عليهم القرآن. فلما سمعوا القرآن فاضت أعينهم من الدمع، ثم استجابوا لله، وآمنوا به وصدقوه، وعرفوا منه ما كان يوصف لهم في كتابهم من أمره. فلما قاموا عنه اعترضهم أبو جهل ابن هشام في نفر من قريش، فقالوا لهم: خيبكم الله من ركب! بعثكم من وراءكم من أهل دينكم ترتادون لهم لتأتوهم بخبر الرجل، فلما تطمئن مجالسكم عنده حتى فارقتم دينكم وصدقتموه بما قال! ما نعلم ركباً أحمق منكم. أو كما قالوا. فقالوا لهم: سلام عليكم، لا نجاهلكم، لنا ما نحن عليه، ولكم ما أنتم عليه، لم نأل

একইভাবে ইবনে হিশাম হাবাশার খ্রিস্টানদের একটি প্রতিনিধি দলের কাহিনী বর্ণনা করেছেন যারা এসেছিলেন এবং মসজিদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আলোচনা করেছিলেন এবং ঈমান এনেছিলেন। অতঃপর তিনি তাদের ঈমান আনার পরে যারা তাদেরকে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করেছিল, তাদের সাথে হওয়া কথোপকথনের কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "ইবনে ইসহাক বলেছেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় ছিলেন, তখন তাঁর সংবাদ হাবাশায় পৌঁছানোর পর প্রায় বিশ জন খ্রিস্টান বা এর কাছাকাছি সংখ্যার একটি প্রতিনিধি দল তাঁর কাছে আসেন। তারা তাঁকে মসজিদে দেখতে পান, অতঃপর তাঁর কাছে বসেন, তাঁর সাথে কথা বলেন এবং তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। কুরাইশদের কিছু লোক তখন কাবার চারপাশের মজলিসগুলোতে উপবিষ্ট ছিল। তারা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে প্রশ্ন করা শেষ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন এবং তাদের সামনে কুরআন তেলাওয়াত করলেন। তারা যখন কুরআন শুনল, তখন তাদের চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। অতঃপর তারা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিল, তাঁর ওপর ঈমান আনল এবং তাঁকে সত্য বলে সাক্ষ্য দিল। তারা তাঁর মাঝে সেই গুণাবলি খুঁজে পেল যা তাদের কিতাবে তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত ছিল। তারা যখন তাঁর নিকট থেকে প্রস্থান করল, তখন আবু জেহেল ইবনে হিশাম কুরাইশদের একটি দলসহ তাদের পথরোধ করল। তারা বলল: আল্লাহ তোমাদের এই কাফেলাকে লাঞ্ছিত করুন! তোমাদের স্বধর্মীয়রা তোমাদেরকে পাঠিয়েছিল এই ব্যক্তির সংবাদ সংগ্রহ করে তাদের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য; কিন্তু তাঁর মজলিসে তোমাদের বসা শেষ হতে না হতেই তোমরা তোমাদের ধর্ম ত্যাগ করলে এবং তাঁর কথা বিশ্বাস করলে! তোমাদের চেয়ে অধিক নির্বোধ কাফেলা আমরা আর দেখিনি। অথবা তারা এমনই কিছু বলেছিল। তখন তারা (খ্রিস্টানরা) বলল: তোমাদের প্রতি সালাম (শান্তি বর্ষিত হোক), আমরা তোমাদের সাথে মূর্খের মতো আচরণ করব না। আমাদের জন্য আমাদের পথ, আর তোমাদের জন্য তোমাদের পথ। আমরা সত্য অন্বেষণে কোনো ত্রুটি করিনি..."

(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৮)
أنفسنا خيراً» (ابن هشام، ج 2، ص 291 - 292) .

وهذه مجرد أمثلة من حشد من أخبار الحوار التي رواها ابن هشام لرسول الله صلى الله عليه وسلم مع أهل الكتاب وغيرهم، ثم لصحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم كسلمان الفارسي رضي الله عنه مع أهل الكتاب كما تذكر كتب الفرق والملل والنحل أمثلة عديدة لحواريات الشهرستاني وابن حزم وابن الوليد الباجي وابن تيمية وغيرهم مع الأحبار والرهبان وممثلي الفرق الدينية الأخرى.
আমাদের নিজেদের জন্য কল্যাণ" (ইবনে হিশাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৯১ - ২৯২)।

আর এগুলো সংলাপ বিষয়ক সেই বিশাল সংবাদের (أخبار) সমাহার থেকে কিছু উদাহরণ মাত্র, যা ইবনে হিশাম রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আহলে কিতাব ও অন্যদের সাথে হওয়া আলোচনার ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ, যেমন সালমান আল-ফারসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আহলে কিতাবদের সাথে আলোচনার উদাহরণও পাওয়া যায়। যেমনটি বিভিন্ন উপদল (الفرق) এবং ধর্ম ও মতবাদ সংক্রান্ত গ্রন্থাবলীতে শাহরাস্তানি, ইবনে হাজম, ইবনুল ওয়ালিদ আল-বাজি, ইবনে তাইমিয়া এবং অন্যদের ইহুদি পণ্ডিত (الأحبار), খ্রিস্টান সন্ন্যাসী (الرهبان) ও অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সাথে অসংখ্য সংলাপের উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تعريف الحوار الحوار في اللغة: تراجع الكلام، وفي لسان العرب: (وهم يتحاورون أي: يتراجعون الكلام. والمحاورة: مراجعة المنطق والكلام في المخاطبة) . أما الجدل: فقال ابن فارس: (الجيم والدال واللام أصل واحد وهو من باب استحكام الشيء في استرسال يكون فيه وامتداد الخصومة ومراجعة الكلام) .

الحوار في الاصطلاح: هو المعنى اللغوي السابق نفسه، فهو إذاً: مراجعة للكلام بين طرفين أو أكثر دون وجود خصومة بينهم بالضرورة أما الجدل: فهو: (إظهار المتنازعين مقتضى نظرتهما على التدافع والتنافي بالعبارة أو ما يقوم مقامهما من الإشارة والدلالة) . ويفرق العلماء بين الحوار والجدل حيث إن الجدل مظنة التعصب والإصرار على نصرة الرأي بالحق وبالباطل والتعسف في إيراد الشبه والظنون حول الحق إذا برز من الاتجاه الآخر. وتوجد ألفاظ قريبة من الحوار والجدال منها: المحاجة والمناظرة والمناقشة والمباحثة.
সংলাপের (الحوار) সংজ্ঞা শাব্দিক অর্থে সংলাপ (الحوار): বাক্যের আদান-প্রদান; 'লিসানুল আরব' অভিধানে বলা হয়েছে: (তারা পরস্পর সংলাপ করছে অর্থাৎ: তারা কথা বিনিময় করছে। আর মুহাওয়ারা (المحاورة) হলো: কথোপকথনের সময় যুক্তি ও বাক্য বিনিময় করা)। পক্ষান্তরে বিতর্ক (الجدل) প্রসঙ্গে ইবনে ফারিস বলেন: (জিম, দাল ও লাম একটি মূল ধাতু, যা মূলত কোনো বিষয় দৃঢ়ভাবে সংবদ্ধ করার অর্থ নির্দেশ করে এবং এতে বিবাদের ব্যাপ্তি ও বাক্য বিনিময় বিদ্যমান থাকে)।

পারিভাষিক অর্থে সংলাপ (الحوار): এটি পূর্বোক্ত শাব্দিক অর্থেরই অনুরূপ, সুতরাং এটি হলো: দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে বাক্য বিনিময় করা যেখানে তাদের মধ্যে শত্রুতা থাকা আবশ্যিক নয়। আর বিতর্ক (الجدل) হলো: (দুই বিবাদমান পক্ষের স্ব-স্ব দৃষ্টিভঙ্গির যৌক্তিকতা এমনভাবে প্রকাশ করা যা একে অপরকে খণ্ডন ও অস্বীকারের ভিত্তিতে কোনো উক্তি অথবা উক্তির স্থলাভিষিক্ত কোনো ইঙ্গিত ও প্রমাণের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়)। আলেমগণ সংলাপ (الحوار) ও বিতর্কের (الجدل) মধ্যে পার্থক্য করেন, কারণ বিতর্ক (الجدل) হলো গোঁড়ামি এবং সত্য কিংবা মিথ্যার আশ্রয়ে নিজের মতকে বিজয়ী করার জেদ করা এবং অন্য পক্ষ থেকে কোনো সত্য প্রকাশিত হলে সে বিষয়ে সংশয় ও সন্দেহ উপস্থাপনে জবরদস্তি করার ক্ষেত্র। সংলাপ (الحوار) ও বিতর্কের (الجدل) নিকটবর্তী কিছু পরিভাষা রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: যুক্তি উপস্থাপন (المحاجة), বিতর্ক (المناظرة), আলোচনা (المناقشة) এবং গবেষণা (المباحثة)।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১০)
مما سبق يتبين أن الحوار هو تبادل المعلومات والأفكار والآراء سواء أكانت تبادلاً رسمياً أم غير رسمي، مكتوباً أم شفوياً. وينعقد الحوار بمجرد التعرف على وجهات نظر الآخرين وتأملها وتقويمها والتعليق عليها. ومن هذا الفهم يمكن أن يطلق الحوار على تلاقح الثقافات بين بعضها الآخر وما يحصل من جراء ذلك من تلاقي المتحاورين وتصويب بعضهم لبعض وتأثير بعضهم في بعض.
পূর্বালোচিত আলোচনা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তথ্য, ধারণা এবং মতামতের আদান-প্রদানই হলো সংলাপ; তা আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক, লিখিত কিংবা মৌখিক যাই হোক না কেন। অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা, মূল্যায়ন (تقويم) ও তার ওপর মন্তব্য করার মাধ্যমেই সংলাপ সঙ্ঘটিত হয়। এই উপলব্ধি থেকে ‘সংলাপ’ শব্দটিকে বিভিন্ন সংস্কৃতির পারস্পরিক সংমিশ্রণ এবং এর ফলে সংলাপকারীদের একে অপরের সাথে মিলন, একে অপরকে সঠিককরণ (تصويب) এবং পরস্পরের ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تعريف الدين يعرف الدين على أنه الطاعة والانقياد وتأسيس منهج الحياة على مثل عليا يلتزم بها الإنسان. يقول محمد فريد وجدي في تعريف الدين إنه: " اسم لجميع ما يعبد به الله، والملة، ومثله الديانة. جمع الدين أديان وجمع الديانة ديانات " وفي الموسوعة العربية العالمية " الدين لغةً: الملك والحكم والتدبير من دانه ديناً أي ملكه وحكمه وساسه ودبره وقهره وحاسبه وجازاه وكافأه من ذلك " مالك يوم الدين " أي يوم الحساب والجزاء. وفي الحديث «الكيس من دان نفسه» أي حكمها وضبطها ". وفي الموسوعة العربية: " لفظة " دين " العربية تضم معاني مختلفة، ولكنها وثيقة الارتباط فيما بينها. فاللفظة مشتقة من فعل " دان " وأصله " دين " ومعناه أذل، استعبد، وحاسب. ومنه يوم " الدين " وهو يوم " الجزاء " أو " المكافأة ".

وفي اللغات الأوربية تستخدم كلمة (Religion) للتعبير عن الدين وهي كلمة ذات أصل لاتيني هو (Religio) بمعنى إعادة الجمع والقطف إشارة إلى التفكر والتعبد والتأمل والعمل تبعاً لما يستخرج من تلك التأملات.
দ্বীনের সংজ্ঞা দ্বীনকে আনুগত্য, আত্মসমর্পণ এবং মানুষের পক্ষ থেকে এমন কিছু উচ্চতর আদর্শের ওপর জীবন পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যার প্রতি সে দায়বদ্ধ থাকে। মুহাম্মদ ফরিদ ওয়াজদি দ্বীনের সংজ্ঞায় বলেন: "এটি এমন এক নাম যা দ্বারা আল্লাহকে ইবাদত করার সকল মাধ্যম, ধর্মাদর্শ এবং অনুরূপ ধর্মতত্ত্বকে বোঝায়। দ্বীন শব্দের বহুবচন হলো আদইয়ান এবং দিয়ানাহ শব্দের বহুবচন হলো দিয়ানাত।" আল-মাউসুআহ আল-আরাবিয়্যাহ আল-আলামিয়্যাহ-তে বর্ণিত হয়েছে: "আভিধানিক অর্থে দ্বীন হলো: রাজত্ব, শাসন এবং পরিচালনা; যা 'দানাহু দিনান' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো তিনি তাকে মালিকানাধীন করেছেন, শাসন করেছেন, পরিচালনা করেছেন, বিন্যাস করেছেন, বশীভূত করেছেন, হিসাব নিয়েছেন এবং তাকে প্রতিদান ও পুরস্কার দিয়েছেন। সেখান থেকেই 'মালিকি ইয়াউমিদ দ্বীন' এসেছে, যার অর্থ হলো বিচার ও প্রতিদান দিবসের মালিক। আর হাদিসে বর্ণিত আছে: 'বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে বশীভূত করে' অর্থাৎ তাকে শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করে।" আল-মাউসুআহ আল-আরাবিয়্যাহ-তে বলা হয়েছে: "আরবি 'দ্বীন' শব্দটি বিভিন্ন অর্থ ধারণ করে, তবে সেগুলো একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। শব্দটি 'দানা' ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত যার মূল অর্থ হলো বশীভূত করা, দাসত্বে আবদ্ধ করা এবং হিসাব নেওয়া। সেখান থেকেই এসেছে 'ইয়াউমুদ দ্বীন' যা হলো প্রতিদান বা পুরস্কার প্রদানের দিন।"

ইউরোপীয় ভাষাগুলোতে দ্বীন প্রকাশের জন্য 'রিলিজিয়ন' (Religion) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এটি ল্যাটিন মূল শব্দ 'রিলিজিও' (Religio) থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো পুনরায় একত্র করা এবং সংগ্রহ করা; যা মূলত চিন্তা-গবেষণা, ইবাদত, ধ্যান এবং সেই ধ্যানের নির্যাস থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আমল করার প্রতি ইঙ্গিত করে।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১২)
وأما في الدين الإسلامي فيعني الدين الاستسلام لأمر الله بالتوحيد والانقياد له بالطاعة والخلوص من الشرك واتباع أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم وأخذ هذا الاستسلام والاتباع عقيدة وشريعة ومنهاج حياة شاملاً حيث قال الله تعالى: {وَلَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَهُ الدِّينُ وَاصِبًا} (النحل / 52) ، وقال تعالى {أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ} (آل عمران / 83) وقال تعالى: {قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ} (الزمر / 11) أي ممحضاً الاتباع لله تعالى في جميع أوامره الشاملة لجميع جوانب الحياة. فمن المنظور الإسلامي يعد الدين هو القيمة العليا، وعلى الأعراف والثقافات أن تتكيف معه، أو أن تحظى بإقراره لما هي عليه من المواضعات.

আর ইসলামি পরিভাষায় 'দ্বীন' বলতে তাওহিদের (একত্ববাদ) মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আত্মসমর্পণ, আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর প্রতি বশ্যতা স্বীকার, শিরক (অংশীবাদ) হতে মুক্ত থাকা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের অনুসরণ করাকে বোঝায়। এই আত্মসমর্পণ ও অনুসরণকে আকিদা (বিশ্বাস), শরিয়ত (জীবনবিধান) ও একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনপদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করাই দ্বীনের মূল লক্ষ্য। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: "আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই এবং আনুগত্য সর্বদা তাঁরই প্রাপ্য।" (আন-নাহল: ৫২)। আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন: "তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁরই নিকট আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাঁরই নিকট তারা প্রত্যাবর্তিত হবে।" (আল-ইমরান: ৮৩)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: "বলুন, আমি আদিষ্ট হয়েছি আল্লাহর ইবাদত করতে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।" (আয-যুমার: ১১)। অর্থাৎ জীবনের সকল পর্যায়কে পরিব্যপ্ত আল্লাহর সকল আদেশের অনুসরণে কেবল তাঁকেই একনিষ্ঠভাবে মান্য করা। অতএব, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বীনই হলো সর্বোচ্চ আদর্শ ও মানদণ্ড; ফলে প্রচলিত সামাজিক প্রথা ও সংস্কৃতিসমূহকে হয় এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে, অথবা তাদের নিজস্ব রীতিনীতির ক্ষেত্রে দ্বীনের অনুমোদন লাভ করতে হবে।

(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تعريف الثقافة الثقافة هي مجموع العقائد والقيم والقواعد التي يقبلها ويمتثل لها أفراد المجتمع. ذلك أن الثقافة هي قوة وسلطة موجهة لسلوك المجتمع، تحدد لأفراده تصوراتهم عن أنفسهم والعالم من حولهم وتحدد لهم ما يحبون ويكرهون ويرغبون فيه ويرغبون عنه كنوع الطعام الذي يأكلون، ونوع الملابس التي يرتدون، والطريقة التي يتكلمون بها، والألعاب الرياضية التي يمارسونها والأبطال التاريخيين الذين خلدوا في ضمائرهم، والرموز التي يتخذونها للإفصاح عن مكنونات أنفسهم ونحو ذلك.

من هذا التعريف يتبين أن الثقافة:

1- ذات نمو تراكمي على المدى الطويل: بمعنى أن الثقافة ليست علوماً أو معارف جاهزة يمكن للمجتمع أن يحصل عليها ويستوعبها ويتمثلها في زمن قصير، وإنما تتراكم عبر مراحل طويلة من الزمن.

2- تنتقل من جيل إلى جيل عبر التنشئة الاجتماعية: فثقافة المجتمع تنتقل إلى أفراده الجدد عبر التنشئة الاجتماعية، حيث يكتسب الأطفال خلال مراحل نموهم الذوق العام للمجتمع.

3- ذات طبيعة جماعية: أي أنها ليست صفة خاصة للفرد وإنما للجماعة، حيث يشترك فيها الفرد مع بقية أفراد مجتمعه وتمثل الرابطة التي تربط جميع أفراده.
সংস্কৃতির সংজ্ঞাসংস্কৃতি হলো সেই সকল বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং নিয়ম-নীতির সমষ্টি যা সমাজের সদস্যরা গ্রহণ করে এবং মেনে চলে। এটি এ কারণে যে, সংস্কৃতি হলো সমাজের আচরণকে দিকনির্দেশনা প্রদানকারী এক শক্তি ও কর্তৃত্ব, যা সমাজের ব্যক্তিদের নিজেদের সম্পর্কে এবং তাদের চারপাশের জগৎ সম্পর্কে তাদের ধারণা নির্দিষ্ট করে দেয়। এটি তাদের পছন্দ-অপছন্দ এবং আগ্রহ-অনাগ্রহের বিষয়গুলোও নির্ধারণ করে; যেমন—তাদের খাবারের ধরন, পোশাক-পরিচ্ছদ, কথা বলার পদ্ধতি, শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা, তাদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকা ঐতিহাসিক বীরগণ এবং নিজেদের মনের গহীনের ভাব প্রকাশের জন্য তারা যে সকল প্রতীক গ্রহণ করে ইত্যাদি।

এই সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সংস্কৃতি:

১- দীর্ঘমেয়াদী এবং ক্রমপুঞ্জীভূত বিকাশের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত: অর্থাৎ সংস্কৃতি কোনো তাৎক্ষণিক প্রস্তুতকৃত জ্ঞান বা বিজ্ঞান নয় যা সমাজ খুব অল্প সময়ে অর্জন, আত্মস্থ ও গ্রহণ করতে পারে; বরং এটি দীর্ঘ সময়ের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে পুঞ্জীভূত হয়।

২- সামাজিকীকরণের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়: সমাজের সংস্কৃতি সামাজিকীকরণের মাধ্যমে তার নতুন সদস্যদের নিকট স্থানান্তরিত হয়, যার ফলে শিশুরা তাদের বেড়ে ওঠার বিভিন্ন পর্যায়ে সমাজের সাধারণ রুচি ও বোধ অর্জন করে।

৩- সামষ্টিক প্রকৃতির অধিকারী: অর্থাৎ এটি ব্যক্তির কোনো একক গুণ নয় বরং সমষ্টির বৈশিষ্ট্য; যেখানে একজন ব্যক্তি তার সমাজের অবশিষ্ট সদস্যদের সাথে এতে অংশীদার হয় এবং এটি সমাজের সকল সদস্যকে একত্রকারী বন্ধন হিসেবে কাজ করে।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
وهكذا تميز ثقافة شعب ما نمط حياته عن أنماط الشعوب الأخرى ولكنها لا تعزله ولا تقوده بالضرورة إلى حالة خصام مع الثقافات الأخرى. وقد يوجد في داخل كل ثقافة من يدعو إلى العزلة والانقطاع عن الآخرين أو أسوأ من ذلك إلى التعالي وتفخيم الذات واحتقار الآخرين. وقد يصل هذا إلى مرحلة العداء للآخرين وتشكيل خطر على وجودهم. ولذلك كان لا بد للحوار حتى يخفف من حدة هذا العداء ويجعل أصحاب الثقافات يتعايشون ويفهم كل منهم الآخر.
এভাবেই কোনো জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি তাদের জীবনযাত্রাকে অন্যান্য জাতির জীবনধারা থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে তোলে; তবে তা তাদের জনবিচ্ছিন্ন করে না কিংবা অনিবার্যভাবে অন্য কোনো সংস্কৃতির সাথে বিবাদের দিকে চালিত করে না। প্রতিটি সংস্কৃতির অভ্যন্তরেই এমন কিছু লোক থাকতে পারে যারা অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছেদের আহ্বান জানায়; অথবা এর চেয়েও ভয়াবহ—অহংকার, আত্মগরিমা এবং অন্যদের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্যের অবতারণা করে। অনেক ক্ষেত্রে তা অন্যদের প্রতি প্রকাশ্য শত্রুতা এবং তাদের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি তৈরির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই সংলাপের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য, যেন তা এই শত্রুতার তীব্রতা প্রশমিত করতে পারে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির অনুসারীদের মাঝে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌هدف الحوار إن المقصود من الحوار ليس المجابهة والإفحام إذ إن ذلك هو من باب المناظرة ومحاولة الظهور على الخصم وتعجيزه عن الرد. وإنما المقصود أن يحصل كل ما يأتي أو بعضه:

1- معرفة أطروحات الطرف الآخر ووجهات نظره وحججه في القضايا التي هي موضوع الحوار.

2- تعريف الطرف الآخر بما يغيب عنه أو يلتبس عليه من المعلومات ووجهات النظر والبراهين في القضايا التي هي موضوع الحوار.

3- العمل على إقناع الطرف الآخر ليتخلص من وجهات نظره ومواقفه كلياً أو جزئياً في القضايا التي هي موضوع الحوار ليتقبلها ويعمل على تبنيها بعد اقتناعه بها سواء بعد الحوار مباشرة أو تدريجياً على المدى الطويل.

4- العمل على استكشاف ما لدى الطرف الآخر من حقائق وإيجابيات والاعتراف بها وقبولها والاستفادة منها طالما (أن الحكمة ضالة المؤمن أنى وجدها فهو أولى بها) .

5- العمل على استكشاف ما عند المحاور من معلومات غير صحيحة أو دقيقة ومما في وجهات نظره أو مواقفه من ثغرات وأخطاء والعمل على تداركها وإصلاحها.

6- تشييد جسر للتواصل السلمي البناء وسد الطريق أمام المواجهات والمصادمات مما يبدد الجهود.
‌‌সংলাপের উদ্দেশ্য সংলাপের উদ্দেশ্য সংঘাত বা প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করা নয়; কারণ সেটি বিতর্ক (مناظرة) এবং প্রতিপক্ষের ওপর প্রাধান্য বিস্তার ও তাকে উত্তরদানে অক্ষম করার প্রচেষ্টার অন্তর্ভুক্ত। বরং এর উদ্দেশ্য হলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর সবকটি অথবা কোনো কোনোটি অর্জন করা:

1- সংলাপের বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোতে অপর পক্ষের প্রস্তাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের দলিলসমূহ (حجج) সম্পর্কে অবগত হওয়া।

2- সংলাপের বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে অপর পক্ষের কাছে অজানা অথবা অস্পষ্ট এমন তথ্য, দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রমাণাদি (براهين) সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করা।

3- সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে অপর পক্ষকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান থেকে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে সরিয়ে আনতে কাজ করা, যাতে তারা তা গ্রহণ করে এবং তাতে আশ্বস্ত হওয়ার পর তা ধারণ করতে সচেষ্ট হয়; চাই তা সংলাপের ঠিক পরেই হোক কিংবা দীর্ঘমেয়াদে ধীরে ধীরে হোক।

4- অপর পক্ষের কাছে বিদ্যমান সত্য ও ইতিবাচক দিকগুলো অন্বেষণ করা এবং সেগুলো স্বীকার ও গ্রহণ করে তা থেকে উপকৃত হওয়া; যেহেতু "প্রজ্ঞা মুমিনের হারানো সম্পদ, যেখানেই সে তা পাবে, সে-ই তার অধিক হকদার।"

5- আলোচকের কাছে থাকা ভুল বা অযথার্থ তথ্য এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থানের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো অন্বেষণ করে তা সংশোধন ও সংস্কারের প্রচেষ্টা চালানো।

6- শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক যোগাযোগের একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং এমন সংঘাত ও সংঘর্ষের পথ রুদ্ধ করা যা শ্রম ও প্রচেষ্টাকে বিনষ্ট করে।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
7- أن الحوار يساعد على التوقد الذهني وهي صفة ملازمة لأجواء التحدي الفكري والحوار المتبادل.

8- قد يؤدي الحوار إلى إيضاح الحقيقة بالإضافة إليها، فيعطي كل فرد ما يعرف من أجزاء الحقيقة حتى يمكن تركيبها كاملة وحتى صاحب الحق فإن أجزاء من الحق تبرز له بصورة أوضح أثناء توقده الذهني في لحظات الحوار.

9- إحباط حجج المتطرفين والمتعدين فكثير من حوارات كبار علماء الإسلام مع الفرق الضالة كشفت زيف أفكارهم وذلك ما سجلته كتب تراثية خالدة كالملل والنحل للشهرستاني والفصل بين الملل والأهواء والنحل لابن رشد والرد على الجهمية لابن تيمية والصواعق المرسلة لابن القيم والمسألة القاديانية للمودودي وغيرها.
7- সংলাপ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রখরতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ এবং পারস্পরিক আলোচনার পরিবেশের একটি অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য।

8- সংলাপ কেবল সত্যকে স্পষ্টই করে না বরং সত্যের সাথে নতুন মাত্রা যোগ করে; ফলে প্রত্যেক ব্যক্তি সত্যের যে অংশটুকু জানেন তা উপস্থাপন করেন যাতে সত্যের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ গঠন করা সম্ভব হয়। এমনকি যিনি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সংলাপকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রখরতার কারণে সত্যের বিভিন্ন অংশ তার কাছে আরও স্পষ্টভাবে উদ্ভাসিত হয়।

9- চরমপন্থী ও সীমালঙ্ঘনকারীদের যুক্তি নস্যাৎ করা; কেননা বিভ্রান্ত ফেরকাগুলোর (الفرق الضالة) সাথে ইসলামের মহান আলেমদের বহু সংলাপ তাদের ভ্রান্ত চিন্তাধারার অসারতাকে উন্মোচন করে দিয়েছে। আর তা শাহরাস্তানির আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, ইবনে রুশদের আল-ফাসলু বাইনাল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল, ইবনে তাইমিয়ার আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিমের আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ এবং মওদুদীর আল-মাসআলাতুল কাদিয়ানিয়্যাহ-এর মতো কালজয়ী ঐতিহ্যের কিতাবসমূহে সংরক্ষিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌القرآن الكريم وحوار الثقافات بين القرآن الكريم في آيات عديدة أن تعدد الثقافات الإنسانية واختلاف الناس في الدين أمر من مقاصد الخلق. قال تعالى: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ} {إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ} . فالاختلاف أمر قدري مثلما هو أمر مقصود لتقوم الحجة على المخالف لكن ليس للاقتتال والنزاع إذ ليس الكفر في ذاته مبيحاً لقتل الكافر ولإزهاق روحه. أما التنوع في الأعراق والأجناس والألوان واللغات فإنما يقصد به التعارف والتقارب، لا التنافر والتفرق. قال الله تعالى: {وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا} فالقصد من التعدد والتنوع الثقافي في أدنى مراحله هو التلاقي والتعارف وتبادل الأفكار والخبرات التي تطورها أنماط الحياة المختلفة. وذلك مما يزيد من عمق مكونات كل ثقافة بما تولده من الثقافات الأخرى. وبتواصل الاحتكاك السلمي بين الثقافات يتعلم أفراد البشر أن يقللوا من تحيزاتهم، وأن يلطفوا من مشاعرهم السلبية تجاه أصحاب الثقافات الأخرى، فيزيد التسامح بين البشر، وتصحح تلك الأفكار الخاطئة تجاه
পবিত্র কুরআন ও সংস্কৃতির সংলাপ পবিত্র কুরআন অসংখ্য আয়াতে স্পষ্ট করেছে যে, মানবীয় সংস্কৃতির বহুত্ব এবং ধর্মে মানুষের বৈচিত্র্য সৃষ্টিজগতের অন্যতম উদ্দেশ্য। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমার প্রতিপালক যদি ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই সমস্ত মানুষকে এক জাতিভুক্ত করে দিতেন; কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে} {তবে তারা নয়, যাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন এবং এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন}। সুতরাং এই ভিন্নতা যেমন একটি বিধিনির্ধারিত (قدري) বিষয়, তেমনি এটি একটি সুপরিকল্পিত বিষয় যাতে বিরোধীদের ওপর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে এটি পারস্পরিক যুদ্ধবিগ্রহ বা বিবাদের জন্য নয়; কারণ অবিশ্বাস (كفر) স্বয়ং কোনো অবিশ্বাসী (كافر) ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার প্রাণহানি ঘটানোর অনুমতি দেয় না। আর জাতি, বংশ, বর্ণ ও ভাষার বৈচিত্র্যের মাধ্যমে মূলত পারস্পরিক পরিচিতি ও নৈকট্য অর্জনই উদ্দেশ্য, পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতা বা দূরত্ব নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার}। সুতরাং সাংস্কৃতিক বহুত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষ্য হলো পারস্পরিক মিলন, পরিচিতি এবং জীবনযাত্রার ভিন্ন ভিন্ন ধারা থেকে উৎসারিত চিন্তা ও অভিজ্ঞতার বিনিময়। এটি প্রতিটি সংস্কৃতির উপাদানের গভীরতা বৃদ্ধি করে যা অন্যান্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে তৈরি হয়। সংস্কৃতিসমূহের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ফলে মানুষ তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণ কমিয়ে আনতে শেখে এবং অন্য সংস্কৃতির অনুসারীদের প্রতি তাদের নেতিবাচক মনোভাব নমনীয় করে। এর ফলে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং সেই সমস্ত ভুল ধারণাগুলো সংশোধিত হয় যা মূলত...
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
الآخرين، وهذا أمر يعرفه الإنسان حتى من تجاربه الخاصة مع الأفراد، فما أكثر ما يحمل الواحد منا فكرة سلبية عن فرد آخر يكون الدافع الوحيد لها هو عدم الحوار مع هذا الآخر وعدم معرفته معرفة قريبة وثيقة أكيدة، ولكن سرعان ما تنجلي غشاوة ذلك التحيز بمجرد أن يتم الحوار والتعارف الوثيق معه.
অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ; আর এটি এমন একটি বিষয় যা মানুষ এমনকি ব্যক্তিবিশেষের সাথে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও অনুধাবন করতে পারে। আমাদের মাঝে অনেকেই অন্য একজন ব্যক্তি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে থাকেন যার একমাত্র প্রেষণা হলো ওই ব্যক্তির সাথে সংলাপের অভাব এবং তাকে অত্যন্ত নিকট থেকে সুদৃঢ় (وثيقة) ও নিশ্চিতভাবে না জানা। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে নিবিড় সংলাপ এবং ঘনিষ্ঠ (وثيق) পরিচয়ের সূত্রপাত হওয়ামাত্রই সেই পক্ষপাতিত্বের আবরণ দ্রুত দূরীভূত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي القرآن الكريم آيات كثيرة تؤكد تنوع تجارب البشر وعدم احتقار الآخرين لمجرد الاختلاف عنهم، وقد صارت الثقافة الإسلامية غنية بفعل الاحتكاك بالشعوب الأخرى وتبادل الأفكار معها وأخذ ما عندها من الحق حتى ولو جاء ذلك الحق من عند من يعادون الإسلام. ولقد قبلت الشعوب المسلمة عقيدة الإسلام واحتفظت بعاداتها وتقاليدها الخاصة التي لا تخالف الإسلام وإن كانت لا تتفق مع عادات شعوب إسلامية أخرى ولا تقاليدها. وتلك هي رحابة الإسلام وسماحته التي ضمت الجميع. ولعل خير ما يمكن أن يستخلص من ذلك هو أن التنوع في الحوار هو أداة خصوبة وإغناء، مثلما عبر عن ذلك المفكر الاجتماعي سكوت بيك حيث قال: " إن الرسالة الإجمالية للتواصل والحوار الإنساني تتلخص (أو ينبغي أن تتلخص) في البلوغ إلى التصالح. . . إن التواصل والحوار الكفء يستطيع أن يصل في النهاية إلى تحقيق إزالة الجدران والحواجز التي تؤدي إلى سوء التفاهم الذي يبعد البشر عن بعضهم الآخر ".

পবিত্র কুরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা মানুষের অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্যকে সুনিশ্চিত করে এবং কেবল ভিন্ন হওয়ার কারণে অন্যদের অবজ্ঞা না করার নির্দেশ দেয়। অন্যান্য জাতির সাথে পারস্পরিক মেলামেশা, চিন্তাধারার বিনিময় এবং তাদের নিকট থেকে সত্যকে গ্রহণ করার মাধ্যমে ইসলামি সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে, এমনকি সেই সত্য যদি ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকেও এসে থাকে। মুসলিম জাতিসমূহ ইসলামের আকিদা (عقيدة) গ্রহণ করেছে এবং নিজেদের এমন সব বিশেষ রীতিনীতি ও ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেছে যা ইসলামের পরিপন্থী নয়, যদিও সেগুলো অন্য কোনো মুসলিম জাতির রীতিনীতি বা ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না-ও হতে পারে। আর এটিই হলো ইসলামের উদারতা ও সহনশীলতা যা সকলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সম্ভবত এখান থেকে প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ শিক্ষাটি হলো—সংলাপের বৈচিত্র্য একটি উর্বর ও সমৃদ্ধশালী মাধ্যম, যেমনটি সমাজতাত্ত্বিক চিন্তাবিদ স্কট পেক ব্যক্ত করেছেন; তিনি বলেছেন: "মানবিক যোগাযোগ ও সংলাপের সামগ্রিক বার্তা হলো সমঝোতায় উপনীত হওয়া (অথবা এটিই হওয়া উচিত)। ... দক্ষ যোগাযোগ ও সংলাপ শেষ পর্যন্ত সেই সব দেয়াল ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সক্ষম হয় যা ভুল বোঝাবুঝির উদ্রেক করে এবং মানুষকে একে অপর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।"

(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২০)
لقد دعا القرآن الكريم إلى الحوار مع الآخرين حواراً رفيعاً مهذباً كما قال الله تعالى: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} ، وكما قال سبحانه: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} ، وقال تعالى: {وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ} ، فمجرد الغلظة في الحوار واستخدام المفردات الجافة الفظة غير مرغوب ناهيك عن سباب الناس وإيذائهم وتحقيرهم وازدرائهم وغير ذلك من الممارسات الناجمة أساساً عن عدم الاعتراف بالآخرين وعدم الإيمان بجدوى الحوار نفسه، وهؤلاء لا ينبغي لهم أن يتصدوا للحوار أو لا يمكن أن يحققوا منه أي نتائج إيجابية.
কুরআন কারীম অন্যদের সাথে অত্যন্ত উন্নত ও মার্জিত সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা কিতাবধারীদের সাথে উত্তম পদ্ধতি ব্যতিরেকে বিতর্ক করো না}। এবং তিনি আরও বলেন: {তুমি তোমার রবের পথের দিকে প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাদের উপাসনা করে তাদের তোমরা গালি দিও না, অন্যথায় তারা শত্রুতা পোষণ করে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দেবে}। সুতরাং সংলাপে কেবল কঠোরতা প্রদর্শন এবং রুক্ষ ও কর্কশ শব্দাবলি ব্যবহার করাও অনভিপ্রেত; মানুষকে গালি দেওয়া, কষ্ট দেওয়া, তুচ্ছজ্ঞান করা এবং অবজ্ঞা করার মতো বিষয়গুলো তো বলাই বাহুল্য। মূলত অন্যদের স্বীকৃতি প্রদান না করা এবং খোদ সংলাপের উপযোগিতার প্রতি বিশ্বাসের অভাব থেকেই এ ধরনের আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা এমন মনোভাব পোষণ করে, তাদের সংলাপে অবতীর্ণ হওয়া সমীচীন নয় এবং তারা এর মাধ্যমে কোনো ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌شبهات حول جدوى الحوار هناك بعض الشبهات حول جدوى الحوار وفائدته خاصة في حوار الأديان، وتدور هذه الشبهات حول بعض الحجج التي تحتاج منا إلى بيانها وكيفية الرد عليها بما يثبت أهمية مبدأ الحوار دون تطبيقه في كل حين ومع كل أحد، ومن هذه الحجج:

1- أن الحوار قد يؤدي إلى التشويش والاضطراب وذلك بما ينتج عنه من التأثير الفكري غير المحمود، ففي حالة الحوار بين المسلمين والنصارى مثلاً: يخشى بعض المسلمين من أن يؤدي الخطاب النصراني إلى إدخال بعض الشبهات والخلط الفكري في أذهان المسلمين فتضطرب بعض مفاهيمهم من جراء ذلك الخلط. وهذا الكلام صحيح إذا كان المحاور قليل البضاعة في موضوع الحوار، أو كان ضعيف الحجة غير قادر على البيان والتوضيح. أما إذا كان مؤهلاً للحوار محصناً بالعلم والحجة وحسن الالتزام بدينه فإن الحوار يزيده صلابة وقوة وكشفاً لزيف الطرف الآخر ورد شبهاته وتفنيدها.
সংলাপের উপযোগিতা সম্পর্কে সংশয়সমূহ সংলাপের কার্যকারিতা ও এর উপকারিতা নিয়ে কিছু সংশয় রয়েছে, বিশেষ করে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের ক্ষেত্রে। এই সংশয়গুলো এমন কিছু যুক্তির ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হয়, যেগুলোর স্পষ্টীকরণ এবং কীভাবে সেগুলোর খণ্ডন করতে হবে তা আমাদের জানা প্রয়োজন; যাতে সংলাপের মূলনীতির গুরুত্ব প্রমাণিত হয়, তবে তা সর্বদা এবং সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য নয়। এই যুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১- সংলাপ বিভ্রান্তি ও অস্থিরতার কারণ হতে পারে, কারণ এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। উদাহরণস্বরূপ, মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে সংলাপের ক্ষেত্রে: কিছু মুসলিম আশঙ্কা করেন যে, খ্রিস্টীয় বক্তব্য মুসলিমদের মনে কিছু সংশয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক গোলযোগ তৈরি করতে পারে এবং সেই সংমিশ্রণের ফলে তাদের কিছু মৌলিক ধারণা ও বিশ্বাস বিপর্যস্ত হতে পারে। এই কথাটি তখনই সঠিক যখন সংলাপকারীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাণ্ডিত্য কম থাকে অথবা তিনি দুর্বল (ضعيف) দলিল বা যুক্তিসম্পন্ন হন এবং কোনো বিষয় স্পষ্টভাবে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করতে অক্ষম হন। পক্ষান্তরে, যদি তিনি সংলাপের জন্য যোগ্য হন এবং ইলম, শক্তিশালী দলিল ও স্বীয় দ্বীনের ওপর দৃঢ়তার মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকেন, তবে এই সংলাপ তার দৃঢ়তা ও শক্তি আরও বৃদ্ধি করে এবং প্রতিপক্ষের অসারতা উন্মোচন করাসহ তাদের সংশয়গুলো নিরসন ও খণ্ডন করতে সহায়ক হয়।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২২)
2- أن الحوار قد يؤدي إلى مزيد من التعصب والتصلب عند طرفي الحوار. ففي حالة حوار الأديان يكون الحوار عادة بين منطلقات ومفاهيم كلية للوجود والألوهية والشرائع، وهذه مفاهيم من القوة والتجذر بحيث لا يؤثر فيها حوار، وتكون النتيجة الحتمية هي بقاء ما كان على ما كان أو على أشد مما كان عليه. وللرد على هذا، يكفي ذكر الحقيقة الواضحة كما كان الحال في أكثر حوارات القرآن الكريم، حيث حاور رسل الله عليهم الصلاة والسلام أقوامهم حول إثبات ربوبية الله عز وجل وألوهيته وإثبات البعث والجزاء، ولا ضير في حوار يتأسس على هذه القواعد الكبرى لتنطلق منها إلى ما هو دونها. وأما القول بأن كل أصحاب موقف سيتصلبون عليه، فيمكن القول بأنه نجم عن بعض حوارات الأديان تحولات كبرى في العقيدة كسب منها الإسلام قديماً وحديثاً كثيراً، إذ هو أكثر الأديان كسباً من هذا الباب إلى جانب ما يحققه من بيان موقفه من التوضيح لعقائده فيدفع عنها اللبس ويصد عنها العداوة أو يخففها.
২- সংলাপ উভয় পক্ষের মধ্যে অধিকতর গোঁড়ামি ও অনমনীয়তা সৃষ্টির কারণ হতে পারে। আন্তঃধর্মীয় সংলাপের ক্ষেত্রে সাধারণত অস্তিত্ব, উলুহিয়্যাত এবং শরিয়ত সংক্রান্ত মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামগ্রিক ধারণাসমূহ নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। এই ধারণাগুলো এতটাই শক্তিশালী ও বদ্ধমূল যে, সাধারণ সংলাপ এতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না; ফলে এর অনিবার্য পরিণতি হয় পূর্বাবস্থায় অটল থাকা অথবা পূর্বের চেয়েও কঠোর অবস্থানে চলে যাওয়া। এর প্রত্যুত্তরে সেই সুস্পষ্ট বাস্তবতার উল্লেখ করাই যথেষ্ট—যেমনটি পবিত্র কুরআনের অধিকাংশ সংলাপে লক্ষ্য করা যায়। সেখানে আল্লাহর রাসূলগণ (তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) তাঁদের কওমের নিকট মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাত প্রমাণ এবং পুনরুত্থান ও প্রতিদান সাব্যস্ত করার বিষয়ে সংলাপ করেছেন। আর এমন কোনো সংলাপে কোনো ক্ষতি নেই যা এই মৌলিক ভিত্তিগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরবর্তীতে অন্যান্য গৌণ বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়। আর এই যে দাবি করা হয় যে, প্রতিটি পক্ষ নিজ অবস্থানে অনড় থাকবে—এর বিপরীতে বলা যায় যে, কতিপয় আন্তঃধর্মীয় সংলাপের ফলে আকিদাগত ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, যা থেকে ইসলাম অতীতে ও বর্তমানে অনেক সুফল অর্জন করেছে। কেননা এই দিক থেকে ইসলামই সর্বাধিক অর্জনকারী ধর্ম; পাশাপাশি এটি নিজ আকিদা বা বিশ্বাসের বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যার মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারে, যা সংশয় দূর করে এবং শত্রুতা প্রতিহত করে অথবা তা প্রশমিত করে।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
3- أن الحوار يقود إلى الفتنة والصدام: وتقوم هذه الحجة على قاعدة سد الذرائع وإقامة الحواجز، ولكنه قد يبالغ فيها حتى تقيم الحواجز مع الآخرين وتبقى الحقيقة الإسلامية مغيبة. إن الحوار غير المنضبط بشروط الحوار وآدابه قد يتحول إلى فتنة وصدام، ولكن ليس كل حوار مرشحاً لذلك المآل بالتأكيد، ما دام هناك أخذ بشروط الحوار الصحيح الخالي من الجدل العقيم أو غير الملتزم بآداب الحوار كما سيأتي بيانه لاحقاً.

4- أن الحوار يعطي الفرصة لتلميع الآراء الباطلة: في هذا القول تعميم لا يصح في كل حال، فإن الغالب أن الآراء الباطلة إنما تكتسب بريقها إذا انفردت بالأجواء والأضواء، بعيداً عن الاعتراض عليها والتصدي لها بالحوار. إن الحوار يعطي الفرصة لتوهين الآراء الباطلة وخفض درجة توهجها وبريقها، وذلك بما يكشفه من الحق المناقض لها ومن الباطل المنطوي فيها.
3- সংলাপ ফিতনা ও সংঘাতের দিকে ধাবিত করে: এই যুক্তিটি ‘সাদদুয যারাই’ (অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করা) এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত; তবে এতে অনেক সময় এমন অতিরঞ্জন করা হয় যা অন্যদের সাথে ব্যবধান তৈরি করে এবং ইসলামি সত্যকে আড়ালে রেখে দেয়। সংলাপ যদি তার শর্ত ও শিষ্টাচার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয় তবে তা ফিতনা ও সংঘাতে রূপ নিতে পারে, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই সব সংলাপ এই পরিণতির দিকে ধাবিত হয় না—যতক্ষণ পর্যন্ত সঠিক (صحيح) সংলাপের শর্তাবলি মেনে চলা হবে, যা নিষ্ফল বিতর্ক থেকে মুক্ত এবং সংলাপের শিষ্টাচার সমৃদ্ধ, যা পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

4- সংলাপ বাতিল (باطل) মতবাদকে উজ্জ্বল করার সুযোগ করে দেয়: এই বক্তব্যের সাধারণীকরণ সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়; কারণ সাধারণত বাতিল (باطل) মতবাদ তখনই জৌলুস লাভ করে যখন তা কোনো প্রকার আপত্তি বা সংলাপের মাধ্যমে মোকাবিলা ছাড়াই একচেটিয়া পরিবেশ ও প্রচার পায়। প্রকৃতপক্ষে, সংলাপ বাতিল (باطل) মতবাদকে দুর্বল করার এবং এর চাকচিক্য ও ঔজ্জ্বল্য কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে; কারণ সংলাপ এর বিপরীতে বিদ্যমান সত্যকে এবং এর ভেতরে নিহিত বাতিলকে (باطل) উন্মোচিত করে দেয়।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
5- أن الحوار قد يؤدي إلى المساومة على المبادئ والتلاعب بها ومزجها ببعضها الآخر للوصول إلى مواقف وسطى للتراضي أو القول بنسبية الحقيقة وأن الحقائق والآراء مهما اختلفت وتضاربت فهي كلها على صواب. والحق أن هذا المحذور وارد متى غاب عن المحاور من الطرف الإسلامي وضوح مبدئه وعدالة قضيته وإلا كان محامياً فاشلاً. إن الحرص على الحوار من أصحابه الأكفاء هو صمام الأمان ضد الوقوع في هذه الهوة السحيقة، وعلى المحاور معرفة أن المساومة على المبادئ وأن مزج الإسلام مع غيره في مبادئه وعقائده ليس هدفاً من أهداف الحوار وذلك حتى لا يجعله المحاور هدفاً وهمياً للإنجاز.

6- أن الحوار قد يوقع أصحاب الحق في المزالق والإحراجات: وذلك إذا ما لم يؤدوا دورهم جيداً، وبذلك ينتصر أصحاب الرأي الباطل بسبب حسن إعدادهم لأنفسهم واستخدامهم الأفضل للمنطق. وفي ذلك ما فيه من تشكيك لأصحاب الحق في حقهم. وهذه النتيجة واردة الحدوث. ولكن السبب في ورودها هو الضعف العلمي للمحاورين أو تهاونهم في الإعداد وليس السبب في الحوار نفسه.
৫- সংলাপ বা আলোচনা মূলনীতির ক্ষেত্রে আপসকামিতা, সেগুলো নিয়ে কারসাজি এবং পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কোনো মধ্যপস্থায় পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে সংমিশ্রণের দিকে নিয়ে যেতে পারে; অথবা সত্যের আপেক্ষিকতার প্রবক্তা হতে প্ররোচিত করতে পারে, যেখানে দাবি করা হয় যে সত্য ও মতামতের পার্থক্য বা বৈপরীত্য যাই থাকুক না কেন, সবই সঠিক। প্রকৃত সত্য হলো, এই আশঙ্কার উদ্রেক তখনই ঘটে যখন মুসলিম পক্ষের আলোচকের কাছে নিজের মূলনীতির স্বচ্ছতা এবং নিজ অবস্থানের ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) অনুপস্থিত থাকে, অন্যথায় তিনি একজন ব্যর্থ আইনজীবীর মতো গণ্য হবেন। দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংলাপ পরিচালনার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া এই গভীর গহ্বরে নিপতিত হওয়ার বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা কবচ। আলোচককে অবশ্যই জানতে হবে যে, মূলনীতির ক্ষেত্রে আপস করা এবং ইসলামের মূলনীতি ও বিশ্বাসের সাথে অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটানো সংলাপের কোনো লক্ষ্য নয়; যাতে কোনো আলোচক একে অর্জনের একটি কাল্পনিক লক্ষ্য হিসেবে স্থির না করেন।

৬- সংলাপ সত্যপন্থীদের বিচ্যুতি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করতে পারে: আর তা তখনই ঘটে যখন তারা তাদের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে পারে না। এর ফলে ভ্রান্ত মতাদর্শের অনুসারীরা তাদের উত্তম প্রস্তুতি এবং যুক্তির নিপুণ ব্যবহারের কারণে জয়ী হয়ে যায়। আর এতে সত্যপন্থীদের মনে তাদের হকের ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টির অবকাশ তৈরি হয়। এই ধরনের ফলাফল ঘটার সম্ভাবনা বিদ্যমান; তবে এর কারণ হলো আলোচকদের জ্ঞানগত দুর্বলতা (ضعف) অথবা প্রস্তুতি গ্রহণে তাদের শিথিলতা, স্বয়ং সংলাপ বা আলোচনা এর জন্য দায়ী নয়।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
إن بعض من يرددون تلك الحجج ينطلقون من الحرص على الإسلام وثقافته وصفاء منهجه، وهذا أمر محمود، وربما ساعد في تقوية هذه الحجج ما رافق بعض جولات الحوار من الفشل في تحقيق نتائج ملموسة نظراً لعدم جدية المحاور من الطرف الآخر. وقد يكون السبب هو أن من تصدوا للحوار قد خاضوه على غير علم أو استعداد أو على غير انضباط بشروط الحوار وآدابه وبدلاً من أن يعيدوا النظر في أنفسهم لجؤوا إلى تخطئة مبدأ الحوار بدلاً من ذلك.

নিশ্চয়ই যারা এই যুক্তিগুলো বারবার উত্থাপন করেন, তারা মূলত ইসলামের প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগ, এর সংস্কৃতি এবং এর কর্মপদ্ধতির বিশুদ্ধতা রক্ষার তাগিদ থেকেই তা করেন; এটি একটি প্রশংসনীয় বিষয়। সম্ভবত এই যুক্তিগুলো সুসংহত হওয়ার পেছনে সংলাপের কিছু অধিবেশনে দৃশ্যমান ফলাফল অর্জনে ব্যর্থতা ভূমিকা রেখেছে, যার মূলে ছিল অপর পক্ষের আলোচকের আন্তরিকতার অভাব। আবার এর কারণ এমনও হতে পারে যে, যারা সংলাপের দায়িত্ব পালন করেছেন তারা পর্যাপ্ত জ্ঞান, প্রস্তুতি কিংবা সংলাপের শর্ত ও শিষ্টাচারের প্রতি যথাযথ নিষ্ঠা প্রদর্শন না করেই তাতে লিপ্ত হয়েছিলেন। ফলে নিজেদের কর্মপন্থা পুনর্মূল্যায়নের পরিবর্তে তারা সংলাপের মূল নীতিকেই ভ্রান্ত সাব্যস্ত করার প্রয়াস পেয়েছেন।

(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌صدام الحضارات عقد بعض المنظرين الغربيين نظريات حول عقم حوار الحضارات والثقافات وانتهوا إلى أن الحوار الإيجابي بين الحضارات قد انتهى بتطورها إلى شكل الحضارة الغربية الليبرالية الحاضرة ولم يبق أي أمل أو فائدة لحوار، وهذا ما أورده (فرانسيس فوكو ياما) صاحب نظرية (نهاية التاريخ) في صورتها الحالية. وإذا كان (فوكو ياما) قد انتهى إلى أن التطور في خط التاريخ البشري قد تكلل بانتصار الليبرالية واندحار الاشتراكية، فإن (صموئيل هنتنجتون) صاحب نظرية (صراع الحضارات) يزعم أن أعنف معارك التاريخ هي التي لم تقع بعد. وأنها لن تكون على صعيد الدول القومية ولا على صعيد المحاور الفكرية، وإنما ستتطور إلى مستوى أعلى هو مستوى الحضارات البشرية التي هي أوسع كيان ثقافي ينتمي إليه الإنسان.

إن وحدة التحليل عنده هي الحضارة. ومع أنه يعترف بأن العامل الحضاري عامل شديد التعقيد، إلا أنه يزعم مع ذلك أنه قد سيطر عليه - ولكن مجرد الاطلاع العابر على تعريفه للحضارة يؤكد أنه لم يصل إلى تعريف دقيق الحد لذلك المفهوم.
‌‌সভ্যতার সংঘাত কয়েকজন পশ্চিমা তাত্ত্বিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির সংলাপের নিষ্ফলতা নিয়ে এমন কিছু তত্ত্ব প্রদান করেছেন যার সারমর্ম হলো, বর্তমান পশ্চিমা উদারনৈতিক সভ্যতার পর্যায়ে বিবর্তিত হওয়ার মাধ্যমে সভ্যতাগুলোর মধ্যকার ইতিবাচক সংলাপের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং সংলাপের আর কোনো আশা বা উপযোগিতা অবশিষ্ট নেই। ‘ইতিহাসের সমাপ্তি’ তত্ত্বের প্রবক্তা ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা তাঁর তত্ত্বের বর্তমান ভাষ্যে এই বিষয়টিই উল্লেখ করেছেন। ফুকুয়ামা যেখানে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, মানব ইতিহাসের বিবর্তনের ধারা উদারতাবাদের বিজয় এবং সমাজতন্ত্রের পরাজয়ের মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে, সেখানে ‘সভ্যতার সংঘাত’ তত্ত্বের প্রবক্তা স্যামুয়েল হান্টিংটন দাবি করেন যে, ইতিহাসের ভয়াবহতম লড়াইগুলো এখনো সংঘটিত হয়নি। তাঁর মতে, সেই লড়াইগুলো জাতীয় রাষ্ট্রের পর্যায়ে কিংবা কোনো আদর্শিক কাঠামোর ভিত্তিতে হবে না, বরং তা বিকশিত হবে আরও উচ্চতর স্তরে—তথা মানব সভ্যতার স্তরে, যা হচ্ছে মানুষের সম্পৃক্ততার বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সত্তা।

হান্টিংটনের নিকট বিশ্লেষণের একক হলো সভ্যতা। যদিও তিনি স্বীকার করেন যে সভ্যতার বিষয়টি অত্যন্ত জটিল একটি উপাদান, তবুও তিনি দাবি করেন যে তিনি এটি আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে সভ্যতা সম্পর্কে তাঁর প্রদত্ত সংজ্ঞার ওপর সামান্য দৃষ্টিপাত করলেই এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তিনি উক্ত ধারণার কোনো সুনির্দিষ্ট ও যথাযথ সংজ্ঞায় পৌঁছাতে সক্ষম হননি।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
الحضارة عند هنتنجتون " هوية ثقافية ". هذا هو تعريفه لها، وعندما يدرك أنه تعريف هلامي، وبعيد جداً عن أن يكون تعريفاً جامعاً مانعاً - كما يقول " المناطقة " فإنه ينعطف نحو مزيد من الشرح والإيضاح. فيحدثنا عن أن الهوية الثقافية تترادف وتندرج في الانتماءات الأكبر: " إن ثقافة قرية من قرى الجنوب الإيطالي، قد تختلف عن ثقافة قرية في الشمال الإيطالي، ولكن كلتا القريتين تشتركان لا محالة في خصائص الثقافة القومية الإيطالية الجامعة، وهذه الثقافة الجامعة هي التي تميز كل القرى الإيطالية عن القرى الألمانية مثلا. ولكن ذلك لا يمنع أن كل القرى الأوربية تجتمع تحت ظل ثقافة أوسع هي ما يسمى بالثقافة الأوربية وهي الثقافة التي تميز كل القرى الأوربية عن القرى العربية أو الآسيوية". هذا المستوى الثقافي الأخير هو ما يعنيه هنتنجتون بالحضارة، وهو تعريف غير محكم، لأن صاحبه سرعان ما يدخل في التخبط وينقض ما سبق أن أبرمه.

হান্টিংটনের নিকট সভ্যতা হলো "সাংস্কৃতিক পরিচয়"। এটিই সভ্যতার বিষয়ে তার প্রদত্ত সংজ্ঞা; এবং তিনি যখন উপলব্ধি করেন যে এটি একটি অস্পষ্ট সংজ্ঞা এবং 'যুক্তিবিদদের' (المناطقة) পরিভাষায় একটি 'সার্বিক ও বর্জনকারী' (جامعا مانعا) সংজ্ঞা হওয়া থেকে অনেক দূরে—তখন তিনি অধিকতর ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি আমাদের জানান যে, সাংস্কৃতিক পরিচয় বৃহত্তর সম্পৃক্ততার সমার্থক এবং এর অন্তর্ভুক্ত: "ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের কোনো একটি গ্রামের সংস্কৃতি উত্তর ইতালির কোনো একটি গ্রামের সংস্কৃতি থেকে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু উভয় গ্রামই অনিবার্যভাবে ইতালীয় জাতীয় সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করে। আর এই সমন্বিত সংস্কৃতিই সমস্ত ইতালীয় গ্রামকে উদাহরণস্বরূপ জার্মান গ্রামগুলো থেকে পৃথক করে। তবে এটি ইউরোপের সকল গ্রামকে একটি ব্যাপকতর সংস্কৃতির অধীনে ঐক্যবদ্ধ হতে বাধা দেয় না, যা ইউরোপীয় সংস্কৃতি নামে পরিচিত; আর এটিই সেই সংস্কৃতি যা সকল ইউরোপীয় গ্রামকে আরব বা এশীয় গ্রাম থেকে পৃথক করে।" সাংস্কৃতিক এই সর্বশেষ স্তরটিকেই হান্টিংটন সভ্যতা হিসেবে বুঝিয়েছেন। এটি একটি 'অদৃঢ়' (غير محكم) সংজ্ঞা, কারণ এর প্রবক্তা অচিরেই বিভ্রান্তির শিকার হন এবং পূর্বে যা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছিলেন তা নিজেই খণ্ডন করেন।

(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
إن (هنتنجتون) ليس مؤرخاً راسخاً (كتوينبي) مثلاً، ولا عالم اجتماع ضليع كماكس فيبر، ولذلك فهو ينزلق في الأخطاء المتوالية. إنه يقول مثلا في تأكيده لتعريفه ذاك للحضارة: " إن العرب والصينيين والغربيين ليسوا جزءاً من أي كيان حضاري أوسع ". وهذا خطأ محض، لأن العرب جزء من الحضارة الإسلامية التي هي الوحدة الكبرى، ولا يوجد شيء يسمى بالحضارة العربية بمعزل عن الحضارة الإسلامية، ولا شيء يسمى بالحضارة الإسلامية بمعزل عن الثقافة العربية. إن خطأ هنتنجتون هنا هو في مرادفته ما بين العرب والإسلام، وعدم إدراكه أن العرب لا يمثلون أكثر من خمس مسلمي العالم الذين تمتد رقعتهم الجغرافية حتى أوربا والصين، وهو الأمر الذي يلغي مقولة هنتنجتون الثانية بأن الغربيين أو الصينيين لا يمكن أن يكونوا جزءاً من أي كيان حضاري أوسع.
(হান্টিংটন) টয়েনবির মতো কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক নন, কিংবা ম্যাক্স ওয়েবারের মতো কোনো প্রাজ্ঞ সমাজবিজ্ঞানীও নন; আর তাই তিনি একের পর এক ভুলের চোরাবালিতে নিমজ্জিত হচ্ছেন। সভ্যতার সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে স্বীয় বক্তব্য জোরালো করতে গিয়ে তিনি উদাহরণস্বরূপ বলেন: "আরব, চীন এবং পাশ্চাত্য কোনো বৃহত্তর সভ্যতার সত্তার অংশ নয়।" এটি সম্পূর্ণ ভুল; কেননা আরবরা ইসলামি সভ্যতার অংশ, যা একটি বৃহত্তর একক। ইসলামি সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন 'আরব সভ্যতা' বলে কিছু নেই, তেমনি আরব সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন 'ইসলামি সভ্যতা' বলেও কিছু নেই। এখানে হান্টিংটনের ভুলটি হলো আরব ও ইসলামকে সমার্থক মনে করা এবং এই বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে না পারা যে, আরবরা বিশ্বের মুসলিম জনসংখ্যার মাত্র এক-পঞ্চমাংশ, যাদের ভৌগোলিক বিস্তৃতি ইউরোপ থেকে চীন পর্যন্ত। আর এটিই হান্টিংটনের সেই দ্বিতীয় বক্তব্যকে বাতিল করে দেয় যে, পাশ্চাত্য বা চীনারা কোনো বৃহত্তর সভ্যতার সত্তার অংশ হতে পারে না।
(খণ্ড: ১) আল-হিওয়ারু মাআ আসহাবিল আদিয়ান মাশরুউইয়াতুহু ওয়া শুরতুহু ওয়া আদাবুহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويرى هنتنجتون أن عالمنا المعاصر يتشكل من سبع حضارات أو ثمان هي الحضارة الغربية والكونفوشيوسية واليابانية والإسلامية والهندية والسلافية الأرثوذكسية والأمريكية اللاتينية، ويمكن إضافة الحضارة الإفريقية إذا ما تساهلنا في التصنيف. هذه الحضارات بالتعريف السابق لها هي أشد تجذراً في الأرض وفي الحياة الإنسانية من المعتقدات الطارئة التي تظهر وتعمر حيناً من الدهر ثم تختفي. أما هذه الحضارات المذكورة فهي ذات ثوابت عميقة، عمادها اللغة والثقافة والتراث والدين، وتمتلك نظريات متباينة نحو علاقات البشر بالله وعلاقات البشر ببعضهم الآخر وعلاقات الحاكم بالمحكوم وعلاقات الأسرة فيما بين أفرادها إلى آخر هذه العلاقات.
হান্টিংটন মনে করেন যে, আমাদের সমসাময়িক বিশ্ব সাতটি অথবা আটটি সভ্যতা নিয়ে গঠিত; সেগুলো হলো পশ্চিমা, কনফুসীয়, জাপানি, ইসলামি, হিন্দু, স্লাভিক অর্থোডক্স এবং ল্যাটিন আমেরিকান সভ্যতা। শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে যদি আমরা কিছুটা শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শন করি, তবে আফ্রিকান সভ্যতাকেও এর সাথে যুক্ত করা যেতে পারে। পূর্বোক্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী এই সভ্যতাগুলো পৃথিবীর বুকে এবং মানবজীবনে সেই সকল আপতিত বিশ্বাসের তুলনায় অনেক বেশি গভীরমূল, যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আবির্ভূত হয় ও টিকে থাকে এবং পরবর্তীতে বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর উল্লিখিত এই সভ্যতাগুলো সুগভীর ও সুদৃঢ় মৌলনীতির অধিকারী, যার মূল ভিত্তি হলো ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ধর্ম। এছাড়া স্রষ্টার সাথে মানুষের সম্পর্ক, একে অপরের সাথে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক এবং পরিবারের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কসহ এই জাতীয় সকল সম্পর্কের বিষয়ে এই সভ্যতাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।