(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: -)
الإيمان - أبو عبيد - ط المعارف   (أبو عبيد القاسم بن سلام)

القسم: العقيدة


الكتاب: كتاب الإيمان

(ومعالمه، وسننه، واستكماله، ودرجاته)

المؤلف: أبو عُبيد القاسم بن سلام (157 - 224 هـ)

حققه وقدم له وخرّج أحاديثه وعلّق عليه: محمد ناصر الدين الألباني

الناشر: مكتبة المعارف للنشر والتوزيع - الرياض

الطبعة: الأولى [لمكتبة المعارف]، 1421 هـ -2000 م

عدد الصفحات: 99

تنبيه: انتهى المحقق منه سنة 1385 هـ - 1966 م، ضِمن مجموع مِن أربع رسائل طُبِع في حينه تحت عنوان «مِن كنوز السنة» في المطبعة العمومية بدمشق (وصَوّرَتْه دارُ الأرقم بالكويت)، ثم أعاد المكتبُ الإسلامي نشرَ الرسائل مفردة بحرفٍ جديد، وعنه أعادتْ صَفّه مكتبة المعارف بالرياض

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমান - আবু উবাইদ - মাআরিফ প্রকাশনী   (আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সালাম)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: কিতাবুল ইমান

(এবং এর নিদর্শনাবলি، রীতিনীতি، পূর্ণতা، ও স্তরসমূহ)

লেখক: আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সালাম (১৫৭ - ২২৪ হিজরি)

তাহকিক, ভূমিকা, হাদিস তখরিজ ও টীকা: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম [মাকতাবাতুল মাআরিফের জন্য]، ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৯

সতর্কবার্তা: মুহাক্কিক এটি ১৩৮৫ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে সম্পন্ন করেন، যা তৎকালীন সময়ে দামেস্কের আল-মাতবাআহ আল-উমুমিয়াহ থেকে «মিন কুনুযিস সুন্নাহ» (সুন্নাহর ভাণ্ডার থেকে) শিরোনামে চারটি রিসালার সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছিল (এবং কুয়েতের দারুল আরকাম এর ফটোকপি করেছিল)، পরবর্তীতে আল-মাকতাব আল-ইসলামি নতুন হরফে রিসালাগুলো পৃথকভাবে পুনরায় প্রকাশ করে، এবং তা থেকে রিয়াদের মাকতাবাতুল মাআরিফ পুনরায় বিন্যাস করে

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم[*]

 

‌‌ترجمة المصنف الإمام ابن سلام

هو: أبو عبيد القاسم بن سلام البغدادي، الإمام المجتهد البحر، اللغوي الفقيه، صاحب المصنفات. ولد بـ: «هراة» نحو سنة (157)، وكان أبوه عبداً روميا لبعض أهل هراة.

سمع جماعة من الأئمة الثقات، مثل سفيان بن عيينة، وإسماعيل بن عُلَيَّة، ويزيد بن هارون، ويحيى بن سعيد القطان، وعبد الرحمن بن مهدي، وحماد بن سلمة، وغيرهم. وحدث عنه: الإمام الدارمي، وأبو بكر ابن أبي الدنيا، وعلي بن عبد العزيز البغوي، ومحمد بن يحيى المروزي، وآخرون.

قال الإمام إسحاق بن راهويه: «الله يحب الحق، أبو

--------------------------------------------

[*] (تعليق الشاملة): طبع الكتاب أول مرة عام 1385 هـ ضمن مجموع باسم «مِن كنوز السنة» قال الشيخ الألباني في مقدمته:

«فهذه أربع رسائل. . . أزمعنا على نشرها. . . ويعود الفضل في البدء بذلك إلى فضيلة الشيخ محمد نصيف. . . فهو الذي كان كتب إلي سنة (1383 هـ) - وأنا يومئذ في المدينة المنورة - أن اختار له بعض الرسائل المخطوطة التي لم يسبق أن نشرت من قبل، فانتقيت له من فهرستي التي كنت جمعت فيها أسماء كتب الحديث المحفوظة في المكتبة الظاهرية بدمشق، الرسائل المشار إليها، وهي لبعض الأئمة المعروفين بالحفظ والعلم والعقيدة الصحيحة، وأرسلت بأسمائها إليه وهي:

1 - كتاب الإيمان. للحافظ أبي بكر بن أبي شيبة. (159 - 235).

2 - كتاب الإيمان. للإمام أبي عبيد القاسم بن سلام (159 - 224).

3 - كتاب العلم. للحافظ أبي خيثمة زهير بن حرب (160 - 234).

4 - كتاب اقتضاء العلم العمل. للخطيب البغدادي (392 - 463)

ومن نحو أربعة أشهر، كتب فضيلته إلينا برغبته في أن نقوم بطبعها في دمشق مع التعليق عليها، فاستجبت لرغبته. . .»

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি[*]

 

‌‌গ্রন্থকার ইমাম ইবনে সালামের পরিচিতি

তিনি হলেন: আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সালাম আল-বাগদাদি; মুজতাহিদ ইমাম, জ্ঞানের সমুদ্র, ভাষাবিদ ও ফকিহ এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি আনুমানিক (১৫৭) হিজরি সনে ‘হিরাত’-এ জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতা হিরাতের জনৈক অধিবাসীর একজন রোমান দাস ছিলেন।

তিনি একদল নির্ভরযোগ্য ইমামের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, যেমন: সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যা, ইয়াজিদ ইবনে হারুন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি, হাম্মাদ ইবনে সালামা এবং অন্যান্য। আর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: ইমাম আদ-দারিমি, আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া, আলি ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযি এবং আরও অনেকে।

ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বলেছেন: «আল্লাহ সত্যকে পছন্দ করেন, আবু...

--------------------------------------------

[*] (শামেলা কর্তৃপক্ষের মন্তব্য): বইটি প্রথমবারের মতো ১৩৮৫ হিজরি সালে ‘মিন কুনুযিস সুন্নাহ’ (সুন্নাহর ভাণ্ডার থেকে) নামক একটি সংকলনের অধীনে মুদ্রিত হয়। শেখ আলবানি এর ভূমিকায় বলেছেন:

«এগুলো হচ্ছে চারটি পুস্তিকা. . . যা আমরা প্রকাশের সংকল্প করেছি. . . এবং এর সূচনা করার কৃতিত্ব সম্মানিত শেখ মুহাম্মদ নাসিফের. . . তিনিই (১৩৮৩ হিজরি) সালে আমাকে লিখেছিলেন—তখন আমি মদিনা মুনাওয়ারায় ছিলাম—যেন আমি তাঁর জন্য এমন কিছু পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করি যা পূর্বে কখনো প্রকাশিত হয়নি। অতঃপর আমি দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত হাদিসের কিতাবসমূহের নামের তালিকা (যা আমি নিজে সংগ্রহ করেছিলাম) থেকে এই পুস্তিকাগুলো তাঁর জন্য বাছাই করি। এগুলো হিফয, ইলম এবং সহিহ আকিদার জন্য পরিচিত কিছু ইমামের রচনা। আমি এগুলোর নাম তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলাম, যা হলো:

১ - কিতাবুল ঈমান। হাফেজ আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ (১৫৯ - ২৩৫)।

২ - কিতাবুল ঈমান। ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সালাম (১৫৯ - ২২৪)।

৩ - কিতাবুল ইলম। হাফেজ আবু খাইসামা যুহাইর ইবনে হারব (১৬০ - ২৩৪)।

৪ - কিতাব ইকতিদাউল ইলমিল আমল। খাতিব আল-বাগদাদি (৩৯২ - ৪৬৩)।

প্রায় চার মাস আগে, তিনি আমাদের কাছে ইচ্ছা প্রকাশ করে লিখেছিলেন যেন আমরা এগুলো দামেস্কে টীকা-টিপ্পনীসহ মুদ্রণ করি, তাই আমি তাঁর ইচ্ছায় সাড়া দিয়েছি. . .»

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ৪)
عبيد أعلم مني وأفقه». وقال أيضاً: «نحن نحتاج إلى أبي عبيد، وأبو عبيد لا يحتاج إلينا». وقال أحمد بن حنبل: «أبو عبيد أستاذ، وهو يزداد كل يوم خيراً». وسئل يحيى بن معين عنه؟ فقال: «أبو عبيد يسأل الناس عنه!». وقال أبو داود: «ثقة مأمون»

قال الحافظ الذهبي: «من نظر في كتب أبي عبيد علم مكانه من الحفظ والعلم، وكان حافظا للحديث وعلله، عارفًا بالفقه والاختلاف رأساً في اللغة، إماماً في القراءات، له فيها مصنف، وقع لي من تصانيفه (كتاب

الأموال) و (كتاب الناسخ والمنسوخ)».

وقال الخطيب البغدادي: «وكان ذا فضل، ودين، وستر، ومذهب حسن وكتبه مستحسنة، مطلوبة في كل بلد، والرواة عنه مشهورون ثقات، ذو ذكر ونبل، وكتابه
...উবাইদ আমার চেয়েও অধিক জ্ঞানী এবং প্রাজ্ঞ।" তিনি আরও বলেছেন, "আমাদের আবু উবাইদকে প্রয়োজন, কিন্তু আবু উবাইদের আমাদের প্রয়োজন নেই।" আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: "আবু উবাইদ একজন উস্তাদ, এবং প্রতিদিন তার কল্যাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।" ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আবু উবাইদ সম্পর্কে কি মানুষ জিজ্ঞাসা করে!" আবু দাউদ বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।"

হাফেজ যাহাবী বলেছেন: "যে ব্যক্তি আবু উবাইদের গ্রন্থসমূহ দেখবে সে হিফয ও ইলমের ক্ষেত্রে তার মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি হাদীস এবং এর ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে হাফেজ ছিলেন, ফিকহ ও ফকীহদের মতপার্থক্য সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন, ভাষাতত্ত্বে ছিলেন শীর্ষস্থানীয় এবং কিরাআত শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন। এই বিষয়ে তার সংকলিত গ্রন্থ রয়েছে। তার রচনাবলির মধ্যে আমার হাতে এসেছে (কিতাবুল

আমওয়াল) এবং (কিতাবুন নাসিখ ওয়াল মানসুখ)।"

খতীব বাগদাদী বলেছেন: "তিনি ছিলেন মর্যাদাশীল, ধর্মপ্রাণ, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী এবং উত্তম মতাদর্শের অনুসারী। তার গ্রন্থসমূহ সমাদৃত এবং প্রতিটি দেশে কাম্য। তার থেকে বর্ণনাকারীরা প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য। তিনি ছিলেন সুখ্যাত ও মহানুভব এবং তার কিতাব...
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ৫)
في (الأموال) من أحسن ما صنف في الفقه وأجوده».

 

قلت: ومع هذه المناقب والفضائل، فإن الأئمة الستة لم يخرجوا له شيئًا من الحديث، فذلك من الأدلة الكثيرة على أنهم لم يخرجوا لجميع رواة الحديث الثقات، فلا غرابة بعد هذا أن لا يخرج البخاري لبعض رواة أهل البيت

الثقات منهم رضي الله عنهم!

ومن كلام أبي عبيد رحمه الله تعالى: «المتبع للسنة كالقابض على الجمر، وهو اليوم عندي أفضل من ضرب السيف في سبيل الله عز وجل».

قلت هذا في زمانه فماذا يقال في زماننا؟

أقام رحمه الله ببغداد مدة، ثم ولي القضاء بـ (طرسوس)، وخرج بعد ذلك إلى مكة، فسكنها حتى مات بها، سنة أربع وعشرين ومائتين.
(আল-আমওয়াল) ফিকহ শাস্ত্রের ওপর রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও উৎকৃষ্ট গ্রন্থগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

 

আমি বলি: এই সকল গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও ছয় ইমাম তাঁর থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি। এটি সেই বহু প্রমাণের একটি যে, তাঁরা সকল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর হাদিস বর্ণনা করেননি। অতএব, এর পর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে ইমাম বুখারী আহলে বাইতের কিছু নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর

(আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হাদিস বর্ণনা করেননি!

আবু উবাইদ (রহিমাহুল্লাহ তা'আলা)-এর বাণীসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: "সুন্নাহর অনুসারী ব্যক্তি জ্বলন্ত অঙ্গার ধারণকারীর ন্যায়। বর্তমানে এটি আমার নিকট মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পথে তলোয়ার চালানোর চেয়েও উত্তম।"

আমি বলি, এটি তো তাঁর সময়ের কথা, তাহলে আমাদের সময়ের ব্যাপারে কী বলা যাবে?

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বাগদাদে কিছুকাল অবস্থান করেন, অতঃপর (তরাসূস)-এ বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে বের হন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেন। তিনি দুইশত চব্বিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌وصف الأصل الخطي

أما هذه الرسالة: «الإيمان لأبي عبيد»، فإنما اعتمدنا فيها على نسخة قديمة وحيدة كتبت سنة ثمان وثمانين وأربعمائة من نسخة الشيخ العفيف أبي محمد عثمان بن أبي نصر بـ (مصر). وهي نسخة ليست بالجيدة، فإنها مع كونها مقابلة بالأصل كما جاء في خاتمتها، وتراه في الوجه الأخير مصوراً على الصفحة الآتية (52) فقد وقع فيها أخطاء كثيرة، وسقط في غير ما موضع، وقد اجتهدت، فصححت من ذلك ما أمكنني تصحيحه، وأشرت إلى ذلك في التعليق، وما عجزت عنه نبهت عليه في التعليق غالبًا.

وهي إلى ذلك سيئة، الخط، كما يبدو لمن نظر في الصورتين اللتين تمثلان الوجه الأول والأخير منها.
পাণ্ডুলিপির বর্ণনা

আর এই রিসালাত বা পত্র: আবু উবাইদ-এর 'আল-ঈমান', এতে আমরা একটি প্রাচীন ও একমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি যা মিশরে শায়খ আল-আফিফ আবু মুহাম্মদ উসমান ইবনে আবি নাসরের অনুলিপি থেকে চারশ আটাশি হিজরি সনে লিখিত। এটি খুব একটা ভালো মানের অনুলিপি নয়; কারণ এর উপসংহারে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে (যা পরবর্তী ৫২ নম্বর পৃষ্ঠায় মুদ্রিত পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার ছবিতে আপনি দেখতে পাবেন), তা সত্ত্বেও এতে অনেক ভুল সংঘটিত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে শব্দ বা বাক্য বাদ পড়েছে। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করে যতটুকু সম্ভব সংশোধন করেছি এবং টিকায় তা উল্লেখ করেছি। আর যা সংশোধন করতে আমি অক্ষম হয়েছি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিকায় সে সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি।

তদুপরি এর হস্তাক্ষরও নিম্নমানের, যেমনটি এর প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠার ছবি দুটির দিকে লক্ষ্য করলে যে কারো কাছে স্পষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ৭)
صورة الوجه الأول من المخطوط
পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ৮)
صورة الوجه الأخير من المخطوط
পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

توكلت على الله

 

‌‌1 - بَابُ نَعْتِ الْإِيمَانِ فِي اسْتِكْمَالِهِ وَدَرَجَاتِهِ

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ؛ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ مَعْرُوفٍ - أعْني: ابْنَ أَبِي نَصْرٍ - فِي دَارِهِ بِدِمِشْقَ، فِي صَفَرٍ سَنَةَ عِشْرِينَ وَأَرْبَعْ مَائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَحْيَى الْعَسْكَرِيُّ «صَاحِبُ [أَبِي] عُبَيْدٍ؛ القاسم ابن سَلَامٍ» هَذِهِ الرِّسَالَةَ وَأَنَا أَسْمَعُ:

قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: أَمَّا بَعْدُ:

فَإِنَّكَ كُنْتَ تَسْأَلُنِي عَنِ الْإِيمَانِ، وَاخْتِلَافِ الْأُمَّةِ فِي اسْتِكْمَالِهِ وَزِيَادَتِهِ وَنَقْصِهِ، وَتَذْكُرُ أَنَّكَ أحببتَ مَعْرِفَةَ مَا عَلَيْهِ أَهْلُ السُّنَّةِ مِنْ ذَلِكَ، وَمَا الْحُجَّةُ عَلَى مَنْ فارقهم فيه؟
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম।

 

‌‌১ - পরিচ্ছেদ: ঈমানের পূর্ণতা ও এর স্তরসমূহের বিবরণ

শেখ আবু মুহাম্মদ; আবদুর রহমান ইবনে উসমান ইবনে মা'রুফ—অর্থাৎ ইবনে আবি নাসর—দামেশকে তাঁর নিজ বাসভবনে ৪২০ হিজরীর সফর মাসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেছেন: আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আসকারী—যিনি [আবু] উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লামের ছাত্র—আমার শ্রবণকালে আমাদের নিকট এই পত্রটি বর্ণনা করেছেন:

আবু উবাইদ বলেছেন: অতঃপর:

নিশ্চয়ই আপনি আমাকে ঈমান সম্পর্কে এবং এর পূর্ণতা লাভ, বৃদ্ধি ও হ্রাস নিয়ে উম্মাহর মতভেদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আপনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর অবস্থান কী এবং যারা এই বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে দলীল কী, তা আপনি জানতে আগ্রহী।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ১০)
فَإِنَّ هَذَا رَحِمَكَ اللَّهُ خَطْبٌ قَدْ تَكَلَّمَ فِيهِ السَّلَفُ فِي صَدْرِ هَذِهِ الْأُمَّةِ وَتَابِعِيهَا ومَن بَعْدَهُمْ إِلَى يَوْمِنَا هَذَا، وَقَدْ كَتَبْتُ إِلَيْكَ بِمَا انْتَهَى إِلَيَّ عِلمُه مِنْ ذَلِكَ مَشْرُوحًا مُخَلَّصًا.

وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ.

اعْلَمْ - رَحِمَكَ اللَّهُ - أَنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ وَالْعِنَايَةِ بِالدِّينِ افْتَرَقُوا فِي هَذَا الْأَمْرِ فِرْقَتَيْنِ:

فَقَالَتْ إِحْدَاهُمَا: الْإِيمَانُ بِالْإِخْلَاصِ لِلَّهِ بِالْقُلُوبِ، وَشَهَادَةِ الْأَلْسِنَةِ وَعَمَلِ الْجَوَارِحِ.

وَقَالَتِ الفرقةُ الْأُخْرَى بَلِ الْإِيمَانُ بِالْقُلُوبِ وَالْأَلْسِنَةِ، فَأَمَّا الأعمالُ فَإِنَّمَا هِيَ تَقْوَى وَبِرٌّ، وَلَيْسَتْ مِنَ الْإِيمَانِ.

وَإِنَّا نَظَرْنَا فِي اخْتِلَافِ الطَّائِفَتَيْنِ، فَوَجَدْنَا الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ يُصَدِّقَانِ الطَّائِفَةَ الَّتِي جَعَلَتِ الْإِيمَانَ بِالنِّيَّةِ وَالْقَوْلِ والعملِ جَمِيعًا وَيَنْفِيَانِ مَا قَالَتِ الأخرى.
হে আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, নিশ্চয়ই এটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা নিয়ে এই উম্মতের প্রথম যুগের সালাফগণ, তাদের উত্তরসূরী তাবেঈগণ এবং বর্তমানকাল পর্যন্ত তাদের পরবর্তীগণ আলোচনা করেছেন। এই বিষয়ে আমার কাছে যে জ্ঞান পৌঁছেছে, আমি তা ব্যাখ্যাসহ সংক্ষেপে আপনার কাছে লিখেছি।

আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী।

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন—নিশ্চয়ই আহলে ইলম এবং দ্বীনের ব্যাপারে যত্নশীলগণ এই বিষয়ে দুটি দলে বিভক্ত হয়েছেন:

তাদের মধ্যে এক দল বলেছে: ঈমান হলো অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি ইখলাস রাখা, জিহ্বার দ্বারা সাক্ষ্য দেওয়া এবং শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা।

আর অন্য দলটি বলেছে: বরং ঈমান হলো অন্তর ও জিহ্বার বিষয়; পক্ষান্তরে আমলসমূহ কেবল তাকওয়া এবং পুণ্যকর্ম মাত্র, তা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

আমরা এই দুই দলের মতপার্থক্য নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছি। ফলে আমরা দেখেছি যে, কিতাব ও সুন্নাহ সেই দলটিকে সমর্থন করছে যারা নিয়ত, কথা ও আমল—এই সবকিছুর সমষ্টিকে ঈমান হিসেবে গণ্য করেছে; আর দ্বিতীয় দলটি যা বলেছে তা প্রত্যাখ্যান করছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ১১)
وَالْأَصْلُ الَّذِي هُوَ حجّتُنا فِي ذَلِكَ اتِّبَاعُ مَا نَطَقَ بِهِ القرآنُ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى ذِكْرُهُ عُلُوًّا كَبِيرًا، قَالَ فِي مُحْكَمِ كِتَابِهِ:

{فَإِنْ تَنازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} [النساء: 59].

وَإِنَّا رَدَدْنَا الأمرَ إِلَى مَا ابْتَعَثَ اللَّهُ عَلَيْهِ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم(1) وَأَنْزَلَ بِهِ كِتَابَهُ، فوجدناه قد جعلَ بدأ الْإِيمَانِ شَهَادَةَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ بَعْدَ النُّبُوَّةِ عَشْرَ سِنِينَ، أَوْ بِضْعَ عَشَرَ سَنَةً يَدْعُو إِلَى هَذِهِ الشَّهَادَةِ خَاصَّةً، وَلَيْسَ الْإِيمَانُ الْمُفْتَرَضُ عَلَى الْعِبَادِ يَوْمَئِذٍ سِوَاهَا، فَمَنْ أَجَابَ إِلَيْهَا كَانَ مُؤْمِنًا، لَا يَلْزَمُهُ اسمٌ

--------------------------------------------

(1) الكتاب ليس فيه ذلك، فعرفنا أنّ المؤلّف التزم ذلك فيه غالباً فلم نستجز الزيادة عليه.

الأصل ليس فيه (وسلم)، وكذلك في جل ما يأتي من الصلاة عليه الله

 

(تعليق الشاملة): حاصل ذلك أن المخطوط فيه «ما ابتعث الله عليه رسوله (صلى الله عليه) وأنزل به كتابه»

وعلق الشيخ الألباني (هامش ط دمشق) على قوله: «صلى الله عليه»، بقوله: «كذا الأصل، ليس فيه «وسلم»، وكذلك هو في جُلّ ما يأتي من الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم في الكتاب، فعرفنا أن المؤلف التزم ذلك فيه غالبا فلم نستجز الزيادة عليه». انتهى بلفظه من ط المطبعة العمومية بدمشق

لكن عندما طُبع الكتاب في «المكتب الإسلامي»، طبعوه بالرمز المعروف الذي يشمل ضمنه لفظة «وسلم»، وعلق زهير الشاويش رحمه الله بقوله: غير إننا في هذه الطبعة تعذر علينا ذلك فوضعنا الزيادة غالبًا (زهير).

 

ثم في ط المعارف، اعتمدوا على ط المكتب الإسلامي كما هي بإضافة «وسلم»، وحذفوا تعليق «زهير»، فبقي تعليق الشيخ الألباني فقط، مخالفا لحال الكتاب، فاقتضى التنبيه
এই বিষয়ে আমাদের যে মূলনীতি ও প্রমাণ রয়েছে তা হলো কুরআনে যা বলা হয়েছে তার অনুসরণ করা। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা, যাঁর স্মরণ সুউচ্চ ও মহান, তিনি তাঁর সুষ্পষ্ট কিতাবে বলেছেন:

{অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামে সর্বোত্তম।} [আন-নিসা: ৫৯]।

আর আমরা বিষয়টি সেদিকেই ফিরিয়ে নিয়েছি যার ওপর আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি(১) প্রেরণ করেছেন এবং যার সাথে তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন। আমরা দেখেছি যে, তিনি ঈমানের সূচনা করেছেন এই সাক্ষ্যের মাধ্যমে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াতের পর দশ বছর বা দশ বছরের কিছু বেশি সময় মক্কায় অবস্থান করে বিশেষভাবে এই সাক্ষ্যের দিকেই দাওয়াত দিয়েছেন। সে সময়ে বান্দাদের ওপর ফরযকৃত ঈমান এ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সুতরাং যে কেউ এই দাওয়ানে সাড়া দিত সে মুমিন হিসেবে গণ্য হতো, তার ওপর অন্য কোনো নাম আরোপ করা জরুরি ছিল না।

--------------------------------------------

(১) মূল কিতাবে এটি নেই, তাই আমরা বুঝতে পারলাম যে লেখক অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি পালনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, ফলে আমরা এতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করা বৈধ মনে করিনি।

মূল পাণ্ডুলিপিতে (সাল্লাম) শব্দটি নেই, ঠিক তেমনিভাবে সামনে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর দরূদ পাঠের অধিকাংশ স্থলেও এমনটিই রয়েছে।

 

(শামেলা ডট কমের মন্তব্য): এর সারকথা হলো, পাণ্ডুলিপিতে বিষয়টি এভাবে আছে— "যার ওপর আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি) প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন"।

শাইখ আলবানী (দামেস্ক সংস্করণের টীকা) তাঁর উক্তি: "সাল্লাল্লাহু আলাইহি" এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "মূল কিতাবে এভাবেই আছে, এতে 'সাল্লাম' শব্দটি নেই। অনুরূপভাবে এই কিতাবে সামনে তাঁর ওপর দরূদ পাঠের অধিকাংশ স্থলেও এমনটিই রয়েছে। ফলে আমরা বুঝতে পেরেছি যে লেখক অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি পালনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন, তাই আমরা এতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করা বৈধ মনে করিনি।" দামেস্কের আল-মাতবাআতুল উমুমিয়্যাহ সংস্করণের শব্দ অনুযায়ী তাঁর কথা এখানেই শেষ।

কিন্তু যখন কিতাবটি "আল-মাকতাবুল ইসলামী" থেকে মুদ্রিত হলো, তখন তারা এটি পরিচিত প্রতীকের মাধ্যমে ছেপেছে যার মধ্যে "সাল্লাম" শব্দটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ বিষয়ে যুহাইর আশ-শাভিশ (রহিমাহুল্লাহ) মন্তব্য করেছেন: "তবে আমাদের এই সংস্করণে সেটি করা সম্ভব হয়নি, তাই আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশটি যুক্ত করে দিয়েছি (যুহাইর)।"

 

অতঃপর "দারুল মাআরিফ" সংস্করণে তারা "আল-মাকতাবুল ইসলামী" সংস্করণের ওপর হুবহু নির্ভর করে "সাল্লাম" শব্দটি যুক্ত রেখেছে, কিন্তু "যুহাইর" এর মন্তব্যটি বাদ দিয়ে দিয়েছে। ফলে শুধুমাত্র শাইখ আলবানীর মন্তব্যটিই অবশিষ্ট রয়েছে, যা কিতাবের বর্তমান অবস্থার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, তাই বিষয়টি স্পষ্ট করার প্রয়োজন হলো।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ১২)
فِي الدِّينِ غَيْرُهُ، وَلَيْسَ يَجِبُ عَلَيْهِمْ زكاةٌ، وَلَا صيامٌ، وَلَا غَيْرُ ذَلِكَ مِنْ شَرَائِعِ الدِّينِ، وَإِنَّمَا كَانَ هَذَا التَّخْفِيفُ عَنِ النَّاسِ يَوْمَئِذٍ - فِيمَا يَرْوِيهِ الْعُلَمَاءُ رَحْمَةً مِنَ اللَّهِ لِعِبَادِهِ، ورِفقاً بِهِمْ، لِأَنَّهُمْ كَانُوا حَدِيثَ عهدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَجَفَائِهَا، وَلَوْ حَمَّلَهُمُ الْفَرَائِضَ كُلَّهَا مَعًا نَفَرَتْ مِنْهُ قُلُوبُهُمْ، وَثَقُلَتْ عَلَى أَبْدَانِهِمْ، فَجَعَلَ ذَلِكَ الإقرارَ بِالْأَلْسُنِ وَحْدَهَا هُوَ الْإِيمَانَ الْمُفْتَرَضَ عَلَى النَّاسِ يومئذٍ، فَكَانُوا عَلَى ذَلِكَ إِقَامَتَهُمْ بِمَكَّةَ كُلِّهَا، وَبِضْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا بِالْمَدِينَةِ وَبَعْدَ الْهِجْرَةِ. فَلَمَّا أَثَابَ الناسُ إِلَى الْإِسْلَامِ وَحَسُنَتْ(1) فِيهِ رَغْبَتُهُمْ، زَادَهُمُ اللَّهُ فِي إِيمَانِهِمْ أَنْ صرفَ الصلاةَ إلى

--------------------------------------------

(1) الأصل: «حسنت» بدون واو.
দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত অন্য কিছু নয়; আর তাদের ওপর যাকাত, রোজা বা দ্বীনের অন্য কোনো শরয়ি বিধান আবশ্যক ছিল না। আলেমগণ যা বর্ণনা করেন সেই অনুযায়ী, তৎকালীন মানুষের জন্য এই শিথিলতা ছিল মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত এবং তাদের প্রতি অনুকম্পা। কারণ তারা ছিল জাহেলিয়াত ও তার রূঢ়তার নিকটবর্তী সময়ের লোক। যদি তিনি তাদের ওপর সকল ফরজ বিধান একযোগে অর্পণ করতেন, তবে তাদের অন্তরসমূহ তা থেকে বিমুখ হতো এবং তাদের শরীরের ওপর তা বোঝা হয়ে দাঁড়াত। তাই তিনি কেবলমাত্র মৌখিক স্বীকৃতিকেই সেই সময় মানুষের জন্য ফরজ করা ঈমান হিসেবে গণ্য করেছিলেন। তারা মক্কায় অবস্থানকালীন পুরো সময় এবং হিজরতের পর মদীনায় দশ মাসেরও বেশি সময় এই অবস্থার ওপরই অটল ছিলেন। অতঃপর যখন মানুষ ইসলামের প্রতি ধাবিত হলো এবং এর প্রতি তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি(১) পেল, তখন আল্লাহ তাদের ঈমানকে আরও বাড়িয়ে দিলেন এভাবে যে, তিনি সালাতকে ঘুরিয়ে দিলেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে: 'ওয়াও' ব্যতীত 'হাসুনাত' (উৎকৃষ্ট হয়েছে) শব্দবন্ধটি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الْكَعْبَةِ، بَعْدَ أَنْ كَانَتْ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَقَالَ:

{قَدْ نَرى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّماءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضاها فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ وَحَيْثُ ما كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ} [البقرة: 144].

ثُمَّ خَاطَبَهُمْ - وَهُمْ بِالْمَدِينَةِ - بِاسْمِ الْإِيمَانِ الْمُتَقَدِّمِ لَهُمْ، فِي كُلِّ مَا أَمَرَهُمْ بِهِ أَوْ نَهَاهُمْ عَنْهُ، فَقَالَ فِي الْأَمْرِ:

{يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا} [الحج: 77]، وَ {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرافِقِ} [المائدة: 6].

وَقَالَ فِي النَّهْيِ: {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعافاً مُضاعَفَةً} [آل عمران: 30]، {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ} [المائدة: 95]. وَعَلَى هَذَا كُلُّ مخاطبةٍ كَانَتْ لَهُمْ فِيهَا أمرٌ أَوْ نهيٌ
কাবা অভিমুখে, যা আগে বাইতুল মাকদিসের দিকে ছিল। অতঃপর তিনি বললেন:

{নিশ্চয়ই আমি আপনার চেহারার বারবার আকাশের দিকে ফিরানো লক্ষ্য করছি। সুতরাং আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব আপনি আপনার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফিরিয়ে নিন। আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের চেহারা সেদিকেই ফিরিয়ে নাও} [বাকারা: ১৪৪]।

অতঃপর তিনি তাদেরকে সম্বোধন করলেন—যখন তারা মদিনায় ছিলেন—তাদের পূর্ববর্তী ঈমানের মাধ্যমে, সেই সব বিষয়ে যেগুলোর তিনি আদেশ দিয়েছেন বা নিষেধ করেছেন। অতঃপর আদেশের ক্ষেত্রে তিনি বললেন:

{হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু করো এবং সেজদা করো} [হজ: ৭৭], এবং {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং কনুই পর্যন্ত তোমাদের হাত ধৌত করো} [মায়িদা: ৬]।

আর নিষেধাৰ্ঞার ক্ষেত্রে তিনি বললেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না} [আল ইমরান: ১৩০], {হে মুমিনগণ! ইহরাম অবস্থায় তোমরা শিকার হত্যা করো না} [মায়িদা: ৯৫]। আর তাদের প্রতি কৃত প্রতিটি সম্বোধন যাতে কোনো আদেশ বা নিষেধ ছিল, তা এর উপরেই ভিত্তি করে হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
بَعْدَ الْهِجْرَةِ، وَإِنَّمَا سَمَّاهُمْ بِهَذَا الِاسْمِ بِالْإِقْرَارِ وحدَه؛ إِذْ لَمْ يَكُنْ هُنَاكَ فرضٌ غَيْرُهُ، فَلَمَّا نَزَلَتِ الشرائعُ بَعْدَ هَذَا وَجَبَتْ عَلَيْهِمْ وُجُوبُ الْأَوَّلِ سَوَاءً، لَا فَرْقَ بَيْنَهَا؛ لِأَنَّهَا جَمِيعًا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، وَبِأَمْرِهِ، وَبِإِيجَابِهِ. فَلَوْ أَنَّهُمْ عِنْدَ تحويلِ الْقِبْلَةِ إِلَى الْكَعْبَةِ أَبَوْا أَنْ يُصلُّوا إِلَيْهَا، وَتَمَسَّكُوا بِذَلِكَ الإيمانِ الَّذِي لَزِمَهُمُ اسمُه، وَالْقِبْلَةُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا، لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ مُغْنِيًا عَنْهُمْ شَيْئًا، وَلَكَانَ فِيهِ نقضٌ لِإِقْرَارِهِمْ، لِأَنَّ الطَّاعَةَ الْأُولَى لَيْسَتْ بِأَحَقَّ بِاسْمِ الْإِيمَانِ مِنَ الطَّاعَةِ الثَّانِيَةِ، فَلَمَّا أَجَابُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِلَى قَبُولِ الصَّلَاةِ كَإِجَابَتِهِمْ إِلَى الْإِقْرَارِ، صَارَا جَمِيعًا مَعًا هُمَا يَوْمَئِذٍ الْإِيمَانُ، إِذْ أُضِيفَتِ الصلاةُ إِلَى الإقرارِ. وَالشَّهِيدُ(1) عَلَى أَنَّ الصَّلَاةَ مِنَ الْإِيمَانِ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ

--------------------------------------------

(1) كذا الأصل، وفي المواطن الآتية: «والشاهد» ولعلّه الصواب هنا بدليل قوله بعد سطور: «فأيّ شاهد … ».
হিজরতের পর। তিনি তাদের এই নাম দিয়েছিলেন শুধুমাত্র মৌখিক স্বীকৃতির কারণে; কারণ তখন এটি ছাড়া অন্য কোনো ফরজ বিধান ছিল না। অতঃপর যখন এরপর অন্যান্য শরিয়ত অবতীর্ণ হলো, তখন পূর্বেরটির মতোই সেগুলোও তাদের ওপর একইভাবে আবশ্যক হয়ে গেল। এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; কারণ এ সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁরই আদেশ ও আবশ্যিক বিধানে প্রবর্তিত। সুতরাং কিবলা পরিবর্তনের সময় কাবার দিকে ফিরে সালাত আদায় করতে যদি তারা অস্বীকার করত এবং সেই ঈমানকেই আঁকড়ে ধরে থাকত যার কারণে তারা মুমিন নামে নামাঙ্কিত হয়েছিল, আর পূর্বের সেই কিবলার ওপরই অবিচল থাকত, তবে তা তাদের কোনো কাজে আসত না। আর এটি তাদের মৌখিক স্বীকৃতির পরিপন্থী হতো। কেননা প্রথম আনুগত্যটি দ্বিতীয় আনুগত্য অপেক্ষা 'ঈমান' নাম পাওয়ার ক্ষেত্রে অধিক হকদার নয়। ফলে যখন তারা মৌখিক স্বীকৃতির আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মতোই সালাত কবুল করার ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহ্বানে সাড়া দিল, তখন এই উভয়টি সম্মিলিতভাবে সে সময়ে ঈমান হিসেবে গণ্য হলো; যেহেতু সালাত তখন স্বীকৃতির সাথে সংযুক্ত হয়েছিল। আর সালাত যে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, তার প্রমাণ(১) হচ্ছে মহান আল্লাহর বাণী—

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে পরবর্তী স্থানগুলোতে 'শাহিদ' (প্রমাণ) শব্দ এসেছে। সম্ভবত এখানেও এটিই সঠিক, যার প্রমাণ কয়েক ছত্র পরেই লেখকের এই বক্তব্য থেকে পাওয়া যায়: «অতঃপর কোন প্রমাণটি … »।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَجَلَّ: {وَما كانَ اللهُ لِيُضِيعَ إِيمانَكُمْ إِنَّ اللهَ بِالنّاسِ لَرَؤُوفٌ رَحِيمٌ} [البقرة: 143]. وَإِنَّمَا نَزَلَتْ فِي الَّذِينَ تُوُفُّوا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُمْ عَلَى الصَّلَاةِ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فسُئل رسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ(1).

فَأَيُّ شاهدٍ يُلتمس عَلَى أَنَّ الصلاةَ مِنَ الْإِيمَانِ بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ؟ فَلَبِثُوا بِذَلِكَ بُرهةً مِنْ دَهْرِهِمْ، فَلَمَّا أَنْ دَارُوا إِلَى الصَّلَاةِ مُسَارَعَةً، وَانْشَرَحَتْ لَهَا صدُورهم، أَنْزَلَ اللَّهُ فَرْضَ الزَّكَاةِ فِي أَيْمَانِهِمْ إِلَى مَا قَبْلَهَا، فقال: {أَقِيمُوا}

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري من حديث البراء، والترمذي من حديث ابن عباس وصححه.
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম স্নেহশীল ও অতি দয়ালু} [আল-বাকারা: ১৪৩]। আর এটি কেবল আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই সকল সাহাবীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছিল যারা বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়(১)।

সুতরাং এই আয়াতের পর সালাত যে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, তার পক্ষে আর কোন প্রমাণের অনুসন্ধান করা হবে? অতঃপর তারা দীর্ঘ সময় এভাবেই অতিবাহিত করলেন। এরপর যখন তারা অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে সালাতের দিকে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং তাতে তাদের অন্তরসমূহ প্রশস্ত হলো, তখন আল্লাহ তাদের পূর্ববর্তী ঈমানের সাথে যাকাতের বিধান অবতীর্ণ করলেন এবং বললেন: {তোমরা কায়েম করো...}

--------------------------------------------

(১) বুখারী হাদীসটি বারা (রা.) থেকে এবং তিরমিযী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
{الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكاةَ} [البقرة: 83 و 110](1). وَقَالَ: {خُذْ مِنْ أَمْوالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِها} [التوبة: 103]، فَلَوْ أَنَّهُمْ مُمْتَنِعُونَ(2) مِنَ الزَّكَاةِ عِنْدَ الْإِقْرَارِ، وَأَعْطُوهُ ذَلِكَ بِالْأَلْسِنَةِ، وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ غيرَ أَنَّهُمْ مُمْتَنِعُونَ مِنَ الزَّكَاةِ كَانَ ذَلِكَ مُزيلاً لِمَا قَبْلَهُ، وَنَاقِضًا لِلْإِقْرَارِ وَالصَّلَاةِ، كَمَا كان

--------------------------------------------

(1) قلت: قد جاءت آيات مكية. ورد فيها ذكر الزكاة، تارة أمراً بها، وأخرى مدحاً لفاعليها، ومرة ذماً لتاركيها، ففي سورة «المزمل: 20» {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [المزمل: 20]، و «في النمل: 3» و «لقمان: 4» {الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ}. وفي «فصلت: 7/ 6»: {وَوَيْلٌ لِلْمُشْرِكِينَ، الَّذِينَ لا يُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ}. فالظاهر أنّ المراد بهذه الزكاة، الصدقات المفروضة من غير تعيين الأنصبة والمقادير، وإنّما فرض تعيينها في المدينة. والله أعلم.

(2) كذا الأصل.
{নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো} [আল-বাকারা: ৮৩ ও ১১০](১)। এবং তিনি বলেছেন: {তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন} [আত-তাওবা: ১০৩], সুতরাং যদি তারা মৌখিক স্বীকৃতির সময় জাকাত প্রদানে বিরত থাকে(২), এবং তারা মুখে তা স্বীকার করে নেয় এবং নামাজ কায়েম করে, কিন্তু কেবল জাকাত প্রদানে বিরত থাকে, তবে তা তার পূর্ববর্তী আমলকে বাতিল করে দিবে এবং তার মৌখিক স্বীকৃতি ও নামাজকে ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি ছিল...

--------------------------------------------

(১) আমি বলি: কিছু মক্কি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যেখানে জাকাতের উল্লেখ এসেছে; কখনো এর নির্দেশ হিসেবে, কখনো এর সম্পাদনকারীদের প্রশংসায়, আবার কখনো এর পরিত্যাগকারীদের নিন্দায়। যেমন সূরা আল-মুযযাম্মিল: ২০-এ রয়েছে: {তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো} [আল-মুযযাম্মিল: ২০], এবং সূরা আন-নামল: ৩ ও সূরা লুকমান: ৪-এ রয়েছে: {যারা নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে এবং তারা আখেরাতে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে}। আর সূরা ফুসসিলাত: ৬-৭-এ রয়েছে: {আর মুশরিকদের জন্য ধ্বংস, যারা জাকাত প্রদান করে না এবং তারা আখেরাতকে অস্বীকারকারী}। সুতরাং স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, এই জাকাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিসাব ও পরিমাণ নির্ধারণ ব্যতিরেকে ফরজ সদকা, আর এর সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ মদিনায় ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) মূল পাঠে এভাবেই আছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
إيتا(1) الصَّلَاةِ قَبْلَ ذَلِكَ نَاقِضًا لِمَا تَقَدَّمَ مِنَ الْإِقْرَارِ. وَالْمُصَدِّقُ لِهَذَا جِهَادُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ - رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ - بِالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ عَلَى مَنْعِ الْعَرَبِ الزَّكَاةَ، كَجِهَادِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْلَ الشِّرْكِ سَوَاءً، لَا فَرْقَ بَيْنَهَا فِي سَفْكِ الدِّمَاءِ، وَسَبْيِ الذُّرِّيَّةِ، وَاغْتِنَامِ الْمَالِ، فَإِنَّمَا كَانُوا مَانِعِينَ لَهَا غَيْرَ جَاحِدِينَ بِهَا. ثُمَّ كَذَلِكَ كَانَتْ شرائعُ الْإِسْلَامِ كُلُّهَا، كُلَّمَا نَزَلَتْ شَرِيعَةٌ صَارَتْ مُضَافَةً إِلَى مَا قَبْلَهَا لَاحِقَةً بِهِ، وَيَشْمَلُهَا جَمِيعًا اسْمُ الْإِيمَانِ فَيُقَالُ لِأَهْلِهِ مُؤْمِنُونَ. وَهَذَا هُوَ الْمَوْضِعُ الَّذِي غَلِط فِيهِ مَنْ ذَهَبَ إِلَى أَنَّ الْإِيمَانَ بِالْقَوْلِ، لَمَّا سَمِعُوا تَسْمِيَةَ اللَّهِ إِيَّاهُمْ مُؤْمِنِينَ، أوجبوا لهم الإيمان كله بكماله.

--------------------------------------------

(1) كذا الأصل، ولعلّ الصواب «إباء».
সালাত আদায় করতে অস্বীকার করা(১) ইতিপূর্বে প্রদত্ত স্বীকৃতির জন্য পরিপন্থী। আর এর সত্যতা প্রমাণ করে আবু বকর সিদ্দিক (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) কর্তৃক মুহাজির ও আনসারদের সাথে নিয়ে ঐ সকল আরবদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা যারা যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল; যা ছিল মুশরিকদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জিহাদের মতোই। রক্তপাত করা, বংশধরদের যুদ্ধবন্দী করা এবং সম্পদ গনীমত হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না; অথচ তারা ছিল কেবল যাকাত প্রদানে বিরত থাকা গোষ্ঠী, এর আবশ্যকতাকে অস্বীকারকারী নয়। একইভাবে ইসলামের সমস্ত বিধানও ছিল এমন; যখনই কোনো বিধান অবতীর্ণ হতো, তা পূর্ববর্তী বিধানের সাথে যুক্ত ও অনুবর্তী হতো এবং এই সবগুলোই ‘ঈমান’ নামের অন্তর্ভুক্ত, ফলে এর অনুসারীদের ‘মুমিন’ বলা হয়। এটিই সেই স্থান যেখানে তারা ভুল করেছে যারা মনে করে যে ঈমান কেবল মৌখিক স্বীকৃতির নাম; যখন তারা আল্লাহ কর্তৃক তাদের ‘মুমিন’ হিসেবে নামকরণের কথা শুনেছে, তখন তারা তাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ঈমানকে অবধারিত করে নিয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে এমনই আছে, তবে সম্ভবত সঠিক শব্দ হবে ‘অস্বীকৃতি’ (ইবা)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
كَمَا غَلَطُوا فِي تَأْوِيلِ حَدِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ سُئِلَ عَنِ الْإِيمَانِ مَا هُوَ؟ فَقَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَكَذَا وَكَذَا(1)». وَحِينَ سَأَلَهُ الَّذِي عَلَيْهِ رَقَبَةٌ مُؤْمِنَةٌ عَنْ عِتْقِ الْعَجَمِيَّةِ؟ فَأَمَرَ بِعِتْقِهَا، وَسَمَّاهَا مُؤْمِنَةً(2). وَإِنَّمَا هَذَا عَلَى مَا أَعْلَمْتُكَ مِنْ دُخُولِهِمْ فِي الْإِيمَانِ وَمِنْ قَبُولِهِمْ وَتَصْدِيقِهِمْ بِمَا نَزَلَ مِنْهُ، وَإِنَّمَا كَانَ يَنْزِلُ مُتَفَرِّقًا كَنُزِولِ الْقُرْآنِ. وَالشَّاهِدُ لِمَا نَقُولُ وَالدَّلِيلُ عَلَيْهِ كِتَابُ اللَّهِ تبارك وتعالى، وسنةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فمن الكتاب قوله:

--------------------------------------------

(1) يشير إلى حديث جبريل المخرج في «الصحيحين» من حديث أبي هريرة، وعند مسلم من حديث ابن عمر عن عمر، وانظر الحديث 119. من «كتاب الإيمان» لابن أبي شيبة.

(2) يشير إلى حديث معاوية بن الحكم السلمي الذي فيه أنّه صلى الله عليه وسلم سأل الجارية: «أين الله». رواه مسلم، وانظر «ابن أبي شيبة» رقم: 84.
যেমন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের ব্যাখ্যায় ভুল করেছে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ঈমান কী? তিনি বলেছিলেন: «আল্লাহর প্রতি এবং অমুক ও অমুক বিষয়ের প্রতি তোমার ঈমান আনা(১)»। এবং যখন জনৈক ব্যক্তি, যার ওপর একজন মুমিন দাস মুক্ত করার দায়বদ্ধতা ছিল, সে একজন অনারব দাসী মুক্ত করার বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করল? তখন তিনি তাকে মুক্ত করার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে মুমিন বলে অভিহিত করলেন(২)। মূলত এটি আমি আপনাকে যা অবহিত করেছি সে অনুযায়ী তাদের ঈমানে প্রবেশ এবং তাঁর পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা গ্রহণ ও সত্যায়ন করার ভিত্তিতে ছিল। আর নিশ্চয়ই তা কুরআনের অবতরণের ন্যায় পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ হতো। আমরা যা বলছি তার স্বপক্ষে প্রমাণ ও দলিল হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। কিতাব থেকে মহান আল্লাহর বাণী হলো:

--------------------------------------------

(১) এটি জিবরিলের হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করছে যা আবু হুরায়রার বর্ণিত হাদিস থেকে ‘সহিহাইন’ (বুখারি ও মুসলিম)-এ এবং মুসলিমে ইবনে উমর থেকে উমরের বর্ণিত হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে। দেখুন ইবনে আবি শায়বা কৃত ‘কিতাবুল ঈমান’-এর ১১৯ নম্বর হাদিস।

(২) এটি মুয়াবিয়া ইবনে হাকাম আস-সুলামির হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করছে যাতে রয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাসীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: «আল্লাহ কোথায়?।» এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন, এবং দেখুন ‘ইবনে আবি শায়বা’ নম্বর: ৮৪।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
{وَإِذا ما أُنْزِلَتْ سُورَةٌ فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ أَيُّكُمْ زادَتْهُ هَذِهِ إِيماناً فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزادَتْهُمْ إِيماناً وَهُمْ يَسْتَبْشِرُونَ} [التوبة: 124]. وَقَوْلُهُ: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آياتُهُ زادَتْهُمْ إِيماناً وَعَلى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} [الأنفال: 2].

فِي مَوَاضِعَ مِنَ الْقُرْآنِ مِثْلِ هَذَا. أَفَلَسْتَ تَرَى أَنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى لم ينزّل عليهم الإيمان جملة، كمالم يُنَزِّلِ الْقُرْآنَ جُمْلَةً؟ فَهَذِهِ الْحُجَّةُ مِنَ الْكِتَابِ، فَلَوْ كَانَ الْإِيمَانُ مُكَمَّلًا بِذَلِكَ الْإِقْرَارِ مَا كَانَ لِلزِّيَادَةِ إِذًا مَعْنًى، وَلَا لِذِكْرِهَا مَوْضِعٌ. وَأَمَّا الْحُجَّةُ مِنَ السُّنَّةِ وَالْآثَارِ الْمُتَوَاتِرَةِ فِي هَذَا الْمَعْنَى مِنْ زِيَادَاتِ قَوَاعِدِ الْإِيمَانِ بَعْضُهَا بَعْدَ بَعْضٍ، فَفِي حَدِيثٍ مِنْهَا أَرْبَعٌ، وَفِي آخَرَ خَمْسٌ، وَفِي الثَّالِثِ تِسْعٌ، وَفِي
{যখনই কোনো সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, 'এটি তোমাদের কার ঈমান বৃদ্ধি করল?' বস্তুত যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দ প্রকাশ করে।} [আত-তাওবাহ: ১২৪]। এবং তাঁর বাণী: {মুমিন তো তারাই, যাদের অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হয় যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।} [আল-আনফাল: ২]।

কুরআনের বিভিন্ন স্থানে এই রূপ বর্ণনা রয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাদের ওপর ঈমানকে একবারে অবতীর্ণ করেননি, যেমনভাবে তিনি কুরআনকে একবারে অবতীর্ণ করেননি? এটি হলো কিতাব (কুরআন) থেকে দলিল। ঈমান যদি শুধুমাত্র সেই স্বীকৃতির মাধ্যমেই পূর্ণাঙ্গ হয়ে যেত, তবে 'বৃদ্ধি' হওয়ার কোনো অর্থ থাকত না এবং তা উল্লেখ করারও কোনো অবকাশ থাকত না। আর সুন্নাহ এবং মুতাওয়াতির আসার (বর্ণনা) থেকে এই অর্থের স্বপক্ষে দলিল—যা ঈমানের রুকনসমূহ একের পর এক বৃদ্ধি পাওয়া প্রসঙ্গে—তার কোনো হাদিসে চারটি, অন্যটিতে পাঁচটি, তৃতীয়টিতে নয়টি (রুকন বর্ণিত হয়েছে), এবং...
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ২০)
الرَّابِعِ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ. فَمِنَ الْأَرْبَعِ،

حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: أَنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ قَدِمُوا عَلَيْهِ فقالوا يا رسول الله إنّا(1) هَذَا الْحَيَّ مِنْ رَبِيعَةَ، وَقَدْ حَالَتْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ كُفَّارُ مُضر، فَلَسْنَا نخلُص(2) إِلَّا فِي شَهْرٍ حَرَامٍ، فَمُرْنَا بِأَمْرٍ نَعْمَلُ بِهِ وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا، فَقَالَ: «آمُرُكُمْ بأربعٍ، وَأَنْهَاكُمْ عَنْ أربعٍ، الْإِيمَانُ» ثُمَّ فَسَّرَهُ لَهُمْ: «شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَأَنْ تُؤَدُّوا خُمس مَا غَنِمْتُمْ، وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ والحنتم والنَّقير والمُقَيَّر»(3).

--------------------------------------------

(1) الأصل، «إن» والتصويب من «صحيح مسلم». لفظه غير مطابق لما هنا بخلاف لفظه في مسلم.

(2) أي: نصل. زاد مسلم: «إليك».

(3) هو: الوعاء المزفت، وهو المطلي بالقار، وهو الزفت. و «النقير» جذع ينقر وسطه. و «الحنتم»: جرار خضر. و «الدباء»: القرع اليابس، أي: الوعاء منه.
চতুর্থ বিষয়টি এর চেয়েও অধিক। সুতরাং সেই চারটির মধ্য থেকে হলো,

ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রাপ্ত হাদিস: আব্দুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধিদল তাঁর নিকট আগমন করল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা(১) রবিয়া গোত্রের এই জনপদ, আর আমাদের ও আপনার মাঝে মুযার গোত্রের কাফেররা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। ফলে আমরা পবিত্র মাস ছাড়া আপনার নিকট পৌঁছাতে(২) পারি না। অতএব আমাদের এমন কিছু কাজের নির্দেশ দিন যা আমরা নিজেরা করব এবং আমাদের পেছনে যারা রয়ে গেছে তাদেরকেও এর দাওয়াত দেব। তিনি বললেন: «আমি তোমাদের চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: ঈমান।» অতঃপর তিনি তাদের নিকট এর ব্যাখ্যা দিলেন: «এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা এবং গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ আদায় করা। আর আমি তোমাদের দুব্বা, হানতাম, নাকির এবং মুকাইয়্যার(৩) থেকে নিষেধ করছি।»

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে ‘নিশ্চয়ই’ ছিল, সংশোধনটি ‘সহীহ মুসলিম’ থেকে নেওয়া হয়েছে। এর শব্দবিন্যাস এখানে মুসলিমের শব্দের সাথে হুবহু মেলেনি।

(২) অর্থাৎ: পৌঁছানো। মুসলিম-এ ‘আপনার নিকট’ শব্দগুচ্ছটি অতিরিক্ত রয়েছে।

(৩) তা হলো: আলকাতরা মাখানো পাত্র, যা পিচ দ্বারা প্রলেপ দেওয়া হয়, আর এটিই হলো আলকাতরা। ‘নাকির’ হলো খেজুর গাছের কাণ্ড যার মধ্যভাগ খোদাই করা হয়েছে। ‘হানতাম’ হলো সবুজ কলস। এবং ‘দুব্বা’ হলো শুকনো লাউ, অর্থাৎ তা থেকে তৈরি পাত্র।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ২১)
1 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو جَمْرَةَ(1)، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: بِذَلِكَ.

وَمِنَ الْخَمْسِ، حَدِيثُ

ابْنِ عُمَرَ؛ أَنَّهُ سمعَ رسولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «بُنِيَ الإسلامُ عَلَى خمسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ، وَحَجِّ الْبَيْتِ».

 

2 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمر، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: بذلك(2).

--------------------------------------------

(1) الأصل: «أبوحمزة»، والتصحيح من «مسلم» فقد أخرجه من طريق أخرى عن عباد بن عباد به. واسم أبي جمرة: نصر بن عمران.

(2) قلت: وإسناده صحيح على شرط الشيخين، وقد أخرجاه.
১ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ বিন আব্বাদ আল-মুহাল্লাবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জামরাহ(১), ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে: অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আর পাঁচটির বর্ণনায় রয়েছে হাদীস

ইবনে উমর থেকে; যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং আল্লাহর ঘরের (কাবা) হজ করা»।

 

২ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন সুলায়মান আর-রাযী, হানজালা বিন আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি ইকরিমা বিন খালিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে: অনুরূপ বর্ণনা করেছেন(২)।

--------------------------------------------

(১) মূল কপিতে রয়েছে: «আবু হামযাহ», এবং সংশোধনটি «মুসলিম» থেকে নেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি এটি অন্য সূত্রে আব্বাদ বিন আব্বাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আবু জামরাহর নাম হলো: নাসর বিন ইমরান।

(২) আমি বলছি: এর সনদ শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুসারে সহীহ, এবং তাঁরা উভয়ই এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ২২)
وَمِنَ التِّسْعِ،

حَدِيثُ أَبِي هُريرة عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؛ أَنَّهُ قَالَ: «[إِنَّ] لِلْإِسْلَامِ صُوًى وَمَنَارًا كَمَنَارِ الطَّرِيقِ»

قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: «صُوًى»: هِيَ مَا غلُظَ وَارْتَفَعَ مِنَ الأرضِ، وَاحِدَتُهَا صوَّة(1) مِنْهَا: أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ ولا تشرك به

--------------------------------------------

(1) كان الأصل كما يأتي «الإسلام صوى ومنار كمنار الطريق منها. قال أبو عبيد: «صوى» ارتفع من الأرض، واحد من «صوة» كمنار منها» فصححت نص الحديث من «الأمالي» لابن بشران «ق 2/ 98» والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر» للحافظ عبد الغني المقدسي 1/ 82 وقد أخرجا الحديث من طريق المؤلف، ولكنهما لم يذكرا تفسيره ل «الصوى» وصححت التفسير من «القاموس» و «لسان العرب» وحكاه هذا عن الأصمعي. وذكر عن أبي عمرو أنّه قال: «الصوى أعلام من حجارة منصوبة في الفيافي، والمفازة المجهولة يستدلّ بها على الطريق وعلى طرفيها. أراد «يعني: الحديث» أنّ الإسلام طرائق وأعلاماً يهتدي بها». ثمّ قال صاحب «اللسان»: «قال أبو عبيد: وقول أبي عمرو أعجب إليّ وهو أشبه بمعنى الحديث».
নয় নম্বর বর্ণনা থেকে,

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে; তিনি বলেছেন: "[নিশ্চয়ই] ইসলামের জন্য রয়েছে সুওয়া (ভূ-চিহ্ন) ও আলোকবর্তিকা, যেমন রাস্তার আলোকবর্তিকা থাকে।"

আবু উবাইদ বলেন: "সুওয়া" হলো জমিনের সেই শক্ত ও উঁচু অংশ, এর একবচন হলো "সুওয়াহ"।(১) এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তুমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না।

--------------------------------------------

(১) মূলত পাঠটি নিম্নরূপ ছিল: "ইসলাম হলো সুওয়া এবং আলোকবর্তিকা যেমন রাস্তার আলোকবর্তিকা। আবু উবাইদ বলেন: 'সুওয়া' জমিন থেকে উঁচু হওয়া অংশ, 'সুওয়াহ' এর একবচন..."। আমি ইবনে বিশরানের 'আল-আমালি' (২/৯৮) এবং হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসির 'আল-আমর বিল মা'রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার' (১/৮২) থেকে হাদিসের পাঠটি সংশোধন করেছি। তাঁরা উভয়ই গ্রন্থকারের সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা 'সুওয়া'-এর ব্যাখ্যা উল্লেখ করেননি। আমি 'আল-কামুস' ও 'লিসানুল আরব' থেকে ব্যাখ্যাটি সংশোধন করেছি এবং এটি আসমাঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে। আবু আমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সুওয়া হলো মরুভূমি ও নির্জন প্রান্তরে স্থাপিত পাথরের চিহ্ন যা দ্বারা পথ চেনা যায়। তিনি (অর্থাৎ হাদিসের উদ্দেশ্য) বুঝিয়েছেন যে, ইসলামেরও নির্দিষ্ট পথ ও নিদর্শন রয়েছে যার মাধ্যমে সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া যায়।" এরপর 'লিসান' প্রণেতা বলেন: "আবু উবাইদ বলেছেন: আবু আমরের কথাটি আমার কাছে অধিক পছন্দনীয় এবং এটি হাদিসের অর্থের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।"
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
شَيْئًا، وَإِقَامَةُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَحَجُّ الْبَيْتِ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَأَنْ تُسَلِّمَ عَلَى أَهْلِكَ إِذَا دَخَلْتَ عَلَيْهِمْ، وَأَنْ تُسَلِّمَ عَلَى الْقَوْمِ إِذَا مَرَرْتَ بِهِمْ، فَمَنْ تَرَكَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا [فَقَدْ تَرَكَ سَهْمًا مِنَ الْإِسْلَامِ، وَمَنْ تَرَكَهُنَّ] فَقَدْ وَلَّى الْإِسْلَامَ ظَهْرَهُ».

 

3 - قَالَ أَبُو عُبيد: حَدَّثَنِيهِ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْعَطَّارُ(1) عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عن خالد بن معدان عن

--------------------------------------------

(1) الأصل: «القطان» والتصحيح من «الأمر بالمعروف» للحافظ المقدسي، ويحيى بن سعيد العطار هذا حمصي ضعيف. وقد خولف في إسناده، فرواه جماعة عن ثور بن يزيد عن خالد عن أبي هريرة، لم يذكروا الرجل. أخرجه جمعٌ، منهم: الحاكم 21/ 1، وصححه على شرط البخاري ووافقه الذهبي. وهو كما قالا على ما حققته في «سلسلة الأحاديث الصحيحة».
কোন কিছু [শরিক করা], সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা, বাইতুল্লাহর হজ করা, সৎকাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা, এবং তুমি যখন তোমার পরিবারের নিকট প্রবেশ করবে তখন তাদের সালাম দেওয়া, আর যখন কোনো কওমের পাশ দিয়ে যাবে তখন তাদের সালাম দেওয়া। যে ব্যক্তি এগুলোর কোনো একটি ছেড়ে দেবে [সে ইসলামের একটি অংশ ছেড়ে দিল, আর যে এ সবগুলো ছেড়ে দিল] সে ইসলামকে নিজের পেছনে ফেলে দিল।

 

৩ - আবু উবাইদ বলেন: ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-আত্তার(১) আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি সাওব ইবন ইয়াযিদ থেকে, তিনি খালিদ ইবন মাদান থেকে, তিনি...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘আল-কাত্তান’। হাফিয আল-মাকদিসির ‘আল-আমর বিল মা’রুফ’ গ্রন্থ থেকে এটি সংশোধন করা হয়েছে। এই ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আল-আত্তার হলেন হিমসের বাসিন্দা এবং তিনি যঈফ (দুর্বল)। এর সনদে মতভেদ রয়েছে; একদল বর্ণনাকারী একে সাওব ইবন ইয়াযিদ থেকে, তিনি খালিদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা [মাঝখানের] লোকটির কথা উল্লেখ করেননি। এটি একদল মুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: হাকেম ১/২১; তিনি একে বুখারির শর্তানুযায়ী সহিহ বলেছেন এবং যাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন। আমি ‘সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা’ গ্রন্থে যা তাহকিক করেছি, তাতে এটি তেমনই যেমন তারা উভয়ে বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
رَجُلٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم:.

فَظَنَّ الْجَاهِلُونَ بِوُجُوهِ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ أَنَّهَا مُتَنَاقِضَةٌ؛ لِاخْتِلَافِ الْعَدَدِ مِنْهَا، وَهِيَ بِحَمْدِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ بَعِيدَةٌ عَلَى التَّنَاقُضِ، وَإِنَّمَا وُجُوهُهَا مَا أعلمتُك مِنْ نُزُولِ الْفَرَائِضِ بِالْإِيمَانِ مُتَفَرِّقًا، فَكُلَّمَا نَزَلَتْ وَاحِدَةٌ، أَلْحَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَدَدَهَا بِالْإِيمَانِ، ثُمَّ كُلَّمَا جَدَّدَ اللَّهُ لَهُ مِنْهَا أُخْرَى زَادَهَا فِي الْعَدَدِ حَتَّى جَاوَزَ ذَلِكَ السَّبْعِينَ كَلِمَةً. كَذَلِكَ [فِي] الْحَدِيثِ الْمُثْبَتِ عَنْهُ

أَنَّهُ قَالَ: «الْإِيمَانُ بِضْعَةٌ وَسَبْعُونَ جُزْءًا، أَفْضَلُهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ».

 

4 - قَالَ أَبُو عُبيد: حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ان دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: بهذا الحديث(1).

--------------------------------------------

(1) إسناده صحيح على شرط مسلم، وقد أخرجه في «صحيحه» عن جرير عن سهيل به. وتابعه عن ابن دينار به، انظر ابن أبي شيبة 66.
জনৈক ব্যক্তি হতে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন:

অজ্ঞ লোকেরা এই হাদিসগুলোর বিভিন্ন দিক দেখে মনে করেছিল যে এগুলো পরস্পরবিরোধী; কারণ সেগুলোর সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন ছিল। অথচ আল্লাহর প্রশংসা ও রহমতে সেগুলো বৈপরীত্য থেকে অনেক দূরে। বরং এর প্রকৃত দিক হলো যা আমি আপনাকে জানিয়েছি যে, ঈমান সংক্রান্ত ফরজ বিধানগুলো পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। যখনই কোনো একটি বিধান অবতীর্ণ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সংখ্যাকে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর যখনই আল্লাহ তাঁর জন্য সেগুলোর মধ্য থেকে নতুন কোনো বিধান যুক্ত করেছেন, তখন তিনি সংখ্যার মধ্যে তা বৃদ্ধি করেছেন, এমনকি তা সত্তরটিরও অধিক কথায় পৌঁছেছে। অনুরূপভাবে তাঁর থেকে প্রমাণিত হাদিসে [রয়েছে]

যে তিনি বলেছেন: «ঈমানের সত্তরটিরও কিছু বেশি অংশ রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই—এই সাক্ষ্য দেওয়া এবং এর মধ্যে সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা।»

 

৪ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট আবু আহমাদ আল-জুবাইরি বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান বিন সাঈদ থেকে, তিনি সুহাইল বিন আবি সালেহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে: এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন(১)।

--------------------------------------------

(১) এর সনদ মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ এবং তিনি এটি তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে জারির থেকে, তিনি সুহাইল থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে দিনার থেকেও এটি অনুসৃত হয়েছে, দেখুন ইবনে আবি শাইবা ৬৬।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَإِنْ كَانَ زَائِدًا فِي الْعَدَدِ فَلَيْسَ هُوَ بِخِلَافِ مَا قَبْلَهُ، وَإِنَّمَا تِلْكَ دَعَائِمُ وَأُصُولٌ، وَهَذِهِ فُرُوعُهَا زَائِدَاتٌ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ مِنْ غير تلك الدعائم. فنرى - الله أَعْلَمُ - أَنَّ هَذَا الْقَوْلَ آخِرُ مَا وَصَفَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الإيمان؛ لأن العدد إنما تناها بِهِ، وَبِهِ كَمُلَتْ خِصَالُهُ. وَالْمُصَدِّقُ لَهُ قَوْلُ اللَّهِ تبارك وتعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي} [المائدة: 3].

 

5 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ: «أَنَّ الْيَهُودَ قَالُوا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رَحْمَةُ اللَّهِ عليه: إنكم تقرأون آيَةً، لَوْ نَزَلَتْ فِينَا لَاتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عيداً،
যদিয়ে এটি সংখ্যায় অধিক, তবুও তা পূর্ববর্তী বর্ণনার পরিপন্থী নয়। বরং সেগুলো ছিল মূল স্তম্ভ ও মূলনীতি, আর এগুলো ইমানের শাখা-প্রশাখার অতিরিক্ত অংশ যা সেই মূল স্তম্ভগুলো ব্যতিরেকে। আমরা মনে করি - আর আল্লাহই ভালো জানেন - এই বর্ণনাটিই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক ইমানের সর্বশেষ বর্ণনা; কারণ এর মাধ্যমেই সংখ্যাটি পূর্ণতা পেয়েছে এবং এর মাধ্যমেই এর বৈশিষ্ট্যসমূহ পূর্ণ হয়েছে। আর এর সত্যতা নিশ্চিত করে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩]।

 

৫ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি কায়েস ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন: ইহুদিরা উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-কে বলেছিল: "আপনারা এমন একটি আয়াত পাঠ করেন, যা যদি আমাদের ওপর নাজিল হতো, তবে আমরা অবশ্যই সেই দিনটিকে ইদ হিসেবে গ্রহণ করতাম।"
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فَذَكَرَ هَذِهِ الْآيَةَ، فَقَالَ عمرُ: إِنِّي لأعلمُ حَيْثُ أُنزلت، وَأَيَّ يَوْمٍ أُنْزِلَتْ، [أُنْزِلَتْ] بِعَرَفَةَ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ».

قَالَ سفيانٌ: وَأَشُكُّ أَقَالَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَمْ لَا(1).

 

6 - قَالَ (أَبُو) عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ عن حماد بن(2) سلمة، عن عمار ابن أبي عمار قال: تلى ابنُ عباسٍ هَذِهِ الْآيَةَ، وَعِنْدَهُ يَهُودِيٌّ، فَقَالَ الْيَهُودِيُّ: لَوْ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِينَا لَاتَّخَذْنَا يَوْمَهَا عِيدًا! قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَإِنَّهَا نَزَلَتْ فِي يَوْمِ عِيدٍ؛ يَوْمِ جُمُعَةٍ وَيَوْمِ عَرَفَةَ».

--------------------------------------------

(1) إسناده صحيح على شرط الشيخين، وقد أخرجاه، وفي رواية لمسلم من طريق أبي عميس، عن قيس: نزلت عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بعرفات يوم جمعة.

(2) الأصل: عن.
অতঃপর তিনি এই আয়াতটি উল্লেখ করলেন, তখন উমর বললেন: «আমি অবশ্যই জানি এটি কোথায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং কোন দিনে অবতীর্ণ হয়েছে; [এটি অবতীর্ণ হয়েছে] আরাফায়, যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরাফায় অবস্থান করছিলেন।»

সুফিয়ান বলেন: আর আমার সন্দেহ আছে যে তিনি জুমার দিনের কথা বলেছিলেন কি না(১)।

 

6 - (আবু) উবাইদ বলেন: ইয়াযীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে(২) সালামাহ থেকে, তিনি আম্মার ইবনে আবি আম্মার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস এই আয়াতটি পাঠ করলেন, এমতাবস্থায় তাঁর নিকট এক ইহুদি বসা ছিল। তখন ইহুদিটি বলল: «যদি এই আয়াতটি আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হতো তবে আমরা সেই দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম!» ইবনে আব্বাস বললেন: «নিশ্চয়ই এটি ঈদের দিনেই অবতীর্ণ হয়েছে; জুমার দিন এবং আরাফার দিন।»

--------------------------------------------

(১) এর সনদ শায়খায়নের শর্তানুযায়ী সহীহ এবং তাঁরা এটি বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের এক বর্ণনায় আবু উমাইস-এর সূত্রে কায়েস থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর আরাফাতে জুমার দিনে এটি অবতীর্ণ হয়েছে।

(২) মূল পাঠে রয়েছে: ‘আন’ (থেকে)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
7 - قَالَ أَبُو عُبيد: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: «نزلتْ عَلَيْهِ وَهُوَ واقفٌ بعرفةَ حِينَ اضْمَحَلَّ الشِّرْكُ، وَهُدِمَ مَنَارُ الْجَاهِلِيَّةِ، وَلَمْ يَطُفْ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ»(1). فَذَكَرَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ إِكْمَالَ الدِّينِ فِي هَذِهِ الْآيَةِ، وَإِنَّمَا نَزَلَتْ فِيمَا يُرْوَى قَبْلَ وَفَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِإِحْدَى وَثَمَانِينَ لَيْلَةً.

 

8 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ كَذَلِكَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ:.

فَلَوْ كَانَ الإيمانُ كَامِلًا بِالْإِقْرَارِ، ورسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ فِي أَوَّلِ النُّبُوَّةِ كَمَا يَقُولُ هَؤُلَاءِ مَا كَانَ لِلْكَمَالِ مَعْنًى، وَكَيْفَ يُكَمِّلُ شَيْئًا قَدِ اسْتَوْعَبَهُ وَأَتَى عَلَى آخِرِهِ؟! قَالَ [أَبُو] عُبَيْدٍ: فَإِنْ قَالَ لَكَ قائل: فما هذه الأجزاء الثلاثة وسبعون؟

--------------------------------------------

(1) إسناده مرسل صحيح.
৭ - আবু উবায়দ বলেন: আমাদের নিকট ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বর্ণনা করেছেন দাউদ বিন আবি হিন্দ থেকে, তিনি আশ-শা’বী থেকে, তিনি বলেন: «এটি (আয়াতটি) তাঁর ওপর নাযিল হয়েছিল যখন তিনি আরাফায় অবস্থান করছিলেন; এমন এক সময়ে যখন শিরক বিলুপ্ত হয়েছে, জাহিলিয়াতের নিদর্শনসমূহ ধূলিসাৎ করা হয়েছে এবং উলঙ্গ অবস্থায় কেউ বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছিল না»(১)। অতঃপর আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত—এই আয়াতে দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করার কথা উল্লেখ করেছেন। বর্ণনা অনুযায়ী এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের একাশি রাত পূর্বে নাযিল হয়েছিল।

 

৮ - আবু উবায়দ বলেন: অনুরূপভাবে আমাদের নিকট হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন ইবন জুরাইজ থেকে:।

যদি মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমেই ঈমান পূর্ণাঙ্গ হয়ে যেত—যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়তের শুরুতে মক্কায় ছিলেন—যেমনটি এই লোকেরা বলে থাকে, তবে ‘পূর্ণতা’ শব্দের কোনো অর্থ থাকত না। আর তিনি এমন কোনো কিছুকে কীভাবে পূর্ণ করবেন যা ইতিপূর্বেই সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তার শেষ সীমায় পৌঁছেছে?! [আবু] উবায়দ বলেন: যদি তোমাকে কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করে: তবে এই তিয়াত্তরটি অংশ কী?

--------------------------------------------

(১) এর সনদ মুরসাল সহীহ।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قِيلَ لَهُ: لَمْ تُسَمَّ لَنَا مَجْمُوعَةً فَنُسَمِّيَهَا، غَيْرَ أَنَّ الْعِلْمَ يُحِيطُ أَنَّهَا مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ وَتَقْوَاهُ، وَإِنْ لَمْ تُذْكَرْ لَنَا فِي حَدِيثٍ وَاحِدٍ، وَلَوْ تَفَقَّدْتَ الْآثَارَ لوجِدت مُتَفَرِّقَةً فِيهَا، أَلَا تَسْمَعُ قَوْلَهُ فِي إِمَاطَةِ الْأَذَى وَقَدْ جَعَلَهُ جُزْءًا مِنَ الْإِيمَانِ؟ وَكَذَلِكَ(1)

قَوْلُهُ فِي حَدِيثٍ آخَرَ: «الْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ(2)».

وَفِي الثَّالِثِ: «الْغَيْرَةُ مِنَ الْإِيمَانِ»(3).

وَفِي الرَّابِعِ: «الْبَذَاذَةُ مِنَ الْإِيمَانِ»(4).

وَفِي الْخَامِسِ: «حُسْنُ الْعَهْدِ من الإيمان»(5).

--------------------------------------------

(1) الأصل: «وذلك».

(2) متفق عليه من حديث أبي هريرة. وانظر ابن أبي شيبة 66.

(3) رواه البزار وابن بطة في «الإبانة» عن أبي سعيد مرفوعاً بسندٍ فيه مجهول الحال.

(4) يعني التقشف. والحديث أخرجه أبو داود وابن ماجه وغيرهم عن أبي أمامة الحارثي مرفوعاً، وصححه الحاكم، ووافقه الذهبي.

(5) حديث حسن، وصححه الحاكم، وقد خرجته في «سلسلة الأحاديث الصحيحة».
তাকে বলা হলো: আমাদের জন্য কোনো সমষ্টির নাম উল্লেখ করা হয়নি যা আমরা নামকরণ করতে পারি, তবে জ্ঞান এটুকু পরিবেষ্টন করে আছে যে এগুলি আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর তাকওয়ার অন্তর্ভুক্ত, যদিও কোনো একটি একক হাদীসে আমাদের নিকট তা বর্ণিত হয়নি। আর আপনি যদি বর্ণনাগুলো (আসার) অনুসন্ধান করেন তবে সেগুলোকে সেখানে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাবেন। আপনি কি কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা সম্পর্কে তাঁর বাণী শোনেননি? অথচ তিনি একে ঈমানের অংশ হিসেবে গণ্য করেছেন। এবং অনুরূপভাবে(১)

অন্য একটি হাদীসে তাঁর বাণী: "লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা(২)"।

এবং তৃতীয় বর্ণনায়: "আত্মমর্যাদাবোধ (গাইরাত) ঈমানের অন্তর্ভুক্ত"(৩)।

এবং চতুর্থ বর্ণনায়: "অনাড়ম্বরতা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত"(৪)।

এবং পঞ্চম বর্ণনায়: "অঙ্গীকারের সুচারু পালন ঈমানের অন্তর্ভুক্ত"(৫)।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে রয়েছে: "এবং সেটি"।

(২) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসের ভিত্তিতে এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। আরও দেখুন ইবনু আবী শায়বাহ ৬৬।

(৩) আল-বাযযার এবং ইবনু বাত্তাহ আবু সাঈদ থেকে মারফু সূত্রে 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, যার বর্ণনা সূত্রে একজন পরিচয়হীন বর্ণনাকারী রয়েছেন।

(৪) অর্থাৎ অনাড়ম্বরতা। হাদীসটি আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ এবং অন্যরা আবু উমামাহ আল-হারিসী থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন; আল-হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।

(৫) এটি একটি হাসান হাদীস, আল-হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং আমি এটি 'সিলসিলাতুল আহাদীস আস-সাহীহা' গ্রন্থে তাখরীজ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فَكُلُّ هَذَا مِنْ فُروع الْإِيمَانِ.

وَمِنْهُ حَدِيثُ عَمَّارٍ: «ثلاثٌ مِنَ الْإِيمَانِ: الْإِنْفَاقُ مِنَ الإقتارِ، والإنصافُ مِنْ نفسِك، وبذلُ السَّلَامِ عَلَى العالَم(1)». ثُمَّ الْأَحَادِيثُ الْمَعْرُوفَةُ عِنْدَ ذِكْرِ كَمَالِ الْإِيمَانِ حِينَ

قَالَ: «أَيُّ الْخَلْقِ أَعْظَمُ إِيمَانًا؟ فَقِيلَ الْمَلَائِكَةُ، ثُمَّ قِيلَ نَحْنُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فقال بل قوم يأتون بعدكم(2)».

--------------------------------------------

(1) روي مرفوعاً وموقوفاً، والراجح الموقوف على أنّ في سنده من كان اختلط، انظر الكلام عليه مع تخريجه فيما علّقته على «الكلم الطيّب» لابن تيمية رقم الحديث 195، والحديث 125، من «الإيمان» لابن أبي شيبة وهما طبع مكتبة المعارف بالرياض.

(2) أخرجه الحسن بن عرفة في «جزئه» ق 2/ 90 عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده مرفوعاً وسنده ضعيف. وأخرجه الحاكم من حديث عمر، وصحّحه، وردّه الذهبي عليه، وبيان ذلك في المائة السابعة من «سلسلة الأحاديث الضعيفة».
সুতরাং এই সবকিছুই ঈমানের শাখা-প্রশাখার অন্তর্ভুক্ত।

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো আম্মার-এর হাদীস: «তিনটি বিষয় ঈমানের অংশ: অভাবের সময় দান করা, নিজের পক্ষ থেকে ইনসাফ করা এবং জগৎবাসীর নিকট সালাম প্রচার করা(১)»। অতঃপর ঈমানের পূর্ণতা বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ হাদীসসমূহ, যখন তিনি

বললেন: «সৃষ্টির মধ্যে কাদের ঈমান সবচেয়ে মহান? বলা হলো: ফেরেশতাদের। এরপর বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি? তিনি বললেন: বরং তারা এমন এক জাতি যারা তোমাদের পরে আসবে(২)»।

--------------------------------------------

(১) এটি মারফু এবং মাওকুফ উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে, আর অগ্রগণ্য মত হলো এটি মাওকুফ। তদুপরি এর সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছেন যার স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল। এই বিষয়ে আলোচনা এবং এর তাখরীজ দেখুন ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর ‘আল-কালিমুত তাইয়্যিব’-এর ওপর আমার টীকায় ১৯৫ নং হাদীসে, এবং ইবনে আবী শাইবাহ-এর ‘আল-ঈমান’ গ্রন্থের ১২৫ নং হাদীসে। এই উভয়টি রিয়াদের মাকতাবাতুল মাআরিফ থেকে মুদ্রিত।

(২) এটি হাসান ইবনে আরাফাহ তার ‘জুয’ (২/ ৯০) গ্রন্থে আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ দুর্বল। ইমাম হাকিম এটি উমর-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবী এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর বিস্তারিত বর্ণনা ‘সিলসিলাতুল আহাদীস আদ-দায়ীফাহ’ গ্রন্থের সপ্তম শতকের (৭০০ নং সংলগ্ন) হাদীসসমূহের মধ্যে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَذَكَرَ صِفَتَهُمْ.

وَمِنْهُ أَيْضًا قَوْلُهُ: «إِنَّ أَكْمَلَ، أَوْ مِنْ أَكْمَلِ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا»(1).

وَكَذَلِكَ(2) قَوْلُهُ: «لَا يُؤْمِنُ الرَّجُلُ الْإِيمَانَ كُلَّهُ حَتَّى يَدَعَ الْكَذِبَ فِي الْمِزَاحِ، وَالْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ صَادِقًا»(3). وَقَدْ رُوِيَ مِثْلُهُ أَوْ نَحْوُهُ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَابْنِ عُمَرَ. ثُمَّ مِنْ أَوْضَحِ ذَلِكَ وَأَبْيَنِهِ حَدِيثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في

--------------------------------------------

(1) حديث صحيح، وصحّحه جماعة، وقد أخرجه ابن أبي شيبة من حديث أبي هريرة وعائشة والحسن البصري، فراجع تعليقنا عليه رقم: 17 و 20 و 120.

(2) الأصل: «وذلك».

(3) أخرجه أحمد 352/ 2، 353، 354. من حديث مكحول عن أبي هريرة مرفوعاً به، ومكحول لم يسمع من أبي هريرة رضي الله عنه.
অতঃপর তিনি তাদের গুণাবলি বর্ণনা করেছেন।

এর মধ্য থেকে তাঁর (রাসূলুল্লাহর) এই বাণীটিও রয়েছে: “নিশ্চয় মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ (বা সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গদের অন্তর্ভুক্ত) হলো তারা, যারা তাদের মধ্যে চরিত্রে সর্বোত্তম”(১)।

অনুরূপভাবে(২) তাঁর বাণী: “কোনো ব্যক্তি পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে কৌতুকের ছলে মিথ্যা বলা এবং ঝগড়া-বিবাদ বর্জন করবে, যদিও সে সত্যবাদী হয়”(৩)। অনুরূপ বা কাছাকাছি বর্ণনা উমর ইবনুল খাত্তাব এবং ইবনে উমর থেকেও বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর এর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস...

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি সহীহ, এবং একদল আলেম একে সহীহ বলেছেন। ইবনে আবি শাইবাহ এটি আবু হুরায়রা, আয়েশা এবং হাসান বসরী বর্ণিত হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এ বিষয়ে আমাদের ১৭, ২০ এবং ১২০ নম্বর টীকাটি দেখুন।

(২) মূল পাঠে রয়েছে: “এবং সেটি”।

(৩) ইমাম আহমাদ এটি ২/৩৫২, ৩৫৩, ৩৫৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। এটি মাকহুল কর্তৃক আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মারফু হাদীস হিসেবে উদ্ধৃত, তবে মাকহুল আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে কোনো হাদীস শোনেননি।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাআরিফ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الشَّفَاعَةِ، حِينَ

قَالَ: «فَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ شَعِيرَةٍ مِنْ إِيمَانٍ، وبُرة مِنْ إِيمَانٍ، وَمِثْقَالُ ذَرَّةٍ»(1). وَإِلَّا صُولِبَ(2). وَمِنْهُ حَدِيثُهُ فِي الْوَسْوَسَةِ حِينَ

سُئِلَ عَنْهَا؟ فَقَالَ: «ذَلِكَ صَرِيحُ الْإِيمَانِ»(3). وَكَذَلِكَ حَدِيثُ

عَلِيٍّ عليه السلام: «إِنَّ الْإِيمَانَ يَبْدَأُ لُمْظَة(4) فِي الْقَلْبِ، فَكُلَّمَا ازْدَادَ الْإِيمَانُ عِظَمًا ازْدَادَ ذَلِكَ الْبَيَاضُ عِظَمًا»(5). فِي أَشْيَاءَ مِنْ هَذَا النَّحْوِ كثيرة يطول

--------------------------------------------

(1) متفق عليه من حديث أنس رضي الله عنه، وأخرجه ابن أبي شيبة 35.

(2) كذا الأصل مهمل الحروف.

(3) أخرجه مسلم وغيره من حديث أبي هريرة، وهو مخرج في «الأحاديث الصحيحة».

(4) بضم اللام مثل النكتة من البياض.

(5) هذا موقوف على عليّ رضي الله عنه، كذلك أخرجه ابن أبي شيبة في كتابه رقم 8، وإسناده منقطع كما بيّنته هناك.
সুপারিশের বিষয়ে, যখন

তিনি বলেছেন: «অতঃপর জাহান্নাম থেকে বের করা হবে তাকে যার হৃদয়ে বার্লি দানা পরিমাণ ঈমান আছে, গমের দানা পরিমাণ ঈমান আছে এবং অণু পরিমাণ (ঈমান আছে)»(১)। অন্যথায় তাকে শূলে চড়ানো হবে(২)। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) সম্পর্কে তাঁর হাদিস যখন

তাঁকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বলেছিলেন: «সেটি হলো খাঁটি ঈমান»(৩)। অনুরূপভাবে

আলী (আলাইহিস সালাম)-এর হাদিস: «নিশ্চয়ই ঈমান হৃদয়ে একটি সাদা বিন্দুর মতো শুরু হয়, অতঃপর যখনই ঈমান মহত্ত্বে বৃদ্ধি পায়, সেই শুভ্রতাও মহত্ত্বে বৃদ্ধি পায়»(৫)। এই জাতীয় অনেক বিষয় রয়েছে যা বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে

--------------------------------------------

(১) আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম), এবং ইবনে আবি শায়বাহ এটি বর্ণনা করেছেন (৩৫)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই বর্ণগুলো নুকতাহীন বা অস্পষ্ট রয়েছে।

(৩) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে মুসলিম ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন, এবং এটি «আল-আহাদিস আস-সহিহা» গ্রন্থে উদ্ধৃত হয়েছে।

(৪) লাম বর্ণে পেশসহ, এর অর্থ হলো শুভ্র বিন্দুর মতো।

(৫) এটি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর মাওকুফ, অনুরূপভাবে ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন (নং ৮), এবং এর সনদ মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) যেমনটি আমি সেখানে স্পষ্ট করেছি।