(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: -)
أسباب النزول ت الحميدان   (الواحدي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: أسباب نزول القرآن

المؤلف: أبو الحسن علي بن أحمد بن محمد بن علي الواحدي، النيسابوري، الشافعي (ت 468هـ)

المحقق: عصام بن عبد المحسن الحميدان

قال المحقق: قمت بتوفيق الله وحده بتخريج أحاديث الكتاب تخريجا مستوفى على ما ذكر العلماء أو ما توصلت إليه من خلال نقد تلك الأسانيد

الناشر: دار الإصلاح - الدمام

الطبعة: الثانية، 1412 هـ - 1992 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 474

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আসবাবুন নুযূল (আল-হুমায়দান তাহকীককৃত)   (আল-ওয়াহিদী)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসীরের মূলনীতি


কিতাব: আসবাবুন নুযূলুল কুরআন

লেখক: আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-ওয়াহিদী، আন-নায়সাবুরী، আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৪৬৮ হিজরী)

সম্পাদক: ইসাম বিন আব্দুল মুহসিন আল-হুমায়দান

সম্পাদক বলেছেন: আমি একমাত্র আল্লাহর তৌফিকে কিতাবটির হাদিসসমূহের পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি, যা আলেমগণ উল্লেখ করেছেন বা আমি ঐসব সনদের পর্যালোচনার মাধ্যমে পৌঁছেছি তার ভিত্তিতে।

প্রকাশক: দারুল ইসলাহ - দাম্মাম

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১২ হিজরী - ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৪

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: -)
ـ[أسباب النزول]ـ

المؤلف: أبو الحسن علي بن أحمد بن محمد بن علي الواحدي، النيسابوري، الشافعي (المتوفى: 468هـ)

المحقق: عصام بن عبد المحسن الحميدان

قال المحقق: قمت بتوفيق الله وحده بتخريج أحاديث الكتاب تخريجا مستوفى على ما ذكر العلماء أو ما توصلت إليه من خلال نقد تلك الأسانيد

الناشر: دار الإصلاح - الدمام

الطبعة: الثانية، 1412 هـ - 1992 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]

--------------------------------------------

الكتاب مرتبط بنسخة مصورة لنفس طبعته، وأيضا مرتبط بنسخة شاملة لطبعة أخرى (ط العلمية)
[আসবাবুন নুযূল]

লেখক: আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-ওয়াহিদী, আন-নাইসাবুরী, আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু: ৪৬৮ হিজরি)

সম্পাদক: ইসাম বিন আব্দুল মুহসিন আল-হুমাইদান

সম্পাদক বলেন: আমি কেবল আল্লাহর তৌফিকের মাধ্যমে গ্রন্থটির হাদিসসমূহের একটি পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা-সূত্র যাচাই (তাখরিজ) সম্পন্ন করেছি, যা আলেমগণ উল্লেখ করেছেন অথবা সেই বর্ণনা-সূত্রগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে আমি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তার আলোকে।

প্রকাশক: দারুল ইসলাহ - দাম্মাম

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]

--------------------------------------------

বইটি এর নিজস্ব সংস্করণের একটি চিত্রায়িত (স্ক্যানকৃত) কপির সাথে যুক্ত, এবং অন্য একটি সংস্করণের (আল-ইলমিয়্যাহ প্রকাশনী) একটি পূর্ণাঙ্গ কপির সাথেও যুক্ত।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ৫)
أسباب النزول

المقدمة

‌‌مقدمة المحقق

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرًا أما بعد.

فإن كان لا بد لي من تمهيد فأقول إن أسباب النزول مظلومة بحق، إذ مع كل هذه الأهمية التي تحظي بها، وكل هذه النقول والمصادر التي تعتمد عليها - إذ لا يخلو باحث في مجال علوم القرآن خاصة، وعلوم الشريعة عامة من الاقتباس منها - أقول: مع كل ذلك، لم يكلف أحد نفسه عناء تخريجها، وبيان صحيحها من سقيمها، اللهم إلا محاولة متواضعة قام بها الأخ الشيخ مقبل الوادعي، وهي خطوة في طريق الكمال يشكر عليها.

وقد وقع اختياري على أشهر كتاب في هذا الفن وهو كتاب "أسباب النزول" للواحدي النيسابوري، الذي قلما تخلو منه مكتبة باحث، وقد صرح العلماء بتفوقه في هذا المجال كالزركشي (البرهان: 1/22) والسيوطي (الإتقان: 1/38، لباب النقول: 16) وغيرهما (مباحث في علوم القرآن للقطان: 75 علوم القرآن لزرزور: 133) ، وأنا أعلم أن هذا الكتاب المهم لم تمتد إليه يد العناية، اللهم إلا ما كان من الأستاذ الشيخ السيد أحمد صقر رحمه الله وهي مع دقتها وقلة أخطائها لم تستوف جانب تخريج الأحاديث، مع أن هذه الخطوة هي الخطوة الأهم في تحقيق هذا الكتاب، إذ اعتماده أساسًا على الإسناد، من أجل كل هذا قمت بتوفيق الله وحده بتخريج أحاديث الكتاب تخريجا مستوفى على ما ذكر العلماء أو ما توصلت إليه من
আসবাবুন নুজুল

ভূমিকা

‌‌মুহাক্কিকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীবৃন্দের ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:

যদি আমাকে একটি উপক্রমনিকা পেশ করতেই হয়, তবে আমি বলব যে, আসবাবুন নুজুল (নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট) বিষয়টি প্রকৃতপক্ষেই অবহেলিত। কেননা, এর যে ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে এবং এর ওপর ভিত্তি করে রচিত অসংখ্য উদ্ধৃতি ও উৎস থাকা সত্ত্বেও — কারণ উলূমুল কুরআনের গবেষকগণ বিশেষভাবে এবং শরীআহ বিজ্ঞানের গবেষকগণ সাধারণভাবে এ থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করা ছাড়া থাকেন না — আমি বলব: এই সব সত্ত্বেও, কেউ এর বর্ণনাগুলোর উৎস নির্ণয় (তাখরীজ) এবং সহীহ ও যয়ীফের পার্থক্য নিরূপণের কষ্টটুকু স্বীকার করেননি; তবে ভাই শাইখ মুকবিল আল-ওয়াদিঈ কর্তৃক পরিচালিত একটি বিনম্র প্রচেষ্টা ব্যতীত। এটি পূর্ণতার পথে একটি পদক্ষেপ যার জন্য তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

আর আমি এই শাস্ত্রের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কিতাবটিকে বেছে নিয়েছি, আর তা হলো ওয়াহিদী আন-নিসাবুরীর "আসবাবুন নুজুল", যা কোনো গবেষকের পাঠাগারেই সাধারণত বিরল নয়। আলেমগণ এই ক্ষেত্রে এর শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেমন যারকাশী (আল-বুরহান: ১/২২), সুয়ূতী (আল-ইতকান: ১/৩৮, লুবাবুন নুকুল: ১৬) এবং অন্যান্যরা (কাত্তানের মাবাহিস ফি উলুমিল কুরআন: ৭৫, যারযুরের উলুমুল কুরআন: ১৩৩)। আমি জানি যে, এই গুরুত্বপূর্ণ কিতাবটির প্রতি সেভাবে যত্নের হাত প্রসারিত হয়নি, তবে উস্তাদ শাইখ সাইয়্যেদ আহমদ সাকার (রহ.)-এর কাজ ব্যতীত। তাঁর কাজটি সূক্ষ্মতা ও ভুলের স্বল্পতা সত্ত্বেও হাদীসের তাখরীজের দিকটি পুরোপুরি সম্পন্ন করেনি, অথচ এই কিতাবটি সম্পাদনার (তাহকীক) ক্ষেত্রে এটিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ; কারণ এই কিতাবটি মূলত সনদের ওপর নির্ভরশীল। এই সমস্ত কারণেই, আমি একমাত্র আল্লাহর তাওফিকে কিতাবটির হাদীসসমূহের একটি পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ সম্পন্ন করেছি, যা আলেমগণ উল্লেখ করেছেন অথবা আমি যে পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি তার ভিত্তিতে।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ৬)
خلال نقد تلك الأسانيد، فما كان من عملي من صواب فمن الله وما كان من خطأ فمن نفسي والشيطان، والله ورسوله منه بريئان.

والله أسأل أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم إنه جواد كريم.

 

عصام بن عبد المحسن الحميدان

الدمام - الطبيشي 21 - 12 - 1407 هـ
সেই সনদগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে, আমার এই কাজের মধ্যে যা কিছু সঠিক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর মহান চেহারার জন্য নিবেদিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও মহানুভব।

 

ইসাম বিন আব্দুল মুহসিন আল-হুমাইদান

দাম্মাম - আত-তুবাইশি ২১ - ১২ - ১৪০৭ হিজরি
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة المؤلف

بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر ولا تعسر

قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْوَاحِدِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ رحمه الله: الْحَمْدُ لِلَّهِ الْكَرِيمِ الْوَهَّابِ، هَازِمِ الْأَحْزَابِ، وَمُفَتِّحِ الْأَبْوَابِ، وَمُنْشِئِ السَّحَابِ، وَمُرْسِي الْهِضَابِ، وَمُنْزِلِ الْكِتَابِ، فِي حَوَادِثَ مُخْتَلِفَةِ الْأَسْبَابِ. أَنْزَلَهُ مُفَرَّقًا نُجُومًا وَأَوْدَعَهُ أَحْكَامًا وَعُلُومًا قَالَ عَزَّ مِنْ قَائِلٍ: {وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا} (1)

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ محمد الأصفهاني، قال: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بن حيان، قال: حَدَّثَنَا أَبُو يحيى الرازي، قال: حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عثمان العسكري، قال: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زريع، قال: حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ} ذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ كَانَ بَيْنَ أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ سَنَةً، أُنْزِلَ عَلَيْهِ بِمَكَّةَ ثَمَانِيَ سِنِينَ قَبْلَ أَنْ يُهَاجِرَ وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ.

أخبرنا أحمد قال: أَخْبَرَنَا عبد الله قال: أَخْبَرَنَا أَبُو يحيى الرازي قال: حدثنا سهل قال: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ عَنْ هُشَيْمٍ عَنْ دَاوُدَ عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: فَرَّقَ اللَّهُ تَنْزِيلَهُ فَكَانَ بَيْنَ أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ عِشْرُونَ أَوْ نَحْوٌ مِنْ عِشْرِينَ سَنَةً أَنْزَلَهُ قُرْآنًا عَظِيمًا، وَذِكْرًا حَكِيمًا وَحَبْلًا مَمْدُودًا، وَعَهْدًا مَعْهُودًا، وَظِلًّا عَمِيمًا، وَصِرَاطًا مُسْتَقِيمًا، فِيهِ مُعْجِزَاتٌ بَاهِرَةٌ، وَآيَاتٌ ظَاهِرَةٌ، وَحُجَجٌ صَادِقَةٌ،

--------------------------------------------

(1) - سورة الإسراء: الآية 106.
লেখকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে রব, সহজ করে দিন এবং কঠিন করবেন না।

শায়খ ইমাম আবুল হাসান আলী বিন আহমদ আল-ওয়াহিদী আন-নাইসাবুরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অত্যন্ত দয়ালু ও অতিদানশীল, সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিতকারী, দ্বার উন্মোচনকারী, মেঘমালার স্রষ্টা, পাহাড়সমূহকে দৃঢ়ভাবে স্থাপনকারী এবং বিভিন্ন কারণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কিতাব অবতীর্ণকারী। তিনি তা অংশ অংশ করে অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে বিধান ও জ্ঞান গচ্ছিত রেখেছেন। মহাপরাক্রমশালী সত্তা বলেন: "আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে পাঠ করেন বিরতি দিয়ে এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি।" (১)

শায়খ আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আসবাহানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হাইয়্যান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াহইয়া আর-রাজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাহল বিন উসমান আল-আসকারি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ বিন জুরাই আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু রাজা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি হাসানকে মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বলতে শুনেছি: "আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে পাঠ করেন বিরতি দিয়ে।" আমাদের কাছে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর প্রথম ও শেষ অবতীর্ণ হওয়ার মাঝে আঠারো বছরের ব্যবধান ছিল। হিজরতের আগে মক্কায় আট বছর এবং মদিনায় দশ বছর তাঁর ওপর তা অবতীর্ণ করা হয়েছে।

আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াহইয়া আর-রাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সাহল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবু বুকাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হুশাইম থেকে, তিনি দাউদ থেকে, তিনি শাবী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহ তাঁর অবতীর্ণ কিতাবকে খণ্ড খণ্ড করেছেন, ফলে এর শুরু ও শেষের মাঝে বিশ বছর বা বিশ বছরের কাছাকাছি সময় ছিল। তিনি একে এক মহান কুরআন, প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ, এক সম্প্রসারিত রশি, এক সুনিশ্চিত প্রতিশ্রুতি, এক সুদূরপ্রসারী ছায়া এবং এক সরল পথ হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। এতে রয়েছে সুস্পষ্ট মুজিজা, প্রকাশ্য নিদর্শন এবং সত্য দলিলসমূহ।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-ইসরা: আয়াত ১০৬।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ৮)
وَدَلَالَاتٌ نَاطِقَةٌ، أَدْحَضَ بِهِ حُجَجَ الْمُبْطِلِينَ، وَرَدَّ بِهِ كيد

الكائدين، وَقَوِيَ بِهِ الْإِسْلَامُ والدين، فلمع مِنْهَاجُهُ، وَثَقُبَ سِرَاجُهُ وشملت بركته، ولمعت حِكْمَتُهُ عَلَى خَاتَمِ الرِّسَالَةِ، وَالصَّادِعِ بِالدَّلَالَةِ، الْهَادِي لِلْأُمَّةِ، الْكَاشِفِ لِلْغُمَّةِ، النَّاطِقِ بِالْحِكْمَةِ، الْمَبْعُوثِ بِالرَّحْمَةِ، فَرَفَعَ أَعْلَامَ الْحَقِّ، وَأَحْيَا مَعَالِمَ الصِّدْقِ، وَدَمَغَ الْكَذِبَ وَمَحَا آثَارَهُ، وَقَمَعَ الشِّرْكَ وَهَدَمَ مَنَارَهُ، وَلَمْ يَزَلْ يُعَارِضُ بِبَيِّنَاتِهِ أَبَاطِيلَ الْمُشْرِكِينَ حَتَّى مَهَّدَ الدِّينَ، وَأَبْطَلَ شُبَهَ الْمُلْحِدِينَ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ صَلَاةً لَا يَنْتَهِي أَمَدُهَا، وَلَا يَنْقَطِعُ مَدَدُهَا، وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ الَّذِينَ هَدَاهُمْ وَطَهَّرَهُمْ، وَبِصُحْبَتِهِ خَصَّهُمْ وَآثَرَهُمْ، وَسَلَّمَ كَثِيرًا.

وَبَعْدَ هَذَا فَإِنَّ عُلُومَ الْقُرْآنِ غَزِيرَةٌ، وَضُرُوبَهَا جَمَّةٌ كَثِيرَةٌ، يَقْصُرُ عَنْهَا الْقَوْلُ وَإِنْ كَانَ بَالِغًا وَيَتَقَلَّصُ عَنْهَا ذَيْلُهُ وإن كان سابقًا، وَقَدْ سَبَقَتْ لِي وَلِلَّهِ الْحَمْدُ مَجْمُوعَاتٌ تَشْتَمِلُ عَلَى أَكْثَرِهَا، وَتَنْطَوِي عَلَى غَرَرِهَا، وَفِيهَا لِمَنْ رَامَ الْوُقُوفَ عَلَيْهَا مَقْنَعٌ وَبَلَاغٌ، وَعَمَّا عَدَاهَا مِنْ جَمِيعِ الْمُصَنَّفَاتِ غُنْيَةٌ وَفَرَاغٌ، لِاشْتِمَالِهَا عَلَى عُظْمِهَا مُتَحَقِّقًا، وَتَأْدِيَتِهِ إِلَى مُتَأَمِّلِهِ مُتَّسِقًا، غَيْرَ أَنَّ الرَّغَبَاتِ الْيَوْمَ عَنْ عُلُومِ الْقُرْآنِ صَادِفَةٌ كَاذِبَةٌ فِيهَا، قَدْ عَجَزَتْ قُوَى الْمَلَامِ عَنْ تَلَافِيهَا، فَآلَ الْأَمْرُ بِنَا إِلَى إِفَادَةِ الْمُبْتَدِئِينَ بِعُلُومِ الْكِتَابِ، إِبَانَةَ مَا أُنْزِلَ فِيهِ مِنَ الْأَسْبَابِ، إِذْ هِيَ أَوْفَى مَا يَجِبُ الْوُقُوفُ عَلَيْهَا، وَأَوْلَى مَا تُصْرَفُ الْعِنَايَةُ إِلَيْهَا، لِامْتِنَاعِ مَعْرِفَةِ تَفْسِيرِ الْآيَةِ وَقَصْدِ سَبِيلِهَا، دُونَ الْوُقُوفِ عَلَى قِصَّتِهَا وَبَيَانِ نُزُولِهَا. وَلَا يَحِلُّ الْقَوْلُ فِي أَسْبَابِ نُزُولِ الْكِتَابِ، إِلَّا بِالرِّوَايَةِ وَالسَّمَاعِ مِمَّنْ شاهدوا التنزيل، ووققوا عَلَى الْأَسْبَابِ، وَبَحَثُوا عَنْ عِلْمِهَا وَجَدُّوا فِي الطِّلَابِ، وَقَدْ وَرَدَ الشَّرْعُ بِالْوَعِيدِ لِلْجَاهِلِ ذِي الْعِثَارِ فِي الْعِلْمِ بِالنَّارِ.

أَخْبَرَنَا أَبُو إِبْرَاهِيمَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إبراهيم الواعظ قال: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حامد العطار قال: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عبد الجبار قال: حَدَّثَنَا لَيْثُ بن حماد قال: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ

صلى الله عليه وسلم "اتَّقُوا الْحَدِيثَ عَنِّي
এবং সুস্পষ্ট প্রমাণাদি, যার মাধ্যমে তিনি বাতিলপন্থীদের যুক্তি খণ্ডন করেছেন, ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছেন এবং ইসলাম ও দ্বীনকে শক্তিশালী করেছেন। ফলে ইসলামের পথ উজ্জ্বল হয়েছে, এর প্রদীপ দীপ্তিময় হয়েছে এবং এর বরকত পরিব্যাপ্ত হয়েছে। আর এর হিকমত প্রতিভাত হয়েছে নবুয়তের মোহর, প্রমাণের অকাট্য ঘোষণাকারী, উম্মতের পথপ্রদর্শক, দুঃখ-কষ্ট বিমোচনকারী, প্রজ্ঞাময় বাণীর বক্তা এবং রহমত হিসেবে প্রেরিত রাসূলের ওপর। তিনি সত্যের ঝাণ্ডাকে সমুন্নত করেছেন, সততার নিদর্শনগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, মিথ্যাকে চূর্ণ করেছেন ও তার চিহ্নসমূহ মুছে দিয়েছেন এবং শিরককে দমিত করে তার মিনার ধ্বংস করেছেন। তিনি তাঁর সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী দ্বারা মুশরিকদের অলীক দাবিগুলোকে ক্রমাগত প্রতিহত করেছেন, যতক্ষণ না তিনি দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং ধর্মত্যাগীদের সংশয়সমূহ বাতিল করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এমন রহমত বর্ষণ করুন যার সময়সীমা শেষ হবে না এবং যার ধারা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপরও, যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন ও পবিত্র করেছেন এবং তাঁর সাহচর্য দিয়ে তাঁদেরকে বিশিষ্ট ও অগ্রগণ্য করেছেন; আর তাঁদের ওপর অশেষ শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর কথা হলো, কুরআনের জ্ঞানসমূহ অত্যন্ত সুপ্রচুর এবং এর প্রকারভেদ অনেক। এর বর্ণনা করতে গেলে শব্দ ফুরিয়ে যায়, যদিও তা উচ্চাঙ্গের হয় এবং তার পরিধি সংকুচিত হয়ে আসে, যদিও তা অগ্রগামী হয়। আলহামদুলিল্লাহ, ইতিপূর্বে আমার এমন সব সংকলন প্রকাশিত হয়েছে যা এর অধিকাংশ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর শ্রেষ্ঠ অংশগুলোকে ধারণ করে। যারা এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে চায় তাদের জন্য তাতে যথেষ্ট খোরাক ও পর্যাপ্ততা রয়েছে এবং অন্য সকল গ্রন্থ থেকে বিমুখ থাকার মতো তুষ্টি ও অবকাশ আছে। কারণ তা বিষয়টির সারমর্মকে সুনিশ্চিতভাবে ধারণ করেছে এবং চিন্তাশীল ব্যক্তির কাছে সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপন করেছে। তবে বর্তমান সময়ে কুরআনের জ্ঞানসমূহের প্রতি মানুষের আগ্রহ বিমুখ ও কৃত্রিম হয়ে পড়েছে, এমনকি তিরস্কারের শক্তিও তা সংশোধন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। ফলে বিষয়টি আমাদের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে যে, আমরা কুরআনের জ্ঞান অন্বেষণকারী নবীনদের কিতাবুল্লাহ নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপটসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে উপকৃত করব। কেননা এটিই এমন বিষয় যা জানা সবচেয়ে বেশি জরুরি এবং যার প্রতি মনোযোগ দেওয়া সর্বাধিক অগ্রাধিকারযোগ্য। কারণ কোনো আয়াতের তাফসীর এবং তার উদ্দেশ্য অনুধাবন করা সম্ভব নয় তার প্রেক্ষাপট ও নাযিল হওয়ার বিবরণ জানা ব্যতীত। আর কিতাবুল্লাহ নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কথা বলা বৈধ নয় কেবল সেই বর্ণনা ও শ্রবণের মাধ্যম ছাড়া যারা ওহী নাযিল হতে দেখেছেন, প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, তার জ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং তা অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আর শরীয়তে মূর্খতা ও জ্ঞানহীনভাবে পদস্খলনকারীর জন্য আগুনের হুঁশিয়ারি এসেছে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইবরাহিম ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আল-ওয়াইজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হামিদ আল-আত্তার, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন লাইস ইবনে হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আওয়ানাহ, তিনি আব্দুল আ’লা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমার পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করো...
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ৯)
إِلَّا مَا عَلِمْتُمْ فَإِنَّهُ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَى الْقُرْآنِ مِنْ غَيْرِ عِلْمٍ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ" وَالسَّلَفُ الْمَاضُونَ رحمهم الله كانوا من أَبْعَدِ الْغَايَةِ احْتِرَازًا عَنِ الْقَوْلِ فِي نُزُولِ الْآيَةِ.

أَخْبَرَنَا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ الله المخلدي قال: أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرِو بن نجيد قال: أَخْبَرَنَا أبو مسلم قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بن حماد قال: حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ محمد بن سيربن قَالَ: سَأَلْتُ عُبَيْدَةَ عَنْ آيَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ فَقَالَ: اتَّقِ اللَّهَ وَقُلْ سَدَادًا ذَهَبَ الَّذِينَ يَعْلَمُونَ فِيمَا أُنْزِلَ الْقُرْآنُ.

وَأَمَّا الْيَوْمُ فَكُلُّ أَحَدٍ يَخْتَرِعُ شَيْئًا وَيَخْتَلِقُ إِفْكًا وَكَذِبًا مُلْقِيًا زِمَامَهُ إِلَى الْجَهَالَةِ غَيْرَ مُفَكِّرٍ فِي الْوَعِيدِ لِلْجَاهِلِ بِسَبَبِ نُزُولِ الْآيَةِ وَذَلِكَ الَّذِي حَدَا بِي إِلَى إِمْلَاءِ هَذَا الْكِتَابِ الْجَامِعِ لِلْأَسْبَابِ، لِيَنْتَهِيَ إِلَيْهِ طَالِبُوا هَذَا الشَّأْنِ وَالْمُتَكَلِّمُونَ فِي نُزُولِ الْقُرْآنِ، فَيَعْرِفُوا الصِّدْقَ وَيَسْتَغْنُوا عَنِ التَّمْوِيهِ وَالْكَذِبِ وَيَجِدُّوا فِي تَحَفُّظِهِ بَعْدَ السَّمَاعِ وَالطَّلَبِ، وَلَا بُدَّ مِنَ الْقَوْلِ أَوَّلًا فِي مَبَادِئِ الْوَحْيِ وَكَيْفِيَّةِ نُزُولِ الْقُرْآنِ ابْتِدَاءً عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَعَهُّدِ جِبْرِيلَ إِيَّاهُ بِالتَّنْزِيلِ، وَالْكَشْفِ عَنْ تِلْكَ الْأَحْوَالِ وَالْقَوْلُ فِيهَا عَلَى طَرِيقِ الْإِجْمَالِ، ثُمَّ نَفْرَغُ لِلْقَوْلِ مُفَصَّلًا فِي سَبَبِ نُزُولِ كُلِّ آيَةٍ رُوِيَ لَهَا سَبَبٌ مَقُولٌ، مَرْوِيٌّ مَنْقُولٌ، وَاللَّهُ تَعَالَى الْمُوَفِّقُ لِلصَّوَابِ وَالسَّدَدِ وَالْآخِذُ بِنَا عَنِ الْعَاثُورِ إِلَى الْجَدَدِ.
"...ব্যতীত যা তোমরা জেনেছ। কারণ, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়া কুরআনের ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" আর গত হয়ে যাওয়া পূর্বসূরিগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর দয়া করুন) আয়াতের অবতরণের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কোনো কথা বলার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ের সতর্কতা অবলম্বন করতেন।

আমাদেরকে আবু নাসর আহমদ ইবনে উবায়দুল্লাহ আল-মুখাল্লাদি সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদেরকে আবু আমর ইবনে নুজাইদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদেরকে আবু মুসলিম সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে আউন মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উবাইদাহকে কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: "আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তারা গত হয়ে গেছেন যারা জানতেন যে কুরআন কিসের পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে।"

আর বর্তমান সময়ে তো প্রত্যেকেই নতুন কিছু উদ্ভাবন করছে এবং মিথ্যা ও অপবাদ রচনা করছে, নিজের লাগামকে মূর্খতার হাতে সঁপে দিয়ে। তারা আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য যে হুঁশিয়ারি রয়েছে, তা নিয়ে চিন্তা করে না। আর এই বিষয়টিই আমাকে অবতরণের কারণসমূহ (আসবাবুন নুযূল) সংক্রান্ত এই পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থটি সংকলন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে এই বিষয়ের শিক্ষার্থী এবং কুরআনের অবতরণ নিয়ে যারা আলোচনা করেন তারা এর শরণাপন্ন হতে পারেন। এর ফলে তারা সত্যকে জানতে পারবেন এবং প্রবঞ্চনা ও মিথ্যাচার থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারবেন, আর শ্রবণ ও জ্ঞান অর্জনের পর তা সংরক্ষণে সচেষ্ট হতে পারবেন। তবে প্রথমে ওহীর সূচনা এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর প্রাথমিকভাবে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতি এবং জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর ওহী নিয়ে আসার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আলোচনা করা আবশ্যক। সেই অবস্থাগুলো উন্মোচন করা এবং সে বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা প্রয়োজন। এরপর আমরা প্রতিটি আয়াতের অবতরণের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় মনোনিবেশ করব, যেগুলোর ব্যাপারে কোনো বক্তব্য বা বর্ণনা বর্ণিত ও সংকলিত হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলাই সঠিক ও নির্ভুল পথের তাওফিক দাতা এবং তিনিই আমাদের বিপদসংকুল পথ থেকে সহজ ও সঠিক পথের দিকে নিয়ে যান।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌القول في أول ما نزل من القرآن

أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ أَحْمَدُ بن إبراهيم المقري قال: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حامد الأصفهاني قال: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الحسن الحافظ قال: حدثني مُحَمَّدُ بن يحيى قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ ابْنِ شهاب الزهري قال: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ: "أَوَّلُ مَا بُدِئَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْوَحْيِ الرُّؤْيَا الصَّادِقَةُ فِي النَّوْمِ فَكَانِ لَا يَرَى رُؤْيَا إِلَّا جَاءَتْ مِثْلَ فَلَقِ الصُّبْحِ ثُمَّ حُبِّبَ إِلَيْهِ الْخَلَاءُ فَكَانَ يَأْتِي حِرَاءً فَيَتَحَنَّثُ فِيهِ - وَهُوَ التَّعَبُّدُ - اللَّيَالِيَ ذَوَاتِ الْعَدَدِ وَيَتَزَوَّدُ لِذَلِكَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى خَدِيجَةَ فَيَتَزَوَّدُ لِمِثْلِهَا حَتَّى فَجَأَهُ الْحَقُّ وَهُوَ فِي غَارِ حِرَاءٍ فَجَاءَهُ الْمَلَكُ فَقَالَ: "اقْرَأْ" فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ" قَالَ: "فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدُ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: اقْرَأْ: فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ فَأَخَذَنِي فَغَطِّنِي الثَّانِيَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدُ ثُمَّ أَرْسَلَنِي فَقَالَ: اقْرَأْ: فَقُلْتُ: مَا أَنَا بِقَارِئٍ فَأَخَذَنِي فَغَطَّنِي الثَّالِثَةَ حَتَّى بَلَغَ مِنِّي الْجَهْدُ فَقَالَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} حَتَّى بَلَغَ {مَا لَمْ يَعْلَمْ} (1) فَرَجَعَ بِهَا تَرْجُفُ بَوَادِرُهُ حَتَّى دَخَلَ عَلَى خَدِيجَةَ، فَقَالَ: "زَمِّلُونِي" فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ فَقَالَ: "يَا خَدِيجَةُ ما لي؟ " وأخبرها الْخَبَرَ، وَقَالَ: "قَدْ خَشِيتُ عَلَيَّ" فَقَالَتْ لَهُ: كَلَّا أَبْشِرْ، فَوَاللَّهِ لَا يُخْزِيكَ اللَّهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ، وَتَصْدُقُ الْحَدِيثَ، وَتَحْمِلُ الْكَلَّ، وَتُقْرِي الضَّيْفَ، وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ" رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ بُكَيْرٍ، وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ كِلَاهُمَا عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ.

--------------------------------------------

(1) - سورة العلق: الآيات 1 - 5.
কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ বিষয় সংক্রান্ত আলোচনা

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে হামিদ আল-আসফাহানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আল-হাফিজ, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, মা'মার থেকে, তিনি ইবনে শিহাব আজ-জুহরি থেকে, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উরওয়াহ, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে যে, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ওহীর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোর মতো সুস্পষ্ট হয়ে প্রকাশিত হতো। এরপর নির্জনতা তাঁর নিকট প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় আসতেন এবং সেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক রাত ইবাদত করতেন—আর তা হলো 'তহন্নুছ'—এবং এর জন্য তিনি পাথেয় সাথে নিতেন। এরপর পুনরায় খাদিজার নিকট ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করতেন। অবশেষে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় তাঁর নিকট সত্যের (ওহীর) আগমন ঘটল। তাঁর নিকট ফেরেশতা এসে বলল: 'পাঠ করুন'। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'আমি বললাম: আমি তো পাঠকারী নই'। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: 'তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে এমন সজোরে চাপ দিলেন যে আমি অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পাঠ করুন। আমি বললাম: আমি তো পাঠকারী নই। তখন তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন এবং আমি অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পাঠ করুন। আমি বললাম: আমি তো পাঠকারী নই। তখন তিনি তৃতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন এবং আমি অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করলাম। এরপর তিনি বললেন: {পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন}—{যা তিনি জানতেন না} (১) পর্যন্ত।' এরপর তিনি তা নিয়ে ফিরে এলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর ঘাড়ের মাংসপেশি কাঁপছিল। অবশেষে তিনি খাদিজার নিকট প্রবেশ করে বললেন: 'আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও'। তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন যতক্ষণ না তাঁর ভয় দূর হলো। এরপর তিনি বললেন: 'হে খাদিজা, আমার কী হলো?' এবং তিনি তাঁকে সব সংবাদ জানালেন এবং বললেন: 'আমি নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি'। তখন খাদিজা তাঁকে বললেন: কখনও নয়, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনও লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, অসহায়দের ভার বহন করেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্য পথে আপতিত বিপদে সাহায্য করেন।" এটি বুখারী ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর থেকে এবং মুসলিম মুহাম্মদ ইবনে রাফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই আব্দুর রাজ্জাক থেকে।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-আলাক: আয়াত ১ - ৫।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ১১)
أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الحسين الطبري قال: أَخْبَرَنَا جَدِّي حَدَّثَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ الحسن الحافظ قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بن بشر قال: حَدَّثَنَا

سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ أَوَّلَ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} رَوَاهُ الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ فِي صَحِيحِهِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّبْغِيِّ عَنْ بِشْرِ بْنِ مُوسَى عَنِ الْحُمَيْدِيِّ عَنْ سُفْيَانَ.

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن إبراهيم المقري قال: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ محمد الجرجاني قال: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ محمد الحافظ قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ إسحاق حدثهم قال: حَدَّثَنَا يعقوب الدورقي قال: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ نَصْرِ بن زياد قال: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بن واقد قال: حدثني أبي قال: حَدَّثَنِي يَزِيدُ النَّحْوِيُّ عَنْ عِكْرِمَةَ وَالْحَسَنِ قَالَا: أَوَّلُ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} فَهُوَ أَوَّلُ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ بِمَكَّةَ وَأَوَّلُ سُورَةٍ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ}

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ محمد الفارسي قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الفضل التاجر قال: أخبرنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الحسن الحافظ قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن يحيى قال: حَدَّثَنَا أبو صالح قال: حدثني الليث قال: حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنِ ابن شهاب قال: أخبرني مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ الْمَخْزُومِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ بَعْضَ عُلَمَائِهِمْ يَقُولُ: كَانَ أَوَّلُ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} قالوا: هَذَا صَدْرُهَا الَّذِي أُنْزِلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حِرَاءٍ، ثُمَّ أُنْزِلَ آخِرُهَا بَعْدَ ذَلِكَ بِمَا شاء الله.

فأما الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ الَّذِي رُوِيَ: "أَنَّ أَوَّلَ مَا نَزَلَ سُورَةُ الْمُدَّثِّرِ" فَهُوَ مَا أَخْبَرَنَاهُ الْأُسْتَاذُ أَبُو إسحاق الثعالبي قال: حدثنا عَبْدُ اللَّهِ بن حامد قال:
শরীফ ইসমাইল ইবনুল হাসান ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আত-তাবারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হামিদ আহমাদ ইবনুল হাসান আল-হাফিয আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনু বিশর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন

সুফিয়ান ইবনু উইয়াইনাহ, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক থেকে, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: কুরআনের সর্বপ্রথম যা নাযিল হয়েছে তা হলো: "পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।" হাকিম আবু আব্দুল্লাহ এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু বকর আস-সিবগী থেকে, তিনি বিশর ইবনু মূসা থেকে, তিনি আল-হুমাইদী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম আল-মুকরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হুসাইন আলী ইবনু মুহাম্মাদ আল-জুরজানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: নাসর ইবনু মুহাম্মাদ আল-হাফিয আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক তাঁদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব আদ-দাওরাকী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনু নাসর ইবনু যিয়াদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনু হুসাইন ইবনু ওয়াকিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজীদ আন-নাহবী ইকরিমা এবং হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: কুরআনের সর্বপ্রথম যা নাযিল হয়েছে তা হলো: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" (পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে)। এটিই মক্কায় অবতীর্ণ কুরআনের সর্বপ্রথম অংশ এবং প্রথম সূরা হলো: "পাঠ করুন আপনার রবের নামে"।

হাসান ইবনু মুহাম্মাদ আল-ফারিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুল ফাদল আত-তাজির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সালিহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-লাইস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উকাইল ইবনু শিহাব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ইবনু জাফর আল-মাখযূমী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁদের কিছু আলেমকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সর্বপ্রথম যা নাযিল করেছিলেন তা হলো: "পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক (জমাট রক্ত) থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার রব মহামহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।" তাঁরা বলেন: এটি সেই শুরুর অংশ যা হেরা গুহার দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল হয়েছিল, এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তীতে এর শেষাংশ অবতীর্ণ হয়।

আর যে সহীহ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে যে: "সর্বপ্রথম যা নাযিল হয়েছে তা হলো সূরা আল-মুদ্দাসসির", তা হলো যা আমাদের উস্তাদ আবু ইসহাক আস-সা'লাবী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনু হামিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ১২)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن يعقوب قال: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى بْنِ زيد التنيسي، قال: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ عَنِ

الأوزاعي قال: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ قبل؟ قال: {يَا أَيّهَا الْمُدَّثِّرُ} قُلْتُ: أَوْ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} قَالَ: سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيَّ: أَيُّ الْقُرْآنِ أُنْزِلَ قبل؟ قال: {يَا أَيّهَا الْمُدَّثِّرُ} قَالَ قُلْتُ: أَوْ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} قَالَ جَابِرٌ: أُحَدِّثُكُمْ مَا حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي جَاوَرْتُ بِحِرَاءٍ شَهْرًا فَلَمَّا قَضَيْتُ جِوَارِي نَزَلْتُ فَاسْتَبْطَنْتُ بَطْنَ الْوَادِي، فَنُودِيتُ فَنَظَرْتُ أَمَامِي وَخَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي ثُمَّ نَظَرْتُ إِلَى السَّمَاءِ فَإِذَا هُوَ عَلَى الْعَرْشِ فِي الْهَوَاءِ - يَعْنِي جِبْرِيلَ - فَأَخَذَتْنِي رَجْفَةٌ فَأَتَيْتُ خَدِيجَةَ فَأَمَرْتُهُمْ فَدَثَّرُونِي ثُمَّ صَبُّوا عَلَيَّ الْمَاءَ فَأَنْزَلَ الله عليّ {يَا أَيّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ} (1) رَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ زُهَيْرِ بْنِ حَرْبٍ عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ.

وَهَذَا لَيْسَ بِمُخَالِفٍ لِمَا ذَكَرْنَاهُ أَوَّلًا وَذَلِكَ أَنَّ جَابِرًا سَمِعَ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الْقِصَّةَ الْأَخِيرَةَ وَلَمْ يَسْمَعْ أَوَّلَهَا فَتَوَهَّمَ أَنَّ سُورَةَ الْمُدَّثِّرِ أَوَّلُ مَا نَزَلَ وَلَيْسَ كَذَلِكَ، وَلَكِنَّهَا أَوَّلُ مَا نَزَلَ عَلَيْهِ بَعْدَ سُورَةِ (اقْرَأْ) .

وَالَّذِي يَدُلُّ عَلَى هَذَا مَا أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابن أبي حامد قال: حدثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن عبد الله بْنِ محمد بن زكريا قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّغُولِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن يحيى قال: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرزاق قال: حدثنا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ جَابِرٍ قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُحَدِّثُ عَنْ فَتْرَةِ الْوَحْيِ فَقَالَ في حديثه: "فبينما أَنَا أَمْشِي سَمِعْتُ صَوْتًا مِنَ السَّمَاءِ، فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَإِذَا الْمَلَكُ الَّذِي جاءني بحراء جالسًا عَلَى كُرْسِيٍّ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَجَثَثْتُ مِنْهُ رُعْبًا فَرَجَعْتُ فَقُلْتُ: زَمِّلُونِي

زَمِّلُونِي، فَدَثَّرُونِي فأنزل الله {يَا أَيّهَا الْمُدَّثِّرُ} ". رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ. وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ، كِلَاهُمَا عَنْ

--------------------------------------------

(1) - سورة المدثر: الآيات 1، 2.
আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে ঈসা ইবনে যাইদ আত-তিন্নিসি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমর ইবনে আবি সালামা বর্ণনা করেছেন

আল-আওযাই থেকে, তিনি বলেন: আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করলাম: কুরআনের কোন অংশ আগে নাযিল হয়েছে? তিনি বললেন: {হে চাদরাবৃত}, আমি বললাম: নাকি {পড়ুন আপনার রবের নামে}? তিনি বললেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারিকে জিজ্ঞাসা করেছি: কুরআনের কোন অংশ আগে নাযিল হয়েছে? তিনি বললেন: {হে চাদরাবৃত}, আমি বললাম: নাকি {পড়ুন আপনার রবের নামে}? জাবির বললেন: আমি তোমাদের কাছে তাই বর্ণনা করছি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি হেরা গুহায় এক মাস অবস্থান করলাম। যখন আমার অবস্থান শেষ হলো, আমি নিচে নামলাম এবং উপত্যকার মাঝখানে আসলাম। তখন আমাকে ডাকা হলো, আমি আমার সামনে, পিছনে, ডানে ও বামে তাকালাম। তারপর আমি আসমানের দিকে তাকালাম, হঠাৎ দেখি তিনি আরশের উপর শূন্যে ছিলেন - অর্থাৎ জিবরাইল - তখন আমার মধ্যে এক কম্পন সৃষ্টি হলো। আমি খাদিজার কাছে আসলাম এবং তাদের নির্দেশ দিলাম, ফলে তারা আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিল। তারপর তারা আমার উপর পানি ঢালল। অতঃপর আল্লাহ আমার উপর নাযিল করলেন {হে চাদরাবৃত! ওঠুন এবং সতর্ক করুন} (১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন যুহাইর ইবনে হারব থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আওযাই থেকে।

এটি আমরা প্রথমে যা উল্লেখ করেছি তার বিরোধী নয়। তার কারণ হলো জাবির নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই শেষের ঘটনাটি শুনেছিলেন কিন্তু এর প্রথম অংশটি শুনেননি। ফলে তিনি ধারণা করেছিলেন যে সূরা আল-মুদাসসিরই প্রথম নাযিল হয়েছে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বরং এটি হলো (পড়ুন) সূরার পর তাঁর ওপর প্রথম যা নাযিল হয়েছিল।

এর প্রমাণ হলো যা আমাদের আবু আবদুর রহমান ইবনে আবি হামিদ জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দাগুলি জানিয়েছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মামার বর্ণনা করেছেন যুহরি থেকে, তিনি বলেন: আমাকে আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান জাবির থেকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওহী বন্ধ থাকার সময়কাল সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি তাঁর বর্ণনায় বলেন: "একদা আমি হাঁটছিলাম, এমন সময় আসমান থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম। আমি মাথা তুললাম এবং হঠাৎ সেই ফেরেশতাকে দেখতে পেলাম যিনি হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি আসমান ও জমিনের মাঝখানে একটি কুরসির উপর বসা ছিলেন। তাঁকে দেখে আমি ভীষণভাবে ভীত হয়ে পড়লাম। আমি ফিরে আসলাম এবং বললাম: আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও,

আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। তারা আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিল এবং আল্লাহ নাযিল করলেন {হে চাদরাবৃত}।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ থেকে। আর মুসলিম বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে রাফি থেকে, তাঁরা উভয়ই...

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-মুদাসসির: আয়াত ১, ২।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ১৩)
عَبْدِ الرَّزَّاقِ، وَبَانَ بِهَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ الْوَحْيَ كَانَ قَدْ فَتَرَ بَعْدَ نُزُولِ {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ}

ثم نزل {يَا أَيّهَا الْمُدَّثِّرُ} وَالَّذِي يُوَضِّحُ مَا قُلْنَا إِخْبَارُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الْمَلَكَ الَّذِي جَاءَ بِحِرَاءٍ جَالِسٌ فَدَلَّ عَلَى أَنَّ هَذِهِ الْقِصَّةَ إِنَّمَا كَانَتْ بَعْدَ نُزُولِ (اقْرَأْ) .

أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ أَحْمَدُ بن محمد المقري قال: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بن محمد المقري قال: حَدَّثَنَا أبو الشيخ قال: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بن أيوب قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بن شقيق قال: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ واقد قال: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ الْحُسَيْنِ يَقُولُ: أَوَّلُ سُورَةٍ نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} وآخر سورة نزلت عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ: الْمُؤْمِنُونَ، وَيُقَالُ: الْعَنْكَبُوتُ؛ وَأَوَّلُ سُورَةٍ نَزَلَتْ بِالْمَدِينَةِ: {وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ} (1) وَآخِرُ سُورَةٍ نَزَلَتْ فِي الْمَدِينَةِ: {بَرَاءَةٌ} وأول سورة علمها رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ: {وَالنَّجْمِ} ؛ وَأَشَدُّ آيَةٍ عَلَى أَهْلِ النَّارِ {فَذُوقُوا فَلَنْ نَزِيدَكُمْ إِلَّا عَذَابًا} (2) وَأَرْجَى آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ لِأَهْلِ التَّوْحِيدِ {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ} الْآيَةَ (3) . وَآخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ} (4) وَعَاشَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَهَا تِسْعَ لَيَالٍ.

--------------------------------------------

(1) - سورة المطففين: الآية 1.

(2) - سورة النبأ: الآية 30.

(3) - سورة النساء: الآية 48.

(4) - سورة البقرة: الآية 281.
আবদুর রাজ্জাক থেকে বর্ণিত; এই হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, 'ইকরা বিসমি রাব্বিকা' নাজিল হওয়ার পর ওহি স্থগিত ছিল।

অতঃপর নাজিল হয়েছে 'ইয়া আইয়্যুহাল মুদ্দাসসির'। আমরা যা বলেছি তার স্পষ্ট প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সংবাদ যে, হেরা গুহায় আসা ফেরেশতা বসা ছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, এই ঘটনাটি 'ইকরা' নাজিল হওয়ার পরেই ঘটেছিল।

আবু ইসহাক আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আশ-শায়খ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে সুলাইমান ইবনে আইয়ুব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আল-হাসান ইবনে শাকিক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি: মক্কায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাজিল হওয়া প্রথম সূরা হলো: 'ইকরা বিসমি রাব্বিকা' এবং মক্কায় নাজিল হওয়া শেষ সূরা হলো: আল-মুমিনুন, আবার কেউ বলেন: আল-আনকাবুত; আর মদিনায় নাজিল হওয়া প্রথম সূরা হলো: 'ওয়াইলুল লিল মুতাফফিফিন' (১) এবং মদিনায় নাজিল হওয়া শেষ সূরা হলো: 'বারাআত' (সুরা তাওবাহ); আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রথম যে সূরাটি শিক্ষা দিয়েছিলেন তা হলো: 'ওয়ান নাজমি'; এবং জাহান্নামীদের জন্য সবচেয়ে কঠিন আয়াত হলো: "অতএব তোমরা আস্বাদ গ্রহণ করো, আমি কেবল তোমাদের আজাবই বৃদ্ধি করব" (২) আর তাওহিদপন্থীদের জন্য কুরআনের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক আয়াত হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না, তবে এ ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা তিনি ক্ষমা করেন" আয়াতটি (৩)। এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাজিল হওয়া সর্বশেষ আয়াত হলো: "আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে" (৪) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপর নয় রাত জীবিত ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) - সূরা আল-মুতাফফিফিন: আয়াত ১।

(২) - সূরা আন-নাবা: আয়াত ৩০।

(৩) - সূরা আন-নিসা: আয়াত ৪৮।

(৪) - সূরা আল-বাকারা: আয়াত ২৮১।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌القول في آخر ما نزل من القرآن

أَخْبَرَنَا أَبُو إِبْرَاهِيمَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْوَاعِظُ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى قَالَا: أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرِو بن مطر قال: أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ الْفَضْلُ بْنُ الحباب الجمحي قال: حَدَّثَنَا أَبُو الوليد قال: حَدَّثَنَا شعبة قال: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ: سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ يَقُولُ: آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ} (1) وآخر سورة أنزلت: {بَرَاءَةٌ} رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي التَّفْسِيرِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَرْبٍ عَنْ شُعْبَةَ، وَرَوَاهُ في موضع آخرعن أَبِي الْوَلِيدِ وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ بُنْدَارٍ عَنْ غُنْدَرٍ عَنْ شُعْبَةَ.

أَخْبَرَنَا أَبُو بكر التميمي قال: أَخْبَرَنَا أَبُو محمد الحياني قال: حَدَّثَنَا أَبُو يحيى الرازي قال: حَدَّثَنَا سَهْلُ بن عثمان قال: حَدَّثَنَا ابن الْمُبَارَكِ عَنْ جُوَيْبِرٍ عَنِ الضَّحَّاكِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ: {وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ}

وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ سَمِعْتُ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيَّ يَقُولُ: آخر آية أنزلت: {وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ}

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرحمن النحوي قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بن سنان المقري قال: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عليّ الموصلي قال: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بن الأحمس قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن فضيل قال: حَدَّثَنَا الْكَلْبِيُّ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنِ

--------------------------------------------

(1) - سورة النساء: الآية 176.
কুরআনের সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনা

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইবরাহিম ইসমাঈল বিন ইবরাহিম আল-ওয়াইজ এবং আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর বিন মাতার। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু খলিফা আল-ফাদল বিন আল-হুবাব আল-জুমাহি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শু’বাহ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক। তিনি বলেন: আমি আল-বারা বিন আযিবকে বলতে শুনেছি: সর্বশেষ যে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: {তারা আপনার নিকট ফতোয়া জানতে চায়। আপনি বলুন: আল্লাহ তোমাদের ‘কালালাহ’ সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন} (১) এবং সর্বশেষ যে সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: {বারাআত} (সূরা আত-তাওবাহ)। ইমাম বুখারি তাফসীর অধ্যায়ে এটি সুলায়মান বিন হারব থেকে, তিনি শু’বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া তিনি অন্য স্থানে আবু আল-ওয়ালিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি বুন্দার থেকে, তিনি গুন্দার থেকে এবং তিনি শু’বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আত-তামীমি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আল-হাইয়ানি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আর-রাজি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাহল বিন উসমান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক জুওয়াইবির থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি (ইবনে আব্বাস) বলেন: সর্বশেষ যে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো: {আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যে দিন তোমাদের আল্লাহর নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হবে}।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাহল বিন উসমান। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবি যায়িদাহ মালিক বিন মিগওয়াল থেকে। তিনি বলেন: আমি আতিয়্যাহ আল-আউফীকে বলতে শুনেছি: সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হলো: {আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যে দিন তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে}।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আন-নাহবী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সিনান আল-মুকরী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন আলী আল-মাওসিলি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আল-আহমাস। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ফুদাইল। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-কালবী আবু সালিহ থেকে, তিনি...

--------------------------------------------

(১) - সূরা আন-নিসা: আয়াত ১৭৬।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ১৫)
ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ: {وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ} قَالَ: ذَكَرُوا أَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ وَآخِرَ آيَةِ مِنْ سُورَةِ النِّسَاءِ نَزَلَتَا آخِرَ الْقُرْآنِ.

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إبراهيم الصوفي قال: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بن يعقوب،

قال: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الله العبدي، قال: حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بن إبراهيم قال: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّهُ قَالَ: آخِرُ آيَةٍ أُنْزِلَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ} وَقَرَأَهَا إِلَى آخِرِ السُّورَةِ رَوَاهُ الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ فِي صَحِيحِهِ عَنِ الْأَصَمِّ عَنْ بَكَّارِ ابن قُتَيْبَةَ عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْعَقَدِيِّ عن شعبة.

أخبرني أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي كِتَابِهِ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ الْحُسَيْنِ الْحَدَّادِيَّ أَخْبَرَهُمْ عَنْ مُحَمَّدِ بن يزيد قال: أخبرنا إِسْحَاقُ بن إبراهيم قال: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: أَحْدَثُ الْقُرْآنِ بِاللَّهِ عَهْدًا {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ} (1) الْآيَةَ، وَأَوَّلُ يَوْمٍ أُنْزِلَ الْقُرْآنُ فِيهِ يَوْمُ الِاثْنَيْنِ.

أَخْبَرَنَا أَبُو إسحاق الثعالبي، قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زكريا الشيباني، قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرحمن الدغولي، قال: حدثنا ابْنُ أبي خيثمة قال: حَدَّثَنَا مُوسَى بن إسماعيل، قال: حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بن ميمون، قال: حَدَّثَنَا غَيْلَانُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ: أَنَّ رجلا قال: يا رسول اللَّهِ أَرَأَيْتَ صَوْمَ يَوْمِ الِاثْنَيْنِ؟ قَالَ: "فِيهِ أُنْزِلَ عَلَيَّ الْقُرْآنُ وَأَوَّلُ شَهْرٍ أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ شَهْرُ رَمَضَانَ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ذِكْرُهُ: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ} (2)

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حمدان النصروي، قال: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بن ماسي قال: حَدَّثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عبد الله قال:

--------------------------------------------

(1) - سورة التوبة: الآية 128.

(2) - سورة البقرة: الآية 185.
ইবনে আব্বাস (রা.) আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে} বলেন: তারা উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতটি এবং সূরা আন-নিসার শেষ আয়াতটি কুরআনের সবশেষে অবতীর্ণ হয়েছে।

ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে আবদুল্লাহ আল-আাবদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে যাইদ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে মিহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে অবতীর্ণ সর্বশেষ আয়াত হলো: {নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন} এবং তিনি সূরার শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন। এটি হাকেম আবু আবদুল্লাহ তার সহিহ গ্রন্থে আল-আসাম থেকে, তিনি বাক্কার ইবনে কুতাইবা থেকে, তিনি আবু আমির আল-আকাদি থেকে, তিনি শুবা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ তার কিতাবে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-হাদ্দাদি তাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ওয়াকি শুবা থেকে, তিনি আলি ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে মাহাক থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: কুরআনের যে অংশটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সবশেষে এসেছে তা হলো: {নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন} (১) আয়াতটি, এবং যে প্রথম দিনে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল তা হলো সোমবার।

আবু ইসহাক আস-সালাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাকারিয়া আশ-শায়বানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দাগুলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাহদি ইবনে মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: গায়লান ইবনে জারির আবদুল্লাহ ইবনে মাবাদ আজ-জিমানি থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সোমবারের রোজা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: "এই দিনেই আমার ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।" আর প্রথম যে মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল তা হলো রমজান মাস। আল্লাহ তাআলা বলেন: {রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে} (২)

আবদুর রহমান ইবনে হামদান আন-নাসরাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মাসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুসলিম ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) - সূরা আত-তাওবা: আয়াত ১২৮।

(২) - সূরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৫।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ১৬)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءِ بْنِ الهيثم الغداني قال: حَدَّثَنَا عِمْرَانُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ وَاثِلَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "نَزَلَتْ

صُحُفُ إِبْرَاهِيمَ أَوَّلَ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ، وَأُنْزِلَتِ التَّوْرَاةُ لِسِتٍّ مَضَيْنَ مِنْ رَمَضَانَ، وَأُنْزِلَ الْإِنْجِيلُ لِثَلَاثَ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ، وَأُنْزِلَ الزَّبُورُ لِثَمَانِ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ، وَأُنْزِلَ الْقُرْآنُ لِأَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ خَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ".
আব্দুল্লাহ ইবন রাজাউ ইবনুল হাইসাম আল-গাদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে, তিনি ওয়াসিলাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অবতীর্ণ হয়েছে

ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সহিফাসমূহ রমজানের প্রথম রাতে, এবং তাওরাত অবতীর্ণ হয়েছে রমজানের ছয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, এবং ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়েছে রমজান মাসের তেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, এবং জাবুর অবতীর্ণ হয়েছে রমজানের আঠারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, এবং কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে রমজানের চব্বিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর।"
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌القول في آية التسمية وبيان نزولها

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن إبراهيم المقري قال: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ محمد الجرجاني قال: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرحمن الجوهري قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بن مندة قال: حَدَّثَنَا أبو كريب قال: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بن سعيد قال: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي رَوْقٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَوَّلُ مَا نَزَلَ بِهِ جِبْرِيلُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "يَا مُحَمَّدُ اسْتَعِذْ ثُمَّ قُلْ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ".

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ ابْنُ أبي إسحاق قال: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بن أحمد الخلال قال: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زيد البجلي قال: حَدَّثَنَا أبو كريب قال: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَعْرِفُ خَتْمَ السُّورَةِ حَتَّى يَنْزِلَ عَلَيْهِ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}

أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْقَاهِرِ بْنُ طاهر البغدادي قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بن مطر قال: أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ علي الذهلي قال: حَدَّثَنَا يَحْيَى بن يحيى قال: أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَجَّاجِ الْعَبْدِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ ذَكَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كُنَّا لَا نَعْلَمُ فَصْلَ مَا بَيْنَ السُّورَتَيْنِ حَتَّى تَنْزِلَ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}

أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بن جعفر قال: أخبرنا جدي قال: أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرٍو أَحْمَدُ بْنُ محمد الحرشي قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن يحيى قال:
বিসমিল্লাহর আয়াত এবং এর অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ

আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ আল-জুরজানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-জাওহারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মান্দাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু কুরাইব আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উসমান বিন সাঈদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর বিন উমারাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু রওক থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট যা নিয়ে সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছিলেন তাতে তিনি বলেছিলেন: "হে মুহাম্মদ! আপনি আশ্রয় প্রার্থনা করুন, অতঃপর বলুন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।"

আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল বিন আহমদ আল-খাল্লাল আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ আল-বাজালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু কুরাইব আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন আমর বিন দিনার থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো সূরার সমাপ্তি বুঝতে পারতেন না যতক্ষণ না তাঁর ওপর {পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে} অবতীর্ণ হতো।

আব্দুল কাহের বিন তাহের আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন জাফর বিন মাতার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন আলী আদ-দুহলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর বিন হাজ্জাজ আল-আবদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আবি হুসাইন থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা দুই সূরার মধ্যবর্তী পার্থক্য বুঝতে পারতাম না যতক্ষণ না {পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে} অবতীর্ণ হতো।

সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আমর আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-হারাশি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ১৮)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ أَبِي فُدَيْكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: نَزَلَتْ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} فِي كُلِّ سُورَةٍ.
আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আবু ফুদাইক বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে নাফে হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি ইবনে উমর হতে; তিনি বলেন: {বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম} প্রতিটি সূরায় অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ১৯)
القول في‌‌ سورة الفاتحة

اخْتَلَفُوا فِيهَا فَعِنْدَ الْأَكْثَرِينَ هِيَ مَكِّيَّةٌ مِنْ أَوَائِلِ مَا نَزَلَ من القرآن.

حدثنا أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أحمد الزاهد قال: أخبرنا جدي قال: أَخْبَرَنَا أَبُو عمرو الحِيري قال: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَارِثِ وَعَلِيُّ بْنُ سَهْلِ بْنِ الْمُغِيرَةِ قَالَا: حَدَّثَنَا يَحْيَى بن بكير قال: حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا بَرَزَ سَمِعَ مُنَادِيًا يُنَادِيهِ: "يَا مُحَمَّدُ، فَإِذَا سَمِعَ الصَّوْتَ انْطَلَقَ هَارِبًا، فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ بْنُ نَوْفَلٍ: إِذَا سَمِعْتَ النِّدَاءَ فَاثْبُتْ حَتَّى تَسْمَعَ مَا يَقُولُ لَكَ: قَالَ: فَلَمَّا بَرَزَ النِّدَاءَ: "يَا مُحَمَّدُ"، فَقَالَ: لَبَّيْكَ، قَالَ: قُلْ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ثُمَّ قَالَ: قُلْ: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} حَتَّى فَرَغَ مِنْ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ" وَهَذَا قَوْلُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ.

أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُفَسِّرُ قَالَ: أَخْبَرَنَا الحسن بن جعفر المفسر قال: أخبرنا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ محمود المروزي قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ محمود السعدي قال: حَدَّثَنَا أَبُو يحيى القصري قال: حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنِ الْفُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أبي طالب عليه السلام قَالَ: نَزَلَتْ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ بِمَكَّةَ مِنْ كَنْزٍ تَحْتَ الْعَرْشِ. وَبِهَذَا الْإِسْنَادِ عَنِ السَّعْدِيِّ حَدَّثَنَا عَمْرُو بن صالح قال: حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ الْكَلْبِيِّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ فَقَالَ: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} فَقَالَتْ قُرَيْشٌ: دَقَّ اللَّهُ
সূরা আল-ফাতিহা প্রসঙ্গে আলোচনা

এই সূরাটি সম্পর্কে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। তবে অধিকাংশের মতে এটি মক্কী সূরা এবং কুরআনের অবতীর্ণ প্রাথমিক অংশগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

আমাদের নিকট আবু উসমান সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আয-যাহিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার দাদা খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আমর আল-হীরী খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে আল-হারিস এবং আলী ইবনে সাহল ইবনে আল-মুগীরা বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসরাঈল বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু মাইসারা থেকে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নির্জনে যেতেন, তখন তিনি একজন আহ্বানকারীকে তাঁকে ডাকতে শুনতেন: "হে মুহাম্মাদ!" যখনই তিনি সেই আওয়ায শুনতেন, তিনি দ্রুত প্রস্থান করতেন। তখন ওয়ারা কা ইবনে নাওফাল তাঁকে বললেন: যখন আপনি সেই আহ্বান শুনবেন, তখন আপনি স্থির থাকবেন যাতে আপনি শুনতে পান সে আপনাকে কী বলে। তিনি বলেন: অতঃপর যখন তিনি বাইরে গেলেন এবং সেই আহ্বান এল: "হে মুহাম্মাদ!" তখন তিনি বললেন: "আমি উপস্থিত (লাব্বাইক)"। সে বলল: আপনি বলুন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। এরপর সে বলল: বলুন: "সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক"—এভাবে তিনি ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ শেষ করলেন। আর এটি আলী ইবনে আবি তালিবের উক্তি।

আমাদের নিকট আবু ইসহাক আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুফাসসির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান ইবনে জাফর আল-মুফাসসির বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মাহমুদ আল-মারওয়াযী খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদ আস-সা'দী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু ইয়াহইয়া আল-কাসরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন আল-আলা ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি ফুযাইল ইবনে আমর থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ফাতিহাতুল কিতাব মক্কায় আরশের নিচের এক ভাণ্ডার থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। এবং এই একই সনদে আস-সা'দী থেকে বর্ণিত, আমাদের নিকট আমর ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন কালবী থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দাঁড়ালেন এবং বললেন: "পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।" তখন কুরাইশরা বলল: আল্লাহ চূর্ণ করুন... (অসম্পূর্ণ বাক্য)।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ২০)
فَاكَ أَوْ نَحْوَ هَذَا. قَالَهُ الْحَسَنُ وَقَتَادَةُ، وَعِنْدَ مُجَاهِدٍ أَنَّ الْفَاتِحَةَ مَدَنِيَّةٌ. قَالَ الْحُسَيْنُ بْنُ الْفَضْلِ: لِكُلِّ عَالِمٍ هَفْوَةٌ وَهَذِهِ بَادِرَةٌ مِنْ مُجَاهِدٍ لِأَنَّهُ تَفَرَّدَ بِهَذَا الْقَوْلِ وَالْعُلَمَاءُ عَلَى خِلَافِهِ. وَمِمَّا يُقْطَعُ بِهِ عَلَى أَنَّهَا

مَكِّيَّةٌ قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ} يَعْنِي: الْفَاتِحَةَ.

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرحمن النحوي قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عليّ الحيري قال: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بن المثنى قال: حَدَّثَنَا يَحْيَى بن أيوب قال: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بن جعفر قال: أَخْبَرَنِي الْعَلَاءُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَرَأَ عَلَيْهِ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ أُمَّ الْقُرْآنِ، فَقَالَ: "وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِي التَّوْرَاةِ وَلَا فِي الْإِنْجِيلِ وَلَا فِي الزَّبُورِ وَلَا فِي الْقُرْآنِ مِثْلَهَا، إِنَّهَا لَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُهُ". وَسُورَةُ الْحِجْرِ مَكِّيَّةٌ بِلَا خِلَافٍ، وَلَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَمْتَنَّ عَلَى رَسُولِهِ بِإِيتَائِهِ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَهُوَ بِمَكَّةَ، ثُمَّ يُنْزِلُهَا بِالْمَدِينَةِ وَلَا يَسَعُنَا الْقَوْلُ بِأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ بِمَكَّةَ بِضْعَ عَشْرَةَ سَنَةً يُصَلِّي بِلَا فَاتِحَةِ الْكِتَابِ هَذَا مِمَّا لَا تَقْبَلُهُ الْعُقُولُ!.
...তোমার মুখ বা এর অনুরূপ কিছু। হাসান ও কাতাদাহ এটি বলেছেন। আর মুজাহিদের মতে সূরা ফাতিহা মাদানী। হুসাইন ইবনুল ফাযল বলেন: প্রত্যেক আলিমেরই পদস্খলন থাকে, আর এটি মুজাহিদের একটি ভুল পদক্ষেপ, কারণ তিনি এই বক্তব্যে একাকী হয়ে পড়েছেন এবং আলিমগণ এর বিপরীত মত পোষণ করেন। আর যা দ্বারা এটি যে

মক্কী হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন দান করেছি} অর্থাৎ: সূরা ফাতিহা।

মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আন-নাহবী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আলী আল-হায়রী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন আলী বিন আল-মুসান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল বিন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলা তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরাইরা থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—এমতাবস্থায় যখন উবাই বিন কাব তাঁর নিকট উম্মুল কুরআন পাঠ করলেন—তখন তিনি বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহ তা’আলা তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর কিংবা কুরআনে এর সমতুল্য কিছু নাযিল করেননি। নিশ্চয়ই এটিই হলো বারবার পঠিত সাতটি আয়াত এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে।" আর সূরা আল-হিজর কোনো মতভেদ ছাড়াই মক্কী সূরা। আর আল্লাহ মক্কায় থাকাকালীন তাঁর রাসূলের প্রতি ফাতিহাতুল কিতাব প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রকাশ করবেন, অতঃপর তা মদীনায় নাযিল করবেন—এমনটি হতে পারে না। আর আমাদের পক্ষে এটি বলাও সম্ভব নয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দশ বছরেরও বেশি সময় ফাতিহাতুল কিতাব ব্যতীত সালাত আদায় করেছেন; এটি এমন এক বিষয় যা বিবেক-বুদ্ধি গ্রহণ করে না!
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌سورة البقرة

مَدَنِيَّةٌ بِلَا خِلَافٍ

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن إبراهيم قال: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بن حامد قال: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بن يوسف قال: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سفيان الصغير قال: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ سفيان الكبير قال: حَدَّثَنَا هِشَامُ بن عمار قال: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بن مسلم قال: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ زُرَيْقٍ عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ: أَوَّلُ سُورَةٍ أُنْزِلَتْ بِالْمَدِينَةِ سُورَةُ البقرة.

(1) - قوله عز وجل {الم ذَلِكَ الْكِتَابُ} {1، 2} .

أَخْبَرَنَا أَبُو عُثْمَانَ الثقفي الزعفراني قال: أَخْبَرَنَا أَبُو عَمْرِو بن مطر قال: أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بن الليث قال: أخبرنا أبو حذيفة قال: حَدَّثَنَا شِبْلٌ عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: أَرْبَعُ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ هَذِهِ السُّورَةِ نَزَلَتْ فِي الْمُؤْمِنِينَ، وَآيَتَانِ بَعْدَهَا نَزَلَتَا في الكافرين، وثلاث عَشْرَةَ بَعْدَهَا نَزَلَتْ فِي الْمُنَافِقِينَ.

(2) - وَقَوْلُهُ: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا} {6} .

قَالَ الضَّحَّاكُ: نَزَلَتْ فِي أَبِي جَهْلٍ وَخَمْسَةٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِهِ، وَقَالَ الْكَلْبِيُّ: يَعْنِي الْيَهُودَ.

--------------------------------------------

(1) - إسناده منقطع لعدم سماع ابن أبي نجيح من مجاهد. (تهذيب التهذيب: 6/54) .

(2) - أخرج ابن إسحاق ومن طريقه ابن جرير (1/84) عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: إن صدر سورة البقرة إلى المائة منها نزل في رجال سماهم بأعيانهم وأنسابهم من أحبار يهود ومن المنافقين من الأوس والخزرج. وإسناد ابن إسحاق حسن.
সূরা আল-বাকারা

কোনো মতভেদ ছাড়াই এটি মাদানী সূরা।

আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আস-সাগির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আল-কাবির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম বিন আম্মার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুয়াইব বিন জুরাইক আতা আল-খুরাসানি থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মদিনায় অবতীর্ণ হওয়া প্রথম সূরা হলো সূরা আল-বাকারা।

(১) - মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর বাণী: {আলিফ লাম মীম। এটি সেই কিতাব} {১, ২}।

আবু উসমান আস-সাকাফি আয-যাফরানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আমর বিন মাতার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-লায়স আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হুযাইফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শিবল ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এই সূরার শুরুর চারটি আয়াত মুমিনদের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, এরপরের দুটি আয়াত কাফেরদের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এরপরের তেরোটি আয়াত মুনাফিকদের বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।

(২) - এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে} {৬}।

দাহহাক বলেন: এটি আবু জাহল এবং তার পরিবারের পাঁচজন সদস্যের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আর কালবী বলেন: এর দ্বারা ইহুদিদের বোঝানো হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) - ইবনে আবি নাজিহ মুজাহিদ থেকে সরাসরি শ্রবণ না করার কারণে এর সনদটি বিচ্ছিন্ন। (তাহযীবুত তাহযীব: ৬/৫৪)।

(২) - ইবনে ইসহাক এবং তাঁর সূত্রে ইবনে জারীর (১/৮৪) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সূরা আল-বাকারার শুরু থেকে একশত আয়াত পর্যন্ত ইহুদি পণ্ডিত এবং আউস ও খাজরাজ গোত্রের মুনাফিকদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিদের নাম ও বংশ পরিচয় সহ তাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আর ইবনে ইসহাকের সনদটি হাসান।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ২২)
(1) - قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا} {14} .

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا شَيْبَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ قُرَّةَ

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ بِلَالٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْوَانَ عَنِ الكلبي عن أبي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيٍّ وَأَصْحَابِهِ، وَذَلِكَ أَنَّهُمْ خَرَجُوا ذَاتَ يَوْمٍ فَاسْتَقْبَلَهُمْ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ: انْظُرُوا كَيْفَ أَرُدُّ هَؤُلَاءِ السُّفَهَاءَ عَنْكُمْ؟ فَذَهَبَ فَأَخَذَ بِيَدِ أَبِي بَكْرٍ، فَقَالَ: مَرْحَبًا بِالصِّدِّيقِ سَيِّدِ بَنِي تَيْمٍ، وَشَيْخِ الْإِسْلَامِ وَثَانِي رَسُولِ اللَّهِ فِي الْغَارِ الْبَاذِلِ نَفْسَهُ وَمَالَهُ؛ ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِ عُمَرَ فَقَالَ: مَرْحَبًا بِسَيِّدِ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ، الْفَارُوقِ الْقَوِيِّ فِي دِينِ اللَّهِ، الْبَاذِلِ نَفْسَهُ وَمَالَهُ لِرَسُولِ اللَّهِ؛ ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِ عَلِيٍّ فَقَالَ: مَرْحَبًا بِابْنِ عَمِّ رَسُولِ اللَّهِ وَخَتَنِهِ، سَيِّدِ بَنِي هَاشِمٍ مَا خَلَا رَسُولَ اللَّهِ، ثُمَّ افْتَرَقُوا؛ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لِأَصْحَابِهِ: كَيْفَ رَأَيْتُمُونِي فَعَلْتُ؟ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمْ فَافْعَلُوا كَمَا فَعَلْتُ، فَأَثْنَوْا عَلَيْهِ خَيْرًا، فَرَجَعَ المسلمون إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وَأَخْبَرُوهُ بِذَلِكَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ.

قوله تعالى: {يَا أَيّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ} {21} .

أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أحمد الزاهد قال: أخبرنا أبو عَلِيُّ بْنُ أحمد الفقيه قال: أَخْبَرَنَا أبو تراب الهستاني قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بن بشر قال: حدثنا روح قال: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ: كُلُّ شَيْءٍ نَزَلَ فِيهِ: {يَا أَيّهَا النَّاسُ} فَهُوَ مَكِّيٌّ وَ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} فَهُوَ مَدَنِيٌّ يَعْنِي أَنَّ يَا أَيُّهَا النَّاسُ خِطَابُ أَهْلِ مَكَّةَ وَ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} خِطَابُ أهل المدينة قوله: {يَا أَيّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ} خِطَابٌ لِمُشْرِكِي مَكَّةَ إِلَى قَوْلِهِ: {وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا}

--------------------------------------------

(1) - هذا إسناد هالك لأن الكلبي كذاب وقد اعترف بكذبه فيما رواه عن ابن عباس (الإتقان: 2/189) (تهذيب التهذيب: 9/178 - رقم: 266) (التفسير والمفسرون: 1/81) وأبو صالح ضعيف (تهذيب التهذيب: 1/416 - رقم: 770) (التفسير والمفسرون: 1/81) .
(১) - মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তারা মুমিনদের সাথে সাক্ষাৎ করে} {১৪}।

আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শায়বা বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন মুহাম্মাদ বিন কুররা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন,

আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন নাসর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইউসুফ বিন বিলাল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন মারওয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কালবী থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: এই আয়াতটি আব্দুল্লাহ বিন উবাই এবং তার সঙ্গীদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। আর তা এই যে, একদিন তারা বের হয়েছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবীর সাথে তাদের দেখা হয়। তখন আব্দুল্লাহ বিন উবাই বলল: দেখ, আমি কীভাবে এই নির্বোধদের তোমাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিই? এরপর সে এগিয়ে গিয়ে আবু বকরের হাত ধরল এবং বলল: স্বাগতম সিদ্দীককে, বনু তাইম গোত্রের নেতা, ইসলামের প্রবীণ ব্যক্তি এবং গুহার ভেতর রাসূলুল্লাহর দ্বিতীয় সঙ্গী, যিনি নিজের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছেন। এরপর সে উমরের হাত ধরল এবং বলল: স্বাগতম বনু আদি বিন কা’ব গোত্রের নেতাকে, আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে শক্তিশালী ফারুক, যিনি রাসূলুল্লাহর জন্য নিজের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছেন। এরপর সে আলীর হাত ধরল এবং বলল: স্বাগতম রাসূলুল্লাহর চাচাতো ভাই ও জামাতাকে, রাসূলুল্লাহ ব্যতিরেকে বনু হাশিম গোত্রের নেতাকে। এরপর তারা পৃথক হয়ে গেল। তখন আব্দুল্লাহ তার সঙ্গীদের বলল: আমি যা করলাম তা তোমরা কেমন দেখলে? যখনই তোমরা তাদের দেখবে, আমি যা করেছি তোমরাও তেমন করবে। তখন তারা তার প্রশংসা করল। এদিকে মুসলমানরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে আসলেন এবং তাকে এ সম্পর্কে জানালেন, তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাযিল করেন।

মহান আল্লাহর বাণী: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর} {২১}।

সাঈদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-যাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী বিন আহমাদ আল-ফকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু তুরাব আল-হিস্তানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন বিশর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: রাওহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শু’বা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আলক্বামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যেসব আয়াতে {হে মানুষ} নাযিল হয়েছে তা মাক্কী এবং যেখানে {হে ঈমানদারগণ} নাযিল হয়েছে তা মাদানী। অর্থাৎ {হে মানুষ} সম্বোধনটি মক্কাবাসীদের প্রতি এবং {হে ঈমানদারগণ} সম্বোধনটি মদিনাবাসীদের প্রতি। মহান আল্লাহর বাণী: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর} এটি মক্কার মুশরিকদের প্রতি সম্বোধন, যা {আর যারা ঈমান এনেছে তাদের সুসংবাদ দাও} এই আয়াত পর্যন্ত বিস্তৃত।

--------------------------------------------

(১) - এটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত সনদ, কারণ কালবী একজন চরম মিথ্যাবাদী এবং ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত বর্ণনার ক্ষেত্রে সে নিজের মিথ্যার কথা স্বীকার করেছে (আল-ইতক্বান: ২/১৮৯) (তাহযীবুত তাহযীব: ৯/১৭৮ - নং: ২৬৬) (আত-তাফসীর ওয়াল মুফাসসিরুন: ১/৮১)। আর আবু সালিহ দুর্বল (তাহযীবুত তাহযীব: ১/৪১৬ - নং: ৭৭০) (আত-তাফসীর ওয়াল মুফাসসিরুন: ১/৮১)।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَهَذِهِ الْآيَةُ نَازِلَةٌ فِي الْمُؤْمِنِينَ وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمَّا ذَكَرَ جَزَاءَ الْكَافِرِينَ بِقَوْلِهِ: {النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ} ذَكَرَ جَزَاءَ الْمُؤْمِنِينَ.

(1) - قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي أَنْ يَضْرِبَ مَثَلًا} {26} .

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي رِوَايَةِ أَبِي صَالِحٍ: لَمَّا ضرب الله سبحانه هَذَيْنِ الْمَثَلَيْنِ لِلْمُنَافِقِينَ يَعْنِي قَوْلَهُ: {مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا} وَقَوْلَهُ: {أَوْ كَصَيِّبٍ مِنَ السَّمَاءِ} قَالُوا: اللَّهُ أَجَلُّ وَأَعْلَى مِنْ أَنْ يَضْرِبَ الْأَمْثَالَ. فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ.

وَقَالَ الْحَسَنُ وَقَتَادَةُ: لَمَّا ذَكَرَ اللَّهُ الذُّبَابَ والعنكبوت في كتاب وَضَرَبَ لِلْمُشْرِكِينَ بِهِ الْمَثَلَ ضَحِكَتِ الْيَهُودُ وَقَالُوا: مَا يُشْبِهُ هَذَا كَلَامَ اللَّهِ. فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ.

(2) - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِسْحَاقَ الْحَافِظُ فى كتابه قال: أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أيوب الطبراني قال: حَدَّثَنَا بَكْرُ بن سهل قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي أَنْ يَضْرِبَ مَثَلًا} قَالَ: وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ ذَكَرَ

--------------------------------------------

(1) - قد علمت فيما سبق أن أبا صالح ضعيف فهذه الرواية ضعيفة. (راجع ص 20) .

(2) - هذا إسناد ضعيف جدًا لضعف عبد الغني بن سعيد - وفي نسخة أحمد صقر: عبد العزيز بن سعيد - (لباب النقول: 9) وموسى بن عبد الرحمن (ميزان الاعتدال: 4/211) وعنعنة ابن جريج وهو ثقة يدلّس (تهذيب التهذيب: 6/404، 405) لكن معناه صحيح، وهو أصح مما قبله، فقد أخرج ابن جرير (1/138) وابن أبي حاتم وابن المنذر وعبد بن حميد (فتح القدير: 1/58) عن قتادة بإسناد صحيح قال: لما ذكر الله العنكبوت والذباب، قال المشركون: ما بال العنكبوت والذباب يذكران؟ فأنزل الله الآية، وهذا مرسل أصحّ من المسند ويشهد له:

1 - ما أخرجه ابن جرير أيضا (1/138) من طريق آخر عن قتادة نحوه بإسناد صحيح.

2 - ما أخرجه ابن أبي حاتم عن الحسن نحوه (لباب النقول: 19) .
এবং এই আয়াতটি মুমিনদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। আর তা হলো, আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে কাফিরদের প্রতিদানের কথা উল্লেখ করলেন: "সেই আগুন, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে", তখন তিনি মুমিনদের প্রতিদানের কথাও উল্লেখ করলেন।

(১) - আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো উপমা পেশ করতে লজ্জাবোধ করেন না} {২৬}।

আবু সালিহ-এর বর্ণনায় ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন: যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুনাফিকদের জন্য এই দুটি উপমা পেশ করলেন, অর্থাৎ তাঁর বাণী: {তাদের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো, যে আগুন জ্বালাল} এবং তাঁর বাণী: {অথবা আকাশ থেকে বর্ষিত বৃষ্টির মতো}, তখন তারা বলল: আল্লাহ উপমা পেশ করার চেয়ে অনেক মহান ও উচ্চমর্যাদাবান। তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাযিল করেন।

হাসান এবং কাতাদাহ বলেন: আল্লাহ যখন তাঁর কিতাবে মাছি ও মাকড়সার কথা উল্লেখ করলেন এবং এর মাধ্যমে মুশরিকদের জন্য উপমা পেশ করলেন, তখন ইহুদিরা উপহাস করল এবং বলল: এটি আল্লাহর বাণীর সদৃশ নয়। তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাযিল করেন।

(২) - হাফেয আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক তাঁর কিতাবে আমাদের অবহিত করেছেন যে, সুলায়মান বিন আইয়ুব আত-তবারানী আমাদের বলেছেন: বকর বিন সাহল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন: আব্দুল আযীয বিন সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মূসা বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো উপমা পেশ করতে লজ্জাবোধ করেন না} সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আর তা হলো, আল্লাহ উল্লেখ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) - আপনি পূর্বেই জেনেছেন যে, আবু সালিহ যয়ীফ (দুর্বল), তাই এই বর্ণনাটি যয়ীফ। (দেখুন পৃষ্ঠা ২০)।

(২) - এই সনদটি অত্যন্ত যয়ীফ (দুর্বল), কারণ আব্দুল গনী বিন সাঈদ যয়ীফ — এবং আহমদ সাকরের কপিতে রয়েছে: আব্দুল আযীয বিন সাঈদ — (লুবাবুন নুকুল: ৯) এবং মূসা বিন আব্দুর রহমান (মীযানুল ইতিদাল: ৪/২১১) এবং ইবনে জুরাইজের 'আনআনা' (যিনি বিশ্বস্ত কিন্তু তাদলীস করেন) (তহযীবুত তহযীব: ৬/৪০৪, ৪০৫)। তবে এর অর্থ সহীহ এবং এটি পূর্বের বর্ণনার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ। কারণ ইবনে জারীর (১/১৩৮), ইবনে আবী হাতিম, ইবনুল মুনযির এবং আবদ বিন হুমাইদ (ফাতহুল কাদীর: ১/৫৮) কাতাদাহ থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যখন আল্লাহ মাকড়সা ও মাছির কথা উল্লেখ করলেন, তখন মুশরিকরা বলল: মাকড়সা ও মাছি কেন উল্লেখ করা হলো? তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাযিল করেন। এটি একটি মুরসাল বর্ণনা যা মুসনাদ বর্ণনার চেয়ে অধিক সহীহ এবং এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়:

১ - ইবনে জারীরও (১/১৩৮) কাতাদাহ থেকে অন্য সূত্রে অনুরূপ সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।

২ - ইবনে আবী হাতিম হাসান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন (লুবাবুন নুকুল: ১৯)।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ২৪)
آلِهَةَ الْمُشْرِكِينَ، فَقَالَ: {وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا} وَذَكَرَ كَيْدَ الْآلِهَةِ فَجَعَلَهُ كَبَيْتِ الْعَنْكَبُوتِ، فَقَالُوا: أَرَأَيْتَ حَيْثُ ذَكَرَ اللَّهُ الذُّبَابَ وَالْعَنْكَبُوتَ فِيمَا أَنْزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ عَلَى مُحَمَّدٍ، أَيُّ شَيْءٍ يَصْنَعُ بِهَذَا؟ فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ.

(1) - قَوْلُهُ تَعَالَى: {أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ} {44} .

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي رِوَايَةِ الْكَلْبِيِّ عَنْ أَبِي صَالِحٍ بِالْإِسْنَادِ الَّذِي ذُكِرَ: نَزَلَتْ فِي يَهُودِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ، كَانَ الرَّجُلُ مِنْهُمْ يَقُولُ لِصِهْرِهِ وَلِذَوِي قَرَابَتِهِ وَلِمَنْ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ رَضَاعٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ: اثْبُتْ عَلَى الدِّينِ الَّذِي أَنْتَ عَلَيْهِ وَمَا يَأْمُرُكَ بِهِ وهذا الرَّجُلُ يَعْنُونَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ أَمْرَهُ حَقٌّ، فَكَانُوا يَأْمُرُونَ النَّاسَ بِذَلِكَ وَلَا يَفْعَلُونَهُ.

قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ} {45} .

عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ هَذِهِ الْآيَةَ خِطَابٌ لِأَهْلِ الْكِتَابِ وَهُوَ مَعَ ذَلِكَ أَدَبٌ لِجَمِيعِ الْعِبَادِ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ: رَجَعَ بِهَذَا الْخِطَابِ إِلَى خِطَابِ الْمُسْلِمِينَ وَالْقَوْلُ الْأَوَّلُ أَظْهَرُ.

(2) - قَوْلُهُ تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا} الْآيَةَ {62} .

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أحمد الحافظ قال: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جعفر الحافظ قال: حَدَّثَنَا أَبُو يحيى الرازي قال: حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ العسكري قال: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ قَالَ: قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: لَمَّا قَصَّ سَلْمَانُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قِصَّةَ أَصْحَابِ الدَّيْرِ قَالَ: "هُمْ فِي النَّارِ" قَالَ سَلْمَانُ: فَأَظْلَمَتْ عَلَيَّ الْأَرْضُ فَنَزَلَتْ: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا} إِلَى قَوْلِهِ: {يَحْزَنُونَ} قَالَ: فَكَأَنَّمَا كُشِفَ عَنِّي جَبَلٌ.

--------------------------------------------

(1) - قد تقدم أن هذا إسناد هالك (راجع الآية: 14 من سورة البقرة) ويغني عنه ما أخرجه عبد بن حميد (فتح القدير: 1/79) (العجاب في بيان الأسباب لابن حجر: ورقة 10 ب) عن قتادة أنها نزلت في أهل الكتاب. وهو مرسل صحيح الإسناد.

(2) - صححه الحافظ ابن حجر في "العجاب" (ورقة 11 أ) ولعله لتعدد طرقه، وإلا فإن فيه تدليس ابن جريج وقد عنعن (روى الحديث بصيغة: عن) ، ويشهد له الرواية القادمة.
মুশরিকদের উপাস্যদের সম্পর্কে আল্লাহ বললেন: "আর যদি মাছি তাদের থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়", এবং তিনি তাদের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে সেটিকে মাকড়সার ঘরের মতো সাব্যস্ত করলেন। তখন তারা বলল: "আল্লাহ যে মুহাম্মাদের ওপর নাযিলকৃত কুরআনে মাছি ও মাকড়সার কথা উল্লেখ করেছেন, তা দিয়ে তিনি কী করতে চান?" তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাযিল করেন।

(১) - মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও} {৪৪}।

ইবন আব্বাস হতে কালবী-আবু সালিহ সূত্রে উল্লেখিত সনদে বর্ণিত হয়েছে: এটি মদীনার ইহুদীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি তার ভগ্নিপতি, নিকটাত্মীয় এবং তাদের ও নিজের মাঝে দুগ্ধ সম্পর্কীয় মুসলিমদের বলত: "তুমি যে দ্বীনের ওপর আছো এবং এই ব্যক্তি (অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে যে নির্দেশ দিচ্ছেন, তার ওপর অটল থাকো; কারণ তাঁর নির্দেশ সত্য।" তারা মানুষকে এই নির্দেশ দিত কিন্তু নিজেরা তা পালন করত না।

মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো} {৪৫}।

অধিকাংশ জ্ঞানীর মতে, এই আয়াতটি আহলে কিতাবদের প্রতি সম্বোধন, তবে তা সত্ত্বেও এটি সকল বান্দার জন্য একটি শিষ্টাচার। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এই সম্বোধনের মাধ্যমে মুসলিমদের সম্বোধন করা হয়েছে; তবে প্রথম উক্তিটিই অধিকতর স্পষ্ট।

(২) - মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদী হয়েছে...} আয়াত {৬২}।

আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াহইয়া আর-রাজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সাহল বিন উসমান আল-আসকারি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবি যায়িদাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবন জুরাইজ আবদুল্লাহ বিন কাসীর হতে, তিনি মুজাহিদ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালমান যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গির্জার অধিবাসীদের (খ্রিস্টান সন্ন্যাসী) কাহিনী বর্ণনা করলেন, তখন নবীজি বললেন: "তারা জাহান্নামে যাবে।" সালমান বলেন: তখন আমার কাছে পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল। এরপর নাযিল হলো: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদী হয়েছে...} থেকে {তারা চিন্তিত হবে না} পর্যন্ত। সালমান বলেন: তখন যেন আমার ওপর থেকে একটি পাহাড় সরিয়ে নেওয়া হলো।

--------------------------------------------

(১) - পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সনদটি অত্যন্ত দুর্বল (দেখুন: সূরা আল-বাকারার ১৪ নম্বর আয়াত)। এর পরিবর্তে আব্দ বিন হুমাইদ (ফাতহুল কাদির: ১/৭৯) এবং ইবন হাজার (আল-উজাব ফি বায়ানি আসবাবিন নুযুল: পাতা ১০ খ) কাতাদাহ হতে যা বর্ণনা করেছেন তা যথেষ্ট, যা আহলে কিতাবদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। এটি একটি মুরসাল হাদীস যার সনদ সহীহ।

(২) - হাফিজ ইবন হাজার এটি "আল-উজাব" (পাতা ১১ ক) গ্রন্থে সহীহ বলেছেন। সম্ভবত এটি এর বহুসংখ্যক সূত্রের কারণে, অন্যথায় এতে ইবন জুরাইজের 'তাদলীস' রয়েছে এবং তিনি অস্পষ্ট সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তবে পরবর্তী বর্ণনাটি এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ২৫)
(1) - أَخْبَرَنَا محمد بن عبد العزيز المروزي قال: أخبرنا مُحَمَّدُ بْنُ الحسين الحدادي قال: أَخْبَرَنَا أَبُو يَزِيدَ أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بن إبراهيم قال: أَخْبَرَنَا عَمْرٌو عَنْ أَسْبَاطٍ عَنِ السُّدِّيِّ {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا} الْآيَةَ. قَالَ: نَزَلَتْ فِي أَصْحَابِ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ لَمَّا قَدِمَ سَلْمَانُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَعَلَ يُخْبِرُ عَنْ عِبَادَتِهِمْ وَاجْتِهَادِهِمْ وَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَانُوا يُصَلُّونَ وَيَصُومُونَ وَيُؤْمِنُونَ بِكَ وَيَشْهَدُونَ أَنَّكَ تُبْعَثُ نَبِيًّا. فَلَمَّا فَرَغَ سَلْمَانُ مِنْ ثَنَائِهِ عَلَيْهِمْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم "يَا سَلْمَانُ هُمْ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا} وَتَلَا إِلَى قَوْلِهِ: {وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} ".

(2) - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بن جعفر قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بن زكرياء قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرحمن الدغولي قال: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أبي خيثمة قال: حَدَّثَنَا عَمْرُو بن حماد قال: حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ عَنِ السُّدِّيِّ عَنْ أَبِي مَالِكٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَعَنْ مُرَّةَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ،

--------------------------------------------

(1) - أخرجه ابن جربر (1/254) وابن أبي حاتم (لباب النقول: 20) من طريق عمرو بن حماد به. وقواه الحافظ ابن حجر (العجاب: ورقة 11 أ) ولعله لتعدد الطرق، وإلا فهو ضعيف الإسناد ومعضل، وذلك لضعف أسباط (تقريب التهذيب: 1/53 - رقم: 362) ، (ديوان الضعفاء للذهبي: 16 - رقم: 306) ، وانقطاع السند بين السديّ وزمن القصة. وقد ضعف هذا السند الإمام ابن جرير في تفسيره (جامع البيان: 1/121) وانظر مقدمة تحقيق السيد صقر لهذا الكتاب (29) .

(2) - يقال في هذه الرواية ما قيل فيما قبلها، ويشهد للروايات السابقة: ما أخرجه ابن أبي حاتم (تفسير ابن كثير: 1/103) والعدني في مسنده (لباب النقول: 19) عن مجاهد نحوه مختصرا وصححه الحافظ ابن حجر (العجاب: ورقة 11 أ) وليس هو بصحيح للانقطاع بين ابن أبي نجيح ومجاهد (تهذيب التهذيب: 6/54) بالإضافة إلى أنه لم يذكر سلمان رضي الله عنه فيمن لقيهم مجاهد (تهذيب التهذيب: 10/42) (الجرح والتعديل لابن أبي حاتم: 8/319 - رقم: 1469) ، فالإسناد منقطع، وبانضمام هذه الروايات إلى بعض تتقوى وتصل لدرجة الحسن، لا الصحة، والله أعلم.
(১) - মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-মারওয়াযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-হাদ্দাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াজীদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমর আসবাত থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেন {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইয়াহুদী হয়েছে} আয়াতটি সম্পর্কে। তিনি বলেন: এটি সালমান আল-ফারসীর সঙ্গীদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। যখন সালমান আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তখন তিনি তাদের ইবাদত ও প্রচেষ্টার কথা বলতে লাগলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তারা সালাত আদায় করত, সিয়াম পালন করত, আপনার প্রতি ঈমান রাখত এবং সাক্ষ্য দিত যে আপনি নবী হিসেবে প্রেরিত হবেন। যখন সালমান তাদের প্রশংসা শেষ করলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে সালমান, তারা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।" তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইয়াহুদী হয়েছে} এবং তিনি {আর তারা চিন্তিতও হবে না} পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন।

(২) - মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যাকারিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দাগুলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আবি খাইসামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে হাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আসবাত আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুদ্দী থেকে, তিনি আবু মালিক থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং মুররাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন,

--------------------------------------------

(১) - ইবনে জারীর (১/২৫৪) এবং ইবনে আবি হাতিম (লুবাবুন নুকুল: ২০) আমর ইবনে হাম্মাদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার (আল-উজাব: পৃষ্ঠা ১১/ক) সম্ভবত এর একাধিক সূত্রের কারণে একে শক্তিশালী বলেছেন, অন্যথায় এর সনদ দুর্বল এবং মুদাল (বিচ্ছিন্ন)। কারণ আসবাত দুর্বল (তাকরীবুত তাহযীব: ১/৫৩ - নং: ৩৬২), (যাহাবীর দীওয়ানুজ জুয়াফা: ১৬ - নং: ৩০৬), এবং সুদ্দী ও ঘটনার সময়ের মধ্যে সনদ বিচ্ছিন্ন। ইমাম ইবনে জারীর তার তাফসীরে (জামেউল বায়ান: ১/১২১) এই সনদকে দুর্বল বলেছেন। দেখুন এই গ্রন্থের সাইয়্যেদ সাকার কর্তৃক তাহকীক এর ভূমিকা (২৯)।

(২) - এই বর্ণনার ক্ষেত্রেও তা-ই বলা হবে যা পূর্বের বর্ণনার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। আর পূর্ববর্তী বর্ণনাগুলোর স্বপক্ষে প্রমাণ রয়েছে যা ইবনে আবি হাতিম (তাফসীরে ইবনে কাসীর: ১/১০৩) এবং আল-আদানী তার মুসনাদে (লুবাবুন নুকুল: ১৯) মুজাহিদ থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার একে সহীহ বলেছেন (আল-উজাব: পৃষ্ঠা ১১/ক), কিন্তু ইবনে আবি নাজীহ ও মুজাহিদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার কারণে এটি সহীহ নয় (তাহযীবুত তাহযীব: ৬/৫৪)। এছাড়া মুজাহিদ যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তাদের মধ্যে সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাম উল্লেখ নেই (তাহযীবুত তাহযীব: ১০/৪২), (ইবনে আবি হাতিমের আল-জারহু ওয়াত-তাদীল: ৮/৩১৯ - নং: ১৪৬৯)। সুতরাং সনদটি বিচ্ছিন্ন, তবে এই বর্ণনাগুলো একত্রে যুক্ত হলে তা শক্তিশালী হয়ে হাসান (উত্তম) পর্যায়ে পৌঁছায়, সহীহ পর্যায়ে নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ২৬)
وَعَنْ نَاسٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا} الْآيَةَ، نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، وَكَانَ من أهل جندي سابور مِنْ أَشْرَافِهِمْ وَمَا بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ نَازِلَةٌ فِي الْيَهُودِ.

(1) - قَوْلُهُ تَعَالَى: {فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ} الْآيَةَ {79} .

نَزَلَتْ فِي الَّذِينَ غَيَّرُوا صِفَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبَدَّلُوا نَعْتَهُ، قَالَ الْكَلْبِيُّ بِالْإِسْنَادِ الَّذِي ذَكَرْنَا: إِنَّهُمْ غَيَّرُوا صِفَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي كِتَابِهِمْ وَجَعَلُوهُ آدَمَ سِبْطًا طَوِيلًا، وَكَانَ رَبْعَةً أَسْمَرَ، وَقَالُوا لِأَصْحَابِهِمْ وَأَتْبَاعِهِمْ: انْظُرُوا إِلَى صِفَةِ النَّبِيِّ، الَّذِي يُبْعَثُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ، لَيْسَ يُشْبِهُ نَعْتَ هَذَا، وَكَانَتْ لِلْأَحْبَارِ وَالْعُلَمَاءِ مَأْكَلَةٌ مِنْ سَائِرِ الْيَهُودِ، فخافوا أن يذهبوا مَأْكَلَتُهُمْ إِنْ بَيَّنُوا الصِّفَةَ، فَمِنْ ثَمَّ غَيَّرُوا.

(2) - قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً} {80} .

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ ابن أَبِي القاسم الصوفي قال: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أحمد العطار قال: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عبد الجبار قال: حدثني أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سعد الزهري قال: حَدَّثَنِي أَبِي وَعَمِّي قَالَا: حَدَّثَنَا أَبِي عَنِ ابن إسحاق قال: حدثني مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مُحَمَّدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَدِمَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم المدينة ويهود تَقُولُ: إِنَّمَا هَذِهِ الدُّنْيَا سَبْعَةُ آلَافِ سَنَةٍ، إنما يُعَذَّبُ النَّاسُ فِي النَّارِ لِكُلِّ أَلْفِ سَنَةٍ مِنْ أيام الدنيا يوم واحد فِي النَّارِ مِنْ

--------------------------------------------

(1) - يغني عنه مما في معناه ما أخرجه النسائي وابن المنذر (فتح القدير: 1/106) والبخاري في "خلق أفعال العباد" (الصحيح المسند للوادعي: 1) عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: نزلت في أهل الكتاب. وصححه الوادعي (المصدر السابق) ويشهد له:

ما أخرجه ابن أبي حاتم (فتح القدير: 1/106) من طريق عكرمة عن ابن عباس بمعناه مطولا نحو رواية الواحدي وقواه الحافظ ابن حجر (العجاب: ورقة 15/أ) .

(2) - أخرجه من طريق ابن إسحاق كذلك ابن جرير (1/303) والطبراني في "المعجم الكبير" (11/96 - ح: 11160) وابن أبي حاتم وابن المنذر (فتح القدير: 1/ 106) وإسناده حسن.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত, "নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে" (আল-বাকারা: ৬২) — এই আয়াতটি সালমান আল-ফারিসির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি জুনদিসাবুর অঞ্চলের অধিবাসী ও তাদের অন্যতম সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। আর এই আয়াতের পরবর্তী অংশ ইহুদিদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।

(১) - মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে" — আয়াত (৭৯)।

এটি তাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিবর্তন করেছিল এবং তাঁর গুণাবলি রদবদল করেছিল। কালবি আমাদের উল্লিখিত সনদে বর্ণনা করেছেন যে: তারা তাদের কিতাবে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শারীরিক বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিবর্তন করে তাঁকে তামাটে বর্ণ, সোজা চুল ও দীর্ঘদেহী হিসেবে সাব্যস্ত করেছিল, অথচ তিনি ছিলেন মাঝারি গড়ন ও শ্যামবর্ণের। তারা তাদের সাথী ও অনুসারীদের বলত: "শেষ যামানায় যে নবীর আবির্ভাব ঘটবে তার বৈশিষ্ট্যের দিকে তাকাও, তিনি এই ব্যক্তির (মুহাম্মদ) গুণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নন।" ইহুদি পণ্ডিত ও আলেমদের জন্য সাধারণ ইহুদিদের পক্ষ থেকে উপজীবিকার ব্যবস্থা ছিল। তাই তারা ভয় পাচ্ছিল যে, যদি তারা নবীর সঠিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে দেয় তবে তাদের সেই উপজীবিকা চলে যাবে। এ কারণেই তারা পরিবর্তন করেছিল।

(২) - মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তারা বলে, আগুন আমাদের কখনোই স্পর্শ করবে না, কেবল গণনা করা কয়েক দিন ছাড়া" — আয়াত (৮০)।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আবুল কাসিম আস-সুফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-আত্তার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবনে সা’দ আয-যুহরি, তিনি বলেন: আমার নিকট আমার পিতা ও চাচা বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবি মুহাম্মদ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন ইহুদিরা বলত: "এই পৃথিবী কেবল সাত হাজার বছরের। দুনিয়ার প্রতি এক হাজার বছরের বিনিময়ে মানুষকে জাহান্নামের আগুনে মাত্র একদিন শাস্তি দেওয়া হবে... থেকে

--------------------------------------------

(১) - এর পরিবর্তে সমার্থবোধক হিসেবে নাসায়ি ও ইবনে মুনযির (ফাতহুল কাদির: ১/১০৬) এবং বুখারি তাঁর ‘খালকু আফআলিল ইবাদ’ (আস-সহীহুল মুসনাদ লিল ওয়াদিয়ি: ১) গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা যথেষ্ট, তিনি বলেন: এটি আহলে কিতাবদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আল-ওয়াদিয়ি (পূর্বোক্ত উৎস) একে সহীহ বলেছেন। এর সমর্থনে আরও রয়েছে: ইবনে আবি হাতিম (ফাতহুল কাদির: ১/১০৬) ইকরিমাহর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে একই অর্থে ওয়াহিদির বর্ণনার মতো বিস্তারিত রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ ইবনে হাজার (আল-উজাব: পত্র ১৫/ক) একে শক্তিশালী বলেছেন।

(২) - এটি ইবনে ইসহাকের সূত্রে একইভাবে ইবনে জারির (১/৩০৩), তাবারানি তাঁর ‘আল-মু’জামুল কাবীর’ (১১/৯৬ - হা: ১১১৬০), ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে মুনযির (ফাতহুল কাদির: ১/১০৬) বর্ণনা করেছেন। এর সনদ হাসান।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ২৭)
أَيَّامِ الْآخِرَةِ، وَإِنَّمَا هِيَ سَبْعَةُ أَيَّامٍ ثُمَّ يَنْقَطِعُ الْعَذَابُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِي ذَلِكَ مِنْ قَوْلِهِمْ: {وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً} .

(1) - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَيَّانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرَّازِيُّ حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا جُوَيْبِرٌ عَنِ الضَّحَّاكِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: فِي قَوْلِهِ: " وَقَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً " قَالَ وَجَدَ أَهْلُ الْكِتَابِ مَا بَيْنَ طَرَفَيْ جَهَنَّمَ مَسِيرَةَ أربعين عامًا قالوا: لَنْ نُعَذَّبَ فِي النَّارِ إِلَّا مَا وَجَدْنَا فِي التَّوْرَاةِ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ اقْتَحَمُوا فِي النَّارِ، فَسَارُوا فِي الْعَذَابِ حَتَّى انْتَهَوْا إِلَى سَقَرَ وَفِيهَا شَجَرَةُ الزَّقُّومِ، إِلَى آخِرِ يَوْمٍ مِنَ الْأَيَّامِ الْمَعْدُودَةِ، فَقَالَ لَهُمْ خَزَنَةُ النَّارِ: يَا أَعْدَاءَ اللَّهِ زَعَمْتُمْ أَنَّكُمْ لَنْ تُعَذَّبُوا فِي النَّارِ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً، فَقَدِ انْقَضَى الْعَدَدُ وَبَقِيَ الْأَبَدُ.

قَوْلُهُ تَعَالَى: {أَفَتَطْمَعُونَ أَنْ يُؤْمِنُوا لَكُمْ} الْآيَةَ {75} .

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَمُقَاتِلٌ: نَزَلَتْ فِي السَّبْعِينَ الَّذِينَ اخْتَارَهُمْ مُوسَى لِيَذْهَبُوا مَعَهُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى، فَلَمَّا ذَهَبُوا مَعَهُ إِلَى الْمِيقَاتِ وَسَمِعُوا كَلَامَ اللَّهِ تَعَالَى وَهُوَ يَأْمُرُهُ وَيَنْهَاهُ، رَجَعُوا إِلَى قَوْمِهِمْ، فَأَمَّا الصَّادِقُونَ فَأَدَّوْا مَا سَمِعُوا، وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ: سَمِعْنَا اللَّهَ فِي آخِرِ كَلَامِهِ يَقُولُ: إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَفْعَلُوا هَذِهِ الْأَشْيَاءَ فَافْعَلُوا، وَإِنْ شِئْتُمْ فَلَا تَفْعَلُوا وَلَا بَأْسَ.

--------------------------------------------

(1) - إسناده ضعيف جدا لضعف جويبر (تقريب التهذيب: 1/136 - رقم: 131) والانقطاع بين الضحاك وابن عباس (تهذيب التهذيب: 4/453) (الاتقان: 2/189) ويغني عنه مما في معناه: ما أخرجه ابن جرير (1/303) وعبد بن حميد وابن المنذر وابن أبي حاتم (فتح القدير: 1/106) عن عكرمة بمعناه مطوّلاً. هو مرسل ويشهد له:

1 - ما أخرجه ابن جرير (1/302) عن قتادة بمعناه مختصرا مرسل وإسناده صحيح.

2 - ما أخرجه ابن جرير (1/302) من طريق الضحاك عن ابن عباس نحوه وإسناده ضعيف منقطع. وأخرج ابن جرير عن السدي وزيد بن أسلم بمعناه ومع أن كل هذه الطرق فيها ضعف فبتعضدها ببعضها تتقوى وتتحسّن والله أعلم.
আখেরাতের দিনসমূহ, আর তা হলো মাত্র সাতটি দিন, এরপর শাস্তি বন্ধ হয়ে যাবে। তাদের এই কথার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন: "তারা বলে যে, গণনা করা কয়েক দিন ছাড়া আগুন আমাদের স্পর্শই করবে না।"

(১) - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মদ আত-তামিমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হাইয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আর-রাজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাহল বিন উসমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মারওয়ান বিন মুআবিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুয়াইবির, দাহহাক থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর বাণী "তারা বলে যে, গণনা করা কয়েক দিন ছাড়া আগুন আমাদের স্পর্শই করবে না" প্রসঙ্গে তিনি বলেন: আহলে কিতাবগণ জাহান্নামের দুই প্রান্তের মাঝে চল্লিশ বছরের পথ দেখতে পেয়েছে। তারা বলল: আমরা তাওরাতে যা পেয়েছি, সেই সময়টুকু ছাড়া আমাদের আগুনে শাস্তি দেওয়া হবে না। অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন আসবে, তারা আগুনে ঝাপিয়ে পড়বে এবং শাস্তির মধ্যে চলতে থাকবে যতক্ষণ না তারা সাকার নামক স্থানে পৌঁছাবে যেখানে যাক্কুম গাছ রয়েছে, গণনা করা দিনগুলোর শেষ দিন পর্যন্ত। তখন জাহান্নামের রক্ষীরা তাদের বলবে: ওহে আল্লাহর শত্রুরা! তোমরা দাবি করেছিলে যে তোমাদের গণনা করা কয়েক দিন ছাড়া আগুনে শাস্তি দেওয়া হবে না, এখন সেই সংখ্যা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু অনন্তকাল রয়ে গেছে।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {তবে কি তোমরা আশা কর যে তারা তোমাদের প্রতি ঈমান আনবে?} আয়াত {৭৫}।

ইবনে আব্বাস এবং মুকাতিল বলেন: এটি সেই সত্তর জন সম্পর্কে নাযিল হয়েছে যাদেরকে মূসা আল্লাহ তাআলার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য মনোনীত করেছিলেন। তারা যখন তাঁর সাথে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাল এবং আল্লাহ তাআলার কথা শুনল যেখানে তিনি তাঁকে আদেশ ও নিষেধ করছিলেন, তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এল। তাদের মধ্যে যারা সত্যবাদী ছিল তারা যা শুনেছিল তা পৌঁছে দিল। কিন্তু তাদের একদল বলল: আমরা আল্লাহর কথার শেষে তাঁকে বলতে শুনেছি: তোমরা যদি এই কাজগুলো করতে পার তবে করো, আর যদি না চাও তবে করো না, কোনো সমস্যা নেই।

--------------------------------------------

(১) - এর সনদ জুয়াইবির দুর্বল হওয়ার কারণে অত্যন্ত দুর্বল (তাকরীবুত তাহযীব: ১/১৩৬ - নং: ১৩১) এবং দাহহাক ও ইবনে আব্বাসের মধ্যে সূত্রবিচ্ছিন্নতা রয়েছে (তাহযীবুত তাহযীব: ৪/৪৫৩) (আল-ইতকান: ২/১৮৯)। এর সমার্থবোধক বর্ণনার জন্য এটিই যথেষ্ট যা ইবনে জারীর (১/৩০৩), আব্দ বিন হুমাইদ, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম (ফাতহুল কাদির: ১/১০৬) ইকরিমাহ থেকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। এটি মুরসাল এবং এর সমর্থনে রয়েছে:

১ - যা ইবনে জারীর (১/৩০২) কাতাদাহ থেকে সংক্ষেপে সমার্থবোধক বর্ণনা করেছেন, এটি মুরসাল এবং এর সনদ সহীহ।

২ - যা ইবনে জারীর (১/৩০২) দাহহাকের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, এর সনদ দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন। ইবনে জারীর সুদ্দি এবং যায়েদ বিন আসলাম থেকেও সমার্থবোধক বর্ণনা করেছেন এবং যদিও এই প্রতিটি সূত্রের মধ্যেই দুর্বলতা রয়েছে, তবে একে অপরের সমর্থনে এগুলো শক্তিশালী ও হাসান পর্যায়ে উন্নীত হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَعِنْدَ أَكْثَرِ الْمُفَسِّرِينَ: نَزَلَتِ الْآيَةُ فِي الَّذِينَ غَيَّرُوا آيَةَ الرَّجْمِ وَصِفَةَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم.

(1) - قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا} {89} .

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَانَتْ يَهُودُ خَيْبَرَ تُقَاتِلُ غَطَفَانَ، فَكُلَّمَا الْتَقَوْا هُزِمَتْ يَهُودُ خَيْبَرَ، فَعَاذَتِ الْيَهُودُ بِهَذَا الدُّعَاءِ وَقَالَتْ: اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ بِحَقِّ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي وَعَدْتَنَا أَنْ تُخْرِجَهُ لَنَا فِي آخِرِ الزَّمَانِ إِلَّا نَصَرْتَنَا عَلَيْهِمْ، قَالَ: فَكَانُوا إِذَا الْتَقَوْا دَعَوْا بِهَذَا الدُّعَاءِ، فَهَزَمُوا غَطَفَانَ، فَلَمَّا بُعِثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كَفَرُوا بِهِ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا} أَيْ بِكَ يَا مُحَمَّدُ، إِلَى قَوْلِهِ: {فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ} وَقَالَ السُّدِّيُّ: كَانَتِ الْعَرَبُ تَمُرُّ بِيَهُودَ فَيَلْقَوْنَ مِنْهُمْ أَذًى، وَكَانَتِ الْيَهُودُ تَجِدُ نَعْتَ مُحَمَّدٍ فِي التَّوْرَاةِ، وَيَسْأَلُونَ اللَّهَ أَنْ يَبْعَثَهُ فَيُقَاتِلُونَ مَعَهُ الْعَرَبَ، فَلَمَّا جَاءَهُمْ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم كَفَرُوا بِهِ حَسَدًا، وَقَالُوا: إِنَّمَا كَانَتِ الرُّسُلُ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَمَا بَالُ هَذَا مِنْ بَنِي إِسْمَاعِيلَ.

(2) - قَوْلُهُ تَعَالَى: {قُلْ مَنْ كَانَ عَدوًّا لِجِبْرِيلَ} الآية {97} .

أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أحمد الزاهد قال: أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أحمد الشيباني قال: أَخْبَرَنَا

--------------------------------------------

(1) - يؤيده ما أخرجه ابن جرير (1/325) وابن أبي حاتم (لباب النقول: 21) وأبو نعيم في "الدلائل " (1/19) من طريق ابن إسحاق بسنده عن ابن عباس رضي الله عنهما أن يهود كانوا يستفتحون على الأوس والخزرج برسول الله صلى الله عليه وسلم قبل مبعثه، فلما بعثه الله من العرب كفروا به وجحدوا ما كانوا يقولون فيه … الحديث. وإسناده حسن، ويشهد له: ما أخرجه ابن جرير (1/325) وابن المنذر وأبو نعيم (فتح القدير: 1/113) والبيهقي في "الدلائل" (2/75) من طريق إسحاق عن عاصم بن عمر بن قتادة عن أشياخ من الأنصار بمعناه. وحسنه الوادعي (الصحيح المسند: 2) .

(2) - أخرجه الإمام أحمد (الفتح الرباني: 18/73 - ح: 115) والطبراني في "المعجم الكبير" (12/45 - ح: 12429) والنسائي (تفسير ابن كثير: 1/130) من طريق ابن شهاب به. وإسناده حسن بشواهده وهي:

1. ما أخرجه ابن جرير (1/342) والإمام أحمد (الفتح الرباني: 18/74) وعبد بن حميد (المصدر السابق) وأبو داود الطيالسي (منحة المعبود: 2/11 - ح: 1923) وابن أبي حاتم وأبو نعيم (فتح القدير: 1/117) والبيهقي (دلائل النبوة: 6/266) كلهم من طريق عبد الحميد بن بهرام عن شهر بن حوشب عن ابن عباس رضي الله عنهما نحوه وسنده حسن.

ما أخرجه الواحدي في الرواية القادمة وسيأتي تخريجها.
অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে: এই আয়াতটি তাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে যারা রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) সংক্রান্ত আয়াত এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করেছিল।

(১) - মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা আগে থেকেই কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত} {৮৯}।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, খায়বারের ইহুদিরা গাতফান গোত্রের সাথে যুদ্ধ করত। যখনই তাদের মোকাবিলা হতো, খায়বারের ইহুদিরা পরাজিত হতো। তখন ইহুদিরা এই দুআর আশ্রয় নিল এবং বলল: ‘হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে সেই উম্মী নবীর ওসিলায় প্রার্থনা করছি, যাঁকে শেষ জামানায় আমাদের জন্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি আপনি আমাদের দিয়েছেন, আপনি আমাদের তাদের বিরুদ্ধে সাহায্য করুন।’ তিনি বলেন, এরপর যখনই তাদের মোকাবিলা হতো, তারা এই দুআ করত এবং গাতফান গোত্রকে পরাজিত করত। কিন্তু যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হলেন, তখন তারা তাঁকে অস্বীকার করল। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {এবং তারা আগে থেকেই কাফিরদের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত} অর্থাৎ হে মুহাম্মদ! আপনার মাধ্যমে, {কাফিরদের ওপর আল্লাহর লানত} এই অংশ পর্যন্ত। সুদ্দী বলেন: আরবরা ইহুদিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা তাদের দ্বারা কষ্ট পেত। ইহুদিরা তাওরাতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলি পেত এবং তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করত যেন তিনি তাঁকে প্রেরণ করেন, যাতে তারা তাঁর সাথে মিলে আরবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। কিন্তু যখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছে আসলেন, তখন তারা হিংসাবশত তাঁকে অস্বীকার করল এবং বলল: ‘রাসূলরা তো কেবল বনী ইসরাঈল থেকেই আসতেন, তবে কেন এই ব্যক্তি বনী ইসমাঈল থেকে?’

(২) - মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, যে জিবরাঈলের শত্রু হবে} আয়াত {৯৭}।

সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আজ-জাহিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-হাসান বিন আহমদ আশ-শাইবানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) - একে সমর্থন করে যা ইবনে জারীর (১/৩২৫), ইবনে আবি হাতেম (লুবাবুন নুকুল: ২১) এবং আবু নুআইম ‘আদ-দালাইল’ (১/১৯) গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের সূত্রে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহুদিরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের পূর্বে তাঁর মাধ্যমে আউস ও খাজরাজ গোত্রের বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করত। কিন্তু যখন আল্লাহ তাঁকে আরবদের মধ্য থেকে প্রেরণ করলেন, তখন তারা তাঁকে অস্বীকার করল এবং তাঁর সম্পর্কে তারা যা বলত তা প্রত্যাখ্যান করল... হাদীস। এর সনদ হাসান। এর স্বপক্ষে আরও বর্ণনা রয়েছে: যা ইবনে জারীর (১/৩২৫), ইবনুল মুনজির, আবু নুআইম (ফাতহুল কাদীর: ১/১১৩) এবং বায়হাকী ‘আদ-দালাইল’ (২/৭৫) গ্রন্থে ইসহাকের সূত্রে আসেম বিন উমর বিন কাতাদাহ থেকে আনসারদের একদল শায়খ (প্রবীণ ব্যক্তি)-এর মাধ্যমে একই অর্থে বর্ণনা করেছেন। আর ওয়াদিয়ী একে হাসান বলেছেন (আস-সহীহুল মুসনাদ: ২)।

(২) - ইমাম আহমাদ (আল-ফাতহুর রব্বানী: ১৮/৭৩ - হা: ১১৫), তাবারানী ‘আল-মুজামুল কাবীর’ (১২/৪৫ - হা: ১২৪২৯) এবং নাসাঈ (তাফসীরে ইবনে কাসীর: ১/১৩০) ইবনে শিহাবের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এর স্বপক্ষীয় বর্ণনাগুলোর কারণে এর সনদ হাসান। সেগুলো হলো:

১. যা ইবনে জারীর (১/৩৪২), ইমাম আহমাদ (আল-ফাতহুর রব্বানী: ১৮/৭৪), আবদ বিন হুমাইদ (পূর্বোক্ত উৎস), আবু দাউদ তায়ালিসি (মিনহাতুল মাবুদ: ২/১১ - হা: ১৯২৩), ইবনে আবি হাতেম, আবু নুআইম (ফাতহুল কাদীর: ১/১১৭) এবং বায়হাকী (দালাইলুন নুবুওয়াহ: ৬/২৬৬) প্রত্যেকেই আবদুল হামিদ বিন বাহরামের সূত্রে শহর বিন হাওশাব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান।

যা আল-ওয়াহিদী পরবর্তী বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন এবং এর তাখরীজ সামনে আসছে।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ২৯)
الْمُؤَمَّلُ بْنُ الْحَسَنِ بن عيسى قال: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بن سالم قال: أَخْبَرَنَا أبو نعيم قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ بُكَيْرٍ بن شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَقْبَلَتِ الْيَهُودُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: يَا أَبَا الْقَاسِمِ نَسْأَلُكَ عَنْ أَشْيَاءَ فَإِنْ أَجَبْتَنَا فِيهَا اتَّبَعْنَاكَ، أَخْبِرْنَا مَنِ الَّذِي يَأْتِيكَ مِنَ الْمَلَائِكَةِ؟ فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا يَأْتِيهِ مَلَكٌ مِنْ عِنْدِ

رَبِّهِ عز وجل بِالرِّسَالَةِ بالوحيّ فَمَنْ صَاحِبُكَ؟ قَالَ: "جِبْرِيلُ" قَالُوا: ذَاكَ الَّذِي يَنْزِلُ بِالْحَرْبِ وَبِالْقِتَالِ، ذَاكَ عَدُوُّنَا لَوْ قُلْتَ مِيكَائِيلُ الذي ينزل بالمطر والرحمة اتبعناك، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ} إِلَى قَوْلِهِ: {فَإِنَّ اللَّهَ عَدُوٌّ لِلْكَافِرِينَ}

(1) - قَوْلُهُ تَعَالَى: {مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِلَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ} الْآيَةَ {98} .

أَخْبَرَنَا أَبُو بكر الأصفهاني قال: أَخْبَرَنَا أَبُو الشيخ الحافظ قال: حَدَّثَنَا أَبُو يحيى الرازي قال:

--------------------------------------------

(1) - أخرجه ابن جرير (1/343، 344) من طريق داود به. وفيه انقطاع بين الشعبي وعمر رضي الله عنه (تفسير ابن كثير: 1/131) (تهذيب التهذيب: 5/68) . وله شواهد عند ابن جرير (1/348 349) وابن أبي حاتم (تفسير ابن كثير: 1/131) وغيرهما، لكنها لا تخلو من مقال، وعلى كل حال فهي تدل عن أن هذا القول صدر عن اليهود، ولا مانع أن يتعدد السبب، فيكون قد حدث مرة مع النبي صلى الله عليه وسلم ومرة مع عمر رضي الله عنه، وهو الأرجح. لا سيما وقد قوّى الحافظ ابن حجر قصة عمر مع اليهود بطرقها (فتح الباري: 8/166) .
মুআম্মাল ইবনুল হাসান বিন ঈসা বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বিন সালিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বুকাইর বিন শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনু জুবাইর থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইয়াহূদীরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলো এবং বলল: হে আবুল কাসিম! আমরা আপনাকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব, আপনি যদি আমাদের সেগুলোর উত্তর দেন তবে আমরা আপনার অনুসরণ করব। আমাদের বলুন, ফেরেশতাদের মধ্য থেকে কে আপনার নিকট আসে? কেননা এমন কোনো নবী নেই যার নিকট তাঁর মহান রবের নিকট

থেকে রিসালাত ও ওহী নিয়ে কোনো ফেরেশতা আসেননি। সুতরাং আপনার সাথী কে? তিনি বললেন: "জিবরীল।" তারা বলল: তিনি তো যুদ্ধ ও লড়াই নিয়ে অবতরণ করেন, তিনি আমাদের শত্রু। আপনি যদি মিকাঈলের কথা বলতেন যিনি বৃষ্টি ও রহমত নিয়ে অবতরণ করেন, তবে আমরা আপনার অনুসরণ করতাম। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {বলুন, যে ব্যক্তি জিবরীলের শত্রু হবে—নিশ্চয়ই তিনি তা আপনার অন্তরে নাজিল করেছেন} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের শত্রু।}

(১) - মহান আল্লাহর বাণী: {যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাদের শত্রু হবে} ৯৮ নম্বর আয়াত।

আবু বকর আল-আসফাহানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবুশ শাইখ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু ইয়াহইয়া আর-রাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) - এটি ইবনু জারীর (১/৩৪৩, ৩৪৪) দাউদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এতে শাবি ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মধ্যে ইনকিতা (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে (তাফসীর ইবনু কাসীর: ১/১৩১) (তাহযীবুত তাহযীব: ৫/৬৮)। ইবনু জারীর (১/৩৪৮, ৩৪৯) এবং ইবনু আবী হাতিম (তাফসীর ইবনু কাসীর: ১/১৩১) ও অন্যান্যদের নিকট এর কিছু সমর্থক বর্ণনা রয়েছে, তবে সেগুলো সমালোচনামুক্ত নয়। যাই হোক, এগুলো প্রমাণ করে যে এই উক্তিটি ইয়াহূদীদের পক্ষ থেকে প্রকাশ পেয়েছে। আর (আয়াত অবতীর্ণের) কারণ একাধিক হতে কোনো বাধা নেই; ফলে এটি একবার নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এবং আরেকবার উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে ঘটে থাকতে পারে, আর এটিই অধিকতর সঠিক মত। বিশেষ করে হাফিজ ইবনু হাজার উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে ইয়াহূদীদের ঘটনার বর্ণনাটিকে এর বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী বলেছেন (ফাতহুল বারী: ৮/১৬৬)।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ৩০)
حَدَّثَنَا سَهْلُ بن عثمان قال: حدثنا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ دَاوُدَ عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه كُنْتُ آتِي الْيَهُودَ عِنْدَ دِرَاسَتِهِمُ التَّوْرَاةَ فَأَعْجَبُ مِنْ مُوَافَقَةِ الْقُرْآنِ التَّوْرَاةَ، وَمُوَافَقَةُ التَّوْرَاةِ الْقُرْآنَ، فَقَالُوا: يَا عُمَرُ مَا أَحَدٌ أَحَبُّ إِلَيْنَا مِنْكَ، قُلْتُ: وَلِمَ؟ قَالُوا: لِأَنَّكَ تَأْتِينَا وَتَغْشَانَا، قُلْتُ: إِنَّمَا أَجِيءُ لِأَعْجَبَ مِنْ تَصْدِيقِ كِتَابِ اللَّهِ بَعْضِهِ بَعْضًا وَمُوَافَقَةِ التَّوْرَاةِ الْقُرْآنَ، وَمُوَافِقَةِ القرآن التوراة، فبينما أَنَا عِنْدَهُمْ ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَ ظهري، فقالوا: إن هَذَا صَاحِبُكَ فَقُمْ إِلَيْهِ، فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ دخل خوخة في الْمَدِينَةِ، فَأَقْبَلْتُ عَلَيْهِمْ فقلت: أنشدكم بالله وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ كِتَابٍ أَتَعْلَمُونَ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ؟ فَقَالَ سَيِّدُهُمْ: قد نشدكم الله فَأَخْبِرُوهُ. فَقَالُوا: أَنْتَ سَيِّدُنَا فَأَخْبِرْهُ، فَقَالَ سَيِّدُهُمْ: إِنَّا نَعْلَمُ أَنَّهُ رَسُولُ الله قال: فقلت: فَأَنْتَ أَهْلَكُهُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ لَمْ تَتَّبِعُوهُ، قَالُوا: إِنَّ لَنَا عَدُوًّا مِنَ الْمَلَائِكَةِ وَسِلْمًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ، فَقُلْتُ: مَنْ عَدُوُّكُمْ، وَمَنْ سِلْمُكُمْ؟ قَالُوا: عَدُوُّنَا جِبْرِيلُ وَهُوَ مَلَكُ الْفَظَاظَةِ وَالْغِلْظَةِ وَالْآصَارِ

وَالتَّشْدِيدِ؛ قُلْتُ: ومن سلمكم؟ قالوا: مِيكَائِيلُ وَهُوَ مَلَكُ الرَّأْفَةِ وَاللِّينِ وَالتَّيْسِيرِ قُلْتُ: فَإِنِّي أَشْهَدُ مَا يَحِلُّ لِجِبْرِيلَ أَنْ يُعَادِيَ سِلْمَ مِيكَائِيلَ، وَمَا يَحِلُّ لِمِيكَائِيلَ أَنْ يُسَالِمَ عدو جبريل، وإنهما جَمِيعًا وَمَنْ مَعَهُمَا أَعْدَاءٌ لِمَنْ عَادُوا وَسِلْمٌ لِمَنْ سَالَمُوا. ثُمَّ قُمْتُ فَدَخَلْتُ الْخَوْخَةَ الَّتِي دَخَلَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَقْبَلَنِي فَقَالَ: يَا ابْنَ الخطاب ألا أقرؤك آيات نزلت عَلَيَّ قَبْلُ؟ قُلْتُ: بَلَى فَقَرَأَ: " {قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ} الْآيَةَ حَتَّى بَلَغَ {وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلَّا الْفَاسِقُونَ} " قُلْتُ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا جِئْتُ إِلَّا أُخْبِرُكَ بِقَوْلِ الْيَهُودِ، فَإِذَا اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ قَدْ سَبَقَنِي بِالْخَبَرِ. قَالَ عُمَرُ: فَلَقَدْ رَأَيْتُنِي أَشَدَّ فِي دِينِ اللَّهِ مِنْ حَجَرٍ.

وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: إِنَّ حَبْرًا مِنْ أَحْبَارِ الْيَهُودِ مِنْ فَدَكَ يُقَالُ لَهُ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صوريا حاج النبيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنْ أَشْيَاءَ فَلَمَّا اتَّجَهَتِ الْحُجَّةُ عَلَيْهِ قَالَ: أيَّ ملك يأتي مِنَ السَّمَاءِ؟ قَالَ: جِبْرِيلُ: وَلَمْ يَبْعَثِ اللَّهُ نَبِيًّا إِلَّا وَهُوَ وَلِيُّهُ قَالَ:
সাহল ইবন উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবন মুশহির আমাদের নিকট দাউদ থেকে, তিনি শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: আমি ইয়াহূদীদের নিকট যেতাম যখন তারা তাওরাত পাঠ করত। আমি কুরআনের সাথে তাওরাতের মিল এবং তাওরাতের সাথে কুরআনের মিল দেখে বিস্মিত হতাম। তারা বলল: হে উমর! আমাদের কাছে আপনার চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই। আমি বললাম: কেন? তারা বলল: কারণ আপনি আমাদের কাছে আসেন এবং আমাদের সাথে উঠাবসা করেন। আমি বললাম: আমি তো কেবল আল্লাহর কিতাবের একাংশ অপর অংশকে সত্যায়ন করা এবং তাওরাতের সাথে কুরআনের মিল ও কুরআনের সাথে তাওরাতের মিল দেখে বিস্মিত হওয়ার জন্য আসি। একদিন আমি তাদের নিকট থাকাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার পিছন দিক দিয়ে অতিক্রম করলেন। তারা বলল: এই তো আপনার সাথী, আপনি তাঁর কাছে যান। আমি তাঁর দিকে ফিরলাম এবং দেখলাম রাসূলুল্লাহ (সা.) মদীনার একটি গলিপথে প্রবেশ করেছেন। এরপর আমি ইয়াহূদীদের দিকে ফিরে বললাম: আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি এবং তোমাদের ওপর অবতীর্ণ কিতাবের দোহাই দিচ্ছি, তোমরা কি জানো যে তিনি আল্লাহর রাসূল? তখন তাদের নেতা বলল: তিনি যেহেতু তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়েছেন, তাই তোমরা তাঁকে জানিয়ে দাও। তারা বলল: আপনিই আমাদের নেতা, আপনিই তাঁকে বলুন। তখন তাদের নেতা বলল: আমরা জানি যে তিনি আল্লাহর রাসূল। তিনি (উমর) বলেন, আমি বললাম: তবে তো তোমরা সবচেয়ে বেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি, যদি তোমরা জানো যে তিনি আল্লাহর রাসূল (সা.) এবং তা সত্ত্বেও তাঁর অনুসরণ না করো। তারা বলল: ফেরেশতাদের মধ্যে আমাদের একজন শত্রু আছে এবং একজন মিত্র আছে। আমি বললাম: তোমাদের শত্রু কে এবং তোমাদের মিত্র কে? তারা বলল: আমাদের শত্রু জিবরীল; তিনি রূঢ়তা, কঠোরতা, দায়ভার এবং কড়াকড়ির ফেরেশতা।

আমি বললাম: আর তোমাদের মিত্র কে? তারা বলল: মীকাঈল; তিনি মমতা, কোমলতা এবং সহজ করার ফেরেশতা। আমি বললাম: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, জিবরীলের জন্য এটি বৈধ নয় যে তিনি মীকাঈলের মিত্রের সাথে শত্রুতা করবেন, আর মীকাঈলের জন্যও এটি বৈধ নয় যে তিনি জিবরীলের শত্রুর সাথে বন্ধুত্ব করবেন। তাঁরা উভয়ে এবং তাঁদের সাথে যারা আছেন, তাঁরা তাদেরই শত্রু যাদের সাথে তারা শত্রুতা পোষণ করেন এবং তাদেরই মিত্র যাদের সাথে তারা মিত্রতা করেন। এরপর আমি উঠে সেই গলিপথে প্রবেশ করলাম যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রবেশ করেছিলেন। তিনি আমার মুখোমুখি হলেন এবং বললেন: হে খাত্তাব তনয়! আমি কি তোমাকে এমন কিছু আয়াত পড়ে শুনাব না যা একটু আগে আমার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে? আমি বললাম: অবশ্যই। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: "বলুন, যে ব্যক্তি জিবরীলের শত্রু হবে, তবে সে..." আয়াতটি থেকে "আর পাপাচারীরা ছাড়া কেউ তা অস্বীকার করে না" পর্যন্ত। আমি বললাম: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি আপনাকে ইয়াহূদীদের কথা জানানোর জন্যই এসেছিলাম; কিন্তু দেখা গেল পরম দয়ালু ও সর্বজ্ঞাত (আল্লাহ) খবর দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার অগ্রগামী হয়েছেন। উমর (রা.) বলেন: তখন আমি নিজেকে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে পাথরের চেয়েও বেশি কঠোর অনুভব করলাম।

ইবন আব্বাস (রা.) বলেন: ফাদাকের ইয়াহূদী পণ্ডিতদের মধ্য থেকে আবদুল্লাহ ইবন সূরিয়া নামক এক পণ্ডিত নবী (সা.)-এর সাথে বিতর্ক করল। সে নবী (সা.)-কে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করল। যখন তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল, তখন সে বলল: আসমান থেকে আপনার কাছে কোন ফেরেশতা আসেন? তিনি বললেন: জিবরীল; আর আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যার বন্ধু বা অভিভাবক তিনি ছিলেন না। সে বলল:
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ৩১)
ذَاكَ عَدُوُّنَا مِنَ الْمَلَائِكَةِ، وَلَوْ كَانَ مِيكَائِيلُ مَكَانَهُ لَآمَنَّا بِكَ، إن جبريل نزل بِالْعَذَابِ والقتال والشدة، فإنه عَادَانَا مِرَارًا كَثِيرَةً، وَكَانَ أَشَدُّ ذَلِكَ عَلَيْنَا أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ عَلَى نَبِيِّنَا أَنَّ بَيْتَ الْمَقْدِسِ سَيُخَرَّبُ عَلَى يَدَيْ رَجُلٍ يُقَالُ لَهُ بُخْتُنَصَّرَ، وَأَخْبَرَنَا بِالْحِينِ الَّذِي يُخَرَّبُ فِيهِ، فَلَمَّا كَانَ وَقْتُهُ بَعَثْنَا رَجُلًا مِنْ أَقْوِيَاءِ بَنِي إِسْرَائِيلَ فِي طَلَبِ بُخْتُنَصَّرَ لِيَقْتُلَهُ، فَانْطَلَقَ يَطْلُبُهُ حَتَّى لَقِيَهُ بِبَابِلَ غُلَامًا مِسْكِينًا لَيْسَتْ لَهُ قُوَّةٌ، فَأَخَذَهُ صَاحِبُنَا لِيَقْتُلَهُ فَدَفَعَ عَنْهُ جِبْرِيلُ، وَقَالَ لِصَاحِبِنَا: إِنْ كَانَ رَبُّكُمُ الَّذِي أَذِنَ في هلاككم فلا تُسَلَّطَ عَلَيْهِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ هَذَا فَعَلَى أَيِّ شَيْءٍ تَقْتُلُهُ؟ فَصَدَّقَهُ صَاحِبُنَا وَرَجَعَ إِلَيْنَا، وَكَبُرَ بُخْتُنَصَّرَ وَقَوِيَ وَغَزَانَا وَخَرَّبَ بَيْتَ الْمَقْدِسِ، فَلِهَذَا نَتَّخِذُهُ عَدُوًّا فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ.

وَقَالَ مُقَاتِلٌ: قَالَتِ الْيَهُودُ: إِنَّ جِبْرِيلَ عَدُوُّنَا أُمِرَ أَنْ يَجْعَلَ النُّبُوَّةَ فِينَا فَجَعَلَهَا فِي غَيْرِنَا، فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ.

(1) - قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَلَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ} {99} .

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: هَذَا جَوَابٌ لِابْنِ صُورِيَّا حَيْثُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا مُحَمَّدُ مَا جِئْتَنَا بِشَيْءٍ نَعْرِفُهُ، ما أُنْزِلَ عَلَيْكَ مِنْ آية بيّنة فنتبعك، بِهَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الْآيَةَ.

(2) - قَوْلُهُ تَعَالَى: {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سلَيْمَانَ} الآية {102} .

أخبرني مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ العزيز القنطري قال: أَخْبَرَنَا أَبُو الفضل الحدادي قال: أَخْبَرَنَا أَبُو يزيد الخالدي قال: أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بن إبراهيم قال: حدثنا جرير قال: أَخْبَرَنَا حُصَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ إِذْ قَالَ: إِنَّ الشَّيَاطِينَ كَانُوا يَسْتَرِقُونَ السَّمْعَ مِنَ السَّمَاءِ، فَيَجِيءُ أَحَدُهُمْ بِكَلِمَةِ حَقٍّ فَإِذَا جَرَّبَ مِنْ أَحَدِهِمُ الصِّدْقَ كَذَبَ مَعَهَا سَبْعِينَ

--------------------------------------------

(1) - أسنده ابن جرير (1/350) وابن أبي حاتم (لباب النقول: 23) من طريق ابن إسحاق بسنده إلى ابن عباس رضي الله عنهما. وهو حسن.

(2) - انظر تخريجه وطرقه في تفسير ابن كثير (1/134 - 136) .
সে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে আমাদের শত্রু। যদি তার স্থানে মিকাইল হতো, তবে আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনতাম। নিশ্চয়ই জিবরিল আজাব, লড়াই এবং কঠোরতা নিয়ে অবতরণ করে। সে বহুবার আমাদের সাথে শত্রুতা করেছে। আমাদের ওপর সবচেয়ে কঠিন বিষয় ছিল এই যে, আল্লাহ আমাদের নবীর ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন যে, বাইতুল মাকদিস বুখতুনাসসার নামক এক ব্যক্তির হাতে ধ্বংস হবে এবং তিনি আমাদের সেই সময়ের সংবাদও দিয়েছিলেন যাতে এটি ধ্বংস হবে। যখন সেই সময় উপস্থিত হলো, তখন আমরা বনী ইসরাঈলের শক্তিশালী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একজনকে বুখতুনাসসারকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার সন্ধানে পাঠালাম। সে তার খোঁজে চলল এবং অবশেষে বাবেলে তাকে একজন অসহায় বালক হিসেবে খুঁজে পেল যার কোনো শক্তি ছিল না। আমাদের সেই লোকটি তাকে হত্যা করার জন্য পাকড়াও করল, কিন্তু জিবরিল তাকে রক্ষা করলেন এবং আমাদের লোকটিকে বললেন: "যদি তোমার প্রতিপালকই তোমাদের ধ্বংসের অনুমতি দিয়ে থাকেন, তবে তুমি তার ওপর বিজয়ী হতে পারবে না। আর যদি বিষয়টি এমন না হয়, তবে কেন তাকে হত্যা করবে?" তখন আমাদের লোকটি তাকে সত্য বলে মেনে নিয়ে আমাদের নিকট ফিরে এল। এরপর বুখতুনাসসার বড় হলো, শক্তিশালী হলো, আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল এবং বাইতুল মাকদিস ধ্বংস করল। এই কারণেই আমরা তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করি। ফলে আল্লাহ এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন।

মুকাতিল বলেন: ইহুদিরা বলেছিল যে, জিবরিল আমাদের শত্রু; তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল নবুওয়াত আমাদের মধ্যে রাখতে, কিন্তু সে তা অন্যদের মধ্যে দিয়ে দিয়েছে। ফলে আল্লাহ এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন।

(১) - মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি অবশ্যই আপনার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেছি} {৯৯}।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: এটি ইবনে সুরিয়ার উত্তর, যখন সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেছিল: হে মুহাম্মদ, আপনি আমাদের নিকট এমন কিছু নিয়ে আসেননি যা আমরা চিনি, আপনার ওপর এমন কোনো সুস্পষ্ট আয়াত অবতীর্ণ হয়নি যা আমরা অনুসরণ করব। ফলে আল্লাহ এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন।

(২) - মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা অনুসরণ করল যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বকালে পাঠ করত} আয়াত {১০২}।

মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-কুনতুরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ফজল আল-হাদ্দাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইয়াজিদ আল-খালিদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জারির আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমরান ইবনে আল-হারিস থেকে, তিনি বলেন: একদা আমরা ইবনে আব্বাসের নিকট ছিলাম, তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই শয়তানরা আকাশ থেকে সংবাদ চুরি করত। তাদের কেউ যখন একটি সত্য কথা নিয়ে আসত এবং যখন তাদের কারো মধ্যে সত্যের অভিজ্ঞতা পেত, তখন তার সাথে সত্তরটি মিথ্যা যুক্ত করত...

--------------------------------------------

(১) - এটি ইবনে জারির (১/৩৫০) এবং ইবনে আবি হাতিম (লুবাবুন নুকুল: ২৩) ইবনে ইসহাকের মাধ্যমে তার সনদে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং এটি হাসান।

(২) - এর তাখরিজ ও সূত্রসমূহের জন্য দেখুন তাফসির ইবনে কাসির (১/১৩৪ - ১৩৬)।
(খণ্ড: ১) আসবাবুন্ নুযুল তা. আল-হুমাইদান (পৃষ্ঠা: ৩২)
كَذْبَةً فَيُشْرِبُهَا قُلُوبَ النَّاسِ، فَاطَّلَعَ عَلَى ذَلِكَ سُلَيْمَانُ، فَأَخَذَهَا فَدَفَنَهَا تَحْتَ الْكُرْسِيِّ؛ فَلَمَّا مَاتَ سُلَيْمَانُ قَامَ شَيْطَانٌ بِالطَّرِيقِ فَقَالَ: أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى كنز سليمان المنيع الَّذِي لَا كَنْزَ لَهُ مِثْلُهُ؟ قَالُوا: نَعَمْ قَالَ: تَحْتَ الْكُرْسِيِّ فَأَخْرَجُوهُ، فَقَالُوا: هَذَا سِحْرٌ. فَتَنَاسَخَتْهُ الْأُمَمُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عُذْرَ سُلَيْمَانَ {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ}

وَقَالَ الْكَلْبِيُّ: إِنَّ الشَّيَاطِينَ كتبوا السحر والنارنجيات عَلَى لِسَانِ آصِفَ: هَذَا مَا عَلَّمَ آصِفُ بْنُ بَرْخِيَا الْمَلِكَ ثُمَّ دَفَنُوهَا تَحْتَ مُصَلَّاهُ حِينَ نَزَعَ اللَّهُ مُلْكَهُ، وَلَمْ يَشْعُرْ بذلك سليمان؛ ولما مَاتَ سُلَيْمَانُ اسْتَخْرَجُوهُ مِنْ تَحْتِ مُصَلَّاهُ، وَقَالُوا لِلنَّاسِ: إِنَّمَا مَلَكَكُمْ سُلَيْمَانُ بِهَذَا فَتَعَلَّمُوهُ، فَأَمَّا عُلَمَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ فَقَالُوا: مَعَاذَ اللَّهِ أَنْ يَكُونَ هَذَا عِلْمَ سُلَيْمَانَ،

وَأَمَّا السَّفَلَةُ فَقَالُوا: هَذَا عِلْمُ سُلَيْمَانَ، وَأَقْبَلُوا عَلَى تَعَلُّمِهِ، ورفضوا كتب أنبيائها فَفَشَتِ الْمَلَامَةُ لِسُلَيْمَانَ، فَلَمْ تَزَلْ هَذِهِ حَالُهُمْ حَتَّى بَعَثَ الله محمدًا صلى الله عليه وسلم وأنزل اللَّهُ، عُذْرَ سُلَيْمَانَ عَلَى لِسَانِهِ وَأَظْهَرَ بَرَاءَتَهُ مِمَّا رُمِيَ بِهِ فَقَالَ: {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ} الْآيَةَ.

(1) - أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْقُرَشِيُّ كِتَابَةً أَنَّ الْفَضْلَ بْنَ زَكَرِيَّاءَ حَدَّثَهُمْ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ نَجْدَةَ أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَتَّابُ بن بشير عن خُصَيْفٌ قَالَ: كَانَ سُلَيْمَانُ إِذَا نَبَتَتِ الشَّجَرَةُ قَالَ: لِأَيِّ دَاءٍ أَنْتِ؟ فَتَقُولُ لِكَذَا وَكَذَا؛ فَلَمَّا نَبَتَتْ شَجَرَةُ الْخُرْنُوبَةِ قَالَ: لِأَيِّ شَيْءٍ أَنْتِ؟ قَالَتْ: لِمَسْجِدِكَ أُخَرِّبُهُ قَالَ: تُخَرِّبِينَهُ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، قَالَ: بِئْسَ الشَّجَرَةِ أَنْتِ، فَلَمْ يَلْبَثْ أَنْ تُوُفِّيَ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَقُولُونَ فِي مَرْضَاهُمْ: لَوْ كَانَ لَنَا مِثْلُ سُلَيْمَانَ، فَأَخَذَتِ

--------------------------------------------

(1) - إسناده ضعيف لإعضاله (انقطاع أكثر من اثنين متتاليين) ولضعف خصيف (تقريب التهذيب: 1/224 - رقم: 126) ولضعف رواية عتاب بن بشير عن خصيف خاصة (تهذيب التهذيب: 7/91) .
...একটি মিথ্যা কথা, যা সে মানুষের অন্তরে গেঁথে দিয়েছিল। সুলাইমান তা জানতে পেরে সেগুলো সংগ্রহ করলেন এবং তাঁর কুরসির নিচে দাফন করলেন। যখন সুলাইমান ইন্তেকাল করলেন, তখন এক শয়তান রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বলল: "আমি কি তোমাদের সুলাইমানের সেই দুর্ভেদ্য ধনভাণ্ডারের সন্ধান দেব না, যার মতো কোনো ধনভাণ্ডার আর নেই?" তারা বলল: "হ্যাঁ।" সে বলল: "তা কুরসির নিচে আছে।" তারা তা বের করে আনল এবং বলল: "এটা তো জাদু।" এরপর জাতিসমূহ একে অন্যের নিকট থেকে তা নকল করে নিতে লাগল। ফলে আল্লাহ সুলাইমানের পক্ষ থেকে নির্দোষিতা বর্ণনা করে নাযিল করলেন: {আর তারা অনুসরণ করল শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বে যা আবৃত্তি করত, অথচ সুলাইমান কুফরি করেননি।}

কালবী বলেন: শয়তানরা আসিফের নামে জাদু ও ভেলকিবাজির কথা লিখে রেখেছিল যে: "এটিই সেই বস্তু যা আসিফ ইবনে বারখিয়া রাজাকে শিক্ষা দিয়েছেন।" এরপর যখন আল্লাহ সুলাইমানের রাজত্ব ছিনিয়ে নিয়েছিলেন, তখন তারা তা তাঁর জায়নামাজের নিচে দাফন করেছিল, আর সুলাইমান সে সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। যখন সুলাইমান ইন্তেকাল করলেন, তারা তা তাঁর জায়নামাজের নিচ থেকে বের করে আনল এবং মানুষকে বলল: "সুলাইমান তোমাদের ওপর রাজত্ব করেছেন কেবল এটার মাধ্যমেই, সুতরাং তোমরাও এটি শিক্ষা করো।" পক্ষান্তরে বনী ইসরাঈলের আলেমগণ বললেন: "আল্লাহর কাছে পানাহ চাই যে, এটি সুলাইমানের ইলম হবে।"

আর নিচ প্রকৃতির লোকেরা বলল: "এটিই সুলাইমানের ইলম", এবং তারা তা শেখার দিকে ঝুঁকে পড়ল। তারা তাদের নবীদের কিতাবসমূহ বর্জন করল, ফলে সুলাইমানের প্রতি নিন্দা ছড়িয়ে পড়ল। তাদের এই অবস্থা অব্যাহত ছিল যতক্ষণ না আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠালেন এবং তাঁর ভাষায় সুলাইমানের নির্দোষিতা বর্ণনা করে নাযিল করলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে যে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল তা থেকে তাঁর পবিত্রতা প্রকাশ করলেন। আল্লাহ বললেন: {আর তারা অনুসরণ করল শয়তানরা যা আবৃত্তি করত...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

(১) - সাঈদ ইবনুল আব্বাস আল-কুরাশী লিখিতভাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ফাদল ইবনে যাকারিয়া তাঁদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে নাজদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে মানসুর থেকে, তিনি আত্তাব ইবনে বাশির থেকে, তিনি খুসাইফ থেকে বর্ণনা করেন। খুসাইফ বলেন: সুলাইমান (আ.)-এর সামনে যখন কোনো গাছ জন্মাতো, তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন: "তুমি কোন রোগের জন্য?" গাছটি বলত: "অমুক অমুক রোগের জন্য।" যখন খুরনুবা গাছটি জন্মাল, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কিসের জন্য?" সে বলল: "আপনার মসজিদের জন্য, আমি এটি ধ্বংস করব।" তিনি বললেন: "তুমি কি এটি ধ্বংস করবে?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তুমি কতই না নিকৃষ্ট গাছ।" এর অল্প সময় পরেই তিনি ইন্তেকাল করলেন। এরপর মানুষ তাদের রোগীদের ব্যাপারে বলতে লাগল: "হায়, আমাদের যদি সুলাইমানের মতো কেউ থাকত..."

--------------------------------------------

(১) - এর সনদ বা সূত্রটি দুর্বল। কারণ এটি 'মু'দাল' (সনদে ধারাবাহিকভাবে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়া) এবং বর্ণনাকারী খুসাইফ দুর্বল হওয়ার কারণে (তাকরিবুত তাহযিব: ১/২২৪ - নং: ১২৬)। বিশেষ করে খুসাইফ থেকে আত্তাব ইবনে বাশিরের বর্ণনাটি দুর্বল (তাহযিবুত তাহযিব: ৭/৯১)।