(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
عناية المسلمين بالوقف خدمة للقرآن الكريم   (عبد الوهاب أبو سليمان)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: عناية المسلمين بالوقف خدمة للقرآن الكريم

المؤلف: عبد الوهاب بن إبراهيم أبو سليمان

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পবিত্র কুরআনের সেবায় ওয়াকফের প্রতি মুসলিমদের যত্ন   (আব্দুল ওয়াহাব আবু সুলাইমান)

বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ এবং তাফসীরের মূলনীতি


বই: পবিত্র কুরআনের সেবায় ওয়াকফের প্রতি মুসলিমদের যত্ন

লেখক: আব্দুল ওয়াহাব বিন ইব্রাহিম আবু সুলাইমান

প্রকাশক: বাদশাহ ফাহাদ পবিত্র কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১)
ال‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين أما بعد:

فإن الاهتمام بتعليم القرآن الكريم ونشره هو مفتاح التعرف على مبادئ الإسلام وشرائعه من مصدره الأول، كتاب الوحي المنزل على خاتم الأنبياء والمرسلين، المنقول إلى الأجيال اللاحقة بطريق التواتر، فمن ثمّ كان هاجس القادة الفاتحين والخلفاء، والملوك، والسلاطين، والأمراء المسلمين، تعليم القرآن الكريم، ونشره بين أبناء البلاد الذين كتب الله لهم الهداية، فكان الشأن المهم الذي يبادرون إليه قبل كل شيء؛ ذلك أن رسالتهم هي هداية الأمة وإنقاذ شعوبها من الضلال، وما ترسف فيه من أغلال الظلم، وتحريرها من الاستعباد، اقتداء بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم في تفقيه حديثي الإسلام وتعليمهم القرآن. " روى الرقيق (1) - مؤرخ القيروان أن موسى بن نصير أمر العرب أن يعلموا البربر القرآن، وأن يفقهوهم في الدين. ونقل غيره:

أن موسى بن نصير ترك سبعين رجلاً من العرب يعلمون البربر القرآن، وشرائع الإسلام، وكان عقبة بن نافع ترك فيهم قبله بعض أصحابه يعلمونهم القرآن منهم تابعه (شاكر) ، وغيرهم.

وهنا تجدر الإشارة إلى البعثة الدينية المؤلفة من عشرة من وجوه التابعين

--------------------------------------------

(1) اسمه إبراهيم بن القاسم، المعروف بالرقيق القيرواني، كاتب، شاعر، مؤرخ، عاش في القرنين الرابع والخامس الهجري، انظر ترجمته في: تراجم المؤلفين التونسيين لمحمد محفوظ، الطبعة الأولى، (بيروت: دار الغرب الإسلامي سنة 1982م) ، ج2 ص: 379.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর। এরপর:

প্রকৃতপক্ষে পবিত্র কুরআন শিক্ষা প্রদান ও তার প্রসারের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হলো ইসলামের মূলনীতি ও বিধিবিধানসমূহকে এর প্রথম উৎস থেকে জানার চাবিকাঠি; যা হলো সর্বশেষ নবী ও রাসূলের ওপর অবতীর্ণ ওহীর কিতাব এবং যা পরবর্তী প্রজন্মের নিকট অবিচ্ছিন্ন বর্ণনাসূত্রে (تواتر) পৌঁছেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিজয়ী সেনাপতি, খলিফা, রাজা, সুলতান এবং মুসলিম আমিরদের প্রধান লক্ষ্য ছিল পবিত্র কুরআন শিক্ষা দেওয়া এবং সেই সব জনপদবাসীদের মধ্যে এর প্রচার করা যাদের জন্য আল্লাহ হিদায়াত লিখেছিলেন। এটিই ছিল সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ যার প্রতি তাঁরা অন্য সবকিছুর আগে অগ্রণী হতেন; কারণ তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল উম্মাহর হিদায়াত এবং বিভিন্ন জাতিকে পথভ্রষ্টতা ও জুলুমের শৃঙ্খল থেকে উদ্ধার করা এবং দাসত্ব থেকে মুক্তি দেওয়া। আর এটি ছিল নতুন মুসলিমদের দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান এবং তাঁদের কুরআন শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর অনুকরণ। কাইরাওয়ানের ঐতিহাসিক আর-রাকীক (১) বর্ণনা করেছেন যে, মুসা বিন নুসাইর আরবদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁরা বারবারদের কুরআন শিক্ষা দেন এবং তাঁদের দ্বীনের সমঝ দান করেন। অন্য বর্ণনাকারীরা উল্লেখ করেছেন:

মুসা বিন নুসাইর সত্তরজন আরব ব্যক্তিকে রেখে গিয়েছিলেন যাঁরা বারবারদের কুরআন ও ইসলামের বিধিবিধান শিক্ষা দিতেন। আর তাঁর পূর্বে উকবা বিন নাফি সেখানে তাঁর কয়েকজন সঙ্গীকে রেখে গিয়েছিলেন যাঁরা তাঁদের কুরআন শিক্ষা দিতেন, যাঁদের মধ্যে তাঁর তাবেয়ী (تابعي) শাকির এবং অন্যান্যরা ছিলেন।

এখানে দশজন বিশিষ্ট তাবেয়ী (تابعين)-এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বীনি প্রতিনিধিদলের কথা উল্লেখ করা জরুরি।

--------------------------------------------

(১) তাঁর নাম ইবরাহিম বিন কাসিম, যিনি আর-রাকীক আল-কাইরাওয়ানি নামে পরিচিত। তিনি একজন লেখক, কবি ও ঐতিহাসিক ছিলেন এবং হিজরি চতুর্থ ও পঞ্চম শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন। দেখুন তাঁর জীবনী (ترجمة): মুহাম্মাদ মাহফুজ রচিত তারাজিমুল মুআল্লিফিন আত-তুনিসিয়্যিন, প্রথম প্রকাশ, (বৈরুত: দারুল গারব আল-ইসলামি, ১৯৮2 খ্রি.), ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৭৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২)
التي أرسلها الخليفة عمر بن عبد العزيز إلى القيروان بقصد تفقيه البربر، وإرشادهم إلى شرائع الإسلام، وتعاليمه العالية، فما كان من هؤلاء المرشدين إلا أن اختطَّ كل واحد منهم داراً لسكناه، وبنى بحذائها مسجداً لعبادته ومجالسه، واتخذ بقربه كُتَّاباً لتحفيظ القرآن، وتلقين مبادئ العربية لصغار أطفال البلد (1) .

وقد ظهرت في وقت مبكر من التاريخ الإسلامي الحاجة إلى موارد تكفل للقائمين على تعليم القرآن ونشره، موارد رزقهم، وتكفيهم حاجاتهم، لينصرفوا بكليتهم لتعليم القرآن الكريم، فأصبح رصد الأوقاف، وتحبيس العقارات على المساجد وحلقات القرآن سنة لدى المسلمين على اختلاف حالاتهم الاجتماعية والمادية.

يسجل التاريخ " أن الوليد بن عبد الملك في سنة 88هـ وقف بعض القرى والمزارع لمسجد أمية بالشام، ويقال: إن هذا كان أول وقف من نوعه، لأن غلة هذه القرى، والمزارع كانت تصرف للمسجد، ثمّ توسعت مجالات الأوقاف، وشملت مرافق الحياة كلها.

وفي أيام الدولة العثمانية اتسعت مساحة الأوقاف كثيراً، وكانت المدارس، والزوايا، والمساجد، وخدمات البلدية، والمستشفيات، وما إلى ذلك، كل هذه كانت تدار بالأوقاف، ويصرف عليها منها" (2) .

--------------------------------------------

(1) عبد الوهاب، حسن حسني، كتاب العمر في المصنفات والمؤلفين التونسيين، الطبعة الأولى، مراجعة محمد العمروسي المطوي، وبشير البكوش، (تونس: بيت الحكمة، سنة 1990م) ج1، ص 46.

(2) أوزاك، علي، بحث (إدارة الأوقاف الإسلامية في المجتمع المعاصر في تركيا) ، (أهمية الأوقاف الإسلامية في عالم اليوم) ، (الأردن: مآب مؤسسة آل البيت، سنة 1417هـ، 1996م) ، ص:339.

খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বারবার (Berber) জাতিকে ফিকহ শিক্ষা প্রদান এবং ইসলামের শরিয়ত ও এর সুউচ্চ আদর্শের দিকে তাদের দিশা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কাইরাওয়ানে একদল দাঈ পাঠিয়েছিলেন। এই পথপ্রদর্শকদের প্রত্যেকেই সেখানে নিজের বসবাসের জন্য একটি করে ঘর নির্মাণ করেন এবং তার পাশেই ইবাদত ও ইলমি মজলিসের জন্য একটি করে মসজিদ গড়ে তোলেন। এছাড়া নিকটেই শিশুদের কুরআন হিফজ করানো এবং এলাকার ছোট শিশুদের আরবি ভাষার প্রাথমিক বিষয়গুলো শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটি মক্তব (كُتَّاب) প্রতিষ্ঠা করেন (১)।

ইসলামি ইতিহাসের প্রাথমিক যুগেই পবিত্র কুরআন শিক্ষা ও প্রচারের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য এমন একটি আয়ের উৎসের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় যা তাদের জীবনোপকরণ নিশ্চিত করবে, যাতে তারা পূর্ণাঙ্গভাবে নিজেদের কুরআন শিক্ষাদানকার্যে নিয়োজিত করতে পারেন। ফলে মসজিদ ও কুরআনের তালিমি হালকা বা পাঠচক্রের (حلقات) জন্য সম্পদ উৎসর্গ ও স্থাবর সম্পত্তি ওয়াকফ (أوقاف) করা মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে একটি প্রতিষ্ঠিত রীতিতে (سنة) পরিণত হয়।

ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে যে, "৮৮ হিজরি সনে ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক সিরিয়ার উমাইয়া মসজিদের জন্য কিছু গ্রাম ও খামার ওয়াকফ করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটিই ছিল এ জাতীয় প্রথম ওয়াকফ, কারণ এসব গ্রাম ও খামারের আয় মসজিদের কাজে ব্যয় করা হতো। পরবর্তীতে ওয়াকফের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয় এবং জনকল্যাণমূলক জীবনের সকল দিক এর অন্তর্ভুক্ত হয়।"

উসমানীয় খিলাফতের যুগে ওয়াকফের পরিধি অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। সে সময় মাদ্রাসা, খানকাহ (زوايا), মসজিদ, পৌরসেবা, হাসপাতাল ও এই জাতীয় অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান ওয়াকফের মাধ্যমেই পরিচালিত হতো এবং এর যাবতীয় ব্যয় সেখান থেকেই নির্বাহ করা হতো" (২)।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল ওয়াহহাব, হাসান হুসনি, কিতাবুল উমর ফিল মুসান্নাফাত ওয়াল মুআল্লিফিনাত তিউনিসিয়িন, প্রথম সংস্করণ, সম্পাদনা: মুহাম্মদ আল-উমরুসি আল-মাতউয়ি ও বশির আল-বাকুশ, (তিউনিস: বাইতুল হিকমাহ, ১৯৯০ খ্রি.) খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৬।

(২) আওজাক, আলী, প্রবন্ধ (তুরস্কের সমসাময়িক সমাজে ইসলামি ওয়াকফ ব্যবস্থাপনা), (বর্তমান বিশ্বে ইসলামি ওয়াকফের গুরুত্ব), (জর্ডান: মাআব্বা মুয়াসসাসাতু আলিল বাইত, ১৪১৭ হিজরি, ১৯৯৬ খ্রি.), পৃষ্ঠা: ৩৩৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩)
تركز الدراسة هنا على جانب خاص هو خدمة الأوقاف للقرآن الكريم، وهو موضوع جدير بالدراسة، فقد كان تجربة ناجحة ورفيعة في تاريخ الأمة الإسلامية، ومن الصعب، بل من المستحيل الإحاطة الشاملة بهذا الموضوع عبر القرون في البلاد الإسلامية المترامية الأطراف؛ ذلك أن الاهتمام بالقرآن الكريم هو ما دأبت عليه الأمة الإسلامية حتى في أقصى الظروف وأحلكها، فمن ثمّ يكتفي البحث بتقديم نماذج منها، بقدر ما يوضح الصورة. وقد أدى الوقف خلال القرون الطويلة نتائج فاعلة في الحفاظ على القرآن، وتخريج أجيال من القراء والحفاظ، والمفسرين في شرق بلاد الإسلام وغربها، في جميع القرون منذ بدء عصر النبوة المبارك.

وإذا كان للماضي تجاربه الناجحة في هذا المجال فمن الواجب إنصاف الحاضر الذي لم يفتقد مَنْ يعمل على هدى وبصيرة من العلماء والمخلصين من أبناء الأمة الإسلامية في النهوض بتعليم القرآن وحفظه في شتى بقاع العالم الإسلامي على مستوى العصر إدارةً، وتنظيماً، وتخطيطاً، فمن ثمّ تخيَّر البحث من بين النماذج للعصر الحاضر الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمكة المكرمة.
বর্তমান গবেষণাটি একটি বিশেষ দিকের ওপর আলোকপাত করছে, আর তা হলো পবিত্র কুরআনের সেবায় ওয়াকফসমূহের (الأوقاف) অবদান। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে একটি সফল ও সুউচ্চ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত। সুদীর্ঘ শতাব্দীকাল ধরে বিস্তৃত ইসলামী ভূখণ্ডের এই বিশাল পরিসরে এ বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক আলোচনা করা অত্যন্ত কঠিন, বরং অসম্ভব। কেননা পবিত্র কুরআনের প্রতি নিবিড় মনোযোগ প্রদান ছিল মুসলিম উম্মাহর একটি অবিরাম ধারা, এমনকি চরম প্রতিকূল ও অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়েও। তাই এই গবেষণায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য কেবল কিছু নমুনা উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সুদীর্ঘ শতাব্দীকাল ধরে ওয়াকফ (الوقف) পবিত্র কুরআন সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে এবং নবুয়তের বরকতময় যুগের সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি শতাব্দীতেই ইসলামের পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্বারী, হাফেজ এবং মুফাসসিরদের (المفسرين) তৈরি করেছে।

অতীতে যদি এই ক্ষেত্রে সফল অভিজ্ঞতা থেকে থাকে, তবে বর্তমান সময়ের প্রতিও ইনসাফ করা কর্তব্য; কারণ বর্তমান কালেও মুসলিম উম্মাহর এমন আলেম ও একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অভাব নেই যারা সঠিক দিশা ও প্রজ্ঞার সাথে আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, সুশৃঙ্খল বিন্যাস ও সুপরিকল্পিত উপায়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কুরআন শিক্ষা ও হিফজের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান যুগের অন্যতম নমুনা হিসেবে মক্কা মুকাররমার 'পবিত্র কুরআন হিফজ চ্যারিটেবল সোসাইটি' (الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم)-কে এই গবেষণার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৪)
خطة البحث

جاءت موضوعات البحث بعد هذه المقدمة على النسق التالي:

الفصل الأول: تطوير العناية بالقرآن الكريم ومؤسساته.

الفصل الثاني: مشروعية الوقف على القرآن الكريم.

مقاصد الواقفين على القرآن الكريم:

أولاً: الوقف على المدارس القرآنية.

ثانياً: الوقف على القراء.

ثالثاً: الوقف على تدريس القرآن الكريم والحديث النبوي الشريف، أو المذاهب الفقهية.

رابعاً: الوقف على خدمة القرآن تلاوةً، وتأسيس مرافق اجتماعية.

خامساً: الوقف على قراءة القرآن لهبة ثوابها للآخرين.

أ - الوقف على قراءة الربعات بالمسجد الحرام على نظام (الخصفة) .

ب - الوقف على قراءة القرآن على الترب (المقابر) .

سادساً: الوقف على الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم في مكة المكرمة الوقت الحاضر.

تمام البحث: خاتمة تلخص أهم النقاط.

كما تضمن بعض التوصيات، يليها ملحق بقائمة دور القرآن في دمشق والقاهرة، ثم قائمة المصادر، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.

وصلى الله وسلم على من نزل عليه الوحي سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم أجمعين.
গবেষণার রূপরেখা

এই ভূমিকার পর গবেষণার বিষয়বস্তুগুলো নিম্নোক্ত বিন্যাসে উপস্থাপিত হয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: পবিত্র কুরআনের প্রতি যত্নশীলতা এবং এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন।

দ্বিতীয় অধ্যায়: পবিত্র কুরআনের নিমিত্তে ওয়াকফ (وقف)-এর বৈধতা।

পবিত্র কুরআনের জন্য ওয়াকফ (وقف)কারীদের উদ্দেশ্যসমূহ:

প্রথমত: কুরআন কেন্দ্রিক মাদ্রাসাগুলোর জন্য ওয়াকফ (وقف)।

দ্বিতীয়ত: কারী বা তিলাওয়াতকারীদের জন্য ওয়াকফ (وقف)।

তৃতীয়ত: পবিত্র কুরআন এবং নবীজির হাদিস শিক্ষা অথবা ফিকহি মাজহাব (المذاهب الفقهية) সমূহের পাঠদানের জন্য ওয়াকফ (وقف)।

চতুর্থত: তিলাওয়াতের মাধ্যমে কুরআনের খিদমত এবং সামাজিক সুযোগ-সুবিধা প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াকফ (وقف)।

পঞ্চমত: অন্যদের সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য ওয়াকফ (وقف)।

ক - মসজিদুল হারামে খাসফাহ (الخصفة) নামক বিশেষ পদ্ধতিতে রুবআ (الربعات) বা কুরআনের খণ্ডসমূহ তিলাওয়াতের জন্য ওয়াকফ (وقف)।

খ - কবরে (المقابر) কুরআন তিলাওয়াতের জন্য ওয়াকফ (وقف)।

ষষ্ঠত: বর্তমান সময়ে মক্কা মুকাররমায় পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্নকারী চ্যারিটেবল সোসাইটির জন্য ওয়াকফ (وقف)।

গবেষণার সমাপ্তি: গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর সারসংক্ষেপ সম্বলিত একটি উপসংহার।

এর সাথে কিছু সুপারিশমালা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার পরে দামেস্ক ও কায়রোর দারুল কুরআনসমূহের একটি তালিকা পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। এরপর রয়েছে উৎসগ্রন্থের তালিকা। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সম্পন্ন হয়।

এবং যাঁর ওপর ওহি (وحي) অবতীর্ণ হয়েছে, সেই আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الفصل الأول: تطور العناية بالقرآن الكريم ومؤسساته

‌‌أولا: جمعه منذ نزوله

…

الفصل الأول: تطور العناية بالقرآن الكريم ومؤسساته

حظي القرآن الكريم وعلومه باهتمام المسلمين وعنايتهم بما لم يحظ به كتاب سماوي، حفظاً، ودرساً، وشرحاً وتدويناً، ورواية بالتواتر، وقد تجلت هذه المظاهر من العناية الفائقة والإجلال والتعظيم له في مظاهر عديدة، من أهمها:

أولاً: جمعه منذ نزوله:

تخصص لهذا نفر كريم أمين من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم لرصد كل ما ينزل به من الوحي. ثبت في الصحيحين عن أنس رضي الله عنه قال: "جمع القرآن على عهد النبي صلى الله عليه وسلم أربعة كلهم من الأنصار: أبي بن كعب، ومعاذ بن جبل، وزيد بن ثابت، وأبو زيد، فقيل له: "مَنْ أبو زيد؟ " قال: "أحد عمومتي".

وفي لفظ للبخاري عن أنس قال: "مات النبي صلى الله عليه وسلم ولم يجمع القرآن غير أربعة: أبو الدرداء، ومعاذ بن جبل، وزيد بن ثابت، وأبو زيد، ونحن ورثناه" (1) .

"وحكى القرطبي في أوائل تفسيره عن القاضي أبي بكر الباقلاني أنه قال، بعد ذكر حديث أنس بن مالك هذا،"فقد ثبت بالطريق المتواترة أنه جمع

(1) ابن كثير، إسماعيل بن عمر، كتاب فضائل القرآن، الطبعة الأولى، تحقيق محمد إبراهيم البنا، جدة: دار القبلة للثقافة الإسلامية، بيروت: مؤسسة علوم القرآن، سنة 1408هـ/1988م، ص22.
প্রথম অধ্যায়: পবিত্র কুরআনের প্রতি যত্ন ও এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের বিবর্তন

প্রথমত: নাজিল হওয়ার সময় থেকেই এটি সংকলন

…

প্রথম অধ্যায়: পবিত্র কুরআনের প্রতি যত্ন ও এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের বিবর্তন

পবিত্র কুরআন এবং এর জ্ঞানসমূহ (উলুম) মুসলিমদের এমন বিশেষ মনোযোগ ও যত্ন লাভ করেছে যা অন্য কোনো আসমানি কিতাব পায়নি; তা সংরক্ষণ, পাঠ-গবেষণা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, সংকলন এবং নিরবচ্ছিন্ন গণ-বর্ণনার (التواتر) মাধ্যমে। এই সুউচ্চ যত্ন, শ্রদ্ধা এবং একে সুমহান হিসেবে গণ্য করার এই বহিঃপ্রকাশগুলো বহুবিধ রূপে প্রকাশ পেয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:

প্রথমত: নাজিল হওয়ার সময় থেকেই এটি সংকলন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে একদল সম্মানিত ও বিশ্বস্ত (أمين) ব্যক্তি এই কাজের জন্য নিবেদিত ছিলেন, যাতে ওহির মাধ্যমে যা কিছু নাজিল হয় তা পর্যবেক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করা যায়। সহীহাইনে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে চারজন ব্যক্তি কুরআন সংগ্রহ করেছিলেন, তাঁরা সবাই আনসার সম্প্রদায়ের ছিলেন: উবাই ইবনে কাব, মুয়াজ ইবনে জাবাল, যায়েদ ইবনে সাবিত এবং আবু যায়েদ।" তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "আবু যায়েদ কে?" তিনি বললেন: "আমার চাচাদের একজন।"

বুখারির একটি বর্ণনায় আনাস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেছেন এমতাবস্থায় যে, চারজন ব্যতীত আর কেউ কুরআন সংকলন করেননি: আবু আদ-দারদা, মুয়াজ ইবনে জাবাল, যায়েদ ইবনে সাবিত এবং আবু যায়েদ; আর আমরা তাঁদের থেকে তা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।" (১) ।

"কুরতুবি তাঁর তাফসিরের শুরুতে কাজি আবু বকর আল-বাকিল্লানি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আনাস ইবনে মালিকের এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন, 'নিরবচ্ছিন্ন গণ-বর্ণিত (المتواترة) পথে এটি সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে, তা সংগ্রহ করা হয়েছে...'"

(১) ইবনে কাসির, ইসমাইল ইবনে উমর, কিতাব ফাদায়িল আল-কুরআন, প্রথম সংস্করণ, সম্পাদনা: মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-বান্না, জেদ্দা: দার আল-কিবলাহ লি আল-সাকাফাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, বৈরুত: মুয়াসসাসাত উলুম আল-কুরআন, বছর ১৪০৮ হিজরি/১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা ২২।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৬)
القرآن: عثمان، وعلي، وتميم الداري، وعبادة بن الصامت، وعبد الله بن عمرو ابن العاص.

فقول أنس: لم يجمعه غير أربعة يحتمل أنه لم يأخذه تلقياً مِنْ في رسول الله صلى الله عليه وسلم غير هؤلاء الأربعة، وأن بعضهم تلقى بعضه عن بعض.

وقال:"وقد تظاهرت الروايات بأن الأئمة الأربعة جمعوا القرآن على عهد النبي صلى الله عليه وسلم لأجل سبقهم إلى الإسلام، وإعظام الرسول لهم".

قال القرطبي:"لم يذكر القاضي ابن مسعود، وسالماً مولى أبي حذيفة، وهما ممن جمع القرآن" (1) .

وقد عدّ العلماء أنَّ من أحسن، وأجلّ، وأعظم ما فعله أبو بكر الصديق جمع القرآن العظيم من أماكنه المتفرقة حتى تمكن القارئ من حفظه كله (2) .

يقول العلامة ابن كثير تعليقاً على ما تقدم:

"فجمع الصديق الخير، وكشف الشر رضي الله عنه، ولهذا روى غير واحد من الأئمة…عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال:

"أعظم الناس أجراً في المصاحف أبو بكر، إن أبا بكر كان أول من جمع القرآن بين اللوحين" (3) .

--------------------------------------------

(1) ابن كثير، كتاب فضائل القرآن، ص25.

(2) ابن كثير، كتاب فضائل القرآن، ص25.

(3) ابن كثير، كتاب فضائل القرآن، ص25.
কুরআন: উসমান, আলি, তামিমি আদ-দারি, উবাদাহ ইবনুস সামিত এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস।

সুতরাং আনাসের (রা.) উক্তি: "চারজন ব্যতীত আর কেউ এটি সংগ্রহ করেননি" — এর সম্ভাব্য অর্থ হলো, এই চারজন ব্যতীত অন্য কেউ সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণী থেকে সরাসরি শ্রবণের (تلقياً) মাধ্যমে তা গ্রহণ করেননি এবং তাঁদের কেউ কেউ অন্যদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন: "বর্ণনাগুলো (الروايات) একমত হয়েছে যে, চারজন ইমাম (الأئمة) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে কুরআন সংগ্রহ করেছিলেন, কারণ তাঁরা ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের অত্যন্ত সম্মান করতেন।"

আল-কুরতুবি বলেন: "কাযি ইবনে মাসউদ এবং আবু হুযায়ফার মুক্তদাস সালিমকে উল্লেখ করেননি, অথচ তাঁরাও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা কুরআন সংগ্রহ করেছিলেন।" (১)।

উলামায়ে কেরাম গণ্য করেছেন যে, আবু বকর আল-সিদ্দিক (রা.) যা করেছেন তার মধ্যে সর্বোত্তম, সুমহান ও শ্রেষ্ঠ কাজ ছিল বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত স্থান থেকে মহান কুরআন সংগ্রহ করা, যাতে পাঠকারীর পক্ষে এটি সম্পূর্ণ মুখস্থ করা সম্ভব হয় (২)।

আল্লামা ইবনে কাসির পূর্বোক্ত কথার ওপর মন্তব্য করে বলেন:

"অতঃপর আল-সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কল্যাণকে একত্রিত করেছেন এবং অকল্যাণকে দূরীভূত করেছেন, এজন্যই একাধিক ইমাম (الأئمة) … আলি ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে তিনি বলেন:

"মুসহাফগুলোর (المصاحف) ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি প্রতিদানের অধিকারী হলেন আবু বকর। নিশ্চয়ই আবু বকর প্রথম ব্যক্তি যিনি দুই মলাটের (اللوحين) মাঝে কুরআন একত্রিত করেছিলেন" (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসির, কিতাব ফাদায়িলুল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৫।

(২) ইবনে কাসির, কিতাব ফাদায়িলুল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৫।

(৩) ইবনে কাসির, কিতাব ফাদায়িলুল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৫।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ثانياً: حفظ القرآن الكريم واستنباط علومه:

منذ تلك الآونة عكف المسلمون على القرآن تعبداً وتعلماً، ودراسة، فاستنبط منه العلماء علوماً عديدة، واشتقوا منه فنوناً رفيعة على مدى القرون، فألفت فيه المؤلفات الواسعة، ولا يزال العلماء في المجال العلمي الشرعي يستخرجون أسراره، ويكتشفون دقائقه، دون توقف لتياره المعرفي، ومعجزاته التي لا تنتهي.
দ্বিতীয়ত: পবিত্র কুরআন হিফজ (حفظ) করা এবং এর ইলমসমূহ (علوم) আহরণ (استنباط):

সেই সময় থেকেই মুসলিমগণ ইবাদত, শিক্ষা এবং গবেষণার উদ্দেশ্যে কুরআনের প্রতি নিবিষ্ট হয়েছেন। ফলে শতাব্দীকাল ধরে বিদ্বানগণ (العلماء) কুরআন থেকে বহুবিধ ইলম (علوم) আহরণ (استنباط) করেছেন এবং এর থেকে উচ্চতর জ্ঞানশাখাগুলোর উদ্ভব ঘটিয়েছেন। এর ওপর সুবিস্তৃত গ্রন্থাবলি রচিত হয়েছে। শরয়ি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিদ্বানগণ (العلماء) আজও নিরন্তরভাবে এর রহস্যসমূহ উদঘাটন করছেন এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়াবলি আবিষ্কার করছেন; যার জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রবাহ এবং অন্তহীন অলৌকিকতা (معجزات) কখনো শেষ হবার নয়।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ثالثاً: دور المساجد في العناية بالقرآن الكريم.

المساجد هي ساحات الدرس والتعليم، والمكان المناسب لتعليم القرآن ودراسة علومه، ومدارسته. وقد شهدت الأمصار الإسلامية عبر العصور الإسلامية المختلفة نهضة علمية بالعلوم الإسلامية، وبخاصة القرآن وعلومه، وكان من وراء هذا بعد توفيق الله علماء صدقوا ما عاهدوا الله عليه من الصحابة والتابعين، وتابعي التابعين، ومن بعدهم من علماء الأمة في كل عصر وجيل حتى وقتنا الحاضر.

إن الرمز الأول الذي حقق المعنى وجَسَّده دروس حبر الأمة عبد الله بن العباس رضي الله عنهما في ساحات المسجد الحرام، فقد تخصص في العناية بالقرآن الكريم تفسيراً، وتأويلاً، وكان المرجع لعلماء الأمة، تحقيقاً للدعوة النبوية المباركة: "اللهم فقهه في الدين وعلِّمه التأويل" (1) ،فقد كان رضي الله عنهما يعقد حلقة درسه في التفسير والحديث، والأدب والمغازي والسير، وأيام

(1) هو التفسير، وهو اصطلاح ابن جرير في تفسيره، حيث يقول:" القول في تأويل قوله تعالى، ثمّ يذكر تفسير الآية.
তৃতীয়ত: পবিত্র কুরআনের পরিচর্যায় মসজিদের ভূমিকা.

মসজিদসমূহ হলো শিক্ষা ও পাঠদানের প্রাঙ্গণ এবং কুরআন শিক্ষা, এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ গবেষণা ও তা চর্চা করার উপযুক্ত স্থান। বিভিন্ন ইসলামী যুগে মুসলিম জনপদগুলো ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানে, বিশেষ করে কুরআন ও এর ইলমসমূহে এক তামাদ্দুনিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণ প্রত্যক্ষ করেছে। মহান আল্লাহর তাওফিকের পর এর নেপথ্যে ছিলেন সেইসব সত্যনিষ্ঠ আলেম যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন; তারা হলেন সাহাবী (الصحابة), তাবেয়ী (التابعين), তাবে-তাবেয়ী (تابعي التابعين) এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতি যুগে ও প্রজন্মে উম্মতের পরবর্তী আলেমগণ।

এই মহান তাৎপর্যের প্রথম প্রতীক ও বাস্তব রূপায়ন ছিলেন উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা), যিনি মসজিদে হারামের প্রাঙ্গণে পাঠদান করতেন। তিনি পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা (تفسير) ও মর্মার্থ (تأويل) বর্ণনায় বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন উম্মতের আলেমদের নিকট নির্ভরতার কেন্দ্রস্থল। এটি মূলত নবী কারীম (সা.)-এর বরকতময় দুআরই প্রতিফলন: "হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং তাকে ব্যাখ্যা (التأويل) শেখান।" তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ব্যাখ্যা (التفسير), হাদিস, সাহিত্য, যুদ্ধাভিযান (المغازي), সীরাত (السير) এবং আরবদের ইতিহাস সম্পর্কিত আলোচনার মজলিস (حلقة) পরিচালনা করতেন।

(১) এটি হলো ব্যাখ্যা (التفسير), যা ইবনে জারীর তাঁর তফসীর গ্রন্থে পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন; যেখানে তিনি বলেন: "মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা (تأويل) প্রসঙ্গে বক্তব্য", এরপর তিনি আয়াতের ব্যাখ্যা (تفسير) উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৮)
العرب وأشعارهم بالمسجد الحرام.

وكان لحلقته بالمسجد الحرام الفضل في تأسيس مدرسة في علم التفسير لها خصائصها وأعلامها من كبار التابعين مثل عطاء بن أبي رباح الذي خلفه في حلقة العلم تفسيراً، وفقهاً وفتيا، ثمّ صارت هذه الحلقة لابن جريج، وقد تخرج فيها كثيرون، وبرغم وفاة ابن عباس سنة 78هـ ظلت مدرسة مكة قائمة يتلقى أبناؤها العلم طبقة بعد طبقة (1) .

ولئن صح هذا عن المسجد الحرام وأثر حلقات العلماء فيه على تطور النهضة العلمية بالقرآن الكريم وعلومه، وهو المحور الأساس في التعليم الإسلامي، إنه لصحيح أيضاً وصادق في حق كافة الأمصار والمدن الإسلامية التي انتشر فيها الصحابة رضوان الله عليهم، فورَّثوا القرآن وعلومه إلى أجيال التابعين وتابعي التابعين وإلى مَنْ بعدهم، حتى وصل إلينا القرآن الكريم محفوظاً من التغيير والتبديل، تقرؤه أجيالنا كيوم نزوله على نبينا محمد صلى الله عليه وسلم.

وتُبرز الدراسات العلمية الموثقة فيما يخص أثر المساجد في المحافظة على القرآن الكريم والعناية بعلومه، أنه لم يتوقف بنشوء المدارس وتأسيسها فيما بعد، والمسجد الحرام بحلقاته العلمية أنموذج صادق على أهمية هذه الحلقات العلمية في القرنين السابع والثامن للهجرة، بل ظل على مدى القرون الإسلامية، يزدحم برجال الحديث والقراء وأصحاب الفتيا، وظلت حلقاتهم تتدبر تفسير آيات الذكر الحكيم، وأخذ اتساع الحلقات يتضاعف في مواسم

--------------------------------------------

(1) انظر: العبيكان، طرفة عبد العزيز، الحياة العلمية الاجتماعية في مكة في القرنين السابع والثامن للهجرة، (الرياض: مطبوعات مكتبة الملك فهد الوطنية، سنة 1416هـ/1996م) ، ص54.55.
আরবগণ এবং মসজিদুল হারামে তাদের কবিতা।

মসজিদুল হারামে তাঁর শিক্ষা মজলিসের (حلقة) বিশেষ অবদান ছিল তাফসির শাস্ত্রের (علم التفسير) এমন একটি পাঠশালা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে, যার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল এবং যেখানে বড় বড় তাবেয়ীগণের (التابعين) মধ্য হতে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তৈরি হয়েছিলেন; যেমন আতা ইবনে আবি রাবাহ, যিনি তাঁর পরে তাফসির, ফিকহ (فقه) এবং ফতওয়ার (فتيا) শিক্ষা মজলিসে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। পরবর্তীতে এই মজলিসটি ইবনে জুরাইজের তত্ত্বাবধানে আসে এবং এখান থেকে বহু শিক্ষার্থী শিক্ষা সমাপন করেন। ৭৮ হিজরিতে ইবনে আব্বাসের ইন্তেকাল সত্ত্বেও মক্কার এই পাঠশালাটি বিদ্যমান থাকে, যেখানে এর শিক্ষার্থীরা স্তরে স্তরে (طبقة) জ্ঞান অর্জন করতে থাকে (১)।

মসজিদুল হারামের ক্ষেত্রে এবং পবিত্র কুরআন ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহের—যা ইসলামি শিক্ষার মূল কেন্দ্র—উন্নতি ও বিকাশে আলেমদের শিক্ষা মজলিসগুলোর প্রভাবের কথা যদি সঠিক (صحيح) হয়, তবে তা অন্যান্য সকল জনপদ এবং ইসলামি শহরগুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে সত্য যেখানে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা কুরআন এবং এর জ্ঞানসমূহকে তাবেয়ী (التابعين) ও তাবে-তাবেয়ী (تابعي التابعين) এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট উত্তরাধিকার হিসেবে পৌঁছে দিয়েছিলেন। যার ফলে কুরআন মাজিদ পরিবর্তন ও পরিবর্ধন থেকে সুরক্ষিত অবস্থায় আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং আমাদের বর্তমান প্রজন্ম তা সেভাবেই পাঠ করছে যেভাবে তা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল।

পবিত্র কুরআন হিফজ করা এবং এর জ্ঞানসমূহের পরিচর্যার ক্ষেত্রে মসজিদগুলোর প্রভাব সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য (الموثقة) বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলো এটিই ফুটিয়ে তোলে যে, পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ফলে এই গুরুত্ব হ্রাস পায়নি। বরং সপ্তম ও অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে এই শিক্ষা মজলিসগুলোর গুরুত্বের ক্ষেত্রে মসজিদুল হারাম ও এর শিক্ষা মজলিসগুলো একটি বাস্তব উদাহরণ। এমনকি সমগ্র ইসলামি শতাব্দীজুড়ে এটি হাদিস বিশারদগণ (رجال الحديث), ক্বারী এবং মুফতিদের (أصحاب الفتيا) পদচারণায় মুখরিত ছিল। তাঁদের মজলিসগুলো আল-কুরআনের আয়াতসমূহের তাফসির নিয়ে গবেষণায় রত থাকতো এবং হজের মৌসুমে এই মজলিসগুলোর পরিধি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-উবাইকান, তুরফাহ আব্দুল আজিজ, আল-হায়াতুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইজতিমাইয়্যাহ ফি মক্কা ফিল করনাইন আস-সাবি' ওয়াস-সামিন লিল হিজরাহ, (রিয়াদ: মাতবুয়াত মাকতাবাতুল মালিক ফাহাদ আল-ওয়াতানিয়্যাহ, বছর ১৪১৬ হিজরি/১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ), পৃষ্ঠা ৫৪-৫৫।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৯)
الحج، ولا يخفى أن المقصود بالحلقات هنا، ذلك هو النظام التعليمي القائم على إحاطة الطلاب بشيخهم، وهو نظام يعود إلى العصر النبوي. وقد استمر هذا الشكل بعد إنشاء المدارس الإسلامية" (1) .

وكان إلى جانب هذا النوع من التعليم الحر في مناهجه، وأوقاته، المدارس والمؤسسات العلمية المنتشرة بمكة المكرمة، والتي كان من أعظم اهتماماتها تعليم القرآن حفظاً وتجويداً وتفسيراً، إذ هو القاعدة العلمية المتينة التي تكوِّن العالم الشرعي على أسس ثابتة.

--------------------------------------------

(1) العبيكان، طرفة عبد العزيز، الحياة العلمية والاجتماعية في مكة في القرنين السابع والثامن للهجرة، ص53 خصصت الباحثة دراستها بالقرنين السابع والثامن كما هو ظاهر من العنوان.
হজ; আর এটি অস্পষ্ট নয় যে, এখানে ‘হালকা’ বলতে সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়েছে যা শিক্ষার্থীদের তাদের শায়খের চারপাশ ঘিরে বেষ্টন করে রাখার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এটি এমন এক ব্যবস্থা যা নবুওয়াতের যুগ থেকে চলে আসছে। ইসলামি মাদরাসাগুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও শিক্ষার এই রূপটি অব্যাহত ছিল (১)।

পাঠ্যক্রম ও সময়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের স্বাধীন শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি মক্কা মুকাররমায় বিভিন্ন মাদরাসা ও ইলমি প্রতিষ্ঠান ছড়িয়ে ছিল, যেগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল কুরআন হিফজ, তাজবিদ ও তাফসির শিক্ষা প্রদান করা; কেননা এটিই হলো সেই মজবুত ইলমি ভিত্তি যা একজন শরয়ি আলিমকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে তোলে।

--------------------------------------------

(১) আল-উবাইকান, তুর্ফাহ আব্দুল আজিজ, আল-হায়াতুল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইজতিমায়িয়্যাহ ফি মাক্কাতা ফিল করনাইন আস-সাবি‘ ওয়াস-সামিন লিল-হিজরাহ, পৃষ্ঠা ৫৩। গবেষক তার গবেষণাকে শিরোনাম অনুযায়ী সপ্তম ও অষ্টম হিজরি শতকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌رابعاً: الزوايا

جمع زاوية، وزاوية البيت ركنه، وتزوي صارفيها (1) . وأصبحت تطلق عرفاً على المسجد الصغير الذي يخلو فيه الناس للعبادة كما كان الحال في الماضي في مكة المكرمة، وكان لكل زاوية شيخ يقوم بشؤونها، وتعليم القرآن فيها (2) .

أما في الغرب الإسلامي بلاد المغرب والأندلس فإنه: "يطلق على مجموعة البنايات المستخدمة لأغراض دينية، وتعليمية، واجتماعية، وذلك منذ القرن الخامس للهجرة/الحادي عشر للميلاد" (3) .

--------------------------------------------

(1) ابن منظور، أبو الفضل جمال الدين محمد، لسان العرب، الطبعة الثالثة، (بيروت: دار صادر، عام 1414هـ/1994م) ،ج14،ص365. (مادة زوى) .

(2) انظر لهذا: العجيمي، محمد حسن الصوفي، خبايا الزوايا. مصور، خاص.

(3) سعيدوني، ناصر الدين، مؤسسة الزوايا في الجزائر العثمانية بحث في المؤتمر الدولي حول العلم والمعرفة في العالم العثماني بمناسبة الذكرى السبعمائة على قيام الدولة العثمانية عام 1999م (إستانبول: مركز الأبحاث للتاريخ والفنون والثقافة الإسلامية، 2000) ، ص48.
‌চতুর্থত: জাবিয়া (الزوايا)

এটি ‘জাবিয়া’ (زاوية)-এর বহুবচন। গৃহের জাবিয়া বলতে তার কোণ বা কোণঠাসাকে বোঝায় এবং এতে আশ্রয় নেওয়া বা গুটিয়ে থাকাকে ‘তাজউই’ বলা হয় (১)। বর্তমানে এটি পরিভাষাগতভাবে এমন ছোট মসজিদকে বোঝায় যেখানে মানুষ ইবাদতের জন্য নির্জনে অবস্থান করে, যেমনটি অতীতে মক্কা মুকাররমায় প্রচলিত ছিল। প্রতিটি জাবিয়ার জন্য একজন শায়খ (شيخ) থাকতেন যিনি এর যাবতীয় বিষয়াবলি পরিচালনা করতেন এবং সেখানে কুরআন শিক্ষা দিতেন (২)।

তবে ইসলামি বিশ্বের পশ্চিমে অর্থাৎ মাগরিব এবং আন্দালুস ভূখণ্ডে: "এটি হিজরি পঞ্চম শতাব্দী/একাদশ খ্রিস্টাব্দ থেকে ধর্মীয়, শিক্ষামূলক এবং সামাজিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত একগুচ্ছ ভবনকে বোঝায়" (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মনজুর, আবুল ফজল জামালুদ্দিন মুহাম্মদ, লিসানুল আরব, তৃতীয় সংস্করণ, (বৈরুত: দার সাদির, ১৪১৪ হি./১৯৯৪ খ্রি.), খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ৩৬৫। (মূল শব্দ: زوى)।

(২) এ বিষয়ে দেখুন: আল-আজীমি, মুহাম্মদ হাসান আস-সুফি, খাবায়াল জাবিয়া। চিত্রিত পাণ্ডুলিপি, ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

(৩) সাইদুনি, নাসিরুদ্দিন, মুয়াসসাসাতুজ জাবিয়া ফিল জাজাইরিল উসমানিয়া, ১৯৯৯ সালে অটোমান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘অটোমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও জ্ঞান’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র (ইস্তাম্বুল: সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ইসলামিক হিস্ট্রি, আর্ট অ্যান্ড কালচার, ২০০০), পৃষ্ঠা ৪৮।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১০)
وقد أدَّتْ الزوايا في البلاد الإسلامية وظائف تعليمية، ودينية جليلة، وأسهمت إسهاماً كبيراً في نشر القرآن تعليماً، وحفظاً ومدارسة، وقامت بآثار جليلة في تربية الناشئة.

إن تخطيط هذه الزوايا ومكوناتها يعطي تصوراً كاملاً عن الوظائف التي تؤديها، وهي وإن اختلفت من بلد إلى بلد، ومن قطر إلى قطر فإنها تجتمع كلها في الأهداف التي بنيت من أجلها.

يتحدث الأستاذ الدكتور ناصر الدين سعيدوني عن طبيعة تنظيم الزوايا ببلاد القبائل بالجزائر فيقول:

"وتشتمل الزوايا بالبلاد الجزائرية، وخاصة بمنطقة القبائل على مجموعة بناءات تتوزع على المرافق الضرورية للزاوية، فهناك مكان مخصص لحفظ القرآن وتلاوته (قراءة الحزب) ، وأداء فريضة الصلاة، وهو بمثابة مسجد الزاوية، ومكان آخر للدراسة يعرف عادة بالعمرة، وقد تقتصر الزاوية عليه فتعرف بالعمرة، وبالإضافة إلى دار للضيافة، وغرف لإيواء الطلبة، وبناء لاستقبال الزوار والضيوف، وملحق لإقامة أهل الزاوية، أو لسكن القائمين عليها، وغير بعيد عنهم المصالح الضرورية من مطبخ وإسطبل، ومخازن لحفظ المؤونة، ورحى لطحن الحب، ومعصرة لعصر الزيت وغيرها

إن الزاوية بهذه المواصفات أصبحت بمثابة مجمع متعدد الخدمات، فهي المسجد، والمدرسة، والملجأ، والمأوى، والمزار، الأمر الذي جعلها محور الحياة الروحية، والثقافية وحتى الاجتماعية في الوسط الريفي ببلاد القبائل" (1) .

--------------------------------------------

(1) مؤسسة الزوايا بالجزائر العثمانية، ص 49.48.
ইসলামি বিশ্বের জাওয়াইয়াগুলো সুমহান শিক্ষামূলক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেছে। কুরআন শিক্ষা, হিফজ ও এর চর্চা প্রসারে এগুলো ব্যাপক অবদান রেখেছে এবং নতুন প্রজন্মের লালন-পালনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

এই জাওয়াইয়াগুলোর স্থাপত্য পরিকল্পনা ও এর বিভিন্ন উপাদানগুলো এগুলো দ্বারা সম্পাদিত কার্যাবলি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা প্রদান করে। অঞ্চল বা দেশভেদে এগুলোর অবকাঠামোতে ভিন্নতা থাকলেও, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে এগুলো এক ও অভিন্ন।

অধ্যাপক ডক্টর নাসিরুদ্দিন সাঈদুনি আলজেরিয়ার কাবাইল অঞ্চলের জাওয়াইয়াগুলোর সাংগঠনিক বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন:

"আলজেরিয়ার জাওয়াইয়াগুলো, বিশেষ করে কাবাইল অঞ্চলে, কতগুলো ভবনের সমন্বয়ে গঠিত যা জাওয়াইয়ার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী বিন্যস্ত থাকে। সেখানে কুরআন হিফজ ও তিলাওয়াতের (হিযব পাঠ) জন্য এবং ফরয নামাজ আদায়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকে, যা জাওয়াইয়ার মসজিদ হিসেবে গণ্য হয়। অধ্যয়নের জন্য পৃথক স্থান রয়েছে যা সাধারণত 'উমরাহ' নামে পরিচিত; কখনো কখনো জাওয়াইয়াটি কেবল এই একটি কক্ষের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকে এবং তখন তা 'উমরাহ' নামে পরিচিত হয়। এছাড়া মেহমানখানা, শিক্ষার্থীদের আবাসনের কক্ষ, দর্শনার্থী ও মেহমানদের অভ্যর্থনা ভবন এবং জাওয়াইয়ার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বা পরিচালকদের বসবাসের জন্য আলাদা সংযুক্তি বা ঘর থাকে। এগুলোর অদূরেই অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ যেমন—রান্নাঘর, আস্তাবল, রসদ সংরক্ষণের গুদাম, শস্য মাড়াই করার যাঁতা এবং তেল নিষ্কাশন যন্ত্র ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে।

এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে জাওয়াইয়া মূলত একটি বহুমুখী সেবা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এটি একই সাথে মসজিদ, মাদ্রাসা, আশ্রয়স্থল, আবাসন এবং যিয়ারতগাহ; যা একে কাবাইল অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদে আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক এমনকি সামাজিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে" (১)।

--------------------------------------------

(১) মুয়াসসাসাতুজ জাওয়াইয়া বিল জাজাইর আল-উসমানিয়া, পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১১)
القرآن الكريم هو الأساس الذي يقوم عليه التعليم بالزوايا في كل حواضر الإسلام وقراه، والكثير من العلوم والمعارف الدينية (1) .

هذه هي الصورة العامة للزوايا في معظم البلاد الإسلامية، وبخاصة في عهد الخلافة العثمانية، وهو ما لاحظه الباحثون من خلال استقراء النشاط العلمي للزوايا في عهد العثمانيين فقد "كثر عدد الزوايا في القيروان خلال العصر العثماني، ولقي بناؤها تشجيعاً من الحكام، بل إن بعضهم ساهم في إنشاء العديد منها، ووقفوا عليها العقارات الكثيرة، وأعفوا بعضها من أداء العشر، وخصصوا لها جرايات دورية" (2) .

كان للحرمين الشريفين منها نصيب كبير، ومما يؤكد هذا أن العلامة المحدث الشيخ محمد حسين العجيمي المكي المتوفى عام 1113هـ خصَّها بمؤلف مستقل بعنوان (خبايا الزوايا) ،وكان لها وظائفها التعليمية والدينية، والأوقاف الجليلة التي تسد احتياجاتها، وتغني القائمين عليها ليتفرغوا للوظائف التعليمية والدينية المنوطة بهم.

--------------------------------------------

(1) انظر: سعيدوني، ناصر الدين محمد، (مؤسسة الزوايا في الجزائر العثمانية، بحوث المؤتمر الدولي حول العلم والمعرفة في العالم العثماني) ، ص69.

(2) عثمان، نجوى، (الزوايا والمدارس العثمانية بالقيروان) ، بحوث المؤتمر الدولي حول العلم والمعرفة في العالم العثماني، (إستانبول: مركز الأبحاث للتاريخ والفنون والثقافة الإسلامية، سنة 2000م) ، ص137.
পবিত্র কুরআন হলো ইসলামের প্রতিটি জনপদ ও গ্রামে যাভিয়াগুলোতে প্রচলিত শিক্ষা এবং অনেক ধর্মীয় জ্ঞান ও বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি (১)।

এটিই ছিল অধিকাংশ মুসলিম দেশে যাভিয়াগুলোর সাধারণ চিত্র, বিশেষ করে উসমানীয় খিলাফতের যুগে। উসমানীয় আমলে যাভিয়াগুলোর জ্ঞানতাত্ত্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনার মাধ্যমে গবেষকরা এটি লক্ষ্য করেছেন। "উসমানীয় যুগে কায়রোয়ানে যাভিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এগুলো নির্মাণে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছিল। এমনকি তাঁদের কেউ কেউ অনেকগুলো যাভিয়া প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছিলেন, এগুলোর জন্য প্রচুর স্থাবর সম্পত্তি ওয়াকফ করেছিলেন, কিছু যাভিয়াকে উশর প্রদান থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন এবং এগুলোর জন্য নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন" (২)।

হারামাইন শরিফাইনেও এর একটি বড় অংশ ছিল। এর সত্যতা নিশ্চিত করে যে, প্রখ্যাত আলেম ও হাদিস বিশারদ (محدث) শেখ মুহাম্মদ হুসাইন আল-আজমি আল-মাক্কি (মৃত্যু ১১১৩ হিজরি) 'খাবায়া আল-যাভিয়া' শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই যাভিয়াগুলোর নিজস্ব শিক্ষা ও ধর্মীয় কার্যাবলি ছিল এবং সেগুলোর প্রয়োজন মেটাতে মহান ওয়াকফ ব্যবস্থা ছিল, যা এগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অভাবমুক্ত রাখত যাতে তারা তাদের ওপর অর্পিত শিক্ষা ও ধর্মীয় দায়িত্বে পূর্ণ মনোনিবেশ করতে পারেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সাঈদুনি, নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ, (উসমানীয় আলজেরিয়ায় যাভিয়া প্রতিষ্ঠানসমূহ, উসমানীয় বিশ্বে জ্ঞান ও বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের গবেষণাপত্র), পৃ. ৬৯।

(২) উসমান, নাজওয়া, (কায়রোয়ানে উসমানীয় যাভিয়া ও মাদরাসাসমূহ), উসমানীয় বিশ্বে জ্ঞান ও বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের গবেষণাপত্র, (ইস্তাম্বুল: ইসলামী ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র, ২০০০ খ্রি.), পৃ. ১৩৭।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌خامساً: الكتاتيب:

عادة ما تكون في زوايا وأماكن خاصة، وتلحق أحياناً ببعض المساجد، ولهذا النوع من المؤسسات التعليمية أثر كبير في تعليم القرآن ونشره في القرى والمدن، وبين طبقات المجتمع المختلفة، يعود لها الفضل الكبير في تعليم
পঞ্চম: মক্তবসমূহ (الكتاتيب):

এগুলো সাধারণত বিশেষ স্থানে কিংবা খানকাহ (زوايا) সমূহে হয়ে থাকে এবং কখনো কখনো কিছু মসজিদের সাথে সংযুক্ত থাকে। কুরআন শিক্ষা এবং গ্রাম ও শহরগুলোতে ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশাল প্রভাব রয়েছে। শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে এর ব্যাপক অবদান রয়েছে
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১২)
الصبيان، وتحفيظهم للقرآن الكريم في البلاد والقرون الإسلامية كافة.

لها أثر مشهود، ودور كبير مهم لا ينكر في تعليم الصبيان، وتلقينهم القرآن، فهي أول ما يستقبل الصبي المسلم، وهي أول ما تنقش على صفحات صدره البيضاء النقية آيات الذكر الحكيم التي تظل راسخة في ذاكرته مدى الحياة.
শিশুদের এবং সকল ইসলামী জনপদ ও শতাব্দীজুড়ে তাদের পবিত্র কুরআন মুখস্থ করানো।

শিশুদের শিক্ষা দান এবং তাদের কুরআন পাঠদান বা তালকিনে (تلقين) এর একটি প্রত্যক্ষ প্রভাব এবং অনস্বীকার্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটিই একজন মুসলিম শিশুর জীবনে সর্বপ্রথম লব্ধ বিষয় এবং এটিই প্রথম যা তার হৃদয়ের শুভ্র ও পবিত্র পাতায় প্রজ্ঞাময় জিকিরের আয়াতসমূহ অঙ্কিত করে দেয়, যা সারাজীবনের জন্য তার স্মৃতিতে বদ্ধমূল হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌سادساً: تأسيس المدارس القرآنية في الأمصار الإسلامية:

تطورت مظاهر الاهتمام بالقرآن الكريم مع تطور الحياة في المجتمع الإسلامي، فبدأت تستقل بدورها، وأصبح للوقف الإسلامي أثر كبير في نشاطها، والقيام بما ينبغي لاستمرار أداء إرسالها، وإغناء القائمين عليها بما يكفل لهم حياة معيشية رخية، وتطوير مرافقها، وتشجيع الطلاب المنتسبين إليها.

وقد أسهم في تأسيس هذه المدارس، ورصد الأوقاف عليها طبقات المجتمع كافة من الملوك، والسلاطين، والأمراء، والأثرياء، ومتوسطي الحال على مدى التاريخ الإسلامي حتى وقتنا الحاضر، فكان من ثمار هذا الاهتمام والإسهام إنشاء مدارس لتدريس العلوم الإسلامية، وفي مقدمتها القرآن وعلومه، وأنشئت دور ومدارس للقرآن بخصوصه. يؤرخ لهذا الظاهرة العلمية الحضارية العلامة تقي الدين أبو العباس أحمد بن علي بن عبد القادر العبيدي المقريزي قائلاً: "والمدارس مما حدث في الإسلام، ولم تكن تعرف في زمن الصحابة ولا التابعين، وإنما حدث عملها بعد الأربعمائة من سني الهجرة، وأول من حفظ عنه أنه بنى مدرسة في الإسلام أهل نيسابور، فبُنيت بها
ষষ্ঠত: ইসলামি জনপদসমূহে কোরআনি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা:

ইসলামি সমাজে জীবনযাত্রার বিবর্তনের সাথে সাথে পবিত্র কোরআনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের ক্ষেত্রগুলোও বিকশিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব স্বতন্ত্র মহিমায় আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করে এবং এর স্থায়িত্ব ও কার্যক্রমে ইসলামি ওয়াকফের (وقف) এক বিশাল প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এই ওয়াকফ ব্যবস্থার মাধ্যমেই মাদরাসাগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মীদের সচ্ছল জীবন নিশ্চিত করা, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

ইসলামি ইতিহাসের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজা-বাদশাহ, সুলতান, আমির, বিত্তবান এবং মধ্যবিত্ত—সমাজের সকল স্তরের মানুষ এই মাদরাসাগুলো প্রতিষ্ঠা এবং এগুলোর জন্য ওয়াকফ (أوقاف) বরাদ্দে অবদান রেখেছেন। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও গুরুত্বারোপের ফলেই ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান বিশেষ করে পবিত্র কোরআন ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ পাঠদানের জন্য বিভিন্ন মাদরাসা ও প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এমনকি শুধুমাত্র কোরআন শিক্ষার জন্য স্বতন্ত্র 'দারুল কোরআন' ও কোরআনি মাদরাসাসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ইলমি ও তمدুনিক বিবর্তন সম্পর্কে প্রখ্যাত মনীষী আল্লামা তাকিউদ্দিন আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আলী বিন আব্দুল কাদির আল-উবায়দি আল-মাকরিজি উল্লেখ করেছেন: "মাদরাসা ইসলামের ইতিহাসে একটি পরবর্তী সংযোজন, যা সাহাবায়ে কেরাম (صحابة) কিংবা তাবেয়ীগণের (تابعين) যুগে প্রচলিত ছিল না। মূলত হিজরি চারশত সালের পর এর প্রচলন শুরু হয়। ইসলামের ইতিহাসে নিশাপুরবাসীদের মাধ্যমেই সর্বপ্রথম মাদরাসা নির্মিত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিকভাবে সংরক্ষিত আছে; সেখানে এটি নির্মিত হয়েছিল..."
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
مدرسة البيهقية

وأشهر ما بني في القديم المدرسة النظامية ببغداد، لأنها أول مدرسة قرر بها للفقهاء معاليم، وهي منسوبة إلى الوزير نظام الملك أبي علي الحسن بن علي بن إسحاق بن العباس الطوسي وزير ملك شاه بن ألب أرسلان في مدينة بغداد، وشرع في بنائها في سنة سبع وخمسين وأربعمائة، وفرغت في ذي القعدة سنة تسع وخمسين وأربعمائة" (1) .

فمن ثم انتشرت المدارس في جميع أصقاع العالم الإسلامي متطورة في تخطيطها، وتنظيمها، ومناهجها حتى عصرنا الحاضر.

--------------------------------------------

(1) المواعظ والاعتبار بذكر الخطط والآثار، الطبعة الأولى، وضع حواشيه خليل المنصور، (بيروت: دار الكتب العلمية، سنة 1418هـ/1998م) ، ج4، ص 199.
আল-বাইহাকিয়্যাহ মাদ্রাসা

প্রাচীনকালে নির্মিত মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে বাগদাদের নিযামিয়া মাদ্রাসা সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, কারণ এটিই ছিল প্রথম মাদ্রাসা যেখানে ফকীহগণের (فقهاء) জন্য ভাতা নির্ধারিত হয়েছিল। এটি বাগদাদ নগরীতে মালিক শাহ বিন আল্প আরসালানের উজির নিযামুল মুলক আবু আলী আল-হাসান বিন আলী বিন ইসহাক বিন আল-আব্বাস আল-তুসীর নামে নামাঙ্কিত। ৪৫৭ হিজরি সনে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ৪৫৯ হিজরি সনের যিলকদ মাসে এটি সমাপ্ত হয়। (১)

অতঃপর সেখান থেকেই মুসলিম বিশ্বের সমস্ত প্রান্তে মাদ্রাসাসমূহ বিস্তৃত হয় এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত এগুলোর পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও পাঠ্যক্রম উত্তরোত্তর উন্নতি লাভ করে।

--------------------------------------------

(১) আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বি যিকরিল খুতাত ওয়াল আসার, প্রথম সংস্করণ, খলীল আল-মানসুর কর্তৃক টীকা সংবলিত, (বৈরুত: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, ১৪১৮ হিজরি/১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ), খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌سابعاً: تأسيس جمعيات تحفيظ القرآن الكريم في العصر الحديث:

تطور الاهتمام بالقرآن الكريم والعناية به في العصر الحديث من النشاط المحدود الذي يقتصر على تأسيس مدرسة محدودة المكان، محدودة الإمكانات والموارد، محدودة الطلاب والأساتذة، إلى نشاط أوسع من حيث أماكن التدريس، وبإمكانات مادية، ووقفية من مصادر متعددة، وأعداد متزايدة للطلاب، والمدرسين، والمشرفين، وبأجهزة إدارية كاملة تعليمية، ومحاسبية، وإشراف، لها أنظمتها وقوانينها، وبأهداف وطموحات غير مسبوقة في مناهج المدارس القرآنية القديمة.

هذا التطور في الكم والكيف هو الصورة السائدة التي يحظى بها القرآن
সপ্তম: আধুনিক যুগে পবিত্র কুরআন হিফজ সংস্থাগুলোর প্রতিষ্ঠা:

আধুনিক যুগে পবিত্র কুরআনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং এর পরিচর্যার বিষয়টি একটি সীমিত কার্যক্রম থেকে বিবর্তিত হয়েছে, যা পূর্বে কেবল নির্দিষ্ট স্থানে সীমিত সক্ষমতা ও সম্পদ এবং স্বল্প সংখ্যক ছাত্র ও শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত ক্ষুদ্র বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে এটি পাঠদানের স্থানের দিক থেকে এক ব্যাপকতর কার্যক্রমে রূপ নিয়েছে, যা বহুমুখী উৎস থেকে প্রাপ্ত আর্থিক ও ওয়াকফ সম্পদ, ছাত্র, শিক্ষক ও পরিদর্শকদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং শিক্ষা, হিসাবরক্ষণ ও তদারকি বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত। এসব প্রতিষ্ঠানের রয়েছে নিজস্ব নীতিমালা ও আইন এবং এমন সব লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা যা প্রাচীন কুরআনিক বিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমে নজিরবিহীন ছিল।

পরিমাণগত ও গুণগত এই উন্নয়নই বর্তমান সময়ে পবিত্র কুরআনের সেবায় এক প্রচলিত চিত্র।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৪)
الكريم في المملكة العربية السعودية التي انبثقت فكرتها من مكة المكرمة عام 1382هـ، وإخاله كذلك في جميع البلاد الإسلامية في الوقت الحاضر. "إن فكرة إنشاء الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمكة المكرمة كانت في شهر شعبان سنة 1382هـ عندما وصل من الباكستان فضيلة الشيخ محمد يوسف سيتي الباكستاني رحمه الله، حيث طرح هذه الفكرة على أعيان مكة المكرمة وعلمائها فلقيت منهم ارتياحاً واستحساناً ثم رفعوا هذه الفكرة إلى المسؤولين في هذه البلاد المباركة، فشجعوا العمل النبيل، والمشروع الحسن، وكان على رأسهم معالي الشيخ حسن بن عبد الله آل الشيخ وزير المعارف آنذاك رحمه الله، ومعالي الشيخ محمد سرور الصبان، الأمين العام لرابطة العالم الإسلامي آنذاك رحمه الله، ومعالي الشيخ محمد سيتي الذي كان يتحمل ثلث رواتب المدرسين بالجمعية.

وكان من أعضائها وممن تولى رئاستها بعد وفاة الشيخ محمد يوسف سيتي الباكستاني رحمه الله عدد من علماء مكة المكرمة الذين بذلوا جهوداً طيبة في العناية بالقرآن الكريم" (1) ، وللجمعية عدة فروع: فرع محافظة جدة، فرع محافظة الطائف، فرع وادي ليه، فرع محافظة رنية، فرع محافظة تربة. تتابعت بعد هذا جمعيات تحفيظ القرآن الكريم بالمملكة العربية السعودية متبعة في هذا المنهج السوي الذي خطته لنفسها الجمعية الأولى الرائدة جمعية تحفيظ القرآن الكريم في مكة المكرمة، وهي في المناطق التي سميت بها كالتالي:

أولاً: الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمنطقة المدينة المنورة، وتأسست

--------------------------------------------

(1) التقرير السنوي التاسع والعشرين من العام 1419هـ للجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمكة المكرمة، ص 8-9.
সৌদি আরব রাজ্যে কুরআনুল কারীম হিফজ কার্যক্রমের পরিকল্পনা, যা ১৩৮২ হিজরিতে মক্কা মুকাররমা থেকে সূচিত হয়েছিল; আমি মনে করি বর্তমানে সকল মুসলিম দেশেই বিষয়টি অনুরূপ। "মক্কা মুকাররমায় কুরআনুল কারীম হিফজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চ্যারিটেবল সোসাইটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাটি ১৩৮২ হিজরির শাবান মাসে গ্রহণ করা হয়, যখন পাকিস্তান থেকে ফযীলতুশ শাইখ মুহাম্মদ ইউসুফ সেটি পাকিস্তানি (রহিমাহুল্লাহ) আগমন করেন। তিনি মক্কা মুকাররমার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ওলামায়ে কেরামের নিকট এই পরিকল্পনাটি পেশ করলে তারা সন্তোষ ও সাধুবাদ জানান। অতঃপর তারা এই পরিকল্পনাটি এই বরকতময় দেশের দায়িত্বশীলদের নিকট উত্থাপন করেন এবং তারা এই মহৎ কাজ ও উত্তম (حسن) প্রকল্পটিকে উৎসাহিত করেন। তাদের অগ্রভাগে ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মহামান্য শাইখ হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল-শাইখ (রহিমাহুল্লাহ), মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের তৎকালীন মহাসচিব মহামান্য শাইখ মুহাম্মদ সুরুর আস-সাব্বান (রহিমাহুল্লাহ) এবং মহামান্য শাইখ মুহাম্মদ সেটি, যিনি এই সমিতির শিক্ষকদের বেতনের এক-তৃতীয়াংশ বহন করতেন।

শাইখ মুহাম্মদ ইউসুফ সেটি পাকিস্তানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইন্তেকালের পর মক্কা মুকাররমার বেশ কয়েকজন ওলামায়ে কেরাম এর সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং সভাপতিত্ব করেন, যারা কুরআনুল কারীমের খিদমতে অত্যন্ত প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন" (১)। এই সমিতির বেশ কয়েকটি শাখা রয়েছে: জেদ্দা জেলা শাখা, তায়েফ জেলা শাখা, ওয়াদি লিহ শাখা, রানিয়াহ জেলা শাখা এবং তুরবাহ জেলা শাখা। এর ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব রাজ্যের অন্যান্য কুরআন হিফজ সমিতিগুলো মক্কা মুকাররমার সেই প্রথম ও অগ্রগামী সমিতির অনুসৃত সঠিক পথ অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। অঞ্চলভেদে সেগুলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: মদিনা মুনাওয়ারা অঞ্চলের কুরআনুল কারীম হিফজ চ্যারিটেবল সোসাইটি, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) মক্কা মুকাররমায় কুরআনুল কারীম হিফজ চ্যারিটেবল সোসাইটির ১৪১৯ হিজরি সনের ২৯তম বার্ষিক প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা ৮-৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৫)
عام 1383هـ ويتبع الجمعية فرعان أحدهما في العلا، والآخر في محافظة ينبع.

ثانياً: الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمنطقة الرياض، أسست عام 1386هـ، ولهذه الجمعية فرعان:

1- فرع محافظة المجمعة.

2- فرع تمير وتوابعها.

ثالثاً: الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمنطقة القصيم.

رابعاً: الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمنطقة عسير.

خامساً: الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بالمنطقة الشرقية.

سادساً: الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمنطقة تبوك.

سابعاً: الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمنطقة حائل.

ثامناً: الجمعية الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم بمنطقة الحدود الشمالية.

شملت نشاطات هذه الجمعيات الاهتمام بالبنين والبنات، سواء في بنايات مدرسية خاصة بالجمعيات، أو في المساجد بعد صلاة العصر بعد خلو المسجد من المصلين (1) ، معتمدة في تمويل نفقاتها ونشاطاتها على الأوقاف والتبرعات من ولاة الأمر والمواطنين.

--------------------------------------------

(1) انظر: الكتاب الوثائقي (جهود المملكة العربية السعودية في الاعتناء بالقرآن الكريم) الطبعة الأولى إعداد لجنة برنامج تحفيظ القرآن الكريم بهيئة الإغاثة الإسلامية العالمية، إشراف عبد الله بن علي بصفر (جدة: الشركة الخليجية للطباعة والتغليف، عام 1419هـ/1999م) ص99-105
১৩৮৩ হিজরি সাল এবং এই সমিতির দুটি শাখা রয়েছে; একটি উলায় এবং অন্যটি ইয়ানবু প্রদেশে।

দ্বিতীয়ত: রিয়াদ অঞ্চলে পবিত্র কুরআন হিফজুল কারিমের জন্য চ্যারিটেবল সোসাইটি, এটি ১৩৮৬ হিজরি সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এই সমিতির দুটি শাখা রয়েছে:

১- মাজমাআ প্রদেশ শাখা।

২- তুমাইর এবং এর আওতাধীন অঞ্চলসমূহ।

তৃতীয়ত: কাসিম অঞ্চলে পবিত্র কুরআন হিফজুল কারিমের জন্য চ্যারিটেবল সোসাইটি।

চতুর্থত: আসির অঞ্চলে পবিত্র কুরআন হিফজুল কারিমের জন্য চ্যারিটেবল সোসাইটি।

পঞ্চমত: শারকিয়াহ অঞ্চলে পবিত্র কুরআন হিফজুল কারিমের জন্য চ্যারিটেবল সোসাইটি।

ষষ্ঠত: তাবুক অঞ্চলে পবিত্র কুরআন হিফজুল কারিমের জন্য চ্যারিটেবল সোসাইটি।

সপ্তমত: হাইল অঞ্চলে পবিত্র কুরআন হিফজুল কারিমের জন্য চ্যারিটেবল সোসাইটি।

অষ্টমত: উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে পবিত্র কুরআন হিফজুল কারিমের জন্য চ্যারিটেবল সোসাইটি।

এই সকল সমিতির কার্যক্রম ছাত্র ও ছাত্রীদের প্রতি গুরুত্ব প্রদানকে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই তা সমিতির নিজস্ব স্কুল ভবনে হোক কিংবা আসরের নামাজের পর মসজিদ মুসল্লি শূন্য হওয়ার পর মসজিদে (১)। এই সমিতিগুলো তাদের ব্যয়ভার ও কার্যক্রম পরিচালনার অর্থায়নের ক্ষেত্রে ওয়াকফ এবং শাসকবর্গ ও নাগরিকদের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: প্রামাণ্য গ্রন্থ (পবিত্র কুরআনের যত্নে সৌদি আরব রাজ্যের প্রচেষ্টাসমূহ), প্রথম সংস্করণ, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক রিলিফ অর্গানাইজেশনের পবিত্র কুরআন হিফজ প্রোগ্রাম কমিটি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত, তত্ত্বাবধানে: আবদুল্লাহ বিন আলী বাসফার (জেদ্দা: আল-শারিকাহ আল-খালিজিয়াহ লি-তিবাআ ওয়াল তাগলিফ, ১৪১৯ হি./১৯৯৯ খ্রি.) পৃষ্ঠা ৯৯-১০৫
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الفصل الثاني: مشروعية الوقف خدمة للقرآن الكريم ومقاصد الواقفين

‌‌مدخل

…

الفصل الثاني:

مشروعية الوقف خدمة للقرآن الكريم

ومقاصد الواقفين (1)

يعد الوقف الخيري والأهلي من الصدقة الجارية التي يستمر أجر صاحبها حياً وميتاً، بل في أوليات ما حثّ النبي صلى الله عليه وسلم عليه في الحديث الصحيح عن أبي هريرة رضي الله عنه: "إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له". رواه مسلم، وأصحاب السنن.

يعظم الأجر والثواب بعظم المقصود وإذاعته ونشره، ويتضاعف الأجر على قدر من ينتفع به، إن تعليم أبناء المسلمين لأمور الدين، وفي مقدمة ذلك القرآن الكريم من أعظم المقاصد الشرعية، بل هو أعظمها، وتعليمه للصغار يطفئ غضب الرب عز وجل وعلا.

يقول العلامة الفقيه أبو محمد عبد الله بن أبي زيد القيرواني رحمه الله في شأن تعليم الأطفال، وترسيخ المعاني الفاضلة وأثرها في نفوسهم بدءاً بالقرآن الكريم العظيم: "اعلم أن خير القلوب أوعاها للخير، وأرجى القلوب للخير ما لم يسبق الشر إليه، وأوله ما عُني به الناصحون، ورغب في أجره الراغبون إيصال الخير إلى قلوب أولاد المؤمنين، ليرسخ فيها، وتنبيههم على معالم الديانة، وحدود الشريعة ليراضوا عليها، وما عليه أن تعتقده من الدين قلوبهم،

--------------------------------------------

(1) انظر أدلة مشروعية الوقف في البحوث المقدمة لندوة المكتبات الوقفية (الوقف مفهومه ومقاصده) لعبد الوهاب أبو سليمان، المنشور ضمن بحوث الندوة بعناية وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف بالمملكة العربية السعودية، عام 1420هــ.
‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়: পবিত্র কুরআনের সেবায় ওয়াকফের বৈধতা এবং ওয়াকিফগণের উদ্দেশ্যসমূহ

‌‌ভূমিকা

...

দ্বিতীয় অধ্যায়:

পবিত্র কুরআনের সেবায় ওয়াকফের বৈধতা

এবং ওয়াকিফগণের উদ্দেশ্যসমূহ (১)

জনকল্যাণমূলক ও পারিবারিক ওয়াকফকে সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়, যার সওয়াব দাতার জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় অব্যাহত থাকে। বরং এটি সেই প্রাথমিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যার প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সহিহ (صحيح) হাদিসে উৎসাহ প্রদান করেছেন: "যখন আদম সন্তান মারা যায়, তখন তিনটি মাধ্যম ছাড়া তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: সাদাকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, কিংবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" এটি মুসলিম এবং সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন।

উদ্দেশ্যের মহত্ত্ব এবং এর প্রচার ও প্রসারের ব্যাপকতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিদান ও সওয়াব বৃদ্ধি পায়। আর এর দ্বারা উপকারভোগীর সংখ্যা অনুযায়ী সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। মুসলিম সন্তানদের দ্বীনি বিষয়সমূহ শিক্ষা দেওয়া এবং এর মধ্যে পবিত্র কুরআনকে অগ্রাধিকার দেওয়া মহান শারয়ি উদ্দেশ্যসমূহের অন্যতম, বরং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ। আর শিশুদের কুরআন শিক্ষা দেওয়া মহান রবের ক্রোধ প্রশমিত করে।

প্রখ্যাত ফকিহ আল্লামা আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আবি যায়েদ আল-কাইরাওয়ানি (রাহিমাহুল্লাহ) শিশুদের শিক্ষা দান এবং পবিত্র কুরআন দিয়ে শুরুর মাধ্যমে তাদের অন্তরে মহৎ মূল্যবোধের দৃঢ়মূল হওয়া ও এর প্রভাব সম্পর্কে বলেন: "জেনে রেখো, সেই অন্তরই সর্বোত্তম যা কল্যাণকে অধিক ধারণ করে। আর কল্যাণের জন্য সেই অন্তরই অধিক আশাপ্রদ যাতে এখনো মন্দের প্রবেশ ঘটেনি। হিতাকাঙ্ক্ষীরা যা নিয়ে সর্বপ্রথম যত্নশীল হন এবং সওয়াব প্রত্যাশীরা যার প্রতি আগ্রহী হন, তা হলো মুমিনদের সন্তানদের অন্তরে কল্যাণ পৌঁছে দেওয়া যাতে তা সেখানে বদ্ধমূল হয়। আর তাদের দ্বীনের নিদর্শনসমূহ ও শরয়ি সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন করা যাতে তারা সে অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং তাদের অন্তরে দ্বীনের যে বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক (তা শিক্ষা দেওয়া)...

--------------------------------------------

(১) ওয়াকফ লাইব্রেরি বিষয়ক সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রসমূহে ওয়াকফের বৈধতার দলীলসমূহ দেখুন (ওয়াকফ: এর ধারণা ও উদ্দেশ্যসমূহ), লেখক: আব্দুল ওয়াহহাব আবু সুলাইমান। এটি ১৪২০ হিজরিতে সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সেমিনারের গবেষণাপত্র হিসেবে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৭)
وتعمل به جوارحهم، فإنه روي أن تعليم الصغار لكتاب الله يطفئ غضب الرب، وأن تعليم الشيء في الصغر كالنقش في الحجر" (1) .

لتعليم الصغار العلمَ ثواب، ولتعليمهم القرآن مضاعفة الثواب بقدر الحروف المقروءة منه، فقد روي عنه صلى الله عليه وسلم قوله: " اتلوا هذا القرآن فإن الله يأجركم بالحرف منه عشر حسنات، أما إني لا أقول (ألم) حرف، ولكن الألف حرف، واللام حرف، والميم حرف" (2) . وغير هذا من الأحاديث الصحيحة الكثيرة التي فيها فضل العناية بالقرآن الكريم وقد ظلَّ هذا الحافز الأكبر للمسلمين في غابر الزمان، وحاضره، ومستقبله ليصبح الإنفاق على خدمة القرآن أعظم الأعمال أجراً، وتقرباً إلى المولى جل وعلا.

إن التاريخ الإسلامي يحتفظ بصفحات مشرقة من سخاء الخلفاء، والملوك، والسلاطين، وأثرياء المسلمين بما رصدوه من الأموال والعقارات على التعليم بعامة، وعلى تعليم القرآن ونشره بخاصة فـ "منه يتشعب علم الأولين والآخرين كما يتشعب عن سواحل البحر الأحمر أنهارها، وجبولها…" (3) .

فهو الأحق بالعناية والاهتمام، وأجدر أن يسخو الموسرون بأموالهم لتعليمه، ونشره بين المسلمين، خدمة له، وإذاعة لهديه وفضائله، ليستقيم أمر الأمة، ويعلو شأنها بين الأمم، هديه سبيل إسعادهم في الدنيا والآخرة، هم بهذا يحققون قول الله تعالى {إنا نحن نَزَّلنا الذكر، وإنا له لحافظون} .

--------------------------------------------

(1) الرسالة مع حاشية العلامة العدوي على شرح أبي الحسن، (مصر: مطبعة الاستقامة، عام 1369هـ) ، ج1، ص29.

(2) ابن عطية، أبو محمد عبد الحق، المحرر الوجيز في تفسير الكتاب العزيز، الطبعة الأولى، تحقيق المجلس العلمي، بفاس (المغرب: وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية سنة 1395هـ/1975م) ،ج1،ص7.

(3) الغزالي، أبو حامد محمد بن محمد، جواهر القرآن ودرره، الطبعة الأولى، (بيروت: درا الكتب العلمية (1409هـ/1988م) ، ص10.
এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সে অনুযায়ী আমল করে; কেননা বর্ণিত আছে যে, শিশুদেরকে আল্লাহর কিতাব শিক্ষা দেওয়া রবের ক্রোধ নির্বাপিত করে এবং শৈশবে কোনো কিছু শিক্ষা দেওয়া পাথরে খোদাই করার মতো। (১)।

শিশুদের জ্ঞান শিক্ষার সওয়াব রয়েছে এবং তাদের কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে পঠিত অক্ষরের অনুপাতে সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। কেননা নবী করীম (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "তোমরা এই কুরআন তিলাওয়াত করো, কেননা আল্লাহ তোমাদের এর প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি করে নেকি দান করবেন। আমি বলছি না যে (আলিফ-লাম-মীম) একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।" (২)। এছাড়া আরও অনেক সঠিক (صحيحة) হাদিস রয়েছে যাতে কুরআনুল কারীমের প্রতি যত্নবান হওয়ার গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। এটি অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতে মুসলমানদের জন্য সর্ববৃহৎ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে আসছে, যাতে কুরআনের খিদমতে ব্যয় করা সওয়াবের দিক থেকে মহান রবের নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ আমল হিসেবে গণ্য হয়।

ইসলামী ইতিহাস খলিফা, বাদশাহ, সুলতান এবং ধনাঢ্য মুসলিমদের উদারতার উজ্জ্বল পৃষ্ঠাসমূহ সংরক্ষণ করে আছে, যা তারা সাধারণ শিক্ষা এবং বিশেষ করে কুরআন শিক্ষা ও প্রসারের জন্য অর্থ ও স্থাবর সম্পত্তি বরাদ্দ করার মাধ্যমে প্রদর্শন করেছেন। কারণ, "এটি থেকেই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞান শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, যেমন লোহিত সাগরের তীর থেকে নদী ও ঝরণাধারা উৎসারিত হয়…" (৩)।

সুতরাং এটিই সর্বাধিক যত্ন ও মনোযোগের দাবিদার এবং বিত্তবানদের উচিত এর শিক্ষা ও মুসলিমদের মাঝে তা প্রচারের জন্য অকাতরে সম্পদ ব্যয় করা, যাতে উম্মাহর বিষয়াদি সুসংহত হয় এবং জাতিসমূহের মধ্যে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এর হিদায়াতই দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সৌভাগ্যের পথ। এর মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতিফলন ঘটান: "নিশ্চয় আমি এই যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর হেফাজতকারী।"

--------------------------------------------

(১) আল-রিসালা মা’আ হাশিয়াতিল আল্লামা আল-আদাবী আলা শারহি আবিল হাসান, (মিশর: মাতবাআতুল ইস্তিকামাহ, ১৩৬৯ হিজরী), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯।

(২) ইবনে আতিয়্যাহ, আবু মুহাম্মদ আবদুল হক, আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ ফি তাফসিরিল কিতাবিল আজিজ, প্রথম সংস্করণ, ফাস-এর বৈজ্ঞানিক পরিষদ কর্তৃক তাহকীককৃত (মরক্কো: ওয়াকফ ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ১৩৯৫ হিজরী/১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭।

(৩) আল-গাজালী, আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ, জাওয়াহিরুল কুরআন ওয়া দুরারুহু, প্রথম সংস্করণ, (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪০৯ হিজরী/১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ), পৃষ্ঠা ১০।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌مقاصد الواقفين على القرآن الكريم

‌‌أولا: الوقف على المدارس القرآنية

…

مقاصد الواقفين على القرآن الكريم

أدرك المسلمون في وقت مبكر من تاريخهم أهمية الأوقاف لاستمرار أعمال البر وديمومتها، خصوصاً في المرافق التعليمية والدينية كالمدارس، والمساجد والاجتماعية كالملاجئ والمستشفيات.

هذه الأوقاف على تلك المرافق تكفل لها الاستمرار تبعاً لرغبات الواقفين ومقاصدهم المشروعة، يقول الأستاذ محمد بن عبد العزيز بن عبد الله في دراسته القيمة عن (الوقف في الفكر الإسلامي) بأنه: "أهم مورد مالي رصد لحياة المسجد ليستمر بكل ما يتعلق بالشؤون الإسلامية، ودور تحفيظ القرآن الكريم. فهذه كمؤسسة (الوقف) كانت وما تزال أهم مورد لشؤون الدين، وللتعليم الإسلامي على الإطلاق، وأكثرها دخلاً وإدراراً، وإليها يرجع الفضل في بقائه واستمراره أحقاباً وقروناً، وفي انتظام الحياة العلمية والدراسية في جامعات الإسلام وكلياته" (1) ومؤسساته.

يثبت الاستقراء التاريخي أن مقاصد الواقفين على خدمة القرآن الكريم متنوعة ومتعددة، لا تخلو أن تكون واحداً من المقاصد التالية:

أولاً: الوقف على المدارس القرآنية.

ثانياً: الوقف على القراء.

ثالثاً: الوقف على مدارس تضم إلى تعليم القرآن تدريس الحديث النبوي الشريف أو المذاهب الفقهية، أو بعض العلوم الأخرى.

--------------------------------------------

(1) الوقف في الفكر الإسلامي، الطبعة الأولى، (المغرب: وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية، سنة 1416/1996) ، ج2، ص57.
পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে ওয়াকফকারীদের (الواقفين) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ

প্রথমত: কুরআনি মাদ্রাসাগুলোর জন্য ওয়াকফ (الوقف)

…

পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে ওয়াকফকারীদের (الواقفين) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ

মুসলমানগণ তাদের ইতিহাসের প্রাথমিক যুগেই নেক আমলের ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্য ওয়াকফের (أوقاف) গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন, বিশেষ করে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন মাদ্রাসা ও মসজিদ এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান যেমন আশ্রয়কেন্দ্র ও হাসপাতালের ক্ষেত্রে।

এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে করা এই ওয়াকফগুলো (الأوقاف) ওয়াকফকারীদের (الواقفين) আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের শরয়ী উদ্দেশ্য অনুযায়ী এগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। উস্তাদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ তার মূল্যবান গবেষণাগ্রন্থ (ইসলামি চিন্তাধারায় ওয়াকফ)-এ বলেন যে: "মসজিদের যাবতীয় কার্যাবলী এবং পবিত্র কুরআন হিফযের কেন্দ্রসমূহের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য ওয়াকফ (الوقف) হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক উৎস। সুতরাং এই ওয়াকফ (الوقف) প্রতিষ্ঠানটি দ্বীনি বিষয়াদি এবং ইসলামি শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বদা প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে এবং এটি সবচেয়ে বেশি আয় ও প্রাচুর্য দানকারী। ইসলামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, অনুষদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষা জীবনের ধারাবাহিকতা এবং যুগ যুগ ধরে এর টিকে থাকার পেছনে এই ওয়াকফেরই অবদান।" (১)

ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে, পবিত্র কুরআনের সেবায় ওয়াকফকারীদের (الواقفين) উদ্দেশ্যসমূহ নানাবিধ ও বহুমুখী, যা নিচের যেকোনো একটি উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:

প্রথমত: কুরআনি মাদ্রাসাগুলোর জন্য ওয়াকফ (الوقف)।

দ্বিতীয়ত: কারিদের (القراء) জন্য ওয়াকফ (الوقف)।

তৃতীয়ত: এমন মাদ্রাসাগুলোর জন্য ওয়াকফ (الوقف) যেখানে কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি হাদিস অথবা ফিকহি মাযহাব (المذاهب الفقهية) কিংবা অন্যান্য কিছু শাস্ত্র পাঠদান করা হয়।

--------------------------------------------

(১) ইসলামি চিন্তাধারায় ওয়াকফ, প্রথম সংস্করণ, (মরক্কো: ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ১৪১৬ হিজরি/১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ), ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৭।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৯)
رابعاً: خدمة القرآن تلاوة، وتأسيس مرافق اجتماعية.

خامساً: الوقف على قراءة القرآن لهبة الثواب للآخرين أحياء، أو أمواتاً. (قراءة الربعات بالمسجد الحرام) ، الوقف على قراءة القرآن على المقابر والحكم الشرعي في هذا.

هذا معظم ما كان شائعاً من الأوقاف في خدمة القرآن الكريم في جميع أقطار البلاد الإسلامية.

أما وقد تغيرت الأمور في العصر الحديث فأصبحت للعصر تنظيماته وخططه التي تتباين عما كانت عليه في الماضي، فإن الاهتمام بالأوقاف في خدمة القرآن الكريم أخذ اتجاهاً آخر في معظم البلاد الإسلامية، وهو طريق التنظيم، والتخطيط، والعمل الجماعي، وقد توجه الغُيُر من الأمة الإسلامية نحو هذا فنتج عنه:

سادساً: إنشاء الجمعيات الخيرية لتحفيظ القرآن الكريم.

وفيما يلي نماذج تفصيلية عن كل مقصد من هذه المقاصد.

أولاً: الوقف على المدارس القرآنية

الهدف الأساس من إنشاء المدارس القرآنية هو تعليم أبناء المسلمين للقرآن الكريم حفظاً، وتلاوة وتجويداً، وفهماً لمعانيه. يكاد يكون هذا المقصد الوحيد والأمل المنشود من قبل المؤسسين لهذه المدارس طمعاً في الأجر والثواب من الله عزوجل.

انتشر هذا النوع من المدارس المتخصصة بالقرآن الكريم، وأسهم في تأسيسها القادرون من أبناء المجتمع الإسلامي، كل على قدر استطاعته
চতুর্থত: তিলাওয়াতের মাধ্যমে কুরআনের খিদমত এবং সামাজিক সুবিধাদি প্রতিষ্ঠা করা।

পঞ্চমত: জীবিত বা মৃত ব্যক্তিদের সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য ওয়াকফ (الوقف) করা (যেমন মসজিদে হারামে রাবা’আ তিলাওয়াত করা), কবরের পাশে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য ওয়াকফ (الوقف) এবং এ বিষয়ে শরয়ি বিধান।

সমগ্র মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোতে পবিত্র কুরআনের খিদমতে প্রচলিত অধিকাংশ ওয়াকফ (الأوقاف)-ই ছিল এগুলো।

বর্তমান যুগে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে এবং এ যুগের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা রয়েছে যা অতীতের চেয়ে ভিন্ন। পবিত্র কুরআনের খিদমতে ওয়াকফের (الأوقاف) গুরুত্ব অধিকাংশ মুসলিম দেশে এক নতুন রূপ নিয়েছে, যা হলো সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও সামষ্টিক প্রচেষ্টার পথ। মুসলিম উম্মাহর ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিগণ এ দিকে মনোনিবেশ করেছেন যার ফলে অর্জিত হয়েছে:

ষষ্ঠত: পবিত্র কুরআন হিফজ করার জন্য দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

নিচে এই প্রতিটি উদ্দেশ্যের বিস্তারিত নমুনা উপস্থাপন করা হলো।

প্রথমত: কুরআন শিক্ষার মাদরাসাগুলোর জন্য ওয়াকফ (الوقف) করা।

কুরআনি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য হলো মুসলিম সন্তানদের পবিত্র কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ (تجويد) এবং এর অর্থ বোঝার শিক্ষা প্রদান করা। মহান আল্লাহর নিকট সওয়াব ও প্রতিদানের আশায় এসব মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতাদের একমাত্র উদ্দেশ্য এবং কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা ছিল মূলত এটাই।

পবিত্র কুরআন কেন্দ্রিক এই বিশেষায়িত মাদরাসাগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুসলিম সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিগণ যার যার সাধ্য অনুযায়ী এগুলো প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখেন।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২০)
وإمكاناته، وكان للعواصم العلمية الإسلامية: مكة، والمدينة، ودمشق، وبغداد، وقرطبة، والقاهرة، وفاس، وتونس وغيرها الحظ الأوفر من هذه المدارس، وقد خصصت لها أوقاف من العقارات والضياع والقرى بما يغني القائمين عليها، والدارسين فيها عن الحاجة، والانشغال بأمور المعاش.

في صدر الحديث عن هذا الجانب بالنسبة للحرمين الشريفين مكة والمدينة يتملك المرء الإعجاب والتقدير لعظم الأموال الثابتة والمنقولة والموقوفة المخصصة لهذه المدارس في بلاد الحرمين الشريفين، وخارجها في البلاد الإسلامية الأخرى.

يقول العلامة المؤرخ الأستاذ محمد عمر رفيع المكي، وشهادته في هذا الصدد عن رؤية ومشاهدة قائلاً: "ولنعد الآن نذكر ما وفق الله إليه المسلمين وملوكهم، وأولي الثراء منهم من بناء المدارس، والمساكن لطلبة العلم، والمجاورين بمكة، بل ولمن يَفِدُ من ممالكهم ليسكنوها زمن أدائهم للفريضة مجاناً، ولو أردنا استيعاب ذلك كله لطال بنا القول، ولكن سأذكر بعض ما شهدته قائماً من دور شيدت لطلبة العلم، ونزلٍ للحجاج، والمجاورين، وغير ذلك من أعمال البر والرعاية، وإني لأعتقد جازماً أن جميع ما كان ملتفاً حول المسجد من مبانٍ ودور كانت كلها أو جلها من الأوقاف التي خصصت للعناية بالعلم وطلبته" (1) .

وهذه الصورة من صور الاهتمام بالمدارس القرآنية في مكة المكرمة تماثلها تماماً بقية البلاد الإسلامية، ويمكن الاستشهاد على صحة هذا بما كتبه

(1) مكة المكرمة في القرن الرابع عشر الهجري، الطبعة الأولى، (مكة المكرمة: نادي مكة الثقافي، 1404هـ/1984م) ، ص99.
এবং এর সামর্থ্যসমূহ; আর মক্কা, মদিনা, দামেস্ক, বাগদাদ, কর্ডোভা, কায়রো, ফেজ, তিউনিস এবং অন্যান্য ইসলামী ইলমি কেন্দ্রগুলো এই মাদ্রাসাগুলোর সিংহভাগ লাভ করেছিল। এসব মাদ্রাসার জন্য স্থাবর সম্পত্তি, কৃষি জমি এবং গ্রাম থেকে এমনভাবে ওয়াকফ (أوقاف) নির্দিষ্ট করা হয়েছিল, যা এর পরিচালক ও শিক্ষার্থীদের অভাব এবং জীবনযাত্রার বিষয়াদিতে ব্যস্ত হওয়া থেকে বিমুখ রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল।

পবিত্র দুই হারাম—মক্কা ও মদিনা—সংক্রান্ত এই দিকটি নিয়ে আলোচনার শুরুতে, হারামাইন শরিফাইন এবং এর বাইরে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে এই মাদ্রাসাগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমাণ স্থাবর, অস্থাবর এবং ওয়াকফকৃত সম্পদের বিশালতা দেখে একজন মানুষ বিস্ময় ও শ্রদ্ধায় অভিভূত হয়।

প্রখ্যাত আলেম ও ঐতিহাসিক উস্তাদ মুহাম্মদ উমর রাফি আল-মাক্কি এ প্রসঙ্গে তাঁর চাক্ষুষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বলেন: "আসুন এখন আমরা স্মরণ করি যে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের, তাঁদের রাজন্যবর্গকে এবং বিত্তবানদের মাদরাসা নির্মাণ, ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য আবাসন এবং মক্কায় অবস্থানকারী (مجاورين) ব্যক্তিদের জন্য কী পরিমাণ তাওফিক দান করেছেন। এমনকি তাঁদের রাজ্য থেকে যারা আসতেন, তাঁদের হজ পালনের সময় বিনামূল্যে থাকার জন্য এসব নির্মিত হয়েছিল। আমরা যদি এর সবটুকুই বিস্তারিতভাবে আলোচনা করতে চাই, তবে কথা দীর্ঘ হয়ে যাবে। কিন্তু আমি সেইসব শিক্ষাভবন, হাজিদের বিশ্রামাগার, অবস্থানকারী (مجاورين) ব্যক্তিদের আবাসন এবং অন্যান্য জনহিতকর ও সেবামূলক কাজের কিছু অংশ উল্লেখ করব যা আমি নিজে বিদ্যমান দেখেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, মসজিদের চারপাশে যে সমস্ত ভবন ও ঘরবাড়ি ছিল, তার সব বা অধিকাংশ ছিল সেই ওয়াকফ (أوقاف) সমূহের অন্তর্ভুক্ত যা ইলম এবং শিক্ষার্থীদের পরিচর্যার জন্য নির্দিষ্ট ছিল।" (১)

মক্কা মুকাররমায় কুরআনিক মাদ্রাসাসমূহের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের এই চিত্রটি অন্যান্য ইসলামী দেশগুলোর সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। এর সত্যতার সপক্ষে যা লেখা হয়েছে তা থেকে প্রমাণ পেশ করা যেতে পারে

(১) মক্কা আল-মুকাররামা ফিল কারনুর রাবি আশারা আল-হিজরি, প্রথম সংস্করণ, (মক্কা আল-মুকাররামা: মক্কা সাংস্কৃতিক ক্লাব, ১৪০৪ হি./১৯৮৪ খ্রি.), পৃ. ৯৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২১)
العلامة المحقق الأستاذ محمد صلاح الدين منجد تنويهاً بسخاء الواقفين على المدارس القرآنية بدمشق، وإشادة بمكرماتهم، وتجسيداً لعطائهم: "وقد وقف أولئك جميعاً على هذه المدارس المتعددة المختلفة أوقافاً وافرة من الأموال، والقرى، والضياع، والبساتين، والحوانيت، والخانات، والقاعات حتى أصبحت دمشق وأرباضها أوقافاً لهذه المدارس المبثوثة في كل حي من أحيائها، بل في كل درب من دروبها، فكانت هذه الأوقاف تدرُّ المال عليها، وترغب الطلاب في التعلم بها، والشيوخ في التعليم بها، لا يشغل بالهم أمر الدنيا، وطلب المعاش" (1) .

--------------------------------------------

(1) دور القرآن في دمشق، الطبعة الثالثة، (بيروت دار الكتاب الجديد، سنة 1982) ، ص6.
বিচক্ষণ গবেষক আলেম (العلامة المحقق) উস্তাদ মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন মুনজিদ দামেস্কের কুরআনিক মাদরাসাগুলোর ওয়াকফকারীদের বদান্যতার কথা উল্লেখ করে, তাদের মহৎ কাজগুলোর প্রশংসা করে এবং তাদের অবদানের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলে বলেন: "তারা সকলেই এই বহুবিধ ও বৈচিত্র্যময় মাদরাসাগুলোর অনুকূলে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ, গ্রাম, কৃষিভূমি, বাগান, দোকানপাট, সরাইখানা ও হলরুম ওয়াকফ (وقف) করেছিলেন। এমনকি অবস্থা এমন হয়েছিল যে, সমগ্র দামেস্ক শহর এবং এর উপশহরগুলো এই মাদরাসাগুলোর ওয়াকফ সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছিল, যা প্রতিটি মহল্লায়, এমনকি প্রতিটি গলিতে ছড়িয়ে ছিল। এই ওয়াকফগুলো থেকে নিয়মিত অর্থ আসত, যা শিক্ষার্থীদের সেখানে জ্ঞানার্জনে এবং শিক্ষকদের (الشيوخ) পাঠদানে আগ্রহী করে তুলত; ফলে পার্থিব কোনো বিষয় বা জীবিকা অন্বেষণের চিন্তা তাদের বিচলিত করত না।" (১) .

--------------------------------------------

(১) দুরুুল কুরআন ফি দিমাস্ক, তৃতীয় সংস্করণ, (বৈরুত: দারুল কিতাব আল-জাদিদ, ১৯৮২ সাল), পৃষ্ঠা ৬।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌ثانياً: الوقف على القراء:

مكة المكرمة مهبط الوحي، جديرة بأن تهتم معاهدها ومؤسساتها بالقرآن ودارسيه، لم يفت الخلفاء، والملوك، والسلاطين هذا المعنى، فكانوا يتسابقون إلى بناء المدارس القرآنية وغيرها، وتشجيع القائمين عليها من القراء، والمعلمين، والفقهاء، وفي العهد القريب لمس المسلمون "مزيد اهتمام الخلفاء العثمانيين، وكثرة القيام بخدمة الحرمين الشريفين، والبلدين المنيفين، والاعتناء بمصالحهما، وما يتعلق بهما، ويتعبدون بذكرهما، ويبجلون أهلهما" (1) وقد سجل التاريخ لهم من هذا مكرمات رفيعة. كان هذا شأن من قبلهم ومن

--------------------------------------------

(1) الحموي، أحمد بن محمد، فضائل سلاطين بني عثمان، الطبعة الأولى، تحقيق محسن محمد حسن سليم، (مصر: دار الكتاب الجامعي) عام 1413/1993) ص126.
দ্বিতীয়ত: ক্বারীগণের (القراء) জন্য ওয়াকফ (الوقف):

মক্কাতুল মুকাররমা ওহী অবতরণের স্থল; তাই এখানকার বিদ্যাপীঠ ও প্রতিষ্ঠানসমূহ কুরআন এবং এর শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নবান হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়। খলিফা, সম্রাট এবং সুলতানগণ এই তাৎপর্যটি বিস্মৃত হননি; ফলে তারা কুরআনিক মাদরাসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নির্মাণে এবং সেখানে নিয়োজিত ক্বারী (القراء), শিক্ষক ও ফকিহগণের (الفقهاء) উৎসাহ প্রদানে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন। নিকট অতীতে মুসলিম সমাজ প্রত্যক্ষ করেছে "উসমানীয় খলিফাদের উত্তরোত্তর মনোযোগ বৃদ্ধি, হারামাইন শরীফাইন ও এই দুই মহান জনপদের সেবায় বিশেষ তৎপরতা, এগুলোর স্বার্থ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির প্রতি বিশেষ যত্নশীলতা, এগুলোর আলোচনাকে ইবাদত জ্ঞান করা এবং এখানকার অধিবাসীদের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন।" (১) ইতিহাস তাদের এই সুউচ্চ মহানুভবতার কথা লিপিবদ্ধ করে রেখেছে। এটি ছিল তাদের পূর্বসূরিদের এবং...

--------------------------------------------

(১) আল-হামাভী, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ, ফাদাইল সালাতিন বনি উসমান, প্রথম সংস্করণ, তাহকীক: মুহসিন মুহাম্মদ হাসান সালিম, (মিসর: দারুল কিতাব আল-জামিই) ১৪১৩/১৯৯৩, পৃষ্ঠা ১২৬।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২২)
بعدهم ممن كانت لهم ولاية على الحرمين الشريفين. يقدم البحث فيما يلي بعضاً من عناية السلاطين المسلمين بالقرآن الكريم نسخاً بأيديهم، وتحبيس الضياع والعقارات على القراء، وتلاوة القرآن الكريم في مكة المكرمة:

سجل التاريخ نماذج عديدة للملوك وسلاطين المسلمين وأمرائهم صفحات مشرقة، صريحة في اعتنائهم بالقرآن الكريم، واهتمامهم به.

من مظاهر هذا الاهتمام نسخه بأيديهم، ومن ثم إهداؤه إلى البلاد المقدسة مكة المكرمة، والمدينة المنورة وبيت المقدس، ليس هذا فحسب بل إنهم يوقفون العقارات، ويقدمون المكافآت السخية للقراء والمدرسين، والمهتمين بتعليم القرآن وتعلمه.

"في سنة 738هـ بعث السلطان أبو الحسن علي بن عثمان بن يعقوب صاحب فاس إلى مكة مصحفاً كتبه بخطه، وأخرج من خزائنه أموالاً عينها على شراء الضياع بالمشرق لتكون وقفاً على القراء فيها.

قال الشيخ أحمد بن خالد الناصري السلاوي في كتاب الاستقصا لأخبار دول المغرب الأقصى:

انتسخ السلطان أبو الحسن المصحف الكريم بيده ليوقفه بالحرم الشريف، حرم مكة؛ قربة إلى الله تعالى وابتغاء للمثوبة، وجمع الوراقين لتنميقها، وتذهيبها، والقراء لضبطها، وتهذيبها، وصنع لها وعاءً مؤلفاً من الآبنوس، والعاج، والصندل، فائق الصنعة، وغشي بصفائح الذهب، ورصع بالجوهر، والياقوت، واتخذ له أَصْوِنة (1) الجلد، ومن فوقها غلائف الحرير، والديباج،

--------------------------------------------

(1) أصْونة: ج صِوان، وأصْونة الجِلْد: أوعيتها التي تصان فيها..
بعدهم ممن كانت لهم ولاية على الحرمين الشريفين. يقدم البحث فيما يلي بعضاً من عناية السلاطين المسلمين بالقرآن الكريم نسخاً بأيديهم، وتحبيس الضياع والعقارات على القراء، وتلاوة القرآن الكريم في مكة المكرمة:

এরপর তাদের মধ্যে যারা হারামাইন শরিফাইনের শাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। নিম্নোক্ত গবেষণাটি মুসলিম সুলতানদের পবিত্র কুরআনের প্রতি যত্নের কিছু নিদর্শন উপস্থাপন করছে, যার মধ্যে রয়েছে নিজ হাতে অনুলিপি তৈরি করা, কারীদের জন্য কৃষি জমি ও স্থাবর সম্পত্তি ওয়াকফ করা এবং মক্কা মুকাররমায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা।

ইতিহাস মুসলিম রাজা, সুলতান ও আমিরদের বহু উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের পৃষ্ঠা লিপিবদ্ধ করেছে, যা পবিত্র কুরআনের প্রতি তাদের যত্ন ও গভীর মনোযোগের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

এই মনোযোগের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ ছিল নিজ হাতে এর অনুলিপি তৈরি করা এবং অতঃপর তা পবিত্র ভূমি মক্কা মুকাররমা, মদীনা মুনাওয়ারা ও বাইতুল মুকাদ্দাসে উপহার হিসেবে পাঠানো। কেবল তাই নয়, বরং তারা স্থাবর সম্পত্তি ওয়াকফ করতেন এবং কারী, শিক্ষক এবং কুরআন শিক্ষা ও শেখানোর সাথে সংশ্লিষ্টদের উদার হস্তে পুরস্কার প্রদান করতেন।

"৭৩৮ হিজরি সনে ফাসের অধিপতি সুলতান আবুল হাসান আলি বিন উসমান বিন ইয়াকুব মক্কায় একটি মুসহাফ পাঠান যা তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন। তিনি তার কোষাগার থেকে অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন প্রাচ্যে কৃষি জমি ক্রয়ের জন্য, যাতে সেগুলো সেখানকার কারীদের জন্য ওয়াকফ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

শায়খ আহমদ বিন খালিদ আন-নাসিরি আস-সালাউয়ি 'কিতাবুল ইসতিকসা লি-আখবারি দুওয়ালিল মাগরিবিল আকসা' গ্রন্থে বলেন:

সুলতান আবুল হাসান পবিত্র কুরআনের এই মুসহাফটি নিজ হাতে লিখেছিলেন যাতে তা হারাম শরিফ তথা মক্কার হারামে ওয়াকফ করতে পারেন; আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং সওয়াবের আশায়। তিনি পাণ্ডুলিপিটি সুশোভিত ও স্বর্ণখচিত করার জন্য হস্তলিপিকারদের এবং এর নির্ভুলতা (ضبط) ও মান নিশ্চিত করার জন্য কারীদের একত্রিত করেন। তিনি এর জন্য আবলুস কাঠ, হাতির দাঁত ও চন্দন কাঠের সমন্বয়ে অত্যন্ত নিপুণ কারুকার্যে একটি বাক্স তৈরি করেন, যা স্বর্ণের পাত দিয়ে মোড়ানো এবং মণি-মুক্তা ও ইয়াকুত পাথর দ্বারা খচিত ছিল। তিনি এর জন্য চামড়ার আবরণী (১) এবং তার ওপর রেশম ও মখমলের আচ্ছাদন তৈরি করেন।

--------------------------------------------

(১) আসওয়িনা: এটি 'সিওয়ান' শব্দের বহুবচন; চামড়ার আসওয়িনা বলতে এমন পাত্র বা আধারকে বোঝায় যাতে কোনো কিছু সুরক্ষিত রাখা হয়।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল ওয়াকফি খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأغشية الكتان، وأخرج من خزائنه أموالاً عينها لشراء الضياع بالمشرق لتكون وقفاً على القراء فيها" (1) .

"ثم انتسخ السلطان أبو الحسن نسخة أخرى من المصحف الكريم على القانون الأول، ووقفها على القراء بالمدينة، وبعث بها من تخيره لذلك العهد من أهل دولته سنة أربعين وسبعمائة، وفعل مثل ذلك بحرم بيت المقدس.

قال العلامة أبو العباس المقري في نفح الطيب:

كان السلطان أبو الحسن المديني قد كتب ثلاثة مصاحف شريفة بخطه، وأرسلها إلى المساجد الثلاثة التي تشد إليها الرحال، ووقف عليها أوقافاً جليلة" (2) .

ومن هذه النماذج الرفيعة في العناية بالأوقاف في خدمة القرآن الكريم أوقاف السلطان مظفر شاه الكجراتي على القراء بمكة المكرمة في المدرسة شاهية المظفر يكتب المصحف الشريف بخط يده يودعه في المدرسة المظفرية:

في عام 925هـ اشترى وكيل السلطان مظفر شاه الكجراتي بمكة المكرمة بيوتاً عديدة بلغت قيمة جميعها ستة آلاف ومائتين وخمسين ديناراً، وأوقفها على القراء في المدرسة شاهية المظفر.

بعث السلطان مظفر شاه الكجراتي بنسخة المصحف الشريف التي نسخها بيده مع وفد رفيع المستوى من رجال دولته، وما إن وصل خبر وصول مراكب الهند إلى جدة وفيهم وفد السلطان حتى فرح الناس فرحاً

--------------------------------------------

(1) غازي، عبد الله، إفادة الأنام، ج3،ص63.

(2) غازي، عبد الله، إفادة الأنام، ج3،ص69.
এবং শণের আবরণ। তিনি প্রাচ্য দেশে ভূ-সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য তাঁর রাজকোষ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেন, যাতে তা সেখানকার পাঠকদের জন্য ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হয়।" (১) ।

"এরপর সুলতান আবু আল-হাসান প্রথম নিয়মানুযায়ী পবিত্র মুসহাফের আরেকটি অনুলিপি তৈরি করেন এবং তা মদিনার পাঠকদের জন্য ওয়াকফ করেন। তিনি তাঁর প্রশাসনের মধ্য থেকে তৎকালীন মনোনীত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সাতশ চল্লিশ হিজরি সনে এটি প্রেরণ করেন এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের হারামের ক্ষেত্রেও অনুরূপ কাজ করেন।

আল্লামা আবু আল-আব্বাস আল-মাক্বরী 'নাফহুত তিব' গ্রন্থে বলেন:

সুলতান আবু আল-হাসান আল-মাদিনী নিজ হাতে তিনটি পবিত্র মুসহাফ লিখেছিলেন এবং সেগুলোকে সেই তিনটি মসজিদে পাঠিয়েছিলেন যেগুলোর উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, আর সেগুলোর জন্য তিনি সুমহান ওয়াকফসমূহ নির্ধারণ করেছিলেন।" (২) ।

কুরআন মাজিদের সেবায় ওয়াকফ ব্যবস্থাপনার প্রতি যত্নের এই সুউচ্চ দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে একটি হলো মক্কা মুকাররামায় মাদরাসা শাহী আল-মুজাফফর-এর পাঠকদের জন্য গুজরাটের সুলতান মুজাফফর শাহর ওয়াকফসমূহ। তিনি নিজ হাতে পবিত্র মুসহাফ লিখে তা মাদরাসা আল-মুজাফফরিয়ায় গচ্ছিত রাখতেন:

৯২৫ হিজরি সনে গুজরাটের সুলতান মুজাফফর শাহর প্রতিনিধি মক্কা মুকাররামায় বেশ কিছু বাড়ি ক্রয় করেন, যার মোট মূল্যমান ছিল ছয় হাজার দুইশ পঞ্চাশ দিনার। তিনি সেগুলোকে মাদরাসা শাহী আল-মুজাফফর-এর পাঠকদের জন্য ওয়াকফ করেন।

সুলতান মুজাফফর শাহ গুজরাটি তাঁর নিজ হাতে প্রতিলিপি করা পবিত্র মুসহাফটি তাঁর প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে প্রেরণ করেছিলেন। যখনই সুলতানের প্রতিনিধি দলসহ ভারতের জাহাজগুলো জিদ্দায় পৌঁছানোর সংবাদ পাওয়া গেল, তখন মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত হলো...

--------------------------------------------

(১) গাজী, আব্দুল্লাহ, ইফাদাতুল আনাম, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬৩।

(২) গাজী, আব্দুল্লাহ, ইফাদাতুল আনাম, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬৯।