(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: -)
عناية المسلمين باللغة العربية خدمة للقرآن الكريم - سليمان بن إبراهيم بن محمد العايد   (سليمان العايد)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: عناية المسلمين باللغة العربية خدمة للقرآن الكريم

المؤلف: أ. د. سليمان بن إبراهيم بن محمد العايد

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পবিত্র কুরআনের সেবায় আরবি ভাষার প্রতি মুসলিমদের বিশেষ যত্ন - সুলাইমান বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-আইয়্যিদ   (সুলাইমান আল-আইয়্যিদ)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলে তাফসীর


গ্রন্থ: পবিত্র কুরআনের সেবায় আরবি ভাষার প্রতি মুসলিমদের বিশেষ যত্ন

লেখক: প্রফেসর ডক্টর সুলাইমান বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-আইয়্যিদ

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌عناية المسلمين باللغة العربية خدمة للقرآن الكريم

تأليف: أ. د. سليمان إبراهيم العايد

‌‌الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله.

وبعد، فتلقيت دعوة كريمة، من مقامٍ كريم، لغاية نبيلة، ومقصدٍ جليل، للمشاركة في ندوةٍ مُحِضَتْ للوحي الرَّبَّانيّ، وما استنبته من علومٍ، وأحاط به من فنون، وتُعرِّفُ الجاهلَ، وتذكِّر النَّاسيَ جهوداً بُذِلَتْ في خدمة القرآن، وإن كان ذلك غير خافٍ على من أنزل القرآن، ولا غائبٍ عمّن لا يخفى عليه شيءٌ في الأرض ولا في السماء، بغرضِ إبراز عملٍ رائد، وجهد ظاهر، الحديثُ عنه يشحذ الهمم، ويحفز العاملين، وفي ذلك فليتنافس المتنافسون.

وقد نصّت الدعوة على موضوع المشاركة، فلم يكن لي خيار فيه، وحدّد زمن تقديمه، كان زمناً تزاحمت عليَّ فيه الأعمال والأشغال، وكُلُّ يقول: أنا الأولى بالتقديم، وما وقفت عن تمييل النظر، وسبر غور الموضوع، حتّى شرعْتُ فيه، ولمّا تتَضح لي فكرته، قد التبست معالمه، وخفيت منائره، وعَسُر مسلكه، والتوى دَرْبُه. وهو عملٌ - في نظري - لا ينهض به بحث في ندوة، ولا تأتي عليه مقالةٌ في مجلّة؛ لاتّساع مجاله، وعمق موضوعه، ومكانتِه من نفسِ كُلِّ مسلمٍ، غير أنّ كرم الدعوة ومقامها يَحتِم عليّ أن أفعل شيئاً ما، أشارك به حملة القرآن وخدمته هَمَّهم، لعلِّي أحشر معهم، وهم قومٌ لا يشقى بهم جليسهم، والمرء يحشر مع جليسه ومع من أحبَّ، وأنال شرفاً تسمو إليه هِمّةُ المسلم.

فشرعت في العمل، وليس من سَدَمي أن أقدّم فيه إحصاءً مسروداً للدواوين المدوّنة، أو المؤلّفات المؤلّفة، أو المصنّفات المصنّفة، أو المقالات
পবিত্র কুরআনের সেবায় আরবি ভাষার প্রতি মুসলিমদের গুরুত্বারোপ

রচনা: অধ্যাপক ড. সুলাইমান ইব্রাহিম আল-আইয়িদ

‌‌সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।

অতঃপর, আমি এক মহৎ উদ্দেশ্য ও মহান লক্ষ্য নিয়ে একটি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন পক্ষ থেকে এক সদয় আমন্ত্রণ লাভ করেছি। এমন এক সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য যা নিছক ঐশী প্রত্যাদেশ (ওহী), তা থেকে উদ্ভূত ইলমসমূহ এবং তাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জ্ঞান-শাখাসমূহ নিয়ে আয়োজিত। এই সেমিনার যেমন অজ্ঞ ব্যক্তিকে জানাবে, তেমনি বিস্মৃত ব্যক্তিকে কুরআনের সেবায় ব্যয়িত প্রচেষ্টাসমূহ স্মরণ করিয়ে দেবে। যদিও কুরআনের অবতীর্ণকারী এবং আসমান ও জমিনের কোনো কিছু যার কাছে গোপন নয়, তাঁর কাছে এগুলো অজানা নয়। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো এক অগ্রণী কর্ম ও সুস্পষ্ট প্রচেষ্টাকে ফুটিয়ে তোলা, যা নিয়ে আলোচনা হিম্মতকে শাণিত করবে এবং কর্মীদের উৎসাহিত করবে। আর এ ধরনের বিষয়েই প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।

আমন্ত্রণে অংশগ্রহণের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, তাই এতে আমার কোনো পছন্দ বা এখতিয়ার ছিল না। এর উপস্থাপনার যে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা ছিল আমার ব্যস্ততা ও কর্মচঞ্চলতায় ঠাসা এক সময়। প্রতিটি কাজই যেন বলছিল—আমিই আগে পেশ হওয়ার যোগ্য। আমি এই বিষয়ের গভীরে দৃষ্টিপাত করা এবং এর গভীরতা পরিমাপ করা থেকে বিরত হইনি, যতক্ষণ না আমি এতে কাজ শুরু করি। যদিও এর মূল ভাবনাটি তখনও আমার কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি, এর রূপরেখা ছিল অস্পষ্ট, এর আলোকবর্তিকা ছিল লুকায়িত, এর পথ ছিল দুর্গম এবং এর গতিপথ ছিল আঁকাবাঁকা। আমার দৃষ্টিতে এটি এমন এক কাজ, যা একটি সেমিনারের গবেষণা দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় এবং কোনো সাময়িকীর প্রবন্ধ দিয়েও এর ইতি টানা যাবে না; কারণ এর ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত, বিষয়বস্তু গভীর এবং প্রত্যেক মুসলিমের হৃদয়ে এর সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে। তবে আমন্ত্রণের মহানুভবতা এবং এর উচ্চ মর্যাদা আমাকে বাধ্য করেছে কিছু করার জন্য, যাতে আমি কুরআন বহনকারী ও এর সেবকদের সাথে তাঁদের চিন্তায় শরিক হতে পারি। সম্ভবত এর মাধ্যমে আমি তাঁদের সাথেই হাশরে সমবেত হতে পারব। তাঁরা এমন এক জাতি যাদের মজলিসে বসা ব্যক্তি দুর্ভাগা হয় না; আর মানুষ তার সঙ্গী এবং যাঁদের সে ভালোবাসে তাঁদের সাথেই হাশরে সমবেত হবে। এর মাধ্যমে আমি সেই গৌরব অর্জন করতে চাই যার দিকে একজন মুসলিমের উচ্চাশা ধাবিত হয়।

ফলে আমি কাজে লিপ্ত হলাম। তবে আমার উদ্দেশ্য কোনো সংকলিত দেওয়ানসমূহ, রচিত গ্রন্থসমূহ, শ্রেণীবদ্ধ সংকলনসমূহ বা প্রবন্ধসমূহের কোনো ধারাবাহিক পরিসংখ্যান পেশ করা নয়।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ২)
المنشورة، أو التقارير المحفوظة، ولا يَسْمو العمل ليؤرِّخ لعلمٍ من العلوم، ويستوعب الحديثَ عن نشأته، وتاريخه، ومصنفاته، وأصوله وفروعه. كما أنه ليس من هَمِّه أن يستغرق الحديث في فكرةٍ ما، استغراقاً لا يدع لغيره مقالاً، أو يُدّعى فيه الإحاطة والشمول.

بل هو محاولة ل‌‌بيان تلازم علوم القرآن وعلوم العربيّة، وتآخيهما؛ حتّى إنّه لَيَعْسُرُ فَصْلُ أحدِهما عن الآخر، في النشأة والتاريخ، والتكوين والتأليف، والدوافع والمقاصد، حتّى صار بينهما تزاوج مكين، وتمازج وثيق متين، بحيث لا يستغني طالب علمٍ عن العلم الآخر، ولا يُؤْتي شقٌّ ثمرته - على الوجه المرضيِّ - بدون الشِّقِّ الآخر؛ لافتقار كُلٍّ إلى شِقِّه، وتعذُّر استغنائه عنه. كما توحي بذلك نشأتهما وتاريخهما، وتأكيد أهل العلم ذلك، من خلال كلماتهم، ومؤلفاتهم، وتجاربهم العملية، في الحياة العلمية.

لم يمرّ بالعربيّة حدثُّ أعظم من الإسلام، ونزول القرآن على محمّد صلى الله عليه وسلم، فقد صيَّر هذا الحدث العربيَّةَ لغة مرغوباً فيها، لا لنفوذها السياسيِّ، ولا لسبقها الحضاريّ، وإنّما لمكانتها الدينيّة؛ إذ تسامى أهل البلاد المفتوحة إلى درس العربيّة، والعناية بها، من أجل تحقيق العبادة، ومن أجل تلاوة القرآن، ومن أجل فهم النصوص الشرعية، فكان من جرَّاء ذلك نشأة علوم العربية من نحو وصرف، ولغة ومعجم، وأدب وبلاغة، كُلّ ذلك وُجِدَ ليقومَ عليه درسٌ للعربيّة قويّ.

وصار هذا الأمر في حسِّ المسلم عقيدةً وواجباً شرعيّاً، لا يختلف في ذلك من لغته العربيّة، ومن لغته غير العربيّة، وصارتْ لغة القرآن وما داناها من لغةٍ لغةً وهدفاً يتسامى إليه أهل الإسلام، وتَشْرَئِبُّ إليه أعناقهم، وتتطاول إليه
প্রকাশিত অথবা সংরক্ষিত প্রতিবেদনসমূহ; আর এই কাজটি কোনো একটি জ্ঞানশাখাকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরা কিংবা এর উৎপত্তি, ইতিহাস, গ্রন্থাবলি, মূলনীতি (أصول) এবং শাখাসমূহ (فروع) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করার স্তরে পৌঁছায় না। তেমনিভাবে এটি এমন কোনো লক্ষ্য থেকেও করা হয়নি যা কোনো বিশেষ ধারণার ওপর আলোচনার এমন বিস্তার ঘটাবে যেখানে অন্যদের আর কোনো বক্তব্য থাকবে না, অথবা যা পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক হওয়ার দাবি করবে।

বরং এটি কুরআনের জ্ঞানসমূহ এবং আরবি ভাষার জ্ঞানসমূহের পারস্পরিক অবিচ্ছেদ্যতা এবং তাদের ভ্রাতৃত্বের বর্ণনার একটি প্রচেষ্টা; এমনকি উৎপত্তি, ইতিহাস, গঠন, সংকলন, প্রেরণা এবং উদ্দেশ্য—সব ক্ষেত্রেই একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করা কঠিন। এমনকি তাদের মধ্যে এমন সুদৃঢ় মিলন এবং মজবুত সংমিশ্রণ ঘটেছে যে, একজন জ্ঞান অন্বেষণকারী এক বিদ্যা বাদ দিয়ে অন্যটির মাধ্যমে সার্থকতা লাভ করতে পারে না। কোনো পক্ষই অন্য পক্ষ ছাড়া—সন্তোষজনকভাবে—ফলপ্রসূ হয় না; কারণ প্রতিটি অংশই তার অন্য অংশের প্রতি মুখাপেক্ষী এবং একে অন্যকে বাদ দিয়ে চলা অসম্ভব। ঠিক যেমনটি তাদের উৎপত্তি এবং ইতিহাস ইঙ্গিত দেয়, এবং আলেমগণ তাদের কথা, রচনা এবং জ্ঞানচর্চার বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছেন।

ইসলামের আবির্ভাব এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার চেয়ে বড় কোনো ঘটনা আরবি ভাষার ক্ষেত্রে আর ঘটেনি। এই ঘটনাটি আরবিকে একটি কাঙ্ক্ষিত ভাষায় পরিণত করেছে; এর রাজনৈতিক প্রভাব বা সভ্যতার অগ্রগতির কারণে নয়, বরং এর ধর্মীয় মর্যাদার কারণে। কারণ বিজিত দেশগুলোর অধিবাসীরা ইবাদত পালনের উদ্দেশ্যে, কুরআন তিলাওয়াতের জন্য এবং শরয়ি নসসমূহ (نصوص شرعية) বোঝার জন্য আরবি ভাষা চর্চা ও এর প্রতি যত্নশীল হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। এর ফলেই আরবি ভাষার বিভিন্ন শাখা যেমন নাহু, সরফ, ভাষা ও অভিধান, সাহিত্য ও অলঙ্কারশাস্ত্রের উৎপত্তি হয়েছে। এসবই সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে এর ওপর ভিত্তি করে আরবি ভাষার শক্তিশালী পঠন-পাঠন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

এই বিষয়টি একজন মুসলিমের অনুভূতিতে আকিদা (عقيدة) এবং শরয়ি ওয়াজিবে (واجب شرعي) পরিণত হয়েছে, যেখানে যার মাতৃভাষা আরবি তার সাথে যার মাতৃভাষা আরবি নয়—তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কুরআনের ভাষা এবং এর সংলগ্ন ভাষা মুসলিমদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে, যার দিকে তারা সাগ্রহে তাকিয়ে থাকে এবং যা অর্জনের জন্য তারা সচেষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ৩)
هاماتهم، وعدوا القرآن نموذجاً أعلى للبيان العربيّ، فأقبلوا عليه يبحثون عن وجوه بيانه، وأسرار إعجازه، ممّا كان سبباً في نشأة علوم العربيّة.

إنّه لولا القرآن، ولولا الإسلام لم يكن هناك عربيّةٌ كما نرى، أو لبقيَتْ العربيَّةُ لغة فئةٍ معزولةٍ عن العالم، تعيش في صحرائها، يزهد فيها العالم، ويرغب عنها إلى غيرها، غير أنَّ الإسلام نقل العربيّة إلى بُؤْرة الاهتمام العالميّ، وجعل لها الصدارة، اهتماماً، وتعلّماً، يطلبها العربيُّ وغَيْره، ويغار عليها كل مسلم، ويتمنّى أن يتقنها كُلّ مُصَلٍّ، ذلك أنّها تحلّ في قلبِ كلّ مسلم في أعلى مكانٍ منه، وهي أجلّ وأكبر لديه من كل لسانٍ، وكل لغة.

دخل الناس في الإسلام، وانقادوا له راغبين أو خاضعين، فتعلّموا لسانه، ورأوا أنه لا يتمُّ لهم دينٌ إلاّ بلغته، فبادروا إلى خدمتها، والعنايةَ بها، كما بادروا إلى حفظ القرآن والسُّنَّة، ودرس التفسير والحديث، ومعرفة أصول الدين والفقه، بل جعلوا اللسان العربيّ بوّابة إلى هذه العلوم،

لا يولج إليها إلاّ به، بل نسي كثيرٌ أن له لغةً غير العربيّة، وانصرف فكره إليها، حتّى إنّ بعضهم ما كان يطيب له أن يذكر لغته الأولى وقد أكرمه الله باللسان العربي، فضلاً عن أن يقارن تلك اللغة بلسانه الجديد.

وفرغت فئاتٌ من المسلمين من غير العرب، من الموالي لخدمة اللسان العربيّ في مستوياته المختلفة: الصوتيّ، والصرفي، والتركيبي، والدلاليّ، لم يقتصر أمره على ما ورد به استعمال القرآن أو السُّنَّة، بل جاوزه إلى جمع اللغة، وإحصاء شاردها ونادرها، وحصر غريبها وشاذّها، في جهدٍ لم يتحقّق للغةِ من اللُّغاتِ، وعملٍ لم يحظ به لسانٌ من الأَلْسِنةِ، حتّى رأينا من مصنّفات العربية الشيء العجاب، ألّفه أو اكتتبه قومٌ ليسوا من أهلها نسباً، ولكنهم منهم ولاءً وحُبّاً.
তারা কুরআনকে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের এক সুউচ্চ আদর্শ হিসেবে গণ্য করেছেন। ফলে তারা এর ভাষালঙ্কার এবং এর অলৌকিকত্বের রহস্য অনুসন্ধানে ব্রতী হন, যা মূলত আরবি ভাষা সংক্রান্ত বিজ্ঞানসমূহের উৎপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

নিশ্চয়ই কুরআন এবং ইসলাম না থাকলে আমরা বর্তমানে যে আরবি ভাষাকে দেখি তা থাকত না, অথবা আরবি ভাষা কেবল বিশ্বের এক বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে মরুভূমিতেই সীমাবদ্ধ থাকত, যা থেকে বিশ্ব বিমুখ থাকত এবং অন্য ভাষার প্রতি ধাবিত হতো। কিন্তু ইসলাম আরবি ভাষাকে বিশ্বব্যাপী মনোযোগের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে এবং একে গুরুত্ব ও শিক্ষার ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে আসীন করেছে। আরব এবং অনারব নির্বিশেষে সকলেই তা অর্জন করতে চায়, প্রত্যেক মুসলিম এর প্রতি মমতা বোধ করে এবং প্রত্যেক সালাত আদায়কারী এতে পারদর্শিতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। কারণ এটি প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ে সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত এবং তাদের নিকট এটি অন্য যে কোনো জবান বা ভাষার চেয়ে অধিক মহান ও সম্মানিত।

মানুষ ইসলামে দাখিল হয়েছে এবং স্বেচ্ছায় বা বশ্যতা স্বীকার করে এর অনুগত হয়েছে। অতঃপর তারা এর ভাষা শিক্ষা করেছে এবং উপলব্ধি করেছে যে, এই ভাষা ছাড়া তাদের দ্বীন পূর্ণতা পায় না। ফলে তারা এই ভাষার সেবায় এবং এর যত্ন নিতে সচেষ্ট হয়, ঠিক যেমন তারা কুরআন ও সুন্নাহ সংরক্ষণ, তাফসির ও হাদিস চর্চা এবং উসুল আদ-দ্বীন ও ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জনে তৎপর হয়েছিল। বরং তারা আরবি ভাষাকে এসব বিজ্ঞানের প্রবেশদ্বার হিসেবে গ্রহণ করেছিল,

এই বিজ্ঞানসমূহে প্রবেশ কেবল এই ভাষার মাধ্যমেই সম্ভব। এমনকি অনেকে ভুলেই গিয়েছিলেন যে আরবি ছাড়া তাদের অন্য কোনো ভাষা ছিল, তাদের চিন্তাধারা কেবল এর মাধ্যমেই পরিচালিত হতো। এমনকি তাদের কেউ কেউ যখন আল্লাহ তাআলা কর্তৃক আরবি ভাষার মাধ্যমে সম্মানিত হলেন, তখন নিজের পূর্বতন ভাষার কথা উল্লেখ করাকেও পছন্দ করতেন না, এই নতুন ভাষার সাথে সেই ভাষার তুলনা করা তো দূরের কথা।

অনারব মুসলিমদের বিভিন্ন দল, বিশেষ করে মাওয়ালিগণ, আরবি ভাষার বিভিন্ন স্তর—ধ্বনিবিদ্যা, রূপমূলতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও শব্দার্থতত্ত্ব—এর সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। তাদের এই প্রচেষ্টা কেবল কুরআন বা সুন্নাহর ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছাড়িয়ে ভাষা সংগ্রহ, বিরল ও দুষ্পাপ্য শব্দের পরিসংখ্যান এবং অপরিচিত (غريب) ও বিচ্যুত (شاذ) শব্দাবলি সংকলনের দিকে ধাবিত হয়। এটি এমন এক প্রচেষ্টা যা অন্য কোনো ভাষার ক্ষেত্রে অর্জিত হয়নি এবং এমন এক কর্ম যা অন্য কোনো জবান লাভ করেনি। এমনকি আমরা আরবি সাহিত্যের এমন সব বিস্ময়কর গ্রন্থাবলি দেখতে পাই যা এমন এক জাতি রচনা বা সংকলন করেছে যারা বংশগতভাবে আরব নয়, কিন্তু আনুগত্য ও ভালোবাসার দিক থেকে তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ৪)
أقبلت الأمّة على كتاب ربّها، وأكبّت عليه حفظاً، ودرساً، وفهماً لمعانيه، وتقيُّداً بأحكامه، وميزاً لألفاظه ومبانيه، ومعرفة لطرائق رسمه، وإسناد قراءاته، وكان لعلماء العربيّة اليدُ الطولى في خدمة القرآن، في ميادين متنوّعة، في رسمه وضبطه، ومعانيه وقراءاته، وأبنيته وألفاظه، وبلاغته وإعجازه، بل لا أبالِغُ إذا قلتُ: إنّ علوم العربية لولا القرآن ما كانت، ولا كان للعربية شأن، ولبقيت محصورةً في صحرائها القاحلة، وجزيرتها العازبة عن حياة الحضارة والمدنيّة، ولبقي أهلها على شائهم ونَعَمِهم، يتتبعون من أجلها مواقع القطر، ومنازِلَ الغيث، ويعنون بما يرتبط بهذه الحياة البسيطة، من علمٍ بالأنواء والمنازل، والأفلاك والأبراج، والريح وأوقات هبوبها، لا يجوزون هذا إلاّ إلى معرفة أنسابهم، والفخر بأحسابهم، والتمدّح بفعالهم، وإلا قول الشعر، وارتجال الخطب، وحفظ ما استجادوا من ذلك، وإلاّ نُتفاً من حِكَمٍ وأمثالٍ، تهديهم إليها تجاربهم في الحياة، لا هَمَّ لهم وراء ذلك، ليلٌ ينجلي، ونهارٌ يتجلَّى:

"ليلٌ يكرُّ عليهم ونهارُ"

في دورةٍ فلكيّة مكرورةٍ، فسبحان من غيَّر هذه الأُمَّة لتكون كما قال ابن فارسٍ: " كانت العربُ في جاهليتها على إرثٍ من إرثِ آبائهم في لغاتهم، وآدابهم، ونسائكهم، وقرابينهم، فلمّا جاء الله (جلَّ ثناؤه) بالإسلام حالتْ أحوالٌ، ونُسِخَتْ دياناتٌ، وأُبْطِلت أمورٌ، ونُقِلَتْ من اللُّغة ألفاظٌ عن مواضع إلى مواضع أخر، بِزياداتٍ زيدتْ، وشرائع شُرِعَتْ، وشرائط شُرِطت، فعفَّى الآخِرُ الأوّلَ، وشُغِل القوم - بعد المغاورات والتجاراتِ، وتطلّب الأرباح، والكدح للمعاشِ في رحلة الشتاء والصّيف، وبعد الإغرام بالصيد
উম্মাহ তাদের রবের কিতাবের প্রতি মনোনিবেশ করেছে এবং এটি হিফজ করা, পাঠ করা, এর অর্থসমূহ অনুধাবন করা, এর বিধানাবলি প্রতিপালন করা, এর শব্দ ও গঠনশৈলীর স্বাতন্ত্র্য নিরূপণ করা এবং এর লিখনরীতি ও কিরাতসমূহের সনদ (إسناد) জানার প্রতি আত্মনিয়োগ করেছে। কুরআনের খিদমতে আরবি ভাষাবিদদের অনন্য অবদান রয়েছে; এর লিখনশৈলী ও নির্ভুলতা (ضبط), অর্থ ও কিরাতসমূহ, এর রূপতাত্ত্বিক গঠন ও শব্দাবলি এবং অলংকারশাস্ত্র ও আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের মতো বিবিধ ক্ষেত্রে তারা কাজ করেছেন। বরং আমি যদি বলি যে, কুরআন না থাকলে আরবি ভাষাবিজ্ঞানের কোনো অস্তিত্ব থাকত না এবং আরবি ভাষার কোনো বিশেষ মর্যাদাও প্রতিষ্ঠিত হতো না, তবে তা অত্যুক্তি হবে না। এটি তার ধূসর মরুভূমিতেই সীমাবদ্ধ থাকত এবং সভ্যতা ও নাগরিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপাঞ্চলে আটকা পড়ে থাকত। এর অধিবাসীরা তাদের মেষ ও উট নিয়ে ব্যস্ত থাকত, যেগুলোর জন্য তারা বৃষ্টির পানির উৎস ও মেঘের গন্তব্য অনুসরণ করে বেড়াত। তারা এই সাধারণ জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়েই ব্যতিব্যস্ত থাকত—যেমন নক্ষত্রের উদয়-অস্ত ও ঋতু পরিবর্তন বিষয়ক জ্ঞান, কক্ষপথ, জ্যোতির্বলয়, বাতাস এবং তা প্রবাহিত হওয়ার সময় সম্পর্কে জ্ঞান। এর বাইরে তাদের দৌড় ছিল কেবল বংশ পরিচয় জানা, পূর্বপুরুষদের গৌরবগাথা বর্ণনা করা, নিজেদের বীরত্ব নিয়ে অহংকার করা, কবিতা রচনা করা, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রদান করা এবং সেগুলোর মধ্যে যা চমৎকার মনে হতো তা মুখস্থ করে রাখা। এছাড়া তাদের প্রজ্ঞা ও প্রবাদের কিছু বিচ্ছিন্ন অংশ ছিল, যা তারা জীবনলব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে অর্জন করত। এসবের বাইরে তাদের আর কোনো উচ্চ লক্ষ্য ছিল না। দিন যায় রাত আসে:

"রাত তাদের ওপর আবর্তিত হয় এবং দিনও"

এক চক্রাকার মহাজাগতিক আবর্তনে। পবিত্র সেই সত্তা যিনি এই উম্মাহকে এমনভাবে রূপান্তরিত করেছেন, যার সম্পর্কে ইবনে ফারিস বলেছেন: "আরবরা তাদের জাহিলি যুগে ভাষা, সাহিত্য, ইবাদত ও উৎসর্গের ক্ষেত্রে তাদের পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকারের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। অতঃপর যখন মহান আল্লাহ ইসলাম পাঠালেন, তখন অবস্থার পরিবর্তন ঘটল, ধর্মসমূহ রহিত (منسوخ) হলো, বহু রীতিনীতি বাতিল হয়ে গেল এবং ভাষার অনেক শব্দকে এক অর্থ থেকে অন্য অর্থের দিকে সরিয়ে নেয়া হলো। সাথে নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হলো, শরিয়তের বিধান প্রবর্তিত হলো এবং নতুন শর্তাবলি আরোপিত হলো। ফলে পরবর্তী বিষয়গুলো পূর্ববর্তী বিষয়গুলোকে বিলুপ্ত করে দিল। এই জাতি—যুদ্ধবিগ্রহ, ব্যবসা-বাণিজ্য, মুনাফা অন্বেষণ, শীত ও গ্রীষ্মের সফরের মাধ্যমে জীবন-জীবিকার কঠোর পরিশ্রম এবং শিকারের নেশায় মত্ত থাকার পর—ব্যস্ত হয়ে পড়ল..."
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ৫)
والمعاقرة والمياسرة - بتلاوة الكتاب العزيز الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، تنزيلٌ من حكيم حميد، وبالتفقُّه في دينِ الله عز وجل وحفظ سُنَنِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم مع اجتهادهم في مجاهدة أعداء الإسلام.

فصار الذي نشأ عليه آباؤهم، ونشؤوا هم عليه كأن لم يكن، وحتّى تكلّموا في دقائقِ الفقه، وغوامض أبواب المواريث وغيرها من علم الشريعة، وتأويل الوحي بما دُوّن وحفظ. فسبحان من نقل أولئك في الزمن القريب بتوفيقه عمّا ألفوه، ونشؤوا عليه، وغُذوا به، إلى مثل هذا الذي ذكرناه" (1) .

هذا فِعْل الإسلام بأمَّةِ العرب، أمّا غيرهم فهم كما قال أبو حاتم:

"أقبلتِ الأمم كُلّها إلى العربيّة يتعلّمونها رغبةً فيها، وحرصاً عليها، ومحبَّة لها وفضلاً أبانه الله فيها للناس، ليبيِّن لهم فضلَ محمّد صلى الله عليه وسلم على سائر الأنبياء صلوات الله عليهم أجمعين، وتثبُت نبوَّته عندهم، وتتأكّد الحُجَّة عليهم، وليظهر دين الإسلام على كُلِّ دينٍ؛ تصديقاً لقولِه عز وجل حيثُ يقولُ: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ} [التوبة: 33] .

ولو ذهبنا نَصِفُ اللُّغاتِ كُلَّها عجزنا عن تناول ما لم يُعْطَه أَحَدٌ قبلنا، ولكنّا نذكر من ذلك على قدر المعرفة، ومقدار الطاقةِ، ونتكلَّم بما علمنا منه محبَّةً لإيرادِ فَضْلِ لغة العرب؛ إذْ كان فيه إظهار فضيلة الإسلام على سائر الملل، وإبراز فضل محمد صلى الله عليه وسلم على جميع الأنبياءِ والرسل عليهم الصلاة والسلام، وإن كان ذلك ظاهراً بنعمة الله، بارزاً بحمد الله؛ لأن دين الإسلام عربيّ، والقرآن عربيّ، وبيان الشرائع، والأحكام،

--------------------------------------------

(1) أبو الحسن أحمد بن فارس (ت 395 هـ) الصاحبي/ تحقيق السيد أحمد صقر / الناشر عيسى البابي الحلبيّ وشركاه / القاهرة / 1977 م. ص 78 - 83.
এবং মদপান ও জুয়া খেলার পরিবর্তে—সেই মহাগ্রন্থ তিলাওয়াতের মাধ্যমে যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না, যা প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ; আর আল্লাহর দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন (تفقه) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুনান সংরক্ষণের মাধ্যমে, সাথে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদে তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাও ছিল।

ফলে তাদের পূর্বপুরুষরা যে বিষয়ের ওপর বেড়ে উঠেছিল এবং তারা নিজেরাও যার ওপর বড় হয়েছে, তা যেন আর অবশিষ্ট থাকল না। এমনকি তারা ফিকহ শাস্ত্রের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়াবলি এবং মিরাস বা উত্তরাধিকার আইনের জটিল অধ্যায়সমূহসহ শরিয়াহর অন্যান্য জ্ঞান এবং সংকলিত ও সংরক্ষিত ওহির ব্যাখ্যা (تأويل) নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন। সুতরাং সেই সত্তা কতই না পবিত্র, যিনি এই অল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁর তাওফিকের মাধ্যমে তাঁদেরকে সেই সকল বিষয় থেকে সরিয়ে এনেছেন যেসবে তাঁরা অভ্যস্ত ছিলেন, যার ওপর তাঁরা বেড়ে উঠেছিলেন এবং লালিত-পালিত হয়েছিলেন, আর তাঁদেরকে পৌঁছে দিয়েছেন আমরা যা উল্লেখ করেছি তার স্তরে। (১) .

আরব জাতির ক্ষেত্রে ইসলামের প্রভাব ছিল এরূপ। আর অন্যদের ব্যাপারে আবু হাতিম যেমনটি বলেছেন:

"সকল জাতিই আরবি ভাষার দিকে ধাবিত হয়েছে; তারা এর প্রতি আগ্রহ, একাগ্রতা এবং ভালোবাসাবশত এটি শিখতে শুরু করেছে। আল্লাহ তা'আলা এই ভাষার মাঝে মানুষের জন্য এমন এক শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন যার মাধ্যমে তিনি অন্যান্য সকল নবী আলাইহিমুস সালামের ওপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করেছেন। যাতে করে তাদের নিকট তাঁর নবুওয়াত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) সুনিশ্চিত হয় এবং ইসলাম ধর্ম যেন সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী হয়; মহান আল্লাহর সেই বাণীর সত্যতা স্বরূপ যেখানে তিনি বলেছেন: {তিনিই তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।} [আত-তাওবাহ: ৩৩] .

আমরা যদি সকল ভাষার বর্ণনা দিতে যাই, তবে এমন কিছু বর্ণনা করতে আমরা অক্ষম হব যা আমাদের পূর্বে আর কাউকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা আমাদের জ্ঞান ও সামর্থ্য অনুযায়ী তার কিয়দাংশ উল্লেখ করব। আমরা যা জেনেছি তা থেকেই কথা বলব আরবি ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরার আকাঙ্ক্ষায়; কারণ এতেই নিহিত রয়েছে অন্যান্য সকল ধর্মাদর্শের ওপর ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সকল নবী ও রাসূল আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামের ওপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা সমুন্নত করার প্রয়াস। যদিও আল্লাহর অনুগ্রহে তা সুস্পষ্ট এবং তাঁর প্রশংসার কল্যাণে তা প্রকাশ্য; কারণ ইসলাম ধর্ম আরবি, কুরআন আরবি এবং শরয়ি বিধান ও আহকামের (أحكام) বর্ণনাও আরবিতে...

--------------------------------------------

(১) আবুল হাসান আহমাদ ইবনে ফারিস (মৃত্যু ৩৯৫ হি.) আস-সাহিবী/ তাহকিক: আস-সাইয়িদ আহমাদ সাকর / প্রকাশক: ঈসা আল-বাবি আল-হালাবি ওয়া শুরাকাউহু / কায়রো / ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দ। পৃষ্ঠা ৭৮ - ৮৩।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ৬)
والفرائض، والسنن بالعربية" (1) .

لولا الإسلام، والقرآن لم تحظَ اللُّغةُ العربيَّةُ بما حظيَتْ به من خدمةٍ، بتدوين علومها، وتبويب مسائلها، وتتابع أجيالٍ فأجيالٍ على النظر فيها جمعاً، وتأليفاً، وتقعيداً، وبحثاً عن أوجه جمالها، وإعجاز قرآنها، وتمجيداً لها وتعظيماً، ليس من أبنائها ذوي الأعراق العربيّة، وإنما من أبنائها ذوي الأصول الأعجمية، ممّن كانت لغتهم الأُمّ أو الأولى غير العربيّة؛ إذ من المعروف أن عدداً غير قليل من أبناء الشعوبِ الإسلامية انتحلوا العربيّة، فصارت لغتهم ولسانهم، وتناسوا بل هجروا لغتهم الأُمَّ، وكتبوا في تمجيد العربية، وبيان فضلها، والتعصُّب لها ما لم يكتبه قلمٌ من صليبةٍ عربيَّةٍ، ولنا أن نمثِّل في هذا السياقِ بجمهرةٍ من علماء العربية وغيرهم من مثل أبي عثمان عمرو بن بحر الجاحظ (ت 255هـ) وأبي حاتم الرازي (ت 322 هـ) وأبي علي الفارسي (ت 377هـ) وأحمد بن فارسٍ (ت 395) وأبي حيَّان التوحيدي (ت 414هـ) . وكانوا جميعاً من أعراقٍ غير عربيّة، ولم تمنعهم تلك الأعراق عن الإشادة بالعربيّة تمجيداً لها وتعظيماً، وتفضيلاً وتقديماً، ليس لهم دافع إلاّ أنهم مسلمون، قرؤوا القرآن، ورأوا ما فيه من أوجه البيان، وسر النظم، ودلائل الإعجاز، ورأوا أن لُغةً اختيرتْ لهذا الكتاب لم يكن اختيارها عبثاً؛ لأنّ الاختيار من رَبِّ العالمين، ذي الخلق والأمر، اختص بالرحمة وقسمتها، كل شيءٍ عنده بحكمةٍ ومقدار، يخلُقُ ما يشاءُ ويختار ما يشاء، له الحكمة البالغة في ذلك.

--------------------------------------------

(1) أبو حاتم أحمد بن حمدان الرازي (ت 322 هـ) كتاب الزينة في الكلمات الإسلامية العربية / تحقيق حسين بن فيض الله الهمداني / مركز الدراسات والبحوث اليمني / ط الأولى / سنة 1415 هـ - 1994 م / ص 75.
...এবং ফরায়েদ (الفرائض) ও সুন্নাহ আরবি ভাষায়।" (১)।

যদি ইসলাম এবং কুরআন না থাকত, তবে আরবি ভাষা সেই সেবা ও মর্যাদা লাভ করত না যা সে লাভ করেছে—তার জ্ঞান-বিজ্ঞান সংকলন, মাসআলাগুলোর অধ্যায় বিন্যাস (تبويب) এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এর সংকলন, রচনা, মূলনীতি নির্ধারণ (تقعيد) ও এর সৌন্দর্যের দিকসমূহ এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে। এই মহিমা ও গৌরব কেবল তার আরব বংশোদ্ভূত সন্তানদের মাধ্যমেই অর্জিত হয়নি, বরং এমন সব অনারব (أعجمي) সন্তানদের মাধ্যমেও হয়েছে যাদের মাতৃভাষা বা প্রথম ভাষা আরবি ছিল না। কারণ এটি সুপরিচিত যে, মুসলিম জাতিসমূহের একটি বড় অংশ আরবিকে গ্রহণ করে নিয়েছিল, ফলে এটিই তাদের ভাষায় পরিণত হয়। তারা তাদের মাতৃভাষাকে বিস্মৃত হয়েছিল, এমনকি তা বর্জন করেছিল। তারা আরবির মহিমা বর্ণনা, এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর প্রতি অনুরাগের ক্ষেত্রে এমন সব সাহিত্য রচনা করেছেন যা কোনো খাঁটি আরব বংশোদ্ভূত ব্যক্তির কলম থেকেও নিঃসৃত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে আমরা একদল প্রখ্যাত ভাষাবিদ ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের উদাহরণ দিতে পারি, যেমন: আবু উসমান আমর ইবনে বাহর আল-জাহিজ (মৃ. ২৫৫ হি.), আবু হাতিম আল-রাজি (মৃ. ৩২২ হি.), আবু আলি আল-ফারিসি (মৃ. ৩৭৭ হি.), আহমদ ইবনে ফারিস (মৃ. ৩৯৫ হি.) এবং আবু হাইয়ান আল-তাওহিদি (মৃ. ৪১৪ হি.)। তারা সকলেই অনারব (أعجمي) বংশোদ্ভূত ছিলেন, কিন্তু এই বংশপরিচয় তাদেরকে আরবির মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা এবং একে অগ্রাধিকার দিতে বাধা দেয়নি। তাদের একমাত্র প্রেরণা ছিল এই যে, তারা মুসলিম; তারা কুরআন পাঠ করেছেন এবং এতে বর্ণনার চমৎকারিত্ব, কাব্যিক বুননের রহস্য ও অলৌকিকত্বের (إعجاز) নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করেছেন। তারা অনুধাবন করেছেন যে, এই কিতাবের জন্য যে ভাষা নির্বাচন করা হয়েছে তা নিরর্থক ছিল না; কারণ এই নির্বাচন স্বয়ং রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে হয়েছে, যিনি সৃষ্টি ও নির্দেশের মালিক। তিনি রহমত ও তার বণ্টনের জন্য নির্দিষ্ট করেন। তাঁর নিকট প্রতিটি বিষয় প্রজ্ঞা (حكمة) ও সুনির্দিষ্ট পরিমাপে নির্ধারিত। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যা ইচ্ছা পছন্দ করেন; এতে তাঁরই চূড়ান্ত প্রজ্ঞা (حكمة) নিহিত।

--------------------------------------------

(১) আবু হাতিম আহমদ ইবনে হামদান আল-রাজি (মৃ. ৩২২ হি.), কিতাব আল-জিনাহ ফিল কালিমাত আল-ইসলামিয়্যাহ আল-আরাবিয়্যাহ / তাহকিক (تحقيق): হুসাইন ইবনে ফাইযুল্লাহ আল-হামদানি / মারকায আদ-দিরাসাত ওয়াল বুহুস আল-ইয়ামানি / ১ম সংস্করণ / ১৪১৫ হি. - ১৯৯৪ খ্রি. / পৃ. ৭৫।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد حمل نزول القرآن باللغة العربية طائفةً أن يجعلوه دليل فضلها على سائر اللغات، نجد ذلك في مثل قول أبي حاتمٍ الرَّازيّ (ت 322هـ) :

"فأفضل ألسنة الأمم كلها أربعة: العربية، والعبرانية، والسريانية، والفارسية؛ لأن الله عز وجل أنزل كتبه على أنبياء عليهم السلام آدم، ونوح، وإبراهيم، ومن بعدهم من أنبياء بني إسرائيل بالسريانية والعبرانية، وأنزل القرآن على محمد صلى الله عليه وسلم بالعربية، وذكر أن المجوس كان لهم نبيٌّ وكتابٌ، وأنّ كتابه بالفارسيّة، هذا ما اتّفق عليه أصحاب الشرائع" (1) .

وقد جعل الرّازي العربيّة أفضل اللغات الأربع، وأفصحها، وأكملها، وأتمّها، وأعذبها، وأبينها، وجعل حرص النّاس على تعلّم العربية علامة فضلها، ونقل الكتب السماوية المنزلة بغير العربية إلى العربية، ونقل حكمة العجم إليها، وما في كتب الفلسفة، والطب، والنجوم، والهندسة، والحساب من اليونانية والهندية إلى العربيّة وجهاً آخر لفضلها، في حين لم يرغب أهل القرآنِ والكتاب العربيّ في نقله إلى شيءٍ من اللُّغات، ولا قدر أحدٌ من الأمم أن يترجمه بشيء من الألسنة … بل تعذَّر عليهم لكمال العربيّة، ونقصان غيرها من سائر اللغات (2) .

وقد قال نحواً من هذا ابن فارس، بل لعلّه اقتفاه في أن الترجمة الحرفية للقرآن متعذّرة، وأنه لا يمكن إلا أن يحال القرآن إلى عبارةٍ سهلة، تخلو من سمات لغة الأدب، ثم يترجم معناها فيما بعد، ومثل لهذا بمثل قوله: {فَانْبِذْ

--------------------------------------------

(1) أبو حاتم، الزينة ص 73.

(2) السابق ص 73.
আরবি ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হওয়া একটি গোষ্ঠীকে এটিকে অন্যান্য সকল ভাষার ওপর এর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমরা এর প্রতিফলন দেখতে পাই আবু হাতিম আল-রাজি (মৃত্যু ৩২২ হি.)-এর বক্তব্যে:

"সমগ্র জাতিসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভাষা হলো চারটি: আরবি, হিব্রু, সুরয়ানি এবং ফারসি; কারণ মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবসমূহ নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) আদম, নুহ, ইব্রাহিম এবং তাঁদের পরবর্তী বনী ইসরাইলের নবীদের ওপর সুরয়ানি ও হিব্রু ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন। আর তিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন আরবি ভাষায়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, অগ্নিউপাসকদের একজন নবী ও একটি কিতাব ছিল এবং তাদের কিতাবটি ছিল ফারসি ভাষায়। শরিয়ত বিশেষজ্ঞগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন।" (১) ।

আল-রাজি আরবি ভাষাকে এই চারটি ভাষার মধ্যে শ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক প্রাঞ্জল, পরিপূর্ণ, পূর্ণাঙ্গ, সুমধুর এবং সুস্পষ্ট হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মানুষের আরবি শেখার প্রতি প্রবল আগ্রহকে এর শ্রেষ্ঠত্বের একটি চিহ্ন হিসেবে গণ্য করেছেন। এছাড়া অন্য ভাষায় অবতীর্ণ আসমানি কিতাবসমূহকে আরবিতে অনুবাদ করা, অনারবদের প্রজ্ঞা এবং দর্শন, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যামিতি ও গণিত শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ গ্রিক ও ভারতীয় ভাষা থেকে আরবিতে রূপান্তর করাকে তিনি এর শ্রেষ্ঠত্বের আরেকটি দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, কুরআনের অনুসারী ও আরবি কিতাব বিশারদগণ একে অন্য কোনো ভাষায় রূপান্তর করতে আগ্রহী হননি, আর কোনো জাতির পক্ষেই সম্ভব হয়নি একে অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করা … বরং আরবির পূর্ণতা এবং অন্যান্য সকল ভাষার অপূর্ণতার কারণে এটি তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছিল (২) ।

ইবন ফারিসও অনুরূপ কথা বলেছেন, বরং তিনি সম্ভবত এক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করেছেন যে, কুরআনের আক্ষরিক অনুবাদ অসম্ভব। কুরআনকে কেবল এমন এক সহজ অভিব্যক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব যা সাহিত্যের বৈশিষ্টমুক্ত হবে এবং পরবর্তীতে এর মর্মার্থ অনুবাদ করা হবে। তিনি এর উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণীর কথা উল্লেখ করেছেন: {অতঃপর তুমিও তাদের প্রতি (চুক্তি) ছুঁড়ে মারো

--------------------------------------------

(১) আবু হাতিম, আল-যিনাহ পৃষ্ঠা ৭৩।

(২) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৭৩।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ৮)
إِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ} [الأنفال: 58] )) (1) .

ولابن فارس كلامٌ نحو هذا، ينحو إلى تفضيل العربية على غيرها لنزول القرآن بها، في كتابه (الصاحبي في فقه اللغة العربية وسنن العرب في كلامها) ، وهو كتابٌ ينضح بالتمجيد والتعظيم، وبيان فضل العربيّة على غيرها من اللُّغات، ممّا يعدُّه بعضٌ تعصُّباً غير مقبول، وهو من وجهة نظرنا عمل عظيم، خاصَّةً إذا علمنا حقيقة البيئة المحيطة بابن فارسٍ، وهي بيئةٌ تدعو لإحياءِ المجد الفارسيّ، وإحياء اللّغة الفارسيّة، حتّى إنّ الفارسية الحديثة كان تأسيسها في عصر ابن فارسٍ، وقد سار على نقيض قومه.

وابتدأ هذا التمجيد بتقرير أنّ العربيّة توقيفٌ من عند ربِّ العالمين، ولم يسم لغةً أخرى بهذه السِّمة، وكأنّه يرى أنّ هذه ميزةٌ انفردت بها العربيّة عن لغات العالم، فكانت العربيّة وحياً حُفِظ حتّى نزل بها القرآن، فانضمَّ الوحي إلى الوحي، وهذا كأنّه يقول فيه كما أنّ للعرب وأتباعهم ديناً امتاز عن غيره بأنه وحيٌّ مصون، لم تمسَّه يد التغيير، فإنّ للعرب أيضاً لغةً مصونةً مرعيَّةً برعاية الله، صانتها عن التغيير والابتذال، ورقت في مراقي المجد والسُّموّ، يحفظها ربُّها ويهيّؤها، وهي أعلى لغةٍ، لنزول أعلى كتابٍ بها، وأعظم دين، وخاتم الأديان، الإسلام، هذا كلام لا يعسُرُ عليك استنباطه من كلامه. وابن فارسٍ يتوسع في التوقيف، فيرى أن العربيّة توقيف في ألفاظها، وأصواتها، وأبنيتها، وتراكيبها، وأساليب بيانها، بل كتابتها وخطها، وعلومها من إعرابٍ، وعروض (2) ، حتى إنّه عدّ ما ذكره من أصول وقياسٍ توقيفاً (3) .

--------------------------------------------

(1) انظر، أبو حاتم، الزينة ص 74، وابن فارس، الصاحبي ص 16 - 17.

(2) انظر ابن فارس، الصاحبي ص 6 - 15.

(3) السابق ص 112 - 113.
...তাদের সাথে সমভাবে} [আল-আনফাল: ৫৮] )) (১) ।

ইবনে ফারিস-এরও এই ধরণের বক্তব্য রয়েছে, যেখানে তিনি কুরআনের ভাষা হওয়ার কারণে অন্য সব ভাষার ওপর আরবি ভাষাকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের দিকে ঝুঁকেছেন। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি 'আস-সাহিবি ফি ফিকহিল লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ ওয়া সুনানিল আরাবি ফি কালামিহা' গ্রন্থে ফুটে উঠেছে। এটি এমন এক গ্রন্থ যা আরবির মহিমা ও গৌরব এবং অন্যান্য ভাষার ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় পরিপূর্ণ। কেউ কেউ একে অগ্রহণযোগ্য পক্ষপাতদুষ্টতা হিসেবে গণ্য করলেও আমাদের দৃষ্টিতে এটি একটি মহান কাজ। বিশেষ করে যখন আমরা ইবনে ফারিস-এর সমকালীন পরিবেশের বাস্তবতা বিবেচনা করি; সেই পরিবেশটি ছিল পারস্যের গৌরব পুনরুজ্জীবিত করার এবং ফারসি ভাষার পুনর্জাগরণের ডাক দেওয়া একটি পরিবেশ। এমনকি আধুনিক ফারসি ভাষার ভিত্তি ইবনে ফারিস-এর যুগেই স্থাপিত হয়েছিল, আর তিনি নিজের জাতির ধারার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তিনি এই শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা শুরু করেছেন এটি সাব্যস্ত করার মাধ্যমে যে, আরবি ভাষা হলো মহান রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে একটি ঐশ্বরিক উৎস (توقيف); তিনি অন্য কোনো ভাষাকে এই বিশেষণে বিশেষিত করেননি। মনে হয় তিনি মনে করেন যে, এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যাতে আরবি ভাষা বিশ্বের অন্যান্য ভাষা থেকে অনন্য। ফলে আরবি ছিল একটি ঐশ্বরিক প্রত্যাদেশ (وحي), যা সংরক্ষিত ছিল যতক্ষণ না তা দিয়ে কুরআন অবতীর্ণ হলো। এভাবে প্রত্যাদেশের সাথে প্রত্যাদেশের মিলন ঘটল। তিনি যেন বলতে চাইছেন, আরব এবং তাদের অনুসারীদের জন্য যেমন একটি ধর্ম রয়েছে যা অন্য সব ধর্ম থেকে আলাদা—যেহেতু তা একটি সংরক্ষিত ঐশ্বরিক প্রত্যাদেশ (وحي) যাকে পরিবর্তনের কোনো হাত স্পর্শ করতে পারেনি—তেমনি আরবদের জন্যও রয়েছে আল্লাহর তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত একটি ভাষা। আল্লাহ একে পরিবর্তন ও অবমূল্যায়ন থেকে রক্ষা করেছেন এবং এটি সম্মান ও উচ্চমর্যাদার সোপানে আরোহণ করেছে। এর প্রতিপালক একে সংরক্ষণ করেন এবং প্রস্তুত করেন। এটি সর্বোচ্চ ভাষা কারণ এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ কিতাব, সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন এবং সর্বশেষ ধর্ম ইসলাম অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁর আলোচনা থেকে এই সারমর্ম বের করা আপনার জন্য কঠিন নয়। ইবনে ফারিস এই ঐশ্বরিক উৎস (توقيف)-এর বিষয়টিকে অত্যন্ত বিস্তৃতভাবে দেখেন। তিনি মনে করেন যে আরবি ভাষা এর শব্দভাণ্ডার, ধ্বনি, গঠনশৈলী, বাক্যবিন্যাস, অলংকারিক পদ্ধতি, এমনকি এর লিখনশৈলী ও লিপি এবং এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) ও ছন্দশাস্ত্র (عروض) সহ সকল জ্ঞানই হলো ঐশ্বরিক উৎস (توقيف)। এমনকি তিনি যে মূলনীতি (أصول) এবং অনুমান (قياس)-এর কথা উল্লেখ করেছেন তাকেও তিনি ঐশ্বরিক উৎস (توقيف) হিসেবে গণ্য করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন, আবু হাতিম, আয-যিনাহ পৃ. ৭৪, এবং ইবনে ফারিস, আস-সাহিবি পৃ. ১৬-১৭।

(২) দেখুন, ইবনে ফারিস, আস-সাহিবি পৃ. ৬-১৫।

(৩) পূর্বোক্ত গ্রন্থ, পৃ. ১১২-১১৩।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ৯)
كما عقد باباً لبيان أنّ ((لغة العرب أفضل اللُّغات وأوسعها)) ، صدّره بقوله تعالى {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ. نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء: 192-195] فوصفه (جلّ ثناؤه) بأبلغ ما يوصَفُ به الكلام، وهو البيان (1) .

وهو بيانُّ متميِّزٌ لا يقتصر على مجرَّدِ الإبانةِ، وإنّما يتجاوزُ ذلك إلى قيمٍ كلامية وتعبيريّة، قلّ أن تتوافر في غيرِ العربيّة، ممّا يُعْجِزُ النَّقَلة عن نقل القرآنِ إلى لغاتهم بدرجة بيانه العربي. وهذه سمةٌ ليسَتْ مقصورةً على القرآنِ، بل هي في الكلام العربيِّ كُلِّه، جاهليِّه وإسلاميِّه، لكنّها تجلَّت أكثر في كلام ربِّ العالمين، القرآن المجيد، حتى قال ابن فارسٍ: "إنّ كلام الله (جَلَّ ثناؤه) أعلى وأرفع من أن يضاهى، أو يقابل، أو يعارضَ به كلامٌ، وكيف لا يكون كذلك، وهو كلام العليِّ الأعلى، خالق كُلِّ لغةٍ ولسان، لكنّ الشعراء قد يومئون إيماءً، ويأتون بالكلام الّذي لو أراد مُريدٌ نَقْلَه لاعتاص، وما أمكن إلاّ بمبسوطٍ من القولِ، وكثيرٍ من اللّفظ" (2) . ثمّ ذكر نماذج من الشعر وكلام العرب (3) . ثمّ ذكر شيئاً ممّا جعله خصائص للعربية من القلب، وعدم الجمع بين الساكنين، والحذف، واختلاس الحركات، والإضمار، والترادف، ثمّ ختمه بقوله: (فأين لسائر الأمم ما للعرب؟!) (4) .

ولم يقف به الأمر عند تمجيد العربيّة وتفضيلها، بل جاوز إلى بيان ما اختصّت به العربُ كالإعراب الفارق بين المعاني المتكافئةِ في اللّفظ، وعنايتهم

--------------------------------------------

(1) السابق ص 16.

(2) السابق ص 16 - 19.

(3) السابق ص 19، 22 - 25.

(4) السابق ص 20 - 21.
একইভাবে তিনি একটি অধ্যায় রচনা করেছেন এই বর্ণনায় যে, "আরবি ভাষা সকল ভাষার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও প্রশস্ত।" তিনি এটি শুরু করেছেন মহান আল্লাহর এই বাণী দিয়ে: {নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা তা নিয়ে অবতরণ করেছেন আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন; সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।} [আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫]। অতঃপর মহান আল্লাহ (তাঁর মহিমা কীর্তিত হোক) একে বাচনভঙ্গির সবচেয়ে উচ্চমানের গুণ তথা সুস্পষ্ট বর্ণনা (البيان) দ্বারা বিশেষিত করেছেন (১)।

এটি এমন এক অনন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা (البيان), যা কেবল সাধারণ প্রকাশের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ছাপিয়ে যায় এমন সব বাচনিক ও প্রকাশভঙ্গির উচ্চমানে, যা আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় মেলা ভার। এর ফলেই অনুবাদকদের পক্ষে কুরআনকে এর আরবি অলঙ্কার ও সুস্পষ্ট বর্ণনার (البيان) পর্যায়ে রেখে নিজ নিজ ভাষায় অনুবাদ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটি কেবল কুরআনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাহিলি ও ইসলামি—উভয় যুগের সমগ্র আরবি বাচনভঙ্গির বৈশিষ্ট্য। তবে মহান রবের কালাম পবিত্র কুরআনে এটি সর্বাধিক প্রোজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে। এমনকি ইবনে ফারিস বলেছেন: "আল্লাহর কালাম (তাঁর মহিমা কীর্তিত হোক) এর সমতুল্য হওয়া কিংবা এর মোকাবিলা বা বিরোধিতার ঊর্ধ্বে। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে এটি সুউচ্চ মহান সত্তার কালাম, যিনি প্রতিটি ভাষা ও বাকভঙ্গির স্রষ্টা! তবে কবিরা ইশারা-ইঙ্গিত করেন এবং এমন কথা নিয়ে আসেন যা কোনো অনুবাদক অনুবাদ করতে চাইলে তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ আলোচনা ও প্রচুর শব্দ ব্যবহার করা ছাড়া তা সম্ভব হয় না" (২)। অতঃপর তিনি কবিতা ও আরবদের বাচনভঙ্গির কিছু নমুনা উল্লেখ করেছেন (৩)। এরপর তিনি আরবির এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন যা তিনি এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন; যেমন: অক্ষরের স্থানবদল (القلب), দুই স্থির অক্ষরের একত্র না হওয়া (عدم الجمع بين الساكنين), বিলোপন (الحذف), স্বরচিহ্নের দ্রুত উচ্চারণ (اختلاس الحركات), প্রচ্ছন্নতা (الإضمار) এবং সমার্থকতা (الترادف)। পরিশেষে তিনি এই বলে সমাপ্তি টানেন: "অন্যান্য জাতিদের কাছে আরবের মতো কী-ই বা আছে?!" (৪)।

তাঁর এই প্রয়াস কেবল আরবি ভাষার মহিমা কীর্তন ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তিনি আরবের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনার দিকেও ধাবিত হয়েছেন; যেমন শব্দগতভাবে সদৃশ অর্থগুলোর মধ্যে পার্থক্যকারী ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (الإعراب) এবং তাদের যত্ন...

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃ. ১৬।

(২) প্রাগুক্ত, পৃ. ১৬ - ১৯।

(৩) প্রাগুক্ত, পৃ. ১৯, ২২ - ২৫।

(৪) প্রাগুক্ত, পৃ. ২০ - ২১।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ১০)
بالشعر والعروض. مع حفظ الأنساب، والطهارة، والنزاهة عن الأدناس التي استباحها غيرهم من مخالطة ذوات المحارم (1) .

وقد بلغت العربية - كما يرى ابن فارسٍ - غاية كمالها بعد مجيء الإسلام، وتنزُّل القرآن، فجدّت في العربيّة ألفاظ ومعانٍ، وزالت ألفاظ لزوال معانيها، ونقلت ألفاظٌ عن معانيها إلى معانٍ أخرى، كراهةً لأصل معناها، أو تأدُّباً، أو اقتفاءً لأمر الشرع، وقد هذَّب الإسلام ألفاظ العربيّة، ووجَّه العربَ لاختيار أسماء أولادهم (2) .

وقد ارتبطت العربية بالقرآن بأوثق رباط، حتى إنه ليعسر على الدارس الفصل بينهما، قال الرافعي: "إنّ هذه العربية، لغة دينٍ قائم على أصلٍ خالدٍ، هو القرآنُ الكريم، وقد أجمع الأوّلون والآخرون على إعجازه بفصاحته، إلاّ من حَفلَ به من زنديقٍ يتجاهل، أو جاهلٍ يتزندَقُ" (3) .

والقرآن هو الذي أخرج فصحاء الأدب العربيّ وبلغاءه من أمثال ابن المقفّع، ولولا القرآن والحديث، وكتب السلف وآدابهم لم يخرج أمثاله (4) .

ويحاول غير المسلمين بوعي، ومرضى القلوب بغير وعيٍ أن يعزلوا المسلمين عن قرآنهم ولُغته، حتّى عاب بعضهم على الرافعي أسلوبه، واقترح عليه ترك الجملة القرآنية، ويعنون بها اللغة العالية، والأسلوب الراقي، الذي يسمو بصاحبه إلى لغة القرآن، وأسلوبه، ومنطق رسول الله صلى الله عليه

--------------------------------------------

(1) السابق ص 76 - 77.

(2) انظر السابق ص 101 - 111.

(3) مصطفى صادق الرافعي، تحت راية القرآن، دار الكتاب العربيّ، بيروت، ط الثامنة، 1403 - 1983 م ص 18.

(4) انظر الرافعي، تحت راية القرآن ص 22 - 25.
কবিতা ও ছন্দশাস্ত্রের মাধ্যমে। সেই সাথে বংশপরম্পরা সংরক্ষণ, পবিত্রতা এবং সেইসব কলুষতা থেকে নিষ্কলঙ্ক থাকা, যা অন্যরা মাহরাম নারীদের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে নিজেদের জন্য বৈধ করে নিয়েছিল (১)।

ইবনে ফারিসের মতে, ইসলামের আগমন এবং কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পর আরবি ভাষা তার পূর্ণতার চরম শিখরে পৌঁছেছে। ফলে আরবিতে নতুন নতুন শব্দ ও অর্থের উদ্ভব ঘটেছে, আবার কিছু শব্দ তাদের অর্থের বিলুপ্তির কারণে হারিয়ে গেছে। মূল অর্থের প্রতি অনীহা, শিষ্টাচার প্রদর্শন অথবা শরয়ি বিধান অনুসরণের কারণে কিছু শব্দকে তাদের আদি অর্থ থেকে অন্য অর্থে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ইসলাম আরবি শব্দাবলিকে মার্জিত করেছে এবং আরবদেরকে তাদের সন্তানদের নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে (২)।

আরবি ভাষা কুরআনের সাথে এমন সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে যে, একজন গবেষকের পক্ষে এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করাও কঠিন হয়ে পড়ে। রাফেয়ি বলেন: "নিশ্চয়ই এই আরবি ভাষা এমন এক দ্বীনের ভাষা যা একটি চিরন্তন ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তা হলো পবিত্র কুরআন। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল আলিম কুরআনের অলঙ্কারপূর্ণ ভাষার অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিষয়ে একমত হয়েছেন; কেবল সেইসব ধর্মদ্রোহী (زنديق) ব্যতীত যারা সত্য এড়িয়ে যায়, অথবা সেইসব মূর্খ যারা ধর্মদ্রোহীতায় লিপ্ত হয়" (৩)।

কুরআনই ইবনুল মুকাফফার মতো আরবি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ বাগ্মী ও অলঙ্কারবিদদের তৈরি করেছে। যদি কুরআন, হাদিস এবং পূর্বসূরিদের (سلف) কিতাব ও সাহিত্য না থাকত, তবে তাঁর মতো ব্যক্তিদের জন্ম হতো না (৪)।

অমুসলিমরা সচেতনভাবে এবং অন্তরে ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তিরা অবচেতনভাবে মুসলিমদেরকে তাদের কুরআন ও কুরআনের ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা চালায়। এমনকি তাদের কেউ কেউ রাফেয়ির রচনাশৈলীর সমালোচনা করেছে এবং তাকে 'কুরআনিক বাক্যরীতি' পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা মূলত সেই উচ্চাঙ্গের ভাষা ও উন্নত শৈলীকে বুঝিয়েছে, যা লেখককে কুরআনের ভাষা, শৈলী এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাচনভঙ্গির উচ্চতায় উন্নীত করে...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৭৬ - ৭৭।

(২) দ্রষ্টব্য: পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ১০১ - ১১১।

(৩) মোস্তফা সাদিক রাফেয়ি, তাহতা রাইয়াতিল কুরআন, দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত, ৮ম সংস্করণ, ১৪০৩ - ১৯৮৩ খ্রি., পৃ. ১৮।

(৪) দ্রষ্টব্য: রাফেয়ি, তাহতা রাইয়াতিল কুরআন, পৃ. ২২ - ২৫।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ১১)
وسلم وأصحابه، وفصحاء العرب، وأدباء العربيّة، فهذا القرآن كما هو نور لعقولنا، وحياة لقلوبنا هو حلاوة على ألسنتنا، شارة كمالٍ في منطقنا وبياننا:

يديرونني عن سالمٍ وأُديرُهُمْ … وجلدة بين العين والأنف سالمُ

يخاتلوننا ليصرفونا عن لغة القرآن وبيانه، كما خاتلونا ليصرفونا عن العمل به وتلاوته، حتى صار التجديد في اللغة والبيان عند كثيرٍ هو التخلِّي عن لُغةِ القرآن وبيانه، والانسياق وراء الرطانة الأعجمية، واللُّكنة المعوجّة، والدعوة إلى أن نسوّد الصفحات بأحرفٍ عربيّة، ولغةٍ غير عربيّة، وإن تحلّت بزيِّها ورسِمَتْ برسمها (1) . فالقرآن هو سرُّ هذه اللغة، وحياتها، قال الرافعيُّ: "إنّ هذه العربيَّة بُنيَتْ على أصلٍ سحريّ يجعل شبابها خالداً عليها، فلا تهرم ولا تموتُ؛ لأنّها أُعِدَّتْ من الأَزَلِ فلكاً دائِراً للنيِّرين الأرضيين العظيمين: كتاب الله، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، ومن ثَمَّ كانت فيها قُوَّةٌ عجيبةٌ من الاستهواء، كأنّها أخذةُ السِّحر، لا يملك معها البليغ أن يأخذ أو يدع" (2) .

وكُلُّ حربٍ يديرها أعداؤنا وعملاؤهم للفصاحة والبلاغة، والبيان العالي لا يُقْصَدُ بها حرب اللسان والبيان، وإنما هي حربٌ لأصلهما من قرآنٍ وحديثٍ، وكلام سلف (3) .

وكان العلم باللغة شرطاً للإمامة في علوم الدّين، وصفةً على غايةٍ من الأهمّية للأئمّةِ المجتهدين، وكان الشافعي خير مثالٍ لذلك، فقد كان له محلٌّ

--------------------------------------------

(1) ينظر نحوٌ من هذا في كتاب الرافعي، تحت راية القرآن ص 26 - 33.

(2) الرافعي، تحت راية القرآن ص 31.

(3) انظر كلمة الأمير شكيب أرسلان، ضمن كتاب "تحت راية القرآن" ص 34 - 42.
ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ, আরবের প্রাঞ্জলভাষী ব্যক্তিবর্গ এবং আরবি সাহিত্যের পণ্ডিতগণ। সুতরাং এই কুরআন যেমন আমাদের বুদ্ধিবৃত্তির জন্য নূর এবং অন্তরের জন্য জীবন, তেমনি এটি আমাদের রসনায় মাধুর্য এবং আমাদের বাকপটুতা ও বর্ণনায় পূর্ণতার প্রতীক:

তারা আমাকে সালিম থেকে সরিয়ে নিতে চায়, আর আমিও তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে চাই … অথচ সালিম হলো (আমার কাছে) দুই চোখ ও নাকের মধ্যবর্তী চামড়ার মতো (অত্যন্ত প্রিয়)।

তারা আমাদের প্রতারিত করতে চায় যাতে আমাদের কুরআনের ভাষা ও এর অলংকার থেকে বিমুখ করতে পারে, ঠিক যেমন তারা আমাদের ধোঁকা দিয়েছিল যাতে আমাদের এর ওপর আমল ও তিলাওয়াত থেকে বিমুখ করতে পারে। এমনকি অনেকের কাছে ভাষা ও অলংকারের ক্ষেত্রে আধুনিকতা মানেই হয়ে দাঁড়িয়েছে কুরআনের ভাষা ও বর্ণনাভঙ্গি বর্জন করা এবং অনারব অস্পষ্টতা (رطانة أعجمية) ও বিকৃত উচ্চারণের (لكنة معوجة) পেছনে ছুটে চলা। আর তারা এমন আহ্বান জানায় যেন আমরা পাতাগুলোকে আরবি হরফে কালো করি অথচ ভাষাটি হবে অনারবি, যদিও তা আরবির রূপ ধারণ করে এবং আরবির আদলে অঙ্কিত হয় (১)। সুতরাং কুরআনই হলো এই ভাষার রহস্য ও প্রাণ। আল-রাফেয়ী বলেন: "নিশ্চয়ই এই আরবি ভাষা এমন এক জাদুকরী ভিত্তির ওপর নির্মিত যা এর যৌবনকে চিরস্থায়ী করে তোলে; ফলে এটি জরাগ্রস্ত হয় না এবং মরেও যায় না। কারণ অনাদিকাল থেকেই একে পৃথিবীর দুটি মহান আলোকবর্তিকা—আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ-এর বিচরণক্ষেত্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে এর মাঝে রয়েছে মোহাবিষ্ট করার এক অদ্ভুত শক্তি, যেন তা এক জাদুকরী প্রভাব, যার সামনে কোনো বাগ্মী ব্যক্তির গ্রহণ করা বা বর্জন করার অবকাশ থাকে না" (২)।

আমাদের শত্রু এবং তাদের দোসররা প্রাঞ্জলতা (فصاحة), অলংকার (بلاغة) এবং উচ্চাঙ্গের বর্ণনার বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ পরিচালনা করে, তার উদ্দেশ্য কেবল ভাষা বা বর্ণনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা নয়; বরং তা হলো এ দুটির মূল উৎস—কুরআন, হাদিস এবং পূর্বসূরিদের (سلف) বাণীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ (৩)।

দ্বীনি ইলমে নেতৃত্বের (إمامة) জন্য ভাষাজ্ঞান ছিল একটি শর্ত এবং মুজতাহিদ (مجتهدين) ইমামগণের জন্য এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য। ইমাম শাফেয়ী এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ ছিলেন, তাঁর ছিল এক সুউচ্চ মর্যাদা...

--------------------------------------------

(১) আল-রাফেয়ীর কিতাব 'তাহতা রায়াতিল কুরআন', পৃষ্ঠা ২৬-৩৩ দ্রষ্টব্য।

(২) আল-রাফেয়ী, 'তাহতা রায়াতিল কুরআন', পৃষ্ঠা ৩১।

(৩) আমির শাকিব আরসালানের বক্তব্য দেখুন, 'তাহতা রায়াতিল কুরআন' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত, পৃষ্ঠা ৩৪-৪২।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ১২)
من اللغة، شهد به أهلها (1) ، حتى عدّوا قوله حُجّة فيها، وجعلوه كبطنٍ من بطون العرب (2) . قال ثعلب: يأخذون على الشافعي، وهو من بيت اللغة، يجب أن يؤخذ عنه (3) . وقد قرأ عليه الأصمعيُّ، واستفاد منه مع كبر سنِّه، وتقدُّمه في العلم والأدب (4) .

وأثنى عليه أهل اللغة الأوائل كابن قتيبة (5) (ت 276 هـ) وأبي القاسم الخوافي (6) (ت 450 هـ) وأبي بكر بن دريد (7) (321 هـ) وأبي منصور الأزهريّ (ت 370 هـ) بقوله "وألفيت أبا عبد الله محمد ابن إدريس الشافعيّ (أنار الله برهانه، ولقّاه رضوانه) أثقبهم بصيرةً، وأبرعهم بياناً، وأغزرهم علماً، وأفصحهم لساناً، وأجزلهم ألفاظاً، وأوسعهم خاطراً فسمِعْتُ مبسوطَ كتبه، وأمّهاتِ أصوله من بعض مشايخنا، وأقبلْتُ على دراستها دهراً، وأسنفْتُ بما استكثْرتُه من علم اللغة على تفهُّمها؛ إذْ كانت ألفاظه عربيَّةً محضة، ومن عجمة المولَّدين مصونة" (8) .

وقد جرتِ الأُمَّة على تفضيل المقدّمين في علم العربية في طلب القراءة،

--------------------------------------------

(1) أبو بكرٍ أحمد بن الحسن البيهقي (ت 458 هـ) كتاب الرّد على الانتقاد على الشافعيّ في اللُّغة، تحقيق عبد الكريم بكّار، دار البخاريّ، بريدة،

ص 32.

(2) البيهقي، الردّ على انتقاد الشافعي ص 29.

(3) البيهقي، الردّ على انتقاد الشافعي ص 30.

(4) السابق ص 30.

(5) السابق ص 30.

(6) السابق ص 31.

(7) السابق ص 31.

(8) الأزهري، أبو منصور محمد بن أحمد (ت 370) / الزاهر في غريب ألفاظ الشافعي الذي أودعه المُزَنيّ في مختصره/ ط الأولى/ سنة 1399 - 1979 م، وزارة الأوقاف / الكويت ص 33 - 34. وقد نقله البيهقي في الردّ على انتقادات الشافعي ص 32.
ভাষার পারদর্শিতা থেকে, ভাষা বিশেষজ্ঞগণ এর সাক্ষ্য দিয়েছেন (১), এমনকি তাঁরা তাঁর বক্তব্যকে এক্ষেত্রে একটি প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তাঁকে আরবদের একটি মূল গোত্রীয় আভিজাত্যের স্তরে স্থান দিয়েছেন (২)। সালাব বলেন: তারা শাফেয়ীর সমালোচনা করে, অথচ তিনি ভাষার আধার বা কেন্দ্রবিন্দু থেকে আগত; তাঁর থেকেই ভাষা গ্রহণ করা উচিত (৩)। আল-আসমায়ী তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং নিজের বার্ধক্য ও জ্ঞান ও সাহিত্যে অগ্রসরতা সত্ত্বেও তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন (৪)।

পূর্ববর্তী ভাষাবিদগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন, যেমন ইবনে কুতায়বাহ (৫) (ওফাত ২৭৬ হি.), আবুল কাসিম আল-খাওয়াফি (৬) (ওফাত ৪৫০ হি.), আবু বকর ইবনে দুরাইদ (৭) (৩২১ হি.) এবং আবু মনসুর আল-আযহারী (ওফাত ৩৭০ হি.)। আল-আযহারী বলেন: "আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ীকে (আল্লাহ তাঁর দলিলসমূহকে উজ্জ্বল করুন এবং তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টি দান করুন) তাদের মধ্যে সর্বাধিক তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন, চমৎকার বর্ণনাভঙ্গির অধিকারী, জ্ঞানের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ, সর্বাধিক বিশুদ্ধ ভাষী, বলিষ্ঠ শব্দ ব্যবহারকারী এবং অধিক প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হিসেবে পেয়েছি। আমি আমাদের জনৈক শায়খের কাছ থেকে তাঁর মাবসুত কিতাবসমূহ এবং তাঁর মৌলিক উসুলসমূহ (أصول) শ্রবণ করেছি। আমি দীর্ঘকাল এগুলো অধ্যয়নে নিবিষ্ট ছিলাম এবং ভাষাবিজ্ঞানের যে বিপুল জ্ঞান আমি অর্জন করেছি তা দিয়ে এগুলো অনুধাবনের চেষ্টা করেছি; কেননা তাঁর শব্দসমূহ ছিল খাঁটি আরবি এবং তা পরবর্তী যুগের অনারব প্রভাব থেকে সুরক্ষিত" (৮)।

আর কিরাত (কুরআন পাঠ) শিখার ক্ষেত্রে আরবি ভাষায় পারদর্শীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যাপারে উম্মাহর ঐকমত্য রয়েছে,

--------------------------------------------

(১) আবু বকর আহমদ বিন আল-হাসান আল-বায়হাকী (ওফাত ৪৫৮ হি.), কিতাবুর রাদ্দ আলা আল-ইনতিকাদ আলা আশ-শাফেয়ী ফিল লুগাহ, তাহকিক: আব্দুল কারিম বাক্কার, দারুল বুখারি, বুরাইদাহ,

পৃষ্ঠা ৩২।

(২) বায়হাকী, আর-রাদ্দ আলা ইনতিকাদ আশ-শাফেয়ী পৃষ্ঠা ২৯।

(৩) বায়হাকী, আর-রাদ্দ আলা ইনতিকাদ আশ-শাফেয়ী পৃষ্ঠা ৩০।

(৪) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৩০।

(৫) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৩০।

(৬) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৩১।

(৭) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৩১।

(৮) আল-আযহারী, আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন আহমদ (ওফাত ৩৭০) / আয-যাহের ফি গারিব আলফাজ আশ-শাফেয়ী আল্লাযি আওদাআহু আল-মুযানী ফি মুখতাসারিহি / ১ম প্রকাশ / বছর ১৩৯৯ - ১৯৭৯ খ্রি., ধর্ম মন্ত্রণালয় / কুয়েত পৃষ্ঠা ৩৩ - ৩৪। এবং বায়হাকী এটি আর-রাদ্দ আলা ইনতিকাদাত আশ-শাফেয়ী-এর ৩২ পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
والسنة، وعلوم الشريعة. قال أبو حاتم: "من أراد السُّنَّة والأمر العتيق في الدين وقراءة القرآن، فليكن ميله إلى الحرمين وأهل البصرة، فإنّهم أصحاب اقتصادٍ في القراءة، وعلم بها وبعللها، ومذاهبها، ومجاري كلام العرب ومخارجها، وكان منهم علماء الناس بالعربيّة وكلام العرب، وكان منهم أبو الأسود الدُّؤليّ، وأبو الحارث ابنه، ويحيى بن يعمر العدواني، وعبد الله بن أبي إسحاق من بعد، وأبو عمرو بن العلاء، وعيسى بن عمر، ويونس بن حبيبَ، والخليل بن أحمد، وأبو زيدٍ، وسيبويه، والأخفش، فهؤلاء الأئمةُ في هذا الشأن، ثمّ بنى على ذلك من جاء بعدهم من علماء اللغة، وتفتَّقَتْ لهم الفِطَنُ، وصرف إليه كثير من النّاسِ هممهم، حتّى جعلوا له ديواناً يفزع إليه، ويعتمد عليه، وجعلوه للغة العرب معياراً، فإذا وجدوا اللّحن في كلامهم وزنوه به فقوَّموه، لأنَّ اللحنَ يزيل الحرفَ عن معناه، ويحيد به عن سننه، وليس هذا لسائر

الأمم، وهو علمٌ جسيم، له خطرٌ عظيم" (1) .

والحاجة إلى علوم العربية في علوم الدين كانت هي الدافع لحفظ لغة العرب، وشعرها، وكلامها، وأمثالها، وأنسابها، وسائر علومها، قال أبو حاتم: "ولولا ما بالناس من الحاجة إلى معرفة لغة العرب، والاستعانة بالشعر على العلم بغريب القرآن وأحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، والصحابة، والتابعين، والأئمّة الماضين، لبطل الشعر، وانقرض ذكر الشعراء، ولعفَّى الدّهرُ على آثارهم، ونسي النَّاسُ أيَّامَهم، ولكنّ الحاجة بالمسلمين ماسَّةٌ إلى تعلُّم اللغة العربيّة، ومعاني الألفاظ الغريبة في القرآن والحديث، والأحكام والسُّنن، إذْ كانَ الإسلام قد ظهر - بحمد الله - في جميع أقطار الأرض، وأكثر أهل

--------------------------------------------

(1) أبو حاتم، الزينة ص 86 - 87.
এবং সুন্নাহ (السنة) ও শরিয়াহর ইলমসমূহ। আবু হাতিম বলেন: "যে ব্যক্তি সুন্নাহ (السنة), দ্বীনের প্রাচীন পদ্ধতি এবং কুরআন তিলাওয়াত কামনা করে, সে যেন হারামাইন ও বসরার অধিবাসীদের প্রতি অনুরাগী হয়। কেননা তাঁরা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধের অধিকারী এবং তিলাওয়াত, এর ইল্লাত বা সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل), এর মাযহাবসমূহ, আরবের বাকরীতি ও বর্ণমালার উচ্চারণস্থল সম্পর্কে বিজ্ঞ। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন আরবি ভাষা ও আরবদের বাকরীতি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তিগণ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী, তাঁর পুত্র আবুল হারিস, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর আল-আদওয়ানী, পরবর্তী সময়ের আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক, আবু আমর ইবনুল আলা, ঈসা ইবনে ওমর, ইউনুস ইবনে হাবিব, খলিল ইবনে আহমদ, আবু যায়েদ, সিবওয়াইহি এবং আল-আখফাশ। এরাই হলেন এই শাস্ত্রের ইমাম। অতঃপর তাঁদের পরবর্তী ভাষাবিদগণ এর ওপর ভিত্তি করেই জ্ঞানচর্চা করেছেন এবং তাঁদের মেধার স্ফুরণ ঘটেছে। বহু মানুষ এদিকে তাঁদের মনোযোগ নিবিষ্ট করেছেন, এমনকি তাঁরা একে এমন এক দপ্তরে পরিণত করেছেন যার শরণাপন্ন হওয়া যায় এবং যার ওপর নির্ভর করা যায়। তাঁরা একে আরবি ভাষার মানদণ্ড হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। ফলে যখনই তাঁরা কথার মধ্যে ব্যাকরণগত ভুল খুঁজে পান, তখন এর মাধ্যমে তা ওজন করেন এবং সংশোধন করেন। কেননা ভুল অর্থ থেকে বর্ণকে বিচ্যুত করে এবং এর সঠিক পদ্ধতি থেকে সরিয়ে দেয়। এটি অন্য কোনো উম্মতের

ক্ষেত্রে নেই এবং এটি এক বিশাল জ্ঞান, যার গুরুত্ব অপরিসীম।" (১) ।

আর দ্বীনি ইলমসমূহের ক্ষেত্রে আরবি ভাষার প্রয়োজনীয়তাই ছিল আরবদের ভাষা, কবিতা, কথা, প্রবাদ-প্রবচন, বংশলতিকা এবং তাদের অন্যান্য জ্ঞান সংরক্ষণের মূল চালিকাশক্তি। আবু হাতিম বলেন: "যদি মানুষের মাঝে আরবি ভাষা জানার প্রয়োজনীয়তা এবং কুরআন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী, তাবিঈ ও পূর্বসূরী ইমামগণের হাদিসের অপরিচিত শব্দাবলি (غريب) বোঝার জন্য কবিতার সাহায্য নেওয়ার আবশ্যকতা না থাকত, তবে কবিতা বিলুপ্ত হয়ে যেত, কবিদের চর্চা বন্ধ হয়ে যেত, মহাকাল তাদের নিশান মুছে দিত এবং মানুষ তাদের দিনগুলোর কথা ভুলে যেত। কিন্তু মুসলমানদের জন্য আরবি ভাষা শেখা এবং কুরআন ও হাদিসের অপরিচিত শব্দের অর্থ, বিধান ও সুন্নাহ (سنن) জানা অত্যন্ত জরুরি। কেননা আল্লাহর প্রশংসায় ইসলাম পৃথিবীর সকল প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং অধিকাংশ লোক...

--------------------------------------------

(১) আবু হাতিম, আয-যীনাহ পৃ. ৮৬ - ৮৭।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الإسلام من الأمم هم عجمٌ، وقد دعتهمُ الضرورةُ إلى تعلُّم لغة العرب، إذْ كانتِ الأحكام والسُّنن مُبَيَّنةً بلسان العرب " (1) .

ولم تكن هذه الحاجة ظاهرةً في عهد النبوّة وصدر الإسلام، لاستغنائهم بسلائقهم وما يسمعونه من كلام العرب؛ إذ كان الكلام مدركاً مفهوماً، وسنن العرب في كلامها ظاهرة معلومة: "قال أبو عبيدة: إنّما أنزل القرآن بلسانٍ عربى مبين، وتصديق ذلك في آيةٍ من القرآن {بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء: 195] وفي آيةٍ أخرى {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ} [إبراهيم: 4] قال: ولم يحتجِ السلف ولا الّذين أدركوا وحْيَه إلى أن يسألوا النّبيَّ صلى الله عليه وسلم عن معانيه؛ لأنّهم كانوا عرب الألسُنِ، فاستغنوا بعلمهم عن معانيه، وعمّا فيه ممّا في كلام العرب مثله من الوجوه والتخليص، قال الزُّهْريُّ: إنّما أخطأَ النّاسُ في كثيرٍ من تأويل القرآن لجهلهم بلغة العرب. قال أبو عبيدٍ: سمعْتُ الأصمعيّ يقولُ: سمعْتُ الخليل بن أحمد يقولُ: سمعْتُ أبا أيُّوبَ السِّخْتياني يقول: عامَّةُ من تزندقَ بالعراق لقلَّةِ علمهم بالعربيّة" (2) .

وقد قام علماء العربية بواجبهم نحو الدين والقرآن، فجمعوا ما الحاجة داعية إلى جمعه، ودوّنوا ما علوم الشريعة مفتقرة إليه، ونظّموه بطرق تيسّر الوصول إليه، قال أبو حاتم: "ورأينا العلماء باللغة العربيّة قد كفوا النّاسَ مئونة هذا الشأن، وأحكموه إحكاماً بيّناً، لما دوّنوه من أشعار الشعراء، وألَّفوه من المصنّفاتِ، ووصفوه من الصفات في كُلِّ ما قدروا عليه، ممّا يحتاج النّاس إلى استدراكه، حّتى لعلّه لم تفتهم كلمةٌ غريبةٌ، ولا حرفٌ نادر إلاّ وقد

--------------------------------------------

(1) السابق ص 123.

(2) السابق ص 123 - 124.
ইসলামে প্রবেশকারী জাতিসমূহের মধ্যে যারা অনারব ছিলেন, তাদের নিকট আরবি ভাষা শিক্ষা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল; কেননা বিধিবিধান (الأحكام) ও সুন্নাহ (السنن) আরবি ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। (১) ।

নবুওয়াতের যুগে এবং ইসলামের প্রারম্ভিক সময়ে এই প্রয়োজনীয়তা প্রকট ছিল না, কারণ তারা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি (سلائق) এবং আরবদের নিকট থেকে যা শুনতেন তার মাধ্যমেই অভাবমুক্ত ছিলেন; ফলে কথোপকথন ছিল সহজবোধ্য এবং আরবদের বাকরীতি ছিল সুস্পষ্ট ও সুবিদিত: "আবু উবাইদাহ বলেন: নিশ্চয়ই কুরআন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যার সত্যতা কুরআনের এই আয়াতে বিদ্যমান: {সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়} [আশ-শুআরা: ১৯৫] এবং অন্য একটি আয়াতে: {আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর নিজ কওমের ভাষায় প্রেরণ করেছি, যেন তিনি তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন} [ইব্রাহিম: ৪]। তিনি বলেন: সালাফ (السلف) এবং যারা ওহি (الوحي) অবতীর্ণ হওয়ার সময়কাল প্রত্যক্ষ করেছেন, তাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এর অর্থ জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন পড়েনি; কারণ তারা ছিলেন আরবি ভাষী। সুতরাং তাদের নিজস্ব জ্ঞানই তাদেরকে এর অর্থ অনুধাবন এবং আরবদের বাকপদ্ধতিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন দিক ও সূক্ষ্ম পার্থক্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে অন্যদের মুখাপেক্ষীহীন করেছিল। ইমাম যুহরী বলেন: মানুষ কুরআনের অনেক ব্যাখ্যা (تأويل) করার ক্ষেত্রে ভুল করেছে মূলত আরবি ভাষা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারণে। আবু উবাইদ বলেন: আমি আসমায়িকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি খলিল ইবনে আহমদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আইয়ুব আল-সিখতিয়ানিকে বলতে শুনেছি: ইরাকে যারা ধর্মহীনতায় (تزندق) লিপ্ত হয়েছে, তাদের অধিকাংশেরই আরবি ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান ছিল যৎসামান্য।" (২) ।

আরবি ভাষার আলেমগণ দ্বীন ও কুরআনের প্রতি তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। তারা প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ সংগ্রহ করেছেন এবং শরয়ি বিজ্ঞান (علوم الشريعة) যার মুখাপেক্ষী তা সংকলন করেছেন; আর তা এমন সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন যাতে সহজে তা আয়ত্ত করা যায়। আবু হাতিম বলেন: "আমরা দেখেছি যে, আরবি ভাষাবিদগণ এই বিষয়ের ভার বহন করে মানুষকে দায়মুক্ত করেছেন এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সুসংহত করেছেন। তারা কবিদের কাব্যগাথা সংকলন করেছেন, বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিয়েছেন; এমনকি সম্ভবত কোনো অপরিচিত (غريبة) শব্দ বা বিরল (نادر) অক্ষরও তাদের অগোচরে থাকেনি, বরং তা..."

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত, পৃ. ১২৩।

(২) পূর্বোক্ত, পৃ. ১২৩ - ১২৪।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ربطوه بأوثقِ رباطٍ، وعقلوه بأحكم عقالٍ، ورسموا في ذلك رسوماً، وعوّلوا في ذلك كلّه على الشعر، والاحتجاج به، وهذا للغة العرب خصوصاً ليس هو لسائر لُغاتِ الأمم، وذلك كُلُّه لشدّة حاجة الناسِ إلى معرفة لغة العرب، ليصلوا به إلى ما ذكرنا من معاني القرآن والألفاظ الغريبة فيه، وفي أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين، والأئمة الماضين، وما يجيء في الشريعة من الأسامي في أصول الفرائض والسُّنن، ممّا الجهل به نقص ظاهر على المرء المسلم، وشينٌ فاضح على كُلِّ ذي دين ومروءة " (1) .

وأمّا عامة المسلمين، وطُلاّب القرآن وعلم الشريعة خاصة، فقد أقبلوا على العربية، يتلقّنونها، ويتعلّمون ما فيها من سنن الكلام وطرائقه، وألفاظه ومعانيه، ويتذوّقون وجوه البلاغة فيه والبيان، امتثالاً لأمر من تجب طاعته، ورغبةً في التفقّه في الدين الذي لا يتمّ إلاّ بمعرفة اللغة. قال أبو حاتم: " وقد حثَّ النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه على تعلُّم اللغة والإعراب، روى أبو عُبيدٍ بإسنادٍ له عن أبي هريرة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أعربوا القرآن [والتمسوا غرائبه] (2) .

وعن ابن مسعودٍ قال: "أعربوا القرآن فإنّه عربيٌّ" وقال عمر بن الخطاب: "تعلّموا إعراب القرآن كما تتعلّمون حفظه" وفي حديثٍ آخر قال عمر: "تعلّموا اللَّحْنَ والفرائض والسُّنَّة كما تتعلّمون القرآن"

وعن يحيى بن عتيق قال: "سألت الحَسَن، فقلت: الرَّجُلُ يتعلّم العربيّة يلتمس بها المنطق، ويقيم بها قراءته، فقال الحَسَنُ: فتعلَّمْها، فإنّ الرجل يقرأ الآية، فيعيا بوجهها، فيهلك فيها.

--------------------------------------------

(1) السابق ص 134.

(2) السابق ص 124 وقد عزا المحقّق الحديث إلى ابن أبي شيبة، والحاكم، والبيهقيّ.
তারা একে অত্যন্ত মজবুত বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন এবং সুদৃঢ় রজ্জু দিয়ে বেঁধেছেন। এ বিষয়ে তারা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন এবং এই সবকিছুর ক্ষেত্রে তারা আরব্য কবিতার ওপর ও তার মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের (الاحتجاج به) ওপর নির্ভর করেছেন। এটি বিশেষভাবে আরবি ভাষার বৈশিষ্ট্য, যা অন্য জাতিসমূহের ভাষার জন্য নয়। আর এই সবকিছুর মূলে রয়েছে আরবি ভাষা সম্পর্কে মানুষের প্রবল প্রয়োজনীয়তা, যাতে তারা এর মাধ্যমে আমরা ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করেছি সেই কুরআনের অর্থাবলি ও এর মধ্যকার অপরিচিত শব্দাবলি (الألفاظ الغريبة), এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী ও তাবিঈগণ এবং পূর্ববর্তী ইমামগণের হাদিসসমূহ এবং শরিয়তের মৌলিক বিধানসমূহ (أصول), উত্তরাধিকার আইন (الفرائض) ও সুন্নাহর ক্ষেত্রে যেসব পারিভাষিক নাম ব্যবহৃত হয় সেগুলোর মর্ম অনুধাবন করতে পারেন। এসব বিষয়ে অজ্ঞতা একজন মুসলিমের জন্য সুস্পষ্ট ত্রুটি এবং প্রতিটি ধর্মপ্রাণ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য এক লজ্জাজনক কলঙ্ক।" (১) ।

আর সাধারণ মুসলিম এবং বিশেষ করে কুরআন ও শরিয়াহর ইলম অন্বেষণকারীরা আরবি ভাষার দিকে মনোনিবেশ করেছেন। তারা এটি রপ্ত করছেন এবং এর বাচনভঙ্গি, রীতি-পদ্ধতি, শব্দাবলি ও অর্থাবলি শিখছেন। তারা এর অলঙ্কারশাস্ত্র (البلاغة) ও বর্ণনাভঙ্গির (البيان) স্বাদ আস্বাদন করছেন। এটি মূলত সেই সত্তার আদেশ পালনার্থে যার আনুগত্য করা ওয়াজিব, এবং দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের (التفقّه في الدين) আকাঙ্ক্ষায়, যা ভাষা জ্ঞান ছাড়া পরিপূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। আবু হাতিম বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের ভাষা ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (الإعراب) শেখার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। আবু উবায়দ তাঁর নিজস্ব বর্ণনাসূত্র (إسناد) সহকারে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'তোমরা কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (أعربوا) করো [এবং এর বিরল শব্দাবলি (غرائبه) অনুসন্ধান করো]'" (২) ।

ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমরা কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (أعربوا) করো, কারণ এটি আরবি ভাষা।" উমর ইবনুল খাত্তাব বলেন: "তোমরা কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) শেখো যেভাবে তোমরা কুরআন মুখস্থ করা শেখো।" অন্য একটি হাদিসে উমর বলেন: "তোমরা ব্যাকরণ বা শুদ্ধ ভাষা (اللحن), উত্তরাধিকার আইন (الفرائض) ও সুন্নাহ শেখো যেভাবে তোমরা কুরআন শেখো।"

ইয়াহইয়া ইবনে আতিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি হাসান [আল-বাসরি]-কে জিজ্ঞাসা করলাম: কোনো ব্যক্তি সুন্দরভাবে কথা বলা এবং স্বীয় কিরাত শুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আরবি ভাষা শেখে, [এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?]" হাসান বললেন: "তবে তা শেখো; কেননা মানুষ অনেক সময় কোনো আয়াত পাঠ করে কিন্তু তার সঠিক দিক বা মর্মার্থ (وجهها) অনুধাবন করতে অপারগ হয়ে পড়ে, ফলে সে তাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।"

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত, পৃ. ১৩৪।

(২) পূর্বোক্ত, পৃ. ১২৪; মুহাক্কিক এই হাদিসটিকে ইবনে আবি শায়বাহ, হাকিম ও বায়হাকির দিকে সম্বন্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
فلمّا كان كذلك راضَ الناسُ أنْفُسَهم بتعلُّم العربيّة، ولم يجدوا إلى ذلك سبيلاً أوضح من الشعر، فحفظوا دواوين الشعراء، وأحكموها … " (1) .

وقد سبق أبو حاتم إلى تقرير الاحتجاج، وأورد قِصَّة ابن عبّاسٍ مع نافع بن الأزرق، فقال: ((وقد احتجَّ العلماء من الصحابة والتابعين، ومن بعدهم من الفقهاء في غريب القرآن والحديث بالشعر، وقد رُوِيَ ذلك عنهم، روى أبو عُبيدةَ بإسنادٍ له عن عكرمة، قال: رأيْتُ ابْنَ عبّاسٍ وعنده نافعٍ ابن الأزرق، وهو يسأله، ويطلب منه الاحتجاجَ باللُّغة، فسأله عن قول الله عز وجل {وَاللَّيْلِ وَمَا وَسَقَ} [الانشقاق: 17] ، فقال: وما جمع، ألم تسمع:

مُسْتَوْسِقاتٍ لو يَجِدْن سائقاً

قال: وسأله عن قوله: {قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيّاً} [مريم: 24] فقال: هو الجدول، فسأله عن الشاهد، فأنشده:

سلماً ترى الدّالج منه أْزَوَرا … إذا يَمُجُّ في السَّرِيِّ هَرْهرا

وسأله عن قوله: {عُتُلٍّ بَعْدَ ذَلِكَ زَنِيمٍ} [القلم: 13] قال: هو الدَّعِيُّ المُلْصَقُ، أَما سمعْتَ قولَ حَسَّان:

زنيمٌ تداعاه الرِّجال زيادةً … كما زيد في عرض الأديم الأكارِعُ

وروي عن أبي عبيدة أنّه سأله عن قول الله تعالى {وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ} [القيامة: 29] فقال: الشِّدَّة بالشِّدَّة، فسأله عن الشاهد، فأنشده:

أخو الحربِ إنْ عَضَّتْ به الحَرْبُ عَضَّها … وإن شَمَّرتْ عن ساقها الحربُ شَمَّرا

--------------------------------------------

(1) السابق ص 124 - 125.
যখন পরিস্থিতি এমন হলো, তখন মানুষ আরবি ভাষা শেখার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করল। তারা এর জন্য কবিতা অপেক্ষা অধিকতর স্পষ্ট কোনো পথ খুঁজে পেল না। তাই তারা কবিদের কাব্যগ্রন্থগুলো মুখস্থ করল এবং সেগুলোতে পারদর্শী হলো … (১)।

আবু হাতিম দলিল হিসেবে গ্রহণ করার (الاحتجاج) বিষয়টি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নাফে ইবনুল আজরাকের সাথে ইবনে আব্বাসের ঘটনাটি উল্লেখ করে বলেন: "সাহাবি, তাবেয়ি এবং তাঁদের পরবর্তী ফকিহগণ কোরআন ও হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দাবলির (غريب القرآن والحديث) ক্ষেত্রে কবিতা দ্বারা দলিল পেশ (الاحتجاج) করেছেন। এটি তাঁদের পক্ষ থেকে বর্ণিত (رُوِيَ) হয়েছে। আবু উবায়দাহ তাঁর একটি সনদ (إسناد) সহকারে ইকরিমা থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে দেখেছি, তাঁর নিকট নাফে ইবনুল আজরাক উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁকে প্রশ্ন করছিলেন এবং ভাষার মাধ্যমে দলিল পেশের (الاحتجاج) দাবি জানাচ্ছিলেন। তিনি তাঁকে মহান আল্লাহর বাণী {وَاللَّيْلِ وَمَا وَسَقَ} [ইনশিকাক: ১৭] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এর অর্থ হলো 'যা কিছু সে একত্রিত করেছে'। তুমি কি শোনোনি:

একত্রিত হয়েছে (مُسْتَوْسِقاتٍ), যদি তারা একজন চালক খুঁজে পেত...

তিনি বলেন: এরপর তিনি তাঁকে আল্লাহর বাণী {قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيّاً} [মারইয়াম: ২৪] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এর অর্থ হলো ছোট নদী। এরপর তিনি এর স্বপক্ষে প্রমাণ চাইলেন, তখন তিনি তাকে এই কবিতা শোনালেন:

তুমি শান্ত অবস্থায় পানি উত্তোলনকারীকে দেখতে পাবে … যখন সে ছোট নদীতে (السَّرِيِّ) শব্দ করে পানি ঢালে।

এরপর তিনি তাঁকে আল্লাহর বাণী {عُتُلٍّ بَعْدَ ذَلِكَ زَنِيمٍ} [কলম: ১৩] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: সে হলো বংশের সাথে জোরপূর্বক জুড়ে দেওয়া ব্যক্তি। তুমি কি হাসসানের কথা শোনোনি:

সে এমন এক জনিম (زنيمٌ), পুরুষরা তাকে বাড়তি হিসেবে দাবি করে … যেমন চামড়ার পাশে পশুর পায়ের অতিরিক্ত অংশ জুড়ে দেওয়া হয়।

আবু উবায়দাহ থেকে বর্ণিত (رُوِيَ) হয়েছে যে, তিনি তাঁকে মহান আল্লাহর বাণী {وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ} [কিয়ামাহ: ২৯] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এর অর্থ হলো এক কঠোরতা অন্য কঠোরতার সাথে মিলিত হওয়া। তিনি এর স্বপক্ষে প্রমাণ চাইলেন, তখন তিনি তাকে শোনালেন:

সে যুদ্ধের সাথী; যুদ্ধ যখন তাকে দংশন করে, সে-ও তাকে দংশন করে … আর যুদ্ধ যখন তার পায়ের নলা উন্মোচন করে (প্রস্তুতি নেয়), সে-ও তখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১২৪ - ১২৫।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وروى أبو عبيدة أيضاً عن ابن عبّاسٍ أنّه كان يُسْأَلُ عن قول الله تعالى {فَإِذَا هُمْ بِالسَّاهِرَةِ} [النازعات: 14] قال: الأرض، وأنشد لأمية بن أبي الصَّلْت:

وفيها لحم ساهرةٍ وَبحْرِ

وقال أبو عُبيدةَ: يجوز هذا عندي فيما كان من الغريب والإعراب، فأمّا ما كان من الحلال والحرام، والأمر والنّهي، والنّاسخ والمنسوخ، فليس لبشرٍ أن يتكلّم فيه برأيه إلاّ ما فسَّرته سُنَّةُ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم وقال فيه الصحابة والتابعون بإحسانٍ بعدهم)) (1) .

وشيء آخر يدفع الناس إلى طلب العربية، هو حجيّتها، وكونها دليلاً شرعياً فيما يرجع فيه إلى اللغة عند الخلاف: "إذا كان التنازُعُ في اسم أوصفةٍ، أو شيءٍ ممّا تستعمله العربُ العربُ من سننها في حقيقةٍ ومجاز، وما أشبه ذلك " (2) .

وقد رتَّب ابن فارسٍ على هذا أن جعل: " العلم بلغة العرب واجباً على كُلِّ متعلِّقٍ من العلم بالقرآن والسنة والفتيا بسبب، حتّى لا غناء بأحدٍ منهم عنه، وذلك أنّ القرآن نازلٌ بلغة العرب، ورسول الله صلى الله عليه وسلم عربيٌّ، فمن أراد معرفة ما في كتاب الله جلّ وعزّ وما في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم من كل كلمٍ غريب، أو نظمٍ عجيب، لم يجد من العلم باللُّغة

بُدّاً" (3) .

وهذا يفسِّر عناية ابن فارسٍ وغيره بعلوم العربيّة؛ لأنّهم ربطوها بأصلٍ

--------------------------------------------

(1) السابق ص 50.

(2) السابق ص 131 - 133.

(3) ابن فارس، الصاحبي ص 49.
আবু উবাইদাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও বর্ণনা করেছেন (روى) যে, তাকে মহান আল্লাহর বাণী {তখনই তারা একটি সমতল প্রান্তরে (الساهرة) উপস্থিত হবে} [আন-নাযিআত: ১৪] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: এটি হলো পৃথিবী। তিনি উমাইয়া ইবনে আবিস সালত-এর একটি কবিতা আবৃত্তি করলেন:

তাতে রয়েছে সমতল প্রান্তরের মাংস এবং সমুদ্র

আবু উবাইদাহ বলেন: "আমার মতে এটি বিরল শব্দ (غريب) এবং ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (إعراب) সংক্রান্ত বিষয়ে জায়েজ। তবে হালাল ও হারাম, আদেশ ও নিষেধ এবং রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সংক্রান্ত বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) এবং সাহাবী (صحابة) ও তাদের পর ইহসানের সাথে অনুসারী তাবিঈগণ (تابعون) যা ব্যাখ্যা করেছেন, তা ছাড়া অন্য কোনো মানুষের নিজস্ব মতানুসারে কথা বলা সমীচীন নয়।" (১) ।

আরেকটি বিষয় যা মানুষকে আরবি ভাষা শিখতে উদ্বুদ্ধ করে, তা হলো এর প্রামাণ্যতা (حجية) এবং মতবিরোধের সময় ভাষার শরণাপন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে একে শরয়ি দলিল (دليل شرعي) হিসেবে গণ্য করা: "যদি কোনো নাম, গুণ অথবা আরবদের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী আক্ষরিক (حقيقة) ও রূপক (مجاز) বা এই জাতীয় কোনো বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।" (২) ।

ইবনে ফারিস এর ওপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে: "আরবি ভাষার জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক সেই ব্যক্তির জন্য আবশ্যক (واجب), যে ব্যক্তি কুরআন, সুন্নাহ এবং ফতোয়া (فتيا) প্রদানের ইলমের সাথে কোনোভাবে সম্পৃক্ত, যাতে করে তাদের কেউ এটা ছাড়া অমুখাপেক্ষী হতে না পারে। আর তা এ কারণে যে, কুরআন আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন একজন আরব। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর কিতাব এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি বিরল শব্দ (غريب) অথবা এর চমৎকার গাঁথুনি সম্পর্কে জানতে চায়, তার জন্য ভাষাজ্ঞান অর্জন ছাড়া কোনো

গত্যন্তর নেই।" (৩) ।

এটিই ইবনে ফারিস এবং অন্যান্যদের আরবি ভাষার ইলমের প্রতি বিশেষ মনোযোগের কারণ ব্যাখ্যা করে; কেননা তাঁরা একে মূল ভিত্তির সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫০।

(২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৩১ - ১৩৩।

(৩) ইবনে ফারিস, আস-সাহিবী, পৃষ্ঠা ৪৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
من الأصول، وهو أنِّ اللغة لا يتمُّ فهم القرآنِ، وتنزيل الأحكام منازلها إلاّ بها، وما لا يتمُّ الواجب إلاّ به فهو واجبٌ، غير أنَّ ابن فارسٍ رفع إبهام كلامه فحدّد مراده بما يجب من علم اللُّغةِ، فقال: "ولسنا نقولُ: إنّ الذي يلزمه من ذلك الإحاطة بكلِّ ما قالته العربُ؛ لأنّ ذلك غير مقدورٍ عليه، ولا يكون إلاّ لنبيّ، كما قلناه أوّلاً، بل الواجِبُ علم أصولِ اللُّغةِ والسُّنن التي بأكثرها نزل القرآن، وجاءت السُّنَّة، فأمّا أن يكلَّف القارئ أو الفقيه أو المحدّث معرفة أوصاف الإبل، وأسماء السباع، ونعوت الأسلحة، وما قالته العربُ في الفلواتِ والفيافي، وما جاء عنهم من شواذّ الأبنية، وغرائب التصريف فلا" (1) .

وقد أكّد ابن فارسٍ قولَه هذا، وربط إتقان العربيّة ومعرفة علومها وسنن العرب في كلامها بالفقه، والفتيا، والقرآن، فقال: "فلذلك قلنا: إنّ علم اللغة كالواجب على أهل العلم؛ لئلَاّ يحيدوا في تأليفهم أو فتياهم عن سنن الاستواء.

وكذلك الحاجة إلى علم العربيّة، فإنّ الإعراب هو الفارقُ بين المعاني، ألا ترى أنَّ القائل إذا قال: ما أَحْسَن زيد، لم يُفْرَقْ بين التعجُّب، والاستفهام، والذَّمِّ، إلاّ بالإعراب، وكذلك إذا قال: (ضربَ أخوك أخانا) و (وجهُكَ وَجْهُ حُرٍّ) و (وَجْهُكَ وَجْهٌ حُرٌّ) . وما أشبه ذلك من الكلام المشتبه وقد روي عن رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلّم أنّه قال: "أعربوا القرآن " (2) .

وقد عاب ابن فارسٍ المقصّرين في علم العربية، وهم يطلبون العلوم الشرعيّة، وقارن بين أهل عصره المتساهلين في اللحن، وبين سابقيهم

--------------------------------------------

(1) السابق ص 50.

(2) السابق ص 55.
মূলনীতিসমূহের (الأصول) অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয় হলো এই যে, আরবি ভাষা ব্যতীত কুরআন অনুধাবন করা এবং বিধানসমূহকে (الأحكام) স্ব-স্ব স্থানে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়; আর যে মাধ্যম ব্যতীত কোনো ওয়াজিব (واجب) কাজ সম্পন্ন হয় না, সেই মাধ্যমটিও ওয়াজিব (واجب)। তবে ইবনে ফারিস তাঁর বক্তব্যে থাকা অস্পষ্টতা দূর করেছেন এবং ভাষাতত্ত্বের যতটুকু জানা আবশ্যক, সে সম্পর্কে তাঁর উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করেছেন। তিনি বলেন: "আমরা এটি বলছি না যে, তার জন্য আরবদের বলা সকল কথা আয়ত্ত করা আবশ্যক; কেননা এটি কারও আয়ত্তাধীন নয় এবং কোনো নবী ব্যতীত এটি সম্ভব নয়, যেমনটি আমরা পূর্বে বলেছি। বরং ভাষাতত্ত্বের মূলনীতিসমূহ (أصول اللغة) এবং সেই সকল রীতিসমূহ (السنن) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা ওয়াজিব (واجب), যেগুলোর অধিকাংশের ওপর ভিত্তি করে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং সুন্নাহ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু কোনো কারি (القارئ), ফকিহ (الفقيه) অথবা মুহাদ্দিসকে (المحدّث) উটের গুণাবলি, হিংস্র প্রাণীদের নাম, অস্ত্রের বর্ণনা, মরুভূমি ও বিজন প্রান্তরে আরবদের বলা কথা এবং তাদের থেকে বর্ণিত ব্যতিক্রমধর্মী গঠনশৈলী (شواذ الأبنية) বা দুর্লভ রূপান্তর (غرائب التصريف) সম্পর্কে জানার দায়িত্ব প্রদান করা হবে না" (১)।

ইবনে ফারিস তাঁর এই বক্তব্যকে দৃঢ় করেছেন এবং আরবি ভাষায় পারদর্শিতা ও এর জ্ঞান এবং আরবদের বাকরীতির সাথে ফিকহ (الفقه), ফতওয়া (الفتيا) ও কুরআনকে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি বলেন: "এই কারণেই আমরা বলেছি: আলেমদের জন্য ভাষাতত্ত্বের জ্ঞান রাখা ওয়াজিবের (الواجب) মতো; যাতে করে তারা তাদের গ্রন্থ রচনা বা ফতওয়া প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত না হন।

তদ্রূপ আরবি শাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য, কেননা শব্দরূপ বা ইবরাবই (الإعراب) হলো অর্থের মধ্যে পার্থক্যকারী। আপনি কি দেখেন না যে, কোনো বক্তা যখন বলেন: 'মা আহসানা যায়দ', তখন শব্দরূপ (الإعراب) ব্যতীত বিস্ময়সূচক (التعجب), প্রশ্নবোধক (الاستفهام) ও নিন্দামূলক (الذم) বাক্যের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয় না? তদ্রূপ যখন বলা হয়: 'দারাবা আখুকা আখানা' এবং 'ওয়াজহুকা ওয়াজহু হুররিন' এবং 'ওয়াজহুকা ওয়াজহুন হুররুন' এবং এই জাতীয় আরও যেসব সন্দেহযুক্ত (المشتبه) বাক্য রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তোমরা কুরআনের যথাযথ শব্দরূপ (الإعراب) আদায় করো" (২)।

ইবনে ফারিস সেই সকল ব্যক্তিদের সমালোচনা করেছেন যারা আরবি ভাষাতত্ত্বে অবহেলা করে অথচ শরয়ি জ্ঞান অর্জন করতে চায়। তিনি তাঁর সমসাময়িক যারা ব্যাকরণগত ভুলের (اللحن) ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করত, তাদের সাথে পূর্ববর্তীদের তুলনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫০।

(২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫৫।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
المجتهدين في إقامة ألسنتهم على طرائق العرب في الكلام فقال: "وقد كان النّاسُ قديماً يجتنبون اللّحن فيما يكتبونه أو يقرؤونه اجتنابَهُم بعضَ الذُّنوب، فأمّا الآنَ فقد تجوَّزوا حتَّى إنّ المحدِّث يُحدِّث فيلحن، والفقيه يؤلِّف فيلحن، فإذا نُبِّها قالا: ما ندري ما الإعراب؟ وإنّما نحن محدِّثون وفقهاءُ، فهما يُسَرَّان بما يُساءُ به اللَّبيبُ.

ولقد كلّمْتُ بعض من يذهب بنفسه ويراها من فقه الشافعيّ بالرتبة العليا في القياس، فقلت له: ما حقيقة القياس ومعناه؟ ومن أيِّ شيءٍ

هو؟ فقال: ليس عليّ هذا، وإنّما عليَّ إقامة الدّليل على صِحَّتِه.

فقُلِ الآن في رَجُلٍ يروم إقامةَ الدليل على صِحَّةِ شيءٍ لا يعرِفُ معناه، ولا يَدْري ما هو! ونعوذ بالله من سوء الاختيار! " (1) .

وتعظيم علوم العربية من أجل اتصالها بالقرآن وعلوم الشرع مستفيض منتشر، ذائع مشتهر، تجده في كتبٍ متباينة المنزع، مختلفة المشرب، وفي أقوالٍ لعلماء في علوم مختلفة، من تفسيرٍ وحديث، وفقهٍ وأصول، وأدب ولغة، ونحو وبلاغة، كلهم يجمعون على إعلاء شأن العربية، وأنّها ضرورة لمن يتصل بالقرآن وعلومه بسببٍ، ومن ذلك مقولة ياقوتٍ في مقدمة "معجم الأدباء": (هذه أخبار قومٍ عنهم أُخِذ علمُ القرآن المجيد، والحديث المفيد، وبصناعتهم تنالُ الإمارة، وببضاعتهم يستقيم أمر السلطان والوزارة، وبعلمهم يتمُّ الإسلام، وباستنباطهمُ يُعْرَفُ الحلال من الحرام، ألا ترى أنّ القارئ إذا قرأ: {أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ} [التوبة: 3] بالرفع فقد سلك طريقاً من

--------------------------------------------

(1) السابق ص 56.
যারা আরবি বাকরীতি অনুযায়ী তাদের রসনাকে সুসংহত করার জন্য সাধনা করতেন, তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন: "প্রাচীনকালে মানুষ তাদের লেখায় বা পাঠে ব্যাকরণগত ভুল বর্জন করত ঠিক যেমন তারা কিছু গুনাহ বর্জন করত। কিন্তু বর্তমানে তারা এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করছে, এমনকি একজন হাদিস বর্ণনাকারী (محدث) যখন হাদিস বর্ণনা করেন তখন ভুল করেন, এবং একজন ফকিহ যখন কিতাব রচনা করেন তখন ভুল করেন। যখন তাদের এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়, তখন তারা বলে: আমরা কি জানি ব্যাকরণ কী? আমরা তো কেবল হাদিস বিশারদ এবং ফকিহ। অথচ তারা এমন বিষয়ে আনন্দিত হয় যা একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে ব্যথিত করে।

আমি এমন একজনের সাথে কথা বলেছি যে নিজেকে শাফেয়ি ফিকহের বিদগ্ধ পণ্ডিত এবং কিয়াসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্তরের অধিকারী মনে করে। আমি তাকে বললাম: কিয়াসের প্রকৃত রূপ ও অর্থ কী? এটি কী থেকে উদ্ভূত?

সে বলল: এটি জানা আমার দায়িত্ব নয়, আমার দায়িত্ব হলো এর যথার্থতা প্রমাণ করা।

এখন আপনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলবেন যে এমন কোনো বিষয়ের যথার্থতা প্রমাণের সংকল্প করে যার অর্থ সে জানে না এবং সেটি কী তাও বোঝে না! আমরা ভুল পথ বেছে নেওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই! (১)।

কুরআন এবং শরয়ি ইলমের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে আরবি ভাষাতত্ত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা একটি সুবিদিত (مستفيض) ও প্রচলিত বিষয়, যা অত্যন্ত সুপরিচিত। আপনি এটি বিভিন্ন উৎস ও দৃষ্টিভঙ্গির কিতাবসমূহে পাবেন। এটি তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসুল, সাহিত্য, ভাষা, নাহু এবং বালাগাতসহ বিভিন্ন শাস্ত্রের আলেমদের উক্তিতে বিদ্যমান। তারা সকলেই আরবি ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার বিষয়ে একমত। তারা মনে করেন যে, যে ব্যক্তিই কুরআন ও সংশ্লিষ্ট জ্ঞানের সাথে কোনোভাবে যুক্ত তার জন্য এটি অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে ইয়াকুত আল-হামাভির মুজামুল উদাবা-এর ভূমিকার উক্তিটি উল্লেখযোগ্য: (এগুলো এমন এক সম্প্রদায়ের বিবরণ যাদের কাছ থেকে মহাগ্রন্থ কুরআনের জ্ঞান এবং উপকারী হাদিস গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের কর্মনিপুণতার মাধ্যমে নেতৃত্ব অর্জিত হয়, তাদের জ্ঞানের পুঁজি দ্বারা সুলতান ও উজিরদের শাসনকার্য সুশৃঙ্খল হয়। তাদের ইলমের মাধ্যমে ইসলাম পূর্ণতা পায় এবং তাদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হালাল ও হারাম চেনা যায়। আপনি কি দেখেন না যে, যখন কোনো পাঠক পাঠ করে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও} [আত-তাওবাহ: ৩] পেশ যোগে, তখন সে এমন এক পথ অবলম্বন করল যা...

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৬।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ২০)
الصّواب واضحاً، ورَكِبَ منهجاً من الفضل لائحاً، فإنْ كَسَر اللاّمَ من "رسوله" كان كفراً بحتاً، وجهلاً قُحّاً.

وقد رُوِيَ أنّ أبا عمرو بن العلاء كان يقولُ العِلْمُ العربيَّةِ هو الدِّين بعينه، فبلغ ذلك عبد الله بن المبارك، فقال: صَدقَ؛ لأنِّي رأيت النصارى قد عبدوا المسيح لجهلهم بذلك، قال الله تعالى: "أنا ولَّدتك من مريم وأنت نبيّي" فحسبوه يقولُ: "أنا ولدتك وأنت بُنَيِّي" فبتخفيف اللام وتقديم الباء، وتعويض الضّمّة بالفتحة كفروا" (1) .

ولا يتحقق فهم صحيح للقرآن، والحديث، والفقه، وسائر علوم الشرع إلاّ بتحقُّقِ فهم صحيح للغة: أوضاعها واستعمالاتها، تراكيبها وأبنيتها، معانيها وأساليبها، ولهذا قيل: "سبيل التفسير أن يرجع في تفسير ألفاظه إلى أهل اللغة" (2) .

وقال أيضاً: "لابُدَّ في فهم الشريعة من اتباع معهود الأميّين، وهم العربُ الذين نزل القرآن بلسانهم، فإن كان للعرب في لسانهم عرفٌ مستمرٌّ، فلا يصحّ العدول عنه في فهم الشريعة، وإن لم يكن ثمَّ عُرْفٌ، فلا يصحُّ أن يجريَ في فهمها ما لا تعرفُه، وهذا جارٍ في المعاني، والألفاظ، والأساليب … ولا يستقيم للمتكلِّم في كتاب الله أو سنة رسول الله أن يتكلَّفَ فيهما فوق ما يَسَعُه لسان العرب، وليكن شأنه الاعتناء بما شأنه أن تعتني العرب به،

--------------------------------------------

(1) ياقوت الحموي (ت 626 هـ) معجم الأدباء مكتبة عيسى الحلبي، مصر/ 1 / 53 - 54، وانظر كلام ابن المبارك في 1 / 71 - 72.

(2) القاسمي محمد جمال الدين (ت 1332 هـ) محاسن التأويل، الناشر عيسى الحلبيّ، ط الأولى، 1376 هـ - 1957 م 1 / 10.
সত্য সুস্পষ্ট ছিল এবং তিনি শ্রেষ্ঠত্বের এক উদ্ভাসিত পথ অনুসরণ করেছিলেন। যদি তিনি "রাসূলুহু" শব্দের 'লাম' বর্ণে কাসরা (জের) প্রদান করতেন, তবে তা হতো নিরঙ্কুশ কুফরি এবং নিরেট মূর্খতা।

আরও বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, আবু আমর ইবনুল আ’লা বলতেন, আরবি ভাষাবিজ্ঞানই হলো স্বয়ং দীন। এ সংবাদ যখন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের নিকট পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: "তিনি সত্য বলেছেন; কারণ আমি দেখেছি যে খ্রিস্টানরা এই ভাষার অজ্ঞতার কারণেই মসিহের উপাসনা শুরু করেছিল। মহান আল্লাহ বলেছিলেন: 'আমি তোমাকে মরিয়ম থেকে জন্ম দিয়েছি (ওয়াল্লাদতুকা) এবং তুমি আমার নবী', কিন্তু তারা ভেবেছিল তিনি বলছেন: 'আমি তোমাকে জন্ম দিয়েছি (ওয়ালাদতুকা) এবং তুমি আমার পুত্র'। এভাবে 'লাম' বর্ণকে হালকা করে পড়া (তাশদিদহীন), 'বা' বর্ণকে আগে আনা এবং পেশের স্থলে জবর পড়ার কারণে তারা কুফরিতে লিপ্ত হয়েছে।" (১)।

কুরআন, হাদিস, ফিকহ এবং শরীয়তের অন্যান্য সকল শাস্ত্রের সঠিক উপলব্ধি ততক্ষণ পর্যন্ত অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়, যতক্ষণ না ভাষার যথাযথ উপলব্ধি অর্জিত হয়: এর প্রয়োগ ও ব্যবহারবিধি, বাক্য গঠন ও শব্দ কাঠামো, অর্থ ও প্রকাশভঙ্গি। এই কারণেই বলা হয়েছে: "তাফসিরের সঠিক পদ্ধতি হলো এর শব্দাবলির ব্যাখ্যায় ভাষাবিদদের শরণাপন্ন হওয়া।" (২)।

তিনি আরও বলেছেন: "শরীয়ত বোঝার ক্ষেত্রে সেইসব উম্মি বা নিরক্ষরদের অনুসৃত রীতির অনুসরণ করা আবশ্যক, যারা হলো সেইসব আরব যাদের ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। যদি আরবদের নিকট তাদের ভাষায় কোনো নিরবচ্ছিন্ন প্রথা বিদ্যমান থাকে, তবে শরীয়ত অনুধাবনের ক্ষেত্রে তা থেকে বিচ্যুত হওয়া সঠিক হবে না। আর যদি সেখানে কোনো প্রচলিত প্রথা না থাকে, তবে তাদের অজ্ঞাত কোনো রীতির মাধ্যমে শরীয়ত অনুধাবন করা সংগত হবে না। এটি অর্থ, শব্দ এবং প্রকাশশৈলী—সবকিছুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য... আল্লাহর কিতাব বা আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে আলোচনাকারীর জন্য এ দুটিতে আরবি ভাষার সক্ষমতার বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া সংগত নয়। বরং তার লক্ষ্য যেন তেমন বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া হয় যে বিষয়গুলোর প্রতি আরবগণ গুরুত্ব প্রদান করত।"

--------------------------------------------

(১) ইয়াকুত আল-হামাউয়ি (মৃ. ৬২৬ হি.) মুজামুল উদাবা, মাকতাবাতু ঈসা আল-হালাবি, মিসর/ ১ / ৫৩ - ৫৪, এবং ইবনুল মুবারকের বক্তব্য দেখুন ১ / ৭১ - ৭২ এ।

(২) আল-কাসিমি মুহাম্মদ জামালুদ্দিন (মৃ. ১৩৩২ হি.) মাহাসিনুত তাবিল, প্রকাশক: ঈসা আল-হালাবি, ১ম সংস্করণ, ১৩৭৬ হি. - ১৯৫৭ খ্রি. ১ / ১০।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ২১)
والوقوف عندما حَدُث" (1) . وقد قرَّر بعض الأصولين قاعدة في أنّ كُلَّ معنىً مستنبط من القرآن غير جارٍ على اللسان العربيِّ فليس من علوم القرآن في شيءٍ " (2) .

وقد أوجب العلماء الأخذ بمطلق اللغة، وأوجبوا علم اللغة لمن كلّف نفسه تفسير القرآن، قال القاسمي في الأخذ بمطلق اللغة: "إنّ القرآن نزل بلسانٍ عربيٍّ مبين، وهذا قد ذكره جماعة، ونصّ عليه أحمد في مواضع، لكن نقل الفضل بن زيادٍ عنه أنّه سئل عن القرآن يمثِّلُ له الرجلُ ببيتٍ من الشعر؟ فقال: ما يعجبني … وهو محمولٌ على من صرف الآيةَ عن ظاهرها إلى معانٍ خارجةٍ محتملة يدلُّ عليها القليل من كلام العرب، ولا يوجد غالباً إلاّ في الشعر ونحوه، ويكون المتبادر خلافها، وروى البيهقي في " الشُّعب " عن مالك قال: لا أُوتى برجلٍ غير عالمٍ بلغة العرب يفسِّر كتاب الله إلاّ جعلته نكالاً" (3) .

وقال ابن خلدون: "اعلم أنّ القرآن نزل بلغة العرب، وعلى أساليب بلاغتهم، فكانوا كُلُّهم يفهمونه، ويعلمون معانيه في مفرداته وتراكيبه، وكان ينزل جملاً جملاً، وآياتٍ آياتٍ لبيان التوحيد والفروض الدّينيّة بحسب الوقائع، ومنها ما هو في العقائد الإيمانية، ومنها ما هو في أحكام الجوارح، ومنها ما يتقدَّمُ، ومنها ما يتأخَّر، ويكون ناسخاً له، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يبيّن المجمل، ويميِّز الناسخ من المنسوخ، ويعرِّفُه أصحابه، فعرفوه وعرفوا

--------------------------------------------

(1) القاسمي، محاسن التأويل 1 / 94 - 96 وانظر المقاصد للشاطبي.

(2) السابق 1 / 63.

(3) السابق 1 / 8.
"এবং যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর থামা" (১)। কিছু মূলনীতিবিদ (الأصوليون) একটি নিয়ম নির্ধারণ করেছেন যে, কুরআন থেকে উদ্ভূত এমন প্রতিটি অর্থ যা আরবি ভাষারীতির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, তা কুরআনের উলূমের কোনো অংশ নয়" (২)।

আলেমগণ ভাষার সাধারণ অর্থ গ্রহণের বিষয়টিকে আবশ্যক করেছেন এবং যে ব্যক্তি কুরআন তাফসিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার জন্য ভাষাতত্ত্বের জ্ঞান অর্জন করাকেও আবশ্যক করেছেন। আল-কাসিমি ভাষার সাধারণ অর্থ গ্রহণের বিষয়ে বলেছেন: "নিশ্চয়ই কুরআন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, এবং এটি একটি জামাআত উল্লেখ করেছেন। ইমাম আহমাদ বিভিন্ন স্থানে এর ওপর স্পষ্টভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, তবে ফাদল ইবনে যিয়াদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে কুরআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কবিতার পংক্তি দ্বারা কুরআনের উদাহরণ দেয়? তিনি বললেন: এটি আমার নিকট পছন্দনীয় নয় … এবং এটি মূলত সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে আয়াতের বাহ্যিক অর্থ বাদ দিয়ে এমন কোনো দূরবর্তী সম্ভাব্য অর্থের দিকে নিয়ে যায় যা আরবের হাতেগোনা কিছু কথায় পাওয়া যায় এবং সাধারণত কবিতা বা অনুরূপ কিছু ছাড়া তা পাওয়া যায় না, অথচ তাৎক্ষণিক অর্থ হয় তার বিপরীত। ইমাম বাইহাকি 'আশ-শুআব' গ্রন্থে ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমার কাছে যদি এমন কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হয় যে আরবি ভাষায় পণ্ডিত নয় অথচ আল্লাহর কিতাবের তাফসির করে, তবে আমি তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেব" (৩)।

ইবনে খালদুন বলেন: "জেনে রাখুন যে, কুরআন আরবি ভাষায় এবং তাদের অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে তারা সবাই এটি বুঝতে পারতেন এবং এর শব্দ ও বাক্যগঠনের অর্থসমূহ জানতেন। এটি পর্যায়ক্রমে এবং বিভিন্ন আয়াতের আকারে তাওহিদ ও ধর্মীয় বিধানসমূহ বর্ণনার জন্য সমসাময়িক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী অবতীর্ণ হতো। এর মধ্যে কিছু ছিল ঈমানি আকিদা সংক্রান্ত, কিছু ছিল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিধান সংক্রান্ত। আবার কিছু বিষয় আগে অবতীর্ণ হয়েছে এবং কিছু পরে, যা পূর্বের আয়াতের রহিতকারী (ناسخ) হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অস্পষ্ট (مجمل) বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা করতেন এবং রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ) বিষয়গুলোকে পৃথক করতেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের তা জানাতেন, ফলে তাঁরা তা চিনতেন এবং জানতেন...

--------------------------------------------

(১) আল-কাসিমি, মাহাসিনুত তাবিল ১ / ৯৪ - ৯৬ এবং শাতীবির আল-মাকাসিদ দেখুন।

(২) প্রাগুক্ত ১ / ৬৩।

(৩) প্রাগুক্ত ১ / ৮।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ২২)
سبب نزول الآياتِ، ومقتضى الحال منها منقولاً عنه، كما عُلِم من قوله تعالى: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ} [الفتح: 1] أنها نعي النبي صلى الله عليه وسلم وأمثال ذلك.

ونقل ذلك عن الصحابة (رضوان الله تعالى عليهم أجمعين) وتداول ذلك التابعون من بعدهم، ونقل ذلك عنهم، ولم يزل متناقلاً بين الصدر الأوّل والسَّلف حتَّى صارت المعارف علوماً ودُوِّنتِ الكتبُ، فكُتِبَ الكثير من ذلك، ونُقِلَت الآثار الواردة فيه عن الصحابة والتابعين، وانتهى ذلك إلى الطَّبريِّ والواقديّ والثعالبي، وأمثال ذلك من المفسّرين، فكتبوا فيه ما شاء الله أن يكتبوه من الآثار، ثمّ صارت علوم اللسان صناعيّة، من الكلام في موضوعاتِ اللغة، وأحكام الإعراب، والبلاغة في التراكيب، فوضِعَتِ الدواوين في ذلك بعد أن كانت ملكاتٍ للعرب، لا يُرْجَعُ فيها إلى نقل ولا كتاب، فتنوسيَ ذلك، وصارتْ تُتلَقَّى من كتب أهل اللسان، فاحتيج إلى ذلك في تفسير القرآن؛ لأنّه بلسان العرب، وعلى منهاج بلاغتهم.

وصار التفسير على صنفين: تفسير نقليّ مسند إلى الآثار المنقولة عن السَّلفِ … والصنف الآخر من التفسير وهو ما يرجع إلى اللسان من معرفة اللغة، والإعراب، والبلاغة في تأدية المعنى، بحسب المقاصد والأساليب، وهذا الصِّنْفُ من التفسير قَلَّ أن ينفرد عن الأوّل؛ إذ الأوّلُ هو المقصود بالذات، وإنما جاء هذا بعد أن صار اللِّسان وعلومه صناعةً. ثم ذكر من هذا النوع تفسير الزمخشري وتفسير شرف الدين الطيبي (1) .

وقد كانت الصلة بين علوم العربية وعلوم القرآن منذ نشأة علوم العربية،

--------------------------------------------

(1) ابن خلدون عبد الرحمن بن محمد، المقدّمة / دار الكتاب العربي / بيروت، ط الأولى، سنة 1417 هـ - 1996 م، ص 406 - 408.
আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার কারণ (سبب نزول) এবং সেগুলোর প্রেক্ষাপট তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} [আল-ফাতহ: ১] থেকে জানা যায় যে, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের সংবাদ এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ।

এবং এটি সাহাবী (الصحابة) (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁদের পরবর্তী তাবেয়িগণ (التابعون) এর চর্চা করেছেন এবং তাঁদের থেকেও তা বর্ণিত হয়েছে। এটি প্রথম যুগ এবং সালাফদের (السلف) মধ্যে ক্রমাগতভাবে হস্তান্তরিত হতে থাকে যতক্ষণ না জ্ঞানসমূহ বিজ্ঞানে পরিণত হয় এবং গ্রন্থসমূহ সংকলিত হয়। ফলে এর অনেক কিছুই লিখিত হয় এবং এ বিষয়ে সাহাবী (الصحابة) ও তাবেয়িদের (التابعين) থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলো (الآثار) সংকলিত হয়। এর সমাপ্তি ঘটে তাবারী, ওয়াকিদী এবং সা’লাবী ও তাঁদের সমপর্যায়ের মুফাসসিরদের মাধ্যমে। তাঁরা বর্ণনাগুলোর (الآثار) মধ্য থেকে যা আল্লাহর ইচ্ছা ছিল তা লিপিবদ্ধ করেন। এরপর ভাষার উপাদানসমূহ, ব্যাকরণিক নিয়মাবলী এবং বাক্যগঠনে অলঙ্কারশাস্ত্র (البلاغة) সম্পর্কিত আলোচনার মাধ্যমে ভাষাজ্ঞান একটি প্রায়োগিক শিল্পে পরিণত হয়। আরবদের সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবে বিদ্যমান থাকার পর এ বিষয়ে সংকলন বা দিওয়ান তৈরি করা হয়, যার জন্য আগে কোনো বর্ণনা বা কিতাবের শরণাপন্ন হতে হতো না। পরবর্তীতে তা বিস্মৃত হয়ে যায় এবং ভাষাবিদদের কিতাব থেকে তা গ্রহণ করা শুরু হয়। ফলে কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়; কারণ এটি আরবদের ভাষায় এবং তাদের অলঙ্কারশাস্ত্রের (البلاغة) রীতি অনুযায়ী অবতীর্ণ।

আর তাফসির দুই প্রকারের হয়ে থাকে: একটি হলো বর্ণনাভিত্তিক (نقلي) তাফসির যা সালাফদের (السلف) থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহের (الآثار) ওপর সনদযুক্ত (مسند) ভাবে নির্ভরশীল … এবং তাফসিরের অন্য প্রকারটি হলো যা ভাষার জ্ঞান, ব্যাকরণ এবং উদ্দেশ্য ও শৈলী অনুযায়ী অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে অলঙ্কারশাস্ত্র (البلاغة) সংশ্লিষ্ট। তাফসিরের এই প্রকারটি প্রথম প্রকার থেকে আলাদা হওয়া বিরল; কারণ প্রথম প্রকারটিই মূল উদ্দেশ্য, আর এটি কেবল তখনই এসেছে যখন ভাষা ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে। এরপর তিনি এই প্রকারের উদাহরণ হিসেবে যামাখশারীর তাফসির এবং শরফ উদ্দিন আল-তিবির (১) তাফসিরের কথা উল্লেখ করেন।

আর আরবি ভাষাবিজ্ঞান ও কুরআন বিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্কটি আরবি ভাষাবিজ্ঞানের সূচনালগ্ন থেকেই বিদ্যমান ছিল।

--------------------------------------------

(১) ইবনে খালদুন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ, আল-মুকাদ্দিমা / দারুল কিতাব আল-আরাবি / বৈরুত, প্রথম সংস্করণ, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ, পৃ. ৪০৬ - ৪০৮।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
بل كان القرآن هو السبب لظهورها، وتدوينها، واشتغال الناس بها، وجعلها أساس العلوم؛ إذ يحكى أنَّ زياداً لما ولي العراق لمعاوية رضي الله عنه بعث إلى أبي الأسود (ظالم بن عمرو) الدُّؤلي وقال له: اعمل شيئاً تكون فيه إماماً، تُعْرِبُ به كتابَ الله تعالى، وينتفع الناس به، فاستعفاه من ذلك، حتّى سمع رجلاً يقرأ " أنّ الله بريء من المشركين ورسوله" بكسر اللام، فقال: ما ظننت أمر الناسِ صار إلى هذا، أو لا أظن يَسَعُني إلاّ أنْ أضَعَ شيئاً أُصْلِحُ به نحو هذا، أو كلام هذا معناه، فوضع النحو" (1) . "فجاء أبو الأسود إلى زيادٍ، فقال له: أبْغِني كاتباً يفهمُ عَنِّي ما أقول، فجيء برجُلٍ من عبد القيس، فلم يَرْض فهمه، فأُتِيَ بآخر من قريش، فقال له: إذا رأيتني قد فتحتُ فمي بالحرف، فانقط نُقْطةً على أعلاه، وإذا ضَمَمْتُ فمي فانقط نقطةً بين يدي الحرف، وإذا كسَرْتُ فمي فاجْعَلِ النقطة تحت الحرف، فإنْ أتْبعْتُ شيئاً من ذلك غُنَّةً، فاجْعَلِ النقطة نقطتين، ففَعَل، فهذا نقط أبي الأسود" (2) .

وكان علماءُ العربيّة الأوائل يجمعون إلى علم العربيّة علماً أو أكثر من علوم القرآن، من قراءة، أو تفسير، أو غير ذلك، فقد " أخذ عبد الله ابن أبي إسحاق عن يحيى بن يعمر القراءة، وأخذها عن نصر بن عاصم" (3) . وكان أبو عمرو بن العلاء إماماً في العربيّة والقراءة، حتّى "قال شعبة لعليّ بن نصر

--------------------------------------------

(1) أبو الطَّيِّب اللّغويّ (ت 351 هـ) مراتب النحويين/ تحقيق محمد أبو الفضل إبراهيم/ القاهرة، ص 26، والمعرّي أبو المحاسن المفضّل بن محمد (ت 442 هـ) ، تاريخ العلماء النحويّين من البصريّين والكوفيّين وغيرهم/ تحقيق د. عبد الفتاح الحلو/ جامعة الإمام محمد بن سعودٍ الإسلامية/ الرياض / 1401 هـ - 1981 م، ص 166 - 167.

(2) أبو الطيب مراتب النحويين ص 29، وانظر المعرّي تاريخ العلماء النحويّين ص 167.

(3) انظر أبو الطيب مراتب النحويين ص 32.
বস্তুত কুরআনই ছিল এর আবির্ভাব, সংকলন এবং এতে মানুষের ব্যাপৃত হওয়ার কারণ; এটিকেই সকল বিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্ণিত আছে যে, যিয়াদ যখন মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ থেকে ইরাকের শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি আবুল আসওয়াদ (জালিম ইবনে আমর) আদ-দুয়ালির নিকট লোক পাঠান এবং তাকে বলেন: "এমন কিছু তৈরি করুন যাতে আপনি অগ্রণী (إمام) হবেন, যার মাধ্যমে আপনি আল্লাহর কিতাবকে ব্যাকরণগতভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন এবং মানুষ তার দ্বারা উপকৃত হবে।" তিনি এই দায়িত্ব হতে অব্যাহতি চেয়েছিলেন, যতক্ষণ না তিনি এক ব্যক্তিকে ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসুল থেকেও’ (আয়াতে রাসুল শব্দটির শেষ বর্ণে কাসরা বা জের দিয়ে পাঠ করায় অর্থ বিকৃত হয়ে গিয়েছিল) পাঠ করতে শুনলেন। তখন তিনি বললেন: "আমি ধারণা করিনি যে মানুষের অবস্থা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমি মনে করি না যে এ ধরনের ভুল সংশোধনের জন্য কিছু তৈরি না করা পর্যন্ত আমার আর কোনো অবকাশ আছে।" অথবা এই অর্থবোধক কোনো কথা বললেন। অতঃপর তিনি ব্যাকরণ শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করলেন। (১)। "অতঃপর আবুল আসওয়াদ যিয়াদের কাছে এসে বললেন: 'আমার জন্য এমন একজন লেখক খুঁজে দিন, যে আমি যা বলি তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে।' তখন আবদ আল-কায়স গোত্রের এক ব্যক্তিকে আনা হলো, কিন্তু তিনি তার বোধশক্তিতে সন্তুষ্ট হলেন না। এরপর কুরাইশ বংশীয় অন্য একজনকে আনা হলো। তিনি তাকে বললেন: 'যখন আপনি দেখবেন আমি কোনো বর্ণ উচ্চারণের সময় মুখ খুলছি, তখন আপনি সেই বর্ণের উপরে একটি নুকতা প্রদান করবেন। যখন আমি মুখ সংকুচিত করব, তখন বর্ণের সামনে একটি নুকতা দিবেন। আর যখন আমি মুখ নিচু করব, তখন বর্ণের নিচে একটি নুকতা দিবেন। যদি আমি এর কোনোটির সাথে গুন্নাহ যুক্ত করি, তবে একটির স্থলে দুটি নুকতা দিবেন।' সে সেভাবেই কাজ করল; আর এটিই ছিল আবুল আসওয়াদের প্রবর্তিত নুকতা পদ্ধতি।" (২)।

প্রাচীন আরবি ভাষাবিদগণ আরবি ভাষার জ্ঞানের সাথে কুরআনের এক বা একাধিক জ্ঞানকে একত্রিত করতেন, যেমন কিরাআত, তাফসির বা অন্য কিছু। যেমন: "আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর থেকে কিরাআত গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তা নসর ইবনে আসিম থেকে গ্রহণ করেছেন।" (৩)। আবু আমর ইবনুল আলা আরবি ভাষা ও কিরাআতের ক্ষেত্রে একজন ইমাম (إمام) ছিলেন, এমনকি "শুবা আলি ইবনে নাসরকে বলেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) আবু তায়্যিব আল-লুগাভী (মৃত্যু ৩৫১ হি.) মারাতীবুন নাহউইয়্যীন/ সম্পাদনা: মুহাম্মদ আবু ফাদল ইব্রাহিম/ কায়রো, পৃষ্ঠা ২৬; এবং আল-মা'আররি আবু আল-মাহাসিন আল-মুফাদদাল ইবনে মুহাম্মদ (মৃত্যু ৪৪২ হি.), তারিখুল উলামা আন-নাহউইয়্যীন মিনাল বাসরিয়্যীন ওয়াল কুফিয়্যীন ওয়া গাইরিহিম/ সম্পাদনা: ড. আবদুল ফাত্তাহ আল-হুলু/ জামিআতুল ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ আল-ইসলামিয়া/ রিয়াদ / ১৪০১ হি. - ১৯৮১ খ্রি., পৃষ্ঠা ১৬৬-১৬৭।

(২) আবু তায়্যিব, মারাতীবুন নাহউইয়্যীন, পৃষ্ঠা ২৯; এবং দেখুন: আল-মা'আররি, তারিখুল উলামা আন-নাহউইয়্যীন, পৃষ্ঠা ১৬৭।

(৩) দেখুন: আবু তায়্যিব, মারাতীবুন নাহউইয়্যীন, পৃষ্ঠা ৩২।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الجهضمي: خُذِ قراءة أبي عمروٍ، فيوشِكُ أن تكون إسناداً. قال أبو حاتمٍ: وكان أبو عمروٍ يكتب إلى عكرمة بن خالدٍ في مكّة، فيسأله عن الحروف" (1) .

وممّن فاق في الإقراء والقراءة عاصم بن أبي النّجود وابن محيصن، وكانا يلمّان بشيءٍ من النحو (2) .

وممّن أجاد النحو من القُرّاء يحيى بن يعمر، كان أعلم النّاس وأفصحهم، ومع ذلك لا يذكرونه؛ لأنَّه استبدَّ بالنّحو غيرُه (3) .

وكان الأوائل من أهل العلم يَعُدُّون العلم بالعربيّة منقبةً للقارئ، ومدعاةً لتفضيله على غيره، حتّى " قال أبو حاتم (عن حمزة الزّيّات) : وإنّما أهل الكوفة يكابرون فيه، ويباهتون، فقد صَيَّره الجُهَّال من النّاس شيئاً عظيماً بالمكابرة والبَهْتِ، وقولُ ذوي اللِّحى العظام منهم: " كانتِ الجنُّ تقرأُ على حمزةَ ". قال: الجنُّ لم تقرأْ على ابن مسعودٍ، والذين من بعده، فكيف خصّت حمزة بالقراءة عليه؟ وكيف يكون رئيساً وهو لا يعرفُ الساكن من المتحرّك، ولا مواضع الوقف والاستئناف، ولا مواضِعَ القطع والوصل والهمز! وإنما يحسن مثل هذا أهل البصرة، لأنهم علماء بالعربية، قرّاء رؤساء" (4) . وكان الأصمعيُّ: "لا يفسِّر شيئاً من القرآن، ولا شيئاً من اللُّغة له نظير، أو اشتقاق في القرآنِ، وكذلك الحديث تحرُّجاً" (5) .

--------------------------------------------

(1) أبو الطيب، مراتب النحويين ص 35.

(2) انظر أبو الطيب، مراتب لنحويين ص 49.

(3) السابق ص 50.

(4) أبو الطيب، مراتب النحويين ص 52 - 53.

(5) السابق ص 83.
الجهضمি: "আবু আমরের কিরাত (পঠনরীতি) গ্রহণ করো, কারণ সম্ভবত এটি একটি সনদ (إسناد) হিসেবে গণ্য হবে।" আবু হাতিম বলেন: "আবু আমর মক্কায় ইকরিমা ইবনে খালিদের কাছে চিঠি লিখতেন এবং তাকে পাঠরীতি বা বর্ণসমূহ (الحروف) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন" (১) ।

যারা কুরআন পাঠদান ও কিরাতের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন, তাদের মধ্যে আসিম ইবনে আবি আল-নাজুদ এবং ইবনে মুহাইসিন অন্যতম; তারা উভয়ে নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে কিছুটা পারদর্শী ছিলেন (২) ।

কারীদের মধ্যে যারা নাহু শাস্ত্রে দক্ষ ছিলেন, তাদের একজন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী এবং সবচেয়ে প্রাঞ্জলভাষী; তা সত্ত্বেও তারা তার কথা উল্লেখ করেন না, কারণ অন্যরা নাহু শাস্ত্রের একক আধিপত্য বা খ্যাতি লাভ করেছিল (৩) ।

পূর্ববর্তী আলেমগণ আরবি ভাষার জ্ঞানকে একজন কারীর জন্য একটি বিশেষ গুণ এবং অন্যের ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের কারণ হিসেবে গণ্য করতেন। এমনকি আবু হাতিম (হামজা আল-যাইয়াত সম্পর্কে) বলেন: "কূফাবাসীরা কেবল এ বিষয়ে হঠকারিতা ও অপবাদ আরোপ করে। মূর্খ লোকেরা হঠকারিতা ও অপবাদের মাধ্যমে একে একটি বিশাল বিষয়ে পরিণত করেছে। তাদের মধ্য থেকে লম্বা দাড়িওয়ালাদের উক্তি হলো—'হামজার কাছে জিনেরা কুরআন পাঠ করত'।" তিনি বললেন: "জিনেরা ইবনে মাসউদ এবং তার পরবর্তী কারোর কাছেই পড়েনি, তবে হামজাকে কেন তাঁর কাছে পাঠ করার জন্য নির্দিষ্ট করা হলো? আর তিনি কীভাবে একজন প্রধান বা ইমাম হতে পারেন, যখন তিনি সাকিন (الساكن) ও মুতাহাররিক (المتحرك) চেনেন না, কিংবা থামা বা ওয়াকফ (الوقف) এবং পুনরায় শুরু বা ইবতিদার (الاستئناف) স্থানগুলো জানেন না, এমনকি বিচ্ছেদ (القطع), সংযোগ (الوصل) ও হামজার (الهمز) নিয়মাবলীও বোঝেন না! কেবল বসরার অধিবাসীরাই এ বিষয়ে পারদর্শী, কারণ তারা আরবি ভাষায় পণ্ডিত এবং কিরাতের নেতৃস্থানীয় আলেম" (৪) । আল-আসমায়ি ছিলেন এমন এক ব্যক্তি যিনি: "সতর্কতাবশত (تحرجاً) কুরআনের কোনো কিছুর ব্যাখ্যা করতেন না, এবং ভাষার এমন কোনো শব্দেরও ব্যাখ্যা করতেন না যার সদৃশ বা ব্যুৎপত্তি কুরআনে রয়েছে; একইভাবে তিনি হাদিসের ক্ষেত্রেও অনুরূপ সতর্কতা অবলম্বন করতেন" (৫) ।

--------------------------------------------

(১) আবু আল-তায়্যিব, মারাতিবুন নাহুয়্যিন, পৃষ্ঠা ৩৫।

(২) দেখুন: আবু আল-তায়্যিব, মারাতিবুন নাহুয়্যিন, পৃষ্ঠা ৪৯।

(৩) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫০।

(৪) আবু আল-তায়্যিব, মারাতিবুন নাহুয়্যিন, পৃষ্ঠা ৫২ - ৫৩।

(৫) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৮৩।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال أبو حاتمٍ: "الكسائيُّ أعلم الكوفيّين بالعربية والقرآن، وهو قدوتهم" (1) .

وقال المازني: "قرأت على يعقوب الحضرميِّ القرآن، فلمّا ختمْتُ رمى إليَّ بخاتمه، وقال: خُذْ، ليس لك مثل.

وختم أبو حاتم على يعقوب سبع خَتَماتٍ، ويُقالُ: خمساً وعشرين ختمةً، فأعطاه خاتمه، وقال: أقْرئ النّاسَ" (2) .

"كان أبو حاتم في نهاية الثقة والإتقان، والنهوض باللُّغة والقرآن مع علمٍ واسعٍ بالإعراب أيضاً " (3) .

هذه شذراتٌ من كتاب تراجم للغويين، ولو نقلنا نظرنا إلى كتابٍ في تراجم القُرَّاء نموذجاً لعلوم القرآن، وقرأنا في كتاب "معرفة القُرّاء الكبار للذّهبيّ (ت 748هـ " لوجدنا فيه كثيراً من مثل: "قال اليزيديُّ: كان أبو عمروٍ قد عرف القراءات، فقرأ من كل قراءة بأحسنها، وبما يختار العرب، وممّا بلغه عن لغة النّبيّ صلى الله عليه وسلم وجاء تصديقه في كتاب الله عزّ

وجلّ " (4) . ونجد مثل "أحكم العربية" (5) ، ومثل "النحويّ" (6) ، و"قرأ

--------------------------------------------

(1) السابق ص 121.

(2) السابق ص 126.

(2) السابق ص 130، وانظر ص 131 - 132.

(4) الذهبي شمس الدين، أبو عبد الله محمد بن أحمد (ت 748 هـ) معرفة القرّاء الكبار / تحقيق محمد سيد جاد الحق، ط أولى، القاهرة ص 4.

(5) الذهبي، معرفة القرّاء الكبار ص 54.

(6) السابق ص 55، 109.
আবু হাতিম বলেছেন: "কিসায়ি হলেন কুফাবাসীদের মধ্যে আরবি ভাষা ও কুরআনে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং তিনি তাদের আদর্শ" (১)।

মাজিনি বলেছেন: "আমি ইয়াকুব আল-হাদরামির কাছে কুরআন পাঠ করেছি। যখন আমি সমাপ্ত করলাম, তিনি আমার দিকে তাঁর আংটিটি ছুড়ে দিলেন এবং বললেন: এটি গ্রহণ করো, তোমার কোনো সমকক্ষ নেই।

আবু হাতিম ইয়াকুবের কাছে সাতবার কুরআন খতম করেছিলেন, আর বলা হয়: পঁচিশবার। অতঃপর তিনি তাকে তাঁর আংটিটি দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: মানুষকে (কুরআন) পাঠদান করাও" (২)।

"আবু হাতিম ছিলেন নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) ও নিখুঁত পারদর্শিতার (الإتقان) চূড়ান্ত পর্যায়ে, এবং ই’রাব (الإعراب) বিষয়ক ব্যাপক জ্ঞানসহ ভাষা ও কুরআনের প্রসারে অগ্রগণ্য" (৩)।

এগুলো ভাষাবিদদের জীবনীগ্রন্থের কিছু অংশবিশেষ। যদি আমরা উলুমুল কুরআনের নমুনা হিসেবে ক্বারিদের জীবনীগ্রন্থের দিকে দৃষ্টিপাত করি এবং যাহাবীর (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি) "মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার" গ্রন্থে পাঠ করি, তবে আমরা সেখানে অনেক উদাহরণ পাব, যেমন: "ইয়াজিদি বলেছেন: আবু আমর কিরাআতসমূহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি প্রতিটি কিরাআতের সবচেয়ে উত্তম অংশটি এবং আরবরা যা পছন্দ করত তা পাঠ করতেন, আর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভাষা থেকে তাঁর নিকট যা পৌঁছেছে এবং মহান আল্লাহর কিতাবে যার সত্যায়ন এসেছে (তিনি তা পাঠ করতেন)" (৪)। এবং আমরা সেখানে পাই "আরবি ভাষায় সুনিপুণ (أحكم العربية)" (৫)-এর মতো শব্দ, এবং "ব্যাকরণবিদ (النحوي)" (৬)-এর মতো শব্দ, এবং "পাঠ করেছেন (قرأ)"

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১২১।

(২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১২৬।

(২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৩০, এবং দেখুন পৃষ্ঠা ১৩১ - ১৩২।

(৪) যাহাবী শামসুদ্দিন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি) মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার / সম্পাদনা মুহাম্মদ সাইয়িদ جাদ আল-হক, প্রথম সংস্করণ, কায়রো, পৃষ্ঠা ৪।

(৫) যাহাবী, মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার, পৃষ্ঠা ৫৪।

(৬) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫৫, ১০৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
العربيّة". ومثل "كان عاصم نحويّاً فصيحاً" (1) و"كان حمزة الزَّيَّاتُ بصيراً بالعربيّة" (2) وإليه (الكسائي) انتهت الإمامةُ في القراءة والعربيّة" (3) ، ومثل "كان أبو المنذر المُزنيّ فصيحاً نحويّاً" (4) . ومثل "كان يحيى بن المبارك اليزيديُّ فصيحاً مُفوَّهاً، بارعاً في اللُّغاتِ والآداب" (5) ومثل "ثمّ اشتغل ورشٌ بالقرآن والعربيّة فمهر فيهما" (6) . "وتبتَّلَ قالونُ لإقراء القرآن والعربيّة" (7) . وقول أبي حاتم السجستاني في يعقوب بن إسحاق الحضرميّ: "هو أعلم من رأيت بالحروف والاختلافِ في القرآنِ وعلله ومذاهبه، ومذاهب النحويّين" (8) . "وكان لا يلحن في كلامه" (9) و"برع العبّاس بن الفضل في معرفة الإدغام الكبير، وورد أنّه ناظر الكِسائيّ في الإمالة" (10) . "وكان القاسم بن سلاّم من أعلم أهل زمانه بلغات العرب" (11) وقالوا في أحمد بن صالح "كان رجلاً جامعاً يعرفُ الفقه والحديثَ والنحو" (12) . و"صنّف محمد ابن سعدان في العربيّة والقرآن" (13) . وقالوا عن أبي حاتم

--------------------------------------------

(1) السابق ص 75.

(2) السابق ص 93.

(3) السابق ص 101.

(4) السابق ص 110.

(5) السابق ص 125.

(6) السابق ص 126.

(7) السابق ص 129.

(8) الذهبي، معرفة القرّاء الكبار ص 130 وانظر ص 131.

(9) السابق ص 131.

(10) السابق ص 133.

(11) السابق ص 141.

(12) السابق ص 153.

(13) السابق ص 178 وانظر ترجمة هارون بن موسى ص 199.
যেমন "আসিম ছিলেন একজন ব্যাকরণবিদ (نحوي) ও বিশুদ্ধভাষী (فصيح)" (১) এবং "হামজা আল-যাইয়াত আরবি ভাষার ব্যাপারে প্রাজ্ঞ ছিলেন" (২) এবং তাঁর (কিসায়ি) নিকটই কিরাত ও আরবি ভাষার ইমামত বা নেতৃত্ব পর্যবসিত হয়েছিল (৩), যেমন "আবু আল-মুনজির আল-মুজানি ছিলেন একজন বিশুদ্ধভাষী (فصيح) ও ব্যাকরণবিদ (نحوي)" (৪)। এবং যেমন "ইয়াহইয়া ইবনে আল-মুববারাক আল-ইয়াযিদি ছিলেন একজন বিশুদ্ধভাষী (فصيح) ও বাগ্মী (مفوَّه), এবং ভাষা ও সাহিত্যে পারদর্শী ছিলেন" (৫) এবং যেমন "অতঃপর ওয়ারশ কুরআন ও আরবি ভাষা নিয়ে চর্চায় নিয়োজিত হন এবং উভয় বিষয়ে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন" (৬)। "এবং কালুন কুরআন ও আরবি ভাষা পাঠদানের জন্য নিজেকে একনিষ্ঠভাবে নিয়োজিত করেছিলেন" (৭)। ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-হাদরামি সম্পর্কে আবু হাতিম আস-সিজিস্তানির উক্তি: "কুরআনের হরফ, ইখতিলাফ (পার্থক্য), এর কারণসমূহ ও মাযহাবসমূহ (مذاهب) এবং ব্যাকরণবিদদের (نحويين) মাযহাব সম্পর্কে আমি যতজন দেখেছি তাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী" (৮)। "তিনি তাঁর কথাবার্তায় কোনো ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করতেন না" (৯) এবং "আব্বাস ইবনে আল-ফাদল ইদগাম আল-কাবির সংক্রান্ত জ্ঞানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন এবং বর্ণিত আছে যে তিনি ইমালাহ (الإمالة) বিষয়ে কিসায়ির সাথে বিতর্ক করেছিলেন" (১০)। "কাসিম ইবনে সাল্লাম তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে আরবদের বিভিন্ন ভাষা বা উপভাষা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন" (১১)। আহমদ ইবনে সালিহ সম্পর্কে তাঁরা বলেছেন, "তিনি ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভাধর ব্যক্তি, যিনি ফিকহ, হাদিস ও ব্যাকরণ (نحو) জানতেন" (১২)। এবং "মুহাম্মদ ইবনে সা'দান আরবি ভাষা ও কুরআন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন" (১৩)। এবং তাঁরা আবু হাতিম সম্পর্কে বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৭৫।

(২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৯৩।

(৩) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১০১।

(৪) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১১০।

(৫) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১২৫।

(৬) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১২৬।

(৭) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১২৯।

(৮) আয-যাহাবি, মা'রিফাতুল কুররা আল-কিবার, পৃষ্ঠা ১৩০ এবং দেখুন পৃষ্ঠা ১৩১।

(৯) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৩১।

(১০) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৩৩।

(১১) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৪১।

(১২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৫৩।

(১৩) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৭৮ এবং হারুন ইবনে মুসার জীবনী দেখুন পৃষ্ঠা ১৯৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
السجستانيّ: "له اليدُ الطُّولى في اللُّغاتِ، والشّعر، والأخبار، والعروض، واستخراج المعمّى، ولم يكُ في النّحو بذاك الماهر، وقد قرأ كتاب سيبويه مرّتين على الأخفش" (1) . ونجد مثل "المقرئ الأديب" (2) ، و" المقرئ المؤدِّب" (3) ، وقال أبو عليّ القاليّ عن محمّد بن القاسم الأنباريِّ: "كان يحفظ ثلثمائة ألف بيتٍ شاهداً في القرآن" (4) ، وفي ترجمة أحمد بن يعقوب التائب: "له كتابٌ حَسَنٌ في القراءاتِ، وهو إمام في هذه الصنعةِ، ضابطٌ، بصيرٌ بالعربيّة" (5) . ومثل "كان محمد بن النّضْرِ عارفاً بعلل القراءاتِ بصيراً بالتفسير والعربيّة" (6) ، وفي ترجمة أبي بكر محمد بن مقسم: "كان من أحفظ أهل زمانه لنحو الكوفيّين، وأعرفهم بالقراءات مشهورها وغريبها وشاذّها. قال أبو عمروٍ الدانيُّ: "هو مشهور بالضبط والإتقانِ، عالمٌ بالعربيّة، حافظ للغة، حَسَنُ التصنيف في علوم القرآن" (7) . وفي ترجمة أحمد بن نصر "عالم بالقراءة، بصير بالعربيّة" (8) ، وفي ترجمة محمد بن عبد الله بن أبي بكر الأصبهاني "ثقةٌ عالم بالعربيّة" (9) . وفي ترجمة عبد الله بن عطيّة "كان يحفظ فيما يقالُ خمسين أَلْفَ بيتٍ للاستشهاد على معاني القرآن" (10) . وفي ترجمة

--------------------------------------------

(1) السابق ص 179.

(2) السابق ص 197.

(3) السابق ص 196.

(4) السابق ص 225.

(5) السابق ص 227.

(6) السابق ص 235.

(7) السابق ص 247.

(8) السابق ص 258 ومثله في ترجمة عليّ بن محمد الأنطاكيّ ص 275.

(9) السابق ص 259.

(10) السابق ص 281.
আস-সাজাস্তানি: "ভাষাতত্ত্ব, কবিতা, ইতিহাস, ছন্দশাস্ত্র এবং রহস্যময় সংকেত উদ্ধারে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল, তবে ব্যাকরণ শাস্ত্রে তিনি তেমন দক্ষ ছিলেন না। তিনি আল-আখফাশের নিকট সিবাওয়াইহ-এর কিতাব দুইবার পাঠ করেছিলেন" (১)। আমরা এমন সব বর্ণনাও পাই যেমন "সাহিত্যিক কারী" (২), এবং "শিক্ষক কারী" (৩)। আবু আলী আল-কালী মুহাম্মাদ বিন আল-কাসিম আল-আম্বারি সম্পর্কে বলেছেন: "কুরআনের (শব্দার্থের) সাক্ষী হিসেবে তাঁর তিন লক্ষ কবিতা মুখস্থ ছিল" (৪)। আহমদ বিন ইয়াকুব আত-তায়েব-এর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে: "কিরাত শাস্ত্রের ওপর তাঁর একটি চমৎকার কিতাব রয়েছে। তিনি এই শিল্পে একজন ইমাম, নির্ভুল (ضابط) এবং আরবি ভাষায় বিশেষ পারদর্শী ছিলেন" (৫)। আরও যেমন: "মুহাম্মাদ বিন আন-নাজর কিরাতের গূঢ় কারণসমূহ (علل) সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং তাফসির ও আরবি ভাষায় বিশেষ সমঝদার ছিলেন" (৬)। আবু বকর মুহাম্মাদ বিন মিকসামের জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি তাঁর সময়ের কুফিবাদীদের ব্যাকরণ শাস্ত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ হাফেজ ছিলেন এবং কিরাতের প্রসিদ্ধ (مشهور), বিরল (غريب) ও ব্যতিক্রমী (شاذ) প্রকারগুলো সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন।" আবু আমর আদ-দানি বলেন: "তিনি নির্ভুলতা (ضبط) ও পারদর্শিতার (إتقان) জন্য প্রসিদ্ধ; তিনি আরবি ভাষায় পণ্ডিত, ভাষাতত্ত্বের হাফেজ এবং কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহে চমৎকার গ্রন্থকার ছিলেন" (৭)। আহমদ বিন নাসর-এর জীবনীতে আছে: "তিনি কিরাত শাস্ত্রে বিজ্ঞ এবং আরবি ভাষায় পারদর্শী" (৮)। মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর আল-আসবাহানি-এর জীবনীতে বর্ণিত আছে: "তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং আরবি ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন" (৯)। আব্দুল্লাহ বিন আতিয়্যাহ-এর জীবনীতে আছে: "বলা হয় যে, কুরআনের অর্থের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে তাঁর পঞ্চাশ হাজার কবিতা মুখস্থ ছিল" (১০)। এবং জীবনীতে...

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৭৯।

(২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৯৭।

(৩) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১৯৬।

(৪) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২২৫।

(৫) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২২৭।

(৬) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২৩৫।

(৭) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২৪৭।

(৮) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২৫৮; এবং একই রূপ আলী বিন মুহাম্মাদ আল-আনতাকি-এর জীবনীতে, পৃষ্ঠা ২৭৫।

(৯) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২৫৯।

(১০) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২৮১।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
عبد الباقي بن الحُسَيْنِ:" كان عالماً بالعربية بصيراً بالمعاني " (1) . وفي ترجمة أبي عمر الطَّلَمَنْكي:"كان رأساً في علم القرآن: قراءاته وإعرابه" (2) . وفي ترجمة مكي "كان من أهل التبحُّر في علوم القراءات والعربية. عالماً بمعاني القراءات" (3) وكان أحمد بن عمّارٍ (ت 430 هـ) رأساً في القراءات والعربيّة" (4) . وتصدر إسماعيل بن خلفٍ (ت 455 هـ) " للإقراء زماناً ولتعليم العربية " (5) . وكان عبد الرحمن بن أحمد الرّازي العجليّ (ت 504 هـ عالماً بالأدب والنحو" (6) . "وكان الهذليُّ يدرس علم النحو ويفهم الكلام منه وكان مقدّماً في النحو والصرف، عارفاً بالعلل، وكان القشيريُّ يراجعه في مسائل النحو" (7) . وكان أبو محمّد التميميّ (ت 488 هـ مفسِّراً لُغويّاً" (8) ، و"تصدّر ابن شعيب لإقراء القرآن والعربية والآداب" (9) . وفي ترجمة صاحب التجريد "قرأ العربيّة على ابن بابشاذ" (10) . وكان عبد الله ابن سعدون (ت قبل 540 هـ) " محققاً للعربيَّة " (11) . و"برع عبد الله بن عمرو بن هشام في العربية" (12) .

--------------------------------------------

(i) السابق ص 287.

(ii) السابق ص 309.

(iii) السابق ص 317.

(iv) السابق ص 320.

(v) السابق ص 341.

(vi) السابق ص 337 وانظر ترجمة عبد الملك بن سلمة ص 427.

(vii) السابق ص 349.

(viii) السابق ص 356.

(ix) السابق ص 359.

(x) السابق ص 383.

(xi) السابق ص 398.

(xii) السابق ص 419.
আব্দুল বাকি বিন আল-হুসাইন: "তিনি আরবি ভাষায় পণ্ডিত (عالم) এবং অর্থগত বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন" (১)। আবু উমর আল-তালামানকির জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি কুরআন বিজ্ঞানে একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন: এর কিরাতসমূহ (পঠনরীতি) এবং ইরাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) বিষয়ে" (২)। মাক্কির জীবনীতে রয়েছে: "তিনি কিরাত বিজ্ঞান ও আরবি ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি কিরাতসমূহের অর্থ সম্পর্কে সম্যক অবগত (عالم) ছিলেন" (৩)। আহমদ বিন আম্মার (মৃত্যু ৪৩০ হি.) কিরাত ও আরবি বিজ্ঞানে একজন শীর্ষস্থানীয় ইমাম ছিলেন" (৪)। এবং ইসমাইল বিন খালাফ (মৃত্যু ৪৫৫ হি.) দীর্ঘকাল "কিরাত শিক্ষাদান ও আরবি ভাষা পাঠদানে নিয়োজিত ছিলেন" (৫)। আব্দুর রহমান বিন আহমদ আল-রাজি আল-ইজলি (মৃত্যু ৫০৪ হি.) সাহিত্য ও নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে পণ্ডিত (عالم) ছিলেন" (৬)। "আল-হুযালি নাহু শাস্ত্র পাঠদান করতেন এবং তা থেকে বাক্যের অর্থ অনুধাবন করতেন। তিনি নাহু ও সরফ (রূপতত্ত্ব) শাস্ত্রে অগ্রগণ্য ছিলেন এবং শাস্ত্রীয় গূঢ় কারণসমূহ (علل) সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। আল-কুশাইরি নাহু সংক্রান্ত মাসআলায় তার পরামর্শ গ্রহণ করতেন" (৭)। আবু মুহাম্মদ আল-তামিমি (মৃত্যু ৪৮৮ হি.) একজন ভাষাতাত্ত্বিক মুফাসসির ছিলেন" (৮), এবং "ইবনে শুআইব কুরআন পাঠদান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য শেখানোর জন্য আসীন হয়েছিলেন" (৯)। 'আল-তাজরিদ' গ্রন্থের লেখকের জীবনীতে বর্ণিত আছে, "তিনি ইবনে বাবশায-এর নিকট আরবি ব্যাকরণ অধ্যয়ন করেছেন" (১০)। আব্দুল্লাহ ইবনে সাদুূন (মৃত্যু ৫৪০ হিজরির পূর্বে) "আরবি ভাষায় একজন গবেষক (محقق) ছিলেন" (১১)। এবং "আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন হিশাম আরবি ভাষায় বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন" (১২)।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ২৮৭।

(২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩০৯।

(৩) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩১৭।

(৪) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩২০।

(৫) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩৪১।

(৬) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩৩৭ এবং দেখুন: আব্দুল মালিক বিন সালামাহ-এর জীবনী, পৃষ্ঠা ৪২৭।

(৭) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩৪৯।

(৮) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩৫৬।

(৯) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩৫৯।

(১০) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩৮৩।

(১১) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৩৯৮।

(১২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪১৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - সুলাইমান বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল-আইয়িদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
و"أخذ عنه أبو عمر بن عيّادٍ القراءات والتجويد" (1) . "وكان أبو بكرٍ اللّخميُّ إماماً في صناعةِ الإقراء، مشاركاً في العربيّة" (2) . وفي ترجمة يحيى بن سعدون (ت 567) "المقرئ النحويّ برع على الزمخشريِّ وغيره في العربيَّة" (3) . وكان الحسن بن أحمد الهمذانيّ (ت 569 هـ) إماماً في النحو واللغة" (4) . وكان لعبد المنعم ابن أبي بكر (ت 586 هـ) "حظٌّ من العربيّة" (5) . "وكان زيد بن الحسن، أبو اليمن الكنديّ شيخَ القُرَّاء والنحاة بدمشق" (6) . "وكان شعلةُ (ت 656 هـ) ذا معرفةٍ تامّةٍ بالعربية واللُّغة" (7) . "وانتهت إلى محمد بن عليّ الشاطبيِّ معرفة اللغة وغريبها" (8) . و"كان العماد الأصفهاني (ت 682 هـ) فصيحاً مُفَوَّهاً، جيِّد العربيّة " (9) . وكان محمد بن أبي العلاء (ت 569 هـ "جيِّد المعرفة بالأدب" (10) . وفي ترجمة أبي حيَّانَ "له مصنّفات في القراءاتِ والنحو" (11) . وفي ترجمة أبي بكر بن يوسف "ولي مشيخة القراءة والعربيّة" (12) . وطلحة بن عبد الله مهر في

--------------------------------------------

(1) السابق ص 419.

(2) الذهبي، معرفة القرّاء الكبار ص 425.

(3) السابق ص 429 وانظر ترجمة محمد بن خلف (ت 585 هـ) ص 442.

(4) السابق ص 435.

(5) السابق ص 444.

(6) السابق ص 467.

(7) السابق ص 536.

(8) السابق ص 542.

(9) السابق ص 550.

(10) السابق ص 568.

(11) السابق ص 578.

(12) السابق ص 596.
এবং "আবু উমর ইবনুল আইয়াদ তাঁর থেকে কুরআন পাঠরীতি (قراءات) এবং তাজবিদ গ্রহণ করেছিলেন" (১)। "আবু বকর আল-লাখমী কিরাত শিল্পে একজন ইমাম (إمام) ছিলেন এবং আরবি ভাষাতত্ত্বে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল" (২)। ইয়াহইয়া ইবনে সাদুন (মৃ. ৫৬৭)-এর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে, "ক্বারী (مقرئ) ও ব্যাকরণবিদ (نحوي), যিনি আরবি ভাষায় আজ-জামাশারি এবং অন্যদের চেয়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন" (৩)। আল-হাসান ইবনে আহমদ আল-হামাদানি (মৃ. ৫৬৯ হি.) ব্যাকরণ (نحو) ও ভাষাতত্ত্বে একজন ইমাম (إمام) ছিলেন" (৪)। এবং আবদুল মুনইম ইবনে আবি বকর (মৃ. ৫৮৬ হি.)-এর "আরবি ভাষায় দখল ছিল" (৫)। "যায়েদ ইবনুল হাসান, আবু আল-ইয়ামান আল-কিন্দি ছিলেন দামেস্কের ক্বারীগণ (قراء) এবং ব্যাকরণবিদদের (نحاة) প্রধান শাইখ (شيخ)" (৬)। "শু'লাহ (মৃ. ৬৫৬ হি.) আরবি ও ভাষাতত্ত্বে পূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন" (৭)। "মুহাম্মদ ইবনে আলী আশ-শাতিবি-এর নিকট ভাষাতত্ত্ব ও এর বিরল শব্দাবলি (غريب)-এর জ্ঞান সমাপ্ত হয়েছিল (তথা তিনি এই শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠ ছিলেন)" (৮)। এবং "ইমাদ আল-ইসফাহানি (মৃ. ৬৮২ হি.) ছিলেন প্রাঞ্জল (فصيح) ভাষী ও সুবক্তা (مفوه), এবং আরবি ভাষায় দক্ষ" (৯)। মুহাম্মদ ইবনে আবিল আলা (মৃ. ৫৬৯ হি.) "সাহিত্য (أدب) বিষয়ে উত্তম জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন" (১০)। আবু হাইয়ানের জীবনীতে রয়েছে, "কুরআন পাঠরীতি (قراءات) ও ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্রে তাঁর অনেক রচনা রয়েছে" (১১)। আবু বকর ইবনে ইউসুফের জীবনীতে রয়েছে, "তিনি কিরাত এবং আরবি ভাষার প্রধান শাইখ (مشيخة) পদে আসীন ছিলেন" (১২)। এবং তালহা ইবনে আবদুল্লাহ পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৪১৯।

(২) আয-যাহাবী, মারিফাতুল কুররা আল-কিবার পৃষ্ঠা ৪২৫।

(৩) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৪২৯ এবং দেখুন মুহাম্মদ ইবনে খালাফ (মৃ. ৫৮৫ হি.)-এর জীবনী পৃষ্ঠা ৪৪২।

(৪) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৪৩৫।

(৫) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৪৪৪।

(৬) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৪৬৭।

(৭) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৫৩৬।

(৮) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৫৪২।

(৯) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৫৫০।

(১০) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৫৬৮।

(১১) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৫৭৮।

(১২) প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৫৯৬।