(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: -)
عناية المسلمين باللغة العربية خدمة للقرآن الكريم - أحمد محمد الخراط   (أحمد الخراط)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: عناية المسلمين باللغة العربية خدمة للقرآن الكريم

المؤلف: أ. د. أحمد بن محمد الخراط، أبو بلال

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পবিত্র কুরআনের সেবায় আরবি ভাষার প্রতি মুসলিমদের যত্ন - আহমদ মুহাম্মদ আল-খরাত   (আহমদ আল-খরাত)

বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞান (علوم القرآن) ও তাফসীরের মূলনীতি (أصول التفسير)


বই: পবিত্র কুরআনের সেবায় আরবি ভাষার প্রতি মুসলিমদের যত্ন

লেখক: প্র. ড. আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-খরাত, আবু বিলাল

প্রকাশক: কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর দ্য প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة

…

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم وبعد: فقد أنعم الله صلى الله عليه وسلم على الإنسان بنِعَمٍ لا تُعَدُّ ولا تُحْصَى، ومن أَجَلِّ هذه النِّعم وأعظمها هذا الكتابُ العزيز، يعلِّمه ويرشده، واصطفى له سيد البشر لأداء الرسالة المنوطة به، وقد احتفل المسلمون بهذا الوحي الكريم أيَّما احتفال، ورأَوا مِنْ واجبهم اللازم خدمته، والتسابق إلى بيان كنوزه ودلالاته، وكان مِنْ فريق العمل الذي نشط لدَرْسه وتدبُّره ثلة من الأولين، عُنُوا بلغته، فلم يألوا جهداً في رعايتها وصيانتها، وما دفعهم إلى ذلك إلا رغبتهم في خدمة التنزيل العزيز، والتشرُّف بأن يكونوا إلى جانب مأدبة الله.

وبحثنا هذا غيض من فيض، يلقي الأضواء على طرف يسير من هذه الخدمة، ولولا الإيجاز الذي اضطررنا إليه لاحتمل زيادة الكثير من الصفحات.

وقد اعتمدنا في كتابته المنهج الوصفي، واجتهدنا في توثيق موارده، واخترنا مصادره من الأصيل السالف، والنظر المعاصر، بحسب ما يلزم سياقه، والتزمنا بعنوان كل مبحث، فلم يكن بحثنا في عناية المسلمين بعلوم اللغة العربية على نحو عام، وإنما قَيَّدَنا هذه العناية بخدمة القرآن الكريم. وقد جاء البحث في سبعة مباحث على النحو التالي:

المبحث الأول: عناية المسلمين باللغة خدمة للقرن الكريم.

المبحث الثاني: عناية المسلمين بالنحو خدمة للقرآن الكريم.

المبحث الثالث: عناية المسلمين بالبلاغة خدمة للقرآن الكريم.

المبحث الرابع: عناية المسلمين بالشعر خدمة للقرآن الكريم.

المبحث الخامس: عناية المسلمين بتوجيه القراءات في ضوء العربية خدمة للقرآن الكريم.
উপক্রমণিকা (مقدمة)

…

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের ওপর অসংখ্য অগণিত নিয়ামত দান করেছেন। এসব নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মহান নিয়ামত হলো এই মহাগ্রন্থ, যা তাকে শিক্ষা দেয় ও সঠিক পথ প্রদর্শন করে। আর তিনি মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্বকে তাঁর ওপর অর্পিত রিসালতের (رسالة) দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করেছেন। মুসলিমগণ এই সম্মানিত ওহিকে (وحي) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন এবং এর খিদমত করাকে তাদের জন্য একটি অপরিহার্য কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এর মধ্যকার লুকায়িত জ্ঞানভাণ্ডার ও তাৎপর্যসমূহ স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তারা প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে এসেছেন। এই ওহির অধ্যয়ন ও গবেষণার কাজে যারা সক্রিয় ছিলেন, তাদের মধ্যে পূর্বসূরিদের এমন একটি দলও ছিল যারা এর ভাষার প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। তারা এই ভাষার রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করেননি। এই মহাগ্রন্থের (তান্যিল) খিদমত করার বাসনা এবং আল্লাহর দস্তরখানের মেহমান হয়ে ধন্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষাই তাদেরকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে।

আমাদের এই গবেষণাটি সেই বিশাল খিদমতের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র, যা উক্ত খিদমতের সামান্য কিছু দিকের ওপর আলোকপাত করে। যদি আমাদের সংক্ষেপ করতে না হতো, তবে এটি আরও বহু পৃষ্ঠার দাবি রাখত।

এটি রচনার ক্ষেত্রে আমরা বর্ণনামূলক পদ্ধতি (المنهج الوصفي) অবলম্বন করেছি এবং এর তথ্যসূত্রগুলো যথাযথভাবে প্রামাণ্যকরণের (توثيق) চেষ্টা করেছি। আমরা প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে প্রাচীন মৌলিক উৎস এবং সমসাময়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এর উৎসসমূহ নির্বাচন করেছি। আমরা প্রতিটি পরিচ্ছেদের (مبحث) শিরোনামের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেছি। ফলে আমাদের এই গবেষণাটি সাধারণ অর্থে আরবি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি মুসলিমদের গুরুত্বারোপের বিষয়ে নয়, বরং আমরা এই গুরুত্বারোপকে বিশেষভাবে পবিত্র কুরআনের খিদমতের সাথে সম্পৃক্ত রাখার শর্তারোপ করেছি। এই গবেষণাটি নিম্নোক্ত সাতটি পরিচ্ছেদে (مباحث) বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): পবিত্র কুরআনের খিদমতে ভাষার প্রতি মুসলিমদের গুরুত্বারোপ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): পবিত্র কুরআনের খিদমতে নাহু (نحو) বা ব্যাকরণশাস্ত্রের প্রতি মুসলিমদের গুরুত্বারোপ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): পবিত্র কুরআনের খিদমতে অলঙ্কারশাস্ত্র বা বালাগাতের (بلاغة) প্রতি মুসলিমদের গুরুত্বারোপ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ (المبحث الرابع): পবিত্র কুরআনের খিদমতে কবিতার প্রতি মুসলিমদের গুরুত্বারোপ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ (المبحث الخامس): পবিত্র কুরআনের খিদমতে আরবি ভাষার আলোকে কিরাআতসমূহের (قراءات) ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রতি মুসলিমদের গুরুত্বারোপ।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ২)
المبحث السادس: عناية المسلمين برسم المصحف خدمة للقرآن الكريم.

المبحث السابع: عناية المسلمين بعلم الأصوات خدمة للقرآن الكريم.

أسأل الله سبحانه التوفيق والسداد، والحمد لله رب العالمين.

الباحث
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের খিদমত হিসেবে মুসহাফের লিখনশৈলীর (رسم المصحف) প্রতি মুসলিমদের বিশেষ যত্ন।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের খিদমত হিসেবে ধ্বনিবিজ্ঞানের (علم الأصوات) প্রতি মুসলিমদের বিশেষ যত্ন।

আমি মহান আল্লাহর নিকট তৌফিক (توفيق) ও সঠিক পথ প্রাপ্তি (سداد) কামনা করছি; আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

গবেষক
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المبحث الأول: عناية المسلمين باللغة خدمةً للقرآن الكريم

حازت العربية شرفاً عظيماً؛ إذ نزل القرآن الكريم بلسانها المبين، وقد اصطفاها الله سبحانه لوحيه مِنْ بين لغات البشر، وفي إنزال القرآن الكريم باللغة العربية مَرْتَبَةٌ رفيعة لعِلْم العربية، ووجه الدلالة (1) أنه تعالى أخبر أنه أنزله عربياً في سياق التمدُّح، والثناء على الكتاب بأنه مبين لم يتضمن لَبْساً، عزيزٌ لا يأتيه الباطل مِنْ بين يديه ولا مِنْ خلفه، وذلك يدلُّ دلالة ظاهرة على شرف اللغة التي أُنْزل بها.

وقد عُنِي السلف بالعربية، وأقبلوا على خدمتها على نحوٍ شامل، وأيقنوا أن دراستها والتأليف فيها ضربٌ من ضروب العبادة، يتقرَّبون به إلى الله (2) .

وقد استحقَّتْ خدمة العلماء للغة القرآن الوقوف على أوجه هذه الخدمة وفروعها المختلفة، ولا يَسَعُنا في هذا البحث الموجز إلا أن نشير إلى بعضها باختصار، فمن ذلك:

1 - التأليف في ((لغات القبائل الواردة في القرآن)) . اجتهد علماء العربية في بيان أصول الألفاظ القرآنية، وعَزَوها إلى قبائلها الأصلية، وبَيَّنوا المعنى المراد باللفظ القرآني لدى هذه القبيلة؛ وذلك لأن القرآن الكريم نزل بلغة قريش التي استقَتْ مِنْ صفوة لغات العرب ما راقَها.

--------------------------------------------

(1) الصعقة الغضبية في الرد على منكري العربية للطوفي 236.

(2) لغة القرآن للدكتور إبراهيم أبو عباة 16.
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের সেবায় মুসলমানদের ভাষাচর্চা

আরবি ভাষা এক মহান মর্যাদা লাভ করেছে; কেননা পবিত্র কুরআন এর সুস্পষ্ট ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষের সকল ভাষার মধ্য থেকে একে তাঁর ওহির জন্য মনোনীত করেছেন। আরবি ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মধ্যে আরবি ভাষাতত্ত্বের জন্য এক উচ্চ মর্যাদা নিহিত রয়েছে। এর প্রমাণের দিকটি হলো (১) যে, মহান আল্লাহ প্রশংসার প্রেক্ষাপটে এই কিতাবটিকে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করার সংবাদ দিয়েছেন এবং কিতাবটির প্রশংসা করে বলেছেন যে, এটি সুস্পষ্ট এবং এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই; এটি এক পরাক্রমশালী কিতাব, যার কাছে সম্মুখ বা পশ্চাৎ— কোনো দিক থেকেই মিথ্যা আসতে পারে না। এটি সেই ভাষার মর্যাদাকে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, যাতে তা অবতীর্ণ হয়েছে।

পূর্বসূরিগণ (সালাফ) আরবি ভাষার প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং তাঁরা সর্বাত্মকভাবে এর সেবায় মনোনিবেশ করেছিলেন। তাঁরা নিশ্চিত বিশ্বাস করতেন যে, এই ভাষা শিক্ষা করা এবং এতে গ্রন্থ রচনা করা ইবাদতেরই একটি ধরন, যার মাধ্যমে তাঁরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতেন (২)।

কুরআনের ভাষার প্রতি আলেমদের এই খিদমত বা সেবা এর বিভিন্ন দিক ও শাখা-প্রশাখা পর্যালোচনার দাবি রাখে। তবে এই সংক্ষিপ্ত গবেষণায় আমরা কেবল সংক্ষেপে এর কিছু দিক নির্দেশ করতে পারি, যেমন:

১ - "কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন গোত্রের ভাষা" বিষয়ে গ্রন্থ রচনা। আরবি ভাষাবিদগণ কুরআনের শব্দাবলির মূল উৎস বর্ণনায় কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং সেগুলোকে তাদের মূল গোত্রগুলোর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। তাঁরা সেই নির্দিষ্ট গোত্রের নিকট কুরআনিক শব্দের উদ্দিষ্ট অর্থ কী ছিল তা ব্যাখ্যা করেছেন; কারণ পবিত্র কুরআন কুরাইশদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল, যারা আরবদের বিভিন্ন ভাষার শ্রেষ্ঠ ও পছন্দনীয় অংশগুলো গ্রহণ করে নিজেদের ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছিল।

--------------------------------------------

(১) আস-সা’কাতুল গাদাবিয়্যাহ ফির রাদ্দি আলা মুনকিরিল আরাবিয়্যাহ, আত-তুফি, পৃষ্ঠা ২৩৬।

(২) লুগাতুল কুরআন, ডক্টর ইবরাহিম আবু আবাহ, পৃষ্ঠা ১৬।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ৪)
ومن أمثلة ذلك ما ورد في كتاب أبي عبيد القاسم بن سلام ((لغات القبائل)) (1) : ((رَغَداً من قوله تعالى: {وَكُلا مِنْهَا رَغَداً} (البقرة: 35) يعني الخِصْب بلغة طيئ، و ((الصاعقة)) مِنْ قوله تعالى: {فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ} (البقرة: 55) يعني المَوْتة بلغة عُمان، و ((خاسئين)) من قوله تعالى: {كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ} (البقرة: 65) يعني صاغرين بلغة كنانة، و ((وسَطاً)) من قوله تعالى: {جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً} (البقرة: 143) يعني عَدْلاً بلغة قريش)) .

وقد أفاد المفسرون كثيراً من معرفة لغات العرب الوادرة في القرآن الكريم، واستندوا إليها في تفسير كثير من الآيات الكريمة، وحدث بينهم مناقشات واختلافات في اعتماد معنى الآية المشهور، أو الاتجاه إلى تفسيرها في ضوء لغات العرب. ومن ذلك قوله تعالى: {أَفَلَمْ يَيْأَسِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيعاً} (الرعد: 31) فهل اليأس في الآية على بابه وهو قطع الطمع عن الشيء والقنوط فيه؟ قال بعضهم: هو هنا على بابه، والمعنى: أفلم يَيْئَسِ الذين آمنوا من إيمان الكفار من قريش، وذلك أنَّهم لمَّا سألوا هذه الآيات طمعوا في إيمانهم، وطلبوا نزولَ هذه الآيات ليؤمِنَ الكفار، وعَلِم الله أنهم لا يؤمنون فقال: أفلم يَيْئَسوا من إيمانهم. ولكن فريقاً آخر من أهل التفسير ذهبوا إلى غير ذلك من معنى اليأس فقالوا: هو هنا بمعنى عَلِمَ وتبيَّن. قال القاسم بن معن - وهو من ثقات الكوفيين -: ((هي لغة هوازن)) . وقال ابن الكلبي: ((هي لغة حَيّ من النخع)) ومنه قول سُحَيْم:

--------------------------------------------

(1) لغات القبائل 46.
এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম রচিত 'লুগাত আল-কাবায়িল' গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহ তাআলার বাণী: {وَكُلا مِنْهَا رَغَداً} (আল-বাকারা: ৩৫)-এ 'রাগাদান' (رغداً) অর্থ হলো প্রাচুর্য বা উর্বরতা, যা তাইয়ি গোত্রের ভাষা; মহান আল্লাহর বাণী: {فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ} (আল-বাকারা: ৫৫)-এ 'আস-সাইকাহ' (الصاعقة) অর্থ হলো মৃত্যু, যা ওমান অঞ্চলের ভাষা; আল্লাহ তাআলার বাণী: {كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ} (আল-বাকারা: ৬৫)-এ 'খাসিয়িন' (خاسئين) অর্থ হলো লাঞ্ছিত বা অপদস্থ, যা কিনানা গোত্রের ভাষা; এবং মহান আল্লাহর বাণী: {جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً} (আল-বাকারা: ১৪৩)-এ 'ওয়াসাতান' (وسطاً) অর্থ হলো ন্যায়পরায়ণ (عدلاً), যা কুরাইশদের ভাষা।"

মুফাসসিরগণ পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আরবদের বিভিন্ন উপভাষা সম্পর্কে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছেন এবং অনেক আয়াতের তাফসিরের ক্ষেত্রে তাঁরা এর ওপর ভিত্তি করেছেন। কোনো আয়াতের প্রসিদ্ধ অর্থ গ্রহণ করা হবে নাকি আরবদের উপভাষাসমূহের আলোকে সেটির ব্যাখ্যা করা হবে—এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে নানা আলোচনা ও মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। এরই একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {أَفَلَمْ يَيْأَسِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيعاً} (আর-রাদ: ৩১)। এখানে কি 'ইয়াস' (اليأس) শব্দটি তার নিজস্ব মূল অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে—যা হলো কোনো কিছুর আশা ত্যাগ করা এবং নিরাশ হওয়া? কেউ কেউ বলেছেন: শব্দটি এখানে তার মূল অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। এর মর্মার্থ হলো: মুমিনগণ কি কুরাইশ কাফেরদের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হননি? আর তা এজন্য যে, কাফেররা যখন অলৌকিক নিদর্শনগুলো দেখতে চেয়েছিল, তখন মুমিনগণ তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে আশাবাদী হয়েছিলেন এবং এই নিদর্শনগুলো অবতীর্ণ করার প্রার্থনা করেছিলেন যেন কাফেররা ঈমান আনে। কিন্তু আল্লাহ জানতেন যে তারা ঈমান আনবে না, তাই তিনি বললেন: তারা কি তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হয়নি? তবে মুফাসসিরদের অন্য একটি দল 'ইয়াস' শব্দের অন্য অর্থ গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন: এখানে শব্দটি 'জানতে পারা' (عَلِمَ) এবং 'স্পষ্ট হওয়া' (تبيَّن) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কাসিম ইবনে মা'ন—যিনি কুফাবাসীদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তি ছিলেন—তিনি বলেন: "এটি হাওয়াজিন গোত্রের ভাষা।" ইবনে আল-কালবি বলেন: "এটি নাখয়ি গোত্রের একটি শাখার ভাষা।" সুহাইম-এর উক্তিও এর অন্তর্ভুক্ত:

--------------------------------------------

(১) লুগাত আল-কাবায়িল ৪৬।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ৫)
أقول لهم بالشِّعْبِ إذ يَأْسِرونني … ألم تَيْئَسوا أني ابن فارسِ زَهْدَم

ويدلُّ عليه قراءةُ عليّ وابن عباس وآخرين ((أولم يتبيَّن)) (1) .

وهذا العَزْوُ إلى لهجات القبائل في التفسير باب واسع في مصنفات التفسير وإعراب القرآن، أفاد منه العلماء كثيراً في إجلاء معنى طائفة من الآيات، وبيَّنوا المزيد من أوجه دلالاتها.ومن الكتب التي وصلتنا في هذا الجانب: ((لغات القرآن)) لكلٍ من أبي عبيد، والوزَّان، وأبي حيان، وابن حسنون.

2 - وأثرُ دراسة ألفاظ القرآن في كتب ((الأضداد)) واضح، ومن هذه المصنفات كتاب أبي الطيب اللغوي، وكتاب قطرب، وكتاب ابن الأنباري. وهي تورد المفردة اللغوية، وتنصُّ على استعمالها في القرآن والحديث والشواهد الفصيحة من الشعر وأقوال العرب؛ وذلك لأنَّ بعض ألفاظ العربية تُنْبئ عن المعنى وضده في الكلمة نفسها. وقد تَصَدَّتْ هذه الدراسات لبحث مدلول اللفظ المفرد وصلته بالسياق، ومدى اختلاف معناه باختلاف تركيبه في الجملة. يقول الدكتور محمد زغلول سلام (2) : ((وكان حافز العلماء في الاجتهاد والبحث القرآنَ؛ ذلك لأنَّ المفسِّرين والعلماء الذين شُغِلوا بدراسة أسلوبه قد اعترضَتْهم بعض العقبات، حين اصطدموا بألفاظٍ قد يُفْهم تكرارها في مناسبات مختلفة في القرآن أنها متضادَّة أو مختلفة في معانيها، وذلك بالقياس إلى الشاهد الشعري، ممَّا دعا بعض الطاعنين ومَنْ يثير الشكوك إلى القول

--------------------------------------------

(1) الدر المصون 7 / 51-53.

(2) أثر القرآن في تطور النقد العربي 165.
আমি তাদের সেই গিরিপথে বলেছিলাম যখন তারা আমাকে বন্দী করছিল … তোমরা কি জানতে না যে আমি অশ্বারোহী জাহদামের পুত্র?

এবং আলী, ইবনে আব্বাস ও অন্যদের পাঠরীতি (قراءة) ‘আওয়ালাম ইয়াতাবাইয়্যান’ এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেয় (১)।

আর তাফসিরের (تفسير) ক্ষেত্রে বিভিন্ন গোত্রীয় উপভাষার এই সম্পৃক্ততা তাফসিরের (تفسير) গ্রন্থসমূহ এবং কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) ক্ষেত্রে একটি বিস্তৃত অধ্যায়। আলেমগণ একদল আয়াতের অর্থ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে এটি থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছেন এবং তারা এর অর্থের বিভিন্ন দিক ও নির্দেশনাবলী (دلالات) ব্যাখ্যা করেছেন। এই ক্ষেত্রে আমাদের কাছে পৌঁছেছে এমন বইগুলোর মধ্যে রয়েছে: আবু উবাইদ, আল-ওয়াজ্জান, আবু হাইয়ান এবং ইবনে হাসনুনের ‘লুগাতুল কুরআন’।

২ - আর ‘বিপরীতার্থক শব্দ (الأضداد)’ বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে কুরআনের শব্দাবলী পর্যালোচনার প্রভাব সুস্পষ্ট। আর এই সংকলনগুলোর মধ্যে আবু আল-তাইয়্যিব আল-লুগাভি, কুতরুব এবং ইবনে আল-আনবারির কিতাব উল্লেখযোগ্য। এগুলো আভিধানিক একক শব্দ উপস্থাপন করে এবং কুরআন, হাদিস ও আরব্য কাব্যের সাবলীল দৃষ্টান্ত ও আরবদের প্রবাদ-প্রবচনে সেগুলোর প্রয়োগ নিশ্চিত করে; আর এটি এই কারণে যে, আরবী ভাষার কিছু শব্দ একই শব্দের মধ্যে অর্থ এবং তার বিপরীত অর্থও প্রকাশ করে। এই গবেষণাগুলো একক শব্দের অর্থ এবং প্রেক্ষাপটের (سياق) সাথে তার সম্পর্ক এবং বাক্যে গঠনের ভিন্নতার কারণে এর অর্থের পার্থক্যের পরিধি নিয়ে আলোচনা করেছে। ড. মুহাম্মদ যাগলুল সালাম (২) বলেন: “গবেষণা (اجتهاد) ও অনুসন্ধানে আলেমদের মূল চালিকাশক্তি ছিল কুরআন; কারণ মুফাসসির (مفسر) এবং যে আলেমগণ কুরআনের শৈলী পর্যালোচনায় নিয়োজিত ছিলেন, তারা কিছু বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। যখন তারা এমন কিছু শব্দের মুখোমুখি হলেন যেগুলোর কুরআনের বিভিন্ন স্থানে পুনরাবৃত্তি কখনও বিপরীতার্থক মনে হয় অথবা কাব্যের দৃষ্টান্তের তুলনায় সেগুলোর অর্থ ভিন্ন হতে পারে। এর ফলে কিছু সমালোচক এবং সন্দেহ পোষণকারী এই মন্তব্য করার সুযোগ পায় যে—”

--------------------------------------------

(১) আদ-দুররুল মাসুন ৭/৫১-৫৩।

(২) আসারুল কুরআন ফি তাতাওয়ুরিন নাকদিল আরাবি ১৬৫।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ৮)
مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِنَ النَّاسِ يَسْقُونَ} (القصص:23) وبمعنى الحين من الزمان، نحو قوله تعالى: {وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ} (يوسف: 45) ، وبمعنى الملَّة والدين، نحو قوله تعالى: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ} (الزخرف: 23) ، وبمعنى الجنس نحو قوله تعالى: {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ} (الأنعام: 38) .

وقد أثبت هذا المشتركَ ابنُ فارس في كتابه ((الصاحبي)) (1) ومثَّل له بالعَين، وسيبويه في كتابه (2) ، وأشار إلى أن مِنْ كلام العرب اتفاق اللفظيين واختلاف المعنيين، نحو قولك: ((وَجَدْتُ عليه)) من المَوْجِدة و ((وجَدْت)) إذا أرَدْتَ وجدان الضَّالَّة.

وقد خدم العلماء الألفاظ القرآنية التي تسير على هذا القبيل.

ويلخص الدكتور رمضان عبد التواب عوامل نشأة المشترك اللفظي بالاستعمال المجازي، ولم يهتمَّ أصحاب المعاجم بالتفرقة بين المعاني الحقيقية والمجازية للكلمات، والعامل الآخر في نشأته اللهجاتُ؛ وذلك لأنَّ بعض هذه المعاني المجازية نشأ في بيئات مختلفة، ويُضاف إلى هذه العوامل اقتراض الألفاظ من اللغات المختلفة، وينتهي إلى القول بأن المشترك اللفظي لا وجود له في واقع الأمر إلا في معجم لغةٍ من اللغات، أمَّا نصوص هذه اللغة واستعمالاتها فلا وجود إلا لمعنى واحد من معاني هذا المشترك اللفظي (3) .

--------------------------------------------

(1) الصاحبي 114.

(2) الكتاب 1 / 24.

(3) فصول في فقة العربية 334.
...মাদইয়ানে তিনি একদল (أمة) লোককে [পশুদের] পানি পান করাতে দেখলেন} (কাসাস: ২৩); এবং সময়ের একটি নির্দিষ্ট কাল অর্থে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং দীর্ঘকাল (أمة) পরে তার মনে পড়ল} (ইউসুফ: ৪৫); এবং মিল্লাত ও দ্বীন অর্থে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের (أمة) ওপর পেয়েছি} (যুখরুফ: ২৩); এবং প্রজাতি (الجنس) অর্থে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই কিংবা ডানা দিয়ে ওড়ে এমন কোনো পাখি নেই যারা তোমাদের মতোই এক একটি প্রজাতি (أمم) নয়} (আনআম: ৩৮)।

ইবন ফারিস তাঁর আস-সাহিবী (১) গ্রন্থে এই সমার্থশব্দ বা বহু অর্থবোধক শব্দের (المشترك) বিষয়টি সপ্রমাণ আলোচনা করেছেন এবং ‘আইন’ (العين) শব্দটিকে এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন; ইমাম সিবওয়াইহিও তাঁর গ্রন্থে (২) এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, আরবদের বক্তব্যে দুটি শব্দের উচ্চারণ এক হওয়া সত্ত্বেও অর্থ ভিন্ন হতে পারে (اتفاق اللفظيين واختلاف المعنيين), যেমন তোমার উক্তি: ‘আমি তার ওপর রাগান্বিত হয়েছি’ (وَجَدْتُ عليه)—যা ‘মাওজিদাহ’ (রাগান্বিত হওয়া) থেকে উদ্ভূত; আবার ‘আমি খুঁজে পেয়েছি’ (وجَدْت)—যখন তুমি কোনো হারানো বস্তু খুঁজে পাওয়ার কথা বোঝাতে চাও।

পণ্ডিতগণ কুরআনের সেই শব্দগুলোর ব্যাপক খিদমত করেছেন যা এই ধারায় চলে।

ডক্টর রমাদান আবদুত তাওয়াব সমার্থশব্দের (المشترك اللفظي) উৎপত্তির কারণগুলোকে রূপক ব্যবহারের (الاستعمال المجازي) মাধ্যমে সংক্ষেপিত করেছেন। অভিধান রচয়িতাগণ শব্দের প্রকৃত (الحقيقية) ও রূপক (المجازية) অর্থের মধ্যে পার্থক্য করার ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেননি। এর উৎপত্তির অন্য একটি কারণ হলো উপভাষা (اللهجات); কারণ এই রূপক অর্থগুলোর কিছু ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে তৈরি হয়েছে। এই কারণগুলোর সাথে বিভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ ধারের (اقتراض الألفاظ) বিষয়টিও যুক্ত হয়। তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, সমার্থশব্দের (المشترك اللفظي) অস্তিত্ব বাস্তবে কোনো ভাষার অভিধান ছাড়া আর কোথাও নেই; তবে সেই ভাষার পাঠ্য ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই সমার্থশব্দের অর্থগুলোর মধ্য থেকে কেবল একটি অর্থই বিদ্যমান থাকে (৩)।

--------------------------------------------

(১) আস-সাহিবী ১১৪।

(২) আল-কিতাব ১/২৪।

(৩) ফুসুল ফি ফিকহিল আরাবিয়্যাহ ৩৩৪।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ৯)
4 - وثمة خدمة جليلة خاصة بمعاني المفردات القرآنية قام بها بعض علماء السلف من المَعْنِيِّين بعلوم العربية، ومن ذلك كتاب ((المفردات)) للراغب الأصبهاني، وكتاب ((عمدة الحفاظ في تفسير أشرف الألفاظ)) للسمين الحلبي. ومنهج هذا الضرب من التصنيف هو ترتيب موادِّ الكتاب على منهج أوائل الحروف بعد تجريدها من الحروف الزائدة، كما هو الحال في معجم ((أساس البلاغة)) للزمخشري، ثم تُذْكَرُ المعاني اللغوية الواردة داخل المادة، ويستشهد عليها بآيات من القرآن الكريم.

وتُعْنَى هذه المصنفات بالتعريفات اللغوية، وتُعَدُّ مرجعاً أصيلاً في ذلك، وتَدْعم المعاني التي توردها بالشعر والحديث وأقوال العرب.

ومن ذلك قول الراغب (1) : ((الحدوث كون الشيء بعد أن لم يكن، عَرَضاً كان ذلك أو جوهراً، وإحداثهُ إيجاده. قال تعالى: {مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ ذِكْرٍ مِنْ رَبِّهِمْ مُحْدَثٍ} (الأنبياء: 2) ، ويقال لكل ما قَرُبَ عهدُه: مُحْدَث)) ، فعلاً كان أو مقالاً، قال تعالى: {حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْراً} (الكهف: 70) وكل كلام يبلغ الإنسان من جهة السمع أو الوحي في يقظته أو منامه يقال له: حديث)) . وفائدة هذا الضرب من المؤلفات جمع المعاني الواردة للمادة اللغوية الواحدة في كتاب الله، سواء أكانت اللفظة القرآنية اسماً جامداً أم مشتقاً أم فعلاً، فيمر المصنف بجميع

(1) المفردات 110.
4 - এবং কুরআনের শব্দার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি মহৎ সেবা (খিদমত) সালাফদের (পূর্বসূরী আলেমদের) এমন কিছু আলেম সম্পাদন করেছেন যারা আরবি ভাষা বিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো রাগেব আল-আসফাহানির গ্রন্থ 'মুফরাদাত' এবং সামিন আল-হালাবির গ্রন্থ 'উমদাতুল হুফফাজ ফি তাফসির আশরাফিল আলফাজ'। এই পদ্ধতির সংকলনশৈলী হলো অতিরিক্ত বর্ণগুলো বর্জন করার পর মূল শব্দগুলোকে বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে সাজানো, যেমনটি যামাখশারির অভিধান 'আসাসুল বালাগাহ'-তে দেখা যায়। অতঃপর মূল শব্দের অধীনে থাকা ভাষাগত অর্থসমূহ উল্লেখ করা হয় এবং পবিত্র কুরআনের আয়াত দ্বারা তার স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়।

এই সংকলনগুলো ভাষাগত সংজ্ঞায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং এ বিষয়ে এগুলোকে মৌলিক রেফারেন্স হিসেবে গণ্য করা হয়। এগুলো উপস্থাপিত অর্থসমূহকে কবিতা, হাদিস এবং আরবদের বাচনভঙ্গির মাধ্যমে সুদৃঢ় করে।

এর মধ্যে রাগেব (১) এর উক্তিটি হলো: "নতুন উদ্ভব (حدوث) বলতে কোনো কিছুর অনস্তিত্বের পর অস্তিত্বে আসাকে বোঝায়, তা গুণ (عرض) হোক কিংবা সত্তা (جوهر) হোক; আর একে অস্তিত্ব দান করা হলো ইহদাস (إحداث)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের কাছে কোনো নতুন (محدث) উপদেশই আসে না} (আল-আম্বিয়া: ২)। আর যার সময়কাল অতি নিকটবর্তী, তাকে 'মুহদাস' (محدث) বলা হয়, তা কোনো কাজ হোক বা কথা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে সে সম্পর্কে কোনো আলোচনা (ذكراً) শুরু করি} (আল-কাহাফ: ৭০)। আর জাগ্রত অবস্থায় বা নিদ্রায় শ্রবণ অথবা ওহির (وحي) মাধ্যমে মানুষের কাছে যে কথা পৌঁছায় তাকেই হাদিস বলা হয়।" এই ধরণের রচনার উপকারিতা হলো আল্লাহর কিতাবে কোনো একটি ভাষাগত মূল উপাদানের অধীনে আসা সকল অর্থকে একীভূত করা, চাই সেই কুরআনিক শব্দটি অজাত বিশেষ্য (اسم جامد), ব্যুৎপন্ন বিশেষ্য (مشتق) কিংবা ক্রিয়া (فعل) হোক না কেন। এভাবে গ্রন্থকার সকল বিষয়বস্তুর মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন...

(1) মুফরাদাত ১১০।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ১০)
، فيمر المصنف بجميع هذه المعاني، ويُمَهِّد لها بمعانيها وتعريفاتها.

5 - استخدم القرآن الكريم طائفة من الألفاظ ((المُعَرَّبة)) ، وقد تصدَّى علماء العربية لها، وردُّوها إلى أصولها. وقد قرر اللغويون أنه من المتعذِّر أَنْ تظلَّ لغةٌ بِمَأْمَنٍ من الاحتكاك بلغة أخرى، ويعني هذا اقتراض هذه اللغات بعضها من بعض، وتأثير إحداها في الأخرى، وهذا ما حدث للُّغة العربية مع جاراتها من اللغات (1) ، ويُطلق على مثل هذه الكلمات التي أخذتها العربية من اللغات المجاورة مصطلح ((المُعَرَّب)) ، ويعني هذا أن تلك الكلمات المستعارة في العربية لم تَبْقَ على حالها تماماً، كَما كانت في لغاتها، وإنما طوَّعها العرب لمنهج لغتهم في أصواتها وبنيتها، وقد طال الأمد على كثير من هذه الألفاظ في الجاهلية، وأَلِفَ الناس استعمالها، وصارت جزءاً من لغتهم، وجاء القرآن فأنزله الله بهذه اللغة العربية التي أصبح بعض هذا المُعَرَّب من مقوِّماتها، فجاء فيه شيء من تلك الألفاظ التي عَرَّبَها القوم من لغات الأمم المجاورة (2) .

ومن المصنفات المشهورة في هذا الميدان ((المُعَرَّب)) للجواليقي.

يقول في مقدمته (3) : ((هذا كتاب نذكر فيه ما تكلَّمَتْ به العرب من الكلام الأعجمي، ونطق به القرآن المجيد، وورد في أخبار الرسول

(1) فصول في فقه اللغة 359.

(2) فصول في فقه اللغة 359.

(3) المعرب 91.
... গ্রন্থকার এই সকল অর্থের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হন এবং সেগুলোর অর্থ ও সংজ্ঞার মাধ্যমে সেগুলোর জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন।

৫ - পবিত্র কুরআন একদল 'আরবিকৃত (المُعَرَّبة)' শব্দের ব্যবহার করেছে; আরবি ভাষাবিদগণ এগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করেছেন এবং সেগুলোকে তাদের মূল উৎসে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। ভাষাবিদগণ সাব্যস্ত করেছেন যে, কোনো ভাষার পক্ষেই অন্য ভাষার সংস্পর্শ থেকে মুক্ত থাকা অসম্ভব; এর অর্থ হলো এই ভাষাগুলোর একে অপরের থেকে শব্দ ঋণ গ্রহণ করা এবং একটির ওপর অন্যটির প্রভাব বিস্তার করা। আরবি ভাষার ক্ষেত্রেও তার পার্শ্ববর্তী ভাষাগুলোর সাথে এটিই ঘটেছে (১)। আরবি ভাষা তার পার্শ্ববর্তী ভাষাগুলো থেকে যে সকল শব্দ গ্রহণ করেছে, সেগুলোকে 'আরবিকৃত (المُعَرَّب)' পরিভাষা দ্বারা অভিহিত করা হয়। এর অর্থ হলো, আরবি ভাষায় ধার করা এই শব্দগুলো তাদের মূল ভাষায় যেভাবে ছিল ঠিক সেভাবেই রয়ে যায়নি; বরং আরবরা সেগুলোকে তাদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব ও কাঠামোগত পদ্ধতির অনুসারী করে নিয়েছে। জাহেলি যুগে এই শব্দগুলোর অনেকগুলোর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে, মানুষ এগুলোর ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং সেগুলো তাদের ভাষার অংশে পরিণত হয়েছে। অতঃপর কুরআন অবতীর্ণ হলো এবং আল্লাহ তাআলা এটি সেই আরবি ভাষায় নাজিল করলেন যার মৌলিক উপাদানের অংশ হয়ে গিয়েছিল এই 'আরবিকৃত (المُعَرَّب)' শব্দাবলি। ফলে এতে সেই সকল শব্দের কিছু অংশ এসেছে যা তারা পার্শ্ববর্তী জাতিগুলোর ভাষা থেকে আরবিকরণ করেছিল (২)।

এই ক্ষেত্রে একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হলো জাওয়ালিকির আল-মুয়াররাব।

তিনি তার ভূমিকায় (৩) বলেন: "এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আমি আরবরা যে সকল অনারবি শব্দ ব্যবহার করেছে, পবিত্র কুরআন যা উচ্চারণ করেছে এবং রাসূলের সংবাদসমূহে (أخبار) যা বর্ণিত হয়েছে..."

(১) ফুসুলুন ফি ফিকহিল লুগাহ ৩৫৯।

(২) ফুসুলুন ফি ফিকহিল লুগাহ ৩৫৯।

(৩) আল-মুয়াররাব ৯১।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ১১)
صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين وذكرَتْه العرب في أشعارها وأخبارها؛ ليُعْرَفَ الدخيل من الصريح، ففي معرفة ذلك فائدة جليلة: وهي أن يَحْتَرِس المشتقُّ، فلا يَجْعل شيئاً من لغة العرب لشيء من لغة العجم)) .

ويتحدث الجواليقي عن المذهب الصحيح الذي يراه في مثل هذه الألفاظ فيقول: ((وذلك أن هذه الحروف بغير لسان العرب في الأصل فقالوا أولئك على الأصل، ثم لفظت به العرب بألسنتها، فعرَّبَته فصار عربياً بتعريبها إياه، فهي عربية في الحال أعجمية الأصل)) (1) . ونحن هنا لسنا بصدد تحقيق القول في قبول نظرية المعرَّب أو نفيها عن القرآن الكريم، وغرضنا أن نشير إلى ضرب من الخدمة اللغوية التي نهض لها علماء العربية في سبيل لغة القرآن، وتحليل أصولها.

ومن أمثلة ذلك قول صاحب ((المُعَرَّب)) (2) : ((وإبليس ليس بعربي، وإن وافق ((أَبْلَس الرجلُ)) إذا انقطعَتْ حُجَّتُهُ، إذ لو كان منه لصُرِفَ.

ومنهم مَنْ يقول: هو عربي، ويجعل اشتقاقه مِنْ أبلس يُبْلس، أي: يئس، فكأنه أَبْلَس مِنْ رحمة الله أي: يئس منها، والقول هو الأول)) .

6 - وبعض دراسات اللغويين اختَصَّ ((بغريب القرآن)) ؛ وذلك لأن القرآن قدَّم للعرب ثروة لغوية واسعة، فاختلف الناس في مستوى أفهامهم لهذه

--------------------------------------------

(1) المعرب 92.

(2) المعرب 122.
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সাহাবি (صحابة) এবং তাবেয়ি (تابعين)-গণ; আরবরা তাদের কবিতা ও সংবাদসমূহে তা উল্লেখ করেছে, যাতে বিশুদ্ধ (صريح) শব্দ থেকে অনুপ্রবেশকারী (دخيل) শব্দকে পৃথক করা যায়। এই জ্ঞান অর্জনের মধ্যে একটি সুমহান উপকারিতা রয়েছে: আর তা হলো ব্যুৎপত্তিবিদ যেন সতর্ক থাকেন এবং অনারব ভাষার কোনো কিছুকে আরবি ভাষার অন্তর্ভুক্ত না করেন।

আল-জাওয়ালিকি এই ধরনের শব্দাবলির ক্ষেত্রে তিনি যে সঠিক (صحيح) মত পোষণ করেন সে সম্পর্কে বলেন: "মূলত এই বর্ণগুলো আদিতে আরবি ভাষার ছিল না। তারা সেই আদি রূপেই তা বলত, এরপর আরবরা তাদের নিজ জবান দ্বারা তা উচ্চারণ করে এবং সেগুলোকে আরবিকরণ করে। ফলে তাদের আরবিকরণের মাধ্যমে সেগুলো আরবিতে পরিণত হয়। সুতরাং এগুলো বর্তমানে আরবি হলেও মূলগতভাবে অনারব।" (১) । আমরা এখানে পবিত্র কুরআনে আরবিকৃত (মুআররাব) শব্দের তত্ত্ব গ্রহণ বা বর্জনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তমূলক আলোচনার উদ্দেশ্যে বসিনি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো সেই ভাষাগত খিদমতের একটি দিক নির্দেশ করা যা আরবি ভাষাবিদগণ কুরআনের ভাষা এবং এর মূল বিশ্লেষণার্থে আঞ্জাম দিয়েছিলেন।

এর উদাহরণ হিসেবে 'আল-মুআররাব' (২) গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য উল্লেখযোগ্য: "ইবলিস শব্দটি আরবি নয়, যদিও এটি 'আবলাসা আল-রাজুলু' (যখন লোকটির যুক্তি বা দলিল নিঃশেষ হয়ে যায়) ক্রিয়ার সাথে অর্থগত মিল রাখে। কেননা যদি শব্দটি সেই ধাতু থেকে উদ্ভূত হতো, তবে তা শব্দরূপ পরিবর্তনের (সারফ) নিয়ম গ্রহণ করত।"

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: এটি আরবি শব্দ এবং তারা এর ব্যুৎপত্তি 'আবলাসা-ইউবলিসু' থেকে ধরেন, যার অর্থ: নিরাশ হওয়া। যেন সে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়েছে। তবে প্রথম মতটিই অগ্রগণ্য।

৬ - ভাষাবিদদের কিছু গবেষণা 'দুর্বোধ্য (غريب) আল-কুরআন' বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে; কারণ কুরআন আরবদের এক বিশাল ভাষাগত সম্পদ দান করেছে, ফলে এগুলোর মর্ম অনুধাবনের ক্ষেত্রে মানুষের স্তরে ভিন্নতা দেখা দিয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) আল-মুআররাব ৯২।

(২) আল-মুআররাব ১২২।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ১২)
الثروة، ممَّا جعل اللغويين والمفسرين يعكفون على دراسة الغريب لبيان معانيه، والاستشهاد عليه بشعر العرب وأقوالهم.ومن ذلك كتاب ((تفسير غريب القرآن)) لابن قتيبة، حيث يقول في مقدمته: ((وكتابنا هذا مُسْتَنْبَط من كتب المفسرين وكتب أصحاب اللغة العالمين، لم نخرج فيه عن مذاهبهم، ولا تكلَّفْنا في شيء منه بآرائنا غيرَ معانيهم، بعد اختيارنا في الحرف أَولَى الأقاويل في اللغة وأشبهها بقصة الآية)) (1) .

ويرى الدارسون أن القرآن سبب ظهور علم الغريب بمفهومه العام، وما جرَّ إليه من حركة جمع الشعر والنوادر، وما تبع ذلك من رحلات علمية نشطة إلى البوادي (2) . ومن الكتب التي وصلَتْنَا في هذا الحقل: كتاب ((الغريبَيْن)) : غريب القرآن وغريب الحديث لأبي عبيد الهروي، و ((بهجة الأريب في بيان ما في كتاب الله العزيز من الغريب)) للتركماني، و ((تذكرة الأريب في تفسير الغريب)) لابن الجوزي. وقد خَدَمَتْ هذه المصنفات كتاب الله بأنها اختَصَّتْ بما يراه أصحابها داخلاً تحت مصطلح الغريب، فيمضون في شرحه وبيان آراء العلماء في دلالته، وقد كان في مصنفات الغريب مادة ذات شأن أفادت منها كتب التفسير عبر القرون؛ وذلك لأنَّ المفسِّر لا بد أن يبدأ بالمعنى اللغوي للمفردة القرآنية قبل الشروع في استنباط الأحكام منها.

--------------------------------------------

(1) تفسير غريب القرآن 4.

(2) المفصل في تاريخ النحو العربي 17.
ভাষাগত সম্পদের প্রাচুর্য ভাষাবিদ এবং মুফাসসিরদের ‘বিরল বা অপরিচিত শব্দ’ (غريب) গবেষণায় নিবিষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে তারা এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করতে পারেন এবং আরবের কাব্য ও প্রবাদ থেকে এর স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন। এরই একটি উদাহরণ হলো ইবনে কুতায়বাহ রচিত ‘তাফসির গারিবুল কুরআন’ গ্রন্থটি, যার ভূমিকায় তিনি উল্লেখ করেন: “আমাদের এই কিতাবটি মুফাসসিরদের কিতাব এবং বিজ্ঞ ভাষাবিদদের কিতাব থেকে সংকলিত হয়েছে। আমরা এতে তাদের মতাদর্শ পরিহার করিনি এবং তাদের ব্যাখ্যার বাইরে নিজস্ব মতামত আরোপের প্রয়াস চালাইনি; বরং কোনো শব্দের ক্ষেত্রে ভাষাগতভাবে অধিকতর উপযুক্ত এবং আয়াতের ঘটনার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ মতটি আমরা নির্বাচন করেছি।” (১)

গবেষকদের অভিমত হলো, কুরআনই এর সাধারণ ধারণায় ‘বিরল বা অপরিচিত শব্দ’ (غريب) বিজ্ঞানের উদ্ভবের প্রধান কারণ, যা কাব্য ও বিরল ভাষাগত নিদর্শন সংগ্রহের আন্দোলন এবং এর ধারাবাহিকতায় মরুভূমি অভিমুখে সক্রিয় জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরের পথ প্রশস্ত করেছিল (২)। এই জ্ঞানতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে আমাদের কাছে পৌঁছানো গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আবু উবাইদ আল-হারাউয়ীর ‘আল-গারিবাইন: গারিবুল কুরআন ওয়া গারিবুল হাদিস’, আত-তুর্কিমানির ‘বাহজাতুল আরিব ফী বায়ানি মা ফী কিতাবিল্লাহিল আজিজি মিনাল গারিব’ এবং ইবনুল জাওযির ‘তাযকিরাতুল আরিব ফী তাফসিরিল গারিব’। এই গ্রন্থগুলো আল্লাহর কিতাবের বিশেষ খিদমত আঞ্জাম দিয়েছে, কারণ এগুলো মূলত সেই সব বিষয়ের জন্য নিবেদিত ছিল যেগুলোকে লেখকরা ‘বিরল বা অপরিচিত শব্দ’ (غريب) পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেছেন। তারা এর ব্যাখ্যা এবং এর অর্থগত তাৎপর্য নিয়ে আলেমদের মতামত তুলে ধরেছেন। ‘গারিব’ বিষয়ক এই সংকলনগুলোতে এমন সমৃদ্ধ উপাদান ছিল যা শতাব্দীকাল ধরে তাফসিরের কিতাবসমূহকে উপকৃত করেছে; কারণ একজন মুফাসসিরের জন্য কোনো আয়াত থেকে বিধান উদ্ভাবন (استنباط) করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট শব্দটির ভাষাগত অর্থ অনুধাবন করা অপরিহার্য।

--------------------------------------------

(১) তাফসির গারিবুল কুরআন ৪।

(২) আল-মুফাসসাল ফী তারিখিন নাহু আল-আরাবি ১৭।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومن ذلك ما قاله ابن قتيبة (1) : ((قوله: {وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّهِ} (البقرة: 173) أي: ما ذُبح لغير الله، وإنما قيل ذلك لأنه يُذْكر عند ذبحه غيرُ اسم الله فيظهر ذلك، أو يرفع الصوت به، وإهلال الحج منه، إنما هو إيجابه بالتلبية. واستهلال الصبي منه إذا وُلِدَ، أي صوته بالبكاء)) .

7 - وثمة دراسات في ((الفروق اللغوية)) أفاد منها المفسرون كثيراً، واختلفَتْ وجهات نظرهم في توجيه كثير من الآيات القرآنية. ومن هذه الدراسات ((كتاب الفروق في اللغة)) لأبي هلال العسكري، يقول في مقدمته: ((وجعلت كلامي فيه على ما يُعْرض منه في كتاب الله وما يجري في ألفاظ الفصحاء والمتكلمين وسائر محاورات الناس)) (2) ، ومن أمثلته في كتابه (3) : ((الفرق بين الهداية والإرشاد أن الإرشاد إلى الشيء هو التطريقُ إليه والتبيين له، والهداية هي التمكُّن من الوصول إليه، وقد جاءت الهداية للمهتدي في قوله تعالى: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} (الفاتحة: 6) ، فذكر أنهم دَعَوا بالهداية وهم مُهْتدون لا مَحالةَ، ولم يَجئ مثل ذلك في الإرشاد، ويقال أيضاً: هداه إلى المكروه، كما قال تعالى: {فَاهْدُوهُمْ إِلَى صِرَاطِ الْجَحِيمِ} (الصافات: 33) .

وقد ذهب جماعة من العلماء إلى وجود الترادف في العربية وقالوا:

--------------------------------------------

(1) تفسير غريب القرآن 69.

(2) الفروق 2.

(3) الفروق 203.
এ প্রসঙ্গে ইবনে কুতায়বাহ (১) যা বলেছেন তা হলো: ((আল্লাহর বাণী: {আর যা উৎসর্গ করা হয়েছে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে} (আল-বাকারাহ: ১৭৩); অর্থাৎ যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য জবেহ করা হয়েছে। একে এ নামে ডাকার কারণ হলো, জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম ব্যতীত অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়, ফলে তা প্রকাশ পায় অথবা তদ্বারা আওয়াজ উচ্চ করা হয়। হজ্জের 'ইহলাল' শব্দটিও এ থেকে নির্গত, যা মূলত তালবিয়াহ পাঠের মাধ্যমে হজ্জ আবশ্যক করাকে বোঝায়। আর নবজাতকের 'ইসতিহলাল' বলতে তার জন্মের সময়ের কান্নার আওয়াজকে বোঝায়।))

৭ - এ ছাড়াও 'আল-ফুরুক আল-লুগাভিয়্যাহ' (ভাষাতাত্ত্বিক পার্থক্যসমূহ) বিষয়ক এমন কিছু গবেষণা রয়েছে যা থেকে মুফাসসিরগণ প্রভূত উপকৃত হয়েছেন এবং অনেক কুরআনিক আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এ সব গবেষণার মধ্যে আবু হিলাল আল-আসকারী রচিত 'কিতাবুল ফুরুক ফিল লুগাহ' অন্যতম। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: ((আমি এতে আমার আলোচনাকে এমন সব শব্দের ওপর সীমাবদ্ধ রেখেছি যা আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত হয়েছে এবং যা বিশুদ্ধভাষী, ধর্মতাত্ত্বিক ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক কথোপকথনে প্রচলিত রয়েছে।)) (২) তাঁর কিতাব থেকে প্রাপ্ত এর একটি উদাহরণ হলো (৩): (('হিদায়াত' এবং 'ইরশাদ'-এর মধ্যে পার্থক্য হলো—কোনো বিষয়ের প্রতি 'ইরশাদ' হলো সেটির পথ দেখিয়ে দেওয়া এবং তা সুস্পষ্ট করা, আর 'হিদায়াত' হলো গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হওয়া। মহান আল্লাহর বাণী: {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন} (আল-ফাতিহা: ৬)-এ হিদায়াতপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রেও 'হিদায়াত' শব্দটি এসেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও হিদায়াতের জন্য প্রার্থনা করেছেন, অথচ 'ইরশাদ'-এর ক্ষেত্রে এমন প্রয়োগ দেখা যায় না। আরও বলা হয়: 'হাদাহু ইলাল মাকরূহ' (তাকে অপ্রীতিকর বিষয়ের দিকে পরিচালিত করেছে), যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর তাদেরকে জাহান্নামের পথের দিকে পরিচালিত করো} (আস-সাফফাত: ২৩)।))

একদল আলেম আরবি ভাষায় সমার্থক শব্দ বা 'তারাদুফ'-এর অস্তিত্বের সপক্ষে মত দিয়েছেন এবং তাঁরা বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) তাফসিরু গরিবিল কুরআন ৬৯।

(২) আল-ফুরুক ২।

(৩) আল-ফুরুক ২০৩।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
لا معنى لإقامة البرهان على جوازه بعد تحقُّق وقوعه، وإنكارُ الترادف جاء من تَعَسُّفات الاشتقاقيين، وهذا مذهب كثير من العلماء كأبي زيد والأصمعي وابن خالويه. وذهب آخرون إلى إنكار الترادف التام بين الألفاظ وأنَّ كلَّ ما يلوح باديَ الرأي أنه من المترادفات إنما هو في حقيقته من المتباينات، على اختلافٍ في قَدْر هذا التباين ووضوحه (1) . ومثال تأثير الفروق اللغوية في تفسير القرآن ما قاله الطبري في تفسير قوله تعالى: {أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ وَأَنَّ اللَّهَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ} (التوبة: 78) ، فقد فسَّر الطبري السِّرَّ: بأنه هو ما يُسِرُّونه في أنفسهم من الكفر بالله ورسوله، والنجوى: ما يتناجَوْن به بينهم من الطعن في الإسلام وعَيْبهم لأهله)) (2) وهذا خلاف ما يقول به بعضهم: مِنْ أن السر والنجوى مترادفان بمعنى واحد. فهذا ضرب جديد من الخدمة اللغوية عني به السلف، وكان له أثر في فهم كثير من الآيات، ودلالة ألفاظها.

8 - وكتب ((المذكر والمؤنث)) رافد من الروافد اللغوية التي خدمت مفردات القرآن الكريم بتصنيفها حسب استعمال العرب لها مذكرةً أو مؤنثة، وقد حفلت هذه المؤلفات بآيات القرآن الكريم؛ لتكون شاهداً على الحكم الذي ذكرَتْه. وقد عَدَّ الأنباري في كتابه ((المذكر

--------------------------------------------

(1) الفروق اللغوية وأثرها في تفسير القرآن 82.

(2) تفسير الطبري 10 / 134.
এর সংঘটন প্রমাণিত হওয়ার পর এর বৈধতার স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের কোনো অর্থ হয় না। সমার্থকতা (الترادف) অস্বীকার করার বিষয়টি মূলত ব্যুৎপত্তিবিদদের একদেশদর্শিতা থেকে এসেছে। এটি আবু জায়েদ, আসমায়ি এবং ইবন খালওয়াইহ-এর মতো অনেক আলেমের মত। অন্যরা শব্দের মধ্যে পূর্ণ সমার্থকতা (الترادف التام) অস্বীকার করার দিকে গিয়েছেন। তাদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে যা সমার্থক (المترادفات) বলে মনে হয়, তা মূলত ভিন্নার্থক (المتباينات); তবে এই পার্থক্যের পরিমাণ ও স্পষ্টতার ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে (১)। কুরআনুল কারিমের তাফসিরে ভাষাগত পার্থক্যের প্রভাবের একটি উদাহরণ হলো তাবারির বক্তব্য, যা তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে প্রদান করেছেন: {তারা কি জানে না যে, আল্লাহ তাদের গোপন কথা ও তাদের কানাকানি সম্পর্কে অবগত এবং আল্লাহ অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ পরিজ্ঞাত?} (আত-তাওবা: ৭৮)। তাবারী গোপন কথা (السِّرَّ)-এর ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে: যা তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি কুফরি হিসেবে নিজেদের মনে গোপন রাখে। আর কানাকানি (النجوى) হলো: যা তারা নিজেদের মধ্যে ইসলামকে আক্রমণ করে এবং এর অনুসারীদের দোষারোপ করে গোপনে আলোচনা করে (২)। এটি অনেকের মতের পরিপন্থী যারা মনে করেন যে, 'সির' এবং 'নাজওয়া' উভয়ই একই অর্থে সমার্থক (مترادفان)। এটি ভাষাগত খিদমতের একটি নতুন দিক যা সালাফগণ (পূর্বসূরীগণ) গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছিলেন এবং অনেক আয়াতের অনুধাবন ও শব্দের অর্থ নির্ধারণে এর প্রভাব রয়েছে।

৮ - এবং 'আল-মুযাক্কার ওয়াল মুআন্নাস' (পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক) বিষয়ক গ্রন্থগুলোও ভাষাগত খিদমতের একটি উৎস, যা আরবরা কোনো শব্দকে পুরুষবাচক (مذكرة) বা স্ত্রীবাচক (مؤنثة) হিসেবে যেভাবে ব্যবহার করেছে সেই অনুযায়ী বিন্যস্ত করে কুরআনুল কারিমের শব্দাবলির খিদমত করেছে। এই গ্রন্থগুলো কুরআনের আয়াতে পরিপূর্ণ; যাতে উল্লেখিত বিধানের স্বপক্ষে এগুলো সাক্ষ্য (شاهداً) হিসেবে কাজ করে। ইবনুল আম্বারি তার 'আল-মুযাক্কার...

--------------------------------------------

(১) আল-ফুরুক আল-লুগাবিয়্যাহ ওয়া আসারুহা ফি তাফসিরিল কুরআন ৮২।

(২) তাফসিরে তাবারী ১০ / ১৩৪।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
والمؤنث)) هذا الضرب من التأليف ((مِنْ تمام معرفة النحو والإعراب؛ لأن مَنْ ذَكَّر مؤنثاً، أو أنَّث مذكراً، كان العيب لازماً له، كلزومه مَنْ نصب مرفوعاً، أو خفض منصوباً، أو نصب مخفوضاً)) (1) .

4ومن أمثلة ذلك قول الأنباري (2) : ((والنفس إذا أردت بها الإنسان بعينه مذكرٌ، وإن كان لفظه لفظ مؤنث، وتجمع ثلاثة أنفس على معنى ثلاثة أشخاص، أنشد الفراء:

ثلاثةُ أنفسٍ وثلاثُ ذَوْدٍ … لقد جار الزمانُ على عيالي

4فحمله على معنى ثلاثة أشخاص، والنفس إذا أريد بها الروح فهي مؤنثة لا غير، وتصغيرها نُفَيْسة، قال تعالى: {الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ} (الأعراف: 189) .

4ومن أشهر كتب هذا الضرب من المؤلفات كتاب ابن الأنباري، وكتاب المبرد، وكتاب الفراء. وقد تكون ثمة مفردة قرآنية تحتمل التأنيث والتذكير، ومن ذلك قول الفراء (3) : ((السَّبيل يُؤَنَّث ويُذَكَّر، قد جاء بذلك التنزيل، قال تعالى: {هَذِهِ سَبِيلِي} (يوسف: 108) ، وقال عز وجل: {وَإِنْ يَرَوْا سَبِيلَ الْغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلاً} (الأعراف: 146) .

9 - وثمة مصنفات تتصل بعلوم العربية اتصالاً وثيقاً، وتختص بمواضع ((القطع والائتناف في القرآن الكريم)) ، وهو فنٌّ يساعد على فهم

--------------------------------------------

(1) المذكر والمؤنث 87.

(2) المذكر والمؤنث 306.

(3) المذكر والمؤنث للفراء 87.
এবং স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث)) এই ধরণের রচনা হলো ((ব্যাকরণ (النحو) ও পদপ্রকরণ (الإعرাব) সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের অংশ; কারণ যে ব্যক্তি স্ত্রীলিঙ্গকে (مؤنث) পুংলিঙ্গ (مذكر) হিসেবে বর্ণনা করে, অথবা পুংলিঙ্গকে (مذكر) স্ত্রীলিঙ্গ (مؤনث) হিসেবে বর্ণনা করে, তার ক্ষেত্রে এই ত্রুটিটি অনিবার্য হয়ে পড়ে, ঠিক যেমনটি অনিবার্য হয় সেই ব্যক্তির জন্য যে রফাযুক্ত (مرفوع) শব্দকে নসব (نصب) প্রদান করে, অথবা নসবযুক্ত (منصوب) শব্দকে জর (خفض) প্রদান করে, অথবা জরযুক্ত (مخفوض) শব্দকে নসব (نصب) প্রদান করে)) (১)।

এর উদাহরণ হিসেবে আল-আনবারীর উক্তি (২) উল্লেখযোগ্য: ((আর 'নাফস' (النفس) দ্বারা যখন আপনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে বোঝাবেন তখন তা পুংলিঙ্গ (مذكر), যদিও এর বাহ্যিক রূপ স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث); এবং 'সালাসাতু আনফুসিন' (তিনটি প্রাণ) শব্দসমষ্টি 'সালাসাতু আশখাস' (তিনজন ব্যক্তি) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। আল-ফাররা পাঠ করেছেন:

তিনটি প্রাণ ও তিনটি উট … সময় আমার পরিবারের প্রতি অবিচার করেছে

এখানে তিনি শব্দটিকে তিনজন ব্যক্তির অর্থে গ্রহণ করেছেন। আর 'নাফস' (النفس) দ্বারা যখন রূহ (الروح) উদ্দেশ্য হয়, তখন তা কেবল স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث)-ই হয় এবং এর ক্ষুদ্রার্থবোধক (تصغير) শব্দ হলো 'নুফাইসাহ' (نُفَيْسة)। মহান আল্লাহ বলেন: {যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র সত্তা (نفس واحدة) থেকে} (আল-আরাফ: ১৮৯)।

এই ধরণের রচনার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো ইবনুল আনবারী, আল-মুবররাদ এবং আল-ফাররার কিতাবসমূহ। কুরআনের এমন কিছু একক শব্দ থাকতে পারে যা স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث) ও পুংলিঙ্গ (مذكر) উভয় হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এ প্রসঙ্গে আল-ফাররা (৩) বলেছেন: (('সাবিল' (السَّبيل) শব্দটিকে স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث) ও পুংলিঙ্গ (مذكر) উভয়ভাবেই ব্যবহার করা যায়; কুরআনেও বিষয়টি সেভাবেই এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {এই আমার পথ (هذه سبيلي)} (ইউসুফ: ১০৮), আবার মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {আর তারা যদি ভ্রান্তির পথ দেখে, তবে সেটাকে পথ (سبيلاً) হিসেবে গ্রহণ করে} (আল-আরাফ: ১৪৬)।

৯ - এছাড়া আরবি ভাষাবিজ্ঞানের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত আরও কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যা পবিত্র কুরআনের 'বিরতি ও প্রারম্ভ (القطع والائتناف)' বিষয়ক আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট। এটি এমন একটি শিল্প যা অনুধাবনে সহায়তা করে...

--------------------------------------------

(১) আল-মুযাক্কার ওয়াল মুআন্নাস ৮৭।

(২) আল-মুযাক্কার ওয়াল মুআন্নাস ৩০৬।

(৩) আল-ফাররার আল-মুযাক্কার ওয়াল মুআন্নাস ৮৭।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
معاني القرآن، وتدبُّر آياته. قال الزركشي (1) : ((وهو فن جليل، وبه يعرف كيف أداء القرآن، ويترتب على ذلك فوائد كثيرة واستنباطات غزيرة، وبه تتبين معاني الآيات)) .

والقطع: هو قطع الكلمة عمَّا بعدها وجوباً أو جوازاً، وحدَّد العلماء للمصطلحات المستعملة مواضع، وهذه المصطلحات هي (2) : التامُّ والحسن والكافي والصالح والجيد والبيان والقبيح، فمواضع القطع والائتناف مرتبطة بالمعنى والحكم الإعرابي. وأشهر كتب هذا الفن كتاب النحاس، إذ طبَّق قواعد العلم على القرآن مرتبة بحسب السور. يقول في المقدمة (3) : فينبغي لقارئ القرآن إذا قرأ أن يتفهم ما يقرؤه، ويشغل قلبه به، ويتفقَّد القطع والائتناف، ويحرص على أن يُفْهم المستمعين في الصلاة وغيرها، وأن يكون وَقْفُه عند كلام مُسْتغن أو شبيه، وأن يكون ابتداؤه حسناً، ولا يقف على مثل {إِنَّمَا يَسْتَجِيبُ الَّذِينَ يَسْمَعُونَ وَالْمَوْتَى} (الأنعام: 36) لأنَّ الواقف ههنا قد أشرك بين المستمعين وبين الموتى، والموتى لا يسمعون ولايستجيبون، وإنما أخبر عنهم أنهم يُبعثون)) .

ومن المصنفات التي وصلَتْنا في هذا الباب ((إيضاح الوقف والابتداء

--------------------------------------------

(1) البرهان 1 / 342.

(2) القطع والائتناف للنحاس 11

(3) القطع والائتناف 97.
কুরআনের অর্থ এবং এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করা। আল-যাররাকাশি (১) বলেন: "এটি একটি মহান শিল্প (فن), এর মাধ্যমে জানা যায় কীভাবে কুরআন আদায় করতে হয়; এর ওপর ভিত্তি করে অনেক উপকারিতা এবং প্রচুর তাত্ত্বিক উদ্ঘাটন (استنباطات) অর্জিত হয় এবং এর মাধ্যমে আয়াতসমূহের অর্থসমূহ স্পষ্ট হয়।"

আর আল-কাত (القطع) [বিরতি]: এটি হলো কোনো শব্দকে তার পরবর্তী অংশ থেকে আবশ্যকীয় (وجوباً) বা অনুমোদিত (جوازاً) ভিত্তিতে বিচ্ছিন্ন করা। ওলামায়ে কেরাম এই বিজ্ঞানে ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করেছেন। এই পরিভাষাগুলো হলো (২): পূর্ণাঙ্গ (التام), উত্তম (الحسن), পর্যাপ্ত (الكافي), গ্রহণযোগ্য (الصالح), উৎকৃষ্ট (الجيد), সুস্পষ্ট (البيان) এবং কদর্য (القبيح)। সুতরাং বিরতি (القطع) এবং পুনরারম্ভের (الائتناف) স্থানসমূহ অর্থ এবং ব্যাকরণগত বিধানের সাথে সম্পর্কিত। এই শিল্পের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কিতাব হলো আন-নাহহাসের গ্রন্থ, যেখানে তিনি সূরার ক্রম অনুযায়ী কুরআনের ওপর এই বিজ্ঞানের নিয়মগুলো প্রয়োগ করেছেন। তিনি ভূমিকার (৩) মধ্যে বলেন: "কুরআন পাঠকের জন্য উচিত যে, সে যখন পাঠ করবে তখন যা পড়ছে তা অনুধাবন করবে, তার অন্তরকে তাতে নিবিষ্ট করবে, বিরতি (القطع) ও পুনরারম্ভের (الائتناف) প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখবে। সে সালাতে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে শ্রবণকারীদের বোঝানোর ব্যাপারে আগ্রহী হবে। তার ওয়াকফ (وقف) যেন কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ (مستغن) বা তার অনুরূপ বক্তব্যের ওপর হয় এবং তার প্রারম্ভ যেন সুন্দর (حسناً) হয়। সে যেন {কেবল তারাই সাড়া দেয় যারা শোনে, আর মৃতরা...} (আল-আন'আম: ৩৬) এর মতো আয়াতের ওপর না থামে; কারণ এখানে বিরতিকারী (الواقف) শ্রবণকারী এবং মৃতদের মাঝে অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত করে ফেলেছেন, অথচ মৃতরা শুনতে পায় না এবং সাড়াও দেয় না। বরং তাদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে তারা পুনরুত্থিত হবে।"

এই অধ্যায়ে আমাদের কাছে পৌঁছানো গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'ইদাহুল ওয়াকফ ওয়াল ইবতিদা'

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ১ / ৩৪২।

(২) আন-নাহহাস রচিত আল-কাত ওয়াল ইতিনাফ ১১

(৩) আল-কাত ওয়াল ইতিনাফ ৯৭।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
للأنباري)) ، و ((المكتفى في الوقف والابتدا)) لأبي عمرو الداني، و ((منار الهدى في بيان الوقف والابتدا)) للأشموني.

10 - وبعض هذه الدراسات المتصلة بعلوم العربية انصبَّ على ((مشكل القرآن)) ، وكان الدافع إليها الحِرْصَ على لغة القرآن، وردَّ المطاعن والشكوك التي أُثيرت حولها (1) . ومن أبرز الكتب في هذا الجانب ((تأويل مشكل القرآن)) لابن قتيبة، وقد حدَّثنا عن خدمته للتنزيل العزيز بقوله (2) : ((وقد اعترض كتابَ الله بالطعن مُلْحدون، ولَغَوْا فيه وهجروا، واتَّبعوا ما تشابه منه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله، بأفهامٍ كليلة، وأبصار عليلة ونظر مدخول، فحرَّفوا الكلام عن مواضعه، وعدلوه عن سبله، ثم قَضَوا عليه بالتناقض والاستحالة واللحن، وفساد النظم والاختلاف. فأحبَبْتُ أن أَنْضَحَ عن كتاب الله، وأرمي مِنْ ورائه بالحجج النيرة والبراهين البيِّنة، وأكشف للناس ما يَلْبِسون)) .

وقد بدأ ابن قتيبة موضوعات كتابه بالحكاية عن الطاعنين والردِّ عليهم في وجوه القراءات، وساق زعمهم في وجود اللحن في القرآن والتناقض والاختلاف والمتشابه، وتكرار الكلام والزيادة فيه، ومخالفة ظاهر اللفظ معناه، وعقد باباً سَمَّاه ((تأويل الحروف التي ادُّعي على القرآن بها الاستحالة وفساد النظم)) . ومن أمثلة ما عرضه قولُه: ((فأما

--------------------------------------------

(1) أثر القرآن في تطور النقد العربي 114.

(2) تأويل مشكل القرآن 22.
আল-আনবারীর (রচিত), এবং আবু আমর আদ-দানীর 'আল-মুকতাফা ফিল ওয়াকফি ওয়াল ইবতিদা', এবং আল-আশমুনীর 'মানারুল হুদা ফি বায়ানিল ওয়াকফি ওয়াল ইবতিদা'।

১০ - আরবি ভাষা বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট এই গবেষণাগুলোর কিছু অংশ 'মুশকিলুল কুরআন' বিষয়ের ওপর নিবদ্ধ ছিল। এসব গবেষণার পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল কুরআনের ভাষার প্রতি গভীর মমতা এবং এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অপবাদ ও সংশয় নিরসন করা (১)। এই ক্ষেত্রের অন্যতম বিশিষ্ট গ্রন্থ হলো ইবনে কুতায়বার 'তাউয়িলু মুশকিলিল কুরআন'। তিনি পবিত্র কুরআনের সেবায় তাঁর অবদানের কথা বর্ণনা করে বলেছেন (২): "নিশ্চয়ই কতিপয় নাস্তিক আল্লাহর কিতাবের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছে, এতে অসার কথা বলেছে ও একে বর্জন করেছে। তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে এর অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়গুলোর অনুসরণ করেছে—নিজেদের ভোঁতা অনুধাবন শক্তি, রুগ্ন দৃষ্টি এবং ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। ফলে তারা শব্দগুলোকে তাদের প্রকৃত স্থান থেকে বিচ্যুত করেছে এবং সেগুলোকে সঠিক পথ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এরপর তারা একে স্ববিরোধিতা, অসম্ভবতা, ব্যাকরণগত ভুল (لحن) এবং বিন্যাসের ত্রুটি ও বৈসাদৃশ্যের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। তাই আমি আল্লাহর কিতাবের প্রতিরক্ষা করতে এবং এর সপক্ষে উজ্জ্বল দলিল ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদি পেশ করতে চেয়েছি, আর মানুষের সামনে তাদের বিভ্রান্তিগুলো উন্মোচন করতে চেয়েছি।"

ইবনে কুতায়বা তাঁর গ্রন্থের বিষয়বস্তু শুরু করেছেন অপবাদদানকারীদের বক্তব্য বর্ণনা এবং বিভিন্ন কিরাআত (قراءات)-এর নিরিখে তাদের জবাব দেওয়ার মাধ্যমে। তিনি কুরআনে ব্যাকরণগত ভুল (لحن), স্ববিরোধিতা, বৈসাদৃশ্য ও অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন; সেই সাথে শব্দের পুনরাবৃত্তি, এতে অতিরিক্ত সংযোজন এবং শব্দের বাহ্যিক রূপ অর্থের পরিপন্থী হওয়ার দাবিগুলোও আলোচনা করেছেন। তিনি একটি অধ্যায় রচনা করেছেন যার শিরোনাম দিয়েছেন: 'সেই বর্ণমালার ব্যাখ্যা যেগুলোর মাধ্যমে কুরআনের প্রতি অসম্ভবতা ও বিন্যাসের ত্রুটির অভিযোগ আনা হয়েছে'। তিনি যা উপস্থাপন করেছেন তার অন্যতম উদাহরণ হলো তাঁর এই উক্তি: "বস্তুত...

--------------------------------------------

(১) আসরুল কুরআন ফি তাতাওয়ুরিন নাকদিল আরাবি ১১৪।

(২) তাউয়িলু মুশকিলিল কুরআন ২২।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
ما نحلوه من التناقض في مثل قوله تعالى: {فَيَوْمَئِذٍ لا يُسْأَلُ عَنْ ذَنْبِهِ إِنْسٌ وَلا جَانٌّ} (الرحمن: 39) ، وهو يقول في موضع آخر: {فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ، عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ} (الحجر: 92) فالجواب في ذلك أن يوم القيامة يكون كما قال تعالى: {مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ} (المعارج: 4) ففي مثل هذا اليوم يُسْألون، وفيه لا يُسْألون؛ لأنهم حين يُعرضون يُوقفون على الذنوب ويُحاسَبون، فإذا انتهت المسألة ووجبت الحجة {فَإِذَا انْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ وَرْدَةً كَالدِّهَانِ} (الرحمن: 37) وانقطع الكلام وذهب الخصام)) (1) .

ويعد باب ((تفسير حروف المعاني)) (2) من مشكل ابن قتيبة مرجعاً رئيساً في أدوات العربية، حيث بيَّن فيه استعمال الحرف مكان حرف آخر في القرآن الكريم، وكان يرفد حديثه بشواهد من الشعر العربي الفصيح، وكان لدراسته أكبر الأثر في توجيه حروف المعاني في القرآن، وقد ساعده على ذلك تمكُّنه من ناحية العربية، واطلاعه الواسع على لغة العرب.

11 - وأسهمت ((معاجم اللغة)) المنهجية في بيان المعاني المحتملة للمفردة القرآنية، وأوردت أقوال أهل اللغة في ذلك. ومن المعروف أن عملية الجمع المنظَّم لمفردات اللغة وترتيبها في مصنفات معجمية أفادت

--------------------------------------------

(1) تأويل مشكل القرآن 65.

(2) تأويل مشكل القرآن 517.
তারা যে বৈপরীত্যের (تناقض) অভিযোগ তুলেছে মহান আল্লাহর বাণীর ন্যায় আয়াতে: {অতঃপর সেদিন মানুষ ও জিনকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না} (আর-রাহমান: ৩৯), অথচ তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: {তোমার রবের কসম! আমি অবশ্যই তাদের সকলকে জিজ্ঞেস করব তারা যা আমল করত সে সম্পর্কে} (আল-হিজর: ৯২)। এর উত্তর হলো, কিয়ামতের দিন এমন হবে যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর} (আল-মাআরিজ: ৪)। সুতরাং এদিনের কোনো এক পর্যায়ে তাদের জিজ্ঞেস করা হবে, আবার কোনো পর্যায়ে করা হবে না। কারণ যখন তাদের পেশ করা হবে, তখন তাদের পাপসমূহ অবগত করানো হবে এবং তাদের হিসাব (حساب) নেওয়া হবে। অতঃপর যখন জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হবে এবং দলিল বা প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে {অতঃপর যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং লাল চামড়ার ন্যায় রক্তিমাভ হয়ে যাবে} (আর-রাহমান: ৩৭) তখন কথা বলা বন্ধ হয়ে যাবে ও বিবাদ মিটে যাবে। (১)

ইবনে কুতায়বাহ-এর মুশকিলুল কুরআন গ্রন্থের ‘অর্থবোধক অব্যয়সমূহের ব্যাখ্যা’ (تفسير حروف المعاني) (২) পরিচ্ছেদটি আরবি ভাষার উপাদানসমূহের ক্ষেত্রে একটি প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে তিনি পবিত্র কুরআনে এক অব্যয়ের (حرف) পরিবর্তে অন্য অব্যয়ের ব্যবহারের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি তার আলোচনাকে সাবলীল আরবি কবিতার কাব্যিক প্রমাণাদি (شواهد) দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। কুরআনের অর্থবোধক অব্যয়সমূহের (حروف المعاني) সঠিক মর্ম নির্ধারণে তার এই গবেষণার বিশাল প্রভাব রয়েছে। আর তাকে এ কাজে সাহায্য করেছে আরবি ভাষার ওপর তার দক্ষতা এবং আরবদের ভাষার প্রতি তার ব্যাপক পাণ্ডিত্য।

১১ - পদ্ধতিগত 'ভাষার অভিধানসমূহ' (معاجم اللغة) কুরআনের শব্দাবলির সম্ভাব্য অর্থ বর্ণনায় অবদান রেখেছে এবং এ বিষয়ে ভাষা বিশেষজ্ঞদের মতামত উল্লেখ করেছে। এটি সুবিদিত যে, ভাষার শব্দাবলি সুশৃঙ্খলভাবে সংগ্রহ করা এবং অভিধানমূলক (معجمية) গ্রন্থে তা বিন্যস্ত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) তাবিলু মুশকিলিল কুরআন ৬৫।

(২) তাবিলু মুশকিলিল কুরআন ৫১৭।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
الدراسات القرآنية إفادة واسعة؛ من حيث إنها قدّمَتْ فيضاً من الشواهد والأقوال واللغات التي تدور حول المفردة القرآنية، ولا تخلو هذه المعاجم ولاسيما المطولة منها من تفسير غريب القرآن، وضبط ألفاظه، وبيان لهجات العرب المختلفة.

ومن هذه المعاجم ((تهذيب اللغة)) للأزهري، و ((لسان العرب)) لابن منظور، و ((تاج العروس)) للزبيدي. ومن أمثلة الصلة الوثيقة بين هذه المعاجم وتفسير كتاب الله أن صاحب ((اللسان)) في مادة ((يأس)) تعرضَّ لاختلاف أهل اللغة في معاني اليأس وهل يكون بمعنى العلم؟ وأشار إلى اختلاف المفسرين في قوله تعالى: {أَفَلَمْ يَيْأَسِ الَّذِينَ آمَنُوا أَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيعاً} (الرعد: 31) وما ينجم عنه في توجيه الآية، وسَمَّى طائفة من القبائل العربية التي تستعمل اليأس بمعنى العلم، وعرض شواهد من الشعر العربي الفصيح التي تدعم هذا الاستعمال.

والواقع أن باب اللغة واسع، بذل السلف من خلاله جهوداً طيبة أسهمت في فهم التنزيل العزيز وتدبُّر آياته، ولم تنقطع هذه الدراسات عبر القرون والأجيال التالية، وحَسْبُنا من القلادة ما أحاط بالعنق.
কুরআন অধ্যয়নসমূহ ব্যাপক উপকারে আসে; এই দিক থেকে যে, তা কুরআনের শব্দাবলিকে কেন্দ্র করে প্রচুর পরিমাণে ভাষাতাত্ত্বিক প্রমাণ (شواهد), বক্তব্য ও ভাষার ভাণ্ডার উপস্থাপন করেছে। এই অভিধানগুলো, বিশেষ করে এর মধ্যকার বিশদ গ্রন্থগুলো কুরআনের অপরিচিত শব্দাবলির ব্যাখ্যা (تفسير غريب القرآن), শব্দের সঠিক রূপ ও উচ্চারণ সংরক্ষণ (ضبط) এবং আরবদের বিভিন্ন উপভাষার বর্ণনা থেকে খালি নয়।

এই অভিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে আজহারীর তাহজীবুল লুগাহ, ইবনে মানজুরের লিসানুল আরব এবং জুবাইদীর তাজুল আরুস। এসকল অভিধান এবং আল্লাহর কিতাবের তাফসিরের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের একটি উদাহরণ হলো, 'লিসান' গ্রন্থের লেখক 'ইয়াস' শব্দের অধীনে এই শব্দের অর্থ নিয়ে ভাষাবিদদের মতভেদ এবং এটি 'জ্ঞান' অর্থে ব্যবহৃত হয় কি না তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি মহান আল্লাহর বাণী: "তবে কি মুমিনরা জানতে পারেনি যে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে সমস্ত মানুষকে অবশ্যই সৎপথে পরিচালিত করতেন?" (আর-রা'দ: ৩১) -এ বিষয়ে মুফাসসিরদের মতভেদ এবং আয়াতের ব্যাখ্যার ওপর এর প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি এমন একদল আরব গোত্রের নাম উল্লেখ করেছেন যারা 'ইয়াস' শব্দটিকে 'জ্ঞান' অর্থে ব্যবহার করত এবং এই ব্যবহারের সমর্থনে সাবলীল আরবি কবিতার বিভিন্ন প্রমাণ (شواهد) পেশ করেছেন।

বাস্তবতা হলো ভাষাতত্ত্বের দুয়ার অত্যন্ত প্রশস্ত, যার মাধ্যমে পূর্বসূরিগণ (سلف) প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন যা মহান গ্রন্থ আল-কুরআন বুঝতে এবং এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করতে প্রভূত অবদান রেখেছে। পরবর্তী শতাব্দী ও প্রজন্মগুলোতেও এই গবেষণা ধারা বিচ্ছিন্ন হয়নি। আর কণ্ঠহারের যে অংশটুকু গলাকে বেষ্টন করে থাকে, আমাদের জন্য তা-ই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الثاني: عناية المسلمين بالنحو خدمةً للقرآن الكريم

اكتسب المسلمون معارف غزيرة من الوحي الكريم، وكان من ثمار ذلك توجُّههم نحو طلبِ العلم والسعي في مدارسته، ومن هنا جاء الحرص على خدمة القرآن الكريم، بحسب ما توفَّر لديهم من وسائل وقدرات علمية. وإذا كان جَمْعُ القرآن يمثل الخطوة الأولى في سبيل العناية بالقرآن الكريم، فإنَّ وَضْعَ علم النحو يمثل الخطوة الثانية في سبل المحافظة على سلامة أداء النص القرآني، بعد أن أخذ اللحن يشيع على ألسنة الناس (1) ، ولم يكن نزول الوحي الكريم قلباً للجوانب العَقَدية في حياة الناس فحسب، بل كان أيضاً قلباً للعادات اللغوية التي نشؤوا عليها، إذ واجه العرب في قراءة القرآن ظواهر لم يكونوا في سلائقهم التي فُطِروا عليها متفقين، وكان منها تعدُّد اللهجات، واختلافها في القرب مِنْ لغة القرآن أو البعد عنها، ولهذه اللغة من قواعد النطق ما لا يسهل إتقانُه على جميع المتلقِّين يومئذ، ولابد لهم من المران حتى يألفوا النص الجديد (2) .

وقد أجمع الذين تصدَّوا لنشأة علوم العربية على أن القرآن الكريم كان الدافع الرئيس لعلماء السلف لوَضْع علم النحو والإعراب؛ وذلك لأنَّ ظهور

--------------------------------------------

(1) مراحل تطور الدرس النحوي 28.

(2) المفصل في تاريخ النحو العربي 32.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের সেবায় মুসলমানদের ব্যাকরণ (نحو) চর্চা

মুসলমানগণ পবিত্র ওহী (وحي) থেকে বিপুল জ্ঞান অর্জন করেছিলেন এবং এর অন্যতম ফল ছিল জ্ঞান অন্বেষণ ও তা চর্চায় আত্মনিয়োগ করা। এখান থেকেই তাদের নিকট বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক মাধ্যম ও সক্ষমতা অনুযায়ী পবিত্র কুরআনের সেবা করার প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়। যদি কুরআন সংকলন পবিত্র কুরআনের পরিচর্যার ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হয়ে থাকে, তবে মানুষের মুখে ব্যাকরণিক ভুল (لحن) ছড়িয়ে পড়ার পর কুরআনি পাঠের বিশুদ্ধতা রক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্রের উদ্ভাবন ছিল দ্বিতীয় পদক্ষেপ (১)। পবিত্র ওহী (وحي) অবতীর্ণ হওয়া কেবল মানুষের জীবনের বিশ্বাসগত (عقدية) দিকগুলোতেই আমূল পরিবর্তন আনেনি, বরং এটি তাদের লালিত ভাষাগত অভ্যাসেও পরিবর্তন এনেছিল। কারণ আরবগণ কুরআন পাঠের ক্ষেত্রে এমন কিছু বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন যা তাদের সহজাত প্রবৃত্তির সাথে সর্বদা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এর মধ্যে ছিল উপভাষার বৈচিত্র্য এবং কুরআনের ভাষার সাথে সেগুলোর নৈকট্য বা দূরত্বের ব্যবধান। তৎকালীন সময়ে সকল শ্রোতার পক্ষে এই ভাষার উচ্চারণরীতিতে পারদর্শী হওয়া সহজ ছিল না, বরং নতুন এই পাঠের সাথে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য তাদের অনুশীলনের প্রয়োজন ছিল (২)।

আরবি ভাষা বিজ্ঞানের উৎপত্তি নিয়ে যারা কাজ করেছেন তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, পবিত্র কুরআনই ছিল পূর্বসূরি (سلف) আলেমদের ব্যাকরণ (نحو) ও শব্দরূপতত্ত্ব (إعراب) শাস্ত্র প্রণয়নের প্রধান চালিকাশক্তি; কারণ...

--------------------------------------------

(১) মারাহিলু তাতাওয়ুর আদ-দারস আন-নাহবী ২৮।

(২) আল-মুফাসসাল ফি তারিখিন নাহবিল আরাবি ৩২।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ২১)
اللحن وتَفَشِّيه في الكلام، وزحفه إلى لسان مَنْ يتلو القرآن، هو الباعث على تدوين اللغة، واستنباط قواعد النحو منها، وعلم العربية شأنه شأن كلِّ العلوم تتطلبه الحوادث والحاجات (1) ، وليس ثمة من علم يظهر فجأة من غير سابقةِ تفكير وتأمُّل فيما يتعلق به، وهذا قد يستدعي غموض نشأة بعض العلوم ومعرفة واضعها التي ابتدأها.

ويعود التفكير في علم النحو إلى ظاهرة شيوع اللحن والخشية على القرآن منها؛ وذلك لأن رغبة العرب المسلمين في نشر دينهم إلى الأقوام المختلفة أنشأ أحوالاً جديدة في واقع اللغة، ما كان العربُ يعهدونها من قبل، إذ كانت الفطرة اللغوية قبل الإسلام سليمةً صافية. واستمر الحال على هذا في عصر نزول القرآن، بَيْدَ أن الرواة يذكرون أن بوادر اللحن قد بدأت في الظهور في عهد النبي صلى الله عليه وسلم.

ومن تلك الروايات أنه سمع رجلاً يلحن في كلامه فقال: ((أَرْشِدوا أخاكم)) (2) . ويورد الدارسون بعض الروايات على تَسَرُّب اللحن إلى ألسنة الناس في عهد الخلفاء الراشدين، وذلك أثر من آثار اختلاط العرب الفصحاء بغيرهم من الشعوب غير العربية، ممَّا أضعف السليقةَ اللغوية لديهم.

ويروي القرطبي (3) عن أبي مُلَيكة أن أعرابياً قدم في زمان عمر بن

--------------------------------------------

(1) أصول علم العربية في المدينة 286.

(2) المستدرك 2 / 439، كتاب التفسير، تفسير سورة السجدة. وقال: صحيح الإسناد.

(3) الجامع لأحكام القرآن 1 / 24. وانظر نزهة الألباء 8.
কথ্য ভাষায় ব্যাকরণগত ভুল (لحن) এবং এর ব্যাপক বিস্তার ও কুরআন পাঠকারীদের জিহ্বায় এর অনুপ্রবেশই ভাষা সংকলন এবং তা থেকে ব্যাকরণের (নাহু) নিয়মাবলি উদ্ভাবনের মূল প্রেরণা। আরবি ভাষাবিজ্ঞানও অন্যান্য সকল শাস্ত্রের ন্যায় সমসাময়িক ঘটনা ও প্রয়োজনের তাগিদে বিকশিত হয়েছে (১); আর এমন কোনো জ্ঞান নেই যা তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে পূর্বচিন্তা ও গভীর পর্যবেক্ষণ ব্যতিরেকে হঠাৎ আবির্ভূত হয়। এটি হয়তো কোনো কোনো শাস্ত্রের উৎপত্তি এবং এর সূচনাকারীর পরিচয় জানার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতার সৃষ্টি করতে পারে।

ইলমে নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্র নিয়ে চিন্তাভাবনার মূলে রয়েছে ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) প্রাদুর্ভাব এবং এর ফলে কুরআনের বিকৃতির আশঙ্কা; কারণ মুসলিম আরবদের বিভিন্ন জাতির মাঝে দ্বীন প্রচারের আকাঙ্ক্ষা ভাষার বাস্তবতায় এমন কিছু নতুন পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছিল যা ইতিপূর্বে আরবদের নিকট পরিচিত ছিল না। ইসলামের পূর্বে তাদের ভাষাগত সহজাত প্রবৃত্তি ছিল ত্রুটিমুক্ত ও নির্মল। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার যুগেও এই অবস্থা বজায় ছিল, তবে বর্ণনাকারীগণ (الرواة) উল্লেখ করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগেই ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) প্রাথমিক লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল।

সেই বর্ণনাগুলোর (روايات) মধ্যে একটি হলো, তিনি এক ব্যক্তিকে কথা বলার সময় ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করতে শুনেছিলেন এবং বলেছিলেন: "তোমাদের ভাইকে সঠিক পথ প্রদর্শন করো" (২)। গবেষকগণ খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগে মানুষের ভাষায় ব্যাকরণগত ভুল (لحن) ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কিছু বর্ণনা (روايات) উল্লেখ করেছেন, যা ছিল মূলত শুদ্ধভাষী আরবদের সাথে অনারব জাতিগুলোর সংমিশ্রণের ফল; যার ফলে তাদের সহজাত ভাষাগত প্রবৃত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

ইমাম কুরতুবি (৩) আবু মুলাইকা থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক গ্রাম্য আরব উমর ইবনে

--------------------------------------------

(১) উসুল ইলম আল-আরাবিয়্যাহ ফিল মদিনা ২৮৬।

(২) আল-মুস্তাদরাক ২ / ৪৩৯, কিতাবুত তাফসির, তাফসির সুরা আস-সাজদাহ। তিনি বলেন: বিশুদ্ধ সনদ (صحيح الإسناد)।

(৩) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন ১ / ২৪। এবং দেখুন নুযহাতুল আলিব্বা ৮।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ২২)
الخطاب رضي الله عنه فقال: مَنْ يُقرئني ممَّا أنزل على محمد صلى الله عليه وسلم؟ قال: فأقرأه رجلٌ ((براءة)) ، فقرأ {أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ} (التوبة: 3) بجرِّ ((رسوله)) . فقال الأعرابي: أوقد بَرِئ الله من رسوله؟ فإن يكن الله بَرئ من رسوله فأنا أبرأُ منه. فبلغ عمر مقالة الأعرابي فقدعاه فقال: يا أعرابيُّ، أتبرأ من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقال: يا أمير المؤمنين إني قدمْتُ المدينة، ولا علم لي بالقرآن فسألت: مَنْ يقرئني؟ فأقرأني هذا سورة براءة فقال: ((أنَّ الله بريء من المشركين ورسولِه)) فقلت: أوقد بَرِئ الله من رسوله؟ إن يكن الله برئ من رسوله فأنا أبرأ منه. فقال عمر: ليس هكذا يا أعرابي. قال: فكيف هي يا أمير المؤمنين؟ قال: ((ورسولُه)) . فقال الأعرابي: وأنا أبرأ ممَّن برئ الله ورسولُه منه، فأمر عمر بن الخطاب رضي الله عنه ألَاّ يُقرئَ الناسَ إلا عالمٌ باللغة، وأمر أبا الأسود فوضع النحو.

ومع مرور الأيام تفشو ظاهرة اللحن في القرآن الكريم، إلى أن أصبحت بلاءً عاماً لا يخلو منه لسان كثير من الفصحاء، حتى الذين تربَّوا في البادية، فقد روى يونس بن حبيب أن الحجَّاج قال ليحيى بن يعمر: أتسمعني ألحن على المنبر؟ قال يحيى: الأمير أفصح من ذلك، فألحَّ عليه فقال: حرفاً. قال الحجَّاج: أياً؟ قال: في القرآن. قال الحجَّاج: ذلك أشنع له، فما هو؟ قال: تقول: ((قل إنْ كان آباؤكم وأبناؤكم …إلى قوله {أَحَبَّ} (التوبة: 24) ، فتقرؤها ((أحبُّ)) بالرفع، والوجه أن تُقرأ بالنصب على خبر كان (1) .

--------------------------------------------

(1) طبقات النحويين 28.
ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল: "মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা থেকে আমাকে কে পাঠ করে শোনাবে?" বর্ণনাকারী বলেন: তখন এক ব্যক্তি তাকে সূরা বারাআত পাঠ করে শোনালেন। তিনি {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত} (আত-তাওবাহ: ৩) আয়াতটি পড়ার সময় 'রাসূল' শব্দটিকে নিম্নস্বর বা জার (جر) যোগে পাঠ করলেন। তখন বেদুইনটি বলল: "আল্লাহ কি তাঁর রাসূল থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন? যদি আল্লাহ তাঁর রাসূল থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকেন, তবে আমিও তাঁর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করছি।" ওমরের নিকট বেদুইনের এই উক্তি পৌঁছালে তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: "হে বেদুইন, তুমি কি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছ?" সে বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, আমি মদিনায় এসেছি এবং কুরআন সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, আমাকে কে পাঠ করে শোনাবে? তখন এই ব্যক্তি আমাকে সূরা বারাআত পাঠ করে শোনালো এবং 'রাসূল' শব্দটিকে নিম্নস্বর বা জার (جر) যোগে পাঠ করল। তখন আমি মনে করলাম, আল্লাহ কি তাঁর রাসূল থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন? যদি আল্লাহ তাঁর রাসূল থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকেন, তবে আমিও তাঁর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করছি।" তখন ওমর (রা.) বললেন: "হে বেদুইন, বিষয়টি এমন নয়।" সে বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, তাহলে সেটি কেমন হবে?" তিনি বললেন: "এটি হবে 'রাসূলুহু' (অর্থাৎ পেশ সহকারে)।" তখন বেদুইনটি বলল: "আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, আমিও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছি।" এরপর ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) নির্দেশ প্রদান করলেন যে, ভাষা বিশেষজ্ঞ ব্যতীত অন্য কেউ যেন মানুষকে কুরআন পাঠ না করায়। তিনি আবুল আসওয়াদকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্র সংকলন করলেন।

সময়ের পরিক্রমায় কুরআন মজিদে তিলাওয়াতগত ভুল বা লাহ্‌ন (لحن) এর প্রকাশ ঘটতে থাকে, যা এক সময় সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয় এবং অনেক বাগ্মী ব্যক্তির জিহ্বাও তা থেকে মুক্ত ছিল না; এমনকি যারা মরুভূমিতে বেড়ে উঠেছেন তারাও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইউনূস ইবনে হাবিব বর্ণনা করেছেন যে, হাজ্জাজ (ইবনে ইউসুফ) ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুরকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি আমাকে মিম্বরে ভুল বা লাহ্‌ন (لحن) করতে শোন?" ইয়াহইয়া বললেন: "আমির তো তার চেয়েও অনেক বেশি বাগ্মী।" কিন্তু হাজ্জাজ বারবার পীড়াপীড়ি করলে তিনি বললেন: "একটি বর্ণে ভুল হয়।" হাজ্জাজ বললেন: "কোনটি?" তিনি বললেন: "কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে।" হাজ্জাজ বললেন: "তা তো আরও জঘন্য বিষয়, সেটি কী?" তিনি বললেন: "আপনি যখন {বলুন, যদি তোমাদের পিতৃবর্গ এবং তোমাদের পুত্রগণ …} হতে {অধিক প্রিয়} (আহাব্বা) (আত-তাওবাহ: ২৪) পর্যন্ত পাঠ করেন, তখন আপনি 'আহাব্বা' শব্দটিকে ঊর্ধ্বস্বর বা রফ (رفع) যোগে 'আহাব্বু' পাঠ করেন। অথচ সঠিক নিয়ম হলো এটি 'কানা' (كان)-এর সংবাদ বা খবর (خبر) হিসেবে জবর বা নসব (نصب) যোগে পঠিত হওয়া।(১)।

--------------------------------------------

(১) তবাকাতুন নাহুয়্যিন ২৮।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
ويذكر أن الحجَّاج قرأ ((إنا من المجرمون منتقمون)) (1) وكان كثير من أبناء العرب وُلِدوا لأمهات غير عربيات، فنشأ جيل من هؤلاء الأبناء لديه استعداد لكي يلحن في القرآن وغيره، ممَّا جعل الحاجَة تمسُّ للبدء في وضع ضوابط يُعْرف بها الصواب من الخطأ (2) .

ويمكن أن نضيف إلى هذه العوامل ما شاع في الوسط الاجتماعي الذي تعيش فيه الأمة الإسلامية، إذ كان فيه مجموعة من اللغات المتداولة إلى جانب العربية، منها الفارسية والسريانية، وهذا الوسط الاجتماعي سوف يشهد تزاوجاً طبيعياً بين عناصره من اللغات المختلفة، ممَّا أدى إلى اتساع الفوارق بين اللغة الفصيحة واللغة المحكيَّة (3) ، ومثل هذه الفوارق تُقلق أصحاب الغَيْرة على لغة القرآن، وبذلك ترتبط نشأة النحو بجذور الحياة الإسلامية في ذلك الزمن.

وتختلف الروايات وتتضارب في تحديد أول مَنْ شرع يُسَجِّل بعض الظواهر النحوية، أو يبني شيئاً من الضوابط الأولية في فهم العلاقات بين عناصر التركيب اللغوي. يقول الزبيدي (4) : ((فكان أولَ مَنْ أصَّل ذلك، وأعمل فكره فيه أبو الأسود ظالم بن عمرو الدؤلي ونصر بن عاصم وعبد الرحمن بن هُرْمز، فوضعوا للنحو أبواباً وأصَّلوا له أصولاً، فذكروا عوامل

--------------------------------------------

(1) الآية (22) من سورة السجدة، وانظر: البيان والتبيين 2 / 218.

(2) المدارس النحوية 12.

(3) المفصل في تاريخ النحو 31.

(4) طبقات النحويين 11.
উল্লিখিত আছে যে, হাজ্জাজ ((ইন্না মিনাল মুজরিমুনা মুনতাক্বিমুন)) পাঠ করেছিলেন (১)। অনেক আরব সন্তানদের জন্ম হয়েছিল অনারব মায়েদের গর্ভে, ফলে এই সন্তানদের মাঝে এমন এক প্রজন্মের উদ্ভব ঘটে যারা কুরআন এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করার প্রবণতা রাখত। যার ফলে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য নিরূপণের জন্য নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয় (২)।

এই কারণগুলোর সাথে আমরা সেই সামাজিক প্রেক্ষাপটকেও যুক্ত করতে পারি যা তৎকালীন মুসলিম উম্মাহর মাঝে বিরাজমান ছিল। কারণ সেখানে আরবির পাশাপাশি ফারসি ও সিরিয়াকসহ বেশ কিছু প্রচলিত ভাষার সমাবেশ ছিল। এই সামাজিক পরিবেশ বিভিন্ন ভাষার উপাদানের মধ্যে একটি স্বাভাবিক সংমিশ্রণ প্রত্যক্ষ করে, যার ফলে শুদ্ধ ভাষা এবং কথ্য ভাষার মধ্যে ব্যবধান বৃদ্ধি পায় (৩)। এই ধরনের ব্যবধান কুরআনের ভাষার প্রতি অনুরাগী ব্যক্তিদের উদ্বিগ্ন করে তোলে, আর এভাবেই নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের উদ্ভব সেই সময়ের ইসলামি জীবনের মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত হয়।

ব্যাকরণগত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অথবা ভাষাগত কাঠামোর উপাদানগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক বোঝার প্রাথমিক নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রথম কে উদ্যোগী হয়েছিলেন, সে সম্পর্কিত বর্ণনা (روايات) সমূহের মধ্যে ভিন্নতা ও বৈপরীত্য রয়েছে। আজ-জুবাইদি (৪) বলেন: ((এ বিষয়ে সর্বপ্রথম যারা ভিত্তি স্থাপন করেন এবং এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন তারা হলেন আবু আল-আসওয়াদ যালিম বিন আমর আদ-দুয়ালি, নাসর বিন আসিম এবং আব্দুর রহমান বিন হুরমুয। তারা নাহুর বিভিন্ন অধ্যায় নির্ধারণ করেন এবং এর মূলনীতি (أصول) প্রণয়ন করেন। তারা কারকসমূহ (عوامل)

--------------------------------------------

(১) সূরা আস-সাজদাহ্‌র ২২ নম্বর আয়াত; এবং দেখুন: আল-বায়ান ওয়া আত-তাবয়িন ২/২১৮।

(২) আল-মাদারিস আন-নাহউইয়্যাহ ১২।

(৩) আল-মুফাসসাল ফি তারিখ আল-নাহউ ৩১।

(৪) তাবাকাতুন নাহউইয়্যিন ১১।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
الرفع والنصب والخفض والجزم، ووضعوا باب الفاعل والمفعول والتعجب والمضاف، وكان لأبي الأسود في ذلك فضل السبق وشرف التقدم، ثم وصل ما أصَّلوه من ذلك التالون لهم والآخذون عنهم، فكان لكل واحد منهم مِن الفضل بحسبِ ما بَسَط من القول ومَدَّ من القياس وفَتَقَ من المعاني وأوضح من الدلائل، وبيَّن من العلل)) .

ومر بنا قبل قليل رواية تُرجع الأمر إلى الخليفة عمر بن الخطاب رضي الله عنه إذ أمر أبا الأسود بوضع النحو، كما روي عنه أنه كتب إلى أبي موسى الأشعري، ليوجِّه مَنْ يختاره لتعليم العربية؛ فإنها تدلُّ على صواب الكلام (1) . وذكر صاحب ((مراتب النحويين)) (2) أن أبا الأسود أخذ النحو عن علي رضي الله عنه لأنه سمع لحناً، فقال لأبي الأسود: اجعل للناس حروفاً، وأشار إلى الرفع والنصب والجر. وذكر صاحب ((نزهة الألباء)) أن عليّاً سمع أعرابياً يقرأ ((لا يأكله إلا الخاطئين)) (3) فوضع النحو.

ويقول الدكتور محمد خير الحلواني: ((ترجع قيمة أبي الأسود الدؤلي في تاريخ النحو إلى أنه هو أولُ مَنْ اتجه بالدراسة اللغوية إلى الاستقراء والاستنباط، وكانت قبله تقوم على محاكاة الأعراب والاختلاط بهم، وحِفْظ الشعر والأنساب، فتحوَّل بها إلى وضع الضوابط الدقيقة، ورَصْد الظواهر

--------------------------------------------

(1) إيضاح الوقف والابتداء 1 / 31.

(2) مراتب النحويين 24.

(3) نزهة الألباء 8، والآية (37) من سورة الحاقة.
রাফ, নাসব, খফদ এবং জাযম; এবং তাঁরা ফায়েল, মাফউল, তা'আজ্জুব ও মুদাফ-এর অধ্যায়সমূহ প্রণয়ন করেছেন। এ ক্ষেত্রে আবু আল-আসওয়াদের ছিল অগ্রগামিতার শ্রেষ্ঠত্ব এবং নেতৃত্বের মর্যাদা। অতঃপর তাঁদের পরবর্তী অনুসারী এবং তাঁদের নিকট থেকে যারা জ্ঞান আহরণ করেছেন, তারা তাঁদের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতিগুলোকে আরও সুসংহত করেছেন। ফলে তাঁদের প্রত্যেকেরই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয়েছিল তাদের বর্ণনার বিস্তৃতি, কিয়াসের প্রসার, অর্থের গভীরতা উন্মোচন, প্রমাণের স্পষ্টতা এবং সূক্ষ্ম কারণ বা ত্রুটিসমূহ (علل) ব্যাখ্যার পরিধি অনুযায়ী।

আমাদের নিকট কিছুক্ষণ পূর্বে একটি বর্ণনা (رواية) অতিক্রান্ত হয়েছে যা এই বিষয়টি খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর দিকে নিস্পন্ন করে, যেখানে তিনি আবু আল-আসওয়াদকে নাহু শাস্ত্র রচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেমন তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি আবু মুসা আল-আশআরীর নিকট পত্র লিখেছিলেন যেন তিনি আরবি শেখানোর জন্য তাঁর মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন; কেননা তা বাক্যের শুদ্ধতা নিশ্চিত করে (১)। মারাতীবুন নাহউইয়্যিন (২) গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, আবু আল-আসওয়াদ আলী (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর নিকট থেকে নাহু শিক্ষা লাভ করেছিলেন, কারণ তিনি ভাষাগত ভুল শুনতে পেয়েছিলেন। তখন তিনি আবু আল-আসওয়াদকে বলেছিলেন: "মানুষের জন্য কিছু সংকেত নির্ধারণ করো," এবং তিনি রাফ, নাসব ও জার-এর দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন। নুযহাতুল আলিব্বা গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, আলী (রাযিআল্লাহু আনহু) জনৈক বেদুইনকে "লা ইয়া'কুলুহু ইল্লাল খাতিয়ীন" (৩) পাঠ করতে শুনেছিলেন, যার ফলে তিনি নাহু শাস্ত্রের সূচনা করেন।

ডক্টর মুহাম্মদ খায়র আল-হালওয়ানি বলেন: "নাহুর ইতিহাসে আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালির গুরুত্ব এই যে, তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি ভাষাগত গবেষণাকে আরোহী পদ্ধতি এবং অবরোহী পদ্ধতির দিকে ধাবিত করেছিলেন। তাঁর আগে এটি ছিল বেদুইনদের অনুকরণ, তাদের সাথে মেলামেশা এবং কবিতা ও বংশলতিকা মুখস্থ রাখার ওপর নির্ভরশীল। অতঃপর তিনি ইহাকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ এবং ভাষাগত বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণে রূপান্তর করেন।"

--------------------------------------------

(১) ইদাহুল ওয়াকফ ওয়াল ইবতিদা ১ / ৩১।

(২) মারাতীবুন নাহউইয়্যিন ২৪।

(৩) নুযহাতুল আলিব্বা ৮, এবং সূরা আল-হাক্কাহ-এর ৩৭ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
المتبدِّلة في تراكيب العربية)) (1) .

ارتبطت المعالم النحوية التي تركها أبو الأسود بواقع الحياة اللغوية البسيطة في عصره، وقد عُني في معالمه هذه بدَفع اللحن عن قراءة القرآن، حيث استخرج ضوابط الإعراب بحسب ما توفرَّ لديه من قدرات ووسائل (2) .

وينفي الدكتور شوقي ضيف (3) أن يكون لعصر أبي الأسود علاقة بالشروع في بناء الظواهر النحوية. ولسنا في مقام تحقيق هذه النسبة، بيد أنه يهمنا أن نشير إلى إجماع المؤرخين قديماً وحديثاً إلى أنَّ الدافع الرئيس لهذه النشأة إنما هو قراءة القرآن على نحوٍ صحيح، وتَفَشِّي اللحن لدى عامة المسلمين وخاصَّتهم. وقد تحدث ابن خلدون في ((مقدمته)) (4) عن فساد السليقة العربية ممَّا أدَّى إلى وقوع اللحن في القرآن، وشروع العلماء في حِفْظ اللسان، ولكنه لم يُحَدِّد مَن الذي بدأ هذه الجهود، يقول: ((لمَّا فسدت مَلكة اللسان العربي في الحركات المسمَّاة عند أهل النحو بالإعراب، واستُنْبطت القوانين لحفظها. فاسْتُعْمل كثير من كلام العرب في غير موضوعه عندهم، مَيْلاً مع هِجْنة المستعربين في اصطلاحاتهم المخالفة لصريح العربية، فاحتيج إلى حِفْظ الموضوعات اللغوية بالكتاب والتدوين خشية الدروس، وما ينشأ عن الجهل بالقرآن والحديث، فَشَمَّر كثير من أئمة اللغة

--------------------------------------------

(1) المفصل في تاريخ النحو العربي 101.

(2) انظر: الإيضاح للزجاجي 89، وفيات الأعيان 2 / 535، نزهة الألباء 6.

(3) المدارس النحوية 18.

(4) المقدمة 548.
আরবি বাক্যগঠনের পরিবর্তনসমূহ)) (১)।

আবু আল-আসওয়াদ যে ব্যাকরণিক নিদর্শনগুলো রেখে গেছেন, তা তাঁর সমসাময়িক সাধারণ ভাষাগত জীবনের বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তিনি তাঁর এই নিদর্শনগুলোর মাধ্যমে কুরআন তিলাওয়াত থেকে ভাষাগত ভুল (لحن) দূর করার প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন; যেখানে তিনি তাঁর কাছে থাকা সামর্থ্য ও উপায় অনুযায়ী শব্দরূপের পরিবর্তন বা ইরাব (إعراب) এর নিয়মাবলী উদ্ঘাটন করেছিলেন (২)।

ডক্টর শওকি দাইফ (৩) আবু আল-আসওয়াদের যুগের সাথে ব্যাকরণিক প্রপঞ্চসমূহ বিনির্মাণের সূচনার কোনো সম্পর্ক থাকাকে অস্বীকার করেন। আমরা এই সম্পৃক্ততার সত্যতা যাচাইয়ের অবস্থানে নেই, তবে আমাদের নিকট এটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রাচীন ও আধুনিক ঐতিহাসিকদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী এই শাস্ত্রের উৎপত্তির প্রধান কারণ ছিল কুরআন সঠিকভাবে তিলাওয়াত করা এবং সাধারণ ও বিশেষ সকল মুসলিমের মধ্যে ভাষাগত ভুল (لحن) ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়া। ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমাহ (৪) গ্রন্থে আরবি স্বভাবজাত ভাষাজ্ঞান বিনষ্ট হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা কুরআনে ভাষাগত ভুল (لحن) ঘটার কারণ হয়েছিল এবং এর ফলে ওলামায়ে কেরাম ভাষা সংরক্ষণে ব্রতী হয়েছিলেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট করেননি কে এই প্রচেষ্টার সূচনা করেছিলেন। তিনি বলেন: "যখন ব্যাকরণবিদদের নিকট ইরাব (إعراب) নামে পরিচিত হরকত বা স্বরচিহ্নের ক্ষেত্রে আরবি ভাষার স্বতঃস্ফূর্ত দক্ষতা বিনষ্ট হলো, তখন তা সংরক্ষণের জন্য নিয়মকানুন উদ্ভাবন করা হলো। ফলে আরবদের অনেক শব্দ তাদের নিজস্ব ব্যবহারের পরিপন্থী ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে লাগল, কারণ নব্য-আরবদের (المستعربين) পরিভাষা ব্যবহারের বিকৃতি বিশুদ্ধ আরবির বিরোধী ছিল। তাই এই জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ভয়ে এবং কুরআন ও হাদিস সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত জটিলতার আশঙ্কায় গ্রন্থবদ্ধকরণ ও সংকলনের মাধ্যমে ভাষাগত বিষয়গুলো সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। এমতাবস্থায় ভাষাবিজ্ঞানের বহু ইমাম কোমর বেঁধে নেমে পড়লেন..."

--------------------------------------------

(১) আল-মুফাসসাল ফি তারিখিন নাহউয়িল আরাবি ১০১।

(২) দেখুন: আল-ইদাহ লিয-যাজ্জাজি ৮৯, ওয়াফায়াতুল আইয়ান ২ / ৫৩৫, নুযহাতুল আলিব্বা ৬।

(৩) আল-মাদারিসুন নাহউইয়্যাহ ১৮।

(৪) আল-মুকাদ্দিমাহ ৫৪৮।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
واللسان لذلك وأَمْلَوا فيه الدواوين)) . فابن خلدون يُنَوِّه بهمَّة علماء اللغة في تدوين ما توصَّلوا إليه من نظرات؛ بُغْيَةَ تيسير تلاوة القرآن وفَهْمه.

وفي موضع آخر من ((مقدمته)) ينصُّ على الدافع الرئيس من وراء هذه الحركة العلمية، فيقول (1) : ((وخشي أهل العلوم منهم أن تَفْسُدَ تلك المَلَكة رأساً ويطول العهد بها، فينغلق القرآن والحديث على المفهوم، فاستنبطوا مِنْ مجاري كلامهم قوانين لتلك الملكة مطَّردة شبهَ الكليات والقواعد، يقيسون عليها سائر أنواع الكلام وبذلك تكون الخطوة الأولى في صَرْح تأسسيس علم النحو بمنزلة ردٍّ مباشر لتسرب اللحن إلى اللسان العربي بعامة، وإلى القرآن بخاصة، ولابد أن يكون قد صاحَبَ ذلك جهود تمثَّلَتْ في تأمُّل اللغة والنظر في مفرداتها وتراكيبها وشواهدها، فنجم عن تلك الجهود النواة الأولى لعلم النحو والإعراب، وكان الشروع في ضوابط العربية مِنْ قِبَل أصحاب النظر في اللغة. وازدهرت لإنجاز هذه المهمة حركة علمية واسعة، وهذا يدلُّ على شعور بالحاجة اللغوية وبروز التناقض بين المثال المتجسِّد في لغة القرآن والواقع الذي صارت إليه اللغة على ألسنة الناس (2) .

والحقيقة أنَّ كلَّ الروايات التي يسردها المؤرخون مفادُها تعثُّر قَرَأة كتاب الله مِن عامة الناس وخاصتهم، وهي تفسيرٌ لمشاعر الخوف الذي لابس المسلمين مِنْ جرَّاء شيوع اللحن.

--------------------------------------------

(1) المقدمة 546.

(2) المفصل في تاريخ النحو العربي 73.
...এবং সেই ভাষার জন্য তারা বড় বড় গ্রন্থ সংকলন করেছেন))। ইবনে খালদুন ভাষাবিদদের সেই প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন যা তারা তাদের অর্জিত দৃষ্টিভঙ্গিগুলো লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে ব্যয় করেছেন; যার উদ্দেশ্য ছিল কুরআন তিলাওয়াত ও তা অনুধাবন সহজতর করা।

তাঁর 'মুকাদ্দিমা'-র অন্য এক স্থানে তিনি এই জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের নেপথ্যের প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে বলেন (১): ((বিজ্ঞজনেরা আশঙ্কা করেছিলেন যে, সেই ভাষাগত দক্ষতা (ملكة) পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে কুরআন ও হাদিস অনুধাবনের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। তাই তাঁরা আরবদের বাকরীতি থেকে সেই দক্ষতার জন্য কিছু সুসংগত নিয়ম উদ্ভাবন করলেন, যা অনেকটা সার্বিক মূলনীতি ও বিধানের মতো, যার আলোকে তাঁরা অন্যান্য সকল প্রকার কথাকে পরিমাপ করতেন। এভাবে নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্র প্রতিষ্ঠার ইমারতে প্রথম পদক্ষেপটি ছিল সাধারণভাবে আরবি ভাষায় এবং বিশেষভাবে কুরআনে ভাষাগত ভুল (لحن) অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে একটি সরাসরি প্রতিরোধ। এর সাথে অবশ্যই এমন কিছু প্রচেষ্টা যুক্ত ছিল যা ভাষা নিয়ে গভীর চিন্তা এবং এর শব্দাবলি, বাক্য গঠন ও ভাষাগত প্রমাণাদির (شواهد) পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল। ফলে এই প্রচেষ্টাসমূহ থেকে নাহু ও শব্দ বিশ্লেষণ বা ইরাব (إعراب) শাস্ত্রের প্রাথমিক বীজ অঙ্কুরিত হয়। আর আরবি ভাষার এই নিয়মকানুন প্রণয়নের সূচনা হয়েছিল ভাষাবিদদের মাধ্যমেই। এই কার্য সম্পাদনের জন্য একটি ব্যাপক জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন বিকশিত হয়, যা ভাষাগত প্রয়োজনীয়তার তীব্র অনুভূতি এবং কুরআনের ভাষায় বিদ্যমান আদর্শ ও মানুষের মুখে প্রচলিত ভাষার বাস্তব রূপের মধ্যে ফুটে ওঠা বৈপরীত্যকে নির্দেশ করে (২)।

প্রকৃতপক্ষে, ঐতিহাসিকরা যেসব বর্ণনা (روايات) তুলে ধরেছেন তার সারকথা হলো সাধারণ ও বিশিষ্ট উভয় শ্রেণীর মানুষের আল্লাহর কিতাব পাঠে পদস্খলন বা ভুল করা। এটি মূলত সেই আশঙ্কারই ব্যাখ্যা যা ভাষাগত ভুল (لحن) ছড়িয়ে পড়ার ফলে মুসলিমদের মনে দানা বেঁধেছিল।

--------------------------------------------

(১) আল-মুকাদ্দিমা ৫৪৬।

(২) আল-মুফাসসাল ফি তারিখিন নাহউয়িল আরাবি ৭৩।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
ويضاف إلى العوامل السابقة في نشأة النحو الحاجة إلى فهم مناحي التركيب اللغوي ليصار إلى التعامل مع القرآن والاستنباط من أحكامه، وقد عدَّ العلماء الإحاطة بعلوم اللغة والنحو والتصريف من العلوم الرئيسة التي يحتاج إليها المفسِّر لكتاب الله (1) ، ومن هنا نشأ لدى السلف كراهية شديدة تجاه ظاهرة اللحن، وحَضٌّ على اكتساب العربية والتفقه في مواردها، فالخليفة الراشد عمر يقول: ((تَفَقَّهوا في العربية؛ فإنها تُشَبِّب العقل وتزيد في المروءة)) (2) . وقال أُبَيُّ بن كعب: ((تعلموا العربية كما تتعلَّمون حِفْظ القرآن)) (3) . وهذا قتادة يقول: ((لا أسأل عن عقل رجل لم يدلَّه عقله على أن يتعلَّم من العربية ما يُصْلح به لسانه)) (4) ، أما الأصمعيُّ فيخاف على طالب العلم إذا لم يعرف النحو أن يدخل في جملة قول النبي صلى الله عليه وسلم: "مَنْ كذب عليَّ متعمِّداً فليتبوَّأ مقعدَه من النار" لأنه لم يكن يلحن، فمهما رَوَيْتَ عنه ولَحَنْتَ فقد كَذَبْتَ عليه)) (5) .

وهكذا جَدَّ علماء العربية من السلف، واجتهدوا إلى أن أقاموا صرح علمٍ من العلوم الإسلامية التي لا يَسْتغني عنها أحد من طلبة العلم، وأصبحت العربية من الدين نفسه، وأصبح تعلمها لفهم مقاصد الكتاب والسنة قربة إلى

--------------------------------------------

(1) الإتقان 1 / 146،180، 2 / 174.

(2) طبقات النحويين 13.

(3) تنبيه الألباب 76.

(4) المصدر نفسه 71.

(5) معجم الأدباء 1 / 90، والحديث رواه البخاري في كتاب العلم (فتح الباري 1 / 242) .
ব্যাকরণ (نحو) শাস্ত্রের উৎপত্তির পূর্ববর্তী কারণগুলোর সাথে ভাষাগত কাঠামোর বিভিন্ন দিক বোঝার প্রয়োজনীয়তাও যুক্ত হয়েছে, যাতে কুরআনের সাথে সঠিক আচরণ এবং এর বিধানসমূহ থেকে বিধান উদ্ঘাটন (استنباط) করা সম্ভব হয়। আলেমগণ ভাষাবিজ্ঞান, ব্যাকরণ (نحو) এবং শব্দতত্ত্ব (تصريف) পরিবেষ্টন করাকে প্রধান সেই জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যাকারীর জন্য প্রয়োজন (১)। এখান থেকেই পূর্বসূরিদের (সালাফ) মধ্যে ব্যাকরণগত ভুলের (لحن) প্রতি তীব্র অপছন্দ এবং আরবি ভাষা অর্জন ও এর উৎসগুলোতে পাণ্ডিত্য অর্জনের ব্যাপারে উৎসাহ তৈরি হয়। খলিফা রাশেদ উমর (রা.) বলেন: "তোমরা আরবি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করো; কারণ তা বুদ্ধিকে শাণিত করে এবং গাম্ভীর্য বৃদ্ধি করে" (২)। উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন: "তোমরা আরবি ভাষা শিক্ষা করো যেমনিভাবে তোমরা কুরআন মুখস্থ করা শেখো" (৩)। কাতাদাহ (রহ.) বলেন: "আমি সেই ব্যক্তির বুদ্ধি সম্পর্কে প্রশ্ন করি না, যার বুদ্ধি তাকে আরবির সেই অংশটুকু শিখতে অনুপ্রাণিত করে না যার মাধ্যমে সে তার জিহ্বাকে সংশোধন করবে" (৪)। আর আসমায়ি (রহ.) ইলম অন্বেষণকারীর ব্যাপারে এই আশঙ্কা করতেন যে, যদি সে ব্যাকরণ (نحو) না জানে তবে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা (كذب) আরোপ করল, সে যেন আগুনের মধ্যে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" কারণ তিনি ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করতেন না। সুতরাং তুমি যখন তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা (رويت) করলে এবং তাতে ভুল (لحن) করলে, তবে তুমি তাঁর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করলে (৫)।

এভাবেই পূর্বসূরি আরবি ভাষাবিদগণ প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম করেছেন যতক্ষণ না তারা এমন এক ইসলামি বিজ্ঞানের প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন যা ব্যতীত ইলম অন্বেষণকারীদের কারো কোনো গত্যন্তর নেই। আরবি ভাষা দ্বীনেরই অংশে পরিণত হয়েছে এবং কিতাব ও সুন্নাহর উদ্দেশ্যসমূহ বোঝার জন্য এটি শেখা আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) আল-ইতকান ১/১৪৬, ১৮০, ২/১৭৪।

(২) তাবাকাতুন নাহউইয়্যিন ১৩।

(৩) তানবিহুল আলবাব ৭৬।

(৪) একই উৎস ৭১।

(৫) মুজামুল উদাব্বা ১/৯০, এবং হাদিসটি বুখারি কিতাবুল ইলম-এ বর্ণনা (رواه) করেছেন (ফাতহুল বারি ১/২৪২)।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
الله، وعد كثير من العلماء تعلُّمها واجباً على المرء. يقول شيخ الإسلام ابن تيمية (1) : ((واعلم أن اعتياد اللغة يؤثر في العقل والخلق والدين تأثيراً قوياً بَيِّناً، ويؤثِّر أيضاً في مشابهة صدر هذه الأمة من الصحابة والتابعين، ومشابهتهم تزيد العقل والدين والخلق. وأيضاً فإن نفس اللغة العربية من الدين، ومعرفتها فرضٌ واجب؛ فإنَّ فَهْمَ الكتاب والسنة فرض، ولا يُفْهم إلا بفهم اللغة العربية، وما لا يتمُّ الواجب إلا به فهو واجب)) . وكان أبو عمرو بن العلاء يَعُدُّ العربية من الدين لا تنفصل عنه ولا ينفصل عنها، فبلغ ذلك عبد الله بن المبارك فقال: صدق (2) .

وبذلك تتضح لنا الصورة بجلاء، فعلوم النحو والصرف والإعراب مرتبطة من حيث نشأتها ونشاط أعلامها، بالحرص على لغة القرآن لكيلا يعروَها لحن، والحرص على فهم معاني كتاب الله وتدبُّر آياته.

--------------------------------------------

(1) اقتضاء الصراط المستقيم 207.

(2) معجم الأدباء 1 / 53.
...এবং অনেক আলিম এটি (আরবি ভাষা) শেখাকে ব্যক্তির জন্য আবশ্যক (واجب) হিসেবে গণ্য করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (১) বলেন: "জেনে রেখো যে, কোনো ভাষার অভ্যস্ততা বুদ্ধি, স্বভাব-চরিত্র এবং দ্বীনের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট প্রভাব ফেলে। এটি এই উম্মতের অগ্রবর্তী দল তথা সাহাবী (صحابة) ও তাবিঈনদের (تابعين) সাথে সাদৃশ্য অর্জনেও প্রভাব বিস্তার করে। আর তাঁদের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখা বুদ্ধি, দ্বীন এবং চরিত্রকে উন্নত করে। অধিকন্তু, স্বয়ং আরবি ভাষা দ্বীনেরই অংশ এবং এটি জানা একটি অপরিহার্য কর্তব্য (فرض واجب); কেননা কুরআন ও সুন্নাহ অনুধাবন করা ফরজ (فرض), আর আরবি ভাষা বোঝা ব্যতীত তা সম্ভব নয়। আর যে মাধ্যম ব্যতীত কোনো ওয়াজিব (واجب) পালন করা সম্পন্ন হয় না, সেই মাধ্যমটিও ওয়াজিব (واجب) হিসেবে গণ্য।" আবু আমর ইবনুল আলা আরবি ভাষাকে দ্বীনের এমন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করতেন যা দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্ন নয় এবং দ্বীনও তা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এই কথা যখন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: "তিনি সত্য বলেছেন" (২)।

এতে আমাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, নাহু (النحو), সরফ (الصرف) এবং ইরাব (الإعراب) শাস্ত্রের উদ্ভব এবং এই শাস্ত্রের ইমামদের কর্মতৎপরতা মূলত কুরআনের ভাষার প্রতি অগাধ অনুরাগের সঙ্গেই সম্পৃক্ত ছিল, যেন তাতে কোনো প্রকার ভাষাগত বিকৃতি (لحن) প্রবেশ করতে না পারে। একই সাথে আল্লাহর কিতাবের মর্মার্থ অনুধাবন এবং এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তাগবেষণার আকাঙ্ক্ষাও এর মূল ভিত্তি ছিল।

--------------------------------------------

(১) ইকতিদাউস সিরাতিল মুসতাকিম ২০৭।

(২) মুজামুল উদাবা ১ / ৫৩।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المبحث الثالث: عناية المسلمين بالبلاغة خدمةً للقرآن الكريم

علم البلاغة غصن باسق من دوحة علوم العربية، وقد لقي هذا العلم من عناية السلف وجهودهم ما جعله عِلْماً قائماً برأسه؛ ليخدم بيان الوحي المعجز، وتفوُّقه على الأساليب البيانية الأخرى.

ويشير واقع العرب في أوائل عصر نزول القرآن الكريم إلى أن السليقة التي نشؤوا عليها في التذوق الفطري الأصيل وَفَّرَتْ عليهم تحليل مقومات روعة الكتاب العزيز، ثم إنهم لم تكن لديهم الوسائل التي تكفي بلوغ هذا التحليل، على نحو ما تيسَّر للأجيال التالية (1) .

ومع مرور الأيام برزت عوامل جديدة أدَّت إلى إضعاف أثر السليقة في التعامل مع النصوص الأدبية؛ فقد اختلط العرب الفصحاء بغيرهم، ووصلَتْ دعوة الإسلام إلى أقوام مختلفين، كما أثيرت شكوك ومطاعن في بلاغة القرآن وإعجازه، ممَّا جعل الكثيرين لا يكتفون بهذا التفوُّق الذي تُحِسُّه نفوسهم إزاء البيان القرآني، فمضَوا يحاولون استنباط ما يستطيعون استنباطه من وجوه البلاغة فيه، وأصبحت دراستُهم تقوم على الدليل العقلي والحجة وتسويغ مواطن الجمال التعبيري (2) .

ويُعَدُّ القرآن الكريم هو العامل الرئيس الذي ساعد على الشروع في

--------------------------------------------

(1) انظر: التفكير البلاغي عند العرب 35، الموجز في تاريخ البلاغة 33.

(2) انظر: التفكير البلاغي عند العرب 36، البيان العربي للدكتور بدوي طبانة 43.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের সেবায় অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রতি মুসলিমদের গুরুত্ব

অলঙ্কারশাস্ত্র হলো আরবি ভাষাবিজ্ঞানের বিশাল বৃক্ষের একটি সুউচ্চ শাখা। এই শাস্ত্রটি পূর্বসূরিদের বিশেষ যত্ন ও প্রচেষ্টায় এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা একে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞানে পরিণত করেছে; যেন তা ওহীর মুজিজাপূর্ণ বর্ণনাশৈলী এবং অন্যান্য প্রকাশভঙ্গির ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব ফুটিয়ে তুলতে সহায়ক হয়।

কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রাথমিক যুগে আরবদের বাস্তব অবস্থা নির্দেশ করে যে, তারা যে মজ্জাগত সহজাত রুচিবোধ ও প্রকৃতিজাত অলঙ্কারবোধ নিয়ে বেড়ে উঠেছিল, তা তাদেরকে এই মহান কিতাবের অনিন্দ্য সুন্দর বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা থেকে অমুখাপেক্ষী রেখেছিল। তদুপরি, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যা সহজলভ্য হয়েছিল, সেই পর্যায়ে পৌঁছে এই বিশ্লেষণ করার মতো পর্যাপ্ত উপায়-উপকরণও তখন তাদের কাছে ছিল না (১)।

সময়ের আবর্তনে এমন কিছু নতুন অনুষঙ্গ প্রকাশ পেল যা সাহিত্যিক পাঠের ক্ষেত্রে সহজাত ভাষাবোধের প্রভাবকে দুর্বল করে দিল। বিশুদ্ধভাষী আরবরা অন্যদের সাথে মেলামেশা শুরু করল এবং ইসলামের দাওয়াত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে গেল। সেই সঙ্গে কুরআনের অলঙ্কারিক গুণাবলী ও অলৌকিকত্বের বিষয়ে নানা সংশয় ও আপত্তি উত্থাপিত হতে লাগল। ফলে অনেকেই কুরআনুল কারিমের বর্ণনার যে শ্রেষ্ঠত্ব অন্তরে অনুভব করতেন, শুধু তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে পারলেন না। তারা এর মধ্য থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের নানাবিধ দিক উদ্ভাবনের চেষ্টা শুরু করলেন এবং তাদের গবেষণা বুদ্ধিভিত্তিক প্রমাণ, অকাট্য যুক্তি ও প্রকাশভঙ্গির সৌন্দর্য উপলব্ধির যৌক্তিকতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হলো (২)।

মূলত পবিত্র কুরআনই ছিল সেই প্রধান নিয়ামক যা শুরু করতে সহায়তা করেছিল...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তাফকির আল-বালাগি ইনদাল আরব ৩৫, আল-মুজায ফি তারিখিল বালাগা ৩৩।

(২) দেখুন: আত-তাফকির আল-বালাগি ইনদাল আরব ৩৬, ড. বাদাওয়ি তুবানার আল-বায়ান আল-আরাবি ৪৩।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ৩০)
الدراسات البلاغية بمختلف اتجاهاتها، وكان هذا العامل أهمَّ البواعث في إثارة الهمم للبحث الجادِّ عن ترتيب وجوه الكلام، والتمييز بين الأساليب ومعرفة الجوانب الجمالية في نسيج تركيب الجملة العربية (1) . ويُجْمع العلماء على أنه بفضل الكتاب العزيز نشأت علوم البلاغة التي أمدَّها النص القرآني بفيض من الأمثلة البديعة في محاسن الكلام وبديع النظم (2) .

والواقع أن القرآن الكريم أثار منذ اللحظات الأولى لنزوله حركة فكرية عند مُتَلَقِّيه، ممَّا جعلهم يلتفتون إلى ما جاء به في أساليب التعبير والبيان، ويُنَقِّبون عن كنوزها، ويوازنون بين صنوف الكلام المختلفة (3) . يقول الدكتور حمادي صمود (4) : ((غدا القرآن القطبَ الذي تدور حوله مختلف المجهودات الفكرية والعقائدية للمسلمين)) .

ولو تساءلنا عن أسباب نشأة علوم البلاغة التي هي المعاني والبيان والبديع، لَتَبَيَّن لنا أنها نشأت للدفاع عن القرآن، والردِّ على الذين أنكروا إعجازه. وقد عُرِفَ العرب بسليقتهم اللغوية أن عجزهم عن الإتيان بمثل القرآن نابع منه؛ بما يتميَّز به من خصائص أسلوبية وبيانية، ولكن مع التأثُّر الجارف بالفلسفات الوافدة ذهب بعض المسلمين إلى ما عُرِفَ بنظرية

--------------------------------------------

(1) البيان العربي 24.

(2) أثر القرآن على اللغة العربية للدكتور علي جميل 135.

(3) أثر القرآن في تطور النقد العربي 29.

(4) التفكير البلاغي عند العرب 34.
বিভিন্ন ধারাসহ অলঙ্কারশাস্ত্র (البلاغة) বিষয়ক গবেষণাগুলো ছিল আরবি বাক্যের গঠনশৈলীর সৌন্দর্য অনুধাবন, শৈলীসমূহের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ এবং শব্দবিন্যাস নিয়ে ঐকান্তিক গবেষণার প্রেরণা জোগানোর প্রধান চালিকাশক্তি (১)। বিদ্বানগণ এ বিষয়ে একমত যে, মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের কল্যাণেই অলঙ্কারশাস্ত্রের (علوم البلاغة) উৎপত্তি হয়েছে। কুরআন মাজিদের এই পাঠই অলঙ্কারশাস্ত্রকে বাক্যের সৌন্দর্য ও চমৎকার বিন্যাসশৈলীর (بديع النظم) অফুরন্ত উদাহরণ দিয়ে সমৃদ্ধ করেছে (২)।

বাস্তবতা হলো, কুরআন মাজিদ অবতীর্ণ হওয়ার প্রথম মুহূর্ত থেকেই এর শ্রোতাদের মধ্যে এক বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের সূচনা করেছিল। এটি তাদের কুরআনের প্রকাশভঙ্গি ও অলঙ্কারশৈলীর অনন্য বৈশিষ্ট্যের প্রতি মনোযোগী হতে, এর গূঢ় রহস্য অনুসন্ধান করতে এবং বিভিন্ন প্রকার বাকশৈলীর মধ্যে তুলনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল (৩)। ড. হাম্মাদি সামুদ (৪) বলেন: "কুরআন এমন এক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যাকে আবর্তন করেই মুসলিমদের সকল বুদ্ধিবৃত্তিক ও আদর্শিক প্রচেষ্টা পরিচালিত হয়।"

আমরা যদি অলঙ্কারশাস্ত্রের (علوم البلاغة) প্রধান তিনটি শাখা তথা আল-মাআনি (المعاني), আল-বায়ান (البيان) ও আল-বাদি (البديع)-এর উৎপত্তির কারণ অনুসন্ধান করি, তবে আমাদের কাছে স্পষ্ট হবে যে, এগুলোর উদ্ভব হয়েছিল কুরআনকে রক্ষা করার জন্য এবং যারা এর অলৌকিকত্বকে (إعجاز) অস্বীকার করেছিল তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য। আরবরা তাদের ভাষাগত সহজাত প্রবৃত্তি দিয়েই বুঝতে পেরেছিল যে, কুরআনের মতো কিছু নিয়ে আসতে তাদের অক্ষমতা মূলত কুরআনেরই স্বকীয় বৈশিষ্ট্য থেকে উৎসারিত; যা এর বিশেষ গঠনশৈলী ও অলঙ্কারশৈলীর কারণেই সম্ভব হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে গ্রিক বা বাহ্যিক দর্শনের প্রবল প্রভাবে কিছু মুসলিম এমন এক মতবাদের দিকে ধাবিত হয় যা... নামে পরিচিত।

--------------------------------------------

(১) আল-বায়ানুল আরাবি ২৪।

(২) আসারুল কুরআন আলাল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ, ড. আলি জামিল ১৩৫।

(৩) আসারুল কুরআন ফি তাতাওয়ুরিন নাকদিল আরাবি ২৯।

(৪) আত-তাফকিরুল বালাগি ইনদাল আরব ৩৪।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ খিদমাতান লিল কুরআনিল কারীম - আহমাদ মুহাম্মাদ আল-খাররাত (পৃষ্ঠা: ৩১)
الصِّرْفة (1) التي تأثرت بما يقوله الهنود عن كتابهم المقدس ((الفيدا)) ، إذ اعتقد البراهمة أنهم يعجزون عن الإتيان بمثله؛ لأن براهما صرفهم عن ذلك، وفي مقدور الخاصة محاكاته، ولكنهم ممنوعون احتراماً. وذهب إبراهيم النظَّام المعتزلي هذا المذهب، فكان يعتقد أن القرآن ليس في درجة من البلاغة والفصاحة تمنع من الإتيان بمثله، فبلاغته لاتزيد على بلاغة سائر الناس، وهو من جنس كلام البشر. ومثل هذا الرأي دفع علماء المسلمين إلى الخوض في مسائل البلاغة التي تدرس خصائص النص القرآني، ممَّا سيكون له أثر كبير في إغناء المباحث البلاغية، فقد أثمرت أهمَّ نظرية في تراثنا البلاغي وهي نظرية النظم (2) ، ومن هنا كان الردُّ على النظَّام ونظريته في الصِّرْفة باعثاً مهماً ومنطلقاً لعلماء البلاغة أن يُثْبِتوا تَفَوُّق الأسلوب القرآني على الأساليب البشرية وتميُّزه بصنوف البيان البديع، وهذا الدافع جعلهم يَبُثُّون بذور علم البلاغة وفروعها المختلفة، مما كان أساساً لاكتمال صورتها في مصنفات القرون التالية.

وإذا كان الدافع للاهتمام ببيان القرآن في أول الأمر هو الدفاع عن الكتاب العزيز أمام نزعات الشك وردِّ المطاعن، فإنَّ دراسات جادَّة شرعت في بناء منظومة واسعة، غرضها شرح أوجه إعجاز القرآن ودراسة أسلوبه.

وهذه الدراسات زَوَّدت مسيرة علم البلاغة بفيض من الأصول والأمثلة

--------------------------------------------

(1) إعجاز القرآن للدكتور مصطفى مسلم 59.

(2) التفكير البلاغي عند العرب 38.
'সিরফাহ' (১) (الصرفة) মতবাদটি হিন্দুদের পবিত্র গ্রন্থ 'বেদ' সম্পর্কে তাদের দাবির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল; কারণ ব্রাহ্মণরা বিশ্বাস করত যে, তারা এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম, কেননা ব্রহ্মা তাদের এ কাজ থেকে বিরত (صرفهم) রেখেছিলেন। বিশেষ ব্যক্তিদের পক্ষে এর অনুকরণ করা সম্ভব হলেও, সম্মানের খাতিরে তারা তা করা থেকে বিরত থাকে। মুতাজিলা মতাবলম্বী ইব্রাহিম আন-নাজ্জাম এই মতটি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, কুরআন অলঙ্কার শাস্ত্র (البلاغة) ও বাকপটুতার (الفصاحة) এমন কোনো স্তরে নেই যা এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে বাধা প্রদান করে। বরং এর অলঙ্কারিক সৌন্দর্য অন্যান্য মানুষের অলঙ্কারিক ক্ষমতার চেয়ে বেশি নয় এবং এটি মানবীয় বাণীরই পর্যায়ভুক্ত। এই ধরনের মতবাদ মুসলিম আলিমদের অলঙ্কার শাস্ত্রের (البلاغة) এমন সব মাসআলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল যা কুরআনের পাঠশৈলীর বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করে। এটি অলঙ্কার শাস্ত্রীয় গবেষণাকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এর ফলে আমাদের অলঙ্কার শাস্ত্রীয় ঐতিহ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি তত্ত্বের উদ্ভব ঘটে, যা হলো বিন্যাসতত্ত্ব (২) (نظرية النظم)। এখান থেকেই আন-নাজ্জাম ও তার 'সিরফাহ' (الصرفة) মতবাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া এবং অলঙ্কার শাস্ত্রবিদদের জন্য কুরআনের শৈলীকে মানবীয় শৈলীর ঊর্ধ্বে প্রমাণ করার এবং বর্ণনাশৈলী (البيان) ও শিল্পশৈলীর (البديع) বিভিন্ন চমৎকার বৈচিত্র্যের মাধ্যমে এর অনন্যতা তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা ও সূচনা বিন্দু তৈরি হয়। এই প্রেরণা তাঁদের অলঙ্কার শাস্ত্র (علم البلاغة) ও এর বিভিন্ন শাখার বীজ বপন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যা পরবর্তী শতাব্দীগুলোর গ্রন্থসমূহে এই শাস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ রূপ পরিগ্রহ করার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

যদি শুরুতে কুরআনের বর্ণনাশৈলী (بيان) নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার মূল প্রেরণা ছিল মহাগ্রন্থের প্রতিরক্ষা এবং সংশয়বাদী ও সমালোচকদের আপত্তিসমূহ খণ্ডন করা, তবে পরবর্তীতে এমন কিছু গভীর গবেষণামূলক কাজ শুরু হয় যা একটি বিস্তৃত কাঠামো তৈরি করে। যার উদ্দেশ্য ছিল কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহ ব্যাখ্যা করা এবং এর শৈলী নিয়ে গবেষণা করা।

এই গবেষণাসমূহ অলঙ্কার শাস্ত্রের (علم البلاغة) পথচলাকে বিপুল পরিমাণ মূলনীতি (الأصول) ও উদাহরণ (الأمثلة) দ্বারা সমৃদ্ধ করেছে।

--------------------------------------------

(১) ড. মোস্তফা মুসলিম রচিত ইজাযুল কুরআন, পৃষ্ঠা ৫৯।

(২) আত-তাফকিরুল বালাগি ইনদাল আরব, পৃষ্ঠা ৩৮।