(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: -)
عناية المسلمين بإبراز وجوه الإعجاز في القرآن الكريم - محمد السيد جبريل   (محمد السيد راضي جبريل)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: عناية المسلمين بإبراز وجوه الإعجاز في القرآن الكريم

المؤلف: محمد السيد جبريل

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 76

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে মুসলিমদের বিশেষ যত্ন - মুহাম্মদ আস-সাইয়িদ জিবরীল   (মুহাম্মদ আস-সাইয়িদ রাজি জিবরীল)

বিভাগ: কুরআনুল কারীমের জ্ঞান এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول)


গ্রন্থ: আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে মুসলিমদের বিশেষ যত্ন

লেখক: মুহাম্মদ আস-সাইয়িদ জিবরীল

প্রকাশক: কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন, মদিনা মুনাওয়ারা

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة البحث

الحمد لله حمداً كثيراً طيبا مباركاً فيه، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء وإمام المرسلين، ورحمة الله للعالمين محمد بن عبد الله النبي الصادق الأمين، وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.. ?

وبعد فلقد بعث الله تعالى رسله صلوات الله عليهم جميعاً - إلى خلقه بدعوة واحدة، أصول الاعتقاد فيها: الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله وإليوم الآخر، وشرع لهم شرائع أساسها: الطهارة والعفاف في الأخلاق، والاستقامة والقصد في السلوك، والعدل والنصفة في المعاملات، والنصح للأمة في الولايات: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحاً وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ …} (الشورى: 13) .

وبقيام رسل الله بدعوتهم على أكمل وجه وأتمه، وبثباتهم عليها كما أمرهم الله تعالى استجلبوا عداوة الطواغيت، وأثاروا أنصار الشر ممن أضلهم الشيطان، وزين لهم سبيل الغيّ فاتخذوه سبيلا، وهؤلاء هم المجرمون الذين أخبر الله خبرهم في قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوّاً مِنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِياً وَنَصِيراً} (الفرقان:31) ولقد دفعت العداوة هؤلاء المجرمين إلى محاولة الإتيان على بنيان دعوة الرسل من القواعد، فانطلق كفار كل أمة في جحود ظاهر- للحق -يكذبون رسولهم، ويتهمونه بشتى التهم.

{وَإِنْ يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُور} (فاطر:4)

فكان من نصر الله تعالى لهؤلاء الرسل الكرام أن أيدهم -في مواجهة تكذيب الكفار- بالمعجزات، وهي الآيات الخوارق التي تفحم المعاندين،
‌‌গবেষণার ভূমিকা

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসার অধিকারী। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূলগণের ইমাম, বিশ্বজগতের রহমত মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যিনি সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত নবী। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী বা তাবেয়ী (التابعين)-গণের ওপর... ?

অতপর, মহান আল্লাহ তাঁর সকল রাসূলকে—তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—তাঁর সৃষ্টির নিকট একই দাওয়াত দিয়ে প্রেরণ করেছেন। সেই দাওয়াতের আকিদার মূলনীতিসমূহ হলো: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। আর তিনি তাঁদের জন্য এমন জীবনবিধান বা শরীয়ত নির্ধারণ করেছেন যার ভিত্তি হলো: চরিত্রে পবিত্রতা ও নিষ্কলুষতা, আচরণে সততা ও পরিমিতিবোধ, লেনদেনে ন্যায়বিচার ও সমতা এবং শাসনব্যবস্থায় উম্মাহর কল্যাণকামিতা: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন, যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি আপনার প্রতি ওহী করেছি এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহিম, মূসা ও ঈসাকে, যেন তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো …} (আশ-শুরা: ১৩)।

আল্লাহর রাসূলগণ যখন তাঁদের দাওয়াতের কাজ পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করলেন এবং আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তাতে অবিচল থাকলেন, তখন তাঁরা তাগুতদের শত্রুতাকে আমন্ত্রণ জানালেন। শয়তান যাদের পথভ্রষ্ট করেছে এবং যাদের কাছে গোমরাহীর পথকে সুশোভিত করেছে—যারা সেই পথকেই নিজেদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে—সেই সব অনিষ্টকারীদের তারা উত্তেজিত করে তুলল। এরাই হলো সেই অপরাধী যাদের সংবাদ আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে দিয়েছেন: {এভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু সৃষ্টি করেছি। আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে আপনার পালনকর্তাই যথেষ্ট} (আল-ফুরকান: ৩১)। এই শত্রুতা অপরাধীদের প্ররোচিত করেছিল রাসূলদের দাওয়াতের সুদৃঢ় ভিত্তিমূল উপড়ে ফেলার চেষ্টা করতে। ফলে প্রতিটি জাতির কাফিররা সত্যের প্রতি প্রকাশ্য অস্বীকৃতির মাধ্যমে তাদের রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে শুরু করল এবং তাঁর ওপর নানা অপবাদ আরোপ করল।

{আর তারা যদি আপনাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে আপনার পূর্ববর্তী রাসূলদেরকেও তো মিথ্যাবাদী বলা হয়েছিল। আর সমস্ত বিষয় আল্লাহর নিকটই প্রত্যাবর্তিত হবে} (ফাতির: ৪)

এই সম্মানিত রাসূলগণের প্রতি মহান আল্লাহর সাহায্যের একটি দিক ছিল এই যে, কাফিরদের মিথ্যারোপের মোকাবিলায় তিনি তাঁদের অলৌকিক নিদর্শনসমূহ দ্বারা শক্তিশালী করেছিলেন; যা ছিল এমন সব অতিপ্রাকৃত নিদর্শন যা বিরোধীদের নিরুত্তর ও নির্বাক করে দেয়।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ২)
وتثبت المؤمنين، ولقد شاءت حكمة الله تعالى أن تكون معجزات الأنبياء السابقين في أممهم حسية يراها المشاهدون، ويعاينها الحاضرون: كناقة صالح، وبرد النار وسلامها على إبراهيم، وعصا موسى، وإبراء الأكمه والأبرص، وإحياء الموتى بإذن الله لعيسى صلوات الله عليهم جميعا، وأكثر ما كانت المعجزات الحسية في بني إسرائيل، وما كان ذلك إلا لفرط بلادتهم، وغلظ حسهم ثم ختم الله تعالى رسله إلى خلقه بمحمد صلى الله عليه وسلم، وكما أيد من قبله بتلك المعجزات الحسية أيده كذلك بكثير منها، كتلك التي كان يطلبها المشركون تعنتاً، فيجابون إلى بعضها ولا يؤمنون (1) . ولا يجابون إلى أكثرها، رحمة من الله تعالى أن ينزل بهم العذاب عند تكذيبهم بها،كما جاء ذلك في قوله تعالى: {وَمَا مَنَعَنَا أَنْ نُرْسِلَ بِالْآياتِ إِلَّا أَنْ كَذَّبَ بِهَا الْأَوَّلُونَ وَآتَيْنَا ثَمُودَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً فَظَلَمُوا بِهَا وَمَا نُرْسِلُ بِالْآياتِ إِلَّا تَخْوِيفاً} (الإسراء:59)

كما كان الكثير من هذه المعجزات الحسية (2) يحدث ابتداء على مرأى من المؤمنين،فيكون ذلك مواساة لهم، وتثبيتا لقلوبهم، وتعميقا ليقينهم.

لكن المعجزة الكبرى لهذا النبي الخاتم صلى الله عليه وسلم كانت من نوع آخر، إنها المعجزة العقلية الباقية، التي تخاطب الأجيال في كل عصر، يراها ويقرؤها الناس

--------------------------------------------

(1) كما حدث في معجزة انشقاق القمر، وحديثها عند البخاري في الصحيح: كتاب التفسير، باب (…وانشق القمر) .

(2) قد استفاضت الأخبار الصحيحة بالعديد من هذه المعجزات لرسول الله صلي الله عليه وسلم،كتكثير الطعام بين يديه، ونبع الماء وفورانه من بين أصابعه حتى يتطهر ويرتوي الجمع الكثير من أصحابه من الماء القليل، وكذلك سماع تسبيح الطعام وهو يؤكل أمامه، وحنين الجذع إليه عند انتقاله صلي الله عليه وسلم إلى منبر صنع له ليخطب الناس علىه، وكل ذلك عند البخاري رحمه الله في صحيحه،يرجع في ذلك إلى: كتاب المناقب، باب علامات النبوة.
এবং মুমিনদের সুদৃঢ় করে। আর মহান আল্লাহ তাআলার হিকমত এটিই চেয়েছিল যে, পূর্ববর্তী নবীগণের মুজিজাসমূহ তাঁদের উম্মতদের জন্য হবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, যা প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখতেন এবং উপস্থিতরা স্বচক্ষে অবলোকন করতেন; যেমন সালেহ (আ.)-এর উষ্ট্রী, ইব্রাহিম (আ.)-এর ওপর আগুনের শীতলতা ও প্রশান্তি, মুসা (আ.)-এর লাঠি, এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে ঈসা (আ.)-এর জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করা এবং মৃতকে জীবিত করা—তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। বনী ইসরাঈলের মধ্যেই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজা সবচেয়ে বেশি ছিল, আর তা ছিল কেবল তাদের চরম স্থূলবুদ্ধি ও বোধশক্তির জড়তার কারণে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি মুহাম্মাদ (সা.)-এর মাধ্যমে নবীগণের সমাপ্তি ঘটান। তাঁর পূর্ববর্তীদের যেভাবে তিনি সেই সব ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজা দ্বারা সাহায্য করেছিলেন, তাঁকেও তেমনি এ ধরনের অনেক মুজিজা দ্বারা শক্তিশালী করেন। যেমন সেই সব মুজিজা যা মুশরিকরা হঠকারিতাবশত দাবি করত; অতঃপর তাদের কিছু দাবি পূরণ করা হতো কিন্তু তারা ঈমান আনত না (১)। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের দাবি পূরণ করা হতো না, যা ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক রহমত যাতে তারা তা অস্বীকার করার কারণে তাদের ওপর আজাব নেমে না আসে। যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে এসেছে: {পূর্ববর্তীরা নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছিল বলেই আমি নিদর্শন পাঠানো বন্ধ রেখেছি। আর আমি সামুদ জাতিকে স্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে উষ্ট্রী দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তার ওপর জুলুম করেছিল। আমি কেবল ভীতি প্রদর্শনের জন্যই নিদর্শনসমূহ পাঠিয়ে থাকি।} (আল-ইসরা: ৫৯)

একইভাবে, এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিজাসমূহের (২) অনেকগুলো স্বতস্ফূর্তভাবে মুমিনদের চোখের সামনেই সংঘটিত হতো, যা ছিল তাদের জন্য সান্ত্বনাদায়ক, তাদের অন্তরকে সুদৃঢ়কারী এবং তাদের বিশ্বাসকে গভীরতর করার মাধ্যম।

তবে এই সর্বশেষ নবী (সা.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা ছিল ভিন্ন ধরনের; তা হলো চিরস্থায়ী বুদ্ধিদীপ্ত মুজিজা, যা প্রতি যুগের প্রজন্মসমূহকে সম্বোধন করে, মানুষ যা প্রত্যক্ষ করে এবং পাঠ করে।

--------------------------------------------

(১) যেমনটি ঘটেছিল চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মুজিজার ক্ষেত্রে, আর এর হাদিসটি ইমাম বুখারী সহীহ বুখারী-তে উল্লেখ করেছেন: কিতাবুত তাফসীর, পরিচ্ছেদ (…এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হলো)।

(২) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এমন অনেক মুজিজা সম্পর্কে বিশুদ্ধ (صحيح) সংবাদসমূহ ব্যাপকভাবে বর্ণিত (مستفيض) হয়েছে। যেমন তাঁর হাতের সামনে খাবারের প্রাচুর্য ঘটা, তাঁর আঙুলসমূহের মাঝখান থেকে পানির ঝরণা প্রবাহিত হওয়া—যার ফলে অল্প পানি দিয়ে তাঁর অসংখ্য সাহাবী পবিত্রতা অর্জন করেছিলেন এবং তৃষ্ণা নিবারণ করেছিলেন। একইভাবে তাঁর সামনে খাবার খাওয়ার সময় খাবারের তাসবীহ পাঠ শোনা যাওয়া এবং যখন নবী (সা.) তাঁর জন্য নির্মিত মিম্বারে খুতবা দেওয়ার জন্য স্থানান্তরিত হলেন তখন খেজুর গাছের কাণ্ডের রোদন করা। এ সমস্ত বিষয়ই ইমাম বুখারী (রহ.) তাঁর সহীহ বুখারী-তে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে দেখা যেতে পারে: কিতাবুল মানাকিব, নবুওয়াতের আলামতসমূহ পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ৩)
في كل حين، إنها القرآن الكريم، الذي أعجز الفصحاء، وانقطع أمامة البلغاء في الأمة العربية، التي سما بيانها، ولمع ذكاؤها،فكان المعجزة الباقية للرسالة الخاتمة.

إن اختصاص النبي الخاتم صلى الله عليه وسلم بمعجزة القرآن الباقية خلافا للرسالات السابقة يأتي إيضاحه وتعليله كذلك في حديثه صلوات الله وسلامه عليه:

"ما من الأنبياء نبي إلا أعطي من الآيات ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذي أوتيته وحيا أوحاه الله إلى،فأرجو أن أكون أكثرهم تابعاً يوم القيامة" (1) .

وفي معنى الحديث أقوال تصح في مجملها، ولعل أوضحها أن المراد: أن معجزات الأنبياء السابقين انتهت بانتهاء عصورهم،فلم يعاينها إلا من حضرها، أما معجزة القرآن فهي باقية إلى يوم الدين فهو في كل عصر خارق للعادة في أسلوبه وبلاغته وسائر وجوه إعجازه ومنها إخباره بالمغيبات،فلا يمر عصر من الأعصار إلا ويظهر شيء مما أخبر به أنه سيكون يدل على صحة دعواه، وكذلك فالمعجزات الماضية كانت حية تشاهد بالأبصار، وأما القرآن فمعجزة عقلية تشاهد بالبصيرة،فيكون من يتبعه لأجلها أكثر، لأن الذي يشاهد بعين الرأس ينقرض بانقراض مشاهده، والذي يشاهد بعين العقل باق يشاهده كل من جاء بعد الأول (2) .

ولهذا رد الله تعالى على المشركين طلبهم لخوارق الآيات، وسؤالهم المعجزات بكفاية القرآن وعدم الحاجة إلى غيره من الآيات، وذلك في قوله سبحانه: {وَقَالُوا لَوْلا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَاتٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّمَا الْآياتُ عِنْدَ اللَّهِ وَإِنَّمَا

--------------------------------------------

(1) الحديث أخرجه البخاري في صحيحه: كتاب فضائل القرآن، باب كيف نزل الوحي، وأول ما نزل

(2) يراجع في ذلك ما قاله ابن حجر رحمه الله تعالى في (فتح الباري) :9/7
সর্বদাই, এটি হলো আল-কুরআনুল কারীম, যা বিশুদ্ধ ভাষাবিদদের অক্ষম করে দিয়েছে এবং আরব জাতির সাবলীল বাগ্মীদের যার সামনে কথা রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে; যাদের প্রকাশভঙ্গি ছিল উন্নত এবং মেধা ছিল তীক্ষ্ণ। ফলে এটিই ছিল শেষ বার্তার জন্য চিরস্থায়ী মুজিজা।

পূর্ববর্তী রিসালাতগুলোর বিপরীতে শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিরস্থায়ী মুজিজা হিসেবে কুরআনের বিশেষত্বের কারণ ও ব্যাখ্যা তাঁর হাদিসেই বর্ণিত হয়েছে:

"এমন কোনো নবী অতিক্রান্ত হননি যাঁকে এমন নিদর্শন প্রদান করা হয়নি যার ওপর মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহি, যা আল্লাহ আমার প্রতি নাযিল করেছেন। অতএব আমি আশা করি যে, কিয়ামতের দিন আমিই হব তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক অনুসারী সম্পন্ন।" (১) ।

হাদিসের অর্থের ব্যাপারে এমন কিছু অভিমত রয়েছে যা মোটের ওপর শুদ্ধ (صحيح); সম্ভবত এর মধ্যে স্পষ্টতম ব্যাখ্যাটি হলো: পূর্ববর্তী নবীদের মুজিজাসমূহ তাঁদের যুগের অবসানের সাথে সাথে শেষ হয়ে গিয়েছে, ফলে যারা তখন উপস্থিত ছিল তারা ছাড়া আর কেউ তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে পারেনি। পক্ষান্তরে, কুরআনের মুজিজা কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। এটি তার রচনাশৈলী, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং তার অলৌকিকত্বের অন্যান্য দিকগুলোর মাধ্যমে প্রতিটি যুগে মানুষের স্বাভাবিক অভ্যাসের ঊর্ধ্বে থাকবে। যার মধ্যে অন্যতম হলো অদৃশ্য বিষয়াদি সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা। এমন কোনো যুগ অতিবাহিত হয় না যেখানে এটি যার সংবাদ প্রদান করেছে এমন কিছুর বহিঃপ্রকাশ ঘটে না যা এর দাবির সত্যতা প্রমাণ করে। তেমনিভাবে, অতীতের মুজিজাসমূহ ছিল চাক্ষুষ যা চোখে দেখা যেত, কিন্তু কুরআন হলো একটি বুদ্ধিভিত্তিক মুজিজা যা অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করা হয়। ফলে এর কারণে অনুসারীর সংখ্যা বেশি হবে; কারণ যা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা হয় তা দর্শক বিদায়ের সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে যায়, আর যা বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করা হয় তা চিরস্থায়ী এবং পরবর্তীরাও তা পূর্ববর্তীদের মতোই প্রত্যক্ষ করতে পারে (২) ।

এই কারণেই মহান আল্লাহ মুশরিকদের অলৌকিক নিদর্শন ও মুজিজা তলব করার বিপরীতে কুরআনের পর্যাপ্ততা এবং অন্যান্য নিদর্শনের প্রয়োজনীয়তা না থাকাকে উত্তর হিসেবে পেশ করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী: {আর তারা বলে, ‘তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে নিদর্শনসমূহ নাযিল করা হয় না কেন?’ বলুন, ‘নিদর্শন তো কেবল আল্লাহর কাছে আছে। আর আমি তো কেবল...

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি বুখারি তাঁর সাহিহ গ্রন্থে উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন: কুরআনের ফযিলত অধ্যায়, ওহি কীভাবে নাযিল হতো এবং সর্বপ্রথম কী নাযিল হয়েছিল পরিচ্ছেদ।

(২) এ বিষয়ে ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ফাতহুল বারী গ্রন্থে যা বলেছেন তা দ্রষ্টব্য: ৯/৭
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ৪)
أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ يُتْلَى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرَى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (العنكبوت:50،51)

ولقد عرف المسلمون منذ عصر نزول القرآن شأن معجزته، فأكبروه، وبذل علماؤهم جهودهم، ووقفوا الكثير من أعمارهم على إبراز وجوه إعجاز هذا الكتاب الكريم، واستمرت هذه الجهود المباركة موفورة إلى يوم الناس هذا،فسجلت القرون المباركة وما بعدها من تاريخ المسلمين كتابات في هذا المجال لم ينقطع مددها، ولم يتوقف تتابعها.

ولقد أولت المملكة العربية السعودية-فيما نهضت به من أعباء خدمة الإسلام في شتى مجالاته-كتاب الله تعالى مزيد حياطة ورعاية، تمثلت في هذا الصرح الإسلامى الشامخ، وهو مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف الذي قام ويقوم بفضل من الله تعالى بخدمة كتابه الكريم طباعة المصحف، وتفسيراً للقرآن، وترجمة لمعانيه، وإثراء للدراسات القرآنية في شتى مجالاتها، وأخيراً وليس بآخر كان من معالم هذه الجهود المباركة دعوة المجمع إلى ندوة علمية عن (عناية المملكة العربية السعودية بالقرآن الكريم وعلومه) شملت عدة محاور تضمنت موضوعات شتى تصب كلها في هذا الهدف النبيل، هدف خدمة القرآن الكريم.

وتلبية لدعوة كريمة من أمانة المجمع يأتي هذا البحث في (عناية المسلمين بإبراز وجوه الإعجاز في القرآن الكريم) مشاركة متواضعة في هذا العمل الكبير.

وصلب الموضوع في هذا البحث يتناول قضيتين الأولى: قضية التأصيل التاريخي لموضوع الإعجاز، وذلك من خلال المصنفات التي تناولته عبر قرون
{...আমি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী। তাদের জন্য কি এটি যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়? নিশ্চয়ই এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য রহমত ও উপদেশ রয়েছে।} (আল-আনকাবুত: ৫০-৫১)

কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার যুগ থেকেই মুসলিমগণ এর অলৌকিকত্বের (معجزة) স্বরূপ ও মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিলেন, ফলে তাঁরা একে সুমহান জ্ঞান করেছেন। তাঁদের উলামাগণ এই মহিমান্বিত কিতাবের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো ফুটিয়ে তোলার জন্য তাঁদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং তাঁদের জীবনের দীর্ঘ সময় এই কাজে উৎসর্গ করেছেন। এই বরকতময় প্রচেষ্টার ধারা বর্তমান সময় পর্যন্ত পূর্ণোদ্যমে অব্যাহত রয়েছে। ইসলামের ইতিহাসের বরকতময় শতাব্দীসমূহ এবং তার পরবর্তী সময়ে এই ক্ষেত্রে এমন সব রচনা বা পাণ্ডুলিপি লিপিবদ্ধ হয়েছে যার ধারা কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি এবং যার ধারাবাহিকতা কখনো স্তব্ধ হয়নি।

সৌদি আরব রাজতন্ত্র—ইসলামের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবার যে সুমহান দায়িত্ব পালন করছে—তার অংশ হিসেবে আল্লাহ তাআলার কিতাবের প্রতি বিশেষ সংরক্ষণ ও যত্ন প্রদান করেছে। যা এই সুউচ্চ ইসলামি স্থাপত্যে প্রতিফলিত হয়েছে, আর তা হলো 'বাদশাহ ফাহদ পবিত্র কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স'। এই প্রতিষ্ঠানটি আল্লাহর অনুগ্রহে পবিত্র কুরআন মুদ্রণ, কুরআনের তাফসীর (تفسير), এর মর্মার্থের অনুবাদ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কুরআনিক গবেষণাকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে মহান কিতাবের নিরলস সেবা করে যাচ্ছে। এই বরকতময় প্রচেষ্টার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে কমপ্লেক্সটি 'পবিত্র কুরআন ও এর উলুম (علوم) এর প্রতি সৌদি আরব রাজতন্ত্রের যত্ন' শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করে। এই সেমিনারে এমন অনেকগুলো ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল যা পবিত্র কুরআনের খিদমতের সেই মহৎ লক্ষ্যকেই ধারণ করে।

কমপ্লেক্সের সচিবালয়ের সদয় আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই মহতী কর্মযজ্ঞে একটি বিনম্র অংশগ্রহণ হিসেবে 'পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহ উন্মোচনে মুসলিমদের যত্ন' শীর্ষক এই গবেষণাটি উপস্থাপিত হচ্ছে।

এই গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। প্রথমটি হলো: অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিষয়টির ঐতিহাসিক ভিত্তি বা উৎস নির্ণয়ের বিষয়টি, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই বিষয়ের উপর রচিত সংকলনসমূহের (مصنفات) মাধ্যমে পর্যালোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ৫)
الإسلام، وأقوال أصحابها في أوجه الإعجاز المعتبرة، والثانية: بيان أوجه الإعجاز التى دارت حولها أقوال العلماء.

ولكن يسبق ذلك لتمام الفائدة، ولحاجة البحث مسائل تتعلق ببيان المراد بمصطلح إعجاز القرآن، وأهمية علم الإعجاز، وحاجة المفسرين إليه، ومناط الإعجاز المتفق عليه عند علماء الأمة، ورد ما يخالف ذلك.

أسأل الله العلي القدير أن يوفق لإتمامه على النحو الذي يرضيه سبحانه، وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم، وأن ينفع به، ويثيبني بما هو أهله عز وجل وأن يتجاوز عما يكون فيه من تقصير هو من لوازم البشر، والله من وراء القصد وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمدصلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه.
ইসলাম, এবং ই'জাযের (إعجاز) গ্রহণযোগ্য (معتبرة) দিকগুলো সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্যসমূহ; এবং দ্বিতীয়টি হলো: ই'জাযের (إعجاز) সেই দিকগুলোর বর্ণনা যেগুলোকে কেন্দ্র করে আলেমগণের মতামত আবর্তিত হয়েছে।

তবে এর পূর্ণাঙ্গ উপকারিতা এবং গবেষণার প্রয়োজনে এর পূর্বে এমন কিছু বিষয় আলোচনা করা হবে যা 'কুরআনের ই'জায' (إعجاز) পরিভাষা দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্টীকরণ, ই'জায (إعجاز) শাস্ত্রের গুরুত্ব, মুফাসসিরগণের নিকট এর প্রয়োজনীয়তা, উম্মতের আলেমগণের নিকট ই'জাযের (إعجاز) সর্বসম্মত (متفق عليه) মানদণ্ড এবং এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ খণ্ডন সংশ্লিষ্ট।

আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি একে তাঁর পছন্দনীয় পন্থায় সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন, একে যেন একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এর দ্বারা যেন উপকার দান করেন এবং আমাকে তাঁর শান অনুযায়ী প্রতিদান প্রদান করেন। আর মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য হিসেবে এতে যে সকল ত্রুটি রয়েছে তিনি যেন তা মার্জনা করেন। আল্লাহই মূল লক্ষ্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌بيان المراد بـ (إعجاز القرآن)

مصطلح "إعجاز القرآن" –كما يبدو من صياغته-مركب إضافي، طرفاه كلمتا: (إعجاز) و (القرآن) ولمعرفة المراد بهذا المركب يلزم تحديد معنى طرفه الأول وهو كلمة "الإعجاز" ثم معرفة المراد بالمصطلح كله عند إضافة هذه الكلمة إلى (القرآن)

فما معنى الإعجاز؟؟

الإعجاز: مصدر أعجز، ومادة الكلمة هي العجز، وكلام أهل اللغة في معناها يدور حول الضعف، وعدم القدرة على النهوض بالأمر، وكذلك القعود عما يجب فعله.

قال ابن منظور: (العجز: نقيض الحزم والعجز: الضعف، والمعجزة بفتح الجيم وكسرها: مفعلة من العجز: عدم القدرة، وفي الحديث- كل
‘কুরআনের অলৌকিকতা’ (إعجاز القرآن) দ্বারা কী উদ্দেশ্য তার বর্ণনা

‘ইজাযুল কুরআন’ পরিভাষাটি—এর শব্দবিন্যাস থেকে যেমনটি স্পষ্ট হয়—একটি সম্বন্ধযুক্ত শব্দসমষ্টি (مركب إضافي), যার দুটি অংশ হলো: ‘ইজায’ (إعجاز) এবং ‘কুরআন’। এই যৌগিক শব্দটি দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা জানার জন্য এর প্রথম অংশ অর্থাৎ ‘ইজায’ (الإعجاز) শব্দের অর্থ নির্ধারণ করা আবশ্যক, এরপর এই শব্দটিকে যখন ‘কুরআন’-এর সাথে যুক্ত করা হয় তখন পূর্ণ পরিভাষাটি দ্বারা কী বোঝায় তা জানা প্রয়োজন।

তাহলে ইজায (অলৌকিকতা)-এর অর্থ কী??

ইজায (الإعجاز): এটি ‘আ’জাযা’ ক্রিয়ামূলের মাসদার (مصدر), আর শব্দটির মূল উপাদান হলো ‘আজ্‌য’ (العجز)। ভাষাবিদগণের বক্তব্যে এর অর্থ দুর্বলতা (الضعف), কোনো বিষয়ে অগ্রসর হতে সক্ষম না হওয়া এবং যা করা আবশ্যক তা করতে অপারগ হওয়া বা বসে থাকাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।

ইবন মানযুর বলেছেন: (আজ্‌য: এটি দৃঢ় সংকল্পের বিপরীত; আর আজ্‌য হলো দুর্বলতা (الضعف)। আর মুজিজাহ (المعجزة) — জিম বর্ণে ফাতহাহ বা কাসরাহ যোগে — এটি আজ্‌য (العجز) থেকে ‘মাফআলাহ’ (مفعلة) ওজনে গঠিত: যার অর্থ সক্ষমতার অভাব বা অক্ষমতা। আর হাদিসে এসেছে— প্রত্যেক...
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ৬)
شيء بقدر حتى العجز والكيس (1) .- وقيل أراد بالعجز: ترك ما يجب فعله بالتسويف) (2) .

ومقتضى آخر الكلام فيما ساقه صاحب اللسان أن العجز أعم من أن يكون ضعفا وانعدام قدرة،وإنما يمكن أن يعني ترك الأمر تسويفا، مما يفهم منه أن ما ترك في حيز القدرة عليه، لكن الباعث على تركه هو الكسل الحامل على التأجيل والتسويف.

لكن لنا في أصالة معنى العجز في الدلالة على عدم القدرة، وأن ترك الفعل عجزاً إنما يكون لعدم القدرة عليه في الأصل.

أقول: لنا في ذلك حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اللهم إني أعوذبك من الهم والحزن، والعجز والكسل.." (3) .

قال ابن حجر رحمه الله تعالى: (إن الهم:لما يتصوره العقل من المكروه في الحال، والحزن لما وقع في الماضي، والعجز ضد الاقتدار، والكسل ضد النشاط) (4) .

فالجمع في الحديث بين الاستعاذة من كل من العجز والكسل فيه دلالة على تغاير المعنى فيهما، فالأول عدم القدرة والثاني عدم النشاط والنهوض للأمر.

--------------------------------------------

(1) الحديث أخرجة مسلم في صحيحه: كتاب القدر، باب كل شئ بقدر

(2) لسان العرب: مادة (عجز)

(3) صحيح البخاري: كتاب الدعوات، باب الاستعاذة من الجبن والكسل

(4) فتح البارى11/178
সবকিছুই তকদির (قدر) অনুযায়ী, এমনকি অক্ষমতা (عجز) এবং বুদ্ধিমত্তাও (كيس) (১)। বলা হয়েছে যে, তিনি অক্ষমতা (عجز) দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন: গড়িমসি করার মাধ্যমে যা করা আবশ্যক তা ছেড়ে দেওয়া (২)।

লিসানুল আরবের গ্রন্থকারের আলোচনার শেষাংশের দাবি হলো, অক্ষমতা (عجز) শব্দটি কেবল দুর্বলতা (ضعف) এবং সক্ষমতার অনুপস্থিতির (انعدام قدرة) চেয়েও ব্যাপক। বরং এর অর্থ এমনও হতে পারে যে, কোনো কাজ গড়িমসি করে ছেড়ে দেওয়া; যা থেকে বোঝা যায় যে, যা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা করার সক্ষমতা ছিল, কিন্তু তা বর্জনের মূল কারণ হলো অলসতা (كسل), যা কাজকে বিলম্বিত বা গড়িমসি করতে উদ্বুদ্ধ করে।

তবে অক্ষমতা (عجز) শব্দের মৌলিক অর্থ হলো সক্ষমতার অভাব (عدم قدرة), এবং কোনো কাজ অক্ষমতা (عجز) বশত ছেড়ে দেওয়ার অর্থ হলো মূলত তা করার সক্ষমতা না থাকা।

আমি বলি: এ বিষয়ে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস রয়েছে: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুশ্চিন্তা ও দুঃখ, এবং অক্ষমতা (عجز) ও অলসতা (كسل) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি..." (৩)।

ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: (নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তা হলো যা বর্তমানে কোনো অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে মনের মধ্যে উদয় হয়, আর দুঃখ হলো অতীতে যা ঘটে গেছে তার জন্য। আর অক্ষমতা (عجز) হলো সক্ষমতার (الاقتدار) বিপরীত, আর অলসতা (كسل) হলো উদ্যমের (النشاط) বিপরীত) (৪)।

সুতরাং হাদিসে অক্ষমতা (عجز) এবং অলসতা (كسل) উভয়টি থেকে একসাথে আশ্রয় চাওয়ার মাঝে এই প্রমাণ রয়েছে যে, এ দুটির অর্থের মাঝে ভিন্নতা আছে। প্রথমটি হলো সক্ষমতার অভাব এবং দ্বিতীয়টি হলো উদ্যমের অভাব ও কোনো কাজে অগ্রসর না হওয়া।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: কিতাবুল কদর, পরিচ্ছেদ: প্রতিটি বিষয় তকদির (قدر) অনুযায়ী।

(২) লিসানুল আরব: শব্দমূল (عجز)

(৩) সহিহ বুখারি: কিতাবুদ দাওয়াত, পরিচ্ছেদ: ভীরুতা ও অলসতা (كسل) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা।

(৪) ফাতহুল বারি ১১/১৭৮
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ৭)
وعليه فالإعجاز: هو جعل من يقع عليه أمر التحدي بالشيء عاجزاً عن الإتيان به، ونسبته إلى العجز، وإثباته له، فالإعجاز بالنسبة للمعجز هو الفوت والسبق، يقال أعجزني فلان أي: فاتني،وبالنسبة للعاجز عدم القدرة على الطلب والإدراك (وقال الليث: أعجزني فلان إذا عجزت عن طلبه وإدراكه) (1) .

إذا كان هذا معنى الإعجاز، فبإضافته إلى القرآن، ومنهما يكون مصطلح: (إعجاز القرآن) كما سبق بيانه يكون المراد: إثبات القرآن عجز الخلق عن الإتيان بما تحداهم به، وهو أن يأتوا بمثله أو بشيء من مثله، فهو من إضافة المصدر إلى فاعله، والمفعول محذوف للدلالة على عموم من تحداهم القرآن، وهم الإنس والجن، وكذلك ما تعلق به الفعل محذوف للعلم به، وهو القرآن أو بعضه كما ثبت في كثير من آيات التحدي.

ويكتمل بيان المراد بهذا المصطلح إذا عرفنا أن إعجاز القرآن مَن تحداهم عن الإتيان بمثله أو بشيء من مثله ليس أمراً مقصوداً لذاته، وليس هو الغاية في نفسه، ولكن المقصود هو اللازم الناتج عن هذا الإعجاز، وهو إظهار وإثبات أن هذا الكتاب حق، ووحي من عند الله تعالى، ومقتضى ذلك كله إثبات صدق الرسول صلى الله عليه وسلم فيما جاء به قومه من الرسالة، ودعاهم إليه من الإسلام، وعليه فإن حقيقة الإعجاز وهى إثبات العجز لمن وقع عليه التحدى استلزمت إظهار هذا العجز، وهذا الإظهار بدوره استلزم إظهار صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو المقصود الأول من الإعجاز.

--------------------------------------------

(1) لسان العرب:مادة (عجز)
অতএব অলৌকিকত্ব (إعجاز) হলো: যার ওপর কোনো বিষয়ে চ্যালেঞ্জ (تحدي) প্রদান করা হয়েছে, তাকে সেই বিষয়টি উপস্থাপনে অক্ষম (عاجز) করে দেওয়া, তাকে অক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত করা এবং তার ওপর তা সাব্যস্ত করা। সুতরাং অলৌকিকত্ব প্রদানকারীর ক্ষেত্রে 'ইজাজ' হলো অন্যদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এবং অগ্রগামী হওয়া। বলা হয়, 'অমুক ব্যক্তি আমাকে অক্ষম করে দিয়েছে', অর্থাৎ 'সে আমার নাগালের বাইরে চলে গেছে'। আর যে অক্ষম (عاجز), তার ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো অন্বেষণ ও অর্জনে সক্ষম না হওয়া। (লাইস বলেছেন: অমুক আমাকে অক্ষম করে দিয়েছে, এর অর্থ হলো যখন আমি তাকে অন্বেষণ ও অর্জনে অপারগ হই) (১) ।

যদি এটিই অলৌকিকত্বের (إعجاز) অর্থ হয়, তবে কুরআনের সাথে এর সম্বন্ধের ফলে যে 'কুরআনের অলৌকিকত্ব' পরিভাষাটি গঠিত হয়—যার বর্ণনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—তার উদ্দেশ্য হলো: কুরআন এটি প্রমাণ করেছে যে, সৃষ্টিজগত সেই বস্তু উপস্থাপনে অক্ষম (عجز) যা নিয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ (تحدي) করা হয়েছিল; আর তা হলো কুরআনের সদৃশ কোনো কিছু বা এর কোনো অংশের অনুরূপ কিছু আনয়ন করা। এখানে সম্বন্ধটি করা হয়েছে ক্রিয়ামূলের (مصدر) সাথে তার কর্তার (فاعل) দিকে, এবং কর্মটি (مفعول) উহ্য রাখা হয়েছে যাতে যাদেরকে কুরআন চ্যালেঞ্জ (تحدي) করেছে তাদের ব্যাপকতা বুঝায়, আর তারা হলো মানুষ ও জিন। অনুরূপভাবে ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টিও জানা থাকার কারণে উহ্য রাখা হয়েছে, আর তা হলো স্বয়ং কুরআন বা এর কিয়দাংশ, যেমনটি চ্যালেঞ্জ (تحدي) সংক্রান্ত বহু আয়াতে সাব্যস্ত হয়েছে।

এই পরিভাষাটির ব্যাখ্যা পূর্ণাঙ্গতা পায় যখন আমরা জানতে পারি যে, কুরআনের সদৃশ বা তার কোনো অংশের অনুরূপ কিছু আনয়নে যাদেরকে চ্যালেঞ্জ (تحدي) করা হয়েছিল তাদের অক্ষমতা (إعجاز) সাব্যস্ত করাটাই মূল লক্ষ্য নয় এবং তা নিজেই চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়। বরং এর উদ্দেশ্য হলো এই অলৌকিকত্বের (إعجاز) অনিবার্য ফলাফল, আর তা হলো—এটি প্রকাশ ও প্রমাণ করা যে, এই কিতাবটি সত্য এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি (وحي)। এর সামগ্রিক দাবি হলো তাঁর জাতির নিকট নিয়ে আসা রিসালাত এবং তিনি যে ইসলামের দিকে তাদের আহ্বান জানিয়েছেন, তাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতা প্রমাণ করা। অতএব অলৌকিকত্বের (إعجاز) প্রকৃত রূপ হলো—যাদের চ্যালেঞ্জ (تحدي) করা হয়েছে তাদের অক্ষমতা (عجز) সাব্যস্ত করা, যা সেই অক্ষমতার প্রকাশকে অনিবার্য করে তোলে। আর এই প্রকাশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতার প্রকাশকে অনিবার্য করে, যা অলৌকিকত্বের (إعجاز) মূল লক্ষ্য।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব: (عجز) মূল ধাতু।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌أهمية علم الإعجاز والضرورة الداعية إليه

من بداهة القول أن الله تعالى أنزل القرآن الكريم على رسوله صلى الله عليه وسلم هداية للناس في شتى مناحي حياتهم إلى أقوم طريق وأهدى سبيل، وذلك مما ينبئ عنه حذف متعلق الهداية في قول الله تعالى: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} (الإسراء:9)

بل إن هذا الهدف الأعظم هو أول ما يطالع القارئ لكتاب الله تعالى مفتتح المصحف في أول سورة منه بعد الفاتحة {ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدىً لِلْمُتَّقِينَ} (البقرة:1،2)

ومن المعلوم أن الاهتداء بالقرآن فرع عن معرفة وفهم معانيه، وطريق ذلك علم التفسير، ذلك العلم الذي نبتت نابتته الأولى في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم عندما كان يسأله أصحابه رضوان الله عليهم عما يشكل عليهم فهمه من القرآن، فيجيبهم، وكذلك عندما كان صلى الله عليه وسلم يعلمهم ابتداء ما يعلم أنهم في حاجة إلى تعلمه، ولا سبيل لهم إليه إلا ببيانه صلى الله عليه وسلم، كانت تلك البذور الأولى، ثم نما علم التفسير، وتطور عبر قرون الإسلام، من الرواية إلى التدوين والتصنيف مما لا مجال لتفصيله هنا.

أقول: إن هدى القرآن، وهو مقصود نزوله إنما يكون بتفسيره، ومعرفه ما فيه من الناسخ والمنسوخ، والعام والخاص، والمحكم والمتشابه، والحلال والحرام وغير ذلك، ولذلك كان من تعريف العلماء لعلم التفسير ما قاله بدر الدين الزركشي: (هو علم نزول الآية وسورتها وأقاصيصها، والإشارات النازلة فيها، ثم ترتيب مكيها ومدنيها، ومحكمها ومتشابهها، وناسخها
ইলমে ই’জায বা অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিজ্ঞানের গুরুত্ব এবং এর আবশ্যিক প্রয়োজনীয়তা

এটি অত্যন্ত স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আল-কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ করেছেন মানুষের জীবনের নানাবিধ ক্ষেত্রে হিদায়াত হিসেবে এবং সবচেয়ে সঠিক ও সরল পথের দিশারি হিসেবে। আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে হিদায়াতের সংশ্লিষ্ট কর্মপদটি উহ্য রাখা থেকেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে অনুমিত হয়: {নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের দিকে হিদায়াত করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ়} (সূরা আল-ইসরা: ৯)।

বস্তুত এই মহান লক্ষ্যটিই সর্বপ্রথম আল্লাহর কিতাবের পাঠকের সামনে মুসহাফের শুরুতেই প্রতিভাত হয়, সূরা আল-ফাতিহার পর প্রথম সূরার প্রারম্ভেই: {এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য হিদায়াত} (সূরা আল-বাকারাহ: ১, ২)।

আর এটি সর্বজনবিদিত যে, কুরআন থেকে হিদায়াত লাভ করা এর অর্থ ও মর্ম অনুধাবনের একটি শাখা; আর এর মাধ্যম হলো ইলমে তাফসির। এটি এমন এক বিজ্ঞান যার প্রাথমিক সূত্রপাত হয়েছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে, যখন সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কুরআনের কোনো আয়াতের মর্মার্থ বুঝতে সমস্যায় পড়লে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন এবং তিনি তাঁদের উত্তর দিতেন। একইভাবে, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে প্রয়োজনীয় কোনো বিষয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষা দিতেন যা তাঁর বর্ণনা ব্যতীত জানার অন্য কোনো পথ ছিল না। সেগুলোই ছিল প্রাথমিক বীজ। এরপর ইলমে তাফসির সমৃদ্ধ হয়েছে এবং ইসলামের শতাব্দীগুলো পরিক্রমায় বর্ণনা (رواية) থেকে সংকলন ও গ্রন্থবদ্ধকরণের স্তরে বিকশিত হয়েছে, যার বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এখানে নেই।

আমি বলতে চাই: কুরআনের হিদায়াত—যা এর অবতীর্ণ হওয়ার মূল উদ্দেশ্য—তা কেবল সম্ভব এর তাফসির এবং এতে বিদ্যমান রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), সাধারণ (عام) ও বিশেষ (خاص), সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه), বৈধ (حلال) ও অবৈধ (حرام) ইত্যাদি বিষয়গুলো জানার মাধ্যমে। একারণেই ইলমে তাফসিরের সংজ্ঞায় উলামায়ে কিরাম যা বলেছেন, তন্মধ্যে বদরুদ্দিন আজ-যারকাশী বলেন: (এটি হলো আয়াতের অবতরণ, এর সূরা, কাহিনীসমূহ এবং এতে অবতীর্ণ ইঙ্গিতসমূহ সম্পর্কিত জ্ঞান; অতঃপর এর মক্কি (مكي) ও মাদানি (مدني) এর বিন্যাসক্রম, সুস্পষ্ট (محكم) ও অস্পষ্ট (متشابه), এবং রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ)...
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ৯)
ومنسوخها، وخاصها وعامها، ومطلقها ومقيدها، ومجملها ومفسرها.. وزاد فيها قوم فقالوا: علم حلالها وحرامها ووعدها ووعيدها، وأمرها ونهيها، وعبرها وأمثالها) (1) .

وحول هذا المعني جاء تعريف الزرقاني رحمه الله تعالى لعلم التفسير في عبارة أجمل فيها تفصيل الزركشي،مبينا الغرض النهائي لهذا العلم فقال: (والتفسير في الاصطلاح:علم يبحث فيه عن القرآن الكريم من حيث دلالته على مراد الله تعالى بقدر الطاقة البشرية) (2) .

ولما كان الهدف النهائي من ذلك كله هو الاهتداء بالقرآن المترتب على فهم معانيه التى يتوصل إليها بتفسيره فإنا نستبيح لأنفسنا أن نقول في تعريف التفسير: (إنه علم يتوصل به إلى معرفة كيفية الانقياد لأمر الله تعالى فيما أنزله على رسوله صلى الله عليه وسلم،وذلك أن ما سبق من التعريفات إنما يؤدى إلى نفس الغاية.

ولما كان القرآن قد أنزله الله تعالى بلسان عربى مبين فإن القيام على تفسيره لابد أن ينبني على معرفة باللغة العربية وخصائصها، ودلالات ألفاظها، وأوجه بلاغتها.

ولذلك يذهب الشيخ الطاهر بن عاشور إلى: (أن مفسر القرآن لا يعد تفسيره لمعانى القرآن بالغاً حدّ الكمال في غرضه ما لم يكن مشتملا على بيان دقائق من وجوه البلاغة في آيه المفسَّرة، بمقدار ما تسمو إليه الهمة من تطويل واختصار، فالمفسر بحاجة إلى بيان ما في آي القرآن من طرق الاستعمال العربى، وخصائص بلاغته)

--------------------------------------------

(1) البرهان في علوم القرآن:2/163،164

(2) مناهل العرفان في علوم القرآن:2/3
...এবং এর রহিত (منسوخ), এর বিশেষ (خاص) ও সাধারণ (عام), এর নিরঙ্কুশ (مطلق) ও শর্তযুক্ত (مقيد), এবং এর সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও ব্যাখ্যায়িত (مفسر)। একদল এতে আরও যোগ করে বলেছেন: এর হালাল ও হারাম, প্রতিশ্রুতি ও হুঁশিয়ারি, আদেশ ও নিষেধ এবং এর শিক্ষা ও দৃষ্টান্তসমূহের জ্ঞান।

এই অর্থকে কেন্দ্র করেই আল-যারকানী (রহিমাহুল্লাহ) তফসীর (تفسير) শাস্ত্রের এমন একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যাতে আল-যারকাশীর বিস্তারিত বর্ণনার সারসংক্ষেপ ফুটে উঠেছে। তিনি এই শাস্ত্রের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন: (পরিভাষায় (اصطلاح) তফসীর হলো: এমন একটি বিদ্যা যাতে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আলোচনা করা হয় এই দিক থেকে যে, তা মানবীয় সামর্থ্য অনুযায়ী মহান আল্লাহর অভিপ্রায় কতটুকু নির্দেশ করে)।

যেহেতু এই সবকিছুর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো কুরআনের মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করা, যা এর অর্থ বুঝার ওপর নির্ভরশীল এবং যা তফসীরের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব, তাই আমরা তফসীরের সংজ্ঞায় বলতে পারি যে: (এটি এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল (সা.)-এর ওপর যা অবতীর্ণ করেছেন, সেই আদেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের পদ্ধতি জানা যায়)। কেননা পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলো মূলত একই উদ্দেশ্যের দিকে পরিচালিত করে।

যেহেতু মহান আল্লাহ কুরআনকে সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন, তাই এর তফসীর করার বিষয়টি অবশ্যই আরবি ভাষা ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ, শব্দসমূহের অর্থগত ব্যঞ্জনা এবং এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় দিকগুলোর জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।

এই কারণেই শেখ আল-তাহির বিন আশুর অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে: (কুরআনের কোনো মুফাসসিরের পক্ষেই তার অর্থসমূহের ব্যাখ্যাকে পূর্ণতার স্তরে পৌঁছানো সম্ভব নয়, যতক্ষণ না তাতে ব্যাখ্যায়িত আয়াতগুলোর অলঙ্কারশাস্ত্রের সূক্ষ্ম দিকসমূহের বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত থাকে—তা দীর্ঘায়িত বা সংক্ষিপ্ত করার ক্ষেত্রে মেধার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব হয়। সুতরাং মুফাসসিরের জন্য কুরআনের আয়াতসমূহের মধ্যে বিদ্যমান আরবি ব্যবহারের পদ্ধতি ও এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করা একান্ত প্রয়োজন।)

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন: ২/১৬৩, ১৬৪

(২) মানাহিলুল ইরফান ফি উলূমিল কুরআন: ২/৩
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ১০)
ثم نراه ينحي باللائمة على من لم يجعل ذلك في التفسير له غرضا، فيقول (فمن أعجب ما نراه خلو معظم التفاسير عن الاهتمام بالوصول إلى هذا الغرض الأسمى إلا عيون التفاسير، فمن مقل مثل معانى القرآن لأبى إسحاق الزجاج، والمحرر الوجيز للشيخ عبد الحق بن عطية الأندلسي، ومن مكثر مثل الكشاف، ولا يعذر في الخلو عن ذلك إلا التفاسير التى نحت ناحية خاصة من معاني القرآن مثل أحكام القرآن، على أن بعض أهل الهمم العالية من أصحاب هذه التفاسير لم يهمل هذا العلق النفيس كما يصف بعض العلماء كتاب أحكام القرآن لإسماعيل بن إسحاق بن حماد المالكي البغدادي، وكما نراه في مواضع من أحكام القرآن لأبي بكر بن العربي.

(ثم إن العناية بما نحن بصدده من بيان وجوه إعجاز القرآن إنما نبعت من مختزن أصل كبير من أصول الإسلام، وهو كونه المعجزة الكبرى للنبي صلى الله عليه وسلم وكونه المعجزة الباقية) (1) .

وإذا كان كلام صاحب التحرير مبنياً على رؤية التلازم بين معرفة علوم العربية وفهم معانى القرآن الذي يعيّن طريقاً للاهتداء به، فإن هذا الاهتداء فرع آخر بل ونتيجة لتلك الدراسة التي تؤكد على إعجاز القرآن، ذلك أنا نرى أن هناك ترابطاً لا ينفك بين النص المعجز والمعنى الشامل لسبل الهداية كلها، هذا الترابط يمكن وصفه إن صح التعبير-بأنه ترابط ما بين المقدمات والنتائج، فغرض الإعجاز مقدمة نتيجته الهداية، أو إن شئت فقل إن غرض الإعجاز أمر يسبق في التقرير غرض الهداية، لأن الناس إذا دعوا إلى العمل بمنهج ما فلا بد من قناعتهم بسلامة مصدر هذا المنهج حتى ينقادوا له عن طمأنينة، والإعجاز- في هذا المجال-قد أدى الغرض فأوفى، فبه عرف أن

--------------------------------------------

(1) التحرير والتنوير:1/102
এরপর আমরা তাকে সেই সমস্ত ব্যক্তির প্রতি দোষারোপ করতে দেখি যারা বিষয়টিকে তাদের তাফসিরের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেননি। তিনি বলেন, (আমরা যা দেখি তার মধ্যে অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয় হলো, শ্রেষ্ঠ তাফসিরসমূহ ব্যতীত অধিকাংশ তাফসির এই মহান লক্ষ্য অর্জনে মনোনিবেশ করা থেকে শূন্য। কেউ কেউ এটি সংক্ষিপ্তভাবে (مقل) করেছেন যেমন আবু ইসহাক আজ-জাজ্জাজ রচিত 'মাআনিউল কুরআন' এবং শায়খ আবদুল হক বিন আতিয়্যাহ আল-আন্দালুসি রচিত 'আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ'। আবার কেউ কেউ বিস্তারিতভাবে (مكثر) করেছেন যেমন 'আল-কাশশাফ'। আর কেবল সেই সব তাফসির ব্যতীত অন্যগুলো এই শূন্যতার জন্য ক্ষমার যোগ্য নয় যেগুলো কুরআনের অর্থের কোনো বিশেষ দিক অনুসরণ করেছে, যেমন 'আহকামুল কুরআন'। যদিও এই তাফসিরকারকদের মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিছু ব্যক্তি এই মূল্যবান বিষয়টিকে (العلق النفيس) অবহেলা করেননি, যেমনটি কোনো কোনো আলেম ইসমাইল বিন ইসহাক বিন হাম্মাদ আল-মালিকি আল-বাগদাদি-এর 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন এবং যেমনটি আমরা আবু বকর ইবনুল আরাবি-এর 'আহকামুল কুরআন'-এর বিভিন্ন স্থানে দেখতে পাই)।

(অতঃপর আমরা যে বিষয়ে ব্যাপৃত আছি, অর্থাৎ কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহের বর্ণনা, তা মূলত ইসলামের মূলনীতিসমূহের (أصول) মধ্যকার একটি মহান মূলনীতি (أصل) থেকে উৎসারিত হয়েছে; আর তা হলো এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শ্রেষ্ঠতম অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) এবং চিরস্থায়ী অলৌকিক নিদর্শন (معجزة)) (১)।

যদি 'আত-তাহরির' গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য আরবী ভাষার জ্ঞান এবং কুরআনের মর্ম উপলব্ধির মধ্যকার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দর্শনের ওপর ভিত্তি করে হয়—যা হিদায়েতের পথকে সুনির্দিষ্ট করে—তবে এই হিদায়েত হলো সেই গবেষণারই একটি শাখা তথা ফলাফল, যা কুরআনের অলৌকিকত্বকে (إعجاز) সুদৃঢ় করে। এটি এ কারণে যে, আমরা মনে করি অলৌকিক পাঠ (النص المعجز) এবং হিদায়েতের সমস্ত পথের ব্যাপক অর্থের মধ্যে এমন এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন রয়েছে যা বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। এই বন্ধনকে—যদি বলা সঠিক হয়—ভূমিকা ও ফলাফলের মধ্যবর্তী বন্ধন হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। সুতরাং অলৌকিকত্বের (إعجاز) লক্ষ্যটি হলো ভূমিকা, যার ফলাফল হলো হিদায়েত। অথবা আপনি চাইলে এভাবেও বলতে পারেন যে, প্রমাণের ক্ষেত্রে অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিষয়টি হিদায়েতের উদ্দেশ্যের অগ্রগামী। কারণ মানুষকে যখন কোনো জীবনপদ্ধতি অনুযায়ী আমল করার আহ্বান জানানো হয়, তখন সেই পদ্ধতির উৎসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে তাদের নিঃসংশয় হওয়া আবশ্যক, যাতে তারা পূর্ণ প্রশান্তির সাথে তার আনুগত্য করতে পারে। আর অলৌকিকত্ব (إعجاز) এই ক্ষেত্রে তার লক্ষ্য পরিপূর্ণভাবে আদায় করেছে, যার মাধ্যমে এটি প্রতিভাত হয়েছে যে...

--------------------------------------------

(১) আত-তাহরির ওয়াত-তানভির: ১/১০২
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ১১)
القرآن كلام رب الناس وخالقهم، والأعلم بما يصلح لهم ويُصلحهم، ناهيك عن إعجاز ما تضمنه القرآن في مجال الهداية كذلك من سمو تشريعه، وعلو دعوته.

وهذا وما سبق يؤكد على أن العناية بعلم (إعجاز القرآن) إجمالا وتفصيلا من أكثر الأمور ضرورة، وهو ما نبه إليه العلماء قديما وحديثا.

قال القاضي أبو بكر الباقلانى رحمه الله تعالى. (ومن أهم ما يجب على أهل دين الله كشفه، وأولى ما يلزم بحثه، ما كان لأصل دينهم قواما، ولقاعدة توحيدهم عماداً ونظاماً، وعلى صدق نبيهم صلى الله عليه وسلم برهانا، ولمعجزته ثبتا وحجة، لا سيما والجهل ممدود الرواق، شديد النفاق، مستول على الآفاق، والعلم إلى عفاء ودروس) .

ثم يقول: (وقد كان يجوز ممن عمل الكتب النافعة في معاني القرآن، وتكلم في فوائده من أهل صنعة العربية وغيرهم من أهل صناعة الكلام أن يبسطوا القول في الإبانة عن وجه معجزته والدلالة على مكانه، فهو أحق بكثير مما صنفوا فيه: من القول في الجزء، ودقيق الكلام في الأغراض، وكثير من بديع الإعراب، وغامض النحو، فالحاجة إلى هذا أمس والاشتغال به أوجب) (1) .

لقد منَّ الله تعالى على علماء الأمة بحفظ هذا العلم، فأولت إعجاز القرآن وبيانه للناس جل اهتمامها، وتتابعت في ذلك المصنفات –كما سيأتى بيانه- وظلت ترى- مع ذلك- أن الكلام في إعجاز القرآن واجب لا يسع الأمة في مجملها تركه.

--------------------------------------------

(1) إعجاز القرآن للباقلاني:22، 23
কুরআন হলো মানবজাতির রব্ব ও তাদের স্রষ্টার বাণী। তিনি তাদের জন্য কোনটি কল্যাণকর এবং কোনটি তাদের সংশোধন করবে, সে সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। হিদায়াতের ক্ষেত্রে কুরআনের অলৌকিকত্ব (معجزة) এবং এর বিধানের শ্রেষ্ঠত্ব ও এর আহ্বানের উচ্চমর্যাদা তো বলাই বাহুল্য।

এটি এবং এর পূর্ববর্তী আলোচনা একথাই নিশ্চিত করে যে, সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে কুরআনের অলৌকিকত্ব (معجزة) বা ইজাজুল কুরআন বিজ্ঞানের প্রতি মনোনিবেশ করা অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত; যা প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আলেমগণ সজাগ করে দিয়েছেন।

কাজি আবু বকর আল-বাকিল্লানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আল্লাহর দ্বীনের অনুসারীদের জন্য যা উন্মোচন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং যা নিয়ে গবেষণা করা সর্বাধিক আবশ্যক, তা হলো যা তাদের দ্বীনের মূলভিত্তির স্থায়িত্ব স্বরূপ, তাদের তাওহিদের মূলনীতির স্তম্ভ ও শৃঙ্খলা এবং তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সত্যতার প্রমাণ এবং তাঁর অলৌকিকত্বের (معجزة) সপক্ষে অকাট্য দলিল ও হুজ্জাত (حجة)। বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন মূর্খতা সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে, নিফাক বা মুনাফিকি প্রকট হয়েছে, দিগন্ত জুড়ে তা আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং ইলম বা জ্ঞান বিলুপ্ত ও নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে।)

অতঃপর তিনি বলেন: (আর যারা কুরআনের মর্মার্থ নিয়ে কল্যাণকর গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এর নানাবিধ উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন—চাই তারা আরবি ভাষাবিদ হোন কিংবা কালামশাস্ত্রবিদ—তাদের জন্য এটি সংগত ছিল যে, তারা কুরআনের অলৌকিকত্বের (معجزة) স্বরূপ ও এর মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করবেন। কেননা এটি তাদের রচিত অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য; যেমন: অবিভাজ্য পরমাণু (جزء) নিয়ে আলোচনা, উদ্দেশ্যসমূহের সূক্ষ্ম কালাম, অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ই’রাবের বৈচিত্র্য এবং নাহু বা ব্যাকরণের জটিল বিষয়াবলি। সুতরাং এর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তীব্র এবং এতে মনোনিবেশ করা অধিকতর আবশ্যক (واجب)।) (১)

আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের আলেমদের ওপর এই ইলম বা জ্ঞান সংরক্ষণের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন। ফলে তারা ইজাজুল কুরআন এবং মানুষের কাছে এর ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এ বিষয়ে একের পর এক গ্রন্থ রচিত হয়েছে—যেমনটি সামনে আলোচিত হবে। এতদসত্ত্বেও তারা মনে করতেন যে, কুরআনের অলৌকিকত্ব (معجزة) নিয়ে আলোচনা করা একটি আবশ্যক (واجب) বিষয়, যা সামগ্রিকভাবে বর্জন করা উম্মতের পক্ষে সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

(১) ইজাজুল কুরআন, আল-বাকিল্লানি: ২২, ২৩
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ১২)
قال السيد محمد رشيد رضا في تقديمه لكتاب (إعجاز القرآن) لمصطفى صادق الرافعي:

(فالكلام في وجوه إعجاز القرآن واجب شرعاً، وهو من فروض الكفاية، وقد تكلم فيه المفسرون، وبلغاء الأدباء والمتأنقون) (1) .

وما زال العلماء والأدباء من بعد رشيد رضا والرافعى يعنون بالقرآن الكريم من جهة إعجازه، وسيظلون على ذلك بعون الله تعالى خدمة لهذا الكتاب الكريم، الذى شرفنا الله تعالى بالانتساب إليه، ومنّ علينا بالاهتداء به: {وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ وَسَوْفَ تُسْأَلونَ} (الزخرف:44)

--------------------------------------------

(1) إعجاز القرآن للرافعي:20
সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রশীদ রিদা মুস্তফা সাদিক আর-রাফিয়ী রচিত ই’জাযুল কুরআন গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন:

"কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহ নিয়ে আলোচনা করা শরয়িভাবে আবশ্যক (واجب) এবং তা সামষ্টিক আবশ্যকতা বা ফরজে কিফায়ার (فرض الكفاية) অন্তর্ভুক্ত। মুফাসসিরগণ এবং বিজ্ঞ সাহিত্যিক ও অলঙ্কারবিদগণ এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।" (১)।

রশীদ রিদা এবং রাফিয়ী-এর পরবর্তী আলেম ও সাহিত্যিকগণ পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আসছেন এবং আল্লাহর সাহায্যে তারা এই মহান কিতাবের খিদমতে তা অব্যাহত রাখবেন; যার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের সম্মানিত করেছেন এবং এর মাধ্যমে হিদায়াত প্রাপ্তির অনুগ্রহ দান করেছেন: {আর এটি অবশ্যই আপনার এবং আপনার সম্প্রদায়ের জন্য এক মহাসম্মান এবং শীঘ্রই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে} (আয-যুখরুফ: ৪৪)

--------------------------------------------

(১) রাফিয়ী রচিত ই’জাযুল কুরআন: ২০
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مناط الإعجاز في القرآن الكريم

إجماع أهل العلم المعتد بإجماعهم، والذى ارتضته الأمة منهم منعقد على أن القرآن الكريم معجز بذاته، أى بلفظه الذى نزل به جبريل على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو ما يتعلق- من بين أوجه الإعجاز-بالناحية البلاغية ابتداءً، مع ما تضمنه القرآن من أوجه أخرى ترجع إلى ذاته لفظاً ومعنى، وهو ما سيأتى تفصيل له في ثنايا البحث إن شاء الله تعالى عند الكلام على تأصيل قضية الإعجاز تاريخيا في كتابات العلماء قديما وحديثا، وكذلك عند الكلام على هذه الأوجه تفصيلا فيما تمخضت عنه هذه المصنفات.

ولكن يحسن قبل- ذلك- حتى يصفو ذهن القارئ وعقله لتدبر ما يمكنه من أوجه الإعجاز في القرآن الكريم-أن ننبه إلى دفع قول في مضمار الكلام على الإعجاز شاع في ساحة التناول لهذا الموضوع على الرغم من فقدانه لأى دليل معتبر يسنده من عقل صحيح، أو واقع تاريخى، بل تتظاهر الأدلة كلها ضده، مما يحكم ببطلانه.

وقد كان بالإمكان- بل وكنانميل- أن نضرب عن ذكره صفحاً إلا أن تردد صداه في مصنفات الإعجاز قديما وحديثا وإن كان مقرونا ببيان بطلانه –جعلنا نرى أن الإشارة إليه مع رده ولو بإجمال أمر لازم، حتى لا يجيء البحث خلوا من ذلك فيقع في وهم القارئ ولو احتمالا أن هذا القول له حظ من القبول، وأعنى بهذا القول ما شاع بين البعض من أن أساس الإعجاز في القرآن هو الصرفه، فما شأن القول بالصرفة هذا؟؟

القول بالصرفة يقوم أساساً على اعتبار أن القرآن في ذاته، أى بلفظة وأسلوبه غير معجز، وأن عدم إتيان العرب بمثله ليس علته عدم قدرتهم على
পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) ভিত্তি

নির্ভরযোগ্য আলেমগণের ঐকমত্য (إجماع), এবং উম্মাহ তাঁদের পক্ষ থেকে যা গ্রহণ করেছে তা এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত যে—পবিত্র কুরআন স্বীয় সত্তাগতভাবেই অলৌকিক (معجز); অর্থাৎ এটি সেই শব্দমালার মাধ্যমে অলৌকিক (معجز) যার দ্বারা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এটি নিয়ে অবতরণ করেছিলেন। অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিভিন্ন দিকের মধ্যে এটি প্রাথমিকভাবে অলঙ্করণশৈলী বা বালাগাত-সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর পাশাপাশি কুরআনে অলৌকিকত্বের আরও কিছু দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে এর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট। ইনশাআল্লাহ গবেষণার গভীরে প্রাচীন ও আধুনিক আলেমদের লেখনীতে অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে পর্যালোচনার সময় এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। একইভাবে এই গ্রন্থসমূহের নির্যাস হিসেবে প্রাপ্ত অলৌকিকত্বের এই দিকগুলো বিস্তারিত আলোচনার সময়ও তা আলোচিত হবে।

তবে তার আগে—যাতে পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো অনুধাবনের জন্য পাঠকের মন ও মস্তিস্ক স্বচ্ছ হয়—অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ক আলোচনায় প্রচলিত এমন একটি মতবাদ খণ্ডন করার ব্যাপারে সতর্ক করা সমীচীন হবে যা এই বিষয়টি আলোচনার ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সঠিক বুদ্ধি বা ঐতিহাসিক বাস্তবতার নিরিখে এর সপক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য দলিল নেই, বরং সমস্ত প্রমাণ এর বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান, যা এর অসারতারই ফয়সালা দেয়।

এটা সম্ভব ছিল—এমনকি আমরা এটি উল্লেখ না করে এড়িয়ে যেতেই পছন্দ করছিলাম—কিন্তু প্রাচীন ও আধুনিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে এর প্রতিধ্বনি বারবার শোনা যাওয়ার কারণে—যদিও তা অসারতা বর্ণনার সাথেই এসেছে—আমরা মনে করি এর অসারতা বর্ণনাসহ সংক্ষেপে হলেও এ সম্পর্কে ইঙ্গিত করা একটি আবশ্যকীয় বিষয়। যাতে গবেষণাটি এই আলোচনা থেকে শূন্য না থাকে এবং পাঠকের মনে এমন কোনো ধারণার উদ্রেক না হয় যে এই মতবাদটি গ্রহণযোগ্যতার কোনো দাবি রাখে। এই মতবাদ দ্বারা আমি সেটিকেই বুঝাচ্ছি যা কারো কারো মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে যে, কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) ভিত্তি হলো সারফাহ (الصرفة)। তো, এই সারফাহ (الصرفة) মতবাদের হাকিকত কী?

সারফাহ (الصرفة) মতবাদটি মূলত এই বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, কুরআন তার নিজস্ব সত্তার দিক থেকে, অর্থাৎ এর শব্দ ও শৈলীর দিক থেকে অলৌকিক (معجز) নয়। আরবরা যে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম হয়নি, তার কারণ তাদের অক্ষমতা নয় বরং...
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ১৪)
ذلك، فهم البلغاء الفصحاء، ولكن العلة في ذلك راجعة إلى أن الله تعالى قد صرفهم عن المحاولة، وسلب علمهم الذى كان يمكن به- في نظر القائل بذلك-أن يأتوا بمثل القرآن، فهم كانوا قادرين، لكنهم لم ينشطوا لهذا الأمر، أو لم تتوفر الدواعى لديهم للمعارضة ابتداءً.

وقد ورد هذا التفسير للقول بالصرفة في عبارات العلماء من قديم:

قال الخطابى: (وذهب قوم إلى أن العلة في إعجازه الصرفة، أى صرف الهمم عن المعارضة، وإن كانت مقدوراً عليها، إلا أن العائق من حيث كان أمراً خارجاً عن مجاري العادات صار كسائر المعجزات) (1) .

أي أن الصرف أو المنع الذى سماه الخطابي عائقا لما كان أمراً خارجاً عن العادة صار هو المعجز لا القرآن.

وقال الرماني: (وأما الصرفة، فهى صرف الهمم عن المعارضة، وعلى ذلك كان يعتمد بعض أهل العلم في أن القرآن معجز من جهة صرف الهمم عن المعارضة، وذلك خارج عن العادة كخروج سائر المعجزات التى دلت على النبوة. وما قاله الرمانى قريب مما قاله الخطابى إلا أنه زاد فقال (وهذا عندنا أحد وجوه الإعجاز التى يظهر منها للعقول) (2) . مما بشى بنوع قبول لهذا القول.

وقال الباقلانى رحمه الله: (فإن قيل: فلِمَ زعمتم أن البلغاء عاجزون عن الإتيان بمثله مع قدرتهم على صنوف البلاغات، وتصرفهم في أجناس الفصاحات؟ وهلا قلتم: إنَّ مَن قدر على هذه الوجوه البديعة، وتوجه من هذه الطرق الغريبة كان على مثل نظم القرآن قادراً، وإنما يصرفه الله عنه ضرباً

--------------------------------------------

(1) "بيان إعجاز القرآن" ضمن ثلاث رسائل في إعجاز القرآن ص22

(2) "النكت في إعجاز القرآن" ضمن ثلاث رسائل في إعجاز القرآن ص 110
তদুপরি, তারা ছিলেন বাকপটু (بلغاء) ও সাবলীল (فصحاء) ভাষাবিদ; কিন্তু এর প্রকৃত কারণ (علة) হলো আল্লাহ তাআলা তাদের এই প্রচেষ্টা থেকে বিমুখ করে দিয়েছিলেন এবং তাদের সেই জ্ঞান কেড়ে নিয়েছিলেন যার মাধ্যমে—এই মত পোষণকারীর মতে—তারা কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম হতো। ফলে তারা সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও এই কাজে উদ্যমী হননি, অথবা প্রাথমিকভাবে চ্যালেঞ্জ করার (معارضة) কোনো প্রেরণা তাদের মাঝে তৈরি হয়নি।

'সারফা' (صرفة) বা বিমুখকরণ সংক্রান্ত এই ব্যাখ্যার বর্ণনা পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্যেও পাওয়া যায়:

খাত্তাবি বলেন: (একদল আলিমের মতে, কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) কারণ হলো 'সারফা' (صرفة); অর্থাৎ মোকাবিলা করার (معارضة) সংকল্পকে বিমুখ করে দেওয়া। যদিও তা করার সামর্থ্য তাদের ছিল, তবে এই প্রতিবন্ধকতাটি যেহেতু প্রাকৃতিক নিয়মের বহির্ভূত (خارج عن مجاري العادات) একটি বিষয় ছিল, তাই এটি অন্যান্য মুজিজার (معجزات) মতোই গণ্য হয়েছে।) (১)।

অর্থাৎ, যে বিমুখকরণ বা বাধাদানকে খাত্তাবি 'প্রতিবন্ধক' হিসেবে অভিহিত করেছেন, তা যেহেতু একটি অলৌকিক বিষয় ছিল, তাই সেটিই মুজিজা (معجز) হিসেবে গণ্য হয়েছে, কুরআন নিজে নয়।

রুমমানি বলেন: (আর 'সারফা' (صرفة) হলো চ্যালেঞ্জ করার সংকল্পকে সরিয়ে নেওয়া। কোনো কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তি এই বিষয়ের ওপরই নির্ভর করেছেন যে, কুরআন অলৌকিক (معجز) হওয়ার কারণ হলো চ্যালেঞ্জ করার সংকল্পকে বিমুখ করে দেওয়া; আর এটি প্রচলিত অভ্যাসের পরিপন্থী (خارج عن العادة), যেমন নবুওয়াতের প্রমাণস্বরূপ অন্যান্য মুজিজাসমূহ (معجزات) হয়ে থাকে। রুমমানি যা বলেছেন তা খাত্তাবির বক্তব্যেরই কাছাকাছি, তবে তিনি অতিরিক্ত হিসেবে বলেছেন: (আমাদের নিকট এটি অলৌকিকত্বের (إعجاز) অন্যতম একটি দিক যা বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে স্পষ্ট হয়) (২)। এটি এই মতবাদের প্রতি এক ধরণের গ্রহণযোগ্যতারই ইঙ্গিত দেয়।

বাকিল্লানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (যদি বলা হয়: আপনারা কেন মনে করেন যে বাকপটুগণ (بلغاء) অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শী হওয়া এবং বাগ্মিতার নানা ধরনে দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও কুরআনের অনুরূপ কিছু আনতে অক্ষম (عاجزون)? কেন আপনারা এমনটি বললেন না যে: যারা এই অভিনব পদ্ধতি ও অদ্ভুত পথ অনুসরণে সক্ষম ছিল, তারা কুরআনের বাচনভঙ্গির মতো কিছু রচনা করতেও সক্ষম ছিল, কেবল আল্লাহ তাআলাই তাদের তা থেকে কোনো একভাবে বিমুখ করে রেখেছেন...)

--------------------------------------------

(১) "বায়ান ইজাজিল কুরআন", ইজাজুল কুরআন বিষয়ক তিনটি রিসালার অন্তর্ভুক্ত, পৃষ্ঠা: ২২।

(২) "আন-নুকাতু ফি ইজাজিল কুরআন", ইজাজুল কুরআন বিষয়ক তিনটি রিসালার অন্তর্ভুক্ত, পৃষ্ঠা: ১১০।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ১৫)
من الصرف، أو يمنعه من الإتيان بمثله ضرباً من المنع، أو يقصر دواعيه دونه مع قدرته عليه ليتكامل ما أراده الله من الدلالة ويحصل ما قصده من إيجاب الحجة، لأن من قدر على نظم كلمتين بديعتين لم يعجز عن نظم مثلهما، وإذا قدر على ذلك قدر على ضم الثانية إلى الأولى وكذلك الثالثة حتى يتكامل قدر السورة، فالجواب:..) (1) .

وظاهر مما قاله العلماء-على هذا الرأى –أن إعجاز القرآن لم ينشأ من أنه قد بلغ في بلاغته حد الإعجاز الذى لا تطيقه قدرة البشر، بل لصرف من وقع عليهم التحدي عن التوجه للمعارضة، وأن أسباب هذا الصرف ترجع إلى:

أ-انعدام الدواعى الباعثة على هذه المعارضة

ب- عدم النشاط والانبعاث إلى المعارضة، وبالتالي عدم تعلق الإرادة بها مع وجود الدواعي إليها.

جـ- تعطيل المواهب البيانية، وتعويق القدرة البلاغية، وسلب الأسباب العادية إلى المعارضة، وذلك على نحو مفاجئ عند المحاولة، رغم تعلق الإرادة بها، وتوجه الهمة إليها.

وظاهر كذلك مما سبق أن هذا القول بما بني عليه يسلب القرآن الكريم خاصة إعجازه الذاتية، وهو من الخطورة بالقدر الذى يترتب عليه فقد أهم دلائل صدق رسالة النبي صلى الله عليه وسلم، ولذلك فإنه قول ساقط بذاته عند أدنى فكر وتأمل، ولا يحتاج في إبطاله إلى عناء، وسوف نشير بإيجاز إلى أوجه بطلانه تحقيقا لما أشرنا إليه من عدم الإطالة، وتوفيراً للجهد وادخاراً له لبيان الأوجه المعتبرة عند العلماء في إعجاز القرآن.

--------------------------------------------

(1) إعجاز القرآن للباقلانى: 55،56
...ফিরিয়ে রাখা (صرفة), অথবা তাকে এর অনুরূপ কিছু আনয়নে কোনো এক প্রকারের বাধা প্রদান করা, কিংবা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তার সংকল্পকে এর চেয়ে সীমিত রাখা; যাতে আল্লাহ তাআলার কাঙ্ক্ষিত নিদর্শন পূর্ণ হয় এবং তাঁর উদ্দেশ্যকৃত অকাট্য প্রমাণ (حجة) সাব্যস্ত হয়। কারণ, যে ব্যক্তি দুটি চমৎকার বাক্য বিন্যাস করতে সক্ষম, সে অনুরূপ আরও বাক্য বিন্যাস করতে অক্ষম হবে না। আর যখন সে এতে সক্ষম হবে, তখন প্রথমটির সাথে দ্বিতীয়টি এবং একইভাবে তৃতীয়টি যুক্ত করতে সক্ষম হবে যতক্ষণ না একটি সূরার সমপরিমাণ পূর্ণ হয়। এর উত্তর হলো:...) (১) ।

উলামায়ে কিরামের বক্তব্য অনুযায়ী—এই মতের ভিত্তিতে—এটি স্পষ্ট যে, কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় উচ্চমার্গের কারণে তৈরি হয়নি যা মানুষের সাধ্যাতীত, বরং যাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল তাদেরকে এর মোকাবিলা করা থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারণে হয়েছে। আর এই সরিয়ে দেওয়ার কারণগুলো নিম্নরূপ:

ক- এই বিরোধিতার প্রতি উদ্বুদ্ধকারী প্রেরণার অভাব।

খ- বিরোধিতার প্রতি উদ্দীপনা ও উদ্যমের অভাব, ফলে প্রেরণা থাকা সত্ত্বেও তা সম্পাদনের ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট না হওয়া।

গ- ভাষাগত প্রতিভা রহিত করা, আলঙ্কারিক ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং বিরোধিতার স্বাভাবিক মাধ্যমসমূহ ছিনিয়ে নেওয়া; যা প্রচেষ্টার সময় ইচ্ছাশক্তি ও সংকল্প থাকা সত্ত্বেও আকস্মিকভাবে ঘটে থাকে।

অনুরূপভাবে পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, এই মতবাদটি তার ভিত্তিসহ কুরআনুল কারীমের নিজস্ব অলৌকিকত্ব (إعجاز) বৈশিষ্ট্যকে ছিনিয়ে নেয়। এটি এতটাই বিপজ্জনক যে, এর ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সত্যতার অন্যতম প্রধান দলিল বিলুপ্ত হয়ে যায়। অতএব, এটি সামান্য চিন্তা ও গবেষণাতেই একটি অসার (ساقط) মতবাদ হিসেবে সাব্যস্ত হয় এবং এটি বাতিলের জন্য বিশেষ কোনো পরিশ্রমের প্রয়োজন পড়ে না। আমরা অতি সংক্ষেপে এর অসারতার দিকগুলো নির্দেশ করব, যাতে পূর্বোল্লিখিত দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করা যায় এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ে উলামায়ে কিরামের নিকট গ্রহণযোগ্য (معتبر) দিকগুলো বর্ণনার জন্য শ্রম ও সময় সঞ্চয় করা সম্ভব হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-বাকিল্লানি রচিত ইজাজুল কুরআন: ৫৫, ৫৬
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ১৬)
وسنشير أولاً إلى ما يبطل تلك الأسباب التى ظهر من كلام العلماء أن الصرفة كانت من أجلها، ثم نعقب بذكر شواهد أخرى تدل على بطلان القول بالصرفة وسقوطه.

أما أول الأسباب التى ساقوها: وهو انعدام دواعي العرب إلى معارضة القرآن، وأنهم لو توفرت تلك الدواعى عندهم فلربما عارضوه، فيرده ما سجله تاريخ هؤلاء العرب مع القرآن، وما أثبته تواتر النقل من توفر تلك الدواعي التى من بينها أن القرآن تحداهم في أكثر من موضع منه بأن يأتوا بمثله، أو بعشر سور أو بسورة من مثله، وقطع بأنهم لن يفعلوا ذلك {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} ? (البقرة:23،24) ولو تظاهر على ذلك الإنس والجن {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْأِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} (الإسراء:88)

كما أن القرآن قد أثار حميتهم- وهم مضرب المثل في الأنفة وإباء الضيم-بما شنه عليهم من حرب شعواء على معتقداتهم التى توارثوها، وسفه عقولهم، وعقول آبائهم، ونعى عليهم الشرك والجهل، وهم مع ذلك قوم صناعتهم البيان، وفخرهم في التنافس في ميدان الكلام، فكيف مع سكوتهم على هذا الضيم الذي لو وجدوا سبيلا إلى دفعه لسلكوه مسرعين،كيف يقال بعدم توفر الدواعى لديهم.

أما ثاني هذه الأسباب: وهو عدم انبعاثهم ونشاطهم، وعدم تعلق إرادتهم بالمعارضة مع وجود الدواعى فينقضه كذلك التاريخ والواقع، فقد سجل هذا التاريخ محاولاتهم الدؤوبة في الكيد للإسلام، حتى وصل الأمر إلى
আমরা প্রথমে সেই কারণগুলোকে খণ্ডন করার প্রতি ইঙ্গিত করব, আলেমদের বক্তব্য অনুযায়ী যেগুলোর ভিত্তিতে 'সারফা' মতবাদের ভিত্তি প্রকাশ পেয়েছে। এরপর আমরা আরও কিছু সাক্ষ্য-প্রমাণ (شواهد) উল্লেখ করব যা সারফা মতবাদের অসারতা ও পতনের প্রমাণ দেয়।

তারা যে সকল কারণ উপস্থাপন করেছেন তার মধ্যে প্রথমটি হলো: কুরআনকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে আরবদের মধ্যে অনুপ্রেরণার অভাব ছিল; আর যদি তাদের মধ্যে সেই অনুপ্রেরণা বিদ্যমান থাকত, তবে হয়তো তারা এর মোকাবিলা করত। এই দাবিটি কুরআনের সাথে আরবদের ইতিহাসের নথিবদ্ধ বিবরণ এবং নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার (متواتر) মাধ্যমে প্রমাণিত সেই সব প্রেরণার উপস্থিতির দ্বারা খণ্ডিত হয়। সেই সব প্রেরণার মধ্যে একটি হলো, কুরআন তাদের একাধিক স্থানে এর সমতুল্য কিছু, অথবা দশটি সূরা, কিংবা এর সমতুল্য একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে; এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কখনোই তা করতে পারবে না: "আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষ্যদাতাদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।" (আল-বাকারা: ২৩, ২৪)। এমনকি যদি এ কাজে মানব ও জিন জাতি একে অপরকে সাহায্য করে তবুও তারা তা পারবে না: "বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।" (আল-ইসরা: ৮৮)।

এছাড়াও কুরআন তাদের আত্মমর্যাদাবোধকে উদ্দীপিত করেছিল—অথচ তারা ছিল আত্মসম্মান ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার ক্ষেত্রে প্রবাদতুল্য—তাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বিশ্বাসগুলোর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ পরিচালনার মাধ্যমে এবং তাদের ও তাদের পিতৃপুরুষদের বুদ্ধিকে নির্বুদ্ধিতা হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং তাদের শিরক ও অজ্ঞতাকে তিরস্কার করার মাধ্যমে। এর পাশাপাশি তারা ছিল এমন এক জাতি যাদের মূল শিল্প ছিল বাগ্মিতা এবং যাদের গর্ব ছিল বাকপটুতার ময়দানে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা। এমতাবস্থায়, তারা যদি এই অপমানের প্রতিকার করার কোনো পথ খুঁজে পেত তবে অবশ্যই দ্রুত তা অবলম্বন করত। সুতরাং তাদের এই নীরবতার পর কীভাবে বলা যেতে পারে যে তাদের মধ্যে অনুপ্রেরণার অভাব ছিল?

আর দ্বিতীয় কারণটি হলো: অনুপ্রেরণা থাকা সত্ত্বেও তাদের উদ্যোগ ও সক্রিয়তার অভাব এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের সংকল্প জাগ্রত না হওয়া। এটিও ইতিহাস ও বাস্তবতার মাধ্যমে খণ্ডিত হয়। কারণ এই ইতিহাস ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্রের নিরলস প্রচেষ্টাকে নথিবদ্ধ করেছে, এমনকি বিষয়টি এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে...
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ১৭)
تآمرهم على قتل رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتبع ذلك ما كان بعد الهجرة وإقامة دولة الإسلام في المدينة من خوضهم الحروب ضد الإسلام، وإقدامهم على بذل أموالهم وإراقة دمائهم، وسبي ذراريهم في هذه السبيل، فكيف يقال بعد ذلك إنهم لم ينشطوا إلى المعارضة، وقد بذلوا في بديلها أضعاف أضعاف ما كانوا يبذلونه فيها من جهد لو كانت في مقدورهم.

وأما ثالث هذه الأسباب: وهو تعطيل مواهبهم وسلب قدراتهم فجأة مع توفر الدواعي، وانبعاث النشاط فيرده أنه: لو كان الأمر كذلك لأثر عنهم الاعتذار بهذا التفاوت العلمي بين ما في القرآن وبين ما عندهم، وذلك ليقللوا من شأن القرآن في ذاته، وأنه ما كان إعجازه إلا لصرفهم عنه، ولكن ذلك لم يذكر عنهم أبداً.

فإذا أضفنا إلى ذلك:

1- أن القرآن الكريم بلفظه وعبارته قد راع العرب بتفوق بيانه، وأثار أسلوبه وعبارته إعجابهم، وأعلنوا أنهم ما رأوا مثله شعراً ولا نثراً، ومقتضى ذلك أن إعجاز القرآن لذاته لا لشيء خارج عنه، وإلا لو كان كلاماً كسائر الكلام ما لفت أنظارهم، ولا أخذ بألبابهم.

قال عبد القاهر الجرجانى: (إنه لو لم يكن عجزهم عن معارضة القرآن وعن أن يأتوا بمثله لأنه معجز في نفسه، لكن لأن أدخل عليهم العجز عنه، وصرفت هممهم وخواطرهم عن تأليف كلام مثله، وكان حالهم على الجملة حال من أعدم العلم بشيء قد كان يعلمه، وحيل بينه وبين أمر قد كان يتسع له لكان ينبغي أن لا يتعاظمهم، ولا يكون منهم ما يدل على إكبارهم
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যার ব্যাপারে তাদের চক্রান্ত, এবং হিজরতের পর মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া, তাদের সম্পদ ব্যয় করা, রক্ত ঝরানো এবং এই পথে তাদের সন্তানদের বন্দী হওয়ার মতো ঘটনাগুলো এর অনুগামী হয়েছে। এমতাবস্থায় কীভাবে বলা যায় যে তারা (কুরআনের) বিরোধিতা করতে উদ্যমী ছিল না, অথচ তারা এর বিপরীতে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি প্রচেষ্টা ব্যয় করেছিল যা তারা সক্ষম হলে কুরআনের বিরোধিতায় ব্যয় করতে পারত।

আর এই কারণগুলোর মধ্যে তৃতীয়টি হলো: জোরালো কারণ এবং সক্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে তাদের মেধা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া এবং সামর্থ্য ছিনিয়ে নেওয়া; এর জবাবে বলা যায়: যদি বিষয়টি তেমনই হতো, তবে কুরআনের সাথে তাদের বর্তমান যোগ্যতার এই জ্ঞানগত ব্যবধানের স্বপক্ষে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ওজর বা অজুহাত বর্ণিত হতো, যাতে তারা স্বয়ং কুরআনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং বলতে পারে যে এর অলৌকিকত্ব (إعجاز) কেবল তাদের মনকে বিমুখ করে দেওয়ার কারণেই হয়েছে। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এমনটি কখনোই বর্ণিত হয়নি।

এর সাথে যদি আমরা আরও যোগ করি:

1- কুরআনুল কারিম তার শব্দ ও বাক্যের মাধ্যমে আরবদের এর ভাষাশৈলীর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে চমৎকৃত করেছিল এবং এর পদ্ধতি ও প্রকাশভঙ্গি তাদের মুগ্ধ করেছিল। তারা ঘোষণা করেছিল যে তারা এর মতো কোনো কবিতা বা গদ্য কখনো দেখেনি। এর দাবি হলো কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) তার স্বকীয় সত্তার মধ্যেই নিহিত, বাহ্যিক কোনো বিষয়ের কারণে নয়। অন্যথায়, এটি যদি অন্যান্য সাধারণ কথার মতো হতো, তবে তা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত না এবং তাদের হৃদয় জয় করতে পারত না।

আব্দুল কাহের আল-জুরজানি বলেন: (কুরআনের বিরোধিতা করতে এবং এর অনুরূপ কিছু আনতে তাদের অক্ষমতা যদি কুরআন স্বয়ং অলৌকিক (معجز) হওয়ার কারণে না হয়ে বরং তাদের ওপর অক্ষমতা চাপিয়ে দেওয়ার কারণে হতো, এবং তাদের সংকল্প ও চিন্তাচেতনাকে এর অনুরূপ বাক্য রচনা থেকে ফিরিয়ে রাখা (صرف) হতো, তবে তাদের অবস্থা সামগ্রিকভাবে এমন ব্যক্তির মতো হতো যে এমন কিছু সম্পর্কে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে যা সে ইতিপূর্বে জানত, এবং এমন কোনো কাজের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করা হয়েছে যা করার প্রশস্ততা তার ছিল। এমতাবস্থায় এটি তাদের কাছে এতোটা বিস্ময়কর মনে হতো না এবং তাদের পক্ষ থেকে এর মাহাত্ম্য প্রকাশের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পেত না।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ১৮)
أمره، وتعجبهم منه، وعلى أنه قد بهرهم، وعظم كل العظم عندهم، بل كان ينبغي أن يكون الإكبار منهم والتعجب للذى دخل عليهم من العجز) (1) .

1- لو كان القول بالصرفة صحيحا لما كان القرآن معجزاً، قال الشيخ محمد أبو زهرة رحمه الله تعالى: (لو قلنا إن الذى منع العرب عن الإتيان بمثله هو الصرفة ما كان القرآن هو المعجز، وإنما يكون العجز منهم، ولم يكونوا عاجزين، وإنما يكون قد أعجزهم الله، ولم يعجزهم القرآن ذاته، وقد كان القرآن هو معجزة النبي صلى الله عليه وسلم والقول بالصرفة ينفي عنه خواص الإعجاز) (2) .

2- ثم إن القول بالصرفة يرده قول الله تعالى {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْأِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} (الإسراء:88) .

قال السيوطي رحمه الله تعالى بعد ذكره الآية الكريمة (فإنه يدل على عجزهم مع بقاء قدرتهم، ولو سلبوا القدرة لم يبق لهم فائدة لاجتماعهم، لمنزلته منزلة اجتماع الموتى، وليس عجز الموتى مما يحتفل بذكره، هذا مع أن الإجماع منعقد على إضافة الإعجاز إلى القرآن، فكيف يكون معجزا وليس فيه صفة إعجاز! بل المعجز هو الله تعالى حيث سلبهم القدرة على الإتيان بمثله) (3) .

هذا هو القول بالصرفة قد بيناه، وبينا ما يترتب عليه، كما بينا بطلانه! أما عن نشأته فبإيجاز نقول:

--------------------------------------------

(1) دلائل الإعجاز:390،391

(2) المعجزة الكبرى:61

(3) الإتقان في علوم القرآن:2/1006.
...তার বিষয়াদি এবং তা নিয়ে তাদের বিস্ময়বোধ, এবং এটি যে তাদের অভিভূত করেছিল ও তাদের নিকট চরম মহিমান্বিত হয়েছিল; বরং তাদের এই বিশালত্ববোধ ও বিস্ময় হওয়া উচিত ছিল সেই অক্ষমতা (عجز) নিয়ে যা তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল) (১)।

১- যদি সারফা (صرفة) এর মতবাদটি সঠিক হতো, তবে কুরআন অলৌকিক (معجز) হতো না। শায়খ মুহাম্মদ আবু জাহরা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আমরা যদি বলি যে, আরবদেরকে কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে যা বাধা দিয়েছিল তা হলো সারফা (صرفة), তবে কুরআন অলৌকিক (معجز) হতো না; বরং অক্ষমতা (عجز) হতো তাদের পক্ষ থেকে। তারা নিজেরা অক্ষম ছিল না, বরং আল্লাহ তাদের অক্ষম করে দিয়েছিলেন। ফলে কুরআন নিজে তাদের অক্ষম করেনি। অথচ কুরআনই ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুজিজা (معجزة) এবং সারফা (صرفة) এর মতবাদটি কুরআন থেকে অলৌকিকত্বের (إعجاز) বৈশিষ্ট্যসমূহকে নাকচ করে দেয়) (২)।

২- অতঃপর সারফা (صرفة) এর মতবাদকে মহান আল্লাহর এই বাণীটি প্রত্যাখ্যান করে: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ কিছু আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়} (আল-ইসরা: ৮৮)।

ইমাম সুয়ুতী (রহিমাহুল্লাহ) এই পবিত্র আয়াতটি উল্লেখ করার পর বলেন: (এটি তাদের সক্ষমতা অবশিষ্ট থাকা সত্ত্বেও তাদের অক্ষমতার (عجز) ওপর প্রমাণ বহন করে। যদি তাদের থেকে সক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হতো, তবে তাদের সমবেত হওয়ার কোনো সার্থকতা থাকতো না; কারণ তখন বিষয়টি মৃতদের সমবেত হওয়ার পর্যায়ের হতো। আর মৃতদের অক্ষমতা (عجز) কোনো উল্লেখযোগ্য বিষয় নয়। এর সাথে সাথে এই বিষয়ে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, অলৌকিকত্ব (إعجاز) কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত। এমতাবস্থায় তা কীভাবে মুজিজা (معجز) হতে পারে যেখানে তার মধ্যে অলৌকিকত্বের (إعجاز) কোনো গুণই নেই! বরং তখন মুজিজা (معجز) হতেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা, যেহেতু তিনি তাদের এর অনুরূপ কিছু আনার সক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছেন) (৩)।

এই হলো সারফা (صرفة) এর মতবাদ যা আমরা ব্যাখ্যা করেছি এবং এর ফলে যা সাব্যস্ত হয় তাও বর্ণনা করেছি, যেমনটি আমরা এর অসারতাও স্পষ্ট করেছি! আর এর উৎপত্তির ব্যাপারে আমরা সংক্ষেপে বলব:

--------------------------------------------

(১) দালায়েলুল ইজাজ: ৩৯০, ৩৯১

(২) আল-মুজিজাতুল কুবরা: ৬১

(৩) আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন: ২/১০০৬।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ১৯)
قد شاعت في كتابات المؤلفين نسبة هذا القول بعامة إلى المعتزلة، وأن أول من جاهر به منهم هو أبو إسحاق إبراهيم بن يسار الشهير بالنظام (ت سنة 224هـ) فقد ذهب إلى أن القرآن حق، ولكن تأليفه ونظمه ليس بحجة، لكن من الإنصاف أن نبين أن هذا الكلام عنه يعبر عن شطر رأيه في قضية الإعجاز، وأما الشطر الآخر فعنده أن إعجاز القرآن راجع إلى مافيه من الإخبار بالمغيبات.

قال الشهرستانى يعدد المسائل التى انفرد بها النظام عن أصحابه (التاسعة: قوله في إعجاز القرآن إنه من حيث الإخبار عن الأمور الماضية والآتية، ومن جهة صرف الدواعى عن المعارضة، ومنع العرب من الاهتمام به جبراً وتعجيزا، حتى لوخلاهم لكانوا قادرين على أن يأتوا بسورة من مثله بلاغة وفصاحة ونظما) (1) .

هذه المقولة للنظام وإن لم يكتب لها حظ من القبول عند جماهير العلماء، بل كانوا على خلافها، وعملوا جهدهم في ردها، إلا أنها أثرت عن البعض في فترات لاحقة مختلفة، فقد نسبت كذلك إلى الشريف المرتضى الذى عاش في القرن الرابع الهجرى، والذى فسر الصرفة بأن الله سلب العرب العلوم التى يحتاج إليها في المعارضة ليجيئوا بمثل القرآن، يذكر ذلك الرافعي عنه ثم يقول (فكأنه يقول:إنهم بلغاء يقدرون على مثل النظم والأسلوب، ولا يستطيعون ما وراء ذلك مما لبسته ألفاظ القرآن من المعانى، إذ لم يكونوا أهل علم، ولا كان العلم في زمنهم، وهذا رأى بين الخلط) (2) .

--------------------------------------------

(1) الملل والنحل:1/56،57

(2) إعجاز القرآن للرافعي:144
লেখকদের রচনায় সাধারণত এই মতটি মুতাজিলাদের দিকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি ব্যাপকতা লাভ করেছে যে, তাদের মধ্যে যিনি সর্বপ্রথম এটি প্রকাশ্যভাবে ব্যক্ত করেন তিনি হলেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে ইয়াসার, যিনি আন-নাজ্জাম (মৃত্যু ২২৪ হিজরি) নামে প্রসিদ্ধ। তিনি মনে করতেন যে, কুরআন সত্য, কিন্তু এর শব্দবিন্যাস ও রচনাশৈলী কোনো অকাট্য দলিল (حجة) নয়। তবে ন্যায়বিচারের দাবি হলো এটা স্পষ্ট করা যে, তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত এই কথাটি অলৌকিকত্ব (إعجاز) সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর মতামতের কেবল একটি অংশকে প্রকাশ করে। আর অন্য অংশটি হলো, তাঁর মতে কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) এতে বিদ্যমান অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানের (الإخبار بالمغيبات) বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।

শাহরাস্তানি নাজ্জামের সেই সকল মাসআলা গণনা করার সময় বলেছেন যাতে তিনি তাঁর সঙ্গীদের থেকে স্বতন্ত্র মত (انفرد) পোষণ করেছেন: (নবম: কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য হলো—এটি অতীত ও ভবিষ্যৎ বিষয়াবলির সংবাদ প্রদানের দিক থেকে এবং বিরোধিতার সংকল্প থেকে বিমুখ করার (صرف الدواعى عن المعارضة) প্রেক্ষিত থেকে। অর্থাৎ আরবদের বাধ্য করার ও অক্ষম করে দেওয়ার মাধ্যমে এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে; এমনকি যদি আল্লাহ তাদের ছেড়ে দিতেন, তবে তারা অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة), প্রাঞ্জলতা (فصاحة) ও বিন্যাসের (نظم) দিক থেকে এর অনুরূপ একটি সুরা নিয়ে আসতে সক্ষম হতো)। (১)

নাজ্জামের এই উক্তিটি যদিও জমহুর ওলামাদের (جماهير العلماء) নিকট গ্রহণযোগ্যতা পায়নি, বরং তাঁরা এর বিপক্ষে ছিলেন এবং এটি খণ্ডন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন; তবুও পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে এটি কয়েকজনের পক্ষ থেকে বর্ণিত (أثرت) হয়েছে। এটি শরিফ আল-মুরতাদার দিকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যিনি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে বসবাস করতেন। তিনি সারফাহ (الصرفة) বা বিমুখকরণের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, আল্লাহ আরবদের থেকে সেই জ্ঞানসমূহ ছিনিয়ে নিয়েছিলেন যা কুরআনের সদৃশ কিছু তৈরির মাধ্যমে মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন ছিল। রাফেয়ি তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: (যেন তিনি বলতে চাইছেন: তারা আলঙ্কারিক (بلغاء) ছিল এবং কুরআনের মতো বিন্যাস ও শৈলী তৈরিতে সক্ষম ছিল, কিন্তু তারা এর বাইরে কুরআনের শব্দাবলি যে অর্থসমূহ ধারণ করে আছে তা অনুধাবনে সক্ষম ছিল না; কারণ তারা জ্ঞানী ছিল না এবং তাদের যুগে সেই জ্ঞান বিদ্যমান ছিল না। আর এটি বিভ্রান্তিকর একটি মত)। (২)

--------------------------------------------

(১) আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ১/৫৬, ৫৭

(২) রাফেয়ি রচিত ইজাজুল কুরআন: ১৪৪
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ২০)
وممن حكى عنه القول بالصرفة كذلك ابن حزم الظاهري (ت سنة 456هـ) الذى قال في سبب الإعجاز (لم يقل أحد إن كلام غير الله تعالى معجز، لكن لما قاله الله تعالى وجعله كلاّما له أصاره معجزاً ومنع من مماثلته) (1) .

وقد رأينا فيما سبق كيف حمل العلماء على هذا القول وفَنَّدوه كالباقلانى وعبد القاهر وغيرهم، ومع هذا فقد تردد صدى هذا القول فيما بعد، وترك آثاره في فكر بعض المفسرين- من المتكلمين- عن الإعجاز كأبى عبد الله فخر الدين الرازى (ت سنة604هـ) الذى قال في معرض تفسيره لقول الله تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْأِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} (الإسراء:88) ما نصه:

(اعلم أنا في سورة البقرة في تفسيره قوله تعالى {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّنْ مِثْلِهِ} بالغنا في بيان إعجاز القرآن، وللناس فيه قولان: منهم من قال: القرآن معجز في نفسه، ومنهم من قال: إنه ليس في نفسه معجزاً إلا أنه تعالى لما صرف دواعيهم عن الإتيان بمعارضته مع أن تلك الدواعى كانت قوية كانت هذه الصرفة معجزة، والمختار عندنا في هذا الباب أن نقول: القرآن في نفسه إما أن يكون معجزاً أو لا يكون، فإن كان معجزاً فقد حصل المطلوب، وإن لم يكن معجزا بل كانوا قادرين على الإتيان بمعارضته، وكانت الدواعى متوفرة على الإتيان بهذه المعارضة، وما كان لهم عنها صارف ومانع، وعلى هذا التقدير كان الإتيان بمعارضته واجباً

--------------------------------------------

(1) الفصل في الملل والأهواء والنجل:3/19
যাঁদের পক্ষ থেকে 'সরফা' বা মানুষের সামর্থ্য হরণ করার (الصرفة) মতবাদটি বর্ণিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ইবনে হাজম আল-জাহিরি (মৃ. ৪৫৬ হি.) অন্যতম। তিনি অলৌকিকত্বের (الإعجاز) কারণ সম্পর্কে বলেছেন: (আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারও বাণী অলৌকিক (معجز)—এ কথা কেউ বলেননি। কিন্তু আল্লাহ তাআলা যখন তা বলেছেন এবং একে নিজের বাণী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তখন তিনি একে অলৌকিক (معجز) করেছেন এবং এর সমতুল্য কিছু আনয়ন করা থেকে বাধা দিয়েছেন) (১)।

আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি যে, আল-বাকিলানি, আব্দুল কাহির এবং অন্যান্য আলেমগণ কীভাবে এই মতবাদের সমালোচনা করেছেন এবং একে খণ্ডন করেছেন। তা সত্ত্বেও পরবর্তীকালে এই মতবাদের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে এবং অলৌকিকত্ব (الإعجاز) সম্পর্কে কালাম শাস্ত্রবিদ (المتكلمين) কিছু মুফাসসিরের চিন্তাধারায় এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। যেমন আবু আব্দুল্লাহ ফখরুদ্দিন আল-রাজি (মৃ. ৬০৪ হি.), যিনি মহান আল্লাহর বাণীর তাফসির প্রসঙ্গে: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়} (আল-ইসরা: ৮৮) যা বলেছেন তার ভাষ্য নিম্নরূপ:

(জেনে রাখুন যে, আমরা সূরা বাকারায় মহান আল্লাহর বাণী {আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো} এর তাফসিরে কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) বর্ণনায় সবিস্তার আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে মানুষের দুটি মত রয়েছে: তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, কুরআন স্বীয় সত্ত্বাতেই অলৌকিক (معجز)। আবার কেউ কেউ বলেন, এটি স্বীয় সত্ত্বায় অলৌকিক (معجز) নয়, বরং মহান আল্লাহ যখন মানুষের প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও এর মুকাবিলা করা থেকে তাদের সামর্থ্য বা সংকল্প বিমুখ করেছেন, তখন এই বিমুখতা বা 'সরফা'-ই (الصرفة) অলৌকিক (معجزة) হিসেবে গণ্য হয়েছে। আমাদের নিকট এই বিষয়ে পছন্দনীয় (المختار) অভিমত হলো: কুরআন স্বীয় সত্ত্বায় হয় অলৌকিক (معجز) হবে অথবা হবে না। যদি অলৌকিক (معجز) হয় তবে উদ্দেশ্য হাসিল হলো। আর যদি অলৌকিক (معجز) না হয়, বরং তারা এর মুকাবিলা করতে সক্ষম ছিল এবং মুকাবিলার জন্য পূর্ণ সংকল্পও বিদ্যমান ছিল, অথচ তাদের জন্য কোনো বিমুখকারী বা বাধা দানকারী ছিল না, তবে এই প্রেক্ষাপটে এর মুকাবিলা করা ছিল অবধারিত।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল: ৩/১৯
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ২১)
لازما، فعدم الإتيان بهذه المعارضة مع التقديرات المذكورة يكون نقضاً للعادة فيكون معجزاً، فهذا هو الطريق الذى نختاره في هذا الباب) (1) .

وهو كلام من الرازي فيه من التردد في الحكم ما يفتح الباب ولا يغلقه أمام جواز القول بالصرفة، بل لعله إليه أقرب وهو أسلوب غير مرضيّ في مثل هذه القضايا الحاسمة.

ومهما يكن من أمر فإن القول بالصرفة وإن أنكرناه ورفضناه بشدة إلا أنه أمر واقع في مصنفات من كتبوا في الإعجاز مثل الخطابي والرماني كما أسلفنا، وكذلك من جاء بعدهم سواء كان ذلك منهم تأييداً أو رفضا، لكننا لا نستطيع أن نمنع أنفسنا من الأسى على استدعائه كل هذا الجهد حوله مما كان يمكن أن يتوفر لغيره من الدراسات القرآنية النافعة، ونحن بهذا مع الرافعى رحمه الله فيما لفت النظر إليه عندما قال:

(على أن القول بالصرفة هو المذهب الفاشي من لدن قال به النظام-يصوبه فيه قوم ويشايعه عليه آخرون، ولولا احتجاج هذا البليغ لصحته، وقيامه عليه، وتقلده أمره، لكان لنا اليوم كتب ممتعة في بلاغة القرآن وأسلوبه، وإعجازه اللغوى، وما إلى ذلك، ولكن القوم-عفا الله عنهم- أخرجوا أنفسهم من ذلك كله، وكفوها مؤنته بكلمة واحدة تعلقوا عليها، فكانوا فيها جميعا كقول الشاعر الظريف الذى يقول:

كأننا والماء من حولنا … قوم جلوس حولهم ماء (2

وهذا الذى ذكره الرافعى إنما يعبر عن حرص شديد على نفي الشوائب عن موضوع أوجه إعجاز القرآن الكريم وتوفير كل الجهد لدراستها

--------------------------------------------

(1) مفتاتيح الغيب: مجلدا حـ21 ص55

(2) إعجاز القرآن للرافعى:146
আবশ্যিক বিষয়, অতএব উল্লেখিত সম্ভাবনাগুলো থাকা সত্ত্বেও এই বিরোধিতায় লিপ্ত হতে না পারা একটি অলৌকিক (إعجاز) বিষয় হিসেবে গণ্য হবে, সুতরাং এটিই সেই পথ যা আমরা এই বিষয়ে নির্বাচন করেছি।) (১)।

এটি আল-রাজীর এমন এক বক্তব্য যাতে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এমন দ্বিধা রয়েছে যা 'সারফাহ' (صرفة) এর মতবাদ প্রকাশের পথ উন্মুক্ত করে দেয় এবং তা বন্ধ করে না। বরং সম্ভবত তিনি এই মতের প্রতিই বেশি ঝুঁকেছেন, অথচ এই ধরনের চূড়ান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই ধরনের ভঙ্গি সন্তোষজনক নয়।

বিষয়টি যাই হোক না কেন, 'সারফাহ' (صرفة) এর মতবাদকে আমরা কঠোরভাবে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করলেও এটি বাস্তবতা যে, যারা অলৌকিকতা (إعجاز) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন খাত্তাবি এবং রুম্মানি, তাদের সংকলনে এর উল্লেখ রয়েছে, যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। একইভাবে তাদের পরবর্তী লেখকদের ক্ষেত্রেও এটি সত্য, চাই তারা এটি সমর্থন করুন বা প্রত্যাখ্যান করুন। তবে আমরা আফসোসের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এই বিষয়টি এতোটা মেধা ও প্রচেষ্টা ব্যয় করিয়েছে যা কুরআনের অন্যান্য উপকারী গবেষণায় ব্যয় হতে পারত। এ বিষয়ে আমরা রাফেয়ী (রহ.)-এর সাথে একমত যা তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছিলেন:

(যদিও 'সারফাহ' (صرفة) এর মতবাদটি নাজ্জামের সময় থেকেই একটি প্রচলিত মতবাদ—একদল লোক একে সঠিক মনে করে এবং অন্যদল একে সমর্থন করে। যদি এই বাকপটু ব্যক্তি একে সঠিক প্রমাণের জন্য যুক্তি না দিতেন এবং এর প্রচারের দায়িত্ব না নিতেন, তবে আজ আমাদের নিকট কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র, শৈলী, ভাষাগত অলৌকিকতা (إعجاز) এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে চমৎকার সব গ্রন্থ থাকত। কিন্তু এই দলটি—আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন—নিজেদেরকে এসব থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন এবং মাত্র একটি শব্দের ওপর নির্ভর করে সব শ্রম থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা সেই কৌতুকপ্রিয় কবির কবিতার মতো যিনি বলেছেন:

আমাদের চারপাশের পানির সাথে আমাদের অবস্থা যেন … এমন একদল মানুষ যারা পানির চারপাশে বসে আছে (২)

রাফেয়ী যা উল্লেখ করেছেন তা মূলত পবিত্র কুরআনের অলৌকিকতার (إعجاز) বিভিন্ন দিক থেকে যাবতীয় অস্পষ্টতা দূর করার এবং এর গবেষণায় পূর্ণ প্রচেষ্টা নিয়োজিত করার এক তীব্র আগ্রহকেই প্রকাশ করে।

--------------------------------------------

(১) মাফাতিহুল গাইব: ২১ খণ্ড, ৫৫ পৃষ্ঠা

(২) রাফেয়ীর ইজাজুল কুরআন: ১৪৬
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ২২)
بما يبرزها للأجيال المتعاقبة واضحة جلية، وإلا فإن القول بالصرفة في ذاته بما يحمله من دلائل بطلانه قد كان سببا في استنهاض همم العلماء للكتابة في إعجاز القرآن، وهذا ما سنعرض لبيانه في القضية التالية.
যাতে তা পরবর্তী প্রজন্মের নিকট সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বলরূপে প্রতিভাত হয়; অন্যথায় 'সারফাহ' (صرفة) বা কুরআন সদৃশ কিছু তৈরিতে অসমর্থ করার মতবাদটি নিজেই তার অসারতার (بطلان) প্রমাণসমূহ ধারণ করার ফলে আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ে গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে আলেমদের উদ্দীপনাকে জাগ্রত করার কারণ হয়েছিল। আর এটিই আমরা পরবর্তী বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য উপস্থাপন করব।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌قضية الإعجاز: تأصيل تاريخي وأقوال في أوجه هذا الإعجاز

شهد القرن الثانى وأوائل القرن الثالث الهجريين مقولة النظام (ت سنة 224هـ) بالقول بالصرفة في إعجاز القرآن-كما سبق بيانه- وما إن شاعت تلك المقولة حتى استنفرت أمة القرآن بعقول العلماء لردها، وبيان بطلانها كما أوضحنا من قبل، وكذلك لإبراز أوجه إعجاز القرآن الكريم المتعددة.

فنهض أبو عثمان عمرو بن بحر الجاحظ (ت سنة255هـ) في القرن الثالث الهجرى لهذا الأمر، فصنف كتابا سماه: (نظم القرآن) وهو كتاب غير موجود، وإنما تشير إليه المراجع الأخرى من كتب الجاحظ نفسه، أو من كتب غيره.

تقول الدكتورة عائشة عبد الرحمن: (في القرن الثالث ظهرت كتب في الإعجاز تحمل في الغالب عنوان- نظم القرآن- وللجاحظ كتاب بهذا الاسم لم يصل إلينا وإن كان الجاحظ أشار إليه في كتابه "الحجج") (1) .

وقديما قبل ذلك أشار الباقلانى رحمه الله تعالى إلى هذا الكتاب وإن لم يورده في موضع الثناء، إذ رأى أنه لم يأت فيه بجديد يعول عليه، قال: (وقد صنف الجاحظ في "نظم القرآن" كتابا لم يزد فيه على ما قاله المتكلمون قبله، ولم يكشف عما يلتبس في أكثر هذا المعنى) (2) .

--------------------------------------------

(1) الإعجاز البيانى للقرآن:19

(2) إعجاز القرآن للباقلانى:24
অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিষয়টি: ঐতিহাসিক ভিত্তি এবং এই অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অভিমত

দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দী এবং তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে নিযাম (মৃত্যু ২২৪ হি.) কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) ক্ষেত্রে 'সারফাহ' (صرفة) তত্ত্বটি প্রদান করেন—যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যখনই এই মতবাদটি ছড়িয়ে পড়ে, কুরআনের উম্মাহর আলেমদের মেধা একে খণ্ডন করার জন্য এবং এর অসারতা প্রমাণের জন্য সজাগ হয়ে ওঠে, যেমনটি আমরা আগে স্পষ্ট করেছি। সেই সাথে আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) বহুমুখী দিকগুলো ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস চালায়।

অতঃপর তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে আবু উসমান আমর ইবন বাহর আল-জাহিজ (মৃত্যু ২৫৫ হি.) এই উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসেন এবং 'নাযমুল কুরআন' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। গ্রন্থটি বর্তমানে পাওয়া যায় না, তবে জাহিজের নিজের অন্যান্য গ্রন্থ অথবা অন্যদের বইয়ে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

ড. আয়েশা আবদুর রহমান বলেন: "তৃতীয় শতাব্দীতে অলৌকিকত্বের (إعجاز) ওপর বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশ পায় যেগুলোর শিরোনাম ছিল সাধারণত 'নাযমুল কুরআন'। জাহিজের এই নামে একটি গ্রন্থ ছিল যা আমাদের কাছে পৌঁছেনি, যদিও জাহিজ তাঁর 'আল-হুজাজ' গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।" (১) ।

এর আগে প্রাচীনকালে বাকিল্লানি (রহিমাহুল্লাহ) এই গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন, যদিও তিনি এটি প্রশংসাসূচক কোনো স্থানে উল্লেখ করেননি। কারণ তিনি মনে করেছিলেন যে, এতে নির্ভর করার মতো নতুন কিছু উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি বলেন: "জাহিজ 'নাযমুল কুরআন' বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যাতে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী কালামশাস্ত্রবিদদের (متكلمون) বক্তব্যের অতিরিক্ত কিছু বলেননি এবং এই বিষয়ের অধিকাংশ অস্পষ্টতা নিরসন করতে পারেননি।" (২) ।

--------------------------------------------

(১) আল-ইজায আল-বায়ানি লিল-কুরআন: ১৯

(২) বাকিল্লানির ইজাযুল কুরআন: ২৪
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد اختلفت الأنظار في حقيقة رأى الجاحظ في إعجاز القرآن، فالبعض يرى أن تلمذته للنظام أثرت في مذهبه في الإعجاز، وأنه تابع شيخه في القول بالصرفة وإن لم يصرح بذلك.

قال د. أحمد جمال العمرى: (وجاء الجاحظ وعملا بمبدأ الالتزام الأدبي النقلي تابع أستاذه النظام، وإن كان لم يذكر ذلك صراحة في بادئ الأمر، ولكنه تحفظ نوعا?ولعل تحفظه أن يصرح علانية بموافقته على رأى النظام كان نتيجة لردود الفعل التى أحدثها رأى النظام في المجتمع الإسلامى خاصة عند جماعة السلف، فلم يرد الجاحظ أن يكون هو الآخر هدفاً لهذا التيار الجارف الذى تعرض له أستاذه.. لذلك نراه يدور حوله أول الأمر، لكنه لا يعلنه صراحة) (1) .

بينما يرى الشيخ محمد أبو زهرة رحمه الله غير ذلك فيقول: (وإن أول ما كتب في إعجاز القرآن من ناحية البيان كان في الوقت الذى جاء فيه القول بالصرفة بين نفي وإثبات كما أشرنا، وأول من عرف أنه تصدى للكلام في الإعجاز في نظم القرآن هو الجاحظ تلميذ النظام، الذى أنكر عليه قوله، وعابه في منهاجه الفكرى من أنه يظن الظن، ثم يجعله أصلا يجرى عليه القياس مصححا لقياسه بالمنطق، والعيب في أصل القول الذى بنى عليه، لا في الأقيسة التى أجرى بها مشابهاته) (2) .

وعلى كلٍ، فإنه حتى لوصح كلام القائلين بإضمار الجاحظ للقول بالصرفة وميله إليه فإن ذلك لا يغض من كونه أول من نهض لإبراز الإعجاز

--------------------------------------------

(1) مفهوم الإعجاز القرآنى حتى القرن السادس عشر الهجرى:49

(2) المعجزة الكبرى:62،63
কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز القرآن) প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে আল-জাহিজের মতাদর্শের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হয়। কেউ কেউ মনে করেন যে, আল-নাজ্জামের নিকট তার শিষ্যত্ব গ্রহণের বিষয়টি অলৌকিকত্ব (إعجاز) সংক্রান্ত তার মাযহাব বা মতাদর্শে প্রভাব ফেলেছিল এবং তিনি স্পষ্টভাবে প্রকাশ না করলেও 'সারফাহ' বা বিমুখীকরণ (الصرفة) সংক্রান্ত মতবাদে তার শিক্ষকের অনুসারী ছিলেন।

ড. আহমদ জামাল আল-উমরি বলেন: (আল-জাহিজ আবির্ভূত হলেন এবং সাহিত্যিক ও বর্ণনামূলক দায়বদ্ধতার নীতি অনুযায়ী তার শিক্ষক আল-নাজ্জামকে অনুসরণ করলেন, যদিও তিনি শুরুতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি; বরং তিনি এক প্রকার সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। সম্ভবত আল-নাজ্জামের মতের সপক্ষে তার ঐকমত্য প্রকাশ্যে ঘোষণা না করার পেছনে কারণ ছিল মুসলিম সমাজে, বিশেষ করে পূর্বসূরি (سلف) আলেমদের মধ্যে আল-নাজ্জামের মতের ফলে সৃষ্ট বিরূপ প্রতিক্রিয়া। আল-জাহিজ চাইলেন না যে, তার শিক্ষক যে প্রবল স্রোতের সম্মুখীন হয়েছিলেন, তিনিও তার লক্ষ্যবস্তু হন। তাই আমরা দেখি তিনি শুরুতে এই মতের চারপাশেই ঘুরপাক খেতেন, কিন্তু তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতেন না) (১)।

পক্ষান্তরে শায়খ মুহাম্মদ আবু জাহরা (রাহিমাহুল্লাহ) ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি বলেন: (প্রকাশভঙ্গি বা অলঙ্কারশাস্ত্রের (بيان) দিক থেকে কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز القرآن) বিষয়ে সর্বপ্রথম যা লেখা হয়েছিল, তা ছিল এমন এক সময়ে যখন ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় অর্থেই 'সারফাহ' বা বিমুখীকরণ (الصرفة) তত্ত্বটি বিদ্যমান ছিল, যেমনটি আমরা ইঙ্গিত করেছি। কুরআনের শব্দবিন্যাসের (نظم) অলৌকিকত্ব (إعجاز) নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যার নাম জানা যায়, তিনি হলেন আল-নাজ্জামের ছাত্র আল-জাহিজ; যিনি তার শিক্ষকের মতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেছেন যে, তিনি (আল-নাজ্জাম) নিছক ধারণার বশবর্তী হতেন, অতঃপর তাকেই এমন এক মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করতেন যার ওপর কিয়াস বা অনুমান (قياس) পরিচালনা করা হতো এবং যুক্তির মাধ্যমে সেই কিয়াসকে (قياس) সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করতেন। অথচ ত্রুটি ছিল সেই মূল বক্তব্যের মধ্যে যার ওপর ভিত্তি করে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার সাদৃশ্যপূর্ণ কিয়াসগুলোর (الأقيسة) মধ্যে নয়) (২)।

--------------------------------------------

(১) মাফহুমুল ই'জাযিল কুরআনি হাত্তাল কারনিল সাদিস আশারা আল-হিজরি: ৪৯

(২) আল-মু'জিজাতুল কুবরা: ৬২, ৬৩
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ২৫)
القرآنى في نظمه (1) وعرض بلاغة القرآن في آياته، في الإيجاز والحذف والزوائد والفصول والاستعارات، وجمع المعاني الكثيرة في الألفاظ القليلة إلى آخره، وقوله عن القرآن بصفة عامة: وفي كتابنا المنزل الذى يدل على أنه صدق: نظمه البديع الذي لا يقدر على مثله العباد مع ما سوى ذلك من الدلائل التى جاء بها من جاء به) (2) .

وفي أواخر القرن الثالث الهجرى وضع أبو عبد الله محمد بن يزيد الواسطى (ت سنة 306هـ) كتابا سماه (إعجاز القرآن في نظمه وتأليفه) وهو يعد بناء على ما ابتدأه الجاحظ، وإلى كتاب الواسطى هذا ينسب الرافعى السبق في بسط القول في الإعجاز، فيقول، (بيد أن أول كتاب وضع لشرح الإعجاز وبسط القول فيه على طريقتهم في التأليف إنما هو فيما نعلم كتاب "إعجاز القرآن" لأبى عبد الله محمد بن يزيد الواسطي) (3) .

ثم جاء القرن الرابع الهجرى، وفيه ألف أبو الحسن على بن عيسى الرمانى (ت سنة 386هـ) كتابا صغيراً سماه: (النكت في إعجاز القرآن) وقد جاء في شكل جواب عن سؤال وُجِّه للرمانى عن ذكر نكت إعجاز القرآن دون التطويل والحجاج، فلخص جوانب الإعجاز في وجوه سبعة: ترك المعارضة مع توفر الدواعى وشدة الحاجة، والتحدى للكافة، والصرفة، والبلاغة، والأخبار الصادقة عن الأمور المستقبلة، ونقص العادة، وقياسة بكل معجزة، لكنه يوجه الاهتمام من بينها إلى البلاغة، فيبين أنها على ثلاث طبقات، منها ما هو في أعلى طبقة، وما هو في أدنى طبقة، وما هو في

--------------------------------------------

(1) يراجع في ذلك:إعجاز القرآن للرافعى:151

(2) الحيوان:4/85

(3) إعجاز القرآن:152
কুরআনের শব্দশৈলী (نظم) (১) এবং এর আয়াতসমূহের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় (بلاغة) শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন—যেমন সংক্ষিপ্ততা (إيجاز), উহ্যকরণ (حذف), অতিরিক্ততা (زوائد), বিভাজন (فصول) এবং রূপক (استعارات) এবং অল্প শব্দে অনেক অর্থ সমাবেশ ইত্যাদি সম্পর্কে। আল-কুরআন সম্পর্কে সাধারণভাবে তার উক্তি: "এবং আমাদের অবতীর্ণ কিতাব—যা সত্য হওয়ার প্রমাণ বহন করে—তা হলো এর অপূর্ব শব্দশৈলী (نظم), যার সদৃশ রচনা করতে বান্দারা অক্ষম। এর সাথে আরও অন্যান্য দলিলসমূহ (دلائل) রয়েছে যা আনয়নকারী (রাসূল) নিয়ে এসেছেন।" (২)।

হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-ওয়াসিতি (মৃত্যু ৩০৬ হি.) একটি কিতাব রচনা করেন যার নাম দেন ‘ইজাজুল কুরআন ফি নাজমিহি ওয়া তালিফিহি’ (কুরআনের শব্দশৈলী ও বিন্যাসের অলৌকিকতা)। এটি আল-জাহিয যা শুরু করেছিলেন তার ওপর ভিত্তি করেই রচিত বলে গণ্য হয়। রাফেয়ি এই ওয়াসিতির কিতাবটিকেই অলৌকিকতার (إعجاز) বর্ণনায় অগ্রণী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "তবে আমাদের জানামতে তাদের রচনাশৈলী অনুযায়ী অলৌকিকতার (إعجاز) ব্যাখ্যা এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার ওপর লিখিত প্রথম কিতাব হলো আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-ওয়াসিতির ‘ইজাজুল কুরআন’।" (৩)।

এরপর চতুর্থ হিজরি শতাব্দী আসে, তখন আবুল হাসান আলী ইবনে ঈসা আর-রুম্মানি (মৃত্যু ৩৮৬ হি.) একটি ছোট কিতাব রচনা করেন যার নাম: ‘আন-নুকাতি ফি ইজাজিল কুরআন’। এটি দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক পরিহার করে কুরআনের অলৌকিকতার (إعجاز) সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উল্লেখ করার জন্য রুম্মানিকে করা একটি প্রশ্নের উত্তরের আকারে রচিত। তিনি অলৌকিকতার (إعجاز) দিকগুলোকে সাতটি ভাগে সারসংক্ষেপ করেছেন: পর্যাপ্ত কারণ ও তীব্র প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও মোকাবিলা করতে না পারা, সকলের প্রতি চ্যালেঞ্জ (تحدى), সারফাহ (صرفة - বিমুখকরণ), অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة), ভবিষ্যৎ বিষয়ে সত্য সংবাদ (الأخبار الصادقة), প্রচলিত নিয়মের ব্যত্যয় (نقص العادة) এবং একে প্রতিটি মুজিজার (معجزة) সাথে তুলনা করা। তবে তিনি এর মধ্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে এটি তিনটি স্তরের হয়; যার কোনটি উচ্চ স্তরের, কোনটি নিম্ন স্তরের, এবং কোনটি...

--------------------------------------------

(১) এ প্রসঙ্গে দেখুন: রাফেয়ি রচিত ইজাজুল কুরআন: ১৫১

(২) আল-হায়াওয়ান: ৪/৮৫

(৩) ইজাজুল কুরআন: ১৫২
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ২৬)
الوسائط بين أعلى طبقة وأدنى طبقة، وبعد أن يشرح كل واحدة يجعل البلاغة في عشرة أقسام: الإيجاز، والتشبية، والاستعارة، والتلاؤم، والفواصل، والتجانس، والتصريف، والتضمين، والمبالغة، وحسن البيان، ثم يفسرها باباً باباً، مستشهداً لها بالقرآن، ثم يتكلم بإيجاز في آخر الرسالة على بقية أوجه الإعجاز الستة التى سبق له ذكرها (1) .

وفي القرن نفسه كتب أبو سليمان حمد بن محمد بن إبراهيم الخطابى (ت سنة 388هـ) الذي عاصر الرمانى (بيان إعجاز القرآن) وفيه أشار إلى أن الناس قد أكثروا الكلام في باب إعجاز القرآن قديما وحديثا، وذهبوا فيه كل مذهب، ولم يصدروا عن رأي، وناقش القول بالصرفة، وتعرض لما تضمنه القرآن من الإخبار عن غيوب المستقبل، وعَدَّه نوعاً من أنواع إعجازه، ولكنه لم يرتضه سراً للإعجاز وأساساً يعول عليه حيث إنه ليس بالأمر العام الموجود في كل سورة من سور القرآن، ثم انتقل إلى موضوع البلاغة وأن إعجاز القرآن من جهتها، وأن أكثر العلماء على ذلك، ولكنه عاب عليهم في تسليمهم هذه الصفة للقرآن نوعاً من التقليد، وضرباً من غلبة الظن دون التحقيق، وبدأ معالجة ذلك على طريقته هو، فذكر أقسام الكلام المحمود وهى: البليغ الرصين الجزل، والفصيح القريب السهل، والجائز الطلق الرَّسل، وأن القسم الأول أعلى طبقات الكلام وأرفعه، والثاني أوسطه وأقصده، الثالث أدناه وأقربه، وأن القرآن قد حازت بلاغته من كل قسم من هذه الأقسام حصة، كما بين أن القرآن إنما صار معجزا لأنه جاء بأفصح الألفاظ في أحسن نظوم التأليف مضمنا أصح المعاني من: توحيد، وتحليل وتحريم، وأن

--------------------------------------------

(1) ينظر شواهد ذلك في رسالة (النكت في إعجاز القرآن) للرمانى،ضمن ثلاث رسائل في إعجاز القرآن في سلسلة ذخائر العرب، طبع دار المعارف ص 75 وما بعدها.
উচ্চতর এবং নিম্নতর স্তরের মধ্যবর্তী মাধ্যমসমূহ; এবং প্রতিটি ব্যাখ্যা করার পর তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রকে (بلاغة) দশটি বিভাগে বিভক্ত করেছেন: সংক্ষেপণ (الإيجاز), উপমা (التشبية), রূপক (الاستعارة), সামঞ্জস্য (التلاؤم), ছন্দবিভক্তি (الفواصل), সাদৃশ্য (التجانس), শব্দরূপান্তর (التصريف), অন্তর্ভুক্তি (التضمিন), অতিরঞ্জন (المبالغة) এবং সুন্দর প্রকাশভঙ্গি (حسن البيان)। অতঃপর তিনি আল-কুরআনের উদ্ধৃতি প্রদান করে প্রতিটি অধ্যায় পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং রিসালাতের শেষে পূর্বে বর্ণিত অলৌকিকত্বের (إعجاز) বাকি ছয়টি দিক সংক্ষেপে আলোচনা করেন (১) ।

একই শতাব্দীতে আবু সুলায়মান হামদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-খাত্তাবি (মৃত্যু ৩৮৮ হিজরি), যিনি আল-রুমমানির সমসাময়িক ছিলেন, (বায়ান ইজায আল-কুরআন) রচনা করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ে অনেক আলোচনা করেছে এবং নানা মত অবলম্বন করেছে, তবে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি। তিনি 'সারফাহ' (صرفة) মতবাদটি নিয়ে আলোচনা করেন এবং কুরআনের অন্তর্ভুক্ত ভবিষ্যতের অদৃশ্য সংবাদসমূহ তুলে ধরেন। তিনি একে কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করলেও অলৌকিকত্বের (إعجاز) মূল রহস্য এবং নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে এটিকে গ্রহণ করতে রাজি হননি; কারণ এটি কুরআনের প্রতিটি সূরায় বিদ্যমান কোনো সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়। অতঃপর তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) বিষয়ে ফিরে আসেন এবং বলেন যে, কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) এই দিক থেকেই এবং অধিকাংশ আলেমও এই মত পোষণ করেন। তবে তিনি তাদের সমালোচনা করেছেন এজন্য যে, তারা এক প্রকার অন্ধ অনুকরণের (تقليد) মাধ্যমে এবং প্রকৃত অনুসন্ধান (تحقيق) ছাড়াই কেবল প্রবল ধারণার (غلبة الظن) বশবর্তী হয়ে কুরআনের এই বৈশিষ্ট্যটি মেনে নিয়েছেন। তিনি নিজস্ব পদ্ধতিতে এর নিরসন শুরু করেন এবং প্রশংসিত বাক্যের প্রকারভেদগুলো উল্লেখ করেন, যথা: সারগর্ভ বলিষ্ঠ ও প্রাঞ্জল (البليغ الرصين الجزل), প্রাঞ্জল সহজ ও সাবলীল (الفصيح القريب السهل), এবং বৈধ ও সাবলীল প্রবহমান (الجائز الطلق الرسل)। তিনি আরও বলেন যে, প্রথম বিভাগটি বাক্যের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ স্তর, দ্বিতীয়টি মধ্যম ও পরিমিত এবং তৃতীয়টি সর্বনিম্ন ও নিকটবর্তী। কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) এই প্রতিটি বিভাগ থেকেই তার অংশ গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বর্ণনা করেন যে, কুরআন অলৌকিক (معجز) হওয়ার কারণ হলো—এটি অত্যন্ত বিশুদ্ধ অর্থসমূহ যেমন: তাওহিদ, বৈধকরণ (تحليل) এবং নিষিদ্ধকরণ (تحريم) এর বিষয়গুলোকে ধারণ করে সুন্দরতম গ্রন্থনা পদ্ধতিতে অতি প্রাঞ্জল শব্দে অবতীর্ণ হয়েছে। এবং

--------------------------------------------

(১) আল-রুমমানির রিসালাহ (আন-নুকাত ফি ইজায আল-কুরআন)-এ এর প্রমাণাদি দ্রষ্টব্য; যা দারুল মাআরিফ থেকে প্রকাশিত 'দাখাইরুল আরব' সিরিজের (সালাসু রাসাইল ফি ইজায আল-কুরআন) গ্রন্থের ৭৫ ও পরবর্তী পৃষ্ঠায় অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ২৭)
الإتيان بمثل هذه الأمور، والجمع بين أشتاتها حتى تنتظم وتتسق أمر تعجز عنه قوى البشر، وفي النهاية لفت النظر إلى وجه في الإعجاز ذهب عنه الناس –على حسب قوله- وهو صنيع القرآن بالقلوب وتأثيره القوى في النفوس (1) . وهو ما يمكن أن نسميه بالإعجاز النفسى.

وجاء بعد ذلك واحد من أشهر من كتبوا في إعجاز القرآن وانتشرت كتبهم، وهو الإمام أبو بكر محمد بن الطيب الباقلانى (ت سنة403هـ) فألف كتابه (إعجاز القرآن) الذى قال في سبب تأليفه (وسألنا سائل أن نذكر جملة من القول جامعة: تسقط الشبهات، وتزيل الشكوك التى تعرض للجهال، وتنتهى إلى ما يخطرلهم، ويعرض لأفهامهم، فأجبناه إلى ذلك متقربين إلى الله عز وجل، ومتوكلين عليه، وعلى حسن توفيقه ومعونته) .

وقد ذكر في الفصل الثالث (2) . من هذا الكتاب جملة من وجوه الإعجاز متمثلة في:الإخبار عن الغيوب المستقبلة، وقصص الأولين، وبديع نظم القرآن، وعجيب تأليفه، وما فيه من الشريعة والأحكام التى يتعذر على البشر مثلها.

وفي الفصل الرابع (3) . يشرح عددا من هذه الوجوه، وهو في كل ذلك يذكر شواهد القرآن التى تؤيد كلامه وفي أواخر القرن الرابع وأوائل القرن الخامس الهجرى أفرد القاضي عبد الجبار أحمد بن خليل بن عبد الله (ت

--------------------------------------------

(1) ينظر في شواهد ذلك رسالة (بيان إعجاز القرآن) للخطابى ضمن المصدر السابق: ص 21

وما بعدها

(2) إعجاز القرآن للبلاقلانى:24،25

(3) نفس المصدر:84 وما بعدها
এই জাতীয় বিষয়াদি উপস্থাপন করা এবং সেগুলোর বিক্ষিপ্ত দিকগুলোকে একত্রিত করে সুশৃঙ্খল ও সুসংগত করা এমন এক কাজ যা মানুষের শক্তির সাধ্যাতীত। পরিশেষে তিনি অলৌকিকত্বের (إعجاز) এমন এক দিকের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যা—তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী—মানুষের দৃষ্টির আড়ালে ছিল; আর তা হলো অন্তরের ওপর কুরআনের ক্রিয়া এবং মানুষের নফসের ওপর এর শক্তিশালী প্রভাব (১)। একে আমরা মনস্তাত্ত্বিক অলৌকিকত্ব (إعجاز نفسي) হিসেবে অভিহিত করতে পারি।

এরপর কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ে প্রখ্যাত লেখকদের মধ্যে এমন একজন আসেন যাঁর গ্রন্থসমূহ ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; তিনি হলেন ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে তাইয়্যিব আল-বাকিলানি (মৃত্যু ৪০৩ হিজরি)। তিনি তাঁর 'ইজাজুল কুরআন' গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এর রচনার কারণ সম্পর্কে বলেন: "একজন প্রশ্নকারী আমাদের কাছে এমন একটি সংক্ষিপ্ত অথচ সারগর্ভ আলোচনার আবেদন জানিয়েছেন যা সংশয়সমূহ (شبهات) নিরসন করবে, অজ্ঞদের মনে উদিত হওয়া সন্দেহসমূহ (شكوك) দূর করবে এবং তাদের মনে ও চিন্তায় যা উদিত হয় তার সমাধানে পৌঁছাবে। ফলে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এবং তাঁর ওপর ভরসা করে ও তাঁর সুনিপুণ তাওফিক ও সাহায্যের ওপর নির্ভর করে সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছি।"

তিনি এই কিতাবের তৃতীয় পরিচ্ছেদে (২) অলৌকিকত্বের (إعجاز) বেশ কিছু দিক উল্লেখ করেছেন যা নিম্নরূপ: ভবিষ্যৎ অদৃশ্যের (غيوب) সংবাদ দান, পূর্ববর্তীদের কাহিনীসমূহ, কুরআনের অপূর্ব বিন্যাস (نظم), বিস্ময়কর রচনাশৈলী এবং এতে বিদ্যমান এমন শরিয়ত (شريعة) ও বিধিবিধানসমূহ (أحكام) যার সমতুল্য কিছু নিয়ে আসা মানুষের জন্য অসম্ভব।

চতুর্থ পরিচ্ছেদে (৩) তিনি এ বিষয়গুলোর বেশ কিছু ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং সর্বত্রই তিনি তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে কুরআনের প্রমাণাদি (شواهد) উল্লেখ করেছেন। চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে এবং পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর প্রারম্ভে কাজি আব্দুল জব্বার আহমদ ইবনে খলিল ইবনে আব্দুল্লাহ (মৃত্যু...

--------------------------------------------

(১) এর প্রমাণাদির জন্য পূর্বোক্ত উৎসের অন্তর্ভুক্ত খাত্তাবির 'বায়ান ইজাজিল কুরআন' রিসালাহটির ২১ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

এবং পরবর্তী অংশসমূহ

(২) আল-বাকিলানির ইজাজুল কুরআন: ২৪, ২৫

(৩) একই উৎস: ৮৪ এবং পরবর্তী অংশসমূহ
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - মুহাম্মাদ আস-সাইয়্যিদ জিবরীল (পৃষ্ঠা: ২৮)
سنة415هـ) من كتابه "المغنى في أبواب التوحيد والعدل" البالغ عشرين جزءاً واحداً من هذه الأجزاء لإعجاز القرآن وهو الجزء السادس عشر.

يقول الدكتور/ عبد الفتاح لاشين: (وهو في هذا الجزء لايلقى الإعجاز لقاءً مباشرا، بل يقدم له بمباحث كثيرة تستنفد الجزء الأكبر من هذا الكتاب، فهو يقرر أولا صحة القرآن وتواتر نقله، والدواعى التى تقوم لهذا التواتر وتتضافر على الاحتفاظ به كاملا بعيداً من أي تحريف أو تبديل.. ثم يتعرض للإعجاز، وينصب موازين البلاغة ليقيم بها الكلام البليغ) (1) .

كما أفرد أبو محمد على بن أحمد بن حزم الظاهرى (ت سنة 456هـ) لإعجاز القرآن فصلا من الجزء الثالث من كتابه (الفصل في الملل والأهواء والنحل) تحدث فيه عن عدد من وجوه الإعجاز باختصار، وهو ممن نسب إليهم القول بالصرفة كما مر.

وفي القرن الخامس كذلك ألف الإمام أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن الجرجانى (ت سنة 471هـ) كتابه (دلائل الإعجاز) الذى كشف فيه عن وجوه إعجاز القرآن كما رآها، وأنها في بلاغته وفصاحته، وردَّ فيه على المعتزلة قولهم بالصرفة، وقد صرح بما يراه في إعجاز القرآن من أول الأمر، فقال (أعجزتهم مزايا ظهرت لهم في نظمه، وخصائص صادقوها في سياق لفظه، وبدائع راعتهم من مبادئ آيه ومقاطعها، ومجارى ألفاظها ومواقعها) (2) .

--------------------------------------------

(1) بلاغة القرآن في آثار القاضي عبد الجبار، وأثره في الدراسات البلاغية:466

(2) دلائل الإعجاز:39
(৪১৫ হিজরি) তাঁর বিশ খণ্ড বিশিষ্ট গ্রন্থ "আল-মুগনি ফি আবওয়াবিত তাওহিদ ওয়াল আদল"-এর একটি খণ্ড কুরআনের অলৌকিকত্বের জন্য উৎসর্গ করেছেন, যা মূলত গ্রন্থটির ষোড়শ খণ্ড।

ড. আব্দুল ফাত্তাহ লাশীন বলেন: (তিনি এই খণ্ডে অলৌকিকত্বের বিষয়টিকে সরাসরি উপস্থাপন করেন না, বরং এর জন্য অনেক আলোচনার মাধ্যমে ভূমিকা পেশ করেছেন যা এই গ্রন্থের অধিকাংশ স্থান জুড়ে রয়েছে। তিনি প্রথমেই কুরআনের বিশুদ্ধতা (صحة) এবং এর বর্ণনার নিরবচ্ছিন্নতা (تواتر) সাব্যস্ত করেছেন। সেই সাথে এই নিরবচ্ছিন্নতা (تواتر) বজায় রাখার পেছনের কারণসমূহ এবং কোনো প্রকার বিকৃতি বা পরিবর্তন ছাড়াই একে পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষণে যে সকল বিষয় সহায়ক হয়েছে তাও আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি অলৌকিকত্বের বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং অলংকারশাস্ত্রের মানদণ্ড স্থাপন করেন যার মাধ্যমে আলংকারিক বাণীর মূল্যায়ন করা যায়।) (১)।

অনুরূপভাবে আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন হাজম আল-জাহিরি (মৃ. ৪৫৬ হিজরি) তাঁর "আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল" গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডে কুরআনের অলৌকিকত্বের জন্য একটি বিশেষ পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছেন। এতে তিনি অলৌকিকত্বের বেশ কিছু দিক নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন। তিনিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের দিকে 'সারফাহ' মতবাদটি সম্পর্কিত করা হয়, যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

পঞ্চম শতাব্দীতে ইমাম আবু বকর আব্দুল কাহের বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাজিানি (মৃ. ৪৭১ হিজরি) তাঁর "দালায়িলুল ইজাজ" গ্রন্থটি রচনা করেন। এতে তিনি কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকগুলো যেভাবে অনুধাবন করেছেন তা উন্মোচন করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে, তা মূলত এর অলংকারিক সৌন্দর্য ও প্রাঞ্জলতার মাঝে নিহিত। এতে তিনি 'সারফাহ' সংক্রান্ত মুতাজিলাদের মতবাদ খণ্ডন করেছেন। কুরআনের অলৌকিকত্বের ব্যাপারে তিনি শুরু থেকেই তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন: (কুরআনের বিন্যাসে প্রকাশ পাওয়া বৈশিষ্ট্যসমূহ, এর শব্দ প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান বিশেষ গুণাবলি এবং এর আয়াতের প্রারম্ভিক ও সমাপ্তিভাগের অপূর্ব শৈলী ও শব্দ বিন্যাসের চমৎকারিত্ব তাদের অক্ষম করে দিয়েছে।) (২)।

--------------------------------------------

(১) বালাগাতুল কুরআন ফি আসারিল কাজি আব্দুল জব্বার ওয়া আসারুহু ফিদ দিরাসাতিল বালাগিয়্যাহ: ৪৬৬

(২) দালায়িলুল ইজাজ: ৩৯