(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: -)
عناية المسلمين بإبراز وجوه الإعجاز في القرآن الكريم - حسن عبد الفتاح أحمد   (حسن عبد الفتاح أحمد)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: عناية المسلمين بإبراز وجوه الإعجاز في القرآن الكريم

المؤلف: حسن عبد الفتاح أحمد

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف

عدد الصفحات: 103

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কুরআনুল কারীমের আলৌকিকত্বের দিকসমূহ ফুটিয়ে তুলতে মুসলিমদের গুরুত্বারোপ - হাসান আব্দুল ফাত্তাহ আহমদ   (হাসান আব্দুল ফাত্তাহ আহমদ)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


গ্রন্থ: কুরআনুল কারীমের আলৌকিকত্বের দিকসমূহ ফুটিয়ে তুলতে মুসলিমদের গুরুত্বারোপ

লেখক: হাসান আব্দুল ফাত্তাহ আহমদ

প্রকাশক: বাদশাহ ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة

الحمد لله القائل {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ} والصلاة والسلام على من قيل له {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} صلى الله وسلم وبارك على نبي الهدى ومصباح الدجى محمد الذي أنار الله به السبل وألف بين مناهجها حتى صارت سبيلا واحدا يدعو إلى الله على بصيرة هو ومن اتبعه. ورضي الله عن السائرين في سبيل الحق هداة مهتدين بنور القرآن، مستمسكين بعروته الوثقى التي لا تفصمها هجمة هوى، ولا تغادر عنها بثبوت الحق زعزعة النفس ضلالا وغواية رضي الله عن أولئك الذين استعملهم في سبيل القرآن حَفَظَة لرايته، واستنطق بهم ما طواه العداء للقرآن من أعدائه، فراح الكرام العالمون يسلون سيوف البيان والإفصاح عن براهين تَبايُنِ كلام الله عن كلام الخلق. أسكنهم الله فسيح جناته لقاء ما أفسحوا من مجالات الدراسة، وجزاء ما أسهموا به من ضروب الكياسة، وكل هذا يمثل مظهرا من مظاهر معنى قوله تعالى {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ}

أما بعد:

فكل كتاب يَرِثُّ كلامُه بكثرة البحث فيه، وتنضو الأفكار منه وينضب عطاؤه إلا القرآن الكريم، فإنه كلما قرأته ألفيت نفسك غير التي كانت بالأمس تقرأ، فالقرآن هو هو، وما تَلَقَّاه قارئه اليوم غير ما فتح عليه منه بالأمس، فإنك لا تجد واحدا من الكتب غير القرآن يعطيك هذا، يؤتيك كل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা (مقدمة)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ইরশাদ করেছেন: {এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে}। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁকে বলা হয়েছে: {অতঃপর এর বিশদ বর্ণনা করার দায়িত্ব তো আমারই}। আল্লাহ তাআলা দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন হিদায়াতের নবী ও অন্ধকারের প্রদীপ মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ পথসমূহকে আলোকিত করেছেন এবং বিভিন্ন পদ্ধতিগুলোর মাঝে সমন্বয় ঘটিয়েছেন, ফলে তা এমন এক একক পথে পরিণত হয়েছে যা আল্লাহর দিকে ডাকার ক্ষেত্রে দূরদৃষ্টি (بصيرة) প্রদান করে, তিনি নিজে এবং তাঁর অনুসারীগণও সেই পথেরই অনুসারী। আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন সত্যের পথে বিচরণকারী পথপ্রদর্শক ও কুরআনের আলোতে হিদায়াতপ্রাপ্তদের ওপর, যারা এর সেই সুদৃঢ় রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে আছেন, যা প্রবৃত্তির কোনো আক্রমণ ছিন্ন করতে পারে না এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে আত্মার কোনো অস্থিরতা যাকে বিভ্রান্তি ও বিচ্যুতিতে নিমজ্জিত করতে পারে না। আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাদের ওপর, যাদেরকে তিনি কুরআনের পথে এর পতাকার রক্ষক হিসেবে নিয়োজিত করেছেন এবং যাদের মাধ্যমে কুরআনের শত্রুদের সেই বিদ্বেষকে উন্মোচিত করেছেন যা তারা লুকিয়ে রেখেছিল। ফলে সম্মানিত আলিমগণ আল্লাহর কালাম এবং সৃষ্টির বাণীর মাঝে পার্থক্যের প্রমাণাদি উপস্থাপনে বর্ণনা ও প্রাঞ্জলতার তরবারি ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে আসীন করুন, বিনিময়ে তারা গবেষণার ক্ষেত্রসমূহকে যেমন প্রশস্ত করেছেন এবং বিচক্ষণতার যে অবদান রেখেছেন তার প্রতিদান হিসেবে। আর এই সব কিছুই আল্লাহ তাআলার এই বাণীর বহিঃপ্রকাশ: {নিশ্চয় আমি এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক}।

অতঃপর (أما بعد):

প্রত্যেক কিতাবের বাণীই অত্যধিক গবেষণার ফলে পুরনো হয়ে যায়, চিন্তাগুলো জীর্ণ হয়ে যায় এবং এর উপদান ফুরিয়ে আসে; কেবল কুরআন মাজিদ ব্যতীত। কেননা, আপনি যখনই এটি তিলাওয়াত করবেন, নিজেকে গতকালের তিলাওয়াতকারীর চেয়ে ভিন্ন এক সত্তা হিসেবে আবিষ্কার করবেন। কুরআন অপরিবর্তনীয়, অথচ এর পাঠক আজ যা লাভ করে তা গতকাল তার জন্য যা উন্মোচিত হয়েছিল তা থেকে ভিন্নতর। কুরআন ছাড়া অন্য কোনো কিতাব আপনি পাবেন না যা আপনাকে এমনটি দান করবে; এটি আপনাকে দান করে প্রতিটি
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২)
يوم نفسا تقرأ في كل مرة أول مرة، إذ حين تقرؤه ألف مرة تكون كمن قرأ ألف كتاب، ومن يستزده يزده.

"ومن إعجاز القرآن أن يظل مشغلة الدارسين والعلماء جيلا بعد جيل، ثم يبقى أبدا رحب المدى سخيَّ المورد، كلما حسب جيل أنه بلغ منه الغاية امتد الأفق بعيداً وراء كل مطمح، عاليا يفوق طاقة الدارسين (1) ".

وتجلت عظمة الإسلام في كون معجزتِه الخالدةِ هو القرآن، والقرآن كلام، وكل ما عدا الكلام في تغير وتطور مستمر، والكلام البشرى وحده الذي إن لم يقل في عطائه لم يزد، وكل كلام له حد يبلغه معناه، والقرآن لا حد لمعناه وإن حصر كلامُه بين دفتي المصحف.

إنه لبرهان خالد ساطع الدلالة على صحة الدعوة الإسلامية الخاتمة وصدقها.

ولما كانت اللغة مطايا المعاني تبدى لدى الأوائل أن الكلام من حيثيات مختلفة مقصود التحدي فأبدى المختصون منهم وجوه إعجاز فيما يتعلق بلغة القرآن ونظمه، وأساليب الكلام وسائر ما عَنَّ لهم وعَرض في دراستهم. فتشعبت في ذلك فنون وعلوم، ونشأت معارف.

وحين تحَّوَل العرب من جودةٍ إلى اختلالٍ في أركان القريحة العربية في قواعدها وألفاظها نجد تحولا عجيبا يؤكد بقاء هذا الكتاب على نفس صورة عظمته لدى الأوائل، فكانت وجوه الإعجاز مضيئة عمر الأمة الخاتمة منذ عهدها الأول وحتى عصرنا هذا، وإلى ما شاء الله.

--------------------------------------------

(1) من كتاب الإعجاز البياني للقرآن – عائشة عبد الرحمن. بنت الشاطئ صـ17.
প্রতিটি পাঠে আত্মাকে এমন অনুভূতি দেয় যেন তা প্রথমবার পড়া হচ্ছে। যখন আপনি এটি হাজারবার পড়বেন, তখন আপনি এমন একজনের মতো হবেন যিনি হাজারটি বই পড়েছেন। আর যে আরও বেশি চায়, সে আরও বেশি লাভ করে।

"কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) অন্যতম দিক হলো এটি যুগ যুগ ধরে গবেষক ও আলেমদের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে; এরপর তা চিরকাল প্রশস্ত ও সমৃদ্ধ উৎস হিসেবে টিকে থাকে। যখনই কোনো প্রজন্ম মনে করে যে তারা এর শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে, তখনই এর দিগন্ত প্রতিটি আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে বহুদূর প্রসারিত হয় এবং গবেষকদের সামর্থ্যকেও ছাড়িয়ে যায় (১) "।

ইসলামের মাহাত্ম্য ফুটে উঠেছে এই সত্যে যে, এর চিরন্তন অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) হলো কুরআন। আর কুরআন হলো বাণী (كلام)। বাণী ব্যতিরেকে অন্য সব কিছুই ক্রমাগত পরিবর্তন ও বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। মানবীয় বাণী হলো এমন যা তার প্রদানে বৃদ্ধি না পেলে কমে যায়। প্রত্যেক বাণীর অর্থের একটি সীমা থাকে যেখানে তা পৌঁছে থেমে যায়, কিন্তু কুরআনের অর্থের কোনো সীমা নেই, যদিও এর শব্দাবলি মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে সীমাবদ্ধ।

এটি সর্বশেষ ইসলামি দাওয়াতের বিশুদ্ধতা ও সত্যতার ওপর এক চিরন্তন ও উজ্জ্বল প্রমাণ (برهان) স্বরূপ।

যেহেতু ভাষা হলো অর্থের বাহন, পূর্বসূরিদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছিল যে, বিভিন্ন দিক থেকে এই বাণীটি ছিল একটি চ্যালেঞ্জ (تحدي)। তাই তাঁদের মধ্য থেকে বিশেষজ্ঞরা কুরআনের ভাষা, এর বিন্যাস (نظم), বাচনভঙ্গি এবং তাঁদের গবেষণায় উদ্ভূত অন্যান্য বিষয়াদির ক্ষেত্রে অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো প্রকাশ করেছেন। এর ফলে বিভিন্ন শিল্পকলা ও বিজ্ঞান শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়েছে এবং নতুন নতুন জ্ঞানের উদ্ভব হয়েছে।

যখন আরবদের স্বভাবজাত ভাষাগত প্রতিভার স্তম্ভগুলো তাদের ব্যাকরণ ও শব্দচয়নের ক্ষেত্রে গুণগত উৎকর্ষ থেকে বিচ্যুতির দিকে মোড় নিল, তখন আমরা এক বিস্ময়কর পরিবর্তন দেখতে পাই যা প্রমাণ করে যে, এই কিতাবটি পূর্বসূরিদের নিকট যে মহান রূপে ছিল, তা আজও অটুট রয়েছে। সুতরাং অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো এই সর্বশেষ উম্মাহর সূচনালগ্ন থেকে আমাদের এই সময় পর্যন্ত এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ভবিষ্যতেও একইভাবে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

--------------------------------------------

(১) আল-ই'জায আল-বায়ানি লিল কুরআন থেকে সংগৃহীত – আয়েশা আবদুর রহমান বিনতুশ শাতি, পৃষ্ঠা-১৭।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
وتمثلت عناية المسلمين بهذا المجال أولَ الأمر في صورة الدفاع عن القرآن حتى أصبح هذا علما أفضى إلى علم كالبلاغة، واستقر بقاء الثاني أمارة على الأول، فالبلاغة مفتاح كشف وجه الإعجاز، ووجوه الإعجاز أساس علم البلاغة.

والقرآن كنز يستفتحه كل عصر بأدواته ليأخذ منه ما تسنى له من جواهره ودرره، وهو كريم كلما استثير أعطى، قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: "من أراد العلم فليثور القرآن فإنه فيه علم الأولين والآخرين" (1) ، لذلك كان علينا أن نستزيد من العلم بالقرآن بكثرة مدارسته، فإنه لا يخلق على كثرة الرد، بل تَرْكُه دون إثارة فيه أفدح خسارة، فعن معاذ بن جبل رضى الله عنه قال: "سَيَبْلَى القرآنُ في صدور أقوام كما يبلى الثوب، فيتهافت يقرءونه لا يجدون له شهوة ولا لذة، يلبسون جلود الضأن على قلوب الذئاب، أعمالهم طمع لا يخالطه خوف، إن قصروا قالوا سنبلغ، وإن أساءوا قالوا سيُغفر لنا إنا لا نشرك بالله شيئا" (2) .

وهو غير مُتَبَذَّل، وخفاؤه فى يسره، تمر به مرَّ الغافل فلا يزجي إليك منه شيئا، إذ هو لنزاهته أغفل منك عنك إن غفلت عنه، وإن أعطيته نفسك أعطاك رفده، وهو حَمَّال أوجه، وإلى هذه النكتة أشار أبو الدرداء رضي الله

--------------------------------------------

(1) رواه ابن أبى شيبة في مصنفه 10/ 485 نقلا عن كتاب معرفة شأن القرآن إعداد محمد أبو البشر رفيع الدين صـ 86.

(2) أخرجه الدارمي في سننه رقم 2312 كتاب فضائل القرآن باب تعاهد القرآن، نقلا عن الكتاب السابق الإشارة إليه. صـ 79
এই বিষয়ের প্রতি মুসলমানদের গুরুত্বারোপ প্রথমত কুরআনের প্রতিরক্ষার রূপ হিসেবে প্রকাশ পায়, যা অবশেষে এমন এক ইলমের দিকে ধাবিত করে যা অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)। আর দ্বিতীয়টির স্থায়িত্ব প্রথমটির নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং অলঙ্কারশাস্ত্র হলো অলৌকিকত্ব (إعجاز) উন্মোচনের চাবিকাঠি, আর অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলোই হলো অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল ভিত্তি।

কুরআন একটি অমূল্য ভাণ্ডার যা প্রতিটি যুগ তার স্বীয় উপকরণের মাধ্যমে উন্মোচন করে, যাতে তা থেকে এর মণি-মুক্তা ও রত্নরাজি আহরণ করা যায়। এটি অত্যন্ত মহিমান্বিত; যখনই একে তন্ন তন্ন করে অনুসন্ধান করা হয়, এটি ততোই দান করে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: "যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণ করতে চায়, সে যেন কুরআনকে অনুসন্ধান করে; কেননা এতে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলের ইলম নিহিত রয়েছে।" (১) , তাই অধিক পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের কুরআন সংশ্লিষ্ট ইলম বৃদ্ধি করা উচিত। কেননা বারবার পাঠে এটি পুরনো হয় না, বরং একে উদ্দীপ্ত না করে ফেলে রাখাই হলো চরম লোকসান। মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "কাপড় যেমন জীর্ণ হয়ে যায়, তেমনি কিছু সম্প্রদায়ের অন্তরে কুরআন জীর্ণ হয়ে যাবে। তারা এটি তড়িঘড়ি করে পাঠ করবে কিন্তু এর প্রতি কোনো স্পৃহা বা স্বাদ অনুভব করবে না। তারা নেকড়ের হৃদয়ের উপর ভেড়ার চামড়া পরিধান করবে। তাদের কর্মকাণ্ড হবে লোভাতুর যা ভয়শূন্য। তারা অবহেলা করলে বলবে আমরা অচিরেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাব, আর মন্দ কাজ করলে বলবে আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে, আমরা তো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করি না।" (২) ।

এটি সাধারণ বা তুচ্ছ নয়, বরং এর গূঢ় রহস্য নিহিত রয়েছে এর সহজবোধ্যতার মাঝে। আপনি যদি গাফেল বা অমনোযোগীর ন্যায় এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, তবে এটি আপনাকে কিছুই প্রদান করবে না। কেননা এর পবিত্রতার দাবি হলো, আপনি যদি এর প্রতি উদাসীন হন তবে এটি আপনার প্রতি আপনার চেয়েও বেশি বিমুখ থাকবে। কিন্তু আপনি যদি নিজেকে এর নিকট সঁপে দেন, তবে এটি আপনাকে এর অনুগ্রহ দান করবে। এটি বহুমুখী অর্থবহ (حمال أوجه); আর এই সূক্ষ্ম রহস্যের (نكتة) প্রতিই আবু দারদা (রা.) ইঙ্গিত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি শাইবা তার মুসান্নাফ-এ (১০/৪৮৫) এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন, যা মুহাম্মদ আবু আল-বাশার রফিউদ্দিন কর্তৃক সংকলিত 'মারেফাতু শানিল কুরআন' গ্রন্থ (পৃ. ৮৬) থেকে উদ্ধৃত।

(২) দারেমি এটি তার সুনান-এ (হাদিস নং ২৩১২, কিতাব ফাদায়িলুল কুরআন, পরিচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াত করা) উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন, যা পূর্বে উল্লিখিত গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। পৃ. ৭৯
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
عنه حين قال "لا يكون الرجل فقيها حتى يحمل الآية الواحدة على محامل متعددة (1)

ويدور القرآن مع الزمن فيفيض عليه من سَيْبه حسب طلعة السائرين على مدرجات هذا الزمن، وكلما امتدت إليه يد لم يُصْفِرْها، أو لهفة ظمأى ما صد عنها، بل كان الرُّواء، يعطى لكلٍ شِرْبَه، وعلى حسب الدِّلاء يكون العطاء.

اثنان لا يخجل أحدهما من الآخر ولا يستحِي منه ولا يعارضه، القرآن كتاب الله المقروء، والكون كتابه المنظور، لذلك لا تصادفُ نَفْرةً من أحدهما في مواجهة الآخر.

ولقد قال الله تعالى: {قُلِ انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا تُغْنِي الْآياتُ وَالنُّذُرُ عَنْ قَوْمٍ لا يُؤْمِنُونَ} (يونس: 101) وحين كفّ الإنسان نظره عن رؤية القدرة الإلهية في الكون، أنزل الله كلمته المسموعةَ في هذا القرآن فألح القرآن في دعوته إلى أن يُفْترى شئ من مثله، وإذ قالوا: افتراه وليس من عند الله دعاهم إلى افتراءِ مثله، وعجزوا جميعا متظاهرين متعاونين أو فرادى ناكصين {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْأِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} (الإسراء: 88) .

واستحكمت الغيرة في نفوس العلماء وراعهم أن ينال أحد من كتاب الله فأخذوا في بيان إعجازه وجوها عدة. حتى أفضت الدراسة إلى اعتبارِ رُؤيةِ التطابق بين القرآن وآفاق الكون في علوم العصر الحديثة وُجوهاً للإعجاز، أو بينه وما في النفس من دقائق الأسرار.

--------------------------------------------

(1) الفوز الكبير في أصول التفسير، ولي الله الدهلوي ص98.
তাঁর সম্পর্কে যখন তিনি বলেন, "একজন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ফকিহ (فقيه) হতে পারে না, যতক্ষণ না সে একটি আয়াতকে একাধিক সম্ভাব্য অর্থের (محامل متعددة) প্রেক্ষাপটে বিচার করতে পারে (১)।

কুরআন সময়ের সাথে আবর্তিত হয় এবং সময়ের সিঁড়িতে আরোহণকারীদের সামর্থ্য অনুযায়ী তার অবারিত ধারা থেকে তাদের ওপর জ্ঞান বর্ষণ করে। যখনই কোনো হাত এর দিকে প্রসারিত হয়েছে, এটি তাকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেয়নি, অথবা কোনো পিপাসার্ত ব্যাকুলতা এর থেকে বঞ্চিত হয়নি; বরং এটি ছিল এমন এক সুপেয় বারিধারা, যা প্রত্যেককে তার প্রয়োজন অনুযায়ী পান করিয়েছে এবং বালতির (الدلاء) আকার অনুযায়ী এর দান বরাদ্দ হয়েছে।

দুটি বিষয় এমন রয়েছে যাদের একটি অন্যটির সামনে লজ্জিত হয় না, সংকুচিত হয় না এবং বিরোধিতাও করে না; একটি হলো কুরআন—আল্লাহর পঠিত কিতাব, আর অন্যটি হলো মহাবিশ্ব—তাঁর দৃশ্যমান কিতাব। তাই একটির মুখোমুখি হলে অন্যটি থেকে কোনো বিমুখতা পরিলক্ষিত হয় না।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {বলুন, তোমরা লক্ষ্য করো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে কী কী রয়েছে। আর নিদর্শনাবলি ও সতর্ককারীগণ এমন সম্প্রদায়ের কোনো উপকারে আসে না যারা ঈমান আনে না} (ইউনূস: ১০১)। আর মানুষ যখন মহাবিশ্বে খোদায়ী কুদরত দেখার থেকে তার দৃষ্টি সরিয়ে নিল, তখন আল্লাহ এই কুরআনে তাঁর শ্রুত বাণী নাজিল করলেন। অতঃপর কুরআন তার দাওয়াতে এই চ্যালেঞ্জ পেশ করার ব্যাপারে অবিচল থাকল যে, এর অনুরূপ কিছু তৈরি করা হোক। আর যখন তারা বলল: সে এটি মিথ্যা রচনা (افتراء) করেছে এবং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়, তখন তিনি তাদের এর অনুরূপ মিথ্যা রচনা (افتراء) করার আহ্বান জানালেন। কিন্তু তারা সবাই দলবদ্ধ ও সহযোগী হয়ে কিংবা এককভাবে পিছু হটে গিয়ে অক্ষমতা প্রকাশ করল: {বলুন, যদি মানুষ ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ আনয়নের জন্য সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়} (আল-ইসরা: ৮৮)।

আলেমদের অন্তরে দ্বীনি মর্যাদা ও গায়রত (غيرة) সুদৃঢ় হলো এবং আল্লাহর কিতাবের কোনো অমর্যাদা হওয়া তাদের বিচলিত করল। ফলে তারা এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিভিন্ন দিক বর্ণনা করতে শুরু করলেন। এমনকি গবেষণা এই পর্যায়ে উপনীত হলো যে, আধুনিক বিজ্ঞানের প্রেক্ষাপটে কুরআন ও মহাবিশ্বের দিগন্তের মধ্যকার সামঞ্জস্যকে অলৌকিকত্বের (إعجاز) অন্যতম দিক হিসেবে গণ্য করা হলো, অথবা কুরআনের সাথে মানবাত্মার গূঢ় রহস্যের সামঞ্জস্যকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাউজুল কাবির ফি উসুলিত তাফসির, শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি, পৃষ্ঠা ৯৮।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
وتدخل ضمن هذين الإطارين منظوماتُُ أخرى فرعيهٌ تدل على مدى سَعة وجوه الإعجاز القرآني، وكثرة القائمين على العناية بها.

ولم يَحْبُ الله أمة بمثل ما أوتيت أمة الإسلام، فقد خَصَّها بالفضل كله، بنبيها الخاتم صلى الله عليه وسلم وبكتابه الخالد المعجز، وكونِها خيرَ أمة أخرجت للناس.

وجعل عصمتَها بكتابِه سرَّ قوتها، وتمسكَها به سبيلَ هدايتها فهو الكتاب الذي وصفه النبي صلى الله عليه وسلم حين قال: " مأدبة الله والنور المبين، والشفاء النافع، عصمةٌ لمن تمسك به، ونجاة لمن اتبعه، لا يزيغ فيستعتب، ولا يعوج فيقوم، ولا تنقضي عجائبه ولا يخلق من كثرة الرد (1) ".

المعجزة القولية الكبرى، يحوى في آمادِ آبادِ سَعته أعاظم العجائب الكونية، ردَّ على طالبي الآيات الحسية ليردهم إليه، فأخرس في نفوسهم الكلامَ بإقامة التوجيه نحو القرآن وحده.

وقد حكى عنهم قولهم {وَقَالُوا لَوْلا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آيَاتٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّمَا الْآياتُ عِنْدَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ يُتْلَى عَلَيْهِمْ} (العنكبوت 50، 51)

ولم يكن التحدي من القرآن إلا لمن لم يقبل كونه كلام الله، فحين يكون كلاما لأحد من البشر يتصور عدم انفراد قائله بمثله، ولم يكن لأحد أبدا أن يحوز ميزة في كلام لم يبلغه في درجته سابق أو لاحق.

وهاهو القرآن عبر القرون جميعا يمد تحديه شامخا ما نال منه أحد أبدا إلا كما قيل:

--------------------------------------------

(1) أخرجه الحاكم من حديث عبد الله بن مسعود 1، 555
এই দুই কাঠামোর অধীনে আরও অন্যান্য উপ-ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা কুরআনের মুজিযার দিগন্তের ব্যাপকতা এবং এর পরিচর্যায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রাচুর্যের প্রমাণ দেয়।

আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মাদিয়াকে যা দান করেছেন তা অন্য কোনো উম্মতকে দান করেননি। তিনি এই উম্মতকে সকল প্রকার শ্রেষ্ঠত্ব দ্বারা বিশেষায়িত করেছেন—তাঁদের সর্বশেষ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে, তাঁর চিরন্তন মুজিযাসম্পন্ন কিতাবের মাধ্যমে এবং তাঁদেরকে মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করার মাধ্যমে।

তিনি তাঁর কিতাবের মাধ্যমে এই উম্মতের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে তাদের শক্তির মূল রহস্য এবং একে আঁকড়ে ধরাকে তাদের হিদায়েতের পথ বানিয়েছেন। এটি সেই কিতাব যার গুণগান বর্ণনা করতে গিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এটি আল্লাহর দস্তরখান, সুস্পষ্ট নূর এবং উপকারী শিফা; যে একে আঁকড়ে ধরবে তার জন্য এটি সুরক্ষা এবং যে এর অনুসরণ করবে তার জন্য এটি মুক্তি। এটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না যে অনুযোগের অবকাশ থাকবে, আর এটি বক্র হয় না যে একে সংশোধন করতে হবে। এর বিস্ময়কর রহস্যগুলো কখনো শেষ হয় না এবং বারবার পাঠেও এর মাধুর্য পুরাতন হয় না (১)।"

এই মহান বাচনিক মুজিযা তার সুদূরপ্রসারী ব্যাপকতায় মহাবিশ্বের মহান বিস্ময়সমূহকে ধারণ করে আছে। যারা বাহ্যিক নিদর্শন দাবি করত, এটি তাদের সেই দাবির প্রতিবাদ করে তাদের পুনরায় নিজের দিকে ফিরিয়ে আনে। কেবল কুরআনের দিকে দিকনির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে এটি তাদের অন্তরের সমস্ত বাকবিতণ্ডাকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে।

আল্লাহ তাআলা তাদের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেছেন: {তারা বলে, তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তার নিকট কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ হলো না কেন? আপনি বলুন, নিদর্শন তো কেবল আল্লাহরই কাছে। আর আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী। তাদের জন্য কি এটি যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার নিকট কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়?} (সূরা আল-আনকাবুত: ৫০, ৫১)

কুরআনের চ্যালেঞ্জ কেবল তাদের জন্যই ছিল যারা একে আল্লাহর কালাম হিসেবে স্বীকার করত না। কেননা কোনো বাণী যখন মানুষের হয়, তখন কল্পনা করা যায় যে অন্য কেউও অনুরূপ কিছু বলতে সক্ষম হবে। কিন্তু এমন বাণীর ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়, যার মানে (মর্যাদায়) পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কেউই পৌঁছাতে পারেনি।

আর এই কুরআন যুগ যুগ ধরে স্বগৌরবে তার চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রেখেছে, কেউ কখনো এর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি; কেবল যেমনটি বলা হয়েছে:

--------------------------------------------

(১) হাকেম এটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন, ১/৫৫৫।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
كناطحٍ صخرةً يوما ليوهنها

فلم يضِرْها وأوهى قرنَه الوعل

وتنوعت أساليب العناية وأشكالها حين تناول المهتمون بإبراز وجوه الإعجاز على أنحاء عدة، تعرف ذلك من خلال هذه الأوراق البالغة في الدلالة قصورَ مَن خط ما فيها. وأسأل الله تعالى القبول والتوفيق إنه سميع قريب.

كاتبه

حسن عبد الفتاح أحمد
যেন কোনো একদিন এক পাহাড়ি ছাগল বিশাল এক শিলাখণ্ডকে দুর্বল করার অভিপ্রায়ে গুঁতো দিল

তাতে শিলার কোনো ক্ষতি হলো না, বরং পশুটি নিজের শিংকেই ভেঙে ফেলল

আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ যখন বহুবিধ পন্থায় একে উপস্থাপন করেছেন, তখন পরিচর্যার পদ্ধতি ও রূপসমূহও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। এই পৃষ্ঠাগুলোর মাধ্যমে আপনি তা অনুধাবন করতে পারবেন, যা একই সাথে এর লেখকের সীমাবদ্ধতারও স্পষ্ট পরিচায়ক। আমি মহান আল্লাহর নিকট কবুলিয়াত ও তাওফিক প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী।

লেখক

হাসান আব্দুল ফাত্তাহ আহমদ
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
سبب اختيار الموضوع

لم يقترح لي موضوع من جملة ما طرح، مما أربك سرعة الشروع فى تقصى جوانب البحث بصفة شمولية، لذلك رحت أفاضل بين الموضوع والآخر على أسس شخصية فردية بحتة، وكلما استقرت النفس على موضوع بكرةً حادت عنه عشية، إلى أن هداني الله تعالى إلى موضوع عناية المسلمين ببيان وجوه إعجاز القرآن الكريم.

وصَمدَت في نفسي فكرة البحث في هذا الموضوع حيث يدعمها واقع المسلمين اليوم. وكأنهم بحاجة ماسة فعلا إلى آية، لا أقول ليؤمنوا بالقرآن، ولكن ليعلنوا هم لأنفسهم أنهم جادون في الأخذ بما في هذا الكتاب.

وحفظ الله الكتابَ تتنوع فيه المعارض، فصروح الطباعة صورة من صور الحفظ، والمنتديات المتعلقة بها وجوه التباحث في القرآن الكريم صورة ثانية، والهيئات الدولية كالتي تتبع رابطة العالم الإسلامي والمنوط بها دراسات الكتاب والسنة عموما، وبيان وجوه الإعجاز فيهما خصوصاً مظهر آخر.

ومن الواجب أننا بعد بيان مثل هذه الوجوه للإعجاز القرآني علينا أن نخرج من ضيق القول إلى سعة العمل ورحبه، فالكلام لا يجدي دون تجسيده في صورة عملية.

نعم. حين نجوب أرجاء إثارة الكلمات القرآنية تمطرنا سموات عليائها بسامي المعاني، ولكن نجتزئ من الموضوعات ما يناسب إطار البحث دون تجوز أو تجاوز.
বিষয় নির্বাচনের কারণ

উপস্থাপিত বিষয়গুলোর মধ্য থেকে আমাকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় প্রস্তাব করা হয়নি, যা গবেষণার বিভিন্ন দিক সামগ্রিকভাবে অনুসন্ধানের কাজ শুরু করার গতিকে কিছুটা বিভ্রান্ত করেছিল। তাই আমি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও স্বতন্ত্র ভিত্তিতে বিষয়গুলোর মধ্যে তুলনা করতে শুরু করি। কোনো একটি বিষয় নিয়ে সকালে মন স্থির করলে বিকালেই তা থেকে বিচ্যুত হয়ে যেতাম। পরিশেষে মহান আল্লাহ আমাকে ‘কুরআনুল কারীমের অলৌকিকত্বের (إعجاز) স্বরূপ বর্ণনায় মুসলিমদের বিশেষ গুরুত্ব’ বিষয়টি নির্বাচনের তাওফিক দান করেন।

আমার অন্তরে এই বিষয়ে গবেষণার ধারণাটি দৃঢ় হয়েছে, কারণ আজকের মুসলিমদের বাস্তবতা একে সমর্থন করে। মনে হচ্ছে যেন তাদের সত্যিই একটি নিদর্শনের (آية) তীব্র প্রয়োজন; আমি এটি বলব না যে তারা কুরআনের ওপর ঈমান আনার জন্য নিদর্শন চায়, বরং তারা যেন নিজেরা নিজেদের কাছে এটি ঘোষণা করতে পারে যে তারা এই কিতাবে যা আছে তা গ্রহণে অত্যন্ত আন্তরিক।

আল্লাহ তাআলা এই কিতাব সংরক্ষণের বিভিন্ন মাধ্যম ও ক্ষেত্র বৈচিত্র্যময় করে দিয়েছেন। উন্নত মুদ্রণ ব্যবস্থা এই সংরক্ষণের একটি রূপ; কুরআনুল কারীম সংক্রান্ত বিভিন্ন ফোরাম বা আলোচনা সভা ও এর গবেষণার দিকগুলো দ্বিতীয় একটি রূপ; আর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো—যেমন মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের অন্তর্ভুক্ত সংস্থাগুলো, যাদের ওপর কিতাব ও সুন্নাহর সাধারণ গবেষণা এবং বিশেষভাবে এই দুটির অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো বর্ণনার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে—তা এর আরেকটি বহিঃপ্রকাশ।

কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) এ জাতীয় দিকগুলো বর্ণনা করার পর আমাদের জন্য এটি আবশ্যক যে, আমরা যেন কথার সংকীর্ণতা থেকে কর্মের প্রশস্ততার দিকে বেরিয়ে আসি। কারণ বাস্তব জীবনে রূপদান করা ছাড়া নিছক কথা কোনো উপকারে আসে না।

হ্যাঁ, যখন আমরা কুরআনী শব্দরাজির উচ্চমার্গীয় অর্থের রাজ্যে বিচরণ করি, তখন এর সুউচ্চ শিখর থেকে আমাদের ওপর মহান সব মর্মার্থ বর্ষিত হয়। তবে আমরা অতিকথন বা সীমালঙ্ঘন ব্যতিরেকে গবেষণার কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলোকেই কেবল গ্রহণ করি।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
وابتناءُ أمرٍ على غير أساس ينزع إلى التعجيل به وإن أقيم، وكذلك مظهر الدين لا يبقيه عدم جوهره وهو الإيمان، لِذلك يلزم الدخول إلى القرآن بسابق إيمان بحت بأنه غالب قاهر لسلطان العقل ونظريات العلم، متعانق هو والحقائق بآصرة الصدق والثبات، وإلا فما تغني الآيات والنذر عن قوم لا يؤمنون؟.

لهذا وغير هذا اخترت هذا الموضوع، موردا نفسي موارد التقحم بغير أهلية البحث، أشابه أهله وإن لم أشبه أدناهم.

عسى الله أن يجعل في عجز القصور قبولا، وفى قصور العجز منالا، وأن يكون الذي حمل على نفسه تتبع خطو السابقين قد أجمل في سبيلهم المسير، والله الهادي إلى سبيل الرشد وسواء الصراط.

والحمد لله رب العالمين
ভিত্তিহীন কোনো ভিত্তির ওপর কোনো বিষয় গড়ে তোলা তাকে দ্রুত বিনাশের দিকেই নিয়ে যায়, যদিও তা আপাতদৃষ্টিতে সুপ্রতিষ্ঠিত মনে হয়। তেমনিভাবে, দ্বীনের বাহ্যিক রূপ তার মূল নির্যাস তথা ঈমান (إيمان) ব্যতীত টিকে থাকতে পারে না। এই কারণেই পবিত্র কুরআনে প্রবেশের জন্য এমন এক বিশুদ্ধ বিশ্বাসের (إيمان) পূর্বপ্রস্তুতি আবশ্যক, যা বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্য ও বিজ্ঞানের তত্ত্বসমূহের ওপর বিজয়ী ও প্রবল হবে; যা সত্যবাদিতা (صدق) ও দৃঢ়তার (ثبات) বন্ধনে পরম সত্যের সাথে একীভূত থাকবে। অন্যথায়, যারা ঈমান (إيمان) আনয়ন করে না, তাদের নিকট নিদর্শনসমূহ ও সতর্কবাণী কোনো উপকারে আসে না।

এ কারণে এবং আরও অন্যান্য কারণে আমি এই বিষয়টি নির্বাচন করেছি; যদিও গবেষণার যথাযথ যোগ্যতা ছাড়াই নিজেকে এই দুঃসাহসিক কাজে নিয়োজিত করেছি, যাতে আমি অন্তত এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের সাদৃশ্য লাভ করতে পারি—যদিও আমি তাঁদের মধ্যে নিম্নস্তরের ব্যক্তিদের সমতুল্যও নই।

আশা করি আল্লাহ তাআলা আমার অক্ষমতাজনিত ত্রুটির মাঝে কবুলিয়াত দান করবেন এবং আমার এই সীমাবদ্ধতার মাঝে সাফল্যের নাগালে পৌঁছে দেবেন। আর যে ব্যক্তি পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণের গুরুভার গ্রহণ করেছে, সে যেন তাঁদের পথে সুন্দরভাবে চলতে পারে। আল্লাহই সঠিক পথ ও সরল পথের দিশারি।

আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
إيجاز البسط وإجمال التفصيل

في هذه الصفحات عرضت إلى عناية علماء الإسلام بتعريف المعجزة وبيان الإعجاز، ثم بالأسس التي عليها تبنى وجوه الإعجاز، ثم شرعت في المقابلة بين وحدة الوجه الإعجازي وتعدده موضحا نوعين من وجوه الإعجاز، أولهما: ما يتعلق بالنص القرآني من حيث إنه كلام عربي فقط، وثانيهما: ما استقر في عرف العلوم الكونية من عجائب القدرة في الكون مما صادف وجود إشارات لمثلها في القرآن الكريم. متناولا إياهما في إطار مظهر عناية المسلمين بذلك.

وفى معرض الحديث عن النوعين أشرت إلى ما يسر الله لي من كتب تناولت كل موضوع على حِدة، أو مزَجَتْ بينهما، أو تناولت من الوجوه كلها وجها أو بعض وجوه لبيان ما يتعلق بها مؤكدا في البحث ضرورة التحري والتمهل في احتساب نظريات العلم تفسيرا مطلقا لبعض آيات القرآن الكريم.

وهذه عبارة مقتضبة عجلى استعرضت بها رءوس المسائل التي دار حولها ترقيع ما انتسجتهُ من الإقدام على مثل هذا الأمر مع تخلُّفِ العُدَّة والعَتاد عن مثلي، لسقوط الأهلية مني لبحوث علمية كهذه، ولكن الأمل يحدوني نحو المشابهة للعلماء وإن حط بي القصور عن التشبه، عسى أن يكون التشبه بهم وجه شبه.

هذا والله تعالى ولي التوفيق
বিস্তারের সংক্ষিপ্তকরণ এবং বিস্তারিতের সারসংক্ষেপকরণ

এই পৃষ্ঠাগুলোতে আমি মুজিজা (معجزة) বা অলৌকিকত্বের সংজ্ঞা এবং এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) স্বরূপ বর্ণনার প্রতি মুসলিম আলেমদের বিশেষ অভিনিবেশের বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। এরপর সেই ভিত্তিগুলো আলোচনা করেছি যার ওপর অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকগুলো প্রতিষ্ঠিত। অতঃপর আমি অলৌকিকত্বের (إعجاز) একক ও বহুবিধ রূপের মধ্যে তুলনা করতে শুরু করেছি এবং অলৌকিকত্বের (إعجاز) দুটি ধরন স্পষ্ট করেছি: প্রথমটি হলো কুরআনের পাঠ্য বা টেক্সট সংক্রান্ত, যা কেবল আরবি ভাষা হওয়ার প্রেক্ষিত থেকে; এবং দ্বিতীয়টি হলো মহাজাগতিক বিজ্ঞানের পরিমণ্ডলে প্রতিষ্ঠিত মহাবিশ্বের কুদরতের সেইসব বিস্ময়কর বিষয়, যেগুলোর ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে ইশারা পাওয়া যায়। মুসলমানদের এই বিষয়ক বিশেষ যত্নের কাঠামোর মধ্যে আমি এই দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।

এই দুই প্রকার সম্পর্কে আলোচনার প্রসঙ্গে আমি আল্লাহ তাআলা আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন এমন কিছু কিতাবের প্রতি ইঙ্গিত করেছি যা প্রতিটি বিষয়কে পৃথকভাবে আলোচনা করেছে, অথবা উভয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে, কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করার জন্য সকল দিক থেকে একটি বা কয়েকটি দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। আমি এই গবেষণায় পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াতের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলোকে পরম ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান (تحري) ও ধীরস্থিরতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছি।

এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও ত্বরিত উপস্থাপনা যার মাধ্যমে আমি সেই সব মৌলিক বিষয়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছি, যা আমার মতো সম্বলহীন ও যোগ্যতা (أهلية) বিচ্যুত ব্যক্তির এই ধরণের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রবৃত্ত হওয়ার অপূর্ণতা সংশোধনের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। কিন্তু আলেমদের সাদৃশ্য লাভের আকাঙ্ক্ষা আমাকে চালিত করে, যদিও সীমাবদ্ধতা আমাকে তাদের সমকক্ষ হওয়া থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে; হতে পারে তাদের অনুকরণই তাদের সাথে সাদৃশ্যের একটি উপায় হয়ে দাঁড়াবে।

পরিশেষে, আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
مظهر العناية بما هية الإعجاز

مادة عجز في القاموس المحيط أوردها الفيروز آبادي على النحو التالي:

العجز مثلثة وكَندُسٍ وكَتِفٍ مُؤَخَّر الشيء جمع أعجاز، وأعجزَه الشيءُ فاته، وأعجز فلانا وجده عاجزا وصيره عاجزا، والتعجيز التثبيط والنسبة إلى العَجزِ.

ومعجزة النبي صلى الله عليه وسلم ما أَعْجَزَ به الخصمَ عند التحدي، والهاءُ للمبالغة وعاجزٌ فلانٌُ ذهب فلم يُوْصَلْ إليه، وفلاناً سابَقَهَ فعَجزَه فسبقه، وإلى ثِقَةٍ مال إليه. وتَعَجَّزْتُ البعيرَ ركبتُ عَجُزَه.

وقوله تعالى {مُعَاجِزِينَ} "أي يعاجزون الأنبياءَ وأولياءهم، يقاتلونهم ويمانعونهم ليعيدوهم إلى العجز عن أمر الله تعالى، أو معاندين مسابقين أو ظانين أنهم يعجزوننا (1) .

وعرَّف الرازي في محصله المعجز بأنه "أمر خارق للعادة مقرون بالتحدي، مع عدم المعارضة. وعقَّب بمحترزات التعريفِ فقال:

وإنما قلنا - والكلام للفخر الرازي - أمر: لأن المعجز قد يكون إتيانا بغير المعتاد، وقد يكون منعا من المعتاد، وإنما قلنا: إنه خارق للعادة: ليتميز به المدعى عن غيره، وإنما قلنا إنه مقرون بالتحدي لئلا يتخذ الكاذب مُعْجِزَ مَنْ

--------------------------------------------

(1) باب الزاى فصل العين جـ2 صـ187، صـ188 من القاموس المحيط لمجد الدين محمد بن يعقوب الفيروز آبادى الطبعة الثانية، مصطفى البابى الحلبى.
অলৌকিকত্বের (الإعجاز) স্বরূপ বিশ্লেষণে যত্নের বহিঃপ্রকাশ

'আল-কামুস আল-মুহিত' গ্রন্থে ফিরোজাবাদী 'আ-জা-যা' মূলধাতুটিকে নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করেছেন:

অক্ষমতা (العجز) শব্দটি আঈন বর্ণের তিনটি হরকতসহ (যবর, যের, পেশ) এবং 'কানদুস' ও 'কাতিফ'-এর ওজনে পঠিত হয়; এর অর্থ হলো কোনো জিনিসের পশ্চাৎভাগ, যার বহুবচন হলো 'আ’জায'। আর কোনো বিষয় কারো নাগালের বাইরে চলে যাওয়াকে 'আ’জাজাহু' বলা হয়। কাউকে অক্ষম পাওয়া অথবা তাকে অক্ষম করে দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। নিরুৎসাহিত করা এবং অক্ষমতার (العجز) দিকে সম্বন্ধ করাকে 'তাজিজ' বলা হয়।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোজেজা (معجزة) হলো তা-ই, যার মাধ্যমে তিনি চ্যালেঞ্জ (التحدي) প্রদানের সময় প্রতিপক্ষকে অক্ষম করে দিয়েছেন। এখানে 'হা' অক্ষরটি আধিক্য প্রকাশের (المبالغة) জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। কোনো ব্যক্তি চলে যাওয়া এবং তার নাগাল না পাওয়াকেও 'আ-জিজ' বলা হয়। প্রতিযোগিতায় কাউকে হারিয়ে দেওয়া এবং তার চেয়ে অগ্রগামী হওয়াও এর অর্থ। আর কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির দিকে ঝুঁকে পড়াকেও 'ইলা সিকাতিন' বলা হয়। উটের পিঠের পেছনের অংশে আরোহণ করাকে 'তাআজ্জাজতুল বাইরা' বলা হয়।

আর মহান আল্লাহর বাণী "মুআজিজিন" (مُعَاجِزِينَ) এর অর্থ হলো—তারা নবীগণ এবং তাঁদের বন্ধুদের অক্ষম করে দিতে চায়; তারা তাঁদের সাথে লড়াই করে এবং বাধা প্রদান করে যাতে তাঁদেরকে আল্লাহর নির্দেশ পালনে অক্ষমতার (العجز) দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে। অথবা এর অর্থ হলো—তারা অবাধ্য হয়ে আগে বেড়ে যেতে চায় কিংবা এমন ধারণা করে যে তারা আমাদের অক্ষম করে দেবে (১)।

ইমাম রাযী তাঁর 'মুহাসসাল' গ্রন্থে মোজেজার (المعجز) সংজ্ঞায় বলেছেন: "এটি এমন এক স্বভাববিরুদ্ধ (خارق للعادة) বিষয় যা চ্যালেঞ্জের (التحدي) সাথে যুক্ত এবং যার কোনো মোকাবিলা নেই।" এরপর তিনি সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতাগুলো উল্লেখ করে বলেন:

ফখর রাযীর বক্তব্য হলো—আমরা 'বিষয়' বলেছি কারণ মোজেজা (المعجز) কখনো অস্বাভাবিক কিছু আনয়ন করার মাধ্যমে হতে পারে, আবার কখনো স্বাভাবিক কোনো কিছু থেকে বিরত রাখার মাধ্যমেও হতে পারে। আমরা 'স্বভাববিরুদ্ধ' (خارق للعادة) বলেছি যাতে দাবিদারের বিষয়টি অন্যদের থেকে আলাদা করা যায়। আর আমরা একে 'চ্যালেঞ্জের (التحدي) সাথে যুক্ত' বলেছি যাতে কোনো মিথ্যাবাদী অন্যের মোজেজাকে (معجز) নিজের বলে চালিয়ে দিতে না পারে...

--------------------------------------------

(১) বাবুল ঝা, ফাসলুল আঈন, ২য় খণ্ড, ১৮৭-১৮৮ পৃষ্ঠা; মাজদুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদী রচিত 'আল-কামুস আল-মুহিত', দ্বিতীয় সংস্করণ, মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
مضى حجة لنفسه، وليتميز عن الإرهاص والكرامات. وإنما قلنا: إنه مع عدم المعارضة، ليتميز عن السحر والشعبذة (1) .

والمعجزة أمر خارق للعادة مقرون بالتحدي، سالم عن المعارضة وهى: إما حسية، وإما عقلية (2) .

والمعجز بهذا المعنى يدخل فيه من وجوه الإعجاز ما اتُّفِقَ عليها وما اخْتُلِفَ فيها ويخرج عنه ما قاله أبو الحسن الأشعري على النحو الذي سيأتي إن شاء الله بيانه عند تقسيم الوجوه.

ولقد أجمع عامة الباحثين من علماء العربية والتشريع والفلسفة والفرق المختلفة، أن القرآن معجز، فما معنى أنه معجز؟

للجواب عن معنى الإعجاز ثَمَّةَ تعريفان للإعجاز (3) :-

أحدهما: هو المعتمد لدى جمهور العلماء والباحثين وهو: أن القرآن قد سما في علوه إلى شأو بعيد بحيث تعجز القدرة البشرية عن الإتيان بمثله، سواء كان هذا العلو في بلاغته أو تشريعه أو مغَيَّباته أو غير ذلك.

ثانيهما: تفرد به (4) أبو إسحاق إبراهيم بن سيار بن هاني النظام (ت 231هـ) اللغوي والمعتزلي المعروف ثم تبعه في ذلك بعض الناس من فرقته

--------------------------------------------

(1) كتاب المحصل " وهو محصل أفكار المتقدمين والمتأخرين من الحكماء والمتكلمين " لأبى عبد الله محمد بن عمر بن حسين فخر الدين الرازي (544هـ – 606 هـ) (1148 م – 1209 م) تقديم وتحقيق، دكتور / حسين أتاى مكتبة التراث 22 شارع الجمهورية – القاهرة – صـ489 الطبعة الأولى.

(2) الإتقان للسيوطي صـ1001.

(3) من روائع القرآن تأملات علمية وأدبية في كتاب الله عز وجل د/ محمد سعيد رمضان البوطي. مكتبة الفارابي - دمشق، صـ125بتصرف يسير.

(4) مقالات الإسلاميين للأشعري جـ1، صـ296
এটি স্বীয় প্রমাণের জন্য অতিবাহিত হয়েছে এবং একে নবুওয়াত-পূর্ব নিদর্শন (إرهاص) ও কারামত (كرامات) থেকে পৃথক করার জন্য। আর আমরা বলেছি: এটি বিরোধিতার অনুপস্থিতিতে হবে, যাতে একে জাদু (سحر) ও হাতসাফাই (شعبذة) থেকে আলাদা করা যায় (১)।

মুজিজা (معجزة) হলো স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী (خارق للعادة) এমন এক বিষয় যা চ্যালেঞ্জ (تحدي) প্রদান সম্বলিত এবং যা বিরোধিতার মোকাবিলা থেকে মুক্ত। আর তা হচ্ছে: হয় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (حسية), অথবা বুদ্ধিগ্রাহ্য (عقلية) (২)।

এই অর্থে অলৌকিক (معجز) বিষয়ের মধ্যে অলৌকিকত্বের (إعجاز) এমন সব দিক অন্তর্ভুক্ত হয় যা ঐকমত্যপূর্ণ অথবা যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আর এটি থেকে আবু হাসান আল-আশআরি যা বলেছেন তা বাদ পড়ে যায়, যেভাবে আল্লাহ চাহেন তো দিকগুলোর বিভাজনের সময় তার বিবরণ সামনে আসবে।

আরবি ভাষাবিদ, আইন বিশেষজ্ঞ, দার্শনিক এবং বিভিন্ন দল ও মতের সাধারণ গবেষকগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কুরআন অলৌকিক; তবে এটি অলৌকিক হওয়ার অর্থ কী?

অলৌকিকত্বের (إعجاز) অর্থের উত্তরে এখানে দুটি সংজ্ঞা রয়েছে (৩):-

প্রথমটি: এটিই অধিকাংশ (جمهور) আলেম ও গবেষকদের নিকট নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত। আর তা হলো: কুরআন তার সুউচ্চ মর্যাদায় এমন এক সুদূর শিখরে পৌঁছেছে যেখানে মানুষের ক্ষমতা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম, চাই এই শ্রেষ্ঠত্ব এর অলঙ্কারশাস্ত্রে (بلاغة) হোক, এর বিধান প্রণয়নে (تشريع) হোক, এর অদৃশ্যের সংবাদে (مغيبات) হোক অথবা অন্য কোনো বিষয়ে হোক।

দ্বিতীয়টি: এই অভিমতটি এককভাবে পোষণ (تفرد) করেছেন সুপরিচিত ভাষাবিদ ও মুতাজিলি (معتزلي) আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে সাইয়ার ইবনে হানি আল-নাজ্জাম (মৃত্যু: ২৩১ হি.)। অতঃপর তার দলের কিছু লোক এ বিষয়ে তার অনুসরণ করেছে।

--------------------------------------------

(১) কিতাব আল-মুহাসসাল, যা হলো "প্রাচীন ও পরবর্তী যুগের দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদদের চিন্তার নির্যাস", লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর বিন হুসাইন ফখর উদ্দিন আল-রাজি (৫৪৪ হি. – ৬০৬ হি.) (১১৪৮ খ্রি. – ১২০৯ খ্রি.)। উপস্থাপনা ও সম্পাদনা: ড. হুসাইন আতাই, মাকতাবাতুত তুরাস, ২২ শারা আল-জুমহুরিয়া – কায়রো – পৃষ্ঠা: ৪৮৯, প্রথম প্রকাশ।

(২) আল-ইতকান লি-সুয়ুতি, পৃষ্ঠা: ১০০১।

(৩) মিন রাওয়ায়িল কুরআন: তাম্মুলাত ইলমিয়্যাহ ওয়া আদাবিয়্যাহ ফি কিতাবিল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা, ড. মুহাম্মদ সাঈদ রমজান আল-বুতি। মাকতাবাতুল ফারাবি - দামেস্ক, পৃষ্ঠা: ১২৫, সামান্য পরিমার্জিত।

(৪) মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন লি-আশআরি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২৯৬।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
وجماعته، فالإعجاز عنده هو: أن الله قد صرف قدرات عباده وسلب همتهم وحبس ألسنتهم عن الإتيان بمثله.

وإتماما للفائدة فإنه إذا كان النظام أول من جاهر بالقول بالصرفة، إلا أن ابن الراوندي أحمد بن يحيى المتوفى سنة 245 في كتابه "فضيحة المعتزلة" الذي رد به على كتاب الجاحظ "فضيلة المعتزلة" هو أول من أثار مذهب الصرفة المشهور ونَسَبَهُ إلى أبي إسحاق إبراهيم النظام، وذلك ما أورده أبو الحسين عبد الرحيم بن محمد بن عثمان الخياط المعتزلي في كتابه "الانتصار" الذي ينقض فيه كتاب ابن الراوندي "فضيحة المعتزلة" (1) .

والتعريف الأول يجعل مصدر الإعجاز علو منزلة القرآن عن مستوى الطوق البشري.

والتعريف الثاني يجعل المصدر حبس القدرات وصرف الهمم عن معارضته وتقليده، فالمنع هو المعجز وليس القرآن.

وابن حزم يروي في كتابه الفصل (2) كلاما عزاه إلى الباقلاني إذ يقول عنه: "ورأيت للباقلاني في فصل من كلامه، أن الناس ليسوا بعاجزين عن مثل هذا القرآن ولا قادرين عليه، ولا هم عاجزون عن الصعود إلى السماء، ولا عن إحياء الموتى، ولا عن خلق الأجسام ولا اختراعها، ولا قادرين على ذلك. هذا نص كلامه دون تأويل منا عليه، ثم قال: إن القدرة لا تقع إلا حيث يقع العجز"

--------------------------------------------

(1) قضية الإعجاز القرآني صـ143.

(2) الفصل جـ5، صـ11.
এবং তাঁর দল; তাঁর মতে অলৌকিকত্ব (إعجاز) হলো: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সক্ষমতাকে বিমুখ করেছেন, তাঁদের সংকল্পকে হরণ করেছেন এবং এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে তাঁদের জিহ্বাকে রুদ্ধ করেছেন।

আলোচনার পূর্ণতার স্বার্থে, যদিও আল-নাজ্জাম সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে সারফা (الصرفة) বা বিমুখ করার মতবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তবে ইবনে আল-রাওয়ান্দি আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া (মৃত্যু ২৪৫ হিজরি) তাঁর 'ফাদিহাত আল-মুতাজিলা' গ্রন্থে—যেটি তিনি আল-জাহিজের 'ফাদিলাত আল-মুতাজিলা' গ্রন্থের প্রত্যুত্তরে লিখেছিলেন—সর্বপ্রথম বিখ্যাত সারফা (الصرفة) মতবাদটি উত্থাপন করেন এবং একে আবু ইসহাক ইব্রাহিম আল-নাজ্জামের প্রতি নিসবত (نسبة) করেন। আর এটিই আবু আল-হুসাইন আব্দুর রহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-খাইয়্যাত আল-মুতাজিলি তাঁর 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি ইবনে আল-রাওয়ান্দির 'ফাদিহাত আল-মুতাজিলা' গ্রন্থটির খণ্ডন করেছেন (১)।

প্রথম সংজ্ঞাটি অলৌকিকত্বের (إعجاز) উৎস হিসেবে মানুষের সাধ্যের ঊর্ধ্বে কুরআনের সুউচ্চ মর্যাদাকে গণ্য করে।

আর দ্বিতীয় সংজ্ঞাটি (অলৌকিকত্বের) উৎস হিসেবে এর বিরোধিতা ও অনুকরণ থেকে সক্ষমতাকে রুদ্ধ করা এবং সংকল্পকে বিমুখ করাকে সাব্যস্ত করে। সুতরাং সেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিই হলো অলৌকিক (معجز), কুরআন স্বয়ং নয়।

ইবনে হাজম তাঁর 'আল-ফাসল' (২) গ্রন্থে এমন কিছু কথা বর্ণনা করেছেন যা তিনি আল-বাকিল্লানির প্রতি সম্বন্ধ (عزاه) করেছেন, সেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "আমি আল-বাকিল্লানির বক্তব্যের একটি অধ্যায়ে দেখেছি যে, মানুষ এই কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম (عاجزين) নয়, আবার সক্ষমও নয়; তারা আকাশে আরোহণ করতে, মৃতকে জীবিত করতে, শরীর সৃষ্টি করতে বা উদ্ভাবন করতে অক্ষম নয়, আবার এসবে সক্ষমও নয়। এটিই আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা (تأويل) ছাড়াই তাঁর বক্তব্যের মূল পাঠ। অতঃপর তিনি বলেন: সক্ষমতা কেবল সেখানেই কার্যকর হয় যেখানে অক্ষমতা (عجز) পরিলক্ষিত হয়।"

--------------------------------------------

(১) কাদিয়াতুল ইজাজ আল-কুরআনি, পৃষ্ঠা ১৪৩।

(২) আল-ফাসল, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১১।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومن أراد الرجوع إلى الرد على هذا الكلام الذى أسماه ابن حزم بالهوس فليطالعه عند كلام ابن حزم على المعجزات.

وإيراد كلام الباقلاني هنا مقصود، لبيان جملة من الأقوال التي ضربت في معنى الإعجاز بسهم، لكن الباقلانِيَّ لم ينظر إلى المعجز بقدر نظره الناسَ منطلق بدوالعجز والقدرة، ويفهم من قوله، أن الناس على جبلتهم لا يوصفون بعجز ولا قدرة، فمن أودعت فيه قدرة كان قادرا، ومن أودع فيه العجزُ صار عاجزا. ولا تُعْلم القدرة إلا حيث يبرز العجْزُ فمن عجز عن أمر فإن هذا الأمر يكون مقدورا عليه من غيره حتما، لأنه لا يوصف العاجز إلا حيث لم يتحقق منه الأمر، والأمر حتما لا يُعْلم إلا حيث يقع مقدورا من الغير.

ويسوق ابن حزم (1) قولا للأشعري بأن المعجز الذي تحدى الناسَ بالمجيء بمثله هو الذي لم يزل مع الله تعالى ولم يفارقه قط ولا نزل إلينا ولا سمعناه.

ويقول ابن حزم في رده على ذلك: "وهذا كلام في غاية النقصان والبطلان، إذ من المحال أن يكلف أحد أن يجيء بمثل ما لم يعرفه قط ولا سمعه، وأيضا فيلزمه ولابد بل هو نفس قوله: إذا لم يكن المعجز إلا ذلك فالمسموع المتلو عندنا ليس معجزا، بل مقدور على مثله، وهذا كفر مجرد، لا خلاف فيه لأحد، فإنه خلاف للقرآن لأن الله تعالى ألزمهم بسورة أو عشر سور منه وذلك الكلام الذي هو عند الأشعري هو المعجز ليس له سور ولا كثير، بل هو واحد فقط، هذا القول والحمد لله رب العالمين".

--------------------------------------------

(1) الفصل جـ3، صـ15.
যে ব্যক্তি ইবনে হাজম কর্তৃক প্রলাপ (هوس) হিসেবে অভিহিত এই বক্তব্যের খণ্ডন দেখতে চান, তিনি অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (معجزات) সম্পর্কে ইবনে হাজমের আলোচনাটি পাঠ করতে পারেন।

এখানে আল-বাকিল্লানির উক্তিটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো এমন কিছু মতামতের সমষ্টি তুলে ধরা যা অলৌকিকত্বের (إعجاز) তাৎপর্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে আল-বাকিল্লানি অলৌকিক নিদর্শনের (معجز) দিকে ততটা দৃষ্টি দেননি যতটা তিনি অক্ষমতা (عجز) ও সক্ষমতার (قدرة) প্রেক্ষাপট থেকে মানুষের অবস্থার ওপর আলোকপাত করেছেন। তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, মানুষ তাদের স্বভাবগত সৃষ্টিগত দিক থেকে অক্ষমতা বা সক্ষমতা কোনো গুণেই বিশেষিত নয়; বরং যার মধ্যে সক্ষমতা (قدرة) অর্পণ করা হয় সে সক্ষম (قادر) হয় এবং যার মধ্যে অক্ষমতা (عجز) অর্পণ করা হয় সে অক্ষম (عاجز) হয়ে পড়ে। আর অক্ষমতা (عجز) প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত সক্ষমতা (قدرة) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায় না। সুতরাং কেউ কোনো বিষয়ে অক্ষম (عجز) হলে সেই বিষয়টি অন্য কারো জন্য নিশ্চিতভাবেই সক্ষমতা বা আয়ত্তাধীন বিষয় হিসেবে গণ্য হবে। কারণ, কোনো বিষয় কারো দ্বারা সম্পাদিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অক্ষম (عاجز) হিসেবে অভিহিত করা যায় না এবং বিষয়টি অন্য কেউ সম্পন্ন করতে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।

ইবনে হাজম (১) আল-আশআরির একটি উক্তি উল্লেখ করেছেন যে, সেই অলৌকিক নিদর্শন (معجز) যার অনুরূপ আনয়নের জন্য মানুষকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, তা সর্বদা মহান আল্লাহর সাথেই ছিল এবং কখনোই তা থেকে পৃথক হয়নি, এমনকি তা আমাদের কাছে অবতীর্ণও হয়নি এবং আমরা তা শুনিওনি।

ইবনে হাজম এর প্রতিবাদে বলেন: "এই বক্তব্য অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও অসারতা (بطلان) পূর্ণ। কারণ কোনো ব্যক্তি যা কখনো জানল না বা শুনল না, তার অনুরূপ কিছু আনার জন্য তাকে দায়িত্ব প্রদান করা অসম্ভব (محال)। আরও কথা হলো—যা মূলত তার নিজেরই বক্তব্য—যদি অলৌকিক নিদর্শন (معجز) শুধুমাত্র সেটিই হয়, তবে আমাদের কাছে যা পঠিত ও শ্রুত হয় তা অলৌকিক (معجز) নয়, বরং অনুরূপ কিছু করার সামর্থ্য মানুষের আছে। আর এটি সরাসরি কুফর (كفر), এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। কেননা এটি কুরআনের পরিপন্থী; যেহেতু আল্লাহ তাআলা তাদের একটি সূরা বা দশটি সূরার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। অথচ আল-আশআরির নিকট যে কথাটি অলৌকিক (معجز) তাতে কোনো সূরা বা আধিক্য নেই, বরং তা কেবল একটিই। এই হলো বক্তব্য এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।"

--------------------------------------------

(১) আল-ফাসাল, ৩য় খণ্ড, ১৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ويذكر الأشعري في "مقالات الإسلاميين" قولا لهشام وعباد (1) هو أنهما قالا: لا نقول إن شيئا من الأعراض يدل على الله سبحانه، ولا نقول أيضا: إن عرضا يدل على نبوة النبي صلى الله عليه وسلم. ولم يجعلا القرآن علما للنبي صلى الله عليه وسلم، وزعما أن القرآن أعراض (2) .

ومن جميع ما سبق نخلص إلى نتيجة مفادها: أن الناظر إلى القرآن ككلام يحوي أعاجيب لا تنقضي، قال بالإعجاز القرآني، وبّيَّن وجوها منه على نَحْوِ مَا سيرد إن شاء الله، ومن نظر إلى كلام الله النفسي جعله هو المعجز، وهذا حق متى علم، وهو لم يطلع عليه أحد بعد ولم يكن منه تحد إلى أحد من الخلق لأن التحدي كان حينما سمع المعرضون القرآن وقالوا إن الرسول صلى الله عليه وسلم قد افتراه، حينئذ قال لهم: فأتوا بعشر سور مثله مفتريات، وما تحداهم إلا بمثل ما سمعوا، ومن نظر إلى الناس فرأى فيهم ذا القدرة الفائقة على البيان وإجادة الكلام بنظم بليغ وقول مجيد ولم يجد منهم إقداما نحو الإتيان بمثله، بل من دفعه طيشه ونزقُه وأفنُ عقله إلى المعارضة، أتى بالسخيف مما لا يرقى إلى مستوى الإجادة المعتادة في كلام العرب، ومن رأى فيهم غلبة القرآن عليهم، قال بصرف الله لهم عن المماثلة والمحاكاة.

--------------------------------------------

(1) هشام بن عمر والغوطي من المعتزلة ته226هـ، وصاحبه عباد بن سليمان الضمري من الطبقة السابعة من المعتزلة ت سنة 250هـ.

انظر الملل والنحل للشهرستاني ط مؤسسة ناصر للثقافة ببيروت 1981م صـ31.

(2) مقالات الإسلاميين جـ1 صـ296.
আশআরি "মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন" গ্রন্থে হিশাম ও আব্বাদের (১) একটি অভিমত উল্লেখ করেছেন যে, তারা দুজন বলেছেন: আমরা বলি না যে, আপতিক বৈশিষ্ট্যের (الأعراض) কোনো কিছু মহান আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়, আর আমরা এও বলি না যে, কোনো আপতিক বৈশিষ্ট্য (عرض) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়তের প্রমাণ বহন করে। তারা কুরআনকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়তের নিদর্শন হিসেবে গণ্য করেননি এবং তারা দাবি করেছেন যে কুরআন হলো আপতিক বৈশিষ্ট্যের (أعراض) সমষ্টি (২)।

উপরিউক্ত সামগ্রিক আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে: যে ব্যক্তি কুরআনকে এমন এক বাণী হিসেবে দেখেন যা অফুরন্ত বিস্ময়ে ভরপুর, তিনি কুরআনের অলৌকিকত্বের (الإعجاز) কথা বলেছেন এবং এর বিভিন্ন দিক এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যা ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচিত হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর আত্মস্থ কালামের (كلام الله النفسي) দিকে লক্ষ্য করেছেন, তিনি তাকেই অলৌকিক (المعجز) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; এবং এটি একটি ধ্রুব সত্য যখন তা জ্ঞাত হয়, যদিও কোনো সৃষ্টিই এখন পর্যন্ত তা প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হয়নি এবং তা সৃষ্টির কারো প্রতি চ্যালেঞ্জ (تحد) হিসেবেও পেশ করা হয়নি। কারণ চ্যালেঞ্জটি (التحدي) তখনই দেওয়া হয়েছিল যখন বিমুখকারীরা কুরআন শ্রবণ করেছিল এবং বলেছিল যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি নিজে রচনা করেছেন, তখনই তাদের বলা হয়েছিল: তবে তোমরা এর অনুরূপ দশটি মিথ্যারচিত সূরা নিয়ে এসো। তিনি তাদের কেবল সে জিনিসের মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ (تحداهم) করেছিলেন যা তারা শ্রবণ করেছিল। আর যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং তাদের মধ্যে আলঙ্কারিক বিন্যাস ও মহিমান্বিত বাক্যের মাধ্যমে সাবলীল বর্ণনা ও প্রাঞ্জল বক্তৃতায় পারদর্শী অসামান্য সক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের দেখেছেন, অথচ তাদের পক্ষ থেকে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার কোনো প্রয়াস পাননি; বরং যাদের চপলতা, খামখেয়ালি এবং বুদ্ধির ত্রুটি বিরোধিতার দিকে উসকে দিয়েছিল, তারা এমন অসার কিছু নিয়ে এসেছে যা আরবদের সাধারণ বাকপটুতার মানেও পৌঁছায় না। আর যারা মানুষের ওপর কুরআনের প্রভাব ও বিজয় প্রত্যক্ষ করেছেন, তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, আল্লাহ তাদের এর অনুরূপ ও সমতুল্য কিছু রচনা করা থেকে বিরত (بصرف) রেখেছেন।

--------------------------------------------

(১) হিশাম বিন আমর আল-ফুতি মুতাজিলাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, মৃত্যু ২২৬ হিজরি। তার সঙ্গী আব্বাদ বিন সুলায়মান আদ-দামারি ছিলেন মুতাজিলাদের সপ্তম স্তরের অন্তর্ভুক্ত, মৃত্যু ২৫০ হিজরি।

দেখুন: আশ-শাহরাস্তানি কৃত আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, বৈরুতের মুয়াসসাসাতু নাসির লিস-সাকাফাহ সংস্করণ, ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ, পৃষ্ঠা ৩১।

(২) মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯৬।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن رأى أن الأصل في الناس التفاوت قال إنهم ليسوا بعاجزين ولا قادرين، وهذا يصح فيما كان بينهم، ولكن فيما يكون من عند الله، فهم العاجزون والله تعالى على كل شيء قدير، ومن غالى استعظم أن يكون القرآن - وهو في زعمه عرض - دالاًّ على الله أو على نبوة النبي صلى الله عليه وسلم، وهب أنه ينزه اللهَ أو يجعلُ رسولَه صلى الله عليه وسلم بهذا النحو، إلا أنه يخالف واقع التحدي الدائم، والعجز المطَّرِد من كل من خاطبهم القرآن بالتحدي (1) .

ويقول الرافعي (2) "إن القرآن معجز بالمعنى الذي يفهم من لفظ الإعجاز على إطلاقه حين يُنْفَى الإمكان بالعجز عن غير الممكن".

وحين انتقى إمكان العرب بعجزهم عن الإتيان بمثله بل عجز كل الإنس ومعهم الجن عن ذلك، حينئذ تفهم معنى إعجاز القرآن الكريم على إطلاقه.

ولا يقال: عجز فلان إلا بعد سبق، فالعرب كان لهم السبق، لم تعجزهم أمة في الإعراب والبيان، ولما نزل القرآن سبقهم. وهذا شأن الخلق دائما فإنه ليس لأحد منهم أن ينفرد بوصف ذاتي أبدا، والعرب أسبق الأمم وأبينهم فيما يعربون فلابد أن لا يكون لهم هذا التفرد، لأنه لا يتوحد بوصف إلا الواحد تعالى، فكان القرآن المقدم وصار اللسان الأقوم والأبين من العرب في الدرجة الثانية، وبعد أن كانوا في الصدارة صاروا في عربيتهم وبيانهم في تاليها.

وحق للقرآن أن يكون عربيا ما دامت العربية في درجة اللغات هي الأولى، ومع هذا تبوأ القرآن المنزلة الأولى من هذه اللغة العظمى.

--------------------------------------------

(1) عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ما بين الأنبياء نبي إلا أعطي من الآيات ما مثله آمن عليه البشر وإنما كان الذي أوتيت وحياً أو حاه الله إليّ فأرجوا أن أكون أكثرهم تابعاً يوم القيامة".

(2) تاريخ آداب العرب جـ2صـ156 الناشر دار الكتاب العربي بيروت - لبنان، الطبعة الرابعة 1394هـ، 1974م.
যারা মনে করেন যে মানুষের মূল ভিত্তি হলো পার্থক্য, তারা বলেন যে মানুষ অক্ষমও নয় আবার সক্ষমও নয়; আর এটি মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঠিক। কিন্তু যা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, সেক্ষেত্রে তারা অক্ষম (عاجز) এবং মহান আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। আর যারা চরমপন্থা অবলম্বন করেছে, তারা কুরআনকে—যা তাদের ধারণামতে একটি ক্ষণস্থায়ী গুণ (عرض)—আল্লাহর অস্তিত্ব অথবা নবীর (সা.) নবুওয়াত (نبوة)-এর দলীল হওয়াকে অসম্ভব মনে করেছে। ধরে নেওয়া যাক যে, সে আল্লাহকে পবিত্র সাব্যস্ত করছে অথবা তাঁর রাসূলকে (সা.) এই স্তরে রাখছে, তথাপি এটি কুরআনের চিরন্তন চ্যালেঞ্জ (تحدي) এবং যাদেরকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের নিরবচ্ছিন্ন অক্ষমতা (عجز)-এর বাস্তবতার পরিপন্থী।

রাফেয়ী (২) বলেন, "কুরআন সেই অর্থে অলৌকিক (معجز) যা অলৌকিকত্ব (إعجاز) শব্দ থেকে সাধারণভাবে বোঝা যায়, যখন অসম্ভবের বাইরে অন্য কিছুর ক্ষেত্রে অক্ষমতার (عجز) কারণে সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়।"

যখন আরবরা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম (عاجز) হওয়ার কারণে তাদের সক্ষমতা বিলুপ্ত হলো, বরং সমস্ত মানুষ এবং তাদের সাথে জিন জাতিও সে বিষয়ে অক্ষম (عاجز) হলো, তখনই আপনি কুরআনুল কারীমের অলৌকিকত্বের (إعجاز) প্রকৃত অর্থ সাধারণভাবে বুঝতে পারবেন।

কাউকে অক্ষম (عاجز) বলা যায় না যদি না সে পূর্বে কোনো বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হয়। আরবরা শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিল; ব্যাকরণ ও বাগ্মিতার (الإعراب والبيان) ক্ষেত্রে কোনো জাতি তাদের ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। কিন্তু যখন কুরআন অবতীর্ণ হলো, তখন তা তাদের ছাড়িয়ে গেল। এটি সৃষ্টির চিরন্তন স্বভাব যে, তাদের কারো পক্ষেই কোনো গুণাবলীতে একক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। আরবরা তাদের আরবী প্রকাশভঙ্গির ক্ষেত্রে সকল জাতির চেয়ে অগ্রগামী ও প্রাঞ্জল ছিল, তাই তাদের এই শ্রেষ্ঠত্ব একক হওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ একক সত্তা কেবল মহান আল্লাহ। ফলে কুরআন হলো সর্বাগ্রে এবং আরবী ভাষা শ্রেষ্ঠ ও প্রাঞ্জল হওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্তরে চলে এল। তারা শীর্ষে থাকার পর তাদের আরবী ভাষা ও বাগ্মিতার (بيان) ক্ষেত্রে পরবর্তী স্তরে অবনমিত হলো।

কুরআনের জন্য আরবী ভাষায় হওয়াটা যথার্থই ছিল, যেহেতু ভাষা হিসেবে আরবী প্রথম স্তরে রয়েছে। আর তা সত্ত্বেও কুরআন এই মহান ভাষার মাঝেও সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে।

--------------------------------------------

(১) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী ছিলেন না যাকে এমন কোনো নিদর্শনসমূহ (الآيات) প্রদান করা হয়নি, যা দেখে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহী (وحياً), যা আল্লাহ আমার নিকট পাঠিয়েছেন। তাই আমি আশা করি কিয়ামতের দিন অনুসারীদের সংখ্যায় আমি তাদের সবার চেয়ে বেশি হবো।"

(২) তারীখ আদাব আল-আরব, ২য় খণ্ড, ১৫৬ পৃষ্ঠা। প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত - লেবানন, চতুর্থ সংস্করণ, ১৩৯৪ হিজরি, ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وفي النكت في إعجاز القرآن لأبي الحسن علي بن عيسى الرماني (296هـ - 386هـ) اعتراض افترضه الشيخ ورد عليه " إذ يقول (1) :

"فإن قال قائل: فلم اعتمدتم على الاحتجاج بعجز العرب دون المولدين وهو عندكم معجز للجميع، مع أنه يوجد للمولدين من الكلام البليغ شيء كثير؟.

قيل: لأن العرب كانت تقيم الأوزان والإعراب بالطباع، وليس في المولدين من يقيم الإعراب بالطباع كما يقيم الأوزان، والعرب على البلاغة أقدر لما بَيَّنَّا (2) من فطنتهم لما لا يَفْطن له المولدون من إقامة الإعراب بالطباع، فإذا عجزوا عن ذلك فالمولدون عنه أعجز".

والجرجاني في رسالته الشافية (3) يفضي بباب من التلبيس يدور في أنفس قوم من الأشقياء يستهوون به وعي الغِرِّ الغَبِي بذكره، وهو قولهم: قد جرت العادة بأن يبقى في الزمان من يفوت أهله حتى يسلموا له، وحتى لا يطمع أحد في مداناته، وحتى يقع الإجماع فيه أنه الفرد الذي لا ينازع، ثم يذكرون امرأ القيس وربما ذكروا الجاحظ.

وهم يريدون بذلك أن القرآن معجز لا لأنه كلام الله، بل لمزية كانت للنبي صلى الله عليه وسلم في كلامه دون غيره من أرباب الفصاحة فاق بها الفصحاء والبلغاء.

--------------------------------------------

(1) ذخائر العرب 16 ثلاث رسائل في إعجاز القرآن للرماني والحطابي وعبد القادر الجرجاني حققها وعلق عليها محمد خلف الله أحمد ودكتور محمد زغلول سلام ط دار المعارف الطبعة الرابعة صـ 113.

(2) المرجع السابق صـ111 حيث تكلم على نقض العادة كوجه من وجوه الإعجاز.

(3) الرسالة الشافية للجرجاني ثلاث رسائل في الإعجاز صـ 128، 129.
আবু হাসান আলী ইবনে ঈসা আর-রুম্মানী (২৯৬ হি. - ৩৮৬ হি.) রচিত 'আন-নুকাতি ফী ই'জাযিল কুরআন' গ্রন্থে শেখ একটি আপত্তি কল্পনা করেছেন এবং তার উত্তর দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেছেন (১):

"যদি কোনো প্রশ্নকারী বলে: আপনারা কেন অনারব বংশোদ্ভূত সাহিত্যিকদের (المولدون) পরিবর্তে কেবল আরবদের অপারগতার ওপর প্রমাণের ভিত্তি স্থাপন করেছেন, অথচ আপনাদের নিকট এটি সবার জন্যই অলৌকিক? যদিও অনারব বংশোদ্ভূত সাহিত্যিকদের (المولدون) মাঝেও প্রচুর অলঙ্কারপূর্ণ বাক্য পাওয়া যায়।"

উত্তরে বলা হয়েছে: কারণ আরবরা ছন্দ এবং ব্যাকরণবিধি স্বভাবজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমে বজায় রাখত। কিন্তু অনারব বংশোদ্ভূতদের (المولدون) মধ্যে এমন কেউ নেই যে ছন্দের মতো ব্যাকরণবিধিকেও স্বভাবজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমে বজায় রাখতে পারে। আর আরবরা অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর অধিক সামর্থ্যবান ছিল, কারণ আমরা ইতিপূর্বে তাদের সেই প্রজ্ঞার কথা বর্ণনা করেছি (২) যা অনারব বংশোদ্ভূতদের (المولدون) মাঝে নেই; আর তা হলো ব্যাকরণবিধিকে স্বভাবজাতভাবে বজায় রাখা। সুতরাং আরবরাই যখন এটি করতে অক্ষম হয়েছে, তখন অনারব বংশোদ্ভূতরা (المولدون) এর চেয়েও বেশি অক্ষম হবে।"

এবং আল-জুরজানী তাঁর 'আর-রিসালাতুশ শাফিয়া' (৩) গ্রন্থে এক প্রকার বিভ্রান্তিকর বিষয়ের অবতারণা করেছেন, যা কিছু দুর্ভাগা লোকের মনে ঘুরে বেড়ায় এবং এর মাধ্যমে তারা অজ্ঞ ও নির্বোধদের চেতনাকে মোহগ্রস্ত করে। আর তা হলো তাদের এই কথা: 'সাধারণত প্রতিটি যুগে এমন কারো অস্তিত্ব থাকে যিনি তার সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান, এমনকি সবাই তার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেয় এবং কেউ তার সমকক্ষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে না। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয় যে, তিনি এমন এক একক ব্যক্তিত্ব যার সাথে কোনো দ্বিমত চলে না।' এরপর তারা ইমরুল কায়েস এবং কখনো কখনো আল-জাহিযের কথা উল্লেখ করে।

এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চায় যে, কুরআন অলৌকিক হওয়ার কারণ এটি আল্লাহর কালাম হওয়া নয়, বরং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্যের এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যান্য পণ্ডিতদের মধ্যে ছিল না, যার মাধ্যমে তিনি সাবলীল ও অলঙ্কারপূর্ণ বক্তাদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) যুখাইরুল আরব ১৬, আর-রুম্মানী, আল-খাত্তাবী এবং আব্দুল কাদির আল-জুরজানী রচিত 'সালাসু রাসাইল ফী ই'জাযিল কুরআন', যা মুহম্মদ খালাফউল্লাহ আহমদ এবং ডক্টর মুহম্মদ যাগলুল সালাম কর্তৃক সম্পাদিত ও টীকাবদ্ধ, দারুল মাআরিফ প্রকাশনী, চতুর্থ সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১১৩।

(২) প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১১১, যেখানে লেখক অলৌকিকত্বের অন্যতম দিক হিসেবে স্বভাবজাত রীতির লঙ্ঘন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

(৩) আল-জুরজানী রচিত 'আর-রিসালাতুশ শাফিয়া', সালাসু রাসাইল ফিল ই'জায, পৃষ্ঠা ১২৮, ১২৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولكن الجرجاني ذكر شرطاً للمزية والتفرد وهو أن المزية الناقضة للعادة يبلغ الأمر فيها إلى حيث يبهر ويقهر، حتى تنقطع الأطماع عن المعارضة، وتخرس الألسن عن دعوى المداناة، وحتى لا تحدِّثَ نفس ُُ صاحبها بأن يَتَحَدَّى، ولا يَجُول في خلَدٍ أن الإتيان بمثلها يمكن، وحتى يكون يَأْسُهُم منه وإحساسهم بالعجز عنه في بعضه مثل ذلك في كله.

ثم يقول الجرجاني نافيا أن يكون لأحد كائنا من كان كلُّ هذا:

"وليت شعري من هذا الذي سَلَّم لهم أنه كان في وقت من الأوقات من بلغ أمرُه في المزية وفى العلو على أهل زمانه هذا المبلغَ وانتهى إلى هذا الحد".

ثم ساق القصة الشهيرة بين امرئ القيس وعلقمةَ الفحلِ والتي كان فيها الحكم بين الشاعرين أُمَّ جندب امْرأةَ امرئ القيس والتي فضلت علقمةَ في الشعر على زوجها.

وأردف الرجل برهانا بعد آخر إبطالا لهذا القول، ومن براهينه أن للشعراء طبقات، وبَيّنَ أنهم في كل طبقة منها أكفاء نظراء. ولم ينفرد واحد بمزية تخصه، فسقطت بذلك مقولة المزية.

هل العجز هو الإفحام؟

يقول الشيخ محمد عبده (1) "يقول واهم إن الإعجاز حجة على من عَجَزَ فإن العجز هي حجةُ الإفحام وإلزامُ الخصم، وقد يلتزم الخصم ببعض المسَلَّمَات عنده فَيُفْحَم ويعجز عن الجواب فتلزمه الحجة، ولكن ليس ذلك بملزم لغيره، فمن الممكن أن لا يُسَلِّم غيرُه بما سلمه، فلا يُفْحِمُه الدليلُ، بل يجد إلى إبطاله أقرب سبيل"

--------------------------------------------

(1) رسالة التوحيد للإمام محمد عبده صـ127 – دار إحياء العلوم بيروت طـ/1396هـ / 1976م.
কিন্তু জুরজানি শ্রেষ্ঠত্ব (المزية) এবং অনন্যতার (التفرد) জন্য একটি শর্ত (شرط) উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো—স্বভাবাতীত (الناقضة للعادة) শ্রেষ্ঠত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে যেখানে তা মানুষকে বিমুগ্ধ ও অভিভূত করে ফেলে, এমনকি বিরোধিতার (المعارضة) সকল আকাঙ্ক্ষা ছিন্ন হয়ে যায় এবং সমকক্ষতার দাবি (دعوى المداناة) করতে জিহ্বা আড়ষ্ট হয়ে যায়; এমনকি কোনো ব্যক্তি চ্যালেঞ্জ (التحدي) করার কথা চিন্তাও করবে না এবং কারো অন্তরে এই ভাবনার উদয় হবে না যে এর অনুরূপ কিছু আনয়ন করা সম্ভব। ফলস্বরূপ, এর কিয়দংশ সম্পর্কে তাদের হতাশা এবং অক্ষমতার (العجز) অনুভূতি সমগ্রটির ক্ষেত্রে অনুভুত অক্ষমতার মতোই হবে।

অতঃপর জুরজানি যে কারো জন্য এই পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন:

"আমি যদি জানতাম, কে সেই ব্যক্তি যার ব্যাপারে মেনে নেওয়া হয়েছে যে, কোনো এক সময়ে তার শ্রেষ্ঠত্ব (المزية) এবং স্বীয় সমসাময়িকদের ওপর তার উচ্চমর্যাদা এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং এই সীমায় গিয়ে ঠেকেছিল।"

অতঃপর তিনি ইমরুল কায়েস এবং আলকামা আল-ফাহল-এর মধ্যবর্তী সেই বিখ্যাত কিসসাটি উপস্থাপন করেন, যেখানে দুই কবির মধ্যে বিচারক ছিলেন ইমরুল কায়েসের স্ত্রী উম্মে জুনদুব, যিনি কবিতায় স্বীয় স্বামীর তুলনায় আলকামাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলেন।

সেই ব্যক্তি (জুরজানি) এই মতবাদটি বাতিল (إبطال) করার সপক্ষে একের পর এক প্রমাণ (البرهان) পেশ করেছেন। তার অন্যতম প্রমাণ হলো কবিদের বিভিন্ন স্তর (طبقات) রয়েছে এবং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিটি স্তরের কবিরা একে অপরের সমকক্ষ ও সদৃশ (أكفاء نظراء)। কোনো একক ব্যক্তি বিশেষ কোনো শ্রেষ্ঠত্ব (المزية) নিয়ে অনন্য হতে পারেননি, ফলে এর মাধ্যমেই ‘একক শ্রেষ্ঠত্বের’ দাবিটি অসার প্রমাণিত হলো।

অক্ষমতা (العجز) কি নির্বাক করে দেওয়া (الإفحام)?

শেখ মুহাম্মদ আবদুহ (১) বলেন: "বিভ্রান্তরা বলে যে, অলৌকিকত্ব (الإعجاز) কেবল তাদের বিরুদ্ধেই দলিল (حجة) যারা অক্ষম (العجز); কারণ অক্ষমতা (العجز) হলো নির্বাক করার (الإفحام) এবং প্রতিপক্ষকে (الخصم) নিরুত্তর করার দলিল (حجة)। কখনও প্রতিপক্ষ তার নিকট স্বীকৃত কিছু স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ের (المسَلَّمَات) কারণে দমে যায় এবং উত্তর দিতে অক্ষম (العجز) হয়ে পড়ে, ফলে তার ওপর দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু এটি অন্যদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কারণ এটা সম্ভব যে, অন্য কেউ সেই বিষয়গুলো স্বীকার করবে না যা সে করেছে; ফলে সেই দলিল (حجة) তাকে নির্বাক (الإفحام) করতে পারবে না, বরং সে তা খণ্ডন করার সহজ পথ খুঁজে পাবে।"

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুহাম্মদ আবদুহ-এর রিসালাতুত তাওহিদ, পৃ. ১২৭ – দারু ইহয়ায়িল উলুম, বৈরুত, সংস্করণ: ১৩৯৬ হিজরি / ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ويرد الشيخ بقوله: "وهو وهم بما قدمنا من البيان إذ لا يوجد من المشابهة بين إعجاز القرآن وإفحام الدليل، إلا أنه يوجد عن كل منهما وجه عجز، وشتَّان بين العجْزَين، وبُعْد ما بين وِجْهتَي الاستدلال فيهما، فإن إعجاز القرآن برهن على أمر واقعي، وهو تقاصر البشرية دون مكانته من البلاغة ".

وأضيفُ: إنه إذا كان الإفحام يتصور إبطاله من أحد غير العاجز أو من نفسه هو في وقت لاحق، فهل أبطل الإعجاز على مَدِّ زمن التحدي من القرآن للثقلين أي أحد.

وبعد إيراد كل هذا في مضمار بيان المعجزة والإعجاز نخلص إلى أن المعجز هو:

أمر خارق للعادة مقرونا بالتحدي يظهره الله على يد مدعي النبوة تصديقا لدعواه.

وإذا كان باب الدخول إلى صلب الموضوع قد أخذ من علمائنا هذه العناية بإحكام الشروع والبيان عند إرادة التفاصيل، فإن هذا ينم عن غاية تغياها هؤلاء، وهى سد أبواب التنطع في وجه كل لئيم دائر النظر، بحثا عن مطعن يقدح من خلاله في أجَلِّ كلام عرفَتْه البشرية وهو كلام الله تعالى.

لقد أدام علماؤنا افتراضاتِ الرافضين لكون القرآن كلامَ الله، فأداروا في رءوسهم كل رد لتخرس الألسنة عن تقليب ما جال في الخواطر الفاسدة الناشئة من رداءة أصل التوجه، وما أفاد العلماء من مثل هذا إلا شرفَ عنايتهم وغايتِهم من هذا، فالقرآن قد استبقى لنفسه دفُوُعاً شتى، يواجِهُ بها في كل جيل ما جلَّ من خطبه وخطره في سبيل النيل من القرآن ودرجته العليا.
শেখ নিম্নোক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে উত্তর দেন: "আমরা ইতোপূর্বে যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছি, তার পরিপ্রেক্ষিতে এটি একটি বিভ্রম (وهم); কেননা কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) এবং প্রমাণের মাধ্যমে নিরুত্তর করার (إفحام) মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই। তবে উভয়ের মধ্যেই অক্ষমতার একটি দিক (وجه عجز) বিদ্যমান। কিন্তু এই দুই প্রকার অক্ষমতার মাঝে আসমান-জমিন ব্যবধান এবং এদের প্রমাণপদ্ধতির মাঝেও বিস্তর দূরত্ব রয়েছে। কারণ কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) একটি বাস্তব বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে, আর তা হলো—অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) উচ্চশিখরে কুরআনের যে সুমহান অবস্থান, সেখানে পৌঁছাতে মানবজাতির চরম অক্ষমতা।"

আমি আরও যুক্ত করছি: যদি প্রমাণের মাধ্যমে নিরুত্তর করাকে (إفحام) কোনো অক্ষম ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে কিংবা স্বয়ং সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকেই পরবর্তী কোনো সময়ে বাতিল করা সম্ভব হয়, তবে কুরআনের পক্ষ থেকে জিন ও ইনসানের (الثقلين) প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার এই সুদীর্ঘ সময়ে কি কেউ সেই অলৌকিকত্বকে (إعجاز) নস্যাৎ করতে পেরেছে?

মোজেজা (معجزة) ও অলৌকিকত্ব (إعجاز) বর্ণনার এই প্রেক্ষাপটে সমস্ত আলোচনার নির্যাস হিসেবে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, অলৌকিক (معجز) হলো:

এমন এক অলৌকিক ও অস্বাভাবিক বিষয় (أمر خارق للعادة) যা চ্যালেঞ্জের (التحدي) সাথে যুক্ত, এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর নবুওয়াতের দাবিদারের দাবির সত্যতা প্রমাণের জন্য তাঁর হাতে তা প্রকাশ করেন।

মূল বিষয়ে প্রবেশের এই সূচনালগ্ন যখন আমাদের ওলামায়ে কেরামের নিকট বিস্তারিত আলোচনার প্রাক্কালে প্রারম্ভিক সুসংহতকরণ ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এতোটা গুরুত্ব পেয়েছে, তখন তা তাঁদের এক সুমহান লক্ষ্যকেই নির্দেশ করে। আর তা হলো—সেই সব নীচ ও কুচক্রীদের সামনে অহেতুক বাড়াবাড়ি ও কূটতর্কের (التنطع) পথ রুদ্ধ করা, যারা মানবজাতির পরিচিত সর্বশ্রেষ্ঠ কালাম অর্থাৎ আল্লাহর কালামের মাঝে কোনো ত্রুটি বা সমালোচনা (مطعن) খুঁজে বের করে তার মাধ্যমে তাকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।

আমাদের ওলামায়ে কেরাম কুরআন আল্লাহর কালাম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকারকারীদের কল্পিত আপত্তিসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছেন। তাঁরা তাঁদের প্রতিটি আপত্তির এমন দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন যাতে সেই সব জিহ্বা স্তব্ধ হয়ে যায়, যা তাদের ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি ও হীন উদ্দেশ্য থেকে উদ্ভূত কলুষিত চিন্তা ও কুমন্ত্রণার উদ্রেক করে। এর মাধ্যমে ওলামায়ে কেরাম কেবল তাঁদের সুমহান সেবা ও মহৎ লক্ষ্যের গৌরবই অর্জন করেছেন। কেননা কুরআন স্বয়ং নিজের জন্য এমন নানাবিধ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুসংরক্ষিত রেখেছে, যার মাধ্যমে এটি প্রতি প্রজন্মে কুরআনের মর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থানকে খাটো করার লক্ষ্যে পরিচালিত বড় বড় ষড়যন্ত্র ও বিপদের মোকাবিলা করে।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول العناية بوجوه الإعجاز

‌‌مدخل

…

الفصل الأول: العناية بوجوه الإعجاز

يستلزم بيان وجوه الإعجاز جلاءَ الأساس الذي بني عليه وجودُ الكلام في الإعجاز، فإن القرآن في جملته معجزة على وجه الحقيقة، ولا يمكن لأحد أبدا مهما أوتى من علم أن يذكر السبب الذي أعجز أفذاذ العرب عن أن يأتوا بمثله، فإنه قد امتد إلى نفوسهم، فانطبع في نفس أحدهم منه حلاوة، وفى نفس الآخر خوف، مع عدم إيمانهم به، بل كانوا يسترقون سماعه خُفْيَةً، وما حمَلَهم عداؤهم على أن يجابهوا هذا الذي أخزاهم وأقعدهم دون منازلهم وسفه أحلامهم. لا يمكن لأحد أبدا أن يكون قد اطَّلَع على أحوال قلوبهم حين استمعوا القرآن، ثم تكشَّف له أن الوجه الذي أعجزهم كيت وكيت، أو أن الله صرفهم عن ذلك، بل تقوم الأدلة على أنهم ما تركوا المعارضة إلا عجزا من عند أنفسهم، وذلك لأن القرآن قد نقض عادتهم في الكلام والإعراب والبيان ووجدوا فيه عُلُوَّماَ لَمْ يعُهْدَ، ومن أنكر الإعجاز ما أضر بغير نفسه، وظل القرآن يرمى إلى كل جيل إعجازا بعد إعجاز.

ولذلك ينقسم هذا الفصل إلى مبحثين:-

الأول: الدوافع التي أدت إلى التصنيف في الإعجاز.

الثاني: يبين ما يتوقف عليه القول بوجه من الإعجاز.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ

‌ভূমিকা

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ

কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহ বর্ণনার জন্য সেই ভিত্তিকে সুস্পষ্ট করা আবশ্যক যার ওপর অলৌকিকত্ব (إعجاز) সংক্রান্ত আলোচনার বুনিয়াদ রাখা হয়েছে। কেননা সমগ্র কুরআন প্রকৃতপক্ষে একটি মুজিজা (معجزة)। কোনো মানুষই, তাকে যত জ্ঞানই দান করা হোক না কেন, সেই কারণটি উল্লেখ করতে সক্ষম নয় যা আরবের শ্রেষ্ঠ বাগ্মীদেরও কুরআনের মতো কিছু তৈরি করতে অক্ষম (إعجاز) করে দিয়েছিল। কুরআন তাদের অন্তরে প্রভাব বিস্তার করেছিল; ফলে তাদের কারো হৃদয়ে এর মাধুর্য গেঁথে গিয়েছিল, আবার কারো হৃদয়ে ভয়ের সৃষ্টি হয়েছিল, যদিও তারা এর ওপর ঈমান আনেনি। বরং তারা গোপনে তা আড়ি পেতে শুনত। তাদের চরম শত্রুতাও তাদেরকে এমন বিষয়ের মোকাবিলা করতে প্ররোচিত করতে পারেনি যা তাদেরকে লাঞ্ছিত করেছিল, তাদের অবস্থান থেকে বিচ্যুত করেছিল এবং তাদের চিন্তাধারাকে নির্বুদ্ধিতা প্রমাণ করেছিল। তারা যখন কুরআন শ্রবণ করত, তখন তাদের অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব ছিল না যে, তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে তাদের অক্ষম করার বিষয়টি ছিল এমন এমন, অথবা আল্লাহ তাদের এ থেকে ফিরিয়ে (صرفة) দিয়েছিলেন। বরং প্রমাণসমূহ একথাই সমর্থন করে যে, তারা কেবল নিজেদের অক্ষমতার কারণেই এর বিরোধিতা করা ছেড়ে দিয়েছিল। কারণ কুরআন তাদের কথা বলার রীতি, ব্যাকরণিক বিন্যাস (إعراب) এবং প্রাঞ্জলতার (بيان) প্রচলিত ধারাকে ভেঙে দিয়েছিল এবং তারা এতে এমন শ্রেষ্ঠত্ব খুঁজে পেয়েছিল যা ইতিপূর্বে কখনো অনুভব করেনি। যে ব্যক্তি কুরআনের অলৌকিকত্বকে (إعجاز) অস্বীকার করে, সে কেবল নিজেরই ক্ষতি করে। কুরআন প্রতিটি প্রজন্মের কাছে একের পর এক অলৌকিকত্ব (إعجاز) উপস্থাপন করে চলেছে।

এ কারণে এই পরিচ্ছেদটি দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:-

প্রথম: অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ে গ্রন্থ রচনার পেছনে চালিকাশক্তি বা উদ্দীপকসমূহ।

দ্বিতীয়: অলৌকিকত্বের (إعجاز) কোনো দিক সম্পর্কে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করতে হয় তা বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌المبحث الأول: دواعي بيان الإعجاز

اتخذ مظهر الولاء لهذا الدين والدفاع عن كتابه صورتين: دَفْع بالسنان ودفاع باللسان. فمن ادعى النبوة كمسيلمة لاقى في حروب الردة ما لاقى، ومن اعتلاه شيطانه واعترته وساوسه وطعن في القرآن، أصابه ما أصاب سلفه، أو أرغمت الحجة أنفه.

وفى صدر الإسلام كان الطبع العربي لم يزل على سلامة سليقته في الإعراب، إذ لم يكن بحاجة إلى وسائل يُتَفَهَّمُ بها القرآن الكريم، وكان الصحابة رضوان الله عليهم يدركون معانيَ الألفاظ وما وراءها بفطرتهم العربية الأصيلة، فإذا أشكل عليهم شيء من وراء ذلك سألوا عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ثم كانت رقعة حياتهم ضيقة لا تزخر أو تتزاحم فيها التقاليد والأفكار والمشكلات الطارئة فكانت معارفهم في أذهانهم، وكان مرجعهم فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم كبار الصحابة مِنْ بَعْدِه، فلم يكن عندهم شيء مما أطلق عليه فيما بعد اسمُ "علوم القرآن" (1) .

ومع أن العرب بصحة عربيتهم قد أدركوا إعجاز القرآن في نفوسهم سواء منهم من آمن ومن لم يؤمن إلا أن مادة " ع، ج،ز" لم ترد بهذا المعنى، بل اشتهرت لدى المسلمين ألفاظ أخرى كالآية والبرهان والسلطان (2) .

مع هذا لم يَخْلُ القرن الأول من تعبيرات مفادها أن للقرآن من غلبة اللسان وسلطان البيان ما ليس لغيره من سائر الكلام.

--------------------------------------------

(1) من روائع القرآن صـ66.

(2) فكرة إعحاز القرآن صـ8.
প্রথম পরিচ্ছেদ: অলৌকিকত্ব (إعجاز) বর্ণনার কারণসমূহ

এই দ্বীনের প্রতি আনুগত্য এবং এর কিতাবের প্রতিরক্ষার বিষয়টি দুটি রূপ পরিগ্রহ করেছিল: অস্ত্রের মাধ্যমে প্রতিরোধ এবং জিহ্বার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা। মুসাইলামার মতো যারা নবুওয়াতের দাবি করেছিল, তারা রিদ্দার যুদ্ধে (মুরতাদ বিরোধী যুদ্ধ) সেই পরিণতির মুখোমুখি হয়েছিল যা হওয়ার ছিল। আর যাকে শয়তান পরাভূত করেছিল, যার ওপর কুমন্ত্রণা ছেয়ে গিয়েছিল এবং যে কুরআনের নিন্দা করেছিল, সে-ও তার পূর্বসূরিদের মতো পরিণতির শিকার হয়েছে অথবা অকাট্য প্রমাণের মুখে সে লাঞ্ছিত হয়েছে।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরবদের স্বভাবজাত প্রকৃতি তখনো ভাষারীতি ও ব্যাকরণগত বিশুদ্ধতার (إعراب) ওপর অটুট ছিল, কারণ তখন কুরআন মাজিদ বোঝার জন্য কোনো কৃত্রিম মাধ্যমের প্রয়োজন হতো না। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) তাদের খাঁটি আরব্য প্রকৃতির মাধ্যমেই শব্দমালার অর্থ এবং এর অন্তর্নিহিত ভাব অনুধাবন করতেন। এর বাইরে কোনো কিছু যদি তাদের নিকট অস্পষ্ট হতো, তবে তারা সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করে নিতেন।

তখন তাদের জীবনপরিধি ছিল সীমিত, সেখানে প্রথা, চিন্তাধারা এবং আকস্মিক সমস্যার প্রাচুর্য ছিল না। ফলে তাদের জ্ঞানসমূহ তাদের স্মৃতিতে সংরক্ষিত ছিল এবং এই বিষয়ে তাদের প্রধান আশ্রয়স্থল ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.), আর তাঁর পরবর্তী সময়ে বড় বড় সাহাবায়ে কিরাম। ফলে তখন তাদের নিকট এমন কোনো বিষয় ছিল না, যা পরবর্তীতে "উলুমুল কুরআন" (১) নামে অভিহিত হয়েছে।

আরবরা তাদের বিশুদ্ধ আরব্য ভাষাজ্ঞানের প্রভাবে নিজেদের অন্তরে কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) অনুভব করতে পারলেও—চাই তারা ঈমান আনয়নকারী হোক বা না হোক—কিন্তু 'আইন-জিম-যা' (ع، ج، ز) মূলধাতু থেকে উৎপন্ন এই শব্দটি তখন এই কারিগরি অর্থে ব্যবহৃত হতো না। বরং মুসলমানদের নিকট তখন অন্য কিছু শব্দ প্রসিদ্ধ ছিল যেমন: নিদর্শন (آية), স্পষ্ট প্রমাণ (برهان) এবং অকাট্য দলিল (سلطان) (২)।

তা সত্ত্বেও প্রথম শতাব্দীতে এমন কিছু অভিব্যক্তির অভাব ছিল না যার সারমর্ম হলো—কুরআনের ভাষাগত প্রভাব এবং বর্ণনাশৈলীর এমন এক আধিপত্য রয়েছে যা অন্য কোনো বাণীর মাঝে নেই।

--------------------------------------------

(১) মান রাওয়াই’উল কুরআন, পৃ. ৬৬।

(২) ফিকরাতু ই'জাজিল কুরআন, পৃ. ৮।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
وخرج المسلمون على غيرهم بنور الإيمان فاتحين فانفتحوا هم في المقابل على ما كانت لدى الأمم من علوم، فسيِطرت الفلسفة على عقول بعض الناس، وربما اتجه المتفلسفون إلى الفكرة لا لأصالتها أو صِلتِها بالحق ولكن لغرابتها، لا رغبة في تحقيق الحق وإبطال الباطل، ولكن للترف العقلي، لا يفرقون بين أمر يتصل بالإيمان وأمر لا صلة له بالإيمان.

ومن جملة ما اطلع عليه بعض المتفلسفين من المسلمين أقوالُ البراهمة في كتابهم " الفَيْدَا" (1) وهو يشتمل على مجموعة أشعار ليس في كلام الناس ما يماثلها في زعمهم.

ويقول جمهور علمائهم: إن البشر يعجزون عن أن يأتوا بمثلها، لأن "براهما" صرفهم عن أن يأتوا بمثلها.

وحكى الإمام محمد أبو زهرة ما أورده أبو الريحان البيروني (2) في كتابه "ما للهند من مقولة مقبولة في العقل أو مرذولة ما نصه".

"إن خاصتهم يقولون إن في مقدورهم أن يأتوا بأمثالها، ولكنهم ممنوعون من ذلك احتراما لها" وعقب الشيخ أبو زهرة بقوله:

ولم يبين البيروني وجه المنع أهو منع تكليفي يسبقه الإيمان بهذه الكتب، وتكون دلائل وجوب الإيمان من نواح أخرى، أم هو منع تكويني بمعنى أن براهما صرفهم بمقتضى التكوين من أن يأتوا بمثلها. أي أنه جعل خَلْقَهُمْ وتَكوينهم على نحوٍ لا يستطيعون معه الإتيان بمثلها.

ورجح الشيخ الوجه الأخير بناء على أنه المتفِق مع قَوْلِ جمهور علمائهم، وما اشتهر من أن القول بالصرفة نبع في واديهم.

--------------------------------------------

(1) المعجزة الكبرى القرآن للإمام محمد أبي زهرة ط دار الفكر العربي صـ76.

(2) توفي سنة 430.
মুসলিমরা ঈমানের আলো নিয়ে বিজয়ী হিসেবে অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিল, বিনিময়ে তারা অন্যান্য জাতির কাছে থাকা জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি উন্মোচিত হয়েছিল। ফলে দর্শন (فلسفة) কিছু মানুষের চিন্তাজগৎকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। সম্ভবত দার্শনিকগণ কোনো চিন্তাধারার দিকে তার মৌলিকত্ব বা সত্যের সাথে তার সম্পর্কের কারণে নয়, বরং তার অভিনবত্বের কারণে ঝুঁকে পড়তেন; সত্য প্রতিষ্ঠা ও মিথ্যা বিলোপের আকাঙ্ক্ষায় নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক বিলাসিতার জন্য। তারা ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং ঈমানের সাথে সম্পর্কহীন বিষয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করত না।

মুসলিম দার্শনিকদের কেউ কেউ যা অবগত হয়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল ব্রাহ্মণদের তাদের গ্রন্থ "বেদে" (১) বর্ণিত বক্তব্যসমূহ, যা এমন একগুচ্ছ কবিতার সমষ্টি, তাদের দাবি অনুযায়ী মানুষের বাক্যের মধ্যে যার কোনো সমতুল্য নেই।

তাদের অধিকাংশ আলেম বলেন: নিশ্চয়ই মানুষ এর অনুরূপ কিছু আনতে অক্ষম, কারণ "ব্রহ্মা" তাদেরকে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসা থেকে নিবৃত্ত (صرف) করেছেন।

ইমাম মুহাম্মদ আবু জাহরা তা-ই বর্ণনা করেছেন যা আবু রাইহান আল-বিরুনি (২) তার কিতাব "মা লিল-হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলা"-তে উল্লেখ করেছেন, যার পাঠ নিম্নরূপ:

"নিশ্চয়ই তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলেন যে, তাদের পক্ষে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসা সম্ভব, কিন্তু তারা এর প্রতি সম্মানের কারণে তা থেকে নিবৃত্ত।" শেখ আবু জাহরা তার মন্তব্যে বলেন:

আল-বিরুনি এই নিবৃত্তির ধরন স্পষ্ট করেননি—এটি কি শরয়ি বিধিনিষেধ (منع تكليفي) যা এই গ্রন্থগুলোর প্রতি ঈমানের অনুবর্তী, এবং যেখানে অন্য দিক থেকে ঈমান আনা আবশ্যক হওয়ার প্রমাণাদি বিদ্যমান থাকে; নাকি এটি সৃষ্টিগত নিবৃত্তি (منع تكويني)? যার অর্থ হলো—ব্রহ্মা তাদেরকে সৃষ্টিগত নিয়মেই এর অনুরূপ কিছু আনতে নিবৃত্ত করেছেন। অর্থাৎ, তিনি তাদের প্রকৃতি ও গঠনকে এমনভাবে তৈরি করেছেন যে তারা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম নয়।

শেখ শেষোক্ত মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এই ভিত্তিতে যে, এটি তাদের অধিকাংশ আলেমের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটিই প্রসিদ্ধ যে, সারফা (الصرفة) বা নিবৃত্ত করার মতবাদটি তাদের জনপদ থেকেই উদ্ভূত।

--------------------------------------------

(১) আল-মু’জিজাতুল কুবরা আল-কুরআন, ইমাম মুহাম্মদ আবু জাহরা, দারুল ফিকর আল-আরাবি সংস্করণ, পৃ. ৭৬।

(২) ৪৩০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
ودخلت الأفكار الهندية في عهد المنصور أبى جعفر (1) فتلقفها المحبون لكل وافد من الفكر ركونا إلى الاستغراب في أقوالهم فدفعتهم الفلسفة إلى اعتناق ذلك القول، وطبقوه على القرآن وإن كان لا ينطبق. فقال قائلهم: إن العرب إذ عجزوا عن أن يأتوا بمثل القرآن ما كان عجزهم لأمر ذاتي من ألفاظه ومعانيه ونسجه ونظمه، بل كان لأن الله صرفهم عن أن يأتوا بمثله (2) .

ولم يُسَمِّ الشيخُ أحدا ممن قال بهذه المقولَةِ قبلَ النظام ولكنه أبرز مَرْمَى رَوَاجِ هذه الفكرة وجعل مؤداها إلى أمرين (3) :

أولهما: أن القرآن ليس في درجة تمنع محاكاته، وليس الإعجاز من صفاته الذاتية.

ثانيهما: الحكم على القرآن بأنه ككلام الناس.

لكن الرافعيَّ في كتابه "تاريخ آداب العرب" (4) يقول: "كان أول ما ظهر من الكلام في القرآن، مقالة تُعْزَى إلى رجل يهودي يُسَمى لبيد بن الأعصم فكان يقول: إن التوراة مخلوقةٌ فالقرآن كذلك، ثم أخذها عنه طالوتُ ابن أخته وأشاعها، فقال بها بنان بن سمعان الذي تنسب إليه البنانية، وتلقاها عنه الجَعْدُ بن درهم" مؤدب مروان بن محمد آخر خلفاء بني أمية " وكان زنديقا فاحش الرأي واللسان. وهو أول من صرح بالإنكار على القرآن والرد عليه وجحد أشياءَ مما فيه، وأضاف إلى القول بخلقه أن فصاحتَه

--------------------------------------------

(1) ثاني الخلفاء العباسيين توفي سنة 156.

(2) المعجزة الكبرى القرآن لأبي زهرة صـ76.

(3) المرجع السابق صـ76، 77.

(4) تاريخ آداب العرب للرافعي جـ2 صـ143.
আল-মানসুর আবু জাফরের (১) শাসনামলে ভারতীয় চিন্তাধারা প্রবেশ করে। ফলে যারা প্রতিটি আগত বিজাতীয় চিন্তার প্রতি অনুরাগী ছিল, তারা বিস্ময়কর নতুনত্বের প্রতি ঝোঁকের কারণে সেগুলোকে লুফে নেয় এবং দর্শন তাদেরকে সেই মতবাদ গ্রহণের দিকে ধাবিত করে। তারা তা কুরআনের ওপর প্রয়োগ করে, যদিও তা আদতে প্রযোজ্য ছিল না। তাদের প্রবক্তারা বলে: আরবরা যখন কুরআনের সদৃশ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম হয়েছিল, তখন সেই অক্ষমতা কুরআনের শব্দ, অর্থ, গঠন বা শৈলীর কোনো স্বকীয় গুণের কারণে ছিল না; বরং আল্লাহই তাদেরকে এর সদৃশ কিছু তৈরি করা থেকে বিমুখ (صرف) করে দিয়েছিলেন (২)।

শায়খ (আবু জাহরা) আল-নাজ্জামের পূর্বে যারা এই মতবাদ পোষণ করতেন তাদের কারোর নাম উল্লেখ করেননি, তবে তিনি এই ধারণার প্রসারের মূল উদ্দেশ্যটি ফুটিয়ে তুলেছেন এবং এর ফলাফলকে দুটি বিষয়ের ওপর নিহিত করেছেন (৩):

প্রথমত: কুরআন এমন কোনো স্তরে নেই যা এর অনুকরণ করাকে অসম্ভব করে তোলে এবং অলৌকিকত্ব (إعجاز) এর কোনো স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নয়।

দ্বিতীয়ত: কুরআনকে মানুষের বাণীর ন্যায় সাব্যস্ত করা।

তবে আল-রাফিয়ী তাঁর "তারিখে আদাবুল আরব" (৪) গ্রন্থে বলেন: "কুরআন সম্পর্কে প্রথম যে আলোচনার উদ্ভব ঘটে, সেটি লাবিদ ইবনুল আসম নামক এক ইহুদির সাথে সম্পৃক্ত একটি মতবাদ। সে বলত: তাওরাত সৃষ্টি (مخلوق), সুতরাং কুরআনও তদ্রূপ। অতঃপর তার ভাগ্নে তালুত এটি তার থেকে গ্রহণ করে প্রচার করে। এরপর এটি গ্রহণ করে বানান ইবনে সামআন, যার দিকে বানানিয়া ফেরকাটি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। তার থেকে এটি গ্রহণ করে জাদ ইবনে দিরহাম, যে ছিল উমাইয়া বংশের শেষ খলিফা মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদের শিক্ষক। সে ছিল চরম কুরুচিপূর্ণ রুচি ও ভাষার অধিকারী একজন জিন্দিক (زنديق)। সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে কুরআনকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিল এবং কুরআনের কতিপয় বিষয়কে অস্বীকার করেছিল। সে কুরআন সৃষ্টির মতবাদের পাশাপাশি আরও দাবি করেছিল যে, এর সাবলীলতা (فصاحة)...

--------------------------------------------

(১) দ্বিতীয় আব্বাসীয় খলিফা, মৃত্যু ১৫৬ হিজরি।

(২) আবু জাহরা রচিত আল-মুজিজাতুল কুবরা আল-কুরআন, পৃ. ৭৬।

(৩) প্রাগুক্ত উৎস, পৃ. ৭৬, ৭৭।

(৪) আল-রাফিয়ী রচিত তারিখে আদাবুল আরব, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৪৩।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
غيرُ معجزة، وأن الناس يقدرون على مثلها وعلى أحسن منها. ولم يقل بذلك أحد قبله، ولا فشت المقالة بخلق القرآن إلا مِنْ بعده.

وإذا كان الجعد بن درهم أولَ من صرح بالقول بخلق القرآن وبأنه غير معجز، فإن أول من جَهَرَ بالقول بالصرفة من المتكلمين المعتزلة، أبو إسحاق إبراهيم بن سيار بن هاني النظام (ت424هـ) . خلط كلام الفلاسفة بكلام المعتزلة وانفرد أصحابه بمسائل: منها قوله في إعجاز القرآن أنه من حيث الإخبار عن الأمور الماضية والآتية، ومن جهة صرف الدواعي عن المعارضة، ومَنْع العرب عن الاهتمام به جبرا وتعجيزا، حتى لو خلاهم لكانوا قادرين على أن يأتوا بسورة من مثله بلاغة وفصاحة ونظما (1) .

وهذان هما الدافعان اللذان أثارا حفائظ المؤمنين غيرة على الحق، أما أبان ابن سمعان والجعد بن درهم فقد قتلهما خالد بن عبد الله القسرى المتوفى سنة 126هـ رحمه الله وجزاه خيرا.

وأما النظَّام فإن تلميذه الجاحظ لم ينتظم في سلك طائفته بل خرج عليه راميا نحوه بسهام ما أصاب من علم وآداب عربية، فمع اعتزاله لم يقف من الحق موقف المتخاذل فآثر حرمة الحق على حرمة الشيخ، فكان أول من دفع القول بالصرفة بالإعجاز الذاتي للقرآن الكريم.

لم يوافق التلميذُ أستاذَه، وإذا كان النظام قد اشتهر بالبيان وسرعة الجواب ولسن القول فقد اشتهر الجاحظ "ت 255 هـ" بأنه ذواق الكلام وَصَيْرَ فِيُّ البيان. فإن خَالَفَ من يتسرع في الخبر ويبني عليه، فهي مخالفة الخبير العارف بتصريف القول وأفانين التعبير والتفكير.

--------------------------------------------

(1) موسوعة الملل والنحل للشهرستاني صـ24، 25 بالطبعة الأولى سنة 1981م الناشر مؤسسة ناصر للثقافة - تاريخ آداب العرب للرافعي جـ2 صـ144.
...অলৌকিক (معجزة) নয়, এবং মানুষ এর অনুরূপ এমনকি এর চেয়ে উত্তম কিছু তৈরিতে সক্ষম। তাঁর আগে কেউ এ কথা বলেনি, আর কোরআন সৃষ্টির (خلق القرآن) মতবাদ কেবল তাঁর পরেই ছড়িয়ে পড়ে।

যদি জা’দ ইবনে দিরহাম প্রথম ব্যক্তি হন যিনি কোরআন সৃষ্টির (خلق القرآن) এবং এটি অলৌকিক (معجز) না হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, তবে মুতাযিলা (المعتزلة) কালামশাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি ‘সারফাহ’ (الصرفة - অর্থাৎ মোকাবিলা থেকে বিমুখ রাখা) মতবাদ প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, তিনি হলেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে সাইয়্যার ইবনে হানি আল-নাজ্জাম (মৃত্যু ৪২৪ হিজরি)। তিনি দার্শনিকদের বক্তব্যের সাথে মুতাযিলাদের (المعتزلة) বক্তব্যের সংমিশ্রণ ঘটান এবং তাঁর অনুসারীরা কিছু মাসআলায় স্বতন্ত্র অবস্থান গ্রহণ করেন: যার মধ্যে একটি হলো কোরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز القرآن) সম্পর্কে তাঁর অভিমত যে, এটি মূলত অতীত ও ভবিষ্যতের সংবাদ প্রদানের দিক থেকে এবং মোকাবিলা করার সংকল্পকে বিমুখ (صرف الدواعي) করে রাখার মাধ্যমে কার্যকর হয়। তিনি মনে করতেন, আরবদেরকে এর প্রতি মনোযোগ দিতে বাধ্যগতভাবে এবং অক্ষম (تعجيزا) করে দেওয়ার মাধ্যমে বাধা প্রদান করা হয়েছিল; এমনকি যদি তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে তারা এর মতো অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة), প্রাঞ্জলতা (فصاحة) ও শৈল্পিক বিন্যাসের (نظما) দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো সুরা নিয়ে আসতে সক্ষম হতো (১)।

এই দুটি বিষয়ই ছিল সেই চালিকাশক্তি যা সত্যের প্রতি ঈমানদারদের আত্মমর্যাদাবোধকে জাগ্রত করেছিল। আর আবান ইবনে সামআন এবং জা’দ ইবনে দিরহামকে ১২৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাসরি হত্যা করেছিলেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।

অন্যদিকে নাজ্জামের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তাঁর ছাত্র আল-জাহিয তাঁর গোষ্ঠীর আদর্শের অনুসারী হননি, বরং তিনি তাঁর বিরোধিতা করেন এবং আরবি জ্ঞান ও সাহিত্যের যে ভাণ্ডার তিনি অর্জন করেছিলেন, তা দিয়ে তাঁর দিকে তীরের ন্যায় আক্রমণ ছুড়ে দেন। মুতাযিলা (المعتزلة) পন্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি সত্যের সামনে হীনম্মন্যতা প্রদর্শন করেননি, বরং তাঁর শিক্ষকের সম্মানের চেয়ে সত্যের মর্যাদা রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ফলে তিনিই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন যিনি কোরআনের স্বকীয় অলৌকিকত্বের (الإعجاز الذاتي) মাধ্যমে ‘সারফাহ’ (الصرفة) মতবাদকে খণ্ডন করেন।

ছাত্র তাঁর শিক্ষকের সাথে একমত হননি। নাজ্জাম যদি তাঁর বাগ্মিতা (البيان), দ্রুত প্রত্যুত্তর এবং বাকপটুতার জন্য প্রসিদ্ধ হয়ে থাকেন, তবে আল-জাহিয (মৃত্যু ২৫৫ হিজরি) শব্দের রসাস্বাদনকারী এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের (البيان) সমঝদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি যদি এমন কাউকে বিরোধিতা করে থাকেন যিনি কোনো সংবাদে তাড়াহুড়ো করেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে মতবাদ গড়ে তোলেন, তবে সেটি ছিল মূলত শব্দপ্রয়োগের বৈচিত্র্য এবং চিন্তাশীল অভিব্যক্তির কলাকৌশলে দক্ষ এক বিশেষজ্ঞের বিরোধিতা।

--------------------------------------------

(১) শাহরাস্তানি রচিত মাওসুআতুল মিলাল ওয়ান নিহাল, পৃষ্ঠা ২৪, ২৫, প্রথম সংস্করণ ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ, প্রকাশক: মুয়াসসাসাতু নাসির লিস-সাকাফাহ; রাফিয়ি রচিত তারিখু আদাবিল আরাব, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৪।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولم يكن رد الجاحظ على شيخه ردَّ المجادل، ولكنه كان بالعمل، فقد كان أول من كتب في إعجاز القرآن من الناحية البيانية ليكون الردُّ على الصرفة ببيان الإعجاز الذاتي (1) .

وفى كتاب "المعتزلة" يقول مؤلفه زهدي حسن جاد الله "وقد رد الخياط على هذا القول الذي كان ابن الراوندي أول من نسبه إلى النظام وقال إن النظامَ كان يقر بإعجاز القرآن نظما وإخبارا (2) .

ومن كل ما سبق يمكن القول إن الصرفة لم تكن مذهبا يعتقده أحد من المسلمين مع شهرة وذيوع نسبتها إلى النظام الذي شهد له صاحب الانتصار بأنه كان يقر بإعجاز القرآن نظما وإخباراً، وما كان القول بالصرفة ونسبتها إلى أحد المسلمين ليكون لولا ضغائنُ الكائدين وأحقادهم للإسلام ولكتابه.

وهَبْنَا نجد في بطون الكتب ردودا على مثل هذا القول إلا أن هذه الردود وحدها لا تُثْبِت صحةَ نسبةِ الصرفة إلى قائلها، لأن دافعا كالغيرة على القرآن لا يترك مستجمعا لأدلة الاستيثاق من صحة صدور هذا القول عن صاحبه قبل المواجهة دون أن تبعثه على الرد بأقصى ما يمكن من السرعة على ما يمس الإسلام في أصل تشريعه وهو القرآن.

ولم يَخْلُ زمننا هذا مَعَ تباعُدِ ما بينه وبين عصر بزوغ فكرة الصرفة من أن ينبري مَنِ اطلع عليها بالرفض، والنقض لها، والرد عليها، ونقدها مما يسمح

--------------------------------------------

(1) المعجزة الكبرى لأبي زهرة صـ78.

(2) المعتزلة لزهدي حق جاد الله صـ29 - نقلاً عن الانتصار صـ27، 28 - منشورات النادي العربي في يافاط القاهرة 1366 - 1947م مطبعة مصر شركة مساهمة مصرية.
আল-জাহিজের তাঁর উস্তাদের প্রতি উত্তর কেবল বিতর্কের খাতিরে বিতর্ক ছিল না, বরং তা ছিল কর্মতৎপরতার মাধ্যমে। কুরআনের আলঙ্কারিক দিক থেকে এর অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ে তিনিই প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন, যাতে কুরআনের স্বকীয় অলৌকিকত্ব বর্ণনার মাধ্যমে 'সারফাহ' (صرفة) মতবাদের প্রতিবাদ করা যায় (১)।

এবং "আল-মুতাজিলা" গ্রন্থে এর লেখক যুহদি হাসান জাদুল্লাহ বলেন, "আল-খাইয়াত সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন যা ইবনে আল-রাওয়ান্দি সর্বপ্রথম আল-নাজ্জামের দিকে নিসবত (نسبة) করেছিলেন এবং তিনি বলেন, আল-নাজ্জাম কুরআনের গঠনশৈলী এবং সংবাদদানের ক্ষেত্রে এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) স্বীকৃতি দিতেন (২)।

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, 'সারফাহ' (صرفة) এমন কোনো মতবাদ ছিল না যা কোনো মুসলিম বিশ্বাস করতেন; যদিও আল-নাজ্জামের দিকে এর নিসবত (نسبة) হওয়ার বিষয়টি বেশ প্রসিদ্ধ ও বহুল প্রচারিত। অথচ 'আল-ইনতিসার' গ্রন্থের লেখক সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আল-নাজ্জাম কুরআনের গঠনশৈলী ও সংবাদদানের ক্ষেত্রে এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) স্বীকৃতি দিতেন। ইসলাম এবং এর পবিত্র গ্রন্থের প্রতি ষড়যন্ত্রকারীদের হিংসা-বিদ্বেষ না থাকলে 'সারফাহ' (صرفة) মতবাদ বা কোনো মুসলিমের দিকে এর নিসবত (نسبة) করার বিষয়টি উত্থাপিত হতো না।

আমরা যদি কিতাবের পাতায় পাতায় এ ধরনের বক্তব্যের খণ্ডন খুঁজেও পাই, তবুও কেবল সেই খণ্ডনগুলো 'সারফাহ' (صرفة) মতবাদটি এর প্রবক্তার দিকে নিসবত (نسبة) করার বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণ করে না। কারণ কুরআনের প্রতি মর্যাদাবোধের মতো একটি চালিকাশক্তি কোনো ব্যক্তিকে এই বক্তব্যের সূত্রপাতের বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য দলিল-প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ দেয় না, বরং ইসলামের মূল ভিত্তি তথা কুরআনের ওপর আঘাত আসার আশঙ্কায় তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর প্রতিবাদে প্রলুব্ধ করে।

'সারফাহ' (صرفة) মতবাদের আবির্ভাবের যুগ থেকে বর্তমান সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও এমন গবেষকের অভাব হয়নি, যারা এটি প্রত্যক্ষ করার পর তা প্রত্যাখ্যান, খণ্ডন এবং সমালোচনা করেছেন, যা অনুমোদন করে...

--------------------------------------------

(১) আবু জাহরা প্রণীত আল-মুজিজাতুল কুবরা, পৃষ্ঠা-৭৮।

(২) যুহদি হাসান জাদুল্লাহ রচিত আল-মুতাজিলা, পৃষ্ঠা-২৯ — আল-ইনতিসার, পৃষ্ঠা-২৭, ২৮ থেকে উদ্ধৃত — প্রকাশনা: আন-নাদি আল-আরাবি, ইয়াফা-কায়রো ১৩৬৬ হি. - ১৯৪৭ খ্রি. মাতবাআ মিসর শারিকাহ মুসাহামাহ মিসরীয়।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بالقول: إنه قد يكون اتهام النظام مبنيا في أصله على ما أشيع عنه بالقول بها، وقد يكون منها براء.

ولا خلاف في أن إثم القول بالصرفة - على اعتبارها طعنا في ذاتية الإعجاز القرآني - يقع على أول قائل بها سواء كان هو النظام أو من نسبها إلى النظام، بل على البادئ وزر من قال بها بعده، إذا كان قوله مؤسَّساً على مشايَعَةِ أول قائل بها، والارتضاءِ بها وجها للإعجاز.

ولكن متى اتخذ الكلام في الإعجاز الصورة العلمية المنظمة؟

في أواخر القرن الثاني وأوائل الثالث بدأ الكلام في الإعجاز بصورة علمية منظمة ففي هذا العصر ظهرت أكثرُ النظريات الرئيسية في الإعجاز، صادرة عن المتفلسفين والمعتزلة والمتكلمين، وكثر الكلام في الدين والنبوة وبُحِثَ الإعجاز على أنه فرع لهما.

وشاهَدَتْ هذه الحِقْبَةُ ظهورَ منكرِي الإعجاز كابن الراوندي أبي الحسين أحمد بن يحيي "ت 293 وقيل: 301 وقيل: 350" (1) الذي بسط لسانه في مناقضة الشريعة وإنكاره إعجاز القرآن في كتابه "الفريد" وقيل: إنه عارض القرآن في كتاب سماه "التاج" (2) ومن كتبه "الزمردة" و "قضيب الذهب"، و"المرجان"، و"البصيرة".

--------------------------------------------

(1) الحاشية بهامش تاريخ آداب العرب جـ2 صـ180.

(2) تاريخ آداب العرب المرجع السابق صـ182.
বলা যেতে পারে যে: সম্ভবত আন-নাজ্জামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি মূলত তার সম্পর্কে যা রটানো হয়েছিল তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, অথচ বাস্তবে তিনি এ থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ হতে পারেন।

আর এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, আল-কুরআনের মুজিজার (إعجاز) স্বকীয়তার ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য ‘সারফা’ (صرفة) মতবাদ ব্যক্ত করার পাপ প্রথম প্রবক্তার ওপরই বর্তাবে—চাই তিনি আন-নাজ্জাম হন কিংবা এমন কেউ যে এটি তার সাথে সম্পৃক্ত করেছে। বরং সূচনাকারীর ওপর পরবর্তী অনুসারীদের পাপের বোঝাও বর্তাবে, যদি তাদের বক্তব্য প্রথম প্রবক্তার অনুসরণ এবং এটিকে মুজিজার (إعجاز) একটি দিক হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।

কিন্তু মুজিজা (إعجاز) সংক্রান্ত আলোচনা কখন থেকে সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক রূপ পরিগ্রহ করেছে?

হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগে এবং তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে মুজিজা (إعجاز) সংক্রান্ত আলোচনা সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শুরু হয়। মূলত এই যুগেই মুজিজা (إعجاز) বিষয়ক প্রধান প্রধান তত্ত্বগুলোর অধিকাংশের উদ্ভব ঘটে, যা দার্শনিক, মুতাজিলা (معتزلة) এবং কালামশাস্ত্রবিদদের (متكلمين) পক্ষ থেকে উত্থাপিত হয়েছিল। এ সময়ে ধর্ম ও নবুওয়াত সম্পর্কে আলোচনার ব্যাপক বিস্তার ঘটে এবং মুজিজাকে (إعجاز) এই দুইয়ের একটি শাখা হিসেবে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়।

এই সময়কালটি মুজিজা (إعجاز) অস্বীকারকারীদের আবির্ভাবের সাক্ষী হয়ে আছে, যেমন ইবনে রাওয়ান্দি আবুল হুসাইন আহমদ বিন ইয়াহইয়া (মৃত্যু: ২৯৩ হি., মতান্তরে ৩০১ বা ৩৫০ হি.) (১), যিনি তার 'আল-ফারিদ' গ্রন্থে শরিয়তের বিরোধিতা এবং কুরআনের মুজিজা (إعجاز) অস্বীকার করার বিষয়ে অত্যন্ত মুখর ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি 'আত-তাজ' (২) নামক একটি গ্রন্থে কুরআনের বিরোধিতা (معارضة) করেছিলেন। তার অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে 'আয-যুমুররুদাহ', 'কাদীব আল-জাহাব', 'আল-মারজান' এবং 'আল-বাসীরাহ'।

--------------------------------------------

(১) তারীখ আদাবিল আরব-এর পার্শ্বটীকা, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮০।

(২) তারীখ আদাবিল আরব, পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ১৮২।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وانبرى كثيرون للرد عليه (1) في لاحق الزمن، ومع أن المعرى أبا العلاء (449هـ) قد تولى الرد عليه، إلا أنه لم يسلم هو من الاتهام بمعارضة القرآن في كتابه المسمى "الفصول والغايات في مجاراة السور والآيات" على أن المعريَّ قد أثبت الإعجاز للقرآن فيما أنكر من رسالته على ابن الراوندي (2) بل الناظر في الفصول لا يجد فيه شيئا من هذا.

وكما لم يسلم المعري لم يسلم من قَبْلِهِ الجاحظُ فهو وإن كان رأيهُ في الإعجاز كرأي أهل العربية (3) فقد سرد في كتابه "الحيوان" طائفة من أنواع العجز إلا أنه لم يسلم من القول بالصرفة فرد أنواع العجز في العلة إلى أن الله صرف أوهام الناس عنها ورفع ذلك القصد من صدورهم، ثم عد منها: "ما رَفَعَ من أوهام العرب وصرف نفوسهم عن المعارضة لقرآنه بعد أن تحداهم الرسول صلى الله عليه وسلم بنظمه (4) .

وظهر أول كتاب في الكلام لمؤلفه علي بن ربن الطبري في خلافة المتوكل (232 - 247 هـ) فظهرت مسألة الأسلوب مبكرة في إعجاز القرآن ظهوراً واضحا في كتابه " الدين والدولة " الذي يرى فيه أن الوجه المعجز في القرآن هو هدفه الإصلاحي، وتحقيقه هذا الهدف، وأوامره ونواهيه، وإخباره عن الجنة والنار، وأسلوبه الطلي الرائع برغم أمية النبي محمد صلى الله عليه وسلم (5) .

--------------------------------------------

(1) تاريخ آداب العرب المرجع السابق صـ183.

(2) تاريخ آداب العرب المرجع السابق صـ136.

(3) الإتقان في علوم القرآن للسيوطي جـ2 صـ1004.

(4) تاريخ آداب العرب للرافعي صـ147 بتصرف.

(5) فكرة إعجاز القرآن للأستاذ نعيم الحمصي صـ57 طـ2 مؤسسة الرسالة وذكر المؤلف في صـ7 لهذا الطبري كتاب "الأسلوب والبلاغة" وأن هذا الكتاب لم ترد فيه مادة عجز.
পরবর্তীতে অনেকেই তাঁর প্রতিবাদে (১) এগিয়ে আসেন। যদিও আবুল আলা আল-মা'আররি (৪৪৯ হিজরি) তাঁর প্রতিবাদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তবুও তিনি তাঁর "আল-ফুসুল ওয়াল গায়াত ফি মুজারাতিল সুওয়ার ওয়াল আয়াত" নামক গ্রন্থে কুরআনের বিরোধিতার অভিযোগ থেকে রক্ষা পাননি। তবে আল-মা'আররি ইবনুর রাওয়ান্দি-র প্রতিবাদে রচিত তাঁর রিসালায় কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) প্রমাণ করেছেন (২); বরং কেউ যদি "আল-ফুসুল" গ্রন্থটি পর্যবেক্ষণ করেন, তবে তিনি সেখানে এর কোনো কিছুই খুঁজে পাবেন না।

মা'আররি যেমন রেহাই পাননি, তাঁর পূর্ববর্তী আল-জাহিজও তেমনি রেহাই পাননি। যদিও অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ে তাঁর অভিমত ভাষাবিদদের (أهل العربية) অভিমতের মতোই ছিল (৩), তিনি তাঁর "আল-হায়াওয়ান" গ্রন্থে অক্ষমতার (عجز) বিভিন্ন প্রকার বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি 'সারফাহ' বা জনতাকে বিমুখ করা (صرفة) সংক্রান্ত মতবাদ থেকে মুক্ত থাকতে পারেননি। তিনি অক্ষমতার (عجز) কারণকে এই যুক্তিতে ফিরিয়ে দিয়েছেন যে, আল্লাহ মানুষের কল্পনাকে তা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁদের অন্তর থেকে সেই সংকল্প উঠিয়ে নিয়েছেন। অতঃপর তিনি এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাচনভঙ্গির মাধ্যমে তাঁদের চ্যালেঞ্জ করার পর যা আরবদের কল্পনা থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কুরআনের বিরোধিতা থেকে তাঁদের মনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে" (৪)।

খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিলের খেলাফতকালে (২৩২ - ২৪৭ হিজরি) আলী বিন রাব্বান আত-তাবারির মাধ্যমে ইলমুল কালাম বিষয়ক প্রথম গ্রন্থ আত্মপ্রকাশ করে। তাঁর "আদ-দীন ওয়াদ-দাওলাহ" গ্রন্থে কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) ক্ষেত্রে শৈলী (أسلوب) বিষয়টি অত্যন্ত সকালেই স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তিনি মনে করেন যে, কুরআনের অলৌকিক (معجز) দিকটি হলো এর সংস্কারমূলক লক্ষ্য, এই লক্ষ্য অর্জন, এর আদেশ ও নিষেধসমূহ, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে সংবাদ প্রদান এবং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও এর চমৎকার ও মনোমুগ্ধকর শৈলী (أسلوب) (৫)।

--------------------------------------------

(১) তারীখ আদাবিল আরাব, পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৮৩।

(২) তারীখ আদাবিল আরাব, পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৩৬।

(৩) আস-সুয়ূতী রচিত আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১০০৪।

(৪) আর-রাফেয়ি রচিত তারীখ আদাবিল আরাব, পৃষ্ঠা ১৪৭ (পরিমার্জিত)।

(৫) উস্তাদ নাঈম আল-হিমসি রচিত ফিকরাতু ই'জাযিল কুরআন, পৃষ্ঠা ৫৭, ২য় সংস্করণ, মুআসসাসাতুর রিসালাহ। লেখক ৭ম পৃষ্ঠায় এই তাবারির "আল-উসলুব ওয়াল বালাগাহ" নামক গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, এই গ্রন্থে অক্ষমতা (عجز) বিষয়ক কোনো বিষয়বস্তু বর্ণিত হয়নি।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
بيد أن أول كتاب وضع لشرح الإعجاز وبسط القول فيه على طريقتهم في التأليف إنما هو كتاب "إعجاز القرآن" لأبى عبد الله محمد بن يزيد الواسطي المتوفى سنة 306 وهو كتاب شرحه عبد القادر الجرجاني شرحا كبيرا سماه المعتضد وشرحا آخر أصغر منه (1) .

ويرجح الرافعي كون الواسطي بنى على ما ابتدأه الجاحظ كما بنى عبد القادر في (دلائل الإعجاز) على الواسطي.

ثم وضع المعتزلي أبو الحسن على بن عيسى الرماني (2) . المتوفى سنة 386 كتابه " النكت في إعجاز القرآن " فرفع بذلك درجة ثالثة.

وجاء القاضي أبو بكر الباقلاني المتوفى سنة 403 هـ فوضع كتابه "إعجاز القرآن" الذي أجمع المتأخرون من بعده على أنه باب في الإعجاز على حدة (3) والغريب أنه لم يذكر فيه كتاب الواسطي ولا كتاب الرماني، ولا كتاب الخطابي الذي كان يعاصره، وأو ما إلى كتاب الجاحظ بكلمتين لا خير فيهما (4) .

والخطابي الأديب اللغوي المحدث أبو سيلمان حمد بن محمد بن إبراهيم البستى، ولد في رجب 319 هـ وتوفي في 388هـ ألف كتابه بيان "إعجاز القرآن" فأفاد فيه وأجاد. وكما لم يذكره الباقلاني لم يذكر هو كذلك من سبقه ولا من عاصره (5) .

--------------------------------------------

(1) تاريخ آداب العرب جـ2 صـ152 الرافعي.

(2) ثلاث رسائل في إعجاز القرآن صـ10.

(3) من يطالع الكتاب يجده خير شاهد على صحة هذا الإجماع على ما أجمع.

(4) تاريخ آداب العرب جـ2 صـ152.

(5) ثلاث رسائل في إعجاز القرآن صـ8،9.
তবে তাদের রচনাশৈলী অনুযায়ী অলৌকিকত্ব (إعجاز) ব্যাখ্যা এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য রচিত প্রথম গ্রন্থটি হলো আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-ওয়াসিতি (মৃত্যু ৩০৬ হিজরি) রচিত "ইজাজুল কুরআন"। এটি এমন একটি গ্রন্থ যা আব্দুল কাদির আল-জুরজানি একটি বৃহৎ ব্যাখ্যার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন "আল-মুতাদিদ", এছাড়াও তিনি এর আরও একটি ছোট ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন (১)।

রাফেয়ী এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, আল-ওয়াসিতি তার গ্রন্থটি আল-জাহিজের সূচনাকৃত ভিত্তির ওপর গড়ে তুলেছেন, ঠিক যেমন আব্দুল কাদির তার "দালাইলুল ইজাজ" গ্রন্থে আল-ওয়াসিতির ওপর ভিত্তি করেছেন।

এরপর মুতাজিলি মতাদর্শের আবু হাসান আলি ইবনে ঈসা আর-রুম্মানি (২) (মৃত্যু ৩৮৬ হিজরি) তার গ্রন্থ "আন-নুকাতি ফি ইজাজিল কুরআন" রচনা করেন, যার মাধ্যমে তিনি বিষয়টিকে তৃতীয় স্তরে উন্নীত করেন।

অতঃপর কাজি আবু বকর আল-বাকিলানি (মৃত্যু ৪০৩ হিজরি) আসেন এবং তার "ইজাজুল কুরআন" গ্রন্থটি রচনা করেন, যার সম্পর্কে পরবর্তী উলামাগণ একমত হয়েছেন যে, এটি অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় (৩)। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, তিনি সেখানে আল-ওয়াসিতি কিংবা আর-রুম্মানির গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেননি, এমনকি তার সমসাময়িক আল-খাত্তাবির গ্রন্থের কথাও উল্লেখ করেননি। আর আল-জাহিজের গ্রন্থের দিকে তিনি এমন দুটি শব্দের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন যাতে কোনো কল্যাণ নেই (৪)।

আর সাহিত্যিক, ভাষাবিদ ও মুহাদ্দিস (محدث) আবু সুলাইমান হামদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-বুস্তি আল-খাত্তাবি, রজব ৩১৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৮৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার গ্রন্থ "বায়ানু ইজাজিল কুরআন" রচনা করেন এবং এতে প্রভূত উপকার সাধন ও চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। আল-বাকিলানি যেমন তাকে উল্লেখ করেননি, তেমনি তিনিও তার পূর্বসূরি কিংবা সমসাময়িকদের উল্লেখ করেননি (৫)।

--------------------------------------------

(১) তারীখু আদাবিল আরাব, ২য় খণ্ড, ১৫২ পৃষ্ঠা, রাফেয়ী।

(২) সালাসু রাসায়িল ফি ইজাজিল কুরআন, ১০ পৃষ্ঠা।

(৩) যে ব্যক্তি বইটি পাঠ করবেন তিনি এই ঐকমত্যের (إجماع) সত্যতার বিষয়ে একেই সর্বোত্তম সাক্ষী হিসেবে পাবেন।

(৪) তারীখু আদাবিল আরাব, ২য় খণ্ড, ১৫২ পৃষ্ঠা।

(٥) সালাসু রাসায়িল ফি ইজাজিল কুরআন, ৮, ৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن هذا الذي سبق نجد أن العقول قد يخصبها التضاد، فلولا ما نجم من فكر أعور جرى على ألسنة أصحابه قول بعضهم بالصرفة، وقولُ البعض الآخر بنفي الإعجاز عن القرآن، لما هَمَتْ على أرض القلوب المؤمنةِ بواعثُ التوجه نحو الإعجاز وبيانِهِ، وحجاج النافين له.

لذلك أسفرت هذه المعركة عن أمرين هما مظهران للعناية بوجوه إعجاز القرآن الكريم:

أولهما - أن هذه الكتب التي ألفت لم تدع الإعجاز الذاتي ولا قسيمه دون أن تأخذ من كلٍ بطرف. فحين يعرض بعضها للصرفة كوجه يراه البعض، نرى وابلا من الحُجَج الدامغة ينصب فوق الفكرة والقائلين بها ممن لم يعتبرها وجه إعجاز.

ثانيهما - أن هذه الكتب كانت فاتحةً لعلوم البلاغة، ليتسنى لمن لم يكن في عصر القرائح العربية الأصيلة أن ينظر من خلال معارفه البلاغية إلى وجه الإعجاز الذاتي للقرآن الكريم، وهو ما أظل الحِقَبَ المتعاقبةَ على الأمة.
পূর্বোল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই যে, বৈপরীত্য অনেক সময় চিন্তাশক্তিকে উর্বর করে তোলে। যদি সেই ত্রুটিপূর্ণ চিন্তাধারার উদ্ভব না হতো—যা এর প্রবক্তাদের মুখে 'সরফা' (الصرفة) তত্ত্ব হিসেবে উচ্চারিত হয়েছে এবং অন্যদের মাধ্যমে কুরআনের আলৌকিকত্ব (إعجاز) অস্বীকারের রূপ নিয়েছে—তবে মুমিনদের হৃদয়ে আলৌকিকত্ব (إعجاز) ও তার স্বরূপ বিশ্লেষণ এবং এর অস্বীকারকারীদের যুক্তি খণ্ডনের প্রেরণা জাগ্রত হতো না।

ফলে এই তাত্ত্বিক লড়াই দুটি বিষয়ের জন্ম দিয়েছে, যা পবিত্র কুরআনের আলৌকিকত্বের (إعجاز) বিভিন্ন দিকের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপের বহিঃপ্রকাশ:

প্রথমত—এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলি কুরআনের স্বকীয় আলৌকিকত্ব (الإعجاز الذاتي) কিংবা এর সমান্তরাল কোনো বিষয়কেই গুরুত্বের সাথে আলোচনা না করে ছেড়ে দেয়নি। যখন এই গ্রন্থগুলোর কোনোটিতে 'সরফা' (الصرفة)-কে একটি মতবাদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তখনই আমরা সেই ধারণা এবং এর প্রবক্তাদের ওপর অকাট্য যুক্তির প্রবল বর্ষণ হতে দেখি, যারা একে আলৌকিকত্বের (إعجاز) কোনো গ্রহণযোগ্য দিক হিসেবে গণ্য করেননি।

দ্বিতীয়ত—এই গ্রন্থগুলো ছিল অলঙ্কারশাস্ত্রের (بلاغة) বিজ্ঞানের দ্বারস্বরূপ, যাতে যারা খাঁটি আরবি স্বভাবজাত প্রতিভার যুগে বিদ্যমান ছিলেন না, তারাও যেন তাদের অলঙ্কারশাস্ত্রীয় (بلاغة) জ্ঞানের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের স্বকীয় আলৌকিকত্বের (الإعجاز الذاتي) স্বরূপ প্রত্যক্ষ করতে পারেন; আর এটিই পরবর্তী যুগগুলোতে এই উম্মাহর জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে ছায়া প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল মুসলিমীন বি-ইবরাজি উজুহিল ইজায ফিল কুরআনিল কারীম - হাসান আবদিল ফাত্তাহ আহমাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المبحث الثاني: أسس استنباط وجوه الإعجاز وقواعده

عَّرف علماء الكلام المعجزةَ بأنها "أمر خارق للعادة مقرون بالتحدي سالم من المعارضة" وناقشوا مدلولها كثيرا، وتعالجوا شروطها طويلا، لكن نكتفي بما ذكره القرطبي المفسر في كتابه "الجامع لأحكام القرآن" (1) من شروطِ لا يصح من دونها الحادث أن يسمى معجزةً وهى: -

1- هذا الحادث ينبغي أن يكون مما لا يستطيعه إلا الله.

2- أن يخرج على قوانين الطبيعة.

3- ينبغي أن ينبئ عنه الحكيم قبل أن يقع بأن كذا وكذا سيحصل.

4- ويجب أن يكون الحادث الواقع موافقا لما قال مِنْ قبل.

5- وألا يكون في استطاعة أحد أن يجري مثل هذا الأمر.

هذه هي شروط المعجزة، ولننظر ماذا كان منها متحققا عندما تلقى العرب القرآن عند أول نزوله. ذلك أنهم دهشوا بما غالبهم عليه القرآن من البيان، وعجزوا مع تحديه لهم مع آياته أو سوره الأولى أن يأتوا بمثله.

عجزوا، ولم يستطع أحد أبداً استبانة أسباب عجزهم مع براعتهم البيانية وقدرتهم الفائقة على الإعراب والبيان المتوارث في الطباع.

لم يقدر أحد على معارضة القرآن، وكانت المجالدة بآلات الحرب أهونَ عليهم من مجادلة القرآن. فلما عجزوا عن معارضته والإتيان بسورة تشبهه على كثرة الخطباء والبلغاء نادى عليهم بإظهار العجز وإعجاز القرآن لهم فقال {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْأِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن للقرطبي جـ1صـ69-71.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকসমূহ নিরূপণের মূলভিত্তি ও নিয়মাবলি

ইলমুল কালামের বিশেষজ্ঞগণ মুজিজাকে (معجزة) এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, "এটি এমন একটি অলৌকিক বিষয় যা চ্যালেঞ্জের সাথে সম্পৃক্ত এবং যা বিরোধিতার ঊর্ধ্বে।" তাঁরা এর তাৎপর্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন এবং এর শর্তাবলি নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যাপী গবেষণা করেছেন। তবে আমরা মুফাসসির আল-কুরতুবী তাঁর 'আল-জামি লি আহকামিল কুরআন' (১) গ্রন্থে যে শর্তাবলি উল্লেখ করেছেন তা বর্ণনা করাই যথেষ্ট মনে করছি, যা ব্যতীত কোনো ঘটনাকে মুজিজা (معجزة) হিসেবে অভিহিত করা সঠিক হবে না। সেগুলো হলো: -

১- এই ঘটনাটি এমন হওয়া আবশ্যক যা আল্লাহ ব্যতীত আর কারো পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়।

২- এটি প্রাকৃতিক নিয়মের বহির্ভূত হতে হবে।

৩- প্রজ্ঞাবান সত্তা (নবী) ঘটনাটি ঘটার পূর্বেই এ সংবাদ দেবেন যে, অমুক অমুক বিষয় সংঘটিত হবে।

৪- সংঘটিত ঘটনাটি তাঁর পূর্বে কৃত বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

৫- এই ধরনের কাজ সম্পন্ন করার সামর্থ্য অন্য কারো থাকতে পারবে না।

এগুলোই হলো মুজিজার (معجزة) শর্তাবলি। এখন লক্ষ্য করা যাক আরবরা যখন প্রথম কুরআন লাভ করেছিল, তখন এগুলোর মধ্যে কোনটি তাদের ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল। বিষয়টি হলো এই যে, আল-কুরআনের প্রাঞ্জল বাচনভঙ্গি তাদের অভিভূত করেছিল এবং কুরআন যখন তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল, তখন তারা এর আয়াত বা প্রাথমিক সূরাগুলোর অনুরূপ কিছু পেশ করতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল।

তারা অক্ষম হয়ে পড়েছিল এবং তাদের বাচনভঙ্গির দক্ষতা এবং বংশপরম্পরায় প্রাপ্ত আরবির বিশুদ্ধ প্রকাশ ও চমৎকার বর্ণনাভঙ্গির অসাধারণ ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেউ তাদের এই অক্ষমতার কারণগুলো স্পষ্ট করতে সক্ষম হয়নি।

আল-কুরআনের মোকাবিলা করার ক্ষমতা কারো ছিল না। তাদের কাছে যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্র নিয়ে লড়াই করা আল-কুরআনের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে সহজ ছিল। বক্তা ও আলঙ্কারিকদের বিশাল সমাগম থাকা সত্ত্বেও তারা যখন আল-কুরআনের মোকাবিলা করতে এবং এর সদৃশ একটি সূরা পেশ করতে অক্ষম হলো, তখন কুরআন তাদের এই অক্ষমতা প্রকাশ করে এবং কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) ঘোষণা করে বলল: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ কিছু আনতে পারবে না...}

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি আহকামিল কুরআন, আল-কুরতুবী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৯-৭১।