(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: -)
قيام رمضان فضله وكيفية أدائه ومشروعية الجماعة فيه ومعه بحث قيم عن الاعتكاف القسم: مسائل فقهية
الكتاب: قيام رمضان فضله وكيفية أدائه ومشروعية الجماعة فيه ومعه بحث قيم عن الاعتكاف
المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: المكتبة الإسلامية-عمان-الأردن
الطبعة: الطبعة الثانية 1404هـ
عدد الصفحات: 41
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রমজানের কিয়াম: এর ফজিলত, আদায়ের পদ্ধতি এবং এতে জামাতের বিধান, সেই সঙ্গে ইতিকাফ সম্পর্কে একটি মূল্যবান গবেষণা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: রমজানের কিয়াম: এর ফজিলত, আদায়ের পদ্ধতি এবং এতে জামাতের বিধান, সেই সঙ্গে ইতিকাফ সম্পর্কে একটি মূল্যবান গবেষণা
লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, বিন আল-হাজ্ব নূহ বিন নাজাতী বিন আদম, আল-আশকুন্দরী আল-আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)
প্রকাশক: আল-মাকতাবাহ আল-ইসলামিয়্যাহ-আম্মান-জর্ডান
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪০৪ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রয়েছে]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله، وصلاة وسلام على رسول الله، وآله وصحبه، ومن اتبع سنته وهداه.
أما بعد، فهذه هي الطبعة الثانية لرسالتي "قيام رمضان" أقدمها إلى القارئ الكريم بمناسبة قرب شهره المبارك سنة "1406 هـ" بعد أن نفدت نسخ الطبعة الأولى، وكثرت الطلبات عليها، فأعدت النظر فيها، فهذبتها ونقحتها، وألحقت بها تخريجات عديدة، وفوائد جديدة تسر الناظرين إن شاء الله تعالى، ومن أهمها ما يراه القارئ في "الاعتكاف".
والله سبحانه وتعالى أسأل أن يجعل الصواب حليفي، وأن يغفر لي ما نَبَا عن الصواب فهمي، ونَدَّ عنه قلمي، وأن يجعله خالصاً لوجهه، إنه عفو كريم.
عمان 7 شعبان سنة 1406 هـ
وكتب
محمد ناصر الدين الألباني
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর সুন্নাহ ও হিদায়াত অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর।
অতঃপর, এটি হলো আমার "কিয়ামে রমজান" নামক পুস্তিকার দ্বিতীয় সংস্করণ। প্রথম সংস্করণের সকল কপি শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় ১৪০৬ হিজরি সনের বরকতময় মাস সন্নিকটে আসার প্রাক্কালে আমি এটি সম্মানিত পাঠকদের সামনে পেশ করছি। আমি এটি পুনরায় পর্যালোচনা করেছি, একে পরিমার্জিত ও সংশোধিত করেছি এবং এতে অনেক হাদিসের উৎস অনুসন্ধান (تخريج) ও নতুন বহু ফায়দা যুক্ত করেছি যা ইনশাআল্লাহ পাঠকদের আনন্দিত করবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো "ইতিকাফ" সংক্রান্ত আলোচনা যা পাঠক দেখতে পাবেন।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন সত্য ও সঠিককে আমার সঙ্গী করেন এবং আমার উপলব্ধির বিচ্যুতি ও কলমের স্খলন যা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তা ক্ষমা করেন, আর এই কাজটিকে যেন কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
আম্মান, ৭ই শাবান, ১৪০৬ হিজরি।
লেখক
মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৪)
مقدمة الطبعة الأولىإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد، فقد صح عن ابن مسعود موقوفاً، وهو مرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم حُكْماً، أنه قال:
"كيف أنتم إذا لبستكم فتنة يهرم فيها الكبير، ويربو فيها الصغير، ويتخذها الناس سنة، إذا ترك منها شيء" قيل: تركت السنة؟ قالوا: ومتى ذاك؟ قال: "إذا ذهبت علماؤكم، وكثرت قُراؤكم، وقَلَّت فقهاؤكم، وكَثُرت أمراؤكم، وقلَّتْ أمناؤكم، والتُمِسَتِ الدنيا بعمل الآخرة، وتُفُقهَ لغير الدين"1.
قلت: وهذا الحديث من أعلام نبوته صلى الله عليه وسلم وصدق رسالته، فإن كل فقرة من فقراته، قد تحقق في العصر الحاضر، ومن ذلك كثرة البدع وافتتان الناس بها حتى اتخذوها سنة، وجعلوها ديناً
--------------------------------------------
প্রথম সংস্করণের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল।
অতঃপর, ইবনে মাসউদ থেকে সাহাবি পর্যন্ত স্থগিত (موقوفاً) হিসেবে এটি বিশুদ্ধভাবে (صح) প্রমাণিত হয়েছে, যা বিধানগতভাবে (حكماً) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع)। তিনি বলেছেন:
“তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমাদেরকে এমন এক ফিতনা আচ্ছন্ন করবে যাতে বৃদ্ধরা জরাগ্রস্ত হবে এবং শিশুরাও তাতে বেড়ে উঠবে? মানুষ সেটিকে সুন্নাহ হিসেবে গ্রহণ করবে, আর যখন তার থেকে কোনো কিছু বর্জন করা হবে, তখন বলা হবে: সুন্নাহ কি বর্জন করা হলো? তারা জিজ্ঞেস করল: সেটি কখন হবে? তিনি বললেন: যখন তোমাদের আলেমগণ বিদায় নেবেন, তোমাদের তিলাওয়াতকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, ফকীহদের সংখ্যা কমে যাবে, তোমাদের নেতাদের সংখ্যা বেড়ে যাবে, তোমাদের বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা হ্রাস পাবে, পরকালের আমল দ্বারা দুনিয়া অন্বেষণ করা হবে এবং দ্বীন ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে জ্ঞান অর্জন করা হবে।”১।
আমি বলছি: এই হাদিসটি তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়তের নিদর্শন এবং তাঁর রিসালাতের সত্যতার অন্যতম প্রমাণ। কেননা এর প্রতিটি অংশ বর্তমান যুগে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদআতের (بدعة) আধিক্য এবং এর প্রতি মানুষের মোহাচ্ছন্ন হওয়া, এমনকি তারা সেটিকে সুন্নাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং সেটিকে দ্বীন বানিয়ে নিয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
يُتَّبع، فإذا أعرض عنها أهل السنة حقيقة، إلى السنة الثابتة عنه صلى الله عليه وسلم قيل: تُركت السنة!
وهذا هو الذي أصابنا نحن أهل السنة في الشام، حينما أحْيَيْنا سنة صلاة التراويح إحدى عشرة ركعة مع المحافظة فيها على الاطمئنان والخشوع والأذكار المتنوعة الثابتة عنه صلى الله عليه وسلم، بقدر الإمكان، الأمر الذي ضيعته جماهير المحافظين على صلاتها بعشرين ركعة، ومع ذلك فقدت ثائرتهم، وقامت قيامتُهم حينما أصدرنا رسالتنا "صلاة التراويح"1، وهي الرسالة الثانية من رسائل كتابنا "تسديد الإصابة إلى من زعم نصرة الخلفاء الراشدين والصحابة"، لما رأوا ما فيها تحقيق:
--------------------------------------------
অনুসরণ করা হয়; সুতরাং যখন আহলে সুন্নাত প্রকৃত অর্থে তা থেকে বিমুখ হয়ে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (ثابت) সুন্নাহর দিকে ফিরে আসেন, তখন বলা হয়: সুন্নাহ পরিত্যাগ করা হয়েছে!
আর সিরিয়ার আহলে সুন্নাত হিসেবে আমাদের সাথেও এমনটাই ঘটেছে, যখন আমরা সালাতুত তারাবিহ-এর এগারো রাকাতের সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলাম এবং সেখানে যথাসম্ভব ধীরস্থিরতা, একাগ্রতা এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (ثابت) বিভিন্ন জিকির রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলাম; যা বিশ রাকাত সালাত আদায়ে অভ্যস্ত রক্ষণশীলদের বিশাল অংশ অবহেলা করে আসছিল। তাসত্ত্বেও তাদের ক্রোধ উদ্দীপিত হলো এবং হুলস্থূল শুরু হয়ে গেল যখন আমরা আমাদের রিসালা (পুস্তিকা) "সালাতুত তারাবিহ"১ প্রকাশ করলাম, যা আমাদের গ্রন্থ "তাসদীদুল ইসাবাহ ইলা মান যা'আমা নুসরাতাল খুলাফাউর রাশিদিন ওয়া সাহাবা"-এর অন্তর্ভুক্ত দ্বিতীয় রিসালা; যখন তারা এতে থাকা যাচাই-বাছাই (تحقيق) দেখল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
1- أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يُصَل التراويح من إحدى عشرة ركعة.
2- وأن عمر رضي الله عنه أمر أٌبَيَّا وتميماً الداري أن يصليا بالناس التراويح إحدى عشرة ركعة وفق السنة الصحيحة.
3- وأن رواية: أن الناس كانوا يقومون على عهد عمر في رمضان بعشرين ركعة، رواية شاذة ضعيفة مخالفة لرواية الثقات الذين قالوا: إحدى عشرة ركعة؛ وأن عمر رضي الله عنه أمر بها.
4- وأن الرواية الشاذة لو صحت لكان الأخذ بالرواية الصحيحة أولى لموافقتها للسنة في العدد، وأيضاً؛ فإنه ليس فيها أن عمر أمر بالعشرين، وإنما الناس فعلوا ذلك، بخلاف الرواية الصحيحة ففيها أنه أمر بإحدى عشرة ركعة.
5- وأنها لو صحت أيضاً لم يلزم من ذلك التزام العمل بها، وهجر العمل بالرواية الصحيحة المطابقة للسنة بحيث يعد العامل بالسنة خارجاً عن الجماعة! بل غاية ما يستفاد منها جواز العشرين مع القطع بأن ما فعله صلى الله عليه وسلم وواظب عليه هو الأفضل.
6- وبينا فيها أيضاً عدم ثبوت العشرين عن أحد من الصحابة الأكرمين.
7- وبطلان دعوى من ادعى أنهم أجمعوا على العشرين.
1- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এগারো রাকাতের অধিক তারাবিহ পড়েননি।
2- উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উবাই ও তামীম আদ-দারি-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা সহিহ (صحيحة) সুন্নাহ মোতাবেক মানুষের সাথে এগারো রাকাত তারাবিহ আদায় করেন।
3- আর এই বর্ণনাটি যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে মানুষ রমজানে বিশ রাকাত কিয়াম করত—তা একটি শায (شاذة) ও দুর্বল (ضعيفة) বর্ণনা; যা সেই সকল নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের বর্ণনার পরিপন্থী যারা বলেছেন যে তা ছিল এগারো রাকাত এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এরই নির্দেশ দিয়েছিলেন।
4- এই শায (شاذة) বর্ণনাটি যদি সহিহ (صحيحة) হতোও, তবুও সংখ্যার দিক থেকে সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণে সহিহ (صحيحة) বর্ণনাটি গ্রহণ করাই হতো অধিক অগ্রগণ্য। এছাড়া সেই বর্ণনায় এটি নেই যে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বিশ রাকাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন, বরং কেবল মানুষ তা করেছিল; পক্ষান্তরে সহিহ (صحيحة) বর্ণনায় এসেছে যে তিনি এগারো রাকাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
5- আর এটি যদি সহিহ (صحيحة) হতোও, তবে তার ওপর আমল করা এবং সুন্নাহর অনুসারী সহিহ (صحيحة) বর্ণনার ওপর আমল বর্জন করা আবশ্যক হয়ে যেত না, যেন সুন্নাহর ওপর আমলকারীকে জামাত থেকে বিচ্যুত গণ্য করা হয়! বরং এটি থেকে সর্বোচ্চ বিশ রাকাতের বৈধতা প্রমাণিত হয়, যদিও এটি সুনিশ্চিত যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা করেছেন এবং যার ওপর তিনি অবিচল ছিলেন, সেটিই হলো সর্বোত্তম।
6- আমরা এতে আরও স্পষ্ট করেছি যে, সম্মানিত সাহাবিগণের কারো থেকেই বিশ রাকাতের বিষয়টি প্রমাণিত নয়।
7- এবং যারা দাবি করেন যে সাহাবিগণ বিশ রাকাতের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন, তাদের সেই দাবির অসারতাও আমরা তুলে ধরেছি।
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
8- وبينا أيضاً الدليل الموجب لالتزام العدد الثابت في السنة، ومن أنكر الزيادة عليه من العلماء، وغيره من الفوائد التي قلما توجد مجموعة في كتاب.
كل ذلك بأدلة واضحة من السنة الصحيحة، والآثار المعتمدة، الأمر الذي أثار علينا حملة شعواء من جماعة من المشايخ المقلدة، بعضهم في خطبهم ودروسهم، وبعضهم في رسائل ألفوها في الرد1 على رسالتنا السابقة، وكلها قَفْراء من العلم النافع، والحجة الدالة عليه، بل هي مُسَوةٌ بالسباب والشتائم، كما هي عادة المبطلين حينما يثورون على الحق وأهله، ولذلك لم نر كبير فائدةٍ في أن نضيع وقتنا بالرد عليهم، وبيان عوار كلامهم؛ لأن العمر أقصر من أن يتسع لذلك لكثرتهم، هداهم الله تعالى أجمعين.
ولا بأس من أن نضرب على ذلك مثلاً بأحدهم - هو عندي من أفضلهم وأعلمهم2 - ولكن العلم إذا لم يقترن معه الإخلاص
--------------------------------------------
8- এবং আমরা সুন্নাহর মধ্যে সাব্যস্তকৃত (নির্দিষ্ট) সংখ্যা পালনের আবশ্যকতা এবং যে সকল আলেম এর অতিরিক্ত সংখ্যাকে অস্বীকার করেছেন তাদের স্বপক্ষে দলিলসমূহ বর্ণনা করেছি। এছাড়া আরও অনেক ফায়দা বা উপকারিতা আলোচনা করেছি যা সচরাচর কোনো কিতাবে একত্রে পাওয়া যায় না।
এই সব কিছুই সহিহ (صحيحة) সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) আসার (الآثار) এর সুস্পষ্ট দলিলের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এই বিষয়টি একদল মুকাল্লিদ শায়খদের পক্ষ থেকে আমাদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ উসকে দিয়েছে; তাদের কেউ কেউ তাদের খুতবা ও দরসগুলোতে, আবার কেউ কেউ আমাদের পূর্ববর্তী রিসালার খণ্ডন (الرد) হিসেবে লিখিত পুস্তিকাসমূহে তা করেছেন। এই সবগুলিই উপকারী ইলম এবং তার স্বপক্ষে প্রমাণের ক্ষেত্রে রিক্ত; বরং তা গালিগালাজ ও কটু কথায় পরিপূর্ণ, যেমনটা বাতিলপন্থীদের অভ্যাস যখন তারা হক এবং হকপন্থীদের বিরুদ্ধে প্রক্ষিপ্ত হয়। তাই আমরা তাদের জবাব দিয়ে এবং তাদের বক্তব্যের ত্রুটিগুলো স্পষ্ট করে আমাদের সময় নষ্ট করা খুব একটা ফলপ্রসূ মনে করিনি; কারণ তাদের আধিক্যের তুলনায় জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। আল্লাহ তাআলা তাদের সকলকে হেদায়েত দান করুন।
তাদের মধ্য থেকে একজনের উদাহরণ দেওয়াতে কোনো বাধা নেই—যিনি আমার কাছে তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জ্ঞানী—তবে ইলমের সাথে যদি ইখলাস না থাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
والنزاهة في الأخلاق، كان ضرره على صاحبه أكثر من نفعه، كما يشير إلى ذلك قوله صلى الله عليه وسلم:
"مثل الذي يُعَلّم الناس الخير وينسى نفسه، كمثل السراج يُضيء للناس ويحرق نفسه"1.
فقد ألف المشار إليه رسالة تحت عنوان "تصحيح حديث صلاة التراويح عشرين ركعة، والرد على الألباني في تضعيفه"! قد خرج فيها صاحبه عن طريقة أهل العلم في مقارعة الحُجَّةِ بالحجة، والدليل بالدليل، والصدق في القول، والبعد عن إيهام الناس خلاف الواقع، وها نحن نُشير إلى شيء من ذلك بما أمكن من الإيجاز في هذه المقدمة فنقول:
1- إن كل من يقرأ العنوان المذكور لرسالته يتبادر إلى ذهنه أنه يعني الحديث المرفوع في العشرين وهو ضعيف اتفاقاً، فإذا قرأ صفحات من أولها، تبين له أنه يعني الأثر المروي من طريق يزيد بن خصيفة عن السائب بن يزيد قال: كانوا يقومون على عهد عمر بن الخطاب في شهر رمضان بعشرين ركعة!
--------------------------------------------
এবং চারিত্রিক বিশুদ্ধতা না থাকলে, এর ক্ষতি এর অধিকারীর জন্য উপকারের চেয়ে বেশি হয়, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ইঙ্গিত করে:
"সে ব্যক্তির উদাহরণ যে মানুষকে কল্যাণ শিক্ষা দেয় অথচ নিজেকে ভুলে যায়, সেই প্রদীপের মতো যা মানুষকে আলো দেয় কিন্তু নিজেকে পুড়িয়ে ফেলে।"১
উল্লিখিত ব্যক্তি "তারাবিহ নামাজের বিশ রাকাতের হাদিসকে বিশুদ্ধ (تصحيح) করা এবং আলবানি কর্তৃক একে দুর্বল (تضعيف) করার জবাব" শিরোনামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন! এতে লেখক যুক্তির বিপরীতে যুক্তি প্রদান, দলীলের বিপরীতে দলীল উপস্থাপন, সত্যভাষণ এবং বাস্তবতাকে আড়াল করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে আলেমগণের অনুসৃত পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। আমরা এই ভূমিকায় যথাসম্ভব সংক্ষিপ্তভাবে তার কিছু দিক তুলে ধরছি:
১- যে কেউ তার পুস্তিকার উল্লিখিত শিরোনামটি পড়বে, তার মনে প্রথমেই আসবে যে তিনি বিশ রাকাত সংক্রান্ত মারফু (مرفوع) হাদিসটি বুঝিয়েছেন, যা সর্বসম্মতভাবে দুর্বল (ضعيف)। তবে প্রথম দিকের কয়েক পৃষ্ঠা পড়লেই তার নিকট স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তিনি মূলত ইয়াজিদ বিন খুসাইফার সূত্রে সায়েব বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত আছর (أثر) সম্পর্কে বলতে চেয়েছেন। তিনি (সায়েব) বলেন: ওমর ইবনুল খাত্তাবের যুগে তারা রমজান মাসে বিশ রাকাত নামাজ পড়তেন!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وبذلك يعلم القارئ أن موضوع الرسالة شيء، وعنوانها شيء آخر، وذلك هو التدليس بعينه، نسأل الله السلامة والعافية.
2- ومن ذلك أنه سود ثلاث صفحات منها "14- 16" في الدفاع عن يزيد بن خصيفة المذكور، وإثبات أنه ثقة، وذلك ليوهم القراء - الذين يجدون فيها عدداً من الأئمة قد وثقوه - أنني قد خالفتهم جميعاً بتضعيفي إياه! وليس الأمر كذلك، فإني قد تابعتهم في التوثيق، كما يأتي.
3- بل إنه جاوز حد الإيهام والتدليس بذلك إلى التصريح المكشوف بالكذب وبخلاف الواقع، فقال
"ص15": "إن الألباني زعم تضعيفه".
وهذا كذب فاضح، فإن الحقيقة أنني صرحت في رسالتي "ص57" أنه ثقة! وغاية ما قلت فيه:
"إنه قد ينفرد بما لم يروه الثقات، فمثله يرد حديثه إذا خالف من هو أحفظ منه، ويكون شاذاً كما تقرر في علم المصطلح، وهذا الأثر من هذا القبيل..".
ومثل هذا الكلام وإن كان يعد غمزاً في الثقة عند العلماء، ولكنه لا يعني أنه ضعيف يرد مطلقاً، بل هو على العكس من ذلك، فإنه إنما يعني أن حديثه يقبل مطلقاً إلا عند المخالفة، وهذا
এর মাধ্যমে পাঠক জানতে পারবেন যে, রিসালার (পুস্তিকার) বিষয়বস্তু এক জিনিস এবং এর শিরোনাম অন্য জিনিস; আর এটিই হলো প্রকৃত প্রবঞ্চনা (تدليس)। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি।
2- এর অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তিনি উক্ত ইয়াজিদ ইবনে খুসাইফার পক্ষাবলম্বন করতে এবং তিনি যে নির্ভরযোগ্য (ثقة) তা প্রমাণ করতে এর তিনটি পৃষ্ঠা (১৪-১৬) ব্যয় করেছেন। এটি পাঠকদের বিভ্রান্ত করার জন্য—যারা সেখানে দেখতে পাবেন যে অনেক ইমাম তাকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সত্যায়ন করেছেন (وثقوه)—যাতে তারা মনে করেন যে আমি তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়ে (تضعيفي) তাদের সকলের বিরোধিতা করেছি! বিষয়টি আসলে তেমন নয়; কারণ আমি তাকে নির্ভরযোগ্য ঘোষণার (توثيق) ক্ষেত্রে তাদেরই অনুসরণ করেছি, যেমনটি সামনে আসছে।
3- বরং তিনি এর মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও প্রবঞ্চনার (تدليس) সীমা ছাড়িয়ে সরাসরি প্রকাশ্য মিথ্যাচার এবং বাস্তববিরোধী বক্তব্যের দিকে চলে গেছেন। তিনি বলেছেন
"১৫ নং পৃষ্ঠায়": "নিশ্চয়ই আলবানী তাকে দুর্বল (تضعيف) করার দাবি করেছেন।"
এটি একটি নির্লজ্জ মিথ্যাচার। প্রকৃত সত্য হলো, আমি আমার রিসালার (৫৭ নং পৃষ্ঠায়) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি যে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)! তার সম্পর্কে আমার বক্তব্যের সারকথা হলো:
"তিনি কখনো এমন বর্ণনায় একাকী হয়ে যান যা অন্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (ثقات) বর্ণনা করেননি। এমতাবস্থায় তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হবে যদি তিনি তার চেয়েও অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أحفظ) ব্যক্তির বিরোধিতা করেন এবং সেক্ষেত্রে হাদিসটি বিচ্যুতিপূর্ণ (شاذ) হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি হাদিস পরিভাষা শাস্ত্র (علم المصطلح) স্থিরীকৃত হয়েছে। আর এই বর্ণনাটি (أثر) এই পর্যায়ভুক্ত..."
এই ধরনের বক্তব্য আলেমদের নিকট নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে এক প্রকার সমালোচনা (غمز) হিসেবে গণ্য হলেও এর অর্থ এই নয় যে তিনি দুর্বল (ضعيف) এবং তার বর্ণনা ঢালাওভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে। বরং বিষয়টি এর ঠিক বিপরীত। এর প্রকৃত অর্থ হলো—বিরোধিতা না পাওয়া পর্যন্ত তার হাদিস সাধারণভাবে গ্রহণ করা হবে। আর এটি...
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ما صرحت به في آخر الكلام المذكور بقولي: "وهذا الأثر من هذا القبيل".
وعلى ذلك يدور كل كلامي المشار إليه في رسالتي، فتجاهل الطاعن ذلك كله، ونسب إليَّ ما لم أقل، فالله تعالى حسيبه!
4- ولم يكتف الشيخ المُومَأٌ إليه بالفرية المذكورة، بل إنه نسب إلي فضيحة أخرى فقال (ص22":
"فليس من اللائق لمن يترك رواية يزيد بن خصيفة الذي احتج به الأئمة كلهم أن يقبل الاحتجاج برواية عيسى بن جارية الذي ضعفه يحيى بن معين و.. و..".
والحقيقة أنني لم أحتج مطلقاً برواية عيسى المذكور، بل أشرت إلى أنه لا يحتج به، وذلك حين قلت
"ص21":
"سنده حسن بما قبله".
لأنني لو احتججت به كما افترى الشيخ لم أقل: "
… بما قبله" فإن هذه الكلمة قرينة قاطعة على أن هذا الراوي ليس ممن يحتج به عند قائلها، بل هو عنده ضعيف يستشهد به فحسب، ويحسن حديثه، إذا وجد ما يشهد له، وقد وجُد، وهو الحديث المشار إليه بقولي: "بما قبله"، وهو حديث
আমি যা স্পষ্টভাবে বলেছি উল্লিখিত বক্তব্যের শেষে আমার এই কথার মাধ্যমে: "এবং এই আছারটি (الأثر) এই পর্যায়ের।"
এবং এরই ওপর আবর্তিত আমার রিসালায় নির্দেশিত আমার সকল বক্তব্য, কিন্তু অপবাদদানকারী এই সবকিছুই উপেক্ষা করেছেন এবং আমি যা বলিনি তা আমার প্রতি সম্বন্ধ করেছেন, সুতরাং মহান আল্লাহই তার হিসাব গ্রহণের জন্য যথেষ্ট!
4-আর ইঙ্গিতকৃত শাইখ কেবল উল্লিখিত অপবাদ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি আমার প্রতি আরেকটি অপবাদও আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন (পৃষ্ঠা ২২):
"সুতরাং যে ব্যক্তি ইয়াজিদ ইবনে খুসাইফার বর্ণনা বর্জন করে, যার মাধ্যমে সকল ইমামই দলিল পেশ (احتج به) করেছেন, তার জন্য এটা কোনোভাবেই সমীচীন নয় যে, সে ঈসা ইবনে জারিয়াহর বর্ণনার মাধ্যমে দলিল গ্রহণ (الاحتجاج) করবে, যাকে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন দুর্বল (ضعفه) বলেছেন এবং... এবং..."।
আর প্রকৃত সত্য হলো, আমি উল্লিখিত ঈসার বর্ণনার মাধ্যমে কখনোই দলিল গ্রহণ (أحتج) করিনি, বরং আমি ইঙ্গিত করেছি যে, তার মাধ্যমে দলিল গ্রহণ (يحتج به) করা যায় না; আর তা হলো যখন আমি বলেছিলাম
"পৃষ্ঠা ২১":
"এর সনদ (سنده) তার পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে হাসান (حسن) পর্যায়ে উন্নীত।"
কেননা আমি যদি তার মাধ্যমে দলিল গ্রহণ (احتججت به) করতাম যেমনটি শাইখ অপবাদ দিয়েছেন, তবে আমি বলতাম না: "...পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে (بما قبله)"; কারণ এই বাক্যটি একটি চূড়ান্ত প্রমাণ (قرينة) যে, এই বর্ণনাকারী (الراوي) প্রবক্তার নিকট দলিল হিসেবে গ্রহণের (يحتج به) যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত নন, বরং তিনি তার কাছে দুর্বল (ضعيف), যার দ্বারা কেবল সমর্থনসূচক বর্ণনা হিসেবে সাক্ষ্য গ্রহণ (يستشهد به) করা যায় এবং তার হাদিসকে হাসান (يحسن) হিসেবে গণ্য করা হয় যখন তার কোনো সমর্থক বর্ণনা (يشهد له) পাওয়া যায়। আর তা পাওয়া গেছে, এবং সেটিই সেই হাদিস যা আমার এই উক্তি দ্বারা নির্দেশিত: "পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে", আর তা হলো সেই হাদিস:
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
عائشة رضي الله عنها قالت: ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة.. الحديث أخرجاه الشيخان وغيرهما.
فهل الشيخ من الجهل بعلم الحديث إلى درجة أنه لا يفهم مثل هذه الجملة: "سنده حسن بما قبله"؟!
ولا سيما وقد زدتها بياناً حينما أعدت الحديث بتخريج آخر "ص 79-80" ونقلت عن الهيثمي أنه حسن، فتعقبته بقولي ما نصه:
"وسنده محتمل للتحسين عندي، والله أعمل"!
أم هو التجاهل المتعمد والافتراء المحض؛ لضغينة في قلبه؟ ورحم الله من قال:
فإن كنت لا تدري فتلك مصيبة
… وإن كنت تدري فالمصيبةُ أعْظَمُ
ومما يدل القارئ على أن الشيخ يدري..! قوله "ص46" وقد ذكر حديث جابر: "لا تنتفعوا من الميتة بشيء" مقلداً لقول من حسنه:
"فليس من اللائق للألباني تضعيف حديث حسن بوجود طرق له أٌخرى ضعيفة، فإن ذلك خلاف ما قرره أئمة الفن"!
فإذن؛ فأنا لما حسنت حديث عيسى بن جارية المتقدم
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানে বা অন্য কোনো মাসে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না... হাদিসটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
শাইখ কি হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানে এতটাই অজ্ঞ যে তিনি এই বাক্যটিও বোঝেন না: "এর সনদ (سند) তার পূর্ববর্তী বর্ণনার কারণে হাসান (حسن)"?!
বিশেষ করে যখন আমি এই হাদিসটি অন্য একটি তাখরিজ (تخريج) সহকারে (পৃষ্ঠা ৭৯-৮০) পুনরায় উল্লেখ করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং হাইসামি থেকে তার হাসান (حسن) হওয়ার কথা উদ্ধৃত করেছি, অতঃপর আমি যা বলেছিলাম তার ভাষ্য হলো:
"আমার কাছে এর সনদটি (سند) হাসান (تحسين) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, আর আল্লাহ-ই ভালো জানেন"!
নাকি এটি তার অন্তরের বিদ্বেষের কারণে ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা এবং নিছক অপবাদ? আল্লাহ তাকে রহম করুন যিনি বলেছেন:
যদি তুমি না জানো তবে তা একটি বিপদ
… আর যদি জেনে থাকো তবে বিপদ আরও বেশি ভয়াবহ
পাঠকদের জন্য শাইখ যে বিষয়টি জানেন তার প্রমাণ হলো..! পৃষ্ঠা ৪৬-এ তিনি জাবির (রা.)-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন: "তোমরা মৃত পশু থেকে কোনো কিছুই ভোগ করো না", তিনি এই হাদিসটিকে হাসান (حسن) আখ্যাদানকারীর অনুসরণ করে বলেছেন:
"অন্যান্য দুর্বল (ضعيف) সূত্র (طرق) থাকা সত্ত্বেও আলবানীর জন্য একটি হাসান (حسن) হাদিসকে দুর্বল (تضعيف) করা সমীচীন নয়, কারণ এটি এই শাস্ত্রের ইমামগণের নির্ধারিত নীতির পরিপন্থী!"
অতএব; আমি যখন পূর্বে উল্লিখিত ঈসা ইবনে জারিয়ার হাদিসটিকে হাসান (حسنت) সাব্যস্ত করেছি...
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
بشهادة حديث عائشة له كان الشيخ على علم بأنني موافق في ذلك لما قرره أئمة الفن! ولذلك لم يستطع هو أن يخطئني في ذلك، فلجأ إلى اختلاق القول بأنني احتججت له ليروي غيظ قلبه، فالله عز وجل حسيبه.
ثم ألا يلاحظ القارئ الكريم معي تلاعب هذا الشيخ بالحقائق العلمية، فإنه إذا كان لا يليق بي
- كما زعم - تضعيف حديث جابر: "لا تنتفعوا من الميتة بشيء" ، لأن له - بزعمه - طريقاً أخرى وهي ضعيفة باعترافه ولو تقليداً، فهل يليق به هو أن يضعف حديث جابر أيضاً المتقدم في صلاة النبي صلى الله عليه وسلم لتراويح إحدى عشرة ركعة، وله شاهد صحيح من حديث عائشة رضي الله عنها في الصحيحين يراه فيهما بعينه؟!!
أليس معنى هذا أن الشيخ يلعب على الحَبْلين، ويكيل بكيلين؟! فالله هو المستعان، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
وأزيد الآن فأقول تبياناً لحقيقة من الحقائق التي فاتت الشيخ إسماعيل الأنصاري - هداه الله -:
إنما قلت آنفاً: "بزعمه" إشارة مني إلى أن هذه الطريق التي نقل عن بعضهم تحسينها، وأخذ عليّ
تضعيفها، وهو يرى بعينه أن فيها عنعنة أبي الزبير عن جابر، هي نفسها الطريق الأخرى التي
আয়েশার (রা.) হাদিসের সাক্ষ্য অনুযায়ী, শায়খ অবগত ছিলেন যে, এই শাস্ত্রের ইমামগণ (أئمة الفن) যা সাব্যস্ত করেছেন, আমি সেই বিষয়ে একমত! আর সেই কারণেই তিনি আমাকে এক্ষেত্রে ভুল প্রমাণ করতে পারেননি; ফলে তিনি নিজের অন্তরের ক্ষোভ মেটানোর জন্য আমি এর দ্বারা দলিল পেশ করেছি বলে একটি কথা রটানোর আশ্রয় নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলাই তাঁর জন্য যথেষ্ট।
অতঃপর সম্মানিত পাঠক কি আমার সাথে লক্ষ্য করবেন না যে, এই শায়খ জ্ঞানতাত্ত্বিক সত্যগুলো নিয়ে কারসাজি করছেন? কেননা তাঁর দাবি অনুযায়ী যদি আমার জন্য সমীচীন না হয়—
—যেমনটি তিনি দাবি করেছেন—জাবিরের (রা.) হাদিস: "তোমরা মৃত প্রাণী থেকে কোনো কিছুই ভোগ করো না"-কে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করা, কারণ তাঁর দাবি অনুযায়ী এর আরেকটি সূত্র (طريق) রয়েছে যা স্বয়ং তাঁর স্বীকারোক্তি মতেই দুর্বল (ضعيفة), যদিও তা কেবল অন্ধ অনুসরণের খাতিরে। তবে কি তাঁর জন্য এটি সমীচীন যে তিনি জাবিরের (রা.) পূর্বোক্ত সেই হাদিসটিকেও দুর্বল (يضعف) সাব্যস্ত করবেন যা নবী (সা.)-এর এগারো রাকাত তারাবিহ আদায়ের ব্যাপারে বর্ণিত, অথচ এর বিপরীতে আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত একটি সহিহ (صحيح) সমর্থক বর্ণনা (شاهد) সহিহাইনের মধ্যে বিদ্যমান যা তিনি স্বচক্ষে দেখছেন?!!
এর অর্থ কি এই নয় যে, শায়খ দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করছেন এবং দুই নীতিতে মাপছেন?! আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।
আমি এখন শায়খ ইসমাইল আল-আনসারি—আল্লাহ তাঁকে হেদায়াত দিন—এর অগোচরে থাকা সত্যসমূহের একটি স্পষ্ট করার জন্য আরও বলছি:
আমি যে ইতিপূর্বে "তাঁর দাবি অনুযায়ী" বলেছি, তা দ্বারা আমি এই সূত্রের (طريق) দিকে ইঙ্গিত করেছি যা কারও কারও পক্ষ থেকে হাসান (تحسين) হিসেবে বর্ণনা করার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন এবং আমার প্রতি আপত্তি তুলেছেন
এর দুর্বলতা (تضعيف) নিয়ে। অথচ তিনি স্বচক্ষে দেখছেন যে এতে আবু যুবাইরের জাবিরের (রা.) সূত্র থেকে 'আনআনা' (عنعنة) রয়েছে; এটিই সেই অন্য সূত্র (طريق) যা...
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قوَّى الأولى بها، فإن مدارها على أبي الزبير أيضاً، كما في "نصب الراية" "1/122"!
فهل أحاط علم الشيخ بأن من "ما قرره أئمة الفن" أنه يجوز تقوية الضعيف بنفسه وليس بمثله! أم هو إتباع الهوى ومحاولة الانتصار للأشياخ ولو بمخالفة الحق! أم هو التقليد لمثل الشوكاني في "النيل" الذي يكثر فيه النقل والتقميش، ويقل منه فيه التحقيق والتفتيش في مجال الكلام على الأحاديث.
لكن هذا لا يمنعني - بفضل الله وتوفيقه - من التصريح بأنني وجدت فيما بعد شاهداً قوياً لحديث جابر هذا وبلفظه من حديث ابن عُكيم رضي الله عنه، لم أر أحداً قبلي قد ذكره أو أشار إليه، وهو صحيح الإسناد عندي، كما تراه مشروحاً في كتابي "إرواء الغليل" "1/78".
فلو أن الشيخ الأنصاري أراد العلم والنصح والإرشاد، لم يسئ بجعل الطريق الواحد طريقين، ولأحسن إلينا بالدلالة على هذا الشاهد، ولكن الأمر كما قيل: "فاقد الشيء لا يعطيه"، فقد رايته ذكر في رده "ص48" أن حديث ابن عكيم عند الدارقطني، وأن معناه ومعنى حديث جابر واحد!
ومع أنني لا أدري والله - ولا أظن أنه هو يدري - لماذا خص الدارقطني بالذكر دون سائر أصحاب السنن مع أن لفظه ولفظهم
তিনি প্রথমটিকে এটির মাধ্যমে শক্তিশালী (قوَّى) করেছেন, কারণ এর মূল ভিত্তিও (مدار) আবু আল-জুবাইরের ওপর, যেমনটি "নাসবুর রায়াহ" (১/১২২)-এ রয়েছে!
শেখের জ্ঞান কি এই বিষয়টি পরিবেষ্টন করেছে যে, "এই শাস্ত্রের ইমামগণ যা নির্ধারণ করেছেন" তার অন্তর্ভুক্ত হলো: একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসকে তার নিজের মাধ্যমেই শক্তিশালী (تقوية) করা বৈধ, তার সমজাতীয় অন্য কিছুর মাধ্যমে নয়! নাকি এটি প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং সত্যের পরিপন্থী হলেও নিজ শায়খদের পক্ষাবলম্বন করার প্রচেষ্টা! অথবা এটি কি "নায়লুল আওতার" গ্রন্থে শাওকানির মতো ব্যক্তিদের অন্ধ অনুসরণ (تقليد), যাতে উদ্ধৃতি ও সংকলনের আধিক্য থাকলেও হাদিস নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحقيق) ও গবেষণার পরিমাণ খুবই কম।
তবে এটি আমাকে—আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকে—একথা স্পষ্টভাবে বলতে বাধা দেয় না যে, আমি পরবর্তীতে জাবিরের এই হাদিসটির জন্য ইবনে উকাইম (রা.)-এর হাদিস থেকে হুবহু একই শব্দে একটি শক্তিশালী শাহিদ (شاهد) খুঁজে পেয়েছি। আমার পূর্বে কাউকে এটি উল্লেখ করতে বা এর দিকে ইঙ্গিত করতে দেখিনি; এবং এটি আমার নিকট সহিহ সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট, যা আপনি আমার "ইরওয়াউল গালিল" (১/৭৮) গ্রন্থে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ দেখতে পাবেন।
শেখ আনসারী যদি জ্ঞানার্জন, নসিহত ও সঠিক নির্দেশনাই চাইতেন, তবে তিনি একটি মাত্র সূত্রকে (طريق) দুটি সূত্রে পরিণত করার ভুল করতেন না। বরং তিনি এই শাহিদ (شاهد) সম্পর্কে আমাদের অবগত করে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে পারতেন। কিন্তু বিষয়টি তেমনই যেমন বলা হয়: "যে নিজে রিক্ত, সে অন্যকে কিছু দিতে পারে না।" আমি দেখেছি তিনি তার জবাবে (পৃষ্ঠা ৪৮) উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে উকাইমের হাদিসটি দারাকুতনিতে রয়েছে এবং এর অর্থ ও জাবিরের হাদিসের অর্থ একই!
যদিও আল্লাহর কসম, আমি জানি না—এবং আমার মনে হয় না যে তিনিও জানেন—কেন তিনি অন্যান্য সুনান গ্রন্থকারদের বাদ দিয়ে বিশেষভাবে শুধু দারাকুতির উল্লেখ করেছেন, যদিও দারাকুতনির শব্দাবলি এবং তাদের শব্দাবলি...
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
واحد: "لا تنتفعوا من الميتة بإهاب ولا عصب" ، وأن دعواه أنه بمعنى حديث جابر غير مُسَلَّمٍ لأنه أخص منه كما هو ظاهر، فقد فاته اللفظ الذي هو بلفظ حديث جابر بالحرف الواحد.
فالحمد لله الذي هداني- ولو بعد حين - إليه، ولم يسلط أحداً - بسبب غفلتي السابقة عنه - عليّ، وإلا.. نسأل الله السلامة والعافية في الدنيا والآخرة.
5- ولم يقتصر الشيخ على ما سبق من الافتراء عَلَيَّ، فقد نسبني "ص41" إلى تجهيل السلف!
{سُبْحَانَكَ هَذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ} [النور: 16] .
والحق أنه لا ذنب لي عند الشيخ وأمثاله من المقلدة والحاقدين إلا أنني أدعو إلى إتباع السلف الصالح والتمسك بمذهبهم، لا بمذهب أشخاص معينين منهم، فذلك هو الذي حمل الشيخ أن يقف مني موقف الخصم الحاقد، مسايرة منه للجمهور المقلد، الذي لا يعرف من الدين إلا ما وجد عليه الآباء والأجداد، إلا من عصم الله، وقليل ما هم.
ومن عجيب أمر هذا الشيخ أنه مر بكل تلك المسائل التي سبقت الإشارة إليها، وحققنا القول فيها، ولا شك أنه معنا في بعضها على الأقل أو جلها، فلم يبين موقفه منها، مثلاً قولنا: إنه لا يلزم من ثبوت أثر العشرين ترك العمل بالرواية الأخرى المطابقة
এক: "তোমরা মৃত জন্তুর চামড়া এবং তন্তু দ্বারা কোনো উপকার গ্রহণ করো না"; আর তার এই দাবি যে এটি জাবিরের হাদিসের সমার্থবোধক, তা অগ্রহণযোগ্য (غير مُسَلَّمٍ), কারণ এটি স্পষ্টতই তার চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট (أخص)। ফলে জাবিরের হাদিসের হুবহু শব্দসংবলিত পাঠটি তার দৃষ্টিগোচর হয়নি।
অতএব সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে—কিছু কাল পরে হলেও—এর সঠিক দিশা দিয়েছেন। আর আমার পূর্ববর্তী গাফলতের কারণে কাউকে আমার ওপর আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দেননি। অন্যথায়... আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি।
৫- শায়খ আমার ওপর কেবল পূর্বোক্ত অপবাদ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি (৪১ পৃষ্ঠায়) আমার প্রতি সালাফদের অজ্ঞ প্রতিপন্ন করার অপবাদও আরোপ করেছেন!
{পবিত্র মহান আপনি! এটি তো এক গুরুতর অপবাদ} [আন-নূর: ১৬]।
প্রকৃত সত্য এই যে, শায়খ এবং তার মতো অন্ধ অনুসারী (مقلدة) ও বিদ্বেষপরায়ণদের কাছে আমার কোনো অপরাধ নেই, কেবল আমি সলফে সালেহীনের অনুসরণ এবং তাদের মাযহাবকে আঁকড়ে ধরার দাওয়াত দেই; তাদের মধ্যকার নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির মাযহাবকে নয়। আর এই বিষয়টিই শায়খকে আমার বিরুদ্ধে একজন বিদ্বেষী শত্রুর অবস্থানে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে। এটি মূলত সেই সাধারণ অন্ধ অনুসারী (مقلد) জনসমষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা, যারা দ্বীন বলতে কেবল তা-ই বোঝে যা তারা তাদের পূর্বপুরুষদের নিকট পেয়েছে; অবশ্য আল্লাহ যাদের রক্ষা করেছেন তারা ব্যতীত, আর তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য।
উক্ত শায়খের ব্যাপারে বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, তিনি উল্লেখিত সেই সব মাসআলার ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছেন যা নিয়ে আমরা বিশদ পর্যালোচনা করেছি; এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি এগুলোর অন্তত কিছু বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের সাথে একমত। তবুও তিনি সে বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি। উদাহরণস্বরূপ আমাদের বক্তব্য: বিশ (রাকাত)-এর বর্ণনা (أثر) প্রমাণিত হওয়া মানেই এই নয় যে, এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য বর্ণনাটির (الرواية) ওপর আমল করা ছেড়ে দিতে হবে।
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
حديث عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم كان لا يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة، وهل الأفضل العمل بسنته صلى الله عليه وسلم أو بما فعله الناس في عهد عمر على فرض ثبوت ذلك عنهم؟!
لم يُظهر الشيخ موقفه من ذلك، لأنه إن رجح خلاف السنة انفضح أمره بين أهل السنة، وإن رجح السنة وافق الألباني، وهذا مما لا تسمح به نفسه لسبب أو لأكثر مما لا يخفى على القارئ اللبيب!
هذا مثال من الردود التي اطلعنا عليها، مما رُدَّ به على رسالتنا "صلاة التراويح" وهو من أمثل الردود، ومع ذلك، فقد عرف القارئ الكريم نماذج مما جاء فيه، مما يتجلى فيه التجرد عن الإنصاف، والبعد عن سبيل أهل العلم الذين لا يبتغون سوى بيان الحقيقة، وإذا كان هذا من أفضلهم وأعلمهم، فما بالك بغيره ممن لا عم عنده ولا خُلُق؟!
ذلك، ولما كانت رسالتنا المذكورة "صلاة التراويح" قد مضى على طبعها زمن غير قصير، ودعت الحاجة إلى إعادة طبعها، وكانت من حيث أسلوبها قد حققت أهدافها، وأدت أغراضها، التي أهمها تنبيه الجمهور إلى السنة في صلاة التراويح، والرد على المخالفين لها، حتى انتشرت هذه السنة في كثير من مساجد سورية والأردن وغيرهما من البلاد الإسلامية،
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাদানে কিংবা অন্য কোনো মাসে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না। এখন প্রশ্ন হলো, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ (سنة) অনুযায়ী আমল করা কি উত্তম, নাকি উমর (রা.)-এর যুগে মানুষ যা করেছিল তার ওপর আমল করা—যদি তাদের থেকে সেটি প্রমাণিত (ثبوت) ধরে নেওয়া হয়?!
শাইখ এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেননি; কারণ তিনি যদি সুন্নাহ (سنة) এর পরিপন্থী বিষয়কে প্রাধান্য দেন, তবে আহলে সুন্নাহর নিকট তার বিষয়টি উন্মোচিত হয়ে যাবে। আর যদি তিনি সুন্নাহ (سنة) কে প্রাধান্য দেন, তবে তিনি আলবানীর সাথে একমত হয়ে যাবেন। আর এটি এমন একটি বিষয় যা তার প্রবৃত্তি অনুমোদন করে না, যার কারণ বা কারণসমূহ বুদ্ধিমান পাঠকের কাছে গোপন নয়!
আমাদের পুস্তিকা "সালাতুত তারাবিহ"-এর জবাবে আমরা যেসকল খণ্ডনমূলক বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করেছি, এটি তার একটি উদাহরণ। যদিও এটি অন্যতম উৎকৃষ্ট একটি জবাব, তবুও সম্মানিত পাঠক এর বিষয়বস্তুর এমন কিছু নমুনা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, যাতে ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠা বর্জন এবং সেই আলেমদের পথ থেকে বিচ্যুতি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যারা সত্য প্রকাশ ছাড়া অন্য কিছু চান না। যদি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তির অবস্থা এই হয়, তবে অন্যদের সম্পর্কে আপনার কী ধারণা যাদের না আছে জ্ঞান, না আছে সচ্চরিত্র?!
মূলত আমাদের উল্লিখিত পুস্তিকা "সালাতুত তারাবিহ" মুদ্রণের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং এটি পুনরায় মুদ্রণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এটি এর রচনাশৈলীর মাধ্যমে তার লক্ষ্যসমূহ অর্জন করেছে এবং উদ্দেশ্যগুলো পূরণ করেছে, যার মধ্যে প্রধান ছিল সাধারণ মানুষকে তারাবিহর সালাতে সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে সচেতন করা এবং এর বিরোধিতাকারীদের প্রতিবাদ জানানো; এমনকি এই সুন্নাহ (سنة) সিরিয়া, জর্ডান এবং অন্যান্য মুসলিম দেশের অনেক মসজিদে ছড়িয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، لذلك فقد رأيت أن أختصرها بأسلوب علمي محض، دون أن أتعرض فيها لأحد برد، على حد قول من قال: "ألق كلمتك وامْشِ"، ملخصاً كل الفوائد العلمية التي كانت في "الأصل"، مضيفاً إليها فوائد أخرى إتماماً للفائدة، والله سبحانه المسؤول أن ينفع بها كما نفع بسابقتها، وأن يأجُرني عليها إنه أكرم مسؤول.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সম্পন্ন হয়। তাই আমি একে সম্পূর্ণ তাত্ত্বিক (علمي) পদ্ধতিতে সংক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেখানে কারও প্রতি কোনো প্রত্যুত্তর প্রদানের পথে যাইনি; বরং প্রবাদ অনুযায়ী: "নিজের বক্তব্য পেশ করো এবং প্রস্থান করো" নীতি অবলম্বন করেছি। আমি এতে "মূল" (الأصل) গ্রন্থে বিদ্যমান সকল তাত্ত্বিক ফায়দা বা জ্ঞানগর্ভ বিষয়সমূহ সংক্ষেপ করার পাশাপাশি বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গ করতে আরও কিছু নতুন ফায়দা সংযোজন করেছি। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন এর দ্বারাও মানুষকে উপকৃত করেন যেভাবে তিনি এর পূর্ববর্তী সংস্করণ দ্বারা উপকৃত করেছেন, এবং তিনি যেন আমাকে এর সওয়াব দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি যাঞ্চাকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা।
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قيام رمضانفضل قيام ليالي رمضان:
1- قد جاء فيه حديثان:
الأول عن أبي هريرة رضي الله عنه قال:
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يُرَغبُ في قيام رمضان، من غير أن يأمرهم بعزيمة، ثم يقول:
"من قام رمضان إيماناً واحتساباً غفر له ما تقدم من ذنبه".
فتوفي رسول الله صلى الله عليه وسلم والأمر على ذلك1، ثم كان الأمر على ذلك في خلافة أبي بكر رضي الله عنه، وصَدْرٍ من خلافة عمر رضي الله عنه2.
--------------------------------------------
রমজানের কিয়ামরমজানের রাতসমূহে কিয়াম করার ফজিলত:
১- এ বিষয়ে দুটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে:
প্রথমটি আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের কিয়ামের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন, তবে তিনি তাদের ওপর এটি আবশ্যিক করার আদেশ দিতেন না। অতপর তিনি বলতেন:
"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় রমজানে কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন এবং বিষয়টি এভাবেই বহাল ছিল১, অতপর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে এবং ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের প্রারম্ভিক সময়েও বিষয়টি এমনটিই ছিল২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والآخر: حديث عمر بن عمرو بن مرة الجهني قال:
جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم رجل من قضاعة فقال: يا رسول الله! أرأيت إن شهدتُ أن لا إله إلا الله، وأنك رسول الله، وصليتُ الصلوات الخمس، وصمت الشهر، وقمت رمضان، وآتيتُ الزكاة؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "من مات على هذا كان من الصديقين والشهداء" 1.
ليلة القدر وتحديدها:
2- وأفضل لياليه ليلةُ القَدْرِ، لقوله صلى الله عليه وسلم:
"من قام ليلة القدر ثم وُفقَتْ له، إيماناً واحتساباً، غُفِرَ له ما تقدم من ذنبه" 2.
--------------------------------------------
এবং অন্যটি হলো: উমর ইবনে আমর ইবনে মুররা আল-জুহানি থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন:
কুজাআ গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অভিমত কী, যদি আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল, আর আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি, মাসব্যাপী রোজা রাখি, রমজানে কিয়াম পালন করি এবং জাকাত প্রদান করি? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যে ব্যক্তি এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে সত্যবাদী ও শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" ১.
লাইলাতুল কদর এবং এর নির্ধারণ:
২- এবং এর রাতগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো লাইলাতুল কদর, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে:
"যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করল এবং এরপর তা প্রাপ্ত হলো, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" ২.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
3- وهي ليلة سابع وعشرين من رمضان على الأرجح، وعليه أكثر الأحاديث منها حديث زِر بن حُبَيش قال: سمعت أٌبيَّ ابن كعب يقول ـ وقيل له: إن عبد الله بن مسعود يقول: من قام السنة أصاب ليلة القدر! ـ فقال أٌبَيٌّ رضي الله عنه: رحمه الله، أراد أن لا يتكل الناس، والذي لا إله إلا هو، إنها لفي رمضان - يحلف ما يستثني - ووالله إني لأعلمُ أيَّ ليلةٍ هي؟ هي الليلة التي أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بقيامها هي ليلة صبيحة سبع وعشرين، وأمارتُها أن تطلع الشمس في صبيحة يومها بيضاء لا شعاع لها.
ورفع ذلك في رواية إلى النبي صلى الله عليه وسلم1.
مشروعية الجماعة في القيام:
4- وتشرع الجماعة في قيام رمضان، بل هي أفضل من
--------------------------------------------
৩- এটি রমজানের সাতাশতম রজনী হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবলতর (الأرجح), এবং অধিকাংশ হাদিস এর পক্ষেই রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো যির ইবনে হুবাইশ বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি উবাই ইবনে কাব-কে বলতে শুনেছি — এবং তাকে বলা হয়েছিল যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন: 'যে ব্যক্তি সারা বছর কিয়াম (রাতের সালাত) আদায় করবে সে লাইলাতুল কদর লাভ করবে!' — তখন উবাই (রা.) বললেন: আল্লাহ তাকে রহম করুন, তিনি চেয়েছিলেন যেন মানুষ কেবল একটি রাতের ওপর ভরসা করে বসে না থাকে। সেই সত্তার কসম, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই তা রমজানেরই অন্তর্ভুক্ত — তিনি কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই কসম করছিলেন — এবং আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই জানি সেটি কোন রাত? সেটি হলো সেই রাত, যে রাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কিয়াম করার নির্দেশ দিয়েছেন, তা হলো সাতাশতম তারিখের ভোরের (পূর্ববর্তী) রাত। আর এর লক্ষণ হলো সেই দিনের ভোরে সূর্য উদিত হবে শুভ্র অবস্থায়, যাতে কোনো প্রখর কিরণ থাকবে না।
একটি বর্ণনায় (رواية) এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।১
কিয়ামের ক্ষেত্রে জামাতবদ্ধ হওয়ার বৈধতা:
৪- রমজানের কিয়ামে জামাতবদ্ধ হওয়া বিধিবদ্ধ, বরং এটি এর চেয়েও উত্তম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الانفراد، لإقامة النبي صلى الله عليه وسلم لها بنفسه، وبيانه لفضلها بقوله، كما في حديث أبي ذر رضي الله عنه قال:
صمنا مع رسول الله رمضان، فلم يقم بنا شيئاً من الشهر، حتى بقي سَبْعٌ فقام بنا حتى ذهب ثلث الليل، فلما كانت السادسة لم يقم بنا، فلما كانت الخامسة قام بنا حتى ذهب شَطْرُ الليل، فقلت: يا رسول الله! لو نَفَّلتنا قيام هذه الليلة، فقال:
"إن الرجل إذا صلى مع الإمام حتى ينصرف حُسِبَ له قيام ليلة".
فلما كانت الرابعة لم يقم، فلما كانت الثالثة1 جمع أهله ونساءه والناس، فقام بنا حتى خشينا أن يفوتنا الفَلاح. قال: قلت:
ما الفلاح؟ قال: السحور، ثم لم يقم بنا بقية الشهر2
السبب في عدم استمرار النبي صلى الله عليه وسلم بالجماعة فيه:
5- وإنما لم يقم بهم عليه الصلاة والسلام بقية الشهر خشية
--------------------------------------------
একাকী নামাজ আদায় করা; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে এটি সম্পাদন করেছেন এবং তাঁর বাণীর মাধ্যমে এর ফজিলত বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন:
আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে রমজানের রোজা পালন করলাম। তিনি মাসের কোনো অংশেই আমাদের নিয়ে কিয়াম (রাতের নামাজ) করেননি, যতক্ষণ না মাসের সাত দিন বাকি রইল। অতপর (সাত দিন বাকি থাকতে) তিনি আমাদের নিয়ে কিয়াম করলেন যতক্ষণ না রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলো। যখন ষষ্ঠ রাত (বাকি) ছিল, তখন তিনি আমাদের নিয়ে কিয়াম করলেন না। যখন পঞ্চম রাত (বাকি) ছিল, তখন তিনি আমাদের নিয়ে কিয়াম করলেন যতক্ষণ না মধ্যরাত অতিবাহিত হলো। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এই রাতের অবশিষ্টাংশ আমাদের নিয়ে নফল নামাজ পড়তেন! তখন তিনি বললেন:
"নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যদি ইমামের সাথে তাঁর ফিরে যাওয়া (নামাজ শেষ করা) পর্যন্ত নামাজ আদায় করে, তবে তার জন্য পূর্ণ রাত কিয়াম বা নামাজ আদায়ের সওয়াব গণ্য করা হয়।"
অতপর যখন চতুর্থ রাত (বাকি) ছিল, তখন তিনি কিয়াম করলেন না। যখন তৃতীয় রাত (বাকি) ছিল১, তখন তিনি তাঁর পরিবার, স্ত্রীগণ এবং লোকজনকে একত্রিত করলেন। অতপর তিনি আমাদের নিয়ে কিয়াম করলেন, এমনকি আমরা 'ফালাহ' হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করলাম। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম:
ফালাহ কী? তিনি বললেন: সাহরি। এরপর মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে তিনি আর আমাদের নিয়ে কিয়াম করেননি২
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জামাতের সাথে নামাজ অব্যাহত না রাখার কারণ:
৫- আর নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কেবল এই আশঙ্কাতেই মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে তাঁদের নিয়ে কিয়াম করেননি যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أن تفرض عليهم صلاة الليل في رمضان، فيعجزوا عنها كما جاء في حديث عائشة في "الصحيحين" وغيرهما1 وقد زالت هذه الخشية بوفاته صلى الله عليه وسلم بعد أن أكمل الله الشريعة، وبذلك زال المعلول، وهو ترك الجماعة في قيام رمضان، وبقي الحكم السابق وهو مشروعية الجماعة ولذلك أحياها عمر رضي الله عنه كما في"صحيح البخاري"وغيره2.
مشروعية الجماعة للنساء:
6- ويشرع للنساء حضورها كما في حديث أبي ذر السابق، بل يجوز أن يُجْعَلَ لهن إمام خاص بهن، غير إمام الرجال، فقد ثبت أن عمر رضي الله عنه لما جمع الناس على القيام، جعل على الرجال أُبَيَّ بن كعب، وعلى النساء سليمان بن أبي حثمة، فعن عرفجة الثقفي قال:
كان علي بن أبي طالب رضي الله عنه يأمر الناس بقيام شهر رمضان ويجعل للرجال إماماً وللنساء
إماماً، قال: فكنت أنا إمام النساء3.
--------------------------------------------
তাদের ওপর রমজানের রাতের সালাত ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল, ফলে তারা তা পালনে অক্ষম হয়ে পড়তেন; যেমনটি আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে 'সহীহাইন' ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।১ মহান আল্লাহ শরিয়ত পূর্ণ করার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের মাধ্যমে এই আশঙ্কা দূরীভূত হয়েছে। এর ফলে 'প্রভাবিত ফলটি' (المعلول) দূরীভূত হয়েছে—আর তা ছিল রমজানের কিয়াম (قيام)-এ জামাত বর্জন করা; এবং পূর্ববর্তী বিধানটিই অবশিষ্ট রয়েছে, যা হলো জামাতের বৈধতা (مشروعية)। একারণেই উমর (রা.) একে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, যেমনটি 'সহীহ বুখারী' ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে।২
মহিলাদের জামাতের বৈধতা (مشروعية):
৬- মহিলাদের জন্য এতে উপস্থিত হওয়া বিধিবদ্ধ (يشرع), যেমনটি আবু যর (রা.)-এর পূর্বোক্ত হাদিসে এসেছে। বরং তাদের জন্য পুরুষদের ইমাম ব্যতিরেকে স্বতন্ত্র ইমাম নিযুক্ত করাও জায়েজ। এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, উমর (রা.) যখন মানুষকে কিয়ামের (قيام) জন্য একত্রিত করেন, তখন পুরুষদের জন্য উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে এবং মহিলাদের জন্য সুলাইমান ইবনে আবি হাছমাহ (রা.)-কে ইমাম নিযুক্ত করেন। আরফাজা আস-সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) লোকদের রমজান মাসের কিয়ামের (قيام) নির্দেশ দিতেন এবং পুরুষদের জন্য একজন ইমাম ও মহিলাদের জন্য একজন ইমাম নিযুক্ত করতেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি মহিলাদের ইমাম ছিলাম।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قلت: وهذا محله عندي إذا كان المسجد واسعاً، لئلا يشوش أحدهما على الآخر.
عدد ركعات القيام:
7- وركعاتها إحدى عشرة ركعة، ونختار أن لا يزيد عليها اتباعاً لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فإنه لم يزد عليها حتى فارق الدنيا، فقد سئلت عائشة رضي الله عنها عن صلاته صلى الله عليه وسلم في رمضان؟ فقالت:
ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة، يصلي أربعاً فلا تسل عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي أربعاً فلا تسل عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي ثلاثاً1.
8- وله أن ينقص منها، حتى لو اقتصر على ركعة الوتر فقط، بدليل فعله صلى الله عليه وسلم وقوله:
أما الفعل، فقد سئلت عائشة رضي الله عنها: بكم كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يوتر؟ قالت:
--------------------------------------------
আমি বলি: এটি আমার নিকট তখন প্রযোজ্য যখন মসজিদ প্রশস্ত হয়, যাতে এক পক্ষ অন্য পক্ষের জন্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে।
কিয়ামের রাকাত সংখ্যা:
7- আর এর রাকাত সংখ্যা হলো এগারো রাকাত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে আমরা এর অতিরিক্ত না করাকেই শ্রেয় মনে করি; কারণ তিনি ইহকাল ত্যাগ করা পর্যন্ত এর চেয়ে বৃদ্ধি করেননি। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রমজানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে কিংবা অন্য কোনো সময়ে এগারো রাকাতের অধিক পড়তেন না। তিনি চার রাকাত পড়তেন, সুতরাং তুমি তাদের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না; অতঃপর তিনি চার রাকাত পড়তেন, সুতরাং তুমি তাদের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না; এরপর তিনি তিন রাকাত পড়তেন।১
8- আর কেউ চাইলে তা থেকে কমাতেও পারে, এমনকি কেবল এক রাকাত বিতর (وتر) পড়ার ওপর সীমাবদ্ধ থাকলেও চলবে। এর প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল ও উক্তি:
আমলের ক্ষেত্রে দলিল হলো, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত রাকাত বিতর (وتر) পড়তেন? তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كان يوتر بأربع1 وثلاثٍ، وست وثلاثٍ، وعشر وثلاثٍ، ولم يكن يوتر بأنقص من سبعٍ،
ولا بأكثر من ثلاث عشرة2.
وأما قوله صلى الله عليه وسلم فهو:
"الوتر حق، فمن شاء فليوتر بخمس، ومن شاء فليوتر بثلاث، ومن شاء فليوتر لواحدة" 3.
القراءة في القيام:
9- وأما القراءة في صلاة الليل في قيام رمضان أو غيره، فلم يَحُدَّ فيها النبي صلى الله عليه وسلم حداً لا يتعداه بزيادة
أو نقص، بل كانت قراءته صلى الله عليه وسلم فيها تختلف قصراً وطولاً، فكان تارة يقرأ في كل ركعة
--------------------------------------------
তিনি চার ও তিন (সাত), ছয় ও তিন (নয়), এবং দশ ও তিন (তেরো) রাকাত বিতর পড়তেন। তিনি সাত রাকাতের কম এবং তেরো রাকাতের বেশি বিতর পড়তেন না।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী হলো:
"বিতর হলো যথাযথ হক, সুতরাং যে ইচ্ছা করবে সে যেন পাঁচ রাকাত বিতর পড়ে, যে ইচ্ছা করবে সে যেন তিন রাকাত বিতর পড়ে এবং যে ইচ্ছা করবে সে যেন এক রাকাত বিতর পড়ে।"
কিয়ামে কিরাত পাঠ:
৯- আর রমজানের কিয়াম বা অন্য সময়ে রাতের সালাতে কিরাত পাঠের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেননি যা থেকে বাড়ানো বা কমানো যাবে না। বরং তাঁর কিরাত পাঠ দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হতো। কখনো তিনি প্রতি রাকাতে পড়তেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قدر {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ} ، وهي عشرون آية، وتارة قدر خمسين آية، وكان يقول: "من صلى في ليلة بمئة آية لم يُكْتَبْ من الغافلين".
وفي حديث آخر:
"
… بمئتي آية فإنه يكتب من القانتين المخلصين".
وقرأ صلى الله عليه وسلم في ليلة وهو مريض السبع الطوال، وهي سورة {البقرة} ، و {آل عمران} ، و {النساء} ، و {المائدة} ، و {الأنعام} ، و {الأعراف} ، و {التوبة} .
وفي قصة صلاة حذيفة بن اليمان وراء النبي عليه الصلاة والسلام أنه صلى الله عليه وسلم قرأ في ركعة واحدة {البقرة} ثم {النساء} ثم {آل عمران} ، وكان يقرؤها مترسلاً متمهلاً1.
وثبت بأصح إسناد أن عمر رضي الله عنه لما أمر أُبّيَّ بن كعب أن يصلي للناس بإحدى عشرة ركعة في رمضان، كان أُبيٌّ رضي الله عنه يقرأ بالمئين، حتى كان الذي خلفه يعتمدون على العِصِي من طول القيام، وما كانوا ينصرفون إلا في أوائل الفجر2.
--------------------------------------------
'ইয়া আইয়ুহাল মুয্যাম্মিল' (সুরা আল-মুয্যাম্মিল) পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন, যাতে বিশটি আয়াত রয়েছে। কখনো পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন। তিনি বলতেন: "যে ব্যক্তি এক রাতে একশ আয়াত তিলাওয়াত করে সালাত আদায় করবে, তাকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।"
অন্য একটি হাদিসে এসেছে:
" ... দুইশ আয়াত তিলাওয়াত করলে তাকে একনিষ্ঠ অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ থাকা অবস্থায় এক রাতে 'সাবআ তুওয়াল' (সাতটি দীর্ঘ সুরা) তিলাওয়াত করেছিলেন, যেগুলো হলো: সুরা আল-বাকারা, আল-ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদা, আল-আনআম, আল-আরাফ এবং আত-তাওবা।
হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহুর নবি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের পেছনে সালাত আদায়ের ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক রাকাতেই সুরা আল-বাকারা, এরপর আন-নিসা এবং এরপর আল-ইমরান তিলাওয়াত করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধীরস্থির ও স্পষ্টভাবে তিলাওয়াত করছিলেন।
সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রমজানে এগারো রাকাত সালাত পড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন উবাই রাদিয়াল্লাহু আনহু কয়েকশ আয়াত বিশিষ্ট সুরাগুলো তিলাওয়াত করতেন। এমনকি দীর্ঘ কিয়ামের কারণে তাঁর পেছনে থাকা মুসল্লিরা লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন এবং ফজরের একদম শুরুর সময় ব্যতীত তারা সালাত শেষ করতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وصح عن عمر أيضاً أنه دعا القُرَّاءَ في رمضان، فأمر أسرعهم قراءة أن يقرأ ثلاثين آية، والوسط خمساً وعشرين آية، والبطيء عشرين آية1.
وعلى ذلك فإن صلى القائم لنفسه فليطول ما شاء، وكذلك إذا كان معه من يوافقه، وكلما أطال فهو أفضل، إلا أنه لا يبالغ في الإطالة حتى يُحيي الليل كله إلا نادراً، اتباعاً للنبي صلى الله عليه وسلم القائل:
"وخير الهدي هدي محمد" 2.
وأما إذا صلى إماماً، فعليه أن يطيل بما لا يشق على من وراءه لقوله صلى الله عليه وسلم:
"إذا قام أحدكم للناس فليخفف الصلاة، فإن فيهم "الصغير والكبير وفيهم الضعيف، والمريض، وذا الحاجة، وإذا قام وحده فليطل صلاته ما شاء" 3.
--------------------------------------------
উমর (রা.) থেকে আরও বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) হয়েছে যে, তিনি রমজান মাসে কারীদের আহ্বান করেন। অতঃপর তিনি তাদের মধ্যে দ্রুতগতিতে পাঠকারীকে ত্রিশ আয়াত পড়ার নির্দেশ দেন, মাঝারি গতিসম্পন্ন পাঠকারীকে পঁচিশ আয়াত এবং ধীরগতিসম্পন্ন পাঠকারীকে বিশ আয়াত পড়ার নির্দেশ দেন।১
এর ওপর ভিত্তি করে, যদি সালাত আদায়কারী একাকী সালাত পড়ে, তবে সে যত ইচ্ছা দীর্ঘ করতে পারে। অনুরূপভাবে তার সাথে যদি এমন কেউ থাকে যে তার দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে একমত, তবে সে যত বেশি দীর্ঘ করবে তা তত বেশি উত্তম। তবে সে যেন দীর্ঘ করার ক্ষেত্রে এমন বাড়াবাড়ি না করে যাতে খুব কম ব্যতিক্রম ছাড়া পুরো রাত জেগে ইবাদত করা হয়, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের খাতিরে করা হবে, যিনি বলেছেন:
"আর সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ" ২
কিন্তু যখন তিনি ইমাম হিসেবে সালাত আদায় করবেন, তখন তার উচিত এমনভাবে দীর্ঘ না করা যা তার পেছনের মুক্তাদীদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যখন তোমাদের কেউ মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে, তখন সে যেন সালাত সংক্ষেপ করে; কারণ তাদের মধ্যে ছোট, বড়, দুর্বল (الضعيف), অসুস্থ এবং অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি থাকে। আর সে যখন একা দাঁড়াবে, তখন সে তার সালাত যত ইচ্ছা দীর্ঘ করতে পারে" ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقت القيام:
10- ووقت صلاة الليل من بعد صلاة العشاء إلى الفجر، لقوله صلى الله عليه وسلم: "إن الله زادكم صلاة، وهي الوتر1، فصلوها بين صلاة العشاء إلى صلاة الفجر" 2.
11- والصلاة في آخر الليل أفضل لمن تيسر له ذلك لقوله صلى الله عليه وسلم: "من خاف أن لا يقوم من آخر الليل فليوتر أوله، ومن طمع أن يقوم آخره فليوتر آخر الليل، فإن صلاة آخر الليل مشهودة وذلك أفضل" 3.
12- وإذا دار الأمر بين الصلاة أول الليل مع الجماعة، وبين الصلاة آخر الليل منفرداً، فالصلاة مع الجماعة أفضل، لأنه يحسب له قيام ليلة تامة كما تقدم في الفقرة 4 مرفوعاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
وعلى ذلك جرى عمل الصحابة في عهد عمر رضي الله عنه، فقال عبد الرحمن بن عبد القاري:
--------------------------------------------
দাঁড়ানোর সময়:
১০- রাতের নামাজের সময় হলো এশার নামাজের পর থেকে ফজর পর্যন্ত। এর কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য একটি নামাজ বৃদ্ধি করেছেন, আর তা হলো বিতর (الوتر)১, সুতরাং তোমরা তা এশার নামাজ ও ফজরের নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করো।" ২।
১১- যার জন্য সহজসাধ্য হয়, তার জন্য শেষ রাতে নামাজ আদায় করা অধিক উত্তম। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগ্রত হতে না পারার ভয় করে, সে যেন রাতের প্রথম ভাগেই বিতর (الوتر) পড়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগ্রত হওয়ার আশা রাখে, সে যেন শেষ রাতে বিতর আদায় করে। কারণ শেষ রাতের নামাজে ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন (مشهودة) এবং এটাই অধিক উত্তম।" ৩।
১২- যদি বিষয়টি এমন হয় যে, রাতের প্রথম ভাগে জামায়াতের সাথে নামাজ আদায় করা অথবা রাতের শেষ ভাগে একাকী নামাজ আদায় করার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হয়, তবে জামায়াতের সাথে নামাজ আদায় করাই অধিক উত্তম। কারণ এর মাধ্যমে তার জন্য পূর্ণ রাত জাগরণের সওয়াব গণ্য করা হবে, যেমনটি ইতিপূর্বে ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مرفوعاً) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
আর ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে সাহাবীগণের আমল এভাবেই প্রচলিত ছিল। আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল কারী বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
خرجت مع عمر بن الخطاب ليلة في رمضان إلى المسجد، فإذا الناس أوزاع متفرقون، يصلي الرجل لنفسه، ويصلي الرجل فيصلي بصلاته الرهط، فقال: والله إني لأرى لو جمعت هؤلاء على قارىء واحد لكان أمثل، ثم عزم، فجمعهم على أُبَيَّ بن كعب، قال: ثم خرجت معه ليلة أخرى، والناس يصلون بصلاة قارئهم، فقال عمر: نعمت البدعة هذه، والتي ينامون عنها أفضل من التي يقومون - يريد آخر الليل - وكان الناس يقومون أوله1.
وقال زيد بن وهب: كان عبد الله يصلي بنا شهر رمضان، فينصرف بليل2.
الكيفيات التي تصلى بها صلاة الليل:
13- كنت فصلت القول في ذلك في "صلاة التراويح" ص101-115 فأرى أن أٌلَخّص ذلك هنا تيسيراً على القارئ وتذكيراً:
--------------------------------------------
আমি রমজানের এক রাতে উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম মানুষ বিচ্ছিন্ন ও বিভিন্ন দলে বিভক্ত। কেউ একা একা নামাজ পড়ছে, আবার কেউ নামাজ পড়ছে আর একদল লোক তার পেছনে নামাজ পড়ছে। তখন তিনি (উমর) বললেন: "আল্লাহর শপথ, আমি মনে করি যদি আমি এদেরকে একজন ক্বারীর (তথা ইমামের) পেছনে একত্রিত করে দিতাম, তবে তা অধিক উত্তম হতো।" অতঃপর তিনি সংকল্প করলেন এবং তাদেরকে উবাই ইবনে কাবের পেছনে একত্রিত করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর অন্য এক রাতে আমি তাঁর সাথে বের হলাম, তখন মানুষ তাদের ইমামের পেছনে নামাজ পড়ছিল। উমর (রা.) বললেন: "এই নতুন পদ্ধতিটি (بدعة) কতই না চমৎকার! তবে রাতের যে অংশে তারা ঘুমিয়ে থাকে, তা বর্তমানের কিয়াম (রাত জেগে ইবাদত) অপেক্ষা অধিক উত্তম" - এর মাধ্যমে তিনি রাতের শেষ ভাগ বুঝিয়েছেন - অথচ মানুষ রাতের শুরুতেই কিয়াম করত।
আর যায়দ ইবনে ওয়াহাব বলেন: আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রমজান মাসে আমাদের নিয়ে নামাজ পড়তেন, অতঃপর রাতের বেলায় (নামাজ শেষে) ফিরে যেতেন।
রাতের নামাজ আদায়ের পদ্ধতিসমূহ:
১৩- আমি এ বিষয়ে "সালাতুত তারাবি" গ্রন্থের ১০১-১১৫ পৃষ্ঠায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি। পাঠকদের সুবিধার্থে এবং স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আমি এখানে তার সংক্ষিপ্ত সার তুলে ধরা সমীচীন মনে করছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الكيفية الأولى: ثلاث عشرة ركعة، يفتتحها بركعتين، خفيفتين، وهما على الأرجح سنة العشاء البعدية، أو ركعتان مخصوصتان يفتتح بهما صلاة الليل كما تقدم، ثم يصلي ركعتين طويلتين جداً، ثم يصلي ركعتين دونهما، ثم يصلي ركعتين دون اللتين قبلهما، ثم يصلي ركعتين دونهما، ثم يصلي ركعتين دونهما، ثم يوتر بركعة.
الثانية: يصلي ثلاث عشرة ركعة، منها ثمانية يُسلم بين كل ركعتين، ثم يوتر بخمس لا يجلس ولا يسلم
إلا في الخامسة.
الثالثة: إحدى عشرة ركعة، يسلم بين كل ركعتين، ويوتر بواحدة.
الرابعة: إحدى عشرة ركعة، يصلي منها أربعاً بتسليمة واحدة، ثم أربعاً كذلك، ثم ثلاثاً.
وهل كان يجلس بين كل ركعتين من الأربع والثلاث؟ لم نجد جواباً شافياً في ذلك، لكن الجلوس في الثلاث لا يشرع!
الخامسة: يصلي إحدى عشرة ركعة، منها ثماني ركعات لا يقعد فيها إلا في الثامنة، يتشهد ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم ثم يقوم ولا يسلم، ثم يوتر بركعة، ثم يسلم، فهذه تسع، ثم يصلي ركعتين، وهو جالس.
প্রথম পদ্ধতি: তেরো রাকাত। তিনি দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত (خفيفتين) নামাজের মাধ্যমে তা শুরু করতেন, আর এই দুই রাকাত সম্ভবত এশার পরবর্তী সুন্নত (سنة العشاء البعدية), অথবা বিশেষ দুই রাকাত যা দিয়ে তিনি রাতের নামাজ শুরু করতেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এরপর তিনি দুই রাকাত অত্যন্ত দীর্ঘ (طويلتين جداً) নামাজ পড়তেন। এরপর এর চেয়ে কম দীর্ঘ দুই রাকাত পড়তেন, এরপর তার পূর্বের দুই রাকাতের চেয়ে কম দীর্ঘ দুই রাকাত পড়তেন, এরপর তার চেয়ে কম দীর্ঘ দুই রাকাত পড়তেন, এরপর তার চেয়ে কম দীর্ঘ দুই রাকাত পড়তেন। অতঃপর এক রাকাত বিতর (وتر) পড়তেন।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: তিনি তেরো রাকাত নামাজ পড়তেন, যার মধ্যে আট রাকাতের প্রতি দুই রাকাতের মাঝে সালাম ফিরাতেন (يسلم), অতঃপর পাঁচ রাকাত বিতর (وتر) পড়তেন যাতে তিনি বসতেন না এবং সালাম ফিরাতেন না
পঞ্চম রাকাত ব্যতীত।
তৃতীয় পদ্ধতি: এগারো রাকাত, প্রতি দুই রাকাতের মাঝে সালাম ফিরাতেন (يسلم) এবং এক রাকাত বিতর (وتر) পড়তেন।
চতুর্থ পদ্ধতি: এগারো রাকাত, এর মধ্যে চার রাকাত এক সালামে (بتسليمة واحدة) পড়তেন, অতঃপর একইভাবে চার রাকাত এবং এরপর তিন রাকাত পড়তেন।
তিনি কি চার এবং তিন রাকাতের প্রতি দুই রাকাতের মাঝে বসতেন? আমরা এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাইনি, তবে তিন রাকাতের মাঝে বসা বিধিসম্মত নয় (لا يشرع)!
পঞ্চম পদ্ধতি: তিনি এগারো রাকাত পড়তেন, এর মধ্যে আট রাকাত এমনভাবে পড়তেন যাতে অষ্টম রাকাত ছাড়া বসতেন না। সেখানে তিনি তাশাহহুদ (يتشهد) পড়তেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করতেন, অতঃপর সালাম না ফিরিয়েই দাঁড়িয়ে যেতেন। এরপর এক রাকাত বিতর (وتر) পড়তেন এবং সালাম ফিরাতেন (يسلم)। এভাবে মোট নয় রাকাত হলো। এরপর বসা অবস্থায় (وهو جالس) আরও দুই রাকাত পড়তেন।
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
السادسة: يصلي تسع ركعات منها ست لا يقعد إلا في السادسة منها، ثم يتشهد ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم ثم
… إلخ ما ذُكر في الكيفية السابقة.
هذه هي الكيفيات التي ثبتت عن النبي صلى الله عليه وسلم نصاً عنه، ويمكن أن يزاد عليها أنواعاً أخرى، وذلك بأن ينقص من كل نوع منها ما شاء من الركعات حتى يقتصر على ركعة واحدةٍ عملاً بقوله صلى الله عليه وسلم المتقدم:
"فمن شاء فليوتر بخمس، ومن شاء فليوتر بثلاث، ومن شاء فليوتر بواحدة" 1.
فهذه الخمس والثلاث، إن شاء صلاها بقعود واحد، وتسليمة واحدة كما في الصفة الثانية، وإن شاء سلم من كل ركعتين كما في الصفة الثالثة وغيرها، وهو الأفضل2.
--------------------------------------------
ষষ্ঠ পদ্ধতি: তিনি নয় রাকাত সালাত আদায় করতেন, যার মধ্যে ষষ্ঠ রাকাত ব্যতীত অন্য কোনো রাকাতে তিনি বসতেন না; ষষ্ঠ রাকাতে বসে তিনি তাশাহহুদ পড়তেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করতেন, এরপর
… ইত্যাদি যা পূর্বোক্ত পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে।
এগুলোই হলো সেই পদ্ধতিসমূহ যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সুস্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী (نصاً) সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে। এর সাথে আরও কিছু প্রকার যুক্ত করা সম্ভব, আর তা হলো বর্ণিত প্রত্যেক প্রকার থেকে নিজের ইচ্ছামতো রাকাত সংখ্যা কমিয়ে এমনকি এক রাকাতে সীমাবদ্ধ করা, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্বোক্ত বাণীর ওপর আমল করার মাধ্যমে:
"সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে যেন পাঁচ রাকাত বিতর আদায় করে, যে ইচ্ছা করে সে যেন তিন রাকাত বিতর আদায় করে এবং যে ইচ্ছা করে সে যেন এক রাকাত বিতর আদায় করে।" ১
এই পাঁচ এবং তিন রাকাত, কেউ চাইলে দ্বিতীয় পদ্ধতির ন্যায় এক বৈঠকে এবং এক সালামে (تسليم) আদায় করতে পারে, আবার চাইলে তৃতীয় পদ্ধতি বা অন্যান্য পদ্ধতির ন্যায় প্রতি দুই রাকাত অন্তর সালাম ফিরাতে পারে, আর এটিই উত্তম। ২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وأما صلاة الخمس والثلاث بقعود بين كل ركعتين بدون تسليم فلم نجده ثابتاً عنه (، والأصل الجواز، لكن لما كان النبي صلى الله عليه وسلم قد نهى عن الإيتار بثلاث، وعلل ذلك بقوله: "ولا تشبهوا بصلاة المغرب" 1؛ فحينئذ لا بد لمن صلى الوتر ثلاثاً من الخروج عن هذه المشابهة، وذلك يكون بوجهين:
أحدهما: التسليم بين الشفع والوتر، وهو الأقوى والأفضل.
والآخر: أن لا يقعد بين الشفع والوتر، والله تعالى أعلم.
القراءة في ثلاث الوتر:
14- ومن السنة أن يقرأ في الركعة الأولى من ثلاث الوتر: {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} ، وفي الثانية:
{قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} ، وفي الثالثة: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} ويضيف إليها أحياناً: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} و: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} .
وقد صح عنه صلى الله عليه وسلم أنه قرأ مرة في ركعة الوتر بمئة آية من النساء2.
--------------------------------------------
আর সালাম (تسليم) ব্যতীত প্রতি দুই রাকাতের মাঝে বসে পাঁচ বা তিন রাকাত সালাত আদায়ের বিষয়টি তাঁর পক্ষ থেকে প্রমাণিত (ثابت) হিসেবে আমরা পাইনি। এর মূল বিধান হলো বৈধতা (جواز), কিন্তু যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিন রাকাত বিতর পড়তে নিষেধ করেছেন এবং এর কারণ হিসেবে তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন: "তোমরা একে মাগরিবের সালাতের সদৃশ করো না" ১; এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি তিন রাকাত বিতর পড়বে, তাকে অবশ্যই এই সাদৃশ্য থেকে পরিহার করতে হবে। আর তা দুইভাবে হতে পারে:
প্রথমত: জোড় রাকাত ও বিতরের মাঝে সালাম (تسليم) ফেরানো; আর এটিই অধিক শক্তিশালী (أقوى) এবং সর্বোত্তম (أفضل)।
দ্বিতীয়ত: জোড় রাকাত ও বিতরের মাঝে বৈঠক না করা। আর মহান আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।
তিন রাকাত বিতরে কিরাত পাঠ:
১৪- সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো তিন রাকাত বিতরের প্রথম রাকাতে পাঠ করা: {সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা}, এবং দ্বিতীয় রাকাতে:
{কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন}, এবং তৃতীয় রাকাতে: {কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ} এবং মাঝে মাঝে এর সাথে যুক্ত করবে: {কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক} এবং {কুল আউজু বিরাব্বিন নাস}।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত (صح) হয়েছে যে, তিনি একবার বিতরের এক রাকাতে সূরা আন-নিসা থেকে একশ আয়াত পাঠ করেছিলেন।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান ফাদলুহু ওয়া কাইফিয়াতু আদাইহি ওয়া মাশরুউইয়াতুল জামাআতি ফীহি ওয়া মাআহু বাহসুন কাইয়িমুন আনিল ইতিকাফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
دعاء القتوت وموضعه:
15- وبعد الفراغ من القراءة وقبل الركوع، يقنت أحياناً بالدعاء الذي علمه النبي صلى الله عليه وسلم سِبْطَهُ الحسن بن علي رضي الله عنهما وهو:
"اللهم اهدني فيمن هديت، وعافني فيمن عافيت، وتولني فيمن توليت، وبارك لي فيما أعطيت، وقني شر ما قضيت، فإنك تقضي ولا يقضى عليك، وإنه لا يذلّ من واليتَ، ولا يعزّ من عاديت، تباركت ربنا وتعاليت، لا منجا منك إلا إليك" 1 يصلي على النبي صلى الله عليه وسلم أحياناً، لما يأتي بعده2.
16- ولا بأس من جعل القنوت بعد الركوع، ومن الزيادة عليه بلعن الكفرة، والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم والدعاء للمسلمين في النصف الثاني من رمضان، لثبوت ذلك عن الأئمة في عهد عمر رضي الله عنه، فقد جاء في آخر حديث عبد الرحمن بن عبد القارى المتقدم ص 26 ـ 27:
--------------------------------------------
দোয়া কুনুত এবং এর অবস্থান:
১৫- কিরাত শেষ করার পর এবং রুকুর পূর্বে, তিনি কখনো কখনো সেই দোয়ার মাধ্যমে কুনুত (قنوت) পাঠ করতেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দৌহিত্র হাসান বিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে শিখিয়েছিলেন, আর তা হলো:
"হে আল্লাহ! আপনি যাদের হেদায়াত দান করেছেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদের আপনি সুস্থতা দান করেছেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, আপনি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, আপনি আমাকে যা দান করেছেন তাতে বরকত দান করুন এবং আপনি যা ফয়সালা করেছেন তার অনিষ্ট হতে আমাকে রক্ষা করুন; কেননা আপনিই চূড়ান্ত ফয়সালা প্রদান করেন, আপনার ওপর কোনো ফয়সালা চলে না। নিশ্চয়ই আপনি যার সাথে মিত্রতা করেন সে অপমানিত হয় না, আর আপনি যার সাথে শত্রুতা করেন সে সম্মানিত হয় না। হে আমাদের রব! আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ। আপনার নিকট ছাড়া আপনার (শাস্তি) হতে বাঁচার আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই।" ১ পরবর্তী আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি মাঝে মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করতেন২।
১৬- রুকুর পরে কুনুত (قنوت) করা এবং এতে কাফিরদের ওপর লানত বা অভিশাপ প্রদান, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ এবং রমজানের শেষার্ধে মুসলিমদের জন্য দোয়া করার মাধ্যমে তা বৃদ্ধি করাতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে ইমামগণের থেকে এটি প্রমাণিত (ثبوت) হয়েছে। ইতিপূর্বে ২৬-২৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আবদুর রহমান ইবনে আবদ আল-ক্বারীর হাদিসের শেষে এসেছে:
--------------------------------------------