(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: -)
عناية العلماء بالإسناد وعلم الجرح والتعديل - عبد العزيز فارح   (عبد العزيز محمد فارح)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: عناية العلماء بالإسناد وعلم الجرح والتعديل

المؤلف: عبد العزيز محمد فارح

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف

عدد الصفحات: 58

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সনদ (الإسناد) এবং জারহ ও তা'দীল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের প্রতি আলেমগণের গুরুত্বারোপ - আব্দুল আজিজ ফারাহ   (আব্দুল আজিজ মুহাম্মদ ফারাহ)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: সনদ (الإسناد) এবং জারহ ও তা'দীল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের প্রতি আলেমগণের গুরুত্বারোপ

লেখক: আব্দুল আজিজ মুহাম্মদ ফারাহ

প্রকাশক: কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর দ্য প্রিন্টিং অফ দ্য হলি কুরআন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة

لم يختلف المسلمون منذ فجر الإسلام في أن السنة النبوية هي التطبيق العملي للإسلام والتفصيل الواقعي للقرآن، ومرجع كل مسلم في تعرُّف الأحكام، لذلك كان كل مسلم مكلفاً باحترام هذا التطبيق تكليفَه باحترام القانون نفسه، ولذلك أيضاً كانت طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم طاعة لله عز وجل، مصداقاً لقوله تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظاً} [النساء: 80] . {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر 7] .وليس من المستغرب أن يكون إهمال السنة والذهول عنها إضاعة لصرح عظيم من الدين، فقد كان النبي صلى الله عليه وسلم مُبَلِّغاً عن الله عز وجل، وموضحا مراده ببيان المجمل وتفصيله وذكر الجزئيات والتفاصيل، وتوضيح المشكل وتقييد المطلق وتخصيص العام وإضافة أحكام جديدة، ثم إن السنة أصل دلّ عليه كتاب الله؛ ولهذا فإن أئمة المسلمين متفقون على وجوب العمل بالحديث إذا صحَّ، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "تركت فيكم أمرين لن تضلوا ما تمسكتم بهما: كتاب الله وسنتي" (1) ، وصحّ عن الإمام الشافعي قوله: "إذا صح الحديث فهو مذهبي واضربوا بقولي عرض الحائط" (2) ، وهو ما تبناه في الحقيقة غيره من علماء الأمة قبله وبعده. فلا

--------------------------------------------

(1) أخرجه الإمام مالك في كتاب القدر من الموطأ باب النهي عن القول بالقدر، رقم الحديث 3 ج 2، ص899، والحاكم في المستدرك عن أبي هريرة والإمام أحمد في المسند 6/306.

(2) الوافي بالوفيات 1/173. وانظر أيضا قواعد التحديث للقاسمي ص 87 وما بعدها، وكتاب حجية السنة للدكتور عبد الغني عبد الخالق ص 245 وما بعدها.
‌ভূমিকা

ইসলামের ঊষালগ্ন থেকেই মুসলিমদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, সুন্নাহ নববী হলো ইসলামের ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং কুরআনের বাস্তব বিস্তারিত রূপ, আর শরয়ি বিধানাবলি জানার ক্ষেত্রে এটি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য মূল উৎস। তাই খোদ আইনকে শ্রদ্ধা করা যেমন প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য, ঠিক তেমনি এই ব্যবহারিক প্রয়োগকে শ্রদ্ধা করাও তাদের ওপর সমভাবে অর্পিত দায়িত্ব। আর এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য হলো মহান আল্লাহরই আনুগত্য, যা মহান আল্লাহর এই বাণীর বাস্তব প্রতিফলন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, তবে আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি} [আন-নিসা: ৮০]। {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]। এটি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, সুন্নাহর প্রতি অবহেলা বা এর প্রতি অমনোযোগিতা দ্বীনের এক বিশাল ইমারতকে ধ্বংস করার শামিল। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দ্বীন পৌঁছদানকারী এবং তিনি তাঁর উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্ট করতেন সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট বাণীর ব্যাখ্যা (بيان المجمل) ও তার বিস্তারিত বিবরণ, খুটিনাটি বিষয়ের বর্ণনা, জটিল বিষয়ের (مشكل) স্পষ্টীকরণ, শর্তহীনকে (مطلق) শর্তযুক্তকরণ, সাধারণকে (عام) বিশেষীকরণ এবং নতুন নতুন বিধান সংযোজনের মাধ্যমে। তাছাড়া সুন্নাহ এমন এক মূল ভিত্তি যার প্রমাণ আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান। এ কারণেই মুসলিম ইমামগণ এই বিষয়ে একমত যে, হাদিস যখন সহিহ (صح) প্রমাণিত হবে, তখন সেটি অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা আঁকড়ে ধরবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ" (১)। ইমাম শাফেঈ থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যখন হাদিস সহিহ (صح) হবে তখন সেটিই আমার মাযহাব, আর আমার কথাকে দেয়ালের ওপাশে ছুড়ে মারো" (২)। প্রকৃতপক্ষে এটিই উম্মাহর তাঁর পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী অন্যান্য আলেমগণ গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম মালিক মুওয়াত্তার কিতাবুল কাদার-এর 'তাকদির সম্পর্কে কথা বলার নিষেধাজ্ঞা' অনুচ্ছেদে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه), হাদিস নং ৩, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৯৯; এবং হাকিম মুস্তাদরাক-এ আবু হুরায়রা থেকে এবং ইমাম আহমাদ মুসনাদ-এ (৬/৩০৬) এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(২) আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত ১/১৭৩। আরও দেখুন কাসেমী রচিত কাওয়ায়েদুত তাহদিস পৃষ্ঠা ৮৭ ও পরবর্তী অংশ, এবং ড. আব্দুল গনি আব্দুল খালেক রচিত হুজজিয়্যাতুস সুন্নাহ পৃষ্ঠা ২৪৫ ও পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ২)
حجة إذاً إلا في كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وما استند إليهما من إجماع وقياس مبني على علّة صحيحة، أو قواعدكلية مأخوذة منها. لذلك تمسك العلماء المسلمون بالسنة والعمل بها؛ لأنها دليل - إلى جانب الكتاب العزيز - من أدلة الأحكام ومصدر أساس للشريعة الإسلامية، وغيرهما من ينابيع الاستدلال محمول عليهما، ومقتبس من روحهما، ودائر في فلكهما.

وقد قيض الله تعالى من سلف الأمة الإسلامية وخلفها من يذود عنها، ويجاهد ويصابر في صيانتها وينفي عنها تحريف الغالين وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين، فنهض علماء الأمة وقادتها في عهد الخلافة الراشدة لجمع القرآن الكريم ثم كتابته في مصحف إمام، وجاء بعدهم من يخدمه كتابة ورسماً وتفسيراً وإقراءً.. ولم يأل هؤلاء وأولئك جهداً في خدمة السنة النبوية المشرفة، فقام من يكتبها في صحف خاصة، وهبّ الجميع لحفظها والعمل بها ثم روايتها وتبليغها، واستمر الأمر على هذا النحو، ثم اتّسعت آفاقه خصوصاً بعد أحداث ما يسمى بـ"فتنة الخلافة"؛ حيث لجأ بعض ضعاف الإيمان من أهل الأهواء والبدع والفرق الكلامية والسياسية إلى تزوير بعض الأحاديث النبوية وتحريفها أو وضع أحاديث على لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهبّ علماء المسلمين وعامتهم إلى الذود عن السنة النبوية ومقاومة الوضع والوضاعين، فكثر الكلام في الرواة تعديلاً وتجريحاً، وقبلت أحاديث وردّت أحاديث أخرى، وكان ذلك أساساً لعلم الجرح والتعديل، علم التمحيص
অতএব, মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ এবং এই দুইয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত ঐকমত্য (إجماع) ও সঠিক কারণের (علّة صحيحة) ওপর ভিত্তি করে সংস্থাপিত অনুমান (قياس), অথবা এ থেকে গৃহীত সার্বিক মূলনীতির (قواعد كلية) বাইরে অন্য কিছু অকাট্য প্রমাণ (حجة) নয়। এই কারণেই মুসলিম আলেমগণ সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন; কারণ এটি পবিত্র কিতাবের পাশাপাশি বিধানের দলিলসমূহের (أدلة الأحكام) অন্যতম একটি দলিল (دليل) এবং ইসলামি শরিয়তের একটি মৌলিক উৎস। এছাড়া দলিলের (استدلال) অন্যান্য উৎসসমূহ এই দুইয়ের ওপরই নির্ভরশীল, এদের নির্যাস থেকে সংগৃহীত এবং এদের কক্ষপথেই আবর্তিত।

আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে এমন এক দলকে নিযুক্ত করেছেন যারা শরিয়তকে রক্ষা করবেন, এর সুরক্ষায় সংগ্রাম ও ধৈর্য ধারণ করবেন এবং বাড়াবাড়িকারীদের বিকৃতি (تحريف), বাতিলপন্থীদের মিথ্যারোপ (انتحال) ও মূর্খদের ভুল ব্যাখ্যা (تأويل) থেকে একে পবিত্র রাখবেন। ফলে খিলাফতে রাশেদার যুগে উম্মতের আলেম ও নেতৃবৃন্দ পবিত্র কুরআন সংকলন এবং পরবর্তীতে তা মূল পাণ্ডুলিপিতে লিপিবদ্ধ করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এরপর তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম লিখনশৈলী, অলংকরণ, তাফসির ও কিরাত প্রসারের মাধ্যমে এর খেদমত করেছেন। তাঁরা কেউই সম্মানিত সুন্নাহর খিদমতে কোনো প্রকার প্রচেষ্টায় ত্রুটি করেননি। কেউ একে বিশেষ পাণ্ডুলিপিতে লিপিবদ্ধ করেছেন, আবার সবাই একে সংরক্ষণ ও তদানুযায়ী আমল এবং অতঃপর বর্ণনা (رواية) ও প্রচারের (تبليغ) জন্য সচেষ্ট হয়েছেন। এভাবেই বিষয়টি চলতে থাকে। পরবর্তীতে এর পরিধি আরও বিস্তৃত হয়, বিশেষ করে তথাকথিত "খিলাফতের ফিতনার" পর। তখন প্রবৃত্তি পূজারী, বিদাতপন্থী এবং ধর্মতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু দুর্বল ঈমানদার ব্যক্তিরা হাদিস জালকরণ, বিকৃতি সাধন অথবা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে হাদিস জাল (وضع) করার আশ্রয় নেয়। এমতাবস্থায় মুসলিম আলেম ও সাধারণ মানুষ সুন্নাহর সুরক্ষা এবং জালকরণ (الوضع) ও জালকারীদের (الوضاعين) প্রতিরোধের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। তখন বর্ণনাকারীদের (الرواة) বিষয়ে নির্ভরযোগ্যতা (تعديل) ও দুর্বলতা (تجريح) সংক্রান্ত পর্যালোচনার ব্যাপক বিস্তার ঘটে; ফলে কিছু হাদিস গৃহীত হয় এবং কিছু হাদিস বর্জিত হয়। আর এটিই ছিল মূলত জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) বা যাচাই-বাছাইয়ের বিজ্ঞানের ভিত্তি।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
وتمييز الخبيث من الطيب، وقد شهد الجميع النتائج الطيبة المباركة لهذا العلم، وعلى رأسها رواية الأحاديث النبوية الشريفة غضّة نقية صافية كما صدرت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، إلى أن استقرت في مصادرها بعد ازدهار حركة التصنيف المنهجي للحديث، وظهور الكتب المتعددة من موطآت ومصنفات ومسانيد وجوامع ومستدركات ومستخرجات ومعاجم وأجزاء… اختار فيها أصحابها مناهج معينة في ترتيب الأحاديث، وشروطاً في التصحيح والتضعيف والقبول والرد.

ونظرا لأهمية علم الجرح والتعديل وتوقف التصحيح والتضعيف والقبول والرد عليه فقد أحببت المشاركة في ندوة «عناية المملكة العربية السعودية بالسنة والسيرة النبوية» بموضوع «عناية العلماء بالإسناد وعلم الجرح والتعديل وأثر ذلك في حفظ السنة» ؛ رجاء أن أميط اللثام عن تاريخ هذا العلم منذ بوادره الأولى، ومروراً بعناية العلماء بالإسناد ومطالبتهم به وبياناً لأهميته، ووصولاً عند مرحلة نشأة علم الجرح والتعديل علماً مستقلاً بذاته، وتطوره وظهور أعلامه الكبار ونقاده المشاهير، وما ألفوه من كتب وما وضعوه من ضوابط وقواعد.

وقد اقتضى مني ذلك وضع خطة لهذا الموضوع بدأتها بمقدمة في فضل السنة وفضل الاشتغال بها ومظاهر عناية المسلمين بها، انتقلت بعدها إلى الكلام على عناية المحدثين بالإسناد وبيان قيمته في حفظ السنة، ثم تعريف علم الجرح والتعديل لغة واصطلاحاً، ثم نشأته وتطوره، وخلصت بعد ذلك لذكر عدد من قواعده، ثم آثاره في ميادين وعلوم أخرى، ولما كان لعلماء الجرح والتعديل مؤلفات كثيرة في هذا الشأن فقد عُنيت ببيان ذلك فذكرت
এবং মন্দ থেকে ভালোর পার্থক্য নিরূপণ। এই ইলমের কল্যাণকর ও বরকতময় ফলাফল সম্পর্কে সকলেই অবগত। এর অন্যতম প্রধান সুফল হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, ঠিক সেভাবেই সজীব, বিশুদ্ধ ও স্বচ্ছ অবস্থায় মহিমান্বিত নববী হাদিসসমূহের বর্ণনা—যতক্ষণ না হাদিসের পদ্ধতিগত সংকলন প্রক্রিয়ার সমৃদ্ধির পর তা নিজ নিজ উৎসসমূহে স্থায়ী রূপ লাভ করেছে। এ সময় মুওয়াত্তা, মুসান্নাফ, মুসনাদ, জামি, মুস্তাদরাক, মুস্তাখরাজ, মু'জাম এবং জুয… এর মতো বহু কিতাব আত্মপ্রকাশ করে, যেখানে লেখকগণ হাদিস বিন্যাসের ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি এবং সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح), জয়িফ সাব্যস্তকরণ (تضعيف), গ্রহণ (قبول) ও প্রত্যাখ্যানের (رد) ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি অনুসরণ করেছেন।

জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের গুরুত্ব এবং সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح), জয়িফ সাব্যস্তকরণ (تضعيف), গ্রহণ (قبول) ও প্রত্যাখ্যান (رد) এই শাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে, আমি «সৌদি আরব রাজ্যের সুন্নাহ ও সিরাত চর্চা» শীর্ষক সেমিনারে «সনদ (إسناد) ও জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের প্রতি আলেমদের যত্ন এবং সুন্নাহ সংরক্ষণে এর প্রভাব» বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী হয়েছি; এই আশায় যেন আমি এই ইলমের প্রাথমিক সূচনা থেকে এর ইতিহাসের রহস্য উন্মোচন করতে পারি, আলেমদের সনদ (إسناد) চর্চা ও এর আবশ্যকতা এবং এর গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারি, সেই সাথে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর উদ্ভব, বিকাশ, প্রথিতযশা ইমাম ও খ্যাতনামা সমালোচকদের অবদান এবং তাঁদের রচিত কিতাব ও প্রণীত নিয়ম-নীতিসমূহ ব্যাখ্যা করতে পারি।

এই বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য আমি একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছি, যা শুরু করেছি সুন্নাহর ফজিলত, সুন্নাহ চর্চায় আত্মনিয়োগের মর্যাদা এবং সুন্নাহর প্রতি মুসলমানদের যত্নের দিকগুলো নিয়ে একটি ভূমিকার মাধ্যমে। এরপর মুহাদ্দিসগণের সনদ (إسناد) চর্চা এবং সুন্নাহ সংরক্ষণে এর গুরুত্বের বর্ণনায় উপনীত হয়েছি। এরপর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের সংজ্ঞা, এর উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ আলোচনা করেছি এবং পরিশেষে এর বেশ কিছু নীতিমালা এবং অন্যান্য শাস্ত্র ও ক্ষেত্রে এর প্রভাব উল্লেখ করেছি। যেহেতু জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ইমামগণের এ বিষয়ে অনেক সংকলন রয়েছে, তাই আমি সেগুলোর বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে উল্লেখ করেছি যে—
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الاتجاهات الكبرى التي صار فيها التأليف عند هؤلاء مع ذكر نماذج قليلة تبين ذلك. وأنهيت هذا الموضوع بخاتمة في فضل علم الجرح والتعديل، وضرورة توظيف قواعد ومناهج نقاده في مجالات أخرى غير مجال الحديث النبوي.

وذيلت في الأخير هذا الموضوع بلائحة للمصادر والمراجع التي استعنت بها في إنجازه، ثم بفهرس للمواضيع راجياً أن يكون ذلك وافياً بالغرض، وألا يكون الاختصار في بعض المباحث مخلاّ، وألَاّ يكون التطويل في بعضها مملاّ، ومن الله التوفيق والسداد، وللجنة المنظمة والسادة الأفاضل القائمين عليها تحية وإكبار خالصان صادقان.

****************
সেই প্রধান অভিমুখ বা ধারাগুলো যেগুলোতে তাঁদের গ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে, সাথে সেগুলোর পরিচায়ক কিছু উদাহরণ। আমি এই বিষয়টি সমাপ্ত করেছি জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর সমালোচকদের (نقاد) মূলনীতি ও পদ্ধতিসমূহ নবীজির হাদিস ক্ষেত্র ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক একটি উপসংহারের মাধ্যমে।

সবশেষে আমি এই বিষয়ের সাথে একটি উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা যুক্ত করেছি যা এটি সম্পন্ন করতে আমাকে সহায়তা করেছে, এরপর একটি বিষয়সূচি প্রদান করেছি; আশা করছি তা উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট হবে। আরও আশা রাখি যে, কিছু আলোচনার সংক্ষিপ্তকরণ যেন ক্ষতিকারক না হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দীর্ঘায়ন যেন বিরক্তির উদ্রেক না করে। আল্লাহর পক্ষ থেকেই তৌফিক ও সঠিক পথের দিশা আসে। আর আয়োজক কমিটি এবং এর দায়িত্বে থাকা সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের প্রতি রইল অকৃত্রিম ও আন্তরিক শ্রদ্ধা ও অভিবাদন।

****************
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌عناية المحدثين بالإسناد وبيان قيمته في حفظ السنة

‌‌مدخل

…

عناية المحدثين بالإسناد وبيان قيمته في حفظ السنة

الإسناد نعمة من الله أكرم بها أمة محمد صلى الله عليه وسلم لحفظ سننه ونقلها محفوظة مصونة، وخصيصة فاضلة فضلت بها من دون سائر الأمم، ولم يشأ المحدثون أن يكونوا سالبين تلك النعمة الربانية، مفرطين فيها، وعدّوا الإسناد من السنن المؤكدة، بل من فروض الكفاية وعمدة الكلام وطريق النقل والقبول، قال العلامة علي القارئ في شرح النخبة: «أصل الإسناد خصيصة فاضلة من خصائص هذه الأمة، وسنّة بالغة من السنن المؤكدة بل من فروض الكفاية» (1) . وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله: «ولكون الإسناد يُعلم به الحديث الموضوع من غيره، كانت معرفته من فروض الكفاية» (2) .

ولذلك اتفق أهل الحديث على أن الإسناد مطلوب في رواية السنن النبوية وشرط من شروط الالتفات إلى تلك الرواية والاعتداد بها، وأن ما خلا عن السند فهو غير معتمد، قال الإمام محمد عبد الحي اللكنوي: «وقبول الحديث الذي لا أصل له أي لا سند له ليس من شأن العاقلين، فإن بين النبي صلى الله عليه وسلم وبين هؤلاء الناقلين مفاوز تنقطع فيها مطايا السائرين.» (3) ،وقال أيضا: «لا يقبل حديث من غير إسناد ولو نقله معتمد … » (4) .

--------------------------------------------

(1) ص 194

(2) مرقاة المفاتيح للعلامة علي القارئ، 1/218.

(3) الأجوبة الفاضلة، هامش ص 32.

(4) المصدر نفسه، ص 33.
সনদ (إسناد)-এর প্রতি হাদিস বিশারদগণের যত্ন এবং সুন্নাহ সংরক্ষণে এর গুরুত্বের বর্ণনা

‌‌উপস্থাপনা

…

সনদ (إسناد)-এর প্রতি হাদিস বিশারদগণের যত্ন এবং সুন্নাহ সংরক্ষণে এর গুরুত্বের বর্ণনা

সনদ (إسناد) হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নিয়ামত, যার মাধ্যমে তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতকে তাঁর সুন্নাহসমূহ সংরক্ষণ এবং তা সুরক্ষিত ও নিরাপদভাবে স্থানান্তরের জন্য সম্মানিত করেছেন। এটি এই উম্মতের এক বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্য, যা অন্য কোনো উম্মতকে দেওয়া হয়নি। হাদিস বিশারদগণ এই ঐশী নিয়ামতকে হাতছাড়া করতে বা এতে শিথিলতা প্রদর্শন করতে চাননি। তারা সনদ (إسناد)-কে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, বরং ফরযে কিফায়া (فروض الكفاية), বক্তব্যের মূল ভিত্তি এবং বর্ণনা গ্রহণ ও কবুল করার মাধ্যম হিসেবে গণ্য করেছেন। আল্লামা আলী আল-কারি শারহুন নুখবাহ গ্রন্থে বলেছেন: «মূল সনদ (إسناد) এই উম্মতের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতসমূহের অন্যতম, বরং এটি ফরযে কিফায়া (فروض الكفاية)-এর অন্তর্ভুক্ত» (১)। হাফেজ ইবনে হাজার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: «যেহেতু সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমেই জাল (موضوع) হাদিসকে অন্য হাদিস থেকে পৃথক করা যায়, তাই এর জ্ঞান অর্জন করা ফরযে কিফায়া (فروض الكفاية)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল» (২)।

এ কারণেই হাদিস বিশারদগণ এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, নববী সুন্নাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে সনদ (إسناد) থাকা আবশ্যক এবং কোনো বর্ণনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার ও তা গ্রহণযোগ্য গণ্য করার অন্যতম শর্ত। যে বর্ণনা সনদ (سند) বিহীন, তা নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম মুহাম্মদ আব্দুল হাই লখনভী বলেছেন: «যে হাদিসের কোনো ভিত্তি নেই অর্থাৎ কোনো সনদ (سند) নেই, তা গ্রহণ করা বুদ্ধিমানদের কাজ নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং এই বর্ণনাকারীদের মাঝখানে এমন সব দুর্গম প্রান্তর রয়েছে যেখানে পথচারীদের বাহনগুলোও ক্লান্ত হয়ে পড়ে» (৩)। তিনি আরও বলেছেন: «সনদ (إسناد) ব্যতীত কোনো হাদিস কবুল করা হবে না, যদিও কোনো নির্ভরযোগ্য (معتمد) ব্যক্তি তা বর্ণনা করেন...» (৪)।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ১৯৪

(২) আল্লামা আলী আল-কারির মিরকাতুল মাফাতিহ, ১/২১৮।

(৩) আল-আজউয়িবাতুল ফাদিলাহ, ৩২ পৃষ্ঠার পাদটীকা।

(৪) একই উৎস, পৃষ্ঠা ৩৩।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ولم يكتفوا بذلك، بل رفعوا من شأن الإسناد وجعلوه من الدين، فقال الإمام عبد الله بن المبارك رحمه الله: «الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء: ما شاء» (1) . وأتمّ بعض من روى هذه الكلمة المشهورة فذكرها بلفظ: «الإسناد من الدين، ولولا الإسناد لقال من شاء: ما شاء، فإن قيل له: من حدّثك؟ بقي» أي بقي ساكتا مفحَما، أو بقي ساكتا منقطعا عن الكلام (2) .

وحكى ابن خير الإشبيلي في فهرسته اتفاق العلماء على أنه لا يحل لمسلم أن يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كذا، حتى يكون هذا القول مرويا ولو على أقل وجوه الروايات.» (3)

فلا غرو إذاً أن يصبح الإسناد بالشأن والقدر اللذين أعطيا له، وأن يعدّ خصيصة فاضلة من خصائص الأمة الإسلامية أكرمها الله وخصّها بها، دون سائر الأمم كلها قديمها وحديثها.

--------------------------------------------

(1) مقدمة صحيح الإمام مسلم 1/15، وجامع الترمذي كتاب العلل 5/695، والمحدث الفاصل للرامهرمزي ص 209، والجرح والتعديل لابن أبي حاتم الرازي 1/16، ومعرفة علوم الحديث للحاكم ص 6، والتمهيد لابن عبد البر 1/95.

(2) تتبع الأستاذ عبد الفتاح أبو غدة، رحمه الله، المواطن التي وقعت فيها هذه الزيادة في المصادر المذكورة أعلاه وفي غيرها، والتحريف الكبير الذي وقع فيها من قبل بعض النساخ أو المحققين، وذلك في كتابه النافع "الإسناد من الدين" ص 51 وما بعدها، وفي تحقيقه كتاب "الأجوبة الفاضلة عن الأسئلة العشرة الكاملة" للإمام محمد عبد الحي اللكنوي، حاشية ص 33.

(3) فهرست ابن خير، ص 16-17.
তারা কেবল এতেই ক্ষান্ত হননি, বরং তারা সনদ (الإسناد)-এর মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন এবং একে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «সনদ (الإسناد) দ্বীনের অংশ, সনদ (الإسناد) না থাকলে যার যা ইচ্ছা সে তা-ই বলত» (১)। এই বিখ্যাত উক্তিটি যারা বর্ণনা করেছেন তাদের কেউ কেউ এটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন এই শব্দে: «সনদ (الإسناد) দ্বীনের অংশ, সনদ (الإسنাদ) না থাকলে যার যা ইচ্ছা সে তা-ই বলত। যদি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়: তোমাকে কে হাদীস শুনিয়েছে? তবে সে নিরুত্তর হয়ে যায়» অর্থাৎ সে হতবাক হয়ে চুপ হয়ে যায় অথবা তার কথা বলা বন্ধ হয়ে যায় (২)।

ইবনে খাইর আল-ইশবিলি তার ফিহরিস্ট-এ আলেমদের ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, কোনো মুসলিমের জন্য এটা বলা বৈধ নয় যে, 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ বলেছেন', যতক্ষণ না এই কথাটি বর্ণিত (مرويا) হবে, হোক না তা বর্ণনার (الروايات) সর্বনিম্ন কোনো উপায়ে।» (৩)

সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, সনদ (الإسناد) এমন উচ্চ মর্যাদা ও অবস্থান লাভ করবে যা তাকে দেওয়া হয়েছে, এবং একে মুসলিম উম্মাহর একটি বিশেষ ও শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা হবে, যার মাধ্যমে আল্লাহ এই উম্মাহকে সম্মানিত ও বিশিষ্ট করেছেন, যা অতীত ও বর্তমানের অন্য কোনো জাতির ক্ষেত্রে করা হয়নি।

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমা সহীহ ইমাম মুসলিম ১/১৫, জামে তিরমিযী কিতাবুল ইলাল ৫/৬৯৫, আর-রামহুরমুযী রচিত আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল পৃষ্ঠা ২০৯, ইবনে আবি হাতিম আর-রাযী রচিত আল-জারহ ওয়াত তাদীল ১/১৬, আল-হাকিম রচিত মা'রিফাত উলূমুল হাদীস পৃষ্ঠা ৬, ইবনে আব্দুল বার রচিত আত-তামহীদ ১/৯৫।

(২) উস্তাদ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহিমাহুল্লাহ) উপরে উল্লিখিত উৎসগুলোতে এবং অন্যান্য স্থানে এই অতিরিক্ত অংশের অবস্থান অনুসন্ধান করেছেন। তিনি তার অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থ "আল-ইসনাদ মিনাদ দ্বীন" (পৃষ্ঠা ৫১ ও পরবর্তী অংশ) এবং ইমাম মুহাম্মদ আব্দুল হাই আল-লাখনবী রচিত "আল-আজউয়িবাতুল ফাদিলাহ আনিল আসইলাতিল আশরাতিল কামিলাহ" গ্রন্থের তাহকীক বা পাদটীকা ৩৩-এ এই শব্দগুলোতে কিছু পাণ্ডুলিপিকার বা গবেষকদের দ্বারা সংঘটিত বড় ধরনের বিকৃতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

(৩) ফিহরিস্ট ইবনে খাইর, পৃষ্ঠা ১৬-১৭।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الجرح والتعديل لغة واصطلاحاً:

الجرح لغة له معنيان: أحدهما الكسب ومنه قوله تعالى {أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ} [سورة الجاثية:21] ، وسمي ذلك اجتراحا لأنه عمل بالجوارح (1) .

والثاني: شق الجلد.

ثم استعمل مجازا في مثل قولهم: جرحه بلسانه إذا سبّه وشتمه وعابه.

- أما في الاصطلاح فالجرح والتجريح هو وصف الراوي بما يسقط عدالته أو يخل بحفظه وضبطه مما يترتب عليه سقوط روايته والحكم عليها بالرد فتكون ضعيفة أو موضوعة.

ويستعمل بعضهم أحيانا ألفاظا أخرى تفيد ذلك المعنى فيقال: لَيَّنَه، أو غمزه، أو رماه بكذا أو كذا.

المجرَّح أو المجروح هو الراوي الذي وُصف بما يسقط عدالته أو ضبطه.

المتكلم فيه: هو الراوي الذي تكلّم فيه بعض النقاد بجرح قد لا يكون نافذا أو مؤثرا.

المجرِّح: هو الناقد المشتغل بتجريح الرواة وتعديلهم أي بنقد أحوال الرواة.

التعديل: أصل التعديل في اللغة هو:

عدَل يعدِل إذا حكم بالاستواء وهو المعروف عند الناس بالعدْل الذي هو

--------------------------------------------

(1) قال الزمخشري في تفسير "اجترحوا السيئات": والاجتراح الاكتساب، ومنه الجوارح، وفلان جارحة أهله أي كاسبهم. (الكشاف 4/290)
জরহ (جرح) ও তা’দীল (تعديل)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে ‘জরহ’ (جرح) এর দুটি অর্থ রয়েছে: একটি হলো উপার্জন করা, যেখান থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {যারা মন্দ কাজ উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে...} [সূরা আল-জাছিয়াহ: ২১]। আর একে ‘ইজতিরাহ’ (اجتراح) বলা হয় কারণ এটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের (جوارح) মাধ্যমে সম্পন্ন হয় (১)।

দ্বিতীয় অর্থটি হলো: চামড়া চিরে ফেলা বা ক্ষত করা।

অতঃপর এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যেমন বলা হয়: ‘সে তাকে জিহ্বা দ্বারা জখম করেছে’—যখন কেউ কাউকে গালি দেয়, মন্দ বলে বা তার দোষারোপ করে।

- আর পারিভাষিক অর্থে ‘জরহ’ (جرح) ও ‘তাজরীহ’ (تجريح) হলো রাবীর এমন বিবরণ প্রদান করা যা তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ক্ষুণ্ণ করে অথবা তার মুখস্থশক্তি (حفظ) ও নির্ভুলতাকে (ضبط) বিঘ্নিত করে, যার ফলশ্রুতিতে তার বর্ণিত হাদিস অগ্রহণযোগ্য হয়ে পড়ে এবং সেটি প্রত্যাখ্যান (رد) করার হুকুম প্রদান করা হয়, ফলে বর্ণনাটি দুর্বল (ضعيف) অথবা জাল (موضوع) হিসেবে গণ্য হয়।

কেউ কেউ মাঝে মাঝে এই অর্থ বুঝাতে অন্য কিছু শব্দও ব্যবহার করেন, যেমন বলা হয়: ‘তাকে শিথিল (لين) করেছেন’, অথবা ‘ইশারা (غمز) করেছেন’, অথবা ‘তার প্রতি এই বা সেই দোষারোপ করেছেন’।

সমালোচিত রাবী (مجرح) বা আহত (مجروح) হলেন সেই রাবী যাঁর গুণাবলি এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যা তাঁর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বা নির্ভুলতাকে (ضبط) ক্ষুণ্ণ করে।

বিতর্কিত বা যার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে (متكلم فيه) বলতে এমন রাবীকে বোঝায় যাঁর ব্যাপারে কোনো কোনো সমালোচক (ناقد) এমন জরহ (جرح) বা সমালোচনা করেছেন যা হয়তো কার্যকর বা জোরালো নয়।

সমালোচক (مجرح) হলেন সেই পর্যালোচক (ناقد) যিনি রাবীদের সমালোচনা করা (تجريح) এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (تعديل) অর্থাৎ রাবীদের অবস্থা পর্যালোচনার কাজে নিয়োজিত থাকেন।

তা’দীল (تعديل): আভিধানিক অর্থে ‘তা’দীল’ এর মূল হলো:

‘আদালা ইয়া’দিলু’ (عدل يعدل) যখন কেউ সমতার ফয়সালা দেয়, আর এটি মানুষের নিকট ন্যায়বিচার (عدل) হিসেবে পরিচিত যা হলো—

--------------------------------------------

(১) যামাখশারী "اجترحوا السيئات" (মন্দ কাজ উপার্জন করেছে) এর তাফসীরে বলেন: ‘আল-ইজতিরাহ’ হলো উপার্জন করা, আর সেখান থেকেই ‘আল-জাওয়ারিহ’ (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) শব্দটি এসেছে। আর অমুক ব্যক্তি তার পরিবারের ‘জারিহা’ অর্থাৎ তাদের উপার্জনকারী। (আল-কাশশাফ ৪/২৯০)
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
نقيض الجور. ومنه يوم معتدل إذا تساوى حالا حره وبرده.

وعدَلته وعدّلته حتى اعتدل أي أقمته حتى استقام واستوى.

وعَدَلتُ الدابة إلى طريقها: عطفتها.

فالتعريف اللغوي يقوم على معنى الاستقامة والاستواء، وهو الذي سيكون حاضراً في التعريف الاصطلاحي.

أما في الاصطلاح، فالتعديل هو وصف الراوي بصفة أو صفات تزكيه وتظهر أو تثبت عدالته، ويسمى أيضاً التوثيق، والتزكية.

والعدالة هي ملكة تحمل صاحبها على ملازمة التقوى واجتناب الكبائر والابتعاد عن الصغائر أو هي حالة أو هيئة نفسانية تحمل صاحبها وتدفعه إلى ملازمة التقوى …

والعدْل هو الراوي الذي وُصف بما يزكيه ويثبت عدالته.

وهو أيضا كل من لم يَظْهر في أمر دينه ومروءته ما يُخل بهما.

المعدِّل: هو الناقد الذي يشتغل بنقد الرواة وتتبع أحوالهم، فيعدل رواة ويجرح آخرين.

وبناء على ذلك فعلم الجرح والتعديل هو علم يبحث فيه عن أحوال الرواة من حيث قبول روايتهم أو ردها بألفاظ أو عبارات مخصوصة.

ينصب هذا العلم بالأساس على رواة الأحاديث النبوية وآثار الصحابة، ويقوم على ذكر أحوالهم مما له مدخل في قبول أخبارهم أو ردها، فيقتصر في بعض الأحيان على لفظة أو لفظتين تفيدان التعديل أو التجريح، أو إنه تلخيص الكلام على الراوي أي بيان حاله بخصوص الرواية بعبارة قصيرة جامعة محررة بعد تمحيص ودراسة وتتبع. وذلك أمر جَلَل، فهو نصف علم الحديث لأن الحديث سند ومتن، والسند عبارة عن الرواة ومعرفة أحوالهم
এটি অন্যায়ের বিপরীত। এর থেকে এসেছে 'নাতিশীতোষ্ণ দিন' (يوم معتدل), যখন গরম ও ঠান্ডার অবস্থা সমান হয়।

আর আমি একে সোজা করেছি বা সংশোধন করেছি যতক্ষণ না তা সমতা লাভ করেছে; অর্থাৎ আমি একে প্রতিষ্ঠিত করেছি যাতে তা ঋজু ও সুষম হয়।

আর আমি পশুকে তার পথের দিকে ফিরিয়েছি: অর্থাৎ তাকে মোড় ঘুরিয়েছি।

সুতরাং শাব্দিক সংজ্ঞাটি ঋজুতা ও সমতার অর্থের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা পারিভাষিক সংজ্ঞার মাঝেও উপস্থিত থাকবে।

আর পারিভাষিক অর্থে, সংশোধন বা ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণ (التعديل) হলো রাবিকে এমন গুণ বা গুণাবলী দ্বারা বিশেষিত করা যা তাকে পরিচ্ছন্ন করে এবং তার ন্যায়পরায়ণতাকে প্রকাশ বা প্রমাণ করে। একে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (التوثيق) এবং পরিশুদ্ধিকরণ (التزكية)-ও বলা হয়।

আর ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) হলো এমন একটি চারিত্রিক গুণ যা এর অধিকারীকে তাকওয়া অবলম্বন করতে, কবিরা গুনাহ বর্জন করতে এবং সগিরা গুনাহ থেকে দূরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। অথবা এটি হলো একটি আত্মিক অবস্থা বা গঠন যা এর অধিকারীকে তাকওয়া বজায় রাখতে পরিচালিত ও অনুপ্রাণিত করে …

আর ন্যায়পরায়ণ (العدْل) হলেন সেই রাবি যাকে এমন গুণের মাধ্যমে বিশেষিত করা হয়েছে যা তাকে পরিশুদ্ধ করে এবং তার ন্যায়পরায়ণতাকে সাব্যস্ত করে।

তিনি সেই ব্যক্তি যার দ্বীনদারি ও ব্যক্তিত্বের (মুরুওয়াত) ক্ষেত্রে এমন কিছু প্রকাশ পায়নি যা সেগুলোকে কলঙ্কিত বা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ন্যায়পরায়ণতা নিরূপণকারী (المعدِّل): তিনি হলেন সেই সমালোচক (الناقد) যিনি রাবিদের সমালোচনা এবং তাঁদের অবস্থা অনুসন্ধানে নিয়োজিত থাকেন; ফলে তিনি কোনো কোনো রাবিকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত (يعدل) করেন এবং অন্য কাউকে অভিযুক্ত (يجرح) করেন।

এর ওপর ভিত্তি করে, জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র হলো এমন এক বিদ্যা যেখানে রাবিদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়—তাঁদের বর্ণনা গ্রহণ বা বর্জনের দিক থেকে—বিশেষ শব্দ বা বাক্যের মাধ্যমে।

এই শাস্ত্রটি প্রধানত নববী হাদিসের রাবি এবং সাহাবিগণের বাণীর (آثار) ওপর কেন্দ্রীভূত। এটি তাঁদের অবস্থা বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় যা তাঁদের সংবাদ গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। কখনো কখনো এটি এমন এক বা একাধিক শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে যা ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণ (التعديل) বা অভিযুক্তকরণ (التجريح) নির্দেশ করে। অথবা এটি হলো রাবি সম্পর্কে বক্তব্যের সারসংক্ষেপ, অর্থাৎ চুলচেরা বিশ্লেষণ, গবেষণা ও অনুসরণের পর সংক্ষিপ্ত, অর্থবহ ও সুসংহত বাক্যের মাধ্যমে বর্ণনা সংক্রান্ত তাঁর অবস্থা বর্ণনা করা। আর এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এটি হাদিস শাস্ত্রের অর্ধেক। কেননা হাদিস হলো সনদ (السند) ও মতন (المتن) এর সমষ্টি, আর সনদ হলো মূলত রাবিদের ধারাবাহিকতা ও তাঁদের অবস্থা জানার নামান্তর।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
نصف هذا العلم بلا ريب، ولذلك قال الإمام علي بن المديني: "التفقه في معاني الحديث نصف العلم، ومعرفة الرجال نصف العلم" (1) .

وبين علم الجرح والتعديل وعلم الرجال عموم وخصوص، إذ إن علم الرجال هو العلم الذي يعنى بمعرفة الرواة من حيث أحوالهم عدالة وجرحاً، ويعنى أيضاً بما يخدم ذلك ويحققه كمعرفة أسمائهم وأنسابهم وكناهم وألقابهم ومواليدهم ووفياتهم وطبقاتهم، مما يعين على التمييز بينهم ولا سيما مع كثرتهم وتشابه أسمائهم أو أسمائهم وأنسابهم وكناهم إلى غير ذلك مما يوقع في الخلط الشنيع كتضعيف الثقة وتوثيق الضعيف، وردِّ الحديث المقبول وقبول الحديث المردود …
নিঃসন্দেহে এটি এই ইলমের অর্ধেক, আর এজন্যই ইমাম আলী ইবনুল মাদিনী বলেছেন: "হাদিসের মর্মার্থ অনুধাবন করা ইলমের অর্ধেক, আর রাবিদের পরিচয় (معرفة الرجال) জানা ইলমের অর্ধেক" (১) ।

জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) এবং ইলমুর রিজাল (علم الرجال)-এর মধ্যে সাধারণ ও বিশেষ (عموم وخصوص) সম্পর্ক বিদ্যমান, কারণ ইলমুর রিজাল (علم الرجال) হলো এমন এক বিদ্যা যা বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা তথা তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও জারহ বা সমালোচনা (جرح) সম্পর্কে আলোচনা করে। পাশাপাশি এটি এমন সব অনুষঙ্গ নিয়েও কাজ করে যা উক্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহায়ক, যেমন তাদের নাম, বংশ পরিচয়, উপনাম (كنى), উপাধি (ألقاب), জন্ম ও মৃত্যু এবং স্তর (طبقات) সংক্রান্ত জ্ঞান। এগুলো তাদের পরস্পরের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সহায়তা করে, বিশেষ করে বর্ণনাকারীদের সংখ্যাধিক্য এবং তাদের নাম, বংশ বা উপনামের সাদৃশ্যের কারণে যে মারাত্মক বিভ্রান্তি ঘটার আশঙ্কা থাকে তা নিরসন করে। যেমন—কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীকে দুর্বল (تضعيف) করা এবং দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য (توثيق) সাব্যস্ত করা, কিংবা গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিস প্রত্যাখ্যান করা এবং বর্জনীয় (مردود) হাদিস গ্রহণ করা …
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مشروعيته:

في القرآن الكريم آيات كثيرة فيها تزكية أو تجريح كانت نبراسا للمحدثين اقتبسوا منها بعض الألفاظ المفيدة لذاك كما في قوله تعالى: {إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ} [المنافقون:1] ففي هذه الآية تجريح للمنافقين ورميهم بالكذب.

وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا} [الحجرات:6] وفي هذه الآية تنبيه للمؤمنين بضرورة التثبت والتريث في قبول الخبر خاصة إذا كان راويه متهما بالفسق وفيها أيضاً تنبيه على ضرورة التمييز بين نقلة الأخبار، فليسوا سواء.

--------------------------------------------

(1) كتاب الضعفاء والمتروكين للنسائي، ص 95-96.
এর বৈধতা:

পবিত্র কুরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যাতে প্রশংসা বা সত্যায়ন (تزكية) অথবা সমালোচনা (تجريح) বিদ্যমান। এগুলো হাদিস বিশারদদের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছে, যা থেকে তারা এই সংক্রান্ত কিছু প্রয়োজনীয় শব্দ গ্রহণ করেছেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে তখন তারা বলে, 'আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল।' আর আল্লাহ জানেন যে তুমি অবশ্যই তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী (كاذبون)} [আল-মুনাফিকুন: ১]। এই আয়াতে মুনাফিকদের সমালোচনা (تجريح) করা হয়েছে এবং তাদের মিথ্যাচার (كذب)-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ (خبر) নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে দেখো} [আল-হুজুরাত: ৬]। এই আয়াতে মুমিনদেরকে সংবাদ (خبر) গ্রহণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই (تثبت) ও ধীরস্থিরতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে; বিশেষ করে যখন এর বর্ণনাকারী (راوٍ) পাপাচার (فسق)-এর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। এতে সংবাদ আদান-প্রদানকারীদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের প্রয়োজনীয়তার প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, কারণ তারা সবাই সমান নন।

--------------------------------------------

(১) কিতাবুয যুয়াফা ওয়াল মাত্রুকিন লিন নাসাঈ, পৃষ্ঠা ৯৫-৯৬।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وقال تعالى: {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ} [الفتح:18] وفيها تعديل عام للصحابة الكرام، فهم بشهادة هذه الآية مرضيون.

ولم تخل السنة من أحاديث كثيرة فيها تجريح أو تعديل، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم لفاطمة بنت قيس عندما شاورته فيمن خطبها: "أما أبو جهم فلا يضع عصاه عن عاتقه، وأما معاوية فصعلوك لا مال له، انكحي أسامة بن زيد … " (1) . وفي حديث مشهور قال النبي صلى الله عليه وسلم لرجل استأذن للدخول عليه: "ائذنوا له بئس أخو العشيرة".

ولم يجد كثير من المحدثين الحرج الكبير في اتهام من يغير الحديث قصدا بالكذب بعد سماعهم الحديث المشهور عن النبي صلى الله عليه وسلم في التحذير من الكذب عليه وهو حديث: "من كذب عليّ متعمدا فليتبوأ مقعده من النار".

--------------------------------------------

(1) الجامع الصحيح للإمام مسلم، كتاب الطلاق، باب المطلقة ثلاثا، 10/96.
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করছিল} [আল-ফাতহ: ১৮]। এতে সম্মানিত সাহাবীদের জন্য একটি সাধারণ নির্ভরযোগ্যতা ঘোষণা (تعديل عام) রয়েছে; সুতরাং এই আয়াতের সাক্ষ্য অনুযায়ী তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত।

সুন্নাহও এমন বহু হাদিস থেকে মুক্ত নয় যাতে অযোগ্যতা বর্ণনা (تجريح) অথবা নির্ভরযোগ্যতা বর্ণনা (تعديل) রয়েছে। নবী (সা.) ফাতেমা বিনতে কায়েসকে বলেছিলেন যখন তিনি তাঁর কাছে প্রস্তাবকারীদের ব্যাপারে পরামর্শ চেয়েছিলেন: "আবু জাহম তো তার কাঁধ থেকে লাঠি নামায় না, আর মুয়াবিয়া তো নিঃস্ব, তার কোনো সম্পদ নেই; তুমি উসামা বিন যায়িদকে বিবাহ করো... … " (১)। একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে নবী (সা.) তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাওয়া এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছিলেন: "তাকে অনুমতি দাও, সে গোত্রের কতই না মন্দ ভ্রাতা।"

অনেক মুহাদ্দিস সেই ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হাদিস পরিবর্তনের দায়ে মিথ্যাচারের (بالكذب) অভিযোগে অভিযুক্ত করতে কোনো বড় ধরণের সঙ্কোচ বোধ করেননি, যখন তাঁরা নবী (সা.)-এর ওপর মিথ্যারোপের বিরুদ্ধে সতর্কবাণী সম্বলিত প্রসিদ্ধ হাদিসটি শুনেছিলেন, যা হলো: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম, কিতাবুত তালাক, অধ্যায়: তিন তালাকপ্রাপ্তা নারী প্রসঙ্গে, ১০/৯৬।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌نشأة الجرح والتعديل وتطوره

…

نشأة علم الجرح والتعديل وتطوره:

حظيت السنة النبوية باهتمام منذ عهد الصحابة الكرام باعتبارها مصدرا تشريعيا للأحكام في العبادات والمعاملات وغيرهما، فكان حرص هؤلاء على أن لا يفوتهم حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسمعوا من بعضهم بعضا حينما كان يفوتهم حضور المجالس النبوية. ولم يكن الأتباع أقل حرصاً من الصحابة على سماع الحديث النبوي فرحلوا إليهم ولازموهم وسمعوا منهم.

ونظرا لما جُبل عليه الإنسان من الوهم والنسيان والخطأ، وما يعتريه من حالات التغيير من النشاط والقوة إلى الضعف وكبر السن وما ينجم عن ذلك أحيانا من الذهول والنسيان، قام الصحابة وكذا كبار التابعين بنقد بعض المرويات وباستدراكات على بعض الصحابة الرواة أو التابعين عن طريق المعارضة بين الروايات المختلفة أو عرضها على القرآن الكريم أو المطالبة بالشهود …

وقد بدأ ذلك في عهد مبكر جدا، ولعل أول نقل يثبت هذا الأمر هو الذي وصلنا من عهد الخليفة أبي بكر الصديق رضي الله عنه، فقد ذكر غير واحد (1) أن الجَدَّةَ جاءت إلى أبي بكر تلتمس ميراثها، فقال: ما أجد لك في كتاب الله شيئا، وما علمت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر لك شيئا. ثم سأل الناس، فقام المغيرة فقال: حضرت رسول الله يعطيها السدس.

--------------------------------------------

(1) انظر مثلا: الموطأ للإمام مالك في كتاب الفرائض باب ميراث الجدة. وسنن أبي داود كتاب الفرائض باب في الجدة. وجامع الترمذي كتاب الفرائض باب ميراث الجدة. وسنن ابن ماجه كتاب الفرائض ميراث الجدة. وانظر كذلك الكفاية للخطيب ص 26 وتذكرة الحفاظ للذهبي 1/2.
জরাহ ও তাদিলের (الجرح والتعديل) উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

…

ইলমে জরাহ ও তাদিলের (الجرح والتعدিল) উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ:

নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাহ সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই ইবাদত, লেনদেন (معاملات) ও অন্যান্য ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানের একটি আইনি উৎস (مصدر تشريعي) হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। তাই তাঁদের এই আপ্রাণ চেষ্টা ছিল যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদিস তাঁদের অগোচরে না থাকে। যখনই তাঁরা নবীজির মজলিসে উপস্থিত হতে পারতেন না, তখন তাঁরা একে অপরের কাছ থেকে তা শুনে নিতেন। আর তাবেয়িগণও হাদিস শোনার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে কোনো অংশে কম আগ্রহী ছিলেন না। তাই তাঁরা সাহাবীদের কাছে সফর করতেন, তাঁদের সান্নিধ্যে থাকতেন এবং তাঁদের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করতেন।

মানুষের প্রকৃতিগত বিভ্রান্তি (الوهم), বিস্মৃতি (النسيان) ও ভুলের (الخطأ) কথা বিবেচনা করে এবং মানুষের সক্রিয়তা ও সামর্থ্য থেকে বার্ধক্য ও দুর্বলতার দিকে পরিবর্তনের ফলে কখনো কখনো যে অসতর্কতা ও বিস্মৃতি ঘটে, তা বিবেচনায় নিয়ে সাহাবায়ে কেরাম এবং প্রবীণ তাবেয়িগণ কিছু বর্ণনার (مرويات) সমালোচনা (نقد) করেছেন। তাঁরা বিভিন্ন বর্ণনার (الروايات) মধ্যে পারস্পরিক তুলনার মাধ্যমে, পবিত্র কুরআনের সাথে তা যাচাই করে কিংবা সাক্ষ্য তলবের মাধ্যমে বর্ণনাকারী (الرواة) সাহাবী বা তাবেয়িদের উপর বিভিন্ন সংশোধন (استدراكات) পেশ করেছেন …

এটি অত্যন্ত প্রাথমিক যুগ থেকেই শুরু হয়েছে। সম্ভবত খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর যুগ থেকে আমাদের কাছে পৌঁছানো তথ্যটিই এর প্রথম প্রমাণ। একাধিক সূত্র (১) উল্লেখ করেছে যে, জনৈক দাদি আবু বকরের কাছে তার মিরাস বা উত্তরাধিকার চাইতে এসেছিলেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাবে আমি তোমার জন্য কিছুই পাচ্ছি না এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেছেন বলেও আমার জানা নেই। অতঃপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন মুগিরা (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি তাঁকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন উদাহরণস্বরূপ: ইমাম মালিকের মুয়াত্তা, কিতাবুল ফারায়েজ, দাদির মিরাস অধ্যায়। সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল ফারায়েজ, দাদি সংক্রান্ত অধ্যায়। জামে আত-তিরমিজি, কিতাবুল ফারায়েজ, দাদির মিরাস অধ্যায়। সুনান ইবনে মাজাহ, কিতাবুল ফারায়েজ, দাদির মিরাস। আরও দেখুন খতিব বাগদাদীর আল-কিফায়া, পৃষ্ঠা ২৬ এবং যাহাবীর তাযকিরাত আল-হুফফায, ১/২।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
فقال له: هل معك أحد؟ فشهد محمد بن مسلمة مثل ذلك، فأنفذه لها أبو بكر الصديق رضي الله عنه.

وقد أشار الحاكم إلى هذه القصة وقال: ((وأول من وقى الكذب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الصديق رضي الله عنه) (1) وقال الذهبي: "كان أبو بكر أول من احتاط في قبول الأخبار" (2) ،وقال أيضاً: "وإليه المنتهى في التحري في القول والقبول" (3) .

وقد مضى على هذا النهج الخليفتان عمر بن الخطاب (4) ، وعلي بن أبي طالب (5) ، والسيدة عائشة (6) وغيرهم رضي الله عنهم أجمعين. وقد ذكر الحاكم أن أبا بكر وعمر وعليا وزيد بن ثابت جرحوا وعدلوا، وبحثوا عن صحة الروايات وسقيمها … (7)

--------------------------------------------

(1) المدخل في أصول الحديث ص 34.

(2) تذكرة الحفاظ 1/2.

(3) المصدر نفسه 1/5.

(4) احتاط عمر وتثبت في قبول عدد من الأحاديث انظر: صحيح البخاري كتاب الاستئذان باب التسليم والاستئذان ثلاثا. وصحيح مسلم كتاب القسامة الحديث 39. وكتاب الآداب: الحديث 36.وطبقات ابن سعد 4/21. وتذكرة الحفاظ 1/6.

(5) كان الإمام علي في بعض الأحيان يستحلف من يحدثه. انظر المدخل للحاكم ص 34. وتذكرة الحفاظ 1/10.

(6) اشتهرت السيدة عائشة بمعرفتها الكبيرة بالأحاديث النبوية، وقد انتقدت عددا من الصحابة واستدركت عليهم وبينت أوهامهم. ومجموع ما ورد عنها في ذلك قد جمعه الإمام الزركشي في كتاب مستقل سماه "الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة" مطبوع بتحقيق الأستاذ سعيد الأفغاني وكذلك جمع أبو منصور عبد المحسن بن محمد بن علي البغدادي في هذا كتابا سماه "استدراك أم المؤمنين عائشة على الصحابة" ذكره ابن خير في فهرسته ص 174.

(7) معرفة علوم الحديث للنيسابوري بتحقيق د. السيد معظم حسين ص 52.
ফলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আপনার সাথে কি অন্য কেউ আছেন?" তখন মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ অনুরূপ সাক্ষ্য প্রদান করলেন, অতঃপর আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তা তাঁর জন্য কার্যকর করলেন।

ইমাম হাকেম এই ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে মিথ্যা (كذب) আরোপ রোধে আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-ই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি।" (১) ইমাম যাহাবী বলেছেন: "সংবাদ (أخبار) গ্রহণের ক্ষেত্রে আবু বকরই ছিলেন প্রথম সতর্কতা অবলম্বনকারী।" (২) তিনি আরও বলেছেন: "বর্ণিত বিষয়ের সত্যতা অনুসন্ধান এবং তা কবুল করার ক্ষেত্রে তাঁর সতর্কতা ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের।" (৩)।

এই পথেই চলেছেন দুই খলীফা উমর ইবনুল খাত্তাব (৪), আলী ইবনে আবি তালিব (৫), সাইয়্যিদা আয়েশা (৬) এবং অন্যান্যরা (রা.)। ইমাম হাকেম উল্লেখ করেছেন যে, আবু বকর, উমর, আলী এবং যায়েদ বিন সাবিত বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (جرح) ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (تعديل) করেছেন এবং বর্ণনাগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) ও ত্রুটিপূর্ণতা (سقيم) নিয়ে গবেষণা করেছেন … (৭)

--------------------------------------------

(১) আল-মাদখাল ফী উসুলিল হাদিস, পৃষ্ঠা ৩৪।

(২) তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/২।

(৩) একই উৎস ১/৫।

(৪) উমর (রা.) বেশ কিছু হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও নিশ্চয়তা অনুসন্ধান (تثبت) করতেন। দেখুন: সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইসতি’যান, অনুচ্ছেদ: তিনবার সালাম প্রদান ও অনুমতি প্রার্থনা; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল কাসামাহ, হাদিস ৩৯; কিতাবুল আদাব, হাদিস ৩৬; তাবাকাতে ইবনে সাদ ৪/২১ এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/৬।

(৫) ইমাম আলী (রা.) মাঝে মাঝে বর্ণনাকারীকে শপথ (يستحلف) করাতেন। দেখুন: হাকেমের আল-মাদখাল, পৃষ্ঠা ৩৪ এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/১০।

(৬) সাইয়্যিদা আয়েশা (রা.) নববী হাদিস সম্পর্কে তাঁর সুগভীর জ্ঞানের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি বেশ কয়েকজন সাহাবীর সমালোচনা করেছিলেন এবং তাঁদের ওপর সংশোধনমূলক পর্যালোচনা (استدراك) করেছিলেন ও তাঁদের ভুলসমূহ (أوهام) স্পষ্ট করেছিলেন। এ বিষয়ে তাঁর থেকে বর্ণিত যাবতীয় তথ্যাদি ইমাম যারকাশী একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করেছেন যার নাম দিয়েছেন "আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আয়েশা আলাস সাহাবাহ"; এটি উস্তাদ সাঈদ আল-আফগানীর সম্পাদনায় মুদ্রিত। একইভাবে আবু মনসুর আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-বাগদাদীও এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম "ইস্তাদরাকু উম্মিল মু'মিনিন আয়েশা আলাস সাহাবাহ", যা ইবনে খায়ের তাঁর ফেহরিসতে (পৃষ্ঠা ১৭৪) উল্লেখ করেছেন।

(৭) নিশাপুরী রচিত মা’রিফাতু উলূমিল হাদিস, ড. সাইয়্যেদ মুয়াজ্জম হোসেন সম্পাদিত, পৃষ্ঠা ৫২।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌بداية الكلام في الرواة:

يحدث هذا وكثير من الصحابة على قيد الحياة يروون الأحاديث الصحيحة ويقومون حراسا للسنن النبوية، يذودون عنها كل خطر ناشئ، فيقوم واحد منهم وهو حبر الأمة عبد الله بن عباس بالتنبيه على وسيلة أخرى للاحتياط والتثبت في الرواية، فقد جاء بشير العدوي وأخذ يحدث ويقول: قال رسول الله صلى الله عليه سلم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجعل ابن عباس لا يأذن لحديثه ولا ينظر إليه. فقال: يا ابن عباس ما لي لا أراك تسمع لحديثي، أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تسمع؟ فقال ابن عباس: "إنا كنا مرة إذا سمعنا رجلا يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، ابتدرته أبصارنا وأصغينا إليه بآذاننا، فلما ركب الناس الصعب والذلول لم نأخذ من الناس إلا ما نعرف" (1) . هذا بداية التمييز بين من يقبل حديثه ومن يردّ حديثه، وسيكون ذلك بداية للمطالبة بالإسناد ليعرف مقبول الحديث من مردوده، قال ابن سيرين: "لم يكونوا يسألون عن الإسناد فلما وقعت الفتنة قالوا: سَمُّوا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم" (2) .

وروى الخطيب في كتابه "الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع" عن خيثمة بن عبد الرحم?ن قال: "لم يكن الناس يسألون عن الإسناد حتى كان زمن المختار فاتهموا الناس"، والمختار هو ابن أبي عبيد الثقفي ضال مضل كان

--------------------------------------------

(1) مقدمة صحيح مسلم، ص 15.

(2) المصدر نفسه.
বর্ণনাকারীদের (رواة) বিষয়ে আলোচনার সূচনা:

এটি এমন এক সময়ে ঘটেছিল যখন অনেক সাহাবী (صحابة) জীবিত ছিলেন, তাঁরা সঠিক (صحيحة) হাদিসসমূহ বর্ণনা করতেন এবং নববী সুন্নাহর (السنن النبوية) রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন, তাঁরা উদ্ভূত প্রতিটি বিপদ থেকে সুন্নাহকে রক্ষা করতেন। এমতাবস্থায় তাঁদেরই একজন, উম্মাহর বিজ্ঞ পন্ডিত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে সতর্কতা (احتياط) ও যাচাই-বাছাইয়ের (تثبت) আরেকটি মাধ্যমের বিষয়ে সতর্ক করেন। একবার বশীর আল-আদাবী আসলেন এবং হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করলেন এই বলে যে: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন। কিন্তু ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁর হাদিসের প্রতি কান দিচ্ছিলেন না এবং তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেনও না। তখন বশীর বললেন: হে ইবনে আব্বাস, কী হলো যে আমি আপনাকে আমার হাদিস শুনতে দেখছি না? আমি আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করছি, আর আপনি শুনছেন না? তখন ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: "এক সময় আমরা এমন ছিলাম যে, যখনই কাউকে বলতে শুনতাম: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, অমনি আমাদের দৃষ্টি সেদিকে নিবদ্ধ হতো এবং আমরা কান পেতে তা শুনতাম। কিন্তু মানুষ যখন সব ধরণের (ভালো-মন্দ) পথে চলতে শুরু করল, তখন থেকে আমরা মানুষের কাছ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করি যা আমাদের পরিচিত।" (১)। এটিই ছিল কার হাদিস গ্রহণ করা (يقبل) হবে এবং কার হাদিস প্রত্যাখ্যান (يرد) করা হবে—তার মধ্যকার পার্থক্যের সূচনা। আর এটিই ছিল সনদ (إسناد) তলব করার সূচনা, যাতে গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিসকে বর্জনীয় (مردود) হাদিস থেকে পৃথকভাবে চেনা যায়। ইবনে সীরীন (রহ.) বলেন: "মানুষ আগে সনদ (إسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না, কিন্তু যখন ফিতনা (الفتنة) দেখা দিল, তখন তারা বলতে শুরু করল: তোমাদের বর্ণনাকারীদের (رجال) নাম বলো। তখন সুন্নাহর অনুসারীদের (أهل السنة) দিকে লক্ষ করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো; আর বিদআতীদের (أهل البدع) দিকে লক্ষ করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না।" (২)।

খতীব তাঁর "আল-জামি লি আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামি" গ্রন্থে খাইসামাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মানুষ সনদ (إسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না যতক্ষণ না মুখতারের যুগ এল, তখন মানুষ (বর্ণনাকারীদের) অভিযুক্ত করতে শুরু করল।" আর মুখতার হলেন ইবন আবি উবায়েদ আস-সাকাফী, যিনি ছিলেন পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী।

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমাহ সহীহ মুসলিম, পৃ. ১৫।

(২) একই উৎস।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
يزعم أن جبريل ينزل عليه، أحدث فتنا بين المسلمين في العراق وغيره، قتله مصعب بن الزبير سنة 67?، ومن صنيع هؤلاء المطالبين بالإسناد وغيرهم في هذه المرحلة المبكرة سيستلهم نقاد التابعين وأتباعهم أهمية الإسناد في الرواية، وسيبينون للناس شأنه وضرورته، كما وجدنا ذلك عند الأئمة الزهري وابن المبارك ومالك وشعبة وغيرهم.

هكذا استمرت العناية بالحديث النبوي تقيه من التحريف، فظهر نقاد بدؤوا في نقد بعض الرواة وتنبيه الناس لعدم أهليتهم للرواية، من هؤلاء النقاد الحسن البصري الذي تكلم في عطاء الخراساني وعكرمة مولى ابن عباس، ومنهم سعيد بن جبير الذي تكلم في نافع مولى ابن عمر، ومنهم عطاء بن أبي رباح، وعروة بن الزبير، وعبد الرحم?ن الأعرج وأبو صالح ذكوان بن صالح السمان وابن سيرين. قال الإمام الذهبي: "وأول من زكّى وجرّح، عند انقراض عصر الصحابة: الشعبي وابن سيرين ونحوهما، حفظ عنهم توثيق أناس وتضعيف آخرين" (1) .

لكن الأمر لم يكن كثيرا غالبا لقلة الكذب وقلة تعمد التغيير والتبديل، فلم تكن ساحة الكذب كبيرة فما زال الإيمان غالبا على النفوس متمكنا منها ومانعا الناس من الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وتزوير شريعته. قال الإمام الذهبي: "وأما التابعون فيكاد يُعدم فيهم من يكذب عمدا ولكن لهم غلط وأوهام، فمن ندر غلطه في جنب ما قد جَلّ احتُمل، ومن تعدّد غلطه من أوعية العلم، اغتُفِر له أيضا، ونُقل حديثه وعُمل به على تردد

--------------------------------------------

(1) معرفة من يعتمد قوله في الجرح والتعديل، ص 45-46.
তিনি দাবি করতেন যে জিবরাঈল তার নিকট অবতরণ করেন; তিনি ইরাক ও অন্যান্য স্থানে মুসলিমদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করেছিলেন। ৬৭ হিজরিতে মুসআব ইবনুল জুবাইর তাকে হত্যা করেন। সনদের (الإسناد) দাবিদার এসকল ব্যক্তি ও অন্যদের এই প্রাথমিক পর্যায়ের কর্মকাণ্ড থেকেই তাবেঈ সমালোচক ও তাঁদের অনুসারীরা বর্ণনার ক্ষেত্রে সনদের (الإسناد) গুরুত্বের প্রেরণা লাভ করবেন। তাঁরা মানুষের নিকট এর মর্যাদা ও প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করবেন, যেমনটি আমরা ইমাম যুহরী, ইবনুল মুবারক, মালেক, শুবা ও অন্যান্যদের নিকট দেখতে পাই।

এভাবেই নববী হাদিসের প্রতি বিশেষ যত্ন অব্যাহত থাকে যা একে বিকৃতি থেকে রক্ষা করে। ফলে এমন একদল সমালোচকের আবির্ভাব ঘটে যারা কিছু বর্ণনাকারীর (الرواة) সমালোচনা শুরু করেন এবং তাদের বর্ণনার অযোগ্যতা সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করেন। এসকল সমালোচকদের মধ্যে ছিলেন হাসান বসরী, যিনি আতা আল-খুরাসানি এবং ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাঈদ ইবনে জুবাইর, যিনি ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন; আরও ছিলেন আতা ইবনে আবি রাবাহ, উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর, আবদুর রহমান আল-আরাজ, আবু সালিহ জাকওয়ান ইবনে সালিহ আস-সাম্মান এবং ইবনে সিরিন। ইমাম যাহাবী বলেন: "সাহাবীদের যুগের সমাপ্তিলগ্নে যারা প্রথম সত্যবাদিতা যাচাই (زكّى) ও সমালোচনা (جرّح) করেছেন তারা হলেন: শাবি, ইবনে সিরিন এবং তাঁদের সমসাময়িকগণ। তাঁদের থেকে একদলকে নির্ভরযোগ্য ঘোষণা (توثيق) করা এবং অপর দলকে দুর্বল ঘোষণা (تضعيف) করার বিষয়টি সংরক্ষিত আছে" (১)।

কিন্তু বিষয়টি তখন খুব বেশি ব্যাপক ছিল না, কারণ মিথ্যার হার এবং ইচ্ছাকৃত পরিবর্তন ও পরিমার্জনের প্রবণতা ছিল অত্যন্ত কম। মিথ্যার বিচরণক্ষেত্র প্রশস্ত ছিল না, কারণ ঈমান তখনও মানুষের অন্তরে প্রবল ও সুদৃঢ় ছিল, যা মানুষকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করতে এবং তাঁর শরিয়ত জাল করতে বাধা প্রদান করত। ইমাম যাহাবী বলেন: "আর তাবেঈদের কথা বলতে গেলে, তাঁদের মধ্যে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলত তারা নেই বললেই চলে। তবে তাঁদের কিছু ভুল (غلط) ও সংশয় (أوهাম) ছিল। সুতরাং যাঁর বিপুল বর্ণনার বিপরীতে ভুলের পরিমাণ নগণ্য ছিল, তা গ্রহণ করা হয়েছে। আর জ্ঞানের আধারদের মধ্যে যাঁদের ভুলের আধিক্য ছিল, তাঁদেরও ক্ষমা করা হয়েছে এবং তাঁদের হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে ও দ্বিধা থাকা সত্ত্বেও তার ওপর আমল করা হয়েছে।"

--------------------------------------------

(১) মারিফাতু মান ইউতামাদু কওলুহু ফিল জারহি ওয়াত তাদিল, পৃ. ৪৫-৪৬।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
بين الأئمة الأثبات في الاحتجاج عمن هذا نعته، كالحارث الأعور وعاصم ابن ضمرة وصالح مولى التوأمة، وعطاء بن السائب، ونحوهم، ومَنْ فحُش خطؤُه وكثر تفرده لم يُحتج بحديثه، ولا يكاد يقع ذلك في التابعين الأولين ويوجد ذلك في صغار التابعين فمن بعدهم" (1) .

مع بداية المائة الثانية، ومع ازدياد عدد طلبة الحديث النبوي واتساع روايته كثر من يتتبع رواته بالنقد ورواياتهم بالتمحيص وكان ذلك غالبا في مجالس رواية الحديث عبارة عن ملاحظات وتصويبات مزجت بالرواية ضمن خليط من المعلومات والمعارف، كتوثيق الرواة أو تضعيفهم، أو بيان وفاة، أو ضبط غريب، أو بيان مشكل، أو توضيح كنية أو نسب أو غير ذلك.

لكن سرعان ما اتسع أفق علم الرجال وكثر النقاد المتتبعون لأحوال الرواة لكثرة الطلبة الذين أقبلوا على العلم، وكثرة الشيوخ الذين تصدروا مجالس التحديث، فظهر مَنْ يواجه الأحوال الجديدة، ويفضح الكذبة من الرواة، فهذا أيوب السختياني (131?) يذكر يوما أحد الرواة فيقول: "لم يكن بمستقيم اللسان". وقال يوما: "إن لي جارا، ثم ذكر من فضله، ولو شهد عندي على تمرتين ما رأيت شهادته جائزة". وقال في عبد الكريم -يعني أبا أمية-: "كان غير ثقة … "، وقال لسلام بن أبي مطيع ينصحه ليحجم عن الرواية عن أحد الضعفاء: "أرأيت رجلا لا تأمنه على دينه، كيف تأمنه على الحديث؟ " (2) .

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه، ص 46.

(2) صحيح مسلم، ج 1، ص 23-104.
দৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য (الأثبات) ইমামগণের মাঝে এমন গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তিদের বর্ণনার মাধ্যমে দলিল গ্রহণের (الاحتجاج) বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, যেমন আল-হারিস আল-আওয়ার, আসিম ইবনে দামরাহ, সালিহ মাওলা আত-তাওয়ামাহ এবং আতা ইবনে আস-সাইব এবং তাঁদের মতো অন্যান্যদের ক্ষেত্রে। আর যাঁর ভুল অত্যন্ত প্রকট এবং যাঁর একক বর্ণনা (تفرده) অনেক বেশি, তাঁর হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যাবে না। প্রথম সারির তাবিঈদের (التابعين) মধ্যে এমনটি সচরাচর ঘটে না, তবে ছোট তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের মাঝে এটি পাওয়া যায়। (১)

দ্বিতীয় হিজরি শতকের শুরুতে, নববী হাদিসের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এর বর্ণনার ব্যাপক বিস্তৃতির সাথে সাথে বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (النقد) এবং তাঁদের বর্ণনাগুলো যাচাই-বাছাইয়ের (التمحيص) মাধ্যমে অনুসন্ধানকারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। হাদিস বর্ণনার মজলিসগুলোতে এটি সাধারণত বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনী আকারে থাকত, যা বিভিন্ন তথ্য ও জ্ঞানের সংমিশ্রণে বর্ণনার সাথে মিশ্রিত ছিল। যেমন বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করা (توثيق) বা দুর্বল সাব্যস্ত করা (تضعيف), অথবা মৃত্যুর তারিখ বর্ণনা করা, কিংবা অপরিচিত শব্দের বিশ্লেষণ (ضبط غريب), অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা (بيان مشكل), অথবা উপনাম বা বংশপরিচয় স্পষ্ট করা ইত্যাদি।

কিন্তু শীঘ্রই ইলমুর রিজালের (علم الرجال) পরিধি বিস্তৃত হয় এবং ইলম অর্জনে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ এবং হাদিস বর্ণনার মজলিসে শায়খদের আধিক্যের কারণে বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণকারী সমালোচকদের (النقاد) সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে এমন ব্যক্তিদের আবির্ভাব ঘটে যাঁরা নতুন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন এবং বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা মিথ্যাবাদী (الكذبة), তাঁদের মুখোশ উন্মোচন করে দেন। যেমন আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী (১৩১ হি.?) একদিন জনৈক বর্ণনাকারী সম্পর্কে বলেন: "তার কথা যথাযথ ছিল না (অর্থাৎ সে বর্ণনায় নির্ভুল ছিল না)।" তিনি অন্য একদিন বলেন: "আমার এক প্রতিবেশী আছে—এরপর তিনি তার ফযিলতের কথা উল্লেখ করলেন—সে যদি আমার কাছে দুটি খেজুরের ব্যাপারেও সাক্ষ্য দেয়, তবে আমি তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য (جائزة) মনে করব না।" তিনি আব্দুল কারীম—অর্থাৎ আবু উমাইয়্যাহ—সম্পর্কে বলেন: "সে নির্ভরযোগ্য নয় (غير ثقة)..."। আর তিনি সাল্লাম ইবনে আবি মুতি’কে জনৈক দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারী থেকে হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিয়ে বলেন: "তুমি কি এমন ব্যক্তি সম্পর্কে ভেবে দেখেছ যাকে তুমি তার দ্বীনের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করো না, তবে হাদিসের ব্যাপারে তাকে কীভাবে নিরাপদ মনে করবে?" (২)।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস, পৃষ্ঠা ৪৬।

(২) সহিহ মুসলিম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩-১০৪।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن أبرز النقاد في هذه الفترة الأعمش سليمان بن مهران (148?) الذي كان يجلس في طريق الطلبة. حتى إذا مروا عليه سألهم عن الشيوخ الذين سمعوا منهم، فيوثق مَنْ كان ثقة، ويحذرهم من غير الثقات (1) .

اتسع علم الرجال في هذا العصر أكثر فأكثر حتى ليعد المرحلة التأسيسية الناضجة له، حيث بدأت تعقد المجالس الخاصة به، واشتهر علماء ونقاد كبار متضلعون في الحديث متناً وسنداً يُسألون عن الحديث ورجاله كهشام الدستوائي (154?) وعبد الرحم?ن الأوزاعي (156?) وسفيان الثوري (161?) ومالك بن أنس (179?) ، الذي كان إلى جانب الإمام شعبة بن الحجاج (160?) من أكثر النقاد بحثا عن المحدثين وأغزرهم تتبعا لأحوال الرواة، حيث عُدّ الإمام شعبة: "أول من تكلم في الرجال" (2) . وأول من فتش بالعراق عن أمر المحدثين وجانب الضعفاء والمتروكين وصار عَلماً يقتدى (3) . وحتى وُصف بأنه "كان أمة وحده في هذا الشأن، يعني في نقد الرجال وبصره بالحديث وتثبته وتنقيته للرجال" (4) .

--------------------------------------------

(1) انظر كتاب تحذير الخواص من أحاديث القصاص، وكتاب تهذيب التهذيب 4/223، وبحوث في تاريخ السنة ص 33.

(2) التهذيب 4/345.

(3) المصدر نفسه.

(4) المصدر نفسه، 4/344، وتاريخ بغداد 9/233.
এই সময়ের অন্যতম প্রধান সমালোচক (ناقد) ছিলেন আমাশ সুলায়মান ইবনে মিহরান (১৪৮), যিনি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পথে বসে থাকতেন। যখন তারা তার পাশ দিয়ে যেতেন, তখন তিনি তাদের সেই সব শিক্ষকদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন যাদের থেকে তারা শ্রবণ করেছেন। অতঃপর তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্য বলতেন এবং অনির্ভরযোগ্য (غير الثقة) ব্যক্তিদের সম্পর্কে তাদের সতর্ক করতেন (১)।

এই যুগে রিজাল শাস্ত্র (علم الرجال) উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করে, এমনকি একে এই শাস্ত্রের একটি পরিপক্ক ও বুনিয়াদী পর্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়। এ সময় এই শাস্ত্রের জন্য বিশেষ মজলিস অনুষ্ঠিত হতে শুরু করে। হাদিসের মতন (متن) ও সনদ (سند) উভয় বিষয়ে পারদর্শী বড় বড় আলেম ও সমালোচকগণ (ناقد) প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যাদেরকে হাদিস ও এর বর্ণনাকারী (راوي) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো। যেমন: হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ী (১৫৪), আবদুর রহমান আল-আওযায়ী (১৫৬), সুফিয়ান আস-সাওরী (১৬১) এবং মালিক ইবনে আনাস (১৭৯)। ইমাম মালিক ইমাম শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (১৬০)-এর পাশাপাশি মুহাদ্দিসদের সম্পর্কে অনুসন্ধান এবং বর্ণনাকারীদের (راوي) অবস্থা পর্যালোচনায় অন্যতম প্রধান ও অত্যন্ত গভীর সমালোচক (ناقد) ছিলেন। এমনকি ইমাম শু'বাকে মনে করা হয়: "রিজাল (رجال) শাস্ত্র সম্পর্কে আলোচনাকারী প্রথম ব্যক্তি" (২)। এবং তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি ইরাকে মুহাদ্দিসদের অবস্থা নিয়ে তদন্ত করেছেন এবং দুর্বল (ضعيف) ও পরিত্যক্ত (متروك) বর্ণনাকারীদের পরিহার করেছেন, ফলে তিনি অনুসরণীয় এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন (৩)। এমনকি তাকে এমনভাবেও বর্ণনা করা হয়েছে যে, "তিনি এই বিষয়ে এককভাবে একটি জাতির ন্যায় ছিলেন; অর্থাৎ বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (نقد الرجال), হাদিসের গভীর দৃষ্টি, সুক্ষ্ম যাচাই-বাছাই (تثبت) এবং বর্ণনাকারীদের শুদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে" (৪)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: কিতাব তাহযিরুল খাওয়াছ মিন আহাদিসিল কাসসাস এবং তাহযীবুত তাহযীব ৪/২২৩, এবং বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা ৩৩।

(২) তাহযীব ৪/৩৪৫।

(৩) একই উৎস।

(৪) একই উৎস, ৪/৩৪৪, এবং তারিখু বাগদাদ ৯/২৩৩।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌نماذج من عناية العلماء بالإسناد والجرح والتعديل ومناهجهم في النقد4

‌‌شعبة ونقد الرواة:

اشتغل شعبة بن الحجاج بالحديث النبوي، وجدّ في طلبه، ولم يزل طول عمره يطلبه حتى مات على غاية الحرص في جمعه لا يشتغل بشيء سواه، ويكتب حتى عمّن دونه في السن والإسناد، فكان مِنْ أشدِّ أصحاب الحديث عنايةً بما سمع، وأحسنهم إتقاناً لما حفظ، وقد سمحت له كثرة الاشتغال بالحديث باكتساب معرفة كبيرة بأحوال الرواة، ودراية فائقة بأحاديث الشيوخ، حتى عُدَّ مِنْ أعلم الناس بالرجال، (1) بل ولُقِّبَ بأمير المؤمنين في الحديث (2) .

لم تعد مجالس شعبة بن الحجاج تعقد قصد رواية الأحاديث فقط، بل أصبحت تعقد للبحث في أحوال الرواة تعديلا وتجريحا، حكى أبو زيد الأنصاري النحوي فقال: أتينا شعبة يوم مطر، فقال: ليس هذا يوم حديث، اليوم يوم غيبة تعالوا نغتاب الكذابين (3) .

وقصر المجالس على نقد الرجال أمر ظهر بعد ذلك على يد الطبقة التي تلت شعبة، وعلى رأسها يحيى بن معين والإمام أحمد وابن المديني، يوجه خلالها الطلبة أسئلة تتعلق بالرواة، وردود الشيوخ هي التي يدونها تلامذتهم أو يروونها عنهم بعناوين مختلفة مثل سؤالات أحمد وسؤالات علي بن المديني وغير ذلك.

--------------------------------------------

(1) تقدمة المعرفة 127.

(2) شرف أصحاب الحديث 15.

(3) الكفاية ص: 45.
সনদ (إسناد) এবং জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعدিল)-এর প্রতি উলামায়ে কেরামের বিশেষ যত্ন এবং সমালোচনা (النقد) ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসৃত পদ্ধতির কতিপয় দৃষ্টান্ত4

‌‌শু’বাহ এবং বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (نقد الرواة):

শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ হাদিস চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন এবং এর অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। তিনি আমৃত্যু হাদিস সংগ্রহে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত এ ব্যতীত অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হতেন না। এমনকি তিনি বয়সে ও সনদে (إسناد) তাঁর চেয়ে অনুজদের থেকেও হাদিস লিখে রাখতেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রের অনুসারীদের মধ্যে শ্রুত বিষয়ের প্রতি সর্বাধিক যত্নশীল এবং মুখস্থ করা বিষয়ের বিচারে শ্রেষ্ঠ পারদর্শিতার অধিকারী ছিলেন। হাদিস চর্চায় এই গভীর নিমগ্নতা তাঁকে বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা সম্পর্কে বিশাল জ্ঞান এবং শায়খদের বর্ণিত হাদিসের ওপর অসাধারণ পাণ্ডিত্য অর্জনে সাহায্য করেছিল, যার ফলে তিনি ‘রিজাল’ (الرجال) বা বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞানে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হলেন। এমনকি তাঁকে হাদিস শাস্ত্রে ‘আমিরুল মুমিনীন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।

শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজের মজলিসগুলো কেবল হাদিস বর্ণনার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হতো না, বরং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও অনির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণ (تعديلا وتجريحا)-এর আলোচনার জন্যও অনুষ্ঠিত হতো। নাহুবিদ আবু যাইদ আল-আনসারি বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা বৃষ্টির দিনে শু’বাহর নিকট আসলাম। তখন তিনি বললেন: "আজ হাদিস বর্ণনার দিন নয়, আজ গিবত করার দিন; এসো, আমরা চরম মিথ্যুকদের (الكذابين) গিবত করি (অর্থাৎ তাদের স্বরূপ উন্মোচন করি)।"

মজলিসকে কেবল বর্ণনাকারীদের সমালোচনার (نقد الرجال) জন্য সুনির্দিষ্ট করার বিষয়টি শু’বাহর পরবর্তী প্রজন্মের হাতে বিকশিত হয়, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, ইমাম আহমাদ এবং ইবনুল মাদিনি। এসব মজলিসে ছাত্ররা বর্ণনাকারীদের (الرواة) সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করতেন এবং শায়খদের উত্তরসমূহ তাঁদের ছাত্ররা বিভিন্ন শিরোনামে লিপিবদ্ধ করতেন অথবা তাঁদের থেকে বর্ণনা করতেন, যেমন: ‘সুয়ালাতে আহমাদ’, ‘সুয়ালাতে আলী ইবনুল মাদিনি’ ইত্যাদি।

--------------------------------------------

(১) তাকদিমাতুল মা’রিফাহ ১২৭।

(২) শারাফু আসহাবিল হাদিস ১৫।

(৩) আল-কিফায়াহ, পৃষ্ঠা: ৪৫।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
من الذي يُترك حديثه في رأي شعبة؟

يرى شعبة أن أصنافاً أربعة من الرواة يترك حديثهم ولا يعتد به:

أولاً: مَنْ يُتَّهَمُ بالكذب: إن الراوي المتهم بالكذب هو الذي يعرف بكذبه في حديثه العادي بين الناس، فلا يؤتمن حينئذ على حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، إذ إن جرأته على الناس دليل على جرأته على الله ورسوله. ولأن العدالة لا تتجزأ، فلا يكون الراوي ثقة عدلاً في جهة، وكذاباً فاسقاً في جهة أخرى، وهذا ما تشترك فيه الرواية والشهادة. وطرح حديث المتهم بالكذب في كلامه العادي مع الناس ضرب من الاحتياط والحذر اللذين مَيَّزا منهج المحدثين في تلقي الأخبار وروايتها، وأضفيا عليه صفة الدقة والسلامة.

ثانياً: من يكثر الغلط: إن الراوي الذي يتهم بفحش الغلط وتزايده يفقد صفة الضبط فلا يؤخذ بحديثه في معرض الاحتجاج، ولا يعتمد في أحاديث الأحكام، بل يستأنس به استئناسا. (1)

ثالثاً: من يخطئ في حديث يجمع عليه فلا يتهم نفسه، ويقيم على غلطه ويصر على روايته لذلك الحديث، وإن الراوي الذي يعرف عنه هذا الأمر تسقط روايته ولا يكتب عنه بشرط أن يكون ذلك منه على جهة العناد أو نحو ذلك.

رابعاً: من روى عن المعروفين ما لا يعرفه المعروفون. (2)

--------------------------------------------

(1) انظر كتاب المنهج الإسلامي في الجرح والتعديل ص: 318 ـ 319.

(2) الكفاية 145، وفتح المغيث 160-161.
ইমাম শু'বাহর মতে কাদের হাদিস বর্জন করা হবে?

ইমাম শু'বাহ মনে করেন যে, চার শ্রেণির বর্ণনাকারীর (رواة) হাদিস বর্জন করা হয় (يترك حديثهم) এবং তা গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য হয় না:

প্রথমত: যিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب): যে বর্ণনাকারী মানুষের সাথে সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যার জন্য পরিচিত, তাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (مؤتمن) মনে করা যায় না। কারণ মানুষের সাথে মিথ্যা বলার সাহস আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর মিথ্যা বলার সাহসেরই প্রমাণ। যেহেতু ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) অবিভাজ্য, তাই একজন বর্ণনাকারী একদিক দিয়ে নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও ন্যায়পরায়ণ (عدل) এবং অন্যদিক দিয়ে মিথ্যাবাদী (كذاب) ও পাপাচারী (فاسق) হতে পারেন না। বর্ণনা (رواية) এবং সাক্ষ্যপ্রদানের (شهادة) ক্ষেত্রে বিষয়টি একই। সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির হাদিস বর্জন করা হলো এক প্রকার সতর্কতা (احتياط) ও সাবধানতা (حذر), যা সংবাদ গ্রহণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং একে সূক্ষ্মতা (دقة) ও সঠিকতা (سلامة) দান করেছে।

দ্বিতীয়ত: যার ভুল অধিক হয়: যে বর্ণনাকারী জঘন্য ভুল (فحش الغلط) এবং ভুলের আধিক্যের দায়ে অভিযুক্ত, তিনি যথার্থতা (ضبط) হারিয়ে ফেলেন। ফলে দলিল হিসেবে পেশ করার (احتجاج) ক্ষেত্রে তার হাদিস গ্রহণ করা হয় না এবং বিধান সংক্রান্ত হাদিসের ক্ষেত্রেও তার ওপর নির্ভর করা হয় না, বরং তা কেবল আনুসঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে (استئناسا) গণ্য হতে পারে। (১)

তৃতীয়ত: যিনি এমন হাদিসে ভুল করেন যেটির ব্যাপারে সকলে একমত, অথচ তিনি নিজেকে দোষারোপ করেন না, বরং নিজ ভুলের ওপর অটল থাকেন এবং সেই হাদিস বর্ণনার ব্যাপারে জেদ করেন। যে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে এমনটি জানা যাবে, তার বর্ণনা বাতিল (تسقط روايته) হয়ে যায় এবং তার থেকে হাদিস লেখা হবে না; শর্ত হলো এটি তার পক্ষ থেকে হঠকারিতা (عناد) বা এ জাতীয় কোনো কারণে হতে হবে।

চতুর্থত: যিনি সুপরিচিত বর্ণনাকারীদের (المعروفين) সূত্রে এমন কিছু বর্ণনা করেন যা অন্য সুপরিচিত বর্ণনাকারীরা (المعروفون) চেনেন না। (২)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মানহাজ আল-ইসলামি ফি আল-জারহ ওয়া আত-তাদীল, পৃষ্ঠা: ৩১৮-৩১৯।

(২) আল-কিফায়াহ ১৪৫, এবং ফাতহুল মুগীস ১৬০-১৬১।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
موقف شعبة من الرواة المدلسين:

ذكر غير واحد أن شعبة بن الحجاج كان من أصدق الناس وأثبتهم في الحديث حتى قال عبد الله بن إدريس: شعبة قبان المحدثين، (1) أي أمينهم. وقال أحمد في معرض المفاضلة بينه وبين سفيان الثوري: « … وكان شعبة أثبت منه وأتقى رجلا.» (2)

ولذلك فقد كان له موقف صارم من التدليس والمدلسين، فكان يجعل التدليس في مرتبة أكبر من الزنى، فهو القائل -إن صحت الرواية عنه-: «لأن أزني أحب إلي من أن أدلس، وفي رواية أخرى: التدليس في الحديث أشد من الزنى» (3) .

وقال أيضا مستعظما أمر التدليس مستبعدا إياه: «لأن أخر من السماء إلى الأرض أحب إلي من أن أقول: زعم فلان ولم أسمع ذلك الحديث منه» (4) .

منهج شعبة في نقد الرواة

1) الرجوع إلى مصدر الخبر: يعد رجوع المحدث الناقد إلى مصدر الخبر الذي استقى منه الراوي حديثه وسيلة من وسائل التثبت من صدق المخبر وعدالته وضبطه. ولقد كان هذا النهج من ديدن شعبة بن الحجاج وهو القائل في معرض التنويه بمكانة سفيان الثوري: ما حَدَّثني سفيان عن السدي بحديث فسألته عنه إلا كان كما حدثني. (5)

--------------------------------------------

(1) التهذيب 346.

(2) المصدر نفسه 344.

(3) التهذيب 1/15-16 وتقدمة المعرفة ص: 173.

(4) التمهيد 1/16.

(5) طبقات ابن سعد 6/372.
তাদলিসকারী (المدلسين) বর্ণনাকারীদের বিষয়ে শু’বাহর অবস্থান:

একাধিক মনীষী উল্লেখ করেছেন যে, শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ ছিলেন মানুষের মধ্যে অন্যতম সত্যবাদী এবং হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অধিক নির্ভরযোগ্য (أثبت) ব্যক্তি। এমনকি আব্দুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস বলেছেন: শু’বাহ হলেন মুহাদ্দিসদের নিক্তি (قبان), অর্থাৎ তাদের বিশ্বস্ত (أمين) ব্যক্তি। ইমাম আহমাদ তার এবং সুফিয়ান সাওরির মধ্যে তুলনামূলক শ্রেষ্ঠত্ব আলোচনার প্রসঙ্গে বলেছেন: « … আর শু’বাহ তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أثبت) এবং অধিক মুত্তাকি ব্যক্তি ছিলেন।» (১)

আর এই কারণেই তাদলিস (التدليس) এবং তাদলিসকারী (المدلسين) বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে তার অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। তিনি তাদলিস (التدليس)-কে ব্যভিচারের চেয়েও বড় অপরাধের স্তরে গণ্য করতেন। তার থেকে বর্ণিত বর্ণনাটি যদি সঠিক হয়ে থাকে, তবে তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন: «তাদলিস (التدليس) করার চেয়ে ব্যভিচার করা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: হাদিসের ক্ষেত্রে তাদলিস (التدليس) করা ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য।» (২)

তাদলিস (التدليس)-এর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর এবং অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করে তিনি আরও বলেন: «আকাশ থেকে জমিনে আছড়ে পড়া আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় এটা বলার চেয়ে যে: 'অমুক ব্যক্তি দাবি করেছেন', অথচ আমি তার থেকে সেই হাদিসটি শ্রবণ করিনি।» (৩)

বর্ণনাকারীদের সমালোচনায় শু’বাহর মানহাজ (পদ্ধতি)

১) সংবাদের উৎসে ফিরে যাওয়া: কোনো মুহাদ্দিস সমালোচক (ناقد) কর্তৃক সংবাদের সেই উৎসে ফিরে যাওয়া, যেখান থেকে বর্ণনাকারী হাদিসটি গ্রহণ করেছেন, তা সংবাদদাতার সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং নির্ভুলতা (ضبط) যাচাই করার অন্যতম একটি মাধ্যম। শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজের এটি একটি নিয়মিত অভ্যাস ছিল। সুফিয়ান সাওরির সুউচ্চ মর্যাদার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন: সুফিয়ান যখনই আমার কাছে সুদ্দী থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং আমি সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তখন সেটি তেমনই পেয়েছি যেমনটি তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছিলেন। (৪)

--------------------------------------------

(১) তাহজিব ৩৪৬।

(২) একই উৎস ৩৪৪।

(৩) তাহজিব ১/১৫-১৬ এবং তাকদিমাতুল মা’রিফাহ, পৃষ্ঠা: ১৭৩।

(৪) আত-তামহিদ ১/১৬।

(৫) তাবাকাত ইবনে সাদ ৬/৩৭২।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وفي رواية: "ما حدثني أحد عن شيخ إلا وإذا سألته -يعني ذلك الشيخ- يأتي بخلاف ما حدث عنه ما خلا سفيان الثوري، فإنه لم يحدثني عن شيخ إلا وإذا سألته وجدته على ما قال سفيان" (1)

2) الرحلة: وذلك من أجل تتبع الحديث الواحد، والرجوع إلى مصدر الخبر للأمن من كذب الراوي أو تدليسه أو غلطه. ولعل رحلة شعبة إلى مكة ثم إلى المدينة ثم البصرة لتتبُّع حديث واحد، والتأكد من اتصال سنده (2) وصحته، دليل واضح على عنايته الكبيرة بالحديث النبوي عن طريق التتبع الدقيق لرواته وفحص أحوالهم ومعرفة عدالتهم وضبطهم.

3) اختبار الراوي: وذلك بمعاودة السماع منه مرات متعددة قصد التأكد من حفظه وضبطه وثبوته على رواية نفس الحديث، وقد كان هذا النهج أيضا من المسائل التي اعتاد عليها شعبة، فسمع مرة حديثا واحدا من طلحة بن مصرف فكان كلما مر عليه يسأله عنه، فقال له: لِمَ يا أبا بسطام؟ قال: "أردت أن أنظر إلى حفظه فإن غيّر شيئا تركته". (3)

وقال أيضا: "ما رويت عن رجل حديثاً إلا أتيته أكثر من مرة، والذي رويت عنه عشرة، أتيته أكثر من عشر مرار". (4)

ولذلك لم يكن يقبل الراوي الذي يلقن، قال: كانوا يقولون لسماك:

--------------------------------------------

(1) تقدمة المعرفة 67.

(2) انظر المحدث الفاصل، ص 131-132، والتمهيد، 1/48-49-50.

(3) الكفاية 113.

(4) تهذيب التهذيب 4/346.
অন্য এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী: "কেউ যখন কোনো শায়খ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছে, আর আমি যখন সেই শায়খকে জিজ্ঞেস করেছি—অর্থাৎ সেই মূল শায়খকে—তখন তিনি বর্ণনাকারীর বিবরণের বিপরীতে বর্ণনা দিয়েছেন; সুফিয়ান আল-সাওরী ব্যতীত। কারণ, তিনি আমার কাছে কোনো শায়খের বরাতে কোনো বর্ণনা করলে এবং আমি যখন তাকে (শায়খকে) জিজ্ঞেস করেছি, তখন তাকে সুফিয়ানের বর্ণনার অনুরূপই পেয়েছি।" (১)

২) সফর: এটি করা হতো একটি মাত্র হাদিস অনুসরণের জন্য এবং খবরের মূল উৎসে ফিরে যাওয়ার জন্য, যাতে বর্ণনাকারীর মিথ্যা (كذب), তথ্য গোপন করা (تدليس) অথবা ভুল (غلط) থেকে নিরাপদ থাকা যায়। সম্ভবত শু’বাহর মক্কা, এরপর মদিনা এবং অতপর বসরার সফর—শুধুমাত্র একটি হাদিস অনুসন্ধান এবং তার সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السند) ও বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করার জন্য—তা ছিল বর্ণনাকারীদের সূক্ষ্মভাবে অনুসরণ, তাদের অবস্থা পরীক্ষা এবং তাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও নির্ভুলতা (ضبط) যাচাইয়ের মাধ্যমে নববী হাদিসের প্রতি তাঁর গভীর যত্নের এক স্পষ্ট প্রমাণ। (২)

৩) বর্ণনাকারীকে পরীক্ষা করা: এটি করা হতো একই হাদিসের বর্ণনায় বর্ণনাকারীর মুখস্থশক্তি (حفظ), নির্ভুলতা (ضبط) ও অটলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে তার থেকে একাধিকবার শোনার মাধ্যমে। এই পদ্ধতিটিও শু’বাহর অভ্যস্ত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। একবার তিনি তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে একটি হাদিস শুনলেন এবং এরপর যখনই তাঁর পাশ দিয়ে যেতেন, তখনই তাঁকে সেই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। তালহা তাঁকে বললেন: হে আবু বিস্তাম! এমন কেন করছেন? তিনি বললেন: "আমি তার মুখস্থশক্তি (حفظ) পরখ করতে চেয়েছি; যদি সে কোনো কিছু পরিবর্তন করে ফেলত, তবে আমি তা বর্জন করতাম।" (৩)

তিনি আরও বলেন: "আমি কোনো ব্যক্তির থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করিনি যতক্ষণ না আমি তার কাছে একাধিকবার গিয়েছি। আর যার থেকে আমি দশটি হাদিস বর্ণনা করেছি, তার কাছে আমি দশবারেরও বেশি গিয়েছি।" (৪)

এই কারণেই তিনি এমন কোনো বর্ণনাকারীকে গ্রহণ করতেন না যাকে তালকীন (تلقين) [হাদিস শিখিয়ে দেওয়া] করা হতো। তিনি বলেন: তারা সিমাককে বলতেন:

--------------------------------------------

(১) তাকদিমাতুল মা’রিফা, পৃ. ৬৭।

(২) দেখুন: আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল, পৃ. ১৩১-১৩২; এবং আত-তামহিদ, ১/৪৮-৪৯-৫০।

(৩) আল-কিফায়া, পৃ. ১১৩।

(৪) তাহজিবুত তাহজিব, ৪/৩৪৬।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
عكرمة عن ابن عباس؟ فيقول: نعم، فأما أنا فلم أكن ألقنه. (1)

وقد روى قتادة عن أبي الأسود الدؤلي قال: "إن سَرّك أن يكذب صاحبك فلقِّنه". (2)

وبالإضافة إلى هذه السبل لمعرفة أحوال الرواة، كان شعبة يرد حديث من يروي ما لا يقبله العقل، قيل له: من أين تعلم أن الشيخ يكذب؟ قال: إذا روى عن النبي صلى الله عليه وسلم لا تأكلوا القرعة حتى تذبحوها، علمت أنه يكذب (3) ، بل إن شعبة -مبالغةً في الاحتياط- اشترط في الراوي أن يرى وجه محدثه وقت التلقي، فها هو يوصي أحد تلامذته بذلك قائلا: "إذا سمعت من المحدث ولم تر وجهه، فلا ترو عنه" (4) .

--------------------------------------------

(1) ميزان الاعتدال 2/233.

(2) المصدر نفسه 2/233.

(3) المحدث الفاصل 316.

(4) المصدر نفسه 599، والإلماع ص 137.
ইকরিমা ইবনে আব্বাস থেকে? তিনি বলতেন: হ্যাঁ, তবে আমি তাকে তালকিন (تلقين) করতাম না। (১)

কাতাদাহ আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যদি তোমার সঙ্গীকে দিয়ে মিথ্যা বলানো তোমাকে আনন্দ দেয়, তবে তাকে তালকিন (تلقين) করো।" (২)

বর্ণনাকারীদের অবস্থা জানার এই মাধ্যমগুলো ছাড়াও শু'বাহ এমন ব্যক্তির হাদিস প্রত্যাখ্যান (رد) করতেন যে এমন কিছু বর্ণনা করত যা বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কীভাবে বুঝতেন যে শায়খ মিথ্যা বলছেন? তিনি বললেন: যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন যে, "তোমরা কদু খেয়ো না যতক্ষণ না তা জবাই করো", তখন আমি বুঝতে পারতাম যে তিনি মিথ্যা (كذب) বলছেন (৩)। এমনকি শু'বাহ—অত্যধিক সতর্কতার (احتياط) খাতিরে—বর্ণনাকারীর জন্য এই শর্তারোপ করতেন যে, গ্রহণের সময় তাকে তার মুহাদ্দিসের (محدث) চেহারা দেখতে হবে। তিনি তাঁর এক ছাত্রকে এই মর্মে অসিয়ত করে বলতেন: "যখন তুমি কোনো মুহাদ্দিস (محدث) থেকে শুনবে কিন্তু তার চেহারা দেখতে পাবে না, তবে তার থেকে বর্ণনা করো না" (৪) ।

--------------------------------------------

(১) মিজানুল ইতিদাল ২/২৩৩।

(২) একই উৎস ২/২৩৩।

(৩) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ৩১৬।

(৪) একই উৎস ৫৯৯, এবং আল-ইলমা পৃ. ১৩৭।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌مكانة شعبة في علم الرجال:

لقد بلغ شعبة بن الحجاج شأوا كبيرا في علم الرجال بفضل هذا التفاني الكبير في تتبع أحوال الرواة، وشدة تمحيصه وتفتيشه وسلوكه مناهج متعددة لكشف صدق الرواة أو كذبهم. لقد أعطت هذه الجهود الكبيرة ثمارها الطيبة ونتائجها المرجوة حيث بلغ من علمه بالرَّاوي أن كان يعرف ما سمع -يعني الراوي- من شيخه وما لم يسمع، فقد روى علي بن المديني عن يحيى بن سعيد القطان قال: قال شعبة: لم يسمع قتادة من أبي العالية إلا ثلاثة أشياء.

وكان من نتائج هذه المعرفة والخبرة الدقيقتين: أن قتادة نفسه كان يسأله
রিজালশাস্ত্রে (علم الرجال) শু'বার মর্যাদা:

বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা অনুসরণে ব্যাপক নিষ্ঠা, কঠোর যাচাই-বাছাই ও তদারকি এবং বর্ণনাকারীদের (الرواة) সত্যবাদিতা কিংবা মিথ্যা উদঘাটনে নানাবিধ পদ্ধতি অবলম্বনের ফলে শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ রিজালশাস্ত্রে (علم الرجال) এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। তাঁর এই সুমহান প্রচেষ্টাগুলো অত্যন্ত চমৎকার ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে এনেছিল; বর্ণনাকারী (الراوي) সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান এমন স্তরে উন্নীত হয়েছিল যে, কোনো বর্ণনাকারী (الراوي) তাঁর উস্তাদের থেকে কী শুনেছেন আর কী শুনেননি, তা তিনি নির্ভুলভাবে জানতেন। আলী ইবনুল মাদিনী ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বা বলেছেন, "কাতাদাহ আবুল আলিয়াহর নিকট থেকে মাত্র তিনটি বিষয় ব্যতীত আর কিছুই শোনেননি।"

আর এই সূক্ষ্ম জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অন্যতম ফলাফল ছিল এই যে, স্বয়ং কাতাদাহ-ই তাঁকে (এই বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করতেন।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
عن حديثه يعني حديث نفسه. (1)

وقال شعبة أيضا بنفس الروح التي تنم عن هذه المعرفة الكبيرة بالرواة وأحوالهم:" أحاديث محمد بن سيرين عن ابن عباس إنما سمعها محمد عن عكرمة، لقيه أيام المختار وفي رواية أخرى: أحاديث محمد بن سيرين إنما سمعها من عكرمة لقيه أيام المختار ولم يسمع ابن سيرين من ابن عباس شيئا". (2) وقال أيضا في حق شيخه عطاء بن السائب:"إذا حَدَّثَكَ عن رجل واحد فهو ثقة، وإذا جمع فقال: زادان وميسرة وأبو البحتري فاتَّقِهْ، كأن الشيخ قد تغير" (3) . وهذا كلام مَنْ خَبِرَ أحاديث عطاء بن السائب ومحصها حتى غدا عارفا بمواطن الخلل والعلة القادحة فيها.

ولا غرو بعد هذا كله أن يكثر تلاميذه وتكبر حلقات الدروس حوله لأن أصحاب الحديث كانوا يريدون -كما بين ذلك خلف المخرمي- حسن المعرفة بالرجال وبمعرفة الحديث، وهكذا كان هذا المعنى بينا في شعبة، (4) وأن تُسَجِّل له كتب الرجال والجرح والتعديل أقواله في الرواة وتصبح عمدة من يعدل ويجرّح، فهذا ابن عون يأبى الأخذ من أحد الرواة، ولما قيل له مالك لا تحدث عن فلان قال: لأن أبا بسطام تركه. (5)

ولا غرو أيضا أن يصفه سفيان بأنه أمير المؤمنين في الحديث، (6) وأن

--------------------------------------------

(1) المحدث الفاصل ص: 127 وص: 175.

(2) العلل لابن المديني ص: 60.

(3) طبقات ابن سعد 6/336.

(4) تقدمة المعرفة 176.

(5) تهذيب التهذيب 4/338.

(6) شرف أصحاب الحديث 115.
তার বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে, অর্থাৎ যা তিনি নিজের স্মৃতি থেকে বর্ণনা করেছেন। (১)

শু'বাহ বর্ণনাকারীদের (رواة) এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে এই সুগভীর পাণ্ডিত্যের প্রতিফলন ঘটিয়ে আরও বলেন: "মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন ইবনে আব্বাস থেকে যে হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন, সেগুলো মূলত তিনি ইকরিমা থেকে শুনেছেন; যার সাথে মুখতারের সময়কালে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: মুহাম্মাদ ইবনে সিরিনের হাদিসগুলো তিনি ইকরিমা থেকেই শুনেছিলেন, মুখতারের সময়কালে তার সাথে দেখা হয়েছিল; আর ইবনে সিরিন ইবনে আব্বাস থেকে সরাসরি কিছুই শোনেননি।" (২) তিনি তার শিক্ষক আতা ইবনে সায়েব সম্পর্কেও বলেছেন: "তিনি যখন আপনার কাছে কোনো একজন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তখন তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة); কিন্তু যখন তিনি একত্রে অনেক বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করে বলেন: 'যাদান, মায়সারা ও আবুল বাখতারি', তখন তার থেকে সতর্ক থাকুন, কেননা শায়খের তখন স্মৃতির বিচ্যুতি ঘটেছিল।" (৩) এটি এমন একজনের বক্তব্য যিনি আতা ইবনে সায়েবের হাদিসগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করেছেন, ফলে তিনি সেগুলোর ত্রুটিপূর্ণ স্থান এবং ক্ষতিকারক সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة القادحة) সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।

এসবের পর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, তার ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং তাকে কেন্দ্র করে ইলমি মজলিসগুলো সুবিশাল হবে। কারণ হাদিস বিশারদগণ—যেমনটি খালাফ আল-মুখাররামি স্পষ্ট করেছেন—বর্ণনাকারী (رجال) এবং হাদিস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে চেয়েছিলেন; আর শু'বাহর মাঝে এই বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত প্রস্ফুটিত ছিল। (৪) এটিও স্বাভাবিক যে, বর্ণনাকারী বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের কিতাবগুলো বর্ণনাকারীদের (رواة) সম্পর্কে তার বক্তব্যগুলো সংরক্ষণ করবে এবং তা কোনো বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করা বা বর্জন করার ক্ষেত্রে মূল দলিলে পরিণত হবে। যেমন— ইবনে আউন জনৈক বর্ণনাকারী (رواة) থেকে হাদিস গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান; যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, আপনি কেন অমুক থেকে হাদিস বর্ণনা করছেন না? তিনি উত্তর দিলেন: "কারণ আবু বিসতাম (শু'বাহ) তাকে বর্জন (تركه) করেছেন।" (৫)

এতে বিস্ময়ের কিছু নেই যে, সুফিয়ান তাকে হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন (أمير المؤمنين) হিসেবে অভিহিত করেছেন। (৬) এবং

--------------------------------------------

(১) আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল, পৃষ্ঠা: ১২৭ ও ১৭৫।

(২) আল-ইলাল লিল মাদিনি, পৃষ্ঠা: ৬০।

(৩) তাবাকাত ইবনে সাদ, ৬/৩৩৬।

(৪) তাকদিমাতুল মা’রিফাহ, ১৭৬।

(৫) তাহজিবুত তাহজিব, ৪/৩৩৮।

(৬) শারাফু আসহাবিল হাদিস, ১১৫।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
يصفه القطان بأنه كان أعلم الناس بالرجال (1) .

ورغم هذه المكانة العليا التي سما إليها فإنه كان متواضعا أشد ما يكون التواضع ومحباً للحديث وطلاب الحديث، فمن تواضعه ما يحكيه وكيع أنه ذكر حديثا عن أبي إسحاق فقال رجل: إن سفيان خالفك فيه، فقال: دعوه، سفيان أحفظُ مني، وفي رواية:"إذا خالفني سفيان في حديث فالحديث حديثه". (2)

ومن حبه للحديث والمحدثين قوله: "كل مَنْ كتبت عنه حديثا فأنا له عبد" (3) ، وقوله: "إذا رأيت المحبرة في بيت إنسان فارحمه، وإن كان في كمك شيء فأطعمه" (4) .

لقد جادت طبقة شعبة بن الحجاج والطبقة التي تلتها بعدد كبير من الجهابذة النقاد الذين كرسوا حياتهم لخدمة الحديث النبوي الشريف من التحريف والتزييف. وإن مجرد عرض أسماء بعض هؤلاء الجهابذة يثبت صحة هذا الحكم ويؤكده، إذ لا يماري أحد في مكانة مالك بن أنس (179هـ) ، وسفيان بن عيينة (198هـ) ، وحماد بن زيد (179هـ) ، ووكيع بن الجراح (199هـ) ، وعبد الله بن المبارك (181هـ) وأبي الوليد الطيالسي (227هـ) ، وأبي داود الطيالسي (203هـ) ، ويحيى بن سعيد القطان (198هـ) وعبد الرحمن بن مهدي (198هـ) …

--------------------------------------------

(1) تقدمة المعرفة 127.

(2) المصدر نفسه ص: 63 وص: 65.

(3) جامع بيان العلم 1/ص: 127 وص: 133، الإلماع ص: 227 وص: 230.

(4) سير أعلام النبلاء: (7/225) .
আল-কাত্তান তাকে বর্ণনাকারীদের (الرجال) বিষয়ে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন (১)।

এত সুউচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন এবং হাদিস ও হাদিসের ছাত্রদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাঁর বিনয়ের একটি উদাহরণ ওয়াকি বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু ইসহাক থেকে একটি হাদিস উল্লেখ করলে এক ব্যক্তি বললেন: 'সুফিয়ান এ বিষয়ে আপনার বিরোধিতা করেছেন।' তিনি বললেন: 'তাকে ছেড়ে দাও, সুফিয়ান আমার চেয়ে অধিক মুখস্থকারী (أحفظ)।' অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "যদি কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে সুফিয়ান আমার বিরোধিতা করেন, তবে হাদিসটি মূলত তাঁরই হাদিস।" (২)

হাদিস এবং হাদিসবিদগণের (المحدثين) প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রতিফলন হলো তাঁর এই উক্তি: "আমি যার কাছ থেকেই হাদিস লিখেছি, আমি তার দাসে পরিণত হয়েছি" (৩)। এবং তাঁর এই বাণী: "যদি তুমি কারো বাড়িতে দোয়াত দেখতে পাও, তবে তার প্রতি সদয় হও; আর তোমার পকেটে যদি কিছু থাকে, তবে তাকে খেতে দাও" (৪)।

শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ এবং তাঁর পরবর্তী স্তর (طبقة) এমন বহু সংখ্যক বিজ্ঞ সমালোচক (نقاد) তৈরি করেছে, যারা পবিত্র নববী হাদিসকে বিকৃতি ও জালিয়াতি থেকে সুরক্ষায় তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই বিজ্ঞ মনীষীদের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেই এই বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণিত ও সুনিশ্চিত হয়। কেননা মালিক বিন আনাস (১৭৯ হিজরি), সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ (১৯৮ হিজরি), হাম্মাদ বিন যায়েদ (১৭৯ হিজরি), ওয়াকি ইবনুল জাররাহ (১৯৯ হিজরি), আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (১৮১ হিজরি), আবু আল-ওয়ালিদ আল-তায়ালিসি (২২৭ হিজরি), আবু দাউদ আল-তায়ালিসি (২০৩ হিজরি), ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান (১৯৮ হিজরি) এবং আবদুর রহমান বিন মাহদী (১৯৮ হিজরি) প্রমুখের মর্যাদার বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করেন না …

--------------------------------------------

(১) তাকদিমাতুল মা'রিফাহ ১২৭।

(২) একই উৎস পৃ: ৬৩ ও পৃ: ৬৫।

(৩) জামি' বায়ানিল ইলম ১/পৃ: ১২৭ ও পৃ: ১৩৩, আল-ইলমা' পৃ: ২২৭ ও পৃ: ২৩০।

(৪) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: (৭/২২৫)।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ثم إن أغلب هؤلاء النقاد الكبار من تلاميذ وخرّيجي مدرسة شعبة بن الحجاج، وقد ورثوا عنه أسس علم الرجال ونهلوا من معينه الفياض ليتابعوا تشييد أركان هذا العلم باجتهاداتهم ودراساتهم الخاصة التي كانت معالم وشواهد على ما بذلوه من جهود متواصلة، وقد تم بالفعل إرساء أسس هذا العلم وأركانه على يد هذه الطبقة، لينصرف اهتمام من جاء بعدهم إلى جمع آرائهم وأقوالهم وعلى التصنيف في متفرقات ما وضعوه من أسس ودعائم. وحتى تظهر لنا بعض جهود هذه الفئة في نقد الرواة وتتبع أحوالهم، يجدر بي استعراض بعض مساهماتهم في هذا المجال.

أ - مالك بن أنس (179هـ) (1)

لقد عاصر الإمام مالك شعبة بن الحجاج، بل لقد كان من شيوخه، وإنما ذكرته مع الطبقة التي تلت شعبة لتأخر وفاته بعده بتسع عشرة سنة، ولا شك أنها مليئة بالعطاء، غنية بالمساهمة في علم الرجال.

من الذي يرد حديثه عند مالك؟ يرى الإمام مالك أن الحديث النبوي «لا يؤخذ من أربعة ويؤخذ من سوى ذلك:

- لا يؤخذ من رجل صاحب هوى يدعو الناس إلى هواه.

- ولا من سفيه معلن بالسفه، وإن كان من أروى الناس.

- ولا من رجل يكذب في أحاديث الناس وإن كنت لا أتهمه أن يكذب

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته: تقدمة المعرفة 19 والانتقاء لابن عبد البر ص 9-63 والمعارف لابن قتيبة 498 والتاريخ لابن معين 2/543-546 والحلية 6/316 وترتيب المدارك 1/102-254 وصفوة الصفوة 2/177 ووفيات الأعيان 4/135 وسير أعلام النبلاء 8/48-136 وتذكرة الحفاظ 1/207 والديباج المذهب 1/82-139.
অতঃপর এই মহান সমালোচকদের (النقاد) অধিকাংশই ছিলেন শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ-এর মাদ্রাসার ছাত্র ও গ্র্যাজুয়েট। তারা তার নিকট থেকে ইলমুর রিজাল (علم الرجال)-এর মূলনীতিসমূহ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছিলেন এবং তার জ্ঞানের প্রাচুর্যময় উৎস থেকে আকণ্ঠ পান করেছিলেন, যাতে তারা তাদের নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهادات) ও গবেষণার মাধ্যমে এই শাস্ত্রের স্তম্ভসমূহ নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখতে পারেন, যা তাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার নিদর্শন ও সাক্ষ্য হয়ে রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই স্তরের (الطبقة) মনীষীদের মাধ্যমেই এই শাস্ত্রের ভিত্তি ও স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যাতে পরবর্তী প্রজন্মের মনোযোগ তাদের মতামত ও বক্তব্য সংগ্রহ করা এবং তারা যে সকল মূলনীতি ও ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেগুলোর সংকলনের দিকে নিবদ্ধ হয়। রাবিদের (الرواة) সমালোচনা (نقد) এবং তাদের অবস্থা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই স্তরের মনীষীদের কিছু প্রচেষ্টা প্রদর্শনের লক্ষ্যে এই ক্ষেত্রে তাদের কিছু অবদান পর্যালোচনা করা আমার জন্য সমীচীন হবে।

ক - মালিক ইবনে আনাস (১৭৯ হি.) (১)

ইমাম মালিক শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ-এর সমসাময়িক ছিলেন, এমনকি তিনি তার শিক্ষকদের (الشيوخ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমি তাকে শু'বাহর পরবর্তী স্তরের (الطبقة) সাথে উল্লেখ করেছি কারণ তার মৃত্যু শু'বাহর উনিশ বছর পরে হয়েছে। নিঃসন্দেহে সেই সময়কালটি ছিল ইলমুর রিজাল (علم الرجال)-এর ক্ষেত্রে অনেক বড় অবদান ও সমৃদ্ধিতে পূর্ণ।

মালিকের নিকট কার হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হয়? ইমাম মালিক মনে করতেন যে, নবীজীর হাদিস চার প্রকার ব্যক্তি থেকে গ্রহণ করা হবে না, তবে তারা ছাড়া অন্যদের থেকে গ্রহণ করা যাবে:

- এমন প্রবৃত্তিপূজারী (صاحب هوى) ব্যক্তি থেকে গ্রহণ করা হবে না, যে মানুষকে নিজের খেয়ালখুশির দিকে আহ্বান করে।

- এমন নির্বোধ (سفيه) ব্যক্তি থেকে নয় যে প্রকাশ্য নির্বুদ্ধিতায় লিপ্ত, যদিও সে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক বর্ণনাকারী (أروى) হোক না কেন।

- এমন ব্যক্তি থেকে নয় যে মানুষের সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যা (كذب) বলে, যদিও আমি তাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস বর্ণনায় মিথ্যা বলার (كذب) অপবাদ দিচ্ছি না।

--------------------------------------------

(১) তার জীবনীর উৎসসমূহ: তাকদিমাতুল মা’রিফাহ ১৯; আল-ইনতিকা লি-ইবনে আবদিল বার পৃ. ৯-৬৩; আল-মা’রিফ লি-ইবনে কুতায়বাহ ৪৯৮; আত-তারিখ লি-ইবনে মাঈন ২/৫৪৩-৫৪৬; আল-হিলইয়াহ ৬/৩১৬; তারতিবুল মাদারিক ১/১০২-২৫৪; সাফওয়াতুস সাফওয়াহ ২/১৭৭; ওফায়াতুল আইয়ান ৪/১৩৫; সিয়ারু আলামিন নুবালা ৮/৪৮-১৩৬; তাজকিরাতুল হুফফাজ ১/২০৭; আদ-দিবাজুল মুজাহহাব ১/৮২-১৩৯।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
على رسول الله صلى الله عليه وسلم.

-ولا من رجل له فضل وصلاح وعبادة، لا يعرف ما يحدث» (1)

ومن هذا الكلام وغيره مما ورد عن مالك وأضرابه استلهم المحدثون الذين جاؤوا من بعد القواعد ووضعوا الحدود والتعاريف بما تقتضيه صناعة الحدود والتعاريف من عبارات جامعة مانعة وباستعمال مصطلحات اتفق عليها القوم، وهي من صميم لغتهم.

- معرفة مالك بأحوال الرواة: لقد تكلم الإمام مالك في العديد من الرواة مبينا أحوالهم، حاضا على الأخذ والرواية عن بعضهم لعدالتهم وضبطهم، ومحذرا من بعضهم الآخر لضعفهم أو كذبهم.

فعن عبد الرحمن بن القاسم أنه سأل مالكا عن ابن سمعان فقال: كذاب. (2) وقال بشر بن عمر: نهاني مالك بن أنس عن إبراهيم بن أبي يحيى، قلت: من أجل القدر تنهاني عنه؟ قال: ليس دينه بذاك. وعن هذا الراوي نفسه يسأله يحيى بن سعيد القطان قائلا: أكان ثقة؟ قال: لا، ولا ثقة في دينه (3) .

ولقد انعكست معرفة الإمام مالك بالرواة على روايته للحديث النبوي، فكان لا يشق له غبار في ضبط ما يصح من الأخبار والآثار والأقضية ووقائع الصحابة، ومعرفة الطرق التي منها يتطرق الخلل وإمكان الزلل إلى النقلة رواة الأحاديث، وفي هذا قال سفيان بن عيينة: ما كان أشد انتقاءه للرجال

--------------------------------------------

(1) الكفاية ص: 160.

(2) تقدمة المعرفة 21.

(3) تقدمة المعرفة ص: 19.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর।

-এমনকি এমন কোনো ব্যক্তি থেকেও নয় যার মর্যাদা, নেক আমল এবং ইবাদত আছে, অথচ তিনি যা বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে সম্যক অবগত নন।» (১)

ইমাম মালিক ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে বর্ণিত এই সকল উক্তি ও অন্যান্য বক্তব্যের আলোকেই পরবর্তীকালের হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) বিভিন্ন মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন। তাঁরা সংজ্ঞা নির্ধারণের শাস্ত্রীয় নীতি অনুসরণে সুসংহত ও সুনির্দিষ্ট শব্দচয়ন এবং বিশেষজ্ঞগণের সর্বসম্মত পরিভাষা (مصطلحات) ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন সংজ্ঞা ও সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন, যা তাঁদের শাস্ত্রীয় ভাষার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

- বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা সম্পর্কে ইমাম মালিকের জ্ঞান: ইমাম মালিক বহুসংখ্যক বর্ণনাকারী (رواة) সম্পর্কে আলোচনা করে তাঁদের অবস্থা স্পষ্ট করেছেন। তিনি কারো কারো ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও নির্ভুল বর্ণনার ক্ষমতার (ضبط) কারণে তাঁদের থেকে হাদিস গ্রহণ ও বর্ণনার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন, আবার অন্যদের দুর্বলতা (ضعف) বা মিথ্যাচারের (كذب) কারণে তাঁদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

আবদুর রহমান ইবনুল কাসিম থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনে সামআন সম্পর্কে ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: সে একজন চরম মিথ্যুক (كذاب)। (২) বিশর বিন উমর বর্ণনা করেন: মালিক বিন আনাস আমাকে ইব্রাহিম বিন আবি ইয়াহইয়া থেকে হাদিস গ্রহণে নিষেধ করেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কি তাঁর কদর (তাকদির) সংক্রান্ত মতবাদের কারণে আমাকে নিষেধ করছেন? তিনি বললেন: তার দ্বীনদারী তেমন ভালো নয়। এই একই বর্ণনাকারী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান মালিককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: তিনি কি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন? মালিক বললেন: না, এমনকি তার দ্বীনের ক্ষেত্রেও কোনো নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) নেই (৩)।

বর্ণনাকারীদের (رواة) সম্পর্কে ইমাম মালিকের এই প্রগাঢ় জ্ঞান তাঁর হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে সংবাদ, আছার, বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্ত ও সাহাবীগণের জীবনের ঘটনাবলির মধ্যে যা সহিহ (يصح) তা নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের (ضبط) ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এছাড়া হাদিস বর্ণনাকারীদের (رواة) মাঝে যে সকল পথ ধরে ত্রুটি বা বিচ্যুতি প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে, সে সম্পর্কেও তিনি পূর্ণ অবগত ছিলেন। এই প্রেক্ষিতেই সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না বলেছেন: বর্ণনাকারী নির্বাচনে তিনি কতই না কঠোর ছিলেন!

--------------------------------------------

(১) আল-কিফায়া, পৃষ্ঠা: ১৬০।

(২) তাকদিমাতুল মারিফাহ, ২১।

(৩) তাকদিমাতুল মারিফাহ, পৃষ্ঠা: ১৯।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وأعلمه بشأنهم (1) . وقال ابن عبد البر: ومن اقتصر على حديث مالك رحمه الله فقد كُفِي تعب التفتيش والبحث ووضع يده من ذلك على عروة وثقى لا تنفصم، لأن مالكا قد انتقد وانتقى، وخلّص ولم يرو إلا عن ثقة حجة … (2) . وكان الإمام أحمد قد أكد هذه المسألة فقال: "كان مالك من أثبت الناس في الحديث، ولا تبالي ألَاّ تسأل عن رجل روى عنه مالك بن أنس ولا سيما مديني. (3) ولهذا فقد استغرب يحيى بن معين حينما سئل عن أحد رجال مالك فقال: أتريد أن تسأل عن رجال مالك، كل من حدث عنه ثقة إلا رجلا أو رجلين (4) .

بهذا الجواب نفسه وبهذه الثقة نفسها كان الإمام مالك ذاته قد أجاب بشر بن عمر حينما سأله عن رجل، قال مالك: هل رأيته في كتبي، قال: لا، قال: لو كان ثقة رأيته في كتبي (5) . ولا غرابة في أن يكون مالك بهذه الدراية الكبيرة برواة الحديث النبوي، وبهذا التمحيص والمعرفة لأحوال من يبلّغون عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو الذي أُثر عنه أنه كان يشدد في الحديث النبوي في الياء والتاء ونحو هذا.

--------------------------------------------

(1) التمهيد 1/665، وتقدمة المعرفة ص: 23.

(2) التمهيد 1/60.

(3) تقدمة المعرفة ص: 17.

(4) المصدر نفسه ص: 24.

(5) مقدمة صحيح مسلم 1/26 وتقدمة المعرفة ص: 24.
এবং তিনি তাঁকে তাদের সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন (১)। ইবন আব্দিল বার বলেন: "যে ব্যক্তি কেবল ইমাম মালিকের (রহিমাহুল্লাহ) হাদিসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, সে অনুসন্ধান ও গবেষণার ক্লান্তি থেকে রেহাই পায় এবং সে এর মাধ্যমে একটি সুদৃঢ় ও অবিচ্ছেদ্য হাতল আঁকড়ে ধরে; কারণ মালিক সূক্ষ্মভাবে বিচার-বিশ্লেষণ ও নির্বাচন করেছেন এবং তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও দলীলযোগ্য (حجة) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেননি … (২)। ইমাম আহমাদ এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন: "মালিক হাদিসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুদৃঢ় (أثبت) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মালিক ইবন আনাস যার কাছ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করাতেই তোমার কোনো উদ্বেগ থাকা উচিত নয়, বিশেষ করে তিনি যদি মদিনার অধিবাসী হন। (৩)। এই কারণেই ইয়াহইয়া ইবন মাঈন বিস্মিত হয়েছিলেন যখন তাকে ইমাম মালিকের জনৈক বর্ণনাকারী (رجال) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন: "তুমি কি ইমাম মালিকের বর্ণনাকারীদের (رجال) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাও? তিনি যার কাছ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন তারা সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقة), কেবল একজন বা দুইজন ব্যক্তি ব্যতীত (৪)।

একই উত্তরে এবং একই আস্থার সাথে ইমাম মালিক নিজে বিশর ইবন উমরকে জবাব দিয়েছিলেন যখন তিনি তাঁকে একজন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। মালিক বললেন: "তুমি কি তাকে আমার কিতাবসমূহে দেখেছ?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "সে যদি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হতো, তবে তুমি তাকে আমার কিতাবসমূহে দেখতে পেতে (৫)। ইমাম মালিকের হাদিস বর্ণনাকারীদের (رواة) সম্পর্কে এমন বিশাল প্রজ্ঞা (دراية) এবং যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে হাদিস পৌঁছে দেন তাদের অবস্থা সম্পর্কে এমন সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও জ্ঞান থাকা আশ্চর্যের কিছু নয়। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহর হাদিসের বর্ণমালার সূক্ষ্ম 'ইয়া' এবং 'তা' এর মতো পার্থক্যের ব্যাপারেও অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করতেন।

--------------------------------------------

(১) আত-তামহিদ ১/৬৬৫ এবং তাকদিমাতুল মা'রিফাহ পৃষ্ঠা: ২৩।

(২) আত-তামহিদ ১/৬০।

(৩) তাকদিমাতুল মা'রিফাহ পৃষ্ঠা: ১৭।

(৪) একই উৎস, পৃষ্ঠা: ২৪।

(৫) মুকাদ্দিমা সহিহ মুসলিম ১/২৬ এবং তাকদিমাতুল মা'রিফাহ পৃষ্ঠা: ২৪।
(খণ্ড: ১) ইনাইয়াতুল উলামা বিল ইসনাদি ওয়া ইলমিল জারহি ওয়াত তাদীল - আব্দুল আযীয ফারাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ب- وكيع بن الجراح (199هـ) (1)

ساهم وكيع بن الجرّاح في مسيرة علم الرجال مبيّنا أحوال من ينقلون حديث النبي صلى الله عليه وسلم بالدقة المعهودة في غيره من النقاد، من ذلك تتبعه لأحاديث الأعمش عن مجاهد فكان يقول: لم يسمع الأعمش من مجاهد إلا أربعة أحاديث، وفي رواية أخرى عن عمرو بن علي قال: سمعت وكيعا يقول: كنا نتتبع ما سمع الأعمش من مجاهد فإذا هي سبعة أو ثمانية، ثم حدَّث بها. (2)

وبنفس هذه الخبرة والتدقيق قال: يحيى بن الضريس من حفاظ الناس لولا أنه غلط في حديثين، فذكر حديثا لمنصور. (3)

وقد كان وكيع يُنَفِّر من الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويبين خطورة هذا الجرم ونتائجه الوخيمة. وقد تعرض عليه أحاديث المعلّى

ابن هلال فيقول: "قال أبو بكر الصديق: الكذب مجانب للإيمان". (4) وقوله هذا بمنزلة الحكم على المعلى بن هلال، وهو أيضا جواب توخى منه تذكير الناس بخطورة الكذب في الرواية، وتنفيرهم من الرواية عن الكذَّابين، وقد كان يقول: "هذه بضاعة لا يرتفع فيها إلا صادق". وكان وكيع أيضا إذا أتى على حديث حنظلة بن أبي سفيان يقول: حدثنا حنظلة وكان ثقة ثقة (5) .

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته: الطبقات لابن سعد 6/394، التاريخ الكبير للبخاري 4/ القسم الثاني 179، تقدمة المعرفة 219.

(2) تقدمة المعرفة 224 و227.

(3) المصدر نفسه ص 224.

(4) المصدر نفسه 225-226.

(5) تقدمة المعرفة 229.
খ- ওয়াকি ইবনুল জাররাহ (১৯৯ হি.) (১)

ওয়াকি ইবনুল জাররাহ ইলমুর রিজাল (علم الرجال) শাস্ত্রের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি অন্যান্য দক্ষ সমালোচকদের (النقاد) ন্যায় চিরাচরিত সূক্ষ্মতার সাথে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনা করেন, তাদের অবস্থা ব্যাখ্যা করেছেন। এর উদাহরণ হলো মুজাহিদ থেকে আমাশের বর্ণিত হাদিসসমূহ তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বলতেন: "আমাশ মুজাহিদ থেকে মাত্র চারটি হাদিস শুনেছেন (سمع)।" আমর ইবনে আলীর অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে, তিনি বলেন: আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি, "আমরা মুজাহিদ থেকে আমাশ যা শুনেছেন (سمع) তা অনুসন্ধান করতাম; দেখা গেল সেগুলো সাত বা আটটি হাদিস ছিল, এরপর তিনি সেগুলো বর্ণনা করেছেন।" (২)

এই একই অভিজ্ঞতা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তিনি বলেন: "ইয়াহইয়া ইবনে আদ-দুরাইস মানুষের মধ্যে অন্যতম হাফিজ (حفاظ) হতেন, যদি না তিনি দুটি হাদিসে ভুল (غلط) করতেন।" এরপর তিনি মানসুরের একটি হাদিসের কথা উল্লেখ করেন। (৩)

ওয়াকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা (الكذب) বলা থেকে মানুষকে সতর্ক করতেন এবং এই অপরাধের ভয়াবহতা ও এর মারাত্মক পরিণতির কথা তুলে ধরতেন। যখন তার সামনে মুআল্লা ইবনে হিলালের হাদিসসমূহ পেশ করা হতো, তখন তিনি বলতেন: "আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেছেন: মিথ্যা (الكذب) ঈমানের পরিপন্থী।" (৪) তার এই উক্তিটি মুআল্লা ইবনে হিলালের ব্যাপারে সিদ্ধান্তের (الحكم) সমতুল্য। এটি এমন একটি উত্তর যার মাধ্যমে তিনি বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে মিথ্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং মিথ্যাবাদীদের (الكذابين) থেকে হাদিস বর্ণনা (الرواية) করা থেকে বিরত রাখার প্রয়াস পেয়েছেন। তিনি বলতেন: "এটি এমন এক পণ্য বা সম্পদ (بضاعة), যেখানে সত্যবাদী (صادق) ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ উচ্চ মর্যাদা লাভ করতে পারে না।" ওয়াকি যখনই হানজালা ইবনে আবি সুফিয়ানের কোনো হাদিস বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: "হানজালা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (ثقة ثقة) ছিলেন।" (৫) ।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ: ইবনে সা'দ-এর আত-তাবাকাত ৬/৩৯৪, বুখারীর আত-তারিখুল কাবির ৪/ দ্বিতীয় অংশ ১৭৯, তাকদিমাতুল মা'রিফাহ ২১৯।

(২) তাকদিমাতুল মা'রিফাহ ২২৪ ও ২২৭।

(৩) একই উৎস, পৃষ্ঠা ২২৪।

(৪) একই উৎস, ২২৫-২২৬।

(৫) তাকদিমাতুল মা'রিফাহ ২২৯।