(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: -)
تلبيس إبليس - ت المزيد والسحيباني القسم: الرقائق والآداب والأذكار
الكتاب: تلبيس إبليس
المؤلف: أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن الجوزي (ت 597 هـ)
دراسة وتحقيق: د. أحمد بن عثمان المزيد، د. علي بن عمر السحيباني
أصل التحقيق: أطروحتان للدكتوراة (مع مرتبة الشرف الأولى)، كلية أصول الدين - جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
[اختصرَتْ هذه الطبعةُ كثيرًا من حواشي الأطروحتين، إلا التعليقات العقدية فبقيت كما هي، وأوجز التخريج والتوثيق والاستشهاد غاية الإيجاز، وحذفت جلّ التراجم وفروق النسخ والتعليقات غير العقدية]
الناشر: مدار الوطن للنشر، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1437 هـ - 2016 م
عدد الصفحات: 922
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 شعبان 1446
তালবীসু ইবলিস - আল-মাযইয়াদ ও আস-সুহাইবানী কর্তৃক সম্পাদিত বিভাগ: আত্মশুদ্ধি, আদব ও আযকার
গ্রন্থ: তালবীসু ইবলিস
লেখক: আবু আল-ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী বিন আল-জাওযী (মৃত্যু ৫৯৭ হি.)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. আহমাদ বিন উসমান আল-মাযইয়াদ، ড. আলী বিন উমর আস-সুহাইবানী
সম্পাদনার উৎস: ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের দুটি ডক্টরাল থিসিস (প্রথম শ্রেণীর সম্মানসহ)،
[এই সংস্করণে থিসিসদ্বয়ের অধিকাংশ পাদটীকা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, তবে আকিদাহ বিষয়ক মন্তব্যগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে; তখরীজ, তথ্যসূত্র এবং উদ্ধৃতিগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে; এবং অধিকাংশ জীবনী, পাণ্ডুলিপিগত পার্থক্য ও আকিদাহ বহির্ভূত মন্তব্যগুলো বর্জন করা হয়েছে]
প্রকাশক: মাদারুল ওয়াতান পাবলিশিং، রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৭ হি. - ২০১৬ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯২২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ শা'বান ১৪৪৬
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا، أما بعد:
فإن من أكبر أسباب هلاك ابن آدم ومحادته لربه وخالقه تسلط عدو الله إبليس عليه، ومكره الذي توعد به هذا المخلوق، كما قال الله تعالى عنه: {قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ (16) ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ} [الأعراف: 16 - 17].
وقد كان من دأب العلماء والوعاظ التحذير من مكائد إبليس وصنوف غروره، وكان أول ما ألف بهذا الشمول كتاب "تلبيس إبليس" للإمام ابن الجوزي رحمه الله المتوفى 597 هـ، ولما اعترى طبعاته المختلفة من نقص وتحريف حرصنا على تحقيقه ودراسته في أطروحتنا للدكتوراه.
وهذه الطبعة في أصلها أطروحتان لنيل درجة الدكتوراه في العقيدة والمذاهب المعاصرة:
الأطروحة الأولى: أ. د. أحمد بن عثمان المزيد، وتبدأ من أول الكتاب إلى "فصل في ذكر أحاديث تبين خطأهم في أفعالهم" من الباب العاشر (ص 527).
والأطروحة الثانية: أ. د. علي بن عمر السحيباني، تبدأ من "ذكر تلبيس إبليس على الصوفية في الرقص والسماع والوجد" من الباب العاشر، إلى الباب الثالث عشر نهاية الكتاب.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
আদম সন্তানের ধ্বংসের এবং তার প্রতিপালক ও স্রষ্টার অবাধ্য হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো আল্লাহর শত্রু ইবলিসের আধিপত্য এবং তার সেই কূটচাল যার মাধ্যমে সে এই সৃষ্টিকে প্ররোচিত করার অঙ্গীকার করেছে। যেমন আল্লাহ তাআলা তার সম্পর্কে বলেছেন: {সে (ইবলিস) বলল, আপনি যেহেতু আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সেহেতু আমিও তাদের (আদম সন্তানদের) জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে বসে থাকব। অতঃপর আমি তাদের নিকট আসব তাদের সম্মুখ হতে, তাদের পেছন হতে, তাদের ডান দিক হতে এবং তাদের বাম দিক হতে; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।} [আল-আরাফ: ১৬ - ১৭]।
আলেম ও ওয়ায়েজদের (ধর্মীয় প্রবক্তা) চিরন্তন পদ্ধতি ছিল ইবলিসের ষড়যন্ত্র এবং তার বিভিন্ন প্রকার প্রবঞ্চনা সম্পর্কে সতর্ক করা। এই বিষয়ে ব্যাপক আকারে সর্বপ্রথম যে গ্রন্থটি রচিত হয়েছিল তা হলো ইমাম ইবনুল জাওজি (রাহিমাহুল্লাহ, মৃত্যু ৫৯৭ হি.) রচিত "তালবিসু ইবলিস" (ইবলিসের প্রবঞ্চনা)। যেহেতু এর বিভিন্ন সংস্করণে অনেক ত্রুটি ও বিকৃতি দেখা দিয়েছিল, তাই আমরা আমাদের ডক্টরেট থিসিসে এটি সম্পাদনা ও গবেষণার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি।
এই সংস্করণটি মূলত আকীদা ও সমকালীন মতবাদ বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের জন্য তৈরিকৃত দুটি থিসিসের সমন্বয়ে গঠিত:
প্রথম থিসিস: প্রফেসর ড. আহমদ বিন উসমান আল-মাযইয়াদ; এটি বইয়ের শুরু থেকে দশম পরিচ্ছেদের (৫২৭ পৃষ্ঠা) "তাদের কর্মকাণ্ডের ভুলসমূহ বর্ণনাকারী হাদিসসমূহের আলোচনা" নামক অনুচ্ছেদ পর্যন্ত।
দ্বিতীয় থিসিস: প্রফেসর ড. আলী বিন উমর আস-সুহাইবানী; এটি দশম পরিচ্ছেদের "সুফিদের নাচ, গান ও আবেগোচ্ছ্বাসের ওপর ইবলিসের প্রবঞ্চনা" অনুচ্ছেদ থেকে শুরু করে বইয়ের শেষ অর্থাৎ ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٦)
وأما قسم الدراسة فقد اختير من أطروحة أ. د. أحمد المزيد، ويشتمل على ثلاثة فصول مختصرة: ترجمة المؤلف، عقيدته، التعريف بالكتاب. ويجدر التنبيه إلى أن الفصل الثاني (عقيدة المؤلف) أوردناه كما هو في الأصل دون اختصار؛ نظرًا لأهميته.
كما اختصرَتْ هذه الطبعةُ كثيرًا من حواشي الأطروحتين، إلا التعليقات العقدية فأبقيناها كما هي في أصلها، فأوجزنا في التخريج والتوثيق والاستشهاد غاية الإيجاز، وحذفنا جلّ التراجم وفروق النسخ والتعليقات غير العقدية.
وقد طُبعت أطروحة أ. د. أحمد بن عثمان المزيد من قبل كاملة في ثلاثة مجلدات، والأطروحتان متوافرتان على الشبكة العنكبوتية لمن أراد الوقوف على الحواشي وقسم الدراسة كاملا.
গবেষণা অংশটি প্রফেসর ড. আহমদ আল-মাযইয়াদ-এর অভিসন্দর্ভ থেকে নির্বাচন করা হয়েছে এবং এটি তিনটি সংক্ষিপ্ত পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত: লেখকের জীবনী, তাঁর আকিদা (বিশ্বাস) এবং গ্রন্থ পরিচিতি। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, গুরুত্বের বিবেচনায় আমরা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি (লেখকের আকিদা) কোনো প্রকার সংক্ষেপণ ছাড়াই মূল উৎস অনুসারে অবিকলভাবে উপস্থাপন করেছি।
অনুরূপভাবে, এই সংস্করণে উভয় অভিসন্দর্ভের পাদটীকাগুলো ব্যাপকভাবে সংক্ষেপ করা হয়েছে; তবে আকিদা সংক্রান্ত মন্তব্যগুলো আমরা মূলের ন্যায় অপরিবর্তিত রেখেছি। হাদিস শনাক্তকরণ, তথ্যসূত্র যাচাই ও উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সংক্ষিপ্তকরণ পদ্ধতি অবলম্বন করেছি এবং অধিকাংশ জীবনী, পাণ্ডুলিপিগত পাঠভেদ ও আকিদা-বহির্ভূত মন্তব্যগুলো বর্জন করেছি।
প্রফেসর ড. আহমদ বিন উসমান আল-মাযইয়াদের অভিসন্দর্ভটি ইতিপূর্বে পূর্ণাঙ্গভাবে তিন খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। যারা পাদটীকা ও সম্পূর্ণ গবেষণা অংশটি বিস্তারিত দেখতে চান, তাদের জন্য উভয় অভিসন্দর্ভই ইন্টারনেটে সহজলভ্য রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٧)
المقدمة
وفيها ثلاثة فصول:
الفصل الأول: ترجمة المؤلف
الفصل الثاني: عقيدته
المبحث الأوّل: منهجه العام في العقيدة
المبحث الثاني: عقيدته في التوحيد
المبحث الثالث: عقيدته في الإيمان
المبحث الرابع: موقفه من الفِرق
الفصل الثالث: التعريف بالكتاب
المبحث الأول: اسم الكتاب ونسبته للمؤلف
المبحث الثاني: مصادر المؤلف ومنهجه في الكتاب
المبحث الثالث: قيمة الكتاب العلمية
المبحث الرابع: وصف النسخ الخطية
ভূমিকা
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের জীবনী
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর আকিদা
প্রথম অনুচ্ছেদ: আকিদার ক্ষেত্রে তাঁর সাধারণ পদ্ধতি
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাওহিদ বিষয়ে তাঁর আকিদা
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইমান বিষয়ে তাঁর আকিদা
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: বিভিন্ন দল ও মতবাদ সম্পর্কে তাঁর অবস্থান
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি
প্রথম অনুচ্ছেদ: গ্রন্থের নাম এবং লেখকের প্রতি এর সম্পৃক্ততা
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: লেখকের উৎসসমূহ এবং গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: গ্রন্থটির জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٩)
الفصل الأول: ترجمة المؤلفهو أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد بن علي بن عبيد الله بن عبد الله بن حُمَّادي -بضم الحاء المهملة وتشديد الميم وفتحها- بن أحمد بن محمد بن جعفر الجوزي. ولد ابن الجوزي بدرب حبيب في بغداد
(1)، واختلف في تاريخ ولادته. فقيل: سنة ثمان وخمسمائة، وقيل: سنة تسع وخمسمائة، وقيل: سنة عشر وخمسمائة، أو قبلها.
نشأ ابن الجوزي رحمه الله يتيمًا في بيت عريق، وأسرة كريمة، وتوفي والده وله من العمر ثلاث سنوات
(2)، وكان والده موسرًا فخلَّف له مالًا يستعين به في حياته.
وكفلته بعد ذلك أمه، ثم قامت عمته بتربيته، وحملته إلى خاله أبي الفضل محمد بن ناصر الذي حمله إلى الشيوخ فأسمعه المسند وغيره من الكتب الكبار.
وكان حريصًا على انتقاء الشيوخ الكبار والإفادة منهم، ولم يرحل ابن الجوزي رحمه الله في طلب العلم، بل اكتفى بما حصل عليه من علماء ومشايخ بغداد ومن وفد عليها، ولا يخفى أن بغداد آنذاك كانت عاصمة العلم والعلماء، ونقطة التقائهم وتنقلهم بين البلدان، بالإضافة إلى ما وقع له من كتب كثيرة سمعها من مشايخه الكبار بالأسانيد المتصلة.
تعرّض ابن الجوزي رحمه الله في آخر حياته لمحنة عظيمة أوردها معظم من ترجم له، وذلك أنه وُشي به إلى الخليفة الناصر بأمر اختلف في حقيقته، فشفعت له أم الخليفة الناصر لدين الله لدى الخليفة، فأطلق سراحه، وعاد إلى بغداد.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের জীবনীতিনি হলেন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন হাম্মাদি —'হা' বর্ণে পেশ এবং 'মীম' বর্ণে তাশদীদ ও যবর সহযোগে— বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-জাওযী। ইবনুল জাওযী বাগদাদের ‘দারবে হাবীব’ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়: ৫০৮ হিজরি সন, আবার বলা হয়: ৫০৯ হিজরি সন, কেউ বলেন: ৫১০ হিজরি সন, কিংবা তারও পূর্বে।
ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) এক অভিজাত ও সম্মানিত পরিবারে এতিম অবস্থায় বেড়ে ওঠেন। যখন তাঁর বয়স মাত্র তিন বছর তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতা বিত্তবান ছিলেন, ফলে তিনি তাঁর জন্য এমন সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন যা তাঁর জীবনযাত্রায় সহায়ক হয়েছিল।
এরপর তাঁর মা তাঁর লালন-পালনের ভার গ্রহণ করেন, অতঃপর তাঁর ফুফু তাঁর প্রতিপালনের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁকে তাঁর মামা আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন নাসিরের নিকট নিয়ে যান, যিনি তাঁকে বিভিন্ন শায়খদের নিকট নিয়ে যেতেন। ফলে তিনি ‘আল-মুসনাদ’ ও অন্যান্য বড় বড় কিতাব শ্রবণ করার সুযোগ পান।
তিনি বড় বড় শায়খদের নির্বাচন করতে এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) ইলম অন্বেষণে দেশভ্রমণ করেননি, বরং বাগদাদের আলিম ও মাশায়েখদের কাছ থেকে এবং সেখানে আগত ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে যা অর্জন করেছেন তাতেই তিনি ক্ষান্ত ছিলেন। এটি সুবিদিত যে, বাগদাদ সে সময় ছিল ইলম ও আলিমদের রাজধানী এবং বিভিন্ন দেশের আলিমদের মিলনস্থল ও যাতায়াতের কেন্দ্রবিন্দু। এর পাশাপাশি তিনি তাঁর বড় বড় উস্তাদদের কাছ থেকে অবিচ্ছিন্ন সনদে অসংখ্য কিতাব শ্রবণ করার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন।
ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের শেষলগ্নে এক কঠিন পরীক্ষার (মিহনা) সম্মুখীন হন, যা তাঁর অধিকাংশ জীবনীকার উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটি ছিল এই যে, খলিফা আন-নাসিরের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা হয়েছিল যার প্রকৃত কারণ নিয়ে মতভেদ আছে। অতঃপর খলিফা আন-নাসির লি-দীনিল্লাহর মাতা খলিফার নিকট তাঁর জন্য সুপারিশ করেন, ফলে তিনি মুক্তি পান এবং পুনরায় বাগদাদে ফিরে আসেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ولم تطل حياة ابن الجوزي بعد خروجه من سجنه بواسط ورجوعه إلى بغداد، فقد توفي ليلة الجمعة بعد المغرب، في الثاني عشر من شهر رمضان المبارك، سنة سبع وتسعين وخمسمائة (597 هـ)، بالجانب الغربي من مدينة السلام، بدار له قريبة من قبر معروف الكرخي، وله من العمر سبع وثمانون سنة تقريبًا.
قال ابن خلكان: "كان علّامة عصره، وإمام وقته في الحديث، وصناعة الوعظ، وصنّف في فنون عديدة"
(1).
وقال الذهبي: "الواعظ المتفنن، صاحب التصانيف الكثيرة الشهيرة في أنواع العلم، من التفسير والحديث والفقه والوعظ والأخبار والتاريخ وغير ذلك
… وعظ من صغره، وفاق فيه الأقران، ونظم الشعر المليح، وكتب بخطه ما لا يوصف، ورأى من القبول والاحترام ما لا مزيد عليه"
(2).
وقال ابن رجب الحنبلي: "الحافظ المفسر، الفقيه الواعظ، الأديب جمال الدين أبو الفرج، المعروف بابن الجوزي، شيخ وقته، وإمام عصره"
(3).
من مؤلفاته: أحكام النساء، أخبار الظراف والمتماجنين، الأذكياء، البر والصلة، بستان الواعظين ورياض السامعين، تبصرة المبتدئ وتذكرة المنتهي، تلقيح فهوم أهل الأثر، ذم الهوى، زاد المسير في علم التفسير، صيد الخاطر، العلل المتناهية في الأحاديث الواهية، غريب الحديث، فنون الأفنان في عيون علوم القرآن، كتاب الحمقى والمغفلين، كتاب الضعفاء والمتروكين، كتاب القصاص والمذكرين، المنتظم في تاريخ الملوك والأمم، الموضوعات من الأحاديث المرفوعات، نزهة الأديب.
--------------------------------------------
ওয়াসিতে কারাবাস থেকে মুক্তিলাভ এবং বাগদাদে ফিরে আসার পর ইবনুল জাওযীর জীবন আর দীর্ঘ হয়নি। তিনি ৫৯৭ হিজরি সনের ১২ই রমজান মোবারক, শুক্রবার রাতে মাগরিবের পর মদিনাতুস সালামের (বাগদাদ) পশ্চিম অংশে, মা'রুফ কারখীর কবরের নিকটবর্তী নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় সাতাশি বছর।
ইবনে খাল্লিকান বলেন: "তিনি ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ আল্লামা এবং তাঁর সময়ের ইলমে হাদিস ও ওয়ায-নসিহতের শিল্পের ইমাম; তিনি বহুবিদ শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করেছেন"
(১)।
আয-যাহাবী বলেন: "তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভাধর ওয়ায়েজ এবং তাফসির, হাদিস, ফিকহ, ওয়ায, আখবার (সংবাদ), ইতিহাসসহ ইলমের বিভিন্ন শাখায় প্রচুর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থের রচয়িতা ... শৈশব থেকেই তিনি ওয়ায শুরু করেন এবং এ ক্ষেত্রে সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। তিনি চমৎকার কবিতা রচনা করতেন এবং নিজ হাতে এত বেশি লিখেছেন যা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তিনি নজিরবিহীন জনপ্রিয়তা ও সম্মান লাভ করেছিলেন"
(২)।
ইবনে রজব আল-হাম্বলী বলেন: "তিনি হাফেজ, মুফাসসির, ফকিহ, ওয়ায়েজ এবং সাহিত্যিক জামালুদ্দিন আবুল ফারাজ, যিনি ইবনুল জাওযী নামে পরিচিত; তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের শায়খ ও তাঁর যুগের ইমাম"
(৩)।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: আহকামুন নিসা, আখবারুয যুরাফ ওয়াল মুতামাজিনিন, আল-আযকিয়া, আল-বিররু ওয়াস সিলাহ, বুস্তানুল ওয়ায়েযীন ওয়া রিয়াদুস সামিঈন, তাবসিরাতুল মুবতাদি ওয়া তাযকিরাতুল মুনতাহি, তালকিহ্ ফাহুম আহলিল আসার, যাম্মুল হাওয়া, যাদু-ম্যাসির ফি ইলমিত তাফসির, সাইদুল খাতির, আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদিসিল ওয়াহিয়াহ, গারিবুল হাদিস, ফুনুনুল আফনান ফি উয়ুন উলুমিল কুরআন, কিতাবুল হুমাকা ওয়াল মুগাফফালিন, কিতাবুদ দুয়াফা ওয়াল মাতরুকিন, কিতাবুল কুস্সাস ওয়াল মুযাক্কিরিন, আল-মুনতাযাম ফি তারিখিল মুলুক ওয়াল উমাম, আল-মাওদুআত মিনাল আহাদিসিল মারফুআত এবং নুযহাতুল আদীব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ١١)
الفصل الثاني: عقيدته
المبحث الأول: منهجه العام في العقيدةلما كان موضوع عقيدة الحافظ ابن الجوزي رحمه الله من الموضوعات الشائكة؛ نظرًا لمكانته العلمية من جهة، ونظرًا لما صدر عنه من مخالفة لمنهج السلف في تقرير بعض المسائل العقدية -فإنه يتحتم عليَّ الرجوع إلى أقوال الرجل المثبتة في كتبه التي تعتبر هي المصادر الأصلية لهذه الدراسة؛ ليكون الكلام على عقيدته بالعدل والإنصاف.
خلاصة في عقيدة ابن الجوزي عمومًا:وبعد اطّلاعي على عدد كبير من مؤلفات الشيخ رحمه الله المطبوعة والمتيسر من مخطوطاته في العقيدة، فإني خلصتُ إلى نتيجة وقناعة أن الشيخ رحمه الله موافق لأهل السنة عمومًا، عدا في مسألتين هما: مسألة الصفات الإلهية، ومسألة التبرك بالقبور؛ فإنه جانب الصواب فيهما، بل هو في المسألة الأولى مضطرب لم يثبت على رأي واحد، فهو تارة يقول بالإثبات، وتارة يقول بالتفويض، وأخرى بالتأويل، وقد بينتُ هذا بصورة تفصيلية في موضعه.
انتساب ابن الجوزي:إن ما وقع فيه ابن الجوزي رحمه الله من أخطاء عقدية هي -في نظري- زلة عالم، لا يتّبع عليها، ولا يُقتدى به فيها، غير أن هذه الأخطاء لم تصدر عنه من واقع انتساب إلى مذهب بدعي أو فرقة ضالة، بل ابتلي بذلك بسبب تقليده لبعض العلماء كابن عقيل وغيره، زيادة على أن الخطأ من سمات البشر، والعصمة للأنبياء؛ لذلك لا ندّعي العصمة لابن الجوزيء رحمه الله، وما وقع منه من خطأكان سببه الغلوّ الذي كان من بعضهم في الإثبات، كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "وقع الاعتداء في
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর আকিদা
প্রথম পরিচ্ছেদ: আকিদার ক্ষেত্রে তাঁর সাধারণ কর্মপন্থাযেহেতু হাফেজ ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর আকিদার বিষয়টি একটি অত্যন্ত জটিল বিষয়; একদিকে তাঁর ইলমি উচ্চমর্যাদার কারণে এবং অন্যদিকে আকিদাগত কিছু মাসআলা বর্ণনার ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজ বা পদ্ধতির সাথে তাঁর বিরোধপূর্ণ অবস্থানের কারণে—তাই আমার জন্য এটি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, আমি তাঁর সেই বক্তব্যগুলোর দিকেই ফিরে যাব যা তাঁর কিতাবসমূহে সুপ্রমাণিত এবং যেগুলো এই গবেষণার মূল উৎস হিসেবে বিবেচিত; যেন তাঁর আকিদা বা বিশ্বাসের ব্যাপারে ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক আলোচনা করা সম্ভব হয়।
সামষ্টিকভাবে ইবনুল জাওযীর আকিদা বিষয়ক সারসংক্ষেপ:আকিদা বিষয়ে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মুদ্রিত অসংখ্য গ্রন্থ এবং সহজলভ্য পাণ্ডুলিপিসমূহ পর্যালোচনার পর আমি এই সিদ্ধান্তে এবং নিশ্চিত বিশ্বাসে উপনীত হয়েছি যে, শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) সাধারণভাবে আহলুস সুন্নাহর সাথে একমত পোষণ করেন; কেবল দুটি মাসআলা ব্যতীত, আর তা হলো: আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত মাসআলা এবং কবরের মাধ্যমে বরকত হাসিলের মাসআলা। এই দুটি ক্ষেত্রে তিনি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। বরং প্রথম মাসআলাটির ক্ষেত্রে তিনি অস্থির ছিলেন এবং কোনো একটি সুনির্দিষ্ট মতের ওপর স্থির থাকতে পারেননি; তিনি কখনো গুণাবলি সাব্যস্ত করার কথা বলেন, কখনো তা আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করার কথা বলেন, আবার কখনো তার ব্যাখ্যা প্রদান করেন। আমি এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি।
ইবনুল জাওযীর সম্পৃক্ততা:ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) যে সকল আকিদাগত ভুলত্রুটি করেছেন, তা—আমার দৃষ্টিতে—একজন আলেমের বিচ্যুতি মাত্র, যা অনুসরণযোগ্য নয় এবং এক্ষেত্রে তাঁর অনুকরণ করা যাবে না। তবে এই ভুলগুলো কোনো বিদআতি মাযহাব বা ভ্রান্ত ফেরকার প্রতি তাঁর সম্পৃক্ততার কারণে সংঘটিত হয়নি; বরং তিনি ইবন আকিল এবং অন্যদের মতো কিছু আলেমকে অনুকরণ করার কারণে এই পরীক্ষায় পতিত হয়েছেন। এর পাশাপাশি ভুল করা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য এবং নিষ্পাপতা কেবল নবীদের জন্যই নির্ধারিত; তাই আমরা ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জন্য নিষ্পাপ হওয়ার দাবি করি না। তাঁর পক্ষ থেকে যে ভুল সংঘটিত হয়েছে তার কারণ ছিল গুণাবলি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কারো কারো চরমপন্থা, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সীমালঙ্ঘন সংঘটিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
النفي والإثبات في الحنابلة مما دبَّ إليهم من غيرهم الذين اعتدوا حدود الله بزيادة في النفي والإثبات"
(1).
وهذه بعض الملامح العامة لمنهج الإمام ابن الجوزي في التلقي والاستدلال على العقيدة، وبعد ذلك يكون الحكم للأغلب، ويُحمل الخطأ على القصور البشري وتأثير الشيوِخ على التلاميذ سلبًا وإيجابًا، والله يعفو عن الجمع بمنّه وكرمه.
1 - حثَّه على لزوم السنة واجتناب البدعة.
2 - ذمُّه للكلام وأهله
(2).
3 - تعظيمه للنقل.
4 - الإيمان بكل ما نُخبر به عن الصادق المصدوق.
5 - التسليم وترك التأويل
(3).
والخلاصة هي ما فصَّل فيه الحكم بالحق والعدل شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله إذ قال: "إن أبا الفرج -يعني ابن الجوزي- نفسه متناقض في هذا الباب، لم يثبت على قدم النفي ولا على قدم الإثبات؛ بل له كلام في الإثبات نظمًا ونثرًا ما أثبت به كثيرًا من الصفات التي أنكرها في هذا المصنَّف
(4). فهو في هذا الباب مثل كثير من الخائضين في هذا الباب من أنواع الناس، يثبتون تارة وينفون أخرى في مواضع كثيرة من الصفات، كما هو حال أبي الوفاء ابن عقيل وأبي حامد الغزالي"
(5).
--------------------------------------------
হাম্বলিদের মাঝে অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতির বিষয়টি অন্যদের পক্ষ থেকেই অনুপ্রবেশ করেছে, যারা অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করেছে"
(১)।
আকিদাহ গ্রহণ এবং এর সপক্ষে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ইমাম ইবনুল জাওযীর পদ্ধতির কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো। এর পরবর্তী বিচারিক মানদণ্ড হবে তাঁর অধিকাংশ মতামতের ভিত্তিতে; আর ভুলভ্রান্তিগুলোকে মানুষের সীমাবদ্ধতা এবং ছাত্রদের ওপর শিক্ষকদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় সকলকে ক্ষমা করুন।
১ - সুন্নাহর ওপর অটল থাকা এবং বিদআত বর্জনের প্রতি তাঁর উৎসাহ প্রদান।
২ - ইলমুল কালাম এবং এর অনুসারীদের প্রতি তাঁর নিন্দা
(২)।
৩ - বর্ণিত দলিলের (কুরআন ও সুন্নাহ) প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ।
৪ - সত্যবাদী ও সত্যয়নকারী (রাসূলুল্লাহ ﷺ) থেকে বর্ণিত প্রতিটি বিষয়ের ওপর ঈমান আনা।
৫ - নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ এবং অপব্যাখ্যা বর্জন করা
(৩)।
সারসংক্ষেপ হলো সেই সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠ ফয়সালা, যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আবুল ফারাজ —অর্থাৎ ইবনুল জাওযী— নিজেই এই বিষয়ে স্ববিরোধী অবস্থানে রয়েছেন। তিনি না অস্বীকৃতির ওপর অবিচল থেকেছেন, না স্বীকৃতির ওপর; বরং স্বীকৃতি বা ইসবাতের বিষয়ে কাব্য ও গদ্যে তাঁর এমন বক্তব্য রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি এমন অনেক গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন যা তিনি এই গ্রন্থে অস্বীকার করেছিলেন
(৪)। এই বিষয়ে তিনি সেই সব মানুষের মতো যারা এই তর্কে লিপ্ত হয়েছেন; তারা গুণাবলির অনেক ক্ষেত্রে কখনো তা সাব্যস্ত করেন আবার কখনো অস্বীকার করেন, যেমনটি আবু আল-ওয়াফা ইবনে আকীল এবং আবু হামিদ আল-গাজ্জালীর ক্ষেত্রে দেখা যায়"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
المبحث الثاني: عقيدته في التوحيد
المطلب الأول: توحيد الربوبيةاهتم ابن الجوزي رحمه الله بهذا القسم من التوحيد، وساق لإثباته أنواعًا عديدة من الأدلة، إما تقريرًا له أو ردًّا على شبه الملحدين، من دهرية وطبائعيين.
وكان سلاحه في ذلك الجهاد العظيم آيات القرآن العظيم التي عوّل عليها متأمِّلًا فمفسِّرًا، كما كان يحث دائمًا على استعمال نعمة العقل للتدبّر والتفكر والاستدلال على وجود الباري تعالى، وأنّه تعالى المتفرّد بالخلق والتدبير، وفي مقابل ذلك ينفي أن يكون الحسُّ أداةً صالحة للتعرّف على وجود الله تعالى، حتى قال في ذلك: "وإنما تخبّط الجاحد لأنه طلبه من حيث الحسّ"
(1).
وقد تضمّن تقريره لتوحيد الربوبية وردّه لشبهة الدهرية والطبائعيين جملة من الأدلة، أطلق عليها المتكلّمون مصطلحات معيَّنة، لكنّ ابن الجوزي خالفهم في ذلك منهجًا وتطبيقًا:
فمن حيث المنهج نجد أن الإمام ابن الجوزي رحمه الله جعل المجادلة والردّ
وسيلة لتقرير العقيدة الصحيحة التي تليق بمقام الربّ جل وعلا، واستعمل لذلك الآيات الباهرة من الكتاب المتلو، ومن الكون المنظور، أما المتكلمون فقد كان أكثر همّهم الجدل والمراء، وإبطال أدلة الخصم وإن كانت صحيحة!
أما من حيث التطبيق فلم يُطلق عليها تلك الأسماء؛ وقد تضمن منهجه الأدلة التالية:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদ বিষয়ে তাঁর আকিদাপ্রথম অনুচ্ছেদ: তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহইবনুল জাওজি (রহিমাহুল্লাহ) তাওহীদের এই প্রকারের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এটি প্রমাণের জন্য বহুবিধ দলিল উপস্থাপন করেছেন; যার উদ্দেশ্য ছিল হয় এর সত্যতা নিশ্চিত করা অথবা দাহরিয়্যাহ (বস্তুবাদী) ও প্রকৃতিবাদীদের মতো নাস্তিকদের সংশয় নিরসন করা।
এই মহান জিহাদে তাঁর প্রধান অস্ত্র ছিল মহান কুরআনের আয়াতসমূহ, যার ওপর তিনি গভীর অনুধাবন ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে নির্ভর করেছেন। পাশাপাশি তিনি মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব এবং সৃষ্টি ও পরিচালনায় তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রমাণে আকল বা বিবেকের নিয়ামতকে চিন্তাগবেষণায় ব্যবহারের ওপর সর্বদা গুরুত্বারোপ করতেন। এর বিপরীতে তিনি ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতাকে আল্লাহর অস্তিত্ব উপলব্ধির উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে অস্বীকার করেছেন, এমনকি এ বিষয়ে তিনি বলেছেন: "অস্বীকারকারী মূলত বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে কারণ সে তাঁকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে অনুসন্ধান করেছে"
(১)।
তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহর বর্ণনা এবং দাহরিয়্যাহ ও প্রকৃতিবাদীদের সংশয় খণ্ডনে তাঁর উপস্থাপিত দলিলসমূহে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেগুলোকে কালামশাস্ত্রবিদগণ নির্দিষ্ট কিছু পরিভাষায় অভিহিত করেছেন। তবে ইবনুল জাওজি মানহাজ (পদ্ধতি) ও প্রয়োগ—উভয় ক্ষেত্রেই তাঁদের থেকে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন:
মানহাজের দিক থেকে আমরা দেখতে পাই যে, ইমাম ইবনুল জাওজি (রহিমাহুল্লাহ) বিতর্ক ও খণ্ডনকে মহান রবের মর্যাদার উপযোগী সঠিক আকিদা সাব্যস্ত করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এজন্য তিনি পঠিত কিতাব (কুরআন) এবং দৃশ্যমান মহাবিশ্বের বিস্ময়কর নিদর্শনাবলি ব্যবহার করেছেন। পক্ষান্তরে, কালামশাস্ত্রবিদদের প্রধান লক্ষ্য ছিল তর্কালঙ্কার ও বিবাদ করা এবং প্রতিপক্ষের দলিল সঠিক হলেও তা খণ্ডন করা!
প্রয়োগের দিক থেকে তিনি সেই সকল দলিলকে তাদের দেওয়া নামে অভিহিত করেননি; তাঁর পদ্ধতিতে নিম্নোক্ত দলিলসমূহ অন্তর্ভুক্ত ছিল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
أولًا: إثباته لحقيقة دور العقل السليم:وهو الاستدلال على وجود الحق تبارك وتعالى، لا أن يكون وسيلة للضلال والانحراف؛ فقال عن فضيلة العقل من جهة الاستنباط: "إنما تتبين فضيلة الشيء بثمرته وفائدته، وقد عرفت ثمرة العقل وفائدته، فإنه هو الذي دلّ على الإله، وأمر بطاعته وامتثال أمره، وثبت معجزات الرسل وأمر بطاعتهم، وتأمّل العواقب فاعتبرها فراقبها وعمل بمقتضى مصالحها، وقاوم الهوى .. وحثّ على الفضائل ونهى عن الرذائل"
(1).
وقال عن الدهرية ناعيًا: "وهؤلاء لا لم يدركوا الصانع بالحس ولم يستعملوا في معرفته العقل جحدوه، وهل يشك ذو عقل في وجود صانع؟! "
(2).
ثانيًا: الخَلْق دليل على الخالق: "أو دليل الخلق والاختراع":وقد ملأ تفسيره بالرّدود على الطبائعيين ومن على شاكلتهم ممن يشكّ في الخالق جلّ وعلا أو يجحده: فعند تفسيره لقول الله تبارك وتعالى: {قُلِ انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [يونس: 101] قال: "قل للمشركين الذين يسألونك الآيات على توحيد الله: انظروا بالتفكر والاعتبار ماذا في السماوات والأرض من الآيات والعبر التي تدل على وحدانيته، ونفاذ قدرته، كالشمس، والقمر، والنجوم، والجبال، والشجر، وكل هذا يقتضي خالقًا مدبِّرًا"
(3).
--------------------------------------------
প্রথমত: সুস্থ বিবেকের প্রকৃত ভূমিকার প্রমাণ পেশ:আর তা হলো মহান আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের সপক্ষে প্রমাণ পেশ করা, ভ্রষ্টতা ও বিচ্যুতির মাধ্যম হওয়া নয়। উদ্ভাবন ও অনুমানের দিক থেকে বিবেকের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "বস্তুর শ্রেষ্ঠত্ব তার ফল ও উপযোগিতা দ্বারাই স্পষ্ট হয়। আপনি বিবেকের ফল ও উপযোগিতা সম্পর্কে জেনেছেন; কেননা তা-ই স্রষ্টার প্রতি পথপ্রদর্শন করে, তাঁর আনুগত্য ও আদেশ পালনের নির্দেশ দেয়, রসূলগণের মুজিযা বা অলৌকিকত্ব প্রমাণ করে এবং তাঁদের আনুগত্যের নির্দেশ দেয়। এটি পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করে, অতঃপর তা বিবেচনা করে ও সতর্ক হয় এবং সেই অনুযায়ী স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমল করে। এটি কুপ্রবৃত্তিকে প্রতিরোধ করে... সচ্চরিত্রের প্রতি উৎসাহিত করে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে"
(১)।
তিনি দাহরিয়াদের (বস্তুবাদী নাস্তিক) সম্পর্কে আক্ষেপ করে বলেছেন: "এরা যেহেতু ইন্দ্রিয় দ্বারা মহান কারিগরকে (স্রষ্টা) অনুভব করতে পারেনি এবং তাঁকে জানার ক্ষেত্রে বিবেকের প্রয়োগ করেনি, তাই তারা তাঁকে অস্বীকার করেছে। কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কি স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করতে পারে?!"
(২)।
দ্বিতীয়ত: সৃষ্টিই স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ: "অথবা সৃষ্টি ও উদ্ভাবনের প্রমাণ":তিনি তাঁর তাফসীর গ্রন্থকে প্রকৃতিবাদী ও তাদের সমমনাদের খণ্ডনে পরিপূর্ণ করেছেন, যারা মহান স্রষ্টা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে বা তাঁকে অস্বীকার করে। মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, তোমরা লক্ষ্য করো আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে কী কী আছে} [ইউনুস: ১০১]-এর তাফসীরে তিনি বলেন: "মুশরিকদের বলো, যারা আল্লাহর একত্ববাদের সপক্ষে আপনার কাছে নিদর্শন দাবি করে: আপনারা গভীর চিন্তা ও শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আসমান ও জমিনের সেই সমস্ত নিদর্শন ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলো দেখুন যা তাঁর একত্ববাদ ও কুদরতের কার্যকারিতার প্রমাণ দেয়; যেমন—সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, পাহাড়-পর্বত এবং বৃক্ষলতা। এই সবকিছুর জন্যই একজন পরিচালক স্রষ্টার প্রয়োজন"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ومما ذكره في كتابه التلبيس قوله: "فإن الإنسان لو مرّ بقاع ليس فيه بنيان، ثم عاد فرأى حائطًا مبنيًّا علم أن لابدّ له من بانٍ بناه، فهذا المهاد الموضوع، وهذا السقف المرفوع، وهذه الأبنية العجيبة والقوانين الجارية على وجه الحكمة، أما تدلّ على صانع؟! "
(1).
ثالثًا: تدبير الأمر دليل على ربوبية الخالق: "أو دليل العناية":فالباري جلّ وعلا لم يترك خلقه سُدًى، بل ربّاهم ورعاهم من أضعف مخلوق إلى أعظم، إمّا بالتنشئة والخلق، وإمَّا بالرزق والهداية.
وللتنبيه على هذا الدليل قال ابن الجوزي: "من تأمّل تحديد الأسنان لتقطع، وتعريض الأضراس لتطحن، واللسان يقلّب الممضوغ، وتسليط الكبد على الطعام ينضجه ثم يُنفذ إلى كل جارحة قدر ما تحتاج إليه من الغذاء
… والعقل الذي يرشد إلى المصالح، وكل شيء من هذه الأشياء ينادي: أفي الله شك؟! "
(2).
وقال أيضًا: "لما تلمّحت تدبير الصانع في سَوْق رزقي بتسخير السحاب وإنزال المطر برفق، والبذر دفين تحت الأرض كالموتى قد عفن ينتظر نفخة من صور الحياة، فإذا أصابته اهتز خضرًا، وإذا انقطع عنه الماء مديد الطلب يستعطي، وأمال رأسه خاضعًا ولبس حلل التغير، فهو محتاج إلى ما أنا محتاج إليه، من حرارة الشمس، وبرودة الماء، ولطف النسيم"
(3).
رابعًا: دليل النفس:وقد استدلّ ابن الجوزي رحمه الله بهذا الدليل ليثبت به أمريْن:
--------------------------------------------
তিনি তাঁর 'আত-তালবিস' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই উক্তি: "কোনো মানুষ যদি এমন কোনো প্রান্তরের পাশ দিয়ে যায় যেখানে কোনো দালানকোঠা নেই, অতঃপর সে ফিরে এসে সেখানে একটি দেয়াল নির্মিত দেখতে পায়, তবে সে নিশ্চিতভাবেই জানবে যে, অবশ্যই এর একজন নির্মাতা রয়েছেন যিনি এটি নির্মাণ করেছেন। সুতরাং, এই সুশৃঙ্খল শয্যা (পৃথিবী), এই সুউচ্চ ছাদ (আকাশ), এই বিস্ময়কর স্থাপত্যসমূহ এবং প্রজ্ঞার ভিত্তিতে পরিচালিত এই নিয়মাবলি কি একজন মহান কারিগরের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় না?!"
(১).
তৃতীয়ত: বিষয়াবলির ব্যবস্থাপনা হলো স্রষ্টার রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের প্রমাণ: "অথবা যত্নের প্রমাণ":মহান স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টিজগতকে নিরর্থক ছেড়ে দেননি; বরং তিনি ক্ষুদ্রতম সৃষ্টি থেকে শুরু করে সর্বশ্রেষ্ঠ পর্যন্ত সকলের লালন-পালন ও তত্ত্বাবধান করেছেন—কখনো বিকাশ ও সৃষ্টির মাধ্যমে, আবার কখনো রিজিক ও হিদায়াতের মাধ্যমে।
এই প্রমাণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ইবনুল জাওযি বলেছেন: "যে ব্যক্তি দাঁতের ধারালো গঠনের প্রতি লক্ষ্য করবে যা কাটার জন্য তৈরি, চোয়ালের দাঁতগুলো চওড়া হওয়ার প্রতি যা পেষার জন্য, চিবানো খাদ্যকে জিহ্বার নাড়াচাড়া করার প্রতি, খাদ্যের ওপর কলিজার নিয়ন্ত্রণ যা খাবারকে পরিপাক করে এবং প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে তার প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টি পৌঁছে দেয়... এবং সেই বিবেক যা কল্যাণের পথ দেখায়—এসবের প্রতিটি জিনিস উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করছে: আল্লাহর অস্তিত্বে কি কোনো সন্দেহ আছে?!"
(২).
তিনি আরও বলেছেন: "যখন আমি মেঘমালাকে অনুগত করে এবং মৃদুভাবে বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে আমার রিজিক আনয়নে মহান কারিগরের ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন দেখলাম যে মাটির নিচে দাফনকৃত বীজটি মৃতদেহের মতো পচে গিয়ে জীবনের শিঙায় ফুঁৎকারের প্রতীক্ষা করছে। অতঃপর যখন বৃষ্টির পানি তাকে স্পর্শ করে, তখন সে সজীব হয়ে নেচে ওঠে। আর যদি পানি বন্ধ হয়ে যায়, তবে সে দীর্ঘ অন্বেষায় সকাতর প্রার্থনা জানায়, বিনত মস্তকে মাথানত করে এবং পরিবর্তনের জীর্ণ পোশাক পরিধান করে। সুতরাং সে-ও ঠিক সেই জিনিসেরই মুখাপেক্ষী যার মুখাপেক্ষী আমি—যেমন সূর্যের তাপ, পানির শীতলতা এবং স্নিগ্ধ বাতাস।"
(৩).
চতুর্থত: আত্মিক প্রমাণ:ইবনুল জাওযি রহ. এই প্রমাণের মাধ্যমে দুটি বিষয় সাব্যস্ত করার প্রয়াস পেয়েছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الأول: وقد مرَّ معنا في دليل الخلق والعناية، وقد ذكر هذا عند تفسيره لقوله تعالى: {وَفِي أَنْفُسِكُمْ} [الذاريات: 21]، فقال: "آياتٌ إذ كنتم نُطفًا، ثم عظامًا، ثم علقًا، ثم مُضغًا
… "
(1)، ولا داعي للتفصيل في هذا دفعًا للتكرار.
الثاني: ومضمون هذا الدليل أن النفس مقطوع بوجودها، رغم أن الحس لم يثبت ذلك فضلًا عن أن يحيط بها علمًا؛ فإذا صحّ هذا في النفس وهي مخلوقة أفلا يكون الخالق عز وجل أولى ألّا تدركه الحواس! وهذا من أعظم الأدلة التي حاجّ بها ابن الجوزي عقول الملحدين المعاندين.
وهذه بعض أقواله الجامعة في ذلك: "لنا أشياء لا تدرك إلا جملة كالنفس والعقل، ولم يمتنع أحدٌ من إثبات وجودهما"
(2).
وقال أيضًا: "من أكبر الدليل على وجود الخالق سبحانه هذه النفس الناطقة المميزة المحركة للبدن على مقتضى إرادتها، فقد دبّرت مصالحها، وترقت إلى معرفة الأفلاك، واكتسبت ما أمكن تحصيله من العلوم .. فلم يحجبها سترٌ وإن تكاثف، ولا يُعرف مع هذا ماهيتها، ولا كيفيتها، ولا جوهرها، ولا محلها .. وهذا كله يوجب عليها أن لها مدبِّرًا وخالقًا، وكفى بذلك دليلًا عليه! إذ لو كانت وُجدت بها لما خفيت أحوالها عليها، فسبحانه سبحانه! "
(3).
خامسًا: دليل حلول الحوادث:استدل ابن الجوزي رحمه الله للمرة الوحيدة -فيما وقفتُ عليه- بهذا الدليل الكلامي على وجود الخالق تعالى، وقد علَّقتُ على هذا في موطنه، وبيّنتُ حقيقة
--------------------------------------------
প্রথমত: সৃষ্টি ও নৈপুণ্যের প্রমাণের (দাليلুল খালক ওয়াল ইনায়াহ) আলোচনায় এটি আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। মহান আল্লাহর বাণী: “এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও” [আয-যারিয়াত: ২১] এর তাফসীরকালে তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: “নিদর্শনাবলি, যখন তোমরা ছিলে শুক্রাণু, অতঃপর অস্থি, অতঃপর রক্তপিণ্ড, অতঃপর মাংসপিণ্ড...।”
(১) পুনরুক্তি এড়ানোর লক্ষ্যে এখানে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নেই।
দ্বিতীয়ত: এই প্রমাণের সারমর্ম হলো, আত্মার অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, যদিও ইন্দ্রিয় তা সাব্যস্ত করতে পারেনি এবং এর পূর্ণ জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হয়নি। যদি আত্মার ক্ষেত্রে এটি সত্য হয়—অথচ এটি একটি সৃষ্ট বস্তু—তবে মহান স্রষ্টা কি ইন্দ্রিয়ের অগোচরে থাকার অধিকতর যোগ্য নন! এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রমাণ যার মাধ্যমে ইবনুল জাওযী একগুঁয়ে নাস্তিকদের যুক্তির মোকাবিলা করেছেন।
এ বিষয়ে তাঁর কিছু সারগর্ভ উক্তি নিম্নরূপ: “আমাদের কাছে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা কেবল সামগ্রিকভাবেই উপলব্ধি করা যায়, যেমন আত্মা ও বুদ্ধি; এবং এ দুটির অস্তিত্ব স্বীকার করতে কেউ বিরত থাকেনি।”
(২)।
তিনি আরও বলেন: “মহান স্রষ্টার অস্তিত্বের অন্যতম বড় প্রমাণ হলো এই বাকশক্তি সম্পন্ন ও হিতাহিত জ্ঞানসম্পন্ন আত্মা, যা নিজের ইচ্ছানুযায়ী শরীরকে পরিচালনা করে। এটি নিজের কল্যাণ পরিচালনা করে, মহাকাশমন্ডলীর জ্ঞান পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে এবং অর্জনযোগ্য সকল জ্ঞান অর্জন করেছে... কোনো আবরণই একে আড়াল করতে পারেনি, যদিও তা অত্যন্ত ঘন। অথচ এর সাথে সাথে এর স্বরূপ, প্রকৃতি, সারবস্তু বা অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না... এই সবকিছুই প্রমাণ করে যে, এর একজন পরিচালক ও স্রষ্টা রয়েছেন, আর তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে এটাই যথেষ্ট! কারণ, এটি যদি নিজে থেকেই অস্তিত্ব লাভ করত, তবে এর অবস্থা এর কাছে গোপন থাকত না। অতএব, পবিত্রতা তাঁরই, পরম পবিত্র তিনি!”
(৩)।
পঞ্চম: নশ্বর গুণাবলির অনুপ্রবেশ (হুলুলুল হাওয়াদ্দিস) সংক্রান্ত দলিল:আমার জানামতে ইবনুল জাওযী (রহ.) কেবল একবারই মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে এই কালামশাস্ত্রীয় দলিলটি ব্যবহার করেছেন। আমি যথাস্থানে এ বিষয়ে মন্তব্য করেছি এবং এর প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
هذا الدليل وما يترتّب عليه عند أهل الكلام
(1)، غير أن ابن الجوزي قد خالف المتكلمين -كما قدّمتُ سابقًا- في الاستدلال به، فلم يتماد في ذكر لوازمه الباطلة: من نفي الصفات عن المولى تعالى ذكره، ومن نفي قدرته تعالى على الفعل .. في تفاصيل خطيرة، بل اختصره فقال: "ومن الأدلة القطيعة على وجوده: أن العالم حادث، بدليل أنه لا يخلو من الحوادث، وكل ما لا ينفك عن الحوادث حادث، ولابدّ لحدوث هذا الحادث من سبب وهو الخالق سبحانه"
(2).
وهذه طريقة ابن عقيل فيما ذكره عنه شيخ الإسلام ابن تيمية
(3).
المطلب الثاني: توحيد الألوهية:لا شكَّ أن اعتناء الإمام ابن الجوزي بعلوم الكتاب والسُّنة والتصنيف فيها قد ترك أثرًا قويًّا لديه من حيث الاعتقاد والتمسك بمقتضى تلك العلوم، فوجدته موافقًا للكتاب والسنة ومنهج السلف الصالح فيما وقفتُ عليه من موضوعات هذا التوحيد، عدا كلامه في موضوع التبرك كما سيأتي.
وسأورد بعض ما وقفتُ عليه من كلامه وتحريراته في ذلك الخصوص:
أولًا: استحقاق الربّ جلّ وعلا للعبادة وحده، دون سواه؛ لكونه خالقًا:فالذي يَخلق هو الذي يُعبد، قال ابن الجوزي عند تفسيره لقوله تعالى: {وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَاعِبِينَ} [الأنبياء: 16]: "أي: لم نخلق ذلك عبثًا، إنما خلقناهما دلالة على قدرتنا ووحدانيتنا؛ ليعتبر الناس بخلقه، فيعلموا أن العبادة لا تصلح إلا لخالقه
… "
(4).
--------------------------------------------
এই দলিল এবং ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের মতে এর থেকে যা কিছু অনিবার্য হয়
(১), তবে ইবনুল জাওযী এই দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে মুতাকাল্লিমদের বিরোধিতা করেছেন—যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি—ফলে তিনি এর বাতিল ও অসার পরিণামগুলো উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করেননি: যেমন মহান প্রভুর গুণাবলী অস্বীকার করা, এবং কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষমতা অস্বীকার করা... এ জাতীয় বিপজ্জনক বিশদ বর্ণনার ক্ষেত্রে। বরং তিনি সংক্ষেপ করে বলেছেন: "তাঁর অস্তিত্বের অন্যতম অকাট্য প্রমাণ হলো: এই জগত নশ্বর (সৃষ্ট), এর প্রমাণ হলো এটি নশ্বর ঘটনাবলী (হাওয়াদিস) থেকে মুক্ত নয়, আর যা কিছু নশ্বরতা থেকে পৃথক হতে পারে না তা নিজেই নশ্বর, আর এই নশ্বর সৃষ্টির জন্য অবশ্যই একজন কারণ থাকা প্রয়োজন, আর তিনি হলেন মহাপবিত্র স্রষ্টা"
(২)।
আর এটিই হলো ইবনে আকীলের পদ্ধতি, যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন
(৩)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ:এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান এবং এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় ইমাম ইবনুল জাওযীর বিশেষ মনোযোগ তাঁর আকিদাহ এবং সেই জ্ঞানের দাবি অনুযায়ী দৃঢ় থাকার ওপর এক শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছে। ফলে এই তাওহীদের বিষয়বস্তুগুলোর মধ্য থেকে আমি যা কিছু অধ্যয়ন করেছি, তাতে তাঁকে কিতাব ও সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের মানহাজের অনুসারী হিসেবে পেয়েছি; কেবল তাবাররুক (বরকত গ্রহণ) সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ছাড়া, যা পরবর্তীতে আসছে।
আমি এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও বিশ্লেষণের যা কিছু পেয়েছি তার কিছু অংশ নিম্নে তুলে ধরছি:
প্রথমত: স্রষ্টা হওয়ার কারণে একমাত্র মহান রব-ই ইবাদতের হকদার, অন্য কেউ নয়:যিনি সৃষ্টি করেন তিনিই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি আসমান, যমীন ও তাদের মধ্যবর্তী কোনো কিছু খেলার ছলে সৃষ্টি করিনি} [সূরা আম্বিয়া: ১৬]-এর তাফসীরে ইবনুল জাওযী বলেন: "অর্থাৎ: আমি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করিনি, বরং আমি এ দুটিকে আমার ক্ষমতা ও একত্বের নিদর্শন হিসেবে সৃষ্টি করেছি; যাতে মানুষ তাঁর সৃষ্টি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং জানতে পারে যে, ইবাদত কেবল তাঁর স্রষ্টা ছাড়া আর কারো জন্য শোভা পায় না..."
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ثانيًا: استحقاق الربّ جل وعلا للعبادة وحده، دون سواه؛ لكونه رازقًا:قال رحمه الله في تفسير قول الله جلّ وعلا: {قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ} [سبأ: 24]: "إنما أُمر أن يسأل الكفار عن هذا احتجاجًا عليهم بأن الذي يرزق هو المستحق للعبادة، وهم لا يثبتون رازقًا سواه؛ ولهذا قيل له: {قُلِ اللَّهُ} لأنهم لا يجيبون بغير هذا"
(1).
ثالثًا: عدم جواز اتخاذ معبود غير الله:قال في معنى قوله تعالى: {هَذَا ذِكْرُ مَنْ مَعِيَ وَذِكْرُ مَنْ قَبْلِي} [الأنبياء: 24]: "المعنى: هذا القرآن وهذه الكتب التي أُنزلت قبله، فانظروا هل في واحدٍ منها أن الله أمر باتخاذ إله سواه؟! فبطل بهذا البيان جواز اتخاذ معبود غيره من حيث الأمرُ به"
(2).
كما تكلم الإمام ابن الجوزي رحمه الله في بعض التفاصيل المتعلقة بتوحيد العبادة، ومن ذلك:
1 - النهي عن تعظيم القبور، والصلاة عندها:ففتنة القبور من أعظم ما كاد به إبليسُ بني آدم؛ إذ سوّل لهم الغلوّ في القبور بدعاء الموتى، والطواف حول قبورهم، فهوَوْا في دركات الشرك؛ ولهذا لَعن رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في نزعات الموت -بأبي هو وأمِّي! - اليهود والنصارى
(3)؛ لأنهم اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد، والغاية من ذلك هي: التحذير من صنيعهم.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: মহান রব রিযিকদাতা হওয়ার কারণে একমাত্র তিনিই ইবাদতের যোগ্য হওয়া, অন্য কেউ নয়:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আসমান ও যমীন থেকে কে তোমাদের রিযিক দান করে? বলুন, আল্লাহ} [সাবা: ২৪]—এর তাফসিরে বলেন: "কাফিরদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে এই যুক্তিতে যে, যিনি রিযিক দান করেন তিনিই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। আর তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো রিযিকদাতাকে স্বীকার করে না; এই কারণেই তাকে বলতে বলা হয়েছে: {বলুন, আল্লাহ}, কারণ তারা এর বাইরে কোনো উত্তর দেয় না"
(১)।
তৃতীয়ত: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য গ্রহণ করার অবৈধতা:তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {এটি আমার সঙ্গীদের জন্য উপদেশ এবং আমার পূর্ববর্তীদের জন্যও উপদেশ} [আল-আম্বিয়া: ২৪]—এর অর্থে বলেন: "এর অর্থ হলো: এই কুরআন এবং এর আগে নাজিল হওয়া কিতাবসমূহ; সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো যে, এগুলোর কোনো একটিতেও কি আল্লাহ তাঁর পরিবর্তে অন্য কোনো ইলাহ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন?! অতএব, এই বর্ণনার মাধ্যমে আদেশের দিক থেকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য গ্রহণ করার বৈধতা বাতিল হয়ে গেল"
(২)।
একইভাবে ইমাম ইবনুল জাওযি (রহিমাহুল্লাহ) তাওহীদুল ইবাদাহ বা ইবাদতের একত্ববাদ সংক্রান্ত কিছু বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - কবরকে অত্যধিক সম্মান প্রদর্শন এবং তার নিকট সালাত আদায় করা থেকে নিষেধ:কবরের ফিতনা হলো সেই সকল বড় চক্রান্তের অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে ইবলিস আদম সন্তানদের বিভ্রান্ত করে; কেননা সে তাদের কবরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি, মৃতদের কাছে দুআ করা এবং তাদের কবরের চারদিকে তওয়াফ করাকে সুশোভিত করে দেখায়, ফলে তারা শিরকের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যু যন্ত্রণার সময়েও—আমার পিতা ও মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক!—ইহুদি ও নাসারাদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন
(৩); কারণ তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছিল। আর এর উদ্দেশ্য হলো: তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সতর্ক করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
قال ابن الجوزي رحمه الله: "وأمّا نهيُه عن اتخاذ القبور مساجد فلئلا تُعظَّم؛ لأن الصلاة عند الشيء تعظيم له، وقد أغرب أهل زماننا بالصلوات عند قبر معروف
(1) وغيره؛ وذلك لغلبة الجهل وملكة العادات"
(2).
وقال رحمه الله: "أصل عبادة الأوثان والأصنام من تعظيم قبور الأولياء والصالحين؛ ولهذا نهى الشارع صلى الله عليه وسلم عن تعظيم القبور والصلاة عندها والعكوف عليها؛ فإن ذلك هو الذي أوقع الأمم الماضية في الشرك الأكبر.
ولهذا نجد أيضًا في هذا الزمان أقوامًا من الضُّلال الذين استحوذ عليهم الشيطان يتضرعون عند القبور، وعند سماع ذكر مشايخهم ويخشعون عندها، ويعبدونهم بقلوبهم عبادة لا يفعلونها في المسجد ولا في السَّحَر، ومنهم من يسجد للقبر، فهذا هو الشرك بالله نعوذ بالله! "
(3).
2 - منع الحلف بغير الله:علّل ابن الجوزي رحمه الله النهي عن الحلف بغير الله لما فيه من تعظيم لذلك الشيء المحلوف به، فقال في معرض تعليقه على قول النبي صلى الله عليه وسلم: "إن الله ينهاكم أن تحلفوا بآبائكم"
(4): "كان من عادة العرب أن يحلفوا بآبائهم. والحلف بالشيء تعظيم له، فنهى رسول الله عن تعظيم غير الله بالقسم به"
(5).
3 - النهي عن سبّ الدهر:بيَّن ابن الجوزي رحمه الله أن العرب كانوا إذا أصابتهم مصيبة يسبّون الدهر، وينسبون ذلك إليه، ويرونه الفاعلَ لتلك الأشياء، ولا يرونها من قضاء الله عز وجل.
--------------------------------------------
ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর কবরসমূহকে মাসজিদে পরিণত করার ব্যাপারে তাঁর (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর) নিষেধ করার কারণ হলো যাতে কবরকে অতি-সম্মান বা তাজিম করা না হয়; কেননা কোনো কিছুর নিকটে সালাত আদায় করা মূলত তাকে তাজিম করা। আমাদের যুগের লোকেরা মা’রুফ
(১) ও অন্যদের কবরের নিকটে সালাত আদায়ের মাধ্যমে এক অদ্ভুত আচরণ শুরু করেছে; আর এটি মূর্খতার প্রাবল্য ও অভ্যাসের দাসত্বের কারণেই ঘটেছে"
(২)।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: "মূর্তি ও প্রতিমা পূজার মূল উৎস হলো ওলী ও নেককার বান্দাদের কবরের প্রতি অতি-সম্মান প্রদর্শন। এ কারণেই শরীয়ত প্রণেতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরকে তাজিম করা, কবরের নিকটে সালাত আদায় করা এবং সেখানে একনিষ্ঠভাবে অবস্থান (ইতিফাক) করা থেকে নিষেধ করেছেন; কেননা এটিই পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে বড় শিরকে নিপতিত করেছিল।
এ কারণেই আমরা এই যুগেও পথভ্রষ্টদের এমন কিছু দলকে দেখতে পাই যাদের ওপর শয়তান আধিপত্য বিস্তার করেছে; তারা কবরের নিকটে কাকুতি-মিনতি করে, তাদের মাশায়েখদের আলোচনার সময় বিনম্র হয় এবং অন্তরের সাথে তাদের এমন ইবাদত করে যা তারা মাসজিদে কিংবা শেষ রাতেও (আল্লাহর জন্য) করে না। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ কবরে সিজদাহ পর্যন্ত করে। অথচ এটিই আল্লাহর সাথে শিরক, আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি!"
(৩)।
২ - আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে শপথ করা নিষেধ:ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে শপথ করা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ এই বর্ণনা করেছেন যে, এতে সেই বস্তুর প্রতি তাজিম বা অতি-সম্মান প্রকাশ পায় যার নামে শপথ করা হচ্ছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী—"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন"
(৪)—এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন: "নিজেদের পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করা আরবদের অভ্যাস ছিল। কোনো কিছুর নামে শপথ করা মূলত তাকে তাজিম করা, তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শপথের মাধ্যমে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সম্মান প্রদর্শন করতে নিষেধ করেছেন"
(৫)।
৩ - কাল বা সময়কে গালি দিতে নিষেধ করা:ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, আরবরা যখন কোনো বিপদে পতিত হতো তখন তারা কাল বা সময়কে গালি দিত এবং মুসীবতকে কালের দিকেই সম্বন্ধ করত। তারা সময়কেই সেই কাজের কর্তা মনে করত এবং সেগুলোকে মহান আল্লাহর ফয়সালা হিসেবে গণ্য করত না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وقال في معنى حديث: "لا تسبوا الدهر؛ فإن الله هو الدهر"
(1)، أي: هو الذي يصيبكم بهذه المصائب، فإذا سببتم فاعلها فكأنكم قصدتم الخالق"
(2).
4 - النهي عن قول: مُطرنا بنوء كذا:نقل أقوال العلماء في الأنواء وهي النجوم، وأن العرب كانت تنسب كل غبث يكون بعد طلوع نجم وسقوط آخر إلى ذلك النجم الساقط، فيقولون: مُطرنا بنوء كذا. ولا شك أن هذا شرك عظيم بربّ العالمين.
ثم بيَّن الضابط الصحيح في ذلك فقال: "ومن لم يكن اعتقاده أن الكوكب يفعل لم يضرّه هذا القول. وقد أجاز العلماء أن يُقال: مُطرنا في نوء كذا، ولا يقال: بنوء كذا"
(3).
5 - النهي عن التطيّر:عرّف التطيّر بقوله: "الطيرة: من التطيّر، وهو التشاؤم بالشيء تراه أو تسمعه وتتوهّم وقوع المكروه به"
(4).
وعلّل نفي النبي صلى الله عليه وسلم للعَدْوى بقوله: "لا عدوى" بأنه إنمّا أراد إضافة الأشياء إلى القدر؛ لئلا يقف الإنسان مع السبب وينسى المسبِّب، والله تعالى قد يعمل الأسباب وقد يبطلها؛ فأراد النبي صلى الله عليه وسلم إضافة الواقعات من الضرر والنفع إلى الله عز وجل
(5).
--------------------------------------------
এবং তিনি এই হাদিসের মর্ম সম্পর্কে বলেছেন: "তোমরা কাল বা সময়কে গালি দিয়ো না; কেননা আল্লাহই হলেন কাল"
(১)। অর্থাৎ: তিনিই তোমাদের ওপর এসব বিপদ আপতিত করেন; সুতরাং তোমরা যদি এর কর্তাকে গালি দাও, তবে তা যেন খোদ স্রষ্টাকেই উদ্দেশ্য করা হয়"
(২)।
৪ - 'অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের ওপর বৃষ্টি হয়েছে' বলা সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা:তিনি 'আনোয়া' তথা নক্ষত্রসমূহ সম্পর্কে আলেমদের অভিমত উদ্ধৃত করেছেন। আর তা হলো, আরবরা একটি নক্ষত্রের উদয় ও অন্যটির অস্তমিত হওয়ার পর সংঘটিত প্রতিটি বৃষ্টিপাতকে সেই অস্তমিত নক্ষত্রের সাথে সম্পৃক্ত করত। তারা বলত: 'অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের ওপর বৃষ্টি হয়েছে'। নিঃসন্দেহে এটি রব্বুল আলামীনের সাথে এক মহান শিরক।
অতঃপর তিনি এ বিষয়ে সঠিক মানদণ্ড ব্যাখ্যা করে বলেন: "যার বিশ্বাস এমন নয় যে নক্ষত্রটি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে, তার জন্য এই কথা ক্ষতিকর হবে না। তবে আলেমগণ 'অমুক নক্ষত্রের সময়ে আমাদের ওপর বৃষ্টি হয়েছে' বলা বৈধ বলেছেন, কিন্তু 'অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে' বলা যাবে না"
(৩)।
৫ - কুলক্ষণ গ্রহণের নিষেধাজ্ঞা:তিনি 'তাতাইয়্যুর' বা কুলক্ষণ গ্রহণের সংজ্ঞায় বলেছেন: "তিয়ারাহ হলো তাতাইয়্যুর থেকে আগত, আর তা হলো কোনো কিছু দেখা বা শোনার মাধ্যমে কুলক্ষণ গ্রহণ করা এবং এর ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার অমূলক ধারণা করা"
(৪)।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর "সংক্রমণ বলতে কিছু নেই" বাণীর মাধ্যমে সংক্রামক ব্যাধির প্রভাব অস্বীকার করার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মূলত বিষয়গুলোকে তাকদিরের সাথে সম্পৃক্ত করতে চেয়েছেন; যাতে মানুষ কেবল বাহ্যিক কারণ নিয়ে পড়ে না থাকে এবং মূল কারণদাতাকে ভুলে না যায়। আর আল্লাহ তাআলা কখনও কারণসমূহ কার্যকর করেন আবার কখনও তা অকার্যকর করে দেন। ফলে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষতি ও উপকারের সমস্ত ঘটনাকে মহান আল্লাহর প্রতি সম্পৃক্ত করতে চেয়েছেন
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
أخطاء الشيخ في هذا النوع من التوحيد:مرَّ فيما سبق نهي ابن الجوزي رحمه الله عن تعظيم القبور والصلاة عندها، وتحذيره من ذلك، إلا أنه أخطأ في بعض كتبه عندما ذكر شيئًا من التبرك غير المشروع، كالتبرك بقبور الصالحين، من ذلك:
1 - ما نقله عن جعفر الخلدي دون أن يعلّق على ذلك النقل ويبيّن بطلانه، أنه قال: "كان بي جرب عظيم فتمسحت بتراب قبر الحسين، فغفوت فانتبهت وليس عليّ منه شيء. وزرت قبر الحسين فغفوت عند القبر غفوة، فرأيت كأن القبر قد شُقّ وخرج منه إنسان، فقلت: إلى أين يا ابن رسول الله؟ فقال: من يد هؤلاء"
(1).
ومثل هذا الفعل إن كان عن اعتقاد البركة في تراب القبر فهو حرام ووسيلة إلى الشرك الأكبر، وإن كان عن اعتقاد أن الميت هو الذي يشفي فذلك شرك في الربوبية، ودعاؤه والاستغاثة به شرك في العبادة.
2 - قال في ترجمة أحمد القزويني: "كان من الأولياء المحدثين
… وقبره ظاهر يتبرك به في الطريق إلى معروف الكرخي"
(2).
3 - ما أورده من قصص ومنامات في فضل قبور بعض الصالحين
(3).
وما أورده ابن الجوزي رحمه الله في التبرك بقبور الصالحين كله داخل في التبرك الممنوع الذي لا يجوز؛ لعدم وجود ما يدلّ على مشروعيته من الكتاب والسنة،
--------------------------------------------
তাওহীদের এই প্রকারের ক্ষেত্রে শাইখের ভুলসমূহ:ইতিপূর্বে কবরের সম্মান প্রদর্শন এবং কবরের নিকট সালাত আদায় করার ব্যাপারে ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিষেধাজ্ঞা এবং এ বিষয়ে তাঁর সতর্কবাণী বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি তাঁর কিছু গ্রন্থে অবৈধ তাবাররুক বা বরকত অন্বেষণের বিষয় উল্লেখ করে ভুল করেছেন, যেমন নেককার ব্যক্তিদের কবরের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা। এর মধ্যে রয়েছে:
১ - জা’ফর আল-খুলদী থেকে তিনি যা বর্ণনা করেছেন—অথচ সেই বর্ণনার ওপর কোনো মন্তব্য করেননি বা এর অসারতা স্পষ্ট করেননি—যে তিনি (খুলদী) বলেছিলেন: "আমার প্রচণ্ড চর্মরোগ হয়েছিল, তাই আমি হুসাইনের কবরের মাটি শরীরে মাখলাম। এরপর আমি একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। যখন সজাগ হলাম, তখন দেখলাম আমার শরীরে এর কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই। আমি হুসাইনের কবর যিয়ারত করলাম এবং কবরের নিকট সামান্য সময়ের জন্য ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দেখলাম যেন কবরটি বিদীর্ণ হলো এবং সেখান থেকে একজন মানুষ বের হয়ে আসলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূলের বংশধর! আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন: এদের হাত থেকে বাঁচতে।"
(১)।
আর এ ধরণের কাজ যদি কবরের মাটিতে বরকত আছে—এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয়, তবে তা হারাম এবং শিরকে আকবর বা বড় শিরকের মাধ্যম। আর যদি বিশ্বাস এমন হয় যে মৃত ব্যক্তিই আরোগ্য দান করেন, তবে তা রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে শিরক। আর তাঁকে ডাকা এবং তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক।
২ - আহমাদ আল-কাযভীনীর জীবনীতে তিনি বলেছেন: "তিনি ছিলেন অলীদের অন্তর্ভুক্ত মুহাদ্দিসগণের একজন... মারুফ আল-কারখীর পথে তাঁর কবরটি দৃশ্যমান, যেখান থেকে বরকত হাসিল করা হয়।"
(২)।
৩ - কিছু নেককার ব্যক্তির কবরের ফযীলত সম্পর্কে তিনি যেসব গল্প ও স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেছেন
(৩)।
নেককার ব্যক্তিদের কবরের মাধ্যমে বরকত গ্রহণের বিষয়ে ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তার সবই নিষিদ্ধ তাবাররুকের অন্তর্ভুক্ত যা বৈধ নয়; কেননা কুরআন ও সুন্নাহ হতে এর বৈধতার স্বপক্ষে কোনো দলীল নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ولا فعَلَه أو أرشد إلى فعله أحد من الصحابة وتابعيهم بإحسان، أو أئمة الدين المتبوعين.
بل الوارد هو النهي الشديد عن ذلك، ومن ذلك قول النبي: "
… إن من كان قبلكم كانوا يتخذون قبور أنبيائهم وصالحيهم مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور مساجد، إني أنهاكم عن ذلك"
(1).
قال الإمام ابن القيم رحمه الله: "لو كان الدعاء عند القبور والصلاة عندها والتبرك بها فضيلة أو سنة أو مباحًا لفعل ذلك المهاجرون والأنصار، وسنّوا ذلك لمن بعدهم، ولكن كانوا أعلم بالله ورسوله ودينه من الخلوف التي خلفت بعدهم، وكذلك التابعون لهم بإحسان راحوا على هذا السبيل، وقد كان عندهم من قبور أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بالأمصار عدد كثير، وهم متوافرون، فما منهم من استغاث عند قبر صاحب، ولا دعاه، ولا دعا به، ولا دعا عنده، ولا استشفى به، ولا استسقى به، ولا استنصر به. ومن المعلوم أن هذا مما تتوفر الهمم على نقله بل على نقل ما دونه"
(2).
المطلب الثالث: عقيدته في صفات الله تعالى:تردد موقف الإمام ابن الجوزي رحمه الله في مسألة صفات الربّ تعالى بين النفي والإثبات، فتارة يثبت الصفات على طريقة السَّلف، وتارة أخرى يجنح إلى التفويض، وتارة يميل إلى التأويل كما هو بارز في كتابه "دفع شبه التشبيه" الذي أوَّل فيه كثيرًا من نصوص الكتاب والسنة الواردة في صفات الله عز وجل.
وكان اضطرابه واختلاف أقواله في هذا الموضوع ناتجًا عن بعض القواعد المجانبة للصواب، والتي بنى عليها اعتقاده في الصفات الإلهية.
--------------------------------------------
সাহাবীগণ, তাঁদের একনিষ্ঠ অনুসারী তাবেয়িগণ কিংবা অনুসরণযোগ্য দ্বীনের ইমামগণের কেউই এটি করেননি এবং এর নির্দেশও দেননি।
বরং এ ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত: "
… তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত; সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না। আমি তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করছি"
(১)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যদি কবরের নিকট দোয়া করা, সেখানে সালাত আদায় করা এবং এর মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা কোনো ফযীলতপূর্ণ কাজ, সুন্নাত কিংবা বৈধ বিষয় হতো, তবে মুহাজির ও আনসারগণ অবশ্যই তা সম্পাদন করতেন এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তা বিধিবদ্ধ করে যেতেন। কিন্তু তাঁরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর দ্বীন সম্পর্কে তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী ছিলেন। অনুরূপভাবে, নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেয়িগণও এই পথেই পরিচালিত হয়েছেন। তাঁদের নিকট বিভিন্ন জনপদে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের বহু সংখ্যক কবর বিদ্যমান ছিল এবং তাঁরাও বিপুল সংখ্যায় বর্তমান ছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁদের কেউ কোনো সাহাবীর কবরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেননি, তাঁকে ডাকেননি, তাঁর মাধ্যমে বা তাঁর কাছে দোয়া করেননি, তাঁর অসিলায় রোগমুক্তি কামনা করেননি, বৃষ্টি প্রার্থনা করেননি কিংবা বিজয় প্রার্থনা করেননি। এটি সুবিদিত যে, এ জাতীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করার জন্য মানুষের প্রবল আগ্রহ থাকে, এমনকি এর চেয়ে সামান্য বিষয়ও বর্ণিত হয়ে থাকে"
(২)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মহান আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে তাঁর আকিদাহ:প্রতিপালক মহান আল্লাহর গুণাবলীর (সিফাত) মাসআলায় ইমাম ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর অবস্থান অস্বীকার ও স্বীকৃতির মধ্যে দোদুল্যমান ছিল। তিনি কখনো সালাফদের পদ্ধতিতে গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন, আবার কখনো 'তাফভীয' (আল্লাহর ওপর অর্থ সোপর্দ করা)-এর দিকে ঝুঁকেছেন, আবার কখনো 'তাবীল' বা ব্যাখ্যার দিকে ঝুঁকেছেন। যেমনটি তাঁর 'দাফউ শুবাহিত তাশবীহ' গ্রন্থে সুস্পষ্ট, যেখানে তিনি মহান আল্লাহর গুণাবলী সংক্রান্ত কুরআন ও সুন্নাহর বহু বর্ণনাকে ব্যাখ্যা করেছেন।
এই বিষয়ে তাঁর দোদুল্যমানতা ও বক্তব্যের ভিন্নতা মূলত সত্যবিচ্যুত কিছু মূলনীতির কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, যার ওপর ভিত্তি করে তিনি ঐশ্বরিক গুণাবলী সংক্রান্ত তাঁর বিশ্বাস গড়ে তুলেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ومن هذه القواعد ما يلي
(1):
1 - تسميته لأخبار الصفات إضافات، وقرَّر أن "ليس كل مضاف صفة"
(2)، ثم حكم بأنه "قد ابتدع من سمى المضاف صفة"
(3).
ولا شكَّ في كون ابن الجوزي تأثر في هذا المصطلح بشيخه ابن عقيل؛ إذ هو الذي أُثر عنه استعمال هذا المصطلح اتّباعًا منه للمعتزلة؛ قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "ولابن عقيل أنواع من الكلام، فإنه كان من أذكياء العالم، كثير الفكر والنظر في كلام الناس، فتارة يسلك مسلك نفاة الصفات الخبرية، وينكر على من يسمّيها صفات، ويقول: إنما هي إضافات موافقة للمعتزلة، كما فعله في كتابه "ذم التشبيه وإثبات التنزيه" وغيره من كتبه، واتبعه على ذلك أبو الفرج ابن الجوزي في كتابه "كف التشبيه بكف التنزيه"، وفي كتابه "منهاج الوصول"
(4).
2 - أن آيات الصفات من المتشابه، فلا ظاهر لها يجب أن تحمل عليه، وقد استقر في ذهنه أن الظاهر هو المألوف عند الخلق فقال: "فهل ظاهر الاستواء إلا القعود، وظاهر النزول إلا الانتقال"
(5).
وهذا الرأي باطل؛ إذ مؤاده إلى القول بعدم الاستفادة من الكتاب والسنة شيئًا من العلم بالله تعالى وأسمائه وصفاته.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "من قال عن جبريل ومحمد صلوات الله وسلامه عليهما، وعن الصحابة والتابعين لهم بإحسان، وأئمة المسلمين والجماعة:
--------------------------------------------
এই নীতিগুলোর মধ্যে নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত
(১):
১ - সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত সংবাদসমূহকে তিনি 'ইদাফাত' (সম্বন্ধযুক্ত পদ) হিসেবে নামকরণ করেছেন এবং সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে, "প্রতিটি সম্বন্ধযুক্ত পদই সিফাত নয়"
(২)। অতঃপর তিনি এই হুকুম দিয়েছেন যে, "যে ব্যক্তি সম্বন্ধযুক্ত পদকে সিফাত বা গুণ হিসেবে অভিহিত করে, সে মূলত বিদআত করেছে"
(৩)।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনুল জাওযী এই পরিভাষার ক্ষেত্রে তাঁর শিক্ষক ইবনে আকীল দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন; কারণ মুতাজিলাদের অনুসরণ করে তাঁর থেকেই এই পরিভাষার ব্যবহারের বর্ণনা পাওয়া যায়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "ইবনে আকীলের বিভিন্ন ধরণের বক্তব্য রয়েছে; কেননা তিনি ছিলেন জগতের অন্যতম মেধাবী ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের বক্তব্যের বিষয়ে গভীর চিন্তাশীল ও গবেষক। ফলে কখনো কখনো তিনি 'সিফাতে খবরিয়া' (সংবাদনির্ভর গুণাবলি) অস্বীকারকারীদের পথ অবলম্বন করেন এবং যারা সেগুলোকে সিফাত হিসেবে নামকরণ করেন তাদের বিরোধিতা করেন। তিনি মুতাজিলাদের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে বলেন: এগুলো কেবল 'ইদাফাত' বা সম্বন্ধযুক্ত পদ মাত্র। যেমনটি তিনি তাঁর 'যম্মুত তাশবীহ ওয়া ইসবাতুত তানযীহ' এবং অন্যান্য গ্রন্থে করেছেন। আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী তাঁর 'কাফফুত তাশবীহ বি কাফফিত তানযীহ' এবং 'মিনহাজুল উসুল' গ্রন্থে তাঁর অনুসরণ করেছেন"
(৪)।
২ - সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াতসমূহ 'মুতাশাবিহাত' (রূপক বা অস্পষ্ট) এর অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং এগুলোর এমন কোনো শাব্দিক অর্থ (জাহির) নেই যার ওপর ভিত্তি করে এগুলো গ্রহণ করা আবশ্যক। আর তাঁর মনে এই ধারণা বদ্ধমূল ছিল যে, 'জাহির' বা বাহ্যিক অর্থ বলতে সৃষ্টির মাঝে যা পরিচিত বা অভ্যাসগত তা-ই। ফলে তিনি বলেন: "ইস্তিওয়ার বাহ্যিক অর্থ কি উপবেশন ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে? আর নুযুল (অবতরণ)-এর বাহ্যিক অর্থ কি স্থানান্তর হওয়া ছাড়া অন্য কিছু?"
(৫)।
আর এই মতটি বাতিল; কারণ এর সারমর্ম দাঁড়ায় এই যে, কিতাব ও সুন্নাহ থেকে মহান আল্লাহ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে কোনো জ্ঞানই অর্জিত হয় না।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যে ব্যক্তি জিবরাঈল ও মুহাম্মাদ (সালাওয়াতুল্লাহি ওয়া সালামুহু আলাইহিমা), সাহাবীগণ, ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীন এবং মুসলিম উম্মাহ ও জামাতের ইমামগণের পক্ষ থেকে বলে যে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
إنهم كانوا لا يعرفون شيئًا من معاني هذه الآيات، بل استأثر الله بعلم معناها، كما استأثر بعلم وقت الساعة، وإنما كانوا يقرؤون ألفاظًا لا يفهمون لها معنى، كما يقرأ الإنسان كلامًا لا يفهم منه شيئًا؛ فقد كذب على القوم، والنقول المتواترة عنهم تدلّ على نقيض هذا، وأنهم كانوا يفهمون هذا كما يفهمون غيره من القرآن"
(1).
وقال الشيخ الشنقيطي -صاحب أضواء البيان-: "آيات الصفات لا يطلق عليها اسم المتشابه
… ؛ لأن معناها معلوم في اللغة العربية وليس متشابهًا، ولكن كيفية اتصافه جلّ وعلا بها ليست معلومة للخلق، وإذا فسرنا المتشابه بأنه هو ما استأثر الله بعلمه دون خلقه، كانت كيفية الاتصاف داخلة فيه، لا نفس الصفة"
(2).
3 - استعمال التأويل؛ ظنًّا منه أنه أُثر عن الإمام أحمد.
4 - شبهة أن إثبات الصفات يؤدي إلى التجسيم، وقد تأثر في هذا الجانب بما حدث من بعض مثبتة الصفات من غلوّ.
وهذه أيضًا شبهة باطلة ناتجة عن عدم تنزيه الله تعالى واعتقاد صفاته تجسيمًا وتشبيهًا بصفات المخلوقين.
لأن الله تعالى يُوصف بما وَصف به نفسه وبما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم وصفًا حقيقيًّا تفصيليًّا، يليق بجلاله وعظمته، مع الاعتقاد الجازم بأن الله ليس كمثله شيء، لا في ذاته، ولا في صفاته، ولا في أفعاله. وهذا الاعتقاد لا يجاوز ما جاء في القرآن والسنة
(3).
--------------------------------------------
"নিশ্চয়ই তারা এই আয়াতগুলোর অর্থ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না, বরং আল্লাহ এর অর্থের জ্ঞানকে নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন, যেমন তিনি কিয়ামতের সময়ের জ্ঞানকে নির্দিষ্ট রেখেছেন। তারা কেবল এমন কিছু শব্দ পাঠ করতেন যার অর্থ তারা অনুধাবন করতেন না, যেমন কোনো মানুষ এমন কিছু পাঠ করে যার কিছুই সে বোঝে না; তবে (যে এমনটি বলে) সে মূলত উক্ত সম্প্রদায়ের ওপর মিথ্যা আরোপ করেছে। তাদের থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতির বর্ণনাগুলো এর বিপরীত প্রমাণ পেশ করে এবং এটিই নির্দেশ করে যে, তারা কুরআনের অন্যান্য অংশের মতোই এই আয়াতগুলোর অর্থ বুঝতে পারতেন"
(১).
এবং শায়খ আশ-শানকীতি—'আদওয়াউল বায়ান'-এর লেখক—বলেছেন: "সিফাত বা গুণাবলি বিষয়ক আয়াতসমূহের ওপর 'মুতাশাবিহ' (রূপক/অস্পষ্ট) নাম প্রয়োগ করা যাবে না...; কারণ আরবি ভাষায় এগুলোর অর্থ পরিজ্ঞাত এবং তা অস্পষ্ট নয়। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কীভাবে এই গুণাবলির অধিকারী, তার ধরন বা কাইফিয়াত সৃষ্টির জানা নেই। যদি আমরা 'মুতাশাবিহ'-এর সংজ্ঞা এভাবে প্রদান করি যে, এটি এমন বিষয় যা আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে না জানিয়ে নিজের জ্ঞানের জন্য গচ্ছিত রেখেছেন, তবে গুণের ধরন বা পদ্ধতি এর অন্তর্ভুক্ত হবে, মূল গুণটি নয়"
(২).
৩ - তাবিল (ব্যাখ্যা) ব্যবহার করা; এই ধারণা থেকে যে, এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
৪ - এই সংশয় যে, আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করা 'তাজসিম' বা দেহবাদিতার দিকে ধাবিত করে। এই ক্ষেত্রে তিনি গুণাবলি সাব্যস্তকারী একদল লোকের বাড়াবাড়ির দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।
এটিও একটি অসার সংশয়, যা আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা বর্ণনায় বিচ্যুতি এবং তাঁর গুণাবলিকে সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা ও দেহধারী হিসেবে বিশ্বাস করার ফলাফল।
কারণ আল্লাহ তাআলা নিজেকে যে সকল বিশেষণে বিশেষিত করেছেন এবং তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে যে সকল বিশেষণে বিশেষিত করেছেন, সেগুলোর মাধ্যমে তাঁকে প্রকৃত ও বিস্তারিতভাবে বিশেষিত করা হবে—যা তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে মানানসই। এর সাথে এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করতে হবে যে, আল্লাহর সদৃশ কোনো কিছুই নেই; না তাঁর সত্তায়, না তাঁর গুণাবলিতে এবং না তাঁর কার্যাবলিতে। আর এই বিশ্বাস কুরআন ও সুন্নাহে যা বর্ণিত হয়েছে তাকে অতিক্রম করে না
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
هذه أهم القواعد التي -في رأيي- بنى عليها الإمام ابن الجوزي رحمه الله أقواله وآراءه في باب "صفات الله تعالى".
لكنه -كما أسلفت- لم يثبت على رأي واحدٍ، فقد كان أحيانًا يخفّف من التأويل إلى القول بالتفويض
(1)؛ اعتقادًا منه أن ذلك الموقف هو الذي يقتضيه النصّ؛ أو هروبًا من التعطيل الذي كان لا يرتضيه، ويهاجم أصحاب ذلك المذهب الرديّ وعلى رأسهم الجهمية.
والخلاصة: أن ابن الجوزي رحمه الله لم يتمحّص ولم يثبت على قولٍ واحد، كما أن له كلامًا في تقرير عقيدة التوحيد في الأسماء والصفات موافقًا لما أثر عن السَّلف، وهذا لا يمكن أن نتجاهله، أو نطّرحه بسبب ما ورد عنه من الأقوال المخالفة لذلك.
وأشدّد على أن سلوك الإمام ابن الجوزي رحمه الله هذا الاتجاه -أي: مسلك التأويل- ليس من مبدأ انتساب إلى فرقة مبتدعة، ولا استنادًا إلى حججهم العقلية والكلامية المستمدة من غير مناهج المسلمين، بل إنه أُتي من عدم كونه - في هذا الباب- على درجة كبيرة من التحقيق والنظر في كلام الطوائف المناوئة للسنة في باب "توحيد الأسماء والصفات" على وجه الخصوص.
ولهذا نجد له كلامًا في إثبات بعض الصفات يكون غاية في الصحة والصواب، بل قد ذكر شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله أن لابن الجوزي "من الكلام في الإثبات نظْمًا ونثرًا ما أثبت به كثيرًا من الصفات"
(2).
ولأهمية هذه المسألة ودحضًا لشبهات من يصف الشيخ رحمه الله بالتجهم، أو بمعاداة مذهب السَّلف والأئمة الأعلام، أرى لزامًا عليَّ أن أذكر جُمَلًا من كلام الشيخ رحمه الله في الإثبات والتنزيه وافق فيها منهجَ السَّلف:
--------------------------------------------
এগুলিই হলো সেই প্রধান নীতিমালা যার ওপর—আমার মতে—ইমাম ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) "আল্লাহ তাআলার গুণাবলি" অধ্যায়ে তাঁর বক্তব্য ও মতামতসমূহ প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তবে আমি পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি, তিনি কোনো একটি সুনির্দিষ্ট মতের ওপর অবিচল থাকেননি। কখনও কখনও তিনি ব্যাখ্যা (তাবীল) থেকে সরে এসে বিষয়টিকে আল্লাহর ওপর সোপর্দ করার (তাফউয়িজ)
(১) কথা বলতেন; তিনি বিশ্বাস করতেন যে এটিই মূল পাঠের (নস) দাবি; অথবা তিনি এটি করতেন গুণাবলি অস্বীকার করা (তা'তীল) থেকে বাঁচার জন্য, যা তিনি পছন্দ করতেন না; এবং তিনি সেই নিকৃষ্ট মতবাদের অনুসারীদের আক্রমণ করতেন, যাদের শীর্ষে ছিল জাহমিয়া সম্প্রদায়।
সারকথা হলো: ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) কোনো একটি সুনির্দিষ্ট মতের ওপর স্থির থাকেননি। আবার আল্লাহর নাম ও গুণাবলির তাওহীদ বর্ণনায় তাঁর এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে যা সালাফদের থেকে বর্ণিত মতের অনুকূল। তাঁর থেকে বর্ণিত এর বিপরীত বক্তব্যগুলোর কারণে আমরা বিষয়টিকে উপেক্ষা করতে পারি না বা বর্জন করতে পারি না।
আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে, ইমাম ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক এই পথ—অর্থাৎ ব্যাখ্যার (তাবীল) পথ—অনুসরণ করা কোনো বিদআতী দলের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে নয়, কিংবা মুসলিমদের মানহাজ বহির্ভূত তাদের যুক্তিভিত্তিক ও কালামশাস্ত্রীয় প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে নয়। বরং এটি ঘটেছে এই কারণে যে, বিশেষ করে "আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদ" অধ্যায়ে সুন্নাহ-বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য পর্যালোচনায় তাঁর যথেষ্ট গভীরতা ও অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টির অভাব ছিল।
একারণেই আমরা আল্লাহর কিছু গুণাবলি প্রমাণের ক্ষেত্রে তাঁর এমন বক্তব্য পাই যা অত্যন্ত সঠিক ও নির্ভুল। এমনকি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল জাওযীর "গদ্য ও পদ্যে এমন সব বক্তব্য রয়েছে যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর অনেক গুণাবলি প্রমাণ করেছেন"
(২)।
এই মাসআলাটির গুরুত্বের কারণে এবং যারা শাইখকে (রহিমাহুল্লাহ) জাহমিয়া হিসেবে অভিহিত করে কিংবা সালাফদের মাযহাব ও প্রখ্যাত ইমামদের শত্রু হিসেবে বর্ণনা করে, তাদের সংশয় নিরসনের লক্ষ্যে আমি শাইখের (রহিমাহুল্লাহ) এমন কিছু বক্তব্য উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করছি যা সিফাত প্রমাণ এবং পবিত্রতা বর্ণনার ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজের সাথে সংগতিপূর্ণ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
أولًا: بعض عباراته الجامعة:- في تفسيره لمعنى "العرش" وعرضه لمختلف الآراء في معناه قال: "وإجماع السَّلف منعقد على ألّا يزيدوا على قراءة الآية، وقد شذّ قوم فقالوا: العرش بمعنى المُلك، وهو عدول عن الحقيقة إلى التجوّز مع مخالفة الأثر، ألم يسمعوا قوله: {وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ} أفتراه كان المُلك على الماء؟! "
(1).
"إذا أثبتنا ذاتًا قديمة خارجة عما يُعرف فليُعلم أن الصفات تابعة لتلك الذات، فلا يجوز لنا أن نقيس شيئًا منها على ما نفعله ونفهمه، بل نؤمن به ونسلّمه"
(2).
وكلام الشيخ رحمه الله هنا منسجم تمامًا مع قاعدة: "القول في الصفات كالقول في الذات"
(3).
- وقال عند حديثه عن صفة "الإصبع" لله تعالى: "ومذهب علماء السّلف السكوت عن مثل هذا الحديث، وأن يُمرّ على ما جاء من غير تشبيه ولا تأويل"
(4).
- وقال: "وأخبار الصفات تمُرّ كما جاءت"
(5).
- وقال: "فإن قيل: عبت طريق المقلدين في الأصول وطريقة المتكلمين، فما الطريق السليم من تلبيس إبليس؟ فالجواب: أنه ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
প্রথমত: তাঁর কিছু সারগর্ভ বক্তব্য:- 'আরশ'-এর অর্থের ব্যাখ্যায় এবং এ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামতের বর্ণনায় তিনি বলেন: "সালাফগণের ঐক্যমত হলো আয়াতের তিলাওয়াতের অতিরিক্ত কিছু না করা। তবে একদল লোক বিচ্যুত হয়ে বলেছে: 'আরশ' মানে হলো 'রাজত্ব'; এটি মূলত মূল অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়ে রূপক অর্থের আশ্রয় গ্রহণ এবং বর্ণিত আছারের (ঐতিহ্যের) পরিপন্থী। তারা কি আল্লাহর এই বাণী শোনেনি: {আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে}; তবে কি তুমি মনে করো যে পানির ওপর রাজত্ব ছিল?!"
(১)।
"যখন আমরা পরিচিত জগতের ঊর্ধ্বে একটি অনাদি সত্তা সাব্যস্ত করি, তখন জেনে রাখা উচিত যে গুণাবলী সেই সত্তারই অনুগামী। সুতরাং আমাদের জন্য তাঁর কোনো গুণকে আমাদের কৃতকর্ম বা আমাদের বোধশক্তির সাথে তুলনা করা বৈধ নয়; বরং আমরা তাতে ঈমান আনব এবং আত্মসমর্পণ করব"
(২)।
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই কথাটি এই মূলনীতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ যে: "গুণাবলী সম্পর্কে বক্তব্য হলো ঠিক সত্তা সম্পর্কে বক্তব্যের অনুরূপ"
(৩)।
- মহান আল্লাহর 'আঙুল' (আল-ইসবা) গুণটি সম্পর্কে আলোচনার সময় তিনি বলেন: "সালাফী আলেমদের মাযহাব হলো এই ধরনের হাদীসের ক্ষেত্রে নীরবতা অবলম্বন করা এবং যেভাবে তা এসেছে সেভাবেই কোনো রূপ উপমা বা অপব্যাখ্যা ছাড়াই তা অতিবাহিত করা"
(৪)।
- তিনি আরও বলেন: "গুণাবলী সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিবাহিত হবে"
(৫)।
- তিনি বলেন: "যদি বলা হয়: আপনি মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে অন্ধ অনুসারীদের পথ এবং কালাম শাস্ত্রবিদদের পথের সমালোচনা করেছেন, তবে ইবলিসের ধোঁকা থেকে নিরাপদ সঠিক পথ কোনটি? উত্তর হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে পথের ওপর ছিলেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وأصحابه وتابعوهم بإحسان، من إثبات الخالق سبحانه وإثبات صفاته على ما وردت به الآيات والأخبار، من غير تنقير ولا بحث عما ليس في قوى البشر إدراكه"
(1).
- وقال في تفسير قوله تعالى: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} [النساء: 164]: "تأكيد (كلّم) بالمصدر يدلّ على أنه سمع كلام الله حقيقة". ثم ذكر من طريق ثعلب قوله: "لولا أن الله تعالى أكّد الفعل بالمصدر لجاز أن يكون كما يقول أحدنا للآخر: قد كلمتُ لك فلانًا، بمعنى: كتبت إليه رقعة، أو بعثت إليه رسولا، فلما قال: {تَكْلِيمًا} لم يكن إلا كلامًا مسموعًا من الله"
(2).
- ومما نظمه في صفات الله تعالى على طريقة السلف، قصديته الدالية في السنة. ومما جاء فيها:
قوله:
صفاتُه كذاتِه قديمةٌ
… في سبحانه من ملك جواد
وقوله:
وهو على العرش كذا أخبر
… نا وكرر القول على العباد
نزوله إلى السماء ثابت في
… الليل فاهجر لذة الرقاد
وقوله:
كلامه صوت وحرف وبه
… نادى الكليم جلّ من منادي
وقوله:
--------------------------------------------
এবং তাঁর সাহাবীগণ ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীবৃন্দ; অর্থাৎ স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে সাব্যস্ত করা এবং আয়াত ও বর্ণনাসমূহ যেভাবে এসেছে সে অনুযায়ী তাঁর গুণাবলী সাব্যস্ত করা, কোনো প্রকার চুলচেরা বিশ্লেষণ কিংবা মানবীয় ক্ষমতার অতীত কোনো বিষয়ে অনুসন্ধান ছাড়াই"
(১).
- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন} [নিসা: ১৬৪]-এর তাফসিরে তিনি বলেছেন: "(কাল্লামা) ক্রিয়াটিকে মাসদার (তাকলিমান) দ্বারা তাকিদ বা জোর প্রদান করা একথাই প্রমাণ করে যে, তিনি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কালাম শ্রবণ করেছেন।" অতঃপর তিনি সা'লাব-এর সূত্রে তাঁর উক্তি উল্লেখ করেন: "যদি মহান আল্লাহ ক্রিয়াটিকে মাসদার দ্বারা তাকিদ না দিতেন, তবে বিষয়টি এমন হওয়া সম্ভব ছিল যেমন আমাদের কেউ অন্য কাউকে বলে: 'আমি তোমার হয়ে অমুকের সাথে কথা বলেছি', যার অর্থ হয়: 'আমি তাকে পত্র লিখেছি' অথবা 'তার নিকট কোনো দূত পাঠিয়েছি'। কিন্তু যখন তিনি {তাকলিমান} বললেন, তখন এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রবণকৃত সরাসরি কথা ছাড়া অন্য কিছু হওয়ার অবকাশ থাকল না"
(২).
- সালাফদের তরীকা অনুযায়ী মহান আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে তিনি যা ছন্দবদ্ধ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো সুন্নাহ বিষয়ক তাঁর 'দালিয়্যাহ' কাসিদা। সেখানে বর্ণিত পঙক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
তাঁর উক্তি:
তাঁর গুণাবলী তাঁর সত্তার ন্যায় অনাদি
… পবিত্র সেই সত্তা যিনি মহান দাতা অধিপতি
এবং তাঁর উক্তি:
তিনি আরশের উপর সমাসীন, যেমনটি তিনি আমাদের জানিয়েছেন
… এবং বান্দাদের প্রতি এ কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন
রাতের শেষভাগে তাঁর আসমানে অবতরণ সুনিশ্চিত
… অতএব তুমি নিদ্রার স্বাদ ত্যাগ করো
এবং তাঁর উক্তি:
তাঁর কালাম হলো শব্দ ও বর্ণের সমন্বয়ে এবং এর মাধ্যমেই
… তিনি কালিমকে (মূসা আ.) আহ্বান করেছেন, কতই না মহান সেই আহ্বানকারী
এবং তাঁর উক্তি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
واتبع مقال السلف الذين ما
… زادوا ولا قالوا برأي بادي
(1)وقال عن صفة "الحياء": "صفات الحق عز وجل لا يُطَّلع لها على ماهية، وإنَّما تمر كما جاءت"
(2).
ثانيًا: بعض تحريراته ومناقشاته:1 - ناقش ابن الجوزي رحمه الله وردّ على من فسَّر الاستواء بأنه الاستيلاء، فقال: "وبعضهم يقول: استوى بمعنى استولى، ويحتج بقول الشاعر:
حتى استوى بشرٌ على العراق
… من غير سيف ودمٍ مُهراق
(3)وبقول الشاعر:
هما استويا بفضلهما جميعا
… في على عرش الملوك بغير زور
وهذا مُنكر عند اللغويين، قال ابن الأعرابي: العرب لا تعرف استوى بمعنى استولى، ومن قال ذلك فقد أعظم. قالوا: وإنما يقال: استولى فلان على كذا، إذا كان بعيدًا منه غير متمكّن منه ثمَّ تمكَّن منه؛ والله عز وجل لم يزل مُستوليًا على الأشياء، والبيتان لا يُعرف قائلهما، كذا قال ابن فارس اللغوي. ولو صحَّا فلا حجة فيهما لما بيّنا من استيلاء من لم يكن مستوليًا، نعوذ بالله من تعطيل الملحدة وتشبيه المجسمة! "
(4).
--------------------------------------------
এবং আপনি সালাফদের (পূর্বসূরিদের) কথা অনুসরণ করুন, যারা (দ্বীনের মধ্যে) কোনো কিছু
… বৃদ্ধি করেননি এবং নিজেদের স্পষ্ট মতামতের ভিত্তিতে কোনো কথা বলেননি।
(১)আর তিনি "হায়া" (লজ্জাশীলতা) গুণ সম্পর্কে বলেছেন: "মহান আল্লাহর গুণাবলির প্রকৃত স্বরূপ (মাহিয়াত) সম্পর্কে অবগত হওয়া সম্ভব নয়; বরং এগুলো যেভাবে (নস-এ) এসেছে সেভাবেই রেখে দিতে হবে।"
(২).
দ্বিতীয়ত: তাঁর কিছু পর্যালোচনা ও আলোচনা:১ - ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) 'ইসতিওয়া' (আরশে আরোহণ)-এর অর্থ যারা 'ইসতিউলা' (কর্তৃত্ব গ্রহণ) হিসেবে করেন, তাদের আলোচনা করেছেন এবং প্রতিবাদ করেছেন। তিনি বলেন: "তাদের কেউ কেউ বলেন: 'ইসতিওয়া' এর অর্থ হলো 'ইসতিউলা' (বিজয় লাভ করা), এবং তারা কবির এই পঙ্ক্তি দিয়ে দলিল পেশ করেন:
অবশেষে বিশর ইরাকের ওপর কর্তৃত্ব (ইসতিওয়া) প্রতিষ্ঠা করলেন
… কোনো তলোয়ার এবং রক্তপাত ছাড়াই
(৩)এবং কবির এই পঙ্ক্তি দিয়ে:
তারা উভয়েই তাদের শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে সমাসীন হলেন
… রাজসিংহাসনের উচ্চতায় কোনো মিথ্যাচার ছাড়াই
ভাষাবিদদের নিকট এটি একটি আপত্তিকর বিষয়। ইবনুল আরাবী বলেন: আরবরা 'ইসতিওয়া' শব্দের অর্থ 'ইসতিউলা' হিসেবে চেনে না; যে ব্যক্তি এমন কথা বলে, সে চরম ধৃষ্টতা দেখালো। ভাষাবিদগণ বলেন: 'অমুক ব্যক্তি অমুক বস্তুর ওপর ইসতিউলা (কর্তৃত্ব) করেছে' কেবল তখনই বলা হয়, যখন বস্তুটি আগে তার আয়ত্তের বাইরে বা নিয়ন্ত্রণে ছিল না, এরপর সে তা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে; অথচ মহান আল্লাহ অনাদিকাল থেকেই সকল বস্তুর ওপর পূর্ণ কর্তৃত্বশীল। আর উল্লিখিত কাব্য পঙ্ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা অজ্ঞাত—ভাষাবিদ ইবনে ফারিস এমনটিই বলেছেন। এমনকি যদি পঙ্ক্তি দুটি বিশুদ্ধও হয়, তবুও তাতে কোনো প্রমাণ নেই; কারণ আমরা স্পষ্ট করেছি যে, 'ইসতিউলা' এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে আগে কর্তৃত্বশীল ছিল না। আমরা নাস্তিকদের গুণাবলি অস্বীকার (তা’তীল) এবং মুজাসসিমাদের সাদৃশ্য প্রদান (তাশবীহ) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই!"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
2 - كما أجاد رحمه الله في تحرير مسألة رؤية الله عز وجل يوم القيامة بالأبصار، ومما قاله بهذا الخصوص:
- "رؤية الله عز وجل حقٌّ لا شكَّ فيه. والأحاديث فيها صحاح"
(1).
- وفي تفسير قوله تعالى لموسى عليه السلام: {لَنْ تَرَانِي} [الأعراف: 143] قال: "تعلّق بها نفاة الرؤية وقالوا: {لَنْ} لنفي الأبد، وذلك غلط؛ لأنها قد وردت وليس المراد بها الأبد في قوله: {وَلَنْ يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ} [البقرة: 95] ثم أخبر عنهم بتمنّيه في النار بقوله: {يَامَالِكُ لِيَقْضِ عَلَيْنَا رَبُّكَ} [الزخرف: 77]. وفي هذه الآية دلالة على جواز الرؤية؛ لأن موسى مع علمه بالله تعالى سألها، ولو كانت مما يستحيل لما جاز لموسى أن يسألها، ولا يجوز أن يجهل موسى مثل ذلك؛ لأن معرفة الأنبياء بالله ليس فيها نقص، ولأن الله تعالى لم ينكر عليه المسألة، وإنما منعه من الرؤية، ولو استحالت عليه لقال: (لا أُرى)، ألا ترى أن نوحًا لما قال: {إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي} [هود: 45] أنكر عليه بقوله: {إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ} [هود: 46]. ومما يدلّ على جواز الرؤية أنه علّقها باستقرار الجبل، وذلك جائز غير مستحيل، فدلّ على أنها جائزة، ألا ترى أن دخول الكفار الجنة لما استحال علّقه بمستحيل، فقال: {حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ} [الأعراف: 40] "
(2).
3 - وفي مناقشته للمعتزلة في تفسيرهم لصفة "اليد" في قوله تعالى: {مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] بأنها القدرة، قال: "وقول المعتزلة: إن المرد باليد القدرة، باطل؛ لأنّه يؤدي إلى أن تكون للحق سبحانه قدرتان، فإنه قال بيديه.
--------------------------------------------
২ - অনুরূপভাবে তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কিয়ামত দিবসে চাক্ষুষভাবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দীদার (দর্শন) লাভের মাসআলাটি সুচারুভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর কিছু উক্তি নিম্নরূপ:
- "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দীদার লাভ সত্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহ সহীহ।"
(১)- মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: {তুমি আমাকে কস্মিনকালেও দেখতে পাবে না} [আল-আরাফ: ১৪৩]-এর তাফসীরে তিনি বলেন: "দীদার অস্বীকারকারীরা এই আয়াতের ওপর নির্ভর করেছে এবং বলেছে যে: {লান} (কস্মিনকালেও না) শব্দটি চিরস্থায়ী নেতিবাচকতা বুঝায়। কিন্তু এটি একটি ভুল ধারণা; কারণ এই শব্দটি এমন জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে যেখানে চিরস্থায়ী অর্থ উদ্দেশ্য নয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে কখনোই তা (মৃত্যু) কামনা করবে না} [আল-বাকারা: ৯৫]। অথচ পরবর্তীতে তিনি জাহান্নামে তাদের মৃত্যু কামনার সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {হে মালিক! আপনার প্রতিপালক যেন আমাদের শেষ করে দেন (আমাদের মৃত্যু দেন)} [আয-যুখরুফ: ৭৭]। এই আয়াতে দীদার বা দর্শন সম্ভব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে; কারণ মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তা প্রার্থনা করেছেন। যদি এটি অসম্ভব হতো, তবে মূসা আলাইহিস সালামের জন্য তা চাওয়া বৈধ হতো না। আর মূসা আলাইহিস সালাম এই পর্যায়ের বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ থাকবেন তা কল্পনা করা যায় না; কারণ নবীদের আল্লাহ-বিষয়ক জ্ঞানে কোনো অপূর্ণতা থাকে না। তদুপরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে এই প্রার্থনার কারণে কোনো অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি, বরং কেবল তাঁকে দর্শন থেকে বিরত রেখেছেন। যদি দর্শন অসম্ভব হতো তবে তিনি বলতেন: 'আমাকে দেখা যায় না'। আপনি কি দেখেন না যে, নূহ আলাইহিস সালাম যখন বলেছিলেন: {নিশ্চয় আমার পুত্র আমার পরিবারভুক্ত} [হূদ: ৪৫], তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর এই উক্তিকে নাকচ করে বলেছিলেন: {নিশ্চয় সে তোমার পরিবারভুক্ত নয়} [হূদ: ৪৬]। দর্শন সম্ভব হওয়ার আরেকটি প্রমাণ হলো, তিনি এটিকে পাহাড়ের স্থির থাকার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, যা একটি সম্ভবপর বিষয় এবং অসম্ভব নয়। এটি প্রমাণ করে যে দর্শন সম্ভব। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, কাফেরদের জান্নাতে প্রবেশ যখন অসম্ভব ছিল, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে একটি অসম্ভব বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করে বলেছেন: {যতক্ষণ না সূঁইয়ের ছিদ্রে উট প্রবেশ করে} [আল-আরাফ: ৪০]।"
(২)৩ - আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি যাকে নিজ দুই হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?} [সোয়াদ: ৭৫]-এর মধ্যে 'হাত' (ইয়াদ) সিফাতটির ব্যাখ্যায় মু'তাযিলাদের খণ্ডন করতে গিয়ে—যারা এর অর্থ 'কুদরত' (ক্ষমতা) করে থাকে—তিনি বলেন: "মু'তাযিলাদের এই উক্তি যে—হাত দ্বারা কুদরত উদ্দেশ্য—তা বাতিল; কারণ এর ফলে সাব্যস্ত হয় যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দুটি কুদরত রয়েছে, কেননা তিনি বলেছেন 'দুই হাত' দিয়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وأجمع المسلمون قاطبة أنه لا يجوز أن تكون لله قدرتان
… وكذلك لا يجوز أن يُقال: إن الحق تعالى خلقه بنعمتين؛ لأن النعمة مخلوقة
… "
(1).
ولعلّ في هذا القدر كفاية للدلالة على المقصود من هذا المبحث.
المبحث الثالث: عقيدته في الإيمإنللإمام ابن الجوزي رحمه الله إشارات إلى مسائل تتعلق بمباحث الإيمان، سأذكر ما وقفتُ عليه من ذلك:
المطلب الأول: مسائل في الإيمان:
1 - تعريف الإيمان لغة واصطلاحًا، ودخول الأعمال في مسمّى الإيمان:قال في معنى قوله تعالى: {الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ} [البقرة: 3]: "الإيمان في اللغة: التصديق. والشرع أقرّه على ذلك، وزاد فيه القول والعمل"
(2).
وبعد نقله لقول ابن قتيبة وابن خزيمة في معنى "الإيمان" في قوله تعالى: {مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ} [الشورى: 52] وأن المراد به: "شرائع الإيمان ومعالمه، وهي كلها إيمان؛ وقد سمّى الصلاة إيمانًا بقوله: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} [البقرة: 143]
(3) قال: "والقول ما اختاره ابن قتيبة وابن خزيمة"
(4).
2 - زيادة الإيمان ونقصانه:قال في قوله تعالى: {فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا} [التوبة: 124]: "لأنهم إذا صدقوا بها وعملوا بما فيها زادتهم إيمانًا"
(5).
--------------------------------------------
সমস্ত মুসলিম এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহর দুটি কুদরত (ক্ষমতা) থাকা বৈধ নয়
… এবং অনুরূপভাবে এটি বলাও বৈধ নয় যে: মহান আল্লাহ তাকে দুটি নিআমত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন; কারণ নিআমত হলো সৃষ্টি
… "
(১).
সম্ভবত এই পরিচ্ছেদের উদ্দেশ্য বর্ণনা করার জন্য এই পরিমাণই যথেষ্ট।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ঈমান বিষয়ে তাঁর আকিদাইমাম ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ঈমান সংক্রান্ত আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মাসআলার দিকে ইঙ্গিত রয়েছে, আমি এ বিষয়ে যা পেয়েছি তা উল্লেখ করব:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ঈমান সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ:
১ - আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ঈমানের সংজ্ঞা এবং ঈমানের সংজ্ঞায় আমলের অন্তর্ভুক্তি:আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অর্থ সম্পর্কে তিনি বলেন: {যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে} [আল-বাকারা: ৩]: "আভিধানিক অর্থে ঈমান হলো: সত্যায়ন করা বা বিশ্বাস করা। শরীয়ত একে সেই অর্থেই বহাল রেখেছে এবং এর সাথে কথা ও আমলকে যুক্ত করেছে"
(২)।
আল্লাহ তাআলার বাণী: {আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী} [আশ-শূরা: ৫২]-এর অর্থ সম্পর্কে ইবনে কুতায়বা এবং ইবনে খুজাইমার উক্তি উদ্ধৃত করার পর—যেখানে বলা হয়েছে যে এর অর্থ হলো: "ঈমানের বিধানাবলী ও এর নিদর্শনসমূহ, যার সবই ঈমান; এবং তিনি সালাতকে ঈমান হিসেবে অভিহিত করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {এবং আল্লাহ তোমাদের ঈমান নষ্ট করবেন না} [আল-বাকারা: ১৪৩]
(৩)—তিনি বলেন: "ইবনে কুতায়বা ও ইবনে খুজাইমা যা পছন্দ করেছেন সেই বক্তব্যটিই সঠিক"
(৪)।
২ - ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়া:আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অর্থ সম্পর্কে তিনি বলেন: {সুতরাং যারা ঈমান এনেছে, তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে} [আত-তাওবা: ১২৪]: "কারণ যখন তারা তা বিশ্বাস করে এবং সেই অনুযায়ী আমল করে, তখন তা তাদের ঈমানকে বৃদ্ধি করে দেয়"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
3 - من أهل الكبائر من يدخل النار لكن لا يخلد فيها:فقد عاب على المرجئة قولهم بأن من أقرّ بالشهادتين وأتى بجميع المعاصي لم يدخل النار أصلًا، وعقّب على قولهم بقوله: "وخالفوا الأحاديث الصحاح في إخراج الموحّدين من النار"
(1). وفي هذا ردّ على المرجئة والوعيدية من الخوارج والمعتزلة.
المطلب الثاني: مسائل في الإيمان بالرسل:
1 - دلائل النبوة:قال ابن الجوزي في تفسيره لقوله تعالى: {لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ} [يوسف: 111]: "أي في خبر يوسف وإخوته
… {عِبْرَةٌ} أي: عظة، {لِأُولِي الْأَلْبَابِ} أي: لذوي العقول السليمة، وذلك من وجهين: أحدهما: ما جرى ليوسف من إعزازه وتمليكه بعد استعباده، فإن من فعل ذلك به قادرٌ على إعزاز محمد صلى الله عليه وسلم وتعلية كلمته. والثاني: أنّ من تفكّر علم أن محمدًا صلى الله عليه وسلم مع كونه أميًّا، لم يأت بهذه القصة على موافقة ما في التوراة من قِبل نفسه، فاستدلّ بذلك على صحة نبوته"
(2).
وقال أيضًا: "لما خصّهم -أي: الإنس والجنّ- بقوله تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ} [الإسراء: 88] فلم يكن في وسعهم، عجّزهم، فكأنه يقول: قد أوضحت لكم بما سبق من الآيات ما يدلّ على نبوتي، ومن ذلك: التحدّي بمثل هذا القرآن
… "
(3).
وتكلّم ابن الجوزي عن بعض أوجه الإعجاز في القرآن العظيم، وأنه من أعظم الأدلة على صدق النبي صلى الله عليه وسلم، وصحة نبوته، فقال: "ما تضمن من أخبار الأمم السَّالفة
--------------------------------------------
৩ - কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কেউ কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তবে সেখানে চিরস্থায়ী হবে না:তিনি মুরজিয়াদের এই মতের সমালোচনা করেছেন যে, যারা কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করে এবং সকল পাপে লিপ্ত হয়, তারা আদৌ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। তাদের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন: "তারা জাহান্নাম থেকে একত্ববাদীদের বের করে আনা সংক্রান্ত সহীহ হাদীসসমূহের বিরোধিতা করেছে"
(১)। এর মধ্যে মুরজিয়া এবং ওয়াইদিয়া তথা খারিজি ও মুতাজিলাদের উপযুক্ত জবাব রয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলগণের প্রতি ঈমান সংক্রান্ত বিষয়াবলী:
১ - নবুওয়াতের প্রমাণসমূহ:ইবনুল জাওযী মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে} [ইউসুফ: ১১১]-এর তাফসীরে বলেন: "অর্থাৎ ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের সংবাদে
… {শিক্ষা} অর্থাৎ উপদেশ, {বুদ্ধিমানদের জন্য} অর্থাৎ সুস্থ বিবেকসম্পন্নদের জন্য। আর এটি দুটি দিক থেকে: প্রথমত: ইউসুফের সাথে যা ঘটেছিল অর্থাৎ ক্রীতদাস হওয়ার পর তাঁকে মর্যাদা দান ও রাজত্ব প্রদান; কারণ যিনি তাঁর সাথে এরূপ করেছেন, তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মানিত করতে এবং তাঁর বাণীকে সমুন্নত করতে সক্ষম। দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি চিন্তা করবে সে জানতে পারবে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মী (নিরক্ষর) হওয়া সত্ত্বেও নিজের পক্ষ থেকে তাওরাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই কাহিনী নিয়ে আসেননি; ফলে তিনি এর মাধ্যমে তাঁর নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ পেশ করেছেন"
(২)।
তিনি আরও বলেন: "যখন তিনি (আল্লাহ) মানুষ ও জিন উভয় জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন: {বলুন, যদি মানুষ ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য একত্রিত হয়} [আল-ইসরা: ৮৮], অতঃপর তারা তা করতে সক্ষম হলো না, তখন তিনি তাদের অক্ষমতা প্রকাশ করে দিলেন। যেন তিনি বলছেন: আমি তোমাদের জন্য পূর্ববর্তী আয়াতসমূহের মাধ্যমে যা আমার নবুওয়াতের প্রমাণ দেয় তা স্পষ্ট করে দিয়েছি, যার অন্তর্ভুক্ত হলো এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনার চ্যালেঞ্জ
… "
(৩)।
ইবনুল জাওযী মহান কুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজাজ) কিছু দিক সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এটি যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা ও তাঁর নবুওয়াতের বিশুদ্ধতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দলিল, সে সম্পর্কে তিনি বলেন: "এতে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের যে সংবাদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وسير الأنبياء التي عرفها أهل الكتاب، مع كون الآتي بها أميًّا لا يكتب ولا يقرأ ولا عُلم بمجالسة الأحبار ولا الكهّان، ومَن كان مِن العرب يكتب ويقرأ ويجالس علماء الأحبار لم يدرك ما أخبر به القرآن .. إخباره عن الغيوب المستقبلة الدالة على صدقه قطعًا لوقوعها على ما أخبر .. أنه محفوظ من الاختلاف والتناقض"
(1).
2 - التفضيل بين الأنبياء:قد فضَّل الله تعالى بعض الأنبياء والرسل على بعض، قال تعالى: {تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ} [البقرة: 253]، وقال: {وَلَقَدْ فَضَّلْنَا بَعْضَ النَّبِيِّينَ عَلَى بَعْضٍ} [الإسراء: 55]، ولهذا التفاضل أوجهٌ، قال ابن الجوزي: "وكذلك فضل بعض النبيين على بعض، وذلك عن حكمة منه وعلم، فخلق آدم بيده، ورفع إدريس، وجعل الذرية لنوح، واتخذ إبراهيم خليلًا، وموسى كليمًا، وجعل عيسى روحًا، وأعطى سليمان ملكًا جسيمًا، ورفع محمدًا صلى الله عليه وسلم فوق السماوات، وغفر له ما تقدّم من ذنبه وما تأخر"
(2).
وبيَّن في توجيه النبي الوارد في تفضيل بعض الأنبياء على بعض، كما جاء في قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "لا يقولنّ أحدكم إني خيرٌ من يونس بن متّى"
(3)؛ أنَّه خوف الانتقاص من قدر المفضول، ثم قال: "والمعنى: قولوا ما قيل لكم ولا تخيّروا برأيكم، وليس المراد ألا تعتقدوا تفضيل قوم على قوم، فقد قال الله تعالى: {تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ} [البقرة: 253] "
(4).
--------------------------------------------
এবং নবীগণের জীবনচরিত যা আহলে কিতাবগণ জানতেন, তা এমন এক ব্যক্তির মাধ্যমে আনীত হয়েছে যিনি উম্মী (নিরক্ষর), লিখতেও জানতেন না এবং পড়তেও জানতেন না, এমনকি কোনো পণ্ডিত বা পুরোহিতদের সাথে তাঁর ওঠাবসার কথাও জানা যায়নি। অথচ আরবদের মধ্যে যারা লিখতে ও পড়তে জানত এবং আহলে কিতাবদের পণ্ডিতদের সংস্পর্শে থাকত, তারাও কুরআন যা সংবাদ দিয়েছে তা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়নি... তাঁর পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য অদৃশ্য বিষয়াবলির সংবাদ প্রদান, যা তাঁর সত্যতার অকাট্য দলিল, কারণ তা ঠিক সেভাবেই ঘটেছে যেভাবে তিনি জানিয়েছিলেন... এবং তা (কুরআন) মতপার্থক্য ও বৈপরীত্য থেকে সংরক্ষিত"
(১).
২ - নবীগণের মধ্যকার শ্রেষ্ঠত্বের পর্যায়ক্রম:মহান আল্লাহ তাআলা কোনো কোনো নবী ও রাসুলকে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {এই রাসুলগণ, আমি তাদের কতককে কতকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি} [আল-বাকারা: ২৫৩], এবং তিনি আরও বলেন: {এবং অবশ্যই আমি কোনো কোনো নবীকে অন্যান্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছি} [আল-ইসরা: ৫৫]। আর এই শ্রেষ্ঠত্বের বিভিন্ন দিক রয়েছে; ইবনুল জাওযী বলেন: "অনুরূপভাবে তিনি কিছু নবীকে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, আর তা তাঁর হিকমত (প্রজ্ঞা) ও ইলমের (জ্ঞানের) ভিত্তিতে। তিনি আদমকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, ইদরীসকে উচ্চাসনে উন্নীত করেছেন, নূহের জন্য বংশধারা অবশিষ্ট রেখেছেন, ইবরাহীমকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন, মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, ঈসাকে রুহ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, সুলাইমানকে বিশাল রাজত্ব দান করেছেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আসমানসমূহের ঊর্ধ্বে তুলে নিয়েছেন এবং তাঁর পূর্বাপর সকল ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়েছেন"
(২).
তিনি এক নবীকে অন্য নবীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের বিষয়ে বর্ণিত নববী নির্দেশনার ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন—যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীতে এসেছে: "তোমাদের কেউ যেন কখনোই না বলে যে, আমি ইউনুস ইবনে মাত্তা অপেক্ষা উত্তম"
(৩); এটি মূলত মর্যাদায় নিচে থাকা নবীর শান বা মান ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কায় বলা হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন: "এর অর্থ হলো—তোমাদের যা বলা হয়েছে তোমরা কেবল তাই বলো এবং নিজ বিচার-বুদ্ধি দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করো না। এর অর্থ এই নয় যে, তোমরা একদলের ওপর অন্যদলের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করবে না; কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {এই রাসুলগণ, আমি তাদের কতককে কতকের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি} [আল-বাকারা: ২৫৩]"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
3 - موت الخضر:يرى ابن الجوزي رحمه الله أن الخضر العبد الصالح ميّت، وأنه "قد زعم قوم أن الخضر حيٌّ إلى الآن، واحتجوا بأحاديث لا تثبت، وحكايات عن أقوام -سليمي الصدور- ويقول أحدهم: لقيت الخضر"
(1).
ثم سرد جملة من تلك الأحاديث وقال: "وكل هذه الأحاديث لا تثبت"
(2)، وعن تلك الحكايات قال معلقًا: "وربما ظهر الشيطان لشخص فكلمه، وربما قال بعض المتّهمين لبعض: أنا الخضر. وأعجب الأشياء أن يصدّق القائل أنا الخضر، وليس لنا فيه علامة نعرفه بها"
(3).
ومما نقله من كلام الحسين بن المنادي في مسألة حياة الخضر، قوله: "أين كان الخضر عند تبشير أبي بكر وعمر رضي الله عنهما بالخلافة! وهذه الأخبار واهية الصدور والإعجاز لا تخلوا في حالها من أحد أمرين: أن تكون أُدخلت من حديث بعض الرواة المتأخرين استغفالًا، وإما أن يكون القوم عرفوا حالها فرووها على وجه التعجّب، فنسبت إليهم على وجه التحقيق.
وقال: والتخليد لا يكون لبشر لقول الله عز وجل لنبيّه صلى الله عليه وسلم: {وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِنْ مِتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ} [الأنبياء: 34].
ونقل قول إبراهيم الحربي وقد سُئل عن تعمير الخضر، فأنكر ذلك، وقال: هو متقادم الموت.
--------------------------------------------
৩ - খিদর (আ.)-এর মৃত্যু:ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) মনে করেন যে, পুণ্যবান বান্দা খিদর ইন্তেকাল করেছেন। তিনি বলেন: "একদল লোক দাবি করেছে যে খিদর এখন পর্যন্ত জীবিত আছেন। তারা এমন কিছু হাদীসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যা প্রমাণিত নয় এবং এমন কিছু সরলমনা লোকদের থেকে বর্ণিত গল্পের ওপর নির্ভর করেছেন যেখানে তাদের কেউ কেউ বলে: আমি খিদরের দেখা পেয়েছি"
(১)。
অতঃপর তিনি সেই হাদীসগুলোর একটি তালিকা পেশ করেন এবং বলেন: "এই সকল হাদীসের কোনোটিই প্রমাণিত নয়"
(২)। উক্ত কিচ্ছাগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন: "সম্ভবত শয়তান কারো নিকট আত্মপ্রকাশ করে তার সাথে কথা বলেছে, আবার কখনো হতে পারে কোনো কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি একে অপরকে বলেছে: আমিই খিদর। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, কারো এই দাবিকে সত্য বলে বিশ্বাস করে নেওয়া যে—'আমি খিদর', অথচ তাকে চেনার মতো কোনো নিদর্শন আমাদের কাছে নেই"
(৩)。
খিদরের বেঁচে থাকার মাসআলায় তিনি হুসাইন ইবনুল মুনাদীর বক্তব্য থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে যখন খিলাফতের সুসংবাদ প্রদান করা হচ্ছিল, তখন খিদর কোথায় ছিলেন! এসব সংবাদের শুরু এবং শেষ উভয় দিকই অত্যন্ত দুর্বল। এগুলোর অবস্থা দুইটির যেকোনো একটি থেকে মুক্ত নয়: হয় এগুলো অসতর্কতাবশত পরবর্তী যুগের কিছু বর্ণনাকারীর বর্ণনায় অনুপ্রবেশ করেছে, অথবা বর্ণনাকারীরা সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা জানতেন এবং বিস্ময় প্রকাশের ছলে তা বর্ণনা করেছেন, পরবর্তীতে যা তাদের পক্ষ থেকে ধ্রুব সত্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
তিনি বলেন: অমরত্ব কোনো মানুষের জন্য হতে পারে না; কেননা মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে লক্ষ্য করে এরশাদ করেছেন: {আপনার পূর্বেও আমি কোনো মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি; সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হয়ে থাকবে?} [সূরা আম্বিয়া: ৩৪]।
তিনি ইব্রাহীম আল-হারবীর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেন; তাকে খিদরের দীর্ঘ জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং বলেন: তাঁর মৃত্যু অনেক পূর্বেই হয়ে গেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তালবিসু ইবলিস - তাহকীক আল-মাযীদ ওয়াস সুহাইবানী
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
قال: وروجع غيره في تعميره، وأن طائفة من أهل زماننا يرونه ويروون عنه، فقال: من أحال على غائب حيّ أو مفقود ميت لم يُنْتَصف منه، وما ألقى ذكر هذا بين الناس إلا الشيطان
… "
(1).
ولابن الجوزي رحمه الله كتاب حول الخضر، سمّاه: "عجالة المنتظم بشرح حال الخضر"، قال عنه: "ذكرتُ فيه هذه الأحاديث والحكايات ونظائرها وبيّنتُ خطأها"
(2).
المطلب الثالث: مسائل في الإيمان باليوم الآخر:
1 - عذاب القبر: دليله وحكم الإيمان به:عند تعليق ابن الجوزي رحمه الله على حديث أبي أيوب الأنصاري أنه: "خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم بعدما غربت الشمس، فسمع صوتًا فقال: يهود تعذّب في قبورها"
(3) قال: "قد دلّ هذا الحديث على عذاب القبر، واعلم أن الإيمان بعذاب القبر واجب؛ للأحاديث الواردة فيه"
(4).
وقال أيضًا: "قد أشكل على الناس أمر النفس وماهيتها، مع إجماعهم على وجودها
… ثم أشكل عليهم مصيرها بعد الموت، ومذهب أهل الحق أن لها وجودًا بعد موتها، وأنها تنعم وتعذب"
(5).
--------------------------------------------
তিনি বলেন: "তার দীর্ঘায়ু সম্পর্কে অন্যকেও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং আমাদের সমসাময়িক একদল লোক মনে করে যে তারা তাকে দেখে এবং তার থেকে বর্ণনা করে। তখন তিনি বললেন: যে ব্যক্তি এমন কোনো জীবিত অনুপস্থিত বা মৃত নিখোঁজ ব্যক্তির উদ্ধৃতি দেয়, তার থেকে সত্য উদ্ধার করা সম্ভব নয়। মানুষের মাঝে শয়তান ছাড়া আর কেউ এই আলোচনার অবতারণা করেনি..."
(১).
খিজির (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটি কিতাব রয়েছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন: "উজালতুল মুনতাযাম বি-শারহি হালিিল খিজির", তিনি এটি সম্পর্কে বলেছেন: "আমি এতে এই হাদীসসমূহ, কিচ্ছা-কাহিনী ও এই জাতীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর ভুল স্পষ্ট করেছি"
(২).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পরকালের প্রতি ঈমান সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ:
১ - কবরের আজাব: এর দলিল এবং এর ওপর ঈমান আনার বিধান:আবু আইয়ুব আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসের ওপর ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মন্তব্যের সময়—যে হাদীসে এসেছে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূর্য ডোবার পর বের হলেন এবং একটি শব্দ শুনে বললেন: ইহুদিদের তাদের কবরে আজাব দেওয়া হচ্ছে"
(৩)—তিনি বলেন: "এই হাদীসটি কবরের আজাবের ওপর প্রমাণ পেশ করে। আর জেনে রাখুন যে, কবরের আজাবের ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব; কারণ এই বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে"
(৪).
তিনি আরও বলেন: "মানুষের কাছে রূহ বা আত্মার বিষয় এবং এর স্বরূপ অস্পষ্ট মনে হয়েছে, যদিও এর অস্তিত্বের ব্যাপারে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছে... অতঃপর মৃত্যুর পর এর পরিণতি নিয়ে তারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছে। সত্যপন্থীদের মাযহাব হলো, মৃত্যুর পরও এর অস্তিত্ব থাকে এবং এটি নিয়ামতপ্রাপ্ত হয় অথবা আজাব ভোগ করে"
(৫).
--------------------------------------------