(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
علم علل الحديث ودوره في حفظ السنة النبوية القسم: علوم الحديث
الكتاب: علم علل الحديث ودوره في حفظ السنة النبوية
المؤلف: وصى الله بن محمد عباس
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 85
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাদিসের ত্রুটি বিশ্লেষণ বিজ্ঞান (علم علل الحديث) এবং নববী সুন্নাহ সংরক্ষণে এর ভূমিকা বিভাগ: হাদিস শাস্ত্রসমূহ (علوم الحديث)
গ্রন্থ: হাদিসের ত্রুটি বিশ্লেষণ বিজ্ঞান (علم علل الحديث) এবং নববী সুন্নাহ সংরক্ষণে এর ভূমিকা
লেখক: ওয়াসিউল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আব্বাস
প্রকাশক: কিং ফাহদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন, মদিনা মুনাওয়ারা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
علم علل الحديث ودوره في حفظ السنة النبوية
إعداد: د. وصي الله بن محمد عباس الأستاذ المشارك بجامعة أم القرى بمكة المكرمة
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمة:الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على خير خلقه محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد:
فمما لا شك فيه أن السنة النبوية بجميع أنواعها أصل للدين الحنيف مع كتاب الله عز وجل، وكلاهما وحي من الله عز وجل إلى نبيه الكريم صلى الله عليه وسلم.
قال تعالى: {وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3-4] ، وقد قضى الله سبحانه وأكَّد أن السنة مبينة لكتاب الله، قال تعالى: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِم} [النحل: من الآية44] .
ولما كانت وظيفة السنَّة أنها موضحة لكتاب الله؛ وجب أن تكون محفوظة بحفظ الله، محفوفة برعاية الله حتى لا يضيع منها شيء ولا يدخل فيها ما ليس منها، تكفل الله بحفظها وصيانتها، قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] .
ولماكان المسلمون مأمورين باتباع النبي صلى الله عليه وسلم في قوله تعالى: {أَطِيعُواْ اللهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} [النساء: من الآية59] كان لابد أن يحافظوا على ما صدر عنه صلى الله عليه وسلم.
ومما لا يُختلف فيه: أن الدين هو رأس مال المسلم، وقد عرف المسلم أن الدين لا يُفهم، والهداية لا تحصل، إلا بمعرفة أصول الدين: كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، والإجماع والقياس لا يبنيان إلا عليهما.
হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) সংক্রান্ত জ্ঞান এবং নববী সুন্নাহ সংরক্ষণে এর ভূমিকা
উপস্থাপনায়: ড. অসিউল্লাহ বিন মুহাম্মদ আব্বাস, মক্কা আল-মুকাররামার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকা:সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর। এরপর:
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সকল প্রকার নববী সুন্নাহ মহান আল্লাহর কিতাবের পাশাপাশি এই একনিষ্ঠ দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং উভয়টিই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সম্মানিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি অবতীর্ণ ওহি (وحي)।
মহান আল্লাহ বলেন: "আর তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহি (وحي), যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।" [আন-নাজম: ৩-৪]। মহান আল্লাহ ফয়সালা দিয়েছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে, সুন্নাহ হলো আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যাকারী। তিনি বলেন: "আর আমি আপনার প্রতি ‘জিকির’ (স্মারক) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের কাছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে।" [আন-নাহল: ৪৪ নং আয়াতের অংশ]।
যেহেতু সুন্নাহর কাজ হলো আল্লাহর কিতাবকে স্পষ্ট করা, তাই তা আল্লাহর সংরক্ষণের মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকা এবং আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানে থাকা অপরিহার্য; যাতে এর কোনো কিছু হারিয়ে না যায় এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তা যেন এতে প্রবেশ করতে না পারে। আল্লাহ নিজেই এর সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমিই এই ‘জিকির’ (স্মারক) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" [আল-হিজর: ৯]।
যেহেতু মুসলমানদেরকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল)-দের। অতঃপর যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করো। এটাই উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকে অতি সুন্দর।" [আন-নিসা: ৫৯ নং আয়াতের অংশ]। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা কিছু নিঃসৃত হয়েছে তা সংরক্ষণ করা অপরিহার্য ছিল।
এটি একটি অবিসংবাদিত বিষয় যে: দ্বীনই হচ্ছে একজন মুসলিমের আসল পুঁজি। একজন মুসলিম জানেন যে, দ্বীনের মূলনীতিসমূহ (أصول الدين) তথা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর জ্ঞান ছাড়া দ্বীন বোঝা এবং হেদায়াত অর্জন করা সম্ভব নয়। আর ইজমা (إجماع) ও কিয়াস (قياس) কেবল এই দুইয়ের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
فلما كانت السنة بهذه المنزلة من العظمة في الشأن؛ كان من الأمور البدهية أن يحافظ عليها الرسول صلى الله عليه وسلم، ويحفظها صحابته.
ومعلوم من فطرة البشر أنه كلما رأى الشيء غالياً ومهماً بالغ في حفظه وصيانته. وقد شهد التاريخ الصادق أن صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين اختارهم الله لصحبة نبيه، كانوا أول الدارسين لهذا العلم المبارك على يد سيد الخلق صلى الله عليه وسلم، في أول جامعة متنقلة جمعت بين نُزَّاع القبائل وخلاصة البطون والأفخاذ في دار الأرقم بمكة، ثم انتقلت هذه الجامعة إلى يثرب التي صارت طيبة لطيب الرسول صلى الله عليه وسلم، واستقرت في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم. وكانت هذه الجامعة تنتقل أينما حل وارتحل معلمها، الذي كان يُلَقَّى العلم والوحي من لدن العليم الحكيم، وكان ينزل به عليه الروح الأمين. نعم كان طلبة السنة النبوية يتنقلون مع نبيهم حتى في طريق ذهابه إلى الخلاء لقضاء حاجته، فيحمل أحدهم الإداوة من الماء، والثاني العَنَزَة، ويتعلمون منه أدب الخلاء.
كان أولئك الطلبة الأبرار ينتقلون مع معلمهم صلى الله عليه وسلم في الغزوات والسفرات والحج والعمرات، فما يلفظ من قول إلا يقع في قلوب أصحابه، فيجدون حلاوته وطلاوته، ويحفظونه حفظاً وعلماً، ويعملون به عملاً، فتعلموا العلم والعمل، يكرمونه إكراماً، ويهابونه إجلالاً، ويحبونه أحب من أنفسهم وآبائهم وأولادهم.
وكان المعلم المبارك صلى الله عليه وسلم رحيماً رفيقاً، يتخولهم بالموعظة والتعليم، يدخل مجامعهم رجالاً ونساءً، فما من أحد صحبه صلى الله عليه وسلم رجلاً كان أو امرأة، صغيراً كان أو كبيراً، إلا ويحفظ عنه على قدره، ويتشرف بدعوته المباركة: “نضَّر
যযেহেতু সুন্নাহ মর্যাদার দিক থেকে এমন মহত্ত্বের অধিকারী ছিল; সেহেতু এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে সংরক্ষণ করবেন এবং তাঁর সাহাবীগণ একে মুখস্থ করে রাখবেন।
আর মানুষের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য থেকেই এটি জানা যে, যখনই সে কোনো বস্তুকে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, তখনই সে তার সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় চরম যত্নবান হয়। সত্যনিষ্ঠ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই সাহাবীগণ, যাদেরকে আল্লাহ তাঁর নবীর সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছিলেন, তাঁরাই ছিলেন সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তত্ত্বাবধানে এই বরকতময় ইলমের প্রথম শিক্ষার্থী। মক্কার দারে আরকামে প্রতিষ্ঠিত সেই প্রথম ভ্রাম্যমাণ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরা শিক্ষালাভ করেছিলেন, যা বিভিন্ন গোত্র থেকে আসা ব্যক্তিবর্গ এবং বংশ ও গোত্রগুলোর সারনির্যাসকে একত্রিত করেছিল। পরবর্তীতে এই বিশ্ববিদ্যালয় ইয়াসরিবে স্থানান্তরিত হয়, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র উপস্থিতির বরকতে তাইবা-তে পরিণত হয়েছিল এবং মসজিদে নববীতে তা স্থায়ী রূপ লাভ করে। এই বিশ্ববিদ্যালয় সেখানেই স্থানান্তরিত হতো যেখানেই এর শিক্ষক অবস্থান করতেন বা সফর করতেন, যিনি মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় সত্তার পক্ষ থেকে ইলম ও ওহি লাভ করতেন এবং যা নিয়ে তাঁর কাছে রুহুল আমিন অবতীর্ণ হতেন। হ্যাঁ, সুন্নাহর শিক্ষার্থীরা তাঁদের নবীর সাথে এমনকি তাঁর শৌচকার্য সম্পাদনের প্রয়োজনে যাওয়ার পথেও সঙ্গী হতেন; তাঁদের কেউ পানির পাত্র বহন করতেন, আবার কেউ লাঠি বহন করতেন এবং তাঁরা তাঁর কাছ থেকে শৌচকার্যের আদবসমূহ শিক্ষা লাভ করতেন।
সেই পুণ্যবান শিক্ষার্থীরা তাঁদের শিক্ষকের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে যুদ্ধবিগ্রহ, সফর, হজ ও উমরাহতে সঙ্গী হতেন। তিনি যা-ই উচ্চারণ করতেন, তা সাহাবীদের অন্তরে গেঁথে যেত; তাঁরা এর স্বাদ ও মাধুর্য অনুভব করতেন এবং তা জ্ঞান ও স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করতেন এবং সেই অনুযায়ী আমল করতেন। ফলে তাঁরা ইলম ও আমল উভয়ই শিক্ষা করেছিলেন। তাঁরা তাঁকে পরম শ্রদ্ধা করতেন, সম্মানের সাথে সমীহ করতেন এবং নিজেদের প্রাণ, পিতা ও সন্তানদের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন।
আর সেই বরকতময় শিক্ষক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও নমনীয়। তিনি তাঁদেরকে উপদেশ ও শিক্ষার মাধ্যমে পরিচালনা করতেন। তিনি পুরুষ ও নারীদের মজলিসসমূহে উপস্থিত হতেন। ফলে পুরুষ বা নারী, ছোট বা বড়—যারাই তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর কাছ থেকে সংরক্ষণ করেছেন এবং তাঁর এই বরকতময় দোয়ার মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছেন: “উজ্জ্বল করুন (نضَّر)
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الله امرأ سمع منا شيئاً فبلغه كما سمعه، فرب مُبَلَّغٍ أوعى من سامع" (1) . فإن كان آلاف الصحابة يتعلمون منه خارج بيوته في وضح النهار وإدباره أعماله وحركاته، فمن أين لنا أن نعلم سننه وأموره ولياليه بعدما تتشرف به جدران حجراته فتستر وجوده الشريف عن أعين الناس بما يأتي به، ويذر في جنح الظلام؟ نعم، هناك أزواجه أمهات المؤمنين الكثيرات ينقلن عنه أموره الخاصة حتى مما يستحيا من ذكره، ولكنه دين الله وأمر الله لتبليغ دينه، فنجدهن ينقلن إلى أبنائهن ما كان يعمله النبي صلى الله عليه وسلم في خلوته معهن.
ثم وراء هذا يحرص أحدهم من محارم أمهات المؤمنين أن يبيت في بيت النبي صلى الله عليه وسلم، حتى يتعلم كيف كان يقضي صلى الله عليه وسلم ليله في عبادة ربه، ويصعد أحدهم على سطح بيت إحدى أمهات المؤمنين -وهي أخته- لبعض حاجته، فيتفق له أن يرى النبي صلى الله عليه وسلم جالساً في الكنيف يقضي حاجته، فيروي في ذلك: "فرأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم مستدبراً القبلة مستقبلاً الشام" (2) .
وبذلك يجب أن نؤمن أنه لا يمكن أن تكون كلمة من النبي صلى الله عليه وسلم ضاعت بل حفظت حفظاً تاماً.
وإن بعضهم كان يعالج الشدة في حفظ السنة، فإذا اشتكى إلى النبي صلى الله عليه وسلم نسيانه وتَفَلُّتَ محفوظه، أشكاه صلى الله عليه وسلم بدعوته المباركة.
ثم صار أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم معلمين لأصحابهم، فأدوا الأمانة إلى تابعيهم، وتابعوهم إلى تابعيهم، حتى دونت السنة تدويناً في الكتب، وحُفظت عن ظهر القلوب.
--------------------------------------------
“আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো কিছু শ্রবণ করেছে এবং তা যেভাবে শ্রবণ করেছে ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক সময় যার নিকট বাণী পৌঁছানো হয়, সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।” (১)। যদি হাজার হাজার সাহাবী (صحابة) দিনের আলোতে এবং দিনের শেষে ঘরের বাইরে তাঁর আমল ও চালচলন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন, তবে তাঁর সুন্নাহ, বিষয়াবলী এবং তাঁর রাতগুলো সম্পর্কে আমরা কীভাবে জানতে পারতাম যখন তাঁর হুজরার দেয়ালগুলো তাঁর পবিত্র উপস্থিতিকে ধন্য করত এবং রাতের অন্ধকারে তাঁর কাজগুলোকে মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল করে রাখত? হ্যাঁ, সেখানে তাঁর অনেক স্ত্রী তথা উম্মাহাতুল মুমিনীন ছিলেন যারা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বর্ণনা (رواية) করতেন, এমনকি যা উল্লেখ করতে লজ্জাবোধ হয় তাও। কিন্তু এটি আল্লাহর দ্বীন এবং তাঁর দ্বীন প্রচারের জন্য আল্লাহরই নির্দেশ। তাই আমরা দেখি তাঁরা তাঁদের সন্তানদের নিকট বর্ণনা (رواية) করতেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সাথে নির্জনে কী করতেন।
অতঃপর এর পাশাপাশি উম্মাহাতুল মুমিনীনের মাহরামদের মধ্য থেকে কেউ কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে রাত্রি যাপন করার ব্যাপারে যত্নবান হতেন, যাতে তিনি কীভাবে তাঁর রবের ইবাদতে রাত অতিবাহিত করতেন তা শিখতে পারেন। এমনকি তাঁদের কেউ তাঁর কোনো প্রয়োজনে উম্মাহাতুল মুমিনীনের একজনের ঘরের ছাদে উঠতেন—যিনি ছিলেন তাঁর বোন—তখন ঘটনাক্রমে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শৌচাগারে হাজত পূরণরত অবস্থায় উপবিষ্ট দেখেন। অতঃপর তিনি এ বিষয়ে বর্ণনা (رواية) করেন: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে এবং শামের দিকে মুখ করে থাকা অবস্থায় দেখেছি।” (২)।
এর দ্বারা আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো একটি কথাও হারিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, বরং তা পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত হয়েছে।
নিশ্চয়ই তাঁদের কেউ কেউ সুন্নাহ মুখস্থ করার ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করতেন। যখনই তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁদের বিস্মৃতি বা মুখস্থ বিষয় হারিয়ে ফেলার অভিযোগ করতেন, তখন তিনি তাঁর বরকতময় দোয়ার মাধ্যমে তাঁদের সেই অভিযোগ (কষ্ট) দূর করে দিতেন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ (صحابة) তাঁদের সাথীদের জন্য শিক্ষক হয়ে গেলেন। তাঁরা তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীদের (تابعين) কাছে আমানত পৌঁছে দিলেন এবং তাবেয়ীরা তাঁদের পরবর্তী অনুসারীদের কাছে; এভাবে কিতাবসমূহে সুন্নাহ বিধিবদ্ধভাবে সংকলিত হলো এবং তা স্মৃতিপটে সংরক্ষিত হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وشهد التاريخ الصادق أن المسلمين في كل عصر ومصر بذلوا كل مستطاعهم لحفظ السنة من كل دخيل يدخل فيها سهواً أوعمداً.
وإن علوم الحديث وقواعده التي قَعَّدوها لمعرفة صحيح حديث رسول الله وضعيفه، تدل على توفيق الله لهم على ما وهبهم من القوة في الإرادة والذكاء والفطنة.
ففي كل عَصْرٍ تحمَّل علماء السنة مسؤوليتهم، فحموا السنة، وألَّفوا فيها تآليف، وحرروا المسائل، وترجموا لآلاف الرواة، وحكموا عليهم بعلم وخبرة وسبْر واستقراء، وأعطوا كل ذي حق حقه من الثقة والضعف.
هذا ومن أهم فنون علم الحديث: فن معرفة العلل، فإنه من أدقها وأطلبها للجهد والكدِّ، فإن هذا العلم لا يحصل إلا بجمع الطرق واستيعاب الرواة المهملين والمشتبهين والمؤتلفين والمختلفين وغيرهم ولا يقوم به إلا أفذاذ وأفراد.
وفي الصفحات الآتية نذكر لمحة عن علل الحديث تحت عنوان "علم علل الحديث ودوره في حفظ السنة النبوية"، نقدمه لندوة عناية المملكة العربية السعودية – أقامها الله وأدامها– بالسنة والسيرة النبوية.
وقد انتظم البحث في هذه المقدمة وبابين وخاتمة.
أما الباب الأول فاشتمل على خمسة فصول:
الفصل الأول: في تعريف العلة.
الفصل الثاني: في أقسام العلة.
الفصل الثالث: في بيان أهمية علل الحديث.
الفصل الرابع: في مواضع العلة في الحديث.
সত্য ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, প্রতিটি যুগে ও জনপদে মুসলিমগণ সুন্নাহকে অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপ্রবেশকারী যাবতীয় বিজাতীয় বিষয় থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।
আর হাদিস বিজ্ঞান এবং এর সেই মূলনীতিসমূহ যা তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের বিশুদ্ধ (صحيح) ও দুর্বল (ضعيف) নির্ণয়ের জন্য নির্ধারণ করেছেন, তা তাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ তাওফিকের প্রমাণ বহন করে এবং তাদের প্রদত্ত ইচ্ছাশক্তি, মেধা ও বিচক্ষণতার সাক্ষ্য দেয়।
সুতরাং প্রতিটি যুগে সুন্নাহর আলেমগণ তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন; তারা সুন্নাহকে রক্ষা করেছেন, এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন, মাসয়ালাসমূহ সুবিন্যস্ত করেছেন এবং হাজার হাজার বর্ণনাকারীর জীবনী সংকলন করেছেন। তারা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, সূক্ষ্ম পরীক্ষা এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে তাদের বিষয়ে ফয়সালা দিয়েছেন এবং নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) ও দুর্বলতার (ضعف) ক্ষেত্রে প্রত্যেককে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিয়েছেন।
আর হাদিস বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: গোপন ত্রুটি (علل) বিষয়ক জ্ঞান। এটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং কঠোর শ্রমসাধ্য বিষয়। কারণ, বিভিন্ন সূত্রসমূহ একত্রিত করা এবং নামহীন বর্ণনাকারী, সন্দেহযুক্ত বর্ণনাকারী, সমোচ্চারিত কিন্তু ভিন্ন বানানের এবং সমবানান কিন্তু ভিন্ন উচ্চারণের বর্ণনাকারী এবং অন্যদের সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন ছাড়া এ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। কেবল বিরল প্রতিভাবান ও অনন্য ব্যক্তিত্বগণই এ কাজ সম্পাদন করতে পারেন।
পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে আমরা "ইলমে ইলালুল হাদিস এবং নববী সুন্নাহ সংরক্ষণে এর ভূমিকা" শিরোনামে হাদিসের গোপন ত্রুটি (علل) সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা পেশ করছি। এটি আমরা সৌদি আরব রাজ্যের—আল্লাহ একে সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্থায়ী করুন—সুন্নাহ ও সিরাতে নববীর প্রতি যত্ন বিষয়ক সেমিনারের উদ্দেশ্যে পেশ করছি।
গবেষণাটি একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রথম অধ্যায়টি পাঁচটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গোপন ত্রুটির (علة) সংজ্ঞায়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গোপন ত্রুটির (علة) প্রকারভেদে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের গোপন ত্রুটিসমূহের (علل) গুরুত্ব বর্ণনায়।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাদিসে গোপন ত্রুটির (علة) স্থানসমূহের বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الفصل الخامس: في أسباب العلة في الحديث.
وأما الباب الثاني فاشتمل على أمثلة تطبيقية للعلل في ضوء شروط الصحيح. وفيه فصول:
الفصل الأول: أمثلة للأحاديث التي وقعت العلة فيها في معرفة العدل من غيره.
الفصل الثاني: أمثلة وقعت العلة فيها لأجل ضبط الراوي وعدم ضبطه.
الفصل الثالث: أمثلة وقعت العلة فيها لأجل عدم الاتصال عن طريق خفي.
الفصل الرابع: أمثلة وقعت العلة فيها لأجل الشذوذ.
الفصل الخامس: في تعليل الحديث بعلل عامة.
والخاتمة: وتشمل خلاصة البحث وبعض الاقتراحات.
পঞ্চম অধ্যায়: হাদিসের ইল্লত বা ত্রুটির (العلة) কারণসমূহ প্রসঙ্গে।
আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি সহিহ (الصحيح) হওয়ার শর্তাবলির আলোকে ইল্লত বা ত্রুটিসমূহের (العلل) প্রায়োগিক উদাহরণসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে কয়েকটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: ঐ সকল হাদিসের উদাহরণ যাতে ন্যায়পরায়ণ (العدل) বর্ণনাকারীকে অন্যদের থেকে পৃথকভাবে চেনার ক্ষেত্রে ইল্লত বা ত্রুটি (العلة) প্রকাশ পেয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: ঐ সকল উদাহরণ যাতে বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা (ضبط) ও নির্ভুলতার অভাবের কারণে ইল্লত বা ত্রুটি (العلة) ঘটেছে।
তৃতীয় অধ্যায়: ঐ সকল উদাহরণ যাতে সূক্ষ্ম বা গোপন উপায়ে বিচ্ছিন্নতার (عدم الاتصال) কারণে ইল্লত বা ত্রুটি (العلة) ঘটেছে।
চতুর্থ অধ্যায়: ঐ সকল উদাহরণ যাতে শায বা ব্যতিক্রমী হওয়ার (الشذوذ) কারণে ইল্লত বা ত্রুটি (العلة) ঘটেছে।
পঞ্চম অধ্যায়: সাধারণ ইল্লত বা ত্রুটিসমূহের (علل عامة) মাধ্যমে হাদিসের ত্রুটিপূর্ণ হওয়া (تعليل) প্রসঙ্গে।
উপসংহার: এতে গবেষণার সারসংক্ষেপ এবং কিছু প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الباب الأول العلة: تعريفها وأقسامها وبيان أهمية معرفته وأسبابها ومواضعها
الفصل الأول: في تعريف العلة
تعريف العلة لغة…الباب الأول: العلة: تعريفها وأقسامها وبيان أهمية معرفتها وأسبابها ومواضعها
الفصل الأول: في تعريف العلة
تعريف العلة لغة:
يظهر من النظر في أقوال اللغويين أن مادة (عَلَّ) تأتي لثلاثة معان:
الأول: العَلَل وهي الشربة الثانية، ويقال: عَلَلٌ بعد نَهْلٍ، والفعل يَعُلُّون.
والثاني: العائق يَعوق، قال الخليل: العِلَّة حَدَثٌ يَشغَل صاحِبَه عن وجْهه، ويقال: اعتلَّه عن كذا أي اعتاقه.
والثالث: العلة: المرض وصاحبها مُعْتَلّ. قال ابن الأعرابي: علَّ المريض يَعِلُّ عِلَّة فهو عَلِيلٌ، ورَجُلٌ عُلَلَة، أي كثير العِلَل.
ومن هذا الباب وهو باب الضَّعف؛ العَلّ من الرجال: المُسِنّ الذي تضاءل وصَغُر جسمه. وقال ابن الأعرابي: العَلّ الضعيف من كبر أو مرض (1) .
وصيغة الصفة من العلة بمعنى المرض: معتل كما سبق وهو من اعتلَّ.
وقال الفيروزابادي: والعِلة بالكسر المرض. علَّ يَعِلُّ واعتلَّ، وأعلّه الله فهو مُعَلّ وعليل، ولا تقل: معلول. والمتكلمون يقولونها ولست منه على ثَلَجٍ (2) .
وذكر ابن منظور كلمة "معلول" بمعنى المصاب بالعلة، ثم قال: والمتكلمون يستعملون لفظة المعلول في مثل هذا كثيراً.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায় ত্রুটি (العلة): এর সংজ্ঞা, প্রকারভেদ এবং এর জ্ঞানের গুরুত্ব, কারণ ও ক্ষেত্রসমূহের বর্ণনা
প্রথম পরিচ্ছেদ: ত্রুটির (العلة) সংজ্ঞার বর্ণনায়
আভিধানিক অর্থে ত্রুটির (العلة) সংজ্ঞা…প্রথম অধ্যায়: ত্রুটি (العلة): এর সংজ্ঞা, প্রকারভেদ এবং এর জ্ঞানের গুরুত্ব, কারণ ও ক্ষেত্রসমূহের বর্ণনা
প্রথম পরিচ্ছেদ: ত্রুটির (العلة) সংজ্ঞার বর্ণনায়
আভিধানিক অর্থে ত্রুটির (العلة) সংজ্ঞা:
ভাষাবিদদের বক্তব্য পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, 'আইন-লাম-লাম' (عل) ধাতুটি তিনটি অর্থ প্রদান করে:
প্রথমত: দ্বিতীয়বার পান করা। বলা হয়ে থাকে: প্রথমবার তৃষ্ণা নিবারণের পর পুনরায় পান করা, এবং এর ক্রিয়াপদ 'ইয়াউল্লুন' ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয়ত: এমন বাধা যা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আল-খলিল বলেন: ত্রুটি (العِلَّة) হলো এমন এক ঘটনা যা তার কর্তাকে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্য থেকে বিমুখ রাখে। বলা হয়: তাকে অমুক কাজ থেকে বিরত বা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: ত্রুটি (العلة) অর্থ রোগ এবং এর দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিকে অসুস্থ বলা হয়। ইবনুল আরাবি বলেন: রোগী যখন অসুস্থ হয় তখন তাকে 'আলিল' বলা হয়, আর যে ব্যক্তির অনেক বেশি রোগ বা ত্রুটি থাকে তাকে 'উলালাহ' বলা হয়।
আর এই মূল থেকেই দুর্বলতা (الضَّعف) শব্দটি এসেছে; কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'আল-আল' বলতে সেই বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে বোঝায় যার শরীর বার্ধক্যের কারণে ক্ষীণ ও ছোট হয়ে গেছে। ইবনুল আরাবি বলেন: বার্ধক্য বা রোগের কারণে দুর্বল (الضعيف) ব্যক্তিকে 'আল-আল' বলা হয় (১)।
রোগ অর্থে ব্যবহৃত ত্রুটি (العلة) থেকে গুণবাচক রূপ হলো অসুস্থ বা আক্রান্ত, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি 'ই'তাল্লা' থেকে উদ্ভূত।
আল-ফিরোজাবাদি বলেন: 'ইল্লাহ' শব্দের নিচে যের বা কাসরা হলে এর অর্থ রোগ। এর ক্রিয়াপদ অসুস্থ হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাকে অসুস্থ করেছেন, সে হলো ত্রুটিযুক্ত (مُعَلّ) বা অসুস্থ; তাকে ত্রুটিযুক্ত (معلول) বলা সমীচীন নয়। কালামশাস্ত্রবিদরা এটি বলে থাকেন, তবে এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত বা তৃপ্ত নই (২)।
ইবনে মানযুর ত্রুটি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া অর্থে 'ত্রুটিযুক্ত' (معلول) শব্দটি উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: কালামশাস্ত্রবিদরা এই জাতীয় ক্ষেত্রে ত্রুটিযুক্ত (المعلول) শব্দটি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করে থাকেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
قال ابن سِيده: وبالجملة فلستُ منها على ثقة ولا على ثَلَج، لأن المعروف إنما هو أعلَّه الله فهو مُعَلّ، اللهم إلا أن يكون على ما ذهب إليه سيبويه من قولهم: مجنون ومسْلول من أنه جاء على جَنَنْتُه وسَلَلْتُه (1) .
وقد تَبع ابنَ سيده فيما يظهر الفيروز آبادي، فقال في "القاموس": ولا تقل: معلول، والمتكلمون يقولونها ولستُ منه على ثلَج (2) .
ووافق ابن الصلاح على تخطئة إطلاق معلول على الحديث الذي فيه عِلّة حيث قال: ويسميه أهل الحديث "المعلول" وذلك منهم ومن الفقهاء في قولهم في باب القياس: العلة، والمعلول مرذول عند أهل اللغة والعربية (3) .
وكذلك لحَّنه النووي في تقريبه (4) .
ولكننا نقول: إن استعمال أهل الحديث كلمة المعلول بالمعنى الذي أرادوه ليس مخالفاً للغة، لأنه قد استعملها أبو إسحاق الزجاج اللغوي في علم العروض قريباً من المعنى الذي عناه أهل الحديث (5) .
ونقل الشيخ طاهر الجزائري عن ابن القوطية (6) وهو من أهل اللغة: عَلّ الإنسان: مَرِضَ، والشيءُ أصابته العلة، فيكون استعماله بالمعنى الذي أرادوه
--------------------------------------------
ইবনে সিদাহ বলেন: "সংক্ষেপে বলতে গেলে, এ ব্যাপারে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত (ثقة) বা সন্তুষ্ট নই; কারণ বহুল প্রচলিত ব্যবহার হলো 'আ’আল্লাহুল্লাহ' (أعلَّه الله), যা থেকে ইসমে মাফউল হয় 'মুআল্ল' (مُعَلّ)। তবে সিবাওয়াইহ-এর অভিমত অনুযায়ী হতে পারে, যেমনটি তাদের এই উক্তিতে পাওয়া যায়: 'মাজনুন' (مجنون) এবং 'মাসলুল' (مسلول), যা এসেছে 'জানান্তুহু' ও 'সালালতুহু' থেকে।" (১) .
বাহ্যত আল-ফিরোজাবাদিও ইবনে সিদাহকে অনুসরণ করেছেন। তিনি তাঁর 'আল-কামুস'-এ বলেছেন: "তুমি 'মা'লুল' (معلول) বোলো না। কালামশাস্ত্রবিদরা এটি ব্যবহার করেন, তবে এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।" (২) .
ইবনুস সালাহও সেই হাদিসের ক্ষেত্রে 'মা'লুল' (معلول) শব্দের প্রয়োগকে ভুল আখ্যা দেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন যাতে কোনো ত্রুটি (علة) রয়েছে। তিনি বলেন: "হাদিস বিশারদগণ একে 'মা'লুল' (المعلول) নামে অভিহিত করেন। এটি তাঁদের এবং ফকিহগণের পক্ষ থেকে কিয়াসের অধ্যায়ে 'ইল্লাত' (العلة) ও 'মা'লুল' (المعلول) শব্দের ব্যবহারের মতো। তবে ভাষাবিদ ও আরবি সাহিত্যিকদের নিকট এটি একটি নিকৃষ্ট পরিভাষা।" (৩) .
একইভাবে ইমাম নববী তাঁর 'তাকরীব'-এ একে ভাষাগত ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। (৪) .
কিন্তু আমরা বলি: হাদিস বিশারদগণ যে অর্থে 'মা'লুল' (المعلول) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তা ভাষা বহির্ভূত নয়। কারণ ভাষাবিদ আবু ইসহাক আল-জাজ্জাজ 'ইলমুল আরুজ'-এ হাদিস বিশারদদের উদ্দেশিত অর্থের কাছাকাছি অর্থে এটি ব্যবহার করেছেন (৫) .
শায়খ তাহের আল-জাজাইরি ভাষাবিদ ইবনুল কুতিয়্যাহ (৬) থেকে বর্ণনা করেছেন: "মানুষ অসুস্থ হয়েছে (عَلَّ), এবং কোনো বস্তুতে দোষ বা ত্রুটি (العلة) পাওয়া গেছে।" সুতরাং এটি তাঁদের কাঙ্ক্ষিত অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
غير منكر، بل قال بعضهم: استعمال هذا اللفظ أولى لوقوعه في عبارات أهل الفن مع ثبوته لغةً، ومَنْ حفظ حجة على من لم يحفظ (1) .
وأما استعمال أهل الحديث "معلول" الذي أشار إليه من أشار فهو كما أشار (2) .
--------------------------------------------
এটি অস্বীকৃত (منكر) নয়, বরং তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এই শব্দের ব্যবহার অধিকতর শ্রেয়; কারণ শাস্ত্রজ্ঞ বিশেষজ্ঞগণের বক্তব্যে এর প্রয়োগ রয়েছে এবং ভাষাগতভাবেও এটি প্রমাণিত। আর যে ব্যক্তি মুখস্থ বা সংরক্ষণ করেছে, সে ওই ব্যক্তির বিপরীতে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হবে যে তা সংরক্ষণ করেনি (১)।
আর হাদিস শাস্ত্রবিদগণ কর্তৃক 'ত্রুটিযুক্ত (معلول)' শব্দের ব্যবহারের বিষয়ে যারা ইঙ্গিত করেছেন, বিষয়টি তেমনই যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
والعلة في اصطلاح أهل الحديث:بمعنى فن خاص من فنون المصطلح، فهي عبارةٌ عن أسباب خفية قادحة في صحة الحديث، مع أن ظاهره السلامة منها، ويتطرق ذلك إلى الإسناد الذي رجاله ثقات، الجامع شروط الصحة من حيث الظاهر (3) .
أو نقول: العلة في اصطلاح أئمة الحديث: عبارة عن أسباب خفية غامضة طرأت على الحديث فأثرت فيه، أي: قدحت في صحته (4) .
وأما بالمعنى العام فتطلق العلة على كل سبب جارح قادح في صحة الحديث سواء كان ظاهراً أم خفياً.
قال ابن الصلاح: “قد يطلق اسم العلة على غير ما ذكرناه من باقي الأسباب القادحة في الحديث المخرجة له من حال الصحة إلى حال الضعف. المانعة من العمل به على ما هو مقتضى لفظ "العلة" في الأصل؛ ولذلك نجد في كتب الحديث الكثير من الجرح بالكذب والغفلة وسوء الحفظ، ونحو ذلك من أنواع الجرح، وسمَّى الترمذي النسخ علة من علل الحديث.
--------------------------------------------
হাদিস বিশারদদের পরিভাষায় ত্রুটি (العلة):পরিভাষা শাস্ত্রের (المصطلح) একটি বিশেষ শাখা হিসেবে এটি এমন কিছু গোপন কারণের সমষ্টি যা হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) ক্ষেত্রে ত্রুটিযুক্তকারী (قادحة), যদিও বাহ্যিকভাবে তা ত্রুটিমুক্ত মনে হয়। এটি মূলত এমন সনদ (إسناد) এর ক্ষেত্রে ঘটে যার বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং যা বাহ্যিক দিক থেকে বিশুদ্ধতার (صحة) শর্তাবলি পূরণ করে (৩)।
অথবা আমরা বলতে পারি: হাদিস শাস্ত্রের ইমামদের পরিভাষায় ত্রুটি (العلة) হলো: হাদিসে প্রকাশ পাওয়া এমন কিছু লুকায়িত ও অস্পষ্ট কারণ যা এতে প্রভাব ফেলে, অর্থাৎ এর বিশুদ্ধতাকে (صحة) প্রশ্নবিদ্ধ করে (৪)।
আর সাধারণ অর্থে, প্রত্যেক জরাহকারী (جارح) বা দোষযুক্তকারী কারণের ওপর 'ত্রুটি' শব্দটি প্রয়োগ করা হয় যা হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) ক্ষেত্রে ক্ষতিকর, তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন।
ইবনুল সালাহ বলেন: “আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও হাদিসের অন্যান্য ত্রুটিপূর্ণ কারণের ক্ষেত্রেও 'ত্রুটি' (العلة) শব্দটি ব্যবহৃত হতে পারে, যা হাদিসকে দোষযুক্ত করে এবং একে বিশুদ্ধ (صحة) অবস্থা থেকে দুর্বল (ضعف) স্তরে নিয়ে যায়। যা এর ওপর আমল করা থেকে বিরত রাখে, মূলত 'ত্রুটি' শব্দের আক্ষরিক দাবি অনুযায়ী। এ কারণেই হাদিসের কিতাবসমূহে আমরা মিথ্যা বলা (كذب), অসতর্কতা (غفلة) এবং মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ) জনিত প্রচুর জরাহ (الجرح) বা সমালোচনা দেখতে পাই এবং এই জাতীয় অন্যান্য জরাহ (الجرح) লক্ষ্য করা যায়। ইমাম তিরমিযী রহিতকরণ বা নাসখকে হাদিসের ত্রুটিগুলোর (العلة) অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثم إن بعضهم أطلق اسم العلة على ما ليس بقادح من وجوه الخلاف نحو إرسال من أرسل الحديث الذي أسنده الثقة الضابط حتى قال: من أقسام الصحيح على ما هو صحيح معلول، كما قال بعضهم: من الصحيح ما هو شاذ" (1) .
--------------------------------------------
অতঃপর তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মতপার্থক্যের এমন সব দিককেও 'ত্রুটি (علة)' নামে অভিহিত করেছেন যা মূলত (হাদিসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে) ক্ষতিকর নয়। যেমন, কোনো বর্ণনাকারীর হাদিসকে বিচ্ছিন্ন (إرسال) করা, অথচ সেই হাদিসটিই একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি তিনি বলেছেন: বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের প্রকারভেদের মধ্যে এমন হাদিসও রয়েছে যা 'বিশুদ্ধ ত্রুটিযুক্ত (صحيح معلول)'। যেমন তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: 'বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের মধ্যে এমন হাদিসও রয়েছে যা ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ)'। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الثاني: في أقسام العلةقال ابن الصلاح: "ثم قد تقع العلة في إسناد الحديث وهو الأكثر، وقد تقع في متنه، ثم ما يقع في الإسناد قد يقدح في صحة الإسناد والمتن جميعاً، كما في التعليل بالإرسال والوقف. وقد يقدح في صحة الإسناد خاصة من غير قدح في صحة المتن" (1) .
قال ابن حجر في نكته: "إذا وقعت العلة في الإسناد قد تقدح، وقد لا تقدح، وإذا قدحت فقد تخصه، وقد تستلزم القدح في المتن، وكذا القول في المتن سواء. فالأقسام على هذا ستة:
1- فمثال ما وقعت في الإسناد ولم تقدح مطلقاً: ما يوجد مثلاً من حديث مدلّس بالعنعنة، فإن ذلك عِلَّةٌ تُوجِبُ التوقف عن قبوله، فإذا وجد من طريق أخرى قد صرح فيها بالسماع تبين أن العلة غير قادحة.
وكذا إذا اختلف في الإسناد على بعض رواته، فإن ظاهر ذلك يوجب التوقف عنه، فإن أمكن الجمع بينهما على طريق أهل الحديث بالقرائن التي تحفّ الإسناد تبين أن تلك العلة غير قادحة.
2- ومثال ما وقعت العلة فيه في الإسناد وتقدح فيه دون المتن ما مثل به المصنف من إبدال راوٍ ثقة براوٍ ثقة وهو بقسم المقلوب أليق؛ فإن أبدل راوٍ ضعيف براو ثقة وتبين الوهم فيه استلزم القدح في المتن أيضاً، إن لم يكن له طرق أخرى صحيحة كما روى يعلى بن عبيد الطنافسي عن الثوري عن
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: ত্রুটির (العلة) প্রকারভেদ সম্পর্কেইবনে আস-সালাহ বলেন: "অতঃপর ত্রুটি (العلة) কখনও হাদিসের সনদে (الإسناد) ঘটে থাকে—আর এটাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়—আবার কখনও তা মতনে (متن) ঘটে থাকে। এরপর সনদে (الإسناد) যে ত্রুটি ঘটে, তা কখনও সনদ (الإسناد) ও মতন (متن) উভয়ের বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষতিগ্রস্ত (قدح) করে, যেমন মুরসাল হওয়া (الإرسال) এবং মাওকুফ হওয়া (الوقف) দ্বারা ত্রুটি চিহ্নিতকরণের (التعليل) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আবার কখনও তা মতনের (متن) বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষতিগ্রস্ত করা ছাড়াই বিশেষভাবে কেবল সনদের (الإسناد) বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষতিগ্রস্ত (قدح) করে।" (১) ।
ইবনে হাজার তাঁর নুকাত গ্রন্থে বলেন: "যখন সনদে (الإسناد) ত্রুটি (العلة) ঘটে, তখন তা কখনও ক্ষতিগ্রস্ত (تقدح) করে, আবার কখনও করে না। আর যখন তা ক্ষতিগ্রস্ত (قدحت) করে, তখন তা কখনও কেবল সনদের সাথে নির্দিষ্ট থাকে, আবার কখনও মতনের (المتن) ক্ষেত্রেও ক্ষতির (القدح) আবশ্যকতা তৈরি করে। মতনের (المتن) ক্ষেত্রেও বক্তব্য একই। সুতরাং এই ভিত্তিতে প্রকারগুলো হলো ছয়টি:
১- সনদে (الإسناد) ত্রুটি ঘটেছে কিন্তু তা সাধারণভাবে কোনো ক্ষতি (تقدح) করেনি—এর উদাহরণ হলো: যেমন আন'আনার মাধ্যমে (بالعنعنة) বর্ণিত কোনো মুদাল্লাস (مدلّস) বর্ণনাকারীর হাদিস। এটি এমন একটি ত্রুটি (عِلَّةٌ) যা হাদিসটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিরত থাকা (التوقف) আবশ্যক করে। কিন্তু যখন অন্য কোনো সূত্রে তা পাওয়া যায় যেখানে সরাসরি শ্রবণের (السماع) বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত থাকে, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে ত্রুটিটি (العلة) ক্ষতিকর (قادحة) নয়।
অনুরূপভাবে যখন কোনো বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে সনদে (الإسناد) ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, তখন বাহ্যিকভাবে তা হাদিসটি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা (التوقف) আবশ্যক করে। তবে যদি হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) পদ্ধতি অনুযায়ী সনদের (الإسناد) সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক প্রমাণের (القرائن) মাধ্যমে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তখন স্পষ্ট হয় যে সেই ত্রুটিটি (العلة) ক্ষতিকর (قادحة) নয়।
২- যে ত্রুটি (العلة) সনদে (الإسناد) ঘটে এবং তাতে ক্ষতি (تقدح) করে কিন্তু মতন (المتن) ক্ষতিগ্রস্ত হয় না—এর উদাহরণ হলো যা গ্রন্থকার দিয়েছেন: একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর স্থলে অন্য একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীকে পরিবর্তন করা। এটি মাকলুব (المقلوب) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। কিন্তু যদি কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীকে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর সাথে পরিবর্তন করা হয় এবং তাতে ভুল (الوهم) প্রকাশ পায়, তবে তা মতনের (المتن) ক্ষেত্রেও ক্ষতির (القدح) কারণ হবে, যদি হাদিসটির অন্য কোনো সহিহ (صحيحة) সূত্র না থাকে। যেমন ইয়ালা ইবনে উবাইদ আত-তানাফিসি সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
عمرو بن دينار عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم: "البيعان بالخيار ما لم يتفرقا"، فغلط يعلى في قوله: عمرو بن دينار إنما هو عبد الله بن دينار، كما رواه الأئمة من أصحاب الثوري (1) . يعني فلا يضر في صحة المتن؛ لأن عبد الله وعَمْراً كلاهما ثقة.
3- تقع العلة في الإسناد وتقدح فيه وفي المتن، ومن أغمض ذلك أن يكون الضعيف موافقاً للثقة في نعته.
ومثال ذلك ما وقع لأبي أسامة حماد بن أسامة الكوفي أحد الثقات عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر - وهو من ثقات الشاميين قدم الكوفة، فكتب عنه أهلها ولم يسمع منه أبو أسامة، ثم قدم بعد ذلك عبد الرحمن بن يزيد بن تميم، وهو من ضعفاء الشاميين، فسمع منه أبو أسامة، وسأله عن اسمه فقال: عبد الرحمن بن يزيد، فظن أبو أسامة أنه ابن جابر، فصار يحدِّث عنه وينسبه من قبل نفسه، فيقول: حدثنا عبد الرحمن بن يزيد بن جابر، فوقعت المناكير في رواية أبي أسامة عن ابن جابر، وهما ثقتان فلم يفطن لذلك إلا أهل النقد، فميزوا ذلك ونصوا عليه كالبخاري وأبي حاتم وغير واحد.
4- ومثال ما وقعت العلة في المتن دون الإسناد، ولا تَقْدَح فيهما، ما وقع من اختلاف ألفاظ كثيرة من أحاديث الصحيحين، إذا أمكن ردُّ الجميع إلى معنى واحد، فإن القدح ينتفي عنها. وسنزيد ذلك إيضاحاً في النوع الآتي إن شاء الله تعالى.
5- ومثال ما وقعت العلة في المتن دون الإسناد: ما يرويه راوٍ بالمعنى
--------------------------------------------
আমর বিন দিনার, ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের (চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের) এখতিয়ার থাকে।" এখানে ইয়া'লা 'আমর বিন দিনার' বলতে ভুল করেছেন; প্রকৃতপক্ষে তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন দিনার, যেমনটি সাওরির সাথীদের মধ্য থেকে ইমামগণ বর্ণনা করেছেন (১)। অর্থাৎ, এটি মতনের বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষুণ্ণ করে না; কারণ আবদুল্লাহ এবং আমর উভয়ই নির্ভরযোগ্য (ثقة)।
3- ত্রুটি (علة) অনেক সময় সনদে (الإسناد) ঘটে এবং তা সনদ ও মতন (المتن) উভয়কেই দোষযুক্ত (تقدح) করে। এর সবচেয়ে সূক্ষ্ম দিক হলো কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী তার গুণাবলি বা পরিচয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর সদৃশ হওয়া।
এর উদাহরণ হলো কুফার অন্যতম নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী আবু উসামা হাম্মাদ বিন উসামার সাথে যা ঘটেছিল। তিনি আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি সিরীয়দের মধ্যে নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন এবং কুফায় এসেছিলেন। কুফাবাসী তার থেকে বর্ণনা লিখেছিলেন, তবে আবু উসামা তার থেকে সরাসরি শোনেননি। পরবর্তীতে আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন তামীম কুফায় আসেন, যিনি সিরীয় বর্ণনাকারীদের মধ্যে দুর্বল (ضعفاء) ছিলেন। আবু উসামা তার থেকে হাদিস শোনেন এবং তার নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন: 'আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ'। তখন আবু উসামা মনে করেছিলেন যে তিনি (বিখ্যাত) ইবনে জাবির। ফলে তিনি তার থেকে হাদিস বর্ণনা করতে শুরু করেন এবং নিজের পক্ষ থেকে তার বংশপরিচয় উল্লেখ করে বলতেন: 'আমাদের কাছে আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির হাদিস বর্ণনা করেছেন'। এভাবে ইবনে জাবিরের সূত্রে আবু উসামার বর্ণনায় মুনকার (المناكير) বিষয়সমূহ ঢুকে পড়ে, যদিও তারা উভয়েই মূলত নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন। সমালোচকগণ (أهل النقد) ছাড়া অন্য কেউ বিষয়টি ধরতে পারেননি। ইমাম বুখারি, আবু হাতিমসহ অনেকেই এই পার্থক্য নিরূপণ করেছেন এবং স্পষ্টভাবে তা বর্ণনা করেছেন।
4- সনদ (الإسناد) ব্যতিরেকে কেবল মতনে (المتن) ত্রুটি (علة) থাকার উদাহরণ, যা সনদে বা মতনে দোষ (تقدح) তৈরি করে না: সহীহাইনের হাদিসসমূহের মধ্যে বিবিধ শব্দের যে পার্থক্য পাওয়া যায়, যখন সবগুলোকে একটি অর্থেই প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব হয়, তখন ত্রুটির প্রভাব (القدح) দূর হয়ে যায়। ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পরিচ্ছেদে আমরা এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করব।
5- সনদ (الإسناد) ব্যতিরেকে কেবল মতনে (المتن) ত্রুটি (علة) পরিলক্ষিত হওয়ার আরেকটি উদাহরণ: যা কোনো বর্ণনাকারী শব্দে শব্দে বর্ণনা না করে মর্মার্থ অনুযায়ী (بالمعنى) বর্ণনা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الذي ظنه يكون خطأ، والمراد بلفظ الحديث غير ذلك، فإن ذلك يستلزم القدح في الراوي، فيعلل الإسناد.
6- ومثال ما وقعت العلة فيه في المتن، واستلزمت القدح في الإسناد، ما ذكره المصنف من أحد الألفاظ الواردة في حديث أنس رضي الله عنه وهي قوله: "لا يذكرون بسم الله الرحمن الرحيم في أول قراءة ولا في آخرها" فإن أصل الحديث في الصحيحين، فلفظ البخاري: "كانوا يفتتحون بالحمد لله رب العالمين" (1) .
--------------------------------------------
যিনি এটি ধারণা করেছেন তা ভুল হতে পারে এবং হাদিসের শব্দের মর্মার্থ অন্য কিছু হতে পারে; কারণ এটি বর্ণনাকারীর সমালোচনা (القدح) দাবি করে, ফলে সনদে (الإسناد) সূক্ষ্ম ত্রুটি (يعلل) সাব্যস্ত হয়।
৬- মূল পাঠের (المتن) মধ্যে সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة) থাকা এবং যা সনদের (الإسناد) সমালোচনা (القدح) সাব্যস্ত করার উদাহরণ হিসেবে গ্রন্থকার আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের একটি শব্দ উল্লেখ করেছেন, তা হলো: "তারা কিরাতের শুরুতে বা শেষে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পাঠ করতেন না।" অথচ হাদিসটির মূল উৎস সহীহাইন-এ রয়েছে; যেখানে বুখারির শব্দ হলো: "তারা 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' দ্বারা শুরু করতেন।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الفصل الثالث: أهمية علم علل الحديثتظهر أهمية علم علل الحديث من تعريف العلة وهي سبب خفي قادح في صحة الحديث مع أن الظاهر السلامة منه.
ولما كان هذا العلم خفياً غامضاً، كان إدراكه من أصعب الأمور، ولما كانت العلة تكثر في أحاديث الثقات فيعتمد عامة الناظرين على كون الثقة ثقةً ويقبلون حديثه تحسيناً للظن به وبحديثه فيصححون المعلول، وفيه من الخطورة ما لا يقادر قدرُه، بحيث يُنسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم قول أو فعل أو تقرير أو شيء آخر، ممَّا لم يثبت عنه صلى الله عليه وسلم.
ولذا لم يقم بهذا العبء الكبير إ لا جهابذة الحديث، قال أبو عبد الله بن منده الحافظ: "إنما خص الله بمعرفة هذه الأخبار نفراً يسيراً من كثير ممن يَدَّعي علم الحديث" (1) .
وقال الحاكم: "معرفة علل الحديث، وهو علم برأسه غير الصحيح والسقيم، والجرح والتعديل، وإنما يعلل الحديث من أوجهٍ ليس للجرح فيها مدخل، فإن حديث المجروح ساقط واهٍ، وعِلة الحديث يكثر في أحاديث الثقات، أن يحدثوا بحديث له عِلَّةٌ فيخفى عليهم علمه فيصير الحديث معلولاً" (2) .
وقال الإمام أحمد: "ومن يَعْرى من الخطأ والتصحيفر" (3) ؟
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের গোপন ত্রুটিসংক্রান্ত জ্ঞানের (علل الحديث) গুরুত্বহাদিসের গোপন ত্রুটিসংক্রান্ত জ্ঞানের (علل الحديث) গুরুত্ব এর সংজ্ঞা থেকেই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আর 'ইল্লাত' বা গোপন ত্রুটি (علة) হলো এমন একটি সূক্ষ্ম বা প্রচ্ছন্ন কারণ (سبب خفي) যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষুণ্ণ করে, যদিও বাহ্যিকভাবে হাদিসটি ত্রুটিমুক্ত মনে হয়।
যেহেতু এই জ্ঞান অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল, তাই এটি অনুধাবন করা কঠিনতম বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর যেহেতু গোপন ত্রুটি (علة) অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) বর্ণিত হাদিসেই বেশি দেখা যায়, তাই সাধারণ গবেষকগণ বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়ার ওপর ভিত্তি করে এবং তার ও তার বর্ণিত হাদিসের প্রতি সুধারণা পোষণ করে তা গ্রহণ করে নেন। ফলে তারা ত্রুটিযুক্ত (معلول) হাদিসকেও বিশুদ্ধ (صحيح) বলে গণ্য করেন। আর এর মধ্যে এমন এক মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে যার কোনো সীমা নেই; কারণ এর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে এমন কথা, কাজ, মৌনসম্মতি বা অন্য কিছু আরোপ করা হয় যা তাঁর থেকে প্রমাণিত নয়।
একারণেই হাদিস শাস্ত্রের প্রাজ্ঞ মনীষীরা ব্যতীত অন্য কেউ এই বিশাল দায়িত্ব পালনে সক্ষম হননি। হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ (রহ.) বলেন: "আল্লাহ তাআলা হাদিসের এই সংবাদগুলো চেনার জ্ঞান কেবল সেই অল্পসংখ্যক লোককেই দান করেছেন, যারা এই হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানের দাবিদার অসংখ্য মানুষের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।" (১)।
ইমাম হাকেম (রহ.) বলেন: "হাদিসের গোপন ত্রুটি (علل الحديث) চেনা একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র, যা হাদিসের বিশুদ্ধ (صحيح) ও অসুস্থ বা ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) হওয়া এবং বর্ণনাকারীদের দোষগুণ বিচার বা নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (جرح وتعديل) শাস্ত্র থেকে ভিন্ন। মূলত হাদিসের ত্রুটি নির্ণয় করা হয় এমন সব দিক থেকে যেখানে বর্ণনাকারীর দোষচর্চার (جرح) কোনো সুযোগ থাকে না। কেননা অভিযুক্ত (مجروح) বর্ণনাকারীর হাদিস তো এমনিতেই বর্জনীয় ও অত্যন্ত দুর্বল (واه); বরং হাদিসের গোপন ত্রুটি (علة) সাধারণত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) হাদিসেই অধিক ঘটে থাকে যে, তাঁরা এমন হাদিস বর্ণনা করেন যাতে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) থাকে যা তাঁদের অগোচরে থেকে যায়, ফলে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (معلول) হয়ে পড়ে।" (২)।
ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন: "ভুল এবং শব্দের বিকৃতি (تصحيف) থেকে কে-ই বা মুক্ত থাকতে পারে?" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال الإمام مسلم: "ومما ذكرت لك من منازلهم في الحفظ ومراتبهم فيه فليس من ناقل خبر وحامل أثر من السلف الماضين إلى زماننا -وإن كان من أحفظ الناس وأشدهم توقياً وإتقاناً لما يحفظ وينقل- إلا الغلط والسهو ممكن في حفظه ونقله، فكيف بمن وصفت لك ممن طريقه الغفلة والسهو في ذلك" (1) ؟
ومن أهميته أن هذا العلم خاص بأهل الحديث الذين أخرجهم الله لحفظ سنة نبيه صلى الله عليه وسلم، لا يصحّ لمن ليس له عناية خاصة بهذا العلم أن يتكلم فيه بالتصحيح والتسقيم.
قال الإمام مسلم: "واعلم رحمك الله أن صناعة الحديث ومعرفة أسبابه من الصحيح والسقيم، إنما هي لأهل الحديث خاصة؛ لأنهم الحفاظ لروايات الناس، العارفون لها دون غيرهم، إذ الأصل الذي يعتمدون لأديانهم السنن والآثار المنقولة من عصر إلى عصرٍ من لدن النبي صلى الله عليه وسلم إلى عصرنا هذا، فلا سبيل لمن نابذهم من الناس، وخالفهم في المذهب إلى معرفة الحديث، ومعرفة الرجال من علماء الأمصار فيما مضى من الأعصار من نقلة الأخبار وحُمّال الآثار، وأهل الحديث هم الذين يعرفونهم ويميّزونهم حتى ينزلوهم منازلهم في التعديل والتجريح، وإنما اقتصصنا هذا الكلام لكي نثبته لمَن جهل مذهب أهل الحديث ممن يريد التعلم والتنبّه، على تثبيت الرجال وتضعيفهم فيعرف ما الشواهد عندهم والدلائل التي بها أثبتوا الناقل للخبر من نقلته، أو أسقطوا من أسقطوا منهم، والكلام في تفسير ذلك يكثر، وقد شرحناه في مواضع غير هذا وبالله التوفيق" (2) .
--------------------------------------------
ইমাম মুসলিম বলেন: "স্মৃতিশক্তির (الحفظ) ক্ষেত্রে তাঁদের মর্যাদা ও স্তর সম্পর্কে আমি তোমার কাছে যা উল্লেখ করেছি, তার প্রেক্ষিতে অতীত সালাফ থেকে শুরু করে আমাদের সময় পর্যন্ত এমন কোনো সংবাদ বর্ণনাকারী বা আসার বাহক নেই—যদিত্ত তিনি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন এবং যা তিনি মুখস্থ ও বর্ণনা করেন সে ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও নিপুণ হন না কেন—যার স্মৃতিশক্তি (الحفظ) ও বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল ও বিচ্যুতি ঘটা সম্ভব নয়। তাহলে আমি তোমার কাছে যাদের কথা বর্ণনা করেছি, যাদের পথই হলো এ ক্ষেত্রে উদাসীনতা ও বিচ্যুতি, তাদের অবস্থা কেমন হবে?" (১) ?
এই শাস্ত্রের গুরুত্বের একটি দিক হলো, এটি বিশেষভাবে সেই আহলে হাদিসদের জন্য নির্দিষ্ট যাদেরকে আল্লাহ তাঁর নবীর সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য মনোনীত করেছেন। যার এই শাস্ত্রের প্রতি বিশেষ জ্ঞান নেই, তার জন্য কোনো হাদিসকে সহিহ সাব্যস্তকরণ (التصحيح) বা অসুস্থ বা জইফ সাব্যস্তকরণ (التسقيم) নিয়ে কথা বলা সমীচীন নয়।
ইমাম মুসলিম বলেন: "জেনে রেখো—আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন—হাদিস শিল্প (صناعة الحديث) এবং এর সহিহ (الصحيح) ও জইফ (السقيم) হওয়ার কারণসমূহ শনাক্ত করা কেবল আহলে হাদিসদেরই বিশেষ কাজ; কারণ তাঁরাই মানুষের বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলোর হাফেজ (الحفاظ) এবং অন্যদের তুলনায় তাঁরাই এ সম্পর্কে অধিক প্রাজ্ঞ। কেননা যে মূলভিত্তির ওপর তাঁরা তাঁদের দ্বীনের জন্য নির্ভর করেন, তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুরু করে আমাদের এই যুগ পর্যন্ত যুগ পরম্পরায় বর্ণিত সুন্নাহ ও আসারসমূহ। সুতরাং যারা তাঁদের সংশ্রব ত্যাগ করেছে এবং তাঁদের মাযহাব বা পদ্ধতির বিরোধিতা করেছে, তাদের পক্ষে হাদিস চেনা এবং অতীতকালের বিভিন্ন জনপদের সংবাদ বর্ণনাকারী ও আসার বাহক আলেমদের সম্পর্কে জানা সম্ভব নয়। কেবল আহলে হাদিসরাই তাঁদের চেনেন এবং তাঁদের মাঝে পার্থক্য করতে পারেন, এমনকি তাঁদেরকে নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (التعديل) এবং ত্রুটি বর্ণনার (التجريح) ক্ষেত্রে নিজ নিজ স্তরে অধিষ্ঠিত করেন। আমি এই কথাগুলো কেবল এজন্যই উদ্ধৃত করেছি যাতে যারা আহলে হাদিসদের পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞ অথচ তা শিখতে ও সচেতন হতে চায়, তাদের কাছে বর্ণনাকারীদের বিশ্বস্ত সাব্যস্ত করা (تثبيت) এবং দুর্বল সাব্যস্ত করার (تضعيف) বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে তারা জানতে পারবে যে, তাঁদের নিকট ‘শাহিদ’ বা সমর্থক বর্ণনা (الشواهد) এবং প্রমাণাদি কী যার মাধ্যমে তাঁরা কোনো সংবাদ বর্ণনাকারীকে গ্রহণ করেছেন অথবা বর্জনীয়দের বর্জন করেছেন। এই বিষয়ের ব্যাখ্যা অনেক দীর্ঘ, যা আমরা অন্য স্থানে আলোচনা করেছি। আর আল্লাহর তাওফীকেই সব সম্পন্ন হয়" (২) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
من أهمية علم علل الحديث: أنه علم دقيق لا يقوم به إلا الفطاحل من العلماء
قال ابن الصلاح: "اعلم أن معرفة علل الحديث من أجل علوم الحديث وأدقها وأشرفها، وإنما يضطلع بذلك أهل الحفظ والخبرة والفهم الثاقب" (1) .
وقال أبو عبد الله بن منده: "إنما خص الله بمعرفة هذه الأخبار نفراً يسيراً من كثير ممن يدّعي علم الحديث، فأمّا شأن الناس ممن يَدَّعي كثرة كتابة الحديث أو أنه متفقه في علم الشافعي، أو أبي حنيفة، متبع لكلام الحارث المحاسبي، والجنيد، وذي النون، وأهل الخواطر، فليس لهم أن يتكلموا في شيء من علم الحديث إلا من أخذه من أهله وأهل المعرفة فحينئذٍ يتكلم بمعرفته" (2) .
وقال عبد الرحمن بن مهدي: "معرفة الحديث إلهام، فلو قلت للعالم يعلِّل الحديث: من أين قلت هذا؟ لم يكن له حجة" (3) .
وقال ابن أبي حاتم: سمعت أبي رحمه الله يقول: "جاءني رجل من جِلَّة أصحاب الرأي من أهل الفهم منهم، ومعه دفتر فعَرَضَه عَليّ فقلت في بعضها: هذا حديث خطأ، قد دَخَل لصاحبه حديث في حديث، وقلت في بعضه: هذا حديثٌ باطل، وقلت في
--------------------------------------------
হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل الحديث) বিষয়ক শাস্ত্রের গুরুত্বের মধ্যে অন্যতম হলো: এটি একটি অতি সূক্ষ্ম জ্ঞান যা কেবল বিদগ্ধ পণ্ডিতগণই চর্চা করতে পারেন।
ইবনুস সালাহ বলেন: "জেনে রেখো, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل الحديث) পরিজ্ঞান হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম মহান, সূক্ষ্মতম এবং সম্মানজনক শাখা। কেবল প্রখর স্মৃতিশক্তি, অভিজ্ঞতা ও গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিগণই এ দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে পারেন।" (১) ।
আবু আবদুল্লাহ বিন মানদাহ বলেন: "আল্লাহ তাআলা এই সংবাদসমূহ (হাদিস) চেনার জন্য সেই বহুসংখ্যক লোকের মধ্য থেকে এক অতি নগণ্য দলকে বিশিষ্টতা দান করেছেন যারা হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান রাখার দাবি করে। আর যারা প্রচুর হাদিস লিখন অথবা ইমাম শাফিঈ বা ইমাম আবু হানিফার ফিকহশাস্ত্রে পারদর্শিতার দাবি করে কিংবা আল-হারিস আল-মুহাসিবি, জুনায়েদ, যুন-নুন এবং আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদদের (আহলুল খাওয়াতির) কথার অনুসরণ করে; তাদের জন্য হাদিস শাস্ত্রের কোনো বিষয়ে কথা বলা সমীচীন নয়, যতক্ষণ না তারা এ শাস্ত্রের যোগ্য উত্তরসূরি ও বিশেষজ্ঞদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করে। কেবল তখনই তারা নিজ অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কথা বলতে পারবে।" (২) ।
আবদুর রহমান বিন মাহদী বলেন: "হাদিসের অন্তর্নিহিত জ্ঞান এক প্রকার ইলহাম (ঐশী ইঙ্গিত)। সুতরাং তুমি যদি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (تعليل) নির্ণয়কারী কোনো আলেমকে জিজ্ঞাসা করো: আপনি কিসের ভিত্তিতে এটি বললেন? তবে (তাৎক্ষণিকভাবে ভাষার মাধ্যমে প্রকাশের মতো) তার কাছে কোনো প্রমাণ থাকবে না।" (৩) ।
ইবনু আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে (রহিমাহুল্লাহ) বলতে শুনেছি: "আমার নিকট আহলে রায়ের (যুক্তি ও রায়পন্থী) প্রাজ্ঞ ফকীহদের মধ্য থেকে এক মর্যাদাবান ব্যক্তি আসলেন। তার সাথে একটি পাণ্ডুলিপি ছিল যা তিনি আমার সামনে উপস্থাপন করলেন। আমি তার কিছু হাদিস সম্পর্কে বললাম: এটি ভুল (خطأ) হাদিস, এর বর্ণনাকারীর এক হাদিস অন্য হাদিসের ভেতর ঢুকে গেছে। আবার কোনোটি সম্পর্কে বললাম: এটি বাতিল (باطل) হাদিস, এবং কোনোটি সম্পর্কে বললাম..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بعضه: هذا حديثٌ منكر، وقلت في بعضه: هذا حديث كذب، وسائر ذلك أحاديث صحاح، فقال لي: من أين عَلِمْت أن هذا خطأ، وأن هذا باطل، وأن هذا كذب، أخبرك راوي هذا الكتاب بأني غلطت، وأني كذبت في حديث كذا؟ فقلت: لا، ما أدري ما هذا الجزء من رواية مَن هو؟ غير أني أعلم أن هذا خطأ، وأن هذا الحديث باطل، وأن هذا الحديث كذب، فقال: تدّعي الغيب؟ قال: قلت: ما هذا ادّعاء علم الغيب. قال: فما الدليل على ما تقول؟ قلت: سَلْ عمّا قلت من يُحْسِن مثل ما أُحْسِن، فإن اتفقنا علمتَ أنّا لم نُجازِفْ، ولم نَقُلْهُ إلا بفهم. قال: من هو الذي يُحسِن مثل ما تُحْسِن؟ قلت: أبو زرعة، قال: ويقول أبو زرعة مثل ما قُلتَ؟ قُلتُ: نعم، قال: هذا عجب، فأخذ فكتب في كاغد ألفاظي في تلك الأحاديث، ثم رَجَع إليَّ وقد كتب ألفاظ ما تكلّم به أبو زرعة في تلك الأحاديث، فما قلتُ: إنه باطل. قال أبو زرعة: هو كذب. قلت: الكذب والباطل واحد، وما قلتُ: إنه منكر، قال: هو منكر كما قلت، وما قلت: إنه صِحاحٌ، قال أبو زرعة: هو، صحاح. فقال: ما أعجب هذا، تتفقان من غير مواطأة فيما بينكما، فقلت: ذلك أنا لم نُجازفْ، وإنما قلناه بعلم ومعرفة قد أوتينا. والدليل على صحّة ما نقوله بأن ديناراً نَبَهْرجاً يحمل إلى الناقد. فيقول: هذا دينارٌ نَبَهْرج، هل كنتَ حاضراً حين بُهْرِج هذا الدينار؟ قال: لا، فإن قيل له: فأخبرك الرجل الذي بَهْرجَه: أني بهرجتُ هذا الدينار؟ قال: لا. قيل: فمِن أين قُلتَ: إن هذا نبهرج؟ قال: علماً رُزِقتُ، وكذلك نحن رزقنا معرفة ذلك، قلت له: فتحمل فص ياقوت إلى واحدٍ من البصراء من الجوهريين، فيقول: هذا زجاج، ويقول لمثله: هذا ياقوت. فإن قيل له: من أين علمتَ أن هذا زجَاج، وأن هذا ياقوت، هل حضرت الموضع
এর কিছু অংশ সম্পর্কে (আমি বললাম): এটি একটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস। আবার অন্য কিছু অংশ সম্পর্কে বললাম: এটি একটি মিথ্যা (كذب) হাদিস। আর অবশিষ্টগুলো হলো সহিহ (صحاح) হাদিস। তখন তিনি আমাকে বললেন: আপনি কীভাবে জানলেন যে এটি ভুল, এটি বাতিল (باطل) এবং এটি মিথ্যা (كذب)? এই কিতাবের বর্ণনাকারী কি আপনাকে জানিয়েছেন যে আমি ভুল করেছি এবং অমুক হাদিসে মিথ্যা বলেছি? আমি বললাম: না, আমি জানি না এটি কার বর্ণনার অংশ; তবে আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে এটি একটি ভুল, এই হাদিসটি বাতিল (باطل) এবং এই হাদিসটি মিথ্যা (كذب)। তিনি বললেন: আপনি কি অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করছেন? আমি বললাম: এটি অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি নয়। তিনি বললেন: তবে আপনার বক্তব্যের দলিল কী? আমি বললাম: আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে এমন কাউকে জিজ্ঞাসা করুন যিনি এ বিষয়ে আমার মতোই পারদর্শী। যদি আমাদের বক্তব্য এক হয়ে যায়, তবে আপনি বুঝতে পারবেন যে আমরা আন্দাজে কিছু বলিনি এবং গভীর বোধশক্তি ছাড়া কোনো মন্তব্য করিনি। তিনি বললেন: আপনার মতো পারদর্শী আর কে আছেন? আমি বললাম: আবু জুরআহ। তিনি বললেন: আবু জুরআহ কি আপনার মতোই বলবেন? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এ তো এক বিস্ময়কর ব্যাপার! অতঃপর তিনি একটি কাগজে সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে আমার মন্তব্যগুলো লিখে নিলেন। এরপর তিনি আবু জুরআহ সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে যা বলেছিলেন তা লিখে নিয়ে আমার কাছে ফিরে আসলেন। আমি যেটিকে বাতিল (باطل) বলেছিলাম, আবু জুরআহ সেটি সম্পর্কে বলেছেন: এটি মিথ্যা (كذب)। আমি বললাম: মিথ্যা (كذب) এবং বাতিল (باطل) মূলত একই। আর আমি যেটিকে প্রত্যাখ্যাত (منكر) বলেছিলাম, তিনি সেটিকে প্রত্যাখ্যাত (منكر)-ই বলেছেন। এবং আমি যেটিকে সহিহ (صحاح) বলেছিলাম, আবু জুরআহ-ও সেটিকে সহিহ (صحاح) বলেছেন। তখন তিনি বললেন: এটি কতই না আশ্চর্যজনক যে, আপনাদের মাঝে কোনো পূর্ব যোগাযোগ ছাড়াই আপনারা একমত হয়েছেন! আমি বললাম: এর কারণ হলো আমরা অনুমান করে কিছু বলিনি, বরং আমাদের প্রদত্ত ইলম এবং প্রজ্ঞার আলোকেই বলেছি। আমাদের বক্তব্যের সত্যতার প্রমাণ হলো—যেমন একটি জালি স্বর্ণমুদ্রা কোনো মুদ্রা-বিশারদের নিকট নেওয়া হলে তিনি বলেন: এটি একটি জাল মুদ্রা। (তাকে যদি প্রশ্ন করা হয়) আপনি কি তখন উপস্থিত ছিলেন যখন এই মুদ্রাটি জাল করা হয়েছিল? তিনি বলবেন: না। যদি তাকে বলা হয়: তবে যে ব্যক্তি এটি জাল করেছে সে কি আপনাকে জানিয়েছে যে সে এটি জাল করেছে? তিনি বলবেন: না। পুনরায় প্রশ্ন করা হয়: তবে আপনি কেন বললেন যে এটি জাল? তিনি বলবেন: এটি এমন এক বিশেষ জ্ঞান যা আমাকে দান করা হয়েছে। তেমনিভাবে আমাদেরকেও এই বিষয়ের জ্ঞান দান করা হয়েছে। আমি তাঁকে আরও বললাম: আপনি যদি কোনো জহুরির কাছে একটি ইয়াকুত পাথরের খণ্ড নিয়ে যান, তখন তিনি (খতিয়ে দেখে) বলেন: এটি কাঁচ। আবার অন্যটির ক্ষেত্রে বলেন: এটি ইয়াকুত পাথর। যদি তাকে প্রশ্ন করা হয়: আপনি কীভাবে জানলেন যে এটি কাঁচ আর ওটি ইয়াকুত পাথর? আপনি কি সেই স্থানে উপস্থিত ছিলেন?
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الذي صُنِع فيه هذا الزجاج؟ قال: لا. قيل له: فهل أعلمك الذي صاغَه بأنه صَاغ هذا زجاجاً؟ قال: لا، قال: فمن أين علمت؟ قال: هذا علمٌ رُزِقتُ، وكذلك نحنُ رُزقنا علماً، لا يتهيّأ لنا أن نُخبرك كيف علمنا بأن هذا الحديث كذب، وهذا منكر إلا بما نعرفه" (1) .
وقال ابن حجر: "المعلّل وهو من أغمض أنواع علوم الحديث وأدقها، ولا يقوم به إلا من رَزَقه الله تعالى فهماً ثاقباً وحفظاً واسعاً ومعرفةً تامةً بمراتب الرواة، ومَلَكَةً قويّة بالأسانيد والمتون، ولهذا لم يتكلم فيه إلا القليل من أهل الشأن كعلي بن المديني، وأحمد بن حنبل، والبخاري، ويعقوب بن أبي شيبة، وأبي حاتم وأبي زرعة والدارقطني،. وقد تقصر عبارة المُعَلِّل عن إقامة الحجة على دعواه كالصيرفي في نقد الدينار والدرهم" (2) .
هذه نصوص جهابذة علم الحديث تدل على ما عانوه وعالجوه، وقد أخبروا عن تجربة وخبرة ومراس.
وهنا تنبيه: ينبغي أن نفهم كلام الأئمة: ابن مهدي وأبي حاتم وابن حجر في أنه قد تقصر عبارة المعلل عن إقامة الحجة على دعواه كالصيرفي في نقد الدينار والدرهم - على وجهه الصحيح، وهو أنه قد يُعَلِّل المُعَلِّل ولا حجة له فيه، في حينه حتى يُقنِع المخاطب، فقد تحصَّل له ملكة قوية راسخة، حتى إنه بمجرد النظر في إسناد الحديث ومتنه تظهر له صحته أو ضعفه فيحكم في أول وهلة ببصيرته أنه صحيح أو معلول، ولكن إذا طلبت منه حجة فلابُدَّ أن يذكرها ويذكر تفاصيلها وأدلتها.
--------------------------------------------
"...যেখানে এই কাচ তৈরি করা হয়েছে? তিনি বললেন: না। তাকে বলা হলো: তবে যিনি এটি তৈরি করেছেন তিনি কি আপনাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি এটি কাচ হিসেবেই তৈরি করেছেন? তিনি বললেন: না। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: তবে আপনি কীভাবে জানলেন? তিনি বললেন: এটি একটি জ্ঞান যা আমাকে দান করা হয়েছে। তেমনি আমাদেরও এমন জ্ঞান দান করা হয়েছে যে, কীভাবে আমরা জানলাম এই হাদিসটি মিথ্যা (كذب) এবং এটি অস্বীকারযোগ্য (منكر), তা আমরা যা জানি তার বাইরে বর্ণনা করার সামর্থ্য আমাদের নেই।" (১) .
ইবনে হাজার বলেন: "ত্রুটিযুক্ত (المعلّل) হাদিস হলো হাদিস বিজ্ঞানের অত্যন্ত জটিল ও সূক্ষ্মতম প্রকারের একটি। কেবল সেই ব্যক্তিই এই কাজ করতে পারেন যাকে মহান আল্লাহ প্রখর বোধশক্তি, প্রশস্ত মুখস্থশক্তি, বর্ণনাকারীদের (رواة) স্তরসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান এবং সনদসমূহ (أسانيد) ও মতনসমূহের (متون) উপর শক্তিশালী দক্ষতা দান করেছেন। এই কারণেই এই বিষয়ে আলী ইবনুল মাদিনী, আহমাদ ইবনে হাম্বল, বুখারি, ইয়াকুব ইবনে আবি শাইবাহ, আবু হাতিম, আবু যুরআহ এবং দারা কুতনী-র মতো হাতেগোনা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ছাড়া অন্য কেউ কথা বলেননি। আর অনেক সময় কোনো দীনার বা দিরহাম যাচাইকারীর ন্যায় হাদিসের ত্রুটি নির্দেশকারীর (المعلِّل) বক্তব্য তার দাবির সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনে অপর্যাপ্ত হতে পারে।" (২) .
হাদিস শাস্ত্রের প্রথিতযশা ইমামগণের এই বাণীসমূহ তারা যা সহ্য করেছেন এবং যে সাধনা করেছেন তার প্রমাণ দেয়। তারা তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও গভীর অনুশীলনের আলোকেই এগুলো ব্যক্ত করেছেন।
এখানে একটি সতর্কবার্তা: ইমাম ইবনে মাহদী, আবু হাতিম এবং ইবনে হাজারের বক্তব্যের মর্ম—যেখানে তারা বলেছেন, 'ত্রুটি নির্দেশকারীর (المعلِّل) বক্তব্য তার দাবির সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনে মুদ্রা যাচাইকারীর মতো অপর্যাপ্ত হতে পারে'—তা সঠিকভাবে বোঝা উচিত। এর তাৎপর্য হলো, কখনো কখনো ত্রুটি নির্দেশকারী (المعلِّل) কোনো ত্রুটি বর্ণনা করতে পারেন কিন্তু ওই মুহূর্তে প্রশ্নকারীকে সন্তুষ্ট করার মতো প্রমাণ তার কাছে উপস্থিত না-ও থাকতে পারে। কারণ তার মধ্যে এমন এক শক্তিশালী ও সুদৃঢ় মজ্জাগত দক্ষতা তৈরি হয়েছে যে, হাদিসের সনদ (إسناد) ও মতন দেখামাত্রই তার সহিহ হওয়া (صحته) বা জয়িফ হওয়া (ضعفه) তার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে তিনি তার অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে প্রথম দেখাতেই সেটি সহিহ (صحيح) না ত্রুটিযুক্ত (معلول) সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। তবে যদি তার কাছে প্রমাণ দাবি করা হয়, তবে অবশ্যই তাকে তা বিস্তারিত দলিলসহ উল্লেখ করতে হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فلا يمكن أن نجد حديثاً معللاً إلا دونه سبب لا يظهر لعامة الناس، لكن يختصر المعلل الحكمَ فيذكر حكمه بدون إبداء السبب.
وقد استدلَّ بقول ابن مهدي بَعضُ من له هوى في إنكار الحديث فتوسّع في تفسيره والاستدلال به فقال: إن المحدث قد يرى الحديث المتفق على صحته أنه ضعيف فهو ضعيف عنده، وبالعكس، ولا يستطيع إقامة الحجة على ذلك، وهو معذور في حكمه هذا، كالصيرفي الناقد يحكم على الدراهم بالزيف والصالح ويعجز عن إبانة السبب.
فنقول: ليس الأمر كما ذكر وفَهِم هذا البعض، فالواقع يخالف قوله، فهذه كتب العلل أمامنا إن وجد الإيجاز والاختصار في بعض المواضع منها نجد التفصيل في مواضع أخرى، فمثل المعلل كمثل الطبيب الحاذق إذا عرض له شخص ظاهره السلامة من الأمراض، لا يظهر المرض فيه لعامة الناس، فينظر فيه أوّل نظرة، ويبدي رأيه إجمالاً: أن فيه مرض كذا، فإذا أجرى له الفحص والفَسْر والتحليل والأشعة والاختبار يظهر صدق قوله بوضوح.
كما قال نعيم بن حماد: "قلت لابن مهدي: كيف تعرف صحيح الحديث من سقيمه؟ قال: كما يعرف الطبيب المجنون" (1) .
فالأمر كما قال الحاكم: "والحجة عندنا الحفظ والفهم والمعرفة لا غير، وليس لهذا العلم عون أكثر من مذاكرة أهل الفهم والمعرفة؛ ليظهر ما يخفى من علة الحديث" (2) .
--------------------------------------------
সুতরাং আমরা এমন কোনো ত্রুটিযুক্ত (معلل) হাদিস পাই না যার নেপথ্যে এমন কোনো কারণ বিদ্যমান নেই যা সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ পায় না। তবে ত্রুটি-বিশ্লেষক (المعلل) তাঁর সিদ্ধান্তকে সংক্ষেপ করেন এবং কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই স্বীয় হুকুম বা সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেন।
হাদিস অস্বীকার করার প্রবণতা রয়েছে এমন কিছু ব্যক্তি ইবনে মাহদীর উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করে এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করেছে। তারা বলেছে: একজন মুহাদ্দিস অনেক সময় এমন হাদিসকেও দুর্বল (ضعيف) মনে করতে পারেন যার বিশুদ্ধতা (صحة) বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে, ফলে সেটি তাঁর নিকট দুর্বলই গণ্য হয়। আবার এর বিপরীতটিও হতে পারে। তিনি এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন না এবং নিজের এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তিনি অপারগ বলে গণ্য হন; যেমন একজন দক্ষ মুদ্রা বিশারদ দিরহামের মেকি বা খাঁটি হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন, অথচ তার কারণ ব্যাখ্যা করতে অক্ষম হন।
আমরা বলব: বিষয়টি তেমন নয় যেমন এই ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছে বা বুঝেছে। বরং বাস্তবতা তাদের বক্তব্যের বিপরীত। আমাদের সামনে এই ‘ইলাল’ (علل) গ্রন্থগুলো বিদ্যমান; সেখানে যদি কিছু ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ততা পাওয়া যায়, তবে অন্য অনেক স্থানে বিস্তারিত বর্ণনাও পাওয়া যায়। ত্রুটি-বিশ্লেষকের (المعلل) উদাহরণ হলো একজন দক্ষ চিকিৎসকের মতো, যাঁর নিকট এমন এক ব্যক্তি আসল যাকে আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে তার রোগ ধরা পড়ে না। চিকিৎসক প্রথম দৃষ্টিতেই তা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংক্ষেপে নিজের মতামত দেন যে, তার অমুক রোগ রয়েছে। অতঃপর যখন তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ব্যবচ্ছেদ, বিশ্লেষণ, এক্স-রে ও ল্যাব টেস্ট সম্পন্ন করেন, তখন তাঁর বক্তব্যের সত্যতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
যেমনটি নুআইম ইবন হাম্মাদ বলেছেন: "আমি ইবনে মাহদীকে বললাম: আপনি হাদিসের সহিহ (صحيح) ও অসুস্থ (سقيم) বা ত্রুটিযুক্ত হওয়ার বিষয়টি কীভাবে বোঝেন? তিনি বললেন: যেভাবে একজন চিকিৎসক উন্মাদ ব্যক্তিকে চিনতে পারেন।" (১) ।
মূলত বিষয়টি তেমনই যেমনটি আল-হাকিম বলেছেন: "আমাদের নিকট দলিল হলো হিফজ (স্মৃতিশক্তি), প্রজ্ঞা ও গভীর জ্ঞান, অন্য কিছু নয়। আর এই ইলমের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাবান ও অভিজ্ঞ পণ্ডিতদের সাথে আলোচনার চেয়ে বড় কোনো সহায়ক নেই; যাতে হাদিসের লুকায়িত ত্রুটি (علة) প্রকাশ পায়।" (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الفصل الرابع: مواضع العلة في الحديث
مدخل…الفصل الرابع: مواضع العلة في الحديث
والمراد بالعلة هنا: السبب الخفي القادح في صحة الحديث.
يبدو لي أن العلة تجري في الحديث في جميع شروط الحديث الصحيح التي اشترطها الأئمة في تعريف الحديث الصحيح.
وهو: ما رواه عدل تام الضبط متصل السند غير معلل ولا شاذ. مع القول بأن العلة تدخل في أحاديث الثقات وهي خفية، فقد يكون الراوي مهملاً يوافق في اسم الثقة غير الثقة، أو من المتفق والمفترق، فيظن الناظر أن الواقع في السند غير الثقة.
وكذلك القول في تمام الضبط، فقد يكون مشتهراً بالضبط والتوثق ولكنه يكون قد أخطأ في حديث بذاته.
والضبط نوعان:
ضبط صدر: وهو أن يثبت ما سمعه بحيث يتمكن من استحضاره متى شاء.
وضبط كتاب: وهو صيانة الراوي كتابه لديه منذ سمع فيه وصححه إلى أن يؤدي أو يروي منه. وقُيد بالتام في تعريف الحديث الصحيح إشارة إلى الرتبة العليا في ذلك (1) .
وفي هذا الجانب أيضاً تدخل العلة في حديث الثقة، فالبشر مهما أوتي من حفظ وضبط وذاكرة قوية فقد يأبى الله أن تكون العصمة إلا لأنبيائه الذين عصمهم من الخطأ والزلل، وتأتي أمثلة لذلك إن شاء الله.
--------------------------------------------
চতুর্থ অধ্যায়: হাদিসের মধ্যে ত্রুটি (علة)-র ক্ষেত্রসমূহ
ভূমিকা…চতুর্থ অধ্যায়: হাদিসের মধ্যে ত্রুটি (علة)-র ক্ষেত্রসমূহ
এখানে ত্রুটি (علة) বলতে উদ্দেশ্য হলো: এমন এক প্রচ্ছন্ন কারণ যা হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة)-কে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, ইমামগণ সহিহ হাদিসের সংজ্ঞায় যেসব শর্তারোপ করেছেন, তার প্রতিটি শর্তেই হাদিসের মধ্যে ত্রুটি (علة)-র অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে।
আর সহিহ হাদিস হলো: যা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (تام الضبط) রাবি বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাসূত্রটি নিরবচ্ছিন্ন সূত্রবিশিষ্ট (متصل السند) এবং যা ত্রুটিমুক্ত (غير معلل) ও ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ) নয়। এর সাথে সাথে এ-ও বলা হয় যে, ত্রুটি (علة) নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবিদের হাদিসেও প্রবেশ করে এবং তা অত্যন্ত প্রচ্ছন্ন (خفية) থাকে। কখনো এমন হয় যে, রাবির নাম অস্পষ্ট থাকে যা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির নামের সাথে মিলে যায় অথচ তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) নন, অথবা তিনি ‘আল-মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক’ (المتفق والمفترق) পর্যায়ের হতে পারেন; ফলে পর্যালোচনাকারী মনে করতে পারেন যে, সনদে বিদ্যমান রাবিটি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ।
পূর্ণ স্মৃতিশক্তি (تمام الضبط)-র ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো রাবি হয়তো স্মৃতিশক্তি ও নির্ভরযোগ্যতার (توثيق) জন্য প্রসিদ্ধ হতে পারেন, কিন্তু কোনো বিশেষ হাদিসে তিনি ভুল করতে পারেন।
স্মৃতিশক্তি (ضبط) দুই প্রকার:
স্মৃতিস্থ হেফজ (ضبط صدر): যা তিনি শুনেছেন তা এমনভাবে গেঁথে নেওয়া যাতে যখনই ইচ্ছা তা স্মরণ করতে সক্ষম হন।
লিখিত পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ (ضبط كتاب): রাবি কর্তৃক তার পাণ্ডুলিপিটি শ্রবণের সময় থেকে নিয়ে তা সংশোধন করা এবং সেটি থেকে বর্ণনা করা পর্যন্ত নিজের কাছে যত্নে রাখা। সহিহ হাদিসের সংজ্ঞায় 'পূর্ণ' (تام) শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে এই ক্ষেত্রের সর্বোচ্চ স্তরকে নির্দেশ করার জন্য (১)।
এই দিক থেকেও নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবির হাদিসে ত্রুটি (علة) প্রবেশ করতে পারে। মানুষ হিসেবে তাকে যতই হেফজ, প্রজ্ঞা ও শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি দেওয়া হোক না কেন, আল্লাহ তাআলা কেবল তাঁর নবীদেরই ভুল ও বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষার (عصمة) নিশ্চয়তা দিয়েছেন; ইনশাআল্লাহ সামনে এর উদাহরণ আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وضبط الكتاب قد يعتوره بعض الخلل في المقابلة والتصحيح، وقد يتمكن أحدٌ من المفسدين من كتاب الشيخ فيفسد عليه كتابه، ولذلك كانوا يبخلون عن إعارة كتبهم، وعدمُ إعارتهم للكتاب كان يعد مدحاً فيهم.
قال الإمام أحمد: قال أبو قطن (عمرو بن الهيثم) - وكان ثبتاً -: "ما أعرت كتابي أحداً قط" (1) .
وقال علي بن قادم: سمعت سفيان يقول: "لا تُعِرْ أحداً كتاباً". وقال الربيع بن سليمان: كتب إليّ البويطي: "احفظ كتبك، فإنه إن ذهب لك كتاب لم تجد مثله" (2) .
وكأن هذا -والله أعلم- خوفاً من ضياع الكتب، وكذلك من التغيير والتبديل.
وكان بعض ضعاف النفوس يُدخل في كتب الناس أحاديث ليست من أحاديثهم، منهم حبيب بن أبي حبيب أبو محمد المصري وقيل المدني كاتب مالك، قال ابن حبان: كان يورّق بالمدينة على الشيوخ، ويروي عن الثقات الموضوعات، كان يدخل عليهم ما ليس من حديثهم، وسماع ابن بكير وقتيبة كان بعَرْض ابن حبيب، ذكره الذهبي في "الميزان" (3) .
وقال ابن حبان في مقدمة كتابه "المجروحين": "وجماعة من أهل المدينة امتحنوا حبيب بن أبي حبيب الورّاق، كان يُدْخل عليهم الحديث، فمن سمع بقراءته عليهم فسماعه لا شيء. كذلك كان عبد الله بن ربيعة القدامي
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপির নির্ভুলতা (ضبط الكتاب) যাচাইকরণ (مقابلة) এবং সংশোধনের (تصحيح) ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি দেখা দিতে পারে। আবার কোনো অনিষ্টকারী ব্যক্তি শাইখের কিতাব হস্তগত করে তাঁর কিতাবে বিকৃতি ঘটিয়ে দিতে পারে। এই কারণেই মুহাদ্দিসগণ তাঁদের কিতাবসমূহ ধার দেওয়ার ব্যাপারে কার্পণ্য করতেন; আর তাঁদের কিতাব ধার না দেওয়াকে তাঁদের একটি প্রশংসনীয় গুণ হিসেবে গণ্য করা হতো।
ইমাম আহমাদ বলেন: আবু কাতান (আমর ইবনুল হাইসাম) — যিনি নির্ভরযোগ্য (ثبت) ছিলেন — তিনি বলেছেন: "আমি কখনোই আমার কিতাব কাউকে ধার দিইনি।" (১) ।
আলি ইবনে ক্বাদিম বলেন: আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি: "কাউকে কিতাব ধার দিয়ো না।" রাবি ইবনে সুলাইমান বলেন: আল-বুওয়াইতি আমার কাছে লিখেছিলেন: "তোমার কিতাবসমূহ সংরক্ষণ করো, কারণ তোমার কোনো কিতাব হারিয়ে গেলে তুমি তার সমতুল্য আর কিছু পাবে না" (২) ।
সম্ভবত এটি ছিল — এবং আল্লাহই ভালো জানেন — কিতাবসমূহ হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে, এবং একইভাবে তাতে পরিবর্তন ও বিকৃতির আশঙ্কায়।
কিছু দুর্বল চিত্তের অধিকারী ব্যক্তি মানুষের কিতাবের মধ্যে এমন সব হাদিস ঢুকিয়ে দিত যা তাদের বর্ণিত হাদিস ছিল না। তাদের মধ্যে হাবীব ইবনে আবি হাবীব আবু মুহাম্মাদ আল-মিসরি (যাঁকে আল-মাদানিও বলা হয়) অন্যতম, যিনি ইমাম মালিকের লেখক ছিলেন। ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি মদিনায় শাইখদের কিতাব নকল করে দিতেন এবং নির্ভরযোগ্যদের (ثقات) নামে জাল (موضوع) বর্ণনা বর্ণনা করতেন। তিনি তাঁদের কিতাবে এমন সব বিষয় ঢুকিয়ে দিতেন যা তাঁদের হাদিস ছিল না। ইবনে বুকাইর ও কুতাইবাহর শ্রবণ (سماع) ছিল ইবনে হাবীবের পেশকৃত কিতাব (عرض) থেকে; ইমাম আয-যাহাবি একে 'মিজান' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (৩) ।
ইবনে হিব্বান তাঁর 'আল-মাজরুহিন' কিতাবের ভূমিকায় বলেছেন: "মদিনার একদল লোক হাবীব ইবনে আবি হাবীব আল-ওয়াররাককে পরীক্ষা করেছিলেন; তিনি তাঁদের কিতাবে হাদিস ঢুকিয়ে দিতেন। সুতরাং কেউ যদি তাঁদের কাছে তাঁর পাঠের (قراءة) মাধ্যমে হাদিস শুনে থাকে, তবে তার সেই শ্রবণের (سماع) কোনো মূল্য নেই। একইভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে রাবিআ আল-কুদামিও ছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
بالمصيصة، كان له ابن سوء يُدخل عليه الحديث عن مالك وإبراهيم بن سعد وذويهم، وكان منهم سفيان بن وكيع بن الجرّاح – وكان له وراق يقال له: (قرطمة) ، يدخل عليه الحديث في جماعة مثل هؤلاء، ويكثر عددهم.
أخبرني محمد بن عبد السلام ببيروت، حدثنا جعفر بن أبان الحافظ، قال: سألتُ ابن نمير عن قيس بن الربيع، فقال: كان له ابنٌ هو آفته، نظر أصحاب الحديث في كُتبه فأنكروا حديثه، وظنوا أن ابنه قد غيّرها" (1) .
وشرط الاتصال تدخل العلة فيه في أحاديث الثقات المعروفين حتى في رواياتهم عن مشايخهم الذين لازموهم، ورافقوهم في الحل والترحال، فقد تفوت روايات عنهم لم يتمكنوا من سماعهم لها.
ومادام هذا الفوت قد حصل للصحابة الذين صحبوا النبي صلى الله عليه وسلم وربما لازموه، وقد تأتي أسباب للغياب يغيب أحدهم عن بعض المجالس، فيروي الرواية عن الصحابي عن النبي صلى الله عليه وسلم وسميت مراسيل الصحابة، ولها حكم خاص عند أهل الحديث، فما دام هذا يحصل في الصحابة ففي غيرهم من باب أولى.
وقد يخفى عدم السماع خفاءً شديداً في صورة المرسل الخفي والتدليس.
وشرط عدم الشذوذ واضح في صحة الخبر، وإنما قلنا: إن الشذوذ علة من العلل، لأنه يكون خفياً ولا يظهر إلا بعد جمع الروايات والطرق الكثيرة حتى تثبت مخالفته لمن هو أوثق منه.
فقد يجد الناظر حديثاً قد شذ فيه وخالف فردٌ عدة رواة، ولكنه لم يجمع الطرق فقد يخفى الأمر عليه، ويحكم على الحديث بالصحة.
--------------------------------------------
মাসিসায় (একটি স্থান), তার এক কুপুত্র ছিল যে মালিক, ইব্রাহিম ইবনে সা'দ এবং তাদের সমসাময়িকদের পক্ষ থেকে তার কাছে হাদিস ঢুকিয়ে দিত। তাদের মধ্যে সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি' ইবনুল জাররাহও ছিলেন—তার একজন নকলনবিশ ছিল যাকে 'কুরতামাহ' বলা হতো; সে এদের মতো একদল লোকের নিকট হাদিস ঢুকিয়ে দিত এবং তাদের সংখ্যা ছিল অনেক।
মুহাম্মদ ইবনে আবদুস সালাম বৈরুতে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, হাফেজ জাফর ইবনে আবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে নুমায়রকে কায়েস ইবনুর রাবি' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তার এক পুত্র ছিল যে তার জন্য বিপদস্বরূপ ছিল। হাদিস বিশারদগণ তার কিতাবসমূহ পর্যবেক্ষণ করে তার বর্ণিত হাদিসগুলোকে প্রত্যাখ্যান (أنكروا) করেছেন এবং ধারণা করেছেন যে তার পুত্রই এগুলো পরিবর্তন করে দিয়েছিল। (১)।
আর অবিচ্ছিন্নতার শর্তে (شرط الاتصال) অনেক সময় সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের হাদিসেও গোপন ত্রুটি (علة) প্রবেশ করে, এমনকি তাদের ঐসব শাইখদের থেকে বর্ণিত বর্ণনার ক্ষেত্রেও যাদের সান্নিধ্যে তারা দীর্ঘকাল অবস্থান করেছেন এবং সফরে ও অবস্থানে যাদের সঙ্গী ছিলেন। কেননা কিছু বর্ণনা তাদের থেকে ছুটে যেতে পারে যা তারা তাদের নিকট থেকে সরাসরি শোনার সুযোগ পাননি।
আর যেহেতু এই না-শোনা বা ছুটে যাওয়ার বিষয়টি এমন সাহাবীদের ক্ষেত্রেও ঘটেছে যারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং সম্ভবতঃ সবসময় তাঁর সাথে থাকতেন—কেননা অনুপস্থিতির এমন কিছু কারণ থাকতে পারে যার ফলে তাদের কেউ কেউ কোনো কোনো মজলিসে অনুপস্থিত থাকতেন, অতঃপর তিনি অন্য সাহাবীর মাধ্যমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন—একে সাহাবীদের বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (مراسيل الصحابة) বলা হয় এবং হাদিস বিশারদদের নিকট এর বিশেষ বিধান রয়েছে। সুতরাং যেহেতু বিষয়টি সাহাবীদের ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে, তাই অন্যদের ক্ষেত্রে ঘটা তো আরও স্বাভাবিক।
কখনও কখনও সরাসরি না শোনার বিষয়টি অস্পষ্ট বিচ্ছিন্ন হাদিস (مرسل خفي) এবং বর্ণনাকারীর তথ্য গোপন করার (تدليس) সূক্ষ্মতার কারণে অত্যন্ত অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে।
আর সংবাদের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে অসংগতিহীনতার (عدم الشذوذ) শর্তটি সুস্পষ্ট। তবে আমরা বলেছি যে, অসংগতি (شذوذ) হলো অন্যতম গোপন ত্রুটি (علة); কারণ এটি প্রচ্ছন্ন থাকে এবং বিভিন্ন বর্ণনা ও অসংখ্য সূত্র (طرق) একত্রিত না করা পর্যন্ত এটি প্রকাশ পায় না—যতক্ষণ না তার চেয়ে অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أوثق) বর্ণনাকারীর বিপরীতে তার বিরোধিতা প্রমাণিত হয়।
সুতরাং কোনো পর্যালোচনাকারী এমন কোনো হাদিস পেতে পারেন যাতে অসংগতি (شذوذ) রয়েছে এবং একজন একক বর্ণনাকারী একাধিক বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেছেন, কিন্তু তিনি যদি সকল সূত্র (طرق) একত্রিত না করেন তবে বিষয়টি তার নিকট অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে এবং তিনি হাদিসটিকে বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে গণ্য করতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فمع وجود الشروط الأخرى قد يفقد الحديث شرط عدم الشذوذ فتعلّ الرواية بالضعف، وقد لا تظهر العلة والشذوذ إلا بعد النظر الشديد ومضي الزمن البعيد.
قال علي بن المديني: ربما أدركت علة حديث بعد أربعين سنة (1) .
روى ابن حبان في كتاب "المجروحين" قال: "حدثنا عبد الله بن قحطبة بفم الصلح قال: حدثنا أحمد بن زكريا الواسطي قال: سمعت أبا الحارث الورّاق يقول: جلسنا على باب شعبة نتذاكر السنة فقلت: حدثنا إسرائيل عن أبي إسحاق عن عبد الله بن عطاء عن عقبة بن عامر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من توضأ فأحسن الوضوء دخل من أي أبواب الجنة شاء"، فخرج شعبة بن الحجاج، وأنا أحدِّث بهذا الحديث فصفعني ثم قال: يا مجنون: سمعت أبا إسحاق يحدث عن عبد الله بن عطاء عن عقبة بن عامر فقلت: يا أبا إسحاق سمعتَ عبد الله بن عطاء يحدث عن عقبة بن عامر؟ فقال: اسكت، فقلت (2) : لا أسكت، فالتفت إلى مِسْعر بن كدام فقال: يا شعبة عبد الله بن عطاء حَيّ بمكة فخرجت إلى مكة، فلقيت عبد الله بن عطاء، فقلت: حديث الوضوء؟ فقال: عقبة بن عامر، فقلت: يرحمك الله سمعتَ منه؟ قال: لا، حدثني سعد ابن إبراهيم، فمضيت فلقيت سعد بن إبراهيم، فقلتُ: حديث الوضوء؟ فقال: من عندكم خرج، حدثني زياد بن مِخْراق، فانحدرت إلى البصرة، فلقيت زياد ابن مخراق -وأنا شَحِب اللون وسخ الثياب كثير الشعر- فقال:
--------------------------------------------
অন্যান্য শর্তাবলি উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কোনো হাদিস অনেক সময় বৈসাদৃশ্যহীন (عدم الشذوذ) হওয়ার শর্তটি হারিয়ে ফেলতে পারে, ফলে বর্ণনাটি দুর্বলতা (ضعف) দ্বারা ত্রুটিযুক্ত (تعلّ) হয়ে পড়ে। অনেক সময় গভীর পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া ছাড়া এই গোপন ত্রুটি (علة) এবং বৈসাদৃশ্য (شذوذ) প্রকাশ পায় না।
আলী ইবনুল মাদিনী বলেন: "কখনো কখনো আমি চল্লিশ বছর পর একটি হাদিসের গোপন ত্রুটি (علة) উপলব্ধি করেছি" (১)।
ইবনে হিব্বান ‘আল-মাজরুহিন’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে কাহতাবা ফাম্মুস সুলহ-এ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে জাকারিয়া আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল হারিস আল-ওয়াররাক-কে বলতে শুনেছি: আমরা শু'বার দরজায় সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা করার জন্য বসেছিলাম। তখন আমি বললাম: ইসরাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আতা থেকে, তিনি উকবা ইবনে আমির থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: 'যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করবে, সে জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে'। এমতাবস্থায় শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন যখন আমি এই হাদিসটি বর্ণনা করছিলাম। তিনি আমাকে একটি চড় মারলেন এবং বললেন: হে পাগল! তুমি কি আবু ইসহাককে বলতে শুনেছ যে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আতা থেকে আর তিনি উকবা ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করছেন? আমি বললাম: হে আবু ইসহাক! আপনি কি আবদুল্লাহ ইবনে আতা-কে উকবা ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন: চুপ করো। আমি বললাম (২): আমি চুপ করব না। তখন তিনি মিসআর ইবনে কিদাম-এর দিকে তাকিয়ে বললেন: হে শু'বা! আবদুল্লাহ ইবনে আতা তো মক্কায় জীবিত আছেন। অতঃপর আমি মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলাম এবং আবদুল্লাহ ইবনে আতার সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম: অজুর হাদিসটি কী? তিনি বললেন: উকবা ইবনে আমির থেকে। আমি বললাম: আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, আপনি কি তাঁর থেকে এটি শুনেছেন? তিনি বললেন: না, আমার নিকট সাদ ইবনে ইব্রাহিম এটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আমি রওয়ানা হলাম এবং সাদ ইবনে ইব্রাহিমের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমি বললাম: অজুর হাদিসটি কী? তিনি বললেন: এটি তো তোমাদের ওখান থেকেই বের হয়েছে; আমার নিকট যিয়াদ ইবনে মিখরাক এটি বর্ণনা করেছেন। এরপর আমি বসরার দিকে যাত্রা করলাম এবং যিয়াদ ইবনে মিখরাকের সাথে সাক্ষাৎ করলাম—এমতাবস্থায় যে আমার গায়ের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল, কাপড় ছিল ময়লা এবং চুল ছিল উস্কোখুস্কো। তখন তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فحدثته الحديث، فقال: ليس هو من حاجتك، قلت: فما بُدٌّ، قال: لا حتى تذهب وتدخل الحمام، وتغسل ثيابك، ثم تجيء فأحدثك به، قال: فدخلت الحمام وغسَّلْتُ ثيابي ثم أتيته فقال: حدثني شهر ابن حوشب، قلت: شهر بن حوشب عمّن؟ قال: عن أبي ريحانة، قلت: هذا حديث صَعِد ثم نزل دمّروا عليه، ليس له أصل" (1) .
فهذا الحديث لم تظهر لشعبة علته إلا بعد فترة وبعد كدّ وسفرات ورحلات.
وينبغي أن يذكر أن أسباب ردّ الحديث كما ذكر ابن حجر اثنان:
1- السقط في الإسناد.
2- الطعن في الراوي.
ثم السقط: إما أن يكون ظاهراً أو خفياً، فالسقط الظاهر يشمل المعلق والمرسل والمعضل والمنقطع.
والسقط الخفي يشمل المدلَّس، الذي يرد بصيغة من صيغ الأداء، والرواية تحتمل وقوع اللقي بين المدلِّس، ومن أسند عنه، كعن وقال، وكذلك يشمل السقط الخفي المرسل الخفي، إذا صدر من معاصر لم يلق من حدث عنه بل بينه وبينه واسطة.
والفرق بين المدلَّس والمرسل الخفي: أن التدليس يختص بمن روى عمن عرف لقاؤه إياه، فأما إن عاصره ولم يعرف أنه لقيه فهو المرسل الخفي.
--------------------------------------------
আমি তাকে হাদিসটি বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন: এটি তোমার প্রয়োজন নেই। আমি বললাম: এছাড়া তো কোনো উপায় নেই। তিনি বললেন: না, যতক্ষণ না তুমি গিয়ে গোসলখানায় প্রবেশ করো এবং তোমার কাপড় ধৌত করো, অতঃপর ফিরে আসো; তখন আমি তোমার কাছে এটি বর্ণনা করব। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: আমি গোসলখানায় প্রবেশ করলাম এবং আমার কাপড় ধৌত করলাম, অতঃপর তাঁর কাছে আসলাম। তিনি বললেন: শাহর ইবনে হাওশাব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম: শাহর ইবনে হাওশাব কার থেকে? তিনি বললেন: আবু রায়হানা থেকে। আমি বললাম: এটি এমন এক হাদিস যা উপরে উঠেছিল অতঃপর নিচে নেমেছে, এটি ধ্বংস করে দাও, এর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।" (১) .
সুতরাং এই হাদিসটির ত্রুটি (علة) শু'বাহর নিকট দীর্ঘ সময় পর এবং কঠোর পরিশ্রম, অনেক সফর ও ভ্রমণের পরেই কেবল স্পষ্ট হয়েছিল।
উল্লেখ্য যে, হাফেজ ইবনে হাজার যেভাবে উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী হাদিস প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ দুটি:
1- সনদ (إسناد) থেকে বর্ণনাকারী বাদ পড়া।
2- বর্ণনাকারীর (راوي) সমালোচনা।
অতঃপর এই বাদ পড়া: হয় তা প্রকাশ্য (ظاهراً) হবে অথবা গোপন (خفياً)। প্রকাশ্য বিচ্যুতির অন্তর্ভুক্ত হলো মুআল্লাক (معلق), মুরসাল (مرسل), মু'দাল (معضل) এবং মুনকাতি' (منقطع)।
আর গোপন বিচ্যুতির অন্তর্ভুক্ত হলো মুদাল্লাস (مدلس), যা বর্ণনার এমন কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে বর্ণিত হয় যেখানে তাদলীসকারী (مدلس) এবং যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তাদের মধ্যে সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকে; যেমন: 'হতে বা থেকে' (عن) এবং 'বলেছেন' (وقال) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে। একইভাবে গোপন বিচ্যুতির অন্তর্ভুক্ত হলো মুরসাল খাফি (مرسل خفي), যখন তা এমন সমসাময়িক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয় যার সাথে বর্ণনাকারীর সাক্ষাৎ হয়নি, বরং তাদের উভয়ের মাঝে কোনো মাধ্যম থাকে।
মুদাল্লাস (مدلس) এবং মুরসাল খাফি (مرسل خفي)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো: তাদলীস (تدليس) কেবল তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যার সাথে বর্ণনাকারীর সাক্ষাতের বিষয়টি প্রমাণিত। পক্ষান্তরে, যদি সে তার সমসাময়িক হয় কিন্তু তার সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি প্রমাণিত না হয়, তবে সেটি হলো মুরসাল খাফি (مرسل خفي)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم الطعن في الراوي: إما أن يكون في عدالته أو في ضبطه، والطعن في العدالة يشمل:
1- كذب الراوي في حديث النبي صلى الله عليه وسلم.
2- كونه متهماً بالكذب بأن يكون معروفاً بالكذب في كلامه، لا في حديث النبي صلى الله عليه وسلم.
أو روى حديثاً مخالفاً للقواعد المعلومة، ولا يروى هذا الحديث إلا من جهته.
3- الفسق بارتكاب الكبائر قولاً أو فعلاً.
4- البدعة: وهي اعتقاد ما أحدث على خلاف المعروف عن النبي صلى الله عليه وسلم بنوع شبهة لا بمعاندة.
5- الجهالة: بأن لا يعرف في الراوي تعديل ولا تجريح معين.
وأما الطعن في ضبط الراوي فيشمل:
1- فحش غلطه أي غلبة خطئه على صوابه.
2- غفلته عن الإتقان.
3- وهمه بأن يروي على سبيل التوهم.
4- مخالفته للرواة الآخرين.
والمخالفة تشمل أنواعاً:
1- أن يخالف الراوي في تغيير سياق الإسناد أو المتن فيسمى: المدرج.
2- أن يخالف الراوي بتقديم المتأخر وتأخير المتقدم في الإسناد أو المتن، فيسمى: مقلوباً.
3- أن يزيد راوياً في الإسناد ما لم يزده الآخرون فيسمى: المزيد في متصل الأسانيد.
এরপর বর্ণনাকারীর (الراوي) সমালোচনা (الطعن): হয় তা তার নৈতিক সততা (عدالة) সম্পর্কিত হবে অথবা তার স্মরণশক্তি (ضبط) সম্পর্কিত। আর নৈতিক সততা (عدالة) বিষয়ক সমালোচনার (الطعن) অন্তর্ভুক্ত হলো:
1- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের বর্ণনায় বর্ণনাকারীর (الراوي) মিথ্যাচার (كذب)।
2- মিথ্যাচারের দায়ে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) হওয়া; অর্থাৎ সে তার সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যা বলার জন্য পরিচিত, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের ক্ষেত্রে নয়।
অথবা এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করা যা সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতিসমূহের পরিপন্থী এবং ওই হাদিসটি কেবল তার মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে।
3- কথা বা কাজের মাধ্যমে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়ে পাপাচার (فسق) করা।
4- বিদআত (بدعة): আর তা হলো কোনো প্রকার সংশয়ের বশবর্তী হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সুপরিচিত তার বিপরীতে কোনো নতুন বিষয় বিশ্বাস করা, হঠকারিতাবশত নয়।
5- পরিচয়হীনতা (جهالة): অর্থাৎ বর্ণনাকারীর (الراوي) ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো নির্ভরযোগ্যতা ঘোষণা (تعديل) বা অযোগ্যতা ঘোষণা (تجريح) সম্পর্কে অবগত না হওয়া।
আর বর্ণনাকারীর (الراوي) স্মরণশক্তি (ضبط) সংক্রান্ত সমালোচনার (الطعن) অন্তর্ভুক্ত হলো:
1- চরম ভুল (فحش غلط); অর্থাৎ তার সঠিক বর্ণনার তুলনায় ভুলের আধিক্য থাকা।
2- সঠিকতা বা দৃঢ়তা (إتقان) অর্জনে তার অসাবধানতা (غفلة)।
3- তার ভ্রম (وهم); অর্থাৎ বিভ্রান্তি বা ধারণার বশবর্তী হয়ে বর্ণনা করা।
4- অন্যান্য বর্ণনাকারীদের (الراوي) বিরোধিতা (مخالفة) করা।
আর এই বিরোধিতা (مخالفة) কয়েক প্রকারের হতে পারে:
1- বর্ণনাকারী (الراوي) কর্তৃক সনদ বা সূত্রের (إسناد) অথবা মূলপাঠের (متن) বিন্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে বিরোধিতা (مخالفة) করা; একে অনুপ্রবেশকৃত (مدرج) বলা হয়।
2- বর্ণনাকারী (الراوي) কর্তৃক সনদ বা সূত্র (إسناد) অথবা মূলপাঠের (متن) অগ্র-পশ্চাৎ করার মাধ্যমে বিরোধিতা (مخالفة) করা; একে উল্টানো (مقلوب) বলা হয়।
3- সনদ বা সূত্রের (إسناد) মধ্যে এমন একজন বর্ণনাকারীকে (الراوي) বৃদ্ধি করা যা অন্য বর্ণনাকারীরা করেননি; একে নিরবচ্ছিন্ন সনদে অতিরিক্ত বর্ণনাকারী (المزيد في متصل الأسانيد) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
4- أن يخالف الرواة بإبدال راوٍ براوٍ أو برواة في إسناد واحد، وكذلك إبدال شيء في متن الحديث الواحد مرة بلفظ ومرة بلفظ آخر، فيسمى: مضطرباً.
5- كذلك يخطئ في الكلمة فيغير سياقها فيسمى: المصحف والمحرف (1) .
وفي هذه الأقسام المردودة من الأحاديث يدخل في باب علل الحديث كل ما فيه خفاء وعدم ظهور، وسيكون الكلام فيما ظهر الخفاء فيه فقط.
--------------------------------------------
4- বর্ণনাকারীগণ যদি একটি সনদে একজন বর্ণনাকারীর স্থলে অন্য একজন বা একাধিক বর্ণনাকারীকে পরিবর্তন করে ভিন্নতা সৃষ্টি করেন, এবং একইভাবে একটি হাদিসের মূল পাঠে (মতনে) একবার এক শব্দ এবং অন্যবার অন্য শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবর্তন ঘটান, তবে একে বলা হয়: মুদতারিব (مضطرباً)।
5- একইভাবে তিনি কোনো শব্দে ভুল করেন যার ফলে এর প্রেক্ষাপট বা গঠন পরিবর্তিত হয়ে যায়, তখন একে বলা হয়: মুসাহহাফ (المصحف) এবং মুহাররাফ (المحرف) (১)।
হাদিসের এই বর্জনীয় (المردودة) প্রকারসমূহের মধ্যে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل الحديث) বিষয়ক অধ্যায়ে সেই সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত যাতে অস্পষ্টতা ও অপ্রকাশ্য বিষয় রয়েছে। এখানে কেবল সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে যাতে অস্পষ্টতা প্রকাশ পেয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أسباب العلة في الحديث:إن أهم أسباب العلة القادحة في الحديث:
1- الخطأ والنسيان الذي لا يسلم منه أي بشر مع كونه موصوفاً بالضبط التامّ.
ومثل هذا الخطأ يكون نادراً من الثقة، ومع ذلك ليس من المعقول ولا من المشروع أن يصحح خطأهُ، ويستر عليه ولا يُبين، فالمنهج السليم أن يُعيَّن ويُبيَّن للناس حتى لا يتتابعوا في الخطأ.
قال ابن معين: "من لم يخطئ فهو كذاب".
وقال ابن المبارك: "من يسلم من الوهم؟ ".
وقد وهّمت عائشة جماعة من الصحابة في رواياتهم، وقد جمع الزركشي جزءاً في ذلك.
হাদিসের ত্রুটির (علة) কারণসমূহ:হাদিসে ক্ষতিকারক (قادحة) ত্রুটি (علة) সৃষ্টির প্রধান কারণসমূহ হলো:
১- ভুল এবং বিস্মৃতি, যা থেকে কোনো মানুষই নিরাপদ নয়, এমনকি তিনি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তির (ضبط التام) অধিকারী হিসেবে গুণান্বিত হলেও।
নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে এ ধরনের ভুল খুব কমই ঘটে। তা সত্ত্বেও, তার ভুলকে সঠিক সাব্যস্ত করা কিংবা তা গোপন করা এবং স্পষ্ট না করা যুক্তিসঙ্গত বা শরিয়তসম্মত নয়। বরং সঠিক পদ্ধতি হলো ভুলটি নির্দিষ্ট করা এবং মানুষের সামনে তা প্রকাশ করে দেওয়া, যাতে তারা সেই ভুলের অনুসারী না হয়।
ইবনে মাইন বলেন: "যে ব্যক্তি কখনও ভুল করে না, সে মূলত একজন মিথ্যাবাদী (كذاب)।"
ইবনে মুবারক বলেন: "বিভ্রান্তি (وهم) থেকে কে নিরাপদ?"
আয়েশা (রা.) একদল সাহাবীর বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের বিভ্রান্তি (وهم) চিহ্নিত করেছেন এবং ইমাম যারকাশী এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ووهّم سعيد بن المسيب ابن عباس في قوله: "تزوج النبي صلى الله عليه وسلم ميمونة وهو محرم" (1) .
وهذا شعبة بن الحجاج بن الورد العتكي أبو بسطام رحمه الله قال فيه عبد الرحمن بن مهدي: "كان سفيان الثوري يقول: شعبة أمير المؤمنين في الحديث".
وقال الشافعي: "لولا شعبة ما عُرف الحديث بالعراق، كان يجيء إلى الرجل فيقول: لا تحدث، وإلا استعديت عليك السلطان"، وقال أحمد أيضاً: "شعبة أعلم بحديث الحكم، ولولا شعبة ذهب حديث الحكم ولم يكن في زمن شعبة مثله في الحديث، ولا أحسن حديثاً منه، كان قُسِمَ له من هذا حظ" (2) .
وقال أحمد أيضاً: "كان شعبة أمة وحده في هذا الشأن (يعني في الرجال) وبصره في الحديث وتثبته وتنقيته للرجال" (3) ، ولكن مع ذلك قد ضبط الأئمة أخطاءً عليه، وسجلوها في أقوالهم ومصنفاتهم.
ومعلوم أنه من أشد الناس على التدليس والمدلسين، ومع ذلك روى عن شيوخ ولم يسمع منهم.
قال الإمام أحمد: "أخطأ شعبة في اسم خالد بن علقمة فقال: مالك بن عُرفُطة، وأخطأ أيضاً في سلَم بن عبد الرحمن، فقال: عبد الله بن يزيد في حديث الشكال في الخيل (4) قلب اسمه.
--------------------------------------------
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ইবনে আব্বাসকে তাঁর এই উক্তিটির জন্য ভুল সাব্যস্ত করেছেন (وهّم): "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাইমুনাকে বিবাহ করেছেন যখন তিনি ইহরাম অবস্থায় (محرم) ছিলেন" (১)।
আর এই শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ ইবনুল ওয়ারদ আল-আতাকী আবু বিস্তাম (রাহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে আবদুর রহমান ইবনে মাহদী বলেছেন: "সুফিয়ান আস-সাওরী বলতেন: শু’বাহ হচ্ছেন হাদিসের ক্ষেত্রে আমিরুল মুমিনিন।"
ইমাম শাফেঈ বলেছেন: "শু’বাহ না থাকলে ইরাকে হাদিস পরিচিতি লাভ করত না। তিনি কোনো ব্যক্তির নিকট আসতেন এবং বলতেন: হাদিস বর্ণনা করো না, নতুবা আমি তোমার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করব।" ইমাম আহমাদও বলেছেন: "শু’বাহ হাকাম-এর হাদিস সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত ছিলেন। যদি শু’বাহ না থাকতেন তবে হাকাম-এর হাদিস বিলুপ্ত হয়ে যেত। শু’বাহর যুগে হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না এবং তাঁর চেয়ে সুন্দর হাদিস বর্ণনাকারীও কেউ ছিল না। এই শাস্ত্রে তাঁকে এক বিশাল অংশ প্রদান করা হয়েছিল" (২)।
ইমাম আহমাদ আরও বলেছেন: "এই বিষয়ের ক্ষেত্রে (অর্থাৎ বর্ণনাকারীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে) শু’বাহ একাই এক উম্মাহ ছিলেন এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর গভীর প্রজ্ঞা, সুদৃঢ়তা (تثبت) এবং বর্ণনাকারীদের যাঁচাই-বাছাইয়ের (تنقية) ক্ষেত্রেও তিনি অনন্য ছিলেন" (৩)। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইমামগণ তাঁর কিছু ভুল চিহ্নিত করেছেন এবং সেগুলো তাঁদের বক্তব্য ও গ্রন্থাবলীতে লিপিবদ্ধ করেছেন।
এটি সর্বজনবিদিত যে, তিনি তাদলিস (تدليس) এবং তাদলিসকারীগণের (مدلسين) প্রতি কঠোরতম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি এমন কিছু শাইখ থেকে বর্ণনা করেছেন যাদের থেকে তিনি সরাসরি শোনেননি।
ইমাম আহমাদ বলেছেন: "শু’বাহ খালিদ ইবনে আলক্বামাহ-এর নামের ব্যাপারে ভুল করেছেন এবং তাঁকে মালিক ইবনে উরফুত্বাহ বলেছেন। তিনি সালাম ইবনে আবদুর রহমান-এর ক্ষেত্রেও ভুল করেছেন এবং ঘোড়ার ‘শিকাল’ সংক্রান্ত হাদিসে তাঁকে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ বলেছেন (৪); অর্থাৎ তিনি নাম উল্টে ফেলেছেন (قلب)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমু ইলালিল হাদীস ওয়া দাওরুহু ফী হিফযিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأخطأ شعبة: في اسم أبي الثورين فقال: أبو السوَّار، وإنما هو أبو الثورين.
قال عبد الله بن أحمد قلت لأبي من هذا أبو الثورين؟ فقال: رجل من أهل مكة مشهور، اسمه محمد بن عبد الرحمن من قُريْش، قلت لأبي: إن عبد الرحمن ابن مهدي زعم أن شعبة لم يخطئ في كنيته فقال: هو أبو السوار.
قال أبي: عبد الرحمن لا يدري أو كلمه نحوها" (1) .
وقال أحمد أيضاً: "أخطأ شعبة في حديث علي بن زيد عن يوسف بن مهران فقال: يوسف بن ماهك وهو خطأ إنما هو ابن مهران" (2) ، ولذلك كانت الرواية من الكتب أصح وأقوى من الرواية بالحفظ قال الخطيب: الاحتياط للمحدث، والأولى به أن يروي من كتابه ليَسْلَم من الوهم والغلط، ويكون جديراً بالبُعد من الزلل.
ثم ذكر بإسناده عن أبي زرعة قال: سمعت أبا نعيم، وذكر عنده حماد بن زيد، وابن عُلية، وأن حماداً أحفظ عن أيوب وابن عُلية كَتَبَ، فقال: ضَمِنتُ لك أن كل من لا يرجع إلى الكتاب لا يؤمن عليه الزلل ثم ذكر بإسناده عن
--------------------------------------------
শুবা আবুস সাওয়ারাইন-এর নামের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন; তিনি তাঁকে আবুল সাওয়ার বলেছেন, অথচ তিনি হলেন আবুস সাওয়ারাইন।
আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ বলেন, আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, এই আবুস সাওয়ারাইন কে? তিনি বললেন: মক্কার একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তি, তাঁর নাম মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান, তিনি কুরাইশ বংশের। আমি আমার পিতাকে বললাম: আবদুর রহমান ইবনে মাহদি দাবি করেছেন যে শুবা তাঁর কুনিয়ত (উপনাম) বর্ণনায় ভুল করেননি; তিনি বলেছেন: তিনি হলেন আবুল সাওয়ার।
আমার পিতা বললেন: "আবদুর রহমান এ সম্পর্কে জানেন না—অথবা তিনি অনুরূপ কিছু শব্দ বলেছেন।" (১)।
আহমদ আরও বলেন: "আলি ইবনে জাইদ সূত্রে ইউসুফ ইবনে মিহরান থেকে বর্ণিত হাদিসে শুবা ভুল করেছেন; তিনি একে ইউসুফ ইবনে মাহাক বলেছেন, যা একটি ভুল (خطأ); প্রকৃতপক্ষে তিনি হলেন ইবনে মিহরান" (২)। এই কারণে মুখস্থ বর্ণনার চেয়ে কিতাব থেকে বর্ণনা করা অধিক বিশুদ্ধ (أصح) ও শক্তিশালী (أقوى)। খাতিব বলেন: মুহাদ্দিসের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হলো—এবং তাঁর জন্য এটিই উত্তম যে—সে যেন তাঁর কিতাব থেকে বর্ণনা করে, যাতে সে সংশয় (وهم) ও ভুল (غلط) থেকে নিরাপদ থাকে এবং পদস্খলন (زلل) থেকে দূরে থাকার যোগ্য হয়।
অতঃপর তিনি তাঁর সনদ (إسناد) সহকারে আবু জুরআহ থেকে উল্লেখ করেন, তিনি বলেন: আমি আবু নুয়াইমকে বলতে শুনেছি—তাঁর নিকট হাম্মাদ ইবনে যাইদ এবং ইবনুল উলাইয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হলে এবং এ কথা বলা হলে যে হাম্মাদ আইয়ুব থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক মুখস্থকারী (أحفظ), আর ইবনুল উলাইয়া লিখে রাখতেন—তখন তিনি বলেন: "আমি তোমাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, যে ব্যক্তি কিতাবের শরণাপন্ন হয় না, সে পদস্খলন (زلل) থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না।" অতঃপর তিনি তাঁর সনদ (إسناد) সহকারে...
--------------------------------------------