(খণ্ড: ১)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: -)
التاريخ الكبير للبخاري - ت الدباسي والنحال القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: التاريخ الكبير
المؤلف: الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري (ت 256 هـ)
رواية: أبي الحسن محمد بن سهل البصري الفسوي، مقابلة برواية ابن فارس الدلال، وجزء من رواية عبد الرحمن بن الفضل الفسوي، على ثمانية أصول خطية
تحقيق ودراسة: محمد بن صالح بن محمد الدباسي ومركز شذا للبحوث بإشراف محمود بن عبد الفتاح النحال
الناشر: الناشر المتميز للطباعة والنشر والتوزيع، الرياض
الطبعة: الأولى، 1440 هـ - 2019 م
عدد الأجزاء: 12 (الأخير فهارس)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 شعبان 1442
আল-তারিখুল কাবির লি-বুখারি - আদ-দাব্বাসি ও আন-নাহহাল সম্পাদিত বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
গ্রন্থ: আল-তারিখুল কাবির
লেখক: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি (মৃ. ২৫৬ হি.)
রেওয়ায়েত: আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন সাহল আল-বসরি আল-ফাসাউয়ি, ইবনে ফারেস আদ-দাল্লাল-এর রেওয়ায়েতের সাথে প্রতিতুলনা করা হয়েছে, এবং আব্দুর রহমান বিন আল-ফাদল আল-ফাসাউয়ি-এর রেওয়ায়েতের অংশবিশেষ অন্তর্ভুক্ত, আটটি মূল পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত
তাহকিক ও গবেষণা: মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন মুহাম্মদ আদ-দাব্বাসি এবং শাযা সেন্টার ফর রিসার্চ; মাহমুদ বিন আব্দুল ফাত্তাহ আন-নাহহাল-এর তত্ত্বাবধানে
প্রকাশক: আন-নাশির আল-মুতামায়িজ মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪০ হি. - ২০১৯ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ১২ (সর্বশেষটি নির্ঘণ্ট)
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ শাবান ১৪৪২
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ١)
سلسلة إصدارات الناشر المتميز (106)
التاريخ الكبير
للإمام أبي عبد اللَّه محمد بن إسماعيل البخاري
المتوفى سنة 256 هـ
رواية أبي الحسن محمد بن سهل البصري الفسوي
مقابلة برواية ابن فارس الدلال، وجزء من رواية عبد الرحمن بن الفضل الفسوي، على ثمانية أصول خطية
تحقيق ودراسة
محمد بن صالح بن محمد الدباسي ومركز شذا للبحوث بإشراف محمود بن عبد الفتاح النحال
المجلد الأول
الناشر المتميز للطباعه والنشر والتوزيع
الرياض
আন-নাশিরুল মুতামায়্যিয প্রকাশনা সিরিজ (১০৬)
আত-তারিখুল কাবীর
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (র.) বিরচিত
মৃত্যু: ২৫৬ হিজরি
আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে সাহল আল-বাসরি আল-ফাসাওয়ি-এর বর্ণনা
ইবনে ফারেস আদ-দাল্লালের বর্ণনা এবং আবদুর রহমান ইবনে আল-ফজল আল-ফাসাওয়ির বর্ণনার অংশবিশেষের সাথে পাঠ-সংকলন ও সমন্বয়কৃত, যা আটটি মূল পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত
তাহকিক ও গবেষণা
মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আদ-দুবাসি এবং শাজা গবেষণা কেন্দ্র, তত্ত্বাবধানে: মাহমুদ বিন আব্দুল ফাত্তাহ আন-নাহহাল
প্রথম খণ্ড
আন-নাশিরুল মুতামায়্যিয মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ
রিয়াদ
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٣)
التاريخ الكبير
للإمام أبي عبد اللَّه محمد بن إسماعيل البخاري
المجلد الأول
আত-তারিখুল কাবির
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী রচিত
প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٤)
(ح) محمد بن صالح بن محمد الدباسي، 1440 هـ
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر
البخاري، محمد بن إسماعيل
التاريخ الكبير. محمد بن إسماعيل البخاري؛ محمد بن صالح الدباسي - بريدة، 1440 هـ
12 مج.
ردمك 9 - 8608 - 02 - 603 - 978 (مجموعة)
6 - 8609 - 02 - 603 - 978 (ج 1)
1 - الحديث- تراجم الرواة. . . أ- الدباسي، محمد بن صالح (محقق)
ب- العنوان
ديوي 234.6. . . 3265/ 1440
رقم الإيداع: 3265/ 1440
ردمك: 9 - 8608 - 02 - 603 - 978 (مجموعة)
6 - 8609 - 02 - 603 - 978 (ج 1)
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الأولى
1440 هـ -2019 م
الناشر المتميز
المملكة العربية السعودية
الرياض- حي الفلاح
أمام البوابة رقم 2 لجامعة الإمام
جوال/ 0509224242
almotmiz 1437 h@gmail.com
دار النصيحة
المملكة العربية السعودية
المدينة النبوية
أمام البوابة الجنوبية للجامعة الإسلامية
جوال 0595982046
daralnasihaa@gmail.com
(গ) মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আদ-দুবাসি, ১৪৪০ হিজরি
প্রকাশনা কালীন কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাটালগিং
আল-বুখারি, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল
আত-তারিখুল কাবির। মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি; মুহাম্মদ বিন সালিহ আদ-দুবাসি - বুরাইদাহ, ১৪৪০ হিজরি
১২ খণ্ড
আইএসবিএন ৯ - ৮৬০৮ - ০২ - ৬০৩ - ৯৭৮ (সমগ্র সেট)
৬ - ৮৬০৯ - ০২ - ৬০৩ - ৯৭৮ (১ম খণ্ড)
১ - হাদিস- বর্ণনাকারীদের জীবনী। . . ক- আদ-দুবাসি, মুহাম্মদ বিন সালিহ (সম্পাদক)
খ- শিরোনাম
ডিউই ২৩৪.৬. . . ৩২৬৫/ ১৪৪০
জমাদান নম্বর: ৩২৬৫/ ১৪৪০
আইএসবিএন: ৯ - ৮৬০৮ - ০২ - ৬০৩ - ৯৭৮ (সমগ্র সেট)
৬ - ৮৬০৯ - ০২ - ৬০৩ - ৯৭৮ (১ম খণ্ড)
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
আন-নাশিরুল মুতামায়্যিজ
সৌদি আরব রাজ্য
রিয়াদ- আল-ফালাহ এলাকা
ইমাম ইউনিভার্সিটির ২ নম্বর গেটের সামনে
মোবাইল/ ০৫০৯২২৪২৪২
almotmiz 1437 h@gmail.com
দারুন নাসিহাহ
সৌদি আরব রাজ্য
আল-মদিনাতুন নাবাবিয়্যাহ
ইসলামিক ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ গেটের সামনে
মোবাইল ০৫৯৫৯৮২০৪৬
daralnasihaa@gmail.com
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٥)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٧)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
المقدمة
نحمَد اللَّه تعالى حقَّ حمده، ونصلِّي ونسلِّم على خيرِ خلْقِه، وأمينِه على وحيه، نبيِّنا محمد صلى الله عليه وسلم ومَن اتبع نَهجَه إلى يوم الدين.
أما بعدُ:
فإنه ممَّا لا جِدالَ فيه أنه لا كمالَ لهذا الدين إلا بالحِفاظ على سُنة نبيِّنا محمَّد صلى الله عليه وسلم، أكملِ الخلق وأعظم الأنبياء، عليهم جميعًا أفضل الصَّلاة وأتم التَّسليم.
وقد أكرمَ اللَّهُ تعالى ذِكرُه هذه الأمة بأن قيَّض رجالًا ذبُّوا عن سُنة نبيه صلى الله عليه وسلم مِن عَبَث العابثين، وضلال المضِلين، فقاموا بتدوين هَديِه صلى الله عليه وسلم قولًا وفعلًا وتقريرًا، وهُم إذ يفعلون ذاك فإنهم على علمٍ تامٍّ بجليل ما يجمعونه. . . مُتَحَلِّين بعزيمةٍ لا يَعتريها فُتورٌ؛ مسترشِدين بقوله صلى الله عليه وسلم: "بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً". منتبهين لما هو مَنتحَل مُفترًى وليس من سُنته، وما هو من مَعِين نوره صلوات اللَّه وسلامه عليه، متمكِّنين من أدواتهم العلمية التي توارثوها جيلًا بعد جيلٍ. وإن من أَخَصِّ خصائص هذه الأمَّة الإسلامية أن وَفَّقَها اللَّه سبحانه إلى منهجٍ أصيل، وعِلْمٍ جليل، ذلكم هو علم الرُّواة والجرح والتعديل، وقد تكلم كثير من الصَّحابة والتَّابعين فمَن بعدهم في بيان أحوال الرواة، تَوَرُّعًا وصَوْنًا للشَّريعة، وليس طعنًا في النَّاس.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
আমরা মহান আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করছি এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা, তাঁর ওহীর আমানতদার, আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর আদর্শ অনুসরণ করবেন, তাঁদের প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করছি।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই এটি একটি অবিসংবাদিত বিষয় যে, সৃষ্টির পূর্ণতা ও নবীকুলের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ সংরক্ষণের মাধ্যমেই এ দ্বীনের পূর্ণতা নিহিত; তাঁর ও সকল নবীদের প্রতি বর্ষিত হোক সর্বোত্তম রহমত ও পূর্ণাঙ্গ শান্তি।
আল্লাহ তা'আলা এ উম্মতকে সম্মানিত করেছেন এমন কিছু মহৎ ব্যক্তির মাধ্যমে, যারা নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহকে বাতিলপন্থীদের বিকৃতি ও পথভ্রষ্টদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেছেন। তারা তাঁর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি সম্বলিত হেদায়াত সংকলন করেছেন। এ মহৎ কাজ করার সময় তারা সংকলিত বিষয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিলেন... তারা এক অটল সংকল্প নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন যা কোনো অবসাদ স্পর্শ করেনি; তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী দ্বারা পথনির্দেশিত ছিলেন: "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।" তারা অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন জাল ও মিথ্যা আরোপিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে যা তাঁর সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়, এবং যা তাঁর নূরের উৎস হতে উৎসারিত—তার পার্থক্যের বিষয়ে; তারা তাদের সেই ইলমী শাস্ত্রের দক্ষতায় সমৃদ্ধ ছিলেন যা বংশপরম্পরায় তারা লাভ করেছেন। আর ইসলামি উম্মাহর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা একে এক মৌলিক আদর্শ ও সুমহান শাস্ত্রের তাওফিক দিয়েছেন; আর তা হলো বর্ণনাকারী এবং ‘জারাহ ও তাদীল’ (দোষ-গুণ বিচার) সংক্রান্ত ইলম। বহু সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের পরবর্তীগণ বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনায় মতামত দিয়েছেন—তা ছিল কেবল আল্লাহভীতি এবং শরীয়তের সংরক্ষণের তাগিদে, মানুষের ওপর কোনো দোষারোপের উদ্দেশ্যে নয়।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٨)
وقد تميّز عِلم الحديث الشَّريف بمنهجيةٍ علمية فريدة قائمةٍ على الاستقراء والبحث، والنقد والاستنباط، فجَمَع بين جنباته جُلَّ المناهج المطروقة في البحث العلمي في كل أطواره، ما بين النَّشأة والنضج، ولأجل هذا حاز هذا العلمُ الشريفُ ثناءَ العلماء المسلمين وغيرهم. يقول المستشرق مرجليوث: "والمسلمون محقّون في الفخر بعلم حديثهم"
(1).
وقد قيَّض اللَّه لخدمة هذا العلم الجليل أئمَّةً أعلامًا على مدار التَّاريخ الإسلامي، منهم الإمام المحدِّث، حافظ الإسلام، ذروة الجهابذة النُّقَّاد الأعلام، شيخ السُّنة والحديث، وطبيب عِلَلِه في القديم والحديث، محمَّد بن إسماعيل بن إبراهيم البخاريّ (ت 256 هـ).
ولم يكن البخاريُّ أولَ من تكلم في الرجال؛ فقد اشتهر بنقد الرجال قَبْله إمامُ دار الهجرة أبو عبد اللَّه مالكُ بنُ أنسٍ، والسُّفْيَانَان، وشُعبةُ بنُ الحجاج، ثم يحيى بنُ سعيد القَطَّان، وعبدُ الرحمن بنُ مَهدي، وعبدُ اللَّه بنُ المبارك، ثم أبو عبد اللَّه أحمدُ بن محمد بن حنبل، ويحيى بنُ مَعِين، وعليُّ بنُ عبد اللَّه المَدِينيُّ، وكان ألصقهم بهذا الفن أربعة، فقد قال تقِي الدين أبو عَمرو بن الصَّلاح (ت 643 هـ): رُوِّينَا عن صالح بنِ محمد الحافظ جَزَرَة قال: "أول مَن تكلم في الرجال شُعبة بن الحجاج، ثم تَبِعَه يحيى بن سَعيد القَطان، ثم بعده أحمد بن حنبل، ويحيى بن معين"
(2).
وجاء بعد هذه الطَّبقة الإمام الحافظ أبو عبد اللَّه البخاري، وكأنه حاول
পবিত্র ইলমে হাদীস আরোহী পদ্ধতি, গবেষণা, সমালোচনা এবং উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করে এক অনন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। এটি এর উৎপত্তি থেকে শুরু করে পূর্ণতা লাভ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রায় সকল প্রচলিত পদ্ধতিকে নিজের মাঝে ধারণ করেছে। আর এই কারণেই, এই মহান শাস্ত্র মুসলিম এবং অমুসলিম উভয় শ্রেণির পণ্ডিতদের প্রশংসা অর্জন করেছে। প্রাচ্যবিদ মারগোলিউথ বলেন: "নিশ্চয়ই মুসলমানদের জন্য তাদের ইলমে হাদীস নিয়ে গর্ব করার অধিকার রয়েছে"
(১).
মহান আল্লাহ ইসলামের ইতিহাসের পরিক্রমায় এই মহান শাস্ত্রের সেবায় প্রখ্যাত ইমামগণকে নিয়োজিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম মুহাদ্দিস, হাফিযুল ইসলাম, খ্যাতিমান সমালোচক ও গবেষকদের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, সুন্নাহ ও হাদীসের শাইখ এবং প্রাচীন ও আধুনিক কালের হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলল) নির্ণয়ে পারদর্শী চিকিৎসক, মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহীম আল-বুখারী (মৃত্যু: ২৫৬ হিজরি)।
ইমাম বুখারীই প্রথম ব্যক্তি ছিলেন না যিনি রাবী বা বর্ণনাকারীদের বিষয়ে সমালোচনা করেছেন; বরং তাঁর পূর্বেও রাবীদের সমালোচনার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ছিলেন ইমামু দারিল হিজরাহ আবু আব্দুল্লাহ মালিক বিন আনাস, দুই সুফিয়ান, শু'বাহ বিন হাজ্জাজ, অতঃপর ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, আব্দুর রহমান বিন মাহদী, আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক, অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হানবাল, ইয়াহইয়া বিন মাঈন এবং আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-মাদিনী। এই শাস্ত্রের সাথে তাঁদের মধ্যে চারজন সর্বাধিক ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাকীউদ্দীন আবু আমর ইবনুস সালাহ (মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরি) বলেন: হাফিয সালিহ বিন মুহাম্মাদ জাযারাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "রাবীদের সমালোচনায় সর্বপ্রথম কথা বলেন শু'বাহ বিন হাজ্জাজ, অতঃপর তাঁকে অনুসরণ করেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, তাঁর পরে আহমাদ বিন হানবাল এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন"
(২).
এই স্তরের পর আগমন করেন ইমাম হাফিয আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী, এবং তিনি যেন চেষ্টা করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٩)
استيعاب الرواة من الصَّحابة فمَن بعدهم إلى طبقة شيوخه، فكان أنْ صَنَّفَ كتابه العظيم "التَّاريخ الكبير".
وللبخاريِّ رحمه الله إمامته وجلالته، ولتاريخه أهميته ومزاياه، وقد أَعْظَمَ شيوخُهُ ومَن في طبقتهم "تاريخَه"، حتى إن شيخه الإمام إسحاق بن إبراهيم المعروف بابن رَاهَوَيْهِ (ت 238 هـ) لَمَّا رأى "التَّاريخ" لأول مرة لم يتمالك أن قام فدخل به على الأمير عبد اللَّه بن طاهر، فقال: "أيُّها الأَمِيرُ، أَلَا أُرِيكَ سِحْرًا؟ ! "
(1).
وقال أبو العباس بنُ عُقْدة (ت 332 هـ): "لو أن رجلًا كتب ثلاثين ألفَ حديثٍ لَما استغنى عن "كتاب تاريخ محمَّد بن إسماعيل"
(2).
وقال أبو أحمد الحاكمُ الكبير (ت 358 هـ): "كتاب محمد بن إسماعيل رحمة اللَّه عليه في التَّاريخ كتاب لم يُسبق إليه، ومن ألَّف بعده شيئًا من التَّاريخ أو الأسامي لم يَستغنِ عنه"
(3).
وقال أبو عبد اللَّه الحاكمُ النيسابوريُّ (ت 405 هـ) في النوع الأربعين من علوم الحديث: معرفة أسامي المحدثين: "وقد كفانا أبو عبد اللَّه محمَّدُ بنُ إسماعيل البخاريُّ رحمه الله هذا النَّوْع، فشفى بتصنيفه فيه وبيَّن ولخَّص"
(4).
وقال مُغلطاي (ت 762 هـ): ""التَّاريخ الكَبير" لا يَترك النَّظرَ فيه من
সাহাবীগণ থেকে শুরু করে তাঁর পরবর্তী পর্যায়ক্রমে নিজ উস্তাদদের স্তর পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে তিনি তাঁর মহান গ্রন্থ "আত-তারিখুল কাবির" সংকলন করেন।
ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ইমামত ও মহিমা অনস্বীকার্য এবং তাঁর রচিত ইতিহাসেরও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য। এমনকি তাঁর উস্তাদগণ এবং সমসাময়িক আলিমগণ তাঁর এই "ইতিহাস" গ্রন্থটিকে অত্যন্ত সম্মান দিতেন। এমন কি তাঁর উস্তাদ ইমাম ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম, যিনি ইবনে রাহাওয়াইহ (মৃত্যু ২৩৮ হি.) নামে পরিচিত, তিনি যখন প্রথমবার "আত-তারিখ" গ্রন্থটি দেখেন, তখন তিনি নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে সেটি নিয়ে আমির আব্দুল্লাহ ইবনে তাহিরের নিকট প্রবেশ করেন এবং বলেন: "হে আমির! আমি কি আপনাকে কোনো জাদুকরী কিছু দেখাব না?!"
(১)。
আবু আব্বাস ইবনে উকদাহ (মৃত্যু ৩৩২ হি.) বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তি ত্রিশ হাজার হাদীসও লিখে থাকে, তবুও সে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের 'তারিখ' গ্রন্থটির মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত হতে পারবে না"
(২)。
আবু আহমাদ আল-হাকিম আল-কাবীর (মৃত্যু ৩৫৮ হি.) বলেন: "ইতিহাস শাস্ত্রে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর রচিত গ্রন্থটি এমন এক অনন্য কাজ যার দৃষ্টান্ত পূর্বে আর ছিল না। তাঁর পরে যারা ইতিহাস বা বর্ণনাকারীদের নাম নিয়ে কোনো গ্রন্থ রচনা করেছেন, তারা কেউই এর মুখাপেক্ষিতা এড়াতে পারেননি"
(৩)。
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নাইসাপুরী (মৃত্যু ৪০৫ হি.) হাদীস বিজ্ঞানের চল্লিশতম প্রকার 'মুহাদ্দিসগণের নাম পরিচিতি' প্রসঙ্গে বলেন: "আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়ে আমাদের অভাব পূরণ করে দিয়েছেন। এই বিষয়ে তাঁর সংকলনের মাধ্যমে তিনি পর্যাপ্ত সমাধান দিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছেন"
(৪)。
মুগলতাই (মৃত্যু ৭৬২ হি.) বলেন: ""আত-তারিখুল কাবির" এমন একটি গ্রন্থ, যার প্রতি দৃষ্টিপাত করা বর্জন করে না এমন কেউ যে
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
تَسْمُو همّتُه للنَّظر في العِلم؛ سيَّما علم الحديث؛ سيَّما مَن يتصدَّى للتّصنيفِ"
(1).
وقد اختصر البخاريُّ في "تاريخه"؛ إذ قصَدَ استيعاب الرواة، وكره أن يطول الكتاب، فيقول رحمه الله: "فلما طعنتُ في ثماني عشرة صنَّفتُ كتاب قضايا الصَّحابة والتَّابعين، ثم صنفتُ "التَّاريخ" بالمدينةِ عند قبر النبيِّ صلى الله عليه وسلم، وكنتُ كتبه في الليالي المُقْمِرَة، وقَلَّ اسمٌ في "التَّاريخ" إلا وله عندي قصة، إلا أني كرهتُ أن يطول الكتاب"
(2).
ويُعَدُّ "التَّاريخ الكبير" أصلًا لكل ما كُتِبَ بعده، قال أبو أحمد الحاكمُ: "ومَن تأمَّل كتاب مسلم بن الحَجاج في "الأسماء والكُنَى" عَلِمَ أنه منقول من كتاب محمد بن إسماعيل، حَذْوَ القُذَّة بالقذة"
(3).
وهذه شهادة من الإمام الحافظ أبي أحمد الحاكم أن كِتاب الإمام مسلم بن الحجاج، الذي سماه "الأسماء والكُنَى"، إنما هو منقول عن "التَّاريخ الكبير"، سوى مواضع معدوداتٍ زاد فيها على كتاب البخاريِّ، ولعله استدركَ بعض أسماء الرواة ممن لم يذكرهم البخاريُّ، أو زاد في تراجم بعضهم على ما كتبه البخاري.
ومما تجدر ملاحظته أن بعضًا من العلماء أَلَّفُوا كتبًا لم تكن سوى نقْلٍ لكُتب مَن تقدَّمهم، مع إضافة اليسير، أو حذفه، أو اختصاره. ولعل ما يُسَوِّغُ
জ্ঞানচর্চায় তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল সুউচ্চ; বিশেষত হাদিস শাস্ত্রের প্রতি; বিশেষ করে তাদের জন্য যারা গ্রন্থ সংকলনে ব্রতী হন।"
(১).
ইমাম বুখারি তাঁর "তারিখ" গ্রন্থে সংক্ষেপণ নীতি অবলম্বন করেছেন; কারণ তিনি বর্ণনাকারীদের (রাবি) পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে চেয়েছিলেন এবং গ্রন্থটি যেন অতি দীর্ঘ না হয় তা অপছন্দ করতেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যখন আমি আঠারো বছরে পদার্পণ করি, তখন আমি সাহাবি ও তাবেয়িদের বিচারসংক্রান্ত বিষয়ের কিতাব সংকলন করি। এরপর মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের পাশে বসে 'আত-তারিখ' রচনা করি। আমি জোছনা প্লাবিত রাতগুলোতে এটি লিখতাম। 'আত-তারিখ' গ্রন্থে এমন নাম খুব কমই আছে যার সম্পর্কে আমার কাছে কোনো না কোনো বিশেষ ঘটনা নেই, তবে আমি গ্রন্থটি দীর্ঘ হওয়া অপছন্দ করেছি।"
(২).
"আত-তারিখুল কাবির" গ্রন্থটি এর পরে রচিত এই বিষয়ক সকল গ্রন্থের মূল উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়। আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন: "যে ব্যক্তি মুসলিম বিন হাজ্জাজের 'আল-আসমা ওয়াল কুনা' কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, সে অনুধাবন করবে যে এটি মুহাম্মাদ বিন ইসমাইলের (বুখারি) কিতাব থেকে হুবহু অনুসরণ করে সংকলন করা হয়েছে।"
(৩).
এটি ইমাম হাফিজ আবু আহমাদ আল-হাকিমের পক্ষ থেকে একটি সাক্ষ্য যে, ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজের গ্রন্থটি—যাকে তিনি 'আল-আসমা ওয়াল কুনা' নামকরণ করেছেন—মূলত 'আত-তারিখুল কাবির' থেকে গৃহীত। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত যেখানে তিনি ইমাম বুখারির কিতাবের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করেছেন। সম্ভবত তিনি এমন কিছু বর্ণনাকারীর নাম পরিপূরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যাদের কথা বুখারি উল্লেখ করেননি, অথবা কারো কারো জীবনবৃত্তান্তে বুখারির বর্ণনার চেয়ে কিছু অতিরিক্ত তথ্য যোগ করেছেন।
এখানে এটি লক্ষ্যণীয় যে, কতিপয় আলেম এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যা পূর্ববর্তীদের রচনার অনুলিখন মাত্র, যাতে সামান্য সংযোজন, বিয়োজন বা সংক্ষেপণ করা হয়েছে। সম্ভবত এর যৌক্তিক কারণ হলো...
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ١١)
لعلمائنا الأقدمين صنيعهم هذا هُو أنه إذا نَسَخَ عالِمٌ كتابَ عالِم آخر فلا بد أن يظهر له أثناء النَّسخ إضافات وتعديلات، فإذا أضاف واختصر ونقَّح فقد أصبح الكتاب بين يديه جديدًا، وحينذاك يُضاف الكتاب إلى العالم الثَّاني بتسمية جديدة ويُنْسَبُ إليه.
ولعل من أشهر الكتب التي تناولت تاريخ رواة الحديث جرحًا وتعديلًا "كتاب الجرح والتعديل" لابن أبي حاتم الرازي (ت 327 هـ)، وقد عُدَّ مرجعًا مهمًّا لكلِّ مَن كتب بعده في موضوعه وما يتصل به، ومادة هذا الكتاب في معظمها مُسْتَقَاة من "كتاب التَّاريخ الكبير"
(1).
وقد نقل الخطيبُ البغداديُّ عن الحافظ أبي أحمد الحاكم أنه قال: "كنتُ بالرَّيِّ، فرأيتهم يومًا يقرءون على أبي محمد بن أبي حاتم "كتاب الجرح والتعديل"، فلما فرغوا قلتُ لابن عَبْدُويَه الوراق: ما هذه الضُّحْكَةُ! أراكم تقرءون "كتاب التَّاريخ" لمحمد بن إسماعيل البخاري على شيخكم على الوجه، وقد نسبتموه إلى أبي زرعة وأبي حاتم! فقال: يا أبا أحمد، اعلم أن أبا زُرعة وأبا حاتم لما حُمِلَ إليهما هذا الكتاب قالَا: هذا علم حسن لا يُسْتَغْنَى عنه، ولا يحسُن بنا أن نذكره عن غيرنا"
(2).
ولعل أبا أحمد الحاكم رحمه الله إنما سمعهم يقرءون بعض التراجم القصيرة التي لم يَتَّفقْ لابن أبي حاتم فيها ذِكْر الجرح والتعديل، ولا زيادة مهِمة على ما في "التَّاريخ"، وكون كتاب البخاري أصلًا لكتاب ابن أبي حاتم
আমাদের প্রাচীন উলামায়ে কিরামের কর্মপন্থা ছিল এই যে, কোনো আলিম যখন অন্য কোনো আলিমের গ্রন্থ অনুলিপি করতেন, তখন অনুলিপি করার সময় অনিবার্যভাবেই তাঁর সামনে কিছু সংযোজন ও সংশোধনের বিষয় প্রকাশ পেত। এভাবে তিনি যখন তাতে সংযোজন, সংক্ষেপণ ও পরিমার্জন করতেন, তখন গ্রন্থটি তাঁর হাতে একটি নতুন রূপ লাভ করত। এমতাবস্থায় গ্রন্থটি নতুন একটি নামে সেই দ্বিতীয় আলিমের নামে অভিহিত ও তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হতো।
হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও গুণাগুণ (জারহ ও তাদিল) সংক্রান্ত ইতিহাসের ওপর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে সম্ভবত ইবনে আবি হাতিম আর-রাজি (মৃত্যু ৩২৭ হিজরি) রচিত ‘কিতাবুল জারহ ওয়াত তাদিল’ সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। তাঁর পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে বা এর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারা লিখেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের নিকট এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এই গ্রন্থের অধিকাংশ উপাদানই মূলত ইমাম বুখারির ‘কিতাবুত তারিখিল কাবির’
(১) থেকে সংগৃহীত।
খতিব আল-বাগদাদি হাফিজ আবু আহমদ আল-হাকিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “আমি রাই শহরে ছিলাম। একদিন আমি দেখলাম লোকেরা আবু মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিমের নিকট ‘কিতাবুল জারহ ওয়াত তাদিল’ পাঠ করছে। পাঠ শেষ হলে আমি ইবনে আবদুওয়াইহ আল-ওয়াররাককে বললাম: ‘এ কেমন অদ্ভুত কাণ্ড! আমি দেখছি আপনারা মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারির ‘কিতাবুত তারিখ’ হুবহু আপনাদের শায়খের নিকট পাঠ করছেন, অথচ আপনারা একে আবু জুরআহ ও আবু হাতিমের দিকে সম্বন্ধ করছেন!’ তিনি বললেন: ‘হে আবু আহমদ, জেনে রাখুন যে, আবু জুরআহ ও আবু হাতিমের নিকট যখন এই কিতাবটি আনা হয়েছিল, তখন তাঁরা বলেছিলেন: এটি এক চমৎকার জ্ঞান যা থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়, আর এটি অন্য কারো সূত্রে বর্ণনা করা আমাদের জন্য শোভনীয় দেখায় না’
(২)।”
সম্ভবত আবু আহমদ আল-হাকিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাদের এমন কিছু সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করতে শুনেছিলেন যেগুলোতে ইবনে আবি হাতিমের পক্ষে জারহ ও তাদিল উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি, কিংবা ইমাম বুখারির ‘তারিখ’ গ্রন্থে যা আছে তার ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য সংযোজনও ছিল না। আর ইমাম বুখারির গ্রন্থটি ইবনে আবি হাতিমের গ্রন্থের মূল উৎস হওয়া
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
يجب ألَّا يصل إلى غَمْط الثاني حَقَّه، والوقوع في المبالغة.
"ولا ريب أن ابنَ أبي حاتم حَذَا في الغالب حَذْوَ البخاريِّ في الترتيب، وسياق كثير من التراجم، وغير ذلك، لكن هذا لا يغضُّ من تلك المَزِيّة العظمى، وهي التَّصريح بنصوص الجرح والتعديل، ومعها زيادة تراجم كثيرة، وزيادات فوائد في كثير من التراجم، بل في أكثرها، وتدارُك أوهام وقعت للبخاريِّ، وغير ذلك"
(1).
* * *
এটি যেন দ্বিতীয়জনের অধিকার খর্ব করা এবং অতিরঞ্জনে লিপ্ত হওয়ার পর্যায়ে না পৌঁছায়।
"এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে আবি হাতিম বিন্যাস এবং অনেক জীবনীর উপস্থাপনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় ইমাম বুখারীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন; কিন্তু এটি সেই মহান বৈশিষ্ট্যকে বিন্দুমাত্র ম্লান করে না, যা হলো জারহ ও তা'দিল (রাবীদের সমালোচনা ও গুণকীর্তন) এর মূল পাঠসমূহের সুস্পষ্ট বর্ণনা। এর পাশাপাশি এতে রয়েছে প্রচুর জীবনীর সংযোজন এবং অধিকাংশ জীবনীর ক্ষেত্রে অনেক অতিরিক্ত তাত্ত্বিক উপকারিতা, এমনকি ইমাম বুখারীর কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল সংশোধন এবং আরও অনেক কিছু।"
(১).
* * *
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ١٣)
التَّعريف بـ "التَّاريخ الكَبير" للبخاريِّ (1)يُعدُّ "كتابُ التاريخ الكبير" من أعظم كتب النقد الحديثي، وأغزرها فوائدَ، بَيْدَ أنه رفيعُ المستوى، عسيرُ المنال في بعض الأحيان، حتى على المتخصِّصين، وقد أبدع العلَّامة مُغلطاي في وصفه بقوله: "عادة البخاري رضي الله عنه يذكر شيئًا، ويعترض بشيء، ثم يذكر شيئًا آخر، فمن لا يتدبره لا يكاد يفهمه.
ولهذا قال لما بلغه عيبُ مَن عاب "تاريخه": باللَّه، إنَّ مشايخَهم لا يفهمونه، ولا يكادونَ يهْتدونَ لموْضوعه"
(2).
- وقد جمع البخاري في "تاريخه" بين علم العِلل، والجرح والتعديل، والأنساب، وتاريخ الرواة، والأحكام على الأحاديث، وجمهرة من الفوائد المتعددة.
- ورتَّب تراجم "تاريخه" على حروف المعجم: "أ، ب، ت، ث،. . . "، كما رتب هؤلاء الرواة على أسماء آبائهم حسب الترتيب الألفبائي، إلا أنَّه قدَّم مَن اسمه محمد على سائر الأسماء؛ لشرف هذا الاسم الكريم.
- وابتدأ بذكر ترجمة النبي صلى الله عليه وسلم، ونسبه إلى آدم عليه السلام، بعد أن قدَّم لذلك بمقدمة بَيَّنَ فيها فضل قريش على الناس، وذكر شيئًا من صفاتِه صلى الله عليه وسلم، ومدَّة بَعْثه، وذكر كيف بدأ التاريخ الهجري في عهد عُمر بن الخطاب، ثمَّ ذكر تاريخ وفاة النبي صلى الله عليه وسلم. وخُطَّته أنه يذكر أسماء الصحابة، ثم التابعين، ثم مَن بعدهم في كل حرف من الحروف.
ইমাম বুখারীর "আত-তারিখ আল-কবীর" গ্রন্থের পরিচিতি (১)"কিতাবুত তারিখ আল-কবীর" হাদিস শাস্ত্রের সমালোচনামূলক (নকদ) গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং প্রচুর উপকারী তথ্যে সমৃদ্ধ। তবে এটি অত্যন্ত উচ্চমানের এবং ক্ষেত্রবিশেষে এমনকি বিশেষজ্ঞদের জন্যও দুর্বোধ্য। আল্লামা মুগলতাঈ এই গ্রন্থের বর্ণনায় চমৎকার বলেছেন: "ইমাম বুখারী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর চিরাচরিত পদ্ধতি হলো, তিনি একটি বিষয় উল্লেখ করেন, এরপর অন্য একটি বিষয় দ্বারা আপত্তি উত্থাপন করেন, তারপর আবার ভিন্ন একটি বিষয় আলোচনা করেন। ফলে যে ব্যক্তি এটি গভীরভাবে চিন্তা করবে না, সে এর মর্ম অনুধাবন করতে সক্ষম হবে না।
এই কারণেই তাঁর "তারিখ" গ্রন্থের সমালোচনা যখন তাঁর কানে পৌঁছাল, তখন তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহর শপথ! তাদের শায়খগণই এটি বোঝেন না এবং এর বিষয়বস্তু অনুধাবন করতে সক্ষম নন"
(২)।
- ইমাম বুখারী তাঁর "তারিখ" গ্রন্থে ইলমুল ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি), জারহ ও তাদীল (বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই), বংশবিদ্যা, বর্ণনাকারীদের ইতিহাস, হাদিসের মান নির্ধারণ এবং প্রচুর বিবিধ জ্ঞানগর্ভ তথ্যের সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
- তিনি তাঁর "তারিখ" গ্রন্থের জীবনীসমূহ বর্ণানুক্রমে: "আলিফ, বা, তা, ছা..." সাজিয়েছেন। তেমনি তিনি বর্ণনাকারীদের পিতার নামসমূহও বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছেন। তবে এই মহান নামের মর্যাদার খাতিরে তিনি 'মুহাম্মদ' নামের ব্যক্তিদের অন্য সকল নামের পূর্বে স্থান দিয়েছেন।
- তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনী এবং আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত তাঁর বংশপরম্পরা বর্ণনার মাধ্যমে গ্রন্থটি শুরু করেছেন। এর পূর্বে তিনি একটি ভূমিকা দিয়েছেন যেখানে মানুষের ওপর কুরাইশদের শ্রেষ্ঠত্ব বয়ান করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু গুণাবলি ও তাঁর নবুওয়াতের সময়কাল উল্লেখ করেছেন। এছাড়া উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে কীভাবে হিজরী সনের সূচনা হলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের তারিখও বর্ণনা করেছেন। তাঁর কর্মপদ্ধতি হলো, তিনি প্রতিটি বর্ণের অধীনে প্রথমে সাহাবী, এরপর তাবিঈ এবং তারপর তাদের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
- وتراجم البخاري لرجالِه تتراوح بين الطول والقِصَر؛ فبيْنا نجدُه يُترجِمُ لأحَد الرِّجال بسطرٍ واحدٍ، كما في ترجمتِه لمحمَّد بن عبد اللَّه بن أسيد، ومحمَّد بن عبد الرَّحمن بن فروةَ، ومُحمَّد بن عُمرَ اليافعيِّ، وغيرِهم، إذا به يُترجِمُ لعَبد الرَّحمن بن عبد اللَّه بن كعْب بن مالك الأنصاريِّ بأكثرَ مِن عَشر صفَحاتٍ.
- وغالبُ تراجِم البُخاريِّ يذكر فيها: اسم الرَّاوي، واسم أَبيه، وجدِّه، وكُنيته، ونسبته إلى القبيلة أو البلدة أو كلتَيْهِما، وقلَّما يُطيلُ في الأنساب. ويذكُر بعضَ شُيوخ صاحب الترجمة وتلاميذه، وقد يذكر جميعَ الشُّيوخ والتَّلاميذ إذا كان الراوي من المقِلّينَ؛ ليتميَّز حاله. كما يذكُر أنموذجًا من رواياتِه أو أكثرَ، ولا يُقدِّمُ البخاريُّ معْلوماتٍ وافيةً عن أحْوال الرَّاوي، ويذكرُ أحيانًا الصِّفات الجسميَّة والخُلُقيَّة والعقليَّة للرّواةِ.
- والبخاري يتورَّعُ عن ذِكْر ألفاظٍ حادَّةٍ في الجرح، فغالبًا ما يقول: فيه نظر، يخالف في بعض حديثه. وأشدُّ ما يقول: منكر الحديث.
ونقل الذهبي عن البخاريِّ قولَه: "أرجو أن ألقى اللَّهَ ولا يحاسبني أنِّي اغتبتُ أحدًا". ثمَّ عقَّبَ عليه بقولِه: "قلتُ: صدقَ رحمه الله. ومَن نظر في كلامِه في الجرح والتَّعديل علِمَ ورعَهُ في الكلام في النَّاس، وإنصافَه فيمَن يضعِّفُه، فإنَّه أكثر ما يقولُ: مُنكرُ الحديثِ، سكَتوا عنه، فيه نظر. ونحو هذا، وقلَّ أن يقول: فلان كذاب. أو: كان يضع الحديث.
ইমাম বুখারীর বর্ণনাকারীদের জীবনীসমূহ দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যপূর্ণ। কোথাও দেখা যায় তিনি কোনো ব্যক্তির জীবনী মাত্র এক লাইনে শেষ করেছেন, যেমন—মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আসীদ, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ফারওয়া এবং মুহাম্মাদ ইবনে উমর আল-ইয়াফিয়ী প্রমুখের জীবনী। আবার কখনো দেখা যায় তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালিক আল-আনসারীর জীবনী দশ পৃষ্ঠারও অধিক স্থান জুড়ে বর্ণনা করেছেন।
বুখারীর অধিকাংশ জীবনীর ক্ষেত্রে তিনি সাধারণত বর্ণনাকারীর নাম, তার পিতার নাম, দাদার নাম, উপনাম এবং তার গোত্র বা শহর অথবা উভয়ের পরিচয় উল্লেখ করেন; তবে বংশপরম্পরা বর্ণনায় তিনি খুব একটা দীর্ঘ করেন না। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কতিপয় শিক্ষক ও ছাত্রের নাম উল্লেখ করেন; আর বর্ণনাকারী যদি স্বল্প সংখ্যক হাদিস বর্ণনাকারী হন, তবে তার অবস্থা সুস্পষ্ট করার জন্য তিনি সকল শিক্ষক ও ছাত্রের নাম উল্লেখ করতে পারেন। এছাড়া তিনি তার বর্ণনার এক বা একাধিক নমুনা পেশ করেন। তবে বুখারী বর্ণনাকারীর অবস্থা সম্পর্কে সর্বদা বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন না; মাঝে মাঝে তিনি বর্ণনাকারীদের শারীরিক, চারিত্রিক ও মানসিক গুণাবলির কথা উল্লেখ করেন।
ইমাম বুখারী বর্ণনাকারীদের দোষত্রুটি বর্ণনার (জারহ) ক্ষেত্রে কঠোর শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি বলেন: ‘তার ব্যাপারে আপত্তি আছে’, ‘তিনি তার কিছু হাদিসে বিরোধিতা করেন’। তার ব্যবহৃত সবচেয়ে কঠোর শব্দ হলো: ‘পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী’।
ইমাম যাহাবী ইমাম বুখারী থেকে একটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেন: “আমি আল্লাহর সাথে এভাবে সাক্ষাৎ করার আশা রাখি যে, তিনি যেন আমাকে কারো গীবত করার জন্য জবাবদিহিতার সম্মুখীন না করেন।” এরপর যাহাবী মন্তব্য করেন: “আমি বলি—তিনি সত্য বলেছেন, আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। যে ব্যক্তি জারহ ও তা’দীল (সমালোচনা ও গুণকীর্তন) বিষয়ে তার বক্তব্যসমূহ লক্ষ্য করবে, সে মানুষের ব্যাপারে কথা বলার ক্ষেত্রে তার তাকওয়া এবং যাদেরকে তিনি দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন তাদের প্রতি তার ইনসাফ সম্পর্কে জানতে পারবে। কেননা তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বলেন: ‘পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী’, ‘তার ব্যাপারে তারা নীরবতা অবলম্বন করেছেন’, ‘তার ব্যাপারে আপত্তি আছে’ ইত্যাদি। তিনি খুব কমই এমন কথা বলেন যে: ‘অমুক ব্যক্তি মিথ্যাবাদী’ কিংবা ‘সে হাদিস জাল করত’।”
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
حتَّى إنَّه قال: إذا قلتُ: فلانٌ في حَديثه نظر. فهو متهم واهٍ.
وهذا معنى قولِه: "لا يُحاسبُني اللَّه أنّي اغتبتُ أحدًا". وهذا هو -واللَّه- غاية الورع"
(1).
- والرواة الذين تكلم فيهم بجرح أو تعديل يَقِلُّون عنْ ألفَي رجلٍ، والرُّواة الذينَ سكتَ عليهِم يَزيدونَ على اثني عشرَ ألفَ راوٍ.
بينما كانت الأحاديث التي تكلم عليها بالنقد تزيد على أربعة آلاف حديث، فكان يقولُ مثلًا: "هذا الحديث أصح، وهذا هو الصحيح، ولا يصح، مرسل، منقطع، لا يتابَع في حديثه، لم يثبت حديثه". ويتكلم على الأسانيد فيقول: "لا يصح فيه ذِكْر فلان"، وغير ذلك.
- وألفاظه في الجرح والتَّعديل متعددة، زادت على مائة لفظة في كتابه "التَّاريخ"، فمن ذلك: "وَرع، ثقة، ثبت، كان امرأَ صِدْقٍ، أمير المؤمنين في الحديث، معروف الحديث".
وأيضًا: "اختلط، تغيَّر بأَخَرَة، ذاهب الحديث، سكتوا عنه، ضعيف، ضعيف جدًّا، صاحب عجائب، فيه نظر، في حفظه نظر، ليس بالحافظ، كذاب، لا يُعْرَف صحيحُ حديثِه من سقيمه، حديثه ليس بالقائم، في حديثه مناكير، عنده مناكير، منكر الحديث، مضطرب الحديث، كثير الوهَم، تَعْرِف وتُنْكِر، يروي المناكير. . . "
(2).
এমনকি তিনি বলেছেন: "যখন আমি বলি: অমুকের বর্ণনায় সংশয় রয়েছে, তখন সে অভিযুক্ত ও অত্যন্ত দুর্বল।"
এবং এটিই তাঁর এই উক্তির মর্মার্থ: "আল্লাহ আমাকে কারো গীবত করার জন্য জবাবদিহি করাবেন না।" আল্লাহর কসম! এটাই হচ্ছে পরহেজগারিতা বা খোদাভীতির চরম পরাকাষ্ঠা"
(১)।
- আর যেসব বর্ণনাকারী সম্পর্কে তিনি জরাহ (দোষারোপ) বা তা'দীল (প্রশংসা) করেছেন তাদের সংখ্যা দুই হাজারের কম, পক্ষান্তরে যেসব বর্ণনাকারী সম্পর্কে তিনি নীরব থেকেছেন তাদের সংখ্যা বারো হাজারেরও অধিক।
পক্ষান্তরে তিনি যেসব হাদীসের সমালোচনা করেছেন সেগুলোর সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি। তিনি বলতেন, উদাহরণস্বরূপ: "এই হাদীসটি অধিক বিশুদ্ধ, এটিই সহীহ, এটি সহীহ নয়, মুরসাল, মুনকাতি‘, তার হাদীস অনুসরণযোগ্য নয়, তার হাদীস প্রমাণিত নয়।" তিনি সনদ বা সূত্রের ব্যাপারে মন্তব্য করে বলতেন: "এতে অমুকের উল্লেখ সঠিক নয়" ইত্যাদি।
- জরাহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যবহৃত পরিভাষাগুলো বহুবিধ, তাঁর 'আত-তারীখ' গ্রন্থে এর সংখ্যা একশরও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে: "পরহেজগার, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), সুদৃঢ়, তিনি সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন, হাদীসের ক্ষেত্রে আমীরুল মুমিনীন, সুপরিচিত হাদীস বিশারদ।"
এছাড়াও: "স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছে, শেষ বয়সে পরিবর্তিত হয়ে গেছেন, পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী, তার ব্যাপারে তারা নীরব থেকেছেন, দুর্বল, অত্যন্ত দুর্বল, অদ্ভুত বর্ণনা প্রদানকারী, তার ব্যাপারে সংশয় আছে, তার মুখস্থ শক্তিতে সংশয় আছে, তিনি হাফেজ নন, মিথ্যাবাদী, তার সহীহ হাদীস থেকে দুর্বল হাদীস পৃথক করা যায় না, তার হাদীস সুপ্রতিষ্ঠিত নয়, তার বর্ণনায় আপত্তিকর কিছু রয়েছে, তার নিকট আপত্তিকর বর্ণনা রয়েছে, মুনকার হাদীস বর্ণনাকারী, অস্থির হাদীস বর্ণনাকারী, অত্যন্ত বিভ্রান্ত, কখনো সঠিক আবার কখনো ভুল বর্ণনা করেন, তিনি মুনকার বর্ণনা করেন..."
(২)।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ١٦)
"
التَّاريخ الكَبير" وتعدُّد إبرازاته بالزِّيادة والنَّقص والإصلاح" الإبرازات هي المرات المختلفة التي يَظهر أو يُبرَز فيها الكتاب، وتطابق الإبرازة في زماننا الطَّبعة، فكثير من المصنَّفات أُبرِزَت مراتٍ، وبين كلٍّ من هذه الإبرازات وبعضها فروق، لأن المصنِّف بعد إبراز كتابه أولَ مرة يُدَاومُ على تصحيحه، وتوسيع مضمونه، وإضافة الملحقات إليه. وإبراز الكتاب في الأزمنة الماضية كان يحدث. . . بإعادة إملاء المصنِّف كتابَه على طلبته"
(1).
وقد بلغ من حِرصِ الإمام البخاريُّ وعنايته بتصانيفه أنه أعاد النَّظر فيها مراتٍ، وقد أخرج "كتاب التَّاريخ الكَبير" ثلاث مراتٍ، وفي كل مرة يَزيد ويَنقُص ويُصلِح.
قال مُسَبِّحُ بنُ سَعيدٍ: "سمعتُ البُخاريِّ يقول: لو نشر بعض أُستاذي هؤلاء لم يفهموا كيف صنَّفتُ "كتاب التَّاريخ" ولا عرفوه". ثم قال: "صَنَّفتُه ثلاث مراتٍ"
(2).
ولكثرة ما تعهَّد البخاريُّ كتابَه بالتَّهذيب والتَّنقيح حصل تغايُرٌ في اختلاف روايات الآخِذين عنه، وثبت في رواية بعضهم ما ليس عند غيره من الزيادةِ والنقص والإصلاح، وإذا عُرف هذا، فقد حمل الكتابَ عن مؤلِّفه جمعٌ من أصحابه، وصار لكل واحدٍ نُسخة من الكتاب.
"আত-তারিখুল কাবির" এবং সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধনের মাধ্যমে এর একাধিক সংস্করণ"ইবরাযাত" (সংস্করণসমূহ) বলতে একটি কিতাব বিভিন্ন সময়ে আত্মপ্রকাশ বা প্রকাশিত হওয়াকে বোঝায়, যা বর্তমান সময়ে "সংস্করণ" বা "এডিশন"-এর সমার্থক। অনেক রচনাই একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে এবং এই সংস্করণগুলোর একটির সাথে অন্যটির পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কারণ লেখক প্রথমবার কিতাবটি প্রকাশের পর নিরন্তর সেটির সংশোধন, বিষয়বস্তুর সম্প্রসারণ এবং তাতে পরিশিষ্ট সংযোজন করে থাকেন। প্রাচীনকালে কিতাব প্রকাশের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতো... শিক্ষার্থীদের নিকট লেখকের পুনরায় কিতাবটি শ্রুতলিপিকরণের (ইমলা) মাধ্যমে"
(১)।
ইমাম বুখারী তাঁর রচনাবলির প্রতি এতটাই যত্নশীল ও মনোযোগী ছিলেন যে, তিনি বারবার সেগুলোতে পুনঃদৃষ্টিপাত করতেন। তিনি "কিতাবুত তারিখিল কাবির" তিনবার প্রকাশ করেছেন এবং প্রতিবারই তিনি এতে সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধন করেছেন।
মুসাব্বিহ ইবনে সাঈদ বলেন: "আমি বুখারীকে বলতে শুনেছি: 'যদি আমার এই শিক্ষকদের কেউ পুনরুত্থিত হতেন, তবে আমি কীভাবে "কিতাবুত তারিখ" সংকলন করেছি তা তাঁরা বুঝতেন না এবং এটি চিনতেও পারতেন না।' অতঃপর তিনি বললেন: 'আমি এটি তিনবার সংকলন করেছি'"
(২)।
ইমাম বুখারী তাঁর কিতাবটির ক্রমাগত পরিমার্জন ও সংশোধনের কারণে তাঁর থেকে গ্রহণকারীদের বর্ণিত রেওয়ায়েত বা পাঠের মধ্যে ভিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কারো বর্ণনায় এমন কিছু সংযোজন, বিয়োজন বা সংশোধন বিদ্যমান যা অন্যের কাছে নেই। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর বলা যায়, তাঁর একদল সঙ্গী লেখকের নিকট থেকে কিতাবটি গ্রহণ করেছেন এবং প্রত্যেকের কাছে কিতাবটির একটি করে অনুলিপি বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ١٧)
بعض روايات "كتاب التَّاريخ الكَبير" عن البخاريِّحرص أصحاب الإمام البخاري على سماع الكتاب وتسميعه، ونشره في الأمصار، وتحمَّله أكابرُ العلماء من أصحاب البخاري، فمنهم
(1):
- الفضل بن العباس المعروف بالصَّائغ روى "كتاب التَّاريخ الكَبير" عن البخاريِّ
(2)، وقد ذكر أنه كَتَبه من كتاب البخاري، ثم حمله إلى سيد الحُفاظ والمحدثين أبي زُرعة الرازي (ت 264 هـ)
(3).
- وأبو أحمد محمَّد بن سُليمان بن فارس الدَّلَّال النيسابوري
(4)، كان الْتمسَ من محمَّد بن إسماعيل البخاري نزولَ دارِه، فنزل عنده مدةً، وقرأ عليه "كتاب التَّاريخ" من أوله إلى (باب فُضيل) "
(5). وبقِي أجزاء يسيرةٌ من آخرِه، فإنه لم يسمعها، وأجازها البخاري له، ثم روى ابنُ فارس الكتاب، وسمعه منه أبو الحسن علي بن إبراهيم المُسْتَمْلِي المعروف بالنَّجاد
(6) سوى ذلك القدْر الذي لم يسمعه ابن فارس من البخاري؛ فإنَّ المُسْتَمْلِيَ أخذَه عن ابن فارس إجازةً أيضًا.
ইমাম বুখারী থেকে ‘কিতাবুত তারিখিল কাবীর’-এর কিছু বর্ণনাইমাম বুখারীর শাগরিদগণ কিতাবটি শ্রবণ করা, অন্যকে শুনানো এবং বিভিন্ন জনপদে তা প্রচার করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। বুখারীর সঙ্গীদের মধ্যে বড় বড় আলেমগণ এটি গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন
(১):
- ফজল ইবনুল আব্বাস, যিনি আস-সাইগ নামে পরিচিত; তিনি ইমাম বুখারী থেকে ‘কিতাবুত তারিখিল কাবীর’ বর্ণনা করেছেন
(২)। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ইমাম বুখারীর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করেছিলেন, অতঃপর তা হাফেজ ও মুহাদ্দিসগণের শিরোমণি আবু যুরআ আর-রাযীর (মৃত্যু: ২৬৪ হি.) নিকট নিয়ে গিয়েছিলেন
(৩)।
- এবং আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন ফারিস আদ-দাল্লাল আন-নিশাপুরী
(৪)। তিনি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বুখারীকে তাঁর বাড়িতে অবস্থানের অনুরোধ করেছিলেন, ফলে ইমাম বুখারী তাঁর নিকট কিছুদিন অবস্থান করেন। তিনি তাঁর কাছে ‘কিতাবুত তারিখ’ শুরু থেকে (বাবু ফুদাইল) পর্যন্ত পাঠ করেন
(৫)। শেষের সামান্য কিছু অংশ অবশিষ্ট ছিল যা তিনি সরাসরি শ্রবণ করতে পারেননি, তাই ইমাম বুখারী তাঁকে সেই অংশের ইজাযত (অনুমতি) প্রদান করেন। অতঃপর ইবনে ফারিস কিতাবটি বর্ণনা করেন এবং আবুল হাসান আলী বিন ইবরাহীম আল-মুস্তামলী (যিনি আন-নাজ্জাদ নামে পরিচিত)
(৬) তাঁর কাছ থেকে কিতাবটি শ্রবণ করেন। তবে ইবনে ফারিস ইমাম বুখারী থেকে যে অংশটুকু শুনতে পাননি, আল-মুস্তামলীও সেই অংশটুকু ইবনে ফারিসের নিকট থেকে ইজাযত সূত্রেই গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ثم روى المُسْتَمْلِي ببغداد جميعَ الكتاب، وسمعَه منه كافة أهل العلم من أصحاب الحديث، وكتبه عنه أبو الحسن الدارقطنيُّ وغيرُه بِكمالِه، وقُرئَ عليه ما في آخرِه إجازةً عن ابن فارس، عن إجازة البخاري له ذلك
(1).
- وأبو الحسن محمَّد بن سهل بن عبد اللَّه، وقيل: محمد بن سهل بن كُرْدي، البصري، المقرئ
(2). سمِع من البخاريِّ "تاريخه الكَبير" بِالبصرةِ، سنةَ ستٍّ وأربعينَ ومائتينِ، وسمعه منه الحافظ أبو بكر أحمد بن عبدان الشِّيرازي بفَسَا من بلاد فارس
(3).
- ومُسَبِّح بن سعيد، سمع الكتاب من مصنفه، وقد وقف ابنُ ماكولا على نسختين منه بمقابلة وسماع مُسَبِّح بن سَعيد
(4).
- وأيضًا أبو الفضل
(5) عبد الرحمن بن الفضل بن عبد اللَّه الفَسَوي
(6). سمع "التَّاريخ الكَبير" من مصنفه
(7).
অতঃপর মুস্তামলী বাগদাদে সম্পূর্ণ গ্রন্থটি বর্ণনা করেন এবং হাদীসের পণ্ডিতগণের মধ্য হতে ইলম অন্বেষণকারী সকল লোক তাঁর নিকট থেকে এটি শ্রবণ করেন। আবু হাসান আদ-দারাকুতনী এবং অন্যান্যরা তা পূর্ণাঙ্গভাবে লিপিবদ্ধ করেন। এর শেষে যা রয়েছে তা ইবনে ফারিসের মাধ্যমে ইমাম বুখারীর ইজাযত সূত্রে তাঁর নিকট পাঠ করা হয়
(১)।
- এবং আবু হাসান মুহাম্মদ ইবনে সাহল ইবনে আবদুল্লাহ, মতান্তরে: মুহাম্মদ ইবনে সাহল ইবনে কুরদী, আল-বাসরী, আল-মুকরী
(২)। তিনি ২৪৬ হিজরী সনে বসরার ইমাম বুখারীর নিকট থেকে তাঁর "আত-তারীখুল কাবীর" শ্রবণ করেন এবং পারস্যের ফাসা নামক স্থানে হাফেজ আবু বকর আহমদ ইবনে আবদান আশ-শিরাজী তাঁর নিকট থেকে তা শ্রবণ করেন
(৩)।
- এবং মুসাব্বিহ ইবনে সাঈদ; তিনি গ্রন্থকারের নিকট থেকে গ্রন্থটি শ্রবণ করেছেন। ইবনে মাকুলা মুসাব্বিহ ইবনে সাঈদের শ্রবণ ও মুকাবালাকৃত (মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা) এই গ্রন্থের দুটি পাণ্ডুলিপি পর্যবেক্ষণ করেছেন
(৪)।
- এছাড়া আবু ফদল
(৫) আব্দুর রহমান ইবনে ফদল ইবনে আবদুল্লাহ আল-ফাসাওয়ী
(৬)। তিনিও গ্রন্থকারের নিকট থেকে "আত-তারীখুল কাবীর" শ্রবণ করেছেন
(৭)।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وقد روى عنه العُقيلي في "كتاب الضعفاء"
(1)، وروى من طريقه ابن عبد البر في "الانتقاء"
(2)، والخطيب في "المُوَضِّح لأوهام الجمع والتفريق"
(3)، والغسَّانيُّ في "تقييد المهمل"
(4).
- وأيضًا سمِع الكتاب من مصنفه عبد الرحمن بن إسماعيل الفارسي، وهذه الرواية نقل منها الحافظ عبد الغني المصري (ت 409 هـ)، وقد تحملها عن شيخه أبي بكر أحمد بن إبراهيم بن عطية، عن عبد الرحمن بن إسماعيل الفارسي، عن البخاري
(5).
وقد ذيَّل واستدرك على المُحمدين منه خاصة الدارَقُطنيُّ، ثم ابنُ المحب، وتعقبه الخَطيب في كتابه "المُوَضِّح لأوهام الجمع والتفريق"، ولابن أبي حاتم قبلهم "كتاب بيان خطأ البخاري في تاريخه" انتقد فيه أشياء على البخاري
(6)، وهناك أيضًا جزء فيه: "ذِكْر أوهام زعم عبد الغني أنه استدركها على البخاري في التاريخ"
(7)، وقفنا عليه ملحقًا بنهاية "كتاب التَّاريخ الكَبير" بالجزء الرابع من نُسخة آيا صوفيا [147 أ - 148 أ].
আল-উকায়লি তাঁর থেকে "কিতাবুল দুয়াফা"-তে বর্ণনা করেছেন
(১), এবং ইবনে আবদিল বার তাঁর সূত্রে "আল-ইনতিকা"-তে বর্ণনা করেছেন
(২), আল-খাতিব "আল-মুওয়াদিহ লি-আওহামিল জাম'ই ওয়াত-তাফরিক"-এ
(৩), এবং আল-গাসসানি "তাকয়িদুল মুহামাল"-এ বর্ণনা করেছেন
(৪)।
- এছাড়াও তিনি এই কিতাবটি এর সংকলক আবদুর রহমান ইবনে ইসমাইল আল-ফারিসির নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, এবং হাফেজ আবদুল গনি আল-মিসরি (মৃত্যু ৪০৯ হিজরি) এই বর্ণনাটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন; তিনি এটি তাঁর শাইখ আবু বকর আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আতিয়্যাহর কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইসমাইল আল-ফারিসির সূত্রে আল-বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন
(৫)।
আদ-দারা কুতনি বিশেষভাবে এতে উল্লেখিত 'মুহাম্মাদ' নামধারীদের বিষয়ে পরিশিষ্ট ও সংযোজন করেছেন, এরপর ইবনুল মুহিব্ব এটি করেছেন। আল-খাতিব তাঁর "আল-মুওয়াদিহ লি-আওহামিল জাম'ই ওয়াত-তাফরিক" গ্রন্থে তাঁর সমালোচনা করেছেন। তাঁদের পূর্বে ইবনে আবি হাতিমের "কিতাবু বায়ানি খতায়িল বুখারি ফি তারিখিহি" নামক গ্রন্থ রয়েছে, যেখানে তিনি আল-বুখারির কিছু বিষয়ের সমালোচনা করেছেন
(৬)। এছাড়াও একটি পুস্তিকা রয়েছে যাতে আছে: "আবদুল গনির দাবি অনুযায়ী তারিখ গ্রন্থে আল-বুখারির ওপর কৃত সংশোধনীসমূহের বর্ণনা"
(৭)। আমরা আয়া সোফিয়া পাণ্ডুলিপির চতুর্থ খণ্ডের "কিতাবুত তারিখ আল-কাবির"-এর শেষে পরিশিষ্ট হিসেবে এটি পেয়েছি [১৪৭ ক - ১৪৮ ক]।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وقد جمع مسلمة بن قاسم الأندلسي تاريخًا في الرجال شَرَط فيه أن لا يذكر إلَّا من أغفله البخاريُّ في "تاريخه" وهو كثير الفوائد، في مجلَّد واحد، فيما قاله الحافظ ابن حجر
(1).
ورد ذلك عليه تلميذه السخاويّ، وقال: "كَذَا رأيْتُه في كَلَام شَيْخنا، و"كتاب الصِّلةُ" عِنْدي، وهُو ذَيْلٌ على كِتاب لمُؤلِّفِها سَمَّاه "الزَّاهِرُ"
(2) كما أشَارَ إلَيْه في الخُطْبَةِ"
(3).
* * *
মাসলামাহ ইবনে কাসেম আল-আন্দালুসি বর্ণনাকারীদের জীবনীর ওপর একটি ইতিহাস গ্রন্থ সংকলন করেছেন। তিনি এতে শর্তারোপ করেছেন যে, ইমাম বুখারি তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে যাদের বাদ দিয়েছেন, কেবল তাদেরই তিনি এতে উল্লেখ করবেন। হাফেজ ইবনে হাজারের বর্ণনা অনুযায়ী এটি অত্যন্ত তথ্যবহুল এবং এক খণ্ডে সমাপ্ত
(১)।
তাঁর ছাত্র আস-সাখাভি এর প্রতিবাদ করে বলেছেন: "আমি আমাদের শায়খের বক্তব্যে এভাবেই এটি দেখেছি। তবে 'কিতাবুস সিলাহ' আমার নিকট রয়েছে; এটি মূলত লেখকের 'আয-যাহির'
(২) নামক গ্রন্থের একটি পরিশিষ্ট, যেমনটি তিনি এর মুখবন্ধে ইঙ্গিত করেছেন"
(৩)।
* * *
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٢١)
بيان ما أخرجه البخاريُّ من روايات "كتاب التَّاريخ الكَبير"
ذهب الشَّيخُ المعَلِّميُّ
(1) إلى أن: "ما جمعه ابنُ أبي حاتمٍ من المآخِذ على البخاريِّ كان بالنَّظر إلى النُّسخة التي أخرجها البخاريُّ أوَّلًا، وكلام الخطيب البغداديّ بالنَّظر إلى النُّسخة التي أخرجها البخاريُّ ثانيًا، وهي رواية أبي أحمد محمَّد بن سُليمان بن فارس الدَّلال النيسابوري، المتوفَّى سنة (312 هـ). . .، ورواية ابن سهل مما أخرجه ثالثًا".
وظهر من تعليقات الشَّيخ المعلمي على الأوهام التي ساقها الخطيب البغداديّ في "كتاب المُوَضِّح لأوهام الجمع" أنه يرى أن نُسخة المكتبة الآصفية -وهي فرع عن النُّسخة الباريسية- التي رمز لها الشَّيخ بالرمز (صف) من رواية أبي أحمد بن فارس؛ لأنها تتطابق مع ما نقله الخطيبُ في "كتاب المُوَضِّح"
(2)، وأن نُسخة الخطيب ترجع إلى رواية أبي أحمد بن فارس، وهي متقدمة عن نُسخة ابن سَهْل؛ فنُسخة ابن سَهْل هي المعتمدة عند الاختلاف
(3)، فإذا كانت رواية ابن سَهْل هي المتأخرة، وقد وقعت عند الخطيب نُسخة منها، ينقل عنها في مواضع عديدة من "كتاب المُوَضِّح"، فلماذا لم يلتزم مراجعتها في جميع المواضع؟!
(4).
ইমাম বুখারী কর্তৃক "কিতাবুত তারিখিল কাবীর"-এর যেসব বর্ণনা প্রকাশিত হয়েছে তার বিবরণশাইখ মুয়াল্লিমি
(১) এই মত পোষণ করেছেন যে: "ইমাম বুখারীর বিরুদ্ধে ইবনে আবি হাতিম যেসব আপত্তি সংগ্রহ করেছেন, তা বুখারী কর্তৃক সর্বপ্রথম প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনার ভিত্তিতে ছিল। অন্যদিকে খতিব বাগদাদীর বক্তব্য বুখারী কর্তৃক দ্বিতীয়বার প্রকাশিত পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনার ভিত্তিতে ছিল, যা আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন ফারিস আদ-দাল্লাল আন-নিশাপুরী (মৃত্যু ৩১২ হি.)-এর বর্ণনা... এবং ইবনে সহলের বর্ণনাটি তৃতীয় দফায় প্রকাশিত সংস্করণসমূহের অন্তর্ভুক্ত।"
"কিতাবুল মুওয়াদদিহ লি-আওহামিল জাময়"-এ খতিব বাগদাদী যেসব বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার ওপর শাইখ মুয়াল্লিমির টীকা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, তিনি মনে করেন আসিফিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিটি—যা প্যারিস পাণ্ডুলিপির একটি শাখা এবং শাইখ যেটিকে (সাফ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছেন—তা আবু আহমদ বিন ফারিসের বর্ণনাজাত; কারণ এটি "কিতাবুল মুওয়াদদিহ"-এ খতিবের উদ্ধৃতির সাথে হুবহু মিলে যায়। এছাড়া খতিবের নিকট বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিটিও আবু আহমদ বিন ফারিসের বর্ণনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, যা ইবনে সহলের পাণ্ডুলিপির পূর্ববর্তী। ফলে মতভেদের ক্ষেত্রে ইবনে সহলের পাণ্ডুলিপিটিই অধিক নির্ভরযোগ্য বলে গণ্য। সুতরাং ইবনে সহলের বর্ণনাটি যদি পরবর্তী সংস্করণ হয়ে থাকে এবং খতিবের নিকট তার একটি কপিও বিদ্যমান ছিল—যা থেকে তিনি "কিতাবুল মুওয়াদদিহ"-এর বিভিন্ন স্থানে উদ্ধৃতি দিয়েছেন—তবে কেন তিনি সব জায়গায় সেটি পর্যালোচনার আবশ্যকতা বজায় রাখেননি?!
(৪)।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وقال: "وقد قدمنا مرارًا أن نسخة الخطيب ترجع إلى رواية ابن فارس، وأن المطبوع يرجع إلى رواية ابن سهل، وهي متأخرة عن رواية ابن فارس، وهذه القضية تدل على أكثر من ذلك، تدل على أن البخاريّ أخرج التاريخ قديمًا، وأن رواية ابن فارس مما أخرجه قبل سنة 224 هـ، واللَّه أعلم"
(1).
وقد أنعمَ اللَّهُ بالنُّسخة المرموز لها بالرمز (ث)، وهي نسخةٌ تامّةٌ، وقد تميزت عن رواية ابن سَهْل بمزايا عدة، ويبدو أنها من رواية ابن فارس؛ دل على ذلك مقابلتها بنُقُولِ الخطيب البغدادي في كُتبه، ونُقُولِ الدَّارقطني في "المؤتلف والمختلف"؛ كما سيأتي بيان ذلك.
ومِن أجلِّ ما تمتاز به هذه الرِّواية:
- كثرةُ النُّصوص التي زادتها على النُّسخ التي من رواية ابن سهل وغيره.
- حذف بعض التَّراجم التي ربما وقع بها وهمٌ أو خطأ.
- تفرُّدُها بالكثير من التَّراجم التَّامة.
- إعادة صياغة المصنِّف لمادة الكثير من التراجم بالتقديم، أو التأخير، أو الحذف، أو الإضافة.
- تفرَّدُها بالكثير من التَّصويبات.
- زيادات في أسماء بعض الرواة بذكر الأب أو اللقب أو النسب، أو الحذف.
- زيادات في تعليل بعض الروايات.
وهذا لا يُحمَل على فروق النُّسخ، بل يُحمل على تغايُر الرِّوايات.
وقد صارت رواية أبي أحمد بن فارس عمدةً يُعتمد عليها، ويُرجَع إليها؛
এবং তিনি বলেছেন: "আমরা বারবার উল্লেখ করেছি যে, আল-খাতিবের পাণ্ডুলিপিটি ইবনে ফারিসের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, আর মুদ্রিত সংস্করণটি ইবনে সাহলের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত, যা ইবনে ফারিসের বর্ণনার পরবর্তী সময়ের। এই বিষয়টি এর চেয়েও বেশি কিছুর ইঙ্গিত দেয়; এটি প্রমাণ করে যে ইমাম বুখারী তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থটি অনেক আগেই প্রকাশ করেছিলেন এবং ইবনে ফারিসের বর্ণনাটি সেই সময়ের, যা তিনি হিজরি ২২৪ সালের আগেই প্রকাশ করেছিলেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।"
(১).
আল্লাহ তাআলা (সা) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত পাণ্ডুলিপিটি দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন, যা একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি। এটি ইবনে সাহলের বর্ণনা থেকে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র এবং প্রতীয়মান হয় যে এটি ইবনে ফারিসের বর্ণনা; আল-খাতিব আল-বাগদাদীর কিতাবসমূহে উদ্ধৃত পাঠ এবং আদ-দারা কুতনীর ‘আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ’ গ্রন্থের উদ্ধৃতিগুলোর সাথে এর সামঞ্জস্য লক্ষ্য করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়, যা সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে।
এই বর্ণনার শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
- ইবনে সাহল ও অন্যদের বর্ণনার তুলনায় এতে অধিক সংখ্যক পাঠের (টেক্সট) সংযুক্তি।
- এমন কিছু জীবনবৃত্তান্ত (তারাজুম) বাদ দেওয়া যাতে সম্ভবত বিভ্রান্তি বা ভুল ছিল।
- অনেকগুলো পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্তের ক্ষেত্রে এর অনন্যতা।
- গ্রন্থকার কর্তৃক অনেক জীবনবৃত্তান্তের বিষয়বস্তুকে আগে-পিছে করা, বাদ দেওয়া বা সংযোজনের মাধ্যমে পুনরায় বিন্যাস করা।
- অনেকগুলো সঠিক সংশোধনের ক্ষেত্রে এর একক বৈশিষ্ট্য।
- কোনো কোনো বর্ণনাকারীর নামের ক্ষেত্রে পিতা, উপাধি বা বংশপরিচয় উল্লেখ করা অথবা বাদ দেওয়ার মাধ্যমে নতুন সংযোজন।
- কিছু বর্ণনার ত্রুটি (ইলাল) বর্ণনায় অতিরিক্ত তথ্য প্রদান।
আর এগুলোকে কেবল পাণ্ডুলিপিগত সাধারণ পার্থক্য হিসেবে ধরা যায় না, বরং এগুলো বর্ণনার ভিন্নতা হিসেবেই গণ্য।
এভাবেই আবু আহমদ ইবনে ফারিসের বর্ণনাটি একটি নির্ভরযোগ্য মূলে পরিণত হয়েছে, যার ওপর নির্ভর করা হয় এবং যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়;
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
لذلك عوَّل عليها الخطيبُ البغداديُّ في "كتاب المُوَضِّح لأوهام الجمع والتَّفريق"، وفزع إليها عند اختلاف الآخِذين عنه.
والإشكال الواقع في كَوْن نُسخة أبي أحمد بن فارس مُتقدمةً عن نُسخة ابن سَهْل، ونُسخة ابن سَهْل هي المعتمدة عند الاختلاف، يحتاج إلى تفصيل:
فابن سهل أخذ التاريخ عن البخاري سنة 246 هـ بالبصرة
(1).
وورد البخاريّ الرّيَّ سنة 250 هـ، وحدث عنه أبو حاتم وأبو زرعة
(2).
ثم ورد نيسابور في الأخير سنة 250 هـ، فأقام بها خمس سنين
(3).
وأقام في دار أبي أحمد محمد بن سليمان بن فارس بنيسابور، فسمع منه التاريخ إلى باب فضيل، وأجازه بالباقي
(4).
وفي شعبان سنة 252 هـ كان في نيسابور، وشهد جنازة سعيد بن مروان، وكان الذهليّ يسأله عن الأسماء والكنى والعلل، ويمرُّ فيه البخاريُّ كالسهم
(5).
ودخل نسف سنة 256 هـ، ثم خرج إلى سمرقند لعشر بقين من رمضان، ومات بقرية خرتنك ليلة الفطر
(6).
فيظهر من التسلسل الزمني أن رواية ابن فارس إن لم تكن متأخرة عن
এ কারণেই খতিব আল-বাগদাদি তার "কিতাবুল মুওয়াদ্দিহ লি-আওয়াহামিল জাম'ই ওয়াত তাফরিক" গ্রন্থে এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং যারা তার থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে এর শরণাপন্ন হয়েছেন।
আবু আহমাদ ইবনে ফারিসের পাণ্ডুলিপিটি ইবনে সাহলের পাণ্ডুলিপি অপেক্ষা পূর্ববর্তী হওয়া সত্ত্বেও মতভেদের সময় ইবনে সাহলের পাণ্ডুলিপিটিই অধিক নির্ভরযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে যে জটিলতা পরিলক্ষিত হয়, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন:
ইবনে সাহল ২৪৬ হিজরিতে বসরায় ইমাম বুখারি থেকে 'আত-তারিখ' গ্রহণ করেছেন
(১)।
ইমাম বুখারি ২৫০ হিজরিতে রয় শহরে আগমন করেন এবং তার থেকে আবু হাতিম ও আবু যুর'আ হাদিস বর্ণনা করেন
(২)।
অতঃপর ২৫০ হিজরির শেষভাগে তিনি নিশাপুরে আগমন করেন এবং সেখানে পাঁচ বছর অবস্থান করেন
(৩)।
তিনি নিশাপুরে আবু আহমাদ মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান ইবনে ফারিসের বাড়িতে অবস্থান করেন। ইবনে ফারিস তার থেকে 'বাব ফুদাইল' পর্যন্ত 'আত-তারিখ' শ্রবণ করেন এবং অবশিষ্ট অংশের অনুমতি (ইজাজাহ) লাভ করেন
(৪)।
২৫২ হিজরির শাবান মাসে তিনি নিশাপুরে ছিলেন এবং সাঈদ ইবনে মারওয়ানের জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলেন। সে সময় (ইমাম) যুহলি তাকে রাবিদের নাম, কুনিয়াত ও দোষত্রুটি (ইল্লাত) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন আর বুখারি তীরের ন্যায় সাবলীলভাবে তার উত্তর দিতেন
(৫)।
তিনি ২৫৬ হিজরিতে নাসাফে প্রবেশ করেন, অতঃপর রমজানের দশ দিন অবশিষ্ট থাকতে সমরকন্দের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং ঈদুল ফিতরের রাতে খারতাঙ্ক গ্রামে ইন্তেকাল করেন
(৬)।
সুতরাং কালানুক্রমিক ধারাবাহিকতা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে ফারিসের বর্ণনাটি যদি (ইবনে সাহলের বর্ণনার) পরবর্তী না-ও হয়
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
رواية ابن سهل فهي مقاربة لها في الزمن.
ويوجد في رواية ابن سهل بعض الأحداث التي حدثت بعد 246 هـ، مثل ذكر الوفيات لمحمد بن بشّار (ت 252 هـ)، وزياد بن أيوب (ت 252 هـ)، وإسحاق الكوسج (ت 251 هـ)، ومحمد بن حميد الرازي (ت 248 هـ)، وهذا يحمل على أنه من إضافة الرواة بعد ذلك، واللَّه أعلم.
وأما ما ذكره العلّامة المعلميّ
(1) في التعليق على ما نقله الخطيب عن التاريخ من قوله: "حدثني محمد حدثنا أبو الجماهر"، فيقال:
1. هي في جميع النسخ -ومنها (ث) التي يظنّ أنها من رواية ابن فارس-: "قال لي محمد أبو الجماهر"، إلا النسخة المغربية ففيها: "حدثنا محمد قال: نا محمد أبو الجماهر".
2. أما قوله: "حدثنا محمد" في النسخة المغربية فهو البخاريّ جزمًا، وهو يتكرر كثيرًا فيها في أول الأسانيد.
فنسخة الخطيب إما أن يكون ذكر البخاريّ فيها في أول الإسناد، فظن المعلميّ أنه الذهليّ.
وإما أن تكون نسخة "الموضح" -وهي في المخطوط كالمطبوع- حصل فيها تحريف فزيد فيها: "حدثنا" بين "محمد" وبين "أبو الجماهر".
3. قضية إخراج البخاريّ للتاريخ قديمًا يعرف من ترجمته دون ما ذكره المعلميّ بناء على تاريخ وفاة أبي الجماهر سنة 224 هـ، فالسماع والتحمل له وقت وتاريخ دون التصنيف، فلا يجزم بأن ما سمعه قديمًا صنّفه وبوّبه في حينه.
ইবনে সাহলের বর্ণনাটি সময়ের দিক থেকে এর কাছাকাছি।
ইবনে সাহলের বর্ণনায় ২৪৬ হিজরীর পরবর্তী কিছু ঘটনা বিদ্যমান রয়েছে, যেমন মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (ওফাত ২৫২ হি.), যিয়াদ ইবনে আইয়ুব (ওফাত ২৫২ হি.), ইসহাক আল-কাওসাজ (ওফাত ২৫১ হি.) এবং মুহাম্মাদ ইবনে হুমাইদ আর-রাযীর (ওফাত ২৪৮ হি.) মৃত্যুর উল্লেখ। এটি পরবর্তী বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে সংযোজন হিসেবে গণ্য হতে পারে, আল্লাহ-ই সম্যক অবগত।
আর আল্লামা মুয়াল্লিমী
(১) আল-খাতীব কর্তৃক 'তারীখ' থেকে উদ্ধৃত এই উক্তি: "মুহাম্মাদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আল-জামাহির বর্ণনা করেছেন" এর ওপর যে মন্তব্য করেছেন, তার উত্তরে বলা যায়:
১. এটি সকল পাণ্ডুলিপিতে—যার মধ্যে (সা) পাণ্ডুলিপিও অন্তর্ভুক্ত যা ইবনে ফারিসের বর্ণনা বলে ধারণা করা হয়—এভাবে আছে: "মুহাম্মাদ আবু আল-জামাহির আমাকে বলেছেন"; কেবল মাগরেবী পাণ্ডুলিপিটি ব্যতীত, যাতে রয়েছে: "মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ আবু আল-জামাহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।"
২. মাগরেবী পাণ্ডুলিপিতে "মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" বলতে নিশ্চিতভাবে ইমাম বুখারীকেই বোঝানো হয়েছে এবং এটি সেই পাণ্ডুলিপির সনদসমূহের শুরুতে প্রায়শই পুনরাবৃত্ত হয়েছে।
সুতরাং আল-খাতীবের পাণ্ডুলিপিতে হয় সনদের শুরুতে ইমাম বুখারীর উল্লেখ ছিল, ফলে মুয়াল্লিমী তাঁকে যুহলী বলে মনে করেছেন।
অথবা 'আল-মুওয়াদিহ'-এর পাণ্ডুলিপিতে—যা পাণ্ডুলিপি এবং মুদ্রিত কপি উভয় ক্ষেত্রেই সমান—কিছুটা বিকৃতি ঘটেছে, যার ফলে "মুহাম্মাদ" এবং "আবু আল-জামাহির"-এর মাঝখানে "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" শব্দটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
৩. ইমাম বুখারী কর্তৃক 'তারীখ' গ্রন্থটি প্রাচীনকালে প্রকাশের বিষয়টি তাঁর জীবনী থেকেই জানা যায়, মুয়াল্লিমী আবু আল-জামাহিরের মৃত্যুসাল ২২৪ হিজরীর ওপর ভিত্তি করে যা উল্লেখ করেছেন তার প্রয়োজন নেই। কেননা শ্রবণ ও জ্ঞান আহরণের একটি সুনির্দিষ্ট সময় ও তারিখ থাকে যা গ্রন্থ রচনার সময় থেকে ভিন্ন। সুতরাং তিনি প্রাচীনকালে যা শ্রবণ করেছেন, তা সেই সময়েই বিন্যস্ত ও অধ্যায়ভুক্ত করেছেন—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
4. قوله: "إن رواية ابن فارس مما أخرجه قبل 224 هـ" هذا بعيد جدًّا لأمور عدّة:
أ. ما سبق من توجيه ذلك في النسخ.
ب. أن ابن فارس توفي 312 هـ فمعناه على ما ذكر المعلميّ أن يكون جاوز المائة أو قاربها، وهذا شبه مستحيل، فطبقة شيوخ ابن فارس توفّوا بعد 240 هـ، فما أقرب أن تكون ولادته حول 230 هـ.
والخطيب البغداديّ وقعت له نُسخةٌ ترجع إلى رواية أبي أحمد بن فارس؛ وهي أصل شيخه أبي الحُسين محمد بن الحُسين بن الفضل القَطَّان، عن علي بن إبراهيم المستملِي، عن أبي أحمد بن فارس
(1). وهذا الأصل هُو المسموع للخطيب، والمُعوَّل علمِه في سائر كتبه، لا سيما في مادة "كتاب المُوَضح لأوهام الجمع والتَّفريق".
وكان يرجع إلى هذا الأصل في تخطئة البخاريّ في "كتاب التَّاريخ الكَبير"، وإذا وقف على خطأ في رواية أبي أحمد بن فارس؛ ثم وجد الخطأ على الصَّواب في بقية روايات الآخِذين عن البخاريِّ، كأبي محمد بن سَهْل وأبي محمد الفسوي، ألحقَ الوهمَ بالمستملِي عن ابن فارس.
ومن الأوهام التي ألحقَ الخطأَ فيها بالمستملي: الوهم السَّابع والثلاثون؛ لأن هذا الوهم رواه على الصَّواب أبو محمد الفسويُّ عن البخاريِّ في "كتاب التَّاريخ الكَبير"، كما رواه محمَّدُ بنُ سهل المقرئ على
৪. তাঁর বক্তব্য: "ইবনে ফারিসের বর্ণনাটি ২২৪ হিজরীর পূর্বে তাঁর প্রকাশিত সংকলনসমূহের অন্তর্ভুক্ত" - এটি বিভিন্ন কারণে অত্যন্ত সুদূরপরাহত:
ক. পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনায় এ বিষয়ে ইতিপূর্বে যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
খ. ইবনে ফারিস ৩১২ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। মুআল্লিমী যা উল্লেখ করেছেন তার অর্থ দাঁড়ায় এই যে, তাঁর বয়স শতবর্ষ অতিক্রম করেছিল অথবা তিনি এর কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন, যা প্রায় অসম্ভব। কেননা ইবনে ফারিসের উস্তাদদের স্তর ২৪০ হিজরীর পরে ইন্তেকাল করেছেন; সুতরাং তাঁর জন্ম ২৩০ হিজরীর কাছাকাছি হওয়াই বাস্তবতার অধিক নিকটবর্তী।
খতীব বাগদাদী একটি পাণ্ডুলিপি প্রাপ্ত হয়েছিলেন যা আবু আহমদ ইবনে ফারিসের বর্ণনাসূত্রের অন্তর্ভুক্ত; সেটি ছিল তাঁর উস্তাদ আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-ফজল আল-কত্তানের মূল পাণ্ডুলিপি, যা আলী বিন ইব্রাহিম আল-মুস্তামলী আবু আহমদ ইবনে ফারিস থেকে বর্ণনা করেছেন
(১)। এই মূল পাণ্ডুলিপিটিই ছিল খতীবের নিকট শ্রুত সংস্করণ এবং তাঁর অন্যান্য সকল কিতাবে ইলমী নির্ভরতার ভিত্তি, বিশেষ করে "কিতাবুল মুওয়াদ্বিহ লি-আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরিক"-এর বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে।
তিনি "কিতাবুত তারিখিল কাবীর"-এ ইমাম বুখারীর ভুল নির্দেশ করার ক্ষেত্রে এই পাণ্ডুলিপিটির ওপর নির্ভর করতেন। যখন তিনি আবু আহমদ ইবনে ফারিসের বর্ণনায় কোনো ভুল দেখতে পেতেন, অথচ ইমাম বুখারীর অন্যান্য ছাত্র—যেমন আবু মুহাম্মদ বিন সাহল এবং আবু মুহাম্মদ আল-ফাসাওয়ীর বর্ণনায় সেই বিষয়টি সঠিক অবস্থায় পেতেন, তখন তিনি উক্ত ভ্রমের দায় ইবনে ফারিসের ছাত্র মুস্তামলীর ওপর আরোপ করতেন।
যেসব ভুলের ক্ষেত্রে তিনি মুস্তামলীকে দায়ী করেছেন, তার মধ্যে সাঁয়ত্রিশতম ভুলটি অন্যতম; কারণ এই বর্ণনাটি ইমাম বুখারীর "কিতাবুত তারিখিল কাবীর" থেকে আবু মুহাম্মদ আল-ফাসাওয়ী সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি মুহাম্মদ বিন সাহল আল-মুকরি...
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الصَّواب أيضًا
(1).
غير أن الخطيبَ البغداديَّ قد يكون وقعت له نسخة أخرى من "كتاب التَّاريخ الكَبير"، من رواية أبي أحمد بن فارس، ويظهر من نُقول الخطيب أنه نقل بالوجادة خلاف نَقْلِه عن أصل شيخه أبي الحُسين بن الفضل القطان من "التَّاريخ الكَبير"، رواية أبي أحمد بن فارس. وعندما أراد الاعتذار عن بعض أوهام البخاري الواقعة بها لم يُلحِق الخطأ بالمستملي، وإنما ألحقه بالنَّاسخ، فقال فِى الوهم الرابع والخمسين: ". . . وقد نظرتُ في غير نُسخة من النُّسخ العُتق بـ "تاريخ البخاري"، فلم أره ذكر القرثع إلا في موضع واحد، منها النُّسخة التي يرويها عبد الرحمن بن الفضل الفَسوي عن البخاري، فإنه ذَكَر الكلام الذي قدمنا سياقه في الفصل الأولى لم يَزِدْ عليه.
وكذلك روى محمَّد بن سهل المقرئ عن البخاري الفصل الأول، إلا أنه لم يقل: روى عنه علقمة بن قيس. لكنه ساق حديثًا لعلقمة عن قرثع. ويغلب على ظني أن ذِكْر قرثع الثاني والحديث التالي له كان في "كتاب البخاريِّ"، أو في كِتاب أبي أحمد بن فارس مُخرَّجًا في حاشية الكتاب، فنقله الكاتب إلى غير موضعه، وجعل له ترجمةً مستأنَفة. واللَّه أعلم"
(2).
فهذا قد يدل على أن الخطيبَ يعتمد في هذه الأوهام على غير أصل شيخه أبي الحُسين بن الفضل القطان، فمثل هذه الأخطاء قليلًا ما تقع في النُّسخ المتصلة بالسَّماع؛ فحمَّل الخطيب الوهم للكاتب؛ فقد كان أصل
সঠিকটিও তাই
(১)।
তবে খতিব আল-বাগদাদি সম্ভবত আবু আহমাদ ইবন ফারিসের বর্ণনাসূত্রে "কিতাবুত তারিখিল কাবির"-এর অন্য একটি পাণ্ডুলিপি লাভ করেছিলেন। খতিবের উদ্ধৃতিগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি আবু আহমাদ ইবন ফারিসের বর্ণনাসূত্রে তাঁর উস্তাদ আবুল হুসাইন ইবনুল ফাদল আল-কাত্তানের নিকট সংরক্ষিত "তারিখিল কাবির"-এর মূল পাণ্ডুলিপির বর্ণনার বিপরীতে "বিজাদা" (উত্তরাধিকার সূত্রে বা প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপি) পদ্ধতিতে উদ্ধৃত করেছেন। যখন তিনি তাতে পরিলক্ষিত ইমাম বুখারির কিছু ভ্রান্তির পক্ষে ওজর পেশ করতে চাইলেন, তখন তিনি এই ভুলকে "মুস্তামলি" (শ্রুতিলিখনকারী)-র দিকে নিসবত করেননি, বরং একে "নাসিখ" (অনুলিপিকার)-এর দিকে নিসবত করেছেন। চুয়ান্নতম ভ্রান্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "...আমি ইমাম বুখারির 'তারিখ'-এর একাধিক প্রাচীন পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনা করেছি, সেখানে আমি কারাসাহ-র উল্লেখ মাত্র একটি স্থানে পেয়েছি। এর মধ্যে সেই পাণ্ডুলিপিটিও রয়েছে যা আবদুর রহমান ইবনুল ফাদল আল-ফাসাউয়ি ইমাম বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি প্রথম পরিচ্ছেদে আমরা যা পূর্বে উল্লেখ করেছি তা বর্ণনা করেছেন এবং এর অতিরিক্ত কিছু বৃদ্ধি করেননি।
একইভাবে মুহাম্মদ ইবন সাহল আল-মুকরি ইমাম বুখারি থেকে প্রথম পরিচ্ছেদটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি 'আলকামা ইবন কায়েস তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন' এ কথাটি বলেননি। তবে তিনি কারাসাহ থেকে আলকামার একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। আমার প্রবল ধারণা এই যে, কারাসাহ-র দ্বিতীয় উল্লেখ এবং পরবর্তী হাদিসটি ইমাম বুখারির কিতাবে অথবা আবু আহমাদ ইবন ফারিসের কিতাবের টীকায় (হাশিয়া) উদ্ধৃত ছিল; অনুলিপিকার তা তার সঠিক স্থান ছাড়া অন্য স্থানে স্থানান্তর করেছেন এবং এর জন্য একটি স্বতন্ত্র শিরোনাম তৈরি করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন"
(২)।
এটি নির্দেশ করতে পারে যে, খতিব এই ভ্রান্তিগুলোর ক্ষেত্রে তাঁর উস্তাদ আবুল হুসাইন ইবনুল ফাদল আল-কাত্তানের মূল পাণ্ডুলিপির উপর নির্ভর করেননি; কারণ এ ধরণের ভুল শ্রবণ-পরম্পরার (সামা) মাধ্যমে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলোতে খুব কমই ঘটে থাকে। তাই খতিব এই ভ্রান্তির দায় অনুলিপিকারের ওপর চাপিয়েছেন; কেননা মূল পাণ্ডুলিপি ছিল...
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
شيخه أبي الحُسين القطان من "التَّاريخ الكَبير" خاليًا من ذكر "قرثع" الثَّاني، وأصل القطان عن المستملي حاضر لديه يستظهر به.
وكأن الخطيب أراد استقصاء الأوهام الواقعة في النُّسخ التي اجتمعت لديه -بتعدد روايات الآخذين عن البخاريِّ- سواء من المصنف، أو الرَّاوي عنه، أو النَّاسخ، والاعتذار عن الكثير منها؛ فربما وقف عليها بعضُ مَن لم يتبحَّرْ في العلم، فيظنها من المصنِّف
(1).
তাঁর শায়খ আবুল হুসাইন আল-কাত্তান "আত-তারিখ আল-কাবির" থেকে (উদ্ধৃত করেছেন), যেখানে দ্বিতীয়বার "কুরসা" নামের উল্লেখ ছিল না। আল-কাত্তানের কাছে আল-মুস্তামলি থেকে প্রাপ্ত মূল পাণ্ডুলিপিটি উপস্থিত ছিল যা থেকে তিনি পাঠ গ্রহণ করছিলেন।
মনে হয় খতিব বুখারি থেকে গ্রহণকারী বর্ণনাকারীদের বিভিন্ন বর্ণনার সংবলিত তাঁর কাছে থাকা কপিগুলোতে বিদ্যমান ভুলভ্রান্তিগুলো নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করতে চেয়েছিলেন—তা মূল গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে হোক, কিংবা বর্ণনাকারী বা লিপিকারের পক্ষ থেকে—এবং এগুলোর অনেকগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করতে চেয়েছিলেন। কেননা, হয়তো এমন কেউ এগুলোর সম্মুখীন হতে পারেন যার ইলমি গভীরতা নেই, ফলে তিনি এগুলোকে মূল গ্রন্থকারের ভুল বলে মনে করতে পারেন
(১)।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقد علق الشَّيخ المعلمي في حاشية تحقيق "المُوَضِّح لأوهام الجمع والتفريق" (1/ 66) على الوهم الواقع في ترجمة قرثع؛ بما نصه: ". . . لسخة "صف" تبيَّنَ أنها من رواية ابن فارس، والأمر كما شرحه الخطيبُ من انفراد نُسخة ابن فارس بالتَّرجمة الثَّانية".
ويبدو أن التي كانت بين يدي الخطيب وعوَّل عليها في غالب الأوهام هي النُّسخة الباريسية المرموز لها بالرمز (س) أو مما يرجع إليها، والمنقول عنها نُسخة الآصفية التي رمز لها الشَّيخ المعلمي بالرمز (صف)، ودل على ذلك التشابه الواقع بين تعقُّبات الخطيب وهذه القطعة.
وهي من أوقاف مدرسة دار الحديث الضِّيائية بسفح جبل قاسِيُون بدمشق، كُتبت في شهر رمضان من سنة خمس عشرة وأربعمائة، ومقابَلة بكتاب القاضي أبي عبد اللَّه محمَّد بن إسماعيل بن محمَّد بن فورتش رضي الله عنه
(1)، وذلك في رجب سنة تسع وثلاثين وأربعمائة.
ويظهر أن من مُرجِّحات الخطيب بأن القطعة من رواية أبي أحمد بن فارس هي ما وقع في اللوحتين [21، 36]: "نا محمد، قال: نا محمد". وما وقع في لوحة [36] ترجمة: "مرقع بن صيفي. روى عنه. . . يونس بن إسحاق": "كذا في كتاب أبي أحمد بن فارس: يونس بن إسحاق، وعليه: "صح"".
وقوله: "نا محمدٌ" الأول قد لا يدل على أنه محمد بن سُليمان بن فارس؛ لأنه وقع التحديث من البخاريّ، وهذه القطعة بعد باب: "فضيل"، وهو فيما أجازه البخاريّ لابن فارس كما مرّ في ترجمته، وقد يكون هناك
শায়খ মুয়াল্লিমী তাঁর সম্পাদিত 'আল-মুওয়াত্তিহ লি-আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরিক' (১/ ৬৬) গ্রন্থের টীকায় কারসা'-এর জীবনীতে সংঘটিত ভুল সম্পর্কে মন্তব্য করে লিখেছেন: "... 'সাফ' পাণ্ডুলিপিটি ইবনে ফারিসের বর্ণনা থেকে এসেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে; আর বিষয়টি খতীব যেমন বর্ণনা করেছেন যে, দ্বিতীয় জীবনীটি কেবল ইবনে ফারিসের পাণ্ডুলিপিতেই স্বতন্ত্রভাবে রয়েছে।"
প্রতীয়মান হয় যে, খতীবের কাছে যে পাণ্ডুলিপিটি ছিল এবং অধিকাংশ ভুলের ক্ষেত্রে তিনি যার ওপর নির্ভর করেছেন, সেটি হলো প্যারিস পাণ্ডুলিপি (যাকে 'সিন' প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে) অথবা এর সাথে সম্পর্কিত কোনো কপি। আর এ থেকে অনুলিপি করা হয়েছিল আসফিয়া পাণ্ডুলিপিটি, যেটিকে শায়খ মুয়াল্লিমী 'সাফ' প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছেন। খতীবের পর্যবেক্ষণ এবং এই খণ্ডের মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্য এর প্রমাণ বহন করে।
এটি দামেস্কের কাসিয়ুন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত দারুল হাদিস আদ-দিয়াউইয়াহ মাদ্রাসার ওয়াকফকৃত পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এটি ৪১৫ হিজরির রমজান মাসে লেখা হয়েছিল এবং ৪৩৯ হিজরির রজব মাসে কাযী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ফুরতুশ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)
(১)-এর কিতাবের সাথে মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছে।
খতীবের নিকট এই খণ্ডটি আবু আহমদ বিন ফারিসের বর্ণনা হওয়ার পক্ষে যেসব প্রমাণ রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো ২১ ও ৩৬ নম্বর পৃষ্ঠায় বর্ণিত: "মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।" এছাড়া ৩৬ নম্বর পৃষ্ঠায় 'মুরাক্কা বিন সাইফি, তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন... ইউনুস বিন ইসহাক'-এর জীবনীতে রয়েছে: "আবু আহমদ বিন ফারিসের কিতাবে এভাবেই রয়েছে: ইউনুস বিন ইসহাক, এবং এর উপর 'সহিহ' (সঠিক) চিহ্ন দেওয়া আছে।"
আর তাঁর উক্তি "মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন"—প্রথমটি হয়তো মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন ফারিসকে বোঝায় না; কারণ বুখারী থেকে এই বর্ণনাটি এসেছে। আর এই অংশটি 'ফুযাইল' অধ্যায়ের পরে অবস্থিত, যা বুখারী ইবনে ফারিসকে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছিলেন যেমনটি তাঁর জীবনীতে অতিবাহিত হয়েছে। এবং সেখানে হয়তো থাকতে পারে
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
تجوز في ذكر التحديث هنا.
وهناك محمَّد بن إبراهيم بن شُعيب الغازي الجرجاني
(1)، من تلاميذ الإمام البخاري. ومما قد يعززه أنه في أثناء هذه النُّسخة في لوحة [76 ب] وقع "كتاب الكُنى" للإمام البخاري متصلًا بـ "كتاب التَّاريخ الكَبير"، وسنده هكذا: "أخبرنا أبو الحسن محمَّدُ بنُ إبراهيم بن شُعيب، المعروف بالغازي، قال: نا محمَّدُ بنُ إسماعيل البخاريُّ".
و"كتاب الكُنى" قِطعة من "كتاب التَّاريخ الكَبير" على أحد الرأيين، فظهر أن النُّسخة قد تكون من رواية محمد بن إبراهيم الغازي، عن البخاريِّ، إلّا أنه لا يعرف ولم نرَ أن الغازي روى التاريخ عن البخاريّ.
وما ورد في لوحة [35] من هذه القطعة: "كذا في كِتاب أبي أحمد بن فارس: يُونس بن إسحاق، وعليه: صح"، يدلّ على أنها من رواية أبي أحمد بن فارس، وأن النَّاسخ يَسْتدل بأنه وجده هكذا في كتاب أبي أحمد بن فارس، أو لعل هذه العبارة كانت طرة على الأصل المنسوخ منه، فظن النَّاسخ أنها استدراك يجب إدخاله في المتن.
وبين هذه القطعة وبين النُّسخة التي من رواية ابن فارس المرموز لها بـ (ث) تغايُر، ويظهر أن القطعة الباريسية قد تكون مما أملاه البخاريُّ أولًا؛ فبمقارنتها ببقية النُّسخ وجدنا تغايُرًا في إعادة صياغة المصنِّف لمادة الكثير
এখানে হাদিস বর্ণনার পরিভাষা (তাহদিস) উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা অবলম্বন করা হয়েছে।
সেখানে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে শুআইব আল-গাজি আল-জুরজানি
(১) রয়েছেন, যিনি ইমাম বুখারীর অন্যতম ছাত্র। এই বিষয়টিকে যা জোরালো করে তা হলো, এই পাণ্ডুলিপির [৭৬ খ] পৃষ্ঠায় ইমাম বুখারীর "কিতাবুল কুনা" গ্রন্থটি তাঁর "কিতাবুত তারিখিল কাবির"-এর সাথে যুক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এবং এর সনদটি নিম্নরূপ: "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে শুআইব, যিনি আল-গাজি নামে পরিচিত। তিনি বলেছেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী।"
দুটি মতের একটি অনুযায়ী "কিতাবুল কুনা" হলো "কিতাবুত তারিখিল কাবির"-এর একটি অংশ। ফলে প্রতীয়মান হয় যে, এই পাণ্ডুলিপিটি হয়তো বুখারী থেকে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আল-গাজির বর্ণনা (রেওয়ায়েত); তবে এটি তেমন পরিচিত নয় এবং আমরা এমনটি দেখিনি যে আল-গাজি বুখারী থেকে "তারিখ" বর্ণনা করেছেন।
এই খণ্ডের [৩৫] পৃষ্ঠায় যা বর্ণিত হয়েছে: "আবু আহমদ ইবনে ফারিসের কিতাবে এভাবেই রয়েছে: ইউনুস ইবনে ইসহাক, এবং এর ওপর 'সহিহ' (সঠিক) চিহ্ন দেওয়া আছে"। এটি নির্দেশ করে যে, এটি আবু আহমদ ইবনে ফারিসের রেওয়ায়েত থেকে গৃহীত। লিপিকার হয়তো এটি প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন যে তিনি আবু আহমদ ইবনে ফারিসের কিতাবে এটি এভাবেই পেয়েছেন। অথবা হতে পারে এই বাক্যটি মূল পাণ্ডুলিপির মার্জিনে কোনো টীকা ছিল, যা লিপিকার ভুলবশত মূল পাঠের অন্তর্ভুক্ত হওয়া জরুরি কোনো সংযোজন মনে করেছিলেন।
এই অংশ এবং ইবনে ফারিসের রেওয়ায়েত—যাকে (ছা) প্রতীক দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে—তার মধ্যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। এবং প্রতীয়মান হয় যে, প্যারিসের এই অংশটি সম্ভবত ইমাম বুখারীর প্রাথমিক শ্রুতিলিপি (আমলা)-এর অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য পাণ্ডুলিপির সাথে এটি তুলনা করে আমরা লেখক কর্তৃক প্রচুর বিষয়ের পুনঃবিন্যাসের ক্ষেত্রে ভিন্নতা লক্ষ্য করেছি।
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
من التراجم بالتَّقديم، أو التَّأخير
(1)، أو الحذف، أو الإضافة، وتفرُّد النُّسخ الأخرى بالكثير من التَّصويبات لأخطاء كانت فيها.
وبالرجوع إلى "بيان خطأ محمَّد بن إسماعيل البخاري رحمه الله في التَّاريخ" وُجد أن كثيرًا من الأخطاء التي أخذها الرازيانِ على البخاريِّ وقعت في هذه القطعة، وغالب ما أخذاه على البخاري في "كتاب الكُنى" ثابت في هذه النُّسخة.
والأوهام التي أخذها الخطيبُ البغداديُّ في "كتاب المُوَضِّح لأوهام الجمع" جاءت في الغالب على الصَّواب في النُّسخة المرموز لها بالرمز (ث)، والتي يُظن أنها من رواية أبي أحمد بنِ فارس، عن البخاري، وجاءت على الصَّواب أيضًا في النُّسخ التي من رواية محمَّدِ بنِ سهل المقرئ، عن البخاريِّ.
* * *
জীবনীগুলোর অগ্র-পশ্চাৎ
(১), বর্জন অথবা সংযোজনের মাধ্যমে; এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপিসমূহ এতে বিদ্যমান অনেক ভুলের সংশোধনের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।
"বায়ান খাতা মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী রাহিমাহুল্লাহ ফিত-তারিখ" গ্রন্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করলে দেখা যায় যে, দুই রাজী ইমাম বুখারীর ওপর যেসকল ভুলের অভিযোগ তুলেছেন, তার অনেকগুলোই এই অংশে সংঘটিত হয়েছে। আর "কিতাবুল কুনা" গ্রন্থে তাঁরা বুখারীর ওপর যে আপত্তিগুলো উত্থাপন করেছেন, তার অধিকাংশই এই পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান।
খতিব আল-বাগদাদী তাঁর "কিতাবুল মুওয়াদদিহ লি-আওহামিল জাম ওয়াত-তাফরিক" গ্রন্থে যে বিভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করেছেন, সেগুলো (ছা) সংকেতযুক্ত পাণ্ডুলিপিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিকভাবেই এসেছে; যা ধারণা করা হয় যে, ইমাম বুখারী থেকে আবু আহমাদ ইবনে ফারিসের বর্ণনা। আর মুহাম্মাদ ইবনে সাহল আল-মুকরী কর্তৃক বর্ণিত বুখারীর পাণ্ডুলিপিগুলোতেও সেগুলো সঠিক রূপেই এসেছে।
* * *
(খণ্ড: ١)
আত-তারিখুল কাবীর লিল বুখারী - তাহকীক আদ-দাব্বাসী ওয়ান নাহহাল
(পৃষ্ঠা: ٣١)
مآخِذ الرَّازيين على ما أملاه البخاريُّ من "كِتاب التَّاريخ الكَبير"
إن البخاريَّ وأبا حاتم (ت 264 هـ) وأبا زرعة (ت 277 هـ) الرَّازيين من أكابر أئمة الحديث والرواية، وإليهم المنتهى في معرفة الحديث ورجاله، وكان أبو حاتم الرازيُّ كثيرَ الثَّناء على البخاريِّ، فقد نقل الخطيبُ البغداديُّ عن إسحاق بن أحمد بن زَبْرك، قال: سمعتُ محمَّد بنَ إدريس الرَّازيَّ يقول: "في سنة سبع وأربعين ومائتين يقدم عليكم رجل من أهل خُراسان لن يخرج منها أحفظُ منه، ولا قَدِمَ العراق أعلمُ منه". فقدم علينا بعد ذلك محمَّد بن إسماعيل بأَشْهُرٍ.
قال: وقال أبو حاتم الرازيُّ في هذا المجلس: "محمَّد بن إسماعيل أعلم مَن دَخَل العراق. . . "
(1).
وقد قَدِم عليهم البخاريُّ الريَّ سنة مائتين وخمسين، وسمعا منه، ثم تركا حديثه عندما كتب إليهما محمَّد بن يحيى النَّيسابوريُّ أنه أظهر عندهم أن لفظه بالقرآن مخلوق
(2)(3).
وهذا الفضل بن العباس المعروف بالصَّائغ روى "كِتاب التَّاريخ الكَبير" عن البخاريِّ
(4)، وقد ذكر أنه كَتَبه من كتاب البخاري، ثم حمله إلى أبي زُرعة
ইমাম বুখারী কর্তৃক শ্রুতিলিখিত "কিতাবুত তারিখিল কাবীর"-এর ওপর দুই রাযী ইমামের আপত্তিনিশ্চয়ই ইমাম বুখারী এবং দুই রাযী—আবু হাতিম (মৃ. ২৬৪ হি.) ও আবু যুরআ (মৃ. ২৭৭ হি.) হলেন হাদিস ও বর্ণনাকলার মহান ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত। হাদিস এবং এর বর্ণনাকারীদের (রিজাল) জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে তাঁদের ওপরই নির্ভরতা শেষ হয়। আবু হাতিম রাযী ইমাম বুখারীর প্রচুর প্রশংসা করতেন। খতীব বাগদাদী ইসহাক ইবনে আহমাদ ইবনে যাবরাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আল-রাযীকে বলতে শুনেছি: "দুইশত সাতচল্লিশ হিজরি সনে তোমাদের নিকট খোরাসান থেকে এমন এক ব্যক্তি আগমন করবেন, যার চেয়ে বড় হাফেজ সেখান থেকে আর কেউ বের হননি এবং তাঁর চেয়ে বড় আলেম ইরাকে পদার্পণ করেননি।" এর কয়েক মাস পর মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট আগমন করেন।
তিনি বলেন: আবু হাতিম রাযী এই মজলিসে আরও বলেন: "ইরাকে প্রবেশকারীদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল সর্বাধিক জ্ঞানী..."
(১)।
ইমাম বুখারী দুইশত পঞ্চাশ হিজরি সনে তাঁদের নিকট রাই শহরে আগমন করেন এবং তাঁরা উভয়ে তাঁর থেকে শ্রবণ করেন। পরবর্তীতে যখন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-নায়সাবুরী তাঁদের নিকট লিখে পাঠালেন যে, তিনি তাঁদের নিকট প্রকাশ করেছেন যে তাঁর কুরআনের শব্দ উচ্চারণ করা 'মাখলুক' বা সৃষ্ট, তখন তাঁরা তাঁর হাদিস বর্ণনা করা পরিত্যাগ করেন
(২)(৩)।
ফজল ইবনুল আব্বাস, যিনি 'আস-সায়িগ' নামে পরিচিত, তিনি ইমাম বুখারীর নিকট থেকে "কিতাবুত তারিখিল কাবীর" বর্ণনা করেছেন
(৪)। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ইমাম বুখারীর মূল কিতাব থেকে লিখেছেন এবং পরবর্তীতে তা আবু যুরআর নিকট নিয়ে যান