(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
علم العروض والقافية القسم: العروض والقوافي
الكتاب: علم العروض والقافية
المؤلف: عبد العزيز عتيق (ت 1396هـ)
الناشر: دار النهضة العربية بيروت
عدد الصفحات: 211
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইলমুল আরুজ ওয়াল কাফিয়া (ছন্দ ও অন্ত্যমিল বিদ্যা) বিভাগ: ছন্দ ও অন্ত্যমিল
গ্রন্থ: ইলমুল আরুজ ওয়াল কাফিয়া
লেখক: আব্দুল আজিজ আতিক (মৃত্যু ১৩৯৬ হিজরি)
প্রকাশক: দারুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ, বৈরুত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةهذه محاضرات في علم العروض والقافية ألقيتها على طلبة الصف الأول بقسم اللغة العربية في جامعة بيروت العربية.
وقد حاولت جهدي عرض قضايا هذا العلم على نحو ييسر على دارسيه تفهمه والإلمام بأهم مصطلحاته وجوانبه التي لها أثر في موسيقي الشعر.
ولما كان تمثل الدارس للجانب النظري من هذا العلم لا يتم إلا إذا كان معززًا بالجانب التطبيقي، فقد أكثرت من الأمثلة والشواهد المختارة من قديم الشعر وحديثه.
وعسى أن يجد القارئ في هذا الجهد المتواضع عونًا له على إدراك موسيقى الشعر ممثلة في أوزانه وقوافيه وكل ما يتصل بهما.
المؤلف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাএগুলো হচ্ছে ছন্দবিজ্ঞান ও অন্ত্যমিল বিজ্ঞানের (আরুয ও কাফিয়া) ওপর কিছু বক্তৃতা, যা আমি বৈরুত আরব বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রদান করেছি।
আমি আমার সাধ্যমতো এই বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি, যা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অনুধাবন করা এবং এর গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা ও দিকসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া সহজ করে তোলে, যা কবিতার ছন্দের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
যেহেতু এই বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক দিকটি শিক্ষার্থীর নিকট পূর্ণাঙ্গ হয় না যতক্ষণ না তা ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হয়, তাই আমি প্রাচীন ও আধুনিক কবিতা থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাছাইকৃত উদাহরণ ও প্রমাণাদি প্রদান করেছি।
আশা করি পাঠক এই বিনম্র প্রচেষ্টায় কবিতার ছন্দ উপলব্ধির ক্ষেত্রে সহায়তা পাবেন, যা এর ছন্দপ্রকরণ, অন্ত্যমিল এবং তৎসংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়ের মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে।
লেখক
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيد1 العروض والخليل بن أحمد:
العروض: "علم يُبْحث فيه عن أحوال الأوزان المعتبرة" 1 أو "هو ميزان الشعر، به يعرف مكسوره من موزونه، كما أن النحو معيار الكلام به يعرف معربه من ملحونه"2.
ويرجع رجال التراجم الفضل في نشأة علم العروض إلى الخليل بن أحمد، أحد أئمة اللغة والأدب في القرن الثاني الهجري، فابن خلكان يذكر أن الخليل كان إمامًا في علم النحو، وأنه هو الذي استنبط علم العروض وأخرجه إلى الوجود وحصر أقسامه في خمس دوائر يستخرج منها خمسة عشر بحرًا، ثم زاد الأخفش بحرًا واحدًا وسماه الخبب، كما يذكر أن الخليل كان له معرفة بالإيقاع والنغم، وتلك المعرفة أحدثت له علم العروض، فإنهما متقاربان في المأخذ 3
--------------------------------------------
উপক্রমনিকা১. আরূয (ছন্দতত্ত্ব) এবং আল-খলিল ইবনে আহমদ:
আরূয: "এমন এক বিদ্যা যাতে (কবিতার) স্বীকৃত ছন্দসমূহের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়" ১ অথবা "এটি কবিতার মানদণ্ড, যার মাধ্যমে ছন্দোবদ্ধ কবিতা থেকে ছন্দপতন হওয়া কবিতাকে চেনা যায়; যেমন ব্যাকরণ হলো বাণীর মানদণ্ড, যার মাধ্যমে ব্যাকরণগত ভুলযুক্ত বাক্য থেকে শুদ্ধ বাক্যকে চেনা যায়" ২।
জীবনীকারগণ ইলমে আরূযের উৎপত্তির কৃতিত্ব আল-খলিল ইবনে আহমদের প্রতি সোপর্দ করেন, যিনি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম ইমাম ছিলেন। ইবনে খাল্লিকান উল্লেখ করেছেন যে, আল-খলিল ইলমে নাহুর (ব্যাকরণ) ইমাম ছিলেন এবং তিনিই ইলমে আরূয উদ্ভাবন করেছেন ও একে অস্তিত্বে এনেছেন। তিনি এর বিভাগসমূহকে পাঁচটি বৃত্তে সীমাবদ্ধ করেছেন যা থেকে পনেরটি 'বহর' (ছন্দ) বের করা যায়। পরবর্তীতে আল-আখফাশ আরও একটি বহর যুক্ত করেন এবং তার নাম দেন 'আল-খাবাব'। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আল-খলিলের তাল ও সুর সম্পর্কে জ্ঞান ছিল এবং সেই জ্ঞানই তাঁর জন্য ইলমে আরূযের পথ উন্মোচিত করেছে, কেননা এই উভয় বিদ্যার উৎস পরস্পর নিকটবর্তী। ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ويحدثنا ياقوت عن الخليل بن أحمد بأنه أول من استخرج العروض وضبط اللغة وحصر أشعار العرب، وأن معرفته بالإيقاع -بناء ألحان الغناء على موقعها وميزانها- هي التي أحدثت له علم العروض1.
كذلك يحدثنا القفطيّ عن الخليل بأنه سيد الأدباء في علمه وزهده، وأنه نحويّ لغويّ عروضيّ، استنبط من العروض وعلله ما لم يستخرجه أحد، ولم يسبقه إلى علمه سابق من العلماء كلهم2.
وروى ابن خلكان عن حمزة بن الحسن الأصفهاني نقلاً عن كتابه التنبيه على حدوث التصحيف. قوله: إن دولة الإسلام لم تخرج أبدع للعلوم التي لم يكن لها عند العرب أصول من الخليل، وليس على ذلك برهان أوضح من علم العروض الذي لا عن حكيم أخذه، ولا على مثال تقدمه احتذاه، وإنما اخترعه من ممر له بالصفارين، من وقع مطرقة على طست.
من ذلك يرى أن الخليل هو أول مبتكر لعلم العروض وحصر كل أشعار العرب في بحوره. ولم تقف عقليته المبتكرة عند هذا الحد، وإنما تجاوزته إلى ابتكار علوم أخرى، فهو أول مبتكر لفكرة المعاجم العربية بوضعه معجم العين، الذي يحصر لغة أمة من الأمم قاطبة، وهو الذي وضع أساس علم النحو باستخراج مسائله وتعليله، وإمداده سيبويه من علم النحو بما صنف منه كتابه الذي هو زينة لدولة الإسلام كما يذكر القفطيّ، ثم هو الذي اخترع علم الموسيقى العربية وجمع فيه أصناف النغم.
ولكن لا ينبغي أن يفهم من وضع الخليل لعلم العروض أن العرب لم تكن
--------------------------------------------
ইয়াকুত আল-হামাভি আমাদের খলিল ইবনে আহমাদ সম্পর্কে বলেন যে, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ইলমুল আরুজ (ছন্দবিজ্ঞান) উদ্ভাবন করেন, ভাষাকে সুশৃঙ্খল করেন এবং আরবদের কাব্যসমূহকে সংকলিত করেন। তালের (ইক্বা) ওপর তাঁর জ্ঞান—গানের সুরগুলোকে তাদের নির্দিষ্ট স্থান ও মানদণ্ডে গঠন করা—মূলত তাঁকে ইলমুল আরুজ উদ্ভাবনের পথে নিয়ে গিয়েছিল।১
একইভাবে কিফতি খলিল সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর জ্ঞান ও দুনিয়া বিমুখতায় (জুহদ) সাহিত্যিকদের নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে ব্যাকরণবিদ, ভাষাতত্ত্ববিদ ও ছন্দবিজ্ঞানী। তিনি ইলমুল আরুজ ও এর কারণসমূহ (ইলাল) থেকে এমন কিছু উদ্ভাবন করেছিলেন যা ইতিপূর্বে কেউ করতে পারেনি এবং তাঁর পূর্বে সকল আলেমদের মধ্যে কেউ এই জ্ঞানে তাঁর সমকক্ষ হতে পারেননি।২
ইবনে খাল্লিকান হামজা বিন হাসান আল-ইসফাহানির কিতাব 'আত-তানবিহ আলা হুদুছিত তাসহিফ' থেকে উদ্ধৃত করে বলেন: ইসলামী রাষ্ট্র খলিলের চেয়ে অধিক বিস্ময়কর এমন কোনো জ্ঞান শাখার উদ্ভাবক তৈরি করেনি যার কোনো মূল ভিত্তি ইতিপূর্বে আরবদের নিকট ছিল না। এর চেয়ে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ ইলমুল আরুজ অপেক্ষা আর কিছু হতে পারে না, যা তিনি কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে গ্রহণ করেননি এবং তাঁর পূর্বে বিদ্যমান কোনো নিদর্শনের ওপর ভিত্তি করেও তা গড়ে তোলেননি; বরং তিনি তামা শিল্পীদের (সাফফারিন) পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি গামলার ওপর হাতুড়ির আঘাতের শব্দ শুনে এটি উদ্ভাবন করেছিলেন।
এ থেকে দেখা যায় যে, খলিল হলেন ইলমুল আরুজের প্রথম উদ্ভাবক এবং তিনি সমস্ত আরবী কবিতাকে এর ছন্দের (বুরূহ) মধ্যে বিন্যস্ত করেন। তাঁর উদ্ভাবনী মেধা কেবল এখানেই থেমে থাকেনি, বরং এটি অন্যান্য জ্ঞান শাখা উদ্ভাবন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। তিনি 'মুজামুল আইন' রচনার মাধ্যমে আরবী অভিধান তত্ত্বের ধারণার প্রথম উদ্ভাবক, যা একটি জাতির সমগ্র ভাষাকেই ধারণ করে। তিনিই ব্যাকরণ শাস্ত্রের (নাহু) মাসআলাসমূহ আহরণ ও এর যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি সিবাওয়াইহকে নাহু শাস্ত্রের এমন সব জ্ঞান সরবরাহ করেছিলেন যার মাধ্যমে তিনি তাঁর কিতাব সংকলন করেন, যা কিফতির বর্ণনা অনুযায়ী ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য এক অনন্য ভূষণ। অতঃপর তিনিই আরবী সংগীত শাস্ত্র উদ্ভাবন করেন এবং এতে সুরের বিভিন্ন প্রকার একত্রিত করেন।
কিন্তু খলিলের ছন্দবিজ্ঞান প্রণয়ন থেকে এটি বোঝা উচিত নয় যে আরবরা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
تعرف أوزان الشعر من قبل، فالواقع أنهم كانوا قبل وضع علم العروض على علم بأوزان الشعر العربي وبحوره على تباينها، وإن لم تكن تعرفها بالأسماء التي وضعها الخليل لها فيما بعد. وما أشبه علمها بذلك بعلمها بالإعراب في الكلام حين كانوا عن سليقة يرفعون أو ينصبون أو يجرون ما حقه الرفع أو النصب أو الجر دون علم بما وضعه النحاة فيما بعد من مصطلحات الإعراب وقواعده.
كذلك كانوا بذوقهم وسيلقتهم يدركون ما يعتور الأوزان المختلفة من زحافات وعلل وإن لم يعطوها أسماء ومصطلحات خاصة كما فعل العروضيون.
وإذا كان الخليل بن أحمد غير مسبوق في وضع علم العروض، فإن أبا عمرو بن العلاء قد سبقه في الكلام عن القوافي وقواعدها ووضع لها أسماء ومصطلحات خاصة.
والرواة مختلفون بشأن الباعث الذي دعا الخليل إلى التفكير في علم العروض ووضع قواعده.
فمن قائل: إنه دعا بمكة أن يرزقه الله علمًا لم يسبقه إليه أحد ولا يؤخذ إلا عنه، فرجع من حجه، ففتح عليه بعلم العروض1.
ومن قائل: إن الدافع هو إشفاقه من اتجاه بعض شعراء عصره إلى نظم الشعر على أوزان لم يعرفها العرب ولم تسمع عنهم؛ ولهذا راح يقضي الساعات والأيام يوقع بأصابعه ويحركها حتى حصر أوزان الشعر العربي وضبط أحوال قوافيه.
ومن قائل: إنه وجد نفسه وهو بمكة يعيش في بيئة يشيع فيها الغناء فدفعه ذلك إلى التفكير في الوزن الشعري وما يمكن أن يخضع له من قواعد
--------------------------------------------
কবিতার ছন্দসমূহ পূর্ব থেকেই পরিচিত ছিল। বাস্তবতা হলো, 'ইলমুল আরুজ' (ছন্দতত্ত্ব) উদ্ভাবনের পূর্বেই তারা আরবি কবিতার ছন্দ ও এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সম্পর্কে অবগত ছিলেন, যদিও খলীল ইবন আহমাদ পরবর্তীতে যে নামগুলো দিয়েছিলেন তা তারা জানতেন না। তাদের এই জ্ঞান ছিল কথ্য ভাষার 'ই'রাব' (ব্যাকরণিক বিভক্তি) সংক্রান্ত জ্ঞানের মতো; যখন তারা তাদের সহজাত প্রবৃত্তিবশতই শব্দের রফ', নসব বা জর প্রদান করতেন, অথচ পরবর্তীকালের বৈয়াকরণদের উদ্ভাবিত পরিভাষা বা নিয়মাবলি সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না।
অনুরূপভাবে তারা তাদের সূক্ষ্ম রুচি ও সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে বিভিন্ন ছন্দের মধ্যে ঘটা বিচ্যুতি (জিহাফ) ও ত্রুটিসমূহ (ইলল) উপলব্ধি করতেন, যদিও ছন্দতাত্ত্বিকদের মতো তারা এগুলোর কোনো বিশেষ নাম বা পরিভাষা প্রদান করেননি।
ছন্দতত্ত্ব (ইলমুল আরুজ) উদ্ভাবনে খলীল ইবন আহমাদ অপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, আবু আমর ইবনুল 'আলা তাঁর পূর্বেই অন্ত্যমিল (কাফিয়া) ও এর নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন এবং এর জন্য বিশেষ নাম ও পরিভাষা নির্ধারণ করেছিলেন।
খলীলকে ছন্দতত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করতে এবং এর নিয়মাবলি প্রণয়ন করতে কোন বিষয়টি উদ্বুদ্ধ করেছিল, সে বিষয়ে বর্ণনাকারীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
কেউ কেউ বলেন: তিনি মক্কায় দোয়া করেছিলেন যেন আল্লাহ তাকে এমন এক জ্ঞান দান করেন যাতে তাঁর আগে কেউ পারদর্শী ছিল না এবং যা কেবল তাঁর থেকেই গ্রহণ করা হবে; এরপর তিনি হজ থেকে ফিরে আসার পর তাঁর ওপর ছন্দতত্ত্বের দ্বার উন্মোচিত হয়।
আবার কেউ বলেন: এর মূল কারণ ছিল তাঁর সমসাময়িক কিছু কবির এমন সব ছন্দে কবিতা রচনার প্রতি ঝোঁক দেখে তাঁর আশঙ্কা, যা আরবদের কাছে অপরিচিত ছিল এবং তাদের থেকে কখনও শোনা যায়নি; এই কারণে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ও দিনের পর দিন আঙুল দিয়ে তাল দিয়ে তা পরিচালনা করতেন, যতক্ষণ না তিনি আরবি কবিতার ছন্দসমূহ নিরূপণ করেন এবং অন্ত্যমিলের নিয়মাবলি সুসংহত করেন।
অন্য এক বর্ণনামতে: তিনি মক্কায় অবস্থানকালে নিজেকে এমন এক পরিবেশে খুঁজে পান যেখানে সংগীতের ব্যাপক প্রচলন ছিল, যা তাঁকে কাব্যিক ছন্দ এবং তা যে সকল নিয়মের অনুবর্তী হতে পারে সে বিষয়ে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأصول. وقد عكف أيامًا وليالي يستعرض فيها ما روي من أشعار ذات أنغام موسيقية متعددة، ثم خرج على الناس بقواعد مضبوطة وأصول محكمة سماها: علم العروض.
وأيًّا كان الدافع فالثابت أن الخليل هو واضع أصول علم العروض وقوانينه التي لم يطرأ تغيير جوهري عليها، وأن الناس ظلوا حتى اليوم يتدارسونها ويتفهمونها من غير أن يزيد عليها أحد شيئًا. فلا تزال الوحدات القياسية للأوزان هي التفعيلات التي اخترعها الخليل، ولا تزال المقاطع الصوتية التي تتألف منها التفعيلات هي الأسباب والأوتاد، كما أن عدد البحور لا يزال ثابتًا عند البحور الخمسة عشر التي وضعها الخليل وبحر الخبب أو المتدارك الذي وضعه تلميذه الأخفش الأوسط أبو الحسن سعيد بن مسعدة، ولا يرد علينا هنا بما استحدث من أوزان في العصر العباسي؛ لأن هذه يمكن إرجاع أصولها إلى أوزان الخليل.
وتجدر الإشارة إلى أن هناك فارقًا ملحوظًا بين علم العروض وعلوم العربية الأخرى من حيث النشأة. فعلوم النحو والصرف والبلاغة واللغة مثلاً قد استحدثت ثم أخذت تنمو جيلاً بعد جيل وعصرًا بعد عصر حتى بلغت ذروة اكتمالها، أما العروض فقد أخرجه الخليل علمًا يكاد يكون متكاملاً، ولعل ذلك هو السر في أن من أتى بعد الخليل من العروضيين لم يستطيعوا أن يزيدوا على عروضه أي زيادة تذكر أو تمس الجوهر.
وكما اختلفت الآراء بالنسبة إلى الباعث الذي دعا الخليل إلى التفكير في علم العروض، اختلفت كذلك بالنسبة إلى سبب تسمية هذا العلم بالعروض.
فمن قائل: إن من معاني العروض مكة لاعتراضها وسط البلاد، ومن ثم أطلق الخليل على علم ميزان الشعر الذي اخترعه اسم المكان الذي ألهم فيه قواعده وأصوله.
...এবং মূলনীতিসমূহ। তিনি দিনরাত এমন সব কাব্যিক শ্লোক পর্যালোচনা করে অতিবাহিত করেন যেগুলোতে বিভিন্ন সুর লহরী বিদ্যমান ছিল। অতঃপর তিনি মানুষের নিকট কতগুলো সুশৃঙ্খল নিয়ম ও সুদৃঢ় মূলনীতি নিয়ে উপস্থিত হলেন যার নাম দিলেন: ইলমুল আরুজ (ছন্দতত্ত্ব)।
প্রেরণা যা-ই হোক না কেন, এটি ধ্রুব সত্য যে খলিল ইবনে আহমদই ইলমুল আরুজের মূলনীতি ও নিয়মাবলীর প্রবর্তক, যাতে আজ অবধি কোনো মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হয়নি। মানুষ আজ পর্যন্ত এগুলোই অধ্যয়ন করছে এবং অনুধাবন করছে, কেউ এতে নতুন কিছু যোগ করতে পারেনি। ছন্দের পরিমাপক এককগুলো আজও সেই 'তাফইলা' যা খলিল উদ্ভাবন করেছিলেন। আর যেসব ধ্বনি-অংশের সমন্বয়ে তাফইলা গঠিত হয়, তা আজও 'আসবাব' ও 'আওতাদ' হিসেবেই রয়ে গেছে। তেমনিভাবে বহর বা ছন্দ-রীতির সংখ্যা আজও খলিল কর্তৃক নির্ধারিত পনেরটি বহর এবং তাঁর ছাত্র আখফাশ আল-আওসাত আবু হাসান সাঈদ ইবনে মাসআদাহ কর্তৃক নির্ধারিত 'বাহরে খাবাব' বা 'মুতাদারিক' এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আব্বাসীয় যুগে যেসব নতুন ছন্দের উদ্ভব হয়েছে তা এখানে আমাদের ওপর প্রভাব ফেলবে না; কারণ এগুলোর উৎস খলিলের ছন্দ-রীতির মধ্যেই নিহিত।
উল্লেখ্য যে, উৎপত্তির দিক থেকে ইলমুল আরুজ এবং অন্যান্য আরবি বিজ্ঞানের মধ্যে একটি লক্ষণীয় পার্থক্য বিদ্যমান। উদাহরণস্বরূপ, নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (রূপতত্ত্ব), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও লুগাত (ভাষাতত্ত্ব) সূচিত হওয়ার পর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এবং যুগের পর যুগ ধরে বিকশিত হয়ে পূর্ণতা লাভ করেছে। পক্ষান্তরে, খলিল আরুজকে এমন একটি বিজ্ঞান হিসেবে উদ্ভাবন করেছিলেন যা ছিল প্রায় পূর্ণাঙ্গ। সম্ভবত এটিই সেই রহস্য যার কারণে খলিলের পরবর্তী ছন্দতাত্ত্বিকরা তাঁর এই শাস্ত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো সংযোজন করতে পারেননি কিংবা এর মৌলিক কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আনতে সক্ষম হননি।
খলিলকে ছন্দতত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধকারী কারণ সম্পর্কে যেমন মতভেদ রয়েছে, তেমনি এই শাস্ত্রের নাম 'আরুজ' রাখার কারণ সম্পর্কেও মতভেদ রয়েছে।
কারো কারো মতে: 'আরুজ' শব্দের অন্যতম অর্থ হলো মক্কা, যেহেতু তা ভূখণ্ডের মধ্যস্থলে অবস্থিত। তাই খলিল তাঁর আবিষ্কৃত কাব্য-পরিমাপক বিজ্ঞানের নামকরণ করেছেন সেই স্থানের নামে, যেখানে তিনি এর নিয়ম ও মূলনীতিগুলো প্রণয়নের অনুপ্রেরণা লাভ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ومن قائل: إنه سمي عروضًا باسم عمان التي كان يقيم فيها واضعه ومخترعه الخليل بن أحمد. ويذكر صاحب لسان العرب أنه سمي عروضًا؛ لأن الشعر يعرض عليه، أي: يوزن بواسطته.
2 الحاجة إلى علم العروض:
عرفنا مما سبق أن العروض هو علم ميزان الشعر أو موسيقى الشعر، وهو علم له قواعده وأصوله ونظرياته التي تحصل وتكتسب بالتعلم، وإذا كان الشعر من الناحية العملية هو الجانب التطبيقي لقواعد العروض وأصوله ونظرياته، فإنه قبل ذلك فن كسائر الفنون مصدره الموهبة والاستعداد.
وقد يستطيع الشاعر الموهوب بما له من أذن موسيقية وحس وذوق مرهفين أن يقول الشعر دون علم بالعروض وحاجة إلى قوانينه، ولكنه مع ذلك يظل بحاجة إلى دراسة علم العروض والإلمام بأصوله.
فأذن الشاعر الموسيقية -مهما كانت درجة رهافتها وحساسيتها- قد تخذل صاحبها أحيانًا في التمييز بين الأوزان المتقاربة أو بين قافية سليمة وأخرى معيبة، أو بين زحاف جائز وآخر غير جائز.
وجهل الشاعر الموهوب بأوزان الشعر وبحوره المختلفة من تامة ومجزوءة ومشطورة ومنهوكة قد يحصر شعره في بعض أوزان خاصة، وبذلك يحرم نفسه من العزف على أوتار شتى تجعل شعره منوع الأنغام والألحان من ذلك تتجلى أهمية دراسة الشاعر للعروض والإلمام بقوانينه وأصوله.
وإذا كان العروض إلى هذا القدر لازمًا للشاعر الملهم الموهوب، فإنه يكون أشد لزومًا لغيره. فهو أشد لزومًا لطلاب اللغة والتخصص فيها؛ لأنه يعينهم على فهم الشعر العربي وقراءته قراءة صحيحة والتمييز بين سليمه ومختله وزنًا.
কেউ কেউ বলেন যে, ওমান নামক স্থানের নামানুসারে একে 'আরুজ' নামকরণ করা হয়েছে, যেখানে এর উদ্ভাবক ও প্রবর্তক খলিল ইবনে আহমদ বসবাস করতেন। লিসানুল আরব-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, একে 'আরুজ' বলা হয় কারণ কবিতা এর ওপর উপস্থাপন করা হয়, অর্থাৎ এর মাধ্যমে কবিতার ওজন বা ছন্দ পরিমাপ করা হয়।
২. আরুজ শাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা:
পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, আরুজ হলো কবিতার মানদণ্ড বা ছন্দের শাস্ত্র। এটি এমন একটি বিজ্ঞান যার নিজস্ব নিয়ম-কানুন, মূলনীতি ও তত্ত্ব রয়েছে, যা শিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত হয়। ব্যবহারিক দিক থেকে কবিতা যদি আরুজের নিয়ম ও তত্ত্বের প্রয়োগ ক্ষেত্র হয়, তবে তার আগে এটি অন্যান্য শিল্পের মতোই একটি শিল্প, যার উৎস হলো প্রতিভা ও যোগ্যতা।
একজন প্রতিভাবান কবি তার সংগীতসচেতন কান এবং সূক্ষ্ম অনুভূতি ও রুচি বোধের মাধ্যমে আরুজ শাস্ত্রের জ্ঞান এবং এর নিয়মনীতির মুখাপেক্ষী না হয়েও কবিতা রচনা করতে সক্ষম হতে পারেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও, তার জন্য আরুজ শাস্ত্র অধ্যয়ন করা এবং এর মূলনীতিগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন।
কেননা কবির সংগীতসচেতন কান—তা যত সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীলই হোক না কেন—কখনো কখনো নিকটবর্তী ছন্দগুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে, কিংবা সঠিক ও ত্রুটিযুক্ত অন্ত্যমিল (কাফিয়া) অথবা ছন্দের বিচারে বৈধ ও অবৈধ পরিবর্তনের (জিহাফ) মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হতে পারে।
কবিতার বিভিন্ন ছন্দ ও 'বাহর'—যেমন তামাম, মাজজু, মাশতুর এবং মানহুক—সম্পর্কে প্রতিভাবান কবির অজ্ঞতা তার কবিতাকে বিশেষ কিছু ছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলতে পারে। এর ফলে তিনি নিজেকে বিভিন্ন সুরে ঝংকার তোলা থেকে বঞ্চিত করেন, যা তার কবিতাকে বৈচিত্র্যময় সুর ও লহরী দান করতে পারত। এখান থেকেই কবির জন্য আরুজ অধ্যয়ন এবং এর নিয়ম ও মূলনীতিগুলো জানার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
যদি অনুপ্রাণিত ও প্রতিভাবান কবির জন্য আরুজ শাস্ত্র এতটা জরুরি হয়, তবে অন্যদের জন্য তা আরও বেশি অপরিহার্য। বিশেষ করে ভাষা শিক্ষার শিক্ষার্থী এবং এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে আগ্রহীদের জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; কারণ এটি তাদের আরবি কবিতা বুঝতে, তা সঠিকভাবে পাঠ করতে এবং ছন্দের বিচারে সঠিক ও ত্রুটিযুক্ত কবিতার মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وهو كذلك أشد لزومًا للدارسين والمتخصصين في فروع الثقافة العربية من تاريخ واجتماع وأدب وبلاغة ومذاهب دينية أو عقلية. فالباحثون في أمثال هذه العلوم العربية لا غنى لهم عن تفهم ما يرد من شعر في المراجع والكتب المختصة بهذه العلوم. وفهم أولئك للشعر متوقف على صحة قراءته، وهذه لا تتأتى إلا لمن لديه القدرة على معرفة صحيح الأوزان والتمييز بين أنواعها المختلفة.
من أجل ذلك كله ندرك ضرورة الإلمام بعلم العروض أو علم موسيقى الشعر وأصوله، لا بالنسبة للشعراء فحسب، ولكن بالنسبة أيضًا لذوي التخصص في علوم العربية. وإذا جاز أن يغتفر لغير متخصص ألا يقيم وزن الشعر وألا يقرأه قراءة صحيحة، فإن ذلك لا يمكن أن يغتفر مطلقًا للمتخصص.
3 الصلة بين العروض والموسيقى:
عرفنا أن العروض هو علم موسيقى الشعر، وعلى ذلك يكون هناك صلة تجمع بينه وبين الموسيقى بصفة عامة، وهذه الصلة تتمثل في الجانب الصوتي.
فالموسيقى تقوم على تقسيم الجمل إلى مقاطع صوتية تختلف طولاً وقصرًا، أو إلى وحدات صوتية معينة على نسق معين، بغض النظر عن بداية الكلمات ونهايتها.
وكذلك شأن العروض، فالبيت من الشعر يقسم إلى وحدات صوتية معينة، أو إلى مقاطع صوتية تعرف بالتفاعيل بقطع النظر عن بداية الكلمات ونهايتها. فقد ينتهي المقطع الصوتي أو التفعيلة في آخر كلمة، وقد ينتهي في وسطها، وقد يبدأ من نهاية كلمة وينتهي ببدء الكلمة التي تليها.
وهاكم مثالاً على ذلك:
لا تسألي القوم ما مالي وما حسبي
… وسائلي للقوم ما حزمي وما خلقي
তেমনিভাবে এটি ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, সাহিত্য, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং ধর্মীয় বা বুদ্ধিবৃত্তিক মতাদর্শের মতো আরবি সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখার শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞদের জন্য আরও বেশি অপরিহার্য। কারণ এই সকল আরবি বিজ্ঞান নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট মূল উৎস ও গ্রন্থাদিতে বর্ণিত কবিতাগুলো অনুধাবন করা অপরিহার্য। তাদের এই কবিতা অনুধাবন করা নির্ভর করে তা শুদ্ধভাবে পাঠ করার ওপর। আর এটি কেবল তারই পক্ষে সম্ভব, যার সঠিক ছন্দজ্ঞান রয়েছে এবং ছন্দের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষমতা রয়েছে।
এসব কারণেই আমরা ইলমে আরূয বা কবিতার সংগীতশাস্ত্র ও এর মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করি; এটি কেবল কবিদের জন্যই নয়, বরং আরবি বিজ্ঞানে বিশেষায়িত ব্যক্তিবর্গের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো অ-বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির জন্য কবিতার ওজন ঠিক না রাখা বা তা অশুদ্ধভাবে পাঠ করা ক্ষমারযোগ্যও হয়, তবে একজন বিশেষজ্ঞের ক্ষেত্রে এটি কোনোভাবেই ক্ষমারযোগ্য নয়।
৩. ইলমে আরূয ও সংগীতের মধ্যে সম্পর্ক:
আমরা জেনেছি যে ইলমে আরূয হলো কবিতার সংগীতবিষয়ক জ্ঞান। সেই হিসেবে সাধারণভাবে সংগীতের সাথে এর একটি গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। আর এই সম্পর্কটি ধ্বনিগত দিকের মধ্যে নিহিত।
সংগীত মূলত বাক্যকে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের ধ্বনি-খণ্ডে বা একটি নির্দিষ্ট ছন্দে বিন্যস্ত বিশেষ কিছু ধ্বনি-এককে বিভক্ত করার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যেখানে শব্দের শুরু বা শেষ হওয়াকে বিবেচনা করা হয় না।
অনুরূপভাবে ইলমে আরূযের ক্ষেত্রেও কবিতার পঙ্ক্তিকে নির্দিষ্ট কিছু ধ্বনি-এককে বা 'তাফঈলাহ' নামক ধ্বনি-খণ্ডে বিভক্ত করা হয়, যেখানে শব্দের শুরু বা শেষ হওয়াকে বিবেচনা করা হয় না। কখনো কোনো ধ্বনি-খণ্ড বা তাফঈলাহ একটি শব্দের শেষে গিয়ে শেষ হয়, আবার কখনো শব্দের মাঝখানে শেষ হয়। এমনকি কখনো একটি শব্দের শেষাংশ থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী শব্দের প্রথমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
এর একটি উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
জাতিকে আমার সম্পদ ও বংশমর্যাদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না
… বরং জাতিকে আমার দৃঢ়সংকল্প ও চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فتقطيع هذا البيت أو تقسيمه إلى وحدات صوتية أو تفاعيل يكون كالآتي:
لا تَسْأَلِلْ قَومَ مَا مَالِي َمَاحَسَبِي
… مستفعلن فاعلن مستفعلن فعلن
وَسَائِلِلْ قَومَ ما حَزْمِي وَمَا خُلُقِي
… متفعلن فاعلن مستفعلن فعلن
ولكن تقطيع البيت أو تقسيمه إلى وحدات صوتية أو تفاعيل لا يتحقق إلا إذا كتب الشعر كتابة عروضية فما الكتابة العروضية؟
4 الكتابة العروضية.
أوضحنا فيما سبق الصلة الوثيقة التي بين العروض والموسيقى، وهي صلة الفرع المتولد من الأصل، فالعروض في الحقيقة أمره ليس إلا ضربًا من الموسيقى اختص بالشعر على أنه مقوم من مقوماته.
وإذا كان للموسيقى عند كتابتها رموز خاصة يدل بها على الأنغام المختلفة، فإن للعروض كذلك رموزًا خاصة به في الكتابة تخالف الكتابة الإملائية التي تكون على حسب قواعد الإملاء المتعارف عليها. وهذه الرموز العروضية يدل بها على التفاعيل التي هي بمثابة أنغام الموسيقي المختلفة.
والكتابة العروضية تقوم على أمرين أساسيين هما:
1 ما ينطق يكتب.
2 ما لا ينطق لا يكتب.
وتحقيق هذين الأمرين عند الكتابة العروضية يستلزم زيادة بعض أحرف
এই পঙক্তির তাকতি' (বৃত্তীয় ব্যবচ্ছেদ) বা একে ধ্বনিগত একক অথবা ছন্দোমাত্রায় (তাফায়িল) বিভক্তিকরণ নিম্নরূপ হবে:
লা তাসআলিল কাওমা মা মালি ওয়া মা হাসাবি
… মুসতাফ'ইলুন ফা'ইলুন মুসতাফ'ইলুন ফা'লুন
ওয়া সা'ইলিল কাওমা মা হাযমি ওয়া মা খুলুকি
… মুতাফ'ইলুন ফা'ইলুন মুসতাফ'ইলুন ফা'লুন
কিন্তু পঙক্তির তাকতি' বা একে ধ্বনিগত একক কিংবা ছন্দোমাত্রায় বিভক্তিকরণ ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয় যতক্ষণ না কাব্যকে আরুযি পদ্ধতিতে (Prosodic writing) লেখা হবে। তবে আরুযি লিখন পদ্ধতি কী?
৪. আরুযি লিখন পদ্ধতি।
আমরা পূর্বে আরূয এবং সংগীতের মধ্যে বিদ্যমান গভীর সম্পর্কের কথা স্পষ্ট করেছি। এটি মূলত মূল থেকে উদ্ভূত শাখার সম্পর্ক। প্রকৃতপক্ষে আরূয হলো সংগীতের একটি বিশেষ রূপ যা কাব্যের জন্য নির্দিষ্ট এবং এটি কাব্যের অন্যতম একটি উপাদান।
সংগীতের ক্ষেত্রে যেমন লেখার সময় বিভিন্ন সুর প্রকাশের জন্য বিশেষ সংকেত থাকে, তেমনি আরূযের ক্ষেত্রেও লিখন পদ্ধতিতে নিজস্ব কিছু সংকেত রয়েছে যা প্রচলিত বানানরীতির নিয়মাবলি থেকে ভিন্ন। আর এই আরূযি সংকেতগুলো ছন্দোমাত্রার (তাফায়িল) দিকে নির্দেশ করে, যা মূলত সংগীতের বিভিন্ন সুরের সমতুল্য।
আরূযি লিখন পদ্ধতি দুটি মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা হলো:
১. যা উচ্চারিত হবে তা লেখা হবে।
২. যা উচ্চারিত হবে না তা লেখা হবে না।
আরূযি লিখন পদ্ধতিতে এই দুটি বিষয় বাস্তবায়নের জন্য কিছু বর্ণ বৃদ্ধি করা আবশ্যক হয়।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لا تكتب إملائيًا وحذف بعض أحرف تكتب إملائيًا. وفيما يلي تفصيل للأحرف التي تزاد أوتحذف في الكتابة العروضية:
أ- الحروف التي تزاد:
تزاد في الكتابة العروضية ستة أحرف هي:
1 إذا كان الحرف مشددًا فك التشديد ورسم الحرف أو كتب مرتين: مرة ساكنًا ومرة متحركًا، نحو: رق، وعد، وهز، فتكتب عروضيًّا: رقق، وعدد، وهزز.
2 إذا كان الحرف منونًا كتب التنوين نونًا، نحو: جبل، وشجر، وأسد، فتكتب عروضيًّا: جبلن، وشجرن، وأسدن، رفعًا ونصبًا وجرًّا.
3 تزاد ألف في بعض أسماء الإشارة، نحو: هذا، وهذه، وهذان، وهذين، وهؤلاء، وذلك، فتكتب عروضيًّا: هاذا، وهاذه، وهاذان، وهاذين، وهاؤلاء، وذالك. كذلك تزاد ألف في لفظ الجلالة، وفي لكن المخففة والمشددة، فهذه الكلمات: الله، ولكن، ولكن، تكتب عروضيًّا هكذا: اللاه، ولاكن، ولاكنن.
4 تزاد واو في بعض الأسماء كما في: داود، وطاوس، وناوس، فتكتب عروضيًّا: داوود، وطاووس، وناووس.
5 تكتب حركة حرف القافية حرفًا مجانسًا للحركة، فإذا كانت حركة حرف القافية ضمة كتبت هذه الضمة عروضيًّا واوًا، وإذا كانت كسرة كتبت ياء، وإذا كانت فتحة كتبت ألفًا.
6 إذا أشبعت حركة هاء الضمير للمفرد المذكر الغائب، كتبت
কিছু অক্ষর বানানে লেখা হয় না কিন্তু ছন্দতাত্ত্বিক লিখনে যোগ করা হয়, আবার বানানে লেখা হয় এমন কিছু অক্ষর ছন্দতাত্ত্বিক লিখনে বাদ দেওয়া হয়। ছন্দতাত্ত্বিক লিখনে যে অক্ষরগুলো বাড়ানো বা কমানো হয় তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
ক- যে অক্ষরগুলো বাড়ানো হয়:
ছন্দতাত্ত্বিক লিখনে ছয়টি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়, সেগুলো হলো:
১. যদি কোনো অক্ষর তাশদীদযুক্ত হয়, তবে তাশদীদ মুক্ত করে অক্ষরটিকে দুইবার লিখতে হয়: একবার সুকুনযুক্ত (স্থির) এবং একবার হরকতযুক্ত (স্বরচিহ্নযুক্ত)। যেমন: রাক্ক, আদ্দ এবং হায্য; এগুলো ছন্দতাত্ত্বিকভাবে লেখা হবে: রাক্কাক, আদাদ এবং হাযায।
২. যদি কোনো অক্ষরে তানভীন থাকে, তবে তানভীনকে 'নুন' হিসেবে লিখতে হবে। যেমন: জাবালুন, শাজারুন এবং আসাদুন; এগুলো ছন্দতাত্ত্বিকভাবে লেখা হবে: জাবালুন, শাজারুন এবং আসাদুন (শেষে নুন যোগ করে); চাই তা রফ্, নাসব বা জার—যেকোনো অবস্থায় থাকুক না কেন।
৩. কিছু নির্দেশক সর্বনামে আলিফ বৃদ্ধি করা হয়। যেমন: হাযা, হাযিহি, হাযানি, হাযাইনি, হাউলাই এবং যালিকা। এগুলো ছন্দতাত্ত্বিকভাবে লেখা হবে: হা-যা, হা-যিহি, হা-যানি, হা-যাইনি, হা-উলাই এবং যা-লিকা। একইভাবে মহান আল্লাহর নামে (আল্লাহ শব্দে) এবং লঘু ও গুরু 'লাকিন' শব্দে আলিফ বৃদ্ধি পায়। সুতরাং এই শব্দগুলো: আল্লাহ, লাকিন এবং লাকিন্না; ছন্দতাত্ত্বিকভাবে এভাবে লেখা হবে: আল-লা-হ, লা-কিন এবং লা-কিন-নান।
৪. কিছু বিশেষ্য পদে 'ওয়াও' বৃদ্ধি করা হয় যেমন: দাউদ, তাউস এবং নাউস; এগুলো ছন্দতাত্ত্বিকভাবে লেখা হবে: দা-উউদ, তা-উউস এবং না-উউস।
৫. অন্ত্যমিলের অক্ষর বা কাফিয়ার হরকতকে সেই হরকতের সমজাতীয় অক্ষরে রূপান্তর করে লিখতে হয়। সুতরাং যদি কাফিয়ার অক্ষরের হরকত 'যম্মাহ' (পেশ) হয় তবে ছন্দতাত্ত্বিকভাবে একে 'ওয়াও' লেখা হয়, যদি 'কাসরাহ' (জের) হয় তবে তাকে 'ইয়া' লেখা হয় এবং যদি 'ফাতহাহ' (যবর) হয় তবে তাকে 'আলিফ' লেখা হয়।
৬. যদি একবচন নামপুরুষের সর্বনামের 'হা' (হা-উল যমীর) এর হরকতকে দীর্ঘায়িত (ইশবা) করা হয়, তবে তা লেখা হবে...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
حرفًا مجانسًا للحركة. فالضمة التي على الهاء في: له، ومنه، وعنه، إذا أشبعت كتبت عروضيًّا واوًا هكذا: لهو، ومنهو، وعنهو.
وكسرة الهاء في: به وإليه، وفيه، إذا أشبعت كتبت عروضيًّا هكذا: بهي، وإليهي، وفيهي.
أما كاف المخاطب أو المخاطبة فلا تشبع، وبالتالي لا يزاد بعدها أي حرف، نحو: بك، وبكِ، ومنك ومنكِ، وإليك وإليكِ.
ب- الأحرف التي تحذف:
1 تحذف همزة الوصل، وهي الألف التي يتوصل بها إلى النطق بالساكن، إن كان قبلها متحرك. ويكون ذلك في:
أ- ماضي الأفعال الخماسية والسداسية المبدوءة بالهمزة، وفي أمرها ومصدرها، نحو: انْطَلَق، استغْفَر، انطلِق، استغفِر، انطلاق، استغفار. فألف الوصل في هذه الكلمات وأمثالها تحذف إن كان قبلها متحرك عند الكتابة العروضية هكذا: فنطلَق، فستغفَر، فنطلِق فستغفِر، فنطلاق، فستغفار.
ب- الأسماء العشرة المسموعة وهي: اسم، ابن، ابنة، امرؤ، امرأة، اثنان، اثنتان، أيمن المختصة بالقسم، است.
فمثلاً: باسمك، وهذا أب وابن، والعام اثنا عشر شهرًا، تكتب عروضيًّا هكذا: بسمك، وهاذا أبن وبنن، والعام ثنا عشر شهرن.
ج- أمر الفعل الثلاثي الساكن ثاني مضارعه، نحو: فاسمع واكتب واقرأ، فإنها تكتب عروضيًّا هكذا: فسمعْ، وكتبْ، وقرأْ.
د- ألف الوصل من أل المعرفة. فإذا كانت أل قمرية، كما
স্বরবর্ণের (হারাকাত) সমজাতীয় একটি বর্ণ। সুতরাং 'লাহু', 'মিনহু' এবং 'আনহু' শব্দের 'হা' বর্ণের ওপর যে পেশ (দাম্মাহ) রয়েছে, তা যদি দীর্ঘায়িত (ইশব’) করা হয়, তবে ছন্দতত্ত্বের লিখনপদ্ধতি অনুযায়ী তা 'ওয়াও' যোগ করে এভাবে লেখা হবে: লাহুউ, মিনহুউ এবং আনহুউ।
এবং 'বিহি', 'ইলাইহি' এবং 'ফীহি' শব্দের 'হা' বর্ণের নিচের যের (কাসরাহ) যদি দীর্ঘায়িত করা হয়, তবে ছন্দতত্ত্বের লিখনপদ্ধতিতে তা এভাবে লেখা হবে: বিহিই, ইলাইহিই এবং ফীহিই।
তবে সম্বোধিত পুরুষ বা নারীর জন্য ব্যবহৃত 'কাফ' বর্ণটি দীর্ঘায়িত হয় না। ফলে এর পরে কোনো বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় না। যেমন: বিকা, বিকি, মিনকা, মিনকি এবং ইলাইকা, ইলাইকি।
খ- যে বর্ণগুলো বিলুপ্ত হয়:
১. হামজাতুল ওয়াসল বিলুপ্ত হয়। এটি সেই আলিফ যার মাধ্যমে কোনো স্থির (সাকিন) বর্ণের উচ্চারণ শুরু করা হয়, যদি তার পূর্বে কোনো গতিশীল (হারাকাতযুক্ত) বর্ণ থাকে। এটি নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে ঘটে:
ক- হামজা দিয়ে শুরু হওয়া পঞ্চবর্ণ ও ষড়বর্ণ বিশিষ্ট ক্রিয়ার অতীতকাল, নির্দেশক রূপ (আমর) এবং ক্রিয়ামূলের (মাসদার) ক্ষেত্রে। যেমন: ইনতালাকা, আসতাগফারা, ইনতালিক, আসতাগফির, ইনতিলাক, ইসতিগফার। এই শব্দগুলো এবং এর সদৃশ শব্দগুলোর ছন্দবদ্ধ লিখনপদ্ধতিতে যদি পূর্বে কোনো গতিশীল বর্ণ থাকে তবে আলিফুল ওয়াসল বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন: ফানতালাকা, ফাসতাগফারা, ফানতালিক, ফাসতাগফির, ফানতিলাক, ফাসতিগফার।
খ- শ্রুত দশটি বিশেষ্য (ইসম), সেগুলো হলো: ইসম, ইবন, ইবনাত, ইমরিউ, ইমরাআহ, ইসনানি, ইসনাতানি, শপথের জন্য নির্দিষ্ট আয়মুন এবং ইস্ত।
উদাহরণস্বরূপ: বিইসমিকা, হাযা আবুন ওয়া ইবনুন এবং আল-আমু ইসনা আশারা শাহরান—এগুলো ছন্দশাস্ত্রে এভাবে লেখা হবে: বিসমিকা, হাযা আবুন ওয়াবনুন এবং আল-আমুছনা আশারা শাহরান।
গ- তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার নির্দেশক রূপ (আমর) যার বর্তমান কালের দ্বিতীয় বর্ণটি স্থির (সাকিন)। যেমন: ফাসমা’, ওয়াক্তুব এবং ওয়াকরা’। ছন্দশাস্ত্রে এগুলো এভাবে লেখা হবে: ফাসমা’, ওয়াক্তুব এবং ওয়াকরা’।
ঘ- নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক 'আল'-এর আলিফুল ওয়াসল। যদি 'আল' বর্ণটি কামারিয়া হয়, যেমন-
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
في القمر، والورد، اكتفى بحذف الألف فقط، فجمل مثل: طلع القمر، وتفتح الورد، تكتب عروضيًّا هكذا: طلع لقمر، وتفتْتَح لورد.
أما إذا كانت أل شمسية، كما في الشمس والنهر، فإن ألفها تحذف أيضًا وتقلب اللام حرفًا من جنس الحرف الأول في الاسم الداخلة عليه أل فجمل مثل: تشرق الشمس، ويفيض النهر، تكتب عروضيًّا هكذا: تشرق ششمس، ويفيض ننهر.
2 تحذف واو عمرو رفعًا وجرًا.
3 تحذف الياء والألف من أواخر حروف الجر المعتلة وهي: في، إلى، على، عندما يليها ساكن؛ فتراكيب مثل: في البيت، إلى الجامعة، على الجبل، تكتب عروضيًّا هكذا: فلبيت، إللجامعة، عللجبل، ولا تحذف الياء أو الألف من هذه الحروف إذا وليها متحرك نحو: في بيت، وإلى جامعة، وعلى جبل.
4 تحذف ياء المنقوص وألف المقصور غير المنونين عندما يليهما ساكن نحو: المحامي القدير، والنادي الكبير، والفتى الغريب، والندى الرطب، فهذه تكتب عروضيًّا هكذا: المحاملقدير، وننادلكبير، ولفتلغريب، ونندررطب.
5 أمثلة للكتابة العروضية:
المثال الأول من بحر الوافر، وهو من قصيدة لشوقي في دمشق:
دخلتك والأصيل له ائتلاق
… ووجهك ضاحك البسمات طلق
ووزنه هو:
مفاعلتن مفاعلتن فعولن
… مفاعلتن مفاعلتن فعولن
'চাঁদ' (কামার) এবং 'গোলাপ' (ওয়ারদ) শব্দের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আলিফ বিলুপ্ত করাই যথেষ্ট। ফলে, "চাঁদ উদিত হয়েছে" এবং "গোলাপ প্রস্ফুটিত হয়েছে"-এর মতো বাক্যগুলো ছন্দশাস্ত্র (আরুয) অনুযায়ী এভাবে লেখা হবে: 'তালা' আল-কামার' এবং 'তাফাত্তাহাল ওয়ারদ'।
কিন্তু যদি 'আল' (ال) শামসিয়া বা সৌরবর্ণ বিশিষ্ট হয়, যেমন 'সূর্য' (শামস) এবং 'নদী' (নাহর) শব্দের ক্ষেত্রে, তবে এর আলিফও বিলুপ্ত হবে এবং 'লাম' বর্ণটি পরবর্তী শব্দের প্রথম বর্ণের অনুরূপ বর্ণে রূপান্তরিত হবে। ফলে "সূর্য উদিত হচ্ছে" এবং "নদী প্লাবিত হচ্ছে"-এর মতো বাক্যগুলো ছন্দশাস্ত্র অনুযায়ী এভাবে লেখা হবে: 'তুশরিকুশ শামস' এবং 'ওয়া ইফিযুন নাহর'।
২. রফা (পেশ) এবং জার (জের) এর অবস্থায় 'আমর' শব্দের শেষে থাকা 'ওয়াও' বিলুপ্ত হয়ে যায়।
৩. হরফে জার বা অব্যয় সমূহের মধ্য হতে ইল্লাত বা দুর্বল বর্ণ বিশিষ্ট অব্যয় যেমন: 'ফি', 'ইলা', 'আলা'-এর শেষে থাকা ইয়া এবং আলিফ বিলুপ্ত হয় যখন সেগুলোর পরে কোনো সাকিন (স্থির) বর্ণ থাকে। ফলে "বাড়িতে", "বিশ্ববিদ্যালয়ে", "পাহাড়ের ওপর"-এর মতো পদসমষ্টি ছন্দশাস্ত্র অনুযায়ী এভাবে লেখা হবে: 'ফিল বাইত', 'ইলাল জামিআহ', 'আলাল জাবাল'। তবে এই হরফগুলোর পরে হরকতযুক্ত বর্ণ থাকলে ইয়া বা আলিফ বিলুপ্ত হবে না, যেমন: "একটি বাড়িতে", "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে", "একটি পাহাড়ে"।
৪. তানউইনহীন 'মানকুস' শব্দের 'ইয়া' এবং 'মাকসুর' শব্দের 'আলিফ' বিলুপ্ত হয় যখন সেগুলোর পরে সাকিন বর্ণ থাকে। যেমন: "দক্ষ আইনজীবী", "বড় ক্লাব", "অপরিচিত যুবক", "সিক্ত শিশির"। এগুলো ছন্দশাস্ত্র অনুযায়ী এভাবে লেখা হবে: 'আল-মুহামিল কাদীর', 'ওয়ান-নাদিল কাবীর', 'ওয়াল-ফাতাল গারীব', 'ওয়ান-নাদার রাতব'।
৫. ছন্দোবদ্ধ লিখনপদ্ধতির (আরুযি লিখন) উদাহরণ:
প্রথম উদাহরণটি 'বাহরে ওয়াফির' ছন্দ থেকে নেওয়া হয়েছে, এটি দামেস্ক সম্পর্কে আহমদ শাওকির একটি কবিতা থেকে উদ্ধৃত:
আমি তোমার মাঝে প্রবেশ করেছি যখন পড়ন্ত বিকেলের এক বিশেষ আভা ছিল
… আর তোমার মুখমণ্ডল ছিল হাস্যোজ্জ্বল ও প্রশান্ত
এর ওজন বা ছন্দমাত্রা হলো:
মুফায়ালাতুন মুফায়ালাতুন ফাউলুন
… মুফায়ালাতুন মুফায়ালাতুন ফাউলুন
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يكتب عروضيًّا مع تقطيعه إلى تفاعيل هكذا:
دخلتك ول أصيل لهؤ تلاقن
… مفاعلتن مفاعلتن فعولن
ووجهك ضا حك لبسما تطلقو
… مفاعلتن مفاعلتن فعولن
المثال الثاني من بحر الطويل، وهو من قصيدة لزهير بن أبي سلمى:
ومن هاب أسباب المنايا ينلنه
… وإن يرق أسباب السماء بسلم
ووزنه:
فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن
… فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن
ويكتب عروضيًّا مع تقطيعه إلى تفاعيل هكذا:
ومن ها بأسبابل منايا ينلنهو
… فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن
وإن ير قأسبابس سماء بسللمي
… فعولن مفاعيلن فعول1 مفاعلن
المثال الثالث من بحر الرمل، وهو من قصيدة لشاعر معاصر:
كل ما في الأرض من فلسفة
… لا يعزي فاقدا عمن فقد
ووزنه:
فاعلاتن فاعلاتن فاعلن
… فاعلاتن فاعلاتن فاعلن
--------------------------------------------
ছন্দশাস্ত্রে যেভাবে লিখা হয় এবং একে যেভাবে মাত্রা বা রুকনে (তাফায়িল) বিভক্ত করা হয় তা নিম্নরূপ:
দখালাতকা ওয়াল আসীলু লাহু তালাকিন
… মুফায়া’লাতুন মুফায়া’লাতুন ফাউলুন
ওয়া ওয়াজহুকা দাহিকুন লিবাসমা তুতাল্লাকু
… মুফায়া’লাতুন মুফায়া’লাতুন ফাউলুন
দ্বিতীয় উদাহরণটি তউয়িল ছন্দ থেকে নেওয়া হয়েছে, যা জুহাইর ইবনে আবি সুলমার একটি কবিতা থেকে সংগৃহীত:
যে ব্যক্তি মৃত্যুর কারণসমূহকে ভয় পায়, মৃত্যু তাকে স্পর্শ করবেই; যদিও সে সিঁড়ি বেয়ে আকাশের শিখরে আরোহণ করে।
এর ওজন (ছন্দমাত্রা):
ফাউলুন মাফায়িলুন ফাউলুন মাফায়িলুন
… ফাউলুন মাফায়িলুন ফাউলুন মাফায়িলুন
ছন্দশাস্ত্রে যেভাবে লিখা হয় এবং একে যেভাবে মাত্রা বা রুকনে বিভক্ত করা হয় তা নিম্নরূপ:
ওয়ামান হা বা-আস-বাবিল মানায়া ইয়ানাল-নাহু
… ফাউলুন মাফায়িলুন ফাউলুন মাফায়িলুন
ওয়া ইন ইয়ার কা-আস-বাবাস সামায়ি বি-সুল্লামি
… ফাউলুন মাফায়িলুন ফাউল১ মাফায়িলুন
তৃতীয় উদাহরণটি রামাল ছন্দ থেকে নেওয়া হয়েছে, যা একজন সমসাময়িক কবির কবিতা থেকে সংগৃহীত:
পৃথিবীতে যত দর্শন রয়েছে, তা হারানো ব্যক্তিকে তার হারানো জিনিসের জন্য সান্ত্বনা দিতে পারে না।
এর ওজন (ছন্দমাত্রা):
ফায়িলাতুন ফায়িলাতুন ফায়িলুন
… ফায়িলাতুন ফায়িলাতুন ফায়িলুন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ويكتب عروضيًّا مع تقطيعه إلى تفاعيل هكذا:
كلل ما فل أرض من فل سفتن
… فاعلاتن فاعلاتن فعلن2
لا يعززي فاقدن عم من فقد
… فاعلاتن فاعلاتن فاعلن
6 المقاطع العروضية:
يتألف المقطع العروضي من حرفين على الأقل وقد يزيد إلى خمسة أحرف والعروضيون يقسمون التفاعيل التي تتكون منها أوزان الشعر إلى مقاطع تختلف في عدد حروفها وحركاتها وسكناتها. وفيما يلي تفصيل هذه المقاطع:
1 السبب الخفيف: وهو يتألف من حرفين أولهما متحرك وثانيهما ساكن نحو: لم - عن - قد - بل - كم - إن - هل
2 السبب الثقيل: وهو ما يتألف من حرفين متحركين، نحو: لك، بك، ويع، ويف من: لم يع، ولم يف.
3 الوتد المجموع: وهو ما يتألف من ثلاثة أحرف، أولها وثانيها متحركان والثالث ساكن، نحو: إلى، على، نعم، مضى.
4 الوتد المفروق: وهو ما يتألف من ثلاثة أحرف، أولها متحرك وثانيها ساكن وثالثها متحرك، نحو: أين، قام، ليس، سوف، حيث، لان، بين.
5 الفاصلة الصغرى: وهي ما تتألف من أربعة أحرف، الثلاثة الأولى منها متحركة والرابع ساكن، نحو: لعبت، وفرحت وضحكت،
--------------------------------------------
এবং ছন্দোবদ্ধভাবে এর মাত্রা বিশ্লেষণ (তাকতি) করে এভাবে লেখা হয়:
কুল্লু মা ফাল্লা আরদা মান ফাল্লা সাফাতাইন
… ফায়িলাতুন ফায়িলাতুন ফায়িলুন২
লা ইয়ু‘আজ্জি ফাক্বিদুন ‘আম্মা মান ফাক্বাদ
… ফায়িলাতুন ফায়িলাতুন ফায়িলুন
৬. ছন্দোবদ্ধ খণ্ডসমূহ:
একটি ছন্দোবদ্ধ খণ্ড (মাক্বতা‘) কমপক্ষে দুটি অক্ষর নিয়ে গঠিত হয় এবং কখনও কখনও তা পাঁচটি অক্ষর পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ছন্দবিশারদগণ সেই সকল 'তাফায়িল' (ছন্দোমাত্রা)-কে বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত করেন যেগুলোর সমন্বয়ে কবিতার ওজন বা ছন্দ তৈরি হয়। এই খণ্ডগুলো তাদের অক্ষরের সংখ্যা, হরকত (স্বরধ্বনি) এবং সুকুন (স্থিরতা)-এর ভিত্তিতে একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়। নিচে এই খণ্ডগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
১. আস-সাবাবুল খাফিফ (লঘু কারণ): এটি দুটি অক্ষর নিয়ে গঠিত হয়, যার প্রথমটি হরকতযুক্ত (মুতাহাররিক) এবং দ্বিতীয়টি স্থির (সাকিন)। যেমন: লাম - ‘আন - ক্বাদ - বাল - কাম - ইন - হাল।
২. আস-সাবাবুস সাক্বিল (গুরু কারণ): এটি দুটি হরকতযুক্ত অক্ষর নিয়ে গঠিত হয়। যেমন: লাকা, বিকা, এবং ‘লাম ইয়া‘’ ও ‘লাম ইয়াফ’ এর মধ্যে ‘ইয়া‘’ ও ‘ইয়াফ’।
৩. আল-ওয়াতাদুল মাজমু‘ (একত্রিত কীলক): এটি তিনটি অক্ষর নিয়ে গঠিত হয়, যার প্রথম ও দ্বিতীয়টি হরকতযুক্ত এবং তৃতীয়টি স্থির। যেমন: ইলা, ‘আলা, না‘আম, মাদা।
৪. আল-ওয়াতাদুল মাফরুক্ব (বিচ্ছিন্ন কীলক): এটি তিনটি অক্ষর নিয়ে গঠিত হয়, যার প্রথমটি হরকতযুক্ত, দ্বিতীয়টি স্থির এবং তৃতীয়টি হরকতযুক্ত। যেমন: আয়না, ক্বামা, লাইসা, সাউফা, হাইসু, লানা, বাইনা।
৫. আল-ফাসিলাতুস সুগরা (ক্ষুদ্র বিচ্ছেদ): এটি চারটি অক্ষর নিয়ে গঠিত হয়, যার প্রথম তিনটি হরকতযুক্ত এবং চতুর্থটি স্থির। যেমন: লা‘ইবাত, ফারিহাত এবং দহিকাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بسكون التاء في الأفعال الثلاثة، ونحو: ذهبا ورجعا، وذهبوا ورجعوا.
6 الفاصلة الكبرى: وهي ما تتألف من خمسة أحرف، الأربعة الأولى منها متحركة والخامس ساكن، نحو: غمرنا، من قولك غمرنا فلان بعطفه، ونحو: شجرة، وثمرة، وحركة، وبركة، بتنوين التاء في كل منها.
وإذا تأملنا الفاصلة الصغرى والفاصلة الكبرى، وجدنا أن كلتيهما تتألف من مقطعين؛ فالفاصلة الصغرى تتألف من سبب ثقيل وآخر خفيف، على حين تتألف الفاصلة الكبرى من سبب ثقيل ووتد مجموع.
7 التفاعيل.
عرفنا أن تفاعيل العروض تتألف من مقاطع، وهذه التفاعيل لا تقل عادة عن مقطعين ولا تزيد عن ثلاثة مقاطع، فمثلاً:
فعولن: تتكون من مقطعين، أولهما وتد مجموع وثانيهما سبب خفيف.
ومفاعيلن: تتكون من ثلاثة مقاطع، أولها وتد مجموع، وكل من الثاني والثالث سبب خفيف.
وإذا رمزنا إلى الحرف المتحرك بألف صغيرة، وإلى الحرف الساكن بدائرة صغيرة، وشئنا أن ننقل كلاً من: فعولن ومفاعيلن من لغة الألفاظ إلى لغة الرموز، فإن فعولن بلغة الرموز تصبح: اا هـ اهـ، كما تصبح مفاعيلن بلغة الرموز: اا هـ اهـ اهـ.
তিন অক্ষরের ক্রিয়াগুলোতে 'তা' বর্ণটি সাকিন বা স্থির হওয়ার মাধ্যমে, এবং যেমন: যাহাবা ও রাজা'আ, এবং যাহাবু ও রাজা'উ।
৬. ফাসিলা কুবরা (বৃহৎ বিরতি): এটি এমন শব্দ যা পাঁচটি বর্ণ নিয়ে গঠিত, যার প্রথম চারটি মুতাহাররিক (হরকতযুক্ত) এবং পঞ্চমটি সাকিন (স্থির)। যেমন: 'গমারানা', আপনার উক্তি "অমুক ব্যক্তি আমাদের তার মমতা দিয়ে সিক্ত করেছেন" থেকে; এবং যেমন: 'শাজারাতুন', 'সামারাতুন', 'হারাকাতুন' এবং 'বারাকাতুন', এগুলোর প্রত্যেকটিতে 'তা' বর্ণের তানভীনের মাধ্যমে।
আমরা যদি ফাসিলা সুগরা (ক্ষুদ্র বিরতি) এবং ফাসিলা কুবরা (বৃহৎ বিরতি) নিয়ে চিন্তা করি, তবে দেখব যে উভয়ই দুটি খণ্ডাংশ নিয়ে গঠিত; ফাসিলা সুগরা একটি সাবাবে সাকীল ও একটি সাবাবে খাফীফ নিয়ে গঠিত, অপরদিকে ফাসিলা কুবরা একটি সাবাবে সাকীল ও একটি ওয়াতাদে মাজমু নিয়ে গঠিত।
৭. তাফায়িল (ছন্দবৃত্তসমূহ)।
আমরা জেনেছি যে আরুজের ছন্দবৃত্তগুলো বিভিন্ন খণ্ডাংশ নিয়ে গঠিত হয়। এই ছন্দবৃত্তগুলো সাধারণত দুই খণ্ডাংশের কম হয় না এবং তিন খণ্ডাংশের বেশি হয় না। উদাহরণস্বরূপ:
ফাউলুন: এটি দুটি খণ্ডাংশ নিয়ে গঠিত, যার প্রথমটি ওয়াতাদে মাজমু এবং দ্বিতীয়টি সাবাবে খাফীফ।
মাফাই'লুন: এটি তিনটি খণ্ডাংশ নিয়ে গঠিত, যার প্রথমটি ওয়াতাদে মাজমু এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় উভয়টি সাবাবে খাফীফ।
যদি আমরা মুতাহাররিক বর্ণকে একটি ছোট আলিফ দ্বারা এবং সাকিন বর্ণকে একটি ছোট বৃত্ত দ্বারা চিহ্নিত করি এবং ফাউলুন ও মাফাই'লুন-কে শব্দের ভাষা থেকে প্রতীকের ভাষায় রূপান্তর করতে চাই, তবে প্রতীকের ভাষায় ফাউলুন হবে: ।। ০ । ০, ঠিক তেমনি প্রতীকের ভাষায় মাফাই'লুন হবে: ।। ০ । ০ । ০।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
عدد التفاعيل:
ويبلغ عدد التفاعيل العروضية التي اخترعها الخليل عشر تفاعيل كالآتي:
أ- اثنتان خماسيتان وهما:
فاعلن: اهـ اا هـ: وتتكون من سبب خفيف ووتد مجموع.
فعولن: اا هـ اهـ: وتتكون من وتد مجموع وسبب خفيف.
ب-وثمانية سباعية وهي:
مفاعيلن: اا هـ اهـ اهـ: وتتكون من وتد مجموع وسببين خفيفين.
مستفعلن: اهـ اهـ اا هـ: وتتكون من سببين خفيفين ووتد مجموع.
مفاعلتن: اا هـ اا اهـ: وتتكون من وتد مجموع وفاصلة صغرى.
متفاعلن: اا اهـ اا هـ: وتتكون من فاصلة صغرى ووتد مجموع.
مفعولات: اهـ اهـ اهـ ا: وتتكون من سببين خفيفين ووتد مفروق.
فاع لاتن: اهـ اا هـ اهـ: وتتكون من وتد مفروق وسببين خفيفين.
مستفع لن: اهـ اهـ ااه: وتتكون من سبب خفيف فوتد مفروق فسبب خفيف.
فاعلاتن: اهـ اا هـ اهـ: وتتكون من سبب خفيف فوتد مجموع فسبب خفيف.
ومع التشابه في النطق بين مستفعلن المتصلة، ومستفع لن المنفصلة، وفاعلاتن المتصلة، وفاع لاتن المنفصلة، فإن كان زوج منها يختلف في
তফয়িলের সংখ্যা:
খলীল কর্তৃক আবিষ্কৃত ছন্দতাত্ত্বিক তফয়িল (তাকতি’র একক) এর সংখ্যা মোট দশটি, যা নিম্নরূপ:
ক- দুটি পঞ্চাক্ষরবিশিষ্ট (খুমাসিয়া), সেগুলো হলো:
ফা-ই-লুন: এটি একটি লঘু কারণ (সাবাব খফিফ) ও একটি যুক্ত খুঁটি (ওয়াতাদ মাজমু’) এর সমন্বয়ে গঠিত।
ফা-ঊ-লুন: এটি একটি যুক্ত খুঁটি (ওয়াতাদ মাজমু’) ও একটি লঘু কারণ (সাবাব খফিফ) এর সমন্বয়ে গঠিত।
খ- এবং আটটি সপ্তাক্ষরবিশিষ্ট (সুবায়িয়া), সেগুলো হলো:
মা-ফা-ঈ-লুন: এটি একটি যুক্ত খুঁটি (ওয়াতাদ মাজমু’) ও দুটি লঘু কারণ (সাবাব খফিফ) এর সমন্বয়ে গঠিত।
মুস-তাফ-ই-লুন: এটি দুটি লঘু কারণ (সাবাব খফিফ) ও একটি যুক্ত খুঁটি (ওয়াতাদ মাজমু’) এর সমন্বয়ে গঠিত।
মু-ফা-আ-লা-তুন: এটি একটি যুক্ত খুঁটি (ওয়াতাদ মাজমু’) ও একটি ক্ষুদ্র ছেদ (ফাসিলা সুগরা) এর সমন্বয়ে গঠিত।
মু-তা-ফা-ই-লুন: এটি একটি ক্ষুদ্র ছেদ (ফাসিলা সুগরা) ও একটি যুক্ত খুঁটি (ওয়াতাদ মাজমু’) এর সমন্বয়ে গঠিত।
মাফ-ঊ-লা-তু: এটি দুটি লঘু কারণ (সাবাব খফিফ) ও একটি বিযুক্ত খুঁটি (ওয়াতাদ মাফরুক) এর সমন্বয়ে গঠিত।
ফা-ই লা-তুন: এটি একটি বিযুক্ত খুঁটি (ওয়াতাদ মাফরুক) ও দুটি লঘু কারণ (সাবাব খফিফ) এর সমন্বয়ে গঠিত।
মুস-তাফ-ই লুন: এটি একটি লঘু কারণ, এরপর একটি বিযুক্ত খুঁটি এবং এরপর একটি লঘু কারণের সমন্বয়ে গঠিত।
ফা-ই-লা-তুন: এটি একটি লঘু কারণ, এরপর একটি যুক্ত খুঁটি এবং এরপর একটি লঘু কারণের সমন্বয়ে গঠিত।
সংযুক্ত 'মুসতাফইলুন' ও বিচ্ছিন্ন 'মুসতাফ ই লুন', এবং সংযুক্ত 'ফাইলাতুন' ও বিচ্ছিন্ন 'ফা ই লাতুন'-এর উচ্চারণের মধ্যে সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও, তাদের প্রতিটি জোড়া ভিন্নতা রাখে...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وبإعادة النظر في هذه التفعيلات العشرة من حيث مقاطعها وبغض النظر عن صورها تتجلى لنا حقيقة مهمة هي:
1- إن فعولن عكسها فاعلن
2- وإن مفاعيلن عكسها مستفعلن
3- وإن مفاعلتن عكسها متفاعلن
4- وإن مفعولات عكسها فاع لاتن
ومعنى ذلك أن ثماني تفعيلات من التفعيلات العشر هي في حقيقة أمرها أربع تفعيلات فقط ثم صارت بتوليد عكسها ثمانية. فإذا سلمنا بذلك صح القول بأن الخليل بن أحمد عند وضعه لعلم العروض قد اهتدى إلى ست تفعيلات فقط هي: فعولن، مفاعيلن، مفاعلتن، مفعولات، فاعلاتن، مستفع لن،
ومن التفعيلات الأربعة الأولى وعكسها بالإضافة إلى الاثنتين الأخيرتين فاعلاتن ومستفع لن تم له اختراع التفعيلات العشرة.
وهكذا استطاع الخليل بن أحمد باختراع ست تفعيلات وعكس أربع منها أن يخترع أوزانه الخمسة عشر للشعر، والتي سنتكلم عنها بالتفصيل.
ويجدر بنا ونحن في معرض الحديث عن التفعيلات أن نذكر أن هذه التفعيلات لا تبقى على حال أو صورة واحدة في البحور التي تتألف منها، وإنما يعتريها التغيير بالحذف أو الزيادة أو تسكين المتحرك منها.
وهذا التغيير الذي يطرأ عليها بالحذف أو الزيادة، أو تسكين المتحرك له اصطلاح خاص في العروض يعرف به، وهذا الاصطلاح يسمى: الزحاف.
وسوف نتعرض بالقول لأنواع الزحاف التي تدخل على تفعيلات كل بحر عند
এই দশটি ছন্দ-এককের (তাফইলাত) মাত্রা বিন্যাসের ওপর পুনরায় দৃষ্টিপাত করলে এবং তাদের বাহ্যিক রূপ নির্বিশেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তা হলো:
১- 'ফাউলুন' এর বিপরীত হলো 'ফাইলুন'।
২- 'মাফাই-লুন' এর বিপরীত হলো 'মুসতাফ-ইলুন'।
৩- 'মুফায়ালাতুন' এর বিপরীত হলো 'মুতাফাই-লুন'।
৪- 'মাফ-উলাতু' এর বিপরীত হলো 'ফাই-লাতুন'।
এর অর্থ হলো, দশটি ছন্দ-এককের মধ্যে আটটি ছন্দ-একক মূলত মাত্র চারটি ছন্দ-একক, যা তাদের বিপরীত রূপ তৈরির মাধ্যমে আটটিতে পরিণত হয়েছে। আমরা যদি এটি মেনে নিই, তবে এটি বলা সঠিক হবে যে, খলীল বিন আহমদ যখন ছন্দবিজ্ঞান (ইলমুল আরুজ) প্রণয়ন করেন, তখন তিনি মাত্র ছয়টি ছন্দ-একক প্রাপ্ত হয়েছিলেন, সেগুলো হলো: ফাউলুন, মাফাই-লুন, মুফায়ালাতুন, মাফ-উলাতু, ফাইলাতুন এবং মুসতাফ-ই-লুন।
প্রথম চারটি ছন্দ-একক ও তাদের বিপরীত রূপ এবং এর সাথে শেষোক্ত দুটি অর্থাৎ 'ফাইলাতুন' ও 'মুসতাফ-ই-লুন' যোগ করার মাধ্যমেই তিনি দশটি ছন্দ-একক উদ্ভাবন সম্পন্ন করেন।
এভাবে খলীল বিন আহমদ ছয়টি ছন্দ-একক উদ্ভাবন এবং সেগুলোর চারটির বিপরীত রূপ তৈরির মাধ্যমে কবিতার পনেরটি ছন্দ-রীতি (আওযান) উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন, যে সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।
ছন্দ-এককসমূহ নিয়ে আলোচনার এই পর্যায়ে আমাদের এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই এককগুলো যেসব ছন্দে (বুহুর) ব্যবহৃত হয়, সেগুলোতে সর্বদা একই অবস্থায় বা রূপে থাকে না; বরং এগুলোতে বিলোপ, সংযোজন কিংবা সচল বর্ণকে স্থির করার মাধ্যমে পরিবর্তন সাধিত হয়।
বিলোপ, সংযোজন কিংবা সচল বর্ণকে স্থির করার মাধ্যমে এই যে পরিবর্তন ঘটে, ছন্দবিজ্ঞানে তার একটি বিশেষ পরিভাষা রয়েছে যা দিয়ে এটি পরিচিত। এই পরিভাষাটিকে বলা হয়: যিহাফ।
আমরা প্রতিটি ছন্দের এককে যেসব প্রকারের যিহাফ প্রবেশ করে, সে সম্পর্কে আলোচনা করব যখন...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الكلام عن بحور الشعر وأوزانه بالتفصيل.
8 مقومات القصيدة العربية:
القصيدة العربية في الشعر الملتزم تعتمد من جهة نظمها على أصلين هما: وحدة الوزن، ووحدة القافية.
فأبيات القصيدة، أيًّا كان عددها، يجب أن تكون كلها واحدة في وزنها أي من جهة عدد المقاطع والتفاعيل. فإذا كانت تفاعيل البيت الأول ثلاثة أو أربعة التزمت هذه التفاعيل بعددها في جميع أبيات القصيدة.
وكذلك وحدة القافية. فإذا كان آخر البيت الأول من القصيدة دالًا مثلًا التزمت هذه الدال في آخر كل بيت من القصيدة، كما في قصيدة المعري التي مطلعها:
غير مجدٍ في ملتي واعتقادي
… نوح باكٍ ولا ترنم شاد
واللغة العربية مشهورة عن غيرها من اللغات بسعة مفرداتها وكثرة مترادفاتها ومشتقاتها. وهذه تساعد الشاعر على إطالة القصيدة على قافية واحدة، وقل أن تجد لذلك نظيرًا في الآداب الأخرى، ولذلك ترى الشعراء غير العرب يستعينون على إطالة القصيدة إذا شاءوا بتوزيع القوافي.
وليست وحدة الوزن ووحدة القافية عيبًا في شعرنا العربي أو تقييدًا له، فالتمسك بهاتين الوحدتين والتزامهما من شأنه أن يقوي بناء القصيدة ويرتفع بموسيقاها.
وأمر آخر قد يخفى إلا على من يعالجون الشعر وينظمونه؛ ذلك الأمر هو أن التزام القافية كثيرًا ما يلجئ الشاعر إلى التريث بحثًا عن القافية المناسبة.
কাব্যছন্দ এবং এর মাত্রাবৃত্ত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।
৮. আরবি কবিতার উপাদানসমূহ:
আদর্শ আরবি কবিতার ছন্দবদ্ধ রচনার ক্ষেত্রে তা দুটি মূল ভিত্তির ওপর নির্ভর করে: ছন্দের ঐক্য এবং অন্ত্যমিলের (কাফিয়া) ঐক্য।
কবিতার চরণের সংখ্যা যাই হোক না কেন, তাদের সবগুলোই ছন্দের দিক থেকে অভিন্ন হতে হবে; অর্থাৎ শব্দাংশ এবং ছন্দোমাত্রার (তফাইল) সংখ্যার দিক থেকে একই হতে হবে। সুতরাং যদি প্রথম চরণের ছন্দোমাত্রা তিনটি বা চারটি হয়, তবে কবিতার প্রতিটি চরণে এই নির্দিষ্ট সংখ্যক ছন্দোমাত্রা বজায় রাখা আবশ্যক।
একইভাবে অন্ত্যমিলের ঐক্যও বজায় রাখতে হয়। যেমন, যদি কবিতার প্রথম চরণের শেষ বর্ণটি 'দাল' হয়, তবে কবিতার প্রতিটি চরণের শেষ বর্ণ হিসেবে এই 'দাল' বজায় রাখা বাধ্যতামূলক, যেমনটি আল-মাআররির কবিতায় দেখা যায় যার সূচনা হলো:
আমার ধর্ম ও বিশ্বাসমতে কোনো লাভ নেই
… ক্রন্দনকারীর বিলাপ কিংবা গায়কের সুরলহরিতে
অন্যান্য ভাষার তুলনায় আরবি ভাষা তার শব্দভাণ্ডারের বিশালতা এবং সমার্থক ও ব্যুৎপন্ন শব্দের প্রাচুর্যের জন্য সুপরিচিত। আর এই বৈশিষ্ট্যই কবিকে একটিমাত্র অন্ত্যমিল ব্যবহার করে দীর্ঘ কবিতা রচনায় সহায়তা করে, যার উদাহরণ অন্যান্য সাহিত্যে পাওয়া বিরল। একারণেই দেখা যায় যে, অনারব কবিরা কবিতা দীর্ঘ করতে চাইলে বিভিন্ন ধরনের অন্ত্যমিল ব্যবহারের আশ্রয় নেন।
ছন্দের ঐক্য এবং অন্ত্যমিলের ঐক্য আমাদের আরবি কবিতার কোনো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এই দুটি ঐক্যের অনুসরণ ও স্থায়িত্ব কবিতার গঠনকে শক্তিশালী করে এবং এর ছন্দময়তাকে উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যায়।
আরেকটি বিষয় যা কেবল কবিতা চর্চাকারী এবং রচয়িতাদের কাছেই স্পষ্ট হতে পারে; তা হলো অন্ত্যমিলের বাধ্যবাধকতা কবিকে প্রায়শই উপযুক্ত অন্ত্যমিল অনুসন্ধানে ধৈর্য ধারণ ও গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করতে বাধ্য করে।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وكثيرًا ما يولد هذا التمهل الناشئ عن الجري وراء القافية أفكارًا ما كانت لتتاح للشاعر أو تخطر على باله وأتته القافية من أول الأمر بسهولة.
ودعاة التجديد في الشعر العربي كان أولى بهم أن يحاولوا التجديد في الأوزان -إن استطاعوا- وبذلك يضيفون إلى ألحان الخليل ألحانًا أخرى يثرَى بها الشعر العربي.
التقطيع:
يراد بالتقطيع في العروض وزن كلمات البيت من الشعر بما يقابلها من تفعيلات، والتقطيع من شأنه أن يعين الدارس على معرفة البحر الذي ينتمي إليه البيت الذي يود معرفة وزنه. ويمكن الاهتداء إلى وزن البيت باتباع الخطوات التالية:
أولًا: كتابة البيت كتابة عروضية.
ثانيًا: وضع الحرف (ن) مثلاً تحت كل حرف متحرك لا يليه ساكن، ووضع خط صغير هكذا (-) تحت كل حرف متحرك يليه ساكن.
ثالثًا: بعد الانتهاء من نقل لغة الألفاظ إلى لغة الرموز، يقسم البيت إلى تفاعيل لفظية، وذلك بالرجوع إلى تفاعيل العروض التالية ورموزها المدونة أمامها.
رابعًا: بعد ذلك يسهل على الدارس معرفة وزن البيت إذا كان متذكرًا للتفاعيل التي يتألف منها وزن كل بيت، وإلا أمكنه الاستعانة بأوزانها الواردة في مفاتيح البحور صفحة 128.
التفاعيل ورموزها:
1 فعولن: ن -- وقد تصير بالزحاف فعول: ن - ن
2 مفاعيلن: ن --- وقد تصير بالزحاف مفاعلن: ن - ن-
অন্ত্যমিলের (কাফিয়া) পেছনে ছোটার ফলে সৃষ্ট এই ধীরস্থিরতা প্রায়শই এমন সব চিন্তার জন্ম দেয় যা কবির জন্য হয়তো সহজলভ্য হতো না বা তাঁর মনে আসত না, যদি অন্ত্যমিলটি শুরু থেকেই তাঁর কাছে সহজভাবে আসত।
আরবি কবিতার আধুনিকায়নের প্রবক্তাদের উচিত ছিল ছন্দের (আওযান) ক্ষেত্রে আধুনিকায়নের চেষ্টা করা—যদি তারা পারতেন—এবং এর মাধ্যমে তারা খলিল (ইবনে আহমদ)-এর সুরের সাথে অন্যান্য সুর যুক্ত করতেন যা দ্বারা আরবি কবিতা সমৃদ্ধ হতো।
তাকতি' (ছন্দ বিশ্লেষণ):
আরুযশাস্ত্রে 'তাকতি'' বলতে কবিতার পঙ্ক্তির শব্দগুলোকে তার সমগোত্রীয় 'তাফইলা' (ছন্দের রুকন) অনুযায়ী ওজন করাকে বোঝায়। তাকতি'-এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীকে সেই 'বাহর' (ছন্দ-বৃত্ত) চিনতে সাহায্য করা যার অন্তর্ভুক্ত ওই পঙ্ক্তিটি, যার ওজন সে জানতে চায়। নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণের মাধ্যমে পঙ্ক্তির ওজন নির্ণয় করা সম্ভব:
প্রথমত: পঙ্ক্তিটিকে আরুযি পদ্ধতিতে (উচ্চারণ অনুযায়ী) লেখা।
দ্বিতীয়ত: প্রতিটি মুতাহাররিক (স্বরধ্বনিযুক্ত) বর্ণ—যার পরে কোনো সাকিন (স্বরহীন) বর্ণ নেই—তার নিচে উদাহরণস্বরূপ 'ন' (ন) চিহ্ন বসানো, এবং প্রতিটি মুতাহাররিক বর্ণ যার পরে একটি সাকিন বর্ণ রয়েছে তার নিচে একটি ছোট রেখা (-) বসানো।
তৃতীয়ত: শব্দের ভাষাকে প্রতীকের ভাষায় রূপান্তর শেষ করার পর, পঙ্ক্তিটিকে শাব্দিক তাফইলাতে বিভক্ত করা হবে। এটি করা হবে নিম্নোক্ত আরুযি তাফইলাত এবং তার সামনে লিপিবদ্ধ প্রতীকগুলোর দিকে লক্ষ রেখে।
চতুর্থত: এরপর শিক্ষার্থীর জন্য পঙ্ক্তির ওজন চেনা সহজ হবে যদি তার সেই তাফইলাতগুলো স্মরণে থাকে যা দ্বারা প্রতিটি পঙ্ক্তির ওজন গঠিত হয়। অন্যথায়, সে ১২৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত 'মাফাতিহুল বুহুর' (ছন্দ-বৃত্তের চাবিকাঠি)-এ উল্লিখিত ওজনগুলোর সহায়তা নিতে পারে।
তাফইলাত এবং সেগুলোর প্রতীকসমূহ:
১. ফাউলুন: ন -- এবং যিহাফ-এর কারণে এটি 'ফাউলু': ন - ন হতে পারে।
২. মাফাইলুন: ন --- এবং যিহাফ-এর কারণে এটি 'মাফাইলুন': ন - ন- হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
3 مفاعلتن: ن - ن ن - وقد تصير بالزحاف مفاعلتن: ن ---
4 متفاعلن: ن ن - ن - وقد تصير الزحاف متفاعلن: -- ن -
5 مستفعلن: -- ن - وقد تصير بالزحاف متفعلن: ن - ن- أو مستعلن: - ن ن
6 مستفع لن: -- ن - وقد تصير بالزحاف متفع لن: ن - ن -
7 فاعلاتن: - ن -- وقد تصير بالزحاف فعلاتن: ن ن -- أو فاعلن: - ن - أو فالاتن: ---
8 فاع لاتن: - ن --
9 مفعولات: --- ن وقد تصير بالزحاف مفعلات: -ن-ن أو معولات: ن --ن
10 فاعلن: -ن- وقد تصير بالزحاف فالن: --
فإذا شئنا معرفة وزن البيت التالي.
على قدر أهل العزم تأتي العزائم
… وتأتي على قدر الكرام المكارم
فإننا نتبع الخطوات السابقة، بكتابته أولاً كتابة عروضية، ثم بوضع رموزه تحته، ثم بتقسيمه إلى تفاعيل لفظية، وذلك بالرجوع إلى التفاعيل ورموزها، وبذلك يمكن معرفة الوزن، هكذا:
على قدرأهللعز م تأتل عزائمو
… فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن
ن -- ن--- ن-- ن-ن-
وتأتي على قدرل كرامل مكارمو
… فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن
ن-- ن--- ن-- ن-ن-
وبذلك يتضح لنا أن هذا البيت من بحر الطويل.
৩ মুফাআলাতুন: ন - ন ন - এবং যিহাফের কারণে এটি মুফাআলাতুন: ন --- এ পরিণত হতে পারে।
৪ মুতাফা-ইলুন: ন ন - ন - এবং যিহাফের কারণে এটি মুতাফা-ইলুন: -- ন - এ পরিণত হতে পারে।
৫ মুস্তাফ-ইলুন: -- ন - এবং যিহাফের কারণে এটি মুতাফ-ইলুন: ন - ন- অথবা মুস্তা-ইলুন: - ন ন এ পরিণত হতে পারে।
৬ মুস্তাফ-ই লুন: -- ন - এবং যিহাফের কারণে এটি মুতাফ-ই লুন: ন - ন - এ পরিণত হতে পারে।
৭ ফা-ইলাতুন: - ন -- এবং যিহাফের কারণে এটি ফালাতুন: ন ন -- অথবা ফা-ইলুন: - ন - অথবা ফা-লাতুন: --- এ পরিণত হতে পারে।
৮ ফা-ই লাতুন: - ন --
৯ মাফ-উলাতু: --- ন এবং যিহাফের কারণে এটি মুফ-ইলাতু: -ন-ন অথবা মা-উলাতু: ন --ন এ পরিণত হতে পারে।
১০ ফা-ইলুন: -ন- এবং যিহাফের কারণে এটি ফালুন: -- এ পরিণত হতে পারে।
সুতরাং আমরা যদি নিম্নে বর্ণিত পংক্তিটির ছন্দ-মাত্রা ওজন জানতে চাই:
দৃঢ় সংকল্পকারীদের সংকল্প অনুযায়ীই সাফল্য আসে
… আর সম্মানীদের মর্যাদা অনুযায়ীই মহত্ত্ব আসে
তবে আমাদের পূর্ববর্তী পদক্ষেপসমূহ অনুসরণ করতে হবে; প্রথমে একে ছন্দোবদ্ধ লিখন পদ্ধতিতে লিখতে হবে, তারপর এর নিচে এর সংকেতসমূহ বসাতে হবে, এরপর একে ছন্দ-মাত্রার রুকন অনুযায়ী বিভক্ত করতে হবে। আর তা ছন্দ-মাত্রা ও সেগুলোর সংকেতসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই সম্ভব। আর এভাবেই ছন্দ-মাত্রা জানা সম্ভব হবে, যথা:
আলা কদরি আহলিল আযমি তা’তিল আযাইমু
… ফাউলুন মাফাই-লুন ফাউলুন মাফাই-লুন
ন -- ন--- ন-- ন-ন-
ওয়া তা’তি আলা কদরি-ল-কিরামি-ল-মাকারি-মু
… ফাউলুন মাফাই-লুন ফাউলুন মাফাই-লুন
ন-- ন--- ন-- ন-ন-
এর মাধ্যমে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই পংক্তিটি বাহরে তাবীল (দীর্ঘ ছন্দ)-এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أوزان البحور
البحر الأول: بحر الطويل
مدخل…أوزان البحور
1 مقدمة.
2 البحر الأول: بحر الطويل.
مقدمة:
أشرنا سابقًا إلى أن الخليل بن أحمد وضع خمسة عشر بحرًا وأن تلميذه الأخفش زاد عليها بحرًا سماه: المتدارك، وبذلك أصبح مجموع البحور ستة عشر بحرًا.
وبعد هذه البحور كما ذكرنا من قبل تشترك تفعيلاتها في عدد المقاطع بحيث إذا قدمنا مقطعًا متأخرًا أو أخرنا مقطعًا متقدمًا تولد عن ذلك البحر المماثل.
فالتفعيلة فعولن مثلاً مكونة من وتد مجموع فسبب خفيف، فإذا تكررت ثماني مرات فإنه ينتج عنها بحر المتقارب، أما إذا قدمنا السبب الخفيف على الوتد المجموع في التفعيلة ذاتها فإن فعولن تصبح فاعلن، وهذه إذا تكررت كذلك ثماني مرات فإنه يتولد عنها بحر المتدارك.
ছন্দসমূহের মাত্রাপ্রথম ছন্দ: বাহরুত তাবিলউপস্থাপনা…ছন্দসমূহের মাত্রা
১. ভূমিকা।
২. প্রথম ছন্দ: বাহরুত তাবিল।
ভূমিকা:
আমরা পূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছি যে, খলীল ইবন আহমাদ পনেরটি ছন্দ নির্ধারণ করেছিলেন এবং তাঁর ছাত্র আখফাশ এর সাথে একটি ছন্দ বৃদ্ধি করেছেন যার নাম তিনি দিয়েছেন: আল-মুতাদারিক; এর ফলে মোট ছন্দের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ষোলটি।
যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, এই ছন্দগুলোর মধ্য থেকে কতগুলোর তাফঈলা (ছন্দাংশ) মাত্রার সংখ্যার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ, যার ফলে যদি আমরা কোনো পরবর্তী মাত্রাকে আগে নিয়ে আসি অথবা পূর্ববর্তী মাত্রাকে পরে নিয়ে যাই, তবে তা থেকে সমজাতীয় অন্য একটি ছন্দ তৈরি হয়।
উদাহরণস্বরূপ, 'ফাউলুন' তাফঈলাটি একটি 'ওয়াতাদে মাজমু' ও একটি 'সাবাবে খাফীফ' এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং এটি যদি আটবার পুনরাবৃত্তি হয় তবে তা থেকে 'বাহরুল মুতাকারিদ' উৎপন্ন হয়। পক্ষান্তরে যদি আমরা একই তাফঈলার মধ্যে 'সাবাবে খাফীফ'কে 'ওয়াতাদে মাজমু' এর আগে নিয়ে আসি, তবে 'ফাউলুন' হয়ে যায় 'ফাইলুন'; আর এটিও যদি একইভাবে আটবার পুনরাবৃত্তি হয় তবে তা থেকে 'বাহরুল মুতাদারিক' সৃষ্টি হয়।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وكذلك متفاعلن إذا عكست تصير مفاعلتن وتكوِّن بتكرارها مع تفعيلة من نوع آخر بحرًا يسمى: الوافر، بينما تكرار متفاعلن ست مرات يولد بحرًا آخر هو: الكامل، وهكذا.
وقد رتب العروضيون بحور الشعر الستة عشر على حسب اشتراك كل مجموعة منها في دائرة عروضية واحدة على الوجه التالي:
1 الطويل، والمديد، والبسيط.
2 الوافر، والكامل.
3 الهزج، والرجز، والرمل.
4 السريع والمنسرح، والخفيف، والمضارع، والمقتضب، والمجتث.
5 المتقارب، والمتدارك.
وهذا الترتيب كما ذكرت هو بحسب اشتراك كل مجموعة من البحور في دائرة عروضية لا بحسب كثرة استعمالها أو قلة استعمالها، وسوف نفصل الكلام عن الدوائر العروضية فيما بعد.
أجزاء البيت:
ينقسم البيت الشعري إلى قسمين متساويين من حيث النغم والقياس الموسيقي، ويعرف كل قسم بالمصراع تشبيهًا بمصراعي الباب، أو بالشطر، فيقال: الشطر الأول أو الثاني، كما يقال: المصراع الأول أو الثاني من البيت.
التفعيلة الأخيرة.
ولما كان للتفعيلة الأخيرة من كل شطر أهمية خاصة فقد انفردت بتسمية خاصة.
একইভাবে 'মুতাফা-ইলুন' যখন উল্টে দেওয়া হয়, তখন তা 'মুফা-আলাতুন'-এ পরিণত হয় এবং অন্য প্রকারের একটি চরণের (তাফঈলাহ) সাথে এর পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে একটি ছন্দ তৈরি হয় যাকে বলা হয়: আল-ওয়াফির; যেখানে 'মুতাফা-ইলুন'-এর ছয়বার পুনরাবৃত্তি অন্য একটি ছন্দ উৎপন্ন করে যা হলো: আল-কামিল, এবং এভাবেই চলতে থাকে।
আর ছন্দবিজ্ঞানীরা (আরুযিগণ) কবিতার ষোলটি ছন্দকে নিম্নোক্তভাবে প্রতিটি দলের একটি করে ছন্দোবৃত্তের (দাইরাহ আরুযিয়্যাহ) অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন:
১. আত-তাউয়িল, আল-মাদিদ এবং আল-বাসিত।
২. আল-ওয়াফির এবং আল-কামিল।
৩. আল-হাযাজ, আর-রাজায এবং আর-রামাল।
৪. আস-সারি', আল-মুনসারিহ, আল-খাফিফ, আল-মুদারি', আল-মুকতাদিব এবং আল-মুজতাস।
৫. আল-মুতাাকারিিব এবং আল-মুতাদারিক।
আর এই বিন্যাস যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি, তা ছন্দের প্রতিটি দলের একটি ছন্দোবৃত্তে অংশীদার হওয়ার ভিত্তিতে করা হয়েছে, তাদের ব্যবহারের আধিক্য বা স্বল্পতার ভিত্তিতে নয়। আমরা পরবর্তীতে ছন্দোবৃত্তগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
পঙক্তির অংশসমূহ:
কবিতার একটি পঙক্তি সুর ও ছন্দোময় পরিমাপের দিক থেকে দুটি সমান অংশে বিভক্ত হয়। দরজার দুই কপাটের সাথে তুলনা করে প্রতিটি অংশকে 'মিসরা' বা 'শাতর' (অর্ধ-পঙক্তি) হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাই বলা হয়: প্রথম শাতর বা দ্বিতীয় শাতর, যেভাবে পঙক্তির প্রথম মিসরা বা দ্বিতীয় মিসরা বলা হয়ে থাকে।
শেষ চরণের একক (তাফঈলাহ)।
যেহেতু প্রতিটি অর্ধ-পঙক্তির শেষ চরণের এককের (তাফঈলাহ) বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, তাই একে একটি স্বতন্ত্র নাম দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فالتفعيلة التي في آخر الشطر من البيت تسمى: العروض -بفتح العين- والتفعيلة التي في آخر الشطر الثاني تسمى: الضرب، وما عدا ذلك من تفاعيل البيت يسمى: الحشو، هكذا:
فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن
حشو عروض
فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن
حشو ضرب
وكل بحر من بحور الشعر له نظام خاص في التغييرات التي تدخل على الحشو أو على العروض أو على الضرب. وسنوضح ذلك عند الكلام على وزن كل بحر.
কবিতার চরণের প্রথম অর্ধাংশের শেষ ছন্দ-এককটিকে (তাফইলাহ) বলা হয়: ‘আরূদ’ —‘আইন’ বর্ণে ফাতহাহ যোগে— এবং দ্বিতীয় অর্ধাংশের শেষের ছন্দ-এককটিকে বলা হয়: ‘দারব’। আর কবিতার চরণে এগুলি ব্যতীত অন্য সকল ছন্দ-একককে বলা হয়: ‘হাশউ’। যথা:
ফাউলুন মাফাই'লুন ফাউলুন মাফাই'লুন
হাশউ আরূদ
ফাউলুন মাফাই'লুন ফাউলুন মাফাই'লুন
হাশউ দারব
কাব্যিক ছন্দসমূহের প্রতিটি ছন্দেরই ‘হাশউ’, ‘আরূদ’ কিংবা ‘দারব’-এর ক্ষেত্রে যেসব পরিবর্তন ঘটে, সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। প্রতিটি ছন্দের ওজন (ছন্দমাত্রা) নিয়ে আলোচনার সময় আমরা বিষয়টি বিস্তারিত স্পষ্ট করব।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وزن البحر الطويل…البحر الأول: الطويل
1 وزنه:
فعولن مفاعيلن فعولن مفاعيلن
فعولن مفاعيلن فعولن مفاعيلن.
2 عروضه:
عروض هذا البحر، أي تفعيلته التي تقع في آخر الشطر الأول من البيت، لا تستعمل تامة، بل يحذف منها الحرف الخامس، أي الياء الساكنة فتصبح مفاعيلن مفاعلن.
وحذف الخامس الساكن له في العروض اسم اصطلاحي هو: القبض، وتسمى التفعيلة التي وقع فيها القبض: مقبوضة.
3 ضربه:
وضرب هذا البحر، أي تفعيلته التي تقع في آخر الشطر الثاني من البيت، قد يكون مقبوضًا في قصيدة أو غير مقبوض في أخرى.
وإذا جاء البيت الأول من القصيدة مقبوض العروض والضرب معًا لزم أن يستمر ذلك في بقية أبياتها.
বাহরুত তওয়ীলের ছন্দ-মাত্রা…প্রথম বাহর: আত-তওয়ীল
১. এর ওজন বা ছন্দ-মাত্রা:
ফাউলুন মাফাইলুন ফাউলুন মাফাইলুন
ফাউলুন মাফাইলুন ফাউলুন মাফাইলুন।
২. এর আরুয:
এই বাহরের আরুয, অর্থাৎ কবিতার প্রথম পঙ্ক্তির শেষে যে ছন্দ-একক বা তাফঈলাহটি থাকে, তা পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয় না। বরং এর থেকে পঞ্চম বর্ণ অর্থাৎ সাকিনযুক্ত 'ইয়া' বিলুপ্ত করা হয়, ফলে 'মাফাইলুন' পরিবর্তিত হয়ে 'মাফাইলুন' (হ্রস্ব) হয়ে যায়।
ছন্দশাস্ত্রে পঞ্চম সাকিন বর্ণ বিলুপ্ত করার একটি পারিভাষিক নাম রয়েছে, তা হলো: 'কাবয'। আর যে ছন্দ-এককে এই কাবয সংঘটিত হয়, তাকে বলা হয়: 'মাকবুযাহ'।
৩. এর যারব:
এই বাহরের যারব, অর্থাৎ কবিতার দ্বিতীয় পঙ্ক্তির শেষে যে ছন্দ-এককটি থাকে, তা কোনো কবিতায় 'মাকবুয' হতে পারে আবার অন্য কোনোটিতে মাকবুয নাও হতে পারে।
যদি কবিতার প্রথম চরণে আরুয এবং যারব উভয়ই মাকবুয হিসেবে আসে, তবে কবিতার বাকি সকল চরণেও তা অনুসরণ করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
4 حشو البيت:
عرفنا أن الحشو هو جميع تفعيلات البيت ما عدا تفعيلة العروض وتفعيلة الضرب.
وحشو البيت في بحر الطويل يحدث فيه تغيير اختياري بحذف النون الساكنة من فعولن الأولى أو الثالثة أو الخامسة أو السابعة في ترتيب التفاعيل، وبذلك تصبح فعولن فعولُ بلام متحركة أي بحذف الخامس الساكن: فتكون مقبوضة أيضًا.
وهذا التغيير غير لازم، فإذا ورد التغيير في فعولن الأولى فلا يلزم في غيرها من بقية البيت، كما أن قبض فعولن في حشو بيت ما لا يستدعي قبضها في حشو بقية الأبيات.
ويجب التنبيه على أن هناك فرقًا من جهة التسمية بين التغيير الذي يحدث في الحشو، والتغيير الذي يحدث في العروض والضرب.
فالتغيير الذي يحدث في الحشو يسمى: الزحاف، أما التغيير الذي يحدث في العروض والضرب فيسمى: العلة، وهو تغيير يلتزم.
وكما يكون الزحاف والعلة في بحر الطويل يكونان كذلك في غيره من البحور، ولكن ينبغي أن نتذكر أن لكل بحر زحافًا خاصًّا وعلة خاصة.
عروض الطويل وضربه:
عروض الطويل تأتي مقبوضة دائمًا.
أما ضربه فيأتي على ثلاثة أنواع:
৪. পঙক্তির হাশও:
আমরা জেনেছি যে, হাশও হলো পঙক্তির সেই সমস্ত তফঈলা (ছন্দ-একক), যা আরূদ-এর তফঈলা এবং যারব-এর তফঈলা ব্যতীত অবশিষ্ট থাকে।
এবং বাহরে তবীলের পঙক্তির হাশও-তে তফঈলাসমূহের বিন্যাসের প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম বা সপ্তম 'ফাউলুন' থেকে সাকিন 'নূন' বিলুপ্ত করার মাধ্যমে একটি ঐচ্ছিক পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে 'ফাউলুন' শব্দটি হরকতযুক্ত 'লাম' বিশিষ্ট 'ফাউলু'-তে পরিণত হয়, অর্থাৎ পঞ্চম সাকিন অক্ষরটি বিলুপ্ত হয়; ফলে এটিও 'মাকবূযাহ' (সংকুচিত) হয়ে যায়।
এই পরিবর্তনটি বাধ্যতামূলক নয়। সুতরাং যদি প্রথম 'ফাউলুন'-এ পরিবর্তনটি ঘটে, তবে পঙক্তির অবশিষ্ট অংশে তা ঘটা জরুরি নয়। একইভাবে, কোনো একটি পঙক্তির হাশও-তে 'ফাউলুন'-এর ক্বাবয (সংকোচন) হওয়া মানে এই নয় যে, অবশিষ্ট পঙক্তিগুলোর হাশও-তেও এটি হতে হবে।
এটি লক্ষ্য করা আবশ্যক যে, হাশও-তে সংঘটিত পরিবর্তন এবং আরূদ ও যারব-এ সংঘটিত পরিবর্তনের নামকরণের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে।
হাশও-তে যে পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয়: যিহাফ; আর আরূদ ও যারব-এ যে পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয়: ইল্লাত, যা একটি বাধ্যতামূলক পরিবর্তন।
বাহরে তবীলে যেভাবে যিহাফ ও ইল্লাত হয়ে থাকে, অন্য বাহরগুলোতেও তেমনি হয়ে থাকে; তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, প্রতিটি বাহরের জন্য স্বতন্ত্র যিহাফ এবং স্বতন্ত্র ইল্লাত রয়েছে।
তবীলের আরূদ ও যারব:
তবীলের আরূদ সর্বদা মাকবূযাহ (সংকুচিত) হয়ে আসে।
পক্ষান্তরে এর যারব তিন প্রকারের হয়ে থাকে:
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
1 مقبوضًا كذلك، أي بحذف الخامس الساكن لتصير مفاعيلن مفاعلن.
2 أو محذوفًا، أي بحذف السبب الأخير من مفاعيلن لتصير مفاعي وتحول إلى مفاعلْ بسكون اللام تسهيلاً للنطق، أو فعولن.
3 أو صحيحًا، مفاعيلن.
وعلى هذا يكون نظام البحر الطويل على الوجه التالي:
1. --- مفاعلن أ. --- مفاعلن أ
2. --- مفاعلن أ. --- مفاعل ب
3. --- مفاعلن أ. --- مفاعيلن جـ
مثال النوع الأول: من معلقة زهير:
ومن هاب أسباب المنايا ينلنه
… وإن يرق أسباب السماء بسلم
ومن ها بأسبابل منايا ينلنهو
ااه اه ااه اه اه ااه اه ااه ااه
فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن
وإن ير قأسبابس سماء بسللمي
ااه اه ااه اه اه ااه اااه ااه
فعولن مفاعيلن فعولُ مفاعلن
১ একইভাবে মাকবুজ (সংকুচিত), অর্থাৎ পঞ্চম সাকিন বর্ণটি বিলোপ করে 'মুফাঈলুন'-কে 'মুফাইলুন'-এ রূপান্তর করা।
২ অথবা মাহজুফ (কর্তিত), অর্থাৎ 'মুফাঈলুন'-এর শেষ 'সাবাব' (অক্ষরগুচ্ছ) বিলোপ করা যাতে তা 'মুফাঈ' হয়ে যায় এবং উচ্চারণের সুবিধার্থে 'লাম' বর্ণে সাকিন প্রদানের মাধ্যমে 'মুফাইল' অথবা 'ফাউলুন'-এ রূপান্তরিত হয়।
৩ অথবা সহিহ (অক্ষত), যা হলো মুফাঈলুন।
আর এর ভিত্তিতে 'বাহরুত তবিল' (দীর্ঘ ছন্দ)-এর বিন্যাস পদ্ধতি নিম্নরূপ হবে:
১. --- মুফাইলুন ক. --- মুফাইলুন ক
২. --- মুফাইলুন ক. --- মুফাইল খ
৩. --- মুফাইলুন ক. --- মুফাঈলুন গ
প্রথম প্রকারের উদাহরণ: জুহাইরের মুআল্লাকা থেকে:
যে ব্যক্তি মৃত্যুর কারণগুলোকে ভয় পায়, সেগুলো তাকে পেয়ে বসবে ... যদিও সে সিঁড়ি বেয়ে আকাশের পথে আরোহণ করে।
ওয়া মান হা বা আসবাবাল মানায়া ইয়ানালনাহু
আআহ আহ আআহ আহ আহ আআহ আহ আআহ আআহ
ফাউলুন মুফাঈলুন ফাউলুন মুফাইলুন
ওয়া ইন ইয়ার কা আসবাবাস সামায়ি বিসুল্লামি
আআহ আহ আআহ আহ আহ আআহ আআআহ আআহ
ফাউলুন মুফাঈলুন ফাউলু মুফাইলুন
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ومن ذلك نلاحظ أن عروض هذا البيت هي: مفاعلن، وضربه كذلك.
وهكذا يسير زهير في جميع أبيات معلقته من أولها إلى آخرها.
أما حشو البيت فنجد أن إحدى تفعيلاته وهي السابعة فعولن دخلها القبض فحولت إلى فعولُ بتحريك اللام وهذا غير لازم.
النوع الثاني: وهو ما عروضه مقبوضة وضربه محذوف أي: مفاعلْ بسكون اللام.
وقد افترض العروضيون أن أصل الضرب مفاعيلن فحذف من التفعيلة الأخيرة، أي تفعيلة الضرب السبب الخفيف من آخرها فصارت مفاعي، ولسهولة النطق بها تحولت إلى مفاعلْ بسكون اللام أي تفعيلة خماسية.
وهذا الضرب يسمى: محذوفًا؛ لحذف السبب الأخير من تفعيلته.
ومثال هذا النوع قول أبي نواس في مدح الخصيب أمير مصر:
تقول التي من بيتها خف محملي
… عزيز علينا أن نراك تسير
أما دون مصر للغني متطلب
… بلى.. إن أسباب الغنى لكثير
فقلت لها واستعجلتها بوادر
… جرت فجرى في جريهن عبير
ذريني أكثر حاسديك برحلة
… إلى بلد فيه الخصيب أمير
فتى يشتري حسن الثناء بماله
… ويعلم أن الدائرات تدور
فما جازه جود ولا حل دونه
… ولكن يسير الجود حيث يسير
এখান থেকে আমরা লক্ষ্য করি যে, এই পঙক্তির আরূয হলো: মাফায়িলুন, এবং এর দারব-ও তদ্রূপ।
আর এভাবেই যুহাইর তার মুআল্লাকার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি পঙক্তিতে অগ্রসর হয়েছেন।
আর পঙক্তির হাশ্উ বা মধ্যবর্তী অংশের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে, এর একটি রুকন তথা সপ্তমটি হলো ফাউলুন, যাতে ক্বাবদ প্রবেশ করেছে; ফলে এটি লামের হরকতের সাথে ফাউলু-তে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এটি অপরিহার্য নয়।
দ্বিতীয় প্রকার: যার আরূয হলো মাক্ববূদাহ এবং দারব হলো মাহযূফ, অর্থাৎ: লামের সুকুনসহ মাফায়িল।
ছন্দবিশারদগণ ধারণা করেছেন যে, দারব-এর মূল ছিল মাফায়ীলুন। অতঃপর শেষ রুকন অর্থাৎ দারব-এর রুকনের শেষ থেকে সাবাবে খাফীফ বিলুপ্ত করা হয়েছে, ফলে তা মাফায়ী-তে পরিণত হয়েছে। আর উচ্চারণের সহজতার জন্য তা লামের সুকুনসহ মাফায়িল-এ রূপান্তরিত হয়েছে, যা একটি পঞ্চবর্ণীয় রুকন।
এই দারব-কে মাহযূফ বলা হয়; এর রুকন থেকে শেষ সাবাবটি বিলুপ্ত হওয়ার কারণে।
এই প্রকারের উদাহরণ হলো মিসরের আমির আল-খাসীবের প্রশংসায় আবূ নুওয়াসের উক্তি:
সেই নারী বলছে যার ঘর থেকে আমার হাওদা রওনা হয়েছে
… আপনার প্রস্থান দেখা আমাদের জন্য বড়ই বেদনাদায়ক
সম্পদ অন্বেষণকারীর জন্য কি মিসর ছাড়া আর কোনো গন্তব্য নেই?
… অবশ্যই আছে, তবে সম্পদ লাভের উপায় তো অনেক
আমি তাকে বললাম, আর তখন তার অশ্রু দ্রুত ঝরছিল
… যা প্রবাহিত হচ্ছিল আর সেই প্রবাহে আম্বরের সুঘ্রাণ বিচ্ছুরিত হচ্ছিল
আমাকে ছেড়ে দাও, যেন এক সফরের মাধ্যমে তোমার প্রতি ঈর্ষাকাতরদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারি
… এমন এক ভূখণ্ডের দিকে যেখানে আল-খাসীব আমির
এমন এক যুবক যে তার সম্পদের বিনিময়ে উত্তম প্রশংসা ক্রয় করে
… এবং সে জানে যে ভাগ্যের চাকা সর্বদা আবর্তিত হয়
বদান্যতা তাকে অতিক্রম করে যায়নি এবং তার পশ্চাতেও অবস্থান করেনি
… বরং বদান্যতা সেদিকেই ধাবিত হয় যেদিকে সে যায়
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فتقطيع البيت الأول هكذا:
تقولل لتي من بيـ تهاخف فمحملي
فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن
عزيزن علينا أن نراك تسيرو
فعولن مفاعيلن فعولُ مفاعلْ
فالتفعيلة الأخيرة من الشطر الثاني أي الضرب محذوفة.
ومثال آخر قول مسكين الدارمي عندما أوعز إليه معاوية أن يقترح البيعة من بعده لابنه يزيد؛ ليعلم رأي قومه في ذلك:
ألا ليت شعري ما يقول ابن عامر
… ومروان أم ماذا يقول سعيد؟
بني خلفاء الله مهلاً فإنما
… يبوّئها الرحمن حيث يريد
إذا المنبر الغربي خلَّاه ربه
… فإن أمير المؤمنين يزيد
فتقطيع البيت الأول هكذا:
ألالي تشعري ما يقولب نُعامرن
فعولن مفاعيلن فعولن مفاعلن
ومروا نُأَ مْ مَاذا يقول سعيدو
فعولن مفاعيلن فعولُ مفاعلْ
النوع الثالث: ما كان عروضه مقبوضة وضربه صحيحًا أي: مفاعيلن، كقول الحطيئة في المدح:
أولئك قوم إن بنوا أحسنوا البنا
… وإن عاهدوا أوفوا وإن عقدوا شدوا
وإن كانت النعماء فيهم جزوا بها
… وإن أنعموا لا كدَّروها ولا كدُّوا
مطاعين في الهيجا مكاشيف للدجى
… بنى لهم آؤباهم.. وبنى الجد
ويعذلني أبناء سعد عليهم
… وما قلت إلا بالذي علمت سعد
প্রথম পদ্যটির ছন্দোবিশ্লেষণ এভাবে হবে:
তাকুলুল লাতি মিন বাই-তাহা খাফফা মাহমালি
ফাউলুন মাফাইলুন ফাউলুন মাফাইলুন
আজিজুন আলাইনা আন নরাকা তাসীরু
ফাউলুন মাফাইলুন ফাউলু মাফাইল
সুতরাং দ্বিতীয় চরণের শেষ রুকনটি অর্থাৎ ‘আদ-দারব’ হলো মাহজুফ (বিলুপ্ত)।
আরেকটি উদাহরণ হলো মিসকিন আদ-দারিমির উক্তি, যখন মুয়াবিয়া তাকে তার পুত্র ইয়াজিদের অনুকূলে বায়আতের প্রস্তাব দিতে প্ররোচিত করেছিলেন; যাতে সেই বিষয়ে তার কওমের অভিমত জানা যায়:
হায়, আমি যদি জানতাম ইবনে আমির কী বলেন
… আর মারওয়ানই বা কী বলেন, নাকি সাঈদ কী বলেন?
হে আল্লাহর খলিফাদের বংশধরেরা, ধৈর্য ধরুন; কারণ রহমান একে সেখানেই স্থান দেন যেখানে তিনি ইচ্ছা করেন
… যখন পশ্চিমের মিম্বর তার অধিপতি কর্তৃক শূন্য হবে
… তখন মুমিনদের আমির হবেন ইয়াজিদ
প্রথম পদ্যটির ছন্দোবিশ্লেষণ এভাবে হবে:
আলা লাইতা শি’রি মা ইয়াকুলুব নু আমীরুন
ফাউলুন মাফাইলুন ফাউলুন মাফাইলুন
ওয়া মারওয়া নু আ আম মা যা ইয়াকুলু সাঈদু
ফাউলুন মাফাইলুন ফাউলু মাফাইল
তৃতীয় প্রকার: যার ‘আরুজ’ মাকবুজাহ এবং ‘দারব’ সহিহ (সঠিক) অর্থাৎ: মাফাইলুন, যেমন প্রশংসামূলক কাব্যে আল-হুতাইয়্যাহ-এর উক্তি:
তারা এমন কওম যে, তারা যদি নির্মাণ করে তবে উত্তম নির্মাণ করে
… আর যখন তারা প্রতিশ্রুতি দেয় তখন তা পূর্ণ করে, আর যখন চুক্তি করে তখন তা মজবুত করে
যদি তাদের মধ্যে নেয়ামত থাকে তবে তারা তার প্রতিদান দেয়
… আর যখন তারা অনুগ্রহ করে, তখন তারা তাকে কলুষিত করে না এবং খোঁটাও দেয় না
তারা যুদ্ধের ময়দানে বর্শা নিক্ষেপকারী এবং অন্ধকারের পথপ্রদর্শক
… তাদের পিতারা তাদের জন্য নির্মাণ করেছেন.. এবং দাদাও নির্মাণ করেছেন
আর সা’দ-এর সন্তানরা তাদের ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার করে
… অথচ আমি কেবল তা-ই বলেছি যা সা’দ জানে
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فتقطيع البيت الأول هكذا:
ألاء كقومي إن بنو أح سنلبنا
فعولُ مفاعلين فعولن مفاعلن
وإن عا هدو أوْفَو وإن ع قدو شددو
فعولن مفاعلين فعولُ مفاعلين
فالعروض مقبوضة والضرب هنا صحيح وكذلك في بقية الأبيات الأخرى.
والخلاصة:
1 إن عروض الطويل مفاعلن
2 أما الضرب فهو: مفاعلن، أو مفاعلْ بسكون اللام، أو مفاعيلن.
فإذا رمزنا إلى العروض بالرمز (أ) أيضًا كان نظام قصائد الطويل كما يلي:
1 قصيدة فيها الوضع هكذا:
---- أ ---أ
---- أ ---أ
أي مفاعلن في العرض ومفاعلن في الضرب حتى نهاية القصيدة.
2 وقصيدة أخرى تكون العروض مفاعلن أي (أ) والضرب مفاعل أي (ب) فيكون نظامها كالآتي:
--- أ ---ب
--- أ --- ب حتى نهاية القصيدة.
প্রথম চরণের ছন্দ-বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:
আ-লা-ই কা-কাও-মি ইন বা-নু আহ-সা-নিল-বি-না
ফাউলু মাফাইলুন ফাউলুন মাফাইলুন
ওয়া ইন আ-হা-দু আও-ফাউ ওয়া ইন আ-কদু শা-দা-দু
ফাউলুন মাফাইলুন ফাউলু মাফাইলুন
সুতরাং এখানে আরূয হলো মাকবূযাহ এবং যারব হলো সহীহ, আর এটি কবিতার অন্য সকল চরণের ক্ষেত্রেও একই রূপ।
সারসংক্ষেপ:
১. নিশ্চয়ই ত্ববীল ছন্দের আরূয হলো মাফাইলুন।
২. আর যারব হলো: মাফাইলুন, অথবা লাম বর্ণে সুকুনসহ মাফাইল, অথবা মাফাইলুন।
যদি আমরা আরূযকেও (আ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করি, তবে ত্ববীল ছন্দের কাসিদাসমূহের বিন্যাস হবে নিম্নরূপ:
১. এমন কাসিদা যার বিন্যাস এরূপ:
---- আ --- আ
---- আ --- আ
অর্থাৎ কাসিদার শেষ পর্যন্ত আরূযে মাফাইলুন এবং যারবে মাফাইলুন থাকবে।
২. এবং অন্য প্রকার কাসিদা যেখানে আরূয হবে মাফাইলুন অর্থাৎ (আ) এবং যারব হবে মাফাইল অর্থাৎ (ব), তখন এর বিন্যাস হবে নিম্নরূপ:
--- আ --- ব
--- আ --- ব কাসিদার শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল আরুদ ওয়াল কাফিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
3 وقصدة ثالثة تكون العروض مفاعل أي (أ) والضرب مفاعيلن أي (جـ) فيكون نظامها هكذا:
--- أ ---- جـ.
--- أ ----جـ حتى نهاية القصيدة.
والخطوط الأفقية تمثل حشو البيت.
التصريع.
والتصريع هو أن يجانس الشاعر بين شطري البيت الواحد في مطلع القصيدة أي يجعل العروض مشبهًا للضرب وزنًا وقافية.
ويحدث في النوع الثاني الذي ضربه (مفاعل) أي (ب) وفي النوع الثالث الذي ضربه (مفاعيلن) أي (جـ) .
ومثال النوع الثاني مطلع قصيدة في الرثاء لشاعر معاصر:
أفيقوا وإن جل المصاب أفيقوا
… وصونوا عيونًا للدماء تريق.
وقولوا هنيئًا للألى وهبوا العلى
… نفوسًا إلى نيل المرام تنوق
وتقطيع الشطر الأول:
أفيقو وإن جللل مصاب أفيقو
فعولن مفاعيلن فعولُ مفاعلْ (بسكون اللام)
وتقطيع الشطر الثاني:
وصونو عيوننلد دماء تريقو
فعولن مفاعيلن فعولُ مفاعلْ (بسكون اللام)
৩. এবং তৃতীয় এক ধরণের কাসিদা যার আরূয (العروض) হয় 'মাফা-ইল' অর্থাৎ (ক) এবং যারব (الضرب) হয় 'মাফা-ঈলুন' অর্থাৎ (গ), সুতরাং এর বিন্যাস হবে এইরূপ:
--- ক ---- গ।
--- ক ---- গ, কাসিদার শেষ পর্যন্ত।
এবং অনুভূমিক রেখাগুলো বাইতের হাশু (মধ্যবর্তী অংশ) নির্দেশ করে।
তাসরী' (التصريع)।
তাসরী' হলো কাসিদার শুরুতে কবি কর্তৃক একটি বাইতের উভয় অর্ধাংশের (মিসরা) মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা, অর্থাৎ আরূযকে ছন্দ এবং অন্ত্যমিলের (কাফিয়া) ক্ষেত্রে যারবের অনুরূপ করা।
এটি দ্বিতীয় প্রকারে ঘটে যার যারব হলো (মাফা-ইল) অর্থাৎ (খ) এবং তৃতীয় প্রকারে ঘটে যার যারব হলো (মাফা-ঈলুন) অর্থাৎ (গ)।
দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হিসেবে একজন সমসাময়িক কবির শোকগাথার (রিসা) প্রারম্ভিক বাইতটি নিম্নরূপ:
জেগে ওঠো, যদিও বিপদ গুরুতর তবুও জেগে ওঠো
… এবং সেই চোখগুলোকে রক্ষা করো যা রক্ত ঝরায়।
এবং বলো অভিনন্দন সেই অগ্রবর্তীদের প্রতি যারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছে
… এমন সব প্রাণ যারা লক্ষ্য অর্জনে আগ্রহী।
প্রথম পঙক্তির (শতরের) ছন্দ বিশ্লেষণ (তাকতী):
আ-ফী-কূ ওয়া ইন জাল-লাল মু-সা-বু আ-ফী-কূ
ফাউলুন মাফাঈলুন ফাউলু মাফা-ইল (লাম সাকিনসহ)
দ্বিতীয় পঙক্তির ছন্দ বিশ্লেষণ:
ওয়া সউ-নূ উ-য়ূ-নান-লিদ দি-মা-ই তু-রী-কূ
ফাউলুন মাফাঈলুন ফাউলু মাফা-ইল (লাম সাকিনসহ)