(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: -)
علم الرجال نشأته وتطوره من القرن الأول إلى نهاية القرن التاسع   (محمد بن مطر الزهراني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: علم الرجال نشأته وتطوره من القرن الأول إلى نهاية القرن التاسع

المؤلف: أبو ياسر محمد بن مطر بن عثمان آل مطر الزهراني (ت 1427هـ)

المحقق: -

الناشر: دار الهجرة للنشر والتوزيع، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1417هـ/1996م

عدد الصفحات: 358

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইলমুর রিজাল: প্রথম শতাব্দী থেকে নবম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত এর উদ্ভব ও বিকাশ   (মুহাম্মদ ইবনে মাতার আল-জাহরানি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: ইলমুর রিজাল: প্রথম শতাব্দী থেকে নবম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত এর উদ্ভব ও বিকাশ

লেখক: আবু ইয়াসির মুহাম্মদ ইবনে মাতার ইবনে উসমান আল মাতার আল-জাহরানি (মৃত্যু ১৪২৭ হিজরি)

তাহকিককারী: -

প্রকাশক: দারুল হিজরাহ প্রকাশনী ও বিতরণী, রিয়াদ, সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি/১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ৭)
عِلْمُ الرِّجَال نَشْأَتُهُ وُتَطَوُّرُهُ من القرْنِ الأوَّل إلى نهاية القَرْنِ التَّاسع

تَأْليف د. محمَّد بن مَطَر الزَّهْراني

بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة:

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيِّئات أعمالنا، من يهدهِ الله فلا مُضِلَّ له، ومن يُضْلِلْ فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا الله حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} ، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا الله الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامِ إِنَّ الله كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} ، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا الله وَقُولُوا قَوْلاً شَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ الله وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} .

أما بعد:

فإنه لما أُسند إليَّ تدريس مادتي "تدوين السنة" و "رواة الحديث وطبقاتهم" لطلاب السنة الأولى بكلية الحديث بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية، ألفيت هاتين المادتين لتلازمهما تكمّل
ইলমুর রিজাল: এর উৎপত্তি ও বিকাশ - প্রথম শতাব্দী থেকে নবম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত

রচনা: ড. মুহাম্মদ বিন মাতার আজ-জাহরানি

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}, {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় হতে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}, {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।}।

অতঃপর:

যখন মদীনা নববীস্থ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস অনুষদের প্রথম বর্ষের ছাত্রদের জন্য "সুন্নাহর সংকলন" এবং "হাদিস বর্ণনাকারী ও তাদের স্তরসমূহ" বিষয় দুটি পড়ানোর দায়িত্ব আমাকে অর্পণ করা হলো, তখন আমি দেখলাম যে বিষয় দুটি পরস্পরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ায় একটি অন্যটিকে পূর্ণ করে...
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ৮)
على الفهم الصحيح والعمل بما علم ثم نشر علمه وبثه في الأمة.

ثالثاً: حاولت قدر المستطاع التقيد بمفردات منهج المادة المقرر على طلاب كلية الحديث إلا أن مقتضيات التأليف والتصنيف اضطرتني أحياناً لبعض الإضافات أو الزيادات أو التوسع أحياناً في بعض الفقرات.

كما حاولت جهدي أن لا أترك فقرة من المنهج دون دراسة إلا أنني تركت فقرتين من الممفردات قصداً، وهما:

الأولى: تفسير المستشرقين للفتنة التي ورد ذكرها في قول ابن سيرين: "كانوا لا يسألون عن الإسناد حتى وقعت الفتنة".

والثانية: موقف الخوارج والشيعة من عدالة الصحابة رضي الله عنهم

وكان تركي لها للأسباب الآتية:

1- بالنسبة لتفسير المستشرقين فكان سقوطه وعدم صحته واضحاً بحيث لا يساوي تسويد الصفحات بالرد عليه لاسيما وهم قد تناقضوا

فيه.

ثم إن فضيلة شيخنا الدكتور أكرم العُمري قد كشف عوار ذلك التفسير بما لا مزيد عليه وذلك في كتابه "بحوث في تاريخ السنة" (51 - 52) .

2- أما موقف الخوارج والشيعة من عدالة الصحابة فأهملت الرد عليه للأسباب الآتية:

1- إن التنزل لمناقشة مثل هذه الآراء يعني وضع الصحابة في
সঠিক বুঝ লাভ করা, যা জানা হয়েছে তদনুযায়ী আমল করা এবং এরপর সেই ইলম উম্মতের মাঝে প্রচার ও প্রসার ঘটানোর ওপর।

তৃতীয়ত: আমি যথাসম্ভব কুল্লিয়াতুল হাদিসের (হাদিস অনুষদ) ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার চেষ্টা করেছি; তবে সংকলন ও গ্রন্থনার প্রয়োজনে কখনও কখনও কিছু সংযোজন, অতিরিক্ত আলোচনা অথবা কোনো কোনো অনুচ্ছেদে বিস্তারিত ব্যাখ্যার আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি।

তদ্রূপ আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি যাতে পাঠ্যক্রমের কোনো অনুচ্ছেদই আলোচনা ছাড়া বাদ না পড়ে। তবে আমি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষয়বস্তুর দুইটি অংশ বাদ দিয়েছি, সেগুলো হলো:

প্রথমটি: ইবনে সিরিনের এই উক্তি: "ফিতনা সংঘটিত হওয়ার আগে তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করত না"-তে বর্ণিত 'ফিতনা' শব্দের প্রাচ্যবিদদের দেওয়া ব্যাখ্যা।

দ্বিতীয়টি: সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে খাওয়ারিজ ও শিয়াদের অবস্থান।

আর এগুলো বাদ দেওয়ার কারণগুলো নিম্নরূপ:

১- প্রাচ্যবিদদের ব্যাখ্যার অসারতা ও ভিত্তিহীনতা এতই স্পষ্ট যে এর খণ্ডনে পৃষ্ঠা কালো করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই, বিশেষ করে তারা এ বিষয়ে নিজেরাই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য প্রদান করেছে।

এছাড়া আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ ডক্টর আকরাম আল-উমারি তাঁর "বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ" (৫১ - ৫২) গ্রন্থে সেই ব্যাখ্যার ত্রুটিসমূহ এমনভাবে উন্মোচন করেছেন যার পর আর কোনো সংযোজনের অবকাশ নেই।

২- আর সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে খাওয়ারিজ ও শিয়াদের অবস্থানের খণ্ডন আমি নিম্নোক্ত কারণে বর্জন করেছি:

১- এই জাতীয় মতামত নিয়ে পর্যালোচনার স্তরে নামার অর্থ হলো সাহাবীদেরকে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করানো...
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ৯)
قفص الاتهام ونسلم به جدلاً ثم ننشغل بعد ذلك بالدفاع ورد الشبهات بدلاً من أن نشغل أنفسنا بتقرير منهجهم وبيان مكانتهم في الأمة كما وردت في الكتاب والسنة وإجماع الأمة.

2- إنهم لا يحتاجون مع تزكية الله عز وجل لهم ورسوله صلى الله عليه وسلم إلى تزكية أحد فضلاً عن دفاعه عنهم.

3- إن سلفنا من علماء السنة لم يسودوا صفحات كتبهم بالرد على موقف هؤلاء المبتدعة من الصحابة، بل اكتفوا بسرد النصوص الواردة في تزكيتهم من الكتاب والسنة وإجماع الأمة وبيان فضلهم وجهادهم ثم انشغلوا بتقرير منهجهم في العلم والعمل.

انظر عن ذلك مثلاً: ما كتبه ابن أبي حاتم في مقدمة "الجرح والتعديل"، والخطيب البغدادي في "الكفاية" باب ما جاء في تعديل الله ورسوله للصحابة، وما كتبه الحافظ ابن حجر في مقدمة "الإصابة"، فضلاً عن صنيع صاحبي "الصحيح" الإمامين البخاري ومسلم حين خصصا في كتابيهما كتاباً لذكر ما ورد في فضائل الصحابة ومناقبهم وغير ذلك من الكتب.

4- إن من منهج السلف عندما يضطرون للرد على مثل هؤلاء الطوائف أن ينقلوا المعركة إلى عُقر دارهم، فيهتكوا أستارهم ويفضحوا باطلهم ويبينوا فساد وعوار منهجهم، ولا ينشغلوا برد ما يثيرونه من شكوك أو يروجونه من شبهات إلا في أضيق نطاق.

والله تعالى أسأله أن يجعل عملي هذا خالصاً لوجهه الكريم
অভিযুক্তের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তর্কের খাতিরে তা মেনে নেওয়া এবং এরপর তাদের পক্ষাবলম্বন ও সংশয় নিরসনে ব্যস্ত হয়ে পড়া; অথচ আমাদের উচিত ছিল কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের ইজমা অনুযায়ী তাদের মানহাজ (পদ্ধতি) সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং উম্মতের মাঝে তাদের মর্যাদা তুলে ধরা।

২- মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের পবিত্রতা ও সততা ঘোষণার (তাযকিয়াহ) পর তাদের জন্য অন্য কারোর প্রশংসা কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো প্রয়োজন নেই।

৩- সুন্নাহর আলিমগণের মধ্য থেকে আমাদের সালাফগণ (পূর্বসূরিগণ) সাহাবায়ে কিরামের প্রতি এই বিদআতিদের অবস্থানের জবাব দিয়ে নিজেদের কিতাবের পৃষ্ঠাগুলো পূর্ণ করেননি; বরং তাঁরা কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের ইজমা থেকে সাহাবীদের পবিত্রতা ও সততা বিষয়ক দলীলসমূহ বর্ণনা করা এবং তাঁদের ফযীলত ও জিহাদের বিবরণ দেওয়ার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছেন। এরপর তাঁরা জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে তাঁদের মানহাজ প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন।

উদাহরণস্বরূপ এ বিষয়ে দেখুন: ইবনে আবী হাতিম তাঁর 'আল-জারহু ওয়াত তা'দীল'-এর ভূমিকায় যা লিখেছেন, খতীব আল-বাগদাদী তাঁর 'আল-কিফায়াহ' গ্রন্থের 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক সাহাবীদের সততা ঘোষণা' অধ্যায়ে যা লিখেছেন, এবং হাফিয ইবনে হাজার তাঁর 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থের ভূমিকায় যা লিখেছেন। এছাড়া 'সহীহাইন'-এর দুই ইমাম, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম যা করেছেন, যখন তাঁরা তাঁদের কিতাবদ্বয়ে সাহাবীগণের ফযীলত ও মর্যাদা বর্ণনায় স্বতন্ত্র অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন; এছাড়াও আরও অনেক কিতাব রয়েছে।

৪- এ জাতীয় দলগুলোর জবাব দিতে যখন সালাফগণ বাধ্য হতেন, তখন তাঁদের মানহাজ ছিল লড়াইকে তাদের নিজেদের আঙিনায় নিয়ে যাওয়া; অর্থাৎ তাদের পর্দা উন্মোচন করা, তাদের বাতিল মতবাদকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেওয়া এবং তাদের মানহাজের ভ্রষ্টতা ও অসারতা ফুটিয়ে তোলা। তারা যেসব সন্দেহ উসকে দেয় বা যেসব সংশয় প্রচার করে, অত্যন্ত সংকীর্ণ পরিসর ছাড়া সেগুলোর জবাবে সালাফগণ নিজেদের ব্যতিব্যস্ত রাখতেন না।

আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই কাজকে একনিষ্ঠভাবে কেবল তাঁর মহান চেহারার উদ্দেশ্যে কবুল করেন।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ১০)
ويتقبله مني، والحمد لله أولاً وآخراً، وصلى الله وسلم على أشرف خلق الله محمد رسول الله.

المؤلف

د. محمد بن مطر الزهراني

في العشرين من شهر جمادى الأول من شهور سنة أربع عشرة بعد الأربع مئة وألف المدينة النبوية حرسها الله
এবং তিনি এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে। আল্লাহর সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ সত্তা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

লেখক

ড. মুহাম্মাদ বিন মাতার আল-জাহরানি

এক হাজার চারশত চৌদ্দ হিজরি সালের জুমাদাল উলা মাসের বিশ তারিখে, মদিনায়ে নববি, আল্লাহ একে রক্ষা করুন।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ১১)
إحداهما الأخرى في بيان جهود سلف هذه الأمة في خدمة هذا الدين وخدمة السنة النبوية على وجه الخصوص، وبما أن موضوعاتها المبينة في المنهج المقرر على طلاب الكلية لا يجمعها أو جُلّها كتاب واحد - فيما أعلم -، فعقدت العزم على جمع مفرداتها من مختلف الكتب التي اعتنت بذلك من كتب المتقدمين أو كتب المتأخرين.

وقد يسر الله لي بمنه وفضله أن انتهيت منذ سنتين من جمع مفردات منهج مادة تدوين السنة فأخرجته في كتاب بعنوان "تدوين السنة النبوية نشأته وتطوره من القرن الأول إلى نهاية القرن التاسع الهجري"، وقد تقيدت فيه بمفردات المنهج حسب الإمكان ولذلك جاءت موضوعاته في شكل نبذ مختصرة وليست مستوعبة لكل الموضوعات التي يمكن أن تدخل تحت العنوان.

وها أنا الآن أتقدم بإخراج الكتاب الثاني في هذا الموضوع، والذي يعد مكملاً للكتاب الأول وسميته "علم الرجال نشأته وتطوره من القرن الأول إلى نهاية القرن التاسع الهجري" جمعت فيه مفردات منهج مادة "رواة الحديث وطبقاتهم" المقرر على طلاب السنة الأولى بكلية الحديث، وقد جاء الكتاب في مقدمة وتمهيد وخمسة أبواب فيها أربعة عشر فصلاً تحتها واحد وخمسون مبحثاً.

وبعد: فهناك أمور أُحِبُّ أن أُنَبِّه عليها في هذه المقدمة تتمة للفائدة:

أولاً: إن قواعد علوم الحديث أو ما يسمى بمصطلح الحديث، والتي منها ما يتعلق بالرواية ومنها ما يتعلق بالدراية، كانت ثمرة لتطور التدوين في متون السنة والتصنيف في علم الرجال وجهود السلف في
এই উম্মতের সালাফদের দ্বীনের খিদমতে এবং বিশেষত সুন্নাহর খিদমতে তাদের প্রচেষ্টাসমূহের বিবরণে একটি অন্যটির পরিপূরক। যেহেতু অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলো আমার জানামতে কোনো একটি নির্দিষ্ট বইয়ে একত্রে পাওয়া যায় না — অন্তত আমার জ্ঞানত — তাই আমি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের রচিত বিভিন্ন কিতাব থেকে এর উপাদানসমূহ সংকলন করার সংকল্প করেছি।

আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে আমাকে তাওফিক দিয়েছেন যে, আমি দুই বছর আগে 'তাদউইনুস সুন্নাহ' (সুন্নাহ সংকলন) বিষয়ের পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলো সংকলন শেষ করেছি। আমি এটি "তাদউইন আস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ: নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল করনিল আওয়ালি ইলা নিহায়াতিল করনিত তাসি আল-হিজরি" (সুন্নাহ সংকলন: হিজরি প্রথম শতাব্দী থেকে নবম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত এর উদ্ভব ও বিকাশ) শিরোনামে একটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেছি। এতে আমি যথাসম্ভব পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি, যার ফলে এর বিষয়গুলো সংক্ষিপ্ত নিবন্ধ আকারে এসেছে এবং শিরোনামের অধীনে আসতে পারে এমন সমস্ত বিষয়কে এটি বেষ্টন করেনি।

এখন আমি এই বিষয়ে দ্বিতীয় গ্রন্থটি প্রকাশ করছি, যা প্রথম গ্রন্থের পরিপূরক হিসেবে গণ্য। আমি এর নাম দিয়েছি "ইলমুর রিজাল: নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল করনিল আওয়ালি ইলা নিহায়াতিল করনিত তাসি আল-হিজরি" (ইলমুর রিজাল: হিজরি প্রথম শতাব্দী থেকে নবম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত এর উদ্ভব ও বিকাশ)। এতে আমি হাদিস অনুষদের প্রথম বর্ষের ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত "রাওয়াতুল হাদিস ওয়া তাবাকাতুহুম" (হাদিস বর্ণনাকারী ও তাদের স্তর) বিষয়ের পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তুগুলো সংকলন করেছি। গ্রন্থটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমনিকা এবং পাঁচটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যার অধীনে চৌদ্দটি পরিচ্ছেদ এবং একান্নটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

অতঃপর: ফায়দা বা উপকারের পূর্ণতার লক্ষ্যে এই ভূমিকায় আমি কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই:

প্রথমত: উলূমুল হাদিসের মূলনীতিসমূহ বা যাকে 'মুসতালাহুল হাদিস' বলা হয়, যার কোনোটি বর্ণনার (রিওয়ায়াত) সাথে এবং কোনোটি উপলব্ধির (দিরায়াত) সাথে সংশ্লিষ্ট, তা ছিল সুন্নাহর মূল পাঠগুলোর সংকলন, ইলমুর রিজালের শ্রেণিবিন্যাস এবং সালাফদের প্রচেষ্টার বিকাশের এক অনিবার্য ফল...
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ১২)
ذلك.

وقد مر التصنيف في مصطلح الحديث بعدة مراحل:

المرحلة الأولى: عندما كانت قواعده تتناقل إما مشافهة وإما منثورة في مصنفات شتَّى، وذلك طيلة القرون الثلاثة الأولى، إذ لم يوجد - فيما أعلم - مصنف واحد يجمع تلك القواعد في هذه القرون الثلاثة، وإنما وجد بعضها منثوراً في مثل: "الرسالة" للإمام الشافعي، وكتاب "التمييز" للإمام مسلم، وكذلك في مقدمة "صحيحه"، وفي كتب معرفة الرجال والعلل، وكتب الجرح والتعديل المختلفة وغيرها.

المرحلة الثانية: محاولة جمع هذه القواعد في كتاب واحد أو في كتب، وهذه المرحلة امتدت من أوائل القرن الرابع إلى نهاية القرن الخامس تقريباً، ومن أهم هذه الكتب:

1- المحدث الفاصل لأبي محمد بن خلاد الرامهرمزي (ت 360 هـ) .

2- معرفة علوم الحديث لأبي عبد الله الحاكم (ت 405 هـ) .

3- الكفاية لأبي بكر الخطيب البغدادي (ت 463 هـ) .

وغيره من كتبه الأخرى.

وتميزت هذه المؤلفات بسرد الراويات والأسانيد ثم استخلاص القواعد منها، وذكر من قال بها أو ذهب إليها من السلف.

المرحلة الثالثة: ما بعد القرن الخامس، وهي مرحلة جمع
এটি।

আর হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (মুস্তলাহুল হাদিস) বিষয়ক গ্রন্থ রচনা কয়েকটি পর্যায় অতিক্রম করেছে:

প্রথম পর্যায়: যখন এর নিয়মাবলি হয় মৌখিকভাবে অথবা বিভিন্ন গ্রন্থে বিক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হতো। এটি প্রথম তিন শতাব্দী জুড়ে বিদ্যমান ছিল। আমার জানা মতে, এই তিন শতাব্দীতে এমন কোনো একক গ্রন্থ পাওয়া যায় না যা এই নিয়মাবলিকে একত্রিত করেছে। বরং এগুলোর কিছু অংশ বিক্ষিপ্তভাবে পাওয়া যেত যেমন: ইমাম শাফেয়ীর "আর-রিসালাহ", ইমাম মুসলিমের "আত-তাময়িজ" গ্রন্থ, তেমনিভাবে তাঁর "সহিহ"-এর ভূমিকা, মারেফাতুর রিজাল ও ইলাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ এবং জারাহ ও তাদিল বিষয়ক বিভিন্ন গ্রন্থাদিতে।

দ্বিতীয় পর্যায়: এই নিয়মাবলিকে একটি গ্রন্থে বা একাধিক গ্রন্থে সংকলন করার প্রচেষ্টা। এই পর্যায়টি আনুমানিক চতুর্থ শতাব্দীর শুরু থেকে পঞ্চম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১- আবু মুহাম্মদ ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুযী (মৃত্যু ৩৬০ হি.) রচিত 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল'।

২- আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (মৃত্যু ৪০৫ হি.) রচিত 'মারেফাতু উলুমিল হাদিস'।

৩- আবু বকর আল-খতিব আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) রচিত 'আল-কিফায়াহ'।

এবং তাঁর অন্যান্য গ্রন্থসমূহ।

এই সংকলনগুলোর বৈশিষ্ট্য ছিল বর্ণনা ও সনদসমূহ ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা এবং এরপর সেগুলো থেকে নিয়মাবলি আহরণ করা এবং সালাফদের মধ্য থেকে যারা তা বলেছেন বা যে মত পোষণ করেছেন তাদের কথা উল্লেখ করা।

তৃতীয় পর্যায়: পঞ্চম শতাব্দীর পরবর্তী সময়, যা হলো সংকলন ও সংগ্রহের পর্যায়
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ১৩)
القواعد من كتب من تقدم من الأئمة بدون ذكر الأسانيد أو الروايات، ثم محاولة إعادة ترتيبها وتهذيبها، ومن أبرز المؤلفات في ذلك كتاب "مقدمة في علوم الحديث" للحافظ أبي عمرو ابن الصلاح (ت 643 هـ) وما تفرع منها من اختصار أو تنكيت أو نظم أو شرح وغير ذلك.

ثانياً: إنه من خلال معايشتي لجهود سلف هذه الأمة في خدمة هذا الدين أثناء عملي في كتابي "تدوين السنة"، و "علم الرجال" لاحظت الأمور الآتية:

1- إن الإخلاص لله كان رائدهم في كل ما قاموا به من الأعمال وما بذلوه من جهود، حيث كان ذلك كله ابتغاء وجه الله عز وجل وذبّاً للكذب عن سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

2- إن حياتهم وأوقاتهم كلها كانت إما في طلب علم أو عمل عبادة أو نشر للعلم وجهاد في سبيل الله، فما كانوا يرون الراحة إلا في طلب العلم والعمل به ثم نشره بين الناس.

3- إنهم لم يكونوا يبتغون بأعمالهم منصباً دنيويّاً أو جاهاً عند ذي سلطان أو التكثر من الأموال، بل كانوا يفرون من ذلك كله فرار الصحيح من المجذوم، وما كان الغرور والعجب والكبر والرياء ليجد إلى قلوبهم سبيلاً فضلاً من الله ونعمة، بل كان الاحتساب لله رائدهم، وإظهار العلم وإخفاء العمل هديهم.

4- إنهم كانوا في طلب العلم يتدرجون وفق برنامج علمي وعملي سليم، فيبدأون بالتعبد والتأدب أولاً، ثم يشرع الطالب بعد ذلك في طلب العلم على أهله المعروفين مخلصاً نيته في طلبه حريصاً
পূর্ববর্তী ইমামগণের কিতাবসমূহ থেকে সনদ বা বর্ণনা উল্লেখ ছাড়াই মূলনীতিসমূহ সংগ্রহ করা, অতঃপর সেগুলোকে পুনরায় বিন্যস্ত ও পরিমার্জন করার প্রচেষ্টা। এই বিষয়ের অন্যতম প্রধান রচনা হলো হাফিজ আবু আমর ইবনুস সালাহ (মৃত্যু ৬৪৩ হি.)-এর 'মুকাদ্দিমা ফি উলুমিল হাদিস' এবং এটিকে কেন্দ্র করে রচিত সংক্ষিপ্তসার, টীকা, পদ্যরূপ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইত্যাদি।

দ্বিতীয়ত: আমার রচিত 'তাদউনুস সুন্নাহ' ও 'ইলমুর রিজাল' গ্রন্থ দুটির কাজ করার সময় এই উম্মতের সালাফদের দ্বীনের খিদমতে নিয়োজিত প্রচেষ্টাসমূহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য করেছি:

১- তারা যেসব আমল করেছেন এবং যে প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, সবকিছুর মূলে তাদের চালিকাশক্তি ছিল আল্লাহর প্রতি ইখলাস। কারণ এ সবকিছুর উদ্দেশ্য ছিল কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ থেকে মিথ্যাকে প্রতিহত করা।

২- তাদের জীবন ও সময়ের পুরোটাই অতিবাহিত হতো ইলম অর্জন, ইবাদত-বন্দেগি, ইলম প্রচার অথবা আল্লাহর পথে জিহাদে। ইলম অন্বেষণ, সে অনুযায়ী আমল করা এবং মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাঝেই তারা কেবল প্রশান্তি খুঁজে পেতেন।

৩- তারা তাদের কর্মতৎপরতার মাধ্যমে কোনো পার্থিব পদমর্যাদা, কোনো শাসকের নৈকট্য বা সম্পদ বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা করতেন না। বরং তারা এসব থেকে সেভাবেই পলায়ন করতেন যেভাবে একজন সুস্থ ব্যক্তি কুষ্ঠরোগী থেকে পলায়ন করে। আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেয়ামতে কোনো অহমিকা, আত্মমুগ্ধতা, অহংকার বা রিয়া (লোকদেখানো মানসিকতা) তাদের অন্তরে প্রবেশের পথ পেত না। বরং আল্লাহর কাছে সওয়াব প্রাপ্তির আশায় কাজ করাই ছিল তাদের চালিকাশক্তি এবং ইলম প্রকাশ ও আমল গোপন রাখাই ছিল তাদের আদর্শ।

৪- ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে তারা একটি সঠিক ইলমি ও আমলি কর্মসূচি অনুযায়ী পর্যায় অনুসরণ করতেন। তারা প্রথমে ইবাদত ও আদব অর্জনের মাধ্যমে শুরু করতেন, এরপর ছাত্ররা ইলমের উপযুক্ত ও পরিচিত বিজ্ঞজনদের কাছে একনিষ্ঠ নিয়ত ও প্রবল আগ্রহের সাথে ইলম অর্জন শুরু করত।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ১৫)
ال‌‌تمهيد:

أولاً: الإسناد وأهميته:

أ- تعريف الإسناد:

قال الحافظ بدر الدين بن جماعة (ت 733 هـ) :

"السند: هو الإخبار عن طريق المتن، وهو مأخوذ:

إما من السند وهو ما ارتفع وعلا من سفح الجبل لأن المسند - بكسر النون - يرفعه إلى قائله.

أو من قولهم: فلان سند أي معتمد، فسمي الإخبار عن طريق المتن سنداً لاعتماد الحفاظ في صحة الحديث وضعفه عليه.

وأما الإسناد فهو رفع الحديث إلى قائله، والمحدثون يستعملون السند والإسناد لشيء واحد".

وقال: "وقبله المتن: فهو في اصطلاح المحدثين ما ينتهى إليه غاية السند من الكلام، وهو مأخوذ إما من المماتنة وهي المباعدة في الغاية لأن المتن غاية السند، أو من المتن وهو ما صلب وارتفع من الأرض، أو من تمتين القوس بالعصب وهو شدها به وإصلاحها" 1 اهـ. بتصرف يسير.

وقال الحافظ الحسين بن عبد الله الطيبي (ت 743 هـ) :

--------------------------------------------

1المنهل الروي لابن جماعة (ص: 29 - 30) .
ভূমিকা:

প্রথমত: ইসনাদ ও এর গুরুত্ব:

ক- ইসনাদের সংজ্ঞা:

হাফেজ বদরুদ্দীন ইবনুল জামায়াহ (ওফাত ৭৩৩ হিজরি) বলেন:

"সনদ: এটি হলো মতন (মূল পাঠ) পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান। এটি গৃহীত হয়েছে:

হয় 'সনদ' শব্দ থেকে, যার অর্থ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উঁচু ও উন্নত স্থান; কেননা মুসনিদ (নুন বর্ণে কাসরা বা জের সহকারে) একে এর বক্তা পর্যন্ত উন্নীত করেন।

অথবা তাদের কথা 'অমুক ব্যক্তি একজন সনদ' অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে; তাই মতন পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ সম্পর্কে সংবাদ প্রদানকে সনদ বলা হয়, কারণ হাদিসের শুদ্ধতা ও দুর্বলতা নির্ণয়ে হাফেজগণ এর ওপর নির্ভর করেন।

আর ইসনাদ হলো হাদিসকে তার বক্তা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। মুহাদ্দিসগণ সনদ ও ইসনাদ শব্দ দুটি একই অর্থে ব্যবহার করেন।"

তিনি আরও বলেন: "এর পূর্বে রয়েছে মতন: মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় তা হলো এমন কথা যেখানে সনদের শেষ প্রান্ত গিয়ে পৌঁছেছে। এটি গৃহীত হয়েছে হয় 'মুমাতানাহ' থেকে, যার অর্থ দূরবর্তী লক্ষ্য; কারণ মতন হলো সনদের শেষ লক্ষ্য। অথবা 'মতন' থেকে, যার অর্থ জমিনের শক্ত ও উঁচু অংশ। অথবা রগ বা তন্তু দিয়ে ধনুক মজবুত করা থেকে, যার অর্থ তাকে শক্তিশালী করা ও সংশোধন করা।" ১—সমাপ্ত, সামান্য পরিমার্জনসহ।

হাফেজ হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আত-তিবি (ওফাত ৭৪৩ হিজরি) বলেন:

--------------------------------------------

১. ইবনুল জামায়াহ রচিত আল-মানহালুর রাবি (পৃষ্ঠা: ২৯-৩০)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ১৬)
"والسند: إخبار عن طريق المتن، من قولهم فلان سند أي معتمد، فسمي سنداً لاعتماد الحفاظ في صحة الحديث وضعفه عليه".

والإسناد: رفع الحديث إلى قائله. فعلى هذا السند والإسناد يتقاربان في معنى الاعتماد".

وقال قبله: "المتن: هو ما اكتنف الصلب من الحيوان وبه شبه المتن من الأرض، ومَتُنَ الشيءُ قَوِيَ متنُه، ومنه حبل متين، فمتنُ كل شيء ما يتقوم به ذلك الشيء، كما أن الإنسان يتقوم بالظهر ويتقوى به.

فمتن الحديث ألفاظه التي تتقوم بها المعاني.

واختلف في متن الحديث، أهو قول الصحابي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وكذا أو هو قول الرسول صلى الله عليه وسلم فحسب، والأول أظهر لما تقرر من أن السنة إما قول أو فعل أو تقرير". 1 اهـ.

ب: أهمية الإسناد:

للإسناد مكانته وأهميته في الإسلام، إذ الأصل في ذلك تلقي الأمة لهذا الدين عن الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين، وهم تلقوه عن رسول رب العالمين محمد صلى الله عليه وسلم، وهو تلقى عن رب العزة والجلال

--------------------------------------------

1الخلاصة في أصول الحديث (ص: 30) ، وانظر: تدريب الراوي (1 / 41 - 42) ، ونزهة النظر (ص: 19، 25 - 53) ، وفتح المغيث للسخاوي (1 / 14) ، وانظر: مادة "سند" من صحاح الجوهري (2 / 479) ، وتاج العروس للزبيدي (2 / 381 - 382) .
সানাদ হলো: মাতনের পথ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া, যা তাদের এই উক্তি থেকে গৃহীত যে ‘অমুক ব্যক্তি সানাদ’ অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য; সুতরাং একে সানাদ বলা হয়েছে কারণ হাদিসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার ক্ষেত্রে হাফেজগণ এর ওপর নির্ভর করেন।

এবং ইসনাদ হলো: হাদিসকে তার প্রবক্তা পর্যন্ত পৌঁছানো। এই বিচারে সানাদ ও ইসনাদ নির্ভরতা প্রকাশের অর্থের দিক থেকে পরস্পর নিকটবর্তী।

আর তিনি এর পূর্বে বলেছেন: "মাতন হলো: প্রাণীর মেরুদণ্ড সংলগ্ন অংশ, এবং এর সাথে যমীনের শক্ত অংশকে তুলনা করা হয়েছে। কোনো বস্তু ‘মাতুনা’ হওয়ার অর্থ হলো তার মধ্যভাগ শক্তিশালী হওয়া, আর এখান থেকেই ‘হাবলুন মাতিন’ বা শক্তিশালী দড়ি শব্দটির উৎপত্তি। সুতরাং প্রত্যেক বস্তুর মাতন হলো এমন কিছু যা দ্বারা ঐ বস্তুটি সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে, যেমন মানুষ পিঠের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে এবং এর মাধ্যমে শক্তি অর্জন করে।

সুতরাং হাদিসের মাতন হলো তার সেই শব্দগুচ্ছ যার মাধ্যমে অর্থসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

হাদিসের মাতন বলতে কী বোঝায় তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; তা কি সাহাবীর সেই বক্তব্য যা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, নাকি তা শুধুমাত্র আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী? প্রথম মতটিই অধিক স্পষ্ট, কারণ এটি প্রতিষ্ঠিত যে সুন্নাহ হলো কথা, কাজ অথবা মৌনসম্মতি।" ১ সমাপ্ত।

খ: ইসনাদের গুরুত্ব:

ইসলামে ইসনাদের বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব রয়েছে, কেননা এর মূল ভিত্তি হলো এই উম্মতের পক্ষ থেকে সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর নিকট থেকে এই দ্বীন গ্রহণ করা, আর তাঁরা তা গ্রহণ করেছেন বিশ্বজাহানের রব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট থেকে, আর তিনি তা গ্রহণ করেছেন মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত রবের নিকট থেকে।

--------------------------------------------

১ আল-খুলাসাহ ফি উসুলিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৩০), এবং দেখুন: তাদরিবুর রাবি (১ / ৪১ - ৪২), নুযহাতুন নাযার (পৃষ্ঠা: ১৯, ২৫ - ৫৩), সাখাওয়ীর ফাতহুল মুগিস (১ / ১৪), এবং দেখুন: জাওহারীর সিহাহ-এর "সানাদ" মূলশব্দ (২ / ৪৭৯), এবং যুবাইদীর তাজুল আরূস (২ / ৩৮১ - ৩৮২)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ১৭)
بواسطة أو بغير واسطة كما هو معلوم من أقسام الوحي.

وكذلك ما صح عن ابن عباس أنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "تَسْمَعُون ويُسْمَع مِنْكُمْ وَيُسْمَعُ مِمَّنْ يَسْمَعُ مِنْكُمْ". 1

وللدلالة على أهمية ومكانة الإسناد من الإسلام، أذكر فيما يلي طائفة من أقوال السلف رحمهم الله:

1- روى الإمام مسلم بسنده عن محمد بن سيرين قال: "الإسناد من الدين ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء". 2

2- وبإسناده إلى محمد بن سيرين أيضاً قال: "إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم".3 وذلك لأن الإسناد وسيلة لتمييز الأحاديث الصحيحة من الضعيفة مما يترتب عليه معرفة أحكام أو تعاليم الدين.

--------------------------------------------

1أخرجه أبو داود في كتاب العلم من السنن باب فضل نشر العلم (ح 3659) ، وأخرجه الإمام أحمد كلاهما بسند صحيح، المسند (4 / 340) ح 2947، تحقيق الشيخ أحمد شاكر، وأخرجه الحاكم في معرفة علوم الحديث (ص: 60) وقال: "لقد وصف رسول الله صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث أربع طباق في رواة الحديث وهذه الخامسة التي نحن فيها على ما وصفه".

وأخرجه الخطيب البغدادي في شرف أصحاب الحديث (ص: 37 - 38) ، من طريقين يقوي أحدهما الآخر وعنون له بقوله: "بشارة النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه بكون طلبة الحديث بعده واتصال الإسناد بينهم وبينه".

2مقدمة صحيح الإمام مسلم (1 / 15) ، وروى هذا القول مسلم أيضاً عن ابن المبارك، وانظر: المحدث الفاصل (ص: 209) .

3مقدمة صحيح مسلم (1 / 14) ، وانظر: المحدث الفاصل (ص: 414) .
মাধ্যম বা মাধ্যম ব্যতীত, যেমনটি ওহীর প্রকারভেদ থেকে জানা যায়।

একইভাবে ইবনে আব্বাস থেকে যা সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা (আমার থেকে) শুনছো, তোমাদের থেকেও শোনা হবে এবং যারা তোমাদের থেকে শুনছে তাদের থেকেও শোনা হবে।" ১

ইসলামে ইসনাদ বা বর্ণনাসূত্রের গুরুত্ব ও মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য আমি নিচে সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) কিছু উক্তি উল্লেখ করছি:

১- ইমাম মুসলিম তাঁর নিজস্ব সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইসনাদ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, যদি ইসনাদ না থাকতো তবে যার যা ইচ্ছে সে তাই বলতো।" ২

২- এবং তাঁরই সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে আরও বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম (জ্ঞান) দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছো।" ৩ আর এটি এ কারণে যে, ইসনাদ হলো দুর্বল হাদীস থেকে বিশুদ্ধ হাদীসকে পৃথক করার মাধ্যম, যার ওপর ভিত্তি করে দ্বীনের বিধান বা শিক্ষাগুলো জানা সম্ভব হয়।

--------------------------------------------

১. এটি আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থের কিতাবুল ইলম-এর 'ইলম প্রচারের ফযীলত' পরিচ্ছেদে (হা. ৩৬৫৯) বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদও এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, আল-মুসনাদ (৪/৩৪০) হা. ২৯৪৭, শেখ আহমদ শাকিরের তাহকীক। আল-হাকিম 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদীস' গ্রন্থে (পৃ. ৬০) এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই হাদীসে হাদীস বর্ণনাকারীদের চারটি স্তরের বর্ণনা দিয়েছেন এবং আমরা বর্তমানে যে স্তরে রয়েছি তা হলো পঞ্চম স্তর, যেমনটি তিনি বর্ণনা করেছেন।"

আল-খাতীব আল-বাগদাদী এটি 'শরফু আসহাবিল হাদীস' গ্রন্থে (পৃ. ৩৭-৩৮) দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন যার একটি অন্যটিকে শক্তিশালী করে এবং তিনি এর শিরোনাম দিয়েছেন এভাবে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক তাঁর সাহাবীদের সুসংবাদ প্রদান এই মর্মে যে, তাঁর পরে হাদীস অন্বেষণকারীগণ আসবেন এবং তাঁদের ও তাঁর মাঝে বর্ণনাসূত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।"

২. সহীহ ইমাম মুসলিমের মুকাদ্দিমা বা ভূমিকা (১/১৫)। ইমাম মুসলিম এই উক্তিটি ইবনুল মুবারক থেকেও বর্ণনা করেছেন। আরও দেখুন: আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল (পৃ. ২০৯)।

৩. সহীহ মুসলিমের ভূমিকা (১/১৪)। আরও দেখুন: আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল (পৃ. ৪১৪)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ১৮)
3- وأخرج مسلم أيضاً بإسناده إلى الإمام عبد الله بن المبارك أنه قال: "بيننا وبين القوم القوائم" يعني الإسناد. 1

4- وأخرج ابن حبان عن سفيان الثوري قال: "الإسناد سلاح المؤمن، إذا لم يكن معه سلاح فبأيِّ شيءٍ يقاتل". 2

5- وبإسناده إلى شعبة قال: "كل حديث ليس فيه (حدثنا) و (أخبرنا) فهو مثل الرجل بالفلاة معه البعير ليس له خطام". 3

6- أخرج الخطيب بسنده إلى أبي بكر محمد بن أحمد (ت 331 هـ) قال: "بلغني أن الله خص هذه الأمة بثلاثة أشياء لم يعطها مَنْ قبلها من الأمم: الإسناد والأنساب والإعراب". 4

7- وقال الحافظ السيوطي: قال أبو علي الحسين بن محمد الجياني الغساني (ت 498 هـ) : "خص الله تعالى هذه الأمة بثلاثة أشياء لم يعطها مَنْ قبلها: الإسناد والأنساب والإعراب". 5

8- وقال الحافظ أبو محمد بن حزم (ت 456 هـ) :

"نقل الثقة عن الثقة يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم مع الاتصال، نقل خص الله عز وجل به المسلمين، دون سائر أهل الملل كلها. وأما مع الإرسال والإعضال فمن هذا النوع كثير من نقل اليهود بل هو أعلى

--------------------------------------------

1مقدمة صحيح مسلم (1 / 15) .

2مقدمة المجروحين لابن حبان (1 / 27) ، وشرف أصحاب الحديث للخطيب (ص: 24) .

3مقدمة المجروحين (1 / 27) .

4شرف أصحاب الحديث (ص: 40) .

5تدريب الراوي (1/159 - 160) .
৩- ইমাম মুসলিমও তার সনদে ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমাদের এবং সেই কওমের মাঝে খুঁটিসমূহ (বিদ্যমান)" অর্থাৎ সনদ। ১

৪- ইবনে হিব্বান সুফিয়ান সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "সনদ হলো মুমিনের অস্ত্র; যদি তার কাছে অস্ত্র না থাকে, তবে সে কী দিয়ে যুদ্ধ করবে?" ২

৫- এবং তার সনদে শুবা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যে হাদীসে (হাদ্দাসানা) এবং (আখবারানা) নেই, তা হলো জনশূন্য প্রান্তরে উট নিয়ে থাকা সেই ব্যক্তির মতো যার উটের কোনো লাগাম নেই।" ৩

৬- আল-খতিব তার সনদে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ (মৃত্যু ৩৩১ হিজরি) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহ এই উম্মতকে এমন তিনটি বিষয় দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন যা তিনি তাদের পূর্ববর্তী কোনো উম্মতকে দান করেননি: সনদ, বংশতত্ত্ব এবং ব্যাকরণ (ইরাব)।" ৪

৭- হাফেজ সুয়ূতী বলেন: আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-জায়ানি আল-গাসসানি (মৃত্যু ৪৯৮ হিজরি) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে তিনটি বিষয়ে বিশেষায়িত করেছেন যা তিনি পূর্ববর্তীদের দেননি: সনদ, বংশতত্ত্ব এবং ব্যাকরণ (ইরাব)।" ৫

৮- হাফেজ আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম (মৃত্যু ৪৫৬ হিজরি) বলেন:

"একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী কর্তৃক অন্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করা—যা অবিচ্ছিন্নভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে—এটি এমন এক বিশেষ বর্ণনা পদ্ধতি যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কেবল মুসলিমদের দান করেছেন, অন্য সকল ধর্মাবলম্বীদের বাদ দিয়ে। আর মুরসাল এবং মু'দাল (বিচ্ছিন্ন) বর্ণনার ক্ষেত্রে এই ধরনের বর্ণনা ইহুদিদের মধ্যে অনেক রয়েছে, বরং সেটিই সর্বোচ্চ

--------------------------------------------

১ সহীহ মুসলিমের ভূমিকা (১ / ১৫)।

২ ইবনে হিব্বান রচিত আল-মাজরুহীনের ভূমিকা (১ / ২৭), এবং আল-খতিব রচিত শারফু আসহাবিল হাদীস (পৃ: ২৪)।

৩ আল-মাজরুহীনের ভূমিকা (১ / ২৭)।

৪ শারফু আসহাবিল হাদীস (পৃ: ৪০)।

৫ তাদরীবুর রাবি (১/১৫৯ - ১৬০)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ১৯)
ما عندهم إلا أنهم لا يقربون فيه من موسى عليه السلام كقربنا فيه من محمد صلى الله عليه وسلم … وأما النصارى فليس عندهم من صفة هذا النقل إلا تحريم الطلاق وحده فقط على أن مخرجه من كذَّاب قد صحَّ كذبه، ثم قال: وأما النقل بالطريق المشتملة على كذَّاب أو مجهول العين فكثير في نقل اليهود والنصارى" اهـ ملخصاً. 1

9- وقال أبو حاتم الرازي رحمه الله (ت 277 هـ) :

"لم يكن في أمة من الأمم منذ خلق الله آدم أمناء يحفظون آثار الرسل إلا في هذه الأمة".

فقال له رجل: يا أبا حاتم ربما رووا حديثاً لا أصل له ولا يصح.

فقال: "علماؤهم يعرفون الصحيح من السقيم، فروايتهم ذلك للمعرفة ليتبين لمن بعدهم أنهم ميزوا الآثار وحفظوها"، ثم قال: "رحم الله أبا زرعة كان والله مجتهداً في حفظ آثار رسول الله صلى الله عليه وسلم". 2

10- روى الخطيب البغدادي (ت 463 هـ) بإسناده إلى أبى العباس محمد بن عبد الرحمن الدغولي قال: سمعت محمد بن حاتم بن المظفر يقول: "إن الله أكرم هذه الأمة وشرفها وفضلها

--------------------------------------------

1الفصل (2 / 219 - 223) ، فصل: "كيف تم نقل القرآن وأمور الدين.." وهو فصل مهم جداً في هذا الباب.

2شرف أصحاب الحديث (ص: 42 - 43) .
তাদের কাছে এটি ছাড়া আর কিছুই নেই যে, তারা এতে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর ততটা নিকটবর্তী নয়, যতটা আমরা এতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটবর্তী … আর খ্রিস্টানদের নিকট এই বর্ণনার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কেবল তালাক হারাম হওয়া ছাড়া আর কিছুই নেই, অথচ তার বর্ণনাকারী একজন মিথ্যাবাদী যার মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এরপর তিনি বলেন: আর এমন সূত্রের মাধ্যমে বর্ণনা যার মধ্যে মিথ্যাবাদী বা অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে, তা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বর্ণনায় অনেক বেশি। — সংক্ষেপিত। ১

৯- এবং আবু হাতিম আর-রাজি (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ২৭৭ হিজরি) বলেছেন:

"আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করার পর থেকে কোনো উম্মতের মধ্যেই এমন আমানতদার ছিল না যারা রাসূলগণের নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণ করবে, কেবল এই উম্মত ছাড়া।"

তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল: হে আবু হাতিম, তারা তো এমন হাদিসও বর্ণনা করেন যার কোনো ভিত্তি নেই এবং যা সহিহ নয়।

তিনি বললেন: "তাদের আলেমগণ ত্রুটিযুক্ত হাদিস থেকে সহিহ হাদিসকে চিনতে পারেন। তাদের সেটি বর্ণনা করা কেবল অবগতির জন্য, যাতে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, তারা নিদর্শনগুলোকে পৃথক করেছেন এবং সেগুলো সংরক্ষণ করেছেন।" এরপর তিনি বলেন: "আল্লাহ আবু যুরআহ-র ওপর রহম করুন, আল্লাহর কসম, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণে কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন।" ২

১০- আল-খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি) তার সনদে আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আদ-দাগুলি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন হাতিম বিন আল-মুজাফফরকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতকে সম্মানিত করেছেন, মর্যাদা দিয়েছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন

--------------------------------------------

১ আল-ফাসাল (২ / ২১৯ - ২২৩), পরিচ্ছেদ: "কীভাবে কুরআন ও দ্বীনি বিষয়সমূহ বর্ণিত হয়েছে..." এবং এটি এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচ্ছেদ।

২ শারাফু আসহাবিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৪২ - ৪৩)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ২০)
بالإسناد، وليس لأحد من الأمم كلها قديمهم وحديثهم إسناد، وإنما هي صحف في أيديهم، وقد خلطوا بكتبهم أخبارهم، وليس عندهم تمييز بين ما نزل من التوراة والإنجيل مما جاءهم به أنبياؤهم، وتمييز بين ما ألحقوه بكتبهم من الأخبار التي أخذوها عن غير الثقات.

وهذه الأمة إنما تَنُصّ الحديث من الثقة المعروف في زمانه المشهور بالصدق والأمانة عن مثله حتى تتناهى أخبارهم، ثم يبحثون أشد البحث حتى يعرفوا الأحفظ فالأحفظ، والأضبط فالأضبط، والأطول مجالسة لمن فوقه ممن كان أقل مجالسة.

ثم يكتبون الحديث من عشرين وجهاً وأكثر حتى يهذّبوه من الغلط والزلل، ويضبطوا حروفه ويعدّوه عداً، فهذا من أعظم نعم الله تعالى على هذه الأمة نستوزع الله شكره هذه النعمة ونسأله التثبيت والتوفيق لما يُقرب منه ويُزْلف لديه، ويمسكنا بطاعته إنه ولي حميد.

فليس أحد من أهل الحديث يحابي في الحديث أباه ولا أخاه ولا ولده، وهذا علي بن عبد الله المديني - وهو إمام الحديث في عصره -، لا يُروى عنه حرف واحد في تقوية أبيه بل يُروى ضد ذلك، فالحمد لله على ما وفقنا ". 1

11- وقال أبو عبد الله الحاكم ت (405 هـ) : "فلولا الإسناد وطلب هذه الطائفة له وكثرة مواظبتهم على حفظه لدرس منار الإسلام ولتمكن أهل الإلحاد والبدع منه بوضع الأحاديث وقلب الأسانيد، فإن الأخبار إذا تعرَّت عن وجود الأسانيد فيها كانت بُتْراً".

--------------------------------------------

1شرف أصحاب الحديث (ص: 40 - 41) .
সনদের মাধ্যমেই (সবকিছু সংরক্ষিত)। প্রাচীন বা আধুনিক কোনো জাতির কাছেই সনদ নেই। তাদের কাছে যা আছে তা কেবল কিছু পাণ্ডুলিপি; তারা তাদের কিতাবগুলোর সাথে নিজেদের ইতিহাস বা সংবাদসমূহ মিশিয়ে ফেলেছে। তাদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলের অবতীর্ণ অংশের সাথে তাদের নবীদের আনীত শিক্ষার মধ্যে পার্থক্য করার কোনো মানদণ্ড নেই, এবং নির্ভরযোগ্য নয় এমন ব্যক্তিদের থেকে প্রাপ্ত যেসব সংবাদ তারা কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে সেগুলোর মাঝেও পার্থক্য করার কোনো উপায় নেই।

আর এই উম্মত কেবল সেই নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকেই হাদিস বর্ণনা করে যিনি স্বীয় যুগে সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার জন্য সুপরিচিত, তিনি আবার বর্ণনা করেন তার মতোই নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির থেকে—এভাবে সংবাদগুলো শেষ পর্যন্ত পৌঁছায়। এরপর তারা অত্যন্ত গভীরভাবে গবেষণা করেন যাতে করে কে সবচাইতে বেশি মুখস্থকারী, কে সবচাইতে বেশি সুসংরক্ষণকারী এবং কার সাহচর্য দীর্ঘ ছিল আর কার সংক্ষিপ্ত ছিল তা নিরূপণ করা যায়।

অতঃপর তারা একটি হাদিসকে বিশ বা তারও অধিক সূত্র থেকে লিপিবদ্ধ করেন যাতে সেটিকে ভুল ও বিচ্যুতি থেকে পরিচ্ছন্ন করা যায়, এবং তারা এর প্রতিটি বর্ণকে সুসংরক্ষণ করেন এবং তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গণনা করে রাখেন। এটি এই উম্মতের প্রতি মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। আমরা এই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের তৌফিক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে দৃঢ়তা ও এমন কাজের তাওফিক চাই যা তাঁর নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভে সহায়ক হয়, এবং তিনি যেন আমাদের তাঁর আনুগত্যে অবিচল রাখেন; নিশ্চয়ই তিনি অভিভাবক ও প্রশংসিত।

সুতরাং হাদিস বিশারদগণের মধ্যে কেউই হাদিসের ব্যাপারে নিজের পিতা, ভাই কিংবা সন্তানের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেন না। এই যে আলি বিন আব্দুল্লাহ আল-মাদিনি—যিনি তার যুগের হাদিসের ইমাম ছিলেন—নিজের পিতার নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে তার থেকে একটি শব্দও বর্ণিত হয়নি, বরং এর বিপরীতই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং আমাদের যে তৌফিক দান করা হয়েছে তার জন্য আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা। ১

১১- এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (মৃত্যু ৪০৫ হিজরি) বলেন: "যদি সনদ এবং এই জামাতের পক্ষ থেকে সনদ অন্বেষণ ও তা সংরক্ষণে তাদের নিরলস প্রচেষ্টা না থাকত, তবে ইসলামের নিদর্শনসমূহ বিলীন হয়ে যেত এবং নাস্তিক ও বিদআতিরা হাদিস জাল করে ও সনদ পরিবর্তন করে ইসলামের উপর চড়াও হওয়ার সুযোগ পেয়ে যেত। কেননা সংবাদসমূহ যখন সনদবিহীন হয়, তখন তা অসম্পূর্ণ ও ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে।"

--------------------------------------------

১. শারাফু আসহাবিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৪০-৪১)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ২১)
ثم ذكر بإسناده إلى عتبة بن أبي حكيم أنه كان عند إسحاق بن أبي فروة وعنده الزهري، قال: فجعل ابن أبي فروة يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فقال له الزهري: قاتلك الله يا ابن أبي فروة، ما أجرأك على الله، ألا تسند حديثك تحدثنا بأحاديث ليس لها خُطُم ولا أزمة". 1

وقال شيخ الإسلام أبو العباس ابن تيمية (ت 728 هـ) :

"وعلم الإسناد والرواية مما خص الله به أمة محمد صلى الله عليه وسلم، وجعله سلماً إلى الدراية، فأهل الكتاب لا إسناد لهم يأثرون به المنقولات، وهكذا المبتدعون من هذه الأمة أهل الضلالات، وإنما الإسناد لمن أعظم الله عليه المنة أهل الإسلام والسنة، يفرقون به بين الصحيح والسقيم، والمعوج والقويم" 2اهـ.

ثانياً: بدء استعمال الإسناد والسؤال عنه:

تقدم في الفقرة السابقة عند الكلام عن أهمية الإسناد أن الأصل في ذلك تلقي الأمة الدين كله عن الصحابة وهم تلقوه عن رسول الله وهو تلقاه عن رب العزة والجلال.

وقال الحافظ أبو عبد الله الذهبي (ت 748 هـ) : في ترجمة أبي بكر الصديق رضي الله عنه: وكان أول من احتاط في قبول الأخبار، فروى ابن شهاب عن قبيصة بن ذؤيب: "أن الجدة جاءت إلى أبي بكر تلتمس أن تورث، فقال: ما أجد في كتاب الله شيئاً وما علمت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذكر

--------------------------------------------

1معرفة علوم الحديث (ص: 6) ، والكفاية (ص: 555 - 556) .

2مجموع الفتاوى (1/9) .
এরপর তিনি তার সনদে উতবা ইবনে আবি হাকিম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইসহাক ইবনে আবি ফারওয়ার নিকট ছিলেন এবং সেখানে আয-যুহরিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন: তখন ইবনে আবি ফারওয়া বলতে শুরু করলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

তখন আয-যুহরি তাকে বললেন: "আল্লাহ তোমার বিনাশ করুন হে ইবনে আবি ফারওয়া, আল্লাহর ব্যাপারে তুমি কতই না দুঃসাহসী! তুমি কি তোমার হাদিসের সনদ বর্ণনা করবে না? তুমি আমাদের কাছে এমন সব হাদিস বর্ণনা করছ যার কোনো লাগাম বা রশি নেই।" ১

এবং শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি) বলেছেন:

"সনদ ও বর্ণনার জ্ঞান এমন এক বিষয় যার মাধ্যমে আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং একে গভীর জ্ঞানের সোপান বানিয়েছেন। আহলে কিতাবদের কোনো সনদ নেই যার মাধ্যমে তারা তাদের বর্ণিত বিষয়সমূহ বর্ণনা করতে পারে। এই উম্মতের বিদআতি ও পথভ্রষ্টদের অবস্থাও তদ্রূপ। সনদ তো কেবল তাদের জন্য যাদের ওপর আল্লাহ মহান অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ আহলে ইসলাম ও সুন্নাত। এর মাধ্যমেই তারা সঠিক ও ত্রুটিযুক্ত এবং বক্র ও নির্ভুল বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করে।" ২ সমাপ্ত।

দ্বিতীয়ত: সনদের ব্যবহার শুরু হওয়া এবং সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা:

সনদের গুরুত্ব আলোচনার পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর মূল ভিত্তি হলো উম্মত কর্তৃক সম্পূর্ণ দ্বীন সাহাবায়ে কেরামের কাছ থেকে গ্রহণ করা এবং তাঁরা তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন, আর তিনি তা মহান মর্যাদা ও মহিমার প্রতিপালকের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন।

এবং হাফিজ আবু আবদুল্লাহ আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি) আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর জীবনীতে বলেছেন: তিনি ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। ইবনে শিহাব কাবিদাহ ইবনে যুয়াইব থেকে বর্ণনা করেছেন: "একজন দাদি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে মিরাসের দাবি জানালেন। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই পাচ্ছি না এবং আমার জানা নেই যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেছেন..."

--------------------------------------------

১ মা'রিফাতু উলূমিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ৬), এবং আল-কিফায়াহ (পৃষ্ঠা: ৫৫৫ - ৫৫৬)।

২ মাজমুউল ফাতাওয়া (১/৯)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ২২)
لك شيئاً، ثم سأل الناس فقام المغيرة فقال: حضرت رسول الله صلى الله عليه وسلم يعطيها السدس، فقال له: هل معك أحد فشهد محمد بن مسلمة بمثل ذلك، فأنفذه لها أبو بكر". 1

وقال في ترجمة عمر رضي الله عنه:

"وهو الذي سن للمحدثين التثبت في النقل، وربما كان يتوقف في خبر الواحد إذا ارتاب".

"فروى الجريري، عن أبي نضرة، عن أبي سعيد الخدري قال: كنت في مجلس من مجالس الأنصار، إذ جاء أبو موسى كأنه مذعور، فقال: استأذنت على عمر ثلاثاً فلم يؤذن لي فرجعت، فقال: ما منعك؟ قلت: استأذنت فلم يؤذن فرجعت، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا اسْتأذَنَ أَحَدكُمْ ثَلاثاً فَلَمْ يُؤْذَنْ لَهُ فَلْيَرْجِعْ"، فقال: والله لتقيمن عليه بينة، أمنكم أحد سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم فقال أبي بن كعب: والله لا يقوم معك إلا أصغر القوم، فكنت أصغر القوم فقمت معه فأخبرت عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال ذلك". 2

وقال الحافظ ابن حجر (ت 852 هـ) : "فقد جاء في بعض طرقه أن عمر قال لأبي موسى: أما إني لم أتهمك، ولكني أردت أن لا

--------------------------------------------

1تذكرة الحفاظ (1 / 2) ، وقد وردت هذه القصة من أكثر من عشرين طريقاً كلها تنتهي إلى قبيصة، وهو لم يدرك أبا بكر، فتكون القصة مرسلة، لكنها مشهورة معروفة عند العلماء والله تعالى أعلم.

2تذكرة الحفاظ (1 / 6) ، والحديث بهذا اللفظ رواه البخاري في كتاب الاستئذان باب التسليم والاستئذان ثلاثاً.
[তোমার জন্য] কিছু [পাচ্ছি না], এরপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন মুগিরা দাঁড়িয়ে বললেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে তিনি তাকে (দাদিকে) এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করতেন। তখন তিনি তাকে বললেন: তোমার সাথে কি আর কেউ আছে? অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ অনুরূপ সাক্ষ্য দিলেন, ফলে আবু বকর এটি তার জন্য কার্যকর করলেন।" 1

এবং তিনি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনীতে বলেছেন:

"তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি হাদিস বিশারদদের জন্য বর্ণনার ক্ষেত্রে দৃঢ়তা ও যাচাই-বাছাইয়ের নীতি প্রবর্তন করেছেন, এবং যখন তিনি সন্দিহান হতেন তখন সম্ভবত একক বর্ণনার ক্ষেত্রে বিরতি নিতেন।"

"অতঃপর আল-জুরারি, আবু নাদরা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনসারদের একটি মজলিসে ছিলাম, এমতাবস্থায় আবু মুসা ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় আসলেন এবং বললেন: আমি উমরের কাছে তিনবার অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, ফলে আমি ফিরে আসলাম। তিনি (উমর) বললেন: তোমাকে কিসে বাধা দিল? আমি বললাম: আমি অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাই আমি ফিরে এসেছি; আর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'তোমাদের কেউ যখন তিনবার অনুমতি প্রার্থনা করে এবং তাকে অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে সে যেন ফিরে যায়'। তিনি (উমর) বললেন: আল্লাহর কসম, তোমাকে অবশ্যই এর উপর প্রমাণ পেশ করতে হবে। তোমাদের মধ্যে কেউ কি এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছে? তখন উবাই ইবনে কাব বললেন: আল্লাহর কসম, আপনার সাথে কওমের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ব্যক্তিটি ছাড়া আর কেউ দাঁড়াবে না। আমি কওমের সবচেয়ে ছোট ছিলাম, তাই আমি তাঁর সাথে দাঁড়ালাম এবং উমরকে সংবাদ দিলাম যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বলেছেন।" 2

এবং হাফেজ ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) বলেছেন: "এর কিছু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে উমর আবু মুসাকে বলেছিলেন: শোনো, আমি তোমাকে অভিযুক্ত করিনি, কিন্তু আমি চেয়েছিলাম যেন

--------------------------------------------

1 তাযকিরাতুল হুফফাজ (১/২), আর এই ঘটনাটি বিশটিরও বেশি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই ক্বাবিসাহ পর্যন্ত পৌঁছে শেষ হয়েছে, অথচ তিনি আবু বকরের সাক্ষাৎ পাননি, ফলে কাহিনীটি মুরসাল। তবে এটি আলেমদের নিকট অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও পরিচিত, আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

2 তাযকিরাতুল হুফফাজ (১/৬), আর এই শব্দেই হাদিসটি ইমাম বুখারি 'অনুমতি প্রার্থনা' অধ্যায়ে, 'সালাম প্রদান ও তিনবার অনুমতি প্রার্থনা' অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ২৩)
يتجرأ الناس على الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم". 1

وقال الحافظ أبو حاتم بن حبان (ت 354 هـ) :"وتبع عمر على ذلك التثبت عليّ بن أبي طالب رضي الله عنه باستحلاف من يحدثه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإن كانوا ثقات مأمونين ليعلمهم توقي الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم".

ثم قال: "وهذان أول من فتش عن الرجال في الرواية وبحثا عن النقل في الأخبار ثم تبعهما الناس على ذلك … وتشديدهم فيها على أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كان منهم ذلك توقياً للكذب عليه ممن بعدهم لا أنهم كانوا متهمين في الرواية". 2

هذه النصوص تدل دلالة واضحة على أن التحري والتوقي في رواية الحديث والسؤال عن الإسناد قد بدأ في فترة مبكرة، لكن كثرة السؤال عن الإسناد والتفتيش عنه ازدادت بعد وقوع فتنة عبد الله بن سبأ اليهودي وأتباعه في آخر خلافة عثمان بن عفان رضي الله عنه، ولم يزل استعمال الإسناد ينتشر ويزداد السؤال عنه مع انتشار أصحاب الأهواء بين المسلمين وكثرة الفتن التي قد تحمل على الكذب حتى أصبح الناس لا يقبلون حديثاً بدون إسناد حتى يعرف رواته ويعرف حالهم.

وفيما يلي من النصوص دلالة واضحة على ذلك:

1- روى الإمام مسلم بإسناده إلى مجاهد قال: "جاء بشير بن كعب العدوي إلى ابن عباس فجعل يحدث ويقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجعل لا يأذن لحديثه ولا ينظر إليه فقال:

--------------------------------------------

1الفتح (11 / 26) ح 6245.

2مقدمة المجروحين (1 / 38) .
মানুষ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে দুঃসাহস দেখায়।" ১

হাফেয আবু হাতিম বিন হিব্বান (মৃত্যু ৩৫৪ হি.) বলেন: "এই যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু উমরকে অনুসরণ করেছেন। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনাকারীদের নিকট কসম নিতেন, যদিও তারা বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন; যাতে তিনি তাদেরকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপ থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব শেখাতে পারেন।"

অতঃপর তিনি বলেন: "এই দুইজনই হলেন প্রথম ব্যক্তি যারা বর্ণনার ক্ষেত্রে রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) অনুসন্ধান করেছেন এবং সংবাদের বর্ণনাসূত্র নিয়ে গবেষণা করেছেন। পরবর্তীতে মানুষ তাঁদের এই নীতি অনুসরণ করেছে … আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের প্রতি তাঁদের এই কড়াকড়ি ছিল মূলত তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর মিথ্যারোপের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য; এমনটি নয় যে তাঁরা বর্ণনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ছিলেন।" ২

এই পাঠ্যসমূহ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে অনুসন্ধান ও সতর্কতা অবলম্বন এবং সনদ (বর্ণনাসূত্র) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার বিষয়টি প্রাথমিক যুগেই শুরু হয়েছিল। তবে উসমান বিন আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর খিলাফতের শেষের দিকে ইহুদী আব্দুল্লাহ বিন সাবা ও তাঁর অনুসারীদের ফিতনা দেখা দেওয়ার পর সনদ সম্পর্কে অধিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান বৃদ্ধি পায়। মুসলমানদের মধ্যে প্রবৃত্তি পূজারীদের বিস্তার এবং ফিতনার আধিক্য—যা মিথ্যার আশ্রয় নিতে প্ররোচিত করে—এর সাথে সাথে সনদের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং এটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাও বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত অবস্থা এমন হয় যে, মানুষ সনদবিহীন কোনো হাদীস গ্রহণ করত না, যতক্ষণ না তার বর্ণনাকারীদের এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানা যেত।

নিম্নে বর্ণিত পাঠ্যসমূহে এর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে:

১- ইমাম মুসলিম তাঁর সনদে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "বশীর বিন কাব আল-আদাভী ইবনে আব্বাস-এর নিকট এসে হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। কিন্তু তিনি (ইবনে আব্বাস) তাঁর হাদীসের দিকে মনোযোগ দিচ্ছিলেন না এবং তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেনও না। তখন তিনি বললেন:

--------------------------------------------

১. আল-ফাতহ (১১ / ২৬) হাদীস ৬২৪৫।

২. মুকাদ্দিমাতুল মাজরুহীন (১ / ৩৮)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ২৪)
يا ابن عباس مالي لا أراك تسمع لحديثي أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا تسمع، فقال: إنا كنا مرة إذا سمعنا رجلاً يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، ابتدرته أبصارنا وأصغينا إليه بآذاننا، فلما ركب الناس الصعب والذلول لم نأخذ من الناس إلا ما نعرف". 1

2- وروى بسنده أيضاً إلى محمد بن سيرين قال:

"لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة قالوا: سموا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم". 2

3- وعن يعقوب بن شيبة قال: "سمعت علي بن المديني يقول: كان محمد بن سيرين ممن ينظر في الحديث ويفتش عن الإسناد، لا نعلم أحداً أول منه … ". 3

4- روى الإمام أحمد عن جابر بن نوح قال:

"أخبرنا الأعمش عن إبراهيم النخعي قال: إنما سُئل عن الإسناد أيام المختار". 4

--------------------------------------------

1مقدمة صحيح الإمام مسلم (1 / 13) .

2مقدمة صحيح الإمام مسلم (1 / 15) .

3شرح علل الترمذي لابن رجب (1 / 52) .

4العلل للإمام أحمد برواية ابنه عبد الله (3 / 380) فقرة 5673.

والمختار هو ابن أبي عبيد الثقفي لأبيه صحبة، ولد سنة الهجرة وليس له صحبة، خرج على أولاد علي بن أبي طالب وانضم إلى عبد الله بن الزبير في أول أمره ثم تظاهر بعد ذلك بالمطالبة بدم الحسين بن علي رضي الله عنهما، ثم ادعى في آخر أيامه أن الوحي ينزل عليه، وإليه تنسب فرقة المختارية المتفرعة من الكيسانية التي تقول بأن الإمام بعد علي رضي الله عنه ابنه محمد بن الحنفية، وأنه حي وسيظهر في آخر الزمان، ويغلو بعضهم فيزعم ألوهيته، وقد قتل المختار على يد مصعب بن الزبير سنة (67 هـ) .

انظر: اعتقادات فرق المسلمين والمشركين للرازي (ص: 94) ، لسان الميزان (6 / 6 - 7) .
হে ইবনে আব্বাস! আমার কী হলো যে আমি আপনাকে আমার কথা শুনতে দেখছি না? আমি আপনাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস শোনাচ্ছি, অথচ আপনি শুনছেন না। তখন তিনি বললেন: আমরা এক সময় এমন ছিলাম যে, যখন কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনতাম: 'আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন', তখন দ্রুত আমাদের চোখ তার দিকে নিবদ্ধ হতো এবং আমরা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে তার কথা শুনতাম। কিন্তু মানুষ যখন সব ধরণের পথে চলতে শুরু করল, তখন আমরা মানুষের কাছ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করতে লাগলাম যা আমরা চিনি (যা আমাদের কাছে সঠিক বলে পরিচিত)।" ১

২- এবং তিনি তার সনদে মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

"তারা (প্রাথমিক যুগে) সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না। কিন্তু যখন ফিতনা (বিভ্রান্তি) দেখা দিল, তখন তারা বললেন: আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করো। তখন আহলুস সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের প্রতি লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতীদের প্রতি লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না।" ২

৩- ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আলী ইবনুল মাদিনীকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ ইবনে সিরিন তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা হাদীসের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতেন এবং সনদ সম্পর্কে অনুসন্ধান করতেন। আমাদের জানামতে তার চেয়ে আগে কেউ এমন ছিলেন না … "। ৩

৪- ইমাম আহমাদ জাবির ইবনে নূহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

"আমাদেরকে আমাশ ইব্রাহিম নাখাঈ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মূলত আল-মুখতারের যুগে সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা শুরু হয়।" ৪

--------------------------------------------

১ মুকাদ্দিমা সহীহ ইমাম মুসলিম (১ / ১৩)।

২ মুকাদ্দিমা সহীহ ইমাম মুসলিম (১ / ১৫)।

৩ ইবনে রাজাব কৃত শরহু ইলালিত তিরমিযী (১ / ৫২)।

৪ ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনায় আল-ইলাল (৩ / ৩৮০), অনুচ্ছেদ ৫৬৭৩।

আর মুখতার হলেন ইবন আবু উবাইদ আস-সাকাফী। তার পিতার সাহচর্য (সাহাবী হওয়া) প্রমাণিত ছিল। তিনি হিজরতের বছর জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তার সাহাবী হওয়ার মর্যাদা নেই। তিনি আলী ইবনে আবু তালিবের সন্তানদের সমর্থনে বের হন এবং শুরুতে আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইরের সাথে যোগ দেন। এরপর তিনি হুসাইন ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমার হত্যার প্রতিশোধের দাবি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। অতঃপর জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি দাবি করেন যে তার নিকট ওহী অবতীর্ণ হয়। তার দিকেই মুখতারিয়া ফেরকাটি সম্পৃক্ত, যা কাইসানিয়া ফেরকার একটি শাখা। তারা মনে করে যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর পর ইমাম হলেন তার পুত্র মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যা এবং তিনি এখনও জীবিত আছেন ও শেষ জমানায় আত্মপ্রকাশ করবেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতিশয়োক্তি করে তার প্রভুত্বের (উলুহিয়্যাত) দাবিও করে। মুখতার ৬৭ হিজরীতে মুসআব ইবনুল জুবাইরের হাতে নিহত হন।

দেখুন: রাযী কৃত ইতিকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিনা ওয়াল মুশরিকিন (পৃষ্ঠা: ৯৪), লিসানুল মিজান (৬ / ৬-৭)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ২৫)
5- وروى الحافظ أبو محمد بن خلاد الرامهرمزي (ت 360 هـ) بسنده إلى الإمام الشعبي عن الربيع بن خثيم قال: من قال لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد فله كذا وكذا، قال الشعبي: فقلت: من حدَّثك قال: عمرو بن ميمون، فلقيت عمرو ميمون وقلت: من حدَّثك فقال: أبو أيوب صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم.

قال يحيى بن سعيد القطان: وهذا أول ما فتش عن الإسناد. 1

6- وروى ابن أبي حاتم بإسناده إلى خالد بن نزار قال: سمعت مالكاً يقول: "أول من أسند الحديث ابن شهاب الزهري" (ت 124 هـ) . 2

--------------------------------------------

1المحدث الفاصل (ص: 208) ، التمهيد لابن عبد البر (1 / 55) .

2تقدمة الجرح والتعديل (1 / 20) .

وقد علل شيخنا الأستاذ الدكتور / أكرم العمري كلام الإمام مالك فقال:

"وبسبب تأكيد الزهري على الإسناد والتزامه به قال مالك: "إن أول من أسند الحديث الزهري"، ولعله قصد بذلك في بلاد الشام، فقد "ذكر الوليد بن مسلم أن الزهري قال: يا أهل الشام ما لي أرى أحاديثكم ليس لها أزمة ولا خطم وتمسك أصحابنا بالأسانيد من يومئذ". سير أعلام النبلاء (5 / 334) .

وتوجيه الكلام إلى أهل الشام يوحي بأن التزام الإسناد في مراكز العلم الأخرى كان أكثر بحيث بدا أهل الشام متساهلين في ذلك، فنبههم الزهري إلى تقصيرهم فأصبحوا يسندون أحاديثهم، ولا يعني هذا أن الإسناد لم يكن موجوداً قبل الزهري، فقد كان بدء السؤال عن الإسناد في عهد الصحابة ثم عند كبار التابعين لكنه في جيل الزهري أصبح الالتزام بالإسناد قوياً". بحوث في تاريخ السنة المشرفة (ص: 50 - 51) .
৫- হাফেজ আবু মুহাম্মদ ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি (মৃ. ৩৬০ হি.) তাঁর সনদে ইমাম আশ-শাবি থেকে, তিনি আর-রাবি ইবনে খুশাইম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি বলবে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁরই, তবে তার জন্য এমন এমন সওয়াব রয়েছে। শাবি বলেন: আমি বললাম: আপনার কাছে এটি কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: আমর ইবনে মাইমুন। এরপর আমি আমর ইবনে মাইমুনের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম: আপনার কাছে এটি কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী আবু আইয়ুব।

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বলেন: "সনদ সম্পর্কে সর্বপ্রথম এটিই অনুসন্ধান করা হয়েছিল।" ১

৬- ইবনে আবি হাতিম তাঁর সনদে খালিদ ইবনে নিজার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: "সর্বপ্রথম যিনি হাদীসকে সনদসহ বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন ইবনে শিহাব আজ-জুহরি" (মৃ. ১২৪ হি.)। ২

--------------------------------------------

১ আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল (পৃষ্ঠা: ২০৮), ইবনে আবদিল বার রচিত আল-তামহিদ (১/৫৫)।

২ তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তা'দিল (১/২০)।

আমাদের শায়খ অধ্যাপক ডক্টর আকরাম আল-উমারি ইমাম মালিকের উক্তির কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন:

"জুহরি সনদের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ এবং এর প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কারণে মালিক বলেছিলেন: 'নিশ্চয়ই আজ-জুহরি সর্বপ্রথম হাদীসকে সনদযুক্ত করেছেন', সম্ভবত তিনি এর মাধ্যমে শাম দেশ উদ্দেশ্য করেছেন। কারণ ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম উল্লেখ করেছেন যে আজ-জুহরি বলেছিলেন: 'হে শামের অধিবাসীগণ, ব্যাপার কী যে আমি তোমাদের হাদীসগুলোকে লাগামহীন ও নিয়ন্ত্রণহীন (সনদহীন) দেখছি? সেদিন থেকে আমাদের সঙ্গীরা সনদকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেন।' সিয়ারু আলামিন নুবালা (৫/৩৩৪)।

শামের অধিবাসীদের প্রতি এই সম্বোধন ইঙ্গিত দেয় যে, অন্যান্য জ্ঞানকেন্দ্রে সনদের অনুসরণ ও গুরুত্ব এতোটাই বেশি ছিল যে শামের অধিবাসীদের এ ব্যাপারে শিথিল মনে হয়েছিল। তাই জুহরি তাদের এই ত্রুটির বিষয়ে সতর্ক করেন এবং এরপর থেকে তারা তাদের হাদীসগুলোকে সনদসহ বর্ণনা করতে শুরু করেন। এর অর্থ এই নয় যে জুহরির আগে সনদের অস্তিত্ব ছিল না; কারণ সাহাবীদের যুগে এবং এরপর বড় তাবেয়ীদের যুগে সনদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সূচনা হয়েছিল, তবে জুহরির প্রজন্মে সনদের অনুসরণ অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুসংহত রূপ লাভ করে।" বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ (পৃষ্ঠা: ৫০-৫১)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ২৬)
ثالثاً: ظهور علم الرجال وبدء التصنيف فيه:

كان ظهور علم الرجال نتيجة لتطور استعمال الإسناد وانتشاره وكثرة السؤال عنه، وكلما تقادم الزمن كثرت الوسائط في الأسانيد وطالت، فاحتيج إلى بيان أحوال تلك الوسائط والتمييز بينها ولاسيما مع ظهور البدع والأهواء وكثرة أصحابها، لذلك نشأ علم الرجال الذي هو ميزة لهذه الأمة على سائر الأمم، وقد جاء التأليف فيه متأخر عن تدوين الأحاديث. 1

ولم تظهر كتب الرجال - فيما وقفت عليه - إلا من بعد منتصف القرن الثاني الهجري.

وأقدم ما وقفت على ذكره من هذه الكتب: كتاب "التأريخ" تأليف الليث بن سعد (ت 175 هـ) ، و "التأريخ" للإمام عبد الله بن المبارك (ت 181 هـ) 2، وذكر الإمام الذهبي: أن للوليد بن مسلم (ت 195 هـ) كتاباً في تاريخ الرجال 3، ثم تتابع التأليف في ذلك كما سيأتي بيانه في الباب الأول من هذا البحث.

وقد كان الكلام في الرواة وبيان أحوالهم قبل التأليف فيه يتناقل مشافهة يتلقاه العلماء بعضهم عن بعض جيلاً بعد جيل.

1- قال الحافظ ابن رجب (ت 795 هـ) : "ابن سيرين (ت 110 هـ) رضي الله عنه هو أول من انتقد الرجال وميز الثقات من غيرهم … ".

--------------------------------------------

1انظر: تدوين السنة النبوية نشأته وتطوره (ص: 65) .

2انظر: فهرست النديم (ص: 252، 284) .

3تذكرة الحفاظ (1/275) .
তৃতীয়ত: ইলমুর রিজালের উদ্ভব এবং এতে গ্রন্থ রচনার সূচনা:

ইলমুর রিজালের উদ্ভব হয়েছিল ইসনাদ ব্যবহারের ক্রমবিকাশ, এর প্রসার এবং এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসার আধিক্যের ফলে। কালপরিক্রমায় সনদগুলোতে মধ্যস্থতাকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং সনদ দীর্ঘ হতে থাকে। ফলে সেই মধ্যস্থতাকারীদের অবস্থা বর্ণনা করা এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, বিশেষ করে যখন বিদআত ও প্রবৃত্তি পূজার উদ্ভব ঘটে এবং এর অনুসারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। একারণেই ইলমুর রিজালের সূচনা হয়, যা অন্যান্য জাতির তুলনায় এই উম্মতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আর এতে গ্রন্থ রচনার বিষয়টি হাদিস সংকলনের পরবর্তী সময়ে ঘটেছে। ১

আমার জানা মতে, রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝির আগে আত্মপ্রকাশ করেনি।

এ জাতীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে আমার দৃষ্টিগোচর হওয়া প্রাচীনতম উল্লেখ হলো: লায়স ইবন সাদ (মৃত্যু ১৭৫ হিজরি) রচিত ‘আত-তারিখ’ এবং ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (মৃত্যু ১৮১ হিজরি) রচিত ‘আত-তারিখ’ ২। ইমাম জাহাবি উল্লেখ করেছেন যে, ওয়ালিদ ইবন মুসলিমের (মৃত্যু ১৯৫ হিজরি) বর্ণনাকারীদের ইতিহাসের ওপর একটি গ্রন্থ ছিল ৩। এরপর এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনার ধারা অব্যাহত থাকে, যার বিবরণ এই গবেষণার প্রথম অধ্যায়ে সামনে আসবে।

গ্রন্থাকারে সংকলিত হওয়ার পূর্বে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা এবং তাদের অবস্থা বর্ণনা মৌখিকভাবে আদান-প্রদান হতো, যা আলেমরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে একে অপরের কাছ থেকে গ্রহণ করতেন।

১- হাফেজ ইবনে রজব (মৃত্যু ৭৯৫ হিজরি) বলেন: "ইবনে সিরিন (মৃত্যু ১১০ হিজরি) রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করেছেন এবং নির্ভরযোগ্যদের অন্যদের থেকে পৃথক করেছেন..."

--------------------------------------------

১. দেখুন: তদউইনুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ: নাশআতুহু ওয়া তাতাউয়ুরুহু (পৃষ্ঠা: ৬৫)।

২. দেখুন: ফিহরিসতুন নাদিম (পৃষ্ঠা: ২৫২, ২৮৪)।

৩. তাযকিরাতুল হুফফাজ (১/২৭৫)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال يعقوب بن شيبة: "قلت ليحيى بن معين: تعرف أحداً من التابعين كان ينتقي الرجال كما كان ابن سيرين ينتقيهم؟ فقال برأسه، أي: لا".

وقال يعقوب أيضاً: "وسمعت علي بن المديني يقول: كان ابن سيرين ممن ينظر في الحديث ويفتش عن الإسناد، لا نعلم أحداً أول منه، ثم كان أيوب (ت 131 هـ) ، وابن عون (ت 150) ، ثم كان شعبة (ت 160 هـ) ، ثم كان يحيى بن سعيد - القطان - (ت 198 هـ) ، وعبد الرحمن بن مهدي (ت 198) .

قلت لعلي: فمالك بن أنس فقال: أخبرني سفيان بن عُيينة قال: ما كان أشد انتقاء مالك للرجال". 1

2- وقال أبو عبد الله الذهبي (ت 748 هـ) :

"فأول من زكَّى وجرح عند انقراض عصر الصحابة: الشعبي (ت 103 هـ) ، وابن سيرين (ت 110 هـ) ونحوهما، وحفظ عنهم توثيق أُناس وتضعيف آخرين فلما كان عند انقراض عامَّة التابعين في حدود الخمسين ومئة، تكلم طائفة من الجهابذة في التوثيق والتضعيف، كالأعمش (148 هـ) وشعبة بن الحجاج (ت 160 هـ) ومالك بن أنس (ت 179 هـ) .

3- بعد أن ذكر ابن حبان تفتيش الصحابة عن الرجال قال: "ثم أخذ مسلكهم واستن بسنتهم واهتدى بهديهم فيما

--------------------------------------------

1شرح العلل لابن رجب (1 / 52) .
ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কি তাবেঈদের মধ্যে এমন কাউকে চেনেন যিনি ইবনে সিরিনের মতো যাচাই-বাছাই করে বর্ণনাকারী গ্রহণ করতেন? তিনি তাঁর মাথা নাড়ালেন, অর্থাৎ: না।"

ইয়াকুব আরও বলেন: "এবং আমি আলী ইবনুল মাদিনীকে বলতে শুনেছি: ইবনে সিরিন তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা হাদিস পর্যবেক্ষণ করতেন এবং সনদ অনুসন্ধান করতেন, আমরা তাঁর আগে এমন কাউকে জানি না। এরপর ছিলেন আইয়ুব (মৃত্যু ১৩১ হিজরি) এবং ইবনে আউন (মৃত্যু ১৫০ হিজরি), তারপর শু'বাহ (মৃত্যু ১৬০ হিজরি), এরপর ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান (মৃত্যু ১৯৮ হিজরি) এবং আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী (মৃত্যু ১৯৮ হিজরি)।

আমি আলীকে বললাম: তাহলে মালিক ইবনে আনাসের বিষয়টি কী? তিনি বললেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: বর্ণনাকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মালিক কতই না কঠোর ছিলেন।" ১

২- এবং আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবী (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি) বলেন:

"সাহাবিদের যুগের সমাপ্তিলগ্নে যারা সর্বপ্রথম নির্ভরযোগ্যতা যাচাই এবং ত্রুটি অন্বেষণ (জারহ ও তা'দীল) করেছেন তারা হলেন: আশ-শা'বী (মৃত্যু ১০৩ হিজরি), ইবনে সিরিন (মৃত্যু ১১০ হিজরি) এবং তাঁদের অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ। তাঁদের থেকে একদল লোকের নির্ভরযোগ্যতা প্রতিপন্ন করা এবং অন্যদের দুর্বল সাব্যস্ত করা সংরক্ষিত হয়েছে। অতঃপর যখন একশত পঞ্চাশ হিজরির কাছাকাছি সময়ে সাধারণ তাবেঈদের যুগ শেষ হয়ে আসছিল, তখন পারদর্শী আলেমদের একটি দল বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমন আল-আ'মাশ (১৪৮ হিজরি), শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ (মৃত্যু ১৬০ হিজরি) এবং মালিক ইবনে আনাস (মৃত্যু ১৭৯ হিজরি)।

৩- ইবনে হিব্বান সাহাবিদের কর্তৃক বর্ণনাকারীদের যাচাইয়ের বিষয়টি উল্লেখ করার পর বলেন: "অতঃপর তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন, তাঁদের নীতি অবলম্বন করেছেন এবং তাঁদের প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হয়েছেন সেই বিষয়ে যা...

--------------------------------------------

১. ইবনে রজব কৃত শারহুল ইলাল (১/৫২)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ২৮)
استنوا من التيقظ في الروايات جماعة من أهل المدينة من سادات التابعين منهم: سعيد بن المسيب (ت 93 هـ) ، والقاسم بن محمد بن أبي بكر (ت 106 هـ) ، وسالم بن عبد الله بن عمر (ت 106 هـ) ، وعلي بن الحسين بن علي (ت 93 هـ) ، وأبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف (ت 94 هـ) ، وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود (ت 98 هـ) ، وخارجة بن زيد ابن ثابت (ت 99 هـ) ، وعروة بن الزبير بن العوام (ت 94 هـ) ، وأبو بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام (ت 94 هـ) ، وسليمان بن يسار (ت بعد سنة مئة) .

فجَدُّوا في حفظ السنن والرحلة فيها، والتفتيش عنها والتفقه فيها ولزموا الدين ودعوة المسلمين.

ثم أخذ عنهم العلم وتتبع الطرق وانتقاء الرجال ورحل في جمع السنن جماعة بعدهم منهم: الزهري (ت 124 هـ) ، ويحيى بن سعيد الأنصاري (ت 144 هـ) ، وهشام بن عروة بن الزبير (ت 145 هـ) ، وسعد بن إبراهيم (ت 125 هـ) ، في جماعة معهم من أهل المدينة، إلا أن أكثرهم تيقظاً، وأوسعهم حفظأً وأدومهم رحلة وأعلاهم همة الزهري رحمة الله عليه".

ثم قال: "ثم أخذ عن هؤلاء مسلك الحديث وانتقاد الرجال وحفظ السنن والقدح في الضعفاء جماعة من أئمة المسلمين والفقهاء في الدين منهم: سفيان بن سعيد الثوري (ت 161 هـ) ، ومالك بن أنس (ت 179 هـ) ، وشعبة بن الحجاج (ت 160 هـ) ، وعبد الرحمن بن عمرو الأوزاعي (ت 156 هـ) ، وحماد بن سلمة (ت 167 هـ) ، والليث بن سعد (ت 175 هـ) ، وحماد بن زيد (ت 179 هـ) في جماعة
বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতার পথ অনুসরণ করেছিলেন মদিনার অধিবাসী একদল তাবেয়ী নেতা, যাদের মধ্যে রয়েছেন: সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব (মৃত ৯৩ হি.), কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর (মৃত ১০৬ হি.), সালিম বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর (মৃত ১০৬ হি.), আলী বিন আল-হুসাইন বিন আলী (মৃত ৯৩ হি.), আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আউফ (মৃত ৯৪ হি.), উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ বিন মাসউদ (মৃত ৯৮ হি.), খারিজিয়াহ বিন যাইদ বিন সাবিত (মৃত ৯৯ হি.), উরওয়াহ বিন আজ-জুবাইর বিন আল-আওয়াম (মৃত ৯৪ হি.), আবু বকর বিন আব্দুর রহমান বিন আল-হারিস বিন হিশাম (মৃত ৯৪ হি.) এবং সুলাইমান বিন ইয়াসার (মৃত ১০০ হিজরির পর)।

অতঃপর তারা সুন্নাহ সংরক্ষণ, এর অন্বেষণে সফর করা, তার অনুসন্ধান ও তার গভীর জ্ঞান অর্জনে কঠোর সাধনা করেছেন এবং তারা দ্বীন ও মুসলিমদের দাওয়াতের কাজে অবিচল ছিলেন।

পরবর্তীতে তাদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন, বর্ণনাসূত্রসমূহ অনুসরণ করেছেন, রাবিদের যাচাই-বাছাই করেছেন এবং সুন্নাহ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দেশ ভ্রমণ করেছেন পরবর্তী একদল মনীষী, যাদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম যুহরি (মৃত ১২৪ হি.), ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারি (মৃত ১৪৪ হি.), হিশাম বিন উরওয়াহ বিন আজ-জুবাইর (মৃত ১৪৫ হি.), সাদ বিন ইব্রাহিম (মৃত ১২৫ হি.) সহ মদিনাবাসীদের একটি জামাত। তবে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সচেতন, প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী, দীর্ঘ সময় সফরকারী এবং সুউচ্চ সংকল্পের অধিকারী ছিলেন ইমাম যুহরি (রাহিমাহুল্লাহ)।"

অতঃপর তিনি বলেন: "এরপর তাদের কাছ থেকে হাদিসের পথ, বর্ণনাকারীদের সমালোচনা, সুন্নাহর হিফজ এবং দুর্বল বর্ণনাকারীদের ত্রুটি বর্ণনার বিষয়টি গ্রহণ করেছেন মুসলিমদের একদল ইমাম ও দ্বীনের ফকিহগণ, যাদের মধ্যে রয়েছেন: সুফিয়ান বিন সাঈদ আস-সাওরি (মৃত ১৬১ হি.), মালিক বিন আনাস (মৃত ১৭৯ হি.), শু’বাহ বিন আল-হাজ্জাজ (মৃত ১৬০ হি.), আব্দুর রহমান বিন আমর আল-আওজায়ি (মৃত ১৫৬ হি.), হাম্মাদ বিন সালামাহ (মৃত ১৬৭ হি.), আল-লাইস বিন সাদ (মৃত ১৭৫ হি.) এবং হাম্মাদ বিন যাইদ (মৃত ১৭৯ হি.) সহ এক বিশাল জামাত।"
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ২৯)
معهم، إلا أن من أشدهم انتقاء للسنن وأكثرهم مواظبة عليها، حتى جعلوا ذلك صناعةً لهم لا يشوبونها بشيء آخر ثلاثة: مالك والثوري وشعبة".

وقال: "ثم أخذ عن هؤلاء بعدهم الرسم في الحديث والتنقير عن الرجال والتفتيش عن الضعفاء والبحث عن أسباب النقل جماعة منهم: عبد الله بن المبارك (ت 181 هـ) ، ويحيى بن سعيد القطان (ت 198 هـ) ووكيع بن الجراح (ت 197 هـ) ، وعبد الرحمن بن مهدي (ت 198 هـ) ومحمد بن إدريس الشافعي (ت 204 هـ) في جماعة معهم، إلَاّ أن من أكثرهم تنقيراً عن شأن المحدثين وأتركهم للضعفاء والمتروكين حتى جعلوا هذا الشأن صناعة لهم لم يتعدوها إلى غيرها مع لزوم الدين والورع الشديد والتفقه في السنن رجلان: يحيى بن سعيد القطان، وعبد الرحمن بن مهدي".

وقال: "ثم أخذ عن هؤلاء مسلك الحديث والاختيار وانتقاء الرجال في الآثار حتى رحلوا في جمع السنن إلى الأمصار، وفتشوا المدن والأقطار، وأطلقوا على المتروكين الجرح وعلى الضعفاء القدح، وبينوا كيفية أحوال الثقات والمدلسين والأئمة والمتروكين حتى صاروا يقتدى بهم في الآثار وأئمة يسلك مسلكهم في الأخبار، جماعة منهم: أحمد بن حنبل رضي الله عنه (ت 241 هـ) ، ويحيى بن معين (ت 233 هـ) ، وعلي بن المديني (ت 234 هـ) ، وأبو بكر بن أبي شيبة (ت 235 هـ) ، وإسحاق بن إبراهيم الحنظلي (ت 238 هـ) ، وعبيد الله بن عمر القواريري (ت 235 هـ) ، وزهير بن حرب أبو خيثمة (ت 234 هـ) في جماعة من أقرانهم.
...তাদের সাথে, তবে তাদের মধ্যে যারা সুন্নাহ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর এবং সেগুলোর প্রতি সর্বাধিক যত্নশীল ছিলেন, এমনকি তারা একে নিজেদের এক স্বতন্ত্র বিদ্যায় পরিণত করেছিলেন যা অন্য কিছুর সাথে মিশ্রিত করেননি—তারা হলেন তিনজন: মালিক, সাওরি এবং শু'বাহ।

এবং তিনি বলেন: "অতঃপর তাদের পরবর্তীতে একদল লোক তাদের কাছ থেকে হাদিসের পদ্ধতি, বর্ণনাকারীদের অবস্থা যাচাই-বাছাই, দুর্বলদের অনুসন্ধান এবং বর্ণনার কারণসমূহ অন্বেষণ করার বিষয়টি গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (মৃত্যু ১৮১ হিজরি), ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান (মৃত্যু ১৯৮ হিজরি), ওয়াকি ইবনুল জাররাহ (মৃত্যু ১৯৭ হিজরি), আবদুর রহমান ইবনে মাহদি (মৃত্যু ১৯৮ হিজরি) এবং মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু ২০৪ হিজরি) সহ একদল মনীষী। তবে তাদের মধ্যে যারা মুহাদ্দিসদের অবস্থা সম্পর্কে অধিক সূক্ষ্ম অনুসন্ধানকারী ছিলেন এবং দুর্বল ও পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীদের সবচেয়ে বেশি বর্জনকারী ছিলেন—এমনকি তারা দ্বীনদারী, কঠোর পরহেজগারি এবং সুন্নাহর প্রাজ্ঞতা বজায় রেখে এই বিষয়টিকে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র বিদ্যায় পরিণত করেছিলেন এবং এটি ছেড়ে অন্য কিছুতে প্রবৃত্ত হননি—তারা হলেন দুইজন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং আবদুর রহমান ইবনে মাহদি।"

এবং তিনি বলেন: "অতঃপর তাদের কাছ থেকে একদল লোক হাদিসের পথ, সংকলন এবং আছার-এর বর্ণনাকারী নির্বাচনের পদ্ধতি গ্রহণ করেন। এমনকি তারা সুন্নাহ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জনপদে ভ্রমণ করেন, শহর ও দিগন্তসমূহ অনুসন্ধান করেন, পরিত্যক্তদের ওপর 'জারাহ' (দোষারোপ) এবং দুর্বলদের ওপর সমালোচনা আরোপ করেন। তারা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, মুদাল্লিস, ইমাম এবং বর্জনীয়দের অবস্থার স্বরূপ বর্ণনা করেন। ফলে তারা আছার বা বর্ণনার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় ব্যক্তিতে এবং এমন ইমামে পরিণত হন যাদের পথ সংবাদের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন: আহমদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) (মৃত্যু ২৪১ হিজরি), ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (মৃত্যু ২৩৩ হিজরি), আলী ইবনুল মাদিনী (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি), আবু বকর ইবনে আবি শাইবা (মৃত্যু ২৩৫ হিজরি), ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি (মৃত্যু ২৩৮ হিজরি), উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারিরি (মৃত্যু ২৩৫ হিজরি), জুহাইর ইবনে হারব আবু খাইসামা (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি) সহ তাঁদের সমসাময়িক একদল মনীষী।"
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ৩০)
إلا أن من أورعهم في الدين وأكثرهم تفتيشاً عن المتروكين، وألزمهم لهذه الصناعة على دوام الأوقات: أحمد بن حنبل، ويحيى بن معين، وعلي بن المديني رحمة الله عليهم أجمعين".

ثم قال: "ثم أخذ عن هؤلاء مسلك الانتقاد في الأخبار وانتقاء الرجال في الآثار جماعة منهم: محمد بن يحيى الذهلي (ت 258 هـ) ، وعبد الله بن عبد الرحمن الدارمي (ت 255 هـ) ، وأبو زرعة عبيد الله بن عبد الكريم الرازي (ت 264 هـ) ، ومحمد بن إسماعيل البخاري (ت 256 هـ) ، ومسلم بن الحجاج (ت 261 هـ) ، وأبو داود سليمان ابن الأشعث (ت 275 هـ) في جماعة من أقرانهم أمعنوا في الحفظ، وأكثروا في الكتابة، وأفرطوا في الرحلة، وواظبوا على السنة والمذاكرة والتصنيف والمدارسة، حتى أخذ عنهم من نشأ بعدهم من شيوخنا هذا المذهب، وسلكوا هذا المسلك، ولولاهم لدرست الآثار، واضمحلَّت الأخبار، وعلا أهل الضلال والهوى، وارتفع أهل البدع والعمى، فهم لأهل البدع قامعون، وبالسنن شأنهم دامغون" 1. اهـ. ملخصاً.

في هذا النص يلخص لنا الإمام الحافظ أبو حاتم محمد بن حبان البستي رحمه الله تعالى (ت 354 هـ) تلك المراحل التي مر بها هذا العلم الجليل الذي ميز الله به أمة محمد صلى الله عليه وسلم على سائر الأمم، وهو علم الرجال أو الجرح والتعديل، وذلك من حين النشأة، وهو السؤال عن الإسناد والتثبت في الرواية في عصر الصحابة الكرام رضوان الله عليهم، ومروراً بتلك المراحل المختلفة من البحث

--------------------------------------------

1مقدمة المجروحين لابن حبان (1 / 38 - 58) .
তবে দ্বীনের ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার, পরিত্যক্ত বর্ণনাকারীদের বিষয়ে সর্বাধিক অনুসন্ধানকারী এবং দীর্ঘ সময় ধরে এই শাস্ত্রের প্রতি সর্বাধিক নিবিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন: আহমদ বিন হাম্বল, ইয়াহইয়া বিন মাইন এবং আলী ইবনুল মাদিনী, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

অতঃপর তিনি বলেন: "এরপর তাঁদের নিকট থেকে সংবাদের সমালোচনা এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণনাকারী বাছাই করার এই পদ্ধতি একদল মনীষী গ্রহণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী (মৃত্যু ২৫৮ হি.), আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আদ-দারিমি (মৃত্যু ২৫৫ হি.), আবু যুরআ উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল কারীম আর-রাজি (মৃত্যু ২৬৪ হি.), মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী (মৃত্যু ২৫৬ হি.), মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ (মৃত্যু ২৬১ হি.) এবং আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস (মৃত্যু ২৭৫ হি.)। তাঁদের সাথে তাঁদের সমসাময়িক একদল আলিমও ছিলেন যাঁরা হিফজ বা মুখস্থ করার ক্ষেত্রে গভীর মনোনিবেশ করেছেন, প্রচুর লিখেছেন, ইলম অর্জনে প্রচুর সফর করেছেন এবং সুন্নাহর অনুসরণ, মুজাকারা (আলোচনা), গ্রন্থ রচনা ও অধ্যয়নে অবিচল থেকেছেন। এমনকি তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম থেকে আমাদের শায়খগণও তাঁদের থেকে এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন এবং এই পথে চলেছেন। তাঁরা যদি না থাকতেন তবে আসার বা পূর্ববর্তীদের বর্ণনা বিলীন হয়ে যেত, সংবাদসমূহ (হাদীস) নিস্তেজ হয়ে যেত, পথভ্রষ্ট ও প্রবৃত্তিপূজারীরা প্রবল হয়ে উঠত এবং বিদআতি ও অন্ধত্বের অনুসারীদের উত্থান ঘটত। সুতরাং তাঁরা হলেন বিদআতিদের দমনকারী এবং সুন্নাহর মাধ্যমে তাঁদের চক্রান্ত নস্যাৎকারী।" ১। সংক্ষেপিত সমাপ্ত।

এই পাঠ্যে ইমাম হাফিয আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন হিব্বান আল-বুস্তি রহমাতুল্লাহি আলাইহি (মৃত্যু ৩৫৪ হি.) সেই পর্যায়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন, যার মধ্য দিয়ে এই মহান শাস্ত্র অতিবাহিত হয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতকে অন্যান্য সমস্ত উম্মতের ওপর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। আর তা হলো ইলমুর রিজাল বা জারহ ও তাদীল (বর্ণনাকারী যাচাই-বাছাই বিদ্যা); যা এর সূচনা তথা সম্মানিত সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগে সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা এবং বর্ণনার সত্যতা যাচাই করার সময় থেকে শুরু করে গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে...

--------------------------------------------

১. ইবনে হিব্বান রচিত আল-মাজরুহীন গ্রন্থের ভূমিকা (১ / ৩৮ - ৫৮)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ৩১)
والتحري عن أحوال الرواة وحفظ وضبط المروي في كل عصر إلى زمانه رحمه الله تعالى، وذلك مع الإشارة إلى ما امتاز به علماء ونقاد كل جيل من تلك الأجيال المتعاقبة، وتطور خدمتهم للسنة سنداً ومتناً رحمهم الله جميعاً.
বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাঁর সময় পর্যন্ত প্রতিটি যুগে বর্ণিত বিষয়ের হেফাযত ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা; সেই সঙ্গে উক্ত ধারাবাহিক প্রজন্মগুলোর মধ্য হতে প্রতিটি প্রজন্মের আলেম ও সমালোচকগণ যে বৈশিষ্ট্যে অনন্য ছিলেন তার প্রতি ইঙ্গিত করা এবং সনদ ও মতন—উভয় দিক থেকে সুন্নাহর খিদমতে তাঁদের অবদানের বিবর্তন বর্ণনা করা, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الباب الأول: كتب الرجال حسب ظهورها إلى نهاية القرن الخامس

‌‌تمهيد:

اتَّبع المصنفون الأوائل في علم الرجال أساليب متعددة في تآليفهم مما أدى إلى تنوع مصنفاتهم.

فمنها:

1- كتب الطبقات التي شملت: طبقات الصحابة والتابعين وتابعيهم وتبعهم.

2- كتب معرفة الصحابة: وهي خاصة بتراجم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ورضي عنهم.

3- كتب الجرح والتعديل: وقد اهتمت ببيان درجة توثيق الرجال أو تضعيفهم، سواء منها ما اقتصر على الضعفاء أو اقتصر على الثقات أو جمع بينهما.

وهذه الأنواع من المصنفات ظهرت في الفترة الواقعة ما بين أواخر القرن الثاني ومنتصف القرن الثالث الهجري تقريباً ثم كثرت وتوسعت بعد ذلك.

4- كتب تواريخ المدن التي اقتصرت على تراجم الرواة في بلدة

معينة، وقد ظهرت منذ النصف الثاني من القرن الثالث الهجري.

5- كتب معرفة الأسماء وتمييزها: وقد ظهرت متأخر نسبياً عما قبلها، وذلك عندما كثر عدد الرواة وتشابهت أسماؤهم وكناهم
প্রথম অধ্যায়: পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত আবির্ভাবের ক্রমানুসারে রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ

‌ভূমিকা:

রিজাল শাস্ত্রের আদি লেখকগণ তাঁদের সংকলনসমূহে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যার ফলে তাঁদের গ্রন্থগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য তৈরি হয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১- তবাকাত (স্তরভিত্তিক) গ্রন্থসমূহ, যা সাহাবী, তাবেয়ি, তাবে-তাবেয়ি এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের রাবীদের অন্তর্ভুক্ত করেছে।

২- সাহাবীদের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থসমূহ: এগুলো বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) জীবনীর জন্য নির্ধারিত।

৩- জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও গুণগান) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ: এগুলো বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা অথবা দুর্বলতার স্তর স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব প্রদান করেছে; তা কেবল দুর্বল বর্ণনাকারীদের ওপর সীমাবদ্ধ হোক কিংবা কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ওপর, অথবা উভয় প্রকারের বর্ণনাকারীদের সংকলন হোক।

এই প্রকারের সংকলনগুলো সাধারণত দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর শেষভাগ থেকে তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে, এরপর এগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তা আরও বিস্তৃত হয়।

৪- বিভিন্ন শহরের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, যা নির্দিষ্ট কোনো শহরের বর্ণনাকারীদের জীবনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এগুলো তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেছে।

৫- নাম পরিচিতি ও পার্থক্যকরণ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ: এগুলো পূর্বোক্ত প্রকারগুলোর তুলনায় কিছুটা দেরিতে আত্মপ্রকাশ করেছে; মূলত এটি তখন হয়েছে যখন বর্ণনাকারীদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায় এবং তাঁদের নাম ও উপনামগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وأنسابهم فاحتيج إلى التمييز بين المتشابه والمؤتلف والمختلف والمتفق والمفترق منهم.

6- كتب الرجال المذكورين في مصنف أو مصنفات معينة 1: وهذه المصنفات نظراً لتأخر ظهورها، وأن التوسع فيها وانتشارها كان من بعد القرن الخامس الهجري، لذلك أفردتها في باب مستقل وهو الباب الثاني من هذا البحث.

اقتصَرْتُ في هذا الباب على كتب الرجال المصنفة في القرون الخمسة الأولى للأمور الآتية:

أ- إن هذه المصنَّفات هي أصول كتب الرجال المؤلفة فيما بعد القرن الخامس الهجري.

ب- إن المؤلفات من بعد القرن الخامس جُلها إن لم تكن كلها إما ترتيب لكتب السابقين أو تذييل عليها أو ناقلة عنها، أو اختصار أو تهذيب لها ونحو ذلك.

ج- إنه لا يكاد يوجد ترجمة - فيما أعلم - لأحد من رواة القرون المفضلة - عصر الرواية - ليس له ترجمة في أحد هذه المصنفات إلا أن يكون مجهولاً أو نحو ذلك.

--------------------------------------------

1عن هذه الأنواع المصنفات انظر: بحوث في تاريخ السنة (ص: 61 - 62) .
এবং তাদের বংশপরিচয়। ফলে তাদের মধ্য থেকে সমরূপ, সদৃশ, বৈসাদৃশ্যপূর্ণ, অভিন্ন এবং বিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

৬- নির্দিষ্ট কোনো গ্রন্থ বা গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের জীবনীগ্রন্থ ১: এই গ্রন্থগুলো যেহেতু বিলম্বে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর পর থেকে এগুলোর বিস্তৃতি ও প্রসার ঘটেছে, তাই আমি এই গবেষণার দ্বিতীয় অধ্যায়ে এগুলোকে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে স্থান দিয়েছি।

আমি এই অধ্যায়ে প্রথম পাঁচ শতাব্দীতে সংকলিত বর্ণনাকারীদের জীবনীগ্রন্থগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি নিম্নলিখিত কারণগুলোর জন্য:

ক- এই গ্রন্থগুলোই হলো হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর পরে রচিত বর্ণনাকারীদের জীবনীগ্রন্থগুলোর মূল ভিত্তি।

খ- পঞ্চম শতাব্দীর পরবর্তী রচনারাজি যদি সম্পূর্ণ না-ও হয়, তবে তার অধিকাংশ হয় পূর্ববর্তীদের গ্রন্থের বিন্যাস, নতুবা তার পরিশিষ্ট বা তার থেকে উদ্ধৃত অথবা তার সংক্ষিপ্ত রূপ বা পরিমার্জন এবং অনুরূপ কিছু।

গ- আমার জানামতে, শ্রেষ্ঠ শতাব্দীর (বর্ণনার যুগ) এমন কোনো বর্ণনাকারীর জীবনী পাওয়াই দুষ্কর, যার জীবনী এই গ্রন্থগুলোর কোনো একটিতে নেই; যদি না সে অজ্ঞাত বা অনুরূপ কিছু হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

১- এই প্রকারের গ্রন্থগুলো সম্পর্কে দেখুন: বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬১-৬২)।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌الفصل الأول: كتب الطبقات

‌‌المبحث الأول: تعريف الطبقة مع بيان نشأة علم الطبقات وفائدة معرفته

…

المبحث الأول: تعريف الطبقة مع بيان نشأة علم الطبقات وفائدة معرفته

أ- تعريف الطبقة:

من أجود وأشمل ما وقفت عليه في تعريف الطبقة لغة ما كتبه الأستاذ محمود شاكر في مقدمة تحقيقه لكتاب "طبقات فحول الشعراء" لابن سلام الجمحي، حيث قال:

"والذي لا شك فيه أن هذا اللفظ من كلام العرب قديماً للدلالة على معانٍ مختلفة، ولما جاء عصر التدوين صار له مجاز آخر عند المؤلفين والكاتبين، حتى انتهى إلى زماننا هذا بمعنى مشهور مألوف.

ومادة (طبق) تؤول أكثر معانيها في لسان العرب إلى تماثل شيئين إذا وضعت أحدهما على الآخر ساواه وكانا على حذوٍ واحد فقيل منه: تطابق الشيئان إذا تساويا وتماثلا.

وسموا كل ما غطى شيئأ (طبقاً) لأنه لا يغطيه حتى يكون مساوياً

له، ثم لا يغطيه حتى يكون فوقه، فسموا مراتب الناس ومنازل بعضهم فوق بعض (طبقات) 1.

ولما كانت كل مرتبة من المراتب لها حال ومذهب سموا

--------------------------------------------

1انظر: الصحاح للجوهري (4 / 1511-1512) ، وتاج العروس.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তবকাত বিষয়ক গ্রন্থসমূহ

প্রথম অনুচ্ছেদ: তবকাত-এর সংজ্ঞা, তবকাত শাস্ত্রের উদ্ভব এবং এটি জানার উপকারিতা

...

প্রথম অনুচ্ছেদ: তবকাত-এর সংজ্ঞা, তবকাত শাস্ত্রের উদ্ভব এবং এটি জানার উপকারিতা

ক- তবকাত-এর সংজ্ঞা:

তবকাত-এর ভাষাগত সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আমি যতগুলো সংজ্ঞা দেখেছি, তার মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও ব্যাপক হলো উস্তাদ মাহমুদ শাকির ইবনে সালাম আল-জুমাহি রচিত "তবকাতু ফুহুলিশ শুআরা" গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকায় যা লিখেছেন। তিনি বলেছেন:

"নিশ্চয়ই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই শব্দটি প্রাচীনকাল থেকেই আরবদের কথাবার্তায় বিভিন্ন অর্থ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অতঃপর যখন গ্রন্থ সংকলনের যুগ শুরু হলো, তখন লেখক ও সংকলকদের নিকট এর ভিন্ন এক আলঙ্কারিক অর্থ তৈরি হলো, যা বর্তমান সময় পর্যন্ত একটি প্রসিদ্ধ ও পরিচিত অর্থে পরিণত হয়েছে।

আরবি ভাষায় (ত-ব-ক) মূলধাতুর অধিকাংশ অর্থই দুটি বস্তুর সমরূপ হওয়ার দিকে ফিরে যায়; অর্থাৎ একটিকে অন্যটির ওপর স্থাপন করলে যদি তা সমান হয় এবং উভয়টি একই সমান্তরালে থাকে। এ থেকেই বলা হয়: দুটি বস্তু পরস্পর মিলে গেছে বা একীভূত হয়েছে, যখন তারা সমান ও সদৃশ হয়।

আর তারা কোনো কিছুকে আবৃত করে এমন প্রত্যেক বস্তুকে 'তবক' (আচ্ছাদন) নাম দিয়েছে, কারণ কোনো বস্তু তার সমপরিমাণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আবৃত করতে পারে না।

অতঃপর কোনো বস্তু অন্যটির উপরে না থাকা পর্যন্ত তাকে আবৃত করতে পারে না। এ কারণেই তারা মানুষের স্তরসমূহ এবং একে অপরের উপরে অবস্থিত তাদের অবস্থানসমূহকে 'তবকাত' (স্তর বা শ্রেণি) নাম দিয়েছে। ১

আর যেহেতু প্রতিটি স্তরেরই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা ও ধারা রয়েছে, তাই তারা নাম দিয়েছে..."

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-জওহরির আস-সিহাহ (৪ / ১৫১১-১৫১২), এবং তাজুল উরুস।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ৪০)
الحال المميزة نفسها طبقة.

فقالوا: فلان من الدنيا على طبقات شتى؛ أي: على أحوال شتى، وهذا المعنى أشد وضوحاً في حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه: "أَلا إِنَّ بَنِي آدَمَ خُلِقُوا عَلَى طَبَقَاتٍ شَتَّى، فَمِنْهُمْ مَنْ يُولَدُ مُؤْمِناً وَيَحْيَا مُؤْمِناً وَيَمُوتُ مُؤْمِناً، وَمِنْهُمْ مَنْ يُولَدُ كَافِراً وَيَحْيَا كَافِراً وَيَمُوتُ كَافِراً، وَمِنْهُمْ مَنْ يُولَدُ مُؤْمِناً وَيَحْيَا مُؤْمِناً وَيَمُوتُ كَافِراً، وَمِنْهُمْ مَنْ يُولَدُ كَافِراً وَيَحْيَا كَافِراً وَيَمُوتُ مُؤْمِناً" الحديث. 1

وهذا بيان عن مذاهب الناس وأحوالهم في حياتهم، لا عن مراتبهم ومنازلهم.

وقد وجدت هذا اللفظ في خبر آخر تعين عليه اللغة، فقد روى القاضي ابن أبي يعلى (ت 526 هـ) بإسناده إلى عباس بن محمد الدوري (ت 271 هـ) أنه قال: "انتهى علم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى ستة نفر، من الصحابة رضي الله عنهم: عمر بن الخطاب، وعلي ابن أبي طالب، وعبد الله بن مسعود، وأبي بن كعب، ومعاذ بن جبل، وزيد بن ثابت، فهؤلاء طبقات الفقهاء.

--------------------------------------------

1رواه الإمام أحمد في المسند (3 / 19، 61) ، والترمذي في جامعه (4 / 483) ح 2191 في كتاب الفتن - باب ما أخبر النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه بما هو كائن.

ومنه بهذا المعنى حديث عمرو بن العاص رضي الله عنه: "إني كنت على أطباق ثلاث، ليس طبق إلا عرفت نفسي فيه، كنت أول شيءٍ كافراً …" الحديث رواه مسلم في الصحيح (1/ 112 ح 121) ، والإمام أحمد في المسند (4/ 199) واللفظ له.
বৈশিষ্ট্যসূচক অবস্থাটি নিজেই একটি তবাকা (স্তর)।

তারা বলতেন: অমুক ব্যক্তি পার্থিব জীবনে বিভিন্ন তবাকায় (পর্যায়ে) রয়েছেন; অর্থাৎ: বিভিন্ন অবস্থায়। আর এই অর্থটি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে: "জেনে রেখো, আদম সন্তানগণ বিভিন্ন তবাকায় (শ্রেণীতে) সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ মুমিন হিসেবে জন্মায়, মুমিন হিসেবে বেঁচে থাকে এবং মুমিন হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। আবার তাদের কেউ কাফির হিসেবে জন্মায়, কাফির হিসেবে বেঁচে থাকে এবং কাফির হিসেবেই মৃত্যুবরণ করে। তাদের কেউ মুমিন হিসেবে জন্মায়, মুমিন হিসেবে বেঁচে থাকে কিন্তু কাফির হিসেবে মৃত্যুবরণ করে। আবার কেউ কাফির হিসেবে জন্মায়, কাফির হিসেবে বেঁচে থাকে কিন্তু মুমিন হিসেবে মৃত্যুবরণ করে।" - হাদিস। ১

এটি মানুষের জীবনযাত্রা ও তাদের অবস্থার বর্ণনা, তাদের মর্যাদা বা অবস্থানের বর্ণনা নয়।

আমি এই শব্দটি অন্য একটি বর্ণনায় পেয়েছি যেখানে ভাষাতত্ত্ব এটিকেই নির্দেশ করে। কাযী ইবনে আবি ইয়ালা (মৃত ৫২৬ হি.) তার সনদে আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দাওরি (মৃত ২৭১ হি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের জ্ঞান ছয়জন সাহাবীর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নিকট এসে পৌঁছেছে: উমর ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনে আবি তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, উবাই ইবনে কাব, মুআয ইবনে জাবাল এবং যায়দ ইবনে সাবিত। এরাই হলেন ফকীহগণের তবাকা (স্তরসমূহ)।

--------------------------------------------

১ এটি ইমাম আহমদ মুসনাদ (৩ / ১৯, ৬১) গ্রন্থে এবং তিরমিজি তার জামি (৪ / ৪৮৩) গ্রন্থে, হাদিস নং ২১৯১, কিতাবুল ফিতান (ফিতনা অধ্যায়) - অনুচ্ছেদ: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন-এ বর্ণনা করেছেন।

একই অর্থে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসটিও উল্লেখযোগ্য: "আমি তিনটি তবাকায় (পর্যায়ে) ছিলাম, এমন কোনো পর্যায় ছিল না যাতে আমি নিজেকে চিনতাম না। আমি প্রথম দিকে কাফির ছিলাম …" - হাদিস। এটি ইমাম মুসলিম তার সহীহ (১/১১২, হাদিস নং ১২১) গ্রন্থে এবং ইমাম আহমদ তার মুসনাদ (৪/১৯৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তার।
(খণ্ড: ১) ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু মিনাল কারনিল আউওয়ালি ইলা নিহায়াতিল কারনিত তাসি (পৃষ্ঠা: ৪১)
وأما الرواة فستة نفر أيضاً: أبو هريرة، وأنس بن مالك، وجابر بن عبد الله، وعبد الله بن عمر، وأبو سعيد الخدري، وعائشة رضي الله عنهم.

وأما طبقات أصحاب الأخبار والقصص فستة نفر: عبد الله بن سلام، وكعب الأحبار، ووهب بن منبه، وطاووس اليماني، ومحمد بن إسحاق بن يسار، ومحمد بن عمر الواقدي.

وأما طبقات التفسير فستة أيضاً: عبد الله بن عباس، وسعيد بن جبير، ومجاهد، وقتادة، والضحاك بن مزاحم، والسدي.

وأما طبقات خُزَّان العلم: فالأعمش، ومالك بن أنس، وعبد الرحمن بن عمرو الأوزاعي، وسفيان الثوري، ومسعر بن كدام، وشعبة ابن الحجاج.

وأما طبقات الحفاظ فستة نفر: أحمد بن محمد بن حنبل، ويحيى بن معين، وعلي بن المديني، وأبو زرعة الرازي، ومحمد بن إسماعيل البخاري، ومسلم بن الحجاج. 1

فَبَيِّنٌ جداً أنه سمَّى كل واحد من الستة (طبقة) ، وسمى كل ستة نفر جميعاً: إما طبقات الفقهاء، وإما طبقات الرواة، وإما طبقات التفسير … إلى آخر ما سمى، وبَيِّنٌ أنّه يعني بتسمية كل واحد منهم (طبقة) أنه رأس متميز في الفقه أو الرواية أو التفسير أو الحفظ". 2 اهـ. ملخصاً بتصرف يسير.

--------------------------------------------

1طبقات الحنابلة (1 / 238) .

2مقدمة الأستاذ محمود شاكر في تحقيقه لطبقات فحول الشعراء لابن سلام (1 / 65 - 66) .
আর বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেও ছয়জন ব্যক্তি: আবু হুরায়রা, আনাস ইবনে মালিক, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আবু সাঈদ আল-খুদরি এবং আয়িশা (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন)।

আর সংবাদ ও কাহিনীকারদের স্তরসমূহের ক্ষেত্রে ছয়জন ব্যক্তি: আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম, কাব আল-আহবার, ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ, তাউস আল-ইয়ামানি, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার এবং মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদি।

আর তাফসিরের স্তরসমূহের ক্ষেত্রেও ছয়জন: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, মুজাহিদ, কাতাদাহ, দাহহাক ইবনে মুজাহিম এবং সুদ্দি।

আর ইলমের ভাণ্ডারীদের স্তরসমূহের ক্ষেত্রে: আমাশ, মালিক ইবনে আনাস, আব্দুর রহমান ইবনে আমর আল-আওযায়ি, সুফিয়ান আস-সাওরি, মিসআর ইবনে কিদাম এবং শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ।

আর হাফিজদের স্তরসমূহের ক্ষেত্রে ছয়জন ব্যক্তি: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আলি ইবনুল মাদিনি, আবু যুরআ আর-রাজি, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ। ১

সুতরাং এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, তিনি এই ছয়জনের প্রত্যেককে একেকটি (স্তর) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ছয়জন ব্যক্তির এই প্রত্যেকটি সমষ্টিকে কখনও ফকিহদের স্তরসমূহ, কখনও বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহ, আবার কখনও তাফসিরের স্তরসমূহ... এভাবে শেষ পর্যন্ত নামকরণ করেছেন। আর এটিও স্পষ্ট যে, তাদের প্রত্যেককে (স্তর) হিসেবে অভিহিত করার মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন যে, তারা ফিকহ, হাদিস বর্ণনা, তাফসির কিংবা হিফজের ক্ষেত্রে এক একজন বিশিষ্ট শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। ২। সমাপ্ত। সামান্য পরিমার্জনসহ সংক্ষেপিত।

--------------------------------------------

১ তাবাকাতুল হানাবিলাহ (১/২৩৮)।

২ ইবনে সালাম রচিত 'তাবাকাতু ফুহুলিশ শুআরা'-এর তাহকিকে উস্তাদ মাহমুদ শাকিরের ভূমিকা (১/৬৫-৬৬)।