(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: -)
علم التخريج ودوره في خدمة السنة النبوية - عبد الغفور البوشلي القسم: علوم الحديث
الكتاب: علم التخريج ودوره في خدمة السنة النبوية
المؤلف: عبد الغفور بن عبد الحق حسين بر البلوشي
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাদিসের উৎস অনুসন্ধান বিদ্যা (التخريج) এবং সুন্নাহর সেবায় এর ভূমিকা - আব্দুল গফুর আল-বুশলি বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: হাদিসের উৎস অনুসন্ধান বিদ্যা (التخريج) এবং সুন্নাহর সেবায় এর ভূমিকা
লেখক: আব্দুল গফুর বিন আব্দুল হক হুসাইন বার আল-বালুশি
প্রকাশক: কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর দ্য প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة…علم التخريج ودوره في خدمة السنة
إعداد الدكتور عبد الغفور عبد الحق البلوشي
التمهيد:
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم، وعلى آله الطيبين وصحابته المكرمين المجاهدين الذين لم يألوا جهدًا في نشر هذا الدين وتبليغه للعالمين، أما بعد:
فمن فضل الله سبحانه على هذه الأمة أن تكفَّل الله بحفظ هذا الدّين ومصادره وأصوله وذلك في قوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] كما أنه جعل وظيفة رسوله صلى الله عليه وسلم بيان كل ما يحتاج إلى بيان في هذا الكتاب، فبيَّن وفسّر، وصار بيانه لازماً لحفظ القرآن، ومن هنا هيأ الله تعالى لكتابه وسنة رسوله من يحفظونهما جيلاً بعد جيل، حفظاً في الصدور وحفظاً في السطور جنباً إلى جنب، فالذين قاموا بخدمة الكتاب والسنة هم العدول الأثبات فما تركوا جانبًا من جوانب العلم تحتاج إليه الأمة إلَاّ قاموا بذلك، والعناية بالسنة لا تزال مستمرة من القرون المفضلة إلى يومنا هذا، وليست إقامة هذه الندوة إلَاّ نموذجًا لاهتمام المملكة بخدمة السنة والسيرة، إذ يقوم عدد كبير من الباحثين بالكتابة في موضوعاتها المختلفة، وكنت ممن دعي إلى ذلك، فتلبية للدعوة بالمشاركة في ندوة «عناية المملكة العربية السعودية بالسنة والسيرة النبوية» التي تنظمها وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد، ممثلة في مجمع الك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة، بتقديم بحث في المحور الثاني: «عناية
ভূমিকা…তাখরিজ (تخريج) বিদ্যা এবং সুন্নাহর খিদমতে এর ভূমিকা
ড. আব্দুল গফুর আব্দুল হক আল-বালুশি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত
প্রারম্ভিকা:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও সম্মানিত মুজাহিদ সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন, যাঁরা এই দীন প্রচার এবং বিশ্ববাসীর কাছে তা পৌঁছে দিতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করেননি। অতপর:
এই উম্মতের ওপর মহান আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ হলো যে, আল্লাহ স্বয়ং এই দীন, এর উৎস ও মূলনীতিসমূহ সংরক্ষণের জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয় আমিই যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" [সূরা হিজর: ৯]। তদ্রূপ তিনি তাঁর রাসূল (সা.)-এর দায়িত্ব নির্ধারণ করেছেন এই কিতাবের যা কিছু ব্যাখ্যার প্রয়োজন তা বর্ণনা করা। ফলে তিনি বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাঁর এই বর্ণনা বা ব্যাখ্যা কুরআনের সংরক্ষণের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর জন্য এমন ব্যক্তিদের প্রস্তুত করেছেন যারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এগুলোকে সংরক্ষণ করবেন—স্মৃতিপটে মুখস্থ রাখার মাধ্যমে এবং পাণ্ডুলিপিতে লিখে রাখার মাধ্যমে। যারা কিতাব ও সুন্নাহর খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন তারা ছিলেন ন্যায়পরায়ণ (عدول) ও নির্ভরযোগ্য (أثبات)। উম্মতের জন্য প্রয়োজনীয় ইলমের এমন কোনো দিক নেই যাতে তারা অবদান রাখেননি। উত্তম যুগসমূহ থেকে আজ অবধি সুন্নাহর প্রতি এই বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ অব্যাহত রয়েছে। এই সেমিনারের আয়োজন সুন্নাহ ও সীরাতের খিদমতে সৌদি আরব রাজ্যের গুরুত্বারোপের একটি নমুনা মাত্র। যেখানে বিপুল সংখ্যক গবেষক এর বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লেখালেখি করছেন। আমাকেও এই আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাই মদিনা মুনাওয়ারায় কিং ফাহদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্সের প্রতিনিধিত্বে ‘ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়’ আয়োজিত "সুন্নাহ ও সীরাত আন-নববীর প্রতি সৌদি আরব রাজ্যের যত্ন" শীর্ষক সেমিনারে অংশগ্রহণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি দ্বিতীয় অক্ষ: "যত্ন..." বিষয়ে একটি গবেষণা প্রবন্ধ পেশ করছি।
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ২)
المسلمين بالسنة والسيرة النبوية على مرّ العصور» الموضوع الثامن «علم التخريج ودوره في خدمة السنة» . فشمّرت عن ساق الجد مستعينا بالله تعالى عز وجل في كتابة هذا البحث، أسأل الله تعالى أن ينفع به المسلمين وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، إنّه سميع مجيب.
যুগে যুগে মুসলিমদের সুন্নাহ ও সীরাতুন্নবীর সাথে (সম্পৃক্ততা)» অষ্টম বিষয়: ‘তাকরিজ শাস্ত্র (علم التخريج) এবং সুন্নাহর খিদমতে এর ভূমিকা’। ফলে আমি মহান আল্লাহ তাআলার সাহায্য কামনায় এই গবেষণাটি রচনায় পূর্ণ একাগ্রতার সাথে সচেষ্ট হয়েছি। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, যেন তিনি এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং একে একমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দোয়ায় সাড়া দানকারী।
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ৩)
خطة البحث:
قسمت البحث إلى تمهيد ومقدمة وأربعة أبواب، وفي كل الأبواب فصول، ثم خاتمة. أما التمهيد ففي عناية الأمة بخدمة الكتاب والسنة وسبب الكتابة في هذا البحث.
أما المقدمة ففي معاني التخريج لغة واصطلاحاً، والكتب المؤلفة حديثاً فيه.
الباب الأول: أهمية التخريج والاستخراج وفوائده ونشأته.
وفيه فصلان:
الفصل الأول: أهمية التخريج والاستخراج وفوائده.
الفصل الثاني: نشأته وتطوره.
الباب الثاني: اهتمام العلماء بالتخريج وجهودهم في ذلك.
ويشتمل على مدخل وفصلين:
المدخل: بداية الاهتمام بالتخريج بشكل مؤلفات في القرن الرابع فما بعد.
الفصل الأول: جهود العلماء في تخريج الأحاديث الواقعة في كلام بعض المصنفين من أهل الفنون المختلفة.
الفصل الثاني: جهود العلماء في تخريج الأحاديث بدون تقيّد بكتاب معيّن وموضوع معين.
الباب الثالث: التخريج المبني على المتن والإسناد وطرق تخريجهما:
وفيه مدخل وفصلان:
المدخل: بيان الصعوبة في التخريج وشدة الحاجة إليه.
গবেষণার রূপরেখা:
আমি গবেষণাপত্রটিকে একটি প্রারম্ভিকা, একটি ভূমিকা ও চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি এবং প্রতিটি অধ্যায়ে একাধিক পরিচ্ছেদ রয়েছে, অতঃপর একটি উপসংহার। প্রারম্ভিকাতে কুরআন ও সুন্নাহর খিদমতে উম্মাহর যত্ন এবং এই গবেষণাপত্রটি রচনার কারণ বর্ণিত হয়েছে।
ভূমিকার আলোচ্য বিষয় হলো শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج)-এর অর্থ এবং এ বিষয়ে সাম্প্রতিককালে রচিত গ্রন্থাবলি।
প্রথম অধ্যায়: হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج) ও মূল সূত্র থেকে হাদিস চয়ন (استخراج)-এর গুরুত্ব, উপকারিতা ও এর উদ্ভব।
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج) ও মূল সূত্র থেকে হাদিস চয়ন (استخراج)-এর গুরুত্ব ও উপকারিতা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর উদ্ভব ও বিকাশ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج)-এর প্রতি ওলামায়ে কেরামের বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং এ ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান।
এটি একটি উপক্রমণিকা ও দুটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:
উপক্রমণিকা: চতুর্থ হিজরি শতাব্দী ও পরবর্তী সময়ে গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج)-এর প্রতি গুরুত্বারোপের সূচনা।
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিভিন্ন শাস্ত্রের একদল গ্রন্থকারের আলোচনায় উল্লিখিত হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج)-এর ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের অবদান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কোনো নির্দিষ্ট গ্রন্থ বা বিষয়ের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج)-এর ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের অবদান।
তৃতীয় অধ্যায়: হাদিসের মূল পাঠ (متن) ও সনদ (إسناد)-এর ওপর ভিত্তি করে হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج) এবং উভয় পদ্ধতিতে উৎস নির্দেশের নিয়মাবলি:
এতে একটি উপক্রমণিকা ও দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
উপক্রমণিকা: হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج)-এর কাঠিন্য এবং এর তীব্র প্রয়োজনীয়তার বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ৪)
الفصل الأول: في التنبيه على بعض الأمور المهمة المتعلقة بالتخريج.
الفصل الثاني: طرق تخريج الحديث ووسائله: وفيه مدخل وثلاثة مباحث:
المبحث الأول: التخريج عن طريق معالم السند.
المبحث الثاني: التخريج عن طريق معالم المتن.
المبحث الثالث: التخريج عن طريق الكلّ بالحاسوب.
الباب الرابع: دراسة إسناد الحديث ومتابعاته وشواهده.
وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: في بيان بعض الأمور المهمة بين يدي الموضوع.
الفصل الثاني: دراسة الأسانيد والطرق وثمرتها، وخطواتها.
الفصل الثالث: في بعض الكتب المهمة المساعدة على دراسة الرواة.
الخاتمة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিস চয়ন ও উৎস অনুসন্ধান (تخريج) সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সতর্কীকরণ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিস চয়ন (تخريج)-এর পদ্ধতি ও মাধ্যমসমূহ: এতে একটি ভূমিকা ও তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সনদের (سند) বৈশিষ্ট্যসমূহের মাধ্যমে হাদিস চয়ন (تخريج)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মতনের (متن) বৈশিষ্ট্যসমূহের মাধ্যমে হাদিস চয়ন (تخريج)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কম্পিউটারের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে হাদিস চয়ন (تخريج)।
চতুর্থ অধ্যায়: হাদিসের সনদ (إسناد), সমর্থনকারী বর্ণনা (متابعات) এবং সাক্ষ্যদানকারী বর্ণনা (شواهد) পর্যালোচনা।
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মূল বিষয়ের প্রাক্কালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বর্ণনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সনদসমূহ (أسانيد) ও সূত্রসমূহ (طرق) পর্যালোচনা, এর ফলাফল এবং ধাপসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বর্ণনাকারী (رواة) পর্যালোচনায় সহায়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রসঙ্গে।
উপসংহার।
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمة:
قبل أن أدخل في موضوع البحث أريد أن أُعرِّف التخريج لغة واصطلاحاً وإطلاقاته عند المحدثين، فأقول:
التخريج لغة:
التخريج مشتق من مادة خرج خروجاً، والخروج نقيض الدخول، وخارج كل شيء ظاهره. يقال: خرجت خوارج فلان إذا ظهرت نجابته (1) .
ومنه قوله تعالى: {كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ} [الفتح: 29] أي كمثل زرع أبرز وأظهر مزروعه وطرفه (2) ، ومنه قوله تعالى: {وَأَخْرَجَ ضُحَاهَا} [النازعات 29] أي: أبرز وأظهر نهارها ونورها (3) .
وقال ابن فارس: «فقولنا خرج يخرج خروجاً والخراج بالجسد
… والخروج خروج السحابة، يقال ما أحسن خروجها، وفلان خرّيج فلان، إذا كان يتعلم منه كأنّه هو الذي أخرجه من حدّ الجهل» (4) ، فكلّ ما ذكر يتضمن معنى الظهور، وورد الاستخراج والاختراج بمعنى الاستنباط أيضاً، ويقال أيضاً: وخرّجه في الأدب فتخرَّج فهو خِرِّيج (5) ، ومن ذلك خِرِّيج
--------------------------------------------
ভূমিকা:
গবেষণার মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে আমি তাখরিজ (التخريج)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা এবং হাদিস বিশারদদের (المحدثين) নিকট এর প্রয়োগসমূহ বর্ণনা করতে চাই। আমি বলছি:
আভিধানিক অর্থে তাখরিজ (التخريج):
তাখরিজ (التخريج) শব্দটি ‘খারাযা’ (خرج) ‘খুরুযান’ (خروجاً) মূলধাতু থেকে উৎপন্ন। ‘খুরুজ’ (خروج) হলো ‘দুখুল’ (دخول) বা প্রবেশের বিপরীত। কোনো বস্তুর ‘খারিজ’ (خارج) বলতে তার বহির্ভাগকে বোঝায়। বলা হয়ে থাকে: ‘অমুকের বিশেষ গুণাবলি প্রকাশ পেয়েছে (خرجت خوارج فلان)’, যখন তার আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব পরিস্ফুট হয় (১)।
এর উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: {যেমন একটি চারাগাছ, যা তার অঙ্কুর বের করে} [আল-ফাতহ: ২৯] অর্থাৎ এমন ফসলের মতো যা তার চারা ও প্রান্তভাগকে বিকশিত ও প্রকাশ করেছে (২)। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি তার প্রভাতী আলো প্রকাশ করেছেন} [আন-নাজিআত: ২৯] অর্থাৎ: তিনি এর দিবস ও জ্যোতিকে বিকশিত ও প্রকাশ করেছেন (৩)।
ইবন ফারিস বলেন: «আমাদের কথা ‘খারাযা-ইয়াখরুজু-খুরুযান’ (خرج يخرج خروجاً) এবং শরীরের ফোঁড়া (الخراج)... আর ‘খুরুজ’ (الخروج) বলতে মেঘের প্রকাশ হওয়াকেও বোঝায়। বলা হয়, তার আত্মপ্রকাশ কতই না চমৎকার! আর ‘অমুক ব্যক্তি অমুকের ছাত্র বা স্নাতক (خرّيج)’, যখন সে তার নিকট শিক্ষা লাভ করে, যেন তিনিই তাকে অজ্ঞতার সীমা থেকে বের করে এনেছেন» (৪)। সুতরাং যা কিছু আলোচনা করা হলো, তার সবকিছুর মধ্যেই ‘প্রকাশ পাওয়া’ অর্থটি নিহিত রয়েছে। ‘ইস্তিখরাজ’ (الاستخراج) এবং ‘ইখতিরাজ’ (الاختراج) শব্দদ্বয় ‘উদ্ভাবন’ (الاستنباط) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আরও বলা হয়: ‘তিনি তাকে সাহিত্যে শিক্ষিত করে তুলেছেন (خرّجه في الأدب) ফলে সে শিক্ষিত হয়েছে (تخرَّج) এবং সে একজন স্নাতক (خِرِّيج)’ (৫)। এর থেকেই ‘স্নাতক’ (خِرِّيج) শব্দটি এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ৬)
الجامعة، وذكر الدكتور بكر أبو زيد: أنّ معناه مشتق من: النفاذ والظهور والانفصال للشيء، من المكان الذي هو فيه إلى غيره سواء في الأعيان أو المعاني، ومَثَّل للأعيان: خروج السحابة وخروج الشمس من تحت السحاب وخروج الرّجل من داره، وللمعاني: قولهم: فلان يحب الخروج أي الظهور، ولهذا سمّي الخارجون عن طاعة الإمام خوارج (1) ، وخرّج على وزن فعّل من فعله الرّباعي ومصدره التخريج، ومن هذا الرّباعيّ على أساس اشتقاقه الكبير، -وهو انفصال الشيء من المكان الذي هو فيه إلى غيره- قيل لعمل المحدث الذي يخرج الحديث من بطون الكتب «تخريج» (2) ، فمن هنا يظهر لنا مناسبة المعنى اللغوي للمعنى الاصطلاحي، وقد يَرِدُ التخريج بمعنى الإخراج والاستخراج أيضاً (3) .
أمَّا اصطلاحاً:
فلم يتعرض له من ألَّفوا في التخريج، وقاموا بتخريج أحاديث في كتب فقهية أو تفسيرية ونحوهما مثل: الزيلعي والحافظ العراقي وابن حجر وغيرهم، وهذا ما جعل الباحثين يختلفون في التعريف الاصطلاحي للتخريج. ونذكر فيما يلي نموذجاً من بعض الإطلاقات لمعاني التخريج عند المحدثين، ثم ما ورد من المعاصرين من تعريفات اصطلاحية عندهم.
--------------------------------------------
আল-জামিয়াহ, এবং ডক্টর বকর আবু যায়দ উল্লেখ করেছেন যে: এর অর্থ নির্গমন (النفاذ), প্রকাশ পাওয়া (الظهور) এবং কোনো বস্তু যেখানে ছিল সেখান থেকে অন্য স্থানে পৃথক হওয়া (الانفصال) থেকে উদ্ভূত; চাই তা দৃশ্যমান সত্তা (الأعيان) হোক বা ভাবগত অর্থ (المعاني)। তিনি দৃশ্যমান সত্তার উদাহরণ দিয়েছেন: মেঘের বের হওয়া (خروج السحابة), মেঘের নিচ থেকে সূর্যের উদয় হওয়া (خروج الشمس) এবং কোনো ব্যক্তির তার ঘর থেকে বের হওয়া (خروج الرّجل)। আর ভাবগত অর্থের ক্ষেত্রে উদাহরণ: তাদের উক্তি: অমুক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ (الخروج أي الظهور) পছন্দ করে; আর এই কারণেই যারা ইমামের আনুগত্য থেকে বের হয়ে গিয়েছিল তাদেরকে খাওয়ারিজ (خوارج) বলা হয়। খাররাজা (خرّج) শব্দটি 'ফায়'আলা' (فعّل) ওজনে তার চতুরক্ষরীয় রূপ থেকে গঠিত এবং এর ক্রিয়ামূল হলো তাখরিজ (التخريج)। এই চতুরক্ষরীয় রূপের মৌলিক বুৎপত্তিগত অর্থের ভিত্তিতে—যা হলো কোনো বস্তুর নিজ স্থান থেকে অন্য স্থানে পৃথক হওয়া—মুহাদ্দিসের (المحدث) সেই কাজকে তাখরিজ (تخريج) বলা হয়, যার মাধ্যমে তিনি হাদিসকে কিতাবসমূহের অভ্যন্তরীণ ভাগ থেকে বের করে আনেন। এখান থেকেই আমাদের নিকট শাব্দিক অর্থের (المعنى اللغوي) সাথে পারিভাষিক অর্থের (المعنى الاصطلاحي) সামঞ্জস্যতা স্পষ্ট হয়। কখনো কখনো তাখরিজ (تخريج) শব্দটি ইখরাজ (الإخراج) এবং ইসতিখরাজ (الاستخراج) অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
আর পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحاً):
যারা তাখরিজ (التخريج) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ফিকহ বা তাফসির ও এই জাতীয় কিতাবসমূহে হাদিসের তাখরিজ (تخريج) সম্পাদন করেছেন, যেমন: যায়লায়ী, হাফিজ ইরাকী, ইবনে হাজার এবং অন্যান্যরা; তারা এর পারিভাষিক সংজ্ঞার অবতারণা করেননি। আর এ কারণেই গবেষকগণ তাখরিজের (التخريج) পারিভাষিক সংজ্ঞার (التعريف الاصطلاحي) ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। নিম্নে আমরা মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) নিকট তাখরিজের (تخريج) প্রয়োগের কিছু নমুনা এবং পরবর্তীতে সমকালীন গবেষকদের প্রদত্ত পারিভাষিক সংজ্ঞাগুলো (تعريفات اصطلاحية) উল্লেখ করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ৭)
إطلاقات التخريج عند المحدِّثين:
حيث ورد إطلاقه على معان: منها: الإخراج:
أي إبراز المحدِّث الحديث أو إظهاره بسنده إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم وروايته للناس. قال الإمام مسلم في مقدمة صحيحه (1) "ثم إنّا إن شاء الله، مبتدئون في تخريج ما سألت، وتأليفه على شريطه"، أي شرطه، فسمّى رحمه الله عمله في إخراج الصحيح تخريجاً. وهكذا ينطبق هذا الإطلاق على غيره من المصنفات التي صنفها أصحابها بأسانيدهم مثل الصحاح والسنن والمسانيد، وغيرها من الكتب التي عنيت بذكر الأحاديث بالأسانيد، ولذا يقال عند النسبة إليها أخرجه البخاري، وأخرجه مسلم، وهكذا كان يطلق عند العلماء المتقدمين (2) –بعد ظهور المصنفات المنهجية في السنة – على إيراد الحديث بإسناده في مصادر السنة، وهذا الاصطلاح قد خفت حِدَّتُه كثيرا عند المتأخرين (3) .
وعلى هذا ينزل كلام ابن الصلاح (4) : وللعلماء بالحديث في تصنيفه طريقتان إحداهما: ((التصنيف على الأبواب، وهو تخريجه على أحكام الفقه وغيرها
…)) أي إخراجه وروايته للناس في كتبهم فهو مرادف له بهذا المعنى.
ويطلق أيضاً على إخراج الأحاديث من بطون الكتب وروايتها كما ذكر الدكتور الطحان (5) ، ونزل كلام السخاوي على هذا، حيث قال السخاوي:
--------------------------------------------
মুহাদ্দিসগণের নিকট তাখরিজ (تخريج) শব্দের প্রয়োগসমূহ:
এটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে একটি হলো: ইখরাজ (الإخراج) (প্রকাশ করা):
অর্থাৎ মুহাদ্দিস কর্তৃক হাদিসকে তাঁর নিজস্ব সনদ (إسناد) সহ রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত পোঁছে দিয়ে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা বা বর্ণনা করা। ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ-এর মুকাদ্দামায় (১) বলেছেন, "অতঃপর ইনশাআল্লাহ, আপনি যা চেয়েছেন আমরা তার তাখরিজ (تخريج) এবং তাঁর শর্ত (شرط)-ানুসারে তা সংকলনের কাজ শুরু করছি।" এখানে তিনি (রহ.) সহিহ হাদিস সংকলনের কাজকে তাখরিজ (تخريج) নামে অভিহিত করেছেন। একইভাবে এই প্রয়োগটি অন্যান্য সংকলনগ্রন্থের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যা সংকলকগণ তাঁদের নিজস্ব সনদ (أسانيد)-সহ সংকলন করেছেন; যেমন সিহাহ, সুনান, মুসনাদ এবং অন্যান্য কিতাব যা সনদ (أسانيد)-সহ হাদিস উল্লেখের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে। এই কারণেই কোনো হাদিসের উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় বলা হয়: 'এটি বুখারি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন' এবং 'এটি মুসলিম বর্ণনা (أخرجه) করেছেন'। এভাবেই মুতাকাদ্দিমুন (المتقدمين) (পূর্ববর্তী) ওলামায়ে কিরামের নিকট—সুন্নাহর পদ্ধতিগত সংকলনগুলো প্রকাশের পর—সুন্নাহর মূল উৎসসমূহে সনদ (إسناد)-সহ হাদিস উল্লেখ করার ক্ষেত্রে এই পরিভাষাটি ব্যবহৃত হতো। তবে মুতাআখখিরুন (المتأخرين) (পরবর্তী) আলিমদের নিকট এই পরিভাষার ব্যবহার অনেক কমে এসেছে (৩)।
আর এই অর্থেই ইবনুস সালাহ (৪)-এর বক্তব্যটি প্রযোজ্য: "হাদিস বিশেষজ্ঞদের নিকট হাদিস সংকলনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে; যার একটি হলো: অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস, আর তা হলো ফিকহি আহকাম ও অন্যান্য বিষয়ের আলোকে হাদিসের তাখরিজ (تخريجه) করা..." অর্থাৎ নিজের কিতাবে মানুষের উদ্দেশ্যে হাদিস বের করে আনা ও বর্ণনা করা। সুতরাং এই অর্থে এটি সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
এটি কিতাবের অভ্যন্তর থেকে হাদিস বের করে আনা এবং তা বর্ণনা করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমনটি ডক্টর তাহহান (৫) উল্লেখ করেছেন। আল্লামা সাখাওয়ির বক্তব্যও এই অর্থের অনুকূলে রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ৮)
((والتخريج: إخراج المحدث الحديث من بطون الأجزاء والمشيخات، والكتب ونحوها وسياقها من مرويات نفسه، أو بعض شيوخه أو أقرانه أو نحو ذلك، والكلام عليها، وعزوها لمن رواها من أصحاب الكتب والدواوين مع بيان البدل والموافقة ونحوهما
… (1)) ) .
وذكر د. بكر أبو زيد أن السخاوي - رحمه الله تعالى - أشار في تعريفه المذكور إلى اختلاف حقيقة التخريج بتنوع طرقه واختلاف حقائقها (2) ، ثم ذكر أنه قد يُتوسع في إطلاقه - أي التخريج - على مجرد الإخراج والعزو
(3) .
ومن اطلاقات التخريج: الانتقاء:
الفوائد والأجزاء وغيرها، ومنها تخاريج الخطيب البغدادي لعدد من الكتب، منها فوائد أبي القاسم النَّرْجِسي، تخريج الخطيب في عشرين جزءا.
«الفوائد المنتخبة الصحاح العوالي» لجعفر بن أحمد السراج القاري، تخريج الخطيب (4) .
وينطبق التخريج بهذا المعنى على كل الكتب التي انتخبها المحدِّثون من المصادر الحديثية، وذكر الذهبي في ترجمة الجارودي الهروي (ت413هـ) أنه
--------------------------------------------
((তখরিজ (التخريج): এটি হলো একজন হাদিস বিশারদ (المحدث) কর্তৃক ক্ষুদ্র হাদিস সংকলন (الأجزاء), মাশইয়াখাত (المشيخات), কিতাব ও অনুরূপ উৎসসমূহের অভ্যন্তরীণ অংশ থেকে হাদিস উদ্ধার করা এবং নিজের বর্ণিত হাদিসসমূহ, কিংবা তার কোনো শিক্ষক, সমসাময়িক বা অনুরূপ ব্যক্তিদের বর্ণনা থেকে সেগুলোকে বিন্যস্ত করা, সেগুলোর ওপর আলোচনা করা এবং মূল গ্রন্থকার ও সংকলকদের দিকে সেগুলোকে সম্বন্ধযুক্ত (العزو) করা; সেই সাথে ‘বদল’ (البدل), ‘মুওয়াফাকাহ’ (الموافقة) এবং অনুরূপ বিষয়াবলি স্পষ্ট করা
… (১)) ।
ড. বকর আবু যাইদ উল্লেখ করেছেন যে, সাখাভী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর উল্লিখিত সংজ্ঞায় তখরিজের (التخরিج) পদ্ধতির ভিন্নতা ও বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্যের কারণে এর প্রকৃত স্বরূপের পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন (২), এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কখনো কখনো কেবল হাদিস উদ্ধৃত করা (الإخراج) এবং সম্বন্ধযুক্ত করার (العزو) ক্ষেত্রেও ‘তখরিজ’ (التخরিج) শব্দটির ব্যাপক ব্যবহার হতে পারে
(৩) ।
‘তখরিজ’ (التخريج) শব্দটির অন্যতম প্রায়োগিক অর্থ হলো: হাদিস চয়ন বা নির্বাচন করা (الانتقاء):
‘ফাওয়াইদ’ (الفوائد), ‘জুজ’ (الأجزاء) এবং অন্যান্য কিতাবাদি; এর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু গ্রন্থের ওপর খাতিব আল-বাগদাদির করা ‘তখরিজ’ (تخاريج) সমূহ, যার একটি হলো আবু আল-কাসিম আন-নারজিসির ‘ফাওয়াইদ’, যা খাতিব বিশটি খণ্ডে (جزءا) তখরিজ করেছেন।
জাফর ইবনে আহমাদ আস-সিরাজ আল-কারির ‘আল-ফাওয়াইদ আল-মুনতাখাবাহ আস-সিহাহ আল-আওয়ালি’, যা খাতিব তখরিজ করেছেন (৪)।
এই অর্থে ‘তখরিজ’ (التخريج) শব্দটি সেই সকল কিতাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) হাদিসের মূল উৎসসমূহ থেকে চয়ন করেছেন। ইমাম দাহাবি আল-জারুদি আল-হারাউই-এর (মৃত্যু ৪১৩ হিজরি) জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال بعض الكبار: الجارودي أول من سنّ بهراة تخريج الفوائد وشرح الرجال والتصحيح (1) .
ولكن هذا المعنى لم ينتشر ولم يستمر فيما بعد، وصار في حكم المنسي.
وإنّما كثر استعماله في الأزمنة الأخيرة إلى وقتنا الحاضر بمعنى العزو والدلالة: أي عزو الحديث إلى مصادره التي خرجته والدّلالة على مواضعه مع بيان الحكم.
ذكر المناوي عند قول السيوطيّ: «وبالغت في تحرير التخريج» بمعنى اجتهدت في تهذيب عزو الأحاديث إلى مخرجيها من أئمة الحديث، من الجوامع والسنن والمسانيد فلا أعزو إلى شيء منها إلاّ بعد التفتيش عن حاله وحال مخرجه، ولا أكتفي بعزوه إلى من ليس من أهله -وإن جلَّ– كعظماء المفسرين» (2) أي: الذين يذكرون الأحاديث بدون إسناد، أمَّا الذّين يسندون الأحاديث فداخل في عزوه.
وهذا المعنى الأخير هو الذي شاع وذاع عند المتأخرين من المحدثين في القرون المتأخرة وكثر استعماله بعد أن بدأ العلماء بتخريج الأحاديث المبثوثة في بطون الكتب المختلفة، ولا سيما في الفقه والتفسير وغيرهما (3) .
ومن إطلاقات المحدثين: الاستخراج أو المستخرج، وجمعه مستخرجات،
--------------------------------------------
কিছু বরেণ্য আলেম বলেছেন: আল-জারুদিই সর্বপ্রথম হারাত অঞ্চলে হাদিসের উপকারিতা চয়ন (تخريج), বর্ণনাকারীদের পরিচিতি বিশ্লেষণ (شرح الرجال) এবং হাদিস বিশুদ্ধকরণ (التصحيح)-এর রীতি প্রবর্তন করেন। (১)
কিন্তু এই অর্থটি পরবর্তী সময়ে ছড়িয়ে পড়েনি এবং স্থায়ীও হয়নি, বরং এটি অনেকটা বিস্মৃত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
তবে পরবর্তী যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত 'উৎস নির্দেশ করা' (العزو) এবং 'দিকনির্দেশনা' (الدلالة) অর্থে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ: হাদিসকে তার মূল উৎসগ্রন্থসমূহের দিকে সম্পৃক্ত করা এবং তার মান বা বিধান (الحكم) বর্ণনাসহ কিতাবের কোন স্থানে আছে তা নির্দেশ করা।
ইমাম মুনাউয়ি, ইমাম সুয়ুতির এই উক্তির প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন: «এবং আমি হাদিসের উৎস নির্ণয়ের (التخريজ) পরিমার্জনে কঠোর পরিশ্রম করেছি»; এর অর্থ হলো: হাদিসের ইমামদের সংকলিত জামে, সুনান এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহের দিকে হাদিসগুলোকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ফলে আমি কোনো হাদিসকে এগুলোর কোনোটির দিকে সম্পৃক্ত করি না যতক্ষণ না আমি সেই হাদিসের অবস্থা এবং এর সংকলকের অবস্থা সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করি। আর আমি কোনো হাদিসকে এমন ব্যক্তিদের দিকে সম্পৃক্ত করে ক্ষান্ত হই না যারা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ নন—যদিও তাঁরা অনেক বড় ব্যক্তিত্ব হোন না কেন—যেমন বড় বড় মুফাসসিরগণ (২)। অর্থাৎ: যারা সনদ (إسناد) ছাড়াই হাদিস উল্লেখ করেন। পক্ষান্তরে যারা সনদসহ হাদিস বর্ণনা করেন, তারা এই সম্পর্কায়নের অন্তর্ভুক্ত।
আর এই শেষোক্ত অর্থটিই পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিসদের নিকট ব্যাপক পরিচিতি ও প্রসার লাভ করেছে। বিশেষ করে আলেমগণ যখন বিভিন্ন কিতাবের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাদিসগুলোর উৎস নির্ণয় (تخريج) শুরু করেন, বিশেষ করে ফিকহ, তাফসির এবং অন্যান্য কিতাবের হাদিসগুলো (৩)।
মুহাদ্দিসদের ব্যবহৃত পরিভাষাগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: আল-ইস্তিখরাজ (الاستخراج) বা আল-মুস্তাখরাজ (المستخرج), এবং এর বহুবচন হলো মুস্তাখরাজাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ১০)
ذكر الذهبي في ترجمة الحافظ أبي عليّ الحسين بن محمد بن أحمد أنّه «خرج على الصحيحين» مستخرجاً حافلاً (1) .
وذكر الحافظ ابن حجر في كتابه النكت فقال: «إنّ الحافظ أبا بكر محمد ابن عبد الله الشيباني المعروف بالجوزقي ذكر في كتابه المسمَّى بـ المتفق (أي الكبير) – أنه استخرج على جميع ما في «الصحيحين» حديثاً حديثاً، فكان مجموع ذلك خمسة وعشرين ألفَ طريق، وأربعمائة وثمانين طريقاً (2) .
وكذا ذكر الذهبي وابن عبد الهادي أنّ «كتاب المتفق الكبير» نحو ثلاثمائة جزء (3) .
وسيأتي الكلام على اصطلاح الاستخراج عند المحدثين وفوائده قريباً.
وقد توسع د. بكر أبو زيد في معنى التخريج – بعد أن عدَّه من المشترك اللفظي – واستعماله عند المحدثين وغيرهم- حتى وصّلها إلى ثمانية عشر معنى واستعمالاً ختمها بلفظ «التخريج عند النحاة» (4) .
تبيّن من خلال المعاني السابقة أنّ المتقدمين لم يُعَرِّفوا التخريج، بالمفهوم المصطلح عند المتأخرين، ولعلّ أقرب تعريف للتخريج الاصطلاحي عند المتأخرين ما تقدم ذكره عن السخاوي والمناوي؛ ولذلك اختلف المعاصرون الذين ألّفوا في أصول التخريج وقواعده في معنى التخريج اصطلاحاً.
--------------------------------------------
ইমাম যাহাবী হাফিজ আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ‘সহীহাইন’-এর ওপর একটি সমৃদ্ধ মুস্তাখরাজ (مستخرج) সংকলন করেছেন (১)।
হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর 'আন-নুকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: “হাফিজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শায়বানি, যিনি আল-জাওজাকি নামে পরিচিত, তিনি তাঁর ‘আল-মুত্তাফাক’ (অর্থাৎ আল-কাবীর) নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ‘সহীহাইন’-এ বিদ্যমান প্রতিটি হাদিসের জন্য পৃথক পৃথকভাবে হাদিস আহরণ (استخرج) করেছেন। এর সর্বমোট সংখ্যা ছিল পঁচিশ হাজার চারশ আশিটি সূত্র (طريق) (২)।
অনুরূপভাবে যাহাবী এবং ইবনে আব্দুল হাদি উল্লেখ করেছেন যে, ‘আল-মুত্তাফাক আল-কাবীর’ গ্রন্থটি প্রায় তিনশ খণ্ডে (جزء) বিভক্ত (৩)।
অচিরেই হাদিস বিশারদদের (محدثين) নিকট ইস্তিখরাজ (استخراج) বা স্বতন্ত্র সূত্রে হাদিস আহরণের পরিভাষা এবং এর উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা আসবে।
ড. বকর আবু যায়দ ‘তাখরিজ’ (تخريজ)-এর অর্থ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন—এটিকে বহু অর্থবোধক শব্দ (المشترك اللفظي) হিসেবে গণ্য করার পর—এবং হাদিস বিশারদ (محدثين) ও অন্যদের নিকট এর ব্যবহারের আঠারোটি অর্থ ও প্রয়োগ বর্ণনা করেছেন, যার সমাপ্তি টেনেছেন ‘ব্যাকরণবিদদের নিকট তাখরিজ’ পরিভাষাটি দিয়ে (৪)।
পূর্বোক্ত অর্থসমূহ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, পূর্বসূরিগণ (متقدمين) উত্তরসূরিদের (متأخرين) পারিভাষিক (اصطلاحي) ধারণার আলোকে ‘তাখরিজ’-এর সংজ্ঞা প্রদান করেননি। সম্ভবত উত্তরসূরিদের (متأخرين) নিকট তাখরিজের পারিভাষিক (اصطلاحي) সংজ্ঞার সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো যা সাখাভী ও মুনাভী থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে; একারণেই সমকালীন গবেষকগণ, যারা তাখরিজের মূলনীতি (أصول) ও নিয়মাবলি (قواعد) সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁরা তাখরিজের পারিভাষিক (اصطلاحي) অর্থের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ১১)
التخريج في اصطلاح المعاصرين
عرّفه الطحان بقوله: «التخريج هو الدلالة على موضع الحديث في مصادره الأصلية التي أخرجته بسنده، ثم بيان مرتبته عند الحاجة» (1) .
وردَّ هذا التعريف الدكتور بكر أبو زيد، وقال: إن «هذا تعريف لطرق استخراج الحديث، ولا يمكن قبوله تعريفاً وحقيقة «للتخريج» ، وتأباه صناعة الحدود والتعريفات» (2) .
وعرفه البقاعيّ:
بقوله: «هو إظهار مواضع الأحاديث من مصادرها المسندة» (3) .
ثم ذكر أنه لا يَرِدُ على تعريفه هذا أن بعض كتب التخريج فيها زيادات
… كالحكم عليه صحة أو ضعفاً؛ لأنه لاحظ جوهر التعريف دون الزيادات، إذ إن هذه الزيادات لم يطَّرد وجودُها في كتب التخريج كافة (4) .
فيرد على هذا التعريف ما أورد على التعريف السابق.
وعرّفه إقبال أيضا قريبا من تعريف الطحان المذكور مع تفاوت يسير في الألفاظ (5) .
--------------------------------------------
সমকালীনদের পরিভাষায় তাখরিজ (تخريج)
আল-তাহহান একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: «তাখরিজ (تخريج) হলো হাদিসের মূল উৎসসমূহে এর অবস্থান নির্দেশ করা যা একে সনদ (سند)-সহ বর্ণনা করেছে, অতঃপর প্রয়োজনবোধে এর মান (مرتبة) বর্ণনা করা» (১)।
ডক্টর বকর আবু যাইদ এই সংজ্ঞাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন: «এটি হাদিস অনুসন্ধানের পদ্ধতির সংজ্ঞা, একে 'তাখরিজ' (تخريজ)-এর প্রকৃত ও বাস্তব সংজ্ঞা হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয় এবং সংজ্ঞায়ন শাস্ত্রও একে প্রত্যাখ্যান করে» (২)।
আল-বিকায়ি একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে:
তাঁর উক্তি: «এটি হলো মুসনাদ উৎসসমূহ থেকে হাদিসের অবস্থানসমূহ প্রকাশ করা» (৩)।
অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এটি আপত্তিকর হবে না যে তাখরিজ সংক্রান্ত কিছু কিতাবে অতিরিক্ত বিষয় রয়েছে
… যেমন হাদিসটির ওপর সহিহ (صحة) বা জইফ (ضعف) হওয়ার হুকুম প্রদান; কারণ তিনি সংজ্ঞার মূল নির্যাসের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন, অতিরিক্ত বিষয়গুলোর প্রতি নয়, যেহেতু এই অতিরিক্ত বিষয়গুলো সকল তাখরিজ গ্রন্থে নিয়মিতভাবে পাওয়া যায় না (৪)।
সুতরাং এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী সংজ্ঞার ওপর উত্থাপিত আপত্তিগুলো প্রযোজ্য হবে।
ইকবালও শব্দের সামান্য তারতম্যসহ উল্লিখিত আল-তাহহানের সংজ্ঞার কাছাকাছি একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ১২)
«هو عزو الحديث إلى من أخرجه من أئمة الحديث والكلام عليه بعد التفتيش عن حاله ورجال مخرجه» (1) .
وذكر الدكتور سعد بن عبد الله آل حميد أن تعريف التخريج الاصطلاحي: له ثلاثة تعريفات:
التعريف الأول:
إخراج الحديث وإبرازه للناس بذكر سنده ومتنه، فيقال: هذا حديث أخرجه البخاري، أي أبرزه وأظهره للناس بذكر سنده ومتنه كاملاً.
التعريف الثاني:
تخريج أحاديث كتاب معين، بذكر المخرِّج الحديثَ الذي ذكره صاحب ذلك الكتاب بسنده كما فعل الحافظ ابن حجر في كتابه «نتائج الأفكار في تخريج أحاديث الأذكار» (2) للنووي، فالنووي يورد فيه الأحاديث بدون ذكر الأسانيد مع العزو كما هو طريقته في رياض الصالحين، فخرج الحافظ ابن حجر أحاديثه حديثاً حديثاً بإسناده الطويل منه إلى النبي صلى الله عليه وسلم، بتصرف يسير.
التعريف الثالث:
هو التعريف الذي أصبح الدارج عند متأخري زماننا عرَّفه بعضهم، ويعني بالبعض تعريف الطحان المذكور، الذي نقده د. بكر أبو زيد، ولعلَّ أدق تعريف له الذي ينطبق على أعمال التخريج عند العلماء هو ما عرَّفه الدكتور بكر بن عبد الله أبو زيد بقوله:
--------------------------------------------
«এটি হলো হাদিসকে সেই সকল হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণের দিকে সম্পৃক্ত করা (عزو) যারা এটি সংকলন করেছেন (أخرجه), এবং হাদিসটির অবস্থা ও এর উৎস-বর্ণনাকারীদের (رجال) ব্যাপারে অনুসন্ধানের পর তার ওপর মন্তব্য করা» (১) ।
ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ উল্লেখ করেছেন যে, পারিভাষিক তাখরিজ (تخريج)-এর তিনটি সংজ্ঞা রয়েছে:
প্রথম সংজ্ঞা:
হাদিসকে এর সনদ (سند) ও মতন (متن) উল্লেখ করার মাধ্যমে বের করা এবং মানুষের সামনে প্রকাশ করা। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: এই হাদিসটি বুখারি বের করেছেন (أخرجه), অর্থাৎ তিনি এর পূর্ণ সনদ (سند) ও মতন (متن) উল্লেখ করে মানুষের কাছে তা প্রকাশ ও জাহির করেছেন।
দ্বিতীয় সংজ্ঞা:
কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) করা। অর্থাৎ সেই কিতাবের লেখক যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, মুখাররিজ (المخرِّج) কর্তৃক তা নিজ সনদে (سند) উল্লেখ করা। যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর নাতাইজে আল-আফকার ফি তাখরিজি আহাদিসিল আজকার (২) গ্রন্থে ইমাম নববির জন্য করেছেন। ইমাম নববি তাতে সনদসমূহ (أسانيد) উল্লেখ না করে কেবল মূল উৎসের দিকে সম্পৃক্ত করার (عزو) মাধ্যমে হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন, যেমনটি তাঁর রিয়াদুস সালিহীন গ্রন্থের পদ্ধতি। অতঃপর হাফেজ ইবনে হাজার এর প্রতিটি হাদিস তাঁর নিজের দীর্ঘ সনদ (إسناد) সহকারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত তাখরিজ (تخريج) করেছেন, সামান্য কিছু পরিবর্তনসহ (تصرف)।
তৃতীয় সংজ্ঞা:
এটি সেই সংজ্ঞা যা আমাদের বর্তমান সময়ের পরবর্তী যুগের (متأخرين) আলেমদের কাছে প্রচলিত (دارج) হয়ে উঠেছে। তাঁদের কেউ কেউ এটি সংজ্ঞায়িত করেছেন; আর 'কেউ কেউ' বলতে আল-তাহহানের উল্লিখিত সেই সংজ্ঞাটিই উদ্দেশ্য, যা ড. বকর আবু জায়েদ সমালোচনা করেছেন। সম্ভবত আলেমদের মাঝে তাখরিজ (تخريج) কর্মের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিখুঁত সংজ্ঞা হলো সেটি, যা ড. বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবু জায়েদ তাঁর এই বাণীতে প্রদান করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
«هو معرفة حال الراوي والمروي، ومَخْرَجِهِ، وحكمه صحة وضعفاً بمجموع طرقه، وألفاظه» (1) ، ثم قال: «هذا تعريف التخريج» بمعناه الدقيق وهو المراد عند الإطلاق، وهو «الطريقة الخامسة» (2) من طرق التخريج وهي أعلاها» (3) ، وهذا التعريف هو الذي أراه دقيقاً بفن التخريج العمليّ عند أهله، وقريب مما ذكره د. بكر أبو زيد، تعريف الدكتور عبد الغني أحمد مزهر التميمي الثالث في كتابه ((تخريج الحديث النبوي)) (4) ، وإن كانت بقية التعريفات أيضاً ليست بعيدة وكلها تدور حول الحمى، لكنّ الاختيار وقع للأدق والأمثل منها، والله أعلم.
ولعله من المناسب بعد الانتهاء من عرض معنى التخريج اصطلاحاً أن أذكر الكتب والرسائل التي ألفت في هذا الموضوع.
--------------------------------------------
«তা হলো বর্ণনাকারী (راوي) ও যা বর্ণিত হয়েছে (مروي) তার অবস্থা, এর উৎস (مخرج), এবং এর সকল সূত্রের (طرق) সমষ্টি ও শব্দাবলির (ألفاظ) ভিত্তিতে তার সহিহ (صحيح) বা জয়িফ (ضعيف) হওয়ার হুকুম (حكم) সম্পর্কে অবগত হওয়া» (১), অতঃপর তিনি বলেন: «এটিই হলো তাখরিজের (تخريج) সংজ্ঞা» এর সূক্ষ্ম অর্থে, আর সাধারণভাবে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটিই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। আর এটিই হলো তাখরিজের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে «পঞ্চম পদ্ধতি» (২) যা সেগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম» (৩)। এই সংজ্ঞাকেই আমি এ শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট ব্যবহারিক তাখরিজ (تخরিজ) বিদ্যায় অধিক সূক্ষ্ম ও নির্ভুল বলে মনে করি এবং এটি ড. বকর আবু যাইদ যা উল্লেখ করেছেন তার নিকটবর্তী; যা মূলত ড. আবদুল গনি আহমদ মিজহার আল-তামিমির তাঁর ‘তাখরিজুল হাদিস আন-নাবাউয়ি’ গ্রন্থে প্রদত্ত তৃতীয় সংজ্ঞা (৪)। যদিও অন্যান্য সংজ্ঞাগুলোও এর থেকে খুব একটা দূরে নয় এবং সবগুলোই মূল বিষয়ের চারপাশেই আবর্তিত হয়েছে, তবুও এগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে নির্ভুল ও উত্তমটিকেই নির্বাচন করা হয়েছে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
তাখরিজের (تخريج) পারিভাষিক (اصطلاحا) অর্থ উপস্থাপন শেষ করার পর সম্ভবত এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থ ও গবেষণাপত্রগুলোর নাম উল্লেখ করা সমীচীন হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أهم المؤلفات في «أصول التخريج» «وطرق استخراج الحديث» (1)
1- «حصول التفريج بأصول العزو والتخريج» لأبي الفيض أحمد بن محمد
ابن الصدِّيق الغماري (ت1380هـ) ، والكتاب مطبوع ولم أقف عليه لعدم توفره (2) .
2- «أصول التخريج ودراسة الأسانيد» للدكتور محمود الطحان (3) .
3- «كشف اللثام عن أسرار تخريج أحاديث سيد الأنام» للدكتور عبد الموجود عبد اللطيف (4) .
4- ((طرق تخريج حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم) للدكتور عبد المهدي
عبد القادر (5) لم أقف عليه.
5- «أصول التخريج وطرق تخريج الحديث» للدكتور شاكر ذيب فيّاض (6) .
6- «منهج دراسة الأسانيد والحكم عليها ويليه دراسة في تخريج الأحاديث» للدكتور وليد بن الحسن العاني (ت1416هـ) (7) .
--------------------------------------------
«উসুলুত তাখরিজ» ও «হাদিস আহরণ পদ্ধতিসমূহ» (১)-এর প্রধান গ্রন্থসমূহ
১- আবু ফায়েজ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুস সিদ্দিক আল-গুমারি (মৃ. ১৩৮০ হি.) রচিত «হুসুলুত তাফরিজ বি-উসুলিল আযওয়ি ওয়াত তাখরিজ»। বইটি মুদ্রিত, তবে দুষ্প্রাপ্যতার কারণে আমি তা দেখার সুযোগ পাইনি (২)।
২- ড. মাহমুদ আত-তহ্হান রচিত «উসুলুত তাখরিজ ওয়া দিরাসাতুল আসানিদ» (৩)।
৩- ড. আবদুল মাওজুদ আবদুল লতিফ রচিত «কাশফুল লিসাম আন আসরারি তাখরিজি আহাদিসি সায়্যিদিল আনাম» (৪)।
৪- ড. আবদুল মাহদী আবদুল কাদির রচিত «তুরুকু তাখরিজি হাদিসি রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম» (৫)। আমি এটি দেখার সুযোগ পাইনি।
৫- ড. শাকির জিব ফাইয়াদ রচিত «উসুলুত তাখরিজ ওয়া তুরুকু তাখরিজিল হাদিস» (৬)।
৬- ড. ওয়ালিদ ইবনুল হাসান আল-আনী (মৃ. ১৪১৬ হি.) রচিত «মানহাজু দিরাসাতিল আসানিদ ওয়াল হুকমু আলাইহা ওয়া ইয়ালিহি দিরাসাতুন ফি তাখরিজিল আহাদিস» (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
7- علم تخريج الأحاديث: أصوله، طرائقه، مناهجه للدكتور محمد محمود بكار (1) . ولم أقف عليه.
8- «تخريج الحديث» للدكتور همام عبد الرّحيم سعيد (2) . ولم أقف عليه.
9- «تبسيط علم التخريج» للدكتور مصطفى سليمان الندوي (3) لم أقف عليه.
10- «التأصيل لأصول التخريج وقواعد الجرح والتعديل» للدكتور بكر ابن عبد الله أبو زيد (4) .
11- «مفاتيح علوم الحديث وطرق تخريجه» لمحمد عثمان الخشين (5) . ولم أقف عليه.
12- «فن تخريج الحديث» للدكتور عزّت علي عيد عطية، لم أقف عليه (6) .
13- «المدخل إلى تخريج الأحاديث والآثار والحكم عليها» للدكتور عبد الصمد بن بكر عابد (7) .
14- «تحفة الخريج إلى أدلة التخريج» تأليف: إقبال أحمد محمد إسحاق (8) .
--------------------------------------------
7- ইলম তাখরিজিল আহাদিস (হাদিসের উৎস অনুসন্ধান - تخريج): এর মূলনীতি, পদ্ধতি ও মানহাজ - ডক্টর মুহাম্মদ মাহমুদ বক্কার (১)। আমি এটি দেখার সুযোগ পাইনি।
8- «তাখরিজুল হাদিস (হাদিসের উৎস অনুসন্ধান - تخريج)» - ডক্টর হাম্মাম আব্দুর রহীম সাঈদ (২)। আমি এটি দেখার সুযোগ পাইনি।
9- «তাবসিত ইলমিত তাখরিজ (হাদিসের উৎস অনুসন্ধান - تخريج বিদ্যার সহজীকরণ)» - ডক্টর মুস্তফা সুলাইমান আন-নাদভী (৩)। আমি এটি দেখার সুযোগ পাইনি।
10- «আত-তাসিল লি-উসুলিত তাখরিজ (হাদিসের উৎস অনুসন্ধান - تخريج) ওয়া কাওয়ায়িদিল জরাহ ওয়াত তাদিল (রাবীর সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই - الجرح والتعديل)» - ডক্টর বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবু যাইদ (৪)।
11- «মাফাতিহু উলুমিল হাদিস ওয়া তুরুকু তাখরিজিহি (হাদিসের উৎস অনুসন্ধান - تخريج)» - মুহাম্মদ উসমান আল-খিশিন (৫)। আমি এটি দেখার সুযোগ পাইনি।
12- «ফান্নু তাখরিজিল হাদিস (হাদিসের উৎস অনুসন্ধান - تخريج শিল্প)» - ডক্টর ইজ্জত আলী ঈদ আতিয়্যাহ, আমি এটি দেখার সুযোগ পাইনি (৬)।
13- «আল-মাদখাল ইলা তাখরিজিল আহাদিস (হাদিসের উৎস অনুসন্ধান - تخريج) ওয়াল আসার (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বর্ণনা - الآثار) ওয়াল হুকমু আলাইহা (সেগুলোর মান নির্ধারণ - الحكم)» - ডক্টর আব্দুস সামাদ বিন বকর আবিদ (৭)।
14- «তুহফাতুল খাররিজ ইলা আদিল্লাতিত তাখরিজ (হাদিসের উৎস অনুসন্ধান - تخريج)» - রচনায়: ইকবাল আহমদ মুহাম্মদ ইসহাক (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
15- «طرق تخريج الحديث» للدكتور سعد بن عبد الله آل حميد (1) .
16- «تخريج الحديث النبوي» للدكتور عبد الغني أحمد مزهر التميمي وهي رسالة صغيرة الحجم.
17- «القول الصحيح في مراتب التعديل والتجريح» للمرتضى الزبيدي (2) ولم أقف عليه.
18- «المفيد في تخريج الحديث ودراسة الأسانيد» تأليف محمد عجاج الخطيب (3) ولم أقف عليه.
بعد هذا السرد للمؤلفات في فن التخريج، نعود إلى بيان أهمية التخريج وفوائده ونشأته وتطوره.
--------------------------------------------
15- ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ রচিত «তুরুকু তাখরিজিল হাদিস» (১)।
16- ড. আব্দুল গনি আহমদ মিজহার আল-তামিমী রচিত «তাকরিজুল হাদিসিন নাবাবী»; এটি একটি ক্ষুদ্র আয়তনের পুস্তিকা।
17- আল-মুরতাদা আল-জাবিদী রচিত «আল-কাওলুস সহীহ ফী মারাত্বিত তাদীল ওয়াত তাজরীহ» (২); আমি এটি দেখার সুযোগ পাইনি।
18- মুহাম্মদ আজজাজ আল-খাতিব রচিত «আল-মুফীদ ফী তাখরিজিল হাদিস ওয়া দিরাসাতিল আসানিদ» (৩); আমি এটিও দেখার সুযোগ পাইনি।
তাকরিজ (تخريج) শাস্ত্রের গ্রন্থরাজির এই তালিকার পর, আমরা পুনরায় তাকরিজ (تخريج)-এর গুরুত্ব, এর উপকারিতা এবং এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বর্ণনার দিকে ফিরে আসছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الباب الأول: أهمية التخريج والاستخراج وفوائده ونشأته وتطوره
الفصل الأول: أهمية التخريج والأستخراج وفوائده…الفصل الأول: أهمية التخريج والاستخراج (1) وفوائده (2)
وهي كثيرة ومتداخلة في أمور كثيرة:
ولا يخفى على أحد من أهل العلم أهمية أصول التخريج وشرف منزلته وذلك لأنّه أساس لمعرفة السنة النبوية التي عليها مدار فهم القرآن وتفسيره، حيث جعل الله سبحانه وتعالى بيانه إلى الرسول صلى الله عليه وسلم في قوله: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44] ، فهي عليها مدار الأحكام وتفاصيلها، وبها يعرف الحلال من الحرام وغير ذلك، وأهم ثمرة لأصول التخريج هي حفظ السنة وصيانتها من الدّخيل عليها ومعرفة صحيح المتون من سقيمها ومحفوظها من شواذها ومنكراتها.
ولذا قال ابن المديني رحمه الله تعالى: ((الباب إذا لم تجمع طرقه لم يتبيَّنْ خطؤه)) (3) .
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাখরিজ (التخريج) ও ইস্তিখরাজ (الاستخراج)-এর গুরুত্ব, উপকারিতা, উদ্ভব ও বিকাশ
প্রথম অধ্যায়: তাখরিজ (التخريج) ও ইস্তিখরাজ (الاستخراج)-এর গুরুত্ব ও উপকারিতা…প্রথম অধ্যায়: তাখরিজ (التخريج) ও ইস্তিখরাজ (الاستخراج) (১)-এর গুরুত্ব ও এর উপকারিতা (২)
এগুলো অনেক এবং অনেক বিষয়ের সাথে পরস্পর সম্পৃক্ত:
ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট তাখরিজ (التخريج)-এর মূলনীতিসমূহের গুরুত্ব ও এর উচ্চ মর্যাদা কারো অজানা নয়। কারণ, এটি সুন্নতে নববী জানার মূল ভিত্তি, যার ওপর কুরআন অনুধাবন ও এর তাফসির আবর্তিত হয়। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর তা সুস্পষ্ট করার দায়িত্ব অর্পণ করে বলেছেন: {আর আমরা আপনার প্রতি জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন} [আন-নাহল: ৪৪]। সুতরাং শরয়ি বিধানসমূহ ও এর বিস্তারিত বিবরণ এর ওপরই আবর্তিত হয় এবং এর মাধ্যমেই হালাল-হারামসহ অন্যান্য বিষয়াবলি জানা যায়। তাখরিজ (التخريج)-এর মূলনীতিসমূহের সবচেয়ে বড় সুফল হলো সুন্নাহর হিফাজত করা এবং বহিরাগত বিষয় থেকে একে রক্ষা করা, আর মতন (متن)-এর বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) বর্ণনা এবং সংরক্ষিত (محفوظ) বর্ণনা থেকে বিচ্যুতিপূর্ণ (شاذ) ও অগ্রহণযোগ্য (منكر) বর্ণনাগুলোকে পৃথক করা।
এজন্যই ইবনুল মাদিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "একটি অধ্যায়ের (হাদিসের) সূত্রসমূহ (طرق) যদি একত্রিত করা না হয়, তবে এর ভুল স্পষ্ট হয় না।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال أبو حاتم الرازي (1) – رحمه الله تعالى -: ((لو لم نكتب الحديث من ستين وجهاً ما عقلناه)) ، وكذا ورد عن ابن معين مثله لكن بلفظ «ثلاثين» وورد عن غيرهم أيضاً: ((الباب إذا لم تجمع طرقه لا يوقف على صحة الحديث ولا على سُقمه)) (2) .
وقال الخطيب (3) البغدادي – رحمه الله تعالى-: ((من أراد الفائدة فليكسر قلم النسخ وليأخذ قلم التخريج)) .
وقال أيضاً: ((قلّما يتمهر في علم الحديث، ويقف على غوامضه، ويستثير الخفي من فوائده، إلاّ من جمع متفرقه وألف مشتته وضم بعضه إلى بعض .... فإنّ ذلك مما يقوي النفس، ويُثبت الحفظ
… ويكشف المشتبه ويوضح الملتبس
…)) .
وقال ابن دقيق العيد (4) – رحمه الله تعالى -: ((إذا اجتمعت طرق الحديث يُستدل ببعضها على بعض ويجمع بين ما يمكن جمعه ويظهر به المراد)) .
ومن ذلك تُعْرَفُ أهمية التخريج وفوائده عند أهل الفن. وفيما يلي بيان لجملة (5) من ذلك:
--------------------------------------------
আবু হাতিম আর-রাজি (১) – রহিমাহুল্লাহু তাআলা – বলেন: “যদি আমরা হাদিসটি ষাটটি দিক (وجه) থেকে না লিখতাম, তবে আমরা তা অনুধাবন করতে পারতাম না।” অনুরূপভাবে ইবনে মাঈন থেকেও একই কথা বর্ণিত হয়েছে, তবে সেখানে ‘তিরিশ’ শব্দ এসেছে। অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে: “কোনো বিষয়ের হাদিসের বিভিন্ন সূত্র (طرق) যদি একত্রিত করা না হয়, তবে সেই হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) কিংবা তার দুর্বলতা (سقم) সম্পর্কে অবগত হওয়া যায় না।” (২) .
আল-খতিব (৩) আল-বাগদাদি – রহিমাহুল্লাহু তাআলা – বলেন: “যে ব্যক্তি প্রকৃত উপকার পেতে চায়, সে যেন অনুলিপি করার কলমটি ভেঙে ফেলে এবং তাখরিজ (تخريج)-এর কলম হাতে নেয়।”
তিনি আরও বলেন: “হাদিস বিজ্ঞানে খুব কম লোকই পারদর্শী হতে পারেন, এর নিগূঢ় রহস্যগুলো বুঝতে পারেন এবং এর সুপ্ত উপকারিতাগুলো উন্মোচন করতে পারেন, কেবল তারাই পারেন যারা এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করেন, বিচ্ছিন্ন বিষয়গুলোকে সংকলিত করেন এবং একটির সাথে অন্যটিকে জুড়ে দেন... কারণ তা মনকে শক্তিশালী করে, মুখস্থ শক্তিকে সুদৃঢ় করে
… অস্পষ্ট (مشتبه) বিষয়কে উন্মোচন করে এবং সংশয়পূর্ণ (ملتبس) বিষয়কে স্পষ্ট করে
…” .
ইবনে দাকীকুল ঈদ (৪) – রহিমাহুল্লাহু তাআলা – বলেন: “যখন হাদিসের বিভিন্ন সূত্র (طرق) একত্রিত হয়, তখন একটির মাধ্যমে অন্যটির স্বপক্ষে প্রমাণ গ্রহণ করা যায় এবং যেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয় তা করা যায়, আর এর মাধ্যমেই মূল উদ্দেশ্য ফুটে ওঠে।” .
এখান থেকেই এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের কাছে তাখরিজ (تخريج)-এর গুরুত্ব ও উপকারিতা সম্পর্কে জানা যায়। নিম্নে তার একটি অংশ (৫) বর্ণনা করা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ২০)
1- من أهم هذه الفوائد بل هي ثمرته معرفة صحة الحديث وضعفه من جمع الطرق وتخريجها.
2 - معرفة مظان الحديث في مصادره الأصلية، ومن ثَمَّ توثيق نص الحديث ورجاله، وضبط هذا النص.
3 - معرفة كون الحديث فرداً غريباً أو عزيزاً، أو مشهوراً مستفيضاً، أو متواتراً.
4 - معرفة أنَّ الحديث أخرجه الشيخان أو أحدهما في الأصول المسندة، فلسنا بحاجة إلى دراسة الإسناد والحكم عليه عندهما لما تكفل كل واحد منهما مؤنة ذلك، وقد تلقت الأمة كتابيهما بالقبول، وإذا احتجنا إلى التخريج لأحاديثهما فليس لأصل الحكم بل لفوائد أخرى في التخريج، كما سأشير إلى فوائد المستخرجات عليهما وعلى غيرهما ضمن هذه الفوائد.
5 - الوقوف من خلال التخريج على كلام الأئمة في الحديث وإسناده صحة وضعفاً، مثل كلام الترمذي وما ينقله عن البخاري وكلام النسائي وأبي داود والدارقطني والبيهقي وغيرهم، فيسهِّل ذلك له معرفة حكم الحديث وإسناده.
6 - معرفة شواهد الحديث ومتابعاته من عملية التخريج ومن ثم معرفة تقوية الإسناد أو الحديث بها أو عدم تقويته.
7 - يمكن الوصول بالتخريج وجمع طرق الحديث إلى معرفة علل الحديث متنا وإسناداً، من الشذوذ والنكارة وزيادة الثقة ونحوها.
8 - الوقوف على أسباب ورود الحديث من خلال تخريجه وجمع طرقه
1- এই উপকারিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম বরং এর মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন সূত্র (طرق) সংগ্রহ ও তাখরীজ (تخريج)-এর মাধ্যমে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
2 - হাদিসের মূল উৎসসমূহ হতে এর অবস্থানস্থল শনাক্ত করা এবং পরবর্তীতে হাদিসের মূল পাঠ (نص) ও এর বর্ণনাকারীগণের (رجال) নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) নিশ্চিত করা এবং এই পাঠের যথাযথ বিন্যাস (ضبط) অনুধাবন করা।
3 - হাদিসটি কি একক (فرد) বা গারীব (غريب), নাকি আযীয (عزيز), অথবা মাশহুর (مشهور) ও মুস্তাফীয (مستفيض), কিংবা মুতাওয়াতির (متواتر) কি না তা জানতে পারা।
4 - হাদিসটি শায়খাইন (الشيخان) অথবা তাঁদের একজন তাঁদের মূল মুসনাদ গ্রন্থসমূহ (الأصول المسندة)-তে বর্ণনা করেছেন কি না তা জানা। তাঁদের সংকলিত হাদিসের ক্ষেত্রে আমাদের সনদ (إسناد) যাচাই করা বা এর ওপর সিদ্ধান্ত (حكم) প্রদানের প্রয়োজন পড়ে না; কারণ তাঁদের প্রত্যেকেই এর দায়ভার গ্রহণ করেছেন এবং উম্মাহ তাঁদের কিতাবদ্বয়কে গ্রহণ করে নিয়েছে। যদি আমরা তাঁদের হাদিসগুলোর তাখরীজ (تخريج) করার প্রয়োজন বোধ করি, তবে তা মূল সিদ্ধান্ত (حكم) জানার জন্য নয় বরং তাখরীজের অন্যান্য উপকারিতার জন্য; যেমনটি আমি এই ফায়দাগুলোর মধ্যে তাঁদের এবং অন্যদের কিতাবের ওপর রচিত মুস্তাখরাজাত (المستخرجات)-এর উপকারিতা বর্ণনার সময় উল্লেখ করব।
5 - তাখরীজের মাধ্যমে হাদিস এবং এর সনদের (إسناد) বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতা (ضعف) প্রসঙ্গে ইমামগণের বক্তব্য সম্পর্কে অবগত হওয়া। যেমন ইমাম তিরমিযীর বক্তব্য এবং তিনি ইমাম বুখারী থেকে যা বর্ণনা করেছেন, এছাড়া ইমাম নাসায়ি, আবু দাউদ, দারাকুতনি, বায়হাকি ও অন্যান্যদের বক্তব্যসমূহ; যা হাদিসের সিদ্ধান্ত (حكم) ও এর সনদ (إسناد) সম্পর্কে জানা সহজতর করে দেয়।
6 - তাখরীজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাদিসের শাওয়াহিদ (شواهد) ও মুতাবায়াত (متابعات) সম্পর্কে জানা এবং এর মাধ্যমে সনদ (إسناد) বা হাদিসটি শক্তিশালী (تقوية) হওয়া বা না হওয়া সম্পর্কে অবগত হওয়া।
7 - তাখরীজ ও হাদিসের বিভিন্ন সূত্র (طرق) সংগ্রহের মাধ্যমে হাদিসের মতন (متن) ও সনদের (إسناد) মধ্যে বিদ্যমান সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) যেমন: শুযূয (شذوذ), নাকারা (نكارة), নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقة) ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব।
8 - হাদিসের তাখরীজ ও এর বিভিন্ন সূত্র (طرق) সংগ্রহের মাধ্যমে হাদিসটি বর্ণিত হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب ورود) সম্পর্কে অবগত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ২১)
والاطلاع على معاني الغريب منه، كما ذكر أبو حاتم (1) الرازي بقوله: ((لو لم نكتب الحديث من ستين وجها ما عقلناه)) فهذه الجملة القصيرة تبين لنا قيمة جمع طرق الحديث.
9- معرفة السقط في السند سواء في أوّله وهو المعلق، أو في وسطه باثنين متواليين وهو المعضل، أو بواحد وأكثر متفرقاً فهو المنقطع، أو في آخره فهو المرسل، أو وجود تدليس في الإسناد.
10- معرفة من روى عن المختلط قبل اختلاطه من بعده.
11- معرفة القلب في الإسناد أو المتن أو الإدراج أو الاضطراب وغيرها من العلل.
12- إظهار علل الإسناد الخفية عند الاختلاف على الراوي بالوصل والإرسال، أوبالوقف والرفع، أو الاتصال والانقطاع، أو زيادة رجل في أحد الإسنادين، أو الاختلاف في اسمه وهو متردد بين ثقة وضعيف.
فمعرفة الحديث المعلول من غيره هي بحق أُمُّ الفوائد (2) .
13 - معرفة المهمل والمبهم من الرواة. والفرق بينهما أن المهمل سُمِّي ولم ينسب، والمبهم لم يسمَّ.
--------------------------------------------
এবং এর মধ্যকার অপরিচিত শব্দের (غريب) অর্থসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া, যেমনটি আবু হাতেম (১) আর-রাজি তার বাণীতে উল্লেখ করেছেন: "যদি আমরা হাদিসটি ষাটটি সূত্র (طرق) থেকে না লিখতাম, তবে আমরা তা বুঝতে পারতাম না।" সুতরাং এই সংক্ষিপ্ত বাক্যটি আমাদের কাছে হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق) সংগ্রহের গুরুত্ব স্পষ্ট করে দেয়।
৯- সনদের বিচ্যুতি (سقط) সম্পর্কে অবগত হওয়া; চাই তা সনদের শুরুতে হোক যাকে মুআল্লাক (معلق) বলা হয়, অথবা মাঝখানে ধারাবাহিকভাবে দুজন বর্ণনাকারী বাদ পড়লে যাকে মুদাল (معضل) বলা হয়, অথবা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে একজন বা একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়লে যাকে মুনকাতি (منقطع) বলা হয়, অথবা সনদের শেষে বিচ্যুতি ঘটলে যাকে মুরসাল (مرسل) বলা হয়, অথবা সনদে তদলীস (تدليس) তথা গোপন করার উপস্থিতি শনাক্ত করা।
১০- স্মৃতিবিভ্রম হওয়া বর্ণনাকারী (مختلط) থেকে তার স্মৃতিবিভ্রমের আগে ও পরে কারা বর্ণনা করেছেন তা শনাক্ত করা।
১১- সনদ বা মতন (মূল পাঠ) এর মধ্যে ওলটপালট (قلব), অনুপ্রবেশ (إدراج), অস্থিরতা (اضطراب) এবং অন্যান্য ত্রুটি (علل) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
১২- বর্ণনাকারীর বর্ণনা নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হলে সনদের গোপন ত্রুটিগুলো (علل) প্রকাশ করা; যেমন— নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা (وصل) বনাম বিচ্ছিন্ন বর্ণনা (إرسال), মাওকুফ (وقف) বনাম মারফু (رفع), নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) বনাম বিচ্ছিন্নতা (انقطاع), অথবা দুটি সনদের কোনোটিতে একজন বর্ণনাকারীর আধিক্য থাকা, কিংবা বর্ণনাকারীর নাম নিয়ে মতভেদ থাকা যেখানে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর মাঝে দোদুল্যমান থাকেন।
সুতরাং ত্রুটিযুক্ত (معلول) হাদিসকে অন্যান্য হাদিস থেকে পৃথকভাবে জানা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষেই সকল উপকারের মূল উৎস (২)।
১৩ - বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে উপেক্ষিত (مهمل) এবং অস্পষ্ট (مبهم) বর্ণনাকারীকে চেনা। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো, উপেক্ষিত (مهمل) বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয় কিন্তু পরিচয় দেওয়া হয় না, আর অস্পষ্ট (مبهم) বর্ণনাকারীর নামই উল্লেখ করা হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ২২)
14 - كشف أوهام الرواة، والمخرجين من خلال التخريج (1) .
15 – معرفة العلو بجميع أقسامه.
وأشير هنا إلى بعض الفوائد التي ذكرها الحافظ ابن حجر في الفتح (2) حيث قال: ((ثم ذكر ابن القاضي فصلاً في فائدة تتبع طرق الحديث
… )) ، فمن أراد التوسع والمزيد فليراجعه.
--------------------------------------------
১৪ - হাদিস উৎসানুসন্ধানের (تخريج) মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের (رواة) এবং সংকলকদের (مخرجون) ভ্রান্তি (أوهام) উন্মোচন করা (১) ।
১৫ – উচ্চস্তরের সনদের (علو) সকল প্রকার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
আমি এখানে হাফিজ ইবনে হাজার কর্তৃক ফাতহুল বারি-তে (২) বর্ণিত কিছু উপকারিতার প্রতি ইঙ্গিত করছি, যেখানে তিনি বলেছেন: ((অতঃপর ইবনুল কাজি হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق) অনুসন্ধানের উপকারিতা সম্পর্কে একটি পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন ... )) সুতরাং যে ব্যক্তি বিস্তারিত ও অধিক জানতে আগ্রহী, সে যেন তা দেখে নেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
نماذج تطبيقية لبعض هذه الفوائد (1) :
من أمثلة العلو:
انظر للعلو المطلق:
الحديث (26) من باب (22) عند الطوسي، حيث جاء عنده، نا إسحاق ابن شاهين الواسطي قال: نا خالد بن عبد الله قال: نا عمرو بن يحيى عن أبيه عن عبد الله بن زيد أن النبي صلى الله عليه وسلم توضأ
… الحديث، فعلا إسنادُ الطوسي إسنادَ الترمذي بقلة رواته، حيث رواه الطوسي بخمسة رواة، والترمذي بستة رواة، وهذا إسناده: قال: حدثنا يحيى بن موسى حَدَّثنا إبراهيم بن موسى الرّازي حدثنا خالد بن عبد الله عن عمرو بن يحيى عن أبيه عن عبد الله بن زيد قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم مضمض.... (2) ، فتبيَّن لنا من المثال المذكور علو إسناد الطوسي على إسناد الترمذي وزيادة ((توضأ)) وهي ليست عند الترمذي.
وأما العلو النسبي – حيث يلتقي معه في "شيخه" وهو ما يعرف بالموافقة، وهو النوع الأول من أنواع القرب من كتب السنة المعروفة – فانظر لذلك: الحديث رقم (50) باب رقم (40) ،
قال الطوسي: حدثنا محمد بن بشار قال: حدثنا عبد الرحمن بن مهدي..
--------------------------------------------
এই সকল উপকারের কিছু ব্যবহারিক নমুনা (১) :
উচ্চতা (العلو)-এর উদাহরণসমূহ থেকে:
পরম উচ্চতা (العلو المطلق) দেখুন:
আল-তুসির নিকট (২২) নং অনুচ্ছেদের (২৬) নং হাদিস, যেখানে তাঁর নিকট বর্ণিত হয়েছে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে শাহীন আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন ইয়াহইয়া, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন যায়িদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অজু করলেন
… হাদিস। এখানে আল-তুসির সনদ (إسناد)-টি বর্ণনাকারীর স্বল্পতার কারণে তিরমিযীর সনদের তুলনায় উচ্চ (علا) হয়েছে; কেননা আল-তুসি এটি পাঁচজন বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী ছয়জন বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর এটি হচ্ছে তাঁর সনদ: তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন মুসা আর-রাজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন আব্দুল্লাহ, আমর বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন যায়িদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কুলি করতে দেখেছি.... (২)। সুতরাং উল্লিখিত উদাহরণ থেকে আমাদের কাছে তিরমিযীর সনদের ওপর আল-তুসির সনদের উচ্চতা (علو) এবং ‘অজু করেছেন’ (توضأ) শব্দটির আধিক্য স্পষ্ট হলো, যা তিরমিযীর নিকট নেই।
আর আপেক্ষিক উচ্চতা (العلو النسبي) – যেখানে তিনি তাঁর ‘শাইখ’ (شيخه)-এর সাথে মিলিত হন এবং যা মুয়াফাকাত (الموافقة) হিসেবে পরিচিত, আর এটি প্রসিদ্ধ সুন্নাহর গ্রন্থসমূহের নৈকট্য লাভের প্রকারভেদের মধ্যে প্রথম প্রকার – সেটির জন্য দেখুন: অনুচ্ছেদ নং (৪০), হাদিস নং (৫০)।
আল-তুসি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন বাশশার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন মাহদী..
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال الترمذي: (1) حدثنا محمد بن بشار حدثنا عبد الرحمن بن مهدي
… فالتقى معه الطوسي في شيخه محمد بن بشار وهو الموافقة.
ومن أمثلة ما يلتقي معه في "شيخ شيخه" أو فيمن فوقه وهو ما يعرف بـ"البدل": الحديث رقم (15) باب رقم (12) قال الطوسي:
حدثنا محمد بن إسماعيل السلميّ، قال: نا عبد الله بن الزبير الحميدي قال: نا سفيان بن عيينة....
وقال الترمذي (2) : حدثنا محمد بن أبي عمر المكيّ حدثنا سفيان بن عيينة
… فالتقى الطوسيُّ مع الترمذي في شيخ شيخه ابن عيينة وهو البدل.
وأما ما يعرف بالمساواة، فمثاله:
الحديث رقم (58) الباب رقم (48) من كتاب الطهارة.
عند الطوسي حيث قال: حدثنا بذلك يحيى بن حكيم المقوّميّ قال: نا عبد الله بن بكر السهميّ قال: حدثنا هشام عن محمد عن أبي هريرة رضي الله عنه.
وقال الترمذي: حدثنا محمود بن غيلان حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن همام بن منبه عن أبي هريرة، فتساوى عدد الرواة عندهما وهو خمسة رواة.
وأما زيادة أصحاب المستخرجات ألفاظاً على الكتب المخرج عليها، فمن أمثلة ذلك: الحديث الوارد عند الترمذي في أوّل أبواب الطهارة برقم (1) عن ابن عمر –رضي الله عنهما– عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا تقبل صلاة بغير طهور، ولا صدقة من غلول"،
--------------------------------------------
وقال তিরমিযী বলেন: (১) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাশশার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে মাহদী
… ফলে তুসি তার শায়খ মুহাম্মদ ইবনে বাশশারের সূত্রে তিরমিযীর সাথে মিলিত হয়েছেন, আর এটিই হলো সমসূত্রতা (الموافقة)।
এবং "শায়খের শায়খ" বা তার ঊর্ধ্বস্থ কোনো স্তরে মিলিত হওয়ার উদাহরণ—যা "বাদাল" বা বিকল্প (البدل) হিসেবে পরিচিত—তা হলো: হাদিস নম্বর (১৫), অনুচ্ছেদ নম্বর (১২), তুসি বলেছেন:
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আস-সুলামী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আল-যুবাইর আল-হুমাইদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ....
এবং তিরমিযী (২) বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবি উমর আল-মাক্কী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ
… ফলে তুসি তিরমিযীর সাথে তার শায়খের শায়খ ইবনে উইয়াইনাহর সূত্রে মিলিত হয়েছেন, আর এটিই হলো বাদাল (البدل)।
আর যা সমতা (المساواة) হিসেবে পরিচিত, তার উদাহরণ হলো:
পবিত্রতা (আত-তহারাহ) কিতাবের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের ৫৮ নম্বর হাদিস।
তুসির নিকট, যেখানে তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে হাকিম আল-মুকাউয়ামী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে বকর আস-সাহমী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম, মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
এবং তিরমিযী বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাহমুদ ইবনে গাইলান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, মা'মার থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। ফলে উভয়ের নিকট বর্ণনাকারীর সংখ্যা সমান হয়েছে, যা হলো পাঁচজন বর্ণনাকারী।
আর মুস্তাখরাজ গ্রন্থকারদের মূল গ্রন্থের বর্ণনার উপর অতিরিক্ত শব্দ সংযোজনের উদাহরণ হলো: তিরমিযীর নিকট পবিত্রতা অধ্যায়ের শুরুতে বর্ণিত ১ নম্বর হাদিস, যা ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল হয় না এবং আত্মসাৎকৃত মালের সাদাকাহ কবুল করা হয় না",
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وجاء عند الطوسي (1) بزيادة في أوله وهي: عن مصعب بن سعد قال: "مرض ابن عامر فجعلوا يُثنون عليه، وابن عمر –رضي الله عنهما– ساكت، فقال: أما إني لست داع (2) لك، ولكنّي سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لا يقبل الله صلاة بغير طهور ولا صدقة من غلول".
والحديث رقم (29) الباب رقم (24) من كتاب الطهارة عند الطوسي وفيه زيادة قصة وضوء عبد الله بن زيد رضي الله عنه.
والحديث رقم (180) الباب رقم (132) من كتاب الصلاة، وفيه زيادة قصة ازدحام الناس على فضل وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ومن أمثلة الزيادات التي تضمنت أحكاماً شرعية: ما ورد عند الترمذي (3) بلفظ: "لا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه"، بينما جاء عند الطوسي (4) بزيادة "ولا صلاة لمن لا وضوء له، ولا يؤمن بالله من لا يؤمن بي، ولا يؤمن بي من لا يحب الأنصار".
والحديث الذي رواه الترمذي في سننه (5) عن لقيط بن صبرة مرفوعاً بلفظ: "إذا توضَّأت فخلّل الأصابع" وجاء عند الطّوسي (6) عنه رضي الله عنه بزيادة "وأسبغ الوضوء، وإذا استنشقت فبالغ إلاّ أن تكون صائماً".
--------------------------------------------
তুসি-র (১) বর্ণনায় এর শুরুতে একটি বর্ধিতাংশ (زيادة) পাওয়া যায়, আর তা হলো: মুসআব ইবনে সাদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "ইবনে আমির অসুস্থ হয়ে পড়লে লোকেরা তাঁর প্রশংসা করতে শুরু করল, আর ইবনে উমর (রা.) চুপ ছিলেন। তখন তিনি বললেন: আমি তোমার জন্য দোয়াকারী (২) নই, তবে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'পবিত্রতা ব্যতীত আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাৎকৃত সম্পদের কোনো সদকাও কবুল করেন না'।"
আর হাদিস নম্বর (২৯), অধ্যায় নম্বর (২৪), তুসি-র কিতাবুত তাহারাহ থেকে; এতে আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ (রা.)-এর ওজুর ঘটনার একটি বর্ধিতাংশ (زيادة) রয়েছে।
আর হাদিস নম্বর (১৮০), অধ্যায় নম্বর (১৩২), কিতাবুস সালাত থেকে; এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওজুর অবশিষ্ট পানির ওপর লোকদের ভিড় করার ঘটনার একটি বর্ধিতাংশ (زيادة) রয়েছে।
শারয়ি বিধান সম্বলিত বর্ধিতাংশগুলোর (زيادة) উদাহরণ হলো: যা তিরমিজি-তে (৩) এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "সেই ব্যক্তির ওজু নেই, যে আল্লাহর নাম নেয়নি", পক্ষান্তরে তুসি-র (৪) নিকট এটি একটি বর্ধিতাংশ (زيادة) সহ এসেছে: "আর যার ওজু নেই তার সালাত হবে না, এবং যে আমার প্রতি ঈমান রাখে না সে আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে না, আর যে আনসারদের ভালোবাসে না সে আমার প্রতি ঈমান রাখে না।"
এবং যে হাদিসটি তিরমিজি তাঁর সুনানে (৫) লাকিত ইবনে সাবরাহ হতে মারফু (مرفوع) সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যখন তুমি ওজু করবে, তখন আঙ্গুলগুলো খিলাল করবে।" আর তুসি-র (৬) বর্ণনায় তাঁর (রা.) হতে এই বর্ধিতাংশ (زيادة) সহ এসেছে: "আর ওজু পূর্ণরূপে করবে, এবং যখন নাকে পানি দেবে তখন তা গভীরভাবে পৌঁছাবে, তবে যদি তুমি রোজা পালনকারী হও (তবে তা করবে না)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن أمثلة الزيادة بذكر سبب ورود الحديث:
حديث أمّ قيس بنت محصن قالت: "دخلت بابن لي على النبي صلى الله عليه وسلم لم يأكل الطعام فبال عليه، فدعا بماء فرشّه" كما في الترمذي (1) .
فزاد الطوسي (2) فيه بيان سبب ورود حديث "العود الهندي فيه سبعة أشفية" مع زيادة جملة أخرى ليست عند الترمذي.
والحديث الوارد في التسبيح والتحميد والتكبير أدبار الصلوات، جاء عند الطوسي (3) فيه بيان سبب وروده"، دون الترمذي. وكذا ورد عند الطوسي (4) بيان سبب ورود حديث ((إن شئت فصم، وإن شئت فأفطر)) دون الترمذي.
ومن أمثلة كثرة طرق الحديث:
الحديث المتعلق بالنهي عن البول في الماء الراكد، حيث رواه الترمذي (5) من طريق واحد عن شيخه محمود بن غيلان، بينما رواه الطوسي (6) من طرق ثلاثة عن ثلاثة من شيوخه وهم: أبو عبيدة بن أبي السفر الكوفي، ويحيى بن حكيم المقوّمي، وجميل بن حسن البصري.
--------------------------------------------
হাদিস বর্ণিত হওয়ার কারণ (سبب ورود الحديث) উল্লেখ করার মাধ্যমে পরিবর্ধনের একটি উদাহরণ হলো:
উম্মে কায়স বিনতে মিহসান থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "আমি আমার এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম যে তখনও খাবার খাওয়া শুরু করেনি। সে তাঁর কাপড়ে প্রস্রাব করে দিল, তখন তিনি পানি আনালেন এবং তার উপর ছিটিয়ে দিলেন", যেমনটি তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে (১)।
এতে তুসি (২) "ভারতীয় কাষ্ঠে সাতটি রোগমুক্তি রয়েছে" হাদিসটি বর্ণিত হওয়ার কারণ (سبب ورود الحديث) বর্ণনা করার মাধ্যমে পরিবর্ধন করেছেন, সাথে এমন আরও একটি অতিরিক্ত বাক্য যোগ করেছেন যা তিরমিজিতে নেই।
এবং সালাতের পর তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবির পাঠ সম্পর্কিত যে হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তুসির বর্ণনায় (৩) তার বর্ণিত হওয়ার কারণ (سبب ورود الحديث) উল্লেখ রয়েছে, যা তিরমিজিতে নেই। একইভাবে তুসির বর্ণনায় (৪) "তুমি চাইলে রোজা রাখতে পারো, আর চাইলে নাও রাখতে পারো" হাদিসটি বর্ণিত হওয়ার কারণ (سبب ورود الحديث) উল্লিখিত হয়েছে, যা তিরমিজিতে নেই।
হাদিসের সূত্রের আধিক্যের (كثرة طرق الحديث) উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
স্থির পানিতে প্রস্রাব করা নিষেধ সম্পর্কিত হাদিসটি, যা তিরমিজি (৫) তাঁর শিক্ষক মাহমুদ বিন গাইলান থেকে একটি মাত্র সূত্রে (طريق) বর্ণনা করেছেন, অন্যদিকে তুসি (৬) তাঁর তিনজন শিক্ষকের মাধ্যমে তিনটি সূত্র (طرق) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা হলেন: আবু উবাইদাহ বিন আবি আস-সাফর আল-কুফি, ইয়াহইয়া বিন হাকিম আল-মুকাউয়িমি এবং জামিল বিন হাসান আল-বাসরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ومن أمثلة تصريح بعض المدلّسين بالتحديث والإخبار ونحوهما عند صاحب المستخرج:
حديث رقم (9) باب رقم (7) من كتاب الطهارة، حيث جاء فيه تصريح ابن إسحاق بالتحديث عند الطوسي دون الترمذي (1) .
وحديث رقم (717) باب رقم (514) من كتاب الصيام، وفيه تصريح «عبد الرزاق» بالأخبار عند الطوسي دون الترمذي.
--------------------------------------------
মুস্তাখরাজ প্রণেতার নিকট কতিপয় তাদলিসকারীর (مدلسين) স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করার (تحديث) এবং সংবাদ দেওয়ার (إخبار) ও এই জাতীয় শব্দ ব্যবহারের কিছু উদাহরণ হলো:
হাদিস নম্বর (৯), পবিত্রতা অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ নম্বর (৭); যেখানে তিরমিজি-র গ্রন্থে না থাকলেও আল-তুসির নিকট ইবনে ইসহাক কর্তৃক সরাসরি বর্ণনার কথা (تحديث) স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে (১)।
এবং হাদিস নম্বর (৭১৭), রোজা অধ্যায়ের অনুচ্ছেদ নম্বর (৫১৪); এতে তিরমিজি-র গ্রন্থে না থাকলেও আল-তুসির নিকট ‘আব্দুর রাজ্জাক’ কর্তৃক সংবাদ প্রদানের কথা (إخبار) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تعيين المهملين في الإسناد:
انظر: الحديث رقم (89) باب (71) من كتاب الطهارة، وفيه تعيين «الأسود» وهو ابن يزيد عند الطوسي بينما أهمل عند الترمذي (1) .
والحديث رقم (230) الباب (167) من كتاب الصلاة، وفيه تعيين «سفيان» ، أنّه الثوري عند الطوسي بينما هو مهمل عند الترمذي.
ومن أمثلة تمييز بعض الرواة:
الحديث (68) باب (56) من كتاب الطهارة عرّف الطوسيّ في إسناده
«عبد الله بن عبد الله» أنه مولى لقريش بخلاف الترمذي.
وكذا في حديث (81) باب (67) من كتاب الطهارة، عرف الطوسيّ «أبا قيس» بذكر اسمه واسم أبيه ونسبه عند الطوسي ولم يعرف عند الترمذي (2) .
وغير ذلك من أمثلة للفوائد المذكورة من تمييز ألفاظ الأحاديث وعزوها لرواتها، والمغايرات في ألفاظها، ليس هنا مجال ذكرها.
(1) السنن (1/202) ك: الطهارة، ح 118.
(2) انظر: السنن (1/122) ك: الطهارة، ح 81.
সনদে (إسناد) অচিহ্নিত (مهمل) বর্ণনাকারীদের পরিচয় নির্ধারণ:
দেখুন: পবিত্রতা অধ্যায়ের ৭১ নম্বর অনুচ্ছেদের ৮৯ নম্বর হাদিস; যেখানে তূসীর বর্ণনায় 'আল-আসওয়াদ'-কে ইয়াযীদের পুত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, অথচ তিরমিযীর বর্ণনায় তাকে অচিহ্নিত (مهمل) রাখা হয়েছে (১)।
এবং সালাত অধ্যায়ের ১৬৭ নম্বর অনুচ্ছেদের ২৩০ নম্বর হাদিস; যেখানে তূসীর বর্ণনায় 'সুফিয়ান'-কে আস-সাওরী হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, অথচ তিরমিযীর বর্ণনায় তিনি অচিহ্নিত (مهمل) রয়ে গেছেন।
কতিপয় বর্ণনাকারীকে (راو) স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার উদাহরণসমূহ:
পবিত্রতা অধ্যায়ের ৫৬ নম্বর অনুচ্ছেদের ৬৮ নম্বর হাদিস; তূসী এর সনদে (إسناد) 'আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ'-কে কুরাইশদের আযাদকৃত দাস হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, যা তিরমিযীর বর্ণনার বিপরীত।
অনুরূপভাবে, পবিত্রতা অধ্যায়ের ৬৭ নম্বর অনুচ্ছেদের ৮১ নম্বর হাদিসে, তূসী 'আবু কায়স'-এর নাম, পিতার নাম এবং বংশ পরিচয় উল্লেখের মাধ্যমে তাকে সুনির্দিষ্ট করেছেন, অথচ তিরমিযীতে তাকে পরিচিত করা হয়নি (২)।
এ ছাড়া হাদিসের শব্দাবলির পার্থক্য নিরূপণ ও তা বর্ণনাকারীদের (راو) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা এবং শব্দগত বৈচিত্র্য সংক্রান্ত উল্লিখিত ফায়দাহসমূহের আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে, যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই।
(১) সুনান (১/২০২) কিতাব: পবিত্রতা, হাদিস ১১৮।
(২) দেখুন: সুনান (১/১২২) কিতাব: পবিত্রতা, হাদিস ৮১।
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثاني: نشأة علم التخريج وتطوره:انتقاء الأئمة أحاديث مصنفاتهم من مئات الألوف من الأحاديث:
لا شك أن «علوم الحديث» وبطون الكتب الحديثية حوت أشياء كثيرة في «التخريج» وأصوله.
قال د. بكر أبو زيد: «إن أصوله تستمد منها (أي من علوم الحديث) ومن سائر كتب الحديث وشروحه ورجاله، ولهذا فإن إفراده بالتأليف ليس اختراعاً لعلم جديد، وإنما هو جمع لما هنالك، ولعل هذا هو السبب لدى المتقدمين، ولسبب آخر، وهو أن التخريج لم يكن يمارسه إلاّ الحفاظ الجامعون (1) ....)) .
وزيادة على ذلك أقول: إن علم التخريج وإن لم يكن مدوناً في كتب مستقلة وذلك لمهارتهم وعدم الحاجة إليها لما كانوا يحفظونها، مع حثهم على ذلك، كما ورد عن ابن معين: «إذا كتبت فقمش وإذا حدثت ففتش» ، وما تقدم عن ابن المديني: «الباب إذا لم تجمع طرقه لم يتبين خطؤه» وعن أبي حاتم الرازي: «لو لم نكتب الحديث من ستين وجهاً ما عقلناه» ، ومثله عن ابن معين لكنه بلفظ ثلاثين.
ولذلك نجد الأئمة مثل البخاري ومسلم وأبي داود وغيرهم يصرحون بذلك كما سيأتي.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাখরিজ (تخريج) শাস্ত্রের উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ:লক্ষ লক্ষ হাদিসের মধ্য থেকে ইমামগণের স্বীয় কিতাবসমূহের জন্য হাদিস নির্বাচন:
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ‘উলূমুল হাদিস’ এবং হাদিস শাস্ত্রের কিতাবসমূহের অভ্যন্তরে ‘তাখরিজ (تخريج)’ ও এর মূলনীতি (أصول) সম্পর্কে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ড. বকর আবু যায়েদ বলেছেন: "নিশ্চয়ই এর মূলনীতিসমূহ (أصول) সেখান থেকে (অর্থাৎ উলূমুল হাদিস থেকে) এবং হাদিসের অন্যান্য কিতাব, এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও বর্ণনাকারী বিষয়ক (رجال) গ্রন্থসমূহ থেকে সংগৃহীত। এজন্য একে স্বতন্ত্রভাবে সংকলন করা কোনো নতুন শাস্ত্রের উদ্ভাবন নয়, বরং এটি বিদ্যমান বিষয়সমূহের একটি সংগ্রহ মাত্র। সম্ভবত পূর্বসূরিদের (متقدمون) নিকট এটিই ছিল কারণ; আর অন্য একটি কারণ হলো, তাখরিজ (تخريج) কেবল হাফেজ (حفاظ) ও সংকলকগণই চর্চা করতেন (১) ...."
এর অতিরিক্ত হিসেবে আমি বলব: তাখরিজ (تخريج) শাস্ত্র যদিও তখন স্বতন্ত্র কিতাবে লিপিবদ্ধ ছিল না, তবে তাদের প্রখর দক্ষতা এবং এর প্রয়োজনীয়তা না থাকার কারণেই এমনটি হয়েছিল, কেননা তারা তা মুখস্থ রাখতেন। তা সত্ত্বেও তারা এ বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করতেন। যেমন ইবনে মাইন থেকে বর্ণিত হয়েছে: "যখন তুমি লিখবে তখন সব সংগ্রহ করো, আর যখন বর্ণনা করবে তখন যাচাই করো।" ইবনে আল-মাদিনী থেকে পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে: "কোনো বিষয়ের সূত্রসমূহ (طرق) যদি একত্রিত না করা হয়, তবে তার ভুল প্রকাশ পায় না।" এবং আবু হাতিম আর-রাযী থেকে বর্ণিত: "যদি আমরা হাদিস ষাটটি দিক (وجه) থেকে না লিখতাম, তবে আমরা তা অনুধাবন করতে পারতাম না।" ইবনে মাইন থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, তবে সেখানে ‘ত্রিশ’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে।
এ কারণেই আমরা ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং অন্যান্য ইমামগণকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে দেখি, যা সামনে আলোচিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুত তাখরীজি ওয়া দাওরুহু ফী খিদমাতিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ - আব্দুল গাফুর আল-বুশলী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بل المحدِّث عندهم لا يصبح محدِّثًا وعالماً بالحديث وماهراً فيه بصحيحه من سقيمه، وعارفاً بعلله وغير ذلك إلا بعد أن يروي الحديث بوجوه مختلفة وأسانيد متعددة، ومن هنا نرى الإمام البخاري -كما ذكر ابن عدي والخطيب والحازمي والذهبي (1) عنه- يقول: ((أحفظ مائة ألف حديث صحيح، وأحفظ مائتي ألف حديث غير صحيح)) .
وقال أيضاً: ((ما أدخلت في كتابي «الجامع» إلا ما صَحَّ، وتركت من الصحيح خشية أن يطول)) (2) .
وقال أيضاً: ((أحفظ منه – أي من الصحيح – عشر ألف ألف حديث – أي مائة ألف حديث – ومائة ألف حديث غير صحيح)) وذكر السخاوي أنه أراد بلوغ العدد المذكور بالتكرار لها.. فربّ حديث له مائة طريق فأكثر)) (3) .
وذكر الخطيب البغدادي قول البخاري: ((صنفت كتابي الصحاح لست عشرة سنة خرّجته من ستمائة ألف حديث، وجعلته حجة فيما بيني وبين الله)) (4) .
وقال أبو محمد السرخسي راوي الصحيح ومن تبعه: ((إن الذي لم يخرجه البخاري من الصحيح أكثر ممّا خرجه)) (5) .
--------------------------------------------
বরং তাঁদের মতে একজন হাদিস বিশারদ (محدث) ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত হাদিস বিশারদ (محدث) এবং হাদিসশাস্ত্রে এমন পণ্ডিত ও দক্ষ হতে পারেন না যিনি সহিহ (صحيح) ও রুগ্ন (سقيم) হাদিসের পার্থক্য করতে পারেন এবং এর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) ও অন্যান্য বিষয়ে সম্যক অবগত, যতক্ষণ না তিনি হাদিসটিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে এবং একাধিক সনদ (أسانيد) সহ বর্ণনা করেন। এখান থেকেই আমরা দেখতে পাই যে, ইমাম বুখারি—যেমনটি ইবনে আদি, খতিব, হাজেমি এবং যাহাবি (১) তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন—বলেন: "আমি এক লক্ষ সহিহ (صحيহ) হাদিস মুখস্থ রেখেছি এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ রেখেছি।"
তিনি আরও বলেন: "আমি আমার ‘জামে’ গ্রন্থে কেবল তা-ই অন্তর্ভুক্ত করেছি যা সহিহ (صح) হয়েছে, আর কলেবর দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে অনেক সহিহ (صحيح) হাদিস বাদ দিয়েছি।" (২)
তিনি আরও বলেন: "আমি তা থেকে—অর্থাৎ সহিহ (صحيح) থেকে—দশ হাজার হাজার হাদিস—অর্থাৎ এক লক্ষ হাদিস—এবং এক লক্ষ অ-সহিহ (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ রেখেছি।" সাখাভি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাদিসের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে উল্লিখিত সংখ্যায় পৌঁছানোর ইচ্ছা পোষণ করেছেন। কেননা অনেক সময় একটি হাদিসের ১০০ বা তারও বেশি পথ (طريق) থাকে। (৩)
খতিব বাগদাদি ইমাম বুখারির এই উক্তিটি উল্লেখ করেছেন: "আমি ষোলো বছর ধরে আমার সহিহ (الصحاح) গ্রন্থটি সংকলন করেছি। আমি এটি ছয় লক্ষ হাদিস থেকে চয়ন করেছি এবং একে আমার ও আল্লাহর মাঝে দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছি।" (৪)
সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী আবু মুহাম্মদ আল-সারখাসি এবং তাঁর অনুসারীরা বলেন: "ইমাম বুখারি যে পরিমাণ সহিহ (صحيح) হাদিস তাঁর গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেননি, তা অন্তর্ভুক্তকৃত হাদিসের চেয়েও অধিক।" (৫)
--------------------------------------------