(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: -)
قطف الجني الداني شرح مقدمة رسالة ابن أبي زيد القيرواني القسم: العقيدة
الكتاب: قطف الجني الداني شرح مقدمة رسالة ابن أبي زيد القيرواني
المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر
الناشر: دار الفضيلة، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002.
عدد الصفحات: 187
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ক্বাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনে আবী যায়েদ আল-কাইরাওয়ানী বিভাগ: আকীদা
বই: ক্বাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনে আবী যায়েদ আল-কাইরাওয়ানী
লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর
প্রকাশক: দারুল ফাদিলাহ، রিয়াদ، সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরী - ২০০২।
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৭
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৫)
قطف الجنى الداني شرح
مقدِّمة رسالة ابن أبي زيد القيرواني
تأليف: عبد المحسن بن حَمَد العبَّاد البدر
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمدُ لله ربِّ العالمين، الرَّحمن الرَّحيم، مالكِ يوم الدِّين، وأشهدُ أن لا إله إلَاّ اللهُ وحده لا شريك له، إلهُ الأوّلِين والآخِرِين، وقيُّومُ السَّموات والأرَضِين، وأشهدُ أنَّ محمّداً عبدُه ورسولُه، سيِّدُ المرسلِين، وإمامُ المتّقين، وقائدُ الغُرِّ المحجَّلين، المبعوث رحمةً للعالمين، صلّى اللهُ وسلّم وبارك عليه، وعلى آله الطيّبين الطّاهرين، وأصحابِه الغُرِّ الميامين، الذين حفظ اللهُ بهم المِلَّةَ، وأظهر الدّين، وعلى مَن اتَّبعهم بإحسانٍ وسار على نهجهم إلى يوم الدّين.
أمَّا بعد، فإنَّ عقيدةَ أهل السنَّة والجماعة تمتازُ بالصّفاءِ والوضوحِ والخلوِّ مِن الغموض والتعقيد، وهي مستمدَّةٌ مِن نصوصِ الوحي كتاباً وسنَّةً، وكان عليها سلفُ الأمّة، وهي عقيدةٌ مطابقةٌ للفطرة، ويقْبَلُها العقلُ السليمُ الخالي مِن أمراضِ الشُّبهات، وذلك بخلاف العقائد الأخرى المتلقَّاةِ مِن آراء الرِّجال وأقوالِ المتكلِّمين، ففيها الغموضُ والتعقيدُ والخبطُ والخلط، وكيف لا يكون الفرقُ كبيراً والبَونُ شاسعاً بين عقيدةٍ نزل بها جبريلُ مِن الله إلى رسولِه الكريم صلى الله عليه وسلم وبين عقائد متنوِّعة مختلفة خرج أصحابُها المبتدعون لها مِن الأرض، وخلقهم اللهُ من ماءٍ مهينٍ.
فعقيدةُ أهل السنَّة والجماعة بَدَتْ وظهرتْ مع بعثة النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ونزولِ الوحي عليه مِن ربِّه تعالى، وسار عليها الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابُه الكرام ومَن
ক্বাতফুল জানাদ দানি:
ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানির রিসালার মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যা
রচনায়: আব্দুল মুহসিন ইবনে হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ইলাহ এবং আসমান ও জমিনের ধারক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি সকল রাসূলদের সরদার, মুত্তাকীদের ইমাম এবং শুভ্র ও উজ্জ্বল জ্যোতিধারী মুমিনদের দলপতি, যাকে সমগ্র বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে পাঠানো হয়েছে। আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গের প্রতি এবং তাঁর সম্মানিত ও বরকতময় সাহাবীগণের প্রতি, যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ এই আদর্শকে হেফাজত করেছেন এবং দ্বীনকে বিজয়ী করেছেন। আর যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে এবং তাঁদের পথে চলবে, তাদের ওপরও (সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)।
অতঃপর, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা তার স্বচ্ছতা, স্পষ্টতা এবং অস্পষ্টতা ও জটিলতামুক্ত হওয়ার বৈশিষ্ট্যে অনন্য। এটি ওহীর মূল পাঠ অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত এবং উম্মতের সালাফগণ এই আকিদার ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। এটি মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) সাথে সংগতিপূর্ণ এবং সংশয়ের ব্যাধিমুক্ত সুস্থ বিবেক একে গ্রহণ করে নেয়। পক্ষান্তরে মানুষের ব্যক্তিগত মতামত এবং কালামশাস্ত্রবিদদের বক্তব্য থেকে গৃহীত অন্যান্য আকিদাগুলোর অবস্থা এর বিপরীত; কারণ সেগুলোতে রয়েছে অস্পষ্টতা, জটিলতা, বিভ্রান্তি এবং সংমিশ্রণ। আর পার্থক্য কেনই বা বিশাল হবে না এবং কেনই বা ব্যবধান সুদূরপ্রসারী হবে না সেই আকিদার মধ্যে যা জিবরাঈল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন, আর সেই বিচিত্র ও ভিন্ন ভিন্ন আকিদাগুলোর মধ্যে যার উদ্ভাবকরা এই যমীনেরই মানুষ এবং আল্লাহ তাদেরকে তুচ্ছ পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন?
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবুওয়াত লাভ এবং তাঁর প্রতি তাঁর প্রতিপালক মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী নাযিল হওয়ার মাধ্যমেই সূচিত ও প্রকাশিত হয়েছে। এই আকিদার ওপরই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ এবং যারা...
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৬)
تبعهم بإحسان، والعقائدُ الأخرى لا وجود لها في زمن النبوَّة، ولم يكن عليها الصحابةُ الكرام، بل قد وُلد بعضُها في زمانهم، وبعضُها بعد انقراض عصرهم، وهي مِن محدثاتِ الأمور التي حذّر منها الرسولُ صلى الله عليه وسلم، فقال: "وإيّاكم ومحدَثاتِ الأمور؛ فإنَّ كلَّ محدَثةٍ بدعة، وكلَّ بدعةٍ ضلالة"، وليس مِن المعقول ولا المقبول أن يُحجب حقٌّ عن الصحابة الكرام رضي الله عنهم وأرضاهم، ويُدَّخَر لأُناسٍ يجيئون بعد أزمانهم، فتلك العقائد لو كان شيءٌ منها خيراً لسبق إليه الصحابةُ، ولكنَّها شرٌّ حفِظهم اللهُ منه، وابتُليَ به مَن بعدَهم.
والحقيقة الواضحة الجليَّة أنَّ الفرقَ بين عقيدة أهل السُّنَّة والجماعة المتلقَّاة من الوحي، وبين عقائد المتكلِّمين المبنيَّة على آراء الرجال وعقولهم، كالفرق بين الله وخَلقه، ومثل ذلك ما يكون به القضاء والحكم، فإنَّه يُقال فيه: إنَّ الفرقَ بين الشريعة الإسلامية الرفيعة المنَزَّلة من الله على رسوله صلى الله عليه وسلم، وبين القوانين الوضعيَّة الوضيعة التي أحدثها البشر، كالفرق بين الله وخَلقه، {أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْماً لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} ، فما بال عقول كثير من الناس تغفلُ عن هذه الحقيقة الواضحة الجليَّة فيما يُعتقد، والحقيقة الواضحة الجليَّة فيما يُحكم به، فيستبدلون الذي هو أدنى بالذي هو خير؟!
اللهمَّ اهْد مَن ضلَّ من المسلمين سُبُلَ السلام، وأخرجه من الظلمات إلى النور، إنَّك سميعٌ مجيب.
وقد ألَّف علماءُ السنَّة قديماً وحديثاً مؤلَّفاتٍ تُوَضِّح عقيدةَ أهل السنَّة والجماعة، منها ما هو مختصَرٌ، ومنها ما هو مطوَّلٌ، وكان مِن بين هذه
তারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন। নবুওয়াতের যুগে অন্য কোনো আকিদার অস্তিত্ব ছিল না এবং সম্মানিত সাহাবীগণও তার ওপর ছিলেন না। বরং এর কিছু তাদের যুগে জন্ম নিয়েছিল এবং কিছু তাদের যুগের অবসানের পর। এগুলো নব্য উদ্ভাবিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন: "তোমরা নব্য উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো; কেননা প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।" এটি কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত বা গ্রহণযোগ্য নয় যে, সত্যকে সম্মানিত সাহাবী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁদের সন্তুষ্ট করুন) থেকে গোপন রাখা হবে এবং তাঁদের অনেক কাল পরে আসা একদল মানুষের জন্য তা জমা করে রাখা হবে। সেই আকিদাগুলোর মধ্যে যদি কোনো কল্যাণ থাকত, তবে সাহাবীগণ অবশ্যই সেদিকে অগ্রগামী হতেন। কিন্তু সেগুলো ছিল মন্দ, যা থেকে আল্লাহ তাঁদের রক্ষা করেছেন এবং তাঁদের পরবর্তী লোকেরা তাতে লিপ্ত হয়েছে।
আর সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল সত্য এই যে, ওহী থেকে প্রাপ্ত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা এবং মানুষের মতামত ও বুদ্ধিনির্ভর কালামশাস্ত্রবিদদের আকিদার মধ্যে পার্থক্য হলো আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যকার পার্থক্যের মতো। বিচার-ফয়সালা ও শাসনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। সে সম্পর্কে বলা হয়: আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ সুমহান ইসলামী শরীয়ত এবং মানুষের তৈরি করা নিম্নমানের মানবঘটিত আইনের মধ্যকার পার্থক্য হলো আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যকার পার্থক্যের মতো। "তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিচার চায়? দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য ফয়সালাকারী হিসেবে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম?" সুতরাং বহু মানুষের বিবেক-বুদ্ধির কী হলো যে তারা আকিদা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এবং বিচার-ফয়সালার ক্ষেত্রে এই সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল সত্যটি সম্পর্কে গাফেল হয়ে আছে? ফলে তারা উত্তম জিনিসের পরিবর্তে নিকৃষ্ট জিনিস গ্রহণ করছে?!
হে আল্লাহ, মুসলিমদের মধ্যে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করুন এবং তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী।
সুন্নাহর আলিমগণ প্রাচীন ও বর্তমানকালে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা ব্যাখ্যা করে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে কোনটি সংক্ষিপ্ত এবং কোনটি বিস্তারিত। সেগুলোর মধ্যে ছিল—
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ৭)
المختصرات مقدِّمةُ الإمام ابنِ أبي زيد القيرواني المالكي لرسالته، ومقدِّمةُ رسالته على طريقة السلف مختصَرةٌ مفيدة، والجمعُ بين الأصول والفروع في كتاب واحد نادرٌ في فعل المؤلِّفين، وهو حَسَن، يجعل المشتغلَ في فقه العبادات والمعاملات على علمٍ بالفقه الأكبر، الذي هو العقيدةُ على طريقة السلف.
وهي مع وَجازَتها وقلَّة ألفاظها تبيِّن بوضوحٍ العقيدةَ السليمة المطابقة للفطرة، المَبنيّة على نصوص الكتاب والسنّة، وهي شاهدٌ واضحٌ للمَقولة المشهورة: إنَّ كلامَ السّلف قليلٌ كثيرُ البركة، وكلام المتكلِّمين كثيرٌ قليلُ البركة.
ومِن أمثلة ما في هذه المقدِّمة مِن النَّفي المتضمِّن إثباتَ كمالٍ لله تعالى قولُه في مطلع هذه المقدِّمة: "إنَّ الله إلَهٌ واحدٌ لا إله غيرُه، ولا شبيهَ له، ولا نَظيرَ له، ولا وَلَدَ له، ولا وَالِدَ له، ولا صاحبةَ له، ولا شريكَ له".
فإنَّ هذه المنفيّات عن الله عز وجل مستمَدَّةٌ مِن الكتاب والسنّة، وهذا بخلاف النّفي في كلام المتكلِّمين، فإنَّه مبنيٌّ على التّكلُّف، ومتّصفٌ بالغموض، ومِن أمثلة ذلك ما جاء في العقائد النسفيّة قول مؤلِّفها: "ليس بعَرض، ولا جسم، ولا جوهر، ولا مصوّر، ولا محدود، ولا معدود، ولا متبعّض، ولا متجَزّ، ولا متركّب، ولا متناه".
وهذه المنفيّات لَم يأت بالنَّصِّ عليها كتابٌ ولا سنّة، والواجبُ السّكوتُ والإمساكُ عمَّا لم يدلَّ عليه دليلٌ مِن الوحي، واعتقاد أنَّ اللهَ متَّصِف بكلِّ كمالٍ، منَزَّهٌ عن كلِّ نقصٍ، ومثلُ هذه السلوب لا يفهمها العوامُّ، ولا تطابق الفطرةَ التي هم عليها، وهي مِن تكلُّف المتكلِّمين، وفيها
সংক্ষেপিত বিষয়সমূহ: ইমাম ইবনে আবি যাইদ আল-কায়রাওয়ানি আল-মালিকির তাঁর রিসালার ভূমিকা। সালাফদের পদ্ধতিতে লিখিত তাঁর এই রিসালার ভূমিকাটি সংক্ষিপ্ত ও অত্যন্ত উপকারী। একই কিতাবে উসুল (আকিদা) এবং ফুরু (ফিকহ)-এর সমন্বয় লেখকদের রচনায় বিরল, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়; এটি ইবাদত ও লেনদেনের ফিকহ নিয়ে চর্চাকারীকে ফিকহে আকবর সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দান করে, যা হলো সালাফদের অনুসৃত আকিদা।
এটি অতি সংক্ষিপ্ত ও স্বল্প শব্দবিশিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঠিক আকিদাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে, যা কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ওপর ভিত্তি করে রচিত। এটি সেই বিখ্যাত উক্তির এক উজ্জ্বল সাক্ষী যে: "সালাফদের কথা সামান্য কিন্তু তাতে বরকত অনেক, আর মুতাকাল্লিমদের কথা অনেক কিন্তু তাতে বরকত সামান্য।"
এই ভূমিকায় বর্ণিত মহান আল্লাহর পূর্ণতা সাব্যস্ত করার লক্ষ্যে যেসব নেতিবাচক বা অস্বীকৃতিমূলক বর্ণনা রয়েছে, তার উদাহরণ হিসেবে ভূমিকার শুরুর এই বক্তব্যটি উল্লেখযোগ্য: "নিশ্চয়ই আল্লাহ একমাত্র ইলাহ, তিনি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই; তাঁর কোনো সদৃশ নেই, তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই, তাঁর কোনো সন্তান নেই, তাঁর কোনো পিতা নেই, তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই এবং তাঁর কোনো অংশীদার নেই।"
মহান আল্লাহ সম্পর্কে বর্ণিত এই নেতিবাচক বা অস্বীকৃতিমূলক বিষয়গুলো কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত। এটি মুতাকাল্লিমদের পদ্ধতির বিপরীত; কারণ তাদের নেতিবাচক বর্ণনাগুলো কৃত্রিমতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং অস্পষ্টতায় পরিপূর্ণ। এর উদাহরণ হিসেবে 'আকাইদ আন-নাসাফিয়া' গ্রন্থে এর লেখকের বক্তব্যটি উল্লেখযোগ্য: "তিনি কোনো আকস্মিক গুণ নন, কোনো শরীর নন, কোনো মৌলিক বস্তু নন, তাঁর কোনো রূপ নেই, তিনি সীমাবদ্ধ নন, তিনি সংখ্যায় গণনযোগ্য নন, তিনি অংশবিশিষ্ট নন, তিনি বিভাজ্য নন, তিনি যৌগিক নন এবং তিনি সসীম নন।"
এসব নেতিবাচক বিষয়ের সপক্ষে কুরআন বা সুন্নাহর কোনো স্পষ্ট বর্ণনা আসেনি। অথচ ওহির কোনো দলিল নেই এমন বিষয়ে নীরব থাকা এবং তা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। আর বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ সকল পূর্ণতায় গুণান্বিত এবং সকল প্রকার ত্রুটি থেকে পবিত্র। এ জাতীয় নেতিবাচক বর্ণনাগুলো সাধারণ মানুষ অনুধাবন করতে পারে না এবং এটি তাদের ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এগুলো মুতাকাল্লিমদের কৃত্রিমতা মাত্র এবং এর মধ্যে...
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
غموضٌ وتلبيسٌ؛ يتّضح ذلك بالإشارة إلى واحدٍ منها، وهو نفيُ الجسم، فإنَّه يحتمل أن يُراد به ذاتٌ مشابهة للمخلوقات، وعلى هذا الاحتمال يُردّ اللفظُ والمعنى جميعاً؛ لأنَّ اللهَ ليس كمثله شيء وهو السميع البصير، وإن أُريد به ذاتٌ قائمةٌ بنفسها، مباينةٌ للمخلوقات، متّصفةٌ بصفات الكمال، فإنَّ هذا المعنى حقٌّ، ولا يجوز نفيُه عن الله، وإنَّما يُردّ هذا اللفظ لاشتماله على معنى حقّ ومعنى باطل.
وسيأتي في كلام المقريزي (ص: 14، 15) قولُه عن الصحابة: "فأثبتوا رضي الله عنهم بلا تشبيه، ونزّهوا مِن غير تعطيل، ولم يتعرّض مع ذلك أحدٌ منهم إلى تأويل شيء مِن هذا، ورأوا بأجمعهم إجراءَ الصفات كما وردت، ولم يكن عند أحدٍ منهم ما يستدلُّ به على وحدانيَّة الله تعالى وعلى إثبات نبوَّة محمّد صلى الله عليه وسلم سوى كتاب الله، ولا عرف أحدٌ منهم شيئاً مِن الطرق الكلامية ولا مسائل الفلسفة".
وسيأتي أيضاً في كلام أبي المظفّر السمعاني (ص: 16) قولُه في بيان فساد طريقة المتكلِّمين: "وكان مِمَّا أمر بتبليغه التوحيد، بل هو أصلُ ما أمرَ به فلم يترك شيئاً من أمور الدِّين أصولَه وقواعدَه وشرائعَه إلَاّ بلَّغه، ثمَّ لَم يَدْعُ إلى الاستدلال بما تَمسَّكوا به من الجوهر والعرض، ولا يوجد عنه ولا عن أحد من أصحابه من ذلك حرفٌ واحدٌ فما فوقه، فعُرف بذلك أنَّهم ذهبوا خلافَ مذهبهم وسلكوا غيرَ سبيلهم بطريق مُحدَث مُخترَع لم يكن عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا أصحابُه رضي الله عنهم، ويلزم من سلوكه العودُ على السلف بالطعن والقَدْح، ونسبتهم إلى قلَّة المعرفة واشتباه الطرق، فالحذر من الاشتغال بكلامهم والاكتراث بمقالاتهم؛ فإنَّها سريعةُ التهافت كثيرةُ التناقض"، وقولُ أبي المظفّر السمعاني هذا أورده الحافظ ابن
অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি; এর একটির প্রতি ইঙ্গিত করলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়, আর তা হলো ‘শরীর’ (জিসম) অস্বীকার করা। এর দ্বারা এমন কোনো সত্তা উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা সৃষ্টির সদৃশ, আর এই সম্ভাবনার ভিত্তিতে শব্দ ও অর্থ উভয়কেই প্রত্যাখ্যান করা হবে; কারণ আল্লাহর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। আর যদি এর দ্বারা এমন এক সত্তা উদ্দেশ্য হয় যা স্বয়ং প্রতিষ্ঠিত, সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক এবং পূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত, তবে এই অর্থটি সত্য এবং আল্লাহর সত্তা থেকে তা অস্বীকার করা বৈধ নয়। মূলত এই শব্দটি বর্জন করা হয় কারণ এটি একই সাথে সত্য ও মিথ্যা উভয় অর্থকেই ধারণ করে।
আল-মাকরিজীর বক্তব্যে (পৃষ্ঠা: ১৪, ১৫) সাহাবীদের সম্পর্কে তাঁর উক্তি আসবে: "তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) কোনো প্রকার সাদৃশ্য স্থাপন ছাড়াই গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন এবং কোনো প্রকার নিষ্ক্রিয়করণ ছাড়াই পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। তাঁদের কেউ এর কোনো কিছুর রূপক ব্যাখ্যা করার প্রয়াস পাননি। তাঁরা সকলে গুণাবলী যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই তা বহাল রাখার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন। তাঁদের কারো কাছে মহান আল্লাহর একত্ববাদ এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের প্রমাণের জন্য আল্লাহর কিতাব ছাড়া অন্য কোনো অবলম্বন ছিল না। তাঁদের কেউ ইলমে কালামের কোনো পদ্ধতি কিংবা দর্শনের কোনো বিষয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।"
আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনী-এর বক্তব্যেও (পৃষ্ঠা: ১৬) কালাম শাস্ত্রবিদদের পদ্ধতির অসারতা বর্ণনায় তাঁর উক্তি আসবে: "তাঁকে যা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে তাওহীদ ছিল অন্যতম, বরং এটিই ছিল তাঁর আদিষ্ট বিষয়সমূহের মূল। ফলে তিনি দ্বীনের বিষয়াবলি—এর মূলনীতি, নিয়মকানুন ও বিধিবিধান—কোনো কিছুই প্রচার করা বাকি রাখেননি। অতঃপর তিনি সেই সব বিষয় দ্বারা দলিল পেশ করার আহ্বান জানাননি যা তারা (মুতাকাল্লিমরা) আঁকড়ে ধরেছে, যেমন ‘জাওহার’ (মৌলিক সত্তা) ও ‘আরয’ (আকস্মিক গুণ)। তাঁর পক্ষ থেকে কিংবা তাঁর কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি অক্ষর বা তার বেশি কিছু পাওয়া যায় না। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, তারা তাঁদের (সালাফদের) মতাদর্শের বিপরীতে চলেছে এবং তাঁদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করেছে; এমন এক নব-উদ্ভাবিত পন্থায় যার ওপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিংবা তাঁর সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) ছিলেন না। এই পথ অনুসরণের অনিবার্য ফলাফল হলো পূর্বসূরিদের (সালাফদের) নিন্দা ও সমালোচনা করা এবং তাঁদেরকে জ্ঞানাল্পতা ও অস্পষ্টতার দিকে নিসবত করা। সুতরাং তাদের কথাবার্তায় লিপ্ত হওয়া এবং তাদের মতবাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা থেকে সাবধান থাকা আবশ্যক; কারণ সেগুলো দ্রুত পতনশীল এবং বৈপরীত্যে ভরপুর।" আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনী-এর এই উক্তিটি হাফেয ইবনে...
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
حجر في كتاب فتح الباري في شرح قول البخاري: "باب قول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} ، ونقل فيه (13/504) عن الحسن البصري قال: "لو كان ما يقول الجعد حقاًّ لبلّغه النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم".
والجعد بن درهم هو مؤسِّس مذهب الجهميّة، ونُسب الجهمية إلى الجهم بن صفوان؛ لأنَّه هو الذي أظهر هذا المذهب الباطل ونشره، وأقول كما قال الحسن البصري رحمه الله: لو كان ما يقوله الأشاعرة وغيرهم من المتكلِّمين حقاًّ لبلَّغه الرسول صلى الله عليه وسلم.
وقد رأيتُ أن أشرح هذه المقدِّمة شرحاً يزيد في جلائها ووضوحها، ويُفصِّل المعاني التي اشتملت عليها، ورأيتُ أن أمهِّد لهذا الشّرح بذكر عشر فوائد في عقيدة السّلف، وقد نظَم الشيخُ أحمد بن مشرّف الأحسائي المالكي المتوفَّى سنة 1285هـ مقدِّمة رسالة ابن أبي زيد القيرواني نظْماً بديعاً سلِساً، رأيتُ مِن المناسب إثباته مع نصِّ المقدِّمة قبل البدء بالشّرح.
وقد سَمَّيت هذا الشرح:
قطف الجنى الداني شرح مقدِّمة رسالة ابن أبي زيد القيرواني
وأسأل اللهَ عز وجل أن ينفع به كما نفع بأصله، وأن يوفِّق المسلمين للفقه في دينهم، والسَّير على ما كان عليه سلفُهم، في العقيدة والعمل، وأن يُوفِّقنِي للسلامة من الزَّلَل، ويَمنَحنِي الصِّدقَ في القول والإخلاصَ في العمل، إنِّه سميعٌ مجيب، وصلّى اللهُ وسلّم وبارك على عبده ورسوله نبيِّنا محمّد وعلى آله وصحبه أجمعين.
ইবনে হাজার ফাতহুল বারী কিতাবে ইমাম বুখারীর উক্তির ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন: "মহান আল্লাহর বাণীর অধ্যায়: {হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে যা আপনার নিকট নাযিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন}।" সেখানে (১৩/৫০৪) তিনি হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যদি জাদ যা বলে তা সত্য হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অবশ্যই পৌঁছে দিতেন।"
আর জাদ ইবনে দিরহাম হলো জাহমিয়্যাহ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা, আর জাহমিয়্যাহ মতবাদকে জাহম ইবনে সাফওয়ানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়; কারণ সে-ই এই বাতিল মতবাদটি প্রকাশ ও প্রচার করেছে। আমি ইমাম হাসান বসরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যা বলেছেন তেমনটিই বলছি: আশায়েরা এবং অন্যান্য কালামশাস্ত্রবিদগণ যা বলে তা যদি সত্য হতো, তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অবশ্যই পৌঁছে দিতেন।
আমি এই ভূমিকাটির এমন একটি ব্যাখ্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যা এর স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতাকে আরও বৃদ্ধি করবে এবং এর অন্তর্ভুক্ত অর্থসমূহকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করবে। আমি এই ব্যাখ্যার প্রারম্ভিক হিসেবে সালাফদের আকীদা সম্পর্কে দশটি ফায়দা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি। ১২৮৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী শায়খ আহমদ বিন মুশাররাফ আল-আহসায়ী আল-মালিকী ইবনে আবি যায়েদ আল-কাইরাওয়ানির রিসালার ভূমিকাকে এক চমৎকার ও সাবলীল কাব্যে রূপান্তর করেছেন; আমি ব্যাখ্যা শুরুর আগে মূল পাঠের সাথে উক্ত কাব্যটি সংযোজন করা উপযুক্ত মনে করেছি।
আমি এই ব্যাখ্যার নামকরণ করেছি:
কাতফুল জানাদ দানি শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনি আবি যায়েদ আল-কাইরাওয়ানি (নিকটবর্তী ফল আহরণ: ইবনে আবি যায়েদ আল-কাইরাওয়ানির রিসালার ভূমিকার ব্যাখ্যা)
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন এর মাধ্যমে মানুষকে উপকৃত করেন যেমনটি এর মূল কিতাবের মাধ্যমে করেছেন। আর তিনি যেন মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন এবং আকীদা ও আমলের ক্ষেত্রে তাদের সালাফদের আদর্শের ওপর চলার তাওফীক দান করেন। তিনি আমাকে পদস্খলন থেকে রক্ষা করুন এবং আমাকে সত্য কথা বলা ও একনিষ্ঠভাবে আমল করার তাওফীক দান করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ترجمة مختصرة لابن أبي زيد القيرواني
هو عبد الله أبو محمد بن أبي زيد، واسم أبي زيد عبد الرحمن، سكن القيروان، وكان إمامَ المالكية في وقته وقُدوتَهم، وجامعَ مذهب مالك، وشارحَ أقواله، وكان واسعَ العلم كثيرَ الحفظ والرواية، وكُتُبُه تشهدُ له بذلك، فصيحَ القلم، ذا بيان ومعرفة بما يقوله، بصيراً بالردِّ على أهل الأهواء، يقول الشِّعرَ ويُجيدُه، ويجمع إلى ذلك صلاحاً تامًّا وورعاً وعفَّةً، وحاز رئاسةَ الدِّين والدنيا، وإليه كانت الرِّحلةُ من الأقطار، ونجب أصحابُه وكَثُر الآخذون عنه.
وعرف قدرَه الأكابرُ، وكان يُعرف بمالك الصغير، قال فيه القابسي: "هو إمامٌ موثوقٌ به في ديانته وروايته"، واجتمع فيه العلمُ والورعُ والفضلُ والعقل، شُهرته تُغنِي عن ذِكره، وكان سريعَ الانقياد والرجوع إلى الحقِّ، تفقَّه بفقهاء بلده وسمع من شيوخها، وعوَّل على أبي بكر بن اللباد وأبي الفضل القيسي، وسمع منه خلقٌ كثيرٌ وتفقَّه به جلَّة، وكانت وفاته سنة (386 هـ) ، له كتاب النوادر والزيادات على المدونة، مشهور أزيد من مائة جزء، وكتاب مختصر المدونة مشهور أيضاً، وعلى كتابيه هذين المعوَّل في التفقه، وله الرسالة، وغيرها من المؤلَّفات الكثيرة المذكورة في الديباج المذهب لابن فرحون المالكي (ص: 136 – 138) .
وكلُّ ما مرَّ منقول باختصار من هذا الكتاب، قال فيه الذهبي في أوَّل ترجمته في سير أعلام النبلاء (17/10) : "الإمام العلَاّمةُ القُدوة الفقيه، عالم أهل المغرب".
وقال في آخرها: "وكان – رحمه الله – على طريقة السلف في الأصول، لا يدري الكلامَ ولا يتأوَّل، فنسأل الله التوفيق".
ইবনে আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানির সংক্ষিপ্ত জীবনী
তিনি হলেন আব্দুল্লাহ আবু মুহাম্মাদ বিন আবি যায়েদ, আর আবু যায়েদের নাম ছিল আব্দুর রহমান। তিনি কায়রাওয়ানে বসবাস করতেন। তিনি তার সময়ের মালিকি মাযহাবের ইমাম ও আদর্শ ছিলেন। তিনি মালিকি মাযহাবের সংকলক এবং ইমাম মালিকের বক্তব্যসমূহের ব্যাখ্যাকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, প্রখর স্মৃতিশক্তি ও বর্ণনার অধিকারী, যা তার কিতাবসমূহ সাক্ষ্য দেয়। তিনি ছিলেন সাবলীল লেখনীর অধিকারী, প্রাঞ্জল ভাষী এবং স্বীয় বক্তব্য সম্পর্কে সুজ্ঞাত। প্রবৃত্তিপূজারীদের খণ্ডন করার ব্যাপারে তিনি ছিলেন পারদর্শী। তিনি কবিতা লিখতেন এবং তাতে পারদর্শী ছিলেন। এর পাশাপাশি তার মধ্যে পূর্ণ নেক আমল, খোদাভীতি ও পবিত্রতা বিদ্যমান ছিল। তিনি ধর্মীয় ও পার্থিব নেতৃত্ব লাভ করেছিলেন। বিভিন্ন দেশ থেকে জ্ঞানপিপাসুরা তার কাছে আসতেন। তার ছাত্ররা ছিল অত্যন্ত মেধাবী এবং তার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনকারীদের সংখ্যা ছিল অনেক।
বড় বড় ওলামায়ে কেরাম তার মর্যাদা উপলব্ধি করেছিলেন এবং তিনি 'ছোট মালিক' নামে পরিচিত ছিলেন। ইমাম আল-কাবিসি তার সম্পর্কে বলেন: "তিনি তার ধর্মীয় জ্ঞান ও বর্ণনার ক্ষেত্রে একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম।" তার মধ্যে জ্ঞান, খোদাভীতি, শ্রেষ্ঠত্ব এবং মেধা একত্রিত হয়েছিল। তার খ্যাতি তাকে নতুন করে পরিচিত করানোর প্রয়োজনীয়তা রাখে না। তিনি হকের অনুসারী হতে এবং সত্যের দিকে ফিরে আসতে অত্যন্ত দ্রুত ছিলেন। তিনি নিজ শহরের ফকিহদের কাছে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন এবং সেখানকার শায়খদের থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি আবু বকর বিন আল-লাব্বাদ এবং আবু ফজল আল-কায়সির ওপর নির্ভর করতেন। অসংখ্য মানুষ তার থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং অনেক মহান ব্যক্তি তার কাছে ফিকহ শিখেছেন। তার মৃত্যু হয় ৩৮৬ হিজরি সনে। তার লিখিত 'আন-নাওয়াদির ওয়াজ-জিয়াদাত আলাল মুদাওওয়ানাহ' কিতাবটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ যা একশটিরও বেশি খণ্ডে বিভক্ত। 'মুখতাসার আল-মুদাওওয়ানাহ' কিতাবটিও বেশ প্রসিদ্ধ। ফিকহ চর্চায় তার এই দুটি কিতাবই মূল ভিত্তি। তার 'আর-রিসালাহ' নামক কিতাবসহ ইবনে ফারহুন আল-মালিকির 'আদ-দিবাজুল মাজহাব' (পৃষ্ঠা: ১৩৬-১৩৮) গ্রন্থে উল্লেখিত আরও অনেক রচনা রয়েছে।
উপরে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা এই কিতাব থেকেই সংক্ষেপে সংকলিত হয়েছে। ইমাম আয-যাহাবি তার 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা' (১৭/১০) গ্রন্থের শুরুতে তার জীবনী আলোচনায় বলেছেন: "ইমাম, আল্লামা, আদর্শ ফকিহ, মাগরিব অঞ্চলের আলেম।"
তিনি এর শেষে বলেছেন: "তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আকিদাগত মূলনীতির ক্ষেত্রে সালাফদের পথে ছিলেন, তিনি ইলমুল কালাম জানতেন না এবং অপব্যাখ্যা করতেন না। আমরা আল্লাহর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করি।"
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
فوائد بين يدي الشرح
الفائدة الأولى: منهج أهل السنة والجماعة في العقيدة: اتِباع الكتاب والسنة على فهم السلف الصالح…الفائدة الأولى: منهج أهل السُّنَّة والجماعة في العقيدة: اتِّباعُ الكتاب والسُّنةَّ على فهم السلف الصالح
عقيدةُ أهل السُّنَّة والجماعة مبنيَّةٌ على الدليل من كتاب الله عز وجل وسُنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم وما كان عليه الصحابة الكرام رضي الله عنهم وأرضاهم، قال الله عز وجل: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلاً مَا تَذَكَّرُونَ} ، وقال: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} ، وقال: {فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} ، وقال: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى} ، وقال: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُبِيناً} ، وقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} ، وقال: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} ، وقال صلى الله عليه وسلم في حديث العرباض بن سارية: ". . . فإنَّه مَن يعش منكم بعدي فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسُنَّتِي وسُنَّة الخلفاء المهديين الراشدين، تَمسَّكوا بها، وعضُّوا عليها بالنواجذ، وإيَّاكم ومحدثات الأمور؛ فإنَّ كلَّ محدثة بدعة، وكلَّ بدعة ضلالة" رواه أبو داود (4607) ، والترمذي (2676) وغيرهما، وهذا لفظ أبي داود، وقال
ব্যাখ্যার প্রারম্ভিক কিছু ফায়দাপ্রথম ফায়দা: আকীদার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজ: সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ...প্রথম ফায়দা: আকীদার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজ: সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা মহান আল্লাহ তাআলার কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ এবং সম্মানিত সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর আদর্শের দলীল-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।” তিনি আরও বলেছেন: “আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, কারণ তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।” তিনি আরও বলেছেন: “অতঃপর যারা আমার হেদায়াতের অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।” তিনি আরও বলেছেন: “অতঃপর যে ব্যক্তি আমার হেদায়াতের অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না।” তিনি আরও বলেছেন: “আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো পছন্দ বা ইখতিয়ার থাকা সমীচীন নয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো।” তিনি আরও বলেছেন: “রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।” তিনি আরও বলেছেন: “অতএব যারা তাঁর (রাসূলের) আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় আপতিত হতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নেমে আসতে পারে।” আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসে বলেছেন: “...নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তা সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকবে (দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে)। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে; কারণ প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।” এটি আবু দাউদ (৪৬০৭) ও তিরমিযী (২৬৭৬) সহ অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এটি আবু দাউদ বর্ণিত হাদীসের শব্দাবলী। তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
الترمذي: "حديث حسن صحيح".
وفي صحيح البخاري (7280) عن أبي هريرة رضي الله عنه: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "كلُّ أمَّتِي يدخلون الجنَّة إلَاّ مَن أبى، قالوا: يا رسول الله! ومَن يأبَى؟ قال: مَن أطاعنِي دخل الجنَّة، ومَن عصانِي فقد أبَى".
وفي صحيح مسلم (767) عن جابر بن عبد الله: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول في خطبته: "أمَّا بعد، فإنَّ خيرَ الحديث كتاب الله، وخيرَ الهدي هديُ محمد، وشرَّ الأمور محدثاتُها، وكلَّ بدعة ضلالة".
وروى البخاري في صحيحه (1597) ، ومسلم في صحيحه (1270) عن عابس بن ربيعة، عن عمر رضي الله عنه: "أنَّه جاء إلى الحجر الأسود فقبَّله، فقال: إنِّي لأعلمُ أنَّك حجرٌ لا تضرُّ ولا تنفع، ولولا أنِّي رأيتُ النَبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُقبِّلُك ما قبَّلتُك".
وروى البخاري في صحيحه (2697) ، ومسلم في صحيحه (1718) عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مَن أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو ردٌّ"، وفي لفظ لمسلم: "مَن عمل عملاً ليس عليه أمرُنا فهو ردٌّ".
وما جاء في هذه الرواية أعمُّ من الأُولى؛ لأنَّها تشتمل على مَن كان مُحْدِثاً أو تابعاً لمُحْدث.
وروى الإمام أحمد (16937) ، وأبو داود (4597) وغيرُهما - واللفظ لأحمد – عن معاوية رضي الله عنه قال: إنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إنَّ أهلَ الكتابين افترقوا في دينهم على ثنتين وسبعين ملَّة، وإنَّ هذه الأمَّةَ ستفترق على ثلاث وسبعين ملَّة يعني الأهواء، كلُّها في النار إلَاّ واحدة، وهي الجماعة".
তিরমিজি: "হাদিসটি হাসান সহিহ"।
এবং সহিহ বুখারিতে (৭২৮০) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করেছে। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসুল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: যে আমার আনুগত্য করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হয় সে-ই অস্বীকার করল।"
এবং সহিহ মুসলিমে (৭৬৭) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবায় বলতেন: "অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআত-ই পথভ্রষ্টতা।"
এবং বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১৫৯৭) ও মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১২৭০) আবিস ইবনে রাবিয়া থেকে এবং তিনি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন: "তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে আসলেন এবং সেটিকে চুম্বন করলেন। অতঃপর বললেন: আমি অবশ্যই জানি যে তুমি একটি পাথর মাত্র, তুমি কোনো ক্ষতিও করতে পারো না এবং কোনো উপকারও করতে পারো না। যদি আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তবে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।"
এবং বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (২৬৯৭) ও মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১৭১৮) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই (দ্বীনের) বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" এবং মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করবে যা আমাদের এই বিষয়ের (শরিয়তের) অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।"
এবং এই বর্ণনায় যা এসেছে তা প্রথমটির চেয়ে অধিক ব্যাপক; কারণ এতে সেই ব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত যে স্বয়ং উদ্ভাবনকারী অথবা যে উদ্ভাবনকারীর অনুসারী।
এবং ইমাম আহমাদ (১৬৯৩৭), আবু দাউদ (৪৫৯৭) ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন—এবং শব্দবিন্যাস আহমাদের—মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আহলে কিতাবদ্বয় তাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর এই উম্মত শীঘ্রই তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে—অর্থাৎ প্রবৃত্তি পূজারি দলসমূহ—যার প্রতিটিই জাহান্নামে যাবে একটি ব্যতীত, আর সেটি হলো আল-জামাআত।"
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وانظر تخريجه وشواهدَه في تعليق الشيخ شعيب الأرنؤوط وغيره على هذا الحديث في حاشية المسند.
وروى البخاري في صحيحه (5063) ، ومسلم في صحيحه (1401) عن أنس في حديث طويل، آخره: "فمَن رغب عن سُنَّتِي فليس منِّي".
وإنَّما كانت عقيدةُ أهل السنَّة والجماعة مبنيَّةً على الكتاب والسنَّة؛ لأنَّ ما يُعتقد هو من علم الغيب، ولا يُمكن معرفة ذلك إلَاّ بالوحي كتاباً وسنَّة.
وما جاء في الكتاب العزيز وثبت في السُنَّة فإنَّ العقلَ السليم يُوافقه ولا يُعارضه، ولشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله – كتاب واسع اسمه: درء تعارض العقل والنقل.
والمعوَّل عليه في فهم النصوص ما كان عليه أصحابُ رسول الله صلى الله عليه وسلم وما جاء عنهم من الفهم الصائب والعلم النافع، وقد فهموا معاني ما خوطبوا به من صفات الله عز وجل؛ لأنَّ الكتاب والسُّنَّة بلغتهم، مع تفويضهم علم كيفياتها إلى الله عز وجل؛ لأنَّ ذلك من الغيب الذي لا يعلمه إلَاّ هو سبحانه، كما جاء عن الإمام مالك بن أنس في بيان هذا المنهج الصحيح، حيث قال عندما سُئل عن كيفية الاستواء: "الاستواءُ معلومٌ، والكيف مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة".
وقد أوضح ما كان عليه الصحابةُ في صفات الله عز وجل الشيخ أبو العباس أحمد بن علي المقريزي المتوفى سنة (845 هـ) في كتابه المواعظ والاعتبار بذكر الخطط والآثار (2/356) ، فقال: "ذِكْرُ الحال في عقائد أهل الإسلام منذ ابتداء الملَّة الإسلامية إلى أن انتشر مذهب الأشعرية: اعلم
মুসনাদের টিকায় এই হাদিসের উপর শেখ শুয়াইব আল-আরনাউত এবং অন্যদের মন্তব্যে এর তাখরিজ (সূত্র বিশ্লেষণ) ও সাক্ষ্যসমূহ দেখুন।
এবং ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৫০৬৩) ও ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১৪০১) আনাস থেকে একটি দীর্ঘ হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার শেষে রয়েছে: "অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নতের প্রতি বিমুখ হবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।"
প্রকৃতপক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা কুরআন ও সুন্নাহর উপর প্রতিষ্ঠিত; কারণ যা বিশ্বাস করা হয় তা অদৃশ্যের জ্ঞানের (ইলমে গায়েব) অন্তর্ভুক্ত, আর কিতাব ও সুন্নাহর ওহি ব্যতীত তা জানা সম্ভব নয়।
আর যা মহান কিতাবে এসেছে এবং সুন্নাহতে সাব্যস্ত হয়েছে, সুস্থ বিবেক তার সাথে একমত হয় এবং তার বিরোধিতা করে না। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর একটি সুবিশাল গ্রন্থ রয়েছে যার নাম: 'দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকল' (বিবেক ও শ্রুতির বিরোধ নিরসন)।
মূল পাঠসমূহ (নসুস) বোঝার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হলো আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবায়ে কেরাম যা অনুসরণ করতেন এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সঠিক উপলব্ধি ও উপকারী জ্ঞান। তাঁরা আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা-এর গুণাবলী (সিফাত) সংক্রান্ত যে সম্বোধন করা হয়েছে তার অর্থসমূহ বুঝেছিলেন; কারণ কুরআন ও সুন্নাহ তাঁদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছিল। এর পাশাপাশি তাঁরা এগুলোর ধরন বা পদ্ধতির জ্ঞান আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা-এর প্রতি অর্পণ করতেন; কারণ এটি সেই অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত যা তিনি সুবহানাহু ব্যতীত আর কেউ জানে না। যেমনটি ইমাম মালিক বিন আনাস থেকে এই সঠিক মানহাজ বর্ণনায় এসেছে, যখন তাঁকে উঠার (ইস্তিওয়া) ধরন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহর উপরে উঠা (ইস্তিওয়া) জানা আছে, কিন্তু এর ধরন অজানা, এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত।"
আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা-এর গুণাবলী সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম কোন নীতির ওপর ছিলেন, তা শায়খ আবুল আব্বাস আহমদ বিন আলী আল-মাকরিজি (মৃত্যু ৮৪৫ হি.) তাঁর 'আল-মাওয়াইজ ওয়াল ইতিবার বিজিক্রিল খুতাতি ওয়াল আসার' (২/৩৫৬) গ্রন্থে স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন: "ইসলামী মিল্লাতের শুরু থেকে আশআরি মাযহাবের বিস্তার পর্যন্ত মুসলিমদের আকিদার অবস্থা বর্ণনা: জেনে রাখুন..."
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أنَّ الله تعالى لَمَّا بعث من العرب نبيَّه محمداً صلى الله عليه وسلم رسولاً إلى الناس جميعاً وصف لهم ربَّهم سبحانه وتعالى بما وصف به نفسَه الكريمة في كتابه العزيز الذي نزل به على قلبه صلى الله عليه وسلم الروحُ الأمين، وبما أوحى إليه ربُّه تعالى، فلم يسأله صلى الله عليه وسلم أحدٌ من العرب بأسرهم قرَويُّهم وبَدويُّهم عن معنى شيء من ذلك، كما كانوا يسألونه صلى الله عليه وسلم عن أمر الصلاة والزكاة والصيام والحجِّ وغير ذلك مِمَّا لله فيه سبحانه أمرٌ ونهيٌ، وكما سألوه صلى الله عليه وسلم عن أحوال القيامة والجنَّة والنار؛ إذ لو سأله إنسانٌ منهم عن شيء من الصفات الإلهية لنُقل كما نُقلت الأحاديث الواردة عنه صلى الله عليه وسلم في أحكام الحلال والحرام، وفي الترغيب والترهيب وأحوال القيامة والملاحم والفتن ونحو ذلك مِمَّا تضمَّنته كتبُ الحديث، معاجمها ومسانيدها وجوامعها، ومَن أمعن النَّظر في دواوين الحديث النَّبوي ووقف على الآثار السلفية، عَلِم أنَّه لَم يَرد قطُّ من طريق صحيح ولا سقيم عن أحد من الصحابة رضي الله عنهم على اختلاف طبقاتهم وكثرة عددهم – أنَّه سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن معنى شيء مِمَّا وصف الربُّ سبحانه به نفسَه الكريمة في القرآن الكريم وعلى لسان نبيِّه محمد صلى الله عليه وسلم، بل كلُّهم فهموا معنى ذلك، وسكتوا عن الكلام في الصفات، نعم! ولا فرَّق أحدٌ منهم بين كونها صفةَ ذات أو صفةَ فعل، وإنَّما أثبتوا له تعالى صفات أزليَّة: من العلم والقدرة والحياة والإرادة والسمع والبصر والكلام والجلال والإكرام والجود والإنعام والعز والعظمة، وساقوا الكلام سوقاً واحداً، وهكذا أثبتوا – رضي الله عنهم – ما أطلقه الله سبحانه على نفسه الكريمة: من الوجه واليد ونحو ذلك، مع نفي مماثلة المخلوقين، فأثبتوا – رضي الله عنهم – بلا تشبيه، ونزَّهوا من غير تعطيل،
আল্লাহ তাআলা যখন আরবদের মধ্য থেকে তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল মানুষের প্রতি রাসূল হিসেবে প্রেরণ করলেন, তখন তিনি তাদের কাছে তাদের রব সুবহানাহু ওয়া তাআলার গুণাবলি বর্ণনা করলেন সেইভাবে, যেভাবে তিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে নিজের সত্তার বর্ণনা দিয়েছেন, যা রূহুল আমীন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন এবং যেভাবে তাঁর প্রতি তাঁর রব তাআলা ওহী করেছেন। ফলে সমগ্র আরবদের মধ্য থেকে কোনো গ্রামবাসী কিংবা মরুচারী—কেউই তাঁকে এর কোনো কিছুর অর্থ সম্পর্কে প্রশ্ন করেননি, যেমনটি তাঁরা তাঁকে সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ এবং অন্যান্য বিষয় যাতে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ রয়েছে, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। আর যেমনটি তাঁরা তাঁকে কিয়ামতের অবস্থা এবং জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। কারণ যদি তাদের কেউ ইলাহী গুণাবলি সম্পর্কে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করতেন, তবে তা অবশ্যই বর্ণিত হতো যেভাবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হালাল ও হারামের বিধানাবলি, পরকালের পুরস্কার ও শাস্তির বর্ণনা, কিয়ামতের অবস্থা, মহাযুদ্ধসমূহ এবং ফিতনা সম্পর্কিত হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে, যা হাদিসের কিতাবসমূহ—মাজাম, মুসনাদ এবং জামি‘সমূহ—ধারণ করে আছে। যে ব্যক্তি নববী হাদিসের সংকলনসমূহে গভীর দৃষ্টি দেবে এবং সালাফদের আসার (বর্ণনা) সম্পর্কে অবগত হবে, সে জানতে পারবে যে—সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বিভিন্ন স্তর ও বিপুল সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও—সহিহ বা জয়িফ কোনো সূত্রেই এমন কিছু বর্ণিত হয়নি যে, তাঁদের কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে এবং তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে নিজের সত্তার যেসব গুণ বর্ণনা করেছেন তার কোনোটির অর্থ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন। বরং তাঁরা সকলেই এর অর্থ বুঝেছিলেন এবং এই গুণাবলির স্বরূপ নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত ছিলেন। হ্যাঁ! তাঁদের মধ্যে কেউ এটি সত্তাগত গুণ নাকি কর্মগত গুণ—তা নিয়ে কোনো পার্থক্য করেননি। বরং তাঁরা মহান আল্লাহর জন্য তাঁর অনাদি গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন: যেমন জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, ইচ্ছা, শ্রবণ, দর্শন, কালাম (কথা), মহিমা, সম্মান, দানশীলতা, অনুদান, প্রতাপ ও মহানুভবতা। তাঁরা এ সকল বিষয়কে একই ধারায় গ্রহণ করেছেন। এভাবেই তাঁরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজের সত্তার জন্য যা উল্লেখ করেছেন তা সাব্যস্ত করেছেন: যেমন চেহারা, আল্লাহর হাত এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ, সৃষ্টিজীবের সাথে সাদৃশ্য অস্বীকার করার সাথে সাথে। সুতরাং তাঁরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কোনো প্রকার সাদৃশ্য করা ছাড়াই তা সাব্যস্ত করেছেন এবং কোনো প্রকার অর্থহীন করা ছাড়াই তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ولم يتعرَّض مع ذلك أحدٌ منهم إلى تأويل شيء من هذا، ورأوا بأجمعهم إجراء الصفات كما وردت، ولم يكن عند أحد منهم ما يستدلُّ به على وحدانية الله تعالى وعلى إثبات نبوَّة محمد صلى الله عليه وسلم سوى كتاب الله، ولا عرف أحدٌ منهم شيئاً من الطرق الكلامية ولا مسائل الفلسفة، فمضى عصرُ الصحابة رضي الله عنهم على هذا، إلى أن حدث في زمنهم القولُ بالقدر، وأنَّ الأمرَ أنفة، أي: أنَّ الله تعالى لم يُقدِّر على خلقه شيئاً مِمَّا هم عليه. . . ".
وهذا الذي أوضحه المقريزي هو ما كان عليه أصحابُ رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل ظهور الفرق المختلفة، وقد قال صلى الله عليه وسلم في حديث العرباض بن سارية الذي مرَّ ذكرُه قريباً: "فإنَّه مَن يعش منكم بعدي فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسُنَّتِي وسُنَّة الخلفاء المهديِّين الراشدين، تمسَّكوا بها وعضُّوا عليها بالنواجذ، وإيَّاكم ومحدثات الأمور؛ فإنَّ كلَّ محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة".
وليس من المعقول أن يُقال في شيء من مذاهب هذه الفرق المختلفة في العقيدة التي حدثت في أواخر عهد الصحابة وبعده، كالقدرية والمرجئة والأشاعرة وغيرها، ليس من المعقول أن يُقال في شيء من ذلك: إنَّه الحقُّ والصواب، بل الحقّ الذي لا شكَّ فيه هو ما كان عليه أصحابُ رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولو كان شيء من هذه المذاهب حقًّا لسبقوا إليه رضي الله عنهم وأرضاهم، فلا يُعقل أن يُحجب حقٌّ عن الصحابة ويُدَّخر لأناس يجيئون بعدهم، قال إبراهيم النخعي كما في جامع بيان العلم وفضله لابن عبد البر (1/97) : "لَم يُدخَّر لكم شيءٌ خُبِّئَ من القوم لفضل عندكم".
وقد نقل الحافظ ابن حجر في الفتح عند شرحه باب قول الله تعالى:
তাঁদের কেউ এসবের কোনো কিছুর ব্যাখ্যা (তাউয়িল) করার চেষ্টা করেননি এবং তাঁরা সকলে সিফাতসমূহকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই বহাল রাখার বিষয়ে একমত ছিলেন। আল্লাহর একত্ববাদ এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রমাণের জন্য আল্লাহর কিতাব ছাড়া তাঁদের কারো কাছে অন্য কোনো দলিল ছিল না। তাঁদের কেউ কালামশাস্ত্রীয় পদ্ধতি বা দর্শনের মাসআলা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। সাহাবায়ে কেরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ এভাবেই অতিবাহিত হয়েছিল, যতক্ষণ না তাঁদের যুগে তাকদীর নিয়ে এমন বক্তব্যের উদ্ভব ঘটে যে, সব বিষয়ই তাৎক্ষণিক (পূর্বনির্ধারিত নয়), অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাঁর মাখলুকের জন্য তারা যা করছে তার কিছুই আগে থেকে নির্ধারণ করেননি...।
মাকরিজি যা স্পষ্ট করেছেন তা-ই হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথ, যা বিভিন্ন ফেরকা বা দলের আবির্ভাবের পূর্বে বিদ্যমান ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরবায ইবনে সারিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে বলেছেন, যার উল্লেখ ইতিপূর্বে করা হয়েছে: "তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো। একে শক্তভাবে ধারণ করো এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো। আর দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থেকো; কেননা প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।"
সাহাবীগণের যুগের শেষে এবং এর পরবর্তীতে আকীদা সংক্রান্ত উদ্ভূত বিভিন্ন ফেরকার—যেমন কাদারিয়া, মুরজিয়া, আশায়েরাহ এবং অন্যান্যদের—কোনো মতাদর্শ সম্পর্কে এটা বলা যুক্তিসঙ্গত নয় যে, সেটিই সত্য ও সঠিক। বরং যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই এমন সত্য হলো তা-ই, যার ওপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন। যদি এই মতাদর্শগুলোর মধ্যে কোনো কিছু সত্য হতো, তবে সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) অবশ্যই সেদিকে অগ্রগামী হতেন। এটা কল্পনা করা যায় না যে, সাহাবায়ে কেরামের কাছ থেকে কোনো সত্য গোপন রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে আসা লোকদের জন্য তা জমা রাখা হয়েছে। ইবরাহীম নাখয়ী যেমনটি ইবনুল বার-এর 'জামি বয়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি' (১/৯৭) গ্রন্থে বলেছেন: "তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বের কারণে এমন কোনো বিষয় তোমাদের জন্য জমা রাখা হয়নি যা সেই কওমের (সাহাবীদের) কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।"
হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে আল্লাহ তাআলার বাণীর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
{يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} كلاماً نفيساً لأبي المظفر السمعاني، فقال (13/507) : "واستدلَّ أبو المظفر بن السمعاني بآيات الباب وأحاديثه على فساد طريقة المتكلِّمين في تقسيم الأشياء إلى جسم وجَوهر وعرض، قالوا فالجسمُ ما اجتمع من الافتراق والجوهر ما حمل العرض، والعرض ما لا يَقوم بنفسه، وجعلوا الرُّوح من الأعراض، وردُّوا الأخبارَ في خَلق الرُّوح قبل الجسد والعقل قبل الخلق، واعتمدوا على حَدْسهم وما يؤدِّي إليه نظرُهم، ثم يَعرضون عليه النصوصَ فما وافقه قبلوه وما خالفه ردُّوه، ثمَّ ساق هذه الآيات ونظائرَها من الأمر بالتبليغ، قال: وكان مِمَّا أمر بتبليغه التوحيد، بل هو أصلُ ما أمرَ به فلم يترك شيئاً من أمور الدِّين أصولَه وقواعدَه وشرائعَه إلَاّ بلَّغه، ثمَّ لَم يَدْعُ إلى الاستدلال بما تَمسَّكوا به من الجوهر والعرض، ولا يوجد عنه ولا عن أحد من أصحابه من ذلك حرفٌ واحدٌ فما فوقه، فعُرف بذلك أنَّهم ذهبوا خلافَ مذهبهم وسلكوا غيرَ سبيلهم بطريق مُحدَث مُخترَع لم يكن عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا أصحابُه رضي الله عنهم، ويلزم من سلوكه العودُ على السلف بالطعن والقَدْح، ونسبتهم إلى قلَّة المعرفة واشتباه الطرق، فالحذر من الاشتغال بكلامهم والاكتراث بمقالاتهم؛ فإنَّها سريعةُ التهافت كثيرةُ التناقض، وما من كلام تَسمعه لفرقة منهم إلَاّ وتَجدُ لخصومهم عليه كلاماً يوازنه أو يقاربه، فكلٌّ بكلٍّ مقابل، وبعضٌ ببعضٍ مُعارَض، وحسبُك من قبيح ما يلزم من طريقتهم أنَّا إذا جَرينا على ما قالوه وألزمنا الناسَ بما ذكروه لزِم مِن ذلك تكفيرُ العوَام جميعاً؛ لأنَّهم لا يعرفون إلَاّ الاتِّباعَ المجرَّد، ولو عُرض عليهم هذا الطريق ما فهمه أكثرُهم فضلاً عن أن يصير منهم صاحب نظر،
{হে রাসূল, আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন।} এটি আবু আল-মুজাফ্ফর আস-সামআনী-র একটি অমূল্য বক্তব্য। তিনি (১৩/৫০৭) বলেছেন: "আবু আল-মুজাফ্ফর ইবনে আস-সামআনী অত্র অধ্যায়ের আয়াত ও হাদীসসমূহ দ্বারা মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদদের) সেই পদ্ধতির অসারতার প্রমাণ দিয়েছেন যাতে তারা বিষয়সমূহকে জিসম (দেহ), জাওহার (মৌলিক সত্তা) এবং আরয (আকস্মিক গুণ বা বৈশিষ্ট্য)-এ বিভক্ত করে থাকে। তারা বলে: জিসম হলো যা বিচ্ছিন্ন অংশসমূহের সমষ্টি, জাওহার হলো যা আরয বহন করে এবং আরয হলো যা নিজে নিজে প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে না। তারা রূহকেও আরযের অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং দেহের পূর্বে রূহ সৃষ্টি হওয়া এবং সৃষ্টির পূর্বে আকল (বুদ্ধি) সৃষ্টি হওয়া সম্পর্কিত হাদীসসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা তাদের অনুমান ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার ওপর নির্ভর করেছে; অতঃপর তারা এর ওপর দলীলসমূহ পেশ করে—যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তির সাথে মেলে তা তারা গ্রহণ করে এবং যা তার বিরোধী হয় তা প্রত্যাখ্যান করে। অতঃপর তিনি তাবলীগের (বাণী পৌঁছানোর) নির্দেশ সম্বলিত এই আয়াত ও এর সমজাতীয় আয়াতসমূহ উল্লেখ করে বলেন: তাঁকে যা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে তাওহীদও অন্তর্ভুক্ত ছিল, বরং এটিই ছিল তাঁর আদিষ্ট বিষয়সমূহের মূল। সুতরাং তিনি দ্বীনের বিষয়াবলি—তার মূলনীতি, ভিত্তি এবং বিধানসমূহের কোনো কিছুই পৌঁছে দিতে বাকি রাখেননি। অথচ তিনি জাওহার ও আরযের মতো যেসব বিষয়ের ওপর তারা আঁকড়ে ধরেছে তার দিকে আহ্বান জানাননি। তাঁর থেকে কিংবা তাঁর সাহাবীগণের একজনের থেকেও এই বিষয়ে একটি অক্ষর বা তার বেশি কিছু বর্ণিত হয়নি। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, তারা তাদের (সালাফদের) মতাদর্শের বিপরীতে গিয়েছে এবং এমন এক নব-উদ্ভাবিত ও বানোয়াট পথ অবলম্বন করেছে যার ওপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ছিলেন না। তাদের এই পথ অবলম্বনের অর্থ দাঁড়ায় পূর্বসূরীদের (সালাফদের) নিন্দা ও সমালোচনা করা এবং তাঁদেরকে জ্ঞানের স্বল্পতা ও সঠিক পথ নির্ণয়ে বিভ্রান্তির সাথে অভিযুক্ত করা। অতএব তাদের কথাবার্তায় লিপ্ত হওয়া এবং তাদের মতামতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া থেকে সাবধান থাকতে হবে; কারণ তাদের এসকল মতবাদ দ্রুত ধ্বংসশীল এবং প্রচুর স্ববিরোধিতায় পূর্ণ। তাদের কোনো একটি দলের পক্ষ থেকে আপনি এমন কোনো কথাই শুনবেন না যার বিপরীতে তাদের বিপক্ষ দলের নিকট সমপর্যায়ের বা কাছাকাছি কোনো জবাব নেই। ফলে প্রতিটি মতই অন্যটি দ্বারা প্রতিহত এবং একে অপরের দ্বারা খণ্ডিত। তাদের পদ্ধতির কদর্যতার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, তারা যা বলেছে তা যদি আমরা অনুসরণ করি এবং তারা যা উল্লেখ করেছে তার ওপর যদি সাধারণ মানুষকে বাধ্য করি, তবে এর অনিবার্য ফল হিসেবে সাধারণ মানুষ নির্বিশেষে সকলকে কাফির সাব্যস্ত করতে হবে। কারণ তারা কেবল সরল অনুসরণ ছাড়া আর কিছুই বোঝে না; যদি তাদের সামনে এই জটিল পথ উপস্থাপন করা হতো, তবে তাদের অধিকাংশ তা বুঝতেই সক্ষম হতো না, সেখানে গবেষণালব্ধ জ্ঞানের অধিকারী হওয়া তো অনেক দূরের কথা,
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وإنَّما غاية توحيدهم التزامُ ما وجدوا عليه أئمَّتَهم في عقائد الدِّين والعضُّ عليها بالنواجذ، والمواظبة على وظائف العبادات وملازمة الأذكار بقلوبٍ سليمة طاهرة عن الشُّبَه والشكوك، فتراهم لا يَحيدون عما اعتقدوه ولو قُطِّعوا إرَباً إرَباً، فهنيئاً لهم هذا اليقين، وطوبى لهم هذه السلامة، فإذا كُفِّر هؤلاء وهم السواد الأعظم وجمهور الأمَّة، فما هذا إلَاّ طَيُّ بِساط الإسلام وهدمُ مَنَار الدِّين، والله المستعان".
وما جاء في كلام أبي المظفر من ذِكر خلق العقل فيه نظر؛ قال ابن القيم في كتابه المنار المنيف (ص: 50) : "ونحن ننبِّه على أمور كليَّة يُعرف بها كون الحديث موضوعاً" إلى أن قال (ص: 66) : "ومنها أحاديث العقل، كلُّها كذب. . . وقال أبو الفتح الأزدي: لا يصحُّ في العقل حديث، قاله أبو جعفر العقيلي وأبو حاتم ابن حبان، والله أعلم".
وقد نقل الحافظ ابن حجر في كتابه فتح الباري نقولاً عن جماعة من السلف في إثبات الصفات من غير تشبيه أو تحريف أو تعطيل، وختم ذلك بكلام نفيس له، ومِمَّا قاله (13/407 – 408) : "وأخرج البيهقي من طريق أبي داود الطيالسي قال: كان سفيان الثوري وشعبةُ وحماد بنُ زيد وحماد بن سلمة وشريك وأبو عوانة لا يحدِّدون ولا يشبِّهون، ويروُون هذه الأحاديث ولا يقولون كيف، قال أبو داود: وهو قولنا، قال البيهقي: وعلى هذا مضى أكابرُنا.
وأسند اللَاّلكائي عن محمد بن الحسن الشيباني قال: اتفق الفقهاء كلُّهم من المشرق إلى المغرب على الإيمان بالقرآن وبالأحاديث التي جاء بها الثقاتُ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في صفة الرَّبِّ من غير تشبيه ولا تفسير، فمن
তাদের তাওহীদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো দ্বীনের আকিদার ক্ষেত্রে তারা তাদের ইমামদের যে আদর্শের ওপর পেয়েছে তার ওপর অবিচল থাকা এবং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা, আর ইবাদতের কার্যাবলীতে নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখা এবং সন্দেহ ও সংশয় থেকে মুক্ত পরিচ্ছন্ন হৃদয়ে জিকিরের পাবন্দি করা। ফলে আপনি তাদের দেখবেন যে তারা যা বিশ্বাস করেছে তা থেকে বিচ্যুত হয় না, যদিও তাদের টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। সুতরাং তাদের এই সুদৃঢ় বিশ্বাসের জন্য তাদের জানাই মোবারকবাদ এবং তাদের এই নিরাপত্তার জন্য শুভকামনা। এমতাবস্থায় যদি এদের কাফির বলা হয়—অথচ তারা হলো বিশাল জনসমষ্টি এবং উম্মতের সংখ্যাগুরু অংশ—তবে এটি ইসলামকে বিলুপ্ত করা এবং দ্বীনের বাতিঘর ধ্বংস করা ছাড়া আর কিছু নয়। আর আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।
আবু মুযাফফরের বক্তব্যে আকল বা বিবেক সৃষ্টি সম্পর্কে যা এসেছে তাতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে; ইবনুল কায়্যিম তার ‘আল-মানার আল-মুনিফ’ কিতাবে (পৃষ্ঠা: ৫০) বলেছেন: "আমরা এমন কিছু সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে সতর্ক করছি যার মাধ্যমে কোনো হাদিস জাল হওয়ার বিষয়টি চেনা যায়," তিনি (পৃষ্ঠা: ৬৬) পর্যন্ত আরও বলেন: "এবং তার মধ্যে রয়েছে আকল বা বিবেক সংক্রান্ত হাদিসসমূহ, যার সবই মিথ্যা... আবু আল-ফাতহ আল-আযদী বলেন: আকল বা বিবেক বিষয়ে কোনো হাদিসই সহীহ নয়; এটি আবু জাফর আল-উকায়লী এবং আবু হাতেম ইবনে হিব্বানও বলেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।"
হাফেয ইবনে হাজার তার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে সালাফদের এক জামাতের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার সাদৃশ্য প্রদান (তাশবীহ), বিকৃতি (তাহরীফ) বা অস্বীকার (তা'তীল) ছাড়াই আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সাব্যস্ত করার বিষয়ে বেশ কিছু বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন এবং অত্যন্ত মূল্যবান বক্তব্যের মাধ্যমে তার সমাপ্তি টেনেছেন। তিনি যা বলেছেন (১৩/৪০৭ – ৪০৮) তার মধ্যে রয়েছে: "বায়হাকী আবু দাউদ আত-তায়ালিসীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান সাওরী, শুবা, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, শারীক এবং আবু আওয়ানাহ (আল্লাহর গুণের) কোনো সীমা নির্ধারণ করতেন না এবং সাদৃশ্য প্রদান করতেন না; তারা এই হাদিসগুলো বর্ণনা করতেন কিন্তু 'কেমন' বা ধরন বর্ণনা করতেন না। আবু দাউদ বলেন: আর এটিই আমাদের বক্তব্য। বায়হাকী বলেন: আমাদের বড়রা এই নীতির ওপরই অতিবাহিত হয়েছেন।"
লালকাঈ মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী থেকে সনদসহ বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সকল ফকীহ কুরআন এবং রবের গুণাবলি (সিফাত) সম্পর্কে বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসগুলোর ওপর কোনো প্রকার সাদৃশ্য প্রদান (তাশবীহ) ও ব্যাখ্যা (তাফসীর) ছাড়াই ঈমান আনার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সুতরাং যে...
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فسَّر شيئاً منها وقال بقول جهم فقد خرج عمَّا كان عليه النَبِيُّ صلى الله عليه وسلم وأصحابُه وفارق الجماعةَ؛ لأنه وَصفَ الرَّبَّ بصفَة لا شيء.
ومن طريق الوليد بن مسلم: سألت الأوزاعيَّ ومالكاً والثوريَّ والليث ابنَ سعد عن الأحاديث التي فيها الصفة؟ فقالوا: أَمِرُّوها كما جاءت بلا كيف.
وأخرج ابنُ أبي حاتم في مناقب الشافعي عن يونس بن عبد الأعلى: سمعتُ الشافعيَّ يقول: لله أسماء وصفاتٌ، لا يَسَع أحداً رَدُّها، ومَن خالف بعد ثبوت الحجَّة عليه فقد كفر، وأمَّا قبل قيام الحجة فإنَّه يُعذر بالجهل؛ لأنَّ عِلمَ ذلك لا يُدرَك بالعقل ولا الرؤية والفكر، فنثبتُ هذه الصفات، ونَنفي عنه التشبيهَ، كما نفَى عن نفسه فقال: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} .
وأسند البيهقيُّ بسند صحيح عن أحمد بن أبي الحواري، عن سفيان بن عيينة قال: كلُّ ما وَصف الله به نفسَه في كتابه فتفسيرُه تلاوتُه والسكوتُ عنه.
ومن طريق أبي بكر الضُّبَعي قال: مذهبُ أهل السنة في قوله: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} قال: بلا كيف، والآثارُ فيه عن السلف كثيرة، وهذه طريقة الشافعي وأحمد بن حنبل.
وقال الترمذي في الجامع عَقب حديث أبي هريرة في النُزول: وهو على العرش كما وصفَ به نفسه في كتابه، كذا قال غيرُ واحد من أهل العلم في هذا الحديث وما يشبهه من الصفات.
وقال في باب فضل الصدقة: قد ثبتت هذه الروايات فنؤمن بها ولا نتَوهَّم، ولا يُقال كيف، كذا جاء عن مالك وابن عُيينة وابن المبارك أنَّهم
কেউ যদি এগুলোর কোনো কিছুর ব্যাখ্যা করে এবং জাহমের মতানুসারে কথা বলে, তবে সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ যে পথের ওপর ছিলেন তা থেকে বিচ্যুত হলো এবং জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল; কারণ সে প্রতিপালককে এমন বৈশিষ্ট্যে বর্ণনা করেছে যা মূলত অস্তিত্বহীন।
ওয়ালিদ বিন মুসলিমের সূত্রে বর্ণিত: আমি আওযাঈ, মালিক, সাওরী এবং লাইস ইবনে সাদকে সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যাতে আল্লাহর গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে? তাঁরা বললেন: এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই কোনো ধরণ নির্ধারণ ছাড়াই অতিক্রম করতে দাও।
ইবনে আবি হাতিম শাফিয়ির মানাকিব গ্রন্থে ইউনুস ইবনে আবদিল আলা থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি শাফিয়িকে বলতে শুনেছি: আল্লাহর কিছু নাম ও গুণাবলি রয়েছে, যা প্রত্যাখ্যান করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। যার কাছে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সে এর বিরোধিতা করবে, সে কুফরি করল। তবে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে তাকে অজ্ঞতার কারণে ক্ষমা করা হবে; কারণ এই বিষয়গুলোর জ্ঞান বুদ্ধি বা পর্যবেক্ষণ ও চিন্তার দ্বারা লাভ করা যায় না। সুতরাং আমরা এই গুণাবলি সাব্যস্ত করি এবং তাঁর থেকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য হওয়াকে অস্বীকার করি, যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে অস্বীকার করে বলেছেন: “তাঁর সদৃশ কিছুই নেই।”
বায়হাকি সহিহ সনদে আহমাদ বিন আবি আল-হাওয়ারি থেকে এবং তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ কিতাবে নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তার ব্যাখ্যা হলো সেগুলো তিলাওয়াত করা এবং সে বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা।
আবু বকর আদ-দুবায়ির সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর বাণী: “রাহমান আরশের উপর উঠেছেন”—এ বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর মাজহাব হলো: কোনো ধরণ নির্ধারণ করা ছাড়াই। এ বিষয়ে সালাফদের থেকে অনেক বর্ণনা রয়েছে এবং এটিই শাফিয়ি ও আহমাদ ইবনে হাম্বলের পদ্ধতি।
তিরমিযী তাঁর জামে গ্রন্থে আবু হুরাইরার বর্ণিত অবতরণ সংক্রান্ত হাদিসের পর বলেছেন: তিনি আরশের ওপর আছেন যেমনটি তিনি কিতাবে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। এই হাদিস এবং গুণাবলি সংক্রান্ত অনুরূপ হাদিসগুলোর ব্যাপারে একাধিক আলেম এ কথাই বলেছেন।
তিনি সদকার ফজিলত অধ্যায়ে বলেছেন: এই বর্ণনাগুলো প্রমাণিত হয়েছে, সুতরাং আমরা এগুলোর ওপর ঈমান রাখি এবং কোনো কল্পনা করি না, আর ‘কীভাবে’ তাও বলা যাবে না। মালিক, ইবনে উইয়াইনাহ এবং ইবনে মুবারক থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যে তাঁরা...
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أَمَرُّوها بلا كيف، وهذا قولُ أهل العلم من أهل السنة والجماعة، وأمَّا الجهميَّةُ فأنكروها، وقالوا هذا تشبيهٌ. وقال إسحاق بن راهويه: إنَّما يكون التشبيهُ لو قيل يدٌ كيَدٍ، وسَمعٌ كسمعٍ.
وقال في تفسير المائدة: قال الأئمةُ: نؤمن بهذه الأحاديث من غير تفسير، منهم: الثوري ومالك وابن عيينة وابن المبارك.
وقال ابن عبد البر: أهلُ السُّنَّة مُجمعون على الإقرار بهذه الصفات الواردة في الكتاب والسُّنَّة، ولم يُكَيِّفوا شيئاً منها، وأمَّا الجهميَّةُ والمعتزلةُ والخوارجُ فقالوا: مَن أقرَّ بها فهو مشبِّهٌ، فسمَّاهم مَن أقَرَّ بها مُعَطِّلةً.
وقال إمام الحرمين في الرسالة النظامية: اختلفت مسالكُ العلماء في هذه الظواهر، فرأى بعضُهم تأويلَها، والتزم ذلك في آي الكتاب وما يَصحُّ من السنن، وذهب أئمة السلف إلى الانكفاف عن التأويل وإجراء الظواهر على مواردها وتفويضِ معانيها إلى الله تعالى، والذي نرتضيه رأياً ونَدين الله به عقيدةً اتِّباع سلف الأمَّة؛ للدَّليل القاطع على أنَّ إجماعَ الأمَّة حُجةٌ، فلو كان تأويلُ هذه الظواهر حتماً لأوشكَ أن يكون اهتمامُهم به فوق اهتمامهم بفروع الشريعة، وإذا انصرم عصرُ الصحابة والتابعين على الإضراب عن التأويل كان ذلك هو الوجه المتَّبَع. انتهى.
وقد تقدَّم النقلُ عن أهل العصر الثالث وهم فقهاءُ الأمصار، كالثوري والأوزاعي ومالك والليث ومَن عاصرهم، وكذا مَن أخذ عنهم من الأئمة، فكيف لا يُوثَق بما اتَّفق عليه أهلُ القرون الثلاثة، وهم خيرُ القرون بشهادة صاحبِ الشريعة".
وما جاء في كلام الجوينِي من أنَّ السَّلف يُفوِّضون معاني الصفات
তারা এগুলোকে কোনো ধরন-প্রকৃতি নির্ধারণ ব্যতিরেকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিক্রম করিয়েছেন। আর এটিই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলেমগণের বক্তব্য। পক্ষান্তরে জাহমিয়্যাহরা এগুলোকে অস্বীকার করেছে এবং বলেছে এটি ‘তাশবিহ’ বা সাদৃশ্য প্রদান। ইসহাক বিন রাহওয়াই বলেন: ‘তাশবিহ’ কেবল তখনই হবে যখন বলা হবে—আল্লাহর হাত যেন মাখলুকের হাত, আল্লাহর শ্রবণ যেন মাখলুকের শ্রবণ।
তিনি সূরা মায়িদার তাফসিরে বলেছেন: ইমামগণ বলেছেন—আমরা এই হাদিসগুলোর ওপর কোনো (মনগড়া) ব্যাখ্যা ছাড়াই ঈমান রাখি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আস-সাওরি, মালিক, ইবনুল উয়াইনা এবং ইবনুল মুবারক।
ইবনুল বারর বলেন: কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত এই সিফাত বা গুণাবলির স্বীকৃতির বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর অনুসারীগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং তারা এর কোনোটির ধরন বা প্রকৃতি নির্ধারণ করেননি। অন্যদিকে জাহমিয়্যাহ, মুতাজিলা এবং খাওয়ারিজগণ বলেছে: যে ব্যক্তি এগুলো স্বীকার করবে সে ‘মুসাব্বিহ’ (সাদৃশ্য প্রদানকারী)। ফলে যারা এগুলো স্বীকার করেছেন তারা এই অস্বীকারকারীদের ‘মুআত্তিলাই’ (গুণাবলি অস্বীকারকারী) হিসেবে নামকরণ করেছেন।
ইমামুল হারামাইন ‘আর-রিসালাহ আন-নিযামিয়্যাহ’-তে বলেছেন: এই প্রকাশ্য পাঠগুলোর বিষয়ে আলেমদের কর্মপন্থা ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। তাদের কেউ কেউ এগুলোর তাবিল বা ব্যাখ্যা করা সমীচীন মনে করেছেন এবং কুরআনের আয়াত ও সহিহ সুন্নাহর ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করেছেন। আর সালাফদের ইমামগণ তাবিল করা থেকে বিরত থাকা, এগুলোর প্রকাশ্য রূপ বহাল রাখা এবং এগুলোর অর্থের বিষয়টি মহান আল্লাহর ওপর সোপর্দ করার পথ অবলম্বন করেছেন। আমাদের নিকট পছন্দনীয় মত এবং যে আকিদা অনুযায়ী আমরা আল্লাহর ইবাদত করি তা হলো উম্মতের সালাফদের অনুসরণ করা; কারণ উম্মতের ইজমা বা ঐক্যমত যে অকাট্য দলিল—সে ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। সুতরাং এই প্রকাশ্য পাঠগুলোর তাবিল করা যদি আবশ্যক হতো, তবে এ বিষয়ে তাদের গুরুত্ব শরয়ি শাখা-প্রশাখার চেয়েও অনেক বেশি হতো। আর যখন সাহাবী ও তাবেয়ীদের যুগ তাবিল বর্জন করার ওপরই অতিবাহিত হয়েছে, তখন এটিই হলো অনুসৃত পথ। সমাপ্ত।
ইতোপূর্বেই তৃতীয় যুগের ব্যক্তিবর্গ তথা বিভিন্ন অঞ্চলের ফকিহদের থেকে উদ্ধৃতি বর্ণিত হয়েছে, যেমন—আস-সাওরি, আল-আওযায়ি, মালিক, আল-লাইস এবং তাদের সমসাময়িকগণ, তদ্রূপ সেই সব ইমামগণ যারা তাদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। সুতরাং যে বিষয়ে প্রথম তিন প্রজন্মের ব্যক্তিবর্গ একমত হয়েছেন, তার ওপর কেন আস্থা রাখা হবে না? অথচ শরিয়ত প্রণেতার সাক্ষ্য অনুযায়ী তারাই হলেন সর্বোত্তম প্রজন্ম।
আর জুয়াইনির বক্তব্যে যা এসেছে যে, সালাফগণ সিফাতের অর্থের তাফওয়িজ বা আল্লাহর ওপর অর্পণ করতেন—
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২০)
إلى الله عز وجل غير صحيح؛ فإنَّهم يُفوِّضون في الكيف، ولا يُفوِّضون في المعنى، كما جاء عن مالك رحمه الله، فقد سُئل عن كيفية الاستواء؟ فقال: "الاستواء معلومٌ، والكيف مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة".
মহান আল্লাহর প্রতি (একে সম্বন্ধ করা) সঠিক নয়; কারণ তারা পদ্ধতির ক্ষেত্রে অর্পণ (তাফউইদ) করতেন, কিন্তু অর্থের ক্ষেত্রে অর্পণ করতেন না, যেমনটি ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাঁকে আরশে উঠার পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "আরশে উঠা বিষয়টি জানা, আর পদ্ধতি অজানা, এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত।"
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২০)
الفائدة الثانية: وَسَطيَّةُ أهل السنة والجماعة في العقيدة بين فرق الضلالأمَّةُ نبيِّنا محمد صلى الله عليه وسلم وَسَطٌ بين الأمم؛ فإنَّ اليهودَ والنصارى متضادُّون، فاليهود جَفَوا في الأنبياء حتى قتلوا من قتلوا منهم، والنصارى غَلَوا في عيسى عليه الصلاة والسلام، فجعلوه إلَهاً مع الله، وهذا من أمثلة تضادِّهم في الاعتقاد، ومن أمثلة تقابلهم في الأحكام أنَّ اليهودَ لا يُؤاكلون الحائضَ ولا يُجالسونها، والنصارى بضدِّهم؛ فإنَّهم يُجامعونها.
وكما أنَّ هذه الأمَّة وسَطٌ بين الأمم، فإنَّ أهل السنَّة والجماعة وسَطٌ بين فرق هذه الأمة، فهم:
أوَّلا: وسَطٌ في صفات الله بين المعطِّلة والمشبِّهة؛ فإنَّ المشبِّهةَ أثبتوا، ولكنَّهم شبَّهوا ومثَّلوا، وقالوا: لله يدٌ كأيدينا، ووجه كوجوهنا، وهكذا، تعالى الله عمَّا يقولون علوًّا كبيراً.
وأمَّا المعطِّلة، فإنَّهم تصوَّروا أنَّ الإثباتَ يستلزم التشبيهَ؛ ففرُّوا من الإثبات إلى التعطيل؛ تنْزيهاً لله عن مشابهة المخلوقين بزعمهم، لكن آل أمرُهم إلى أن وقعوا في تشبيه أسوأ، وهو التشبيه بالمعدومات؛ فإنَّه لا يُتصوَّرُ وجود ذات مجرَّدة من جميع الصفات.
দ্বিতীয় ফায়দা: ভ্রান্ত দলসমূহের মাঝে আকিদার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মধ্যপন্থাআমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মত জাতিসমূহের মধ্যে মধ্যপন্থী; কেননা ইহুদি ও নাসারারা পরস্পরের বিপরীতমুখী। ইহুদিরা নবীদের ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করেছে এমনকি তারা তাদের মধ্য থেকে অনেককে হত্যা করেছে, আর নাসারারা ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ব্যাপারে অতিরঞ্জন করেছে এবং তাঁকে আল্লাহর সাথে ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে। এটি আকিদাগত ক্ষেত্রে তাদের বৈপরীত্যের উদাহরণ। আর বিধিবিধানের ক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক বৈপরীত্যের উদাহরণ হলো, ইহুদিরা ঋতুবতী নারীর সাথে একত্রে আহার করে না এবং তার সাথে বসে না, কিন্তু নাসারারা এর ঠিক বিপরীত; তারা তাদের সাথে সহবাসও করে থাকে।
ঠিক যেমন এই উম্মত অন্যান্য জাতিসমূহের মাঝে মধ্যপন্থী, তেমনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতও এই উম্মতের বিভিন্ন দলগুলোর মাঝে মধ্যপন্থী। তারা হলো:
প্রথমত: আল্লাহর গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে তারা মুআত্তিলাই (অস্বীকারকারী) এবং মুশাব্বিহার (সাদৃশ্যদানকারী) মাঝে মধ্যপন্থী। কেননা মুশাব্বিহারা গুণাবলি সাব্যস্ত করেছে ঠিকই, কিন্তু তারা সাদৃশ্য ও উপমা প্রদান করেছে। তারা বলেছে: আল্লাহর হাত আমাদের হাতের মতো, তাঁর চেহারা আমাদের চেহারার মতো এবং অনুরূপ আরও অনেক কিছু। তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি উচ্চ ও মহান।
আর মুআত্তিলাদের অবস্থা হলো, তারা ধারণা করেছে যে (গুণাবলি) সাব্যস্ত করা মানেই সাদৃশ্য প্রদান করা; তাই তারা সাব্যস্তকরণ থেকে পলায়ন করে গুণাবলি অস্বীকারের দিকে ধাবিত হয়েছে; তাদের দাবি অনুযায়ী আল্লাহকে সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে পবিত্র করার লক্ষ্যে। কিন্তু তাদের পরিণাম এই দাঁড়িয়েছে যে তারা আরও জঘন্য সাদৃশ্যের মধ্যে নিপতিত হয়েছে, আর তা হলো অস্তিত্বহীন বস্তুর সাথে সাদৃশ্য প্রদান; কেননা সকল গুণাবলি থেকে মুক্ত কোনো সত্তার অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
وأمَّا أهل السُّنَّة والجماعة، فإنَّهم توسَّطوا بين هؤلاء وهؤلاء، فأثبتوا بلا تشبيه، ونَزَّهوا بلا تعطيل، كما قال الله عز وجل: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} ، فأثبتوا لله السَّمعَ والبصرَ كما أثبت الله ذلك لنفسه، فلَم يُعطِّلوا، ومع إثباتهم نزَّهوا ولم يُشبِّهوا، فالمشبِّهةُ عندهم الإثبات والتشبيه، والمعطِّلة عندهم التعطيل والتَنْزيه، وأهل السُّنَّة عندهم الإثبات والتنْزيه، فجمعوا بين الحُسنيين: الإثبات والتنْزيه، وسَلِموا من الإساءتين: التشبيه والتعطيل، والمُعطِّلةُ يَصفون أهلَ السُّنَّة زوراً أنَّهم مُشبِّهة؛ لأنَّهم لم يتصوَّروا إثباتاً إلَاّ مع التشبيه، وأهل السُّنَّة يصفون المعطِّلة بأنَّهم نافون للمعبود، قال ابن عبد البر في التمهيد (7/145) : "وأمَّا أهل البدع والجهمية والمعتزلة كلُّها والخوارج، فكلُّهم يُنكرها، ولا يحمل شيئاً منها على الحقيقة، ويزعمون أنَّ من أقرَّ بها مشبِّه، وهم عند من أثبتها نافون للمعبود".
ونقله عنه الذهبي في العلو (ص: 1326) ، وعلَّق عليه قائلاً: "صدق والله! فإنَّ من تأوَّل سائر الصفات وحمل ما ورد منها على مجاز الكلام، أدَّاه ذلك السَّلب إلى تعطيل الربِّ، وأن يشابه المعدوم، كما نُقل عن حماد بن زيد أنَّه قال: مَثل الجهمية كقوم قالوا: في دارنا نخلة، قيل: لها سَعَف؟ قالوا: لا، قيل: فلها كَرَب؟ قالوا: لا، قيل: لها رُطَب وقِنو؟ قالوا: لا، قيل: فلها ساق؟ قالوا: لا، قيل: فما في داركم نخلة! ".
والمعنى أنَّ من نفى عن الله الصفات، فإنَّ حقيقةَ أمره نفيُ المعبود؛ إذ لا يُتصوَّرُ وجود ذات مجرَّدة من جميع الصفات.
ولهذا قال ابن القيم في المقدمة التي بين يدي قصيدته النونية: "فالمشبِّه
আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিষয়টি হলো এই যে, তারা এই দুই দলের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন। ফলে তারা সাদৃশ্যারোপ (তাশবিহ) ছাড়াই আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন এবং অর্থহীন বা অকেজো (তাতিল) করা ছাড়াই আল্লাহকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন, যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" সুতরাং তারা আল্লাহর জন্য শ্রবণ ও দর্শন গুণ সাব্যস্ত করেছেন যেমনিভাবে আল্লাহ নিজের জন্য তা সাব্যস্ত করেছেন। অতএব তারা এগুলোকে অস্বীকার করেননি, আবার সাব্যস্ত করার সাথে সাথে পবিত্রতা বর্ণনা করেছেন এবং কোনো কিছুর সাথে সাদৃশ্য প্রদান করেননি। মুশাব্বিহদের মূলনীতি হলো সাব্যস্তকরণ ও সাদৃশ্যারোপ, আর মুআত্তিলাদের মূলনীতি হলো অস্বীকার করা ও পবিত্রতা বর্ণনা করা। তবে আহলুস সুন্নাহর নিকট সাব্যস্তকরণ ও পবিত্রতা বর্ণনা উভয়টিই বিদ্যমান। ফলে তারা দুটি উত্তম বিষয়ের (সাব্যস্তকরণ ও পবিত্রতা বর্ণনা) সমন্বয় করেছেন এবং দুটি মন্দ বিষয় (সাদৃশ্যারোপ ও অস্বীকার করা) থেকে নিরাপদ থেকেছেন। মুআত্তিলারা মিথ্যাভাবে আহলুস সুন্নাহকে "মুشাব্বিহ" হিসেবে অভিহিত করে; কারণ তারা সাদৃশ্যারোপ ব্যতীত আল্লাহর গুণের সাব্যস্তকরণকে কল্পনা করতে পারে না। আর আহলুস সুন্নাহ মুআত্তিলাদেরকে উপাস্যকে অস্বীকারকারী হিসেবে বর্ণনা করেন। ইবনু আবদিল বার "আত-তামহিদ" (৭/১৪৫) গ্রন্থে বলেছেন: "পক্ষান্তরে বিদআতি, জাহমিয়া, মুতাযিলাদের সকল দল এবং খাওয়ারিজরা—তারা সবাই এগুলোকে অস্বীকার করে এবং এর কোনোটিকেই প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করে না। তারা দাবি করে যে, যারা এগুলোকে স্বীকার করে তারা মুশাব্বিহ। অথচ যারা এগুলো সাব্যস্ত করেন তাদের দৃষ্টিতে এই দলগুলো প্রকৃতপক্ষে উপাস্যকেই অস্বীকারকারী।"
আয-যাহাবি এটি "আল-উলু" (পৃষ্ঠা: ১৩২৬) গ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "আল্লাহর কসম, তিনি সত্য বলেছেন! কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর সকল গুণাবলির অপব্যাখ্যা (তাউয়িল) করে এবং যা বর্ণিত হয়েছে সেগুলোকে রূপক অর্থের ওপর প্রয়োগ করে, এই অস্বীকার করার প্রবণতা তাকে শেষ পর্যন্ত রবের অস্তিত্বহীনতায় নিয়ে যায় এবং তাঁকে অস্তিত্বহীনের সাথে সদৃশ করে ফেলে। যেমনটি হাম্মাদ ইবনু যায়েদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: জাহমিয়াদের উদাহরণ সেই সম্প্রদায়ের মতো যারা বলল: আমাদের বাড়িতে একটি খেজুর গাছ আছে। তাদের জিজ্ঞেস করা হলো: সেটির কি ডালপালা আছে? তারা বলল: না। জিজ্ঞেস করা হলো: সেটির কি গোড়া বা বাকল আছে? তারা বলল: না। জিজ্ঞেস করা হলো: সেটির কি কাঁচা খেজুর বা খেজুরের ছড়া আছে? তারা বলল: না। জিজ্ঞেস করা হলো: সেটির কি কাণ্ড আছে? তারা বলল: না। তখন বলা হলো: তাহলে তোমাদের বাড়িতে আসলে কোনো খেজুর গাছই নেই!"
এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করল, তার এই কাজের প্রকৃত ফলাফল হলো উপাস্যকেই অস্বীকার করা; কারণ গুণাবলিহীন কোনো সত্তার অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব।
এ কারণেই ইবনুল কায়্যিম তাঁর "নূনিয়্যাহ" কাসিদার ভূমিকায় বলেছেন: "অতঃপর মুশাব্বিহ..."
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২২)
يعبدُ صنماً، والمعطِّلُ يعبدُ عدماً، والموحِّد يعبدُ إلَهاً واحداً صمداً، {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ}
وقال أيضاً: "قلبُ المعطِّل متعلِّقٌ بالعدم، فهو أحقرُ الحقير، وقلبُ المشبِّه عابدٌ للصنم الذي قد نُحت بالتصوير والتقدير، والموحِّد قلبُه متعبِّدٌ لِمَن ليس كمثله شيء وهو السَّميع البصير".
ثانياً: وهم وسَطٌ في أفعال العباد بين الجبرية الغلاة الذين ينفون عن العبد الاختيار، ويجعلون أفعالَه كحركات الأشجار، وبين القدرية النفاة الذين يجعلون العبدَ خالقاً لفعله، وينفون تقدير الله عليه، فأهل السنَّة والجماعة يُثبتون للعبد مشيئةً واختياراً، بهما يستحقُّ الثوابَ والعقابَ، لكن لا يجعلونه مستقلاًّ في ذلك، بل يجعلون مشيئتَه وإرادتَه تابعةً لمشيئة الله وإرادته، كما قال الله عز وجل: {لِمَنْ شَاءَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَقِيمَ وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} ، وهو سبحانه وتعالى خالقُ العباد وأفعال العباد، كما قال الله عز وجل: {وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ} .
ثالثاً: وهم وَسَطٌ في باب الوَعد والوعيد بين المرجئة الذين غلَّبوا جانبَ الوَعد وأهملوا جانبَ الوعيد، فقالوا: إنَّه لا يضرُّ مع الإيمان ذنبٌ، كما لا ينفعُ مع الكفر طاعة، والخوارجِ والمعتزلة الذين غلَّبوا جانبَ الوعيد وأهملوا جانبَ الوعد، فجعلوا مرتكبَ الكبيرة خارجاً من الإيمان في الدنيا، خالداً مخلَّداً في النار في الآخرة، فأهلُ السُّنَّة والجماعة أعمَلوا نصوصَ الوعد ونصوصَ الوعيد معاً، وجعلوا مرتكبَ الكبيرة ليس خارجاً من الإيمان في الدنيا، وفي الآخرة أمرُه إلى الله، إن شاء عذَّبه وإن شاء عفا عنه، وإذا عذَّبه فإنَّه لا يُخلِّده في النار كما يخلِّدُ فيها الكفار، بل يُخرجُ منها ويُدخل الجنَّة.
সাদৃশ্যদাতা প্রতিমা পূজা করে, আর গুণাবলী অস্বীকারকারী (মুআত্তিল) শূন্যের উপাসনা করে, কিন্তু একত্ববাদী (মুওয়াহহিদ) এমন এক ও অদ্বিতীয় ইলাহের ইবাদত করেন যিনি অমুখাপেক্ষী; "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"
তিনি আরও বলেছেন: "মুআত্তিলের অন্তর শূন্যের সাথে সম্পৃক্ত, তাই সে নিকৃষ্টতমদের অন্তর্ভুক্ত। আর মুশাব্বিহের অন্তর সেই প্রতিমার ইবাদতকারী যা চিত্রায়ণ ও অনুমানের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে। পক্ষান্তরে মুওয়াহহিদের অন্তর তাঁরই ইবাদতে মগ্ন যাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"
দ্বিতীয়ত: তাঁরা বান্দার কর্মের ক্ষেত্রে চরমপন্থী জাবরিয়া—যারা বান্দার ইচ্ছাশক্তিকে অস্বীকার করে এবং তার কর্মসমূহকে গাছের নড়াচড়ার মতো মনে করে—এবং ক্বাদারিয়া নফাত—যারা বান্দাকে তার কর্মের স্রষ্টা মনে করে এবং সে বিষয়ে আল্লাহর নির্ধারণকে অস্বীকার করে—এই দুই দলের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছেন। সুতরাং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বান্দার জন্য ইচ্ছা ও নির্বাচন করার ক্ষমতা সাব্যস্ত করেন, যার মাধ্যমে সে সওয়াব ও শাস্তির যোগ্য হয়। তবে তাঁরা বান্দাকে এ বিষয়ে স্বাধীন মনে করেন না, বরং তার ইচ্ছা ও সংকল্পকে আল্লাহর ইচ্ছা ও সংকল্পের অনুগামী মনে করেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায় তার জন্য; আর তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না যদি না জগতের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা করেন।" আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বান্দাদের এবং বান্দাদের কর্মের স্রষ্টা, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা যা করো তা-ও।"
তৃতীয়ত: তাঁরা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি (ওয়াদ) ও শাস্তির হুমকির (ওয়াইদ) ক্ষেত্রে মুরজিয়া—যারা পুরস্কারের দিকটিকে প্রাধান্য দিয়ে শাস্তির দিকটিকে উপেক্ষা করেছে এবং বলেছে: ঈমান থাকলে কোনো পাপই ক্ষতি করে না, ঠিক যেমন কুফর থাকলে কোনো আনুগত্য কাজে আসে না—এবং খাওয়ারিজ ও মুতাজিলাদের—যারা শাস্তির দিকটিকে প্রাধান্য দিয়ে পুরস্কারের দিকটিকে উপেক্ষা করেছে এবং কবিরা গুনাহকারীকে দুনিয়াতে ঈমান থেকে বহিষ্কৃত ও আখিরাতে চিরস্থায়ী জাহান্নামী সাব্যস্ত করেছে—এই দুই পক্ষের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছেন। সুতরাং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত প্রতিশ্রুতি ও শাস্তির হুমকি সংক্রান্ত উভয় প্রকার দলিলকে একত্রে গ্রহণ করেন। তাঁরা কবিরা গুনাহকারীকে দুনিয়াতে ঈমান থেকে বহিষ্কৃত মনে করেন না এবং আখিরাতে তার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে ক্ষমা করে দেবেন। আর যদি তাকে শাস্তি দেনও, তবে তাকে কাফিরদের মতো চিরকাল জাহান্নামে রাখবেন না, বরং সেখান থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
رابعاً: وهم وَسَطٌ في باب أسماء الإيمان والدِّين بين المرجئة الذين فرَّطوا، فجعلوا العاصيَ مؤمناً كاملَ الإيمان، وبين الخوارج والمعتزلة الذين أفرَطوا فأخرجوه من الإيمان، ثمَّ حكمت الخوارجُ بكفره، وقالت المعتزلة: إنَّه في منْزلة بين المنْزلتين، فأهل السُّنَّة وصفوا العاصيَ بأنَّه مؤمنٌ ناقصُ الإيمان، فلَم يجعلوه مؤمناً كاملَ الإيمان، كما قالت المرجئة، ولم يجعلوه خارجاًَ من الإيمان كما قالت الخوارجُ والمعتزلة، بل قالوا: هو مؤمن بإيمانه، فاسقٌ بكبيرته، فلَم يُعطوه الإيمانَ المطلق، ولم يسلبوا عنه مطلقَ الإيمان، ويجتمع في العبد إيمانٌ ومعصيةٌ وحبٌّ وبُغضٌ، فيُحَبُّ على ما عنده من الإيمان، ويُبغَضُ على ما عنده من الفسوق والعصيان، وهو نظير الشيب الذي يكون محبوباً إذا نُظر إلى ما بعده وهو الموت، وغير محبوب إذا نُظر إلى ما قبله وهو الشباب، كما قال الشاعر:
الشيبُ كرهٌ وكرهٌ أن نفارقَه
… فاعْجب لشيءٍ على البغضاءِ محبوب
خامساً: وهم وَسَطٌ بين الخوارج الذين كفَّروا عليًّا ومعاوية رضي الله عنهما ومن معهما وقاتلوهم واستحلُّوا أموالَهم، وبين الروافض الذين غَلَوا في عليٍّ وفاطمةَ وأولادهما رضي الله عنهم، وجَفَوا في حقِّ أكثر الصحابة، فأبغضوهم وسَبُّوهم، فأهل السُّنَّة يُحبُّون الصحابةَ جميعاً ويوالونهم ويُنْزلونهم منازلَهم ولا يقولون بعصمتِهم، وقد قال الطحاويُّ في عقيدة أهل السُّنَّة والجماعة: "ونحبُّ أصحابَ رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا نفرطُ في حبِّ أحدٍ منهم، ولا نتبَرَّأ من أحدٍ منهم، ونُبغضُ مَن يُبغضهم، وبغير الخير يَذكرهم، ولا نذكرُهم إلَاّ بخير، وحبُّهم دينٌ وإيمانٌ وإحسانٌ، وبغضُهم كفرٌ ونفاقٌ وطغيان".
চতুর্থত: তাঁরা ঈমান ও দ্বীনের নামসমূহের ক্ষেত্রে ওই সমস্ত মুরজিয়া—যারা শিথিলতা প্রদর্শন করে পাপাচারীকে পূর্ণ ঈমানদার সাব্যস্ত করেছে—এবং ওই সমস্ত খারিজি ও মুতাজিলা—যারা বাড়াবাড়ি করে তাকে ঈমান থেকে বের করে দিয়েছে—এদের উভয়ের মাঝে মধ্যপন্থী। অতঃপর খারিজিরা তার কুফরির ফায়সালা দিয়েছে এবং মুতাজিলারা বলেছে: সে দুই অবস্থানের মাঝামাঝি এক অবস্থানে রয়েছে। পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাত পাপাচারীকে ‘ঈমানে ত্রুটিযুক্ত মুমিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মুরজিয়াদের মতো তাঁরা তাকে পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার বলেননি এবং খারিজি ও মুতাজিলাদের মতো ঈমান থেকে বহিষ্কৃতও করেননি। বরং তাঁরা বলেন: সে তার ঈমানের কারণে মুমিন এবং তার কবিরা গুনাহের কারণে ফাসেক। সুতরাং তাঁরা তাকে নিরঙ্কুশ ঈমান প্রদান করেননি, আবার তার থেকে ঈমানের মূলকেও ছিনিয়ে নেননি। একজন বান্দার মধ্যে ঈমান ও পাপাচার এবং ভালোবাসা ও ঘৃণা একত্রে জমা হতে পারে। তার মধ্যে বিদ্যমান ঈমানের কারণে তাকে ভালোবাসা হবে এবং তার মধ্যে বিদ্যমান ফাসেকী ও নাফরমানির কারণে তাকে ঘৃণা করা হবে। এটি বার্ধক্যের (পাকা চুল) অনুরূপ, যা তার পরবর্তী অবস্থা অর্থাৎ মৃত্যুর দিকে তাকালে প্রিয় মনে হয়, আবার তার পূর্ববর্তী অবস্থা অর্থাৎ যৌবনের দিকে তাকালে অপ্রিয় মনে হয়। যেমন কবি বলেছেন:
বার্ধক্য একটি অপছন্দনীয় বিষয়, আবার তাকে বিদায় জানানোও কষ্টকর... সুতরাং এমন জিনিসের প্রতি আশ্চর্য হও যা অপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও প্রিয়।
পঞ্চমত: তাঁরা খারিজিদের মাঝে—যারা আলী ও মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং তাঁদের সাথে থাকা ব্যক্তিবর্গকে কাফের সাব্যস্ত করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং তাঁদের ধন-সম্পদকে বৈধ মনে করেছে—এবং রাফেজিদের মাঝে—যারা আলী, ফাতিমা ও তাঁদের সন্তানদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ব্যাপারে অতিরঞ্জন করেছে এবং অধিকাংশ সাহাবীর হকের ব্যাপারে রূঢ়তা প্রদর্শন করেছে, ফলে তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছে ও গালিগালাজ করেছে—এদের উভয়ের মাঝে মধ্যপন্থী। সুতরাং আহলে সুন্নাত সকল সাহাবীকে ভালোবাসেন, তাঁদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁদের যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন, তবে তাঁরা তাঁদের নিষ্পাপ হওয়ার দাবি করেন না। ইমাম তহাবী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা বর্ণনায় বলেছেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ভালোবাসি এবং তাঁদের কারোর ভালোবাসায় বাড়াবাড়ি করি না, তাঁদের কারোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি না। আর আমরা তাঁদেরকে ঘৃণা করি যারা তাঁদেরকে ঘৃণা করে এবং তাঁদেরকে মন্দের সাথে স্মরণ করে। আমরা তাঁদেরকে কেবল কল্যাণের সাথেই স্মরণ করি। তাঁদের ভালোবাসা হলো দ্বীন, ঈমান ও ইহসান; আর তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হলো কুফরি, মুনাফেকি ও সীমালঙ্ঘন।"
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ففي قوله رحمه الله: "ونحبُّ أصحابَ رسول الله" سلامة أهل السُّنَّة من الجفاء، وفي قوله: "ولا نفرط في حبِّ أحدٍ منهم" سلامتهم من الغلُوِّ، أي: ونحبُّ أصحابَ رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلسنا جُفاةً، ومع حبِّنا لهم فلسنا غلاةً.
وقد أجمل شيخ الإسلام ابن تيمية – رحمه الله – هذه الأمور التي أهل السُّنَّة والجماعة فيها وَسَطٌ بين فرق الضلال، في كتابه العقيدة الواسطية، فقال (ص: 107 – 113) : "فهم وَسَطٌ في باب صفات الله سبحانه وتعالى بين أهل التعطيل الجهمية وأهل التمثيل المشبِّهة، وهم وَسَطٌ في باب أفعال الله بين الجبرية والقدرية وغيرهم، وفي باب وعيد الله بين المرجئة والوعيدية من القدرية وغيرهم، وفي باب أسماء الإيمان والدِّين بين الحرورية والمعتزلة، وبين المرجئة والجهمية، وفي أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الرافضة والخوارج".
তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) এই উক্তিতে: "আমরা রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণকে ভালোবাসি"—বিমুখতা থেকে আহলে সুন্নাতের মুক্ত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। আর তাঁর এই উক্তিতে: "এবং আমরা তাঁদের কারও ভালোবাসায় অতিরঞ্জন করি না"—চরমপন্থা থেকে তাঁদের মুক্ত থাকার প্রমাণ রয়েছে। অর্থাৎ: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণকে ভালোবাসি, সুতরাং আমরা বিমুখ বা রুক্ষ নই; আবার তাঁদের প্রতি ভালোবাসা সত্ত্বেও আমরা চরমপন্থী নই।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ' গ্রন্থে এমন বিষয়সমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন যেগুলোতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ভ্রান্ত দলগুলোর মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী। তিনি বলেছেন (পৃষ্ঠা: ১০৭–১১৩): "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার গুণাবলির (সিফাত) অধ্যায়ে তারা জাহমিয়্যাহ নামক অস্বীকারকারী (তাতীলকারী) এবং মুসাব্বিহাহ নামক উপমাদানকারী (তামসিলকারী) সম্প্রদায়ের মাঝে মধ্যপন্থী। আর তারা আল্লাহর কার্যাবলির অধ্যায়ে জাবরিয়া ও কাদরিয়া এবং অন্যদের মাঝে মধ্যপন্থী। আল্লাহর শাস্তির হুমকির (ওয়াইদ) অধ্যায়ে তারা মুরজিয়া এবং কাদরিয়াদের মধ্য থেকে ওয়াইদিয়া ও অন্যদের মাঝে মধ্যপন্থী। ঈমান ও দ্বীনের নামসমূহের অধ্যায়ে তারা হারুরিয়্যাহ ও মুতাজিলা এবং মুরজিয়া ও জাহমিয়্যাহদের মাঝে মধ্যপন্থী। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের ক্ষেত্রে তারা রাফেজি ও খারেজীদের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী।"
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الفائدة الثالثة: عقيدة أهل السُّنَّة والجماعة مطابقةٌ للفطرةروى البخاري في صحيحه (1385) ومسلم في صحيحه (2658) – واللفظ للبخاري – عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النَبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "كلُّ مولود يُولَد على الفطرة، فأبواه يُهوِّدانه أو يُنصِّرانه أو يُمجِّسانه. . . " الحديث.
وفي صحيح مسلم (2865) من حديث عياض بن حمار المجاشعي رضي الله عنه: ". . . وإنِّي خلقتُ عبادي حنفاء كلّهم، وإنَّهم أتتهم الشياطينُ
তৃতীয় উপকারিতা: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা ফিতরাতের (সহজাত প্রকৃতির) সাথে সংগতিপূর্ণবুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (১৩৮৫) এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে (২৬৫৮) বর্ণনা করেছেন—এবং শব্দ বিন্যাস বুখারির—আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বানায়, অথবা খ্রিস্টান বানায়, অথবা অগ্নিপূজক বানায়..." (হাদিস)।
এবং সহিহ মুসলিমে (২৮৬৫) ইয়াদ ইবনে হিমার আল-মুজাসিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "...আর নিশ্চয়ই আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ (হানিফ) হিসেবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের নিকট শয়তানরা আসে..."
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فاجتالتهم عن دينهم، وحرَّمت عليهم ما أحللتُ لهم، وأمرتهم أن يُشركوا بي ما لم أُنزل به سلطاناً" الحديث.
وهذان الحديثان يدلَاّن على أنَّ دينَ الإسلام هو دينُ الفطرة، وعقيدةَ أهل السُّنَّة والجماعة مطابقةٌ للفطرة، ولهذا جاء في حديث معاوية بن الحكم السلمي رضي الله عنه في صحيح مسلم (537) في قصة جاريته، وفيه أنَّه قال: "أفلا أُعتقها؟ قال: ائتنِي بها، فأتيتُه بها، فقال لها: أين الله؟ قالت: في السماء، قال: مَن أنا؟ قالت: أنت رسول الله، قال: اعتقها فإنَّها مؤمنة".
فهذه الجاريةُ بفطرتها أجابت بأنَّ الله في السماء، وقد قال الله عز وجل: {أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِباً فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ} ، والمراد بالسماء العلو، أو تكون (في) بمعنى (على) كما في قوله تعالى: {وَلأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ} أي: على جذوع النخل.
وأمَّا الذين ابتُلوا بعلم الكلام، فإنَّهم يقولون: إنَّ علوَّ الله عز وجل علُوُّ قدر وقهر، وأهلُ السَّنَّة والجماعة يقولون إنَّ علُوَّ الله عز وجل علُوُّ قدر وقهر وذات، وقد جاء عن بعض المتكلمين وغيرهم عباراتٌ تدلُّ على أنَّ السلامةَ والنجاةَ إنَّما هي في عقيدة العجائز المطابقة للفطرة، وقد نقل شارحُ الطحاوية عن أبي المعالي الجوينِي كلاماً ذمَّ فيه علمَ الكلام، وقال فيه عند موته: "وهَا أنا ذا أموت على عقيدة أمِّي، أو قال: على عقيدة عجائز نيسابور".
وفي ترجمة الرازي - وهو من كبار المتكلِّمين - في لسان الميزان (4/427) : "وكان مع تبحُّره في الأصول يقول: من التزم دينَ العجائز فهو الفائز".
অতঃপর তারা (শয়তানরা) তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে ফেলে, এবং আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছিলাম তা তাদের জন্য হারাম করে দেয় এবং তাদেরকে নির্দেশ দেয় যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার পক্ষে আমি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করিনি।" - হাদিস।
এই দুটি হাদিস একথার প্রমাণ দেয় যে, ইসলাম ধর্ম হলো ফিতরাতের (সহজাত স্বভাবের) ধর্ম, আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ হলো ফিতরাত অনুযায়ী। এই কারণেই সহীহ মুসলিমে (৫৩৭) মুয়াবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে তাঁর দাসীর ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন: "আমি কি তাকে মুক্ত করে দেব না? তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাকে তাঁর কাছে নিয়ে এলাম। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আল্লাহ কোথায়? সে বলল: আকাশে। তিনি বললেন: আমি কে? সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিনা।"
এই দাসীটি তার সহজাত ফিতরাত থেকেই উত্তর দিয়েছিল যে, আল্লাহ আকাশে রয়েছেন। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ যে, যিনি আকাশে রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে জমিনে ধসিয়ে দেবেন না? এমতাবস্থায় যে তা আকস্মিকভাবে থরথর করে কাঁপতে থাকবে। নাকি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ যে, যিনি আকাশে রয়েছেন তিনি তোমাদের উপর পাথর বর্ষণকারী ঝড় পাঠাবেন না? অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।} এখানে আকাশ বলতে উচ্চতা বোঝানো হয়েছে, অথবা 'ফি' (মধ্যে) বর্ণটি 'আলা' (উপরে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে (ফি জুজু ইন-নাখল) শূলে চড়াব} অর্থাৎ: খেজুর গাছের কাণ্ডের উপরে।
আর যারা ইলমুল কালাম (দার্শনিক কূটতর্ক) দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছে, তারা বলে: মহান আল্লাহর উচ্চতা হলো কেবল মর্যাদা ও ক্ষমতার উচ্চতা; কিন্তু আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বলে যে, মহান আল্লাহর উচ্চতা হলো তাঁর মর্যাদা, ক্ষমতা এবং সত্তাগত উচ্চতা। কোনো কোনো কালামশাস্ত্রবিদ ও অন্যদের থেকে এমন বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে যা নির্দেশ করে যে, নিরাপত্তা ও মুক্তি মূলত বৃদ্ধা নারীদের আকিদাহর মধ্যেই নিহিত যা ফিতরাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শারহে তাহাবিয়্যাহ-র লেখক আবুল মাআলী আল-জুওয়াইনী থেকে এমন কথা উদ্ধৃত করেছেন যেখানে তিনি ইলমুল কালামের নিন্দা করেছেন এবং মৃত্যুর সময় বলেছিলেন: "আর এই তো আমি আমার মায়ের আকিদাহর ওপর মৃত্যুবরণ করছি", অথবা বলেছিলেন: "নিশাপুরের বৃদ্ধা নারীদের আকিদাহর ওপর।"
লিসানুল মিজান (৪/৪২৭) গ্রন্থে রাজীর জীবনীতে—যিনি একজন বড় মাপের কালামশাস্ত্রবিদ ছিলেন—বলা হয়েছে: "উসূলে (মূলনীতি শাস্ত্রে) গভীর পাণ্ডিত্য থাকা সত্ত্বেও তিনি বলতেন: যে ব্যক্তি বৃদ্ধা নারীদের দ্বীনকে আঁকড়ে ধরবে, সেই সফল হবে।"
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال أبو محمد الجويني والد إمام الحرمين في نصيحته لمشايخه من الأشاعرة (1/185 – مجموعة الرسائل المنيرية) : "فمن تكون الراعية أعلم بالله منه لكونه لا يعرف وجهة معبوده، فإنَّه لا يزال مظلمَ القلب، لا يستنيرُ بأنوار المعرفة والإيمان".
وروى ابن سعد في الطبقات بإسناد صحيح على شرط مسلم (5/374) عن جعفر بن بُرقان قال: "جاء رجلٌ إلى عمر بن عبد العزيز فسأله عن شيء من الأهواء، فقال: الزَم دينَ الصبِيِّ في الكُتَّاب والأعرابيِّ، والْهُ عمَّا سوى ذلك"، وعزاه إليه النووي في تهذيب الأسماء واللغات (2/22) .
ইমামুল হারামাইনের পিতা আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি আশআরি মাশায়েখদের প্রতি তাঁর নসিহতে (১/১৮৫ – মাজমুআতুর রাসায়িল আল-মুনিরিয়্যাহ) বলেছেন: "যার তুলনায় একজন রাখাল নারী আল্লাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী—যেহেতু সে তার মাবুদের দিক সম্পর্কে জানে না—সেই ব্যক্তির অন্তর সর্বদা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে এবং সে মা'রিফাত ও ঈমানের আলোয় আলোকিত হয় না।"
ইবনে সাদ ‘আত-তাবাকাত’ গ্রন্থে ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী একটি সহিহ সনদে (৫/৩৭৪) জাফর ইবনে বুরকান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি উমর ইবনে আবদুল আজিজের কাছে এসে প্রবৃত্তির তাড়নাজাত মতবাদ (আহওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তখন তিনি বললেন: তুমি মক্তবের শিশু এবং মরুবাসীদের দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো এবং এ ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ থাকো।" ইমাম নববী ‘তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত’ গ্রন্থে (২/২২) এটি তাঁর দিকেই নিসবত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الفائدة الرابعة: الكلام في الصفات فرعٌ عن الكلام في الذات، والقول في بعض الصفات كالقول في البعض الآخرأهل السُّنَّة والجماعة يُثبتون كلَّ ما أثبته اللهُ لنفسه وأثبته له رسولُه صلى الله عليه وسلم من الأسماء والصفات على وَجه يليق بكماله وجلاله، مِن غير تَكييف أو تَمثيل، ومن غير تَعطيل أو تأويل، ويقولون لِمَن أثبت الذات ونفَى الصفات وهم الجهمية والمعتزلة: إنَّ الكلامَ في الصفات فرعٌ عن الكلام في الذات؛ فكما أنَّنا نُثبت لله ذاتاً لا تُشبه ذوات المخلوقات، فيجب أن نثبتَ كلَّ ما ثبت في الكتاب والسنة من الصفات دون أن يكون فيها مشابهةٌ للمخلوقات، ويقولون لِمَن أثبت بعضَ الصفات وأوَّل بعضَها، وهم الأشاعرة: القولُ في بعضِ الصفات كالقول في البعض الآخر؛ فإنَّ ما أثْبَتَّ
চতুর্থ উপকারিতা: গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা হলো সত্তা সম্পর্কে আলোচনারই অনুগামী, এবং কিছু গুণাবলি সম্পর্কে বক্তব্য ঠিক অন্য গুণাবলি সম্পর্কে বক্তব্যের মতোইআহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত সেই সমস্ত নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করে যা আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন, যা তাঁর পূর্ণতা ও মহিমার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কোনো ধরন নির্ধারণ বা সদৃশ করা ব্যতিরেকে, এবং অকেজো করা বা অপব্যাখ্যা করা ব্যতিরেকে। আর যারা সত্তাকে সাব্যস্ত করে কিন্তু গুণাবলিকে অস্বীকার করে—অর্থাৎ জাহমিয়া ও মুতাজিলা—তাদের উদ্দেশ্যে তারা বলে: গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা মূলত সত্তা সম্পর্কে আলোচনারই শাখা; সুতরাং যেভাবে আমরা আল্লাহর জন্য এমন এক সত্তা সাব্যস্ত করি যা সৃষ্টির সত্তার সদৃশ নয়, তেমনিভাবে কুরআন ও সুন্নাহতে প্রমাণিত সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করাও আমাদের জন্য আবশ্যক যাতে সেগুলোতে সৃষ্টির সাথে কোনো সাদৃশ্য না থাকে। আর যারা কিছু গুণাবলি সাব্যস্ত করে এবং অন্যগুলোর অপব্যাখ্যা করে—অর্থাৎ আশায়িরা—তাদের উদ্দেশ্যে তারা বলে: কিছু গুণাবলি সম্পর্কে বক্তব্য ঠিক অন্য গুণাবলি সম্পর্কে বক্তব্যের মতোই; কারণ আপনি যা সাব্যস্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
من الصفات على وجهٍ يليق بالله عز وجل، يلزمك إثبات الباقي على هذا الوجه اللَاّئق بالله، وانظر توضيح هذين الأصلين في كتاب التدمرية لشيخ الإسلام ابن تيمية (ص: 31 – 46) .
আল্লাহর গুণাবলির মধ্য হতে যা মহান আল্লাহর জন্য উপযুক্ত পন্থায় (সাব্যস্ত করা হয়েছে), আল্লাহর জন্য শোভনীয় সেই পন্থায় অবশিষ্ট গুণাবলি সাব্যস্ত করাও আপনার জন্য আবশ্যক; আর শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর 'আত-তাদমুরিয়্যাহ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৩১ – ৪৬) এই দুটি মূলনীতির ব্যাখ্যা দেখে নিন।
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفائدة الخامسة: السَّلفُ ليسوا مُؤوِّلةً ولا مُفوِّضةمن المعلوم أنَّ سلفَ هذه الأمَّة من الصحابة وتابعيهم بإحسان يُثبتون لله ما أثبته لنفسه، وأثبته له رسوله صلى الله عليه وسلم من الأسماء والصفات، على وجه يليقُ بكماله وجلاله، فلا يُشبِّهون ولا يُعطِّلون ولا يُكيِّفون، بخلاف طريقة الخلف، التي هي التأويل لصفات الله عز وجل وصرفها إلى معان باطلة، وبخلاف طريقة المُفوِّضة، التي زعم المؤوِّلةُ أنَّها طريقةُ السَّلف، والتي يقولون فيها عن صفات الله عز وجل: الله أعلمُ بمراده بها، وقد أوضحَ عقيدةَ السلف في الصفات الإمامُ مالكٌ – رحمه الله – في كلامه المشهور لَمَّا سُئل عن كيفية الاستواء، فقال: "الاستواءُ معلومٌ، والكيف مجهولٌ، والإيمان به واجبٌ، والسؤال عنه بدعة".
فهم لا يُفوِّضون في المعنى، وإنَّما يُفوِّضون في الكيفية، ومَن زعم أنَّ طريقةَ السلف من الصحابة ومن تبعهم تفويضٌ في معاني الصفات، فقد وقع في محاذير ثلاثة هي: جهله بمذهب السلف، وتجهيله لهم، والكذب عليهم.
أمَّا جهلُه بمذهب السلف؛ فلكونه لا يعلم ما هم عليه، وهو الذي بيَّنه الإمام مالكٌ في كلامه المتقدِّم.
পঞ্চম ফায়দা: সালাফগণ রূপক ব্যাখ্যাকারী কিংবা অর্থ সমর্পণকারী ননএটা সুবিদিত যে, এই উম্মতের সালাফ তথা সাহাবায়ে কেরাম এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ আল্লাহর জন্য সেসব নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করেন যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন। এই সাব্যস্তকরণ তাঁর পূর্ণতা ও মহিমার উপযোগী পন্থায় হয়; তাঁরা কোনো সদৃশ স্থাপন করেন না, গুণাবলি অস্বীকার করেন না এবং এর কোনো ধরনও নির্ধারণ করেন না। এটি খালাফদের পদ্ধতির বিপরীত, যা হলো মহান আল্লাহর গুণাবলির রূপক ব্যাখ্যা করা এবং সেগুলোকে বাতিল অর্থের দিকে ধাবিত করা। এটি মুফাওয়িদাদের পদ্ধতিরও বিপরীত, যাদের সম্পর্কে রূপক ব্যাখ্যাকারীরা দাবি করে যে এটিই সালাফদের পদ্ধতি; তারা মহান আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে বলে থাকে: আল্লাহই এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সেই প্রসিদ্ধ বাণীর মাধ্যমে গুণাবলি সম্পর্কে সালাফদের আকিদা স্পষ্ট করেছেন, যখন তাঁকে উপরে উঠার ধরন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন: "উঠা সুবিদিত, এর ধরন অজ্ঞাত, এতে বিশ্বাস করা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত।"
সুতরাং তাঁরা অর্থের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে আল্লাহর ওপর সোপর্দ (তাফবিদ) করেন না, বরং তাঁরা কেবল ধরনের ক্ষেত্রে সোপর্দ করেন। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের অনুসারী সালাফদের পদ্ধতি ছিল গুণাবলির অর্থের ক্ষেত্রে তাফবিদ করা, সে তিনটি বিপত্তিতে নিপতিত হয়েছে: সালাফদের মাজহাব সম্পর্কে তার নিজস্ব অজ্ঞতা, তাঁদেরকে অজ্ঞ সাব্যস্ত করা এবং তাঁদের নামে মিথ্যাচার করা।
সালাফদের মাজহাব সম্পর্কে তার অজ্ঞতার কারণ হলো, সালাফগণ কিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন সে সম্পর্কে তার জ্ঞান নেই; আর এটিই ইমাম মালিক তাঁর পূর্বোল্লিখিত বাণীতে স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأمَّا تجهيله لهم، فذلك بنسبتهم إلى الجهل، وأنَّهم لا يفهمون معاني ما خوطبوا به، إذ طريقتُهم على زعمه في الصفات أنَّهم يقولون: الله أعلم بمراده بها.
وأمَّا الكذب عليهم، فإنَّما هو بنسبة هذا المذهب الباطل إليهم، وهم برآءُ منه.
আর তাদের প্রতি তাঁর অজ্ঞতা আরোপের বিষয়টি হলো—তাদেরকে অজ্ঞতার সাথে সম্পৃক্ত করা এবং এটি দাবি করা যে, তারা যা দ্বারা সম্বোধিত হয়েছে তার অর্থ তারা বোঝে না; কেননা তাঁর দাবি অনুযায়ী গুণাবলির ক্ষেত্রে তাদের পন্থা হলো এই যে, তারা বলে: আল্লাহই তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।
আর তাদের ব্যাপারে মিথ্যাচারের বিষয়টি হলো—এই বাতিল মতবাদকে তাদের প্রতি নিসবত করা, অথচ তারা এটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
(খণ্ড: ১)
কাতফুল জানিয়্যিদ দানী শারহু মুকাদ্দিমাতি রিসালাতি ইবনু আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الفائدة السادسة: كلٌّ من المشبِّهة والمعطِّلة جمعوا بين التمثيل والتعطيلالمعطِّلةُ هم الذين نفوا صفات الله عز وجل، ولم يُثبتوها على ما يليق بالله، وشُبهتُهم أنَّ إثبات الصفات يستلزم التشبيه؛ لأنَّهم لَم يتصوَّروا الصفات إلَاّ وفقاً لِما هو مشاهَد في المخلوقين، فجرَّهم ذلك التصوَّرُ الخاطئ إلى التعطيل، فكان ما وقعوا فيه أسوأَ مِمَّا فرُّوا منه؛ إذ كانت النتيجة أن يكون الله تعالى وتنَزَّه شبيهاً بالمعدومات؛ إذ لا يُتصوَّرُ وجود ذات خالية من الصفات.
ويتَّضح ذلك في صفة كلام الله عز وجل، فإنَّهم لم يتصوَّروا من إثبات أنَّ الله يتكلَّم بحرف وصوت إلَاّ التشبيه بالمخلوقين؛ لأنَّه يلزَمُ من ذلك أن يكون كلامُه بلسان وحُنجرة وشفتين؛ لأنَّهم لا يعقلون ذلك إلَاّ في المخلوقين، وذلك التصوُّرُ الخاطئُ مردودٌ من وجوه:
الأول: أنَّه لا تلازمَ بين الإثبات والتشبيه؛ فإنَّ الإثبات يكون مع التشبيه، وهو باطلٌ لا شكَّ فيه، ويكون مع التنْزيه، كما قال الله عزَّ
ষষ্ঠ ফায়দা: মুশাব্বিহা এবং মুআত্তিলা—উভয় গোষ্ঠীই সাদৃশ্যপ্রদান ও অস্বীকারের নীতিকে একত্রিত করেছেমুআত্তিলা হলো তারা যারা মহান আল্লাহর গুণাবলিকে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পন্থায় তা সাব্যস্ত করেনি। তাদের সংশয় হলো গুণাবলি সাব্যস্ত করা সাদৃশ্যপ্রদানকে (তাশবিহ) অপরিহার্য করে তোলে; কারণ তারা মাখলুকের মাঝে যা প্রত্যক্ষ করা যায় তা ছাড়া গুণাবলি সম্পর্কে অন্য কিছু কল্পনা করতে পারেনি। ফলে এই ভ্রান্ত ধারণা তাদেরকে গুণাবলি অস্বীকারের (তাতিল) দিকে ধাবিত করেছে। আর তারা শেষ পর্যন্ত যা গ্রহণ করেছে তা ঐ বিষয়ের চেয়েও নিকৃষ্ট যা থেকে তারা পলায়ন করতে চেয়েছিল; কেননা এর পরিণতি হলো মহান ও পবিত্র আল্লাহকে অস্তিত্বহীন বস্তুর সদৃশ করে তোলা; কারণ গুণাবলি শূন্য কোনো সত্তার অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব নয়।
আল্লাহর কালাম বা কথা বলার গুণের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। কেননা আল্লাহ অক্ষর ও শব্দের মাধ্যমে কথা বলেন—এটি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তারা সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য ছাড়া আর কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। তাদের ধারণা মতে এর মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় যে, তাঁর কথা বলা হতে হবে জিহ্বা, কণ্ঠনালি ও ওষ্ঠের সাহায্যে; কারণ তারা সৃষ্টিজগত ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে বিষয়টি অনুধাবন করতে অক্ষম। এই ভ্রান্ত ধারণা কয়েকটি কারণে প্রত্যাখ্যাত:
প্রথমত: কোনো কিছু সাব্যস্ত করা এবং সাদৃশ্য প্রদানের মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই। কেননা সাব্যস্তকরণ সাদৃশ্য প্রদানের সাথে হতে পারে, যা নিঃসন্দেহে বাতিল। আবার তা মহান আল্লাহর পবিত্রতা রক্ষার সাথেও হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন...