(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: -)
عقيدة أهل السنة في الصحابة لعبد المحسن العباد   (عبد المحسن العباد)

القسم: العقيدة


الكتاب: عقيدة أهل السنة والجماعة في الصحابة الكرام رضي الله عنهم وأرضاهم

المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر

الناشر: دار ابن خزيمة

الطبعة: الأولى، 1420هـ/2000م

عدد الصفحات: 26

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদের রচিত সাহাবীগণের বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর আকীদা   (আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ)

বিভাগ: আকীদা


বই: সম্মানিত সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আরদাহুম)-গণের বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদা

লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর

প্রকাশক: দার ইবনু খুযাইমাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরী/২০০০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أدلة من الكتاب والسنة على فضل الصحابة وعظم منزلتهم

…

عقيدة أهل السنة والأثر في الصحابة الكرام رضي الله عنهم وأرضاهم

بقلم: الشيخ عبد المحسن العباد

المدرس في كلية الشريعة بالجامعة

بسم الله الرحمن الرحيم

من رحمة الله بعباده وإحسانه إليهم وفضله عليهم أن بعث فيهم رسولاً من أنفسهم ليبلغهم رسالة ربهم ويرشدهم إلى كل ما ينفعهم ويحذرهم كل ما يضرهم وقد قام صلى الله عليه وسلم بما أرسل به على التمام والكمال فدل أمته على كل خير وحذرها من كل شر ونصح غاية النصح وقد اختار الله لصحبته وتلقي الشريعة عنه قوما هم أفضل هذه الأمة التي هي خير الأمم فشرَّفهم بصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم وخصَّهم في الحياة الدنيوية بالنظر إليه وسماع
সাহাবীদের মর্যাদা এবং তাঁদের উচ্চ মাকামের ওপর কুরআন ও সুন্নাহর প্রমাণাদি

…

সম্মানিত সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁদের সন্তুষ্ট করেছেন) ব্যাপারে আহলে সুন্নাহ ওয়াল আসারের আকিদা

কলমে: শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের শিক্ষক

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত, অনুগ্রহ ও ইহসানের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যেন তিনি তাদের কাছে তাদের রবের বাণী পৌঁছে দেন, যা কিছু তাদের জন্য কল্যাণকর তার দিকে তাদের পথপ্রদর্শন করেন এবং যা কিছু তাদের জন্য ক্ষতিকর তা থেকে তাদের সতর্ক করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ওপর অর্পিত রিসালাতের দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথভাবে পালন করেছেন। তিনি তাঁর উম্মতকে সকল কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন, সকল অকল্যাণ থেকে তাদের সতর্ক করেছেন এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের হিতাকাঙ্ক্ষা প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর সাহচর্য ও তাঁর কাছ থেকে শরিয়ত গ্রহণের জন্য এমন এক সম্প্রদায়কে মনোনীত করেছেন যারা এই উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, আর এই উম্মত সকল উম্মতের মাঝে সেরা। তিনি তাদেরকে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহচর্য লাভের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং পার্থিব জীবনে তাঁকে দেখার ও শ্রবণ করার মাধ্যমে তাঁদের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
حديثه من فمه الشريف وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء والله ذو الفضل العظيم.

وقد بلَّغوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بعثه الله به من النور والهدى على أكمل الوجوه وأتمها فكان لهم الأجر العظيم لصحبتهم رسول الله صلى الله عليه وسلم والجهاد معه في سبيل الله وأعمالهم الجليلة في نشر الإسلام ولهم مثل أجور من بعدهم لأنهم الواسطة بينهم وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن دعا إلى الهدى كان له من الأجر مثل أجر من تبعه لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا كما ثبت ذلك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي أخرجه مسلم في صحيحه وقد أثنى الله عليهم في كتابه العزيز وأثنى عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم في سنته المطهرة وحسبهم ذلك فضلا وشرفا
তাঁর পবিত্র মুখ নিঃসৃত তাঁর বাণী (হাদিস); আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।

আর তাঁরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সেই নূর ও হেদায়াত পৌঁছে দিয়েছেন যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে প্রেরণ করেছিলেন, সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত পদ্ধতিতে। ফলে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ, আল্লাহর পথে তাঁর সাথে জিহাদ এবং ইসলাম প্রচারে তাঁদের মহান কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার। আর তাঁদের পরে আগতদের সমপরিমাণ সওয়াবও তাঁরা পাবেন, কারণ তাঁরাই ছিলেন তাঁদের এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যবর্তী মাধ্যম। আর যে ব্যক্তি হেদায়াতের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য তার অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে, যা তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না; যেমনটি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সেই হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে তাঁদের প্রশংসা করেছেন এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পবিত্র সুন্নাহতে তাঁদের প্রশংসা করেছেন; আর তাঁদের মর্যাদা ও সম্মানের জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
قال الله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} . وقال تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الأِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً} .

وفي قوله –سبحانه-في حق الصحابة الكرام –رضي الله عنهم {لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ} أخطر حكم، وأغلظ تهديد، وأشد وعيد في حق من غيظ بأصحاب رسول -الله صلى الله عليه وسلم أو كان في قلبه غل لهم.

وقال الله تعالى: {لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য}। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর দয়ালু। আপনি তাদের রুকু ও সিজদারত অবস্থায় দেখবেন; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলেও তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ— যেমন একটি চারাগাছ, যা থেকে অংকুর বের হলো, অতঃপর তা শক্ত হলো, অতঃপর তা পুষ্ট হলো এবং স্বীয় কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল, যা কৃষকদের চমৎকৃত করে, যেন তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তরজ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন}।

এবং সম্মানিত সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) শানে মহান পবিত্র আল্লাহর বাণী— {যেন তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তরজ্বালা সৃষ্টি করেন}— এর মধ্যে ওই ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুতর বিধান, কঠোরতম ধমকি এবং চরম হুঁশিয়ারি রয়েছে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের প্রতি ক্ষোভ পোষণ করে অথবা যার অন্তরে তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে।

মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা বিজয়ের) পূর্বে ব্যয় করেছে তারা সমান নয়...}
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلاً وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} وقال تعالى في بيان مصارف الفيء: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ والَّذِينَ تَبَوَّأُوا الدَّارَ وَالأِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ والَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالأِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاً لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} ..هذه ثلاث آيات من سورة الحشر الأولى منها في المهاجرين والثانية في الأنصار والثالثة في الذين يجيئون بعد المهاجرين والأنصار مستغفرين لهم سائلين الله تعالى أن لا يجعل في قلوبهم غلا لهم
বিজয়) ও যুদ্ধ করেছেন; তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। আর আল্লাহ প্রত্যেকের সাথে জান্নাতের ওয়াদা করেছেন। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।} এবং আল্লাহ তাআলা ফায়-এর খাতের বর্ণনায় বলেন: {ঐ সমস্ত অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও ধন-সম্পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই সত্যবাদী। আর যারা তাদের পূর্বে এই জনপদে (মদীনায়) বসবাস করেছে এবং ঈমান গ্রহণ করেছে, তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোনো আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে না। আর তারা নিজেদের ওপর তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হয়। আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম। আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।} ..এগুলো সূরা হাশরের তিনটি আয়াত। এর প্রথমটি মুহাজিরদের সম্পর্কে, দ্বিতীয়টি আনসারদের সম্পর্কে এবং তৃতীয়টি ঐ সমস্ত লোকদের সম্পর্কে যারা মুহাজির ও আনসারদের পরে আসবে, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে এই প্রার্থনা করবে যেন তিনি তাদের অন্তরে তাদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ না রাখেন।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
وليس وراء هذه الأصناف الثلاثة إلا الخذلان والوقوع في حبائل الشيطان ولهذا قالت عائشة رضي الله عنها لعروة بن الزبير بشأن بعض هؤلاء المخذولين: "أمروا أن يستغفروا لأصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم فسبُّوهم" أخرجه مسلم في أواخر صحيحه وقال النووي في شرحه بعد ذكر آية الحشر: "وبهذا احتج مالك في أنه لا حق في الفيء لمن سب الصحابة رضي الله عنهم لأن الله إنما جعله لمن جاء من بعدهم يستغفر لهم"، وقال ابن كثير رحمه الله في تفسير هذه الآية: "وما أحسن ما استنبط الإمام مالك من هذه الآية الكريمة أن الرافضي الذي يسب الصحابة ليس له في مال الفيء نصيب لعدم اتصافه بما مدح الله به هؤلاء في قولهم: {رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالأِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاً لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} .
এই তিন শ্রেণির বাইরে লাঞ্ছনা এবং শয়তানের জালে নিপতিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই নেই। এ কারণেই আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) উরওয়াহ ইবনে যুবায়েরকে এই লাঞ্ছিতদের একদলের ব্যাপারে বলেছিলেন: "তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা উল্টো তাঁদের গালি দিল।" এটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের শেষাংশে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে সূরা হাশরের আয়াত উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এর মাধ্যমে ইমাম মালিক দলিল পেশ করেছেন যে, যারা সাহাবীদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) গালি দেয়, 'ফাই' (বিনা যুদ্ধে লব্ধ সম্পদ)-তে তাদের কোনো অধিকার নেই। কারণ আল্লাহ তাআলা এটি কেবল তাদের জন্যই নির্ধারিত করেছেন যারা তাদের পরবর্তীকালে আগমন করে এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।" আর ইমাম ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: "ইমাম মালিক এই বরকতময় আয়াত থেকে কতই না চমৎকার সারমর্ম বের করেছেন যে, যে রাফেযী সাহাবীদের গালি দেয়, 'ফাই'-এর সম্পদে তার কোনো অংশ নেই। কারণ সে ওই গুণাবলীতে ভূষিত নয় যার মাধ্যমে আল্লাহ সেই মহান ব্যক্তিদের প্রশংসা করেছেন যারা বলে: {হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আপনি অতি দয়াময়, পরম দয়ালু}।"
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
وقال صلى الله عليه وسلم: "خير الناس قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم" أخرجه البخاري ومسلم وغيرهما من حديث عمران بن حصين وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهما وأخرجه مسلم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه بلفظ: "خير أمتي القرن الذي بعثت فيهم ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم" والله أعلم ذكر الثالث أم لا. وأخرجه مسلم من حديث عائشة رضي الله عنها قالت: "سأل رجل النبي صلى الله عليه وسلم أي الناس خير؟ قال: " القرن الذي أنا فيه ثم الثاني ثم الثالث" وفي الصحيحين عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يأتي على الناس زمان فيغزو فئام من الناس فيقال: هل فيكم من صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فيقولون نعم فيفتح لهم ثم يأتي على الناس زمان فيغزوا فئام من الناس فيقال هل فيكم من صاحب
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগের লোক, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী।" এটি বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্যরা ইমরান বিন হুসাইন ও আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছেন। আর মুসলিম আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম সেই যুগ যাতে আমি প্রেরিত হয়েছি, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী।" আর আল্লাহই ভালো জানেন তিনি কি তৃতীয় যুগের কথা উল্লেখ করেছেন কি না। এবং মুসলিম আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন মানুষ সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "সেই যুগ যাতে আমি আছি, অতঃপর দ্বিতীয় যুগ, অতঃপর তৃতীয় যুগ।" এবং সহীহাইন-এ আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে যখন মানুষের একদল যুদ্ধ করবে, তখন বলা হবে: তোমাদের মাঝে কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সাথী আছেন? তখন তারা বলবে হ্যাঁ, অতঃপর তাদের জন্য বিজয় দান করা হবে। তারপর মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে যখন মানুষের একদল যুদ্ধ করবে এবং বলা হবে, তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছেন যিনি সাথী..."
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيقولون نعم فيفتح لهم ثم يأتي على الناس زمان فيغزو فئام من الناس فيقال هل فيكم من صاحب من صاحب أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيقولون نعم فيفتح لهم"، وروى ابن بطة بإسناد صحيح - كما في منهاج السنة لابن تيمية - عن ابن عباس أنه قال: "لا تسبوا أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم فلمقام أحدهم ساعة يعني مع رسول الله صلى الله عليه وسلم خير من عمل أحدكم أربعين سنة " وفي رواية وكيع: "خير من عمل أحدكم عمره". ولما ذكر سعيد بن زيد رضي الله عنه العشرة المبشرين بالجنة قال: "والله لمشهد رجل منهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يغبر فيه وجهه خير من عمل أحدكم ولو عمِّر عُمْر نوح" أخرجه أبو داود والترمذي، وعن جابر رضي الله عنه قال: "قيل لعائشة أن

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ? তারা বলবে হ্যাঁ, তখন তাদের জন্য বিজয় দান করা হবে। এরপর মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে যখন একদল মানুষ যুদ্ধ করবে, তখন বলা হবে তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সাহচর্য লাভ করেছে? তারা বলবে হ্যাঁ, তখন তাদের জন্য বিজয় দান করা হবে।" ইবনে বাত্তাহ সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন - যেমনটি ইবনে তাইমিয়ার মিনহাজুস সুন্নাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের গালি দিও না, কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের কারো এক মুহূর্তের অবস্থান তোমাদের কারো চল্লিশ বছরের আমলের চেয়েও উত্তম।" ওয়াকীর বর্ণনায় রয়েছে: "তোমাদের কারো সারা জীবনের আমলের চেয়েও উত্তম।" আর যখন সাঈদ ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর কথা উল্লেখ করলেন, তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর শপথ, তাদের কোনো একজনের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এমন কোনো মুহূর্তে উপস্থিত থাকা যেখানে তার চেহারা ধূলিমলিন হয়েছে, তা তোমাদের কারো আমলের চেয়েও উত্তম, যদিও সে নূহ আলাইহিস সালামের ন্যায় দীর্ঘ জীবন লাভ করে।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলা হলো যে"

(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
أناسا يتناولون أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم حتى أبا بكر وعمر فقالت: وما تعجبون من هذا انقطع عنهم العمل فأحب الله أن لا ينقطع عنهم الأجر" أخرجه رزين كما في جامع الأصول لابن الأثير ويشهد لذلك قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: "إن المفلس من أمتي من يأتي يوم القيامة بصلاة وصيام وزكاة ويأتي قد شتم هذا وقذف هذا وأكل مال هذا وسفك دم هذا وضرب هذا فيعطى هذا من حسناته وهذا من حسناته فإن فَنِيَت حسناته قبل أن يقضي ما عليه أخذ من خطاياهم فطرحت عليه ثم طرح في النار". وروى البخاري في صحيحه عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تسبوا أصحابي فلو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهبا ما بلغ مُدَّ أحدهم ولا نصيفه" وأخرجه مسلم في صحيحه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

কিছু লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণকে, এমনকি আবু বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কেও গালিগালাজ করছিল। তখন তিনি (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: "তোমরা এতে কেন অবাক হচ্ছ? তাঁদের আমল বন্ধ হয়ে গেছে, তাই আল্লাহ চাইলেন যেন তাঁদের সওয়াব বা পুরস্কার বন্ধ না হয়।" এটি রাযীন বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবনুল আসীরের ‘জামেউল উসুল’-এ বর্ণিত হয়েছে। সহীহ হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী এর সাক্ষ্য দেয়: "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে; অথচ সে একে গালি দিয়েছে, ওকে অপবাদ দিয়েছে, এর সম্পদ ভক্ষণ করেছে, ওর রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং একে প্রহার করেছে। ফলে একে তার নেকি থেকে দেওয়া হবে এবং ওকেও তার নেকি থেকে দেওয়া হবে। যদি তার ওপর থাকা দায় পরিশোধ করার আগে তার নেকি শেষ হয়ে যায়, তবে তাদের পাপসমূহ থেকে নিয়ে তার ওপর নিক্ষেপ করা হবে, অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।" বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। কেননা তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও দান করে, তবুও তা তাঁদের কারো এক মুদ (আঁজলা) বা তার অর্ধেক সমপরিমাণ সওয়াবেও পৌঁছাবে না।" মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
" لا تسبوا أصحابي لا تسبوا أصحابي فو الذي نفسي بيده لو أنفق أحدكم مثل أحد ذهبا ما أدرك مُدَّ أحدهم ولا نصيفه" وأخرج من حديث أبي سعيد رضي الله عنه ولفظه: "كان بين خالد بن الوليد وعبد الرحمن بن عوف شيء فسبه خالد فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تسبوا أحدا من أصحابي فإن أحدكم لو أنفق مثل أحد ذهبا ما أدرك مُدَّ أحدهم ولا نصيفه"، فإذا كان سيف الله خالد بن الوليد وغيره ممن أسلم بعد الحديبية لا يساوي العمل الكثير منهم القليل من عبد الرحمن بن عوف وغيره ممن تقدم إسلامه مع أن الكل تشرف بصحبته صلى الله عليه وسلم فكيف بمن لم يحصل له شرف الصحبة بالنسبة إلى أولئك الأخيار، إن البون لشاسع وإن الشقة لبعيدة فما أبعد الثرى عن الثريا بل وما أبعد الأرض السابعة عن السماء السابعة ذلك فضل الله يؤتيه من يشاء والله ذو الفضل العظيم.

"তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না, তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবে তা তাদের কারো এক মুদ (এক আঁজলা) কিংবা তার অর্ধেক পরিমাণ আমলের সমানও হবে না।" এবং আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে যার শব্দবিন্যাস হলো: "খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং আব্দুর রহমান বিন আউফের মধ্যে কোনো একটি বিষয়ে কিছু (বিবাদ) ঘটেছিল, ফলে খালিদ তাকে গালি দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: 'তোমরা আমার সাহাবীদের কাউকে গালি দিও না; কেননা তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবে তা তাদের কারো এক মুদ বা তার অর্ধেক পরিমাণ সওয়াবের সমান হবে না'।" সুতরাং, যদি আল্লাহর তলোয়ার খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং হুদাইবিয়ার সন্ধির পর যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের প্রচুর আমল, আব্দুর রহমান বিন আউফ এবং তার মতো যারা আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের সামান্য আমলের সমান না হয়—অথচ তারা সকলেই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহচর্য লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন—তবে সেই নেককার ব্যক্তিদের তুলনায় যাদের সাহচর্য লাভের সৌভাগ্যই হয়নি, তাদের অবস্থা কেমন হবে? নিশ্চয়ই ব্যবধান অত্যন্ত বিশাল এবং দূরত্ব অনেক বেশি। মাটি থেকে সুরাইয়া নক্ষত্র কতই না দূরে! বরং সপ্তম জমিন থেকে সপ্তম আসমান কতই না দূরে! এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।

(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
هذه بعض الآيات القرآنية والأحاديث النبوية الدالة على فضل أولئك الأخيار الذين ما كانوا ولا يكونون رضي الله عنهم.
এগুলো হলো কিছু কুরআনি আয়াত এবং নববী হাদিস যা সেই সকল নেককারদের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক যাদের সমতুল্য কেউ ছিল না এবং হবেও না, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الصحابة كلهم عدول

وصحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم كلهم عدول بتعديل الله تعالى لهم وثنائه عليهم وثناء رسوله صلى الله عليه وسلم. قال النووي في التقريب الذي شرحه السيوطي في تدريب الراوي: "الصحابة كلهم عدول من لابس الفتن وغيرهم بإجماع من يعتد به" انتهى. وقال الحافظ ابن حجر في الإصابة: "اتفق أهل السنة على أن الجميع عدول ولم يخالف في ذلك إلا شذوذ من المبتدعة" انتهى. ولهذا لا تضر جهالة الصحابي فإذا قال التابعي: "عن رجل صحب النبي صلى الله عليه وسلم" لم يؤثر ذلك في المروي لأن الجهالة في الصحابة لا تضر لأنهم كلهم عدول
সাহাবীগণ সকলেই ন্যায়পরায়ণ

এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ সকলেই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণ, তাঁদের প্রশংসা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসার কারণে ন্যায়পরায়ণ। ইমাম নববী ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে বলেছেন—যা সুয়ূতী ‘তাদরীবুর রাবী’ গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছেন—: “যাদের ওপর আস্থা রাখা হয় এমন সকল আলিমের ঐকমত্য অনুযায়ী সাহাবীগণ সকলেই ন্যায়পরায়ণ—চাই তারা ফিতনায় জড়িয়ে থাকুন বা না থাকুন।” সমাপ্ত। এবং হাফিজ ইবনে হাজার ‘আল-ইসাবাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: “আহলে সুন্নাত এ বিষয়ে একমত যে তারা সকলেই ন্যায়পরায়ণ, আর বিদআতিদের কিছু বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী ছাড়া কেউ এতে দ্বিমত পোষণ করেনি।” সমাপ্ত। আর এই কারণেই কোনো সাহাবীর পরিচয় অজ্ঞাত থাকা ক্ষতিকর নয়। অতএব, কোনো তাবিঈ যদি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য লাভকারী এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত”, তবে তা বর্ণিত বিষয়ের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। কারণ সাহাবীদের ক্ষেত্রে পরিচয় অজ্ঞাত থাকা কোনো ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয় না, যেহেতু তারা সকলেই ন্যায়পরায়ণ।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال الخطيب البغدادي في كتاب الكفاية: "كل حديث اتصل إسناده بين من رواه وبين النبي صلى الله عليه وسلم لم يلزم العمل به إلا بعد ثبوت عدالة رجاله ويجب النظر في أحوالهم سوى الصحابي الذي رفعه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم لأن عدالة الصحابة ثابتة معلومة بتعديل الله لهم وإخباره عن طهارتهم واختياره في نص القرآن". ثم ساق بعض الآيات والأحاديث في فضلهم ثم قال: "على أنه لو لم يرد من الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم فيهم شيء مما ذكرناه لأوجبت الحال التي كانوا عليها من الهجرة والجهاد والنصرة وبذل المهج والأموال وقتل الآباء والأولاد والمناصحة في الدين وقوة الإيمان واليقين القطع على عدالتهم والاعتقاد لنزاهتهم وأنهم أفضل من جميع المعدلين والمزكين الذين يجيئون بعدهم أبد الآبدين" وروى بإسناده عن أبي زرعة قال: "إذا رأيت الرجل
খতিব বাগদাদী 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে বলেছেন: "প্রতিটি হাদিস যার ইসনাদ বর্ণনাকারী এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মধ্যে সংযুক্ত, তার ওপর আমল করা আবশ্যক হয় না যতক্ষণ না তার বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত হয়। এবং সেই সাহাবী ব্যতীত—যিনি হাদিসটিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন—অন্যান্যদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা ওয়াজিব। কারণ সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত ও সুবিদিত; যেহেতু আল্লাহ স্বয়ং তাঁদেরকে ন্যায়পরায়ণ ঘোষণা করেছেন, তাঁদের পবিত্রতার সংবাদ দিয়েছেন এবং কুরআনের পাঠে তাঁদেরকে মনোনীত করেছেন।" অতঃপর তিনি তাঁদের ফযিলত সম্পর্কে কিছু আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করেন এবং এরপর বলেন: "এমনকি যদি তাঁদের সম্পর্কে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমাদের উল্লিখিত কোনো বর্ণনা না-ও আসত, তবুও তাঁদের হিজরত, জিহাদ, সাহায্য প্রদান, জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করা, পিতা ও সন্তানদের হত্যা করা, দ্বীনের নসিহত এবং ঈমান ও ইয়াকীনের দৃঢ়তার মতো বিষয়গুলো তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য এবং তাঁদের পবিত্রতার ওপর বিশ্বাস স্থাপনের জন্য যথেষ্ট হতো। আর তাঁরা অনন্তকাল ধরে তাঁদের পরে আগত সকল প্রশংসাকারী ও সত্যায়নকারীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।" এবং তিনি নিজের ইসনাদে আবু যুরআহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন আপনি কোনো ব্যক্তিকে দেখবেন..."
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ينتقص أحدا من أصحاب رسول الله فاعلم أنه زنديق وذلك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عندنا حق والقرآن حق وإنما أدى إلينا هذا القرآن والسنن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما يريدوا أن يجرحوا شهودنا ليبطلوا الكتاب والسنة والجرح بهم أولى وهم زنادقة".

কেউ যদি আল্লাহর রাসূলের সাহাবীদের মধ্য থেকে কাউকে অবজ্ঞা করে, তবে জেনে রেখো যে সে একজন জিন্দিক। এর কারণ হলো, আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সত্য এবং কুরআনও সত্য। আর এই কুরআন ও সুন্নাহসমূহ আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সাহাবীগণই পৌঁছে দিয়েছেন। তারা মূলত আমাদের সাক্ষীদেরই বিতর্কিত করতে চায় যাতে তারা কিতাব ও সুন্নাহকে বাতিল করে দিতে পারে। অথচ তারাই অভিযুক্ত হওয়ার অধিক যোগ্য এবং তারাই জিন্দিক।

(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ملخص عقيدة أهل السنة والجماعة في الصحابة رضي الله عنهم:

ومذهب أهل السنة والجماعة فيهم وسط بين طرفيها الإفراط والتفريط وسط بين المفرطين الغالين الذين يرفعون من يعظمون منهم إلى ما لا يليق إلا بالله أو برسله وبين المفرِّطين الجافين الذين ينقصونهم ويسبونهم فهم وسط بين الغلاة والجفاة يحبونهم جميعا وينزلونهم منازلهم التي يستحقونها بالعدل والإنصاف فلا يرفعونهم إلى ما لا يستحقون ولا يقصرون بهم عما يليق بهم فألسنتهم رطبة
সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদার সারসংক্ষেপ:

সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আদর্শ হলো অতিরঞ্জন ও অবহেলার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী এক মধ্যপন্থা। তারা সেই অতিরঞ্জনকারী চরমপন্থীদের—যারা তাঁদের মধ্য থেকে যাদের সম্মান করে তাদেরকে এমন সুউচ্চ স্তরে নিয়ে যায় যা কেবল আল্লাহ বা তাঁর রাসূলগণের জন্যই শোভনীয়—এবং সেই শিথিলতাকারী অবজ্ঞাকারীদের—যারা তাঁদের মর্যাদাহানি করে এবং তাঁদের গালিগালাজ করে—উভয় গোষ্ঠীর মাঝামাঝি অবস্থান করেন। সুতরাং তারা চরমপন্থী ও অবজ্ঞাকারীদের মাঝে এক মধ্যপন্থী দল; তারা তাঁদের সকলকেই ভালোবাসেন এবং ন্যায় ও ইনসাফের সাথে তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদায় তাঁদেরকে অধিষ্ঠিত করেন। তারা তাঁদেরকে এমন স্তরে উন্নীত করেন না যার তাঁরা যোগ্য নন, আবার তাঁদের জন্য যা শোভনীয় তা থেকেও তাঁদের কোনো অবমূল্যায়ন করেন না। ফলে তাঁদের জিহ্বা সর্বদা (তাঁদের প্রশংসায়) সিক্ত থাকে।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
بذكرهم بالجميل اللائق بهم وقلوبهم عامرة بحبهم وما صح فيما جرى بينهم من خلاف فهم فيه مجتهدون إما مصيبون فلهم أجر الاجتهاد والإصابة وإما مخطئون ولهم أجر الاجتهاد وخطؤهم مغفور، وليسوا معصومين بل هم بشر يصيبون ويخطئون ولكن ما أكثر صوابهم بالنسبة لصواب غيرهم وما أقل خطأهم إذا نسب إلى خطأ غيرهم ولهم من الله المغفرة والرضوان، وكتب أهل السنة مملوء ببيان هذه العقيدة الصافية النقية في حق هؤلاء الصفوة المختارة من البشر لصحبة خير البشر صلى الله عليه وسلم ورضي الله عنهم أجمعين
তাদের প্রতি উপযুক্ত সুন্দর প্রশংসার সাথে তাদের স্মরণ করা এবং তাদের অন্তরসমূহ তাদের ভালোবাসায় ভরপুর। তাদের মধ্যে যে সকল মতভেদ সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে, সে বিষয়ে তারা মুজতাহিদ ছিলেন; হয় তারা সঠিক ছিলেন যার ফলে তাদের জন্য ইজতিহাদ ও সঠিকতার সওয়াব রয়েছে, নতুবা তারা ভুল করেছিলেন যার ফলে তাদের জন্য ইজতিহাদের সওয়াব রয়েছে এবং তাদের ভুল ক্ষমাযোগ্য। তারা নিষ্পাপ ছিলেন না, বরং তারা মানুষ ছিলেন যারা সঠিক কাজও করেন আবার ভুলও করেন। তবে অন্যদের সঠিক কাজের তুলনায় তাদের সঠিক কাজের পরিমাণ কতই না বেশি এবং অন্যদের ভুলের তুলনায় তাদের ভুলের পরিমাণ কতই না নগণ্য! তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আহলুস সুন্নাহর কিতাবসমূহ সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—সাহচর্যের জন্য মানবজাতির মধ্য থেকে নির্বাচিত এই মনোনীত ব্যক্তিবর্গের ব্যাপারে এই স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ আকিদার বর্ণনায় পরিপূর্ণ; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌من أقوال أئمة السلف في الصحابة

1- قول الإمام الطحاوي: ومن ذلك قول الطحاوي في عقيدة أهل السنة: "ونحب أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا نفرط في حب أحد منهم ولا نتبرأ من أحد منهم ونبغض من يبغضهم وبغير الخير يذكرهم ولا نذكرهم إلا بخير وحبهم دين وإيمان وإحسان وبغضهم كفر ونفاق وطغيان"

2-قول إبن أبي زيد القيرواني: وقال ابن أبي زيد القيرواني المالكي في مقدمة رسالته المشهورة: "وأن خير القرون الذين رأوا رسول الله صلى الله عليه وسلم وأفضل الصحابة الخلفاء الراشدون المهديون أبو بكر ثم عمر ثم عثمان ثم علي رضي الله عنهم أجمعين وأن لا يذكر أحد من صحابة الرسول صلى الله عليه
সাহাবীদের সম্পর্কে সালাফে সালেহীন ইমামগণের কিছু বক্তব্য

১- ইমাম তহাবীর বক্তব্য: আহলুস সুন্নাহর আকিদা বিষয়ে ইমাম তহাবীর বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ভালোবাসি এবং তাঁদের কারো ভালোবাসায় আমরা সীমা লঙ্ঘন করি না, আবার তাঁদের কারো থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করি না। যারা তাঁদের ঘৃণা করে এবং তাঁদেরকে মন্দভাবে স্মরণ করে, আমরা তাদের ঘৃণা করি। আমরা তাঁদের কেবল কল্যাণের সাথেই স্মরণ করি। তাঁদের ভালোবাসা হলো দ্বীন, ঈমান ও ইহসান; আর তাঁদের প্রতি ঘৃণা হলো কুফরি, নিফাক ও সীমালঙ্ঘন।"

২-ইবনে আবী যায়েদ আল-কায়রাওয়ানীর বক্তব্য: মালেকী মাযহাবের ইমাম ইবনে আবী যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী তাঁর প্রসিদ্ধ রিসালার ভূমিকায় বলেছেন: "নিশ্চয়ই সর্বোত্তম যুগ হলো তারা যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলেন। আর সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীন—আবু বকর, তারপর ওমর, তারপর উসমান, অতঃপর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে কাউকেই যেন..."
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وسلم إلا بأحسن ذكر والإمساك عما شجر بينهم وأنهم أحق الناس أن يلتمس لهم أحسن المخارج ويظن بهم أحسن المذاهب"

3- قول الإمام أحمد: وقال الإمام أحمد بن حنبل في كتاب السنة: "ومن السنة ذكر محاسن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كلهم أجمعين والكف عن الذي جرى بينهم فمن سب أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أو واحدا منهم فهو مبتدع رافضي، حبهم سنة والدعاء لهم قربة والاقتداء بهم وسيلة والأخذ بآثارهم فضيلة".وقال: "لا يجوز لأحد أن يذكر شيئا من مساويهم ولا يطعن على أحد منهم فمن فعل ذلك فقد وجب على السلطان تأديبه وعقوبته ليس له أن يعفو عنه بل يعاقبه ثم يستتيبه فإن تاب قبل منه وإن لم يتب أعاد عليه العقوبة وخلَّده في الحبس حتى يتوب ويرجع"
এবং তাঁদেরকে কেবল সর্বোত্তম প্রশংসার সাথেই স্মরণ করা এবং তাঁদের মাঝে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করা। আর তাঁরাই মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি হকদার যে, তাঁদের জন্য সর্বোত্তম ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করা হবে এবং তাঁদের ব্যাপারে সর্বোত্তম পথের সুধারণা পোষণ করা হবে।

৩- ইমাম আহমাদ-এর উক্তি: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর কিতাবুস সুন্নাহ-তে বলেছেন: "সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সকল সাহাবীর গুণাবলি আলোচনা করা এবং তাঁদের মাঝে যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে নীরব থাকা। সুতরাং যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের অথবা তাঁদের মধ্য থেকে কোনো একজনকে গালি দেবে, সে একজন বিদআতি ও রাফেযি। তাঁদেরকে ভালোবাসা সুন্নাহ, তাঁদের জন্য দোয়া করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের কাজ, তাঁদের অনুসরণ করা মাধ্যম এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা ফযিলত ও শ্রেষ্ঠত্ব।" তিনি আরও বলেছেন: "কারো জন্য এটি বৈধ নয় যে সে তাঁদের কোনো দোষত্রুটি উল্লেখ করবে কিংবা তাঁদের কারো প্রতি কটাক্ষ করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি এরূপ করবে, শাসকের ওপর আবশ্যক হলো তাকে শাসন করা এবং শাস্তি প্রদান করা। শাসকের জন্য তাকে ক্ষমা করার কোনো সুযোগ নেই, বরং সে তাকে শাস্তি দেবে, অতঃপর তাকে তওবা করতে বলবে। যদি সে তওবা করে তবে তা গ্রহণ করা হবে, আর যদি তওবা না করে তবে পুনরায় তাকে শাস্তি প্রদান করবে এবং তওba করে সুপথে ফিরে না আসা পর্যন্ত তাকে দীর্ঘকাল কারারুদ্ধ করে রাখবে।"
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
4- قول الامام أبي عثمان الصابوني:

وقال الإمام أبو عثمان الصابوني في كتاب عقيدة السلف وأصحاب الحديث: "ويرون الكفّ عمّا شجر بين أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وتطهير الألسنة عن ذكر ما يتضمن عيبا أو نقصا فيهم ويرون الترحم على جميعهم والموالاة لكافَّتهم".

5- قول شيخ الاسلام ابن تيمية:

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية في كتابه العقيدة الواسطية: "ومن أصول أهل السنة والجماعة سلامة قلوبهم ألسنتهم لأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كما وصفهم الله في قوله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالأِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاً لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} وطاعة للنبي صلى الله عليه وسلم في قوله: "لا تسبوا أصحابي فو الذي نفسي بيده لو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهبا ما بلغ مُدَّ أحدهم ولا نصيفه".
৪- ইমাম আবু উসমান আস-সাবুনীর বক্তব্য:

ইমাম আবু উসমান আস-সাবুনী তাঁর 'আকিদাতুস সালাফ ওয়া আসহাবিল হাদিস' গ্রন্থে বলেছেন: "আর তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মাঝে সংঘটিত বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকা এবং তাঁদের কোনো দোষ বা ত্রুটি প্রকাশ পায় এমন আলোচনা থেকে জিহ্বাকে পবিত্র রাখা আবশ্যক মনে করেন। তাঁরা তাঁদের সকলের জন্য আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা এবং তাঁদের সকলের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য পোষণ করাকে কর্তব্য মনে করেন।"

৫- শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বক্তব্য:

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর 'আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: "আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্যতম মূলনীতি হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রতি নিজেদের অন্তর ও জিহ্বাকে কলুষমুক্ত রাখা; যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁদের গুণগান বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন: 'আর যারা তাঁদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা ঈমানের সাথে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছেন। আর মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত দয়ালু, পরম করুণাময়।' এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর আনুগত্য করা, যেখানে তিনি বলেছেন: 'তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবে তা তাঁদের একজনের এক মুদ (এক আঁজলা) কিংবা তার অর্ধেক পরিমাণ আমলের সমানও হবে না'।"
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
ويقبلون ما جاء به الكتاب والسنة والإجماع من فضائلهم ومراتبهم ويفضِّلون من أنفق من قبل الفتح وهو صلح الحديبية وقاتل على من أنفق من بعد وقاتل ويقدمون المهاجرين على الأنصار ويؤمنون بأن الله قال لأهل بدر وكانوا ثلاثمائة وبضعة عشر رجلا: "اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم" وبأنه لا يدخل النار رجل بايع تحت الشجرة كما أخبر به النبي صلى الله عليه وسلم بل لقد رضي الله عنهم ورضوا عنه وكانوا أكثر من ألف وأربعمائة ويشهدون بالجنَّة لمن شهد له رسول الله صلى الله عليه وسلم كالعشرة وثابت بن قيس بن شماس وغيرهم ويقرون بما تواتر به النقل عن أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه وغيره من أن خير هذه الأمة بعد نبيها أبو بكر ثم عمر ثم يثلثون بعثمان ويربعون بعلي رضي الله عنهم كما دلت عليه الآثار وكما أجمع على تقديم عثمان في البيعة مع أن بعض أهل السنة كانوا قد اختلفوا في عثمان وعلي رضي الله عنهما بعد اتفاقهم على تقديم

এবং তাঁরা কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা অনুযায়ী সাহাবীগণের মর্যাদা ও স্তরের ব্যাপারে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা গ্রহণ করেন। আর তাঁরা তাঁদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেন যারা বিজয়ের (যা হচ্ছে হুদায়বিয়ার সন্ধি) পূর্বে আল্লাহর পথে ব্যয় করেছেন ও যুদ্ধ করেছেন তাঁদের ওপর যারা বিজয়ের পরে ব্যয় করেছেন ও যুদ্ধ করেছেন। তাঁরা মুহাজিরগণকে আনসারগণের ওপর অগ্রাধিকার প্রদান করেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে বলেছেন—যাঁদের সংখ্যা ছিল তিনশ দশের কিছু বেশি—"তোমরা যা ইচ্ছা করো, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।" তাঁরা আরও বিশ্বাস করেন যে, বৃক্ষের নিচে যারা বায়আত গ্রহণ করেছিলেন তাঁদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ করবেন না, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন; বরং আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, আর তাঁদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দশ’রও অধিক। যাঁদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁরাও তাঁদের জান্নাতী বলে সাক্ষ্য দেন; যেমন—দশজন সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী, সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শামমাস এবং অন্যান্যরা। আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও অন্যান্যদের থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত এই বিষয়ের স্বীকৃতি তাঁরা প্রদান করেন যে, নবীর পরে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, তারপর উমর। অতঃপর তাঁরা তৃতীয় স্তরে উসমানকে এবং চতুর্থ স্তরে আলীকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) গণ্য করেন, যেমনটি বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে এবং বায়আতের ক্ষেত্রে উসমানকে অগ্রবর্তী করার বিষয়ে যেমন ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; যদিও আহলুস সুন্নাহর কিছু লোক উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদাক্রম নিয়ে মতভেদ করেছিলেন, তবে অগ্রবর্তী করার বিষয়ে তাঁদের ঐকমত্যের পর...

(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
أبي بكر وعمر - أيهما أفضل فقدَّم قوم عثمان وسكتوا وربعوا بعلي وقدَّم قوم عليّاً وقوم توقفوا لكن استقر أمر أهل السنة على تقديم عثمان ثم علي وإن كانت هذه المسألة - مسألة عثمان وعلي - ليست من الأصول التي يضلَّلُ المخالف فيها عند جمهور أهل السنة لكن التي يضلل فيها مسألة الخلافة وذلك أنهم يؤمنون أن الخليفة بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم أبو بكر ثم عمر ثم عثمان ثم علي ومن طعن في خلافة أحد من هؤلاء فهو أضل من حمار أهله". ثم ذكر محبتهم لأهل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وتوليهم لهم وحفظهم فيهم وصية رسول الله صلى الله عليه وتولِّيهم أزواج رسول الله صلى الله عليه وسلم أمهات المؤمنين وإيمانهم بأنهنَّ أزواجه في الآخرة ثم قال: "ويتبرءون من طريقة الروافض الذين يبغضون الصحابة ويسبونهم وطريقة النواصب الذين
আবু বকর এবং উমর—(তাঁদের পর) কে শ্রেষ্ঠ? (এ বিষয়ে) একদল লোক উসমানকে অগ্রগণ্য করেছেন এবং নীরব থেকেছেন ও আলীকে চতুর্থ হিসেবে গণ্য করেছেন। আবার একদল আলীকে অগ্রগণ্য করেছেন এবং কিছু লোক এ বিষয়ে বিরত থেকেছেন। তবে আহলুস সুন্নাহর অবস্থান উসমান এবং অতঃপর আলীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর স্থির হয়েছে। যদিও এই বিষয়টি—অর্থাৎ উসমান এবং আলীর শ্রেষ্ঠত্বের মাসআলা—এমন কোনো মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয় যার কারণে আহলুস সুন্নাহর অধিকাংশের নিকট এর বিরোধীকে পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করা হবে; তবে যে বিষয়ে পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করা হবে তা হলো খিলাফতের বিষয়টি। আর তা এই যে, তাঁরা বিশ্বাস করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর খলিফা হলেন আবু বকর, তারপর উমর, তারপর উসমান এবং তারপর আলী। যে ব্যক্তি এঁদের মধ্য থেকে কারো খিলাফতের ব্যাপারে কটাক্ষ করবে, সে তার পরিবারের গাধার চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট।" অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আহলে বাইতের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা, তাঁদের প্রতি আনুগত্য ও বন্ধুত্ব পোষণ এবং তাঁদের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অছিয়ত রক্ষা করার কথা উল্লেখ করেছেন। সেই সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পত্নীগণ তথা মুমিন জননীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য পোষণ এবং তাঁরা যে পরকালেও তাঁরই স্ত্রী থাকবেন—এই বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: "আর তাঁরা রাফেজীদের পথ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখেন যারা সাহাবীগণকে ঘৃণা করে ও তাঁদের গালিগালাজ করে, এবং নাসিবীদের পথ থেকেও যারা...
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
يؤذون أهل البيت بقول أو عمل، ويمسكون عما جرى بين الصحابة ويقولون أن هذه الآثار المروية في مساويهم منها ما هو كاذب ومنها ما قد زيد فيه ونقص وغيّر عن وجهه الصحيح منه هم فيه معذورون إما مجتهدون مصيبون وإما مجتهدون مخطئون وهم مع ذلك لا يعتقدون أن كل واحد من الصحابة معصوم عن كبائر الإثم وصغائره بل يجوز عليهم الذنوب في الجملة ولهم من السوابق ومن الفضائل ما يوجب مغفرة ما يصدر منهم إن صدر حتى أنه يغفر لهم من السيئات ما لا يغفر لمن بعدهم لأن لهم من الحسنات التي تمحو السيئات ما ليس لمن بعدهم وقد ثبت بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم أنهم خير القرون وإن المد من أحدهم إذا تصدق به كان أفضل من جبل أحد ذهبا ممن بعدهم ثم إذا كان قد صدر من أحدهم ذنب فيكون قد تاب منه أو أتى بحسنات تمحوه أو غفر له بفضل سابقته أو بشفاعة محمد صلى الله عليه وسلم الذي هم أحق الناس بشفاعته أو ابتلي ببلاء في

তারা কথা বা কাজের মাধ্যমে আহলে বাইতকে কষ্ট দেয় না। তারা সাহাবীগণের মধ্যে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে মৌনতা অবলম্বন করে এবং বলে যে, তাঁদের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে বর্ণিত এসব বর্ণনার কিছু মিথ্যা, কিছুতে কম-বেশি করা হয়েছে এবং কিছু তার সঠিক রূপ থেকে পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। আর এর মধ্যে যা সঠিক, সে ক্ষেত্রে তাঁরা অপারগ; তাঁরা হয় এমন মুজতাহিদ যাঁরা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, অথবা এমন মুজতাহিদ যাঁরা ভুল করেছেন। তা সত্ত্বেও তাঁরা বিশ্বাস করে না যে, সাহাবীগণের প্রত্যেক ব্যক্তিই কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে নিষ্পাপ, বরং সাধারণভাবে তাঁদের দ্বারা গুনাহ সংঘটিত হওয়া সম্ভব। তবে তাঁদের এমন অগ্রগামিতা ও মর্যাদা রয়েছে যা তাঁদের থেকে কোনো গুনাহ প্রকাশ পেলে তা ক্ষমা করে দেওয়াকে অনিবার্য করে দেয়। এমনকি তাঁদের এমন সব মন্দ কাজ ক্ষমা করে দেওয়া হয় যা পরবর্তী লোকদের জন্য ক্ষমা করা হয় না; কারণ তাঁদের এমন সব নেক আমল রয়েছে যা মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়, যা পরবর্তীদের নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে, তাঁরা শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। তাঁদের কেউ যদি এক মুদ্দ (এক আজলা পরিমাণ) সদকা করেন, তবে তা পরবর্তীদের ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ দান করার চেয়েও উত্তম। অতঃপর যদি তাঁদের কারো থেকে কোনো গুনাহ প্রকাশ পেয়ে থাকে, তবে তিনি হয়তো তা থেকে তাওবা করেছেন, অথবা এমন কোনো নেক আমল করেছেন যা তা মিটিয়ে দিয়েছে, অথবা তাঁর ইসলামের প্রাথমিক অগ্রগামিতার মর্যাদাবলে তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে, অথবা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমা করা হয়েছে—যাঁর সুপারিশের সবচেয়ে বেশি হকদার হলেন তাঁরাই, অথবা তাঁকে এমন কোনো বিপদে ফেলে পরীক্ষা করা হয়েছে যার মাধ্যমে...

(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الدنيا كفَّر به عنه فإذا كان هذا في الذنوب المحققة فكيف الأمور التي كانوا فيها مجتهدين إن أصابوا فلهم أجران وإن أخطئوا فلهم أجر واحد والخطأ مغفور ثم إن القدر الذي ينكر من فعل بعضهم قليل نزر مغفور في جنب فضائل القوم ومحاسنهم من الإيمان بالله ورسوله والجهاد في سبيله والهجرة والنصرة والعلم النافع والعمل الصالح ومن نظر في سيرة القوم بعلم وبصيرة وما منَّ الله عليهم به من الفضائل علم يقينا أنهم خير الخلق بعد الأنبياء لا كان ولا يكون مثلهم وأنهم الصفوة من قرون هذه الأمة التي هي خير الأمم وأكرمها على الله".

هذه خمسة نماذج من أقوال السلف الصالح فيما يجب اعتقاده في حق خيار الخلق بعد الأنبياء والمرسلين صلوات الله عليهم وسلامه ورضي الله عن الصحابة أجمعين.
দুনিয়ায় এর মাধ্যমে তার পাপ মোচন করা হয়। যদি নিশ্চিত পাপের ক্ষেত্রে এই অবস্থা হয়, তবে যে সকল বিষয়ে তারা ইজতিহাদ করেছেন সেগুলোর অবস্থা কী হতে পারে? তারা যদি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকেন তবে তাদের জন্য রয়েছে দুটি পুরস্কার, আর যদি ভুল করে থাকেন তবে তাদের জন্য রয়েছে একটি পুরস্কার এবং সেই ভুল ক্ষমাযোগ্য। তদুপরি, তাদের কারো কারো কাজ থেকে যে পরিমাণ বিষয় অপছন্দনীয় মনে করা হয়, তা এই সম্প্রদায়ের সুমহান মর্যাদা ও গুণাবলির তুলনায় অতি নগণ্য ও ক্ষমাযোগ্য; যেমন আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান, তাঁর পথে জিহাদ, হিজরত, সাহায্য প্রদান, উপকারী জ্ঞান এবং নেক আমল। আর যে ব্যক্তি জ্ঞান ও দূরদর্শিতার সাথে এই সম্প্রদায়ের জীবনী এবং আল্লাহ তাদের ওপর যে সকল ফযিলত দান করেছেন তা পর্যবেক্ষণ করবে, সে নিশ্চিতভাবে জানতে পারবে যে, নবীদের পরে তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব। তাদের মতো কেউ ছিল না এবং কখনো হবেও না। তারা এই উম্মতের সকল প্রজন্মের মধ্যে মনোনীত ও শ্রেষ্ঠ, আর এই উম্মত হলো সকল জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত।

নবী ও রাসূলগণের—তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—পরে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের বিষয়ে যা বিশ্বাস করা ওয়াজিব, সে সম্পর্কে সালাফে সালেহীনের উক্তি থেকে এখানে পাঁচটি নমুনা তুলে ধরা হলো। আল্লাহ সকল সাহাবীর ওপর সন্তুষ্ট হন।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌القدح في الصحابة قدح في الكتاب والسنة:

ومما ينبغي التفطن له أن القدح في هؤلاء الصفوة المختارة رضي الله عنهم قدح في الدين لأنه لم يصل إلى من بعدهم إلا بواسطتهم وتقدم في كلام أبي زرعة قوله: "وإنما أدَّى إلينا هذا القرآن والسنن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وإنما يريدون أن يجرحوا شهودنا ليبطلوا الكتاب والسنة والجرح بهم أولى وهم زنادقة" يعني الذين ينتقَّصون أحدا من الصحابة.
সাহাবীদের সমালোচনা করা কিতাব ও সুন্নাহরই সমালোচনা:

এবং যে বিষয়টি সম্পর্কে সজাগ থাকা আবশ্যক তা হলো, এই মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সমালোচনা করা মূলত দ্বীনেরই সমালোচনা; কেননা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁদের মাধ্যম ছাড়া দ্বীন পৌঁছেনি। আবু যুরআর বক্তব্যে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আমাদের নিকট এই কুরআন ও সুন্নাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণই পৌঁছে দিয়েছেন। তারা (সমালোচনাকারীরা) মূলত আমাদের সাক্ষীদেরই ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করতে চায় যাতে তারা কিতাব ও সুন্নাহকে বাতিল করে দিতে পারে; অথচ তারাই ত্রুটিযুক্ত হওয়ার অধিক যোগ্য এবং তারা যিনদীক।" অর্থাৎ যারা সাহাবীদের মধ্য হতে কারো অবমাননা করে।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌القدح في الصحابة لا يضرهم:

وأن القدح فيهم لا يضرهم شيئا بل يفيدهم كما في حديث المفلس ولا يضر القادح إلا
সাহাবীদের নিন্দা করা তাঁদের কোনো ক্ষতি করে না:

এবং নিশ্চয়ই তাঁদের নিন্দা করা তাঁদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করে না, বরং এটি তাঁদের জন্য কল্যাণকর হয় যেমনটি ‘মুফলিস’ (নিঃস্ব ব্যক্তি) সংক্রান্ত হাদীসে এসেছে; আর এটি নিন্দাকারীকে ছাড়া আর কারোরই ক্ষতি করে না...
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতু আহলিস সুন্নাতি ফিস সাহাবা লিআবদিল মুহসিন আল-আব্বাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
نفسه فمن وجد في قلبه محبة لهم وسلامة من الغل لهم وصان لسانه عن التعرض لهم إلا بخير فليحمد الله على هذه النعمة وليسأل الله الثبات على هذا الهدى ومن كان في قلبه غلٌّ لهم وأطلق لسانه بذكرهم بما لا يليق بهم فليتق الله في نفسه وليقلع عن هذه الجرائم وليتب إلى الله ما دام باب التوبة مفتوحا أمامه قبل أن يندم حيث لا ينفعه الندم. ربنا لا تزغ قلوبنا بعد إذ هديتنا وهب لنا من لدنك رحمة إنك أنت الوهاب ربنا اغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان ولا تجعل في قلوبنا غلا للذين آمنوا ربنا إنك رؤوف رحيم.

নিজের নফস সম্পর্কে। অতএব, যে ব্যক্তি তার অন্তরে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও বিদ্বেষমুক্ততা খুঁজে পায় এবং কল্যাণের সাথে স্মরণ করা ছাড়া তাদের সমালোচনা থেকে নিজের জবানকে হিফাজত করে, তার উচিত এই নিআমতের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা এবং এই হিদায়াতের ওপর অটল থাকার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। আর যার অন্তরে তাদের প্রতি বিদ্বেষ রয়েছে এবং যে ব্যক্তি তাদের জন্য অশোভন বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে নিজের জবানকে অবাধ ছেড়ে দিয়েছে, সে যেন নিজের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং এই সমস্ত অপরাধ থেকে বিরত হয়। আর তার উচিত আল্লাহর কাছে তওবা করা যতক্ষণ পর্যন্ত তার সামনে তওবার দরজা উন্মুক্ত রয়েছে, সেই সময় আসার আগে যখন সে অনুতপ্ত হবে কিন্তু তখন সেই অনুতাপ তার কোনো উপকারে আসবে না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের হিদায়াত দান করার পর আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যচ্যুত করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা। হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেইসব ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছেন এবং যারা ঈমান এনেছেন তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত মমতাশীল ও পরম দয়ালু।