(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: -)
الجذور التاريخية لحقيقة الغلو والتطرف والإرهاب والعنف القسم: كتب عامة
الكتاب: الجذور التاريخية لحقيقة الغلو والتطرف والإرهاب والعنف
المؤلف: علي بن عبد العزيز بن علي الشبل
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 49
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 66
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
চরমপন্থা, উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার প্রকৃত স্বরূপের ঐতিহাসিক মূল ভিত্তি বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
বই: চরমপন্থা, উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার প্রকৃত স্বরূপের ঐতিহাসিক মূল ভিত্তি
লেখক: আলী বিন আব্দুল আজিজ বিন আলী আশ-শি্বল
প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৪৯
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ১)
الجذور التاريخية لحقيقة الغلو والتطرف والإرهاب والعنف إعداد
د. علي بن عبد العزيز بن علي الشبل
جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا ، من يهده الله فلا مضل له ، ومن يضلل فلا هادي له ، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله ، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليما أما بعد:
فإن الله عز وجل تعبدنا بهذا الدين: الإسلام ولم يرض لنا عنه بديلا: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة:3] بل لا يقبل - سبحانه - من الناس دينا يدينون به غيره: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} [آل عمران:19] وقال: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [آل عمران:85] .
চরমপন্থা (الغلو), উগ্রবাদ (التطرف), সন্ত্রাসবাদ (الإرهاب) ও সহিংসতার (العنف) স্বরূপের ঐতিহাসিক মূল - উপস্থাপনায়
ড. আলী বিন আব্দুল আজিজ বিন আলী আশ-শিবল
ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকা সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও অবারিত শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাদের এই দ্বীন তথা ইসলামের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি এর পরিবর্তে অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হননি: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} [সূরা আল-মায়েদা: ৩]। বরং মহান আল্লাহ মানুষের পক্ষ থেকে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করবেন না: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মনোনীত দ্বীন হলো একমাত্র ইসলাম} [সূরা আল ইমরান: ১৯] এবং তিনি বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন অনুসন্ধান করবে, তার থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [সূরা আল ইমরান: ৮৫]।
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ২)
وهذا الإسلام دين وسط بين الأديان ، والمسلمون حقا هم الوسط بين الأمم ، وكذا أهل السنة والجماعة: أهل الاستقامة هم الوسط بين فرق الإسلام ، قال سبحانه في آية البقرة: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة:143] ، فالأمة الوسط الذين هم على العدل والقسط وعلى منهاج الاستقامة والسنة.
وفي هذا البحث أتحدث عن الجذور التاريخية لحقيقة الغلو والتطرف والإرهاب والعنف ، والذي اشتمل على مقدمة وتمهيد وثلاثة فصول.
ففي المقدمة خطبة البحث ، وخطته ، وطرف من أهميته في تميِّز هذه الأمة وخصوصية دينها الإسلام بالعدل والوسطية من خلال منهاج السنة والاستقامة التي أبانها لها رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وفي التمهيد تحديد لحقيقة مصطلحات البحث:
1- أولا في معنى الغلو وحقيقته ، وما جاء من النصوص الشريفة في الوحيين تحذيرا منه.
2 - ثانيا في معنى التطرف وحقيقته.
3 - ثالثا في معنى الإرهاب وحقيقته ، وتحديد مصطلح الإرهاب المعاصر.
4 - رابعا في معنى العنف وأقسامه.
5 - خامسا في العلاقة بين الغلو والتطرف والإفراط ونحوهما.
আর এই ইসলাম হলো সকল ধর্মের মাঝে এক মধ্যপন্থী ধর্ম, এবং প্রকৃত মুসলিমরা হলো সকল উম্মতের মাঝে মধ্যপন্থী। তদ্রূপ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত: তথা সত্যনিষ্ঠার অনুসারীরা হলো ইসলামের বিভিন্ন ফিরকার মাঝে মধ্যপন্থী। মহান আল্লাহ সূরা আল-বাকারার আয়াতে ইরশাদ করেছেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গঠন করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হতে পারেন} [আল-বাকারাহ: ১৪৩]। সুতরাং মধ্যপন্থী উম্মত তারাই যারা ন্যায়বিচার ও ইনসাফ এবং সত্যনিষ্ঠা ও সুন্নাহর মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
এই গবেষণায় আমি চরমপন্থা, উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার প্রকৃত রূপের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করেছি, যা একটি ভূমিকা, একটি প্রারম্ভিকা এবং তিনটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত।
ভূমিকায় রয়েছে গবেষণার প্রস্তাবনা, এর কর্মপরিকল্পনা এবং এই উম্মতের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং সুন্নাহর মানহাজ ও সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামের ন্যায়পরায়ণতা ও মধ্যপন্থার বিশেষত্ব নির্ধারণে এর গুরুত্বের একটি দিক, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য স্পষ্ট করেছেন।
প্রারম্ভিকায় গবেষণার পারিভাষিক শব্দাবলির স্বরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে:
1- প্রথমত: চরমপন্থার অর্থ ও বাস্তবতা এবং এ সম্পর্কে সতর্ক করতে ওহির পবিত্র পাঠ্যপ্রমাণসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে।
2 - দ্বিতীয়ত: উগ্রবাদের অর্থ ও বাস্তবতা।
3 - তৃতীয়ত: সন্ত্রাসবাদের অর্থ ও বাস্তবতা এবং সমকালীন সন্ত্রাসবাদ পরিভাষার স্বরূপ নির্ধারণ।
4 - চতুর্থত: সহিংসতার অর্থ ও এর প্রকারভেদ।
5 - পঞ্চমত: চরমপন্থা, উগ্রবাদ, অতিরঞ্জন এবং অনুরূপ বিষয়গুলোর মধ্যবর্তী পারস্পরিক সম্পর্ক।
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ৩)
6 - سادسا في الفرق بين الاستقامة والغلو والتطرف والإرهاب.
ثم جاء الفصل الأول: في تاريخ التطرف والغلو الديني ، واشتمل على:
1 - أولا: الغلو في قوم نوح عليه السلام وآثاره.
2 - ثانيا: الغلو والتطرف لدى اليونان وآثاره.
3 - ثالثا: الغلو والتطرف لدى أهل الكتاب وآثاره.
وذلك من خلال التطرف والغلو الديني المتعلق بالعقيدة والفكر والشريعة.
ثم جاء الفصل الثاني: في نشأة التطرف والغلو في الدين عند المسلمين، تأثرا بمن قبلهم من الأمم والديانات ، واشتمل على:
1- أولا: غلو الخوارج وأهم مظاهره ، مع بيان أثر غلو الرافضة، وأثر اليهود فيه.
2 - ثانيا: علاقة نشأة الغلو والتطرف لدى المسلمين بالعقائد القديمة.
3 - ثالثا: تطرف المعتزلة وغلوهم ، وآثاره.
ثم جاء الفصل الثالث: في التطرف والغلو في باب الأسماء والأحكام وآثاره. مشتملا على خمسة مباحث:
1- أولا: ما المراد بالأسماء والأحكام وأثرهما.
2 - ثانيا: الفرق الغالية في هذا الباب وأقوالها.
3 - ثالثا: مناقشة أقوال الغلاة.
4 - رابعا: الرد على الوعيدية من الخوارج والمعتزلة في استدلالهم بآية النساء.
6 - ষষ্ঠত: অবিচলতা (استقامة), বাড়াবাড়ি (غلو), চরমপন্থা (تطرف) এবং সন্ত্রাসবাদের (إرهاب) মধ্যে পার্থক্য।
এরপর প্রথম অধ্যায়: ধর্মীয় চরমপন্থা (تطرف) ও বাড়াবাড়ির (غلو) ইতিহাস প্রসঙ্গে, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
1 - প্রথমত: নূহ আলাইহিস সালামের কওমের মধ্যে বাড়াবাড়ি (غلو) এবং এর প্রভাব।
2 - দ্বিতীয়ত: গ্রীকদের মধ্যে বাড়াবাড়ি (غلو) ও চরমপন্থা (تطرف) এবং এর প্রভাব।
3 - তৃতীয়ত: আহলে কিতাবদের মধ্যে বাড়াবাড়ি (غلو) ও চরমপন্থা (تطرف) এবং এর প্রভাব।
এটি আকিদা (عقيدة), চিন্তা ও শরিয়ত (شريعة) সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় চরমপন্থা (تطرف) ও বাড়াবাড়ির (غلو) মাধ্যমে।
এরপর দ্বিতীয় অধ্যায়: পূর্ববর্তী জাতি ও ধর্মগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মুসলিমদের মধ্যে ধর্মে চরমপন্থা (تطرف) ও বাড়াবাড়ির (غلو) উদ্ভব প্রসঙ্গে, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
1- প্রথমত: খারেজিদের (الخوارج) বাড়াবাড়ি (غلو) ও তার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ, সাথে রাফেজিদের (الرافضة) বাড়াবাড়ি (غلو) এবং এতে ইহুদিদের প্রভাবের বর্ণনা।
2 - দ্বিতীয়ত: মুসলিমদের মধ্যে বাড়াবাড়ি (غلو) ও চরমপন্থা (تطرف) উদ্ভবের সাথে প্রাচীন আকিদা (العقائد) বা বিশ্বাসের সম্পর্ক।
3 - তৃতীয়ত: মুতাজিলাদের (المعتزلة) চরমপন্থা (تطرف) ও বাড়াবাড়ি (غلو) এবং এর প্রভাব।
এরপর তৃতীয় অধ্যায়: 'আসমা ওয়া আহকাম' (নাম ও বিধান) অধ্যায়ে চরমপন্থা (تطرف) ও বাড়াবাড়ি (غلو) এবং এর প্রভাব প্রসঙ্গে। যা পাঁচটি পরিচ্ছেদ (مباحث) সম্বলিত:
1- প্রথমত: 'আসমা ওয়া আহকাম' (নাম ও বিধান) দ্বারা কী উদ্দেশ্য এবং এ দুটির প্রভাব।
2 - দ্বিতীয়ত: এই অধ্যায়ে বাড়াবাড়ি করা (الغالية) দলসমূহ এবং তাদের মতবাদ।
3 - তৃতীয়ত: চরমপন্থীদের (الغلاة) বক্তব্য নিয়ে আলোচনা।
4 - চতুর্থত: সূরা নিসার আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে খারেজি ও মুতাজিলাদের মধ্য হতে ওয়াঈদিয়্যাহ (الوعيدية) পন্থীদের মত খণ্ডন।
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ৪)
5 - خامسا: أثر الغلو في الأسماء والأحكام لدى الوعيدية.
هذه مضمونات هذا البحث وفصوله ومباحثه ، فإن وُفقت للصواب والعدل من القول ، فهو من توفيق ربي وهدايته ، وإن كان غير ذلك فمن نفسي والشيطان ، وأعوذ بالله من ذلك وأستغفر ربي وأتوب إليه. والله المسؤول أن يجعل هذا العمل خالصا لوجه ، ومقربا للزلفى لديه ، وهو - سبحانه - الموفق والهادي إلى سواء السبيل ، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
5 - পঞ্চম: ওয়াঈদিয়াদের নিকট আসমা ও আহকামের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির (الغلو) প্রভাব।
এগুলোই এই গবেষণার বিষয়বস্তু এবং এর বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদসমূহ। যদি আমি সঠিক ও ন্যায়সংগত কথা বলার তাওফিক লাভ করি, তবে তা আমার রবের পক্ষ থেকে প্রদত্ত তাওফিক ও হেদায়েত। আর যদি এর বিপরীত কিছু হয়, তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আমি এর থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমার রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই কাছে তওবা করছি। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন এই আমলকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত করেন এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম বানান। তিনিই—তিনি পবিত্র—তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الفصل الأول معنى الغلو وحقيقته وبيان بعض المصطلحات المرادفة معنى الغلو
بالرجوع إلى المصادر والمعجمات اللغوية وظهر أن الغلو هو: مجاوزة الحد وتعديه.
قال الجوهري في الصحاح:
((غلا في الأمر يغلو غلوا ، أي جاوز فيه الحد)) .
وقال الفيروزآبادري في القاموس:
((غلا غلاء فهو غالٍ وغَلِيّ ضد الرخص. . . وغلا في الأمر غلوا جاوز حدّه)) .
ووافقه الزبيدي في تاج العروس.
وقال ابن منظور في اللسان:
((. . . . أصل الغلاء: الارتفاع ومجاوزة القدر في كل شيء. . . . . يقال: غاليت صداق المرأة أي أغليته. ومنه قول عمر رضي الله عنه: ((ألا لا تغالوا في صدقات النساء)) وفي رواية: ((لا تغالوا في صداق النساء)) . أي لا تبالغوا في كثرة الصداق.
وغلا في الدين والأمر يغلو غلوا: جاوز حدّه.
قال: قال بعضهم: غلوت في الأمر غُلوا وغلانية وغلانيا إذا جاوزت في الحد وأفرطت فيه ، ويُقال للشيء إذا ارتفع: قد غلا.
قال ذو الرمة:
فما زال يغلو حبُّ ميَّةَ عندنا
… ويزداد حتى لم نجد ما نزيدها
)) .
وقال الفيومي في المصباح المنير:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সীমালঙ্ঘন (غلو) এর অর্থ, এর প্রকৃত রূপ এবং এর সমার্থক কিছু পরিভাষার বর্ণনা সিমানালঙ্ঘন (غلو) এর অর্থ
ভাষাতাত্ত্বিক উৎস এবং অভিধানসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সীমালঙ্ঘন (غلو) হলো: সীমা অতিক্রম করা এবং তা অতিবাহিত করা।
আল-জাওহারি আস-সিহাহ গ্রন্থে বলেন:
((কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা (غلا في الأمر يغلو غلوا), অর্থাৎ তাতে সীমা অতিক্রম করা।))
আল-ফাইরুজাবাদি আল-কামুস গ্রন্থে বলেন:
((মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া (غلا غلاء), সুতরাং তা উচ্চমূল্য সম্পন্ন (غالٍ) এবং দামি (غَلِيّ), যা সস্তা হওয়ার বিপরীত... আর কোনো বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করা (غلا في الأمر غلوا) বলতে তার সীমা অতিক্রম করা বোঝায়।))
আয-যাবিদি তাজুল আরুস গ্রন্থে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
ইবনে মানযুর আল-লিসান গ্রন্থে বলেন:
((...মূল্যবৃদ্ধির (الغلاء) মূল উৎস হলো: উচ্চতা এবং প্রতিটি জিনিসের পরিমাপ বা মাত্রা অতিক্রম করা... বলা হয়ে থাকে: 'আমি নারীর মোহরানা উচ্চ করেছি' (غاليت صداق المرأة), অর্থাৎ আমি তা বৃদ্ধি করেছি। এ থেকেই ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তিটি এসেছে: 'সাবধান! তোমরা নারীদের মোহরানার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন (لا تغالوا) করো না'। অন্য একটি বর্ণনা (رواية) -তে এসেছে: 'তোমরা নারীদের মোহরানায় অতিরঞ্জন করো না'। অর্থাৎ মোহরানার আধিক্যের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করো না।
আর দ্বীন এবং যেকোনো বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করা (غلا في الدين والأمر يغلو غلوا) হলো: তার সীমা অতিক্রম করা।
তিনি বলেন: কেউ কেউ বলেছেন, কোনো বিষয়ে অতিরঞ্জন করা (غلوت في الأمر غُلوا وغلانية وغلانيا) অর্থ যখন তুমি সীমা লঙ্ঘন করো এবং তাতে চরম বাড়াবাড়ি করো। আর কোনো জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেলে বলা হয়: 'তা চড়া হয়েছে' (قد غلا)।
যু-রুম্মাহ বলেন:
আমাদের নিকট মাইয়ার প্রতি ভালোবাসা সীমালঙ্ঘন করতেই (يغلو) থাকল
… এবং তা বৃদ্ধি পেতে পেতে এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে, আমরা তাকে আর বেশি দেওয়ার মতো কিছু খুঁজে পেলাম না।
))
আল-ফাইয়ুমি আল-মিসবাহুল মুনির গ্রন্থে বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
((. . . . وغلا في الدين غُلوا من باب قعد وتصلب وتشدد حتى جاوز الحد وفي التنزيل: {لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ} (1) وغالى في أمره مغالاة بالغ)) (2) .
وقال ابن فارس في المعجم:
((غلوى: الغين واللام المعتل أصل صحيح في الأمر يدل على ارتفاعٍ ومجاوزة قدرٍ، يُقال: غلا السعر يغلو غلا وذلك ارتفاعه ، وغلا الرجل في الأمر غُلوا إذا جاوز حدّه)) اهـ. وكذا نحوه في المجمل (3) .
ومما سبق يتبين أن الغلو في سائر استعمالاته يدل على " الارتفاع والزيادة ومجاوزة الأصل الطبيعي أو الحد المعتاد ".
ومنه قوله صلى الله عليه وسلم في حديث أبي ذر: ((. . . . أي الرقاب أفضل قال: «أغلاها ثمنا وأنفعها عند أهلها» (4) متفق عليه.
وحديث النعمان بن بشير رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أهون أهل النار عذابا يوم القيامة رجل على أخمص قدميه جمرتان يغلي منهما دماغه كما يغلي المرجل» (5) متفق عليه.
فغلا الثمن: إذا ارتفع وزاد سعره.
وغلت القدر: إذا زادت حرارتها وارتفعت.
وغلا في مشيه: إذا أسرع وزاد فيه.
وتغالى اللحم: ارتفع وذهب ، ومنه قول لبيد بن أبي ربيعة:
--------------------------------------------
((. . . . এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে সে চরম বাড়াবাড়ি (غلو) করেছে - এটি 'কা'আদা' (قعد) ক্রিয়া-নমুনার অনুসারী - এবং সে কঠোরতা ও আড়ষ্টতা অবলম্বন করেছে যতক্ষণ না সীমা অতিক্রম করেছে। মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {তোমরা তোমাদের দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি করো না} (১)। আর সে তার বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত অতিরঞ্জন (مغالاة) করেছে)) (২) ।
এবং ইবনে ফারিস তাঁর আল-মু'জাম গ্রন্থে বলেছেন:
((গিলওয়া (غلوى): গাইন এবং লাম বর্ণদ্বয় সংবলিত এই মূল শব্দটি একটি সঠিক (صحيح) ভিত্তি, যা কোনো বিষয়ে উচ্চতা এবং পরিমাণের সীমা অতিক্রম করাকে নির্দেশ করে। যেমন বলা হয়: দ্রব্যমূল্য চড়ে গেছে (غلا السعر), অর্থাৎ যখন তার মূল্য বৃদ্ধি পায়। আর কোনো ব্যক্তি তার কাজে বাড়াবাড়ি (غلو) করেছে বলা হয় তখন, যখন সে তার সীমা অতিক্রম করে)) সমাপ্ত। এবং আল-মুজমাল (৩) গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, বাড়াবাড়ি (غلو) এর সকল ব্যবহারিক অর্থ "উচ্চতা, আধিক্য এবং স্বাভাবিক অবস্থা বা প্রচলিত সীমা অতিক্রম করা" এর ওপর প্রমাণ পেশ করে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী যা আবু যার (রা.) এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: ((. . . . কোন দাসটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: 'যার মূল্য সর্বাধিক এবং যা তার মালিকের নিকট অধিক উপকারী')) (৪)। বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত্যে বর্ণিত (متفق عليه)।
এবং নুমান ইবনে বাশির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আযাব হবে সেই ব্যক্তির, যার পায়ের তালুর নিচে দুটি আগুনের অঙ্গার রাখা হবে, যার কারণে তার মস্তিষ্ক ফুটতে থাকবে যেভাবে ডেকচি ফুটতে থাকে» (৫)। বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত্যে বর্ণিত (متفق عليه)।
সুতরাং মূল্যের ঊর্ধ্বগতি: যখন তার দাম বৃদ্ধি পায় এবং চড়ে যায়।
ডেকচির টগবগ করা: যখন তার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং তীব্র হয়।
দ্রুত চলা: যখন সে দ্রুত হাঁটে এবং তার গতি বৃদ্ধি করে।
গোশত অতিরিক্ত হওয়া: যখন তা বৃদ্ধি পায় এবং চলে যায়; এর সপক্ষে লাবিদ ইবনে আবি রাবিআ-র উক্তি রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
فإذا تغالى لَحمُها وتحسَّرت
… وتقطَّعت بعد الكلال حِذافها
وعليه فحقيقة الغلو:
هو: الزيادة ومجاوزة الحد الشرعي الواجب.
قال تعالى: {لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ} [النساء: 171]
وقال سبحانه في آية المائدة: {قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ} [المائدة: 77]
وقال سبحانه في آيات عديدة جاءت في النهي عن الطغيان " وهو غلو في الغي " كما قال تعالى في آخر سورة طه لبني إسرائيل: {وَلَا تَطْغَوْا فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي} [طه: 81] ، وقوله عن فرعون وملئه في غير ما آية: {اذْهَبْ إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى} [النازعات: 17] ، وقال عن الخاسر صاحب الجحيم {فَأَمَّا مَنْ طَغَى} {وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا} [النازعات: 37 ، 38] الآية ، وقال في آخر سورة هود: {فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَمَنْ تَابَ مَعَكَ وَلَا تَطْغَوْا إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} [هود: 112] .
যখন তার গোশত বেড়ে গেল এবং সে ক্লান্ত হয়ে পড়ল
… এবং অবসাদগ্রস্ত হওয়ার পর তার খুরগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।
আর এর ওপর ভিত্তি করে অতিশয়োক্তি (غلو)-এর প্রকৃত অর্থ হলো:
তা হলো: বৃদ্ধি করা এবং ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় শরিয়ত নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা।
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অতিশয়োক্তি (غلو) করো না এবং আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না} [আন-নিসা: ১৭১]
এবং তিনি সুরা আল-মায়িদার আয়াতে বলেন: {বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অন্যায়ভাবে অতিশয়োক্তি (غلو) করো না এবং এমন সম্প্রদায়ের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে, আর তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে} [আল-মায়িদা: ৭৭]
এবং তিনি এমন অনেক আয়াতে বলেছেন যা সীমালঙ্ঘন (طغيان) থেকে নিষেধ করে, "আর তা হলো বিভ্রান্তি (غي)-এর মধ্যে অতিশয়োক্তি (غلو)"। যেমন আল্লাহ তাআলা সুরা ত্ব-হার শেষে বনী ইসরাঈলদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: {আর তোমরা এতে সীমালঙ্ঘন (طغيان) করো না, অন্যথায় তোমাদের ওপর আমার ক্রোধ অবতীর্ণ হবে} [ত্ব-হা: ৮১], এবং ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গ সম্পর্কে একাধিক আয়াতে তাঁর বাণী: {ফেরাউনের কাছে যাও, সে সীমালঙ্ঘন (طغيان) করেছে} [আন-নাযিআত: ১৭], এবং জাহান্নামী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন {অতঃপর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন (طغيان) করেছে} {এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে} [আন-নাযিআত: ৩৭, ৩৮] আয়াতটি, এবং সুরা হুদের শেষে বলেছেন: {সুতরাং আপনি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছেন সেভাবে অবিচল থাকুন এবং আপনার সাথে যারা তওবা করেছে তারাও; আর তোমরা সীমালঙ্ঘন (طغيان) করো না, নিশ্চয়ই তোমরা যা কর তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা} [হুদ: ১১২]।
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ومما ورد في السنة أيضا: ما رواه أحمد بإسناده عن عبد الرحمن بن شبل قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اقرءوا القرآن ولا تغلوا فيه ، ولا تجفوا عنه ، ولا تأكلوا به. . . .» (1) .
وفي حديث ابن عباس رضي الله عنه قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم غداة العقبة وهو على ناقته: «القط لي حصى» ، فلقطت له سبع حصيات هن حصى القذف ،فجعل ينفضهن في كفه ويقول: «أمثال هؤلاء فارموا ، ثم قال: يا أيها الناس إياكم والغلو في الدين؛ فإنه أهلك من كان قبلكم الغلو في الدين» . رواه أحمد وابن ماجه والحاكم وغيرهم (2) .
فمما سبق يتبين أن الكتاب والسنة يخصصان عموم اللغة ، وأن الغلو هو: ((الإفراط في مجاوزة المقدار المُعتبر شرعا في أمرٍ من أمور الدين)) .
--------------------------------------------
সুন্নাহর মধ্যে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে এটিও একটি: ইমাম আহমাদ তাঁর সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে আব্দুর রহমান ইবন শিবল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমরা কুরআন পাঠ করো এবং এতে বাড়াবাড়ি (الغلو) করো না, এর প্রতি অবহেলা করো না এবং এর মাধ্যমে জীবিকা অন্বেষণ করো না...» (১)।
এবং ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাবার সকালে তাঁর উটনীর পিঠে থাকা অবস্থায় আমাকে বললেন: «আমার জন্য কিছু পাথর কুড়িয়ে দাও», আমি তাঁর জন্য নিক্ষেপ করার মতো সাতটি ছোট পাথর কুড়িয়ে আনলাম। তিনি সেগুলো হাতের তালুতে নিয়ে নাড়াতে লাগলেন এবং বললেন: «এই ধরণের ছোট পাথরই তোমরা নিক্ষেপ করো, অতঃপর বললেন: হে লোকসকল! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি (الغلو) হতে বিরত থাকো; কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়িই (الغلو) ধ্বংস করেছে»। এটি আহমাদ, ইবন মাজাহ, হাকেম এবং অন্যান্যগণ বর্ণনা করেছেন (২)।
পূর্বোক্ত বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, কিতাব এবং সুন্নাহ ভাষার ব্যাপকতাকে নির্দিষ্ট করে দেয়, এবং বাড়াবাড়ি (الغلو) হলো: ((দ্বীনের কোনো বিষয়ে শরয়িভাবে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করার ক্ষেত্রে অতিশয়তা করা))।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
معنى التَطّرفالتطّرف هو تفعَّل - بتشديد العين - من طرف يطرف طَرَفا بالتحريك ، وهو الأخذ بأحد الطرفين والميل لهما: إما الطرف الأدنى أو الأقصى (1) ، ومنه أطلقوه على الناحية وطائفة الشيء. . ومفهوم التطرف في العرف الدارج - في هذا الزمان -: الغلو في عقيدة أو فكرة أو مذهب أو غيره يختص به دين أو جماعة أو حزب.
ولهذا فالتطرف يُوصف به طوائف من اليهود ومن النصارى ، فثمة أحزاب يمينية متطرفة أو يسارية متطرفة. فقد وصفت بالتطرف الديني والحركي والسياسي.
ووصف الغلو بالتطرف له وجهه المسوغ له بأخذ أحد الطرفين ، كما قال الأول:
لا تغلُ في شيء من الأمر واقتصد
… كلا طرفي قصد الأمور ذميمُ
ولكن الوصف الشرعي للتشدد في الدين والغلو فيه يجب أن يكون مرجعه إلى الشرع نفسه لا اصطلاح الناس ومفاهيمهم وإطلاقاتهم ، كما دل عليه حديث ابن عباس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في الحج: «أمثال هؤلاء فارموا ، وإياكم والغلو في الدين ، فإنما أهلك من كان قبلكم الغلو في الدين» رواه أحمد وابن ماجه والحاكم وصححه. (2) .
--------------------------------------------
চরমপন্থা (التطرف)-এর অর্থচরমপন্থা (التطرف) শব্দটি 'তফা'আল' (تفعَّল) ওজনে গঠিত—আইন (ع) বর্ণের তাশদীদসহ। এটি 'ত্বরাফা-ইত্বরিফু-ত্বরাফান' (طَرَفا) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো দুই প্রান্তের যেকোনো একটিকে গ্রহণ করা এবং সেদিকে ঝুঁকে পড়া: চাই তা নিম্নতম প্রান্ত হোক বা সর্বোচ্চ প্রান্ত (১)। এই অর্থ থেকেই শব্দটি কোনো দিক বা বস্তুর অংশ বিশেষের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর বর্তমান সময়ের প্রচলিত পরিভাষায় চরমপন্থা (التطرف)-এর অর্থ হলো: কোনো আকীদা, চিন্তা, মাযহাব বা এমন কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি (الغلو) করা, যা কোনো ধর্ম, গোষ্ঠী বা দলের সাথে নির্দিষ্ট।
একই কারণে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিভিন্ন উপদলকেও চরমপন্থী হিসেবে অভিহিত করা হয়; যেমন সেখানে চরম ডানপন্থী বা চরম বামপন্থী দল রয়েছে। এগুলো ধর্মীয়, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক চরমপন্থা (التطرف) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
বাড়াবাড়ি (الغلو)-কে চরমপন্থা (التطرف) হিসেবে অভিহিত করার একটি যৌক্তিক দিক রয়েছে, আর তা হলো দুই প্রান্তের যেকোনো একটিকে আঁকড়ে ধরা; যেমন কবি বলেছেন:
কোনো বিষয়েই বাড়াবাড়ি করো না বরং মধ্যপন্থা অবলম্বন করো
… কেননা কোনো বিষয়ের দুই প্রান্তই নিন্দনীয়।
তবে দ্বীনের ক্ষেত্রে কঠোরতা ও বাড়াবাড়ি (الغلو)-এর শরয়ি বিশ্লেষণ মানুষের পরিভাষা, ধারণা বা প্রয়োগের পরিবর্তে খোদ শরিয়তের মানদণ্ডেই হওয়া আবশ্যক। যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হজ্জের সময় বলেছিলেন: “তোমরা এগুলোর (কঙ্করের) ন্যায় পাথর নিক্ষেপ করো এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি (الغلو) করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীরা দ্বীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি (الغلو)-এর কারণেই ধ্বংস হয়েছে।” এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, ইবনে মাজাহ ও আল-হাকিম এবং তিনি একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন। (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
معنى الإرهابالإرهاب لغة: مصدر مأخوذ من رَهب كعلم يرهب رهبا ورهبابا وأرهابا بالفتح والكسر ، وهو الإخافة والتخويف (1) .
ويدور معنى الإرهاب شرعا على شدة الخوف والتخويف الواقع على الفرد أو على الجماعة وهو في حقيقته وحكمه نوعان:
--------------------------------------------
সন্ত্রাসের (الإرهاب) অর্থশাব্দিক অর্থে সন্ত্রাস (الإرهاب): এটি 'রাহিবা' (رهب) ক্রিয়ামূল হতে গৃহীত একটি মূলশব্দ (مصدر), যার অর্থ হলো আতঙ্কিত করা এবং ভয় দেখানো (১)।
শরীয়তের (شرعا) পরিভাষায় সন্ত্রাসের (الإرهاب) অর্থ হলো কোনো ব্যক্তি বা সমষ্টির ওপর আপতিত তীব্র ভয় ও ভীতি প্রদর্শন। এর প্রকৃত স্বরূপ এবং বিধানের (حكم) বিচারে এটি দুই প্রকার:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
(1) إرهاب مشروع بصريح القرآن في آية الأنفال في قوله تعالى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِنْ دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُظْلَمُونَ} {وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [الأنفال: 60-61] .
فإن إخافة العدو الكافر المعاند لدعوة الله بالجهاد في سبيل الله وإرجافه بالعدة والقوة من مقاصد الجهاد الإسلامي ، ليكف شره ، وينتهي عن ظلمه ، ولعله أن يهتدي إلى دين الله عز وجل. وهذا الحكم خاص بالمحاربين من الكفار أو البغاة.
(2) إرهاب غير مشروع ، بل هو محرم وممنوع: في تخويف الآمنين وإدخال الرعب والفزع عليهم ، سواء كانوا مسلمين أو مستأمنين أو معاهدين أهل ذمة أو غيرهم. فهو على المسلمين حرابة وعلى غيرهم ظلم! وهو في الجميع إفساد في الأرض جاء النهي عنه صريحا في القرآن والسنة وفي إجماع العلماء.
(১) সূরা আল-আনফালের আয়াতে আল্লাহ তাআলার বাণীর মাধ্যমে কুরআন দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত বৈধ ভীতিপ্রদর্শন (إرهاب مشروع): {আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও যুদ্ধের ঘোড়া প্রস্তুত করো, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রুদের এবং তোমাদের শত্রুদের এবং তারা ছাড়া অন্যদের ভীত-সন্ত্রস্ত করবে, যাদের তোমরা জানো না, কিন্তু আল্লাহ তাদের জানেন। আর আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। আর যদি তারা শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে তুমিও তার প্রতি ঝুঁকে পড়ো এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আনফাল: ৬০-৬১]।
নিশ্চয়ই আল্লাহর পথে জিহাদের (جهاد) মাধ্যমে আল্লাহর দাওয়াতের হঠকারী কাফের শত্রুদের ভীত করা এবং সরঞ্জাম ও শক্তির মাধ্যমে তাদের আতঙ্কিত করা ইসলামি জিহাদের অন্যতম লক্ষ্য, যাতে সে তার অনিষ্ট বন্ধ করে, নিজের জুলুম থেকে বিরত হয় এবং সম্ভবত সে মহান আল্লাহর দ্বীনের প্রতি হেদায়েত প্রাপ্ত হয়। আর এই বিধানটি কাফের যুদ্ধাপরাধী (محاربين) অথবা বিদ্রোহীদের (بغاة) সাথে সুনির্দিষ্ট।
(২) অবৈধ সন্ত্রাস (إرهاب غير مشروع), বরং তা হারাম (محرم) ও নিষিদ্ধ: নিরাপদ ব্যক্তিদের আতঙ্কিত করা এবং তাদের মনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করা, তারা মুসলিম হোক বা নিরাপত্তা প্রাপ্ত (مستأمنين), কিংবা চুক্তিবদ্ধ (معاهدين), যিম্মি (أهل ذمة) অথবা অন্য কেউ হোক। সুতরাং মুসলিমদের ওপর এটি দস্যুতা (حرابة) এবং অন্যদের ওপর এটি জুলুম! আর এটি সবার ক্ষেত্রে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা (إفساد في الأرض), যার ব্যাপারে কুরআন, সুন্নাহ এবং ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্যে (إجماع) সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فمناط ذلك على الظلم ، حيث تخويف الآمن وإرهابه ظلم واعتداء ، وهو محرم بإجماع الملل والشرائع السماوية. فقد روى الإمام أحمد وغيره بإسناد صحيح عن أبي ذر رضي الله عنه يرفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: قال الله عز وجل:
«يا عبادي إني حرمت الظلم على نفسي وجعلته بينكم محرما فلا تظالموا» .
وفي صريح القرآن قوله تعالى من سورة يونس: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ النَّاسَ شَيْئًا وَلَكِنَّ النَّاسَ أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} [يونس:44] وقوله في سورة الممتحنة: {لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} [الممتحنة: 8] .
هذا فضلا عما ورد من أدلة شريفة في وجوب الوفاء بالعهد وإيفاء الوعد ، وتحريم قتل النفس بغير حق، وتحريم قتل المرأة والوليد والراهب والشيخ الكبير من الكفار.
এর ভিত্তি হলো অবিচারের ওপর, যেহেতু কোনো নিরাপদ ব্যক্তিকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা জুলুম ও সীমালঙ্ঘন; আর এটি সকল ধর্মাদর্শ ও আসমানি শরিয়তের ঐক্যমতে (إجماع) নিষিদ্ধ। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد) সহকারে আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হাদিসটি নবী (সা.)-এর প্রতি মারফু (مرفوع) হিসেবে উন্নীত করে বলেন যে, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
«হে আমার বান্দাগণ! আমি জুলুমকে নিজের জন্য হারাম করেছি এবং তোমাদের মধ্যেও একে হারাম হিসেবে সাব্যস্ত করেছি; সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না।’
পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট ভাষ্যে সূরা ইউনুসে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি সামান্যতম জুলুম করেন না, বরং মানুষরাই নিজেদের ওপর জুলুম করে} [ইউনুস: ৪৪]। এবং সূরা মুমতাহিনায় আল্লাহ তাআলা বলেন: {দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন} [মুমতাহিনা: ৮]।
এছাড়া অঙ্গীকার রক্ষা ও প্রতিশ্রুতি পূরণ করার আবশ্যকতা, অন্যায়ভাবে জীবন হরণ নিষিদ্ধ হওয়া এবং কাফেরদের মধ্য হতে নারী, শিশু, ধর্মযাজক ও বৃদ্ধদের হত্যা করা হারাম হওয়া সম্পর্কে যেসব সম্মানিত দলিল (أدلة) বর্ণিত হয়েছে, এগুলো তার অতিরিক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تحديد
مصطلح الإرهاب المعاصروقد صدر في تحديده بيان عن مجمع الفقه الإسلامي في رابطة العالم الإسلامي بمكة في دورته السادسة عشرة ، المنعقدة في شوال من عام 1423هـ بمكة المكرمة ، حيث حدَّدوا الإرهاب بتحديد سبقوا به جهات عالمية عديدة غالطت في معناه ودلالاته ، وجاء في بيانهم أن:
((الإرهاب هو العدوان الذي يمارسه أفراد أو جماعات أو دول بغيا على الإنسان في دينه ، ودمه ، وعقله ، وماله ، وعرضه ، ويشمل صنوف التخويف والأذى والتهديد والقتل بغير حق ، وما يتصل بصور الحرابة وإخافة السبيل وقطع الطريق ، وكل فعل من أفعال العنف أو التهديد يقع تنفيذا لمشروع إجرامي فردي أو جماعي ، ويهدف إلى إلقاء الرعب بين الناس ، أو ترويعهم بإيذائهم ، أو تعريض حياتهم ، أو حريتهم ، أو أمنهم، أو أقوالهم للخطر ، ومن صنوفه إلحاق الضرر بالبيئة أو بأحد مرافق أو الأملاك العامة أو الخاصة ، أو تعريض أحد الموارد الوطنية ، أو الطبيعية للخطر.
فكل هذا من صور الفساد في الأرض التي نهى الله - سبحانه تعالى - المسلمين عنها قال تعالى: {وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ} [القصص: 77] (1) .
--------------------------------------------
সমকালীন
সন্ত্রাসবাদ (الإرهاب) পরিভাষার সংজ্ঞা নির্ধারণসন্ত্রাসবাদ (الإرهاب)-এর সংজ্ঞা নির্ধারণে মক্কায় অবস্থিত রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর 'ইসলামী ফিকহ একাডেমি' তাদের ষোড়শ অধিবেশনে (যা ১৪২৩ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল) একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা সন্ত্রাসবাদের এমন এক সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন যার মাধ্যমে তারা বিশ্বের অনেক সংস্থার চেয়ে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছেন, যারা এই শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য নির্ধারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
((সন্ত্রাসবাদ (الإرهاب) হলো সেই আগ্রাসন (العدوان), যা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র কর্তৃক মানুষের ধর্ম, জীবন, মেধা, সম্পদ ও সম্মানের ওপর সীমালঙ্ঘন স্বরূপ পরিচালিত হয়। এর মধ্যে সব ধরনের ভীতি প্রদর্শন, কষ্ট দেওয়া, হুমকি প্রদান এবং অন্যায়ভাবে হত্যা করা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া হিরাবাহ (الحرابة), পথে আতঙ্ক সৃষ্টি ও পথডাকাতি (قطع الطريق)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলিও এর অন্তর্ভুক্ত। ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত কোনো অপরাধমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রতিটি সহিংস কাজ বা হুমকিও এর অন্তর্ভুক্ত, যার লক্ষ্য মানুষের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করা, কিংবা তাদের কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে আতঙ্কিত করা, অথবা তাদের জীবন, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা কিংবা সম্মানকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। পরিবেশের ক্ষতি সাধন করা, সরকারি বা বেসরকারি কোনো স্থাপনা বা সম্পদের ক্ষতি করা, অথবা কোনো জাতীয় কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদকে বিপন্ন করাও এর বিভিন্ন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।
এসবই পৃথিবীতে বিপর্যয় (الفساد) সৃষ্টির বিভিন্ন রূপ, যা থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলমানদের নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না।} [আল-কাসাস: ৭৭] (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والإرهاب في المصطلح العربي المعاصر: لا يفرق بين المحقق والمبطل - فمقاومة المحتل والرد عليه تسمى إرهابا عندهم والاستسلام له يسمى سلاما وتعاونا. بل ولو طال بهم زمان لسموا كل مسلم إرهابيا.
এবং সমকালীন আরবি পরিভাষায় সন্ত্রাসবাদ: তা সত্যপন্থী এবং বাতিলপন্থীর মাঝে কোনো পার্থক্য করে না—ফলে দখলদার শক্তির প্রতিরোধ করা এবং তার মোকাবিলা করা তাদের নিকট সন্ত্রাসবাদ হিসেবে গণ্য হয়, আর তার নিকট আত্মসমর্পণ করাকে শান্তি ও সহযোগিতা হিসেবে অভিহিত করা হয়। এমনকি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে তারা হয়তো প্রত্যেক মুসলিমকেই সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
معنى العنفبالرجوع إلى المعجمات اللغوية في مادة العنف وجد أنها مثلثة العين: بالرفع والفتح والكسر وهو ضد الرفق. وهو الشديد في القول والفعل.
وحقيقة العنف: أنه الشدة في قول أو رأي أو فعل أو حال! وهو ما يُولد ما يسمى بالعنف العقدي ، والعنف العلمي والعنف الفكري في الرأي والفهم والتصور؟! إذا العنف نتيجة للغلو والتطرف. .
ومما جاء في ذم العنف والشدة قوله صلى الله عليه وسلم: «ليس الشديد بالسرعة ولكن الشديد من يملك نفسه عند الغضب» .
সহিংসতার অর্থভাষাতাত্ত্বিক অভিধানসমূহের 'উনফ' মূলশব্দটি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, এর 'আইন' (ع) বর্ণটি তিন স্বরবিশিষ্ট (অর্থাৎ পেশ, জবর ও জের যোগে পঠনযোগ্য)। এটি হলো নম্রতার (الرفق) বিপরীত। আর এটি কথা ও কাজে কঠোরতা অবলম্বন করাকে বোঝায়।
সহিংসতার প্রকৃত স্বরূপ হলো: কথা, মতাদর্শ, কর্ম বা অবস্থায় কঠোরতা (الشدة) প্রদর্শন করা! আর এটিই তথাকথিত আকিদাগত সহিংসতা, ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক সহিংসতা এবং মত প্রকাশ, অনুধাবন ও চিন্তাধারার ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক সহিংসতার জন্ম দেয়। সুতরাং সহিংসতা হলো অতিরঞ্জন (الغلو) ও চরমপন্থার (التطرف) অনিবার্য ফল।
সহিংসতা ও কঠোরতার (الشدة) নিন্দায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী এসেছে: "কুস্তিতে অন্যকে ধরাশায়ী করা প্রকৃত বীরত্ব নয়; বরং রাগের মাথায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাই প্রকৃত বীরত্ব।"
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
العلاقة بين الغلو والتطرف والإفراط ونحوهما
الغلو - في الحقيقة - أعلى مراتب الإفراط في الجملة. فالغلو في الكفن مثلا هو المغالاة في ثمنه والإفراط فيه.
والغلو أخصّ من التطرف؛ إذ إن التطرف هو مجاوزة الحدِّ ، والبعد عن التوسط والاعتدال إفراطا أو تفريطا ، أو بعبارة أخرى: سلبا أو إيجابا ، زيادة أو نقصا ، سواء كان غلوا أم لا ، إذ العبرة ببلوغ طرفي الأمر ، وهو الغلو في قول القائل:
لا تغلُ في شيء من الأمر واقتصد
… كلا طرفي قصد الأمور ذميمُ
فالغلو أخص من التطرف باعتبار مجاوزة الحد الطبيعي في الزيادة والنقص ، في حال النقص يسمى غلوا إذا بالغ في النقص ، فيقال: غلا في النقص ، كما في قول اليهود جفاء في حق المسيح ابن مريم عليهما الصلاة والسلام. وكذلك في الزيادة إذا بالغ فيها كقول النصارى في المسيح ابن مريم غلوا.
والتطرف: الانحياز إلى طرفي الأمر ، فيشمل الغلو ، لكن الغلو أخص منه في الزيادة والمجاوزة ، ليس فقط بمجرد البعد عن الوسط إلى الأطراف.
أو بمعنى آخر: كل غلو فهو تطرف، وليس كل تطرفٍ غلوا.
الفرق بين الاستقامة و (الغلو والتطرف والإرهاب) :
চরমপন্থা (الغلو), উগ্রবাদ (التطرف), সীমালঙ্ঘন (الإفراط) এবং এজাতীয় পরিভাষাগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক
চরমপন্থা (الغلو) মূলত সাধারণভাবে সীমালঙ্ঘনের (الإفراط) সর্বোচ্চ পর্যায়। উদাহরণস্বরূপ, কাফনের কাপড়ে ‘গুলু’ বা চরমপন্থা অবলম্বন করা বলতে এর মূল্যের ক্ষেত্রে অত্যধিক বাড়াবাড়ি এবং সীমালঙ্ঘনকে (الإفراط) বোঝায়।
আর চরমপন্থা (الغلو) উগ্রবাদের (التطرف) চেয়ে আরও বিশেষায়িত পরিভাষা; কেননা উগ্রবাদ (التطرف) হলো নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা এবং ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা থেকে দূরে সরে যাওয়া—তা বৃদ্ধি (إفراط) বা হ্রাসের (تفريط) মাধ্যমেই হোক না কেন। অন্য কথায়: নেতিবাচক বা ইতিবাচকভাবে, আধিক্য বা ঘাটতির মাধ্যমে, চাই তা চরমপন্থা (غلوا) হোক বা না হোক; কেননা এখানে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো বিষয়ের দুই প্রান্তের যেকোনো একটিতে পৌঁছানো। কবির উক্তিতে এটিই চরমপন্থা (الغلو):
কোনো বিষয়েই চরমপন্থা (تغل) অবলম্বন করো না, বরং পরিমিতিবোধ বজায় রাখো
… কারণ বিষয়ের দুই প্রান্তই নিন্দনীয়।
সুতরাং বৃদ্ধি এবং হ্রাসের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করার বিবেচনায় চরমপন্থা (الغلو) উগ্রবাদের (التطرف) চেয়েও বিশেষায়িত। হ্রাসের ক্ষেত্রে একে চরমপন্থা (غلوا) বলা হয় যদি কেউ হ্রাসের ক্ষেত্রে অতিশয়োক্তি করে। তখন বলা হয়: সে হ্রাসের ক্ষেত্রে ‘গুলু’ বা চরমপন্থা অবলম্বন করেছে। যেমন ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর হকের ব্যাপারে ইহুদিদের অবজ্ঞা প্রদর্শন (جفاء)। একইভাবে বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও যদি কেউ অতিশয়োক্তি করে, যেমন ঈসা ইবনে মারইয়ামের ব্যাপারে খ্রিস্টানদের অতিশয়োক্তি করাকে চরমপন্থা (غلوا) বলা হয়।
আর উগ্রবাদ (التطرف) হলো: কোনো বিষয়ের দুই প্রান্তের যেকোনো একটির দিকে ঝুঁকে পড়া, যা চরমপন্থার (الغلو) পরিধিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তবে বৃদ্ধি এবং সীমা অতিক্রমের ক্ষেত্রে চরমপন্থা (الغلو) উগ্রবাদ অপেক্ষা আরও বিশিষ্ট; এটি কেবল মধ্যপন্থা থেকে বিচ্যুত হয়ে প্রান্তের দিকে সরে যাওয়া নয়।
অথবা ভিন্ন কথায়: প্রত্যেক চরমপন্থা-ই (غلو) উগ্রবাদ (تطرف), কিন্তু প্রত্যেক উগ্রবাদ (تطرف) চরমপন্থা (غلوا) নয়।
অবিচলতা (الاستقامة) এবং (চরমপন্থা (الغلو), উগ্রবাদ (التطرف) ও সন্ত্রাসবাদ (الإرهاب))-এর মধ্যে পার্থক্য:
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
في الواقع لا تلازم بين التمسك بالنصوص والغلو؛ فقد كان الصحابة رضي الله عنهم أشدَّ الناس تمسكا واقتضاء لنصوص الشريعة ، ومع هذا لم يحصل منهم غلو أو تشديد ، خلا في قضايا عينية في حياة النبي صلى الله عليه وسلم أرشد عليه الصلاة والسلام أصحابه إليها (1) وعلَّمهم وبيّن لهم طريق العبادة المعتدل ، فانتهوا. وسببه هو موافقة هذا الاستمساك منهم رضي الله عنهم لعلم صحيح، وفهم سليم ، وهمة حريصة على العلم والبصيرة ، فنجوا من الغلو فضلا عن الاستمرار فيه ، لكن لما بعد الناس عن زمان الأفاضل ، وصار الدين غريبا ، وأطبق الجهل على كثير من أهل الإسلام ، صار المتمسك بسنة المصطفى صلى الله عليه وسلم العاضُّ عليها بنواجذه منبوذا مُستهزءا به في تلك المجتمعات ، وأطلقوا عليه عبارات النبز كالمتزمتين والغالين والمتطرفين والأصوليين والإرهابيين. . . . ونحوها من الألقاب التي روجتها بعض وسائل الإعلام عن أعداء الإسلام!
--------------------------------------------
প্রকৃতপক্ষে মূলপাঠ (نصوص) আঁকড়ে ধরা এবং চরমপন্থার (الغلو) মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই; কারণ সাহাবীগণ (রা.) শরীয়াহর মূলপাঠ (نصوص) অনুসরণের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৃঢ় ছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁদের থেকে কোনো চরমপন্থা (الغلو) বা কঠোরতা প্রকাশ পায়নি, কেবল নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্র ব্যতীত, যেখানে নবী (সা.) তাঁর সাহাবীদের সঠিক পথনির্দেশ প্রদান করেছিলেন (১) এবং তাঁদেরকে ইবাদতের ভারসাম্যপূর্ণ পথ শিক্ষা দিয়েছিলেন ও বর্ণনা করেছিলেন, ফলে তাঁরা তা থেকে বিরত হয়েছিলেন। এর কারণ ছিল তাঁদের এই দৃঢ়তা সঠিক জ্ঞান (العلم الصحيح), সঠিক উপলব্ধি (الفهم السليم) এবং ইলম ও প্রজ্ঞার প্রতি গভীর আগ্রহের সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল। ফলে তাঁরা চরমপন্থা (الغلو) থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন, তাতে লিপ্ত থাকা তো দূরের কথা। কিন্তু যখন মানুষ শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের সময়কাল থেকে দূরে সরে গেল, দ্বীন অপরিচিত হয়ে পড়ল এবং অনেক মুসলিমের ওপর অজ্ঞতা ছেয়ে গেল, তখন মুস্তফা (সা.)-এর সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ব্যক্তি সেই সমাজগুলোতে বর্জিত ও উপহাসের পাত্রে পরিণত হলেন। তাঁদের ওপর কট্টরপন্থী, অতিশয়বাদী (الغالي), উগ্রপন্থী, মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী ইত্যাদি তুচ্ছার্থবোধক উপাধি আরোপ করা হলো... এবং এ জাতীয় আরও বিভিন্ন উপাধি যা ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে কিছু গণমাধ্যম প্রচার করেছিল!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والواقع أن التمسك بنصوص الكتاب والسنة ، وفهمها فهما صحيحا يعد عند هؤلاء المتهاونين بأحكام الشريعة الغافلين عنها ، غلوا وتطرفا ، وذلك بالنظر إلى ما هم عليه من تفريط ظاهر ، وقصور في إظهار منهج الإسلام.
ولنأخذ مثالا يوضح ما سبق: فدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب الإصلاحية اتهمت من كثير من الناس - بتكفير الناس - الذي هو مظهر من مظاهر الغلو البارزة - أو أنهم خوارج. . . . . . ونحوها من ألقاب تفيد مجاوزة اعتدال الإسلام وسماحته ، وينبزونهم بألفاظ هي في الشريعة وصف لأقوام متشددين لا فقه لهم ولا نظر (1) وهي من ذلك براء براءة الذئب من دم يوسف عليه السلام ، لكن ما حيلة من شرق بها إلا ذلك. والملحوظ أن المتمسكين بمدلولات النصوص الشرعية يكونون غلاة متشددين بنسبتهم إلى المفرطين الذين يحملون الإسلام وصفا ، وعند نسبتهم إلى ميزان الشريعة لا نجد عندهم معنى التمسك المطلوب ، وهو الاستقامة على أحكام الكتاب والسنة.
--------------------------------------------
বাস্তবে কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ (نصوص) আঁকড়ে ধরা এবং তা সঠিকভাবে অনুধাবন করা ওইসব ব্যক্তিদের কাছে বাড়াবাড়ি (غلو) ও চরমপন্থা (তطرف) হিসেবে গণ্য হয়, যারা শরিয়তের বিধানাবলির প্রতি শিথিলতা প্রদর্শনকারী এবং সে সম্পর্কে গাফেল। তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির মূলে রয়েছে তাদের নিজেদের প্রকাশ্য অবহেলা এবং ইসলামের সঠিক পদ্ধতি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতা।
পূর্বোক্ত বিষয়ের স্পষ্টীকরণের জন্য একটি উদাহরণ নেওয়া যাক: শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের সংস্কারবাদী দাওয়াতকে অনেক মানুষ ‘তাকফির’ বা মানুষকে কাফির সাব্যস্ত করা (تكفير)—যা বাড়াবাড়ি (غلو)-র একটি অন্যতম প্রকট বহিঃপ্রকাশ—অথবা তারা ‘খারেজি’ (خوارج) ইত্যাদি বিশেষণে অভিযুক্ত করেছে। এ ধরনের উপাধিগুলো ইসলামের মধ্যপন্থা ও উদারতা লঙ্ঘনের অর্থ প্রকাশ করে। তারা তাদেরকে এমন সব শব্দে ভূষিত করে, যা শরিয়তের পরিভাষায় এমন এক কঠোর (متشددين) সম্প্রদায়ের বিশেষণ যাদের কোনো গভীর প্রজ্ঞা (فقه) বা অন্তর্দৃষ্টি নেই (১)। অথচ এই দাওয়াত ওইসব অপবাদ থেকে তেমনিভাবে মুক্ত, যেমনটি ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর রক্তের কলঙ্ক থেকে নেকড়ে বাঘটি মুক্ত ছিল। কিন্তু যাদের কাছে এই দাওয়াত অসহ্য ঠেকেছে, তারা এ ধরনের অপকৌশল ছাড়া আর কী-ই বা করতে পারে? লক্ষণীয় যে, যারা শরয়ি নসের (نصوص) নির্দেশনাসমূহ আঁকড়ে ধরেন, তারা ওইসব অবহেলাকারীদের তুলনায় চরমপন্থী (غلاة) ও কঠোর (متشددين) বলে প্রতিভাত হন যারা কেবল নামেমাত্র ইসলাম ধারণ করে। অথচ শরিয়তের মানদণ্ডে বিচার করলে তাদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সেই অনুসরণের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না, যা মূলত কিতাব ও সুন্নাহর বিধানের ওপর অবিচল থাকা (استقامة)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فالمقصرون يلمزون المتمسكين بالغلو والتطرف والإرهاب أو التشدد ، على أن ما هم عليه هو اعتدال الإسلام وتوسطه ، وما أظهروه هو الاعتدال ، وهو في الحقيقة ليس كذلك؛ إذ هو التقصير والتفريط في بعض شعائر الإسلام وأحكامه. أما الاعتدال والتوسط فهو في دين الله ومنهاج دينه ، ولا يخفى أن من يتهم أحدا بالتطرف أو الغلو ونحوهما ، غايته التنفير والتحذير منهم وليس لكونهم متجاوزين لحدود الشريعة ووسطية الإسلام ، كما هو الحال فيمن اتهم دعوة الشيخ السلفية الإصلاحية بذلك؟!
أعني أن هذه الدعاوى ليست من باب الأسماء والأحكام ، أو لتبين معاني شرعية بقدر ما هي لأغراض وأهواء ذاتية أو محدودة. فتكون بذلك من تحميل مصطلحات الشارع ما لا تحتمل ، ومن استعمال المعاني الشرعية في الأغراض الشخصية الضيقة والغايات السياسية المحدودة!
সুতরাং যারা শিথিলতা (تقصير) প্রদর্শনকারী, তারা দীন আঁকড়ে ধারণকারীদের চরমপন্থা (غلو), উগ্রবাদ (تطرف), সন্ত্রাসবাদ (إرهاب) অথবা কঠোরতা (تشدد) বলে বিদ্রূপ করে। তাদের দাবি এই যে, তারা নিজেরা যে অবস্থানে আছে তা-ই ইসলামের ভারসাম্য (اعتدال) ও মধ্যপন্থা (توسط), এবং তারা যা প্রকাশ করে তা-ই পরিমিতিবোধ; অথচ বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। বরং তা ইসলামের কিছু নিদর্শন (شعائر) ও বিধানের (أحكام) ক্ষেত্রে শিথিলতা (تقصير) ও অবহেলা (تفريط) প্রদর্শন মাত্র। মূলত ভারসাম্য (اعتدال) ও মধ্যপন্থা (توسط) তো আল্লাহর দীন এবং তাঁর দীনের মানহাজের (منهاج) মধ্যেই নিহিত। এটি স্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি কাউকে উগ্রবাদ (تطرف) বা চরমপন্থা (غلو) ইত্যাদির অভিযোগে অভিযুক্ত করে, তার উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনে ঘৃণা সৃষ্টি করা এবং তাদের থেকে সতর্ক করা; তারা শরিয়াহর (شريعة) সীমালঙ্ঘনকারী কিংবা ইসলামের মধ্যপন্থা (توسط) থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে এমনটি করা হয় না, যেমনটি শায়খের সালাফি সংস্কারবাদী দাওয়াতের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে, এই দাবিগুলো মূলত নাম ও বিধান (الأسماء والأحكام) সংক্রান্ত বিষয় নয়, কিংবা এগুলো শরিয়াহসম্মত (شرعية) অর্থের ব্যাখ্যা প্রদানের উদ্দেশ্যেও নয়; বরং এগুলো করা হয় ব্যক্তিগত লালসা বা সংকীর্ণ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। এর ফলে বিধানদাতার (الشارع) পরিভাষাগুলোর ওপর এমন অর্থ চাপিয়ে দেওয়া হয় যা সেগুলো বহন করার সক্ষমতা রাখে না, এবং শরিয়াহসম্মত (شرعية) অর্থগুলোকে সংকীর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থ ও সীমাবদ্ধ রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
أولا - الغلو في الصالحين من قوم نوح عليه السلام
وذلك أن سبب بعثة نوح عليه السلام إلى قومه وجود الغلو فيهم بالصالحين ، حيث كان الغلو سببا في كفرهم وشركهم مع الله في عبادته غيره ، فلقد غلا قوم نوح قبل مجيئه إليهم في رجال كانوا صالحين فغلوا في محبتهم حتى عبدوهم من دون الله ، ثم إنهم صوَّروا لهم أصناما تكون رمزا لعبادتهم حتى ظهرت بدعتهم إلى جاهلية العرب قبل مجيء الرسول صلى الله عليه وسلم. كما قال تعالى: {وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا} [نوح: 23]
প্রথমত - নূহ আলাইহিস সালামের কওমের নেককার ব্যক্তিদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন (الغلو) আলাইহিস সালাম
এর কারণ এই যে, নূহ আলাইহিস সালামকে তাঁর কওমের নিকট প্রেরণের মূল কারণ ছিল তাদের মধ্যে নেককার ব্যক্তিদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন (الغلو) বিদ্যমান থাকা। কেননা এই অতিরঞ্জনই (الغلو) তাদের কুফরি এবং আল্লাহর ইবাদতে অন্যকে শরিক করার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নূহ আলাইহিস সালাম তাদের নিকট আসার পূর্বেই তাঁর কওম এমন কিছু ব্যক্তিদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন (الغلو) করেছিল যারা নেককার ছিলেন; তারা তাদের প্রতি ভালোবাসায় এতই বাড়াবাড়ি করেছিল যে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর পরিবর্তে তাদেরই ইবাদত করতে শুরু করে। অতঃপর তারা তাদের জন্য এমন কিছু মূর্তি তৈরি করেছিল যা তাদের ইবাদতের প্রতীক হিসেবে গণ্য হতো; এমনকি তাদের এই বিদআত (بدعة) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পূর্বে আরব জাহেলিয়াত পর্যন্ত প্রকাশ পেয়েছিল। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা বলল, তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না; আর পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াঊক ও নাসরকে} [নূহ: ২৩]
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
حيث أخرج البخاري بسنده إلى ابن عباس رضي الله عنهما ، قال في هذه الآية: ((صارت الأوثان التي كانت في قوم نوح في العرب بعدُ ، أما ودّ فكانت لكلب بدومة الجندل ، وأما سواع فكانت لهذيل ، وأما يغوث فكانت لمراد ثم لبني غطفان. . . ، وأما يعوق فكانت لهمذان ، وأما نسر فكانت لحمير لآل ذي الكلاع وهي أسماء رجال صالحين من قوم نوح ، فلما هلكوا أوحى الشيطان إلى قومهم أن انصبوا إلى مجالسهم التي كانوا يجلسون أنصابا وسموها بأسمائهم ، ففعلوا فلم تُعبد حتى إذا هلك أولئك وتنسَّخ العلمُ عُبدت)) اهـ (1) والأنصاب جمع نصب وهو الصنم يُنصب للميت لتخليد ذكراه. هذه في الحقيقة تمثل مظهرا جليا من الغلو ، في باب الغلو في الأشخاص.
--------------------------------------------
যেহেতু ইমাম বুখারি তাঁর সনদ (سند) মারফত ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন, তিনি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: ((নূহ আলাইহিস সালাম-এর কওমের মাঝে বিদ্যমান প্রতিমাগুলো পরবর্তীতে আরবদের মাঝে চলে আসে। 'ওয়াদ্দ' ছিল জন্দলের দূমায় অবস্থিত কালব গোত্রের জন্য, 'সুওয়া' ছিল হুযাইল গোত্রের জন্য, 'ইয়াগুস' ছিল মুরাদ এবং পরবর্তীতে বনী গাতফানের জন্য... 'ইয়াউক' ছিল হামদান গোত্রের জন্য এবং 'নাসর' ছিল হিমইয়ারের যুল কিলা’ পরিবারের জন্য। এগুলো ছিল নূহ আলাইহিস সালাম-এর কওমের কতিপয় নেককার ব্যক্তির নাম। যখন তাঁরা মৃত্যুবরণ করলেন, তখন শয়তান তাঁদের সম্প্রদায়ের মনে এই কুমন্ত্রণা দিল যে, তাঁরা যেসব স্থানে বসে মজলিস করতেন সেখানে যেন তারা স্মৃতিস্তম্ভ (أنصاب) স্থাপন করে এবং সেগুলোকে তাঁদের নামেই নামকরণ করে। তারা তাই করল, কিন্তু তখন সেগুলোর ইবাদত করা হতো না। তবে যখন সেই প্রজন্ম মারা গেল এবং ইলম বা জ্ঞান বিলুপ্ত (تنسخ) হয়ে গেল, তখন থেকেই সেগুলোর ইবাদত শুরু হলো।)) সমাপ্ত। (১) আর 'আনসাব' হলো 'নাসব' (نصب)-এর বহুবচন, যা মূলত এমন প্রতিমা (صنم) যা মৃত ব্যক্তির স্মৃতি অম্লান রাখার উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়। এটি প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বা অতিরঞ্জন (الغلو)-এর অধ্যায়ে একটি সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثانيا - الغلو والتطرف لدى اليونانلماذا الوثنية اليونانية بالذات لتاريخ التطرف والغلو بها قديما؟
إن إيراد هذا السؤال مهم ، فلماذا العناية ببيان وثنية هؤلاء القوم؟ إنه انقداحُ ذهن وتلمسٌ من قوله تعالى في سورة براءة: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ} [التوبة: 30] .
فذكر سبحانه في هذه الآية مشابهة قول اليهود والنصارى في دعواهم البنوة لله عز وجل مَن قبلهم مِن الكافرين الذين قالوا مقالات هي أصل لهذه المضاهاة.
قال ابن كثير رحمه الله على قوله: {يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ}
أي: يشابهون من قبلهم من الأمم ، ضلوا كما ضل هؤلاء. (1) .
ونقل ابن الجوزي في تفسيره "زاد المسير" (2) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত - গ্রিকদের মধ্যে অতিরঞ্জন ও চরমপন্থাপ্রাচীনকালে চরমপন্থা ও অতিরঞ্জনের ইতিহাসের জন্য কেন বিশেষভাবে গ্রিক পৌত্তলিকতাকে নির্ধারণ করা হলো?
এই প্রশ্নটি উত্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ; কেন এই জাতির পৌত্তলিকতা বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? এটি মূলত চিন্তার এক স্ফুরণ এবং সূরা বারাআতে মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে উৎসারিত একটি অনুসন্ধান: {আর ইয়াহূদীরা বলে, উযাইর আল্লাহর পুত্র এবং খ্রিস্টানরা বলে, মসীহ আল্লাহর পুত্র। এটা তাদের মুখের কথা। তারা তাদের আগের কাফিরদের কথারই অনুসরণ করছে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কীভাবে সত্য বিমুখ হচ্ছে!} [আত-তওবা: ৩০]।
সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই আয়াতে মহান আল্লাহর সন্তান হওয়ার দাবিতে ইয়াহূদী ও খ্রিস্টানদের বক্তব্যের সাথে তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা এমন সব কথা বলেছিল যা এই সাদৃশ্য বা অনুকরণের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
ইমাম ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর বাণী: {তারা তাদের আগের কাফিরদের কথারই অনুসরণ করছে}-এর ব্যাখ্যায় বলেন:
অর্থাৎ: তারা তাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর সাদৃশ্য অবলম্বন করছে; তারা যেমন পথভ্রষ্ট হয়েছিল, এরাও তেমনি পথভ্রষ্ট হয়েছে। (১) ।
এবং ইবনুল জাওযী তাঁর তাফসির "যাদুল মাসীর"-এ বর্ণনা করেছেন (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وفي قوله تعالى: (يُضاهِئُونَ) قراءتان: بالهمزة وهي لعاصم وحده ، وبقية السبعة ((يضاهون)) بلا همز: وانظر: " السبعة " لابن مجاهد 314 ، و" القراءات العشر المتواترات " 192 ، " النشر " 1 / 406 ، و" التيسير " 118 عن الزجاج قوله: (يُضَاهِئُونَ) يشابهون قول من تقدمهم من كفرتهم ، فإنما قالوه اتباعا لمتقدميهم.
ثم قال ابن الجوزي: وفي قوله: {الَّذِينَ كَفَرُوا} هاهنا ثلاثة أقوال:
أحدها: أنهم عبدة الأوثان ، والمعنى أن أولئك قالوا: الملائكة بنات الله ، قاله ابن عباس.
الثاني: أنهم اليهود ، فالمعنى أن النصارى في قولهم: المسيح ابن الله ، شابهوا اليهود في قولهم: عزير ابن الله. قاله قتادة والسدي.
والثالث: أنهم أسلافهم ،تابعوهم في أقوالهم تقليدا ،قاله الزجاج وابن قتيبة. ا. هـ.
ونحوه ما حكاه القرطبي والشوكاني في تفسيرهما عند هذه الآية (1) وقبلهما الحافظ ابن جرير الطبري على آية براءة. وعلى كلٍ فالأقوال الثلاثة ليست متعارضة ، وليس الخلاف بينها اختلاف تضاد ، بل هو من قبيل اختلاف التنوع ، إذ المعنى يحتمل أحد الأقوال كما يحتملها جميعا.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর বাণী: (ইয়ুদাহিঊনা) শব্দের দু’টি পাঠরীতি রয়েছে: এটি আসিম এককভাবে হামযাহ সহযোগে পাঠ করেছেন, এবং অবশিষ্ট সাতজন ইমাম হামযাহ ব্যতীত (ইয়ুদাহূনা) পাঠ করেছেন। দেখুন: ইবনে মুজাহিদের "আস-সাবআ" ৩১৪, "আল-কিরাআত আল-আশারা আল-মুতাওয়াতিরা" ১৯২, "আন-নাশর" ১/৪০৬ এবং "আত-তাইসির" ১১৮। আয-যাজ্জাজ থেকে তাঁর এই উক্তি বর্ণিত হয়েছে যে: (ইয়ুদাহিঊনা) অর্থ তারা তাদের পূর্ববর্তী কাফেরদের কথার সাদৃশ্য অবলম্বন করছে, কেননা তারা কেবল তাদের পূর্বসূরিদের অনুসরণে এ কথা বলেছে।
অতপর ইবনুল জাওযি বলেন: তাঁর বাণী: {যারা কুফরি করেছে} এ স্থলে তিনটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমটি হলো: তারা মূর্তিপূজক, আর এর অর্থ হলো তারা বলত: ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা; এটি ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়টি হলো: তারা ইহুদি, অর্থাৎ খ্রিস্টানরা তাদের এই দাবিতে যে—‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’, তারা ইহুদিদের সেই কথার সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে যাতে তারা বলেছিল ‘উযাইর আল্লাহর পুত্র’। এটি কাতাদাহ এবং সুদ্দি বলেছেন।
তৃতীয়টি হলো: তারা তাদের পূর্বপুরুষ, যাদের কথা তারা অন্ধ অনুকরণ (تقليد) এর মাধ্যমে অনুসরণ করেছে; এটি আয-যাজ্জাজ এবং ইবনে কুতাইবাহ বলেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
অনুরূপ বর্ণনা ইমাম কুরতুবি এবং শাওকানি এই আয়াতের ব্যাখ্যায় (১) তাদের তাফসির গ্রন্থে প্রদান করেছেন এবং তাঁদের পূর্বে হাফিয ইবনে জারির তাবারী সূরা তাওবার এই আয়াতের ব্যাখ্যায় তা উল্লেখ করেছেন। সর্বাবস্থায়, এই তিনটি অভিমত পরস্পর বিরোধী নয় এবং এদের মধ্যকার মতভেদটি বৈপরীত্যমূলক মতভেদ (اختلاف تضاد) নয়, বরং এটি বৈচিত্র্যমূলক মতভেদ (اختلاف تنوع) এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ শব্দার্থটি যেমন কোনো একটি অর্থকে গ্রহণ করার সম্ভাবনা রাখে, তেমনি সবকটি অর্থ গ্রহণ করারও অবকাশ রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومما يدخل في معنى الذين كفروا من قبل اليهود والنصارى: مَن سبقهم من الأمم ، التي شابهت مقالة اليهود والنصارى في دعوى البنوة لله مقالتهم.
وهذه المقالة - بتولّد الآلهة وكون لها أبناء - عقيدة وثنية صريحة واضحة عند الأمة اليونانية القديمة!
فلذا دخل اليونانيون الوثنيون في مفهوم الآية ومنطوقها من هذا الاعتبار فهم ممن كفر قبلُ. وهو أيضا مظهر جلي للغلو والتطرف الديني الذي أورث العنف والتكفير والإرهاب لمن لم يوافقهم في العقيدة الوثنية.
هذا فضلا عن تأثير الوثنية اليونانية على من بعدها من الأمم حيث ظهر تأثيرهم الوثني على اليهود والنصارى وفرق وعلى بعض الفرق الضالة من الجهمية والمعتزلة والمتكلمين وقبلهم الفلاسفة. . . ، فضلا عن تأثيرهم في غيرهم من الأمم الوثنية المشركة من المجوس والهندوس والرومان. . . . إلخ.
فإذن في تجلية الغلو والتطرف والانحراف الوثني في العقيدة اليونانية بيان للذين كفروا من قبل ومبلغ معرفتهم بربهم ، المتمثل في أدنى دركات الجهل ، والعمى عن رب العالمين ،وإن بلغوا مبلغا متقدما في العمران المادي للدنيا بما خلفوه من تراث مادي بارز.
ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পূর্বে যারা কুফরি করেছিল, তাদের মর্মার্থের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল পূর্ববর্তী জাতিসমূহ, যাদের বক্তব্য আল্লাহর জন্য সন্তান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বক্তব্যের সদৃশ ছিল।
আর এই বক্তব্য—দেব-দেবীর জন্ম এবং তাদের সন্তান থাকা—প্রাচীন গ্রিক জাতির একটি স্পষ্ট ও প্রকাশ্য পৌত্তলিক আকিদা (عقيدة)!
অতএব, এই দৃষ্টিকোণ থেকে মূর্তিপূজারী গ্রিকরা আয়াতের মর্মার্থ ও ভাষ্যের অন্তর্ভুক্ত, ফলে তারা ইতিপূর্বে কুফরি লিপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য। এটি ধর্মীয় বাড়াবাড়ি (غلو) ও চরমপন্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা পৌত্তলিক আকিদায় (عقيدة) একমত না হওয়া ব্যক্তিদের ওপর সহিংসতা, কাফের সাব্যস্তকরণ (تكفير) এবং ত্রাস সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করেছে।
এর পাশাপাশি পরবর্তী জাতিসমূহের ওপর গ্রিক পৌত্তলিকতার প্রভাব অনস্বীকার্য; যেমনটি ইহুদি, খ্রিস্টান এবং জাহমিয়্যাহ, মুতাজিলা, মুতাকাল্লিমুন ও তাদের পূর্ববর্তী দার্শনিকদের ন্যায় কিছু বিভ্রান্ত দল (فرق ضالة)-এর মধ্যে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া অগ্নিপূজক, হিন্দু ও রোমানদের মতো অন্যান্য মুশরিক মূর্তিপূজারী জাতিগুলোর ওপরও তাদের প্রভাব রয়েছে।
সুতরাং, গ্রিক আকিদায় (عقيدة) যে বাড়াবাড়ি (غلو), চরমপন্থা ও পৌত্তলিক বিচ্যুতি (انحراف) রয়েছে, তা উন্মোচনের মাধ্যমে মূলত সেই সকল ব্যক্তিদের পরিচয় স্পষ্ট হয় যারা ইতিপূর্বে কুফরি করেছে; একইসাথে তাদের রব সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের দৌড়ও ফুটে ওঠে—যা মূর্খতার নিম্নতম স্তর এবং রাব্বুল আলামীন সম্পর্কে অন্ধত্বের বহিঃপ্রকাশ; যদিও তারা তাদের রেখে যাওয়া বস্তুগত ঐতিহ্যের মাধ্যমে পার্থিব অবকাঠামোগত উন্নয়নে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والموضوع أيضا من دلالة قوله تعالى: {قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ ثُمَّ انْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ} ، وقوله {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَدَارُ الْآخِرَةِ خَيْرٌ لِلَّذِينَ اتَّقَوْا أَفَلَا تَعْقِلُونَ} ، وقوله {أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَأَثَارُوا الْأَرْضَ وَعَمَرُوهَا أَكْثَرَ مِمَّا عَمَرُوهَا وَجَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ} ، وقوله: {قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلُ كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُشْرِكِينَ} .
আলোচ্য বিষয়টি (الموضوع) মহান আল্লাহর এই বাণীর নির্দেশনা থেকেও প্রমাণিত: {বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো, অতঃপর দেখো যারা মিথ্যাারোপ করেছিল তাদের পরিণাম কেমন হয়েছিল}, এবং তাঁর বাণী {আপনার পূর্বে আমি জনপদবাসীদের মধ্য থেকে কেবল পুরুষদেরই পাঠিয়েছিলাম যাদের কাছে আমি ওহি প্রেরণ করতাম। তারা কি পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করেনি? তবে তারা দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে তাদের জন্য আখিরাতের আবাসই উত্তম। তোমরা কি অনুধাবন করো না?}, এবং তাঁর বাণী {তারা কি পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করেনি? তবে তারা দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল। তারা এদের চেয়ে শক্তিতে প্রবল ছিল, তারা ভূমি কর্ষণ করেছিল এবং তারা তা এদের চেয়ে বেশি আবাদ করেছিল। তাদের নিকট তাদের রাসুলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছিলেন। আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করার ছিলেন না, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করত}, এবং তাঁর বাণী: {বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো এবং দেখো তোমাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল। তাদের অধিকাংশ ছিল মুশরিক}।
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقوله تعالى: {أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَكَانُوا أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعْجِزَهُ مِنْ شَيْءٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ إِنَّهُ كَانَ عَلِيمًا قَدِيرًا} .
وقوله: {أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ كَانُوا مِنْ قَبْلِهِمْ كَانُوا هُمْ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَآثَارًا فِي الْأَرْضِ فَأَخَذَهُمُ اللَّهُ بِذُنُوبِهِمْ وَمَا كَانَ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَاقٍ} .
وقوله تعالى في آخر السورة: {أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْهُمْ وَأَشَدَّ قُوَّةً وَآثَارًا فِي الْأَرْضِ فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ} .
ولا شك أن اليونانيين وغيرهم من متقدمي الغلاة والمتطرفين في دينهم داخلون في مطلوب التفكر والاعتبار والاتعاظ ومحاذرة طريقهم ومناهجهم في الآيات. (1) .
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি জমিনে ভ্রমণ করে না? তবে তারা দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল; অথচ তারা ছিল এদের অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে কোনো কিছুই আল্লাহকে অক্ষম করতে পারে না। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।}।
এবং তাঁর বাণী: {তারা কি জমিনে ভ্রমণ করে না? তবে তারা দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল; তারা ছিল এদের অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী এবং জমিনে তাদের কীর্তি ছিল অধিকতর। অতঃপর আল্লাহ তাদের পাপের কারণে তাদের পাকড়াও করলেন এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদের রক্ষা করার মতো কেউ ছিল না।}।
এবং সূরার শেষে মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি জমিনে ভ্রমণ করে না? তবে তারা দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল; তারা ছিল এদের চেয়ে সংখ্যায় অধিক এবং শক্তিতে ও জমিনের কীর্তিতে অধিকতর প্রবল। ফলে তারা যা অর্জন করত, তা তাদের কোনো কাজে আসেনি।}।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, গ্রিক এবং ধর্মের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়িকারী (غلاة) ও চরমপন্থী (متطرفين) অন্যান্য প্রাচীন ব্যক্তিরা এই আয়াতসমূহে বর্ণিত চিন্তাভাবনা, শিক্ষা গ্রহণ ও উপদেশ গ্রহণ এবং তাদের পথ ও কর্মপন্থা থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ثالثا - التطرف والغلو لدى أهل الكتاب
তৃতীয়ত - আহলে কিতাবদের মাঝে চরমপন্থা (تطرف) ও সীমালঙ্ঘন (غلو)
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم وجد بعد ذلك نوع من الغلو عند بني إسرائيل من يهود ونصارى كما سبق في قوله تعالى في سورتي النساء والمائدة: {يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ} . . . . . . . . . [النساء: 171 ، المائدة: 77] ، كما وجد الغلو في التكفير عند كل من اليهود للنصارى والعكس قال الله تعالى: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَى عَلَى شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَى لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ} ، حتى أدى بهم الأمر إلى استباحة دماء وأعراض كل منهما الآخر (1) فاليهود تُقرُّ مبدأ القتال لأنه مرتبط بوجودهم وبقائهم وأنهم أبناء الله وأحباؤه وما سواهم أميون يجوز أن يفعلوا بهم ما شاؤوا على مبدئهم الخبيث أنهم شعب الله المختار وكما قصَّ الله عنهم في قولهم: {وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِنْ تَأْمَنْهُ بِقِنْطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ وَمِنْهُمْ مَنْ إِنْ تَأْمَنْهُ بِدِينَارٍ لَا يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ إِلَّا مَا دُمْتَ عَلَيْهِ قَائِمًا ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيلٌ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [آل عمران: 75] وخدم لهم مسخرون لأجلهم
--------------------------------------------
এরপর বনী ইসরাঈলের ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে এক প্রকার চরমপন্থা (غلو) পরিলক্ষিত হয়, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইতিপূর্বে সূরা আন-নিসা ও আল-মায়িদাহ-তে তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি (غلو) করো না...} [আন-নিসা: ১৭১, আল-মায়িদাহ: ৭৭]। অনুরূপভাবে ইয়াহূদীদের পক্ষ থেকে খ্রিষ্টানদের কাফির ঘোষণা করার (تكفير) ক্ষেত্রে এবং এর বিপরীতে খ্রিষ্টানদের পক্ষ থেকে ইয়াহূদীদের ক্ষেত্রেও চরমপন্থা (غلو) দেখা দিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {ইয়াহূদীরা বলে, খ্রিষ্টানরা কোনো ভিত্তির ওপর নেই এবং খ্রিষ্টানরা বলে, ইয়াহূদীরা কোনো ভিত্তির ওপর নেই}। এমনকি এ বিষয়টি তাদের একে অপরের রক্ত ও ইজ্জতকে বৈধ মনে করার পর্যায়ে নিয়ে যায় (১)। সুতরাং ইয়াহূদীরা যুদ্ধের নীতিকে স্বীকৃতি দেয়, কারণ এটি তাদের অস্তিত্ব ও টিকে থাকার সাথে সম্পৃক্ত এবং তারা মনে করে যে তারা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়ভাজন। তারা ছাড়া অন্য সবাই হচ্ছে নিরক্ষর (أمييون), যাদের সাথে তারা যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে। তাদের এই জঘন্য নীতি হলো তারা আল্লাহর মনোনীত জাতি; যেমন আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেছেন: {আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যার কাছে তুমি সম্পদের স্তূপ আমানত রাখলে সে তা তোমাকে ফেরত দেবে। আবার তাদের মধ্যে এমনও আছে, যার কাছে একটি দিনার আমানত রাখলেও সে তা তোমাকে ফেরত দেবে না, যদি না তুমি সর্বদা তার মাথার ওপর দাঁড়িয়ে থাকো। এটি এ কারণে যে, তারা বলে, 'এই নিরক্ষরদের (الأميين) প্রতি আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই'। তারা জেনে-শুনে আল্লাহর নামে মিথ্যা (كذب) বলে} [আলে ইমরান: ৭৫]। এবং অন্যরা তাদের জন্য নিয়োজিত ভৃত্য মাত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জুজুরুত তারিখিয়্যাহ লি-হাকীকাতিল গুলুউ ওয়াত তাতাররুফ ওয়াল ইরহাব ওয়াল উনফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والنصارى تقرر أنها وارثة اليهودية بشريعة عيسى صلى الله عليه وسلم، كما ونقموا على اليهود لأنهم صلبوا عيسى صلى الله عليه وسلم كما يظنون.
{وَقَالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُمْ بِذُنُوبِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بَشَرٌ مِمَّنْ خَلَقَ} . . . . . . . . الآية [المائدة: 18]
فأهل الكتاب - ولا سيما اليهود - عندهم مظاهر الغلو والتطرف واضحة جلية في مناحٍ شتى في التغالي والكبر والعجب والتيه على الناس جميعا مسلمين ونصارى وغيرهم.
وأيضا في عقيدتهم وتميزهم عن الناس بالدعاوى الباطلة من كونهم أبناء الله وأحباءه، وزعمهم أنهم شعب الله المختار ، وأنه ليس عليهم فيما يفعلون في غيرهم من الظلم والبغي والاعتداء حرج وسبيل.
وأعظم مظاهر تطرفهم وغلوهم ما كان في جناب الله عز وجل من وصفه سبحانه وتعالى بالنقائص ، وإضافة العيوب إليه ، ومما فضحهم الله به في القرآن:
খ্রিস্টানরা দাবি করে যে, তারা ঈসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরীয়তের মাধ্যমে ইহুদি ধর্মের উত্তরাধিকারী। পাশাপাশি তারা ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে; কারণ তাদের ধারণা অনুযায়ী ইহুদিরা ঈসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ক্রুশবিদ্ধ করেছিল।
“আর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা বলে, ‘আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন।’ আপনি বলুন, ‘তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের জন্য তোমাদের শাস্তি প্রদান করেন? বরং তোমরা তাঁর সৃষ্টিদের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ মানুষ মাত্র’...” [সূরা আল-মায়িদাহ: ১৮]
অতএব আহলে কিতাব—বিশেষ করে ইহুদিদের মাঝে—চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বহিঃপ্রকাশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পষ্ট; যেমন অতিরঞ্জন, অহংকার, আত্মমুগ্ধতা এবং মুসলিম, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সকল মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও দম্ভ প্রদর্শনের মাধ্যমে।
অনুরূপভাবে তাদের আকিদাহ এবং মিথ্যা দাবির মাধ্যমে অন্যান্য মানুষ থেকে নিজেদের স্বতন্ত্র প্রমাণের ক্ষেত্রেও এটি বিদ্যমান; যেমন তাদের আল্লাহর সন্তান ও প্রিয়ভাজন হওয়ার দাবি এবং তাদের এই ধারণা যে তারা ‘আল্লাহর মনোনীত জাতি’। আর তারা অন্যদের ওপর যে জুলুম, সীমালঙ্ঘন ও আক্রমণ করে, সে ব্যাপারে তাদের কোনো জবাবদিহিতা বা পাপের অবকাশ নেই বলে তারা মনে করে।
তাদের উগ্রবাদ ও চরমপন্থার সর্বাপেক্ষা বড় বহিঃপ্রকাশ হলো মহান আল্লাহর শানে তাঁর প্রতি অসম্পূর্ণতা আরোপ করা এবং তাঁর প্রতি ত্রুটিসমূহ লেপন করা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে তাদের যেসব বিষয় উন্মোচিত করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে: