(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
قاعدة في الانغماس في العدو وهل يباح القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: قاعدة في الانغماس في العدو وهل يباح
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
المحقق: أبو محمد أشرف بن عبد المقصود
الناشر: أضواء السلف
الطبعة: الأولى 1422هـ - 2002م
عدد الصفحات: 79
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শত্রুর মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার মূলনীতি এবং এর বৈধতা বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
বই: শত্রুর মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার মূলনীতি এবং এর বৈধতা
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)
সম্পাদক: আবু মুহাম্মদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসুদ
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ
সংস্করণ: প্রথম ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيق
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
أما بعد: فهذا سفر جديد ومؤلف نفيس ينشر لأول مرة، للعلامة القرآني والمجاهد المرابط الرباني، شيخ الإسلام والمسلمين أبي العباس أحمد بن تيمية رحمه الله، نقدمه للمسلمين في وقت هم أحوج ما يكونون فيه للشجاعة والتضحية والإقدام والثبات في مواجهة الهجمة الشرسة للصهيونية البغيضة على الإسلام والمسلمين.
وشيخ الإسلام الذي جاهد "التتار" بسيفه وقلمه لا يألو جهدا في تعليم المسلمين ما يعود عليهم بالنفع في دينهم ودنياهم لا سيما ما يتعلق بأمور الجهاد والمجاهدين، وذروة سنام الدين.
فالمجاهد الحق: هو المتبع المهتدي {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} (العنكبوت: 69) ، فلا يقدم على أي عمل بغير علم؛ حتى لا يفسد أكثر مما يصلح.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদনার ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর: এটি একটি নতুন গ্রন্থ এবং মূল্যবান রচনা যা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে। এর লেখক হলেন কুরআনের প্রাজ্ঞ আলিম এবং আল্লাহর পথে একনিষ্ঠ মুজাহিদ ও রাব্বানি আলেম, শাইখুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)। আমরা এটি মুসলিমদের নিকট এমন এক সময়ে পেশ করছি যখন ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর ঘৃণ্য জায়নবাদের নৃশংস আক্রমণের মোকাবিলায় সাহসিকতা, ত্যাগ, অগ্রসর হওয়া এবং অটল থাকার ক্ষেত্রে তারা সর্বাধিক মুখাপেক্ষী।
শাইখুল ইসলাম, যিনি তাঁর তরবারি ও কলম দিয়ে "তাতারিদের" বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন, তিনি মুসলিমদেরকে এমন বিষয়সমূহ শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেননি যা তাদের দ্বীন ও দুনিয়াতে উপকারে আসবে, বিশেষ করে জিহাদ ও মুজাহিদগণের বিষয়াবলি এবং দ্বীনের সর্বোচ্চ শিখর সংক্রান্ত বিষয়ে।
সুতরাং প্রকৃত মুজাহিদ হলেন তিনি, যিনি অনুসারী ও সঠিক পথপ্রাপ্ত। "আর যারা আমার পথে জিহাদ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব" (আল-আনকাবুত: ৬৯)। অতএব, তিনি জ্ঞান ছাড়া কোনো কাজে অগ্রসর হন না; যাতে করে সংশোধনের চেয়ে বিপর্যয় বেশি না ঘটে।
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
فالدخول في أمور الجهاد بجهل يحول الجهاد إلى إفساد، ويجر الفتن والشرور على الإسلام والمسلمين.
والمجاهد المخلص: الذي لا يريد علوا في الأرض ولا فسادا لا يظلم ولا يعتدي ولا يبغي ولا يغدر، فكل من البغي والغدر سبب لانتصار المبغي عليه على الباغي؛ قال سبحانه: {ذَلِكَ وَمَنْ عَاقَبَ بِمِثْلِ مَا عُوقِبَ بِهِ ثُمَّ بُغِيَ عَلَيْهِ لَيَنْصُرَنَّهُ اللَّهُ} (الحج: من الآية60) .
والمجاهد المسلم: لا يجاهد في سبيل الله تشهيا في القتل وسفك الدماء وإهلاك الآخرين فهو يجمع في لقائه بعدوه لقصدين: بين إظهار كلمة التوحيد والغلظة على من خالفها ومنع المسلمين من إقامتها، وبين الإشفاق على الكفار من السيف أولا ومن عقبى النار آخرا بحيث يكون حبه وفرحه بإسلامهم أشد من الظفر بهم قتلى وأسرى؛ فإنهم عباد الله، قال سبحانه: {كَذَلِكَ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ} (النساء: من الآية94) 1.
وأما تحقيق نسبة الكتاب للمؤلف:
فقد أشار المصنف رحمه الله إليه عند كلامه على نفس المسألة؛ حيث يقول: "ولهذا جوز الأئمة الأربعة: أن ينغمس المسلم في صف
--------------------------------------------
অজ্ঞতা নিয়ে জিহাদের বিষয়ে প্রবেশ করা জিহাদকে ফাসাদে (বিপর্যয়ে) রূপান্তরিত করে এবং ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর ফিতনা ও অনিষ্ট টেনে আনে।
আর নিষ্ঠাবান মুজাহিদ হলেন তিনি: যিনি জমিনে শ্রেষ্ঠত্ব বা ফাসাদ চান না, তিনি জুলুম করেন না, সীমালঙ্ঘন করেন না, অন্যায় আচরণ করেন না এবং বিশ্বাসঘাতকতা করেন না। কেননা অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতা হলো অত্যাচারিত ব্যক্তির বিজয় এবং অত্যাচারী ব্যক্তির পরাজয়ের কারণ। মহান আল্লাহ বলেন: "এটিই। আর কেউ যদি তাকে যেভাবে কষ্ট দেওয়া হয়েছে তার সমপরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করে, অতঃপর তার ওপর আবারও জুলুম করা হয়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন।" (সুরা হাজ্জ: ৬০ নং আয়াতের অংশ)।
আর মুসলিম মুজাহিদ আল্লাহর পথে জিহাদ করেন না হত্যা করার আকাঙ্ক্ষা বা রক্তপাত ঘটানো ও অন্যদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে; বরং তিনি শত্রুর মোকাবিলায় দুটি উদ্দেশ্যকে একত্রিত করেন: তাওহীদের বাণীকে সমুন্নত করা এবং যারা এর বিরোধিতা করে ও মুসলিমদের তাওহীদ কায়েমে বাধা দেয় তাদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করা; দ্বিতীয়ত, কাফিরদের প্রতি দয়া ও মমতা রাখা—প্রথমে তাদের তরবারি থেকে রক্ষা করা এবং সবশেষে আগুনের পরিণতি থেকে বাঁচানো—যাতে তাদের ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে তিনি যে ভালোবাসা ও আনন্দ লাভ করবেন, তা তাদের হত্যা করা বা বন্দি করার মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের চেয়ে অধিক হয়; কারণ তারা আল্লাহর বান্দা। মহান আল্লাহ বলেন: "অনুরূপ তোমরাও ইতিপূর্বে ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন।" (সুরা নিসা: ৯৪ নং আয়াতের অংশ)। ১
আর লেখকের প্রতি বইটির সম্বন্ধের সত্যতা যাচাই প্রসঙ্গে:
গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই একই মাসআলা নিয়ে আলোচনার সময় সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন; সেখানে তিনি বলেন: "এই কারণেই চার ইমাম বৈধ বলেছেন: একজন মুসলিম সৈন্যদলের সারিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الكفار، وإن غلب على ظنه أنهم يقتلونه؛ إذا كان في ذلك مصلحة للمسلمين، وقد بسطنا القول في هذه المسألة في موضع آخر"1.
وهذا الموضع الآخر هو كتابنا هذا.
وقد ذكره العلامة ابن عبد الهادي رحمه الله في "العقود الدرية"2 بعنوان: "قاعدة في الانغماس في العدو وهل يباح؟ ".
وهو ما اعتمدته هنا.
وقد ذكر المصنف رحمه الله في أوله أن هذه المسألة هي: "في الرجل أو الطائفة يقاتل منهم أكثر من ضعفيهم إذا كان في قتالهم منفعة للدين، وقد غلب على ظنهم أنهم يقتلون".
وصف النسخة:
فقد اعتمدت على نسخة وحيدة تقع ضمن "مجموع" لشيخ الإسلام، محفوظ بـ"دار الكتب المصرية" برقم 444 فقه تيمور.
وتقع هذه النسخة في 48 صفحة، كما هو مرقم بالأصل.
كل صفحة بها 13 سطر. وهي مكتوبة بخط رقعة جميل.
وتم نسخها سنة 1319هـ، ولا يعرف ناسخها.
--------------------------------------------
কাফিরদের বিরুদ্ধে, যদিও তার প্রবল ধারণা হয় যে তারা তাকে হত্যা করবে; যদি তাতে মুসলিমদের জন্য কল্যাণ থাকে। আর আমরা এই বিষয়ে অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি"১।
আর এই অন্য স্থানটি হলো আমাদের এই কিতাবটিই।
আল্লামা ইবনে আব্দুল হাদী রহিমাহুল্লাহ এটি "আল-উকুুদ আদ-দুরিইয়্যাহ"২ গ্রন্থে "শত্রুর ভেতরে ঢুকে পড়ার মূলনীতি এবং তা কি বৈধ?" শিরোনামে উল্লেখ করেছেন।
আর এটিই আমি এখানে অবলম্বন করেছি।
লেখক রহিমাহুল্লাহ এর শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, এই মাসআলাটি হলো: "এমন ব্যক্তি বা দল সম্পর্কে যারা তাদের দ্বিগুণেরও বেশি সংখ্যক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করে, যদি তাদের লড়াইয়ে দ্বীনের কোনো উপকার থাকে এবং তাদের প্রবল ধারণা হয় যে তারা নিহত হবে"।
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:
আমি শাইখুল ইসলামের একটি "মাজমুআ" (সংকলন)-এর অন্তর্ভুক্ত একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা "দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ"-তে ৪৪৪ ফিকহ তায়মুর নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
এই পাণ্ডুলিপিটি ৪৮ পৃষ্ঠার, যেমনটি মূল কপিতে নম্বর দেওয়া আছে।
প্রতি পৃষ্ঠায় ১৩টি লাইন রয়েছে। এটি সুন্দর রুকআ লিপিতে লিখিত।
এবং এটি ১৩১৯ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছে, তবে এর অনুলিপিকারীর পরিচয় জানা যায়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأما عملنا في التحقيق:
فقد اتخذت هذه النسخة أصلا؛ وصوبت ما فيها من أخطاء بالرجوع إلى كلام المصنف في كتبه الأخرى.
كما قمت بضبط فقرات الكتاب كلها، ونسقت عباراتها ورقمت فقراتها برقم مسلسل ووضعت لها عناوين جانبية.
كما قمت بعزو الآيات ووضع العزو بجوار الآيات، وخرجت الأحاديث والآثار وبينت مرتبتها من حيث القبول والرد.
كما وضعت بعض التعليقات المهمة وأكثرها من كلام شيخ الإسلام من كتبه الأخرى، وبعض المصادر من كتب الفقه.
كما صنعت له فهارس للآيات والأحاديث والآثار والموضوعات.
هذا وقد اجتهدت في ذلك حسب الوسع والطاقة.
والله تعالى أسأل أن يجعل عملي هذا خالصا لوجهه، وأن يحفظنا من الفتن ما ظهر منها وما بطن، إنه سميع مجيب.
ولا حول ولا قوة إلا بالله، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
الإسماعيلية في 11محرم 1422هـ
أبو محمد أشرف بن عبد المقصود غفر الله له
আর আমাদের তাহকীক (সম্পাদনা) কর্মের ক্ষেত্রে:
আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে মূল হিসেবে গ্রহণ করেছি; আর এতে বিদ্যমান ভুলগুলো লেখকের অন্যান্য বইয়ের বক্তব্যের আলোকে সংশোধন করেছি।
এর পাশাপাশি আমি কিতাবের সকল অনুচ্ছেদ সুবিন্যস্ত করেছি, এর বাক্যগুলোর সমন্বয় করেছি এবং অনুচ্ছেদগুলোকে ক্রমানুসারে সংখ্যায়িত করে পার্শ্ব-শিরোনাম যুক্ত করেছি।
এছাড়া আমি আয়াতগুলোর রেফারেন্স প্রদান করেছি এবং রেফারেন্সগুলো আয়াতের পাশেই স্থাপন করেছি; আর হাদীস ও আসারসমূহ তাখরীজ করেছি এবং গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের নিরিখে সেগুলোর মান বর্ণনা করেছি।
পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ টীকা যোগ করেছি যার অধিকাংশ শাইখুল ইসলামের অন্যান্য কিতাব থেকে সংগৃহীত, আর কিছু ফিকহ শাস্ত্রের উৎস হতে নেওয়া।
এছাড়া আমি এর জন্য আয়াত, হাদীস, আসার ও বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি।
আর এক্ষেত্রে আমি আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।
আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং প্রকাশ্য ও গোপন সকল ফিতনা থেকে আমাদের রক্ষা করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই; তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
ইসমাইলিয়া, ১১ই মুহররম ১৪২২ হিজরী
আবু মুহাম্মদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসুদ, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المصنفالحمد لله نستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل الله ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وكفى بالله شهيدا صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد:
الحاجة إلى هذه المسألة.
1- فهذه مسألة يحتاج إليها المؤمنون عموما، والمجاهدون منهم خصوصا، وإن كان1 الإيمان لا يتم إلا بالجهاد2.
2- وكما قال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا} (الحجرات: من الآية15) .
3- ولكن الجهاد يكون للكفار والمنافقين أيضا.
4- كما قال تعالى: {جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ} (التوبة: من الآية73) .
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থকারের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যেন তিনি একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহর সালাত ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর।
অতঃপর:
এই মাসআলার প্রয়োজনীয়তা।
১- এটি এমন একটি মাসআলা যা সাধারণভাবে সকল মুমিনের প্রয়োজন এবং বিশেষভাবে তাদের মধ্য হতে মুজাহিদদের প্রয়োজন, যদিও জিহাদ ব্যতীত ঈমান পূর্ণ হয় না।
২- যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি} (আল-হুজুরাত: ১৫ আয়াতাংশ)।
৩- কিন্তু জিহাদ কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধেও হয়ে থাকে।
৪- যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন} (আত-তাওবাহ: ৭৩ আয়াতাংশ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
جهاد النفس والمال
5- ويكون الجهاد بـ: النفس والمال1.
6- كما قال تعالى: {وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ} (التوبة: من الآية41) 2.
7- ويكون بـ: غير ذلك وبنفقة.
8- لما ثبت في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال:" من جهز غازيا فقد غزا، ومن خلفه في أهله بخير فقد غزا" 3.
--------------------------------------------
জান ও মালের জিহাদ
৫- এবং জিহাদ হয়ে থাকে: জান ও মাল দিয়ে।১
৬- যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর পথে তোমাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করো।" (আত-তাওবাহ: ৪১ আয়াতের অংশ) ২।
৭- আর জিহাদ এ ছাড়াও অন্যান্য মাধ্যম ও অর্থ ব্যয়ের দ্বারাও হতে পারে।
৮- যেহেতু সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো যোদ্ধাকে সজ্জিত করে দিল (যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দিল) সে যেন যুদ্ধ করল, আর যে ব্যক্তি কোনো যোদ্ধার পরিবারের অনুপস্থিতিতে কল্যাণের সাথে তাদের দেখাশোনা করল সেও যেন যুদ্ধ করল।" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
جهاد اليد والقلب واللسان
9- ويكون الجهاد بـ: اليد والقلب واللسان.
10- كما قال صلى الله عليه وسلم: "جاهدوا المشركين بأيديكم وألسنتكم وأموالكم" 1.
11- وكما قال صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: "إن بالمدينة لرجالا ما سرتم مسيرا ولا قطعتم واديا إلا كانوا معكم حبسهم العذر" 2.
--------------------------------------------
হাত, অন্তর ও জিহ্বার জিহাদ
৯- আর জিহাদ হয়ে থাকে: হাত, অন্তর ও জিহ্বার মাধ্যমে।
১০- যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা তোমাদের হাত, তোমাদের জিহ্বা এবং তোমাদের সম্পদের মাধ্যমে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো।" ১।
১১- এবং যেমনটি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহিহ হাদিসে বলেছেন: "নিশ্চয়ই মদিনায় এমন কিছু লোক রয়েছে, তোমরা কোনো পথ অতিক্রম করোনি এবং কোনো উপত্যকা পাড়ি দাওনি অথচ তারা তোমাদের সাথেই ছিল; কেবল ওজর (অপারগতা) তাদের আটকে রেখেছিল।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
12- فهؤلاء كان جهادهم بقلوبهم ودعائهم.
13- وقد قال تعالى: {لا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً وَكُلّاً وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَفَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْراً عَظِيماً} (النساء:95) .
14- وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "الساعي1 على الصدقة بالحق كالمجاهد في سبيل الله" 2.
--------------------------------------------
১২- সুতরাং তাদের জিহাদ ছিল তাদের অন্তর ও দোয়ার মাধ্যমে।
১৩- মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মুমিনদের মধ্যে যারা কোনো ওজর ছাড়াই ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করে তারা সমান নয়। আল্লাহ তাঁর সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদকারীদের ঘরে বসে থাকাদের ওপর পদমর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আল্লাহ প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ জিহাদকারীদের ঘরে বসে থাকাদের ওপর মহা পুরস্কারের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।} (নিসা: ৯৫)।
১৪- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সঠিকভাবে সদকা আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর ন্যায়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
15- وقال أيضا: "المجاهد من جاهد نفسه في الله"1.
16- كما قال: "المؤمن من أمنه الناس على دمائهم وأموالهم، والمهاجر من هاجر ما نهى الله عنه، والمسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده" 2.
17- والجهاد في سبيل الله أنواع متعددة
… 3
--------------------------------------------
১৫- তিনি আরও বলেছেন: "মুজাহিদ সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করে।"১
১৬- যেমন তিনি বলেছেন: "মুমিন সেই ব্যক্তি যাকে মানুষ তাদের জীবন ও সম্পদের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে, মুহাজির সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে, আর মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।" ২
১৭- আর আল্লাহর পথে জিহাদ বহু প্রকারের
… ৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
18- … سبيل الله، ويفرق بينهما النية وإتباع الشريعة.
الغزو غزوان
19- كما في "السنن" عن معاذ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "الغزو غزوان:
فأما من ابتغى وجه الله، وأطاع الإمام، وأنفق الكريمة واجتنب الفساد؛ كان نومه [ونبهه] 1 كله أجر.
وأما من غزا فخر ورياء وسمعة، وعصى الإمام، وأفسد في الأرض؛ فإنه لم يرجع بالكفاف" 2.
--------------------------------------------
১৮- … আল্লাহর পথ, এবং উভয়ের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে নিয়ত (উদ্দেশ্য) এবং শরীয়তের অনুসরণ।
যুদ্ধ দুই প্রকার
১৯- যেমনটি "সুনান" গ্রন্থে মুআয থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যুদ্ধ দুই প্রকার:
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) অন্বেষণ করল, ইমামের আনুগত্য করল, উৎকৃষ্ট সম্পদ ব্যয় করল এবং ফাসাদ (বিপর্যয়) পরিহার করল; তবে তার ঘুমানো এবং তার জেগে থাকা সবই সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে।
আর যে ব্যক্তি অহংকার, লোকদেখানো এবং সুখ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করল, ইমামের অবাধ্য হলো এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করল; তবে সে সমান সমান (পাপ-পুণ্যহীন অবস্থা) নিয়েও ফিরে আসতে পারল না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
20- وفي "الصحيحين" عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قيل: يا رسول الله الرجل يقاتل شجاعة ويقاتل حمية؟ فأي ذلك في سبيل الله؟ فقال: "من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله" 1.
21- وقد قال تعالى: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ} (البقرة: من الآية193) .
--------------------------------------------
20- এবং ‘সহীহাইন’-এ আবু মুসা আল-আশআরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে, আবার কেউ আত্মমর্যাদাবোধের কারণে লড়াই করে; এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে লড়াই করে, সেই আল্লাহর পথে।" ১।
21- আর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই করো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং দীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়} (আল-বাকারাহ: আয়াত ১৯৩-এর অংশ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عنوان المسألة وصور لها:22- وهذه المسألة هي في: "الرجل أو الطائفة يقاتل منهم أكثر من ضعفيهم2 إذا كان في قتالهم منفعة للدين، وقد غلب على ظنهم أنهم يقتلون".
الصورة الأولى
23- كالرجل: يحمل وحده على صف الكفار ويدخل فيهم.
ويسمي العلماء ذلك: "الانغماس في العدو"؛ فإنه يغيب فيهم كالشيء ينغمس فيه فيما يغمره.
--------------------------------------------
মাসআলার শিরোনাম এবং এর কতিপয় রূপ:২২- আর এই মাসআলাটি হলো: "এমন ব্যক্তি বা দল সম্পর্কে যারা তাদের দ্বিগুণেরও বেশি শত্রুর মোকাবিলায় যুদ্ধ করে২ যখন তাদের যুদ্ধে দ্বীনের কোনো কল্যাণ থাকে এবং তাদের প্রবল ধারণা থাকে যে তারা নিহত হবে।"
প্রথম রূপ
২৩- যেমন কোনো ব্যক্তি: যে একাকী কাফেরদের সারির ওপর আক্রমণ করে এবং তাদের মাঝে ঢুকে পড়ে।
আলেমগণ একে "শত্রুর মাঝে নিমজ্জিত হওয়া" বলে অভিহিত করেন; কেননা সে তাদের মাঝে এমনভাবে অদৃশ্য হয়ে যায় যেমন কোনো বস্তু তাকে আচ্ছন্নকারী জিনিসের মধ্যে নিমজ্জিত হলে অদৃশ্য হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الصورة الثانية
24- وكذلك الرجل: يقتل بعض رؤساء الكفار بين أصحابه.
مثل أن يثب عليه جهرة إذا اختلسه، ويرى أنه يقتله ويغتفل1 بعد ذلك.
الصورة الثالثة
25- والرجل: ينهزم أصحابه فيقاتل وحده أو هو وطائفة معه العدو وفي ذلك نكاية2 في العدو، ولكن يظنون أنهم يقتلون.
26- فهذا كله جائز عند عامة علماء الإسلام من أهل المذاهب الأربعة وغيرهم3.
اتفاق المذاهب الأربعة على جواز هذه الصورة
27- وليس في ذلك إلا خلافا شاذا4.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পদ্ধতি
২৪- অনুরূপভাবে সেই ব্যক্তি: যে কাফেরদের কিছু নেতাকে তাদের সাথীদের মাঝেই হত্যা করে।
যেমন—প্রকাশ্যে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া যখন সে তাকে একা পায়, আর সে মনে করে যে সে তাকে হত্যা করবে এবং এরপর সে নিজেও অসতর্ক অবস্থায় আক্রান্ত হবে।১
তৃতীয় পদ্ধতি
২৫- এবং সেই ব্যক্তি: যার সাথীরা পরাজিত হয়ে পলায়ন করে, কিন্তু সে একাকী অথবা একদল লোক নিয়ে শত্রুর সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। এতে শত্রুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি২ হয়, তবে তারা ধারণা করে যে তারা নিহত হবে।
২৬- চার মাযহাবের অনুসারী এবং অন্যান্য অধিকাংশ ইসলামী আলেমদের নিকট এই সবই বৈধ।৩
এই পদ্ধতির বৈধতার ব্যাপারে চার মাযহাবের ঐকমত্য
২৭- এতে কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন মতভেদ রয়েছে।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
نص الشافعي وأحمد وأبي حنيفة ومالك على الجواز
28- وأما الأئمة المتبعون كـ: "الشافعي"1 و"أحمد"2 وغيرهما3 فقد نصوا على جوز ذلك.
29- وكذلك: هو مذهب:
- "أبي حنيفة"4.
--------------------------------------------
শাফিঈ, আহমাদ, আবু হানিফা এবং মালিক বৈধতার পক্ষে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন।
২৮- আর অনুসরণীয় ইমামগণ যেমন: "শাফিঈ" এবং "আহমাদ" ও অন্যান্যদের ক্ষেত্রে বলতে গেলে, তাঁরা এর বৈধতার পক্ষে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন।
২৯- এবং অনুরূপভাবে এটি "আবু হানিফা"-র মাযহাব (মত)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
30- و"ملك"1 وغيرهما.
--------------------------------------------
30- এবং "মালিক"১ ও অন্যান্যরা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أدلة الكتاب والسنة والإجماع
31- ودليل ذلك: الكتاب، والسنة، وإجماع سلف الأمة
--------------------------------------------
কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার দলীলসমূহ
৩১- আর এর দলীল হলো: কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফগণের ইজমা (ঐক্যমত)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أدلة من الكتاب…الآية الأولى
32- فقد قال الله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَؤُوفٌ بِالْعِبَادِ} (البقرة:207) .
سبب النزول
33- وقد ذكر أن سبب نزول هذه الآية1:
أن صهيبا خرج مهاجرا من مكة إلى المدينة إلى النبي صلى الله عليه وسلم. فلحقه المشركون وهو وحده.
فنشل كنانته، وقال: والله لا يأتي رجل منكم إلا رميته.
فأراد قتالهم وحده، وقال: إن أحببتم أن تأخذوا مالي بمكة فخذوه، وأنا أدلكم عليه.
ثم قدم على النبي صلى الله عليه وسلم. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "ربح البيع أبا يحي".
--------------------------------------------
কিতাব থেকে দলীলসমূহ…প্রথম আয়াত
৩২- আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর মানুষের মধ্যে এমনও ব্যক্তি আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেকে বিক্রি করে দেয়; আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।} (আল-বাক্বারাহ: ২০৭)।
নাযিলের কারণ
৩৩- এই আয়াতটি নাযিলের কারণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যে: ১
সুহাইব মক্কা থেকে মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট হিজরতের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। মুশরিকরা তাঁকে একা পেয়ে পিছু ধাওয়া করল।
তখন তিনি তাঁর তূণ থেকে তীর বের করলেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্য থেকে যে-ই আমার কাছে আসবে, আমি তাকে তীর বিদ্ধ করব।
তিনি একাই তাদের সাথে লড়াই করার ইচ্ছা করলেন এবং বললেন: তোমরা যদি মক্কায় থাকা আমার সম্পদ নিয়ে নিতে চাও, তবে তা নিয়ে নাও, আমি তোমাদেরকে সেটির পথ দেখিয়ে দিচ্ছি।
এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হে আবু ইয়াহইয়া, সওদা বা ব্যবসাটি লাভজনক হয়েছে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
34- وروى أحمد بإسناده: أن رجلا حمل وحده على العدو فقال الناس: ألقى بيده إلى التهلكة. فقال عمر: كلا بل هذا ممن قال الله فيه: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَؤُوفٌ بِالْعِبَادِ} (البقرة:207) .1
35- وقوله تعالى: {يَشْرِي نَفْسَهُ} أي يبيع نفسه، فيقال شراه وبيعه سواء، واشتراه وابتاعه سواء، ومنه قوله: {وَشَرَوْهُ بِثَمَنٍ بَخْسٍ دَرَاهِمَ مَعْدُودَةٍ} (يوسف: من الآية20) أي باعوه.
فقوله: {يَشْرِي نَفْسَهُ} أي يبيع نفسه لله تعالى ابتغاء مرضاته وذلك يكون بأن يبذل نفسه فيما يحبه الله ويرضاه، وإن قتل أو غلب على ظنه أنه يقتل.
--------------------------------------------
৩৪- আহমদ তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি একাকী শত্রুর ওপর আক্রমণ চালালো। তখন লোকজন বলল: সে নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উমর (রা.) বললেন: কক্ষনো নয়, বরং এ সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেকে বিক্রি করে দেয়; আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।} (আল-বাকারা: ২০৭)।১
৩৫- এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিজেকে বিক্রি করে দেয়} এর অর্থ হলো নিজের জান বিক্রয় করা। বলা হয় 'শরাহু' ও 'বিআহু' একই অর্থবোধক, এবং 'ইশতারাহু' ও 'ইবতাআহু'ও একই অর্থ। এর উদাহরণ আল্লাহর বাণী: {আর তারা তাকে স্বল্প মূল্যে বিক্রয় করল, গুটিকয়েক দিরহামের বিনিময়ে।} (ইউসুফ: ২০-এর অংশ বিশেষ) অর্থাৎ তারা তাকে বিক্রয় করে দিয়েছে।
সুতরাং আল্লাহর বাণী: {নিজেকে বিক্রি করে দেয়} এর অর্থ হলো নিজের জানকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির অন্বেষায় তাঁর কাছে বিক্রয় করা। আর তা অর্জিত হয় আল্লাহর প্রিয় ও সন্তুষ্টির কাজে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে, যদিও সে নিহত হয় কিংবা সে নিহত হবে বলে তার প্রবল ধারণা থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الآية الثانية
36- كما قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْداً عَلَيْهِ حَقّاً فِي التَّوْرَاةِ وَالْأِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ_ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} (التوبة:111-112) .
37- وهذه الآية وهي قوله: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ} يدل على ذلك أيضا.
أفضل الشهادة
38- فإن المشتري يسلم إليه ما اشتراه، وذلك ببذل النفس والمال في سبيل الله وطاعته، وإن غلب على ظنه أن النفس تقتل والجواد يعقر، فهذا من أفضل الشهادة.
39- لما روى البخاري في صحيحه عن ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما من أيام العمل الصالح فيها [أحب] 1 إلى الله من هذه الأيام" يعني أيام العشر.
قالوا: يا رسول الله! ولا الجهاد في سبيل الله؟
قال: "ولا الجهاد في سبيل الله إلا رجل خرج بنفسه وماله ثم
--------------------------------------------
দ্বিতীয় আয়াত
৩৬- যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই বিনিময়ে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, ফলে তারা হত্যা করে এবং নিহত হয়। তাওরাত, ইনজীল ও কুরআনে এ সম্পর্কে সত্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আর আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রতিশ্রুতি পালনকারী আর কে আছে? সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে যে সওদা করেছ, সেই সওদার জন্য আনন্দিত হও। আর এটাই হলো মহাসাফল্য। তারা তওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী (বা আল্লাহর পথে পরিভ্রমণকারী), রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎ কাজের আদেশ দানকারী, অসৎ কাজে নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমানাসমূহ হিফাযতকারী। আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন।} (আত-তাওবাহ: ১১১-১১২)।
৩৭- আর এই আয়াতটি, যা হলো তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন}, তাও এর ওপর প্রমাণ পেশ করে।
সর্বোত্তম শাহাদাত
৩৮- কেননা ক্রেতাকে তাঁর ক্রীত বস্তু সোপর্দ করা হয়, আর তা হলো আল্লাহর পথে ও তাঁর আনুগত্যে জান ও মাল উৎসর্গ করার মাধ্যমে; যদিও তার প্রবল ধারণা থাকে যে তার প্রাণ সংহার করা হবে এবং তার সওয়ারী পশুটি নিহত হবে, তবুও এটাই হলো সর্বোত্তম শাহাদাত।
৩৯- যেমনটি ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "এমন কোনো দিন নেই যাতে নেক আমল করা আল্লাহর নিকট এই দিনগুলোর [অধিক প্রিয়] ১ অপেক্ষা বেশি পছন্দনীয়," অর্থাৎ যিলহজ্জের দশ দিন।
সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?
তিনি বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে নিজের জান ও মাল নিয়ে (জিহাদে) বের হয়েছে, অতঃপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
لم يرجع من ذلك بشيء" 1.
40- وفي رواية: "يعقر جواده وأهريق دمه" 2.
41- وفي "السنن" عن عبد الله بن حبشي أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل أي العمل أفضل؟ قال: طول القيام.
قيل: أي الصدقة أفضل؟ قال جهد المقل.
قيل: فأي الهجرة [أفضل؟ قال: من هجر ما حرم الله عليه.
قيل: فأي الجهاد أفضل؟] 3 قال: من جاهد المشركين بنفسه وماله.
قيل: فأي القتل أشرف؟ قال: من أهريق دمه، وعقر جواده4.
--------------------------------------------
...সে এর কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।" ১.
৪০- এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "তার ঘোড়াটি জখম করা হয়েছে এবং তার রক্ত ঝরানো হয়েছে।" ২.
৪১- এবং "সুনান"-এ আবদুল্লাহ ইবনে হাবশি থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা (নামাজে)।"
জিজ্ঞাসা করা হলো: কোন সদকা সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "অল্প পুঁজির অধিকারীর সামর্থ্য অনুযায়ী দান।"
জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে কোন হিজরত [সর্বোত্তম? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা বর্জন করে।
জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে কোন জিহাদ সর্বোত্তম?] ৩ তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি নিজের জান ও মাল দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।"
জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে কোন শাহাদাত অধিক মর্যাদাপূর্ণ? তিনি বললেন: "যার রক্ত ঝরানো হয়েছে এবং যার ঘোড়াটি জখম করা হয়েছে।" ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الآية الثالثة
42- وأيضا: فإن الله سبحانه قد أخبر1 أنه أمر خليله بذبح ابنه ليبتليه هل يقتل ولده في محبة الله وطاعته؟!
43- وقتل الإنسان ولده قد يكون أشق عليه من تعريضه نفسه للقتل، والقتال في سبيل الله أحب إلى الله مما ليس كذلك.
امتحان إبراهيم بذبح ابنه
44- والله أمر إبراهيم بذبح ابنه قربانا؛ ليمتحنه بذلك ولذلك نسخ ذلك عنه لما علم صدق عزمه في قتله؛ فإن المقود لم يكن ذبحه لكن ابتلاء إبراهيم2.
--------------------------------------------
তৃতীয় আয়াত
42- আরও কথা হলো: আল্লাহ সুবহানাহু সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর খলীলকে (বন্ধুকে) তার পুত্রকে যবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তাকে পরীক্ষা করা যায় যে, তিনি আল্লাহর মহব্বত ও আনুগত্যে নিজ সন্তানকে হত্যা করেন কি না?!
43- একজন মানুষের জন্য তার নিজ সন্তানকে হত্যা করা তার নিজের জীবনকে হত্যার সম্মুখীন করার চেয়েও অধিক কষ্টকর হতে পারে; আর আল্লাহর পথে লড়াই করা আল্লাহর নিকট এর বিপরীত বিষয়ের চেয়ে অধিক প্রিয়।
পুত্র যবেহ করার মাধ্যমে ইবরাহীমের পরীক্ষা
44- আর আল্লাহ ইবরাহীমকে তার পুত্রকে কুরবানি হিসেবে যবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাকে এর মাধ্যমে পরীক্ষা করার জন্য। আর এ কারণেই যখন তিনি তাকে হত্যা করার ব্যাপারে তার সংকল্পের সততা সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন তা তাঁর উপর থেকে রহিত করে দিলেন; কেননা মূল উদ্দেশ্য যবেহ করা ছিল না, বরং তা ছিল ইবরাহীমের পরীক্ষা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ابتلاء الله للمؤمنين ببذل أنفسهم
45- والله تعالى يبتلي المؤمنين ببذل أنفسهم، ليقتلوا في سبيل الله ومحبة رسوله؛ فإن قتلوا كانوا شهداء، وإن عاشوا كانوا سعداء.
46- كما قال: {قُلْ هَلْ تَرَبَّصُونَ بِنَا إِلَّا إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ} (التوبة: من الآية52) .
মুমিনদের নিজেদের জীবন বিসর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর পরীক্ষা
45- আর আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে তাদের জীবন উৎসর্গের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, যেন তারা আল্লাহর পথে এবং তাঁর রাসূলের ভালোবাসায় নিহত হন; সুতরাং তারা যদি নিহত হন তবে তারা শহীদ হন, আর যদি জীবিত থাকেন তবে তারা সৌভাগ্যবান হন।
46- যেমন তিনি বলেছেন: {বলুন, তোমরা কি আমাদের জন্য দু’টি কল্যাণের একটি ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতীক্ষা করছ?} (আত-তাওবাহ: ৫২ নম্বর আয়াতের অংশ) ।
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الآية الرابعة
47- وقد قال لبني إسرائيل: {فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ عِنْدَ بَارِئِكُمْ} (البقرة: من الآية54) .
48- أي: ليقتل بعضكم بعضا.
49- فألقى عليهم ظلمة، حتى جعل الذين لم يعبدوا العجل يقتلون الذين عبدوه.
50- هذا الذي كان في شرع من قبلنا من أمره بقتل بعضهم بعضا1 قد عوضنا الله بخير منه وأنفع، وهو جهاد المؤمنين عدو الله وعدوهم وتعريضهم أنفسهم لأن يقتلوا في سبيله بأيدي عدوهم لا بأيدي بعضهم بعضا، وذلك أعظم درجة وأكثر أجرا.
--------------------------------------------
চতুর্থ আয়াত
৪৭- আর তিনি বনী ইসরাঈলকে বলেছিলেন: {অতএব তোমরা তোমাদের স্রষ্টার নিকট তওবা করো এবং তোমরা নিজেদের হত্যা করো, এটিই তোমাদের স্রষ্টার নিকট তোমাদের জন্য উত্তম} (আল-বাকারাহ: ৫৪ আয়াতের অংশ)।
৪৮- অর্থাৎ: যেন তোমাদের একে অপরকে হত্যা করে।
৪৯- অতঃপর তিনি তাদের ওপর অন্ধকার নিক্ষেপ করলেন, এমনকি যারা বাছুর পূজা করেনি তারা যেন তাদের হত্যা করতে থাকে যারা তা পূজা করেছিল।
৫০- আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়তে তাদের একে অপরকে হত্যার যে নির্দেশ ছিল, আল্লাহ আমাদের তার পরিবর্তে আরও উত্তম ও অধিক উপকারী বিধান দান করেছেন; আর তা হলো মুমিনদের আল্লাহর শত্রু ও তাদের নিজেদের শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং নিজেদের শত্রুর হাতে তাঁর পথে নিহত হওয়ার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করা, একে অপরের হাতে নয়। আর তা মর্যাদায় অধিক মহত্তর এবং সওয়াবের দিক থেকে অধিকতর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
51- وقد قال تعالى: {وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ اقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ أَوِ اخْرُجُوا مِنْ دِيَارِكُمْ مَا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِنْهُمْ وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْراً لَهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتاً وَإِذاً لَآتَيْنَاهُمْ مِنْ لَدُنَّا أَجْراً عَظِيماً وَلَهَدَيْنَاهُمْ صِرَاطاً مُسْتَقِيماً} (النساء:66-68) .
৫১- এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যদি আমি তাদের ওপর অবধারিত করে দিতাম যে, তোমরা নিজেদের হত্যা করো অথবা তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে যাও, তবে তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক ব্যতীত তারা তা করত না। আর তারা যদি তা করত যার উপদেশ তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, তবে তা তাদের জন্য উত্তম ও (ঈমানে) অধিকতর দৃঢ়কারী হত। আর তখন অবশ্যই আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে মহান প্রতিদান দান করতাম। এবং অবশ্যই আমি তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করতাম।" (আন-নিসা: ৬৬-৬৮)।
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ذم الفرار من الموت
52- وأيضا: فإن الله أمر بالجهاد في سبيله بالنفس والمال مع أن الجهاد مظنة القتل بل لا بد منه في العادة من القتل.
الآية الخامسة
53- فقال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَخْشَوْنَ النَّاسَ} إلى قوله: {فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ} النساء:77-78) .
الآية السادسة
54- وقال تعالى: {وَلَقَدْ كَانُوا عَاهَدُوا اللَّهَ مِنْ قَبْلُ لا يُوَلُّونَ الْأَدْبَارَ وَكَانَ عَهْدُ اللَّهِ مَسْؤُولاً قُلْ لَنْ يَنْفَعَكُمُ الْفِرَارُ إِنْ فَرَرْتُمْ مِنَ الْمَوْتِ أَوِ الْقَتْلِ وَإِذاً لا تُمَتَّعُونَ إِلَّا قَلِيلاً قُلْ مَنْ ذَا الَّذِي يَعْصِمُكُمْ مِنَ اللَّهِ إِنْ أَرَادَ بِكُمْ سُوءاً أَوْ أَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةً وَلا يَجِدُونَ لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيّاً وَلا نَصِيراً} (الأحزاب:15-17) .
55- فأخبر سبحانه:
* أن الفرار من الموت أو القتل لا ينفع بل لا بد أن يموت العبد وما أكثر من يفر فيموت أو يقتل، وما أكثر من ثبت فلا يقتل1.
* ثم قال: ولو عشتم لم تمتعوا إلا قليلا ثم تموتوا.
* ثم أخبر أنه لا أحد يعصمهم من الله؛ إن أراد أن يرحمهم أو يعذبهم، فالفرار من طاعته لا ينجيهم.
--------------------------------------------
মৃত্যু থেকে পলায়নের নিন্দা
৫২- এবং আরও বিষয় এই যে: আল্লাহ তাআলা তাঁর পথে জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করার আদেশ দিয়েছেন, যদিও জিহাদ হলো নিহতের সম্ভাব্য স্থান, বরং সাধারণত জিহাদে নিহতের ঘটনা ঘটবেই।
পঞ্চম আয়াত
৫৩- মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি কি তাদের দেখনি যাদের বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখো, সালাত কায়েম করো এবং জাকাত দাও? অতঃপর যখন তাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হলো, তখন তাদের একদল মানুষকে ভয় পেতে লাগল...} মহান আল্লাহর বাণী: {সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গের ভেতরে থাকলেও} পর্যন্ত (আন-নিসা: ৭৭-৭৮)।
ষষ্ঠ আয়াত
৫৪- মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই তারা ইতিপূর্বে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা পিঠ ফেরাবে না। আর আল্লাহর অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বলো, তোমরা যদি মৃত্যু বা হত্যার ভয়ে পলায়ন করো, তবে এই পলায়ন তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না এবং তখন তোমাদের সামান্যই ভোগ করতে দেওয়া হবে। বলো, কে তোমাদের আল্লাহ থেকে রক্ষা করবে যদি তিনি তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে চান অথবা তোমাদের প্রতি দয়া করতে চান? আর তারা আল্লাহ ছাড়া নিজেদের জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না} (আল-আহজাব: ১৫-১৭)।
৫৫- অতঃপর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে:
* মৃত্যু বা হত্যা থেকে পলায়ন কোনো উপকারে আসে না, বরং বান্দার মৃত্যু অনিবার্য। কতই না এমন ব্যক্তি আছে যে পলায়ন করে অথচ সে মারা যায় বা নিহত হয়, আবার কতই না এমন ব্যক্তি আছে যে অটল থাকে অথচ সে নিহত হয় না।
* তারপর তিনি বলেছেন: আর যদি তোমরা বেঁচেও থাকো তবে তোমাদের সামান্যই ভোগ করতে দেওয়া হবে, এরপর তোমাদের মরতেই হবে।
* এরপর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, কেউ তাদের আল্লাহ থেকে রক্ষা করতে পারবে না; যদি তিনি তাদের প্রতি দয়া করতে চান অথবা তাদের শাস্তি দিতে চান। সুতরাং তাঁর আনুগত্য থেকে পলায়ন করা তাদের মুক্তি দেবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
* وأخبر أنه ليس لهم من دون الله ولي ولا نصير.
مايوجبه الجبن من الفرار هو من الكبائر
56- وقد بين في كتابه: أن ما يوجبه الجبن من الفرار هو من الكبائر الموجبة للنار1، فقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفاً فَلا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ) وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفاً لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزاً إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ} (الأنفال:15-16) .
--------------------------------------------
এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সাহায্যকারীও নেই।
ভীরুতা যে পলায়ন অপরিহার্য করে, তা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত
৫৬- এবং তিনি তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে: ভীরুতা যে পলায়ন অপরিহার্য করে, তা জাহান্নাম অবধারিতকারী কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত১, সুতরাং তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখী হবে, তখন তাদের থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না। আর সেদিন যদি কেউ তাদের থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে—তবে যুদ্ধের কৌশলগত কারণে কিংবা নিজ দলের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য হলে ভিন্ন কথা—সে আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হবে এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য।} (আল-আনফাল: ১৫-১৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
57- فأخبر أن الذين يخافون العدو خوفا منعهم من الجهاد منافقون فقال: {وَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنَّهُمْ لَمِنْكُمْ وَمَا هُمْ مِنْكُمْ وَلَكِنَّهُمْ قَوْمٌ يَفْرَقُونَ لَوْ يَجِدُونَ مَلْجَأً أَوْ مَغَارَاتٍ أَوْ مُدَّخَلاً لَوَلَّوْا إِلَيْهِ وَهُمْ يَجْمَحُونَ) (التوبة:56-57) .
58- وفي "الصحيحين" عن النبي أنه عد الكبائر؛ فذكر: "الشرك بالله وعقوق الوالدين، والسحر واليمين الغموس وقذف المحصنات الغافلات المؤمنات".
وذكر منها: "الفرار من الزحف في الصفين"1.
59- وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "شر ما في المرء: شح هالع، أو جبن خالع"2.
--------------------------------------------
৫৭- অতঃপর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, যারা শত্রুকে এমন ভয় পায় যা তাদেরকে জিহাদ থেকে বিরত রাখে তারা মুনাফিক। তিনি বলেছেন: {আর তারা আল্লাহর নামে শপথ করে যে, তারা অবশ্যই তোমাদের অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা ভয় পায়। যদি তারা কোনো আশ্রয়স্থল বা কোনো গুহা কিংবা কোনো প্রবেশ করার মত স্থান পেত, তবে তারা সেদিকেই দ্রুত ধাবিত হতো এবং তারা বেপরোয়া হয়ে পলায়ন করত।} (আত-তাওবাহ: ৫৬-৫৭)।
৫৮- আর 'সহীহাইন'-এ নবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কবিরা গুনাহসমূহ গণনা করেছেন; অতঃপর উল্লেখ করেছেন: "আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, যাদু করা, মিথ্যা শপথ এবং সচ্চরিত্রা উদাসীন মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া।"
এবং তিনি এগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন: "যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা।"
৫৯- আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো: উদ্বেগজনক কৃপণতা অথবা হৃদয়কাঁপানো ভীরুতা।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
أدلة من السنة…فمن وجوه كثيرة:
عدد الكفار في بدر بقدر المسلمين ثلاث مرات
60- أن المسلمين يوم بدر كانوا ثلاثمائة وبضعة عشر وكان عدوهم بقدرهم ثلاث مرات أو أكثر1، وبدر أفضل الغزوات وأعظمها.
61- فعلم: أن القوم يشرع لهم أن يقاتلوا من يزيدون على ضعفهم، ولا فرق في ذلك بين الواحد والعدد، فمقاتلة الواحد لثلاثة كمقاتلة الثلاثة للعشرة.
المسلمون في أحد كانوا ربع الكفار
62- وأيضا: فالمسلمون يوم أحد كانوا نحو من ربع العدو؛ فإن العدو كانوا ثلاثة آلاف أو نحوها2، وكان المسلمون نحو السبعمائة أو قريبا منها3.
--------------------------------------------
সুন্নাহ থেকে প্রমাণসমূহ…অনেকগুলো দিক থেকে:
বদরে কাফিরদের সংখ্যা ছিল মুসলিমদের সংখ্যার তিনগুণ
৬০- বদরের যুদ্ধে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল তিনশ দশের অধিক, এবং তাদের শত্রুপক্ষ ছিল তাদের তুলনায় তিনগুণ বা তারও বেশি১। আর বদর হলো যুদ্ধগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম ও মহান।
৬১- সুতরাং জানা গেল যে: মুসলিমদের জন্য তাদের দ্বিগুণ সংখ্যার অধিক শত্রুর সাথে যুদ্ধ করা বিধিসম্মত। এক্ষেত্রে একক ব্যক্তি বা সমষ্টির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; সুতরাং একজনের তিনজনের সাথে যুদ্ধ করা, তিনজনের দশজনের সাথে যুদ্ধ করার মতোই।
উহুদ যুদ্ধে মুসলিমরা ছিল কাফিরদের এক-চতুর্থাংশ
৬২- আরও কথা হলো: উহুদ যুদ্ধে মুসলিমরা ছিল শত্রুপক্ষের প্রায় এক-চতুর্থাংশ; কারণ শত্রুপক্ষ ছিল তিন হাজার বা তার কাছাকাছি২, আর মুসলিমরা ছিল সাতশ বা তার কাছাকাছি৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
المسلمون في الخندق دون الألفين والأحزاب عشرة آلاف
63- وأيضا: فالمسلمون يوم الخندق كان العدو بقدرهم مرات، كان أكثر من عشرة آلاف1، وهم الأحزاب الذين تحزبوا عليهم من قريش وحلفائها وأحزابها الذين كانوا حول مكة وغطفان2 وأهل نجد واليهود الذين نقضوا العهد وهم بنو قريظة جيران3 أهل المدينة، وكان المسلمون بالمدينة دون الألفين.
حمل الرجل وحده على العدو وبمرأى النبي صلى الله عليه وسلم
64- وأيضا: فقد كان الرجل وحده على عهد النبي صلى الله عليه وسلم4 يحمل على العدو بمرأى من النبي صلى الله عليه وسلم، وينغمس فيهم، فيقاتل حتى يقتل وهذا كان مشهورا بين المسلمين على عهد النبي صلى الله عليه وسلم وخلفائه.
--------------------------------------------
খন্দকের যুদ্ধে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল দুই হাজারের কম এবং সম্মিলিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল দশ হাজার
৬৩- আরও একটি বিষয়: খন্দকের যুদ্ধের দিন শত্রুবাহিনীর সংখ্যা মুসলিমদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ছিল, তাদের সংখ্যা ছিল দশ হাজারের অধিক।১ তারা ছিল সেই সম্মিলিত বাহিনী (আহযাব) যারা মক্কার চতুষ্পার্শ্বস্থ কুরাইশ, তাদের মিত্র ও সহযোগী দলসমূহ, গাতাফান২ গোত্র, নজদবাসী এবং অঙ্গীকার ভঙ্গকারী ইহুদি তথা মদিনাবাসীদের প্রতিবেশী৩ বনু কুরাইজা গোত্র থেকে তাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছিল। তখন মদিনায় মুসলিমদের সংখ্যা ছিল দুই হাজারের কম।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে এক ব্যক্তির একাকী শত্রুবাহিনীর ওপর আক্রমণ
৬৪- আরও একটি বিষয়: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে৪ এমনও হয়েছে যে, একজন ব্যক্তি একাকী নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চোখের সামনেই শত্রুবাহিনীর ওপর চড়াও হতেন এবং তাদের ব্যূহের মাঝে ঢুকে পড়তেন। অতঃপর তিনি লড়াই চালিয়ে যেতেন যতক্ষণ না তিনি নিহত হতেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উত্তরসূরি খলিফাদের যুগে মুসলিমদের মধ্যে এটি একটি প্রসিদ্ধ বিষয় ছিল।
--------------------------------------------