(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: -)
قاعدة في الانغماس في العدو وهل يباح   (ابن تيمية)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: قاعدة في الانغماس في العدو وهل يباح

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

المحقق: أبو محمد أشرف بن عبد المقصود

الناشر: أضواء السلف

الطبعة: الأولى 1422هـ - 2002م

عدد الصفحات: 79

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শত্রুর মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার মূলনীতি এবং এর বৈধতা   (ইবনে তাইমিয়া)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


বই: শত্রুর মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার মূলনীতি এবং এর বৈধতা

লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)

সম্পাদক: আবু মুহাম্মদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসুদ

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ

সংস্করণ: প্রথম ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة التحقيق

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

أما بعد: فهذا سفر جديد ومؤلف نفيس ينشر لأول مرة، للعلامة القرآني والمجاهد المرابط الرباني، شيخ الإسلام والمسلمين أبي العباس أحمد بن تيمية رحمه الله، نقدمه للمسلمين في وقت هم أحوج ما يكونون فيه للشجاعة والتضحية والإقدام والثبات في مواجهة الهجمة الشرسة للصهيونية البغيضة على الإسلام والمسلمين.

وشيخ الإسلام الذي جاهد "التتار" بسيفه وقلمه لا يألو جهدا في تعليم المسلمين ما يعود عليهم بالنفع في دينهم ودنياهم لا سيما ما يتعلق بأمور الجهاد والمجاهدين، وذروة سنام الدين.

فالمجاهد الحق: هو المتبع المهتدي {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} (العنكبوت: 69) ، فلا يقدم على أي عمل بغير علم؛ حتى لا يفسد أكثر مما يصلح.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌সম্পাদনার ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর: এটি একটি নতুন গ্রন্থ এবং মূল্যবান রচনা যা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে। এর লেখক হলেন কুরআনের প্রাজ্ঞ আলিম এবং আল্লাহর পথে একনিষ্ঠ মুজাহিদ ও রাব্বানি আলেম, শাইখুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)। আমরা এটি মুসলিমদের নিকট এমন এক সময়ে পেশ করছি যখন ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর ঘৃণ্য জায়নবাদের নৃশংস আক্রমণের মোকাবিলায় সাহসিকতা, ত্যাগ, অগ্রসর হওয়া এবং অটল থাকার ক্ষেত্রে তারা সর্বাধিক মুখাপেক্ষী।

শাইখুল ইসলাম, যিনি তাঁর তরবারি ও কলম দিয়ে "তাতারিদের" বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন, তিনি মুসলিমদেরকে এমন বিষয়সমূহ শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেননি যা তাদের দ্বীন ও দুনিয়াতে উপকারে আসবে, বিশেষ করে জিহাদ ও মুজাহিদগণের বিষয়াবলি এবং দ্বীনের সর্বোচ্চ শিখর সংক্রান্ত বিষয়ে।

সুতরাং প্রকৃত মুজাহিদ হলেন তিনি, যিনি অনুসারী ও সঠিক পথপ্রাপ্ত। "আর যারা আমার পথে জিহাদ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব" (আল-আনকাবুত: ৬৯)। অতএব, তিনি জ্ঞান ছাড়া কোনো কাজে অগ্রসর হন না; যাতে করে সংশোধনের চেয়ে বিপর্যয় বেশি না ঘটে।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
فالدخول في أمور الجهاد بجهل يحول الجهاد إلى إفساد، ويجر الفتن والشرور على الإسلام والمسلمين.

والمجاهد المخلص: الذي لا يريد علوا في الأرض ولا فسادا لا يظلم ولا يعتدي ولا يبغي ولا يغدر، فكل من البغي والغدر سبب لانتصار المبغي عليه على الباغي؛ قال سبحانه: {ذَلِكَ وَمَنْ عَاقَبَ بِمِثْلِ مَا عُوقِبَ بِهِ ثُمَّ بُغِيَ عَلَيْهِ لَيَنْصُرَنَّهُ اللَّهُ} (الحج: من الآية60) .

والمجاهد المسلم: لا يجاهد في سبيل الله تشهيا في القتل وسفك الدماء وإهلاك الآخرين فهو يجمع في لقائه بعدوه لقصدين: بين إظهار كلمة التوحيد والغلظة على من خالفها ومنع المسلمين من إقامتها، وبين الإشفاق على الكفار من السيف أولا ومن عقبى النار آخرا بحيث يكون حبه وفرحه بإسلامهم أشد من الظفر بهم قتلى وأسرى؛ فإنهم عباد الله، قال سبحانه: {كَذَلِكَ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلُ فَمَنَّ اللَّهُ عَلَيْكُمْ} (النساء: من الآية94) 1.

وأما تحقيق نسبة الكتاب للمؤلف:

فقد أشار المصنف رحمه الله إليه عند كلامه على نفس المسألة؛ حيث يقول: "ولهذا جوز الأئمة الأربعة: أن ينغمس المسلم في صف

--------------------------------------------

1 راجع: "أسباب الظفر والانتصار" لابن الحنبلي (536هـ) مخطوط، ورقة (3،4) .
অজ্ঞতা নিয়ে জিহাদের বিষয়ে প্রবেশ করা জিহাদকে ফাসাদে (বিপর্যয়ে) রূপান্তরিত করে এবং ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর ফিতনা ও অনিষ্ট টেনে আনে।

আর নিষ্ঠাবান মুজাহিদ হলেন তিনি: যিনি জমিনে শ্রেষ্ঠত্ব বা ফাসাদ চান না, তিনি জুলুম করেন না, সীমালঙ্ঘন করেন না, অন্যায় আচরণ করেন না এবং বিশ্বাসঘাতকতা করেন না। কেননা অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতা হলো অত্যাচারিত ব্যক্তির বিজয় এবং অত্যাচারী ব্যক্তির পরাজয়ের কারণ। মহান আল্লাহ বলেন: "এটিই। আর কেউ যদি তাকে যেভাবে কষ্ট দেওয়া হয়েছে তার সমপরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করে, অতঃপর তার ওপর আবারও জুলুম করা হয়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন।" (সুরা হাজ্জ: ৬০ নং আয়াতের অংশ)।

আর মুসলিম মুজাহিদ আল্লাহর পথে জিহাদ করেন না হত্যা করার আকাঙ্ক্ষা বা রক্তপাত ঘটানো ও অন্যদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে; বরং তিনি শত্রুর মোকাবিলায় দুটি উদ্দেশ্যকে একত্রিত করেন: তাওহীদের বাণীকে সমুন্নত করা এবং যারা এর বিরোধিতা করে ও মুসলিমদের তাওহীদ কায়েমে বাধা দেয় তাদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করা; দ্বিতীয়ত, কাফিরদের প্রতি দয়া ও মমতা রাখা—প্রথমে তাদের তরবারি থেকে রক্ষা করা এবং সবশেষে আগুনের পরিণতি থেকে বাঁচানো—যাতে তাদের ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে তিনি যে ভালোবাসা ও আনন্দ লাভ করবেন, তা তাদের হত্যা করা বা বন্দি করার মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের চেয়ে অধিক হয়; কারণ তারা আল্লাহর বান্দা। মহান আল্লাহ বলেন: "অনুরূপ তোমরাও ইতিপূর্বে ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন।" (সুরা নিসা: ৯৪ নং আয়াতের অংশ)। ১

আর লেখকের প্রতি বইটির সম্বন্ধের সত্যতা যাচাই প্রসঙ্গে:

গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই একই মাসআলা নিয়ে আলোচনার সময় সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন; সেখানে তিনি বলেন: "এই কারণেই চার ইমাম বৈধ বলেছেন: একজন মুসলিম সৈন্যদলের সারিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে...

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: ইবনুল হাম্বলী (৫৩৬ হি.) রচিত "আসবাবুয যফর ওয়াল ইনতিসার" (পাণ্ডুলিপি), পৃষ্ঠা (৩, ৪)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الكفار، وإن غلب على ظنه أنهم يقتلونه؛ إذا كان في ذلك مصلحة للمسلمين، وقد بسطنا القول في هذه المسألة في موضع آخر"1.

وهذا الموضع الآخر هو كتابنا هذا.

وقد ذكره العلامة ابن عبد الهادي رحمه الله في "العقود الدرية"2 بعنوان: "قاعدة في الانغماس في العدو وهل يباح؟ ".

وهو ما اعتمدته هنا.

وقد ذكر المصنف رحمه الله في أوله أن هذه المسألة هي: "في الرجل أو الطائفة يقاتل منهم أكثر من ضعفيهم إذا كان في قتالهم منفعة للدين، وقد غلب على ظنهم أنهم يقتلون".

وصف النسخة:

فقد اعتمدت على نسخة وحيدة تقع ضمن "مجموع" لشيخ الإسلام، محفوظ بـ"دار الكتب المصرية" برقم 444 فقه تيمور.

وتقع هذه النسخة في 48 صفحة، كما هو مرقم بالأصل.

كل صفحة بها 13 سطر. وهي مكتوبة بخط رقعة جميل.

وتم نسخها سنة 1319هـ، ولا يعرف ناسخها.

--------------------------------------------

1 "مجموع الفتاوى" (28/540) .

2 "العقود الدرية" ص (48) .
কাফিরদের বিরুদ্ধে, যদিও তার প্রবল ধারণা হয় যে তারা তাকে হত্যা করবে; যদি তাতে মুসলিমদের জন্য কল্যাণ থাকে। আর আমরা এই বিষয়ে অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি"১।

আর এই অন্য স্থানটি হলো আমাদের এই কিতাবটিই।

আল্লামা ইবনে আব্দুল হাদী রহিমাহুল্লাহ এটি "আল-উকুুদ আদ-দুরিইয়্যাহ"২ গ্রন্থে "শত্রুর ভেতরে ঢুকে পড়ার মূলনীতি এবং তা কি বৈধ?" শিরোনামে উল্লেখ করেছেন।

আর এটিই আমি এখানে অবলম্বন করেছি।

লেখক রহিমাহুল্লাহ এর শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, এই মাসআলাটি হলো: "এমন ব্যক্তি বা দল সম্পর্কে যারা তাদের দ্বিগুণেরও বেশি সংখ্যক শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করে, যদি তাদের লড়াইয়ে দ্বীনের কোনো উপকার থাকে এবং তাদের প্রবল ধারণা হয় যে তারা নিহত হবে"।

পাণ্ডুলিপির বিবরণ:

আমি শাইখুল ইসলামের একটি "মাজমুআ" (সংকলন)-এর অন্তর্ভুক্ত একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা "দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ"-তে ৪৪৪ ফিকহ তায়মুর নম্বরে সংরক্ষিত আছে।

এই পাণ্ডুলিপিটি ৪৮ পৃষ্ঠার, যেমনটি মূল কপিতে নম্বর দেওয়া আছে।

প্রতি পৃষ্ঠায় ১৩টি লাইন রয়েছে। এটি সুন্দর রুকআ লিপিতে লিখিত।

এবং এটি ১৩১৯ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছে, তবে এর অনুলিপিকারীর পরিচয় জানা যায়নি।

--------------------------------------------

১ "মাজমুউল ফাতাওয়া" (২৮/৫৪০)।

২ "আল-উকুুদ আদ-দুরিইয়্যাহ" পৃষ্ঠা (৪৮)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وأما عملنا في التحقيق:

فقد اتخذت هذه النسخة أصلا؛ وصوبت ما فيها من أخطاء بالرجوع إلى كلام المصنف في كتبه الأخرى.

كما قمت بضبط فقرات الكتاب كلها، ونسقت عباراتها ورقمت فقراتها برقم مسلسل ووضعت لها عناوين جانبية.

كما قمت بعزو الآيات ووضع العزو بجوار الآيات، وخرجت الأحاديث والآثار وبينت مرتبتها من حيث القبول والرد.

كما وضعت بعض التعليقات المهمة وأكثرها من كلام شيخ الإسلام من كتبه الأخرى، وبعض المصادر من كتب الفقه.

كما صنعت له فهارس للآيات والأحاديث والآثار والموضوعات.

هذا وقد اجتهدت في ذلك حسب الوسع والطاقة.

والله تعالى أسأل أن يجعل عملي هذا خالصا لوجهه، وأن يحفظنا من الفتن ما ظهر منها وما بطن، إنه سميع مجيب.

ولا حول ولا قوة إلا بالله، وهو حسبنا ونعم الوكيل.

الإسماعيلية في 11محرم 1422هـ

أبو محمد أشرف بن عبد المقصود غفر الله له
আর আমাদের তাহকীক (সম্পাদনা) কর্মের ক্ষেত্রে:

আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে মূল হিসেবে গ্রহণ করেছি; আর এতে বিদ্যমান ভুলগুলো লেখকের অন্যান্য বইয়ের বক্তব্যের আলোকে সংশোধন করেছি।

এর পাশাপাশি আমি কিতাবের সকল অনুচ্ছেদ সুবিন্যস্ত করেছি, এর বাক্যগুলোর সমন্বয় করেছি এবং অনুচ্ছেদগুলোকে ক্রমানুসারে সংখ্যায়িত করে পার্শ্ব-শিরোনাম যুক্ত করেছি।

এছাড়া আমি আয়াতগুলোর রেফারেন্স প্রদান করেছি এবং রেফারেন্সগুলো আয়াতের পাশেই স্থাপন করেছি; আর হাদীস ও আসারসমূহ তাখরীজ করেছি এবং গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের নিরিখে সেগুলোর মান বর্ণনা করেছি।

পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ টীকা যোগ করেছি যার অধিকাংশ শাইখুল ইসলামের অন্যান্য কিতাব থেকে সংগৃহীত, আর কিছু ফিকহ শাস্ত্রের উৎস হতে নেওয়া।

এছাড়া আমি এর জন্য আয়াত, হাদীস, আসার ও বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি।

আর এক্ষেত্রে আমি আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।

আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং প্রকাশ্য ও গোপন সকল ফিতনা থেকে আমাদের রক্ষা করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।

আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই; তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

ইসমাইলিয়া, ১১ই মুহররম ১৪২২ হিজরী

আবু মুহাম্মদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসুদ, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة المصنف

الحمد لله نستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل الله ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وكفى بالله شهيدا صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليما كثيرا.

أما بعد:

الحاجة إلى هذه المسألة.

1- فهذه مسألة يحتاج إليها المؤمنون عموما، والمجاهدون منهم خصوصا، وإن كان1 الإيمان لا يتم إلا بالجهاد2.

2- وكما قال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا} (الحجرات: من الآية15) .

3- ولكن الجهاد يكون للكفار والمنافقين أيضا.

4- كما قال تعالى: {جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ} (التوبة: من الآية73) .

--------------------------------------------

1 في الأصل: "جاز".

2 يقول المصنف رحمه الله: "والجهاد تمام الإيمان وسنام العمل" "مجموع الفتاوى" (10/410) .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

গ্রন্থকারের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যেন তিনি একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহর সালাত ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর।

অতঃপর:

এই মাসআলার প্রয়োজনীয়তা।

১- এটি এমন একটি মাসআলা যা সাধারণভাবে সকল মুমিনের প্রয়োজন এবং বিশেষভাবে তাদের মধ্য হতে মুজাহিদদের প্রয়োজন, যদিও জিহাদ ব্যতীত ঈমান পূর্ণ হয় না।

২- যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি} (আল-হুজুরাত: ১৫ আয়াতাংশ)।

৩- কিন্তু জিহাদ কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধেও হয়ে থাকে।

৪- যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন} (আত-তাওবাহ: ৭৩ আয়াতাংশ)।

--------------------------------------------

১ মূল পাঠে রয়েছে: "জা-যা"।

২ গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "জিহাদ ঈমানের পূর্ণতা এবং আমলের সর্বোচ্চ চূড়া।" "মাজমুউল ফাতাওয়া" (১০/৪১০)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
جهاد النفس والمال

5- ويكون الجهاد بـ: النفس والمال1.

6- كما قال تعالى: {وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ} (التوبة: من الآية41) 2.

7- ويكون بـ: غير ذلك وبنفقة.

8- لما ثبت في الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال:" من جهز غازيا فقد غزا، ومن خلفه في أهله بخير فقد غزا" 3.

--------------------------------------------

1 قال المصنف رحمه الله: "الغزو يحتاج إلى جهاد بالنفس، وجهاد بالمال، فإذا بذل هذا بدنه وهذا ماله مع وجود الإرادة الجازمة في كل منهما؛ كان كل منهما مجاهدا بإرادته الجازمة ومبلغ قدرته وكذلك لا بد للغازي من خليفة في الأهل، فإذا خلفه في أهله بخير فهو أيضا غاز". "مجوع الفتاوى" (10/722) .

2 في الأصل: وقع خطأ في الآية: {وجاهدوا في سبيل الله بأموالكم وأنفسكم} !!

3 البخاري (2843) ومسلم (1895) (135) من حديث زيد بن خالد الجهني رضي الله عنه.

قال الإمام النووي رحمه الله: "أي حصل له الأجر لأجل الغزو، وهذا الأجر يحصل بكل جهاد وسواء قليله وكثيره، ولكل خالف له في أهله بخير من قضاء حاجة لهم، وإنفاق عليهم، أو مساعدتهم في أمرهم، ويختلف قدر الثواب بقلة ذلك وكثرته. وفي هذا الحديث: الحث على الإحسان إلى من فعل مصلحة للمسلمين، أو قام بأمر من مهامهم".

وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "قوله: "فقد غزا" قال ابن حبان: معناه أنه مثله في الأجر وإن لم يغزو حقيقة ثم أخرجه من وجه آخر عن بسر بن سعيد بلفظ: "كتب له مثل أجره غير أنه لا ينقص من أجره شيء، ولابن ماجه وابن حبان من حديث عمر نحوه بلفظ: "من جهز غازيا حتى يستقل كان له مثل أجره حتى يموت أو يرجع"، وأفادت فائدتين: إحداهما: أن الوعد المذكور مرتب على تمام التجهيز وهو المراد بقوله: "حتى يستقل"، وثانيهما: أنه يستوي معه في الأجر إلى أن تنقضي تلك الغزوة" "فتح الباري" (6/50) .
জান ও মালের জিহাদ

৫- এবং জিহাদ হয়ে থাকে: জান ও মাল দিয়ে।১

৬- যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর পথে তোমাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করো।" (আত-তাওবাহ: ৪১ আয়াতের অংশ) ২।

৭- আর জিহাদ এ ছাড়াও অন্যান্য মাধ্যম ও অর্থ ব্যয়ের দ্বারাও হতে পারে।

৮- যেহেতু সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো যোদ্ধাকে সজ্জিত করে দিল (যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দিল) সে যেন যুদ্ধ করল, আর যে ব্যক্তি কোনো যোদ্ধার পরিবারের অনুপস্থিতিতে কল্যাণের সাথে তাদের দেখাশোনা করল সেও যেন যুদ্ধ করল।" ৩।

--------------------------------------------

১ লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যুদ্ধের জন্য জানের জিহাদ ও মালের জিহাদের প্রয়োজন হয়। সুতরাং যখন একজন তার শরীর ব্যয় করে এবং অন্যজন তার মাল ব্যয় করে আর তাদের উভয়ের মাঝে সুদৃঢ় সংকল্প বিদ্যমান থাকে, তখন তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ সুদৃঢ় সংকল্প ও সামর্থ্য অনুযায়ী মুজাহিদ বলে গণ্য হবে। তেমনিভাবে একজন যোদ্ধার পরিবারের জন্য একজন দেখাশোনাকারীর প্রয়োজন হয়। অতএব যে ব্যক্তি তার পরিবারের অনুপস্থিতিতে কল্যাণের সাথে তাদের দেখাশোনা করল, সেও একজন যোদ্ধা।" মাজমুউল ফাতাওয়া (১০/৭২২)।

২ মূল পাণ্ডুলিপিতে আয়াতে একটি ভুল হয়েছিল: {আল্লাহর পথে তোমাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করো}!!

৩ বুখারী (২৮৪৩) ও মুসলিম (১৮৯৫) (১৩৫), যা যায়িদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে সে সওয়াব লাভ করল। আর এই সওয়াব প্রতিটি জিহাদেই অর্জিত হয়, তা অল্প হোক বা বেশি। আর যে ব্যক্তি যোদ্ধার পরিবারের অনুপস্থিতিতে তাদের প্রয়োজন পূরণ, তাদের জন্য ব্যয় করা বা তাদের কাজে সহযোগিতা করার মাধ্যমে কল্যাণের সাথে তাদের দেখাশোনা করে, সেও সওয়াব পাবে। আর সওয়াবের পরিমাণ কাজ কম বা বেশির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এই হাদিসে মুসলমানদের কোনো কল্যাণকর কাজ সম্পাদনকারী বা তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব পালনকারীর প্রতি ইহসান করার উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।"

وقال الحافظ ابن حجر رحمه الله: "তার উক্তি: 'সে যুদ্ধ করল', ইবনে হিব্বান বলেছেন: এর অর্থ হলো সে সওয়াবের দিক থেকে তার মতো, যদিও সে বাস্তবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। অতঃপর তিনি একে অন্য সূত্রে বুসর ইবনে সাঈদ থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: 'তার জন্য তার সমপরিমাণ সওয়াব লেখা হয়, তবে তার (যোদ্ধার) সওয়াব থেকে সামান্যতম কমানো হয় না।' ইবনে মাজাহ ও ইবনে হিব্বানে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এই শব্দে: 'যে ব্যক্তি কোনো যোদ্ধাকে সজ্জিত করে দিল যতক্ষণ না সে যাত্রা শুরু করে, তবে সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে মৃত্যু পর্যন্ত অথবা তার ফিরে আসা পর্যন্ত।' এতে দুটি শিক্ষা রয়েছে: প্রথমত, উল্লিখিত প্রতিশ্রুতিটি প্রস্তুতির পূর্ণতার ওপর নির্ভরশীল, যা 'যতক্ষণ না সে যাত্রা শুরু করে' কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সওয়াবের ক্ষেত্রে সে তার সমান অংশীদার হবে যতক্ষণ না সেই যুদ্ধ শেষ হয়।" ফাতহুল বারী (৬/৫০)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
جهاد اليد والقلب واللسان

9- ويكون الجهاد بـ: اليد والقلب واللسان.

10- كما قال صلى الله عليه وسلم: "جاهدوا المشركين بأيديكم وألسنتكم وأموالكم" 1.

11- وكما قال صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح: "إن بالمدينة لرجالا ما سرتم مسيرا ولا قطعتم واديا إلا كانوا معكم حبسهم العذر" 2.

--------------------------------------------

1 رواه أبو داود (2504) ، والدارمي (2/280) وأحمد (3/124، 251) والبيهقي (2/6، 9/20) والحاكم (2/91) وقال: "صحيح على شرط مسلم" عن أنس بن مالك رضي الله عنه بلفظ: "بأموالكم وأنفسكم وألسنتكم" وفي لفظ لأحمد (3/153) : "بألسنتكم وأنفسكم وأموالكم وأيديكم" ورواه النسائي في "الكبرى" (3/6) والمجتبى (6/7) بلفظ: "جاهدوا المشركين بأموالكم وأيديكم وألسنتكم" ورواه ابن حبان (4708) وأبي يعلى (6/468) بلفظ: "بأيديكم وألسنتكم".

فائدة:

قال المنذري رحمه الله: "يحتمل أن يريد بقوله: بألسنتكم الهجاء، ويؤيده قوله: "فلهو أسرع فيهم من نضح النبل"، ويحتمل أن يريد به حض الناس على الجهاد وترغيبهم فيه وبيان فضائله لهم". شرح السيوطي للنسائي (6/7) .

قال العلامة شمس الحق أبادي رحمه الله: "قال في السبل: الحديث دليل على وجوب الجهاد بالنفس وهو بالخروج والمباشرة للكفار، وبالمال وهو بذله لما يقوم به من النفقة في الجهاد والسلاح ونحوه، وباللسان بإقامة الحجة عليهم ودعائهم إلى الله تعالى والزجر ونحوه من كل ما فيه نكاية للعدوا {وَلا يَنَالُونَ مِنْ عَدُوٍّ نَيْلاً إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ} " عون المعبود (7/182) .

2 البخاري (4423) ومسلم (1911) (159) عن أنس بن مالك رضي الله عنه.

قال المصنف رحمه الله: "فأخبر أن القاعد بالمدينة الذي لم يحبسه إلا العذر هو مثل من معهم في هذه الغزوة، ومعلوم أن الذي معه في الغزوة يثاب كل واحد منهم ثواب غاز على قدر نيته فكذلك القاعدون الذين لم يحبسهم إلا العذر، ومن هذا الباب ما ثبت في الصحيحين عن أبي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إذا مرض العبد أو سافر كتب له ما كان يعمل وهو صحيح=
হাত, অন্তর ও জিহ্বার জিহাদ

৯- আর জিহাদ হয়ে থাকে: হাত, অন্তর ও জিহ্বার মাধ্যমে।

১০- যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা তোমাদের হাত, তোমাদের জিহ্বা এবং তোমাদের সম্পদের মাধ্যমে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো।" ১।

১১- এবং যেমনটি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহিহ হাদিসে বলেছেন: "নিশ্চয়ই মদিনায় এমন কিছু লোক রয়েছে, তোমরা কোনো পথ অতিক্রম করোনি এবং কোনো উপত্যকা পাড়ি দাওনি অথচ তারা তোমাদের সাথেই ছিল; কেবল ওজর (অপারগতা) তাদের আটকে রেখেছিল।" ২।

--------------------------------------------

১ আবু দাউদ (২৫০৪), দারেমি (২/২৮০), আহমাদ (৩/১২৪, ২৫১), বায়হাকি (২/৬, ৯/২০), হাকিম (২/৯১) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: "মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী এটি সহিহ"। আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত শব্দ হচ্ছে: "তোমাদের সম্পদ, তোমাদের প্রাণ এবং তোমাদের জিহ্বা দ্বারা"। আহমাদ-এর (৩/১৫৩) একটি বর্ণনায় শব্দগুলো হলো: "তোমাদের জিহ্বা, তোমাদের প্রাণ, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের হাত দ্বারা"। নাসায়ি 'আল-কুবরা' (৩/৬) ও 'আল-মুজতাবা' (৬/৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের সম্পদ, তোমাদের হাত এবং তোমাদের জিহ্বা দ্বারা মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো"। ইবনে হিব্বান (৪৭০৮) ও আবু ইয়ালা (৬/৪৬৮) বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের হাত ও তোমাদের জিহ্বা দ্বারা" শব্দে।

উপকারিতা:

আল-মুনজিরি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "সম্ভবত 'তোমাদের জিহ্বা দ্বারা' কথাটি দিয়ে তিনি ব্যঙ্গাত্মক কাব্য বুঝিয়েছেন। এর সমর্থনে তাঁর এই বাণীটি উল্লেখ করা যায়: 'এটি তাদের ওপর তীরের আঘাতের চেয়েও বেশি কার্যকর'। আবার এর দ্বারা মানুষকে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করা, এর প্রতি তাদের উৎসাহিত করা এবং তাদের কাছে এর ফজিলত বর্ণনা করাও উদ্দেশ্য হতে পারে।" সুয়ুতির শরহে নাসায়ি (৬/৭)।

আল্লামা শামসুল হক আজিমাবাদি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "সুবুলুস সালাম গ্রন্থে বলা হয়েছে: হাদিসটি জান (শারীরিক উপস্থিতি) দিয়ে জিহাদ ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ, আর তা হলো সশরীরে বের হওয়া এবং কাফেরদের মোকাবিলা করা। সম্পদের মাধ্যমে জিহাদ হলো জিহাদের খরচ, অস্ত্রশস্ত্র ও অনুরূপ বিষয়ে ব্যয় করা। আর জিহ্বার মাধ্যমে জিহাদ হলো তাদের বিরুদ্ধে দলিল উপস্থাপন করা, তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান জানানো এবং শত্রু দমনে কার্যকর এমন সব পন্থায় ধমক প্রদান করা। 'আর তারা শত্রুর কোনো ক্ষতিসাধন করে না তবে এর বিনিময়ে তাদের জন্য একটি সৎকর্ম লেখা হয়'।" আউনুল মাবুদ (৭/১৮২)।

২ বুখারি (৪৪২৩) ও মুসলিম (১৯১১) (১৫৯), আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।

গ্রন্থকার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, মদিনায় অবস্থানকারী যাকে কেবল ওজরই আটকে রেখেছে, সে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের মতই। এটি সুবিদিত যে, যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ নিয়ত অনুযায়ী গাজীর (যোদ্ধার) সওয়াব লাভ করবে; তদ্রূপ যারা ওজরের কারণে আটকে আছে তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা। এই বিষয়টি সেই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত যা বুখারি ও মুসলিমে আবু মুসা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যখন কোনো বান্দা অসুস্থ হয় অথবা সফরে থাকে, তখন তার জন্য ঠিক তেমনই আমল লেখা হয় যা সে সুস্থ অবস্থায়=
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
12- فهؤلاء كان جهادهم بقلوبهم ودعائهم.

13- وقد قال تعالى: {لا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ عَلَى الْقَاعِدِينَ دَرَجَةً وَكُلّاً وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى وَفَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْراً عَظِيماً} (النساء:95) .

14- وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "الساعي1 على الصدقة بالحق كالمجاهد في سبيل الله" 2.

--------------------------------------------

=مقيم"؛ فإنه إذا كان يعمل في الصحة والإقامة عملا ثم لم يتركه إلا لمرض أو سفر ثبت أنه إنما ترك لوجود العجز والمشقة لا لضعف النية وفتورها فكان له من الإرادة الجازمة التي لم يتخلف عنها الفعل إلا لضعف القدرة ما للعامل، والمسافر وإن كان قادرا مع المشقة كذلك بعض المرض إلا أن القدرة الشرعية هي التي يحصل بها الفعل من غير مضرة راجحة كما في قوله تعالى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً} ، وقوله: {فَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِيناً} ونحو ذلك ليس المعتبر في الشرع القدرة التي يمكن وجود الفعل بها على أي وجه كان بل لا بد أن تكون المكنة خالية عن مضرة راجحة بل أو مكافئة" مجموع الفتاوى (10/72) .

قال النووي رحمه الله: "وفي هذا الحديث فضيلة النية في الخير، وأن من نوى الغزو وغيره من الطاعات فعرض له عذر منعه حصل له ثواب نيته، وأنه كلما أكثر من التأسف على فوات ذلك وتمنى كونه مع الغزاة ونحوهم كثر ثوابه والله أعلم" "شرح النووي لمسلم" (5/57) .

1 رواه أبو داود (2936) وابن ماجه (1809) والترمذي (645) وقال: "حديث حسن صحيح" وصححه ابن خزيمة (2334) والحاكم (1/564) وقال: "صحيح على شرط مسلم" من حديث رافع بن خديج رضي الله عنه بلفظ: "العامل على الصدقة بالحق كالغازي في سبيل الله حتى يرجع إلى بيته".

2 في الأصل: "الساعين" وكتب بالهامش لعله "الساعي" وهو الموافق أيضا لما جاء في "مجموع الفتاوى" (28/360) .
১২- সুতরাং তাদের জিহাদ ছিল তাদের অন্তর ও দোয়ার মাধ্যমে।

১৩- মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মুমিনদের মধ্যে যারা কোনো ওজর ছাড়াই ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করে তারা সমান নয়। আল্লাহ তাঁর সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদকারীদের ঘরে বসে থাকাদের ওপর পদমর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আল্লাহ প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ জিহাদকারীদের ঘরে বসে থাকাদের ওপর মহা পুরস্কারের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।} (নিসা: ৯৫)।

১৪- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সঠিকভাবে সদকা আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর ন্যায়।"

--------------------------------------------

="মুকিম" (স্থায়ী বাসিন্দা); কেননা সে যদি সুস্থ ও বাড়িতে থাকা অবস্থায় কোনো আমল করত, অতঃপর অসুস্থতা বা সফরের কারণেই কেবল তা ছেড়ে দেয়, তবে এটি প্রমাণিত যে, সে আমলটি কেবল অক্ষমতা ও কষ্টের কারণেই ছেড়েছে, নিয়তের দুর্বলতা বা শিথিলতার কারণে নয়। ফলে তার সেই দৃঢ় ইচ্ছা ছিল যেটির সাথে কেবল সক্ষমতার অভাবেই আমলটি সম্পন্ন হয়নি, যা আমলকারীর সওয়াবের মতোই। আর মুসাফির যদিও কষ্টের সাথে আমল করতে সক্ষম হয়, তেমনি কোনো কোনো অসুস্থ ব্যক্তিও সক্ষম হয়, তবুও শরয়ী সক্ষমতা বলতে সেই সক্ষমতাকে বুঝায় যার মাধ্যমে আমলটি কোনো প্রবল ক্ষতি ছাড়াই সম্পন্ন করা যায়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেই ঘরের হজ করা তার ওপর আবশ্যক} এবং তাঁর বাণী: {যে ব্যক্তি সক্ষম হবে না, সে যেন ষাটজন মিসকিনকে খাওয়ায়} এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ। শরীয়তে সেই সক্ষমতাকে ধর্তব্য ধরা হয়নি যার মাধ্যমে যেকোনো উপায়ে আমলটি করা সম্ভব, বরং এটি আবশ্যক যে আমলটি সম্পন্ন করার সক্ষমতা কোনো প্রবল বা সমপরিমাণ ক্ষতি থেকে মুক্ত হতে হবে। "মাজমুউল ফাতাওয়া" (১০/৭২)।

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এই হাদিসে সৎ নিয়তের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়। আর যে ব্যক্তি যুদ্ধ বা অন্যান্য আনুগত্যমূলক কাজের নিয়ত করে এবং কোনো ওজর তাকে বাধা দেয়, সে তার নিয়তের সওয়াব লাভ করবে। আর সেই আমলটি ছুটে যাওয়ার জন্য সে যত বেশি আক্ষেপ করবে এবং মুজাহিদদের সাথে থাকার আকাঙ্ক্ষা করবে, তার সওয়াব তত বৃদ্ধি পাবে, আল্লাহই ভালো জানেন।" "শারহুন নববী আলা মুসলিম" (৫/৫৭)।

১. এটি আবু দাউদ (২৯৩৬), ইবনে মাজাহ (১৮০৯) ও তিরমিজি (৬৪৫) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: "হাদিসটি হাসান সহিহ" এবং ইবনে খুজাইমা (২৩৩৪) ও হাকেম (১/৫৬৪) এটিকে সহিহ বলেছেন এবং হাকেম বলেছেন: "মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ"। এটি রাফে বিন খাদিজ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, যার শব্দ হলো: "সঠিকভাবে সদকা আদায়কারী ব্যক্তি ঘরে না ফেরা পর্যন্ত আল্লাহর পথে যুদ্ধকারীর ন্যায়।"

২. মূলে রয়েছে: "আস-সাঈনা" এবং পার্শ্বটীকায় লেখা হয়েছে সম্ভবত এটি হবে "আস-সাঈ", যা "মাজমুউল ফাতাওয়া" (২৮/৩৬০)-তে যা এসেছে তার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
15- وقال أيضا: "المجاهد من جاهد نفسه في الله"1.

16- كما قال: "المؤمن من أمنه الناس على دمائهم وأموالهم، والمهاجر من هاجر ما نهى الله عنه، والمسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده" 2.

17- والجهاد في سبيل الله أنواع متعددة … 3

--------------------------------------------

1 رواه أحمد (20، 22) والترمذي (1621) وقال: "حسن صحيح" وابن حبان (4706) والطبراني (18/309) برقم (797) والقضاعي في مسند الشهاب (184) وابن أبي عاصم في الجهاد (175) من حديث فضالة بن عبيد رضي الله عنه. وقد جاءت هذه الجملة أيضا ضمن حديث فضالة بن عبيد الآتي عند أحمد (3/154) وابن حبان (510) .

2 الحديث بهذا اللفظ: "صحيح بعضه في الصحيحين وبعضه صححه الترمذي" كما قال المصنف في السياسة الشرعية (42) .

فرواه البخاري (10) من حديث عبد الله بن عمرو بلفظ: "المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده" والترمذي (2627) عن أبي هريرة: " المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده والمؤمن من أمنه الناس على دمائهم وأموالهم" وقال: "حديث حسن صحيح". وقد رواه أحمد (6/21، 22) والحاكم (1/10، 11) وابن حبان (4862) وأبو يعلى (7/199) برقم (4187) من حديث فضالة بن عبيد قال قال رسول اله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع: "ألا أخبركم بالمؤمن من أمنه الناس على دمائهم وأموالهم والمسلم من سلم الناس من لسانه ويده والمجاهد من جاهد نفسه في طاعة الله، والمهاجر من هجر الخطايا والذنوب". ورواه ابن حبان (510) والحاكم (1/11) وصححه الحافظ في الفتح (1/54) من حديث أنس بلفظ: " والمؤمن من أمنه الناس على أموالهم وأنفسهم، والمسلم من سلم الناس من لسانه ويده والمجاهد من هجر السوء".

3 بياض بالأصل وعليه كلمة "كذا".
১৫- তিনি আরও বলেছেন: "মুজাহিদ সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করে।"১

১৬- যেমন তিনি বলেছেন: "মুমিন সেই ব্যক্তি যাকে মানুষ তাদের জীবন ও সম্পদের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে, মুহাজির সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে, আর মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।" ২

১৭- আর আল্লাহর পথে জিহাদ বহু প্রকারের … ৩

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (২০, ২২) এবং তিরমিযী (১৬২১) এবং তিনি বলেছেন: "হাসান সহীহ", ইবনে হিব্বান (৪৭০৬), তাবারানি (১৮/৩০৯) হাদিস নং (৭৯৭), কুদায়ী মুসনাদুশ শিহাব-এ (১৮৪) এবং ইবনে আবি আসিম আল-জিহাদ-এ (১৭৫), ফাদালাহ বিন উবাইদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে। এই বাক্যটি ফাদালাহ বিন উবাইদ-এর পরবর্তী হাদিসের অংশ হিসেবেও এসেছে যা আহমাদ (৩/১৫৪) এবং ইবনে হিব্বান (৫১০)-এ বর্ণিত হয়েছে।

২ এই শব্দে হাদিসটি: "এর কিছু অংশ সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ রয়েছে এবং কিছু অংশ তিরমিযী সহীহ বলেছেন" যেমনটি লেখক আস-সিয়াসা আশ-শারঈয়াহ (৪২)-এ উল্লেখ করেছেন। বুখারি (১০) আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত হাদিসে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে", এবং তিরমিযী (২৬২৭) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: "মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে এবং মুমিন সেই ব্যক্তি যাকে মানুষ তাদের জীবন ও সম্পদের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে" এবং তিনি বলেছেন: "হাদিসটি হাসান সহীহ"। আহমাদ (৬/২১, ২২), হাকেম (১/১০, ১১), ইবনে হিব্বান (৪৮৬২) এবং আবু ইয়ালা (৭/১৯৯) হাদিস নং (৪১৮৭)-এ ফাদালাহ বিন উবাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জে বলেছেন: "আমি কি তোমাদের মুমিন সম্পর্কে জানাব না? মুমিন সেই ব্যক্তি যাকে মানুষ তাদের জীবন ও সম্পদের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে, মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে, মুজাহিদ সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর আনুগত্যের কাজে নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করে এবং মুহাজির সেই ব্যক্তি যে ভুল-ত্রুটি ও গুনাহসমূহ বর্জন করে।" ইবনে হিব্বান (৫১০) ও হাকেম (১/১১) এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ আল-ফাতহ (১/৫৪)-এ আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে একে সহীহ বলেছেন এই শব্দে: "মুমিন সেই ব্যক্তি যাকে মানুষ তাদের সম্পদ ও জানের ব্যাপারে নিরাপদ মনে করে, মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে এবং মুজাহিদ সেই ব্যক্তি যে মন্দ বিষয় বর্জন করে।"

৩ মূল পাণ্ডুলিপিতে এখানে শূন্যস্থান রয়েছে এবং তার উপর "এইরূপ" শব্দটি লেখা আছে।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
18- … سبيل الله، ويفرق بينهما النية وإتباع الشريعة.

الغزو غزوان

19- كما في "السنن" عن معاذ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "الغزو غزوان:

فأما من ابتغى وجه الله، وأطاع الإمام، وأنفق الكريمة واجتنب الفساد؛ كان نومه [ونبهه] 1 كله أجر.

وأما من غزا فخر ورياء وسمعة، وعصى الإمام، وأفسد في الأرض؛ فإنه لم يرجع بالكفاف" 2.

--------------------------------------------

1 رواه أحمد (5/234) وأبو داود (2515) والنسائي في الكبرى (8730) وفي المجتبى (6/49، 7/155) والطبراني في الكبير (20/91-92) وفي مسند الشاميين (1159) والحاكم (8512) والبيهقي في السنن (9/168) وفي الشعب (4265) وابن أبي عاصم في الجهاد (133) وقد رواه مالك في الموطأ (2/466) برقم (998) عن يحي بن سعيد عن معاذ بن جبل موقوفا على معاذ بن جبل رضي الله عنه. وقد حسنه الألباني في الصحيحة (1990) .

فائدة:

قال العلامة الزرقاني رحمه الله: "تنفق فيه الكريمة: يريد كرائم الأموال، ويحتمل أن يريد به: حلال المال دون خبيثه ودون ما فيه شبهة ويحتمل أن يريد به: كثيره إذا أراد بالنفقة النفقة على نفسه والصدقة، ويحتمل أن يريد بالكريمة أفضل المتاع مثل: أن يغزوا على أفضل الخيل وأسبقها ويقتنيها لذلك، وكذلك يغزوا بأفضل السلاح والآلة؛ فيكون إنفاقها في سبيل الله ابتياعها لذلك، ويكون استعمالها في ذلك حتى يعطب الفرس وتفنى الآلة والسلاح، وقد يحتمل أن يريد بالإنفاق الغازي ذلك في سبيل الله أن يحبس في سبيل الله أفضل ما يغزو به معه من ذلك " المنتقى شرح الموطأ.

2 في الأصل: "يومه" بدل "نومه" والتصويب وما بين المعقوفتين أيضا أثبته من مصادر التخريج.
১৮- … আল্লাহর পথ, এবং উভয়ের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে নিয়ত (উদ্দেশ্য) এবং শরীয়তের অনুসরণ।

যুদ্ধ দুই প্রকার

১৯- যেমনটি "সুনান" গ্রন্থে মুআয থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যুদ্ধ দুই প্রকার:

সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) অন্বেষণ করল, ইমামের আনুগত্য করল, উৎকৃষ্ট সম্পদ ব্যয় করল এবং ফাসাদ (বিপর্যয়) পরিহার করল; তবে তার ঘুমানো এবং তার জেগে থাকা সবই সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে।

আর যে ব্যক্তি অহংকার, লোকদেখানো এবং সুখ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করল, ইমামের অবাধ্য হলো এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করল; তবে সে সমান সমান (পাপ-পুণ্যহীন অবস্থা) নিয়েও ফিরে আসতে পারল না।"

--------------------------------------------

১ আহমদ (৫/২৩৪), আবু দাউদ (২৫১৫), নাসায়ী আল-কুবরা (৮৭৩০) এবং আল-মুজতাবা (৬/৪৯, ৭/১৫৫), তাবারানী আল-কাবীর (২০/৯১-৯২) ও মুসনাদুশ শামিয়্যীন (১১৫৯), হাকিম (৮৫১২), বায়হাকী আস-সুনান (৯/১৬৮) ও আশ-শুয়াব (৪২৬৫), এবং ইবনু আবী আসিম আল-জিহাদ (১৩৩) এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক এটি মুয়াত্তা (২/৪৬৬) গ্রন্থে নম্বর (৯৯৮)-এ ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে মুআয বিন জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আলবানী আস-সহীহা (১৯৯০) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।

ফায়দা (উপকারিতা):

আল্লামা যুরকানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তাতে উৎকৃষ্ট সম্পদ ব্যয় করে: এর দ্বারা তিনি সম্পদের শ্রেষ্ঠ অংশগুলো বুঝিয়েছেন। এমনও হতে পারে যে এর দ্বারা তিনি হালাল সম্পদ বুঝিয়েছেন, অপবিত্র বা সন্দেহযুক্ত সম্পদ নয়। আবার এটিও হতে পারে যে এর দ্বারা অধিক সম্পদ বুঝিয়েছেন, যদি ব্যয়ের মাধ্যমে নিজের জন্য খরচ এবং সদকা করা উদ্দেশ্য হয়। আবার 'উৎকৃষ্ট' দ্বারা সর্বোত্তম সরঞ্জামও উদ্দেশ্য হতে পারে, যেমন: সর্বোত্তম ও দ্রুতগামী ঘোড়ার ওপর সওয়ার হয়ে যুদ্ধ করা এবং সেই উদ্দেশ্যে তা সংগ্রহ করা। একইভাবে সর্বোত্তম অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধ করা; ফলে আল্লাহর পথে তা ব্যয় করা বলতে সেগুলো ক্রয় করা বুঝাবে এবং সেগুলো ব্যবহার হতে থাকবে যতক্ষণ না ঘোড়াটি অক্ষম হয় এবং সরঞ্জাম ও অস্ত্র নিঃশেষ হয়ে যায়। এমনও হতে পারে যে, ব্যয় বলতে বুঝানো হয়েছে যোদ্ধা আল্লাহর পথে সেই সর্বোত্তম জিনিসটি উৎসর্গ করে দিল যা নিয়ে সে যুদ্ধ করছিল।" আল-মুনতাকা শারহুল মুয়াত্তা।

২ মূল লিপিতে 'নওমিহি' (তার ঘুম) এর স্থলে 'ইয়াওমিহি' (তার দিন) ছিল। সংশোধন এবং ব্রাকেটের ভেতরের অংশটিও তাখরীজের উৎসসমূহ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
20- وفي "الصحيحين" عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قيل: يا رسول الله الرجل يقاتل شجاعة ويقاتل حمية؟ فأي ذلك في سبيل الله؟ فقال: "من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله" 1.

21- وقد قال تعالى: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ} (البقرة: من الآية193) .

--------------------------------------------

1 رواه البخاري (7458) ومسلم (1904) (150) .

فائدة: قال المصنف رحمه الله: "الناس أربعة أصناف:

1- من يعمل لله بشجاعة وسماحة، فهؤلاء هم المؤمنون المستحقون للجنة.

2- ومن يعمل لغير الله بشجاعة وسماحة، فهذا ينتفع بذلك في الدنيا وليس له في الآخرة من خلاق.

3- ومن يعمل لله لكن لا بشجاعة ولا سماحة، فهذا فيه من النفاق ونقص الإيمان بقدر ذلك.

4- ومن لا يعمل لله وليس فيه شجاعة ولا سماحة، فهذا ليس له دنيا ولا آخرة" مجموع الفتاوى (28/147) .

2 في الأصل: "ضعيفهم" وما أثبته هو الموافق للسياق وسيأتي ص (58) على الصواب ما يؤكد ما أثبته.
20- এবং ‘সহীহাইন’-এ আবু মুসা আল-আশআরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে, আবার কেউ আত্মমর্যাদাবোধের কারণে লড়াই করে; এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে লড়াই করে, সেই আল্লাহর পথে।" ১।

21- আর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই করো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং দীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়} (আল-বাকারাহ: আয়াত ১৯৩-এর অংশ)।

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৭৪৫৮) এবং মুসলিম (১৯০৪) (১৫০)।

ফায়দা: লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মানুষ চার প্রকার:

1- যে আল্লাহর জন্য বীরত্ব ও উদারতার সাথে কাজ করে; তারাই হলো জান্নাতের অধিকারী মুমিন।

2- আর যে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য বীরত্ব ও উদারতার সাথে কাজ করে; সে দুনিয়াতে এর দ্বারা উপকৃত হয়, কিন্তু আখিরাতে তার কোনো অংশ নেই।

3- আর যে আল্লাহর জন্য কাজ করে কিন্তু তার মাঝে বীরত্ব বা উদারতা নেই; তার মাঝে সেই পরিমাণ নিফাক এবং ঈমানের ঘাটতি রয়েছে।

4- আর যে আল্লাহর জন্য কাজ করে না এবং যার মাঝে বীরত্ব বা উদারতাও নেই; তার দুনিয়াও নেই, আখিরাতও নেই।" মাজমুউল ফাতাওয়া (২৮/১৪৭)।

২ মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: "তাদের দুর্বল ব্যক্তি", কিন্তু আমি যা সাব্যস্ত করেছি তা প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ৫৮ নং পৃষ্ঠায় সঠিক বিষয়টি আসবে যা আমার সাব্যস্ত করা পাঠকে শক্তিশালী করে।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌عنوان المسألة وصور لها:

22- وهذه المسألة هي في: "الرجل أو الطائفة يقاتل منهم أكثر من ضعفيهم2 إذا كان في قتالهم منفعة للدين، وقد غلب على ظنهم أنهم يقتلون".

الصورة الأولى

23- كالرجل: يحمل وحده على صف الكفار ويدخل فيهم.

ويسمي العلماء ذلك: "الانغماس في العدو"؛ فإنه يغيب فيهم كالشيء ينغمس فيه فيما يغمره.

--------------------------------------------

2 في الأصل: "ضعيفهم" وما أثبته هو الموافق للسياق وسيأتي ص (58) على الصواب ما يؤكد ما أثبته.
মাসআলার শিরোনাম এবং এর কতিপয় রূপ:

২২- আর এই মাসআলাটি হলো: "এমন ব্যক্তি বা দল সম্পর্কে যারা তাদের দ্বিগুণেরও বেশি শত্রুর মোকাবিলায় যুদ্ধ করে২ যখন তাদের যুদ্ধে দ্বীনের কোনো কল্যাণ থাকে এবং তাদের প্রবল ধারণা থাকে যে তারা নিহত হবে।"

প্রথম রূপ

২৩- যেমন কোনো ব্যক্তি: যে একাকী কাফেরদের সারির ওপর আক্রমণ করে এবং তাদের মাঝে ঢুকে পড়ে।

আলেমগণ একে "শত্রুর মাঝে নিমজ্জিত হওয়া" বলে অভিহিত করেন; কেননা সে তাদের মাঝে এমনভাবে অদৃশ্য হয়ে যায় যেমন কোনো বস্তু তাকে আচ্ছন্নকারী জিনিসের মধ্যে নিমজ্জিত হলে অদৃশ্য হয়ে যায়।

--------------------------------------------

২ মূল পাঠে ছিল: "তাদের দুর্বল", তবে আমি যা সাব্যস্ত করেছি তা প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পৃষ্ঠা (৫৮)-তে এর সঠিক রূপটি আসবে যা আমার সাব্যস্ত করা পাঠকে সমর্থন করে।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الصورة الثانية

24- وكذلك الرجل: يقتل بعض رؤساء الكفار بين أصحابه.

مثل أن يثب عليه جهرة إذا اختلسه، ويرى أنه يقتله ويغتفل1 بعد ذلك.

الصورة الثالثة

25- والرجل: ينهزم أصحابه فيقاتل وحده أو هو وطائفة معه العدو وفي ذلك نكاية2 في العدو، ولكن يظنون أنهم يقتلون.

26- فهذا كله جائز عند عامة علماء الإسلام من أهل المذاهب الأربعة وغيرهم3.

اتفاق المذاهب الأربعة على جواز هذه الصورة

27- وليس في ذلك إلا خلافا شاذا4.

--------------------------------------------

1 كتب عليها في الأصل: "كذا".

2 النكاية: "يقال أنكيت في العدو أنكى نكاية فأنا ناك، إذا أكثرت فيهم الجراح والقتل، فوهنوا لذلك" النهاية لابن الأثير (5/117) .

3 بهامش الأصل: "لعله وغيرهما".

4 قال المصنف رحمه الله: "وقد روى مسلم في صحيحه عن النبي صلى الله عليه وسلم قصة أصحاب الأخدود، وفيها: أن الغلام أمر بقتل نفسه لأجل مصلحة ظهور الدين.

ولهذا جوز الأئمة الأربعة أن ينغمس المسلم في صف الكفار، وإن غلب على ظنه أنهم يقتلونه، إذا كان في ذلك مصلحة للمسلمين. وقد بسطنا القول في هذه المسألة في موضع آخر.

فإذا كان الرجل يفعل ما يعتقد أنه يقتل به لأجل مصلحة الجهاد، مع أن قتله نفسه أعظم من قتله لغيره، كان ما يفضي إلى قتل غيره لأجل مصلحة الدين التي لا تحصل إلا بذلك، ودفع ضرر العدو المفسد للدين والدنيا الذي لا يندفع إلا بذلك أولى" مجموع الفتاوى (28/540) .
দ্বিতীয় পদ্ধতি

২৪- অনুরূপভাবে সেই ব্যক্তি: যে কাফেরদের কিছু নেতাকে তাদের সাথীদের মাঝেই হত্যা করে।

যেমন—প্রকাশ্যে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া যখন সে তাকে একা পায়, আর সে মনে করে যে সে তাকে হত্যা করবে এবং এরপর সে নিজেও অসতর্ক অবস্থায় আক্রান্ত হবে।১

তৃতীয় পদ্ধতি

২৫- এবং সেই ব্যক্তি: যার সাথীরা পরাজিত হয়ে পলায়ন করে, কিন্তু সে একাকী অথবা একদল লোক নিয়ে শত্রুর সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। এতে শত্রুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি২ হয়, তবে তারা ধারণা করে যে তারা নিহত হবে।

২৬- চার মাযহাবের অনুসারী এবং অন্যান্য অধিকাংশ ইসলামী আলেমদের নিকট এই সবই বৈধ।৩

এই পদ্ধতির বৈধতার ব্যাপারে চার মাযহাবের ঐকমত্য

২৭- এতে কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন মতভেদ রয়েছে।৪

--------------------------------------------

১ মূল পাণ্ডুলিপিতে এর ওপর লেখা হয়েছে: "অনুরূপ"।

২ নিকায়াহ: বলা হয়—"আমি শত্রুর ওপর 'নিকায়াহ' করেছি যখন আমি তাদের মধ্যে প্রচুর জখম ও হত্যা করেছি, যার ফলে তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে।" ইবনুল আসিরের আন-নিহায়াহ (৫/১১৭)।

৩ মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায়: "সম্ভবত এটি 'এবং তারা দুইজন' হবে।"

৪ গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) বলেছেন: "মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আসহাবুল উখদুদ বা গর্তওয়ালাদের কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে: সেই বালকটি দ্বীন প্রকাশের স্বার্থে নিজেকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।

এ কারণেই চার ইমাম অনুমতি দিয়েছেন যে, একজন মুসলিম কাফেরদের সারিতে ঢুকে পড়বে, যদিও তার প্রবল ধারণা হয় যে তারা তাকে হত্যা করবে, যদি তাতে মুসলিমদের জন্য কোনো কল্যাণ থাকে। আমরা অন্য স্থানে এই মাসআলাটি বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

সুতরাং, যখন কোনো ব্যক্তি জিহাদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে এমন কাজ করে যা সে বিশ্বাস করে যে তার মৃত্যুর কারণ হবে—অথচ তার নিজের জীবন নাশ অন্যের জীবনের নাশের চেয়ে বড় বিষয়—তখন যা অন্যকে হত্যার দিকে নিয়ে যায় সেই দ্বীনি কল্যাণের জন্য যা তা ছাড়া অর্জিত হবে না এবং দ্বীন ও দুনিয়া বিনষ্টকারী শত্রুর ক্ষতি প্রতিহত করার জন্য যা তা ছাড়া সম্ভব নয়, তা আরও বেশি অগ্রগণ্য।" মাজমুউল ফাতাওয়া (২৮/৫৪০)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
نص الشافعي وأحمد وأبي حنيفة ومالك على الجواز

28- وأما الأئمة المتبعون كـ: "الشافعي"1 و"أحمد"2 وغيرهما3 فقد نصوا على جوز ذلك.

29- وكذلك: هو مذهب:

- "أبي حنيفة"4.

--------------------------------------------

1 قال الإمام الشافعي رحمه الله: " لا أرى ضيقا على الرجل أن يحمل على الجماعة حاسرا أو يبادر الرجل وإن كان الأغلب أنه مقتول لأنه قد بودر بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وحمل رجل من الأنصار حاسرا على جماعة من المشركين يوم بدر بعد إعلام النبي صلى الله عليه وسلم بما في ذلك من الخير فقتل" الأم (4/92) .

2 وسئل الإمام أحمد رحمه الله: "الأسير يجد السيف أو السلاح فيحمل عليهم وهو لا يعلم أنه لا ينجو أعان على نفسه قال أما سمعت قول عمر حين سأله الرجل فقال إن أبي أو خالي ألقى بيده إلى التهلكة فقال عمر ذلك أشترى الآخرة بالدنيا" مسائل الإمام أحمد رواية ابنه صالح (2/469) .

وقال أبو داود: "سمعت أحمد بن حنبل يقول: إذا علم أنه يؤسر فليقاتل حتى يقتل أحب إلي وقال: لا يستأسر الأسر شديد" وقال أبو داود: سمعت أحمد بن حنبل سئل عن الأسير إذا أسر؛ له أن يقاتلهم؟ قال: "إذا علم أنه يقوى بهم" مسائل الإمام أحمد لأبي داود (247) وراجع: المغني (9/176) وكشاف القناع (3/70) .

وقال المرداوي رحمه الله: "قال الإمام أحمد ما يعجبني أن يستأسر يقاتل أحب إلي. الأسر شديد ولا بد من الموت وقد قال عمار من استأسر برئت منه الذمة فلهذا قال الآجري يأثم بذلك فإنه قول أحمد وذكر الشيخ تقي الدين أنه يسن انغماسه في العدو لمنفعة المسلمين وإلا نهى عنه وهو من التهلكة" الإنصاف (4/125) .

3 في الأصل: "وغيرهم" وما أثبته من هامش الأصل.

4 وقال أبو بكر الجصاص الحنفي (ت370هـ) رحمه الله: عند قوله تعالى: {وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} . فذكر عدة وجوه، منها: "أن يقتحم الحرب من غير نكاية في العدو وهو الذي تأوله القوم الذي أنكر عليهم أبو أيوب وأخبر فيه بالسبب"=
শাফিঈ, আহমাদ, আবু হানিফা এবং মালিক বৈধতার পক্ষে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন।

২৮- আর অনুসরণীয় ইমামগণ যেমন: "শাফিঈ" এবং "আহমাদ" ও অন্যান্যদের ক্ষেত্রে বলতে গেলে, তাঁরা এর বৈধতার পক্ষে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন।

২৯- এবং অনুরূপভাবে এটি "আবু হানিফা"-র মাযহাব (মত)।

--------------------------------------------

১ ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমি কোনো ব্যক্তির জন্য একে সংকীর্ণ মনে করি না যে সে বর্মহীন অবস্থায় শত্রুদলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে বা অগ্রসর হবে, যদিও প্রবল ধারণা থাকে যে সে নিহত হবে। কারণ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনেও এমনটি করা হয়েছে এবং বদরের দিনে এক আনসারী সাহাবী বর্মহীন অবস্থায় মুশরিকদের দলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, যখন নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি নিহত হন।" আল-উম্ম (৪/৯২)।

২ ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল: "একজন বন্দী যদি তরবারি বা অস্ত্র পায় এবং সে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অথচ সে জানে না যে সে বেঁচে ফিরবে কি না, সে কি নিজের মৃত্যুতে সহায়তা করল? তিনি বললেন: তুমি কি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই উক্তি শোননি যখন এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করেছিল এবং বলেছিল: আমার বাবা অথবা আমার মামা নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। তখন উমর বলেছিলেন: সেই ব্যক্তি দুনিয়ার বিনিময়ে আখিরাত ক্রয় করেছে।" মাসায়িলুল ইমাম আহমাদ, তাঁর পুত্র সালিহের বর্ণনা (২/৪৬৯)।

আবু দাউদ বলেন: "আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: যদি কেউ বুঝতে পারে যে সে বন্দী হবে, তবে সে যেন লড়াই করে যতক্ষণ না নিহত হয়, এটিই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। তিনি আরও বলেন: সে যেন নিজেকে বন্দী হতে না দেয়, কারণ বন্দীত্ব অত্যন্ত কঠিন।" আবু দাউদ আরও বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে এক বন্দী সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুনেছি যে যখন সে বন্দী হবে; তখন কি তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা জায়েজ? তিনি বললেন: "যদি সে জানে যে সে তাদের ওপর জয়ী হতে পারবে।" মাসায়িলুল ইমাম আহমাদ লি-আবি দাউদ (২৪৭) এবং দেখুন: আল-মুগনি (৯/১৭৬) ও কাশশাফুল কিনা (৩/৭০)।

আল-মারদাউয়ি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "ইমাম আহমাদ বলেছেন: বন্দী হওয়া আমার কাছে পছন্দনীয় নয়, বরং লড়াই করা আমার নিকট অধিক প্রিয়। বন্দীত্ব কঠিন আর মৃত্যু তো অবধারিত। আম্মার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজেকে বন্দী হতে দেয় তার প্রতি আল্লাহর জিম্মাদারি থাকে না। এ কারণেই আল-আজুরি বলেছেন যে এর দ্বারা সে গুনাহগার হবে, কারণ এটি আহমাদেরই মত। আর শাইখ তাকিউদ্দীন উল্লেখ করেছেন যে মুসলিমদের উপকারের উদ্দেশ্যে শত্রুর ভেতরে ঢুকে পড়া মুস্তাহাব, অন্যথায় তা নিষেধ এবং সেটি নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত।" আল-ইনসাফ (৪/১২৫)।

৩ মূলে রয়েছে: "তাদের অন্যান্যরা" এবং আমি যা সাব্যস্ত করেছি তা মূলের পার্শ্বটীকা থেকে গৃহীত।

৪ আবু বকর আল-জাসসাস আল-হানাফি (মৃত্যু ৩৭০ হিজরি) রহিমাহুল্লাহ মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোচনায় বলেন: {তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজেদের হাতকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না}। তিনি এখানে বেশ কিছু দিক উল্লেখ করেছেন, যার একটি হলো: "শত্রুর কোনো ক্ষতি করা ছাড়াই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া; আর এটিই সেই অর্থ যা ঐ সম্প্রদায় গ্রহণ করেছিল যাদের আবু আইয়ুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রতিবাদ করেছিলেন এবং এর কারণ বর্ণনা করেছিলেন।"=
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
30- و"ملك"1 وغيرهما.

--------------------------------------------

=ثم قال رحمه الله: "فأما حمله على الرجل الواحد يحمل على حلبة العدو فإن محمد بن الحسن ذكر في السير الكبير أن رجلا لو حمل على ألف رجل وهو وحده لم يكن بذلك بأس إذا كان يطمع في نجاة أو نكاية فإن كان لا يطمع في نجاة ولا نكاية فإني أكره له ذلك لأنه عرض نفسه للتلف من غير منفعة للمسلمين وإنما ينبغي للرجل أن يفعل هذا إذا كان يطمع في نجاة أو منفعة للمسلمين فإن كان لا يطمع في نجاة ولا نكاية ولكنه يجرىء المسلمين بذلك حتى يفعلوا مثل ما فعل فيقتلون وينكون في العدو فلا بأس بذلك إن شاء الله لأنه لو كان على طمع من النكاية في العدو ولا يطمع في النجاة لم أر بأسا أن يحمل عليهم فكذلك إذا طمع أن ينكي غيره فيهم بحملته عليهم فلا بأس بذلك وأرجو أن يكون فيه مأجورا وإنما يكره له ذلك إذا كان لا منفعة فيه على وجه من الوجوه وإن كان لا يطمع في نجاة ولا نكاية ولكنه مما يرهب العدو فلا بأس بذلك لأن هذا أفضل النكاية وفيه منفعة للمسلمين والذي قال محمد من هذه الوجوه صحيح لا يجوز غيره وعلى هذه المعاني يحمل تأويل من تأول في حديث أبي أيوب أنه ألقى بيده إلى التهلكة بحمله على العدو إذ لم يكن عندهم في ذلك منفعة وإذا كان كذلك فلا ينبغي أن يتلف نفسه من غير منفعة عائدة على الدين ولا على المسلمين فأما إذا كان في تلف نفسه منفعة عائدة على الدين فهذا مقام شريف مدح الله به أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في قوله: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ} وقال: {وَلا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتاً بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ} وقال: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ} في نظائر ذلك من الآي التي مدح الله فيها من بذل نفسه لله" أحكام القرآن (3/360) .

1 قال العلامة القرطبي المالكي رحمه الله: "اختلف العلماء في إقتحام الرجل في الحرب وحمله على العدو وحده فقال القاسم بن مخيمرة والقاسم بن محمد وعبد الملك من علمائنا لا بأس أن يحمل الرجل وحده على الجيش العظيم إذا كان فيه قوة وكان لله بنية خالصة فإن لم تكن فيه قوة فذلك من التهلكة وقيل إذا طلب الشهادة وخلصت النية فليحمل لأن مقصوده واحد منهم وذلك بين في=
30- এবং "মালিক"১ ও অন্যান্যরা।

--------------------------------------------

=অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তবে একজন ব্যক্তির একাকী শত্রু বাহিনীর ওপর আক্রমণ করার বিষয়টি সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান 'আস-সিয়ার আল-কবীর'-এ উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি একাকী এক হাজার শত্রুর ওপর আক্রমণ করে, তবে তাতে কোনো দোষ নেই যদি সে বেঁচে ফেরার অথবা শত্রুর ক্ষতি করার আশা রাখে। কিন্তু যদি সে বেঁচে ফেরার বা শত্রুর ক্ষতি করার কোনো আশা না রাখে, তবে আমি তার জন্য এটি অপছন্দ করি; কারণ সে মুসলিমদের কোনো উপকার ছাড়াই নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বরং একজন মানুষের কেবল তখনই এমনটি করা উচিত যখন সে বেঁচে ফেরার অথবা মুসলিমদের উপকারের আশা রাখে। আর যদি সে বেঁচে ফেরার বা শত্রুর ক্ষতির আশা না রাখে, কিন্তু এর মাধ্যমে সে মুসলিমদের উৎসাহিত করে যাতে তারা তার মতোই কাজ করে এবং শত্রুকে হত্যা ও পর্যুদস্ত করে, তবে ইনশাআল্লাহ এতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ যদি সে শত্রুর ক্ষতি করার আশা রাখে কিন্তু বেঁচে ফেরার আশা না রাখে, তবুও আমি তাদের ওপর আক্রমণ করার মধ্যে কোনো দোষ দেখি না। একইভাবে যদি সে তার আক্রমণের মাধ্যমে অন্যদেরকে শত্রুর মাঝে ক্ষয়ক্ষতি করতে উৎসাহিত করার আশা রাখে, তবে তাতেও কোনো সমস্যা নেই এবং আমি আশা করি সে এর জন্য পুরস্কৃত হবে। এটি তার জন্য কেবল তখনই অপছন্দনীয় হবে যখন এতে কোনোভাবেই কোনো ফায়দা থাকবে না। আর যদি সে বেঁচে ফেরার বা শত্রুর ক্ষতির আশা না রাখে, কিন্তু এর দ্বারা শত্রুর মনে ভীতির সৃষ্টি হয়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই; কারণ এটি শত্রুকে ঘায়েল করার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় এবং এতে মুসলিমদের জন্য উপকার রয়েছে। মুহাম্মদ (ইবনুল হাসান) এসব সুরতের বিষয়ে যা বলেছেন তা সঠিক এবং এটি ছাড়া অন্য কিছু জায়েজ নয়। আবু আইয়ুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর বর্ণিত হাদীসে শত্রুর ওপর আক্রমণের মাধ্যমে 'নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া'র যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা এই অর্থেই প্রযোজ্য—যখন তাদের দৃষ্টিতে তাতে কোনো উপকার থাকে না। আর যখন বিষয়টি এমন হয়, তখন দ্বীন বা মুসলিমদের কোনো উপকার ছাড়া নিজের জীবন ধ্বংস করা উচিত নয়। পক্ষান্তরে, যদি নিজের জীবন উৎসর্গের মাধ্যমে দ্বীনের কোনো উপকার হয়, তবে এটি একটি মহান মর্যাদা, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রশংসা করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই বিনিময়ে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, ফলে তারা হত্যা করে ও নিহত হয়।} এবং তিনি বলেছেন: {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত, তাদের রবের নিকট তারা রিযিকপ্রাপ্ত হয়।} এবং তিনি আরও বলেছেন: {আর মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজেকে বিলিয়ে দেয়।} এই ধরণের আরও অনেক আয়াত রয়েছে যেগুলোতে আল্লাহ তাঁর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গকারীদের প্রশংসা করেছেন।" আহকামুল কুরআন (৩/৩৬০)।

১ আল্লামা কুরতুবী আল-মালিকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যুদ্ধে কোনো ব্যক্তির একাকী ঝাঁপিয়ে পড়া এবং শত্রুর ওপর আক্রমণ করার বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। কাসেম ইবনে মুখাইমিরাহ, কাসেম ইবনে মুহাম্মদ এবং আমাদের আলেমদের মধ্যে আব্দুল মালিক বলেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি একাকী বিশাল বাহিনীর ওপর আক্রমণ করে তবে তাতে কোনো বাধা নেই, যদি তার সামর্থ্য থাকে এবং আল্লাহর জন্য তার নিয়ত খাঁটি হয়। তবে যদি তার সামর্থ্য না থাকে, তবে তা ধ্বংসের শামিল। আর বলা হয়েছে যে, যদি সে শাহাদাত কামনা করে এবং নিয়ত খাঁটি হয় তবে যেন সে আক্রমণ করে, কারণ তার উদ্দেশ্য হলো তাদের একজনকে..."
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أدلة الكتاب والسنة والإجماع

31- ودليل ذلك: الكتاب، والسنة، وإجماع سلف الأمة

--------------------------------------------

=قوله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ} وقال بن خويز منداد فأما أن يحمل الرجل على مائة أو على جملة العسكر أو جماعة اللصوص والمحاربين والخوارج فلذلك حالتان إن علم وغلب على ظنه أن سيقتل من حمل عليه وينجو فحسن وكذلك لو علم وغلب على ظنه أن يقتل ولكن سينكى نكاية أو سيبلى أو يؤثر أثرا ينتفع به المسلمون فجائز أيضا وقد بلغني أن عسكر المسلمين لما لقي الفرس نفرت خيل المسلمين من الفيلة فعمد رجل منهم فصنع فيلا من طين وأنس به فرسه حتى ألفه فلما أصبح لم ينفر فرسه من الفيل فحمل على الفيل الذي كان يقدمها فقيل له إنه قاتلك فقال لا ضير أن أقتل ويفتح للمسلمين وكذلك يوم اليمامة لما تحصنت بنو حنيفة بالحديقة قال رجل من المسلمين ضعوني في الجحفة وألقوني إليهم ففعلوا وقاتلهم وحده وفتح الباب قلت ومن هذا ما روي أن رجلا قال للنبي صلى الله عليه وسلم: "أرأيت إن قتلت في سبيل الله صابرا محتسبا قال فلك الجنة فآنغمس في العدو حتى قتل" وفي صحيح مسلم عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أفرد يوم أحد في سبعة من الأنصار ورجلين من قريش فلما رهقوه قال: "من يردهم عنا وله الجنة أو هو رفيقي في الجنة" فتقدم رجل من الأنصار فقاتل حتى قتل ثم رهقوه أيضا فقال: "من يردهم عنا وله الجنة أو هو رفيقي في الجنة" فتقدم رجل من الأنصار فقاتل حتى قتل فلم يزل كذلك حتى قتل السبعة فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "ما أنصفنا أصحابنا" هكذا الرواية أنصفنا بسكون الفاء أصحابنا بفتح الباء أي لم ندلهم للقتال حتى قتلوا وروي بفتح الفاء ورفع الباء ووجهها أنها ترجع لمن فر عنه من أصحابه والله أعلم.

وقال محمد بن الحسن: لو حمل رجل واحد على ألف رجل من المشركين وهو وحده لم يكن بذلك بأس إذا كان يطمع في نجاة أو نكاية في العدو فإن لم يكن كذلك فهو مكروه لأنه عرض نفسه للتلف في غير منفعة للمسلمين فإن كان قصده تجرئة المسلمين عليهم حتى يصنعوا مثل صنيعة فلا يبعد جوازه ولأن فيه منفعة للمسلمين على بعض الوجوه وإن كان قصده إرهاب العدو وليعلم صلابة المسلمين في الدين فلا يبعد جوازه وإذا كان فيه نفع للمسلمين فتلفت نفسه لإعزاز دين الله وتوهين الكفر فهو المقام الشريف الذي مدح الله به المؤمنين في قوله: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ} الآية إلى غيرها من آيات المدح التي مدح الله بها من بذل نفسه" تفسير القرطبي (2/363، 364) .
কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার দলীলসমূহ

৩১- আর এর দলীল হলো: কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফগণের ইজমা (ঐক্যমত)।

--------------------------------------------

= মহান আল্লাহর বাণী: {আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজের জীবনকে বিক্রয় করে দেয়।} ইবনে খুওয়াইয মানদাদ বলেন, আর একজন ব্যক্তির একশ জনের ওপর অথবা সমগ্র বাহিনীর ওপর কিংবা একদল চোর, যুদ্ধবাজ বা খারেজিদের ওপর আক্রমণ করার বিষয়টি দুই অবস্থার অন্তর্ভুক্ত: যদি সে নিশ্চিতভাবে জানে বা প্রবল ধারণা পোষণ করে যে, সে যার ওপর আক্রমণ করছে তাকে হত্যা করতে পারবে এবং নিজে রক্ষা পাবে, তবে তা উত্তম। অনুরূপভাবে, যদি সে নিশ্চিতভাবে জানে বা প্রবল ধারণা করে যে সে নিহত হবে, কিন্তু শত্রুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করতে পারবে অথবা কোনো পরীক্ষা সৃষ্টি করবে কিংবা এমন কোনো প্রভাব ফেলবে যা দ্বারা মুসলিমরা উপকৃত হবে, তবে তাও জায়েয (বৈধ)। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, মুসলিম বাহিনী যখন পারসিকদের মুখোমুখি হলো, তখন মুসলিমদের ঘোড়াগুলো হাতি দেখে ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। তখন তাদের এক ব্যক্তি মাটির একটি হাতি তৈরি করার উদ্যোগ নিলেন এবং সেটির সাথে তার ঘোড়াকে অভ্যস্ত করালেন যতক্ষণ না সেটি তার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। ভোর হলে তার ঘোড়াটি হাতি দেখে আর ভয় পেল না। এরপর তিনি অগ্রবর্তী হাতিটির ওপর আক্রমণ চালালেন। তাকে বলা হলো, "এটি তো আপনাকে মেরে ফেলবে।" তিনি বললেন, "আমি নিহত হলে কোনো ক্ষতি নেই, যদি এর ফলে মুসলিমদের বিজয় ত্বরান্বিত হয়।" অনুরূপভাবে ইয়ামামার যুদ্ধের দিন, যখন বনু হানিফা একটি বাগানের ভেতর দুর্গের মতো অবস্থান গ্রহণ করল, তখন মুসলিমদের একজন বললেন, "আমাকে ঢালের ওপর বসিয়ে তাদের ভেতরে ছুড়ে দাও।" তারা তাই করল এবং তিনি একাকী তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন ও ফটক খুলে দিলেন। আমি বলছি, এর অন্তর্ভুক্ত সেই বর্ণনাটিও, যেখানে এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আপনি কি মনে করেন, আমি যদি আল্লাহর পথে ধৈর্যশীল ও সওয়াবের আশায় নিহত হই (তবে আমার স্থান কোথায়)?" তিনি বললেন: "তোমার জন্য জান্নাত।" তখন তিনি শত্রুবাহিনীর মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং নিহত হলেন। সহীহ মুসলিম-এ আনাস ইবনে মালেক (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, ওহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতজন আনসার এবং দুইজন কুরাইশ সাহাবীর সাথে একাকী হয়ে পড়েছিলেন। যখন তারা তাঁকে ঘিরে ফেলল, তিনি বললেন: "কে আমাদের থেকে তাদের হটিয়ে দেবে যার জন্য জান্নাত রয়েছে অথবা সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে?" তখন আনসারদের একজন সামনে এগিয়ে আসলেন এবং নিহত হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করলেন। এরপর তারা আবার তাঁকে ঘিরে ফেলল। তিনি বললেন: "কে আমাদের থেকে তাদের হটিয়ে দেবে যার জন্য জান্নাত রয়েছে অথবা সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে?" তখন আনসারদের অন্য একজন এগিয়ে আসলেন এবং শহীদ হওয়া পর্যন্ত লড়াই করলেন। এভাবে ধারাবাহিকভাবে সাতজনই শহীদ হলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমরা আমাদের সাথীদের প্রতি সুবিচার করিনি।" বর্ণনাটি এভাবেই এসেছে—'আনসাফনা' শব্দটি 'ফা' বর্ণে সুকুন যোগে এবং 'আসহাবানা' শব্দটি 'বা' বর্ণে ফাতহা যোগে। অর্থাৎ, তারা নিহত হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের লড়াইয়ে পাঠাইনি। আরেকটি বর্ণনায় 'ফা' বর্ণে ফাতহা এবং 'বা' বর্ণে পেশ দিয়ে বর্ণিত হয়েছে, যার অর্থ দাঁড়ায় কথাটি সেই সব সাথীদের দিকে ফিরবে যারা তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ অধিক ভালো জানেন।

মুহাম্মদ ইবনুল হাসান বলেন: যদি একজন ব্যক্তি মুশরিকদের এক হাজার জনের ওপর একাকী আক্রমণ করে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই যদি সে রক্ষা পাওয়ার আশা রাখে অথবা শত্রুর ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে। আর যদি বিষয়টি এমন না হয়, তবে তা মকরুহ (অপছন্দনীয়)। কারণ সে কোনো মুসলিমদের উপকার ছাড়াই নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তবে যদি তার উদ্দেশ্য হয় মুসলিমদের উৎসাহিত করা যাতে তারাও তার মতো সাহসিকতা দেখায়, তবে এটি জায়েয হওয়ার বিষয়টি অবান্তর নয়। কারণ কোনো কোনো দিক থেকে এতে মুসলিমদের উপকার রয়েছে। আর যদি তার উদ্দেশ্য হয় শত্রুকে আতঙ্কিত করা এবং দ্বীনের ব্যাপারে মুসলিমদের দৃঢ়তা সম্পর্কে জানানো, তবেও এটি বৈধ হওয়া থেকে দূরে নয়। আর যদি এতে মুসলিমদের উপকার থাকে এবং আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী ও কুফরকে লাঞ্ছিত করতে গিয়ে কেউ প্রাণ হারায়, তবে তা হবে সেই উচ্চ মর্যাদা যার মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনদের প্রশংসা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ক্রয় করে নিয়েছেন...} শেষ পর্যন্ত। এই আয়াতের মতো আরও অনেক প্রশংসাসূচক আয়াত রয়েছে যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন।" তাফসীরে কুরতুবী (২/৩৬৩, ৩৬৪)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌أدلة من الكتاب

…

الآية الأولى

32- فقد قال الله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَؤُوفٌ بِالْعِبَادِ} (البقرة:207) .

سبب النزول

33- وقد ذكر أن سبب نزول هذه الآية1:

أن صهيبا خرج مهاجرا من مكة إلى المدينة إلى النبي صلى الله عليه وسلم. فلحقه المشركون وهو وحده.

فنشل كنانته، وقال: والله لا يأتي رجل منكم إلا رميته.

فأراد قتالهم وحده، وقال: إن أحببتم أن تأخذوا مالي بمكة فخذوه، وأنا أدلكم عليه.

ثم قدم على النبي صلى الله عليه وسلم. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "ربح البيع أبا يحي".

--------------------------------------------

1 قال ابن النحاس رحمه الله: بعد أن ذكر طرفا من المفسرين الذين ذكروا سبب نزول هذه الآية بما أورده شيخ الإسلام؛ منهم ابن أبي حاتم وأبو بكر المنذري، وقال: "وقد روى القصة صهيب هذا جماعة من المفسرين غير من ذكرنا منهم ابن مردويه والواحدي والقرطبي وغيرهم، وقال ابن كثير الدمشقي: وأما الأكثرون فحملوا ذلك على أنها نزلت في كل مجاهد في سبيل الله كما قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ} ". مشارع الأنوار (1/523) .

راجع: العجاب في بيان الأسباب لابن حجر (1/525، 526) وتفسير القرطبي (3/20) وتفسير الطبري (2/321) وتفسير البغوي (2/329) وزاد المسير (1/223) والدر المنثور (1/577) وروح المعاني (2/97) .
কিতাব থেকে দলীলসমূহ

…

প্রথম আয়াত

৩২- আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর মানুষের মধ্যে এমনও ব্যক্তি আছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেকে বিক্রি করে দেয়; আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।} (আল-বাক্বারাহ: ২০৭)।

নাযিলের কারণ

৩৩- এই আয়াতটি নাযিলের কারণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যে: ১

সুহাইব মক্কা থেকে মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট হিজরতের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। মুশরিকরা তাঁকে একা পেয়ে পিছু ধাওয়া করল।

তখন তিনি তাঁর তূণ থেকে তীর বের করলেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, তোমাদের মধ্য থেকে যে-ই আমার কাছে আসবে, আমি তাকে তীর বিদ্ধ করব।

তিনি একাই তাদের সাথে লড়াই করার ইচ্ছা করলেন এবং বললেন: তোমরা যদি মক্কায় থাকা আমার সম্পদ নিয়ে নিতে চাও, তবে তা নিয়ে নাও, আমি তোমাদেরকে সেটির পথ দেখিয়ে দিচ্ছি।

এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "হে আবু ইয়াহইয়া, সওদা বা ব্যবসাটি লাভজনক হয়েছে।"

--------------------------------------------

১ ইবনে আন-নাহহাস রহিমাহুল্লাহ বলেন: শাইখুল ইসলাম যেসকল মুফাসসিরদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই আয়াত নাযিলের কারণ বর্ণনা করেছেন, তাদের কয়েকজনের কথা উল্লেখ করার পর; যাঁদের মধ্যে ইবনে আবি হাতিম ও আবু বকর আল-মুনযিরি রয়েছেন, তিনি বলেন: "আমাদের উল্লিখিত মুফাসসিরগণ ছাড়াও একদল মুফাসসির সুহাইবের এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে ইবনে মারদুওয়াইহি, আল-ওয়াহিদি, আল-কুরতুবি প্রমুখ রয়েছেন। আর ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকি বলেন: তবে অধিকাংশ আলিমের মতে এই আয়াতটি আল্লাহর পথে জিহাদকারী প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই অবতীর্ণ হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই বিনিময়ে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত}।" মাশারিউল আনোয়ার (১/৫২৩)।

দেখুন: ইবনে হাজার রচিত আল-উজাব ফী বায়ানিল আসবাব (১/৫২৫, ৫২৬), তাফসীরে কুরতুবি (৩/২০), তাফসীরে তাবারী (২/৩২১), তাফসীরে বাগভী (২/৩২৯), যাদুল মাসীর (১/২২৩), আদ-দুররুল মানসুর (১/৫৭৭) এবং রুহুল মাআনী (২/৯৭)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
34- وروى أحمد بإسناده: أن رجلا حمل وحده على العدو فقال الناس: ألقى بيده إلى التهلكة. فقال عمر: كلا بل هذا ممن قال الله فيه: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَؤُوفٌ بِالْعِبَادِ} (البقرة:207) .1

35- وقوله تعالى: {يَشْرِي نَفْسَهُ} أي يبيع نفسه، فيقال شراه وبيعه سواء، واشتراه وابتاعه سواء، ومنه قوله: {وَشَرَوْهُ بِثَمَنٍ بَخْسٍ دَرَاهِمَ مَعْدُودَةٍ} (يوسف: من الآية20) أي باعوه.

فقوله: {يَشْرِي نَفْسَهُ} أي يبيع نفسه لله تعالى ابتغاء مرضاته وذلك يكون بأن يبذل نفسه فيما يحبه الله ويرضاه، وإن قتل أو غلب على ظنه أنه يقتل.

--------------------------------------------

1 رواه ابن جرير (4/249 -شاكر) من حديث المغيرة بن شعبة رضي الله عنه قال: "بعث عمر جيشا فحاصروا أهل حصن وتقدم رجل من بجيلة فقاتل فقتل فأكثر الناس فيه يقولون ألقى بيده إلى التهلكة قال فبلغ ذلك عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال كذبوا أليس الله عز وجل يقول {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَؤُوفٌ بِالْعِبَادِ} " وعزاه في كنز العمال أيضا (11328) لوكيع وعبد بن حميد وابن أبي حاتم.

ورواه البيهقي (9/46) عن مدرك بن عوف الأحمسي أنه كان جالسا عند عمر بن الخطاب رضي الله عنه فذكروا رجلا شرى نفسه يوم نهاوند فقال: ذالك والله يا أمير المؤمنين خالي زعم الناس أنه ألقى بيديه إلى التهلكة، فقال عمر رضي الله عنه: "كذب أؤلئك بل هو من الذين اشتروا الآخرة بالدنيا".

ورواه ابن جرير (4/249 -شاكر) أن هشام بن عامر حمل على الصف حتى خرقه، فقالوا: ألقى بيده إلى التهلكة!! فقال أبو هريرة: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ} .
৩৪- আহমদ তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি একাকী শত্রুর ওপর আক্রমণ চালালো। তখন লোকজন বলল: সে নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উমর (রা.) বললেন: কক্ষনো নয়, বরং এ সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেকে বিক্রি করে দেয়; আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।} (আল-বাকারা: ২০৭)।১

৩৫- এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিজেকে বিক্রি করে দেয়} এর অর্থ হলো নিজের জান বিক্রয় করা। বলা হয় 'শরাহু' ও 'বিআহু' একই অর্থবোধক, এবং 'ইশতারাহু' ও 'ইবতাআহু'ও একই অর্থ। এর উদাহরণ আল্লাহর বাণী: {আর তারা তাকে স্বল্প মূল্যে বিক্রয় করল, গুটিকয়েক দিরহামের বিনিময়ে।} (ইউসুফ: ২০-এর অংশ বিশেষ) অর্থাৎ তারা তাকে বিক্রয় করে দিয়েছে।

সুতরাং আল্লাহর বাণী: {নিজেকে বিক্রি করে দেয়} এর অর্থ হলো নিজের জানকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির অন্বেষায় তাঁর কাছে বিক্রয় করা। আর তা অর্জিত হয় আল্লাহর প্রিয় ও সন্তুষ্টির কাজে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে, যদিও সে নিহত হয় কিংবা সে নিহত হবে বলে তার প্রবল ধারণা থাকে।

--------------------------------------------

১ ইবনে জারীর (৪/২৪৯-শাকের) মুগীরা ইবনে শু'বা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উমর (রা.) একটি সেনাবাহিনী পাঠালেন। তারা একটি দুর্গের অধিবাসীদের ঘেরাও করল। তখন বাজীলা গোত্রের এক ব্যক্তি সামনে এগিয়ে গিয়ে যুদ্ধ করতে করতে নিহত হলো। এ নিয়ে মানুষ অনেক কথা বলতে লাগল; তারা বলছিল: সে নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কাছে এ খবর পৌঁছালে তিনি বললেন: তারা মিথ্যা বলেছে। আল্লাহ তাআলা কি বলেননি: {আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেকে বিক্রি করে দেয়। আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু}?" কানযুল উম্মাল গ্রন্থেও (১১৩২৮) একে ওয়াকী', আবদ ইবনে হুমাইদ এবং ইবনে আবি হাতিমের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

বায়হাকী (৯/৪৬) মুদরিক ইবনে আউফ আল-আহমাসী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কাছে বসা ছিলেন। তখন তারা নাহাওয়ান্দ যুদ্ধের দিন নিজেকে উৎসর্গকারী এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন। মুদরিক বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আল্লাহর কসম সে তো আমার মামা ছিল। মানুষ দাবি করেছিল যে সে নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।" উমর (রা.) বললেন: "তারা মিথ্যা বলেছে, বরং সে তো তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা দুনিয়ার বিনিময়ে আখিরাতকে কিনে নিয়েছে।"

ইবনে জারীর (৪/২৪৯-শাকের) বর্ণনা করেছেন যে, হিশাম ইবনে আমির শত্রুব্যুহের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তা ছত্রভঙ্গ করে দিলেন। তখন লোকেরা বলল: সে নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে!! আবু হুরায়রা (রা.) বললেন: {আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যে (আল্লাহর) সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নিজেকে বিক্রি করে দেয়}।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الآية الثانية

36- كما قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْداً عَلَيْهِ حَقّاً فِي التَّوْرَاةِ وَالْأِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ_ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} (التوبة:111-112) .

37- وهذه الآية وهي قوله: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ} يدل على ذلك أيضا.

أفضل الشهادة

38- فإن المشتري يسلم إليه ما اشتراه، وذلك ببذل النفس والمال في سبيل الله وطاعته، وإن غلب على ظنه أن النفس تقتل والجواد يعقر، فهذا من أفضل الشهادة.

39- لما روى البخاري في صحيحه عن ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما من أيام العمل الصالح فيها [أحب] 1 إلى الله من هذه الأيام" يعني أيام العشر.

قالوا: يا رسول الله! ولا الجهاد في سبيل الله؟

قال: "ولا الجهاد في سبيل الله إلا رجل خرج بنفسه وماله ثم

--------------------------------------------

1 ما بين المعقوفتين زيادة من البخاري يستقيم بها السياق.
দ্বিতীয় আয়াত

৩৬- যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই বিনিময়ে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, ফলে তারা হত্যা করে এবং নিহত হয়। তাওরাত, ইনজীল ও কুরআনে এ সম্পর্কে সত্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আর আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রতিশ্রুতি পালনকারী আর কে আছে? সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে যে সওদা করেছ, সেই সওদার জন্য আনন্দিত হও। আর এটাই হলো মহাসাফল্য। তারা তওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী (বা আল্লাহর পথে পরিভ্রমণকারী), রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎ কাজের আদেশ দানকারী, অসৎ কাজে নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমানাসমূহ হিফাযতকারী। আর আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন।} (আত-তাওবাহ: ১১১-১১২)।

৩৭- আর এই আয়াতটি, যা হলো তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন}, তাও এর ওপর প্রমাণ পেশ করে।

সর্বোত্তম শাহাদাত

৩৮- কেননা ক্রেতাকে তাঁর ক্রীত বস্তু সোপর্দ করা হয়, আর তা হলো আল্লাহর পথে ও তাঁর আনুগত্যে জান ও মাল উৎসর্গ করার মাধ্যমে; যদিও তার প্রবল ধারণা থাকে যে তার প্রাণ সংহার করা হবে এবং তার সওয়ারী পশুটি নিহত হবে, তবুও এটাই হলো সর্বোত্তম শাহাদাত।

৩৯- যেমনটি ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "এমন কোনো দিন নেই যাতে নেক আমল করা আল্লাহর নিকট এই দিনগুলোর [অধিক প্রিয়] ১ অপেক্ষা বেশি পছন্দনীয়," অর্থাৎ যিলহজ্জের দশ দিন।

সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?

তিনি বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে নিজের জান ও মাল নিয়ে (জিহাদে) বের হয়েছে, অতঃপর...

--------------------------------------------

১ তৃতীয় বন্ধনীতে থাকা অংশটুকু বুখারীর বর্ণনা থেকে অতিরিক্ত সংযোজন, যা দ্বারা প্রসঙ্গের সামঞ্জস্য বিধান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
لم يرجع من ذلك بشيء" 1.

40- وفي رواية: "يعقر جواده وأهريق دمه" 2.

41- وفي "السنن" عن عبد الله بن حبشي أن النبي صلى الله عليه وسلم سئل أي العمل أفضل؟ قال: طول القيام.

قيل: أي الصدقة أفضل؟ قال جهد المقل.

قيل: فأي الهجرة [أفضل؟ قال: من هجر ما حرم الله عليه.

قيل: فأي الجهاد أفضل؟] 3 قال: من جاهد المشركين بنفسه وماله.

قيل: فأي القتل أشرف؟ قال: من أهريق دمه، وعقر جواده4.

--------------------------------------------

1 البخاري (969) بلفظ: "ما العمل في أيام العشر أفضل من العمل في هذه قالوا ولا الجهاد قال ولا الجهاد إلا رجل خرج يخاطر بنفسه وماله فلم يرجع بشيء" واللفظ للترمذي (757) وقال: "حسن صحيح غريب" وقال: "وفي الباب عن ابن عمر وأبي هريرة وعبد الله بن عمرو".

2 الطبراني في الصغير برقم (889) وفي الأوسط برقم (6696) .

3 ما بين المعقوفتين زيادة في مصادر التخريج يستقيم بها السياق.

4 رواه أبو داود (1449) والنسائي في الكبرى (2/32) وفي المجتبى (5/59) وهو عند ابن ماجه (2794) مختصرا، وصححه الألباني في صحيح أبي داود (1/399) .

"جهد المقل": قال ابن الأثير: "قد تكرر لفظ الجهد والجهد في الحديث كثيرا وهو بالضم الوسع والطاقة وبالفتح المشقة وقيل المبالغة والغاية وقيل هما لغتان في الوسع والطاقة فأما المشقة والغاية فالفتح لا غير " النهاية (1/320) .
...সে এর কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।" ১.

৪০- এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "তার ঘোড়াটি জখম করা হয়েছে এবং তার রক্ত ঝরানো হয়েছে।" ২.

৪১- এবং "সুনান"-এ আবদুল্লাহ ইবনে হাবশি থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা (নামাজে)।"

জিজ্ঞাসা করা হলো: কোন সদকা সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "অল্প পুঁজির অধিকারীর সামর্থ্য অনুযায়ী দান।"

জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে কোন হিজরত [সর্বোত্তম? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা বর্জন করে।

জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে কোন জিহাদ সর্বোত্তম?] ৩ তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি নিজের জান ও মাল দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।"

জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে কোন শাহাদাত অধিক মর্যাদাপূর্ণ? তিনি বললেন: "যার রক্ত ঝরানো হয়েছে এবং যার ঘোড়াটি জখম করা হয়েছে।" ৪

--------------------------------------------

১ বুখারি (৯৬৯) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "এই দশ দিনের (জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন) আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় নয়। তারা বললেন, জিহাদও কি নয়? তিনি বললেন, জিহাদও নয়, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে তার জান ও মাল নিয়ে ঝুঁকির মুখে (জিহাদে) বের হয়েছে এবং এরপর এর কিছুই নিয়ে ফিরে আসেনি।" শব্দগুলো তিরমিজির (৭৫৭) এবং তিনি বলেছেন: "হাসান সহিহ গরিব।" এবং তিনি আরও বলেন: "এই অনুচ্ছেদে ইবনে উমর, আবু হুরায়রা এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকেও বর্ণনা রয়েছে।"

২ তাবারানি 'আস-সাগির' গ্রন্থে (৮৮৯) এবং 'আল-আওসাত' গ্রন্থে (৬৬৯৬) এটি বর্ণনা করেছেন।

৩ বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু তাখরিজের উৎসসমূহ থেকে বর্ধিত করা হয়েছে যার মাধ্যমে প্রসঙ্গিকতা বজায় থাকে।

৪ আবু দাউদ (১৪৪৯) এবং নাসায়ি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (২/৩২) ও 'আল-মুজতাবা' গ্রন্থে (৫/৫৯) এটি বর্ণনা করেছেন। এটি ইবনে মাজাহ-তেও (২৭৯৪) সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে এবং আলবানি 'সহিহ আবু দাউদ' গ্রন্থে (১/৩৯৯) একে সহিহ বলেছেন।

"জুহদুল মুকিল্ল": ইবনুল আসির বলেছেন: "হাদিসে 'জহদ' এবং 'জুহদ' শব্দদ্বয় বহুবার এসেছে। পেশ (জুহদ) সহকারে এর অর্থ হলো সাধ্য ও সামর্থ্য। আর জবর (জহদ) সহকারে এর অর্থ হলো কষ্ট। আবার বলা হয়েছে, এর অর্থ হলো চরম প্রচেষ্টা ও পরিসীমা। আবার বলা হয়েছে যে, সাধ্য ও সামর্থ্য বুঝাতে দুটিই ব্যবহৃত হয়। তবে কষ্ট ও পরিসীমা বুঝাতে কেবল জবর (জহদ) যোগেই ব্যবহৃত হয়।" আন-নিহায়া (১/৩২০)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الآية الثالثة

42- وأيضا: فإن الله سبحانه قد أخبر1 أنه أمر خليله بذبح ابنه ليبتليه هل يقتل ولده في محبة الله وطاعته؟!

43- وقتل الإنسان ولده قد يكون أشق عليه من تعريضه نفسه للقتل، والقتال في سبيل الله أحب إلى الله مما ليس كذلك.

امتحان إبراهيم بذبح ابنه

44- والله أمر إبراهيم بذبح ابنه قربانا؛ ليمتحنه بذلك ولذلك نسخ ذلك عنه لما علم صدق عزمه في قتله؛ فإن المقود لم يكن ذبحه لكن ابتلاء إبراهيم2.

--------------------------------------------

1 وذلك في قوله تعالى: {فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلامٍ حَلِيمٍ فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ وَنَادَيْنَاهُ أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيا إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ} (الصافات:101-107) .

2 فائدة: قال المصنف رحمه الله: "والتحقيق أن الأمر الذي هو ابتلاء وامتحان يحض عليه من غير منفعة في الفعل متى اعتقده العبد وعزم على الامتثال حصل المقصود وإن لم يفعله كإبراهيم لما أمر بذبح ابنه وكحديث "أقرع وأبرص وأعمى" لما طلب منهم إعطاء بن السبيل فامتنع الأبرص والأقرع فسلبا النعمة وأما الأعمى فبذل المطلوب فقيل له أمسك مالك فإنما ابتليتم فقد رضي عنك وسخط على صاحبيك وهذا هو الحكمة الناشئة من نفس الأمر والنهي لا من نفس الفعل فقد يؤمر العبد وينهى وتكون الحكمة طاعته للأمر وانقياده له وبذله للمطلوب كما كان المطلوب من إبراهيم تقديم حب الله على حبه لابنه حتى تتم خلته به قبل ذبح هذا المحبوب لله فلما أقدم عليه وقوى عزمه بإرادته لذلك تحقق بأن الله أحب إليه من الولد وغيره ولم يبق في قلبه محبوب يزاحم محبة الله " مجموع الفتاوى (14/145) .
তৃতীয় আয়াত

42- আরও কথা হলো: আল্লাহ সুবহানাহু সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর খলীলকে (বন্ধুকে) তার পুত্রকে যবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তাকে পরীক্ষা করা যায় যে, তিনি আল্লাহর মহব্বত ও আনুগত্যে নিজ সন্তানকে হত্যা করেন কি না?!

43- একজন মানুষের জন্য তার নিজ সন্তানকে হত্যা করা তার নিজের জীবনকে হত্যার সম্মুখীন করার চেয়েও অধিক কষ্টকর হতে পারে; আর আল্লাহর পথে লড়াই করা আল্লাহর নিকট এর বিপরীত বিষয়ের চেয়ে অধিক প্রিয়।

পুত্র যবেহ করার মাধ্যমে ইবরাহীমের পরীক্ষা

44- আর আল্লাহ ইবরাহীমকে তার পুত্রকে কুরবানি হিসেবে যবেহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাকে এর মাধ্যমে পরীক্ষা করার জন্য। আর এ কারণেই যখন তিনি তাকে হত্যা করার ব্যাপারে তার সংকল্পের সততা সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন তা তাঁর উপর থেকে রহিত করে দিলেন; কেননা মূল উদ্দেশ্য যবেহ করা ছিল না, বরং তা ছিল ইবরাহীমের পরীক্ষা।

--------------------------------------------

1। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: {অতঃপর আমি তাকে এক ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছাল, তখন সে বলল: হে আমার প্রিয় বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, এখন দেখ তোমার অভিমত কী। সে বলল: হে আমার প্রিয় পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা-ই করুন, ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন। যখন তারা উভয়ে আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে কাত করে শুইয়ে দিল। তখন আমি তাকে ডেকে বললাম: হে ইবরাহীম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। আর আমি এক মহান জবেহকৃত পশুর বিনিময়ে তাকে মুক্ত করলাম।} (আস-সাফফাত: ১০১-১০৭)।

2। ফায়দা: লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তদন্তলব্ধ বিষয় হলো, যে আদেশটি পরীক্ষা স্বরূপ এবং যাতে কোনো ফায়দা ব্যতিরেকেই উদ্বুদ্ধ করা হয়, বান্দা যখন তা বিশ্বাস করে এবং পালনের সংকল্প করে, তখন উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যায় যদিও সে কাজটি বাস্তবে না করে; যেমন ইবরাহীম যখন তার পুত্রকে যবেহ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিলেন। অনুরূপ 'টেকো, কুষ্ঠরোগী ও অন্ধের' হাদীসটিও, যখন তাদের কাছে মুসাফিরের জন্য কিছু চাওয়া হলো, তখন কুষ্ঠরোগী ও টেকো ব্যক্তি তা দিতে অস্বীকার করল এবং তাদের নেয়ামত ছিনিয়ে নেওয়া হলো। আর অন্ধ ব্যক্তি কাঙ্ক্ষিত বস্তু প্রদান করল, তখন তাকে বলা হলো: তোমার সম্পদ তোমার কাছেই রাখো, তোমাদেরকে কেবল পরীক্ষা করা হয়েছে; সুতরাং তোমার উপর সন্তুষ্ট হওয়া হয়েছে আর তোমার দুই সাথীর উপর রাগান্বিত হওয়া হয়েছে। আর এটিই হলো খোদ আদেশ ও নিষেধ থেকে উদ্ভূত হিকমত (প্রজ্ঞা), মূল কাজ থেকে নয়। অনেক সময় বান্দাকে আদেশ ও নিষেধ করা হয় এবং এর হিকমত থাকে আদেশের প্রতি তার আনুগত্য, আত্মসমর্পণ এবং কাঙ্ক্ষিত বস্তু উৎসর্গ করা। যেমন ইবরাহীমের নিকট কাঙ্ক্ষিত ছিল আল্লাহর প্রতি ভালোবাসাকে পুত্রের প্রতি ভালোবাসার উপর প্রাধান্য দেওয়া, যাতে এই প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর জন্য যবেহ করার পূর্বেই তাঁর সাথে তাঁর 'খুল্লাত' (নিবিড় বন্ধুত্ব) পূর্ণতা পায়। সুতরাং যখন তিনি তা করতে অগ্রসর হলেন এবং তাঁর ইচ্ছার মাধ্যমে তাঁর সংকল্প দৃঢ় হলো, তখন এটি সাব্যস্ত হলো যে আল্লাহ তাঁর নিকট সন্তান ও অন্যান্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়, এবং তাঁর অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো অন্য কোনো প্রিয় বস্তু অবশিষ্ট রইল না।" মাজমুউল ফাতাওয়া (১৪/১৪৫)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ابتلاء الله للمؤمنين ببذل أنفسهم

45- والله تعالى يبتلي المؤمنين ببذل أنفسهم، ليقتلوا في سبيل الله ومحبة رسوله؛ فإن قتلوا كانوا شهداء، وإن عاشوا كانوا سعداء.

46- كما قال: {قُلْ هَلْ تَرَبَّصُونَ بِنَا إِلَّا إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ} (التوبة: من الآية52) .
মুমিনদের নিজেদের জীবন বিসর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর পরীক্ষা

45- আর আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে তাদের জীবন উৎসর্গের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, যেন তারা আল্লাহর পথে এবং তাঁর রাসূলের ভালোবাসায় নিহত হন; সুতরাং তারা যদি নিহত হন তবে তারা শহীদ হন, আর যদি জীবিত থাকেন তবে তারা সৌভাগ্যবান হন।

46- যেমন তিনি বলেছেন: {বলুন, তোমরা কি আমাদের জন্য দু’টি কল্যাণের একটি ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতীক্ষা করছ?} (আত-তাওবাহ: ৫২ নম্বর আয়াতের অংশ) ।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الآية الرابعة

47- وقد قال لبني إسرائيل: {فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ عِنْدَ بَارِئِكُمْ} (البقرة: من الآية54) .

48- أي: ليقتل بعضكم بعضا.

49- فألقى عليهم ظلمة، حتى جعل الذين لم يعبدوا العجل يقتلون الذين عبدوه.

50- هذا الذي كان في شرع من قبلنا من أمره بقتل بعضهم بعضا1 قد عوضنا الله بخير منه وأنفع، وهو جهاد المؤمنين عدو الله وعدوهم وتعريضهم أنفسهم لأن يقتلوا في سبيله بأيدي عدوهم لا بأيدي بعضهم بعضا، وذلك أعظم درجة وأكثر أجرا.

--------------------------------------------

1 قال الحافظ ابن كثير رحمه الله: "قال الزهري لما أمرت بنو إسرائيل بقتل أنفسها برزوا ومعهم موسى فاضطربوا بالسيوف وتطاعنوا بالخناجر وموسى رافع يديه حتى إذا فتر بعضهم قالوا يا نبي الله أدع الله لنا وأخذوا بعضديه يسندون يديه فلم يزل أمرهم على ذلك حتى إذا قبل الله توبتهم قبض أيديهم بعضهم عن بعض فألقوا السلاح وحزن موسى وبنو إسرائيل للذي كان من القتل فيهم فأوحى الله جل ثناؤه إلى موسى ما يحزنك أما من قتل منهم فحي عندي يرزقون وأما من بقي فقد قبلت توبته فسر بذلك موسى وبنو إسرائيل رواه بن جرير بإسناد جيد عنه " تفسير ابن كثير (1/93، 94) .

وراجع أيضا: تفسير الطبري (2/73) ومعاني القرآن (3/84) وتفسير أبي السعود (1/102) وتفسير الواحدي (2/703) وزاد المسير (1/82) والدر المنثور (1/168) وروح المعاني (1/260) .
চতুর্থ আয়াত

৪৭- আর তিনি বনী ইসরাঈলকে বলেছিলেন: {অতএব তোমরা তোমাদের স্রষ্টার নিকট তওবা করো এবং তোমরা নিজেদের হত্যা করো, এটিই তোমাদের স্রষ্টার নিকট তোমাদের জন্য উত্তম} (আল-বাকারাহ: ৫৪ আয়াতের অংশ)।

৪৮- অর্থাৎ: যেন তোমাদের একে অপরকে হত্যা করে।

৪৯- অতঃপর তিনি তাদের ওপর অন্ধকার নিক্ষেপ করলেন, এমনকি যারা বাছুর পূজা করেনি তারা যেন তাদের হত্যা করতে থাকে যারা তা পূজা করেছিল।

৫০- আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়তে তাদের একে অপরকে হত্যার যে নির্দেশ ছিল, আল্লাহ আমাদের তার পরিবর্তে আরও উত্তম ও অধিক উপকারী বিধান দান করেছেন; আর তা হলো মুমিনদের আল্লাহর শত্রু ও তাদের নিজেদের শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং নিজেদের শত্রুর হাতে তাঁর পথে নিহত হওয়ার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করা, একে অপরের হাতে নয়। আর তা মর্যাদায় অধিক মহত্তর এবং সওয়াবের দিক থেকে অধিকতর।

--------------------------------------------

১ হাফেজ ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "জুহরী বলেছেন, যখন বনী ইসরাঈলকে নিজেদের হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হলো, তখন তারা বের হলো এবং মূসা (আলাইহিস সালাম) তাদের সাথে ছিলেন। তারা তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হলো এবং খঞ্জর দিয়ে একে অপরকে আঘাত করতে লাগল। মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর দুই হাত উত্তোলন করে রেখেছিলেন। যখন তাদের কেউ কেউ অবসন্ন হয়ে পড়ল, তারা বলল, হে আল্লাহর নবী, আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তারা তাঁর দুই বাহু ধরে তাঁর হাত দুটিকে ঠেস দিয়ে রাখল। তাদের এই অবস্থা চলতে থাকল যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করলেন এবং একে অপরের থেকে তাদের হাত থামিয়ে দিলেন। তখন তারা অস্ত্র ফেলে দিল। মূসা (আলাইহিস সালাম) ও বনী ইসরাঈল তাদের মধ্যে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল তাতে অত্যন্ত দুঃখিত হলেন। তখন আল্লাহ জাল্লা শানুহু মূসার নিকট ওহী পাঠালেন যে, 'কী তোমাকে ব্যথিত করছে? তাদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছে তারা আমার নিকট জীবিত অবস্থায় রিজিকপ্রাপ্ত হচ্ছে, আর যারা অবশিষ্ট আছে তাদের তওবা আমি কবুল করেছি।' এতে মূসা (আলাইহিস সালাম) ও বনী ইসরাঈল আনন্দিত হলেন। ইবনে জারীর একটি উত্তম সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।" তাফসিরে ইবনে কাসির (১/৯৩, ৯৪)।

আরও দেখুন: তাফসিরে তাবারী (২/৭৩), মাআনিল কুরআন (৩/৮৪), তাফসিরে আবিস সাউদ (১/১০২), তাফসিরে ওয়াহিদী (২/৭০৩), জাদুল মাসীর (১/৮২), আদ-দুররুল মানসুর (১/১৬৮) এবং রুহুল মাআনী (১/২৬০)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
51- وقد قال تعالى: {وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ اقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ أَوِ اخْرُجُوا مِنْ دِيَارِكُمْ مَا فَعَلُوهُ إِلَّا قَلِيلٌ مِنْهُمْ وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْراً لَهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتاً وَإِذاً لَآتَيْنَاهُمْ مِنْ لَدُنَّا أَجْراً عَظِيماً وَلَهَدَيْنَاهُمْ صِرَاطاً مُسْتَقِيماً} (النساء:66-68) .
৫১- এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যদি আমি তাদের ওপর অবধারিত করে দিতাম যে, তোমরা নিজেদের হত্যা করো অথবা তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে যাও, তবে তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক ব্যতীত তারা তা করত না। আর তারা যদি তা করত যার উপদেশ তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, তবে তা তাদের জন্য উত্তম ও (ঈমানে) অধিকতর দৃঢ়কারী হত। আর তখন অবশ্যই আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে মহান প্রতিদান দান করতাম। এবং অবশ্যই আমি তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করতাম।" (আন-নিসা: ৬৬-৬৮)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ذم الفرار من الموت

52- وأيضا: فإن الله أمر بالجهاد في سبيله بالنفس والمال مع أن الجهاد مظنة القتل بل لا بد منه في العادة من القتل.

الآية الخامسة

53- فقال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَخْشَوْنَ النَّاسَ} إلى قوله: {فِي بُرُوجٍ مُشَيَّدَةٍ} النساء:77-78) .

الآية السادسة

54- وقال تعالى: {وَلَقَدْ كَانُوا عَاهَدُوا اللَّهَ مِنْ قَبْلُ لا يُوَلُّونَ الْأَدْبَارَ وَكَانَ عَهْدُ اللَّهِ مَسْؤُولاً قُلْ لَنْ يَنْفَعَكُمُ الْفِرَارُ إِنْ فَرَرْتُمْ مِنَ الْمَوْتِ أَوِ الْقَتْلِ وَإِذاً لا تُمَتَّعُونَ إِلَّا قَلِيلاً قُلْ مَنْ ذَا الَّذِي يَعْصِمُكُمْ مِنَ اللَّهِ إِنْ أَرَادَ بِكُمْ سُوءاً أَوْ أَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةً وَلا يَجِدُونَ لَهُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيّاً وَلا نَصِيراً} (الأحزاب:15-17) .

55- فأخبر سبحانه:

* أن الفرار من الموت أو القتل لا ينفع بل لا بد أن يموت العبد وما أكثر من يفر فيموت أو يقتل، وما أكثر من ثبت فلا يقتل1.

* ثم قال: ولو عشتم لم تمتعوا إلا قليلا ثم تموتوا.

* ثم أخبر أنه لا أحد يعصمهم من الله؛ إن أراد أن يرحمهم أو يعذبهم، فالفرار من طاعته لا ينجيهم.

--------------------------------------------

1 تكررت هنا من الناسخ جملة طويلة!!
মৃত্যু থেকে পলায়নের নিন্দা

৫২- এবং আরও বিষয় এই যে: আল্লাহ তাআলা তাঁর পথে জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করার আদেশ দিয়েছেন, যদিও জিহাদ হলো নিহতের সম্ভাব্য স্থান, বরং সাধারণত জিহাদে নিহতের ঘটনা ঘটবেই।

পঞ্চম আয়াত

৫৩- মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি কি তাদের দেখনি যাদের বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখো, সালাত কায়েম করো এবং জাকাত দাও? অতঃপর যখন তাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হলো, তখন তাদের একদল মানুষকে ভয় পেতে লাগল...} মহান আল্লাহর বাণী: {সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গের ভেতরে থাকলেও} পর্যন্ত (আন-নিসা: ৭৭-৭৮)।

ষষ্ঠ আয়াত

৫৪- মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই তারা ইতিপূর্বে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা পিঠ ফেরাবে না। আর আল্লাহর অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বলো, তোমরা যদি মৃত্যু বা হত্যার ভয়ে পলায়ন করো, তবে এই পলায়ন তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না এবং তখন তোমাদের সামান্যই ভোগ করতে দেওয়া হবে। বলো, কে তোমাদের আল্লাহ থেকে রক্ষা করবে যদি তিনি তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে চান অথবা তোমাদের প্রতি দয়া করতে চান? আর তারা আল্লাহ ছাড়া নিজেদের জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না} (আল-আহজাব: ১৫-১৭)।

৫৫- অতঃপর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে:

* মৃত্যু বা হত্যা থেকে পলায়ন কোনো উপকারে আসে না, বরং বান্দার মৃত্যু অনিবার্য। কতই না এমন ব্যক্তি আছে যে পলায়ন করে অথচ সে মারা যায় বা নিহত হয়, আবার কতই না এমন ব্যক্তি আছে যে অটল থাকে অথচ সে নিহত হয় না।

* তারপর তিনি বলেছেন: আর যদি তোমরা বেঁচেও থাকো তবে তোমাদের সামান্যই ভোগ করতে দেওয়া হবে, এরপর তোমাদের মরতেই হবে।

* এরপর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, কেউ তাদের আল্লাহ থেকে রক্ষা করতে পারবে না; যদি তিনি তাদের প্রতি দয়া করতে চান অথবা তাদের শাস্তি দিতে চান। সুতরাং তাঁর আনুগত্য থেকে পলায়ন করা তাদের মুক্তি দেবে না।

--------------------------------------------

১. এখানে অনুলিপিকারক কর্তৃক একটি দীর্ঘ বাক্য পুনরাবৃত্তি হয়েছে!!
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
* وأخبر أنه ليس لهم من دون الله ولي ولا نصير.

مايوجبه الجبن من الفرار هو من الكبائر

56- وقد بين في كتابه: أن ما يوجبه الجبن من الفرار هو من الكبائر الموجبة للنار1، فقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفاً فَلا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ) وَمَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفاً لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزاً إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ} (الأنفال:15-16) .

--------------------------------------------

1 فائدة قال العلامة ابن القيم رحمه الله: "وكان النبي صلى الله عليه وسلم يتعوذ بالله من الجبن والجبن خلق مذموم عند جميع الخلق وأهل الجبن هم أهل سوء الظن بالله وأهل الشجاعة والجود هم أهل حسن الظن بالله كما قال بعض الحكماء في وصيته عليكم بأهل السخاء والشجاعة فإنهم أهل حسن الظن بالله والشجاعة جنة للرجل من المكاره والجبن إعانة منه لعدوه على نفسه فهو جند وسلاح يعطيه عدوه ليحاربه به وقد قالت العرب الشجاعة وقاية والجبن مقتلة وقد أكذب الله سبحانه أطماع الجبناء في ظنهم أن جبنهم ينجيهم من القتل والموت فقال الله تعالى: {قُلْ لَنْ يَنْفَعَكُمُ الْفِرَارُ إِنْ فَرَرْتُمْ مِنَ الْمَوْتِ أَوِ الْقَتْلِ} (الأحزاب: 16) …

واعتبر ذلك في معارك الحروب بأن من يقتل مدبرا أكثر ممن يقتل مقبلا

وفي وصية أبي بكر الصديق لخالدبن الوليد: "احرص على الموت توهب لك الحياة".

وقال خالد بن الوليد: "حضرت كذا وكذا زحفا في الجاهلية والإسلام وما في جسدي موضع إلا وفيه طعنة برمح أو ضربة بسيف وها أنا ذا أموت على فراشي فلا نامت أعين الجبناء ولا ريب عند كل عاقل أن استقبال الموت إذا جاءك خير من استدباره والله أعلم" الفروسية (491-493) .
এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সাহায্যকারীও নেই।

ভীরুতা যে পলায়ন অপরিহার্য করে, তা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত

৫৬- এবং তিনি তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে: ভীরুতা যে পলায়ন অপরিহার্য করে, তা জাহান্নাম অবধারিতকারী কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত১, সুতরাং তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখী হবে, তখন তাদের থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না। আর সেদিন যদি কেউ তাদের থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে—তবে যুদ্ধের কৌশলগত কারণে কিংবা নিজ দলের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য হলে ভিন্ন কথা—সে আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হবে এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য।} (আল-আনফাল: ১৫-১৬)।

--------------------------------------------

১ একটি ফায়দা: আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীরুতা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। ভীরুতা সমস্ত মাখলুকের কাছে একটি নিন্দনীয় চরিত্র। যারা ভীরু তারা আল্লাহর প্রতি কুধারণা পোষণকারী, আর যারা সাহসী ও দাতা তারা আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণকারী। যেমন জনৈক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি তাঁর ওছিয়্যতে বলেছেন: তোমরা দানশীল ও সাহসীদের সান্নিধ্য অবলম্বন করো, কেননা তারা আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণকারী। সাহসিকতা হলো একজন ব্যক্তির জন্য বিপদ-আপদ থেকে ঢাল স্বরূপ, আর ভীরুতা হলো নিজের বিরুদ্ধে শত্রুকে সাহায্য করা। সুতরাং এটি এমন এক বাহিনী ও অস্ত্র যা সে তার শত্রুকে দান করে যাতে সে তাকে তা দিয়েই যুদ্ধ করতে পারে। আর আরবরা বলত: সাহসিকতা হলো সুরক্ষা এবং ভীরুতা হলো ধ্বংস। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ভীরু ব্যক্তিদের সেই উচ্চাশাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন যেখানে তারা মনে করে যে, তাদের ভীরুতা তাদেরকে হত্যা ও মৃত্যু থেকে বাঁচিয়ে দেবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: {বলো, তোমরা যদি মৃত্যু অথবা হত্যা থেকে পালিয়ে যাও, তবে এই পলায়ন তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না।} (আল-আহযাব: ১৬) …

আর যুদ্ধক্ষেত্রে এটি বিবেচনা করে দেখো যে, পলায়নরত অবস্থায় যারা নিহত হয় তাদের সংখ্যা সম্মুখপানে অগ্রসরমান অবস্থায় নিহতদের চেয়ে অনেক বেশি।

এবং খালিদ বিন ওয়ালিদকে দেওয়া আবু বকর সিদ্দীকের ওছিয়্যতে রয়েছে: "মৃত্যুর প্রতি লালায়িত হও, তবে তোমাকে জীবন দান করা হবে।"

এবং খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেছেন: "আমি জাহেলী যুগে এবং ইসলামে এত এত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি যে, আমার শরীরে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে বল্লমের আঘাত বা তলোয়ারের আঘাত নেই। অথচ আজ আমি আমার বিছানায় মৃত্যুবরণ করছি! ভীরুদের চক্ষু যেন কখনোই নিদ্রা না যায়। আর কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মৃত্যু যখন তোমার কাছে আসবে তখন পলায়ন করার চেয়ে তার সম্মুখীন হওয়া উত্তম। আল্লাহই ভালো জানেন।" আল-ফুরুসিয়্যাহ (৪৯১-৪৯৩)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
57- فأخبر أن الذين يخافون العدو خوفا منعهم من الجهاد منافقون فقال: {وَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنَّهُمْ لَمِنْكُمْ وَمَا هُمْ مِنْكُمْ وَلَكِنَّهُمْ قَوْمٌ يَفْرَقُونَ لَوْ يَجِدُونَ مَلْجَأً أَوْ مَغَارَاتٍ أَوْ مُدَّخَلاً لَوَلَّوْا إِلَيْهِ وَهُمْ يَجْمَحُونَ) (التوبة:56-57) .

58- وفي "الصحيحين" عن النبي أنه عد الكبائر؛ فذكر: "الشرك بالله وعقوق الوالدين، والسحر واليمين الغموس وقذف المحصنات الغافلات المؤمنات".

وذكر منها: "الفرار من الزحف في الصفين"1.

59- وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "شر ما في المرء: شح هالع، أو جبن خالع"2.

--------------------------------------------

1 البخاري (2767) ومسلم (89) (145) عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "اجتنبوا السبع الموبقات قالوا يا رسول الله وما هن قال الشرك بالله والسحر وقتل النفس التي حرم الله إلا بالحق وأكل الربا وأكل مال اليتيم والتولي يوم الزحف وقذف المحصنات المؤمنات الغافلات"

2 رواه أبو داود (2511) وأحمد (2/302، 320) وابن حبان (4218) والبيهقي (9/170) بإسناد صحيح، وصححه الألباني في الصحيحة (560) .

"هالع": الهلع أشد الجزع والضجر النهاية (5/269) .

"وجبن خالع": وجبن خالع أي شديد كأنه يخلع فؤاده من شدة خوفه وهو مجاز في الخلع وهو المراد به ما يعرض من نوازع الأفكار وضعف القلب عند الخوف. النهاية (2/64) .
৫৭- অতঃপর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, যারা শত্রুকে এমন ভয় পায় যা তাদেরকে জিহাদ থেকে বিরত রাখে তারা মুনাফিক। তিনি বলেছেন: {আর তারা আল্লাহর নামে শপথ করে যে, তারা অবশ্যই তোমাদের অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা ভয় পায়। যদি তারা কোনো আশ্রয়স্থল বা কোনো গুহা কিংবা কোনো প্রবেশ করার মত স্থান পেত, তবে তারা সেদিকেই দ্রুত ধাবিত হতো এবং তারা বেপরোয়া হয়ে পলায়ন করত।} (আত-তাওবাহ: ৫৬-৫৭)।

৫৮- আর 'সহীহাইন'-এ নবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কবিরা গুনাহসমূহ গণনা করেছেন; অতঃপর উল্লেখ করেছেন: "আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, যাদু করা, মিথ্যা শপথ এবং সচ্চরিত্রা উদাসীন মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া।"

এবং তিনি এগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন: "যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা।"

৫৯- আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো: উদ্বেগজনক কৃপণতা অথবা হৃদয়কাঁপানো ভীরুতা।"

--------------------------------------------

১. বুখারী (২৭৬৭) এবং মুসলিম (৮৯) (১৪৫), আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো।" তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী? তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শিরক করা, যাদু করা, আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের মাল ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সচ্চরিত্রা মুমিন উদাসীন নারীদের অপবাদ দেওয়া।"

২. আবু দাউদ (২৫১১), আহমাদ (২/৩০২, ৩২০), ইবনে হিব্বান (৪২১৮) এবং বাইহাকী (৯/১৭০) এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। আলবানী 'আস-সহীহাহ' (৫৬০)-তে একে সহীহ বলেছেন।

"হালে’": 'আল-হালা' হলো চরম অস্থিরতা ও বিরক্তি। আন-নিহায়াহ (৫/২৬৯)।

"জুবনুন খলে’": অর্থাৎ এমন তীব্র ভীরুতা যা ভয়ের চোটে তার হৃদয়কে যেন ছিন্নভিন্ন করে দেয়। এখানে 'আল-খল' (ছিন্ন হওয়া) শব্দটি রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ভয়ের সময় মনের মধ্যে যে অস্থির চিন্তা ও হৃদয়ের দুর্বলতা প্রকাশ পায়। আন-নিহায়াহ (২/৬৪)।
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌أدلة من السنة

…

فمن وجوه كثيرة:

عدد الكفار في بدر بقدر المسلمين ثلاث مرات

60- أن المسلمين يوم بدر كانوا ثلاثمائة وبضعة عشر وكان عدوهم بقدرهم ثلاث مرات أو أكثر1، وبدر أفضل الغزوات وأعظمها.

61- فعلم: أن القوم يشرع لهم أن يقاتلوا من يزيدون على ضعفهم، ولا فرق في ذلك بين الواحد والعدد، فمقاتلة الواحد لثلاثة كمقاتلة الثلاثة للعشرة.

المسلمون في أحد كانوا ربع الكفار

62- وأيضا: فالمسلمون يوم أحد كانوا نحو من ربع العدو؛ فإن العدو كانوا ثلاثة آلاف أو نحوها2، وكان المسلمون نحو السبعمائة أو قريبا منها3.

--------------------------------------------

1 فائدة: قال الحافظ ابن كثير رحمه الله: "جملة من شهد بدرا من المسلمين ثلاثمائة وأربعة عشر رجلا منهم رسول الله كما قال البخاري … " وقال: "وأما جمع المشركين فأحسن ما يقال فيهم إنهم كانوا ما بين التسعمائة إلى الألف وقد نص عروة وقتادة أنهم كانوا تسعمائة وخمسين رجلا " البداية والنهاية (5/249، 253) وراجع زاد المعاد (3/171) .

2 راجع البداية والنهاية (5/348) وزاد المعاد (3/192، 195) .

3 قال العلامة ابن القيم رحمه الله في بيان ما اشتملت عليه غزوة أحد من الأحكام والفقه: "ومنها جواز الانغماس في العدو، كما انغمس أنس بن النضر وغيره" زاد المعاد (3/211) =
সুন্নাহ থেকে প্রমাণসমূহ

…

অনেকগুলো দিক থেকে:

বদরে কাফিরদের সংখ্যা ছিল মুসলিমদের সংখ্যার তিনগুণ

৬০- বদরের যুদ্ধে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল তিনশ দশের অধিক, এবং তাদের শত্রুপক্ষ ছিল তাদের তুলনায় তিনগুণ বা তারও বেশি১। আর বদর হলো যুদ্ধগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম ও মহান।

৬১- সুতরাং জানা গেল যে: মুসলিমদের জন্য তাদের দ্বিগুণ সংখ্যার অধিক শত্রুর সাথে যুদ্ধ করা বিধিসম্মত। এক্ষেত্রে একক ব্যক্তি বা সমষ্টির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; সুতরাং একজনের তিনজনের সাথে যুদ্ধ করা, তিনজনের দশজনের সাথে যুদ্ধ করার মতোই।

উহুদ যুদ্ধে মুসলিমরা ছিল কাফিরদের এক-চতুর্থাংশ

৬২- আরও কথা হলো: উহুদ যুদ্ধে মুসলিমরা ছিল শত্রুপক্ষের প্রায় এক-চতুর্থাংশ; কারণ শত্রুপক্ষ ছিল তিন হাজার বা তার কাছাকাছি২, আর মুসলিমরা ছিল সাতশ বা তার কাছাকাছি৩।

--------------------------------------------

১ টীকা: হাফেজ ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মুসলিমদের মধ্যে যারা বদরে উপস্থিত ছিলেন তাদের মোট সংখ্যা ছিল তিনশ চৌদ্দ জন, যাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন, যেমনটি বুখারী উল্লেখ করেছেন..."। তিনি আরও বলেন: "আর মুশরিকদের সমাবেশের ব্যাপারে সবচেয়ে সঠিক কথা হলো তারা ছিল নয়শ থেকে এক হাজারের মধ্যে, এবং উরওয়াহ ও কাতাদাহ স্পষ্ট করে বলেছেন যে তারা ছিল নয়শ পঞ্চাশ জন।" আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (৫/২৪৯, ২৫৩) এবং দেখুন যাদুল মা'আদ (৩/১৭১)।

২ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (৫/৩৪৮) এবং যাদুল মা'আদ (৩/১৯২, ১৯৫) দেখুন।

৩ আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) উহুদ যুদ্ধের বিধান ও ফিকহ বর্ণনায় বলেন: "তন্মধ্যে একটি হলো শত্রুবাহিনীর ভেতরে ঢুকে পড়া (ঝাঁপিয়ে পড়া) বৈধ হওয়া, যেমনটি আনাস বিন নাযর ও অন্যরা ঢুকে পড়েছিলেন।" যাদুল মা'আদ (৩/২১১) =
(খণ্ড: ১) কাঈদাতুন ফিল ইনগিমাসি ফিল আদুই ওয়া হাল ইয়ুবাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
المسلمون في الخندق دون الألفين والأحزاب عشرة آلاف

63- وأيضا: فالمسلمون يوم الخندق كان العدو بقدرهم مرات، كان أكثر من عشرة آلاف1، وهم الأحزاب الذين تحزبوا عليهم من قريش وحلفائها وأحزابها الذين كانوا حول مكة وغطفان2 وأهل نجد واليهود الذين نقضوا العهد وهم بنو قريظة جيران3 أهل المدينة، وكان المسلمون بالمدينة دون الألفين.

حمل الرجل وحده على العدو وبمرأى النبي صلى الله عليه وسلم

64- وأيضا: فقد كان الرجل وحده على عهد النبي صلى الله عليه وسلم4 يحمل على العدو بمرأى من النبي صلى الله عليه وسلم، وينغمس فيهم، فيقاتل حتى يقتل وهذا كان مشهورا بين المسلمين على عهد النبي صلى الله عليه وسلم وخلفائه.

--------------------------------------------

=يشير رحمه الله إلى ما رواه البخاري (2805) ومسلم (1903) (148) أن أنس بن النضر رضي الله عنه لما انهزم الناس في أحد لم ينهزم وقال: "اللهم إني أعتذر إليك مما صنع هؤلاء؛ يعني المسلمين وأبرأ إليك مما صنع هؤلاء يعني المشركين" ثم تقدم، فلقيه سعد بن معاذ فقال أين يا أبا عمر؟ فقال أنس: "واها لريح الجنة يا سعد، إني أجده دون أحد"، ثم مضى فقاتل القوم حتى قتل، فما عرف حتى عرفته أخته ببنانه.

قال أبو زرعة العراقي رحمه الله: "وفيه جواز الانغماس في صفوف الكفار والتعرض للشهادة، وهو جائز لا كراهة فيه عند جمهور العلماء" (7/206) .

1 راجع: زاد المعاد (3/271) .

2 في الأصل: "غطفا" والتصويب من درء التعارض للمصنف (7/52) .

3 في الأصل: "خبران" والتصويب من درء التعارض للمصنف (7/52) .

4 راجع: التعليق قبل السابق.
খন্দকের যুদ্ধে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল দুই হাজারের কম এবং সম্মিলিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল দশ হাজার

৬৩- আরও একটি বিষয়: খন্দকের যুদ্ধের দিন শত্রুবাহিনীর সংখ্যা মুসলিমদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ছিল, তাদের সংখ্যা ছিল দশ হাজারের অধিক।১ তারা ছিল সেই সম্মিলিত বাহিনী (আহযাব) যারা মক্কার চতুষ্পার্শ্বস্থ কুরাইশ, তাদের মিত্র ও সহযোগী দলসমূহ, গাতাফান২ গোত্র, নজদবাসী এবং অঙ্গীকার ভঙ্গকারী ইহুদি তথা মদিনাবাসীদের প্রতিবেশী৩ বনু কুরাইজা গোত্র থেকে তাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছিল। তখন মদিনায় মুসলিমদের সংখ্যা ছিল দুই হাজারের কম।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে এক ব্যক্তির একাকী শত্রুবাহিনীর ওপর আক্রমণ

৬৪- আরও একটি বিষয়: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে৪ এমনও হয়েছে যে, একজন ব্যক্তি একাকী নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চোখের সামনেই শত্রুবাহিনীর ওপর চড়াও হতেন এবং তাদের ব্যূহের মাঝে ঢুকে পড়তেন। অতঃপর তিনি লড়াই চালিয়ে যেতেন যতক্ষণ না তিনি নিহত হতেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উত্তরসূরি খলিফাদের যুগে মুসলিমদের মধ্যে এটি একটি প্রসিদ্ধ বিষয় ছিল।

--------------------------------------------

=লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বুখারি (২৮০৫) এবং মুসলিম (১৯০৩) (১৪৮) এ বর্ণিত সেই হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করছেন যেখানে আনাস বিন নদর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, উহুদ যুদ্ধে যখন লোকজন পরাজিত হয়ে পিছু হটেছিল, তখন তিনি পলায়ন করেননি। বরং তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! এরা (মুসলিমরা) যা করেছে আমি তার জন্য আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আর ওরা (মুশরিকরা) যা করেছে আমি তা থেকে আপনার কাছে দায়মুক্তি ঘোষণা করছি।" এরপর তিনি সামনে অগ্রসর হলেন এবং পথিমধ্যে সাদ বিন মুয়াজের সাথে তার দেখা হলো। তিনি বললেন: হে আবু উমর! আপনি কোথায় যাচ্ছেন? আনাস বললেন: "হে সাদ! জান্নাতের সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! আমি তো উহুদ পাহাড়ের ওপাশ থেকেই তা পাচ্ছি।" এরপর তিনি সামনে এগিয়ে গিয়ে কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করলেন যতক্ষণ না তিনি শহিদ হলেন। জখমের আধিক্যের কারণে তার বোন ছাড়া আর কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারেনি, তিনিও তাকে তার আঙুলের অগ্রভাগ দেখে চিনেছিলেন।

আবু যুরআ আল-ইরাকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এর মধ্যে কাফেরদের সারির ভেতরে ঢুকে পড়ার এবং শাহাদাত অন্বেষণ করার বৈধতা রয়েছে। জমহুর উলামাদের মতে এটি জায়েজ এবং এতে কোনো অপছন্দনীয়তা নেই।" (৭/২০৬)।

১ দেখুন: যাদুল মাআদ (৩/২৭১)।

২ মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: "গাতাফা", লেখকের 'দারউত তাআরুদ' (৭/৫২) গ্রন্থ থেকে সঠিক পাঠ হিসেবে "গাতাফান" সংশোধন করা হয়েছে।

৩ মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: "খাবরান", লেখকের 'দারউত তাআরুদ' (৭/৫২) গ্রন্থ থেকে সঠিক পাঠ হিসেবে "জীরান" (প্রতিবেশী) সংশোধন করা হয়েছে।

৪ দেখুন: এর আগের আগের টীকাটি।