(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ضمانات حقوق المرأة الزوجية   (محمد يعقوب الدهلوي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: ضمانات حقوق المرأة الزوجية

المؤلف: محمد يعقوب الدهلوي

الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة النبوية / أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولي , 1424هـ

عدد الصفحات: 214

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নারীর বৈবাহিক অধিকারের নিশ্চয়তাসমূহ   (মুহাম্মদ ইয়াকুব আদ-দেহলবি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: নারীর বৈবাহিক অধিকারের নিশ্চয়তাসমূহ

লেখক: মুহাম্মদ ইয়াকুব আদ-দেহলবি

প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ، মদিনা মুনাওয়ারা / আদওয়াউস সালাফ، রিয়াদ، সৌদি আরব কিংডম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৪

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ضمانات حقوق المرأة الزوجية

تأليف: محمد يعقوب الدهلوي

ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستهديه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1. {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.

وقال تعالى: {وَلا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} 4.

--------------------------------------------

1 الآية (102) ، من سورة آل عمران.

2 الآية (1) ، من سورة النساء.

3 الآيتان (70، 71) ، من سورة الأحزاب.

4 الآية (21) ، من سورة الروم.
নারীর বৈবাহিক অধিকারের নিশ্চয়তা

রচনায়: মুহাম্মদ ইয়াকুব আদ-দেহলবি

উপক্রমণিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট হিদায়াত কামনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১। {হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার দাবি করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} ২।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।} ৩।

আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।} ৪।

--------------------------------------------

১ আয়াত (১০২), সূরা আলে ইমরান থেকে।

২ আয়াত (১), সূরা নিসা থেকে।

৩ আয়াত (৭০, ৭১), সূরা আহযাব থেকে।

৪ আয়াত (২১), সূরা রূম থেকে।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
كما يزداد المؤمن بصيرة ويقيناً، ويعلم الجاهل ما شرع الله للمؤمنات من ضمانات لحقوقهن، ويفحم المكابر بذلك، {وَيَأْبَى اللَّهُ إِلا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} 1.

--------------------------------------------

1 من الآية 32 من سورة التوبة.
এর মাধ্যমে মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি ও দৃঢ় বিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং অজ্ঞ ব্যক্তি আল্লাহ মুমিন নারীদের অধিকারের সুরক্ষায় যা যা বিধিবদ্ধ করেছেন সে সম্পর্কে জানতে পারে; আর এর মাধ্যমে হঠকারী ব্যক্তিকেও নিরুত্তর করা যায়, {আর আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ব্যতীত অন্য কিছু হতে দিতে অস্বীকার করেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে} ১।

--------------------------------------------

১. সূরা আত-তাওবাহ-এর ৩২ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
خطة البحث:

قسمت بحثي إلى مقدمة، ومدخل، وفصلين، وخاتمة.

أما المقدمة: فقد اشتملت على بيان أهمية الموضوع، وخطة البحث، ومنهجه.

المدخل: وفيه تعريف الضمانات لغة واصطلاحاً.

الفصل الأول: الضمانات العامة لحقوق المرأة الزوجية، وفيه ستة مباحث:

المبحث الأول: (الضمان الأول) أن حقوق المرأة الزوجية ثابتة بأحكام شرعية، توعد الله من اعتدى عليها أو قصّر في أدائها.

المبحث الثاني: (الضمان الثاني) أن من الحقوق الزوجية ما لا يمكن التنازل عنه شرعاً.

المبحث الثالث: (الضمان الثالث) أن الشريعة أبطلت التنازل عن الحقوق الزوجية في حال الإكراه والغرر.

المبحث الرابع: (الضمان الرابع) أن الشريعة أبطلت التنازل عن الحقوق الزوجية مسبقاً.

المبحث الخامس: (الضمان الخامس) أن الشريعة حرّمت الأنكحة التي فيها ضرر مادي أو معنوي للمرأة.
গবেষণা পরিকল্পনা:

আমি আমার গবেষণাকে একটি ভূমিকা, উপক্রমণিকা, দুইটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।

ভূমিকা প্রসঙ্গে: এতে বিষয়ের গুরুত্ব, গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণা পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে।

উপক্রমণিকা: এতে আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে নিশ্চয়তার (الضمانات) সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।

প্রথম অধ্যায়: নারীর দাম্পত্য অধিকারের সাধারণ নিশ্চয়তাসমূহ; এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: (প্রথম নিশ্চয়তা) নারীর দাম্পত্য অধিকারসমূহ শরয়ি বিধান (أحكام شرعية) দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত; যে ব্যক্তি তা লঙ্ঘন করবে বা তা পালনে অবহেলা করবে আল্লাহ তাকে শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: (দ্বিতীয় নিশ্চয়তা) দাম্পত্য অধিকারসমূহের মধ্যে এমন কিছু অধিকার রয়েছে যা শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে বর্জন করা সম্ভব নয়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: (তৃতীয় নিশ্চয়তা) শরিয়ত জবরদস্তি (إكراه) এবং অনিশ্চয়তার (غرر) অবস্থায় দাম্পত্য অধিকার ত্যাগ করাকে বাতিল ঘোষণা করেছে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: (চতুর্থ নিশ্চয়তা) শরিয়ত অগ্রিমভাবে দাম্পত্য অধিকার ত্যাগ করাকে বাতিল ঘোষণা করেছে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: (পঞ্চম নিশ্চয়তা) শরিয়ত এমন সব বিবাহ (الأنكحة) হারাম করেছে যাতে নারীর বস্তুগত বা মানসিক ক্ষতি বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث السادس: (الضمان السادس) أن الشريعة ألغت تصرفات الزوج الضارة بالمرأة مما كان سائداً في الجاهلية، وعاقبت عليها، كالظهار والإيلاء.

الفصل الثاني: الضمانات الخاصة لحقوق زوجية معينة. وفيه أحد عشر مبحثاً.

المبحث الأول: (الضمان السابع) أن الشريعة منعت الولي من عضل موليته إذا أرادت أن تنكح.

المبحث الثاني: (الضمان الثامن) أن الولاية تتحول من الولي الأقرب إلى الولي الأبعد في حالة عضله أو غيابه.

المبحث الثالث: (الضمان التاسع) أن الشريعة جعلت للمرأة الحق في أن تشترط من الحقوق المادية والمعنوية ما فيه مصلحتها.

المبحث الرابع: (الضمان العاشر) لو زوجت المرأة بغير رضاها كان لها حق الفسخ.

المبحث الخامس: (الضمان الحادي عشر) أن الشريعة الإسلامية ضمنت للمرأة مهرها بأوجه عِدَّة.

المبحث السادس: (الضمان الثاني عشر) أن الشريعة جعلت أمر الطلاق بيد الرجل.

المبحث السابع: (الضمان الثالث عشر) أن الشريعة جعلت أمر الطلاق بيدها بالاشتراط.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: (ষষ্ঠ নিশ্চয়তা) শরিয়ত নারীর প্রতি স্বামীর ক্ষতিকর আচরণসমূহ বাতিল করেছে যা জাহেলিয়াত যুগে প্রচলিত ছিল, এবং সেগুলোর জন্য শাস্তির বিধান রেখেছে, যেমন- জিহার (الظهار) এবং ইলা (الإيلاء)।

দ্বিতীয় অধ্যায়: নির্দিষ্ট বৈবাহিক অধিকারের বিশেষ নিশ্চয়তাসমূহ। এতে এগারোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: (সপ্তম নিশ্চয়তা) শরিয়ত অভিভাবককে (الولي) তার অভিভাবকত্বাধীন নারীর বিবাহে বাধা প্রদান (عضل) করতে নিষেধ করেছে যখন সে বিবাহ করতে চায়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: (অষ্টম নিশ্চয়তা) অভিভাবকের বাধা প্রদান (عضل) বা অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে অভিভাবকত্ব (الولاية) নিকটবর্তী অভিভাবক (الولي الأقرب) থেকে দূরবর্তী অভিভাবকের (الولي الأبعد) কাছে স্থানান্তরিত হয়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: (নবম নিশ্চয়তা) শরিয়ত নারীকে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বস্তুগত ও অবস্তুগত অধিকারসমূহ শর্ত করার (تشترط) অধিকার দিয়েছে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: (দশম নিশ্চয়তা) যদি কোনো নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিবাহ দেওয়া হয়, তবে তার বিবাহ বিচ্ছেদের (الفسخ) অধিকার রয়েছে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: (একাদশ নিশ্চয়তা) ইসলামি শরিয়ত নারীর মোহর (مهر) প্রাপ্তিকে বিভিন্ন উপায়ে নিশ্চিত করেছে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: (দ্বাদশ নিশ্চয়তা) শরিয়ত তালাকের (الطلاق) বিষয়টি পুরুষের হাতে ন্যস্ত করেছে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: (ত্রয়োদশ নিশ্চয়তা) শরিয়ত শর্তারোপের (الاشتراط) মাধ্যমে তালাকের (الطلاق) বিষয়টি নারীর হাতে রাখার অধিকার প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
لقد كثر الحديث عن حقوق المرأة السياسية والاجتماعية والزوجية، وتشدق المتشدقون بالحديث عن الضمانات القانونية لحقوق المرأة الزوجية، في الأنظمة الوضعية، وتحامل أعداء الإسلام على التشريع الإلهي في صيانة حقوق المرأة، مدعين أن الإسلام هضم المرأة حقوقها المختلفة، بحجزها في بيتها، وحبسها في الحجاب، ومنعها من مواكبة التقدم بالسير مع الرجل جنبا إلى جنب، وجعل أمرها في يد الرجل؛ ليضطهدها، ويظلمها كيف يشاء، وتركت في المقابل العنان للرجل يتزوج من يشاء، ويترك من يشاء، إلى غير ذلك من التهم التي لا تخفى على ذي بصيرة تفاهتها، وزيفها، والمقاصد الدنيئة من ورائها، أو جهل المتشدقين بها، بل إنهم نقضوا شعاراتهم التي كانوا يرفعونها من قبل، والتي زعموا فيها عدم تعرضهم للحرية الفردية، وامتناعهم عن التدخل في الأمور الشخصية، نقضوا شعاراتهم تلك، في سبيل الحملة القذرة على الأخلاق الإسلامية، والأحكام الشرعية، فصاروا يكيلون الانتقادات للباس الإسلامي المحتشم، بل ويمنعون المرأة المحتشمة من دخول المراكز العلمية، لمجرد أنها محجبة محتشمة، وغضوا الطرف عن المترجلة العارية من بنات جنسهم، بحجة عدم المساس بالحريات الشخصية، والشئون الفردية، كما حاولوا بشتى الوسائل، مضايقة المسلمة العفيفة، في سبيل أن تصبح كاسية عارية،

নারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং দাম্পত্য অধিকার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। মানবরচিত (وضعي) ব্যবস্থাগুলোতে নারীদের দাম্পত্য অধিকারের আইনি নিশ্চয়তা সম্পর্কে বাগাড়ম্বরকারীরা অনেক বড় বড় বুলি আওড়িয়েছে। ইসলামের শত্রুরা নারীর অধিকার রক্ষায় ঐশী বিধানের (تشريع) ওপর বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণ চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, ইসলাম নারীকে ঘরে আবদ্ধ রেখে, হিজাবে বন্দি করে এবং পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অগ্রগতির পথে চলতে বাধা দিয়ে তার বিভিন্ন অধিকার হরণ করেছে। এছাড়া নারীর বিষয়াবলিকে পুরুষের হাতে ন্যস্ত করেছে যেন সে তাকে ইচ্ছামতো নিপীড়ন ও জুলুম করতে পারে। বিপরীতে পুরুষকে অবাধ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে যেন সে যাকে ইচ্ছা বিবাহ করতে পারে এবং যাকে ইচ্ছা বর্জন করতে পারে। এ জাতীয় আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে যার অসারতা, কৃত্রিমতা এবং এর পেছনের হীন উদ্দেশ্যসমূহ কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তির কাছে গোপন নয়; কিংবা এটি এসব বাগাড়ম্বরকারীদের মূর্খতারই বহিঃপ্রকাশ। বরং তারা ইতিপূর্বে যেসব স্লোগান তুলেছিল এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার যে দাবি করেছিল, সেগুলো তারা নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে। ইসলামি নৈতিকতা ও শরীয়তের (شرعي) বিধানসমূহের বিরুদ্ধে পরিচালিত নোংরা অভিযানের স্বার্থে তারা তাদের সেই স্লোগানগুলো বিসর্জন দিয়েছে। ফলে তারা শালীন ইসলামি পোশাকের সমালোচনা শুরু করেছে, এমনকি কোনো নারীকে কেবল শালীন হিজাব পরিধান করার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। অথচ তারা তাদের স্বজাতীয় পুরুষালী স্বভাবের নগ্ন নারীদের ব্যাপারে চোখ বুজে থাকছে এই অজুহাতে যে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তারা বিভিন্ন উপায়ে সতী-সাধ্বী মুসলিম নারীকে উত্যক্ত করার চেষ্টা করেছে যেন সে পোশাক পরিহিতা হয়েও নগ্ন থাকে।

(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ولأهوائهم ملبية، كما أرادوا ذلك لبنات جلدتهم {وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيل} 1.

ومن المؤسف أنه نهجَ نهجَهم بعضُ أبناء الإسلام الذين تأثروا بالثقافات الغربية، والتقاليد المتبعة لديهم، والتي جعلت من المرأة سلعة رخيصة تتداولها الأيدي الآثمة، والمقاصد المغرضة، والأهواء الدنيئة، فصاروا يرددون تلك الشعارات البراقة الزائفة، ظنا منهم أنهم بذلك يحسنون صنعا إلى النساء، بإخراجهن إلى جحيم الأهواء والشهوات، ونسوا أو تناسوا أنهن مصونات بأنوثتهن، وحيائهن في ظل أدب الإسلام وحشمته.

وغض أولئك القومُ أبصارهم عما آل إليه أمر المرأة المسكينة في المجتمعات الأجنبية، من انحطاط في السلوك والمكانة، وبعد عن دورها الرائد في تربية الأجيال، وتنشئة القادة والعلماء، وتقاعسٍ عن وظيفتها الأساسية، فأساءوا إليها، وامتهنوا كرامتها، أولم يعلموا أن الله عز وجل قد جعل للمرأة حقوقاً، وألزمها واجبات، وجعل للرجل حقوقاً، وألزمه واجبات، لتنتظم بذلك الحياة، وتستقر المجتمعات، {أَلا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} 2.

--------------------------------------------

1 من الآية 24 من سورة النمل.

2 الآية 14 من سورة الملك.
এবং তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুগামী, যেমনটি তারা তাদের স্বজাতীয় কন্যাদের জন্য চেয়েছিল। "শয়তান তাদের কার্যাবলীকে তাদের জন্য সুশোভিত করে দিয়েছে, ফলে সে তাদেরকে সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত করেছে।" ১।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ইসলামের কিছু সন্তানও তাদের পথ অনুসরণ করেছে, যারা পশ্চিমা সংস্কৃতি এবং তাদের প্রচলিত প্রথাগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। এই সংস্কৃতি নারীকে একটি সস্তা পণ্যে পরিণত করেছে, যা পাপিষ্ঠ হাত, হীন উদ্দেশ্য এবং নীচ প্রবৃত্তির লালসার বস্তুতে পরিণত হয়। ফলে তারা সেই চাকচিক্যময় ও মিথ্যা স্লোগানগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে শুরু করেছে, এই ধারণা থেকে যে তারা এর মাধ্যমে নারীদের প্রতি কল্যাণ করছে—তাদেরকে প্রবৃত্তি ও লালসার জাহান্নামে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে। অথচ তারা ভুলে গেছে বা ভুলে থাকার ভান করছে যে, ইসলামি আদব ও শালীনতার ছায়াতলে নারীরা তাদের নারীত্ব ও লজ্জাশীলতার মাধ্যমে সুরক্ষিত।

সেই লোকেরা সেই করুণ পরিণতির প্রতি দৃষ্টিপাত করেনি, যা বিজাতীয় সমাজে অসহায় নারীদের ভাগ্যে জুটেছে—আচরণ ও মর্যাদার চরম অবক্ষয়, পরবর্তী প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করা এবং আদর্শ নেতা ও আলেমদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রণী ভূমিকা থেকে বিচ্যুতি এবং তাদের মৌলিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা। ফলে তারা নারীদের প্রতি অন্যায় করেছে এবং তাদের সম্মানকে লাঞ্ছিত করেছে। তারা কি জানে না যে, মহান আল্লাহ নারীর জন্য যেমন অধিকার নির্ধারণ করেছেন এবং তার ওপর কিছু কর্তব্য অর্পণ করেছেন, তেমনি পুরুষের জন্যও অধিকার নির্ধারণ করেছেন এবং তার ওপর কিছু কর্তব্য অর্পণ করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে জীবন সুশৃঙ্খল হয় এবং সমাজ স্থিতিশীল থাকে। "যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।" ২।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নামল-এর ২৪ নম্বর আয়াতের অংশ।

২ সূরা আল-মুলক-এর ১৪ নম্বর আয়াত।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
هذا وقد ضمنت الشريعة الإسلامية للمرأة حقوقها الزوجية – كغيرها من الحقوق – أيما ضمان، وشرعت لذلك من الأحكام التي تكفل للمرأة حصولها على حقوقها الطبيعية، مما يجعلها في مأمن من الضياع، والاضطهاد.

كما حفظ لها كرامتها، وشخصيتها المستقلة، ومكانتها الإنسانية الرفيعة، وألزم الرجال - بتشريع تلك الأحكام - أن يؤدوا حقوقها.

وحيث أن أعداء الإسلام حاولوا، ويحاولون على الدوام إلصاق التهم بالإسلام، بأنه هضم المرأة حقوقها، وأنهم هم الذين ضمنوا حقوقها بسن القوانين التي تحفظ لها تلك الحقوق، أحببت أن أبرز الأحكام الشرعية التي شرعها الله سبحانه وتعالى ضمانا لحقوق المرأة الزوجية، والتي توضح بجلاء الخطوات التشريعية التي أقرتها الشريعة الإسلامية لصيانة تلك الحقوق الهامة، والمؤثرة في حياة المرأة تأثيرا مباشراً، وحتى تعلم المرأة المسلمة، وغير المسلمة أن ما شرع الله تعالى من أحكام ضمانا لحقوقها، اشتملت على ما يحقق لها خير الدنيا والآخرة، وأنها بتلك الأحكام غنية عما يدعيه أولئك الذين يرفعون شعارات حقوق المرأة، دون أن يكون تحت تلك الشعارات سوى الخراب والدمار لها؛ لأن {ذَلِكَ قَوْلُهُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ} 1.

--------------------------------------------

1 من الآية 30 من سورة التوبة.
ইসলামী শরিয়াহ নারীর বৈবাহিক অধিকারকে—অন্যান্য অধিকারের মতোই—পূর্ণাঙ্গভাবে নিশ্চিত করেছে এবং এর জন্য এমন সব বিধান প্রণয়ন করেছে যা নারীর স্বাভাবিক অধিকার প্রাপ্তিকে নিশ্চিত করে, যা তাকে বিলুপ্তি ও নিপীড়ন থেকে নিরাপদ রাখে।

তেমনিভাবে এটি তার মর্যাদা, স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব এবং উচ্চতর মানবিক অবস্থানকে রক্ষা করেছে এবং এসব বিধান প্রণয়নের মাধ্যমে পুরুষদেরকে তাদের (নারীদের) অধিকার আদায় করতে বাধ্য করেছে।

যেহেতু ইসলামের শত্রুরা সর্বদা ইসলামের ওপর এই অপবাদ আরোপ করার চেষ্টা করেছে এবং করে যাচ্ছে যে, এটি নারীর অধিকার খর্ব করেছে এবং তারাই কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নারীর অধিকার নিশ্চিত করেছে—তাই আমি মহান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নারীর বৈবাহিক অধিকারের সুরক্ষা স্বরূপ নির্ধারিত শরয়ি বিধানগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি। এসব বিধান স্পষ্টভাবে সেই আইনি পদক্ষেপগুলোকে ব্যাখ্যা করে যা ইসলামী শরিয়াহ নারীর জীবনে প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তারকারী গুরুত্বপূর্ণ অধিকারসমূহ সংরক্ষণের জন্য সাব্যস্ত করেছে। যাতে মুসলিম ও অমুসলিম নারীগণ জানতে পারেন যে, আল্লাহ তাআলা তাদের অধিকারের নিশ্চয়তা স্বরূপ যে বিধানগুলো অবতীর্ণ করেছেন, তাতে তাদের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আর এই বিধানগুলোর উপস্থিতিতে তারা সেই সব লোকদের দাবি থেকে অমুখাপেক্ষী যারা কেবল নারী অধিকারের স্লোগান তোলে, অথচ সেসব স্লোগানের আড়ালে নারীর জন্য ধ্বংস ও বিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই নেই; কারণ "এগুলো তাদের মুখের কথা, তারা তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের কথার অনুরূপ কথা বলে" ১।

--------------------------------------------

১. সূরা আত-তাওবাহ্-এর ৩০ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الثامن: (الضمان الرابع عشر) أن الشريعة جعلت للمرأة الخيار إذا لحقها ضرر مادي أو معنوي من قبل الزوج.

المبحث التاسع: (الضمان الخامس عشر) أن الشريعة أباحت للمرأة طلب الخلع إن لم تطق العيش مع زوجها.

المبحث العاشر: (الضمان السادس عشر) أن الشريعة أمرت ببعث الحكمين للإصلاح بين الزوجين.

المبحث الحادي عشر: (الضمان السابع عشر) أن الشريعة فرضت للمرأة الميراث ولو طُلقت طلاقاً بائناً إذا اتهم زوجها بقصد حرمانها من الميراث.

الخاتمة: وتضمنت أهم نتائج البحث.

الفهارس:

1 – فهرس الآيات.

2 – فهرس الأحاديث.

3 – فهرس الأعلام المترجم لهم.

4 – فهرس القواعد الفقهية والأصولية.
অষ্টম পরিচ্ছেদ: (চতুর্দশ সুরক্ষা) শরিয়ত নারীকে নির্বাচনের অধিকার (الخيار) প্রদান করেছে যদি সে স্বামীর পক্ষ থেকে কোনো বৈষয়িক বা মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

নবম পরিচ্ছেদ: (পঞ্চদশ সুরক্ষা) শরিয়ত নারীর জন্য খোলার (الخلع) আবেদন করার অনুমতি দিয়েছে যদি সে তার স্বামীর সাথে জীবন অতিবাহিত করতে সক্ষম না হয়।

দশম পরিচ্ছেদ: (ষোড়শ সুরক্ষা) শরিয়ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মীমাংসার জন্য দুইজন সালিস (الحكمين) প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে।

একাদশ পরিচ্ছেদ: (সপ্তদশ সুরক্ষা) শরিয়ত নারীর জন্য উত্তরাধিকার (الميراث) আবশ্যক করেছে, এমনকি যদি তাকে চূড়ান্ত বিচ্ছেদকারী তালাক (طلاقاً بائناً) প্রদান করা হয় এমতাবস্থায় যে, তার স্বামী তাকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত হয়।

উপসংহার: এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নির্ঘণ্টসমূহ:

১ – আয়াতসমূহের সূচি।

২ – হাদিসসমূহের সূচি।

৩ – জীবনী অনূদিত বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের (الأعلام المترجم لهم) সূচি।

৪ – ফিকহি এবং উসুলি (الأصولية) মূলনীতিমালার সূচি।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
منهج البحث:

سرت بعون الله في بحثي هذا على النهج التالي:

1 – بدأت بالنظر في كل موضوع ومسألة، من غير تصور سابق للحكم، وشرعت في البحث عن الأحكام في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وأقوال السلف الصالح، ثم أقوال العلماء المعاصرين، فإن كانت المسألة خلافية، اخترت من هذه الأقوال، ما هو أقرب إلى الكتاب والسنة فرجحته؛ لقربه من الصواب في نظري.

2 – بدأت بمدخل لكل موضوع لربطه بما قبله، ليسهل تصوره.

3 – عرفت الموضوع لغة واصطلاحاً، بالرجوع إلى كتب اللغة للتعريف اللغوي، وكتب التعريفات للتعريف الاصطلاحي.

4 – بدأت بذكر ما ورد في ذلك الموضوع من حكم شرعي؛ كالوجوب والندب والكراهة والحرمة، والإباحة، وبيان أهميته في نظر الشريعة، أو التحذير منه - إن كان -، ثم ذكر ما يتعلق منه بضمانات حقوق المرأة.

5 – ركزت على المسائل الفقهية الواردة في الكتاب دون الخوض في النواحي التاريخية، أو الاجتماعية، لاختصاص الكتاب بالفقه.

6 – اعتنيت بتفصيل المواضيع التي تتعلق بضمانات حقوق المرأة.

7 – التزمت بالمذاهب الأربعة في معرفة الخلاف؛ لما لهذه المذاهب من أهمية لدى المسلمين، ولاستنادها على أصول ثابتة تمكن الباحث من
গবেষণার পদ্ধতি:

আল্লাহর সাহায্যে আমি আমার এই গবেষণায় নিম্নলিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১ – আমি প্রতিটি বিষয় ও মাসআলা পর্যালোচনার মাধ্যমে শুরু করেছি, কোনো পূর্বনির্ধারিত ধারণা ছাড়াই। আমি আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ এবং সৎকর্মশীল পূর্বসূরিদের (السلف الصالح) বক্তব্য, অতঃপর সমকালীন আলিমদের বক্তব্যের মধ্যে বিধানসমূহ অনুসন্ধান শুরু করেছি। যদি বিষয়টি মতভেদপূর্ণ (خلافية) হয়, তবে আমি এই মতগুলোর মধ্য থেকে যা কুরআন ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী তা বেছে নিয়েছি এবং আমার দৃষ্টিতে তা সঠিক হওয়ার কাছাকাছি হওয়ায় সেটিকে প্রাধান্য দিয়েছি (رجحته)।

২ – প্রতিটি বিষয়ের শুরুতে একটি ভূমিকা প্রদান করেছি যেন একে পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে সংযুক্ত করা যায় এবং সহজে উপলব্ধি করা যায়।

৩ – আভিধানিক সংজ্ঞার জন্য অভিধানসমূহ এবং পারিভাষিক সংজ্ঞার জন্য পারিভাষিক গ্রন্থসমূহের সহায়তায় আমি বিষয়টি আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করেছি।

৪ – আমি উক্ত বিষয়ে বর্ণিত শরয়ী বিধান (حكم شرعي); যেমন—আবশ্যকতা (وجوب), পছন্দনীয়তা (ندب), অপছন্দনীয়তা (كراهة), নিষিদ্ধতা (حرمة) এবং বৈধতা (إباحة) উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেছি। সেই সাথে শরীয়তের দৃষ্টিতে এর গুরুত্ব বর্ণনা করেছি অথবা—যদি থাকে—সে সম্পর্কে সতর্ক করেছি। অতঃপর নারীর অধিকারের নিশ্চয়তা সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছি।

৫ – আমি বইটিতে বর্ণিত ফিকহী মাসআলাসমূহের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি; কোনো ঐতিহাসিক বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিস্তারিত আলোচনা করিনি, কারণ বইটি ফিকহ শাস্ত্রের জন্য নির্ধারিত।

৬ – নারীর অধিকারের নিশ্চয়তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি বিশেষ যত্ন নিয়েছি।

৭ – মতভেদ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমি চারটি মাযহাবের অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি; কারণ মুসলিমদের নিকট এই মাযহাবগুলোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এবং এগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতির (أصول) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যা একজন গবেষককে সক্ষম করে তোলে...
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الوقوف على معرفة سبب الخلاف، والوصول إلى القول الراجح، ولسهولة الحصول على الأحكام في كتب هذه المذاهب، وقد أذكر قول الظاهرية وغيرهم.

8 – رتبت الأقوال - في الغالب - ترتيباً زمنياً، بذكر المذهب الحنفي أولاً، ثم المالكي، ثم الشافعي، ثم الحنبلي، إلا إذا كان الأول في الترتيب الزمني، يخالف قول الجمهور، فأؤخره أو أقدمه، حسب ظروف المسألة، دون التقيد بالترتيب الزمني.

9 – رجعت في ذكر الأقوال في المذاهب إلى مصادرها المعتمدة في المذهب، ولم أكتف بنقلها من كتب الخلاف، إلا إذا أتت المسألة ضمنياً – وذكرتها في الهامش – فإنني أكتفي بنقل المسألة من كتب الخلاف، كالمغني، وبداية المجتهد، وغيرهما.

10 – حاولت أن أجد لكل مسألة أو قول دليلاً من الكتاب والسنة والإجماع، إن وجد، وإلا اكتفيت بذكر قاعدة أصولية يستند عليها ذلك القول أو المسألة.

11 – حاولت أن أصل إلى الراجح من الأقوال المختلفة، ما استطعت إلى ذلك سبيلاً، إلا إذا كانت المسألة اجتهادية بحتة، ولا تستند في خلافها على أدلة، فإني أتركها على خلافها، لكون المجال فيها متسع.
মতভেদের কারণ সম্পর্কে অবগত হওয়া, অগ্রগণ্য (الراجح) মতের নিকট পৌঁছানো এবং এই মাযহাবসমূহের কিতাবগুলো থেকে বিধানাবলি সহজে আহরণ করার জন্য (এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছি)। আমি কখনো কখনো যাহিরি ও অন্যদের মতও উল্লেখ করেছি।

৮ – আমি মতামতগুলোকে সাধারণত কালানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছি—প্রথমে হানাফি মাযহাব, তারপর মালিকি, তারপর শাফিঈ, তারপর হাম্বলি উল্লেখ করার মাধ্যমে। তবে কালানুক্রমিক বিন্যাসে প্রথমটি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) ওলামাদের মতের বিপরীত হয়, তবে মাসআলার অবস্থা বিবেচনা করে আমি কালানুক্রমিক বিন্যাসের অনুবর্তী না হয়ে সেটিকে আগে বা পরে উল্লেখ করেছি।

৯ – মাযহাবগুলোর মতামত বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) মূল উৎসসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি। আমি কেবল মতভেদ সংক্রান্ত গ্রন্থ থেকে তা উদ্ধৃত করার ওপর নির্ভর করিনি, যদি না মাসআলাটি প্রাসঙ্গিকভাবে আসে—যা আমি পাদটীকায় উল্লেখ করেছি—সেক্ষেত্রে আমি কেবল মতভেদ সংক্রান্ত গ্রন্থ, যেমন: আল-মুগনি, বিদায়াতুল মুজতাহিদ এবং এ জাতীয় অন্যান্য কিতাব থেকে মাসআলাটি উদ্ধৃত করার ওপর ক্ষান্ত হয়েছি।

১০ – আমি প্রতিটি মাসআলা বা মতের জন্য কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐকমত্য (الإجماع) থেকে দলিল খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি, যদি তা বিদ্যমান থাকে। অন্যথায় আমি একটি উসুলি নীতি (قاعدة أصولية) উল্লেখ করার ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি, যার ওপর ভিত্তি করে উক্ত মত বা মাসআলাটি প্রতিষ্ঠিত।

১১ – আমি সাধ্যমতো বিভিন্ন মতের মধ্য থেকে অগ্রগণ্য (الراجح) মতটিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। তবে মাসআলাটি যদি পুরোপুরি গবেষণালব্ধ (اجتهادية) হয় এবং এর মতভেদ কোনো দলিলের ওপর ভিত্তি করে না হয়, তবে আমি সেটিকে মতভেদপূর্ণ অবস্থাতেই ছেড়ে দিয়েছি; কারণ এক্ষেত্রে প্রশস্ত অবকাশ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
12 – ذكرت أرقام الآيات وأسماء السور التي وردت فيها في موضع ورودها في البحث، فإن كان الاستدلال بكامل الآية قلت: الآية كذا، وإن كان بجزء من آية قلت: من الآية كذا.

13 – رجعت في تفسير الآيات التي احتجت إلى تفسيرها إلى أقوال للمفسرين، كالقرطبي وابن كثير والشوكاني وغيرهم، لأنهم أولى بفهم الآية.

14 – وكذلك فعلت بالنسبة لشرح الأحاديث بالرجوع إلى كتب الشروح، كفتح الباري، وشرح النووي على صحيح مسلم، وغيرهما.

15 – خرجت الأحاديث الواردة في البحث، بعزوها إلى مظانها الأصلية، فإن كان الحديث في الصحيحين، أو أحدهما، اكتفيت بتخريجه منهما، أو من أحدهما، بذكر الجزء والصفحة ورقم الحديث والكتاب والباب، ونقلت أحاديث البخاري من كتاب فتح الباري، دون الرجوع إلى المتن المجرّد.

وإن كان في غيرهما، خرجته من مظانه، من كتب السنن والمسانيد والجوامع والمستدرك، وحاولت الوصول إلى الحكم على الحديث من حيث الصحة والحسن والضعف في كتب التخريج التي تعنى بهذا المجال.

16 – عزوت آثار الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين إلى مظانها من كتب السنن والخلاف.
12 – গবেষণায় উল্লেখিত আয়াতসমূহের নম্বর ও সূরার নাম যথাস্থানে বর্ণনা করেছি। যদি পূর্ণ আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করা হয়, তবে আমি বলেছি: আয়াত নম্বর এত, আর যদি আয়াতের অংশবিশেষ হয়, তবে বলেছি: অমুক আয়াতের অংশবিশেষ থেকে।

13 – আয়াতসমূহের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যেসব আয়াতের ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়েছে, সেখানে আমি মুফাসসিরগণের বক্তব্য যেমন কুরতুবী, ইবনে কাসীর, শাওকানী এবং অন্যদের ব্যাখ্যার শরণাপন্ন হয়েছি; কারণ তাঁরা আয়াত অনুধাবনের ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য।

14 – একইভাবে হাদিসসমূহের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমি ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের প্রতি প্রত্যাবর্তন করেছি, যেমন ফাতহুল বারী, সহীহ মুসলিমের ওপর নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং অন্যান্য।

15 – গবেষণায় বর্ণিত হাদিসগুলোর মূল উৎসের উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে তাখরিজ (تخريج) করেছি। যদি হাদিসটি সহীহাইন বা তার কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি খণ্ড, পৃষ্ঠা, হাদিস নম্বর, কিতাব ও অধ্যায় উল্লেখপূর্বক কেবল সেই একটি বা উভয় গ্রন্থ থেকে তাখরিজ (تخريج) করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। আমি বুখারীর হাদিসসমূহ সরাসরি মূল মতন (متن) বা পাঠের দিকে না ফিরে ফাতহুল বারী গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছি।

আর যদি হাদিসটি এই দুটি গ্রন্থ ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে, তবে আমি তার মূল উৎসসমূহ যেমন সুনান, মাসানিদ, জাওয়ামি ও মুস্তাদরাক গ্রন্থসমূহ থেকে তার তাখরিজ (تخريج) করেছি এবং এ সংক্রান্ত বিশেষায়িত গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة), হাসান (حسن) ও দুর্বলতা (ضعف) সংক্রান্ত হুকুম (حكم) বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি।

16 – সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) এর আসার (آثار) গুলোকে সুনান ও খিলাফ (মতভেদ) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহের মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত করেছি।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
17 – شرحت الألفاظ الغريبة في الهامش.

18 – ترجمت لبعض الأعلام الواردة في الكتاب ممن لهم رأي في المسألة أو قول في تفسير آية، أو شرح حديث، دون التقيد بتراجم الرواة واللغويين والكتاب المعاصرين.

19_ ختمت البحث بذكر ملخص له، على هيئة مواد؛ ليسهل على القارئ غير المختص فهم الأحكام الواردة فيه، والاستفادة من مكنوناته، دون الحاجة إلى الغوص في أعماق الخلافات الفقهية.

وأخيراً، أشكر الله سبحانه وتعالى الذي وفقني ولإكمال هذا البحث، ولولا فضله لما تمكنت، فما كان فيه من صواب، فهو محض توفيق من الله تعالى، وما كان فيه من خطأ فمني، وأستغفر الله من ذلك.

اللهم ألهمني شكرك بالقول والعمل، وأسبغ عليّ عفوك ورضاك، وتجاوز عما وقعت فيه من خطأ وزلات، إنك أنت الغفور الرحيم.

كما أشكر كل من أسدى إليّ معروفاً، وأعانني على إتمام هذا البحث، إما ببذل كتاب، أو نصح، أو إعانة على جمع المادة، أو النسخ، أو التعديل، أو الدعاء لي بالتوفيق، أسأله جلت قدرته أن يجزيهم عني خير الجزاء.

اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد، وارض اللهم عن صحابته أجمعين، وعن
17 – আমি পাদটীকায় অপরিচিত শব্দাবলি (الألفاظ الغريبة) ব্যাখ্যা করেছি।

18 – আমি কিতাবে উল্লেখিত এমন কিছু ব্যক্তিত্বের জীবনী আলোচনা করেছি যাদের এই মাসআলায় কোনো অভিমত অথবা কোনো আয়াতের তাফসির বা কোনো হাদিসের ব্যাখ্যায় কোনো বক্তব্য রয়েছে; তবে বর্ণনাকারী (الرواة), ভাষাবিদ এবং সমকালীন লেখকদের জীবনীর বাধ্যবাধকতায় নিজেকে আবদ্ধ রাখিনি।

19_ আমি গবেষণাটির শেষে বিভিন্ন পয়েন্ট আকারে একটি সারসংক্ষেপ যুক্ত করেছি; যাতে সাধারণ পাঠকের জন্য এতে বর্ণিত বিধানাবলি (الأحكام) বোঝা এবং এর বিষয়বস্তু থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়, ফিকহি মতপার্থক্য (الخلافات الفقهية)-এর গভীরে প্রবেশ করার প্রয়োজন ছাড়াই।

পরিশেষে, আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যিনি আমাকে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেছেন। তাঁর অনুগ্রহ না থাকলে আমি এটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হতাম না। এতে যা কিছু সঠিক তা একান্তই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাওফিক, আর যা কিছু ভুল তা আমার নিজের পক্ষ থেকে; আমি সেজন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

হে আল্লাহ, আমাকে কথায় ও কাজে আপনার শুকরিয়া আদায়ের অনুপ্রেরণা দান করুন, আমার ওপর আপনার ক্ষমা ও সন্তুষ্টি ঢেলে দিন এবং আমার দ্বারা সংঘটিত ভুল-ভ্রান্তিগুলো মার্জনা করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আমি তাদের প্রত্যেকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে আমাকে সাহায্য করেছেন; চাই সেটি কিতাব দিয়ে হোক, পরামর্শ দিয়ে হোক, তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা করে হোক, অথবা অনুলিখন, সংশোধন কিংবা আমার সফলতার জন্য দোয়ার মাধ্যমে হোক। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন তাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

হে আল্লাহ, মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যেভাবে আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন, নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর হে আল্লাহ, আপনি তাঁর সকল সাহাবী (صحابة) এবং...
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
التابعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وعن أئمة الإسلام والمسلمين، الذين حملوا هذا العلم إلينا مصوناً محفوظاً، واغفر لنا ولوالدينا، وارحمهما كما ربياني صغيراً، وأدّباني كبيراً، إنك سميع قريب مجيب الدعوات.

وكتبه الراجي عفو ربه: محمد يعقوب محمد يوسف الدهلوي

المدينة المنورة: 25/12/1418هـ
তাবিঈগণের (التابعين) এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের প্রতি, এবং ইসলাম ও মুসলিমদের সেই সকল ইমামগণের প্রতি, যাঁরা এই ইলমকে আমাদের নিকট সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছেন। আর আপনি আমাদের ও আমাদের পিতামাতাকে ক্ষমা করুন, এবং তাঁদের প্রতি তেমনি দয়া করুন যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন এবং বড় হওয়ার পর আমাকে শিষ্টাচার শিখিয়েছেন। নিশ্চয়ই আপনি শ্রবণকারী, অতি নিকটবর্তী ও দোয়া কবুলকারী।

এটি লিখেছেন তাঁর রবের ক্ষমার প্রত্যাশী: মুহাম্মাদ ইয়াকুব মুহাম্মাদ ইউসুফ আদ-দেহলভী

মদিনা মুনাওয়ারাহ: ২৫/১২/১৪১৮ হিজরি
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المدخل في تعريف الضمانات في اللغة والاصطلاح

أولاً: تعريف الضمانات في اللغة.

ثانياً: تعريف الضمانات في الاصطلاح.
ভূমিকা শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاح) দৃষ্টিকোণ থেকে জামানতসমূহের (الضمانات) সংজ্ঞার বর্ণনায়

প্রথমত: শাব্দিক (لغة) অর্থে জামানতসমূহের (الضمانات) সংজ্ঞা।

দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে জামানতসমূহের (الضمانات) সংজ্ঞা।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أولا: تعريف الضمانات في اللغة:

الضمانات:1، جمع ضمان، والضمان: مأخوذ من ضمنت المال، ضمانا، وضمْنا: التزمت به، وأنا ضامن وضمين: كفيل، (وهو الجاعل الشيء في ضمانه) 2، ويتعدى بالتضعيف، فيقال: ضمَّنته المال: ألزمته إياه.

ويأتي الضمان لمعان، منها: الالتزام، والاحتواء، والكفالة، والحفظ والرعاية، والصون.

وجاء الضمان بمعنى الالتزام والكفالة في الحديث الذي رواه مسلم عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَال: َ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "تَضَمَّنَ اللَّهُ لِمَنْ خَرَجَ فِي سَبِيلِهِ لا يُخْرِجُهُ إِلا جِهَادًا فِي سَبِيلِي وَإِيمَانًا بِي وَتَصْدِيقًا بِرُسُلِي فَهُوَ عَلَيَّ ضَامِنٌ أَنْ أُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ أَوْ أَرْجِعَهُ إِلَى مَسْكَنِهِ الَّذِي خَرَجَ مِنْهُ نَائِلاً مَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا مِنْ كَلْمٍ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَهَيْئَتِهِ حِينَ كُلِمَ لَوْنُهُ لَوْنُ دَمٍ وَرِيحُهُ مِسْكٌ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْلا أَنْ يَشُقَّ عَلَى الْمُسْلِمِينَ مَا قَعَدْتُ خِلافَ سَرِيَّةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَبَدًا، وَلَكِنْ لا أَجِدُ سَعَةً فَأَحْمِلَهُمْ وَلا يَجِدُونَ سَعَةً

--------------------------------------------

1 انظر: لسان العرب (17/126) ، والمصباح المنير ص 364.

2 انظر: حلية الفقهاء ص 143.
প্রথমত: আভিধানিক অর্থে জামিনদারীর (যামানাত) সংজ্ঞা:

যামানাত: ১, যামান-এর বহুবচন। আর যামান শব্দটি 'আমি সম্পদের দায়ভার গ্রহণ করেছি' (যামিনতুল মা-লা) থেকে গৃহীত; যামানান ও দামনান অর্থ: আমি তা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আমি একজন জামিনদাতা (যামিন) ও জিম্মাদার (যামিন): অর্থাৎ দায়গ্রহণকারী (কাফিল), (তিনিই সেই সত্তা যিনি কোনো কিছুকে নিজের জিম্মায় বা সুরক্ষায় গ্রহণ করেন) ২, এবং তাশদীদ বা দ্বিত্বাক্ষর যোগে এটি সকর্মক ক্রিয়া হয়, তখন বলা হয়: ‘আমি তাকে সম্পদটির জন্য দায়ী করেছি’ (যাম্মানতুহুল মা-লা): অর্থাৎ আমি তাকে সম্পদটি আদায়ে বাধ্য করেছি।

যামান শব্দটি বেশ কিছু অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে: দায়বদ্ধতা, অন্তর্ভুক্তকরণ, জিম্মাদারী, সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধান এবং সুরক্ষা।

দায়বদ্ধতা ও জিম্মাদারী অর্থে যামান শব্দটি মুসলিম-এ বর্ণিত সেই হাদিসে এসেছে যা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির জন্য জিম্মাদার হন যে তাঁর রাস্তায় বের হয়; কেবল তাঁর রাস্তায় জিহাদ করার উদ্দেশ্যে এবং তাঁর প্রতি ঈমান ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসের কারণেই সে বের হয়। সুতরাং তার জন্য আমি জিম্মাদার যে, আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব অথবা তাকে তার সেই ঘরে সওয়াব কিংবা গণিমতসহ ফিরিয়ে আনব যেখান থেকে সে বের হয়েছিল। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! আল্লাহর রাস্তায় জখমপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সেই অবস্থাতেই আসবে যে অবস্থায় সে জখম হয়েছিল; তার রং হবে রক্তের মতো আর ঘ্রাণ হবে কস্তুরীর মতো। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! যদি মুসলমানদের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধে লিপ্ত কোনো ছোট সেনাদল থেকে কক্ষনো পেছনে থাকতাম না। কিন্তু আমি তাদের জন্য বাহনের সংকুলান করতে পারছি না এবং তারাও সামর্থ্য রাখছে না।”

--------------------------------------------

১. দেখুন: লিসানুল আরব (১৭/১২৬) এবং আল-মিসবাহুল মুনীর, পৃষ্ঠা ৩৬৪।

২. দেখুন: হিলয়াতুল ফুকাহা, পৃষ্ঠা ১৪৩।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَيَشُقُّ عَلَيْهِمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّي، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي أَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأُقْتَلُ ثُمَّ أَغْزُو فَأُقْتَلُ ثُمَّ أَغْزُو فَأُقْتَلُ" 1.

كما جاء المعنى الآخر للضمان الذي هو: الحفظ والرعاية، والصون، في الحديث الذي رواه الترمذي عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "الإِمَامُ ضَامِنٌ وَالْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَنٌ، اللَّهُمَّ أَرْشِدِ الأَئِمَّةَ وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ" 2.

قال ابن الأثير 3 في شرح هذا الحديث: "أراد بالضمان هاهنا الحفظ والرعاية، لا ضمان الغرامة؛ لأنه يحفظ على القوم صلاتهم"4.

وأقرب المعاني اللغوية إلى المعنى المراد في هذا البحث، هو: الحفظ، والرعاية، والصون؛ لأن القصد هنا، معرفة الأحكام التي أقرتها الشريعة

--------------------------------------------

1 صحيح مسلم (3/1495-1496) كتاب الإمارة - باب فضل الجهاد والخروج في سبيل الله.

2 سنن الترمذي (1/613-614 - التحفة) .

3 ابن الأثير: هو المبارك بن محمد بن محمد بن عبد الكريم بن عبد الواحد الشيباني الجَزَري، مجد الدين أبو السعادات، المعروف بابن الأثير، ولد سنة (544هـ) بجزيرة ابن عمر - بلدة فوق الموصل - كان فقيهاً محدّثاً لغوياً أديباً عالماً بصنعة الحساب والإنشاء. له من المصنفات: "جامع الأصول من أحاديث الرسول" و" النهاية في غريب الحديث والأثر". توفي سنة (606هـ) . انظر: طبقات الشافعية للسبكي 5/153-154) ، شذرات الذهب (5/22-23) .

4 النهاية في غريب الحديث والأثر (3/102) .
"আর তাদের জন্য আমার থেকে পেছনে থেকে যাওয়া কষ্টকর হবে। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আমি অবশ্যই এটা পছন্দ করি যে, আমি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করি এবং নিহত হই, তারপর আবার যুদ্ধ করি এবং নিহত হই, অতঃপর পুনরায় যুদ্ধ করি এবং নিহত হই।" 1.

যেমন যামান (ضمان) শব্দের অন্য একটি অর্থ এসেছে, যা হলো: সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সুরক্ষা; যা তিরমিযি কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে। আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইমাম হলেন দায়িত্বশীল এবং মুয়াযযিন হলেন আমানতদার। হে আল্লাহ! ইমামদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন এবং মুয়াযযিনদের ক্ষমা করে দিন।" 2.

ইবনুল আসীর 3 এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এখানে যামান (ضمان) দ্বারা তিনি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ উদ্দেশ্য নিয়েছেন, আর্থিক জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ নয়; কারণ তিনি (ইমাম) সম্প্রদায়ের সালাতকে সংরক্ষণ করেন।" 4.

এই গবেষণায় উদ্দীষ্ট অর্থের সাথে শাব্দিক অর্থের দিক থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী অর্থ হলো: সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষা; কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো শরিয়ত কর্তৃক অনুমোদিত বিধানাবলি সম্পর্কে জানা।

--------------------------------------------

1 সহিহ মুসলিম (৩/১৪৯৫-১৪৯৬) কিতাবুল ইমারা - জিহাদ এবং আল্লাহর পথে বের হওয়ার ফজিলত অধ্যায়।

2 সুনান তিরমিযি (১/৬১৩-৬১৪ - আত-তুহফাহ)।

3 ইবনুল আসীর: তিনি হলেন আল-মুবারক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শাইবানি আল-জাযারি, মাজদুদ্দীন আবুল সাআদাত, যিনি ইবনুল আসীর নামে পরিচিত। তিনি ৫৪৪ হিজরিতে জাযিরাতু ইবনে ওমর —যা মসুলে অবস্থিত একটি শহর— সেখানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন ফকিহ (فقيه), মুহাদ্দিস (محدث), ভাষাবিদ, সাহিত্যিক এবং গণিত ও রচনাশৈলীতে পারদর্শী পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: "জামি’উল উসুল মিন আহাদিসির রাসূল" এবং "আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার"। তিনি ৬০৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: সুবকির তবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ (৫/১৫৩-১৫৪), শাযারাতুয যাহাব (৫/২২-২৩)।

4 আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার (৩/১০২)।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الإسلامية لحفظ وصون حقوق المرأة الزوجية، لا معرفة من يكفل تلك الحقوق.

ثانيا: تعريف الضمانات في الاصطلاح:

للضمان عند الفقهاء معنيان:

المعنى الأول: وهو المشهور لدى الفقهاء، وهو المعنى الأخص للضمان1 بمعنى: الكفالة، وهي: ضم ذمة إلى ذمة في حق المطالبة2.

وفي طِلبة الطَلبة، الكفالة: الضمان،، والتكفيل: التضمين.

فالكفالة: ضم ذمة في التزام المطالبة بالدين3.

هذا والمعنى الذي قصده الزركشي عند الكلام على الضمان، هو: الالتزام، بمعناه العام، فذكر أسباب الضمان الأربعة:

عقد، ويد، وإتلاف، وحيلولة4.

والمعنى الثاني: وهو الأعم في الدلالة، بمعنى الحفظ، والصون الموجب تركه للغرم، كقولنا: ضمان الرهن، وضمان البيع5.

--------------------------------------------

1 انظر: القاموس الفقهي: ص 225.

2 أنيس الفقهاء ص 223.

3 ص 284.

4 انظر للتفصيل: المنثور في القواعد (2/ 322) .

5 القاموس الفقهي ص 225.
ইসলামি শরিয়ত নারীর দাম্পত্য অধিকার সংরক্ষণ ও সুরক্ষার বিধান দেয়, কেবল সেই অধিকারগুলোর জামিনদার কে হবে তা জানার জন্য নয়।

দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক (اصطلاح) সংজ্ঞায় জামানত (الضمانات) এর পরিচয়:

ফকিহগণের নিকট জামানত (الضمان) এর দুটি অর্থ রয়েছে:

প্রথম অর্থ: যা ফকিহগণের নিকট প্রসিদ্ধ (المشهور)। এটি জামানত (الضمان) এর অধিকতর সুনির্দিষ্ট (الأخص) অর্থ, যার অর্থ হলো: কাফালা (الكفالة) বা জামিনদারিত্ব। আর তা হলো: পাওনা দাবির (المطالبة) অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এক জিম্মাকে (ذمة) অন্য জিম্মার (ذمة) সাথে সংযুক্ত করা।

তিলবাতুত তালাবা গ্রন্থে বলা হয়েছে, কাফালা (الكفالة) হলো জামানত (الضمان), আর তাকফিল (التكفيل) হলো জামিন করা (التضمين)।

সুতরাং কাফালা (الكفالة) হলো: ঋণ (الدين) পরিশোধের দাবি (المطالبة) পূরণের বাধ্যবাধকতায় এক জিম্মাকে (ذمة) সংযুক্ত করা।

ইমাম যারকাশি জামানত (الضمان) আলোচনার সময় যে অর্থটি উদ্দেশ্য নিয়েছেন, তা হলো: সাধারণ অর্থে দায়বদ্ধতা (الالتزام)। তিনি জামানতের (الضمان) চারটি কারণ (أسباب) উল্লেখ করেছেন:

চুক্তি (عقد), হস্তগতকরণ (يد), বিনষ্টকরণ (إتلاف) এবং প্রতিবন্ধকতা (حيلولة) সৃষ্টি করা।

দ্বিতীয় অর্থ: যা ব্যাপক অর্থ নির্দেশক। তা হলো সংরক্ষণ (الحفظ) ও সুরক্ষা (الصون) করা, যা পরিহার করলে দণ্ড (الغرم) বা ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হয়। যেমন আমাদের কথা: বন্ধকি বস্তুর জামানত (ضمان الرهن) এবং বিক্রয় পণ্যের জামানত (ضمان البيع)।

--------------------------------------------

১. দেখুন: আল-কামুস আল-ফিকহি, পৃষ্ঠা: ২২৫।

২. আনিসুল ফুকাহা, পৃষ্ঠা: ২২৩।

৩. পৃষ্ঠা: ২৮৪।

৪. বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: আল-মানসুর ফিল কাওয়াইদ (২/৩২২)।

৫. আল-কামুস আল-ফিকহি, পৃষ্ঠা: ২২৫।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فضمان البيع: أن المبيع يبقى في ضمان البائع، حتى يسلمه للمشتري، أو يخلي بينه وبين المبيع، بحيث لو تلف فهو من ضمانه، أي: خسارته، وتلفه عليه.

والضمانة: كل ما يضمن الحق من الضياع1.

فضمانات الحقوق: هي الأمور التي تؤدي إلى: حفظ وصون الحقوق، وإيصالها إلى أصحابها على الوجه المطلوب.

والمراد من ضمانات الحقوق في بحثنا هذا: الأحكام الشرعية التي شرعت لحفظ وصيانة حقوق المرأة الزوجية، وإيصالها إليها.

وهي أحكام بمثابة أوامر شرعية مساندة، لتتمكن بها المرأة من الحصول على حقوقها الزوجية، وينتفي بها وقوع الظلم عليها.

--------------------------------------------

1 معجم لغة الفقهاء، ص 285.
বিক্রয়ের জিম্মাদারি (ضمان): বিক্রিত বস্তু বিক্রেতার জিম্মায় থাকে, যতক্ষণ না তিনি তা ক্রেতার নিকট সমর্পণ করেন অথবা তাকে বস্তুটির অবাধ দখল বুঝিয়ে দেন; এমতাবস্থায় যদি বস্তুটি নষ্ট হয়ে যায় তবে তা তার জিম্মাদারি (ضمان) হিসেবে গণ্য হবে, অর্থাৎ: এর ক্ষতি এবং বিনাশ তার ওপরই বর্তাবে।

আর জামানত (الضمانة) হলো: এমন প্রত্যেক বিষয় যা অধিকারকে বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে।১

সুতরাং অধিকারের নিশ্চয়তাসমূহ (ضمانات الحقوق) বলতে বুঝায়: সেই সকল বিষয় যা অধিকারসমূহ সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দিকে নিয়ে যায় এবং তা যথাযথভাবে হকদারদের নিকট পৌঁছে দেয়।

আমাদের এই আলোচনায় অধিকারের নিশ্চয়তাসমূহ (ضمانات الحقوق) বলতে উদ্দেশ্য হলো: সেই সব শরয়ি বিধান যা নারীর বৈবাহিক অধিকার সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য এবং তা তাদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার নিমিত্তে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।

এগুলো এমন বিধান যা সহায়ক শরয়ি নির্দেশনার সমতুল্য, যার মাধ্যমে নারী তার বৈবাহিক অধিকার অর্জনে সক্ষম হয় এবং তার ওপর জুলুম সংঘটিত হওয়া রহিত হয়।

--------------------------------------------

১. মু'জামু লুগাতিল ফুকাহা, পৃষ্ঠা ২৮৫।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الأول

الضمانات العامة لحقوق المراة الزوجية

أقرت الشريعة الإسلامية أحكاما، هي ضمانات لحقوق المرأة الزوجية، وتعد هذه الضمانات أحكاما مُلزمة من قِبل الشارع، وبمثابة حدود، يحرم تجاوزها، وذلك للمحافظة على حقوق المرأة الزوجية، ولدفع الظلم عنها إذا وقع، أو وُجد احتمال وقوعه، أو كان ثمة احتمال للتهاون في أدائها، سواء كان ذلك من أجنبي، أو من قِبل الزوج، أو من ولي أمرها، أو من قِبلها هي.

وقد أكدت الشريعة تلك الحدود بقوله تعالى: {تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} 1.

وسأذكر - بعون الله تعالى - في هذا الفصل الضمانات العامة التي وضعتها الشريعة لحقوق المرأة الزوجية عامة، دون النص على حقوق معينة، كثبوت الحقوق الزوجية للمرأة بأوامر شرعية، وعدم صحة التنازل عن بعضها، وعدم صحة التنازل عن الحقوق مع الإكراه والغرر، أو كونه قبل وجوبها، وإبطال عقود الأنكحة المشتملة على غرر للمرأة أو ضرر عليها، وإلغاء تصرفات الزوج المضرة مما كان سائداً في الجاهلية، وإعطائها

--------------------------------------------

1 من الآية 229 من سورة البقرة.
প্রথম পরিচ্ছেদ

নারীর দাম্পত্য অধিকারের সাধারণ নিশ্চয়তাসমূহ

ইসলামি শরিয়াহ কিছু বিধান (أحكام) অনুমোদন করেছে, যা নারীর দাম্পত্য অধিকারের নিশ্চয়তা স্বরূপ। এই নিশ্চয়তাসমূহ শারে‘ বা বিধানদাতার (الشارع) পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক বিধান (أحكام) এবং সীমার (حدود) সমতুল্য হিসেবে গণ্য, যা লঙ্ঘন করা নিষিদ্ধ। মূলত নারীর দাম্পত্য অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য এবং তার ওপর কোনো প্রকার জুলুম সংঘটিত হলে তা প্রতিহত করতে, অথবা জুলুম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, কিংবা অধিকার আদায়ে অবহেলার আশঙ্কা থাকলে এই নিশ্চয়তাগুলো প্রদান করা হয়েছে—চাই তা কোনো পরপুরুষের পক্ষ থেকে হোক, কিংবা স্বামীর পক্ষ থেকে, অথবা তার অভিভাবকের পক্ষ থেকে, কিংবা স্বয়ং নারীর পক্ষ থেকে।

শরিয়াহ সেই সীমাগুলোকে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সুনিশ্চিত করেছে: “এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা (حدود), সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। আর যারা আল্লাহর সীমা (حدود) লঙ্ঘন করে, তারাই জালেম।” ১

আমি মহান আল্লাহর সাহায্যে এই পরিচ্ছেদে শরিয়াহ কর্তৃক নির্ধারিত নারীর দাম্পত্য অধিকারের সেই সাধারণ নিশ্চয়তাসমূহ উল্লেখ করব—কোনো নির্দিষ্ট অধিকারের বর্ণনা ছাড়াই। যেমন—শরিয়াহর নির্দেশের মাধ্যমে নারীর দাম্পত্য অধিকার সাব্যস্ত হওয়া, এই অধিকারগুলোর কোনোটি ত্যাগ করার বৈধতা না থাকা, জোরজবরদস্তি (إكراه) ও ধোঁকা বা অনিশ্চয়তার (غرر) উপস্থিতিতে অধিকার ত্যাগ করা অসিদ্ধ হওয়া, কিংবা অধিকার ওয়াজিব বা আবশ্যক (وجوب) হওয়ার পূর্বে তা ত্যাগ করা, নারীর জন্য ধোঁকা (غرر) বা ক্ষতি সম্বলিত বিবাহের চুক্তি (عقود الأنكحة) বাতিল করা এবং জাহেলি যুগে (الجاهلية) প্রচলিত স্বামীর ক্ষতিকর আচরণসমূহ বিলুপ্ত করা ও তাকে প্রদান করা...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারার ২২৯ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
المجال في أن تشترط من الحقوق المادية والمعنوية فيما فيه مصلحتها، وبعث الحكمين للصلح بين الزوجين عند النزاع.

وفيما يلي هذه الضمانات والأوجه الواردة تحت كل ضمان إن وجدت.
তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈষয়িক ও নৈতিক অধিকারগুলো শর্ত হিসেবে যুক্ত করার অবকাশ রয়েছে এবং বিবাদের সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মীমাংসার (الصلح) উদ্দেশ্যে দুইজন সালিশ (الحكمين) প্রেরণের বিধান রয়েছে।

নিম্নে এই নিশ্চয়তাগুলো এবং প্রতিটি নিশ্চয়তার অধীনে উল্লিখিত দিকগুলো (যদি থাকে) বর্ণিত হলো।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
المبحث الأول: (الضمان الأول) : أن حقوق المرأة الزوجية ثابتة بأحكام شرعية، توعد الله من اعتدى عليها، أو قصر في أدائها.

من أقوى ضمانات المرأة لحقوقها الزوجية، أنها تتصف بالصفة الشرعية، وأن أغلب تلك الحقوق ثبت وجوبها بأحكام شرعية منصوص عليها، وما يجب لها من الحقوق بالاشتراط، متسم كذلك بالصفة الشرعية، لوجوب الوفاء بالشروط المتفق عليها عند عقد النكاح، ما لم تخالف شرعا، أو تناقض مقتضى عقد النكاح، فكان أداؤها واجبا لوجوبها شرعا، في كلا الصنفين من الحقوق، ويثاب من يؤدي ما وجب عليه، كما يعاقب من فرط في أدائها.

وتلك ميزة هامة لضمان الحقوق الزوجية للمرأة، لا يضاهيه أي ضمان في الأنظمة والقوانين الوضعية الأخرى، لأن من يجب عليه أداء الحقوق الزوجية للمرأة، إذا علم أن ذلك واجب عليه شرعا، وأن الله سبحانه وتعالى مطلع عليه في السر والعلن، وأنه سوف يجازيه بالحسنى على أدائها، كما يعاقبه على تقاعسه عن أدائها، وأن حقوق العباد، التي هي بمثابة ديون، لا تغفر للشهيد1 فضلا عن غيره، كان ذلك حافزاً قوياً

1 وللفقهاء فيه كلام.
প্রথম পরিচ্ছেদ: (প্রথম নিশ্চয়তা): নারীর দাম্পত্য অধিকারসমূহ শরয়ি বিধান দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত; আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন যে এসব অধিকার লঙ্ঘন করে অথবা তা আদায়ে অবহেলা করে।

নারীর দাম্পত্য অধিকার রক্ষার অন্যতম শক্তিশালী নিশ্চয়তা হলো তা শরয়ি বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। অধিকাংশ অধিকারের আবশ্যকতা (وجوب) বর্ণিত শরয়ি বিধানের মাধ্যমে প্রমাণিত। এছাড়া শর্তারোপের মাধ্যমে তার যে সকল অধিকার সাব্যস্ত হয়, সেগুলোও একইভাবে শরয়ি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। কারণ বিবাহ বা নিকাহর চুক্তির সময় সম্মত শর্তসমূহ পূরণ করা আবশ্যক (واجب), যতক্ষণ না তা শরিয়ত বিরোধী হয় অথবা নিকাহর চুক্তির চাহিদার পরিপন্থী হয়। সুতরাং উভয় প্রকার অধিকারের ক্ষেত্রেই তা আদায় করা আবশ্যক (واجب), যেহেতু তা শরিয়তগতভাবে আবশ্যিক। যে ব্যক্তি তার ওপর অর্পিত আবশ্যিক দায়িত্ব পালন করবে সে সওয়াব লাভ করবে, আর যে ব্যক্তি তা পালনে অবহেলা করবে সে শাস্তির সম্মুখীন হবে।

নারীর দাম্পত্য অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, যা অন্যান্য মানবরচিত ব্যবস্থা ও আইনের কোনো নিশ্চয়তার সাথে তুলনীয় নয়। কারণ যার ওপর নারীর দাম্পত্য অধিকার আদায় করা আবশ্যক (واجب), সে যখন জানতে পারে যে এটি তার ওপর শরয়িভাবে আবশ্যক (واجب) এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা গোপনে ও প্রকাশ্যে তার অবস্থা দেখছেন, আর তিনি তা আদায়ের জন্য তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন এবং তা আদায়ে পিছুটান বা অবহেলার জন্য শাস্তি দেবেন, এবং নিশ্চয়ই বান্দার হক—যা ঋণের ন্যায়—তা একজন শহিদের (شهيد) জন্যও ক্ষমা করা হয় না, অন্য কারো কথা তো বলাই বাহুল্য; তখন এটি একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

১. এবং এ বিষয়ে ফকিহগণের (فقهاء) আলোচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
له على أداء الحقوق الزوجية للمرأة، أما الأنظمة الوضعية الأخرى الموجبة للحقوق الزوجية للمرأة، فإنها لا تتسم بتلك القوة الدافعة للأداء، ولذا نجد أن ما توجبه الأنظمة من حقوق للمرأة، يتهرب عن أدائها من تجب عليه، عند حدوث نزاع أو خلاف في أدائها، أو حصول نزاع بين الزوجين، لعدم وجود مخافة الله سبحانه وتعالى في أدائها.

هذا وقد وردت آيات وأحاديث كثيرة توجب أداء الحقوق عامة، كما تأمر بأداء الحقوق الزوجية خاصة، وتعد بالثواب على أدائها، كما تتوعد بالعقاب من أخل بها.

وفيما يلي ذكر لبعض الأدلة الواردة في الكتاب والسنة على وجوب أداء الحقوق الزوجية للمرأة:

أولاً: أدلة وجوب أداء الحقوق الزوجية:

فمن النصوص الدالة على وجوب أداء الحقوق عامة، والحقوق الزوجية خاصة، آيات منها:

قول الحق تبارك وتعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا} 1، وقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ} 2.

--------------------------------------------

1 من الآية 58 من سورة النساء.

2 من الآية 90 من سورة النحل.
নারীর দাম্পত্য অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে এটি তাকে উদ্বুদ্ধ করে। পক্ষান্তরে, নারীর দাম্পত্য অধিকার নিশ্চিতকারী অন্যান্য মানবরচিত বিধানগুলোর মধ্যে তা পালনের ক্ষেত্রে সেই অনুপ্রেরণামূলক শক্তির অভাব রয়েছে। এ কারণে আমরা দেখি যে, বিধানসমূহ নারীর যেসব অধিকারকে আবশ্যক (واجب) করে, যার ওপর তা আদায় করা আবশ্যক (واجب), সে কোনো বিবাদ বা মতপার্থক্যের সময় কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হলে তা আদায় করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করে; কারণ সেসব অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ভীতির অনুপস্থিতি রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অনেক আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা সাধারণভাবে অধিকারসমূহ আদায় করাকে আবশ্যক (واجب) করে এবং বিশেষভাবে দাম্পত্য অধিকার আদায়ের নির্দেশ দেয়। এসব অধিকার আদায়ের ওপর সওয়াব বা প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে এবং যারা এগুলোতে ত্রুটি করবে তাদের শাস্তির হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে।

নিম্নে নারীর দাম্পত্য অধিকার আদায়ের আবশ্যকতা (وجوب) প্রসঙ্গে কুরআন ও সুন্নাহ হতে বর্ণিত কিছু দলিলের (أدلة) উল্লেখ করা হলো:

প্রথমত: দাম্পত্য অধিকার আদায়ের আবশ্যকতা (وجوب) সংক্রান্ত দলিলসমূহ (أدلة):

সাধারণভাবে অধিকার আদায় এবং বিশেষভাবে দাম্পত্য অধিকার আদায়ের আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশক দলিল বা মূল পাঠ্যসমূহের (نصوص) মধ্যে কিছু আয়াত হলো:

মহান সত্যস্বরূপ বরকতময় আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও} ১, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দিচ্ছেন} ২।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নিসা, আয়াত ৫৮-এর অংশ।

২. সূরা আন-নাহল, আয়াত ৯০-এর অংশ।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وجُل الحقوق الزوجية ثبتت بصيغة الأمر1، كما في قوله تعالى: {وَآتُوا النِّساءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً} 2، وقوله تعالى: {أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنْتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ} 3، وقوله تعالى: {لِيُنْفِقْ ذُو سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ} 4، وقوله تعالى: {فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ} 5، وقوله تعالى: {وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوف} 6، وقوله تعالى: {وَأْتَمِرُوا بَيْنَكُمْ بِمَعْرُوفٍ} 7.

فنجد أن حقوق المرأة الزوجية مطالب بها بصيغة الأمر مما يفيد تأكيد أدائها.

ومن الأحاديث الدالة على وجوب أداء الأمانات، - والحقوق الزوجية منها - والتحذير من الخيانة فيها:

--------------------------------------------

1 والقاعدة في الأمر: أنه إذا تجرد عن القرائن اقتضى الوجوب، في قول الفقهاء، وإذا ورد بعد الحظر اقتضى الإباحة، عند الشافعي، وعند أكثر الفقهاء، أفاد ما كان يفيد لولا الحظر، انظر: روضة الناظر وجنة المنظر (ص100) وما بعدها.

2 من الآية 4 من سورة النساء.

3 من الآية 6 من سورة الطلاق.

4 من الآية 7 من سورة الطلاق.

5 من الآية 222من سورة البقرة.

6 من الآية 19من سورة النساء.

7 من الآية 6 من سورة الطلاق.
দাম্পত্য অধিকারের অধিকাংশ বিষয়ই আদেশসূচক (الأمر) ১ শব্দের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহরানা সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো} ২, মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে তোমরা বাস করো, সেখানে তাদেরও বাসের ব্যবস্থা করো} ৩, মহান আল্লাহর বাণী: {সামর্থ্যবান ব্যক্তি যেন তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে} ৪, মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা যখন পবিত্র হবে, তখন তাদের কাছে সেভাবেই গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন} ৫, মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন অতিবাহিত করো} ৬, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা নিজেদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে পরামর্শ করো} ৭।

সুতরাং আমরা দেখতে পাই যে, নারীর দাম্পত্য অধিকারসমূহ আদেশসূচক (الأمر) শব্দের মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যা এগুলো আদায়ের আবশ্যকতা নিশ্চিত করার অর্থ প্রদান করে।

আমানতসমূহ আদায়ের আবশ্যকতা (الوجوب)—আর দাম্পত্য অধিকারও এর অন্তর্ভুক্ত—এবং এ ক্ষেত্রে খিয়ানত বা বিশ্বাসভঙ্গের ব্যাপারে সতর্ককারী হাদিসগুলোর মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

১ আদেশের (الأمر) ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো: ফকিহদের (الفقهاء) মতে যখন এটি কোনো প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিত (القرائن) থেকে মুক্ত থাকে, তখন তা আবশ্যকতা (الوجوب) নির্দেশ করে। আর শাফেয়ি এবং অধিকাংশ ফকিহদের (الفقهاء) মতে, যখন এটি কোনো নিষেধাজ্ঞার (الحظر) পরে আসে, তখন তা বৈধতা (الإباحة) নির্দেশ করে; আর অধিকাংশ ফকিহদের (الفقهاء) মতে, এটি নিষেধাজ্ঞার আগে যা নির্দেশ করত, নিষেধাজ্ঞার পরেও তাই নির্দেশ করে। দেখুন: রওজাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির (পৃ. ১০০) এবং পরবর্তী অংশ।

২ সুরা আন-নিসা, আয়াত ৪ এর অংশ।

৩ সুরা আত-তালাক, আয়াত ৬ এর অংশ।

৪ সুরা আত-তালাক, আয়াত ৭ এর অংশ।

৫ সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২২২ এর অংশ।

৬ সুরা আন-নিসা, আয়াত ১৯ এর অংশ।

৭ সুরা আত-তালাক, আয়াত ৬ এর অংশ।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ما رواه مسلم عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ" 1.

كما وردت أحاديث كثيرة أوجبت أداء الحقوق الزوجية منها:

ما رواه مسلم من حديث جابر، قوله صلى الله عليه وسلم: "فاتقوا الله في النساء فإنكم أخذتموهن بأمان الله، واستحللتم فروجهن بكلمة الله" 2.

ومنها ما رواه الشيخان من حديث أبي هريرة، أنه صلى الله عليه وسلم قال:

"استوصوا بالنساء خيراً" 3.

ثانياً: أدلة تحريم منع الحقوق:

وردت آيات تنص على النهي عن ظلم المرأة وهضم حقوقها، منها:

قول الحق تبارك وتعالى: {وَلا تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُن} 4، وقوله تعالى: {وَإِنْ أَرَدْتُمُ اسْتِبْدَالَ زَوْجٍ مَكَانَ زَوْجٍ وَآتَيْتُمْ إِحْدَاهُنَّ قِنْطَاراً فَلا تَأْخُذُوا مِنْهُ شَيْئاً أَتَأْخُذُونَهُ بُهْتَاناً وَإِثْماً مُبِيناً} 5، وقوله

--------------------------------------------

1 صحيح مسلم (1/73) .

2 مسلم بشرح النووي (8/183) .

3 صحيح البخاري مع فتح الباري (9/253) ، ومسلم (2/1091) .

4 من الآية 19من سورة النساء.

5 من الآية20 من سورة النساء.
ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে খিয়ানত করে।" ১।

একইভাবে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা দাম্পত্য অধিকার আদায় করাকে ওয়াজিব করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

ইমাম মুসলিম জাবিরের হাদিস থেকে যা বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানতে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থানকে হালাল করেছ।" ২।

তার মধ্যে আরও রয়েছে যা শায়খাইন (الشيخان) আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণের উপদেশ গ্রহণ করো।" ৩।

দ্বিতীয়ত: অধিকার খর্ব করা নিষিদ্ধ হওয়ার দলিলসমূহ:

এমন কিছু আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যা নারীর প্রতি জুলুম এবং তাদের অধিকার খর্ব করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে, যার মধ্যে রয়েছে:

মহান সত্য বরকতময় আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তাদেরকে আটকে রেখো না যাতে তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিয়দংশ নিয়ে নিতে পারো} ৪, এবং আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর স্থলে অন্য স্ত্রী পরিবর্তন করতে চাও এবং তাদের একজনকে প্রচুর সম্পদ প্রদান করে থাকো, তবে তা থেকে কিছুই গ্রহণ করো না। তোমরা কি তা অপবাদ এবং প্রকাশ্য পাপের মাধ্যমে গ্রহণ করবে?} ৫, এবং তাঁর বাণী

--------------------------------------------

১ সহিহ মুসলিম (১/৭৩)।

২ মুসলিম বিশরহিন নববী (৮/১৮৩)।

৩ সহিহ বুখারি মাআ ফাতহুল বারি (৯/২৫৩) এবং মুসলিম (২/১০৯১)।

৪ সুরা আন-নিসার ১৯ নম্বর আয়াতের অংশ।

৫ সুরা আন-নিসার ২০ নম্বর আয়াতের অংশ।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
تعالى: {فَإِنْ خِفْتُمْ ألا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً} 1، وقوله تعالى: {فَلا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَة} 2، وقوله تعالى: {فَلا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُمْ بِالْمَعْرُوفِ} 3.

ثالثاً: نصوص توجب ثواب أداء الحقوق وعقاب منعها:

قرنت النصوص الشرعية الثواب بأداء الحقوق الزوجية، وتوعدت بالعقاب على هضمها.

فأما النصوص الدالة على الثواب على أداء الحقوق الزوجية، فمنها:

قول الحق تبارك وتعالى عند منعه العضل {ذَلِكُمْ أَزْكَى لَكُمْ وَأَطْهَرُ} 4.

وما رواه مسلم، عَنْ أَبِي ذَرٍّ: أَنَّ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالُوا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ بِالأُجُورِ، يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَيَتَصَدَّقُونَ بِفُضُولِ أَمْوَالِهِمْ قَالَ: "أَوَ لَيْسَ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ مَا تَصَّدَّقُونَ، إِنَّ بِكُلِّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةً وَكُلِّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةً

--------------------------------------------

1 من الآية 3 من سورة النساء.

2 من الآية 129 من سورة النساء.

3 من الآية 232من سورة البقرة.

4 من الآية 232من سورة البقرة.
মহান আল্লাহ তাআলা এর বাণী: {যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে বিবাহ করো} ১, এবং মহান আল্লাহ তাআলা এর বাণী: {তবে তোমরা কোনো একজনের দিকে পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না এবং অন্যকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখো না} ২, এবং মহান আল্লাহ তাআলা এর বাণী: {অতঃপর তোমরা তাদেরকে বাধা প্রদান করো না যে তারা তাদের (পূর্বতন) স্বামীদের বিবাহ করবে, যখন তারা ন্যায়সংগতভাবে নিজেদের মধ্যে সম্মত হয়} ৩।

তৃতীয়ত: অধিকার আদায়ের সওয়াব এবং তা থেকে বিরত থাকার শাস্তির বাধ্যবাধকতা সম্পর্কিত ভাষ্যসমূহ:

শারঈ ভাষ্যসমূহ দাম্পত্য অধিকার আদায়ের সাথে সওয়াব বা প্রতিদানকে যুক্ত করেছে এবং তা খর্ব করার ক্ষেত্রে শাস্তির হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে।

সুতরাং দাম্পত্য অধিকার আদায়ের সওয়াবের নির্দেশক ভাষ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে:

হক তাআলা তাবারাকা ওয়া তাআলা এর বাণী যখন তিনি 'আদল' (বিবাহে বাধা প্রদান) নিষেধ করেন: {এটি তোমাদের জন্য অধিকতর পরিশুদ্ধ ও পবিত্র} ৪।

এবং যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন আবু যার থেকে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! অঢেল সম্পদের অধিকারীরা তো সমস্ত সওয়াব নিয়ে গেল, তারা আমাদের মতো সালাত আদায় করে, আমাদের মতো সিয়াম পালন করে এবং তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ দ্বারা সদকা প্রদান করে। তিনি বললেন: "আল্লাহ কি তোমাদের জন্য এমন কিছু নির্ধারণ করেননি যা তোমরা সদকা করতে পারো? নিশ্চয়ই প্রতিটি তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ বলা) একটি সদকা এবং প্রতিটি তাকবির (আল্লাহু আকবার বলা) একটি সদকা

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নিসা-এর ৩ নং আয়াতের অংশবিশেষ।

২. সূরা আন-নিসা-এর ১২৯ নং আয়াতের অংশবিশেষ।

৩. সূরা আল-বাকারাহ-এর ২৩২ নং আয়াতের অংশবিশেষ।

৪. সূরা আল-বাকারাহ-এর ২৩২ নং আয়াতের অংশবিশেষ।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَكُلِّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةً وَكُلِّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةً وَأَمْرٌ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ وَنَهْيٌ عَنْ مُنْكَرٍ صَدَقَةٌ وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ". قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ: أَيَأتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ قَالَ: "أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلَالِ كَانَ لَهُ أَجْرًا"1.

وما رواه البخاري من حديث سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي وَأَنَا بِمَكَّةَ وَهُوَ يَكْرَهُ أَنْ يَمُوتَ بِالأَرْضِ الَّتِي هَاجَرَ مِنْهَا قَالَ: يَرْحَمُ اللَّهُ ابْنَ عَفْرَاءَ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ؟ قَالَ: لا، قُلْتُ: فَالشَّطْرُ؟ قَالَ: لا، قُلْتُ: الثُّلُثُ؟ قَالَ: فَالثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ، إِنَّكَ أَنْ تَدَعَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ فِي أَيْدِيهِمْ، وَإِنَّكَ مَهْمَا أَنْفَقْتَ مِنْ نَفَقَةٍ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ حَتَّى اللُّقْمَةُ الَّتِي تَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِكَ …" الحديث2.

وأما ما يتعلق بالوعيد بالعقاب على ظلم المرأة، فمنها:

قوله تعالى: {وَلا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا} إلى قوله تعالى: {تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} 3.

--------------------------------------------

1 صحيح مسلم (2/697) .

2 صحيح البخاري مع فتح الباري (5/363) .

3 من الآية 229 من سورة البقرة.
"...এবং প্রত্যেক ‘তাহমিদ’ (আলহামদুলিল্লাহ বলা) একটি সদকা, প্রত্যেক ‘তাহলীল’ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা) একটি সদকা, সৎ কাজের আদেশ প্রদান একটি সদকা এবং মন্দ কাজ হতে নিষেধ করা একটি সদকা। আর তোমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য মিলনেও রয়েছে সদকা।" তাঁরা আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি তার কামনাবাসনা পূর্ণ করবে এবং তাতেও কি তার জন্য প্রতিদান থাকবে?" তিনি বললেন, "তোমরা কি মনে করো, যদি সে তা হারাম উপায়ে চরিতার্থ করত, তবে কি তার জন্য গুনাহ হতো না? তদ্রূপ সে যখন তা হালাল উপায়ে সম্পাদন করে, তখন তার জন্য প্রতিদান রয়েছে।"১।

আর ইমাম বুখারী সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস হতে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় অবস্থানকালে আমাকে দেখতে এলেন; আর তিনি (সা.) সেই ভূমি হতে মৃত্যুবরণ করা অপছন্দ করতেন যেখান থেকে কেউ হিজরত করেছে। তিনি বললেন: "আল্লাহ ইবনে আফ্রার প্রতি রহম করুন।" আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ অসিয়ত করে দেব?" তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: "তবে অর্ধেক?" তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: "এক-তৃতীয়াংশ?" তিনি বললেন: "তবে এক-তৃতীয়াংশই হোক, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। নিশ্চয়ই তোমার উত্তরাধিকারীদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া তাদেরকে অভাবগ্রস্ত ও মানুষের নিকট হাত পেতে বেড়ানো অবস্থায় ছেড়ে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। আর তুমি যা-ই ব্যয় করো না কেন, তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে, এমনকি সেই লোকমাটিও যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও …" হাদিস২।

আর নারীর প্রতি জুলুমের শাস্তির হুঁশিয়ারি সংক্রান্ত যা বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:

মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের জন্য এটা হালাল নয় যে তোমরা গ্রহণ করবে...} মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। আর যারা আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে, তারাই জালেম।} ৩।

--------------------------------------------

১ সহীহ মুসলিম (২/৬৯৭)।

২ ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারী (৫/৩৬৩)।

৩ সূরা আল-বাকারার ২২৯ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وقال في آية أخرى: {وَلا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَاراً لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ وَلا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُواً} 1.

وفي كل تلك النصوص تخويف وعظة لمن كان يؤمن بالله واليوم الآخر، كما قال تعالى: {ذَلِكَ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكُمْ أَزْكَى لَكُمْ وَأَطْهَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} 2.

ومن الأحاديث الدالة على التحذير من ظلم المرأة:

ما رواه أحمد عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من كانت له امرأتان يميل لإحداهما على الأخرى جاء يوم القيامة يجر أحد شقيه ساقطا أو مائلا"3.

ومن الأصول المؤكدة لوجوب الحقوق الزوجية، أن منها حقوقا مشتملة على حق الله وحق العبد كإيجاب المهر، ومنها ما هي حقوق خالصة للعبد، كحق النفقة.

--------------------------------------------

1 من الآية 231من سورة البقرة.

2 من الآية 232من سورة البقرة.

3 رواه أحمد (2/295، 347، 471) ، والترمذي (4/295) ، وأبو داود (2133) ، والنسائي (7/63) ، وابن ماجه (1/633) . وإسناده صحيح على شرط الشيخين. انظر: مسند الإمام أحمد (تحقيق الأرناؤوط - 13/320، حاشية 2) .
তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন: {আর তোমরা তাদেরকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আটকে রেখো না যে, তোমরা সীমালঙ্ঘন করবে। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে নিজের ওপরই জুলুম করবে। আর তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করো না} ১।

আর এই সকল দলিল বা মূল পাঠের (نصوص) মধ্যে সেই ব্যক্তির জন্য ভীতি প্রদর্শন ও উপদেশ রয়েছে, যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর বিশ্বাস রাখে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {এর দ্বারা তোমাদের মধ্যে তাকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান রাখে; এটা তোমাদের জন্য অধিকতর পরিচ্ছন্ন ও অধিকতর পবিত্র। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না} ২।

নারীর প্রতি জুলুমের ব্যাপারে সতর্ককারী হাদিসসমূহের মধ্যে রয়েছে:

যা আহমদ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যার দুইজন স্ত্রী রয়েছে কিন্তু সে তাদের একজনের প্রতি (অন্যায্যভাবে) ঝুঁকে পড়ে, সে কিয়ামতের দিন তার দেহের এক পাশ অবশ বা ঝুঁকে থাকা অবস্থায় উপস্থিত হবে" ৩।

দাম্পত্য অধিকারের আবশ্যকতা সুনিশ্চিতকারী মূলনীতিসমূহের (أصول) মধ্যে একটি হলো, এর কিছু অধিকার আল্লাহর হক ও বান্দার হকের সমন্বয়ে গঠিত, যেমন মোহরানা আবশ্যক হওয়া। আর কিছু অধিকার রয়েছে যা একান্তই বান্দার হক, যেমন ভরণপোষণের অধিকার।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারার ২৩১ নম্বর আয়াতের অংশ।

২. সূরা আল-বাকারার ২৩২ নম্বর আয়াতের অংশ।

৩. এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (২/২৯৫, ৩৪৭, ৪৭১), তিরমিজি (৪/২৯৫), আবু দাউদ (২১৩৩), নাসায়ি (৭/৬৩) এবং ইবনে মাজাহ (১/৬৩৩)। আর এর সনদ (إسناد) শাইখাইনের (الشيخين) শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح)। দেখুন: মুসনাদে ইমাম আহমদ (তাহকিক আল-আরনাউত - ১৩/৩২০, টীকা ২)।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
فما كان من الحقوق مشتملة على حق الله، فواضح أنها تتصف بوجوب أدائها، لاشتمالها على حق الله تعالى، وما كان منها خالصاً للعبد، فهي كذلك مشتملة على حق الله؛"لأن ما هو للعبد إنما ثبت كونه حقا له بإثبات الشرع ذلك له"1، فوجب أداؤها شرعا لذلك.

--------------------------------------------

1 الموافقات للشاطبي (2/377) .

অধিকারসমূহের মধ্যে যা আল্লাহর অধিকার (حق الله) সংবলিত, তা আদায় করা যে আবশ্যক (وجوب) তা সুস্পষ্ট; কেননা তাতে মহান আল্লাহর অধিকার (حق الله) নিহিত রয়েছে। আর এগুলোর মধ্যে যা একান্তই বান্দার অধিকার, তাও একইভাবে আল্লাহর অধিকার (حق الله) সংবলিত; "কেননা যা বান্দার অধিকার হিসেবে গণ্য, তা মূলত শরিয়ত (الشرع) কর্তৃক তার জন্য তা সাব্যস্ত করার মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে"১, তাই শরিয়তগত কারণে তা আদায় করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

--------------------------------------------

১. আল-মুওয়াফাকাত, আশ-শাতিবি (২/৩৭৭)।
(খণ্ড: ১) দমানাতু হুকুক্বিল মারআতিয যাওজিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأول: الصمانات العامة لحقوق المرأة الزوجية

‌‌المبحث الأول: (الضمان الأول) : أن حقوق المرأة الزوجية ثابتة بأحكام شرعية توعد الله من اعتدى عليها، أو قصر في أدائها.

…

المبحث الأول: (الضمان الأول) : أن حقوق المرأة الزوجية ثابتة بأحكام شرعية، توعد الله من اعتدى عليها، أو قصر في أدائها.

من أقوى ضمانات المرأة لحقوقها الزوجية، أنها تتصف بالصفة الشرعية، وأن أغلب تلك الحقوق ثبت وجوبها بأحكام شرعية منصوص عليها، وما يجب لها من الحقوق بالاشتراط، متسم كذلك بالصفة الشرعية، لوجوب الوفاء بالشروط المتفق عليها عند عقد النكاح، ما لم تخالف شرعا، أو تناقض مقتضى عقد النكاح، فكان أداؤها واجبا لوجوبها شرعا، في كلا الصنفين من الحقوق، ويثاب من يؤدي ما وجب عليه، كما يعاقب من فرط في أدائها.

وتلك ميزة هامة لضمان الحقوق الزوجية للمرأة، لا يضاهيه أي ضمان في الأنظمة والقوانين الوضعية الأخرى، لأن من يجب عليه أداء الحقوق الزوجية للمرأة، إذا علم أن ذلك واجب عليه شرعا، وأن الله سبحانه وتعالى مطلع عليه في السر والعلن، وأنه سوف يجازيه بالحسنى على أدائها، كما يعاقبه على تقاعسه عن أدائها، وأن حقوق العباد، التي هي بمثابة ديون، لا تغفر للشهيد1 فضلا عن غيره، كان ذلك حافزاً قوياً

--------------------------------------------

1 وللفقهاء فيه كلام.
প্রথম পরিচ্ছেদ: নারীর বৈবাহিক অধিকারের সাধারণ নিশ্চয়তাসমূহ

প্রথম অনুচ্ছেদ: (প্রথম নিশ্চয়তা): নারীর বৈবাহিক অধিকারসমূহ শরয়ি বিধান (أحكام شرعية) দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত, আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন যে এসব লঙ্ঘন করে বা পালনে অবহেলা করে।

…

প্রথম অনুচ্ছেদ: (প্রথম নিশ্চয়তা): নারীর বৈবাহিক অধিকারসমূহ শরয়ি বিধান (أحكام شرعية) দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত, আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন যে এসব লঙ্ঘন করে বা পালনে অবহেলা করে।

নারীর বৈবাহিক অধিকারসমূহের অন্যতম শক্তিশালী নিশ্চয়তা হলো, এটি শরয়ি বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এই অধিকারগুলোর অধিকাংশেরই আবশ্যকতা (وجوب) সুস্পষ্ট শরয়ি বিধান (أحكام شرعية) দ্বারা প্রমাণিত। আর শর্তারোপের মাধ্যমে যেসব অধিকার প্রাপ্য হয়, সেগুলোও শরয়ি বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত; কারণ বিবাহের চুক্তির (عقد النكاح) সময় সম্মত হওয়া শর্তসমূহ পূরণ করা আবশ্যক (واجب), যতক্ষণ না তা শরিয়ত (شرع) বিরোধী হয় বা বিবাহের চুক্তির (عقد النكاح) মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হয়। সুতরাং উভয় প্রকার অধিকারের ক্ষেত্রেই শরয়ি বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে তা আদায় (أداء) করা আবশ্যক (واجب)। যে ব্যক্তি তার ওপর অর্পিত আবশ্যিক (واجب) দায়িত্ব পালন করে সে পুণ্য লাভ করে, তেমনি যে ব্যক্তি তা পালনে অবহেলা করে সে শাস্তির সম্মুখীন হয়।

এটি নারীর বৈবাহিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, যা অন্য কোনো মানবরচিত ব্যবস্থা বা আইনের নিশ্চয়তার সাথে তুলনীয় নয়। কারণ, যার ওপর নারীর বৈবাহিক অধিকার আদায় (أداء) করা আবশ্যক (واجب), সে যখন জানতে পারে যে এটি তার ওপর শরয়িভাবে আবশ্যক (واجب) এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা গোপনে ও প্রকাশ্যে তার ওপর দৃষ্টি রাখছেন, আর তিনি এই অধিকার আদায়ের (أداء) জন্য তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন এবং এটি পালনে বিমুখতার জন্য তাকে শাস্তি দেবেন; তদুপরি বান্দার অধিকারসমূহ (حقوق العباد), যা ঋণের সমতুল্য, তা শহীদের জন্যও ক্ষমা করা হয় না ১—অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য—তখন এটি একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

--------------------------------------------

১. এ বিষয়ে ফকিহদের (فقهاء) বিশেষ আলোচনা রয়েছে।