(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: -)
ري الظمآن بمجالس شعب الإيمان   (غازي بن سالم أفلح)

القسم: العقيدة


الكتاب: ري الظمآن بمجالس «شعب الإيمان، للحافظ أبي بكر أحمد بن الحسين البيهقي»

المؤلف: أبو حمزة غازي بن سالم أفلح

تقديم: عزيز بن فرحان العنزي، رشاد بن حمود الحزمي، عبد العزيز بن يحيى البرعي، محمد بن عبد الله باموسى، نعمان بن عبد الكريم الوتر

الناشر: مكتبة دروس الدار، الشارقة - الإمارات

الطبعة: الأولى، 1444 هـ - 2022 م

عدد الأجزاء: 7

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 جُمادَى الأولى 1444

শুআবুল ঈমানের মজলিসসমূহের মাধ্যমে পিপাসার্তের তৃপ্তি নিবারণ   (গাজী বিন সালেম আফলাহ)

বিভাগ: আকীদা


কিতাব: হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন হুসাইন আল-বায়হাকী রচিত «শুআবুল ঈমান»-এর মজলিসসমূহের মাধ্যমে পিপাসার্তের তৃপ্তি নিবারণ

লেখক: আবু হামজাহ গাজী বিন সালেম আফলাহ

উপস্থাপনা: আজীজ বিন ফারহান আল-আনাযী، রাশাদ বিন হামুদ আল-হাযমী، আবদুল আজীজ বিন ইয়াহইয়া আল-বুরয়ী، মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বামুসা، নুমান বিন আবদুল কারীম আল-ওয়াতর

প্রকাশক: মাকতাবাতুদ দুরুস আদ-দার، শারজাহ - আরব আমিরাত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪৪ হিজরী - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৭

[কিতাবের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৪ জুমাদাল উলা ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩)
سلسلةُ: ريِّ الظَّمْآن بِمَجالِس شُعَبِ الإيمَانِ (1)

الإِيْمَانُ باللهِ

جل جلاله

تأليف

أبي حمزة غازي بن سالم أفلح

عفا الله عنه وعن والديه ومشايخه وجميع المسلمين

تقديم

الدكتور عزيز بن فرحان العنزي الدكتور رشاد بن حمود الحزمي

الشيخ عبد العزيز بن يحيى البرعي الشيخ محمد بن عبد الله باموسى

الشيخ نعمان بن عبد الكريم الوتر
ধারাবাহিকতা: ঈমানের শাখাসমূহের মজলিসের মাধ্যমে তৃষ্ণার্তের তৃষ্ণা নিবারণ (১)

আল্লাহর প্রতি ঈমান

তাঁর মহিমা সুমহান

রচনায়

আবু হামযাহ গাজী ইবনে সালিম আফলাহ

আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে, তার উস্তাদগণকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন

উপস্থাপনায়

ডক্টর আযীয ইবনে ফারহান আল-আনাযী ডক্টর রাশাদ ইবনে হামুদ আল-হাযমী

শাইখ আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহইয়া আল-বুরঈ শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ বামুসা

শাইখ নুমান ইবনে আব্দুল কারিম আল-ওয়াতার
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع محفوظة

الطبعة الأولى لمكتبة دروس الدار

1444 هـ - 2022 م

(مزيدة ومنقحة)

رقم الفسح الإعلامي في دولة الإمارات العربية المتحدة دبي

MC-01 - 01 - 7549142

Date-2022 - 04 - 19

الترقيم الدولي

ISBN: -978 - 9948 - 04 - 572 - 4

التصنيف العمري: E

تم تصنيف وتحديد الفئة العمرية التي تلائم محتوى الكتب وفقا لنظام التصنيف العمري الصادر عن وزارة الثقافة والشباب

للتواصل مع المؤلف: ghazi.salem@hotmail.com

 

الإمارات العربية المتحدة - الشارقة

البريد الإلكتروني: droosaldar@gmail.com

للتواصل: 00971503667077

تويتر: @ DroosAldar
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

মাকতাবাতু দুরুস আদ-দারের প্রথম সংস্করণ

১৪৪৪ হিজরি - ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

(বর্ধিত ও পরিমার্জিত)

সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাইয়ের মিডিয়া পারমিট নম্বর

MC-01 - 01 - 7549142

তারিখ-২০২২ - ০৪ - ১৯

আন্তর্জাতিক মান পুস্তক সংখ্যা

ISBN: -978 - 9948 - 04 - 572 - 4

বয়স ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ: E

সংস্কৃতি ও যুব মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত বয়স ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ পদ্ধতি অনুযায়ী এই বইয়ের বিষয়বস্তুর উপযোগী বয়স সীমা নির্ধারণ ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে

লেখকের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা: ghazi.salem@hotmail.com

 

সংযুক্ত আরব আমিরাত - শারজাহ

ই-মেইল: droosaldar@gmail.com

যোগাযোগের জন্য: 00971503667077

টুইটার: @ DroosAldar
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌التقديم للكتاب
গ্রন্থের ভূমিকা
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تقديم فضيلة الشيخ الدكتور

عزيز بن فرحان العنزي حفظه الله

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله .. أما بعد:

فلا يخفى ما لكتاب الجامع لشعب الإيمان؛ للحافظ البيهقي رحمه الله من المنزلة الكبيرة، والمكانة الرفيعة، عند العلماء، وطلاب العلم، بل وعند الوعاظ والخطباء، وذلك لما اشتمل عليه من الفوائد النفيسة، والفرائد الماتعة، والحكم والأقوال الباهرة.

فهو كتاب عظيم، حوى جملة كبيرة من الأحاديث النبوية، وآثار الصحابة والتابعين، والأقوال والحكم والأشعار في جميع الفنون الشرعية.

وقد قام الإمام البيهقي بإسناد ما أورده الحليمي من الأحاديث والآثار التي ذكرها في شرحه من دون إسناد، وزاد عليها ما شاء الله أن يزيد؛ فجاء موسوعة علمية قلَّ نظيره في بابه.

ولما كانت الأحاديث والآثار التي أوردها البيهقي، منها: الصحيح، والحسن، والضعيف، والموضوع، من خلال عرضها وإجراءها على وَفْقِ القواعد الحديثية، فإن الحاجة ملحة إلى غربلة الكتاب، وتنقيته مما شابه مما لم يصح، وقد انبرى لهذه المهمة، وتجشم لهذا المشروع فضيلة الشيخ غازي بن سالم أفلح، وهو من طلاب العلم الأماثل، وعلى منهاج سليم، -أحسبه والله حسيبه-، وممن لهم عناية بالأحاديث، رواية ودراية،
সম্মানিত শায়খ ডক্টর

আযীয বিন ফারহান আল-আনাযী (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক.. এরপর:

হাফেজ বাইহাকী (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত 'আল-জামি' লি শু'আবুল ঈমান' গ্রন্থটির উচ্চ মর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থান আলেম সমাজ, তালিবে ইলম, এমনকি ওয়ায়েজ ও খতিবদের কাছে কারো অজানা নয়। কারণ এটি অত্যন্ত মূল্যবান ফায়েদা, চমৎকার বিরল তথ্যসমূহ এবং প্রজ্ঞা ও চমৎকার বাণীর সমাহার।

এটি একটি মহান গ্রন্থ, যা প্রচুর সংখ্যক নববী হাদিস, সাহাবী ও তাবেয়ীগণের আছার এবং সকল শরয়ী শাস্ত্রের বাণী, প্রজ্ঞা ও কবিতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ইমাম বাইহাকী ইমাম হালীমী তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে সনদ বিহীন যে সব হাদিস ও আছার উল্লেখ করেছিলেন, সেগুলোকে তিনি সনদসহ উপস্থাপন করেছেন এবং তাতে আল্লাহর ইচ্ছায় আরও অনেক কিছু সংযোজন করেছেন। ফলে এটি এমন এক ইলমী বিশ্বকোষে পরিণত হয়েছে যার সমতুল্য এই বিষয়ে খুব কমই রয়েছে।

যেহেতু বাইহাকী কর্তৃক উদ্ধৃত হাদিস ও আছারসমূহের মধ্যে হাদিস শাস্ত্রের নীতি অনুযায়ী যাচাই করলে সহিহ, হাসান, জয়ীফ ও মাওজু—সবই বিদ্যমান, তাই এই গ্রন্থটিকে যাচাই-বাছাই করার এবং যা শুদ্ধ নয় তা থেকে একে পরিচ্ছন্ন করার তীব্র প্রয়োজন ছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এসেছেন এবং এই প্রকল্পের কষ্ট স্বীকার করেছেন সম্মানিত শায়খ গাজী বিন সালেম আফলাহ। তিনি একজন আদর্শ তালিবে ইলম এবং সঠিক মানহাজের অনুসারী—আমি তাকে এমনই মনে করি, আর আল্লাহই তার প্রকৃত হিসাব গ্রহণকারী। তিনি হাদিসের বর্ণনা ও অনুধাবন উভয় ক্ষেত্রেই বিশেষ যত্নবানদের অন্তর্ভুক্ত,
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৮)
حيث قام من خلال هذا السفر الموسوم بـ " ريِّ الظمآن بمجالس شعب الإيمان" على اختيار ما صح لديه مما اشتمل عليه الجامع من الأحاديث والآثار، -المتعلقة بأركان الإيمان الستة-، وزاد فيه مباحث ومسائل هامة، جعلته يخرج بهذه الحلة القشيبة، والذي يمثل إضافة هامة للمكتبة الإسلامية، لا سيما وأن هذا المصنف يحتاج إليه المبتدي؛ كما أنه لا يستغني عنه المنتهي.

وأسأل الله تعالى أن يجعله مباركًا نافعًا،

وصلى الله وسلم على عبده ونبيه محمد،،،

وكتبه

عزيز بن فرحان العنزي

4 رجب 1443 هـ

مدير مركز الدعوة والإرشاد بدبي سابقا

رئيس اللجنة الأكاديمية بمجلس الأمناء بالجامعة القاسمية
যেহেতু তিনি "রিয়্যুজ যাম-আন বি-মাজালিসি শুআবুল ঈমান" নামক এই গ্রন্থের মাধ্যমে আল-জামি'-তে অন্তর্ভুক্ত ঈমানের ছয়টি রুকন সংশ্লিষ্ট হাদিস ও আছারসমূহ থেকে যা তাঁর নিকট সহীহ বলে গণ্য হয়েছে তা চয়ন করেছেন এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক আলোচনা ও মাসায়েল সংযোজন করেছেন, যা গ্রন্থটিকে এই অনন্য রূপে সুশোভিত করেছে। এটি ইসলামি গ্রন্থাগারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, বিশেষ করে এই সংকলনটি যেমন একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন, তেমনি একজন প্রাজ্ঞ আলিমের জন্যও এটি অপরিহার্য।

আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে বরকতময় ও উপকারী করেন।

আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও নবী মুহাম্মাদের ওপর।

লিখেছেন

আজীজ বিন ফারহান আল-আনযী

৪ রজব ১৪৪৩ হিজরি

দুবাই দাওয়াহ ও ইরশাদ কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক

আল-কাসিমিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের একাডেমিক কমিটির চেয়ারম্যান
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة الشيخ الدكتور

رشاد بن حمود الحزمي حفظه الله

الحمد لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين؛

أما بعد:

فقد قرأت كتابَ "ريِّ الظمآن بمجالس شعب الإيمان"، تأليف: الشيخ أبي حمزة غازي بن سالم أفلح البدوي، فوجدته كتاباً مفيداً، ذكر فيه مؤلفه عقيدة أهل الإيمان في أصول الإيمان الستة، من الكتاب والسنة على فهم سلف الأمة.

وهو كتاب وافق مضمونه عنوانه، فإن قارئه يرتوي بقراءته، بما يشعر به في نفسه من زيادة الإيمان.

وتتجلى أهمية الكتاب فيما يلي:

1 - كتابته بأسلوب سهل، يستفيد منه الطالب المبتدي، والعالم المنتهي.

2 - استيعابه للأدلة من القرآن الكريم في الغالب، مع العناية بالمأثور من تفسيرها من أقوال الصحابة والتابعين، ومن بعدهم من الأئمة. مع عزو الأقوال لمن أخرجها من الأئمة في كتب الحديث والتفسير المسندة، والمصنفات وغيرها.

3 - كثرة الأدلة من الأحاديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، مع عزوها لمن أخرجها من أئمة الحديث في كتبهم من الصحاح والسنن والمسانيد والمعاجم والأجزاء وغيرها. وبيان مرتبتها إن كان الحديث في غير الصحيحين، واعتنائه بذكر أحكام العلماء المتقدمين والمتأخرين على الحديث، واختيار ما يراه صواباً وَفْق القواعد الحديثية. واهتمامه البالغ بألفاظ الحديث، وسياقه مساقاً واحداً، مع ذكر الزيادات، ومن زادها من أهل العلم.

4 - ذكر أقوال العلماء في الكلام على الأحاديث، بتفسير غريبها، أو حل مشكلها، أو
শায়খ ডক্টর

রাশাদ বিন হামুদ আল-হাজমি (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

আমি শায়খ আবু হামযা গাযী বিন সালিম আফলাহ আল-বাদাবী রচিত "রায়্যুজ জামআন বি-মাজালিসি শুআবুল ঈমান" কিতাবটি পাঠ করেছি। আমি এটিকে একটি অত্যন্ত উপকারী কিতাব হিসেবে পেয়েছি, যাতে লেখক কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের আলোকে এবং উম্মাহর সালাফদের বুঝ অনুযায়ী ঈমানের ছয়টি মূল স্তম্ভের ব্যাপারে আহলে ঈমানের আকিদা উল্লেখ করেছেন।

এটি এমন একটি কিতাব যার বিষয়বস্তু এর শিরোনামের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর পাঠক এটি পাঠ করার মাধ্যমে তৃপ্ত হবে এবং নিজের অন্তরে ঈমান বৃদ্ধির এক বিশেষ অনুভূতি লাভ করবে।

কিতাবটির গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ফুটে ওঠে:

১ - এটি অত্যন্ত সহজ শৈলীতে রচনা করা হয়েছে, যার ফলে একজন শিক্ষানবিশ শিক্ষার্থী এবং একজন বিজ্ঞ আলেম—উভয়েই এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন।

২ - কিতাবটিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন থেকে দলিলসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, পাশাপাশি সাহাবী, তাবিঈ এবং পরবর্তী ইমামগণের বর্ণিত তাফসীরের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া উক্তিগুলো হাদিস ও তাফসীরের মুসনাদ কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য সংকলন থেকে কোন কোন ইমাম বর্ণনা করেছেন তার উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে।

৩ - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস থেকে প্রচুর দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে। হাদিসগুলো সহীহ, সুনান, মুসনাদ, মু'জাম ও আজযা ইত্যাদি গ্রন্থের কোন কোন ইমাম সংকলন করেছেন তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। হাদিসটি যদি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বাইরে হয় তবে তার মান স্পষ্ট করা হয়েছে এবং হাদিসের ওপর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের মূল্যায়নের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। এছাড়া হাদিসশাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী যা সঠিক মনে হয়েছে তা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাদিসের শব্দের প্রতি গভীর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন বর্ধিত অংশসহ (যিয়াদাত) ও তা বর্ণনাকারী আলেমদের নামসহ ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৪ - হাদিসের আলোচনার ক্ষেত্রে আলেমদের উক্তি উল্লেখ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা, অথবা অস্পষ্টতার নিরসন, অথবা
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১০)
دفع تعارضها أو غير ذلك.

5 - اهتمامه بذكر أقوال الصحابة والتابعين وغيرهم، وعزوها لمن أخرجها من أهل العلم في كتبهم، والحكم عليها صحة وحسناً وضعفاً.

6 - كثرة المصادر التي نقل منها المؤلف في هذا الكتاب

7 - كثرة العناوين التفصيلية للكتاب، التي تقرب الاستفادة منه.

وهذا الكتاب تهذيب وشرح لكتاب "الجامع لشعب الإيمان" للحافظ أبي بكر أحمد بن الحسين البيهقي المتوفى سنة (458 هـ) -رحمه الله تعالى-؛ فأسال الله أن ييسر لمؤلفه إتمامه، فلو تم، لعله أن يكون في أكثر من عشرين مجلداً.

ولقد استفدت من قراءتي لهذا الكتاب، فجزى الله مؤلفه الشيخ غازي بن سالم خيراً، وجعل ذلك في ميزان حسناته.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.

كتبه/

أبو عبدالله رشاد بن حمود الحزمي

في يوم الثلاثاء

21 من شهر رجب الحرام من عام 1443 هـ.
এগুলোর মধ্যবর্তী বিরোধ নিরসন বা এজাতীয় অন্যান্য বিষয়।

৫ - সাহাবী, তাবিঈ এবং অন্যদের বাণীসমূহ উল্লেখ করার প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান, এবং জ্ঞানীদের কিতাবসমূহ থেকে যারা সেগুলো সংকলন করেছেন তাঁদের প্রতি সেগুলোর সূত্র প্রদান করা এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা, হাসান বা দুর্বলতা অনুযায়ী হুকুম বর্ণনা করা।

৬ - এই কিতাবে লেখক যেসব উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেগুলোর আধিক্য।

৭ - কিতাবটিতে বিস্তারিত শিরোনামের আধিক্য, যা এর থেকে উপকৃত হওয়াকে সহজতর করে।

আর এই কিতাবটি হাফিজ আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হি.)—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—রচিত "আল-জামি লি-শুআবুল ঈমান" কিতাবের একটি পরিমার্জন ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ; আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর লেখকের জন্য এটি সম্পন্ন করা সহজ করে দেন, এটি সম্পন্ন হলে সম্ভবত এটি বিশটিরও বেশি খণ্ডে হতে পারে।

আমি এই কিতাবটি পাঠ করে উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ এর লেখক শাইখ গাজী বিন সালিমকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং একে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন/

আবু আব্দুল্লাহ রাশাদ বিন হামুদ আল-হাযমী

মঙ্গলবার

২১ শে রজবুল হারাম, ১৪৪৩ হিজরী।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مقدمة فضيلة الشيخ العلامة

عبد العزيز بن يحيى البرعي حفظه الله

القائم على دار الحديث السلفية في اليمن -محافظة إِبّ- مفرق حبيش

الحمد لله رب العالمين، وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمد عبده ورسوله صلى الله عليه وآله وسلم، أما بعد:

فقد قام الأخ غازي بن سالم أفلح، بتأليف كتاب "ري الظمآن بمجالس شعب الإيمان" سائرا على منوال كتاب شعب الإيمان للبيهقي، آخذا منه ومضيفا عليه مع حذف الأحاديث الضعيفة، وإبقاء عامة الأحاديث الصحيحة، وحشد فيه من الفوائد العلمية من كلام أهل العلم ما جعل الكتاب مرجعا في بابه، وقد ألقى ذلك في أكثر من مائة مجلس، منها سبعة وثلاثون مجلسا في أركان الإيمان الستة.

أسأل الله أن يثبت بذلك إيمانه ويعلي درجته،

والحمد لله رب العالمين.

كتبه

عبد العزيز بن يحيى البرعي

18 رجب 1443 هـ
ফজিলতপূর্ণ শায়খ আল্লামা

আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আল-বুরয়ি (হাফিযাহুল্লাহ)-এর ভূমিকা

ইয়েমেনের ইব প্রদেশের মাফরাক হুবাইশে অবস্থিত দারুল হাদিস আস-সালাফিয়্যাহ-এর পরিচালক

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

ভাই গাজী বিন সালেম আফলাহ 'রাইয়ুয যামআন বি-মাজালিসি শুআবুল ঈমান' নামক কিতাবটি রচনা করেছেন। তিনি এটি ইমাম বায়হাকির 'শুআবুল ঈমান' কিতাবের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সাজিয়েছেন; সেখান থেকে উপাদান গ্রহণ করেছেন এবং তাতে নতুন কিছু সংযোজন করেছেন, পাশাপাশি দুর্বল হাদিসসমূহ বর্জন করে অধিকাংশ সহিহ হাদিসসমূহ বহাল রেখেছেন। তিনি এতে আহলুল ইলমের বাণী থেকে এমন সব ইলমি ফায়দা একত্রিত করেছেন যা কিতাবটিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্সে পরিণত করেছে। তিনি এটি একশোরও বেশি মজলিসে পাঠ করেছেন, যার মধ্যে সাইত্রিশটি মজলিস ছিল ঈমানের ছয়টি রুকন সংক্রান্ত।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা তাঁর ঈমানকে সুদৃঢ় করেন এবং তাঁর মর্যাদা উন্নত করেন।

আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এটি লিখেছেন

আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আল-বুরয়ি

১৮ রজব ১৪৪৩ হিজরি
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌مقدمة الشيخ المحدث

أبي عمار محمد بن عبد الله باموسى حفظه الله

القائم على دار الحديث ومركز السلام العلمي للعلوم الشرعية اليمن -الحديدة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ للَّه الذي جعل الإِيمان شُعبًا، والصلاةُ والسَّلام على نبينا محمد صلى الله عليه وسلم الذي بمبعثه حُرِسَت السَّماء، ورُجمت الشياطين شُهبًا، وآله وصحبه الحائزينَ الشرف والفضل النُّجَبَا، والتَّابعين لهم بإحسان ومَنْ إليهم انتسبا(1). أما بعد:

فإن الإيمان الذي يشمل الأعمال، وأنواعها، وأجناسها بضعٌ وسبعون شعبة، وهذه الشعب هي الأعمال الشرعية، التي تتشعب وتتفرع عن أعمال القلب، وأعمال اللسان، وأعمال البدن. وتتفاوت هذه الشعب في مراتبها من الإيمان، فمنها ما يكون في أعلى مراتب الإيمان، ومنها ما يكون في أدناها، وما بين أعلى الإيمان وأدناه شعب متعددة.

قال ابن القيم رحمه الله: الإيمان أصل له شعب متعددة، وكل شعبة تسمى إيماناً ظاهرًا كان أو باطنًا، فالصلاة من الإيمان، والزكاة من الإيمان، والحج من الإيمان، والصيام من الإيمان، والأعمال الباطنة من الإيمان، وبينهما شعب متفاوتة تفاوتاً عظيماً ا. هـ(2).

وقول النبي صلى الله عليه وسلم: «الإيمان بضعٌ وسبعون أو بضعٌ وستون شُعْبة»، المراد بذلك أنَّ خصال الإيمان لا تخرج عن هذا العدد(3)، وأنَّها متفاوتة، فتدخل فيها أعمال القلوب،

--------------------------------------------

(1) مقتبسة من مقدمة الزبيدي رحمه الله، على «شعب الإيمان».

(2) «الصلاة وأحكام تاركها» (ص: 55) بتصرف.

(3) قد يشكل هنا أن تفاصيل أفعال الخير من واجبات ومستحبات تفوق العدد المذكور في الحديث، وقد أجاب أهل العلم عن هذا الإشكال بعدة أجوبة، ذكرها ابن رجب رحمه الله في «فتح الباري» (1/ 30 - 31).
মুহাদ্দিস শাইখ আবু আম্মার মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বামুসা (হাফিযাহুল্লাহ)-এর ভূমিকা

পরিচালক: দারুল হাদিস এবং মারকাযুস সালাম আল-ইলমি লুল উলুমিশ শারইয়্যাহ, ইয়েমেন - আল-হুদায়দাহ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি ঈমানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যাঁর আগমনের মাধ্যমে আকাশ সংরক্ষিত হয়েছে এবং শয়তানদেরকে উল্কাপিণ্ড দ্বারা বিতাড়িত করা হয়েছে। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার ও মহান মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী মহৎ সাথীবর্গের প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে এবং তাঁদের সাথে সম্পর্কযুক্ত হবে। অতঃপর:

নিশ্চয়ই ঈমান, যা যাবতীয় আমল, তার প্রকারভেদ ও শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করে, তা সত্তরটিরও কিছু বেশি শাখায় বিভক্ত। আর এই শাখাগুলো হলো সেই শারয়ি আমল, যা অন্তরের আমল, জিহ্বার আমল এবং শরীরের আমল থেকে উৎসারিত ও শাখা-প্রশাখায় বিন্যস্ত। ঈমানের এই শাখাগুলো তাদের মর্যাদার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এর মধ্যে কোনোটি ঈমানের সর্বোচ্চ স্তরের অন্তর্ভুক্ত, আবার কোনোটি সর্বনিম্ন স্তরের; আর ঈমানের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্তরের মাঝে অসংখ্য শাখা রয়েছে।

ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ঈমান একটি মূল ভিত্তি যার একাধিক শাখা রয়েছে। আর প্রতিটি শাখাকেই ঈমান বলা হয়, চাই তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য। সুতরাং সালাত ঈমানের অংশ, জাকাত ঈমানের অংশ, হজ ঈমানের অংশ, সিয়াম ঈমানের অংশ এবং অভ্যন্তরীণ আমলসমূহও ঈমানের অংশ। আর এগুলোর মাঝে মর্যাদাগতভাবে অনেক বড় ধরনের পার্থক্য বিদ্যমান। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "ঈমান সত্তর বা ষাটেরও কিছু বেশি শাখা বিশিষ্ট"; এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঈমানের বৈশিষ্ট্যসমূহ এই সংখ্যার বাইরে নয় এবং এগুলো মর্যাদাগতভাবে ভিন্ন ভিন্ন। সুতরাং অন্তরের আমলসমূহ এর অন্তর্ভুক্ত হবে,

--------------------------------------------

(১) আয-যাবিদি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর "শুআবুল ঈমান"-এর ভূমিকা থেকে সংগৃহীত।

(২) "আস-সালাতু ওয়া আহকাকমু তারিকিহা" (পৃষ্ঠা: ৫৫), ভাবানূদিত।

(৩) এখানে এই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ওয়াজিব ও মুস্তাহাব সহ নেক আমলসমূহের বিস্তারিত বিবরণ হাদিসে বর্ণিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। আহলে ইলমগণ এই প্রশ্নের বেশ কিছু উত্তর দিয়েছেন, যা ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) "ফাতহুল বারী" (১/ ৩০-৩১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৩)
وأعمال الجوارح، وأعمال اللسان، والحديث جمع هذه كلها.

فمثَّل لأعمال اللسان بقول: «لا إله إلا الله». ولأعمال القلوب بـ: «الحياء». ولأعمال الجوارح: بـ: «إماطة الأذى عن الطريق».

والحديث كذلك جمع أركان الإيمان الثلاثة المجمع عليها: القول والعمل والاعتقاد(1).

وكتاب "شعب الإيمان" للإمام البيهقي رحمه الله يعتبر من الموسوعات العلمية الكبرى التي صنفها الإمام أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي رحمه الله، وهو عبارة عن شرح لحديث: «الإيمان بضعٌ وسبعون شُعْبة»، وقد حاول رحمه الله سرد هذه الشعب وذِكر الأدلة المتعلقة بها، وقد أبدع رحمه الله في ذلك غاية الإبداع.

والكتاب على جلالة قدره فيه أحاديث مختلفة المراتب، ففيه الصحيح، والحسن، والضعيف، وشديد الضعف، وفيه بعض الموضوعات وهي قليلة.

هذا وقد قام فضيلة الشيخ المحدِّث أبي حمزة غازي بن سالم أفلح، وفقه الله، بعقد مجالس للمدارسة في هذا الكتاب المبارك بلغت أكثر من مائة مجلس، فُرِّغ منها سبعة وثلاثون مجلسًا، وعمله وفقه الله، في كتاب البيهقي كعمل المزي رحمه الله في "الكمال"(2):

* فقد اختار الشارح من كتاب البيهقي الصحيح وما قاربه،

* ثم زاد عليه زيادات صحيحة من خارج الكتاب، كما زاد البيهقي نفسه على كتاب الحليمي رحمه الله المسمى بـ: "المنهاج المصنَّف في شعب الإيمان".

* ثم قام وفقه الله، بشرح المهذب منه شرحًا ميسرًا سهلًا ممتنعًا قريبًا من جميع القرَّاء على اختلاف ثقافاتهم ومستوياتهم وطبقاتهم العلمية،

--------------------------------------------

(1) انظر: «التمهيد» لابن عبد البر (9/ 238)، «الفتاوى» لابن تيمية (7/ 330)، «اجتماع الجيوش الإسلامية» لابن القيم (ص: 218)، رحمة الله على الجميع

(2) انظر: مقدمة «تهذيب الكمال» (1/ 43 - 48) لبشار عواد؛ لمعرفة عمل المزي رحمه الله في كتاب «الكمال في أسماء الرجال» للحافظ الكبير أبي محمد عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي الجماعيلي رحمه الله.
এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল, জিহ্বার আমল; আর হাদীসটি এই সবগুলোকে একত্রিত করেছে।

অতঃপর তিনি জিহ্বার আমলের উদাহরণ দিয়েছেন এই কথার মাধ্যমে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই"। অন্তরের আমলের উদাহরণ দিয়েছেন: "লজ্জাশীলতা" দিয়ে। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের উদাহরণ দিয়েছেন: "রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা" দিয়ে।

অনুরূপভাবে হাদীসটি ঈমানের সেই তিনটি সর্বসম্মত স্তম্ভকে একত্রিত করেছে: কথা, কাজ এবং বিশ্বাস(১)।

ইমাম বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব "শুআবুল ঈমান" অন্যতম বৃহৎ ইলমী বিশ্বকোষ হিসেবে গণ্য হয় যা ইমাম আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) সংকলন করেছেন। এটি মূলত "ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে" শীর্ষক হাদীসটির একটি ব্যাখ্যা। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই শাখাগুলোকে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করার এবং এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট দলিলসমূহ বর্ণনার চেষ্টা করেছেন এবং এতে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) চরম মুন্সিয়ানা প্রদর্শন করেছেন।

কিতাবটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এতে বিভিন্ন স্তরের হাদীস রয়েছে। এতে সহীহ, হাসান, যয়ীফ এবং অত্যন্ত যয়ীফ হাদীস রয়েছে; এমনকি এতে কিছু জাল বর্ণনাও রয়েছে যা সংখ্যায় খুবই নগণ্য।

এখন কথা হলো, সম্মানিত শায়খ আল-মুহাদ্দিস আবু হামযাহ গাজী বিন সালিম আফলাহ (আল্লাহ তাকে তাওফীক দান করুন) এই বরকতময় কিতাবটির ওপর পর্যালোচনামূলক পাঠদানের মজলিস পরিচালনা করেছেন যা একশটিরও বেশি মজলিসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সাঁইত্রিশটি মজলিস অনুলিখন করা হয়েছে। বায়হাকীর কিতাবের ওপর তার কাজ (আল্লাহ তাকে তাওফীক দান করুন) ঠিক তেমনি যেমন ছিল "আল-কামাল" কিতাবের ওপর ইমাম মিযযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কাজ(২):

* ব্যাখ্যাদানকারী বায়হাকীর কিতাব থেকে সহীহ এবং তার নিকটবর্তী বর্ণনাগুলো নির্বাচন করেছেন,

* অতঃপর তিনি কিতাবের বাহির থেকে এতে কিছু সহীহ সংযুক্তি প্রদান করেছেন, যেমনটি বায়হাকী নিজে আল-হালীমী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব "আল-মিনহাজ আল-মুসান্নাফ ফী শুআবুল ঈমান"-এর ওপর অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করেছিলেন।

* অতঃপর তিনি (আল্লাহ তাকে তাওফীক দিন) এর পরিমার্জিত অংশের এমন এক সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যা করেছেন যা সকল স্তরের পাঠক, তাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ইলমী অবস্থান নির্বিশেষে সকলের বোধগম্য হবে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবন আবদিল বার রচিত "আত-তামহীদ" (৯/২৩৮), ইবন তাইমিয়্যাহ রচিত "আল-ফাতাওয়া" (৭/৩৩০), ইবনুল কাইয়্যিম রচিত "ইজতিমাউল জুইউশ আল-ইসলামিয়্যাহ" (পৃষ্ঠা: ২১৮), আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।

(২) দেখুন: বাশার আওয়াদ মারূফ লিখিত "তাহযীবুল কামাল"-এর ভূমিকা (১/৪৩-৪৮); হাফিযুল কাবীর আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী আল-জামাঈলী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব "আল-কামাল ফী আসমাইর রিজাল"-এর ওপর ইমাম মিযযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কাজের ধরন জানার জন্য।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৪)
* وقد نثر في هذه المجالس العلمية المباركة:

• دررًا من العلوم والفنون وبدائع الفوائد،

• وفوائد القلائد،

• وغرائب الفرائد،

• ونوادر الشوارد،

• فهو كتاب جليل القَدْر، والكتاب يترجم لكاتبه.

أسأل الله العظيم أن يحيينا بشعب الإيمان وفي شعب الإيمان،

وأن يتوفانا على أعلى مراتب شعب الإيمان،

والله تعالى أعلم، وهو أعز وأكرم،

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

وكتبه:

العبد الفقير إلى مولاه الغني القدير

أبو عمار محمد بن عبد الله (باموسى)

القائم على دار الحديث ومركز السلام العلمي للعلوم الشرعية اليمن -الحديدة

عفا الله عنه وعن والديه ومشايخه وجميع المسلمين.

29/ جمادى الآخرة/ 1443 هـ

مكة المكرمة، شعب عامر، جبل السودان
আর এই বরকতময় ইলমী মজলিসগুলোতে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন:

• জ্ঞান ও শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা এবং চমৎকার সব হিকমতের মুক্তাসমূহ,

• বহুমূল্য তত্ত্বমালার নির্যাস,

• বিরল ও অনন্য জ্ঞানরত্নসমূহ,

• এবং দুর্লভ ও বিক্ষিপ্ত সূক্ষ্ম তত্ত্বসমূহ,

সুতরাং এটি এক সুমহান মর্যাদার কিতাব, আর কিতাবই তার লেখকের পরিচয় প্রদান করে।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ঈমানের শাখা-প্রশাখার সাথে এবং ঈমানের শাখা-প্রশাখার মাঝেই জীবিত রাখেন,

এবং ঈমানের শাখা-প্রশাখার সর্বোচ্চ স্তরে যেন তিনি আমাদের মৃত্যু দান করেন,

আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত, আর তিনি সর্বজয়ী ও অত্যন্ত দয়ালু,

এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন:

তাঁর অভাবমুক্ত ও সর্বশক্তিমান রবের মুখাপেক্ষী নিঃস্ব বান্দা

আবু আম্মার মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ (বামুসা)

দারুল হাদিস এবং মার্কাজুস সালাম ইলমি লুল উলুমিশ শারইয়্যাহ-এর পরিচালক, ইয়ামেন-হুদাইদাহ

আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে, তার শিক্ষকগণকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দিন।

২৯/ জুমাদাল আখিরাহ/ ১৪৪৩ হিজরি

মক্কা মুকাররমা, শি'ব আমির, জাবালে সুদান
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مقدمة الشيخ الفقيه

نعمان بن عبد الكريم الوتر حفظه الله

القائم على دار الحديث السلفية في مدينة دار السلام، اليمن، يختل، المخا

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه وبعد:

فقد طلب مني الاطلاع على كتاب "ريّ الظمآن بمجالس شعب الإيمان" والتقديم له، فألفيته كتابا قيما نافعا مفيدًا عقد فيه مؤلفه الشيخ المفضال المبارك غازي بن سالم أفلح حفظه الله مجالس عدة لشرح كتاب "شعب الإيمان" للحافظ البيهقي رحمه الله، تم تفريغ الكثير منها ويلاحظ القارئ الجهدَ المبرورَ للشيخ غازي في هذه المجالس حيث اختار ما صح، وزاد ما تدعوا الحاجة إليه، وتقريبه، وتهذيبه، وشرحه شرحا رائقا، ميسرا، مرصعا بالفوائد القيمة، فصارت مجالسَ مستطابة، فيها العديد من الفواكه الشهية، والأفنان النَّدية، جزاه الله خيرا، وكتب أجره، ونفع به، وجعل أعمالنا وأعماله خالصة لوجهه الكريم، نافعة لنا وله ولمن شاء من عباده في الدنيا ويوم الدين،

والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات

وكتبه

نعمان بن عبد الكريم الوتر

11 رجب 1443 هـ
ফকীহ শায়খের ভূমিকা

নুমান বিন আব্দুল কারীম আল-ওয়াতার হাফিজাহুল্লাহ

ইয়েমেনের দারুস সালাম শহরের ইয়খতুল, মাখা-তে অবস্থিত দারুল হাদীস আস-সালাফিয়্যাহ-এর পরিচালক

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের উপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

আমার নিকট "রাইয়ুজ জামআন বি মাজালিসি শুআবিল ঈমান" নামক গ্রন্থটি পর্যালোচনা এবং এর ভূমিকা লিখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। আমি এটিকে একটি মূল্যবান, উপকারী এবং ফলপ্রসূ গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি। এতে এর লেখক বরকতময় ও মর্যাদাবান শায়খ গাজী বিন সালিম আফলাহ (হাফিজাহুল্লাহ) হাফিজ বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর "শুআবুল ঈমান" গ্রন্থের ব্যাখ্যার জন্য বেশ কিছু মজলিসের আয়োজন করেছেন। এগুলোর অধিকাংশকেই অনুলিখন করা হয়েছে এবং এই মজলিসগুলোতে পাঠক শায়খ গাজীর প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা লক্ষ্য করবেন। সেখানে তিনি সহীহ বর্ণনাগুলো নির্বাচন করেছেন, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংযোজন করেছেন এবং বিষয়টিকে সহজবোধ্য ও পরিমার্জিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও সাবলীলভাবে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, যা মূল্যবান জ্ঞানগর্ভ তথ্যের মাধ্যমে সুসজ্জিত। ফলে এগুলো অত্যন্ত আনন্দদায়ক মজলিসে পরিণত হয়েছে, যাতে রয়েছে বহু সুস্বাদু ফল ও সজীব শাখা-প্রশাখা। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন, তাঁর নেক আমল কবুল করুন, তাঁর দ্বারা উম্মাহর উপকার করুন এবং আমাদের ও তাঁর আমলসমূহকে কেবলমাত্র তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হিসেবে কবুল করুন। আর ইহকালে ও পরকালে আমাদের জন্য, তাঁর জন্য এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে তিনি যার জন্য চান, একে উপকারী করে দিন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সম্পন্ন হয়।

এটি লিখেছেন

নুমান বিন আব্দুল কারীম আল-ওয়াতার

১১ রজব ১৪৪৩ হিজরী
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

الْحَمد لله رب الْعَالمين حمدا طيبا مُبَارَكًا فِيهِ، حمدا يوافي نعمه ويكافئ مزيده، والصلاة والسلام على خير خلقه وأفضل رسله، وأمينه على وحيه، نبينا محمد بن عبد الله، صلوات الله وسلامه عليه، وعلى صحابته، ومن تبعهم بإحسان.

أما بعد:

فهذه هي الطبعة الثانية من هذه السلسلة المباركة، جعلتها مقسمة إلى أجزاء سبعة، يتضمن كل جزء منها الحديث عن ركن من أركان الإيمان الستة، على هذا الترتيب الإيمان بالله، ورسله، وملائكته، وكتبه، والقدر خيره وشره، ثم الإيمان باليوم الآخر، ثم الإيمان بالجنة والنار، وقد كانت الطبعة الأولى في مجلدين كبيرين، فرأيت أن تكون هذه الطبعة مجزأة على هذه الأجزاء ليسهل الانتفاع بها، وقد راجعتها وصححت بعض الأخطاء في الطبعة الأولى، وزدت فيها زيادات -يسيرة- في مواضع عدة من مباحث الكتاب.

فأسأل المولى -جل وعلا- أن يتقبل مني هذا العمل وأن يرزقني الإخلاص والقبول إنه خير مسؤول وهو حسبي ونعم الوكيل

وكتبه

أبو حمزة غازي بن سالم أفلح

19 من ذي الحجة 1443 هـ
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; এমন প্রশংসা যা উত্তম ও বরকতময়, যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমতুল্য এবং তাঁর অধিক দানের প্রতিদানস্বরূপ। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং রাসূলগণের মধ্যে সর্বোত্তম, তাঁর ওহীর আমানতদার, আমাদের নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর প্রতি; আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর সাহাবীবৃন্দের ওপর এবং যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর।

অতঃপর:

এটি হলো এই বরকতময় সিরিজের দ্বিতীয় সংস্করণ। আমি একে সাতটি খণ্ডে বিভক্ত করেছি, যার প্রতিটি খণ্ড ঈমানের ছয়টি রুকনের মধ্য থেকে একটি রুকন সম্পর্কে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করে। বিন্যাসটি হলো— আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি, এরপর পরকালের প্রতি ঈমান এবং জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি ঈমান। প্রথম সংস্করণটি বড় দুই খণ্ডে ছিল, তাই আমি মনে করেছি যে এই সংস্করণটি এভাবে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হওয়া উচিত যাতে এর দ্বারা উপকৃত হওয়া সহজ হয়। আমি এটি পুনরায় পর্যালোচনা করেছি এবং প্রথম সংস্করণের কিছু ভুল সংশোধন করেছি, আর বইটির বিভিন্ন আলোচনার বেশ কিছু স্থানে সামান্য কিছু সংযোজন করেছি।

সুতরাং আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি—তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে এই আমলটি কবুল করেন এবং আমাকে ইখলাস ও কবুলিয়াত দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।

এটি লিখেছেন

আবু হামযাহ গাজী ইবনে সালিম আফলাহ

১৯ জিলহজ ১৪৪৩ হিজরি
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌مقدمة الطبعة الأولى

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهدي الله فلا مُضِلَّ له، ومن يُضلِل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله، صلَّى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلَّم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد:

فهذه مجالس في مدارسة كتاب «الجامع لشعب الإيمان» للحافظ الإمام أبي بكر أحمد بن الحسين بن علي بن موسى البيهقي، المولود في سنة (384) والمتوفى في سنة (458 هـ) رحمه الله.

 

‌‌نبذة عن الإمام أبي بكر أحمد بن الحسين البيهقي:

وهو أحد الأئمة الكبار المشهورين بالحديث، وهو من محدثي فقهاء الشافعية الجامعين بين الحديث والفقه.

بل قال الحافظ ابن عساكر (ت: 571 هـ) رحمه الله: سَمِعت الشَّيْخ أَبَا بكر مُحَمَّد بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حبيب العامري بِبَغْدَادَ يَقُول سَمِعت من يَحْكِي عَنْ الإِمَام أَبِي الْمَعَالِي الْجُوَيْنِيّ رحمه الله، أَنه قَالَ: مَا من شَافِعِيّ إِلَّا وَللشَّافِعِيّ عَلَيْهِ منَّة إِلَّا أَحْمد الْبَيْهَقِيّ فَإِنْ لَهُ على الشَّافِعِي مِنَّة لتصانيفه فِي نصْرَة مذْهبه وأقاويله أَوْ كَمَا قَالَ ا. هـ(1)

--------------------------------------------

(1) تبيين كذب المفتري فيما نسب إلى الأشعري (ص: 266) - وعنه شرف الدين علي بن المفضل المقدسي (ت: 611) في كتاب "الأربعون على الطبقات" (ص: 515)، وانظر أيضا: طبقات الفقهاء للشيرازي ط القلم (ص: 233)، الطبقات الكبرى للسبكي: 4/ 10 في ترجمة البيهقي.
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অনেক অনেক দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

এগুলো হাফেজ ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে মুসা আল-বাইহাক্বী (জন্ম ৩৮৪ হি. এবং মৃত্যু ৪৫৮ হি.) -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- প্রণীত ‘আল-জামে লি-শুআব আল-ঈমান’ কিতাবটি অধ্যয়নের কিছু মজলিস।

 

ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বাইহাক্বী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা:

তিনি হাদিসশাস্ত্রে প্রসিদ্ধ মহান ইমামগণের অন্যতম। তিনি শাফেয়ী ফুকাহাদের অন্তর্ভুক্ত সেই সকল মুহাদ্দিসদের একজন যারা হাদিস ও ফিকহের সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

এমনকি হাফেজ ইবনে আসাকির (মৃ. ৫৭১ হি.) -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- বলেছেন: আমি বাগদাদে শায়খ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাবিব আল-আমেরিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি এমন এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যিনি ইমাম আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনি -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (জুওয়াইনি) বলেছেন: ইমাম শাফেয়ীর প্রতি কৃতজ্ঞ নন এমন কোনো শাফেয়ী নেই, তবে ইমাম আহমদ আল-বাইহাক্বী এর ব্যতিক্রম। কেননা শাফেয়ী মাযহাবের সপক্ষে এবং তাঁর বক্তব্যগুলোর সমর্থনে বাইহাক্বীর রচিত গ্রন্থরাজির কারণে ইমাম শাফেয়ীর ওপরই বরং বাইহাক্বীর অবদান বা অনুগ্রহ রয়েছে। (অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন)।(১)

--------------------------------------------

(১) তাবয়িনু কাযিবিল মুফাতারি ফীমা নুসিবা ইলাল আশআরি (পৃ. ২৬৬); তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন শরফউদ্দিন আলী ইবনুল মুফাদ্দাল আল-মাকদিসি (মৃ. ৬১১ হি.) তাঁর ‘আল-আরবাউন আলাত তাবাকাত’ (পৃ. ৫১৫) গ্রন্থে। আরও দেখুন: শিরাজী রচিত তাবাকাতুল ফুকাহা, আল-কালাম সংস্করণ (পৃ. ২৩৩); সুবকী রচিত আত-তাবাকাতুল কুবরা: ৪/১০, বাইহাক্বীর জীবনী অংশে।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৮)
وعلق الذهبي رحمه الله على قول أبي المعالي فقال: أصاب أبو المعالي، هكذا هو، ولو شاء البيهقي أن يعمل لنفسه مذهبا يجتهد فيه، لكان قادرا على ذلك، لسعة علومه، ومعرفته بالاختلاف، ولهذا تراه يلوح بنصر مسائل مما صح فيها الحديث ا. هـ(1)

وقال أبو الحسن عبد الغافر الفارسي رحمه الله: كان على سيرة العُلماء، قانِعًا من الدُّنيا باليسير، مُتَجَمِّلًا في زُهْدِهِ وورعه. عاد إلى النّاحية في آخر عُمْرِه، وكانت وفاته بها. وقد فاتني السَّماع منه لغيبة الوالد، ولانتقال الشّيخ آخر عمره إلى النّاحية. وقد أجاز لي(2).

ونقل ابن عبد الهادي عن عبد الغافر أنه قال في "ذيل تاريخ نَيسَابور": أبو بكر البَيْهَقي الحافظ الأُصولي، الدَّيِّن الوَرع، واحد زمانه في الحِفْظ، وفَرْد أقرانه في الإِتقان والضَّبْط، من كبار أصحاب الحاكم، ويزيد عليه بأنواع من العلوم، كتب الحديث، وحَفِظَه مِنْ صباه، وتفقَّه وبَرَعَ، وأخذ في الأصول، وارتحل إلى العراق والجبال والحجاز، ثم صنَّف، وتواليفه تقارب ألف جُزْء مما لم يسبقْه إليه أحد، جمع بين عِلْم الحديث والفِقْه وبيان علل الحديث، ووَجْه الجَمْع بين الأحاديث، طلب منه الأئمة الانتقال من النَّاحية إلى نَيسابور لسماع الكتب، فأتى في سنة إحدى وأربعين، وعقدوا له المجلس لسماع كتاب "المعرفة" وحضره الأئمة، وكان على سيرة العُلَماء، قانعًا باليسير، متجملًا في زُهْده وورعه.

قال ابن عبد الهادي رحمه الله: مات البَيْهَقِي بنَيسَابور في عاشر جُمَادى الأُولى من سنة ثمانٍ وخمسين وأربع مئة، ونُقِل في تابوت فدفن ببَيْهَق، وهي ناحية من أعمال نَيسَابور على يومين منها. وخُسْرَوْجِرْد: هي أم تلك النَّاحية.(3)

 

‌‌من مؤلفات الإمام البيهقي:

تقدم قول تلميذه بالإجازة أبي الحسن عبد الغافر الفارسي: … وتواليفه تقارب ألف

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء ـ تح الأرناؤوط (18/ 169)

(2) تاريخ الإسلام ت بشار (10/ 96)

(3) طبقات علماء الحديث (3/ 331) لابن عبد الهادي
ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) আবু আল-মা'আলীর কথার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: আবু আল-মা'আলী সঠিক বলেছেন, বিষয়টি এমনই। আর বায়হাকী যদি নিজের জন্য এমন কোনো মাজহাব তৈরি করতে চাইতেন যাতে তিনি ইজতিহাদ করবেন, তবে তিনি তাঁর জ্ঞানের বিশালতা এবং ইখতিলাফ বা মতপার্থক্য সম্পর্কে অবগতির কারণে তাতে সক্ষম হতেন। একারণেই আপনি তাঁকে এমন সব মাসআলার সপক্ষে ইঙ্গিত করতে দেখেন যেগুলোতে হাদিস সহিহ হয়েছে।(১)

আবু আল-হাসান আব্দুল গাফির আল-ফারিসি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তিনি আলেমদের আদর্শের ওপর ছিলেন, দুনিয়া থেকে সামান্যতেই সন্তুষ্ট থাকতেন এবং তাঁর যুহদ ও পরহেযগারির ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত মার্জিত ছিলেন। জীবনের শেষভাগে তিনি স্বীয় এলাকায় ফিরে যান এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পিতার অনুপস্থিতি এবং শায়খের জীবনের শেষভাগে স্বীয় এলাকায় চলে যাওয়ার কারণে তাঁর থেকে সরাসরি শোনার (সামা') সুযোগ আমার হয়ে ওঠেনি। তবে তিনি আমাকে অনুমতি (ইজাযাহ) দিয়েছেন।(২)

ইবনে আব্দুল হাদি আব্দুল গাফির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি "যাইলু তারিখি নাইসাবুর" গ্রন্থে বলেছেন: আবু বকর আল-বায়হাকী ছিলেন হাফিয, উসুলবিদ, দ্বীনদার ও পরহেযগার। তিনি তাঁর সময়ে হিফযের ক্ষেত্রে ছিলেন অদ্বিতীয় এবং নিখুঁত ও নির্ভুল বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে একক। তিনি ইমাম হাকিমের বড় পর্যায়ের ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, এমনকি বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর চেয়েও অগ্রগামী ছিলেন। তিনি হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন এবং শৈশব থেকেই তা মুখস্থ করেছেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন এবং উসুল শাস্ত্র গ্রহণ করেন। তিনি ইরাক, জিবাল এবং হিজায সফর করেছেন। এরপর তিনি গ্রন্থ রচনা শুরু করেন এবং তাঁর রচনার পরিমাণ প্রায় এক হাজার খণ্ড, যা তাঁর পূর্বে কেউ করতে পারেনি। তিনি হাদিস শাস্ত্র, ফিকহ শাস্ত্র এবং হাদিসের ইল্লত (ত্রুটি) বর্ণনা ও হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়েছেন। উলামায়ে কেরাম তাঁর কাছে কিতাবসমূহ শোনার জন্য তাঁকে নিজ এলাকা থেকে নাইসাবুরে আসার অনুরোধ করেন। ফলে তিনি ৪৪১ হিজরিতে সেখানে আসেন এবং তাঁর থেকে "আল-মা'রিফাহ" কিতাবটি শোনার জন্য মাজলিস কায়েম করেন, যেখানে বড় বড় ইমামগণ উপস্থিত হন। তিনি আলেমদের আদর্শের ওপর চলতেন, সামান্যতেই সন্তুষ্ট থাকতেন এবং তাঁর যুহদ ও পরহেযগারিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মার্জিত।

ইবনে আব্দুল হাদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: বায়হাকী ৪৫৮ হিজরির ১০ই জুমাদাল উলা নাইসাবুরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে একটি শবাভারে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বায়হাকে দাফন করা হয়, যা নাইসাবুর থেকে দুই দিনের দূরত্বের একটি এলাকা। আর খুসরোজিরদ হলো সেই এলাকার প্রধান শহর।(৩)

 

‌‌ইমাম বায়হাকীর রচনাবলি থেকে:

তাঁর অনুমতিপ্রাপ্ত ছাত্র আবু আল-হাসান আব্দুল গাফির আল-ফারিসির কথা আগে অতিক্রান্ত হয়েছে: ... এবং তাঁর রচনার পরিমাণ প্রায় এক হাজার

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আ'লামিন নুবালা - তাহকিক আল-আরনাউত (১৮/ ১৬৯)

(২) তারিখুল ইসলাম - তাহকিক বাশশার (১০/ ৯৬)

(৩) তাবাকাতু উলামাইল হাদিস (৩/ ৩৩১), ইবনে আব্দুল হাদি।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৯)
جُزْء مما لم يسبقْه إليه أحد، جمع بين عِلْم الحديث والفِقْه وبيان علل الحديث، ووَجْه الجَمْع بين الأحاديث ا. هـ ومن مصنفاته النافعة، ومؤلفاته السائرة:

1 - السنن الكبرى

2 - والمدخل إلى السنن الكبرى

3 - والسنن الصغير

4 - ومعرفة السنن والآثار

5 - والأسماء والصفات

6 - ودلائل النبوة

7 - والجامع لشعب الإيمان

8 - ومعرفة السنن والآثار

9 - والقراءة حلف الامام

10 - والبعث والنشور

11 - والاعتقاد

12 - والقضاء والقدر

13 - وإثبات عذاب القبر

14 - والآداب

15 - والأربعون الصغرى

16 - والدعوات الكبير

17 - مناقب الشافعي

18 - فضائل الأوقات

19 - حياة الأنبياء في قبورهم

20 - الزهد الكبير

وغيرها كثير، وكتبه مسندة، وكثير منها مطبوع وهي عظيمة النفع.
এমন একটি কাজ যা করার ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বে কেউ অগ্রগামী হতে পারেনি; তিনি ইলমে হাদীস, ফিকহ এবং হাদীসের 'ইলল' (সুক্ষ্ম ত্রুটি) বর্ণনা ও হাদীসসমূহের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়েছেন। (উদ্ধৃতি শেষ)। তাঁর উপকারী সংকলনসমূহ এবং প্রচলিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে:

১ - আস-সুনান আল-কুবরা

২ - আল-মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা

৩ - আস-সুনান আস-সাগীর

৪ - মা'রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার

৫ - আল-আসমা ওয়াস সিফাত

৬ - দালাউলুন নুবুওয়াহ

৭ - আল-জামে' লি-শু'আব আল-ইমান

৮ - মা'রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার

৯ - আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম

১০ - আল-বা'সু ওয়ান নুশুর

১১ - আল-ই'তিকাদ

১২ - আল-কাদা ওয়াল কাদার

১৩ - ইসবাতু আজাবিল কবর

১৪ - আল-আদাব

১৫ - আল-আরবা'উন আস-সাগীর

১৬ - আদ-দাওয়াতুল কাবীর

১৭ - মানাকিবুশ শাফিঈ

১৮ - ফাদায়িলুল আওকাত

১৯ - হায়াতুল আম্বিয়া ফী কুবুরিহিম

২০ - আয-যুহদুল কাবীর

এবং এ ছাড়াও আরও অনেক; তাঁর গ্রন্থসমূহ সনদযুক্ত এবং সেগুলোর অধিকাংশ মুদ্রিত ও অত্যন্ত উপকারী।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌كتاب شعب الإيمان:

وكتابه «الجامع لشعب الإيمان»:

1 - كتاب مسند جمع فيه الحديث والأثر

2 - بناه على كتاب «الْمِنْهَاجِ الْمُصَنَّفِ فِي شُعَبِ الْإِيَمانِ» للحافظ أبي عبد الله الْحُسَيْن بْنِ الْحَسَنِ الْحَلِيْمِيَّ رحمه الله(1)

3 - واقتدى به في تقسيم الأحاديث على الأبواب،

4 - وحكى من كلامه عليها ما يتبين به المقصود من كل باب،

5 - وزاد عليه بذكر الأسانيد - على رسم أهل الحديث -

6 - مع الاقتصار على ما لا يغلب على القلب كونه كذبا.

7 - ومقتصرا على إخراج ما يتبين به بعض المراد

8 - وأحال للتفصيل والإسهاب على كتبه الأخرى المؤلفة في الاعتقاد خوفا من الملال في الإطناب. مثل: «كتاب الأسماء والصفات» و «كتاب الإيمان» و «القدر» و «الرؤية» و «دلائل النبوة»، و «البعث والنشور» و «عذاب القبر» و «الدعوات»، و «السنن»

 

‌‌هذه المجالس:

وقد رغبت منذ زمن في مدارسة «الجامع لشعب الإيمان» مع الطلاب رجاء الانتفاع بعلومه وفوائده وبدأت في تدارسه مع بعض طلبة العلم في 23 من شوال 1430 هـ، ولم يكتب لنا الاستمرار؛ ثم هيأ الله تعالى العودة إليه مرة أخرى وكان البدء في مجالسه في يوم الثلاثاء الحادي والعشرين من شهر شعبان من عام 1441 هـ وقد تم عقد نحو من مائة مجلس، فاللهم أعنا على التمام.

--------------------------------------------

(1) هو: الحسين بن الحسن بن محمد بن حليم القاضي أبو عبد الله الحَليمي الجرجاني البخاري الفقيه الشافعي العلامة رئيس المحدثين والمتكلمين بما وراء النهر أحد الأذكياء الموصوفين ومن أصحاب الوجوه في المذهب. ولد في سنة (338) وتوفي سنة (403 هـ). سمع منه: البيهقي، وأكثر النقل عنه في كتابه شعب الإيمان، وكان البيهقي يثني عليه ويقول: قال إمامنا وشيخنا شيخ الإسلام. وروى عنه أيضًا: أبو عبد الله الحاكم صاحب المستدرك. انظر: إتحاف المرتقي بتراجم شيوخ البيهقي (ص: 150)
শুআবুল ঈমান গ্রন্থ:

এবং তাঁর গ্রন্থ ‘আল-জামি লি-শুআবিল ঈমান’:

১ - এটি একটি মুসনাদ গ্রন্থ যাতে তিনি হাদিস এবং আছর (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বাণী) সংকলন করেছেন।

২ - তিনি এটি হাফেজ আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-হালিমি (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘আল-মিনহাজ আল-মুসান্নাফ ফি শুআবিল ঈমান’ গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছেন।(১)

৩ - অধ্যায় অনুযায়ী হাদিসগুলো বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে তিনি তাঁকে অনুসরণ করেছেন।

৪ - প্রতিটি অধ্যায়ের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য তিনি সেখানে তাঁর (হালিমি) আলোচনা উদ্ধৃত করেছেন।

৫ - তিনি হাদিস বিশারদদের রীতি অনুযায়ী সনদসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে মূল গ্রন্থের চেয়ে অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করেছেন।

৬ - সেই সাথে তিনি কেবল এমন বর্ণনাগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন যা মিথ্যা বলে মনে প্রবল ধারণা হয় না।

৭ - এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য যা স্পষ্ট হয় কেবল তা-ই বর্ণনা করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

৮ - দীর্ঘ আলোচনার ফলে যেন একঘেয়েমি তৈরি না হয়, সেজন্য বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্রে তিনি আকিদা বিষয়ে তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। যেমন: ‘কিতাবুল আসমা ওয়াস-সিফাত’, ‘কিতাবুল ঈমান’, ‘আল-কদর’, ‘আর-রু’ইয়া’, ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’, ‘আল-বা’ছ ওয়ান নুশুর’, ‘আজাবুল কবর’, ‘আদ-দাওয়াত’ এবং ‘আস-সুনান’।

 

এই মজলিসসমূহ:

দীর্ঘদিন যাবৎ আমার ইচ্ছা ছিল শিক্ষার্থীদের সাথে ‘আল-জামি লি-শুআবিল ঈমান’ গ্রন্থটি অধ্যয়ন করার, যাতে এর জ্ঞান ও উপকারিতা থেকে উপকৃত হওয়া যায়। আমি ২৩শে শাওয়াল ১৪৩০ হিজরিতে কয়েকজন ইলম অন্বেষণকারীর সাথে এর পাঠদান শুরু করি, কিন্তু তখন তা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি। এরপর আল্লাহ তাআলা পুনরায় এর দিকে ফিরে আসার তাওফিক দান করেন এবং ১৪৪১ হিজরির ২১শে শাবান মঙ্গলবার এর মজলিসসমূহ শুরু হয়। এ পর্যন্ত প্রায় একশটি মজলিস অনুষ্ঠিত হয়েছে। হে আল্লাহ, আমাদের এটি পূর্ণ করার তাওফিক দান করুন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: আল-হুসাইন বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হালিম আল-কাজি আবু আবদুল্লাহ আল-হালিমি আল-জুরজানি আল-বুখারি। তিনি ছিলেন শাফেয়ি ফকিহ, বিজ্ঞ আলেম এবং মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলের মুহাদ্দিস ও মুতাকাল্লিমদের প্রধান। তিনি অত্যন্ত মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং মাজহাবের শীর্ষস্থানীয় (আসহাবুল অজুহ) পণ্ডিতদের একজন ছিলেন। তিনি ৩৩৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪০৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। বায়হাকি তাঁর থেকে হাদিস শুনেছেন এবং তাঁর শুআবুল ঈমান গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। বায়হাকি তাঁর প্রশংসা করতেন এবং বলতেন: “আমাদের ইমাম এবং আমাদের শায়খ শাইখুল ইসলাম বলেছেন”। মুসতাদরাক প্রণেতা আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিমও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ইতহাফুল মুরতাকি বিতারাাজিমি শুইউখিল বায়হাকি (পৃষ্ঠা: ১৫০)।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২১)
هذا وقد قام مجموعة من إخواني طلبة العلم جزاهم الله خيرًا:

1 - بتفريغ سبعة وثلاثين مجلسا من هذه المجالس وهي المتعلقة بأصول الإيمان الستة

2 - ثم مراجعتها،

3 - وتصحيحها،

4 - راغبين في تهيئتها للطبع ليعم نفعها ويسهل اقتناص فوائدها،

وقد قمت:

1 - بقراءة ما قاموا بتفريغه ومراجعته وتصحيحه.

2 - وعملت على توثيق النصوص والأقوال وتخريج الأحاديث والآثار

3 - وحذفت ما لا حاجة إليه

4 - وأضفت ما لا بد منه

5 - كما قمت بإبراز فوائدها في عناوين واضحة

ولا شك أن الإلقاء والتدريس غير التأليف، فهذا فن وهذا فن، ولكن سددوا وقاربوا.

6 - وسميته:

ري الظمآن بمجالس شعب الإيمان

 

‌‌المنهج المتبع في ري الظمآن:

1 - وهذا الكتاب: وإن سرت فيه على سَنَنِ كتاب البيهقي رحمه الله

2 - إلا أني: عملت على تهذيب كتابه

3 - وأثبت منه بعض ما صح لدي

4 - وأعرضت عما رأيت أنه من الضعيف الذي لا يحسن إيراده هنا

5 - وربما ذكرت شيئا من ذلك، لكن مع بيان ضعفه

6 - وما سكت عنه فهو ثابت عندي
আমার ইলমে দ্বীনের ছাত্র ভাইদের একটি দল—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন—নিম্নোক্ত কাজগুলো সম্পন্ন করেছেন:

১ - এই মজলিসগুলোর মধ্য থেকে ঈমানের ছয়টি মূল স্তম্ভের সাথে সংশ্লিষ্ট সাঁইত্রিশটি মজলিস শ্রুতিলিখন করেছেন।

২ - অতঃপর সেগুলো পুনঃনিরীক্ষণ করেছেন,

৩ - এবং সংশোধন করেছেন,

৪ - এই উদ্দেশ্যে যে, এগুলোকে মুদ্রণের উপযোগী করা হোক যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয় এবং এর শিক্ষাগুলো আহরণ করা সহজ হয়।

আর আমি যা করেছি:

১ - তারা যা শ্রুতিলিখন, পুনঃনিরীক্ষণ ও সংশোধন করেছেন তা পাঠ করেছি।

২ - মূল পাঠ ও উক্তিগুলোর প্রামাণিকতা যাচাই এবং হাদিস ও আসারসমূহের সূত্র বিশ্লেষণ করার কাজ করেছি।

৩ - যা অপ্রয়োজনীয় তা বাদ দিয়েছি।

৪ - যা অপরিহার্য তা যুক্ত করেছি।

৫ - পাশাপাশি আমি এর শিক্ষা ও উপকারিতাগুলোকে স্পষ্ট শিরোনামের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছি।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বক্তৃতা ও পাঠদান আর গ্রন্থ রচনা এক বিষয় নয়; এই দুটি ভিন্ন ভিন্ন শিল্প। তবে যথাসম্ভব সঠিক ও কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করা হয়েছে।

৬ - আর আমি এর নাম রেখেছি:

ঈমানের শাখাগুলোর মজলিসের মাধ্যমে পিপাসার্তের তৃপ্তি

 

‌‌রাইয়ুজ জামআন (পিপাসার্তের তৃপ্তি) গ্রন্থে অনুসৃত পদ্ধতি:

১ - এই গ্রন্থটি: যদিও এতে আমি ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর কিতাবের পথ অনুসরণ করেছি,

২ - তথাপি আমি তাঁর কিতাবটিকে পরিমার্জন করার কাজ করেছি।

৩ - সেখান থেকে আমি তা-ই সাব্যস্ত করেছি যা আমার কাছে সহিহ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

৪ - আর যা দুর্বল বলে মনে হয়েছে এবং এখানে উল্লেখ করা সমীচীন নয়, তা এড়িয়ে গিয়েছি।

৫ - মাঝেমধ্যে এমন কিছু উল্লেখ করলেও তার দুর্বলতা বর্ণনা করে দিয়েছি।

৬ - আর যে বিষয়ে আমি নীরব থেকেছি, তা আমার নিকট সাব্যস্ত বা গ্রহণযোগ্য।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২২)
7 - وأضفت مباحث كثيرة وفوائد عديدة نثرتها في ثنايا المجالس

8 - وهذا القسم -من المجالس- خاص بالحديث عن شعب الإيمان المتعلقة بالأركان الستة للإيمان.

9 - فجعلت "الإيمان بالله ورسله وملائكته وكتبه والقدر خيره وشره" في مجلد، ثم خصصت المجلد الثاني بالحديث عن شعبة "الإيمان باليوم الآخر".

وعملي -فيما أحسب- شبيه بعمل الحافظ المزي رحمه الله الذي قام على تهذيب كتاب «الكمال في أسماء الرجال» للحافظ المقدسي رحمه الله، وإصلاح ما وقع فيه من الوهم والاغفال، واستدراك ما حصل فيه من النقص والإخلال. لكني لم أستوعب كل ما عند البيهقي في كتابه المذكور، وتركت جملة من مسائله، وقصدت أن أقتصر على بعض ما يصح ويفيد، وأضفت ما يعين على فهم المسائل وتكميلها، وتوضيح الدلائل وتقريب فهمها وجعلت معها من الفوائد الفرائد ما هو متصل بالأصل وعليه مزيد. فإن وفقت لذلك فالحمد لله وله الفضل والمنة، وإن أخطأت -والخطأ لابن آدم لازم لازب- فمني والشيطان، وأستغفر ربنا الرحيم الرحمن.

وجزى الله خيرا من وجد خطأ فدل عليه وأصلحه

والله أسأل التوفيق والسداد،

{وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ (88)} [هود]

كتبه العبد الفقير إلى مولاه الغني

أبو حمزة غازي بن سالم أفلح البدْوِيِّ

في الثاني والعشرين من شهر الله المحرم من عام 1442 هـ
৭ - আমি অনেক আলোচনা ও অসংখ্য উপকারিতা যোগ করেছি, যা মজলিসগুলোর মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছি।

৮ - মজলিসসমূহের এই অংশটি ঈমানের ছয়টি রুকন বা স্তম্ভের সাথে সংশ্লিষ্ট ঈমানের শাখাগুলো সম্পর্কে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট।

৯ - আমি "আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি, কিতাবসমূহের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান" বিষয়গুলোকে এক খণ্ডে রেখেছি, এরপর দ্বিতীয় খণ্ডটিকে "পরকালের প্রতি ঈমান" নামক শাখার আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।

আমার এই কর্মটি—যতটুকু আমি মনে করি—হাফেজ আল-মিযযী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাজের সদৃশ, যিনি হাফেজ আল-মাকদিসী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর «আল-কামাল ফি আসমাঈর রিজাল» গ্রন্থটির পরিমার্জন ও সংস্কার (তাহযীব) করেছিলেন এবং সেখানে যেসব ভুলভ্রান্তি ও অসতর্কতা ছিল তা সংশোধন করেছিলেন এবং যেসব অপূর্ণতা ও ত্রুটি ছিল তা পূরণ করেছিলেন। তবে আমি ইমাম বায়হাক্বীর উল্লিখিত গ্রন্থের সবকিছু গ্রহণ করিনি, বরং তাঁর কিছু মাসআলা বাদ দিয়েছি এবং কেবল সহীহ ও উপকারী বিষয়গুলোর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকার ইচ্ছা করেছি। এছাড়া আমি এমন কিছু সংযোজন করেছি যা মাসআলাগুলো বুঝতে ও সেগুলোকে পূর্ণতা দিতে সাহায্য করে এবং প্রমাণাদি স্পষ্ট করতে ও সহজে বুঝতে সহায়ক হয়। আমি মূল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিরল উপকারিতাও এতে যুক্ত করেছি। যদি আমি এতে সফল হই, তবে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং অনুগ্রহ ও করুণা তাঁরই। আর যদি আমি ভুল করে থাকি—ভুল করা তো মানুষের জন্য অনিবার্য ও স্বাভাবিক বিষয়—তবে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আর আমি আমাদের দয়াময় পরম করুণাময় রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন, যে কোনো ভুল খুঁজে পেয়ে তা ধরিয়ে দেবে এবং সংশোধন করে দেবে।

আমি আল্লাহর কাছে তাওফীক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করি,

{আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হই (৮৮)} [হূদ]

এটি লিখেছেন তাঁর অভাবহীন মাওলার মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা

আবু হামযাহ গাজী বিন সালেম আফলাহ আল-বাদবী

১৪৪২ হিজরীর আল্লাহর মাস মহররমের বাইশে তারিখে।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌كلمة شكر

وختاما فإني أشكر الله تعالى أولا وآخرا على ما من به وتفضل.

ثم انطلاقا من قول النبي الكريم صلى الله عليه وسلم القائل «مَنْ لَا يَشْكُرِ النَّاسَ لَا يَشْكُرِ اللَّهَ»(1)؛

فإني أشكر كل المشايخ الكرام الذين تفضلوا بالنظر في مضامين الكتاب، والتقديم له تشجيعا لأخيهم، مع كثرة مشاغلهم، وضيق وقتهم. ومنهم: الشيخ الدكتور عزيز بن فرحان العنزي، والشيخ العلامة عبد العزيز البرعي، والشيخ محمد بن عبد الله باموسى، والشيخ نعمان الوتر، والشيخ الدكتور محمد بن عبد الله الحمادي.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود في سننه، كتاب الأدب، باب في شكر المعروف (4813)؛ والترمذي في جامعه، كتاب البر والصلة، باب ما جاء في الشكر لمن أحسن إليك (2081)؛ وأحمد في المسند (2/ 258، 295، 302، 388، 461، 492)، والبخاري في الأدب المفرد، باب من لم يشكر للناس (218)، وابن حبان في صحيحه، كما في الإحسان لابن بلبان الفارسي، كتاب الزكاة، باب المسألة والأخذ وما يتعلق به من المكافأة والثناء والشكر، (3407)؛ والبيهقي في شعب الإيمان، الثاني والستون من شعب الإيمان، رد السلام (8696)، من طرقٍ عن الرَّبِيعِ بْنِ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه به. وسنده صحيح على شرط مسلم؛ وله شواهد، انظر السلسلة الصحيحة (416، 667)، وهو في الجامع الصحيح مما ليس في الصحيحين لشيخنا مقبل رحمه الله.

فائدة: قال المنذري في الترغيب والترهيب: روي هذا الحديث:

• برفع (الله) وبرفع (الناس)

• وروي أيضا بنصبهما

• وبرفع (الله) ونصب (الناس)

• وعكسه أربع روايات ا. هـ

ونقل المناوي في فيض القدير نحوه عن ابن العربي، ثم قال: قال الزين العراقي: والمعروف المشهور في الرواية نصبهما. ا. هـ
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

পরিশেষে, মহান আল্লাহ তাআলা আমাকে যা কিছু দান করেছেন এবং অনুগ্রহ করেছেন তার জন্য আমি প্রথমে ও শেষে তাঁরই শুকরিয়া আদায় করছি।

অতঃপর সম্মানিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে, যিনি বলেছেন: «যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে না»(১);

আমি সেই সকল সম্মানিত শায়খদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা তাদের অনেক ব্যস্ততা এবং সময়ের স্বল্পতা সত্ত্বেও অনুগ্রহপূর্বক এই বইটির বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করেছেন এবং তাদের ভাইয়ের উৎসাহ বৃদ্ধিকল্পে বইটির ভূমিকা লিখে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খ ডক্টর আজিজ বিন ফারহান আল-আনাজি, শায়খ আল্লামা আব্দুল আজিজ আল-বুরাই, শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বা-মুসা, শায়খ নুমান আল-ওয়াতার এবং শায়খ ডক্টর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাম্মাদি।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, আদব অধ্যায়, উপকারকারীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ (৪৮১৩); এবং তিরমিযী তাঁর জামে গ্রন্থে, সদাচরণ ও সুসম্পর্ক অধ্যায়, যে তোমার প্রতি ইহসান করে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ (২০৮১); এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে (২/ ২৫৮, ২৯৫, ৩০২, ৩৮৮, ৪৬১, ৪৯২); এবং বুখারী আদাবুল মুফরাদ গ্রন্থে, যে মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না অনুচ্ছেদ (২১৮); এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে, যেমনটি ইবনে বালবান আল-ফারিসির আল-ইহসানে বর্ণিত হয়েছে, জাকাত অধ্যায়, যাচনা করা, গ্রহণ করা এবং এর প্রতিদান, প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ (৩৪০৭); এবং বায়হাকী শুআবুল ঈমানে, ঈমানের ৬২তম শাখা, সালামের উত্তর প্রদান (৮৬৯৬); বিভিন্ন সূত্রে রবী বিন মুসলিম থেকে, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন জিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ; এর আরও সমর্থিত বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে, দেখুন আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ (৪১৬, ৬৬৭), এবং এটি আমাদের শায়খ মুকবিল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলিত 'আল-জামি আস-সহিহ মিম্মা লাইসা ফিস সহিহাইন'-এ বর্ণিত হয়েছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আল-মুনজিরি 'আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব'-এ বলেছেন: এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে:

• (আল্লাহ) এবং (মানুষ) উভয় শব্দকে পেশ (রফা) যোগে

• এবং উভয়কে জবর (নসব) যোগে বর্ণিত হয়েছে

• এবং (আল্লাহ)-কে পেশ ও (মানুষ)-কে জবর যোগে

• এবং এর বিপরীতে; এভাবে মোট চারটি বর্ণনা রয়েছে। সমাপ্ত।

আল-মুনাউয়ি 'ফায়দুল কাদির'-এ ইবনুল আরাবি থেকে এর অনুরূপ উদ্ধৃত করেছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন: জাইনুল ইরাকি বলেছেন: বর্ণনায় সবচেয়ে সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ হলো উভয় শব্দকে জবর (নসব) যুক্ত করে পড়া। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৪)
ثم أخص بالذكر الأخ الشيخ الدكتور رشاد الحزمي -حفظه الله- الذي تفضل بقراءة الكتاب كاملا، وأفادني بملاحظاته القيمة التي ازدان بها البحث. والشكر موصول أيضا إلى المشايخ الذين نظروا في بعض المواضع من الكتاب وأفادوا بملاحظات نافعة، كان لها الأثر في تقويمه، وتصحيحه، مع ما صاحب ذلك من تشجيع كاتبه.

وأشكر القائمين على مركزنا المبارك مركز محمد سالم بن بخيت، لتحفيظ القرآن الكريم بدبي، والذي قام على تنظيم هذه المجالس، والتنسيق لها، ورعايتها. فجزاهم الله خيرا

والله تعالى أسأل أن يتقبل مني هذا العمل بقبول حسن

والحمد لله رب العالمين

للتواصل مع المؤلف:

واتس: 00971505861717

hotmail.com@Salem.Ghazi
এরপর আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি ভাই শায়খ ডক্টর রাশাদ আল-হাযমি —আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন— এর কথা, যিনি অনুগ্রহপূর্বক সম্পূর্ণ বইটি পাঠ করেছেন এবং আমাকে তাঁর মূল্যবান পর্যবেক্ষণসমূহ প্রদান করেছেন যা এই গবেষণাকে অলঙ্কৃত করেছে। সেই সাথে সেই সকল শায়খদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যারা কিতাবটির বিভিন্ন স্থানে দৃষ্টি দিয়েছেন এবং ফলপ্রসূ মন্তব্য করেছেন, যা একে সংশোধন ও পরিমার্জিত করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে, এবং এর পাশাপাশি লেখকের প্রতি উৎসাহও প্রদান করেছেন।

এবং আমি আমাদের বরকতময় কেন্দ্র 'মুহাম্মদ সালেম বিন বাখিত কুরআন হিফয কেন্দ্র, দুবাই' এর পরিচালকবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যারা এই মজলিসগুলো আয়োজন, সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান করেছেন। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই আমলটিকে সর্বোত্তমভাবে কবুল করেন।

আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লেখকের সাথে যোগাযোগের জন্য:

হোয়াটসঅ্যাপ: 00971505861717

Salem.Ghazi@hotmail.com
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌تمهيد

حديث شعب الإيمان وبيان حقيقة الإيمان
প্রারম্ভিকা

ঈমানের শাখা বিষয়ক হাদীস এবং ঈমানের প্রকৃত স্বরূপের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المجلس الأول(1)

حديث شعب الإيمان

‌‌فضل العلم:

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهدي الله فلا مُضِلَّ له، ومن يُضلِل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله، صلَّى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلَّم تسليمًا كثيرًا،

أما بعد: فهذه المجالس، من المجالس العظيمة التي يحتاجها المسلم؛ فحاجة المسلم إلى مجالس العلم والعلماء حاجة عظيمة؛ فإنه كما أُثِر عن الإمام أحمد رحمه الله أنه قال: «الناس إلى العلم أحوجُ منهم إلى الطعام والشراب؛ لأنَّ الرجل يحتاج إلى الطعام والشراب في اليوم مرة أو مرتين، وحاجتُه إلى العلم بعدد أنفاسه»(2).

وقد ابتُلِينا في هذه الأيام وفي هذه الأزمان بالإعراض عن العلم وعن مجالسه، مع تيسُّر الحصول عليه وقُرب العلماء عن طريق هذه الوسائل العظيمة التي منَّ الله -جل وعلا- بها علينا من الوسائل السمعية والمرئية وغيرها مما تيسر في هذه الأزمان ولم يكن موجودًا من قبل، ومع ذلك فالعلم عند الناس قليل، والإقبال عليه ضعيف إلا من رحم الله -جل وعلا-. فنصيحتي لنفسي ولإخواني بالإقبال على طلب العلم والانتفاع به وحضور مجالس العلماء والاستفادة؛ فإن طلب العلم من العبادات العظيمة التي يتقرب بها العبد إلى ربه -جل وعلا- لا سيَّما في زمن البلاء وزمن الفتن؛ فنبينا صلى الله عليه وسلم يقول: «الْعِبَادَةُ فِي الْهَرْجِ كَهِجْرَةٍ إِلَيَّ»(3).

--------------------------------------------

(1) المجلس الأول كان في يوم الثلاثاء الحادي والعشرين من شهر شعبان 1441 هـ.

(2) مدارج السالكين (2/ 440).

(3) أخرجه مسلم (2948) من حديث معقل بن يسار رضي الله عنه.
প্রথম মজলিস(১)

ঈমানের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত হাদিস

‌ইলমের ফজিলত:

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাথীদের ওপর অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর: এই মজলিসগুলো সেই মহান মজলিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা একজন মুসলমানের জন্য প্রয়োজন। ইলম এবং উলামাদের মজলিসের প্রতি মুসলমানের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি। যেমনটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «মানুষ খাবারের চেয়েও ইলমের প্রতি বেশি মুখাপেক্ষী; কারণ মানুষের দিনে একবার বা দুবার খাবারের প্রয়োজন হয়, কিন্তু তার নিশ্বাসের সংখ্যার সমপরিমাণ ইলমের প্রয়োজন হয়»(২)।

আর বর্তমান দিনগুলোতে এবং বর্তমান সময়ে আমরা ইলম ও ইলমের মজলিস থেকে বিমুখ হওয়ার পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি, অথচ এই মহান মাধ্যমগুলোর সাহায্যে ইলম অর্জন সহজতর হয়েছে এবং উলামাগণ অত্যন্ত নিকটবর্তী হয়েছেন যা আল্লাহ—মহামহিমান্বিত ও সুউচ্চ—আমাদের দান করেছেন। যেমন শ্রব্য, দৃশ্যমান ও অন্যান্য মাধ্যম যা এই যুগে সহজলভ্য হয়েছে অথচ আগে তা বিদ্যমান ছিল না। তা সত্ত্বেও মানুষের কাছে ইলম খুব কম এবং এর প্রতি আগ্রহও অত্যন্ত নগণ্য, কেবল তারা ছাড়া যাদের ওপর আল্লাহ—মহামহিমান্বিত ও সুউচ্চ—দয়া করেছেন। তাই আমার নিজের প্রতি এবং আমার ভাইদের প্রতি নসিহত হলো—ইলম অন্বেষণে নিবিষ্ট হওয়া, তা থেকে উপকৃত হওয়া এবং উলামাদের মজলিসে উপস্থিত হয়ে জ্ঞান অর্জন করা। নিশ্চয়ই ইলম অন্বেষণ করা এমন এক মহান ইবাদত যার মাধ্যমে বান্দা তার রব—মহামহিমান্বিত ও সুউচ্চ—এর নৈকট্য লাভ করে, বিশেষ করে বালা-মুসিবত ও ফিতনার সময়ে। কেননা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতার সময়ে ইবাদত করা আমার কাছে হিজরত করার সমতুল্য»(৩)।

--------------------------------------------

(১) প্রথম মজলিসটি ১৪৪১ হিজরি সনের ২১শে শাবান, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

(২) মাদারিজুস সালিকিন (২/ ৪৪০)।

(৩) ইমাম মুসলিম (২৯৪৮) এটি মা'কিল ইবন ইয়াসার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌ومن أعظم العبادات طلب العلم:

طلبُك للعلم وحضورك لمجالس العلم والاستفادة سماعًا، أو رؤيةً، أو قراءةً أو استفسارًا؛ فكلُّ ذلك من العلم الذي يقربك ويدنيك إلى الله. يقول عليه الصلاة والسلام: «وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا، سَهَّلَ اللهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ»(1).

فتأمل قوله صلى الله عليه وسلم: «وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا»، فـ (طريقًا): نكرة في سياق الشرط تفيد العموم؛ فأيّ طريق تسلكه من الطرق المعلومة في طلب العلم، سواء الطرق الحسية وذلك بالمشي إلى حلق العلم، أو الطرق المعنوية بأن يمشي الإنسان في طريق العلم بقراءة الكتب النافعة التي ألفها من يوثق بعلمهم ودينهم، ككتب شيخ الإسلام ابن تيمية وابن القيم وغيرهم من المحققين من أهل العلم، فكل ذلك مما يشمله الحديث. وقوله صلى الله عليه وسلم: «يَلْتَمِسُ» يعني يطلب ولو شيئًا يسيرًا سواء حصّله أم لم يحصله، وقوله: «عِلْمًا» نكرة في سياق الإثبات فيدخل في ذلك كل ما هو من العلم ولوكان قليلا.

والبشارة في آخر الحديث «سَهَّلَ اللهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ» فما دام أنه سلك بنفسه هذا الطريق العظيم فإن هذا مما يدنيه من جنة عرضها السماوات والأرض.

-"جعلنا الله وإياكم من أهل الجنة"-، فأحبوا العلم من قلوبكم وأقبلوا على كتاب الله وعلى سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم يُبارَكْ لكم في أوقاتكم ويبارك لكم في أعماركم ويبارك لكم في صحتكم. -نسأل الله -جل وعلا- أن يُحبِّب إلينا العلم الشرعي-.

وقد كان من دعائه صلى الله عليه وسلم: «اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا». تقول أمُ سَلَمَة رضي الله عنها: كان يدعو بذلك دُبُرَ كلِّ صلاةِ فجرٍ(2).

وكان صلى الله عليه وسلم يستعيذ بالله «مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ»(3). وأمره ربه -جل وعلا- بالدعاء بأن يزداد علما فقال سبحانه وتعالى: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا (114)} [طه: 114].

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (2699) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

(2) أخرجه أحمد (26521)، وابن ماجه (925)، وصححه الألباني في «تمام المنة» (ص 233)

(3) مسلم (2722) من حديث زيد بن أرقم رضي الله عنه.
সর্বোত্তম ইবাদতসমূহের অন্যতম হলো জ্ঞান বা ইলম অন্বেষণ:

আপনার জ্ঞান অন্বেষণ করা, জ্ঞানের মজলিসসমূহে উপস্থিত হওয়া এবং শ্রবণ, দর্শন, পাঠ কিংবা জিজ্ঞাসার মাধ্যমে উপকৃত হওয়া—এসবই সেই ইলমের অন্তর্ভুক্ত যা আপনাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন»(১)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «যে ব্যক্তি কোনো পথ অবলম্বন করে»-এর ওপর চিন্তা করুন; এখানে 'পথ' (তরিক) শব্দটি শর্তের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ব্যাপকতা প্রকাশ করে। সুতরাং জ্ঞান অন্বেষণের ক্ষেত্রে পরিচিত যেকোনো পথই আপনি অবলম্বন করেন না কেন, চাই তা বাহ্যিক পথ হোক—যেমন জ্ঞানের মজলিসসমূহে হেঁটে যাওয়া, অথবা তা ভাবগত পথ হোক—যেমন উপকারী কিতাবসমূহ পাঠের মাধ্যমে জ্ঞানের পথে অগ্রসর হওয়া, যা এমন ব্যক্তিবর্গ রচনা করেছেন যাদের জ্ঞান ও দ্বীনদারির ওপর আস্থা রাখা যায়; যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম এবং জ্ঞানীদের মধ্য থেকে অন্যান্য গবেষক আলেমগণের কিতাবসমূহ। এ সবই এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। আর তাঁর বাণী: «অন্বেষণ করে» (ইয়ালতামিসু) অর্থ হলো সে চায় বা প্রার্থনা করে, যদিও তা সামান্য বিষয় হোক না কেন, চাই সে তা লাভ করতে পারুক বা না পারুক। আর তাঁর বাণী: «জ্ঞান» (ইলম) শব্দটি ইতিবাচক প্রসঙ্গের মধ্যে অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) হিসেবে এসেছে, ফলে জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত সামান্যতম বিষয়ও এর মধ্যে দাখিল হবে।

হাদিসের শেষাংশে সুসংবাদ হলো: «আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন»। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজে এই মহান পথে বিচরণ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি তাকে সেই জান্নাতের নিকটবর্তী করবে যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিন সমান।

—"আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করুন"—। অতএব, আপনারা আপনাদের অন্তরের অন্তস্তল থেকে জ্ঞানকে ভালোবাসুন এবং আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতি মনোনিবেশ করুন; এতে আপনাদের সময়ে বরকত হবে, আপনাদের জীবনে বরকত হবে এবং আপনাদের স্বাস্থ্যে বরকত হবে। —আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন শারঈ জ্ঞানকে আমাদের নিকট প্রিয় করে দেন—।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি দোয়া ছিল: «হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান, কবুলযোগ্য আমল এবং পবিত্র রিযিক প্রার্থনা করছি»। উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: তিনি প্রত্যেক ফজর নামাজের পর এই দোয়া করতেন(২)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম «উপকারহীন জ্ঞান» থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন(৩)। আর তাঁর মহান প্রতিপালক তাঁকে জ্ঞান বৃদ্ধির দোয়া করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {আর আপনি বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন (১১৪)} [ত্বহা: ১১৪]।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (২৬৯৯), আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস।

(২) আহমাদ (২৬৫২১), ইবনে মাজাহ (৯২৫); আলবানী একে «তামামুল মিন্নাহ» (পৃ. ২৩৩) গ্রন্থে সহিহ বলেছেন।

(৩) মুসলিম (২৭২২), যায়েদ ইবনে আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৯)
وكان من دعائه صلى الله عليه وسلم: «اللهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا»(1).

فيا عبد الله: أنقذ نفسك من الجهل بدين الله -جل وعلا-.

فإن الجهل قد يؤدي بصاحبه إلى التهلكة كما في حديث جَابِر رضي الله عنه قال: خَرَجْنَا فِي سَفَرٍ فَأَصَابَ رَجُلًا مِنَّا حَجَرٌ فَشَجَّهُ فِي رَأْسِهِ، ثُمَّ احْتَلَمَ فَسَأَلَ أَصْحَابَهُ فَقَالَ: هَلْ تَجِدُونَ لِي رُخْصَةً فِي التَّيَمُّمِ؟ فَقَالُوا: مَا نَجِدُ لَكَ رُخْصَةً وَأَنْتَ تَقْدِرُ عَلَى الْمَاءِ فَاغْتَسَلَ فَمَاتَ، فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُخْبِرَ بِذَلِكَ فَقَالَ: «قَتَلُوهُ قَتَلَهُمُ اللَّهُ، أَلَا سَأَلُوا إِذْ لَمْ يَعْلَمُوا؛ فَإِنَّمَا شِفَاءُ الْعِيِّ السُّؤَالُ، … »(2)، دعا عليهم النبي صلى الله عليه وسلم لأنهم سئلوا فأفتوا بغير علم، وقد أدت هذه الفتوى إلى موت هذا الصحابي رضي الله عنه.

بل قد جاء في السنة ما يدل على أن الفتوى بغير علم قد تكون سببًا لمقتل صاحبها، ففي "الصحيحين"(3) عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه؛ أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا، فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَاهِبٍ، فَأَتَاهُ فَقَالَ: إِنَّهُ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا، فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ؟ فَقَالَ: لَا، فَقَتَلَهُ، فَكَمَّلَ بِهِ مِائَةً … »، الحديث.

كانت هذه الفتوى المبنية على غير علم سببًا لمقتل صاحبها.

فنسأل الله سبحانه وتعالى أن يُوفِّقنا وإيَّاكم إلى كل خير.

 

‌‌حديث شعب الإيمان:

وهو حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «الْإِيَمانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ-أَوْ قَالَ: بِضْعٌ وَسَبْعُونَ-شُعْبَةً، وَالحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ». وهذا الحديث أخرجه الشيخان في صحيحيهما وأهل السنن وأحمد في المسند وابن حبان في صحيحه وافتتح به البيهقي كتابه هذا "شعب الإيمان"، وهو مبثوث في دواوين الإسلام. وهو حديث عظيم وقد

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (5061)، بسند ضعيف عن عائشة رضي الله عنها وحسنه الحافظ في نتائج الأفكار (1/ 116). وضَعَّفَه الألباني في الكَلِمِ الطَّيبِ (45)، وفي "المشكاة" (1214)، وأخرجه الترمذي (3599)، وابن ماجة، (251) عَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: "قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا» وصَحَّحَهُ الألباني في "صَحِيحُ الترمذي" (3599) وانظر: «السلسلة الصحيحة» (7/ 431).

(2) أخرجه أبو داود (336)، وحسنه الألباني في صحيح سنن أبي داود (364).

(3) أخرجه البخاري (3470) ومسلم (2766).
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি দুআ ছিল: «হে আল্লাহ, আমার ইলম (জ্ঞান) বৃদ্ধি করে দিন»(১)।

হে আল্লাহর বান্দা: আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন - তিনি মহান ও মহিমান্বিত।

কেননা অজ্ঞতা তার অধিকারীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যেমন জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: আমরা একটি সফরে বের হলাম। তখন আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তির মাথায় পাথর লেগে আঘাতপ্রাপ্ত হলো। এরপর তার স্বপ্নদোষ হলো। সে তার সাথীদের কাছে জিজ্ঞাসা করল: আপনারা কি আমার জন্য তায়াম্মুম করার কোনো অনুমতি পান? তারা বলল: আমরা আপনার জন্য কোনো অনুমতি দেখছি না, অথচ আপনি পানি ব্যবহারে সক্ষম। ফলে সে গোসল করল এবং মারা গেল। যখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম, তাঁকে বিষয়টি জানানো হলো। তখন তিনি বললেন: «তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। তারা যখন জানত না, তখন কেন জিজ্ঞাসা করল না? নিশ্চয়ই অজ্ঞতার চিকিৎসা হলো জিজ্ঞাসা করা, … »(২)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে বদ দুআ করেছেন কারণ তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আর তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দিয়েছিল। আর এই ফতোয়া এই সাহাবী (রা.)-এর মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।

বরং সুন্নাহতে এমন প্রমাণও এসেছে যা নির্দেশ করে যে, ইলম ছাড়া ফতোয়া দেওয়া স্বয়ং ফতোয়া প্রদানকারীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। "সহীহাইন"(৩)-এ আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল যে নিরানব্বইজন মানুষকে হত্যা করেছিল। এরপর সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তাকে একজন দরবেশের কথা বলা হলো। সে তার কাছে এসে বলল যে, সে নিরানব্বইজন মানুষকে হত্যা করেছে, তার কি কোনো তাওবা আছে? সে বলল: না। ফলে সে তাকেও হত্যা করল এবং এর মাধ্যমে একশ পূর্ণ করল … », হাদীস।

ইলমবিহীন এই ফতোয়াটি ছিল প্রদানকারীর মৃত্যুর কারণ।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি আমাদের এবং আপনাদের সকল কল্যাণের তাওফীক দান করুন।

 

‌‌শুআবুল ঈমানের হাদীস:

এটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীস যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «ঈমানের ষাটের অধিক - অথবা তিনি বলেছেন: সত্তরের অধিক - শাখা রয়েছে। আর লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা।» এই হাদীসটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) তাঁদের সহীহ গ্রন্থে এবং সুনান গ্রন্থকারগণ, আহমাদ তাঁর মুসনাদে এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকী তাঁর এই "শুআবুল ঈমান" গ্রন্থটি এটি দিয়েই শুরু করেছেন। এটি ইসলামের প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে। এটি একটি মহান হাদীস এবং

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ (৫০৬১), আয়েশা (রা.) থেকে দুর্বল সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাফেজ (ইবনে হাজার) 'নাতাই জুল আফকার' (১/১১৬) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন। আলবানী 'আল-কালিমুত তাইয়িব' (৪৫) এবং 'আল-মিশকাত' (১২১৪) গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন। তিরমিযী (৩৫৯৯) এবং ইবনে মাজাহ (২৫১) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে আল্লাহ, আপনি আমাকে যা শিখিয়েছেন তা দিয়ে আমাকে উপকৃত করুন, আর যা আমার উপকারে আসবে তা আমাকে শিখিয়ে দিন এবং আমার ইলম বাড়িয়ে দিন।» আলবানী 'সহীহ তিরমিযী' (৩৫৯৯) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। দেখুন: 'আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ' (৭/৪৩১)।

(২) আবু দাউদ (৩৩৬), আলবানী 'সহীহ সুনান আবু দাউদ' (৩৬৪) গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন।

(৩) বুখারী (৩৪৭০) ও মুসলিম (২৭৬৬) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩০)
اختلفت رواياته، كما سيأتي. وفي سماعه تحفيز لكل موفق أن يسعى لمعرفة هذه الشعب العظيمة للعلم والعمل بها.

 

‌‌فصل في ذكر روايات الحديث:

حديث أبي هريرة رضي الله عنه في شعب الإيمان:

1 - رواه البخاري بلفظ: «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، وَالحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ»

2 - ورواه مسلم بلفظ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ»

3 - وفي رواية لمسلم: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ - أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ - شُعْبَةً، فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ»

4 - ورواه ابن ماجه بلفظ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ أَوْ سَبْعُونَ بَابًا، أَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَأَرْفَعُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ»

5 - ورواه أبو داود بلفظ «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ: أَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْعَظْمِ عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ»

6 - ورواه النسائي بلفظ «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً، أَفْضَلُهَا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَوْضَعُهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ»

7 - ورواه الترمذي وأحمد بلفظ: «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ بَابًا، فَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَأَرْفَعُهَا قَوْلُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ»

8 - وفي رواية للترمذي ولأحمد: «الإِيمَانُ أَرْبَعَةٌ وَسِتُّونَ بَابًا» زاد أحمد «أَرْفَعُهَا وَأَعْلَاهَا قَوْلُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ»(1)

--------------------------------------------

(1) قلت: الحديث:

1. بلفظ: «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً، وَالحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ»، رواه البيهقي بإسناده عن أبي عمرو أحمد بن المبارك المستملي، وأبي سعيد محمد بن شاذان الأصم قالا: حدثنا أبو قدامة عبيد الله بن سعيد، حدثنا أبو عامر العقدي، حدثنا سليمان بن بلال، عن عبد الله بن دينار، عن أبي هريرة به. ورواه ابن حبان في صحيحه (167) قال: أخبرنا عبد الله بن محمد الأزدي حدثنا أبو قدامة به. ورواه اللالكائي في شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة (1306) قال: أنا أحمد بن محمد بن غالب، قال: أنا عبيد الله بن محمد بن علي بن زياد النيسابوري، قال: نا عبد الله بن محمد شرويه، قال: نا عبيد الله بن سعيد به. ومن هذه الطريق رواه مسلم قال: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ -هو أبو قدامة- وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالَا حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِىُّ به لكن لفظه «بضع وسبعون»

2. فالظاهر أنه لفظ عبد بن حميد فقد اجتمع ثلاثة عن أبي قدامة بلفظ «بضع وستون»

3. ورواه البخاري: في صحيحه (9) قال: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِىُّ به بلفظ «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً».

4. ورواه الخرائطي في مكارم الأخلاق ومعاليها (307) قال: حدثنا أبو عبيد الله حماد بن الحسن بن عنبسة الوراق ثنا أبو عامر به بلفظ «بضع وستون».

5. ورواه النسائي (5019) قال: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ به بلفظ «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً»

6. ورواه ابن حبان (190) قال: أخبرنا حبان بن إسحاق بالبصرة قال: حدثنا الفضل بن يعقوب الرخامي قال: حدثنا أبو عامر العقدي به ولفظه «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ بَابَاً»

7. ورواه ابن منده في الإيمان (144) قال: أخبرنا أبو عبدالله محمد بن سعيد بن إسحاق وأحمد بن محمد بن إبراهيم الوراق قالا أنبأ أحمد بن عصام بن عبد الجديد الحنفي ثنا أبو عامر العقدي به بلفظ: «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شعبةً»؛ والحاصل أنه جاء عن أبي عامر باللفظين: فرواه عبد بن حميد ومحمد بن عبد الله بن المبارك والرخامي وأحمد بن عصام عن أبي عامر بلفظ «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ»؛ ورواه أبو قدامة وعبد الله بن محمد وحماد بن الحسن عن أبي عامر بلفظ «بِضْعٌ وَسِتُّونَ». والرواية الأخرى لمسلم: رواها البيهقي بإسناده عن إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، وعمرو بن زرارة الكلابي قالا: حدثنا جرير، عن سهيل بن أبي صالح، عن عبد الله بن دينار، عن أبي صالح، عن أبي هريرة به. بلفظ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ، أَوْ سَبْعُونَ شُعْبَةً، فَأَرْفَعُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ».

قلت: وعن سهيل رواه جماعة منهم:

1. جرير رواه بالشك كما تقدم في رواية البيهقي وهو في صحيح مسلم (162) قال حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ به ولفظه: «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ».

2. ورواه حماد بن سلمة عن سهيل بدون شك عند أبي داود (4678) -ومن طريقه البيهقي في الشعب-، قال: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ به بلفظ «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْعَظْمِ عَنِ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ». ورواه أحمد (9361) قَالَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ به بلفظ «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ بَابًا أَفْضَلُهَا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْعَظْمِ عَنْ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنْ الْإِيمَانِ»

3. وتابعه سفيان الثوري عن سهيل عند أحمد (9748) قال: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ به بلفظ «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ بَابًا فَأَدْنَاهُ إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنْ الطَّرِيقِ وَأَرْفَعُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ». ورواه الترمذي (2822) حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ به بلفظ «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ بَابًا فَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَأَرْفَعُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ». ورواه النسائي (5020) قال: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ عَنْ سُفْيَانَ قَالَ وحَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ به بلفظ: «الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً أَفْضَلُهَا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَوْضَعُهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنْ الطَّرِيقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنْ الْإِيمَانِ». ورواه ابن حبان (191) قال أخبرنا الحسين بن بسطام بالأبلة قال: أخبرنا عمر بن علي قال: حدثنا حسين بن حفص قال: حدثنا سفيان الثوري به بلفظ «الإيمان بضع وسبعون شعبة أعلاها شهادة أن لا إله إلا الله وأدناها إماطة الأذى عن الطريق» لكن رواه ابن ماجه (59) حَدَّثَنَا عَلِىُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّنَافِسِىُّ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ به بلفظ «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ أَوْ سَبْعُونَ بَابًا أَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَأَرْفَعُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ».

قال ابن حبان: وَأَمَّا الشَّكُّ فِي أَحَدِ الْعَدَدَيْنِ فَهُوَ مِنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ فِي الْخَبَرِ كَذَلِكَ قَالَهُ مَعْمَرٌ عَنْ سُهَيْلٍ وَقَدْ رَوَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَرْفُوعًا وَقَالَ: "الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ شُعْبَةً» وَلَمْ يَشُكَّ ا. هـ وقال البيهقي نحوه ثم قال: وسليمان بن بلال قال: «بِضْعٌ وَسِتُّونَ». لم يشك فيه وروايته أصح عند أهل العلم بالحديث غير أن بعض الرواة عن سهيل رواه من غير شك -يعني رواية أبي داود المتقدمة- قال: «بِضْعٌ وسَبْعُونَ … » .... وهذا زائد فأخذ به صاحب كتاب "المنهاج" في تقسيم ذلك على سبعة وسبعين بابا بعد بيان صفة الإيمان وبالله التوفيق ا. هـ
এর বর্ণনাগুলো বিভিন্ন হয়ে এসেছে, যেমনটি সামনে আসবে। আর এটি শোনা প্রত্যেক সৌভাগ্যবান ব্যক্তির জন্য এক প্রেরণা স্বরূপ, যাতে সে ইলম এবং আমলের উদ্দেশ্যে ঈমানের এই মহান শাখাগুলো জানার চেষ্টা করে।

 

‌‌হাদিসের বর্ণনাগুলোর উল্লেখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ:

ঈমানের শাখাগুলো সম্পর্কে আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস:

১ - বুখারি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের ষাটের অধিক শাখা রয়েছে, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»

২ - মুসলিম এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»

৩ - মুসলিমের একটি বর্ণনায় রয়েছে: «ঈমানের সত্তরের অধিক—অথবা ষাটের অধিক—শাখা রয়েছে; এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং এর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»

৪ - ইবনে মাজাহ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের ষাট বা সত্তরটিরও বেশি অধ্যায় রয়েছে, যার সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা, আর সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা, এবং লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»

৫ - আবু দাউদ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক (শাখা রয়েছে): এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং এর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে হাড় সরিয়ে ফেলা, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»

৬ - নাসাঈ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে, এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', আর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো, এবং লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»

৭ - তিরমিযী এবং আহমাদ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক অধ্যায় রয়েছে, যার সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো এবং সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা»

৮ - তিরমিযী এবং আহেমাদের অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: «ঈমানের চৌষট্টিটি অধ্যায় রয়েছে» আহমাদ আরও বাড়িয়ে বলেছেন «এর মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা»(১)

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি, হাদিসটি:

১. «ঈমানের ষাটের অধিক শাখা রয়েছে, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা» শব্দে বেইহাকি তার সনদে আবু আমর আহমাদ বিন মুবারক আল-মুস্তামলি এবং আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন শাযান আল-আসাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু কুদামা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আমির আল-আকাদি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন সুলাইমান বিন বিলাল, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে (১৬৭) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আযদি, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু কুদামা। আল-লালাকাই তার 'শারহু উসুল ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ' (১৩০৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন গালিব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন যিয়াদ আন-নিসাবুরি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ শারওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ। আর এই পথেই মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ—যিনি আবু কুদামা—এবং আব্দ বিন হুমাইদ, তারা উভয়ে বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আমির আল-আকাদি, কিন্তু এর শব্দ হলো «সত্তরের অধিক»

২. স্পষ্টত এটি আব্দ বিন হুমাইদ-এর শব্দ, কারণ আবু কুদামা থেকে তিন ব্যক্তি «ষাটোর্ধ্ব» শব্দে বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

৩. বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে (৯) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আমির আল-আকাদি, তিনি একই সূত্রে «ঈমানের ষাটের অধিক শাখা রয়েছে» শব্দে বর্ণনা করেছেন।

৪. আল-খারাইতি তার 'মাকারিমুল আখলাক ওয়া মায়ালিহা' (৩০৭) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু উবায়দুল্লাহ হাম্মাদ বিন হাসান বিন আনবাসাহ আল-ওয়াররাক, তিনি আবু আমির থেকে «ষাটোর্ধ্ব» শব্দে বর্ণনা করেছেন।

৫. নাসাঈ (৫০১৯) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, তিনি আবু আমির থেকে «ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে» শব্দে বর্ণনা করেছেন।

৬. ইবনে হিব্বান (১৯০) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বসরায় হিব্বান বিন ইসহাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ফজল বিন ইয়াকুব আর-রুখামি, তিনি আবু আমির আল-আকাদি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো «ঈমানের সত্তরের অধিক অধ্যায়»

৭. ইবনে মান্দাহ তার 'আল-ঈমান' (১৪৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন ইসহাক এবং আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-ওয়াররাক, তারা উভয়ে বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন ইসাম বিন আব্দুল জাদিদ আল-হানাফি, তিনি আবু আমির আল-আকাদি থেকে «ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা» শব্দে বর্ণনা করেছেন। সারকথা হলো, আবু আমির থেকে উভয় শব্দেই বর্ণিত হয়েছে: আব্দ বিন হুমাইদ, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, আর-রুখামি এবং আহমাদ বিন ইসাম আবু আমির থেকে «ঈমানের সত্তরের অধিক» শব্দে বর্ণনা করেছেন; আর আবু কুদামা, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ এবং হাম্মাদ বিন হাসান আবু আমির থেকে «ষাটোর্ধ্ব» শব্দে বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের অন্য বর্ণনাটি বেইহাকি তার সনদে ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-হানজালি এবং আমর বিন যুরারা আল-কিলাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জারীর, তিনি সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের ষাট বা সত্তরোর্ধ্ব শাখা রয়েছে, যার সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা, আর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»।

আমি বলছি: সুহাইল থেকে একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে আছেন:

১. জারীর, তিনি এটি সন্দেহের সাথে বর্ণনা করেছেন যেমনটি বেইহাকির বর্ণনায় পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি সহিহ মুসলিমে (১৬২) রয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যুহাইর বিন হারব, তিনি জারীর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো: «ঈমানের সত্তরের অধিক বা ষাটের অধিক শাখা রয়েছে, যার সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»।

২. হাম্মাদ বিন সালামা সুহাইল থেকে কোনো সন্দেহ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন যা আবু দাউদ (৪৬৭৮)-এর নিকট রয়েছে—এবং তার সূত্রে বেইহাকি 'আশ-শুআব' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুসা বিন ইসমাইল, তিনি হাম্মাদ থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক (শাখা), যার সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে হাড় সরিয়ে ফেলা, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»। আহমাদ (৯৩৬১) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আফফান, তিনি হাম্মাদ বিন সালামা থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক অধ্যায়, যার সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে হাড় সরিয়ে ফেলা, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»

৩. সুফিয়ান সাওরি সুহাইল থেকে তাকে অনুসরণ করেছেন যা আহেমাদের (৯৭৪৮) নিকট রয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ওয়াকি, তিনি সুফিয়ান থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক অধ্যায়, যার সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো এবং সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা»। তিরমিযী (২৮২২) বর্ণনা করেছেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু কুরাইব, তিনি ওয়াকি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক অধ্যায়, যার সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো এবং সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা»। নাসাঈ (৫০২০) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন সুলাইমান, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু দাউদ সুফিয়ান থেকে, এবং আবু নুআইম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা, যার সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»। ইবনে হিব্বান (১৯১) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন উবাল্লায় হুসাইন বিন বাসতাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন আলী, তিনি হুসাইন বিন হাফস থেকে, তিনি সুফিয়ান সাওরি থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা, যার সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্য দেওয়া এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো» কিন্তু ইবনে মাজাহ (৫৯) বর্ণনা করেছেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী বিন মুহাম্মদ আত-তানাফিসি, তিনি ওয়াকি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «ঈমানের ষাট বা সত্তরোর্ধ্ব অধ্যায়, যার সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো এবং সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»।

ইবনে হিব্বান বলেন: আর দুই সংখ্যার যেকোনো একটির ব্যাপারে যে সন্দেহ, তা এই বর্ণনায় সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে এসেছে, যেমনটি মামার সুহাইল থেকে বলেছেন। অথচ সুলাইমান বিন বিলাল এটি আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "ঈমানের ষাটের অধিক শাখা রয়েছে" এবং তিনি কোনো সন্দেহ করেননি। বেইহাকিও অনুরূপ বলেছেন, অতঃপর বলেছেন: আর সুলাইমান বিন বিলাল বলেছেন: «ষাটোর্ধ্ব»। তিনি এতে কোনো সন্দেহ করেননি এবং তার বর্ণনা হাদিস বিশারদদের নিকট অধিক সহিহ। তবে সুহাইল থেকে কোনো কোনো বর্ণনাকারী সন্দেহ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন—অর্থাৎ আবু দাউদের পূর্বোক্ত বর্ণনা—তিনি বলেছেন: «সত্তরোর্ধ্ব …»। আর এটি একটি অতিরিক্ত তথ্য, তাই "আল-মিনহাজ" গ্রন্থের লেখক ঈমানের স্বরূপ বর্ণনার পর একে সাতাত্তরটি অধ্যায়ে ভাগ করার ক্ষেত্রে এটি গ্রহণ করেছেন। আল্লাহর সাহায্যই কাম্য। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌منزلة الإيمان:

وهذا الحديث المبارك، فيه جملة من الكلمات نقف عندها لبيانها.

أولها: قوله صلى الله عليه وسلم: «الْإِيَمانُ». فالإيمان: لفظ شرعي، وقد جاء كثيرًا في كتاب الله وفي سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

والله -جل وعلا- نادى عباده وأوليائه في تسعة وثمانين موضعا من القرآن بقوله: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} أولها في [سورة البقرة: 104](1)

وإذا تأملت كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم تجد أن الله سبحانه وتعالى رتَّب على هذا اللفظ أمورًا عظيمة:

فجعل الله سبحانه وتعالى أهله هم أهل الفلاح، فقال -جل وعلا-: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ (1)} [المؤمنون: 1].

وأخبر -جل وعلا- أنَّ الإيمان تُنالُ به أرفع الدرجات في الدنيا وأعلى المنازل في الآخرة. قال

--------------------------------------------

(1) انظر: كتاب "نداء الرحمن لأهل الإيمان" للشيخ أبي بكر جابر الجزائري وكتاب "نداء رب العالمين لعباده المؤمنين" للشيخ محمد العرفج وكتاب "نداء المؤمنين في القرآن الكريم" للأستاذة رجاء أحمد.
ঈমানের মর্যাদা:

এই বরকতময় হাদিসটিতে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যা ব্যাখ্যা করার জন্য আমরা এখানে আলোকপাত করব।

প্রথমটি হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: «ঈমান»। ঈমান একটি শারয়ি পরিভাষা, যা আল্লাহর কিতাব এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতে অনেকবার এসেছে।

মহান আল্লাহ তাঁর বান্দা ও বন্ধুদের কুরআনের উননব্বইটি স্থানে এই বলে সম্বোধন করেছেন: {হে ঈমানদারগণ!} যার প্রথমটি রয়েছে [সূরা আল-বাকারা: ১০৪] আয়াতে।(১)

আপনি যদি আল্লাহর কিতাব এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ নিয়ে চিন্তা করেন, তবে দেখতে পাবেন যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই শব্দের সাথে অনেক মহান বিষয়কে সম্পৃক্ত করেছেন:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ঈমানদারদের সফলকাম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে (১)} [সূরা আল-মুমিনুন: ১]।

মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, ঈমানের মাধ্যমেই দুনিয়াতে সর্বোচ্চ মর্যাদা এবং আখেরাতে সুউচ্চ মাকাম লাভ করা সম্ভব। তিনি বলেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শায়খ আবু বকর জাবের আল-জাজায়েরি রচিত "নিদাউর রহমান লি আহলিল ইমান" গ্রন্থ, শায়খ মুহাম্মদ আল-আরফাজ রচিত "নিদাউ রব্বিল আলামিন লি ইবাদিহিল মুমিনিন" গ্রন্থ এবং উস্তাযা রাজা আহমাদ রচিত "নিদাউল মুমিনিন ফিল কুরআনিল কারিম" গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
تعالى: {وَالَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ أُولَئِكَ هُمُ الصِّدِّيقُونَ} [الحديد: 19]

والصديقون: هم أعلى الخلق درجة بعد درجة الأنبياء في الدنيا وفي منازل الآخرة.

وقال صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ لَيَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الْغُرَفِ مِنْ فَوْقِهِمْ، كَمَا تَتَرَاءَوْنَ الْكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ الْغَابِرَ مِنَ الْأُفُقِ مِنَ الْمَشْرِقِ أَوِ الْمَغْرِبِ، لِتَفَاضُلِ مَا بَيْنَهُمْ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ تِلْكَ مَنَازِلُ الْأَنْبِيَاءِ لَا يَبْلُغُهَا غَيْرُهُمْ، قَالَ: «بَلَى، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ رِجَالٌ آمَنُوا بِاللهِ، وَصَدَّقُوا الْمُرْسَلِينَ»(1).

والإيمان كما عليه أهل السنة والجماعة يزيد وينقص.

والإيمان له حلاوة في القلب إذا وجدها العبد أوجبت له الحياة الطيبة.

ومن أحبَّ الله ورسوله لهج بذكر الله؛ فإنَّ من أحب شيئًا أكثر من ذكره.

ومن أحبَّ الله ورسوله اجتهد في متابعة الرسول صلى الله عليه وسلم، وقَدَّم متابعته على كل شيء.

 

‌‌معنى الإيمان:

والعلماء رحمهم الله قالوا في بيان حقيقة الإيمان: إن الإيمان: قول، وعمل، واعتقاد، يزيد وينقص. فهو قول باللسان، واعتقاد بالجنان -يعني بالقلب- وعمل بالجوارح والأركان، يزيد بطاعة الرحمن وينقص بالعصيان.

وكان بعض علمائنا يقولون: الإيمان خمس نونات:

الأولى: اعتقاد بالجنان.

والثانية: نطق باللسان.

والثالثة: عمل بالجوارح والأركان.

والرابعة: يزيد بطاعة الرحمن.

والخامسة: وينقص بالعصيان.

فإذا عرفْتَ هذه الكلمات في تفسير الإيمان عرفْتَ أنه اسمٌ جامعٌ لشرائع الإسلام وأصول الإيمان وحقائق الإحسان. فالنبي صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث قال: «الْإِيَمانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ» أو قال: «بِضْعٌ وَسَبْعُونَ شُعْبَةً».

قَالَ أَبُو حَاتِم بن حبان رحمه الله: أَشَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْخَبَرِ إِلَى الشيء الذي هو فرض

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري (3265) وصحيح مسلم (2831) عَنْ أَبِي سعيد رضي الله عنه.
মহান আল্লাহ বলেন: "আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে, তারাই তাদের রবের নিকট সিদ্দীক (পরম সত্যবাদী)।" [আল-হাদীদ: ১৯]

আর সিদ্দীকগণ হলেন তারা, সৃষ্টির মধ্যে যাঁদের মর্যাদা দুনিয়াতে এবং আখিরাতের স্তরসমূহে নবীগণের মর্যাদার পরেই সর্বোচ্চ।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জান্নাতবাসীরা তাদের উপরে অবস্থিত সুউচ্চ প্রাসাদের অধিবাসীদেরকে এমনভাবে দেখবে, যেমনভাবে তোমরা আকাশের পূর্ব বা পশ্চিম দিগন্তে উদিত বা অস্তমিত উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখতে পাও; তাদের মধ্যকার মর্যাদার পার্থক্যের কারণে।" তাঁরা (সাহাবীগণ) বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! ওগুলো কি তবে নবীগণের স্তর, যা অন্য কেউ লাভ করতে পারবে না?" তিনি বললেন: "অবশ্যই লাভ করবে; যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ করে বলছি, তারা হলো এমন এক কওম যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলগণকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে।"(১)।

আর ঈমান আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিশ্বাস অনুযায়ী বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।

অন্তরে ঈমানের এমন এক মিষ্টতা রয়েছে যা কোনো বান্দা লাভ করলে তা তার জন্য একটি পবিত্র ও সুন্দর জীবন অবধারিত করে দেয়।

আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসবে, সে আল্লাহর স্মরণে ব্যাকুল থাকবে; কারণ যে যাকে ভালোবাসে সে তাকে অধিক স্মরণ করে থাকে।

যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসবে, সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে এবং তাঁর অনুসরণকে অন্য সব কিছুর উপরে প্রাধান্য দেবে।

 

‌‌ঈমানের অর্থ:

উলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুল্লাহ) ঈমানের হাকীকত বর্ণনায় বলেছেন: নিশ্চয়ই ঈমান হলো মৌখিক স্বীকৃতি, কর্ম এবং বিশ্বাসের নাম, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। সুতরাং এটি জিহ্বা দ্বারা বলা, জানান (অর্থাৎ অন্তর) দ্বারা বিশ্বাস করা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও রুকনসমূহের মাধ্যমে আমল করা; যা রহমানের আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির কারণে হ্রাস পায়।

আমাদের কোনো কোনো আলিম বলতেন: ঈমান হলো পাঁচটি 'নূন' (অর্থাৎ পাঁচটি মূল বিষয় যা আরবিতে 'নূন' বর্ণ দিয়ে শেষ হয়):

প্রথমত: জানান (অন্তর) দ্বারা বিশ্বাস করা।

দ্বিতীয়ত: লিসান (জিহ্বা) দ্বারা উচ্চারণ করা।

তৃতীয়ত: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও আরকান (রুকনসমূহ) দ্বারা আমল করা।

চতুর্থত: রহমান (আল্লাহর) আনুগত্যে বৃদ্ধি পাওয়া।

পঞ্চমত: এবং ইসিয়ান (নাফরমানি) দ্বারা হ্রাস পাওয়া।

সুতরাং আপনি যখন ঈমানের ব্যাখ্যায় এই বিষয়গুলো জানলেন, তখন আপনি বুঝতে পারলেন যে এটি ইসলামের বিধিবিধান, ঈমানের মূলনীতি এবং ইহসানের হাকীকতসমূহের একটি সামষ্টিক নাম। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই হাদীসে বলেছেন: "ঈমানের ষাটের অধিক" অথবা বলেছেন: "সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে।"

আবু হাতিম ইবনু হিব্বান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বাণীতে সেই সব বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা ফরয...

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী (৩২৬৫) এবং সহীহ মুসলিম (২৮৩১), আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) রাইয়ুজ জামআন বি-মাজালিসি শুয়াবিল ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
على المخاطبين في جَمِيعِ الْأَحْوَالِ فَجَعَلَهُ أَعْلَى الْإِيمَانِ ثُمَّ أَشَارَ إِلَى الشَّيْءِ الَّذِي هُوَ نَفْلٌ لِلْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَوْقَاتِ فَجَعَلَهُ أَدْنَى الْإِيمَانِ فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ فَرْضٌ عَلَى الْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ وَكُلَّ شَيْءٍ فَرْضٌ عَلَى بَعْضِ الْمُخَاطَبِينَ فِي بَعْضِ الْأَحْوَالِ وَكُلَّ شَيْءٍ هُوَ نَفْلٌ لِلْمُخَاطَبِينَ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ كُلُّهُ من الإيمان ا. هـ(1)

فالأعمال الصالحة من الإيمان. الصلاة عمل صالح، وهي من الإيمان. والزكاة عمل صالح، وهي من شعب الإيمان. وكذا الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، وبِرُّ الوالدين، وصلة الأرحام، وغير ذلك من الأعمال الطيبة المباركة التي حثَّ الإسلام عليها.

و «الإيمان» له أركان ثلاثة: القول، والعمل، والاعتقاد.

 

‌‌الاعتقاد من الإيمان:

وبيان ذلك أن الإنسان إذا لم يؤمن بقلبه لم يكن مؤمنًا.

ولذلك ذكر الله -جل وعلا- النفاق في القرآن، وبيَّنَ أن المنافقين نفاقًا أكبر هم أولئك الذين لا يؤمنون بالله ورسوله في باطنهم، ويُظهِرون إيمانًا ظاهرًا.

قال ربنا سبحانه وتعالى: {إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ (1)} [المنافقون: 1].

كانوا يُظهِرون الإسلام ويُبطِنون الكفر والطغيان، أسلَمَتْ ألسنتُهم، وكفرت بواطنُهم؛ فلم يقبل الله -جل وعلا- منهم إيمانًا. فدل هذا على أن اعتقاد القلب من الإيمان.

 

‌‌القول من الإيمان:

وكذلك نطق اللسان: فإن من صدَّق برسول الله صلى الله عليه وسلم ثم امتنع عن النطق بالإسلام وبشهادة الإيمان فإنه لا يكون من المؤمنين. ولذلك قال البيهقي هنا: «بابٌ الدليل على أن التصديق بالقلب والإقرار باللسان أصل الإيمان وأن كليهما شرط في النقل عن الكفر عند عدم العجز ا. هـ

 

‌‌أبو طالب عم رسول الله صلى الله عليه وسلم-:

وتأمَّلُوا حال أبي طالب عمِّ رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ فإنه كان يعلم صدق ابن أخيه نبينا

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري (3265) وصحيح مسلم (2831) عَنْ أَبِي سعيد رضي الله عنه.
সকল অবস্থায় সম্বোধিত ব্যক্তিদের উপর যা প্রযোজ্য, তিনি সেটিকে ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর নির্ধারণ করেছেন। অতঃপর তিনি এমন একটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা সকল সময়েই সম্বোধিত ব্যক্তিদের জন্য নফল (অতিরিক্ত), তাই তিনি সেটিকে ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর নির্ধারণ করেছেন। এটি একথার প্রমাণ বহন করে যে, প্রতিটি বিষয় যা সকল অবস্থায় সকল সম্বোধিত ব্যক্তির ওপর ফরজ, এবং যা কিছু বিশেষ অবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু সম্বোধিত ব্যক্তির ওপর ফরজ, এবং যা কিছু সকল অবস্থায় সকল সম্বোধিত ব্যক্তির জন্য নফল—এর সবই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। সমাপ্ত।(১)

সুতরাং নেক আমলসমূহ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। সালাত একটি নেক আমল এবং তা ঈমানের অংশ। যাকাত একটি নেক আমল এবং তা ঈমানের শাখাগুলোর একটি। অনুরূপভাবে সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ, পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এবং ইসলাম যেসব কল্যাণময় ও বরকতময় কাজের প্রতি উৎসাহিত করেছে, সবই এর অন্তর্ভুক্ত।

আর ‘ঈমান’-এর রুকন বা স্তম্ভ তিনটি: মৌখিক স্বীকৃতি, শারীরিক আমল এবং অন্তরের বিশ্বাস।

 

‌‌বিশ্বাস ঈমানের অন্তর্ভুক্ত:

এর ব্যাখ্যা হলো, মানুষ যদি তার অন্তরে বিশ্বাস না করে, তবে সে মুমিন হতে পারে না।

এ কারণেই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা কুরআনে নিফাক (কপটতা) উল্লেখ করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, বড় নিফাকে লিপ্ত মুনাফিক হলো তারাই, যারা তাদের অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস রাখে না, অথচ বাহ্যিকভাবে ঈমান প্রকাশ করে।

আমাদের রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {যখন মুনাফিকরা আপনার কাছে আসে, তারা বলে, ‘আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল।’ আর আল্লাহ জানেন যে আপনি অবশ্যই তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী। (১)} [আল-মুনাফিকুন: ১]।

তারা ইসলাম প্রকাশ করত এবং কুফরি ও সীমালঙ্ঘন গোপন রাখত; তাদের জিহ্বা আত্মসমর্পণ করেছিল কিন্তু তাদের অন্তর কুফরিতে লিপ্ত ছিল। তাই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাদের পক্ষ থেকে কোনো ঈমান গ্রহণ করেননি। এটি প্রমাণ করে যে, অন্তরের বিশ্বাস ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

 

‌‌মৌখিক স্বীকৃতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত:

অনুরূপভাবে জিহ্বার উচ্চারণও ঈমানের অংশ। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সত্য বলে বিশ্বাস করল, কিন্তু ইসলাম গ্রহণ ও ঈমানের সাক্ষ্য প্রদান (কালিমা) উচ্চারণে বিরত থাকল, সে মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। এজন্যই বায়হাকী এখানে বলেছেন: ‘অধ্যায়: প্রমাণ যে অন্তরের সত্যায়ন ও জিহ্বার স্বীকৃতি ঈমানের মূল এবং অক্ষমতা না থাকলে কুফর থেকে ঈমানে স্থানান্তরের জন্য এই উভয়টিই শর্ত।’ সমাপ্ত।

 

‌‌রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আবু তালিব:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আবু তালিবের অবস্থার কথা চিন্তা করুন; তিনি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আমাদের নবীর সত্যতা সম্পর্কে জানতেন—

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী (৩২৬৫) এবং সহীহ মুসলিম (২৮৩১), আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।