(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: -)
عقيدة الحافظ تقي الدين عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي   (عبد الغني المقدسي)

القسم: العقيدة


الكتاب: عقيدة الحافظ تقي الدين عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي

المؤلف: عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي الجماعيلي الدمشقي الحنبلي، أبو محمد، تقي الدين (ت 600هـ)

المحقق: عبد الله بن محمد البصيري

الناشر: مطابع الفردوس، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1411هـ/1990م

عدد الصفحات: 146

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাফেয তকি উদ্দীন আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী-এর আকিদাহ   (আব্দুল গনি আল-মাকদিসী)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: হাফেয তকি উদ্দীন আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী-এর আকিদাহ

লেখক: আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর আল-মাকদিসী আল-জামায়িলী আদ-দিমাশকী আল-হাম্বলী, আবু মুহাম্মদ, তকি উদ্দীন (মৃত্যু ৬০০ হি.)

সম্পাদক: আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বুসাইরী

প্রকাশক: মাতাবিউল ফিরদাউস, রিয়াদ, সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হি./১৯৯০ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৬

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

…

عَقيدَة الحافظ تقي الدّين عَبدالغني بن عَبدالواحد المقدسي "ت600هـ"

حَققها وَخرج أحاديثها وعَلق عَليها: عَبدالله بن مُحمّد البُصَيري

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله حمداً كثيراً مباركاً فيه، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين أما بعد: فإني عثرت وبتوفيق الله تعالى على ثلاث نسخ خطية لعقيدة الإمام الحافظ تقي الدين عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي رحمه الله، وحيث أن هذه العقيدة تمثل منهج السلف رحمهم الله في أهم قضايا العقيدة وخاصة فيما يتعلق بصفات الله تعالى، ولما للعقيدة السلفية من أهمية بالغة في حياة المسلم فقد رأيت أن أقوم بتحقيقها ونشرها مساهمة مني في خدمة العقيدة السلفية ونشرها بين أبناء المسلمين، وأود أن أشير إلى أن هذه العقيدة قد طبعت عام 1391هـ ضمن مجموع في العقيدة بعناية الشيخ عبد الله بن حميد رحمه الله، لكنها نفذت الآن أسأل الله تعالى أن يجعل عملي خالصاً لوجهه الكريم وأن يوفقنا لما يحبه ويرضاه وبهذه المناسبة أشكر الله تعالى على معونته وتوفيقه لي بخدمة هذه العقيدة كما أشكر كل من قدم لي عوناً أو مساعدة في نشرها وبالله التوفيق.
ভূমিকা

…

হাফেজ তাকিউদ্দিন আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬০০ হিজরি) রচিত আকিদাহ

সম্পাদনা, হাদিস সূত্রায়ন ও টীকা প্রদান: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-বুসাইরি

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য—যিনি অধিক প্রশংসিত ও বরকতময়। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর: আমি আল্লাহ তাআলার তাওফিকে ইমাম হাফেজ তাকিউদ্দিন আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (রহিমাহুল্লাহ)-এর আকিদাহ-বিষয়ক গ্রন্থের তিনটি পাণ্ডুলিপি লাভ করেছি। যেহেতু এই আকিদাহটি আকিদাহর মৌলিক বিষয়সমূহ, বিশেষ করে আল্লাহ তাআলার গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফদের (রহিমাহুমুল্লাহ) মানহাজের প্রতিনিধিত্ব করে এবং একজন মুসলিমের জীবনে সালাফি আকিদাহর গুরুত্ব অপরিসীম, তাই সালাফি আকিদাহর খিদমত ও মুসলিম সন্তানদের মাঝে তা প্রচারের লক্ষে আমি এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি উল্লেখ করতে চাই যে, এই আকিদাহটি ১৩৯১ হিজরিতে শেখ আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর তত্ত্বাবধানে একটি আকিদাহ সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছিল, তবে বর্তমানে তা নিঃশেষ হয়ে গেছে। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাদের সেই কাজের তাওফিক দেন যা তিনি ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। এই উপলক্ষে আমি আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে তিনি আমাকে এই আকিদাহর খিদমত করার তাওফিক ও সাহায্য দান করেছেন। সেইসাথে আমি তাঁদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা এটি প্রকাশে আমাকে সাহায্য বা সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা আসে।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৭)
3- عملي في الكتاب.

أولاً: ترجمة 1 الحافظ عبد الغني

اسمه ونسبه: هو الإمام الحافظ تقي الدين أبو محمد عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور بن رافع بن حسن

--------------------------------------------

1 مصادر ترجمة الحافظ عبد الغني رتبتها حسب أقدمية الوفاة:

1- ياقوت الحموي "626هـ" معجم البلدان 2/160 "جماعيل".

2- محمد بن عبد الغني الشهير بابن نقطة "ت629هـ" في التقييد 2/138.

3- ابن الدبيثي= أبو عبد الله محمد بن سعيد "ت637هـ" في تاريخه: "انظر: المختصر المحتاج إليه من تاريخ ابن الدبيثي" انتقاء الذهبي 3/82-83.

4- ابن النجار= محمد بن محمود "ت643هـ" في ذيل تاريخ بغداد "انظر: المستفاد من ذيل تاريخ بغداد لابن الدمياطي ص 167-169".

5- المنذري - زكي الدين عبد العظيم بن عبد القوي "ت656هـ" في التكملة لوفيات النقلة 2/17-19 رقم 778.

6- أبو شامة= عبد الرحمن بن إسماعيل المقدسي الدمشقي "ت665هـ" في الذيل على الروضتين ص 46-47.

7- الذهبي= محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي "ت748هـ" في تذكرة الحفاظ 4/1372، وفي سير أعلام النبلاء 21/443-471، وفي العبر 3/129، وفي دول الإسلام 2/107، وفي المعين في طبقات المحدثين ص 186.

8 ابن كثير= إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي الدمشقي "ت774هـ" في البداية والنهاية ج 13/38-39.

1 9- ابن رجب= عبد الرحمن بن أحمد الحنبلي "ت795هـ" في الذيل على طبقات الحنابلة 2/5-34.

10- جمال الدين أبو المحاسن يوسف بن تغري بردي "ت874هـ" النجوم الزاهرة 6/185.

11- السيوطي= جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي "ت911هـ" في طبقات الحفاظ 485-486، وفي حسن المحاضرة 1/354.

12- ابن طولون= محمد بن طولون الصالحي "ت952هـ" تاريخ الصالحية 2/439.

13- حاجي خليفه= مصطفى بن عبد الله "ت1067هـ" في كشف الظنون 1013،1164،1509،2053.

14- ابن العماد الحنبلي= عبد الحي بن العماد الحنبلي "ت1089هـ" شذرات الذهب ج 4/345-346.

15- صديق حسن خان "ت 1307هـ" في التاج المكلل 213.

16- إسماعيل باشا البغدادي "ت 1337هـ" ذيل كشف الظنون 2/69،148، 493،196،296،308،318.

هدية العارفين له 1/589 "هنا ترجمته"

17- الكتاني: محمد بن جعفر "ت 1345هـ" الرسالة المستطرفة 49.

18- بروكلمان "ت 1376هـ" تاريخ الأدب العربي 6/185-192.

19- خير الدين الزركلي "ت 1396هـ" الأعلام 4/34.

20- عمر رضا كحاله، في معجم المؤلفين 5/275.
৩- বইটিতে আমার কাজ।

প্রথমত: হাফেজ আব্দুল গনি-এর জীবনী ১

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়: তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ তাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলী ইবনে সুরুর ইবনে রাফি ইবনে হাসান

--------------------------------------------

১ হাফেজ আব্দুল গনি-এর জীবনীর উৎসসমূহ, আমি এগুলোকে মৃত্যুসন অনুযায়ী সাজিয়েছি:

১- ইয়াকুত আল-হামাউই "৬২৬ হি." মুজামুল বুলদান ২/১৬০ "জামাঈল"।

২- মুহাম্মদ বিন আব্দুল গনি, যিনি ইবনে নুকতাহ নামে পরিচিত "মৃত্যু ৬২৯ হি." আত-তাকিয়ীদ ২/১৩৮।

৩- ইবনুল দুবাইসি= আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ "মৃত্যু ৬৩৭ হি." তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে: "দেখুন: ইবনুল দুবাইসির ইতিহাস থেকে আল-মুখতাসার আল-মুহতাজ ইলাইহি" আয-যাহাবীর চয়ন ৩/৮২-৮৩।

৪- ইবনুন নাজ্জার= মুহাম্মদ বিন মাহমুদ "মৃত্যু ৬৪৩ হি." যাইলে তারিখ বাগদাদ-এ "দেখুন: ইবনুদ দমিয়াতি কর্তৃক যাইলে তারিখ বাগদাদ থেকে সংগৃহীত পৃষ্ঠা ১৬৭-১৬৯"।

৫- আল-মুনযিরি - জাকিউদ্দীন আব্দুল আজিম বিন আব্দুল কাওয়ি "মৃত্যু ৬৫৬ হি." আত-তাকমিলা লি-ওয়াফায়াতিন ნაკালা ২/১৭-১৯, নং ৭৭৮।

৬- আবু শামাহ= আব্দুর রহমান বিন ইসমাইল আল-মাকদিসি আদ-দিমাশকি "মৃত্যু ৬৬৫ হি." আয-যাইল আলা রওদাতাইন পৃষ্ঠা ৪৬-৪৭।

৭- আয-যাহাবী= মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান আয-যাহাবী "মৃত্যু ৭৪৮ হি." তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৩৭২, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/৪৪৩-৪৭১, আল-ইবার ৩/১২৯, দুওয়ালুল ইসলাম ২/১০৭ এবং আল-মুঈন ফি তাবাকাতিল মুহাদ্দিসিন পৃষ্ঠা ১৮৬।

৮ ইবনে কাসির= ইসমাইল বিন উমর বিন কাসির আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি "মৃত্যু ৭৭৪ হি." আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া খণ্ড ১৩/৩৮-৩৯।

১ ৯- ইবনে রজব= আব্দুর রহমান বিন আহমাদ আল-হাম্বলি "মৃত্যু ৭৯৫ হি." আয-যাইল আলা তাবাকাতিল হানাবিলা ২/৫-৩৪।

১০- জামালুদ্দীন আবুুল মাহাসিন ইউসুফ বিন তাগরি বিরদি "মৃত্যু ৮৭৪ হি." আন-নুজুম আয-যাহিরা ৬/১৮৫।

১১- আস-সুয়ুতি= জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবি বকর আস-সুয়ুতি "মৃত্যু ৯১১ হি." তাবাকাতুল হুফফাজ ৪৮৫-৪৮৬ এবং হুসনুল মুহাদারা ১/৩৫৪।

১২- ইবনে তুলুন= মুহাম্মদ বিন তুলুন আস-সালিহি "মৃত্যু ৯৫২ হি." তারিখুস সালিহিয়া ২/৪৩৯।

১৩- হাজি খলিফা= মুস্তফা বিন আব্দুল্লাহ "মৃত্যু ১০৬৭ হি." কাশফুয যুনুন ১০১৩, ১১৬৪, ১৫০৯, ২০৫৩।

১৪- ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি= আব্দুল হাই বিন ইমাদ আল-হাম্বলি "মৃত্যু ১০৮৯ হি." শাযারাতুয যাহাব খণ্ড ৪/৩৪৫-৩৪৬।

১৫- সিদ্দিক হাসান খান "মৃত্যু ১৩০৭ হি." আত-তাজুল মুকাল্লাল ২১৩।

১৬- ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদি "মৃত্যু ১৩৩৭ হি." যাইলু কাশফিয যুনুন ২/৬৯, ১৪৮, ৪৯৩, ১৯৬, ২৯৬, ৩০৮, ৩১৮। হাদিয়্যাতুল আরিফিন ১/৫৮৯ "এখানে তাঁর জীবনী রয়েছে"

১৭- আল-কাত্তানি: মুহাম্মদ বিন জাফর "মৃত্যু ১৩৪৫ হি." আর-রিসালা আল-মুসতাতরাফা ৪৯।

১৮- ব্রোকেলম্যান "মৃত্যু ১৩৭৬ হি." আরবি সাহিত্যের ইতিহাস ৬/১৮৫-১৯২।

১৯- খাইরুদ্দীন আয-যিরিকলি "মৃত্যু ১৩৯৬ হি." আল-আলাম ৪/৩৪।

২০- উমর রেজা কাহহালা, মুজামুল মুয়াল্লিফিন ৫/২৭৫।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৮)
وأقام هناك مدة سمع فيها من السلفي، ثم عاد إلى دمشق ثم رحل أيضاً إلى الإسكندرية سنة سبعين وأقام بها ثلاث سنين وسمع بها من الحافظ السلفي وأكثر عنه حتى قيل لعله كتب عنه ألف جزء وسمع من غيره -أيضاً-، وسمع بمصر من أبي محمد بن بري النحوي وجماعة، ثم عاد إ لى دمشق ثم سافر بعد السبعين إلى أصبهان وكان قد خرج إليها وليس معه إلا قليل فلوس فسهل الله له من حمله وأنفق عليه حتى دخل أصبهان وأقام بها مدة وسمع بها الكثير وحصل الكتب الجيدة ثم رجع. وسمع بهمذان من عبد الرزاق بن إسماعيل القرماني والحافظ أبي العلاء وغيرهما، وبأصبهان من الحافظين أبي موسى المديني وأبي سعد الصائغ وطبقتهما، وسمع بالموصل من خطيبها أبي الفضل الطوسي وكتب بخطه المتقن ما لا يوصف كثرة وعاد إلى دمشق ولم يزل ينسخ ويُصنِف ويحدث ويفيد المسلمين، ويعبد الله حتى توفاه الله على ذلك. وقد جمع فضائل الحافظ وسيرته الحافظ ضياء الدين في جزأين وذكر فيها أن الفقيه مكي بن عمر بن نعمة المصري جمع فضائله -أيضاً-.

حفظه: قال الحافظ الضياء كان شيخنا الحافظ لا يكاد أحد يسأله عن حديث إلا ذكره له وبينه وذكر صحته أو سقمه ولا يسأل عن رجل إلا قال: هو فلان بن فلان الفلاني ويذكر
তিনি সেখানে একটি নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করেন এবং সেখানে আস-সিলাফির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি দামেস্কে ফিরে আসেন এবং পুনরায় ৫৭০ হিজরি সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় সফর করে সেখানে তিন বছর অবস্থান করেন। সেখানে তিনি হাফেজ আস-সিলাফির নিকট থেকে এতো অধিক হাদিস শ্রবণ করেন যে, বলা হয় সম্ভবত তিনি তাঁর নিকট থেকে এক হাজার জুজ (পুস্তিকা) লিপিবদ্ধ করেছেন। এছাড়াও তিনি আরও অনেকের নিকট থেকেও শ্রবণ করেছেন। তিনি মিসরে আবু মুহাম্মদ ইবনে বাররি আন-নাহবি এবং একদল আলেমের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। এরপর দামেস্কে ফিরে আসেন এবং ৫৭০ হিজরির পর ইসফাহান অভিমুখে যাত্রা করেন। যখন তিনি সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন, তখন তাঁর নিকট সামান্য কিছু অর্থ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। অতঃপর আল্লাহ তাঁর জন্য বাহনের ব্যবস্থা সহজ করে দিলেন এবং তাঁর পাথেয় জুটিয়ে দিলেন, ফলে তিনি ইসফাহানে প্রবেশ করেন এবং সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন ও বহু মূল্যবান কিতাব সংগ্রহ করেন। অতঃপর তিনি ফিরে আসেন। তিনি হামাদানে আবদুর রাজ্জাক বিন ইসমাইল আল-কিরমানি এবং হাফেজ আবুল আলা ও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। আর ইসফাহানে দুই হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনি ও আবু সাদ আস-সায়িগ এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। মসুলে তিনি সেই শহরের খতিব আবুল ফজল আত-তুসির নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি তাঁর নিখুঁত হস্তাক্ষরে এতো অধিক কিতাব লিখেছেন যা সংখ্যায় বর্ণনাতীত। তিনি দামেস্কে ফিরে এসে নিরন্তর কিতাব অনুলিপি করা, গ্রন্থ রচনা, হাদিস বর্ণনা ও মুসলমানদের উপকৃত করার কাজে লিপ্ত থাকেন এবং আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকেন, যে পর্যন্ত না আল্লাহ এই অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু দান করেন। হাফেজ জিয়াউদ্দিন দুই খণ্ডে উক্ত হাফেজের মর্যাদা ও জীবনী সংকলন করেছেন এবং সেখানে উল্লেখ করেছেন যে, ফকিহ মাক্কি বিন উমর বিন নি'মাহ আল-মিসরিও তাঁর মর্যাদা সংকলন করেছেন।

তাঁর মুখস্থ শক্তি: হাফেজ জিয়া বলেন, আমাদের শাইখ হাফেজকে যখনই কেউ কোনো হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, তিনি তা তাঁর নিকট উল্লেখ করতেন, বিশ্লেষণ করতেন এবং তার বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা বর্ণনা করতেন। আর কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন: তিনি অমুকের পুত্র অমুক, অমুক বংশের এবং তিনি আরও বর্ণনা করতেন...
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৯)
نسبه. وأنا أقول1: كان الحافظ عبد الغني أمير المؤمنين في الحديث. قال الضياء: وشاهدت الحافظ غير مرة بجامع دمشق يسأله بعض الحاضرين وهو على المنبر: اقرأ لنا أحاديث من غير أجزا فيقرأ الأحاديث بأسانيدها عن ظهر قلبه. وسمعت2 أبا سليمان بن علي الحافظ يقول: سمعت بعض أهلنا يقول: إن الحافظ سئل لم لا تقرأ الأحاديث من غير كتاب؟ فقال: إني أخاف العجب وسمعت أبا العباس أحمد بن محمد بن الحافظ قال: سمعت علي بن فارس الزجاج الشيخ الصالح قال: لما جاء الحافظ من بلاد العجم قلت: يا حافظ ما حفظت بعد مائة ألف حديث؟ قال: بلى أو ما هذا معناه.

ثناء العلماء عليه: لقد وصفه جمع من مشاهير العلماء بأوصاف كثيرة تنبئ عن تمكنه من علم الحديث ورجاله وصفاء سريرته وقوة اعتقاده وصلابته في السنة واتباعه لها، وأمره بالمعروف ونهيه عن المنكر وغضبه لانتهاك حدود الله لا تأخذه في الله لومة لائم كما وصف بالكرم والجود والزهد والورع وكثرة العبادة رحمه الله قال ابن النجار في تاريخه حدث بالكثير وصنف في الحديث تصانيف حسنة وكان غزير الحفظ من أهل الإتقان والتجويد، قيّما بجميع فنون الحديث عارفاً بقوانينه

--------------------------------------------

1 القائل هو الحافظ الضياء.

2 للضياء.
তাঁর বংশপরিচয়। আমি ১ বলছি: হাফেজ আব্দুল গনি ছিলেন হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন। যিয়া বলেন: আমি দামেস্কের জামে মসজিদে হাফেজকে একাধিকবার দেখেছি, তিনি যখন মিম্বারের উপরে থাকতেন তখন উপস্থিত কেউ কেউ তাঁকে বলতেন: আমাদের কাছে কোনো পাণ্ডুলিপি বা কিতাব ছাড়া হাদিস পাঠ করুন; তখন তিনি তাঁর স্মৃতি থেকে সনদসহ হাদিসসমূহ পাঠ করতেন। আমি ২ আবু সুলায়মান বিন আলী আল-হাফেজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমাদের পরিবারের কাউকে বলতে শুনেছি যে, হাফেজকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আপনি কিতাব ছাড়াই কেন হাদিস পাঠ করেন না? তিনি বললেন: আমি আত্মতৃপ্তির ভয় করি। আমি আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাফেজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নেককার শায়খ আলী বিন ফারিস আজ-জাজ্জাজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাফেজ যখন অনারব দেশ থেকে আসলেন, আমি বললাম: হে হাফেজ, আপনি কি এক লক্ষ হাদিসের পরেও আর কিছু মুখস্থ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, অথবা এই অর্থবোধক কোনো কথা।

তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা: প্রখ্যাত আলেমদের একটি দল তাঁকে এমন অনেক বিশেষণে ভূষিত করেছেন যা হাদিস বিজ্ঞান ও এর বর্ণনাকারীদের বিষয়ে তাঁর দক্ষতা, তাঁর অন্তরের পরিচ্ছন্নতা, আকিদার দৃঢ়তা, সুন্নাহর ওপর অটলতা ও এর অনুসরণের প্রমাণ দেয়। তিনি সৎ কাজের আদেশ দিতেন ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন। আল্লাহর বিধান লঙ্ঘিত হলে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাগান্বিত হতেন এবং আল্লাহর পথে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করতেন না। এছাড়া তাঁকে দানশীলতা, বদান্যতা, দুনিয়াবিমুখতা, পরহেজগারি ও অধিক ইবাদতগুজার হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। ইবনে নাজ্জার তাঁর ইতিহাসে বলেন: তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং হাদিস শাস্ত্রে চমৎকার গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী এবং অত্যন্ত নিপুণ ও দক্ষ ছিলেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রের সকল শাখায় পারদর্শী এবং এর মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত ছিলেন।

--------------------------------------------

১ বক্তা হলেন হাফেজ যিয়া।

২ যিয়ার উক্তি।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ১০)
وأصوله وعلله وصحيحه وسقيمه وناسخه ومنسوخه وغريبه وشكله وفقهه ومعانيه وضبط أسماء رواته ومعرفة أحواله، وكان كثير العبادة ورعاً متمسكاً بالسنة على قانون السلف "وقال ابن الدبيثي في تاريخه:"وكان زاهداً عابداً أمّارا بالمعروف نهاء عن المنكر أثنى الحفاظ والأئمة على فهمه وحذقه وحفظه وكان داعية إلى السنة ناصراً لها "وأثنى عليه الذهبي فقال: "الإمام العالم الحافظ الكبير الصادق العابد الأثري المتبع." وقال في موضع آخر بعد ذكر شيوخه: ولم يزل يطلب ويسمع ويكتب ويسهر ويدأب ويأمر بالمعروف وينهى عن المنكر ويتقي الله ويتعبد ويصوم ويتهجد وينشر العلم إلى أن مات1وذكره المنذر فقال: الفقيه الحافظ، كتب الكثير وله تصانيف مفيدة ولم يزل يجمع ويسمع ويسمع2. وقال ابن كثير: الحافظ عبد الغني أبو محمد المقدسي صاحب التصانيف المشهورة3وقال سبط ابن الجوزي: كان عبد الغني ورعاً زاهداً عابداً يصلي كل يوم ثلاثمائة ركعة ويقوم الليل ويصوم عامة السنة وكان كريماً جواداً لا يدخر شيئاً ويتصدق على الأرامل والأيتام حيث لا يراه أحد وكان يرقع ثوبه ويؤثر بثمن الجديد، وكان قد

--------------------------------------------

1 السير 21/445.

2 التكملة 2/18.

3 البداية 13/38.
এর মূলনীতি, ত্রুটিসমূহ, সহিহ, যয়িফ, নাসিখ, মানসুখ, বিরল শব্দাবলি, হরকত-প্রদান, ফিকহ, অর্থসমূহ, বর্ণনাকারীদের নামের নির্ভুল রূপ এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তিনি পরিজ্ঞাত ছিলেন। তিনি ছিলেন অধিক ইবাদতকারী, পরহেজগার এবং সালফে সালেহীনের নীতি অনুযায়ী সুন্নাহর প্রতি অবিচল। ইবনে আদ-দুবাইসি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতকারী, সৎকাজের আদেশদাতা এবং অসৎকাজের নিষেধকারী। হাফেজগণ এবং ইমামগণ তাঁর বোধশক্তি, দক্ষতা ও হিফযের প্রশংসা করেছেন। তিনি ছিলেন সুন্নাহর দাওয়াত প্রদানকারী ও এর সাহায্যকারী।" আয-যাহাবি তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: "ইমাম, আলিম, মহান হাফেজ, সত্যবাদী, ইবাদতকারী, আসার-পন্থী এবং অনুসারী।" তিনি অন্য এক স্থানে তাঁর উস্তাদদের আলোচনার পর বলেছেন: "মৃত্যু পর্যন্ত তিনি অনবরত ইলম অন্বেষণ করেছেন, শুনেছেন, লিখেছেন, রাত জেগেছেন, পরিশ্রম করেছেন, সৎকাজের আদেশ দিয়েছেন, অসৎকাজের নিষেধ করেছেন, আল্লাহকে ভয় করেছেন, ইবাদত করেছেন, রোজা রেখেছেন, তাহাজ্জুদ পড়েছেন এবং ইলম প্রচার করেছেন।"১ আল-মুনযিরি তাঁকে উল্লেখ করে বলেছেন: "ফকিহ ও হাফেজ, তিনি প্রচুর লিখেছেন এবং তাঁর অনেক উপকারী সংকলন রয়েছে। তিনি আমৃত্যু হাদিস সংগ্রহ করেছেন, শুনেছেন এবং শুনিয়েছেন।"২ ইবনে কাসির বলেছেন: "হাফেজ আব্দুল গনি আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসি প্রসিদ্ধ গ্রন্থরাজির রচয়িতা।"৩ সিবত ইবনুল জাওজি বলেছেন: "আব্দুল গনি ছিলেন পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ ও ইবাদতকারী। তিনি প্রতিদিন তিনশ রাকাত সালাত আদায় করতেন, রাতে কিয়ামুল লাইল করতেন এবং বছরের অধিকাংশ সময় রোজা রাখতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দানশীল ও উদার, কোনো কিছু জমা করে রাখতেন না। তিনি এমনভাবে বিধবা ও এতিমদের দান করতেন যে কেউ তাঁকে দেখতে পেত না। তিনি তাঁর কাপড়ে তালি লাগাতেন এবং নতুন পোশাকের মূল্য সদকা করে অন্যকে প্রাধান্য দিতেন। আর তিনি ছিলেন..."

--------------------------------------------

১ সিয়ার ২১/৪৪৫।

২ আত-তাকমিলা ২/১৮।

৩ আল-বিদায়া ১৩/৩৮।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ১১)
ابن1جعفر المقدسي الجماعيلي2 ثم الدمشقي المنشأ الصالحي الحنبلي.

--------------------------------------------

2 نسبة إلى جمّاعيل وهي قرية في جبل نابلس من أرض فلسطين "معجم البلدان 2/159".
ইবনে১ জাফর আল-মাকদিসি আল-জুম্মাইলি২ অতঃপর দামেস্কে বেড়ে ওঠা আস-সালিহি আল-হাম্বলি।

--------------------------------------------

২ জুম্মাইলের সাথে সম্পর্কিত, যা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের নাবলুস পাহাড়ের একটি গ্রাম "মু'জামুল বুলদান ২/১৫৯"।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ১২)
مولده: ولد بجمّاعيل من أرض نابلس سنة إحدى وأربعين وخمسمائة1، ونسب لبيت المقدس لقرب جماعيل منه ولأن نابلس وأعمالها جميعاً من مضافات البيت المقدس2، ثم انتقل مع أسرته من بيت المقدس إلى مسجد أبي صالح خارج الباب الشرقي لمدينة دمشق أولاً، ثم انتقلت أسرته إلى سفح جبل قاسيون فبنوا داراً تحتوي على عدد كبير من الحجرات دعيت بدار الحنابلة، ثم شرعوا في بناء أول مدرسة في جبل قاسيون وهي المعروفة ب"المدرسة العمرية"3، وقد عرفت تلك الضاحية التي سكنوها بالصالحية فيما بعد نسبة إليهم لأنهم كانوا من أهل العلم والصلاح.

حياته العلمية: اتجه الحافظ عبد الغني إلى طلب العلم في سن مبكرة، فتتلمذ في صغره على عميد أسرته العلامة الفاضل الشيخ محمد بن أحمد بن قدامة المقدسي أبو عمر،

--------------------------------------------

1 قاله الحافظ الضياء، لكن قال المنذري: ذكر عنه أصحابه ما يدل على أن مولده سنة أربعة وأربعين وخمسمائة، وكذلك ذكر ابن النجار في تاريخه أنه سأل الحافظ عبد الغني عن مولده، فقال: إما في سنة ثلاث أو في سنة أربع وأربعين وخمسمائة، قال الحافظ: والأظهر أنه في سنة أربع.

2 معجم البلدان 2/159.

3 هذه المدرسة من خيرة مدارس المسلمين خرجت عدداً كبيراً من مشاهير العلماء، وكانت بها مكتبة عظيمة عز نظيرها، وقد أنشأها الشيخ أبو عمر المقدسي الزاهد محمد بن أحمد بن قدامة أخو الموفق ابن قدامة رحمهم الله. "انظر: القلائد الجوهرية 1/249 وما بعدها".
জন্ম: তিনি ৫৪১ হিজরি সনে নাবলুস ভূখণ্ডের জাম্মাঈল নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন১, এবং জাম্মাঈল বায়তুল মাকদিসের সন্নিকটে হওয়ায় এবং নাবলুস ও এর সংলগ্ন সকল অঞ্চল বায়তুল মাকদিসের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাকে বায়তুল মাকদিসের দিকে নিসবত বা সম্পৃক্ত করা হয়২। এরপর তিনি তার পরিবারের সাথে বায়তুল মাকদিস থেকে প্রথমে দামেস্ক শহরের পূর্ব ফটকের বাইরে অবস্থিত আবু সালেহ মসজিদে স্থানান্তরিত হন। পরবর্তীতে তার পরিবার কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে চলে যান এবং সেখানে বহু কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর নির্মাণ করেন যাকে 'দারুল হানাবিলা' বলা হতো। এরপর তারা কাসিউন পাহাড়ে প্রথম মাদরাসা নির্মাণের কাজ শুরু করেন, যা 'আল-মাদরাসা আল-উমারিয়্যাহ' নামে পরিচিত৩। তারা সেখানে বসবাস করার কারণে পরবর্তীকালে সেই উপশহরটি 'আস-সালিহিয়্যাহ' নামে পরিচিতি লাভ করে, যেহেতু তারা ছিলেন ইলম ও নেক আমলের অধিকারী (সালেহ)।

ইলমি জীবন: হাফেজ আব্দুল গনী অল্প বয়সেই ইলম অন্বেষণে মনোনিবেশ করেন। শৈশবে তিনি তার পরিবারের প্রধান, প্রখ্যাত বিদগ্ধ পণ্ডিত শেখ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি আবু ওমরের নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

১ হাফেজ জিয়া এটি বলেছেন, তবে আল-মুনজিরি বলেছেন: তাঁর সঙ্গীরা তাঁর সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে তাঁর জন্ম ৫৪৪ হিজরি সনে। একইভাবে ইবনুন নাজ্জার তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাফেজ আব্দুল গনীকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: হয় ৫৪৩ অথবা ৫৪৪ হিজরি সনে। হাফেজ বলেন: ৫৪৪ সাল হওয়াই অধিকতর স্পষ্ট।

২ মু'জামুল বুলদান ২/১৫৯।

৩ এই মাদরাসাটি মুসলিমদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাদরাসা ছিল যা বহু সংখ্যক প্রখ্যাত আলিম তৈরি করেছে। এতে এক বিশাল গ্রন্থাগার ছিল যার দৃষ্টান্ত বিরল। এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাপস শেখ আবু ওমর আল-মাকদিসি মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন কুদামা, যিনি মুওয়াফফাক ইবনে কুদামার ভাই ছিলেন—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন। "দ্রষ্টব্য: আল-কালাইদ আল-জাওহারিয়্যাহ ১/২৪৯ এবং পরবর্তী অংশ"।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم تتلمذ على شيوخ دمشق وعلمائها فأخذ عنهم الفقه وغيره من العلوم.

رحلاته العلمية: كانت له رحلات علمية جاب خلالها كثير من البقاع، وسمع فيها بدمشق والإسكندرية وبيت المقدس ومصر وبغداد وحران والموصل وأصبهان وهمذان وغيرها، سافر إلى بغداد مرتين ومصر مرتين، وكان ارتحاله إلى دمشق وهو صغير بعد سنة خمسين وخمسمائة فسمع بها من أبي المكارم ابن هلال وسلمان بن علي الرحبي وأبي عبد الله محمد بن حمزة القرشي وغيرهم، ثم رحل إلى بغداد سنة إحدى وستين وخمسمائة مع ابن خاله الشيخ الموفق فأقاما ببغداد أربع سنين، وكان الموفق ميله إلى الفقه والحافظ عبد الغني ميله إلى الحديث فنزلا على الشيخ عبد القادر وكان يراعيهما ويحسن إليهما وقرءا عليه شيئاً من الحديث والفقه، وحكى الشيخ الموفق أنهما أقاما عنده نحواً من أربعين يوماً ثم مات وأنهما كانا يقرآن عليه كل يوم درسين من الفقه فيقرأ هو من الخرقي من حفظه والحافظ من كتاب الهداية قال الضياء: وبعد ذلك اشتغلا بالفقه والخلاف على ابن المني وصارا يتكلمان في المسألة ويناظران، وسمعا من أبي الفتح ابن البطي وأحمد بن المقرئ الكرخي وأبي بكر ابن النقور، وهبة الله بن الحسن بن هلال الدقاق وأبي زرعة وغيرهم ثم عاد إلى دمشق ثم رحل الحافظ سنة ست وستين إلى مصر والإسكندرية
এরপর তিনি দামেস্কের শাইখ ও আলিমগণের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাঁদের নিকট থেকে ফিকহ ও অন্যান্য ইলম অর্জন করেন।

তাঁর ইলমি সফরসমূহ: তাঁর বেশ কিছু ইলমি সফর ছিল যার মাধ্যমে তিনি বহু জনপদ পরিভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি দামেস্ক, আলেকজান্দ্রিয়া, বায়তুল মাকদিস, মিসর, বাগদাদ, হাররান, মসুল, আস্পাহান, হামদান ও অন্যান্য স্থানে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি বাগদাদে দুইবার এবং মিসরে দুইবার সফর করেন। ৫৫০ হিজরির পর শৈশবাবস্থায় তিনি দামেস্কে আগমন করেন এবং সেখানে আবুল মাকারিম ইবনে হিলাল, সালমান বিন আলী আর-রাহবি, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হামজা আল-কুরাশি ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। এরপর ৫৬১ হিজরিতে তিনি তাঁর মামাতো ভাই শাইখ আল-মুওয়াফফাক-এর সাথে বাগদাদে সফর করেন এবং সেখানে তাঁরা চার বছর অবস্থান করেন। আল-মুওয়াফফাক-এর ঝোঁক ছিল ফিকহের প্রতি এবং হাফেজ আব্দুল গনির ঝোঁক ছিল হাদিসের প্রতি। তাঁরা শাইখ আব্দুল কাদিরের নিকট অবস্থান গ্রহণ করেন। শাইখ তাঁদের দেখাশোনা করতেন এবং তাঁদের প্রতি সদয় আচরণ করতেন। তাঁরা তাঁর নিকট হাদিস ও ফিকহের কিছু অংশ পাঠ করেন। শাইখ আল-মুওয়াফফাক বর্ণনা করেন যে, তাঁরা তাঁর নিকট প্রায় চল্লিশ দিন অবস্থান করেন, এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁরা তাঁর নিকট প্রতিদিন ফিকহের দুটি করে পাঠ গ্রহণ করতেন; তিনি (আল-মুওয়াফফাক) নিজের মুখস্থ স্মৃতি থেকে খিরাকি-র পাঠ দিতেন এবং হাফেজ হিদায়াহ গ্রন্থ থেকে পাঠ করতেন। আদ-দিয়া বলেন: এরপর তাঁরা ইবনে আল-মুন্নীর নিকট ফিকহ এবং ইখতিলাফি মাসআলা নিয়ে নিমগ্ন হন এবং তাঁরা বিভিন্ন মাসআলার ওপর আলোচনা ও বিতর্ক করতে থাকেন। তাঁরা আবুল ফাতহ ইবনুল বাত্তি, আহমাদ বিন আল-মুকরি আল-কারখি, আবু বকর ইবনুন নাক্কুর, হিবাতুল্লাহ বিন আল-হাসান বিন হিলাল আদ-দাক্কাক, আবু যুরআ ও অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। এরপর তিনি দামেস্কে ফিরে আসেন এবং অতপর ৫৬৬ হিজরিতে হাফেজ মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়ায় সফর করেন।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ১৪)
ضعف بصره من كثرة المطالعة والبكاء وكان أوحد زمانه في علم الحديث والحفظ1وقال الضياء: سألت خالي الإمام موفق الدين عن الحافظ فكتب بخطه وقرأته عليه، كان جامعاً للعلم والعمل وكان رفيقي في الصبا وفي طلب العلم وما كنا نستبق إلى خير إلا سبقني إليه إلا القليل وكمل الله فضيلته بابتلائه بأذى أهل البدعة وعداوتهم إياه وقيامهم عليه، ورزق العلم وتحصيل الكتب الكثيرة إلا أنه لم يعمر حتى يبلغ غرضه في روايتها ونشرها رحمه الله تعالى.

أوقاته: كان لا يضيع شيئاً من زمانه بلا فائدة فإنه كان يصلي الفجر ويلقن الناس القرآن وربما قرأ شيئاً من الحديث ثم يقوم يتوضأ فيصلي نفلاً إلى قبل الظهر ثم ينام نومة يسيرة إلى وقت الظهر ويشتغل إما للتسميع بالحديث أو بالنسخ إلى المغرب، فإن كان صائماً أفطر بعد المغرب، وإن كان مفطراً صلى من المغرب إلى العشاء الآخرة فإذا صلى العشاء نام إلى نصف الليل أو بعده ثم قام كأن إنساناً يوقظه فيتوضأ ويصلي لحظة كذلك ثم توضأ وصلى كذلك، ثم توضأ وصلى كذلك إلى قرب الفجر وربما توضأ في الليل سبع مرات فقيل له في ذلك، فقال: ما تطيب لي الصلاة إلا مادامت أعضائي رطبة. ثم ينام نومة يسيرة إلى الفجر وهذا دأبه، وقال أخوه العماد: ما رأيت أحداً أشد محافظة على وقته من أخي، وقال الضياء: سمعت محمود بن

--------------------------------------------

1 البداية 13/39.
অত্যধিক পড়াশোনা ও কান্নার কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি তাঁর সমসাময়িক কালে হাদিস বিজ্ঞান ও মুখস্থবিদ্যায় অনন্য ছিলেন।১ যিয়া বলেন: আমি আমার মামা ইমাম মুয়াফফাকুদ্দিনকে হাফেজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিজ হাতে লিখে দিলেন এবং আমি তাঁর কাছে তা পাঠ করলাম: তিনি ইলম ও আমলের সমন্বয়কারী ছিলেন এবং শৈশব ও ইলম অর্জনের পথে আমার সফরসঙ্গী ছিলেন। আমরা যখনই কোনো ভালো কাজে একে অপরের চেয়ে অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা করতাম, অল্প কিছু ক্ষেত্র ছাড়া সব কিছুতেই তিনি আমাকে ছাড়িয়ে যেতেন। আল্লাহ বিদআতিদের পক্ষ থেকে নিগ্রহ, তাদের শত্রুতা ও তাঁর বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর মর্যাদাকে পূর্ণতা দান করেছেন। তাঁকে ইলম এবং প্রচুর কিতাব সংগ্রহের তাওফিক দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি দীর্ঘ জীবন পাননি যার ফলে সেগুলো বর্ণনা ও প্রচারের ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে পারেনি। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

তাঁর সময়সমূহ: তিনি তাঁর সময়ের কোনো কিছুই উপকার ছাড়া নষ্ট করতেন না। তিনি ফজরের সালাত আদায় করতেন এবং মানুষকে কুরআন শেখাতেন, কখনো কখনো হাদিস থেকেও কিছু পাঠ করতেন। এরপর উঠে অজু করতেন এবং জোহরের আগ পর্যন্ত নফল সালাত আদায় করতেন। এরপর জোহর পর্যন্ত অল্প সময় ঘুমাতেন এবং জোহর থেকে মাগরিব পর্যন্ত হয় হাদিস শোনানোর কাজে অথবা অনুলিপিকরণের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। যদি তিনি রোজা থাকতেন তবে মাগরিবের পর ইফতার করতেন, আর রোজা না থাকলে মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন। এশার সালাত আদায়ের পর মধ্যরাত বা তার পর পর্যন্ত ঘুমাতেন। এরপর এমনভাবে জেগে উঠতেন যেন কেউ তাকে জাগিয়ে দিয়েছে, এরপর অজু করে কিছুক্ষণ সালাত পড়তেন, তারপর আবার অজু করে সালাত পড়তেন, তারপর আবার অজু করে ফজর হওয়া পর্যন্ত এভাবেই সালাত পড়তেন। কখনো কখনো তিনি রাতে সাতবার অজু করতেন। এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন: যতক্ষণ আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সিক্ত থাকে ততক্ষণ সালাত আমার কাছে তৃপ্তিদায়ক মনে হয়। এরপর ফজরের আগ পর্যন্ত সামান্য সময় ঘুমাতেন এবং এটাই ছিল তাঁর অভ্যাস। তাঁর ভাই ইমাদ বলেন: আমি আমার ভাইয়ের চেয়ে অধিক সময় সচেতন আর কাউকে দেখিনি। যিয়া বলেন: আমি মাহমুদ বিনকে বলতে শুনেছি...

--------------------------------------------

১ আল-বিদায়া ১৩/৩৯।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ১৫)
سلامة التاجر الحراني يقول: كان الحافظ عبد الغني نازلاً عندي بأصبهان وما كان ينام من الليل إلا قليلاً بل يصلي ويقرأ ويبكي1.

ما ابتلي به الحافظ: قال ابن كثير في ترجمته: ثم رحل إلى أصبهان فسمع بها الكثير ووقف على مصنف للحافظ أبي نعيم في أسماء الصحابة فأخذ في مناقشته في أماكن من الكتاب في مائة وتسعين موضعاً فغضب بنو الخجندي من ذلك وأرادوا هلاكه فخرج منها مختفياً في إزار، ولما دخل الموصل في طريقه سمع بها كتاب العقيلي في الجرح والتعديل فثار عليه الحنفية بسبب أبي حنيفة فخرج منها -أيضاً- خائفاً يترقب فلما ورد دمشق كان يقرأ الحديث بعد صلاة الجمعة برواق الحنابلة من جامع دمشق فاجتمع الناس عليه وإليه وكان رقيق القلب سريع الدمعة فحصل له قبول من الناس جداً وانتفع الناس بمجالسه كثيراً فوقع الحسد عند المخالفين من أهل دمشق فجهزوا الناصح الحنبلي فتكلم تحت قبة النسر وأمروه أن يجهر بصوته مهما أمكنه حتى يشوش عليه فحول عبد الغني ميعاده إلى بعد العصر فذكر يوماً عقيدته فثار عليه القاضي ابن الزكي وضياء الدين الدولعي وعقدوا له مجلساً في القلعة يوم الاثنين الرابع والعشرين من شهر ذي القعدة سنة خمس وتسعين وخمسمائة، وتكلموا معه في مسألة العلو ومسألة النزول ومسألة الحرف والصوت وطال الكلام وظهر عليهم

--------------------------------------------

1 السير 21/452-453.
সালামাহ আত-তাজির আল-হাররানি বলেন: হাফিজ আব্দুল গনি ইসফাহানে আমার নিকট অবস্থান করছিলেন। তিনি রাতে খুব সামান্যই ঘুমাতেন, বরং তিনি সালাত আদায় করতেন, কুরআন পাঠ করতেন এবং কাঁদতেন১।

হাফিজ যে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন: ইবনে কাসির তার জীবনীতে বলেন: অতঃপর তিনি ইসফাহানে গমন করেন এবং সেখানে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি সাহাবিগণের নামের বিষয়ে হাফিজ আবু নুআইমের একটি সংকলন দেখেন এবং সেই গ্রন্থের ১৯০টি স্থানে ভুল নিয়ে আলোচনা করেন। এতে বনু খুজান্দি রাগান্বিত হয় এবং তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। ফলে তিনি একটি চাদর আবৃত করে আত্মগোপন অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে যান। পথে যখন তিনি মসুলে প্রবেশ করেন, তখন সেখানে আল-উকাইলির 'আল-জারহু ওয়াত-তাদিল' গ্রন্থটি পাঠ করেন। এতে ইমাম আবু হানিফার প্রসঙ্গের কারণে হানাফিগণ তার বিরুদ্ধে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। ফলে তিনি সেখান থেকেও ভীত ও সতর্ক অবস্থায় বেরিয়ে যান। যখন তিনি দামেস্কে পৌঁছালেন, তখন জুমার সালাতের পর দামেস্ক জামে মসজিদের হাম্বলি বারান্দায় বসে হাদিস পাঠ করতেন। মানুষ তার চারপাশে সমবেত হতো। তিনি ছিলেন কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং খুব দ্রুত তার চোখে অশ্রু ঝরত। ফলে মানুষের কাছে তিনি দারুণভাবে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন এবং তার মজলিসগুলো থেকে মানুষ প্রচুর উপকৃত হয়। তখন দামেস্কের বিরোধীদের মধ্যে ঈর্ষার সৃষ্টি হয়। তারা আন-নাসিহ আল-হাম্বলিকে প্রস্তুত করে এবং তাকে কুব্বাতুন নাসরের নিচে উচ্চস্বরে কথা বলার জন্য পাঠায়। তারা তাকে নির্দেশ দেয় যেন সে যতটা সম্ভব উচ্চস্বরে কথা বলে যাতে আব্দুল গনির মজলিসে বিঘ্ন ঘটে। তখন আব্দুল গনি তার মজলিসের সময় আসরের পর নির্ধারণ করেন। একদিন তিনি তার আকিদা বা বিশ্বাস বর্ণনা করলেন, তখন বিচারক ইবনে যাকি এবং জিয়াউদ্দীন আদ-দাওলাই তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন। তারা ৫৯৫ হিজরি সনের ২৪ শে জিলকদ সোমবার কেল্লায় তার বিচারের জন্য একটি মজলিস ডাকলেন। তারা তার সাথে আল্লাহর উচ্চতা (উলু), আল্লাহর অবতরণ (নুজুল), হরফ ও শব্দ সংক্রান্ত মাসআলা নিয়ে বিতর্ক করলেন। দীর্ঘ সময় বিতর্ক চলল এবং তিনি তাদের ওপর জয়ী হলেন।

--------------------------------------------

১ আস-সিয়ার ২১/৪৫২-৪৫৩।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ১৬)
بالحجة، فقال له برغش نائب القلعة: كل هؤلاء على الضلالة وأنت على الحق؟ قال: نعم، فغضب برغش من ذلك وأمره بالخروج من البلد، فارتحل بعد ثلاث إلى بعلبك، ثم إلى القاهرة، فنزل عند الطحانين وصار يقرأ الحديث، فثار عليه الفقهاء أيضاً فكتبوا إلى الصفي بن شكر وزير العادل أنه قد أفسد عقائد الناس ويذكر التجسيم على رؤوس الأشهاد، فكتب إلى والي مصر بنفيه إلى المغرب فمات قبل وصول الكتاب إليه1قلت: عقيدة الحافظ عبد الغني هي عقيدة السلف رحمهم الله وهي الإيمان بآيات وأحاديث الصفات، وإثباتها لله من غير تشبيه ولا تعطيل ولا تأويل {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} قال الحافظ الضياء سمعت بعض أصحابنا يقول:-إن الحافظ أمر أن يكتب اعتقاده فكتب:- أقول كذا لقول الله كذا وأقول كذا لقول رسول الله صلي الله عليه وسلم التي يخالفون فيها، فلما وقف عليها الملك الكامل قال: إيش في هذا يقول بقول الله عز وجل وقول رسول الله صلي الله عليه وسلم الحافظ ابن رجب: قرأت بخط الإمام الذهبي: ولم يبد من الرجل أكثر مما يقوله خلق من العلماء الحنابلة والمحدثين من أن الصفات الثابتة محمولة على الحقيقة لا على المجاز أعني أنها تجري على مواردها لا يعبر عنها بعبارات أخرى كما فعلته المعتزلة أو المتأخرون من الأشعرية، هذا مع أن صفاته تعالى لا يماثلها

--------------------------------------------

1 البداية 13/39، وابن رجب في الذيل 2/26 ببعض التصرف.
দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে। দুর্গের নায়েব (উপ-প্রধান) বারগাশ তাকে বললেন: "এই সবাই কি পথভ্রষ্টতার ওপর আর আপনিই কেবল সত্যের ওপর?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" এতে বারগাশ রাগান্বিত হলেন এবং তাকে শহর ত্যাগের নির্দেশ দিলেন। তিন দিন পর তিনি বালবাক অভিমুখে যাত্রা করলেন, এরপর কায়রোতে গেলেন। সেখানে তিনি আত্তাহানিন এলাকায় অবস্থান নিলেন এবং হাদীস পাঠ করাতে শুরু করলেন। সেখানেও ফকীহগণ তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন। তারা আদিল-এর উজির সাফি বিন শুকর-এর কাছে পত্র লিখলেন যে, তিনি মানুষের আকিদা নষ্ট করে দিচ্ছেন এবং জনসম্মুখে তাজসিম (সাকারবাদ) উল্লেখ করছেন। অতঃপর তিনি মিশরের ওয়ালির কাছে তাকে মাগরিব (মরক্কো) অঞ্চলে নির্বাসিত করার জন্য পত্র লিখলেন, কিন্তু সেই পত্র পৌঁছানোর আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।১ আমি বলি: হাফিজ আব্দুল গনি-এর আকিদা হলো সালাফদের (আল্লাহ তাদের রহমত করুন) আকিদা। আর তা হলো আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলী সম্পর্কিত আয়াত ও হাদীসসমূহের ওপর ঈমান আনা এবং কোনো প্রকার সদৃশকরণ (তাশবিহ), অস্বীকারকরণ (তাতিল) কিংবা অপব্যাখ্যা (তাউয়িল) ছাড়াই আল্লাহর জন্য তা সাব্যস্ত করা। {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা}। হাফিজ যিয়া বলেন: আমি আমাদের কিছু সঙ্গীকে বলতে শুনেছি যে, হাফিজকে তার আকিদা লিখে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি লিখেছিলেন: "আমি অমুক কথা বলি কারণ আল্লাহ তাআলা এই কথা বলেছেন, আর আমি অমুক কথা বলি কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা বলেছেন"—যেসব বিষয়ে তারা তার বিরোধিতা করছিল। যখন বাদশাহ আল-কামিল এটি দেখলেন, তখন তিনি বললেন: "এতে সমস্যা কোথায়? তিনি তো মহান আল্লাহর কথা এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথাই বলছেন।" হাফিজ ইবনে রজব বলেন: আমি ইমাম যাহাবীর স্বহস্তে লিখিত নোটে পড়েছি: এই ব্যক্তি (হাফিজ আব্দুল গনি) এমন কিছুর বেশি প্রকাশ করেননি যা হাম্বলী উলামাগণ ও মুহাদ্দিসগণের এক বিশাল দল বলে থাকেন; আর তা হলো—সাব্যস্ত সিফাত বা গুণাবলীগুলোকে রূপক হিসেবে নয় বরং প্রকৃত (হাকিকত) অর্থেই গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ, এগুলোকে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই বহাল রাখতে হবে, মুতাজিলা বা পরবর্তী আশআরিদের মতো অন্য কোনো শব্দ দ্বারা এর ব্যাখ্যা করা যাবে না। আর এর সাথে সাথে মহান আল্লাহর গুণাবলী অন্য কিছুর সদৃশ নয়।

--------------------------------------------

১ আল-বিদায়া ১৩/৩৯, এবং ইবনে রজব, আয-যাইল ২/২৬, কিছুটা পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ১৭)
شيء، وبكل حال فالحافظ عبد الغني من أهل الدين والعلم والتأله والصدع بالحق ومحاسنه كثيرة فنعوذ بالله من الهوى والمرا والعصبية والافتراء ونبرأ من كل مجسم ومعطل1.

شيوخه: سمع أبا الفتح بن البطي وأبا الحسن علي بن رباح الفراء، وابن المني والشيخ عبد القادر الجيلي وهبة الله ابن هلال الدقاق وأبا زرعة المقدسي ومعمر بن الفاخر وأحمد ابن المقرب ويحيى بن ثابت وأبا بكر بن النقور وأحمد بن عبد الغني الباجسرائي، وعدة ببغداد، والحافظ أبا طاهر السلفي بالإسكندرية وأقام عنده ثلاث سنين فكتب عنه نحوا من ألف جزء، وبدمشق من أبي المكارم بن هلال وسلمان بن علي الرحبي وأبا المعالي بن صابر وعدة، وبمصر محمد بن علي الرحبي وعبد الله بن بري وطائفة، وبأصبهان الحافظ أبا موسى المديني وأبا الوفاء محمود بن حمكا وأبا الفتح الخرقي وابن ينال الترك ومحمد بن عبد الواحد الصائغ وحبيب بن إبراهيم الصوفي، وبالموصل أبا الفضل الطوسي وغيرهم من الأئمة المشهود لهم بالعلم والفضل2.

تلاميذه: حدث عنه الشيخ موفق الدين وأولاده الثلاثة الحافظ عز الدين محمد والحافظ أبو موسى عبد الله والفقيه أبو سليمان، والحافظ الضياء المقدسي والخطيب سليمان بن

--------------------------------------------

1 ذيل طبقات الحنابلة 2/24، سير أعلام النبلاء 21/465.

2 سير أعلام النبلاء 21/444.
...যাই হোক, হাফেজ আব্দুল গনি দ্বীনদারী, ইলম, ইবাদত এবং সত্য প্রকাশে আপসহীন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর গুণাবলি অসংখ্য। আমরা প্রবৃত্তি, বিবাদ, গোঁড়ামি এবং মিথ্যা অপবাদ থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই এবং আমরা প্রত্যেক মুজাস্সিম ও মুয়াত্তিল থেকে সম্পর্ক ছিন্ন ঘোষণা করছি ১।

তাঁর শিক্ষকগণ: তিনি আবুল ফাতহ বিন আল-বাত্তি, আবুল হাসান আলী বিন রাবাহ আল-ফাররা, ইবনুল মান্নি, শায়খ আব্দুল কাদির আল-জিলানি, হিবাতুল্লাহ ইবনে হিলাল আদ-দাক্কাক, আবু জুরআহ আল-মাকদিসি, মুয়াম্মার বিন আল-ফাখির, আহমদ ইবনুল মুকাররাব, ইয়াহইয়া বিন সাবিত, আবু বকর বিন আন-নাকুর এবং আহমদ বিন আব্দুল গনি আল-বাজাসরায়ি সহ বাগদাদের অনেকের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় হাফেজ আবু তাহের আস-সালাফির নিকট তিন বছর অবস্থান করেন এবং তাঁর নিকট থেকে প্রায় এক হাজার জুজ (খণ্ড) লিপিবদ্ধ করেন। দামেস্কে আবু আল-মাকারিম বিন হিলাল, সালমান বিন আলী আর-রাহবি, আবু আল-মাআলি বিন সাবির এবং আরও অনেকের থেকে; মিশরে মুহাম্মদ বিন আলী আর-রাহবি, আব্দুল্লাহ বিন বাররি এবং একদল আলেম থেকে; ইসফাহানে হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনি, আবু আল-ওয়াফা মাহমুদ বিন হামকা, আবু আল-ফাতহ আল-খারকি, ইবনে ইয়ানাল আত-তুর্কি, মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আস-সাইগ এবং হাবিব বিন ইব্রাহিম আস-সুফি থেকে; এবং মসুলে আবু আল-ফাদল আত-তুসি ও আরও অনেক ইমামদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন যাদের জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনস্বীকৃত ২।

তাঁর ছাত্রগণ: তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন শায়খ মুওয়াফফাকুদ্দীন এবং তাঁর তিন পুত্র—হাফেজ ইজ্জুদ্দীন মুহাম্মদ, হাফেজ আবু মুসা আব্দুল্লাহ ও ফকিহ আবু সুলায়মান; এবং হাফেজ দিয়া আল-মাকদিসি ও খতিব সুলায়মান বিন...

--------------------------------------------

১. জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ২/২৪, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/৪৬৫।

২. সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/৪৪৪।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ১৮)
رحمه الأسعردي والبهاء عبد الرحمن، والشيخ الفقيه محمد اليونيني والزين بن عبد الدائم وأبو الحجاج ابن خليل والتقي اليلذاني والشهاب القوصي وعبد العزيز بن عبد الجبار القلانسي والواعظ عثمان بن مكي الشارعي وأحمد بن حامد الأرناحي وإسماعيل بن عبد القوي بن عزون وأبو عيسى عبد الله بن علاق الرزاز … وخلق آخرهم موتاً سعد الدين محمد بن مهلهل الجيني، وروى عنه بالإجازة شيخنا أحمد بن أبي الخير الحداد1.

مصنفاته2:

1ـ "المصباح في عيون الأحاديث الصحاح"مشتمل على أحاديث الصحيحين فهو مستخرج عليهما بأسانيده في ثمانية وأربعين جزء.

2ـ"هاية المراد من كلام خير العباد"لم يبيض كله في السنن نحو مائتي جزء.

3ـ "كتاب اليواقيت" مجلد

4ـ كتاب "حفة الطالبين في والمجاهدين"

5ـ كتاب " الآثار المرضية في فضائل خير البرية" أربعة أجزاء

6ـ كتاب "الروضة"أربعة أجزاء

--------------------------------------------

1 الذهبي: سير أعلام النبلاء 21/446.

2 انظر: سير أعلام النبلاء 21/446-448، وذيل طبقات الحنابلة 2/18-19 وانظر عن مخطوطاتها وأماكن وجودها: تاريخ الأدب العربي 6/185 وما بعدها.
রাহমাহ আল-আসআর্দি এবং আল-বাহা আব্দুর রহমান, শায়খ ফকিহ মুহাম্মাদ আল-ইউনিনি, আয-যাইন বিন আব্দুল দায়িম, আবু আল-হাজ্জাজ ইবন খলিল, আত-তাকি আল-ইয়ালদানি, আশ-শিহাব আল-কুসি, আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল জাব্বার আল-কালানিসি, ওয়াইজ উসমান বিন মাক্কি আশ-শারিই, আহমাদ বিন হামিদ আল-আরনাহি, ইসমাইল বিন আব্দুল কায়ি বিন আযযুন এবং আবু ইসা আব্দুল্লাহ বিন আল্লাক আর-রাযযায … এবং তাদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি হলেন সাদ আদ-দিন মুহাম্মাদ বিন মুহালহিল আল-জিনি, আর আমাদের শায়খ আহমাদ বিন আবি আল-খায়ের আল-হাদ্দাদ ইজাযতের মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন১।

তাঁর রচনাবলি২:

১- "আল-মিসবাহ ফি উয়ুনিল আহাদিসিস সাহাহ" যা সহিহাইন-এর হাদিসসমূহের ওপর সংবলিত, এবং এটি আটচল্লিশ খণ্ডে নিজস্ব সনদসহ উক্ত কিতাবদ্বয়ের ওপর একটি মুস্তাখরাজ।

২- "নিহায়াতুল মুরাদ মিন কালামি খাইরিল ইবাদ" যা সুনান বিষয়ক প্রায় দুইশত খণ্ড, তবে এর পুরোটা পাণ্ডুলিপি আকারে চূড়ান্ত করা হয়নি।

৩- "কিতাবুল ইয়াওয়াকিত" এক খণ্ড

৪- কিতাব "তুহফাতুত তালিবিন ফি ওয়াল মুজাহিদিন"

৫- কিতাব "আল-আসারুল মারদিয়্যাহ ফি ফাদায়িলি খাইরিল বারিয়্যাহ" চার খণ্ড

৬- কিতাব "আর-রাওদাহ" চার খণ্ড

--------------------------------------------

১ আয-যাহাবি: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/৪৪৬।

২ দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/৪৪৬-৪৪৮, এবং জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ ২/১৮-১৯। আর এর পাণ্ডুলিপি এবং প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে দেখুন: তারিখুল আদাবিল আরাবি ৬/১৮৫ এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ১৯)
7ـ كتاب "الذكر"جزآن

8ـ كتاب "الأسرار"جزآن.

9ـ كتاب "التهجد"جزآن.

10ـ كتاب " الفرج " جزآن

11ـ كتاب "الصلات من الأحياء إلي الأموات "جزآن

12ـ كتاب " الصفات "جزآن

13ـ كتاب " محنة الإمام أحمد "لاثة أجزاء.

14ـ كتاب" ذم الريالءجزء كبير

15ـ كتاب "ذم الغيبة " جزء ضخم

16ـ كتاب " الترغيب في الدعاء جزء كبير وقد طبع بتحقيق يوسف محمد بن حسن سنة 1411هـ القاهرة ثم طبع بتحقيق فالح الصغير ونشرته دار العاصمة بالرياض سنة 1417هـ

18ـ كتاب " الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر " جزء

19ـ كتاب " الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر " طبع بتحقيق سمير أمين الزهيري ونشرته دار السلف بالرياض

20ـ كتاب " فضائل رمضان " جزء

21ـ جزء في فضائل عشر ذي الحجة

22ـ جزء في فضائل الصدقة

23ـ جزء في فضائل الحج

24ـ جزء في فضائل رجب

25ـ جزء في وفاة النبي صلي الله عليه وسلم

26ـ جزء في الأقسام التي أقسم بها النبي صلي الله عليه وسلم

27ـ كتاب " الأربعين "

28ـ كتاب " الأربعين " آخر
7ـ "যিকর" গ্রন্থ, দুই খণ্ড।

8ـ "আসরার" (রহস্যসমূহ) গ্রন্থ, দুই খণ্ড।

9ـ "তাহাজ্জুদ" গ্রন্থ, দুই খণ্ড।

10ـ "আল-ফারাজ" (বিপদমুক্তি) গ্রন্থ, দুই খণ্ড।

11ـ "জীবিতদের পক্ষ থেকে মৃতদের নিকট পৌঁছানো উপঢৌকন" গ্রন্থ, দুই খণ্ড।

12ـ "আস-সিফাত" (গুণাবলি) গ্রন্থ, দুই খণ্ড।

13ـ "ইমাম আহমদের মিহনা" (পরীক্ষা ও নিপীড়ন) গ্রন্থ, তিন খণ্ড।

14ـ "রিয়ার (লোকদেখানো আমল) নিন্দা" গ্রন্থ, বড় এক খণ্ড।

15ـ "গীবতের (পরনিন্দা) নিন্দা" গ্রন্থ, বিশাল এক খণ্ড।

16ـ "দুআর প্রতি উৎসাহ প্রদান" গ্রন্থ, বড় এক খণ্ড; এটি ১৪১১ হিজরিতে কায়রোতে ইউসুফ মুহাম্মদ বিন হাসানের তাহকীকে মুদ্রিত হয়েছে, অতঃপর ফালিহ আস-সাগীরের তাহকীকে মুদ্রিত হয়েছে এবং রিয়াদের দারুল আসিমাহ ১৪১৭ হিজরিতে এটি প্রকাশ করেছে।

18ـ "সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ" গ্রন্থ, এক খণ্ড।

19ـ "সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ" গ্রন্থ, এটি সমীর আমিন আল-জুহাইরির তাহকীকে মুদ্রিত এবং রিয়াদের দারুস সালাফ কর্তৃক প্রকাশিত।

20ـ "রমজানের ফজিলত" গ্রন্থ, এক খণ্ড।

21ـ জিলহজ মাসের (প্রথম) দশ দিনের ফজিলত সম্পর্কিত একটি খণ্ড।

22ـ সদকার ফজিলত সম্পর্কিত একটি খণ্ড।

23ـ হজের ফজিলত সম্পর্কিত একটি খণ্ড।

24ـ রজব মাসের ফজিলত সম্পর্কিত একটি খণ্ড।

25ـ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকাল সম্পর্কিত একটি খণ্ড।

26ـ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল শপথ করেছেন সেই শপথগুলো সম্পর্কিত একটি খণ্ড।

27ـ "আল-আরবাঈন" (চল্লিশ হাদিস) গ্রন্থ।

28ـ অপর একটি "আল-আরবাঈন" গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ২০)
29ـ كتاب " الأربعين من كلام رب العالمين "

30ـ كتاب " الأربعين بسند واحد " رابع "

31ـ كتاب " اعتقاد الإمام الشافعي " جزء كبير

32ـ كتاب " الحكايات " سبعة أجزاء

33ـ كتاب " غنية الحافظ في تحقيق مشكل الألفاظ " في مجلدين.

34ـ كتاب "الجامع الصغير لأحكام البشير النذير" لم يتمه.

35ـ خمسة أجزاء من كتاب لم يتمه على صفة.

36ـ كتاب "من صبر ظفر".

37ـ وجزء في "ذكر القبور".

38ـ أجزاء أخرجها من الأحاديث والحكايات كان يقرؤها في المجالس تزيد على مائة جزء.

39ـ جزء في مناقب عمر بن عبد العزيز.

40ـ "مناقب الصحابة" عدة أجزاء.

وأشياء كثيرة جداً ما تمت والجميع بأسانيده بخطه المليح الشديد السرعة.

ومن الكتب بلا إسناد:

41ـ كتاب "الأحكام على أبواب الفقه" ستة أجزاء"مجلد".

42ـ كتاب "العمدة في الأحكام1 مما اتفق عليه

--------------------------------------------

1 طبع عدة طبعات.
২৯ـ "বিশ্বজগতের রবের বাণীসমূহ হতে চল্লিশ হাদীস" গ্রন্থ।

৩০ـ "একই সনদে বর্ণিত চল্লিশ হাদীস" গ্রন্থ - চতুর্থ খণ্ড।

৩১ـ "ইমাম শাফিঈর আকীদা" গ্রন্থ - একটি বড় খণ্ড।

৩২ـ "আল-হিকায়াত (গল্পগুচ্ছ)" গ্রন্থ - সাতটি খণ্ড।

৩৩ـ "জটিল শব্দাবলির তাহকীকে হাফেযের পাথেয়" গ্রন্থ - দুই খণ্ডে।

৩৪ـ "সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীর বিধিবিধানের সংক্ষিপ্ত সংকলন" গ্রন্থ - যা তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি।

৩৫ـ একটি গ্রন্থের পাঁচটি খণ্ড যা তিনি নির্দিষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী সমাপ্ত করতে পারেননি।

৩৬ـ "যে ধৈর্য ধরে, সে সফল হয়" গ্রন্থ।

৩৭ـ "কবরসমূহের আলোচনা" বিষয়ক একটি খণ্ড।

৩৮ـ হাদীস ও গল্পসমূহ হতে সংকলিত কিছু খণ্ড যা তিনি বিভিন্ন মজলিসে পাঠ করতেন, যার সংখ্যা একশটিরও বেশি।

৩৯ـ উমর বিন আব্দুল আযীযের গুণাবলি বিষয়ক একটি খণ্ড।

৪০ـ "সাহাবীগণের গুণাবলি" - বেশ কয়েকটি খণ্ড।

এবং এমন আরও অনেক বিষয় যা সমাপ্ত হয়নি, যার সবই তাঁর সুন্দর ও অত্যন্ত দ্রুত হস্তাক্ষরে এবং সনদসহ লিখিত।

সনদবিহীন গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:

৪১ـ "ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিধিবিধান" গ্রন্থ - ছয়টি অংশ (এক খণ্ড)।

৪২ـ "বিধিবিধানের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি"১ যা ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়াবলি হতে সংকলিত।

--------------------------------------------

১ এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ২১)
البخاري ومسلم" جزآن "مجلدين".

43ـ كتاب "درر الأثر على حروف المعجم" تسعة أجزاء "مجلد".

44ـ كتاب "سيرة النبي صلى الله عليه وسلم " جزء كبير طبع بتحقيق السيدة هديان أديب الضناوي ونشرته دار الجنان ببيروت 1410هـ.

45ـ كتاب "النصيحة في الأدعية الصحيحة"1.

46ـ كتاب "الاقتصاد في الاعتقاد" جزء كبير.

47ـ كتاب "تبيين الإصابة لأوهام حصلت لأبي نعيم في معرفة الصحابة" جزآن تدلان على براعته وحفظه.

48ـ كتاب "الكمال في معرفة الرجال" 2. يشتمل على رجال الصحيحين وأبي داود والترمذي والنسائي وابن ماجة3 في أربعة أسفار يروي فيه بأسانيده. وهذا ما ذكره الذهبي وابن رجب من مؤلفاته وزاد

غيرهما عليها ما يلي:

49ـ "أبو العاص بن الربيع".

50ـ"صلاة النبي صلى الله عليه وسلم ليلة الإسراء".

52ـ "حديث الإفك". طبع بتحقيق أبي إسماعيل هشام بن إسماعيل السقا ونشرته دار عالم الكتب بالرياض1405هـ.

53ـ "فضائل عمر بن الخطاب".

--------------------------------------------

1 طبع بتحقيق محمود الأرنؤوط ونشرته مؤسسة الرسالة بيروت سنة 1401هـ.

2 قام بتهذيبه وزاد عليه الحافظ المزي. وقد طبع بتحقيق د. بشار معروف ونشرته مؤسسة الرسالة، في خمسة وثلاثين مجلداً.

3 عبد الغني هو أول من جمع رجال الكتب الستة في مصنف واحد، نعم ألف قبله الحافظ ابن عساكر ""المعجم المشتمل"" لكنه خصصه لشيوخ الكتب الستة فقط.
বুখারী ও মুসলিম" দুই অংশ "দুই জিলদ"।

৪৩ـ কিতাব "দুরারুল আসার আলা হুরুফিল মু'জাম" নয়টি অংশ "এক জিলদ"।

৪৪ـ কিতাব "সিরাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" একটি বড় খণ্ড, যা সায়্যিদাহ হাদইয়ান আদীব আদ-দানাওয়ি-এর তাহকীকসহ মুদ্রিত হয়েছে এবং বৈরুতের দারুল জিনান ১৪১০ হিজরিতে এটি প্রকাশ করেছে।

৪৫ـ কিতাব "আন-নাসিহা ফিল আদঈয়াতিস সাহিহা"১।

৪৬ـ কিতাব "আল-ইকতিসাদ ফিল ইতিকাদ" একটি বড় খণ্ড।

৪৭ـ কিতাব "তাবয়িনুল ইসাবাহ লি-আওহামিন হাসালাত লি-আবি নুয়াইম ফি মারিফাতিস সাহাবাহ" দুই খণ্ড, যা তাঁর দক্ষতা ও হেফযের (স্মৃতিশক্তির) প্রমাণ দেয়।

৪৮ـ কিতাব "আল-কামাল ফি মারিফাতির রিজাল" ২। এতে সহীহাইন, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ ৩-এর বর্ণনাকারীদের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে চারটি বড় খণ্ডে, যা তিনি স্বীয় সনদসহ বর্ণনা করেছেন। এটি আয-যাহাবি ও ইবনে রজব তাঁর গ্রন্থ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং অন্যরা এর সাথে আরও যা যুক্ত করেছেন তা হলো:

অন্যরা এর সাথে নিম্নোক্তগুলো যুক্ত করেছেন:

৪৯ـ "আবুল আস ইবনুল রাবি"।

৫০ـ "ইসরা বা মিরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাত"।

৫২ـ "হাদিসুল ইফক"। এটি আবু ইসমাইল হিশাম ইবনে ইসমাইল আস-সাক্কার তাহকীকসহ মুদ্রিত হয়েছে এবং রিয়াদের দারু আলমিল কুতুব ১৪০৫ হিজরিতে প্রকাশ করেছে।

৫৩ـ "ফাদায়িলু উমর ইবনুল খাত্তাব" (উমর ইবনুল খাত্তাবের শ্রেষ্ঠত্ব)।

--------------------------------------------

১ মাহমুদ আল-আরনাউতের তাহকীকসহ মুদ্রিত এবং ১৪০১ হিজরিতে বৈরুতের মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত।

২ হাফেজ আল-মিযযি এটিকে পরিমার্জন করেছেন এবং এতে সংযোজন করেছেন। এটি ডক্টর বাশার মারুফের তাহকীকসহ পঁয়ত্রিশ খণ্ডে মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

৩ আব্দুল গনি হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি কুতুবে সিত্তার বর্ণনাকারীদের একটি সংকলনে একত্রিত করেছেন। তবে এর আগে হাফেজ ইবনে আসাকির "আল-মু'জামুল মুশতামিল" রচনা করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা শুধুমাত্র কুতুবে সিত্তার শায়খদের জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ২২)
54ـ "تلخيص كتاب الكنى للحاكم".

55ـ "أخبار الحسن البصري".

56ـ "عقيدة" ذكرها جميعاً برو كلمان، طبع عدة مرات.

57ـ "أشراط الساعة" 1.

58ـ "نزهة السامعين من أخبار سيد المرسلين" 2.

59ـ "أحاديث الشعرا" طبع بتحقيق إحسان عبد المنان الجبالي ونشرته المكتبة الإسلامية بالأردن سنة1410هـ.

60ـ"تحريم القتل وتعظيمه" طبع بتحقيق أبي عبد الله عمار بن سعيد تمالت، ونشرته دار ابن حزم بالرياض سنة 1420هـ.

61ـ "التوحيد" طبع بتحقيق مصعب بن عطا الله الحايك، ونشرته دار المسلم بالرياض سنة 1419هـ.

وفاته: مازال رحمه الله يتحف الأمة بعلمه وكتبه ورسائله القيمة ويعبد الله عز وجل ويدعو الناس إلى دينه حتى توفاه الله يوم الاثنين الثالث والعشرين من شهر ربيع الأول سنة ستمائة للهجرة وله تسع وخمسون سنة. ودفن بمقبره القرافة بمصر إلى جوار الشيخ أبي عمرو بن مرزوق رحمه الله وأسكنه فسيح جناته. وقد رثاه غير واحد من الأئمة منهم الإمام أبو عبد الله محمد بن سعد المقدسي الأديب بقصيدة طويلة مطلعها:

هذا الذي كنت يوم البين أحتسب … فليقض دمعي عنك بعض ما يجب

وقد خلف من الولد عز الدين أبو الفتح محمد، وجمال الدين أبو موسى، وأبو سليمان عبد الرحمن، ثلاثتهم من العلماء رحمهم الله.

--------------------------------------------

1 ذكره الكتاني في الرسالة المستطرفة 49.

2 نفس المصدر 182.
৫৪- "তালখিসু কিতাবিল কুনা লিল হাকিম" (ইমাম হাকিম রচিত কুনিয়া বিষয়ক গ্রন্থের সারসংক্ষেপ)।

৫৫- "আখবারুল হাসান আল-বাসরি" (হাসান বসরির সংবাদসমূহ)।

৫৬- "আকিদাহ" (আকিদা বিষয়ক গ্রন্থ), ব্রোকেলম্যান এই সবগুলো উল্লেখ করেছেন, এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।

৫৭- "আশরাতুস সা'আহ" (কিয়ামতের আলামতসমূহ) ১।

৫৮- "নুযহাতুস সামিঈন মিন আখবারি সাইয়িদিল মুরসালিন" (রাসূলগণের সরদারের সংবাদসমূহ হতে শ্রোতাদের চিত্তবিনোদন) ২।

৫৯- "আহাদিসুশ শুআরা" (কবিদের হাদিসসমূহ), ইহসান আব্দ আল-মান্নান আল-জিবালির সম্পাদনায় মুদ্রিত এবং জর্ডানের আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ কর্তৃক ১৪১০ হিজরিতে প্রকাশিত।

৬০- "তাহরিমুল কাতলি ওয়া তা'জিমিহি" (হত্যা হারাম হওয়া এবং এর ভয়াবহতা), আবু আব্দুল্লাহ আম্মার বিন সাঈদ তামালতের সম্পাদনায় মুদ্রিত এবং রিয়াদের দারু ইবনে হাযম কর্তৃক ১৪২০ হিজরিতে প্রকাশিত।

৬১- "আত-তাওহিদ" (তাওহিদ), মুসআব বিন আতাউল্লাহ আল-হায়িকের সম্পাদনায় মুদ্রিত এবং রিয়াদের দারুল মুসলিম কর্তৃক ১৪১৯ হিজরিতে প্রকাশিত।

তাঁর মৃত্যু: আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি তাঁর ইলম, কিতাবসমূহ এবং মূল্যবান পত্রাবলির মাধ্যমে উম্মতকে উপকৃত করা অব্যাহত রাখেন এবং মহান আল্লাহর ইবাদত ও মানুষকে তাঁর দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিতে থাকেন; পরিশেষে হিজরি ৬০০ সনের রবিউল আউয়াল মাসের তেইশ তারিখ সোমবার আল্লাহ তাঁর মৃত্যু ঘটান। সে সময় তাঁর বয়স ছিল উনষাট বছর। তাঁকে মিশরের কারাফা কবরস্থানে শাইখ আবু আমর বিন মারযুক রহ.-এর পাশে দাফন করা হয়; আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে বসবাস দান করুন। একাধিক ইমাম তাঁর শোকগাথা রচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে বিশিষ্ট সাহিত্যিক ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সা’দ আল-মাকদিসি একটি দীর্ঘ কবিতা রচনা করেন, যার প্রারম্ভিক অংশ ছিল নিম্নরূপ:

বিচ্ছেদের দিনে আমি যার আশঙ্কা করছিলাম তা-ই এই মুহূর্ত... সুতরাং আপনার বিরহে আমার অশ্রু যেন তার আবশ্যকীয় হকের কিয়দাংশ পূরণ করে।

সন্তানদের মধ্যে তিনি ইজ্জুদ্দিন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ, জামালুদ্দিন আবু মুসা এবং আবু সুলাইমান আব্দুর রহমান-কে রেখে গেছেন; তাঁরা তিনজনই আলেম ছিলেন, আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

--------------------------------------------

১ কাত্তানি এটি 'আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ' এর ৪৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

২ একই উৎস, ১৮২।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ২৩)
ثانياً: وصف النسخ الخطية

اعتمدت في تحقيق هذه العقيدة على ثلاث نسخ خطية هي كما يلي:

الأولى:" وهي الأصل وهي التي اعتمدت عليها في تحقيق الكتاب" وهي نسخة نفيسة جداً إذ يعود تاريخ نسخها إلى سنة خمس وستين وستمائة وخطها جيد ومضبوط وعليها تصحيح ومقابلة لأحد العلماء كتب في نهايتها:"قوبل بنسخة بخط الشيخ المؤلف رضي الله عنه" وناسخها اسمه أبو الحرم بن علي برسم السمس محمد بن علوي في سنة 665هـ وعدد أوراقها ثماني عشر ورقة مسطرتها 18 × 13 سم وعدد الأسطر 17 سطراً تقريباً، وقد جعلتها الأصل واعتمدت عليها في تحقيق الكتاب لجودتها وضبطها وقرب تاريخها من وفاة المؤلف رحمه الله، ولمقابلتها أيضاً بنسخة المؤلف رحمه الله.

الثانية: صورتها من مكتبة الجامعة الإسلامية ولم يكتب الناسخ ولا تاريخ النسخ ويبدو من خطها أنها كتبت في الهند وخطها نسخ جيد وقد أخذت عليه بعض الأخطاء اليسيرة، وعدد أوراقها 20 ورقة ومسطرتها 19×13سم وعدد الأسطر 17 سطراً.

الثالثة: بقلم علي بن مطلق، وتقع ضمن مجموع فيه كتاب التوحيد للشيخ محمد بن عبد الوهاب وبعض الرسائل له، وبعض رسائل شيخ الإسلام ابن تيمية، وبعض الرسائل
দ্বিতীয়ত: পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনা

এই আকিদা গ্রন্থটির সম্পাদনায় (তাহকিক) আমি তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা নিম্নরূপ:

প্রথম: "এটিই মূল পাণ্ডুলিপি এবং বইটির সম্পাদনায় আমি এর ওপরই নির্ভর করেছি।" এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি কপি, কারণ এর অনুলিপি তৈরির ইতিহাস ৬৬৫ হিজরি। এর হস্তাক্ষর চমৎকার ও নির্ভুল এবং এতে একজন আলিমের সংশোধন ও মূলের সাথে মিলিয়ে দেখার (মুকাবিলা) চিহ্ন রয়েছে। তিনি এর শেষে লিখেছেন: "এটি লেখক শাইখের—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—হস্তাক্ষরে লিখিত পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।" এর অনুলিপিকারীর নাম আবু আল-হারাম বিন আলী, যা ৬৬৫ হিজরিতে সামস মুহাম্মদ বিন আলাউয়ির নির্দেশে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পৃষ্ঠাসংখ্যা আঠারোটি, আকার ১৮ × ১৩ সেন্টিমিটার এবং প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা প্রায় ১৭টি। আমি এটিকে মূল হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং বইটির সম্পাদনায় এর ওপর নির্ভর করেছি এর উৎকর্ষ, নির্ভুলতা এবং লেখকের—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—মৃত্যুর সময়ের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে। এছাড়াও এটি লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

দ্বিতীয়: এটির অনুলিপি আমি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করেছি। অনুলিপিকারী তার নাম বা অনুলিপি করার তারিখ উল্লেখ করেননি। হস্তাক্ষর দেখে মনে হয় এটি ভারতে অনুলিপি করা হয়েছে। এর লিখনশৈলী সুন্দর নাসখ লিপিতে, তবে এতে কিছু সামান্য ভুল লক্ষ্য করা গেছে। এর পৃষ্ঠাসংখ্যা ২০টি, আকার ১৯×১৩ সেন্টিমিটার এবং লাইনের সংখ্যা ১৭টি।

তৃতীয়: এটি আলী বিন মুতলাকের হাতে লেখা। এটি একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত যাতে শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের কিতাবুত তাওহিদ ও তাঁর কিছু পুস্তিকা, এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর কিছু পুস্তিকা ও অন্যান্য কিছু পুস্তিকা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ২৪)
لعلماء نجد، ويرجع تاريخها إلى سنة 1307هـ تقريباً كما صرح به الناسخ في آخر كتاب الانتصار لحزب الله الموحدين للشيخ عبد الله أبا بطين رحمه الله، وخطها لا بأس به فاتته بعض الأخطاء اليسيرة، وعدد أوراقها 10 ورقات مسطرتها 22×15سم وعدد الأسطر 22 سطراً تقريباً.
এটি নজদ অঞ্চলের আলেমদের লিখিত, এবং এর সময়কাল আনুমানিক ১৩০৭ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত, যেমনটি অনুলিপিকারক শায়খ আবদুল্লাহ আবা বুতাইন (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আল-ইন্তিসার লি-হিযবিল্লাহিল মুওয়াহহিদিন’ গ্রন্থের শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এর হস্তলিপি সন্তোষজনক হলেও এতে সামান্য কিছু ভুলভ্রান্তি রয়ে গেছে। এর পত্র সংখ্যা ১০টি, এর পরিমাপ ২২×১৫ সেন্টিমিটার এবং লাইনের সংখ্যা আনুমানিক ২২টি।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثالثاً: عملي في الكتاب

1- قمت بنسخ نسخة الأصل وقابلتها مع النسختين، وأثبت الاختلاف في الهامش كما قابلتها مع المطبوعة في بعض المواضع.

2- جعلت للنصوص أرقاماً متسلسلة من أول الكتاب إلى آخره.

3- وضعت عناوين للموضوعات تسهيلاً للرجوع إلى موضوعات الكتاب.

4- خرجت أحاديث وآثار الكتاب بالرجوع إلى مصادرها من كتب السنة وذكرت ما قاله العلماء في الحكم عليها من حيث الصحة والضعف بإيجاز.

5- علقت على بعض المواضع التي رأيت أنها تحتاج إلى بيان وتوضيح.

6- شرحت الكلمات الغريبة في بعض الأحاديث.

7- عزوت الآيات القرآنية إلى مواضعها من كتاب الله.

8- وضعت الفهارس الآتية:

أ - فهرس الآيات.

ب- فهرس الأحاديث.

جـ- فهرس الآثار.

د- فهرس الأعلام.

هـ- فهرس الموضوعات.
তৃতীয়ত: কিতাবটিতে আমার কর্মপদ্ধতি

১- আমি মূল পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছি এবং অন্য দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে তা মিলিয়েছি, এবং পাঠভেদগুলো টীকায় লিপিবদ্ধ করেছি। এছাড়াও কিছু স্থানে ছাপানো কপির সাথেও মিলিয়ে দেখেছি।

২- আমি কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মূল পাঠগুলোর ধারাবাহিক নম্বর প্রদান করেছি।

৩- কিতাবের বিষয়বস্তুগুলোতে সহজে পৌঁছানোর সুবিধার্থে আমি বিভিন্ন শিরোনাম নির্ধারণ করেছি।

৪- আমি সুন্নাহর মূল উৎসগ্রন্থগুলোর উদ্ধৃতিসহ কিতাবের হাদিস ও আসারগুলোর তাখরিজ করেছি এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা বিচারে আলেমদের মতামত সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি।

৫- যেসব স্থানে ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের প্রয়োজন মনে করেছি, সেখানে টীকা যুক্ত করেছি।

৬- কিছু হাদিসের কঠিন বা অপরিচিত শব্দগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

৭- কুরআনের আয়াতগুলোকে আল্লাহর কিতাবে তাদের নির্দিষ্ট সূরার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি।

৮- আমি নিম্নোক্ত সূচিপত্রগুলো তৈরি করেছি:

ক - আয়াতের সূচিপত্র।

খ- হাদিসের সূচিপত্র।

গ- আসারের সূচিপত্র।

ঘ- ব্যক্তিবর্গের সূচিপত্র।

ঙ- বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ২৬)
المصطلحات التي استعملتها:

أنسخة الأصل.

جـ نسخة الجامعة الإسلامية.

ع النسخة الثالثة التي بخط علي بن مطلق.

ط المطبوعة.

تقريب: تقريب التهذيب لابن حجر.

فتح: فتح الباري شرح صحيح البخاري لابن حجر.
আমি যে পরিভাষাগুলো ব্যবহার করেছি:

আলিফ: মূল পাণ্ডুলিপি।

জিম: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি।

আইন: তৃতীয় পাণ্ডুলিপি যা আলী বিন মুতলাকের হস্তলিপিতে লিখিত।

ত্ব-আ: মুদ্রিত সংস্করণ।

তাকরিব: ইবনে হাজারের ‘তাকরিবুত তাহজিব’।

ফাতহ: ইবনে হাজারের ‘ফাতহুল বারি শারহু সহিহ আল-বুখারি’।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌مدخل

…

بسم الله الرحمن الرحيم

قال1 الشيخ الإمام العالم الزاهد الحافظ تقي الدين أبو محمد عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي رحمه الله:

1- الحمد لله المتفرد بالكمال والبقاء والعز والكبرياء الموصوف بالصفات والأسماء المنزه عن الأشباه والنظراء الذي سبق علمه في بريته بمحكم القضاء من السعادة والشقاء واستوى على عرشه فوق السماء، وصلى الله على الهادي إلى المحجة البيضاء والشريعة الغراء محمد سيد المرسلين والأنبياء وعلى آله وصحبه الطاهرين الأتقياء صلاة دائمة إلى يوم اللقاء2.

2- اعلم وفقنا الله وإياك لما يرضيه من القول والنية3 والعمل وأعاذنا وإياك من الزيغ والزلل أن صالح السلف وخيار

--------------------------------------------

1 في "ج" بعد البسملة: رب يسر وأعن والحمد لله وحده وحسبنا الله ونعم الوكيل: قال الشيخ.

وفي "ع" بعد البسملة: وبه نستعين وعليه نتوكل: الحمد لله المتفرد.. وليس فيه من قوله: قال الشيخ.. إلى آخره، وكذا في المطبوعة.

2 في "ع" البقاء وكذا في المطبوعة.

3 في "ج" السنة.
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শাইখ, ইমাম, আলিম, যাহেদ, হাফিয তাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনী বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর আল-মাকদিসী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন:

১- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পরিপূর্ণতা, স্থায়িত্ব, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বে একক; যিনি গুণাবলী ও নামসমূহে ভূষিত; যিনি সদৃশ ও সমকক্ষ থেকে পবিত্র; যাঁর জ্ঞান তাঁর সৃষ্টির মাঝে সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের বিষয়ে অকাট্য ফয়সালা অনুযায়ী অগ্রবর্তী হয়েছে এবং যিনি আকাশের উপরে তাঁর আরশের উপর উঠেছেন। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক উজ্জ্বল পথ ও দীপ্তিময় শরীয়তের দিকে পথপ্রদর্শক, রাসূল ও নবীগণের সরদার মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও মুত্তাকী পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর; সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত চিরস্থায়ী দরুদ।

২- জেনে রাখো—আল্লাহ আমাদের ও তোমাকে তাঁর সন্তুষ্টিমূলক কথা, নিয়ত ও আমলের তাওফীক দান করুন এবং তিনি আমাদের ও তোমাকে বিচ্যুতি ও পদস্খলন থেকে রক্ষা করুন—নিশ্চয়ই নেককার পূর্বসূরি (সালাফ) এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ...

--------------------------------------------

১ 'জীম' পাণ্ডুলিপিতে বাসমালার পর রয়েছে: "হে রব, সহজ করুন এবং সাহায্য করুন। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।" শাইখ বলেছেন...।

'আইন' পাণ্ডুলিপিতে বাসমালার পর রয়েছে: "আমরা তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই ওপর ভরসা করি: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি একক..." এবং এতে "শাইখ বলেছেন..." থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটুকু নেই। একইভাবে মুদ্রিত কপিতেও নেই।

২ 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে "আল-বাকা" (স্থায়িত্ব) এবং মুদ্রিত কপিতেও তা-ই রয়েছে।

৩ 'জীম' পাণ্ডুলিপিতে "আস-সুন্নাহ" (সুন্নাহ) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الخلف وسادة الأئمة وعلماء الأمة اتفقت أقوالهم وتطابقت آراؤهم على الإيمان بالله عز وجل وأنه واحد فرد صمد، حي قيوم سميع بصير لا شريك له ولا وزير ولا شبه له1 ولا نظير ولا عدل، ولا مثل، وأنه عزوجل موصوف بصفاته القديمة التي2 نطق بها كتابه العزيز الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد وصح بها3 النقل عن نبيه وخيرته من جميع4 خلقه محمد سيد البشر الذي بلغ رسالة ربه ونصح لأمته وجاهد في الله حق جهاده وأقام الملة وأوضح المحجة5 وأكمل الدين وقمع الكافرين ولم يدع لملحد6 مجالاً ولا لقائل7 مقالاً.

3- فروى طارق بن شهاب8 قال: جاء يهودي إلى عمر ابن الخطاب9 فقال يا أمير المؤمنين آية في كتابكم تقرؤونها لو علينا معشر اليهود نزلت "نعلم"10 اليوم الذي نزلت فيه" لاتخذنا

--------------------------------------------

1 كذا في الأصل وفي "ج" ولا شبيه له ونظير وكذا في "ع" والمطبوع.

2 في "ط" الذي.

3 في "ط" به.

4 ليست في "ع" و"ط".

5 في "ع" الحجة وكذا في "ط".

6 في "ع" و"ط" للملحد.

7 في "ع" و"ط" لمجادل.

8 "9" في "ع" رضي الله عنه في الموضعين.

10 استدركت في هامش الأصل وكتب عليها صح وسقط من "ع" و"ط" ما بين القوسين.
পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ইমামগণ এবং উম্মাহর আলেমগণের বক্তব্যসমূহ একমত হয়েছে এবং তাঁদের মতামতসমূহ ঐকমত্য পোষণ করেছে মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর প্রতি ঈমানের বিষয়ে যে, তিনি এক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী, চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। তাঁর কোনো অংশীদার নেই, কোনো উজির নেই, তাঁর কোনো সদৃশ১ নেই, নেই কোনো সমকক্ষ, কোনো প্রতিরূপ বা কোনো তুলনা। তিনি তাঁর সেই অনাদি গুণাবলিতে গুণান্বিত যা২ তাঁর সম্মানিত কিতাব ব্যক্ত করেছে, যাতে সম্মুখ বা পশ্চাৎ কোনো দিক থেকেই বাতিল বা মিথ্যা আসতে পারে না; যা প্রজ্ঞাময় ও চির প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। সেই গুণাবলি তাঁর নবী এবং তাঁর সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ—যিনি মানবজাতির সরদার—থেকে সহীহ বর্ণনার৩ মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, উম্মাহকে নসিহত করেছেন, আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠা করেছেন, সত্য পথ৫ সুস্পষ্ট করেছেন, ধর্মকে পূর্ণতা দিয়েছেন এবং কাফিরদের অবদমিত করেছেন। তিনি কোনো নাস্তিকের৬ জন্য কোনো অবকাশ কিংবা কোনো বিতর্ককারীর৭ জন্য কোনো কথার সুযোগ রাখেননি।

৩- তারিক বিন শিহাব৮ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ইহুদি উমর ইবনুল খাত্তাব৯-এর নিকট এসে বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনাদের কিতাবে এমন একটি আয়াত রয়েছে যা আপনারা পাঠ করেন, তা যদি আমাদের ইহুদি জাতির ওপর অবতীর্ণ হতো, তবে আমরা সেই দিনটিকে জানতাম১০ যে দিনে এটি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেটিকে (উৎসব হিসেবে) গ্রহণ করতাম।

--------------------------------------------

১ মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনটিই রয়েছে। 'জিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'তাঁর কোনো সদৃশ ও সমকক্ষ নেই'। 'আইন' ও মুদ্রিত কপিতেও অনুরূপ রয়েছে।

২ 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতে এটি পুংলিঙ্গবাচক শব্দে এসেছে।

৩ 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে 'এর দ্বারা'।

৪ এটি 'আইন' ও 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতে নেই।

৫ 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে 'প্রমাণ' শব্দ এসেছে এবং অনুরূপ 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতেও রয়েছে।

৬ 'আইন' ও 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতে 'নাস্তিকের জন্য' ভিন্ন শব্দরূপে এসেছে।

৭ 'আইন' ও 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতে 'তর্ককারীর জন্য' শব্দটি রয়েছে।

৮ ও ৯ উভয় স্থানে 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে 'আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন' বাক্যটি রয়েছে।

১০ মূল পাণ্ডুলিপির হাশিয়া বা মার্জিনে এটি সংশোধন করা হয়েছে এবং এর ওপর 'সহীহ' শব্দ লেখা হয়েছে। বন্ধনীর মাঝখানের অংশটুকু 'আইন' ও 'ত্ব' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ذلك اليوم عيداً، قال أي آية؟ قال: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِيناً} 1 فقال2:إني لأعلم3 اليوم الذي نزلت4، والمكان5 نزلت على رسول الله صلي الله عليه وسلم ونحن بعرفة عشية جمعة6.

4- فآمنوا بما قال الله سبحانه في كتابه وصح عن نبيه وأمّروه كما ورد من غير تعرض لكيفية أو اعتقاد شبهة أو مثلية، أو تأويل يؤدي إلى التعطيل ووسعتهم السنة المحمدية والطريقة المرضية ولم يتعدوها7 إلى البدعة المردية8 الردية، فحازوا بذلك الرتبة السنية والمنزلة العلية.

--------------------------------------------

1 الآية: 3 من سورة المائدة.

2 في "ع" و"ط" فقال عمر.

3 في "ع" و"ط" ذلك.

4 في "ع" نزلت فيه وفي "ط": نزلت على رسول الله صلي الله عليه وسلم.

5 في "ع": والمكان الذي نزلت فيه.

6 الحديث متفق عليه رواه البخاري في صحيحه في عدة مواضع: في الإيمان 1/14، باب زيادة الإيمان ونقصانه، وفي المغازي، باب حجة الوداع، 5/145،146، وفي تفسير سورة المائدة، باب اليوم أكملت لكم دينكم، 6/42، وفي الاعتصام في فاتحته 9/74، ومسلم رقم 3017 في أول التفسير، والترمذي رقم 3043 في التفسير، والنسائي 8/100 في الإيمان، باب زيادة الإيمان و5/202 في الحج، باب ما ذكر في يوم عرفة، وأخرجه أحمد رقم 188، 272، والطبري "11094"، وانظر تفسير ابن كثير 3/67.

7 في "ط" ولم يتعدوا بها.

8 ليست في "ط".
সেই দিনটি ঈদের দিন। তিনি বললেন, কোন আয়াত? তিনি বললেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" ১ অতঃপর তিনি ২ বললেন: আমি অবশ্যই জানি ৩ কোন দিন এটি নাযিল হয়েছে ৪ এবং কোন স্থান ৫ এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল হয়েছিল; আমরা তখন জুমার দিন সন্ধ্যায় আরাফায় ছিলাম। ৬.

৪- সুতরাং তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে যা বলেছেন এবং তাঁর নবী থেকে যা সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছেন। তারা একে সেভাবেই গ্রহণ করেছেন যেভাবে তা বর্ণিত হয়েছে; কোনো ধরন নির্ধারণ করা ছাড়াই, অথবা কোনো সাদৃশ্য বা উপমার বিশ্বাস ছাড়াই, কিংবা এমন কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই যা আল্লাহর গুণাবলিকে অর্থহীন করে দেয়। মুহাম্মাদী সুন্নাহ এবং সন্তোষজনক পথ তাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছে। তারা একে অতিক্রম করে ৭ ধ্বংসাত্মক ৮ ও নিকৃষ্ট বিদআতের দিকে ধাবিত হননি। এর মাধ্যমে তারা সুউচ্চ মর্যাদা ও মহান স্থান অর্জন করেছেন।

--------------------------------------------

১ আয়াত: সূরা আল-মায়িদার ৩ নম্বর আয়াত।

২ 'আইন' ও 'তা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'অতঃপর ওমর বললেন'।

৩ 'আইন' ও 'তা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'সেই'।

৪ 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'তাতে নাযিল হয়েছে' এবং 'তা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল হয়েছে' ।

৫ 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'এবং যে স্থানে তা নাযিল হয়েছে'।

৬ হাদীসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে একাধিক স্থানে এটি বর্ণনা করেছেন: ঈমান অধ্যায় ১/১৪, ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস অনুচ্ছেদ; মাগাযী অধ্যায়, বিদায় হজ অনুচ্ছেদ, ৫/১৪৫, ১৪৬; সূরা আল-মায়িদার তাফসীর অধ্যায়, 'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করলাম' অনুচ্ছেদ, ৬/৪২; আল-ইতিসাম অধ্যায়ের শুরুতে ৯/৭৪; মুসলিম নং ৩০১৭ তাফসীরের শুরুতে; তিরমিযী নং ৩০৪৩ তাফসীর অধ্যায়ে; নাসাঈ ৮/১০০ ঈমান অধ্যায়, ঈমান বৃদ্ধি অনুচ্ছেদ এবং ৫/২০২ হজ অধ্যায়, আরাফার দিন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে অনুচ্ছেদ; আহমদ নং ১৮৮, ২৭২; তাবারী "১১০৯৪"; এবং দেখুন তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৬৭।

৭ 'তা' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'এবং তারা তা দ্বারা অতিক্রম করেননি'।

৮ এটি 'তা' পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৪০)
"‌‌ الاستواء "

5- فمن صفات الله عزوجل التي وصف بها نفسه1 "ونطق بها كتابه، وأخبر بها نبيه: أنه مستو2 على عرشه كما أخبر عن نفسه".

6- فقال عز من قائل في سورة الأعراف: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} 3.

7- وقال في سورة يونس عليه السلام: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} 4.

8- وقال في سورة الرعد: {اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} 5.

9- وقال في سورة طه: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} 6.

--------------------------------------------

1 بعدها في "ط": الاستواء فقال عز من قائل في سورة الأعراف، وما بين القوسين غير موجود.

2 في "ج" استوى.

3 سورة الأعراف آية 54.

4 سورة يونس آية 3.

5 سورة الرعد آية 2.

6 سورة طه آية 5.
আরশের উপর উঠা

৫- আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত একটি গুণ—যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশেষিত করেছেন১ এবং তাঁর কিতাব তা ব্যক্ত করেছে ও তাঁর নবী সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন—তা হলো: তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন২, যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।

৬- অতঃপর মহান সত্তা সূরা আল-আ'রাফে বলেছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের রব সেই আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} ৩।

৭- এবং তিনি সূরা ইউনূস (আলাইহিস সালাম)-এ বলেছেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের রব সেই আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} ৪।

৮- এবং তিনি সূরা আর-রা'দে বলেছেন: {আল্লাহই আসমানসমূহকে খুঁটি ছাড়াই উচ্চে স্থাপন করেছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} ৫।

৯- এবং তিনি সূরা ত্বহা-তে বলেছেন: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} ৬।

--------------------------------------------

১ এরপর 'ত্ব' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আরশের উপরে উঠা, অতঃপর মহান সত্তা সূরা আল-আ'রাফে বলেছেন", আর বন্ধনীভুক্ত অংশটি সেখানে নেই।

২ 'জিম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "উঠেছেন"।

৩ সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ৫৪।

৪ সূরা ইউনূস, আয়াত ৩।

৫ সূরা আর-রা'দ, আয়াত ২।

৬ সূরা ত্বহা, আয়াত ৫।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৪১)
10- وقال في سورة الفرقان: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ} 1.

11- وقال في سورة السجدة: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} 2.

12- وقال في سورة الحديد: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} 3.

13- "فهذه سبعة مواضع أخبر فيها سبحانه أنه على العرش"4.

14- وروى أبو هريرة رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلي الله عليه وسلم يقول:"إن الله عز وجل كتب كتاباً قبل أن يخلق الخلق إن رحمتي سبقت غضبي فهو عنده فوق العرش" 5.

15- وروى العباس بن عبد المطلب رضي الله عنه أن

--------------------------------------------

1 سورة الفرقان آية 59.

2 سورة السجدة آية 4.

3 سورة الحديد آية 4.

4 ما بين القوسين استدرك في هامش الأصل وكتب عليه صح وهو في بقية النسخ.

5 رواه البخاري: 6/331: فتح، ومسلم 4/2107، وأخرجه أحمد 2/258، 260، 358، 313، 381، وابن خزيمة في التوحيد ص8، وابن أبي عاصم في السنة 1/270، والدارقطني في الصفات رقم 15 ص 19، والبيهقي في الأسماء والصفات ص 525-526.
10- এবং তিনি সূরা আল-ফুরকানে বলেছেন: {অতঃপর পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} ১।

11- এবং তিনি সূরা আস-সাজদায় বলেছেন: {আল্লাহ তিনিই, যিনি আসমানসমূহ, যমিন এবং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} ২।

12- এবং তিনি সূরা আল-হাদীদে বলেছেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি আসমানসমূহ ও যমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} ৩।

13- "এই হলো সাতটি স্থান যেখানে মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আরশের উপর আছেন।" ৪।

14- আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সৃষ্টির পূর্বেই একটি কিতাব লিখেছেন যে, 'নিশ্চয়ই আমার রহমত আমার রাগের ওপর প্রবল হয়েছে'; আর তা তাঁর নিকট আরশের ওপর রয়েছে।" ৫।

15- আর আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৫৯।

২ সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত ৪।

৩ সূরা আল-হাদীদ, আয়াত ৪।

৪ বন্ধনীভুক্ত অংশটি মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় সংশোধন করা হয়েছে এবং এর ওপর 'সঠিক' লিখে দেয়া হয়েছে, আর এটি পাণ্ডুলিপির অন্যান্য কপিতেও বিদ্যমান।

৫ বুখারী বর্ণনা করেছেন: ৬/৩৩১: ফাতহ; এবং মুসলিম ৪/২১০৭; আহমাদ ২/২৫৮, ২৬০, ৩৫৮, ৩১৩, ৩৮১; ইবনে খুযাইমা 'আত-তাওহীদ' গ্রন্থে পৃ. ৮; ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে ১/২৭০; আদ-দারাকুতনী 'আস-সিফাত' গ্রন্থে নং ১৫, পৃ. ১৯; এবং আল-বায়হাকী 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে পৃ. ৫২৫-৫২৬।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৪২)
النبي صلي الله عليه وسلم ذكر "سبع سموات وما بينها ثم قال وفوق ذلك بحر بين أعلاه وبين1 أسفله كما بين سماء إلى سماء " "ثم فوق ذلك ثمانية أوعال2 ما بين أظلافهن وركبهن ما بين سماء إلى سماء ثم فوق ظهورهن العرش ما بين أعلاه وأسفله ما بين سماء إلى سماء"3 والله فوق ذلك رواه أبو داود4 والترمذي5 وابن ماجه6 القزويني.

16- وقالت أم سلمة زوج النبي صلي الله عليه وسلم ومالك7 بن أنس في قوله عز وجل: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} 8

"الاستواء9

--------------------------------------------

1 ليست في "ج".

2 الأوعال جمع وعل وهو تيس الجبل أو العنز الوحشي، والمراد ملائكة على صورة الأوعال.

"النهاية 5/207، عون المعبود 13/8، تحفة الأحوذي 9/235".

3 ما بين القوسين استدرك في هامش الأصل وكتب عليه صح.

4 رقم 4723. "5" 3320.

5

6 رقم 193. وأخرجه كذلك أحمد 1/206 -207، وابن أبي عاصم في السنة 1/253 رقم 577، قال الشيخ ناصر: إسناده ضعيف.

"انظر: إثبات صفة العلو: لابن قدامه ص 59-60، وكتاب العرش وما روى فيه لمحمد بن عثمان بن أبي شيبه ص 55".

7 مالك بن أنس بن مالك بن أبي عامر بن عمرو الأصبحي أبو عبد الله المدني الفقيه إمام دار الهجرة وشيخ الإسلام إمام من أئمة المسلمين وأعلامهم، توفي سنة تسع وسبعين ومائة. "سير أعلام النبلاء 8/43، تقريب 326".

8 سورة طه آية 5.

9 الاستواء استدركت في هامش " ج " وكتب عليها صح.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "সাত আসমান এবং সেগুলোর মাঝে যা আছে তা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন: এবং এর উপরে রয়েছে একটি সমুদ্র, যার উপরিভাগ এবং তলদেশের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান।" "অতঃপর এর উপরে রয়েছে আটটি পাহাড়ী ছাগল (সদৃশ ফেরেশতা), যাদের খুর এবং হাঁটুর মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান। অতঃপর তাদের পিঠের উপরে রয়েছে আরশ, যার উপরিভাগ এবং তলদেশের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক আসমান থেকে অন্য আসমানের দূরত্বের সমান।" এবং আল্লাহ এর উপরে রয়েছেন। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিরমিযী এবং ইবনে মাজাহ আল-কাযভিনী।

১৬- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মে সালামাহ এবং মালিক বিন আনাস মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেছেন: {রাহমান আরশের উপর উঠেছেন}।

"উঠা"

--------------------------------------------

১ এটি "জ" পাণ্ডুলিপিতে নেই।

২ 'আল-আউয়াল' হলো 'ওয়া’ল'-এর বহুবচন, আর তা হলো পাহাড়ী ছাগল বা বন্য বকরী; এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পাহাড়ী ছাগলের আকৃতিবিশিষ্ট ফেরেশতা।

"আন-নিহায়াহ ৫/২০৭, আউনুল মাবুদ ১৩/৮, তুহফাতুল আহওয়াযী ৯/২৩৫"।

৩ বন্ধনীভুক্ত অংশটি মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকাতে সংশোধন করা হয়েছে এবং তার ওপর 'সঠিক' লেখা হয়েছে।

৪ নম্বর ৪৭২৩। "৫" ৩৩২০।

৫

৬ নম্বর ১৯৩। এছাড়া ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন ১/২০৬-২০৭, এবং ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে ১/২৫৩ নম্বর ৫৭৭; শেখ নাসির বলেছেন: এর সনদ দুর্বল।

"দেখুন: ইসবাতু সিফাতিল উলুউ: ইবনে কুদামাহ পৃষ্ঠা ৫৯-৬০, এবং কিতাবুল আরশ ও তাতে যা বর্ণিত হয়েছে: মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবি শাইবাহ পৃষ্ঠা ৫৫"।

৭ মালিক বিন আনাস বিন মালিক বিন আবি আমির বিন আমর আল-আসবাহী আবু আব্দুল্লাহ আল-মাদানী, ফকীহ, হিজরতের আবাসস্থলের ইমাম এবং শাইখুল ইসলাম, মুসলিমদের ইমাম ও বরেণ্য ব্যক্তিদের অন্যতম। তিনি ১৭৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। "সিয়ারু আলামিন নুবালা ৮/৪৩, তাকরীব ৩২৬"

৮ সূরা ত্বহা, আয়াত ৫।

৯ 'উঠা' বিষয়টি "জ" পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকাতে সংশোধন করা হয়েছে এবং তার ওপর 'সঠিক' লেখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
غير مجهول والكيف غير معقول والإقرار به إيمان والجحود به كفر"1.

17- وروى أبو هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلي الله عليه وسلم

--------------------------------------------

1 الأثر عن أم سلمة رضي الله عنها: أخرجه اللالكائي في شرح السنة 1/397، وأبو عثمان الصابوني في عقيدة السلف "23"، وابن قدامة في صفة العلو ص 109، رقم 82" وعنه الذهبي في العلو 65.

قال الذهبي: ""هذا القول محفوظ عن جماعة كربيعة الرأي ومالك الإمام وأبي جعفر الترمذي، فأما عن أم سلمة فلا يصح لأن أبا كنانة ليس بثقة، وأبو عمير لا أعرفه"".

وقال ابن تيمية في الفتاوى "5/365" بعد ذكر قول الإمام مالك في الاستواء: وقد روي هذا الجواب عن أم سلمة رضي الله عنها موقوفاً ومرفوعاً ولكن ليس إسناده مما يعتمد عليه. أهـ.

وقال الذهبي في العلو:104، وفي مختصره 141:هذا ثابت عن مالك وتقدم نحوه عن ربيعة شيخ مالك وهو قول أهل السنة قاطبة: أن كيفية الاستواء لا نعقلها بل نجهلها وأن استواءه معلوم كما أخبر في كتابه وأنه كما يليق به لا نتعمق ولا نتحذلق ولا نخوض في لوازم ذلك نفياً ولا إثباتاً بل نسكت ونقف كما وقف السلف ونعلم أنه لو كان له تأويل لبادر إلى بيانه الصحابة والتابعون، ولما وسعهم إقراره وإمراره والسكوت عنه، ونعلم يقيناً مع ذلك أن الله جل جلاله لا مثل له في صفاته ولا في استوائه ولا في نزوله، سبحانه عما يقول الظالمون علواً كبيراً.

وأما الرواية عن مالك فقد رواها اللالكائي في شرح السنة "664" وأبو عثمان الصابوني في عقيدة السلف 25، وأبو نعيم في الحلية 6/325-326، ورواه الدارمي في الرد على الجهمية ص 55-56، وكذلك البيهقي في الأسماء والصفات 515-516 من طريقين، وابن قدامة في صفة العلو 119، وابن عبد البر في التمهيد 7/151، 138، بإسناد صحيح.
অজ্ঞাত নয়, এর ধরণ বোধগম্য নয়, এর স্বীকৃতি দেওয়া ঈমান এবং একে অস্বীকার করা কুফরি। ১।

১৭- এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

--------------------------------------------

১ উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত এই বর্ণনাটি: আল-লালকায়ী ‘শারহুস সুন্নাহ’ ১/৩৯৭-এ, আবু উসমান আস-সাবুনী ‘আকিদাতুস সালাফ’ ২৩-এ, ইবনু কুদামাহ ‘সিফাতুল উলু’ পৃষ্ঠা ১০৯, নং ৮২-তে এবং তাঁর থেকে ইমাম আয-যাহাবী ‘আল-উলু’ ৬৫-তে এটি বর্ণনা করেছেন।

আয-যাহাবী বলেন: "এই উক্তিটি রাবিআতুর রায়, ইমাম মালিক এবং আবু জাফর আত-তিরমিযীর মতো একদল থেকে সংরক্ষিত। তবে উম্মে সালামাহ থেকে এটি সহীহ নয়, কারণ আবু কিনানাহ নির্ভরযোগ্য নন এবং আবু উমায়েরকে আমি চিনি না।"

এবং ইবনু তাইমিয়্যাহ ‘আল-ফাতাওয়া’ ৫/৩৬৫-তে আল্লাহর উপরে উঠা (ইস্তিওয়া) সম্পর্কে ইমাম মালিকের উক্তি উল্লেখ করার পর বলেন: এই উত্তরটি উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে মাওকুফ ও মারফু উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এর সনদ এমন নয় যার ওপর নির্ভর করা যায়। সমাপ্ত।

আয-যাহাবী ‘আল-উলু’ পৃষ্ঠা ১০৪ এবং এর সংক্ষেপিত সংস্করণ ১৪১-এ বলেন: এটি ইমাম মালিক থেকে প্রমাণিত এবং এর অনুরূপ ইমাম মালিকের উস্তাদ রাবিআহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে। এটি সমগ্র আহলুস সুন্নাহর একচ্ছত্র অভিমত: আর তা হলো, আল্লাহর উপরে উঠার ধরণ বা প্রকৃতি আমাদের বোধগম্য নয়, বরং আমরা তা জানি না। আর তাঁর উপরে উঠা সুপরিচিত বা জানা, যেমনটি তিনি তাঁর কিতাবে সংবাদ দিয়েছেন। আর এটি তাঁর শান অনুযায়ী; আমরা এর গভীরে প্রবেশ করি না, পাণ্ডিত্য জাহির করি না এবং এটি অস্বীকার বা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এর কোনো অনিবার্য ফলাফলের তর্কে লিপ্ত হই না। বরং আমরা চুপ থাকি এবং সেভাবেই থেমে যাই যেভাবে সালাফগণ থেমেছেন। আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, যদি এর কোনো ব্যাখ্যা (তাউয়িল) থাকতো তবে সাহাবী ও তাবিঈগণ তা বর্ণনা করতে দ্রুত এগিয়ে আসতেন। আর তাদের জন্য তা স্বীকার করা, বর্ণনা করা এবং এ ব্যাপারে চুপ থাকা সম্ভব হতো না। তদুপরি আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, মহান আল্লাহ তাঁর গুণাবলীতে, তাঁর উপরে উঠাতে এবং তাঁর অবতরণ করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো সদৃশ নেই। জালিমরা যা বলে তা থেকে তিনি পবিত্র ও অনেক ঊর্ধ্বে।

আর ইমাম মালিক থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাটি আল-লালকায়ী ‘শারহুস সুন্নাহ’ ৬৬৪-তে, আবু উসমান আস-সাবুনী ‘আকিদাতুস সালাফ’ ২৫-এ, আবু নুআইম ‘আল-হিলয়াহ’ ৬/৩২৫-৩২৬-এ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আদ-দারিমি এটি ‘আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ’ পৃষ্ঠা ৫৫-৫৬-তে এবং একইভাবে আল-বায়হাকী ‘আল-আসমা ওয়াস সিফাত’ ৫১৫-৫১৬-তে দুইটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইবনু কুদামাহ ‘সিফাতুল উলু’ ১১৯-এ এবং ইবনু আব্দুল বার ‘আত-তামহীদ’ ৭/১৫১ ও ১৩৮-এ সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল হাফিজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গণী বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাক্বদিসী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
قال1: "والذي نفسي بيده ما من رجل يدعو امرأته إلى فراشها فتأبى عليه إلا كان الذي في السماء ساخطاً عليها حتى يرضى" 2.

18- وروى أبو سعيد الخدري رضي الله عنه أن النبي صلي الله عليه وسلم قال: " ألا تأمنوني وأنا أمين من في السماء يأتيني خبر من في السماء صباحاً ومساءً" 3.

19- وروى معاوية بن الحكم السلمي رضي الله عنه أن النبي صلي الله عليه وسلم قال لجاريته: "أين الله؟ " قالت: في السماء، قال:"من أنا؟ " قالت: أنت رسول الله، قال:"اعتقها فإنها مؤمنة" رواه مسلم بن الحجاج4 وأبو داود5وأبو عبد الرحمن النسائي6.

--------------------------------------------

1 قال والذي تكررت في "ج".

2 أخرجه مسلم في صحيحه: كتاب النكاح، باب تحريم امتناعها من فراش زوجها 2/1060.

3 رواه البخاري في صحيحه: في كتاب المغازي 7/665 رقم 4351، فتح، ومسلم: 2/742، في كتاب الزكاة، باب ذكر الخوارج وصفاتهم، وأحمد في المسند3/4.

4 في صحيحه: 1/381-382 رقم 537.

5 في سننه رقم 930.

6 في سننه: 3/13-14، ورواه مالك في الموطأ 2/776-777، وأبو داود الطيالسي "1105" وأحمد في المسند 5/448، وابن خزيمة في التوحيد 121، والبيهقي في سننه 2/249-250، 10/57، وفي الأسماء والصفات 532، والذهبي في العلو 16،17، وابن أبي عاصم في السنة 1/215، واللالكائي في السنة 3/391-392 ح652، وابن قدامة في العلو ص46،47 رقم16، والدارمي في الرد على الجهمية 60،61،62.
তিনি বলেছেন১: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, কোনো ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীকে বিছানায় আহ্বান করে আর সে তা অস্বীকার করে, তবে যিনি আসমানে আছেন তিনি তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকেন যতক্ষণ না সে (স্বামী) তার ওপর সন্তুষ্ট হয়" ২।

১৮- এবং আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কি আমাকে আমানতদার মনে করো না, অথচ আমি তাঁর আমানতদার যিনি আসমানে আছেন? আমার কাছে সকাল ও সন্ধ্যায় আসমানের খবর আসে" ৩।

১৯- এবং মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক দাসীকে বললেন: "আল্লাহ কোথায়?" সে বলল: আসমানে। তিনি বললেন: "আমি কে?" সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: "একে মুক্ত করে দাও, কারণ সে মুমিনাহ।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন হাজ্জাজ৪, আবু দাউদ৫ এবং আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী৬।

--------------------------------------------

১ "বললেন এবং যাঁর" শব্দগুলো "জিম" পাণ্ডুলিপিতে পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

২ এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: বিবাহ অধ্যায়, স্বামীর বিছানায় আসতে স্ত্রীর অস্বীকৃতি জানানোর হারাম হওয়া পরিচ্ছেদ ২/১০৬০।

৩ এটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায় ৭/৬৬৫, নম্বর ৪৩৫১, ফাতহ; এবং মুসলিম: ২/৭৪২, জাকাত অধ্যায়, খারিজিদের উল্লেখ ও তাদের বৈশিষ্ট্য পরিচ্ছেদ; এবং আহমদ তাঁর মুসনাদে ৩/৪।

৪ তাঁর সহিহ গ্রন্থে: ১/৩৮১-৩৮২, নম্বর ৫৩৭।

৫ তাঁর সুনান গ্রন্থে নম্বর ৯৩০।

৬ তাঁর সুনান গ্রন্থে: ৩/১৩-১৪; এবং এটি মালিক মুওয়াত্তা গ্রন্থে ২/৭৭৬-৭৭৭ বর্ণনা করেছেন; এবং আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (১১০৫); এবং আহমদ মুসনাদ গ্রন্থে ৫/৪৪৮; এবং ইবনে খুজাইমা আত-তাওহিদ গ্রন্থে ১২১; এবং বায়হাকি তাঁর সুনান গ্রন্থে ২/২৪৯-২৫০, ১০/৫৭ এবং আল-আসমা ওয়াস-সিফাত গ্রন্থে ৫৩২; এবং যাহাবি আল-উলুউ গ্রন্থে ১৬, ১৭; এবং ইবনে আবি আসিম আস-সুন্নাহ গ্রন্থে ১/২১৫; এবং আল-লালকাই আস-সুন্নাহ গ্রন্থে ৩/৩৯১-৩৯২, হাদিস ৬৫২; এবং ইবনে কুদামা আল-উলুউ গ্রন্থে পৃষ্ঠা ৪৬, ৪৭, নম্বর ১৬; এবং আদ-দারিমি আল-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ গ্রন্থে ৬০, ৬১, ৬২।