(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: -)
صلاة العيدين في المصلى هي السنة   (ناصر الدين الألباني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: صلاة العيدين في المصلى هي السنة

المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)

الناشر: المكتب الإسلامي

الطبعة: الطبعة الثالثة 1406هـ/1986

عدد الصفحات: 48

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ঈদের সালাত ঈদগাহে আদায় করাই সুন্নাহ (السنة)   (নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: ঈদের সালাত ঈদগাহে আদায় করাই সুন্নাহ (السنة)

লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, বিন আল-হাজ নূহ বিন নাজাতী বিন আদম, আল-আশকুদারি আল-আলবানি (ওফাত ১৪২০ হিজরী)

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি

সংস্করণ: তৃতীয় সংস্করণ ১৪০৬ হিজরী/১৯৮৬

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين

الحمد لله وحده وصلاته وسلامه على نبينا محمد وآله وصحبه وعلى من تمسك بهديه واستقام على طريقته إلى يوم الدين1.

أما بعد:

فهذه رسالتنا اليوم وموضوعها إثبات أن:

صلاة العيدين في المصلى خارج البلد هي السنة

وقد كنت فكرت في أن اجعلها رسالة جامعة لأحكام صلاة العيدين على نحو رسالة "صلاة التراويح "

--------------------------------------------

1 كان استاذنا المحدث الشيخ ناصر الدين الألباني قد قدم لهذه الرسالة بكلام يتعلق بالرد علي رسالة "الاصابة" وما فيها من جهل وضلالات وافتراءات علي اتباع السنة. وعن صلاة التراويح وانها احدى عشر ركعة. وقد اقتصرنا علي الموضوع الخاص بصلاة العيدين في المصلي. "زهير.
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং তাঁর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েতকে আঁকড়ে ধরবে ও তাঁর পথে অটল থাকবে তাদের ওপর।১

অতঃপর:

এটি আমাদের আজকের পুস্তিকা এবং এর বিষয়বস্তু হলো এটি প্রমাণ করা যে:

লোকালয়ের বাইরে ঈদগাহে দুই ঈদের সালাত আদায় করাই হলো সুন্নাহ (السنة)

আমি ইতিপূর্বে চিন্তা করেছিলাম যে, "সালাতুত তারাবিহ" পুস্তিকাটির মতো এটিকেও দুই ঈদের সালাতের আহকাম সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ পুস্তিকা হিসেবে তৈরি করব।

--------------------------------------------

১ আমাদের উস্তাদ মুহাদ্দিস (المحدث) শেখ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী এই পুস্তিকাটির ভূমিকায় "আল-ইসাবাহ" নামক পুস্তিকার জবাব সংবলিত কিছু আলোচনা পেশ করেছিলেন, যাতে সুন্নাহ (السنة) এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে মূর্খতা, বিভ্রান্তি ও নানাবিধ অপবাদ ছিল। এছাড়া তারাবিহ সালাত যে এগারো রাকাত, সে সম্পর্কেও সেখানে আলোচনা ছিল। তবে আমরা এখানে শুধুমাত্র ঈদগাহে দুই ঈদের সালাত আদায় সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিষয়টির ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। — জুহাইর।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
ولكن الوقت أداركني حيث لم يبق لعيد الفطر1 إلا بضعة أيام ولذلك فإني اضطررت لحصرها في هذا الموضوع الذي ذكرت راجيا من الله تبارك وتعالى أن ييسر لي قريبا إخراج الرسالة الجامعة ونشرها على الناس آملا أن يتقبلوا رسائلنا بقبول حسن عسى أن أحظى منهم بدعوة صالحة في الغيب تنفعني إن شاء الله {يَوْمَ لا يَنْفَعُ مَالٌ وَلا بَنُونَ* إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ} 2.

فاعلم أيها القارئ الكريم: أن أولئك المؤلفين كانوا سودوا في رسالتهم "الإصابة" صفحتين كبيرتين "14 - 15" "حول موضوع صلاة العيد في المصلى" تناقضوا فيها تناقضا مخزيا يتبين القارئ منه {مَبْلَغُهُمْ

--------------------------------------------

1 هذا في طبعتها الأولى سنة 1373هـ بدمشق وكذلك أدركنا الوقت بهذه الطبعة فلم نستطع الاتصال مع أستاذنا المؤلف لعله يزيد عليها ولكن قدر الله وما شاء فعل ونرجو أن يستدرك ذلك لنعيد طبعها قريبا إن شاء الله.

2 سورة الشعراء: الآيتان 88 – 89.
কিন্তু সময় আমার সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, যেহেতু ঈদুল ফিতরের১ মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। সেই কারণে আমি একে এই বিষয়বস্তুতেই সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি যা আমি উল্লেখ করেছি। আমি বরকতময় ও মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি অচিরেই আমার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পুস্তিকা বের করা এবং তা মানুষের মাঝে প্রচার করা সহজ করে দেন। আমি আশা করি যে তারা আমাদের এই পত্রসমূহকে সুন্দরভাবে গ্রহণ করবেন, যাতে আমি তাদের পক্ষ থেকে পরোক্ষভাবে এমন কোনো নেক দোয়া লাভ করতে পারি যা ইনশাআল্লাহ আমার উপকারে আসবে {সেই দিনে, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে উপস্থিত হবে} ২।

হে সম্মানিত পাঠক, জেনে রাখুন: ওই লেখকগণ তাদের "আল-ইসাবাহ" নামক পুস্তিকার দু’টি বড় পৃষ্ঠা (১৪-১৫) জুড়ে "ঈদগাহে ঈদের সালাত" বিষয়ক আলোচনায় এমন লজ্জাজনক স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছেন, যা থেকে পাঠক তাদের জ্ঞানের সীমা {

--------------------------------------------

১ এটি দামেস্কে ১৩৭৩ হিজরীতে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণের কথা। একইভাবে এই সংস্করণের ক্ষেত্রেও সময়ের সংকীর্ণতা দেখা দিয়েছে, ফলে আমরা আমাদের উস্তাদ লেখকের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি যেন সম্ভবত তিনি এতে আরও কিছু সংযোজন করতে পারতেন। তবে আল্লাহ যা ফয়সালা করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে। আমরা আশা করছি যে অচিরেই এটি পুনরায় মুদ্রণের সময় এই বিষয়গুলো সমন্বয় করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

২ সূরা আশ-শুয়ারা: আয়াত ৮৮-৮৯।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
مِنَ الْعِلْمِ} وقد كانوا افتروا علينا في رسالتهم تلك فزعموا أننا نقول: إن صلاة العيد في المساجد لا تصح!

فقد قالوا: "والسبب في اختيار النبي صلى الله عليه وآله وسلم صلاتها في المصلى لعدم "كذا" توفر الأسباب في المدينة المنورة حيث لا يوجد في المدينة سوى مسجد واحد".

وهذا جهل بالغ فالمساجد التي كانت في المدينة في عهده صلى الله عليه وسلم كثيرة معروفة أشهرها "مسجد قباء" و "مسجد القبلتين" و "مسجد الفتح". وفي هذه المساجد آثار صحيحة كثيرة في كتب السنة وذكر الحافظ في "الفتح" "1 / 445"، مساجد أخرى بأسمائها فليرجع إليه من شاء.

وقصدهم من هذه الدعوى الباطلة التوسل إلى تعطيل سنة صلاة العيد في المصلى باختلاق هذه العلة الكاذبة وهي: "أن المدينة لم يكن فيها سوى مسجده صلى الله عليه وسلم". وهو بزعمهم لا يتسع للمصلين صلاة العيد!
জ্ঞানের অংশবিশেষ} তারা তাদের সেই পত্রে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে এবং দাবি করেছে যে আমরা নাকি বলি: মসজিদে ঈদের সালাত আদায় করা শুদ্ধ (صحيح) নয়!

তারা বলেছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ঈদগাহে (مصلى) সালাত আদায়ের বিষয়টি বেছে নেওয়ার কারণ ছিল মদিনা মুনাওয়ারায় উপকরণের "এরূপ" অপ্রতুলতা, যেহেতু তখন মদিনায় একটি মাত্র মসজিদ ছাড়া আর কোনো মসজিদ ছিল না।"

এটি চরম অজ্ঞতা; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মদিনায় বহু মসজিদ বিদ্যমান ছিল যা সুপরিচিত, যার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো "মসজিদে কুবা", "মসজিদে কিবলাতাইন" এবং "মসজিদে ফাতহ"। এই মসজিদগুলো সম্পর্কে সুন্নাহর কিতাবসমূহে অনেক সহিহ (صحيح) বর্ণনা (آثار) রয়েছে। হাফেজ 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে (১/৪৪৫) নামসহ আরও অনেক মসজিদের বিবরণ উল্লেখ করেছেন; সুতরাং যে কেউ চাইলে তা দেখে নিতে পারে।

এই ভিত্তিহীন দাবির মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য হলো এই মিথ্যা অজুহাত (علة) তৈরির মাধ্যমে ঈদগাহে (مصلى) ঈদের সালাত আদায়ের সুন্নাহকে অকার্যকর করার একটি পথ বের করা। আর সেই অজুহাতটি হলো: "মদিনায় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো মসজিদ ছিল না।" আর তাদের দাবি অনুযায়ী, সেই মসজিদে ঈদের সালাত আদায়কারীদের সংকুলান হতো না!
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
فها نحن قد أثبتنا بطلان هذه العلة ببطلان الدعوى من أصلها وحينئذ نقول:

لو فرضنا أن المسجد النبوي كان لا يتسع لهم فكان يمكنهم أن يصلوا في تلك المساجد الكثيرة كما يفعل الناس اليوم فتركهم الصلاة فيها إلى الصلاة في المصلى دليل واضح على أن السنة الصلاة فيه دون المساجد تثبت المراد وبطل ما قصدوا إليه من التعطيل.

ثم قالوا:

"ولما كثر المسلمون حتى تعذر على المسلمين اجتماعهم في المصلى خصوصا في المدن الكبرى كدمشق لكثرة المصلين فصاروا يجتمعون في المساجد حسب الحاجة"!

قلت: انظر أيها القارئ الكريم إلى هذا المنطق المعكوس حيث جعلوا اجتماع المسلمين في المصلى متعذرا مع أنه سهل متيسر والدليل عليه أنه جرى العمل به في معظم الأمصار كما قال الإمام النووي في
অতএব, আমরা এই ত্রুটির (علة) অসারতা এর মূল দাবির ভিত্তিহীনতার মাধ্যমেই প্রমাণ করেছি এবং এমতাবস্থায় আমরা বলি:

যদি আমরা ধরে নেই যে মসজিদে নববীতে তাদের স্থান সংকুলান হতো না, তবে তাদের জন্য সেই অসংখ্য মসজিদে সালাত আদায় করা সম্ভব ছিল যেমনটি বর্তমানের মানুষ করে থাকেন। এমতাবস্থায়, সেসব মসজিদে সালাত ত্যাগ করে ঈদগাহে সালাত আদায়ের বিষয়টি একটি সুস্পষ্ট দলিল যে, মসজিদসমূহের পরিবর্তে সেখানে সালাত আদায় করাই হচ্ছে সুন্নাহ (سنة); এর মাধ্যমে উদ্দিষ্ট বিষয়টি প্রমাণিত হলো এবং তারা একে অকার্যকর করার যে উদ্দেশ্য পোষণ করেছিল তা বাতিল হলো।

অতঃপর তারা বলেছেন:

"এবং যখন মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, এমনকি তাদের জন্য ঈদগাহে একত্রিত হওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল, বিশেষ করে দামেস্কের মতো বড় শহরগুলোতে মুসল্লিদের আধিক্যের কারণে, তখন তারা প্রয়োজন অনুযায়ী মসজিদসমূহে একত্রিত হতে শুরু করলেন!"

আমি বলি: হে সম্মানিত পাঠক, এই বিপরীতধর্মী যুক্তির দিকে লক্ষ্য করুন যেখানে তারা ঈদগাহে মুসলিমদের একত্রিত হওয়াকে অসম্ভব বলে গণ্য করেছেন, অথচ এটি ছিল সহজ ও সুলভ। এর স্বপক্ষে দলিল হলো যে, অধিকাংশ অঞ্চলে এভাবেই আমল জারি ছিল, যেমনটি ইমাম নববী বলেছেন—
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
"شرح مسلم" وسيأتي نص كلامه في "دلالة الأحاديث على أن السنة الصلاة في المصلى"

وإلى اليوم لا تزال هذه السنة قائمة بفضل الله في كثير من البلاد الإسلامية كدمشق والأردن ومصر والجزائر والباكستان وغيرها.

ثم أي حاجة في تفريق جماعة المسلمين في هذه المساجد الكثيرة الكبيرة منها والصغيرة المنبثة في كل مكان والتي يقرب بعضها من بعض أحيانا إلى درجة أنه لا يوجد بينها إلا مسافة خمسين خطوة أو أقل!

ولو أن هؤلاء المؤلفين قيدوا كلامهم بالصلاة في المسجد الواحد الأكبر لكان لهم سلف في هذا القول كما سيأتي عن الإمام الشافعي رحمة الله.

ولكنهم لا يتحرجون من أن يقولوا ما لم يقله مسلم قبلهم البتة في سبيل محاربة السنة وإلا فالمسلمون متفقون جميعا على أن الصلاة في المصلى هو السنة إذا لم يسعهم المسجد وجمهورهم لم يقبلوا هذا الشرط بل قالوا: ولو وسعهم المسجد فقد خالفوا بجهلهم
"শারহু মুসলিম" এবং তাঁর বক্তব্যের পাঠ সামনে আসবে "ঈদগাহে (مصلى) সালাত আদায় করা সুন্নাহ (سنة) হওয়ার ব্যাপারে হাদিসসমূহের প্রমাণ" শীর্ষক আলোচনায়।

আর আল্লাহর অনুগ্রহে আজ অবধি অনেক মুসলিম দেশ যেমন—দামেস্ক, জর্ডান, মিসর, আলজেরিয়া, পাকিস্তান ও অন্যান্য স্থানে এই সুন্নাহ (سنة) বিদ্যমান রয়েছে।

অতঃপর সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য বড় ও ছোট মসজিদে মুসলিম জামাতকে বিভক্ত করার কী প্রয়োজন, যেগুলোর একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব কখনো কখনো মাত্র পঞ্চাশ কদম বা তারও কম!

যদি এই লেখকগণ তাঁদের বক্তব্যকে একটি বৃহত্তম মসজিদে সালাত আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতেন, তবে এই মতের পক্ষে তাঁদের সালাফ (سلف) বা পূর্বসূরি থাকত, যেমনটি ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে সামনে উল্লেখ করা হবে।

কিন্তু তারা সুন্নাহর (سنة) বিরোধিতা করার লক্ষে এমন কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেন না যা ইতিপূর্বে কোনো মুসলিম কখনোই বলেনি। অন্যথায়, সকল মুসলিম এ বিষয়ে একমত যে, মসজিদে সংকুলান না হলে ঈদগাহে (مصلى) সালাত আদায় করাই সুন্নাহ (سنة); বরং জুমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণ এই শর্তও (মসজিদে জায়গা না থাকা) গ্রহণ করেননি, বরং তারা বলেছেন: মসজিদে জায়গা থাকলেও (ঈদগাহে যাওয়াই সুন্নাহ)। তারা মূলত তাদের অজ্ঞতার কারণেই বিরোধিতা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
جميع المسلين سلفهم وخلفهم والله تعالى يقول:

{وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيراً} 1 فالسنة السنة أيها الناس!

ثم قالوا: " … حسب الحاجة لفعل النبي صلى الله عليه وسلم حين صلى في المسجد للعذر " ثم ذكروا في التعليق حديث أبي هريرة في صلاته صلى الله عليه وسلم في المسجد لعذر المطر.

والجواب أن حديث أبي هريرة - لو صح - حجة لنا لأن مفهومه أنه لولا عذر المطر لصلى في المصلى: وهذا لا يخالف فيه مسلم غيركم فإن كلامكم السابق ينصب كله على القول بأن الصلاة في المصلى غير مشروعة الآن لأنه متعذر بزعمكم وقد رددنا عليكم فعاد الحديث حجة عليكم لا لكم وهذا كله يقال لو صح الحديث وهو غير صحيح بل إسناده ضعيف كما سيأتي بيانه.

وسائر كلامكم هراء لا يستحق جوابا إلا قولهم بعد

--------------------------------------------

1 سورة النساء: الآية 115.
সকল মুসলিম, তাদের পূর্বসূরি এবং উত্তরসূরি, এবং মহান আল্লাহ বলেন:

{আর যে ব্যক্তি তার কাছে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরে যেতে চায় এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস।} ১ সুতরাং সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকুন, হে লোকসকল!

অতঃপর তারা বলেছে: " … প্রয়োজন অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মের পরিপ্রেক্ষিতে, যখন তিনি কোনো ওজরের কারণে মসজিদে সালাত আদায় করেছিলেন।" অতঃপর তারা পাদটীকায় বৃষ্টির ওজরের কারণে মসজিদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায় সংক্রান্ত আবু হুরায়রার হাদিস উল্লেখ করেছেন।

এর উত্তর হলো, আবু হুরায়রার হাদিসটি—যদি সহিহ (صح) হতো—তবে তা আমাদের পক্ষেই দলিল (حجة) হতো; কারণ এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো, বৃষ্টির ওজর না থাকলে তিনি ঈদগাহে সালাত আদায় করতেন। এ বিষয়ে আপনারা ছাড়া অন্য কোনো মুসলিম দ্বিমত পোষণ করেন না। কেননা আপনাদের পূর্ববর্তী কথাগুলো এই দাবির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল যে, বর্তমানে ঈদগাহে সালাত আদায় করা শরিয়তসম্মত নয়, কারণ আপনাদের দাবি অনুযায়ী এটি অসম্ভব। আমরা আপনাদের কথার খণ্ডন করেছি, ফলে এই হাদিসটি আপনাদের বিপক্ষে দলিল (حجة) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, আপনাদের স্বপক্ষে নয়। আর এসব কথা তখনই প্রযোজ্য হতো যদি হাদিসটি সহিহ (صحيح) হতো; অথচ তা সহিহ (صحيح) নয়, বরং এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف), যা সামনে বিস্তারিত বর্ণিত হবে।

আপনাদের বাকি কথাগুলো অন্তঃসারশূন্য, যা উত্তরের যোগ্য নয়; শুধু পরবর্তীতে তাদের এই উক্তিটি ছাড়া—

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা: আয়াত ১১৫।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
أن ساقوا الحديث الأول عن أبي سعيد الآتي وحديث أبي هريرة:

فيستفاد من الحديثين أنها تصح بالمصلى وفي المسجد وأن كلا فيه ثواب.

كما أنه يستفاد من الحديث الأول أن الأفضل صلاتها في الصحراء لمواظبة النبي صلى الله عليه وسلم على ذلك.

قلت: فانظر إليهم أيها القارئ الكريم كيف عادوا إلى الصواب الذي ندعوا إليه وبذلك نقضوا معنا كلامهم السابق ولكن أتظن أنهم يستقرون عليه؟ لا فقد عادوا من حيث بدؤوا فقالوا: بعد أن نقلوا عن الحافظ ابن حجر كلام الإمام الشافعي الآتي قالوا:

"فمن أمعن النظر فيما تقدم مع حديث البخاري1 "عن أم عطية: "أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تخرجهن في الفطر والأضحى العواتق والحيض

--------------------------------------------

1 قلت: عزوه للبخاري باللفظ الآتي خطأ وإنما هو لمسلم (3 / 20 - 21 – استانبول
তারা আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত পরবর্তী প্রথম হাদিসটি এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসটি বর্ণনা করেছেন:

এই হাদিসদ্বয় থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, নামাজ ঈদগাহে এবং মসজিদে উভয় স্থানেই আদায় করা শুদ্ধ (صحيح) এবং উভয়ক্ষেত্রেই সওয়াব রয়েছে।

তেমনিভাবে প্রথম হাদিস থেকে এটিও বোঝা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়মিত আমলের কারণে মরুভূমি বা খোলা ময়দানে নামাজ আদায় করা উত্তম।

আমি বলছি: হে সম্মানিত পাঠক! আপনি লক্ষ্য করুন, আমরা যে সঠিক (صواب) মতের দিকে আহ্বান জানাচ্ছি, তারা কীভাবে সেই দিকেই ফিরে এসেছেন এবং এর মাধ্যমে তারা আমাদের বিপক্ষে তাদের পূর্ববর্তী বক্তব্যকেই খণ্ডন করেছেন। কিন্তু আপনি কি মনে করেন তারা এর ওপর অটল থাকবেন? না, বরং তারা যেখান থেকে শুরু করেছিলেন সেখানেই ফিরে গেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার-এর বরাতে ইমাম শাফেয়ী-এর পরবর্তী বক্তব্যটি উদ্ধৃত করার পর তারা বলেছেন:

"সুতরাং যে ব্যক্তি পূর্বোক্ত আলোচনার সাথে সহিহ বুখারি-এর হাদিসটি১ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, যা উম্মে আতিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাতে পর্দানশীন যুবতী ও ঋতুবর্তীদের বের করি...'

--------------------------------------------

১ আমি বলছি: পরবর্তী শব্দাবলি সহকারে একে সহিহ বুখারি-এর দিকে নিসবত করা (عزوه) ভুল (خطأ); বরং এটি সহিহ মুসলিম-এর (৩/২০-২১ - ইস্তাম্বুল)।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وذوات الخدور فأما الحيض فيعتزلن الصلاة".

وفي لفظ "المصلى ويشهدن الخير ودعوة المسلمين".

علم أن السبب في مواظبة رسول الله صلى الله عليه وسلم على الصلاة في المصلى "هو: أما كون مسجده صلى الله عليه وسلم لا يتسع للرجال والنساء في ذلك اليومين أو أن المسجد لا يصلح لحضور الحيض".

أقول: لقد تأملنا هذا الكلام كله فوجدناه لا طائل تحته كسائر كلامهم!

فإننا لو سلمنا أن مسجده صلى الله عليه وسلم كان لا يتسع للرجال والنساء فإن الأمر كذلك في مساجدنا لا يتسع واحد منها لجميع المصلين فحينئذ يبقى مشروعية الخروج إلى المصلى ساري المفعول وهذا هو المطلوب.

ثم إذا كان المسجد لا يصلح عندهم لحضور الحيض فهو اعتراف منهم بأن المصلى يصلح لحضورهن فإذا التزموا الصلاة في المسجد فقد منعوهن من أن "يشهدن الخير ودعوة المسلمين".
"...এবং অন্তঃপুরবাসিনী যুবতীগণ, তবে ঋতুবতী (حيض) মহিলারা সালাত থেকে বিরত থাকবে।"

এবং অপর একটি শব্দে (لفظ) এসেছে, "ঈদগাহে (مصلى) উপস্থিত হবে এবং তারা কল্যাণকর কাজে ও মুসলমানদের দোয়ায় অংশগ্রহণ করবে।"

এ থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঈদগাহে (مصلى) নিয়মিত সালাত আদায়ের কারণ হলো: "হয় সেই দুই দিনে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে পুরুষ ও নারীদের সংকুলান হতো না, অথবা মসজিদটি ঋতুবতী (حيض) মহিলাদের উপস্থিতির জন্য উপযুক্ত ছিল না।"

আমি বলি: আমরা এই পুরো বক্তব্যটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছি এবং তাদের অন্যান্য বক্তব্যের মতোই এটিকেও অসার হিসেবে পেয়েছি!

আমরা যদি মেনেও নিই যে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে নারী ও পুরুষের সংকুলান হতো না, তবে আমাদের মসজিদগুলোর অবস্থাও তো অনুরূপ যে, এগুলোর কোনোটিই সকল মুসল্লির জন্য যথেষ্ট নয়। এমতাবস্থায় ঈদগাহে (مصلى) বের হওয়ার বিধানটি (مشروعية) বলবৎ থাকে এবং এটিই মূলত কাঙ্ক্ষিত বিষয়।

অতঃপর তাদের নিকট যদি মসজিদ ঋতুবতী (حيض) নারীদের উপস্থিতির যোগ্য না হয়, তবে এটি তাদের পক্ষ থেকেই একটি স্বীকৃতি যে ঈদগাহ (مصلى) তাদের উপস্থিতির যোগ্য। সুতরাং তারা যদি মসজিদে সালাত আদায় করাকে আবশ্যক করে নেয়, তবে তারা মূলত নারীদের "কল্যাণকর কাজে ও মুসলমানদের দোয়ায় অংশগ্রহণ করা" থেকে বাধা প্রদান করল।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وهذا خلاف أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي عزوه للبخاري فالحديث من أدلتنا على أن الصلاة ينبغي أن تكون في المصلى لا في المسجد لأن المسجد مهما كبر لا يمكن أن يتسع لحضور جميع الجنسين فيه باعترافهم؟

ومن حججنا عليهم قولهم: "وكانت تخرج النساء للمصلى حتى الحيض تكبر بتكبيرهم".

فإننا نسألهم كيف يمكن لكم تحقيق هذه السنة في المساجد؟ لا سبيل لكم إلى ذلك إلا بأن تمنعوهن من الحضور مطلقا وهذا خلاف أمره صلى الله عليه وسلم كما سبق. وأما أن تأمروهن بالحضور خارج المسجد ومن وراء أسواره وحيطانه فكيف يمكنهن والحالة هذه أن يكبرن بتكبيرهن؟!

فتأمل أيها الأخ المسلم ما يفعله الجهل بصاحبه واعتبر.

" تنبيه " لقد تبين مما نقلناه عن أولئك المؤلفين أنهم يقولون بمشروعية خروج النساء إلى المصلى ولو كن
আর এটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশের পরিপন্থী সেই হাদিসে যা তারা বুখারির সাথে সম্পর্কিত করেছে। এই হাদিসটি আমাদের অন্যতম দলিল যে, সালাত ঈদগাহে হওয়া উচিত, মসজিদে নয়; কারণ মসজিদ যত বড়ই হোক না কেন, তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেখানে উভয় লিঙ্গের সকলের উপস্থিতি সংকুলান হওয়া সম্ভব নয়।

তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্যতম যুক্তি হলো তাদের এই কথা: "নারীরা এমনকি ঋতুমতী মহিলারাও ঈদগাহে বের হতেন এবং তারা পুরুষদের তাকবিরের সাথে তাকবির পাঠ করতেন।"

এখন আমরা তাদের নিকট প্রশ্ন করি, আপনারা কীভাবে মসজিদে এই সুন্নাহ (سنة) বাস্তবায়ন করবেন? আপনাদের জন্য এটি করার কোনো পথ নেই, কেবল তাদের উপস্থিত হওয়া থেকে পুরোপুরি নিষেধ করা ছাড়া; আর এটি পূর্বেই বর্ণিত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশের পরিপন্থী। আর যদি আপনারা তাদের মসজিদের বাইরে এবং এর দেয়াল ও প্রাচীরের পেছনে উপস্থিত হতে বলেন, তবে এমতাবস্থায় তারা কীভাবে তাদের তাকবিরের সাথে তাকবির পাঠ করবে?!

অতএব হে মুসলিম ভাই! অজ্ঞতা তার অধিকারীর সাথে কী আচরণ করে তা নিয়ে চিন্তা করুন এবং শিক্ষা গ্রহণ করুন।

"সতর্কবার্তা (تنبيه)" আমরা ঐ সকল লেখকদের থেকে যা উদ্ধৃত করেছি তা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা নারীদের ঈদগাহে বের হওয়ার বৈধতার (مشروعية) প্রবক্তা, যদিও তারা...
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
شابات لأنهن "العواتق" فاحفظ هذا فأنه ربما يأتي يوم يبادر هؤلاء المؤلفين إلى إنكار ما اعترفوا به إذا رأوا أنصار السنة قد عملوا بذلك حسدا وبغيا من عند أنفسهم!

هذا ونحن وإن كنا نحض النساء على حضور جماعة المسلمين تحقيقا لأمر سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم فلا يفوتنا أن نلفت نظرهن ونظر المسؤولين عنهن إلى وجوب تقيدهن بالحجاب الشرعي الذي لا يبيح لهن أن يبدين من بدنهن إلا الوجه والكفين على ما فصلته في كتابي " حجاب المرأة المسلمة في الكتاب والسنة " والله تبارك وتعالى يقول: {يا يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُوراً رَحِيماً} . [سورة الأحزاب: الآية 59] . مع تصريحنا هناك بأن الأفضل لهن أن يسترنهما أيضا خلافا لما نسبه إلي بعض المؤلفين الذين لا يخشون رب العالمين.

وقد يستغرب البعض القول بمشروعية خروج النساء إلى المصلى لصلاة العيدين فليعلم: أن هذا هو الحق
তারা যুবতী কারণ তারা "পর্দানশীন যুবতী" (العواتق); সুতরাং এটি মনে রাখুন, কারণ হয়তো এমন একদিন আসবে যখন এই লেখকরা যা স্বীকার করেছেন তা অস্বীকার করতে দ্রুত উদ্যত হবেন, যদি তারা দেখেন যে আনসারুস সুন্নাহর অনুসারীরা কেবল নিজেদের পক্ষ থেকে হিংসা ও বিদ্বেষবশত এর ওপর আমল করছে!

বিষয়টি হলো, যদিও আমরা রাসুলদের সর্দার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশ পালনার্থে নারীদের মুসলিমদের জামাতে উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করি, তবুও আমাদের এই বিষয়ে তাদের এবং তাদের দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা উচিত যে, তাদের জন্য শরয়ী পর্দা মেনে চলা আবশ্যক। যা মুখমণ্ডল এবং দুই হাতের কব্জি ব্যতীত শরীরের অন্য কোনো অংশ প্রকাশ করার অনুমতি দেয় না, যেমনটি আমি আমার গ্রন্থ "হিজাবুল মারআতিল মুসলিমাহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ"-তে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আর মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: "হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [সূরা আল-আহযাব: আয়াত ৫৯]। তবে আমরা সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি যে, ওই অঙ্গ দুটিও ঢেকে রাখা তাদের জন্য উত্তম; যা এমন কিছু লেখকের বক্তব্যের বিপরীত যারা আমার প্রতি এমন কিছু আরোপ করেছেন যা আমি বলিনি এবং যারা বিশ্বজগতের প্রতিপালককে ভয় পান না।

দুই ঈদের সালাতের জন্য নারীদের ঈদগাহে যাওয়ার বৈধতার বিষয়ে কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করতে পারেন, তবে তাদের জেনে রাখা উচিত যে: এটিই সঠিক।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الذي لا ريب فيه لكثرة الأحاديث الواردة في ذلك وحسبنا الآن حديث أم عطية المتقدم فإنه ليس دليلا على المشروعية فقط بل وعلى وجوب ذلك عليهن لأمره صلى الله عليه وسلم به والأصل في الأمر الوجوب ويؤيده ما روى ابن أبي شيبة في "المصنف"، "2 / 184" عن أبي بكر الصديق أنه قال: حق على كل ذات نطاق "شبه إزار فيه تكة" الخروج إلى العيدين" وسنده صحيح. فهل يقول بهذا من زعم الانتصار للخلفاء الراشدين وقد قال به أولهم كما تراه مخرجا مصححا؟ ذلك ما لا نظنه بهم فليخطؤوا ظننا هذا - وهو الأحب إلينا - وإلا فقد تبين للناس غرضهم من انتصارهم المزعوم.

والقول بالوجوب هو الذي استظهره الصنعاني في "سبل السلام" والشوكاني وصديق خان وهو ظاهر كلام ابن حزم وكأن ابن تيمية قد مال إليه في "اختياراته" والله أعلم. الأولى1 "ص 9 – 10" خلاصتها أننا نقول:

--------------------------------------------

1 هي رسالته "من تسديد الإصابة إلى من زعم نصرة الخلفاء الراشدين والصحابة".
যাতে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ এ বিষয়ে প্রচুর হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আমাদের জন্য উম্মে আতিয়্যাহর (রা.) পূর্বে উল্লিখিত হাদিসটিই যথেষ্ট, যা কেবল এর শরয়ি বৈধতার (مشروعية) প্রমাণ দেয় না বরং তাদের (নারীদের) ওপর তা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ারও দলিল; কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নির্দেশ দিয়েছেন। আর নির্দেশের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো সেটি ওয়াজিব (وجوب) হওয়াকে বোঝায়। এবং ইবনে আবি শায়বা তার আল-মুসান্নাফ (২/১৮৪) গ্রন্থে আবু বকর আস-সিদ্দিক (রা.) থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা একে সমর্থন করে। তিনি বলেছেন: “প্রত্যেক কোমরবন্ধনী পরিহিতা (এক প্রকার ইজার যাতে ফিতা রয়েছে) নারীর জন্য দুই ঈদের সালাতে বের হওয়া আবশ্যক।” এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح)। যারা খোলাফায়ে রাশেদিনের পক্ষাবলম্বনের দাবি করেন, তারা কি এ কথা বলবেন অথচ তাদের মধ্যে প্রথমজন (আবু বকর) এটি বলেছেন? যেমনটি আপনি দেখছেন তা বর্ণিত (مخرج) এবং বিশুদ্ধ (مصحح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। আমরা তাদের ব্যাপারে এমন ধারণা পোষণ করি না; তারা যেন আমাদের এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেন—আর সেটিই আমাদের নিকট অধিক প্রিয়—অন্যথায় তাদের কথিত পক্ষাবলম্বনের আসল উদ্দেশ্য মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।

ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার এই অভিমতটিই আস-সানআনি সুবুলুস সালাম গ্রন্থে এবং আশ-শাওকানি ও সিদ্দিক হাসান খান প্রকাশ করেছেন। ইবনে হাজমের বক্তব্যেও এটিই প্রতীয়মান হয় এবং ইবনে তাইমিয়্যাহও তার আল-ইখতিয়ারাতে এ দিকেই ঝুঁকেছেন বলে মনে হয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। প্রথমত১ (পৃ. ৯–১০), এর সারসংক্ষেপ হলো আমরা বলি:

--------------------------------------------

১ এটি হলো তার পুস্তিকা ‘মিন তাসদিদিল ইসাবাহ ইলা মান যাআমা নুসরাতাল খোলাফা ইর-রাশিদিন ওয়াস-সাহাবাহ’।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
إن السنة صلاة العيد في المصلى مع جوازها في المساجد ووعدت هناك بتحقيق القول في هذه الرسالة.

فقد جاء أوان الوفاء بذلك فأقول:
নিশ্চয়ই ঈদগাহে ঈদের সালাত আদায় করাই হলো সুন্নাহ (سنة), যদিও মসজিদে তা আদায় করা বৈধ। আর আমি সেখানে এই পুস্তিকায় বিষয়টি বিস্তারিত পর্যালোচনার (تحقيق) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।

সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করার সময় উপস্থিত হয়েছে, সুতরাং আমি বলছি:
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌مواظبته صلى الله عليه وسلم على صلاة العيد في المصلى والأحاديث في ذلك

ذكر غير واحد من الحفاظ المحققين "أن هديه صلى الله عليه وسلم في صلاة العيدين كان فعلهما في المصلى دائما"1.

ويؤيد هذا الأحاديث الكثيرة التي وردت في ذلك في الصحيحين والسنن والمسانيد وغيرها من طرق كثيرة جدا فلا بد من ذكر شيء منها في هذه العجالة حتى يتبين القارئ الكريم صواب ما ذكرته فأقول:

الحديث الأول:

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج يوم الفطر

--------------------------------------------

1 انظر "زاد المعاد" "1 / 172" و "فتح الباري" "2 / 361" وسيأتي كلامه في ذلك قريبا. و "مختصر زاد المعاد" للشيخ محمد بن عبد الوهاب صفحة 44 تحقيق زهير الشاويش طبع المكتب الإسلامي
ঈদগাহে (মুসল্লায়) ঈদের সালাত আদায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিয়মিত চর্চা এবং এ সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

একাধিক বিজ্ঞ ও গবেষক (المحققين) হাফিজ (الحفاظ) উল্লেখ করেছেন যে, "দুই ঈদের সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ ছিল সর্বদা তা ঈদগাহে (মুসল্লায়) আদায় করা"১।

সহিহাইন, সুনান, মুসনাদ এবং অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত অসংখ্য হাদিস এর সমর্থন করে, যা অত্যন্ত বহুবিধ সূত্রে (طرق) বর্ণিত। তাই এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তার কিছু অংশ উল্লেখ করা আবশ্যক যাতে সম্মানিত পাঠক আমার উল্লিখিত বিষয়ের যথার্থতা বুঝতে পারেন। আমি বলছি:

প্রথম হাদিস:

আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন বের হতেন..."

--------------------------------------------

১ দেখুন: "যাদুল মা'আদ" (১/১৭২), "ফাতহুল বারী" (২/৩৬১), এবং অচিরেই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য আসছে। এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের "মুখতাসার যাদুল মা'আদ", পৃষ্ঠা ৪৪, যুহাইর আশ-শাভিশের সম্পাদনায় (تحقيق), আল-মাকতাব আল-ইসলামি কর্তৃক মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
والأضحى إلى المصلى1، فأول شيء يبدأ به الصلاة ثم ينصرف فيقوم مقابل الناس والناس جلوس على صفوفهم فيعظهم ويوصيهم ويأمرهم فإن كان يريد أن يقطع بعثا قطعه2 أو يأمر بشيء أمر به ثم ينصرف قال أبو سعيد: فلم يزل الناس على ذلك.... ".

رواه البخاري "2 / 259 - 260" ومسلم "3 / 20" والنسائي "1 / 234" والمحاملي في "كتاب العيدين" "ج 2 رقم 86 من نسختي بخطي" وأبو نعيم في " مستخرجه " "2 / 10 / 2" والبيهقي في سننه "3 / 280"

--------------------------------------------

1 قال الحافظ: "هو موضع بالمدينة معروف بينه وبين باب المسجد ألف ذراع" وقال ابن القيم: "وهو المصلى الذي يوضع فيه محمل الحاج" قلت: ويبد وأنه كان إلى الجهة الشرقية من المسجد النبوي قريبا من مقبرة البقيع كما يستفاد من الحديث الثالث الآتي.

2 أي يخرج طائفة من الجيش إلى جهة من الجهات. "فتح" قلت: وفيه إشارة قوية إلى أن خطبة العيد ليست محصورة في الوعظ والإرشاد فقط بل انهما تشمل التذكير والتوجيه إلى كل ما فيه تحقيق مصالح الأمة.
...এবং ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহের (مصلى) অভিমুখে রওনা হতেন১। তিনি সর্বপ্রথম যে কাজটি করতেন তা হলো সালাত আদায়। এরপর তিনি ফিরে আসতেন এবং মানুষের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াতেন, আর মানুষ তাদের কাতারসমূহে উপবিষ্ট থাকত। তখন তিনি তাদের উপদেশ প্রদান করতেন, অসিয়ত করতেন এবং নির্দেশ দিতেন। যদি তিনি কোনো সেনাদল (بعث) প্রেরণের ইচ্ছা করতেন, তবে তা পৃথক২ করতেন অথবা কোনো বিষয়ে নির্দেশ প্রদানের প্রয়োজন হলে তা দিতেন, অতঃপর তিনি প্রস্থান করতেন। আবু সাঈদ (রা.) বলেন: মানুষ ধারাবাহিকভাবে এভাবেই আমল করে আসছিল...।

এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি "২ / ২৫৯ - ২৬০", মুসলিম "৩ / ২০", নাসায়ি "১ / ২৩৪", আল-মাহামিলি তার 'কিতাবুল ঈদাইন' গ্রন্থে "আমার হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ২য় খণ্ড, ৮৬ নং", আবু নুয়াইম তার মুস্তাখরাজ (مستخرج) গ্রন্থে "২ / ১০ / ২" এবং বায়হাকি তার সুনান গ্রন্থে "৩ / ২৮০"।

--------------------------------------------

১ হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "এটি মদিনার একটি সুপরিচিত স্থান, যার এবং মসজিদের দরজার মধ্যবর্তী দূরত্ব এক হাজার হাত।" ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "এটি সেই ঈদগাহ যেখানে হাজিদের আসবাবপত্র রাখা হতো।" আমি বলছি: প্রতীয়মান হয় যে, এটি মসজিদে নববীর পূর্ব দিকে জান্নাতুল বাকী কবরস্থানের নিকটবর্তী ছিল, যা সামনে আগত তৃতীয় হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়।

২ অর্থাৎ সেনাবাহিনীর একটি দলকে কোনো একটি নির্দিষ্ট অভিমুখে প্রেরণ করা। "ফাতহুল বারী"। আমি বলছি: এতে একটি জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঈদের খুতবা কেবল ওয়াজ ও নসিহতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি উম্মাহর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে নসিহত ও দিকনির্দেশনা প্রদানকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الحديث الثاني:

عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: "كان صلى الله عليه وسلم يغدو إلى المصلى في يوم العيد والعنزة1 تحمل بين يديه فإذا بلغ المصلى نصبت بين يديه فيصلي إليها وذلك أن المصلى كان فضاء ليس فيه شيء يستتر به".

رواه البخاري "1/354" ومسلم "2 ظ 55" وأبو داود "1/109" والنسائي "1/232" وابن ماجه "1 / 392" وأحمد "رقم 6296" واللفظ لابن ماجه وهو أتم وسنده صحيح وكذلك رواه المحاملي في "2 رقم 26 - 36" وأبو القاسم الشحامي في " تحفة العيد " "رقم 14 - 16 من نسختي بخط ابني" والبيهقي "3 / 284 - 285".

الحديث الثالث:

عن البراء بن عازب قال: "خرج النبي صلى الله عليه وسلم يوم أضحى إلى

--------------------------------------------

1 في "النهاية": "العنزة مثل نصف الرمح وأكبر شيئا وفيها سنان مثل سنان الرمح والعكازة قريب منها".
দ্বিতীয় হাদিস:

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হতেন এবং তাঁর সম্মুখে একটি ছোট বল্লম (العنزة) বহন করা হতো। যখন তিনি ঈদগাহে পৌঁছাতেন, তখন সেটি তাঁর সামনে গেড়ে দেওয়া হতো এবং তিনি সেটির দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন। এর কারণ ছিল এই যে, ঈদগাহটি ছিল একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ যেখানে আড়াল করার মতো কিছু ছিল না।"

এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১/৩৫৪), মুসলিম (২/৫৫), আবু দাউদ (১/১০৯), নাসায়ি (১/২৩২), ইবনে মাজাহ (১/৩৯২) এবং আহমাদ (নম্বর ৬২৯৬)। শব্দবিন্যাস ইবনে মাজাহর এবং এটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, আর এর সনদটি সহিহ (صحيح)। অনুরূপভাবে এটি বর্ণনা করেছেন মুহামিলি (২ নম্বর ২৬-৩৬), আবু কাসিম আশ-শাহামি 'তুহফাতুল ঈদ' গ্রন্থে (আমার পুত্রের হস্তলিখিত কপির ১৪-১৬ নম্বর) এবং বায়হাকি (৩/২৮৪-২৮৫)।

তৃতীয় হাদিস:

বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল আযহার দিন বের হলেন...

--------------------------------------------

১ 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে রয়েছে: "আল-আনযাহ (العنزة) হলো বর্শার অর্ধেক বা তার চেয়ে কিছুটা বড় একটি দণ্ড এবং এতে বর্শার ফলার মতো ফলা থাকে। আল-উককাযাহ (العكازة) এর কাছাকাছি পর্যায়ের।"
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
البقيع1 "وفي رواية: المصلى" فصلى ركعتين ثم أقبل علينا بوجهه وقال: "إن أول نسكنا2 في يومنا هذا أن نبدأ بالصلاة ثم نرجع فننحر فمن فعل ذلك. فقد وافق سنتنا ومن ذبح قبل ذلك فإنما هو شيء عجله لأهله ليس من النسك في شيء".

رواه البخاري "2 / 372" والسياق له وأحمد "4 / 282" والمحاملي "2 رقم 90، 96" والرواية الأخرى لهما بسند حسن.

الحديث الرابع:

عن ابن عباس قيل له: أشهدت العيد مع النبي صلى الله عليه وسلم قال: نعم ولولا مكاني من الصغر ما شهدته حتى أتى العلم الذي عند دار كثير بن الصلت3 فصلى ثم خطب

--------------------------------------------

1 وهو بقيع الغرقد: وسمى لما كان فيه من أصول شوك العوسج وهو مقبرة المدينة. وفي المدينة أكثر من بقيع ولكن المشهور هو بقيع الغرقد. "زهير".

2 النسك: الطاعة والعبادة. "نهاية".

3 قال الحافظ: "التعريف بالمصلى بكونه عند دار كثير بن الصلت على سبيل التقريب للسامع وإلا فدار كثير بن الصلت محدثة بعد النبي صلى الله عليه وسلم وظهر من هذا الحديث: أنهم جعلوا لمصلاه شيئا يعرف به وهو المراد بالعلم - وهو بفتحتين - الشيء الشاخص".
আল-বাক্বী১ "এবং এক বর্ণনায়: ঈদগাহ (المصلى)"। অতঃপর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: "নিশ্চয়ই আমাদের এই দিনে আমাদের প্রথম ইবাদত (نسك) হলো আমরা সালাত দিয়ে শুরু করব, অতঃপর ফিরে গিয়ে পশু জবাই করব। যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে আমাদের সুন্নাহর (سنة) অনুসারী হলো। আর যে ব্যক্তি এর আগে জবাই করল, তা কেবল এমন বস্তু যা সে নিজের পরিবারের জন্য দ্রুত প্রস্তুত করেছে, ইবাদতের (نسك) অন্তর্ভুক্ত কিছুই তাতে নেই।"

ইমাম বুখারি (২/৩৭২) এটি বর্ণনা করেছেন এবং বিন্যাসটি তাঁর; ইমাম আহমাদ (৪/২৮২) এবং মাহামেলি (২, নং ৯০, ৯৬) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের অন্য বর্ণনাটি হাসান (حسن) সনদে (سند) বর্ণিত।

চতুর্থ হাদিস:

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ঈদে উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যদি (নবীর নিকটাত্মীয় হিসেবে) আমার বিশেষ অবস্থান না থাকতো, তবে অল্প বয়সের কারণে আমি সেখানে উপস্থিত হতে পারতাম না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাসীর বিন আল-সলত এর বাড়ির নিকটবর্তী স্থানে স্থাপিত চিহ্নের (العلم) কাছে আসলেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন এবং এরপর খুতবা দিলেন।

--------------------------------------------

১ এবং এটি হলো বাক্বী আল-গারক্বাদ: সেখানে 'আওসাজ' নামক কাঁটাযুক্ত গাছের মূল থাকার কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে এবং এটি মদীনার কবরস্থান। মদীনায় একাধিক 'বাক্বী' থাকলেও সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো বাক্বী আল-গারক্বাদ। "যুহাইর"।

২ আল-নুসুক (النسك): আনুগত্য (الطاعة) এবং ইবাদত (العبادة)। "নিহায়া"।

৩ হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: "সালাত আদায়ের স্থানকে (ঈদগাহ) কাসীর বিন আল-সলতের বাড়ির মাধ্যমে পরিচিত করা হয়েছে শ্রোতার কাছে বিষয়টি সহজবোধ্য করার জন্য। অন্যথায় কাসীর বিন আল-সলতের বাড়িটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরবর্তী সময়ে নির্মিত। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, তারা তাঁর সালাত আদায়ের স্থানের জন্য কোনো পরিচিতি চিহ্ন নির্ধারণ করেছিলেন যা দিয়ে সেটি চেনা যায়। 'আল-আলাম' (العلم) - যা দুই যবর বিশিষ্ট - বলতে এটিই উদ্দেশ্য, যার অর্থ হলো কোনো দৃশ্যমান বস্তু (الشاخص)"।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ثم أتى النساء ومعه بلال فوعظهن وذكرهن وأمرهن بالصدقة1 فرأيتهن يهوين بأيديهن يقذفنه في ثوب بلال ثم انطلق هو وبلال إلى بيته.

أخرجه البخاري "2 / 373" والسياق له ومسلم "2 / 18 - 19" وابن أبي شيبه "2 / 3 / 2" والمحاملي "رقم 38، 39" والفريابي "رقم 85، 93" وأبو نعيم في " مستخرجه " "2 / 8 / 2 - 9 / 1" وزاد مسلم في روايته عن ابن جريج:

قلت: لعطاء أحقا على الإمام الآن أن يأتي النساء حين يفرغ فيذكرهن؟ قال: إي لعمري إن ذلك لحق عليهم وما لهم لا يفعلون ذلك؟

--------------------------------------------

1 وأما الآن فلا لزوم للموعظة الخاصة بالنساء لأنهن شقائق الرجال والخطاب والموعظة واحدة للرجال والنساء وكذلك لوجود مكبرات الصوت المتعددة في كل مسجد وجامع. ويؤتى بها - عادة - في مصليات العيد.

نعم ويطلب من الخطيب أن يراعي مصلحة النساء بأنواع هن أحوج إليها من الرجال في خطبته الجامعة. "زهير".
অতঃপর তিনি মহিলাদের নিকট আসলেন, তাঁর সাথে বিলালও ছিলেন। তিনি তাদেরকে উপদেশ দিলেন ও নসিহত করলেন এবং তাদেরকে সদকা করার নির্দেশ দিলেন।১ আমি তাদেরকে দেখলাম যে তারা তাদের হাত বাড়িয়ে (দানকৃত বস্তু) বিলালের কাপড়ে নিক্ষেপ করছিল। অতঃপর তিনি ও বিলাল তাঁর ঘরের দিকে চলে গেলেন।

এটি বুখারি (২/৩৭৩) বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস তাঁরই। এছাড়া মুসলিম (২/১৮-১৯), ইবনে আবি শাইবাহ (২/৩/২), আল-মুহামিলি (নং ৩৮, ৩৯), আল-ফিরইয়াবি (নং ৮৫, ৯৩) এবং আবু নুয়াইম তাঁর মুসতাখরাজ-এ (২/৮/২ - ৯/১) এটি বর্ণনা করেছেন। মুসলিম ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত তাঁর বর্ণনা (رواية)-তে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন যে:

আমি আতাকে বললাম: বর্তমানে কি ইমামের জন্য এটি আবশ্যক যে, তিনি (নামাজ থেকে) অবসর হওয়ার পর মহিলাদের নিকট এসে তাদেরকে নসিহত করবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম! এটি অবশ্যই তাদের ওপর আবশ্যক। তাদের কী হয়েছে যে তারা এটি করে না?

--------------------------------------------

১. আর বর্তমান সময়ে মহিলাদের জন্য পৃথক কোনো নসিহতের আবশ্যকতা নেই; কেননা মহিলারা পুরুষদেরই সহোদর বা সদৃশ এবং পুরুষ ও মহিলাদের জন্য সম্বোধন ও নসিহত অভিন্ন। তদুপরি বর্তমানে প্রতিটি মসজিদ ও জামে মসজিদে মাইকের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। আর সাধারণত ঈদের নামাজের ময়দানে এর ব্যবস্থা করা হয়।

হ্যাঁ, খতিবের নিকট এটি কাম্য যে, তিনি তাঁর জুমআর খুতবায় মহিলাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ওইসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন যেগুলোতে তারা পুরুষদের চেয়ে অধিক মুখাপেক্ষী। "জুহাইর"।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌دلالة الأحاديث على أن السنة الصلاة في المصلى

إذا عرفت هذه الأحاديث فهي حجة قاطعة على أن السنة في صلاة العيدين أن تؤدى في المصلى وبذلك قال جمهور العلماء ففي "شرح السنة" للإمام البغوي:

السنة أن يخرج الإمام لصلاة العيدين إلا من عذر فيصلى في المسجد1 أي: مسجد داخل البلد.

وقال الإمام محيي الدين النووي في "شرح مسلم" عند الكلام على الحديث الأول:

هذا دليل لمن قال باستحباب الخروج لصلاة العيد إلى المصلى وأنه أفضل من فعلها في المسجد وعلى هذا عمل الناس في معظم الأمصار وأما أهل مكة فلا

--------------------------------------------

1 بل علل الأكثر بأن وضع مكة شرفها الله بين الجبال ولذلك لا يوجد فيها ساحة قريبة من المساكن اقرب من ساحة البيت الحرام. . . وهو وجه له قبول
হাদিসসমূহ থেকে ঈদগাহে সালাত আদায় সুন্নাহ (سنة) হওয়ার প্রমাণ

আপনি যখন এই হাদিসগুলো সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন এগুলো এই বিষয়ে অকাট্য দলিল (حجة قاطعة) যে, দুই ঈদের সালাত ঈদগাহে (مصلى) আদায় করাই হলো সুন্নাহ (سنة)। অধিকাংশ আলেম (جمهور العلماء) এই মত পোষণ করেছেন। ইমাম বাগাবী রহ.-এর শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:

সুন্নাহ (سنة) হলো ওজর না থাকলে ইমামের দুই ঈদের সালাতের জন্য (ঈদগাহে) বের হওয়া, অন্যথায় তিনি মসজিদে সালাত আদায় করবেন। অর্থাৎ: শহরের মধ্যকার কোনো মসজিদে।

ইমাম মুহিউদ্দিন নববী রহ. শারহু মুসলিম-এ প্রথম হাদিসটির আলোচনার প্রেক্ষাপটে বলেছেন:

এটি তাদের জন্য দলিল যারা ঈদের সালাতের জন্য ঈদগাহে (مصلى) বের হওয়াকে মুস্তাহাব (استحباب) বলেছেন এবং একে মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম (أفضل) মনে করেন। অধিকাংশ বড় বড় শহরে মানুষের আমল এই নিয়মেই চলে আসছে। তবে মক্কাবাসীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন।

--------------------------------------------

১ বরং অধিকাংশ আলেম এর কারণ দর্শিয়েছেন যে, মক্কা—আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন—পাহাড়বেষ্টিত হওয়ার কারণে সেখানে লোকালয়ের সন্নিকটে মসজিদুল হারামের চত্বরের চেয়ে নিকটবর্তী আর কোনো প্রশস্ত ময়দান নেই... এবং এটি একটি গ্রহণযোগ্য অভিমত (وجه)।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
يصلونها إلا في المسجد من الزمن الأول ولأصحابنا وجهان:

أحدهما: الصحراء أفضل لهذا الحديث.

والثاني وهو الأصح عند أكثرهم: المسجد أفضل إلا أن يضيق.

قالوا: وإنما صلى أهل مكة في المسجد لسعته وإنما خرج النبي صلى الله عليه وسلم إلى المصلى لضيق المسجد فدل على أن المسجد أفضل إذا تسع1

--------------------------------------------

1 بل علل الأكثر بأن وضع مكة شرفها الله بين الجبال ولذلك لا يوجد فيها ساحة قريبة من المساكن اقرب من ساحة البيت الحرام. . . وهو وجه له قبول.

وأما التعليل بالفضل فلا يقبل: لأن مسجده صلى الله عليه وآله وسلم له فضيلة صحيحة ومع ذلك لم يصل به إلا من عذر. "زهير".
প্রথম যুগ থেকেই তারা এটি কেবল মসজিদেই আদায় করতেন এবং আমাদের সঙ্গীদের (আলেমদের) নিকট এক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমত: এই হাদিসের কারণে উন্মুক্ত প্রান্তর (الصحراء) শ্রেষ্ঠতর।

দ্বিতীয়ত এবং যা তাদের অধিকাংশের নিকট অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح): মসজিদই শ্রেষ্ঠতর, যদি না তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।

তারা বলেন: মক্কাবাসীগণ কেবল মসজিদের প্রশস্ততার কারণেই সেখানে সালাত আদায় করতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের সংকীর্ণতার কারণে ঈদগাহে বের হতেন। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, প্রশস্ত হলে মসজিদই শ্রেষ্ঠতর।১

--------------------------------------------

১ বরং অধিকাংশ আলেম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সম্মানিত মক্কার অবস্থান পাহাড়সমূহের মাঝে। আর এই কারণে ঘরবাড়ির সন্নিকটে মসজিদুল হারামের চত্বরের চেয়ে নিকটবর্তী কোনো প্রশস্ত ময়দান সেখানে নেই... এবং এটি একটি গ্রহণযোগ্য (قبول) অভিমত।

আর মর্যাদার (ফদিলতের) ভিত্তিতে কারণ দর্শানো গ্রহণযোগ্য নয়: কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের মসজিদের একটি বিশুদ্ধ (صحيحة) মর্যাদা রয়েছে, তা সত্ত্বেও তিনি কোনো ওজর ব্যতীত সেখানে ঈদের সালাত আদায় করেননি। "জুহাইর"।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌رد تعليل الصلاة في المصلى بعلة ضيق المسجد

كذا قالوا وفيه نظر بين فإنه لو كان الأمر كما قالوا لما واظب النبي صلى الله عليه وسلم على أدائها في المصلى لأنه لا يواظب إلا على الأفضل.

والقول: بأنه إنما فعل ذلك لضيق المسجد دعوى لا دليل عليها ويؤيده أنه صلى الله عليه وسلم كان يصلى الجمعة في المسجد وكان الناس يأتونه من عوالي المدينة وغيرها فيصلى بهم الجمعة فيه ولا يظهر أي فرق بين عدد الذين يحضرون الجمعة من الصحابة وبين الذين يحضرون العيدين حتى يقال: كان يتسع لأولئك ولا يتسع لهؤلاء ومن ادعى خلاف ذلك فعليه الدليل وما أخاله يستطيعه.

ويؤيد ما ذكرنا أنه لو كانت صلاة العيدين في
‌মসজিদ সংকীর্ণ হওয়ার কারণ (علة)-এর ভিত্তিতে ঈদগাহে সালাত আদায়ের মত খণ্ডন

তারা এরূপ বলেছেন, তবে এতে সুস্পষ্ট আপত্তি (نظر) রয়েছে। কেননা বিষয়টি যদি তেমনই হতো যেমনটি তারা বলেছেন, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদগাহে সালাত আদায়ের ওপর নিয়মিত আমল (مواظبة) করতেন না; কারণ তিনি সর্বোত্তম আমল ব্যতীত অন্য কোনো আমলের ওপর নিয়মিত আমল (مواظبة) করতেন না।

আর এই দাবি করা যে—তিনি কেবল মসজিদের সংকীর্ণতার কারণেই এমনটি করেছিলেন—তা একটি প্রমাণহীন দাবি (دعوى), যার কোনো দলিল (دليل) নেই। আমাদের বক্তব্যকে এটিই শক্তিশালী করে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে জুমুআর সালাত আদায় করতেন এবং মদিনার উচ্চভূমি ও অন্যান্য স্থান থেকে লোকজন তাঁর কাছে আসতেন, আর তিনি তাদের নিয়ে মসজিদেই জুমুআর সালাত আদায় করতেন। জুমুআয় উপস্থিত সাহাবীগণের সংখ্যা এবং দুই ঈদে উপস্থিতদের সংখ্যার মধ্যে এমন কোনো পার্থক্য দৃশ্যমান হয় না যার ভিত্তিতে বলা যেতে পারে যে: মসজিদ জুমুআর মুসল্লিদের জন্য প্রশস্ত ছিল কিন্তু ঈদের মুসল্লিদের জন্য সংকীর্ণ ছিল। যারা এর বিপরীত দাবি (دعوى) করবেন, তাদেরই প্রমাণ (دليل) পেশ করতে হবে, আর আমার মনে হয় না যে তিনি তা করতে সক্ষম হবেন।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সপক্ষে এটিও সমর্থন যোগায় যে, যদি দুই ঈদের সালাত...
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
المسجد أفضل منه في المصلى وكان المسجد ضيقا لبادر صلى الله عليه وسلم إلى توسيعه كما فعل بعض الخلفاء من بعده فهو صلى الله عليه وسلم أولى بتوسيعه منهم لو كان لا يتسع لها فتركه صلى الله عليه وسلم التوسيع لا يمكن تصوره مع التسليم بالأفضلية المذكورة اللهم إلا أن يدعي أحد أنه كان ثمة مانع وما أظن عالما يجرأ على هذه الدعوى ولئن فعل ذلك أحد فإنا نبادره بقول الله تبارك وتعالى {قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} 1.

ومن العجيب أن الشافعية: جعلوا استمرار الرسول صلى الله عليه وسلم على أداء صلاة الجمعة في المسجد الواحد دليلا على عدم جواز تعدد الجمعة في بلد واحد ولم يجعلوا مواظبته صلى الله عليه وسلم على أدائه لصلاة العيدين في المصلى دليلا على أفضلية أدائها في المصلى دون المسجد ودليل المسألتين واحد كما ترى؟

وهذا كله يؤيد الوجه الأول من الوجهين اللذين ذكرهما الإمام النووي رحمه الله في مذهب السادة الشافعية.

--------------------------------------------

1 [سورة البقرة: الآية 111] .

মসজিদে [সালাত আদায়] যদি ঈদগাহের (مصلى) চেয়ে উত্তম হতো এবং মসজিদ যদি সংকীর্ণ থাকতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তা সম্প্রসারণে সচেষ্ট হতেন, যেমনটি তাঁর পরবর্তী কিছু খলিফা করেছিলেন। যদি সেখানে স্থান সংকুলান না হতো, তবে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তুলনায় এটি সম্প্রসারণের অধিক হকদার ছিলেন। সুতরাং উল্লিখিত শ্রেষ্ঠত্ব (أفضلية) স্বীকার করে নিয়ে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সম্প্রসারণ বর্জন করা অকল্পনীয়। তবে কেউ যদি দাবি করেন যে সেখানে কোনো প্রতিবন্ধক ছিল—কিন্তু আমি মনে করি না কোনো আলেম এই দাবি করার সাহস করবেন। আর যদি কেউ তা করেন, তবে আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী দিয়ে তাকে নিরুত্তর করব: {তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের প্রমাণ (برهان) পেশ করো} ১।

আশ্চর্যের বিষয় হলো যে শাফেয়ীগণ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি মসজিদে জুমুআর সালাত আদায় অব্যাহত রাখাকে এক শহরে একাধিক জুমুআ আদায়ের অবৈধতার (عدم جواز) প্রমাণ (دليل) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন; অথচ দুই ঈদের সালাত ঈদগাহে (مصلى) আদায়ে তাঁর ধারাবাহিকতাকে মসজিদের পরিবর্তে ঈদগাহে (مصلى) সালাত আদায়ের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ (دليل) হিসেবে গ্রহণ করেননি। অথচ আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, উভয় মাসআলার (مسألتين) দলিল (دليل) একই?

আর এই সবকিছুই সম্মানিত শাফেয়ী মাযহাবে (مذهب) ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) যে দুটি অভিমতের (وجهين) কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে প্রথম অভিমতটিকে (الوجه الأول) সমর্থন করে।

--------------------------------------------

১ [সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত ১১১]।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
على أن الخلاف بينهما شكلي وغير عملي في مثل مدينة دمشق ونحوها من المدن الكبيرة إذ أن الوجه الثاني صرح بأن أفضلية الصلاة في المسجد مشروطة بأن يتسع لجميع المصلين ومثل هذا المسجد لا وجود له فيتفق الوجهان حينئذ كما هو مذهب جماهير العلماء على أن الأفضل الصلاة في المصلى وقد نص الإمام الشافعي رحمه الله على كراهة الصلاة في المسجد في حال ضيقه كما يأتي.

وقال الحافظ ابن حجر العسقلاني في "الفتح" "2 / 450 - السلفية" تحت الحديث الأول:

واستدل على استحباب الخروج إلى الصحراء لصلاة العيد وأن ذلك أفضل من صلاتها في المسجد لمواظبة النبي صلى الله عليه وسلم على ذلك مع فضل مسجده.

وقال الشافعي في "الأم ": بلغنا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يخرج في العيدين إلى المصلى بالمدينة وكذا من بعده إلا من عذر مطر أو نحوه وكذلك عامة أهل البلدان إلا أهل مكة.
দামেস্ক বা তার মতো বৃহৎ নগরীগুলোর ক্ষেত্রে এই দুই পক্ষের মতভেদটি বাহ্যিক এবং প্রায়োগিক নয়; কারণ দ্বিতীয় অভিমতটিতে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মসজিদে সালাত আদায়ের শ্রেষ্ঠত্ব এই শর্তের ওপর নির্ভরশীল যে, সেটি যেন সকল মুসল্লির জন্য সংকুলানযোগ্য হয়। অথচ বর্তমানে এমন মসজিদের অস্তিত্ব নেই, ফলে এমতাবস্থায় জমহুর বা অধিকাংশ (جمهور) আলেমদের মাজহাব অনুযায়ী উভয় মতই এ বিষয়ে একমত পোষণ করে যে, মুসাল্লায় (مصلى) সালাত আদায় করাই উত্তম। ইমাম শাফেয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) মসজিদের সংকীর্ণতার অবস্থায় সেখানে সালাত আদায়কে অপছন্দনীয় (كراهة) বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যা পরবর্তীতে আসছে।

হাফিজ (حافظ) ইবনে হাজার আসকালানি 'ফাতহুল বারি'র (২/৪৫০ - সালাফিয়া সংস্করণ) প্রথম হাদিসের অধীনে বলেছেন:

ঈদের সালাতের জন্য উন্মুক্ত ময়দানে বের হওয়া মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার স্বপক্ষে এটি দলিল হিসেবে পেশ করা হয়েছে এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহ সা.) মসজিদের বিশেষ ফজিলত থাকা সত্ত্বেও নবী (সা.)-এর নিয়মিত আমলের কারণে এটি মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম।

ইমাম শাফেয়ি 'আল-উম্ম' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) মদিনায় দুই ঈদে মুসাল্লায় (مصلى) বের হতেন এবং তাঁর পরবর্তীগণও তাই করতেন, তবে বৃষ্টি বা এই জাতীয় ওজর থাকলে ভিন্ন কথা। একইভাবে মক্কাবাসী ব্যতীত অন্যান্য সকল শহরের সাধারণ অধিবাসীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم أشار إلى أن سبب ذلك سعة المسجد وضيق أطراف مكة. قال:

فلو عمر بلد فكان مسجد أهله يسعه في الأعياد لم أر أن يخرجوا منه فإن كان لا يسعهم كرهت الصلاة فيه ولا إعادة1.

ومقتضى هذا أن العلة تدور على الضيق والسعة لا لذات الخروج إلى الصحراء لأن المطلوب حصول عموم الاجتماع فإذا حصل في المسجد مع أفضليته كان أولى.

وقد تعقبه الإمام الشوكاني بقوله "3 / 248":

وفيه أن كون العلة الضيق والسعة مجرد تخمين لا ينهض للاعتذار عن التأسي به صلى الله عليه وسلم في الخروج إلى الجبانة2 بعد الاعتراف بمواظبته صلى الله عليه وسلم على ذلك.

وأما الاستدلال على أن ذلك هو العلة بفعل الصلاة

--------------------------------------------

1 الأم "1 / 207" ويأتي نص كلامه "ص 33".

2 الجبانة: هي الصحراء أصلا ثم أطلقت على المقابر لأنها تكون فيها من باب تسمية الشيء بموضعه وكذلك الجبان. "زهير".
এরপর তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, এর কারণ হলো মসজিদের প্রশস্ততা এবং মক্কার প্রান্তিক এলাকাগুলোর সংকীর্ণতা। তিনি বলেছেন:

যদি কোনো শহর আবাদ করা হয় এবং সেখানকার অধিবাসীদের জন্য তাদের মসজিদ ঈদের দিনগুলোতে সংকুলান করার মতো প্রশস্ত হয়, তবে আমি মনে করি না যে তারা সেখান থেকে (বাইরে) বের হবে। কিন্তু যদি মসজিদ তাদের জন্য সংকুলান না হয়, তবে আমি সেখানে সালাত আদায় করা অপছন্দ করি, যদিও পুনরায় আদায় (إعادة) করতে হবে না।1।

এর দাবি হলো এই যে, কার্যকারণ (علة) সংকীর্ণতা ও প্রশস্ততার ওপর আবর্তিত হয়, মরুভূমিতে (صحراء) বের হওয়ার মূল বিষয়ের ওপর নয়। কারণ কাঙ্ক্ষিত বিষয় হলো ব্যাপক জনসমাগম নিশ্চিত করা। সুতরাং মসজিদের শ্রেষ্ঠত্বের পাশাপাশি যদি সেখানে তা অর্জিত হয়, তবে সেটিই হবে উত্তম।

ইমাম শাওকানী "৩ / ২৪৮" পৃষ্ঠায় এর সমালোচনা করে বলেছেন:

এতে বলা হয়েছে যে, সংকীর্ণতা ও প্রশস্ততাকে কার্যকারণ (علة) হিসেবে গণ্য করা নিছক একটি অনুমান মাত্র। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই কাজের ওপর নিয়মিত অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করার পর উন্মুক্ত প্রান্তরে (جبانة) বের হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণের (تأسي) বিষয়টি থেকে বিমুখ হওয়ার স্বপক্ষে এটি কোনো বলিষ্ঠ ওজর হতে পারে না।2。

আর এই বিষয়টিই যে কার্যকারণ (علة), সে ব্যাপারে সালাত আদায়ের মাধ্যমে দলিল পেশ (استدلال) করার বিষয়টি...

--------------------------------------------

1 আল-উম্ম "১ / ২০৭" এবং তাঁর বক্তব্যের মূল পাঠ আসবে "৩৩ পৃষ্ঠায়"।

2 আল-জাব্বানাহ (الجبانة): মূলত এটি একটি মরুভূমি (صحراء), পরবর্তীকালে এটি কবরস্থানের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে শুরু করে, কারণ কবরস্থানগুলো সেখানে অবস্থিত থাকে; এটি মূলত কোনো স্থান অনুযায়ী সেই বস্তুর নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। তেমনিভাবে আল-জাব্বান (الجبان) শব্দটিও। "যুহাইর"।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
في مسجد مكة فيجاب عنه باحتمال أن يكون ترك الخروج إلى الجبانة لضيق أطراف مكة لا للسعة في مسجدها.

قلت: وهذا الاحتمال الذي ذكره الإمام الشوكاني أشار إليه الإمام الشافعي نفسه كما قال الحافظ فيما نقلته عنه آنفا ونص كلام الإمام الشافعي في " الأم " "1 / 207":

وأنما قلت هذا: لأنه قد كان وليس لهم هذه السعة في أطراف البيوت بمكة سعة كبيرة.

فهذا يؤيد ما ذهب إليه الشوكاني رحمه الله أن تعليل تركه صلى الله عليه وسلم الصلاة في المسجد بضيقه مجرد تخمين فهو بالرفض قمين!

وقد يحتج لتلك العلة بما رواه البيهقي في " السنن الكبرى " "3 / 310" من طريق محمد بن عبد العزيز بن عبد الرحمن عن عثمان بن عبد الرحمن التيمي قال:

مطرنا في أمارة أبان بن عثمان على المدينة مطرا شديدا ليلة الفطر فجمع الناس في المسجد فلم يخرج إلى المصلى الذي يصلى فيه الفطر والأضحى.
মক্কার মসজিদে সালাত আদায়ের বিষয়টি; এর উত্তর এই সম্ভাবনার ভিত্তিতে দেওয়া যেতে পারে যে, জানাজা বা ঈদগাহের ময়দানে বের হওয়া বর্জন করার কারণ ছিল মক্কার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর সংকীর্ণতা, মসজিদের প্রশস্ততা নয়।

আমি বলি: ইমাম শাওকানি কর্তৃক উল্লিখিত এই সম্ভাবনার দিকে ইমাম শাফিঈ নিজেও ইঙ্গিত করেছেন, যেমনটি হাফিজ (الحافظ) আমার ইতিপূর্বে উদ্ধৃত করা অংশে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম শাফিঈর ‘আল-উম্ম’ (১/২০৭) গ্রন্থে তাঁর বক্তব্যের মূলপাঠ (نص) হলো:

আর আমি এটি এ কারণেই বলেছি যে: মক্কার ঘরবাড়ির আশেপাশে তাদের জন্য এমন কোনো বড় ধরনের প্রশস্ত জায়গা ছিল না।

এটি ইমাম শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই মতকে সমর্থন করে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদে সালাত আদায়ের কারণ হিসেবে সংকীর্ণতাকে সাব্যস্ত করা নিছক একটি অনুমান মাত্র, যা মূলত বর্জনীয়!

আর সেই কারণের (علة) সপক্ষে বায়হাকি তাঁর ‘আস-সুনানুল কুবরা’ (৩/৩১০) গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান-এর সূত্র (طريق) হয়ে উসমান ইবনে আব্দুর রহমান আত-তৈমি থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা যেতে পারে, তিনি বলেন:

আবান ইবনে উসমানের মদিনার শাসনকাল চলাকালে ঈদুল ফিতরের রাতে আমাদের এখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হলো। ফলে তিনি লোকজনকে মসজিদে একত্রিত করলেন এবং সেই ঈদগাহে বের হলেন না যেখানে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সালাত আদায় করা হতো।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ثم قال لعبد الله بن عامر بن ربيعة. قم فأخبر الناس ما أخبرتني فقال عبد الله بن عامر: إن الناس مطروا على عهد عمر بن الخطاب رضي الله عنه فامتنع الناس من المصلى فجمع عمر الناس في المسجد فصلى بهم.

ثم قام على المنبر فقال:

يا أيها الناس إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يخرج بالناس إلى المصلى يصلي بهم لأنه أرفق بهم وأوسع عليهم وأن المسجد كان لا يسعهم قال: فإذا كان هذا المطر فالمسجد أرفق.

والجواب: إن هذه الرواية ضعيفة جدا لأن محمد بن عبد العزيز هذا وهو محمد بن عبد العزيز بن عمر بن عبد الرحمن بن عوف القاضي. قال البخاري: "منكر الحديث" وقال النسائي: "متروك" وقد أخرجها الشافعي في "الأم" "1 / 207" من طريق أخرى عن أبان بدون الحديث المرفوع والتعليل الموقوف على أن سنده ضعيف جدا أيضا لأنه من رواية إبراهيم شيخ الشافعي وهو إبراهيم بن محمد بن أبي يحيى الأسلمي
এরপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিয়াকে বললেন, "দাঁড়াও এবং মানুষকে তা জানাও যা তুমি আমাকে জানিয়েছ।" অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে আমির বললেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে বৃষ্টি হয়েছিল, ফলে মানুষ ইদগাহে যেতে পারছিল না। তখন উমর (রা.) মানুষকে মসজিদে একত্রিত করলেন এবং তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন।

তারপর তিনি মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বললেন:

হে লোকসকল! রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষকে নিয়ে ইদগাহে বের হতেন এবং তাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন, কারণ তা ছিল তাদের জন্য অধিক সহজ ও প্রশস্ত এবং মসজিদে তখন সবার সংকুলান হতো না। তিনি বললেন: সুতরাং এই বৃষ্টির সময় মসজিদই অধিক সহজ।

এর উত্তর হলো: এই বর্ণনা (رواية) টি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيفة جدا), কারণ এই মুহাম্মাদ বিন আবদুল আজিজ হলেন মুহাম্মাদ বিন আবদুল আজিজ বিন উমর বিন আবদুর রহমান বিন আউফ আল-কাদি। ইমাম বুখারি বলেছেন: "তার বর্ণিত হাদিস অগ্রহণযোগ্য (منكر الحديث)" এবং ইমাম নাসায়ি বলেছেন: "তিনি পরিত্যজ্য (متروك)"। ইমাম শাফেয়ি এটি আল-উম্ম (১/২০৭) গ্রন্থে আবান থেকে অন্য একটি সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন, যেখানে রাসূল (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হাদিস এবং সাহাবীর ওপর স্থগিত (موقوف) ব্যাখ্যাটি ছাড়াই এটি বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া এর সনদ (سند) টিও অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا); কারণ এটি ইমাম শাফেয়ির উস্তাদ ইব্রাহিমের বর্ণনা (رواية), আর তিনি হলেন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আবি ইয়াহইয়া আল-আসলামি।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وهو كذاب وقال مالك لم يكن ثقة في الحديث ولا في دينه ولذلك قال الحافظ فيه في "التقريب": "متروك".

فثبت مما تقدم بطلان التعليل بضيق المسجد وترجح أقوال العلماء الذين جزموا بأن الصلاة في المصلى هي السنة وأنه مشروع في كل زمان وبلد إلا لضرورة ولا أعلم أحدا من العلماء المستقلين - الذين يعتد بهم - خالف في ذلك فقال ابن حزم في "المحلى" "5 / 81": "وسنة صلاة العيدين: أن يبرز أهل كل قرية أو مدينة إلى فضاء واسع بحضرة منازلهم ضحوة أثر إبيضاض الشمس وحين ابتداء جواز التطوع".

ثم قال "ص 86": "وإن كان عليهم مشقة في البروز إلى المصلى صلوا جماعة في الجامع" ثم قال "ص 87":

وقد روينا عن عمر وعثمان رضي الله عنهما: أنهما صليا العيد بالناس في المسجد لمطر وقع يوم العيد وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يبرز إلى المصلى لصلاة العيدين فهذا أفضل وغيره يجزيء لأنه فعل لا أمر. وبالله التوفيق.
আর তিনি একজন মিথ্যাবাদী (كذاب)। ইমাম মালেক বলেছেন যে, তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে কিংবা দ্বীনের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন না। এই কারণেই হাফেজ (ইবনে হাজার) 'তাকরিব' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "পরিত্যক্ত (متروك)"।

সুতরাং পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে এটি প্রমাণিত হলো যে, মসজিদের সংকীর্ণতার ওজরের মাধ্যমে দেয়া যুক্তিটি অসার। বরং ওই সকল ওলামায়ে কেরামের মতই অধিক প্রাধান্যযোগ্য যারা নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, ঈদগাহে (المصلى) নামাজ আদায় করাই সুন্নাহ এবং তা প্রত্যেক যুগ ও জনপদের জন্য শরিয়তসম্মত বিধান, যদি না কোনো বিশেষ প্রয়োজন বা অপারগতা দেখা দেয়। নির্ভরযোগ্য ও স্বতন্ত্র গবেষণার অধিকারী আলেমদের মধ্যে এমন কাউকে আমি জানি না যিনি এর বিরোধিতা করেছেন। ইবনে হাজম 'মুহাল্লা' (৫/৮১) গ্রন্থে বলেছেন: "দুই ঈদের নামাজের সুন্নাহ হলো—প্রত্যেক গ্রাম বা শহরের অধিবাসীরা তাদের আবাসস্থলের সন্নিকটে কোনো এক প্রশস্ত উন্মুক্ত ময়দানে বের হয়ে আসবে; আর তা হবে সূর্য পুরোপুরি উজ্জ্বল হওয়ার পর এবং নফল নামাজ আদায়ের বৈধ সময় শুরু হওয়ার পরপরই।"

অতঃপর তিনি (পৃষ্ঠা ৮৬-তে) বলেন: "আর যদি ঈদগাহে (المصلى) বের হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তবে তারা জামে মসজিদে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করবে।" এরপর তিনি (পৃষ্ঠা ৮৭-তে) বলেন:

আমাদের কাছে ওমর ও ওসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা ঈদের দিন বৃষ্টির কারণে জনগণকে নিয়ে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। অথচ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই ঈদের নামাজের জন্য ঈদগাহে (المصلى) বের হতেন; সুতরাং এটিই উত্তম (أفضل), আর এর বাইরে অন্যটি বৈধ বা পর্যাপ্ত (يجزيء), কারণ এটি রাসুলুল্লাহর একটি কর্ম, কোনো (আবশ্যিক) আদেশ নয়। আর আল্লাহর সাহায্যেই সকল সাফল্য আসে।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وللأستاذ الفاضل الشيخ أحمد محمد شاكر1 المحدث المشهور بحث طيب نافع في صلاة العيد في المصلى وفي خروج النساء إليها رأيت أن أنقله عنه لما فيه من الفوائد قال رحمه الله في تعليقه على الترمذي "2 / 421 - 424" بعد أن أشار إلى الحديث الأول. وذكر قول ابن جريج لعطاء المتقدم في الحديث الرابع: "أحقا على الإمام أن يأتي النساء حين يفرغ فيذكرهن؟ قال: أي العمري … " قال الشيخ أحمد:

وقد تضافرت أقوال العلماء على ذلك.

فقال العلامة العيني الحنفي في "شرح البخاري" وهو يستنبط من حديث أبي سعيد "ج 6 ص 280 - 281" قال: "وفيه البروز إلى المصلى والخروج إليه ولا يصلي في المسجد إلا عن ضرورة".

--------------------------------------------

1 هو أستاذي العلامة الجليل المحدث المجتهد القاضي صاحب المؤلفات الكثيرة النافعة. ولد في القاهرة سنة 1309 وتوفي فيها سنة 1377. تغمده الله برحمته.

وهو من أسرة علم وفضل ومروءة ودفاع عن السنة ومن هذه الأسرة والده العلامة الشيخ محمد شاكرك شيخ علماء الإسكندرية وأخوه العالم الجليل شيخ أدباء الإسلام في هذا العصر محمود محمد شاكر صاحب المؤلفات والتحقيقات المفيدة "زهير".
বিশিষ্ট উস্তাদ ও প্রখ্যাত মুহাদ্দিস (محدث) শেখ আহমদ মুহাম্মদ শাকির ১-এর ঈদগাহে ঈদের সালাত আদায় এবং সেখানে মহিলাদের গমনের বিষয়ে একটি চমৎকার ও উপকারী গবেষণা রয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত নানাবিধ উপকারের কারণে আমি তা তাঁর থেকে উদ্ধৃত করা সমীচীন মনে করেছি। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তিরমিজি-এর ওপর তাঁর টীকাভাষ্যে (২/৪২১-৪২৪) প্রথম হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করার পর এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি চতুর্থ হাদিসে বর্ণিত ইবনে জুরাইজের আতা-কে করা পূর্বোক্ত উক্তিটি উল্লেখ করেছেন: "ইমাম যখন (খুতবা থেকে) অবসর হবেন, তখন কি তাঁর জন্য মহিলাদের নিকট যাওয়া এবং তাঁদের উপদেশ দেওয়া আবশ্যক? তিনি বললেন: হ্যাঁ, অবশ্যই … " শেখ আহমদ বলেন:

এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ ঐকমত্য পোষণ করেছে।

আল্লামা আইনি হানাফি 'শারহুল বুখারি'-তে আবু সাইদ-এর বর্ণিত হাদিস (৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৮০-২৮১ পৃষ্ঠা) থেকে মাসআলা উদ্ঘাটনকালে বলেছেন: "এর মধ্যে ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া এবং সেখানে বের হওয়ার বিষয়টি রয়েছে; আর বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদে সালাত আদায় করা উচিত নয়।"

--------------------------------------------

১ তিনি আমার উস্তাদ, সুমহান আল্লামা, মুহাদ্দিস (محدث), মুজতাহিদ (مجتهد), বিচারক এবং বহু উপকারী গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি ১৩০৯ হিজরিতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৭৭ হিজরিতে সেখানে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁকে রহমতের চাদরে আবৃত করুন। তিনি ইলম, মর্যাদা, সৌজন্য এবং সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। এই পরিবারেরই সদস্য হলেন তাঁর পিতা আল্লামা শেখ মুহাম্মদ শাকির, যিনি আলেকজান্দ্রিয়ার আলেমদের প্রধান ছিলেন এবং তাঁর ভাই বর্তমান যুগের ইসলামি সাহিত্যিকদের প্রধান আল্লামা মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির, যিনি বহু ফলপ্রসূ গ্রন্থ ও গবেষণার রচয়িতা। "জুহাইর"।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وروى ابن زياد عن مالك قال: "السنة الخروج إلى الجبانة إلا لأهل مكة ففي المسجد".

وفي الفتاوى الهندية "ج 1 ص 118":

الخروج إلى الجبانة في صلاة العيد سنة وإن كان يسعهم المسجد الجامع على هذا المشايخ وهو الصحيح.

وفي " المدونة " المروية عن مالك "ج 1 ص 171". قال مالك:

"لا يصلي في العيدين في موضعين ولا يصلون في مسجدهم ولكن يخرجون كما خرج النبي صلى الله عليه وسلم. ابن وهب عن يونس عن ابن شهاب قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج إلى المصلى ثم استن بذلك أهل الأمصار".

وقال ابن قدامة الحنبلي في المغني "ج 2 ص 229 - 230":

السنة أن يصلي العيد في المصلى أمر بذلك علي
ইবনে যিয়াদ মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "মক্কাবাসীদের ব্যতীত অন্যদের জন্য ঈদগাহে (الجبانة) গমন করা সুন্নাহ (السنة); আর তাদের জন্য মসজিদে [সালাত আদায় করা]।"

এবং আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া-তে (১ম খণ্ড, ১১৮ পৃষ্ঠা) রয়েছে:

ঈদের সালাতের জন্য ঈদগাহে (الجبانة) যাওয়া সুন্নাহ (سنة), যদিও জামে মসজিদে স্থান সংকুলান সম্ভব হয়; মাশায়েখগণ এই মতের ওপর রয়েছেন এবং এটিই বিশুদ্ধ (الصحيح)।

এবং ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত "আল-মুদাওয়ানাহ"-তে (১ম খণ্ড, ১৭১ পৃষ্ঠা) ইমাম মালিক বলেছেন:

"দুই ঈদের সালাত দুটি ভিন্ন স্থানে হবে না এবং তারা তাদের মসজিদেও সালাত আদায় করবে না, বরং তারা [সালাতের জন্য] বের হবে যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হতেন। ইবনে ওয়াহাব ইউনুস থেকে এবং তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহের (المصلى) উদ্দেশ্যে বের হতেন, অতঃপর বিভিন্ন শহরের অধিবাসীরা একে সুন্নাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে।"

এবং ইবনে কুদামা আল-হাম্বলী আল-মুগনি-তে (২য় খণ্ড, ২২৯-২৩০ পৃষ্ঠা) বলেছেন:

সুন্নাহ (السنة) হলো ঈদগাহে (المصلى) ঈদের সালাত আদায় করা; আলী (রা.) এরই নির্দেশ প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) সালাতুল ঈদাইন ফিল মুসাল্লা হিয়াস সুন্নাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
رضي الله عنه واستحسنه الأوزاعي وأصحاب الرأي وهو قول ابن المنذر وحكي عن الشافعي: إن كان مسجد البلد واسعا فالصلاة فيه أولى لأنه خير البقاع وأطهرها ولذلك يصلي أهل مكة في المسجد الحرام.

ولنا أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يخرج إلى المصلى ويدع مسجده وكذلك الخلفاء بعده ولا يترك النبي صلى الله عليه وسلم الأفضل مع قربه ويتكلف فعل الناقص مع بعده ولا يشرع لأمته ترك الفضائل ولأننا أمرنا باتباع النبي صلى الله عليه وسلم والاقتداء به ولا يجوز أن يكون المأمور به هو الناقص والمنهي عنه هو الكامل ولم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه صلى العيد بمسجده إلا من عذر ولأن هذا إجماع المسلمين فإن الناس في كل عصر ومصر يخرجون إلى المصلى مع سعة المسجد وضيقه وكان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي في المصلى مع شرف مسجده.

وأقول: أن قول ابن قدامة " ولم ينقل عن النبي صلى
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। ইমাম আওযায়ী এবং আসহাবুর রায় এটিকে উত্তম মনে করেছেন এবং এটিই ইবনুল মুনযিরের অভিমত। ইমাম শাফেয়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: যদি জনপদের মসজিদ প্রশস্ত হয়, তবে সেখানে সালাত আদায় করাই অধিকতর উত্তম; কেননা তা ভূপৃষ্ঠের শ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম স্থান। একারণেই মক্কাবাসী মসজিদে হারামে সালাত আদায় করেন।

আমাদের পক্ষ থেকে দলিল হলো, নবী (সা.) ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হতেন এবং নিজের মসজিদ ত্যাগ করতেন। তাঁর পরবর্তী খলিফাগণও অনুরূপ করতেন। নবী (সা.) মসজিদের নৈকট্য সত্ত্বেও শ্রেষ্ঠতর (الأفضل) আমল ত্যাগ করতেন না এবং দূরত্বের কষ্ট স্বীকার করে কোনো ত্রুটিপূর্ণ (الناقص) আমল সম্পাদন করতেন না। তিনি তাঁর উম্মতের জন্য ফযিলতপূর্ণ আমল বর্জনের বিধান দেন না। কেননা আমাদের নবী (সা.)-এর অনুসরণ ও অনুকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি বৈধ নয় যে, যা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা হবে অসম্পূর্ণ (الناقص) আর যা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে তা হবে পূর্ণাঙ্গ (الكامل)। কোনো ওজর ব্যতীত নবী (সা.) তাঁর মসজিদে ঈদের সালাত আদায় করেছেন বলে বর্ণিত (نقل) হয়নি। আর এটি মুসলমানদের ঐক্যমত্য (إجماع); কেননা প্রতিটি যুগে ও প্রতিটি জনপদে মানুষ মসজিদের প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতা নির্বিশেষে ঈদগাহে গমন করেন। নবী (সা.) তাঁর মসজিদের উচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও ঈদগাহেই সালাত আদায় করতেন।

আমি বলি: ইবনে কুদামার এই উক্তি যে, "নবী (সা.) থেকে বর্ণিত (نقل) হয়নি...