(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: -)
رسم الوداد في إيضاح تحفة الأولاد في توحيد رب العباد   (غازي بن سالم أفلح)

القسم: العقيدة


الكتاب: رسم الوداد في إيضاح «تحفة الأولاد في توحيد رب العباد»

مؤلف الشرح: أبو حمزة غازي بن سالم أفلح

ناظم «تحفة الأولاد»: محمد بن عبد العظيم بن عيد بن محمود بن شعبان المعروف بـ «محمد بن عيد الشعباني»

الناشر: بدون

الطبعة: الثانية، 1441 - 2020

عدد الصفحات: 191

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 جُمادَى الأولى 1444

বান্দাদের রবের তাওহীদ বিষয়ক "তুহফাতুল আওলাদ"-এর ব্যাখ্যায় "রাসমুল উইদাদ"   (গাজী বিন সালেম আফলাহ)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: বান্দাদের রবের তাওহীদ বিষয়ক «তুহফাতুল আওলাদ»-এর ব্যাখ্যায় «রাসমুল উইদাদ»

ব্যাখ্যাকার: আবু হামজাহ গাজী বিন সালেম আফলাহ

«তুহফাতুল আওলাদ»-এর মূল কাব্য রচয়িতা: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিম বিন ঈদ বিন মাহমুদ বিন শাবান, যিনি «মুহাম্মাদ বিন ঈদ আশ-শাবানী» নামে পরিচিত

প্রকাশক: নেই

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৪১ - ২০২০

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ জুমাদাল উলা ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، نبينا ورسولنا محمد بن عبد الله الصادق الأمين، وعلى آله وصحابته، ومن اهتدى بسنته إلى يوم الدين، أما بعد:

فإنه لا صلاح للعباد ولا فلاح، ولا فوز لهم ولا نجاح، إلا بمعرفة أول مفروض عليهم والعمل به؛ وهو الأمر الذي خلقهم الله عز وجل له وأخذ عليهم الميثاق به، وأرسل به رسله إليهم، وأنزل به كتبه عليهم، ولأجله خلقت الدنيا والآخرة والجنة والنار، وبه حقت الحاقة ووقعت الواقعة، وفي شأنه تنصب الموازين وتتطاير الصحف، وفيه تكون الشقاوة والسعادة، وعلى حسب ذلك تقسم الأنوار {وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ} [النور: 40]. وذلك الأمر هو:

• معرفة الله عز وجل بإلهيته وربوبيته وأسمائه وصفاته وتوحيده بذلك.

• ومعرفة ما يناقضه أو بعضه من الشرك والتعطيل، واجتناب ذلك

• والإيمان بملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وبالقدر خيره وشره،

• وتوحيد الطريق إلى الله عز وجل بمتابعة كتابه ورسوله والعمل وفق ما شرعه الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم،

• ومعرفة ما يناقضها من البدع المضلة ويميل بالعبد عنها فيجانبها كل المجانبة ويعوذ بالله منها
ভূমিকা

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার প্রতি যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে—আমাদের নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ, যিনি সত্যবাদী ও আমানতদার। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে হিদায়াত প্রাপ্ত হবে তাদের প্রতি। অতঃপর:

নিশ্চয়ই বান্দাদের জন্য কোনো সংশোধন ও কল্যাণ নেই, নেই কোনো বিজয় ও সাফল্য, তাদের ওপর সর্বপ্রথম যা ফরজ করা হয়েছে তা জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করা ছাড়া। আর এটিই সেই বিষয় যার জন্য মহান আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন, যার ওপর তাদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন, যার জন্য তাদের নিকট রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। এরই জন্য দুনিয়া ও আখিরাত এবং জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই মহাসত্য অনিবার্য হবে এবং সংঘটিত হবে মহাসংঘটন। এর ব্যাপারেই পাল্লাসমূহ স্থাপন করা হবে এবং আমলনামাগুলো উড়তে থাকবে। এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য এবং এরই ভিত্তিতে নূর বা আলো বণ্টন করা হবে—"আর আল্লাহ যাকে নূর দান করেন না, তার জন্য কোনো নূর নেই" [সূরা আন-নূর: ৪০]। আর সেই বিষয়টি হলো:

• মহান আল্লাহকে তাঁর উলুহিয়্যাত, রুবুবিয়্যাত এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে জানা এবং এর মাধ্যমে তাঁর তাওহীদ বা একত্ববাদ সাব্যস্ত করা।

• শিরক ও আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার মতো যা কিছু এর পরিপন্থী বা আংশিক পরিপন্থী, তা চেনা এবং তা বর্জন করা।

• তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনয়ন করা।

• আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের অনুসরণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে যাত্রাপথকে একনিষ্ঠ করা এবং মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বিধান দিয়েছেন সে অনুযায়ী আমল করা।

• পথভ্রষ্ট বিদআতসমূহ চেনা যা এর পরিপন্থী এবং যা বান্দাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়, অতঃপর তা পুরোপুরি পরিহার করা এবং তা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
وبين يديك أخي المسلم حاشية على منظومة في هذا العلم المبارك "علم التوحيد" وهي منظومة "تحفة الأولاد في توحيد رب العباد" كتبت حاشيتها هذه لتكون تذكرة للمعلم حين تدريسه هذه المنظومة لطلابه.

وقد أخذت جملة كثيرة من فوائدها وتقريراتها من كتب العلامة محمد بن صالح ابن عثيمين لا سيما كتابه "القول المفيد شرح كتاب التوحيد" ومن كتب العلامة الوزير الشيخ صالح بن عبد العزيز آل الشيخ لا سيما كتابه "التمهيد لشرح كتاب التوحيد" كما رجعت إلى كتب أخرى تتعلق بشرح كتاب التوحيد للمجدد الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب وغيره من كتب الاعتقاد، وأنا أنصح بالرجوع إلى شروح العلماء لكتاب التوحيد لمن أراد التوسع في فهم المسائل والوقوف على الأدلة

والله الهادي وما توفيقي إلا بالله

 

وكتبه

أبو حمزة غازي بن سالم أفلح

الخميس 21 صفر 1434

3/ 1/ 2013
হে মুসলিম ভাই, আপনার সম্মুখে এই বরকতময় শাস্ত্র অর্থাৎ "তাওহীদ শাস্ত্রের" একটি কাব্যগ্রন্থের পাদটীকা (হাশিয়া) পেশ করা হচ্ছে। এটি হলো "তুহফাতুল আওলাদ ফি তাওহীদি রব্বিল ইবাদ" নামক কাব্যগ্রন্থ। এই পাদটীকাটি লেখা হয়েছে শিক্ষক যখন তাঁর ছাত্রদের নিকট এই কাব্যগ্রন্থটি পাঠদান করবেন, তখন তাঁর জন্য স্মারক হিসেবে কাজে লাগার উদ্দেশ্যে।

আমি এর বহুবিধ ফায়দা ও সিদ্ধান্তসমূহ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ ইবনে উসাইমীনের গ্রন্থসমূহ থেকে গ্রহণ করেছি, বিশেষত তাঁর "আল-কাওলুল মুফীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ" গ্রন্থ থেকে। এছাড়াও আল্লামা উজির শায়খ সালিহ বিন আব্দুল আজিজ আলে শায়খের গ্রন্থসমূহ, বিশেষ করে তাঁর "আত-তামহীদ লিশারহি কিতাবিত তাওহীদ" গ্রন্থটি থেকে। পাশাপাশি আমি মুজাদ্দিদ ইমাম শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের "কিতাবুত তাওহীদ"-এর ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গ্রন্থ এবং আকিদাহ বিষয়ক অপরাপর কিতাবসমূহেরও শরণাপন্ন হয়েছি। যারা মাসআলাগুলো আরও গভীরভাবে বুঝতে চান এবং দলীল-প্রমাণাদি সম্পর্কে অবগত হতে চান, আমি তাদেরকে আলেমগণের লিখিত কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর দিকে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

আল্লাহই সঠিক পথ প্রদর্শনকারী এবং আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত আমার কোনো সামর্থ্য নেই।

 

এটি লিখেছেন

আবু হামযা গাজী বিন সালিম আফলাহ

বৃহস্পতিবার ২১ সফর ১৪৩৪ হিজরি

৩/ ১/ ২০১৩ ঈসায়ী
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌نبذة عن الناظم

‌‌اسمه ومولده:

هو الشيخ المقرئ محمد بن عبد العظيم بن عيد بن محمود بن شعبان المعروف بـ (محمد بن عيد الشعباني) لقوله في نظمه للتوحيد:

يقول راجي رحمة الرحمن * محمد بن عيد الشعباني

ولد في قرية من قرى الريف المصري التابعة لمدينة بنها بمحافظة القليوبية: يوم الأربعاء الرابع من شهر رجب سنة 1394 هـ الموافق 24/ 7/ 1974 م وأقبل على تعلم القرآن من صغره بتوجيه من والده في كتاب القرية ثم انتقل مع أبيه إلى القاهرة واستمر في تدارس القرآن وحفظه حتى أتمه عند الخامسة عشر من عمره.

 

‌‌بعض مشايخه:

1 - الشيخ أحمد حامد آل طعيمة حفظه الله

قرأ عليه ختمة برواية حفص عن عاصم وأجازه من قراءته على الشيخ عبد الحليم بدر عن الشيخ عامر السيد عثمان. ومن طريق الشيخ عبد العزيز عبد الحفيظ عن الشيخ الزيات

2 - الشيخ عبد الرازق السيد البكري رحمه الله

قرأ عليه ختمة كاملة برواية حفص من طريق الشاطبية وأجازه بقراءته على الشيخ عبد المنعم مصطفى الأشموني عن الشيخ الزيات.

3 - الشيخ محمد الفرماوي قطب حماد رحمه الله

قرأ عليه القراءات العشر من طريقي الشاطبية والدرة ولازمه كثيرا وتخرج به
নাযিম (কবিতা রচয়িতা) সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

‌‌তাঁর নাম ও জন্ম:

তিনি হলেন শায়খ আল-মুকরি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আযীম ইবনে ঈদ ইবনে মাহমুদ ইবনে শাবান, যিনি (মুহাম্মদ ইবনে ঈদ আশ-শাবানি) নামে পরিচিত; কারণ তাওহীদ বিষয়ক তাঁর কবিতায় তিনি বলেছেন:

রহমানের রহমতের প্রত্যাশী মুহাম্মদ ইবনে ঈদ আশ-শাবানি বলছেন

তিনি ১৩৯৪ হিজরির ৪ঠা রজব, মোতাবেক ২৪/০৭/১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ রোজ বুধবার মিশরের কালইউবিয়া প্রদেশের বানহা শহরের অন্তর্গত একটি পল্লী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নির্দেশনায় শৈশব থেকেই তিনি গ্রামের মক্তবে কুরআন শিখতে শুরু করেন। এরপর তিনি পিতার সাথে কায়রোতে চলে আসেন এবং কুরআন অধ্যয়ন ও মুখস্থ করা অব্যাহত রাখেন, এমনকি পনের বছর বয়সে তিনি তা সম্পন্ন করেন।

 

‌‌তাঁর কয়েকজন শিক্ষক:

১ - শায়খ আহমদ হামিদ আল তুআইমা (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)

তিনি তাঁর নিকট আসিমের সূত্রে হাফসের রেওয়ায়েতে এক খতম তিলাওয়াত করেছেন। শায়খ তাঁকে শায়খ আবদুল হালিম বদর-এর সূত্রে শায়খ আমির আস-সায়্যিদ উসমান থেকে প্রাপ্ত সনদের ভিত্তিতে ইজাজত প্রদান করেছেন। এছাড়াও শায়খ আবদুল আজিজ আবদুল হাফিজের সূত্রে শায়খ আল-যায়্যাত থেকেও (ইজাজত প্রাপ্ত)।

২ - শায়খ আবদুর রাজ্জাক আস-সায়্যিদ আল-বাকরি (রাহিমাহুল্লাহ)

তিনি তাঁর নিকট শাতবিইয়াহর পদ্ধতিতে হাফসের রেওয়ায়েতে পূর্ণ এক খতম তিলাওয়াত করেছেন এবং শায়খ তাঁকে শায়খ আবদুল মুনইম মুস্তফা আল-আশমুনি-এর সূত্রে শায়খ আল-যায়্যাত থেকে প্রাপ্ত সনদের ভিত্তিতে ইজাজত প্রদান করেছেন।

৩ - শায়খ মুহাম্মদ আল-ফারমাউয়ি কুতুব হাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ)

তিনি তাঁর নিকট শাতবিইয়াহ ও আদ-দুররাহ-এর পদ্ধতিতে দশ কেরাত পাঠ করেছেন, দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর কাছেই শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
قال الناظم: قرأتها عليه في حولين كاملين آية آية ووجها وجها بالتحريرات والوقف على الهمزات وأجازني من قراءته على الشيخ عامر، وقراءته على الشيخ حسن إبراهيم دعادر الشموتي، وإجازته من الشيخ إبراهيم مرسي بكر.

4 - الدكتور عبد العزيز عبد الحفيظ

قال الناظم: تلقيت عليه شرح كتاب التحفة السنية في شرح المقدمة الآجرومية في علم النحو.

5 - الدكتور محمد عبد المعطي:

قال الناظم: تلقيت عليه من شرح ابن عقيل على ألفية ابن مالك في النحو قدرا حسنا من شرحها يقارب ربعها وكذلك تلقيت عليه من شرح الزوزني على المعلقات السبع.

 

‌‌أعماله ووظائفه:

• عمل محفظا للقرآن الكريم في المملكة العربية السعودية بالمجمعة سبع سنوات

قال الناظم:

• ثم التحقت بمعهد قراءات بنها ولما أعلنت وزارة الأوقاف عن مسابقة شيوخ المقارئ تقدمت للاختبار وكنت من الخمسة الناجحين على مستوى القليوبية.

• ثم انتقلت منه إلى معهد قراءات شبرا بخوم بعد أن انتقلت إلى عرب الرمل التابعة لقويسنا واشتريت أرضا بها وبنيت لي بيتا فيها

• وأنهيت دراستي في معهد القراءات ولله الحمد بعد حصولي على إجازة التجويد والشهادة العالية وشهادة التخصص.

• ثم التحقت بكلية القرآن الكريم للقراءات وعلومها بجامعة الأزهر بطنطا
নাযিম বলেন: আমি তাঁর কাছে পূর্ণ দুই বছর ধরে এটি পাঠ করেছি, এক এক আয়াত এবং এক এক পৃষ্ঠা করে, তাহরীরাত (সূক্ষ্ম বিন্যাস) এবং হামযার বিরতিসহ। তিনি আমাকে তাঁর শায়খ আমিরের কাছে পাঠ এবং শায়খ হাসান ইবরাহীম দাআদর আশ-শামুতীর কাছে পাঠের মাধ্যমে ইজাযত প্রদান করেছেন, এবং শায়খ ইবরাহীম মুরসী বকরের ইজাযত থেকেও ইজাযত দিয়েছেন।

৪ - ডক্টর আব্দুল আযীয আব্দুল হাফীয

নাযিম বলেন: আমি তাঁর নিকট নাহু শাস্ত্রে আল-মুকাদ্দিমাতুল আজুররুমীয়াহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ' পড়েছি।

৫ - ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল মু'তী:

নাযিম বলেন: আমি তাঁর কাছে নাহু শাস্ত্রে ইবনে মালিকের আলফিয়্যার ওপর ইবনে আকীলের ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পড়েছি যা প্রায় এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি। অনুরূপভাবে তাঁর কাছে সাব'উল মুআল্লাকাতের ওপর যাওযানীর ব্যাখ্যাগ্রন্থও পড়েছি।

 

‌‌তাঁর কাজ ও কর্মজীবন:

• তিনি সৌদি আরবের আল-মাজমা'আতে সাত বছর কুরআনুল কারীমের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন

নাযিম বলেন:

• অতঃপর আমি বানহা কিরাআত ইনস্টিটিউটে যোগদান করি এবং যখন ওয়াকফ মন্ত্রণালয় 'শায়খুল মাকারি' (কুরআন পাঠ কেন্দ্রের প্রধান) পদের জন্য প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেয়, তখন আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি এবং কালয়ুবিয়্যাহ প্রদেশে উত্তীর্ণ পাঁচজন বিজয়ীর মধ্যে একজন হই।

• এরপর আমি কুওয়াইসনা-র অন্তর্গত আরব আর-রামল-এ স্থানান্তরিত হওয়ার পর সেখান থেকে শুভরা বাখুম কিরাআত ইনস্টিটিউটে চলে আসি। সেখানে আমি জমি ক্রয় করি এবং নিজের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করি।

• আল্লাহর প্রশংসায় আমি কিরাআত ইনস্টিটিউটে আমার পড়াশোনা সম্পন্ন করি এবং তাজবীদ ইজাযত, আল-শাহাদাতুল আলিয়্যাহ এবং আল-শাহাদাতুত তাখাসসুস লাভ করি।

• এরপর আমি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের তান্তা ক্যাম্পাসের কুরআনুল কারীম এবং কিরাআত ও উলুমুল কুরআন অনুষদে যোগদান করি।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
• وحصلت على الإجازة العالية (الليسانس) في القراءات وعلومها بتقدير جيد جدا مع مرتبة الشرف.

• وأنا الآن أعمل محفظا للقرآن الكريم وإمام وخطيبا بوزارة الأوقاف وشيخا لمقرأة مسجد المساعي بقويسنا وشيخا لمقرأة المسجد الشرقي بعرب الرمل.

• وأقرئ طلبة العلم القرآءات كما أخطب الجمعة وأدرس الدروس الشرعية من فضل ربي ا. هـ

 

‌‌بعض مؤلفاته:

1. إتحاف الصحبة في رواية شعبة (متن مع شرحه)

2. الإتحاف في الراجح من مسائل الخلاف

3. اتساع النقاب بين التبرج والحجاب.

4. أيسر الكلام في وقف حمزة وهشام متن وشرح

5. تحذير الإخوان من القراءة بالألحان.

6. تحفة الأولاد في توحيد رب العباد الجزء الأول، وهي هذه المنظومة.

7. تحفة الأولاد في توحيد رب العباد الجزء الثاني.

8. تحفة السعيد في علم التجويد.

9. جمع الشمل في القراءات العشر (ألفية شاملة مع شرحها)

10. حكم الإجارة على القرآن

11. حكم الله في تارك الصلاة

12. ديوان أهل القرآن أكثر من خمسين قصيدة.

13. سلسلة تيسير النحو.

14. شرح التحريرات الشعبانية على متن الشاطبية
• আমি কিরাআত ও এর সংশ্লিষ্ট ইলমসমূহে অত্যন্ত ভালো (ভেরি গুড) ফলাফলসহ সম্মানসূচক উচ্চতর সনদ (লাইসেন্স) অর্জন করেছি।

• আমি বর্তমানে পবিত্র কুরআনের হিফজ শিক্ষক এবং ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের ইমাম ও খতিব হিসেবে কর্মরত আছি। সেই সাথে কুওয়াইসনার মাসায়ি মসজিদের মাকরাআহ (তিলওয়াত কেন্দ্র) এবং আরবুর রামাল-এর পূর্ব মসজিদের মাকরাআহ-এর শাইখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

• আমি আমার রবের অনুগ্রহে জ্ঞানান্বেষী ছাত্রদের কিরাআত শিক্ষা দেই, জুমার খুতবা প্রদান করি এবং শরয়ী পাঠদান করি। সমাপ্ত।

 

‌‌তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য রচনা:

১. ইতহাফুস সোহবাহ ফি রিওয়ায়াতি শু'বাহ (মূল পাঠ ও ব্যাখ্যাসহ)

২. আল-ইতহাফ ফিল রাজিহি মিন মাসায়িলিল খিলাফ (মতনৈক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহের মধ্যে অগ্রগণ্য মতের সংকলন)

৩. ইত্তিসাউল নিকাব বাইনাত তাবাররুজ ওয়াল হিজাব (বেপর্দা ও পর্দার মাঝে নিকাবের পরিধি)

৪. আইসারুল কালাম ফি ওয়াকফি হামজাহ ওয়া হিশাম (হামজাহ ও হিশামের বিরতি বা ওয়াকফ সংক্রান্ত সহজ আলোচনা) মূল ও ব্যাখ্যা

৫. তাহযিরুল ইখওয়ান মিনাল কিরাআতি বিল আলহান (সুর ও তালের সাথে কিরাআত পাঠ সম্পর্কে ভাইদের সতর্কীকরণ)

৬. তুহফাতুল আওলাদ ফি তাওহিদি রাব্বিল ইবাদ (বান্দাদের রবের তাওহিদ প্রসঙ্গে সন্তানদের জন্য উপহার), প্রথম খণ্ড; এবং এটিই এই কাব্যগ্রন্থ।

৭. তুহফাতুল আওলাদ ফি তাওহিদি রাব্বিল ইবাদ, দ্বিতীয় খণ্ড।

৮. তুহফাতুস সাঈদ ফি ইলমিত তাজবিদ (তাজবিদ শাস্ত্রে সাঈদের উপহার)।

৯. জামউশ শামল ফিল কিরাআতিল আশর (দশ কিরাআত বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আলফিয়া বা সহস্রপদী কাব্য ও এর ব্যাখ্যা)

১০. হুকমুল ইজারাতি আলাল কুরআন (কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিধান)

১১. হুকমুল্লাহি ফি তারিকিস সালাত (সালাত ত্যাগকারীর ব্যাপারে আল্লাহর বিধান)

১২. দিওয়ানু আহলিল কুরআন (কুরআনওয়ালাদের কাব্য সংকলন), যাতে পঞ্চাশটিরও বেশি কবিতা রয়েছে।

১৩. সিলসিলাতু তাইসিরিন নাহব (সহজ আরবি ব্যাকরণ ধারা)।

১৪. শারহুত তাহরিরাত আশ-শা'বানিয়া আলা মাতনিশ শাতিবিয়া (শাতিবিয়া মূল পাঠের ওপর শা'বানিয়া তাহরিরের ব্যাখ্যা)
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
15. شرح فتح الكريم في متشابه القرآن العظيم.

16. شرح منحة مولي البر فيما زادته طيبة النشر.

17. فتح الرحمن في حكم تجويد القرآن

18. فتح الولي الحميد في أصول التجويد (متن مع شرحه)

19. المتحف في حكم مس المصحف

20. المجموعة القيمة في الجمع بين التحفة والمقدمة.

21. مختصر سبيل الرشاد في شرح الجزء الأول من تحفة الأولاد.

22. المزن الغياثة في القراءات الثلاثة (متن مستقل للقراءات الثلاثة مع الشرح)

23. هداية الأحباب في تجويد فاتحة الكتاب ومعه بحث عن الضاد والظاء.

24. ولي الخير في القراءات العشر لتحضير القراءة.

نسأل الله تعالى لنا وله التوفيق والثبات على السنة.(1)

--------------------------------------------

(1) الترجمة مستفادة من ترجمة الشيخ الناظم لنفسه، وقد تفضل مشكورا بإرسالها إلي فجزاه الله خيرا.
১৫. শারহু ফাতহিল কারীম ফি মুতাশাবিহিল কুরআনিল আযীম (মহান কুরআনের সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতসমূহ বিষয়ক ফাতহুল কারীমের ব্যাখ্যা)।

১৬. শারহু মিনহাতি মাওলাল বার ফিমা যদাতহু তায়্যিবাতুন নাশর (তায়্যিবাতুন নাশর গ্রন্থে অতিরিক্ত বর্ণিত বিষয়সমূহ সংশ্লিষ্ট মিনহাতু মাওলাল বার-এর ব্যাখ্যা)।

১৭. ফাতহুর রহমান ফি হুকমি তাজবীদিল কুরআন (কুরআন তাজবীদের বিধান প্রসঙ্গে ফাতহুর রহমান)।

১৮. ফাতহুল ওয়ালিয়্যিল হামীদ ফি উসূলিত তাজবীদ (তাজবীদের মূলনীতি প্রসঙ্গে ফাতহুল ওয়ালিয়্যিল হামীদ - মূল পাঠ ও ব্যাখ্যাসহ)।

১৯. আল-মুতহাফ ফি হুকমি মাসসিল মাসহাফ (মাসহাফ স্পর্শ করার বিধান প্রসঙ্গে আল-মুতহাফ)।

২০. আল-মাজমুআতুল কায়্যিমাহ ফিল জাম'ই বাইনাত তুহফাতি ওয়াল মুকাদ্দিমাহ (তুহফাহ ও মুকাদ্দিমাহ-এর মধ্যে সমন্বয় বিষয়ক মূল্যবান সংকলন)।

২১. মুখতাসার সাবীলির রাশাদ ফি শারহিল জুযইল আউয়ালি মিন তুহফাতিল আওলাদ (তুহফাতুল আওলাদ-এর প্রথম অংশের ব্যাখ্যায় সাবীলুর রাশাদের সংক্ষিপ্তসার)।

২২. আল-মুযনুল গিয়াসাহ ফিল কিরাআতিল সালাসাহ (তিন কেরাআত প্রসঙ্গে আল-মুযনুল গিয়াসাহ - তিন কেরাআতের স্বতন্ত্র মূল পাঠ ও ব্যাখ্যাসহ)।

২৩. হিদায়াতুল আহবাব ফি তাজবীদি ফাতিহাতিল কিতাব ওয়া মাআহু বাহসুন আনিদ দাদ ওয যা (ফাতিহাতুল কিতাবের তাজবীদ প্রসঙ্গে হিদায়াতুল আহবাব এবং এর সাথে রয়েছে 'দাদ' ও 'যা' অক্ষর বিষয়ক একটি গবেষণা)।

২৪. ওয়ালিয়্যুল খায়ের ফিল কিরাআতিল আশরি লিতাহদীরিল কিরাআহ (কেরাত প্রস্তুতির জন্য দশ কেরাআত বিষয়ক ওয়ালিয়্যুল খায়ের)।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য এবং তাঁর জন্য তাওফীক এবং সুন্নাহর উপর অবিচল থাকার প্রার্থনা করি।(১)

--------------------------------------------

(১) এই জীবনীটি রচয়িতা শায়খ কর্তৃক নিজের সম্পর্কে লিখিত জীবনী থেকে সংগৃহীত হয়েছে, যা তিনি অনুগ্রহপূর্বক আমার নিকট পাঠিয়েছেন; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌نبذة عن المنظومة

هذه المنظومة هي الجزء الأول من النظم المشتمل على خلاصة عقيدة أهل السنة والجماعة في التوحيد.

سار فيه الناظم على سنن كتاب شيخ الإسلام المجدد: محمد بن عبد الوهاب رحمه الله المشهور بـ (كتاب التوحيد الذي هو حق الله على العبيد).

وقد طبعت هذه المنظومة بعناية الناظم طبعات عدة، وله شرح مختصر عليها وآخر مطول، وهي متداولة لاسيما في البلاد المصرية. ولم أعلم بشرح الناظم إلا بعد الانتهاء من شرحي المنظومة. وتفضل -وفقه الله- فأرسل لي صورة من الشرح المختصر.

ثم قام على تصحيح النظم وتعديل بعض المواضع وكتب إلي بالنظم مصححا وطبعناه مفردا. والآن نضم إليه هذه الحاشية لتكتمل الفائدة

واللهَ نسألُ الإخلاص في القول والعمل.
কাব্যগ্রন্থটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এই কাব্যগ্রন্থটি হলো সেই কাব্যের প্রথম অংশ, যা তাওহিদ বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদার সারসংক্ষেপ সংবলিত।

এতে কাব্যকার শাইখুল ইসলাম মুজাদ্দিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘কিতাবুত তাওহিদ আল্লাজি হুয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ’-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।

কাব্যকারের তত্ত্বাবধানে এই কাব্যগ্রন্থটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে। এর ওপর তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত এবং অন্য একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। এটি বিশেষ করে মিশরীয় ভূখণ্ডে বেশ প্রচলিত। আমি কাব্যগ্রন্থটির নিজস্ব ব্যাখ্যা শেষ করার আগে লেখকের নিজ ব্যাখ্যা সম্পর্কে জানতাম না। এরপর তিনি—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—অনুগ্রহ করে আমাকে তাঁর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার একটি অনুলিপি পাঠান।

অতঃপর তিনি কাব্যটি সংশোধন এবং কিছু স্থানে পরিমার্জন করেছেন এবং সংশোধিত আকারে কাব্যটি লিখে আমার কাছে পাঠিয়েছেন, যা আমরা পৃথকভাবে মুদ্রণ করেছি। এখন আমরা এর সাথে এই টীকাটি যুক্ত করছি যাতে এর উপকারিতা পূর্ণাঙ্গ হয়।

আমরা আল্লাহর নিকট কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা প্রার্থনা করি।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌نص المنظومة

قال الشيخ المقرئ: "محمد بن عيد الشعباني" -حفظه الله-:

بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌الْمُقَدِّمَةِ

1 - يَقُولُ رَاجِي رَحْمَةِ الرَّحْمَنِ … مُحَمَّدُ بْنُ عِيدٍ الشَّعْبَانِي

2 - الْحَمْدُ للهِ عَلَى الإِنْعَامِ … لاسِيَّمَا بِنِعْمَةِ الإِسْلامِ

3 - ثُمَّ صَلاةُ الله مَعْ سَلامِهِ … عَلَى النَّبِيِّ الْمُصْطَفَى وَآلِهِ

4 - وَبَعْدُ هَذَا النَّظْمُ فِي التَّوْحِيدِ … أَوَّلُ وَاجِبٍ عَلَى الْعَبِيدِ

5 - مِفْتَاحُ بَابِ جَنَّةِ الْفِرْدَوْسِ … لِذَاكَ قَدَّمُوهُ عِنْدَ الدَّرْسِ

6 - سَمَّيْتُهُ بِـ "تُحْفَةِ الأَوْلادِ" … لِيُصْبِحُوا مِنْ خِيرَةِ الْعُبَّادِ

7 - أَرْجُو بِهِ التَّيْسِيْرَ وَالْقَبُولا … وَأَنْ يَكُونَ لَلْهُدَى سَبِيْلا

 

‌‌بَابُ فَضْلِ التَّوْحِيدِ

8 - أَوَّلُ وَاجِبٍ هُوَ التَّوحِيدُ … وَمَنْ يُحَقِّقْهُ هُوَ السَّعِيدُ

9 - يَكُنْ لَهُ مِنَ الْعَذَابِ جُنَّهْ … وَهْوَ سَبِيلُ مَنْ يُرِيدُ الْجَنَّهْ

10 - شَرْطُ الْقَبُولِ يَا بَنِيَّ لِلْعَمَلْ … دَعَا إِلَيْهِ قَوْمَهُمْ كُلُّ الْرُّسُلْ

11 - وَيَغْفِرُ اللَّهُ بِهِ الذُنُوبَا … سُبْحَانَ مَنْ يُقَلِّبُ الْقُلُوبَا
কাব্যের পাঠ

শায়খ আল-মুকরি মুহাম্মদ বিন ঈদ আশ-শা’বানি (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) বলেছেন:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

ভূমিকা

১ - পরম দয়াময় আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী মুহাম্মদ বিন ঈদ আশ-শা’বানি বলছেন:

২ - সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর নিআমতসমূহের ওপর, বিশেষ করে ইসলামের নিআমতের জন্য।

৩ - অতঃপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত নবী ও তাঁর পরিবারের ওপর।

৪ - এরপর (বক্তব্য হলো), এই কাব্যটি তাওহীদ প্রসঙ্গে, যা বান্দাদের ওপর প্রথম ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্য।

৫ - এটি জান্নাতুল ফিরদাউসের দরজার চাবিকাঠি, একারণেই পাঠদানের ক্ষেত্রে (উলামায়ে কেরাম) একে অগ্রগণ্য করেছেন।

৬ - আমি এর নামকরণ করেছি "তুহফাতুল আওলাদ" (শিশুদের উপহার), যাতে তারা সর্বোত্তম ইবাদতকারী হতে পারে।

৭ - আমি এর মাধ্যমে সহজিকরণ ও কবুলিয়ত কামনা করি, আর এটি যেন হিদায়াতের পথ হয়।

 

তাওহীদের ফযিলত অধ্যায়

৮ - প্রথম আবশ্যিক কর্তব্য হলো তাওহীদ, আর যে ব্যক্তি এটি বাস্তবায়ন করবে সে-ই সৌভাগ্যবান।

৯ - এটি তার জন্য আযাব থেকে রক্ষাকবচ হবে, আর যারা জান্নাত চায় এটি তাদেরই পথ।

১০ - হে আমার পুত্রগণ! এটি আমল কবুল হওয়ার শর্ত, সকল রাসূল নিজ কওমকে এর দিকেই আহ্বান করেছেন।

১১ - আর আল্লাহ এর মাধ্যমে পাপসমূহ ক্ষমা করেন; পবিত্র সেই মহান সত্তা যিনি অন্তরসমূহকে পরিবর্তন করেন।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌بَابُ أَقْسَامِ التَّوْحِيْدِ

12 - يَنْقَسِمُ التَّوْحِيدُ فِي الإِسْلامِ … إِلَىَ ثَلاثَةٍ مِنَ الأَقْسَامِ

13 - أَوَّلُهَا التَّوْحِيدُ فِي الْعِبَادَهْ … وَهْوَ أَهَمُّهَا بِهِ الشَّهَادَهْ

14 - وَرُكْنُهَا النَّفْيُ مَعَ الإِثْبَاتِ … فَاعْلَمْ هَدَاكَ اللَّهُ لِلثَّبَاتِ

15 - وَحَقُّهَا الْوَلاءُ وَالْبَرَاءُ … وَالْكُفْرُ بِالطَّاغُوتِ يَا أَبْنَاءُ

16 - فَلَيْسَ غَيْرُ الْلَّهِ يَسْتَحِقُّ … عِبَادَةً وَالْلَّهُ فَهْوَ الْحَقُّ

17 - وَكُلُّ مَا يُحِبُّه وَيَرْضَى … عِبَادَةٌ إِنْ سُنَّةً أَوْ فَرْضَا

18 - كَالنَّذْرِ وَالذَّبْحِ وَكَالدُّعَاءِ … وَالْبِّرِّ وَالْخَوْفِ مَعَ الرَّجَاءِ

19 - وَبِالرُّبُوبِيَّةِ قِسْمٌ آَخَرُ … بِأَنَّهُ لِلْخَلْقِ رَبٌّ فَاطِرُ

20 - وَالثَّالِثُ الأَسْمَاءُ وَالصِّفَاتُ … سَبِيِلُهُ التَّنْزِيهُ وَالإِثْبَاتُ

21 - فَاللَّهُ فَوْقَ عَرْشِهِ قَدِ اسْتَوَى … وَوَجْهُهُ فِي جَنَّةِ الْخُلْدِ يُرَى

22 - فِي ثُلُثِ اللَّيْلِ الأَخِيرِ يَنْزِلُ … تُعْطِي يَدَاهُ كَرَمًا مَنْ يَسْأَلُ

23 - كَلامُهُ الْقُرْآنُ مِنْ صِفَاتِهِ … كَعِلْمِهِ وَسَمْعِهِ حَيَاتِهِ

24 - وَكُلُّ وَصْفٍ جَاءَ فِي الْقُرْآَنِ … أَوْ صَحَّ عَنْ نَبِيِّهِ الْعَدْنَاني

25 - نُثْبِتُ مَعْنَاهُ بِغَيْرِ كَيْفِ … وَغَيْرِ تَعْطِيلٍ وَغَيْرِ زَيْفِ
তাওহীদের প্রকারভেদ সংক্রান্ত অধ্যায়

১২ - ইসলামে তাওহীদ বিভক্ত … তিনটি প্রকারে।

১৩ - এর প্রথমটি হলো ইবাদতের তাওহীদ … আর এটিই তাওহীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকার, যার মাধ্যমেই শাহাদাহ বা সাক্ষ্য প্রদান (পূর্ণ) হয়।

১৪ - এর রুকন বা স্তম্ভ হলো স্বীকৃতির সাথে অস্বীকারের সমন্বয় … সুতরাং জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাকে অটল থাকার হিদায়াত দান করুন।

১৫ - এর হক বা দাবি হলো (আল্লাহর জন্য) বন্ধুত্ব ও শত্রুতা রাখা … এবং হে বৎসগণ! তাগুতকে অস্বীকার করা।

১৬ - সুতরাং আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের … যোগ্য নয়, আর আল্লাহই হলেন পরম সত্য।

১৭ - আল্লাহ যা কিছু ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন … তার সবই ইবাদত, চাই তা সুন্নাত হোক কিংবা ফরজ।

১৮ - যেমন মানত করা, পশু জবাই করা ও দুআ করা … এবং নেক আমল ও ভয়ের সাথে আশা পোষণ করা।

১৯ - আর রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্ব হলো অন্য একটি প্রকার … যা হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনিই সৃষ্টির রব ও স্রষ্টা।

২০ - তৃতীয় প্রকারটি হলো নাম ও গুণাবলি … এর পথ হলো (সাদৃশ্য থেকে) পবিত্র রাখা এবং (অপরিবর্তিতভাবে) সাব্যস্ত করা।

২১ - সুতরাং আল্লাহ তাঁর আরশের উপর উঠেছেন … এবং চিরস্থায়ী জান্নাতে তাঁর মুখমণ্ডল দেখা যাবে।

২২ - রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশে তিনি অবতীর্ণ হন … তাঁর দুই হাত যাঞ্চাকারীকে অনুগ্রহ করে দান করে।

২৩ - তাঁর কালাম বা কথা হলো কুরআন যা তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত … যেমন তাঁর জ্ঞান, শ্রবণ ও জীবন (তাঁর গুণাবলি)।

২৪ - আর কুরআনে যা কিছু বর্ণনা এসেছে … অথবা আদনানী বংশীয় নবী থেকে যা সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে;

২৫ - আমরা এর অর্থ সাব্যস্ত করি কোনো ধরণ নির্ধারণ ছাড়াই … এবং কোনো অস্বীকার ও কোনো বিকৃতি ছাড়াই।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌بَابُ الإِسْلامِ

26 - مِنْ خَمْسَةٍ قَدْ بُنِيَ الإِسْلامُ … شَهَادَةُ التَّوْحِيدِ وَالصِّيَامُ

27 - وَالْحَجُّ وَالزَّكَاةُ والصَّلاةُ … تَكَاسُلاً يَتْرُكَهَا الْعُصَاةُ

28 - وَكُفْرهُ الرَّاجِحُ دُونَ الرِّدَّةِ … وَأَجْمَعُوا رِدَّتَهُ بِالْجَحْدَةِ

 

‌‌بَابُ الإِيمَانِ

29 - وَقَوْلُ أَهْلِ الْحَقِّ فِي الإِيْمَانِ … قَوْلٌ وَأَعْمَالٌ عَلَى أَرْكَانِ

30 - بِاللَّهِ وَالْمَلائِكِ الأَبْرَارِ … وَالْكُتْبِ وَالْرُّسْلِ وَبِالأَقْدَارِ

31 - وَالسَّادِسُ الإِيمَانُ بِالْقِيَامَهْ … فَاعْلَمْ فَإِنَّ الْعِلْمَ الاسْتِقَامَهْ

32 - بِضْعٌ وَسَبْعُونَ مِنَ الْخِصَالِ … أَعْظَمُهَا شَهَادَةُ الْجَلالِ

33 - يَزِيدُ بِالطَّاعَاتِ فِي الْقُلُوبِ … كَذَلِكُمْ يَنْقُصُ بِالذُّنُوبِ

34 - وَيُخْرِجُ الْعَبْدَ مِنَ النِّيرَانِ … مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنَ الإِيْمَانِ

 

‌‌بَابُ الْخَوْفِ مِنَ الشِّرْكِ

35 - وَالشِّرْكُ يَا بَنِيَّ لَيْسَ يُغْفَرُ … أَقْبَحُ ذَنْبٍ فِي الْوَرَى وَأَكْبَرُ

36 - أَوُّلُّ مَا عَنْهُ الإِلَهُ قَدْ نَهَى … أَخْوَفُ مَا يَخَافُهُ أُولُو النُّهَى

37 - وَمُوجِبٌ لِلْخُلْدِ فِي جَهَنَّمَا … وَمُحْبِطُ الأَعْمَالِ عَنْ بَابِ السَّمَا
ইসলাম অধ্যায়

২৬ - পাঁচটি বিষয়ের ওপর ইসলাম ভিত্তি লাভ করেছে … তাওহীদের সাক্ষ্য এবং সিয়াম।

২৭ - এবং হজ, যাকাত ও সালাত … যা পাপীরা অলসতাবশত বর্জন করে।

২৮ - আর তা (বর্জন করা) বড় কুফরি, মুরতাদ হওয়া ব্যতীত … তবে অস্বীকার করলে মুরতাদ হওয়ার ব্যাপারে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

 

‌ঈমান অধ্যায়

২৯ - আর ঈমান সম্পর্কে সত্যপন্থীদের বক্তব্য হলো … তা হলো মৌখিক ঘোষণা এবং রুকনসমূহের ওপর আমল।

৩০ - আল্লাহর প্রতি, পুণ্যবান ফেরেশতাগণের প্রতি … কিতাবসমূহ, রাসূলগণ এবং তাকদীরের প্রতি।

৩১ - আর ষষ্ঠটি হলো কিয়ামতের ওপর ঈমান … জেনে রেখো, ইলমই হলো অটলতা (ইস্তেকামাত)।

৩২ - (ঈমানের) সত্তরটিরও অধিক শাখা রয়েছে … যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো মহান আল্লাহর (তাওহীদের) সাক্ষ্য।

৩৩ - আনুগত্যের মাধ্যমে অন্তরে তা বৃদ্ধি পায় … একইভাবে পাপের কারণে তা হ্রাস পায়।

৩৪ - আর বান্দাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবে … অণু পরিমাণ ঈমান।

 

‌শিরকের ভয় সংক্রান্ত অধ্যায়

৩৫ - আর শিরক হে বৎস! কখনো ক্ষমা করা হবে না … তা সৃষ্টির মাঝে নিকৃষ্টতম এবং সর্ববৃহৎ পাপ।

৩৬ - প্রথম যে বিষয় থেকে ইলাহ (আল্লাহ) নিষেধ করেছেন … বুদ্ধিমানগণ যা নিয়ে সর্বাধিক ভীত থাকেন।

৩৭ - আর তা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার কারণ … এবং আসমানের দরজায় আমলসমূহকে ধ্বংস করে দেয়।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌بَابُ تَعْرِيفِ الشِّرْكِ

38 - وَالشِّرْكُ أَنْ تَدْعُوَ غَيْرَ الْلَّهِ … سُبْحَانَ مَنْ جَلَّ عَنِ الأَشْبَاهِ

39 - أَوْ صَرْفُ أَيِّ شَيْءٍ مِنْ عِبَادَهْ … لِغَيْرِهِ أَوْ كَانَ بِالإرَادَهْ

40 - أَوْ لُبْسُ حَلْقَةٍ وَخَيْطٍ لِلشِّفَا … أَوْ وَدْعَةٍ دَعَا عَلَيْهِ الْمُصْطَفَى

41 - وَمَنْ بِقَبْرِ صَالِحٍ تَبَرَّكَا … أَوْ طَافَ حَوْلَهُ يَكُنْ قَدْ أَشْرَكَا

42 - أَوْ كَانَ هَازِءًا بِحُكْمِ الْلَّهِ … أَوْ سَاخِرًا مِنْ عَابِدٍ أَوَّاهِ

43 - أَوْ ذَابِحًا أو مُوفِيًا بِنَذْرِ … أَوْ مُسْتَعِيذاً غَيْرَهُ مِنْ ضُرِّ

44 - أَوْ كَانَ رَاقِيًا بِمَا لا يُفْهَمُ … كَذَاكَ يَا أَوْلادِيَ التَّمَائِمُ

 

‌‌بَابُ سَبَبِ الشِّرْكِ

45 - وَسَبَبُ الشِّرْكِ هُوَ الْغُلُوُّ … فَذُو الصَّلاحِ عِنْدَهُمْ مَدْعُوُّ

46 - أَوْ يَعْبُدُونَ الْلَّهَ عِنْدَ قَبْرِهِ … تَبَرُّكًا فِي زَعْمِهِمْ بِسِرِّهِ

47 - وِيَبْتَنُونَ فَوْقَهَا الْمَسَاجِدَا … وَيَفْعَلُونَ فِعْلَ مِنْ تَهَوَّدَا

48 - وَذَاكَ إِخْبَارٌ مِنَ الْمَصْدُوقِ … مُحَذِّرًا بِمَنْطِقِ الشَّفوقِ

49 - حَيْثُ نَهَانَا عَنْ تَتَبُّعِ السَّنَنْ … قِيَلَ الْيَهُوْدُ وَالْنَّصَارَى قَالَ مَنْ؟

 

‌‌بَابُ التَّوَكُّلِ

50 - وَعَمَلُ الْقَلْبِ هُوَ التَّوَكُّلُ … عَلَى الإِلَهِ الْحَقِّ يَا مَنْ يَعْقِلُ

51 - وَغَيْرُهُ شِرْكٌ، فَشِرْكٌ أَصْغَرُ … عَلَى الَّذِي يَعِيْشُ فِيمَا يَقْدِرُ

52 - وَالأَكْبَرُ الثَّانِي عَلَى الأَمْوَاتِ … فَعَوِّدِ الْقَلْبَ عَلَى الإِخْبَاتِ
শিরকের সংজ্ঞার অধ্যায়

৩৮ - আর শিরক হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকা … পবিত্র সেই সত্তা যিনি সদৃশ হওয়া থেকে ঊর্ধ্বে।

৩৯ - অথবা ইবাদতের কোনো কিছু অন্য কারও জন্য নিবেদন করা … তা সরাসরি কাজের মাধ্যমে হোক অথবা সংকল্পের মাধ্যমে।

৪০ - কিংবা আরোগ্যের উদ্দেশ্যে কড়া বা সুতা পরিধান করা … অথবা কড়ি ব্যবহার করা, যার (ব্যবহারকারীর) বিরুদ্ধে মুস্তফা (সা.) বদদোয়া করেছেন।

৪১ - আর যে ব্যক্তি কোনো নেককার লোকের কবরের মাধ্যমে বরকত হাসিল করে … অথবা তার চারপাশে তাওয়াফ করে, তবে সে শিরক করল।

৪২ - অথবা যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান নিয়ে উপহাস করে … কিংবা কোনো ক্রন্দনশীল ইবাদতকারীকে বিদ্রূপ করে।

৪৩ - অথবা (আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে) জবেহকারী বা মানত পূর্ণকারী … কিংবা বিপদ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নিকট আশ্রয়প্রার্থী।

৪৪ - অথবা বোধগম্য নয় এমন কিছু দিয়ে ঝাড়ফুঁককারী হওয়া … হে আমার সন্তানেরা, তাবিজ-কবজও ঠিক তদ্রূপ।

 

শিরকের কারণের অধ্যায়

৪৫ - আর শিরকের কারণ হলো অতিরঞ্জন করা … ফলে তাদের নিকট নেককার ব্যক্তিরা উপাস্য হয়ে দাঁড়ায়।

৪৬ - অথবা তারা কবরের পাশে আল্লাহর ইবাদত করে … তাদের ধারণা মতে কবরের বরকত লাভের আশায়।

৪৭ - আর তারা সেগুলোর ওপর মসজিদ নির্মাণ করে … এবং ইহুদিদের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

৪৮ - আর এ সংবাদ প্রদান করেছেন সেই সত্যবাদী (রাসূল) … অতি মমতাশীল বাণীতে সতর্ককারী হিসেবে।

৪৯ - যেখানে তিনি আমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন … জিজ্ঞাসা করা হলো "কারা?", তিনি বললেন "ইহুদি ও নাসারা"।

 

তাওয়াক্কুলের অধ্যায়

৫০ - আর অন্তরের কাজ হলো তাওয়াক্কুল বা নির্ভর করা … হে বুদ্ধিমান! সত্য মাবুদের ওপর।

৫১ - আর আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ওপর নির্ভর করা শিরক, তবে তা ছোট শিরক … যখন এমন জীবিত ব্যক্তির ওপর করা হয় যার কোনো বিষয়ে সামর্থ্য আছে।

৫২ - আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো বড় শিরক, যা মৃতদের ওপর করা হয় … সুতরাং অন্তরকে আল্লাহর সমীপে বিনীত হওয়ার অভ্যাস করাও।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌بَابُ التَّوَسُّلِ

53 - ثُمَّ التَّوَسُّلُ عَلَى نَوْعَيْنِ … أَوَّلُهَا الصَّحِيحُ دُونَ مَيْنِ

54 - بِاللَّهِ وَالأَسْمَاءِ وَالصِّفَاتِ … أَوْ دَعْوَةِ الْحَاضِرِ وَالطَّاعَاتِ

55 - وَالثَّانِ فِي التَّوَسُّلِ البِدْعِيُّ … بِأَيِّ مَخْلُوقٍ وَلَوْ نَبِيُّ

 

‌‌بَابُ تَحْرِيمِ طَاعَةِ الْعُلَمَاءِ وَالأُمراءِ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ

56 - وَمَنْ أَطَاعَ السَّادَةَ الأَعْلامَا … فِيْ غَيْرِ مَعْرُوفٍ أَوِ الْحُكَّامَا

57 - يَجْعَلُهُمْ آَلِهَةً كَالَصُّوفِي … وَإِنَّمَا الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ

58 - فِيْ آَيَةِ الْتَّوْبَةِ وَهْيَ "اتَّخَذُوا" … دَلِيْلُ مَا أَقُولُ فِيمَا أَخَذُوْا

 

‌‌بَابُ أُمُورِ الْجَاهِلِيَّةِ

59 - وَأَرْبَعٌ فِي أُمَّةِ الْمَعْصُومِ … مِنْهُنَّ الاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ

60 - وَالنَّوْحُ ثُمَّ الْفَخْرُ بِالأَحْسَابِ … وَمِثْلُهُنَّ الطَّعْنُ فِي الأَنْسَابِ

61 - وَكُلُّهَا أُمُورُ جَاهِلِيَّهْ … كَالْحُكْمِ وَالظَّنِّ مَعَ الْحَمِيَّهْ

62 - ثُمَّ التَّبَرُّجُ أَوِ السُّفُورُ … قَدْ أَفْلَحَ الدَّاعِيَةُ الصَّبُورُ

63 - إِذْ لا تَزَالُ فِرْقَةٌ مَنْصُورَهْ … مِنْ أُمَّةِ الرَّسُولِ فِي الْمَعْمُورَهْ
‌‌তাওয়াসসুল (মাধ্যম গ্রহণ) অধ্যায়

৫৩ - অতঃপর তাওয়াসসুল দুই প্রকার … যার প্রথমটি হলো নিঃসন্দেহে সঠিক।

৫৪ - আল্লাহর মাধ্যমে এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাধ্যমে … অথবা উপস্থিত ব্যক্তির দুআ ও নেক আমলের মাধ্যমে।

৫৫ - আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো বিদআতি তাওয়াসসুল … যেকোনো সৃষ্টির মাধ্যমে, যদিও তিনি নবী হন।

 

‌‌আল্লাহর নাফরমানিতে আলেম ও শাসকদের আনুগত্য করার হারম হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়

৫৬ - আর যে ব্যক্তি প্রখ্যাত নেতৃবৃন্দ … কিংবা শাসকদের আনুগত্য করে সৎ কাজের বাইরে (অন্য কাজে)।

৫৭ - সে তাদেরকে ইলাহ বানিয়ে নেয় যেমনটি সুফিরা করে থাকে … অথচ আনুগত্য কেবল সৎ কাজের ক্ষেত্রেই।

৫৮ - সূরা তওবার আয়াত যাতে "তারা গ্রহণ করেছে" বলা হয়েছে … আমি যা বলছি, তারা যা গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে এটিই দলিল।

 

‌‌জাহেলিয়াতের বিষয়সমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়

৫৯ - আর নিষ্পাপ (নবীর) উম্মতের মাঝে চারটি বিষয় (বিদ্যমান থাকবে) … সেগুলোর মধ্যে একটি হলো নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা।

৬০ - বিলাপ করা, অতঃপর আভিজাত্য নিয়ে অহংকার করা … এবং তদ্রূপ বংশমর্যাদা নিয়ে খোটা দেওয়া।

৬১ - এ সবই হলো জাহেলি বিষয় … যেমন (জাহেলি) বিচারব্যবস্থা, ধারণা এবং গোঁড়ামি।

৬২ - অতঃপর বেপর্দা চলাফেরা বা রূপ প্রদর্শন … অবশ্যই সেই ধৈর্যশীল আহ্বানকারী সফল হয়েছেন।

৬৩ - কেননা রাসূলের উম্মতের মধ্য হতে একটি সাহায্যপ্রাপ্ত দল … জনপদে সর্বদা বিদ্যমান থাকবে।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌بَابُ السِّحْرِ

64 - وَالْجِبْتُ وَالسِّحْرُ هُمَا سِيَّانِ … وَكُفْرُ مُسْتَعْمِلِهِ قَوْلانِ

65 - دَلِيلُ كُفْرِهِ أَتَى فِي الْبَقَرَهْ … وَحَدُّ سَاحِرٍ بِسَيفٍ نَحَرَهْ

66 - وَهْوَ حَقِيقَةٌ وَبِالإِجْمَاعِ … كَالصَّرْفِ وَالْعَطْفِ عَلَى أَنْوَاعِ

67 - وَالنُّشْرَةُ اعْلَمْهَا فَحَلُّ السِّحْرِ … تَجُوزُ إِنْ كَانَتْ بِآيِ الذِّكْرِ

68 - وَإِنْ تَكُنْ بِالْسِّحْرِ لا تَحِلُّ … فَإِنَّهَا شِرْكٌ فَلا تَضِلُّوا

69 - وَالْلَّهُ يَخْتَصُّ بِعِلْمِ الْغَيْبِ … وَمُدَّعِيهِ كَافِرٌ بِالْكُتْبِ

70 - وَمَنْ أَتَى كَاهِنًا اوْ عَرَّافَا … صَلاتُهُ مَرْدُودَةٌ لَوْ طَافَا

 

‌‌بِابُ التَّطَيُّرِ

71 - وَتَحْرُمُ الطِّيَرَةُ وَالتَّشَاؤُمُ … وَلا تَرُدُّ مُسْلِمًا بَلْ يُقْدِمُ

72 - مُرَدِّدًا دُعَاءَهَا يُهَلِّلُ … وَإِنَّمَا يُذْهِبُهَا التَّوَكُّلُ

73 - وَشِرْكُ مَنْ تَرُدُّهُ قَدْ قَالُوا … وَيُعْجِبُ الرَّسُولَ مِنْهَا الْفَالُ

 

‌‌بَابُ الْتَّنْجِيْمِ

74 - ثُمَّ النُّجُومُ زِينَةُ السَّمَاءِ … وَرَجْمُ شَيْطَانٍ عَنِ الأَنْبَاءِ

75 - وَلِلْهُدَى عَلامَةٌ عَلَى الطُّرُقْ … فَمَنْ يُحَاوِلْ غَيْرَهُ فَمَا صَدَقْ

76 - وَعِلْمُهَا نَوْعَانِ فَالتَّسْيِيرُ … أَجَازَ مَا نَحْتَاجُهُ الْجُمْهُورُ

77 - وَالثَّانِ عِلْمٌ بَاطِلٌ مُحَرَّمُ … يُعْرَفُ بِالْتَّأْثِيرِ فِيمَا يُزْعَمُ
জাদু অধ্যায়

৬৪ - জিবেত এবং জাদু এই উভয়ই অভিন্ন … আর এর ব্যবহারকারীর কুফরের বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে

৬৫ - এর কুফরের প্রমাণ সূরা আল-বাকারায় এসেছে … আর জাদুকরের দণ্ড হলো তলোয়ার দিয়ে তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া

৬৬ - আর এটি (জাদু) একটি বাস্তবতা এবং এতে ঐক্যমত রয়েছে … যেমন 'সরফ' (বিচ্ছেদ) ও 'আতফ' (মিলন) এর মতো বিভিন্ন প্রকার এতে বিদ্যমান

৬৭ - আর নুশরা সম্পর্কে জেনে রাখো, তা হলো জাদুর প্রতিকার … যদি এটি যিকিরের (কুরআনের) আয়াত দ্বারা হয় তবে তা জায়েয

৬৮ - আর যদি তা জাদুর মাধ্যমে হয় তবে তা বৈধ নয় … কেননা তা শিরক, সুতরাং তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ো না

৬৯ - আর আল্লাহ গায়েবের জ্ঞানের জন্য এককভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত … এবং যে ব্যক্তি তা দাবি করে সে কিতাবসমূহের প্রতি কুফরকারী

৭০ - আর যে ব্যক্তি কোনো গণক বা ভাগ্য গণনাকারীর কাছে আসে … তার সালাত প্রত্যাখ্যাত হবে, যদিও সে তওয়াফ করে

 

কুলক্ষণ গ্রহণ অধ্যায়

৭১ - কুলক্ষণ গ্রহণ করা এবং অশুভ মনে করা হারাম … আর এটি কোনো মুসলিমকে ফিরিয়ে দেবে না বরং সে অগ্রসর হবে

৭২ - (অশুভ লক্ষণের বিপরীতে) দুআ এবং তাওহীদ পাঠ করতে থাকবে … আর একমাত্র তাওয়াক্কুলই (আল্লাহর ওপর ভরসা) একে দূরীভূত করে

৭৩ - যাকে এটি (কুলক্ষণ) ফিরিয়ে দেয় তার কাজকে তারা শিরক বলেছেন … আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'ফাল' (শুভ লক্ষণ) পছন্দ করতেন

 

জ্যোতিষশাস্ত্র অধ্যায়

৭৪ - অতঃপর নক্ষত্ররাজি হলো আসমানের সৌন্দর্য … এবং সংবাদ চুরিকারী শয়তানদের বিতাড়নের জন্য নিক্ষেপযোগ্য বস্তু

৭৫ - আর পথের দিশা পাওয়ার জন্য এগুলো নিদর্শন … সুতরাং যে ব্যক্তি এর বাইরে অন্য কিছুর চেষ্টা করে সে সত্য বলেনি

৭৬ - আর এর জ্ঞান দুই প্রকার; যথা 'তাসয়ীর' (নক্ষত্রের চলন-গণনা) … আমাদের যা প্রয়োজন জুমহুর (বিদ্বানগণ) তা জায়েয বলেছেন

৭৭ - আর দ্বিতীয়টি হলো বাতিল ও হারাম জ্ঞান … যা তাদের দাবি অনুযায়ী প্রভাব বিস্তারের জ্ঞান (জ্যোতিষশাস্ত্র) হিসেবে পরিচিত
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌بَابُ الشَّفَاعَةِ

78 - ثُمَّ الشَّفَاعَةُ لهَا قِسْمَانِ … كِلاهُمَا فِي مُحْكَمِ الْقُرْآنِ

79 - مَنْفِيَّةٌ وَهْيَ عَنَ اهْلِ الشِّرْكِ … وَلَيْسَ فِي بُطلانِهَا مِنَ شَكِّ

80 - ثَانِيهِمَا شَفَاعَةٌ بِإِذْنِهِ … لِمَنْ يَكُونُ مُؤْمِنًا بِدِينِهِ

81 - دَلِيلُهَا فِي آَيَةِ الْكُرْسِيِّ … مِثَالُهَا شَفَاعَةُ النَّبِيِّ

82 - لَهُ شَفَاعَاتٌ كَفَضِّ الْمَوْقِفِ … لِيَدْخُلَ الْجَنَّةَ كُلُّ مُقْتَفٍ

 

‌‌بَابُ الْهِدَايَةِ

83 - ثُمَّ الْهِدَايَةُ هِدايَتَانِ … هِدَايَةُ الْتَّوْفِيقِ لِلإِحْسَانِ

84 - وَتِلْكَ يَخْتَصُّ بِهَا الْحَمِيدُ … يَهْدِي بِهَا لِلْحَقِّ مِنْ يُرِيدُ

85 - وَبَعْدَهَا هِدَايَةُ الإِرْشَادِ … فِي سُورَةِ الشُّورَى أَتَتْ وَصَادِ

 

‌‌بَابُ الشِّرْكِ الأَصْغَرِ

86 - وَالدِّينُ مَبْنَاهُ عَلَى الإِخْلاصِ … وَضِدُّهُ الْشِّرْكُ بِلا مَنَاصِ

87 - مِثْلُ صَلاةِ ذَلِكَ الْمُرَائِي … يُطِيلُ حُسْنَهَا لأَجْلِ الرَّائِي

88 - وَمِثْلُ إِقْسَامٍ بِغَيْرِ الْلَّهِ … وَقَوْلِ "لَوْلا الْكَلَبُ" وَالأَشْبَاهِ

89 - وَقَوْلُ "شَاءَ الْلَّهُ ثُمَّ شِئْتَا" … تَجُوزُ لا كَالْوَاوِ إِذْ رَتَّبْتَا
শাফায়াত অধ্যায়

৭৮ - অতঃপর শাফায়াত দুই প্রকার … উভয়টিই কুরআনের দ্ব্যর্থহীন (মুহকাম) বর্ণনায় বিদ্যমান।

৭৯ - একটি হলো প্রত্যাখ্যাত, যা শিরককারীদের জন্য … আর এটি বাতিল হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

৮০ - দ্বিতীয়টি হলো তাঁর অনুমতিক্রমে শাফায়াত … যারা তাঁর দ্বীনের প্রতি মুমিন, তাদের জন্য।

৮১ - এর দলিল রয়েছে আয়াতুল কুরসিতে … এর উদাহরণ হলো নবীর শাফায়াত।

৮২ - তাঁর জন্য রয়েছে একাধিক শাফায়াত, যেমন হাশরের ময়দানের বিচারকার্য শুরু করা … যাতে প্রত্যেক অনুসারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে।

 

হিদায়াত অধ্যায়

৮৩ - অতঃপর হিদায়াত দুই প্রকার … ইহসানের (সৎকর্মের) তাওফীক প্রদানের হিদায়াত।

৮৪ - আর এটি কেবল প্রশংসিত সত্তার (আল্লাহর) জন্য নির্দিষ্ট … এর মাধ্যমে তিনি যাকে ইচ্ছা সত্যের পথে পরিচালিত করেন।

৮৫ - এরপর হলো পথনির্দেশনামূলক হিদায়াত (ইরশাদ) … যা সূরা আশ-শূরা এবং সূরা সোয়াদ-এ বর্ণিত হয়েছে।

 

ছোট শিরক অধ্যায়

৮৬ - দ্বীনের ভিত্তি হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা … আর এর বিপরীত হলো শিরক, যা থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই।

৮৭ - যেমন সেই লোক দেখানো ব্যক্তির (রিয়াকারী) সালাত … যে দর্শকদের খাতিরে সালাতের সৌন্দর্য দীর্ঘায়িত করে।

৮৮ - এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করা … আর "যদি কুকুরটি না থাকত" এবং এই জাতীয় শব্দ বলা।

৮৯ - এবং এই বলা যে, "আল্লাহ চেয়েছেন অতঃপর আপনি চেয়েছেন" … এটি বৈধ, কিন্তু 'এবং' (ওয়াও) যোগে বলা বৈধ নয়, যখন আপনি ক্রমানুসারে বলবেন।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌بَابُ احْتِرَامِ أَسْمَاءِ اللَّهِ

90 - وَمَنْ تَسَمَّى قَاضِيَ الْقُضَاةِ … أَوْ نَحْوَهُ مِنَ الْمُسَمَّيَاتِ

91 - يَنْفِي كَمَالَ الذُّلِّ وَالتَّوْحِيدِ … وَأَخْنَعُ الأَسْمَاءِ لِلْعَبِيدِ

92 - قَدْ غَيَّرَ الْنَّبِيُّ مِنْ أَبِي الْحَكَمْ … وَكُلُّ مَا عُبِّدَ لِلْخَلْقِ حَرُمْ

93 - وَرَبُّنَا الْعَظِيمُ وَالسَّلامُ … فَلا تَقُلْ عَلَى اللَّهِ السَّلامُ

94 - وَلا يُقَالُ اغْفِرْ لِي إِنْ أَرَدتَّا … سُبْحَانَهُ وَاَعْزِمْ إِذَا سَأَلْتَا

95 - وَلا تَقُلْ عَبْدِي لِمَنْ مَلَكْتَهُ … وَلا تَقُلْ رَبِّي لِمَنْ خَدَمْتَهُ

96 - وَلا يُرَدُّ بِاللهِ السُّؤَّالُ … بِوَجْهِهِ فِي الْجَنَّةِ السُّؤَالُ

 

‌‌[الخاتمة]

97 - فَالْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى مَا يَسَّرَهْ … وَالْلَّهَ أَسْأَل رَّاجِيًا أَنْ يَنْشُرَهْ

98 - وَأَنْ يَكُونَ خَالِصًا لِوَجْهِهِ … وَنَافِعًا مُخْتَصَرًا فِي وَجْهِهِ

99 - وَأَفْضَلُ الصَّلاةِ وَالتَّسْلِيمِ … عَلَىَ النَّبِيِّ الْمُصْطَفَى الْكَرِيمِ

100 - مُحَمَّدٍ وَآَلِهِ وَصَحْبِهِ … وَكُلِّ تَابِعٍ وَمُؤْمِنٍ بِهِ
‌‌আল্লাহর নামসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অধ্যায়

90 - আর যে ব্যক্তি নিজের নাম 'কাযিউল কুযাত' (বিচারপতিদের বিচারপতি) রাখে … অথবা এই জাতীয় অন্য কোনো নাম ধারণ করে

91 - তা তাওহীদের পূর্ণতা ও বিনয়ের চূড়ান্ত স্তরের পরিপন্থী … আর এটি দাসদের জন্য নিকৃষ্টতম নাম

92 - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আবু আল-হাকাম' নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন … আর সৃষ্টির গোলাম হিসেবে কৃত সকল নামকরণ হারাম

93 - আমাদের রব মহান এবং তিনিই 'আস-সালাম' (শান্তিদাতা) … সুতরাং আল্লাহর ওপর সালাম (শান্তি) বর্ষিত হোক এ কথা বলো না

94 - আর এ কথা বলো না যে, 'আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন' … তিনি পবিত্র, বরং যখন প্রার্থনা করবে তখন দৃঢ়তার সাথে প্রার্থনা করো

95 - তুমি যার মালিক তাকে 'আমার গোলাম' বলো না … আর তুমি যার সেবা করো তাকে 'আমার রব' বলো না

96 - আল্লাহর দোহাই দিয়ে সাহায্য প্রার্থনাকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না … আল্লাহর মুখমণ্ডল দ্বারা কেবল জান্নাতই প্রার্থনা করা যাবে

 

‌‌[উপসংহার]

97 - সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যা তিনি সহজ করে দিয়েছেন … আর আমি আল্লাহর নিকট আশা করছি যেন তিনি এটি ছড়িয়ে দেন

98 - আর যেন এটি একান্তই আল্লাহর মুখমণ্ডলের সন্তুষ্টির জন্য হয় … এবং তাঁর উদ্দেশ্যেই এটি একটি উপকারী সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ হয়

99 - সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম … মনোনীত সম্মানিত নবীর প্রতি

100 - মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণ … এবং তাঁর প্রত্যেক অনুসারী ও মুমিনের প্রতি।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌شرح المقدمة

قال الشيخ المقرئ: "محمد بن عيد الشعباني" -حفظه الله-:

بسم الله الرحمن الرحيم

الْمُقَدِّمَةِ

1 - يَقُولُ رَاجِي رَحْمَةِ الرَّحْمَنِ … مُحَمَّدُ بْنُ عِيدٍ الشَّعْبَانِي

2 - الْحَمْدُ للهِ عَلَى الإِنْعَامِ … لاسِيَّمَا بِنِعْمَةِ الإِسْلامِ

3 - ثُمَّ صَلاةُ الله مَعْ سَلامِهِ … عَلَى النَّبِيِّ الْمُصْطَفَى وَآلِهِ

4 - وَبَعْدُ هَذَا النَّظْمُ فِي التَّوْحِيدِ … أَوَّلُ وَاجِبٍ عَلَى الْعَبِيدِ

5 - مِفْتَاحُ بَابِ جَنَّةِ الْفِرْدَوْسِ … لِذَاكَ قَدَّمُوهُ عِنْدَ الدَّرْسِ

6 - سَمَّيْتُهُ بِـ "تُحْفَةِ الأَوْلادِ" … لِيُصْبِحُوا مِنْ خِيرَةِ الْعُبَّادِ

7 - أَرْجُو بِهِ التَّيْسِيْرَ وَالْقَبُولا … وَأَنْ يَكُونَ لَلْهُدَى سَبِيْلا

بسم الله الرحمن الرحيم: بدأ الناظم بها قبل النظم:

• تبركا باسم الله تعالى.

• واقتداءً بالكتاب العزيز المفتتح بالبسملة والتحميد والتمجيد.

• واقتداء برسول الله صلى الله عليه وسلم في مراسلاته إلى الملوك والأمراء يدعوهم للإسلام.

و"بسم": الْبَاء هنا للمصاحبة أَوْ الِاسْتِعَانَة مُتَعَلقَة بِمَحْذُوف مقدر مؤخر؛

وَتَقْدِيره فعلا أولى لِأَن الأَصْل فِي الْعَمَل للأفعال؛ وكونه مؤخرا أولى لفائدتين:

الأولى: التبرُّكُ بالبَداءة باسم الله سبحانه وتعالى.
মুকাদ্দিমার ব্যাখ্যা

শায়খুল মুকরি মুহাম্মাদ বিন ঈদ আশ-শাবানি —আল্লাহ তাকে সংরক্ষণ করুন— বলেন:

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

মুকাদ্দিমা (উপক্রমণিকা)

১ - রহমানের রহমতের প্রত্যাশী মুহাম্মাদ বিন ঈদ আশ-শাবানি বলছেন... …

২ - সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য নেয়ামত দান করার কারণে, বিশেষ করে ইসলামের নেয়ামতের জন্য। …

৩ - অতঃপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত নবী এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। …

৪ - এরপর, এই কাব্যটি তাওহীদ বিষয়ে, যা বান্দাদের উপর প্রথম ওয়াজিব (আবশ্যিক কর্তব্য)। …

৫ - এটি জান্নাতুল ফিরদাউসের দরজার চাবিকাঠি; সেই কারণেই পাঠদানের শুরুতে উলামাগণ এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। …

৬ - আমি এর নাম দিয়েছি ‘তুহফাতুল আওলাদ’ (সন্তানদের জন্য উপহার), যাতে তারা শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। …

৭ - এর মাধ্যমে আমি সহজসাধ্যতা ও কবুলিয়াত আশা করছি এবং এটি যেন হিদায়াতের পথ হয়। …

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে: রচয়িতা কাব্য শুরু করার পূর্বে এটি দ্বারা শুরু করেছেন:

• আল্লাহ তাআলার নামের মাধ্যমে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে।

• এবং মহাগ্রন্থের (কুরআন) অনুসরণ স্বরূপ, যা বিসমিল্লাহ, তাহমীদ (প্রশংসা) ও তামজীদ (মহিমা বর্ণনা) দিয়ে শুরু হয়েছে।

• এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ স্বরূপ, যখন তিনি রাজা ও আমিরদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পত্র প্রেরণ করতেন।

এবং ‘বিসম’ (আল্লাহর নামে): এখানে ‘বা’ বর্ণটি সাহচর্য কিংবা সাহায্য প্রার্থনা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, যা পরবর্তী একটি উহ্য ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট;

এবং সেই উহ্য শব্দটিকে ক্রিয়া হিসেবে গণ্য করা উত্তম, কারণ আমল বা কাজের ক্ষেত্রে ক্রিয়াই হলো মূল; আর তা শেষে থাকা অধিকতর উত্তম দুটি উপকারের জন্য:

প্রথমত: মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামের মাধ্যমে প্রারম্ভ করার বরকত লাভ করা।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الثانية: إفادةُ الحصر؛ لأن تقديم المتعلِّق يُفيد الحصر

والتقدير هنا: " بسم الله أنظم … "

و اسم الجلالة: (الله) اسم للرب الإله الحق؛ وهو الاسم الذي تتبعه جميع الأسماء الحسنى والصفات العلى؛ وهو الاسم الجامع لمعانيها. قال ابن كثير رحمه الله: وَهُوَ اسْمٌ لَمْ يُسَمَّ بِهِ غَيْرُهُ تبارك وتعالى ا. هـ.

و"الرحمن الرَّحِيم" وصفان لله تَعَالَى مشتقان من الرَّحْمَة، والرحمن أبلغ من الرَّحِيم لِأَن زِيَادَة الْبناء تدل على زِيَادَة الْمَعْنى غَالِبا.

المقدمة: بكسر الدال المهملة على الأفصح اسم فاعل من قدم بمعنى تقدم، ومقدمة الكتاب تقال لطائفة من كلامه قدمت أمام المقصود منه، لارتباط له بها وانتفاع بها فيه. وقد اشتملت بعد الحمد والثناء على الله والصلاة على رسوله صلى الله عليه وسلم على معرفة اسم هذا النظم ووصفه وموضوعه وفضله.

راجي: أي طالب والرجاء: التوقع والأمل وهو مضاف غير منون.

رَحْمَةِ مضاف إليه.

محمد بن عيد الشعباني: اسم الناظم وقد سبقت ترجمته

الحمد: وصف المحمود بالكمال مع المحبة والتعظيم.

لاسيما: معناها (بخاصّة)، وهي مركّبة من (لا) النَّافية للجنس، و (سِيّ) التي بمعنى مثل، و (ما)، وتستعمل لترجيح ما بعدها على ما قبلها، والمشهور استعمالها مع الواو ويأتي الاسم بعدها مرفوعًا أو مجرورًا أو منصوبًا

صلاة الله: ثناؤه على عبده في الملأ الأعلى
দ্বিতীয়ত: সীমাবদ্ধতার (হাসর) অর্থ প্রদান করা; কারণ সংশ্লিষ্ট অংশকে (মুতাআল্লাক) আগে নিয়ে আসা সীমাবদ্ধতার অর্থ প্রদান করে।

আর এখানকার প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: "আল্লাহর নামে আমি ছন্দবদ্ধ করছি … "

আর ইসমুল জালালাহ: (আল্লাহ) হলো রব, সত্য ইলাহ-এর নাম; এটি এমন এক নাম যা সমস্ত আসমাউল হুসনা (সুন্দর নামসমূহ) এবং উচ্চতর গুণাবলিকে অনুসরণ করে; এটি সেগুলোর অর্থসমূহের সমষ্টিগত নাম। ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এটি এমন এক নাম যা দ্বারা তিনি (বরকতময় ও সুউচ্চ) ব্যতীত আর কাউকে নামকরণ করা হয়নি। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আর "আর-রহমান আর-রাহীম" মহান আল্লাহর দুটি গুণবাচক নাম যা রহমত (দয়া) থেকে উদ্ভূত। আর-রহমান শব্দটি আর-রাহীম অপেক্ষা অধিক অর্থবোধক, কারণ শব্দ কাঠামোর আধিক্য সাধারণত অর্থের আধিক্য নির্দেশ করে।

মুকাদ্দিমাহ: সর্বাধিক বিশুদ্ধ মতানুযায়ী বর্ণহীন 'দাল' অক্ষরে কাসরা (জের) সহকারে এটি 'কদ্দামা' থেকে ইসমে ফায়েল, যার অর্থ অগ্রসর হওয়া। গ্রন্থের মুকাদ্দিমাহ বলা হয় মূল বক্তব্যের পূর্বে উপস্থাপিত একগুচ্ছ কথাকে, যা মূল বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত এবং যার মাধ্যমে মূল বিষয়টি বুঝতে সাহায্য পাওয়া যায়। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরূদ পাঠের পর এটি এই পদ্যের নাম, এর বর্ণনা, বিষয়বস্তু ও ফজিলত সম্পর্কে জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করেছে।

রাজী: অর্থাৎ প্রার্থনাকারী। আর আর-রাজা অর্থ হলো প্রত্যাশা ও আশা; এটি সম্বন্ধযুক্ত পদ (মুদাফ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তানভীনমুক্ত।

রহমতি: এটি মুদাফ ইলাইহি (পরপদ)।

মুহাম্মদ বিন ঈদ আশ-শা'বানী: এটি পদ্যকারের নাম এবং তাঁর জীবনী পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আল-হামদ: ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে প্রশংসিত সত্তাকে পূর্ণতার গুণাবলিতে ভূষিত করা।

লা-সিয়্যামা: এর অর্থ (বিশেষত), এটি 'লা' নাফিয়া লিল জিনস (জাতীয় নেতিবাচক লা), 'সিয়্য' যা 'মতো' অর্থে ব্যবহৃত এবং 'মা' এর সমন্বয়ে গঠিত। এটি পরবর্তী অংশকে পূর্ববর্তী অংশের ওপর প্রাধান্য দিতে ব্যবহৃত হয়। প্রসিদ্ধ ব্যবহার হলো এর সাথে 'ওয়াও' যুক্ত করা এবং এরপরের বিশেষ্যটি পেশযুক্ত (মারফু), জেরযুক্ত (মাজরুর) অথবা জবরযুক্ত (মানসুব) হতে পারে।

আল্লাহর সালাত: ঊর্ধ্বলোকে ফেরেশতাদের সমাবেশে তাঁর বান্দার প্রশংসা করা।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
وسلامه: هُوَ التَّحِيَّة أَوْ السَّلامَة من النقائص والرذائل.

وهو دعاء للنبي صلى الله عليه وسلم بالسلامة من النقص والآفات وهو اسم مصدر سَلَّمَ بمعنى التَّسليم كما قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب: 56].

وجَمْعُ الناظم بين الصلاة والسلام دون الاقتصار على أحدهما هو الأولى فقد نقل الإمام النووي رحمه الله كراهة إفراد الصلاة عن السلام وعكسه لاقتران الأمر بهما في هذه الآية. وفسر بعض العلماء الكراهة في كلام النووي بالكراهة التنزيهية التي هي بمعنى خلاف الأولى ورد ذلك الشيخ علي قاري وقال: لا يلتفت إلى ذلك … فإنه حينئذ لا يحتاج إلى الاستدلال ولا ينسب إليه بالاستقلال ا. هـ

ومراده أن النووي قصد التحريم لا الكراهة التنزيهية ذلك لأنه بالغ في الإنكار على الإمام مسلم وغيره لمخالفة ذلك. ولأنه لو كان قصده الكراهة التنزيهية لما كان لنسبة هذا القول إليه من أهل العلم مزية فإنه لا خلاف في أفضلية ذلك. وممن اختار الجواز الحافظ ابن الجزري كما في مفتاح الحصن الحصين والحافظ ابن حجر وكذا العيني في شرحيهما على البخاري وألف العلامة ملا علي القاري في ذلك رسالة مستقلة رد بها على الإمام النووي.(1)

المصطفى: المختار

--------------------------------------------

(1) رسالة في بيان إفراد الصلاة عن السلام هل يكره أم لا. طبعت بتحقيق محمد فاتح قايا في دار البشائر عام 1429.
এবং তাঁর সালাম: এটি একটি অভিবাদন অথবা ত্রুটি ও চারিত্রিক হীনতা থেকে নিরাপত্তা।

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য ত্রুটি ও বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তার দুআ। এটি 'সাল্লামা' ক্রিয়ামূলের ইসম মাসদার বা নাম-মূল যা 'তাসলীম' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।" [আহযাব: ৫৬]।

মূল গ্রন্থের রচয়িতা (নাযিম) কর্তৃক দরূদ ও সালামকে একত্রে উল্লেখ করা এবং কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ না থাকা হচ্ছে উত্তম। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) সালাম ব্যতিরেকে শুধু দরূদ এবং এর উল্টোটা অর্থাৎ দরূদ ব্যতিরেকে শুধু সালাম পাঠ করা মাকরূহ হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন, কারণ এই আয়াতে উভয়ের আদেশ একত্রে এসেছে। কোনো কোনো আলিম ইমাম নববীর কথায় 'মাকরূহ' শব্দটিকে 'মাকরূহে তানযীহি' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যার অর্থ হলো উত্তমের পরিপন্থী কাজ। শেখ আলী কারী এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন: এর দিকে ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না … কেননা তখন এর স্বপক্ষে দলিলের প্রয়োজন হতো না এবং স্বতন্ত্রভাবে তাঁর দিকে এটি সম্পৃক্ত করা হতো না। (সমাপ্ত)

তাঁর উদ্দেশ্য হলো, ইমাম নববী এর দ্বারা হারাম উদ্দেশ্য করেছেন, মাকরূহে তানযীহি নয়। এর কারণ হলো, তিনি ইমাম মুসলিম এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এর বিরোধিতা করার জন্য কঠোরভাবে আপত্তি জানিয়েছেন। তাছাড়া তিনি যদি মাকরূহে তানযীহি উদ্দেশ্য করতেন, তবে আলিমদের পক্ষ থেকে তাঁর দিকে এই উক্তিটি সম্পৃক্ত করার কোনো বিশেষত্ব থাকত না; কেননা দরূদ ও সালাম একত্রে পড়া যে অধিক উত্তম, তাতে কোনো দ্বিমত নেই। যাঁরা এটি (পৃথকভাবে পড়া) বৈধ বলে মত দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ ইবনুল জাযারি—যেমনটি 'মিফতাহুল হিসনিল হাসীন' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে—এবং হাফেজ ইবনে হাজার ও ইমাম আইনী তাঁদের বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থদ্বয়ে এটি উল্লেখ করেছেন। আল্লামা মোল্লা আলী কারী এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন যেখানে তিনি ইমাম নববীর মতের প্রতিবাদ করেছেন।(১)

আল-মুস্তফা: মনোনীত।

--------------------------------------------

(১) সালাম ব্যতিরেকে শুধু দরূদ পাঠ করা মাকরূহ কি না তার বর্ণনা বিষয়ক পুস্তিকা। এটি মুহাম্মাদ ফাতিহ কায়া-এর সম্পাদনায় দারুল বাশায়ির থেকে ১৪২৯ হিজরীতে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
وآله: قرابته من مؤمني بني هَاشم وَبني الْمطلب، ومنهم أزواجه رضي الله عنهم.

وقيل هم: أَتْبَاعه صلى الله عليه وسلم على دينه.

وبعد: الواو في أوله نائبة عن (أما) الشرطية و «أما» بمعنى مهما يكن من شيء،

و " بعدُ " ظرف متعلِّق بـ «يكن» المحذوفة مع شرطها؛ مبني على الضمِّ في محلِّ نصبٍ، لأنه حُذف المضافُ إليه، ونُوِيَ معناه، والتَّقدير: مهما يكن من شيءٍ بعد ذلك فهذا … إلخ وهي كلمة يُؤتى بها عند الدُّخول في الموضوع الذي يُقْصَدُ.

والنظم: مصدر نظَمَ وهو كلام موزون، يقابله النثر.

التوحيد: إفراد الله بالعبادة لا تشركُ به شيئا.

أول: بالجر بدل من التوحيد أو عطف بيان؛ ويجوز بالرفع خبرا لمبتدأ محذوف والتقدير (هو أول) ويجوز النصب على المفعولية والتقدير (أعني أول)

أول واجب: قال الشيخ حافظ الحكمي رحمه الله في منظومته "سلم الوصول"

أوَّلُ وَاجِبٍ عَلَى الْعَبِيدِ … مَعْرِفَةُ الرَّحْمَنِ بِالتَّوْحِيدِ

التوحيد الذي هو إفراد الله بالعبادة هو "أَوَّلُ وَاجِبٍ" فَرَضَهُ اللَّهُ عز وجل "عَلَى الْعَبِيدِ" وهُوَ الَّذِي خَلَقَهُمْ لَهُ وَأَخَذَ عَلَيْهِمُ الْمِيثَاقَ بِهِ ثُمَّ فَطَرَهُمْ شَاهِدِينَ مُقِرِّينَ بِهِ ثُمَّ أَرْسَلَ بِهِ رُسُلَهُ إِلَيْهِمْ وأنزل به كتبهم عَلَيْهِمْ وَهُوَ "أَعْظَمُ الأوامر التي أمر الله به عباده كَمَا أَنَّ ضِدَّهُ مِنَ الشِّرْكِ وَالتَّعْطِيلِ وَالتَّمْثِيلِ هُوَ أَعْظَمُ الْمَنَاهِي وَلَمْ تَدْعُ الرُّسُلُ إِلَى شَيْءٍ قَبْلَهُ وَلَمْ تَنْهَ عَنْ شَيْءٍ قَبْلَ ضِدِّهِ. قال النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ رضي الله عنه لما أرسله إلى أهل اليمن «إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الكِتَابِ، فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَى أَنْ يُوَحِّدُوا اللَّهَ تَعَالَى» رواه البخاري بهذا اللفظ، وفي رواية لمسلم «فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا
এবং তাঁর পরিবার: বনী হাশেম এবং বনী মুত্তালিবের মুমিন ব্যক্তিবর্গ যারা তাঁর নিকটাত্মীয়, তাঁদের মধ্যে তাঁর সহধর্মিণীগণও (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) অন্তর্ভুক্ত।

এবং বলা হয়েছে যে, তাঁরা হলেন: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বীনের ওপর তাঁর অনুসারীগণ।

অতঃপর: এর শুরুতে থাকা 'ওয়াও' অক্ষরটি শর্তবাচক শব্দ 'আম্মা'-এর স্থলাভিষিক্ত এবং 'আম্মা' এর অর্থ হলো- যা কিছু হোক না কেন।

এবং 'বাদু' শব্দটি একটি কালবাচক বিশেষ্য, যা তার শর্তসহ ঊহ্য থাকা 'ইয়াকুন' ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত; এটি পেশ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং জবর-এর স্থানে অবস্থিত, কারণ এর পরবর্তী সম্বন্ধীয় শব্দটি ঊহ্য রাখা হয়েছে এবং তার অর্থকে মনে রাখা হয়েছে। এর মূল রূপটি হলো: 'এর পরে যা কিছুই হোক না কেন, তবে এটি...' ইত্যাদি। এটি এমন একটি শব্দ যা উদ্দিষ্ট বিষয়ে প্রবেশের প্রারম্ভে ব্যবহৃত হয়।

আর কাব্য: এটি 'নাজামা' ক্রিয়ার মূল রূপ, যা ছন্দোবদ্ধ বাক্যকে বুঝায় এবং এর বিপরীত হলো গদ্য।

তাওহীদ: ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করা।

প্রথম: এটি জের যুক্ত অবস্থায় 'তাওহীদ' শব্দের বদল বা আতফে বায়ান হতে পারে; পেশ যুক্ত অবস্থায় এটি একটি ঊহ্য উদ্দেশ্য-এর বিধেয় হওয়াও বৈধ এবং তখন এর রূপ হবে (এটি প্রথম); আবার জবর যুক্ত অবস্থায় কর্ম হওয়াও বৈধ এবং তখন এর রূপ হবে (অর্থাৎ আমি প্রথম বুঝাচ্ছি)।

প্রথম ওয়াজিব: শায়খ হাফেজ আল-হাকামী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'সুল্লামুল উসুল'-এ বলেছেন:

বান্দাদের ওপর প্রথম ওয়াজিব... তাওহীদের মাধ্যমে দয়াময় আল্লাহকে চেনা।

তাওহীদ—যা ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা—তা হলো "প্রথম ওয়াজিব", যা মহান আল্লাহ "বান্দাদের ওপর" অবধারিত করেছেন। আর এটিই সেই উদ্দেশ্য যার জন্য তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং যার ওপর তাদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের এর সাক্ষ্যদাতা ও স্বীকৃতি প্রদানকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি তাদের নিকট এ দাওয়াতসহ রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং তাদের ওপর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন। এটিই "সর্বশ্রেষ্ঠ নির্দেশ" যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রদান করেছেন। যেমন এর বিপরীত শিরক, আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা এবং সাদৃশ্য প্রদান করা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ নিষেধ। রাসূলগণ এর আগে অন্য কোনো কিছুর দাওয়াত দেননি এবং এর বিপরীত বিষয়ের আগে অন্য কিছু থেকে নিষেধ করেননি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুয়াজ (রাদিআল্লাহু আনহু)-কে যখন ইয়ামেনে প্রেরণ করেন তখন বলেছিলেন: "তুমি আহলে কিতাবদের এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ, তাই তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত যেন হয় তারা যেন মহান আল্লাহকে এক বলে স্বীকার করে।" বুখারী এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন, আর মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "অতএব প্রথম যা হবে..."
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ عِبَادَةُ اللهِ عز وجل» ورواه البخاري ومسلم في رواية أخرى بلفظ: «فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ» وهذا يدل على أن التوحيد وعبادة الله هو تفسير الشهادتين.

مفتاح: بالرفع خبر لمبتدأ محذوف والتقدير (وهو -أي التوحيد- مفتاح … ) وَلِهَذَا لَا يَدْخُلُ الْعَبْدُ فِي الْإِسْلَامِ إِلَّا بِهِ وَلَا يَخْرُجُ مِنْهُ إِلَّا بِضِدِّهِ وَلَا يُزَحْزَح عَنِ النَّارِ وَيَدْخُل الْجَنَّةَ إِلَّا بِهِ. وَلَا يَخْلُدُ فِي النَّارِ وَيُحْرَمُ الْجَنَّةَ إِلَّا بِضِدِّهِ.

الفردوس: اسم جنَّة من أعلى جنّات النَّعيم في الآخرة وأفضلها، قال صلى الله عليه وسلم: "وَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ، فَاسْأَلُوهُ الفِرْدَوْسَ، فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الجَنَّةِ وَأَعْلَى الجَنَّةِ وفَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ، وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الجَنَّةِ".

تحفة: هدية ذات قيمة تقدم لمن يحب.

الْعُبَّادِ: تضبط على وجهين:

بكسر العين وتخفيف الباء جمع عبد

أو بضم العين وتشديد الباء جمع عابد وهذا هو الغاية من هذا العلم وغيره وهو العمل بالعلم. -أفاده الناظم في شرحه-.
"তুমি তাদেরকে যার দিকে আহ্বান করবে তা হলো মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর ইবাদত।" এটি বুখারি ও মুসলিম অন্য একটি বর্ণনায় এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তুমি তাদেরকে এই সাক্ষ্য দেওয়ার দিকে আহ্বান করো যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল।" এটি প্রমাণ করে যে, তাওহীদ এবং আল্লাহর ইবাদতই হলো দুই সাক্ষ্যবাণীর ব্যাখ্যা।

চাবিকাঠি: এটি পেশ (রফা) অবস্থায় একটি উহ্য উদ্দেশ্য (মুবতাদা)-এর বিধেয় (খবর), আর এর আনুমানিক রূপ হলো: (আর তা -অর্থাৎ তাওহীদ- হলো চাবিকাঠি … )। এ কারণেই কোনো বান্দা এটি ছাড়া ইসলামে প্রবেশ করতে পারে না এবং এর বিপরীত বিষয় ছাড়া ইসলাম থেকে বের হয় না। আর এটি ব্যতীত কেউ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায় না এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে না। আর এর বিপরীত বিষয় ছাড়া কেউ জাহান্নামে চিরস্থায়ী হয় না এবং জান্নাত থেকে বঞ্চিত হয় না।

ফিরদাউস: এটি আখিরাতের নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সর্বোত্তম জান্নাতের নাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফিরদাউস চাইবে। কারণ এটি জান্নাতের মধ্যবর্তী ও সর্বোচ্চ জান্নাত এবং এর উপরেই রয়েছে রহমানের আরশ, আর সেখান থেকেই জান্নাতের নহরসমূহ প্রবাহিত হয়।"

উপহার: এমন মূল্যবান উপঢৌকন যা প্রিয়জনকে প্রদান করা হয়।

ইবাদতকারীগণ: এটি দুইভাবে উচ্চারণ করা যায়:

'আইন' অক্ষরে জের এবং 'বা' বর্ণে তাশদিদ ছাড়া, যা 'আবদ' (বান্দা)-এর বহুবচন।

অথবা 'আইন' অক্ষরে পেশ এবং 'বা' বর্ণে তাশদিদ সহ, যা 'আবিদ' (ইবাদতকারী)-এর বহুবচন। আর এটিই হলো এই ইলম ও অন্যান্য ইলমের মূল উদ্দেশ্য, আর তা হলো ইলম অনুযায়ী আমল করা। —নাজিম তার ব্যাখ্যায় এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌بَابُ فَضْلِ التَّوْحِيدِ

لما نبه الناظم في المقدمة على أن التوحيد هو الفرض الأعظم على جميع العبيد، عقد هذا الباب لبيان فضله، وهو آثاره الحميدة ونتائجه الجميلة، وليس شيء من الأشياء له من الآثار الحسنة، والفضائل المتنوعة مثل التوحيد. فإن خير الدنيا والآخرة من ثمرات هذا التوحيد وفضائله.

(1) ومن أجل فوائده: أنه يمنع الخلود في النار إذا كان في القلب منه أدنى مثقال حبة خردل.

(2) وأنه إذا كمل في القلب يمنع دخول النار بالكلية.

(3) وهو: سبب عظيم لمغفرة الذنوب

(4) وسبب لتفريج كربات الدنيا والآخرة ودفع عقوبتهما.

(5) ومنها: أنه يحصل لصاحبه الهدى الكامل والأمن التام في الدنيا والآخرة

(6) ومن أعظم فضائله: أن جميع الأعمال والأقوال الظاهرة والباطنة متوقفة في قبولها وفي كمالها، وفي ترتب الثواب عليها على التوحيد، فكلما قوي التوحيد والإخلاص لله كملت هذه الأمور وتمت.

(7) ومن فضائله: أنه يسهل على العبد فعل الخير وترك المنكرات ويسليه عن المصيبات، فالمخلص لله في إيمانه وتوحيده تخف عليه الطاعات لما يرجو من ثواب ربه ورضوانه، ويهون عليه ترك ما تهواه النفس من المعاصي، لما يخشى من سخطه وعقابه.

(8) ومنها: أن التوحيد إذا كمل في القلب حبب الله لصاحبه الإيمان وزينه في قلبه، وكره إليه الكفر والفسوق والعصيان، وجعله من الراشدين.

(9) ومنها: أنه يخفف عن العبد المكاره ويهون عليه الآلام.
তাওহীদের ফযীলত পরিচ্ছেদ

যেহেতু কাব্য রচয়িতা ভূমিকায় এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন যে, তাওহীদ হলো সমস্ত দাসের ওপর সর্বশ্রেষ্ঠ ফরয, তাই তিনি এর ফযীলত বর্ণনার জন্য এই পরিচ্ছেদটি রচনা করেছেন। আর তা হলো এর প্রশংসনীয় প্রভাব ও সুন্দর ফলাফল। বস্তুত এমন কোনো বস্তু নেই যার তাওহীদের মতো নানাবিধ উত্তম প্রভাব ও ফযীলত রয়েছে। কেননা দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ এই তাওহীদেরই ফল ও ফযীলত।

(১) এর অন্যতম প্রধান উপকারিতা হলো: এটি জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া থেকে রক্ষা করে, যদি অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও তাওহীদ থাকে।

(২) আর যদি তা অন্তরে পূর্ণতা লাভ করে, তবে তা পুরোপুরিভাবে জাহান্নামে প্রবেশ করাকে প্রতিরোধ করে।

(৩) এটি হলো: পাপসমূহ ক্ষমা লাভের এক মহান মাধ্যম।

(৪) এবং দুনিয়া ও আখিরাতের বিপদ-আপদ দূর করার এবং উভয় জগতের শাস্তি প্রতিহত করার কারণ।

(৫) এর অন্তর্ভুক্ত হলো: এর মাধ্যমে তাওহীদপন্থী ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে পূর্ণ হিদায়াত এবং নিরঙ্কুশ নিরাপত্তা লাভ করে।

(৬) এর অন্যতম মহান ফযীলত হলো: সমস্ত প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজের কবুলিয়ত, পূর্ণতা এবং তার বিনিময়ে সাওয়াব প্রাপ্তি তাওহীদের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং আল্লাহর প্রতি তাওহীদ ও ইখলাস যত শক্তিশালী হবে, এই বিষয়গুলো ততটাই পূর্ণতা লাভ করবে।

(৭) এর ফযীলতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: এটি বান্দার জন্য নেক কাজ করা এবং মন্দ কাজ বর্জন করা সহজ করে দেয় এবং বিপদ-আপদে তাকে সান্ত্বনা দেয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তার ঈমান ও তাওহীদে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হবে, তার রবের সাওয়াব ও সন্তুষ্টির আশায় তার নিকট আনুগত্যের কাজগুলো সহজ মনে হবে। আর আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও শাস্তির ভয়ে প্রবৃত্তির চাহিদামত গুনাহসমূহ বর্জন করা তার জন্য সহজতর হবে।

(৮) এর মধ্যে আরও রয়েছে: তাওহীদ যখন অন্তরে পূর্ণতা পায়, তখন আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির নিকট ঈমানকে প্রিয় করে দেন এবং তার অন্তরে তাকে সুশোভিত করেন; আর কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তার নিকট অপছন্দনীয় করে দেন এবং তাকে সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

(৯) এর মধ্যে আরও হলো: এটি বান্দার অপ্রীতিকর বিষয়সমূহ লাঘব করে এবং তার দুঃখ-বেদনাকে সহজ করে দেয়।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
(10) فبحسب تكميل العبد للتوحيد والإيمان، يتلقى المكاره والآلام بقلب منشرح ونفس مطمئنة وتسليم ورضا بأقدار الله المؤلمة.

(11) ومن أعظم فضائله: أنه يحرر العبد من رق المخلوقين والتعلق بهم وخوفهم ورجائهم والعمل لأجلهم، وهذا هو العز الحقيقي والشرف العالي. ويكون مع ذلك متألها متعبدا لله، لا يرجو سواه ولا يخشى إلا إياه، ولا ينيب إلا إليه، وبذلك يتم فلاحه ويتحقق نجاحه.

(12) ومن فضائله التي لا يلحقه فيها شيء: أن التوحيد إذا تم وكمل في القلب وتحقق تحققا كاملا بالإخلاص التام، فإنه يصير القليل من عمله كثيرا، وتضاعف أعماله وأقواله بغير حصر ولا حساب.

(13) ومن فضائل التوحيد: أن الله تكفل لأهله بالفتح والنصر في الدنيا، والعز والشرف وحصول الهداية والتيسير لليسرى وإصلاح الأحوال والتسديد في الأقوال والأفعال.

(14) ومنها: أن الله يدافع عن الموحدين أهل الإيمان شرور الدنيا والآخرة، ويمن عليهم بالحياة الطيبة والطمأنينة إليه والطمأنينة بذكره، وشواهد هذه الجمل من الكتاب والسنة كثيرة معروفة والله أعلم.

8 - أَوَّلُ وَاجِبٍ هُوَ التَّوحِيدُ … وَمَنْ يُحَقِّقْهُ هُوَ السَّعِيدُ

9 - يَكُنْ لَهُ مِنَ الْعَذَابِ جُنَّهْ … وَهْوَ سَبِيلُ مَنْ يُرِيدُ الْجَنَّهْ

10 - شَرْطُ الْقَبُولِ يَا بَنِيَّ لِلْعَمَلْ … دَعَا إِلَيْهِ قَوْمَهُمْ كُلُّ الْرُّسُلْ

11 - وَيَغْفِرُ اللَّهُ بِهِ الذُنُوبَا … سُبْحَانَ مَنْ يُقَلِّبُ الْقُلُوبَا

أول واجب: تقدم في البيت (4) ومن يحققه: تحقيق التوحيد: تخليصه وتصفيته من شوائب الشرك والبدع والمعاصي.
(10) একজন বান্দা তাওহীদ ও ঈমানকে যতটুকু পূর্ণ করবে, সেই অনুপাতে সে অপ্রীতিকর বিষয় ও যাতনাগুলোকে প্রশস্ত হৃদয়, প্রশান্ত আত্মা এবং আল্লাহর বেদনাদায়ক তাকদীরের প্রতি আত্মসমর্পণ ও সন্তুষ্টির সাথে গ্রহণ করবে।

(11) আর এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মর্যাদা হলো: এটি বান্দাকে মাখলুকের দাসত্ব, তাদের প্রতি আসক্তি, তাদের ভয়, তাদের কাছে আশা এবং তাদের জন্য কাজ করা থেকে মুক্ত করে। আর এটাই হলো প্রকৃত মর্যাদা ও সুউচ্চ সম্মান। এর পাশাপাশি সে কেবল আল্লাহরই উপাসক ও ইবাদতকারী হবে, তিনি ছাড়া আর কারো কাছে আশা করবে না, তাঁকে ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবে না এবং তিনি ছাড়া আর কারো দিকে প্রত্যাবর্তন করবে না। এর মাধ্যমেই তার কল্যাণ পূর্ণতা পায় এবং তার সফলতা বাস্তবায়িত হয়।

(12) এর এমন কিছু মর্যাদা রয়েছে যার সমকক্ষ আর কিছু নেই: আর তা হলো, তাওহীদ যখন অন্তরে পূর্ণতা লাভ করে এবং পূর্ণ ইখলাসের সাথে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়, তখন বান্দার অল্প আমলও অনেক হয়ে যায় এবং তার কথা ও কাজসমূহ কোনো সীমা ও হিসাব ছাড়াই বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

(13) তাওহীদের অন্যতম মর্যাদা হলো: আল্লাহ এর অধিকারীদের জন্য দুনিয়াতে বিজয় ও সাহায্যের নিশ্চয়তা দিয়েছেন, সেই সাথে সম্মান, মর্যাদা, হিদায়াত লাভ, কল্যাণকর কাজের সহজতা, অবস্থার সংশোধন এবং কথা ও কাজে সঠিকতা বজায় রাখার তাওফিক দান করেন।

(14) এর আরেকটি দিক হলো: আল্লাহ ঈমানদার মুওয়াহহিদদের পক্ষ থেকে দুনিয়া ও আখেরাতের অনিষ্টতা প্রতিরোধ করেন এবং তাদেরকে পবিত্র জীবন, তাঁর প্রতি প্রশান্তি ও তাঁর জিকিরের মাধ্যমে অর্জিত প্রশান্তি দান করেন। কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এই কথাগুলোর প্রমাণাদি অনেক ও সুপরিচিত, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

8 - প্রথম ওয়াজিব হলো তাওহীদ … আর যে ব্যক্তি এটি বাস্তবায়ন করবে সে-ই ভাগ্যবান।

9 - এটি তার জন্য আযাব থেকে ঢাল স্বরূপ হবে … আর এটাই সেই পথ যে জান্নাত কামনা করে।

10 - হে আমার সন্তানেরা! আমল কবুল হওয়ার শর্ত এটিই … সকল রাসূল তাঁদের কওমকে এই দিকেই দাওয়াত দিয়েছেন।

11 - আর এর অসিলায় আল্লাহ গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন … পবিত্রতা সেই সত্তার যিনি অন্তরসমূহকে পরিবর্তন করেন।

প্রথম ওয়াজিব: ৪ নম্বর পংক্তিতে এটি অতিবাহিত হয়েছে। এবং যে এটি বাস্তবায়ন করবে: তাওহীদ বাস্তবায়ন করার অর্থ হলো: একে শিরক, বিদআত ও গুনাহের কলুষতা থেকে মুক্ত ও পরিশুদ্ধ করা।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
قال العلامة عبد الرحمن بن حسن رحمه الله في كتاب قرة العيون: وتحقيق التوحيد عزيز في الأمة لا يوجد إلا في أهل الإيمان الخلص الذين أخلصهم الله واصطفاهم من خلقه كما قال تعالى في يوسف عليها السلام: {كَذَلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوءَ وَالْفَحْشَاءَ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُخْلَصِينَ} [يوسف: 24] بفتح اللام، وفي قراءة {المخلِصين} بكسرها، وهم في صدر هذه الأمة كثيرون وفي آخرها هم الغرباء، وقد قلوا، وهم الأعظمون قدرا عند الله .... وقال تعالى: {وَمَنْ يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى} [لقمان: 22]. قال العماد ابن كثير رحمه الله في الآية: يقول تعالى مخبرا عمن أسلم وجهه لله أي أخلص له العمل وانقاد لأوامره واتبع شرعه، ولهذا قال: {وَهُوَ مُحْسِنٌ} أي في عمله واتباع ما أمر به وترك ما عنه زجر. فدلت هذه الآية العظيمة على أن كمال الإخلاص إنما يوجد بترك الشرك والبراءة منه وممن فعله ا. هـ

هو السعيد: ومن سعادة المحققين للتوحيد أنهم يدخلون الجنة بلا حساب ولا عذاب كما قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " عُرِضَتْ عَلَيَّ الأُمَمُ، … فذكر الحديث وفيه:

قِيلَ: انْظُرْ إِلَى الأُفُقِ، فَإِذَا سَوَادٌ يَمْلَأُ الأُفُقَ، ثُمَّ قِيلَ لِي: انْظُرْ هَا هُنَا وَهَا هُنَا فِي آفَاقِ السَّمَاءِ، فَإِذَا سَوَادٌ قَدْ مَلَأَ الأُفُقَ، قِيلَ: هَذِهِ أُمَّتُكَ، وَيَدْخُلُ الجَنَّةَ مِنْ هَؤُلَاءِ سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ " … ثم قَالَ صلى الله عليه وسلم في وصفهم «هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ، وَلَا يَتَطَيَّرُونَ، وَلَا يَكْتَوُونَ، وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ» متفق عليه.

ومن سعادة الموحدين أن التوحيد لهم جُنَّة ولذا قال:

9 - يَكُنْ لَهُ مِنَ الْعَذَابِ جُنَّهْ … وَهْوَ سَبِيلُ مَنْ يُرِيدُ الْجَنَّهْ

جُنَّة: أي وقاية من عذاب الله تعالى وهو سبيل: أي طريق من يريد الجنة بل لا يدخل الجنةَ إلا الموحدون ولذا قال هنا:
আল্লামা আবদুর রহমান বিন হাসান (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'কুররাতুল উয়ুন' গ্রন্থে বলেছেন: এই উম্মতের মধ্যে তাওহীদের প্রকৃত স্বরূপ (তাহকীক) অর্জন করা অত্যন্ত দুর্লভ, এটি কেবল সেই বিশুদ্ধ ঈমানদারদের মধ্যেই পাওয়া যায় যাদের আল্লাহ একনিষ্ঠ করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলেছেন: "এভাবেই, যাতে আমি তাঁর থেকে মন্দ ও অশ্লীলতা দূর করে দিই। নিশ্চয় তিনি আমার মনোনীত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।" [ইউসুফ: ২৪] - এখানে 'লাম' বর্ণের ফাতহা (জবর) যোগে 'আল-মুখলাসীন' পড়া হয়েছে, আবার অন্য কিরাআতে কাসরা (যের) যোগে 'আল-মুখলিসীন'ও পড়া হয়েছে। এই উম্মতের প্রথম যুগে তারা সংখ্যায় অনেক ছিলেন, কিন্তু শেষ যুগে তারা আগন্তুক (গুরবা) সদৃশ এবং তাদের সংখ্যা কমে গেছে, তবে আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকে তারাই শ্রেষ্ঠ...। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর কাছে নিজের চেহারা সঁপে দেয়, সে অবশ্যই এক মজবুত হাতল আঁকড়ে ধরেছে।" [লুকমান: ২২]। ইমাদ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: মহান আল্লাহ এখানে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে আল্লাহর কাছে নিজের চেহারা সঁপে দিয়েছে, অর্থাৎ সে তার আমলকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করেছে, তাঁর আদেশের অনুগত হয়েছে এবং তাঁর শরীয়ত অনুসরণ করেছে। একারণেই তিনি বলেছেন: "এবং সে সৎকর্মপরায়ণ"—অর্থাৎ তার আমল এবং যা আদেশ করা হয়েছে তা পালনে এবং যা নিষেধ করা হয়েছে তা বর্জনে সে নিষ্ঠাবান। সুতরাং এই মহান আয়াতটি নির্দেশ করে যে, ইখলাসের পূর্ণতা কেবল শিরক বর্জন এবং শিরক ও শিরককারীদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। [সমাপ্ত]

তিনিই সৌভাগ্যবান: তাওহীদ প্রতিষ্ঠাকারীদের সৌভাগ্যের একটি দিক হলো যে, তারা কোনো হিসাব ও আযাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেমন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার সামনে সকল উম্মতকে পেশ করা হলো, … এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন যাতে রয়েছে:

বলা হলো: দিগন্তের দিকে তাকান। দেখা গেল এক বিশাল জনসমষ্টি দিগন্তজুড়ে ছেয়ে আছে। এরপর আমাকে বলা হলো: আকাশের এই প্রান্তে ও ওই প্রান্তে দিগন্তের দিকে তাকান, দেখা গেল এক বিশাল জনসমষ্টি দিগন্তকে পূর্ণ করে রেখেছে। বলা হলো: এটি আপনার উম্মত এবং এদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তি কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। … এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় বললেন: "তারা হলো সেই সব লোক যারা অন্যের কাছে ঝাড়ফুঁক চায় না, কোনো কিছুকে কুলক্ষণ মনে করে না, শরীরে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে চিকিৎসা করায় না এবং তারা তাদের রবের ওপর ভরসা রাখে।" মুত্তাফাকুন আলাইহি।

তাওহীদপন্থীদের একটি সৌভাগ্য হলো যে, তাওহীদ তাদের জন্য একটি ঢালস্বরূপ, তাই তিনি বলেছেন:

৯ - এটি তার জন্য আযাব থেকে রক্ষার ঢালস্বরূপ … এবং এটিই জান্নাত প্রত্যাশীদের পথ

ঢাল (জুন্নাহ): অর্থাৎ মহান আল্লাহর আযাব থেকে সুরক্ষা। আর পথ (সাবিল): অর্থাৎ জান্নাত প্রত্যাশীদের রাস্তা। মূলত জান্নাতে কেবল তাওহীদপন্থীরাই প্রবেশ করবে, তাই তিনি এখানে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
10 - شَرْطُ الْقَبُولِ يَا بَنِيَّ لِلْعَمَلْ … دَعَا إِلَيْهِ قَوْمَهُمْ كُلُّ الْرُّسُلْ

فلَا يُزَحْزَح العبد عَنِ النَّارِ وَيَدْخُل الْجَنَّةَ إِلَّا بِهِ. وَلَا يَخْلُدُ فِي النَّارِ وَيُحْرَمُ الْجَنَّةَ إِلَّا بِضِدِّهِ. ودليله قوله صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ " والمعنى أن شهادة أن لا إله إلا الله، تتضمن ترك الشرك لمن قالها بصدق ويقين وإخلاص.

دعا إليه … إلخ: دليله قول الحق سبحانه: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] والمعنى أن الله تعالى بَعَثَ فِي كُلِّ قَرْنٍ مِنَ النَّاسِ وَطَائِفَةٍ رَسُولًا وَكُلُّهُمْ يَدْعُو إِلَى عِبَادَةِ اللَّهِ، وَيَنْهَى عَنْ عِبَادَةِ مَا سِوَاهُ: فَلَمْ يَزَلْ تَعَالَى يُرْسِلُ إِلَى النَّاسِ الرُّسُلَ بِذَلِكَ، مُنْذُ حَدَثَ الشِّرْكُ فِي بَنِي آدَمَ، فِي قَوْمِ نُوحٍ الَّذِينَ أُرْسِلَ إِلَيْهِمْ نُوحٌ عليها السلام، وَكَانَ أَوَّلَ رَسُولٍ بَعَثَهُ اللَّهُ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ إِلَى أَنْ خَتَمَهُمْ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم الَّذِي طَبَّقَتْ دَعْوَتُهُ الْإِنْسَ وَالْجِنَّ فِي الْمَشَارِقِ وَالْمَغَارِبِ، وَكُلُّهمْ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25]

11 - وَيَغْفِرُ اللَّهُ بِهِ الذُنُوبَا … سُبْحَانَ مَنْ يُقَلِّبُ الْقُلُوبَا

المغفرة هي ستر الذنب ومحوه والتجاوز عنه، وإذا قلت: أستغفر الله يعني أسأله تعالى أن يستر علي ذنوبي وأن يقيني عذابها. وهذا من فضائل التوحيد فإن المغفرة لا تكون لمن أشرك فإن الشرك لا يدخل تحت المغفرة لقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} [النساء: 48] وبهذا يتبين فضل التوحيد والموحدين. وقد روى الترمذي عن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: قَالَ اللَّهُ تبارك وتعالى: « … يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكُ بِي شَيْئًا لأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً» فقوله: «ثُمَّ لَقِيتَنِي لَا
১০ - হে আমার পুত্র, আমল কবুল হওয়ার শর্ত হলো … যা প্রতিটি রাসূল তাঁদের কওমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সুতরাং এই তাওহীদ ব্যতিরেকে কোনো বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হবে না এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে না। আর এর বিপরীতে (শিরক) লিপ্ত হওয়া ছাড়া কেউ জাহান্নামে স্থায়ী হবে না এবং জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে না। এর দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহান্নামের জন্য সেই ব্যক্তিকে হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) বলে।" এর অর্থ হলো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর সাক্ষ্য দেওয়ার মধ্যে শিরক বর্জন করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেই ব্যক্তির জন্য, যে তা সত্যতা, দৃঢ় বিশ্বাস এবং একনিষ্ঠতার সাথে পাঠ করে।

দাওয়াত দিয়েছেন … ইত্যাদি: এর দলিল হলো মহান সত্যের বাণী: {আর আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [নাহল: ৩৬]। এর অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রতিটি যুগে এবং প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের সকলেই আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানাতেন এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে নিষেধ করতেন। সুতরাং যখন থেকে বনী আদমের মধ্যে অর্থাৎ নূহের কওমের মধ্যে শিরক শুরু হয়েছে—যাদের কাছে নূহ আলাইহিস সালামকে পাঠানো হয়েছিল এবং তিনি ছিলেন পৃথিবীর অধিবাসীদের নিকট আল্লাহর প্রেরিত প্রথম রাসূল—তখন থেকেই মহান আল্লাহ মানুষদের নিকট এই দাওয়াত সহকারে রাসূল পাঠাতে থাকেন। অবশেষে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে নবুওয়াতের ধারাবাহিকতা সমাপ্ত করেন, যাঁর দাওয়াত প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সকল মানুষ ও জিনের মাঝে পরিব্যাপ্ত হয়েছে। তাঁরা সকলেই তেমনই ছিলেন যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি আপনার পূর্বে এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি এই ওহী নাযিল করিনি যে, ‘আমি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; সুতরাং তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো’} [আম্বিয়া: ২৫]।

১১ - এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন … পবিত্র সেই মহান সত্তা যিনি অন্তরসমূহ পরিবর্তন করেন।

মাগফিরাত বা ক্ষমা হলো পাপ গোপন রাখা, তা মুছে ফেলা এবং তা থেকে মার্জনা করা। আপনি যখন বলেন: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই’ (আসতাগফিরুল্লাহ), তখন এর অর্থ হলো—আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার পাপসমূহ গোপন রাখেন এবং এর শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করেন। এটি তাওহীদের অন্যতম ফযীলত, কারণ যে শিরক করে তার জন্য ক্ষমা নেই; কেননা শিরক ক্ষমার আওতাভুক্ত হয় না, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না এবং এছাড়া অন্য যা কিছু তা যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন} [নিসা: ৪৮]। এর মাধ্যমেই তাওহীদ এবং তাওহীদপন্থীদের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট হয়ে যায়। ইমাম তিরমিযী আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: « … হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পূর্ণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আসো, অতঃপর আমার সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করো যে আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করোনি, তবে আমিও পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে আসব।» সুতরাং তাঁর বাণী: «অতঃপর তুমি যদি আমার সাথে সাক্ষাৎ করো...»
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
تُشْرِكُ بِي شَيْئًا» شرط ثقيل في الوعد بحصول المغفرة، وهو السلامة من الشرك: كثيره وقليله، صغيره وكبيره. ولا يسلم من ذلك إلا من سلم الله تعالى، وذلك هو القلب السليم كما قال تعالى: {إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ} [الشعراء: 89]

سبحان: التسبيح تنزيه الله جل وعلا عن النقائص في ربوبيته وإلهيته، وأسمائه وصفاته، وشرعه ودينه، وفي أمره الكوني وقدره. والكون كله يسبح بحمد الله، كما قال تعالى {تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا} [الإسراء: 44] ومن الواجب أن يُنَزَّهْ الله عز وجل عما لا يليق بجلاله وعظمته.

من يقلب القلوب: تَقْلِيبُ الشَّيْءِ تَغْيِيرُهُ مِنْ حَالٍ إِلَى حَالٍ وَالتَّقْلِيبُ التَّصَرُّفُ وَتَقْلِيبُ اللَّهِ الْقُلُوبَ وَالْبَصَائِرَ صَرْفُهَا مِنْ رَأْيٍ إِلَى رَأْيٍ.

وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال قال رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم «إِنَّ قُلُوبَ بَنِي آدَمَ كُلَّهَا بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ الرَّحْمَنِ، كَقَلْبٍ وَاحِدٍ، يُصَرِّفُهُ حَيْثُ يَشَاءُ» ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «اللهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوبِ صَرِّفْ قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ» رواه مسلم

وعن النَّوَّاس بْن سَمْعَانَ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:

مَا مِنْ قَلْبٍ إِلاَّ بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ الرَّحْمَانِ، إِنْ شَاءَ أَقَامَهُ، وَإِنْ شَاءَ أَزَاغَهُ. وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: يَا مُثَبِّتَ الْقُلُوبِ، ثَبِّتْ قُلُوبَنَا عَلَى دِينِكَ. رواه ابن ماجه.
"আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না"—এটি ক্ষমা লাভের প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আর তা হলো শিরক থেকে মুক্ত থাকা: তার আধিক্য ও স্বল্পতা এবং ছোট ও বড় সব ধরণের শিরক থেকে। আর তা থেকে কেবল সেই নিরাপদ থাকতে পারে, যাকে আল্লাহ তাআলা নিরাপদ রেখেছেন। আর এটিই হলো 'কালবে সালিম' (সুস্থ অন্তর), যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তবে সেই (পরিত্রাণ পাবে), যে আল্লাহর কাছে সুস্থ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।" [শুআরা: ৮৯]

সুবহান: তাসবিহ হলো আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-কে তাঁর রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাত, তাঁর নাম ও গুণাবলি, তাঁর শরিয়ত ও দ্বীন এবং তাঁর মহাজাগতিক নির্দেশ ও তকদিরের ক্ষেত্রে সকল প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র ঘোষণা করা। সমগ্র মহাবিশ্ব আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সপ্ত আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের মধ্যে যা কিছু আছে সবাই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। এমন কোনো কিছু নেই যা তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে না; কিন্তু তোমরা তাদের পবিত্রতা ঘোষণা বুঝতে পারো না। নিশ্চয়ই তিনি অতি সহনশীল, পরম ক্ষমাশীল।" [ইসরা: ৪৪] মহান আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে যা সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তা থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করা ওয়াজিব।

যিনি অন্তরসমূহকে ওলট-পালট করেন: কোনো কিছু ওলট-পালট (তাকলিব) করার অর্থ হলো তাকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত করা। আর ওলট-পালট করা হলো পরিচালনা করা। আল্লাহর পক্ষ থেকে অন্তর ও অন্তর্দৃষ্টির ওলট-পালট করার অর্থ হলো সেগুলোকে এক সিদ্ধান্ত থেকে অন্য সিদ্ধান্তে ফিরিয়ে দেওয়া।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই বনী আদমের সমস্ত অন্তর পরম করুণাময় আর-রাহমানের আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে একটি হৃদয়ের মতো; তিনি সেটিকে যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করেন।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে অন্তরসমূহ পরিচালনাকারী! আপনি আমাদের অন্তরসমূহকে আপনার আনুগত্যের পথে পরিচালিত করুন।" [মুসলিম বর্ণনা করেছেন]

নাওয়াস ইবনে সামআন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:

এমন কোনো অন্তর নেই যা পরম করুণাময় আর-রাহমানের আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে অবস্থান করে না; তিনি চাইলে তাকে সঠিক পথে রাখেন, আর তিনি চাইলে তাকে সত্যচ্যুত বা পথভ্রষ্ট করে দেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: হে অন্তরসমূহকে অটলকারী! আমাদের অন্তরগুলোকে আপনার দ্বীনের ওপর অটল রাখুন। [ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন]
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌بَابُ أَقْسَامِ التَّوْحِيْدِ

12 - يَنْقَسِمُ التَّوْحِيدُ فِي الإِسْلامِ … إِلَىَ ثَلاثَةٍ مِنَ الأَقْسَامِ

أقسام التوحيد ثلاثة:

(1) توحيد الربوبية.

(2) توحيد الألوهية ويسمى توحيد العبادة.

(3) توحيد الأسماء والصفات

قال الشيخ سليمان في تيسير العزيز الحميد: (التوحيد): مصدر وحد يوحد توحيدًا، أي: جعله واحدًا، وسمي دين الإسلام توحيدًا؛ لأن مبناه على أن الله واحد في ملكه وأفعاله لا شريك له، وواحد في ذاته وصفاته لا نظير له، وواحد في إلهيته وعبادته لا ند له، وإلى هذه الأنواع الثلاثة ينقسم توحيد الأنبياء، والمرسلين الذين جاؤوا به من عند الله، وهي متلازمة، كل نوع منها لا ينفك عن الآخر، فمن أتى بنوع منها ولم يأت بالآخر، فما ذاك إلا أنه لم يأت به على وجه الكمال المطلوب ا. هـ والمؤلف بدأ بتوحيد الألوهية لأنه أهمها وسماه توحيد العبادة فقال:

13 - أَوَّلُهَا التَّوْحِيدُ فِي الْعِبَادَهْ … وَهْوَ أَهَمُّهَا بِهِ الشَّهَادَهْ

أولها: التوحيد في العبادة: وهو توحيد الألوهية: والألوهية مأخوذة من: ألَه يأْلَه إِلهة وأُلُوهةً: إذا عُبد مع المحبة والتعظيم. يقال: تَأَلَّه إذا عُبد مُعَظَّمًا مُحَبًّا، ففرقٌ بين العبادة والألوهة، فإن الألوهة عبادة فيها المحبة، والتعظيم، والرضا بالحال، والرجاء، والرغب، والرهب، فمصدر أَلَه يأْلَه: أُلُوهة وإلهة؛ ولهذا قيل: توحيد الإلهية، وقيل توحيد الألوهية، وهما مصدران لأَلَه يأْلَه. ومعنى (أَلَه) في لغة العرب:
তাওহীদের প্রকারভেদ পরিচ্ছেদ

১২ - ইসলামে তাওহীদ বিভক্ত … তিনটি প্রকারে।

তাওহীদের প্রকারভেদ তিনটি:

(১) তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ।

(২) তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ যাকে তাওহীদুল ইবাদাহও বলা হয়।

(৩) তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত (নাম ও গুণাবলীর একত্ব)।

শায়খ সুলাইমান ‘তাইসীরুল আযীযিল হামীদ’ গ্রন্থে বলেন: (তাওহীদ): এটি ওয়াহহাদা-ইউওয়াহহিদু-তাওহীদান এর মাসদার (ক্রিয়ামূল), অর্থাৎ: কোনো কিছুকে এক করা। ইসলাম ধর্মকে তাওহীদ নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এর ভিত্তি হলো—আল্লাহ তাঁর রাজত্ব ও কার্যাবলীতে এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে তিনি এক, তাঁর কোনো সদৃশ নেই; এবং তাঁর উপাস্যত্ব ও ইবাদতে তিনি এক, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা নবী ও রাসূলগণের তাওহীদ এই তিন প্রকারেই বিভক্ত। এগুলি একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, একটি অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। কেউ যদি এর কোনো একটি প্রকার পালন করে কিন্তু অন্যটি না করে, তবে সে কাঙ্ক্ষিত পূর্ণাঙ্গরূপে তা পালন করল না। সমাপ্ত। লেখক তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ দিয়ে শুরু করেছেন কারণ এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি একে তাওহীদুল ইবাদাহ নামকরণ করে বলেছেন:

১৩ - এগুলোর প্রথমটি হলো ইবাদতের তাওহীদ … যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এর মাধ্যমেই শাহাদাহ (সাক্ষ্য প্রদান) সাব্যস্ত হয়।

এগুলোর প্রথমটি: ইবাদতের ক্ষেত্রে তাওহীদ: আর তা হলো তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ। ‘উলুহিয়্যাহ’ শব্দটি আলাহা-ইয়াহলাহু-ইলাহাতান-ওয়া-উলুহাতান থেকে উদ্ভূত: যখন ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে কারো ইবাদত করা হয়। বলা হয়: ‘তাআল্লাহা’ যখন তাকে সম্মান ও ভালোবাসার সাথে ইবাদত করা হয়। সুতরাং ইবাদত ও উলুহিয়্যাহর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; কেননা উলুহিয়্যাহ এমন ইবাদত যাতে ভালোবাসা, সম্মান, বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্টি, আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং ভীতি বিদ্যমান থাকে। সুতরাং আলাহা-ইয়াহলাহু এর মাসদার হলো উলুহাহ ও ইলাহাহ। এ কারণেই একে তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহ এবং তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ—উভয়ই বলা হয়, যা আলাহা-ইয়াহলাহু এর দুটি মাসদার। আরবি ভাষায় ‘আলাহা’ শব্দের অর্থ হলো:
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
عبد مع المحبة، والتعظيم. والتأَلُّه: العبادة على ذاك النحو، فتوحيد الإلاهية، أو توحيد الألوهية: هو توحيد العبادة، يعني: جَعْل العبادة لواحد، وهو الله جل جلاله. والعبادة التي يفعلها العبد أنواع، والله - جل وعلا - هو المستحق للألوهة وللعبادة، فهو ذو الألوهة، وهو ذو العبادة على خلقه أجمعين.

و"توحيد الألوهية ": هو أيضا توحيد الله بأفعال العبد المتنوعة، التي يوقعها على جهة التقرب، فإذا توجه بها لواحد وهو الله- جل وعلا- كان موحدا إياه توحيد الإلاهية، وإذا توجه العبد بها لله ولغيره كان مشركا في هذه العبادة. وبدأ به الناظم لأنه أهم الأنواع الثلاثة ولذا قال: وهو أهمها: فحاجة الناس إلى بيان هذا النوع من التوحيد عظيمة ويجهله كثير من الناس فيقعون في الشرك وهم يحسبون أنهم يحسنون صنعا. وأما توحيد الربوبية فلم يعارض فيه المشركون الذين بعث فيهم الرسول صلى الله عليه وسلم بل كانوا مقرين به، قال تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ} [الزخرف: 9] فهم يقرون بأن الله هو الذي يدبر الأمر، وهو الذي بيده ملكوت السماوات والأرض. ولم ينكره أحد معلوم من بني آدم، إلا ما حصل من فرعون؛ فإنه أنكره مكابرة، {فَقَالَ أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى} [النازعات: 24]، {وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَاأَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرِي} [القصص: من الآية 38]. وهذا مكابرة منه لأنه يعلم أن الرب غيره، كما قال تعالى: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا} [النمل: 14] وقال تعالى حكاية عن موسى وهو يناظره: {لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ} [الاسراء: 102] فهو في نفسه مقر بأن الرب هو الله- عز وجل.
ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের সাথে ইবাদত করা। আর 'তাআল্লুহ' হলো সেই পদ্ধতিতে ইবাদত করা। সুতরাং তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহ বা তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ হলো ইবাদতের তাওহীদ; অর্থাৎ ইবাদতকে একজনের জন্য নির্দিষ্ট করা, আর তিনি হলেন আল্লাহ জাল্লা জালালুহু। বান্দা যে ইবাদতগুলো করে তা বিভিন্ন প্রকারের হয় এবং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা উলুহিয়্যাত ও ইবাদতের একমাত্র হকদার। সুতরাং তিনিই উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার অধিকারী এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টির উপর তিনিই ইবাদত পাওয়ার অধিকারী।

আর "তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ" হলো বান্দার সেই সকল বিবিধ কার্যাবলীর মাধ্যমে আল্লাহকে এক বলে স্বীকার করা, যা সে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সম্পাদন করে। অতএব, যখন সে এই কাজগুলো একমাত্র আল্লাহর (যিনি জাল্লা ওয়া আলা) অভিমুখে করে, তখন সে ইলাহিয়্যাতের তাওহীদ অনুযায়ী তাঁকে একত্ববাদী হিসেবে গণ্য করে। আর যদি বান্দা তা আল্লাহ এবং অন্য কারো উদ্দেশ্যে করে, তবে সে এই ইবাদতে মুশরিক বলে গণ্য হয়। কাব্য রচয়িতা এটি দিয়ে শুরু করেছেন কারণ এটি তাওহীদের তিন প্রকারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাই তিনি বলেছেন: "আর এটিই তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ"। এই প্রকার তাওহীদের বর্ণনার প্রতি মানুষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম, অথচ অনেক মানুষই এ সম্পর্কে অজ্ঞ, যার ফলে তারা শিরকের মধ্যে লিপ্ত হয় অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎ কাজ করছে। আর তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ সম্পর্কে সেই মুশরিকরা বিরোধিতা করেনি যাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হয়েছিলেন, বরং তারা তা স্বীকার করত। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন যে, কে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ।" [সূরা যুখরুফ: ৯]। অতএব তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহই সকল বিষয় পরিচালনা করেন এবং তাঁরই হাতে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব। আদম সন্তানদের মধ্যে পরিচিত কেউ এটি অস্বীকার করেনি, কেবল ফেরাউনের ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল তা ছাড়া; কারণ সে হঠকারিতাবশত তা অস্বীকার করেছিল। সে বলেছিল: "আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ রব" [সূরা নাযিআত: ২৪]। ফেরাউন আরও বলেছিল: "হে পারিষদবর্গ, আমি তো তোমাদের জন্য আমি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ আছে বলে জানি না" [সূরা কাসাস: ৩৮]। এটি ছিল তার পক্ষ থেকে হঠকারিতা, কারণ সে জানত যে রব তিনি ছাড়া অন্য কেউ। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "অন্যায় ও অহংকারবশত তারা এগুলোকে অস্বীকার করেছিল, যদিও তাদের অন্তর এগুলোকে ধ্রুব সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল" [সূরা নামল: ১৪]। মহান আল্লাহ মূসার কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন যখন তিনি তার সাথে বিতর্ক করছিলেন: "তুমি অবশ্যই জানো যে, এই নিদর্শনগুলো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর রব ছাড়া আর কেউ অবতীর্ণ করেননি চাক্ষুষ প্রমাণ হিসেবে" [সূরা ইসরা: ১০২]। সুতরাং সে নিজের মনে মনে স্বীকার করত যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাই হলেন প্রকৃত রব।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقول الناظم: به الشهادة: أي شهادة "ألا إله إلا الله" وهي كلمة التوحيد ومعناها متضمن لتوحيد الألوهية فمعناها الصحيح "لَا مَعْبُودَ بِحَقٍّ إِلَّا اللَّهُ عز وجل"، وَالتَّقْيِيدُ بِـ"حَقٍّ" يُخْرِجُ بِهِ الْآلِهَةَ الْمَعْبُودَةَ بِبَاطِلٍ. كما قال تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ} [الحج: 62]

14 - وَرُكْنُهَا النَّفْيُ مَعَ الإِثْبَاتِ … فَاعْلَمْ هَدَاكَ اللَّهُ لِلثَّبَاتِ

وركنها أي ركن شهادة " ألا إله إلا الله" ولها ركنان هما:

النفي مع الإثبات: وبيانه: أن: "لَا إِلَهَ" نَافِي جَمِيع مَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَلَا يَسْتَحِقُّ أَنْ يُعْبَدَ، و "إِلَّا اللَّهُ" إِثْبَات الْعِبَادَةِ لِلَّهِ فَهُوَ الْإِلَهُ الْحَقُّ الْمُسْتَحِقُّ لِلْعِبَادَةِ فلا شريك له في عبادته، كما أنه لا شريك له في ملكه.

15 - وَحَقُّهَا الْوَلاءُ وَالْبَرَاءُ … وَالْكُفْرُ بِالطَّاغُوتِ يَا أَبْنَاءُ

وحقها: "الحق" هو الشيء الثابت اللازم. والمراد: تفسيرها اللازم الثابت لها وهو:

الولاء والبراء: فالولاء: أن يحب التوحيد ويوالي الموحدين ويحبهم كما في الصحيحين عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الإِيمَانِ: مَنْ كَانَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا، وَمَنْ أَحَبَّ عَبْدًا لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ عز وجل، وَمَنْ يَكْرَهُ أَنْ يَعُودَ فِي الكُفْرِ، بَعْدَ إِذْ أَنْقَذَهُ اللَّهُ، مِنْهُ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُلْقَى فِي النَّارِ ". قال ابن رجب: فلا يكملُ التوحيدُ الواجبُ إلا بمحبةِ ما يحبُّه اللَّه وبغضِ ما يبغضه اللَّهُ، وكذلك لا يتمُّ الإيمانُ الواجبُ إلا بذلك. ومن هنا يُعلمُ أنَّ الإخلال ببعضِ الواجباتِ وارتكابِ بعضِ المحرَّماتِ ينقصُ به الإيمانُ الواجبُ بحسبِ ذلك ا. هـ
কবির উক্তি: এর মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদান: অর্থাৎ 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' এর সাক্ষ্য। আর এটি হলো তাওহিদের বাণী এবং এর অর্থ উলুহিয়্যাহর তাওহিদকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং এর সঠিক অর্থ হলো "মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই", আর "সত্য" শব্দটির সীমাবদ্ধকরণের মাধ্যমে বাতিল উপাস্যদের বাদ দেওয়া হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {তা এ কারণে যে, আল্লাহই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা বাতিল} [হজ্জ: ৬২]

১৪ - এর রুকন হলো অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতির সমন্বয়... সুতরাং জেনে রেখো, আল্লাহ তোমাকে হকের ওপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন।

এর রুকন অর্থাৎ "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই" এই সাক্ষ্যের রুকন। এর দুটি রুকন রয়েছে, আর তা হলো:

অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতির সমন্বয়: এর ব্যাখ্যা হলো: "কোনো উপাস্য নেই" আল্লাহ ব্যতীত যা কিছুর ইবাদত করা হয় তার সবকিছুকে অস্বীকার করে, কারণ তারা ইবাদতের যোগ্য নয়। আর "আল্লাহ ছাড়া" আল্লাহর জন্য ইবাদতকে সাব্যস্ত করে। কারণ তিনিই হলেন সত্য উপাস্য, যিনি ইবাদতের প্রকৃত হকদার। তাঁর ইবাদতে কোনো শরিক নেই, যেমনভাবে তাঁর রাজত্বে কোনো শরিক নেই।

১৫ - এর হক হলো বন্ধুত্ব ও শত্রুতা... এবং তাগুতকে অস্বীকার করা, হে প্রিয় বৎসগণ!

এর হক: "হক" বলতে সুনিশ্চিত ও আবশ্যকীয় বিষয়কে বুঝায়। এখানে উদ্দেশ্য হলো: এর জন্য আবশ্যকীয় ও সুনিশ্চিত ব্যাখ্যা, আর তা হলো:

বন্ধুত্ব ও শত্রুতা: বন্ধুত্ব (আল-ওয়ালা) হলো: তাওহিদকে ভালোবাসা এবং একত্ববাদীদের বন্ধু বানানো ও তাদের ভালোবাসা। যেমন সহীহাইনে (বুখারি ও মুসলিম) আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের স্বাদ পাবে: যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সবকিছু থেকে অধিক প্রিয় হবেন, যে কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালোবাসবে, আর আল্লাহ কুফর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে তেমনি অপছন্দ করবে যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।" ইবনে রজব বলেন: আল্লাহ যা ভালোবাসেন তা ভালোবাসা এবং আল্লাহ যা ঘৃণা করেন তা ঘৃণা করা ব্যতীত ওয়াজিব তাওহিদ পূর্ণ হয় না। অনুরূপভাবে ওয়াজিব ঈমানও তা ব্যতীত সম্পন্ন হয় না। আর এখান থেকেই জানা যায় যে, কোনো ওয়াজিব কাজে ত্রুটি করা এবং কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার ফলে সেই অনুযায়ী ওয়াজিব ঈমান হ্রাস পায়। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) রাসমুল বিদাফ ফী ইদাহি তুহফাতিল আওলাদ ফী তাওহীদি রব্বিল ইবাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
والبراء: يعني أن التوحيد يتضمن البراءة من الشرك، بحيث لا يدعو مع الله أحدا، لا ملَكا مقربا، ولا نبيا مرسلا، وهؤلاء الذين يدعون الأنبياء والملائكة لم يتبرءوا من الشرك، بل هم واقعون فيه. ودليل ذلك قول الله تعالى: {وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ (26) إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينِ} [الزخرف: 26 - 27]

فهذه الجملة فيها البراءة، وفيها الإثبات، فالبراءة: مما يعبدون، قال بعض أهل العلم: تبرأ من العبادة ومن المعبودين قبل أن يتبرأ من العابدين؛ لأنه إذا تبرأ من أولئك: فقد بلغ به الكراهة، والبغضاء، والكفر بتلك العبادة مبلغها الأعظم، وقد جاء تفصيل ذلك في آية الممتحنة في قوله تعالى: {قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ} [الممتحنة: 4] وقوله: {إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ (26) إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي} اشتملت على نفي وإثبات، فهي مساوية لكلمة التوحيد بل هي التوحيد، ففي هذه الآية تفسير شهادة أن لا إله إلا الله؛ ولهذا قال - جل وعلا - بعدها: {وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [الزخرف: 28] فما هذه الكلمة؟ قال قتادة: {وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ} شهادة (أن لا إله إلا الله)، والتوحيد لا يزال في ذرية من يقولها من بعده: {لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} قال: يتوبون أو يذكرون. فقوله - جلا وعلا -: {إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ} فيه النفي الذي نعلمه من قوله (لا إله)، وقوله {إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي} فيه الإثبات الذي نفهمه من قولنا (إلا الله). ففي آية سورة الزخرف هذه: أن إبراهيم عليهم السلام شرح لهم معنى كلمة التوحيد بقوله: {إِنَّنِي بَرَاءٌ مِمَّا تَعْبُدُونَ (26) إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي} والبراءة هي: الكفر، والبغضاء، والمعاداة. وتبرَّأ من عبادة غير الله. فهذه البراءة لا بد منها، ولا يصح إسلام أحد حتى تقوم هذه البراءة في قلبه؛ لأنه
আর বারাআহ (সম্পর্কচ্ছেদ): এর অর্থ হলো তাওহীদ শিরক থেকে সম্পর্কচ্ছেদের দাবি রাখে, যাতে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকেই আহ্বান না করা হয়—হোক সে নৈকট্যপ্রাপ্ত কোনো ফেরেশতা বা প্রেরিত কোনো নবী। আর যারা নবী ও ফেরেশতাদের আহ্বান করে, তারা শিরক থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করেনি, বরং তারা শিরকের মধ্যেই নিপতিত। এর দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "স্মরণ করো যখন ইবরাহীম তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমরা যাদের ইবাদত করো তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তাঁর সাথে আমার সম্পর্ক আছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর নিশ্চয়ই তিনি আমাকে হেদায়েত দান করবেন।" [যুখরুফ: ২৬-২৭]

এই বাক্যটিতে সম্পর্কচ্ছেদ (বারাআহ) এবং স্বীকৃতি (ইসবাত) উভয়ই রয়েছে। সম্পর্কচ্ছেদ হলো: তারা যার ইবাদত করে তা থেকে। কোনো কোনো আলেম বলেছেন: ইবরাহীম (আ.) ইবাদতকারীদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদের আগে ইবাদত এবং উপাস্যদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন; কারণ যখন তিনি সেগুলোর থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন, তখন সেই ইবাদতের প্রতি চরম ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং কুফরি বা অস্বীকৃতি তার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। আর সূরা মুমতাহিনার আয়াতে মহান আল্লাহর এই বাণীতে এর বিস্তারিত বিবরণ এসেছে: "তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার সাথীদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে; যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করো তাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের অস্বীকার করলাম এবং আমাদের ও তোমাদের মাঝে চিরস্থায়ী শত্রুতা ও বিদ্বেষ সূচিত হলো, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো।" [মুমতাহিনা: ৪]। আর তাঁর বাণী: "তোমরা যাদের ইবাদত করো তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, তবে তাঁর সাথে আছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন" এর মধ্যে নাফি (অস্বীকৃতি) এবং ইসবাত (স্বীকৃতি) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি তাওহীদের বাণীর সমতুল্য, বরং এটিই তাওহীদ। সুতরাং এই আয়াতে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্যের ব্যাখ্যা রয়েছে। একারণেই মহান আল্লাহ এরপর বলেছেন: "আর তিনি এটিকে তার উত্তরসূরিদের মাঝে এক শাশ্বত বাণী হিসেবে রেখে গেছেন, যাতে তারা ফিরে আসে।" [যুখরুফ: ২৮]। এই বাণীটি কী? কাতাদাহ বলেন: "আর তিনি এটিকে তার উত্তরসূরিদের মাঝে এক শাশ্বত বাণী হিসেবে রেখে গেছেন"—এর অর্থ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর সাক্ষ্য প্রদান। আর তাওহীদ তার পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে থাকবে যারা এটি বলবে। "যাতে তারা ফিরে আসে"—অর্থাৎ তারা যেন তওবা করে বা স্মরণ করে। মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমরা যার ইবাদত করো তা থেকে আমি সম্পর্কহীন"—এর মধ্যে সেই অস্বীকৃতি (নাফি) রয়েছে যা আমরা 'লা ইলাহা' (নেই কোনো ইলাহ) থেকে জানতে পারি। আর তাঁর বাণী "তবে তিনি ব্যতীত যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন"—এর মধ্যে সেই স্বীকৃতি (ইসবাত) রয়েছে যা আমরা 'ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া) থেকে বুঝতে পারি। সুতরাং সূরা যুখরুফের এই আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তাদের কাছে তাওহীদের বাণীর অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন: "তোমরা যাদের ইবাদত করো তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, তবে তাঁর সাথে আছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন।" আর বারাআহ বা সম্পর্কচ্ছেদ হলো: কুফরি (অস্বীকার), বিদ্বেষ এবং শত্রুতা। তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। সুতরাং এই বারাআহ বা সম্পর্কচ্ছেদ অপরিহার্য, আর কারো অন্তরে এই বারাআহ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তার ইসলাম সঠিক হবে না; কারণ সে...