(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: -)
رحلة السيرافى القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: رحلة السيرافي
المؤلف: أبو زيد حسن بن يزيد السيرافي (ت بعد 330هـ)
الناشر: المجمع الثقافي، أبو ظبي
عام النشر: 1999 م
عدد الصفحات: 139
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সিরাফির সফরনামা বিভাগ: দেশ ও সফরনামা
বই: আস-সিরাফির সফরনামা
লেখক: আবু যাইদ হাসান বিন ইয়াজিদ আস-সিরাফি (মৃত্যু ৩৩০ হিজরির পর)
প্রকাশক: আল-মাজমাউস সাকাফি (সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন), আবুধাবি
প্রকাশকাল: ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৯
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণকপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: -)
سليمان السيرافي
كان تاجراً إيرانياً من أهالي ميناء السيراف المطل على الخليج الفارسي فسافر إلى الصين ودوّن ذكريات رحلته هذه في كتاب ألفه باللغة العربية وقد تلقفها عنه ورواها وهذّبها أبو زيد حسن بن يزيد السيرافي ونحن لا نعرف شيئاً عن حياته أو عن تاريخ ولادته ووفاته، سوى أنه كان يعيش في النصف الأول من القرن الرابع. قضى أبو زيد فترة الطفولة والمراهقة في مسقط رأسه سيراف، ثم هاجر عام 330 هـ إلى البصرة وأقام فيها. وهو لم يكن في الحقيقة رحالة ولا عالماً بل كان على ما يظهر من المغرمين بأمثال هذه القصص التي كان من السهل جمع روايات كثيرة منها سواء في مسقط رأسه سيراف أو في البصرة.
وكان خير مثال للتجار العرب والفرس الذين توجهوا إلى الصين، وقد محّص ما ورد عنه وتابع خطواته على ضوء الخرائط الحديثة المستشرق الفرنسي فيرن فوجدها من حيث الدقة والأمانة العلمية بمكانة سامية.
সুলাইমান আস-সিরাফী
তিনি ছিলেন পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত সিরাফ বন্দরের অধিবাসী একজন ইরানি বণিক। তিনি চীন সফর করেন এবং তাঁর এই সফরের স্মৃতিগুলো আরবি ভাষায় রচিত একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন। আবু যায়েদ হাসান ইবনে ইয়াযিদ আস-সিরাফী তাঁর থেকে এগুলো গ্রহণ করেন এবং তা বর্ণনা ও পরিমার্জন করেন। আমরা তাঁর জীবন কিংবা তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে কিছুই জানি না; কেবল এতটুকু জানা যায় যে, তিনি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর প্রথমার্ধে জীবিত ছিলেন। আবু যায়েদ তাঁর শৈশব ও কৈশোর নিজ জন্মভূমি সিরাফে অতিবাহিত করেন, অতঃপর ৩৩০ হিজরি সনে তিনি বসরার অভিমুখে হিজরত করেন এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো পর্যটক বা আলিম ছিলেন না, বরং প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এই জাতীয় কাহিনীর অনুরাগী ছিলেন, যার বহু বর্ণনা সংগ্রহ করা তাঁর জন্মভূমি সিরাফ কিংবা বসরা—উভয় স্থানেই সহজ ছিল।
তিনি চীন অভিমুখে যাত্রা করা আরব ও পারসিক বণিকদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন। ফরাসি প্রাচ্যবিদ 'ফেরান' আধুনিক মানচিত্রের আলোকে তাঁর বর্ণিত তথ্যাদি যাচাই করেছেন এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন; তিনি সূক্ষ্মতা ও বৈজ্ঞানিক সততার বিচারে এগুলোকে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বলে দেখতে পেয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمه
فيما يتعلق بالتجارة عن طريق البحر وقصص الأسفار للبحارة العرب والفرس مع بلاد الهند وارخبيل الملايو والصين، فإن أولئك التجار العرب قد ساروا على التقاليد القديمه لمنطقة جنوبي العراق وسواحل الخليج العربي منذ العصر الساساني.
ويقال انه عند ما استولى العرب على ميناء (الأبله) قرب البصرة في خلافة عمر بن الخطاب وجد بها المسلمون سفنا صينية، وقد كان الفرس حتى عصر السيادة العربية هم أكثر الناس جسارة على ركوب البحر، وكان من الواضح منذ عهد طويل ان المستعمرة العربية الفارسية بمينا كانتون بالصّين، كانت قد بلغت حدا من القوة أصبحت معها في سنة 758 م تضع يدها على المدينة وتتحكم فيها ثم تنهبها وتغادر البلاد عن طريق البحر.
وفي أواخر القرن التاسع عشر الميلادي حالف الحظ بعض المستشرقين بأن عثر على شواهد قبور تثبت زيارة بعض العرب للصين في ذلك العهد القديم وذلك في مقبرة تثبت زيارة بعض العرب للصين في ذلك العهد القديم وذلك في مقبرة تثبت وجود جماعة من أهل عمان والخليج العربي. وعزز هذا الإثبات مصدر تاريخي آخر هو كتاب لأبي سفيان محبوب العبدي المتوفي في النصف الأول من القرن التاسع الميلادي حيث جاء فيه أن أحد شيوخ الإباضية وهو أبو عبيدة عبد الله بن القاسم من أهل عمان، وكان
ভূমিকা
সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং ভারত, মালয় দ্বীপপুঞ্জ ও চীনের সাথে আরব ও পারস্যের নাবিকদের ভ্রমণ কাহিনীর প্রসঙ্গে বলা যায় যে, সেই আরব বণিকগণ সাসানীয় যুগ থেকেই দক্ষিণ ইরাক অঞ্চল এবং আরব উপসাগরীয় উপকূলের প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসরণ করে আসছিলেন।
বলা হয়ে থাকে যে, যখন উমর ইবনুল খাত্তাবের খিলাফতকালে আরবরা বসরার নিকটবর্তী (আল-উবুল্লাহ) বন্দরটি দখল করে, তখন সেখানে মুসলমানরা চীনা জাহাজের সন্ধান পেয়েছিল। আরব সার্বভৌমত্বের যুগ পর্যন্ত পারস্যরাই সমুদ্রযাত্রায় সবচেয়ে সাহসী ছিল। দীর্ঘকাল থেকেই এটি স্পষ্ট ছিল যে, চীনের ক্যান্টন বন্দরে আরব-পারস্য উপনিবেশটি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে, ৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে তারা শহরটি নিজেদের হস্তগত করে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করে, এরপর সেটি লুণ্ঠন করে সমুদ্রপথে দেশ ত্যাগ করে।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে কিছু প্রাচ্যবিদ ভাগ্যের সহায়তায় এমন কিছু কবরের ফলক খুঁজে পান যা সেই প্রাচীন যুগে চীনে কিছু আরবের আগমনের প্রমাণ দেয়। এটি এমন একটি কবরস্থান যা ওমান ও আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের একদল মানুষের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। এই প্রমাণটি আরেকটি ঐতিহাসিক উৎসের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়, যা হলো নবম শতাব্দীর প্রথমার্ধে মৃত্যুবরণকারী আবু সুফিয়ান মাহবুব আল-আবদির একটি গ্রন্থ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইবাদি শাইখদের একজন, ওমানের অধিবাসী আবু উবাইদাহ আবদুল্লাহ বিন আল-কাসিম ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৪)
عالما كبيرا في عصره وتاجرا معروفا اشتغل بتجارة المر، وكان قد سافر بتجارة من الصبر والمر الى الصين، يقول المستشرق كراتشكوفسكى: ولكن تاريخ تلك الرحلة غير معروف لنا ولو انه لإعتبارات عديدة يمكن القول بأنها حدثت دون شك قبل نهب كانتون السابق الذكر عام 758 م.
أما التاجر العماني الآخر فهو النّضر بن ميمون الذي عاش بالبصرة على ما يظهر في حدود القرنين الثامن والتاسع الميلاديين، ومن هناك سافر الى الصين، ولكن لا نملك تفاصيل دقيقة عن رحلته تلك.
وعلى كل حال فإنه يمكن اعتبار أولئك التجار العمانيين بما فيهم أهل الإمارات بمثابة ممهدين لتجار آخرين كبار، أمثال صاحب رحلتنا هذه التي بين يديك، وهو التاجر سليمان ورفيقه ابن وهب اللذان تلقى رحلتهما مؤرخ جغرافي هو أبو زيد السيرافي، ونقلها عنهما ومحّص روايتهما وهي هذه التي ننشرها الآن ضمن مطبوعات المجمع الثقافي. تحمل اسم المذكور.
ونعود الى ما كنا بصدده فنرى أن الرحالة العرب قد كونوا عن بلدان الشرق الأقصى وغيرها مادة مقتضبة منذ عهود مبكرة تعود الى القرن التاسع الميلادي معتمدين في ذلك على ما يتناقله الرحالة المغامرون، وهم شخصيات في الغالب عربية بحته ساهمت في بعض الأسفار التجارية، ويذكر لنا ابن رسته في كتابه «الاعلاق النفيسة» حقائق عن الهند هامة يرويها عن شخص غير معروف عند المؤرخين، هو أبو عبد الله محمد بن اسحاق، وهو غير ابن اسحاق صاحب السيرة والمغازي المعروف، وكان هذا
তিনি তাঁর সময়ের একজন বড় আলেম এবং একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি সুগন্ধি আঠার (মুর) ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন এবং তিনি সিবর (অ্যালো) ও মুর-এর ব্যবসা নিয়ে চীনে সফর করেছিলেন। প্রাচ্যবিদ ক্রাচকভস্কি বলেন: তবে সেই সফরের ইতিহাস আমাদের কাছে অজানা, যদিও বিভিন্ন বিবেচনার ভিত্তিতে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এটি ৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে পূর্বোল্লিখিত ক্যান্টন লুণ্ঠনের আগেই সংঘটিত হয়েছিল।
অন্য ওমানি ব্যবসায়ী হলেন নজর বিন মায়মুন, যিনি স্পষ্টতই অষ্টম ও নবম খ্রিস্টীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বসরায় বসবাস করতেন এবং সেখান থেকে তিনি চীনে সফর করেছিলেন, কিন্তু তাঁর সেই সফর সম্পর্কে আমাদের কাছে সঠিক কোনো বিবরণ নেই।
যাই হোক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধিবাসীসহ সেই ওমানি ব্যবসায়ীদের অন্যান্য বড় ব্যবসায়ীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, যেমন আপনার সামনে থাকা এই ভ্রমণবৃত্তান্তের লেখক সুলাইমান সওদাগর এবং তাঁর সঙ্গী ইবনে ওয়াহাব। তাঁদের সফরের বিবরণ একজন ভৌগোলিক ইতিহাসবিদ আবু জায়েদ আল-সিরাফি গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে তা বর্ণনা করেছেন ও তাঁদের বর্ণনা যাচাই-বাছাই করেছেন। এটিই সেই বর্ণনা যা আমরা এখন কালচারাল ফাউন্ডেশনের প্রকাশনার অন্তর্ভুক্ত করে প্রকাশ করছি, যা উল্লিখিত ব্যক্তির নাম বহন করছে।
আমরা আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে আসি এবং দেখতে পাই যে, আরব পর্যটকরা দূরপ্রাচ্য এবং অন্যান্য দেশ সম্পর্কে নবম খ্রিস্টীয় শতাব্দী থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক যুগেই কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। এক্ষেত্রে তাঁরা দুঃসাহসী পর্যটকদের মুখে মুখে প্রচলিত বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছিলেন, যারা ছিলেন মূলত খাঁটি আরব ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সফরে অংশ নিয়েছিলেন। ইবনে রুস্তাহ তাঁর «আল-আ’লাক আন-নাফিসাহ» গ্রন্থে ভারত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করেছেন যা তিনি ঐতিহাসিকদের কাছে অপরিচিত একজন ব্যক্তির সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন, তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক। তিনি সুপরিচিত সীরাত ও মাগাযী গ্রন্থকার ইবনে ইসহাক নন। আর এই ব্যক্তি ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৫)
الرجل قد أمضى قرابة عامين في جزيرة قمارى (أي خمير، وهو الاسم القديم لكمبوديا) وكان ذلك على أغلب الظن في أوائل القرن التاسع.
ويرى أكثر الباحثين الأوربيين من المستشرقين في الجغرافيا أن هذا الرجل يكاد يكون هو المصدر الوحيد لكل من ابن رسته وابن خرداذبة، وهو الذي ينقل عنه ياقوت فقرات معينة في بعض مواد كتابه.
هذا فيما يتعلق بالطريق البحري من قبل الرحالة العرب من التجار، أما اذا رجعنا الى رحلاتهم البرية في العهود المبكرة فسنجدها تتمثل في روايات استقاها الجغرافيون العرب من أفواه رحالة عرب آخرين مرّوا بالطريق البري الذي يخترق آسيا الوسطى الى الصين، وذلك نجده في الوصف الذي يقدمه تميم بن بحر المطوعي. وكما يظهر من لقبه فالرجل لم يكن من فئة التجار المعروفين، وأغلب الظن انه عاش حياة الجهاد والمرابطه في الثغور الإسلامية، التي تمتد مساحتها على سائر تخوم الخلافة الإسلامية، وكان المذكور قد توجه الى خاقان الترك (التغزغز) بمهمة دبلوماسية كما يظهر، ويرى بارتولد انها تعود الى الفترة ما بين 760 م- 800 م وأورد ياقوت في كتابه (معجم البلدان) أهم قطعة من هذه الرحلة عرفنا بواسطتها الاستدلال على شخصية صاحب الرحلة.
وبهذا فإن تميم بن بحر المطوعي، يكون أول جغرافي عربي يذكر لنا وصف الطريق البري الى الصين، ويمكن أن نجد أثر تميم المذكور في النصوص التي أوردها عنه جغرافيون كبار ورحالة
লোকটি কুমারি দ্বীপে (অর্থাৎ খেমার, যা কম্বোডিয়ার প্রাচীন নাম) প্রায় দুই বছর অতিবাহিত করেছিলেন এবং এটি সম্ভবত নবম শতাব্দীর শুরুর দিকের ঘটনা।
ভূগোল শাস্ত্রের প্রাচ্যবিদদের মধ্যে অধিকাংশ ইউরোপীয় গবেষক মনে করেন যে, এই ব্যক্তিই ইবনে রুস্তাহ এবং ইবনে খুরদাদবিহ উভয়ের জন্য প্রায় একমাত্র উৎস ছিলেন; আর ইয়াকুত তাঁর গ্রন্থের কিছু নির্দিষ্ট ভুক্তিতে তাঁর কাছ থেকেই অনুচ্ছেদগুলো উদ্ধৃত করেছেন।
এটি ছিল বণিক শ্রেণির আরব পরিব্রাজকদের সামুদ্রিক পথ সংক্রান্ত বিবরণ। তবে আমরা যদি প্রাথমিক যুগে তাঁদের স্থলপথের ভ্রমণের দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখব যে সেগুলো মূলত এমন কিছু বর্ণনা যা আরব ভূগোলবিদরা অন্যান্য আরব পরিব্রাজকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন, যারা মধ্য এশিয়া হয়ে চীনের স্থলপথে যাতায়াত করেছিলেন। তামিমি ইবনে বাহর আল-মুতাওয়ায়ি যে বর্ণনা প্রদান করেছেন তাতে আমরা এটি দেখতে পাই। তাঁর উপাধি থেকে যেমনটি প্রতীয়মান হয়, তিনি সুপরিচিত বণিক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না; বরং প্রবল ধারণা এই যে, তিনি ইসলামী খিলাফতের সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত ইসলামী সীমান্ত ফাঁড়িগুলোতে জিহাদ ও সীমান্ত রক্ষায় (রিবাত) জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। উল্লিখিত ব্যক্তিটি একটি কূটনৈতিক মিশনে তুর্কিদের (তুগুযগুয) খাকানের নিকট গিয়েছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। বার্থোল্ডের মতে, এটি ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ের ঘটনা। ইয়াকুত তাঁর 'মুজামুল বুলদান' গ্রন্থে এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি উল্লেখ করেছেন, যার মাধ্যমে আমরা এই ভ্রমণবৃত্তান্তের লেখকের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারি।
এভাবেই তামিমি ইবনে বাহর আল-মুতাওয়ায়ি হলেন প্রথম আরব ভূগোলবিদ যিনি আমাদের কাছে চীনের স্থলপথের বর্ণনা তুলে ধরেন। বড় বড় ভূগোলবিদ ও পরিব্রাজকদের উদ্ধৃত বিভিন্ন পাঠ্যে আমরা উল্লিখিত তামিমের প্রভাব খুঁজে পাই।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৬)
معروفون، أمثال أبي دلف، وقدامه، وأيضا عند الإدريسي صاحب أشهر كتاب في الجغرافيا، وهو كتاب (نزهة المشتاق في اختراق الآفاق) بل وعند ابن خرداذبه، وياقوت كما أسلفنا، وتميم هو أول عربي يعطينا معلومات هامة عن التغزغز تعتمد في الأساس على معلومات شخصية مباشرة شاهدها بنفسه، فهو يصف لنا عاصمة التغزغز (قامجو) قرب (طرفان) ويذكر معلومات عن حجر المطر عند الترك الى غير ذلك.
سليمان التاجرنرجع الى صاحب رحلتنا هذه التاجر سليمان التي تلقفها عنه ورواها وهذّبها أبو زيد السيرافي، فالمذكور هو من قدامى الرحالة الذين عرفوا برحلاتهم الغريبه ورواياتهم الطريفة عن البلدان التي زاروها، ونحن لا نعرف شيئا عن حياته، سوى ما وصل إلينا من الرواية التي ذكرها عن رحلته، وهي ترجع في الغالب الى حوالي سنة 237 هـ، وقد سافر مرارا بغرض التجارة الى الهند والصين، وقد محّص ما ورد عنه وتابع خطواته على ضوء الخرائط الحديثة المستشرق الفرنسي فيرن فوجدها من حيث الدقة والأمانة العلمية بمكانة تذكر له، يقول: وهو خير مثال للتجار العرب والفرس الذين توجهوا الى الصين. وقد أبحر من (سيراف) الى (مسقط) على الخليج العربي، ومن هناك الى (كلم) على ساحل مليبار، ثم مر بمضيق (بالك) شمالي جزيرة (سيلان) ثم عبر خليج البنغال فوصل جزيرة (لنجبالوس) (احدى جزر نيكوبار) ثم تقدم الى (كله بره) على ساحل الملايو الغربي، ومر هناك الى جزيرة (تيومن) الواقعة الى الجنوب الغربي من (ملقا) ومنها الى راس
তারা সুপরিচিত, যেমন আবু দুলাফ, কুদামা এবং ভৌগোলিক শাস্ত্রের সবচেয়ে বিখ্যাত কিতাব 'নুযহাতুল মুশতাক ফি ইখতিরাকিল আফাক'-এর রচয়িতা আল-ইদরিসি। এমনকি ইবনে খুরদাদবিহ এবং ইয়াকুত আল-হামাভির নিকটও এমনটি পাওয়া যায় যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। তামীম হলেন প্রথম আরব যিনি তুগুযগুয সম্পর্কে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন, যা মূলত তার নিজস্ব প্রত্যক্ষ ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে। তিনি আমাদের নিকট (তুরফান)-এর নিকটবর্তী তুগুযগুযের রাজধানী (কামজু)-এর বর্ণনা দেন এবং তুর্কিদের নিকট বিদ্যমান 'বৃষ্টির পাথর' সম্পর্কিত তথ্যসহ আরও অনেক কিছু উল্লেখ করেন।
বণিক সুলাইমানআমরা এখন আমাদের এই ভ্রমণবৃত্তান্তের রচয়িতা বণিক সুলাইমানের প্রসঙ্গে ফিরে আসি, যার বর্ণনা আবু যায়েদ আস-সিরাফি তার নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন, বর্ণনা করেছেন এবং পরিমার্জন করেছেন। উল্লিখিত ব্যক্তি সেই প্রাচীন ভ্রমণকারীদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের অদ্ভুত সফর এবং তাদের ভ্রমণকৃত দেশগুলো সম্পর্কে চমৎকার বর্ণনার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। আমরা তার জীবন সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না, কেবল তার ভ্রমণ সম্পর্কিত সেই বর্ণনাটুকুই আমাদের কাছে পৌঁছেছে যা তিনি উল্লেখ করেছেন। এটি মূলত সম্ভবত ২৩৭ হিজরি সালের সমসাময়িক। তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে বারবার ভারত ও চীনে ভ্রমণ করেছেন। ফরাসি প্রাচ্যবিদ ফেরন তার প্রদত্ত তথ্যাদি যাচাই করেছেন এবং আধুনিক মানচিত্রের আলোকে তার যাত্রাপথ অনুসরণ করেছেন; তিনি সেগুলোকে নির্ভুলতা ও বৈজ্ঞানিক বিশ্বস্ততার বিচারে বিশেষ প্রশংসনীয় অবস্থানে পেয়েছেন। তিনি বলেন: তিনি সেইসব আরব ও পারস্য বণিকদের সর্বোত্তম উদাহরণ যারা চীনের দিকে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিনি (সিরাফ) থেকে পারস্য উপসাগরের (মাস্কাট)-এ পাড়ি দেন, এবং সেখান থেকে মালাবার উপকূলের (কালাম)-এ পৌঁছান। এরপর তিনি (সিলান) দ্বীপের উত্তরে (পক) প্রণালী অতিক্রম করেন, তারপর বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে (লানজাবালুস) দ্বীপে (নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ) পৌঁছান। এরপর তিনি পশ্চিম মালয় উপকূলের (কালাহ বার)-এ অগ্রসর হন এবং সেখান থেকে (মালাক্কা)-র দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত (তিউমান) দ্বীপে যান এবং সেখান থেকে রাস...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৭)
القديس يعقوب قرب (سايجون) ومن هناك الى جزيرة (هاينان) فعبر المضيق الذي يفصلها عن أرض الصين ليصل الى مينا (خانفو) أو (كانتون) الحديثة بالصين.
وكانت الرحلة البحرية من (مسقط) الى الصين تستغرق أكثر من أربعة أشهر ولم يقتصر سليمان في وصفه على ذكر المراحل وتقدير المسافات بالأيام وأحيانا بالفراسخ، بل ترك أيضا وصفا حيّا للسواحل والجزر والمواني المختلفة والمدن وسكانها والمحاصيل والمنتجات وسلع التجارة. كما ثبت أن المعلومات التي أوردها عن (كانتون) تتميز بالتفصيل والدقة.
يقول كراتشكو في الحديث عن نسبة تلك الرحلات الى سليمان التاجر: ونظر العدم وجود معلومات عن سليمان نفسه فإن بعض كبار علماء (الصينيات) مثل (يول) و (بليو) قد تشككوا في نسبة القصص إليه. كما ظهر رأي آخر يرى أن هذه القصص لعربي زار الهند. غير أن (فيرن) لفت الأنظار الى أن ابن الفقيه ينسب القصص صراحة الى سليمان، ولهذا فإن مسألة تأليفه لها لا يحوم حولها أدنى شك.
وقد أضاف الى القصص المنسوبة الى سليمان وذلك بعد عشرين عاما من رحلة المذكور، رحالة آخر هو ابن وهب الذي يرجع نسبه الى قريش، وكان من الأعيان الأثرياء وقد غادر بلده البصرة عند ما سقطت على أيدي ثوار الزنج سنة 257 هـ، واستقر رأيه على القيام برحلة طويلة من سيراف الى الصين، وحالفه التوفيق فوصل الى عاصمة الصين، وكانت في ذلك (خمدان) ولوصفه أهمية خاصة إذ بعد ذلك عام 264 هـ يتم القضاء على
সেন্ট জেমস (সায়গন) এর নিকটবর্তী স্থান থেকে এবং সেখান থেকে হাইনান দ্বীপে, অতঃপর তিনি চীন ভূখণ্ড থেকে এটিকে পৃথককারী প্রণালীটি অতিক্রম করে চীনের খানফু বন্দর বা আধুনিক ক্যান্টনে পৌঁছান।
মাস্কাট থেকে চীন পর্যন্ত সমুদ্রযাত্রা চার মাসেরও বেশি সময় লাগত। সুলাইমান তার বর্ণনায় কেবল যাত্রার পর্যায়সমূহ এবং দূরত্ব দিনের হিসেবে এবং কখনও কখনও ফারসাখের হিসেবে উল্লেখ করেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি বিভিন্ন উপকূল, দ্বীপ, বন্দর, শহর ও তাদের অধিবাসী, ফসল, উৎপাদিত পণ্য এবং বাণিজ্যিক পণ্যের প্রাণবন্ত বর্ণনা রেখে গেছেন। এটিও প্রমাণিত হয়েছে যে, ক্যান্টন সম্পর্কে তিনি যে তথ্য প্রদান করেছেন তা বিস্তারিত ও নির্ভুলতার দিক থেকে স্বতন্ত্র।
ক্রাচ্চকোভস্কি এই ভ্রমণকাহিনীগুলোকে সুলাইমান সওদাগরের দিকে নিসবত করার বিষয়ে বলেন: খোদ সুলাইমান সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকায় ইউল এবং পেলিয়টের মতো কয়েকজন বিশিষ্ট চীনতত্ত্ববিদ এই কাহিনীগুলো তার দিকে নিসবত করার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছেন। আবার অন্য একটি মতও প্রকাশ পেয়েছে যে, এই কাহিনীগুলো এমন একজন আরবের যিনি ভারত সফর করেছিলেন। তবে ফার্ন দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, ইবনুল ফকীহ স্পষ্টভাবে এই কাহিনীগুলোকে সুলাইমানের দিকে নিসবত করেছেন, তাই এটি তার রচনা হওয়ার বিষয়ে সামান্যতম সন্দেহের অবকাশ নেই।
উল্লিখিত সুলাইমানের ভ্রমণের বিশ বছর পর ইবনে ওয়াহাব নামে আরেকজন পর্যটক এই কাহিনীগুলোর সাথে কিছু অংশ যুক্ত করেন। তিনি কুরাইশ বংশের সন্তান এবং একজন বিত্তশালী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। ২৫৭ হিজরি সনে যখন বসরা জাঞ্জ বিদ্রোহীদের হাতে চলে যায়, তখন তিনি নিজ শহর ত্যাগ করেন এবং সিরাফ থেকে চীন পর্যন্ত দীর্ঘ সফরের সিদ্ধান্ত নেন। ভাগ্য তার সুপ্রসন্ন ছিল এবং তিনি চীনের তৎকালীন রাজধানী খামদানে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তার বর্ণনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এর পরে ২৬৪ হিজরি সনে সমাপ্তি ঘটে...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৮)
المستعمرة العربية في (كانتون) نتيجة للحروب الداخلية فانقطعت بذلك الصّلات المباشرة بين العرب والصين. وأصبح آخر ميناء تصله السفن العربية (ميناكله) وكله بره بشبه جزيرة الملايو، ولم بتجدد الاتصال بالصين إلّا في النصف الثاني من القرن الثالث عشر الميلادي.
وقصص سليمان وابن وهب قد دونها في بداية القرن العاشر الميلادي أبو زيد الحسن السيرافي من أهل البصرة، وهو الذي اعطاها الشكل المعروف لنا الأن، والسيرافي المذكور لم يكن في الحقيقة رحالة ولا عالما بل كان على ما يظهر من المغرمين بأمثال هذه القصص التي كان من السهل جمع روايات كثيرة منها سواء في مسقط رأسه (سيراف) أو في (البصرة) ، وقد التقى به المسعودي عام 303 هـ، وقد استفاد منه رواية ابن وهب الواردة في رحلتنا هذه.
ومخطوطة رحلة ابي زيد السيرافي التي وصلتنا في نسخة فريدة وحيدة هي الموجودة بمكتبة باريس الأهلية، وقد أضاف إليها النّساخ مقدمة لا علاقة لها البته بمحتويات الكتاب، وزاد المشكلة تعقيدا أن المخطوطة تحمل عنوانا غير مناسب على الإطلاق، ولا يتفق مع موضوع الكتاب، هو عنوان (سلسلة التواريخ) وقد صدرت طبعة رينو سنة 1811 م تحمل هذا العنوان.
ولأهمية رحلة التّاجر سليمان فقد استوقف هذا الأثر أنظار كبار المستشرقين في القرن الثامن عشر فظهرت له منذ عام 1718 م ترجمة فرنسية، وكانت هذه الترجمة مدعاة الى اختلاسها وإضافة أشياء من قبل بعض المغامرين ونسبتها الى
(ক্যান্টনে) আরব উপনিবেশটি অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে আরব ও চীনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আরব জাহাজগুলো পৌঁছাতে পারে এমন সর্বশেষ বন্দর হয়ে দাঁড়ায় (মিনাকলাহ) এবং মালয় উপদ্বীপের কাল্লাহ বার। ত্রয়োদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের আগে চীনের সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি।
সুলায়মান এবং ইবনে ওয়াহাবের কাহিনীগুলো দশম শতাব্দীর শুরুতে বসরার অধিবাসী আবু জায়েদ হাসান আল-সিরাফি লিপিবদ্ধ করেছিলেন; তিনিই এগুলোকে বর্তমান পরিচিত রূপ দান করেছেন। উল্লিখিত সিরাফি প্রকৃতপক্ষে কোনো পর্যটক বা আলেম ছিলেন না, বরং আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তিনি এই ধরণের কাহিনীগুলোর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। তার জন্মস্থান (সিরাফ) অথবা (বসরা) থেকে এ জাতীয় বহু বর্ণনা সংগ্রহ করা তার জন্য সহজ ছিল। ৩০৩ হিজরিতে আল-মাসউদী তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং আমাদের এই ভ্রমণকাহিনীতে বর্ণিত ইবনে ওয়াহাবের বর্ণনাটি তাঁর কাছ থেকে গ্রহণ করে উপকৃত হয়েছিলেন।
আবু জায়েদ আল-সিরাফির ভ্রমণকাহিনীর পাণ্ডুলিপিটি যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে, সেটি একটি অনন্য ও একক প্রতিলিপি যা প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। প্রতিলিপিকাররা এতে এমন একটি ভূমিকা যুক্ত করেছেন যার সাথে গ্রন্থের মূল বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে এই যে, পাণ্ডুলিপিটিতে এমন একটি শিরোনাম রয়েছে যা মোটেই উপযুক্ত নয় এবং গ্রন্থের বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়; শিরোনামটি হলো (সিলসিলাতুত তাওয়ারিখ)। ১৮১১ সালে রেনোর সংস্করণটি এই শিরোনামেই প্রকাশিত হয়েছিল।
বণিক সুলায়মানের ভ্রমণের গুরুত্বের কারণে এই প্রত্ননিদর্শনটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ফলস্বরূপ ১৭১৮ সাল থেকে এর একটি ফরাসি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। এই অনুবাদটি কিছু দুঃসাহসী অভিযাত্রী কর্তৃক তছরুপ করার এবং এতে নতুন কিছু যোগ করে সেটিকে অন্যের নামে চালিয়ে দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৯)
أنفسهم. ويعود الفضل في دراسة هذه الرحلة وتحقيق نصوصها الى المستشرق الفرنسي رينو، ثم جاء بعده المستشرق الفرنسي أيضا فيرن وأعاد تحقيقها وترجمها بمنهجيّة تذكر له.
وقد استفدنا نحن من كلا الطبعتين، وحاولنا ان نظهرها في هذا القالب مع إضافة بعض التعليقات اللازمة التي تتوافق مع هذه الرحلة ومن حيث الصبغة التراثية وكما سيراها القارئ، وبالله التوفيق.
তাদের নিজেদের। এই ভ্রমণবৃত্তান্ত অধ্যয়ন এবং এর পাঠ্যসমূহ সম্পাদনার কৃতিত্ব ফরাসি প্রাচ্যবিদ রেনোর প্রাপ্য। এরপর অপর ফরাসি প্রাচ্যবিদ ফেরাঁ আসেন এবং তিনি এক প্রশংসনীয় পদ্ধতির মাধ্যমে এটি পুনরায় সম্পাদনা ও অনুবাদ করেন।
আমরা উভয় সংস্করণ থেকেই উপকৃত হয়েছি এবং এই ভ্রমণবৃত্তান্তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্যের আলোকে কিছু প্রয়োজনীয় টীকা যুক্ত করে একে এই ছাঁচে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি, যা পাঠক দেখতে পাবেন। আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল সাফল্য।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১১)
[الكتاب الاول]
هذا كتاب فيه سلسلة التواريخ والبلاد والبحور وأنواع الأسماك وفيه علم الفلك وعجايب الدنيا وقياس البلدان والمعمور منها، والوحش وعجائب غير ذلك، وهو كتاب نفيس.
[প্রথম গ্রন্থ]
এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে রয়েছে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা, দেশসমূহ, সমুদ্রসমূহ এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বিবরণ। এতে আরও সন্নিবেশিত হয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞান, পৃথিবীর বিস্ময়াবলি, দেশসমূহের পরিমাপ ও জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলসমূহের বর্ণনা, বন্যপ্রাণী এবং এছাড়া আরও অনেক আশ্চর্যজনক বিষয়; এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
باب في البحر الذي بين بلاد الهند والسند
ভারত ও সিন্ধু ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী সমুদ্র বিষয়ক অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وغوز وماغوز «1» ، وجبل قاف، وبلاد سرنديب، وفتح أبو حبيش، وهو الرجل الذي عاش من العمر مائتين وخمسين سنة وكان في بعض السنين نزل في الماغوز فرأى أبو حبيش الحكيم السواح فأتي به الى البحر وروّاه «2» سمكة مثل الشراع «3» ، وربما رفع رأسه [عن الماء] «4» فتراه كالشيء العظيم، وربما نفخ الماء من فيه فيكون كالمنارة العظيمة، فاذا سكن البحر اجتمع السمك فحواه بذنبه، ثم يفتح فمه فيرى السمك في جوفه يغيض كأنه يغيض «5» في بئر، والمراكب التي تكون في البحر تخافه فهم يضربون بالليل بنواقيس مثل نواقيس النصارى مخافة أن تتكئ على المركب فتغرقه.
وفي هذا البحر [سمكة اصطدناها] «6» يكون طولها عشرين ذراعا فشققنا بطنها فأخرجنا منها أيضا سمكة من جنسها، ثم شققنا بطن الثانية فإذا في بطنها مثلها، وكل هذا حيّ يضطرب يشبه بعضه بعضا في الصورة.
ওজ ও মাজুজ, কাফ পর্বত এবং সারান্দীব দেশ। আর আবু হুবাইশের বিজয়; তিনি এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি দুইশ পঞ্চাশ বছর জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। কোনো এক বছর তিনি মাজুজে অবতরণ করেছিলেন এবং সেখানে প্রজ্ঞাবান পর্যটক আবু হুবাইশকে দেখা গিয়েছিল। তাকে সমুদ্রের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে পালের মতো একটি মাছ দেখানো হয়। সেটি কখনো পানির উপর মাথা তুলত, ফলে তুমি তাকে এক বিশাল বস্তুর মতো দেখতে পেতে। আবার কখনো সেটি মুখ দিয়ে পানি ছিটিয়ে দিত, যা একটি সুউচ্চ মিনারের মতো হতো। যখন সমুদ্র শান্ত হতো, তখন মাছগুলো একত্রিত হতো এবং সে তার লেজ দিয়ে সেগুলোকে বেষ্টন করে ফেলত। এরপর সে তার মুখ খুলত, তখন মাছগুলো তার পেটের ভেতরে এমনভাবে হারিয়ে যেত যেন সেগুলো কোনো কূপে গিয়ে পড়ছে। সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজগুলো তাকে ভয় পেত, তাই তারা রাতের বেলা খ্রিস্টানদের ঘণ্টার মতো ঘণ্টা বাজাত যাতে মাছটি জাহাজের ওপর ভর দিয়ে তাকে ডুবিয়ে না দেয়।
এই সমুদ্রে আমরা একটি মাছ শিকার করেছিলাম যার দৈর্ঘ্য ছিল বিশ হাত। আমরা তার পেট চিরে তার ভেতর থেকে একই জাতীয় আরেকটি মাছ বের করলাম। অতঃপর দ্বিতীয়টির পেট চিরলে তার ভেতরেও অনুরূপ মাছ পাওয়া গেল। এগুলোর প্রতিটিই জীবিত ছিল এবং ছটফট করছিল, আর আকৃতিতে তারা একে অপরের সদৃশ ছিল।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولهذا السمك الكبير الذي يدعي الوال «1» مع عظم خلقه سمكة تدعى اللشك «2» طولها قدر ذراع فاذا طغت هذه السمكة وبغت وآذت السمك في البحر، سلّطت عليها هذه السمكة الصغيرة، فصارت في أصل أذنها «3» ولا تفارقها حتى تقتلها.
وتلتزق «4» بالمركب فلا تقرب المركب هذه السمكة الكبيرة فرقا من الصغيرة.
وفي هذا البحر أيضا سمكة يحكى وجهها وجه الانسان تطير فوق الماء، واسم هذا السمك الميج «5» وسمك آخر من تحت الماء
আর এই বিশালাকার মাছ, যাকে 'ওয়াল' «১» বলা হয়, তার শারীরিক বিশালতা সত্ত্বেও 'লাশাক' «২» নামক একটি মাছ রয়েছে যার দৈর্ঘ্য মাত্র এক হাত পরিমাণ। সুতরাং যখন এই মাছটি উদ্ধত হয়, সীমালঙ্ঘন করে এবং সমুদ্রের মৎস্যকুলকে কষ্ট দেয়, তখন এই ক্ষুদ্র মাছটিকে তার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী করে দেওয়া হয়; ফলে সেটি তার কানের গোড়ায় «৩» অবস্থান নেয় এবং তাকে নিধন না করা পর্যন্ত পৃথক হয় না।
আর এটি জাহাজের সাথে লেগে থাকে «৪», ফলে এই বিশালাকার মাছটি ক্ষুদ্র মাছটির ভয়ে জাহাজের নিকটবর্তী হয় না।
এই সমুদ্রে এমন এক মাছও রয়েছে যার অবয়ব মানুষের চেহারার সদৃশ এবং তা পানির ওপর দিয়ে উড়ে বেড়ায়; এই মাছের নাম হলো 'মিজ' «৫», আর পানির নিচে আরও এক প্রকার মাছ রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يرصده حتى إذا سقط ابتلعه ويسمى هذا السمك العنقتوس «1» والسمك كله يأكل بعضه بعضا.
[بحر هركند]والبحر الثالث بحر هركند «2» وبينه وبين بحر دلاروى «3» جزائر كثيرة يقال أنها ألف وتسعمائة جزيرة، وهى فرق ما بين هذين البحرين دلاروى وهركند.
وهذه الجزائر تملكها امرأة ويقع في هذه الجزائر عنبر عظيم القدر، فتقع القطعة مثل البيت «4» ونحوه، وهذا العنبر ينبت في قعر البحر نباتا، فإذا اشتد هيجان البحر قذفه من قعره مثل الفطر والكمأة.
وهذه الجزائر التي تملكها المرأة، عامرة بنخل النارجيل «5» وبعد
সেটির জন্য সে ওত পেতে থাকে, এমনকি যখন তা পতিত হয় তখন সে তা গিলে ফেলে। এই মাছটিকে আনকাতুস «১» বলা হয় এবং মাছের বৈশিষ্ট্য হলো একে অপরকে ভক্ষণ করা।
[হারকান্দ সাগর]তৃতীয় সাগরটি হলো হারকান্দ সাগর «২» এবং এর ও দারলাবী «৩» সাগরের মাঝে বহু দ্বীপ রয়েছে; বলা হয় যে সেগুলো সংখ্যায় এক হাজার নয়শত। এই দ্বীপগুলোই দারলাবী ও হারকান্দ নামক এই দুই সাগরের মধ্যবর্তী ব্যবধান।
এই দ্বীপপুঞ্জগুলো একজন মহিলার শাসনাধীন এবং এই দ্বীপগুলোতে বিশাল আকৃতির আম্বর পাওয়া যায়। এর একেকটি খণ্ড ঘরের মতো «৪» বা তদ্রূপ হয়ে থাকে। এই আম্বর সমুদ্রের তলদেশে উদ্ভিদ হিসেবে উৎপন্ন হয়। যখন সমুদ্রের উত্তালতা তীব্র হয়, তখন সমুদ্র তার তলদেশ থেকে একে ব্যাঙের ছাতা বা মাশরুমের মতো উপরে নিক্ষেপ করে।
সেই মহিলার মালিকানাধীন এই দ্বীপগুলো নারিকেল গাছে «৫» ভরপুর এবং এরপর...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ما بين الجزيرة والجزيرة فرسخان «1» وثلاثة وأربعة، وكلها عامرة بالناس والنارجيل، وما لهم الودع «2» وهذه الملكة تذخّر الودع في خزائنها، ويقال أن أهل هذه الجزيرة «3» لا يكون أصنع منهم، حتى انهم يعملون القميص مفروغا منه نسجا بالكمين والدخريصين «4» والجيب، ويبنون السفن والبيوت، ويعملون سائر الأعمال على هذا النسق من الصنعة، والودع يأتيهم على وجه الماء، وفيه روح فتوخذ سعفه من سعف النارجيل فتطرح على وجه الماء فيتعلق فيها الودع وهم يدعونه الكبتح «5» .
একটি দ্বীপ হতে অন্য দ্বীপের ব্যবধান হলো দুই ফারসাখ «১», তিন ফারসাখ কিংবা চার ফারসাখ। এগুলোর প্রতিটিই জনবসতিপূর্ণ এবং নারিকেল বৃক্ষে সুশোভিত। কড়িই «২» তাদের প্রধান সম্পদ এবং এই রানী তাঁর কোষাগারে কড়ি পুঞ্জীভূত করে রাখেন। কথিত আছে যে, এই দ্বীপের «৩» অধিবাসীদের অপেক্ষা অধিক নিপুণ কারিগর আর কেউ নেই; এমনকি তারা হাতা, পার্শ্বদেশীয় পট্টি «৪» এবং পকেটসহ একটি পূর্ণাঙ্গ জামা সরাসরি বুনন কার্যের মাধ্যমেই সুসম্পন্ন করে। তারা জাহাজ ও গৃহ নির্মাণ করে এবং কারুশিল্পের এই ধারা অনুযায়ীই যাবতীয় কার্য সম্পাদন করে। কড়ি জীবন্ত অবস্থায় পানির উপরিভাগে ভেসে তাদের নিকট আসে। অতঃপর নারিকেল বৃক্ষের ডাল নিয়ে পানির ওপর বিছিয়ে দেওয়া হয় এবং তাতে কড়িগুলো আটকে যায়। তারা একে 'কাবতাহ' «৫» বলে নামকরণ করে।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وآخر هذه الجزائر سرنديب»
في بحر هركند، وهى رأس هذه الجزائر كلها، وهم يدعونها الدبيجات «2» وبسرنديب «3» منها مغاص اللؤلؤ بحرها كله حولها.
وفي أرضها جبل يدعى الرهون «4» وعليه هبط آدم عليه السلام، وقدمه في صفا «5» رأس هذا الجبل منغمسة في الحجر: في رأس هذا الجبل قدم واحدة.
ويقال انه عليه السلام خطا خطوة أخرى في البحر، ويقال: إن هذه القدم التى على رأس الجبل نحو من سبعين ذراعا وحول هذا الجبل معدن جوهر الياقوت الأحمر والأصفر والاسمانجوني «6» .
وفي هذه الجزيرة ملكان، وهى جزيرة عظيمة عريضة فيها العود، والذهب، والجوهر، وفي بحرها اللؤلؤ، والشنك وهو هنا
এবং এই দ্বীপপুঞ্জের শেষটি হলো সারানদীব
এটি হারকান্দ সাগরে অবস্থিত এবং এটি এই সমস্ত দ্বীপপুঞ্জের প্রধান। তারা এগুলাকে আদ-দুবীজাত বলে অভিহিত করে। আর সারানদীবে মুক্তা আহরণের ডুবস্থল রয়েছে এবং এর চারপাশের পুরো সমুদ্রই এমন।
এর ভূখণ্ডে আল-রাহুন নামক একটি পাহাড় রয়েছে এবং এর উপরেই আদম (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করেছিলেন। এই পাহাড়ের চূড়ার মসৃণ পাথরের মধ্যে তাঁর পা গেঁথে গিয়েছিল: এই পাহাড়ের চূড়ায় একটি মাত্র পায়ের ছাপ রয়েছে।
বলা হয় যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) সাগরে আরও একটি কদম ফেলেছিলেন। আরও বলা হয় যে, পাহাড়ের চূড়ায় বিদ্যমান এই পায়ের ছাপটি দৈর্ঘ্যে প্রায় সত্তর হাত। এই পাহাড়ের চারপাশে লাল ও হলুদ ইয়াকুত এবং আসমানজুনী (নীলাভ মণি) জহরতের খনি রয়েছে।
এই দ্বীপে দুইজন রাজা রয়েছেন। এটি একটি বিশাল ও প্রশস্ত দ্বীপ, যাতে উদ, স্বর্ণ এবং জহরত বিদ্যমান। এর সাগরে রয়েছে মুক্তা ও শঙ্খ, যা এখানে...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২০)
(البوق) الذي ينفخ فيه ممّا يدخرونه.
وفي هذا البحر اذا ركب الى سرنديب جزائر ليست بالكثيرة، غير انها واسعة لا تضبط، منها: جزيرة يقال لها الرامني «1» فيها عدة ملوك، وسعتها يقال ثمانمائة أو تسعمائة فرسخا، وفيها معادن الذهب، وفيها معادن تدعى فنصور «2» يكون الكافور الجيّد منها.
ولهذه الجزائر جزائر تليها منها:
جزيرة يقال لها النيان «3» لهم ذهب كثير واكلهم النارجيل، وبه يتأدمون ويدهنون، واذا أراد أحد منهم أن يتزوج لم يزوج إلّا بقحف رأس رجل من أعدائهم، فإذا قتل اثنين زوج اثنتين، وكذلك ان قتل خمسين زوج خمسين امراة بخمسين قحفا، وسبب ذلك أن أعدائهم كثير، فمن أقدم على القتل أكثر كان رغبتهم فيه أوفر.
وفي هذه الجزائر أعنى الرامنى فيلة كثيرة، وفيها البقم «4»
(শিঙা) যা দিয়ে ফুঁ দেওয়া হয়, যা তারা সঞ্চয় করে রাখে।
এবং এই সমুদ্রে যখন সরন্দীপের অভিমুখে যাত্রা করা হয়, তখন এমন কিছু দ্বীপ পাওয়া যায় যা সংখ্যায় খুব বেশি নয়, তবে সেগুলো এতোটাই প্রশস্ত যে তা পরিমাপ করা যায় না। তার মধ্যে রয়েছে: একটি দ্বীপ যাকে রামনি বলা হয়, সেখানে একাধিক রাজা রয়েছেন এবং এর প্রশস্ততা সম্পর্কে বলা হয় যে তা আটশ বা নয়শ ফারসাখ। সেখানে স্বর্ণের খনি রয়েছে এবং সেখানে ফানসুর নামক খনি রয়েছে যেখান থেকে উৎকৃষ্ট মানের কর্পূর সংগৃহীত হয়।
এবং এই দ্বীপগুলোর সংলগ্ন আরও কিছু দ্বীপ রয়েছে, যার মধ্যে:
একটি দ্বীপ যাকে নিয়ান বলা হয়; তাদের প্রচুর স্বর্ণ রয়েছে এবং তাদের প্রধান খাদ্য হলো নারিকেল, যা তারা ব্যঞ্জন হিসেবে গ্রহণ করে এবং এর তেল ব্যবহার করে। তাদের মধ্য থেকে কেউ যদি বিবাহ করতে চায়, তবে শত্রুপক্ষের কোনো ব্যক্তির মাথার খুলি সংগ্রহ করা ব্যতীত তাকে বিবাহ দেওয়া হয় না। যদি সে দুইজনকে হত্যা করে তবে তাকে দুইজনের সাথে বিবাহ দেওয়া হয়, একইভাবে যদি সে পঞ্চাশজনকে হত্যা করে তবে পঞ্চাশটি মাথার খুলির বিনিময়ে তাকে পঞ্চাশ জন নারীর সাথে বিবাহ দেওয়া হয়। এর কারণ হলো তাদের শত্রুর সংখ্যা অনেক, তাই যে ব্যক্তি হত্যা করায় অধিক সাহসী হয়, তার প্রতি তাদের আকাঙ্ক্ষা তত বেশি থাকে।
এবং এই দ্বীপগুলোতে অর্থাৎ রামনিতে প্রচুর হাতি রয়েছে এবং সেখানে বাক্কাম বৃক্ষ পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২১)
والخيزران «1» .
وفيها: قوم يأكلون الناس، وهى تشرع على بحرين هركند وشلاهط «2» .
وبعد هذا جزائر تدعى لنجبالوس «3» ، وفيها خلق كثير عراة الرجال منهم والنساء، غير أن على عورة المرأة ورقا من ورق الشجر، فاذا مرّت بهم المراكب جاءوا إليها بالقوارب الصّغار والكبار وبايعوا أهلها العنبر والنارجيل بالحديد وما يحتاجون إليه من كسوة لأنه لا حرّ عندهم ولا برد.
ومن وراء هؤلاء جزيرتان بينهما بحر يقال لهما «4» اندامان «5» وأهلهما يأكلون الناس أحياء، وهم سود مفلفلوا الشعور مناكير الوجوه والأعين، طوال الأرجل، فرج «6» أحدهم مثل الذراع [يعني
এবং বাঁশ «১»।
আর সেখানে এমন এক জাতি রয়েছে যারা মানুষ ভক্ষণ করে; এটি হারকান্দ ও শালাহিত «২» নামক দুটি সমুদ্রের উপকূলে অবস্থিত।
এর পেছনে এমন কতগুলো দ্বীপ রয়েছে যেগুলোকে লাঞ্জাবালুস «৩» বলা হয়; সেখানে অসংখ্য মানুষ রয়েছে যাদের পুরুষ ও নারী উভয়ই উলঙ্গ, তবে নারীদের লজ্জাস্থানের ওপর গাছের পাতা থাকে। যখন তাদের নিকট দিয়ে জাহাজসমূহ অতিক্রম করে, তখন তারা ছোট ও বড় নৌকায় চড়ে সেগুলোর কাছে আসে এবং লোহার বিনিময়ে আম্বর ও নারিকেল এবং পোশাক-আশাকের মধ্য থেকে তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিনিময় করে, কারণ তাদের সেখানে কোনো গরম বা শীত নেই।
এদের পেছনে দুটি দ্বীপ রয়েছে যেগুলোর মাঝখানে একটি সমুদ্র অবস্থিত, সেগুলোকে «৪» আন্দামান «৫» বলা হয়; সেখানকার অধিবাসীরা মানুষকে জ্যান্ত ভক্ষণ করে। তারা কৃষ্ণবর্ণ, কুঞ্চিত চুলবিশিষ্ট, কদর্য চেহারা ও চক্ষুবিশিষ্ট এবং দীর্ঘ পা-বিশিষ্ট। তাদের একজনের লিঙ্গ «৬» এক হাতের মতো [অর্থাৎ
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২২)
ذكره] عراة ليست لهم قوارب، ولو كانت لهم لأكلوا كل من مرّ بهم، وربما أبطأت المراكب في البحر وتأخر بهم المسير بسبب الريح فينفذ ما في المراكب من الماء فيقربون إلى هؤلاء فيستقون الماء، وربما أصابوا منهم ويفلتون أكثر.
وبعد هذه الجزيرة جبال ليست على الطريق، يقال: ان فيها معادن فضة وليست بمسكونة، وليس كل مركب يريدها يصيبها، وإنما دلّ عليها جبل منها يقال له الخشناميّ «1» ، مرّ به مركب فرأوا الجبل فقصدوا له فلما اصبحوا انحدروا إليه في قارب ليحتطبوا وأوقدوا نارا فانسبكت الفضة فعلموا انه معدن فاحتملوا ما أرادوا منه، فلما ركبوا اشتدّ عليهم البحر فرموا بجميع ما أخذوا منه، ثم تجهّز الناس بعد ذلك الى هذا الجبل فلم يعرفوه.
ومثل هذا في البحر كثير لا يحصى من جزائر ممنوعة لا يعرفها البحريون، فمنها ما لا يقدرون عليه.
وربما رؤي في هذا البحر سحاب أبيض يظل المراكب فيشرع منه لسان طويل رقيق حتى يلصق ذلك اللسان بماء البحر، فيغلى له ماء البحر مثل الزوبعة فإذا أدركت الزوبعة المركب ابتلعته، ثم يرتفع ذلك السحاب فيمطر مطرا فيه قذى البحر، فلا أدري أيستقى السحاب من البحر أم كيف هذا.
وكلّ بحر من هذه البحار تهيج فيه ريح تثيره وتهيجه حتى يغلى كغليان القدور، فيقذف ما فيه الى الجزائر التي فيه ويكسر
তারা উলঙ্গ, তাদের কোনো নৌকা নেই। যদি তাদের নৌকা থাকত তবে তারা তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী সকলকে খেয়ে ফেলত। কখনো কখনো সমুদ্রে বাতাসের প্রতিকূলতার কারণে জাহাজগুলোর গতি মন্থর হয়ে যায় এবং তাদের যাত্রা বিলম্বিত হয়, ফলে জাহাজে থাকা পানি ফুরিয়ে যায়। তখন তারা এই লোকদের নিকটবর্তী হয় এবং পানি প্রার্থনা করে। কখনো কখনো এই লোকেরা তাদের আক্রমণ করে বসে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা রক্ষা পেয়ে যায়।
এই দ্বীপটির পরে এমন কিছু পাহাড় রয়েছে যা মূল রাস্তার ওপর অবস্থিত নয়। বলা হয় যে, সেখানে রূপার খনি রয়েছে এবং সেগুলো জনশূন্য। যে জাহাজই সেখানে পৌঁছাতে চায়, সে তার দেখা পায় না। এগুলোর মধ্যে 'আল-খুশনামি' নামক একটি পাহাড়ের মাধ্যমে এগুলোর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। একটি জাহাজ এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পাহাড়টি দেখতে পায় এবং তারা সেদিকে অগ্রসর হয়। যখন সকাল হলো, তারা কাঠ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে একটি ছোট নৌকায় করে সেখানে নামল এবং আগুন জ্বালাল। এতে রূপা গলে বের হয়ে এল, ফলে তারা বুঝতে পারল যে এটি একটি খনি। তখন তারা সেখান থেকে তাদের ইচ্ছানুযায়ী সংগ্রহ করল। কিন্তু যখন তারা জাহাজে আরোহণ করল, সমুদ্র তাদের ওপর উত্তাল হয়ে উঠল। ফলে তারা যা কিছু সংগ্রহ করেছিল তার সবটুকুই সাগরে ফেলে দিল। এরপর মানুষ এই পাহাড়ের উদ্দেশ্যে পুনরায় প্রস্তুতি নিলেও তারা আর এর পরিচয় পায়নি।
সমুদ্রে এমন অসংখ্য নিষিদ্ধ দ্বীপ রয়েছে যা নাবিকদের পরিচিত নয়; সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে যা জয় করা তাদের সাধ্যাতীত।
মাঝেমধ্যে এই সমুদ্রে সাদা মেঘ দেখা যায় যা জাহাজগুলোর ওপর ছায়া ফেলে। তখন সেখান থেকে একটি দীর্ঘ ও সরু জিহ্বার মতো অংশ প্রলম্বিত হয় যতক্ষণ না তা সমুদ্রের পানির সাথে মিশে যায়। তখন সমুদ্রের পানি ঘূর্ণিঝড়ের মতো ফুটতে থাকে। যখন এই ঘূর্ণিঝড় কোনো জাহাজকে পেয়ে বসে, তখন তা একে গ্রাস করে ফেলে। এরপর সেই মেঘ উপরে উঠে যায় এবং এমন বৃষ্টি বর্ষণ করে যাতে সমুদ্রের আবর্জনা মিশে থাকে। আমি জানি না যে মেঘ কি সমুদ্র থেকে পানি শুষে নেয় নাকি বিষয়টি অন্যরূপ।
এই সমুদ্রগুলোর প্রত্যেকটিতে এমন বাতাস প্রবাহিত হয় যা সমুদ্রকে আলোড়িত ও উত্তাল করে তোলে, এমনকি তা চুল্লির ওপর রাখা ডেগের পানির মতো টগবগ করে ফুটতে থাকে। তখন এটি তার ভেতরের বস্তুসমূহকে পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোতে নিক্ষেপ করে এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলে।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المراكب، ويقذف السمك الميّت الكبار العظام، وربما قذف الصّخور والجبال كما يقذف القوس السهم.
وأما بحر هركند فله ريح غير هذه ما بين المغرب الى بنات نعش فيغلي لها البحر كغليان القدور ويقذف العنبر الكثير، وكلما كان البحر أغزر وأبعد قعرا كان العنبر أجود، وهذا البحر- أعني هركند- اذا عظمت أمواجه تراه مثل النّار يتّقد.
وفي هذا البحر سمك يدعى اللخم «1» وهو سبع يبتلع الناس «2» في [أيديهم كل هذه] «3» فيقل المتاع، ومن أسباب قلة المتاع حريق ربّما وقع ب (خانفوا) «4» وهو مرفأ السفن، ومجتمع تجارات
নৌযানসমূহ, এবং এটি বৃহৎ হাড়বিশিষ্ট মৃত মাছ উগরে দেয়, আর সম্ভবত এটি পাথর ও পাহাড়সমূহকে এমনভাবে নিক্ষেপ করে যেমন ধনুক থেকে তীর নিক্ষিপ্ত হয়।
আর হারকান্দ সমুদ্রের কথা বলতে গেলে, পশ্চিম দিক থেকে বানাতুন নাশ (সপ্তর্ষিমণ্ডল) পর্যন্ত এর একটি ভিন্ন বাতাস প্রবাহিত হয়, যার প্রভাবে সমুদ্রটি ডেকচির মতো ফুটতে থাকে এবং প্রচুর পরিমাণে আম্বর নিক্ষেপ করে। সমুদ্রটি যত বেশি গভীর এবং এর তলদেশ যত বেশি অগম্য হয়, আম্বর তত বেশি উৎকৃষ্ট মানের হয়। এই সমুদ্র—অর্থাৎ হারকান্দ—যখন এর ঢেউসমূহ উত্তাল হয়, তখন আপনি একে প্রজ্বলিত আগুনের মতো দেখতে পাবেন।
এই সমুদ্রে 'লাখম' নামক এক প্রকার মাছ রয়েছে যা একটি হিংস্র শিকারি এবং মানুষকে গিলে ফেলে। [তাদের হাতে এই সবকিছুতে] পণ্যসামগ্রী হ্রাস পায়। আর পণ্যসামগ্রী স্বল্পতার অন্যতম কারণ হলো অগ্নিকাণ্ড যা সম্ভবত (খানফু)-তে ঘটে থাকে, যা জাহাজসমূহের নোঙর ফেলার স্থান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রস্থল।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
العرب، وأهل الصين، فيأتي الحريق على المتاع، وذلك أنّ بيوتهم هناك من خشب ومن قنا «1» مشقق، ومن أسباب ذلك أن تنكسر المراكب الصّادرة والواردة أو ينهبوا أو يضطرّوا إلى المقام الطويل فيبيعوا المتاع في غير بلاد العرب، وربما رمت بهم الرّيح إلى اليمن أو غيرها فيبيعون المتاع هناك، وربما أطالوا الإقامة لاصلاح مراكبهم وغير ذلك من العلل.
وذكر سليمان التاجر أن في (خانفو) وهو مجتمع التجار رجلا مسلما يولّيه صاحب الصّين الحكم بين المسلمين الذين يقصدون الى تلك الناحية، يتوخى ملك الصين ذلك، واذا كان في العيد صلّى بالمسلمين وخطب ودعا لسلطان المسلمين، وان التجار العراقيين لا ينكرون من ولايته شيئا في أحكامه وعلمه بالحق وبما في كتاب الله عز وجل وأحكام الاسلام.
فأما المواضع التي يردونها ويرقون اليها فذكروا أن أكثر السّفن الصينية تحمل من سيراف «2» وأن المتاع يحمل من البصرة وعمان وغيرها الى سيراف فيعبّا في السفن الصينيّة بسيراف وذلك لكثرة الأمواج في هذا البحر، وقلة الماء في مواضع منه.
والمسافة بين البصرة وسيراف في الماء مائة وعشرون فرسخا فاذا عبّى المتاع بسيراف استعذبوا منها الماء، وخطفوا- وهذه لفظة
আরব এবং চীনবাসী; সেখানে অগ্নিকাণ্ড মালামাল ভস্মীভূত করে ফেলে। এর কারণ হলো সেখানে তাদের ঘরবাড়ি কাঠ এবং চেরা বাঁশ বা বেত দিয়ে তৈরি। এর অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে বহির্গামী ও অন্তর্মুখী জাহাজগুলোর ধ্বংস হওয়া, অথবা সেগুলো লুণ্ঠিত হওয়া, কিংবা দীর্ঘকাল অবস্থান করতে বাধ্য হওয়া যার ফলে তারা আরবের বাইরের দেশগুলোতে মালামাল বিক্রি করে দেয়। কখনো কখনো বাতাস তাদের ইয়েমেন বা অন্য কোনো জনপদে নিয়ে ফেলে, ফলে তারা সেখানেই মালামাল বিক্রি করে দেয়। আবার কখনো কখনো তারা তাদের জাহাজ মেরামত বা অন্য কোনো কারণে দীর্ঘকাল অবস্থান করে।
বণিক সুলাইমান উল্লেখ করেছেন যে, 'খানফু' নামক স্থানে—যা বণিকদের একটি মিলনস্থল—সেখানে একজন মুসলিম ব্যক্তি রয়েছেন যাকে চীনের অধিপতি ঐ অঞ্চলে আগত মুসলিমদের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করেছেন। চীনের রাজা এটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। যখন ঈদের দিন উপস্থিত হয়, তিনি মুসলিমদের নিয়ে সালাত আদায় করেন এবং খুতবা প্রদান করেন ও মুসলিম সুলতানের জন্য দোয়া করেন। ইরাকী বণিকগণ তার বিচারকার্যের কোনো বিষয় এবং সত্যের প্রতি তার নিষ্ঠা ও মহান আল্লাহর কিতাব এবং ইসলামের বিধান অনুযায়ী তার জ্ঞানের কোনো বিষয় নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন না।
যে সকল স্থানে তারা যাতায়াত করেন এবং আরোহণ করেন, সে সম্পর্কে তারা উল্লেখ করেছেন যে, অধিকাংশ চীনা জাহাজ সিরাফ থেকে মালামাল বোঝাই করে। মালামাল বসরা, ওমান এবং অন্যান্য স্থান থেকে সিরাফে নিয়ে আসা হয়, অতঃপর সিরাফে সেগুলো চীনা জাহাজে তোলা হয়। এর কারণ হলো এই সাগরে বিশাল তরঙ্গের আধিক্য এবং কিছু কিছু স্থানে পানির স্বল্পতা।
জলপথে বসরা এবং সিরাফের মধ্যবর্তী দূরত্ব একশ বিশ ফারসাখ। যখন সিরাফে মালামাল বোঝাই করা শেষ হয়, তখন তারা সেখান থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ করে এবং পাল তোলে (খাতাফু)—আর এটি একটি শব্দ যা-
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يستعملها أهل البحر يعني يقلعون- الى موضع يقال له مسقط «1» وهو آخر عمل عمان، والمسافة من سيراف إليه نحو مائتي فرسخ.
وفي شرقي هذا البحر فيما بين سيراف ومسقط من البلاد سيف بني الصفاق «2» وجزيرة ابن كاوان «3» ، وفي غربي هذا البحر جبال عمان وفيها الموضع الذي يسمى الدردور «4» وهو مضيق بين جبلين «5» تسلكه السفن الصغار ولا تسلكه السفن الصينية، وفيها الجبلان اللذان يقال لهما كسير وعوير «6» وليس يظهر منهما فوق الماء الا اليسير، فاذا جاوزنا «7» الجبال صرنا إلى موضع يقال له
সমুদ্রচারীরা এটি ব্যবহার করেন, অর্থাৎ তারা পাল তোলেন—মাস্কাট নামক একটি স্থানের অভিমুখে «১», যা ওমানের প্রশাসনিক সীমানার শেষ প্রান্ত; আর সিরাফ থেকে এর দূরত্ব প্রায় দুইশ ফারসাখ।
এই সমুদ্রের পূর্ব দিকে, সিরাফ ও মাস্কাটের মধ্যবর্তী জনপদসমূহের মধ্যে ‘সাইফ বনী সাফ্ফাক’ «২» এবং ‘ইবনে কাওয়ান’ দ্বীপ «৩» অবস্থিত। আর এই সমুদ্রের পশ্চিম দিকে রয়েছে ওমানের পাহাড়সমূহ, যার মধ্যে ‘দারদুর’ «৪» নামক একটি স্থান রয়েছে। এটি দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী একটি সংকীর্ণ পথ «৫», যা দিয়ে ছোট জাহাজসমূহ চলাচল করে, কিন্তু বড় চৈনিক জাহাজসমূহ এতে চলতে পারে না। সেখানে ‘কুসাইর’ ও ‘উওয়াইর’ «৬» নামক দুটি পাহাড় রয়েছে, পানির উপরে যেগুলোর সামান্য অংশই দৃষ্টিগোচর হয়। যখন আমরা এই পাহাড়গুলো অতিক্রম করি «৭», তখন আমরা এমন একটি স্থানে উপনীত হই যাকে বলা হয়—
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
صحار «1» عمان فيستعذب الماء من مسقط من بئر بها، وهناك [جبل] «2» فيه غنم من بلاد عمان، فتخطف المراكب منها إلى بلاد الهند وتقصد الى كولم ملى «3» ، والمسافة من مسقط الى كولم ملي شهر على اعتدال الريح، وفي كولم ملي مسلحة «4» لبلاد كولم ملي تجيء السفن الصينية، وبها ماء عذب من آبار فيؤخذ من [السفن] الصينية ألف درهم، ومن غيرها من السفن ما بين عشرة دنانير الى [عشرين] «5» دينارا.
وبين مسقط وبين كولم ملي وبين هركند نحو من شهر، وبكولم ملي يستعذبون الماء، ثم تخطف المراكب- اي تقلع- الى بحر هركند، فاذا جاوزوه صاروا الى موضع يقال له لنجبالوس «6» لا يفهمون لغة العرب ولا ما يعرفه التجار من اللغات، وهم قوم لا
ওমানের সুহার; সেখানে মাস্কাটের একটি কূপ থেকে সুমিষ্ট পানি সংগ্রহ করা হয়। সেখানে ওমান অঞ্চলের ভেড়া সমৃদ্ধ একটি [পাহাড়] রয়েছে। সেখান থেকে জাহাজগুলো ভারতের দিকে যাত্রা করে এবং কুলাম মালির দিকে অগ্রসর হয়। বাতাসের গতি স্বাভাবিক থাকলে মাস্কাট থেকে কুলাম মালির দূরত্ব এক মাস। কুলাম মালিতে কুলাম মালি রাজ্যের একটি সীমান্ত ফাঁড়ি রয়েছে যেখানে চীনা জাহাজগুলো আসে। সেখানে কূপের সুমিষ্ট পানি পাওয়া যায়। ফলে চীনা [জাহাজ] থেকে এক হাজার দিরহাম এবং অন্যান্য জাহাজ থেকে দশ থেকে [বিশ] দিনার পর্যন্ত (শুল্ক) গ্রহণ করা হয়।
মাস্কাট, কুলাম মালি এবং হারকান্দের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় এক মাস। কুলাম মালিতে তারা সুমিষ্ট পানি সংগ্রহ করে, অতঃপর জাহাজগুলো যাত্রা করে—অর্থাৎ পাল তোলে—হারকান্দ সাগরের দিকে। যখন তারা সেটি অতিক্রম করে, তখন তারা লাঞ্জাবালুস নামক একটি স্থানে পৌঁছায়। তারা আরবদের ভাষা বোঝে না এবং বণিকদের পরিচিত অন্য কোনো ভাষাও জানে না। তারা এমন এক জাতি যারা...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يلبسون الثياب، بيضا كواسج «1» ، وذكروا أنهم لم يروا منهم النساء «2» ، وذلك أن رجالهم يخرجون اليهم من الجزيرة في زواريق منقورة من خشبة واحدة، ومعهم النارجيل، وقصب السكر والموز، وشراب النارجيل: وهو شراب أبيض، فاذا شرب ساعة يؤخذ من النارجيل، فهو حلو مثل العسل، فاذا ترك ساعة صار شرابا «3» وإن بقى أياما صار خلا، فيبيعون ذلك بالحديد، وربما وقع اليهم العنبر اليسير فيبيعونه بقطع الحديد، وانما يتبايعون بالإشارة يدا بيد إذ كانوا لا يفهمون اللغة، وهم حذّاق بالسّباحة فربما استلبوا من التجار الحديد ولا يعطونهم شيئا.
ثم تخطف المراكب إلى موضع يقال له كلاة بار «4» المملكة والساحل كل يقال له كلاه بار وهى مملكة الزّابج «5» متيامنه عن
তারা সাদা পোশাক পরিধান করে, যা হ্রস্বাকার «১»। তারা উল্লেখ করেছেন যে, তারা তাদের মাঝে কোনো নারী দেখেননি «২»। এর কারণ হলো, তাদের পুরুষরা দ্বীপ থেকে তাদের নিকট একক কাষ্ঠখণ্ড খোদাই করে নির্মিত ছোট নৌকায় করে আসত। তাদের সাথে থাকত নারিকেল, আখ, কলা এবং নারিকেলের পানীয়। এটি একটি সাদা পানীয়; নারিকেল থেকে সংগ্রহের পরপরই পান করলে তা মধুর ন্যায় মিষ্ট লাগে। কিন্তু কিছুক্ষণ রেখে দিলে তা মদে «৩» পরিণত হয় এবং কয়েক দিন অতিবাহিত হলে তা সিরকায় রূপান্তরিত হয়। তারা এগুলো লোহার বিনিময়ে বিক্রি করে; কখনো কখনো তাদের নিকট সামান্য পরিমাণ আম্বর আসে, যা তারা লোহার টুকরোর বিনিময়ে বিক্রি করে থাকে। তারা কেবল ইশারার মাধ্যমে হাতে হাতে লেনদেন করে, যেহেতু তারা ভাষা বুঝতে সক্ষম নয়। তারা সাঁতারে অত্যন্ত দক্ষ; ফলে কখনো কখনো তারা বণিকদের নিকট থেকে লোহা ছিনিয়ে নেয় এবং বিনিময়ে তাদের কিছুই প্রদান করে না।
অতঃপর জাহাজগুলো ‘কালাহ বার’ «৪» নামক স্থানের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়; এই রাজ্য ও উপকূল উভয়কেই ‘কালাহ বার’ বলা হয়। এটি জাবাজ «৫» সম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত, যা ডান দিকে অবস্থিত...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بلاد الهند يجمعهم ملك، ولباسهم الفوط «1» يلبس السرىّ «2» والدني منهم الفوطة الواحدة، ويستعذبون هناك الماء من آبار عذبة، وهم يؤثرون ماء الآبار على مياه العيون والمطر.
ومسافة ما بين كولم وهي قريبة من هركند الى كله بار شهر، ثم تسير المراكب الى موضع يقال له بتومة «3» وبها ماء عذب لمن أراده، والمسافة إليها عشرة أيام.
ثم تخطف المراكب الى موضع يقال له كدرنج «4» عشرة أيام، وفيها ماء عذب، لمن أراده، وكذلك جزائر الهند اذا احتفرت فيها الآبار وجد فيها الماء العذب، وبها جبل مشرف وربما كان فيه الهراب «5» من العبيد واللصوص.
হিন্দুস্তানের দেশসমূহকে একজন রাজা একত্রিত করেন এবং তাদের পোশাক হলো ফুতাহ (লুঙ্গি সদৃশ বস্ত্র)। তাদের মধ্যকার উচ্চবংশীয় ও সাধারণ—উভয়েই একটি মাত্র ফুতাহ পরিধান করে। তারা সেখানে সুপেয় কূয়া থেকে মিষ্টি পানি গ্রহণ করে এবং তারা ঝর্ণা ও বৃষ্টির পানির চেয়ে কূয়ার পানিকে অধিক পছন্দ করে।
কলাম (কুইলন)—যা হারকান্দের নিকটবর্তী—থেকে কালাহ-বার পর্যন্ত দূরত্ব এক মাস। এরপর জাহাজগুলো বাতুমাহ নামক একটি স্থানের দিকে যাত্রা করে এবং সেখানে যারা চায় তাদের জন্য মিষ্টি পানি রয়েছে; সেখানে পৌঁছাতে দশ দিন সময় লাগে।
অতঃপর জাহাজগুলো কাদারনাজ নামক একটি স্থানের দিকে দশ দিন দ্রুত বেগে ধাবিত হয় এবং সেখানেও যারা চায় তাদের জন্য মিষ্টি পানি রয়েছে। একইভাবে হিন্দুস্তানের দ্বীপসমূহে যখন কূয়া খনন করা হয়, তখন সেখানে মিষ্টি পানি পাওয়া যায়। সেখানে একটি সুউচ্চ পাহাড় রয়েছে এবং সম্ভবত সেখানে পলাতক ক্রীতদাস ও চোরেরা অবস্থান করে।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثم تسير «1» المراكب إلى موضع يقال له صنف «2» مسيرة عشرة أيام، وبها ماء عذب، ومنه يؤتي بالعود الصنفي، وبها ملك، وهم قوم سمر يلبس كل واحد منهم فوطتين، فإذا استعذبوا منها خطفوا الى موضع يقال له صندر فولات «3» وهي جزيرة في البحر، والمسافة اليها عشرة أيام، وفيها ماء عذب، ثم تخطف المراكب الى بحر يقال له صنجى «4» ثم إلى أبواب «5» الصين، وهى جبال في البحر بين كل جبلين فرجة تمرّ فيها المراكب [ثم إلى الصين] .
فإذا سلّم الله من صندر فولات «6» خطف المراكب الى الصين في شهر إلّا ان الجبال التي تمرّ بها المراكب مسيرة سبعة أيام.
এরপর জাহাজসমূহ «১» ‘সানফ’ «২» নামক একটি স্থানের দিকে দশ দিনের পথ পাড়ি দেয়। সেখানে সুপেয় পানি রয়েছে এবং সেখান থেকেই ‘সানফী’ উদ আনা হয়। সেখানে একজন রাজা আছেন; তারা শ্যামলা বর্ণের এক জাতি, যাদের প্রত্যেকে দুটি করে লুঙ্গি পরিধান করে। যখন তারা সেখান থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ করে, তখন তারা ‘সানদার ফুলাত’ «৩» নামক স্থানের দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়, যা সমুদ্রের মাঝে একটি দ্বীপ। সেখানে পৌঁছাতে দশ দিন সময় লাগে এবং তাতে সুপেয় পানি রয়েছে। এরপর জাহাজসমূহ ‘সানজি’ «৪» নামক সাগরের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়, এরপর চীনের প্রবেশদ্বারসমূহের «৫» দিকে যায়; এগুলো সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত পাহাড়, যার প্রতি দুটি পাহাড়ের মাঝে ফাঁকা জায়গা রয়েছে যেখান দিয়ে জাহাজসমূহ চলাচল করে [এরপর চীনের দিকে]।
যখন আল্লাহ ‘সানদার ফুলাত’ «৬» থেকে নিরাপদে রাখেন, তখন জাহাজসমূহ এক মাসে চীনের দিকে দ্রুত পৌঁছে যায়; তবে পাহাড়গুলোর মধ্য দিয়ে জাহাজসমূহের অতিক্রান্ত পথটি সাত দিনের।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فإذا جاوزت السفينة الأبواب ودخلت الخور «1» صارت إلى ماء عذب إلى الموضع التي ترسى إليه من بلاد الصين، وهو يسمى خانفو: مدينة، وسائر الصين فيها الماء العذب من أنهار عذبة وأودية ومسالح واسواق في كل ناحية.
وفيها مد وجزر مرتين في اليوم والليلة، الّا انّ المدّ يكون فيما يلي البصرة إلى جزيرة بنى كاوان «2» اذا توسط القمر السماء [واذا قابل وسط السماء] «3» ، ويكون الجزر عند طلوع القمر وعند مغيبه، والمدّ يكون بناحية الصين إلى قريب من جزيرة بني كاوان «4» اذا طلع القمر، فاذا توسّط السماء جزر الماء، فاذا غاب كان المدّ، فاذا كان في مقابلة وسط السماء جزر.
[جزيرة ملجان]وذكروا: أن في جزيرة يقال له ملجان «5» فيما بين سرنديب وكله وذلك من بلاد الهند في شرقي البحر قوم من السودان عراة
যখন জাহাজটি প্রবেশদ্বারগুলো অতিক্রম করে এবং খাড়িতে প্রবেশ করে, তখন তা চীন দেশের সেই স্থানে পৌঁছায় যেখানে জাহাজগুলো নোঙর করে এবং সেখানকার পানি সুমিষ্ট। স্থানটির নাম খানফু: এটি একটি শহর। সমগ্র চীনে মিষ্ট পানির নদী, উপত্যকা, জলাধার এবং প্রতিটি প্রান্তে বাজার বিদ্যমান।
সেখানে দিন ও রাতে দুইবার জোয়ার-ভাটা হয়। তবে বসরার নিকটবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে বনী কাওয়ান দ্বীপ পর্যন্ত জোয়ার তখন হয় যখন চাঁদ আকাশের মাঝখানে পৌঁছায় [এবং যখন আকাশের মধ্যভাগের বিপরীতে থাকে]। আর চন্দ্রোদয় ও চন্দ্রাস্তের সময় ভাটা হয়। অন্যদিকে চীন অভিমুখে বনী কাওয়ান দ্বীপের নিকটবর্তী এলাকা পর্যন্ত জোয়ার হয় যখন চাঁদ উদিত হয়; যখন চাঁদ আকাশের মাঝখানে পৌঁছায় তখন ভাটা হয়; যখন চাঁদ অস্ত যায় তখন আবার জোয়ার হয় এবং যখন তা আকাশের মধ্যভাগের বিপরীতে থাকে তখন ভাটা হয়।
[মালজান দ্বীপ]তারা উল্লেখ করেছেন যে, মালজান নামক একটি দ্বীপ রয়েছে যা সারান্দীব ও কাল্লাহর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এটি ভারত ভূখণ্ডের পূর্ব সাগরের অন্তর্গত। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গদের একটি সম্প্রদায় বাস করে যারা উলঙ্গ থাকে।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
اذا وجدوا الانسان من غير بلادهم علقوه منكسا وقطّعوه وأكلوه نيّا، وعدد هؤلاء كثير، وهم في جزيرة واحدة، وليس لهم ملك، وغذاؤهم السمك والموز والنارجيل «1» وقصب السكر، ولهم [مواضع يأوون إليها] «2» شبيه بالغياض والآجام.
[جراد الماء]وذكروا ان في ناحية البحر سمكا صغيرا طيارا يطير على وجه الماء يسمى جراد الماء
وذكروا ان بناحية البحر سمكا يخرج حتى يصعد على النارجيل فيشرب ما في النارجيل من الماء ثم يعود إلى البحر «3» .
[حيوان الكحل]وذكروا: أن في البحر حيوانا يشبه السرطان فاذا خرج من البحر صار حجرا، قال: يتخذ منه كحل لبعض علل العين.
[جبل النار]وذكروا ان بقرب الزايج «4» جبلا يسمى جبل النار لا يقدر على الدنوّ منه، يظهر منه بالنهار دخان، وبالليل لهب نار، ويخرج من أسفله عين باردة عذبة، وعين حارة عذبة «5» .
ولباس «6» أهل الصين الصغار والكبار الحرير، وفي الشتاء
যখন তারা অন্য দেশের কোনো মানুষকে পায়, তাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখে, টুকরো টুকরো করে এবং কাঁচা খেয়ে ফেলে। তাদের সংখ্যা অনেক এবং তারা একটি দ্বীপেই বসবাস করে। তাদের কোনো রাজা নেই। তাদের খাবার হলো মাছ, কলা, নারিকেল এবং আখ। তাদের [আশ্রয়স্থল] রয়েছে যা বনজঙ্গল ও ঝোপঝাড়ের মতো।
[জলজ পঙ্গপাল]তারা উল্লেখ করেছেন যে, সমুদ্রের এক প্রান্তে ছোট উড়ন্ত মাছ রয়েছে যা পানির উপরিভাগে ওড়ে, একে জলজ পঙ্গপাল বলা হয়।
তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, সমুদ্রের তীরে এমন মাছ রয়েছে যা পানি থেকে বের হয়ে এমনকি নারিকেল গাছে চড়ে, এরপর নারিকেলের পানি পান করে এবং পুনরায় সমুদ্রে ফিরে যায়।
[সুরমা প্রাণী]তারা উল্লেখ করেছেন: সমুদ্রে কাঁকড়া সদৃশ এক প্রকার প্রাণী রয়েছে, যখন সেটি সমুদ্র থেকে বের হয় তখন তা পাথরে পরিণত হয়। তিনি বলেন: এটি থেকে চোখের কিছু রোগের জন্য সুরমা তৈরি করা হয়।
[অগ্নি পাহাড়]তারা উল্লেখ করেছেন যে, জায়েজ-এর নিকটে একটি পাহাড় রয়েছে যাকে অগ্নি পাহাড় বলা হয়, যার নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব নয়। দিনের বেলা সেখান থেকে ধোঁয়া এবং রাতে আগুনের শিখা প্রকাশ পায়। তার পাদদেশ থেকে একটি সুপেয় শীতল ঝরনা এবং একটি সুপেয় উষ্ণ ঝরনা নির্গত হয়।
চীনের ছোট-বড় সকল অধিবাসীর পোশাক হলো রেশম, আর শীতকালে...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والصيف، فأما الملوك فالجيّد من الحرير، ومن دونهم فعلى قدرهم، واذا كان الشتاء لبس «1» الرجل السراويلين «2» ، والثلاثة، والأربعة، والخمسة، وأكثر من ذلك على قدر ما يمكنهم، وانما قصدهم أن يدفوا أسافلهم لكثرة الندى وخوفهم منه، فأمّا الصيف فيلبسون القميص الواحد من الحرير ونحو ذلك ولا يلبسون العمائم وطعامهم الأرز، وربما طبخوا معه الكوشان «3» فصبّوه على الأرز فأكلوه، فأما الملوك منهم فيأكلون خبز الحنطة، واللحم من سائر الحيوان ومن الخنازير وغيرها.
ولهم من الفاكهة التفاح، والخوخ، والأترج، والرمان، والسفرجل، والكمثرى، والموز، وقصب السكر، والبطيخ، والتين، والعنب، والقثاء، والخيار، والنبق، والجوز، واللوز، والجلوز «4» ، والفستق، والاجاص، والمشمش، والغبيراء «5» ، والنارجيل، وليس لهم فيها كثير نخل إلّا النخلة في دار أحدهم.
وشرابهم النبيذ المعمول من الأرز، وليس في بلادهم خمر، ولا تحمل اليهم ولا يعرفونها ولا يشربونها ويعمل من الأرز الخلّ
...এবং গ্রীষ্মকাল; রাজাদের ক্ষেত্রে রেশমের মধ্যে যা উৎকৃষ্ট তা নির্ধারিত, আর যারা তাদের নিম্নমর্যাদার তাদের জন্য তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী। যখন শীতকাল আসে, তখন একজন ব্যক্তি দুই, তিন, চার, পাঁচ বা তার অধিক সালোয়ার পরিধান করে, যতটুকু তার পক্ষে সম্ভব হয়। তাদের উদ্দেশ্য হলো আর্দ্রতার আধিক্য এবং সেই আশঙ্কার কারণে শরীরের নিম্নাংশকে উষ্ণ রাখা। পক্ষান্তরে গ্রীষ্মকালে তারা রেশম বা অনুরূপ উপাদানের একটি মাত্র কামিজ পরিধান করে এবং তারা পাগড়ি পরিধান করে না। তাদের খাদ্য হলো চাল। অনেক সময় তারা এর সাথে 'কুশান' রান্না করে ভাতের ওপর ঢেলে দেয় এবং তা আহার করে। তাদের মধ্যে যারা রাজা, তারা গমের রুটি এবং শুকরসহ অন্যান্য সকল প্রাণীর মাংস আহার করে।
তাদের ফলমূলের মধ্যে রয়েছে আপেল, পিচ, বাতাবি লেবু, ডালিম, সফেদা, নাশপাতি, কলা, আখ, তরমুজ, ডুমুর, আঙুর, কাঁকুড়, শসা, কুল, আখরোট, কাঠবাদাম, চিলগোজা, পেস্তা, আলুবোখারা, খুবানি, ওলেস্টার ও নারিকেল। সেখানে তাদের অধিক খেজুর গাছ নেই, কেবল কারো কারো বাড়িতে হয়তো একটি খেজুর গাছ থাকতে পারে।
তাদের পানীয় হলো চাল থেকে প্রস্তুতকৃত নাবিয। তাদের দেশে আঙুরের মদ নেই, সেখানে তা বহন করে নেওয়া হয় না, তারা এটি চেনে না এবং পানও করে না। চাল থেকে সিরকাও তৈরি করা হয়।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতুস সীরাফী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
والنبيذ والناطف «1» وما أشبه ذلك، وليس لهم نظافة ولا يستنجون بالماء اذا أحدثوا بل يمسحون ذلك بالقراطيس الصينية ويأكلون الميتة وما أشبهها مما يصنعه المجوس فان دينهم يشبه دين المجوس، ونساءهم يكشفن رؤوسهن ويجعلن فيها الأمشاط فربما كان في رأس المرأة «2» عشرون مشطا من العاج وغير ذلك، والرجال يغطون رؤوسهم بشيء يشبه القلانس، وسنتهم في اللصوص أن يقتل اللصّ اذا أصيب «3» .
أخبار بلاد الهند والصّين أيضا وملوكهاأهل الهند والصّين مجمعون على أن ملوك الدنيا المعدودين أربعة.
فأول من يعدون من الأربعة: ملك العرب، وهو عندهم اجماع لا اختلاف بينهم فيه انه ملك أعظم الملوك وأكثرهم مالا وأبهاهم جمالا وانه ملك الدين الكبير الذي ليس فوقه شيء.
ثم يعدّ ملك الصين نفسه بعد [الملك بلهرا] ملك العرب.
ثم ملك الروم ثم بلهرا «4» ملك المخرّمى الآذان
...এবং নাবিজ ও নাতিফ এবং এই জাতীয় বস্তুসমূহ। তাদের মাঝে কোনো পরিচ্ছন্নতা নেই এবং মলমূত্র ত্যাগের পর তারা পানি দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করে না; বরং তারা চীনা কাগজ দিয়ে তা মুছে নেয়। তারা মৃত প্রাণী ও এই জাতীয় অন্যান্য বস্তু ভক্ষণ করে যা অগ্নিপূজকরা প্রস্তুত করে; কেননা তাদের ধর্ম অগ্নিপূজকদের ধর্মের সদৃশ। তাদের নারীরা মাথা অনাবৃত রাখে এবং তাতে চিরুনি লাগিয়ে রাখে। কোনো কোনো সময় একজন নারীর মাথায় হাতিদাঁত বা অন্য কিছুর তৈরি বিশটি চিরুনিও দেখা যায়। পুরুষরা টুপির মতো কোনো বস্তু দিয়ে মাথা ঢেকে রাখে। চোরদের ব্যাপারে তাদের দণ্ডবিধি হলো, চোর ধরা পড়লে তাকে হত্যা করা হয়।
ভারত ও চীন দেশ এবং তাদের রাজন্যবর্গের সংবাদভারত ও চীনের অধিবাসীরা এ বিষয়ে একমত যে, জগতের উল্লেখযোগ্য রাজা হলেন চারজন।
যাদের তারা গণনা করে তাদের মধ্যে প্রথম হলেন: আরবদের রাজা। তাদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, তিনি রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক বিত্তশালী এবং সৌন্দর্যে ও মহিমায় শ্রেষ্ঠতম। আর তিনি হলেন সেই মহান ধর্মের রাজা, যার উপরে আর কোনো কিছু নেই।
অতঃপর চীনের রাজা নিজেকে [রাজা বালহারা] আরবদের রাজার পর দ্বিতীয় রাজা হিসেবে গণ্য করেন।
তারপর রোমের রাজা, অতঃপর ছিদ্রায়িত কর্ণের অধিকারীদের রাজা বালহারা।