(খণ্ড: ১) শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা (মাতবূ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস ছালিছ) (পৃষ্ঠা: -)
شروط الصلاة وأركانها وواجباتها (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثالث)   (محمد بن عبد الوهاب)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: شروط الصلاة وأركانها وواجباتها (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثالث)

المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)

المحقق: عبد العزيز بن زيد الرومي، صالح بن محمد الحسن

الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: -

عدد الصفحات: 12

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সালাতের শর্তসমূহ, রুকনসমূহ এবং ওয়াজিবসমূহ (শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের রচনাবলির অন্তর্গত মুদ্রিত, তৃতীয় খণ্ড)   (মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: সালাতের শর্তসমূহ, রুকনসমূহ এবং ওয়াজিবসমূহ (শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের রচনাবলির অন্তর্গত মুদ্রিত, তৃতীয় খণ্ড)

লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমি আন-নাজদি (মৃ. ১২০৬ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল আজিজ বিন জাইদ আল-রুমি, সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-হাসান

প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজত্ব

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা (মাতবূ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস ছালিছ) (পৃষ্ঠা: ৩)
شروط الصلاة وأركانها وواجباتها

 

تأليف: محمد بن عبد الوهاب رحمه الله

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌شروط الصلاة تسعة:

الإسلام، والعقل، والتمييز، ورفع الحدث، وإزالة النجاسة، وستر العورة، ودخول الوقت، واستقبال القبلة، والنية. الشرط الأول: الإسلام، وضده الكفر 1 والكافر عمله مردود، ولو عمل أي عمل، والدليل قوله تعالى: {مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَنْ يَعْمُرُوا مَسَاجِدَ اللَّهِ شَاهِدِينَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ بِالْكُفْرِ أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ} 2 وقوله تعالى: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُوراً} 3.

الثاني: العقل وضده الجنون؛ والمجنون مرفوع عنه القلم حتى يُفيق. والدليل الحديث: "رُفِع القلم عن ثلاثة: النائم حتى يستيقظ والمجنون حتى يفيق، والصغير حتى يبلغ" 4.

الثالث: التمييز، وضده الصغر: وحده سبع سنين 5، ثم يؤمر بالصلاة

--------------------------------------------

1 في النسخة الخطية زيادة: "ولا تقبل الصلاة إلا من مسلم والدليل قوله تعالى: ومن يبتغ غير الإسلام دينا فلن يقبل منه وهو في الآخرة من الخاسرين.

2 سورة التوبة آية: 17.

3 سورة الفرقان آية: 23.

4 رواه أحمد في مسنده وأبو داود والنسائي وابن ماجه.

5 في النسخة الخطية: "فأكثر يؤمر..".
সালাতের শর্তাবলী, রুকনসমূহ এবং ওয়াজিবসমূহ

 

গ্রন্থনায়: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

‌‌সালাতের শর্ত নয়টি:

ইসলাম (الإسلام), বিবেক বা বুদ্ধি (العقل), প্রজ্ঞালব্ধ বয়স (التمييز), অপবিত্রতা দূরীকরণ (رفع الحدث), নাপাকি দূর করা (إزالة النجاسة), সতর বা লজ্জাস্থান আবৃত করা (ستر العورة), ওয়াক্ত শুরু হওয়া (دخول الوقت), কিবলামুখী হওয়া (استقبال القبلة) এবং নিয়ত (النية)। প্রথম শর্ত: ইসলাম (الإسلام), যার বিপরীত হলো কুফর (الكفر); আর কাফিরের আমল প্রত্যাখ্যাত (مردود), সে যে আমলই করুক না কেন। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: {মুশরিকরা আল্লাহর মসজিদ আবাদ করার যোগ্য নয় যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরির সাক্ষ্য দিচ্ছে। এদের আমলসমূহ বিনষ্ট হয়ে গেছে এবং তারা আগুনেই স্থায়ী হবে} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তাদের কৃতকর্মের দিকে অগ্রসর হব এবং সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব}।

দ্বিতীয় শর্ত: বিবেক বা বুদ্ধি (العقل), যার বিপরীত হলো উন্মাদনা (الجنون); আর পাগল সুস্থ হওয়া পর্যন্ত তার ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এর দলীল হলো হাদিস: "তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয় (يفيـق) এবং শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়"।

তৃতীয় শর্ত: প্রজ্ঞালব্ধ বয়স বা তামিয (التمييز), যার বিপরীত হলো শৈশব (الصغر): এর সময়সীমা হলো সাত বছর, এরপর তাকে সালাতের নির্দেশ প্রদান করা হবে।

--------------------------------------------

১. পাণ্ডুলিপিতে এটুকু অতিরিক্ত রয়েছে: "আর মুসলিম ব্যতীত কারো সালাত কবুল হবে না, যার দলীল মহান আল্লাহর বাণী: যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন অনুসন্ধান করবে, তবে তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"

২. সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১৭।

৩. সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ২৩।

৪. এটি আহমাদ তার মুসনাদ গ্রন্থে এবং আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

৫. পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "সাত বা তদুর্ধ্ব বয়স হলে তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে..."।
(খণ্ড: ১) শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা (মাতবূ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস ছালিছ) (পৃষ্ঠা: ৪)
لقوله صلى الله عليه وسلم: "مروا أبناءكم بالصلاة لسبع، واضربوهم عليها لعشر، وفرقوا بينهم في المضاجع" 1.

الشرط الرابع: رفع الحدث، وهو الوضوء المعروف وموجبه الحدث. وشروطه عشرة: الإسلام، والعقل، والتمييز، والنية، واستصحاب حكمها، بأن لا ينوي قطعها حتى تتم الطهارة، وانقطاع موجب، واستنجاء أو استجمار قبله، وطهورية ماء، وإباحته، وإزالة ما يمنع وصوله إلى البشرة، ودخول وقت على من حدثه دائم لفرضه.

"وأما فروضه" فستة: غسل الوجه، ومنه المضمضة والاستنشاق، وحدُّه طولا من منابت شعر الرأس إلى الذقن، وعرضا إلى فروع الأذنين، وغسل اليدين إلى المرفقين، ومسح جميع الرأس، ومنه الأذنان، وغسل الرجلين إلى الكعبين، والترتيب، والموالاة. والدليل قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} 2 الآية.

ودليل الترتيب الحديث: "ابدؤوا بما بدأ الله به 3 ".

ودليل الموالاة حديث صاحب اللُمعة عن النبي صلى الله عليه وسلم:

--------------------------------------------

1 رواه الحاكم بلفظ قريب من هذا، ورواه الإمام أحمد في المسند، وأبو داود في سننه.

2 سورة المائدة آية: 6.

3 رواه النسائي في سننه الكبير بهذا اللفظ، ورواه مسلم "أبدأ" بلفظ الخبر، ورواه أحمد وغيره بلفظ "نبدأ" بالنون.
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও, দশ বছর বয়সে তার জন্য তাদের প্রহার করো এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।" ১।

চতুর্থ শর্ত: অপবিত্রতা দূর করা (رفع الحدث), আর তা হলো সুপরিচিত অজু এবং এর কারণ হলো অপবিত্রতা (الحدث)। এর শর্ত দশটি: ইসলাম, আকল (বিবেচনা শক্তি), তামিয (ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা), নিয়ত, নিয়তের হুকুমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা (استصحاب), অর্থাৎ পবিত্রতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তা ছিন্ন করার নিয়ত না করা, যা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা হচ্ছে তা বন্ধ হওয়া, এবং এর পূর্বে ইসতিনজা অথবা ইস্তিঝমার করা, পানির পবিত্রতা (طهورية), পানির বৈধতা, চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে বাধা প্রদানকারী বস্তু দূর করা এবং যার সর্বদা অপবিত্রতা (حدثه دائم) থাকে তার জন্য ফরযের ওয়াক্ত প্রবেশ করা।

"আর এর ফরযসমূহ" ছয়টি: মুখমণ্ডল ধৌত করা, কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া এর অন্তর্ভুক্ত, এর সীমানা দৈর্ঘ্য বরাবর মাথার চুলের স্বাভাবিক উৎপত্তিস্থল থেকে থুতনি পর্যন্ত এবং প্রস্থে এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত; কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করা; পুরো মাথা মাসাহ করা এবং দুই কান এর অন্তর্ভুক্ত; টাখনু পর্যন্ত উভয় পা ধৌত করা; ধারাবাহিকতা (الترتيب) রক্ষা করা এবং বিরতিহীনতা (الموالاة) বজায় রাখা। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করো আর পাগুলো টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো} ২ আয়াত।

ধারাবাহিকতা (الترتيب) রক্ষার দলীল হলো হাদিস: "তোমরা তা দিয়েই শুরু করো যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন ৩।"

বিরতিহীনতা (الموالاة) বজায় রাখার দলীল হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত শরীরের শুকনো অংশ থাকা ব্যক্তি (صاحب اللمعة) সম্পর্কিত হাদিস:

--------------------------------------------

১ হাকিম এটি এর নিকটবর্তী শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমাদ মুসনাদে ও আবু দাউদ তাঁর সুনানে এটি বর্ণনা করেছেন।

২ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।

৩ নাসায়ি তাঁর সুনানুল কুবীরায় এই শব্দে বর্ণনা করেছেন, মুসলিম 'আবদা-উ' (أبدأ) সংবাদবাচক শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ ও অন্যান্যরা 'নাবদা-উ' (نبدأ) শব্দে নুন সহযোগে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা (মাতবূ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস ছালিছ) (পৃষ্ঠা: ৫)
أنه لما رأى رجلا في قدمه لُمعة قدر الدرهم لم يصبها الماء فأمره بالإعادة. (وواجبه التسمية مع الذكر) . 1 "ونواقضه ثمانية": الخارج من السبيلين، والخارج الفاحش النجس من الجسد 2 وزوال العقل، ومس المرأة بشهوة، ومس الفرج باليد 3 قبلا كان أو دبرا، وأكل لحم الجزور، وتغسيل الميت، والردة عن الإسلام. أعاذنا الله من ذلك.

الشرط الخامس. إزالة النجاسة من ثلاث: من البدن، والثوب، والبقعة، والدليل وقوله تعالى: {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ} 4.

الشرط السادس. ستر العورة. أجمع أهل العلم على فساد صلاة من صلى عريانا وهو يقدر. وحد عورة الرجل من السرة إلى الركبة، والأمة كذلك، والحرة كلها عورة إلا وجهها 5. والدليل قوله تعالى: {يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ} 6 أي عند كل صلاة.

--------------------------------------------

1 في النسخة الخطية تقديم هذه الجملة بعد قوله: "والموالاة".

2 عبارة النسخة الخطية: "والخارج من سائر الجسد إذا فحش".

3 في الخطية: "بالكف".

4 سورة المدثر آية: 4.

5 في المخطوطة زيادة "في الصلاة".

6 سورة الأعراف آية: 31.
তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) যখন এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার পায়ের পাতায় দিরহাম পরিমাণ এক টুকরো শুকনো স্থান রয়ে গেছে যেখানে পানি পৌঁছায়নি, তখন তিনি তাকে (অজু বা সালাত) পুনরায় করার নির্দেশ দিলেন। (এবং এর ওয়াজিব (واجب) হলো মনে থাকা অবস্থায় 'বিসমিল্লাহ' বলা)। ১ "আর অজু ভঙ্গের কারণসমূহ (نواقض) আটটি": দুই রাস্তা দিয়ে যা নির্গত হয়, শরীর থেকে নির্গত অধিক (فاحش) অপবিত্র (نجس) বস্তু ২, বিবেক-বুদ্ধি লোপ পাওয়া, কামভাবের সাথে নারীকে স্পর্শ করা, হাত দিয়ে লজ্জাস্থান ৩ স্পর্শ করা তা সামনের দিক হোক বা পিছনের দিক, উটের গোশত খাওয়া, মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুত হওয়া বা ধর্মত্যাগ (ردة)। আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন।

পঞ্চম শর্ত (شرط): তিনটি ক্ষেত্র থেকে অপবিত্রতা (نجاسة) দূর করা: শরীর, কাপড় এবং স্থান। এর দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন} ৪।

ষষ্ঠ শর্ত (شرط): সতর (عورة) ঢাকা। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও উলঙ্গ হয়ে সালাত আদায়কারীর সালাত বাতিল হওয়ার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন। পুরুষের সতরের (عورة) সীমানা হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত, দাসীর ক্ষেত্রেও অনুরূপ। আর স্বাধীন নারী সম্পূর্ণই সতর (عورة), তবে তার মুখমণ্ডল ব্যতীত ৫। এর দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সুন্দর পোশাক গ্রহণ করো} ৬ অর্থাৎ প্রত্যেক সালাতের সময়।

--------------------------------------------

১. হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে (نسخة خطية) এই বাক্যটি "ধারাবাহিকতা (موالاة)" এর বর্ণনার পর আনা হয়েছে।

২. হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ইবারত বা পাঠ (عبارة) হলো: "এবং শরীরের অবশিষ্ট অংশ থেকে নির্গত হওয়া যখন তা অধিক (فحش) হয়"।

৩. হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে আছে: "হাতের তালু দ্বারা (بالكف)"।

৪. সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪।

৫. হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে (مخطوطة) "সালাতের মধ্যে" কথাটি অতিরিক্ত রয়েছে।

৬. সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩১।
(খণ্ড: ১) শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা (মাতবূ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস ছালিছ) (পৃষ্ঠা: ৬)
الشرط السابع: دخول الوقت، والدليل من السنة حديث جبريل عليه السلام: "أنه أم النبي صلى الله عليه وسلم في أول الوقت، وفي آخره فقال: يا محمد: الصلاة بين هذين الوقتين" وقوله تعالى: { (إِنَّ الصَّلاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَاباً مَوْقُوتاً} 1 أي مفروضا في الأوقات. ودليل الأوقات قوله تعالى: {أَقِمِ الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوداً} 2.

الشرط الثامن: استقبال القبلة. والدليل قوله تعالى: {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ} 3.

الشرط التاسع: النية، ومحلها القلب، والتلفظ بها بدعة. والدليل: الحديث:4 "إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى" 5.

 

‌‌وأركان الصلاة أربعة عشر:

القيام مع القدرة، وتكبيرة الإحرام، وقراءة الفاتحة، والركوع، والرفع منه، والسجود على الأعضاء السبعة 6 والاعتدال منه، والجلسة بين السجدتين، والطمأنينة في جميع الأركان، والترتيب والتشهد الأخير، والجلوس له، والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، والتسليمتان.

--------------------------------------------

1 سورة النساء آية: 103.

2 سورة الإسراء آية: 78.

3 سورة البقرة آية: 144.

4 في النسخة الخطية: زيادة (الذي رواه عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) .

5 البخاري: بدء الوحي (1) ، ومسلم: الإمارة (1907) ، والترمذي: فضائل الجهاد (1647) ، والنسائي: الطهارة (75) والطلاق (3437) والأيمان والنذور (3794) ، وأبو داود: الطلاق (2201) ، وابن ماجه: الزهد (4227) ، وأحمد (1/25 ،1/43) .

6 في المخطوطة (على سبعة الأعضاء) .
সপ্তম শর্ত: সময় প্রবেশ করা। এর দলিল হলো সুন্নাহ থেকে জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদিস: "তিনি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সময়ের শুরুতে এবং শেষে ইমামতি করিয়েছেন এবং বলেছেন: হে মুহাম্মদ, সালাত এই দুই সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে।" আর মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত একটি আবশ্যিক ইবাদত} ১ অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে তা ফরজ করা হয়েছে। সময়ের দলিল হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: {সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করুন এবং ভোরের কুরআন পাঠ (সালাত) কায়েম করুন; নিশ্চয়ই ভোরের সালাত উপস্থিতির সময়} ২।

অষ্টম শর্ত: কিবলামুখী হওয়া। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আকাশের দিকে আপনার বারবার তাকানো আমি অবশ্যই লক্ষ্য করছি; সুতরাং আমি আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব, আপনি মাসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরান এবং তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তার দিকেই মুখ ফিরাও} ৩।

ননবম শর্ত: নিয়ত (النية), এর স্থান হলো অন্তর, আর তা মুখে উচ্চারণ করা বিদআত। এর দলিল হলো হাদিস: ৪ "সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে" ৫।

 

‌‌আর সালাতের রোকনসমূহ (أركان) চৌদ্দটি:

সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা, তাকবীরে তাহরিমা, সূরা ফাতিহা পাঠ করা, রুকু করা, রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করা ৬, সিজদা থেকে সোজা হয়ে বসা, দুই সিজদার মাঝখানে বসা, সকল রোকনের মধ্যে স্থিরতা (الطمانينة) অবলম্বন করা, ধারাবাহিকতা (الترتيب) বজায় রাখা, শেষ তাশাহহুদ, তার জন্য বসা, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা এবং দুই দিকে সালাম ফিরানো।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা আয়াত: ১০৩।

২ সূরা আল-ইসরা আয়াত: ৭৮।

৩ সূরা আল-বাকারাহ আয়াত: ১৪৪।

৪ পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত রয়েছে: (যা উমর বর্ণনা করেছেন (رواه), তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:)।

৫ বুখারি: ওহীর সূচনা (১), মুসলিম: ইমারাত (১৯০৭), তিরমিযি: জিহাদের ফজিলত (১৬৪৭), নাসায়ি: পবিত্রতা (৭৫), তালাক (৩৪৩৭) ও শপথ ও মানত (৩৭৯৪), আবু দাউদ: তালাক (২২০১), ইবনে মাজাহ: যুহদ (৪২২৭), আহমাদ (১/২৫, ১/৪৩)।

৬ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে (সাতটি অঙ্গের ওপর)।
(খণ্ড: ১) শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা (মাতবূ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস ছালিছ) (পৃষ্ঠা: ৭)
الركن الأول: القيام مع القدرة. والدليل قوله تعالى: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} 1.

الثاني. تكبيرة الإحرام. والدليل: الحديث: "تحريمها التكبير، وتحليلها التسليم" 2 وبعدها الاستفتاح- وهو سنة- قول: " سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك، وتعالى جدك ولا إله غيرك" ومعنى "سبحانك اللهم": أي أنزهك التنزيه اللائق بجلالك. "وبحمدك" أي ثناء عليك. "وتبارك اسمك" أي البركة تنال بذكرك 3. "وتعالى جدك": أي جلت عظمتك 4.

"ولا إله غيرك": أي لا معبود في الأرض ولا في السماء بحق سواك يا الله "أعوذ بالله من الشيطان الرجيم". معنى: "أعوذ" ألوذ وألتجئ وأعتصم بك يا الله. "من الشيطان الرجيم 5 " المطرود المبعد عن رحمة الله 6 "، لا يضرني في ديني ولا في دنياي.

وقراءة الفاتحة ركن في كل ركعة 7 كما في الحديث: "لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب" 8 وهي أم القرآن. (بسم الله الرحمن الرحيم) بركة واستعانة (الحمد لله) "الحمد" ثناء، والألف واللام لاستغراق جميع

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية: 238.

2 الترمذي: الطهارة (3) ، وابن ماجه: الطهارة وسننها (275) ، وأحمد (1/123 ،1/129) ، والدارمي: الطهارة (687) .

3 في المخطوطة "لا تنال إلا بذكرك".

4 في المخطوطة "أي ارتفع قدرك وعظم شأنك".

5 في المخطوطة "عن هذا الشيطان الرجيم".

6 في المخطوطة "عن رحمتك".

7 في المخطوطة "في كل صلاة".

8 البخاري: الأذان (756) ، ومسلم: الصلاة (394) ، والترمذي: الصلاة (247) ، والنسائي: الافتتاح (910 ،911) ، وأبو داود: الصلاة (822) ، وابن ماجه: إقامة الصلاة والسنة فيها (837) ، وأحمد (5/313 ،5/316 ،5/321) ، والدارمي: الصلاة (1242) .
প্রথম রুকন (ركن): সক্ষমতা থাকা সাপেক্ষে দণ্ডায়মান হওয়া। এর দলীল মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা সালাতসমূহের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে অনুগত হয়ে দণ্ডায়মান হও} ১।

দ্বিতীয়: তাকবীরে তাহরীমা। এর দলীল হলো হাদিস: "এর (সালাতের) নিষিদ্ধতা শুরু হয় তাকবীরের মাধ্যমে এবং এর সমাপ্তি ঘটে তাসলিমের মাধ্যমে" ২। এরপর ইস্তিফতাহ (প্রারম্ভিক দুআ) পাঠ করা—যা একটি সুন্নত (سنة)—বলা: "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা"। "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা" এর অর্থ: আমি আপনার মহান মর্যাদার উপযোগী পবিত্রতা ঘোষণা করছি। "ওয়া বিহামদিকা" অর্থাৎ আপনার প্রশংসা করছি। "ওয়া তাবারাকাসমুকা" অর্থাৎ আপনার যিকিরের মাধ্যমেই বরকত লাভ করা যায় ৩। "ওয়া তাআলা জাদ্দুকা" অর্থাৎ আপনার মহিমা অতি উচ্চ ৪।

"ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা" অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনি ছাড়া আসমান ও জমিনে সত্য কোনো উপাস্য নেই। "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম"। "আউযু" এর অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আপনার শরণাপন্ন হচ্ছি এবং আপনার মাধ্যমে সুরক্ষা কামনা করছি। "বিতাড়িত শয়তান (الشيطان الرجيم) ৫ থেকে" যে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত ও দূরীকৃত ৬, যাতে সে আমার দ্বীন ও দুনিয়ার কোনো ক্ষতি করতে না পারে।

সুরা ফাতিহা পাঠ করা প্রতিটি রাকাতে একটি রুকন (ركن) ৭, যেমনটি হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি কিতাবের মূল (ফাতিহা) পাঠ করল না, তার কোনো সালাত নেই" ৮। এটি উম্মুল কুরআন (কুরআনের জননী)। (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) বরকত ও সাহায্য কামনার জন্য। (আলহামদুলিল্লাহ) "আল-হামদ" হলো প্রশংসা, আর "আলিফ" ও "লাম" দ্বারা সমস্ত প্রকার প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত হওয়া বুঝায়।

--------------------------------------------

১. সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৮।

২. তিরমিজি: তাহারাত (৩), ইবনে মাজাহ: তাহারাত ও তার সুন্নতসমূহ (২৭৫), আহমাদ (১/১২৩, ১/১২৯), দারেমি: তাহারাত (৬৮৭)।

৩. পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "আপনার যিকির ছাড়া অন্য কোনোভাবে তা লাভ করা যায় না"।

৪. পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "অর্থাৎ আপনার মর্যাদা উচ্চ হয়েছে এবং আপনার শান মহান হয়েছে"।

৫. পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "এই বিতাড়িত শয়তান থেকে"।

৬. পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "আপনার রহমত থেকে"।

৭. পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে "প্রতিটি সালাতে"।

৮. বুখারি: আযান (৭৫৬), মুসলিম: সালাত (৩৯৪), তিরমিজি: সালাত (২৪৭), নাসায়ি: ইফতিতাহ (৯১০, ৯১১), আবু দাউদ: সালাত (৮২২), ইবনে মাজাহ: ইকামাতুস সালাত ওয়াস সুন্নাতু ফিহা (৮৩৭), আহমাদ (৫/৩১৩, ৫/৩১৬, ৫/৩২১), দারেমি: সালাত (১২৪২)।
(খণ্ড: ১) শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা (মাতবূ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস ছালিছ) (পৃষ্ঠা: ৮)
المحامد، وأما الجميل الذي لا صنع له فيه، مثل الجمال ونحوه، فالثناء به يسمى مدحا لا حمدا.

(رب العالمين) "الرب" هو المعبود الخالق الرازق 1 المالك المتصرف مربي جميع الخلق بالنعم. "العالمين" كل ما سوى الله عالم، وهو رب الجميع.

(الرحمن) رحمة عامة 2 جميع المخلوقات. (الرحيم) رحمة خاصة بالمؤمنين 3. والدليل قوله تعالى: {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيماً} 4.

(مالك يوم الدين) يوم الجزاء والحساب، يوم كل يجازى بعمله، إن خيرا فخير وإن شرا فشر. والدليل قوله تعالى: {وَمَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ ثُمَّ مَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ يَوْمَ لا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِنَفْسٍ شَيْئاً وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِلَّهِ} 5 والحديث عنه صلى الله عليه وسلم "الكيس من دان نفسه وعمل لما بعد الموت، والعاجز من أتبع نفسه هواها وتمنى على الله الأماني 6".

(إياك نعبد) أي لا نعبد غيرك، عهد بين العبد وبين ربه أن لا يعبد إلا إياه. (وإياك نستعين) عهد بين العبد وبين ربه أن لا يستعين بأحد غير الله.

(اهدنا الصراط المستقيم) معنى "اهدنا" دلنا وأرشدنا وثبتنا، و"الصراط" الإسلام، وقيل: الرسول، وقيل: القرآن، والكل حق. و"المستقيم" الذي لا عوج فيه. (صراط الذين أنعمت عليهم) طريق المنعم عليهم. والدليل قوله تعالى:

--------------------------------------------

1 الخالق الرازق زائدان عما في المخطوطة.

2 في الخطية "لجميع، المؤمنين".

3 في الخطية "لجميع، المؤمنين".

4 سورة الأحزاب آية: 43.

5 سورة الانفطار آية: 17-18-19.

6 رواه أحمد، والترمذي، وابن ماجه، والحاكم وصححه.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আর সেই সৌন্দর্য যাতে সৃষ্টির কোনো হাত নেই, যেমন রূপ-লাবণ্য ও অনুরূপ বিষয়সমূহ—সেগুলোর দ্বারা প্রশংসা করাকে ‘মাদহ’ বলা হয়, ‘হামদ’ নয়।

(জগতসমূহের প্রতিপালক) ‘রব’ হলেন তিনি যিনি মা’বুদ (উপাস্য), স্রষ্টা, রিযিকদাতা, মালিক, সকল বিষয়ের পরিচালক এবং স্বীয় নেয়ামত দ্বারা সকল সৃষ্টিকে লালনপালনকারী। ‘আলামীন’ বলতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুই জগত (আলাম), আর তিনি সকলের প্রতিপালক।

(পরম করুণাময়) যার দয়া সকল সৃষ্টির জন্য ব্যাপক। (অতি দয়ালু) যার দয়া মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: “আর তিনি মুমিনদের প্রতি অতি দয়ালু।”

(বিচার দিবসের মালিক) প্রতিদান ও হিসাবের দিবস; যেদিন প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হবে—ভালোর জন্য ভালো আর মন্দের জন্য মন্দ। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: “আর কিসে আপনাকে জানাবে বিচার দিবস কী? আবারও বলছি, কিসে আপনাকে জানাবে বিচার দিবস কী? সেদিন কেউ কারো জন্য কোনো উপকার করার মালিক হবে না এবং সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর।” আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে বর্ণিত হাদিস: “বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য আমল করে; আর অক্ষম সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে প্রবৃত্তির অনুগামী করে এবং আল্লাহর কাছে অবান্তর আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।”

(আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি) অর্থাৎ আমরা আপনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করি না; এটি বান্দা ও তার রবের মধ্যে একটি অঙ্গীকার যে, সে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে। (এবং একমাত্র আপনারই সাহায্য চাই) এটি বান্দা ও তার রবের মধ্যে একটি অঙ্গীকার যে, সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে না।

(আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন) ‘ইহদিনা’ শব্দের অর্থ হলো আমাদের পথ দেখান, সঠিক পথের দিশা দিন এবং তার ওপর অটল রাখুন। আর ‘সিরাত’ হলো ইসলাম; কারো মতে এটি রাসুল, আবার কারো মতে কুরআন—আর প্রতিটি মতই সঠিক। আর ‘মুস্তাকিম’ হলো তা যাতে কোনো বক্রতা নেই। (তাদের পথ যাদের আপনি নেয়ামত দান করেছেন) অর্থাৎ যাদের ওপর অনুগ্রহ করা হয়েছে তাদের পথ। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী:

--------------------------------------------

১. ‘স্রষ্টা’ ও ‘রিযিকদাতা’ শব্দ দুটি পাণ্ডুলিপির অতিরিক্ত অংশ।

২. হস্তলিখিত কপিতে রয়েছে “সকলের জন্য, মুমিনদের জন্য”।

৩. হস্তলিখিত কপিতে রয়েছে “সকলের জন্য, মুমিনদের জন্য”।

৪. সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪৩।

৫. সূরা আল-ইনফিতার, আয়াত: ১৭-১৮-১৯।

৬. এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ ও হাকেম এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা (মাতবূ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস ছালিছ) (পৃষ্ঠা: ৯)
{وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقاً} 1.

(غير المغضوب عليهم) وهم اليهود، معهم علم ولم يعملوا به. تسأل الله أن يجنبك طريقهم. (ولا الضالين) 2 وهم النصارى، يعبدون الله على جهل وضلال، تسأل الله أن يجنبك طريقهم. ودليل الضالين قوله تعالى: {قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالاً الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعاً أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآياتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْناً} 3 والحديث عنه صلى الله عليه وسلم "لتتَّبِعُنَّ سَنَنَ من [كان] قبلكم حذو القُذَّة بالقذة حتى لو دخلوا جحر ضب لدخلتموه، قالوا: يا رسول الله اليهود والنصارى؟ قال: فمن" أخرجاه.

والحديث الثاني: "افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، وافترقت النصارى على اثنتين وسبعين فرقة، وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة، كلها في النار إلا واحدة، قلنا: من هي يا رسول الله؟ قال: من كان على مثل ما أنا عليه 4 وأصحابي" 5.

والركوع، والرفع منه، والسجود على الأعضاء السبعة، والاعتدال منه، والجلسة بين السجدتين. والدليل قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ

--------------------------------------------

1 سورة النساء آية: 69.

2 في الخطية "والضالين".

3 سورة الكهف آية: 103-104-105.

4 في المخطوطة "ما أنا عليه اليوم وأصحابي".

5 رواه الأربعة، وقال الترمذي: حسن صحيح.
{আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ; আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না উত্তম।} ১।

(যাদের ওপর ক্রোধ অবতীর্ণ হয়নি) তারা হলো ইয়াহুদি, যাদের কাছে জ্ঞান ছিল কিন্তু তারা তা অনুযায়ী আমল করেনি। আপনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন তিনি আপনাকে তাদের পথ থেকে দূরে রাখেন। (আর যারা পথভ্রষ্ট নয়) ২ তারা হলো খ্রিষ্টান, তারা অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর ইবাদত করে; আপনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন তিনি আপনাকে তাদের পথ থেকে দূরে রাখেন। পথভ্রষ্টদের সপক্ষে দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি কি তোমাদেরকে আমলের দিক দিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সংবাদ দেব? তারা হলো ঐ সব লোক, দুনিয়ার জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে তারা ভালো কাজ করছে। তারাই তারা, যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলী ও তাঁর সাথে সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেছে, ফলে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে; সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোনো ওজন (মর্যাদা) স্থাপন করব না।} ৩ এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিস: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি পুরোপুরি অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। তারা (সাহাবিগণ) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের? তিনি বললেন: তবে আর কাদের?" তারা উভয়ে (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় হাদিস: "ইয়াহুদিরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে, খ্রিষ্টানরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে এবং এই উম্মত অচিরেই তেয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ছাড়া তারা সকলেই জাহান্নামি হবে। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: যারা আজ আমি এবং আমার সাহাবিগণ যে আদর্শের ওপর আছি, তার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।" ৫।

এবং রুকু করা, রুকু থেকে উঠা, সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করা, সিজদা থেকে সোজা হয়ে বসা এবং দুই সিজদার মাঝখানে বসা। এর দলিল মহান আল্লাহর বাণী: {হে ঈমানদারগণ...

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৯।

২. হস্তলিখিত কপিতে "ওয়াদ-দাল্লিন" শব্দবন্ধটি রয়েছে।

৩. সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ১০৩-১০৫।

৪. পাণ্ডুলিপিতে "আমি আজ যে আদর্শের ওপর আছি এবং আমার সাহাবিগণ" পাঠটি রয়েছে।

৫. চারজন ইমাম (সুনান গ্রন্থকারগণ) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে উত্তম (حسن) বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা (মাতবূ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস ছালিছ) (পৃষ্ঠা: ১০)
آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا} 1

والحديث عنه صلى الله عليه وسلم: "أُمِرْتُ أن أسجد على سبعة أعظم 2 " والطمأنينة في جميع الأفعال، والترتيب بين الأركان 3. والدليل حديث المسيء: عن أبي هريرة قال: "بينما نحن جلوس عند النبي صلى الله عليه وسلم إذ دخل رجل فصلى [فقام] 4 فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم قال: ارجع فصل فإنك لم تصل، فعلها ثلاثا، ثم قال: والذي بعثك بالحق نبيا لا أحسن غير هذا فعلمني، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: إذا قمت إلى الصلاة فكبِّرْ، ثم اقرأ ما تيسر معك من القرآن، ثم اركع حتى تطمئن راكعا، ثم ارفع حتى تعتدل 5 قائما، ثم اسجد حتى تطمئن ساجدا، ثم ارفع حتى تطمئن جالسا، ثم افعل ذلك في صلاتك كلها" 6.

والتشهد الأخير ركن مفروض، كما في الحديث عن ابن مسعود (قال: "كنا نقول قبل أن يفرض علينا التشهد: السلام على الله من عباده، السلام على جبريل وميكائيل" 7 وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تقولوا: السلام على الله عن عباده، فإن الله هو السلام 8 ولكن قولوا: التحيات لله والصلوات والطيبات، السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، السلام علينا وعلى عباد الله

--------------------------------------------

1 سورة الحج آية: 77.

2 رواه البخاري، ومسلم.

3 في المخطوطة تقديم الترتيب قبل الطمأنينة.

4 زيادة في المخطوطة.

5 في المخطوطة "تطمئن".

6 حديث صحيح: رواه البخاري ومسلم وغيرهما.

7 النسائي: السهو (1277) .

8 في المخطوطة زيادة "ومنه السلام".
{হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু করো এবং সেজদা করো} ১

এবং তাঁর (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "আমাকে সাতটি হাড়ের ওপর সেজদা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ২" এবং সকল কাজে স্থৈর্য (طمأنينة) বজায় রাখা এবং মৌলিক রোকনগুলোর (أركان) মাঝে ক্রমধারা (ترتيب) রক্ষা করা ৩। এর দলিল হলো 'সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির' হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একদা আমরা নবী (সা.)-এর নিকট বসা ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করল [অতঃপর দাঁড়াল] ৪ এবং নবী (সা.)-কে সালাম দিল। তিনি বললেন: ফিরে যাও এবং পুনরায় সালাত আদায় করো, কারণ তুমি সালাত আদায় করোনি। এভাবে তিনি তিনবার করলেন। অতঃপর লোকটি বলল: যাঁর ওপর সত্যসহ আপনি নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন তাঁর শপথ! আমি এর চেয়ে উত্তমভাবে করতে জানি না, অতএব আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন নবী (সা.) তাকে বললেন: যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে তখন তাকবির দেবে, অতঃপর কুরআনের যা তোমার কাছে সহজ মনে হয় তা পাঠ করবে, এরপর রুকুতে যাবে যতক্ষণ না রুকু অবস্থায় স্থির (تطمئن) হও, তারপর মাথা উঠাবে যতক্ষণ না সোজা হয়ে দাঁড়াও ৫, এরপর সেজদায় যাবে যতক্ষণ না সেজদাবনত অবস্থায় স্থির (تطمئن) হও, অতঃপর মাথা উঠাবে যতক্ষণ না বসা অবস্থায় স্থির (تطمئن) হও; এভাবে তোমার পুরো সালাতে তা করবে" ৬।

আর শেষ তাশাহহুদ পাঠ করা একটি ফরজ রোকন (ركن مفروض), যেমনটি ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে (তিনি বলেন: "আমাদের ওপর তাশাহহুদ ফরজ হওয়ার আগে আমরা বলতাম: আল্লাহর বান্দাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, জিবরাঈল ও মিকাইল-এর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক" ৭। তখন নবী (সা.) বললেন: "তোমরা 'আল্লাহর বান্দাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক' এ কথা বলো না, কারণ আল্লাহ নিজেই শান্তি ৮। বরং তোমরা বলো: অভিবাদন, সকল প্রার্থনা ও পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহর জন্য; হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক; আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেককার বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক...।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৭৭।

২ বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

৩ পাণ্ডুলিপিতে স্থৈর্য (طمأنينة)-এর আগে ক্রমধারা (ترتيب) উল্লেখ করা হয়েছে।

৪ পাণ্ডুলিপিতে বর্ধিত অংশ।

৫ পাণ্ডুলিপিতে "স্থির হও (تطمئن)" শব্দ রয়েছে।

৬ সহিহ (صحيح) হাদিস: বুখারি, মুসলিম এবং অন্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

৭ নাসাঈ: আস-সাহু (১২৭৭)।

৮ পাণ্ডুলিপিতে "আর তাঁর থেকেই শান্তি আসে" অতিরিক্ত অংশ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা (মাতবূ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস ছালিছ) (পৃষ্ঠা: ১১)
الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله 1".

ومعنى "التحيات" جميع التعظيمات لله ملكا واستحقاقا، مثل الانحناء والركوع والسجود والبقاء والدوام، وجميع ما يعظم به رب العالمين فهو لله، فمن صرف منه شيئا لغير الله فهو مشرك كافر.

و"الصلوات" معناها جميع الدعوات، وقيل: الصلوات الخمس. "والطيبات لله" الله طيب ولا يقبل من الأقوال والأعمال إلا طيبها. "السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته": تدعو للنبي صلى الله عليه وسلم بالسلامة والرحمة والبركة 2 والذي يدعى له ما يدعى مع الله. و "السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين": تسلم على نفسك وعلى كل عبد صالح في السماء والأرض. و "السلام" دعاء، و "الصالحون" يدعى لهم ولا يُدعَون مع الله. "أشهد أن لا إلا الله وحده لا شريك له" وأشهد أن محمدا عبده ورسوله: "تشهد شهادة اليقين ألا يُعبد في الأرض ولا في السماء بحق إلا الله، وشهادة أن محمدا رسول الله بأنه عبد لا يُعبد، ورسول لا يُكذَّب بل يطاع ويُتبع، شرفه الله بالعبودية. والدليل قوله تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيراً} 3 "اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد": الصلاة من الله ثناؤه على عبده في الملأ الأعلى، كما حكى البخاري في صحيحه عن أبي العالية قال: صلاة الله ثناؤه على عبده في الملأ الأعلى، وقيل: الرحمة. والصواب الأول4،

--------------------------------------------

1 رواه البخاري في صحيحه.

2 في الخطية زيادة "ورفع الدرجة".

3 سورة الفرقان الآية: 1.

4 في الخطية اختلاف يسير في اللفظ لا يحيل المعنى.
...নেককার বান্দাদের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল ১।"

এবং "আত্তাহিয়্যত" এর অর্থ হলো মহান আল্লাহর রাজত্ব ও তাঁর প্রাপ্য হিসেবে সকল প্রকার মহিমা প্রদর্শন করা; যেমন—বিনয় প্রকাশ, রুকু, সিজদা, স্থায়িত্ব ও চিরন্তনতা এবং রব্বুল আলামীনকে যে সকল বিষয়ের মাধ্যমে মহিমান্বিত করা হয়, তার সবটুকুই আল্লাহর জন্য। সুতরাং কেউ যদি এর কোনো অংশ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিবেদন করে, তবে সে অংশীবাদী (مشرك) ও অবিশ্বাসী (كافر) হিসেবে গণ্য হবে।

এবং "আস-সালাওয়াত" এর অর্থ হলো সকল প্রকার প্রার্থনা বা দোয়া; কারো মতে এর অর্থ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। "ওয়াত্তায়্যিবাতু লিল্লাহ" এর অর্থ হলো আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি কথা ও কাজের মধ্যে যা পবিত্র বা উত্তম তা ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। "আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিউ ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু": এর মাধ্যমে আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য নিরাপত্তা, রহমত ও বরকতের দোয়া করছেন ২ এবং যাঁর জন্য দোয়া করা হয়, তাঁকে আল্লাহর সাথে আহ্বান করা হয় না। আর "আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন": এর মাধ্যমে আপনি নিজের জন্য এবং আসমান ও জমিনের সকল নেককার বান্দার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছেন। আর "সালাম" হলো একটি দোয়া, আর "নেককারদের" জন্য দোয়া করা হয় কিন্তু তাঁদের আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে আহ্বান করা হয় না। "আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু" এবং "আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু": আপনি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আসমান ও জমিনে সত্য মাবুদ হিসেবে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়। আর সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তিনি আল্লাহর এমন একজন বান্দা যাঁর ইবাদত করা হয় না, বরং তিনি এমন একজন রসূল যাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যাবে না, বরং তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহ তাঁকে বন্দেগির মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {পরম কল্যাণময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে} ৩। "আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামিদ": আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো ফেরেশতাদের উচ্চ মজলিসে তাঁর বান্দার প্রশংসা করা, যেমনটি ইমাম বুখারি তাঁর সাহিহ গ্রন্থে আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর সালাত হলো ফেরেশতাদের উচ্চ মজলিসে তাঁর বান্দার প্রশংসা করা। কারো মতে এর অর্থ রহমত। তবে প্রথম মতটিই সঠিক ৪।

--------------------------------------------

১. বুখারি তাঁর সাহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন।

২. পাণ্ডুলিপিতে "এবং মর্যাদা বৃদ্ধি" কথাটি অতিরিক্ত রয়েছে।

৩. সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ১।

৪. পাণ্ডুলিপিতে শব্দগত সামান্য পার্থক্য রয়েছে যা অর্থের কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।
(খণ্ড: ১) শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা (মাতবূ দ্বিমনা মুআল্লাফাতিশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব, আল-জুযউস ছালিছ) (পৃষ্ঠা: ১২)
ومن الملائكة الاستغفار، ومن الآدميين الدعاء، و "بارك" وما بعدها سنن أقوال [وأفعال] .

‌‌والواجبات ثمانية: جميع التكبيرات غير تكبيرة الإحرام. وقول "سبحان ربي العظيم في الركوع"، و "قول سمع الله لمن حمده" للإمام والمنفرد، وقول "ربنا ولك الحمد" للكل، وقول: "سبحان ربي الأعلى" في السجود، وقول: "رب اغفر لي" بين السجدتين، والتشهد الأول والجلوس له.

فالأركان ما سقط منها سهوا أو عمدا بطلت الصلاة بتركه. والواجبات ما سقط منها عمدا بطلت الصلاة بتركه، وسهوا جبره السجود للسهو 1. والله أعلم.

--------------------------------------------

1 عبارة النسخة الخطية: والواجبات ما سقط منها سهوا جبره بسجود السهو وعمدا بطلت.
আর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে হলো ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار), এবং মানুষের পক্ষ থেকে হলো দোয়া (دعاء), আর "বারাক" ও তার পরবর্তী অংশগুলো হলো বাচনিক এবং [কার্যগত] সুন্নতসমূহ (سنن) ।

ওয়াজিবসমূহ (واجبات) আটটি: তাকবিরে তাহরিমা ব্যতীত সকল তাকবির (تكبيرات)। রুকুতে "সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম" বলা, ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলা, সকলের জন্য "রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ" বলা, সিজদায় "সুবহানা রাব্বিয়াল আলা" বলা, দুই সিজদার মাঝখানে "রাব্বিগফিরলি" বলা এবং প্রথম তাশাহহুদ (تشهد) ও তার জন্য উপবেশন।

অতএব রুকনসমূহ (أركان) হলো সেগুলো, যার কোনোটি ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করলে সালাত বাতিল হয়ে যায়। আর ওয়াজিবসমূহ (واجبات) হলো সেগুলো, যার কোনোটি ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করলে সালাত বাতিল হয়, আর ভুলবশত বর্জন করলে সাহু সিজদা (سجود السهو) তার ক্ষতিপূরণ করে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন (والله أعلم)।

--------------------------------------------

১. পাণ্ডুলিপির পাঠ্য অনুযায়ী: এবং ওয়াজিবসমূহ (واجبات) হলো তা, যা ভুলবশত বাদ পড়লে সাহু সিজদা (سجود السهو) দ্বারা তার ক্ষতিপূরণ করা হয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিলে তা বাতিল হয়ে যায়।