(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب آداب المشي إلى الصلاة أو العبادات (الصلاة، الزكاة، الصيام)   (محمد بن إبراهيم آل الشيخ)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: شرح كتاب آداب المشي إلى الصلاة أو العبادات (الصلاة، الزكاة، الصيام)

المؤلف: محمد بن إبراهيم بن عبد اللطيف آل الشيخ (ت 1389هـ)

المحقق: محمد بن عبد الرحمن ابن قاسم

الناشر: محمد بن عبد الرحمن بن قاسم، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1419هـ

عدد الصفحات: 233

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কিতাব আদাবুল মাশি ইলাস সালাত বা ইবাদতসমূহের (সালাত, জাকাত, সিয়াম) ব্যাখ্যা   (মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল শেখ)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


কিতাব: কিতাব আদাবুল মাশি ইলাস সালাত বা ইবাদতসমূহের (সালাত, জাকাত, সিয়াম) ব্যাখ্যা

লেখক: মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল লতিফ আল শেখ (মৃ. ১৩৮৯ হি.)

গবেষক: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান ইবনে কাসেম

প্রকাশক: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন কাসেম, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ৫)
شرح كتاب آداب المشي إلى الصلاة أو العبادات (الصَّلاة، الزكاة، الصّيَام)

من تقريرات الشيخ/ محمد بن إبراهيم آل الشيخ رحمه الله

جمعه ورتبه وعلق عليه وطبعه على نفقته: محمد بن عبد الرحمن بن قاسم

ال‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.

أما بعد: فهذا "كتاب العبادات" المسمى ب "آداب المشي إلى الصلاة" انتقاه الإمام المجدد الشيخ محمد بن عبد الوهاب، اجزل الله له الأجر والثواب: في أحكام الصلاة والزكاة والصيام، مقتدياً في تأليفه بقول الإمام أحمد رحمه الله: "يجب أن يَطْلُبَ من العلم ما يقوم به دينه. قيل: مثل أي شيء؟ قال: الذي لا يسعه جهله صلاته وصيامه ونحو ذلك". فذكر الشيخ أحكام "الصلاة" و"الزكاة" و"الصيام" وأضاف أشياء أخرى من آداب السلام والاستئذان وغيرها. ودلل على ذلك بما في الكتاب والسنة واجماع الأمة وأقوال العلماء المجتهدين. وجرده مما يوجد في كتب بعض المنتسبين إلى الأئمة الأربعة من أمور مبتدعة أو مرجوحة. وإن كانت قليلة. وبوبه، وخرج ما يراه محتاجاً إلى تخريج من الأحاديث التي أوردها وترك بعضها لشهرته.

فكان هذا الكتابُ مع اختصاره مثالاً للتحقيق في هذه العبادات، ومفيداً للمبتدئين والمتوسطين وأئمة المساجد قدوة المصلين.
'আদাবুল মাশি ইলাস সালাত' বা ইবাদত (সালাত, জাকাত, সিয়াম) কিতাবের ব্যাখ্যা

শায়খ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আলুশ শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনা ও বিশ্লেষণ থেকে

সংকলন, বিন্যাস, টীকা সংযোজন এবং নিজ ব্যয়ে প্রকাশ করেছেন: মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন কাসিম

ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের উপর।

অতঃপর: এটি হলো 'ইবাদত অধ্যায়' যা 'আদাবুল মাশি ইলাস সালাত' নামে পরিচিত, যা সংস্কারক ইমাম শায়খ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন) চয়ন করেছেন। এটি সালাত, জাকাত ও সিয়ামের বিধান সম্পর্কিত। তিনি এটি রচনার ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বাণীর অনুসরণ করেছেন: "ব্যক্তির জন্য ঐ পরিমাণ জ্ঞান অন্বেষণ করা ওয়াজিব যার মাধ্যমে তার দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকে। জিজ্ঞেস করা হলো: যেমন কী? তিনি বললেন: যে বিষয়গুলো সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা কোনোভাবেই বৈধ নয়, যেমন—তার সালাত, সিয়াম ও তদ্রূপ অন্যান্য বিষয়।" সুতরাং শায়খ এতে 'সালাত', 'জাকাত' ও 'সিয়ামের' বিধানসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং সালাম ও অনুমতি গ্রহণের আদবসহ অন্যান্য বিষয়ও সংযোজন করেছেন। তিনি এগুলোর স্বপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ, উম্মতের ইজমা এবং মুজতাহিদ আলেমদের বক্তব্য থেকে দলিল পেশ করেছেন। চার ইমামের অনুসারী দাবিদারদের কিতাবসমূহে যে সকল নব উদ্ভাবিত বা দুর্বল বিষয় বিদ্যমান ছিল—তা যদি পরিমাণে অল্পও হয়—তিনি এই কিতাবকে সেসব থেকে মুক্ত রেখেছেন। তিনি কিতাবটিকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছেন এবং বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে যেগুলোর সূত্রের নির্ভরযোগ্যতা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন মনে করেছেন তা করেছেন, আর প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে কিছু হাদিস বর্জন করেছেন।

ফলে সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এই কিতাবটি এই ইবাদতগুলোর ক্ষেত্রে গভীর গবেষণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হয়েছে এবং এটি শিক্ষার্থী, সাধারণ পাঠক এবং মুসল্লিদের অনুসরণীয় ব্যক্তিবর্গ তথা মসজিদের ইমামদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ৬)
وكان هذا المؤلف ومن انتفع بدعوته وكتبه ومن أخذ بتوجهاته ونصره من حكام آل سعود مثالاً حياً لصدر هذه الأمة المشهود لها بالخيرية: في العقائد والعبادات والمعاملات والحدود والجنايات والجهاد والأخلاق والآداب وكل ما له صلة بالإسلام. –خصوصاً في نجد- قال حفيده الشيخ محمد بن إبراهيم رحمه الله: "لم يُوجد إطباق على الخير مثل إطباق أهل نجد، أما أفراد فموجود كثير في المغرب وغيره". أهـ. فرحم الله هذا المؤلف وجزاه عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء.

এই গ্রন্থকার এবং যারা তাঁর দাওয়াত ও কিতাবসমূহ দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এবং যারা সউদ বংশের শাসকদের মধ্য থেকে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন ও তাঁকে সাহায্য করেছেন, তারা ছিলেন এই উম্মতের প্রথম যুগের এক জীবন্ত উদাহরণ, যাদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে: আকীদা, ইবাদত, লেনদেন, দণ্ডবিধি, অপরাধবিধি, জিহাদ, চরিত্র, শিষ্টাচার এবং ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে। —বিশেষ করে নজদ অঞ্চলে— তাঁর পৌত্র শাইখ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: "কল্যাণের ওপর এমন কোনো সামগ্রিক ঐকমত্য পাওয়া যায়নি যেমনটি নজদবাসীদের মাঝে পাওয়া গেছে; তবে ব্যক্তিবিশেষ হিসেবে মাগরিব ও অন্যান্য স্থানে অনেক সৎ ব্যক্তি বিদ্যমান রয়েছে।" সমাপ্ত। আল্লাহ এই গ্রন্থকারের প্রতি রহম করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تمهيد

…

هذا الشرح للشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ

ولما كان ذلك الكتاب كما وصفه سماحة شيخنا بقوله:" مهم جداً ولا سيما لطالب العلم المبتدي" اهـ. وكان أول كتاب يحفظه الطلاب في الفقه، ثم ينتقلون بعده إلى "زاد المستقنع، وشرحه" في عصره، ولأني كنت ممن يقرؤه ويستمع إلى تقريرات الشيخ عليه في عام تسعة وستين وعام سبعين وثلاثمائة وألف، وعرفت آنذاك قيمتهما العلمية، ولما أعلم من الثقة والقبول لمؤلفات المؤلف وغزارة علم الشارح، ولما قرأته في صحيح مسلم من قول ابن سيرين رحمه الله:"إن هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم" اهـ. ولمحبتي لحفظ العلم ونشره لذلك كله حرصت على تسجيل هذه التقريرات في دفاتري مرتين في عام (69 و70) وظلت هذه المدة –خمسين عاماً محفوظة عندي كغيرها من شروحات الشيخ وتقريراته وفوائده. ولولا لطف الله بي وبها وبشيخنا وتذكري قول الشاعر:

العلم صيد والكتابة قيده … قيد صيودك بالحبال الواثقة

لطارت في الهواء أو ندت في الصحراء؛ فلم يكن أحد يحفظها حرفياً أو يقيدها ويمتلك زمامها. ثم إني في عام ثمانية عشر وأربعمائة وألف استعنت الله في جمعها من دفاتري وتبييضها وترتيب عباراتها مع
ভূমিকা

...

এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আলুশ শাইখের।

যেহেতু এই বইটি এমন ছিল যেমনটি আমাদের সম্মানিত শাইখ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: "এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের জ্ঞানান্বেষীদের জন্য।" (সমাপ্ত)। এবং এটিই ছিল ফিকহ শাস্ত্রের প্রথম কিতাব যা ছাত্ররা মুখস্থ করত, এরপর তারা সেই যুগে "যাদুল মুসতাকনি’ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থের" দিকে ধাবিত হতো। আর যেহেতু আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যারা ১৩৬৯ ও ১৩৭০ হিজরি সালে এটি পাঠ করত এবং এর ওপর শাইখের ব্যাখ্যাসমূহ শ্রবণ করত, এবং আমি তৎকালীন সময়েই সেগুলোর জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলাম। এছাড়াও লেখকের রচনাবলির প্রতি যে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং ব্যাখ্যাকারীর জ্ঞানের যে গভীরতা আমি জানি, তার কারণে এবং সহীহ মুসলিমে বর্ণিত ইবনে সীরীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এই বাণীটি পাঠ করার কারণে যে: "নিশ্চয়ই এই জ্ঞানই হলো দ্বীন, অতএব তোমরা লক্ষ্য করো কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ।" (সমাপ্ত)। জ্ঞান সংরক্ষণ ও তা প্রচারের প্রতি আমার ভালোবাসার কারণে এবং এই সবকিছুর প্রেক্ষিতে আমি ১৩৬৯ ও ১৩৭০ হিজরি সালে দুইবার আমার নোটবুকগুলোতে এই ব্যাখ্যাগুলো লিপিবদ্ধ করতে সচেষ্ট হয়েছিলাম। এই দীর্ঘ সময়—অর্থাৎ পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত—এগুলো শাইখের অন্যান্য ব্যাখ্যা, আলোচনা ও ইলমি ফায়দাগুলোর মতো আমার নিকট সংরক্ষিত ছিল। যদি আমার প্রতি, এই ইলমের প্রতি এবং আমাদের শাইখের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ না থাকত এবং কবির এই উক্তিটি আমার স্মরণে না থাকত যে:

জ্ঞান হলো শিকার এবং লিখন হলো তার বন্ধনী... সুতরাং তোমার শিকারকে মজবুত রশি দিয়ে বেঁধে রাখো।

তবে তা বাতাসে উড়ে যেত কিংবা মরুভূমিতে হারিয়ে যেত; ফলে কেউই তা হুবহু মুখস্থ রাখতে পারত না কিংবা লিপিবদ্ধ করে তা আয়ত্তে রাখতে পারত না। অতঃপর আমি ১৪১৮ হিজরি সালে আমার নোটবুকগুলো থেকে এগুলো সংগ্রহ করতে, পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করতে এবং এর বাক্যগুলো সুবিন্যস্ত করতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি...
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ৮)
المتن، واختيار الأوضح والأشمل من عبارته، وقد أسوق العبارتين تتميماً للفائدة. وراجعت بعض العبارات استشكلتها وألفاظ الأحاديث التي ساقها، وعلقت على ما ترك من شرحه أو احتاج إلى زيادة إيضاح. فجاء شرحاً كاملاً موثقاً مختصراً جزل المعاني، قريباً لفهم المتعلم العامي. وكان الشيخ رحمه الله يأخذ بالأحوط فيما فيه خلاف معتبر، ذاكراً الخلاف في مسائل مهمة، مرجحاً الراجح ومضعفاً المرجوح بالأدلة وذلك من حسن نيته، ومحبته لتحقيق العلم ونشره والعلم به، ونصحه للراعي والرعية، فجزاه الله أفضل الجزاء. وأحمد الله على إعانتي وتوفيقي، وأسأله تعالى أن يجعل قصدي وعملي خالصاً لوجهه الكريم وأن ينفع بهذا الشرح كما نفع بمتنه إنه جواد بر رؤوف رحيم. وصلّى الله على نبينا محمد وآله وأصحابه أجمعين.

محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن قاسم
মূল পাঠ্য, এবং তার বর্ণনাগুলোর মধ্য থেকে অধিকতর স্পষ্ট ও ব্যাপক বিষয়টি নির্বাচন করা হয়েছে। কখনো কখনো উপকারের পূর্ণতার লক্ষ্যে আমি উভয় বর্ণনাকেই উল্লেখ করেছি। আমি এমন কিছু অভিব্যক্তি পর্যালোচনা করেছি যা আমার কাছে অস্পষ্ট মনে হয়েছে, এবং তাঁর উদ্ধৃত হাদিসগুলোর শব্দাবলিও যাচাই করেছি। তিনি যে বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা ছেড়ে দিয়েছিলেন অথবা যেগুলোর আরও ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, আমি সেগুলোর উপর টীকা প্রদান করেছি। ফলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ, তথ্যভিত্তিক, সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ ব্যাখ্যা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীর বোধগম্য। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) গ্রহণযোগ্য মতভেদের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলোতে মতভেদ উল্লেখ করতেন এবং দলিলের ভিত্তিতে শক্তিশালী মতকে প্রাধান্য দিতেন ও দুর্বল মতকে বর্জন করতেন। এটি ছিল তাঁর উত্তম নিয়ত, জ্ঞান অন্বেষণ ও তা প্রচারের প্রতি ভালোবাসা এবং শাসক ও প্রজাসাধারণের প্রতি তাঁর উপদেশের প্রতিফলন। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি আমাকে সাহায্য ও তাওফিক প্রদানের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার উদ্দেশ্য ও আমলকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ দ্বারা মানুষকে উপকৃত করেন, যেভাবে তিনি এর মূল পাঠ্য দ্বারা উপকৃত করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা, কল্যাণকামী, পরম দয়ালু ও অতি দয়ালু। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর উপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌كتاب الصلاة

‌‌باب آداب المشي إلى الصلاة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

ــ

باب آداب المشي إلى الصلاة

(بسم الله الرحمن الرحيم)

ابتدأ المصنف رحمه الله بالبسملة اقتداءً بالكتاب العزيز، وتأسياً بالنبي صلى الله عليه وسلم في مكاتباته ومراسلاته.

ألف المصنف رحمه الله هذا في "العبادات" واقتصر على آداب المشي إلى الصلاة وما بعده من صفة الصلاة إلى آخر الزكاة والصيام.

ولم يذكر الطهارة؛ لأن الكلام فيها يطول، والنواقض معروفة في مواضع أخر، وكذلك الحج معروف في المناسك.

ومهم جداً لطالب العلم، ولا سيما المبتدي، لا سيما صلاته: تفاصيلها، وأفعالها، ويعرف زاكته، وصيامه، فألف هذا مشتملاً على المذكورات.

س: هل المسمي له "آداب … " المصنف، أو غيره؟.

جـ: الذي يقؤب أنه ليس اسمه، وجعل للمصنف؛ لأنه ليس
সালাতের কিতাব

সালাতের দিকে যাওয়ার আদব সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ــ

সালাতের দিকে যাওয়ার আদব সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।)

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) সম্মানিত কিতাবের (কুরআনের) অনুসরণ করে এবং নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চিঠিপত্র ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ অনুসরণে 'বিসমিল্লাহ' দিয়ে শুরু করেছেন।

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) এটি "ইবাদত" সংক্রান্ত বিষয়ে রচনা করেছেন এবং সালাতের দিকে যাওয়ার আদব ও তার পরবর্তী সালাতের পদ্ধতি থেকে শুরু করে জাকাত ও সিয়ামের শেষ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

তিনি পবিত্রতা (তাহারাত) উল্লেখ করেননি; কারণ এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘ হয়, আর পবিত্রতা ভঙ্গের কারণগুলো অন্যান্য স্থানে সুপরিচিত, একইভাবে হজ্জও মানাসিক (হজ্জের নিয়মাবলী) কিতাবসমূহে সুপরিচিত।

এটি ইলম অন্বেষণকারীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শুরুর দিকের শিক্ষার্থীর জন্য, বিশেষ করে তার সালাত: এর বিস্তারিত বিবরণ, এর কার্যাবলি, এবং সে যেন তার জাকাত ও সিয়াম সম্পর্কে জানতে পারে, তাই তিনি উল্লিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে এটি রচনা করেছেন।

প্রশ্ন: এর নামকরণ কি "আদাব..." গ্রন্থকার করেছেন নাকি অন্য কেউ?

উত্তর: যা প্রতীয়মান হয় তা হলো এটি এর নাম নয়, বরং এটি গ্রন্থকারের প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে; কারণ এটি...
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ১০)
(باب آداب المشي إلى الصلاة)

(يسنُّ الخروج إليها متطهراً) ، (بخشوع) (لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا توضَّأ أحدكم فأحسن وضوءه ثم خرج عامداً إلى

ــ

مقصوده آداب المشي … فقط؛ بل المراد أحكام العبادات؛ لكن لما رؤي، (باب آادب المشي إلى الصلاة) سماه بعض الطلبة. إلاّ أن يوجد ما يدل على هذا1.

(يسنُّ الخروج إليها متطهراً) الصلاة مشروع فيها آداب يتأدب بها.

فإن ابن آدم شرع له آداب في مَحَالَ: منها هذا، أن لا يخرج إلى المسجد إلا كامل الطهارة. هذه هي السنة أن يتطهر في بيته.

(بخشوع) ظاهرٍ عليه الخشوع، وهو السكون والتذلل، كما قال تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنَّكَ تَرَى الْأَرْضَ خَاشِعَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ} [41/39] فدل على أن الخشوع ضد الارتفاع. يكون في خروجه ممشاه بخشوع، وهو كونه مستحضراً أن ذاهب إلى طاعة ربه وماجاته. يكون في قلبه ما يظهر على جوارحه.

والدليل على أنه سنة ما يأتي:

(لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا توضَّأ أحدكم فأحسن وضوءه ثم خرج عامداً إلى

--------------------------------------------

1 قلت: ومن أجل هذه التسمية اقتصر بعض من طبعه على ما يتعلق بالصلاة وترك الجنائز، والزكاة، والصيام.
(নামাজের দিকে গমনের আদবসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়)

(পবিত্রাবস্থায় নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া সুন্নাত), (বিনম্রভাবে) (কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন অজু করে এবং তার অজু সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে, অতঃপর সংকল্প নিয়ে বের হয়...)

—

উদ্দেশ্য কেবল গমনের আদবসমূহ … নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো ইবাদতের বিধানাবলি; কিন্তু যখন দেখা গেল, (নামাজের দিকে গমনের আদবসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়) তখন কোনো কোনো ছাত্র এর এই নামকরণ করেছেন। তবে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে ভিন্ন কথা১।

(পবিত্রাবস্থায় নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া সুন্নাত) নামাজে এমন কিছু আদব বিধিবদ্ধ রয়েছে যা দ্বারা শিষ্টাচার পালন করা হয়।

কেননা আদম সন্তানের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদব বা শিষ্টাচার নির্ধারিত হয়েছে: তার মধ্যে একটি হলো এটি যে, পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন ব্যতিরেকে সে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হবে না। এটিই সুন্নাত যে ব্যক্তি তার ঘরে পবিত্রতা অর্জন করবে।

(বিনম্রভাবে) তার ওপর বিনয় প্রকাশমান থাকবে, আর তা হলো স্থিরতা ও হীনতা প্রকাশ করা, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হলো এই যে, তুমি জমিনকে শুষ্ক (বিনত) দেখতে পাও, অতঃপর যখন আমি তার ওপর পানি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়} [৪১/৩৯]। এটি প্রমাণ করে যে বিনয় (খুশু) হলো উচ্চতার বিপরীত। তার বের হওয়া এবং চলার পথ বিনম্রতাপূর্ণ হতে হবে, আর তা এভাবে যে সে মনে জাগ্রত রাখবে যে সে তার রবের আনুগত্য এবং তাঁর সাথে গোপনে কথা বলার (মুনাজাতের) উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। তার অন্তরে যা রয়েছে তা যেন তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রকাশ পায়।

এটি সুন্নাত হওয়ার দলিল হলো যা সামনে আসছে:

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর কারণে: "যখন তোমাদের কেউ অজু করে এবং তার অজুকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে, অতঃপর সংকল্প নিয়ে বের হয়...)

--------------------------------------------

১ আমি বলছি: এই নামকরণের কারণেই এর কোনো কোনো মুদ্রণকারী শুধুমাত্র নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং জানাজা, জাকাত ও রোজা বাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ১১)
المسجد، فلا يشبكن بين أصابعه فإنه في صلاة") ، (وأن يقول إذا خرج من بيته -ولو لغير الصلاة- بسم الله، آمنت بالله، اعتصمت بالله، توكلت على الله، ولا حول ولا قوة إلا بالله، اللهم إني أعوذ بك أن أضل، أو أضل، أو أزل، أو أزل، أو أظلم، أو أظلم، أو أجهل، أو يجهل عليّ) ، (وأن يمشي إليها بسكينة، ووقار)

ــ

المسجد، فلا يشبكن بين أصابعه فإنه في صلاة") .

فهذا الحديث دل على أن السنة أن يتطهر في داره، وأن يخرج إليها بخشوع، وأنه لا ينبغي أن يشبك بين أصابعه، وذلك لأنه في صلاة، وفي المسجد أشد، وفي الصلاة أشد وأشد. وعلل ذلك بأنه "في صلاة" فالصلاة أولى، وأولى.

وقوله: "ثم خرج" دليل على أنه مشروع أن يتطهر قبل.

(وأن يقول إذا خرج من بيته -ولو لغير الصلاة- بسم الله، آمنت بالله، اعتصمت بالله، توكلت على الله، ولا حول ولا قوة إلا بالله، اللهم إني أعوذ بك أن أضل، أو أضل، أو أزل، أو أزل، أو أظلم، أو أظلم، أو أجهل، أو يجهل عليّ) .

يندب إذا خرج من بيته ولو لغير الصلاة أن يقول: اللهم … إلى آخره. وأهم مخارجه للصلاة، وإلا فيقوله عند كل مخرج.

(وأن يمشي إليها بسكينة، ووقار) .

يندب أن يمشي بسكينة ووقار، ولا يمشي بانزعاج واندفاع.
মসজিদ, সুতরাং সে যেন তার আঙুলগুলো একটির মধ্যে অন্যটি না ঢোকায় (তাশবিক না করে), কারণ সে সালাতের মধ্যে আছে") , (এবং সে যখন তার ঘর থেকে বের হবে—তা সালাত ছাড়া অন্য কিছুর জন্য হলেও—যেন বলে: আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম, আল্লাহর নিকট আশ্রয় নিলাম, আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (গুনাহ থেকে) ফেরার এবং (ইবাদত করার) কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আমি পথভ্রষ্ট না হই অথবা আমাকে পথভ্রষ্ট করা না হয়, আমি যেন পদস্খলিত না হই অথবা আমার পদস্খলন ঘটানো না হয়, আমি যেন জুলুম না করি অথবা আমার ওপর জুলুম করা না হয়, আমি যেন মূর্খতা না করি অথবা আমার প্রতি মূর্খতাসুলভ আচরণ করা না হয়), (এবং সে যেন সেদিকে ধীরস্থিরতা ও গাম্ভীর্যের সাথে হেঁটে যায়)

--

মসজিদ, সুতরাং সে যেন তার আঙুলগুলো একটির মধ্যে অন্যটি না ঢোকায়, কারণ সে সালাতের মধ্যে আছে")।

এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, সুন্নাত হলো নিজ গৃহে পবিত্রতা অর্জন করা এবং বিনয়ের সাথে সেদিকে বের হওয়া। আর তার জন্য আঙুলগুলো একটির সাথে অন্যটি ঢোকানো বা জট পাকানো উচিত নয়; এর কারণ হলো সে তখন সালাতের মধ্যে আছে। মসজিদের ভেতর এটি আরও অধিক বর্জনীয়, আর সালাতের মধ্যে তো এটি আরও অনেক বেশি বর্জনীয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, সে "সালাতের মধ্যে আছে", সুতরাং খোদ সালাতে এটি পরিহার করা অধিকতর কাম্য।

এবং তাঁর উক্তি: "অতঃপর বের হলো" এটি প্রমাণ করে যে, আগেভাগেই পবিত্রতা অর্জন করা শরিয়তসম্মত।

(এবং ঘর থেকে বের হওয়ার সময়—তা সালাত ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে হলেও—যেন বলে: আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ঈমান আনলাম, আল্লাহর নিকট আশ্রয় নিলাম, আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আমি পথভ্রষ্ট না হই অথবা আমাকে পথভ্রষ্ট করা না হয়, আমি যেন পদস্খলিত না হই অথবা আমার পদস্খলন ঘটানো না হয়, আমি যেন জুলুম না করি অথবা আমার ওপর জুলুম করা না হয়, আমি যেন মূর্খতা না করি অথবা আমার প্রতি মূর্খতাসুলভ আচরণ করা না হয়)।

ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মুস্তাহাব হলো বলা: হে আল্লাহ ... শেষ পর্যন্ত, এমনকি যদি তা সালাত ছাড়া অন্য কোনো কারণেও হয়। আর সালাতের জন্য বের হওয়াটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, নতুবা প্রতিটি বের হওয়ার সময়ই এটি বলা উচিত।

(এবং সে যেন সেদিকে ধীরস্থিরতা ও গাম্ভীর্যের সাথে হেঁটে যায়)।

মুস্তাহাব হলো ধীরস্থিরতা ও গাম্ভীর্যের সাথে হাঁটা, তাড়াহুড়ো বা অস্থিরতার সাথে না হাঁটা।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ১২)
(لقوله صلى الله عليه وسلم: "وإذا سمعتم الإقامة فامشوا وعليكم السكينة، فما أدركتم فصلوا وما فاتكم فاقضوا") ، (وأن يقارب بين خطاه) ، (ويقول: "اللهم إني أسألك بحق السَّائلين عليك وبحق ممشايَ هذا فإني لم أخرج أشراً ولا بطراً ولا رياءً ولا سمعةً خرجت اتقاءََ سخطك وابتغاءَ مرضاتك أسألك أن تنقذني من النار وأن تغفر لي ذنوبي جميعاً إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت") ،

ــ

والسكينة: المراد بها عدم الاضطراب وإكثار الحركات. والوقار: المراد به الاحتشام من عدم الالتفات أو عدم إكثار الالتفات، ومن عدم رفع الصوت عندما يتكلم وأشباه ذلك مما هو من الوقار.

(لقوله صلى الله عليه وسلم: "وإذا سمعتم الإقامة فامشوا وعليكم السكينة، فما أدركتم فصلوا وما فاتكم فاقضوا") . هذا الحديث دال على ما تقدم. (وأن يقارب بين خطاه) . والخُطوة بالضم الخطيئة. لما جاء في الحديث: ".. وذلك أنه إذا توضأ فأحسن الوضوء ثم خرج إلى المسجد لا يخرجه إلا الصلاة لم يخط خطوة إلا رفعت له بها درجة وحط عنه بها خطيئة" الحديث. وإذا كان هكذا علم أنه يكثر بكثرة الخُطا، ويحصل بالمقاربة بين الخطا، بخلاف ما إذا لم يقصر الخطا فإنه يقصر ما ذكر من رفع الدرجات وتكفير السيئات نسبياً.

(ويقول: "اللهم إني أسألك بحق السَّائلين عليك وبحق ممشايَ هذا فإني لم أخرج أشراً ولا بطراً ولا رياءً ولا سمعةً خرجت اتقاءََ سخطك وابتغاءَ مرضاتك أسألك أن تنقذني من النار وأن تغفر لي ذنوبي جميعاً إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت") .
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: "যখন তোমরা ইকামাত শুনতে পাবে, তখন তোমরা হেঁটে আসবে এবং তোমাদের ওপর ধীরস্থিরতা বজায় রাখা আবশ্যক। অতঃপর তোমরা সালাতের যতটুকু অংশ পাবে তা আদায় করবে, আর যা তোমাদের থেকে ছুটে যাবে তা পূর্ণ করবে"), (এবং সে যেন তার পদক্ষেপগুলো কাছাকাছি রাখে), (এবং সে বলবে: "হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে যাচ্ঞাকারীদের অধিকারের উসিলায় এবং আমার এই পদব্রজে চলার উসিলায় প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আমি কোনো অহংকার, দম্ভ, লোক-দেখানো বা সুখ্যাতির উদ্দেশ্যে বের হইনি। আমি বের হয়েছি আপনার ক্রোধ থেকে বাঁচতে এবং আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্বেষণে। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনি আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন এবং আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি ব্যতীত আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না"),

ــ

আর সাকিনাহ (ধীরস্থিরতা): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অস্থিরতা বর্জন করা এবং অধিক নড়াচড়া না করা। আর ওয়াকার (গাম্ভীর্য): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সংযত থাকা, যেমন এদিক-ওদিক না তাকানো বা বারবার না তাকানো, কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর উঁচু না করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো যা গাম্ভীর্যের অন্তর্ভুক্ত।

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: "যখন তোমরা ইকামাত শুনতে পাবে, তখন তোমরা হেঁটে আসবে এবং তোমাদের ওপর ধীরস্থিরতা বজায় রাখা আবশ্যক। অতঃপর তোমরা সালাতের যতটুকু অংশ পাবে তা আদায় করবে, আর যা তোমাদের থেকে ছুটে যাবে তা পূর্ণ করবে")। এই হাদিসটি পূর্বোক্ত বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে। (এবং সে যেন তার পদক্ষেপগুলো কাছাকাছি রাখে)। আর 'খুতওয়াহ' (পেশ সহযোগে) অর্থ হলো পাপ (মোচন)। যেহেতু হাদিসে এসেছে: "..আর তা একারণে যে, যখন সে সুন্দরভাবে ওযু করে, অতঃপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়—সালাত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার থাকে না—তখন সে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং তার একটি করে পাপ মোচন করা হয়" (হাদিস)। বিষয়টি যখন এরূপ, তখন জানা গেল যে, পদক্ষেপের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে সওয়াব বৃদ্ধি পায়, যা কদমগুলো কাছাকাছি রাখার মাধ্যমে অর্জিত হয়। পক্ষান্তরে যখন সে পদক্ষেপ ছোট না করে, তখন মর্যাদা বৃদ্ধি এবং গুনাহ মোচনের উল্লিখিত বিষয়টি আনুপাতিকভাবে কমে যায়।

(এবং সে বলবে: "হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে যাচ্ঞাকারীদের অধিকারের উসিলায় এবং আমার এই পদব্রজে চলার উসিলায় প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আমি কোনো অহংকার, দম্ভ, লোক-দেখানো বা সুখ্যাতির উদ্দেশ্যে বের হইনি। আমি বের হয়েছি আপনার ক্রোধ থেকে বাঁচতে এবং আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্বেষণে। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনি আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন এবং আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি ব্যতীত আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না")।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ১৩)
(ويقول: اللَّهم اجعل في قلبي نوراً، وفي لساني نوراً، واجعل في بصري نوراً، وعن يميني نوراً، وعن شمالي نوراً، وفوفي نوراً، وتحتي نوراً، اللهمَّ أعطني نوراً) ، (فإذا دخل المسجد استحب له أن يقدم رجله اليمنى) ، (ويقول: بسم الله، أعوذ بالله العظيم، وبوجهه الكريم، وبسلطانه

ــ

يندبأن يقول: اللهم إني أسألك بحق السائلين عليك إلى آخره. وهو الإثابة. فإجابة الداعين وإثابتهم من جملة أسمائه وصفاته، فدعاؤه بذلك من جملة دعائه بأسمائه وصفاته. فما في هذا الحديث تشهد له الآيات.

(ويقول: اللَّهم اجعل في قلبي نوراً، وفي لساني نوراً، واجعل في بصري نوراً، وعن يميني نوراً، وعن شمالي نوراً، وفوفي نوراً، وتحتي نوراً، اللهمَّ أعطني نوراً) .

يندب أن يقول ذلك؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما حين بات عند النبي صلى الله عليه وسلم في بيت خالته ميمونة، فروى من صلاته وخروجه، وذكر أنه قال: اللهم … إلى آخره. فدل على أن من الأدعية المشروعة هذا الدعاء. وسؤاله أن يجعله؛ لأن تلك إذا نور عليها بنور استقامت على الطاعة، وسلمت من المعاصي. وجاء الحديث: "أن الله تعالى خلق خلقه في ظلمة فألقى عليهم من نوره، فمن أصاله من ذلك النور يومئذ اهتدى، ومن أخطأه ضل".

(فإذا دخل المسجد استحب له أن يقدم رجله اليمنى) والنبي صلى الله عليه وسلم كان يعجبه التيمن في شأنه كله. وتقديم اليمنى هنا لشرفها، وتأخيرها عند الخروج تقديم لها في المعنى.

(ويقول: بسم الله، أعوذ بالله العظيم، وبوجهه الكريم، وبسلطانه
(এবং সে বলবে: হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর দিন, আমার জিহ্বায় নূর দিন, আমার দৃষ্টিতে নূর দিন, আমার ডানে নূর দিন, আমার বামে নূর দিন, আমার উপরে নূর দিন এবং আমার নিচে নূর দিন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন।) , (অতঃপর যখন সে মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন তার জন্য ডান পা আগে বাড়ানো মুস্তাহাব।) , (এবং বলবে: আল্লাহর নামে, আমি মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, এবং তাঁর মহিমান্বিত চেহারার মাধ্যমে, এবং তাঁর ক্ষমতার মাধ্যমে

ــ

বলা মুস্তাহাব: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আবেদনকারীদের হকের উসিলায় প্রার্থনা করছি... শেষ পর্যন্ত। আর তা হলো প্রতিদান প্রদান করা। কেননা আহ্বানকারীদের ডাকে সাড়া দেওয়া এবং তাদের প্রতিদান দেওয়া আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এর মাধ্যমে প্রার্থনা করা তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাধ্যমে প্রার্থনা করারই অন্তর্ভুক্ত। এই হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে, কোরআনের আয়াতসমূহ তার সাক্ষ্য দেয়।

(এবং সে বলবে: হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর দিন, আমার জিহ্বায় নূর দিন, আমার দৃষ্টিতে নূর দিন, আমার ডানে নূর দিন, আমার বামে নূর দিন, আমার উপরে নূর দিন এবং আমার নিচে নূর দিন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন।)

এটি বলা মুস্তাহাব; ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, যখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তাঁর খালা মাইমুনার ঘরে রাত যাপন করেছিলেন। তিনি তাঁর সালাত ও বের হওয়া সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তিনি (নবী) বলেছিলেন: হে আল্লাহ … শেষ পর্যন্ত। এটি প্রমাণ করে যে, এই দুআটি শরয়ি দুআসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি করার প্রার্থনার কারণ হলো: যখন এগুলোর ওপর নূর বর্ষিত হয়, তখন সেগুলো ইবাদতের ওপর অবিচল থাকে এবং পাপাচার থেকে রক্ষা পায়। হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর মাখলুককে অন্ধকারের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তাদের ওপর তাঁর নূরের ছিটা দিয়েছেন। সেদিন যার ওপর সেই নূর পড়েছে সে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে, আর যার ওপর তা পড়েনি সে পথভ্রষ্ট হয়েছে।"

(অতঃপর সে যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন তার জন্য ডান পা আগে বাড়ানো মুস্তাহাব) আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রতিটি কাজে ডান দিককে পছন্দ করতেন। আর এখানে ডান পা আগে দেওয়ার কারণ হলো এর মর্যাদা, এবং বের হওয়ার সময় একে পেছনে রাখা মূলত সম্মানের দিক থেকে অগ্রগণ্য করারই নামান্তর।

(এবং সে বলবে: আল্লাহর নামে, আমি মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, এবং তাঁর মহিমান্বিত চেহারার মাধ্যমে, এবং তাঁর ক্ষমতার মাধ্যমে
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ১৪)
القديم من الشيطان الرجيم، اللهمَّ صلِّ على محمد، اللهمَّ اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك. وعند خروجه يقدم رجله اليسرى ويقول: … وافتح لي أبواب فضلك) ، (وإذا دخل المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين) ،

ــ

القديم من الشيطان الرجيم، اللهمَّ صلِّ على محمد، اللهمَّ اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك. وعند خروجه يقدم رجله اليسرى ويقول: … وافتح لي أبواب فضلك) .

فالدخول والخروج مجتمع مفترق. فالمجتمع أن الداخل والخارج اتفقا في قول: اللهم اغفر لي ذنوبي، وافترقا في قول: فضل، ورحمة. لأن الداخل متعرض لأبواب الرحمة في تأدية الصلاة وقبولها. والخارج قد وفر الوقت وصلاها، وقد طلب الفضائل فناسب أن يقول: وافتح لي أبواب فضلك.

(وإذا دخل المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين) . يعني: مشروع أن يبادر إلى ركعتين قبل أن يجلس، وهما تحية المسجد.

لقول صلى الله عليه وسلم: " إذا دخل أحدكم المسجد فلا يجلس حى يصلي ركعتين"، وقد روي: "أعطوا المساجد حقها"، قيل: وما حقها؟ قال: "ركعتين قبا أن يجلس"؛ فدل على أنها حق للمساجد وحظ لها، كما أن تحية منى رمي الجمرة فلا يبدأ بشيء قب ذلك كما فعل النبي صلى الله عليه وسلم في حجته.

ومحلها قبل الجلوس، فإن جلس وطال الزمان فإنها سنة فات محلها. أما إن قرب الزمان فيقوم فيصليها بدليل الذي جلس والنبي صلى الله عليه وسلم قائم يخطب فقال له: "أصليت قبل أن تجلس؟ قال: لا. قال: قم
বিতাড়িত শয়তান থেকে (আল্লাহর) অনাদি সত্তার মাধ্যমে (আশ্রয় প্রার্থনা করছি), হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন। আর বের হওয়ার সময় সে তার বাম পা আগে বাড়াবে এবং বলবে: … এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাসমূহ খুলে দিন। (এবং যখন সে মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে)।

—

বিতাড়িত শয়তান থেকে (আল্লাহর) অনাদি সত্তার মাধ্যমে (আশ্রয় প্রার্থনা করছি), হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন। আর বের হওয়ার সময় সে তার বাম পা আগে বাড়াবে এবং বলবে: … এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাসমূহ খুলে দিন।

সুতরাং প্রবেশ এবং প্রস্থানের বিষয়টি একদিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং অন্য দিক থেকে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো, প্রবেশকারী এবং প্রস্থানকারী উভয়ই এই কথা বলার ক্ষেত্রে একমত যে: "হে আল্লাহ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন"। আর তারা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে "অনুগ্রহ" (ফদল) এবং "রহমত" শব্দের ক্ষেত্রে। কারণ প্রবেশকারী ব্যক্তি সালাত সম্পাদন এবং তা কবুল হওয়ার মাধ্যমে রহমতের দরজাসমূহের সম্মুখীন হয়। আর প্রস্থানকারী ব্যক্তি সময় ব্যয় করে সালাত আদায় সম্পন্ন করেছে এবং সে এখন অতিরিক্ত ফযিলত বা অনুগ্রহ অনুসন্ধান করছে, তাই তার জন্য এটিই সঙ্গতিপূর্ণ যে সে বলবে: "এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাসমূহ খুলে দিন।"

(এবং যখন সে মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে)। অর্থাৎ: বসার পূর্বে দুই রাকাত সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে দ্রুততা অবলম্বন করা শরয়ি বিধান, আর তা হলো তাহিয়্যাতুল মসজিদ (মসজিদের অভিবাদন)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: "যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে"। এবং বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা মসজিদসমূহকে তাদের হক প্রদান করো"। জিজ্ঞেস করা হলো: তাদের হক কী? তিনি বললেন: "বসার পূর্বে দুই রাকাত (সালাত আদায় করা)"। এটি প্রমাণ করে যে, এটি মসজিদের একটি হক ও প্রাপ্য। ঠিক যেমন মিনার অভিবাদন হলো জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা, তাই এর আগে অন্য কোনো কিছু শুরু করা হয় না, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হজের সময় করেছিলেন।

আর এর সময় হলো বসার আগে। যদি কেউ বসে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়, তবে এটি এমন এক সুন্নত যার সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। তবে যদি অল্প সময় অতিবাহিত হয়, তবে সে উঠে তা আদায় করবে। এর দলিল হলো সেই ব্যক্তি যে বসে পড়েছিল অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি তাকে বললেন: "তুমি কি বসার আগে সালাত আদায় করেছ?" সে বলল: "না"। তিনি বললেন: "দাঁড়াও..."
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ১৫)
(ويشتغل بذكر الله) ، (أو يسكت) ، (ولا يخوض في حديث الدنيا) ، (فما دام كذلك فهو في صلاة) ، (والملائكة تستغفر له ما لم يؤذ أو يحدث) .

ــ

فاركع ركعتين". فدل على أن الرجل إذا دخل المسجد وجلس فانتبه أو نبه فإنه يقوم ويصلي. أما إذا طال فلا. وذلك أنه مطلوب الصلاة قبل الجلوس. وهنا حصل الجلوس وطال، وفرق بين الطويل والقصير.

وإذا صلى راتبة الفجر في بيته ثم أتى المسجد فالأولى أن يصلي تحية المسجد.

(ويشتغل بذكر الله) . فإذا كان في المسجد وصلى تحيته فينبغي له أن يشتغل بذكر الله من تلاوة القرآن -وهو أفضل الأذكار القولية- والتسبيح، والتحميد، والحوقلة، ودعاء الله، وسؤاله المغفرة، ونحو ذلك.

(أو يسكت) فإن لم يكن فينبغي له أن يصمت، وذلك أنه في هذه الحالة في صلاة.

(ولا يخوض في حديث الدنيا) إذا كان كذلك فكيف يفعل ما هو من أعمال الدنيا.

(فما دام كذلك فهو في صلاة) بالقوة، كما جاء في الحديث.

(والملائكة تستغفر له ما لم يؤذ أو يحدث) فإذا جاء إلى المسجد متطهراً وصلى واشتغل بالذكر فإنه في صلاة، فإن لم يفعل فيسكت، فإنه في صلاة، كما تقدم.
(এবং আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকবে), (অথবা নীরব থাকবে), (এবং পার্থিব কথাবার্তায় লিপ্ত হবে না), (যতক্ষণ সে এই অবস্থায় থাকবে, ততক্ষণ সে সালাতের মধ্যেই গণ্য হবে), (এবং ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে যতক্ষণ না সে কাউকে কষ্ট দেয় অথবা তার ওযু নষ্ট হয়)।

—

"অতএব তুমি দুই রাকাত সালাত আদায় করো।" এটি প্রমাণ করে যে, কোনো ব্যক্তি যদি মসজিদে প্রবেশ করে বসে পড়ে, অতঃপর সে নিজে সচেতন হয় অথবা তাকে কেউ সতর্ক করে দেয়, তবে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। কিন্তু যদি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তবে আর করবে না। কারণ, বসার পূর্বেই সালাত আদায় করা কাম্য ছিল। আর এখানে বসা হয়ে গেছে এবং দীর্ঘ সময় পার হয়েছে, আর দীর্ঘ ও স্বল্প সময়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

আর যদি সে ফজরের সুন্নাত তার বাড়িতে আদায় করে অতঃপর মসজিদে আসে, তবে উত্তম হলো তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় করা।

(এবং আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকবে)। যখন সে মসজিদে থাকবে এবং তার তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় করবে, তখন তার উচিত আল্লাহর যিকিরে লিপ্ত হওয়া; যেমন কুরআন তিলাওয়াত করা—যা মৌখিক যিকিরসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম—এবং তাসবিহ, তাহমিদ, হাওকালা (লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ), আল্লাহর কাছে দু’আ করা, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং এই জাতীয় আমল।

(অথবা নীরব থাকবে) যদি সে যিকির না করে তবে তার উচিত চুপ থাকা, কেননা সে এই অবস্থায় সালাতের মধ্যেই রয়েছে।

(এবং পার্থিব কথাবার্তায় লিপ্ত হবে না) যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে সে কীভাবে দুনিয়াবী কাজকর্মে লিপ্ত হতে পারে?

(যতক্ষণ সে এই অবস্থায় থাকবে, ততক্ষণ সে সালাতের মধ্যেই গণ্য হবে) হুকুমগতভাবে, যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

(এবং ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে যতক্ষণ না সে কাউকে কষ্ট দেয় অথবা তার ওযু নষ্ট হয়) সুতরাং সে যখন পবিত্র অবস্থায় মসজিদে আসবে এবং সালাত আদায় করবে ও যিকিরে মশগুল থাকবে, তখন সে সালাতের মধ্যেই গণ্য হবে। আর যদি সে যিকির না করে তবে নীরব থাকবে, তবুও সে সালাতের মধ্যেই গণ্য হবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌(باب صفة الصلاة)

(يستحب أن يقوم إليها عند قول المؤذن: قد قامت الصلاة. إن كان الإمام في المسجد، وإلا إذا رآه) ، (قيل للإمام أحمد قبل التكبير: تقول شيئاً) ،

ــ

(باب صفة الصلاة)

حقيقتها، وبيان ما اشتملت عليه من الأقوال والأفعال والكيفيات. وهذا شامل لأركانها، وواجباتها، ومندوباتها.

(يستحب أن يقوم إليها عند قول المؤذن: قد قامت الصلاة. إن كان الإمام في المسجد، وإلا إذا رآه) يندب أن يكون الإمام والمأموم على جلوسهما إلى وصوله إلى "قد قامت الصلاة" وعند وصوله إلى قد قامت يقومان -وذكر بعضهم استحباب جلوسه إن كان قائماً إلى أن يصل المؤذن إلى "قد" من الإقامة- لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يفعل ذلك. وإن لم يكن الإمام في المسجد ولا رآه بل كان خارج المسجد فلا يقوم من مكانه حتى يرى الإمام، كما في قوله: "إذا قامت الصلاة ولم تروني فلا تقوموا"، فإذا كان في المسجد فيقام عند "قد" لأنه بيان لقرب الصلاة، فما بعد الإقامة إلى القيام في الصلاة، ليحصل التراص والتساوي قبل إحرام الإمام. وإذا كان الإمام ليس حاضراً فقوله: "قد" وعدمه واحد، فيكون كما هو حتى يأتي الإمام. وإذا كان الإمام متأخراً فيكون القيام بعدما يدخل الإمام؛ لأنه من حين يتقدم يأتي بالتحريمة. وإن لم يره وتحقق أنه جاء قام.

(قيل للإمام أحمد قبل التكبير: تقول شيئاً) يعني تتلفظ بالنية؟.
‌(নামাজের পদ্ধতি পরিচ্ছেদ)

(মুয়াজ্জিনের 'কাদ ক্বামাতিস সালাহ' বলার সময় নামাজের জন্য দাঁড়ানো মুস্তাহাব, যদি ইমাম মসজিদে থাকেন। অন্যথায় তাঁকে দেখার পর দাঁড়াবে।) , (ইমাম আহমাদকে তাকবীরের পূর্বে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কি কিছু বলেন?) ,

--

(নামাজের পদ্ধতি পরিচ্ছেদ)

এর প্রকৃত রূপ এবং এতে যা যা কথা, কাজ ও পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার বর্ণনা। এটি নামাজের রুকন, ওয়াজিব ও মুস্তাহাবসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।

(মুয়াজ্জিনের 'কাদ ক্বামাতিস সালাহ' বলার সময় নামাজের জন্য দাঁড়ানো মুস্তাহাব, যদি ইমাম মসজিদে থাকেন। অন্যথায় তাঁকে দেখার পর দাঁড়াবে।) মুয়াজ্জিন 'কাদ ক্বামাতিস সালাহ' পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত ইমাম ও মুক্তাদিদের বসে থাকা পছন্দনীয়। আর যখন সে 'কাদ ক্বামাতিস সালাহ' পর্যন্ত পৌঁছাবে, তখন তাঁরা দাঁড়াবেন। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, যদি কেউ দাঁড়িয়ে থাকে তবে মুয়াজ্জিন ইকামতের 'কাদ' শব্দে পৌঁছানো পর্যন্ত তার বসে থাকা মুস্তাহাব—কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ করতেন। আর ইমাম যদি মসজিদে না থাকেন এবং তাকে দেখা না যায়, বরং তিনি মসজিদের বাইরে থাকেন, তবে ইমামকে না দেখা পর্যন্ত কেউ নিজ স্থান থেকে দাঁড়াবে না। যেমন হাদিসে এসেছে: "যখন নামাজের ইকামত দেওয়া হয় এবং তোমরা আমাকে না দেখ, তবে তোমরা দাঁড়িও না।" সুতরাং ইমাম মসজিদে থাকলে 'কাদ' বলার সময় দাঁড়ানো হবে, কারণ এটি নামাজের নিকটবর্তী হওয়ার ঘোষণা। যাতে ইকামতের পর থেকে নামাজে দাঁড়ানো পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ইমামের তাকবীরে তাহরিমার পূর্বেই কাতার সোজা ও সুসংহত করা সম্ভব হয়। আর যদি ইমাম উপস্থিত না থাকেন, তবে মুয়াজ্জিনের 'কাদ' বলা বা না বলা সমান, ফলে ইমাম না আসা পর্যন্ত মানুষ যে অবস্থায় আছে সেভাবেই থাকবে। আর ইমাম যদি আসতে দেরি করেন, তবে তিনি প্রবেশ করার পরই দাঁড়ানো হবে; কারণ তিনি সামনে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথেই তাকবীরে তাহরিমা দেবেন। যদি তাকে দেখা না যায় কিন্তু তার আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে দাঁড়াবে।

(ইমাম আহমাদকে তাকবীরের পূর্বে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কি কিছু বলেন?) অর্থাৎ আপনি কি মুখে নিয়ত উচ্চারণ করেন?
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ১৭)
(قال: لا. إذ لم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا عن أحد من أصحابه) ، (ثم يسوي الإمام الصفوف بمحاذاة المناكب والأكعب) ،

ــ

(قال: لا. إذ لم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا عن أحد من أصحابه) فالنية ليست أكثر من استشعار ما سيفعله ويعزم عليه ثم يفعله بعد شعوره به1، كإنسان يتوضأ الفجر، وكمن يرى المسجد فدخل معهم وهم يصولن. النية تصورك ما ستفعله والعزم عليه، ثم فعله بعد التصور، وهي من القلب؛ لا حظ للسان فيها أبداً.

والتلفظ بها بدعة. لأن هذا لم يصدر من النبي صلى الله عليه وسلم ولا من خلفائه ولا من صحبه المرضيين ولا أحد الأئمة المتبوعين، ولا لها مستند، إنما قال الشافعي كلمة ظن بعض أصحابه أنه عنى بها النية، وهو غلط. والدليل دل على أنه لا بد لكل عمل من نية، وتقدم النية. فالذي ليس فيه نية كون الإنسان يتبرد بجميع بدنه في الماء وبعدما خرج من الحمام قال في نفسه: أنا أريد أن يكون هذا عن جنابتي، أو يغسل وجهه للتنظيف ثم لما غسله نوى أن يجعل هذا من الوضوء فيغسل اليدين بعده فلا يصح. الحاصل أنه لا أصل لوقوف الإنسان وتصوره، (نون) (ي) (هـ) بل تصورك وقصدك إياه هذه هي النية.

(ثم يسوي الإمام الصفوف بمحاذاة المناكب والأكعب) تسن تسوية الصف بمحاذاة المناكب والأكعب: أن يكون كعب هذا محاذ لكعب هذا، ومنكب هذا محاذ لمنكب هذا. هذا في القيام. أما في

--------------------------------------------

1 فتصور والعزم عليه هذا هو النية. وإذا فعله بعد ذلك حصلت النية والفعل المطلوب كما يأتي.
(তিনি বললেন: না। যেহেতু এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিংবা তাঁর সাহাবীদের কারো থেকে বর্ণিত হয়নি) , (অতঃপর ইমাম কাঁধ ও গোড়ালি সমান করে কাতারগুলো সোজা করবেন) ,

—

(তিনি বললেন: না। যেহেতু এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিংবা তাঁর সাহাবীদের কারো থেকে বর্ণিত হয়নি) সুতরাং নিয়ত হচ্ছে যা করা হবে তা অনুভব করা এবং তার সংকল্প করা, অতঃপর তা অনুভবের পর সম্পাদন করা১, যেমন একজন মানুষ ফজরের জন্য ওযু করে, অথবা যেমন কেউ মসজিদ দেখল এবং তারা যখন সালাত আদায় করছে তখন তাদের সাথে প্রবেশ করল। নিয়ত হলো আপনি যা করবেন তার একটি কল্পনা এবং সেটির প্রতি সংকল্প, অতঃপর সেই কল্পনার পর তা সম্পাদন করা। আর এটি অন্তর থেকে হয়ে থাকে; এতে জিহ্বার কোনো অংশ নেই।

আর তা উচ্চারণ করা বিদআত। কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, তাঁর খলীফাদের থেকে, তাঁর সন্তুষ্ট সাহাবীদের থেকে কিংবা অনুসরণীয় ইমামদের কারো থেকে প্রকাশ পায়নি এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। ইমাম শাফেয়ী কেবল এমন একটি শব্দ বলেছিলেন যা তাঁর কিছু অনুসারী মনে করেছিলেন যে তিনি তা দিয়ে নিয়ত বুঝিয়েছেন, অথচ তা ভুল। দলিল একথার প্রমাণ দেয় যে, প্রতিটি আমলের জন্য অবশ্যই নিয়ত থাকতে হবে এবং নিয়ত আগে হতে হবে। সুতরাং যাতে নিয়ত নেই তা হলো কোনো মানুষ তার পুরো শরীর পানিতে ঠাণ্ডা করল এবং গোসলখানা থেকে বের হওয়ার পর মনে মনে বলল: আমি চাই এটি যেন আমার অপবিত্রতা (জানাবাত) দূর করার জন্য হয়, অথবা সে পরিষ্কার হওয়ার জন্য মুখমণ্ডল ধৌত করল, অতঃপর ধৌত করার পর নিয়ত করল যে এটিকে ওযুর অন্তর্ভুক্ত করবে এবং এরপর হাত দুটো ধৌত করল, তবে তা শুদ্ধ হবে না। সারকথা হলো, মানুষের দাঁড়িয়ে থাকা এবং (নূন) (ইয়া) (হা) কল্পনা করার কোনো ভিত্তি নেই, বরং আপনার কল্পনা এবং আপনার ইচ্ছা করাই হলো নিয়ত।

(অতঃপর ইমাম কাঁধ ও গোড়ালি সমান করে কাতারগুলো সোজা করবেন) কাঁধ ও গোড়ালি বরাবর করে কাতার সোজা করা সুন্নাত: অর্থাৎ একজনের গোড়ালি অন্যজনের গোড়ালি বরাবর এবং একজনের কাঁধ অন্যজনের কাঁধ বরাবর হবে। এটি দাঁড়ানো অবস্থায়। আর

--------------------------------------------

১. সুতরাং কল্পনা এবং তার ওপর সংকল্পই হলো নিয়ত। আর যদি সে এরপর তা সম্পাদন করে, তবে নিয়ত ও কাঙ্ক্ষিত কাজটি অর্জিত হবে যেমন সামনে আসছে।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ১৮)
(ويسن تكميل الصف الأول فالأول) ، (وتراص المأمومين) ، (وسد خلل الصفوف) ، (ويمنة كل صف أفضل) ، (وقرب الأفضل من الإمام) ،

ــ

الجلوس فالمحاذاة فيه بالمناكب، والمقاعد: جمع مقعدة. وليس العبرة بالمحاذاة برؤوس الأصابع في حال القيام ولا بمؤخر الرجلين وهي الأعقاب؛ فإن الرجلين تختلف طولاً وقصراً باختلاف الساقين. المقصود أنه لا يتحقق الاستواء في الصف إلا بالأكعب. والكعب هو العظم الناتئ. وجاء في الأحاديث المبالغة في هذا: أنه كان يلصق الرجل كعبه في كعب الرجل.

(ويسن تكميل الصف الأول فالأول) وجاء في الحديث أنه يقال للمتأخر: تقدم يا فلان، وللمتقدم تأخر يا فلان. فمشروع أن يكون الصف مستوياً. (وتراص المأمومين) ويكونون متراصين، كون هذا راص هذا، وهذا في الأحاديث معروف. (وسد خلل الصفوف) إذا رأى خللاً في الصف أشار إلى ذلك. وإن احتيج إلى زيادة بيان فيستعمل، كما في حديث: "لتسون صفوفكم أو ليخالفن الله بين وجوهكم".

فعرفنا من قراءتك هذه فوائد. أحدها: أنه يندب أن لا يكبر الإمام حتى تستوي الصفوف. الثانية: أنه لا يبدأ في الصف الثاني ولا الثالث قبل كمال الأول أو الثاني. الثالثة: سد الفرج. وأدلة ذلك معروفة.

(ويمنة كل صف أفضل) وفي الحديث: "إن الله وملائكته يصلون على ميامن الصفوف".

(وقرب الأفضل من الإمام) والقرب من الإمام أفضل،
(প্রথম কাতার এবং তারপরের কাতার পূর্ণ করা সুন্নাত) , (মুক্তাদীদের গায়ে গা মিলিয়ে দাঁড়ানো) , (কাতারগুলোর ফাঁকা জায়গা বন্ধ করা) , (প্রত্যেক কাতারের ডান দিক অধিক উত্তম) , (এবং ইমামের নিকটবর্তী হওয়া উত্তম) ,

—

বসা অবস্থায় কাঁধ এবং নিতম্বের মাধ্যমে সমান্তরালতা বজায় রাখতে হয়। ‘মাকায়িদ’ হলো ‘মাকয়াদা’ এর বহুবচন। দাঁড়ানো অবস্থায় পায়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগ কিংবা পায়ের পেছনের অংশ তথা গোড়ালির মাধ্যমে সমান্তরালতার বিচার করা হবে না; কেননা নলার দৈর্ঘ্যের ভিন্নতার কারণে মানুষের পায়ের দৈর্ঘ্যে কম-বেশি হয়ে থাকে। মূল উদ্দেশ্য হলো, টাকনুর গাঁট ব্যতীত কাতারে সোজা হওয়া বা সামঞ্জস্য রক্ষা করা সম্ভব নয়। ‘কাব’ বা টাকনু হলো (পায়ের দুই পাশে) উঁচিয়ে থাকা হাড়। এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে: সাহাবীগণ তাঁদের টাকনু অপর ব্যক্তির টাকনুর সাথে মিলিয়ে দিতেন।

(প্রথম কাতার এবং তারপরের কাতার পূর্ণ করা সুন্নাত) হাদীসে এসেছে যে, যে ব্যক্তি পেছনে থাকে তাকে বলা হয়: ‘হে অমুক, সামনে অগ্রসর হও’, আর যে সামনে থাকে তাকে বলা হয়: ‘হে অমুক, পেছনে আসো’। সুতরাং কাতার সোজা হওয়া শরীয়তসম্মত। (মুক্তাদীদের গায়ে গা মিলিয়ে দাঁড়ানো) তারা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে মিশে দাঁড়াবে, একজন অন্যজনের সাথে সেঁটে থাকবে—এটি হাদীসসমূহে সুপ্রসিদ্ধ। (কাতারগুলোর ফাঁকা জায়গা বন্ধ করা) যদি কাতারে কোনো ফাঁক দেখা যায় তবে সেদিকে ইশারা করবে। যদি আরও ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় তবে তা ব্যবহার করবে, যেমন হাদীসে এসেছে: “তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতারগুলো সোজা করবে, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের চেহারাসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য বা বিভেদ সৃষ্টি করে দেবেন।”

আপনার এই পাঠ থেকে আমরা কিছু ফায়দা বা উপকারিতা জানতে পারলাম। প্রথমত: কাতার সোজা না হওয়া পর্যন্ত ইমাম তাকবীর বলবেন না—এটি মুস্তাহাব। দ্বিতীয়ত: প্রথম বা দ্বিতীয় কাতার পূর্ণ হওয়ার আগে দ্বিতীয় বা তৃতীয় কাতার শুরু করা যাবে না। তৃতীয়ত: কাতারের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা বন্ধ করা। এর দলীলসমূহ সুপ্রসিদ্ধ।

(প্রত্যেক কাতারের ডান দিক অধিক উত্তম) হাদীসে এসেছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ কাতারের ডান দিকের লোকদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন ও দোয়া করেন।”

(ইমামের নিকটবর্তী হওয়া উত্তম) ইমামের কাছে দাঁড়ানো অধিক মর্যাদাপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ১৯)
(لقوله صلى الله عليه وسلم: "ليلني منكم أولو الأحلام والنهى") ، (وخير صفوف الرجال أولها، وشرها آخرها، وخير صفوف النساء آخرها، وشرها أولها) ، (ثم يقول وهو قائم مع القدرة: ألله أكبر) ، (لا يجزئه غيرها) ،

ــ

(لقوله صلى الله عليه وسلم: "ليلني منكم أولو الأحلام والنهى") فدل على أن الأحق بولاية الأمام أولو الأحلام والنهى ليسمع القرآن من الإمام تماماً. ويرى بعينيه صلاة الإمام، ويفيد تفضيل الدنو من الإمام كما تقدم. (وخير صفوف الرجال أولها، وشرها آخرها، وخير صفوف النساء آخرها، وشرها أولها) هذا متن حديث ورد، وإن كان فيه مقال. وذلك لتقدمهم للصلاة، ولبعدهم عن النساء، ولكونهم يأخذون عنه الاقتداء، ويخشى عليهم الفتنة بالنساء. والنساء بالعكس يخاف على الأولات أن يفتَتن أو يفتِن؛ فإن في قربهم نوع فتنة من الناحيتين، فتغايرت الأفضلية والشرعية. والنساء لهن صفوف كما للرجال صفوف، كما يفيده هذا الحديث الذي هذا متنه.

(ثم يقول وهو قائم مع القدرة: ألله أكبر) يعني في الفريضة فلا يصح منه وهو جالس، فإن فعل لم يجزئه فريضة، يعني أنها شرط إذا كان قادراً. أما لو كان مربوط1 أو مرحول1 أو مريض1 لا يقدر أصلاً أو بمشقة لا تحتمل أو خائف1 من رؤية عدو أو سبع سقط عنه للعذر. (لا يجزئه غيرها) فلو قال: الله أجل، أو: أمجد. أو: الله

--------------------------------------------

1 هذه الكلمات كتبتها هكذا، لأنه وقف عليها بالسكون ولهذه الكلمات نظائر و"المرحول": المقعد.
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "তোমাদের মধ্য থেকে প্রজ্ঞা ও বিবেচনাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিরা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে"), (এবং পুরুষদের সারির মধ্যে সর্বোত্তম হলো প্রথমটি এবং সবচেয়ে মন্দ হলো শেষটি, আর নারীদের সারির মধ্যে সর্বোত্তম হলো শেষটি এবং সবচেয়ে মন্দ হলো প্রথমটি), (অতঃপর সামর্থ্য থাকা অবস্থায় দাঁড়িয়ে বলবে: আল্লাহু আকবার), (এটি ছাড়া অন্য কিছু তার জন্য যথেষ্ট হবে না),

—

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "তোমাদের মধ্য থেকে প্রজ্ঞা ও বিবেচনাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিরা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে") এটি প্রমাণ করে যে ইমামের সান্নিধ্যে থাকার অধিক হকদার হলো প্রজ্ঞা ও বিবেচনাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিরা, যাতে তারা ইমামের থেকে কুরআন পূর্ণাঙ্গরূপে শুনতে পায় এবং ইমামের সালাত নিজ চোখে দেখতে পায়। এটি ইমামের নিকটবর্তী হওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে যেমনটি আগে বর্ণিত হয়েছে। (এবং পুরুষদের সারির মধ্যে সর্বোত্তম হলো প্রথমটি এবং সবচেয়ে মন্দ হলো শেষটি, আর নারীদের সারির মধ্যে সর্বোত্তম হলো শেষটি এবং সবচেয়ে মন্দ হলো প্রথমটি) এটি বর্ণিত একটি হাদিসের পাঠ, যদিও এর সনদে সমালোচনা রয়েছে। আর তা হলো সালাতের জন্য তাদের অগ্রগামী হওয়ার কারণে, নারীদের থেকে তাদের দূরত্বের কারণে, এবং যেহেতু তারা ইমামের থেকে অনুসরণের পদ্ধতি গ্রহণ করে, আর তাদের ক্ষেত্রে নারীদের মাধ্যমে ফিতনার আশঙ্কা করা হয়। নারীদের বিষয়টি এর বিপরীত; প্রথম সারির নারীদের ব্যাপারে আশঙ্কা করা হয় যে তারা ফিতনায় পড়বে অথবা ফিতনায় ফেলবে; কেননা উভয় দিক থেকে তাদের নৈকট্যের মাঝে এক ধরণের ফিতনা রয়েছে, ফলে শ্রেষ্ঠত্ব ও মন্দ হওয়ার বিধান ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। আর পুরুষদের যেমন সারি রয়েছে নারীদেরও তেমনি সারি রয়েছে, যেমনটি এই হাদিসের পাঠ থেকে বোঝা যায়।

(অতঃপর সামর্থ্য থাকা অবস্থায় দাঁড়িয়ে বলবে: আল্লাহু আকবার) অর্থাৎ ফরয সালাতে, তাই বসে থাকা অবস্থায় তা সঠিক হবে না। যদি সে এমনটি করে তবে ফরয হিসেবে তা যথেষ্ট হবে না, অর্থাৎ সামর্থ্যবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি একটি শর্ত। তবে সে যদি আবদ্ধ১ থাকে অথবা পঙ্গু১ হয় অথবা এমন অসুস্থ১ হয় যে সে মোটেও সামর্থ্য রাখে না অথবা অসহনীয় কষ্ট হয় অথবা শত্রু বা হিংস্র প্রাণী দেখার ভয়১ থাকে, তবে ওজরের কারণে তা রহিত হয়ে যাবে। (এটি ছাড়া অন্য কিছু তার জন্য যথেষ্ট হবে না) সুতরাং সে যদি বলে: 'আল্লাহু আজাল্ল' (আল্লাহ অতি মহান), অথবা: 'আমজাদ' (অতি সম্মানিত), অথবা: 'আল্লাহ'

--------------------------------------------

১ এই শব্দগুলো আমি এভাবেই লিখেছি, কারণ তিনি এগুলোতে সুকুন দিয়ে থেমেছেন এবং এই শব্দগুলোর অনুরূপ আরও শব্দ রয়েছে। আর 'মারহুল' অর্থ: পঙ্গু।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ২০)
(والحكمة في افتتاحها بذلك ليستحضر عظمة من يقوم بين يديه فيخشع) ، (فإن مد همزة "ألله" أو "أكبر" أو قال: "إكبار" لم تنعقد) ، (والأخرس) ، (يحرم بقلبه) ، (ولا يحرك لسانه) ، (وكذا

ــ

الكبير. لم يجز، لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "صلوا كما رأيتموني أصلي" وهو ما عرف عنه إلا "الله أكبر" فتبين أن أنواع التعظيم الأخرى لا تجزي.

(والحكمة في افتتاحها بذلك ليستحضر عظمة من يقوم بين يديه فيخشع) إذا بحث ما السر والحكمة في كون هذه الكلمة اختيرت -فإن كل الشرعيات على الحكمة والمصلحة عرف ذلك من عرفه وجهله من جهله، وكذلك قضائه وقدره- فالسر والحكمة أن يستحضر الإنسان كبرياء رب العلمين وتفرده بها، فيحمله على سكون قلبه وذله وإخباته لربه. والخشوع: هو لب الصلاة، ولا يكتب له إلا ما عقل منها.

(فإن مد همزة "ألله" أو "أكبر" أو قال: "إكبار" لم تنعقد) . هنا يتصور ثلاث لحنات كل واحدة تبطل الصلاة فرضاً أو نفلاً. أحدها: مد همزة "أله" أو "أكبر" أو الباء. فمد همزة "ألله أكبر" خطر كبير -لا تعَلَّم دينه ولا نظر نظراً كاملاً- وإنما كانت مبطلة لكونها بمعنى كأنه سؤال استفهام: الله أكبر، أم لا؟ والذي يستفتح صلاته بـ "ألله آكبر" بمد ألف "أكبر" فإنه أيضاً استفهام. و"إكبار" هذا ما استفهم، لكن الإكبار شيء معروف في كلام العرب. يقال له: "الطبل" فإذا قال ذلك ما أثبت الأكبرية لله؛ لأن هذا كله يغير المعنى. ثم التساهل في اليسير يجر إلى الإخلال بالكثير.

(والأخرس) الأطرم، (يحرم بقلبه) ونيته وتصح (ولا يحرك لسانه) ولو كان يحسن بعض الحروف لعدم حصول المقصود بلسانه،
(সালাত এর মাধ্যমেই আরম্ভ করার হিকমত হলো, যেন সালাত আদায়কারী যার সামনে দণ্ডায়মান তাঁর মহত্ব অন্তরে উপস্থিত করতে পারে এবং বিনম্র হতে পারে) , (যদি সে 'আল্লাহ' বা 'আকবার' এর হামযা দীর্ঘ করে অথবা বলে: 'ইকবার', তবে সালাত সংঘটিত হবে না) , (এবং যে বাকশক্তিহীন) , (সে তার অন্তরের মাধ্যমে ইহরাম বাঁধবে [সালাত শুরু করবে]) , (এবং সে তার জিহ্বা নাড়াবে না) , (এবং অনুরূপ

ــ

বড়। এটি জায়েয নয়, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ" আর তাঁর থেকে 'আল্লাহু আকবার' ছাড়া অন্য কিছু জানা যায়নি। ফলে এটা স্পষ্ট হলো যে, অন্যান্য প্রকারের সম্মান প্রদর্শনমূলক শব্দ যথেষ্ট হবে না।

(সালাত এর মাধ্যমেই আরম্ভ করার হিকমত হলো, যেন সালাত আদায়কারী যার সামনে দণ্ডায়মান তাঁর মহত্ব অন্তরে উপস্থিত করতে পারে এবং বিনম্র হতে পারে) যদি এই শব্দটি কেন নির্বাচন করা হয়েছে তার রহস্য ও হিকমত নিয়ে গবেষণা করা হয় -কেননা শরীয়তের সকল বিধানই হিকমত ও কল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যারা তা জানে তারা জানে এবং যারা জানে না তারা জানে না, আর তেমনি তাঁর ফয়সালা ও তকদীরও- তবে এর রহস্য ও হিকমত হলো মানুষ যেন রব্বুল আলামীনের শ্রেষ্ঠত্ব ও এতে তাঁর এককত্বকে অন্তরে উপস্থিত করে, যা তাকে তার রবের সামনে হৃদয়ের স্থিরতা, বিনয় ও নম্রতার দিকে ধাবিত করবে। আর খুশু হলো সালাতের প্রাণ, আর তার জন্য কেবল ততটুকুই সওয়াব লেখা হয় যা সে অনুধাবন করতে পারে।

(যদি সে 'আল্লাহ' বা 'আকবার' এর হামযা দীর্ঘ করে অথবা বলে: 'ইকবার', তবে সালাত সংঘটিত হবে না)। এখানে তিনটি ভুল কল্পনা করা হয় যার প্রতিটিই ফরয বা নফল সালাত বাতিল করে দেয়। তার একটি হলো: 'আল্লাহ' বা 'আকবার' এর হামযা অথবা 'বা' বর্ণটিকে দীর্ঘ করা। সুতরাং "আল্লাহু আকবার" এর হামযা দীর্ঘ করা অনেক বড় বিপদের কথা -সে তার দীন শেখেনি এবং পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিপাতও করেনি- এটি সালাত বাতিলকারী হওয়ার কারণ হলো এর অর্থ তখন একটি প্রশ্নের রূপ নেয়: আল্লাহ কি সর্বশ্রেষ্ঠ, নাকি নন? আর যে ব্যক্তি তার সালাত "আল্লাহু আ-কবার" অর্থাৎ 'আকবার' এর আলিফ দীর্ঘ করার মাধ্যমে শুরু করবে, সেটিও প্রশ্নবোধক হয়ে যাবে। আর "ইকবার" এটি প্রশ্নবোধক নয়, তবে 'ইকবার' হলো আরবদের ভাষায় একটি পরিচিত শব্দ। একে 'ঢোল' বলা হয়। সুতরাং সে যদি তা বলে তবে সে আল্লাহর জন্য শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল না; কারণ এই সবই অর্থ পরিবর্তন করে দেয়। এরপর সামান্য বিষয়ে শিথিলতা অনেক বড় বিচ্যুতি ডেকে আনে।

(আর বাকশক্তিহীন) বোবা ব্যক্তি, (তার অন্তরের মাধ্যমে) ও নিয়তের মাধ্যমে (ইহরাম বাঁধবে) এবং তা শুদ্ধ হবে, (এবং সে তার জিহ্বা নাড়াবে না) যদিও সে কিছু অক্ষর উচ্চারণে সক্ষম হয়, কারণ তার জিহ্বার মাধ্যমে উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ২১)
حكم القراءة والتسبيح وغيرهما) ، (ويسن جهر الإمام بالتكبير، لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا كبر الإمام فكبروا"، وبالتسميع لقوله: " وإذا قال سمع الله لمن حمده. فقولوا: ربنا ولك الحمد") ، (ويسر مأموم ومنفرد) ، (ويرفع يديه، ممدودتي الأصابع، مضمومة، ويستقبل ببطونهما القبلة، إلى حذو منكبيه) ،

ــ

فيكون تحريكه عبثاً لا يرجع بالكفاف. فيحرم بقلبه لا غير. وهكذا حكم أقواله عبث، فلسانه كأنه أحد أعضائه الأخرى. (وكذا حكم القراءة والتسبيح وغيرهما) الأخرس لا يقرأ ولا يسبح ولا يكبر ولا يأتي بذكر. يسبح بقلبه. وتحريكه لسانه عبث. ربما يقال: إنه إذا حركه وأكثر يبطل الصلاة؛ لأنه عمل من الأعمال، وإن كان وجد منه بعض الكلمات فهو متكلم بكلام يبطل ولا صار قولاً. هذا عمل. فيكفي إتيانه بالمشروعات بقلبه. وإن قدر على النطق بـ "ألله" نوى "أكبر" والغالب أنه لا يقدر. والمراد الذي بأصل الخلقة. وكثيراً ما يكون الخُرْسُ لا ينطقون.

(ويسن جهر الإمام بالتكبير، لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا كبر الإمام فكبروا"، وبالتسميع لقوله: "وإذا قال سمع الله لمن حمده. فقولوا: ربنا ولك الحمد") يسن للإمام رفع الصوت بالتكبير، كما يسن في حقه رفع الصوت بسمع الله لمن حمده، لقوله: "إذا كبر الإمام"، وإذا قال: "سمع الله لمن حمده" فدل على أنه يكبر تكبيراً يسمعونه بحيث يقولون كقوله: "ألله أكبر"، و: "ربنا ولك الحمد"، (ويسر مأموم ومنفرد) أما المنفرد والمأموم فيسن الإسرار في حقهما. (ويرفع يديه، ممدودتي الأصابع، مضمومة، ويستقبل ببطونهما القبلة، إلى حذو منكبيه) يرفع
(কিরাত, তাসবিহ এবং অন্যান্য বিষয়ের বিধান), (ইমামের জন্য উচ্চস্বরে তাকবির বলা সুন্নাত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: "যখন ইমাম তাকবির বলেন, তখন তোমরাও তাকবির বলো", এবং তাসমি' (সামিআল্লাহু লিমান হামিদা) বলার ক্ষেত্রেও, তাঁর এই বাণীর কারণে: "এবং যখন তিনি বলেন: আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে, তখন তোমরা বলো: হে আমাদের রব, সকল প্রশংসা আপনারই"), (এবং মুক্তাদী ও একাকী নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি নিম্নস্বরে বলবে), (এবং সে তার হাত দু’টি উঠাবে, আঙ্গুলগুলো প্রসারিত ও মিলিত অবস্থায় রেখে এবং হাতের তালু কিবলামুখী করে কাঁধ বরাবর),

—

ফলে তার (জিহ্বা) নাড়ানো হবে একটি অনর্থক কাজ যা কোনো ফল দেবে না। সুতরাং সে কেবল তার অন্তরেই (তাকবিরে) তাহরিমা বাঁধবে। তার উচ্চারিত বাক্যগুলোর বিধানও অনর্থক, কারণ তার জিহ্বা যেন তার শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের মতো। (অনুরূপভাবে কিরাত, তাসবিহ এবং অন্যান্য বিষয়ের বিধানও) বোবা ব্যক্তি কিরাত পড়বে না, তাসবিহ পাঠ করবে না, তাকবির বলবে না এবং কোনো জিকিরও করবে না। সে মনে মনে তাসবিহ পাঠ করবে। তার জিহ্বা নাড়ানো অনর্থক কাজ। সম্ভবত বলা হয় যে: সে যদি জিহ্বা নাড়ায় এবং তা বেশি হয় তবে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে; কারণ এটি একটি কর্ম, আর যদি তার থেকে কিছু শব্দও বের হয় তবে সে এমন কথা বলছে যা নামাজ বাতিল করে দেয় এবং তা যথাযথ বাক্য হয় না। এটি একটি কর্ম মাত্র। সুতরাং তার জন্য শরিয়ত নির্দেশিত কাজগুলো অন্তরে পালন করাই যথেষ্ট। যদি সে "আল্লাহ" শব্দটি উচ্চারণ করতে সক্ষম হয় তবে "আকবার" শব্দের নিয়ত করবে, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে সক্ষম হয় না। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো সেই ব্যক্তি যে জন্মগতভাবে বোবা। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বোবারা কথা বলতে পারে না।

(ইমামের জন্য উচ্চস্বরে তাকবির বলা সুন্নাত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর কারণে: "যখন ইমাম তাকবির বলেন, তখন তোমরাও তাকবির বলো", এবং তাসমি'র ক্ষেত্রেও, তাঁর এই বাণীর কারণে: "এবং যখন তিনি বলেন: আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে, তখন তোমরা বলো: হে আমাদের রব, সকল প্রশংসা আপনারই") ইমামের জন্য তাকবিরে শব্দ উচ্চ করা সুন্নাত, যেমনটি তার জন্য 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদা' বলার ক্ষেত্রেও শব্দ উচ্চ করা সুন্নাত। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যখন ইমাম তাকবির বলেন", এবং "যখন তিনি বলেন: আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে", এটি নির্দেশ করে যে তিনি এমনভাবে তাকবির বলবেন যা তারা শুনতে পাবে যাতে তারা তাঁর মতো করে "আল্লাহু আকবার" এবং "রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ" বলতে পারে। (এবং মুক্তাদী ও একাকী নামাজ আদায়কারী নিম্নস্বরে বলবে) তবে একাকী নামাজ আদায়কারী ও মুক্তাদীর ক্ষেত্রে নিম্নস্বরে বলা সুন্নাত। (এবং সে তার হাত দু’টি উঠাবে, আঙ্গুলগুলো প্রসারিত ও মিলিত অবস্থায় রেখে এবং হাতের তালু কিবলামুখী করে কাঁধ বরাবর) সে উঠাবে
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ২২)
(إن لم يكن عذر) ، (ويرفعهما إشارة إلى كشف الحجاب بينه وبين ربه) ، (كما أن السبابة إشارة إلى الوحدانية) ، (ثم) ، (يقبض كوعه الأيسر بكفه الأيمن) ، (ويجعلها تحت سرته) ،

ــ

يديه إلى فوق، (إن لم يكن عذر) يمنع وصولهما إلى هذا أو يكون أكثر، فإن كان هناك مانع يمنع المقدار فكونه أكثر أو أقل لا بأس به. (ويرفعهما إشارة إلى كشف الحجاب بينه وبين ربه) كأنه رفع الحجاب، قبل موجود ورفع ودخل1.

(كما أن السبابة إشارة إلى الوحدانية) . رفعها إشارة إلى أن معبوده واحد، فيجمع بين ما في القلب من اعتقادها وبين الإشارة إليها بالأصبع الواحد وهذا أتم، كما تقدم.

(ثم) بعد فراغه من تكبيرة الإحرام يسن أن (يقبض كوعه الأيسر بكفه الأيمن) يقبض كوع يسراه بكف يمناه. والكوع هو العظم الذي في أعل الذراع مما يلي الرسغ. ومقابله العظم الثاني من جانب الخنصر، ويقال له: الكرسوع. فالكوع والكرسوع هما طرفا الزندين. والقبض هو إمساك الشيء بيده، (ويجعلها تحت سرته) وبعد القبض باليمنى على اليسرى يجعلهما تحت سرته، وهو القول المشهور في المذهب. وفي رواية أخرى عن أحمد: على صدره. وفي رواية أخرى: أنه مخير. وقبض كوع اليسرى بكفه اليمنى اتفقت عليه الأحاديث ولا نزاع فيه، إلا أن يكون شيء شاذ. لكن اختلف في موضعهما بعدما يقبض كوع يسراه بكف يمناه وجعلهما على مقدم بدنه: هل محل ذلك ما

--------------------------------------------

1 قلت: وبعض العماة يعكس: يرفعهما قبل الشروع في التكبير، وإذا شرع في التكبير حطهما، فكأنه يشير إلى إسدال الحجاب.
(যদি কোনো ওজর না থাকে) , (এবং তিনি সে দুটিকে উত্তোলন করবেন তার ও তার রবের মধ্যবর্তী পর্দা উন্মোচনের ইঙ্গিতস্বরূপ) , (যেমন তর্জনী আঙ্গুল হলো একত্বের ইঙ্গিত) , (অতঃপর) , (তিনি তার ডান তালু দিয়ে বাম কবজি ধরবেন) , (এবং সেগুলো নাভির নিচে রাখবেন) ,

—

হাত দুটি উপরের দিকে, (যদি কোনো ওজর না থাকে) যা হাত দুটিকে সেখানে পৌঁছাতে বাধা দেয় অথবা তার চেয়ে বেশি হয়। যদি সেখানে এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে যা নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা দেয়, তবে তা বেশি বা কম হলে কোনো সমস্যা নেই। (এবং তিনি সে দুটিকে উত্তোলন করবেন তার ও তার রবের মধ্যবর্তী পর্দা উন্মোচনের ইঙ্গিতস্বরূপ) যেন পর্দা উন্মোচন করা হলো, যা উপস্থিত হওয়ার পূর্বে ছিল এবং উত্তোলন করা হলো ও প্রবেশ করা হলো।১

(যেমন তর্জনী আঙ্গুল হলো একত্বের ইঙ্গিত)। এটি উত্তোলন করা এই মর্মে ইঙ্গিত যে তার উপাস্য এক। ফলে হৃদয়ে বিদ্যমান বিশ্বাস এবং একটি আঙ্গুলের মাধ্যমে সেই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিতের মাঝে সমন্বয় ঘটে, আর এটিই অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

(অতঃপর) তাকবিরে তাহরিমা শেষ করার পর সুন্নাত হলো যে (তিনি তার ডান তালু দিয়ে বাম কবজি ধরবেন) অর্থাৎ ডান হাতের তালু দিয়ে বাম হাতের কবজি ধরবেন। আর 'কু' (কবজি-সংলগ্ন হাড়) হলো বাহুর উপরিভাগের হাড় যা কবজির সংলগ্ন। এর বিপরীতে কনিষ্ঠা আঙ্গুলের দিকে যে দ্বিতীয় হাড়টি থাকে তাকে 'কুরসু' বলা হয়। সুতরাং 'কু' এবং 'কুরসু' হলো বাহুর দুই প্রান্ত। আর ধরা হলো কোনো কিছুকে হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরা। (এবং সেগুলো নাভির নিচে রাখবেন) আর ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরার পর সেগুলো নাভির নিচে রাখবেন, আর এটিই মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত। ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত অন্য রেওয়ায়েতে আছে: বুকের ওপর। অন্য রেওয়ায়েতে আছে: তিনি ইখতিয়ারপ্রাপ্ত। ডান হাতের তালু দিয়ে বাম হাতের কবজি ধরার বিষয়ে হাদীসসমূহ একমত এবং এতে কোনো বিরোধ নেই, যদি না কোনো শায (বিচ্ছিন্ন) কিছু থেকে থাকে। কিন্তু ডান তালু দিয়ে বাম কবজি ধরার পর শরীরের সামনের অংশে হাত দুটি রাখার স্থান সম্পর্কে মতভেদ হয়েছে: এর স্থান কি...

--------------------------------------------

১. আমি বলি: কিছু সাধারণ লোক এর উল্টোটা করে: তারা তাকবির শুরু করার আগে হাত উত্তোলন করে, আর যখন তাকবির শুরু করে তখন হাত দুটি নামিয়ে দেয়, ফলে মনে হয় তারা যেন পর্দা টেনে দেওয়ার ইঙ্গিত করছে।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ২৩)
(ومعناه ذل بين يدي ربه عز وجل ، (ويستحب نظره إلى موضع سجوده في كل حالات الصلاة) ،

ــ

تحت السرة؟ أو على الصدر؟ ذهب جماعة وهو قول كثير من أهل الحديث إلى أنه على الصدر، لما في رواية وائل بن حجر: "على صدره" وهي زيادة على رواية الجماعة الذين لم يذكروا موضعهما. والزيادة من الثقة مقبولة. والرواية الأخرى: أنه يجعلهما تحت السرة، لخبر علي وغير ذلك من آثار عضدته وقوته. وابن القيم قرر في كتابه البدائع وذكر أيضاً شيئاً من ذلك -أظن في كتاب الإعلام- بما حاصله: أن الرواية عن وائل فيها شذوذ، ورجح جعلهما تحت السرة وقال: فيه حديث علي ومعضود بغيره1، وكل هذا من باب الاستحباب والندب، لا من باب الوجوب. فالقائلون: إنه يجعلهما تحت السرة عندهم أنه تارك للمندوب وإلا فهو جائز، وكذلك عند أهل القول الآخر. (ومعناه ذل بين يدي ربه عز وجل السر في ذلك أنه ذل بين يدي رب العالمين، وذلك أن المصلي أمسك جارحت العمل والتصرف إحداهما بالأخرى، ووضعهما على صدره أو ما تحته كفّاً للنفس عن أي تصرف أو حركة تعظيماً لمن مثل بين يديه طاعة وذلاً وخضوعاً له سبحانه وتعالى.

(ويستحب نظره إلى موضع سجوده في كل حالات الصلاة) لأنه

ــ

1 مؤمل عن سفيان عن عاصم بن كليب عن أبيه عن وائل أن النبي صلى الله عليه وسلم وضع يده على صدره فقد روى هذا الحديث عبد الله بن الوليد عن سفيان لم يذكرا ذلك ورواه شعبة وعبد الواحد لم يذكر خالفاً* (بدائع الفوائد ج2/92، وفي الإعلام ج2/381) ولم يقل على صدره غير مؤمل بن إسماعيل.

--------------------------------------------

* كذا بالأصل. ولعه: لم يذكرا هذا.
(এর অর্থ হলো তাঁর মহামহিম রবের সামনে দীনতা প্রকাশ করা, (এবং নামাযের সকল অবস্থায় সিজদার স্থানের দিকে তাকিয়ে থাকা মুস্তাহাব) ,

—

নাভির নিচে? নাকি বুকের উপরে? একদল আলিম এবং এটি বহু আহলে হাদীসের অভিমত যে, হাত বুকের উপরে রাখতে হবে। কারণ ওয়ায়িল ইবনে হুজর-এর বর্ণনায় এসেছে: "তাঁর বুকের উপর", যা সেই জামাআতের বর্ণনার অতিরিক্ত অংশ যারা হাত রাখার স্থান উল্লেখ করেননি। আর বিশ্বস্ত রাবীর অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য। অন্য বর্ণনাটি হলো: হাত দুটি নাভির নিচে রাখা হবে। এর কারণ হলো আলীর বর্ণনা এবং অন্যান্য আছার যা একে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করেছে। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ' গ্রন্থে এটি নির্ধারণ করেছেন এবং এর কিছুটা —আমি মনে করি 'ইলাম'-এও উল্লেখ করেছেন— যার সারমর্ম হলো: ওয়ায়িলের বর্ণনাটিতে শায (দুর্লভতা) রয়েছে। তিনি নাভির নিচে হাত রাখাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বলেছেন: এতে আলীর হাদীস রয়েছে যা অন্য বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত। আর এই পুরো বিষয়টি মুস্তাহাব ও নফলের অন্তর্ভুক্ত, ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং যারা নাভির নিচে হাত রাখার কথা বলেন, তাদের নিকট (অন্যথায় করা ব্যক্তি) মুস্তাহাব বর্জনকারী হিসেবে গণ্য হবে, নতুবা এটি বৈধ। অন্য মতাবলম্বীদের কাছেও বিষয়টি অনুরূপ। (এর অর্থ হলো তাঁর মহামহিম রবের সামনে দীনতা প্রকাশ করা)। এর রহস্য হলো এটি জগতসমূহের প্রতিপালকের সামনে দীনতা প্রকাশ। এর কারণ হলো নামাযী ব্যক্তি কর্ম ও পরিচালনার অঙ্গ দুটির একটিকে অপরটি দিয়ে ধরে রাখে এবং সে দুটিকে তার বুকের উপর বা এর নিচে স্থাপন করে, যাতে নফসকে কোনো কর্ম বা নড়াচড়া থেকে বিরত রাখা যায়; আর এটি করা হয় যাঁর সামনে সে দাঁড়িয়েছে তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে, তাঁর প্রতি আনুগত্য এবং সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য দীনতা ও বিনম্রতা প্রকাশে।

(এবং নামাযের সকল অবস্থায় সিজদার স্থানের দিকে তাকিয়ে থাকা মুস্তাহাব) কারণ

—

১. সুফিয়ান থেকে মুয়াম্মাল, তিনি আসিম ইবনে কুলাইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়ায়িল থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত বুকের উপর রেখেছেন। অথচ এই হাদীসটি সুফিয়ান থেকে আবদুল্লাহ ইবনে ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন যেখানে তারা এটি উল্লেখ করেননি। শু'বা এবং আব্দুল ওয়াহিদও এটি বর্ণনা করেছেন এবং কোনো ভিন্নতা উল্লেখ করেননি* (বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ ২/৯২, এবং ইলাম ২/৩৮১)। মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাঈল ব্যতীত আর কেউ "বুকের উপর" কথাটি বলেননি।

--------------------------------------------

* মূল পাঠে এমনই আছে। সম্ভবত এটি হবে: তারা এটি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ২৪)
(إلا في التشهد فينظر إلى سبابته) ، (ثم يستفتح سراً) ، (فيقول: سبحانك اللهم وبحمدك) ، (أي أنزهك التنزيه عما لا يليق بجلالك يا الله) ، (وبحمدك. قيل معناه: أجمع لك بين التسبيح والتحميد) ، (وتبارك اسمك) ،

ــ

ادعى إلى خشوعه؛ بخلاف نظره من هنا وهنا فهو مما يشوش على خضوعه، كلما كثر المنظور تفرق النظر، وكثر انتقاش المرئيات في القولب؛ فإن النظر إلى موضع واحد يقل فيه التفكير والتشوش، وجاء في حديث: "أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يرفع بصره إلى السماء في الصلاة فأنزل الله: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاتِهِمْ خَاشِعُونَ} [23/1، 2] قال: فطأطأ". (إلا في التشهد فينظر إلى سبابته) لكن يستثنى من هذا حالة واحدة وهي ما إذا كان في التشهد فإنه ينظر إلى سبابته، لحديث ابن الزبير: "لا يجاوز بصره إشارته". والسر في هذا أنه أتم للإخلاص لله (بالوحدانية.

(ثم يستفتح سراً) بعدما يكبر يستفتح، والسنة أن لا يجهر بالاستفتاح (فيقول: سبحانك اللهم وبحمدك) والتسبيح معناه: التنزيه، (أي أنزهك التنزيه عما لا يليق بجلالك يا الله) وقوله: (وبحمدك. قيل معناه: أجمع لك بين التسبيح والتحميد) فيكون بمعنى سبحان الله وبحمده. (وتبارك اسمك) هذه الصيغة جاءت في النصوص في حق الرب وحده: {فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ} [23/14] {فَتَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} [40/64] في آيات. وهي على وزن تفاعل من البركة.
(তবে তাশাহহুদ ব্যতীত, তখন তিনি তাঁর তর্জনীর দিকে তাকাবেন) , (অতঃপর তিনি গোপনে সানা পাঠ করবেন) , (তিনি বলবেন: হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র এবং আপনারই সকল প্রশংসা) , (অর্থাৎ: হে আল্লাহ! আমি আপনার মহিমার অযোগ্য সকল বিষয় থেকে আপনাকে পবিত্র ঘোষণা করছি) , (এবং আপনার প্রশংসাসহ। বলা হয়েছে এর অর্থ হলো: আমি আপনার জন্য তাসবিহ ও তাহমিদ উভয়কে একত্রিত করছি) , (এবং আপনার নাম বরকতময়) ,

—

এটি খুশু বা একাগ্রতার জন্য অধিক সহায়ক; এদিক-ওদিক তাকানোর বিপরীতে, যা তার বিনয়কে বিঘ্নিত করে। দৃশ্যমান বস্তু যত বেশি হয়, দৃষ্টি তত বেশি বিক্ষিপ্ত হয় এবং অন্তরে দৃশ্যমান বস্তুসমূহের ছাপ তত বেশি অঙ্কিত হয়। কেননা একটি নির্দিষ্ট স্থানের দিকে তাকিয়ে থাকলে চিন্তা ও বিভ্রান্তি কম হয়। একটি হাদিসে এসেছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের মধ্যে আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলতেন, তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের নামাজে বিনয়ী} [২৩:১, ২]। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি মাথা নিচু করলেন।" (তবে তাশাহহুদ ব্যতীত, তখন তিনি তাঁর তর্জনীর দিকে তাকাবেন) কিন্তু এটি থেকে একটি অবস্থা ব্যতিক্রম, আর তা হলো যখন তিনি তাশাহহুদে থাকবেন, তখন তিনি তাঁর তর্জনীর দিকে তাকাবেন। ইবনে যুবাইর (রা.)-এর হাদিসের কারণে: "তাঁর দৃষ্টি তাঁর ইশারাকে অতিক্রম করত না।" এর রহস্য হলো যে, এটি আল্লাহর জন্য একত্ববাদের প্রতি একনিষ্ঠতাকে অধিকতর পূর্ণ করে।

(অতঃপর তিনি গোপনে সানা পাঠ করবেন) তাকবির দেওয়ার পর তিনি সানা শুরু করবেন। সুন্নাত হলো সানা উচ্চস্বরে না পাঠ করা। (তিনি বলবেন: হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র এবং আপনারই সকল প্রশংসা) আর তাসবিহ-এর অর্থ হলো: পবিত্রতা ঘোষণা করা। (অর্থাৎ: হে আল্লাহ! আমি আপনার মহিমার অযোগ্য সকল বিষয় থেকে আপনাকে পবিত্র ঘোষণা করছি)। আর তাঁর বাণী: (এবং আপনার প্রশংসাসহ। বলা হয়েছে এর অর্থ হলো: আমি আপনার জন্য তাসবিহ ও তাহমিদ উভয়কে একত্রিত করছি), সুতরাং এটি 'আল্লাহর পবিত্রতা ও তাঁর প্রশংসা' অর্থে হবে। (এবং আপনার নাম বরকতময়) এই শব্দরূপটি শরয়ি দলিলসমূহে কেবল রবের অধিকারেই এসেছে: {অতএব বরকতময় আল্লাহ, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা} [২৩:১৪], {অতএব বরকতময় আল্লাহ, যিনি বিশ্বজগতের রব} [৪০:৬৪] - বেশ কিছু আয়াতে। এটি 'বারাকাহ' শব্দ থেকে 'তাফাউল' ওজনে গঠিত।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ২৫)
(وتعالى جدك) ، (ولا إله غيرك)

ــ

وجاء عن ابن عباس: تعاظم. يريد بيان صيغة تفاعل، وإلا فالبركة كثرة الخير والنفع ودوامه. "واسمك" هذا مضاف مفرد فيعم جميع الأسماء كـ "بسم الله الذي لا يضر مع اسمه شيء في الأرض ولا في السماء" المعنى: بلغت أسماؤه في الكثرة والبركة والدوام الغاية التي لا غاية وراءها. وفي هذا إثبات الأسماء للرب سبحانه وتعالى، ومسلك أهل السنة والجماعة إثبات جميع ما جاء في الكتاب والسنة إثباتاً بريئاً من تمثيل الممثلين، كما أنهم ينزهون الله سبحانه عما لا يليق بجلاله تنزيهاً بريئاً من تعطيل المعطلين. وأسماء الله كسائر كلام العرب معروفة المعاني، فيعتقد مدلولها، ويؤمن به على ما يليق بجلال الله وعظمته، على حد قوله: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [42/11] (وتعالى جدك) تعالى على وزم تفاعل، مثل تبارك، يعني بلغ من العلو الغاية. والعلو: الرفعة والارتفاع. وهو على ثلاثة أقسام، وكلها ثابتة لله: علو الذات، كما قال عبد الله بن رواحة:

وأن العرش فوق الماء طاف … وفوق العرش رب العالمينا

وعلو القدر والشرف. وعلو القهر والغلبة. "جدك" أي عظمتك. يعني: ارتفع قدرك وعظم.

فهذه: التكبير، والتحميد، والتهليل إذا ضمت إلى تكبيرة الإحرام هي التي قال النبي صلى الله عليه وسلم: "هن أفضل الكلام " على الإطلاق.

(ولا إله غيرك) يعني: أنت وحدك المعبود بالحق؛ بل من عبد غيرك فهو معبود بالباطل والضلال.
(আপনার মাহাত্ম্য সুউচ্চ), (এবং আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই)

—

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে: এর অর্থ হলো মহান হওয়া। তিনি এখানে 'তাফা'উল' ছন্দের প্রয়োগ বুঝাতে চেয়েছেন; অন্যথায় বরকত হলো কল্যাণের আধিক্য, উপকার এবং তার স্থায়িত্ব। "আপনার নাম" এটি একটি একবচন ও সম্বন্ধযুক্ত শব্দ, যা আল্লাহর সকল নামকে অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন: "আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান ও জমিনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না।" এর অর্থ: তাঁর নামসমূহ আধিক্য, বরকত এবং স্থায়িত্বের এমন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে যার ঊর্ধ্বে আর কোনো সীমা নেই। এর মধ্যে মহান রবের জন্য নামসমূহ সাব্যস্ত করার প্রমাণ রয়েছে। আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নীতি হলো কিতাব ও সুন্নাহতে যা কিছু এসেছে তা সাদৃশ্যদানকারীদের সাদৃশ্যদান থেকে মুক্ত থেকে সাব্যস্ত করা; ঠিক তেমনিভাবে তারা মহান আল্লাহকে তাঁর মহিমার সাথে সামঞ্জস্যহীন বিষয়গুলো থেকে অস্বীকারকারীদের অস্বীকার থেকে মুক্ত রেখে পবিত্র ঘোষণা করেন। আল্লাহর নামসমূহ আরবদের অন্যান্য শব্দের মতোই সুপরিচিত অর্থবিশিষ্ট। সুতরাং এর মর্মার্থের ওপর বিশ্বাস রাখা হবে এবং তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তা বিশ্বাস করা হবে, যেমনটি তাঁর বাণীতে রয়েছে: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [৪২/১১] (আপনার মাহাত্ম্য সুউচ্চ) এখানে 'তাআলা' শব্দটি 'তাফা'উল' ওজনে এসেছে, যেমন 'তাবারাকা'। অর্থাৎ তিনি উচ্চতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন। উচ্চতা (উলুউ) হলো: শ্রেষ্ঠত্ব ও সমুন্নত হওয়া। এটি তিন প্রকার এবং এর সবগুলোই আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত: সত্তাগত উচ্চতা, যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা বলেছেন:

আর নিশ্চয়ই আরশ পানির উপরে ভাসমান ... আর আরশের উপরে বিশ্বজগতের রব উঠেছেন।

মর্যাদা ও সম্মানের উচ্চতা এবং ক্ষমতা ও আধিপত্যের উচ্চতা। "আপনার মাহাত্ম্য" অর্থাৎ আপনার মহানত্ব। অর্থাৎ: আপনার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সুউচ্চ হয়েছে।

সুতরাং এই তাকবীর, তাহমীদ এবং তাহলীল যখন তাকবীরে তাহরীমার সাথে যুক্ত হয়, তখন এগুলোই হচ্ছে সেই বাণী যার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এগুলোই হলো নিরঙ্কুশভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ কথা।"

(এবং আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই) অর্থাৎ: কেবল আপনিই সত্য উপাস্য; বরং আপনি ছাড়া যার ইবাদত করা হয়, সে বাতিল ও পথভ্রষ্ট উপাস্য।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ২৬)
(ويجوز الاستفتاح بكل ما ورد) ، (ثم يتعوذ سراً) ، (فيقول: أعوذ بالله من الشيطان الرجيم) ، (وكيفما تعوذ من الوارد فحسن) ،

ــ

وبعبارة أخرى: هذا معنى كلمة الإخلاص "لا إله إلا الله" فإن هذه الكلمة العظيمة فيها إثبات الإلهية لله، وهذه الكلمة أساس الملة، وهي دلت على إفراد الله بجميع أنواع العبادة واستحقاقه لها بالمطابقة، ودلت على توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات بالتضمن.

(ويجوز الاستفتاح بكل ما ورد) ورد "سبحانك اللهم" إلى آخره. "وجت وجهي" إلى آخره. "اللهم لك الحمد" إلى آخره. إذا استفتح الإنسان بواحد فقد جاء بوجه من أوجه السنة؛ لكن قد يكون بعضها أولى من بعض: إما مطلقاً، وإما في بعض الحالات1.

والأولى هذا "سبحانك اللهم … " لكونه أجمعها، وأفضلها في ذاته لاشتماله على ما تقدم لك.

(ثم يتعوذ سراً) يعني بعد الاستفتاح وهو سنة، كما أن الاستفتاح والسر به سنة، (فيقول: أعوذ بالله من الشيطان الرجيم) والتعوذ لأجل قراءة القرآن، للآية الكريمة: {فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ} [16/98] أي إذا أردت القراءة. (وكيفما تعوذ من الوارد فحسن) أشار المصنف إلى أنه وارد أشياء عديدة منها هذا ومنها غيره، وأي شيء استعاذ به المصلي جاز -كما أنه ورد في الاستفتاحات

--------------------------------------------

1 ويأتي ذكر ألفاظها قريباً في باب صلاة التطوع إن شاء الله تعالى.
(বর্ণিত সকল দুআ দ্বারাই নামায শুরু করা বৈধ), (অতঃপর নীরবে আশ্রয় প্রার্থনা করবে), (সে বলবে: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি), (এবং বর্ণিত পন্থাসমূহের মধ্য থেকে যেভাবে আশ্রয় প্রার্থনা করা হোক না কেন, তা উত্তম),

—

অন্য কথায়: এটিই ইখলাসের বাণী "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই"-এর অর্থ; কেননা এই মহান বাণীর মধ্যে আল্লাহর জন্য ইলাহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করা হয়েছে। আর এই বাণীই দ্বীন ও মিল্লাতের ভিত্তি। এটি সরাসরি নির্দেশের মাধ্যমে সকল প্রকার ইবাদতকে কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করার এবং সেই ইবাদত লাভের যোগ্য হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে এবং এটি অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে পালনকর্তৃত্বের একত্ববাদ এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর একত্ববাদকেও প্রমাণ করে।

(বর্ণিত সকল দুআ দ্বারা নামায শুরু করা জায়েয) যেমন বর্ণিত হয়েছে "হে আল্লাহ, আপনি পরম পবিত্র" শেষ পর্যন্ত। "আমি আমার চেহারাকে নিবদ্ধ করলাম" শেষ পর্যন্ত। "হে আল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা আপনারই" শেষ পর্যন্ত। যদি কোনো ব্যক্তি এগুলোর কোনো একটি দিয়ে শুরু করে, তবে সে সুন্নাহর পদ্ধতিগুলোর মধ্য থেকে একটি পালন করল; তবে সেগুলোর কোনোটি অন্যটির চেয়ে অধিক উত্তম হতে পারে: হয় সাধারণভাবে, অথবা বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে১।

আর সবচেয়ে উত্তম হলো এটি "হে আল্লাহ, আপনি পরম পবিত্র ... ", কারণ এটি অধিকতর ব্যাপক এবং এর বিষয়বস্তুর কারণে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রেষ্ঠ, যা পূর্বে আপনার নিকট উল্লেখ করা হয়েছে।

(অতঃপর নীরবে আশ্রয় প্রার্থনা করবে) অর্থাৎ নামায শুরুর দুআর পরে, এবং এটি সুন্নাহ; যেমনভাবে নামায শুরুর দুআ এবং তা নীরবে পাঠ করা সুন্নাহ। (সে বলবে: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি) আর এই আশ্রয় প্রার্থনা হলো কুরআন তিলাওয়াতের জন্য, এই মহান আয়াতের কারণে: {যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো} [১৬/৯৮], অর্থাৎ যখন তুমি পাঠ করার ইচ্ছা করবে। (এবং বর্ণিত পন্থাসমূহের মধ্য থেকে যেভাবে আশ্রয় প্রার্থনা করা হোক না কেন, তা উত্তম) লেখক এখানে ইঙ্গিত করেছেন যে, এ বিষয়ে বিভিন্ন পাঠ বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে এটিও একটি এবং এ ছাড়া অন্যগুলোও রয়েছে। নামাযী ব্যক্তি যে শব্দেই আশ্রয় প্রার্থনা করুক না কেন তা জায়েয—যেমনটি নামায শুরুর দুআর ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ অচিরেই নফল নামাযের অধ্যায়ে এর শব্দগুলোর উল্লেখ আসবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ২৭)
(ثم يبسمل سراً) ، (فيقول: بسم الله الرحمن الرحيم) ، (وليست من الفاتحة ولا غيرها، بل هي آية من القرآن قبلها، وبين كل سورتين سوى براءة والأنفال) ، (وتسن كتابتها أوائل الكتب) ، (كما كتبها سليمان عليه السلام ، (وكما كان

ــ

أشياء عديدة- أيها جاء به المصلي- أو خارج الصلاة كان مستعيذاً الاستعاذة المشروعة. لكن من أقواها هذا اللفظ، للآية السابقة.

(ثم يبسمل سراً) بعد الاستفتاح ندب لا وجوب، كل الثلاثة ندب، وكلها مما لا يجهر بها، (فيقول: بسم الله الرحمن الرحيم) والجهر بها خلاف السنة، ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم وخلفائه الراشدين عدم الجهر. ورواية: "كانوا يسرون" شيء صحيح صريح لا يحتمل خلاف ذلك. فالمشروع أن تكون سراً لا جهراً، هذا الذي تدل عليه الأحاديث عند التأمل. وجاءت أحاديث صريحة دالة على الإسرار. وما جاء من أحاديث معارضة لها فإما غير صحيح أو غير صريح.

(وليست من الفاتحة ولا غيرها، بل هي آية من القرآن قبلها، وبين كل سورتين سوى براءة والأنفال) هي آية من القرآن مستقلة منفردة أمام جميع السور، فصل بين السور، وهي بعض آية من سورة النمل. (وتسن كتابتها أوائل الكتب) يعني أوائل الخطوط، فإذا كان أكبر فبطريق الأولى. فهو مسنون مطلقاً في الرسائل والكتب (كما كتبها سليمان عليه السلام لبلقيس: {إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [27/30] فهو ابتاء نبي، وشرعنا أيد أصل ذلك، ودل على أنه مشروع أن يبتدأ بها. وإلا ففيه تقديم غير البسملة عليها، (وكما كان النبي صلى الله عليه وسلم
(অতঃপর তিনি নিঃশব্দে বিসমিল্লাহ বলবেন) , (তিনি বলবেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি) , (এটি সূরা ফাতিহা বা অন্য কোনো সূরার অংশ নয়; বরং এটি কুরআনের একটি আয়াত যা সূরার আগে থাকে এবং বারাআত ও আনফাল ছাড়া প্রতিটি দুই সূরার মাঝখানে থাকে) , (এবং কিতাবসমূহের শুরুতে এটি লেখা সুন্নাত) , (যেমন সুলায়মান আলাইহিস সালাম এটি লিখেছিলেন) , (এবং যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন

ــ

অনেক বিষয়—সালাত আদায়কারী এর মধ্য থেকে যা-ই পাঠ করুক—অথবা সালাতের বাইরে, সে শরীয়তসম্মত ইস্তিআযা বা আশ্রয় প্রার্থনা পাঠকারী হিসেবে গণ্য হবে। তবে পূর্বোক্ত আয়াতের কারণে এই শব্দগুলোই সবচেয়ে শক্তিশালী।

(অতঃপর তিনি নিঃশব্দে বিসমিল্লাহ বলবেন) ইসতিফতাহ (ছানা) পাঠের পর, এটি মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়। এই তিনটি বিষয়ই মুস্তাহাব এবং এগুলোর কোনোটিই উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করা হবে না। (তিনি বলবেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি) আর এটি উচ্চৈঃস্বরে বলা সুন্নাতের পরিপন্থী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের পক্ষ থেকে এটি উচ্চৈঃস্বরে না বলা প্রমাণিত। আর "তাঁরা নিঃশব্দে পাঠ করতেন" বর্ণনাটি এমন সহীহ ও সুস্পষ্ট যা অন্য কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। সুতরাং শরীয়তসম্মত পদ্ধতি হলো এটি নিঃশব্দে হওয়া, উচ্চৈঃস্বরে নয়; গভীরভাবে চিন্তা করলে হাদীসসমূহ একথাই নির্দেশ করে। নিঃশব্দে পাঠের বিষয়ে সুস্পষ্ট হাদীস এসেছে। আর এর বিপরীতে যেসব হাদীস এসেছে, সেগুলো হয় সহীহ নয়, নয়তো সুস্পষ্ট নয়।

(এটি সূরা ফাতিহা বা অন্য কোনো সূরার অংশ নয়; বরং এটি কুরআনের একটি স্বতন্ত্র আয়াত যা সকল সূরার সামনে থাকে, সূরাসমূহের মাঝে পার্থক্যকারী হিসেবে। এটি সূরা আন-নামলের একটি আয়াতের অংশ।) (এবং কিতাবসমূহের শুরুতে এটি লেখা সুন্নাত) অর্থাৎ পত্র বা লেখার শুরুতে। যদি তা বড় কোনো কিতাব হয় তবে এটি অধিকতর গুরুত্ববহ। সুতরাং চিঠি এবং বইপত্রে এটি লেখা সাধারণভাবে সুন্নাত (যেমন সুলায়মান আলাইহিস সালাম বিলকিসের কাছে লিখেছিলেন: {নিশ্চয় এটি সুলায়মানের পক্ষ থেকে এবং নিশ্চয় এটি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু।} [২৭/৩০]) সুতরাং এটি একজন নবীর সূচনা পদ্ধতি ছিল। আমাদের শরীয়ত এর মূলভিত্তিকে সমর্থন করেছে এবং এটি নির্দেশ করেছে যে, বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করা শরীয়তসম্মত। অন্যথা এতে বিসমিল্লাহর আগে অন্য কিছুকে প্রাধান্য দেওয়া হতো, (এবং যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ২৮)
النبي صلى الله عليه وسلم يفعل) ، (وتذكر في ابتداء جميع الأفعال) ، (وهي تطرد الشيطان) ، (قال أحمد: لا تكتب أمام الشعر ولا معه) ، (ثم يقرأ الفاتحة مرتبة) ،

ــ

يفعل) يكتب: بسم الله الرحمن الرحيم، من محمد … ؛ ولم يقل: من محمد بسم الله (وتذكر في ابتداء جميع الأفعال) لحديث: "كل أمر لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أجذم" عند التنقلات من الأحوال، وعند المهمات يؤتى بها: كالشرب، والجماع، ودخول الدار، والخروج منها، وغير ذلك (وهي تطرد الشيطان) كما ورد1، هذا سر كتابتها (قال أحمد: لا تكتب أمام الشعر ولا معه) والقرآن مخالف للشعر، قال الله تعالى: {وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ} [36/69] ولكن صِنفٌ من ذلك ليس المقصود به الشعر؛ بل المقصود به العلم، كأنواع العلوم التي تؤلف نظماً فتكتب فيها، ما فيها ليس محذوراً؛ لأن المقصود غير الشعر. والذي يعمل القصائد ليعطى، هذا مذموم، ذكر بعض أهل العلم أنها ترد شهادته.

(ثم يقرأ الفاتحة مرتبة) فإن نكسها لم تصح، فإنها ليست هي الفاتحة. لو قال بعدما سمى: {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} أو قدم كلمة على كلمة كالرحيم

--------------------------------------------

1 ومنه: "لو أحدكم إذا أراد أن يأتي أهله قال: بسم الله، اللهم جنبنا الشيطان، وجنب الشيطان ما رزقناه فإنه إن قدر بينهما ولد لم يضره الشيطان أبداً"، ومنه: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم جالساً ورجل يأكل فلم يسم حتى لم يبق من طعامه إلا لقمة فلما دفعها إلى فيه قال: بسم الله أوله وآخره فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال: ما زال الشيطان يأكل معه فلما ذكر اسم الله استقاء ما في بطنه" أخرجه أبو داود.
(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করতেন) , (এবং এটি সমস্ত কাজের শুরুতে উল্লেখ করা হয়) , (এবং এটি শয়তানকে বিতাড়িত করে) , (আহমদ রহ. বলেছেন: কবিতার শুরুতে বা এর সাথে এটি লেখা যাবে না) , (এরপর সুরা ফাতিহা ধারাবাহিকভাবে পাঠ করবেন) ,

—

করতেন) অর্থাৎ লিখতেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে, মুহাম্মদের পক্ষ থেকে … ; তিনি 'মুহাম্মদের পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে' এভাবে বলেননি (এবং এটি সমস্ত কাজের শুরুতে উল্লেখ করা হয়) এই হাদিসের কারণে: "যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আল্লাহর নামে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা বা কল্যাণহীন" অবস্থা পরিবর্তনের সময় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় এটি নিয়ে আসা হয়: যেমন পান করা, সহবাস করা, ঘরে প্রবেশ করা, ঘর থেকে বের হওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজ (এবং এটি শয়তানকে বিতাড়িত করে) যেমনটি বর্ণিত হয়েছে ১, এটিই তা লেখার অন্তর্নিহিত রহস্য (আহমদ রহ. বলেছেন: কবিতার শুরুতে বা এর সাথে এটি লেখা যাবে না) আর কুরআন কবিতার বিপরীত, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটা তার জন্য শোভনীয়ও নয়} [৩৬/৬৯] তবে এগুলোর মধ্যে এমন প্রকার রয়েছে যা দ্বারা কবিতা উদ্দেশ্য নয়; বরং ইলম বা জ্ঞান উদ্দেশ্য, যেমন বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান যা ছন্দাকারে রচনা করা হয় এবং তাতে বিসমিল্লাহ লেখা হয়, এতে কোনো বাধা নেই; কারণ এখানে উদ্দেশ্য কবিতা নয়। আর যে ব্যক্তি উপঢৌকন পাওয়ার জন্য কবিতা রচনা করে, তা নিন্দনীয়; কোনো কোনো আলিম উল্লেখ করেছেন যে, তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না।

(এরপর সুরা ফাতিহা ধারাবাহিকভাবে পাঠ করবেন) যদি এর ধারাবাহিকতা উলটপালট করা হয় তবে তা শুদ্ধ হবে না, কারণ সেটি তখন আর ফাতিহা থাকে না। যদি বিসমিল্লাহ পাঠের পর কেউ বলে: {পরম করুণাময় অসীম দয়ালু} {সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য} {বিচার দিবসের মালিক} অথবা একটি শব্দের আগে অন্যটি বলে ফেলে যেমন 'আর-রহীম' এর মতো...

--------------------------------------------

১. এর অন্তর্ভুক্ত হলো: "তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার ইচ্ছা করে তখন যদি বলে: আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদের যে সন্তান দান করবেন তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখুন। তবে তাদের মাঝে কোনো সন্তান নির্ধারিত হলে শয়তান কখনো তার ক্ষতি করতে পারবে না।" আরও রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসা ছিলেন এবং এক ব্যক্তি খাবার খাচ্ছিল। সে বিসমিল্লাহ বলেনি, এমনকি তার খাবারের মাত্র এক লোকমা অবশিষ্ট রইল। যখন সে তা মুখের কাছে নিল তখন বলল: আল্লাহর নামে এর শুরুতে ও শেষে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন এবং বললেন: শয়তান সারাক্ষণ তার সাথে খাচ্ছিল, কিন্তু যখনই সে আল্লাহর নাম নিল তখন শয়তান তার পেটে যা ছিল তা বমি করে দিল।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ২৯)
(متوالية) ، (مشددة) ، (وهي ركن في كل ركعة) ، (كما في الحديث: "لا صلاة لمن لا يقرأ بفاتحة الكتاب") ،

ــ

الرحمن. (متوالية) وكذلك لا بد من الإتيان بها متوالية، يعني لا يفصل بين الآيات، أو بين الكلمات كلمة عن كلمة، وهو أشد. والفصل ينقسم إلى فصل بسكوت، وفصل باشتغال بآخر، وكل منهما مفيت للموالاة إذا طال وكثر، إلا إذا كان مشروعاً؛ فإن قطعها بذكر غير مشروع ولو أنه ذكر، أو سكوت غسر مشروع وطال عرفاً لزمه استئناف الفاتحة من أولها؛ لأنه يقطع بعضها عن بعض، وإطالة الزمن لا يعد قارئها؛ بل يعد قراءة بعض وترك بعض، ثم نوبة أخرى قرأ بعضاً وترك بعضاً. أما إذا كان القطع بسكوت وذكر غير مشروع قصير عرفاً فإن ذلك لا يبطل. وإذا كان ليس ذكراً بل أجنبياً من الصلاة فإن هذه مسألة الكلام في الصلاة عمداً أو سهواً. أما إذا كان ذكراً مشروعاً أو سكوتاً مشروعاً فإن ذلك لو طال -من السكوت المشروع الاستماع لقراءة إمامه، فإذا سكت إمامه وأمكنه أن يقرأ قرأ ندباً لا وجوباً. وعند القائلين بأنه ركن على المأموم أن يقرأ إذا جهر الإمام. وهذا الأخير مرجوح كما يأتي. (مشددة) ويأتي بتشديداتها الإحدى عشرة.

(وهي ركن في كل ركعة) متعين قراءتها، ركن في حق الإمام والمنفرد. أما المأموم فتسفط عنه الركنية، وهذا أحد ما يتحمله الإمام (كما في الحديث: "لا صلاة لمن لا يقرأ بفاتحة الكتاب") فإنه نفي لذات الصلاة وحقيقتها، فدل على بطلانها وأنها لا تصح بدونها والنبي صلى الله عليه وسلم كان يقرأها في كل ركعة
(একাদিক্রমে), (তাশদীদযুক্ত), (এটি প্রত্যেক রাকাআতের একটি রুকন), (যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার কোনো সালাত নেই"),

—

আর-রাহমান। (একাদিক্রমে) অনুরূপভাবে এটি অবশ্যই একাদিক্রমে বা নিরবচ্ছিন্নভাবে আদায় করতে হবে, অর্থাৎ আয়াতগুলোর মাঝে অথবা শব্দগুলোর মাঝে একটি শব্দ থেকে অপরটি বিচ্ছিন্ন করা যাবে না, যা অধিক কঠোর বিষয়। বিচ্ছিন্নতা দুই ভাগে বিভক্ত: নীরবতার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হওয়া। যদি তা দীর্ঘ ও অধিক হয়, তবে উভয়টিই ধারাবাহিকতা নষ্টকারী হিসেবে গণ্য হবে; তবে যদি তা শরীয়তসম্মত কারণে হয় তবে ভিন্ন কথা। যদি কেউ একে অ-শরীয়তসম্মত কোনো যিকর (যদিও তা যিকর হয়) অথবা অ-শরীয়তসম্মত নীরবতার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করে এবং তা প্রচলিত প্রথা (উরফ) অনুযায়ী দীর্ঘ হয়, তবে তার জন্য পুনরায় শুরু থেকে ফাতিহা পাঠ করা আবশ্যক। কারণ এটি ফাতিহার এক অংশকে অন্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আর অধিক সময় অতিবাহিত করলে তাকে পাঠক হিসেবে গণ্য করা হয় না; বরং তাকে গণ্য করা হয় এমন ব্যক্তি হিসেবে যে কিছু অংশ পাঠ করেছে ও কিছু অংশ বর্জন করেছে, অতঃপর অন্য সময়ে আবার কিছু অংশ পাঠ করেছে ও কিছু অংশ বর্জন করেছে। তবে যদি এই বিচ্ছিন্নতা প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত নীরবতা বা অ-শরীয়তসম্মত সংক্ষিপ্ত যিকরের মাধ্যমে হয়, তবে তা বাতিল হবে না। আর যদি তা যিকর না হয়ে সালাত বহির্ভূত কোনো বিষয় হয়, তবে এটি সালাতের মধ্যে ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কথা বলার মাসআলার অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু যদি তা শরীয়তসম্মত যিকর বা শরীয়তসম্মত নীরবতা হয়, তবে তা দীর্ঘ হলেও (ক্ষতি নেই)—শরীয়তসম্মত নীরবতার উদাহরণ হলো ইমামের কিরাত শোনার জন্য নীরব থাকা। সুতরাং যখন ইমাম নীরব হন এবং মুক্তাদির পক্ষে পাঠ করা সম্ভব হয়, তখন সে মুস্তাহাব হিসেবে পাঠ করবে, ওয়াজিব হিসেবে নয়। আর যারা একে রুকন মনে করেন, তাদের মতে ইমাম উচ্চস্বরে পাঠ করলেও মুক্তাদিকে পাঠ করতে হবে। তবে এই শেষোক্ত মতটি দুর্বল (মারজুহ), যা সামনে আলোচিত হবে। (তাশদীদযুক্ত) এবং ফাতিহার এগারোটি তাশদীদ যথাযথভাবে আদায় করতে হবে।

(এটি প্রত্যেক রাকাআতের একটি রুকন) অর্থাৎ এর পাঠ সুনির্দিষ্ট বা আবশ্যক। এটি ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারীর ক্ষেত্রে একটি রুকন। তবে মুক্তাদির ক্ষেত্রে এর রুকন হওয়ার বিধান রহিত হয়ে যায়; আর এটি সেই বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা ইমাম (মুক্তাদির পক্ষ থেকে) বহন করেন। (যেমনটি হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার কোনো সালাত নেই") এখানে সালাতের মূল অস্তিত্ব ও এর হাকীকতকেই অস্বীকার করা হয়েছে। যা প্রমাণ করে যে, এটি ব্যতীত সালাত বাতিল এবং তা শুদ্ধ হবে না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রাকাআতে এটি পাঠ করতেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ৩০)
(وتسمى أم القرآن) ، (لأن فيها الإلهيات) ، (والمعاد، والنبوات، وفيها إثبات القدر) ، (فالآيتان الأوليان يدلان على الإلهيات) ، (وقوله: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} : يدل على المعاد) ، {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} (الأمر والنهي والتوكل وإخلاص ذلك كله لله) ، (وفيها التنبيه على طريق الحق وأهله والمقتدى بهم) ، (والتنبيه على طريق الغي والضلال) ، (ويستحب أن يقف عند كل آية) ، (لقراءته صلى الله عليه وسلم ، (وهي أعظم سورة في

ــ

(وتسمى أم القرآن) لها أسماء عديدة: فاتحة الكتاب. وأمّ القرآن. وسميت "أم القرآن" لما فيها من أصول الدين العظيمة، (لأن فيها الإلهيات) والإلهيات هي الأساس، (والمعاد، والنبوات، وفيها إثبات القدر) وهذه أصول عظيمة من أصول الدين (فالآيتان الأوليان يدلان على الإلهيات) الألوهيات (وقوله: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} : (يدل على المعاد) الآية الثالثة {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} تدل على المعاد؛ فإن المعاد هو الجزاء والحساب. {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} يدل على (الأمر والنهي والتوكل وإخلاص ذلك كله لله) و"العبادة" اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال الظاهرة والباطنة. وكرر إياك للاهتمام والحصر. أي: لا نعبد إلا "إياك"، ولا نتوكل إلا عليك. والدين كله يرجع إلى هذه الآية، (وفيها التنبيه على طريق الحق وأهله والمقتدى بهم) وهو صراط المنعم عليهم، (والتنبيه على طريق الغي والضلال) وأهل طريق الغي والضلال.

(ويستحب أن يقف عند كل آية) من آيات الفاتحة (لقراءته صلى الله عليه وسلم فإن قراءته كانت مدّاً، وكان يقف عند كل آية (وهي أعظم سورة في
(একে উম্মুল কুরআন বলা হয়), (কারণ এতে ইলাহিয়াত), (পরকাল, নবুওয়াত এবং এতে তাকদীরের প্রমাণ বিদ্যমান), (প্রথম দুটি আয়াত ইলাহিয়াতের ওপর প্রমাণ দেয়), (এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বিচার দিবসের মালিক}: পরকালের ওপর প্রমাণ দেয়), {আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই সাহায্য চাই} (আদেশ, নিষেধ, তাওয়াক্কুল এবং এই সবকিছু আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা), (এবং এতে হকের পথ, তার অনুসারী এবং যাদের অনুসরণ করা হয় তাদের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা রয়েছে), (এবং বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার পথ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে), (প্রতিটি আয়াতের শেষে থামা মুস্তাহাব), (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিরাআতের অনুসরণে), (এবং এটি সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা...

—

(একে উম্মুল কুরআন বলা হয়) এর অনেকগুলো নাম রয়েছে: ফাতিহাতুল কিতাব ও উম্মুল কুরআন। একে "উম্মুল কুরআন" নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে দীনের মহান মূলনীতিসমূহ নিহিত রয়েছে, (কারণ এতে ইলাহিয়াত রয়েছে) আর ইলাহিয়াত হলো মূল ভিত্তি, (পরকাল, নবুওয়াত এবং এতে তাকদীরের প্রমাণ রয়েছে) আর এগুলি দীনের অন্যতম মহান মূলনীতি। (প্রথম দুটি আয়াত ইলাহিয়াতের ওপর প্রমাণ দেয়) অর্থাৎ উলুহিয়্যাতের ওপর। (এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বিচার দিবসের মালিক}: (পরকালের ওপর প্রমাণ দেয়) তৃতীয় আয়াত {বিচার দিবসের মালিক} পরকালের প্রমাণ দেয়; কেননা পরকাল হলো প্রতিদান ও হিসাবের দিবস। {আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই সাহায্য চাই} এটি প্রমাণ দেয় (আদেশ, নিষেধ, তাওয়াক্কুল এবং এই সবকিছু আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করার ওপর)। "ইবাদত" হলো এমন একটি ব্যাপক নাম যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং সন্তুষ্ট হন এমন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজকে শামিল করে। গুরুত্বারোপ এবং সীমাবদ্ধ করার (হাসর) জন্য "আপনারই" শব্দটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। অর্থাৎ: আমরা "আপনি" ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করি না এবং আপনি ব্যতীত অন্য কারো ওপর ভরসা করি না। সমগ্র দীন এই আয়াতের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। (এবং এতে হকের পথ, তার অনুসারী এবং যাদের অনুসরণ করা হয় তাদের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা রয়েছে) আর তা হলো তাদের পথ যাদের ওপর অনুগ্রহ করা হয়েছে। (এবং বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার পথ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে) এবং বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের পথ সম্পর্কে।

(প্রতিটি আয়াতের শেষে থামা মুস্তাহাব) ফাতিহার আয়াতসমূহের মধ্যে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিরাআতের অনুসরণে, কেননা তাঁর কিরাআত ছিল দীর্ঘায়িত, এবং তিনি প্রতিটি আয়াতের শেষে থামতেন। (এবং এটি সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা...
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ৩১)
القرآن) ، (وأعظم آية فيه آية الكرسي) ، (وفيها إحدى عشرة تشديدة) ، (ويكره الإفراط في التشديد، والإفراط في المد) ، (فإذا فرغ قال: آمين بعد سكتة لطيفة) ، (ليعلم أنها ليست من القرآن) ، (ومعناها: اللهم استجب) ، (يجهر بها إمام ومأموم معا في صلاة جهرية) ،

ــ

القرآن) أعظم سور القرآن على الإطلاق هي الفاتحة للحديث الوارد في ذلك فإنه جاء في فضل الفاتحة: "ما نزل في التوارة ولا في الإنجيل ولا في القرآن مثلها"، وفي بعض الروايات: "ولا في الزبور … " (وأعظم آية فيه آية الكرسي) ولما قال أبي إنها هذه الآية قال صلى الله عليه وسلم: " ليهنئك العلم أبا المنذر". .

(وفيها إحدى عشرة تشديدة) لابد من الإتيان بها جميعاً في الفاتحة، فإذا ترك شدة حرف فكأنما ترك حرفاً؛ فإن الحرف المشدد حرفان. فالأول في "االله" من "الحمد لله" إلى آخر الشدات. فلو ترك شدة من الإحدى عشرة ما صحت به تلك الكلمة ما صح به ذلك الحرف. (ويكره الإفراط في التشديد، والإفراط في المد) يعني التعمق والتشدد في المد مكروه، وذلك أنه يحصل منه زيادة حرف.

(فإذا فرغ قال: آمين بعد سكتة لطيفة) يستحب سكوت الإمام بعد {وَلا الضَّالِّينَ} بين ولا الضالين وآمين (ليعلم أنها ليست من القرآن) فائدة ذلك ليعرف أن "آمين" ليست من الفاتحة، وهي طابع الدعاء. (ومعناها: اللهم استجب) فإن الفاتحة من {اهْدِنَا} إلى آخرها "دعاء". (يجهر بها إمام ومأموم معا في صلاة جهرية) يقولها الإمام والمنفرد والمأموم. يجهر بها الإمام والمأموم. وجاء في الحديث: " إذا أمن الإمام
(আল-কুরআন), (এবং এতে সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি), (এবং এতে এগারোটি তাশদীদ রয়েছে), (এবং তাশদীদে অতিরঞ্জন ও মাদ্দ-এ অতিরঞ্জন করা মাকরুহ), (যখন তিনি সমাপ্ত করবেন, তখন সামান্য বিরতির পর বলবেন: আমিন), (যাতে জানা যায় যে এটি কুরআনের অংশ নয়), (এবং এর অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি কবুল করুন), (উচ্চৈঃস্বরের সালাতে ইমাম ও মুক্তাদি একত্রে তা উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করবেন),

—

আল-কুরআন) আল-কুরআনের সূরাগুলোর মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ সূরা হলো সূরা ফাতিহা; এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদিসের কারণে। কেননা সূরা ফাতিহার ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: "তাওরাত, ইনজিল কিংবা কুরআনে এর মতো কিছু অবতীর্ণ হয়নি", এবং কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে: "যবুরেও নয় … " (এবং এতে সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি) এবং যখন উবাই (রা.) বললেন যে এটি এই আয়াত, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে আবু মুনযির! তোমার জ্ঞান তোমাকে ধন্য করুক"।

(এবং এতে এগারোটি তাশদীদ রয়েছে) সূরা ফাতিহায় এই সবকটি আদায় করা অপরিহার্য। যদি কেউ কোনো বর্ণের তাশদীদ ছেড়ে দেয় তবে সে যেন একটি বর্ণই ছেড়ে দিল; কেননা তাশদীদযুক্ত বর্ণ হলো মূলত দুটি বর্ণ। প্রথমটি হলো "আলহামদুলিল্লাহ" এর "আল্লাহ" শব্দের তাশদীদ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত। সুতরাং যদি কেউ এই এগারোটি তাশদীদের কোনো একটি ছেড়ে দেয়, তবে তার সেই শব্দটি সহিহ হবে না এবং সেই বর্ণটিও শুদ্ধ হবে না। (তাশদীদে অতিরঞ্জন এবং মাদ্দ-এ অতিরঞ্জন করা মাকরুহ) অর্থাৎ মাদ্দ-এর ক্ষেত্রে অতি গভীরতা ও কঠোরতা অবলম্বন করা মাকরুহ, কারণ এর ফলে একটি অতিরিক্ত বর্ণ সৃষ্টি হয়ে যায়।

(যখন তিনি সমাপ্ত করবেন, তখন সামান্য বিরতির পর বলবেন: আমিন) "ওয়ালাদ দ্বাল্লিন" এবং "আমিন"-এর মাঝখানে ইমামের জন্য সামান্য নীরবতা অবলম্বন করা মুস্তাহাব (যাতে জানা যায় যে এটি কুরআনের অংশ নয়) এর উপকারিতা হলো যাতে এটি চেনা যায় যে "আমিন" সূরা ফাতিহার অংশ নয়, বরং এটি হলো দোয়ার সিলমোহর। (এবং এর অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি কবুল করুন) কেননা সূরা ফাতিহার "ইহদিনা" থেকে শেষ পর্যন্ত অংশটি হলো "দোয়া"। (উচ্চৈঃস্বরের সালাতে ইমাম ও মুক্তাদি একত্রে তা উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করবেন) ইমাম, একাকী সালাত আদায়কারী এবং মুক্তাদি এটি পাঠ করবেন। ইমাম ও মুক্তাদি তা উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করবেন। হাদিসে এসেছে: "যখন ইমাম আমিন বলেন..."
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ৩২)
(معاً) ، (ويستحب سكوت الإمام بعدها) ، (في صلاة جهرية لحديث سمرة) ، (ويلزم الجاهل تعلمها) ، (فإن لم يفعل مع القدرة لم تصح صلاته) ، (ومن لم يحسن شيئا منها ولا من

ــ

فأمنوا"، وجاء: "أنه يؤمن الإمام"، "فمن وافق تأمينه تأمين الملائكة غفر له ما تقدم من ذنبه" يوافق زمن تأمين المأموم في وقت واحد. ولفظها بالتخفيف ومد أولها. ولو شدد الميم ما صح؛ بل هذا مغير للمعنى؛ فإن معناها قاصدين. وكذلك لو قال: أَمِيْن بفتح الهمزة وكسر الميم وسكون الياء (معاً) يعني جميعاً مثل ما سبق بلفظ واحد. أما السرية فلا جهر فيها بالتأمين كما لا جهر بالقراءة، فيؤمن سراً.

(ويستحب سكوت الإمام بعدها) يعني بعد الفاتحة (في صلاة جهرية لحديث سمرة) 1 (ويلزم الجاهل تعلمها) لحديث: "لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب" والذي يعلمها ولا يقرأها لا تصح صلاته. والذي لا يعلمها ويمكنه تعلمها يجب عليه. (فإن لم يفعل مع القدرة لم تصح صلاته) لتركه ركن صلاته قاصداً وهو يقدر على الإتيان به (ومن لم يحسن شيئا منها ولا من

--------------------------------------------

1 " … سكتة إذا كبر وسكتة إذا فرغ من {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ} رواية أبي داود قال شيخ الإسملا ابن تيمية قدس الله روحه: والسكتة التي عقب قوله: {وَلا الضَّالِّينَ} من جنس السكتات التي عند رؤوس الآي. إلى أن قال: ولم نعلم نزاعاً بين العلماء أنه لا يجب على الإمام أن يسكت لقراءة المأموم الفاتحة ولا غيرها. وقراءته معه منهي عنها بالكتاب والسنة. إلى أن قال: وأيضاً فلو كان الصحابة كلهم يقرأون الفاتحة خلفه أم في السكتة الأولى وإما في الثانية لكان هذا مما تتوفر الهمم والدواعي على نقله، فكيف ولم ينقل هذا احد عن أحد من الصحابة أنهم كانوا في السكتة الثانية خلفه يقرأون الفاتحة، مع أن ذلك لو كان مشروعاً لكان الصحابة أحق الناس بعلمه وعمله، فعلم أنه بدعة. (مجموع فتاوى ابن تيمية جـ 23/278) .
(একসাথে) , (এবং এরপর ইমামের নীরব থাকা মুস্তাহাব) , (উচ্চৈঃস্বরে পাঠকৃত সালাতে সামুরার হাদীসের কারণে) , (এবং অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য এটি শেখা আবশ্যক) , (যদি সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও সে তা না করে তবে তার সালাত শুদ্ধ হবে না) , (আর যে ব্যক্তি এর কিছুই জানে না এবং অন্য কিছুও...

—

...সুতরাং তোমরা আমীন বলো", এবং এসেছে: "নিশ্চয়ই ইমাম আমীন বলেন", "যার আমীন বলা ফিরিশতাদের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে" এটি একই সময়ে মুক্তাদীর আমীন বলার সময়ের সাথে মিলে যায়। আর শব্দটির উচ্চারণ হবে হালকা করে এবং এর শুরুতে দীর্ঘ স্বর দিয়ে। যদি কেউ মীম বর্ণে তাশদীদ দেয় তবে তা শুদ্ধ হবে না; বরং এটি অর্থ পরিবর্তন করে দেয়; কারণ তখন এর অর্থ হবে 'সংকল্পকারীগণ'। অনুরূপভাবে যদি কেউ বলে: 'আমীন' হামযাহ-তে ফাতহা, মীম-এ কাসরা এবং ইয়া-তে সুকুন দিয়ে। (একসাথে) অর্থাৎ সকলে মিলে যেমনটি পূর্বে একটি শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে। আর নিম্নস্বরে পাঠকৃত সালাতের ক্ষেত্রে আমীন বলাতে উচ্চৈঃস্বর নেই, যেমনটি কিরাআত উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করা হয় না, সুতরাং সেখানে মনে মনে আমীন বলতে হবে।

(এবং এরপর ইমামের নীরব থাকা মুস্তাহাব) অর্থাৎ সূরা ফাতিহার পর (উচ্চৈঃস্বরে পাঠকৃত সালাতে সামুরার হাদীসের কারণে) ১ (এবং অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য এটি শেখা আবশ্যক) এই হাদীসের কারণে: "যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করল না তার সালাত নেই।" আর যে ব্যক্তি এটি জানে কিন্তু পাঠ করে না, তার সালাত শুদ্ধ হবে না। আর যে ব্যক্তি এটি জানে না কিন্তু শেখা সম্ভব, তার ওপর তা শেখা আবশ্যক। (যদি সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও সে তা না করে তবে তার সালাত শুদ্ধ হবে না) ইচ্ছাকৃতভাবে সালাতের একটি রুকন পরিত্যাগ করার কারণে, অথচ সে তা সম্পাদন করতে সক্ষম ছিল। (আর যে ব্যক্তি এর কিছুই জানে না এবং অন্য কিছুও...

--------------------------------------------

১ " ... এক বিরতি যখন তিনি তাকবীর দিতেন এবং এক বিরতি যখন তিনি {গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ-দাল্লীন} পাঠ শেষ করতেন" - আবু দাউদের বর্ণনা। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) বলেছেন: এবং {ওয়ালাদ-দাল্লীন} বলার পরের বিরতিটি আয়াতের শেষ প্রান্তের বিরতিগুলোর পর্যায়ভুক্ত। তিনি আরও বলেন: আমরা আলেমদের মধ্যে এমন কোনো মতভেদ জানি না যে, মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা বা অন্য কিছু পড়ার জন্য ইমামের নীরব থাকা ওয়াজিব নয়। আর ইমামের সাথে মুক্তাদীর পাঠ করা কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা নিষিদ্ধ। তিনি আরও বলেন: এছাড়াও যদি সাহাবীগণের সকলেই তাঁর পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন, চাই প্রথম বিরতিতে হোক বা দ্বিতীয় বিরতিতে, তবে এটি এমন বিষয় হতো যা বর্ণনা করার প্রচুর আগ্রহ ও কারণ থাকত। সুতরাং এটি কীভাবে সম্ভব যে সাহাবীগণের কারো থেকে এটি বর্ণিত হয়নি যে তাঁরা তাঁর পিছনে দ্বিতীয় বিরতিতে সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন? অথচ এটি যদি শরীয়তসম্মত হতো তবে সাহাবীগণই এটি জানা ও আমল করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হতেন। অতএব বুঝা গেল যে এটি একটি বিদআত। (মাজমুউল ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়াহ খণ্ড ২৩/২৭৮) ।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবি আদাবিল মাশয়ি ইলাস সালাতি আও আল-ইবাদাত (আস-সালাত, আয-যাকাত, আস-সিয়াম) (পৃষ্ঠা: ৩৩)
غيرها من القرآن) ، (لزمه أن يقول) ، (سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله والله أكبر، لقوله صلى الله عليه وسلم: "إن كان معك قرآن فاقرأ، وإلا فاحمد الله، وهلله، وكبره ثم اركع" رواه أبو داود والترمذي) ، (ثم يقرأ البسملة سراً) ، (ثم يقرأ سورة كاملة) ، (ويجزي آية) ، (إلا أن أحمد استحب أن تكون طويلة) ، (فإن كان في غير الصلاة فإن شاء جهر

ــ

غيرها من القرآن) وكذلك إذا لم يمكنه تعلمها (لزمه أن يقول) في حال قيامه في مكان قراءة القرآن (سبحان الله، والحمد لله، ولا إله إلا الله والله أكبر، لقوله صلى الله عليه وسلم: "إن كان معك قرآن فاقرأ، وإلا فاحمد الله، وهلله، وكبره ثم اركع" رواه أبو داود والترمذي) فمستطيع الفاتحة لا يجزيه غيرها، وإن كان يستطيع بعضها ردده1، فإذا كان لا يحفظ شيئاً من القرآن فيكون الركن في حقه قول: سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر. كما تقدم.

(ثم يقرأ البسملة سراً) ثم يبسمل سراً لا جهراً. يعني بعد التأمين وبعد السكوت2. فإن كان خارج الصلاة فهو مخير بين الجهر بالبسملة والإسرار.

(ثم يقرأ سورة كاملة) هذا هو السنة أن يقرأ في كل ركعة بسورة، بكل السورة. ويأتي بيان طولها وقصرها. ولو فرق سورة في ركعتين جاز، (ويجزي آية) بل لو آية (إلا أن أحمد استحب أن تكون طويلة) كآية الكرسي وآية الدين. (فإن كان في غير الصلاة فإن شاء جهر

--------------------------------------------

1 يعني كرره.

2 ويأتي تكملة البحث في الإسرار بها.
(কুরআনের অন্য কোনো অংশ), (তার জন্য বলা আবশ্যক), (আল্লাহ অতি পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যদি তোমার সাথে কুরআন থাকে তবে তা পাঠ করো, অন্যথায় আল্লাহর প্রশংসা করো, তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করো এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো; অতঃপর রুকু করো।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন), (অতঃপর চুপিচুপি বিসমিল্লাহ পাঠ করবেন), (অতঃপর একটি পূর্ণ সূরা পাঠ করবেন), (এবং একটি আয়াতই যথেষ্ট), (তবে ইমাম আহমাদ দীর্ঘ আয়াত হওয়া মুস্তাহাব বলেছেন), (সালাতের বাইরে হলে চাইলে উচ্চস্বরে পাঠ করবেন)

—

কুরআনের অন্য কোনো অংশ) একইভাবে যদি তা শেখা তার পক্ষে সম্ভব না হয়, (তবে তার জন্য বলা আবশ্যক) কিয়াম বা দণ্ডায়মান অবস্থায় যেখানে কুরআন পাঠ করা হয় (আল্লাহ অতি পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যদি তোমার সাথে কুরআন থাকে তবে তা পাঠ করো, অন্যথায় আল্লাহর প্রশংসা করো, তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করো এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো; অতঃপর রুকু করো।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন)। সুতরাং যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠে সক্ষম, তার জন্য অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না। আর যদি সে এর কিয়দাংশ পাঠ করতে সক্ষম হয় তবে সে তা পুনরাবৃত্তি করবে১। আর যদি সে কুরআনের কোনো অংশই মুখস্থ না রাখে, তবে তার ক্ষেত্রে অপরিহার্য রুকন বা স্তম্ভ হবে এই বাক্যগুলো বলা: আল্লাহ অতি পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(অতঃপর চুপিচুপি বিসমিল্লাহ পাঠ করবেন) অর্থাৎ নিম্নস্বরে বিসমিল্লাহ পাঠ করবেন, উচ্চস্বরে নয়। এর অর্থ হলো আমীন বলার পর এবং নীরবতা পালনের পর২। আর যদি সালাতের বাইরে হয় তবে তিনি বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে বা নিম্নস্বরে পাঠ করার ব্যাপারে ইচ্ছাধীন।

(অতঃপর একটি পূর্ণ সূরা পাঠ করবেন) এটিই হলো সুন্নাহ যে, প্রতি রাকাতে একটি পূর্ণ সূরা পাঠ করবেন। এর দৈর্ঘ্য ও সংক্ষিপ্ততা সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে। আর যদি একটি সূরাকে দুই রাকাতে ভাগ করে পড়া হয় তবে তা বৈধ। (এবং একটি আয়াতই যথেষ্ট) বরং একটি আয়াত হলেও চলবে, (তবে ইমাম আহমাদ দীর্ঘ আয়াত হওয়া মুস্তাহাব বলেছেন) যেমন আয়াতুল কুরসি এবং ঋণের আয়াত। (আর যদি সালাতের বাইরে হয় তবে চাইলে উচ্চস্বরে পাঠ করবেন)

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ তা বারবার পড়বে।

২ এবং এটি নিম্নস্বরে পাঠ করার বিষয়ের পরিশিষ্ট সামনে আসবে।