(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: -)
شرح شروط الصلاة وأركانها وواجباتها لشيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب   (عبد المحسن العباد)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: شرح شروط الصلاة وأركانها وواجباتها لشيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب

المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر

الناشر: بدون ناشر (فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية - الرياض)

الطبعة: الطبعة الأولى 1425هـ

عدد الصفحات: 95

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব-এর সালাতের শর্তাবলি, আরকান ও ওয়াজিবসমূহের ব্যাখ্যা   (আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


কিতাব: শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব-এর সালাতের শর্তাবলি, আরকান ও ওয়াজিবসমূহের ব্যাখ্যা

লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর

প্রকাশক: প্রকাশকবিহীন (কিং ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগার ক্যাটালগ - রিয়াদ)

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪২৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.

أما بعد، فهذا شرح لرسالة شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله المشتملة على شروط الصلاة وأركانها وواجباتها؛ فأقول: قد اشتملت هذه الرسالة على شروط الصلاة التسعة وأركانها الأربعة عشر وواجباتها الثمانية، وعند ذكره رحمه الله الشرط الرابع من شروط الصلاة وهو رفع الحدث ذكر شروط الطهارة العشرة وفروض الوضوء الستة، وواجبه الذي هو التسمية مع الذكر ونواقضه الثمانية، وفي كلامه على أركان الصلاة فسر سورة الفاتحة باختصار وشرح ألفاظ الاستفتاح والتشهد.
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর, এটি শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর সেই পুস্তিকার একটি ব্যাখ্যা, যা সালাতের শর্তাবলি, রোকনসমূহ এবং ওয়াজিবসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমি বলছি: এই পুস্তিকাটি সালাতের নয়টি শর্ত, চৌদ্দটি রোকন এবং আটটি ওয়াজিবকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) যখন সালাতের শর্তাবলির চতুর্থ শর্ত অর্থাৎ অপবিত্রতা দূর করার কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি পবিত্রতার দশটি শর্ত, ওযুর ছয়টি ফরয, ওযুর ওয়াজিব—যা হলো মনে থাকা অবস্থায় 'বিসমিল্লাহ' বলা—এবং ওযুর আটটি ভঙ্গকারী বিষয় উল্লেখ করেছেন। এছাড়া সালাতের রোকনসমূহ আলোচনার ক্ষেত্রে তিনি সংক্ষেপে সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর করেছেন এবং ছানা (ইস্তিফতাহ) ও তাশাহহুদের শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌شروط الصلاة

الشروط جمع شرط، والشرط هو الذي يلزم من عدمه العدم، ولا يلزم من وجوده وجود، والمعنى أنه يلزم من كون الإنسان غير متطهر ألا تصح له صلاة، لأن شرط الصلاة الطهارة، لقوله صلى الله عليه وسلم: "لا يقبل الله صلاة أحدكم إذا أحدث حتى يتوضأ". رواه البخاري (6954) ومسلم (537) عن أبي هريرة.

وقد يتوضأ الإنسان ثم يحدث دون أن يصلي صلاة بذلك الوضوء، فلا يلزم من وجود الطهارة وجود الصلاة.

قوله: " الشرط الأول: الإسلام، وضده الكفر، والكافر عمله مردود ولو عمل أي عمل، والدليل قوله تعالى: {مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَنْ يَعْمُرُوا مَسَاجِدَ اللَّهِ شَاهِدِينَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ بِالْكُفْرِ أُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ} [التوبة:17] ، وقوله: {وَقَدِمْنَا
নামাজের শর্তাবলি

‘শুরুত’ (শর্তাবলি) শব্দটি ‘শর্ত’-এর বহুবচন। আর ‘শর্ত’ হলো তা, যার অনুপস্থিতিতে মূল বিষয়টিও অনুপস্থিত থাকা অনিবার্য হয়ে পড়ে, কিন্তু এর উপস্থিতিতে মূল বিষয়টি উপস্থিত থাকা অনিবার্য হয় না। এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি অপবিত্র থাকলে তার নামাজ শুদ্ধ হবে না, কারণ নামাজের শর্ত হলো পবিত্রতা। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন অপবিত্র হয়, সে অজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার নামাজ কবুল করেন না।" এটি ইমাম বুখারি (৬৯৫৪) ও মুসলিম (৫৩৭) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবার এমনও হতে পারে যে, কোনো ব্যক্তি অজু করল, এরপর সেই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করার পূর্বেই তার অজু ভেঙে গেল; সুতরাং পবিত্রতা বিদ্যমান থাকলেই নামাজ বিদ্যমান থাকা আবশ্যক নয়।

তাঁর উক্তি: "প্রথম শর্ত: ইসলাম, আর এর বিপরীত হলো কুফর (অবিশ্বাস)। কাফেরের আমল প্রত্যাখ্যাত হয়, সে যে আমলই করুক না কেন। এর দলিল মহান আল্লাহর বাণী: {মুশরিকদের জন্য এটা শোভা পায় না যে, তারা আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যেখানে তারা নিজেদের কুফরির ব্যাপারে নিজেরা সাক্ষ্য দিচ্ছে। এদেরই আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে গিয়েছে এবং আগুনেই তারা চিরকাল অবস্থান করবে।} [আত-তাওবা: ১৭]। এবং তাঁর বাণী: {আর আমি অগ্রসর হব...}
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৫)
إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُوراً} [الفرقان: 23]

كل عمل يتقرب به إلى الله في هذه الأمة لا ينفع صاحبه إلاّ إذا كان مسبوقاً بشهادة ألا إله إلاّ الله وأن محمداً رسول الله، ومبنياً عليهما، فلابد من إخلاص العمل لله وهو مقتضى شهادة ألا إله إلا الله، ولابد من متابعة رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مقتضى شهادة أن محمداً رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكل عمل يعمله الكافر فإنه لا ينفعه عند الله عز وجل، لفقده شرط الإسلام، وقد استدل الشيخ رحمه الله لرد أعمال الكفار وعدم قبولها منهم بالآيتين من سورة التوبة وسورة الفرقان، لأن آية التوبة ختمت ببيان حبوط أعمال الكفار، وآية الفرقان بيّنت أن أعمالهم لا عبرة بها، وأنها مثل الهباء المنثور أي بطلت واضمحلت.

قوله: [الثاني: العقل، وضده الجنون، والمجنون مرفوع
{আর আমি তারা যে আমল করেছে তার প্রতি অগ্রসর হব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব।} [আল-ফুরকান: ২৩]

এই উম্মতের মধ্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে করা প্রতিটি আমল তার সম্পাদনকারীর কোনো উপকারে আসবে না, যতক্ষণ না তা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’—এই সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে শুরু হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং ইখলাসের সাথে আল্লাহর জন্য আমল করা আবশ্যক, যা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’—এই সাক্ষ্যের দাবি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করা আবশ্যক, যা ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)—এই সাক্ষ্যের দাবি। কাফির যে আমলই করুক না কেন, তা মহান আল্লাহর নিকট তার কোনো উপকারে আসবে না, কারণ সে ইসলামের শর্ত হারিয়েছে। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) কাফিরদের আমল বাতিল হওয়া এবং তাদের থেকে তা কবুল না হওয়ার সপক্ষে সূরা আত-তাওবা এবং সূরা আল-ফুরকানের দুটি আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। কেননা সূরা তাওবার আয়াতটি কাফিরদের আমল নিস্ফল হওয়ার বিবরণের মাধ্যমে শেষ হয়েছে এবং সূরা ফুরকানের আয়াতটি স্পষ্ট করেছে যে, তাদের আমলের কোনো গুরুত্ব নেই এবং তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার ন্যায়; অর্থাৎ তা বাতিল ও বিলীন হয়ে গিয়েছে।

তাঁর উক্তি: [দ্বিতীয়: বিবেক-বুদ্ধি, যার বিপরীত হলো উন্মাদনা, আর পাগলের ওপর থেকে (কলম) উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে...]
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৬)
عنه القلم حتى يفيق، والدليل حديث: "رفع القلم عن ثلاثة، النائم حتى يستيقظ، والمجنون حتى يفيق، والصغير حتى يبلغ"] .

لابد للمصلي في صلاته أن يكون حاضر العقل ليس فاقداً له بجنون أو سكر، لأن المجنون مرفوع عنه القلم غير مكلف، والسكران أفقد نفسه عقله فألحقها بالمجانين، فلا يعقل صلاته، وقد استدل الشيخ رحمه الله بحديث "رفع القلم عن ثلاثة" وهو حديث صحيح أخرجه أبو داود (4398) والنسائي (3432) وابن ماجه (2041) من حديث عائشة رضي الله عنها، وانظر إرواء الغليل للألباني (297) .

قوله: [الثالث: التمييز، وضده الصغر، وحدّه سبع سنين، ثم يؤمر بالصلاة لقوله صلى الله عليه وسلم: "مروا أبناءكم بالصلاة لسبع، واضربوهم عليها لعشر، وفرّقوا بينهم في المضاجع"] .
তার ওপর থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়, আর এর দলিল হলো হাদিস: "তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয় এবং শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়।" .

সালাত আদায়কারীর জন্য তার সালাতে উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া অপরিহার্য, পাগল হওয়া বা নেশাগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমে সে যেন তা হারিয়ে না ফেলে। কারণ পাগলের ওপর থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং সে শরিয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ নয়। আর নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি নিজেই নিজের বুদ্ধি হারিয়ে নিজেকে পাগলের দলভুক্ত করেছে, ফলে সে তার সালাত বুঝতে পারে না। শেখ (রহিমাহুল্লাহ) "তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে" হাদিসটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এটি একটি সহিহ হাদিস, যা আবু দাউদ (৪৩৯৮), নাসায়ি (৩৪৩২) এবং ইবনে মাজাহ (২০৪১) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস থেকে সংকলন করেছেন; দেখুন আলবানী রচিত ইরওয়াউল গালিল (২৯৭)।

তাঁর উক্তি: [তৃতীয়: তাময়িজ বা বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া, যার বিপরীত হলো শৈশব। এর সময়সীমা হলো সাত বছর। এরপর তাকে সালাতের নির্দেশ দিতে হবে, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও, আর দশ বছর বয়সে তার জন্য তাদের প্রহার করো এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।"] ।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৭)
إذا بلغ الصغير سن التمييز وهو سبع سنين أمر بالصلاة ليس على سبيل الإيجاب، لأن الوجوب إنما يكون بعد البلوغ، وأمره بالصلاة في هذه السن ليتعود على الصلاة والاتيان بها على الوجه المشروع، وإذا بلغ عشر سنين تأكّد أمره بها وأدّب على ذلك بالضرب غير المبرح لقوله صلى الله عليه وسلم: "مروا أبناءكم بالصلاة لسبع"، وهو حديث صحيح أخرجه أحمد (6756) (6689) وأبو داود (495) من حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما، وأخرجه أبو داود (494) من حديث سبرة بن معبد الجهني رضي الله عنه وانظر إرواء الغليل (247) .

قوله: [الشرط الرابع: رفع الحدث، وهو الوضوء المعروف، وموجبه الحدث] .

الحدث: هو كل خارج من السبيلين وكذا أي ناقض للوضوء، والحدث هو الذي يوجب الوضوء،
যখন শিশু ভালো-মন্দের পার্থক্য করার বয়সে (তাময়িজ) পৌঁছে, যা হলো সাত বছর, তখন তাকে সালাতের আদেশ দেওয়া হবে; তবে এটি বাধ্যতামূলক হিসেবে নয়। কারণ বাধ্যবাধকতা কেবল প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেই প্রযোজ্য হয়। এই বয়সে তাকে সালাতের আদেশ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো যাতে সে সালাতে অভ্যস্ত হয় এবং শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে তা আদায় করতে পারে। আর যখন সে দশ বছরে পৌঁছাবে, তখন তাকে সালাতের জন্য জোর দেওয়া হবে এবং এর জন্য মৃদু প্রহারের মাধ্যমে শাসন করা হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও।" এটি একটি সহীহ হাদীস, যা আহমাদ (৬৭৫৬, ৬৬৮৯) এবং আবু দাউদ (৪৯৫) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আবু দাউদ (৪৯৪) সাবরা ইবনে মা’বাদ আল-জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু হতেও এটি বর্ণনা করেছেন; দেখুন: ইরওয়াউল গালীল (২৪৭)।

তাঁর উক্তি: [চতুর্থ শর্ত: নাপাকি বা অপবিত্রতা দূর করা, আর তা হলো সুপরিচিত ওযু, এবং এর হেতু হলো অপবিত্রতা হওয়া]।

হাদাস বা অপবিত্রতা: এটি হলো মলমূত্রের রাস্তা দিয়ে যা কিছু বের হয় এবং ওযু ভঙ্গের যাবতীয় কারণসমূহ। আর এই অপবিত্রতাই ওযুকে আবশ্যক করে।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৮)
والحدث حدثان: حدث أكبر وهو ما يوجب الغسل وهو الجنابة والحيض والنفاس، وحدث أصغر وهو ما يوجب الوضوء، ورفع الحدث يكون بالغُسل والوضوء لمن وجد الماء أو قدر على استعماله، فإذا لم يوجد الماء أو وجد ولكن لم يُقدر على استعماله انتُقل إلى رفع كل من الحدث الأكبر والأصغر بالتيمم، وإذا تيمم للحدث الأكبر ثم وجد الماء اغتسل لقوله صلى الله عليه وسلم: "إن الصعيد الطيب طهور المسلم، وإن لم يجد الماء عشر سنين، فإذا وجد الماء فليمسه بشرته، فإن ذلك خير". أخرجه الترمذي (124) وغيره عن أبي ذر رضي الله عنه، وقال الترمذي: حديث حسن صحيح، وانظر إرواء الغليل (153) ، وإذا اغتسل من عليه حدث أكبر ونوى رفع الحدث الأكبر والأصغر ارتفعا، أما إذا أفاض الماء على جسده في غسل الجمعة أو التبرد ونوى رفع الحدث الأصغر فإنه لا يرتفع، لأن هذا الاغتسال ليس فيه رفع حدث.
অপবিত্রতা (হাদাস) দুই প্রকার: বড় অপবিত্রতা, যা গোসল ওয়াজিব করে—আর তা হলো জানাবাত, মাসিক (হায়েজ) ও নেফাস; এবং ছোট অপবিত্রতা, যা ওজু ওয়াজিব করে। যে ব্যক্তি পানি পায় অথবা তা ব্যবহারে সক্ষম হয়, তার জন্য অপবিত্রতা দূরীকরণ হবে গোসল ও ওজুর মাধ্যমে। সুতরাং যদি পানি পাওয়া না যায় অথবা পাওয়া গেলেও তা ব্যবহারে সক্ষম না হয়, তবে তায়াম্মুমের মাধ্যমে বড় ও ছোট উভয় প্রকার অপবিত্রতা দূরীকরণের দিকে ধাবিত হতে হবে। আর যদি বড় অপবিত্রতার জন্য তায়াম্মুম করার পর পানি পাওয়া যায়, তবে সে যেন গোসল করে নেয়। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই পবিত্র মাটি মুসলিমের জন্য পবিত্রকারী, যদিও সে দশ বছর পানি না পায়। অতঃপর যখন সে পানি পাবে, তখন যেন তা নিজ শরীরের ত্বকে স্পর্শ করায়; নিশ্চয়ই তা উত্তম।" এটি তিরমিজি (১২৪) এবং অন্যান্যরা আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে হাসান সহিহ হাদিস বলেছেন; দেখুন ইরওয়াউল গালিল (১৫৩)। যার ওপর বড় অপবিত্রতা রয়েছে, সে যদি গোসল করে এবং বড় ও ছোট উভয় প্রকার অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করে, তবে উভয়টিই দূর হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সে জুমার গোসল কিংবা শরীর ঠাণ্ডা করার উদ্দেশ্যে শরীরে পানি ঢালে এবং ছোট অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করে, তবে তা দূর হবে না; কারণ এই গোসলের মধ্যে অপবিত্রতা দূরীকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নেই।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌شروط الوضوء

قوله: [وشروطه عشرة: الإسلام، والعقل، والتمييز، والنية، واستصحاب حكمها، بأن لا ينوي قطعها حتى تتم الطهارة، وانقطاع موجب، واستنجاء أو استجمار قبله، وطهورية ماء، وإباحته، وإزالة ما يمنع وصوله إلى البشرة، ودخول وقت على من حدثه دائم لفرضه] .

تقدّم الكلام على شروط الإسلام والعقل والتمييز، وأما شرط النية فإنه عند وضوئه ينوي بقلبه رفع الحدث ولا يتلفظ بلسانه، وكذا في جميع العبادات ينوي بقلبه ولا يتلفظ بلسانه إلاّ في الحج والعمرة فله أن يتلفظ بما نواه فيقول: لبيك عمرة، أو لبيك حجّاً أو لبيك حجّاً وعمرة، ولو غسل وجهه عند قيامه من النوم لا يريد الوضوء ثم بدا له أن يتوضأ فإنه يلزمه أن يغسل وجهه للوضوء ولا يكتفي بغسله السابق لعدم وجود نية الوضوء عند ذلك الغسل، ولو اغتسل
অজুর শর্তাবলি

তাঁর বক্তব্য: [আর এর শর্ত দশটি: ইসলাম, বুদ্ধি (আকল), ভালো-মন্দ পার্থক্যের জ্ঞান (তাময়িয), নিয়ত, এবং নিয়তের হুকুমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা—এভাবে যে, পবিত্রতা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তা বিচ্ছিন্ন করার নিয়ত করবে না, (হদসের) কারণ বন্ধ হওয়া, অজুর পূর্বে এস্তেঞ্জা বা এস্তেজমার করা, পানির পবিত্রতা, পানির বৈধতা, চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন বস্তু দূর করা এবং যার সর্বদা অপবিত্রতা (হদসে দায়েম) থাকে তার জন্য ফরজের ওয়াক্ত প্রবেশ করা]।

ইসলাম, আকল এবং তাময়িযের শর্তাবলি সম্পর্কে আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর নিয়তের শর্তের বিষয়ে কথা হলো, ব্যক্তি অজুর সময় তার অন্তরে অপবিত্রতা (হদস) দূর করার নিয়ত করবে এবং মুখে তা উচ্চারণ করবে না। অনুরূপভাবে সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে সে অন্তরে নিয়ত করবে এবং মুখে তা উচ্চারণ করবে না; তবে হজ ও ওমরার বিষয়টি ভিন্ন, সেখানে সে যা নিয়ত করেছে তা মুখে উচ্চারণ করতে পারবে। সুতরাং সে বলবে: 'আমি উপস্থিত ওমরাহর জন্য', অথবা 'আমি উপস্থিত হজের জন্য', অথবা 'আমি উপস্থিত হজ ও ওমরাহর জন্য'। আর যদি কেউ ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ধৌত করে কিন্তু তখন তার অজুর ইচ্ছা ছিল না, অতঃপর সে অজু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে অজুর জন্য তাকে পুনরায় মুখ ধৌত করতে হবে। পূর্বের ধৌত করা যথেষ্ট হবে না, কারণ সেই ধৌত করার সময় অজুর নিয়ত বিদ্যমান ছিল না। আর যদি সে গোসল করে...
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১০)
من عليه جنابة للتبرد ناسياً الجنابة فإنه لا يجزئه عن غُسل الجنابة لعدم وجود النية، ومع نية الطهارة يستصحب حكمها حتى تتم الطهارة، فلو نوى قطع النية في أثناء الوضوء ثم أراد إكمال الوضوء فليس له ذلك بل يتعين عليه البدء بالوضوء من أوله، ولا يكمل ما بقي عليه لأنه قد ألغى ما حصل منه، وهذا هو الشرط الخامس، والشرط السادس انقطاع موجب، أي انقطاع موجب الوضوء وهو الحدث، وذلك بأن ينتظر عند قضاء حاجته حتى انقطاع ما يخرج من السبيلين فلا يشرع في الوضوء قبل الانقطاع.

والشرط السابع: الاستنجاء أو الاستجمار قبل الوضوء، وهذا إذا كان الخارج من السبيلين بولاً أو غائطاً، أما خروج الريح فإنه لا استنجاء ولا استجمار فيه، والاستجمار يغني عن الاستنجاء إذا لم يتجاوز الخارج موضع العادة، فإن تجاوزه احتيج مع ذلك إلى الاستنجاء لإزالة النجاسة.
যার ওপর জানাবাত (অপবিত্রতা) ওয়াজিব হয়েছে, সে যদি জানাবাতের কথা ভুলে গিয়ে কেবল শরীর ঠাণ্ডা করার উদ্দেশ্যে গোসল করে, তবে নিয়ত না থাকার কারণে তা জানাবাতের গোসল হিসেবে যথেষ্ট হবে না। আর পবিত্রতার নিয়ত থাকলে, পবিত্রতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেই হুকুম বলবৎ থাকবে। সুতরাং কেউ যদি ওযুর মাঝপথে নিয়ত ছিন্ন করার সংকল্প করে এবং পরে ওযু পূর্ণ করতে চায়, তবে সে তা পারবে না; বরং তার জন্য ওযু শুরু থেকে পুনরায় আরম্ভ করা আবশ্যক। এবং সে অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করবে না, কেননা সে ইতিমধ্যে যা সম্পন্ন করেছিল তা বাতিল করে দিয়েছে। এটি পঞ্চম শর্ত। আর ষষ্ঠ শর্ত হলো—ওযু ওয়াজিব হওয়ার কারণ বন্ধ হওয়া, অর্থাৎ 'হাদাস' বা অপবিত্রতা নির্গত হওয়া বন্ধ হওয়া। এর পদ্ধতি হলো, হাজত পূরণের সময় দুই পথ দিয়ে যা নির্গত হয় তা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। নির্গত হওয়া বন্ধ হওয়ার আগে ওযু শুরু করা বৈধ নয়।

সপ্তম শর্ত: ওযুর পূর্বে ইস্তিনজা বা ইস্তিজমার করা। এটি তখনই প্রযোজ্য যখন দুই পথ দিয়ে প্রস্রাব বা পায়খানা নির্গত হয়। তবে বায়ু নির্গত হলে তাতে ইস্তিনজা বা ইস্তিজমার করার প্রয়োজন নেই। আর যদি নির্গত নাপাকি স্বাভাবিক জায়গা অতিক্রম না করে, তবে ইস্তিজমারই ইস্তিনজার বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট হবে। কিন্তু যদি তা স্বাভাবিক জায়গা অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়ে, তবে সেই নাপাকি দূর করার জন্য ইস্তিজমারের পাশাপাশি ইস্তিনজা করা আবশ্যক হয়ে পড়বে।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১১)
والشرط الثامن: طهورية ماء وإباحته وهما شيئان، والشيخ رحمه الله جعل الشروط عشرة وذكر بعد هذا شرطين، وعلى هذا يكون اعتبر الطهورية والإباحة شرطاً واحداً، ويشترط في ماء الوضوء أن يكون طهوراً فلا يتطهر بماء متنجس، وأن يكون الماء مباحاً ليس مغصوباً، وهذا الأخير محل خلاف وفي اشتراطه نظر، والأظهر أن من توضأ بماء مغصوب فالوضوء صحيح، وهو آثم على الغصب، ومثله من صلى في أرض مغصوبة، أو صلى في ثوب حرير فإن صلاته صحيحة، وهو آثم في الغصب وفي لبس الحرير.

والشرط التاسع: إزالة ما يمنع وصوله إلى البشرة فلابد في الوضوء من وصول الماء إلى أعضاء الوضوء، ويجب إزالة مايمنع وصوله إليها كالطين والعجين والطلاء ونحو ذلك مما يغطي البشرة، أما ما يغير اللون ولا يغطي البشرة كالحناء فإن ذلك لا يؤثر.
অষ্টম শর্ত: পানির পবিত্রতা এবং এর বৈধতা। এই দুটি বিষয়। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) শর্তসমূহ দশটি করেছেন এবং এরপরে আরও দুটি শর্ত উল্লেখ করেছেন। সেই হিসেবে তিনি পানির পবিত্রতা ও বৈধতাকে একটি শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন। ওযুর পানির জন্য শর্ত হলো তা পবিত্র ও পবিত্রকারী হতে হবে, সুতরাং অপবিত্র পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যাবে না। আর পানি বৈধ হতে হবে, যা জবরদখলকৃত নয়। এই শেষোক্ত বিষয়টি মতভেদের স্থল এবং এটিকে শর্ত করার ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। অধিকতর স্পষ্ট অভিমত হলো, কেউ যদি জবরদখলকৃত পানি দিয়ে ওযু করে তবে ওযু সঠিক হবে, তবে জবরদখলের কারণে সে গুনাহগার হবে। অনুরূপভাবে, কেউ যদি জবরদখলকৃত ভূমিতে সালাত আদায় করে অথবা রেশমি পোশাকে সালাত আদায় করে, তবে তার সালাত সঠিক হবে, আর জবরদখল এবং রেশম পরিধানের কারণে সে গুনাহগার হবে।

নবম শর্ত: চামড়ায় পানি পৌঁছাতে বাধা প্রদানকারী বস্তু দূর করা। ওযুর ক্ষেত্রে ওযুর অঙ্গসমূহে পানি পৌঁছানো অপরিহার্য। যা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় তা দূর করা ওয়াজিব; যেমন: কাদা, খামির, রং এবং এ জাতীয় যা কিছু চামড়াকে আবৃত করে ফেলে। তবে যা শুধু রঙ পরিবর্তন করে কিন্তু চামড়াকে আবৃত করে না—যেমন মেহেদি—তা কোনো প্রভাব ফেলে না।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১২)
والشرط العاشر: دخول وقت على من حدثه دائم لفرضه، والمعنى أن من كان به سلس بول أو تخرج منه الريح باستمرار وكذا المرأة المستحاضة، فإن هؤلاء يتوضؤون عند دخول الوقت لكل صلاة مفروضة، فلو توضأ أحدهم لصلاة الظهر بعد دخول وقتها وصلاها ثم دخل عليه وقت العصر، فلا يصلي العصر بوضوء الظهر، بل عليه أن يتوضأ بعد دخول العصر لصلاة العصر، ويدل لذلك أمره صلى الله عليه وسلم لفاطمة بنت أبي حبيش - وكانت مستحاضة - أن تتوضأ لكلِّ صلاة، أخرجه البخاري (228) من حديث عائشة رضي الله عنها.
দশম শর্ত: যার অপবিত্রতা স্থায়ী, তার ফরজ নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়া। এর অর্থ হলো, যার প্রস্রাব ঝরা রোগ রয়েছে কিংবা যার নিরন্তর বায়ু নির্গত হয় এবং অনুরূপভাবে ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারী—তারা প্রত্যেকে ফরজ নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সময় অযু করবেন। সুতরাং তাদের কেউ যদি যোহরের ওয়াক্ত হওয়ার পর যোহরের নামাজের জন্য অযু করেন এবং তা আদায় করেন, অতঃপর আসরের ওয়াক্ত দাখিল হয়, তবে তিনি যোহরের অযু দ্বারা আসর পড়বেন না; বরং আসরের ওয়াক্ত হওয়ার পর তাকে আসরের নামাজের জন্য অযু করতে হবে। এর প্রমাণ হলো ফাতেমা বিনতে আবি হুবাইশ—যিনি ইস্তিহাযাগ্রস্ত ছিলেন—তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ যে, তিনি যেন প্রত্যেক নামাজের জন্য অযু করেন। ইমাম বুখারি (২২৮) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌فروض الوضوء

قوله: [وأما فروضه فستة: غسل الوجه - ومنه المضمضة والاستنشاق - وحدّه طولاً: من منابت شعر الرأس إلى الذقن، وعرضاً: إلى فروع الأذنين،
অযুর ফরযসমূহ

তাঁর উক্তি: [আর এর ফরযসমূহ ছয়টি: মুখমন্ডল ধৌত করা - এবং কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া এর অন্তর্ভুক্ত - এবং দৈর্ঘ্যে এর সীমা: মাথার চুলের গোড়া থেকে চিবুক পর্যন্ত, আর প্রস্থে: দুই কানের লতি পর্যন্ত,
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
وغسل اليدين إلى المرفقين، ومسح جميع الرأس - ومنه الأذنان - وغسل الرجلين إلى الكعبين والترتيب والموالاة، والدليل قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ (} [المائدة:6] ، ودليل الترتيب حديث: "ابدؤا بما بدأ الله به"، ودليل الموالاة حديث صاحب اللمعة: عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه لما رأى رجلاً في قدمه لمعة قدر الدرهم لم يصبها الماء، فأمره بالإعادة] .

صفة الوضوء جاءت مبينة في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، ففي كتاب الله عز وجل جاءت في سورة المائدة في قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ (} [المائدة:6] ، ومعنى قوله: (إذا قمتم إلى الصلاة) أي: أردتم القيام لها وأنتم
এবং কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করা, সম্পূর্ণ মাথা মাসেহ করা - এবং কানও এর অন্তর্ভুক্ত - এবং গোড়ালি পর্যন্ত দুই পা ধৌত করা, ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং বিরতিহীনভাবে ওজু সম্পন্ন করা। এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও তোমাদের হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো গোড়ালি পর্যন্ত (ধৌত করো)} [আল-মায়িদাহ: ৬]। আর ধারাবাহিকতার দলিল হলো হাদিস: "তোমরা তা দিয়েই শুরু করো যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন।" বিরতিহীনভাবে করার দলিল হলো শুকনো স্থানবিশিষ্ট ব্যক্তির হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার পায়ের পাতায় দিরহাম পরিমাণ একটি শুকনো জায়গা ছিল যেখানে পানি পৌঁছেনি, তখন তিনি তাকে পুনরায় ওজু করার নির্দেশ দিলেন।

ওজুর পদ্ধতি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহর কিতাবে এটি সূরা আল-মায়িদাহর এই বাণীতে এসেছে: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও তোমাদের হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং তোমাদের পাগুলো গোড়ালি পর্যন্ত (ধৌত করো)} [আল-মায়িদাহ: ৬]। আর তাঁর বাণী: (যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে) এর অর্থ হলো: যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়ানোর ইচ্ছা করবে এমতাবস্থায় যে তোমরা...
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
على غير طهارة، مثل قوله تعالى: {فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ} [النحل:98] ، أي: إذا أردت القراءة، وأما سنة الرسول صلى الله عليه وسلم فقد جاءت من قوله وفعله صلى الله عليه وسلم ومن ذلك: عن حمران مولى عثمان بن عفان أنه رأى عثمان دعا بوَضوء فأفرغ على يديه من إنائه فغسَلَهما ثلاث مرات، ثم أدخل يمينه في الوضوء، ثم تمضمض واستنشق واستنثر، ثم غسل وجهه ثلاثاً، ويديه إلى المرفقين ثلاثاً، ثم مسح برأسه، ثم غسل كل رجل ثلاثاً، ثم قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يتوضأ نحو وضوئي هذا، وقال: "من توضأ نحو وضوئي هذا، ثم صلى ركعتين لا يحدث فيهما نفسه، غفر الله له ما تقدّم من ذنبه". رواه البخاري (164) ومسلم (226) ، وغسل الأعضاء ثلاثاً هو الوضوء الكامل، ولا يجوز الزيادة على ذلك، وقد جاء الوضوء مرتين مرتين ومرة مرة، والوضوء الواجب مرة واحدة
পবিত্রতা ব্যতীত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যখন তুমি কুরআন তিলাওয়াত করবে, তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো।" [আন-নাহল: ৯৮], অর্থাৎ: যখন তুমি তিলাওয়াত করার ইচ্ছা করবে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: উসমান ইবন আফফানের মুক্ত দাস হুমরান থেকে বর্ণিত যে, তিনি উসমানকে ওযুর পানি চাইতে দেখেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর পাত্র থেকে দুই হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং তা তিনবার ধৌত করলেন। তারপর তিনি ওযুর পানির ভেতরে নিজের ডান হাত প্রবেশ করালেন, অতঃপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং নাক ঝাড়লেন। এরপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার এবং কনুই পর্যন্ত দুই হাত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিনি মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর প্রত্যেক পা তিনবার করে ধৌত করলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করতে দেখেছি। এবং তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে, অতঃপর দুই রাকাত সালাত আদায় করবে যাতে সে নিজের সাথে মনে মনে কোনো কথা বলবে না, আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।" এটি বুখারী (১৬৪) ও মুসলিম (২২৬) বর্ণনা করেছেন। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তিনবার করে ধৌত করাই হলো পূর্ণাঙ্গ ওযু, এবং এর চেয়ে বেশি করা জায়েয নয়। অবশ্য ওযু দুইবার দুইবার করে এবং একবার একবার করেও বর্ণিত হয়েছে, আর ওযুর আবশ্যকীয় পরিমাণ হলো একবার ধৌত করা।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
مستوعبة جميع أعضاء الوضوء، وفروض الوضوء ستة:

الأول: غسل الوجه، وحدّه طولاً من منابت شعر الرأس إلى ما استرسل من اللحية، وعرضاً: ما دون الأذنين، والأذنان في الوضوء من الرأس فتمسحان، وليستا من الوجه فتغسلان، وتخليل اللحية مستحب، والواجب في غسل الوجه غسل ما به المواجهة، فلا يدخل في ذلك تخليل اللحية، ويدخل في غسل الوجه المضمضة والاستنشاق، كما جاء ذلك مبيناً في حديث عثمان رضي الله عنه وغيره.

الثاني: غسل اليدين إلى المرفقين: وذلك من أطراف الأصابع إلى نهاية المرفقين، والمرفقان داخلان في الغسل، ولا يكفي في غسل الكفين في الوضوء غسلهما قبل بدء الوضوء، لأن ذلك مستحب إلاّ عند القيام من النوم، فإنه واجب، وغسل اليدين يكون بعد غسل الوجه، فلا يكفي ما كان قبله.
ওযুর সকল অঙ্গকে অন্তর্ভুক্তকারী এবং ওযুর ফরযসমূহ ছয়টি:

প্রথম: মুখমণ্ডল ধৌত করা। এর সীমানা লম্বায় মাথার চুলের গোড়া থেকে দাড়ির প্রলম্বিত অংশ পর্যন্ত এবং চওড়ায় দুই কানের মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত। ওযুর বিধানে কান দুটি মাথার অন্তর্ভুক্ত, তাই তা মাসাহ করা হবে; কান মুখমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত নয় যে তা ধৌত করতে হবে। দাড়ি খিলাল করা মুস্তাহাব। মুখমণ্ডল ধোয়ার ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো সম্মুখভাগের দৃশ্যমান অংশটুকু ধৌত করা, ফলে দাড়ি খিলাল করা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। মুখমণ্ডল ধোয়ার অন্তর্ভুক্ত হলো কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া, যেমনটি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ও অন্যদের হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয়: কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করা। এটি আঙুলের ডগা থেকে কনুইয়ের শেষ সীমা পর্যন্ত; আর কনুই দুটি ধোয়ার অন্তর্ভুক্ত। ওযুর শুরুতে দুই হাতের কবজি ধোয়া ওযুর মূল হাত ধোয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, কারণ তা মুস্তাহাব—তবে ঘুম থেকে ওঠার পর তা ওয়াজিব। আর হাত ধোয়া সম্পন্ন করতে হবে মুখমণ্ডল ধোয়ার পরে, সুতরাং এর আগে যা করা হয়েছে তা যথেষ্ট হবে না।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
الثالث: مسح الرأس: ويكون مرّة واحدة يبدأ فيها من مقدّم رأسه إلى مؤخره ثم يعود إلى المكان الذي بدأ منه، وما استرسل من شعر المرأة فإنه لا يمسح، بل يكتفى بالمسح إلى مؤخر الرأس ويمسح مع الرأس الأذنان.

الرابع: غسل الرجلين إلى الكعبين: والكعبان داخلان في الغسل، وفي كل رجل كعبان، وليس المراد بالكعبين العظمين الناتئين في ظهر القدم كما يزعمه بعض فرق الضلال، فيمسحون إليهما، فإن فرض الرجلين الغسل وليس المسح، وقد دلت قراءة {وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} بفتح اللام، وسنة الرسول صلى الله عليه وسلم التي بينت صفة الوضوء على ذلك، وأما قراءة الكسر في {وَأَرْجُلَكُمْ} فهي محمولة على الغسل الخفيف جمعاً بين القراءتين، والاعتماد عليها وترك غسل الرجلين الذي دلت عليه قراءة النصب، ودلت
তৃতীয়ত: মাথা মাসাহ করা: এটি একবার করতে হবে, যেখানে মাথার সম্মুখভাগ থেকে শুরু করে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত হাত নিয়ে যাবে এবং পুনরায় যেখান থেকে শুরু করেছিল সেখানে ফিরে আসবে। নারীর চুলের যে অংশটি ঝুলে থাকে তা মাসাহ করতে হবে না, বরং মাথার শেষ ভাগ পর্যন্ত মাসাহ করাই যথেষ্ট এবং মাথার সাথে দুই কানও মাসাহ করতে হবে।

চতুর্থত: টাখনুসহ দুই পা ধোয়া: আর ধোয়ার মধ্যে টাখনুদ্বয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিটি পায়ে দুটি করে টাখনু রয়েছে। টাখনু বলতে পায়ের উপরিভাগে উঁচু হয়ে থাকা হাড় দুটিকে বোঝানো হয়নি, যেমনটি কিছু বিভ্রান্ত দল দাবি করে থাকে এবং তারা সে পর্যন্ত মাসাহ করে। কেননা, দুই পায়ের ক্ষেত্রে ফরয বিধান হলো ধোয়া, মাসাহ করা নয়। 'লাম' অক্ষরে ফাতহা (জবর) বিশিষ্ট কিরাআত {এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত} এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ—যা ওজুর পদ্ধতি বর্ণনা করেছে—এর ওপরই প্রমাণ বহন করে। আর {তোমাদের পাগুলোর} শব্দে কাসরা (যের) বিশিষ্ট যে কিরাআত রয়েছে, তা উভয় কিরাআতের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে হালকা ধোয়ার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় কেবল এর ওপর নির্ভর করে দুই পা ধোয়া বর্জন করা—যা নসব (জবর) বিশিষ্ট কিরাআত দ্বারা প্রমাণিত—এবং যা প্রমাণ করেছে...
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
عليه السّنّة هو من اتباع المتشابه وترك المحكم، ويكفي في معرفة ضلال من ضل عن الحق في مسألة غسل الرجلين والاكتفاء بمسح ظهورهما، أنهم حرموا أنفسهم سيما التحجيل التي قال فيها النبي صلى الله عليه وسلم: "إن أمتي يدعون يوم القيامة غراً محجلين من آثار الوضوء". أخرجه البخاري (136) ومسلم (580) عن أبي هريرة، وأنهم عرّضوا أنفسهم للوعيد الذي جاء في قوله صلى الله عليه وسلم: "ويل للأعقاب من النار". أخرجه البخاري (165) ومسلم (242) عن أبي هريرة رضي الله عنه.

الخامس: الترتيب: فيجب غسل أعضاء الوضوء على الترتيب الذي جاء في الآية، وجاء في فعله صلى الله عليه وسلم في وضوئه فلا يجوز أن يقدم غسل اليدين على غسل الوجه، ولا مسح الرأس على غسل اليدين وهكذا، أما لو غسل اليد اليسرى قبل اليمنى أو الرجل اليسرى قبل اليمنى فإن الوضوء صحيح إجماعاً، وهو
সুন্নাহর ওপর; এটি অস্পষ্ট বিষয়ের অনুসরণ এবং সুষ্পষ্ট বিষয় বর্জনের অন্তর্ভুক্ত। দুই পা ধৌত করার মাসআলায় সত্য থেকে বিচ্যুতদের এবং পায়ের কেবল উপরিভাগ মাসেহ করার ওপর তুষ্ট থাকা ব্যক্তিদের ভ্রষ্টতা জানার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তারা নিজেদেরকে 'তাহজীল' (অঙ্গসমূহের শুভ্রতা) নামক চিহ্ন থেকে বঞ্চিত করেছে, যে সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় আহ্বান করা হবে যে, অজুর প্রভাবে তাদের কপাল ও হাত-পা উজ্জ্বল শুভ্র থাকবে।" এটি বুখারী (১৩৬) ও মুসলিম (৫৮০) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং তারা নিজেদেরকে সেই শাস্তির হুমকির সম্মুখীন করেছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীতে এসেছে: "পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য আগুনের ধ্বংস অনিবার্য।" এটি বুখারী (১৬৫) ও মুসলিম (২৪২) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

পঞ্চম: ধারাবাহিকতা (তারতীব): সুতরাং আয়াতে বর্ণিত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অজুর কর্মপদ্ধতিতে প্রদর্শিত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী অজুর অঙ্গসমূহ ধৌত করা ওয়াজিব। সুতরাং মুখমণ্ডল ধোয়ার পূর্বে হাত ধৌত করা, কিংবা হাত ধৌত করার পূর্বে মাথা মাসেহ করা জায়েজ নয়—এভাবেই অন্যান্য অঙ্গের ক্ষেত্রেও। তবে যদি কেউ ডান হাতের পূর্বে বাম হাত ধৌত করে কিংবা ডান পায়ের পূর্বে বাম পা ধৌত করে, তবে সর্বসম্মতভাবে অজু শুদ্ধ হবে, আর এটি...
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
خلاف الأولى، قال الحافظ ابن حجر في الفتح (1/270) : قال النووي: "قاعدة الشرع المستمرة استحباب البداءة باليمين في كل ما كان من باب التكريم والتزيين، وما كان بضدهما استحب فيه التياسر، قال: وأجمع العلماء على أن تقديم اليمين في الوضوء سنّة، من خالفها فاته الفضل وتمَّ وضوءه"، ثم نقل عن ابن قدامة في المغني أنه قال: لا نعلم في عدم الوجوب خلافاً.

وقد استدل الشيخ رحمه الله للترتيب بحديث: "ابدؤا بما بدأ الله به"، قال صلى الله عليه وسلم ذلك عندما بدأ بالصفا في سعيه، والحديث بلفظ الأمر جاء في سنن النسائي (2962) وهو في صحيح مسلم (2950) بلفظ الخبر وهو من حديث جابر الطويل في صفة حجه صلى الله عليه وسلم، وفيه: "فلما دنا من الصفا قرأ {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ} ، "أبدأ بما بدأ الله به"، فبدأ
উত্তম কাজের বিপরীত; হাফেয ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী'তে (১/২৭০) বলেছেন: ইমাম নববী বলেছেন: "শরীয়তের নিরবচ্ছিন্ন মূলনীতি হলো সম্মান ও শোভাবর্ধনের অন্তর্ভুক্ত সকল কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা মুস্তাহাব, এবং এর বিপরীত কাজের ক্ষেত্রে বাম দিক থেকে শুরু করা মুস্তাহাব।" তিনি আরও বলেন: "উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ওযুতে ডান দিককে প্রাধান্য দেওয়া সুন্নাহ; যে ব্যক্তি এর খেলাফ করবে সে ফযিলত থেকে বঞ্চিত হবে কিন্তু তার ওযু সম্পন্ন হয়ে যাবে।" এরপর তিনি 'আল-মুগনী' গ্রন্থ থেকে ইবনে কুদামাহর উক্তি উদ্ধৃত করেন যে তিনি বলেছেন: এটি ওয়াজিব না হওয়ার ব্যাপারে আমরা কোনো মতভেদ জানি না।

শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) ধারাবাহিকতার স্বপক্ষে এই হাদিসটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "তোমরা তা দিয়ে শুরু করো যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাঈ করার সময় যখন সাফা থেকে শুরু করেন তখন এটি বলেছিলেন। হাদিসটি আদেশের শব্দে 'সুনানে নাসাঈতে' (২৯৬২) বর্ণিত হয়েছে এবং 'সহীহ মুসলিম' (২৯৫০)-এ এটি বর্ণনামূলক শব্দে এসেছে; এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হজের বিবরণ সংবলিত জাবের (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দীর্ঘ হাদিসের অংশ। তাতে রয়েছে: "যখন তিনি সাফার নিকটবর্তী হলেন তখন পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত}, 'আমি তা দিয়ে শুরু করছি যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন', এরপর তিনি শুরু করলেন..."
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
بالصفا فرقي عليه حتى رأى البيت"، وانظر إرواء الغليل (1120) ، ومعنى قوله صلى الله عليه وسلم: "أبدأ بما بدأ الله به" أن الله لما ذكر الصفا والمروة قدّم الصفا على المروة، فما بدأ الله به ذكراً بدأ به رسول الله صلى الله عليه وسلم بالسعي فعلاً.

السادس: الموالاة: وهو أن يوالي بين الأعضاء في الغسل فلا يغسل بعضها ثم ينشغل عن الاستمرار في الوضوء، إلاّ إذا كان الانشغال لعارض يسير كفتح باب قريب فإنه لا يؤثر، ويدل لوجوب الموالاة حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه: "أن رجلاً توضأ فترك موضع ظفر على قدمه، فأبصره النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "ارجع فأحسن وضوءك"، فرجع ثم صلّى". أخرجه مسلم (243) ، وحديث رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم: "أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى رجلاً يصلي، وفي ظهر قدمه لمعة قدر الدرهم لم يصبها الماء، فأمره النبي صلى الله عليه وسلم أن يعيد الوضوء
"সাফাতে, অতঃপর তিনি এর উপরে আরোহণ করলেন যতক্ষণ না তিনি (কা'বা) ঘরটি দেখতে পেলেন", এবং দেখুন ইরওয়াউল গালিল (১১২০)। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন, আমি তা দিয়েই শুরু করছি"-এর অর্থ হলো, আল্লাহ যখন সাফা ও মারওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি মারওয়ার আগে সাফাকে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং আল্লাহ যা দিয়ে বর্ণনা শুরু করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমলের ক্ষেত্রে (সাঈতে) তা দিয়েই শুরু করেছেন।

ষষ্ঠ: মুওয়ালাত (অবিচ্ছিন্নতা): আর তা হলো ধৌত করার ক্ষেত্রে অঙ্গগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, যাতে কিছু অঙ্গ ধোয়ার পর ওযুর ধারাবাহিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য কাজে লিপ্ত না হওয়া। তবে যদি ব্যস্ততা সামান্য কোনো কারণে হয়, যেমন কাছের কোনো দরজা খোলা, তবে তা ওযুর ওপর প্রভাব ফেলবে না। আর মুওয়ালাত বা অবিচ্ছিন্নতা ওয়াজিব হওয়ার দলিল হলো উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস: "এক ব্যক্তি ওযু করল কিন্তু তার পায়ের নখের সমপরিমাণ জায়গা বাদ রেখে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেন: 'ফিরে যাও এবং সুন্দরভাবে তোমার ওযু সম্পন্ন করো'। অতঃপর সে ফিরে গেল এবং পরে সালাত আদায় করল।" এটি মুসলিম (২৪৩) বর্ণনা করেছেন। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবী থেকে বর্ণিত হাদিস: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে সালাত আদায় করতে দেখলেন, যার পায়ের উপরিভাগে দিরহাম পরিমাণ একটি উজ্জ্বল জায়গা ছিল যেখানে পানি পৌঁছেনি। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ওযু পুনরায় করার নির্দেশ দিলেন।"
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২০)
والصلاة". أخرجه أبو داود (175) وانظر إرواء الغليل (86) ، ووجه الاستدلال من هذين الحديثين على وجوب الموالاة أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر من أبصر على قدمه شيئاً لم يصبه الماء بغسل ذلك الذي لم يصبه الماء بل أمره بإعادة الوضوء، ولو كانت الموالاة غير واجبة كفاه أن يغسل الموضع الذي لم يصبه الماء.
...এবং সালাত।" এটি আবু দাউদ (১৭৫) বর্ণনা করেছেন এবং ইরওয়াউল গালীল (৮৬) দেখুন। এই দুটি হাদিস থেকে মাওয়ালত (অবিচ্ছিন্নতা) ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো এই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক ব্যক্তির পায়ের ওপর পানি না পৌঁছানো কোনো অংশ দেখার পর তাকে কেবল সেই অংশটি ধোয়ার নির্দেশ দেননি যেখানে পানি পৌঁছেনি, বরং তাকে পুনরায় অজু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি মাওয়ালত ওয়াজিব না হতো, তবে পানি না পৌঁছানো স্থানটি ধুয়ে ফেলাই তার জন্য যথেষ্ট হতো।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌حكم التسمية في الوضوء

قوله: [وواجبه التسمية مع الذكر] .

هذا أحد الأقوال في المسألة، وهو رواية عن الإمام أحمد، وممن قال به الحسن وإسحاق، والقول الثاني أن التسمية مستحبّة، وهو قول جمهور العلماء، وإحدى الروايتين عن الإمام أحمد، ذكر ذلك في المغني (1/145) ، وقد ورد في التسمية في الوضوء حديث: "لا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه". أخرجه أبو داود (101) وغيره عن أبي هريرة رضي الله عنه، وذكر الشيخ
অজুতে তাসমিয়াহ পাঠের বিধান

তাঁর উক্তি: [স্মরণ থাকা অবস্থায় তাসমিয়াহ পাঠ করা ওয়াজিব]।

এটি এই বিষয়ের অন্যতম একটি অভিমত এবং এটি ইমাম আহমাদের একটি বর্ণনা। হাসান এবং ইসহাকও এই মত পোষণ করেছেন। দ্বিতীয় মতটি হলো, তাসমিয়াহ পাঠ করা মুস্তাহাব। এটি জমহুর আলিমের অভিমত এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি। এটি আল-মুগনি (১/১৪৫) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। অজুতে তাসমিয়াহ পাঠের বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম স্মরণ করে না, তার অজু নেই।" এটি আবু দাউদ (১০১) ও অন্যান্যরা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং শাইখ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২১)
الألباني أنه حسن وقال: "وقد قوّاه الحافظ المنذري والعسقلاني وحسّنه ابن الصلاح وابن كثير والعراقي"، انظر إرواء الغليل (81) ، واختيار الشيخ القول بالوجوب مع الذكر، فيه الاحتياط والخروج من الخلاف، ونظير ذلك ما قاله رحمه الله في أدب المشي إلى الصلاة: "وتجزىء تكبيرة الإحرام عن تكبيرة الركوع، لفعل زيد بن ثابت وابن عمر، ولا يعرف لهما مخالف من الصحابة، وإتيانه بهما أفضل، خروجاً من خلاف من أوجبه".
আলবানী একে হাসান বলেছেন এবং বলেছেন: "হাফিজ আল-মুনজিরি ও আল-আসকালানী একে শক্তিশালী বলেছেন এবং ইবনুস সালাহ, ইবনে কাসীর ও আল-ইরাকী একে হাসান বলেছেন", দেখুন ইরওয়াউল গালীল (৮১)। আর স্মরণ থাকা অবস্থায় (তাকবীর) ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে শায়খের অভিমত গ্রহণের মধ্যে সতর্কতা এবং মতভেদ থেকে উত্তরণের পথ রয়েছে। এর অনুরূপ হলো যা তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) ‘আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাত’ গ্রন্থে বলেছেন: "যায়েদ বিন সাবিত ও ইবনে উমরের আমলের কারণে রুকুর তাকবীরের স্থলে তাকবীরে তাহরীমা যথেষ্ট হবে; সাহাবীগণের মধ্যে তাঁদের কোনো বিরোধিতাকারী সম্পর্কে জানা যায় না। তবে যারা এটিকে ওয়াজিব বলেছেন, তাঁদের মতভেদ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য উভয় তাকবীর আদায় করাই উত্তম।"
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌نواقض الوضوء

قوله: [ونواقضه ثمانية: الخارج من السبيلين، والخارج الفاحش النجس من الجسد، وزوال العقل، ومس المرأة بشهوة، ومس الفرج باليد قبلاً كان أو دبراً، وأكل لحم الجزور، وتغسيل الميت، والردّة عن الإسلام - أعاذنا الله من ذلك -] .
ওযুর ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ

তাঁর উক্তি: [এবং ওযুর ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ আটটি: দুই পথ (মল-মূত্রদ্বার) দিয়ে যা নির্গত হয়, শরীর থেকে নির্গত অধিক পরিমাণ অপবিত্র বস্তু, বিবেকের বিলুপ্তি, কামভাবের সাথে নারীকে স্পর্শ করা, হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা—তা সামনের পথ হোক বা পিছনের, উটের গোশত ভক্ষণ করা, মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো এবং ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগ করা—আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন—] ।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২২)
أوّل نواقض الوضوء، الخارج من السبيلين: وهو كل خارج منهما من غائط أو بول أو ريح أو دم أو مني أو مذي أو غير ذلك، قال صلى الله عليه وسلم: "لا يقبل الله صلاة أحدكم إذا أحدث حتى يتوضأ". أخرجه البخاري (6954) ومسلم (537) عن أبي هريرة رضي الله عنه.

والثاني: الخارج الفاحش النجس من الجسد: اختلف العلماء في الدم الخارج من غير السبيلين هل ينقض الوضوء أو لا؟ وقد ذهب بعض أهل العلم إلى عدم نقض الوضوء به لأنه لم يثبت في ذلك شيء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وذهب بعض أهل العلم إلى حصول النقض بما كان كثيراً فاحشاً منه، وقد جاء ذلك عن بعض الصحابة والتابعين، وهو الذي اختاره الشيخ رحمه الله هنا، وهو أخذ بما فيه الاحتياط والخروج من الخلاف. انظر المغني (1/247) ، ومجموع فتاوى الشيخ
ওযূ ভঙ্গের প্রথম কারণ হলো দুই রাস্তা দিয়ে নির্গত হওয়া বস্তু: আর তা হলো মল, মূত্র, বায়ু, রক্ত, বীর্য, মযী বা এ জাতীয় অন্য যা কিছু তা থেকে নির্গত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কারো ওযূ নষ্ট হলে আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না যতক্ষণ না সে ওযূ করে।" এটি বুখারী (৬৯৫৪) ও মুসলিম (৫৩৭) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়: শরীর থেকে নির্গত অধিক পরিমাণ অপবিত্র বস্তু: দুই রাস্তা ব্যতীত শরীরের অন্য স্থান থেকে রক্ত নির্গত হলে ওযূ ভঙ্গ হবে কি না, সে বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কোনো কোনো আলেম ওযূ ভঙ্গ না হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, কারণ এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রমাণিত নেই। আবার কোনো কোনো আলেম অধিক পরিমাণ রক্ত নির্গত হলে ওযূ ভঙ্গ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এটি কিছু সাহাবী ও তাবেয়ী থেকেও বর্ণিত হয়েছে এবং শাইখ রাহিমাহুল্লাহ এখানে এটিই পছন্দ করেছেন; যা মূলত সতর্কতা অবলম্বন এবং মতভেদ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার নামান্তর। দেখুন: আল-মুগনী (১/২৪৭), এবং শাইখের মাজমুউ ফাতাওয়া।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
ابن باز رحمه الله تعالى (10/159) ، وفتاوى اللجنة الدائمة للإفتاء (5/261) .

الثالث: زوال العقل: ينتقض الوضوء بزوال العقل بجنون أو سكر أو إغماء أو نوم مستغرق، أما إذا كان النوم نعاساً لا يذهب معه الإحساس كأن يكون جالساً أو قائماً، فحصل له نعاس فخفق رأسه ثم تنبّه فإن ذلك لا ينقض الوضوء، فقد روى مسلم في صحيحه (376) عن أنس رضي الله عنه قال: "كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينامون ثم يصلون ولا يتوضؤون"، ولفظه عند أبي داود (200) : "كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينتظرون العشاء الآخرة حتى تخفق رؤوسهم ثم يصلون ولا يتوضؤون"، وهذا يدل على أن زوال العقل ليس حدثاً، بل هو مظنّة للحدث، ويدل لذلك أيضاً قوله صلى الله عليه وسلم: "وكاء السه العينان، فمن نام فليتوضأ". رواه أبو داود (203) عن علي
ইবন বায (রাহিমাহুল্লাহ) (১০/১৫৯) এবং ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ লিল-ইফতা (৫/২৬১)।

তৃতীয়ত: বিবেক-বুদ্ধি লোপ পাওয়া: উন্মাদের অবস্থা, নেশাগ্রস্ততা, অজ্ঞান হওয়া বা গভীর ঘুমের কারণে বিবেক-বুদ্ধি লোপ পেলে ওযু নষ্ট হয়ে যায়। তবে ঘুম যদি তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ঢুলুনির মতো হয় যাতে হুঁশ হারিয়ে যায় না, যেমন বসা বা দাঁড়ানো অবস্থায় তন্দ্রা আসার ফলে মাথা ঝুঁকে পড়ে এবং এরপর সে সজাগ হয়ে যায়, তবে এতে ওযু ভঙ্গ হবে না। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৩৭৬) আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ ঘুমাতেন, এরপর তারা (নতুন করে) ওযু না করেই সালাত আদায় করতেন।" আবু দাউদের (২০০) শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এশার সালাতের জন্য অপেক্ষা করতেন, এমনকি তাদের মাথা ঢুলতে থাকত, এরপর তারা ওযু না করেই সালাত আদায় করতেন।" এটি প্রমাণ করে যে, বিবেক-বুদ্ধি লোপ পাওয়া নিজে কোনো অপবিত্রতা বা 'হাদাস' নয়, বরং এটি অপবিত্রতা ঘটার একটি প্রবল স্থান বা সম্ভাবনা। এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীও এর প্রমাণ দেয়: "চক্ষুদ্বয় হলো মলদ্বারের বন্ধনী, সুতরাং যে ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়ে সে যেন ওযু করে নেয়।" এটি আবু দাউদ (২০৩) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
رضي الله عنه، وسنده حسن، وانظر إرواء الغليل (113) وقد نقل تحسينه عن النووي والمنذري وابن الصلاح.

الرابع: مس المرأة بشهوة: هذا الذي اختاره الشيخ، أحد الأقوال الثلاثة في المسألة، والقول الثاني: أنه ينقض مطلقاً، والثالث: أنه لا ينقض مطلقاً سواء كان بشهوة أو بغير شهوة، إذا لم يخرج مع الشهوة شيء، وهذا القول أصح الأقوال لعدم ثبوت ما يدل على النقض به، وانظر فتاوى الشيخ ابن باز رحمه الله تعالى (10/132-138) .

الخامس: مس الفرج باليد قبلاً كان أو دبراً: هذا الذي اختاره الشيخ، هو قول جمهور العلماء، وهو الصحيح إذا كان المس بدون حائل، وسواء كان مس فرجه أو فرج غيره، وسواء كان الممسوس صغيراً أو كبيراً من الأحياء أو الأموات، لحديث بسرة بنت صفوان رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من مس
আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন, এর সনদ হাসান, এবং দেখুন ইরওয়াউল গালীল (১১৩)। আর এর হাসান হওয়ার বিষয়টি নববী, মুনযিরী এবং ইবনে সালাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে।

চতুর্থত: কামভাব নিয়ে নারীকে স্পর্শ করা: শায়খ এটিই গ্রহণ করেছেন, যা এই মাসআলার তিনটি মতের একটি। দ্বিতীয় মতটি হলো: এতে সাধারণভাবে অযু ভেঙে যাবে। এবং তৃতীয় মতটি হলো: এতে সাধারণভাবে অযু ভাঙবে না, চাই তা কামভাব নিয়ে হোক বা কামভাব ছাড়া, যদি কামভাবের সাথে কোনো কিছু নির্গত না হয়। আর এটিই সঠিকতম মত, কারণ অযু ভঙ্গ হওয়ার বিষয়ে কোনো দলীল সাব্যস্ত হয়নি। দেখুন ফাতাওয়া শায়খ ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহু তাআলা (১০/১৩২-১৩৮)।

পঞ্চমত: হাত দিয়ে যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা, চাই তা সামনের পথ হোক বা পেছনের পথ: শায়খ এটিই গ্রহণ করেছেন, যা জমহুর ওলামায়ে কেরামের অভিমত। আর এটিই সঠিক যদি কোনো অন্তরাল বা পর্দা ব্যতীত সরাসরি স্পর্শ করা হয়। চাই তা নিজের যৌনাঙ্গ হোক বা অন্যের, এবং যাকে স্পর্শ করা হয়েছে সে ছোট হোক বা বড়, জীবিত হোক বা মৃত—সকল ক্ষেত্রেই বিধান এক। কারণ বুসরা বিনতে সাফওয়ান রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীস, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি স্পর্শ করল...
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
ذكره فليتوضأ". رواه الترمذي (82) وغيره، وقال حديث حسن صحيح، وانظر إرواء الغليل (116) ، وفتاوى اللجنة الدائمة للإفتاء (5/263-266) .

السادس: أكل لحم الجزور: في الوضوء من أكل لحم الإبل قولان للعلماء: أحدهما قول الجمهور، وهو أنه لا يتوضأ من أكل لحومها، والقول الثاني: وجوب الوضوء من ذلك وسواء كان اللحم نيئاً أو مطبوخاً، وأما ألبانها ومرق لحمها وكذلك الطعام الذي طبخ مع لحمها، فإن استعمال ذلك لا ينقض الوضوء، ويدل للوضوء من أكل لحوم الإبل حديث جابر بن سمرة رضي الله عنه: "أن رجلاً سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم: أأتوضأ من لحوم الغنم؟ قال: "إن شئت فتوضأ وإن شئت فلا توضأ"، قال: أتوضأ من لحوم الإبل؟ قال: "نعم، فتوضأ من لحوم الإبل"، قال: أصلي في مرابض الغنم؟ قال: (نعم) ، قال: أصلي في مبارك
...তা স্পর্শ করলে সে যেন অজু করে।" এটি তিরমিজি (৮২) ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান সহিহ হাদিস বলেছেন। দেখুন ইরওয়াউল গালিল (১১৬) এবং ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লিল-ইফতা (৫/২৬৩-২৬৬)।

ষষ্ঠ: উটের গোশত খাওয়া: উটের গোশত খাওয়ার ফলে অজু করা সম্পর্কে আলেমদের দুটি মত রয়েছে: প্রথমটি জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মত, আর তা হলো—উটের গোশত খেলে অজু করতে হয় না। দ্বিতীয় মতটি হলো: এটি খাওয়ার কারণে অজু করা ওয়াজিব, চাই গোশত কাঁচা হোক বা রান্না করা। তবে উটের দুধ ও এর ঝোল এবং অনুরূপভাবে যে খাবার উটের গোশতের সাথে রান্না করা হয়েছে, তা গ্রহণ করলে অজু ভঙ্গ হয় না। উটের গোশত খাওয়ার কারণে অজু করার স্বপক্ষে দলিল হলো জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: "এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: আমি কি ভেড়ার গোশত খাওয়ার পর অজু করব? তিনি বললেন: 'তুমি চাইলে অজু করো, আর না চাইলে করো না'। সে জিজ্ঞাসা করল: আমি কি উটের গোশত খাওয়ার পর অজু করব? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, তুমি উটের গোশত খাওয়ার কারণে অজু করো'। সে বলল: আমি কি ভেড়ার খোঁয়াড়ে নামাজ আদায় করতে পারি? তিনি বললেন: (হ্যাঁ)। সে বলল: আমি কি উটের বসার স্থানে নামাজ আদায় করতে পারি?"
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
الإبل؟ قال: (لا) ". أخرجه مسلم (360) وحديث البراء بن عازب رضي الله عنه قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الوضوء من لحوم الإبل؟ فقال: "توضؤوا منها"، وسئل عن لحوم الغنم؟ فقال: "لا توضؤوا منها"، وسئل عن الصلاة في مبارك الإبل؟ فقال: "لا تصلوا في مبارك الإبل فإنها من الشياطين"، وسئل عن الصلاة في مرابض الغنم؟ فقال: "صلوا فيها فإنها بركة". رواه أبو داود (184) وغيره، وإسناده صحيح، والأصل في الأمر الوجوب، وفي الوضوء الوضوء الشرعي، فلا يحمل الأمر على الاستحباب، ولا الوضوء على الوضوء اللغوي الذي هو غسل اليدين والمضمضة، لعدم الصارف عن الأصل، وانظر إرواء الغليل (118) ، وذكر النووي في شرح صحيح مسلم (4/49) خلاف العلماء في الوضوء من لحم الإبل، وقال: "قال أحمد بن حنبل وإسحاق بن
উট? তিনি বললেন: (না)। এটি মুসলিম (৩৬০) বর্ণনা করেছেন। বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উটের গোশত ভক্ষণের পর অজু করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন: "তা থেকে অজু সম্পাদন করো।" আর তাঁকে ভেড়ার গোশত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "তা থেকে অজু করো না।" তাঁকে উটের আস্তাবলে সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "তোমরা উটের আস্তাবলে সালাত আদায় করো না, কেননা তা শয়তানদের অন্তর্ভুক্ত।" আর তাঁকে ভেড়ার খোয়াড়ে সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "সেখানে সালাত আদায় করো, কেননা তা বরকতপূর্ণ।" এটি আবু দাউদ (১৮৪) ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহিহ। আদেশের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো সেটি ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়া, আর অজু বলতে শরিয়তসম্মত অজুকেই বোঝায়। সুতরাং এখানে আদেশটিকে মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় হওয়ার অর্থে গ্রহণ করা যাবে না এবং অজুকে শাব্দিক অজু— যা মূলত হাত ধোয়া ও কুলি করা— হিসেবেও গণ্য করা যাবে না, কারণ মূল অর্থ থেকে বিচ্যুত করার মতো কোনো প্রমাণ নেই। দেখুন: ইরওয়াউল গালিল (১১৮)। ইমাম নববী শারহু সহিহ মুসলিমে (৪/৪৯) উটের গোশত খাওয়ার ফলে অজুর বিষয়ে আলেমদের মতভেদ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আহমদ ইবনে হাম্বল এবং ইসহাক ইবনে...
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
راهويه في هذا - أي الوضوء من لحم الإبل - حديثان: حديث جابر وحديث البراء، وهذا المذهب أقوى دليلاً وإن كان الجمهور على خلافه". وانظر مجموع فتاوى الشيخ ابن باز رحمه الله تعالى (10/156-158) ، وفتاوى اللجنة الدائمة للإفتاء (5/273-277) .

السابع: تغسيل الميت: اختلف العلماء في حكم الوضوء من تغسيل الميت على قولين: (أحدهما) وجوب الوضوء، (والثاني) استحبابه، ذكرهما ابن قدامة في المغني (1/256) ورجّح القول بالاستحباب، وقد روى أبو داود (3161) وغيره من حديث أبي هريرة مرفوعاً: "من غسّل الميت فليغتسل، ومن حمله فليتوضأ". أورده الألباني في إرواء الغليل (144) ، وفي كتاب أحكام الجنائز (53) ، ونقل تصحيحه عن ابن القيم وابن القطان، وابن حزم وابن حجر العسقلاني، وذكر أنه محمول على الندب لا على
(ইসহাক বিন) রাহওয়াইহ এই বিষয়ে—অর্থাৎ উটের গোশত খাওয়ার পর ওযু করার ব্যাপারে—বলেন যে দুটি হাদিস রয়েছে: জাবিরের হাদিস এবং বারার হাদিস। এই মাযহাবটি দলীলের দিক থেকে অধিক শক্তিশালী, যদিও জমহুর (অধিকাংশ) আলেম এর বিপরীত মত পোষণ করেন। বিস্তারিত দেখুন: শায়খ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘মাজমুউ ফাতাওয়া’ (১০/১৫৬-১৫৮) এবং ‘ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ’ (৫/২৭৩-২৭৭)।

সপ্তম: মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো: মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর ফলে ওযু করার বিধান সম্পর্কে আলেমগণ দুটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: (এক) ওযু করা ওয়াজিব হওয়া, এবং (দুই) মুস্তাহাব হওয়া। ইবনে কুদামা ‘আল-মুগনি’ (১/২৫৬) গ্রন্থে এই দুটি মত উল্লেখ করেছেন এবং মুস্তাহাব হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আবু দাউদ (৩১৬১) এবং অন্যান্যরা আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: “যে ব্যক্তি মৃতকে গোসল করাবে সে যেন নিজে গোসল করে, আর যে তাকে বহন করবে সে যেন ওযু করে।” আলবানী একে ‘ইরওয়াউল গালীল’ (১৪৪) এবং ‘আহকামুল জানাইয’ (৫৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইবনুল কায়্যিম, ইবনুল কাত্তান, ইবনে হাজম এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানী থেকে এর বিশুদ্ধতা বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এটি মুস্তাহাব হওয়ার অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে, ওয়াজিব হিসেবে নয়।
(খণ্ড: ১) শারহু শুরূতিস সালাতি ওয়া আরকানিহা ওয়া ওয়াজিবাতিহা লিশায়খিল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
الوجوب، لحديثٍ حسنٍ في ذلك عن ابن عباس، وأثرٍ عن ابن عمر رضي الله عنهم.

وإذا لمس مَن غسّل الميت فرجه من غير حائل وجب عليه الوضوء لمسِّ الفرج لا لتغسيل الميت، وانظر فتاوى الشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله تعالى (10/165) .

الثامن: قوله: الرّدّة عن الإسلام - أعاذنا الله من ذلك -: هذا الذي ذكره الشيخ رحمه الله من انتقاض الوضوء بالرّدّة هو الذي عزاه ابن قدامة في المغني (1/238) إلى مذهب الإمام أحمد، وعزا إلى الأئمة الثلاثة الباقين القول بعدم الانتقاض، فإذا توضأ شخص وارتدّ عن الإسلام ثم عاد إليه قبل أن يحصل منه ناقض للوضوء غير الرّدّة فهو باق على وضوئه على القول الثاني، لا يلزمه إعادة الوضوء، وتلزمه إعادة الوضوء على القول الأول، والذي ذكره الشيخ
ওয়াজিব বা আবশ্যকতা; এ বিষয়ে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত একটি হাসান হাদিস এবং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত একটি আসার বিদ্যমান।

আর মৃত ব্যক্তিকে গোসলদানকারী ব্যক্তি যদি আবরণ ব্যতিরেকে মৃতের লজ্জাস্থান স্পর্শ করেন, তবে লজ্জাস্থান স্পর্শ করার কারণে তার ওপর অজু করা ওয়াজিব হবে, মৃতকে গোসল দেওয়ার কারণে নয়। দেখুন: শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ফাতাওয়া (১০/১৬৫)।

অষ্টম: তাঁর বক্তব্য: ইসলাম থেকে বিচ্যুতি বা মুরতাদ হওয়া—আল্লাহ আমাদের তা থেকে রক্ষা করুন—। শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) মুরতাদ হওয়ার মাধ্যমে অজু ভঙ্গ হওয়ার যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, ইবনে কুদামা 'আল-মুগনি' (১/২৩৮) গ্রন্থে সেটিকে ইমাম আহমদের মাযহাব হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর অপর তিন ইমামের ক্ষেত্রে তিনি অজু ভঙ্গ না হওয়ার মতটি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি অজু করার পর ইসলাম ত্যাগ করে এবং পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে—এই সময়ের মধ্যে মুরতাদ হওয়া ব্যতিরেকে অজুর অন্য কোনো নাকেজ বা অজু ভঙ্গকারী কারণ সংঘটিত না হয়ে থাকে—তবে দ্বিতীয় মত অনুযায়ী তার পূর্বের অজু বহাল থাকবে, তাকে পুনরায় অজু করতে হবে না। তবে প্রথম মত অনুযায়ী তাকে পুনরায় অজু করতে হবে, যা শাইখ উল্লেখ করেছেন।