القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: مختصر طبقات الحنابلة
المؤلف: محمد جميل بن عمر البغدادي المعروف بابن شطي
دراسة: فواز الزمرلي
الناشر: دار الكتاب العربي - بيروت
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 219
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1444
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: মুখতাসার তবাকাতিল হানাবিলাহ (হাম্বলী পণ্ডিতদের সংক্ষিপ্ত জীবনী)
লেখক: মুহাম্মদ জামিল বিন উমর আল-বাগদাদী, যিনি ইবনে শাত্তী নামে পরিচিত
গবেষণা ও সম্পাদনা: ফাওয়াজ আজ-জুমুরলী
প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবী - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরী - ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৪৪
উল্লিখিত তবকাত-এর ওপর একটি পরিশিষ্ট যোগ করা হয়েছে, যেখানে আল-উলাইমী যে সীমানায় থেমেছিলেন সেখান থেকে বারোশ সাত হিজরি সাল পর্যন্ত সময়কালকে সংযুক্ত করা হয়েছে। আমি আমার নিকট আমাদের আহমদী মাযহাব—অর্থাৎ ইমাম আহমাদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর মাযহাব—এর কিছু আলিমের বিক্ষিপ্ত জীবনী পেয়েছি, তাই সেগুলোকে উল্লিখিত আল-গাযযীর তবকাত-এর পরিশিষ্ট হিসেবে নির্ধারণ করেছি। অতঃপর আমি আল-উলাইমী ও আল-গাযযীর তবকাত থেকে কিছু অংশ সংক্ষেপ করে তার সাথে আমার ইতিপূর্বে উল্লিখিত পরিশিষ্টটি যুক্ত করা পছন্দ করলাম, যাতে এর মাধ্যমে এমন একটি গ্রন্থ সংকলিত হয় যা আমাদের ইমামের যুগ থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত আমাদের বরেণ্য আলিমদের ইতিবৃত্ত সংগ্রহ করে। আমি আশা করি আমার এই কাজটুকু গ্রহণযোগ্য হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে শামিল হবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
তাকে দেখার জন্য, ফলে সে পঁয়তাল্লিশ দিন পর্যন্ত কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে থাকে। আর আল্লাহ তাঁর সেই সকল বিদয়াতি বিরোধীদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছেন যারা তাঁর বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল এবং তাদের লাঞ্ছিত করেছেন। আর আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্য এবং তাঁর মহান কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর বরকতে তাদের ওপর তাঁকে সাহায্য করেছেন। এরপর মুতাওয়াক্কিল ইমামের প্রতি ইহসান করতে এবং তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করতে শুরু করেন। তিনি বাগদাদে তাঁর প্রতিনিধি ইসহাক ইবনে ইব্রাহিমকে লিখে পাঠান যেন তিনি ইমাম আহমাদকে তাঁর কাছে পাঠান। ফলে তাঁকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে খলিফার কাছে 'সাররা মান রাআ'-তে পাঠানো হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন, মুতাওয়াক্কিল বার্তা পাঠালেন যে, আমি আপনাকে দেখতে এবং আপনার দোয়ার বরকত লাভ করতে চেয়েছি। তিনি আমাদের একটি বাড়িতে থাকতে দিলেন এবং মুতাওয়াক্কিল পর্দার আড়াল থেকে আমাদের দেখতেন। তিনি আব্বার জন্য পোশাক, দিরহাম এবং সম্মানসূচক পোশাকের (খেলাত) নির্দেশ দিলেন। তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, ষাট বছর ধরে কি এদের থেকে নিরাপদ ছিলাম? এরপর জীবনের শেষ সময়ে এসে এদের দ্বারা পরীক্ষায় পড়লাম। যখন তারা সম্মানসূচক পোশাকটি নিয়ে আসল, তিনি তা স্পর্শও করলেন না, বরং তা নিজের কাঁধের ওপর রাখলেন। এরপর তিনি নড়াচড়া করতে থাকলেন যতক্ষণ না তা পড়ে গেল। তিনি অর্থ গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। তাঁকে বলা হলো যে, আপনি যদি এটি ফিরিয়ে দেন তবে তিনি মনে কষ্ট পাবেন। তখন তিনি তা হকদারদের মাঝে বিলিয়ে দিলেন এবং নিজে তা থেকে কিছুই নিলেন না। প্রতিদিন তাঁর জন্য খলিফার বিশেষ খাবার থেকে খাবার পাঠানো হতো, কিন্তু তিনি তা থেকে এক লোকমাও খেতেন না। সালেহ বলেন, মুতাওয়াক্কিল নির্দেশ দিলেন যেন তাঁর জন্য একটি বাড়ি কেনা হয়। তখন আব্বা বললেন, হে সালেহ! তুমি যদি তাদের বাড়ি কেনার অনুমতি দাও, তবে আমার ও তোমার মাঝে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। তিনি বাড়ি কেনার বিষয়টি প্রতিহত করতে থাকেন যতক্ষণ না তা বাতিল হলো। এরপর তিনি বাগদাদে ফিরে আসেন। মুতাওয়াক্কিল ইমাম আহমাদের পরামর্শ ছাড়া কাউকে নিয়োগ দিতেন না। ইমামের মৃত্যু পর্যন্ত খুব কম দিনই অতিবাহিত হতো যেদিন খলিফার পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে তাঁর কাছে চিঠি আসত না। আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন।
তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইন্তেকালের বর্ণনারবিউল আউয়াল মাস শুরু হওয়ার দুই দিন পর বুধবার রাতে ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন মানুষ তাঁকে দেখতে আসতে শুরু করে এবং তাদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। তারা দিনরাত দরজায় ভিড় করে থাকত। সুলতান মানুষের এই আধিক্যের কথা শুনতে পেয়ে তাঁর দরজায় এবং গলির মুখে পাহারাদার ও সংবাদবাহকদের নিযুক্ত করলেন। ফলে গলির মুখ বন্ধ করে দেওয়া হলো। মানুষ রাস্তাঘাটে এবং মসজিদে অবস্থান করতে থাকে, এমনকি কিছু ব্যবসায়ীর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। ইবনে আতা সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর খোঁজ নিতেন কিন্তু তাঁদের সাক্ষাৎ ঘটেনি। ইবনে তাহিরের দারোয়ান আসলেন এবং বললেন যে, আমির আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং তিনি আপনাকে দেখতে ইচ্ছুক। তিনি তাকে বললেন, এটি সেই সব জিনিসের অন্তর্ভুক্ত যা আমি অপছন্দ করি। হাশেমী বংশের লোকেরা আসলেন এবং তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, তারা কাঁদতে লাগলেন। একদল কাজী ও অন্যান্যরা আসলেন কিন্তু তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো না। আল-মারওয়াযী তাঁর বিভিন্ন প্রয়োজনে সেবা করতেন। তিনি তাঁর অসিয়তনামা লিখেছিলেন, এরপর বললেন, এটি পাঠ করো। সেটি তাঁর সামনে পাঠ করা হলো এবং এর অনুলিপি হলো: (বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। এটি আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বলের করা অসিয়ত। তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই......আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। তিনি তাঁর অনুগত পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের অসিয়ত করেছেন যে, তারা যেন ইবাদতকারীদের মাঝে আল্লাহর ইবাদত করে, প্রশংসাকারীদের মাঝে তাঁর প্রশংসা করে এবং মুসলিম জামাতের কল্যাণ কামনা করে। আর আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নবী ও রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছি। তিনি আরও অসিয়ত করেছেন যে, আবদুল্লাহ ফাওরান আমার কাছে প্রায় পঞ্চাশ দিনার পাওনা আছে এবং সে যা বলেছে তাতে সে সত্যবাদী; সুতরাং ইনশাআল্লাহ তাআলা ঘরের আয় থেকে তার সেই সম্পদ পরিশোধ করা হবে) সমাপ্ত। যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, ফাওরান তাঁকে তাঁর ঋণ থেকে মুক্তি দিলেন এবং তা গ্রহণ করলেন না, কেননা তিনি ছিলেন তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সহচর। এরপর ইমাম তাঁর বংশধরদের শিশুদের ডাকলেন, তারা তাঁর কাছে সমবেত হতে লাগল। তিনি তাদের ঘ্রাণ নিতে লাগলেন এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, হে আবু আবদুল্লাহ! তাদের জন্য চিন্তিত হবেন না। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন যে না (তিনি চিন্তিত নন) এবং তাদের জন্য দুআ করতে থাকলেন। বৃহস্পতিবার তাঁর অসুস্থতা অত্যন্ত প্রবল হলো। আল-মারওয়াযী বলেন, যখন জুমার রাত হলো, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হলো এবং আমার মনে হলো তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আমরা যখন তাঁকে সোজা করে শুইয়ে দিতে চাইলাম, তখন তিনি তাঁর পা দুখানি গুটিয়ে নিচ্ছিলেন এবং কিবলার দিকে মুখ করে ছিলেন। আমরা তাঁকে কালেমা তালকিন করতে থাকলাম, আর তিনি কিবলামুখী হয়ে পা সোজা রাখা অবস্থায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলতে থাকলেন। যখন জুমার দিন হলো, মানুষ সমবেত হয়ে গলি ও রাস্তাঘাট পূর্ণ করে ফেলল। ২৪১ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ জুমার দিন দ্বিপ্রহরে তিনি ইন্তেকাল করেন (রাহিমাহুল্লাহ)। তখন তাঁর বয়স ছিল সাতাত্তর বছর। তাঁর অসুস্থতা ছিল নয় দিন এবং দশম দিনের কিছু অংশ। মানুষের আহাজারি ও কান্নার আওয়াজ এত উচ্চ হলো যে মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবী প্রকম্পিত হচ্ছে। মানুষ বসে পড়ল, ফলে আমরা জুমার নামাজ ত্যাগ করার আশঙ্কা করলাম। আমি তাদের সামনে উপস্থিত হয়ে ঘোষণা করলাম যে, জুমার নামাজের পরই আমরা জানাজার জন্য তাঁকে বের করব। আল-মারওয়াযী বলেন, যখন আমরা তাঁকে গোসল দেওয়া শেষ করে কাফন পরাতে চাইলাম, তখন বনু হাশিম আমাদের ওপর ভিড় জমাল। তারা তাঁর জন্য কাঁদতে লাগল এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে আসতে লাগল; তারাও তাঁর জন্য ক্রন্দন করছিল এবং তাঁকে চুম্বন করছিল। তাঁর কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তিনটি চুল ছিল। তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁর প্রতিটি চোখে একটি করে এবং জিহ্বার ওপর একটি চুল রাখা হয়। আমরা তাঁকে খাটিয়ায় রাখলাম এবং পাগড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধলাম। তাঁর জানাজা বহন করা হলো এবং মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন তাহির তাঁর জানাজার ইমামতি করলেন। কাতারসমূহ ময়দান থেকে বাবুিল কাতিআ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। উপস্থিত পুরুষদের সংখ্যা এক লক্ষ এবং নারীদের সংখ্যা ষাট হাজার অনুমান করা হয়েছিল; এছাড়া রাস্তাঘাটে, নৌকায় এবং ছাদের ওপর অগণিত মানুষ ছিল। কেউ কেউ এর চেয়েও বেশি সংখ্যা উল্লেখ করেছেন। তাঁকে বাগদাদের বাবু হারবে দাফন করা হয় এবং তাঁর কবর অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ, যেখানে মানুষ জিয়ারত করে ও বরকত লাভ করে। তিনি উত্তরাধিকার হিসেবে একটি কাপড়ের টুকরোতে মোড়ানো ছয় বা সাতটি মুদ্রা ব্যতীত আর কিছুই রেখে যাননি, যা দিয়ে তিনি তাঁর মুখ মুছতেন। আমিরুল মুমিনীন আল-মুতাওয়াক্কিল মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন তাহিরকে বললেন, তোমার জন্য শুভকামনা যে, তুমি আহমদ বিন হাম্বলের জানাজা পড়েছ। আর...
আবুল হাসান আত-তামিমী তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইমাম আহমাদ রহ.-এর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমি এক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম তাঁর কবরে পৌঁছানোর আশায়, কিন্তু মানুষের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে আমি তাঁর নিকট পৌঁছাতে পারিনি। আর আহমাদ বিন হাম্বল যেদিন ইন্তেকাল করেন, সেদিন বিশ হাজার ইহুদি, খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজক ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তাঁর জন্য শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। ইমাম আহমাদ বলতেন, "আমাদের এবং তাদের অর্থাৎ বিদআতীদের মাঝে ফয়সালা হবে জানাজার দিন।" তাঁর অনেক সুস্পষ্ট কারামত ছিল (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তাঁর কারামতসমূহের মধ্যে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত একটি হলো, তিনি বলেন: "আমি আমার পিতাকে দেখেছি তিনি পিঁপড়াদের ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন; এরপর আমি দেখলাম একদল কালো পিঁপড়া বের হয়ে যাচ্ছে এবং এরপর আমি সেগুলোকে আর কখনো দেখিনি।" আবু তালিব আলী বিন আহমাদ বলেন: "একদিন আমি আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম আহমাদ) কাছে প্রবেশ করলাম, যখন তিনি বর্ণনা করছিলেন এবং আমি লিখছিলাম। হঠাৎ আমার কলমটি ভেঙে গেল, তখন তিনি একটি কলম নিয়ে আমাকে দিলেন। আমি সেই কলমটি নিয়ে আবু আলী আল-জা’ফরীর কাছে আসলাম এবং বললাম, 'এটি আবু আব্দুল্লাহর কলম, যা তিনি আমাকে দিয়েছেন।' তিনি তাঁর গোলামকে বললেন, 'কলমটি নিয়ে খেজুর গাছের কোটরে রেখে দাও, আশা করা যায় এটি ফল দেবে।' সে তা সেখানে রাখল এবং এরপর খেজুর গাছটি ফল দিল।" প্রধান বিচারপতি ইবনুল হুসাইন আয-যাইনী হতে বর্ণিত আছে যে, তাঁদের বাড়িতে আগুন লেগেছিল এবং যা কিছু ছিল সব পুড়ে গিয়েছিল, কেবল একটি বই ছাড়া যাতে ইমাম আহমাদের হাতের লেখা কিছু ছিল। শাইখ ইমাম আবুল ফারাজ বিন আল-জাওযী উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "যখন পাঁচশত চুয়ান্ন হিজরীতে বাগদাদে বন্যা হয়েছিল এবং আমার কিতাবসমূহ ডুবে গিয়েছিল, তখন আমার কাছে একটি খণ্ড অক্ষত অবস্থায় রয়ে গিয়েছিল যাতে ইমাম আহমাদের (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হাতের লেখা কিছু পৃষ্ঠা ছিল।" রবী বিন সুলাইমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম শাফেঈ আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বলের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন এবং আমাকে বলেছিলেন, "হে আবু সুলাইমান! আমার এই চিঠি নিয়ে ইরাকে আহমাদ বিন হাম্বলের কাছে যাও এবং এটি পড়ো না।" আমি চিঠিটি নিলাম এবং মিসর থেকে বের হয়ে ইরাকে পৌঁছালাম। আমি আহমাদ বিন হাম্বলের মসজিদে আসলাম এবং তাঁকে ফজর সালাত আদায়রত অবস্থায় পেলাম। আমি তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম। আমি সুন্নাত রাকাতটি পড়িনি বলে সালাতের পরেই তা আদায় করতে দাঁড়ালাম। তিনি দীর্ঘক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন যতক্ষণ না তিনি আমাকে চিনতে পারলেন। যখন আমি সালাত শেষ করলাম, তাঁকে সালাম দিলাম এবং চিঠিটি তাঁর কাছে পৌঁছে দিলাম। তিনি চিঠিতে নজর দেওয়ার আগেই দীর্ঘক্ষণ আমার কাছে শাফেঈ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে থাকলেন। এরপর তিনি তা খুললেন এবং পড়লেন। যখন তিনি এর একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালেন, তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, "আমি আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি শাফেঈ যা বলেছেন তা সত্য করবেন।" আমি বললাম, "হে আবু আব্দুল্লাহ! তিনি আপনাকে কী লিখেছেন?" তিনি বললেন, "তিনি স্বপ্নে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন যে তিনি তাঁকে বলছেন—হে ইবনে ইদ্রিস! এই যুবক আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বলকে সুসংবাদ দাও যে, তাকে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে পরীক্ষা করা হবে এবং তাকে এই কথা বলতে আহ্বান জানানো হবে যে কুরআন সৃষ্টি, কিন্তু সে তা বলবে না। তাকে চাবুক দিয়ে আঘাত করা হবে, তবে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এর মাধ্যমে তাঁর এমন ইলম ছড়িয়ে দেবেন যা কিয়ামত পর্যন্ত ম্লান হবে না।" আমি বললাম, "এটি একটি সুসংবাদ, এর জন্য আমার পুরস্কার কী?" তখন তাঁর গায়ে দুটি পোশাক ছিল, তিনি তা খুলে...