(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: -)
شرح التدمرية - الخميس القسم: العقيدة
الكتاب: شرح الرسالة التدمرية
المؤلف: محمد بن عبد الرحمن الخميس
الناشر: دار أطلس الخضراء
الطبعة: 1425هـ/2004م
عدد الصفحات: 456
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামিস বিভাগ: আকিদাহ
বই: শারহুর রিসালাতিত তাদমুরিয়্যাহ
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-খামিস
প্রকাশক: দার আতলাস আল-খাদরা
সংস্করণ: ১৪২৫ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৬
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ৫)
شرح الرسالة التدمرية
محمد بن عبد الرحمن الخميس
ال
مقدمةإنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراًوَنِسَاءًوَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء: 1] .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً*يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب: 70ـ71] .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] .
أما بعد:
فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدَثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار1.
وبعد:
فإن العقيدة أهم ما يوليه المسلم الحريص على دينه اهتمامه، فالنبي صلى الله عليه وسلم،
--------------------------------------------
আর-রিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহর ব্যাখ্যা
মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-খামিস
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাঞ্চা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} [আল-আহযাব: ৭০-৭১]
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।১
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আকিদা বা বিশ্বাসই হলো সেই বিষয় যেটির প্রতি একজন দ্বীনদার মুসলিম সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেন। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ৬)
لم يزل يعلم أصحابه ذلك، وكذلك علماء المسلمين جميعاً دعوا إلى ذلك وكان من أولئك العلماء: شيخ الإسلام ابن تيمية في كثير من كتبه ورسائله، ومن بين تلكم الرسائل (الرسالة التدمرية) .
ولا تخفى أهمية هذه الرسالة لما فيها من تحرير للقواعد، وتأصيل في الرد على أهل البدع، وذلك في أصلين عظيمين:
الأول: في الاعتقاد.
والثاني: في العمل.
فالاعتقاد: انحرف فيه جماعة من أهل الكلام فعارضوا الكتاب والسنة بأفكار فلسفية، وآراء كلامية.
والعمل: انحرف فيه مجموعة من العُبَّاد والزُّهاد الذين عملوا بغير هدى من الكتاب والسنة.
فبيَّن رحمه الله الواجب في الأصل وهو إثبات ما أثبته الله لنفسه ونفي ما نفاه عن نفسه، والواجب في الثاني الاجتهاد في فعل المأمور وترك المحظور مع الاستغفار بعد ذلك قال تعالى: {وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ} [آل عمران: 17] ، ثم بيَّن حال الناس في الاستعانة والعبادة وأنهم على أربعة أحوال:
الأولى: المؤمنون الذين جمعوا بينهما.
الثانية: من عبدوا الله من غير استعانة.
الثالثة: من عندهم استعانة من غير استقامة.
الرابعة: من لا يعبد الله ولا يستعين به وهم من شر هذه الأنواع.
وأما المخالفون في الاعتقاد فقد رد عليهم شيخ الإسلام وحصر مناظرتهم في أصلين:
الأول: القول في بعض الصفات كالقول في بعض.
الثاني: القول في الصفات كالقول في الذات.
তিনি সর্বদা তাঁর সঙ্গীদের এটি শিক্ষা দিতেন, তেমনিভাবে সকল মুসলিম আলেমগণও এর প্রতি দাওয়াত দিতেন। সেই আলেমদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর অনেক কিতাব ও রিসালায়, আর সেই রিসালাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'আর-রিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহ' ।
এই রিসালাটির গুরুত্ব কারো অজানা নয়, কারণ এতে রয়েছে মূলনীতিসমূহের পরিমার্জন এবং বিদআতিদের খণ্ডন করার মৌলিক ভিত্তি স্থাপন, আর তা দুটি মহান মূলনীতির ক্ষেত্রে:
প্রথমটি: আকিদার ক্ষেত্রে।
দ্বিতীয়টি: আমলের ক্ষেত্রে।
আকিদার ক্ষেত্রে ইলমুল কালামের একদল অনুসারী বিচ্যুত হয়েছে, ফলে তারা কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধিতা করেছে দার্শনিক চিন্তা ও কালামি মতবাদের মাধ্যমে।
আর আমলের ক্ষেত্রে একদল ইবাদতকারী ও দুনিয়াত্যাগী বিচ্যুত হয়েছে যারা কুরআন ও সুন্নাহর হেদায়েত ব্যতিরেকে আমল করেছে।
এরপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) প্রথম মূলনীতির ক্ষেত্রে আবশ্যিক বিষয়টি বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো—আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করা এবং নিজের থেকে যা অস্বীকার করেছেন তা অস্বীকার করা। দ্বিতীয় মূলনীতির ক্ষেত্রে আবশ্যিক হলো—আদিষ্ট বিষয় পালনে চেষ্টা করা এবং নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন করা এবং এরপর ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং যারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করে} [আলে ইমরান: ১৭]। এরপর তিনি সাহায্য প্রার্থনা ও ইবাদতের ক্ষেত্রে মানুষের অবস্থা বর্ণনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে তারা চারটি অবস্থায় রয়েছে:
প্রথম: মুমিনগণ যারা এ দুয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
দ্বিতীয়: যারা সাহায্য প্রার্থনা ছাড়াই আল্লাহর ইবাদত করেছে।
তৃতীয়: যাদের সাহায্য প্রার্থনা আছে কিন্তু সঠিক পথে অবিচলতা নেই।
চতুর্থ: যারা আল্লাহর ইবাদতও করে না এবং তাঁর সাহায্যও প্রার্থনা করে না, আর তারা এই প্রকারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
আর আকিদার ক্ষেত্রে বিরোধিতাকারীদের ব্যাপারে শায়খুল ইসলাম তাদের খণ্ডন করেছেন এবং তাদের সাথে বিতর্ককে দুটি মূলনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন:
প্রথম: কিছু গুণের ব্যাপারে বক্তব্য ঠিক যেমনটি অন্য কিছু গুণের ব্যাপারে বক্তব্য।
দ্বিতীয়: গুণের ব্যাপারে বক্তব্য ঠিক যেমনটি আল্লাহর সত্তার ব্যাপারে বক্তব্য।
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ৭)
ثم ضرب مثالين ليبيِّن مباينة الخالق للمخلوق (الأول في الجنة ونعيمها والثاني في الروح) ، وبين أن نعيم الجنة يباين موجودات الدنيا مع الاتفاق في الأسماء، فمباينة الخالق أوْلى، وكذلك الروح موصوفة بأنها تذهب وتجيء، ومع ذلك هي مباينة لغيرها من المخلوقات فمباينة الخالق أولى.
ثم ذكر سبع قواعد لمناظرة أهل التعطيل والتفويض:
القاعدة الأولى: أن الله تعالى موصوف بالإثبات خلافاً للمعطلة، وموصوف بالنفي خلافاً للمشبِّهة.
القاعدة الثانية: أن ما يُضاف إلى الله منه ما هو ثابت في الكتاب والسنة فيثبت لله، ومنه ما لم يرد فيهما فلفظه غير مقبول، وأما المعنى فيستفصل عنه ويتوقف في لفظه، فإن كان حقاً قبل وإلا رد اللفظ والمعنى.
القاعدة الثالثة: في بيان معنى ظاهر النصوص، وهل هو مراد أم لا؟.
القاعدة الرابعة: ومحورها يدور على ما يترتب من التوهم في صفات الله عند المعطلة فمن يتوهم التشبيه ثم ينفي الصفات يقع في محاذير أربعة:
أـ تعطيل النصوص، ب ـ وتعطيل الله عن صفاته، ج ـ ثم تشبيه الله بخلقه، د ـ ووصفه بما لا يليق به سبحانه.
القاعدة الخامسة: في بيان أن ما وصف الله به نفسه معلوم المعنى دون الكيف.
القاعدة السادسة: في بيان الضابط السديد في باب الأسماء والصفات وهو إثبات ما أثبته الله لنفسه ونفي ما نفاه عن نفسه، وما لا دليل على نفيه وإثباته يتوقف فيه وكل كمال لا نقص فيه فالله أولى به، وكل نقص فالله منزه عنه.
القاعدة السابعة: تدور على أن ما جاءت به الأدلة في هذا الباب تعرف عن طريق العقل كذلك، إذ العقل الصريح لا يعارض النقل الصحيح، وبهذه القاعدة ختم شيخ الإسلام هذه القواعد المباركة.
ونظراً لأهمية الرسالة التدمرية، وما فيه من أصول وردود على أهل
এরপর তিনি স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির ভিন্নতা স্পষ্ট করতে দুটি উদাহরণ পেশ করেছেন (প্রথমটি জান্নাত ও এর নেয়ামত সম্পর্কে এবং দ্বিতীয়টি রূহ বা আত্মা সম্পর্কে)। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, জান্নাতের নেয়ামতসমূহ দুনিয়ার বিদ্যমান বস্তুসমূহ থেকে ভিন্ন, যদিও নামের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে মিল রয়েছে। সুতরাং স্রষ্টার ভিন্নতা হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। একইভাবে রূহের গুণাবলি হলো এটি যায় এবং আসে, তা সত্ত্বেও এটি অন্যান্য সৃষ্টি থেকে ভিন্ন। অতএব স্রষ্টার ভিন্নতা হওয়া আরও বেশি বাঞ্ছনীয়।
এরপর তিনি আহলে তা'তিল (গুণাবলি অস্বীকারকারী) এবং আহলে তাফউইযদের (অর্থ আল্লাহর ওপর সোপর্দকারী) সাথে বিতর্কের সাতটি মূলনীতি উল্লেখ করেছেন:
প্রথম মূলনীতি: মহান আল্লাহ সাব্যস্তকারী গুণাবলির মাধ্যমে গুণান্বিত, যা মুয়াত্তিলাদের মতের পরিপন্থী; এবং তিনি নেতিবাচক (অপূর্ণতা দূরীকরণার্থে) গুণাবলির মাধ্যমে গুণান্বিত, যা মুশাব্বিহাদের মতের পরিপন্থী।
দ্বিতীয় মূলনীতি: আল্লাহর দিকে যা সম্পর্কিত করা হয়, তার মধ্যে যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত তা আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা হবে। আর যা এ দুটিতে বর্ণিত হয়নি, তার শব্দ গ্রহণ করা হবে না। তবে অর্থের ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করতে হবে এবং শব্দের বিষয়ে বিরত থাকতে হবে; যদি অর্থ সত্য হয় তবে তা গ্রহণ করা হবে, অন্যথায় শব্দ ও অর্থ উভয়ই প্রত্যাখ্যান করা হবে।
তৃতীয় মূলনীতি: দলীলসমূহের প্রকাশ্য অর্থের বর্ণনা এবং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে উদ্দেশ্য কি না সে প্রসঙ্গে।
চতুর্থ মূলনীতি: এর মূল বিষয়বস্তু হলো মুয়াত্তিলাদের নিকট আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে যে কাল্পনিক ধারণা সৃষ্টি হয় তার পরিণাম। ফলে যে ব্যক্তি প্রথমে সাদৃশ্যের কল্পনা করে এবং পরে গুণাবলি অস্বীকার করে, সে চারটি বিপত্তির সম্মুখীন হয়:
ক— দলীলসমূহকে অকার্যকর করা, খ— আল্লাহকে তাঁর গুণাবলি থেকে রিক্ত করা, গ— অতঃপর আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেওয়া, ঘ— এবং তাঁকে এমন বিষয়ের মাধ্যমে গুণান্বিত করা যা তাঁর মহান সত্তার শানে শোভনীয় নয়।
পঞ্চম মূলনীতি: আল্লাহ নিজেকে যে গুণাবলির মাধ্যমে গুণান্বিত করেছেন, তার অর্থ জানা আছে কিন্তু ধরন (কাইফিয়াত) অজানা।
ষষ্ঠ মূলনীতি: নাম ও গুণাবলির অধ্যায়ে সঠিক মানদণ্ড বর্ণনা প্রসঙ্গে; আর তা হলো—আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করা এবং যা নিজের থেকে নাকচ করেছেন তা নাকচ করা। আর যে বিষয়ে সাব্যস্ত করা বা নাকচ করার কোনো দলীল নেই, সে বিষয়ে বিরত থাকা। প্রত্যেক এমন পূর্ণতা যাতে কোনো ত্রুটি নেই, আল্লাহ তার জন্য অধিক হকদার এবং প্রতিটি ত্রুটি থেকে আল্লাহ পবিত্র।
সপ্তম মূলনীতি: এটি এই বিষয়ের ওপর আবর্তিত যে, এই অধ্যায়ে যেসকল দলীল বর্ণিত হয়েছে তা বিবেকের মাধ্যমেও জানা সম্ভব। কেননা স্বচ্ছ বিবেক কখনো সহীহ দলীল বা নক্বলের বিরোধী হয় না। এই মূলনীতির মাধ্যমেই শায়খুল ইসলাম এই বরকতময় মূলনীতিসমূহ সমাপ্ত করেছেন।
রিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহ-র গুরুত্ব এবং এতে বিদ্যমান মূলনীতি ও বিভিন্ন দলের খণ্ডন বিবেচনা করে...
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
البدع، ولإلحاح بعض طلاب العلم عليَّ أن أشرح هذه الرسالة المباركة شرحاً ميسَّراً على طريقة المعاصرين، يقرِّب غايات الكتاب ويوضح مقاصده، ويكشف للقارئ عما يدل عليه من مضمون.
فاستجبت لرغبتهم وكتبت هذا الشرح الميسَّر وسميته:
تيسير فهم الرسالة التدمرية، شرح ميسَّر على طريقة المعاصرين
أما المنهج الذي سأتبعه في هذا الشرح فهو كالآتي:
1 ـ قسَّمت الكتاب إلى فقرات رئيسة ووضعت لكل منها عنواناً، وذلك على حسب موضوعها، تسهيلاً للقارئ.
2 ـ بيَّنت معاني ما يحتاج إلى التوضيح من كلمات النص بعده مباشرة، بحيث تصبح تلك المعاني بمثابة الشرح المختصر للنصوص.
3 ـ ذكرتُ عناصر الموضوع بشكل يجعل القارئ يحقق أكبر قدر من الاستفادة وفهم النص.
4 ـ عزوتُ الآيات القرآنية إلى مواضعها من كتاب الله ولك بذكر السورة ورقم الآية.
5 ـ قمتُ بتخريج الأحاديث الواردة في الكتاب ما أمكن ذلك.
6 ـ ترجمتُ لشيخ الإسلام ترجمة موجزة وجعلتها في مقدمة الكتاب.
هذا، وقد استفدت ممن سبقني ممن شرح الرسالة التدمرية وخاصة كتاب (تقريب التدمرية) للعلامة محمد بن صالح بن عثيمين رحمه الله و (التوضيحات الأثرية على متن الرسالة التدمرية) 1وهو لتلميذي فخر الدين بن الزبير المحسي.
هذا، والله أسأل أن يجعل عملي هذا خالصاً لوجهه الكريم، وأن يغفر لي الخطأ والزلل، والله من وراء القصد وهو حسبنا ونعم الوكيل، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
المؤلف
--------------------------------------------
বিদআতসমূহ; এবং কিছু জ্ঞান অন্বেষীর পীড়াপীড়ির কারণে আমি এই বরকতময় রিসালাটি (পুস্তিকা) সমকালীন ধারায় একটি সহজ ব্যাখ্যা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, যা বইটির লক্ষ্যসমূহকে নিকটবর্তী করবে, এর উদ্দেশ্যসমূহকে স্পষ্ট করবে এবং এর বিষয়বস্তু যা নির্দেশ করে তা পাঠকের সামনে উন্মোচিত করবে।
তাই আমি তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়েছি এবং এই সহজ ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনা করেছি আর এর নামকরণ করেছি:
তায়সীরু ফাহমির রিসালাতিত তাদমুরিয়্যাহ, সমকালীন ধারায় একটি সহজ ব্যাখ্যা।
এই ব্যাখ্যায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করব তা নিম্নরূপ:
১. পাঠকের সুবিধার্থে আমি বইটিকে প্রধান অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি এবং বিষয়বস্তু অনুযায়ী প্রতিটি অনুচ্ছেদের শিরোনাম দিয়েছি।
২. মূল পাঠের যেসব শব্দের ব্যাখ্যার প্রয়োজন, তার অর্থ আমি ঠিক পরেই উল্লেখ করেছি, যাতে সেই অর্থগুলো মূল পাঠের একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য হয়।
৩. আমি বিষয়ের উপাদানগুলো এমনভাবে উল্লেখ করেছি যাতে পাঠক সর্বোচ্চ উপকার লাভ করতে পারেন এবং মূল পাঠটি বুঝতে পারেন।
৪. আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে আল্লাহর কিতাবে তাদের স্ব স্ব স্থানে উদ্ধৃত করেছি এবং এক্ষেত্রে সূরার নাম ও আয়াতের নম্বর উল্লেখ করেছি।
৫. আমি বইটিতে বর্ণিত হাদিসসমূহের যথাসম্ভব উৎস নির্দেশ (তাখরীজ) করেছি।
৬. আমি শাইখুল ইসলামের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছি এবং তা বইয়ের শুরুতে যুক্ত করেছি।
এছাড়া, আমি আমার পূর্ববর্তী যারা রিসালাহ তাদমুরিয়্যাহর ব্যাখ্যা করেছেন তাদের থেকে উপকৃত হয়েছি; বিশেষ করে আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সলিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'তাকরীবুত তাদমুরিয়্যাহ' এবং আমার ছাত্র ফখরুদ্দিন বিন যুবায়ের আল-মুহসী রচিত 'আত-তাওদীহাতুল আসারিয়্যাহ আলা মাতনির রিসালাতিত তাদমুরিয়্যাহ' থেকে।
পরিশেষে, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমার ভুল-ত্রুটি ও বিচ্যুতিসমূহ ক্ষমা করেন। আল্লাহই আমাদের মূল লক্ষ্য এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লেখক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ৯)
القسم الأول
الفصل الأول: ترجمة المؤلف
المبحث الأول: حياته الشخصية…القسم الأول
التعريف بالمؤلِّف والمؤلَّف
الفصل الأول: ترجمة المؤلِّف
المبحث الأول ـ حياته الشخصية:
أولاً ـ اسمه ونسبه.
ثانياً ـ مولده وموطنه.
ثالثاً ـ أسرته.
رابعاً ـ وفاته.
المبحث الثاني ـ حياته العلمية:
أولاً ـ نشأته العلمية.
ثانياً ـ أشهر شيوخه.
ثالثاً ـ أشهر تلاميذه.
رابعاً ـ مكانته العلمية وثناء العلماء عليه.
خامساً ـ مؤلفاته.
প্রথম অংশপ্রথম অধ্যায়: লেখকের জীবনীপ্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন…প্রথম অংশ
লেখক ও গ্রন্থ পরিচিতি
প্রথম অধ্যায়: লেখকের জীবনী
প্রথম পরিচ্ছেদ — তাঁর ব্যক্তিগত জীবন:
প্রথমত — তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।
দ্বিতীয়ত — তাঁর জন্ম ও আবাসস্থল।
তৃতীয়ত — তাঁর পরিবার।
চতুর্থত — তাঁর মৃত্যু।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ — তাঁর ইলমী জীবন:
প্রথমত — তাঁর ইলমী শিক্ষা-দীক্ষা ও বেড়ে ওঠা।
দ্বিতীয়ত — তাঁর প্রখ্যাত শিক্ষকবৃন্দ।
তৃতীয়ত — তাঁর প্রখ্যাত ছাত্রবৃন্দ।
চতুর্থত — তাঁর ইলমী মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।
পঞ্চমত — তাঁর রচনাবলি।
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول: ترجمة المؤلف
المبحث الأول: حياته الشخصية
أولاً ـ اسمه ونسبه:
هو أبو العباس، أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن محمد بن الخضر بن علي بن عبد الله بن تيمية النميري1 الحرَّاني ثم الدمشقي2
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: লেখকের জীবনী
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন
প্রথমত — তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন আবুল আব্বাস, আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-খিদির ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-নুমায়রী১ আল-হাররানী অতঃপর আদ-দামেশকী২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ১২)
واختلف العلماء في علة تسمية الأسرة بـ "ابن تيمية" فذكر الصَّفدي: أنَّ تيمية لقب لجده الأعلى1وقال ابن النجار: "ذكر لنا أن جده محمداً، كانت أمه تُسمى تيمية وكانت واعظة فنسب إليها وعرف بها"2.
وقيل: إن جده محمد بن الخضر حجَّ على درب تيماء، فرأى هنالك طفلة، فلما رجع وجد امرأته قد ولدت بنتاً له، فقال يا تيمية، يا تيمية، فلُقّب بذلك3.
ثانياً ـ موطنه ومولده:
تُجمع المصادر التي بين أيدينا أن ابن تيمية ولد بحرّان، ثم انتقل مع والده إلى دمشق سنة (667هـ) هرباً من التتار، ولم أر في ذلك خلافاً بين المؤرخين، ويقولون في ترجمته (الحراني ثم الدمشقي) .
أما عن تاريخ ولادته: فتُجمع المصادر التاريخية على أن ولادة أبي العباس ابن تيمية كانت سنة (661هـ) في شهر ربيع الأول في اليوم العاشر منه4.
ثالثاً ـ أسرته:
ابن تيمية: سليل أسرة كريمة، اشتغلت بالعلم وعرفت به رجالاً ونساء.
فأبوه: هو العالم الجليل: عبد الحليم بن عبد السلام، قال عنه الذهبي: "كان إمامنا محققاً، كثير الفنون، له يد طولى في الفرائض والحساب"5.
--------------------------------------------
উলামায়ে কেরাম এই পরিবারকে "ইবনে তাইমিয়্যাহ" নামে নামকরণের কারণ সম্পর্কে মতভেদ করেছেন। আস-সাফাদী উল্লেখ করেছেন যে: তাইমিয়্যাহ তাঁর ঊর্ধ্বতন দাদার উপাধি ছিল।১ আর ইবনুন নাজ্জার বলেছেন: "আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, তাঁর দাদা মুহাম্মদের মায়ের নাম ছিল তাইমিয়্যাহ এবং তিনি একজন বিদুষী প্রচারক ছিলেন, ফলে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেই তিনি পরিচিতি লাভ করেন।"২
আবার বলা হয় যে: তাঁর দাদা মুহাম্মদ ইবনুল খিদর তায়মা-এর পথ দিয়ে হজ্ব করতে যাচ্ছিলেন, সেখানে তিনি একটি ছোট কন্যা শিশুকে দেখতে পান। যখন তিনি ফিরে আসলেন, দেখলেন তাঁর স্ত্রীর একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তখন তিনি (সেই স্মৃতি মনে করে) বললেন, হে তাইমিয়্যাহ, হে তাইমিয়্যাহ! এরপর থেকেই তিনি এই উপাধিতে পরিচিত হন।৩
দ্বিতীয়ত — তাঁর আবাসস্থল ও জন্মস্থান:
আমাদের হাতে থাকা উৎসসমূহ এ ব্যাপারে একমত যে, ইবনে তাইমিয়্যাহ হাররানে জন্মগ্রহণ করেছেন, এরপর ৬৬৭ হিজরীতে তাতারদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে তাঁর পিতার সাথে দামেস্কে স্থানান্তরিত হন। ঐতিহাসিকদের মধ্যে এ বিষয়ে আমি কোনো মতভেদ দেখিনি। তাঁরা তাঁর পরিচিতি বর্ণনায় (আল-হাররানি অতঃপর আদ-দিমাশকি) বলে থাকেন।
আর তাঁর জন্মের তারিখ সম্পর্কে: ঐতিহাসিক উৎসসমূহ এ বিষয়ে একমত যে, আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ ৬৬১ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের ১০ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন।৪
তৃতীয়ত — তাঁর পরিবার:
ইবনে তাইমিয়্যাহ এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের বংশধর, যে পরিবার জ্ঞানচর্চায় লিপ্ত ছিল এবং এর নারী-পুরুষরা ইলমের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
তাঁর পিতা হলেন: মহান আলেম আবদুল হালীম ইবনে আবদুল সালাম। তাঁর সম্পর্কে আয-যাহাবী বলেছেন: "তিনি ছিলেন আমাদের ইমাম, একজন গবেষক এবং বহু বিদ্যায় পারদর্শী। ফরায়েজ ও গণিতশাস্ত্রে তাঁর বিশেষ পাণ্ডিত্য ও হাত ছিল।"৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وذكر ابن كثير1: أن له كرسياً للدراسة والتعليم والوعظ، وأنه تولى مشيخة دار الحديث السكرية، وبها كان مسكنه، مات سنة (682هـ) ، ذلك أبوه.
أما جَدّه: فهو شيخ الإسلام، مجد الدين، أبو البركات، عبد السلام، قال عنه ابن شاكر الكتبي: كان إماماً حجة بارعاً في الفقه والحديث، وله يد طولى في التفسير ومعرفة تامة في الأصول، والاطلاع على مذاهب الناس، ولم يكن في زمانه مثله وله المصنفات النافعة في الأحكام: المسمى بالمنتقى مات سنة (651هـ) وإذا تركنا أباه وجده نجد آخرين كثيرين مشهورين بالعلم من هذه الأسرة الكبيرة.
فمن الرجال2:
1 ـ عبد الرحيم بن محمد بن الخضر بن تيمية، مات سنة (6.3هـ) 3.
2 ـ محمد بن الخضر بن محمد بن الخضر بن تيمية، الفقيه الواعظ، خطيب حرّان، مات سنة (622هـ) 4.
3 ـ عبد الغني بن محمد بن الخضر بن تيمية، خطيب حرّان، وابن خطيبها، مات سنة (639هـ) 5.
4 ـ عبد القاهر بن أبي محمد بن القاسم بن تيمية، المحدِّث، حدّث في دمشق وفي حرّان، وخطب بجامع حرّان، مات سنة (671هـ) 6.
--------------------------------------------
ইবনে কাসীর উল্লেখ করেছেন১: তাঁর অধ্যয়ন, শিক্ষা এবং ওয়াজ-নসিহতের জন্য একটি আসন ছিল এবং তিনি দারুল হাদিস আস-সুক্কারিয়্যাহ-এর প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন, সেখানেই তাঁর বাসস্থান ছিল, তিনি ৬৮২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন; তিনি হলেন তাঁর পিতা।
আর তাঁর দাদা: তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম, মাজদুদ্দীন, আবুল বারাকাত, আব্দুস সালাম। তাঁর সম্পর্কে ইবনে শাকির আল-কুতুবী বলেন: তিনি ছিলেন একজন ইমাম, প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব এবং ফিকহ ও হাদিসশাস্ত্রে পারদর্শী। তাফসিরশাস্ত্রে তাঁর অসামান্য পাণ্ডিত্য ছিল এবং উসুল (মূলনীতি) সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান ও মানুষের মাযহাবসমূহের ব্যাপারে গভীর অবগতি ছিল। তাঁর সময়ে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না। আহকাম বা বিধিবিধান বিষয়ক তাঁর অত্যন্ত উপকারী রচনা রয়েছে: যা আল-মুনতাকা নামে পরিচিত। তিনি ৬৫১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। আমরা যদি তাঁর পিতা ও দাদাকে বাদ দিই, তবে এই বিশাল পরিবারে ইলমের জন্য প্রসিদ্ধ আরও অনেককে খুঁজে পাই।
পুরুষদের মধ্য থেকে২:
১ ـ আব্দুর রহীম বিন মুহাম্মদ বিন আল-খিদর বিন তাইমিয়্যাহ, মৃত্যু ৬০৩ হিজরি৩।
২ ـ মুহাম্মদ বিন আল-খিদর বিন মুহাম্মদ বিন আল-খিদর বিন তাইমিয়্যাহ, ফকিহ ও ওয়ায়েজ (উপদেশক), হাররানের খতিব, মৃত্যু ৬২২ হিজরি৪।
৩ ـ আব্দুল গনি বিন মুহাম্মদ বিন আল-খিদর বিন তাইমিয়্যাহ, হাররানের খতিব এবং সেখানকার খতিবের পুত্র, মৃত্যু ৬৩৯ হিজরি৫।
৪ ـ আব্দুল কাহের বিন আবি মুহাম্মদ বিন আল-কাসেম বিন তাইমিয়্যাহ, মুহাদ্দিস, তিনি দামেস্ক ও হাররানে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং হাররানের জামে মসজিদে খুতবা দিয়েছেন, মৃত্যু ৬৭১ হিজরি৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
5 ـ عبد الأحد بن أبي القاسم بن عبد الغني بن تيمية، مات سنة (712هـ) 1.
6 ـ أبو القاسم بن محمد بن خالد، الحرّاني الفقيه، أخو شيخ الإسلام لأمه مات سنة (717هـ) 2.
7 ـ عبد الله بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية، الفقيه الإمام، أخو شيخ الإسلام، مات سنة (727هـ) 3.
8 ـ عبد الرحمن بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية، أخو شيخ الإسلام، مات سنة (747هـ) 4.
ومن النساء:
9 ـ تيمية: جدة الشيخ، وكانت واعظة5.
1. ـ زينب بنت عبد الله بن عبد الحليم بن عبد السلام، بنت أخي الشيخ، قال ابن حجر كما في (شذرات الذهب) : "سمعت من الحجار وغيره، وحدّثت وأجازت لي". مات سنة (799هـ) 6.
رابعاً ـ وفاته:
أجمعت المصادر التاريخية على أن: وفاة تقي الدين ابن تيمية كانت سنة ثمان وعشرين وسبعمائة من الهجرة في العشرين من شهر ذي الحجة، حيث مات سجيناً محتسباً صابراً بقلعة في دمشق.
--------------------------------------------
৫ ـ আবদুল আহাদ ইবনে আবিল কাসিম ইবনে আবদুল গনি ইবনে তাইমিয়্যাহ, তিনি (৭১২ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন ১।
৬ ـ আবুল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ, আল-হাররানি আল-ফকিহ, শায়খুল ইসলামের বৈপিত্রেয় ভাই, তিনি (৭১৭ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন ২।
৭ ـ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল হালিম ইবনে আবদুল সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইমাম ও ফকিহ, শায়খুল ইসলামের ভাই, তিনি (৭২৭ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন ৩।
৮ ـ আবদুর রহমান ইবনে আবদুল হালিম ইবনে আবদুল সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, শায়খুল ইসলামের ভাই, তিনি (৭৪৭ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন ৪।
নারীদের মধ্যে:
৯ ـ তাইমিয়্যাহ: শায়খের দাদী, তিনি একজন ওয়ায়েজা (উপদেশ দানকারিণী) ছিলেন ৫।
১. ـ জয়নব বিনতে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল হালিম ইবনে আবদুল সালাম, শায়খের ভ্রাতুষ্পুত্রী, ইবনে হাজার যেমনটি (শাজারাতুজ জাহাব)-এ বলেছেন: "তিনি আল-হাজ্জার ও অন্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন, হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং আমাকে ইজাজত প্রদান করেছেন।" তিনি (৭৯৯ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন ৬।
চতুর্থত — তাঁর মৃত্যু:
ঐতিহাসিক উৎসসমূহ একমত পোষণ করেছে যে: তাকিউদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহর মৃত্যু হিজরি সাতশত আঠাশ সনের বিশ জিলহজ তারিখে হয়েছিল, যেখানে তিনি দামেস্কের দুর্গে বন্দি অবস্থায় আল্লাহর নিকট সওয়াবের প্রত্যাশী ও ধৈর্যশীল হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الثاني: حياته العلميةأولاً ـ نشأته العلمية:
ترعرع ابن تيمية في بيئة علمية صالحة، حيث نشأ تحت رعاية والده، وكان من العلماء الصالحين، وعني بتعليم ابنه وتهذيبه منذ نعومة أظافره، وساعد على ذلك: أن بدا عليه النجابة منذ حداثة سنه، وذلك لأمور: أولاً: الجد والاجتهاد والانصراف التام إلى طلب العلم وتحصيله، لا يلهو لهو الصبيان ولايعبث عبثهم. قال البزار: "ولم يزل إبان صغره مستغرق الأوقات في الجد والاجتهاد"1.
ثانياً: رزقه الله الذاكرة الحادة، والعقل المتيقظ، والفكر المستقيم، والنبوغ المبكر، قال البزار: "خصّه الله بسرعة الحفظ، وإبطاء النسيان، ولم يكن يقف على شيء أو يستمع لشيء غالباً إلا ويبقى على خاطره إما لفظه، أو معناه، وكان العلم كأنه اختلط بلحمه ودمه"2.
كان أول ما يتلقاه طلاب العلم في ذلك الوقت حفظ القرآن الكريم، ثم بعد ذلك يوجهون عنايتهم إلى دراسة الحديث النبوي الشريف وسائر العلوم الشرعية الأخرى، فحفظ القرآن الكريم في صغره، ثم اشتغل بحفظ الحديث مع ملازمته لمجالس الذكر وسماع الحديث والآثار، فسمع عدة مرات على عدد من الشيوخ ذوي الروايات الصحيحة العالية: مسند أحمد،
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনপ্রথমত — তাঁর জ্ঞানগত বেড়ে ওঠা:
ইবনে তাইমিয়্যাহ এক পুণ্যময় জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশে লালিত-পালিত হন, যেখানে তিনি তাঁর পিতার তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা ছিলেন পুণ্যবান আলেমদের একজন, এবং তিনি শৈশব থেকেই তাঁর পুত্রের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের প্রতি বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। এটি তাঁকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছিল যে, অল্প বয়স থেকেই তাঁর মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব ও মেধার লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছিল। এর পেছনে কয়েকটি কারণ ছিল: প্রথমত: জ্ঞান অন্বেষণ ও অর্জনে কঠোর পরিশ্রম, সাধনা এবং পূর্ণ একাগ্রতা; তিনি সাধারণ বালকদের মতো ক্রীড়া-কৌতুকে লিপ্ত হতেন না বা তাদের মতো নিরর্থক কাজে সময় নষ্ট করতেন না। আল-বাযযার বলেন: "তিনি শৈশব থেকেই নিরন্তর পরিশ্রম ও সাধনায় নিমগ্ন থাকতেন" ১।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাঁকে প্রখর স্মৃতিশক্তি, সজাগ মস্তিস্ক, সঠিক চিন্তাশক্তি এবং অকালপক্ক প্রতিভা দান করেছিলেন। আল-বাযযার বলেন: "আল্লাহ তাঁকে দ্রুত মুখস্থ করার এবং সহজে না ভুলে যাওয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছিলেন। তিনি সাধারণত যা কিছু পড়তেন বা শুনতেন, তার শব্দ বা অর্থ তাঁর স্মৃতিতে গেঁথে যেত। জ্ঞান যেন তাঁর রক্ত-মাংসের সাথে মিশে গিয়েছিল" ২।
তৎকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বপ্রথম করণীয় ছিল পবিত্র কুরআন হিফজ করা, এরপর তারা তাদের মনোযোগ সুন্নাহ এবং অন্যান্য শরিয়ত সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহের অধ্যয়নে নিবদ্ধ করত। ফলে তিনি শৈশবেই পবিত্র কুরআন হিফজ করেন, এরপর জিকিরের মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি হাদিস ও আসার শ্রবণে এবং তা মুখস্থ করায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি উচ্চমানের সহিহ বর্ণনার অধিকারী বেশ কয়েকজন শায়খের নিকট থেকে কয়েকবার মুসনাদে আহমাদ শ্রবণ করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وصحيح البخاري، ومسلم، وجامع الترمذي، وسنن أبي داود، والنسائي، وابن ماجه، والدارقطني، وأول كتاب حفظه في الحديث: الجمع بين الصحيحين للإمام الحميدي1.
قال ابن عبد الهادي: "وأقبل على الفقه وقرأ العربية على عبد القوي، ثم فهمهما وأخذ يتأمل كتب سيبويه حتى فهم النحو، وأقبل على التفسير إقبالاً كلياً حتى حاز فيه قصب السبق، وأحكم أصول الفقه وغير ذلك، هذا كله وهو يُعد ابن بضع عشرة سنة، فانبهر أهل دمشق من فرط ذكائه وسيلان ذهنه وقوة حافظته وسرعة إدراكه"2.
وقال الذهبي: "نشأ ـ يعني الشيخ تقي الدين رحمه الله في تصوّن تام وعفاف وتألّه وتعبُّد واقتصادٍ في الملبس والمأكل، وكان يحضر المدارس والمحافل في صغره، ويناظر ويفحم الكبار، ويأتي بما يتحيَّر منه أعيان البلد في العلم، فأفتى وله تسع عشرة سنة؛ بل أقل، وشرع في الجمع والتأليف من ذلك الوقت، وأكبّ على الاشتغال، ومات والده ـ وكان من كبار الحنابلة وأئمتهم ـ فدرّس بعده بوظائفه وله إحدى وعشرون سنة، واشتهر أمره، وبعُدَ صِيته في العالم"3.
وكان من أسرة عريقة في العلم كما تقدم.
ثانياً ـ أشهر شيوخه:
رأينا من قبل ابن تيمية اتصل بالعلماء منذ حداثة سنه4. فتلقى عن كل شيخ من شيوخ دمشق وامتاز به، وبلغ شيوخه الذين سمع منهم أكثر من مائتي شيخ5 ومن أشهرهم6:
--------------------------------------------
এবং সহীহ বুখারী, মুসলিম, জামে তিরমিযী, সুনান আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও দারাকুতনী; আর হাদীস শাস্ত্রে তিনি সর্বপ্রথম যে কিতাবটি মুখস্থ করেছিলেন তা হলো ইমাম হুমায়দীর ‘আল-জামউ বাইনাস সহীহাইন’।
ইবনে আবদিল হাদী বলেন: "তিনি ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং আব্দুল কাভীর নিকট আরবী ভাষা পাঠ করেন। অতঃপর তিনি এ দুটি বিষয়ে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন এবং সীবওয়াইহ-এর কিতাবসমূহ গভীর অভিনিবেশ সহকারে অধ্যয়ন করতে থাকেন যতক্ষণ না তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে সম্যক জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি তাফসীরের দিকে পূর্ণরূপে মনোনিবেশ করেন এবং তাতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। তিনি উসূলে ফিকহ ও অন্যান্য শাস্ত্র আয়ত্ত করেন—এই সবই তখন যখন তাঁর বয়স মাত্র দশের কোঠায়। তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তা, তীক্ষ্ণ মেধা, স্মরণশক্তির প্রবলতা এবং দ্রুত উপলব্ধি ক্ষমতা দেখে দামেস্কের অধিবাসীগণ বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়েন।"
আয-যাহাবী বলেন: "তিনি—অর্থাৎ শাইখ তাকীউদ্দীন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)—সম্পূর্ণ আত্মসংযম, পবিত্রতা, খোদাভীতি, ইবাদত এবং পোশাক ও আহারে পরিমিতিবোধের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। শৈশব থেকেই তিনি বিভিন্ন মাদ্রাসা ও মজলিসে উপস্থিত হতেন, বড়দের সাথে বিতর্ক করতেন এবং তাদের নিরুত্তর করে দিতেন। ইলমের ক্ষেত্রে তিনি এমন সব বিষয় উপস্থাপন করতেন যা দেখে শহরের বিশিষ্ট পণ্ডিতগণও হতবাক হয়ে যেতেন। তিনি ঊনিশ বছর বয়সে, বরং তারও আগে ফতোয়া প্রদান শুরু করেন। সেই সময় থেকেই তিনি সংকলন ও গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন এবং জ্ঞানচর্চায় মগ্ন থাকেন। তাঁর পিতা—যিনি হাম্বলী মাযহাবের বড় আলিম ও ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—ইন্তেকাল করলে তাঁর পদাভিষিক্ত হয়ে একুশ বছর বয়সে তিনি অধ্যাপনা শুরু করেন। ফলে তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বে তাঁর সুখ্যাতি ব্যাপকতা লাভ করে।"
পূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ইলমের দিক থেকে এক সুপ্রসিদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান ছিলেন।
দ্বিতীয়—তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকগণ:
আমরা আগেই দেখেছি যে, ইবনে তাইমিয়া শৈশব থেকেই আলিমদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতেন। তিনি দামেস্কের প্রত্যেক শাইখের নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন এবং বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। যেসব শাইখের নিকট তিনি পাঠ গ্রহণ করেছেন তাদের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। তাঁদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
1 ـ زين العابدين أحمد بن عبد الدائم المقدسي، مسند الشام وفقيهها ومحدثها توفي في سنة (668هـ) 1.
2 ـ المجد بن عساكر، محمد بن إسماعيل بن عثمان بن مظفر بن هبة الله الدمشقي، توفي في سنة (669هـ) 2.
3 ـ عبد الرحمن بن سليمان بن سعيد بن سليمان البغدادي، توفي سنة (67.هـ) 3.
4 ـ محمد بن علي الصابوني بن محمود بن أحمد المحمودي، توفي سنة (67.هـ) 4.
5 ـ تقي الدين إسماعيل بن إبراهيم بن أبي اليسر، مسند الشام، توفي في سنة (672هـ) 5.
6 ـ كمال الدين بن عبد العزيز بن عبد المنعم بن الخضر بن شبل الدمشقي، توفي في سنة (672هـ) 6.
7 ـ سيف الدين يحيى بن عبد الرحمن بن نجم الدين بن عبد الوهاب الحنبلي، توفي في سنة (672هـ) 7.
8 ـ المؤمل بن محمد البالسي ثم الدمشقي توفي في سنة (677هـ) 8.
9 ـ يحيى بن أبي منصور الصيرفي، توفي سنة (687هـ) 9.
--------------------------------------------
১ ـ যয়নুল আবিদিন আহমদ বিন আব্দুল দাইম আল-মাকদিসি, শাম অঞ্চলের মুসনিদ, ফকিহ ও মুহাদ্দিস, তিনি ৬৬৮ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ১।
২ ـ আল-মাজদ ইবনে আসাকির, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন উসমান বিন মুজাফফর বিন হিবাতুল্লাহ আদ-দিমাশকি, তিনি ৬৬৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ২।
৩ ـ আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান বিন সাঈদ বিন সুলাইমান আল-বাগদাদি, তিনি ৬৭০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ৩।
৪ ـ মুহাম্মদ বিন আলী আস-সাবোনি বিন মাহমুদ বিন আহমদ আল-মাহমুদি, তিনি ৬৭০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ৪।
৫ ـ তাকিউদ্দীন ইসমাইল বিন ইবরাহিম বিন আবিল ইউসর, শাম অঞ্চলের মুসনিদ, তিনি ৬৭২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ৫।
৬ ـ কামালুদ্দীন বিন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল মুনইম বিন আল-খিজর বিন শিবল আদ-দিমাশকি, তিনি ৬৭২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ৬।
৭ ـ সাইফুদ্দীন ইয়াহইয়া বিন আব্দুর রহমান বিন নাজমুদ্দীন বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-হাম্বলি, তিনি ৬৭২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ৭।
৮ ـ আল-মুআম্মাল বিন মুহাম্মদ আল-বালিসি অতপর আদ-দিমাশকি, তিনি ৬৭৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ৮।
৯ ـ ইয়াহইয়া বিন আবি মানসুর আস-সাইরাফি, তিনি ৬৮৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
10ـ أحمد بن أبي الخير سلامة بن إبراهيم الدمشقي الحداد الحنبلي، توفي سنة (678هـ) 1.
11 ـ أبو بكر بن عمر بن يونس المزي الحنفي، توفي سنة (68.هـ) 2.
12 ـ عبد الرحيم بن عبد الملك بن يوسف بن قدامة المقدسي، توفي في سنة (68.هـ) 3.
13 ـ المسلم بن محمد المسلم بن خلف القيسي، توفي في سنة (68.هـ) 4.
14 ـ القاسم بن أبي بكر بن القاسم بن غنيمة الأربلي، توفي في سنة (68.هـ) 5.
15 ـ إبراهيم بن إسماعيل بن إبراهيم الدرجي القرشي الحنفي، توفي سنة (681هـ) 6.
16 ـ المقداد بن أبي القاسم، هبة الله القيسي توفي سنة (681هـ) 7.
17 ـ عبد الحليم بن عبد السلام، ابن تيمية والد شيخ الإسلام، ودرس عليه الفقه والأصول، توفي سنة (682هـ) 8.
18 ـ محمد بن أبي بكر العامري الدمشقي، توفي سنة (682هـ) 9.
19 ـ إسماعيل بن أبي عبد الله بن العسقلاني، توفي سنة (682هـ) 10.
--------------------------------------------
১০— আহমাদ ইবন আবিল খায়ের সালামাহ ইবন ইবরাহিম আদ-দিমাশকি আল-হাদ্দাদ আল-হাম্বলি, তিনি ৬৮৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ১।
১১ — আবু বকর ইবন উমর ইবন ইউনুস আল-মিযযি আল-হানাফি, তিনি ৬৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ২।
১২ — আবদুর রহিম ইবন আবদুল মালিক ইবন ইউসুফ ইবন কুদামাহ আল-মাকদিসি, তিনি ৬৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ৩।
১৩ — আল-মুসলিম ইবন মুহাম্মাদ আল-মুসলিম ইবন খালাফ আল-কায়সি, তিনি ৬৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ৪।
১৪ — আল-কাসিম ইবন আবি বকর ইবন আল-কাসিম ইবন গনিমাহ আল-আরবিলি, তিনি ৬৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ৫।
১৫ — ইবরাহিম ইবন ইসমাইল ইবন ইবরাহিম আদ-দারাজি আল-কুরাশি আল-হানাফি, তিনি ৬৮১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ৬।
১৬ — আল-মিকদাদ ইবন আবিল কাসিম হিবাতুল্লাহ আল-কায়সি, তিনি ৬৮১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ৭।
১৭ — আবদুল হালিম ইবন আব্দুস সালাম ইবন তাইমিয়্যাহ, তিনি শায়খুল ইসলামের পিতা এবং শায়খুল ইসলাম তাঁর নিকট ফিকহ ও উসুল শাস্ত্র পাঠ করেছেন; তিনি ৬৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ৮।
১৮ — মুহাম্মাদ ইবন আবি বকর আল-আমিরি আদ-দিমাশকি, তিনি ৬৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ৯।
১৯ — ইসমাইল ইবন আবি আবদিল্লাহ ইবন আল-আসকালানি, তিনি ৬৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন ১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
20 ـ محمد بن عبد المنعم القواس، توفي سنة (682هـ) 1.
21 ـ محمد بن عامر بن أبي بكر الصالحي، توفي سنة (684هـ) 2.
22 ـ أحمد بن شيبان بن حيدرة الشيباني الصالحي العطار، ثم الخيّاط، توفي سنة (685هـ) 3.
23 ـ الجمال أحمد بن أبي بكر الحموي، توفي سنة (687هـ) 4.
24 ـ يوسف بن يعقوب المجاور، توفي سنة (69.هـ) 5.
25 ـ الشيخة الجليلة: أم العرب فاطمة ينت أبي القاسم علي بن عساكر، توفيت في سنة (683هـ) 6.
26 ـ الشيخة الصالحة: أم الخير بنت العرب بنت حي بن قايماز الدمشقية الكِندية، توفيت سنة (684هـ) 7.
27 ـ الشيخة الصالحة: زينب بنت أحمد بن عمر بن كامل المقدسية، توفيت سنة (722هـ) 8.
28 ـ الشيخة الصالحة: زينب بنت مكي بن علي بن كامل الحراني، توفيت سنة (688هـ) 9.
--------------------------------------------
২০ — মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুনিম আল-কাওয়াস, মৃত্যু বছর (৬৮২ হিজরি) ১।
২১ — মুহাম্মদ বিন আমির বিন আবু বকর আস-সালিহি, মৃত্যু বছর (৬৮৪ হিজরি) ২।
২২ — আহমদ বিন শায়বান বিন হায়দারা আশ-শায়বানি আস-সালিহি আল-আত্তার, অতঃপর আল-খাইয়াত, মৃত্যু বছর (৬৮৫ হিজরি) ৩।
২৩ — আল-জামাল আহমদ বিন আবু বকর আল-হামাউয়ি, মৃত্যু বছর (৬৮৭ হিজরি) ৪।
২৪ — ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-মুজাবির, মৃত্যু বছর (৬৯০ হিজরি) ৫।
২৫ — সম্মানিত শায়খা: উম্মুল আরব ফাতিমা বিনতে আবুল কাসিম আলি বিন আসাকির, মৃত্যু বছর (৬৮৩ হিজরি) ৬।
২৬ — পুণ্যবতী শায়খা: উম্মুল খায়ের বিনতে আল-আরব বিনতে হাইয়ি বিন কায়মাজ আদ-দিমাশকি আল-কিন্দিয়া, মৃত্যু বছর (৬৮৪ হিজরি) ৭।
২৭ — পুণ্যবতী শায়খা: জয়নাব বিনতে আহমদ বিন উমর বিন কামিল আল-মাকদিসিয়া, মৃত্যু বছর (৭২২ হিজরি) ৮।
২৮ — পুণ্যবতী শায়খা: জয়নাব বিনতে মাক্কি বিন আলি বিন কামিল আল-হাররানি, মৃত্যু বছর (৬৮৮ হিজরি) ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ২০)
هذا وقد صرّح شيخ الإسلام بالأخذ عن هؤلاء الشيوخ كما في الجزء (18/76 ـ 122) من مجموع فتاوى شيخ الإسلام.
ثالثاً ـ من أشهر تلاميذه:
1 ـ أحمد بن إبراهيم بن عبد الرحمن الواسطي، توفي سنة (711هـ) 1.
2 ـ علي بن المظفر بن إبراهيم الكندي الاسكندراني ثم الدمشقي، توفي سنة (716هـ) 2.
3 ـ محمد بن سعد بن عبد الأحد الحرّاني ثم الدمشقي، توفي سنة (723هـ) 3.
4 ـ محمد بن النجا التنوخي الدمشقي، توفي سنة (724هـ) 4.
5 ـ عبد الله بن موسى الجزري، توفي سنة (725هـ) 5.
6 ـ أبو بكر بن شريف بن محصن بن معن بن عمار الصالحي، توفي سنة (728هـ) 6.
7 ـ عبد الله بن أحمد بن عبد الله بن أحمد بن محمد المقدسي الصالحي، توفي سنة (737هـ) 7.
8 ـ عبادة بن عبد الغني بن عبادة الحراني ثم الدمشقي، توفي سنة (738هـ) 8.
9 ـ محمد بن أحمد بن عبد الهادي بن عبد الحميد بن عبد الهادي بن
--------------------------------------------
তদুপরি শাইখুল ইসলাম এই সকল শায়খদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি শাইখুল ইসলামের 'মাজমু' ফাতাওয়া'-এর (১৮/৭৬-১২২) অংশে বর্ণিত হয়েছে।
তৃতীয়ত — তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রদের মধ্যে কয়েকজন হলেন:
১ — আহমদ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুর রহমান আল-ওয়াসিতি, মৃত্যু (৭১১ হি.) ১।
২ — আলী বিন আল-মুজাফফর বিন ইবরাহিম আল-কিন্দি আল-ইসকান্দারানি অতঃপর আদ-দিমাশকি, মৃত্যু (৭১৬ হি.) ২।
৩ — মুহাম্মদ বিন সাদ বিন আব্দুল আহাদ আল-হাররানি অতঃপর আদ-দিমাশকি, মৃত্যু (৭২৩ হি.) ৩।
৪ — মুহাম্মদ বিন আন-নাজা আত-তানুখি আদ-দিমাশকি, মৃত্যু (৭২৪ হি.) ৪।
৫ — আব্দুল্লাহ বিন মুসা আল-জাজারি, মৃত্যু (৭২৫ হি.) ৫।
৬ — আবু বকর বিন শরিফ বিন মুহসিন বিন মা'ন বিন আম্মার আস-সালিহি, মৃত্যু (৭২৮ হি.) ৬।
৭ — আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মাকদিসি আস-সালিহি, মৃত্যু (৭৩৭ হি.) ৭।
৮ — উবাদাহ বিন আব্দুল গনি বিন উবাদাহ আল-হাররানি অতঃপর আদ-দিমাশকি, মৃত্যু (৭৩৮ হি.) ৮।
৯ — মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদি বিন আব্দুল হামিদ বিন আব্দুল হাদি বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ২১)
قدامة المقدسي، توفي سنة (744هـ) 1.
10ـ بهاء الدين بن علي بن عبد الولي بن خولان، البعلي، الفقيه الحنبلي، توفي في سنة (744هـ) 2.
11 ـ أحمد بن محمد بن عبد الغني الحراني ثم الدمشقي الفقيه الحنبلي، توفي سنة (745هـ) 3.
12 ـ محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي الشافعي، إمام المعدلين والمجرحين وناقد المحدثين، توفي سنة (748هـ) 4.
13 ـ عمر بن سعد الله بن عبد الأحد الحراني ثم الدمشقي الفقيه الحنبلي، توفي سنة (749هـ) 5.
14 ـ محمد بن أبي بكر بن أيوب الزرعي ثم الدمشقي، المعروف بابن القيم، وهو أبرز تلامذة شيخ الإسلام وأشهرهم وأكثرهم أخذاً عن الشيخ وتأثراً به، توفي سنة (751هـ) 6.
15 ـ محمد بن أبي بكر بن معالي بن إبراهيم بن زيد الأنصاري الخزرجي الدمشقي، المعروف ابن المهيني، توفي سنة (755هـ) 7.
16 ـ صلاح الدين خليل بن الأمير سيف الدين بن عبد الله العلائي مولاهم الدمشقي الشافعي، توفي سنة (761هـ) 8.
--------------------------------------------
কুদামা আল-মাকদিসি, মৃত্যু (৭৪৪ হিজরি) ১।
১০- বাহাউদ্দিন ইবনে আলি ইবনে আব্দুল ওয়ালি ইবনে খাওলান, আল-বালি, হাম্বলি ফকিহ, মৃত্যু (৭৪৪ হিজরি) ২।
১১- আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল গানি আল-হাররানি অতঃপর আদ-দিমাশকি, হাম্বলি ফকিহ, মৃত্যু (৭৪৫ হিজরি) ৩।
১২- মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে উসমান আজ-জাহাবি আশ-শাফিয়ি, জরাহ-তাদিলের ইমামগণের ইমাম এবং মুহাদ্দিসগণের সমালোচক, মৃত্যু (৭৪৮ হিজরি) ৪।
১৩- উমর ইবনে সাদুল্লাহ ইবনে আব্দুল আহাদ আল-হাররানি অতঃপর আদ-দিমাশকি, হাম্বলি ফকিহ, মৃত্যু (৭৪৯ হিজরি) ৫।
১৪- মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আইয়ুব আজ-জুরয়ি অতঃপর আদ-দিমাশকি, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম নামে পরিচিত, তিনি শায়খুল ইসলামের প্রধান ও সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছাত্র এবং শায়খ থেকে সবচেয়ে বেশি গ্রহণকারী ও তাঁর দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তি, মৃত্যু (৭৫১ হিজরি) ৬।
১৫- মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে মাআলি ইবনে ইব্রাহিম ইবনে যায়েদ আল-আনসারি আল-খাজরাজি আদ-দিমাশকি, যিনি ইবনুল মুহাইনি নামে পরিচিত, মৃত্যু (৭৫৫ হিজরি) ৭।
১৬- সালাহুদ্দিন খলিল ইবনে আল-আমির সাইফুদ্দিন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আলাই মাওলাহুম আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি, মৃত্যু (৭৬১ হিজরি) ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ২২)
17 ـ محمد بن إبراهين محمد الأنصاري، الخزرجي البيساني الدمشقي المقدسي، توفي سنة (762هـ) 1.
18 ـ أحمد بن موسى الزرعي الحنبلي، توفي سنة (762هـ) 2.
19 ـ محمد بن مفلح بن محمد المقدسي، ثم الصالحي الحنبلي، توفي سنة (763هـ) 3.
2. ـ إبراهيم بن مؤيد الدين أبي المعالي بن العز التميمي بن القلانسي الدمشقي الشافعي، توفي سنة (765هـ) 4.
21 ـ أحمد بن الحسن بن عبد الله بن محمد بن أحمد بن قدامة المقدسي، توفي سنة (771هـ) 5.
22 ـ إسماعيل بن عمر بن كثير بن ضوء بن كثير، صاحب التفسير الشهير، توفي سنة (774هـ) 6.
23 ـ محمد بن عبد الله بن أحمد بن المحب السعدي المقدسي ثم الصالحي الحنبلي، توفي سنة (788هـ) 7.
24 ـ أحمد بن محمد بن عبد الله بن الحسن الحميري، المصري الأصلي ثم الدمشقي8.
25 ـ أحمد بن الحسن بن عبد الله بن الشيخ أبي عمر9.
--------------------------------------------
১৭ — মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম মুহাম্মদ আল-আনসারি, আল-খাযরাজি আল-বাইসানি আদ-দিমাশকি আল-মাকদিসি, মৃত্যু (৭৬২ হিজরি) ১।
১৮ — আহমাদ ইবন মুসা আয-যারয়ি আল-হাম্বলি, মৃত্যু (৭৬২ হিজরি) ২।
১৯ — মুহাম্মদ ইবন মুফলিহ ইবন মুহাম্মদ আল-মাকদিসি, অতঃপর আস-সালিহি আল-হাম্বলি, মৃত্যু (৭৬৩ হিজরি) ৩।
২০. — ইবরাহিম ইবন মুয়াইয়িদুদ্দিন আবিল মাআলি বিন আল-ইযয আত-তামিমি ইবন আল-কালানিসি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি, মৃত্যু (৭৬৫ হিজরি) ৪।
২১ — আহমাদ ইবন আল-হাসান ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন কুদামা আল-মাকদিসি, মৃত্যু (৭৭১ হিজরি) ৫।
২২ — ইসমাইল ইবন উমর ইবন কাসির ইবন দাও ইবন কাসির, বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থের লেখক, মৃত্যু (৭৭৪ হিজরি) ৬।
২৩ — মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আহমাদ ইবন আল-মুহিব আস-সাআদি আল-মাকদিসি অতঃপর আস-সালিহি আল-হাম্বলি, মৃত্যু (৭৮৮ হিজরি) ৭।
২৪ — আহমাদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আল-হাসান আল-হিমইয়ারি, আদি নিবাস মিশর অতঃপর দামেস্কি ৮।
২৫ — আহমাদ ইবন আল-হাসান ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আশ-শাইখ আবু উমর ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
رابعاً ـ مكانته العلمية وثناء العلماء عليه:
كان ابن تيمية إماماً مجتهداً، تعددت مجالاته العلمية، فنبغ في العلوم لا سيما في علم العقيدة والحديث والتفسير، وأتقن العربية أصولاً وفروعاً. قال الحافظ أبو الفتح اليعمري: يصف نبوغ ابن تيمية وسعة علمه: "إن تكلم في التفسير فهو حامل رايته، وإن أفتى في الفقه فهو مدرك غايته، أو ذاكر بالحديث فهو صاحب علمه، وذو روايته، أو حاضر بالنِّحَل والمِلَل لم يُرَ أوسع من نحلته، ولا أرفع من درايته، برز في كل فن على أبناء جنسه"1.
وكان له مع ذلك اطلاع واسع وإدراك لعلوم كثيرة أخرى، كالحساب والجبر والمقابلة وأنواع الفلسفة. وقال عنه ابن العماد: "أحكم أصول الفقه والفرائض والحساب والمقابلة وغير ذلك من العلوم، ونظر في الكلام والفلسفة وبرز في ذلك على أهله، وردّ على رؤسائهم وأكابرهم"2.
وسوف أقدم في هذا البحث حديثاً موجزاً عن هذه الجوانب العلمية مقتصراً على العلوم الشرعية:
· أولاً ـ في العقيدة:
كان ابن تيمية واسع المعرفة العقدية وآراء أصحابها، وليس أدلّ على ذلك من كتبه: (درء تعارض العقل والنقل) ، و (تلبيس الجهمية) ، و (الاستقامة) ، و (الصفدية) ، و (منهاج السنة) .
ففيها عرضٌ كامل للعقيدة الإسلامية الصحيحة والرد على المذاهب الكلامية والمخالفة لمنهج السلف، فقد ناقش مذهب الجهمية والمعتزلة
--------------------------------------------
চতুর্থত — তাঁর ইলমি মাকাম (বিদ্বত্তা) এবং তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:
ইবনে তাইমিয়্যাহ ছিলেন একজন ইমাম মুজতাহিদ। তাঁর ইলমি ক্ষেত্রসমূহ ছিল বহুমুখী। তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞানে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন, বিশেষ করে আকিদাহ, হাদিস এবং তাফসির শাস্ত্রে। তিনি আরবি ভাষার মূলনীতি ও শাখাসমূহ যথাযথভাবে আয়ত্ত করেছিলেন। হাফেজ আবু আল-ফাতহ আল-ইয়ামুরি ইবনে তাইমিয়্যার প্রতিভা এবং তাঁর ইলমের পরিধি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "তিনি যদি তাফসির নিয়ে কথা বলেন, তবে তিনি তার পতাকাবাহী। যদি ফিকহ শাস্ত্রে ফতোয়া প্রদান করেন, তবে তিনি তার চরম শিখরে আসীন। যদি হাদিস নিয়ে আলোচনা করেন, তবে তিনি তার ইলম ও রেওয়ায়েতের অধিকারী। আর যদি ফেরকা ও ধর্মসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করেন, তবে তাঁর চেয়ে প্রশস্ত জ্ঞান আর কারও দেখা যায়নি এবং তাঁর চেয়ে উচ্চতর প্রজ্ঞা আর পরিলক্ষিত হয়নি। তিনি প্রতিটি শাস্ত্রে তাঁর সমসাময়িকদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন"১।
এর পাশাপাশি গণিত, বীজগণিত এবং দর্শনের বিভিন্ন শাখায় তাঁর ব্যাপক জানাশোনা ও উপলব্ধি ছিল। ইবনুল ইমাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি উসূলুল ফিকহ, ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), গণিত, বীজগণিতসহ অন্যান্য শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তিনি কালামশাস্ত্র ও দর্শনে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছিলেন এবং এ বিষয়ে সেই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের ওপরও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছিলেন। তিনি তাদের প্রধান ও বড় বড় পণ্ডিতদের যুক্তি খণ্ডন করেছিলেন"২।
আমি এই গবেষণায় এই ইলমি দিকগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করব, যা কেবল শরয়ি ইলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে:
· প্রথমত — আকিদাহ বিষয়ে:
ইবনে তাইমিয়্যাহ আকিদাহ বিষয়ক জ্ঞান এবং বিভিন্ন মতাবলম্বীদের মতামতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো তাঁর কিতাবসমূহ: (দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকল), (তালবিসুল জাহমিয়্যাহ), (আল-ইস্তিকামাহ), (আস-সাফাদিয়্যাহ) এবং (মিনহাজুস সুন্নাহ)।
এগুলোতে সঠিক ইসলামি আকিদাহর পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা এবং কালামশাস্ত্রীয় মাযহাবসমূহ ও সালাফদের মানহাজ বিরোধীদের জবাব রয়েছে। তিনি জাহমিয়্যাহ ও মুতাজিলাদের মাযহাব নিয়ে আলোচনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والمرجئة والشيعة، وتدلّ ردوده على هذه المذاهب على سعة معرفته بأصولها.
قال البزّار: "أبانَ بحمد الله تعالى فيما ألَّف فيها لكل بصير الحق من الباطل، وأعانه بتوفيقه حتى رد عليهم بدعهم وآراءهم، وخدعهم وأهواءهم، مع الدلائل بالطريقة العقلية حتى يجيب عن كل شبهة من شبههم بعدة أجوبة جلية واضحة، يعقلها كل ذي عقل صحيح، ويشهد لصحتها كل عاقل صحيح"1.
ولم يكتف رحمه الله بمعرفة مذاهب أهل البدع؛ بل قرأ كتب الفلاسفة وأهل المنطق وأحاط بها ورد عليها في كتبه، خاصة كتاب (نقض المنطق) ، و (الرد على المنطقيين) ، و (الصفدية) .
قال الذهبي: "عرَف أقوال المتكلمين ورد عليهم، ونبّه على خطئهم وحذّر منهم، ونصر السُّنة بأوضح حجج وأبهر براهين"2.
كذلك: قرأ كتب النصارى ودرسها دراسة "فاحصة" وردّ عليهم في كتابه القيم (الجواب الصحيح لمن بدَّل دين المسيح) ، فقد كان يعد نفسه للدفاع عن الإسلام في كل الميادين؛ لذلك أكثر من التصنيف والتأليف في العقيدة وأصول الدين.
قال البزار: "ولقد أكثر رضي الله عنه التصنيف في الأصول فضلاً عن غيره من بقية العلوم، فسألته عن سبب ذلك والتمست منه تأليف نص في الفقه يجمع اختياراته وترجيحاته ليكون عمدة في الإفتاء، فقال لي ما معناه: الفروع أمرها قريب، ومن قلّد فيها المسلم أحد العلماء المقلدين، جاز له العمل بقوله ما لم يتيقن خطأه.
وأما الأصول: فإني رأيت أهل البدع والضلالات والأهواء كالمتفلسفة والباطنية، والملاحدة، والقائلين بوحدة الوجود، والدهرية، والقدرية،
--------------------------------------------
...এবং মুরজিয়া ও শিয়া। এই মাযহাবগুলোর ওপর তাঁর খণ্ডনসমূহ এই দলগুলোর মূলনীতি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের ব্যাপকতা প্রমাণ করে।
আল-বাযযার বলেন: "আল্লাহ তাআলার প্রশংসাসহ তিনি এই বিষয়ে যা কিছু রচনা করেছেন তাতে প্রত্যেক দূরদর্শী ব্যক্তির কাছে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সুস্পষ্ট করেছেন। আল্লাহ তাঁকে তাঁর তাওফীক দিয়ে সাহায্য করেছেন, এমনকি তিনি তাদের বিদআত, মতামত, প্রতারণা ও কুপ্রবৃত্তিগুলোকে খণ্ডন করেছেন। তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতিতে দলীলসহ তাদের প্রতিটি সংশয়ের একাধিক স্পষ্ট ও পরিষ্কার উত্তর দিয়েছেন, যা সুস্থ বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন যে কেউ উপলব্ধি করতে পারে এবং প্রতিটি সুস্থ বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি এর সত্যতার সাক্ষ্য দেয়।"১
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) কেবল বিদআতিদের মাযহাবগুলো জানতেই ক্ষান্ত হননি; বরং তিনি দার্শনিক ও যুক্তিবিদদের কিতাবসমূহ পাঠ করেছেন, সেগুলো আয়ত্ত করেছেন এবং নিজ কিতাবসমূহে সেগুলোর খণ্ডন করেছেন, বিশেষ করে 'নাক্বদুল মানতিক্ব' (যুক্তিবিদ্যার খণ্ডন), 'আর-রাদ্দু আলাল মানতিক্বিয়্যীন' (যুক্তিবিদদের প্রতিবাদ) এবং 'আস-সাফাদিয়্যাহ' গ্রন্থে।
আয-যাহাবী বলেন: "তিনি কালামশাস্ত্রবিদদের বক্তব্যসমূহ জানতেন এবং তাদের খণ্ডন করেছেন, তাদের ভুলভ্রান্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং তাদের থেকে সাবধান করেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট দলীল ও বিস্ময়কর প্রমাণের মাধ্যমে সুন্নাহকে সাহায্য করেছেন।"২
অনুরূপভাবে: তিনি খ্রিষ্টানদের কিতাবসমূহ পড়েছেন এবং সেগুলো "গভীরভাবে" অধ্যয়ন করেছেন এবং তাঁর মূল্যবান কিতাব 'আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসীহ'-এ তাদের খণ্ডন করেছেন। তিনি নিজেকে প্রতিটি ময়দানে ইসলামের প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন; একারণেই তিনি আকীদা ও দ্বীনের মূলনীতি বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেছেন।
আল-বাযযার বলেন: "তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অন্যান্য ইলমের তুলনায় উসূল বা মূলনীতি শাস্ত্রে অধিক কিতাব রচনা করেছেন। আমি তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলাম এবং ফিকহ শাস্ত্রে একটি গ্রন্থ রচনার অনুরোধ জানালাম যা তাঁর চয়ন ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মাসআলাগুলোকে একত্রিত করবে যাতে তা ফাতওয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হতে পারে। তখন তিনি আমাকে এমন কথা বললেন যার মর্মার্থ হলো: ফুরু বা শাখা-প্রশাখার বিষয়টি সহজ; কোনো মুসলমান যদি তাতে মুকাল্লিদ উলামাদের কাউকে অনুসরণ করে তবে তার জন্য সেই মত অনুযায়ী আমল করা বৈধ যতক্ষণ না তার ভুল হওয়া নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়।
আর উসূল বা মূলনীতির বিষয়ে কথা হলো: আমি বিদআতি, পথভ্রষ্ট ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের দেখেছি—যেমন দার্শনিক, বাতেনী, নাস্তিক, অদ্বৈতবাদপন্থী, দাহরিয়্যাহ (বস্তুবাদী) এবং ক্বাদারিয়া—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والنصيرية، والجهمية، والحلولية، والمعطِّلة، والمجسِّمة، والمشبِّهة، والراوندية، والكلابية، والسليمية، وغيرهم من أهل البدع، فقد تجاذبوا فيها بأزِمَّة الضلال وبَان لي أن كثيراً منهم إنما قصدوا إبطال الشريعة المقدسة المحمدية، الظاهرة العلية على كل دين، وأن جمهورهم أوقع الناس في التشكيك في أصول دينهم؛ ولهذا قلَّ أن سمعتُ أو رأيتُ معرضاً عن الكتاب والسنة مقبلاً على مقالاتهم إلا تزندق، أو صار على غير يقين في دينه واعتقاده.
فلما رأيت الأمر على ذلك بَانَ لي أنه يجب على كل من يقدر دفع شبههم وأباطيلهم، وقطع حجتهم وأضاليلهم أن يبذل جهده ليكشف رذائلهم وزيف دلائلهم ذباً عن الملة الحنيفية والسنة الصحيحة الجلية.
ولا ـ والله ـ ما رأيتُ فيهم أحداً ممن صنّف في هذا الشأن وادّعى علو المقام إلا وقد ساعد بمضمون كلامه على هدم قواعد دين الإسلام.
وسبب ذلك: إعراضه عن الحق الواضح المبين، وعن ما جاءت به الرسل الكرام عن رب العالمين، واتباعه طرق الفلسفة وفي الاصطلاحات التي سموها بزعمهم: حكميات وعقليات وإنما هي: جهالات وضلالات، وكونه التزمها معرضاً عن غيرها أصلاً ورأساً، فغلبت عليه حتى غطت على عقله السليم، فتخبط حتى خبط فيها عشواء، ولم يفرق بين الحق والباطل وإلا فالله أعظم لطفاً بعباده ألا يجعل لهم عقلاً يقبل الحق ويثبته، ويبطل الباطل وينفيه، لكن عدم التوفيق وغلبة الهوى أوقع من أوقع في الضلال، وقد جعل الله العقل السليم من الشوائب ميزاناً يزن به العبد الواردات، فيفرق به بين ما هو من قبيل الحق، وما هو من قبيل الباطل.
ولم يبعث الله الرسل إلا إلى ذوي العقل، ولم يقع التكليف إلا مع وجوده، فكيف يقال: إنه مخالف لبعض ما جاءت به الرسل الكرام عن الله تعالى؟.
هذا باطل قطعاً يشهد له كل عقل سليم، لكن {وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُوراً فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ} [النور: 4.] .
নুসায়রিয়া, জাহমিয়া, হুলুলিয়া, মু'আত্তিলা, মুজাসসিমা, মুসাব্বিহা, রাওয়ান্দিয়া, কুলাবিয়া, সালিমিয়া এবং বিদাতপন্থীদের অন্যান্য দলগুলো পথভ্রষ্টতার রশিতে জড়িয়ে পরস্পরকে টেনে নিয়ে গিয়েছে। আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, তাদের মধ্যে অনেকেই পবিত্র মুহাম্মাদী শরীয়তকে বাতিল করার উদ্দেশ্য পোষণ করেছিল—যা সকল দ্বীনের ওপর সুস্পষ্টভাবে শ্রেষ্ঠ। তাদের অধিকাংশ মানুষকে তাদের দ্বীনের মূলনীতিসমূহে সংশয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই কারণেই খুব কমই এমন দেখেছি বা শুনেছি যে, কেউ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে তাদের মতবাদের দিকে ঝুঁকেছে অথচ সে যিনদীক (ধর্মদ্রোহী) হয়ে যায়নি অথবা তার দ্বীন ও আকিদায় নিশ্চিত বিশ্বাসহীন হয়ে পড়েনি।
যখন আমি বিষয়টি এমন দেখলাম, তখন আমার নিকট স্পষ্ট হলো যে, যারা তাদের সংশয় ও বাতিল মতবাদসমূহ খণ্ডন করতে এবং তাদের যুক্তি ও ভ্রষ্টতা ছিন্ন করতে সক্ষম, তাদের প্রত্যেকের ওপর আবশ্যক হলো তাদের দোষ-ত্রুটি এবং দলিলের অসারতা উন্মোচনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করা। এটি করা হবে মিল্লাতে হানিফিয়া এবং সুস্পষ্ট সহীহ সুন্নাহর প্রতিরক্ষায়।
আল্লাহর কসম! এই বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছে এবং উচ্চ মর্যাদার দাবিদার, তাদের মধ্যে এমন কাউকেই আমি দেখিনি যে তার কথার সারমর্ম দ্বারা ইসলামি দ্বীনের ভিত্তিগুলো ধ্বংস করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেনি।
এর কারণ হলো: সুস্পষ্ট ও প্রদীপ্ত সত্য থেকে এবং রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে সম্মানিত রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে বিমুখ হওয়া; এবং দর্শনের পথ ও এমন পরিভাষাগুলোর অনুসরণ করা যেগুলোকে তারা তাদের ধারণামতে হিকমত ও আকলিয়াত (যুক্তিবিদ্যা) নামে অভিহিত করেছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে সেগুলো নিছক অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতা। আর তিনি সেগুলোকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছেন যে অন্য সবকিছু থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে তা তার ওপর এমনভাবে প্রাধান্য বিস্তার করেছে যে তার সুস্থ বিবেককে ঢেকে দিয়েছে। এরপর সে এমন বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে যে অন্ধকারে হাতড়ানোর মতো ভুল পথে চলতে শুরু করেছে এবং হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি। অন্যথায়, আল্লাহ তো তাঁর বান্দাদের প্রতি অধিক দয়ালু, তিনি তাদের এমন বিবেকহীন করেননি যা সত্যকে গ্রহণ করবে না ও তা প্রতিষ্ঠিত করবে না, কিংবা বাতিলকে অসার প্রতিপন্ন করে তা প্রত্যাখ্যান করবে না। কিন্তু তাওফীকের অভাব এবং কুপ্রবৃত্তির প্রাধান্য পথভ্রষ্টদেরকে গোমরাহীতে নিমজ্জিত করেছে। অথচ আল্লাহ তাআলা কলুষতামুক্ত সুস্থ বিবেককে একটি মানদণ্ড হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, যার মাধ্যমে বান্দা তার নিকট উপস্থিত বিষয়সমূহ পরিমাপ করে হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।
আল্লাহ তাআলা রাসূলগণকে কেবলমাত্র বিবেকসম্পন্নদের নিকটই প্রেরণ করেছেন এবং শরীয়তের দায়বদ্ধতাও কেবলমাত্র বিবেকের উপস্থিতিতেই অর্পিত হয়েছে। এমতাবস্থায় কীভাবে বলা সম্ভব যে, বিবেক আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানিত রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার কোনো কিছুর বিরোধী হতে পারে?
এটি অকাট্যভাবে বাতিল, যার সাক্ষ্য প্রতিটি সুস্থ বিবেক প্রদান করে। কিন্তু "আল্লাহ যাকে নূর দান করেন না, তার জন্য কোনো নূর নেই।" [আন-নূর: ৪০]
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال الشيخ الإمام ـ قدّس الله روحه ـ: "فهذا ونحوه هو الذي أوجب أني صرفت جلّ همي إلى الوصول، وألزمني أن أوردت مقالاتهم وأجبتُ عنها، بما أنعم الله تعالى به من الأجوبة النقلية والعقلية"1.
· ثانياً ـ في الحديث:
علم الحديث لا يؤخذ إلا بالسماع على الشيوخ ليسند روايته على من قرأ عليه، ورأينا من قبل: أن ابن تيمية بدأ في طلب الحديث وسماعه في حداثة سنه، وشيوخه الذين سمع منهم أكثر من مائتي شيخ، فسمع أكثر من مرة مسند الإمام أحمد، والكتب الستة، ومعجم الطبراني الكبير، وما لا يحصى من الكتب والأجزاء.
قال ابن عبد الهادي: "قرأ بنفسه الكثير، وطلب الحديث، وكتب الطباق والإثبات، ولازم السماع بنفسه مدة سنتين"2.
وقال الذهبي: "كان عجيباً في معرفة علم الحديث، فأما حفظه متون الصحاح وغالب متون السنن والمسند فما رأيت من يدانيه في ذلك أصلاً"3.
وذكر الحافظ أبو الفتح اليعمري: أن ابن تيمية كاد يستوعب السنن والآثار حفظاً4.
أما معرفته بعلم الجرح والتعديل والصحيح والضعيف: فذكر الذهبي: " أن له خبرة تامة بالرجال وتعديلهم وطبقاتهم وله معرفة بفنون الحديث، وبالعالي والنازل، والصحيح والسقيم، مع حفظه لمتونه التي انفرد به فلا يبلغ أحد في العصر رتبته ولا يقاربه، وهو عجيب في استحضاره واستخراج الحجج منه، وإليه المنتهى في عزوه إلى الكتب الستة والمسند بحيث
--------------------------------------------
শাইখ ইমাম —আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন— বলেছেন: "এটি এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোই আমাকে বাধ্য করেছে যে আমি আমার অধিকাংশ মনোযোগ সত্যে পৌঁছানোর দিকে নিবদ্ধ করি, এবং আমাকে এটি অপরিহার্য করে দিয়েছে যে আমি তাদের মতবাদগুলো তুলে ধরি এবং সেগুলোর উত্তর প্রদান করি, যা আল্লাহ তাআলা আমাকে বর্ণনাগত ও যুক্তিগত উত্তরের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন।"১।
· দ্বিতীয়ত — হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রে:
হাদিস শাস্ত্র অর্জন করা যায় না শাইখদের কাছে শোনার মাধ্যম ব্যতিরেকে, যাতে তিনি যার কাছে পড়েছেন তার সাথে নিজের বর্ণনাকে সনদযুক্ত করতে পারেন। আমরা এর আগে দেখেছি যে: ইবনে তাইমিয়াহ তাঁর অল্প বয়সেই হাদিস অন্বেষণ ও শ্রবণে মনোনিবেশ করেছিলেন এবং যেসব শাইখদের নিকট থেকে তিনি শুনেছেন তাঁদের সংখ্যা দুই শতাধিক। তিনি ইমাম আহমদের মুসনাদ, কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থ), তাবারানির মুজামুল কাবীর এবং অগণিত কিতাব ও অংশ (আজযা) একাধিকবার শুনেছেন।
ইবনে আবদিল হাদী বলেছেন: "তিনি নিজে প্রচুর পড়াশোনা করেছেন, হাদিস অন্বেষণ করেছেন, তিবাক (শ্রবণলিপি) ও ইসবাত (সনদ সংকলন) লিখেছেন এবং দুই বছর পর্যন্ত নিয়মিত শ্রবণ কার্যে নিয়োজিত ছিলেন।"২।
আয-যাহাবী বলেছেন: "হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানে তিনি ছিলেন বিস্ময়কর। সহীহ গ্রন্থসমূহের মতন (মূল পাঠ) এবং অধিকাংশ সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থের মতন মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ কাউকে আমি মোটেও দেখিনি।"৩।
হাফেজ আবুল ফাতহ আল-ইয়ামারি উল্লেখ করেছেন যে: ইবনে তাইমিয়াহ প্রায় সমস্ত সুনান ও আসার (সাহাবীদের বাণী) মুখস্থ করে ফেলেছিলেন।৪।
আর জারহ ওয়া তা’দীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা) এবং সহীহ ও যয়ীফ হাদিস সংক্রান্ত তাঁর জ্ঞানের ব্যাপারে আয-যাহাবী উল্লেখ করেছেন: "বর্ণনাকারীগণ, তাঁদের নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণ এবং তাঁদের স্তর বিন্যাসের ক্ষেত্রে তাঁর পূর্ণ অভিজ্ঞতা ছিল। হাদিসের বিবিধ শাখা, উচ্চ ও নিম্ন সনদ (আলি ও নাযিল), এবং সহীহ ও রুগ্ন (সাকীম) হাদিস সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। এর সাথে সাথে তাঁর মতন মুখস্থ রাখার সক্ষমতা ছিল অনন্য, যাতে এই যুগে কেউ তাঁর স্তরে পৌঁছাতে পারেনি এবং তাঁর নিকটবর্তীও হতে পারেনি। তিনি হাদিস উপস্থিত করা এবং তা থেকে দলিল উদঘাটনে ছিলেন বিস্ময়কর। কুতুবে সিত্তাহ ও মুসনাদ গ্রন্থের দিকে হাদিসকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন চূড়ান্ত পর্যায়ের পারদর্শী, এমনভাবে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يصدق عليه أن يقال: كل حديث لا يعرفه ابن تيمية فليس بحديث"1.
وقال البزار: "أما معرفته بصحيح النقل وسقيمه: فإنه في ذلك من الجبال التي لا تُرتَقى ذروتها، ولايُنال سنامها، قلَّ إن ذكر له قول إلا وقد أحاط علمه بمبتكره وذاكره وناقله وأثره، أو راوٍ وقد عرف حاله من جرح ٍ وتعديل بإجمال وتفصيل"2.
· ثالثاً ـ في التفسير:
ابن تيمية إمامٌ في التفسير وصاحب تصنيف فيه.
قال الذهبي: "أما التفسير فمسلّم إليه، وله من استحضار الآيات من القرآن وقت إقامة الدليل بها على المسألة قوة عجيبة، ولفرط إمامته في التفسير وعظم اطلاعه بيَّن خطأ كثير من أقوال المفسرين، ويوهي أقوالاً عديدة وينصر قولاً واحداً موافقاً لما دل عليه القرآن والحديث"3.
قال البزار: "أما غزارة علومه فمنها: ذكر معرفته بعلوم القرآن المجيد واستنباطه لدقائقه، ونقله لأقوال العلماء في تفسيره، واستشهاده بدلائله، وما أودعه الله تعالى فيه من عجائبه، وفنون حكمه، وغرائب نوادره، وباهر فصاحته، وظاهر ملاحته، فإنه فيه من الغاية التي يُنتهى إليها، والنهاية التي يعوّل عليها، ولقد كان إذا قُرئ في مجلسه آيات من القرآن العظيم يشرع في تفسيرها، فينقضي المجلس بجملته، والدرس برمته وهو في تفسير بعض آية منها، وكان مجلسه في وقتٍ مقدَّرٍ بقدر ربع النهار يفعل ذلك بديهة من غير أن يكون له قارئ معين يقرأ له شيئاً معيناً يبيته ليستعدّ لتفسيره، بل كان من حضر يقرأ ما تيسر ويأخذ هو في القول على تفسيره.
وكان غالباً لا يقطع إلا ويفهم السامعون أنه لولا مضي الزمن المعتاد لأورد أشياء أُخَرَ من معنى ما هو فيه من التفسير، لكن يقطع نظراً في مصالح
--------------------------------------------
তাঁর সম্পর্কে এই কথাটি বলা যথার্থ: "যে হাদিস ইবনে তাইমিয়া জানেন না, সেটি কোনো হাদিসই নয়।" ১।
আল-বায্যার বলেন: "সহিহ ও জইফ বর্ণনা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের কথা যদি বলি: তবে এই ক্ষেত্রে তিনি এমন এক সুউচ্চ পাহাড়ের মতো যার শিখরে আরোহণ করা যায় না এবং যার চূড়া স্পর্শ করা সম্ভব নয়। খুব কমই এমন হয়েছে যে, তাঁর সামনে কোনো উক্তি উল্লেখ করা হয়েছে অথচ তিনি সেটির উদ্ভাবক, বক্তা, বর্ণনাকারী এবং তার প্রভাব সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখতেন না; অথবা কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে অথচ তিনি তার অবস্থা সম্পর্কে 'জারহ ও তাদিল' (সমালোচনা ও গুণাগুণ) এর সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত বিবরণ জানতেন না।" ২।
· তৃতীয়ত — তাফসির শাস্ত্রে:
ইবনে তাইমিয়া তাফসির শাস্ত্রের একজন ইমাম এবং এই বিষয়ে গ্রন্থ প্রণেতা ছিলেন।
আয-যাহাবি বলেন: "তাফসিরের ক্ষেত্রে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনস্বীকৃত। কোনো মাসআলায় দলিল হিসেবে পেশ করার জন্য কুরআনের আয়াতসমূহ তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত করার ক্ষেত্রে তাঁর এক বিস্ময়কর ক্ষমতা ছিল। তাফসির শাস্ত্রে তাঁর সুগভীর ইমামত এবং বিশাল পাণ্ডিত্যের কারণে তিনি মুফাসসিরগণের অনেক মতের ভুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি অনেক উক্তিকে দুর্বল প্রমাণ করতেন এবং এমন একটি মতকে সমর্থন করতেন যা কুরআন ও হাদিসের দলিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।" ৩।
আল-বায্যার বলেন: "তাঁর ইলমের প্রাচুর্যের কথা যদি বলি, তবে তার মধ্যে রয়েছে: কুরআন মাজিদের উলুম (বিজ্ঞান) সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান, এর সূক্ষ্মতত্ত্বসমূহ উদ্ঘাটন করা, এর তাফসিরে আলিমগণের উক্তি বর্ণনা করা, এর দলিলসমূহ দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করা এবং আল্লাহ তাআলা এতে যে সকল বিস্ময়কর বিষয়, হিকমতের নানা দিক, বিরল তথ্যাবলি, প্রভাববিস্তারকারী প্রাঞ্জলতা এবং স্পষ্ট মাধুর্য গচ্ছিত রেখেছেন তা বর্ণনা করা। এই ক্ষেত্রে তিনি এমন এক চুড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছেছিলেন যা শেষ সীমা হিসেবে গণ্য এবং যার ওপর নির্ভর করা হয়। যখনই তাঁর মজলিসে কুরআনুল কারিমের আয়াত পাঠ করা হতো, তিনি তার তাফসির শুরু করতেন; পুরো মজলিস এবং পাঠের পুরো সময়টি পার হয়ে যেত অথচ তিনি সেই আয়াতের মাত্র কিছু অংশের তাফসিরে থাকতেন। তাঁর মজলিস দিনের এক-চতুর্থাংশ সময়ের জন্য নির্ধারিত থাকত। তিনি কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে তাফসির করতেন। এমন নয় যে তাঁর নির্দিষ্ট কোনো ক্বারি ছিল যে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট কিছু অংশ পাঠ করত যা তিনি আগে থেকে তাফসিরের জন্য প্রস্তুত করে রাখতেন; বরং উপস্থিতদের মধ্য থেকে যে কেউ যা সহজ মনে হতো তা তিলাওয়াত করত এবং তিনি তার তাফসির শুরু করতেন।
তিনি সাধারণত ততক্ষণ পর্যন্ত আলোচনা শেষ করতেন না যতক্ষণ না শ্রোতারা বুঝতে পারত যে, যদি নির্ধারিত সময় শেষ না হতো তবে তিনি সেই তাফসিরের প্রাসঙ্গিক আরও অনেক বিষয় উপস্থাপন করতেন। কিন্তু তিনি অন্যান্য কল্যাণের দিকে লক্ষ্য রেখে আলোচনা শেষ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الحاضرين، ولقد أملى من تفسير: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} [الإخلاص: 1]
مجلداً كبيراً، وقوله: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5] نحو خمس وثلاثين كراسة.
ولقد بلغني أنه شرع في تفسير لو أتمه لبلغ خمسين مجلداً"1.
· رابعاً ـ في الفقه:
كان ابن تيمية رحمه الله على مذهب الإمام أحمد بن حنبل إلا أنه لم يكن يلزمه في آرائه وفتاويه، بل كان مجتهدا يقول ويفتي بما قام عليه الدليل عنده.
قال الذهبي: "وفاق الناس في معرفة الفقه واختلاف المذاهب وفتاوى الصحابة والتابعين بحيث إذا أفتى لم يلتزم
بمذهب بل بما يقوم عليه الدليل"2.
وقال كمال الدين بن الزِّمْلِكاني: "كان الفقهاء من سائر الطوائف إذا جالسوه استفادوا في مذاهبهم منه أشياء، ولا يعرف أنه ناظر أحداً فانقطع معه، ولا تكلم في علم من العلوم سواء كان في علم الشرع أو غيرها إلا فاق فيه أهله، واجتمعت فيه شروط الاجتهاد على وجهها"3.
وذكر الصفدي أن ابن تيمية: "أقبل على الفقه دقائقه، وغاص على مباحثه، ونظر في أدلته وقواعده وحججه والإجماع والاختلاف حتى كان يقضى منه العجب، إذا ذكر مسألة من الخلاف استدل ورجح واجتهد"4.
فمن المسائل التي أفتى فيها باجتهاده وخالف فيها أهل المذاهب الأربعة، أو خالف فيها المشهور ما نقله تلميذه (ابن عبد الهادي) في (العقود الدرية) 5، وإليك بعضاً منها:
--------------------------------------------
উপস্থিতগণ, এবং তিনি ‘বলুন, তিনি আল্লাহ এক’ [আল-ইখলাস: ১]-এর তাফসীর থেকে একটি বড় খণ্ড এবং ‘দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন’ [ত্বহা: ৫]-এর ওপর প্রায় পঁয়ত্রিশটি নোটবুক লিখিয়েছেন।
আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি এমন এক তাফসীর শুরু করেছিলেন যা তিনি সম্পন্ন করলে তা পঞ্চাশ খণ্ডে পৌঁছাত।১
· চতুর্থ — ফিকহ শাস্ত্রে:
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, তবে তিনি তাঁর মতামত ও ফতোয়াগুলোতে কেবল তাঁর অনুগামী হয়ে থাকতেন না, বরং তিনি একজন মুজতাহিদ ছিলেন যিনি তাঁর কাছে যেটির পক্ষে দলিল প্রতিষ্ঠিত হতো সেই অনুযায়ী কথা বলতেন ও ফতোয়া দিতেন।
আয-যাহাবী বলেন: "ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান, মাযহাবসমূহের মতপার্থক্য এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের ফতোয়া সম্পর্কে তিনি মানুষকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন, এমনভাবে যে তিনি যখন ফতোয়া দিতেন তখন কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুবর্তী হতেন না, বরং যার স্বপক্ষে দলিল পাওয়া যেত সেটিরই অনুসারী হতেন।"২
কামালুদ্দীন ইবনুয যামলকানী বলেন: "অন্যান্য সকল দলের ফকীহগণ যখন তাঁর সাথে বসতেন, তখন তাঁরা তাঁদের নিজেদের মাযহাব বিষয়েও তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতেন। এমনটি জানা নেই যে তিনি কারো সাথে বিতর্ক করেছেন আর সেখানে তিনি নিরুত্তর হয়েছেন। আর তিনি শরয়ী ইলম হোক বা অন্য কোনো ইলম—যেকোনো বিষয়ে কথা বলতেন তাতেই সেই বিষয়ের পণ্ডিতদের ছাড়িয়ে যেতেন, এবং তাঁর মধ্যে ইজতিহাদের সকল শর্ত যথাযথভাবে বিদ্যমান ছিল।"৩
আস-সাফাদী উল্লেখ করেন যে, ইবনে তাইমিয়্যাহ: "ফিকহ শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন এবং এর গবেষণালব্ধ বিষয়গুলোতে অবগাহন করেছিলেন। তিনি এর দলিল, মূলনীতি, প্রমাণাদি, ইজমা এবং মতপার্থক্যসমূহ এমনভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে তা বিস্ময়ের উদ্রেক করত। যখনই তিনি কোনো মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলা উল্লেখ করতেন, তখন তিনি দলিল প্রদান করতেন, প্রাধান্যযোগ্য মত ব্যক্ত করতেন এবং ইজতিহাদ করতেন।"৪
তাঁর ইজতিহাদের ভিত্তিতে ফতোয়া প্রদানকৃত মাসআলাসমূহের মধ্যে কিছু এমন ছিল যাতে তিনি চার মাযহাবের ইমামগণের সাথে অথবা প্রসিদ্ধ মতের বিরোধিতা করেছিলেন, যা তাঁর ছাত্র (ইবনে আব্দুল হাদী) (আল-উকুদ আদ-দুররিয়্যাহ)-তে বর্ণনা করেছেন; নিচে তার কিছু উল্লেখ করা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
1 ـ القول: بوجوب الكفارة في الحلف بالطلاق، وإن الطلاق الثلاث بلفظ واحد لا يقع إلا واحدة، وإن الحلف بلفظ الطلاق لا يقع به الطلاق إذا حنث وليس على الحالف إلا كفارة اليمين.
2 ـ القول: بقصر الصلاة في كل ما يسمى سفراً طويلاً كان أو قصيراً دون اشتراط مسافة معينة، كما هو عند بعض الصحابة.
3 ـ القول: بأن سجود التلاوة لا يُشترط له وضوء كما يشترط للصلاة.
4 ـ القول: بأن من أكل في شهر رمضان معتقداً أنه بليل فبان الوقت نهاراً لا قضاء عليه كما هو الصحيح عن عمر بن الخطاب، وإليه ذهب بعض التابعين.
5 ـ القول: بإباحة وطء الوثنيات بملك يمين، أي مثل إماء أهل الكتاب.
6 ـ القول: بأن المتمتع يكفيه سعي واحد بين الصفا والمروة، كما هو في القارن والمفرد.
7 ـ القول: بجواز بيع الأصل بالعصير: كالزيتون بالزيت.
8 ـ القول: بأن المائع لا ينحبس بوقوع النجاسة فيه إلا أن يتغير قليلاً كان أو كثيراً.
وفي الجملة: فالإمام (ابن تيمية) قد فاق أهل عصره برجحان عقله وسعة علمه وصدق جهاده وصحة اجتهاده، حتى أكثر العلماء من الثناء عليه، ومن أبلغ ما قاله إمام الجرح والتعديل (الحافظ المزي) المتوفى (742هـ) حيث قال: "ما رأيت مثله، ولا هو رأى مثل نفسه، وما رأيت أحداً أعلم بكتاب الله وسنة رسوله ولا أتبع لهما منه"1.
· خامساً ـ مؤلفاته:
الإمام (ابن تيمية) من المكثرين في التأليف، فقد وصفه ابن عبد الهادي، بقوله: "ولا أعلم أحداً من متقدمي الأمة ولا متأخريها جمع مثل جمع،
--------------------------------------------
১ — বক্তব্য: তালাকের শপথ করলে কাফফারা ওয়াজিব হওয়া; এবং এক শব্দে তিন তালাক দিলে তা কেবল এক তালাক হিসেবেই গণ্য হওয়া; আর তালাকের শব্দে শপথ করলে শপথ ভঙ্গের কারণে তালাক পতিত না হওয়া এবং শপথকারীর ওপর কেবল কসমের কাফফারা আবশ্যক হওয়া।
২ — বক্তব্য: সফর হিসেবে গণ্য হয় এমন সব ক্ষেত্রে—তা দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত হোক—নির্দিষ্ট কোনো দূরত্বের শর্তারোপ ছাড়াই সালাত কসর করার মত, যেমনটি কিছু সাহাবীর নিকট প্রচলিত ছিল।
৩ — বক্তব্য: তিলাওয়াতের সিজদার জন্য উযুর শর্ত না থাকার মত, যেভাবে সালাতের জন্য শর্ত থাকে।
৪ — বক্তব্য: রমজান মাসে কেউ যদি রাত মনে করে আহার করে এবং পরে স্পষ্ট হয় যে তখন দিন ছিল, তবে তার ওপর কোনো কাযা আবশ্যক না হওয়া; যেমনটি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত এবং কিছু তাবিঈ এই মত গ্রহণ করেছেন।
৫ — বক্তব্য: মালিকানাধীন দাসী হিসেবে পৌত্তলিক নারীদের সাথে সহবাস বৈধ হওয়া, অর্থাৎ আহলে কিতাব দাসীদের মতো।
৬ — বক্তব্য: মুতামাত্তি হজ পালনকারীর জন্য সাফা ও মারওয়ার মাঝে একবার সায়ী করাই যথেষ্ট হওয়া, যেমনটি কারিন ও মুফরিদ হজ পালনকারীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
৭ — বক্তব্য: মূল বস্তুকে তার নির্যাসের বিনিময়ে বিক্রি করা বৈধ হওয়া: যেমন জলপাইকে তেলের বিনিময়ে বিক্রি করা।
৮ — বক্তব্য: তরল পদার্থে নাপাকি পড়লে তা অপবিত্র না হওয়া, যতক্ষণ না তার গুণাবলি পরিবর্তিত হয়, চাই তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি।
সামগ্রিকভাবে: ইমাম (ইবনে তায়মিয়্যাহ) তাঁর প্রখর মেধা, ইলমের বিশালতা, জিহাদের একনিষ্ঠতা এবং ইজতিহাদের যথার্থতার কারণে নিজ যুগের সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি অধিকাংশ আলেম তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। জারহ ও তা'দিল শাস্ত্রের ইমাম হাফেজ আল-মিযযী (মৃত্যু: ৭৪২ হিজরি) তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে চমৎকার যে উক্তিটি করেছেন তা হলো: "আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি, আর তিনিও নিজের মতো কাউকে দেখেননি। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং সেগুলোর অধিক অনুসারী আমি আর কাউকে দেখিনি।"১
· পঞ্চম — তাঁর রচনাবলী:
ইমাম (ইবনে তায়মিয়্যাহ) প্রচুর গ্রন্থ রচয়িতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবনে আব্দুল হাদি তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "আমি উম্মতের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কারো কথা জানি না যিনি তাঁর মতো এত বিপুল পরিমাণ সংকলন করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ولا صنف نحو ما صنف ولا قريباً من ذلك، مع أن أكثر تصانيفه إنما أملاها من حفظه، وكثير منها صنفها في الحبس وليس عنده ما يحتاج إليه من الكتب"1.
وتبلغ تصانيف (ابن تيمية) خمسمائة مجلد، ذكر ذلك الذهبي2.
أما ابن عبد الهادي: فيذكر أن للشيخ من المصنفات والفتاوى والقواعد والأجوبة والرسائل وغير ذلك من الفوائد ما لا ينضبط3، ولو أراد الشيخ ابن تيمية أو غيره حصرها لما قدروا.
وعلّل على ذلك بقوله: "قد متّ الله عليه سرعة الكتابة ويكتب من حفظه من غير نقل، وكان يكتب في السؤال الواحد مجلداً وأما جواب السؤال فيكتب فيه خمسين ورقة أو أربعين أو عشرين فكثير، وكان يكتب الجواب فإن حضر من يبيضه وإلا أخذ السائل خطه وذهب.
ويكتب قواعد كثيرة في فنون من العلم فإن وجد من نقله بخطه وإلا لم يشتهر ولم يعرف، وربما أخذه بعض أصحابه فلا يقدر على نقله ولا يرده إليه فيذهب، وكان كثيراً يسأل عن الشيء فيقول: قد كتبت في هذا، فلا يدري أين هو؟ فيلتفت إلى أصحابه ويقول: ردوا خطي، وأظهروه لينقل، فمن حرصهم عليه لا يردونه، ومن عجزهم لا ينقلونه، فيذهب ولا يُعرف اسمه، فهذا تعذر إحصاء ما كتبه وصنفه"4.
وهذه طائفة من أهم مصنفاته:
1 ـ كتاب الإيمان ـ مجلد.
2 ـ درء تعارض العقل والنقل. طبع في عشرة مجلدات، بتحقيق د. محمد رشاد سالم رحمه الله.
--------------------------------------------
এবং তিনি যা রচনা করেছেন তার সমতুল্য বা তার কাছাকাছি কোনো কিছু অন্য কেউ রচনা করেনি, যদিও তাঁর অধিকাংশ রচনাবলি তিনি কেবল তাঁর স্মৃতি থেকেই শ্রুতিলিপি দিয়েছিলেন এবং তাঁর অনেকগুলোই তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় রচনা করেছিলেন যখন তাঁর নিকট প্রয়োজনীয় কিতাবসমূহ ছিল না।১।
আর ইবনে তাইমিয়্যার রচনাবলির সংখ্যা পাঁচশত খণ্ডে পৌঁছায়, আয-যাহাবী এটি উল্লেখ করেছেন।২।
পক্ষান্তরে ইবনে আবদিল হাদী উল্লেখ করেন যে, শাইখের রচনাবলি, ফতোয়া, মূলনীতি, উত্তরমালা, পত্রাবলি এবং অন্যান্য জ্ঞানগর্ভ বিষয়সমূহ এতই বেশি যে তা গণনা করা সম্ভব নয়।৩। এমনকি শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহ অথবা অন্য কেউ যদি সেগুলো গণনা করতে চাইতেন, তবে তারা তা করতে সক্ষম হতেন না।
তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন: "আল্লাহ তাঁকে দ্রুত লেখার নেয়ামত দান করেছিলেন এবং তিনি কোনো কিছু না দেখেই তাঁর স্মৃতি থেকে লিখতেন। তিনি একটিমাত্র প্রশ্নের উত্তরে একটি পূর্ণ খণ্ড লিখে ফেলতেন। আর কোনো প্রশ্নের জবাবে তিনি পঞ্চাশ পৃষ্ঠা, চল্লিশ পৃষ্ঠা কিংবা বিশ পৃষ্ঠা লিখতেন এবং এমনটি প্রায়ই ঘটত। তিনি উত্তর লিখতেন; যদি সেখানে পরিষ্কার করে নকল করে দেওয়ার মতো কেউ উপস্থিত থাকত তবে ভালো, অন্যথায় প্রশ্নকারী তাঁর হস্তলিপি নিয়েই চলে যেত।
তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বহু মূলনীতি লিখতেন; যদি এমন কাউকে পাওয়া যেত যে তা তাঁর হস্তলিপি থেকে নকল করত তবে তা সংরক্ষিত হতো, অন্যথায় তা প্রসিদ্ধ হতো না এবং পরিচিতিও লাভ করত না। কখনও কখনও তাঁর কোনো কোনো সাথী তা নিয়ে যেতেন কিন্তু তাঁরা তা নকল করতে পারতেন না আবার তাঁকে ফেরতও দিতেন না, ফলে তা হারিয়ে যেত। প্রায়ই তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো আর তিনি বলতেন: 'আমি এই বিষয়ে লিখেছি,' কিন্তু সেটি কোথায় আছে তা তিনি জানতেন না। তখন তিনি তাঁর সাথীদের দিকে ফিরে বলতেন: 'আমার পাণ্ডুলিপিটি ফিরিয়ে দাও এবং এটি প্রকাশ করো যাতে তা নকল করা যায়।' কিন্তু সেটির প্রতি অতি আগ্রহের কারণে তারা তা ফেরত দিত না এবং অক্ষমতার কারণে তারা তা নকলও করত না, ফলে তা হারিয়ে যেত এবং তার নামও জানা যেত না। এ কারণেই তাঁর লিখিত ও রচিত বিষয়সমূহ গণনা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।"৪।
আর এগুলো হচ্ছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলির একটি অংশ:
১ — কিতাবুল ঈমান — এক খণ্ড।
২ — দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি। ড. মুহাম্মদ রাশাদ সালিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর সম্পাদনায় এটি দশ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
3 ـ كتاب الاستقامة. طبع في مجلدين بتحقيق د. محمد رشاد سالم.
4 ـ كتاب الصفدية. طبع في مجلدين بتحقيق د. محمد رشاد سالم.
5 ـ تلبيس الجهمية. طبع قسم منه في مجلدين بتصحيح الشيخ: محمد بن قاسم.
6 ـ الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح. طبع في سبع مجلدات.
7 ـ منهاج السنة. طبع في تسعة مجلدات بتحقيق د. محمد رشاد سالم.
8 ـ وقد جمع من رسائل شيخ الإسلام وفتاويه حتى بلغت (35) مجلداً تحت اسم: مجموعة فتاوى شيخ الإسلام أحمد بن تيمية ـ طيب الله ثراه ـ قام بجمعها وترتيبها الشيخ: عبد الرحمن بن قاسم وساعده ابنه محمد.
৩ — কিতাবুল ইস্তিকামাহ। ড. মুহাম্মাদ রাশাদ সালিমের সম্পাদনায় এটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
৪ — কিতাবুস সাফাদিয়্যাহ। ড. মুহাম্মাদ রাশাদ সালিমের সম্পাদনায় এটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
৫ — তালবিসুল জাহমিয়্যাহ। শাইখ মুহাম্মাদ বিন কাসিমের সংশোধনে এর একটি অংশ দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
৬ — আল-জাওয়াবুস সহীহ লি-মান বাদ্দাল দ্বীনাল মাসীহ। এটি সাত খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
৭ — মিনহাজুস সুন্নাহ। ড. মুহাম্মাদ রাশাদ সালিমের সম্পাদনায় এটি নয় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
৮ — শাইখুল ইসলামের পত্রাবলী ও ফতোয়াসমূহ 'মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম আহমাদ বিন তাইমিয়্যাহ'—আল্লাহ তাঁর কবরকে সুগন্ধিময় করুন—নামে সংকলিত হয়েছে, যা ৩৫ খণ্ডে পৌঁছেছে। শাইখ আব্দুর রহমান বিন কাসিম এটি সংগ্রহ ও বিন্যাস করেছেন এবং তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ তাঁকে সহায়তা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الفصل الثاني: التعريف بالكتابأـ اسم الكتاب:
(التدمرية) تحقيق الإثبات للأسماء والصفات، وحقيقة الجمع بين القدر والشرع.
والتدمري نسبة إلى بلد السائل وهي (تدمر) مدينة بالشام، ومن المعروف أن الشيخ لم يؤلف هذا الكتاب ابتداء بل كان عبارة عن إجابة لسؤال ورد عليه من طلاب العلم من مدينة تدمر.
وبذلك سمي هذا الكتاب نسبة إلى بلد السائل كبعض رسائل شيخ الإسلام الأخرى التي لم يؤلفها شيخ الإسلام ابتداءً، وإنما السؤال ورد عليه، كـ (الواسطية) ، نسبة إلى (واسط) ، و (الحموية) نسبة إلى بلد السائل (حماة) .
ب ـ موضوع الكتاب:
موضوع الكتاب يُفهم من اسمه (تحقيق الإثبات للأسماء والصفات حقيقة الجمع بين القدر والشرع) .
فالمراد بالتوحيد هو توحيد الربوبية.
وبالصفات: توحيد الأسماء والصفات.
وبالشرع: توحيد الألوهية، أي التوحيد الاعتقادي والعملي، فقد اشتمل موضوع الرسالة التدمرية على التوحيد الاعتقادي والعملي.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতিক. গ্রন্থের নাম:
(আত-তাদমুরিয়্যাহ) নাম ও গুণাবলির সাব্যস্তকরণের বাস্তবতা এবং তাকদির ও শরয়াতের মাঝে সমন্বয়ের প্রকৃত স্বরূপ।
আর 'তাদমুরি' শব্দটি প্রশ্নকারীর শহরের সাথে সম্পৃক্ত, যা হলো সিরিয়ার 'তাদমুর' নামক একটি শহর। এটি সুবিদিত যে, শাইখ প্রাথমিকভাবে এই গ্রন্থটি রচনা করেননি; বরং এটি ছিল তাদমুর শহরের ইলম অন্বেষণকারীদের পক্ষ থেকে তাঁর নিকট আসা একটি প্রশ্নের উত্তর মাত্র।
এভাবেই গ্রন্থটির নামকরণ প্রশ্নকারীর শহরের সাথে সম্পৃক্ত করে করা হয়েছে, যেমনটি শাইখুল ইসলামের অন্যান্য কিছু রিসালার ক্ষেত্রে হয়েছে যা তিনি নিজে থেকে রচনা শুরু করেননি; বরং তাঁর নিকট প্রশ্ন এসেছিল। যেমন—'ওয়াসিত' এর সাথে সম্পৃক্ত '(আল-ওয়াসিতিয়্যাহ)' এবং প্রশ্নকারীর শহর 'হামাহ' এর সাথে সম্পৃক্ত '(আল-হামাউইয়্যাহ)'।
খ. গ্রন্থের বিষয়বস্তু:
গ্রন্থের বিষয়বস্তু এর নাম (নাম ও গুণাবলির সাব্যস্তকরণের বাস্তবতা এবং তাকদির ও শরয়াতের মাঝে সমন্বয়ের প্রকৃত স্বরূপ) থেকেই বোঝা যায়।
এখানে তাওহীদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ।
এবং গুণাবলি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত।
আর শরয়াহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাওহীদুল উলুহিইয়্যাহ, অর্থাৎ বিশ্বাসগত ও আমলগত তাওহীদ। সুতরাং 'আত-তাদমুরিয়্যাহ' রিসালার বিষয়বস্তু বিশ্বাসগত ও আমলগত তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "أما بعد؛ فقد سألني من تعينت إجابتهم أن أكتب لهم مضمون ما سمعوه مني في بعض المجالس من الكلام في التوحيد والصفات والشرع والقدر"، وسيأتي تفصيل موضوع الكتاب في ثنايا الشرح.
ج ـ أهمية الكتاب:
الرسالة التدمرية من الكتب السلفية المهمة التي تبين عقيدة أهل السنة والجماعة في التوحيد الاعتقادي والتوحيد العملي.
وترجع أهمية الكتاب للأمور التالية:
1 ـ أهمية المواضيع التي بحثها المؤلف في ثنايا الكتاب، وعاج فيها الإشكالات والتساؤلات التي يثيرها من ليس على منهج السلف، وخاصة في باب الأسماء والصفات فيورد الإشكالات المحتملة، ويتناول الإشكال بالتحليل ويبين حقيقته ومعناه، ويستعرض آراء الفرق في الموضوع ويرد كل رأي إلى أصحابه، ويبيّن خطأهم من صوابه بالقرآن والسنة النبوية المطهرة ومن فهم الصحابة ـ رضوان الله عليهم ـ فأظهر ما في المذاهب المبتدعة في باب الأسماء والصفات من عوار واضطراب في العقيدة، وأصول الاستدلال.
2 ـ ما غلب على الناس من انتحال البدع الاعتقادية من بينها: نفي الصفات عن الله والخلط بين التوحيد الاعتقادي والعملي، وبين مقام الإحسان الشرعي ومقام الفناء الصوفي، فهذا الكتاب المهم فيه ردود مفحمة على نفاة الصفات مفوضين كانوا أو مأولين، وفيه رد على المنحرفين من أهل التصوف والسلوك، وفي هذا بلاغ وبيان لمن أراد سبيل الرشد وآثر الحق وتجرد عن الهوى والتعصب.
3 ـ أقام الأدلة في هذا الكتاب على إبطال أصول المتكلمين، كالتأويل الكلامي والخلط بين توحيد الألوهية وتوحيد الربوبية، وتفسير الإله بمعنى القادر على الاختراع، وحقية التوحيد عند المتكلمين وأهل التصوف وما يترتب على ذلك من أنواع الضلالات.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "অতঃপর; যাদের অনুরোধ রক্ষা করা আমার জন্য আবশ্যক, তারা আমাকে বলেছিলেন যেন আমি তাদের জন্য ঐ সকল আলোচনার সারমর্ম লিখে দিই, যা তারা আমার কাছ থেকে তাওহিদ, গুণাবলি, শরিয়ত ও তাকদির সম্পর্কে বিভিন্ন মজলিসে শুনেছেন।" এই বইয়ের বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ ব্যাখ্যার ভেতর আসবে।
গ — বইটির গুরুত্ব:
আল-রিসালাহ আত-তাদমুরিয়্যাহ হলো সালাফি মানহাজের গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোর একটি, যা বিশ্বাসগত তাওহিদ এবং কর্মগত তাওহিদের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বর্ণনা করে।
বইটির গুরুত্ব নিম্নোক্ত কারণসমূহের জন্য:
১ — লেখক এই বইয়ের বিভিন্ন স্থানে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন তার গুরুত্ব। এখানে তিনি সেইসব সংশয় ও প্রশ্নাবলি নিরসন করেছেন যা সালাফদের মানহাজের ওপর নেই এমন ব্যক্তিরা উত্থাপন করে থাকে, বিশেষ করে আল্লাহর নাম ও গুণাবলির অধ্যায়ে। তিনি সম্ভাব্য সংশয়গুলো উল্লেখ করেছেন এবং সেই সংশয়গুলো বিশ্লেষণ করে তার হাকিকত ও অর্থ স্পষ্ট করেছেন। তিনি এই বিষয়ে বিভিন্ন দলের মতামত তুলে ধরেছেন এবং প্রত্যেক মতকে তার প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। কুরআন, পবিত্র সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরাম —রাদিয়াল্লাহু আনহুম— এর বুঝ অনুযায়ী তাদের ভুল ও সঠিক হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে বিদআতি মতবাদগুলোর আকিদাগত ত্রুটি ও অস্থিরতা এবং দলিল গ্রহণের মূলনীতিসমূহের বিভ্রান্তি প্রকাশ করে দিয়েছেন।
২ — মানুষের মাঝে আকিদাগত বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটা, যার মধ্যে রয়েছে: আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা এবং বিশ্বাসগত ও কর্মগত তাওহিদের মাঝে মিশ্রণ তৈরি করা, আবার শরিয়তসম্মত ইহসানের স্তর ও সুফিবাদের ফানা হওয়ার স্তরের মাঝে গোলমাল পাকানো। এই গুরুত্বপূর্ণ বইটিতে গুণাবলি অস্বীকারকারীদের (তারা তাফউইযকারী হোক বা অপব্যাখ্যাকারী) বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব রয়েছে। এতে তাসাউফ ও সুলুকের বিচ্যুতদের বিরুদ্ধেও উত্তর রয়েছে। আর এতে সঠিক পথের অন্বেষণকারী, সত্যকে প্রাধান্যদানকারী এবং কুপ্রবৃত্তি ও গোঁড়ামি মুক্ত ব্যক্তির জন্য স্পষ্ট বার্তা ও দিকনির্দেশনা রয়েছে।
৩ — এই বইটিতে তিনি মুতাকাল্লিমদের মূলনীতিসমূহ বাতিলের সপক্ষে দলিল কায়েম করেছেন, যেমন: কালামশাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা, তাওহিদে উলুহিয়্যাহ ও তাওহিদে রুবুবিয়্যাহর মাঝে সংমিশ্রণ ঘটানো, এবং ইলাহ-এর অর্থ ‘উদ্ভাবনে সক্ষম’ হিসেবে করা। এছাড়া মুতাকাল্লিম ও সুফিদের নিকট তাওহিদের হাকিকত এবং এর ফলে উদ্ভূত বিভিন্ন ধরণের পথভ্রষ্টতাও তিনি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুত তাদমুরিয়্যাহ - আল-খামীস
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
4 ـ قلة الكتب السلفية ـ فيما أعلم ـ التي تظهر البناء العقلي لمذهب السلف على وجه من الدقة في المبنى والمعنى، فبيّن شيخ الإسلام في هذا الكتاب الاستعمالات الصحيحة والمجالات الممكنة للعقل، من خلال تلك المناظرات بين السني والمعطل كما في الأصل الأول والأصل الثاني.
د ـ مباحث الكتاب:
اشتمل الكتاب على المباحث الآتية:
أولاً ـ المقدمة: بيّن فيها شيخ الإسلام موضوع الكتاب، وسبب تأليفه والفرق بين التوحيد والشرع والقدر.
ثانياً ـ ثم تكلم عن قاعدة السلف في النفي والإثبات موضحاً ذلك بالأمثلة والأدلة من القرآن الكريم مبيناً مذهب السلف في ذلك كله.
ثالثاً ـ وبين فرق الضلال في النفي والإثبات، وبيان مذاهبهم بأسلوب ينبئ عن بطلانها ورد عليها بدلالة المعقول المعتمد على المنقول.
رابعأ ـ وتحث عن اتفاق المسميات بين الخالق والمخلوق، وبيّن أن ذلك اتفاق في المعنى العام ولا يلزم منه الاتفاق في الخصائص، وبين ما يترتب على القول بأن الاتفاق لفظي، وبين أن الإضافة إلى الرب أو العبد مانعة من اشتراك كل منهما في خصائص الآخر، وأن المعاني المختصة لا يمكن إثباتها وفهمها إلا بعد إثبات الاتفاق في المعنى العام، لأنه أصل المعنى ونفيه تعطيل للمعنى كله؛ العام والخاص، وأطال الاستشهاد لذلك من القرآن الكريم.
خامساً ـ عقد فصلاً أصّل فيه أصلين في مناظرة أهل البدع هما:
1 ـ القول في الصفات كالقول في بعض الصفات.
2 ـ القول في الصفات كالقول في الذات.
وضرب لكل من الأصلين أمثلة موضحة لهما.
سادساً ـ وذكر مثلين أراد أن يبين من خلالهما أن الاتفاق المعنوي بين صفات الخالق والمخلوق لا يستلزم التماثل في الخصائص وهما:
৪ — সলফী কিতাবসমূহের স্বল্পতা—আমার জানামতে—যা সলফদের মাযহাবের যৌক্তিক ভিত্তি শব্দ ও অর্থের সূক্ষ্মতার সাথে প্রকাশ করে। শায়খুল ইসলাম এই কিতাবে আকল বা বিবেকের সঠিক ব্যবহার এবং এর সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা করেছেন; সুন্নী ও মুয়াত্তিলদের (গুণাবলি অস্বীকারকারী) মধ্যকার সেই বিতর্কগুলোর মাধ্যমে, যেমনটি প্রথম ও দ্বিতীয় মূলনীতিতে বর্ণিত হয়েছে।
দ — কিতাবের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
কিতাবটি নিম্নোক্ত আলোচ্য বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছে:
প্রথমত — ভূমিকা: এতে শায়খুল ইসলাম কিতাবের বিষয়বস্তু, এর রচনার কারণ এবং তাওহীদ, শরীয়ত ও কদরের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়ত — এরপর তিনি নাফী (অস্বীকার করা) এবং ইসবাত (সাব্যস্ত করা) বিষয়ে সলফদের মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা তিনি পবিত্র কুরআনের উদাহরণ ও দলীলসমূহের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন এবং এ সবকিছুর বিষয়ে সলফদের মাযহাব বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয়ত — তিনি নাফী ও ইসবাতের ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট দলসমূহ এবং তাদের মতবাদসমূহ এমন এক পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন যা তাদের অসারতা নির্দেশ করে; আর তিনি তাদের খণ্ডন করেছেন শরীয়তের দলীলের ওপর নির্ভরশীল যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে।
চতুর্থত — তিনি স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে নামসমূহের মিল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, এটি সাধারণ অর্থে মিল এবং এর দ্বারা বৈশিষ্ট্যের মিল হওয়া আবশ্যক হয় না। তিনি সেই কথার পরিণামও বর্ণনা করেছেন যা বলে যে মিলটি কেবল শব্দগত। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, রবের দিকে বা বান্দার দিকে সম্বন্ধ করা একে অপরের বৈশিষ্ট্যে অংশীদার হওয়াকে বাধা প্রদান করে। আর বিশেষ অর্থসমূহ সাব্যস্ত করা ও বোঝা কেবল তখনই সম্ভব যখন সাধারণ অর্থের মিল সাব্যস্ত করা হবে, কারণ এটিই অর্থের মূল ভিত্তি; আর একে অস্বীকার করা মানে হলো সাধারণ ও বিশেষ উভয় অর্থকেই বাতিল করে দেওয়া। তিনি পবিত্র কুরআন থেকে এর স্বপক্ষে দীর্ঘ দলীল উপস্থাপন করেছেন।
পঞ্চমত — তিনি একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যাতে বিদআতিদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে দুটি মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন, সেগুলো হলো:
১ — গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে বক্তব্য হবে ঠিক সেরূপ যেমনটি হয় কতিপয় গুণের ক্ষেত্রে।
২ — গুণাবলির ক্ষেত্রে বক্তব্য হবে ঠিক সেরূপ যেমনটি হয় সত্তার (জাত) ক্ষেত্রে।
তিনি এই উভয় মূলনীতির প্রত্যেকটির জন্য ব্যাখ্যামূলক উদাহরণ পেশ করেছেন।
ষষ্ঠত — তিনি দুটি উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, স্রষ্টা ও সৃষ্টির গুণাবলির মধ্যে অর্থগত মিল থাকলে তা বৈশিষ্ট্যে সাদৃশ্য হওয়াকে আবশ্যক করে না; সেগুলো হলো: