(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
شرح المنظومة البيقونية في مصطلح الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح المنظومة البيقونية في مصطلح الحديث
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
المحقق: فهد بن ناصر بن إبراهيم السليمان
الناشر: دار الثريا للنشر
الطبعة: الثانية، 1423 هـ - 2003م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 122
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহর ব্যাখ্যা বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান
বই: হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত মানযুমাহ আল-বাইকুনিয়্যাহর ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু: ১৪২১ হিজরি)
সম্পাদক: ফাহাদ বিন নাসির বিন ইব্রাহিম আস-সুলাইমান
প্রকাশক: দারুত থুরাইয়া প্রকাশনী
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২২
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭)
متن المنظومة البيقونيةبسم الله الرحمن الرحيم
1 - أبدأُ بالحمدِ مُصَلِّياً
… على مُحمَّدٍ خَيِر نبيْ أُرسلا
2 - وذِي مِنَ أقسَامِ الحديث عدَّة
… وكُلُّ واحدٍ أتى وحدَّه
3 - أوَّلُها "الصحيحُ" وهوَ ما اتَّصَل
… ْإسنادُهُ ولْم يُشَذّ أو يُعلّ
4 - يَرْويهِ عَدْلٌ ضَابِطٌ عَنْ مِثْلِهِ
… مُعْتَمَدٌ في ضَبْطِهِ ونَقْلهِ
5 - وَ"الَحسَنُ" الَمعْرُوفُ طُرْقاً وغَدَتْ
… رِجَالُهُ لا كالصّحيحِ اشْتَهَرَتْ
6 - وكُلُّ ما عَنْ رُتبةِ الُحسْنِ قَصْر
… فَهْوَ "الضعيفُ" وهوَ أقْسَاماً كُثُرْ
7 - وما أُضيفَ للنبي "الَمرْفوعُ"
… وما لتَابِعٍ هُوَ "المقْطوعُ"
8 - وَ"الُمسْنَدُ" الُمتَّصِلُ الإسنادِ مِنْ
… رَاويهِ حتَّى الُمصْطفى ولْم يَبنْ
9 - ومَا بِسَمْعِ كُلِّ رَاوٍ يَتَّصِل
… ْإسْنَادُهُ للمُصْطَفى فَ"الُمتَّصلْ"
10-"مُسَلْسَلٌ" قُلْ مَا عَلَى وَصْفٍ أتَى
… مِثْلُ أمَا والله أنْبأنِي الفتى
11 - كذَاكَ قَدْ حَدَّثَنِيهِ قائِما
… ًأوْ بَعْدَ أنْ حَدَّثَنِي تَبَسَّمَا
12 - "عَزيزٌ" مَروِيُّ اثنَيِن أوْ ثَلاثهْ
… "مَشْهورٌ" مَرْوِيُّ فَوْقَ ما ثَلاثهْ
13 - "مَعَنْعَنٌ" كَعَن سَعيدٍ عَنْ كَرَمْ
… "وَمُبهَمٌ" مَا فيهِ رَاوٍ لْم يُسَمْ
14 - وكُلُّ مَا قَلَّت رِجَالُهُ "عَلا"
… وضِدُّهُ ذَاكَ الذِي قَدْ "نَزَلا"
15 - ومَا أضَفْتَهُ إلى الأصْحَابِ مِن
… ْقَوْلٍ وفعْلٍ فهْوَ "مَوْقُوفٌ" زُكنْ
16 - "وَمُرْسلٌ" مِنهُ الصَّحَابُّي سَقَطْ
… وقُلْ "غَريبٌ" ما رَوَى رَاوٍ فَقطْ
17 - وكلُّ مَا لْم يَتَّصِلْ بِحَال
… ٍإسْنَادُهُ "مُنْقَطِعُ" الأوْصالِ
18 - "والُمعْضَلُ" السَّاقِطُ مِنْهُ اثْنَان
… ِومَا أتى "مُدَلَّساً" نَوعانِ
19 - الأوَّل الإسْقاطُ للشَّيخِ وأنْ
… يَنْقُلَ مَّمنْ فَوْقَهُ بعنْ وأنْ
20 - والثَّانِ لا يُسْقِطُهُ لكنْ يَصِفْ
… أوْصَافَهُ بما بهِ لا يَنْعرِفْ
21 - ومَا يَخالِفُ ثِقةٌ فيهِ الَملا
… فـ"الشَّاذُّ" و"الَمقْلوبُ" قِسْمَانِ تَلا
22 - إبْدَالُ راوٍ ما بِرَاوٍ قِسْمُ
… وقَلْبُ إسْنَادٍ لمتنٍ قِسمُ
মানযুমাতুল বাইকুনিইয়্যাহর মূল পাঠপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
1 - আমি আল্লাহর প্রশংসা ও সালাত (দরুদ) পাঠ করে শুরু করছি প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর।
2 - এটি হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের একটি সংকলন এবং এর প্রতিটি প্রকার সংজ্ঞা সংবলিত হয়ে উপস্থাপিত হয়েছে।
3 - এর প্রথম প্রকার হলো "সহিহ (صحيح)", যা এমন হাদিস যার সনদ (إسناد) অবিচ্ছিন্ন (متصل) এবং যাতে কোনো বিচ্যুতি (شذوذ) বা ত্রুটি (علة) নেই।
4 - এটি বর্ণনা করবেন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী তাঁর অনুরূপ বর্ণনাকারীর থেকে, যা তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য।
5 - আর "হাসান (حسن)" হলো যার বর্ণনাসূত্রগুলো পরিচিত, তবে এর বর্ণনাকারীরা প্রসিদ্ধির দিক থেকে সহিহ (صحيح) হাদিসের বর্ণনাকারীদের মতো নয়।
6 - আর যা হাসান (حسن) হাদিসের স্তরের চেয়ে নিচে অবস্থান করে, তা-ই হলো "দুর্বল (ضعيف)" এবং এর বহু প্রকার রয়েছে।
7 - যা নবী (সা.)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তা "মারফু (مرفوع)" এবং যা তাবেয়ীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত তা হলো "মাকতু (مقطوع)"।
8 - "মুসনাদ (مسند)" হলো সেই হাদিস যার সনদ (إسناد) বর্ণনাকারী থেকে শুরু করে মুস্তফা (সা.) পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন (متصل) এবং কোথাও বিচ্ছিন্ন হয়নি।
9 - যা প্রত্যেক বর্ণনাকারীর সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে মুস্তফা (সা.) পর্যন্ত পৌঁছে সনদ (إسناد) অবিচ্ছিন্ন (متصل) হয়, তাকে "মুত্তাসিল (متصل)" বলা হয়।
10-"মুসালসাল (مسلسل)" হলো সেই হাদিস যা বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ অবস্থায় উপস্থাপিত হয়; যেমন— "আল্লাহর কসম! সেই যুবকটি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।"
11 - একইভাবে— "তিনি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আমার কাছে বর্ণনা করেছেন" অথবা "বর্ণনা করার পর তিনি মুচকি হেসেছেন"।
12 - দুই বা তিন জন দ্বারা বর্ণিত হাদিস হলো "আজিজ (عزيز)" এবং তিনের অধিক বর্ণনাকারী থাকলে তা "মাশহুর (مشهور)"।
13 - "মুআনআন (معنعن)" হলো যেমন— সাঈদ হতে (عن), কারাম হতে; আর "মুভহাম (مبهم)" হলো যাতে কোনো বর্ণনাকারীর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
14 - যে হাদিসের বর্ণনাকারীর সংখ্যা কম তা হলো "উচ্চমানের (عالي)" এবং এর বিপরীতটি হলো "নিম্নমানের (نازل)"।
15 - আর সাহাবীদের দিকে যা কিছু আপনি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন—চাই তা কথা হোক বা কাজ—তাকে "মাওকুফ (موقوف)" হিসেবে জানুন।
16 - "মুরসাল (مرسل)" হলো তা যা থেকে সাহাবী বাদ পড়েছেন; আর যে হাদিস মাত্র একজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন তাকে "গরিব (غريب)" বলুন।
17 - আর যে হাদিসের সনদ (إسناد) কোনো অবস্থাতেই সংযুক্ত নয়, তা "বিচ্ছিন্ন (منقطع)" হিসেবে পরিগণিত।
18 - "মুদাল (معضل)" হলো যার সনদ থেকে পর পর দুই জন বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন; আর যা "মুদাল্লাস (مدلس)" হিসেবে এসেছে তা দুই প্রকার।
19 - প্রথম প্রকারটি হলো নিজের শাইখকে (উস্তাদকে) বাদ দেওয়া এবং তাঁর ওপরের স্তরের কারো থেকে 'হতে' (عن) বা 'যে' (أن) শব্দ ব্যবহার করে বর্ণনা করা।
20 - দ্বিতীয় প্রকারটি হলো শাইখকে বাদ না দিয়ে তাঁর এমন সব গুণাবলি উল্লেখ করা যার দ্বারা তিনি সুপরিচিত নন।
21 - যখন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী অন্য বর্ণনাকারীদের জামাতের বিরোধিতা করেন, তখন তাকে "শাজ (شاذ)" বলা হয়। আর "মাকলুব (مقلوب)" এর দুটি প্রকার এর অনুগামী হয়েছে।
22 - এক বর্ণনাকারীর স্থলে অন্য বর্ণনাকারীকে পরিবর্তন করা একটি প্রকার এবং কোনো মূল পাঠের (متن) জন্য সনদ (إسناد) পরিবর্তন করে দেওয়া অন্য একটি প্রকার।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
23 - وَ"الفَرَدُ" ما قَيَّدْتَهُ بثِقَةِ
… أوْ جْمعٍ أوْ قَصِر على روايةِ
24 - ومَا بعِلَّةٍ غُمُوضٍ أوْ خَفَا
… "مُعَلَّلٌ" عِنْدَهُمُ قَدْ عُرِفَا
25 - وذُو اخْتِلافِ سنَدٍ أو مَتْنٍ
… "مُضْطربٌ" عِنْدَ أهيْلِ الفَنِّ
26 - وَ"الُمدْرَجاتُ" في الحديثِ ما أتَتْ
… مِنْ بَعْضِ ألفاظِ الرُّوَاةِ اتَّصَلَتْ
27 - ومَا رَوى كلُّ قَرِينٍ عنْ أخهْ
… "مُدَبَّجٌ" فَاعْرِفْهُ حَقًّا وانْتَخهْ
28 - مُتَّفِقٌ لَفْظاً وخطاً "مُتَّفقْ"
… وضِدُّهُ فيما ذَكَرْنَا "الُمفْترقْ"
29 - "مُؤْتَلِفٌ" مُتَّفِقُ الخطِّ فَقَطْ
… وضِدُّهُ "مُختَلِفٌ" فَاخْشَ الغَلَطْ
30 - "والُمنْكَرُ" الفَردُ بهِ رَاوٍ غَدَا
… تَعْدِيلُهُ لا يْحمِلُ التَّفَرُّدَا
31 - "مَتُروكُهُ" مَا وَاحِدٌ بهِ انفَردْ
… وأجَمعُوا لضَعْفِه فَهُوَ كرَدّ
32 - والكذِبُ الُمخْتَلَقُ المصنُوعُ
… علَى النَّبيِّ فذَلِكَ "الموْضوعُ"
33 - وقَدْ أتَتْ كالَجوْهَرِ المكْنُونِ
… سَمَّيْتُهَا: مَنْظُومَةَ البَيْقُوني
34 - فَوْقَ الثَّلاثيَن بأرْبَعٍ أتَت
… ْأقْسامُهَا ثمَّ بخيٍر خُتِمتْ
23 - আর "একক (الفرد)" হলো সেই বর্ণনা যা আপনি কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর সাথে, অথবা কোনো জনসমষ্টির সাথে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনার সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন।
24 - আর যাতে সূক্ষ্ম বা অস্পষ্ট কোনো ত্রুটি বিদ্যমান, তাদের (হাদিস বিশারদদের) নিকট তা "ত্রুটিযুক্ত (معلل)" হিসেবে পরিচিত।
25 - সনদ বা মতনের মধ্যে বৈচিত্র্য বা বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হলে, এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের নিকট তা "অস্থির (مضطرب)" বলে গণ্য।
26 - হাদিসের মধ্যে "অনুপ্রবিষ্ট (المدرجات)" হলো সেই শব্দমালা যা বর্ণনাকারীদের নিজস্ব কিছু শব্দ সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে মিশে গেছে।
27 - যখন সমসাময়িক দুজন বর্ণনাকারী একে অপরের থেকে বর্ণনা করেন, তখন তাকে "মুদাব্বাজ (مدبج)" হিসেবে জানুন এবং এটি যথাযথভাবে অর্জন করুন।
28 - শব্দ ও বানানে যা সম্পূর্ণ একরূপ তাকে "একরূপ (متفق)" বলা হয় এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তার বিপরীত হলো "ভিন্নরূপ (المفترق)"।
29 - "সংগতিপূর্ণ (مؤتلف)" হলো যা কেবল লিখনে একরূপ, আর এর বিপরীত হলো "অসংগতিপূর্ণ (مختلف)"; সুতরাং ভুল করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
30 - "প্রত্যাখ্যাত (المنكر)" হলো সেই একক বর্ণনা যার বর্ণনাকারী এমন স্তরের যে, তার গুণগত মান বা নির্ভরযোগ্যতা (تعديل) একক বর্ণনা বহন করার মতো নয়।
31 - "বর্জিত (متروك)" হলো যা কেবল একজন ব্যক্তিই বর্ণনা করেছেন এবং তার অধিক দুর্বলতার (ضعف) বিষয়ে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, ফলে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।
32 - আর নবী (সা.)-এর নামে যা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে, তাকে "জাল (الموضوع)" বলা হয়।
33 - এই বর্ণনাগুলো সুপ্ত মুক্তার ন্যায় প্রস্ফুটিত হয়েছে, আমি এর নামকরণ করেছি: মানজুমাতে আল-বাইকুনি।
34 - এর প্রকারভেদগুলো চৌত্রিশটি চরণে বিন্যস্ত হয়েছে, অতঃপর কল্যাণের সাথে এটি সমাপ্ত হলো।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً.
أما بعد1:
فهذه
مقدمة في علم مصطلح الحديث:المصطلح: علم يعرف به أحوال الراوي والمروي من حيث القبول والرد.
وفائدة علم المصطلح: هو تنقية الأدلة الحديثية وتخليصها مما يشوبها من: ضعيف وغيره، ليتمكن من الاستدلال بها لأن المستدل بالسنة يحتاج إلى أمرين هما:
1 - ثبوتها عن النبي صلى الله عليه وسلم.
2 - ثبوت دلالتها على الحكم.
فتكون العناية بالسنة النبوية أمراً مهماً، لأنه ينبني عليها أمرٌ مهم وهو ما كلف الله به العباد من عقائد وعبادات وأخلاق وغير ذلك.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর১:
এটি হলো
হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত একটি ভূমিকা:পরিভাষা (المصطلح): এমন একটি বিদ্যা যার মাধ্যমে বর্ণনাকারী (الراوي) এবং বর্ণিত বিষয়ের (المروي) অবস্থা গ্রহণযোগ্যতা (القبول) ও বর্জনযোগ্যতার (الرد) দিক থেকে জানা যায়।
পরিভাষা শাস্ত্রের উপকারিতা হলো: হাদিস ভিত্তিক দলিলসমূহকে পরিচ্ছন্ন করা এবং দুর্বল (ضعيف) ও এ জাতীয় অন্যান্য ত্রুটি থেকে তা মুক্ত করা, যাতে তা দ্বারা দলিল পেশ করা সম্ভব হয়। কারণ, সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল পেশকারীর জন্য দুটি বিষয় জরুরি, আর তা হলো:
1 - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে তা সাব্যস্ত হওয়া।
2 - বিধানের ওপর তার দালিলিক নির্দেশনার সাব্যস্ত হওয়া।
সুন্নাহর প্রতি যত্নশীল হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কেননা এর ওপর একটি মহান বিষয় নির্ভরশীল, আর তা হলো—আকিদা, ইবাদত, আখলাক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর যা অর্পণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১২)
وثبوت السنة إلى النبي صلى الله عليه وسلم يختص بالحديث، لأن القرآن نُقل إلينا نقلاً متواتراً قطعياً، لفظاً ومعنى، ونقله الأصاغر عن الأكابر فلا يحتاج إلى البحث عن ثبوته.
ثم اعلم أن علم الحديث ينقسم إلى قسمين:
1 - علم الحديث رواية.
2 - علم الحديث دراية.
فعلم الحديث رواية يبحث عما ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم من أقواله وأفعاله وأحواله. ويبحث فيما يُنقل لا في النقل.
مثاله: إذا جاءنا حديث عن النبي صلى الله عليه وسلم فإننا نبحث فيه هل هو قول أو فعل أو حال؟
وهل يدل على كذا أو لا يدل؟
فهذا هو علم الحديث رواية، وموضوعه البحث في ذات النبي صلى الله عليه وسلم وما يصدر عن هذه الذات من أقوال وأفعال وأحوال، ومن الأفعال الإقرار، فإنه يعتبر فعلاً، وأما الأحوال فهي صفاته كالطول والقِصَر واللون، والغضب والفرح وما أشبه ذلك.
أما علم الحديث دراية فهو: علم يُبحث فيه عن أحوال الراوي والمروي من حيث القبول والرد.
مثاله: إذا وجدنا راوياً فإنا نبحث هل هذا الراوي مقبول أم مردود؟
أما المروي فإنه يُبحث فيه ما هو المقبول منه وما هو المردود؟
وبهذا نعرف أن قبول الراوي لا يستلزم قبول المروي؛ لأن السند قد يكون رجاله ثقاةً عدولاً، لكن قد يكون المتن شاذًّا أو معللاً فحينئذ لا نقبله. كما أنه أحياناً لا يكون رجال السند يصِلون إلى حد القبول
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সুন্নাহর সাব্যস্ত হওয়া কেবল হাদিসের সাথেই সুনির্দিষ্ট, কারণ কুরআন আমাদের নিকট শব্দ এবং অর্থ উভয় দিক থেকে নিরবচ্ছিন্ন (متواتر) ও অকাট্য (قطعي) বর্ণনার মাধ্যমে পৌঁছেছে; আর তা পরবর্তী প্রজন্ম পূর্ববর্তী প্রজন্মের নিকট থেকে গ্রহণ করেছে, ফলে এর সাব্যস্ত হওয়া নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না।
অতঃপর জেনে রাখুন যে, হাদিস বিজ্ঞান দুই ভাগে বিভক্ত:
1 - বর্ণনাভিত্তিক হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث رواية)।
2 - গবেষণামূলক হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث دراية)।
বর্ণনাভিত্তিক হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث رواية) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর বাণী, কর্ম ও অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে। এটি যা বর্ণিত হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করে, বর্ণনার পদ্ধতি নিয়ে নয়।
এর উদাহরণ হলো: যখন আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস পৌঁছে, তখন আমরা তাতে অনুসন্ধান করি যে এটি কি তাঁর কথা, কাজ নাকি অবস্থা?
এবং এটি কি কোনো বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে নাকি করে না?
এটাই হলো বর্ণনাভিত্তিক হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث رواية), এবং এর আলোচ্য বিষয় হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্তা এবং তাঁর থেকে প্রকাশিত বাণী, কর্ম ও অবস্থা। কর্মের মধ্যে মৌন সম্মতিও (إقرار) অন্তর্ভুক্ত, কেননা এটি কর্ম হিসেবেই গণ্য হয়। আর অবস্থা বলতে তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্যসমূহ যেমন উচ্চতা, খর্বতা, গায়ের রং, এবং তাঁর রাগ, আনন্দ ও এই জাতীয় বিষয়গুলোকে বোঝায়।
আর গবেষণামূলক হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث دراية) হলো: এমন একটি বিদ্যা যার মাধ্যমে বর্ণনাকারী (الراوي) এবং যা বর্ণিত হয়েছে (المروي) তার গ্রহণ (القبول) ও বর্জনের (الرد) অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এর উদাহরণ: যখন আমরা একজন বর্ণনাকারী (راوٍ) পাই, তখন আমরা অনুসন্ধান করি যে এই বর্ণনাকারী কি গ্রহণযোগ্য (مقبول) নাকি প্রত্যাখ্যাত (مردود)?
আর যা বর্ণিত হয়েছে (المروي) সে ক্ষেত্রে গবেষণা করা হয় যে, এর কোনটি গ্রহণযোগ্য (المقبول) এবং কোনটি প্রত্যাখ্যাত (المردود)?
এর মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি যে, বর্ণনাকারীর গ্রহণযোগ্যতা (قبول) মানেই বর্ণিত বিষয়টির গ্রহণযোগ্যতা (قبول) অপরিহার্য নয়; কারণ সনদের (السند) বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও ন্যায়পরায়ণ (عدول) হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় হাদিসের মূল পাঠ বা মতন (المتن) বিচ্ছিন্ন (شاذ) কিংবা ত্রুটিযুক্ত (معلل) হতে পারে, এমতাবস্থায় আমরা তা গ্রহণ করি না। ঠিক তেমনিভাবে কখনও কখনও সনদের (السند) ব্যক্তিগণ গ্রহণের (القبول) স্তরে পৌঁছান না।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والثقة، ولكن الحديث نفسه يكون مقبولاً وذلك لأن له شواهد من الكتاب والسنة، أو قواعد الشريعة تؤيده.
إذن فائدة علم مصطلح الحديث هو: معرفة ما يُقبل وما يردّ من الحديث.
وهذا مهمّ بحد ذاته؛ لأن الأحكام الشرعية مبنية على ثبوت الدليل وعدمه، وصحته وضعفه.
এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে হাদিসটি নিজেই গ্রহণযোগ্য (مقبول) হয়ে থাকে; কারণ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর শাওয়াহিদ (شواهد) বিদ্যমান থাকে অথবা শরীয়তের মূলনীতিসমূহ একে সমর্থন করে।
সুতরাং হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিজ্ঞানের উপকারিতা হলো: হাদিসের মধ্য থেকে কোনটি গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং কোনটি বর্জনীয় (مردود) তা নিরূপণ করা।
আর এটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ শরয়ী বিধানসমূহ দলিলের সাব্যস্ত হওয়া (ثبوت) বা না হওয়া এবং তার বিশুদ্ধতা (صحة) ও দুর্বলতার (ضعف) ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
شرح المنظومة البيقونية
شرح البسملة…قال المؤلف رحمه الله:
"بسم الله الرحمن الرحيم"
البسملة آية من كتاب الله عز وجل، فهي من كلام الله تعالى، يُبتدأ بها في كل سورة من سور القرآن الكريم؛ إلا سورة "براءة" فإنها لا تُبدأ بالبسملة، اتباعاً للصحابة رضوان الله عليهم، ولو أن البسملة كانت قد نزلت في أول هذه السورة لكانت محفوظة كما حفظت في باقي السور، ولكنها لم تنزل على النبي صلى الله عليه وسلم، ولكن الصحابة أشكل عليهم، هل سورة "براءة" من الآنفال أم أنها سورة مستقلة؟ فوضعوا فاصلاً بينهما دون البسملة.
والبسملة فيها جار ومجرور، ومضاف إليه، وصفة.
فالجار والمجرور هو "بسم".
والمضاف إليه هو لفظ الجلالة "الله".
والصفة هي "الرحمن الرحيم".
وكل جارّ ومجرور لابد له من التعلق إما بفعل كقام، أو معناه كاسم الفاعل، أو اسم المفعول مثلاً.
فالبسملة متعلقة بمحذوف فما هو هذا المحذوف؟
اختلف النحويون في تقدير هذا المحذوف، لكن أحسن ما قيل فيه وهو الصحيح: أن المحذوف فعلٌ متأخرٌ مناسب للمقام.
مثاله: إذا قال رجل بسم الله، وهو يريد أن يقرأ النظم فإن التقدير يكون: بسم الله اقرأ، وإذا كان الناظم هو الذي قال: بسم الله فإن التقدير يكون: بسم الله أنظم.
ولماذا قدّرناه فعلاً ولم نقدّره اسم فاعلٍ مثلاً؟
মানজুমা আল-বাইকুনিইয়াহ-এর ব্যাখ্যা
বিসমিল্লাহ-এর ব্যাখ্যা…লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেন:
"পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে"
বিসমিল্লাহ মহান আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত, সুতরাং এটি মহান আল্লাহর বাণী। পবিত্র কুরআনের প্রতিটি সূরার শুরুতে এটি পাঠ করা হয়; কেবল সূরা "বারাআত" ব্যতীত, কারণ তা বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয় না। এটি সাহাবায়ে কিরাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-দের অনুসরণের কারণে। যদি এই সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ নাযিল হতো, তবে অন্যান্য সূরার মতোই এটি সংরক্ষিত থাকত। কিন্তু এটি নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর ওপর নাযিল হয়নি। তবে সাহাবায়ে কিরামের নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল যে, সূরা "বারাআত" কি আল-আনফাল সূরার অংশ নাকি এটি একটি স্বতন্ত্র সূরা? তাই তাঁরা বিসমিল্লাহ ছাড়াই দুইয়ের মাঝে একটি ব্যবধান রেখেছিলেন।
বিসমিল্লাহ-তে জার ও মাজরুর, মুদাফ ইলাইহি এবং সিফাত রয়েছে।
জার ও মাজরুর হলো "বিসম"।
মুদাফ ইলাইহি হলো মহান আল্লাহর নাম "আল্লাহ"।
সিফাত হলো "আর-রাহমান আর-রাহিম"।
প্রত্যেক জার ও মাজরুর-এর জন্য কোনো একটি ক্রিয়া (যেমন: দাঁড়িয়েছে), অথবা ক্রিয়ার অর্থ প্রদানকারী শব্দ যেমন ইসম ফায়িল কিংবা ইসম মাফউল-এর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা আবশ্যক।
সুতরাং বিসমিল্লাহ একটি উহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট; তাহলে সেই উহ্য বিষয়টি কী?
ব্যাকরণবিদগণ এই উহ্য বিষয়টি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন, তবে এ বিষয়ে সবচেয়ে উত্তম এবং যা সঠিক (صحيح) তা হলো: উহ্য বিষয়টি একটি পরবর্তী ক্রিয়া যা প্রাসঙ্গিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনো ব্যক্তি 'বিসমিল্লাহ' বলে এবং সে পদ্য পাঠ করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে উহ্য বাক্যটি হবে: 'বিসমিল্লাহ (বলে) আমি পাঠ করছি'। আর যদি রচয়িতা নিজে 'বিসমিল্লাহ' বলেন, তবে উহ্য বাক্যটি হবে: 'বিসমিল্লাহ (বলে) আমি রচনা করছি'।
কেন আমরা একে ক্রিয়া হিসেবে ধরে নিয়েছি এবং কেন একে ইসম ফায়িল হিসেবে ধরিনি?
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
نقول: قدّرناه فعلاً، لأن الأصل في العمل الأفعال، ولهذا يعمل الفعل بدون شرط، وما سواه من العوامل الاسمية فإنها تحتاج إلى شرط.
ولماذا قدرناه متأخراً؟
نقول قدّرناه متأخراً لوجهين:
1 - التيمُّن بالبداءة باسم الله تعالى؛ ليكون اسم الله تعالى هو المقدّم، وحق له أن يُقدّم.
2 - لإفادة الحصر؛ وذلك لأن تأخير العامل يفيد الحصر، فإن تقديم ما حقه التأخير يفيد الحصر. فإذا قلت: بسم الله اقرأ، تعيَّن أنك تقرأ باسم الله لا باسم غيره.
ونحن قدرناه مناسباً للمقام لأنه أدل على المقصود، ولأنه لا يخطر في ذهن المبسمل إلا هذا التقدير.
مثاله: لو أنك سألت الرجل الذي قال عند الوضوء بسم الله عن التقدير في قوله: بسم الله، لقال: بسم الله أتوضأ.
ولو قال قائل: أنا أُريد أن أُقدّر المتعلق بسم الله أبتدئ.
فإننا نقول: لا بأس بذلك، لكن أبتدئ: فعل عام يشمل ابتداءك بالأكل والوضوء والنظم، وكما قلنا فإن هذا التقدير لا يتبادر إلى ذهن المبسمل.
أما اسم فيقولون: إنه مشتق من السمو، وهو العلو.
وقيل: من السمة وهي العلامة.
والاسم مهما كان اشتقاقه فإنه يُراد به هنا كل اسم من أسماء الله الحسنى، أي أنه لا يُراد به اسم واحد بعينه مع أنه مفرد؛ لأن القاعدة: أن المفرد المضاف يفيد العموم، فبذلك يلزم من قولنا: بسم الله، أن
আমরা বলি: আমরা একে একটি ক্রিয়া (فعل) হিসেবে অনুমান করেছি, কারণ আমলের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো ক্রিয়াসমূহ। এই কারণেই ক্রিয়া কোনো শর্ত ছাড়াই আমল করে, কিন্তু এটি ব্যতীত অন্যান্য বিশেষ্যমূলক আমলকারী (عوامل اسمية) বিষয়গুলো শর্তের মুখাপেক্ষী হয়।
আর কেন আমরা একে শেষে অনুমান করেছি?
আমরা বলি, দুটি কারণে আমরা একে শেষে অনুমান করেছি:
1 - মহান আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু করার মাধ্যমে বরকত লাভ করা; যাতে মহান আল্লাহর নামই অগ্রগণ্য থাকে, আর এটিই তাঁর প্রাপ্য যে তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
2 - সীমাবদ্ধতা (حصر) বোঝানোর জন্য; কারণ আমলকারী (عامل)-কে শেষে আনা সীমাবদ্ধতার অর্থ প্রদান করে। কেননা যে বিষয়ের স্থান শেষে, তাকে আগে নিয়ে আসা সীমাবদ্ধতার (حصر) অর্থ প্রকাশ করে। সুতরাং আপনি যখন বলেন: 'আল্লাহর নামে আমি পড়ছি', তখন এটি নির্দিষ্ট হয়ে যায় যে আপনি কেবল আল্লাহর নামেই পড়ছেন, অন্য কারো নামে নয়।
আর আমরা একে প্রেক্ষাপটের সাথে মানানসই হিসেবে অনুমান করেছি, কারণ এটিই উদ্দিষ্ট অর্থের অধিকতর নির্দেশক এবং বিসমিল্লাহ পাঠকারীর মনে এই অনুমান (تقدير) ছাড়া অন্য কিছু জাগ্রত হয় না।
উদাহরণস্বরূপ: ওজুর সময় যে ব্যক্তি 'বিসমিল্লাহ' বলেছে, তাকে যদি আপনি তার এই কথার অনুমিত (تقدير) অংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, তবে সে বলবে: 'আল্লাহর নামে আমি ওজু করছি'।
আর যদি কেউ বলে: আমি 'বিসমিল্লাহ' এর সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق) বিষয়টি 'আমি শুরু করছি' হিসেবে অনুমান করতে চাই।
তবে আমরা বলব: এতে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু 'আমি শুরু করছি' একটি সাধারণ ক্রিয়া (فعل عام), যা আপনার খাওয়া, ওজু করা বা রচনার শুরুকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর আমরা যেমনটি বলেছি, এই অনুমানটি বিসমিল্লাহ পাঠকারীর মনে তৎক্ষণাৎ আসে না।
আর 'ইসম' (নাম) শব্দটির ব্যাপারে তাঁরা বলেন: এটি 'সুমু' (السمو) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ উচ্চতা।
وقيل: এটি 'সিমা' (السمة) থেকে এসেছে, যার অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
আর 'নাম' (ইসম) শব্দটির ব্যুৎপত্তি যা-ই হোক না কেন, এখানে তা দ্বারা মহান আল্লাহর প্রতিটি সুন্দর নামকেই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ এটি একবচন (مفرد) হওয়া সত্ত্বেও এখানে সুনির্দিষ্ট একটি নাম বোঝানো হয়নি; কারণ নিয়ম হলো: সম্বন্ধযুক্ত একবচন (المفرد المضاف) ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করে। ফলে আমাদের 'বিসমিল্লাহ' বলার দ্বারা এটিই সাব্যস্ত হয় যে...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يكون المعنى: بكل اسم من أسماء الله الحسنى. ولهذا تجد القائل: بسم الله، لا يخطر بباله اسم معين كالرحمن والرحيم والغفور والودود والشكور ونحوها، بل هو يريد العموم ويدل على ذلك، أي على أن المفرد المضاف للعموم قوله تعالى: {وَإِن تَعُدُّواْ نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ الإنسان لَظَلُومٌ كَفَّارٌ} [إبراهيم: 34] . ولو كان المراد نعمة واحدة لما قال: {لَا تُحْصُوهَا} . إذاً فالمعنى ابتدئ بكل اسم من أسماء الله عز وجل.
والباء في قوله: بسم الله أهي للاستعانة أم للمصاحبة؟
هناك من قال: إنها للاستعانة.
ومنهم من قال: إنها للمصاحبة.
وممن قال إنها للمصاحبة؛ الزمخشري صاحب الشكاف وهو معتزلي من المعتزلة، وكتابه الكشاف فيه اعتزاليات كثيرة قد لا يستطيع أن يعرفها كل إنسان، حتى قال البلقيني: أخرجت من الكشاف اعتزاليات بالمناقيش. وهذا يدل على أنها خفية.
والزمخشري رجَّح أن الباء للمصاحبة، مع أن الظاهر أنها للاستعانة! لكنه رجّح المصاحبة؛ لأن المعتزلة يرون أن الإنسان مستقلٌّ بعمله فإذا كان مستقلاً بعمله فإنه لا يحتاج للاستعانة.
لكن لا شك أن المراد بالباء هو: الاستعانة التي تصاحب كل الفعل، فهي في الأصل للاستعانة وهي مصاحبة للإنسان من أول الفعل إلى آخره، وقد تفيد معنى آخراً وهو التبرك إذا لم نحمل التبرك على الاستعانة، ونقول كل مستعين بشيء فإنه متبرك به.
الله: لفظ الجلالة علمٌ على الذات العلية لا يسمى به غيره، وهو مشتق من الألوهية، وأصله إله لكن حذفت الهمزة، وعُوض عنها ب-"أل" فصارت "الله".
এর অর্থ হবে: আল্লাহর সকল সুন্দর নামের মাধ্যমে। একারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে, 'বিসমিল্লাহ' পাঠকারী ব্যক্তির মনে কোনো নির্দিষ্ট নামের উদ্রেক হয় না—যেমন আর-রাহমান, আর-রাহিম, আল-গাফুর, আল-ওয়াদুদ, আশ-শাকুর ইত্যাদি; বরং তিনি ব্যাপকতা বুঝাতে চান। একবচন শব্দ যখন কোনো কিছুর সাথে যুক্ত (المفرد المضاف) হয় তখন তা ব্যাপক অর্থ (العموم) প্রদান করে—এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: "যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামত গণনা করো তবে তা শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই মানুষ অত্যন্ত জালেম ও অকৃতজ্ঞ" [ইব্রাহিম: ৩৪]। যদি এখানে কেবল একটি নিয়ামত উদ্দেশ্য হতো তবে আল্লাহ বলতেন না "তা শেষ করতে পারবে না"। সুতরাং অর্থ হলো: আমি মহান আল্লাহর সকল নামের মাধ্যমে শুরু করছি।
আর 'বিসমিল্লাহ' বাক্যাংশের 'বা' অক্ষরটি কি সাহায্য প্রার্থনার (للاستعانة) জন্য নাকি সাথে থাকার (للمصاحبة) জন্য?
কেউ কেউ বলেছেন: এটি সাহায্য প্রার্থনার (للاستعانة) জন্য।
আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি সাথে থাকার (للمصاحبة) জন্য।
যারা একে সাথে থাকার (للمصاحبة) জন্য বলেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল-কাশশাফ এর রচয়িতা আল-জামাখশারি। তিনি মুতাজিলা (المعتزلة) মতবাদের একজন অনুসারী ছিলেন। তাঁর গ্রন্থ আল-কাশশাফ-এ প্রচুর মুতাজিলা মতবাদ রয়েছে যা হয়তো সাধারণ মানুষের পক্ষে চেনা সম্ভব নয়। এমনকি আল-বুলকিনি বলেছেন: "আমি অত্যন্ত সূক্ষ্ম চিমটার ন্যায় প্রচেষ্টায় আল-কাশশাফ থেকে মুতাজিলা মতবাদগুলো বের করেছি।" এটি নির্দেশ করে যে ওই মতবাদগুলো অত্যন্ত সুপ্ত ও অস্পষ্ট ছিল।
আল-জামাখশারি 'বা' অক্ষরটিকে সাথে থাকার (للمصاحبة) অর্থের জন্য প্রাধান্য দিয়েছেন, যদিও বাহ্যিকভাবে এটি সাহায্য প্রার্থনার (للاستعانة) জন্যই প্রতীয়মান হয়! কিন্তু তিনি একে সাথে থাকার অর্থে প্রাধান্য দিয়েছেন; কারণ মুতাজিলারা (المعتزلة) মনে করে মানুষ তার কর্মের ক্ষেত্রে স্বাধীন। আর যদি সে নিজ কর্মে স্বাধীন হয় তবে তার সাহায্য প্রার্থনার (الاستعانة) প্রয়োজন পড়ে না।
কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, 'বা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এমন সাহায্য প্রার্থনা (الاستعانة) যা সকল কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকে। সুতরাং এটি মূলত সাহায্য প্রার্থনার (للاستعانة) জন্য এবং কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষের সাথে থাকে। এছাড়া এটি অন্য একটি অর্থও প্রদান করতে পারে যা হলো বরকত লাভ (التبرك), যদি আমরা বরকত লাভকে সাহায্য প্রার্থনার (الاستعانة) সাথে অন্তর্ভুক্ত না করি। আমরা বলতে পারি: যে ব্যক্তি কোনো কিছুর মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা (مستعين) করে, সে তার মাধ্যমে বরকতও লাভ করে।
আল্লাহ: এই মহান নামটি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট নাম (علم), যা অন্য কারও জন্য রাখা হয় না। এটি উলুহিয়্যাহ (الألوهية) থেকে উদ্ভূত। এর মূল শব্দ হলো ইলাহ (إله), তবে এখান থেকে হামযাহ বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে 'আলিফ-লাম' যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে তা 'আল্লাহ' শব্দে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقيل: أصله الإله وأنَّ "أل" موجودة في بنائه من الأصل وحُذفت الهمزة للتخفيف، كما حذفت من الناس وأصلها " الآناس" وكما حُذفت الهمزة من "خير وشر" وأصلها أخير وأشر.
ومعنى الله: مأخوذة من الألوهية وهي التعبد بحب وتعظيم، يقال: ألهَ إليه أي: اشتاق إليه، وأحبه، وأناب إليه، وعظمه.
فهي مشتقة من الألوهية، وهي المحبة والتعظيم.
وعليه فيكون إله بمعنى مألوه، أي: معبود.
وهل فِعَال تأتي بمعنى مفعول؟
نقول: نعم؛ مثل فراش بمعنى مفروش، وبناء بمعنى مبنوء. وغراس بمعنى مغروس.
وأما الرحمن: فهو نعت للفظ الجلالة، وهو أيضاً اسم من أسماء الله تعالى يدل على الرحمة، وجميع الذين حدوا الرحمة حدوها بآثارها فمثلاً: أنا أرحم الصغير فما هو معنى أرحم هل هو العظف أو هو الرفق به.
الجواب: لا؛ لأن العطف من آثار الرحمة، وكذلك الرفق به من آثار الرحمة.
فالرحمة هي الرحمة! فلا تستطيع أن تعرِّفها أو تحددها بأوضح من لفظها.
فنقول إن الرحمة معلومة المعنى، ومجهولة الكيفية بالنسبة لله عز وجل، ولكنها معلومة الاثار، فالرحمن اسم من أسماء الله تعالى يدل على صفة الرحمة.
وأما الرحيم: فهو اسم متضمن للرحمة.
وهل الرحيم بمعنى الرحمن، أم أنه يختلف؟
বলা হয়ে থাকে যে, এর মূল হলো 'ইলাহ' (الإله) এবং এর শব্দগঠনে 'আল' (أل) শুরু থেকেই বিদ্যমান ছিল, তবে উচ্চারণের সহজকরণের লক্ষ্যে 'হামযাহ' (الهمزة) বিলুপ্ত করা হয়েছে; যেমনটি 'নাস' (الناس) শব্দ থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছে যার মূল ছিল 'আনাস' (الآناس), এবং যেমনটি 'খাইর' (خير) ও 'শার' (شر) শব্দদ্বয় থেকে 'হামযাহ' বিলুপ্ত করা হয়েছে যার মূল ছিল 'আখইয়ার' (أخير) ও 'আশার' (أشر)।
আর 'আল্লাহ' শব্দের অর্থ: এটি 'উলুহিয়্যাহ' (الألوهية) থেকে গৃহীত, যার অর্থ ভালোবাসা ও মহত্বের সাথে ইবাদত করা। বলা হয়ে থাকে: 'আলাহা ইলাইহি' (ألهَ إليه) অর্থাৎ: তার প্রতি ব্যাকুল হওয়া, তাকে ভালোবাসা, তার অভিমুখী হওয়া এবং তাকে সম্মান করা।
সুতরাং এটি 'উলুহিয়্যাহ' (الألوهية) থেকে ব্যুৎপন্ন, যার অর্থ হলো ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন।
সেই অনুযায়ী 'ইলাহ' (إله) শব্দটি 'মালুহ' (مألوه) তথা 'মা'বুদ' (معبود) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
আর 'ফি'আল' (فِعَال) ওজন কি 'মাফ'উল' (مفعول) অর্থে ব্যবহৃত হয়?
আমরা বলব: হ্যাঁ; যেমন 'ফিরাশ' (فراش) শব্দটি 'মাফরুশ' (مفروش) অর্থে, 'বিনা' (بناء) শব্দটি 'মাবনু' (مبنوء) অর্থে এবং 'গিলাস' (غراس) শব্দটি 'মাগরুস' (مغروس) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
আর 'আর-রাহমান' সম্পর্কে কথা হলো: এটি লফযুল জালালার একটি গুণবাচক শব্দ (نعت), এবং এটি আল্লাহ তা'আলার নামসমূহেরও অন্তর্ভুক্ত যা দয়া বা 'রাহমত' (الرحمة) এর ওপর দালালত করে। যারা দয়ার সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তারা মূলত এর প্রভাব বা ফলাফলের মাধ্যমেই তা নিরূপণ করেছেন। যেমন: আমি ছোটদের প্রতি দয়া করি; এখানে 'দয়া করা'র অর্থ কী? এটি কি মমতা নাকি তার প্রতি কোমলতা প্রদর্শন?
উত্তর হলো: না; কারণ মমতা হলো দয়ার একটি প্রভাব মাত্র, অনুরূপভাবে তার প্রতি কোমল আচরণ করাও দয়ার একটি প্রভাব।
মূলত দয়া হলো দয়াই! আপনি এই শব্দটির মূল রূপের চেয়ে অধিক স্পষ্ট কোনো শব্দ দিয়ে এর সংজ্ঞা প্রদান বা একে সীমাবদ্ধ করতে সক্ষম হবেন না।
অতএব আমরা বলি যে, দয়ার অর্থ সুস্পষ্ট হলেও মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এর প্রকৃতি অজ্ঞাত (مجهولة الكيفية), তবে এর প্রভাবসমূহ সবার জানা। সুতরাং 'আর-রাহমান' আল্লাহ তা'আলার এমন একটি নাম যা দয়ার গুণের (صفة الرحمة) ওপর দালালত করে।
আর 'আর-রাহীম' হলো এমন একটি নাম যা দয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এখন প্রশ্ন হলো, 'আর-রাহীম' কি 'আর-রাহমান' এর অর্থেই ব্যবহৃত হয়, নাকি এর মাঝে কোনো ভিন্নতা রয়েছে?
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال بعض العلماء: إنه بمعنى الرحمن، وعلى هذا فيكون مؤكداً لا كلاماً مستقلاً، ولكن بعض العلماء قال: إن المعنى يختلف؛ ولا يمكن أن نقول إنه بمعنى الرحمن لوجهين:
1 - أن الأصل في الكلام التأسيس لا التوكيد، يعني أنه إذا قال لنا شخص إن هذه الكلمة مؤكدة لما قبلها، فإننا نقول له إن الأصل أنها كلمة مستقلة، تفيد معنى غير الأول، وذلك لأن الأصل في التوكيد الزيادة، والأصل في الكلام عدم الزيادة.
2 - اختلاف بناية الكلمة الأولى، وهي الرحمن على وزن فعلان، والرحيم على وزن فعيل، والقاعدة في اللغة العربية: أن اختلاف المبنى يدلُّ على اختلاف المعنى.
إذاً لابد أنه مختلف، فما وجه الخلاف؟
قال بعض العلماء: إن الرحمن يدل على الرحمة العامة، والرحيم يدل على الرحمة الخاصة، لأن رحمة الله تعالى نوعان:
1 - رحمة عامة؛ وهي لجميع الخلق.
2 - رحمة خاصة؛ وهي للمؤمنين كما قال تعالى: {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيماً} [الأحزاب: 43] .
وبعضهم قال: الرحمن يدل على الصفة، والرحيم يدل على الفعل، فمعنى الرحمن يعني ذو الرحمة الواسعة، والمراد بالرحيم إيصال الرحمة إلى المرحوم، فيكون الرحمن ملاحظاً فيه الوصف، والرحيم ملاحظاً فيه الفعل.
والقول الأقرب عندي هو: القول الثاني وهو أن الرحمن يدل على الصفة، والرحيم يدل على الفعل.
কিছু আলেম বলেছেন: এটি ‘আর-রাহমান’-এর অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, আর এই হিসেবে এটি তাকিদ বা গুরুত্বারোপকারী হবে, স্বতন্ত্র কোনো বক্তব্য নয়। তবে কোনো কোনো আলেম বলেছেন: এর অর্থ ভিন্ন; আর দুটি কারণে আমরা বলতে পারি না যে এটি ‘আর-রাহমান’-এর সমার্থক:
1 - বাক্যের মূল নীতি হলো নতুন অর্থ প্রদান করা, তাকিদ বা পুনরুক্তি নয়। অর্থাৎ, কেউ যদি আমাদের বলে যে এই শব্দটি পূর্ববর্তী শব্দের তাকিদ, তবে আমরা তাকে বলব যে মূল নীতি হলো এটি একটি স্বতন্ত্র শব্দ যা পূর্বের শব্দ থেকে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। এর কারণ হলো তাকিদ বা পুনরুক্তির প্রকৃতি হলো অতিরিক্ত হওয়া, আর বাক্যের মূল প্রকৃতি হলো অতিরিক্ত না হওয়া।
2 - প্রথম শব্দের রূপতাত্ত্বিক গঠনের ভিন্নতা; ‘আর-রাহমান’ শব্দটি ‘ফালান’ ছন্দের ওপর গঠিত, আর ‘আর-রাহিম’ শব্দটি ‘ফাইল’ ছন্দের ওপর গঠিত। আরবি ভাষার ব্যাকরণগত নিয়ম হলো: শব্দের রূপগত ভিন্নতা অর্থের ভিন্নতা নির্দেশ করে।
সুতরাং, এটি অবশ্যই ভিন্ন অর্থবোধক হবে। তাহলে পার্থক্যের দিকটি কী?
কিছু আলেম বলেছেন: ‘আর-রাহমান’ ব্যাপক রহমত নির্দেশ করে এবং ‘আর-রাহিম’ বিশেষ রহমত নির্দেশ করে। কারণ মহান আল্লাহর রহমত দুই প্রকার:
1 - সাধারণ রহমত; যা সমস্ত সৃষ্টির জন্য প্রযোজ্য।
2 - বিশেষ রহমত; যা কেবল মুমিনদের জন্য, যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু} [আল-আহযাব: ৪৩]।
আবার কেউ কেউ বলেছেন: ‘আর-রাহমান’ গুণ নির্দেশ করে এবং ‘আর-রাহিম’ কাজ নির্দেশ করে। সুতরাং ‘আর-রাহমান’-এর অর্থ হলো প্রশস্ত রহমতের অধিকারী, আর ‘আর-রাহিম’ বলতে উদ্দেশ্য হলো রহমতপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট রহমত পৌঁছে দেওয়া। ফলে ‘আর-রাহমান’ শব্দে গুণটি বিবেচনা করা হয় এবং ‘আর-রাহিম’ শব্দে কাজটি বিবেচনা করা হয়।
আমার নিকট অধিকতর সঠিক মত হলো দ্বিতীয়টি; আর তা হলো—‘আর-রাহমান’ গুণ নির্দেশ করে এবং ‘আর-রাহিম’ কাজ নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২২)
معنى الحمد والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم…قال المؤلف رحمه الله:
1 - أبدأُ بالحمدِ مُصَلِّياً على
… محمدٍ خَيِر نبي أُرسلا
قوله: أبدأ بالحمد: يوحي بأنه لم يذكر البسملة، فإنه لو بدأ بالبسملة؛ لكانت البسملة هي الأولى، ولذلك يشك الإنسان هل بدأ المؤلف بالبسملة أم لا؟ لكن الشارح ذكر أن المؤلف بدأ النظم بالبسملة، وبناء على هذا تكون البداءة هنا نسبية أي: بالنسبة للدخول في موضوع الكتاب أو صلب الكتاب.
وقوله بالحمد مصلياً: نصَبَ مصلياً على أنه حال من الضمير في أبدأ، والتقدير حال كوني مصلياً.
ومعنى الحمد كما قال العلماء: هو وصف المحمود بالكمال محبة وتعظيماً، فإن وصفَهُ بالكمال لا محبة ولا تعظيماً، ولكن خوفاً ورهبة سُمي ذلك مدحاً لا حمداً، فالحمد لابد أن يكون مقروناً بمحبة المحمود وتعظيمه.
وقول المؤلف بالحمد: لم يذكر المحمود، ولكنه معلومٌ بقرينة الحال، لأن المؤلف مسلمٌ؛ فالحمد يقصد به حمد الله سبحانه وتعالى.
ومعنى الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم هو: طلب الثناء عليه من الله تعالى، وهذا ما إذا وقعت الصلاة من البشر، أما إذا وقعت من الله تعالى فمعناها ثناء الله تعالى عليه في الملأ الأعلى، وهذا هو قول أبي العالية، وأما من قال إن الصلاة من الله تعالى تعني الرحمة، فإن هذا القول ضعيفٌ، يضعّفُه قوله تعالى: {أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَتٌ مِّن رَّبْهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَ-ئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ} [البقرة: 157] . ولو كانت الصلاة بمعنى الرحمة، لكان معنى الاية أي: أولئك عليهم رحماتٌ من ربهم ورحمة، وهذا لا يستقيم! والأصل في
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর হামদ ও সালাতের অর্থ…লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
১ - আমি আল্লাহর প্রশংসা এবং সালাত পেশ করার মাধ্যমে শুরু করছি... প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর।
তাঁর উক্তি: "আমি প্রশংসা দ্বারা শুরু করছি": এটি ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি বাসমালাহ্ (বিসমিল্লাহ) উল্লেখ করেননি। কেননা তিনি যদি বাসমালাহ্ দ্বারা শুরু করতেন, তবে বাসমালাহ্-ই হতো প্রথম। এই কারণে মানুষ সংশয়ে পড়ে যে, লেখক বাসমালাহ্ দ্বারা শুরু করেছেন কি না? তবে ব্যাখ্যাকার উল্লেখ করেছেন যে, লেখক এই কবিতাটি বাসমালাহ্ দিয়েই শুরু করেছেন। এর ভিত্তিতে, এখানে "শুরু করা" বিষয়টি আপেক্ষিক; অর্থাৎ গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু বা মূল পাঠে প্রবেশের ক্ষেত্রে এটিই শুরু।
এবং তাঁর উক্তি "প্রশংসার সাথে সালাত পেশ করে": এখানে 'মুসাল্লিয়ান' (সালাত পেশকারী অবস্থায়) শব্দটি 'হাল' হিসেবে মানসুব হয়েছে, যা 'আবদাউ' (আমি শুরু করছি) ক্রিয়ার সর্বনাম থেকে এসেছে। এর মর্মার্থ হলো: আমি সালাত পাঠরত অবস্থায় শুরু করছি।
আলেমগণের মতে হামদ (প্রশংসা)-এর অর্থ হলো: ভালোবাসা ও সম্মানপ্রদর্শনের সাথে প্রশংসিত সত্তাকে পূর্ণগুণে গুণান্বিত করা। যদি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন ছাড়াই কেবল ভয় ও আতঙ্কের কারণে তাকে পূর্ণগুণে গুণান্বিত করা হয়, তবে তাকে 'মাদহ' বলা হয়, 'হামদ' নয়। সুতরাং হামদ অবশ্যই প্রশংসিত সত্তার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে।
লেখকের উক্তি "প্রশংসার দ্বারা": এখানে তিনি কার প্রশংসা করছেন তা উল্লেখ করেননি, তবে পরিস্থিতির নিরিখে তা সুস্পষ্ট। কারণ লেখক একজন মুসলিম; তাই হামদ বা প্রশংসা দ্বারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রশংসাই উদ্দেশ্য।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর সালাত পাঠের অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর প্রশংসা কামনা করা। এটি তখনই হয় যখন সালাত মানুষের পক্ষ থেকে নিবেদিত হয়। আর যদি তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয়, তবে এর অর্থ হলো ফেরেশতাদের উচ্চ পরিষদে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর প্রশংসা করা। এটিই আবু আল-আলিয়াহ্-এর অভিমত। আর যারা বলেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাতের অর্থ হলো রহমত, তাদের এই অভিমতটি দুর্বল (ضعيف)। এর দুর্বলতাকে প্রমাণ করে আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে সালাত ও রহমত বর্ষিত হয় এবং তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত} [সূরা আল-বাকারা: ১৫৭]। যদি সালাত শব্দের অর্থ রহমতই হতো, তবে আয়াতের অর্থ দাঁড়াতো: "তাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে রহমতসমূহ ও রহমত বর্ষিত হয়।" এটি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আর মূল নীতি হলো...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الكلام التأسيس؛ فإذا قلنا إن المعنى أي: رحمات من ربهم ورحمة، صار عطف مماثل على مماثل.
فالصحيح هو: القول الأول وهو أن صلاة الله على عبده ثناؤه عليه في الملأ الأعلى.
وقوله محمد خير نبي أُرسلا: محمد: هو اسمٌ من أسماء النبي صلى الله عليه وسلم، وقد ذكر الله تعالى اسمين من أسماء النبي صلى الله عليه وسلم في القرآن الكريم وهما:
أحمد.
ومحمد.
أما أحمد: فقد ذكره نقلاً عن عيسى عليه الصلاة والسلام، وقد اختار عيسى ذلك؛ إما لأنه لم يُوح إليه إلا بذلك، وإما لأنه يدل على التفضيل، فإن أحمد اسم تفضيل في الأصل، كما تقول: فلان أحمد الناس، فخاطب بني إسرائيل ليبين كمالَهُ.
أما محمد فهو اسم مفعول من حمده، ولكن الأقرب أن الله تعالى أوحى إليه بذلك لسببين هما:
1 - لكي يبين لبني إسرائيل أن النبي صلى الله عليه وسلم هو أحمدُ الناس وأفضلهم.
2 - لكي يبتلي بني إسرائيل ويمتحنهم، وذلك لأن النصارى قالوا: إن الذي بشرنا به عيسى هو أحمد، والذي جاء للعرب هو محمد، وأحمد غير محمد، فإن أحمد لم يأتِ بعدُ، وهؤلاء قال الله فيهم: {فَأَمَّا الَّذِينَ فى قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَبَهَ مِنْهُ} . [آل عمران: 7] .
ولكن نقول لهم: إن قولكم أنه لم يأتِ بعدُ؛ كذب لأن الله تعالى قال في نفس الاية {فَلَمَّا جَاءَهُم بِالْبَيِّنَ-تِ قَالُواْ هَ-ذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ} . [الصف: 6] .
বক্তব্যটি মৌলিক (تأسيس); সুতরাং আমরা যদি বলি যে এর অর্থ হলো: তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে করুণাসমূহ এবং রহমত, তবে তা সদৃশ বিষয়ের ওপর সদৃশ বিষয়ের সংযোজন হয়ে দাঁড়াবে।
সুতরাং বিশুদ্ধ (صحيح) মতটি হলো: প্রথম বক্তব্যটি, আর তা হলো—আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার ওপর সালাত (দরুদ) পাঠ করা মানে হলো ঊর্ধ্বজগতে (ফেরেশতাদের উচ্চ পরিষদে) তাঁর প্রশংসা করা।
আর তাঁর উক্তি "মুহাম্মদ প্রেরিত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ": মুহাম্মদ—এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামসমূহের অন্যতম। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামসমূহের মধ্য থেকে দুটি নাম উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো:
আহমাদ।
এবং মুহাম্মদ।
আহমাদের ব্যাপারে কথা হলো: তিনি এটি ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। আর ঈসা (আ.) এটি চয়ন করেছেন; হয়তো এ কারণে যে, তাঁর প্রতি কেবল এটিই ওহি করা হয়েছিল, অথবা এটি শ্রেষ্ঠত্বের অর্থ নির্দেশ করে। কেননা মূলত ‘আহমাদ’ শব্দটি আধিক্যবোধক নাম, যেমন আপনি বলে থাকেন: ‘অমুক ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রশংসাকারী’। ফলে তিনি বনী ইসরাঈলকে সম্বোধন করেছেন তাঁর পূর্ণতা প্রকাশ করার জন্য।
আর মুহাম্মদের বিষয়টি হলো, এটি ‘হামদ’ (প্রশংসা) ধাতু থেকে উদ্ভূত কর্মবাচক বিশেষ্য। তবে অধিকতর নিকটবর্তী বিষয় হলো যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি এটি ওহি করেছেন দুটি কারণে, সেগুলো হলো:
1 - যাতে বনী ইসরাঈলের নিকট এটি সুস্পষ্ট করা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রশংসাকারী এবং তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
2 - যাতে বনী ইসরাঈলকে পরীক্ষা ও যাচাই করা যায়। আর তা এ কারণে যে, খ্রিস্টানরা বলেছিল: ঈসা (আ.) আমাদের যাকে নিয়ে সুসংবাদ দিয়েছিলেন তিনি হলেন ‘আহমাদ’, আর আরবদের নিকট যিনি এসেছেন তিনি হলেন ‘মুহাম্মদ’। আর আহমাদ ও মুহাম্মদ এক নন; কেননা আহমাদ এখনো আসেননি। এদের ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা যা রূপক (متشابه) তার অনুসরণ করে}। [আলে ইমরান: ৭]।
কিন্তু আমরা তাদের বলব: তোমাদের এ কথা যে তিনি এখনো আসেননি—তা মিথ্যা। কারণ আল্লাহ তাআলা ওই একই আয়াতে বলেছেন: {অতঃপর তিনি যখন তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে আসলেন, তখন তারা বলল—এটি তো এক প্রকাশ্য জাদু}। [আস-সাফ: ৬]।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
و"جاء" فعلٌ ماضي، يعني أن أحمد جاء، ولا نعلم أن أحداً جاء بعد عيسى إلا محمد صلى الله عليه وسلم.
وبين محمد وأحمد فرق في الصيغة والمعنى:
أما في الصيغة: فمحمد: اسم مفعول، وأحمد: اسم تفضيل.
أما الفرق بينهما في المعنى:
ففي محمد: يكون الفعل واقعاً من الناس.
أي: أن الناس يحمدونه.
وفي أحمد: يكون الفعل واقعاً منه، يعني أنه صلى الله عليه وسلم أحمدُ الناس لله تعالى، يكون واقعاً عليه يعني أنه هو أحقُ الناس أن يُحمد.
فيكون محمدٌ حُمدَ بالفعل.
وأحمد أي كان حمده على وجه يستحقه؛ لأنه أحقُّ الناس أن يُحمد، ولعل هذا هو السر في أن الله تعالى ألهم عيسى أن يقول: {وَمُبَشِّراً بِرَسُولٍ يَأْتِى مِن بَعْدِى اسْمُهُ أَحْمَدُ} [الصف: 6] . حتى يبين لبني إسرائيل أنه أحمدُ الناس لله تعالى، وأنه أحقُّ الناس بأن يُحمد.
وقوله خير نبي أرسلا: جمع المؤلف هنا بين النبوة والرسالة، لأن النبي مشتق مع النبأ فهو فعيلٌ بمعنى مفعول، أو هو مشتق من النبوة أي نبا ينبوا إذا ارتفع، والنبي لا شك أنه رفيع الرتبة، ومحمد صلى الله عليه وسلم أكمل منْ أرسل وأكمل من أنبىء، ولهذا قال محمد خير نبي أرسلاً.
والمؤلف هنا قال نبي أُرسلا: ولم يقل خير رسول أُرسلا، وذلك لأن كل رسول نبي، ودلالة الرسالة على النبوة من باب دلالة اللزوم؛ لأن من لازم كونه رسولاً أن يكون نبيًّا، فإذا ذُكر اللفظ صريحاً كان ذلك أفصح في الدلالة على المقصود، فالجمع بين النبوة والرسالة نستفيد منه أنه نصّ على النبوة، ولو اقتُصر على الرسالة لم نستفد معنى النبوة إلا
"জায়াহ" (جاء) একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماضي), যার অর্থ হলো আহমদ এসেছেন। আমরা জানি না যে ঈসা (আ.)-এর পর মুহাম্মদ (সা.) ব্যতীত অন্য কেউ এসেছেন।
মুহাম্মদ এবং আহমদ শব্দদ্বয়ের গঠনশৈলী (صيغة) ও অর্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে:
গঠনশৈলীর (صيغة) ক্ষেত্রে: 'মুহাম্মদ' শব্দটি কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) এবং 'আহমদ' শব্দটি আধিক্যবোধক বিশেষণ (اسم تفضيل)।
আর উভয়ের অর্থের মধ্যকার পার্থক্য হলো:
'মুহাম্মদ' নামের ক্ষেত্রে: প্রশংসা করার কাজটি মানুষের পক্ষ থেকে সম্পাদিত হয়।
অর্থাৎ: মানুষ তাঁর প্রশংসা করে।
আর 'আহমদ' নামের ক্ষেত্রে: প্রশংসা করার কাজটি তাঁর নিজের পক্ষ থেকে সম্পাদিত হয়; অর্থাৎ তিনি (সা.) মহান আল্লাহর প্রতি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রশংসাকারী (أحمد الناس)। আবার এটি তাঁর ওপরও আপতিত হয়, যার অর্থ হলো তিনি মানুষের মধ্যে প্রশংসিত হওয়ার সর্বাধিক যোগ্য।
সুতরাং 'মুহাম্মদ' হলেন তিনি যাঁর প্রকৃতপক্ষে প্রশংসা করা হয়েছে।
আর 'আহমদ' হলেন তিনি যাঁর প্রশংসা এমনভাবে হয়েছে যাঁর তিনি উপযুক্ত; কেননা তিনি মানুষের মধ্যে প্রশংসিত হওয়ার সর্বাধিক যোগ্য। সম্ভবত এটাই সেই রহস্য যার কারণে মহান আল্লাহ ঈসা (আ.)-কে এই সুসংবাদ দেওয়ার প্রেরণা দিয়েছিলেন: "এবং আমি এমন একজন রাসূলের সুসংবাদ দিচ্ছি যিনি আমার পরে আসবেন, তাঁর নাম আহমদ।" [আস-সাফ: ৬]। যাতে তিনি বনী ইসরাঈলের নিকট স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি মহান আল্লাহর প্রতি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রশংসাকারী (أحمد الناس) এবং তিনি মানুষের মধ্যে প্রশংসিত হওয়ার সর্বাধিক যোগ্য।
আর তাঁর উক্তি "প্রেরিতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নবী (نبي)": লেখক এখানে নবুওয়াত (نبوة) এবং রিসালাতের (رسالة) সমন্বয় করেছেন। কারণ 'নবী' (نبي) শব্দটি 'নাবা' (সংবাদ) থেকে ব্যুৎপন্ন, এটি 'ফাউল' ছন্দে 'মাফউল'-এর অর্থে (فعيل بمعنى مفعول) ব্যবহৃত। অথবা এটি 'নুবুওয়াহ' (نبوة) থেকে ব্যুৎপন্ন, অর্থাৎ 'নাবা ইয়ানবু' (نبا ينبو) অর্থ যখন কোনো কিছু উচ্চকিত হয়। নবী (نبي) নিঃসন্দেহে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। মুহাম্মদ (সা.) প্রেরিত এবং সংবাদপ্রাপ্তগণের মধ্যে পূর্ণতম; এ কারণেই তিনি বলেছেন "মুহাম্মদ প্রেরিত নবীগণের (نبي) মধ্যে শ্রেষ্ঠ"।
লেখক এখানে বলেছেন "প্রেরিত নবী (نبي)"; তিনি "প্রেরিত রাসূল (رسول)" বলেননি। এর কারণ হলো প্রত্যেক রাসূলই (رسول) একজন নবী (نبي), এবং নবুওয়াতের (نبوة) ওপর রিসালাতের (رسالة) প্রমাণ হলো দালালাতুল লুজুম (دلالة اللزوم) বা অবিচ্ছেদ্য প্রমাণভুক্ত; কারণ রাসূল (رسول) হওয়ার অনিবার্য দাবি হলো নবী (نبي) হওয়া। সুতরাং যখন শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, তখন তা উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর অধিকতর প্রাঞ্জল হয়। তাই নবুওয়াত (نبوة) ও রিসালাতের (رسالة) এই একত্রীকরণ থেকে আমরা এই ফায়দা পাই যে, তিনি নবুওয়াতের (نبوة) বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। যদি কেবল রিসালাতের (رسالة) ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হতো, তবে নবুওয়াতের (نبوة) অর্থ পাওয়া যেত না কেবল...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عن طريق اللزوم، وكون اللفظ دالاً على المعنى بنصه أولى من كونه دالاً باستلزامه. كما في حديث البراء بن عازب رضي الله عنه عند تعليم النبي صلى الله عليه وسلم له دعاء النوم فلما أعاد البراء بن عازب رضي الله عنه الدعاء قال: وبرسولك الذي أرسلت. فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: "لا؛ قل: وبنبيك الذي أرسلت" 1. لأجل أن تكون الدلالة على النبوة دلالة نصيَّة، هذا من جهة.
ومن جهة أخرى: أنه إذا قال: خير رسول: فإن لفظ الرسول يشمل الرسول الملكي وهو جبريل عليه السلام، ويشمل الرسول البشري وهو محمد صلى الله عليه وسلم، لكن! على كل حال في كلام المؤلف كلمة: محمد تخرج منه جبريل عليه السلام.
والألف في قوله: أُرسلا يُسميها العلماء ألف الإطلاق، أي: إطلاق الروي.
--------------------------------------------
আবশ্যকতা (لزوم)-এর মাধ্যমে; আর কোনো শব্দ তার মূল পাঠ (نص) দ্বারা অর্থের ওপর নির্দেশক হওয়া, তার পরোক্ষ নির্দেশক (استلزام) হওয়ার চেয়ে অধিকতর উত্তম। যেমনটি বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ঘুমানোর দোয়া শিক্ষা দিচ্ছিলেন। এরপর যখন বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দোয়াটি পুনরায় পাঠ করলেন, তখন তিনি বললেন: "এবং আপনার রাসুলের প্রতি যাকে আপনি প্রেরণ করেছেন"। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন: "না; বরং বলো: এবং আপনার নবীর প্রতি যাকে আপনি প্রেরণ করেছেন" ১। এটি একারণে যেন নবুওয়াতের ওপর নির্দেশনাটি সুস্পষ্ট পাঠনির্ভর নির্দেশনা (دلالة نصية) হয়; এটি একটি দিক।
আর অন্য দিকটি হলো: যদি কেউ বলে: 'শ্রেষ্ঠ রাসুল'; তবে 'রাসুল' শব্দটি ফেরেশতা রাসুল অর্থাৎ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কেও অন্তর্ভুক্ত করে এবং মানব রাসুল অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কেও অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু! যা-ই হোক, লেখকের বক্তব্যে 'মুহাম্মদ' শব্দটি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে এর অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বের করে দেয়।
আর তাঁর উক্তি: 'অরসালা' (أُرسلا)-এর মধ্যকার আলিফকে আলিমগণ 'আলিফুল ইতলাক' (ألف الإطلاق) অর্থাৎ পংক্তির অন্ত্যমিলকে প্রলম্বিত করার আলিফ (إطلاق الروي) বলে অভিহিত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أقسام الحديثقال المؤلف رحمه الله:
وذي من أقسامِ الحديث عدَّه
… وكلُّ واحدٍ أتى وحَدَّه
قوله "ذي" اسم إشارة.
والمشار إليه: ما ترتب في ذهن المؤلف. إن كانت الإشارة قبل التصنيف وإن كانت الإشارة بعد التصنيف، فالمشار إليه هو الشيء الحاضر الموجود في الخارج.
فما المراد بالحديث هنا، أعلمُ الدراية أم علم الرواية؟
نقول المراد بقوله "أقسام الحديث" هنا علم الدراية.
وقوله "عدَّه" أي عدد ليس بكثير.
وقوله "وكل واحد أتى وحدَّه" أي أن كل واحد من هذه الأقسام جاء به المؤلف.
وقوله "أتى وحدَّه" الواو هنا واو المعيَّة، و"حدَّه" مفعول معه، وهنا قاعدة وهي: إذا عُطف على الضمير المستتر فالأفصح أن تكون الواو للمعية ويُنصب ما بعدها.
فإذا قلت: محمدٌ جاء وعليًّا، فإنه أفصح من قولك: محمدٌ جاء وعلي. لأن واو المعية تدل على المصاحبة، فالمصحوب هو الضمير.
ومعنى "حدَّه" أي تعريفه، والحدُّ: هو التعريف بالشيء. ويشترط في الحد أن يكون مطرد وأن يكون منعكساً، يعني أن الحدّ يُشترط ألا يخرج عنه شيء من المحدود، وألا يدخل فيه شيء من غير المحدود.
فمثلاً: إذا حددنا الإنسان كما يقولون: أنه حيوانٌ ناطق، وهذا الحدُّ يقولون: إنه مطرد، ومنعكس.
হাদিসের প্রকারভেদগ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
আর এগুলো হলো হাদিসের প্রকারভেদের একটি সংখ্যা
… এবং এর প্রত্যেকটি এসেছে তার সংজ্ঞা (الحد) সহ।
তাঁর উক্তি "যী" (এই) একটি নির্দেশক বিশেষ্য।
আর নির্দেশিত বিষয় হলো: যা গ্রন্থকারের মস্তিষ্কে সাজানো ছিল; যদি এই নির্দেশটি সংকলনের পূর্বে হয়ে থাকে। আর যদি ইঙ্গিতটি সংকলনের পরে হয়, তবে নির্দেশিত বিষয় হলো বাস্তবে বিদ্যমান ও উপস্থিত বস্তু।
এখানে হাদিস দ্বারা কী উদ্দেশ্য—ইলমে দিরায়া (علم الدراية) নাকি ইলমে রিওয়ায়াহ (علم الرواية)?
আমরা বলব যে, এখানে "হাদিসের প্রকারভেদ" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইলমে দিরায়া (علم الدراية)।
তাঁর উক্তি "আদ্দাহু" অর্থ এমন এক সংখ্যা যা খুব বেশি নয়।
তাঁর উক্তি "এবং প্রত্যেকটি এসেছে তার সংজ্ঞা (الحد) সহ" অর্থাৎ এই প্রকারগুলোর প্রত্যেকটি গ্রন্থকার বর্ণনা করেছেন।
তাঁর উক্তি "আতা ওয়া হাদ্দাহু" এখানে 'ওয়াও' টি হলো সাহচর্যবোধক 'ওয়াও', এবং "হাদ্দাহু" হলো সাহচর্যবোধক কর্ম। এখানে একটি নিয়ম হলো: যখন কোনো উহ্য সর্বনামের ওপর আতফ করা হয়, তখন অধিক বিশুদ্ধ পদ্ধতি হলো 'ওয়াও' টি সাহচর্যের অর্থে হওয়া এবং এর পরবর্তী শব্দকে নসব (জবর) প্রদান করা।
যেমন আপনি যদি বলেন: "মুহাম্মাদুন জা’আ ওয়া আলিয়্যান", তবে তা আপনার "মুহাম্মাদুন জা’আ ওয়া আলিউন" উক্তির চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ। কারণ সাহচর্যবোধক 'ওয়াও' সাথে থাকাকে নির্দেশ করে, আর এখানে যার সাথে থাকা বুঝানো হচ্ছে তা হলো সর্বনাম।
"হাদ্দাহু" শব্দের অর্থ হলো তার সংজ্ঞা (تعريف), আর সংজ্ঞা (الحد) হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে সম্যক পরিচয় প্রদান করা। সংজ্ঞার (الحد) জন্য শর্ত হলো তা ব্যাপক (مطرد) এবং স্বতন্ত্র (منعكس) হওয়া। অর্থাৎ সংজ্ঞার (الحد) জন্য শর্ত হলো সংজ্ঞায়িত বিষয়ের কোনো কিছু যেন সংজ্ঞা থেকে বাদ না পড়ে এবং বাইরের কোনো বিষয় যেন সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত না হয়।
উদাহরণস্বরূপ: আমরা যদি মানুষের সংজ্ঞা নির্ধারণ করি যেমনটি বলা হয়ে থাকে যে, "মানুষ হলো বাকশক্তি সম্পন্ন প্রাণী", তবে এই সংজ্ঞাটি (الحد) সম্পর্কে বলা হয় যে, এটি ব্যাপক (مطرد) এবং স্বতন্ত্র (منعكس)।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فقولنا: "حيوانٌ" خرج به ما ليس بحيوان كالجماد.
وقولنا: "ناطق" خرج به ما ليس بناطق كالبهيم، فهذا الحد الآن تام لا يدخل فيه شيء من غير المحدود ولا يخرج منه شيء من المحدود.
ولو قلنا: إن الإنسان حيوان فقط؛ فهذا لا يصح! لماذا؟
لأنه يدخل فيه ما ليس منه، فإننا إذا قلنا إن الإنسان حيوانٌ لدخل فيه البهيم والناطق.
وإذا قلنا: إن الإنسان حيوانٌ ناطق عاقل، فهذا لا يصح أيضاً؛ لأنه يخرج منه بعض أفراد المحدود وهو المجنون.
إذاً فلابد في الحد أن يكون مطرداً منعكساً.
وإذا قلنا في الوضوء: إنه غسل الأعضاء الأربعة فقط، فهذا لا يصح، فلابد أن تقول: على صفة مخصوصة، لأنك لو غسلت هذه الأعضاء غير مرتبة لم يكن هذا وضوءاً شرعيًّا.
ولو قلت: الوضوء هو غسل الأعضاء الأربعة ثلاثاً على صفة مخصوصة، فإن هذا أيضاً لا يصح، لأنه يخرج منه بعض المحدود، فإنه يخرج منه الوضوء، إذا كان غسل الأعضاء فيه مرة واحدة.
وعلى كل حال فالحد هو التعريف، وهو: "الوصف المحيط بموصوفه، المميز له عن غيره".
وشرطه: أن يكون مطرداً منعكساً، أي لا يخرج شيء من أفراده عنه، ولا يدخل فيه شيء من غير أفراده.
সুতরাং আমাদের উক্তি "প্রাণী" (حيوان) দ্বারা যা প্রাণী নয়, যেমন জড় পদার্থ, তা বাদ পড়েছে।
আর আমাদের উক্তি "বাকশক্তি সম্পন্ন" (ناطق) দ্বারা যা বাকশক্তি সম্পন্ন নয়, যেমন চতুষ্পদ জন্তু, তা বাদ পড়েছে। অতএব, এই সংজ্ঞা (الحد) এখন পূর্ণাঙ্গ; এতে সংজ্ঞায়িত বিষয়ের বাইরের কিছু প্রবেশ করবে না এবং সংজ্ঞায়িত বিষয়ের কোনো অংশ বাইরে যাবে না।
আর যদি আমরা বলি যে মানুষ কেবলই একটি প্রাণী (حيوان); তবে তা সঠিক হবে না! কেন?
কারণ এতে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা আমরা যখন বলি মানুষ একটি প্রাণী (حيوان), তখন এতে চতুষ্পদ জন্তু এবং বাকশক্তি সম্পন্ন প্রাণী উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
আর যদি আমরা বলি যে মানুষ হলো বাকশক্তি সম্পন্ন (ناطق) বিবেকবান প্রাণী, তবে এটিও সঠিক হবে না; কারণ এর দ্বারা সংজ্ঞায়িত বিষয়ের কিছু ব্যক্তি, যেমন পাগল বাদ পড়ে যায়।
সুতরাং সংজ্ঞার (الحد) ক্ষেত্রে তা ব্যাপক (مطرداً) ও নিবারক (منعكساً) হওয়া অপরিহার্য।
আর আমরা যদি ওজুর ক্ষেত্রে বলি যে, এটি কেবল চারটি অঙ্গ ধৌত করা, তবে তা সঠিক হবে না। বরং আপনাকে বলতে হবে: একটি বিশেষ পদ্ধতিতে; কারণ আপনি যদি এই অঙ্গগুলো ক্রম অনুসরণ না করে ধৌত করেন, তবে তা শরয়ি ওজু হবে না।
আর আপনি যদি বলেন: ওজু হলো একটি বিশেষ পদ্ধতিতে চারটি অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করা, তবে এটিও সঠিক হবে না। কারণ এতে সংজ্ঞায়িত বিষয়ের কিছু অংশ বাদ পড়ে যায়। যেমন এর দ্বারা ঐ ওজু বাদ পড়ে যায় যেখানে অঙ্গসমূহ কেবল একবার করে ধৌত করা হয়েছে।
যাই হোক, সংজ্ঞা (الحد) হলো কোনো বিষয়ের পরিচয় (التعريف)। আর তা হলো: "এমন একটি পরিবেষ্টনকারী বিবরণ যা তার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত বিষয়কে পূর্ণাঙ্গরূপে তুলে ধরে এবং তাকে অন্য সবকিছু থেকে পৃথক করে দেয়।"
আর এর শর্ত হলো: এটি ব্যাপক (مطرداً) ও নিবারক (منعكساً) হতে হবে; অর্থাৎ এর কোনো সদস্য যেন সংজ্ঞা থেকে বাদ না পড়ে এবং বাইরের কোনো কিছু যেন সংজ্ঞার ভেতরে প্রবেশ না করে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الحديث الصحيح وشروطه…قال المؤلف رحمه الله:
3 - أوَّلُها الصَّحيحُ وهوَ ما اتّصَل
… إسنَادُهُ ولَم يُشذّ أو يُعَل
قوله: "أولها الصحيح" بدأ المؤلف بذكر أقسام الحديث وقدَّم الصحيح لأنه أشرف أقسام الحديث، ثم عرَّفه فقال: "وهو ما اتصل إسناده" يعني ما رُوي بإسناد متصل بحيث يأخذه كل راوي عمن فوقه، فيقول مثلاً: حدثني رقم واحد "ولنجعلها بالأرقام" قال حدثني رقم اثنين، قال حدثني رقم ثلاثة، قال حدثني رقم أربعة، فهذا النوع يكون متصلاً، لأنه يقول حدثني فكل واحد أخذ عمن روى عنه.
أما إن قال حدثني رقم واحد عن رقم ثلاثة لم يكن متصلاً، لأنه سقط منه رقم اثنين فيكون منقطعاً.
وقوله: "ولم يُشذَّ أو يُعَل" يعني يشترط أن لا يكون شاذًّا ولا معللاً.
والشاذُّ هو: الذي يرويه الثقة مخالفاً لمن هو أرجح منه، إما في العدد، أو في الصدق، أو في العدالة.
فإذا جاء الحديث بسندٍ متصلٍ لكنه شاذٌّ، بحيث يكون مخالفاً لرواية أُخرى، هي أرجح منه، إما في العدد، وإما في الصدق، وإما في العدالة؛ فإنه لا يقبل ولو كان الذي رواه عدلاً، ولو كان السند متصلاً، وذلك من أجل شذوذه.
والشذوذ: قد يكون في حديث واحد، وقد يكون في حديثين منفصلين، يعني أنه لا يشترط في الشذوذ أن يكون الرواة قد اختلفوا في
সহিহ (صحيح) হাদিস এবং এর শর্তাবলি…লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
৩ - এগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো সহিহ (صحيح), যার সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) এবং তা শায (شاذ) কিংবা ত্রুটিযুক্ত (معلل) নয়
তাঁর বক্তব্য: "এগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো সহিহ (صحيح)"; লেখক হাদিসের প্রকারভেদ বর্ণনার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছেন এবং সহিহ (صحيح) হাদিসকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, কারণ এটি হাদিসের প্রকারসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। অতঃপর তিনি এর সংজ্ঞা প্রদান করে বলেছেন: "যার সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন (متصل)"; এর অর্থ হলো যা নিরবচ্ছিন্ন (متصل) সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, এমনভাবে যে প্রত্যেক বর্ণনাকারী (راوي) তাঁর উপরের স্তরের বর্ণনাকারীর কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি বললেন: এক নম্বর ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন (ধরা যাক আমরা সংখ্যা ব্যবহার করছি), তিনি বললেন আমাকে দুই নম্বর ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন আমাকে তিন নম্বর ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, তিনি বললেন আমাকে চার নম্বর ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন। এই প্রকারটি নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হবে, কারণ তিনি বলেছেন 'আমাকে বর্ণনা করেছেন', ফলে প্রত্যেকেই যাঁর থেকে বর্ণনা করছেন তাঁর কাছ থেকে (সরাসরি) গ্রহণ করেছেন।
পক্ষান্তরে, তিনি যদি বলেন 'এক নম্বর ব্যক্তি তিন নম্বর ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করেছেন', তবে তা নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হবে না। কারণ এতে দুই নম্বর ব্যক্তি বাদ পড়েছেন, ফলে এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) হবে।
এবং তাঁর বক্তব্য: "তা শায (شاذ) কিংবা ত্রুটিযুক্ত (معلل) নয়"; অর্থাৎ এতে শর্ত হলো যে সেটি শায (شاذ) হবে না এবং ত্রুটিযুক্ত (معلل) হবে না।
আর শায (شاذ) হলো: যা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী তাঁর চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতায় বর্ণনা করেন; চাই তা সংখ্যার দিক থেকে হোক, অথবা সত্যবাদিতার দিক থেকে হোক, কিংবা ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) দিক থেকে হোক।
যদি হাদিসটি নিরবচ্ছিন্ন (متصل) সনদে বর্ণিত হয় কিন্তু তা শায (شاذ) হয়—অর্থাৎ এটি এমন অন্য একটি বর্ণনার বিরোধী হয় যা এর চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য, চাই তা সংখ্যার ক্ষেত্রে হোক, সত্যবাদিতার ক্ষেত্রে হোক কিংবা ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ক্ষেত্রে হোক—তবে তা গ্রহণ করা হবে না। যদিও এর বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণ (عدل) হন এবং সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হয়, তবুও এর অসংগতি বা শায (شذوذ) হওয়ার কারণে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
আর অসংগতি (شذوذ): কখনো একটি হাদিসের মধ্যে হতে পারে, আবার কখনো দুটি পৃথক হাদিসের মধ্যেও হতে পারে। অর্থাৎ শায (شذوذ) হওয়ার ক্ষেত্রে এটি শর্ত নয় যে বর্ণনাকারীরা কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য করেছেন...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
حديث واحد، بل قد يكون الشاذ أتى في حديث آخر، مثاله: ما ورد في السنن أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الصيام إذا انتصف شعبان1، والحديث لا بأس به من حيث السند، لكن ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم في الصحيحين أنه قال: "لا تقدموا رمضان بصوم يوم ولا يومين إلا رجل كان يصوم صوماً فليصمه" 2 فإذا أخذنا بالحديث الثاني الوارد في الصحيحين قلنا إن فيه دلالة على أن الصيام بعد منتصف شعبان جائز، وليس فيه شيء، لأن النهي حُدد بما قبل رمضان بيوم أو يومين، وإذا أخذنا بالأول فنقول إن النهي يبدأ من منتصف شعبان، فأخذ الإمام أحمد بالحديث الوارد في الصحيحين وهو النهي عن تقدم رمضان بصوم يوم أو يومين، وقال إن هذا شاذ، يعني به حديث السنن، لأنه مخالف لمن هو أرجح منه إذ أن هذا في الصحيحين وذاك في السنن.
ومن ذلك ما ورد في سنن أبي داود أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن صوم يوم السبت قال: "لا تصوموا يوم السبت إلا فيما افترض عليكم" 3 فقد حكم بعض العلماء على هذا الحديث بالشذوذ، لأنه مخالف لقول النبي صلى الله عليه وسلم لإحدى نسائه حين وجدها صائمة يوم الجمعة، فقال: "هل صمت أمس"؟ فقالت: لا، قال: "أتصومين غداً"؟ قالت: لا، قال:
--------------------------------------------
একটি হাদিস, বরং কখনো কখনো ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ) বর্ণনা অন্য একটি হাদিসেও আসতে পারে। এর উদাহরণ হলো: যা সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাবান যখন মধ্যভাগে পৌঁছায় তখন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন১, আর হাদিসটি সনদ (سند) এর বিচারে কোনো দোষ নেই, কিন্তু সহিহাইন গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তোমরা রমজানের একদিন বা দুইদিন আগে রোজা রেখে রমজানকে এগিয়ে নিয়ে এসো না, তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে রোজা রাখতে অভ্যস্ত ছিল, সে যেন তা রাখে" ২। এখন আমরা যদি সহিহাইন গ্রন্থে বর্ণিত দ্বিতীয় হাদিসটি গ্রহণ করি, তবে আমরা বলব যে এতে শাবানের অর্ধেকের পর রোজা রাখা বৈধ হওয়ার প্রমাণ রয়েছে এবং এতে কোনো সমস্যা নেই; কারণ নিষেধটি রমজানের ঠিক একদিন বা দুইদিন পূর্বের সময়ের জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। আর যদি আমরা প্রথম হাদিসটি গ্রহণ করি, তবে আমরা বলব যে নিষেধটি শাবানের মধ্যভাগ থেকেই শুরু হয়। তাই ইমাম আহমদ সহিহাইন গ্রন্থে বর্ণিত হাদিসটি গ্রহণ করেছেন—যা রমজানের একদিন বা দুইদিন আগে রোজা রাখতে নিষেধ করে—এবং তিনি বলেছেন যে এটি ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ); অর্থাৎ তিনি সুনান গ্রন্থসমূহের হাদিসটিকে বুঝিয়েছেন। কারণ এটি তার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য বর্ণনার বিপরীত, যেহেতু এটি সহিহাইন গ্রন্থে রয়েছে আর সেটি সুনান গ্রন্থে।
অনুরূপ একটি উদাহরণ হলো যা সুনান আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শনিবার রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন; তিনি বলেছেন: "তোমরা শনিবার রোজা রেখো না, তবে তোমাদের ওপর যা ফরজ করা হয়েছে তা ব্যতীত" ৩। কতিপয় আলেম এই হাদিসটিকে ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ) হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন, কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাঁর জনৈকা স্ত্রীর প্রতি বলা বাণীর পরিপন্থী, যখন তিনি তাকে শুক্রবার রোজা অবস্থায় পেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি গতকাল রোজা রেখেছিলে?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন: "তুমি কি আগামীকাল রোজা রাখবে?" তিনি বললেন: "না।" তিনি বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
"فأفطري" 1. وهذا الحديث ثابت في الصحيح، وفيه دليل على أن صيام يوم السبت جائز ليس فيه بأس، وهنا قال بعض العلماء: إن حديث النهي عن صيام يوم السبت شاذ؛ لأنه مخالف لما هو أرجح منه، ومن العلماء من قال: لا مخالفة هنا، وذلك لإمكان الجمع، وإذا أمكن الجمع فلا مخالفة، والجمع بين الحديثين أن يقال: إن النهي كان عن إفراده، أي أنه نُهي عن صوم يوم السبت مستقلاً بمفرده، أما إذا صامه مع يوم الجمعة، أو مع يوم الأحد فلا بأس به حينئذ، ومن المعلوم أنه إذا أمكن الجمع فلا مخالفة ولا شذوذ.
ومن الشذوذ: أن يخالف ما عُلم بالضرورة من الدين.
مثاله: في صحيح البخاري رواية "أنه يبقى في النار فضلٌ عمن دخلها من أهل الدنيا، فيُنشىء الله لها أقواماً فيدخلهم النار" 2.
فهذا الحديث وإن كان متصل السند فهو شاذ؛ لأنه مخالف لما عُلم بالضرورة من الدين، وهو أن الله تعالى لا يظلم أحداً، وهذه الرواية - في الحقيقة - قد انقلبت على الراوي، والصواب أنه يبقي في الجنة فضلٌ عمن دخلها من أهل الدنيا، فيُنشىء الله أقواماً فيدخلهم الجنة، وهذا فضل ليس فيه ظلم، أما الأول ففيه ظلم.
على كل حال فلابد لصحة الحديث ألا يكون شاذًّا.
ولو أن رجلاً ثقة عدلاً روى حديثاً على وجه، ثم رواه رجلان مثله في العدالة على وجه مخالف للأول، فماذا نقول للأول؟
نقول: الحديث الأول شاذ، فلا يكون صحيحاً وإن رواه العدل
--------------------------------------------
"তাহলে তুমি রোজা ভেঙে ফেলো" ১। এই হাদিসটি সহিহ (صحيح) গ্রন্থে প্রমাণিত (ثابت), এবং এতে প্রমাণ রয়েছে যে শনিবার রোজা রাখা বৈধ (جائز), এতে কোনো দোষ নেই। এখানে কিছু আলেম বলেছেন: শনিবার রোজা রাখার নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদিসটি শায (شاذ); কারণ এটি অধিকতর অগ্রগণ্য বর্ণনার বিরোধী। আবার কোনো কোনো আলেম বলেছেন: এখানে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ এ দুটির মধ্যে সমন্বয় (الجمع) করা সম্ভব। আর যদি সমন্বয় (الجمع) করা সম্ভব হয়, তবে কোনো বৈপরীত্য থাকে না। হাদিস দুটির মধ্যে সমন্বয় (الجمع) হলো এই যে: নিষেধাজ্ঞাটি কেবল এককভাবে শনিবার রোজা রাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ শনিবারকে অন্যান্য দিন থেকে পৃথক করে একা রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু যদি কেউ শুক্রবার বা রোববারের সাথে মিলিয়ে শনিবার রোজা রাখে, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। এটি সুপরিচিত যে, যেখানে সমন্বয় (الجمع) করা সম্ভব, সেখানে কোনো বৈপরীত্য বা শায (شاذ) হওয়ার অবকাশ থাকে না।
শায (شاذ) হওয়ার আরেকটি ধরন হলো: দ্বীনের অকাট্যভাবে জ্ঞাত (بالضرورة من الدين) বিষয়ের বিরোধিতা করা।
উদাহরণস্বরূপ: সহিহ বুখারিতে একটি বর্ণনা রয়েছে যে, "দুনিয়াবাসীদের মধ্যে যারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তাদের প্রবেশের পর সেখানে অতিরিক্ত জায়গা থেকে যাবে, তখন আল্লাহ জাহান্নামের জন্য কিছু সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন এবং তাদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন" ২।
এই হাদিসটি যদিও অবিচ্ছিন্ন সনদবিশিষ্ট (متصل السند), তবুও এটি শায (شاذ); কারণ এটি দ্বীনের অকাট্যভাবে জ্ঞাত (بالضرورة من الدين) বিষয়ের পরিপন্থী, আর তা হলো—মহান আল্লাহ তাআলা কারও প্রতি জুলুম করেন না। প্রকৃতপক্ষে এই বর্ণনাটি বর্ণনাকারীর (الراوي) পক্ষ থেকে উল্টে গেছে (انقلبت)। সঠিক কথা হলো, দুনিয়াবাসীদের প্রবেশের পর জান্নাতে অতিরিক্ত জায়গা থেকে যাবে, তখন আল্লাহ নতুন কিছু সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন এবং তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ যাতে কোনো জুলুম নেই। কিন্তু প্রথম বর্ণনায় জুলুমের বিষয় প্রকাশ পায়।
যাই হোক, হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য তা শায (شاذ) না হওয়া আবশ্যক।
যদি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি কোনো হাদিস একভাবে বর্ণনা করেন, অতঃপর তাঁর মতো সমান ন্যায়পরায়ণতায় (عدالة) উত্তীর্ণ দুজন ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তির বিপরীতভাবে তা বর্ণনা করেন, তবে প্রথম ব্যক্তির বর্ণনা সম্পর্কে আমরা কী বলব?
আমরা বলব: প্রথম হাদিসটি শায (شاذ); সুতরাং এটি সহিহ (صحيح) হবে না, যদিও তা কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الثقة.
ولو روى إنسان حديثاً على وجه، ورواه إنسانٌ آخر على وجه يخالف الأول، وهذا الثاني أقوى في العدالة أو في الضبط، فيكون الأول شاذًّا.
وهذه قاعدة مفيدة تفيد الإنسان فيما لو عرض له حديث، فإذا نظر في سنده وجده متصلاً، ووجد أن رجاله ثقات، ولكن إذا نظر إلى المتن وجده مخالفاً كما سبق فحينئذ نقول له احكم بأن هذا ليس بصحيح، وليس في ذمتك شيء.
فإذا قال كيف أحكم عليه بأنه غير صحيح! وسنده متصل ورجاله ثقات عدول؟
فنقول له: لأن فيه علة توجب ضعفه وهي الشذوذ.
قوله: "أو يُعَلَّ" معناه أي يُقدح فيه بعلة تمنع قبوله، فإذا وجدت في الحديث علة تمنع قبوله فليس الحديث بصحيح.
ومعنى العلة في الأصل هي: وصفٌ يوجب خروج البدن عن الاعتدال الطبيعي.
ولهذا يقال: فلانٌ فيه علة، يعني أنه عليل أي مريض، فالعلة مرض تمنع من سلامة البدن.
والعلة في الحديث معناها قريبة من هذا وهي:
وصفٌ يوجب خروج الحديث عن القبول.
لكن هذا الشرط، يشترط فيه شرط زائد على ما قال المؤلف وهو: أن لا يُعلّ الحديث بعلةٍ قادحة، لأن الحديث قد يُعلُّ بعلةٍ لا تقدح فيه، وهذا سيأتي الكلام عليه إن شاءالله.
إذاً فيشترط للحديث الصحيح شروط أخذنا منها ثلاثة وهي:
নির্ভরযোগ্য (الثقة)।
যদি কোনো ব্যক্তি একটি হাদিস একভাবে বর্ণনা করেন এবং অন্য একজন ব্যক্তি এটি প্রথমটির বিপরীতভাবে বর্ণনা করেন, অথচ দ্বিতীয় ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) বা স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (الضبط)-এর দিক থেকে অধিক শক্তিশালী হন, তবে প্রথমটি শায বা ব্যতিক্রমী (شاذ) হিসেবে গণ্য হবে।
এটি একটি উপকারী মূলনীতি যা কোনো ব্যক্তির তখন কাজে লাগে যখন তার সামনে কোনো হাদিস আসে। সে যদি এর সনদের দিকে লক্ষ্য করে সেটি নিরবচ্ছিন্ন (متصل) পায় এবং এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য (ثقات) হিসেবে পায়, কিন্তু মতন (متن) বা মূল পাঠের দিকে তাকালে সেটি পূর্বোক্ত বিষয়ের বিরোধী পায়, তবে আমরা তাকে বলব—তুমি ফয়সালা দাও যে এটি সহিহ (صحيহ) নয় এবং এতে তোমার কোনো দায় থাকবে না।
সে যদি বলে—কীভাবে আমি একে সহিহ (صحيহ) নয় বলে হুকুম দেব, অথচ এর সনদ নিরবচ্ছিন্ন (متصل) এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও ন্যায়পরায়ণ (عدول)?
তখন আমরা তাকে বলব: কারণ এতে এমন একটি ত্রুটি (علة) রয়েছে যা এর দুর্বলতা (ضعف) সাব্যস্ত করে, আর সেটি হলো শ্যযূয বা ব্যতিক্রমধর্মিতা (الشذوذ)।
তাঁর উক্তি: "অথবা ত্রুটিযুক্ত হওয়া (يُعلّ)" এর অর্থ হলো—এতে এমন কোনো ত্রুটি (علة) দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধ করা যা এর গ্রহণযোগ্যতাকে বাধাগ্রস্ত করে। সুতরাং যদি হাদিসের মধ্যে এমন ত্রুটি (علة) পাওয়া যায় যা এর গ্রহণযোগ্যতাকে নাকচ করে দেয়, তবে হাদিসটি সহিহ (صحيহ) নয়।
মূলত ত্রুটি (علة) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো: এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা শরীরকে তার স্বাভাবিক ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত করে দেয়।
এ কারণেই বলা হয়: অমুক ব্যক্তির মধ্যে ইল্লাত বা ত্রুটি (علة) রয়েছে, অর্থাৎ সে অসুস্থ। সুতরাং ত্রুটি (علة) হলো এমন এক অসুস্থতা যা শরীরের সুস্থতাকে বাধা প্রদান করে।
হাদিস শাস্ত্রে ত্রুটি (علة)-এর অর্থ এর কাছাকাছি, আর তা হলো:
এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা হাদিসটিকে গ্রহণযোগ্যতা থেকে বিচ্যুত করা আবশ্যক করে।
তবে এই শর্তটিতে লেখক যা বলেছেন তার অতিরিক্ত একটি শর্তারোপ করা হয়, আর তা হলো: হাদিসটি যেন ক্ষতিকারক ত্রুটি (علة قادحة) দ্বারা আক্রান্ত না হয়। কারণ কখনো হাদিসে এমন ত্রুটি (علة) থাকতে পারে যা একে প্রশ্নবিদ্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত করে না, আর এ সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচনা আসবে।
সুতরাং সহিহ (صحيহ) হাদিসের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে যার মধ্য থেকে আমরা তিনটি গ্রহণ করেছি, আর সেগুলো হলো:
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
1 - اتصال السند.
2 - أن يكون سالماً من الشذوذ.
3 - أن يكون سالماً من العلة القادحة.
والعلة القادحة اختلف فيها العلماء اختلافاً كثيراً!؛ وذلك لأن بعض العلماء، قد يرى أن في الحديث علة توجب القدح فيه، وبعضهم قد لا يراها علة قادحة.
ومثاله: لو أن شخصاً ظن أن هذا الحديث مخالفٌ لما هو أرجح منه لقال: إن الحديث شاذ، ثم لا يقبله، فإذا جاء آخر وتأمل الحديث وجد أنه لا يخالفه، فبالتالي يحكم بصحة الحديث! لأن أمر العلة أمر خفي، فقد يخفى على الإنسان وجه ارتفاع العلة فيعلله بهذه العلة، ويأتي آخر ويتبين له وجه ارتفاع العلة فلا يعلله.
لذلك قلنا لابد من إضافة قيد وهو: أن تكون العلة قادحة، والعلة القادحة هي التي تكون في صميم موضوع الحديث، أما التي تكون خارجاً عن موضوعه فهذه لا تكون علة قادحة.
ولنضرب على ذلك مثلاً بحديث فضالة بن عبيد رضي الله عنه في قصة القلادة الذهبية التي بيعت باثني عشر ديناراً، والدينار نقد ذهبي، ففُصلت فوجد فيها أكثر من اثني عشر ديناراً1.
واختلف الرواة في مقدار الثمن.
فمنهم من قال: اثني عشر ديناراً.
ومنهم من قال: تسعة دنانير.
ومنهم من قال: عشرة دنانير.
--------------------------------------------
১ - বর্ণনাসূত্রের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السند)।
২ - শায বা অস্বাভাবিকতা (شذوذ) থেকে মুক্ত হওয়া।
৩ - দোষযুক্ত ত্রুটি (علة قادحة) থেকে মুক্ত হওয়া।
আর দোষযুক্ত ত্রুটি (علة قادحة)-এর ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম ব্যাপক মতভেদ করেছেন! এর কারণ হলো, কিছু আলেম মনে করতে পারেন যে হাদিসে এমন কোনো ত্রুটি (علة) রয়েছে যা একে প্রশ্নবিদ্ধ করে, আবার অন্য কেউ সেটিকে দোষযুক্ত ত্রুটি (علة قادحة) হিসেবে গণ্য নাও করতে পারেন।
এর উদাহরণ হলো: যদি কোনো ব্যক্তি মনে করেন যে এই হাদিসটি তার চেয়ে অগ্রগণ্য কোনো বর্ণনার পরিপন্থী, তবে তিনি বলবেন: হাদিসটি শায (شاذ), অতঃপর তিনি তা গ্রহণ করবেন না। কিন্তু যখন অন্য কেউ এসে হাদিসটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং দেখবেন যে এটি পরিপন্থী নয়, তখন তিনি হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة)-এর ফয়সালা দেবেন! কারণ ত্রুটি বা ইল্লত (علة)-এর বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। মানুষের কাছে ত্রুটি দূর হওয়ার দিকটি অস্পষ্ট থাকতে পারে, ফলে তিনি একে এই ত্রুটি (علة)-এর কারণে ত্রুটিযুক্ত মনে করেন। অন্যদিকে অন্য একজন এসে ত্রুটি দূর হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন, ফলে তিনি একে আর ত্রুটিযুক্ত (علة) মনে করেন না।
এজন্যই আমরা বলেছি যে, একটি শর্ত যুক্ত করা আবশ্যক, আর তা হলো: ত্রুটিটিকে অবশ্যই 'দোষযুক্ত' (قادحة) হতে হবে। আর দোষযুক্ত ত্রুটি (علة قادحة) হলো তা-ই যা হাদিসের মূল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। পক্ষান্তরে যা মূল বিষয়ের বহির্ভূত, তা দোষযুক্ত ত্রুটি (علة قادحة) বলে গণ্য হবে না।
আমরা এর একটি উদাহরণ হিসেবে ফাদালাহ ইবনে উবাইদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত স্বর্ণের হারের হাদিসটি পেশ করতে পারি, যা বারো দিনারে বিক্রি করা হয়েছিল—আর দিনার হলো স্বর্ণমুদ্রা—অতঃপর যখন তা আলাদা করা হলো, তখন তাতে বারো দিনারের চেয়ে বেশি স্বর্ণ পাওয়া গেল ১।
আর বর্ণনাকারীগণ (رواة) মূল্যের পরিমাণের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন।
তাদের কেউ বলেছেন: বারো দিনার।
আবার কেউ বলেছেন: নয় দিনার।
আবার কেউ বলেছেন: দশ দিনার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومنهم من قال غير ذلك، وهذه العلة - لا شك - أنها علة تهزُّ الحديث، لكنها علة غير قادحة في الحديث، وذلك لأن اختلافهم في الثمن لا يؤثر في صميم موضوع الحديث وهو: أن بيع الذهب بالذهب، إذا كان معه غيره، لا يجوز ولا يصح.
وكذلك قصة بعير جابر رضي الله عنه -1 الذي اشتراه منه النبي صلى الله عليه وسلم، حيث اختلف الرواة في ثمن هذا البعير، هل هو أوقية، أو أكثر، أو أقل، فهذا الخلاف لا يعتبر علّة قادحة في الحديث، لأن موضوع الحديث هو: شراء النبي صلى الله عليه وسلم الجمل من جابر بثمن معين، واشتراط جابر أن يحمله الجمل إلى المدينة، وهذا الموضوع لم يتأثر ولم يُصب بأي علة تقدح فيه، وغاية ما فيه أنهم اختلفوا في مقدار الثمن، وهذه ليست بعلة قادحة في الحديث.
ومن العلل القادحة: أن يروي الحديث إثنان، أحدهما يرويه بصفة النفي، والاخر يرويه بصفة الإثبات، وهذا لا شك أنها علة قادحة، وسيأتي الكلام عليه إن شاءالله في الحديث المضطرب الذي اضطرب الرواة فيه على وجهٍ يتأثر به المعنى.
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্য কথা বলেছেন। এই ত্রুটি (علة) — এতে কোনো সন্দেহ নেই — এমন একটি ত্রুটি যা হাদিসকে নাড়া দেয়, তবে এটি হাদিসের ক্ষেত্রে কোনো অ-ক্ষতিকারক ত্রুটি (علة غير قادحة)। এর কারণ হলো, মূল্যের ব্যাপারে তাদের মতপার্থক্য হাদিসের মূল বিষয়ের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। আর সেই বিষয়টি হলো: স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রয় করার সময় যদি তার সাথে অন্য কিছু থাকে, তবে তা বৈধ বা শুদ্ধ নয়।
ঠিক তেমনি জাবির (রা.)-এর উটের ঘটনা, যা নবী (সা.) তাঁর কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন। সেখানে বর্ণনাকারীগণ (رواة) এই উটের মূল্যের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন; তা কি এক উকিয়া ছিল, না কি তার চেয়ে বেশি বা কম? এই মতভেদকে হাদিসের ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি (علة قادحة) হিসেবে গণ্য করা হয় না। কারণ হাদিসের মূল বিষয় হলো: নবী (সা.) কর্তৃক জাবিরের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট মূল্যে উট ক্রয় করা এবং জাবিরের পক্ষ থেকে শর্তারোপ করা যে, উটটি তাকে মদিনা পর্যন্ত বহন করে নিয়ে যাবে। এই মূল বিষয়টি প্রভাবিত হয়নি এবং এতে এমন কোনো ত্রুটি (علة) পরিলক্ষিত হয়নি যা একে ক্ষুণ্ণ (تقدح) করে। বড়জোর এখানে যা ঘটেছে তা হলো তারা মূল্যের পরিমাণ নিয়ে মতভেদ করেছেন, আর এটি হাদিসের ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি (علة قادحة) নয়।
ক্ষতিকারক ত্রুটিগুলোর (العلل القادحة) মধ্যে একটি হলো: দুজন ব্যক্তি হাদিসটি বর্ণনা করবেন, যাদের একজন বর্ণনা করবেন না-বোধক (النفي) রূপে এবং অন্যজন বর্ণনা করবেন হাঁ-বোধক (الإثبات) রূপে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি একটি ক্ষতিকারক ত্রুটি (علة قادحة)। ইনশাআল্লাহ, অসামঞ্জস্যপূর্ণ (المضطرب) হাদিসের আলোচনায় এ সম্পর্কে বিস্তারিত কথা আসবে, যেখানে বর্ণনাকারীগণ (رواة) এমনভাবে বৈচিত্র্য বা বিভ্রান্তি তৈরি করেন যার ফলে হাদিসের অর্থ প্রভাবিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
بقية شروط الصحيح…قال المؤلف رحمه الله:
4 - يَرْويهِ عَدْلٌ ضابِطٌ عَن مثله
… مُعْتَمَدٌ في ضَبْطِهِ ونَقْلِهِ
قوله: "يرويه عدل" يعني أنه لابد أن يكون الراوي عدلاً، وهذا هو الشرط الرابع من شروط صحة الحديث.
والعدل في الأصل هو: الاستقامة، إذا كان الطريق مستقيماً ليس فيه اعوجاج، يقال: هذا طريق عدل، أي: مستقيم، ومثله العصا المستقيمة يقال لها عدلة، هذا هو الأصل.
لكنه عند أهل العلم هو: وصف في الشخص يقتضي الاستقامة، في الدين، والمروءة.
فاستقامة الرجل في دينه ومروءته تسمى عدالة.
وعلى هذا فالفاسق ليس بعدل؛ لأنه ليس مستقيماً في دينه. فلو رأينا رجلاً قاطعاً لرحمه فليس بعدل، ولو كان من أصدق الناس في نقله، لأنه غير مستقيم في دينه، وكذلك لو وجدنا شخصاً لا يصلي مع الجماعة، وهو من أصدق الناس، فإنه ليس بعدل، فما رواه لا يقبل منه.
والدليل على هذا قول الله تعالى: {يأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُواْ إِن جَآءَكُمْ فَاسِقُ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُواْ أَن تُصِيببُواْ قَوْمَا بِجَهَالَةٍ} [الحجرات: 6] . فلما أمر الله تعالى بالتبين في خبر الفاسق عُلم أن خبره غير مقبول، لا يقبلُ ولا يُرد حتى نتبين.
ونحن نشترط في رواية الحديث: أن يكون الراوي عدلاً يمكن قبول خبره، والفاسق لا يقبل خبره.
أما العدل فيقبلُ خبره، بدليل قوله تعالى: {وَأَشْهِدُواْ ذَوَى عَدْلٍ
সহিহ (صحيح) হওয়ার অবশিষ্ট শর্তাবলি…লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
৪ - একে বর্ণনা করবেন একজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) ব্যক্তি তাঁর অনুরূপ ব্যক্তির কাছ থেকে... যাঁর স্মৃতিশক্তি (ضبط) ও বর্ণনার (نقل) ওপর নির্ভর করা যায়।
তাঁর উক্তি: "একে বর্ণনা করবেন একজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ব্যক্তি" এর অর্থ হলো বর্ণনাকারীকে (راوي) অবশ্যই ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) হতে হবে এবং এটি হাদিস সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তাবলির মধ্যে চতুর্থ শর্ত।
মূলগতভাবে 'আদল' (عدل) হলো: অবিচলতা বা সরলতা; রাস্তা যখন সোজা হয় এবং তাতে কোনো বক্রতা থাকে না, তখন বলা হয়: এটি একটি ন্যায়নিষ্ঠ বা সোজা পথ। অনুরূপভাবে সোজা লাঠিকে 'আদলাহ' বলা হয়, এটাই হলো এর মূল আভিধানিক অর্থ।
কিন্তু জ্ঞানীদের পরিভাষায় এটি হলো: কোনো ব্যক্তির এমন একটি গুণ যা তার দ্বীন ও মানবিকতার (مروءة) ক্ষেত্রে অবিচলতা বা সততা দাবি করে।
সুতরাং কোনো ব্যক্তির দ্বীন ও মানবিকতার (مروءة) ক্ষেত্রে এই অবিচলতাকে 'আদালাহ' (عدالة) বলা হয়।
এর ভিত্তিতে, পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তি ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) নয়; কারণ সে তার দ্বীনের ওপর অবিচল নয়। আমরা যদি এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখি যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, তবে সে ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) নয়, যদিও সে তার বর্ণনার (نقل) ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সত্যবাদীও হয়; কেননা সে তার দ্বীনের ওপর অবিচল নয়। একইভাবে যদি আমরা এমন কাউকে পাই যে জামাতের সাথে সালাত আদায় করে না, অথচ সে অত্যন্ত সত্যবাদী, তবুও সে ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) নয়; ফলে তার বর্ণিত হাদিস গ্রহণযোগ্য হবে না।
এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই (تبين) করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো কওমকে কষ্ট দিয়ে বসো} [আল-হুজুরাত: ৬]। আল্লাহ তাআলা যখন পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির সংবাদের ক্ষেত্রে যাচাই (تبين) করার নির্দেশ দিয়েছেন, তখন বুঝা গেল যে তার সংবাদ সরাসরি গ্রহণযোগ্য নয়; তা গ্রহণ করা হবে না আবার সরাসরি প্রত্যাখ্যানও করা হবে না যতক্ষণ না আমরা তা যাচাই করি।
আর আমরা হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে শর্তারোপ করি যে, বর্ণনাকারীকে (راوي) অবশ্যই ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) হতে হবে যার সংবাদ গ্রহণ করা সম্ভব, আর পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণযোগ্য নয়।
পক্ষান্তরে ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণযোগ্য, যার প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী: {এবং তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো...}
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
مِّنكُمْ} . [الطلاق: 2] . ولم يأمرنا بإشهادهم إلا لنقبل شهادتهم، إذ أن الأمر بقبول شهادة من لا تقبل شهادته لا فائدة منه وهو لغوٌ من القول.
أما المروءة فقال أهل العلم في تعريفها هو: أن يفعل ما يُجمّلُهُ ويزيُنهُ، ويدع ما يُدنّسه ويشينه.
أي أن المروءة هي أن يستعمل ما يجمله أمام الناس، ويزينه ويمدحوه عليه، وأن يترك ما يدنسه ويشينه عند الناس، كما لو فعل الإنسان شيئاً أمام المجتمع وهذا الفعل مخالف لما عليه الناس، فإذا رأوا ذلك الفعل عدوه فعلاً قبيحاً، لا يفعله إلا أراذل الناس والمنحطون من السفلة، فنقول: إن هذا ليس بعدل، وذلك لأنه مروءته لم تستقم، وبفعله هذا خالف ما عليه الناس فسقطت مروءته.
ومثاله الآن: لو أن رجلاً خرج في بلدنا هذا بعد الظهر، ومعه الغداء على صحن له، وصار يمشي في الأسواق، ويأكل أمام الناس في السوق، لسقطت مروءته من أعين الناس، ولصار محلاًّ للسخرية والآنتقاد من الجميع.
أما إذا خرج رجلٌ عند بابه ومعه إبريق الشاي والقهوة لكي يشربه عند الباب فهل يُعد هذا من خوارم المروءة أم لا؟
نقول: إن هذا فيه تفصيل:
1 - فإن كانت العادة جرت بمثل ذلك؛ فلا يُعد من خوارم المروءة؛ لأن هذا هو عُرف الناس وهو شيء مألوف عندهم، كما يفعله بعض كبار السن عندنا الآن، وذلك إذا كان أول النهار أخرج بساطاً له عند بابه، ومعه الشاي والقهوة، وجعل يشرب أمام الناس ومن مرّ بهم قالوا له: تفضل، فهذا لا بأس به؛ لأن من عادة الناس فعله.
2 - أما إن أتى بهذا الفعل على غير هذا الوجه، وكان الناس
...তোমাদের মধ্য থেকে।" [আত-তালাক: ২]। তিনি আমাদেরকে সাক্ষী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কেবল তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্যই; কারণ যার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় তাকে সাক্ষী রাখার নির্দেশ দেওয়া নিরর্থক এবং তা একটি অন্তঃসারশূন্য কথা।
পৌরুষ বা শিষ্টাচার (المروءة) সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণ এর সংজ্ঞায় বলেছেন: এটি হলো এমন কাজ করা যা ব্যক্তিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও সুশোভিত করে এবং এমন কাজ বর্জন করা যা তাকে কলঙ্কিত ও অপমানিত করে।
অর্থাৎ পৌরুষ (المروءة) হলো মানুষের সামনে এমন বিষয় অবলম্বন করা যা তাকে সুশোভিত করে এবং যার কারণে মানুষ তার প্রশংসা করে; আর মানুষের নিকট তাকে কলঙ্কিত ও নীচ করে এমন বিষয় বর্জন করা। যেমন কোনো ব্যক্তি যদি সমাজের সামনে এমন কাজ করে যা প্রচলিত রীতির পরিপন্থী এবং মানুষ সেই কাজটিকে দেখলে অত্যন্ত নিকৃষ্ট কাজ হিসেবে গণ্য করে, যা কেবল ইতর ও নিম্নশ্রেণীর লোকেরাই করে থাকে, তবে আমরা বলব: এই ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ (عدل) নয়। কারণ তার পৌরুষ (المروءة) অটল থাকেনি এবং এই কাজের মাধ্যমে সে জনরীতির পরিপন্থী আচরণ করেছে, ফলে তার পৌরুষ (المروءة) ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
এর বর্তমান উদাহরণ হলো: যদি কোনো ব্যক্তি আমাদের এই দেশে যোহরের পর থালায় খাবার নিয়ে বের হয় এবং বাজারে চলাফেরা করে মানুষের সামনে খেতে থাকে, তবে মানুষের দৃষ্টিতে তার পৌরুষ (المروءة) ক্ষুণ্ণ হবে এবং সে সবার নিকট উপহাস ও সমালোচনার পাত্রে পরিণত হবে।
কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি তার দরজার সামনে চা বা কফির পাত্র নিয়ে আসে সেখানে পান করার জন্য, তবে কি এটি পৌরুষ বিনাশকারী (خوارم المروءة) কোনো কাজ হিসেবে গণ্য হবে কি না?
আমরা বলব: এতে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে:
1 - যদি প্রচলিত অভ্যাস এমনই হয়ে থাকে, তবে তা পৌরুষ বিনাশকারী (خوارم المروءة) হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ এটিই মানুষের সামাজিক প্রথা এবং তাদের নিকট একটি পরিচিত বিষয়। যেমন বর্তমানে আমাদের এখানে কিছু বয়স্ক ব্যক্তিরা করে থাকেন; দিনের শুরুতে তারা দরজার সামনে আসন বিছিয়ে চা ও কফি নিয়ে বসেন এবং মানুষের সামনে পান করেন, আর যারা যাতায়াত করে তাদেরকে আপ্যায়নের আহ্বান জানান। এতে কোনো দোষ নেই; কারণ এটি মানুষের প্রচলিত অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত।
2 - কিন্তু যদি সে এই কাজটি ভিন্নভাবে করে এবং মানুষের...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ينتقدونه على فعله هذا، وصار من معائب الرجل واستهجن الناس هذا الفعل، صار هذا الفعل من خوارم المروءة.
وقد يختلف العلماء في تعديل رجل معين - وهذه تقع كثيراً - أنظر مثلاً التهذيب، أو تهذيب التهذيب لابن حجر، أو غيره تجد أن الشخص الواحد يختلف فيه الحفاظ، فيقول أحد الحفاظ: هذا رجل لا بأس به.
ويقول غيره: هو ثقة.
ويقول آخر: اضرب على حديثه، ليس بشيء.
فإذا اختلفوا فماذا نعمل؟
نقول: إذا اختلف العلماء في مثل هذه المسألة وغيرها، فإننا نأخذ بما هو أرجح، فإذا كان الذي وثقه أعلم بحال الشخص من غيره، فإننا نأخذ بقوله؛ لأنه أعلمُ بحاله من غيره.
ولهذا لا نرى أحداً يعلم حال الشخص إلا من كان بينه وبينه ملازمة، فإذا علمنا أنّ هذا الرجل ملازم له، ووصفه بالعدالة، قلنا هو أعلم من غيره فنأخذ بقوله.
وكذا ما إذا ضعَّف أحدهم رجلاً وكان ملازماً له، وهو أعرف بحاله من غيره، فإننا نأخذ بقوله.
فالمهم أنه إذا اختلف حفاظ الحديث في تعديل رجل، أو تجريحه، وكان أحدهما أقرب إلى معرفة الموصوف من الاخر، فإننا نأخذ بقول من هو أقرب إليه، وأعلم بحاله من غيره.
أما إن تساوى الأمران بأن كان كل واحد منهما بعيداً عن ذلك الشخص، أو جهلنا الأمر في ذلك.
فقد اختلف العلماء: هل نأخذ بالتعديل، أو نأخذ بالتجريح،
তারা তার এই কাজের জন্য তাকে সমালোচনা করেন এবং এটি সেই ব্যক্তির ত্রুটির অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে এবং মানুষ এই কাজটিকে অপছন্দ করে; ফলে এই কাজটি ব্যক্তিত্ব হরণকারী (خوارم المروءة) বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্তকরণের (تعديل) ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করতে পারেন—এবং এটি প্রায়শই ঘটে থাকে—উদাহরণস্বরূপ ইবনে হাজারের তাহজীব বা তাহজীবুত তাহজীব অথবা অন্য কোনো গ্রন্থ দেখুন, সেখানে আপনি দেখতে পাবেন যে একই ব্যক্তির ব্যাপারে হাফেজগণ (الحفاظ) ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করছেন। একজন হাফেজ হয়তো বলেন: এই ব্যক্তি সমস্যা নেই এমন (لا بأس به)।
আবার অন্য কেউ বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।
অন্যজন বলেন: তার হাদিস বর্জন করো (اضرب على حديثه), তিনি উল্লেখযোগ্য কেউ নন (ليس بشيء)।
সুতরাং যখন তারা মতভেদ করেন, তখন আমরা কী করব?
আমরা বলব: ওলামায়ে কেরাম যখন এ জাতীয় বা অন্য কোনো বিষয়ে মতভেদ করেন, তখন আমরা যা অধিক গ্রহণযোগ্য (أرجح) তা গ্রহণ করি। সুতরাং যিনি তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত (وثقه) করেছেন তিনি যদি অন্যের তুলনায় ওই ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত হন, তবে আমরা তার কথা গ্রহণ করব; কারণ তিনি অন্যের তুলনায় তার অবস্থা সম্পর্কে অধিক সম্যক জ্ঞাত।
এই কারণে আমরা মনে করি না যে, কারো সাথে সার্বক্ষণিক সাহচর্য (ملازمة) ছিল এমন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ তার অবস্থা সম্পর্কে পরিপূর্ণরূপে জানতে পারে। সুতরাং যখন আমরা জানতে পারি যে এই ব্যক্তি তার সাথে সার্বক্ষণিক সাহচর্যে ছিলেন এবং তাকে ন্যায়পরায়ণ (العدالة) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তখন আমরা বলি যে তিনি অন্যের তুলনায় অধিক অবগত, তাই আমরা তার বক্তব্যই গ্রহণ করি।
অনুরূপভাবে যখন তাদের কেউ কোনো ব্যক্তিকে দুর্বল (ضعَّف) সাব্যস্ত করেন এবং তিনি তার সাথে সার্বক্ষণিক সাহচর্যে (ملازمة) লিপ্ত ছিলেন এবং অন্যের তুলনায় তার অবস্থা সম্পর্কে ভালো জানতেন, তবে আমরা তার কথা গ্রহণ করি।
সারকথা হলো, যখন হাদিস বিশারদগণ (حفاظ الحديث) কোনো ব্যক্তিকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করার (تعديل) ক্ষেত্রে বা তার দোষ বর্ণনার (تجريح) ক্ষেত্রে মতভেদ করেন এবং তাদের মধ্যে একজন অন্যের তুলনায় ওই ব্যক্তি সম্পর্কে অধিক জানাশোনার নিকটবর্তী হন, তবে আমরা তারই বক্তব্য গ্রহণ করি যিনি তার অধিক নিকটবর্তী এবং অন্যের তুলনায় তার অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত।
তবে যদি উভয় দিকই সমান হয় যে, তাদের প্রত্যেকেই সেই ব্যক্তি থেকে দূরে ছিলেন অথবা এ বিষয়ে আমাদের জ্ঞান না থাকে।
সেক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন: আমরা কি ন্যায়পরায়ণতা সাব্যস্তকরণ (تعديل) গ্রহণ করব, নাকি দোষ বর্ণনা (تجريح) গ্রহণ করব?
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
بناء على أنه هل الأصل في الإنسان العدالة، أو الأصل فيه عدم العدالة؟
فمن قال: إن الأصل العدالة، أخذ بالعدالة.
ومن قال: إن الأصل عدم العدالة، أخذ بالجرح، وردَّ روايته.
وفصَّل بعضهم فقال: يقبل منهما ما كان مفسراً، والمفسَّر مثل أن يقول: المعدل الذي وصفه بالعدالة: هو عدلٌ، وما ذكر فيه من الجرح فقد تاب منه، مثل: أن يُجرح بأنه يشرب الخمر.
فيقول الذي وصفه بالعدالة: هو عدل وما ذُكرَ عنه من شْرب الخمر فقد تاب منه. إذاً نُقدِّم المفسَّر، لأنه معه زيادة علم، فقد علم أنه مجروح بالأول، ثم زال عنه ما يقتضي الجرح.
وإن كان الأمر بالعكس بأن قال الجارح: هذا الرجل ليس بعدل، لأنه مدمن على شرب الخمر، ففي هذه الحالة نقدِّم الجارح.
وإن لم يكن أحدهما مفسِّراً، أو فَسَّرا جميعاً شيئاً عن الراوي، فهنا نقول: إن كان الجرح أو التعديل غير مفسر، فينبغي أن نتوقف إذا لم نجد مرجحاً، فالواجب التوقف في حال هذا الرجل.
وليُعلم أن بعض علماء الحديث عندهم تشدد في التعديل، وبعضهم عندهم تساهل في التعديل.
يعني أن بعضهم من تشدده يجرح بما لا يكون جارحاً.
ومنهم من يكون على العكس فيتساهل فيعدَّل من لا يستحق التعيدل، وهذا معروف عند أهل العلم، فمن كان شديداً في الرواة فإن تعديله يكون أقرب للقبول ممن كان متساهلاً، وإن كان الحق أن يكون الإنسان قائماً بالعدل لا يشدد ولا يتساهل، لأننا إذا تشددنا فربما نرد حديثاً صحَّ عن النبي صلى الله عليه وسلم، بناء على هذا التشدد، وكذا ما إذا تساهل الإنسان، فربما ينسب حديثاً إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وهو لم يصحّ ثبوته إليه
এটি নির্ভর করে মানুষের মূল অবস্থা কি ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), নাকি মূল অবস্থা হলো ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) অনুপস্থিতি—এর ওপর ভিত্তি করে।
সুতরাং যারা বলেন যে মূল ভিত্তি হলো ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), তারা ন্যায়পরায়ণতাকেই (عدالة) গ্রহণ করেন।
আর যারা বলেন যে মূল ভিত্তি হলো ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) অনুপস্থিতি, তারা সমালোচনাকে (جرح) গ্রহণ করেন এবং তার বর্ণনাকে (رواية) প্রত্যাখ্যান করেন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে বলেছেন: এই উভয়ের মধ্যে যা সুনির্দিষ্ট (مفسر) তা গ্রহণ করা হবে। আর সুনির্দিষ্ট (مفسر) হওয়ার উদাহরণ হলো যেমন: প্রশংসাকারী (معدل), যিনি তাকে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) গুণে গুণান্বিত করেছেন, তিনি বললেন: "তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل), আর তার ব্যাপারে যে সমালোচনার (جرح) কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে তিনি তওবা করেছেন।" উদাহরণস্বরূপ: তাকে সমালোচনা (جرح) করা হলো যে তিনি মদ্যপান করেন।
এমতাবস্থায় যিনি তাকে ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) গুণে গুণান্বিত করেছেন তিনি বলেন: "তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدل) এবং তার মদ্যপান সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে তিনি তওবা করেছেন।" এমতাবস্থায় আমরা সুনির্দিষ্ট (مفسر) বর্ণনাকে প্রাধান্য দেব, কারণ এর সাথে অতিরিক্ত জ্ঞান যুক্ত রয়েছে। কেননা তিনি জানতেন যে উক্ত ব্যক্তি প্রথমে সমালোচিত (مجروح) ছিলেন, অতঃপর তার সমালোচনার (جرح) কারণটি দূরীভূত হয়েছে।
আর বিষয়টি যদি এর বিপরীত হয়, যেমন সমালোচনাকারী (جارح) বললেন: "এই ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ (عدل) নন, কারণ তিনি মদ্যপানে অভ্যস্ত", তবে এই অবস্থায় আমরা সমালোচনাকারীর (جارح) বক্তব্যকে প্রাধান্য দেব।
যদি তাদের কারোর বক্তব্যই সুনির্দিষ্ট (مفسر) না হয়, অথবা উভয়েই বর্ণনাকারীর (راوي) ব্যাপারে কোনো বিষয়ের সুনির্দিষ্ট (مفسر) ব্যাখ্যা প্রদান করেন, তবে এখানে আমরা বলব: যদি সমালোচনা (جرح) বা প্রশংসা (تعديل) সুনির্দিষ্ট (مفسر) না হয়, তবে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো কারণ খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের বিরত থাকা উচিত। সুতরাং এই ব্যক্তির ব্যাপারে বিরত থাকা (توقف) আবশ্যক।
জেনে রাখা উচিত যে, হাদিসের কতিপয় আলেমদের মধ্যে প্রশংসা করার (تعديل) ক্ষেত্রে কঠোরতা রয়েছে এবং তাদের কারো কারো মধ্যে প্রশংসা করার (تعديل) ক্ষেত্রে শিথিলতা রয়েছে।
অর্থাৎ তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতি কঠোরতার কারণে এমন বিষয় দিয়ে সমালোচনা (جرح) করেন যা প্রকৃতপক্ষে সমালোচনামূলক (جارح) কোনো বিষয় নয়।
আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর বিপরীত করেন, অর্থাৎ তিনি শিথিলতা প্রদর্শন করেন এবং এমন ব্যক্তিকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত (تعديل) করেন যে প্রশংসার (تعديل) যোগ্য নয়। এটি বিদগ্ধ আলেমদের নিকট সুপরিচিত। সুতরাং বর্ণনাকারীদের (رواة) ব্যাপারে যিনি কঠোর, তার করা প্রশংসা (تعديل) শিথিল ব্যক্তির তুলনায় গ্রহণের অধিকতর নিকটবর্তী। যদিও সঠিক পন্থা হলো মানুষের উচিত ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা, যেখানে কঠোরতাও থাকবে না আবার শিথিলতাও থাকবে না। কারণ আমরা যদি কঠোরতা করি, তবে হতে পারে আমরা এই কঠোরতার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসকে প্রত্যাখ্যান করে ফেলব। অনুরূপভাবে মানুষ যদি শিথিলতা করে, তবে সম্ভবত সে এমন হাদিসকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করবে যা তাঁর থেকে বিশুদ্ধভাবে (صحيح) প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
بسبب هذا التساهل.
وقوله "ضابط".
هو الذي يحفظ ما روى تحمّلاً وأداءً.
مثل: أن يكون نبيهاً يقظاً عند تحديث الشيخ للحديث، فلا تكاد تخرج كلمة من فم الشيخ إلا وقد ضبطها وحفظها وهذا هو التحمل.
أما الأداء: فأن يكون قليل النسيان، بحيث أنه إذا أراد أن يحدث بما سمعه من الشيخ، أداه كما سمعه تماماً، فلابد من الضبط في الحالين في حال التحمل، وحال الأداء.
وضد الضبط هو: أن يكون الإنسان لديه غفلة عند التحمل، أو أن يكون كثير النسيان عند الأداء.
ولا نقول أن لا ينسى؛ لأننا إذا قلنا: إنه يشترط أن لا ينسى، لم نأخذ عُشر ما صح عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولكن المراد ألا يكون كثير النسيان، فإن كان كثير النسيان فإن حديثه لا يكون صحيحاً، لماذا؟
لاحتمال أن يكون قد نسي، والناس يختلفون في هذا اختلافاً كبيراً، لا عند التحمل ولا عند الأداء، فبعض الناس يرزقه الله فهماً وحفظاً جيداً، فبمجرد ما أن يسمع الكلمة، إلا وقد تصورها، وقد حفظها وضبطها تماماً وأودعها الحافظة عنده، على ما هي عليه تماماً، وبعض الناس يفهم الشيء خطأ ثم يُودع ما فهمه إلى الحافظة.
وكذلك النسيان فإن الناس يختلفون فيه اختلافاً عظيماً، فمن الناس من إذا حفظ الحديث استودعه تماماً كما حفظه، لا ينسى منه شيئاً، وإن نسي فهو نادر، ومن الناس من يكون بالعكس.
أما الأول: فمعروفٌ أنه ضابط.
أما الثاني: وهو كثير النسيان فليس بضابط، ولكن يجب عليه
এই শিথিলতার (تساهل) কারণে।
এবং তাঁর উক্তি "প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط)"।
তিনি হলেন ঐ ব্যক্তি, যিনি যা বর্ণনা করেন তা আহরণ (تحمل) ও বর্ণনা (أداء) উভয় অবস্থায় সংরক্ষিত রাখেন।
উদাহরণস্বরূপ: শায়খ যখন হাদিস বর্ণনা করবেন, তখন ছাত্র অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকবেন; ফলে শায়খের মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হওয়ার সাথে সাথেই তিনি তা আয়ত্ত ও মুখস্থ করে ফেলবেন—এটিই হলো আহরণ (تحمل)।
আর বর্ণনা (أداء) হলো: তিনি যেন অল্প বিস্মৃতিপরায়ণ হন, ফলে তিনি যখন শায়খের নিকট থেকে শোনা হাদিসটি বর্ণনা করতে চাইবেন, তখন হুবহু তা সেভাবেই বর্ণনা করবেন যেভাবে শুনেছিলেন। সুতরাং আহরণ (تحمل) এবং বর্ণনা (أداء)—উভয় অবস্থাতেই স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (ضبط) থাকা আবশ্যক।
স্মৃতিশক্তির প্রখরতার (ضبط) বিপরীত হলো: আহরণ (تحمل) করার সময় মানুষের মধ্যে উদাসীনতা (غفلة) থাকা অথবা বর্ণনা (أداء) করার সময় অত্যধিক বিস্মৃতিপরায়ণ হওয়া।
আমরা এটি বলছি না যে, তিনি একেবারেই ভুলবেন না। কারণ যদি আমরা শর্তারোপ করি যে তিনি কখনোই ভুলবেন না, তবে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহের দশভাগের একভাগও আমরা গ্রহণ করতে পারতাম না। বরং উদ্দেশ্য হলো—তিনি যেন অত্যধিক বিস্মৃতিপরায়ণ না হন। যদি তিনি অত্যধিক বিস্মৃতিপরায়ণ হন, তবে তাঁর হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) হবে না। কেন?
কারণ এতে ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মানুষ এ ক্ষেত্রে অর্থাৎ আহরণ (تحمل) ও বর্ণনা (أداء) উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পার্থক্যের অধিকারী হয়। আল্লাহ তাআলা কোনো কোনো মানুষকে অত্যন্ত প্রখর মেধা ও হিফজ করার শক্তি দান করেন। ফলে কোনো শব্দ শোনা মাত্রই তারা তা অনুধাবন করতে পারে এবং তা হুবহু সংরক্ষণ ও নিখুঁতভাবে আয়ত্ত (ضبط) করে নিজেদের স্মৃতিতে জমা করে রাখে। আবার কোনো কোনো মানুষ বিষয়গুলো ভুল বোঝে এবং যা ভুল বুঝেছে তা-ই স্মৃতিতে জমা করে।
অনুরূপভাবে বিস্মৃতির ক্ষেত্রেও মানুষের মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। মানুষের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা হাদিস মুখস্থ করার পর তা হুবহু সেভাবেই স্মৃতিতে গেঁথে রাখেন যেভাবে মুখস্থ করেছিলেন, তা থেকে কিছুই ভুলে যান না; আর যদি ভুলে যানও, তবে তা খুবই বিরল। আবার কিছু মানুষ এর উল্টো হয়ে থাকে।
প্রথম প্রকারের ব্যক্তি সম্পর্কে এটি পরিচিত যে, তিনি প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط)।
আর দ্বিতীয় প্রকারের ব্যক্তি—যিনি অত্যধিক বিস্মৃতিপরায়ণ—তিনি প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابط) নন; তবে তাঁর ওপর আবশ্যক হলো...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
تعاهد ما تحمله أكثر مما يجب على الأول، لأنه إذا لم يتعاهده فسوف يُنسى ويضيع.
فإن قال قائل هل للنسيان من علاج أو دواء؟
قلنا: نعم له دواء - بفضل الله - وهي الكتابة، ولهذا امتن الله عز وجل على عباده بها فقال: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِى خَلَقَ خَلَقَ الْأِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الَاْكْرَمُ الَّذِى عَلَّمَ بِالْقَلَمِ} . [العق: 1 - 4] . فقال "اقرأ" ثم قال: {الَّذِى عَلَّمَ بِالْقَلَمِ} يعني اقرأ من حفظك، فإن لم يكن فمن قلمك، فالله تبارك وتعالى بين لنا كيف نداوي هذه العلة، وهي علة النسيان وذلك بأن نداويها بالكتابة، والآن أصبحت الكتابة أدقُّ من الأول، لأنه وجد - بحمد الله - الآن المسجِّل.
وقوله: "عن مثله".
أي أنه لابد أن يكون الراوي متصفاً بالعدالة والضبط، ويرويه عمن اتصف بالعدالة والضبط.
فلو روى عدل عن فاسق، فلا يكون حديثه صحيحاً، وكذا إذا روى إنسان عدل جيد الحفظ، عن رجل سيء الحفظ، كثير النسيان، فإن حديثه لا يقبل، ولا يكون صحيحاً، لأنه لم يروه عن رجل ضابط مثله.
সংগৃহীত ইলম বা বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রথমটির চেয়ে অধিক প্রয়োজনীয়, কারণ যদি এর যথাযথ যত্ন না নেওয়া হয় তবে তা বিস্মৃত হয়ে যাবে এবং হারিয়ে যাবে।
যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, বিস্মৃতির কি কোনো প্রতিকার বা ঔষধ আছে?
আমরা বলি: হ্যাঁ, আল্লাহর অনুগ্রহে এর প্রতিকার রয়েছে আর তা হলো লিখন। এই কারণেই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ করে বলেছেন: "পাঠ করো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আলাক (রক্তপিণ্ড) থেকে। পাঠ করো, আর তোমার রব অতি দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন।" [আল-আলাক: ১-৪]। তিনি বলেছেন "পাঠ করো" অতঃপর বলেছেন: "যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন", যার অর্থ হলো—তোমার মুখস্থ ভাণ্ডার থেকে পাঠ করো, আর যদি তা সম্ভব না হয় তবে তোমার কলম (লিখন) থেকে পাঠ করো। সুতরাং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা আমাদের নিকট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আমরা কীভাবে এই ত্রুটির চিকিৎসা করব, আর তা হলো বিস্মৃতির ত্রুটি—অর্থাৎ লিখনের মাধ্যমে এর প্রতিকার করা। বর্তমানে লিখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও নিখুঁত হয়েছে, কারণ আল্লাহর প্রশংসায় বর্তমানে রেকর্ডার (শব্দ ধারণ যন্ত্র) আবিষ্কৃত হয়েছে।
এবং তাঁর উক্তি: "তার মতো একজনের নিকট থেকে"।
অর্থাৎ বর্ণনাকারীকে (راوي) অবশ্যই ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) এবং স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতার (ضبط) গুণে গুণান্বিত হতে হবে এবং তিনি এটি এমন ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করবেন যিনিও ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) ও স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতার (ضبط) গুণে গুণান্বিত ছিলেন।
সুতরাং যদি একজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ব্যক্তি কোনো পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করেন, তবে তার হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) হবে না। একইভাবে যদি একজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ব্যক্তি এমন কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করেন যার স্মৃতিশক্তি দুর্বল (سيء الحفظ) এবং যে অধিক বিস্মৃত হয়, তবে তার হাদিস গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তা বিশুদ্ধ (صحيح) হবে না; কারণ তিনি তার মতো একজন সুসংরক্ষণকারী (ضابط) ব্যক্তির নিকট থেকে তা বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযূমাতিল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসত্বলাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৪০)
مباحث حديثية* المبحث الأول:
تنقسم الأخبار المنقولة إلينا إلى ثلاثة أقسم:
1 - الحديث: وهو يختص بما أُضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
2 - الأثر: وهو يختص بما أضيف إلى من دونه، من الصحابة، أو التابعين، أو من بعدهم.
3 - الخبر: وهو يعم الحديث والأثر.
ولا يطلق الأثر على المرفوع للنبي صلى الله عليه وسلم إلا مقيَّداً، مثل أن يقال: وفي الأثر عن النبي صلى الله عليه وسلم، أما عند الإطلاق فهو ما أُضيف إلى الصحابي فمن دونه.
* المبحث الثاني:
أحوال التلقي ثلاثة:
1 - أن يصِّرح بالسماع منه.
2 - أن يثبت لُقيّهُ به دون السماع منه.
3 - أن يكون معاصراً له ولكن لم يثبت أنه لقيه.
فأما إذا ثبت السماع منه فقال: سمعت فلاناً أو حدثني فلان، فالاتصال واضح.
أما إذا ثبت اللقي دون السماع فقال الراوي: قال فلان كذا وكذا، أو عن فلان كذا وكذا، ولم يقل سمعتُ أو حدثني، لكن قد ثبتت الملاقاة بينهما فهنا يكون متصلاً، أيضاً؛ لأنه مادام أن الراوي عدلٌ، فإنه لا ينسب إلى أحدٍ كلاماً إلا ما قد سمعه منه، هذا هو الأصل.
হাদিস বিষয়ক আলোচনা* প্রথম পরিচ্ছেদ:
আমাদের নিকট বর্ণিত সংবাদসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত:
1 - হাদিস: এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তার জন্য নির্দিষ্ট।
2 - আসার (أثر): এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্যদের যেমন—সাহাবী, তাবিঈ বা তাঁদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তার জন্য নির্দিষ্ট।
3 - সংবাদ (خبر): এটি হাদিস এবং আসার (أثر) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মারফু (مرفوع) বিষয়ের ক্ষেত্রে 'আসার' (أثر) শব্দটি শর্তযুক্ত করা ছাড়া ব্যবহৃত হয় না; যেমন—বলা হয়: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আসারে (أثر) রয়েছে..."। তবে সাধারণত এটি সাহাবী বা তাঁর পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত বাণীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:
হাদিস গ্রহণের অবস্থা তিনটি:
1 - তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণের (سماع) বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা।
2 - তাঁর সাথে সাক্ষাৎ (لقاء) সাব্যস্ত হওয়া, তবে সরাসরি শ্রবণের (سماع) বিষয়টি বর্ণিত না হওয়া।
3 - তাঁর সমসাময়িক হওয়া, কিন্তু তাঁর সাথে সাক্ষাৎ (لقاء) হওয়া প্রমাণিত না হওয়া।
যদি তাঁর থেকে শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত হয় এবং বর্ণনাকারী বলেন: "আমি অমুককে বলতে শুনেছি" অথবা "অমুক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন", তবে সূত্রের এই নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) স্পষ্ট।
কিন্তু যদি সরাসরি শ্রবণ (سماع) ব্যতিরেকে কেবল সাক্ষাৎ (لقاء) সাব্যস্ত হয় এবং বর্ণনাকারী বলেন: "অমুক এমন এমন বলেছেন" অথবা "অমুক থেকে বর্ণিত", অথচ তিনি "আমি শুনেছি" বা "আমার নিকট বর্ণনা করেছেন" শব্দ ব্যবহার করেননি, তবুও তাঁদের মধ্যে যেহেতু সাক্ষাৎ (لقاء) প্রমাণিত হয়েছে, তাই এটিকেও নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হিসেবে গণ্য করা হবে। কারণ বর্ণনাকারী যতক্ষণ পর্যন্ত ন্যায়পরায়ণ (عدل), ততক্ষণ তিনি কারও প্রতি এমন কোনো কথা সম্বন্ধযুক্ত করবেন না যা তিনি তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করেননি; এটিই হলো মূলনীতি।