(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح عمدة الفقه - ابن تيمية - من كتاب الصلاة القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: شرح العمدة لشيخ الإسلام ابن تيمية - من أول كتاب الصلاة إلى آخر باب آداب المشي إلى الصلاة
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728 هـ)
المحقق: خالد بن علي بن محمد المشيقح
الناشر: دار العاصمة، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م
عدد الصفحات: 614
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 رمضان 1436
শারহ উমদাতিল ফিকহ - ইবনে তাইমিয়া - সালাত অধ্যায় হতে বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
বই: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রচিত শারহুল উমদাহ - সালাত অধ্যায়ের শুরু হতে সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদব পরিচ্ছেদের শেষ পর্যন্ত
লেখক: তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানী আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭২৮ হি.)
সম্পাদক: খালিদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-মুশাইকিহ
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ، রিয়াদ، সৌদি আরব রাজত্ব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৮ হি. - ১৯৯৭ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১৪
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ রমজান ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[كتاب الصلاة]ـ
تعريف الصلاةالصلاة في أصل اللغة: الدعاء ومنه قول تعالى: {وَصَلِّ عَلَيْهِمْ أن صَلاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ} وقوله تعالى: {وَمِنَ الأَعْرَابِ مَنْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَيَتَّخِذُ مَا يُنْفِقُ قُرُبَاتٍ عِنْدَ اللَّهِ وَصَلَوَاتِ الرَّسُولِ} وقول النبي صلى الله عليه وسلم: "إذا دعي أحدكم فليجب فإن كان مفطرا فليطعم وأن كان صائما فليصل" رواه مسلم والداعي يؤم المدعو ويقصده وسمي الثاني من الخيل مصليا لاتباعه السابق وقصده إياه ثم سمي عظم الورك صلا لأنه هو الذي يقصده المصلي من السابق ثم اتسع ذلك حتى قال علي رضي الله عنه سبق رسول الله صلى الله عليه وسلم وصلى أبو بكر وثلث عمر ولما بين القاصد والمقصود من الإيصال والقرب كان منه في الاشتقاق الأوسط الوصل لأن فيه الصاد واللام والواو ولهذا يقال الصلاة صلة بالله ومنه الاشتقاق الأكبر صلى النار واصطلابها لما فيه من المماسة والمقاربة والدعاء قصد المدعو.
[সালাত অধ্যায়]
সালাতের সংজ্ঞামূল ভাষায় সালাত অর্থ হলো: দোয়া বা প্রার্থনা। মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত: "আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনার দোয়া তাদের জন্য প্রশান্তিদায়ক।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর মরুচারীদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে যারা আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রাখে এবং যা কিছু ব্যয় করে তাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের এবং রাসূলের দোয়ার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যখন তোমাদের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন সে যেন তাতে সাড়া দেয়। যদি সে রোজা না রাখা অবস্থায় থাকে তবে যেন আহার করে, আর যদি রোজাদার হয় তবে যেন দোয়া করে।" এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর আহ্বানকারী যাকে আহ্বান করা হয় তাকে লক্ষ্য করে এবং তার দিকেই অগ্রসর হয়। ঘোড়দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী ঘোড়াকে 'মুসাল্লি' বলা হয়, কারণ সে অগ্রগামী ঘোড়াকে অনুসরণ করে এবং তার দিকে লক্ষ্য রাখে। এরপর নিতম্বের হাড়কে 'সালা' বলা হয়েছে, কারণ দ্বিতীয় ঘোড়াটি প্রথম ঘোড়ার ঠিক ওই অংশটিকেই লক্ষ্য করে অগ্রসর হয়। পরবর্তীতে এই শব্দের প্রয়োগ আরও বিস্তৃত হয়েছে, এমনকি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অগ্রগামী হয়েছেন, আবু বকর তার অনুসরণ করেছেন এবং উমর হয়েছেন তৃতীয়।" যেহেতু আবেদনকারী ও উদ্দিষ্টের মধ্যে সংযোগ ও নৈকট্য বিদ্যমান, তাই মধ্যম ব্যুৎপত্তি বা ইশতিকাকে আওসাত অনুযায়ী এটি 'ওয়াসল' (সংযোগ) থেকে গৃহীত; কারণ এতে সাদ, লাম ও ওয়াও বর্ণসমূহ রয়েছে। এই কারণেই বলা হয়, সালাত হলো আল্লাহর সাথে বান্দার এক নিবিড় সংযোগ। আর বৃহৎ ব্যুৎপত্তি বা ইশতিকাকে আকবার অনুযায়ী আগুনের সংস্পর্শ বা দহন অর্থেও এর ব্যবহার রয়েছে, কারণ এতেও স্পর্শ ও নৈকট্য পাওয়া যায়। আর দোয়া বা প্রার্থনা হলো যাকে ডাকা হচ্ছে তার দিকে লক্ষ্য স্থির করা।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والتوجه إليه أما على وجه المسألة وأما على وجه العبادة المحضة لأن دعاء الشيء هو طلبه وإرادته سواء طلب لذاته أو للأمر منه ومن ذلك قوله تعالى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} فإنه فسر بالمسألة: (وبالعبادة وقوله: {إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي} إلى قوله: {هُوَ الْحَيُّ لا إِلَهَ إلا هُوَ فَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} إلى قوله: {قُلْ إِنِّي نُهِيتُ أن أَعْبُدَ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ} إلى قوله: {أَيْنَ مَا كُنْتُمْ تُشْرِكُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالُوا ضَلُّوا عَنَّا بَلْ لَمْ نَكُنْ نَدْعُوا مِنْ قَبْلُ شَيْئاً} وقوله تعالى: {فَادْعُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} وقوله تعالى: {قُلْ مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلا دُعَاؤُكُمْ} وقوله تعالى: {وَلَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيّاً} وقوله تعالى: {وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لا يَخْلُقُونَ شَيْئاً} وقوله تعالى: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الأرض} وقوله تعالى: {إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلُ نَدْعُوهُ إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ} وقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ} الآية إلى قوله تعالى: {وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ} وقوله تعالى: {قُلِ ادْعُوا اللَّه أَوَِ
এবং তাঁর প্রতি অভিমুখী হওয়া হয় কোনো কিছু প্রার্থনার উদ্দেশ্যে অথবা একান্ত ইবাদতের উদ্দেশ্যে; কারণ কোনো বিষয়কে ডাকার অর্থ হলো তাকে অনুসন্ধান করা এবং তাকে সংকল্প করা, চাই তা তার সত্তার জন্য হোক কিংবা তার কাছে কোনো বিষয়ের জন্য হোক। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।" কারণ এখানে এর ব্যাখ্যা প্রার্থনা এবং ইবাদত—উভয় অর্থেই করা হয়েছে। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে..." মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "তিনিই চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; অতএব তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাকো।" মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "বলো, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, তাদের ইবাদত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।" মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের শরিক করতে তারা কোথায়? তারা বলবে, তারা আমাদের ছেড়ে হারিয়ে গেছে; বরং আমরা ইতিপূর্বে কিছুই ডাকতাম না।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব তোমরা আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাকো।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "বলো, তোমাদের প্রার্থনা না থাকলে আমার প্রতিপালক তোমাদের কোনো পরোয়া করতেন না।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "হে আমার প্রতিপালক! আপনাকে ডেকে আমি কখনো বঞ্চিত হইনি।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদের ডাকে, তারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "বলো, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, তাদের কথা কি ভেবে দেখেছ? তারা পৃথিবীতে কী সৃষ্টি করেছে তা আমাকে দেখাও।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আমরা ইতিপূর্বে তাঁর কাছেই প্রার্থনা করতাম; নিশ্চয়ই তিনি পরম হিতৈষী, পরম দয়ালু।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ডাকো, তারা তো তোমাদের মতোই বান্দা..." এই আয়াত হতে মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "আর তাঁর পরিবর্তে তোমরা যাদের ডাকো, তারা তোমাদের সাহায্য করার সামর্থ্য রাখে না।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "বলো, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো অথবা..."
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيّاً مَا تَدْعُوا فَلَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} وقوله تعالى: {قُلْ يَا أيها النَّاسُ أن كُنْتُمْ فِي شَكٍّ مِنْ دِينِي فَلا أَعْبُدُ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ أَعْبُدُ اللَّهَ الَّذِي يَتَوَفَّاكُمْ} إلى قوله: {وَلا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَنْفَعُكَ وَلا يَضُرُّك} وقوله تعالى: {لَهُ دَعْوَةُ الْحَقِّ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لا يَسْتَجِيبُونَ لَهُمْ بِشَيْءٍ} الآية وقوله تعالى: {إِنْ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ إلا إِنَاثاً وأن يَدْعُونَ إلا شَيْطَاناً مَرِيداً لَعَنَهُ اللَّهُ} فإن الدعاء في هذه المواضع يراد به نفس اتخاذ المدعو ربا وإلها بحيث يسأل ويعبد وقد فصل معنى الدعاء بقوله: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} وقوله تعالى: {فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ} وفي قوله: {عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} ونحو ذلك من الآي فهو يعبد من حيث هو اله ويسأل من حيث هو رب وأن كان كل عابد سائلا وطالبا وكل سائل عابدا وقاصدا من جهة الالتزام فسميت العبادات لله المحضة مثل الصلاة والذكر والسؤال والركوع والسجود والطواف صلاة أو هي دعاء لله وعبادة لله بلا توسط شيء آخر ولهذا قال ابن مسعود ما دمت تذكر الله فأنت في صلاة وأن كنت في السوق ثم
{রাহমানকে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, হে লোকসকল! যদি তোমরা আমার দ্বীনের ব্যাপারে সন্দেহে থাকো, তবে জেনে রেখো, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করো আমি তাদের ইবাদত করি না। বরং আমি ইবাদত করি সেই আল্লাহর যিনি তোমাদের মৃত্যু দান করেন।} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডেকো না যা তোমার কোনো উপকার করতে পারে না এবং কোনো অপকারও করতে পারে না।} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সত্য ডাক কেবল তাঁরই প্রাপ্য। আর যারা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যদের ডাকে, তারা তাদের কোনো আবেদনেই সাড়া দেয় না।}—আয়াতটি শেষ পর্যন্ত। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তাঁকে বাদ দিয়ে কেবল দেবীদেরই ডাকে এবং তারা কেবল বিদ্রোহী শয়তানকেই ডাকে যাকে আল্লাহ লানত করেছেন।} মূলত এসব ক্ষেত্রে 'দুয়া' (আহ্বান) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যাকে ডাকা হচ্ছে তাকেই রব এবং ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করা, যার কাছে প্রার্থনা করা হয় এবং যার ইবাদত করা হয়। আর 'দুয়া'-এর অর্থকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই।} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁরই ওপর ভরসা রাখুন।} এবং তাঁর বাণী: {আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি।}—এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াতের মাধ্যমেও। সুতরাং তিনি ইলাহ হিসেবে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য এবং রব হিসেবে প্রার্থিত হওয়ার যোগ্য। যদিও অপরিহার্যতার দিক থেকে প্রত্যেক ইবাদতকারীই একজন প্রার্থনাকারী ও অন্বেষণকারী এবং প্রত্যেক প্রার্থনাকারীই একজন ইবাদতকারী ও সংকল্পকারী। তাই আল্লাহর জন্য নিবেদিত বিশুদ্ধ ইবাদতসমূহকে— যেমন সালাত, জিকির, প্রার্থনা, রুকু, সিজদা এবং তাওয়াফ— সালাত হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে অথবা এগুলো অন্য কোনো মাধ্যম ছাড়াই আল্লাহর প্রতি দুয়া ও আল্লাহর ইবাদত। এই কারণেই ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন: "যতক্ষণ তুমি আল্লাহকে স্মরণ করছ ততক্ষণ তুমি সালাতেই আছ, যদিও তুমি বাজারে থাকো।" তারপর...
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
غلب هذا الاسم على ما كان فيه فعل مثل القيام والسجود والطواف دون القول المحض كالقراءة والذكر والسؤال ولأن ذلك عبادة بجميع البدن ولهذا اشترطت له الطهارة وأن اشتركا في استحباب الطهارة ثم غلب على القيام والركوع والسجود مع أذكارها لأنها أخص بالتعبد من الطواف ولهذا حرم فيه الكلام والعمل الكثير وسمي السجود المفرد كسجود التلاوة والشكر والقيام المفرد كقيام الجنازة صلاة وأن كان اغلب الصلوات المشروعة هي مما اشتملت على القيام والقعود والركوع والسجود فإذا أطلق اسم الصلاة في الشرع لم يفهم منه إلا هذا وهي القيام والركوع والسجود لله بالأذكار المشروعة فيها ثم قال جماعة من أصحابنا منهم أبو الخطاب وابن عقيل هي منقولة في اللغة إلى الشرع ومعدول بها عن المفهوم الأول إلى مفهوم آخر.
وقال القاضي وغيره ليست منقولة بل ضمت إليها الشريعة شروطا وقيودا وهي مبقاة على ما كانت عليه وكذلك القول في اسم الزكاة والصيام وغيرها من الأسماء الشرعية.
وتحقيق ذلك أن تصرف الشرع فيها كتصرف أهل العرف في بعض الأسماء اللغوية أما تخصيصها ببعض معانيها كالدابة وأما تحويلها إلى ما بينه وبين المعنى الأول سبب كإسم الراوية والغائط والعذرة فالصلاة كانت اسما لكل دعاء فصاري إسما لدعاء مخصوص أو كانت اسما.
এই শব্দটি মূলত সেই সব কাজের ক্ষেত্রে প্রাধান্য লাভ করেছে যাতে দাঁড়ানো, সিজদাহ এবং তাওয়াফের মতো শারীরিক কর্মকাণ্ড বিদ্যমান, শুধুমাত্র পাঠ করা, জিকির করা বা প্রার্থনা করার মতো নিছক বাচনিক বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়। এর কারণ হলো এটি পুরো শরীরের মাধ্যমে সম্পাদিত একটি ইবাদত, আর এই কারণেই এর জন্য পবিত্রতা অর্জনকে শর্ত করা হয়েছে, যদিও উভয় ক্ষেত্রেই (কথা ও কাজ) পবিত্রতা মুস্তাহাব হওয়ার দিক থেকে সামঞ্জস্য রয়েছে। অতঃপর এটি দাঁড়ানো, রুকু ও সিজদাহ এবং সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট জিকিরসমূহের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে; কারণ তাওয়াফের তুলনায় এগুলো ইবাদতের জন্য অধিক সুনির্দিষ্ট। এই কারণেই এতে কথাবার্তা বলা এবং অতিরিক্ত কাজ করা হারাম করা হয়েছে। এমনকি একক সিজদাহ যেমন সিজদায়ে তিলাওয়াত ও শোকরানা সিজদাহ এবং একক কিয়াম যেমন জানাজার কিয়ামকেও সালাত নামে অভিহিত করা হয়েছে। যদিও অধিকাংশ শরয়ি সালাত কিয়াম, বসা, রুকু ও সিজদাহর সমন্বয়ে গঠিত, তবুও শরীয়তের পরিভাষায় যখন সালাত শব্দটি সাধারণভাবে বলা হয়, তখন এর দ্বারা কেবল এটিই বোঝা যায়। আর তা হলো শরয়ি জিকিরসমূহ পালনের মাধ্যমে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কিয়াম, রুকু ও সিজদাহ করা। অতঃপর আমাদের একদল ফকিহ, যাদের মধ্যে আবু আল-খাত্তাব এবং ইবনুল আকিল রয়েছেন, তারা বলেছেন: এটি ভাষা থেকে শরীয়তের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং এর প্রথম অর্থ থেকে বিচ্যুত করে অন্য একটি অর্থে নেওয়া হয়েছে।
আল-কাযী এবং অন্যান্যেরা বলেছেন: এটি স্থানান্তরিত হয়নি, বরং শরীয়ত এর সাথে কিছু শর্ত ও সীমাবদ্ধতা যুক্ত করেছে মাত্র এবং এটি তার পূর্বের আভিধানিক অবস্থাতেই বহাল আছে। যাকাত, সিয়াম এবং অন্যান্য শরয়ি নামের ক্ষেত্রেও একই বক্তব্য প্রযোজ্য।
এর প্রকৃত হাকিকত হলো, এসব ক্ষেত্রে শরীয়তের প্রয়োগ মূলত কিছু ভাষাগত শব্দের ক্ষেত্রে পরিভাষাবিদদের ব্যবহারের মতো। হয় এটি তার অর্থের একাংশকে নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে হয়েছে—যেমন 'দাব্বাহ' শব্দের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, অথবা একে এমন কোনো অর্থের দিকে রূপান্তরিত করা হয়েছে যার সাথে মূল অর্থের কোনো সম্পর্ক বা যোগসূত্র রয়েছে—যেমন 'রাবিয়াহ', 'গাইত' এবং 'আজরাহ' শব্দগুলোর ক্ষেত্রে হয়েছে। মূলত সালাত শব্দটি প্রতিটি দোয়ার জন্য একটি নাম ছিল, অতঃপর তা বিশেষ একটি দোয়ার নামে পরিণত হয়েছে অথবা তা একটি নাম ছিল।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
لدعاء فنقلت إلى الصلاة الشرعية لما بينها وبين الدعاء من المناسبة والأمر في ذلك متقارب نعم قد يسرف بعض من يقول هي منقولة فلا يشترط أن يكون بين المنقولة منه والمنقولهه إليه مناسبة بل يجعله وصفا ثانيا حتى كأنه ليس من المجاز اللغوي ويسرف من يقول هي منقولة حتى يعتقد أن مفهومها في الشرع هو محض الدعاء والمسألة: (فقط مما يكون في اللغة وما خرج عن ذلك من قيام وقعود وغير ذلك فهو شرط في الحكم بمعنى الصلاة التي هي الدعاء لا تجزئ إلا على هذا الوجه كما لا تجزئ إلا بتقدم الإيمان والطهارة ولا يجعل هذه الأفعال جزءا من المسمى ولا مفهومة من نفس الاسم وكلا القولين طرف وخيار الأمور أوسطها وبهذا التقرير قول من يقول هي منقولة اقرب إلى الصواب وكذلك أيضا بهذا التقرير أن معنى النقل تخصيصها ببعض معانيها وهي في ذلك أبلغ من تخصيص أهل العرف الاسم ببعض معانيه كالدابة والنجم لأن ذلك التخصيص كان معلوما بخلاف ما كان من خصائص الصوم والصلاة والزكاة فإنه لم يكن معروفا معناه ولا دلالة للفظ عليه وقد اتفقوا على أن الصلاة المشروعة بعد بيان النبي صلى الله عليه وسلم صارت في المفهوم من لفظ الصلاة في الكتاب والسنة ومن ادعى بعد ذلك أنها بعد ذلك تصرف إلى مجرد المعنى اللغوي فقد غلط.
والصلاة واجبة في الجملة قال تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إلا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ
সালাত মূলত দুআ বা প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত হতো, অতঃপর একে শারীয়াহসম্মত সালাতের অর্থে স্থানান্তরিত করা হয়েছে; কারণ দুআ ও শারীয়াহসম্মত সালাতের মধ্যে গভীর সামঞ্জস্য রয়েছে এবং এই বিষয়টি পরস্পর নিকটবর্তী। হ্যাঁ, যারা একে ‘স্থানান্তরিত’ (মানকুলাহ) বলেন, তাদের কেউ কেউ হয়তো অতিরঞ্জন করেন যে, যে শব্দ থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং যে অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে—এই উভয়ের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য থাকা শর্ত নয়। বরং তিনি একে দ্বিতীয় একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেন, যেন এটি আর ভাষাগত রূপক থাকে না। আবার যারা এটি স্থানান্তরিত নয় বলে মনে করেন, তারাও অতিরঞ্জন করেন—এমনকি তারা বিশ্বাস করেন যে, শরীয়তে এর মূল ধারণা কেবল নিছক দুআ ও প্রার্থনা মাত্র। (তারা বলেন: কেবল যা ভাষাগতভাবে বিদ্যমান থাকে তা-ই মূল, আর এর বাইরে দণ্ডায়মান হওয়া, উপবেশন করা বা অন্য যা কিছু আছে, তা কেবল বিধানের শর্ত মাত্র। অর্থাৎ দুআ রূপী সালাত কেবল এভাবেই শুদ্ধ হয়, যেমন ঈমান ও পবিত্রতা ছাড়া তা শুদ্ধ হয় না)। তারা এই শারীরিক কর্মগুলোকে সংজ্ঞায়িত বিষয়ের অংশ হিসেবে গণ্য করেন না এবং নামের মূল অর্থ থেকেও তা উপলব্ধি করেন না। এই উভয় মতই দুই প্রান্তিকতা, আর সর্বোত্তম বিষয় হলো মধ্যমপন্থা। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী যারা একে ‘স্থানান্তরিত’ বলেন, তাদের বক্তব্যই সত্যের অধিক নিকটবর্তী। একইভাবে এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী স্থানান্তরের অর্থ হলো—শব্দটিকে তার বিশেষ কিছু অর্থের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া। এক্ষেত্রে এটি প্রচলিত পরিভাষায় কোনো বিশেষ বিশেষ্যকে নির্দিষ্ট করার চেয়েও অধিক তাৎপর্যপূর্ণ, যেমন: ‘দাব্বাহ’ (চতুষ্পদ জন্তু) বা ‘নাজম’ (তারকা) শব্দের অর্থ নির্দিষ্ট করা। কারণ সেই সুনির্দিষ্টকরণ আগে থেকেই পরিচিত ছিল, কিন্তু সিয়াম, সালাত ও জাকাতের বৈশিষ্ট্যগুলো এমন ছিল যে, এর প্রকৃত অর্থ বা শব্দের মাধ্যমে এর নির্দেশনার বিষয়গুলো আগে থেকে পরিজ্ঞাত ছিল না। আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনার পর শারীয়াহসম্মত সালাত-ই কুরআন ও সুন্নাহর ‘সালাত’ শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়েছে। এরপর কেউ যদি দাবি করে যে, এটি কেবল আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হবে, তবে সে ভুল করেছে।
সালাত সামগ্রিকভাবে ওয়াজিব বা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তাদের কেবল এই আদেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে...}
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ} وقال تعالى: {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ} وقال: {إِنَّ الصَّلاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَاباً مَوْقُوتاً} ونصوص القرآن التي فيها ذكر الصلاة كثيرة جدا.
وكذلك السنة منها حديث عبد الله بن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "بني الإسلام على خمس شهادة أن لا اله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وحج البيت وصوم رمضان" متفق عليه.
وأجمعت الأمة على أن الصلاة واجبة في الجملة وأنها أعظم مباني الإسلام الفعلية وهي عمود الدين وسنذكر أن شاء الله بعض خصائصها.
"একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্যকারী হয়ে, এবং তারা সালাত কায়েম করবে ও জাকাত প্রদান করবে।}" এবং মহান আল্লাহ বলেন: "{অতঃপর যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তারা দ্বীনের ক্ষেত্রে তোমাদের ভাই।}" এবং তিনি বলেন: "{নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে।}" আর কুরআনের যে সকল উদ্ধৃতিতে সালাতের উল্লেখ রয়েছে তা সংখ্যায় অত্যধিক।
অনুরূপভাবে সুন্নাহর মধ্যেও এর প্রমাণ রয়েছে, যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিস যে, তিনি বলেছেন: "ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বায়তুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা।" (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত)।
আর উম্মত এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছে যে, সালাত সামগ্রিকভাবে ওয়াজিব এবং এটি ইসলামের আমলগত ভিত্তিগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং এটিই দ্বীনের স্তম্ভ। ইনশাআল্লাহ আমরা এর কিছু বৈশিষ্ট্য অচিরেই উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وجوب الصلاة وأدلة ذلكمسألة: (روى عبادة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "خمس صلوات كتبهن الله على العبد في اليوم والليلة فمن حافظ عليهن كان له عند الله عهد أن يدخله الجنة ومن لم يحافظ عليهن لم يكن له عند الله عهد أن شاء عذبه وأن شاء غفر له").
فالصلوات الخمس واجبة على كل مسلم بالغ عاقل إلا الحائض والنفساء.
أما عدد الصلوات المكتوبات وعدد ركعاتها في حق المقيم الآمن فهو من باب العلم العام الذي توارثته الأمة خلفا عن سلف عن رسول الله صلى الله عليه وسلم المبلغ عن الله والمبين عنه معاني خطابه وتأويل كلامه الشارع عن الله بإذنه وبما انزل إليه من الكتاب والحكمة.
وقد تواترت الأحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم بذلك مثل الحديث الذي ذكره الشيخ رحمه الله وقد رواه أحمد وأبو داود والنسائي وابن ماجة وعن طلحة ابن عبيد الله أن أعرابيا جاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ثائر الرأس فقال: يا رسول الله اخبرني ماذا فرض الله علي من الصلوات قال: "الخمس إلا أن تطوع شيئا" فقال اخبرني ماذا فرض الله علي من الصيام فقال: "شهر رمضان إلا أن تطوع" فقال: اخبرني ماذا فرض الله علي من الزكاة قال فاخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم بشرائع الإسلام قال: والذي أكرمك لا أتطوع شيئا ولا انقص مما فرض الله علي شيئا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أفلح أن صدق أو دخل الجنة أن صدق" متفق عليه.
নামাজের আবশ্যকতা এবং এর প্রমাণাদিমাসআলা: (উবাদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর দিন ও রাতে ফরজ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলোর হিফাজত করবে, আল্লাহর কাছে তার জন্য এই অঙ্গীকার রয়েছে যে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে ব্যক্তি এগুলোর হিফাজত করবে না, আল্লাহর কাছে তার জন্য কোনো অঙ্গীকার নেই; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন।")
ঋতুবতী এবং নেফাসগ্রস্ত নারী ব্যতীত প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলিমের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ।
আর মুকিম (নিবাসে অবস্থানকারী) ও নিরাপদ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফরজ নামাজের সংখ্যা এবং সেগুলোর রাকাত সংখ্যা হচ্ছে এমন এক সাধারণ জ্ঞানের বিষয় যা উম্মত পর্যায়ক্রমে পূর্বসূরিদের থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছে। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে প্রদানকারী এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর সম্বোধনের অর্থ ও বাণীর ব্যাখ্যা সুস্পষ্টকারী। তিনি আল্লাহর অনুমতিতে এবং তাঁর প্রতি নাযিলকৃত কিতাব ও হিকমতের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিধান প্রবর্তনকারী।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে মুতাওয়াতির হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে, যেমন সেই হাদিসটি যা শায়খ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উল্লেখ করেছেন। এটি ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আর তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে বর্ণিত যে, এক গ্রাম্য ব্যক্তি অবিন্যস্ত চুলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার ওপর কত ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন? তিনি বললেন: "পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে কিছু আদায় করো।" সে বলল: আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার ওপর কতটুকু রোজা ফরজ করেছেন? তিনি বললেন: "রমজান মাস, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে কিছু পালন করো।" এরপর সে বলল: আমাকে বলুন, আল্লাহ আমার ওপর কতটুকু জাকাত ফরজ করেছেন? বর্ণনাকারী বলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের বিধানসমূহ সম্পর্কে অবহিত করলেন। সে ব্যক্তি বলল: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন! আমি অতিরিক্ত কিছু করব না এবং আল্লাহ আমার ওপর যা ফরজ করেছেন তা থেকে সামান্য কিছু কমও করব না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সে সফলকাম হবে যদি সত্য বলে থাকে, অথবা সে জান্নাতে প্রবেশ করবে যদি সত্য বলে থাকে।" (বুখারি ও মুসলিম)।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وعن أنس بن مالك قال: "فرضت الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم ليلة اسري به خمسين ثم نقصت حتى جعلت خمسا ثم نودي يا محمد أنه لا يبدل القول لدي وأن لك بهذه الخمس خمسين" رواه أحمد والنسائي والترمذي وصححه.
ومعناه في الصحيحين من حديث مالك بن صعصعة وغيره مثل حديث معاذ بن جبل لما قال النبي صلى الله عليه وسلم: "أعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات في اليوم والليلة" وحديث ضمام بن ثعلبة وهي واجبة على كل مسلم بالغ لأن هذه شروط التكليف بالشرائع على أي حال كان من صحة أو سقم أو خوف أو إقامة أو سفر والأدلة الدالة على وجوبها في هذه الأحوال عموما وخصوصا كما تذكر أن شاء الله تعالى.
إلا الحائض والنفساء لما سبق في باب الحيض أن الحائض لم تكن تؤمر بقضاء الصلاة.
فأما المستحاضة ومن به سلس البول فتجب عليهما ويجب عليهما قضاء ما تركاه منها كما تقدم.
আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিরাজের রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছিল, অতঃপর তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়। এরপর ঘোষণা করা হলো: হে মুহাম্মদ, আমার কাছে কথার কোনো পরিবর্তন হয় না এবং তোমার জন্য এই পাঁচ ওয়াক্তের বিনিময়ে পঞ্চাশ ওয়াক্তেরই সওয়াব রয়েছে।" এটি আহমাদ, নাসাঈ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিজি একে সহিহ বলেছেন।
এর মর্মার্থ সহিহাইন-এ মালিক বিন সা’সা’আহ ও অন্যদের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন মুয়াজ বিন জাবাল বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন।" এবং যিমাম বিন সা’লাবাহর হাদিসও অনুরূপ। আর এটি প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব; কারণ এগুলোই শরিয়তের বিধান পালনের আবশ্যিক শর্ত (তাকলিফ), তা যে অবস্থাতেই হোক না কেন—সুস্থতা বা অসুস্থতা, ভয়ভীতি বা স্বদেশে অবস্থান কিংবা সফর। এসব অবস্থায় সাধারণভাবে ও বিশেষভাবে সালাত ওয়াজিব হওয়ার দলিলসমূহ ইনশাআল্লাহ সামনে উল্লেখ করা হবে।
তবে ঋতুবতী ও নেফাসগ্রস্ত নারী এর ব্যতিক্রম। কারণ ঋতুস্রাব অধ্যায়ে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, ঋতুবতী নারীকে সালাত কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না।
তবে ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী এবং যার প্রস্রাবের বেগ ধরে রাখার অক্ষমতা রয়েছে, তাদের ওপর সালাত ওয়াজিব এবং তাদের থেকে যা ছুটে গেছে তা কাজা করাও ওয়াজিব, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فصل.
فأما الكافر الأصلي فإنها تجب عليه في أشهر روايتين.
بمعنى أنه يعاقب على تركها في الآخرة وفي الدنيا إذا شاء الله تعجيل عقوبته ويذم على ذلك في الدنيا والآخرة.
فأما في حال كفره فلا تصح منه وإذا اسلم لم يجب عليه القضاء باتفاق لأن الله تعالى يقول: {قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا أن يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ} وعن عمرو بن العاص قال: " لما جعل الله الإسلام في قلبي أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت ابسط يدك فلأبايعك فبسط يمينه قال فقبضت يميني فقال: "ما لك يا عمرو" فقلت: "أردت أن اشترط" فقال: تشترط ماذا قلت يغفر لي قال: "أما علمت أن الإسلام يهدم ما كان قبله وأن الهجرة تهدم ما كان قبلها وأن الحج يهدم ما كان قبله" رواه مسلم.
وفي لفظ لأحمد: "الإسلام يجب ما قبله" وقوله: الإسلام يهدم ما قبله من ترك الواجبات وفعل المحرمات بخلاف الهجرة والحج فإنهما يهدمان ما فعل من إثم فما بين العبد وبين الله تعالى دون ما ترك من واجب يقضى لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر أحدا ممن اسلم أن يقضي صلاة ولا
পরিচ্ছেদ।
আর মূল কাফিরের ক্ষেত্রে, দুই বর্ণনার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী তার ওপর এটি (সালাত/বিধান) ওয়াজিব।
এর অর্থ হলো, এটি বর্জন করার কারণে পরকালে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, এবং ইহকালেও যদি আল্লাহ তার শাস্তি ত্বরান্বিত করতে চান তবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে; আর দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতেই এর জন্য তাকে নিন্দা করা হবে।
তবে তার কুফরি অবস্থায় তার পক্ষ থেকে এটি শুদ্ধ হবে না। আর সে যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তার ওপর কাজা করা ওয়াজিব নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: "যারা কুফরি করেছে তাদের বলো, যদি তারা বিরত হয় তবে তাদের অতীতে যা গত হয়েছে তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" আর আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন আল্লাহ আমার অন্তরে ইসলামের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করে দিলেন, তখন আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললাম: আপনার হাত প্রসারিত করুন যাতে আমি আপনার বায়আত গ্রহণ করতে পারি। অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাত প্রসারিত করলেন। তিনি বলেন, তখন আমি আমার হাত গুটিয়ে নিলাম। তিনি বললেন: হে আমর, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম: আমি শর্তারোপ করতে চাই। তিনি বললেন: তুমি কী শর্ত দিতে চাও? আমি বললাম: যেন আমাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তিনি বললেন: তুমি কি জানো না যে, ইসলাম তার পূর্ববর্তী সবকিছুকে মিটিয়ে দেয়, হিজরত তার পূর্ববর্তী সবকিছুকে মিটিয়ে দেয় এবং হজ তার পূর্ববর্তী সবকিছুকে মিটিয়ে দেয়?" (এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।
আহমাদ-এর এক শব্দে রয়েছে: "ইসলাম তার পূর্বের সবকিছুকে কর্তন করে (মিটিয়ে দেয়)।" আর তাঁর বাণী: "ইসলাম তার পূর্বের সবকিছু মিটিয়ে দেয়" - এর অর্থ হলো ওয়াজিবসমূহ বর্জন করা এবং হারাম কাজসমূহ করার গুনাহ। এর বিপরীত হলো হিজরত ও হজ, কেননা এ দুটি কেবল কৃত পাপরাশি মিটিয়ে দেয় যা বান্দা ও আল্লাহ তাআলার মাঝে রয়েছে, তবে এমন কোনো ওয়াজিব বর্জনের ক্ষেত্রে নয় যা কাজা করতে হয়। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসলাম গ্রহণকারীদের কাউকেই সালাত কাজা করার আদেশ দেননি এবং...
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
صوما ولا زكاة ولا يأخذه بضمان دم ولا مال ولا بشيء من الأشياء وهذا لأن الكافر كان منكرا للوجوب وللتحريم فكان الفعل والترك داخلا في ضمن هذا الاعتقاد الباطل وفرعا له فلما تاب من هذا الاعتقاد وموجبه غفر الله له الأصل وفروعه ودخلت هذه الفروع فيه في حال المغفرة كما دخلت فيه في حال المعصية بخلاف من تركه معتقدا للوجوب فإن الترك هناك غير مضاف إلى غيره بل إلى كسل فالتوبة منه بالنشاط إلى فعل ما ترك ولأن تخلل المسقط بين زمني الوجوب والقضاء لا يسقط الواجب كما لو ترك صلاة ثم حصل جنون أو حيض ثم حصل الغسل والطهارة فإنه يجب القضاء.
ولا يخاطب الكافر بفعلها إلا بعد أن يسلم لما روى ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم لما بعث معاذا إلى اليمن قال له: "إنك تأتي قوما أهل كتاب فليكن أول ما تدعوهم إليه شهادة أن لا اله إلا الله وأن محمدا رسول الله فإن هم أطاعوك لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات في يوم وليلة فإن هم أطاعوك لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم فترد إلى فقرائهم فإن هم أطاعوك لذلك فإياك وكرائم أموالهم واتق دعوة المظلوم فإنه ليس بينها وبين الله حجاب" رواه الجماعة.
রোজা নয়, জাকাত নয় এবং রক্ত বা সম্পদ বা অন্য কোনো কিছুর দায়বদ্ধতার মাধ্যমে তাকে পাকড়াও করা হবে না। এর কারণ হলো, কাফের ব্যক্তি (শরীয়তের) বিধানের আবশ্যকতা ও নিষিদ্ধতাকে অস্বীকার করত। ফলে কোনো কাজ করা বা বর্জন করা ছিল এই বাতিল আকিদারই অন্তর্ভুক্ত এবং তারই একটি শাখা। সুতরাং যখন সে এই আকিদা এবং এর অনিবার্য দাবি থেকে তওবা করল, তখন আল্লাহ তার মূল (অবিশ্বাস) এবং এর শাখা-প্রশাখাসমূহ ক্ষমা করে দিলেন। এই শাখাগুলো ক্ষমার আওতায় সেভাবেই দাখিল হয়েছে যেভাবে তা নাফরমানির অবস্থায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। পক্ষান্তরে সেই ব্যক্তির বিষয়টি ভিন্ন যে (শরীয়তের) আবশ্যকতা স্বীকার করা সত্ত্বেও তা বর্জন করেছে; কারণ সেখানে বর্জন করার বিষয়টি অন্য কিছুর সাথে নয় বরং অলসতার সাথে সম্পৃক্ত। তাই এর থেকে তওবা হলো যা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা পালনে সচেষ্ট হওয়া। আর এজন্য যে, ওয়াজিব হওয়া এবং কাজা করার সময়ের মধ্যবর্তী সময়ে দায়মুক্তি দানকারী কোনো বিষয়ের অনুপ্রবেশ ওয়াজিবকে রহিত করে না। যেমন যদি কেউ সালাত বর্জন করে এবং এরপর তার উন্মাদনা বা ঋতুস্রাব দেখা দেয়, অতঃপর সে গোসল ও পবিত্রতা অর্জন করে, তবে তাকে অবশ্যই কাজা করতে হবে।
আর কাফের ব্যক্তিকে তা পালনের নির্দেশ দেওয়া হবে না যতক্ষণ না সে ইসলাম গ্রহণ করে। কারণ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুআজকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন, তখন তাকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের একটি জাতির নিকট যাচ্ছ। সুতরাং তুমি তাদের সর্বপ্রথম যে বিষয়ের প্রতি দাওয়াত দেবে তা হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। যদি তারা এ বিষয়ে তোমার আনুগত্য করে, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যদি তারা এ বিষয়ে তোমার আনুগত্য করে, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে। যদি তারা এ বিষয়ে তোমার আনুগত্য করে, তবে তাদের উৎকৃষ্ট সম্পদ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থেকো এবং মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো। কেননা মজলুমের বদদোয়া এবং আল্লাহর মাঝে কোনো অন্তরাল নেই।" এটি জামাআতের ইমামগণ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وأما الكافر المرتد فالمشهور أنه يلزمه قضاء ما تركه قبل الردة من صلاة وزكاة وصوم ولا يلزمه قضاء ما تركه في زمن الردة وهذا هو المنصوص عنه في مواضع مفرقا بين ما تركه قبل الردة وبعدها.
وحكي ابن شاقلا رواية أنه لا يلزمه شيء من ذلك بناء على أن الردة تحبط العمل لقوله تعالى: {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ} وقوله: {وَمَنْ يَكْفُرْ بِالآيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ} وقوله: {وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} وقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ ارْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْهُدَى} إلى قوله تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ} ولأن الكفر الطارئ يهدم ما كان قبله من الصالحات كما أن الإيمان الطارئ يهدم ما كان قبله من السيئات والقضاء إنما يراد به جبر ما حصل به من الخلل في العمل فإذا حبط الجميع فلا معنى لجبره مع ظاهر قوله تعالى: {قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا أن يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ}.
আর মুরতাদ কাফিরের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মত হলো এই যে, ধর্মত্যাগের পূর্বে সে সালাত, জাকাত ও সওমের মধ্য থেকে যা ছেড়ে দিয়েছিল, সেগুলোর কাজা করা তার জন্য আবশ্যক। তবে মুরতাদ থাকাকালীন সময়ে সে যা ছেড়ে দিয়েছে, তার কাজা করা তার জন্য আবশ্যক নয়। তাঁর পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে এটিই স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে মুরতাদ হওয়ার আগের ও পরের ছেড়ে দেওয়া আমলের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে।
ইবনে শাকলা একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যে, তার ওপর এগুলোর কোনোটিই আবশ্যক নয়। এর ভিত্তি হলো এই যে, ধর্মত্যাগ বা মুরতাদ হওয়া আমলকে নিষ্ফল করে দেয়; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যদি আপনি শিরক করেন, তবে আপনার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে।" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি ঈমানকে অস্বীকার করে, তার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যায়।" এবং তাঁর বাণী: "যদি তারা শিরক করত, তবে তারা যা করত তা অবশ্যই তাদের জন্য নিষ্ফল হয়ে যেত।" এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয়ই যারা তাদের নিকট পথ স্পষ্ট হওয়ার পর তাদের পিঠ ফিরিয়ে ফিরে গেছে (মুরতাদ হয়েছে)..." আল্লাহ তাআলার এই বাণী পর্যন্ত: "এটি এজন্য যে, তারা এমন বিষয়ের অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে, ফলে তিনি তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল করে দিয়েছেন।" এছাড়া এজন্যও যে, পরবর্তীতে আপতিত কুফর তার পূর্ববর্তী নেক আমলগুলোকে ধ্বংস করে দেয়, যেমনটি পরবর্তীতে গ্রহণকৃত ঈমান তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়। আর কাজা করার উদ্দেশ্য হলো আমলের মধ্যে যে ত্রুটি ঘটেছে তা সংশোধন করা; সুতরাং যখন সবকিছুই নিষ্ফল হয়ে গেল, তখন তা সংশোধন করার কোনো অর্থ থাকে না। এর সাথে আল্লাহ তাআলার বাণীর প্রকাশ্য অর্থও বিদ্যমান: "আপনি কাফিরদের বলুন, যদি তারা বিরত হয়, তবে তাদের অতীতে যা অতিবাহিত হয়েছে তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وعنه رواية أخرى أنه يلزمه قضاء الجميع أما قبل الردة فلوجوبه عليه وأما ما بعد الردة فلأنه التزم حكم الإسلام فلا يقبل منه الرجوع عنه كالمسلم إذا تركها عامدا ولهذا يضمن ما أتلفه في حال الردة من دية أو مال على المنصوص ولهذا لا يقر على دينه بغير جزية ولا فرق.
فإذا لم يقر على الاعتقاد لم يقر على موجبه وهو الترك فيكون مطالبا بالفعل في الدنيا ولأن الدليل يقتضي وجوبها على كل حال وإنما عفي للكافر الأصلي عن القضاء لأن مدة الترك تطول غالبا وقد كان على دين يعتقد صحته ولم يعتقد بطلانه وهو مع ذلك مقر عليه يجوز أن يهادن ويؤمن وأن يسترق ويعقد له الجزية أن كان من أهل ذلك بخلاف المرتد.
ووجه المشهور أن ما تركه قبل الردة قد وجب في ذمته واستقر فلا يسقط بعد ذلك بفعله لو كان مباحا فكيف يسقط بالمحرم ولأنه ترك صلاة يخاطب بفعلها ابتداء فخوطب بقضائها كالنائم والناسي وأولى ولأن تخلل المسقط بين زمن الوجوب والقضاء لا يسقط الواجب كما لو ترك الصلاة ثم حصل جنون أو حيض ثم حصل العقل والطهارة فإنه يجب القضاء.
وأما حبوط عمله بالردة فقد منع ذلك بعض أصحابنا وقالوا الآيات فيمن مات على الردة بدليل قوله تعالى: {وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ} والإطلاق في الآيات البواقي لا يمنع ذلك لأن كل عقوبة مرتبة على كفر فإنها مشروطة
তাঁর থেকে অন্য একটি বর্ণনা হলো যে, তার ওপর সবগুলোরই কাজা করা আবশ্যক। মুরতাদ হওয়ার আগের বিষয়টির ক্ষেত্রে কারণ হলো তা তার ওপর ওয়াজিব ছিল। আর মুরতাদ হওয়ার পরের বিষয়টির কারণ হলো যে সে ইসলামের বিধানকে নিজের ওপর অবধারিত করে নিয়েছিল, তাই এর থেকে তার ফিরে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়; যেমন একজন মুসলিম ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ছেড়ে দিলে তার ক্ষেত্রে হয়। এই কারণেই মুরতাদ অবস্থায় সে যা বিনষ্ট করেছে—তা দিয়াত (রক্তপণ) হোক বা সম্পদ—বর্ণিত ভাষ্য অনুযায়ী সে তার জন্য দায়ী হবে। এই কারণেই তাকে জিজিয়া ব্যতীত তার নিজ ধর্মে থাকতে দেওয়া হবে না এবং এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই।
যখন তাকে তার বিশ্বাসের (আকিদা) ওপর বহাল রাখা হচ্ছে না, তখন সেই বিশ্বাসের অনিবার্য পরিণাম অর্থাৎ বর্জনের (সালাত ত্যাগ) ওপরও তাকে বহাল রাখা হবে না। ফলে দুনিয়াতে তার কাছে তা আদায়ের দাবি করা হবে। কারণ দলিলসমূহ সব অবস্থাতেই এটি ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে। আর মূল কাফিরের (আসল কাফির) ক্ষেত্রে কাজা ক্ষমা করা হয়েছে কারণ সালাত ত্যাগের সময়কাল সাধারণত দীর্ঘ হয় এবং সে এমন এক ধর্মে ছিল যা সে সত্য বলে বিশ্বাস করত এবং একে বাতিল মনে করত না। এর পাশাপাশি সে এমন এক অবস্থায় ছিল যার ওপর তাকে বহাল রাখা যায়; যেমন তার সাথে সন্ধি করা, তাকে নিরাপত্তা দেওয়া, তাকে দাসে পরিণত করা এবং সে যোগ্য হলে তার ওপর জিজিয়া ধার্য করা জায়েজ। কিন্তু মুরতাদের বিষয়টি এর বিপরীত।
প্রসিদ্ধ মতের যুক্তি হলো যে, মুরতাদ হওয়ার আগে সে যা বর্জন করেছে তা তার জিম্মায় ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্ত হয়ে গেছে। সুতরাং বৈধ কোনো কাজের দ্বারা যদি তা রহিত না হয়, তবে হারাম কাজের মাধ্যমে কীভাবে তা রহিত হতে পারে? তাছাড়া সে এমন সালাত ত্যাগ করেছে যা আদায়ের জন্য সে আদিতে আদিষ্ট ছিল, তাই ঘুমন্ত বা বিস্মৃত ব্যক্তির মতোই তাকে তা কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হবে, বরং এক্ষেত্রে তা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। কারণ ওয়াজিব হওয়ার সময় এবং কাজা করার সময়ের মাঝখানে কোনো রহিতকারী বিষয়ের অনুপ্রবেশ ওয়াজিবকে রহিত করে দেয় না; যেমন কেউ সালাত বর্জন করল, এরপর সে পাগল হয়ে গেল বা ঋতুবর্তী হলো, অতঃপর পুনরায় সে সুস্থ বা পবিত্র হলো, তবে তার ওপর কাজা করা ওয়াজিব হয়।
আর মুরতাদ হওয়ার কারণে আমল নিষ্ফল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের কোনো কোনো সাথী (আলিম) অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেছেন, আয়াতগুলো তাদের ক্ষেত্রে যারা মুরতাদ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে; যার দলিল মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের মধ্য থেকে যারা নিজ ধর্ম হতে ফিরে যাবে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে।" অন্যান্য আয়াতের সাধারণ বক্তব্য একে বাধা দেয় না, কারণ কুফরির ওপর নির্ধারিত প্রতিটি শাস্তিই শর্তযুক্ত।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
بالموت عليه.
فإن قيل التقييد في هذه الآية بالموت على الكفر إنما كان لأنه مرتب علي شيئين وهو حبوط العمل والخلود في النار.
والخلود إنما يستحقه الكافر وتلك الآيات إنما ذكر فيها الحبوط فقط فعلم أن مجرد الردة كافية.
قلنا قوله: {وَمَنْ يَكْفُرْ بِالآيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} وقوله تعالى: {لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} لا يكون إلا لمن مات مرتدا لأن الخاسرين الذين خسروا أنفسهم وأهليهم يوم القيامة وهذا ليس لمن مات على عمل صالح لأنه إذا عاد إلى الإسلام فقد غفر له الارتداد الماضي لأن التائب من الذنب كمن لا ذنب له وإذا زال الذنب زالت عقوباته وموجباته وحبوط العمل من موجباته يبين هذا أنه لو كان فعل في حال الردة ما تقتضيه الردة من شتم أو سب أو شرك لم يقم عليه إذا اسلم ولأن الكافر الحربي لو تقرب إلى الله بأشياء ثم ختم له بالإسلام لكانت محسوبة له بدليل ما روى حكيم ابن حزام قال: "قلت: يا رسول الله أرأيت أمورا كنت أتحنث بها في الجاهلية من صلاة وعتاقة وصلة هل فيها من اجر فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أسلمت على ما سلف لك من خير" متفق عليه فإذا كان الكفر المقارن
তার ওপর মৃত্যুর মাধ্যমে।
যদি বলা হয় যে, এই আয়াতে কুফরীর ওপর মৃত্যুবরণ করার শর্তারোপ কেবল একারণেই করা হয়েছে যে, বিষয়টি দুটি জিনিসের ওপর বিন্যস্ত: আমল বাতিল হওয়া এবং চিরকাল জাহান্নামে থাকা।
আর চিরস্থায়ীত্ব কেবল কাফেরেরই প্রাপ্য, অথচ ওই আয়াতগুলোতে কেবল আমল বাতিল হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে; সুতরাং বুঝা গেল যে, শুধুমাত্র মুরতাদ হওয়াই (আমল বাতিলের জন্য) যথেষ্ট।
আমরা বলব, আল্লাহর এই বাণী: "আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে কুফরী করে, তার আমল বাতিল হয়ে যায় এবং সে আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "যদি তুমি শিরক করো, তবে অবশ্যই তোমার আমল বাতিল হয়ে যাবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে"—এগুলো কেবল তারই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে মুরতাদ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের এবং নিজেদের পরিবারের ক্ষতি সাধন করেছে। আর এটি তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যে নেক আমলের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে; কেননা সে যখন পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে, তখন তার অতীত মুরতাদ হওয়ার বিষয়টি ক্ষমা করে দেওয়া হয়। কারণ গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো যার কোনো গুনাহ নেই। আর যখন গুনাহ অপসারিত হয়, তখন তার শাস্তি ও অনিবার্য পরিণামসমূহও অপসারিত হয়; আর আমল বাতিল হওয়া সেই অনিবার্য পরিণামগুলোরই অন্তর্ভুক্ত। এটি একথারই প্রমাণ দেয় যে, যদি সে মুরতাদ থাকা অবস্থায় মুরতাদ হওয়ার দাবি অনুযায়ী গালিগালাজ, কুৎসা বা শিরকের মতো কাজ করে থাকে, তবে ইসলাম গ্রহণ করার পর তার ওপর সেগুলোর দায় বর্তাবে না। আর একারণেও যে, কোনো হারবি কাফেরও যদি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কিছু কাজ করে এবং এরপর ইসলামের মাধ্যমে তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে, তবে তা তার জন্য গণ্য করা হবে। এর দলিল হলো হাকিম ইবনে হিযাম যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! জাহেলিয়াত যুগে আমি সালাত, গোলাম আজাদ করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মতো যে সব নেক কাজ করতাম, সেগুলোতে কি কোনো সওয়াব আছে? তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তুমি ইতিপূর্বে যেসব নেক কাজ করেছ, সেসবসহই তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ।" (বুখারী ও মুসলিম)। সুতরাং যখন কুফরী থাকা সত্ত্বেও...
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
للعمل لا يحبط إلا بشرط الموت عليه فإنه لا يحبط الكفر الطارئ إلا بشرط الموت أحرى وأولى لأن بقاء الشيء أولى من ابتدائه وحدوثه والدفع أسهل من الرفع ولهذا قالوا الردة والإحرام والعدة تمنع ابتداء النكاح دون دوامه كيف وتلك الأعمال حين عملت عملت لله سبحانه وقد غفر الله ما كان بعدها من الكفر بالتوبة منه.
ومن أصحابنا من قال يحبط العمل مطلقا لكن قال الإحباط هو إحباط الثواب لا إبطال العمل في نفسه بدليل أنه لا ينقض ما قبل الردة من الأمور المشروطة بالإسلام كالحكم والولاية والإرث والإمامة والذبح فلا تبطل صلاة من صلى خلفهم ولا يحرم ما ذبحه قبل الردة ولا يلزم من بطلان ثوابه مما فعله سقوط الواجب الذي لم يفعله فإن الردة تناسب التشديد لا التخفيف.
ثم نقول فعل المكتوبة له فائدتان إحداهما: أنه يقتضي الثواب.
والثانية: أنه يمنع العقاب الواجب بتقدير الترك فإذا ارتد ذهبت فائدة واحدة وهي الثواب وبقيت الأخرى وهي منع العذاب على الترك بحيث لا يعذب من فعل ويحبط عمله على نفس ما فعله من الخير وإنما يعذب على الكفر المحبط كما يعذب من لم يفعل وهذا الخلل يتعين جبره وإلا عوقب على الترك وهذا معنى ما يجيء في كثير من الأعمال الواجبة أنها غير مقبولة أي لا ثواب فيها وأن أبرأت الذمة بحيث لولا الفعل لكان مكلفا ولولا السبب المانع من القبول لكان فيها ثواب ولهذا قلنا إذا أتى قبل الردة ما يوجب الحد من زنى أو سرقة وغيرهما فإنه يقام عليه الحد بعد الإسلام الثاني نص عليه بخلاف من أقيم عليه الحد قبل
কর্ম ততক্ষণ পর্যন্ত নিষ্ফল হয় না যতক্ষণ না তাতে মৃত্যু সংঘটিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, আকস্মিক কুফর মৃত্যুর শর্ত ব্যতীত আমলকে নিষ্ফল করে না—এটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত ও অগ্রগণ্য। কারণ কোনো কিছুর স্থায়িত্ব তার সূচনা ও উৎপত্তির চেয়ে অধিক শক্তিশালী, আর কোনো কিছুকে আসতে বাধা দেওয়া তা দূর করার চেয়ে সহজ। এই কারণেই ফকীহগণ বলেছেন যে, ধর্মত্যাগ (রিদ্দাহ), ইহরাম এবং ইদ্দত বিবাহের সূচনাকে বাধাগ্রস্ত করে কিন্তু তার স্থায়িত্বকে নয়। তাছাড়া সেই আমলগুলো যখন করা হয়েছিল, তখন তা মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল, আর আল্লাহ তওবার মাধ্যমে পরবর্তী কুফরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
আমাদের সাথীদের (মাযহাবের আলিমদের) মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, আমল নিঃশর্তভাবে বাতিল হয়ে যায়। তবে তারা বলেছেন, এই বাতিল হওয়া মানে সওয়াব বা প্রতিদান বাতিল হওয়া, আমলটি নিজে বাতিল হওয়া নয়। এর প্রমাণ হলো, মুরতাদ হওয়ার পূর্বের এমন সব বিষয় যা ইসলামের শর্তযুক্ত ছিল—যেমন বিচারকার্য, অভিভাবকত্ব, উত্তরাধিকার, ইমামতি এবং জবেহ করা—এগুলো বাতিল হয়ে যায় না। সুতরাং তাদের পেছনে যারা সালাত আদায় করেছে তাদের সালাত বাতিল হবে না, এবং মুরতাদ হওয়ার আগে তারা যা জবেহ করেছে তা হারাম হবে না। এছাড়া তার কৃত আমলের সওয়াব বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে, সে যা করেনি সেই ওয়াজিব তার থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে; কেননা ধর্মত্যাগ কঠোরতার দাবি রাখে, শিথিলতার নয়।
অতঃপর আমরা বলি, ফরজ কাজ সম্পাদনের দুটি উপকারিতা রয়েছে। প্রথমটি হলো: এটি সওয়াবের দাবি রাখে।
দ্বিতীয়টি হলো: এটি কাজ বর্জনের ক্ষেত্রে অবধারিত শাস্তিকে প্রতিরোধ করে। সুতরাং কেউ যদি ধর্মত্যাগ করে, তবে একটি উপকারিতা চলে যায়—আর তা হলো সওয়াব; কিন্তু অন্যটি অবশিষ্ট থাকে—অর্থাৎ আমলটি বর্জন করার কারণে যে আজাব হতো তা থেকে সে রক্ষা পায়। ফলে যে ব্যক্তি আমল করেছে এবং তার আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে, তাকে তার কৃত সেই ভালো কাজের জন্য আজাব দেওয়া হবে না। বরং তাকে শাস্তি দেওয়া হবে সেই কুফরের জন্য যা আমলকে নিষ্ফল করে দেয়, যেভাবে আমল না করা ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হয়। আর এই ত্রুটি পূরণ করা আবশ্যক, অন্যথায় আমল বর্জনের জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। অনেক ওয়াজিব আমলের ক্ষেত্রে 'কবুল না হওয়ার' যে বর্ণনা আসে তার অর্থ এটাই—অর্থাৎ তাতে কোনো সওয়াব নেই, যদিও এর ফলে জিম্মাদারি বা দায়ভার মুক্ত হয়ে যায়। যদি সে কাজটি না করত তবে সে দায়বদ্ধ থাকত, আর যদি কবুল হওয়ার পথে কোনো প্রতিবন্ধক না থাকত তবে তাতে সওয়াব থাকত। একারণেই আমরা বলি, যদি মুরতাদ হওয়ার আগে কেউ জেনা বা চুরির মতো এমন কোনো কাজ করে যা হদ (শাস্তি) অনিবার্য করে, তবে পুনরায় ইসলাম গ্রহণের পর তার ওপর সেই হদ কার্যকর করা হবে—এটিই স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এর বিপরীতে যার ওপর মুরতাদ হওয়ার আগেই হদ কার্যকর করা হয়েছে তার বিষয়টি ভিন্ন।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الردة فإنه لا يقام عليه الحد ثانية فلو فرضنا أن لا فائدة أصلا فيما فعله قبل الردة فإنما ذلك فيما يفعله دون ما يوجب عليه ولم يفعله فإنه الآن قادر على فعله على وجه يبرئه فيجب عليه كما يجب عليه قضاء الحقوق التي كانت واجبة قبل الردة ويثاب على قضائها وأن كان قد بطلت فائدة ما قضاه قبل الردة.
وأما ما قبل الإسلام فإنه لم يخاطب به ابتداء وإنما يخاطب أولا بالإسلام فلا يجب قضاؤه كالكافر الأصلي فإن الموجب للسقوط في أحدهما: موجود في الآخر وقد ارتد جماعة في زمن النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر ومكث منهم طائفة على الردة برهة من الدهر ولم ينقل أن أحدا منهم أمر بالقضاء ولأن الترك هنا كان في ضمن الاعتقاد فلما غفر له الاعتقاد غفر له ما في ضمنه ولأن إيجاب القضاء هنا قد يكون فيه تنفير عن الإسلام لا سيما إذا كثرت أعوام الردة وكانت الأموال كثيرة فإنه قد يعجز عن القضاء فيصر على الكفر فرارا من القضاء.
فأما ما فعله قبل الردة فلا يجب عليه قضاؤه بحال لأن الذمة برئت منه حتى الحج في إحدى الروايتين.
وعنه إيجاب قضاء الحج فمن أصحابنا من علل ذلك بأن العمل الماضي حبط بالردة فيجب عليه ما يجب على الكافر الأصلي فعلى هذا يجب إعادة ما صلى إذا اسلم ووقته باق وهذه طريقة ابن شاقلا وأبي الخطاب وغيرهما.
ধর্মত্যাগ (মুরতাদ হওয়া) হলে তার উপর দ্বিতীয়বার হদ্দ কার্যকর করা হবে না। যদি আমরা ধরে নেই যে, ধর্মত্যাগের পূর্বে সে যা করেছে তাতে আদতে কোনো ফায়দা নেই, তবে তা কেবল সেই সব কাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যা তার জন্য করা আবশ্যক ছিল কিন্তু সে তা করেনি। এখন সে তা এমনভাবে পালন করতে সক্ষম যা তাকে দায়মুক্ত করবে, ফলে তার উপর তা করা ওয়াজিব, যেমনভাবে ধর্মত্যাগের পূর্বে ওয়াজিব হওয়া পাওনাগুলো (হক) আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব এবং তা আদায় করলে সে সওয়াব পাবে, যদিও ধর্মত্যাগের পূর্বে সে যা আদায় করেছিল তার উপকারিতা বাতিল হয়ে গেছে।
আর ইসলাম গ্রহণের পূর্বের বিষয়াবলি সম্পর্কে তাকে প্রাথমিকভাবে সম্বোধন করা হয়নি; বরং তাকে প্রথমে ইসলামের জন্যই আহ্বান করা হয়েছে। তাই মূল কাফিরের মতোই তার ওপর কাজা করা ওয়াজিব নয়। কারণ একজনের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির যে কারণ বিদ্যমান, তা অন্যের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং আবু বকর (রা.)-এর যুগে একদল লোক ধর্মত্যাগী হয়েছিল এবং তাদের একটি অংশ দীর্ঘ সময় ধর্মত্যাগের ওপর অটল ছিল। তাদের কাউকেই কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বর্ণিত হয়নি। তা ছাড়া, এখানে বর্জন করা বিষয়টি ছিল বিশ্বাসের অংশ হিসেবে; তাই যখন তার মূল বিশ্বাস বা আকিদা ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে, তখন তার আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোও ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। আরও কারণ হলো, এখানে কাজা করা ওয়াজিব করলে তা ইসলাম থেকে বিমুখতার কারণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি ধর্মত্যাগের সময়কাল দীর্ঘ হয় এবং সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি হয়; সেক্ষেত্রে সে কাজা করতে অক্ষম হয়ে কাজা থেকে বাঁচতে কুফরের ওপরই অটল থাকতে পারে।
আর ধর্মত্যাগের পূর্বে সে যা সম্পাদন করেছে, কোনো অবস্থাতেই তার কাজা করা ওয়াজিব নয়; কারণ সে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছিল, এমনকি দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী হজের ক্ষেত্রেও একই কথা।
আর তার থেকে অন্য এক বর্ণনায় হজের কাজা ওয়াজিব হওয়ার কথা এসেছে। আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ এর কারণ হিসেবে বলেছেন যে, ধর্মত্যাগের কারণে পূর্ববর্তী আমল বাতিল হয়ে গেছে, ফলে তার ওপর তা-ই ওয়াজিব হবে যা একজন মূল কাফিরের ওপর ওয়াজিব হয়। এই মতানুসারে, ইসলাম গ্রহণের পর যদি নামাজের ওয়াক্ত বাকি থাকে, তবে যে নামাজ সে আদায় করেছিল তা পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব হবে। এটি ইবনে শাকলা, আবুল খাত্তাব এবং অন্যদের অনুসৃত পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وقال القاضي والآمدي وأكثر أصحابه مثل الشريف أبي جعفر يجب إعادة الحج مع القول بأن العمل لم يحبط لأن هذا إسلام جديد والإسلام مبني على خمس فلا بد فيه من جميع المباني بخلاف ما تكرر وجوبه من الصلاة والزكاة والصوم ولأن الاحتساب له بذلك الحج لا يمنع أن يجب عليه حج ثان بالإسلام كالكافر الحربي لو حج ثم أسلم لزمه حج ثان مع أن ذلك الحج محسوب له وكذلك العبد والصبي لو حجا قبل الوجوب كتب لهما ثوابه ثم يلزمهما بالوجوب حج ثان.
وإذا اسلم لزمه قضاء ما تركه بعد الإسلام وأن لم يعلم وجوبه.
فصل.
وأما المجنون فلا يجب عليه قضاء على ما في ظاهر المذهب نص عليه في رواية صالح وأبي داود وغيرهما.
وقد روى حنبل عنه أن المجنون يقضي الصلاة والصيام إذا أفاق كالمغمى عليه.
وحمله بعض أصحابنا على الجنون العارض دون المطبق لقرب شبهه بالإغماء.
কাজী, আমেদী এবং শরীফ আবু জাফরের মতো তাঁর অধিকাংশ অনুসারীগণ বলেছেন যে, পূর্বের আমল বাতিল না হওয়ার কথা স্বীকার করেও হজ পুনরায় করা ওয়াজিব। কারণ এটি একটি নতুন ইসলাম, আর ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত; তাই এতে সকল স্তম্ভের সম্পাদন আবশ্যক। এটি সালাত, জাকাত ও সিয়ামের মতো নয় যার আবশ্যকতা বারবার ফিরে আসে। এছাড়া সেই হজটি তার আমলনামায় গণ্য হওয়া ইসলামের কারণে দ্বিতীয়বার হজ ওয়াজিব হওয়ার পথে বাধা নয়; যেমন হারবি কাফের যদি হজ করার পর ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তার ওপর দ্বিতীয়বার হজ করা ওয়াজিব হয়, যদিও ওই হজটি তার জন্য গণ্য করা হয়েছিল। অনুরূপভাবে দাস ও শিশু যদি হজ ওয়াজিব হওয়ার আগে হজ করে, তবে তাদের জন্য সওয়াব লেখা হয়, কিন্তু পরবর্তীতে ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পূরণ হলে তাদের ওপর পুনরায় হজ করা আবশ্যক হয়।
আর সে যখন ইসলাম গ্রহণ করবে, তখন ইসলাম গ্রহণের পর যা কিছু সে বর্জন করেছে তার কাজা করা তার ওপর ওয়াজিব হবে, যদিও সে তার আবশ্যকতা সম্পর্কে অবগত না থাকে।
পরিচ্ছেদ।
আর উন্মাদ ব্যক্তির ওপর কাজা করা ওয়াজিব নয়, যা মাযহাবের প্রকাশ্য মত হিসেবে স্বীকৃত। সালিহ, আবু দাউদ এবং অন্যদের বর্ণনায় ইমাম আহমাদ থেকে এটিই স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
হানবাল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উন্মাদ ব্যক্তি যখন সুস্থ হবে তখন সে সালাত ও সিয়ামের কাজা করবে, যেমনটি অজ্ঞান ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিধান দেওয়া হয়।
আমাদের কোনো কোনো অনুসারী এই বর্ণনাটিকে দীর্ঘস্থায়ী উন্মাদনার পরিবর্তে সাময়িক বা আকস্মিক উন্মাদনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে গণ্য করেছেন, যেহেতু এটি অজ্ঞান হওয়ার অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وقال في رواية أنه يحتمل الحال كالمبرسم بعد الصلاة وأن طال ذلك شهرا أو أكثر.
والأول هو المذهب لما روي عن علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "رفع القلم عن ثلاثة عن النائم حتى يستيقظ وعن الصبي حتى يحتلم وعن المجنون حتى يفيق" رواه أحمد وأبو داود والترمذي وقال حديث حسن وهذا الحديث ينفي القضاء والأداء لكن وجب القضاء على النائم لقوله: "من نام عن صلاة أو نسيها فليصلها إذا ذكرها" فبقي المجنون على الإطلاق كالصبي.
وأما من زال عقله بغير جنون فيجب عليه القضاء سواء كان السبب مباحا أو محرما من فعله أو من غير فعله كالسكران ببنج أو خمر والنائم والمغمى عليه لمرض أو شرب دواء أو غير ذلك.
وقال القاضي أن كان الإغماء بشرب دواء مباح لم يجب القضاء لأنه
এক বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, সালাতের পর মস্তিষ্কপ্রদাহে আক্রান্ত ব্যক্তির ন্যায় অবস্থা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও তা এক মাস বা তার চেয়ে দীর্ঘ হয়।
প্রথম মতটিই হলো মাযহাবের সিদ্ধান্ত। কারণ আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তিন ব্যক্তির ওপর থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, শিশু যতক্ষণ না সে স্বপ্নদোষের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ কাণ্ডজ্ঞান ফিরে পায়।" এটি আহমদ, আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন যে এটি একটি হাসান হাদিস। এই হাদিসটি (পাগলের ক্ষেত্রে) আদায় এবং কাযা উভয়টিকেই নাকচ করে দেয়। তবে ঘুমন্ত ব্যক্তির ওপর কাযা ওয়াজিব হয়েছে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বাণীর কারণে: "যে ব্যক্তি সালাত না পড়ে ঘুমিয়ে থাকল অথবা তা ভুলে গেল, সে যেন তা স্মরণ হওয়া মাত্রই আদায় করে নেয়।" ফলে পাগল ব্যক্তি শিশুর ন্যায় নিঃশর্ত বিধানের ওপর অবশিষ্ট থাকল।
আর পাগল হওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে যার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে, তার ওপর কাযা করা ওয়াজিব; চাই সেই কারণটি বৈধ হোক কিংবা অবৈধ হোক, তা তার নিজের কাজের ফলে হোক কিংবা অন্যের কাজের ফলে হোক। যেমন চেতনানাশক বা মদ্যপানের মাধ্যমে মাতাল হওয়া ব্যক্তি, ঘুমন্ত ব্যক্তি এবং অসুস্থতা, ঔষধ সেবন বা অন্য কোনো কারণে অজ্ঞান হওয়া ব্যক্তি।
কাজী বলেছেন যে, যদি অজ্ঞান হওয়াটা কোনো বৈধ ঔষধ সেবনের কারণে হয়ে থাকে, তবে কাযা ওয়াজিব হবে না, কারণ সে...
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
لو وجب القضاء لامتنع من شرب الدواء بخلاف إغماء المريض.
والمباح هو ما تحصل معه السلامه في اغلب الأحوال وأن كان سما في أقوى الوجهين.
وفي الآخر لا يجوز شرب السم بحال.
والأول المذهب لأنها عبادة تسقط بالإغماء.
وقيل أن كان عقله يزول بالدواء ويطول فهو كالمجنون وأن كان لا يدوم كثيرا فهو كالإغماء في الصيام وسائر العبادات.
قال الإمام أحمد أغمى على عمار بن ياسر ثلاثا وروي نحو ذلك عن سمرة بن جندب وعمران بن حصين وهذا لأن هذه الأسباب هي بين محرم لا يعذر في شربه وبين مباح تقصر مدته غالبا فأشبه النوم ويفارق الجنون فإنه يطول غالبا وينافي أهلية التكليف ويوجب الولاية على صاحبه ولا يجوز على الأنبياء ولأن الإغماء والنوم ونحوهما يزيل الإحساس الظاهر والعقل الظاهر وإلا فيجوز أن يرى رؤيا ويوحي إليه في حال نومه وإغمائه ويكون زوال العقل تبعا لزوال حس الظاهر بخلاف المجنون فإن حسه وإدراكه باق والعقل زائل فهو في ذلك ليس كالنائم ولهذا النائم والمغمى عليه يندر منهما القول والعمل بخلاف المجنون.
যদি কাজা করা ওয়াজিব হতো তবে সে ঔষধ সেবন করা থেকে বিরত থাকত, যা অসুস্থ ব্যক্তির মূর্ছা যাওয়ার অবস্থার বিপরীত।
আর মুবাহ বা বৈধ হলো সেটি যার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুস্থতা অর্জিত হয়, যদিও তা বিষ হয়—দুটি মতের মধ্যে অধিক শক্তিশালী মত অনুযায়ী।
আর অন্য মতে, কোনো অবস্থাতেই বিষ পান করা জায়েজ নেই।
আর প্রথমটিই হলো মাযহাব, কারণ এটি এমন এক ইবাদত যা মূর্ছা যাওয়ার কারণে রহিত হয়ে যায়।
কেউ কেউ বলেছেন, যদি ঔষধের প্রভাবে তার বিবেক বা বুদ্ধি লোপ পায় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে সে উন্মাদের ন্যায়; আর যদি তা দীর্ঘস্থায়ী না হয় তবে সিয়াম ও অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রে তা মূর্ছা যাওয়ার ন্যায় গণ্য হবে।
ইমাম আহমাদ বলেছেন, আম্মার বিন ইয়াসির তিন দিন মূর্ছিত ছিলেন এবং সামুরা বিন জুনদুব ও ইমরান বিন হুসাইন থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আর এটি এই কারণে যে, এই কারণগুলো হয় এমন হারামের অন্তর্ভুক্ত যেক্ষেত্রে তা পান করার বিষয়ে কোনো ওজর গ্রহণযোগ্য নয়, অথবা এমন মুবাহ বা বৈধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যার সময়কাল সাধারণত সংক্ষিপ্ত হয়, ফলে তা নিদ্রার সদৃশ হয় এবং উন্মাদনা থেকে পৃথক হয়। কেননা উন্মাদনা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তা শরয়ি দায়িত্ব পালনের যোগ্যতার পরিপন্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর অভিভাবকত্বকে আবশ্যক করে, আর নবীদের ক্ষেত্রে তা হওয়া অসম্ভব। তদুপরি মূর্ছা যাওয়া, ঘুম এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো বাহ্যিক অনুভূতি ও বাহ্যিক বুদ্ধিকে বিলুপ্ত করে, অন্যথায় ঘুম বা মূর্ছা যাওয়ার অবস্থায় স্বপ্ন দেখা বা ওহী প্রাপ্ত হওয়া সম্ভব এবং বুদ্ধির বিলুপ্তি ঘটে বাহ্যিক অনুভূতির বিলুপ্তির অনুগামী হিসেবে। উন্মাদের বিষয়টি এর বিপরীত, কেননা তার বাহ্যিক অনুভূতি ও উপলব্ধি অবশিষ্ট থাকে কিন্তু বুদ্ধি বিলুপ্ত হয়, তাই এক্ষেত্রে সে নিদ্রিত ব্যক্তির ন্যায় নয়। আর এই কারণেই নিদ্রিত ও মূর্ছিত ব্যক্তির থেকে কোনো কথা বা কাজ প্রকাশ পাওয়া দুর্লভ, যা উন্মাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
فصل.
وأما الصبي فلا تجب عليه في أشهر الروايتين.
وعنه أنها تجب عليه إذا بلغ عشرا اختارها أبو بكر والتميمي لما روى عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مروا أبناءكم بالصلاة لسبع واضربوهم عليها لعشر سنين وفرقوا بينهم في المضاجع" رواه أحمد وأبو داود وعن سبرة الجهني قال قال رسول الله: "مروا الصبي بالصلاة إذا بلغ سبع سنين وإذا بلغ عشر سنين فاضربوه عليها" رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن فقد أمر بالعقاب على تركها وما يعاقب على ترك شيء إلا الواجب لا سيما مع رأفة
পরিচ্ছেদ।
আর শিশুর ক্ষেত্রে, দুই বর্ণনার মধ্যে অধিকতর প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী তার ওপর (সালাত) ওয়াজিব নয়।
এবং তাঁর থেকে অপর এক বর্ণনায় রয়েছে যে, যখন সে দশ বছর বয়সে পৌঁছাবে তখন তার ওপর তা ওয়াজিব হবে। আবু বকর এবং তামিমি এই মতটি গ্রহণ করেছেন। এর কারণ হলো, আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও, এবং দশ বছর বয়সে তার (নামাজ ত্যাগের) জন্য তাদের প্রহার করো এবং তাদের শোয়ার বিছানা পৃথক করে দাও।" এটি আহমাদ এবং আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। এবং সাবরা আল-জুহানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন: "শিশুকে নামাজের নির্দেশ দাও যখন সে সাত বছর বয়সে পৌঁছাবে, আর যখন সে দশ বছর বয়সে পৌঁছাবে তখন তাকে এর জন্য প্রহার করো।" এটি আবু দাউদ এবং তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন এটি একটি হাসান হাদিস। অতএব, তিনি নামাজ ত্যাগের কারণে শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন, আর কোনো কিছু ওয়াজিব হওয়া ব্যতীত তা ত্যাগের কারণে শাস্তি দেওয়া হয় না, বিশেষ করে দয়া ও মমতার বিষয়টি বিবেচনায় থাকা সত্ত্বেও (যখন শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে)।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
النبي صلى الله عليه وسلم ورحمته بأمته ولأنه يفهم الأمر ويقدر على الامتثال فوجب عليه كالبالغ وهذا لأن عمدة الوجوب إنما هي العقل الذي به يعلم والقدرة التي بها يفعل وكلاهما موجود ولأن العشر مظنة الاحتلام وأول سببه فجاز أن تقوم مقامه ويحمل حديث رفع القلم على ما يفعله من الذنوب لا على ما يتركه من الواجب ويؤيد هذا أن المأمورات تصح منه فجاز أن تجب عليه ولهذا صح منه الإسلام وهو يلزم لأحكام كثيرة في الدنيا والآخرة وأما المنهيات فإنها تقع منه باطلة إذا كانت تقبل البطلان فلا تحرم عليه ولهذا لا تصح تصرفاته بغير إذن من نكاح وبيع وهبة ويقع كفره وقذفه وزناه وسرقته غير موجب للحد والعقوبة ومن قال هذا صحح إسلامه دون ردته كإحدى الروايات وهذا لأن فعل البر أسهل من ترك الإثم ولهذا قال سهل بن عبد الله أعمال البر يفعلها البر والفاجر ولا يصبر عن الآثام إلا صديق ومن قال هذا التزم وجوب الصيام إذا أطاقه.
فأما الحج فلا يجب عليه قبل الاحتلام قولا واحدا لقوله: "أيما صبي حج به أهله ثم احتلم فعليه حجة أخرى" وهذا يروى مرسلا وموقوفا عن
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর রহমতের কারণে, এবং যেহেতু সে (শিশু) নির্দেশ বুঝতে সক্ষম এবং তা পালনে সামর্থ্য রাখে, তাই প্রাপ্তবয়স্কের ন্যায় তার ওপরও তা ওয়াজিব হবে। এটি এই কারণে যে, ওয়াজিব হওয়ার মূল ভিত্তি হলো আকল (বিবেচনা শক্তি), যার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয়, এবং কুদরত (ক্ষমতা), যার মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করা হয়; আর এই উভয়টিই বিদ্যমান। অধিকন্তু, দশ বছর বয়স হলো স্বপ্নদোষের (সাবালকত্বের) সম্ভাব্য সময় এবং এর প্রাথমিক কারণ, তাই এই বয়সকে সাবালকত্বের স্থলাভিষিক্ত করা বৈধ। আর 'কলম উঠিয়ে নেওয়া' সংক্রান্ত হাদিসটিকে তার কৃত পাপাচারের ওপর প্রয়োগ করা হবে, তার বর্জনকৃত ওয়াজিবের ওপর নয়। এই মতটিকে এটিও সমর্থন করে যে, তার সম্পাদিত নির্দেশিত কাজসমূহ (ইবাদত) শুদ্ধ হয়, সুতরাং সেগুলো তার ওপর ওয়াজিব হওয়াও সম্ভব। একারণেই তার ইসলাম গ্রহণ শুদ্ধ হিসেবে গণ্য হয় এবং তা দুনিয়া ও আখিরাতের বহু বিধানের ক্ষেত্রে আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে। তবে নিষিদ্ধ কার্যাবলীর ক্ষেত্রে, সেগুলো যদি বাতিলযোগ্য হয় তবে তার পক্ষ থেকে তা বাতিল বলেই গণ্য হবে, ফলে সেগুলো তার ওপর হারাম হবে না। এই কারণেই অনুমতি ব্যতীত তার কোনো লেনদেন—যেমন নিকাহ, ক্রয়-বিক্রয় ও হেবা (দান)—শুদ্ধ হয় না। আর তার কুফরি, অপবাদ আরোপ, জিনা এবং চুরি হদ (নির্ধারিত দণ্ড) বা শাস্তিকে আবশ্যক করে না। যারা এই মত পোষণ করেন তারা তার ইসলাম গ্রহণকে শুদ্ধ বললেও তার মুরতাদ (ধর্মত্যাগ) হওয়াকে অশুদ্ধ বলেন, যেমনটি একটি বর্ণনায় এসেছে। এর কারণ হলো, নেক কাজ করা গুনাহ বর্জন করার চেয়ে সহজ। একারণেই সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ বলেছেন: "নেক কাজ পুণ্যবান ও পাপিষ্ঠ সবাই করতে পারে, কিন্তু পাপাচার থেকে কেবল সিদ্দিকরাই (পরম সত্যনিষ্ঠরা) ধৈর্য ধারণ করতে পারে।" যারা এই মত গ্রহণ করেছেন, তারা শিশু রোজা পালনে সক্ষম হলে তার ওপর তা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।
তবে হজের বিষয়টি এমন যে, স্বপ্নদোষের (সাবালকত্বের) পূর্বে তা ওয়াজিব হবে না—এটি সর্বসম্মত অভিমত। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে শিশু তার পরিবারের সাথে হজ করল, অতঃপর সে সাবালক হলো, তার ওপর পুনরায় হজ করা আবশ্যক।" এটি মুরসাল এবং মাওকুফ উভয় সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
ابن عباس وكذلك لو بلغ بالسن أو الإنبات ولم يحتلم لم يجب عليه ولو حج بعد البلوغ بالسن ثم احتلم لزمه إعادة الحج في رواية منصوصة على ظاهر الحديث الوارد فيه ولأن السن والإنبات ليس هو حقيقة الإدراك لأن الله إنما علق الأحكام ببلوغ الحلم بقوله تعالى: {وَابْتَلُوا الْيَتَامَى حَتَّى إِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ} وقوله تعالى: {وَإِذَا بَلَغَ الأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ} وقوله تعالى: {حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ} وقول النبي صلى الله عليه وسلم: "رفع القلم عن الصبي حتى يحتلم" لكن لما كان بلوغ الحلم خفيا عن غير المحتلم وكان ذلك غالبا يكون مع بلوغ خمسة عشر وإنبات شعر العانة جعل مظنته علامة قائمة مقامه في الأحكام التي تتعلق بغير هذا البالغ من الحدود والقصاص والجهاد والحجر وغير ذلك إذ كانوا لا يطلقون على الحقيقة غالبا فأما ما بينه وبين الله فإنه يعلم وقت احتلامه ولأن هذه الأمور تتكرر قبل الاحتلام وبعده فجاز أن يجعل ما يقارب الاحتلام في حكمه احتياطا وعموما بخلاف الحج فإنه لا يتكرر ولأنه احرم لحجه قبل الاحتلام لكان قد فعل الحج قبل كمال قواه وبلوغ أشده ولذلك يعيده إذا بلغ.
والرواية الأخرى اختيار أكثر أصحابنا حتى جعلها القاضي رواية واحدة وكذلك ابن بطة تأول الرواية الأولى لما تقدم من قوله صلى الله عليه وسلم: "رفع
ইবনে আব্বাস, এবং একইভাবে যদি সে বয়স বা পশম গজানোর মাধ্যমে সাবালকত্বে পৌঁছায় কিন্তু তার স্বপ্নদোষ না হয়, তবে তার ওপর হজ ওয়াজিব হবে না। যদি সে বয়সের ভিত্তিতে সাবালক হওয়ার পর হজ করে এবং এরপর তার স্বপ্নদোষ হয়, তবে বর্ণিত হাদিসের বাহ্যিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে একটি সুস্পষ্ট রেওয়ায়েত অনুযায়ী তার ওপর পুনরায় হজ করা আবশ্যক। কারণ বয়স ও পশম গজানো পরিপক্কতার প্রকৃত বাস্তবতা নয়; কেননা আল্লাহ বিধানসমূহকে স্বপ্নদোষের মাধ্যমে সাবালক হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করো যতক্ষণ না তারা বিবাহের বয়সে পৌঁছায়} এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমাদের শিশুরা যখন সাবালকত্বে পৌঁছায়} এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ শক্তিতে পৌঁছায়} এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “শিশুর ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তার স্বপ্নদোষ হয়।” কিন্তু যেহেতু স্বপ্নদোষের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের কাছে গোপন থাকে এবং সাধারণত পনের বছর পূর্ণ হওয়া ও নাভির নিচের পশম গজানোর সাথে এটি হয়ে থাকে, তাই এগুলোকে একটি সম্ভাব্য চিহ্ন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে যা ওই সাবালক ব্যক্তি ব্যতীত অন্য ব্যক্তিদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলির ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষের স্থলাভিষিক্ত হয়; যেমন—হুদুদ, কিসাস, জিহাদ, হাজর (সম্পত্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা) এবং অন্যান্য বিষয়। কারণ অন্যরা সাধারণত প্রকৃত বিষয়টি অবগত হতে পারে না। তবে তার এবং আল্লাহর মধ্যকার বিষয়ের ক্ষেত্রে সে তার স্বপ্নদোষের সময়টি অবগত থাকে। এছাড়া এই বিষয়গুলো স্বপ্নদোষের আগে এবং পরে বারবার ঘটে থাকে, তাই সতর্কতামূলক ও সাধারণভাবে স্বপ্নদোষের নিকটবর্তী বিষয়গুলোকে এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত করা জায়েজ। তবে হজের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি বারবার আদায় করা হয় না। আর যেহেতু সে স্বপ্নদোষের আগেই হজের ইহরাম বেঁধেছিল, তাই সে তার পূর্ণ শক্তি অর্জন ও পরিপক্কতায় পৌঁছানোর আগেই হজ সম্পন্ন করেছে; এই কারণেই সে সাবালক হলে তাকে পুনরায় হজ আদায় করতে হবে।
অন্য রেওয়ায়েতটি আমাদের অধিকাংশ সঙ্গীদের পছন্দনীয় মত, এমনকি আল-কাজী একে একটিমাত্র রেওয়ায়েত হিসেবে গণ্য করেছেন। একইভাবে ইবনে বাত্তাহ প্রথম রেওয়ায়েতটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পূর্বোক্ত বাণীর আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন যে: “উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
القلم عن الصبي حتى يحتلم" وهذا يعم حكم الإثم الحاصل بفعل محرم أو ترك واجب كما شاركه في ذلك المجنون ولأنها عبادة بدنية فلم تجب قبل البلوغ كالحج والجهاد وهذا لأن الصبي في الأصل لما كان مظنة نقص العقل وضعف البنية جعل الشرع بلوغ الأشد حدا للتكليف لأن مظنة استكمال شرائطه غالبا ولأنها لو وجبت عليه لقتل بتركها كالبالغ ولكان الإمام هو الذي يقيم عليه الحد ولم يكتف بضربه ولم يفوض ذلك إلى الوالي وبهذا يعلم أن ضربه عليها ليتمرن عليها ويعتادها وقد يجب لمصالحه وأن لم تكن واجبة عليه كما تضرب البهيمة تأديبا لها ودواء وكما يضرب المجنون لذلك وكان ابن عباس يقيد عكرمة على حفظ القرآن والسنة وقال رجل للنبي صلى الله عليه وسلم مم اضرب يتيمي قال مما كنت ضاربا منه ولدك وكما يضرب على الكذب وفعل المحرمات ليكف عنها ويعتاد تعظيم المحرمات وأن كان قلمه مرفوعا إجماعا.
وعلى الروايتين فيؤمر بها إذا بلغ سبع سنين.
قال أصحابنا: ويهدد على تركها ويضرب عليها إذا بلغ العشر كما في الحديث وذلك واجب على وليه وكافله نص عليه وكما تقدم في
"শিশুর সাবালক হওয়া পর্যন্ত কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে" - এটি কোনো নিষিদ্ধ কাজ করা বা কোনো ওয়াজিব ত্যাগ করার ফলে অর্জিত গুনাহের বিধানকে শামিল করে, যেমনটি পাগলও এই বিষয়ে তার অংশীদার। আর যেহেতু এটি একটি শারীরিক ইবাদত, তাই সাবালক হওয়ার পূর্বে এটি ওয়াজিব নয়, যেমনটি হজ ও জিহাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এর কারণ হলো, শিশু মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক অপূর্ণতা ও শারীরিক দুর্বলতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হওয়ার কারণে শরিয়ত পূর্ণ সাবালক হওয়াকে শারয়ি দায়বদ্ধতার সীমা নির্ধারণ করেছে; কারণ সাধারণত এটিই এর শর্তাবলি পূর্ণ হওয়ার সময়। তাছাড়া, যদি এটি তার ওপর ওয়াজিব হতো, তবে তা ত্যাগ করার কারণে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ন্যায় হত্যা করা হতো। আর সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানই তার ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করতেন, কেবল প্রহারের ওপর ক্ষান্ত হওয়া হতো না এবং বিষয়টি অভিভাবকের হাতে ন্যস্ত করা হতো না। এর মাধ্যমেই জানা যায় যে, তাকে এর জন্য প্রহার করা হয় যেন সে এটি অনুশীলন করে এবং এতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। আর শিশুর কল্যাণের স্বার্থে এটি ওয়াজিব হতে পারে, যদিও এটি তার ওপর ওয়াজিব নয়; যেমনটি কোনো পশুকে শাসন ও সংশোধনের জন্য প্রহার করা হয় এবং যেমনটি পাগলকেও এই উদ্দেশ্যে প্রহার করা হয়। ইবনে আব্বাস কুরআন ও সুন্নাহ মুখস্থ করার জন্য ইকরিমাকে বেঁধে রাখতেন। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আমি আমার এতিমকে কী কারণে প্রহার করব?" তিনি বললেন, "যে কারণে তুমি তোমার নিজের সন্তানকে প্রহার করতে।" এবং যেমনটি তাকে মিথ্যা বলা ও হারাম কাজ করার জন্য প্রহার করা হয় যেন সে তা থেকে বিরত থাকে এবং হারাম বিষয়গুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে অভ্যস্ত হয়, যদিও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে।
আর উভয় বর্ণনা অনুযায়ী, তার বয়স সাত বছর পূর্ণ হলে তাকে এর নির্দেশ প্রদান করা হবে।
আমাদের ফকিহগণ বলেছেন: এটি ত্যাগ করার কারণে তাকে শাসানো হবে এবং বয়স দশ বছর পূর্ণ হলে এর জন্য তাকে প্রহার করা হবে, যেমনটি হাদিসে এসেছে। আর এটি তার অভিভাবক ও লালন-পালনকারীর ওপর ওয়াজিব, যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الحديث فإن الأمر من النبي صلى الله عليه وسلم يقتضي الوجوب وقد قال الله تعالى: {وأَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً} قال علي عليه السلام علموهم وأدبوهم.
وإهمال ذلك سبب مصيره إلى النار ولأن هذا من مصالحه فوجب مراعاته كما يجب حفظ ماله ومنعه من جميع الفواحش والمعاصي ويؤمر مع ذلك بالطهارة ونحوها مما يشترط للصلاة لأن الصلاة لا تصح بدونها.
فإن بلغ في أثناء الوقت لزمته الصلاة وأن كان قد صلاها أو هو فيها لأنها حينئذ وجبت عليه وما تقدم كان نفلا فلم يمنع الإيجاب كما لو حج قبل البلوغ ثم بلغ.
ولو بلغ في أثنائها ثم خرج الوقت لم تجب عليه لزوال وقت الوجوب هذا هو المذهب المنصوص حتى لو احتلم في أثناء الليل وقد صلى المغرب والعشاء أعادهما نص عليه.
ولو قيل إنه صلاها مرة لم تجب عليه ثانية لكان وجيها لأن تعجيل الصلاة والزكاة قبل وجوبها إذا كان مشروعا منع الوجوب كما لو صلى الثانية من المجموعتين في وقت الأولى أو فعل الجمعة قبل
হাদীস অনুযায়ী, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে অগ্নি হতে রক্ষা করো।" আলী আলাইহিস সালাম বলেছেন: তাদের শিক্ষা দাও এবং শিষ্টাচার শেখাও।
আর এ বিষয়ে অবহেলা করা তাকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করার কারণ। যেহেতু এটি তার মাসলাহাত বা কল্যাণের অন্তর্ভুক্ত, তাই এর প্রতি লক্ষ্য রাখা ওয়াজিব, যেমন তার সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং তাকে যাবতীয় অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে বিরত রাখা ওয়াজিব। এর সাথে সাথে তাকে পবিত্রতা ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের নির্দেশ দিতে হবে যা সালাতের জন্য শর্ত, কারণ পবিত্রতা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না।
যদি সে ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়ে সাবালক হয়, তবে তার ওপর সালাত আবশ্যক হবে, যদিও সে তা ইতিপূর্বে পড়ে থাকে কিংবা পড়ারত থাকে। কারণ সে মুহূর্তে এটি তার ওপর ওয়াজিব হয়েছে, আর যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তা ছিল নফল; সুতরাং তা ওয়াজিব হওয়াকে বাধা প্রদান করবে না। যেমন কেউ সাবালক হওয়ার আগে হজ্জ করল এবং এরপর সাবালক হলো।
আর যদি সে সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে সাবালক হয় এবং এরপর ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, তবে ওয়াজিব হওয়ার ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়ার কারণে তার ওপর তা আর ওয়াজিব হবে না। এটিই হচ্ছে মাযহাবের স্পষ্ট বক্তব্য। এমনকি যদি রাতের বেলা তার স্বপ্নদোষ হয় এবং এর আগে সে মাগরিব ও ইশা পড়ে থাকে, তবে সে তা পুনরায় পড়বে—এ কথাটি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
আর যদি বলা হয় যে, যেহেতু সে একবার তা আদায় করেছে তাই দ্বিতীয়বার তার ওপর তা ওয়াজিব হবে না, তবে তা যুক্তিযুক্ত হবে। কেননা ওয়াজিব হওয়ার পূর্বে সালাত ও যাকাত অগ্রিম আদায় করা যদি বিধিসম্মত হয়, তবে তা ওয়াজিব হওয়াকে রহিত করে; যেমন দুই সালাত একত্রে পড়ার সময় প্রথমটির ওয়াক্তে দ্বিতীয়টি আদায় করা কিংবা জুমার সালাত আগে...
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
الزوال وكذلك لو عجل زكاة ماله قبل وجوبه والنفل قد يمنع وجوب الفرض كما لو صلى العيد أول النهار سقطت عنه الجمعة ولأن العادة الغالبة أن الصبيان يحتلمون بالليل ولم ينقل عنهم أنهم كانوا يؤمرون بإعادة المغرب والعشاء.
সূর্য ঢলে পড়া। অনুরূপভাবে, যদি কেউ যাকাত ওয়াজিব হওয়ার আগেই তার সম্পদের যাকাত অগ্রিম প্রদান করে। আর নফল ইবাদত কখনো কখনো ফরজের আবশ্যকতাকে রহিত করতে পারে; যেমন যদি কেউ দিনের শুরুতে ঈদের সালাত আদায় করে, তবে তার ওপর থেকে জুমার আবশ্যকতা রহিত হয়ে যায়। এছাড়া সাধারণত বালকদের স্বপ্নদোষ রাতের বেলায় হয়ে থাকে, অথচ তাদের সম্পর্কে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, তাদের মাগরিব ও এশার সালাত পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হতো।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
مسألة: (فمن جحد وجوبها بجهله عرف ذلك وأن جحدها عنادا كفر).
هذا أصل مضطرد في مباني الإسلام الخمسة وفي الأحكام الظاهرة المجمع عليها من مكلف أن كان الجاحد لذلك معذورا مثل أن يكون حديث عهد بالإسلام أو قد نشأ ببادية هي مظنة الجهل بذلك لم يكفر حتى يعرف أن هذا دين الإسلام لأن أحكام الكفر والتأديب لا تثبت إلا بعد بلوغ الرسالة لا سيما فيما لا يعلم بمجرد العقل قال الله تعالى: {وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولاً} وقال تعالى: {لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} وقال تعالى: {وَلَوْ أَنَّا أَهْلَكْنَاهُمْ بِعَذَابٍ مِنْ قَبْلِهِ لَقَالُوا رَبَّنَا لَوْلا أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولاً} وقال تعالى: {وَمَا كَانَ رَبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرَى حَتَّى يَبْعَثَ فِي أُمِّهَا رَسُولاً يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا} وقال تعالى: {لأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ} فالإنذار لمن بلغه القرآن بلفظه أو معناه فإذا بلغته الرسالة بواسطة أو بغير واسطة قامت عليه الحجة وانقطع عذره.
فأما الناشئ بديار الإسلام ممن يعلم أنه قد بلغته هذه الأحكام فلا
মাসআলা: (সুতরাং যে ব্যক্তি অজ্ঞতার কারণে এর আবশ্যকতা অস্বীকার করবে তাকে তা জানানো হবে, আর যদি সে হঠকারিতাবশত তা অস্বীকার করে তবে সে কুফরি করল)।
এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ এবং একজন মুকাল্লাফের ওপর অর্পিত সর্বসম্মত ও প্রকাশ্য বিধানসমূহের ক্ষেত্রে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতি। যদি এই অস্বীকারকারী ব্যক্তি ওজরগ্রস্ত হয়, যেমন—সে ইসলামে নতুন প্রবেশ করেছে অথবা এমন কোনো জনবিচ্ছিন্ন মরুপ্রান্তরে বেড়ে উঠেছে যেখানে অজ্ঞতা থাকা স্বাভাবিক, তবে সে যতক্ষণ পর্যন্ত না জানবে যে এটি ইসলামের দ্বীন, ততক্ষণ তাকে কাফির বলা হবে না। কারণ কুফরি ও শাস্তির বিধানসমূহ রিসালাত পৌঁছানোর আগে সাব্যস্ত হয় না; বিশেষ করে সেই সব বিষয়ের ক্ষেত্রে যা কেবল বিবেকের দ্বারা জানা সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি শাস্তি প্রদান করি না।" এবং তিনি আরও বলেছেন: "যাতে রাসূলগণের পরে আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে।" এবং তিনি আরও বলেছেন: "যদি আমি এর আগে তাদেরকে কোনো আজাব দ্বারা ধ্বংস করতাম, তবে তারা বলত, 'হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের কাছে কেন একজন রাসূল পাঠালেন না?'" এবং তিনি আরও বলেছেন: "আপনার প্রতিপালক জনপদসমূহকে ততক্ষণ ধ্বংস করেন না, যতক্ষণ না তাদের প্রধান জনপদে একজন রাসূল পাঠান যিনি তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন।" এবং তিনি আরও বলেছেন: "যাতে আমি এর মাধ্যমে তোমাদের এবং যার কাছে এটি পৌঁছাবে তাদের সতর্ক করতে পারি।" সুতরাং সতর্কবাণী তার জন্য যার কাছে কুরআনের শব্দ বা অর্থ পৌঁছেছে। ফলে যখন সরাসরি বা কোনো মাধ্যমের দ্বারা তার কাছে রিসালাত পৌঁছে যাবে, তখন তার ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে এবং তার ওজর বা অজুহাত শেষ হয়ে যাবে।
পক্ষান্তরে ইসলামি ভূখণ্ডে বেড়ে ওঠা ব্যক্তি, যার সম্পর্কে জানা যায় যে তার কাছে এই বিধানসমূহ পৌঁছেছে, তার ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন হবে না।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
يقبل قوله أي لم أعلم ذلك ويكون ممن جحد وجوبها بعد أن بلغه العلم في ذلك فيكون كافرا كفرا ينقل عن الملة سواء صلاها مع ذلك أو لم يصلها وسواء اعتقدها مستحبة أو لم يعتقد وسواء رآها واجبة على بعض الناس دون بعضا أو لا وسواء تأول في ذلك أو لم يتأول لأنه كذب الله ورسوله وكفر بما ثبت أن محمدا صلى الله عليه وسلم بعث به ولهذا اجمع رأي عمر والصحابة في أن الذين شربوا الخمر مستحلين لها أنهم أن اقروا بالتحريم خلوا وأن أصروا على الاستحلال قتلوا وقالوا وكذلك من تأول تأويلا يخالف به جماهير المسلمين.
وكذلك لو اقر أن الله أوجبها وصدق الرسول في الرسالة وامتنع من قبولها بالإيجاب وأبى أن يلتزمه وينقاد لله ورسوله فهو كإبليس فإنه لم ينكر الإيجاب وإنما استكبر عن القبول فإنه يكفر بذلك ويقال له كافر ولا يقال مكذب.
তার কথা গ্রহণ করা হবে অর্থাৎ সে এটি জানত না, এবং সে এমন ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত হবে যে বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান পাওয়ার পরও এর আবশ্যকতাকে (ওয়াজিব হওয়াকে) অস্বীকার করেছে; ফলে সে এমন কুফরিতে লিপ্ত কাফির হিসেবে গণ্য হবে যা তাকে মিল্লাত (ইসলামি আদর্শ) থেকে বের করে দেয়। চাই সে তা আদায় করুক বা না করুক, চাই সে একে মুস্তাহাব মনে করুক বা না করুক, চাই সে একে কিছু মানুষের জন্য ওয়াজিব এবং অন্যদের জন্য নয়—এমন মনে করুক বা না করুক, চাই সে এই বিষয়ে কোনো অপব্যাখ্যা করুক বা না করুক; কারণ সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন বলে প্রমাণিত, তা অস্বীকার করেছে। এই কারণেই উমর এবং সাহাবীগণের অভিমত একমত হয়েছে যে, যারা মদ পান করে একে হালাল মনে করে, তারা যদি এর হারাম হওয়ার কথা স্বীকার করে তবে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর যদি একে হালাল মনে করার ওপর অটল থাকে তবে তাদের হত্যা করা হবে। তাঁরা আরও বলেছেন যে, অনুরূপ বিধান সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যে এমন অপব্যাখ্যা করে যা মুসলিম উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠের (জমহুর) বিরোধী।
একইভাবে যদি কেউ স্বীকার করে যে আল্লাহ এটি ওয়াজিব করেছেন এবং রাসূলের রিসালাতকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, কিন্তু সে একে ওয়াজিব হিসেবে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে এবং আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করতে ও তা মেনে নিতে অস্বীকার করে, তবে সে ইবলিসের ন্যায়। কেননা ইবলিস সেই বিষয়টির আবশ্যকতাকে (ওয়াজিব হওয়াকে) অস্বীকার করেনি, বরং সে তা গ্রহণ করতে অহংকার করেছিল। ফলে সে এর কারণে কাফির হয়ে যাবে এবং তাকে কাফির বলা হবে, তাকে ‘মিথ্যা প্রতিপন্নকারী’ বলা হবে না।
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
مسألة: (ولا يحل تأخيرها عن وقتها إلا لناو جمعها أو مشتغل عنها بشرطها).
أما فعلها في الوقت المضروب لها ففرض وتأخيرها عنه عمدا من الكبائر لقوله تعالى: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاةِ الْوُسْطَى} والمحافظة عليها فعلها في الوقت لأن سبب نزول الآية تأخير الصلاة يوم الخندق دون تركها لأن السلف فسروها بذلك ولأن المحافظة خلاف الإهمال والإضاعة ومن أخرها عن وقتها فقد أهملها ولم يحافظ عليها.
وقوله تعالى: {فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ} وأضاعتها تأخيرها عن وقتها كذلك فسرها ابن مسعود وإبراهيم والقاسم بن محمد والضحاك وغيرهم من غير مخالف لهم قال ابن مسعود إضاعتها صلاتها لغير وقتها لأن الشيء الضائع ليس هو معدوما إنما هو مهمل غير محفوظ وقوله تعالى: {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلاتِهِمْ سَاهُونَ} والمشهور منها إضاعة الوقت كذلك فسر هذه المواضع جماهير الصحابة والتابعين وهو معقول من الكلام وقال تعالى: {إِنَّ الصَّلاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَاباً مَوْقُوتاً} وأمر سبحانه الخائف أن يصلي مع الإخلال بكثير من الأركان وكذلك المتيمم ونحوه ولو جاز التأخير لما احتاج ذلك إلى شيء من ذلك وسائر
মাসআলা: (সালাতকে তার নির্দিষ্ট ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করা বৈধ নয়, তবে সালাত একত্র করার নিয়তকারী অথবা তার শর্তসাপেক্ষে তাতে ব্যতিব্যস্ত ব্যক্তির জন্য ব্যতিরেকে).
নির্ধারিত ওয়াক্তে সালাত আদায় করা ফরজ এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াক্ত পার করে তা আদায় করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা সালাতসমূহের এবং বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের হিফাজত করো।" আর সালাতের হিফাজত করা মানে হলো ওয়াক্তের মধ্যে তা আদায় করা। কারণ খন্দকের যুদ্ধের দিন সালাত ত্যাগ করার কারণে নয়, বরং তা বিলম্বিত করার কারণেই এই আয়াতটি নাজিল হয়েছিল; যেহেতু সালাফগণ এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন। তাছাড়া হিফাজত করা হলো অবহেলা ও বিনষ্ট করার বিপরীত। সুতরাং যে ব্যক্তি সালাতকে তার ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করল, সে মূলত সালাতকে অবহেলা করল এবং এর হিফাজত করল না।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরি এল যারা সালাত বিনষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল।" সালাত বিনষ্ট করা বলতে এখানে তার নির্দিষ্ট ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করাকে বোঝানো হয়েছে। ইবনে মাসউদ, ইবরাহিম, কাসিম বিন মুহাম্মদ, দাহহাক এবং অন্যান্যরা এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো ভিন্নমত নেই। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, সালাত বিনষ্ট করা হলো তা অসময়ে আদায় করা। কেননা কোনো বস্তু 'বিনষ্ট হওয়া'র অর্থ এটি নয় যে তা অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়া, বরং তা হলো অবহেলিত ও অসংরক্ষিত থাকা। আর মহান আল্লাহর বাণী: "দুর্ভোগ সেই সব মুসল্লিদের জন্য, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন।" এর প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা হলো ওয়াক্ত বিনষ্ট করা। সাহাবী ও তাবেয়ীগণের জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ) এই আয়াতগুলোর এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন এবং এটি ভাষাগতভাবেও যুক্তিযুক্ত। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফরজ করা হয়েছে।" আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ভীত ব্যক্তিকে সালাতের অনেক রুকন বাদ পড়া সত্ত্বেও তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনিভাবে তায়াম্মুমকারী ও অনুরূপ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই বিধান। যদি সালাত বিলম্বিত করা বৈধ হতো, তবে এসব বিষয়ের কোনো প্রয়োজন হতো না। এবং অবশিষ্ট...
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
الآيات الموجبة فعلها في الوقت المحدود مثل قوله: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ} وقوله تعالى: {أَقِمِ الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ} دليل مفصل على ذلك وكذلك الأحاديث.
عن أبي ذر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "يا أبا ذر أنها ستكون عليكم أئمة يميتون الصلاة فإن ادركتموهم فصلوا الصلاة لوقتها واجعلوا صلاتكم معهم نافلة" رواه أحمد ومسلم وعن أبي قتادة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ليس في النوم تفريط إنما التفريط في اليقظة أن يؤخر صلاة إلى وقت الصلاة الأخرى" رواه مسلم والنصوص في ذلك كثيرة وهو مجمع عليه.
وأما الذي يؤخرها ينوي جمعها إلى التي بعدها حيث يجوز ذلك فهذا في الحقيقة قد صلاها في وقتها وكذلك يصليها أداء لأن الوقت للصلاة هو الذي حده الله سبحانه لجواز فعلها وإنما استثناه الشيخ لسببين.
أحدهما: أنه ليس هو الوقت المطلق وإنما هو وقت في حال العذر خاصة وقد لا يفهم هذا من مطلق الوقت.
الثاني أن التأخير إليه لا يجوز إلا بنية العزم على الفعل فلو قصد تركها في الوقت ولم يقصد فعلها فيما بعد إثم بذلك.
فأما تأخيرها عن أول الوقت إلى آخره فيجوز وهل يشترط له العزم
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমল করা ওয়াজিব করে এমন আয়াতসমূহ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগে আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন” এবং মহান আল্লাহর বাণী: “সূর্য ঢলে পড়ার সময় সালাত কায়েম করুন” - এ বিষয়টির বিস্তারিত দলিল এবং হাদিসসমূহও তদ্রূপ।
আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “হে আবু যার! নিশ্চয়ই তোমাদের উপর এমন কিছু নেতা আসবে যারা সালাতকে (বিলম্ব করে) মৃতবৎ করে ফেলবে। যদি তোমরা তাদেরকে পাও, তবে তোমরা সালাত তার নির্দিষ্ট সময়ে পড়ে নেবে এবং তাদের সাথে তোমাদের সালাতটিকে নফল হিসেবে গণ্য করবে।” এটি আহমাদ ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আবু কাতাদা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “নিদ্রাবস্থায় কোনো অবহেলা নেই, বরং অবহেলা হলো জাগ্রত অবস্থায় সালাতকে অন্য সালাতের সময় হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করা।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে দলিল-প্রমাণ অনেক এবং এটি একটি ঐক্যমত্যপূর্ণ বিষয়।
আর যে ব্যক্তি সালাতকে পরবর্তী সালাতের সাথে একত্রিত করার নিয়তে বিলম্বিত করে যেখানে এটি বৈধ, তবে সে প্রকৃতপক্ষে তা তার নির্দিষ্ট সময়েই আদায় করেছে। অনুরূপভাবে সে তা 'আদা' হিসেবেই আদায় করবে, কারণ সালাতের সময় হলো সেটিই যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তা পালনের বৈধতার জন্য নির্ধারণ করেছেন। শায়খ এটি কেবল দুটি কারণে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন।
তার একটি হলো: এটি সাধারণ বা শর্তহীন সময় নয়, বরং এটি বিশেষত ওজরের অবস্থার সময়। আর সাধারণ সময়ের ধারণা থেকে বিষয়টি হয়তো বোধগম্য হবে না।
দ্বিতীয়ত: কাজটি করার সংকল্প ব্যতীত সালাতকে পরবর্তী সময়ের দিকে বিলম্বিত করা জায়েজ নয়। সুতরাং কেউ যদি সালাতটিকে ওয়াক্তের মধ্যে বর্জন করার ইচ্ছা করে এবং পরবর্তীতে আদায়ের সংকল্প না করে, তবে সে এর কারণে গুনাহগার হবে।
আর সালাতকে ওয়াক্তের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিলম্বিত করা জায়েজ। তবে এর জন্য কি সংকল্প থাকা শর্ত?
(খণ্ড: ১)
শারহু উমদাতিল ফিকহি - ইবনু তাইমিয়্যাহ - মিন কিতাবিস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
ليكون بدلا عن التعجيل فيه وجهان.
أحدهما: يشترط قاله القاضي وابن عقيل وغيرهما لأن الصلاة تجب في أول الوقت وجوبا موسعا واعتقاد الوجوب واجب على الفور ومتى وجب الاعتقاد وجب العزم لأنه لو جاز التأخير من غير بدل عنه لبطل معنى الوجوب في اأول الوقت ولأن العزم على الترك حرام فإذا لم يكن ذاهلا أو ناسيا فلا بد من العزم على الفعل.
والثاني: لا يشترط قاله أبو الخطاب وغيره وذكره القاضي في بعض المواضع لأن النصوص الدالة على جواز التأخير ليس فيها شرط العزم فاشتراطه تحكم ولان العزم لو كان بدلا عن الفعل فينبغي أن لا يجب الفعل وأن كان بدلا عن تعجيله فالتعجيل ليس بواجب ولان الإنسان إذا دخل وقت الصلاة فإن لم يعلم به بنوم أو غيره فلا إثم عليه اتفاقا وأن علم الوقت وعزم على الترك أثم اتفاقا لكن لنفس العزم على المعصية كما لو عزم على الترك قبل الوقت وأن لم يعزم على واحد منهما أو هم بالترك وحدث به نفسه فهذا مورد الوجهين أنه لا يجب تأثيمه لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "إن الله تجاوز لامته عما حدثت به أنفسها ما لم تتكلم أو تعمل به" متفق عليه.
ত্বরান্বিতকরণের (তা’জীল) পরিবর্তে এটি স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে।
প্রথমটি: এটি শর্ত। আল-কাজী, ইবনে আকীল ও অন্যান্যগণ এটি বলেছেন। কারণ সালাত ওয়াক্তের শুরুতে ‘ওয়াজিব মুওয়াসসা’ (প্রশস্ত ওয়াজিব) হিসেবে ওয়াজিব হয় এবং এই ওয়াজিব হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করা তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াজিব। আর যখনই বিশ্বাস পোষণ করা ওয়াজিব হয়, তখনই তা আদায়ের দৃঢ় সংকল্প (আযম) করাও ওয়াজিব হয়ে যায়। কেননা যদি এর কোনো বিকল্প বা স্থলাভিষিক্ত বিষয় ব্যতীতই বিলম্ব করা জায়েজ হতো, তবে ওয়াক্তের শুরুতে ওয়াজিব হওয়ার অর্থই বাতিল হয়ে যেত। তাছাড়া ওয়াজিব ত্যাগের সংকল্প করা হারাম। সুতরাং ব্যক্তি যদি অমনোযোগী বা বিস্মৃত না হয়, তবে অবশ্যই কাজটি করার দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে।
দ্বিতীয়টি: এটি শর্ত নয়। আবুল খাত্তাব ও অন্যান্যগণ এটি বলেছেন এবং আল-কাজীও কোনো কোনো স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন। কারণ বিলম্ব করা বৈধ হওয়ার স্বপক্ষে যে সকল নস বা পাঠ রয়েছে, তাতে সংকল্প করার কোনো শর্ত উল্লেখ নেই। সুতরাং এক্ষেত্রে শর্তারোপ করা হবে অনেকটা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার মতো। তাছাড়া সংকল্প যদি কাজের বিকল্প হতো, তবে কাজটি আর ওয়াজিব থাকত না। আর যদি তা ত্বরান্বিত করার বিকল্প হয়, তবে ত্বরান্বিত করা নিজেই তো ওয়াজিব নয়। আর মানুষ যখন সালাতের ওয়াক্তে প্রবেশ করে, তখন ঘুমের কারণে বা অন্য কোনো কারণে যদি সে তা জানতে না পারে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তার কোনো গুনাহ হবে না। আর যদি সে ওয়াক্ত সম্পর্কে জানে এবং তা বর্জনের সংকল্প করে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে সে গুনাহগার হবে; কিন্তু সেটি হবে নাফরমানির সংকল্প করার কারণে, যেমনটি ওয়াক্ত হওয়ার আগে বর্জনের সংকল্প করলে হয়ে থাকে। আর যদি সে দুটির কোনোটিরই সংকল্প না করে অথবা বর্জনের ইচ্ছা করে এবং মনে মনে তা নিয়ে কথা বলে, তবে এটিই হলো উক্ত দুই অভিমতের ক্ষেত্র যে, তাকে গুনাহগার সাব্যস্ত করা আবশ্যক নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কল্পনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা মুখে বলে বা কাজে পরিণত করে।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।