(খণ্ড: ১) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الواسطية - العثيمين   (ابن عثيمين)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح العقيدة الواسطية

المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421 هـ)

خرج أحاديثه واعتنى به: سعد بن فواز الصميل

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: السادسة، 1421 هـ

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন   (ইবনে উসাইমীন)

বিভাগ: আকীদাহ


গ্রন্থ: শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ

লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরী)

হাদীসসমূহ যাচাই ও সম্পাদনা করেছেন: সাদ বিন ফাওয়াজ আস-সুমাইল

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র, সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: ষষ্ঠ, ১৪২১ হিজরী

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الواسطية

لشيخ الإسلام ابن تيمية

 

شرحه

سماحة الشيخ محمد الصالح العثيمين

 

خرج أحاديثه واعتنى به

سعد بن فواز الصميل

 

[المجلد الثاني]

 

دار ابن الجوزي
আকীদাতুল ওয়াসিতীয়াহর ব্যাখ্যা

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া-এর মূল গ্রন্থ

 

ব্যাখ্যা করেছেন

সম্মানিত শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীন

 

হাদিস সমূহের তাখরীজ (হাদিসের সূত্র যাচাই) ও গ্রন্থ সম্পাদনা

সা’দ বিন ফাওয়াজ আস-সুমাইল

 

[দ্বিতীয় খণ্ড]

 

দার ইবনুল জাওযী
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٣)
شَرحُ العَقِيدة الوَاسِطِيَّة
আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٤)
بسم الله الرحمن الرحيم

لقد جرى مني الإذن لـ «دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع» بطبعي مؤلفي «شرح العقيدة الواسطية» بشرط العناية بالتصحيح وأن لا يحتفظوا بحقوق الطبع.

كتبه محمد الصالح العثيمين في 29/ 12/ 1415 هـ

 

الطبعة السادسة

جمادى الأولى 1421 هجري

 

دار ابن الجوزي

للنشر والتوزيع

المملكة العربية السعودية

الدمام - شارع ابن خلدون - ت: 8428146 - 8467589 - 8467593

ص ب: 2982 - الرمز البريدي: 31461 - فاكس: 8412100

الإحساء - الهفوف - شارع الجامعة - ت: 5883122

جدة: ت: 6516549

الرياض: ت: 4266339
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আমি 'দার ইবনুল জাওযী প্রকাশনী ও বিতরণ'-কে আমার রচিত গ্রন্থ 'শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ' মুদ্রণের অনুমতি প্রদান করেছি; শর্ত থাকে যে, এর সংশোধনের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিতে হবে এবং তারা এর মুদ্রণস্বত্ব (কপিরাইট) নিজেদের জন্য সংরক্ষণ করবে না।

এটি লিখেছেন মুহাম্মদ আস-সালিহ আল-উসাইমীন, তারিখ: ২৯/১২/১৪১৫ হিজরি।

 

ষষ্ঠ সংস্করণ

জুমাদাল উলা ১৪২১ হিজরি

 

দার ইবনুল জাওযী

প্রকাশনী ও বিতরণ

সৌদি আরব রাজ্য

দাম্মাম - ইবনে খালদুন সড়ক - টেলিফোন: ৮৪২৮১৪৬ - ৮৪৬৭৫৮৯ - ৮৪৬৭৫৯৩

ডাক বাক্স: ২৯৮২ - পোস্টাল কোড: ৩১৪৬১ - ফ্যাক্স: ৮৪১২১০০

আল-আহসা - আল-হুফুফ - ইউনিভার্সিটি রোড - টেলিফোন: ৫৮৮৩১২২

জেদ্দা: টেলিফোন: ৬৫১৬৫৪৯

রিয়াদ: টেলিফোন: ৪২৬৬৩৩৯
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌فصل في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم -

الشرح:

* السنة في اللغة: الطريقة، ومنه قال صلى الله عليه وسلم: "لتركبن سنن من كان قبلكم" (1)؛ يعني: طريقتهم.

* وفي الاصطلاح: هي قول النبي صلى الله عليه وسلم وفعله وإقراره.

فتشمل الواجب والمستحب.

* والسنة هي المصدر الثاني في التشريع.

ومعنى قولنا: "المصدر الثاني": يعني: في العدد، وليس في الترتيب؛ فإن منزلتها إذا صحت عن النبي صلى الله عليه وسلم كمنزلة القرآن.

لكن الناظر في القرآن يحتاج إلى شيء واحد، وهو صحة الدلالة على الحكم، والناظر في السنة يحتاج إلى شيئين: الأول: صحة نسبتها إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، والثاني: صحة دلالتها على الحكم؛ فكان المستدل بالسنة يعاني من الجهد أكثر مما يعانيه المستدل بالقرآن؛ لأن القرآن قد كفينا سنده؛ فسنده متواتر، ليس فيه ما يوجب الشك؛ بخلاف ما ينسب إلى الرسول صلى الله عليه وسلم.

فإذا صحت السنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ كانت بمنزلة القرآن تمامًا في تصديق الخبر والعمل بالحكم:

كما قال تعالى: {وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} [النساء:
(1) رواه البخاري (3456)، ومسلم (2669) عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ বিষয়ক পরিচ্ছেদ-

ব্যাখ্যা:

* আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ: এর অর্থ হলো পথ বা পদ্ধতি। এ অর্থেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি (সুন্নাহ) অনুসরণ করবে" (১); অর্থাৎ তাদের অনুসৃত পদ্ধতি।

* পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতিকে সুন্নাহ বলা হয়।

ইহা ওয়াজিব এবং মুস্তাহাব উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

* সুন্নাহ হলো শরীয়তের বিধানের দ্বিতীয় উৎস।

আমাদের "দ্বিতীয় উৎস" বলার উদ্দেশ্য হলো কেবল গণনার ক্রমানুসারে, মর্যাদার বিচারে নয়; কারণ সুন্নাহ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়, তখন এর মর্যাদা কুরআনের মর্যাদার মতোই হয়ে থাকে।

তবে কুরআন নিয়ে গবেষণাকারীর কেবল একটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন, তা হলো বিধানের ক্ষেত্রে আয়াতের প্রয়োগ বা নির্দেশের বিশুদ্ধতা (صحة الدلالة - সিহহাতুদ দালালাহ)। আর সুন্নাহ নিয়ে গবেষণাকারীর দুটি বিষয় নিশ্চিত হতে হয়: প্রথমত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সেই বর্ণনার সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা (صحة النسبة - সিহহাতুন নিসবাহ); দ্বিতীয়ত, বিধানের ক্ষেত্রে সেই বর্ণনার প্রয়োগ বা নির্দেশের বিশুদ্ধতা (صحة الدلالة - সিহহাতুদ দালালাহ)। তাই সুন্নাহর মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনকারীকে কুরআনের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনকারীর চেয়ে বেশি শ্রম দিতে হয়। কারণ কুরআনের সনদের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিন্ত; এর সনদ মুতাওয়াতির (সংশয়হীন ও নিরবচ্ছিন্ন), যাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, তার বিষয়টি তেমন নয়।

সুতরাং সুন্নাহ যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়, তখন সংবাদকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং বিধান পালনের ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি কুরআনের মর্যাদাসম্পন্ন হয়:

যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন} [আন-নিসা:
(১) ইমাম বুখারী (৩৪৫৬) ও ইমাম মুসলিম (২৬৬৯) এটি আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٦)
113].

وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا ألفين أحدكم متكئًا على أريكته؛ يأتيه الأمر من أمري؛ يقول: لا ندري! ما وجدنا في كتاب الله؛ اتبعناه، ألا وإني أوتيت الكتاب ومثله معه" (1).

ولهذا كان القول الصحيح أن القرآن يُنسخ بالسنة إذا صحت عن النبي صلى الله عليه وسلم، وأن ذلك جائز عقلًا وشرعًا، ولكن ليس له مثال مستقيم (2).

 

• قال المؤلف: "فَ‌‌السُّنَّةُ تُفَسِّرُ القُرْآنَ وَتُبيِّنُهُ وَتَدُلُّ عَلَيْهِ وَتُعَبِّرُ عَنْهُ".

* قوله: "تفسر القرآن"، يعني: توضح المعنى المراد منه:

كما في تفسير قوله تعالى: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} [يونس: 26]؛ حيث فسرها النبي صلى الله عليه وسلم بأنها النظر إلى وجه الله عز وجل (3).
(1) رواه أحمد (4/ 132)، وأبو داود (4605)، والترمذي (2663)، وابن ماجه (13)، والحاكم (1/ 109)، وقد أطال الشيخ أحمد شاكر في تعليقه على "الرسالة" للشافعي (ص 9) تخريج هذا الحديث وتَصْحيحِه.

وانظر "الحديث حجة بنفسه في العقائد والأحكام" للألباني، فقد صححه.

(2) وهو قول الجمهور كما حكاه عنهم الشوكاني في "إرشاد الفحول" (ص 191).

(3) تقدم تخريجه (1/ 452).
113].

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার আরামকেদার ওপর হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় এমন না পাই যে, যখন তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসে, তখন সে বলে: আমরা জানি না! আল্লাহর কিতাবে আমরা যা পেয়েছি, কেবল তারই অনুসরণ করেছি। জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে এর অনুরূপ আরও কিছু দেওয়া হয়েছে" (১)।

এই কারণে সঠিক অভিমত হলো যে, কুরআন সুন্নাহ দ্বারা রহিত (মানসুখ) হতে পারে যদি তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহ সনদে প্রমাণিত হয় এবং এটি যৌক্তিকভাবে ও শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয; কিন্তু এর কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ নেই (২)।

 

• গ্রন্থকার বলেন: "কেননা সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা করে ও একে সুস্পষ্ট করে এবং এর প্রতি নির্দেশ প্রদান করে ও একে ব্যক্ত করে"।

* তাঁর কথা: "কুরআনের ব্যাখ্যা করে", অর্থাৎ: এর দ্বারা উদ্দেশ্যকৃত অর্থকে সুস্পষ্ট করে দেয়:

যেমন মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যায় এসেছে: {যারা কল্যাণকর কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম পুরস্কার এবং আরও অতিরিক্ত} [ইউনুস: ২৬]; যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এটি হলো মহান আল্লাহর সত্তাগত চেহারার দিকে তাকানো (৩)।
(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৪/ ১৩২), আবু দাউদ (৪৬০৫), তিরমিযী (২৬৬৩), ইবনে মাজাহ (১৩), এবং হাকীম (১/ ১০৯)। শায়খ আহমাদ শাকির শাফেয়ীর "আর-রিসালাহ" (পৃ. ৯) গ্রন্থের টীকাভাষ্যে এই হাদীসটির তাখরীজ ও এটি সহীহ প্রমাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

আলবানীর "আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম" গ্রন্থটি দেখুন, তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

(২) এটিই জুমহুর বা অধিকাংশ আলিমের মত, যেমনটি শাওকানী তাঁর "ইরশাদুল ফুহুল" (পৃ. ১৯১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

(৩) এর তাখরীজ পূর্বে (১/ ৪৫২) অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٧)
وكما فَسَّر النبي صلى الله عليه وسلم قوله تعالى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ} [الأنفال: 60]، فقال: "ألا إن القوة الرمي، ألا إن القوة الرمي" (1).

* و "تبيِّنُه"؛ يعني: تبين المجمل منه؛ حيث إن في القرآن آيات مجملة، لكن السنة بينتها ووضحتها؛ مثل:

قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} [البقرة: 43]: أمر الله بإقامتها، وبيَّنت السنة كيفيتها.

وقوله سبحانه: {أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ} [الإسراء: 78].

{لِدُلُوكِ الشَّمْسِ}؛ يعني: من دلوك الشمس إلى غسق الليل؛ أي: غاية ظلمته، وهو نصفه؛ لأن أشد ما يكون في ظلمة الليل نصفه.

فظاهر الآية أن هذا وقت واحد، ولكن السنة فصلت هذا المجمل:

فللظهر: من دلوك الشمس إلى أن يصير ظل كل شيء مثله.

وللعصر: من ذلك إلى اصفرار الشمس في الاختيار، ثم إلى غروبها في الضرورة.

وللمغرب: من غروب الشمس إلى مغيب الشفق الأحمر.
(1) رواه مسلم (1917)، عن عقبة بن عامر رضي الله عنه.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান আল্লাহর এই বাণীর যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন: {আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি প্রস্তুত করো} [সূরা আল-আনফাল: ৬০], অতঃপর তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, শক্তি হলো তীরন্দাজি; জেনে রেখো, শক্তি হলো তীরন্দাজি" (১)।

* এবং "তা বর্ণনা করে"; অর্থাৎ: এটি কুরআনের সংক্ষিপ্ত (মুজমাল) বিষয়গুলোকে বিশদভাবে বর্ণনা করে; যেহেতু কুরআনে এমন কিছু আয়াত রয়েছে যা সংক্ষিপ্ত, কিন্তু সুন্নাহ সেগুলোকে বিশদভাবে ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করেছে; যেমন:

মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো} [সূরা আল-বাকারাহ: ৪৩]: আল্লাহ তাআলা এটি কায়েম করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর সুন্নাহ এর পদ্ধতি বর্ণনা করেছে।

এবং মহান পবিত্র সত্তার বাণী: {সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করো} [সূরা আল-ইসরা: ৭৮]।

{সূর্য হেলে পড়া থেকে}; অর্থাৎ: সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের চরম অন্ধকার পর্যন্ত; অর্থাৎ তার শেষ অন্ধকার পর্যন্ত, যা হলো মধ্যরাত; কারণ রাতের অন্ধকার মধ্যরাতেই সবচেয়ে তীব্র হয়।

আয়াতের বাহ্যিক দিক থেকে মনে হয় যে এটি একটি নির্দিষ্ট সময়, কিন্তু সুন্নাহ এই সংক্ষিপ্ত বিষয়টিকে বিস্তারিতভাবে বিন্যস্ত করেছে:

যোহরের জন্য: সূর্য হেলে পড়া থেকে শুরু করে কোনো বস্তুর ছায়া তার সমান হওয়া পর্যন্ত।

আসরের জন্য: এরপর থেকে সূর্যের আভা হলুদ হওয়া পর্যন্ত (স্বাভাবিক সময়), অতঃপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত (জরুরি সময়)।

মাগরিবের জন্য: সূর্যাস্ত থেকে পশ্চিমাকাশের লালিমা (শাফাক) অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত।
(১) ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (১৯১৭), উকবাহ ইবনে আমির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٨)
وللعشاء: من مغيب الشفق الأحمر إلى نصف الليل، وليس هناك وقت ضرورة للعشاء، ولهذا لو طهرت الحائض في منتصف الليل الأخير؛ لم يجب عليها صلاة العشاء ولا صلاة المغرب، لأن وقت صلاة العشاء تنتهي بانتصاف الليل، ولم يأت في السنة دليل على أن وقت صلاة العشاء يمتد إلى طلوع الفجر.

وللفجر: من طلوع الفجر إلى طلوع الشمس.

ولهذا قال في نفس الآية: {لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ}، ثم فَصَلَ وقت الفجر، فقال: {وَقُرْآنَ الْفَجْرِ} [الإسراء: 78]، لأن وقت الفجر بينه وبين الأوقات الأخرى فاصل من قبله ومن بعده، فنصف الليل الثاني قبله، ونصف النهار الأول بعده.

هذا من بيان السنة حيث بينت الأوقات.

كذلك: {وَآتُوا الزَّكَاةَ} [البقرة: 43]، بينت السنة الأنصبة والأموال الزكوية.

* و "تدل عليه": هذه كلمة تعم التفسير والتبيين والتعبير" فالسنة تفسر القرآن وتبين القرآن.

* و"تعبر عنه"، يعني: تأتي بمعانٍ جديدة أو بأحكام جديدة ليست في القرآن.

وهذا كثير، فإن كثيرًا من الأحكام الشرعية استقلت بها السنة، ولم يأت بها القرآن.

لكن دل على أن لها حكم ما جاء في القرآن مثل قوله تعالى:
এশার সালাতের জন্য: পশ্চিমাকাশের লাল আভা (শাফাক আল-আহমার) অন্তর্হিত হওয়ার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। এশার সালাতের জন্য কোনো জরুরি সময় (ওয়াক্ত আদ-দারুরা) নেই; এ কারণেই যদি কোনো ঋতুবতী নারী রাতের শেষার্ধে পবিত্র হন, তবে তার ওপর এশা কিংবা মাগরিবের সালাত আদায় করা ওয়াজিব হবে না। কেননা এশার সালাতের সময় মধ্যরাতেই শেষ হয়ে যায় এবং সুন্নাহর মধ্যে এমন কোনো দলিল নেই যা প্রমাণ করে যে এশার সময় ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়।

আর ফজরের সালাতের জন্য: সুবহে সাদিক উদয় হওয়া থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।

এই কারণেই মহান আল্লাহ একই আয়াতে বলেছেন: "সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত," এরপর তিনি ফজরের সময়কে পৃথকভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: "এবং ফজরের কুরআন পাঠ (সালাত)" [আল-ইসরা: ৭৮]। কারণ ফজরের ওয়াক্ত এবং অন্যান্য ওয়াক্তের মাঝে আগে ও পরে একটি ব্যবধান রয়েছে; রাতের শেষ অর্ধাংশ এর আগে এবং দিনের প্রথম অর্ধাংশ এর পরে অবস্থিত।

এটি সুন্নাহর সেই ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত যা সালাতের সময়সমূহকে সুনির্দিষ্ট করেছে।

তদ্রূপ: "তোমরা জাকাত প্রদান করো" [আল-বাকারাহ: ৪৩], এক্ষেত্রে সুন্নাহ জাকাতের নিসাব (ন্যূনতম পরিমাণ) এবং জাকাতযোগ্য সম্পদের বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছে।

* এবং "তার ওপর প্রমাণ স্বরূপ হওয়া": এই শব্দটি তাফসির (ব্যাখ্যা), তাবয়ীন (সুস্পষ্টকরণ) এবং তায়বীর (প্রকাশ করা) অর্থকে শামিল করে। সুতরাং সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা করে এবং কুরআনকে বিশদভাবে বর্ণনা করে।

* এবং "তা প্রকাশ করে", অর্থাৎ: এমন কিছু নতুন অর্থ বা নতুন বিধিবিধান নিয়ে আসে যা সরাসরি কুরআনে বিদ্যমান নেই।

আর এমনটি অনেক ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে, কেননা শরিয়তের বহু বিধান সুন্নাহর মাধ্যমে স্বতন্ত্রভাবে নির্ধারিত হয়েছে যা কুরআনে আসেনি।

তবে কুরআনে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার মতোই এগুলোর বিধান যে প্রযোজ্য হবে, তা মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো দলিল দ্বারা প্রমাণিত:
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٩)
{مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80]، وقوله: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7]، وقوله: {وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا} [الأحزاب: 36].

أما الحكم المعين؛ فالسنة استقلت بأحكام كثيرة عن القرآن، ومن ذلك ما سيأتينا في أول حديث ذكره المؤلف في هذا الفصل: "ينزل ربنا إلى السماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الآخر … " (1)، فإن هذا ليس في القرآن.

إذًا؛ السنة مقامها مع القرآن على هذه الأنواع الأربعة: تفسير مشكل، وتبيين مجمل، ودلالة عليه، وتعبير عنه.

* * *

 

• ثم قال رحمه الله قاعدة مهمة: "وَمَا وَصَفَ الرَّسُولُ بهِ رَبَّه عز وجل مِن الأَحَادِيثِ الصِّحاح الَّتي تَلَقَّاها أَهْلُ المَعْرِفَةِ بالقَبُولِ، وَجَبَ الإيمانُ بِهَا كَذَلِكَ".

" قوله: "وما": هذه شرطية. وفعل الشرط: "وصف".

"وجب الإيمان بها": هذا جواب الشرط.

فما وصف الرسول به ربه، وكذلك ما سمى به ربه، لأن هناك أسماء مما سمى به الرسول ربه لم تكن موجودة في القرآن؛ مثل (الشافي)؛ قال النبي صلى الله عليه وسلم: "واشف أنت الشافي، لا شفاء
(1) سوف يأتي الحديث بطوله (2/ 13)، وهو في الصحيحين.
{যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০], এবং তাঁর বাণী: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭], এবং তাঁর বাণী: {আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত হয়} [আল-আহযাব: ৩৬]।

সুনির্দিষ্ট বিধানের ক্ষেত্রে সুন্নাহ কুরআন ব্যতিরেকেই অনেক স্বতন্ত্র বিধান প্রদান করেছে। এরই একটি উদাহরণ এই অধ্যায়ে গ্রন্থকার কর্তৃক উল্লিখিত প্রথম হাদিসে আমাদের সামনে আসবে: "আমাদের রব দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হন যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে … " (১); নিশ্চয়ই এটি কুরআনে নেই।

সুতরাং কুরআনের সাথে সুন্নাহর অবস্থান এই চারটি প্রকারের অন্তর্ভুক্ত: অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা (তাফসিরুল মুশকিল), সংক্ষেপিত বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ (তাবয়িনুল মুজমাল), কুরআনের নির্দেশের প্রতি দিকনির্দেশনা (দালালাহ), এবং কুরআনের ভাব প্রকাশ (তাবির)।

* * *

 

• এরপর তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি উল্লেখ করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহিহ হাদিসসমূহে তাঁর মহান রবের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, যে হাদিসগুলো ইলম অর্জনকারীগণ (আহলুল মারিফাহ) কবুল করে নিয়েছেন, সেগুলোর ওপরও একইভাবে ঈমান আনা ওয়াজিব।"

তাঁর উক্তি: "ওয়ামা" (এবং যা কিছু); এটি একটি শর্তবোধক অব্যয় (শারতিয়্যাহ)। আর শর্তবোধক ক্রিয়া (ফিয়লুশ শারত) হলো: "ওয়াসাফা" (বর্ণনা করেছেন)।

"সেগুলোর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব"; এটি হলো শর্তের উত্তর (জওয়াবুশ শারত)।

সুতরাং রাসূল তাঁর রবকে যে গুণাবলিতে গুণান্বিত করেছেন এবং একইভাবে যেসব নামে নামকরণ করেছেন (তাও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত); কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে এমন কিছু নামে অভিহিত করেছেন যা কুরআনে বিদ্যমান নেই; যেমন: (আশ-শাফী—আরোগ্যদানকারী); নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আর আপনি আরোগ্য দান করুন, আপনিই একমাত্র আরোগ্যদানকারী (আশ-শাফী), কোনো আরোগ্য নেই
(১) হাদিসটি পূর্ণাঙ্গভাবে সামনে আসবে (২/১৩), এবং এটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ বর্ণিত রয়েছে।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٠)
إلا شفاؤك" (1).

* "الرب": لم يأت في القرآن بدون إضافة لكن في السنة قال الرسول صلى الله عليه وسلم: "أما الركوع فعظموا فيه الرب" (2).

وقال في السواك: "مطهرة للفم مرضاة للرب" (3)

وظاهر كلام المؤلف أنه يشترط لقبولها شرطان:

الأول: أن تكون الأحاديث صحيحة.

الثاني: أن يكون أهل المعرفة يعني بالأحاديث تلقوها بالقبول، ولكن ليس هذا هو المراد، بل مراد الشيخ رحمه الله أن الأحاديث الصحاح تلقاها أهل المعرفة بالقبول فتكون الصفة هذه صفة كاشفة لا صفة مقيدة.

* فقوله: "التي تلقاها": هذا بيان لحال الأحاديث الصحيحة أي أن أهل المعرفة تلقوها بالقبول لأنه من المستحيل أن تكون الأحاديث صحيحة، ثم يرفضها أهل المعرفة، بل سيقبلونها.

صحيح أن هناك أحاديث ظاهرها الصحة، ولكن قد تكون معلولة بعلة؛ كانقلاب على الراوي ونحوه، وهذه لا تعد من الأحاديث الصحيحة.
(1) رواه: البخاري (5742)، ومسلم (2191)؛ عن عائشة رضي الله عنها.

(2) رواه مسلم (479)، عن ابن عباس رضي الله عنهما.

(3) رواه البخاري معلقًا مجزومًا (4/ 158)، ووصله أحمد (6/ 62)، والنسائي (1/ 10)، وابن حبان (2/ 287)، وحسّنه البغوي في "شرح السنة" (1/ 349).
ব্যতীত কোনো আরোগ্য নেই" (১)।

* "আর-রব": এটি কুরআনে সম্বন্ধ (ইদাফাহ) ব্যতীত আসেনি, তবে সুন্নাহতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আর রুকুতে তোমরা রবের মহিমা ঘোষণা করো" (২)।

আর মেসওয়াক সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "এটি মুখের জন্য পবিত্রকারী এবং রবের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম" (৩)

লেখকের বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ হলো, তা কবুল করার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে:

প্রথমত: হাদীসগুলো সহীহ (বিশুদ্ধ) হতে হবে।

দ্বিতীয়ত: আহলুল মারিফাহ অর্থাৎ হাদীস বিশারদগণ যেন তা গ্রহণের মাধ্যমে কবুল করেন। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়; বরং শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্দেশ্য হলো, সহীহ হাদীসসমূহকে বিশেষজ্ঞগণ গ্রহণের মাধ্যমেই কবুল করেছেন। সুতরাং এই গুণটি একটি ব্যাখ্যামূলক বৈশিষ্ট্য (সিফাত কাশিফাহ), সীমাবদ্ধকারী বৈশিষ্ট্য (সিফাত মুকায়্যিদাহ) নয়।

* সুতরাং তাঁর কথা "যা তাঁরা গ্রহণ করেছেন": এটি সহীহ হাদীসসমূহের অবস্থা বর্ণনা করছে। অর্থাৎ হাদীস বিশারদগণ তা গ্রহণের মাধ্যমে কবুল করেছেন। কেননা হাদীস সহীহ হওয়া সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞগণ তা প্রত্যাখ্যান করবেন—এমনটি হওয়া অসম্ভব, বরং তাঁরা তা কবুল করবেন।

এটা সত্য যে কিছু হাদীস বাহ্যত সহীহ মনে হলেও সেগুলোতে গোপন ত্রুটি (ইল্লাহ) থাকতে পারে; যেমন বর্ণনাকারীর বিভ্রান্তি বা শব্দ ওলটপালট হওয়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এগুলো সহীহ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(১) এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারী (৫৭৪২) এবং মুসলিম (২১৯১); আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (৪৭৯); ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী মুআল্লাক ও মাজযুম (নিশ্চিত) রূপে (৪/১৫৮); আর এটি সংযুক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৬/৬২), নাসাঈ (১/১০), ইবনে হিব্বান (২/২৮৭) এবং বাগভী একে "শারহুস সুন্নাহ" (১/৩৪৯) গ্রন্থে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١١)
قال: "وَجَبَ الإيمانُ بها": لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ} [النساء: 136]، وقوله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} [النساء: 59]، وقوله تعالى: {وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ (65) فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمُ الْأَنْبَاءُ يَوْمَئِذٍ فَهُمْ لَا يَتَسَاءَلُونَ} [القصص: 65، 66] … والنصوص في هذا كثيرة معلومة.

واعلم أن موقف أهل الأهواء والبدع تجاه الأحاديث المخالفة لأهوائهم يدور على أمرين: إما التكذيب، وإما التحريف.

فإن كان يمكنهم تكذيبه؛ كذبوه؛ كقولهم في القاعدة الباطلة: أخبار الآحاد لا تقبل في العقيدة!!

وقد رد ابن القيم رحمه الله هذه القاعدة وأبطلها بأدلة كثيرة في آخر "مختصر الصواعق".

وإن كان لا يمكنهم تكذيبه؛ حرفوه؛ كما حرفوا نصوص القرآن.

أما أهل السنة؛ فقبلوا كل ما صح عن النبي صلى الله عليه وسلم في الأمور العلمية والأمور العملية؛ لقيام الدليل على وجوب قبول ذلك.

* وقوله: "كذَلِك"؛ يعني: كما يجب الإيمان بما في القرآن؛ من غير تحريف، ولا تعطيل، ولا تكييف، ولا تمثيل.

وقد ذكر المؤلف منها أحاديث عديدة؛ منها.

* * *
তিনি বলেছেন: "সেগুলোর ওপর ঈমান আনা আবশ্যক (ওয়াজিব)": কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো} [আন-নিসা: ১৩৬], এবং তাঁর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো} [আন-নিসা: ৫৯], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর সেদিন তিনি তাদের ডেকে বলবেন, ‘তোমরা রাসূলগণকে কী জবাব দিয়েছিলে?’ সেদিন তাদের নিকট সকল সংবাদ আচ্ছন্ন হয়ে যাবে, তাই তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করতে পারবে না} [আল-কাসাস: ৬৫-৬৬] … এ বিষয়ে দলীলাদি অনেক এবং সুবিদিত।

জেনে রাখুন যে, প্রবৃত্তি পূজারি ও বিদআতিদের অবস্থান তাদের প্রবৃত্তির বিরোধী হাদীসসমূহের ব্যাপারে দুটি বিষয়ের ওপর আবর্তিত হয়: হয় মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, নতুবা বিকৃতি সাধন করা।

যদি তাদের পক্ষে সেটিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা সম্ভব হয়, তবে তারা তাকে মিথ্যা বলে দেয়; যেমন তাদের বাতিল নীতিমালার ক্ষেত্রে তারা বলে থাকে: আকিদার বিষয়ে একক সূত্রে বর্ণিত হাদীস (আخبارুল আহাদ) গ্রহণযোগ্য নয়!!

ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) ‘মুখতাসারুস সাওয়াইক’ গ্রন্থের শেষে অনেক দলীল দ্বারা এই নীতিকে প্রত্যাখ্যান ও বাতিল করেছেন।

আর যদি তাদের পক্ষে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা সম্ভব না হয়, তবে তারা তার বিকৃতি ঘটায়; যেমন তারা কুরআনের ভাষ্যসমূহের বিকৃতি ঘটিয়েছে।

পক্ষান্তরে আহলুস সুন্নাহ; তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা কিছু সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে, তার সবকিছুই তাত্ত্বিক (ইলমী) ও ব্যবহারিক (আমলী) উভয় ক্ষেত্রে গ্রহণ করেছেন; কারণ তা গ্রহণ করা আবশ্যক হওয়ার সপক্ষে দলীল বিদ্যমান।

* এবং তাঁর উক্তি: "তদ্রূপ"; অর্থাৎ: যেমনভাবে কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর ঈমান আনা আবশ্যক; কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরীফ), অর্থহীন বা অকার্যকর করা (তা’তীল), ধরণ নির্ধারণ (তাকয়ীফ) এবং সাদৃশ্য প্রদান (তামসীল) ব্যতিরেকে।

লেখক এর মধ্য থেকে অনেক হাদীস উল্লেখ করেছেন; তন্মধ্যে...

* * *
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌فصل في أحاديث الصفات

•‌‌ الحديث الأول في إثبات نزول الله إلى السماء الدنيا:

وهو قوله صلى الله عليه وسلم: "يَنْزِلُ رَبُّنا إلى سَماءِ الدُّنْيا كُلَّ لَيْلَةٍ، حينَ يَبْقى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرِ، فَيَقولُ: مَنْ يَدْعوني فَأستجيبَ لَهُ، مَنْ يَسْألُني فَأعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُني فَأغْفِرَ لَهُ". متفق عليه (1).

الشرح:

* هذا الحديث قال بعض أهل العلم: إنه من الأحاديث المتواترة، واتفقوا على أنه من الأحاديث المشهورة المستفيضة عند أهل العلم بالسنة.

* قوله: "ينزل ربنا إلى السماء الدنيا": نزوله تعالى حقيقي؛ لأنه كما مرَّ علينا من قبل: أن كل شيء كان الضَّمير يعود فيه إلى الله؛ فهو ينسب إليه حقيقة.
(1) تقدم تخريجه (1/ 94).
আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত হাদিসসমূহের অধ্যায়

•‌‌ প্রথম হাদিস: দুনিয়ার আসমানে আল্লাহর অবতরণ (নুযূল) সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে:

আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমাদের রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন: কে আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছে যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?" (মুত্তাফাকুন আলাইহি—অর্থাৎ বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত) (১)।

ব্যাখ্যা:

* এই হাদিস সম্পর্কে কোনো কোনো আলিম বলেছেন যে, এটি ‘মুতাওয়াতির’ (অবিচ্ছিন্ন ও বহুসূত্রে বর্ণিত) হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর সুন্নাহ বিশারদ আলিমগণের নিকট এটি একটি ‘মাশহুর’ (প্রসিদ্ধ) ও ‘মুস্তাফিদ’ (বহুল প্রচলিত) হাদিস হিসেবে সর্বসম্মত।

* তাঁর বাণী: "আমাদের রব দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন": মহান আল্লাহর এই অবতরণ প্রকৃত বা বাস্তব (হাকিকি); কারণ আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে, যে সকল ক্ষেত্রে সর্বনাম (দমীর) আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তা প্রকৃতার্থেই তাঁর সাথে সম্বন্ধিত হয়।
(১) এর তথ্যসূত্র ইতিপূর্বে (১/ ৯৪) বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٤)
فعلينا أن نؤمن به ونصدق ونقول: ينزل ربُّنا إلى السماء الدنيا، وهي أقرب السماوات إلى الأرض، والسماوات سبع، وإنما ينزل عز وجل في هذا الوقت من الليل للقرب من عباده جل وعلا؛ كما يقرب منهم عشية عرفة؛ حيث يباهي بالواقفين الملائكة (1).

* وقوله: "كل ليلة": يشمل جميع ليالي العام.

* "حين يبقى ثلث الليل الآخر" والليل يبتدئ من غروب الشمس اتفاقًا لكن حصل الخلاف في انتهائه هل يكون بطلوع الفجر أو بطلوع الشمس والظاهر أن الليل الشرعي ينتهي بطلوع الفجر والليل الفلكي يشهي بطلوع الشمس.

* وقوله: "فيقول: من يدعوني": "من": استفهام للتشويق؛ كقوله تعالى: {هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ} [الصف: 10].

* و "يدعوني"؛ أي: يقول: يا رب!

* وقوله: "فأستجيب له ": بالنصب؛ لأنها جواب الطلب.

* "من يسألني": يقول: أسألك الجنة، أو نحو ذلك.

* "من يستغفرني": فيقول: اللهم اغفر لي، أو: أستغفرك اللهم!

* "فأغفر له": والمغفرة ستر الذنب والتجاوز عنه.

بهذا يتبيَّن لكل إنسان قرأ هذا الحديث أن المراد بالنزول هنا نزول الله نفسه، ولا نحتاج أن نقول: بذاته؛ ما دام الفعل أُضيف
(1) كما جاء ذلك في "صحيح مسلم" (1348)، عن عائشة رضي الله عنها، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "ما من يوم أكثر من أن يعتق الله فيه عبدًا من النار من يوم عرفة، وإنه ليدنو ثم يباهي بهم الملائكة، فيقول: ما أراد هؤلاء؟ ".
অতএব আমাদের উচিত এর ওপর ঈমান আনা, একে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং বলা: আমাদের রব দুনিয়ার আকাশে (আসমানুদ দুনিয়া) অবতরণ করেন, যা জমিনের সবচেয়ে নিকটবর্তী আকাশ। আসমানসমূহ সাতটি। মহান আল্লাহ রাতের এই সময়ে তাঁর বান্দাদের নিকটবর্তী হওয়ার জন্যই অবতরণ করেন; যেভাবে তিনি আরাফার দিন বিকেলে তাদের নিকটবর্তী হন, যখন তিনি ফেরেশতাদের সামনে (আরাফায়) অবস্থানকারীদের নিয়ে গর্ব করেন (১)।

* এবং তাঁর বাণী: "প্রতি রাতে": এটি বছরের সকল রাতকে অন্তর্ভুক্ত করে।

* "যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে": ঐক্যমত্য অনুযায়ী রাত সূর্যাস্ত থেকে শুরু হয়, তবে এর সমাপ্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে যে, তা কি ফজর উদিত হওয়ার মাধ্যমে হবে নাকি সূর্যোদয়ের মাধ্যমে। আর বাহ্যত শরয়ী রাত ফজর উদিত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয় এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক (ফালাকি) রাত সূর্যোদয়ের মাধ্যমে শেষ হয়।

* এবং তাঁর বাণী: "অতঃপর তিনি বলেন: কে আমাকে ডাকবে": এখানে "কে" (মান) শব্দটি আগ্রহ সৃষ্টির জন্য প্রশ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হতে রক্ষা করবে?} [আস-সাফ: ১০]।

* এবং "আমাকে ডাকবে"; অর্থাৎ বলবে: হে আমার রব!

* এবং তাঁর বাণী: "যাতে আমি তার ডাকে সাড়া দেই": এটি নসব (ব্যাকরণিক বিশেষ অবস্থা) যুক্ত হয়েছে, কারণ এটি অনুরোধের উত্তর (জওয়াবুত তালাব)।

* "কে আমার কাছে প্রার্থনা করবে": অর্থাৎ বলবে: আমি আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছি, অথবা অনুরূপ কিছু।

* "কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে": অর্থাৎ বলবে: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন, অথবা: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি!

* "যাতে আমি তাকে ক্ষমা করে দেই": আর ক্ষমা (মাগফিরাত) হলো পাপ গোপন করা এবং তা মার্জনা করা।

এর মাধ্যমে এই হাদিসটি পাঠকারী প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এখানে অবতরণ (নুযুল) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্বয়ং আল্লাহর অবতরণ। যতক্ষণ পর্যন্ত ক্রিয়াটি সরাসরি আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, ততক্ষণ আমাদের "সত্তা সহকারে" (বি-যাতিহি) বলার প্রয়োজন নেই
(১) যেমনটি "সহীহ মুসলিম" (১৩৪৮)-এ আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আরাফার দিনের চেয়ে এমন কোনো দিন নেই যেদিন আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটবর্তী হন, অতঃপর ফেরেশতাদের কাছে তাদের নিয়ে গর্ব করে বলেন: এরা কী চায়?"।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٥)
إليه؛ فهو له، لكن بعض العلماء قالوا: ينزل بذاته؛ لأنهم لجؤوا إلى ذلك، واضطروا إليه؛ لأن هناك من حرَّفوا الحديث وقالوا: الذي ينزل أمر الله! وقال آخرون: بل الذي ينزل رحمة الله! وقال آخرون: بل الذي ينزل مَلَكٌ من ملائكة الله!

وهذا باطل؛ فإن نزول أمر الله دائمًا وأبدًا، ولا يختص نزوله في الثلث الأخير من الليل؛ قال الله تعالى: {يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ} [السجدة: 5]، وقال: {وَإِلَيْهِ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ} [هود: 123].

وأما قولهم: تنزل رحمة الله إلى السماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الآخر! فسبحان الله! الرحمة لا تنزل إلا في هذا الوقت! قال الله تعالى: {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ} [النحل: 53]؛ كل النعم من الله، وهي من آثار رحمته، وهي تترى كل وقت!!

ثم نقول: أي فائدة لنا بنزول الرحمة إلى السماء الدنيا؟!

ثم نقول لمن قال: إنه ملَك من ملائكته: هل من المعقول أنَّ الملَك ملائكة الله يقول: مَن يدعوني فأستجيب له … إلخ؟!

فتبيَّن بهذا أن هذه الأقوال تحريف باطل يبطله الحديث.

ووالله؛ ليسوا أعلم بالله من رسول الله، وليسوا أنصح لعباد الله من رسول الله، وليسوا أفصح في قولهم من رسول الله صلى الله عليه وسلم!!

يقولون: كيف تقولون: إن الله ينزل؟! إذا نزل؛ أين العلو؟! وإذا نزل؛ أين الاستواء على العرش؟! إذا نزل؛ فالنزول حركة
তাঁরই প্রতি; সুতরাং এটি তাঁরই জন্য প্রযোজ্য, তবে কিছু আলেম বলেছেন: তিনি স্বীয় সত্তায় (বিজ়াতিহি) অবতরণ করেন; কারণ তাঁরা এর আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। কেননা এমন কিছু লোক ছিল যারা হাদীসটিকে বিকৃত করেছে এবং বলেছে: যা অবতীর্ণ হয় তা আল্লাহর নির্দেশ! আবার কেউ কেউ বলেছেন: বরং আল্লাহর রহমত (অনুগ্রহ) অবতীর্ণ হয়! এবং অন্য অনেকে বলেছেন: বরং আল্লাহর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হন!

আর এটি বাতিল (ভিত্তিহীন); কারণ আল্লাহর নির্দেশের অবতরণ সর্বদা ও নিরন্তর হয়ে থাকে, এবং এর অবতরণ রাতের শেষ তৃতীয়াংশের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়; মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি আকাশ হতে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁরই দিকে আরোহণ করে} [আস-সাজদাহ: ৫], এবং তিনি আরও বলেন: {আর সমস্ত বিষয় তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়} [হূদ: ১২৩]।

আর তাদের এই উক্তি সম্পর্কে: রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আল্লাহর রহমত দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হয়! সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ অতি পবিত্র)! তবে কি রহমত কেবল এই সময়েই অবতীর্ণ হয়! মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের কাছে যে সমস্ত নিয়ামত রয়েছে তা আল্লাহরই পক্ষ থেকে} [আন-নাহল: ৫৩]; সকল নিয়ামতই আল্লাহর পক্ষ থেকে, যা তাঁর রহমতেরই নিদর্শন, এবং যা সর্বদাই অবিরত ধারায় বর্ষিত হতে থাকে!!

অতঃপর আমরা প্রশ্ন করি: দুনিয়ার আকাশে রহমত অবতীর্ণ হওয়ায় আমাদের কী লাভ?!

আবার যারা বলেন যে: তিনি তাঁর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা, তাদের আমরা বলি: আল্লাহর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে কোনো ফেরেশতার পক্ষে কি এটি বলা সম্ভব যে: কে আমাকে ডাকবে যে আমি তার ডাকে সাড়া দেব … ইত্যাদি?!

এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, এই কথাগুলো ভ্রান্ত বিকৃতি (তাহরিফ), যা হাদীসের মাধ্যমেই বাতিল প্রমাণিত হয়।

আল্লাহর কসম! তারা আল্লাহ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত নন, আল্লাহর বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল অপেক্ষা অধিক হিতাকাঙ্ক্ষী নন এবং তাদের বক্তব্যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা অধিক প্রাঞ্জলও নন!!

তারা বলে: আপনারা কীভাবে বলেন যে আল্লাহ অবতীর্ণ হন?! যদি তিনি অবতীর্ণ হন, তবে তাঁর সুউচ্চতা (উলুউ) কোথায় থাকে?! আর যদি তিনি অবতীর্ণ হন, তবে আরশের ওপর উর্ধ্বে আরোহণ থাকা (ইস্তাওয়া আলাল আরশ) কোথায় থাকে?! যদি তিনি অবতীর্ণ হন, তবে সেই অবতরণ তো একটি গতি (হারাকাহ)।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٦)
وانتقال!! إذا نزل؛ فالنزول حادث، والحوادث لا تقوم إلا بحادث!!

فنقول: هذا جدال بالباطل، وليس بمانع من القول بحقيقة النزول!!

هل أنتم أعلم بما يستحقُّه الله عز وجل من أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم؟!

فأصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم ما قالوا هذه الاحتمالات أبدًا؛ قالوا: سمعنا وآمنَّا وقبلنا وصدَّقنا.

وأنتم أيها الخالفون المخالفون تأتون الآن وتجادلون بالباطل وتقولون: كيف؟! وكيف؟!

نحن نقول: ينزل، ولا نتكلَّم عن استوائه على العرش؛ هل يخلو منه العرش أو لا يخلو؟!

أما العلو؛ فنقول: ينزل، لكنه عال عز وجل على خلقه؛ لأنه ليس معنى النزول أن السماء تُقِلُّه، وأن السماوات الأخرى تظلُّه؛ إذ إنه لا يحيط به شيء من مخلوقاته.

فنقول: هو ينزل حقيقة مع علوه حقيقة، وليس كمثله شيء.

أما الاستواء على العرش فهو فعل، ليس من صفات الذات، وليس لنا حق -فيما أرى- أن نتكلم هل يخلو منه العرش أو لا يخلو، بل نسكت كما سكت عن ذلك الصحابة رضي الله عنهم.

وإذا كان علماء أهل السنة لهم في هذا ثلاثة أقوال: قول بأنه
...এবং স্থানান্তর!! যখন তিনি অবতরণ করেন, তখন সেই অবতরণ একটি নতুন বিষয় (হাদিস), আর নশ্বর বা পরিবর্তনশীল বিষয়সমূহ কেবল কোনো নশ্বর বা পরিবর্তনশীল সত্তার মাধ্যমেই সংঘটিত হয়!!

আমরা বলি: এটি একটি অসার বিতর্ক, এবং এটি আল্লাহর অবতরণের প্রকৃত রূপ (হাকিকত) বর্ণনার পথে কোনো বাধা নয়!!

মহান আল্লাহ যা পাওয়ার যোগ্য, সে বিষয়ে কি তোমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের চেয়েও বেশি জ্ঞানী?!

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ কখনোই এই সব কাল্পনিক সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেননি; তারা বলেছেন: আমরা শুনেছি, ঈমান এনেছি, গ্রহণ করেছি এবং সত্য বলে বিশ্বাস করেছি।

আর তোমরা পরবর্তী যুগের বিরুদ্ধচারীরা এখন আসছো এবং অসার বিতর্ক করছো আর বলছো: কীভাবে?! এবং কীভাবে?!

আমরা বলি: তিনি অবতরণ করেন, এবং আমরা আরশের ওপর তাঁর অধিষ্ঠিত হওয়ার (ইস্তিওয়া) বিষয়ে কোনো কথা বলি না যে, আরশ কি তাঁর থেকে শূন্য হয়ে যায় নাকি হয় না?!

তাঁর উচ্চমর্যাদা ও ঊর্ধ্বে অবস্থানের (উলুউ) ক্ষেত্রে আমরা বলি: তিনি অবতরণ করেন, কিন্তু তিনি তাঁর সৃষ্টির ঊর্ধ্বে মহান ও সমুন্নত; কারণ অবতরণের অর্থ এই নয় যে আকাশ তাঁকে বহন করে কিংবা অন্য আসমানসমূহ তাঁকে ছায়া দান করে; কেননা তাঁর সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুই তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না।

সুতরাং আমরা বলি: তিনি প্রকৃতপক্ষে অবতরণ করেন এবং সেই সাথে প্রকৃতপক্ষে তিনি ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন, আর তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই।

আর আরশের ওপর অধিষ্ঠিত হওয়ার (ইস্তিওয়া) বিষয়টি একটি কর্মগত গুণ, এটি সত্তাগত গুণ (সিফাত উজ-জাত) নয়। আর আমার মতে, আমাদের এই অধিকার নেই যে আমরা বলব আরশ কি তাঁর থেকে শূন্য হয় কি হয় না; বরং আমরা এ বিষয়ে নীরব থাকব, যেমন এ বিষয়ে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নীরব ছিলেন।

যদিও এ বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আলেমগণের তিনটি অভিমত রয়েছে: একদল বলেন যে...
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٧)
يخلو، وقول بأنه لا يخلو، وقول بالتوقُّف.

وشيخ الإسلام رحمه الله في "الرسالة العرشية" يقول: إنه لا يخلو منه العرش، لأن أدلة استوائه على العرش محكمَة، والحديث هذا محكم، والله عز وجل لا تُقاس صفاته بصفات الخلق؛ فيجب علينا أن نبقي نصوص الاستواء على إحكامها، ونصَّ النزول على إحكامه، ونقول: هو مستو على عرشه، نازل إلى السماء الدنيا، والله أعلم بكيفية ذلك، وعقولنا أقصر وأدنى وأحقر من أن تحيط بالله عز وجل.

القول الثاني: التوقُّف؛ يقولون: لا نقول: يخلو، ولا: لا يخلو.

والثالث: أنه يخلو منه العرش.

وأورد المتأخرون الذين عرفوا أن الأرض كروية وأن الشمس تدور على الأرض إشكالًا؛ قالوا: كيف ينزل في ثلث الليل الآخر؟! وثلث الليل الآخر إذا انتقل عن المملكة العربية السعودية، ذهب إلى أوروبا وما قاربها؟! أفيكون نازلًا دائمًا؟!

فنقول: آمن أولًا بأن الله ينزل في هذا الوقت المعين، وإذا آمنت؛ ليس عليك شيء وراء ذلك، لا تقل: كيف؟! وكيف؟! بل قل: إذا كان ثلث الليل الآخر في السعودية، فالله نازل، وإذا كان في أمريكا ثلث الليل، يكون نزول الله أيضًا، وإذا طلع الفجر؛ انتهى وقت النزول في كل مكان بحسبه.
(আরশ) শূন্য হওয়া সম্পর্কে একটি অভিমত, এটি শূন্য না হওয়া সম্পর্কে একটি অভিমত এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতা বা বিরত থাকার (তাওয়াক্কুফ) একটি অভিমত।

শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "আর-রিসালাহ আল-আরশিয়্যাহ" গ্রন্থে বলেন: আরশ মহান আল্লাহ থেকে শূন্য হয় না, কারণ আরশের ওপর তাঁর আরোহণ (ইস্তিওয়া)-এর দলিলসমূহ সুস্পষ্ট ও অকাট্য (মুহকাম), এবং এই হাদিসটিও অকাট্য। মহান আল্লাহর গুণাবলিকে সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করা চলে না; তাই আমাদের ওপর কর্তব্য হলো আরোহণ (ইস্তিওয়া) সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোকে সেগুলোর অকাট্যতার ওপর বহাল রাখা এবং অবতরণ (নুযুল) সংক্রান্ত বর্ণনাকেও তার অকাট্যতার ওপর বহাল রাখা। আমরা বলি: তিনি তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন, আবার দুনিয়ার আসমানে অবতরণকারী, আর আল্লাহই এর প্রকৃতি সম্পর্কে সম্যক অবগত। আমাদের বিচারবুদ্ধি মহান আল্লাহকে পরিবেষ্টন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংকীর্ণ, নগণ্য ও তুচ্ছ।

দ্বিতীয় অভিমত: বিরত থাকা (তাওয়াক্কুফ); তাঁরা বলেন: আমরা এ কথা বলব না যে এটি শূন্য হয়, আর এ কথাও বলব না যে এটি শূন্য হয় না।

তৃতীয় অভিমত: আরশ মহান আল্লাহ থেকে শূন্য হয়।

পরবর্তীকালের আলিমগণ যারা জানতেন যে পৃথিবী গোলাকার এবং সূর্য (আপাতদৃষ্টিতে) পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, তাঁরা একটি সংশয় উত্থাপন করেছেন। তাঁরা বলেন: তিনি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে কীভাবে অবতরণ করেন? রাতের শেষ তৃতীয়াংশ যখন সৌদি আরব থেকে অতিক্রান্ত হয়ে ইউরোপ ও তার নিকটবর্তী অঞ্চলে পৌঁছে যায়, তখন কি তিনি সব সময়ই অবতরণরত থাকেন?

উত্তরে আমরা বলি: আপনি প্রথমে বিশ্বাস স্থাপন করুন যে, আল্লাহ এই নির্দিষ্ট সময়ে অবতরণ করেন। আর যখন আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন, তখন এর বাইরে আপনার আর কিছু করার নেই। আপনি 'কীভাবে' এবং 'কেমন করে'—এসব প্রশ্ন করবেন না। বরং বলুন: যখন সৌদি আরবে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ থাকে, তখন আল্লাহ অবতরণ করেন; আবার যখন আমেরিকায় রাতের শেষ তৃতীয়াংশ হয়, তখন আল্লাহর সেই অবতরণ বিদ্যমান থাকে। আর যখন প্রভাত উদিত হয়, তখন প্রতিটি স্থানের নিজ নিজ সময় অনুযায়ী অবতরণের সময় সমাপ্ত হয়।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٨)
إذًا؛ موقفنا أن نقول: إنا نؤمن بما وصل إلينا عن طريق محمد رسول الله؛ بأن الله ينزل إلى السماء الدنيا حين يبقى الثلث الآخر من الليل، ويقول: من يدعوني فأستجيب له؟ من يسألني فأعطيه؟ من يستغفرني فأغفر له؟!

* من فوائد هذا الحديث:

أولًا: إثبات العلو لله من قوله: "ينزل".

ثانيًا: إثبات الأفعال الاختيارية التي هي الصفات الفعلية من قوله: "ينزل ربنا حين يبقى ثلث الليل الآخر".

ثالثًا: إثبات القول لله من قوله: "يقول".

رابعًا: إثبات الكَرَم لله عز وجل من قوله: "مَن يدعوني … مَن يسألني … مَن يستغفرني … ".

* وفيه من الناحية المسلكية:

أنه ينبغي للإنسان أن يغتنم هذا الجزء من الليل، فيسأل الله عز وجل ويدعوه ويستغفره.

ما دام الرب سبحانه يقول: "من يدعوني … من يستغفرني … "، و (مَن): للتشويق؛ فينبغي لنا أن نستغل هذه الفرصة؛ لأنه ليس لك من العمر إلا ما أمضيته في طاعة الله، وستمر بك الأيام؛ فإذا نزل بك الموت؛ فكأنك وُلِدت تلك الساعة، وكل ما مضى ليس بشيء.

* * *
সুতরাং; আমাদের অবস্থান হলো এই বলা: আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে তার ওপর আমরা ঈমান রাখি; তা হলো, যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে (সামাউদ দুনিয়া) অবতরণ করেন এবং বলেন: কে আমাকে ডাকবে যে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে প্রার্থনা করবে যে আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে যে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?!

* এই হাদীসের কিছু শিক্ষা ও উপকারিতা:

প্রথমত: তাঁর বাণী "অবতরণ করেন" (ইয়ানজিলু) থেকে আল্লাহর সুউচ্চতা (উলুউ) সাব্যস্ত করা।

দ্বিতীয়ত: "আমাদের রব অবতরণ করেন যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে" এই কথাটি থেকে আল্লাহর ঐচ্ছিক কার্যাবলি (আফ'আল ইখতিয়ারিয়্যাহ) সাব্যস্ত করা, যা মূলত তাঁর কর্মবাচক গুণাবলি (সিফাত ফিলিইয়্যাহ)।

তৃতীয়ত: "বলেন" (ইয়াকুলু) কথাটি থেকে আল্লাহর জন্য কথা বলা (কাওল) সাব্যস্ত করা।

চতুর্থত: মহান আল্লাহর বাণী "কে আমাকে ডাকবে … কে আমার নিকট চাইবে … কে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে …" থেকে তাঁর বদান্যতা ও মহানুভবতা (কারাম) সাব্যস্ত করা।

* আর এর মধ্যে আচরণগত বা আমলি দিক থেকে যা রয়েছে:

তা হলো, মানুষের উচিত রাতের এই অংশটিকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা; তাই সে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, তাঁকে ডাকবে এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

যেহেতু প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলছেন: "কে আমাকে ডাকবে … কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে …", আর এখানে 'কে' (মান) শব্দটি আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য ব্যবহৃত হয়েছে; তাই আমাদের উচিত এই সুযোগকে কাজে লাগানো। কারণ আপনার জীবনের ততটুকুই সার্থক যা আপনি আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করেছেন। এভাবে দিনগুলো আপনার ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়ে যাবে; অতঃপর যখন আপনার নিকট মৃত্যু উপস্থিত হবে, তখন মনে হবে আপনি যেন এই মুহূর্তেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং অতীতে যা কিছু গত হয়েছে তা যেন কিছুই নয়।

* * *
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ١٩)
•‌‌ الحديث الثاني في إثبات الفرح، وهو قوله صلى الله عليه وسلم: "لَلهُ أشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبةِ عَبْدهِ مِنْ أَحَدِكُمْ بِراحِلَتِهِ … " الحديث، متفق عليه (1).

* "الله": اللام هذه لام الابتداء. "الله": مبتدأ.

* "أشد": خبر المبتدأ.

* "فرحًا": تمييز.

* قال المؤلف: "الحديث"؛ أي: أكمل الحديث.

والحديث أن هذا الرجل كان معه راحلته، عليها طعامه وشرابه، فضلَّت عنه، فذهب يطلبها، فلم يجدها، فأيس من الحياة، ثم اضطجع تحت شجرة ينتظر الموت؛ فإذا بخطام ناقته متعلقًا بالشجرة … ولا أحد يستطيع أن يقدر هذا الفرح؛ إلا من وقع فيه … فأمسك بخطام الناقة، وقال: اللهمَّ! أنت عبدي، وأنا ربك؛ أخطأ من شدة الفرح؛ لم يملك كيف يتصرَّف في الكلام!!

فالله عز وجل أفرح بتوبة عبده إذا تاب إليه من هذا الرجل براحلته، وليس الله عز وجل بمحتاج إلى توبتنا، بل نحن مفتقرون إليه في كل أحوالنا، لكن لكرمه جل وعلا ومحبته للإحسان والفضل والجود يفرح هذا الفرح الذي لا نظير له بتوبة الإنسان إذا تاب إليه.

* في هذا الحديث: إثبات الفرح لله عز وجل؛ فنقول في
(1) رواه البخاري (11/ 102)، ومسلم (ص 2102)، عن عدة من الصحابة بألفاظ مختلفة.
দ্বিতীয় হাদিস: ‘ফরাহ’ (আনন্দ/উল্লাস) সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে, আর তা হলো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় তোমাদের কারো নিজের বাহন ফিরে পাওয়ার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন..." হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (১)।

* "আল্লাহ": এই ‘লাম’টি হলো প্রারম্ভিক ‘লাম’ (লামুল ইবতিদা)। "আল্লাহ": এটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য)।

* "আশাদ্দু" (অধিকতর): এটি মুবতাদা-এর খবর (বিধেয়)।

* "ফারাহান" (উল্লাস): এটি তাময়িজ (পার্থক্যকারী)।

* লেখক বলেছেন: "আল-হাদিস"; অর্থাৎ: হাদিসটি পূর্ণ করো।

হাদিসটি হলো এই যে, এক ব্যক্তির সাথে তার বাহন ছিল, যার ওপর তার খাদ্য ও পানীয় ছিল। অতঃপর সেটি তার কাছ থেকে হারিয়ে গেল। সে তা খুঁজতে বের হলো কিন্তু পেল না, ফলে সে জীবনের আশা ছেড়ে দিল। এরপর সে একটি গাছের নিচে শুয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করতে লাগল; এমতাবস্থায় হঠাৎ সে দেখল তার উটনীর লাগাম গাছের সাথে আটকে আছে … এই আনন্দের গভীরতা কেউ পরিমাপ করতে সক্ষম নয়, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে নিজে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে … অতঃপর সে উটনীর লাগাম ধরে ফেলল এবং বলল: হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা আর আমি আপনার রব; অত্যধিক খুশির আতিশয্যে সে ভুল করে ফেলল; কথা বলার সময় নিজের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ছিল না!!

সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায়—যখন সে তাঁর কাছে তাওবা করে—এই ব্যক্তির বাহন ফিরে পাওয়ার খুশির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। অথচ মহান আল্লাহ আমাদের তাওবার মুখাপেক্ষী নন, বরং আমরাই সর্বাবস্থায় তাঁর মুখাপেক্ষী। কিন্তু তাঁর মহত্ত্ব এবং ইহসান (সদাচরণ), অনুগ্রহ ও দানশীলতার প্রতি তাঁর ভালোবাসার কারণে তিনি মানুষের তাওবায় এমন অতুলনীয় খুশি হন যখন সে তাঁর কাছে ফিরে আসে।

* এই হাদিসে মহান আল্লাহর জন্য ‘ফরাহ’ (আনন্দ/উল্লাস) গুণটি সাব্যস্ত হয়েছে; সুতরাং আমরা বলব...
(১) ইমাম বুখারি (১১/১০২) এবং মুসলিম (পৃষ্ঠা ২১০২) একাধিক সাহাবী থেকে বিভিন্ন শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
هذا الفرح: إنه فرح حقيقي، وأشد فرح، ولكنه ليس كفرح المخلوقين.

الفرح بالنسبة للإنسان هو نشوة وخفة يجدها الإنسان من نفسه عند حصول ما يسرُّه، ولهذا تشعر بأنك إذا فرحت بالشيء كأنك تمشي على الهواء، لكن بالنسبة لله عز وجل لا نفسِّر الفرح بمثل ما نعرفه من أنفسنا؛ نقول: هو فرح يليق به عز وجل؛ مثل بقية الصفات؛ كما أننا نقول: لله ذات، ولكن لا تماثل ذواتنا؛ فله صفات لا تماثل صفاتنا؛ لأن الكلام عن الصفات فرع عن الكلام في الذات.

فنؤمن بأن الله تعالى له فرح كما أثبت ذلك أعلم الخلق به، محمد صلى الله عليه وسلم، وأنصح الخلق للخلق، وأفصح الخلق فيما ينطق به عليه الصلاة والسلام.

ونحن على خطر إذا قلنا: المراد بالفرح الثَّواب؛ لأن أهل التحريف يقولون: إن الله لا يفرح، والمراد بفرحه: إثابته التائب، أو: إرادة الثواب؛ لأنهم هم يثبتون أن لله تعالى مخلوقًا بائنًا منه هو الثواب، ويثبتون الإرادة؛ فيقولون في الفرح: إنه الثواب المخلوق، أو: إرادة الثواب.

ونحن نقول: المراد بالفرح: الفرح حقيقة؛ مثلما أن المراد بالله عز وجل: نفسه حقيقة، ولكننا لا نمثل صفاتنا بصفات الله أبدًا.

* ويستفاد من هذا الحديث مع إثبات الفرح لله عز وجل:
এই আনন্দ: এটি একটি প্রকৃত আনন্দ এবং অত্যন্ত তীব্র আনন্দ, তবে এটি সৃষ্টির আনন্দের মতো নয়।

মানুষের ক্ষেত্রে আনন্দ হলো এক প্রকার শিহরণ ও লঘুতা যা মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত কোনো কিছু লাভের সময় নিজের মধ্যে অনুভব করে। একারণেই আপনি যখন কোনো বিষয়ে আনন্দিত হন, তখন আপনার এমন অনুভূত হয় যেন আপনি শূন্যে ভাসছেন। কিন্তু মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে আমরা আনন্দকে সেভাবে ব্যাখ্যা করি না যেভাবে আমরা নিজেদের সম্পর্কে জানি। আমরা বলি: এটি এমন এক আনন্দ যা তাঁর মহান সত্তার উপযোগী; যেমনটি অন্যান্য গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে বলা হয়। ঠিক যেভাবে আমরা বলি: আল্লাহর একটি সত্তা (জাত) রয়েছে, তবে তা আমাদের সত্তার সদৃশ নয়; তেমনি তাঁর এমন গুণাবলি রয়েছে যা আমাদের গুণাবলির মতো নয়। কারণ গুণাবলি সম্পর্কিত আলোচনা হলো সত্তা সম্পর্কিত আলোচনার একটি শাখা।

সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহর আনন্দ রয়েছে—যেমনটি তাঁর সম্পর্কে সৃষ্টির সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত সত্তা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাব্যস্ত করেছেন, যিনি সৃষ্টির প্রতি সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষী এবং যা কিছু তিনি উচ্চারণ করেন তাতে সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী (আফসাহুল খালক)।

আর আমরা ঝুঁকির মুখে পড়ব যদি বলি: আনন্দের উদ্দেশ্য হলো সওয়াব বা পুরস্কার; কারণ বিকৃতকারীরা (আহলুত তাহরিফ) বলে থাকে যে: আল্লাহ আনন্দিত হন না, বরং তাঁর আনন্দের অর্থ হলো তাওবাকারীকে পুরস্কার প্রদান করা অথবা পুরস্কার প্রদানের ইচ্ছা করা। কেননা তারা সাব্যস্ত করে যে, মহান আল্লাহর এমন এক সৃষ্টি রয়েছে যা তাঁর সত্তা থেকে পৃথক এবং সেটি হলো সওয়াব; আর তারা আল্লাহর 'ইচ্ছা' গুণটিকে সাব্যস্ত করে। ফলে তারা আনন্দের ব্যাপারে বলে যে: এটি হলো সৃষ্ট সওয়াব অথবা সওয়াব প্রদানের ইচ্ছা।

কিন্তু আমরা বলি: আনন্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত আনন্দ; ঠিক যেমন মহান আল্লাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর প্রকৃত সত্তা। তবে আমরা কখনোই আমাদের গুণাবলিকে আল্লাহর গুণাবলির সাথে সাদৃশ্য প্রদান করি না।

* মহান আল্লাহর জন্য আনন্দের গুণ সাব্যস্ত করার পাশাপাশি এই হাদীস থেকে যা শিক্ষণীয় তা হলো:
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢١)
كمال رحمته جلَّ وعلا ورأفته بعباده؛ حيث يحب رجوع العاصي إليه هذه المحبة العظيمة … هارب من الله، ثم وقف ورجع إلى الله … يفرح الله به هذا الفرح العظيم.

* هي ومن الناحية المسلكية: يفيدنا أن نحرص على التوبة غاية الحرص، كلما فعلنا ذنبًا؛ تبنا إلى الله.

قال الله تعالى في وصف المتقين: {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً}؛ أي فاحشة؛ مثل: الزنى، واللواط، ونكاح ذوات المحارم … قال الله تعالى: {وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ مِنَ النِّسَاءِ إلا مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاءَ سَبِيلًا} [النساء: 22]، {وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا} [الإسراء: 32] وقال لوط لقومه: {أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ} [الأعراف: 80].

إذًا؛ {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ}؛ ذكروا الله تعالى في نفوسهم؛ ذكروا عظمته، وذكروا عقابه، وذكروا ثوابه للتائبين؛ {فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ}؛ فعلوا ما فعلوا؛ لكنهم ذكروا الله تعالى في نفوسهم، واستغفروا لذنوبهم، فيغفر الله لهم، والدليل: {وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إلا اللَّهُ} [آل عمران: 135].

فأنت إذا علمت أن الله يفرح بتوبتك هذا الفرح الذي لا نظير له؛ لا شك أنك سوف تحرص غاية الحرص على التوبة.
মহান আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ রহমত এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি মমত্ববোধ; কেননা তিনি অবাধ্য ব্যক্তির তাঁর দিকে ফিরে আসাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন... আল্লাহর থেকে পলায়নপর ব্যক্তি যখন থেমে যায় এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসে... তখন আল্লাহ তাআলা তার কারণে এমন মহান আনন্দিত হন।

* আর এটি জীবন চলার পথের (মাসলাকি) দিক থেকে আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, আমরা যেন তওবা করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেষ্ট হই; যখনই আমরা কোনো পাপে লিপ্ত হই, তখনই যেন আল্লাহর নিকট তওবা করি।

মহান আল্লাহ মুত্তাকীদের বর্ণনায় বলেন: {এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে}; অর্থাৎ যেকোনো অশ্লীল কাজ; যেমন: ব্যভিচার, সমকামিতা এবং মাহরাম (যাদের সাথে বিয়ে হারাম) নারীদের বিয়ে করা... মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের পিতারা যে নারীদের বিয়ে করেছে তোমরা তাদের বিয়ে করো না, তবে অতীতে যা হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই তা ছিল অশ্লীলতা, ঘৃণ্য কাজ এবং মন্দ পথ।} [নিসা: ২২], {তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।} [ইসরা: ৩২] এবং লুত আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে বলেছিলেন: {তোমরা কি অশ্লীল কাজ করছো?} [আরাফ: ৮০]।

সুতরাং; {এবং যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে}; তারা মনে মনে মহান আল্লাহকে স্মরণ করে; তারা তাঁর মহিমা স্মরণ করে, তাঁর শাস্তি স্মরণ করে এবং তওবাকারীদের জন্য তাঁর প্রতিশ্রুত পুরস্কারের কথা স্মরণ করে; {অতঃপর তারা তাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে}; তারা যা করার করেছে; কিন্তু তারা মনে মনে আল্লাহকে স্মরণ করেছে এবং নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা চেয়েছে, ফলে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন। এর দলিল হলো: {আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে?} [আল-ইমরান: ১৩৫]।

অতএব যখন আপনি জানবেন যে, আল্লাহ তাআলা আপনার তওবার কারণে এমন অতুলনীয় আনন্দিত হন; তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আপনি তওবা করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সচেষ্ট হবেন।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
* وللتوبة شروط خمسة:

الأول: الإخلاص لله عز وجل؛ بأن لا يحملك على التوبة مراءاة الناس، أو نيل الجاه عندهم، أو ما أشبه ذلك من مقاصد الدنيا.

الثاني: الندم على المعصية.

الثالث: الإقلاع عنها، ومن الإقلاع إذا كانت التوبة في حقٍّ من حقوق الآدميين: أن ترد الحق إلى صاحبه.

الرابع: العزم على أن لا تعود في المستقبل.

الخامس: أن تكون التوبة في وقت القبول، وينقطع قَبول التوبة بالنسبة لعموم الناس بطلوع الشمس من مغربها، وبالنسبة لكل واحد بحضور أجله.

قال الله تعالى: {وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ} [النساء: 18].

وصحَّ عن النبي صلى الله عليه وسلم أن زمن التوبة ينقطع إذا طلعت الشمس من مغربها، والناس يؤمنون حينئذ، ولكن؛ {لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا} [الأنعام: 158] (1).
(1) لما رواه البخاري (4636)، ومسلم (157)، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تقوم الساعة حتى تطلع الشمس من مغربها، فإذا طلعت ورآها الناس آمنوا أجمعون، وذلك حين لا ينفع نفسًا إيمانها، ثم قرأ الآية".
তওবার (অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসা) পাঁচটি শর্ত রয়েছে:

প্রথম: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা (ইখলাস); অর্থাৎ তওবা করার পেছনে যেন মানুষের প্রশংসা কুড়ানো, তাদের নিকট মর্যাদা লাভ করা কিংবা দুনিয়াবী অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ না করে।

দ্বিতীয়: কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া।

তৃতীয়: সেই পাপটি সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা। আর পাপটি যদি কোনো মানুষের হকের (অধিকার) সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তা পরিত্যাগ করার একটি শর্ত হলো—সেই হক বা অধিকার তার মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া।

চতুর্থ: ভবিষ্যতে আর কখনো সেই পাপে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।

পঞ্চম: তওবাটি কবুল হওয়ার সময়ের মধ্যে হতে হবে। সাধারণ মানুষের জন্য তওবা কবুলের সময় শেষ হয়ে যায় পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্য উদিত হওয়ার মাধ্যমে, আর নির্দিষ্টভাবে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তার মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "আর তওবা তাদের জন্য নয়, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে বলে: ‘আমি এখন তওবা করছি’" [আন-নিসা: ১৮]।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হলে তওবার সময় শেষ হয়ে যায়; তখন সব মানুষ ঈমান আনবে, কিন্তু; "এমন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না যে আগে ঈমান আনেনি অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কোনো কল্যাণ অর্জন করেনি" [আল-আন‘আম: ১৫৮] (১)।
(১) ইমাম বুখারী (৪৬৩৬) ও ইমাম মুসলিম (১৫৭) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হয়। যখন সূর্য উদিত হবে এবং মানুষ তা দেখবে, তখন তারা সকলেই ঈমান আনবে। আর এটি সেই সময় যখন কোনো ব্যক্তির ঈমান তার উপকারে আসবে না [যে আগে ঈমান আনেনি]", অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
هذه خمسة شروط؛ إذا تمت؛ صحت التوبة.

 

* ولكن؛‌‌ هل يشترط لصحة التوبة أن يتوب من جميع الذُّنوب؟!

فيه خلاف، ولكن الصحيح أنه ليس بشرط، وأنها تصح التوبة من ذنب مع الإصرار على غيره (1)، لكن هذا التائب لا يصدق عليه وصف التائبين المطلق؛ فيقال: تاب توبة مقيدة، لا مطلقة.

فلو كان أحد يشرب الخمر ويأكل الربا، فتاب من شرب الخمر؛ صحت توبته من الخمر، وبقي إثمه في أكل الربا، ولا ينال منزلة التائبين على الإطلاق؛ لأنه مصرٌّ على بعض المعاصي.

* رجل تمَّت الشروط في حقِّه، وعاد إلى الذنب مرة أخرى؛ فلا تنتقض توبته الأولى؛ لأنه عزم على أن لا يعود، ولكن سوَّلت له نفسه، فعاد؛ إنما يجب عليه أن يتوب مرة ثانية … وهكذا، كلما أذنب، يتوب … وفضل الله واسع.

* * *

 

•‌‌ الحديث الثالث في إثبات الضحك، وهو قوله صلى الله عليه وسلم: "يَضْحَكُ اللهُ إلى رَجُلَيْنِ، يَقْتُلُ أحَدُهُما الآخَرَ، كِلاهُما يَدْخُلُ الجَنَّةَ" (2).

وفي بعض النسخ: "يدخلان"، وهي صحيحة؛ لأن (كلا)
(1) وهما روايتان للإمام أحمد، انظر كتاب "مدارج السالكين" لابن القيم (1/ 273).

(2) رواه: البخاري (2826)، ومسلم (1890)؛ عن أبي هريرة رضي الله عنه.
এই হলো পাঁচটি শর্ত; যদি এগুলো পূর্ণ হয়, তবে তওবা শুদ্ধ হবে।

 

* তবে কি;‌‌ তওবা সহিহ হওয়ার জন্য সমস্ত গুনাহ থেকে তওবা করা শর্ত?!

এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে সঠিক মত হলো এটি শর্ত নয়; এবং অন্য গুনাহে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও কোনো নির্দিষ্ট গুনাহ থেকে তওবা করা সহিহ হবে (১), কিন্তু এই তওবাকারীর ওপর ঢালাওভাবে তওবাকারীর বিশেষণ প্রযোজ্য হবে না; বরং বলা হবে: সে তওবা করেছে আংশিকভাবে, পূর্ণাঙ্গভাবে নয়।

যদি কেউ মদ পান করে এবং সুদ খায়, অতঃপর সে মদ পান থেকে তওবা করে; তবে মদ পানের ক্ষেত্রে তার তওবা সহিহ হবে, আর সুদ খাওয়ার গুনাহ তার ওপর থেকে যাবে। সে ঢালাওভাবে তওবাকারীদের মর্যাদা লাভ করবে না; কারণ সে কিছু পাপে অবিচল রয়েছে।

* কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে শর্তাবলি পূর্ণ হলো, এরপর সে পুনরায় গুনাহে লিপ্ত হলো; তবে তার প্রথম তওবা বাতিল হয়ে যাবে না; কারণ সে পুনরায় গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করেছিল, কিন্তু তার কুপ্রবৃত্তি (নফস) তাকে প্ররোচিত করায় সে পুনরায় পাপে লিপ্ত হয়েছে; তার ওপর কেবল দ্বিতীয়বার তওবা করা ওয়াজিব … আর এভাবেই, যখনই সে গুনাহ করবে, তওবা করবে … আর আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত প্রশস্ত।

* * *

 

•‌‌ তৃতীয় হাদিসটি আল্লাহর হাসি (দহিক) সাব্যস্ত করার বিষয়ে, যা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "আল্লাহ এমন দুইজন ব্যক্তির প্রতি হাসেন, যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করে, অথচ তারা উভয়ই জান্নাতে প্রবেশ করবে" (২)।

কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে "তারা দুইজন প্রবেশ করবে" (ইয়াদখুলানি) শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যা ব্যাকরণগতভাবে সঠিক; কারণ "উভয়" (কিলা) শব্দটি...
(১) এ বিষয়ে ইমাম আহমদের দুটি বর্ণনা রয়েছে, দেখুন ইবনুল কায়্যিমের কিতাব "মাদারিজুস সালিকিন" (১/ ২৭৩)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারি (২৮২৬) এবং মুসলিম (১৮৯০); আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
يجوز في خبرها -سواء كان فعلًا أو اسمًا- مراعاة اللفظ ومراعاة المعنى، وقد اجتمعا في قول الشاعر يصف فرسين:

كِلاهُما حِينَ جَدَّ الجَرْيُ بَيْنَهُما … قَدْ أقْلَعا وَكِلا أنْفَيْهِما رَابِي

* الحديث يخبر فيه النبي عليه الصلاة والسلام أن الله يضحك إلى رجلين؛ عند ملاقاتهما يقتل أحدهما الآخر؛ كلاهما يدخلان الجنة، وأحدهما لم يقتل الآخر إلا لشدة العداوة بينهما، ثم يدخلان الجنة بعد ذلك، فتزول تلك العداوة؛ لأن أحدهما كان مسلمًا، والآخر كان كافرًا، فقتله الكافر، فيكون هذا المسلم شهيدا، فيدخل الجنة، ثم منَّ الله على هذا الكافر، فأسلم، ثم قُتِلَ شهيدًا، أو مات بدون قتل؛ فإنه يدخل الجنة، فيكون هذا القاتل والمقتول كلاهما يدخل الجنة، فيضحك الله إليهما.

* ففي هذا إثبات الضحك لله عز وجل، وهو ضحك حقيقي، لكنه لا يماثل ضحك المخلوقين؛ ضحك يليق بجلاله وعظمته، ولا يمكن أن نمثِّله؛ لأننا لا يجوز أن نقول: إن لله فمًا أو أسنانًا أو ما أشبه ذلك، لكن نثبت الضحك لله على وجه يليق به سبحانه وتعالى.

* فإذا قال قائل: يلزم من إثبات الضحك أن يكون الله مماثلًا للمخلوق!!

فالجواب: لا يلزم أن يكون مماثلًا للمخلوق؛ لأن الذي قال: "يضحك ": هو الذي أُنزِل عليه قوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11].
এর (কিলা) সংবাদের (খবর) ক্ষেত্রে—তা ক্রিয়া (ফেল) হোক বা বিশেষ্য (ইসম)—শব্দগত দিক (লাফজ) এবং অর্থগত দিক (মানি) উভয়টি বিবেচনা করা বৈধ। কবির বর্ণনায় দুটি ঘোড়ার ক্ষেত্রে এই দুটিরই সমাবেশ ঘটেছে:

যখন তাদের মধ্যে দৌড় তীব্র হয় তখন তারা উভয়েই গতি থামিয়ে দেয় এবং তাদের উভয়ের নাসারন্ধ্রই স্ফীত হয়।

* এই হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহ তা'আলা এমন দুজন ব্যক্তির প্রতি হাসেন যাদের একজন অন্যজনকে হত্যা করেছে, তবুও তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের মধ্যে একজন অন্যজনকে হত্যা করেছিল কেবল তাদের মধ্যকার চরম শত্রুতার কারণে। অতঃপর তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং সেই শত্রুতা দূর হয়ে যাবে; কারণ তাদের একজন ছিল মুসলিম এবং অন্যজন ছিল কাফির। কাফির ব্যক্তিটি তাকে হত্যা করায় সেই মুসলিম ব্যক্তিটি শহীদ হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে। এরপর আল্লাহ সেই কাফির ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সে-ও শহীদ হিসেবে নিহত হয় অথবা স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করে; ফলে সে-ও জান্নাতে প্রবেশ করে। এভাবে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করে, আর আল্লাহ তাদের প্রতি হাসেন।

* এর মাধ্যমে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য ‘হাসি’ (দাহিক) গুণের সাব্যস্তকরণ প্রমাণিত হয়। এটি একটি প্রকৃত হাসি, তবে তা সৃষ্টির হাসির সদৃশ নয়। এটি এমন এক হাসি যা তাঁর মর্যাদা ও মহিমার উপযোগী। আমরা একে সৃষ্টির হাসির সাথে তুলনা করতে পারি না; কারণ আমাদের জন্য এটি বলা বৈধ নয় যে, আল্লাহর মুখগহ্বর বা দাঁত অথবা এই জাতীয় কিছু রয়েছে। বরং আমরা আল্লাহর জন্য এমনভাবে হাসি সাব্যস্ত করব যা তাঁর সুবহানাহু ওয়া তা'আলার শানের উপযোগী।

* যদি কেউ বলে: হাসি সাব্যস্ত করার অর্থই হলো আল্লাহকে সৃষ্টির সদৃশ করা!!

এর উত্তর হলো: সৃষ্টির সদৃশ হওয়া আবশ্যক নয়; কারণ যিনি বলেছেন “তিনি হাসেন”, তাঁর ওপরই মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [সূরা আশ-শূরা: ১১]।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ومن جهة أخرى؛ فالنبي عليه الصلاة والسلام لا يتكلم في مثل هذا إلا عن وحي؛ لأنه من أمور الغيب، ليس من الأمور الاجتهادية التي قد يجتهد فيها الرسول عليه الصلاة والسلام، ثم يقرُّه الله على ذلك أو لا يقرُّه، ولكنه من الأمور الغيبية التي يتلقَّاها الرسول عليه الصلاة والسلام عن طريق الوحي.

* لو قال قائل: المراد بالضحك الرضى؛ لأن الإنسان إذا رضي عن الشيء؛ سُرَّ به وضحك، والمراد بالرضى الثواب أو إرادة الثواب؛ كما قال ذلك أهل التعطيل.

فالجواب أن نقول: هذا تحريف للكَلِم عن مواضعه؛ فما الذي أدراكم أن المراد بالرضى الثواب؟!

فأنتم الآن قلتم على الله ما لا تعلمون من وجهين:

الوجه الأول: صرفتم النص عن ظاهره بلا علم.

الثاني: أثبتُّم له معنى خلاف الظاهر بلا علم.

ثم نقول لهم: الإرادة؛ إذا قلتم: إنها ثابتة لله عز وجل؛ فإنه تنتقض قاعدتكم؛ لأن للإنسان إرادة؛ كما قال تعالى: {مِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ الْآخِرَةَ} [آل عمران: 152]؛ فللإنسان إرادة، بل للجدار إرادة؛ كما قال تعالى: {فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ} [الكهف: 77]؛ فأنتم إما أن تنفوا الإرادة عن الله عز وجل كما نفيتم ما نفيتم من الصفات، وإما إن تثبتوا لله عز وجل ما أثبته لنفسه، وإن كان للمخلوق نظيره في
অন্যদিকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ধরণের বিষয়ে ওহী (ঐশী প্রত্যাদেশ) ব্যতীত কথা বলেন না; কারণ এটি অদৃশ্যের (গায়েব) বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। এটি ইজতিহাদযোগ্য (গবেষণালব্ধ) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, যেক্ষেত্রে রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইজতিহাদ করবেন এবং আল্লাহ তাঁকে তাতে অনুমোদন দেবেন অথবা দেবেন না; বরং এটি অদৃশ্যের বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত যা রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত হন।

* যদি কেউ বলে: হাসির (দহিক) অর্থ হলো সন্তুষ্টি (রিদা); কারণ মানুষ যখন কোনো কিছুতে সন্তুষ্ট হয়, তখন সে তাতে আনন্দিত হয় এবং হাসে। আর সন্তুষ্টির অর্থ হলো সওয়াব (প্রতিদান) অথবা সওয়াব প্রদানের ইচ্ছা; যেমনটি আহলে তা’তীল (আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকারকারীগণ) বলে থাকেন।

এর উত্তরে আমরা বলব: এটি শব্দের অর্থকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুতি ঘটানো (তাহরীফ); আপনারা কীভাবে জানলেন যে সন্তুষ্টির অর্থ হলো সওয়াব?!

আপনারা এখন আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলছেন যা আপনারা জানেন না, আর তা দুটি দিক থেকে:

প্রথম দিক: আপনারা কোনো জ্ঞান ছাড়াই নসকে (মূল পাঠ) তার প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।

দ্বিতীয় দিক: আপনারা এর জন্য প্রকাশ্য অর্থের বিপরীত একটি অর্থ কোনো জ্ঞান ছাড়াই সাব্যস্ত করেছেন।

অতঃপর আমরা তাদের বলব: ‘ইরাদা’ (ইচ্ছা); যদি আপনারা বলেন যে এটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য সাব্যস্ত, তবে আপনাদের মূলনীতিটিই ভেঙে যায়; কারণ মানুষেরও ইচ্ছা (ইরাদা) আছে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে কেউ দুনিয়া চায় এবং কেউ আখেরাত চায়} [আলে ইমরান: ১৫২]। অতএব মানুষের ইচ্ছা আছে, এমনকি দেয়ালেরও ইচ্ছা আছে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {সেখানে তারা একটি দেয়াল দেখতে পেল, যা ধসে পড়তে চাচ্ছিল} [কাহফ: ৭৭]। সুতরাং হয় আপনাদের আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার থেকে ‘ইরাদা’ গুণটিকেও অস্বীকার করতে হবে যেমনটি আপনারা অন্যান্য গুণাবলী অস্বীকার করেছেন, অথবা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য তা সাব্যস্ত করতে হবে যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, যদিও সৃষ্টির মধ্যে এর সদৃশ কিছু বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
الاسم لا في الحقيقة.

* والفائدة المسلكية من هذا الحديث: هو أننا إذا علمنا أن الله عز وجل يضحك؛ فإننا نرجو منه كل خير.

ولهذا قال رجل للنبي صلى الله عليه وسلم: يا رسول الله! أوَيضحك ربنا؟ قال: "نعم". قال: لن نعدم من رب يضحك خيرًا (1).

إذا علمنا ذلك؛ انفتح لنا الأمل في كل خير؛ لأن هناك فرقًا بين إنسان عبوس لا يكاد يُرى ضاحكًا، وبين إنسان يضحك.

وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم دائم البِشر كثير التبسُّم عليه الصلاة والسلام.

* * *

 

•‌‌ الحديث الرابع: في إثبات العجب وصفات أخرى.

وهو قوله: "عَجِبَ رَبُّنا مِنْ قُنوطِ عِبادِه وقُرب غِيَرِهِ؛ يَنْظُرُ إِلَيْكُمْ أَزِلينَ قَنِطينَ، فَيَظَلُّ يَضْحَكُ؛ يَعْلَمُ أنَّ فرَجَكُمْ قَرِيبٌ". حديث حسن (2).
(1) لما رواه وكيع بن عدس عن عمه أبي رزين قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ضحك ربنا من قنوط عباده وقرب غيره، قال: قلت يا رسول الله! أويضحك الرب عز وجل قال: نعم، قال: لن نعدم من رب يضحك خيرًا"، رواه أحمد (4/ 11، 12)، وابن ماجه (181)، والبيهقي في "الأسماء والصفات" (987)، والآجري في "الشريعة" (279)، وابن أبي عاصم في "السنة" (1/ 244)، والحديث حسنه الألباني في "السلسلة الصحيحة" (2810) مخطوط، كما نقله عنه الأخ علي الحلبي في تحقيقه لـ "العقيدة الواسطية" (ص 41)، وانظر ما بعده.

(2) من حديث أبي رزين عند ابن كثير في تفسيره، لقوله تعالى: {أم حسبتم أن تدخلوا =
নাম হিসেবে, বাস্তবে নয়।

* আর এই হাদিসের আমলগত শিক্ষা হলো: যখন আমরা জানতে পারি যে মহান আল্লাহ হাসেন, তখন আমরা তাঁর কাছে সকল কল্যাণের আশা পোষণ করি।

এ কারণেই একজন ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের রব কি হাসেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। লোকটি বলল: যে রব হাসেন তাঁর থেকে আমরা কল্যাণ লাভে কখনোই বঞ্চিত হব না (১)।

যখন আমরা এটি জানতে পারি, তখন আমাদের মাঝে সকল মঙ্গলের আশা জাগ্রত হয়; কারণ একজন গোমড়ামুখো ব্যক্তি যাকে হাসতে দেখা যায় না এবং একজন হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বদা প্রফুল্ল চেহারার অধিকারী ছিলেন এবং অধিক মুচকি হাসতেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

* * *

 

•‌‌ চতুর্থ হাদিস: আল্লাহর বিস্ময় (আল-আজাব) এবং অন্যান্য গুণাবলি সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে।

আর তা হলো তাঁর বাণী: "আমাদের রব তাঁর বান্দাদের নিরাশা এবং (তাদের অবস্থার) পরিবর্তনের নৈকট্য দেখে বিস্মিত হন। তিনি তোমাদের দিকে এমন অবস্থায় তাকান যে তোমরা চরম সংকটাপন্ন ও নিরাশ, আর তিনি হাসতে থাকেন; তিনি জানেন যে তোমাদের মুক্তি অতি সন্নিকটে।" এটি একটি হাসান (উত্তম) হাদিস (২)।
(১) ওয়াকি বিন আদাস তাঁর চাচা আবু রাজিন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমাদের রব তাঁর বান্দাদের নিরাশা ও অবস্থার পরিবর্তনের নৈকট্য দেখে হাসেন।" আবু রাজিন বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মহান রব কি হাসেন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। তিনি বললেন: "যে রব হাসেন তাঁর থেকে আমরা কল্যাণ লাভে কখনোই বঞ্চিত হব না।" এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (৪/ ১১, ১২), ইবনে মাজাহ (১৮১), বায়হাকি 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে (৯৮৭), আজুরি 'আশ-শারিয়াহ' গ্রন্থে (২৭৯), ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে (১/ ২৪৪)। হাদিসটিকে আলবানি 'আস-সিলসিলাতুস সাহিহাহ' (২৮১০) এর পাণ্ডুলিপিতে হাসান বলেছেন, যেমনটি তাঁর থেকে আলী আল-হালাবি 'আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়াহ' (পৃষ্ঠা ৪১) এর তাহকিকে উদ্ধৃত করেছেন। পরবর্তী অংশ দেখুন।

(২) ইবনে কাসিরের তাফসিরে আবু রাজিন বর্ণিত হাদিস থেকে, মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রেক্ষিতে: {অথবা তোমরা কি ধারণা করেছ যে তোমরা প্রবেশ করবে...} [সুরা বাকারা: ২১৪]
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
* العجب: هو استغراب الشيء، ويكون ذلك لسببين:

السبب الأول: خَفاء الأسباب على هذا المستغرب للشيء المتعجَّب منه؛ بحيث يأتيه بغتة بدون توقع، وهذا مستحيل على الله تعالى؛ لأن الله بكل شيء عليم، لا يخفى عليه شيء في الأرض ولا في السماء.

والثاني: أن يكون السبب فيه خروج هذا الشيء عن نظائره وعمّا ينبغي أن يكون عليه، بدون قصور من المتعجب؛ بحيث يعمل عملًا مستغربًا لا ينبغي أن يقع من مثله.

وهذا ثابت لله تعالى؛ لأنه ليس عن نقص من المتعجِّب، ولكنه عجب بالنظر إلى حال المتعجَّب منه.

* قوله: "عَجِبَ ربُّنا من قنوط عباده": القنوط: أشد اليأس. يعجب الرب عز وجل من دخول اليأس الشديد على قلوب العباد.

"وقُربِ غِيَرِه": الواو بمعنى (مع)، يعني: مع قرب غيره.

و (الغير): اسم جمع غِيَرَة، كطِيَر: اسم جمع طِيَرَة، وهي اسم بمعنى التغيير، وعلى هذا؛ فيكون المعنى: وقرب تغييره.

فيعجب الرب عز وجل، كيف نقنط وهو سبحانه وتعالى
= الجنة …} [البقرة: 214]، ولفظه: "عجب ربك … " الحديث. وبدل "غيره" "غيثه".
* বিস্ময় (আল-আজিব): এটি হলো কোনো বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হওয়া, আর এটি দুটি কারণে হয়ে থাকে:

প্রথম কারণ: বিস্ময় প্রকাশকারীর কাছে বিস্ময়কর বিষয়টির কারণসমূহ অজ্ঞাত থাকা; যার ফলে বিষয়টি তার কাছে কোনো পূর্বপ্রত্যাশা ছাড়াই হঠাৎ উপস্থিত হয়। আর মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব; কেননা আল্লাহ সর্ববিষয়ে মহাজ্ঞানী, আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন নয়।

দ্বিতীয় কারণ: বিষয়টি তার সমজাতীয় বস্তুসমূহ এবং যা হওয়া উচিত ছিল তার থেকে ব্যতিক্রম হওয়া, তবে এটি বিস্ময় প্রকাশকারীর কোনো অক্ষমতার কারণে নয়; বরং এমন কোনো বিস্ময়কর কাজ সংঘটিত হওয়া যা সাধারণত তার মতো কারো থেকে হওয়া উচিত নয়।

আর এটি মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত; কারণ এটি বিস্ময় প্রকাশকারীর (আল্লাহর) কোনো ত্রুটির কারণে নয়, বরং যার ওপর বিস্ময় প্রকাশ করা হচ্ছে তার অবস্থার প্রেক্ষিতে এই বিস্ময়।

* তাঁর বাণী: "আমাদের রব তাঁর বান্দাদের নিরাশা দেখে বিস্মিত হন": 'কুনুত' (আল-কুনুত) অর্থ হলো চরম হতাশা। মহান রব বান্দাদের অন্তরে তীব্র নিরাশা প্রবেশ করার কারণে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

"এবং তাঁর পরিবর্তনের নৈকট্য সত্ত্বেও": এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি 'সাথ' (মাআ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ: তাঁর পরিবর্তনের নৈকট্যের সাথে।

এবং 'আল-গিয়ার' (পরিবর্তনসমূহ): এটি 'গিয়ারাহ' শব্দের সমষ্টিবাচক রূপ, যেমন 'তিয়ারাহ' শব্দের সমষ্টিবাচক রূপ হলো 'তিয়ার'। এটি পরিবর্তন অর্থে ব্যবহৃত একটি বিশেষ্য। সেই অনুযায়ী এর অর্থ হলো: তাঁর পরিবর্তনের নৈকট্য।

সুতরাং মহান রব বিস্ময় প্রকাশ করেন যে, আমরা কীভাবে নিরাশ হই অথচ তিনি পবিত্র ও মহান
= জান্নাত …} [আল-বাক্বারাহ: ২১৪], আর এর শব্দবিন্যাস হলো: "তোমার রব বিস্মিত হন … " হাদিস। এবং "গিয়ার" (পরিবর্তন) এর পরিবর্তে "গাইস" (বৃষ্টি) শব্দ এসেছে।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
قريب التغيير، يغير الحال إلى حال أخرى بكلمة واحدة، وهي: كُنْ. فيكون.

* وقوله: "ينظر إليكم أَزِلين"؛ أي: ينظر الله إلينا بعينه.

* "أزِلين قَنِطين": الأزِل: الواقع في الشدة. و"قنطينَ": جمع قانط، والقانط: اليائس من الفرج وزوال الشدة.

فذكر النبي صلى الله عليه وسلم حال الإنسان وحال قلبه، حاله أنه واقع في شدة، وقلبه قانط يائس مستبعد للفَرَجِ.

* "فيظل يضحك": يظل يضحك من هذه الحال العجيبة الغريبة؛ كيف تقنط من رحمة أرحم الراحمين الذي يقول للشيء: كنْ. فيكون؟

* "يعلم أن فرجكم قريب"، أي: زوال شدتكم قريب.

* في هذا الحديث عدة صفات:

-أولًا: العجب، لقوله: "عجب ربنا من قنوط عباده".

وقد دلَّ على هذه الصفة القرآن الكريم، قال الله تعالى: {بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ} [الصافات: 12]؛ على قراءة ضم التاء.

- وفيه أيضًا بيان قدرة الله عز وجل، لقوله: "وقرب غِيَره"، وأنه عز وجل تام القدرة، إذا أراد؛ غيَّر الحال من حال إلى ضدها في وقت قريب.

- وفيه أيضًا إثبات النظر، لقوله: "ينظر إليكم".
পরিবর্তনের অতি নিকটবর্তী, তিনি মাত্র একটি শব্দের মাধ্যমে এক অবস্থাকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন করে দেন, আর তা হলো: 'হও'। অমনি তা হয়ে যায়।

* আর তাঁর বাণী: "তিনি তোমাদের দিকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকান"; অর্থাৎ: আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজ চক্ষু দ্বারা আমাদের দিকে তাকান।

* "সংকটাপন্ন ও হতাশাবস্থায়": সংকটাপন্ন (আযিল) অর্থ: যে ব্যক্তি কঠিন বিপদে নিপতিত। আর "হতাশাবস্থায়" (ক্বানিতিন) হলো হতাশ (ক্বানিত) শব্দের বহুবচন, আর হতাশ ব্যক্তি হলো সে, যে বিপদমুক্তি এবং কষ্ট দূর হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে।

অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের অবস্থা এবং তার অন্তরের অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন; তার বাহ্যিক অবস্থা হলো সে কঠিন বিপদে নিপতিত, আর তার অন্তর হলো হতাশ ও নিরাশ যা বিপদমুক্তিকে অসম্ভব মনে করছে।

* "অতঃপর তিনি হাসেন": তিনি এই অদ্ভুত ও বিস্ময়কর অবস্থার কারণে হাসেন; তোমরা কীভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালুর রহমত থেকে নিরাশ হও, যিনি কোনো কিছুকে বলেন: 'হও', আর অমনি তা হয়ে যায়?

* "তিনি জানেন যে তোমাদের মুক্তি নিকটবর্তী", অর্থাৎ: তোমাদের বিপদ দূর হওয়া সন্নিকটে।

* এই হাদিসে বেশ কিছু গুণাবলি (সিফাত) বিদ্যমান:

—প্রথমত: বিস্ময় (আশ্চর্যান্বিত হওয়া), কারণ তাঁর বাণী: "আমাদের রব তাঁর বান্দাদের নিরাশা দেখে আশ্চর্যান্বিত হন"।

আর কুরআন মজিদও এই গুণের প্রমাণ দিয়েছে, আল্লাহ তাআলা বলেন: {বরং আমিই আশ্চর্যান্বিত হয়েছি আর তারা উপহাস করে} [আস-সাফফাত: ১২]; এখানে 'তা' বর্ণটি পেশ দিয়ে পড়ার কিরাত (পঠনরীতি) অনুযায়ী।

— এতে আল্লাহ তাআলার কুদরত বা ক্ষমতার বর্ণনাও রয়েছে, কারণ তাঁর বাণী: "এবং তাঁর পরিবর্তনের নৈকট্য", আর নিশ্চয়ই তিনি পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী; তিনি যখন চান, তখন এক অবস্থাকে তার বিপরীত অবস্থায় অতি অল্প সময়ে পরিবর্তন করে দেন।

— এবং এতে (আল্লাহর জন্য) দৃষ্টির গুণটিও সাব্যস্ত হয়েছে, কারণ তাঁর বাণী: "তিনি তোমাদের দিকে তাকান"।
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
- وفيه إثبات الضحك، لقوله: "فيظل يضحك".

- وكذلك العلم، "يعلم أن فرجكم قريب".

- والرحمة؛ لأن الفرج من الله دليل على رحمة الله بعباده.

وكل هذه الصفات التي دلَّ عليها الحديث يجب علينا أن نثبتها لله عز وجل حقًّا على حقيقتها، ولا نتأول فيها.

* والفائدة المسلكية في هذا: أن الإنسان إذا علم ذلك من الله سبحانه وتعالى، حذر من هذا الأمر، وهو القنوط من رحمة الله، ولهذا، كان القنوط من رحمة الله من الكبائر:

قال الله تعالى: {قَالَ وَمَنْ يَقْنَطُ مِنْ رَحْمَةِ رَبِّهِ إلا الضَّالُّونَ} [الحجر: 56].

وقال تعالى: {وَلَا تَيْأَسُوا مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إلا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ} [يوسف: 87].

فالقنوط من رحمة الله، واستبعاد الرحمة: من كبائر الذنوب، والواجب على الإنسان أن يحسن الظن بربه؛ إن دعاه؛ أحسن الظن به بأنه سيجيبه، وإن تعبَّد له بمقتضى شرعه؛ فليحسن الظن بأن الله سوف يقبل منه، وإن وقعت به شدة؛ فليحسن الظن بأن الله سوف يزيلها، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "واعلم أن النصر مع الصبر، وأن الفرج مع الكرب، وأن مع العسر يسرًا" (1).
(1) قطعة من الحديث الذي رواه الإمام أحمد (1/ 307)، والترمذي (2518)، وقال حديث حسن صحيح، وأبو يعلى (2556) عن ابن عباس. قال الحافظ ابن رجب =
- এতে হাসি (দাহিক) গুণ সাব্যস্তকরণের প্রমাণ রয়েছে, তাঁর বাণীর কারণে: "অতঃপর তিনি হাসতে থাকেন।"

- তেমনিভাবে ইলম বা জ্ঞানেরও প্রমাণ রয়েছে: "তিনি জানেন যে তোমাদের সংকটমুক্তি অতি নিকটে।"

- এবং দয়ারও প্রমাণ রয়েছে; কারণ আল্লাহর পক্ষ থেকে সংকট মোচন হওয়া তাঁর বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমতেরই দলিল।

হাদিসটি যে সকল গুণাবলির প্রতি নির্দেশনা প্রদান করে, সেই প্রত্যেকটি গুণকে মহান আল্লাহর জন্য প্রকৃত অর্থেই সাব্যস্ত করা আমাদের জন্য অপরিহার্য এবং এগুলোর ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা (তাবিল) করা যাবে না।

* এর আচরণগত বা আমলি ফায়দা হলো: মানুষ যখন মহান আল্লাহ সম্পর্কে এই বিষয়টি অবগত হয়, তখন সে একটি বিশেষ বিষয় থেকে সতর্ক হয়, আর তা হলো আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়া। এই কারণেই আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়া কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত:

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তিনি বললেন, পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে আপন রবের রহমত হতে নিরাশ হয়?} [সুরা আল-হিজর: ৫৬]।

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয়ই কাফির সম্প্রদায় ছাড়া আর কেউ আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয় না।} [সুরা ইউসুফ: ৮৭]।

সুতরাং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া এবং রহমত প্রাপ্তিকে অসম্ভব মনে করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। মানুষের কর্তব্য হলো তার রব সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করা; যদি সে তাঁর নিকট প্রার্থনা করে, তবে এই সুধারণা রাখবে যে তিনি অবশ্যই তার ডাকে সাড়া দেবেন; যদি তাঁর শরিয়ত মোতাবেক তাঁর ইবাদত করে, তবে সুধারণা রাখবে যে আল্লাহ তা তার পক্ষ থেকে কবুল করবেন; আর যদি কোনো বিপদে নিপতিত হয়, তবে সুধারণা রাখবে যে আল্লাহ অবশ্যই তা দূর করবেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "জেনে রেখো, ধৈর্যের সাথেই বিজয় আসে, বিপদের সাথেই মুক্তি আসে এবং কষ্টের সাথেই স্বস্তি আসে" (১)।


(১) এটি ইমাম আহমাদ (১/৩০৭), তিরমিজি (২৫১৮) —যিনি একে হাসান সহিহ বলেছেন— এবং আবু ইয়ালা (২৫৫৬) কর্তৃক ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিসের একটি অংশ। হাফেজ ইবনে রজব বলেন =
(খণ্ড: ٢) শারহুল আক্বিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
بل قد قال الله تعالى: {فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا (5) إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا} [الشرح: 5، 6]، ولن يغلب عسر يسرين، كما يروى عن ابن عباس رضي الله عنهما.

* * *

 

•‌‌ الحديث الخامس: في إثبات الرجل أو القدم:

وهو قوله صلى الله عليه وسلم: "لا تزال جهَنَّمُ يُلْقى فيها، وهيَ تَقولُ: هَلْ مِنْ مَزيدٍ، حتّى يَضَعَ رَبُّ العِزَّةِ فيها رِجْلَهُ (وفي رواية: عليها قَدَمَهُ)، فيَنْزَوي بَعْضُها إلى بَعْضٍ، فَتَقولُ: قَطْ قَطْ". متفق عليه (1).

* قوله: "لا تزال جهنمُ يُلْقى فيها": هذا يوم القيامة، يعني: يُلقى فيها الناس والحجارة، لأن الله تعالى يقول: {فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ} [البقرة: 24]، وقد يقال: يُلقى فيها الناس فقط، وأن الحجارة لم تزل موجودة فيها، والعلم عند الله.

* "يُلْقَى فيها": في هذا دليل على أن أهلها -والعياذ بالله- يُلْقَون فيها إلقاء لا يدخلون مكرَّمين، بل يدَعُّون إلى نار جهنم دَعًّا، {كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ} [الملك: 8].

* قوله: "وهي تقول: هل من مزيد؟ ": (هل): للطلب؛
= في شرحه لهذا الحديث في "جامع العلوم والحكم" (1/ 460): وقد روي هذا الحديث من طرق كثيرة، وأصح الطرق كلها طريق حنش الصنعاني التي خرجها الترمذي.

(1) رواه: البخاري (7384)، ومسلم (2848)؛ عن أنس رضي الله عنه.
বস্তুত আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।} [আশ-শারহ: ৫, ৬]। আর একটি কষ্ট কখনো দুটি স্বস্তির ওপর প্রবল হতে পারে না, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে।

* * *

 

•‌‌ পঞ্চম হাদিস: পা (রিজল) বা পদতল (কদম) সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে:

আর তা হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "জাহান্নামে অনবরত (পাপিষ্ঠদের) নিক্ষেপ করা হতে থাকবে, আর জাহান্নাম বলতে থাকবে: 'আরো কি আছে?', যতক্ষণ না মহাপরাক্রমশালী রব তাতে তাঁর পা (রিজল) রাখেন (অন্য বর্ণনায় রয়েছে: তার ওপর তাঁর পদতল (কদম) রাখেন), ফলে তার এক অংশ অন্য অংশের সাথে সংকুচিত হয়ে মিশে যাবে এবং সে বলবে: 'যথেষ্ট, যথেষ্ট'।" (এটি বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে) (১)।

* তাঁর উক্তি: "জাহান্নামে অনবরত নিক্ষেপ করা হতে থাকবে": এটি কিয়ামতের দিন ঘটবে। অর্থাৎ: এতে মানুষ ও পাথর নিক্ষেপ করা হবে। কারণ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {অতএব সেই আগুনকে ভয় কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর} [আল-বাকারাহ: ২৪]। তবে এটাও বলা হয়ে থাকে যে, এতে শুধু মানুষকেই নিক্ষেপ করা হবে, আর পাথর তাতে আগে থেকেই বিদ্যমান। আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই।

* "তাতে নিক্ষেপ করা হবে": এতে প্রমাণ রয়েছে যে, জাহান্নামবাসীদের—আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—তাতে ছুড়ে ফেলা হবে। তারা সম্মানিত হিসেবে প্রবেশ করবে না, বরং তাদের ধাক্কা মেরে জাহান্নামের আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। {যখনই তাতে কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার রক্ষীরা তাদের জিজ্ঞেস করবে, 'তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আসেনি?'} [আল-মুলক: ৮]।

* তাঁর উক্তি: "আর সে (জাহান্নাম) বলবে: আরো কি আছে?": এখানে 'হেল' (هل) শব্দটি তলব বা চাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে;
= "জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম" (১/ ৪৬০) গ্রন্থে এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: এই হাদিসটি অনেকগুলো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আর এর মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সূত্র হলো হানাশ আস-সানআনির সূত্র, যা তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

(১) এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারি (৭৩৮৪) এবং মুসলিম (২৮৪৮); আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে।