(খণ্ড: ১) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: -)
شرح الوقاية - ت أبو الحاج   (المحبوبي صدر الشريعة الأصغر)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: شرح الوقاية

[وسَمّاه بعض المعاصرين: «حل المواضع المغلقة من الوقاية» ولا مستندَ صريحٌ لهذه التسمية، فضلا عن مخالفتها للمشهور في كلام أهل المذهب؛ كما حرره المحقق]

الشارح: صدر الشريعة، عُبيد الله بن مسعود المحبوبي الحنفي (ت 747 هـ)

[ومعه بأعلى الصفحات: «الوقاية» للمحبوبي جد الشارح (لأمه: برهان الشريعة، أو جده لأبيه: تاج الشريعة وله لقبان؛ على خلاف عريضٍ في ذلك بين مترجميه وأهل المذهب)]

المحقق: د صلاح محمد أبو الحاج، وسَمّى تحقيقه «منتهى النقاية على شرح الوقاية»

أصل التحقيق: أطروحة دكتوراه في الفقه وأصوله - جامعة بغداد، العراق بإشراف د محمد رمضان عبد الله 2002 م

تنبيه: وُضعت «الوقاية» أعلى الصفحات، بعدها -مفصولا بفاصل- «شرح الوقاية، والحواشي بالأسفل هي «منتهى النقاية»

الناشر: دار الوراق - عمان، الأردن

الطبعة: الأولى، 2006 م

عدد الأجزاء: 5 (في مجلدين)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 جُمادَى الأولى 1444

শারহুল বিকায়াহ - সম্পাদনায় আবু আল-হাজ্জ   (আল-মাহবুবি সদরুশ শারীয়াহ আল-আসগর)

বিভাগ: হানাফী ফিকহ


কিতাব: শারহুল বিকায়াহ

[কিছু সমসাময়িক ব্যক্তি এর নাম দিয়েছেন: «হাল্লুল মাওয়াযি আল-মুগলাকাহ মিনাল বিকায়াহ» তবে এই নামকরণের কোনো স্পষ্ট ভিত্তি নেই, তদুপরি এটি মাযহাবের ইমামগণের প্রসিদ্ধ বক্তব্যের পরিপন্থী; যেমনটি গবেষক সুস্পষ্ট করেছেন]

ব্যাখ্যাকার: সদরুশ শারীয়াহ, উবায়দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-মাহবুবি আল-হানাফি (মৃত্যু ৭৪৭ হিজরী)

[এর সাথে পৃষ্ঠার উপরিভাগে রয়েছে: «আল-বিকায়াহ» যা ব্যাখ্যাকারীর দাদার রচনা (মাতামহ: বুরহানুশ শারীয়াহ, অথবা পিতামহ: তাজহুশ শারীয়াহ এবং তাঁর দুটি উপাধি রয়েছে; এ বিষয়ে জীবনীকার এবং মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে)]

সম্পাদক: ড. সালাহ মুহাম্মদ আবু আল-হাজ্জ, এবং তিনি তাঁর এই সম্পাদনার নাম দিয়েছেন «মুনতাহান নুকাইয়াহ আলা শারহিল বিকায়াহ»

সম্পাদনার উৎস: ফিকহ ও উসূলে ফিকহ বিষয়ে ডক্টরেট থিসিস - বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়, ইরাক, তত্ত্বাবধানে: ড. মুহাম্মদ রমজান আব্দুল্লাহ ২০০২ ঈসায়ী

সতর্কবার্তা: পৃষ্ঠার উপরিভাগে «আল-বিকায়াহ» রাখা হয়েছে, এরপর -বিভাজক দ্বারা পৃথক করে- «শারহুল বিকায়াহ» এবং নিচের টীকাগুলো হলো «মুনতাহান নুকাইয়াহ»

প্রকাশক: দারুল ওয়াররাক - আম্মান, জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৬ ঈসায়ী

খণ্ড সংখ্যা: ৫ (দুই ভলিউমে)

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ জুমাদাল উলা ১৪৪৪ হিজরী

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌الإهداء

أهدي أجر وثواب هذا العمل إلى روح جدَّتي العزيزة الغالية

التي افتقتدتها في الأيام الماضية

عسى الله عز وجل أن ينفعها به في برزخها

وأن يجعله ذخراً لها يوم القيامة
উৎসর্গ

আমি এই কাজের প্রতিদান ও সওয়াব আমার পরম স্নেহময়ী ও প্রিয় দাদীর রূহের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি

যাকে আমি বিগত দিনগুলোতে হারিয়েছি

আশা করি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তাঁর বরজখী জীবনে এর মাধ্যমে তাঁকে উপকৃত করবেন

এবং কিয়ামতের দিন একে তাঁর জন্য পাথেয় হিসেবে কবুল করবেন।
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌كلمة الأستاذ الدكتور عبد الملك السعدي

المشرف الأول على رسالة الدكتوراه

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، والصلاة والسلام على مصطفاه، وعلى آله وأصحابه، ومَن تبع هداه.

وبعد: فكان من فضل الله علي أن منحني مواكبة صنيع الدكتور صلاح محمد أبو الحاج في دراسته وتحقيقه للكتاب الموسوم «شرح الوقاية» لصدر الشريعة إشرافاً ومتابعة، فوجدتُه شاباً له باعه الطولى في التحقيق والتدقيق، وأهلاً لخوض معركة تحقيق التراث، وفارساً في ميدان حلبته فقد أجاد وأفاد، ولم يغادر غامضة إلاَّ وضَّحها ولا عويصةً إلا شرحَها وبيَّنها.

فقد وشَّحَ هذا الكتاب بتحقيقات عليّة وتعليقات سنيّة إلى أن صار الكتاب إلى ما هو عليه اليوم، فقد ساهم مع أهل التحقيق في إخراج هذا الكنْز من رفوف الحبس والإهمال إلى رفوف الخزانات في المكتبة الإسلامية، وليصطف إلى جانب تلك المصنفات لإرفاد الدارسين والطالبين والمتعلمين والقارئين.

ولا غرابة أن أنصفته لجنة المناقشة حينما منحته درجة الدكتوراه في الشريعة الإسلامية بتقدير ممتاز مع إيصائها بطبعه.

فبارك الله في أبي الحاج، وجعله صلاحاً له وللأمة، وزاده عطاء علمياً وتقى.

طالباً له من الله التوفيق، ومنه صالح الدعاء.

والحمد لله رب العالمين

 

أ. د عبد الملك عبد الرحمن السعدي العراقي

جامعة مؤتة كلية الشريعة

15 رجب 1423

23 أيلول 2002
প্রফেসর ড. আব্দুল মালিক আল-সা’দী-এর বক্তব্য

পিএইচডি থিসিসের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর।

অতপর: এটি আমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি আমাকে ড. সালাহ মুহাম্মদ আবু আল-হজ্জের ‘শরহুল বিকায়া’ (সদরুশ শরীয়াহ প্রণীত) গ্রন্থের অধ্যয়ন ও তাহকীক (সম্পাদনা) কর্মের সাথে তত্ত্বাবধান ও অনুসরণের মাধ্যমে যুক্ত থাকার সুযোগ দান করেছেন। আমি তাকে এমন একজন যুবক হিসেবে পেয়েছি যার তাহকীক ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে দীর্ঘ পদচারণা রয়েছে এবং তিনি ঐতিহ্যের (তুরাছ) তাহকীক বা সম্পাদনার কঠিন ময়দানে অবতীর্ণ হওয়ার যোগ্য। তিনি এই অঙ্গনের একজন দক্ষ অশ্বারোহী; তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে কাজ করেছেন এবং উপকার সাধন করেছেন। তিনি কোনো অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করা এবং কোনো জটিল বিষয়কে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা ছাড়া বাকি রাখেননি।

তিনি এই কিতাবটিকে উচ্চমানের তাহকীক এবং মূল্যবান টীকা দ্বারা সুশোভিত করেছেন, যার ফলে কিতাবটি বর্তমানের এই রূপ লাভ করেছে। তিনি এই জ্ঞান-ভাণ্ডারকে অবহেলা ও বন্দিদশার তাক থেকে বের করে ইসলামী লাইব্রেরির তাকগুলোতে পৌঁছে দিতে এবং গবেষক, শিক্ষার্থী ও পাঠকদের সহায়তার জন্য অন্যান্য গ্রন্থগুলোর পাশে স্থান করে দিতে গবেষক ও সম্পাদকদের সাথে অবদান রেখেছেন।

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, পরীক্ষক কমিটি তাকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সুবিচার করেছেন যখন তারা তাকে ‘মুমতাজ’ (চমৎকার) ফলাফলসহ ইসলামী শরীয়াহ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করেছেন এবং কিতাবটি ছাপানোর সুপারিশ করেছেন।

আল্লাহ আবু আল-হজ্জের মাঝে বরকত দান করুন, তাকে নিজের জন্য এবং উম্মতের জন্য কল্যাণের মাধ্যম বানান এবং তার ইলমী অবদান ও তাকওয়া বৃদ্ধি করে দিন।

আমি আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য তাওফীক এবং নেক দোআ কামনা করছি।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

প্রফেসর ড. আব্দুল মালিক আব্দুল রহমান আল-সা’দী আল-ইরাকী

মুতাহ বিশ্ববিদ্যালয়, শরীয়াহ অনুষদ

১৫ রজব ১৪২৩ হিজরী

২৩ সেপ্টেম্বর ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌كلمة الأستاذ الدكتور محمد رمضان عبد الله

المشرف الثاني على رسالة الدكتوراه

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيّد المرسلين وآله وصحبه أجمعين.

أما بعد:

فهذه الرسالة الموسومة «شرح الوقاية» لصدر الشريعة عبيد الله بن مسعود العُباديّ المحبوبي الحنفي التي قام بتحقيقها ودراستها الباحث صلاح محمد سالم أبو الحاج قد تمّت بإشرافي، وهي رسالةٌ ممتازة أتى فيها الباحثُ بكلِّ ما يطلب منها من حيث تحقيقها ودراستها بشكل رائع.

والباحث صلاح محمد سالم من أهل العلم؛ إذ أنه لم يكن مكتفياً بما تلقاه في دراسته الأكاديمية في كلية العلوم الإسلامية، بل كان يحضر دروس المشايخ في المساجد حيث درس مختلف علومنا الإسلامية في المساجد كشرح عقائد الدواني والمطول في البلاغة وهذا ما أشهده له بحضوره في دروسي التي ألقيتها في جامع البنية وجامع الإمام أحمد بن حنبل، وقد درس على غيري من مشايخ العراق؛ فلذلك أتوقع له مستقبلاً علميّاً جيداً، وأسأل الله سبحانه وتعالى أن يوفِّقه لخدمة العلم والدين.

 

أ. د محمد رمضان عبد الله

20 ربيع الأول 1423 هـ

1 حزيران 2002 م
প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ রমজান আবদুল্লাহর বক্তব্য

পিএইচডি অভিসন্দর্ভের দ্বিতীয় তত্ত্বাবধায়ক

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীদের ওপর।

অতঃপর:

সদরুশ শরীআ উবাইদুল্লাহ বিন মাসউদ আল-উবাদি আল-মাহবুবি আল-হানাফি রচিত «শারহুল বিকায়া» শীর্ষক এই অভিসন্দর্ভটি, যা গবেষক সালাহ মুহাম্মদ সালেম আবু আল-হাজ সম্পাদনা ও গবেষণা করেছেন, তা আমার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। এটি একটি চমৎকার অভিসন্দর্ভ যাতে গবেষক এর সম্পাদনা ও গবেষণার ক্ষেত্রে চমৎকারভাবে সমস্ত প্রয়োজনীয় বিষয়াদি উপস্থাপন করেছেন।

গবেষক সালাহ মুহাম্মদ সালেম ইলমের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত; কারণ তিনি ইসলামিক সায়েন্স অনুষদে তার একাডেমিক পড়াশোনায় যা অর্জন করেছেন তাতেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি মাসজিদে শায়খদের দরসে উপস্থিত হতেন যেখানে তিনি আমাদের বিভিন্ন ইসলামি শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন, যেমন দাওয়ানির আকাইদের ব্যাখ্যা (শারহু আকাইদিদ দাওয়ানি) এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে আল-মুতাউওয়াল। জামে আল-বুনিয়া এবং জামে আল-ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলে আমার প্রদত্ত দরসসমূহে তার উপস্থিতির মাধ্যমে আমি তার ব্যাপারে এই সাক্ষ্য দিচ্ছি। তিনি ইরাকের অন্যান্য শায়খদের কাছেও অধ্যয়ন করেছেন; তাই আমি তার জন্য একটি উজ্জ্বল তাত্ত্বিক ভবিষ্যতের প্রত্যাশা করছি এবং আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন তাকে জ্ঞান ও দ্বীনের সেবায় তাওফিক দান করেন।

 

প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ রমজান আবদুল্লাহ

২০ রবিউল আউয়াল ১৪২৩ হিজরি

১ জুন ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌كلمة الأستاذ الدكتور فرج توفيق الوليد

رئيس لجنة مناقشة رسالة الدكتوراه

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله الهداة وأصحابه التقاة، ومَن تبعهم بإحسان إلى يوم لقاه.

أما بعد:

فقد ناقشت الدكتور صلاح محمد سالم أبو الحاج في أطروحته للدكتوراه الموسومة «شرح الوقاية» بعد قراءتها، ووجدت فيها مادةً علميّةً قيمة وممتازة، لا سيما وأنها تخصّ كتاباً من أبرز كتب الفقه في المذهب الحنفي؛ لذلك فالرسالة تعدُّ لبنة كبرى ومهمة من لبنات البناء الذي اختطته كلية العلوم الإسلامية جامعة بغداد في تحقيق أمهات الكتب الإسلامية وإخراجها إلى النور بعد سباتها العميق في طيات المكتبات العامة.

بارك الله للدكتور أبي الحاج جهوده وأمدَّه الله لأن يتحفنا بتحقيقات جديدة، وبمستوى رسالته هذه.

والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته

 

أ. د فرج توفيق حمود الوليد

19/ 5/ 2002
অধ্যাপক ডক্টর ফারাজ তাওফিক আল-ওয়ালিদের বক্তব্য

পিএইচডি থিসিস মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি, তাঁর পথপ্রদর্শক পরিবারবর্গ ও তাকওয়াবান সাহাবীগণের প্রতি এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাদের সবার প্রতি।

অতঃপর:

আমি ডক্টর সালাহ মুহাম্মদ সালেম আবু আল-হাজ-এর ‘শারহুল বিকায়াহ’ শীর্ষক পিএইচডি থিসিসটি পাঠ করার পর তার ওপর আলোচনা ও মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছি। আমি এতে অত্যন্ত মূল্যবান ও চমৎকার ইলমী উপাদান খুঁজে পেয়েছি; বিশেষ করে যেহেতু এটি হানাফী মাযহাবের ফিকহ শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান একটি কিতাব সংশ্লিষ্ট। তাই এই থিসিসটি বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদ কর্তৃক গৃহীত মৌলিক ইসলামি গ্রন্থসমূহের তাহকীক (সম্পাদনা) এবং দীর্ঘকাল পাবলিক লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির আড়ালে সুপ্ত থাকার পর সেগুলোকে আলোর মুখ দেখানোর যে মহৎ কর্মপরিকল্পনা, তার একটি বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

আল্লাহ ডক্টর আবু আল-হাজ-এর প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন এবং তাঁকে আরও নতুন নতুন তাহকীক আমাদের উপহার দেওয়ার তাওফিক দান করুন, যা তাঁর এই থিসিসের মানসম্মত হয়।

আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

 

প্রফেসর ডক্টর ফারাজ তাওফিক হামুদ আল-ওয়ালিদ

১৯/ ০৫/ ২০০২
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌كلمة الأستاذ الدكتور محيي هلال السرحان

أحد أعضاء لجنة مناقشة رسالة الدكتوراه

بسم الله الرحمن الرحيم

بين يدي الكتاب

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، سيّدنا محمد وعلى آله وصحبه، ومَن سار على هداه.

أما بعد:

فإن كتاب «الوقاية» وشرحها من الكتب النفيسة في الفقه الحنفي، ولقد طالما منيت النفس برؤيتها؛ إذ كان الحصول على نسخة مخطوطة أسهل من الحصول على نسخة مطبوعة منه، علماً بأنه قد طبع أكثر من طبعة، وفي أكثر من قطر، فلَمَّا اتّجهت همّة ولدنا العزيز الدكتور صلاح إلى تحقيقه، فرحت كثيراً، لكنني أشفقت عليه لكثرة مخطوطات الكتاب وتفرّقها في مشارق الأرض ومغاربها، ولكن دأبه وحرصه وهمّته العالية ذلَّلت تلك الصعوبات، فجاء تحقيقه للكتاب فخراً عظيماً يفخر به؛ إذ قد بذل جهداً عظيماً في قراءته، ومقابلة نسخه المخطوطة، وخدمة النصّ بتوثيقه، وتخريج أحاديثه، وشرح بعض غوامضه، وترجمة أشهر الرجال المذكورين، والإحالة على مصادر مسائله بروح عالية من التواضع والإخلاص والدقة والأمانة العلمية.

فجزاه الله خيرًا عن الإسلام والمسلمين؛ بإحيائه هذا التراث النفيس، والأثر الخالد، ووفقه الله، وأخذ بأيدينا وأيديه إلى ما فيه الخير، إنه على ما يشاء قدير وبالإجابة جدير، وإنه لنعم المولى ونعم النصير.

 

أ. د محيي هلال السرحان

20 ربيع الأول 1423 هـ

1 حزيران 2002 م
অধ্যাপক ড. মুহয়ী হিলাল আস-সারহানের বক্তব্য

পিএইচডি থিসিস মূল্যায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

গ্রন্থ প্রসঙ্গে

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর।

অতপর:

হানাফি ফিকহ শাস্ত্রের মূল্যবান গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'আল-উইকায়াহ' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আমি দীর্ঘদিন ধরে এটি দেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছিলাম; কারণ এর একটি মুদ্রিত কপির চেয়ে পাণ্ডুলিপি (ম্যানুস্ক্রিপ্ট) সংগ্রহ করা সহজ ছিল, যদিও এটি একাধিকবার এবং একাধিক দেশে মুদ্রিত হয়েছে। যখন আমাদের প্রিয় সন্তান ড. সালাহ এটি সম্পাদনার সংকল্প করলেন, তখন আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। কিন্তু এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোর আধিক্য এবং সেগুলো পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার কারণে আমি তাঁর ব্যাপারে কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। তবে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, গভীর একাগ্রতা এবং সুউচ্চ সংকল্প এই সব প্রতিকূলতাকে জয় করেছে। ফলে বইটির সম্পাদনা একটি গৌরবোজ্জ্বল রূপ পরিগ্রহ করেছে, যা নিয়ে তিনি গর্ব করতে পারেন; কেননা তিনি এটি পাঠ করা, পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক তুলনা করা, প্রামাণ্যকরণের মাধ্যমে মূল পাঠের সেবা করা, হাদিসগুলোর সূত্র নির্দেশ করা, এর কিছু অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান করা, গ্রন্থে উল্লেখিত প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের জীবনী তুলে ধরা এবং বিনয়, ইখলাস, সূক্ষ্মতা ও বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার সাথে সংশ্লিষ্ট মাসআলাগুলোর মূল উৎসের তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে মহৎ শ্রম ব্যয় করেছেন।

এই মূল্যবান ঐতিহ্য ও চিরস্থায়ী নিদর্শনকে পুনর্জীবিত করার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দিন এবং আমাদের ও তাঁর হাত ধরে সেই সব কাজের দিকে নিয়ে যান যাতে কল্যাণ নিহিত রয়েছে। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং দোয়া কবুলের যোগ্য। আর তিনিই সর্বোত্তম অভিভাবক ও সর্বোত্তম সাহায্যকারী।

 

অধ্যাপক ড. মুহয়ী হিলাল আস-সারহান

২০ রবিউল আউয়াল ১৪২৩ হিজরি

১ জুন ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌كلمة شيخنا العلامة قاسم بن نعيم الطائي الحنفي

الإمام والمدرس بمدرسة السليمانية ببغداد

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي زيَّن الوجود بعرفان الكَمَلة من عبادِه الأعيان، وأَناطَ بعُهدتِهِم القيامَ بمهمات الأمور في جميع الأحيان، فهم النخبةُ الذين بهم ينتظم أمر الدين والدنيا، وهم الخلاصةُ الذين تبوّؤا أسمى الدرجات العليا، فسبحانه من إله استوجبَ دوام الحمد من جميع الخلائق، على ذلك الاعتناء الذي هو من أجل إنعامه الفائق، والصلاة والسلام على الفرد المتولّي رئاسة الختام سيدنا محمّد أشرف الرسل العظام الذي جاء بالحقّ، وبه الباطل زهق، وعلى آله الأطهار وصحابته الأخيار، ما دام الليل والنهار

أما بعد: فإنّ الأئمة الفقهاء قد بذلوا الجهود في تحقيق المسائل الشرعية، وتدقيق النظائر الفرعية، واستنباط أحكام الفروع من أدلتها التفصيلية، فاتفاقهم حجّة قاطعة واختلافهم رحمة واسعة، قوام الدين بهم، وثبات الشرع بفقههم.

ومن الفقهاء المبرزين الذين شاع فقههم في الأمصار، واشتهر آثار علمهم في الأقطار، ونقلت أقوالهم وأنظارهم بطريق التواتر والاشتهار، الأئمة الأربعة المتبوعون أبو حنيفة ومالك والشافعي وأحمد نجومُ الفقهِ وتنميةِ المَلَكات، وبهم الناسُ يهتدون في الظلمات.

وكان الإمام الأعظم والمجتهد الأقدم أبو حنيفة النعمان الكوفي رضي الله عنه من أوائل الفقهاء تأصيلاً وتدليلاً، واستنباطاً وتعليلاً، بل كان أوّل من أقامَ مجلساً فقهيًا عظيماً يضم كبار الأئمة من أصحابه ينظر معهم في الأدلة والنوازل ويناظرهم، ويحقق المسائل، ويدقق الدلائل، وقد يبقى في المسألة شهراً ناظراً وعيناه في لذّة السَّهَر ناضرةٌ.

ثمّ إذا ما استعرضَ هو وأصحابُه الأدلةَ، ودقَّقوا النظرَ في وجوه الدلالة بَتُّوا في المسألة، وما قلناه مشروح في كتب الحنفية التي ذكرت طريقة تفقيه الإمام الأعظم
আমাদের শাইখ আল্লামা কাসিম বিন নুআইম আত-তায়ী আল-হানাফীর বাণী

যিনি বাগদাদের সুলাইমানিয়া মাদরাসার ইমাম ও শিক্ষক

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বিশিষ্ট বান্দাদের মধ্য হতে কামিল (পরিপূর্ণ) ব্যক্তিদের মারেফাত দ্বারা অস্তিত্বকে সুশোভিত করেছেন এবং সর্বসময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ আঞ্জাম দেওয়ার দায়িত্ব তাঁদের ওপর অর্পণ করেছেন। তাঁরাই সেই মনোনীত গোষ্ঠী যাঁদের মাধ্যমে দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াদি সুশৃঙ্খল থাকে এবং তাঁরাই সেই সারনির্যাস যাঁরা সর্বোচ্চ উচ্চ মর্যাদা ও আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। অতএব পবিত্র সেই ইলাহ, যিনি তাঁর সেই বিশেষ যত্নের কারণে সকল সৃষ্টির পক্ষ থেকে সর্বদা প্রশংসার দাবিদার, যা তাঁর শ্রেষ্ঠ নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই একক সত্তার ওপর যিনি নবুওয়াতের সমাপ্তি রেখার নেতৃত্ব গ্রহণকারী, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যিনি মহান রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সত্য নিয়ে আগমন করেছেন এবং যাঁর মাধ্যমে বাতিল দূরীভূত হয়েছে। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন ও শ্রেষ্ঠ সাহাবীবর্গের ওপর, যতদিন রাত ও দিনের আবর্তন থাকবে।

অতঃপর: ফকিহ ইমামগণ শরয়ি মাসয়ালাসমূহের তাহকিক (গবেষণা), শাখা-প্রশাখার চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে ফিকহি বিধানসমূহ উদঘাটনে নিরলস প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। সুতরাং তাঁদের ঐকমত্য এক অকাট্য দলিল এবং তাঁদের মতপার্থক্য এক প্রশস্ত রহমত; তাঁদের দ্বারাই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁদের ফিকহ দ্বারাই শরীয়ত সুদৃঢ়।

আর সেই সকল প্রথিতযশা ফকিহদের মধ্যে—যাঁদের ফিকহ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে, যাঁদের ইলমের নিদর্শনসমূহ বিভিন্ন ভূখণ্ডে খ্যাতি লাভ করেছে এবং যাঁদের বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রসিদ্ধি ও অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে সংকলিত হয়েছে—তাঁরা হলেন অনুসরণীয় চার ইমাম: আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ী এবং আহমাদ। তাঁরা ফিকহ চর্চা ও সহজাত প্রতিভা বিকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং তাঁদের মাধ্যমেই মানুষ অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে সঠিক পথ খুঁজে পায়।

ইমামে আজম ও প্রাচীনতম মুজতাহিদ আবু হানিফা নুমান আল-কুফি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন মূলনীতি প্রণয়ন, দলিল উপস্থাপন, বিধান উদঘাটন এবং কারণ (ইল্লত) বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রথম সারির ফকিহদের অন্যতম। বরং তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এক মহান ফিকহি মজলিস কায়েম করেছিলেন, যাতে তাঁর সাথীদের মধ্য হতে প্রথিতযশা ইমামগণ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তাঁদের নিয়ে বিভিন্ন দলিল ও উদ্ভূত সমস্যাবলি (নাওয়াযিল) নিয়ে পর্যালোচনা করতেন, তাঁদের সাথে তাত্ত্বিক আলোচনা (মুনাযারা) করতেন, মাসয়ালাসমূহ তাহকিক করতেন এবং দলিলের সূক্ষ্ম দিকগুলো বিশ্লেষণ করতেন। কখনো কখনো তিনি একটি মাসয়ালার পর্যালোচনায় এক মাস পর্যন্ত অতিবাহিত করে দিতেন, অথচ রাত জাগরণের প্রশান্তিতে তাঁর চক্ষুদ্বয় উজ্জ্বল থাকত।

অতঃপর তিনি ও তাঁর সাথীগণ যখন দলিলসমূহ বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন এবং দালালাতের (অর্থবোধকতার) দিকগুলোতে গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ করতেন, তখন তাঁরা মাসয়ালার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেন। আমরা যা বললাম তা হানাফি কিতাবসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে, যেখানে ইমামে আজমের ফিকহ চর্চার পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ١٢)
لأصحابه، وهو أعظم ردّ لكلِّ أفاكٍ يتهمُ هذا الإمام في خروجه عن طريق سلف الأمة في الاستنباط والنظر.

ولو وقع منه ـ فرضاً وتقديراً ـ خطأ في ذلك لردّه أصحابه الأئمة الفقهاء والمحدثون إلى الصواب، فهذا أبو يوسف إمامٌ مقدّمٌ في حفظِ الآثارِ وأقضية الصحابة والتابعين، والحسن بن زياد إمامٌ مقدّمٌ في التفريع والسؤال، وزفر بن الهذيل إمامٌ مقدّمٌ في القياس، ومحمّد بن الحسن إمامٌ مقدّمٌ في الفطنة وعلم الإعراب والحساب، وعبد الله بن المبارك مقدّمٌ في معرفة الرجال وحفظ الأقوال، وداود الطائي إمامٌ مقدّمٌ في الورع والزهد وضبط الأحوال، وغير هؤلاء ممن جُمِعَ فيهم علوم المعقول والمنقول.

وكان أكثر أصحابه تأليفاً وجمعاً للمسائل وتصنيفاً محمد بن الحسن، فإنّه رحمه الله تعالى كتب المصنّفات التي جمعت قولَ شيخيه: أبي حنيفة وأبي يوسف، ودلائلهما ومداركهما الفقهية، وقولَه في المسائل الفرعية ودقّتَه في فهم كلام العرب وتقعيدِ قواعد المذهب.

لذا أصبحت مرجعاً لفقهائنا الحنفية، عليها يعوّل ويعتمد، وإليها يرجع ويستند، ولما جاء دور أصحاب أصحابه جمعوا ما كتبه وضمّوا إلى ذلك ما قرَّروه في المسائل التي لا رواية للإمام وأصحابه فيها، وما رجَّحوه فيما ظهر لهم من وجوه الترجيح.

ثمّ جاء دور المتأخِّرين فاختصروا مطوّلات المتقدمين تسهيلاً؛ لحفظ المذهب، وجمعوا الأشباه والنظائر، وميَّزوا ظاهر الرواية عن غيرها، ووسَّعوا وجوه التعليل، ونصُّوا على الصحيح المختار والمفتى وما عليه الاختيار، شكَّرَ الله سعيهم.

وكان ممن جمع عيون الروايات ومتون الدرايات مؤلف «الوقاية» صدر صدور فقهاء عصره الإمام الشيخ برهان الشريعة محمود المحبوبي رحمه الله تعالى، فإنّه جَمَع فأوعى بأحسن عبارة وألطف إشارة مع إيجاز في التقرير ودقّة في التعبير.

لذلك امتدت أعناق ذوي التحقيق نحو حقيقته واشتدت رغباتهم في الاعتناء بحلّ لفظه وتطبيقه، فكتبوا له شروحاً، وجعلوه مبيّناً مشروحاً.

وكان شرح عين عيون الفقهاء، صدر الملة والشريعة، الإمام الشيخ عبيد الله بن مسعود المحبوبيّ من أوسع الشروح وأنفعها وأدقّها وأجمعها؛ لما حوى من دفع إيرادات، وحل إشكالات، وزيادة فرائد سوانح خطرت بالبال، وفوائد عوائد أهل الفضل والكمال.
তাঁর সাথীদের জন্য, এবং এটি সেই সমস্ত চরম মিথ্যাবাদীর জন্য সবচেয়ে বড় দাঁতভাঙা জবাব, যারা এই ইমামকে ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ) ও গবেষণার ক্ষেত্রে উম্মতের সালাফ বা পূর্বসূরীদের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার অপবাদ দেয়।

আর যদি—ধরে নেওয়া হয় এবং কল্পনা করা হয়—এ বিষয়ে তাঁর থেকে কোনো ভুল প্রকাশ পেত, তবে তাঁর সাথীগণ—যাঁরা ফকিহ ও মুহাদ্দিস ইমাম ছিলেন—তাঁকে সঠিক বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে আনতেন। এই যেমন আবু ইউসুফ, যিনি আসার (সাহাবীগণের বাণী) এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের ফয়সালাসমূহ সংরক্ষণে একজন অগ্রগণ্য ইমাম; হাসান ইবনে জিয়াদ, যিনি মাসআলার শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবন ও প্রশ্নের ক্ষেত্রে একজন অগ্রগণ্য ইমাম; যুফার ইবনে হুযাইল, যিনি কিয়াসের ক্ষেত্রে একজন অগ্রগণ্য ইমাম; মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, যিনি প্রখর মেধা, ব্যাকরণ ও গণিত শাস্ত্রে একজন অগ্রগণ্য ইমাম; আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, যিনি রিজাল শাস্ত্রের পরিচিতি ও উক্তিগুলো সংরক্ষণে অগ্রগণ্য; দাউদ আত-তায়ি, যিনি তাকওয়া, যুহদ ও চারিত্রিক দৃঢ়তায় একজন অগ্রগণ্য ইমাম; এবং তাঁরা ছাড়াও আরও অনেকে যাঁদের মধ্যে আকলি ও নাকলি (যুক্তিনির্ভর ও উদ্ধৃতিমূলক) উভয় প্রকার জ্ঞান একত্রিত হয়েছিল।

আর তাঁর সাথীদের মধ্যে গ্রন্থ রচনা ও মাসআলা সংকলনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের; কেননা তিনি (রহমাতুল্লাহি তাআলা) এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যা তাঁর দুই উস্তাদ—আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের বক্তব্যসমূহ, তাঁদের দলীলসমূহ ও ফিকহি গবেষণার উৎসসমূহকে একত্রিত করেছে। সেই সাথে শাখা মাসআলাগুলোতে তাঁর নিজস্ব অভিমত এবং আরবদের ভাষা অনুধাবনে তাঁর সূক্ষ্মতা ও মাযহাবের মূলনীতি নির্ধারণের বিষয়গুলো সেখানে স্থান পেয়েছে।

তাই এগুলো আমাদের হানাফি ফকিহদের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ওপর নির্ভর ও ভরসা করা হয় এবং যার দিকে প্রত্যাবর্তন ও অবলম্বন করা হয়। এরপর যখন তাঁদের সাথীদের উত্তরসূরিদের যুগ এলো, তখন তাঁরা যা লেখা হয়েছিল তা একত্রিত করলেন এবং এর সাথে সেই সব মাসআলার ফয়সালাগুলোও যুক্ত করলেন যেগুলোতে ইমাম ও তাঁর সাথীদের কোনো বর্ণনা ছিল না। এছাড়া তাঁরা সেসব মাসআলাকেও প্রাধান্য দিলেন যা তাঁদের কাছে অগ্রাধিকার দেওয়ার দিক থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছিল।

অতঃপর পরবর্তী যুগের আলিমদের সময় এলো; তাঁরা মাযহাব মুখস্থ করা সহজ করার লক্ষ্যে পূর্ববর্তীদের দীর্ঘ কিতাবসমূহকে সংক্ষেপ করলেন। তাঁরা সদৃশ ও সমজাতীয় মাসআলাগুলো একত্রিত করলেন এবং জাহিরুর রিওয়ায়াতকে অন্যান্য বর্ণনা থেকে পৃথক করলেন। তাঁরা মাসআলার যৌক্তিক কারণসমূহের পরিধি বিস্তৃত করলেন এবং বিশুদ্ধ, মনোনীত ও ফতোয়া প্রদানের যোগ্য মতের ওপর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করলেন; আল্লাহ তাঁদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।

আর যাঁরা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহ এবং গবেষণালব্ধ মূলপাঠসমূহ একত্রিত করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ‘উইকায়া’ গ্রন্থের লেখক, তাঁর সমসাময়িক ফকিহদের শিরোমণি ইমাম শেখ বুরহানুশ শরিয়াহ মাহমুদ আল-মাহবুবি (রহমাতুল্লাহি তাআলা)। তিনি অত্যন্ত চমৎকার শব্দশৈলী ও সূক্ষ্ম ইঙ্গিতের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত বর্ণনায় জ্ঞানভাণ্ডার একত্রিত করেছেন।

সে কারণেই গবেষকদের দৃষ্টি এর প্রকৃত মর্মার্থের দিকে নিবদ্ধ হয়েছে এবং এর শব্দ বিশ্লেষণ ও প্রয়োগের প্রতি গভীর মনোযোগী হওয়ার আগ্রহ জন্মেছে। ফলশ্রুতিতে তাঁরা এর ওপর বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন এবং একে একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাসমৃদ্ধ গ্রন্থে পরিণত করেছেন।

আর ফকিহদের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব, সদরুল মিল্লাত ওয়াশ শরিয়াহ, ইমাম শেখ উবাইদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-মাহবুবির ব্যাখ্যাগ্রন্থটি ছিল অন্যতম বিস্তারিত, উপকারী, সূক্ষ্ম ও সমৃদ্ধ; কারণ এতে বিভিন্ন আপত্তির খণ্ডন, জটিল বিষয়ের সমাধান এবং মনে উদিত হওয়া অনন্য চিন্তাধারা ও পুণ্যবান ও পূর্ণতা অর্জনকারী ব্যক্তিদের থেকে প্রাপ্ত উপকারসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ١٣)
وكم كانت النفوس تتوق لرؤية هذا الشرح مطبوعاً تتناولة الأيدي حتى نهض أخونا وفرحة خاطرنا المفضال الهمّام، صاحبُ الذهنِ الثاقب، والرأيِ الصائبِ، فضيلةُ الدكتور صلاح أبو الحاج ـ دام عمره في عافية ـ، فأخرجه من دور المخطوطات وقابله وصحَّحه وبلغ في تنقيحه أقصى جهده، وكم ترك المنام لفتح المغلقات، وكتابة التعليقات، وترك الأحبة لجمع المتفرِّقات حتى أكمل هذا العمل الشاق.

وقد أطلعني فضيلتُه على تعليقاتِه التي استقاها من مصادر معتمدة، ومراجع مهمة محررة مخطوطة ومطبوعة، فقرأت كلَّ المتن والشرح والتعليقات فوجدتُ ما كتبَه حريّاً بالقبول لجمعه المعقول والمنقول، واشتماله على الفروع والأصول، بعبارات جزيلة وإشارات جليلة، فبَخٍ بَخٍ لمساعيه الخيرية، وأعماله المرضية، ووفَّقه الله لكلِّ خير ودفع عنه كلَّ ضير، إنه أكرمَ مسؤول وخير مأمول.

هذا وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيِّدنا محمّد وعلى آله وصحبه وسلّم، كلَّما ذكرك الذاكرون، وغَفِلَ عن ذكرك وذكره الغافلون.

 

وكتبه الفقير إلى ألطاف مولاه الغني

قاسم بن نعيم الطائي الحنفي

الإمام والمدرس

في مسجد ومدرسة السليمانية

ببغداد المحمية
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি মুদ্রিত আকারে দেখার এবং মানুষের হাতে হাতে পৌঁছানোর জন্য প্রাণ কতই না ব্যাকুল ছিল! শেষ পর্যন্ত আমাদের ভাই, আমাদের অন্তরের আনন্দ, মহৎ ও উদ্যমী, প্রখর মেধা ও সঠিক মতামতের অধিকারী, শ্রদ্ধেয় ডক্টর সালাহ আবু আল-হাজ—আল্লাহ তাঁকে সুস্থতার সাথে দীর্ঘজীবী করুন—এই দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। তিনি একে পাণ্ডুলিপি কেন্দ্রগুলো থেকে বের করে এনেছেন এবং বিভিন্ন কপির সাথে মিলিয়ে পাঠান্তর নির্ণয় ও সংশোধন করেছেন। এর পরিমার্জনে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। কত রাত তিনি ঘুম বিসর্জন দিয়েছেন জটিল বিষয়গুলোর জট খোলার জন্য ও টীকা লেখার জন্য, আর কত প্রিয়জনদের সান্নিধ্য ত্যাগ করেছেন বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো একত্র করার জন্য, যতক্ষণ না তিনি এই কঠিন কাজ সম্পন্ন করেছেন।

শ্রদ্ধেয় ডক্টর আমাকে তাঁর সেই টীকাগুলো দেখিয়েছেন, যা তিনি নির্ভরযোগ্য উৎস এবং পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদিত রেফারেন্স থেকে আহরণ করেছেন। আমি মূল পাঠ, ব্যাখ্যা এবং টীকা—সবই পড়েছি। আমি তাঁর লেখাকে গ্রহণের যোগ্য পেয়েছি; কারণ এতে যৌক্তিক ও শাস্ত্রীয় দলীলের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে এবং সাবলীল ভাষা ও চমৎকার ইঙ্গিতের মাধ্যমে শাখা ও মূল মাসআলাসমূহ এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর এই কল্যাণকর প্রচেষ্টা ও সন্তোষজনক কাজের জন্য অনেক অনেক সাধুবাদ! আল্লাহ তাঁকে সকল কল্যাণের তাওফিক দান করুন এবং তাঁর থেকে সকল অনিষ্ট দূর করুন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত এবং পরম আশার স্থল।

পরিশেষে আমাদের প্রার্থনা এই যে, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর—যতক্ষণ স্মরণকারীরা আপনাকে স্মরণ করবে এবং যতক্ষণ গাফেলরা আপনার ও তাঁর স্মরণ থেকে বিমুখ থাকবে।

 

এটি লিখেছেন তাঁর অমুখাপেক্ষী মওলার অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী অধম

কাসিম বিন নুআইম আত-তাঈ আল-হানাফী

ইমাম ও শিক্ষক

সুলাইমানিয়া মসজিদ ও মাদরাসায়

সুরক্ষিত বাগদাদে।
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ١٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي رزقنا الهداية، ورحمنا بالعناية، ونجَّانا بالوقاية، وأسلكنا السبيل بالنقاية، فمنه الدراية، ورضاه الغاية، والصلاة والسلام على المصطفى برهان الشريعة، وعلى صحابته وتابعيه الذين هم صدر الشريعة، ومَن تبعهم بإحسان وسار على دربهم إلى يوم القيام.

أما بعد:

فإنّ دراستي في مرحلة الماجستير كانت عن أحد متأخّري الأحناف المحقِّقين، وهو الإمام اللكنوي، وقد لمستُ فيها عظم الفقه الحنفيّ، والحاجة إلى ضبط مسائله ودقائقه الفريدة؛ إذ كان المعوّل عليه في الحكم والقضاء والفتوى في أكثر الخلافات والدول الإسلامية التي مضت، فعاشر الناس وعايشهم، وبنايته كانت على حسب حاجتهم.

والحاجة إلى الاختصاص مطلوبة؛ لأن العلومَ كثيرةٌ ومتفرِّعة، وكلٌّ منها له دقائقه الخاصّة به، التي لا يدركها إلا غاص فيه، ولا سيما أن الإحاطة بالعلوم مستحيلة:

ما حوى العلم جميعاً أحد … لا ولو مارسه ألف سنة

إنما العلم منيع عوره … فخذوا من كل علم أحسنه(1)

 

وفي هذا العصر خاصّة امتازت الشعوب عن بعضها بقدر اهتمامها بالتخصص: أي بعناية كلِّ فردٍ منها بأمر والتعمُّق فيه ما استطاع إلى ذلك سبيلاً؛ لمعرفة كنوزه وأسراره وإبرازها للناس.

--------------------------------------------

(1) ينظر: «مفتاح السعادة» (1: 6).

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের হিদায়াত দান করেছেন, নিজ অনুগ্রহে আমাদের ওপর দয়া করেছেন, সুরক্ষার মাধ্যমে আমাদের মুক্তি দিয়েছেন এবং বিশুদ্ধতার পথে আমাদের পরিচালিত করেছেন; সুতরাং জ্ঞান কেবল তাঁর পক্ষ থেকেই আসে এবং তাঁর সন্তুষ্টিই চূড়ান্ত লক্ষ্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত রাসূলের প্রতি, যিনি শরীয়তের প্রমাণ, এবং তাঁর সাহাবী ও তাবিঈদের প্রতি, যারা শরীয়তের অগ্রভাগ, আর যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁদের পথে চলবেন।

অতঃপর:

মাস্টার্স পর্যায়ে আমার গবেষণা ছিল হানাফী মাযহাবের পরবর্তী যুগের অন্যতম গবেষক আলেম ইমাম আল-লাখনবীকে নিয়ে। সেখানে আমি হানাফী ফিকহের মাহাত্ম্য এবং এর অনন্য মাসআলা ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছি; কেননা অতীতে অধিকাংশ খিলাফত ও ইসলামী রাষ্ট্রে শাসনকার্য, বিচারব্যবস্থা ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে এর ওপরই নির্ভর করা হতো। ফলে এটি মানুষের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে গিয়েছিল এবং এর ভিত্তি ছিল তাদের প্রয়োজনের নিরিখে।

বিশেষায়নের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য; কারণ জ্ঞানরাশি বিশাল ও বহুমুখী, এবং এর প্রতিটি শাখার নিজস্ব সূক্ষ্মতা রয়েছে যা কেবল সেই বিষয়ের গভীরে অবগাহনকারী ছাড়া আর কেউ উপলব্ধি করতে পারে না। বিশেষ করে যখন সমস্ত জ্ঞান আয়ত্ত করা অসম্ভব:

কেউই সমস্ত জ্ঞান আয়ত্ত করতে পারেনি … এমনকি যদি সে হাজার বছর ধরেও তা চর্চা করে

নিশ্চয় জ্ঞানের গভীরতা দুর্ভেদ্য … তাই প্রতিটি জ্ঞান থেকে যা শ্রেষ্ঠ তা গ্রহণ করো(১)

 

বিশেষত বর্তমান যুগে জাতিসমূহ একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে তাদের বিশেষায়নের প্রতি গুরুত্বারোপের মাধ্যমে: অর্থাৎ প্রতিটি ব্যক্তির কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং সাধ্যমতো তার গভীরে প্রবেশ করা; যাতে তার গুপ্তধন ও রহস্যসমূহ উদঘাটন করে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা যায়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «মিফতাহুস সাআদাহ» (১: ৬)।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ١٦)
ومن أشرف العلوم الشرعية علم الفقه إذ هو ثمرتها العملية التي يحتاج إليها المسلمون في حياتهم اليومية، فبأحكامه يتعبُّد الناسُ ربَّهم، وتنتظم الحياة فيما بينهم، وهو من العلوم الصعبة التي تحتاج إلى التفرّغ التامّ لضبطه وإدراك جزئياته، قال ساجقلي زاده: فن الفقه أصعب الفنون وأطولها، وهو علم الأئمة المجتهدين، وأغلب ما يحتاج إليه العالمون، بحر لجيّ، لا يغوص فيه إلا ذكي أوحديّ ماهر في أصوله، ولا تحصل البضاعة فيه إلا بسعي بليغ في مدّة مديدة بهمة عالية بدراسة مثل كتاب «الهداية» مع شرحها الأكمليّ، وأما التبحّر فيه، فهو يكاد أن يستغرق العمر، وكاشف المشكلات فيه، فهو أعزّ من الكبريت الأحمر، ولا تحصى مسائله التي تحيَّر فيها العلماء. انتهى(1).

ولا ينقص من مكانة الفقه قلّة المشتغلين والمعتنين به، وإعراض الناس عنه:

عاب التفقهَ قومٌ لا عقول لهم … وما عليه إذا عابوه من ضرر

ما ضرَّ شمس الضحى والشمس طالعة … أن لا يرى ضوءها من ليس ذا بصر(2)

ورغبتي للتخصص في الفقه الحنفي جعلتني أبحث عن أشهر كتبه وأكثرها إتقاناً وتحقيقاً واعتماداً في المذهب، وفي الوقت نفسه لم يخدم ولم يطبع طبعة محقَّقةً تليق بمكانته، فيكون تحقيقُه سبيلاً لضبطي المذهب، وسبباً في استفادة الناس منه، ونشره في البلاد وبين العباد، فرأيت ما أردت متحقّقاً في «شرح الوقاية» لصدر الشريعة، فـ «الوقاية» تعتبر أحد المتون الثلاثة أو الأربعة المعتمدة في المذهب الحنفي، وعليها التعويل في الفتوى، وأشهر شروحها هو شرح صدر الشريعة الذي ألف جدُّه «الوقاية» من أجلِّه، فإذا أطلق أريد هو، ووجد هذا الكتاب عناية كبيرةً من علماء المذهب الحنفي، فهو الذي كان يدرس في مدارس الدولة العثمانية، وفي بلاد الهند وغيرها كما سيأتي تفصيله؛ لذلك كثر الشرّاح والمحشّون والمعلّقون عليهما حتى إنِّي جمعت ما يقارب مئة شرح وحاشيةٍ عليهما، وسيأتي ذكرهم في الدراسة، وكذا نظم من قبل أكثر من شخص، وترجم إلى أكثر من لغة، وحدَّثني أحد من يعمل في دار البشائر الإسلامية أنه قد تم طبعه قبل سنوات في دارهم مترجماً إلى اللغة التركية.

--------------------------------------------

(1) من «ترتيب العلوم» (ص 160).

(2) ينظر: «وفيات الأعيان» (5: 29).

ومن أشرف العلوم الشرعية علم الفقه إذ هو ثمرتها العملية التي يحتاج إليها المسلمون في حياتهم اليومية، فبأحكامه يتعبُّد الناسُ ربَّهم، وتنتظم الحياة فيما بينهم، وهو من العلوم الصعبة التي تحتاج إلى التفرّغ التامّ لضبطه وإدراك جزئياته، قال ساجقلي زاده: فن الفقه أصعب الفنون وأطولها، وهو علم الأئمة المجتهدين، وأغلب ما يحتاج إليه العالمون، بحر لجيّ، لا يغوص فيه إلا ذكي أوحديّ ماهر في أصوله، ولا تحصل البضاعة فيه إلا بسعي بليغ في مدّة مديدة بهمة عالية بدراسة مثل كتاب «الهداية» مع شرحها الأكمليّ، وأما التبحّر فيه، فهو يكاد أن يستغرق العمر، وكاشف المشكلات فيه، فهو أعزّ من الكبريت الأحمر، ولا تحصى مسائله التي تحيَّر فيها العلماء. انتهى(১).

শরয়ী জ্ঞানসমূহের মধ্যে ফিকহ শাস্ত্র অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞান, কারণ এটি হলো এমন এক ব্যবহারিক ফল যা মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজন। এর বিধানাবলীর মাধ্যমেই মানুষ তাদের রবের ইবাদত করে এবং তাদের মধ্যকার জীবনযাত্রা সুশৃঙ্খল হয়। এটি কঠিন জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা একে আয়ত্ত করতে এবং এর খুঁটিনাটি অনুধাবন করতে পূর্ণ নিমগ্নতার দাবি রাখে। সাজাকলি জাদাহ বলেছেন: ফিকহ শিল্পটি সকল শিল্পের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ও দীর্ঘতম। এটি হলো মুজতাহিদ ইমামদের জ্ঞান এবং যা আলেমদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এটি একটি অতল সমুদ্র, যাতে তার মূলনীতিতে পারদর্শী অদ্বিতীয় মেধাবী ছাড়া কেউ ডুব দিতে পারে না। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ হিম্মত নিয়ে 'আল-হিদায়াহ' এর মতো কিতাব এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-আকমালি' অধ্যয়নের মাধ্যমে কঠোর প্রচেষ্টা ছাড়া এতে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। আর এতে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করা তো প্রায় সারা জীবনই ব্যয় করে ফেলে। এর সমস্যাবলীর সমাধানকারী 'লাল গন্ধক' (অত্যন্ত বিরল বস্তু) এর চেয়েও দুর্লভ। এর মাসআলাসমূহ গণনা করা অসম্ভব যা আলেমদেরও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিয়েছে। (সমাপ্ত)

ولا ينقص من مكانة الفقه قلّة المشتغلين والمعتنين به، وإعراض الناس عنه:

ফিকহ চর্চাকারীর স্বল্পতা কিংবা এর প্রতি মানুষের বিমুখতা ফিকহ শাস্ত্রের মর্যাদাকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করে না:

عاب التفقهَ قومٌ لا عقول لهم … وما عليه إذا عابوه من ضرر

বিবেকহীন একদল লোক ফিকহ চর্চার নিন্দা করে... অথচ তারা নিন্দা করলে এর কোনো ক্ষতি হয় না।

ما ضرَّ شمس الضحى والشمس طالعة … أن لا يرى ضوءها من ليس ذا بصر(২)

মধ্যাহ্নের সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তার আলোর কী-ই বা ক্ষতি হবে... যদি কোনো দৃষ্টিহীন ব্যক্তি তা দেখতে না পায়।

ورغبتي للتخصص في الفقه الحنفي جعلتني أبحث عن أشهر كتبه وأكثرها إتقاناً وتحقيقاً واعتماداً في المذهب، وفي الوقت نفسه لم يخدم ولم يطبع طبعة محقَّقةً تليق بمكانته، فيكون تحقيقُه سبيلاً لضبطي المذهب، وسبباً في استفادة الناس منه، ونشره في البلاد وبين العباد، فرأيت ما أردت متحقّقاً في «شرح الوقاية» لصدر الشريعة، فـ «الوقاية» تعتبر أحد المتون الثلاثة أو الأربعة المعتمدة في المذهب الحنفي، وعليها التعويل في الفتوى، وأشهر شروحها هو شرح صدر الشريعة الذي ألف جدُّه «الوقاية» من أجلِّه، فإذا أطلق أريد هو، ووجد هذا الكتاب عناية كبيرةً من علماء المذهب الحنفي، فهو الذي كان يدرس في مدارس الدولة العثمانية، وفي بلاد الهند وغيرها كما سيأتي تفصيله؛ لذلك كثر الشرّاح والمحشّون والمعلّقون عليهما حتى إنِّي جمعت ما يقارب مئة شرح وحاشيةٍ عليهما، وسيأتي ذكرهم في الدراسة، وكذا نظم من قبل أكثر من شخص، وترجم إلى أكثر من لغة، وحدَّثني أحد من يعمل في دار البشائر الإسلامية أنه قد تم طبعه قبل سنوات في دارهم مترجماً إلى اللغة التركية।

হানাফী ফিকহে বিশেষজ্ঞ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমাকে এই মাযহাবের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ, সুসংহত, সুনিপুণ এবং নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ অন্বেষণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে; যা একই সাথে এতদিন সেভাবে খেদমত করা হয়নি এবং এর মর্যাদার উপযোগী কোনো সম্পাদিত সংস্করণেও (তাহকীক) মুদ্রিত হয়নি। তাই এর তাহকীক করা আমার জন্য মাযহাব আয়ত্ত করার একটি পথ এবং মানুষের উপকারের কারণ হবে, যার মাধ্যমে এটি বিভিন্ন দেশে এবং মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে। আমি যা চেয়েছিলাম তা সদরুশ শরীয়াহর 'শারহুল বিকায়াহ' গ্রন্থে বিদ্যমান পেলাম। 'আল-বিকায়াহ' গ্রন্থটি হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য তিনটি বা চারটি মূল পাঠের (মুতুন) অন্যতম হিসেবে বিবেচিত এবং ফতোয়ার ক্ষেত্রে এর ওপরই নির্ভর করা হয়। এর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হলো সদরুশ শরীয়াহর ব্যাখ্যাটি, যার জন্য তাঁর দাদা 'আল-বিকায়াহ' রচনা করেছিলেন। যখন সাধারণভাবে 'শারহুল বিকায়াহ' বলা হয়, তখন এটিই উদ্দেশ্য থাকে। হানাফী মাযহাবের আলেমদের নিকট এই কিতাবটি ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। এটিই উসমানীয় সাম্রাজ্যের মাদরাসাগুলোতে এবং হিন্দুস্তানসহ অন্যান্য দেশে পাঠদান করা হতো, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে। একারণেই এর ওপর ব্যাখ্যাকারী, টীকাকার ও মন্তব্যকারীদের আধিক্য ঘটেছে, এমনকি আমি এ দুটির (মূল ও ব্যাখ্যা) ওপর প্রায় একশত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও হাশিয়া সংগ্রহ করেছি, গবেষণায় যাদের নাম উল্লেখ করা হবে। একইভাবে এটি একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে কাব্যিক রূপ পেয়েছে এবং একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়ার একজন কর্মী আমাকে জানিয়েছেন যে, কয়েক বছর আগে তাদের প্রকাশনী থেকে এটি তুর্কি ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) 'তারতিবুল উলুম' থেকে (পৃ. ১৬০)।

(২) দ্রষ্টব্য: 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' (৫: ২৯)।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ١٧)
وليس يزيد الشمس نوراً وبهجةً … إطالة ذي وصف وإكثار مادح(1)

 

وخطتي في البحث تنقسم إلى قسمين:

الأول: في دراسة عن المؤلّفين والكتابين، وتشتمل على فصلين:

الفصل الأول: في حياة المؤلِّف والشارح، ويشتمل على تمهيد ومباحث:

التمهيد: في العصر الذي عاشا فيه.

المبحث الأول: في لقب صدر الشريعة.

المبحث الثاني: في اسم صاحب «الوقاية».

المبحث الثالث: في نسب صاحب «الوقاية».

المبحث الرابع: فيما وقع من العلماء من الخلط في نسب صدر الشريعة.

المبحث الخامس: في أسرته العلمية وطلبه للعلم وشيوخه ومن تفقَّه عليهم.

المبحث السادس: في مكانة الشارح العلمية وثناء العلماء عليه.

المبحث السابع: في تلاميذ الشارح ومنهجه في التدريس.

المبحث الثامن: في مؤلفات الشارح.

المبحث التاسع: في وفاة الشارح ومكان قبره.

والفصل الثاني: في دراسة عن «الوقاية» و «شرح الوقاية»، ويشتمل على مباحث:

المبحث الأول: في اسم وسبب تأليف وصحة نسبة «الوقاية»، و «شرح الوقاية» لمؤلفيهما.

المبحث الثاني: في مكانة «الوقاية» و «شرح الوقاية» بين كتب الفقه الحنفي.

المبحث الثالث: في شروح «الوقاية».

المبحث الرابع: في حواشي «شرح الوقاية».

--------------------------------------------

(1) ينظر: «الضوء اللامع» (3: 137).

বর্ণনাকারীর দীর্ঘ বর্ণনা কিংবা প্রশংসাকারীর বাহুল্য স্তুতি সূর্যের আলো ও জৌলুসে নতুন কিছু যোগ করে না … (১)

 

আমার গবেষণা কর্মের পরিকল্পনাটি দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম ভাগ: লেখকদ্বয় এবং গ্রন্থদ্বয় সম্পর্কে অধ্যয়ন, যা দুটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মূল লেখক এবং ব্যাখ্যাকারীর জীবনী প্রসঙ্গে, যা একটি ভূমিকা এবং কয়েকটি আলোচনার ওপর বিন্যস্ত:

ভূমিকা: তাঁরা যে যুগে বসবাস করতেন সে সম্পর্কে।

প্রথম আলোচনা: সদরুশ শরীয়াহর উপাধি প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় আলোচনা: 'উইকায়াহ' প্রণেতার নাম প্রসঙ্গে।

তৃতীয় আলোচনা: 'উইকায়াহ' প্রণেতার বংশপরিচয় প্রসঙ্গে।

চতুর্থ আলোচনা: সদরুশ শরীয়াহর বংশপরিচয় বর্ণনায় আলেমগণের মাঝে যে বিভ্রান্তি ঘটেছে সে প্রসঙ্গে।

পঞ্চম আলোচনা: তাঁর ইলমি পরিবার, জ্ঞান অন্বেষণ, তাঁর উস্তাদগণ এবং যাঁদের নিকট তিনি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন সে প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ আলোচনা: ব্যাখ্যাকারীর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা প্রসঙ্গে।

সপ্তম আলোচনা: ব্যাখ্যাকারীর ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁর পাঠদান পদ্ধতি প্রসঙ্গে।

অষ্টম আলোচনা: ব্যাখ্যাকারীর রচনাবলি প্রসঙ্গে।

নবম আলোচনা: ব্যাখ্যাকারীর ইন্তেকাল এবং তাঁর কবরের স্থান প্রসঙ্গে।

এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'উইকায়াহ' এবং 'শরহুল উইকায়াহ' সম্পর্কে অধ্যয়ন, যা কয়েকটি আলোচনার ওপর বিন্যস্ত:

প্রথম আলোচনা: নাম, রচনার কারণ এবং গ্রন্থকারদের প্রতি 'উইকায়াহ' ও 'শরহুল উইকায়াহ'র সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় আলোচনা: হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহের মধ্যে 'উইকায়াহ' ও 'শরহুল উইকায়াহ'-এর অবস্থান প্রসঙ্গে।

তৃতীয় আলোচনা: 'উইকায়াহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ প্রসঙ্গে।

চতুর্থ আলোচনা: 'শরহুল উইকায়াহ'-এর টীকা (হাশিয়া) সমূহ প্রসঙ্গে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ‘আদ-দাউউল লামি’ (৩: ১৩৭)।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ١٨)
المبحث الخامس: في منهج الماتن والشارح في المتن والشرح ومميزاتهما.

المبحث السادس: في المصادر التي اعتمد عليها صدر الشريعة في «شرح الوقاية».

المبحث السابع: في الاصطلاحات الفقهية في «شرح الوقاية» وكتب الأحناف.

المبحث الثامن: في مخطوطات «الوقاية».

المبحث التاسع: في مخطوطات «شرح الوقاية».

المبحث العاشر: ترجة أئمة المذهب الذي تدور على قولهم مسائل الكتاب.

المبحث الحادي عشر: في المنهج المتبع في تحقيق الكتاب.

المبحث الثاني عشر: في النسخ المعتمدة في تحقيق الكتاب.

 

والثاني: يشتمل على الكتاب محققاً بالكامل.

مزيَّناً بتعليقات منتخبة من أمهات كتب الفقه الحنفي كنت أظمأت نهاري وأسهرت ليلي في جمعها مدَّة سنتين متتاليتين، وحين بدأت فيها أردت أن أجمع في كل مسألة من مسائلها ما وقع من الاختلاف في المذهب، مع بيان المصحح به والمفتى، ولكن ما نعانيه من قيود الدراسات الأكاديمية لم تساعدني في تحقيق ما طمحت فيه، فاكتفيت بما تراه بين يديك، على أن أتتمم ما في نفسي في عمل قادم إن شاء الله تعالى، وسمَّيت هذه الحواشي «منتهى النقاية على شرح الوقاية».

ويشرفني في هذا المقام أن أتقدم بالشكر الجزيل لشيخي وأستاذي ومشرفي الفاضل النبيل الأستاذ الدكتور محمد رمضان عبد الله عميد كلية العلوم الإسلامية في جامعة بغداد سابقاً، وعميد كلية العقيدة والفكر في جامعة صدام للعلوم الإسلامية الآن على موافقته بقبول الإشراف عليَّ في هذه الرسالة، وعلى نصحه وإرشاده لي.

وكذا أتقدم بالشكر الجزيل إلى شيخي العزيز فضيلة الأستاذ الدكتور عبد الملك السعدي مشرفي الأول على هذه الرسالة، والذي انقطع إشرافه عنِّي بسبب سفره إلى الأردن، ومع ذلك لم ينقطع الودّ والاستشارة له.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মূল লেখক ও ব্যাখ্যাকারকের মূলপাঠ ও ব্যাখ্যার পদ্ধতি এবং তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: 'শারহুল বিকায়া'-তে সদরুশ শারিয়াহ যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন সে প্রসঙ্গে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: 'শারহুল বিকায়া' এবং হানাফী মাযহাবের কিতাবসমূহের ফিকহী পরিভাষাসমূহ প্রসঙ্গে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: 'আল-বিকায়া'-র পাণ্ডুলিপিসমূহ প্রসঙ্গে।

নবম পরিচ্ছেদ: 'শারহুল বিকায়া'-র পাণ্ডুলিপিসমূহ প্রসঙ্গে।

দশম পরিচ্ছেদ: মাযহাবের সেই সকল ইমামগণের জীবনী, যাদের মতামতের ওপর কিতাবের মাসআলাগুলো আবর্তিত হয়েছে।

একাদশ পরিচ্ছেদ: কিতাবটি সম্পাদনায় অনুসৃত পদ্ধতি প্রসঙ্গে।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: কিতাবটি সম্পাদনায় ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপিসমূহ প্রসঙ্গে।

 

এবং দ্বিতীয় অংশ: সম্পূর্ণ সম্পাদিত কিতাবটি অন্তর্ভুক্ত করে।

যা হানাফী ফিকহের মূল কিতাবসমূহ থেকে নির্বাচিত টীকা দ্বারা সুশোভিত। এগুলো সংগ্রহে আমি একটানা দুই বছর দিনভর পরিশ্রম করেছি এবং রাত জেগেছি। যখন আমি এটি শুরু করি, তখন চেয়েছিলাম প্রতিটি মাসআলায় মাযহাবের ভেতরে যে মতভেদ রয়েছে তা সংগ্রহ করতে, সাথে সাথে বিশুদ্ধ সাব্যস্ত এবং ফতোয়া প্রদানের উপযুক্ত মতগুলো স্পষ্ট করতে। কিন্তু একাডেমিক গবেষণার সীমাবদ্ধতার কারণে আমি যা আশা করেছিলাম তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা আমার জন্য সম্ভব হয়নি; তাই আপনার সামনে যা বর্তমান রয়েছে আমি তাতেই সন্তুষ্ট থেকেছি। তবে আমার মনের অবশিষ্ট কাজটুকু আগামীতে কোনো এক কাজে সম্পন্ন করার ইচ্ছা রাখি, ইনশাআল্লাহ তায়ালা। আর আমি এই টীকাগুলোর নামকরণ করেছি 'মুনতাহান নুকায়া আলা শারহিল বিকায়া'।

এই পর্যায়ে আমার উস্তাদ এবং সম্মানিত তত্ত্বাবধায়ক, বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদের প্রাক্তন ডিন এবং বর্তমানে সাদ্দাম ইসলামি বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের আকীদা ও চিন্তাধারা অনুষদের ডিন, মহৎ ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রমজান আব্দুল্লাহকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করাকে আমি সম্মানজনক মনে করছি; এই থিসিসটির তত্ত্বাবধান গ্রহণে তার সম্মতি প্রদান এবং আমাকে নসিহত ও দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য।

একইভাবে আমি আমার প্রিয় উস্তাদ, এই থিসিসের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক, ফযীলাতুশ শাইখ প্রফেসর ড. আব্দুল মালিক আস-সাদী-কেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি, জর্ডান ভ্রমণের কারণে যার তত্ত্বাবধান আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল; তা সত্ত্বেও তাঁর সাথে আমার হৃদ্যতা ও পরামর্শের ধারা অব্যাহত ছিল।
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ١٩)
وإلى شيخي وأستاذي المفضال الشيخ قاسم بن نعيم الطائي الحنفي الذي كنت أجد عنده ضالتي فيما أبتغيه، وعلى ما بذله من جهد في مراجعة هذا العلم الكبير.

كما أتقدم بالشكر الجزيل إلى رئيس وأعضاء اللجنة الموقَّرة على ما أغدقوا عليَّ من كرمهم بتقديرهم هذا الجهد المبذول؛ إذ أعطوه أعلى درجة وهي: امتياز عالٍ مع التوصية بالطبع على نفقة الجامعة، وشهدوا أثناء المناقشة أن هذه الرسالة تعدَّ أفضل رسالة تحقيق تقدم إلى جامعة بغداد، فالحمد لله على فضله.

وفي الختام أسأل الله عز وجل أن أكون وفِّقت فيما قمت به من خدمة لهذا السفر العظيم، وأن يتقبّل منِّي هذا العمل ويجعله خالصاً لوجه الكريم، وأن يرزقني الإخلاص في القول والعمل، وأن يغفر لي ولوالدي وجدتي ومشايخي وزجي والمسلمين والمسلمات، وأن ينفع به المؤمنين ويجعله لبنة من لبنات إعادة هذه الأمة إلى دينها، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم أجمعين.

 

وكتبه

العبد الفقير إلى رحمة ربّه

صلاح محمد أبو الحاج

19/رجب/1423 هـ

الموافق 26/أيلول/2002 م

في مدينة صويلح/ عمان
এবং আমার পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ ও শিক্ষক শায়খ কাসিম বিন নুআইম আত-তাঈ আল-হানাফীর প্রতি, যাঁর কাছে আমি আমার অন্বেষিত বিষয়গুলোর সন্ধান পেয়েছি, এবং এই মহান জ্ঞান পর্যালোচনায় তিনি যে পরিশ্রম করেছেন তার জন্য।

আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সম্মানিত কমিটির সভাপতি ও সদস্যবৃন্দের প্রতি, যাঁরা আমার কৃত পরিশ্রমের মূল্যায়নে তাঁদের মহানুভবতা প্রদর্শন করেছেন; তাঁরা এটিকে সর্বোচ্চ মান প্রদান করেছেন যা হলো: বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে মুদ্রণের সুপারিশসহ ‘উচ্চতর কৃতিত্ব’ (এক্সিলেন্ট), এবং তাঁরা আলোচনার সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, এই গবেষণাপত্রটি বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশকৃত শ্রেষ্ঠ সম্পাদনা-গবেষণা হিসেবে গণ্য। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর তাঁর অনুগ্রহের জন্য।

পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন এই মহান গ্রন্থের সেবায় আমি যা করেছি তাতে সফল হই, এবং তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে এই আমল কবুল করেন ও একে একমাত্র তাঁর সম্মানিত চেহারার জন্য নিবেদিত করেন। তিনি যেন আমাকে কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা দান করেন এবং আমাকে, আমার পিতা-মাতা, আমার দাদী, আমার শিক্ষকবৃন্দ, আমার স্ত্রী ও সকল মুসলিম নর-নারীকে ক্ষমা করেন। তিনি যেন এর মাধ্যমে মুমিনদের উপকৃত করেন এবং একে এই উম্মাহকে তাদের দ্বীনের দিকে ফিরিয়ে আনার একটি ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে গণ্য করেন। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

এটি লিখেছেন

তাঁর রবের রহমতের মুখাপেক্ষী অধম বান্দা

সালাহ মুহাম্মদ আবু আল-হাজ

১৯/রজব/১৪২৩ হিজরী

মোতাবেক ২৬/সেপ্টেম্বর/২০০২ খ্রিস্টাব্দ

সুয়াইলিহ শহর/ আম্মান
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٢١)
الباب الأول الدراسة

وتشتمل الدراسة على فصلين، وهما:

الفصل الأول: في حياة المؤلّف والشارح

الفصل الثاني: في دراسة عن «الوقاية» و «شرح الوقاية»
প্রথম অধ্যায়: গবেষণা

এবং এই গবেষণাটি দুটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত, সেগুলো হলো:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মূল গ্রন্থকার ও ভাষ্যকারের জীবনী প্রসঙ্গে

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ‘আল-উইকায়া’ এবং ‘শারহুল উইকায়া’ সংক্রান্ত পর্যালোচনা ও গবেষণা
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌الفصل الأول في حياة المؤلّف والشارح

ويشتمل على تمهيد ومباحث:

التمهيد في العصر الذي عاشا فيه.

المبحث الأول: في لقب صدر الشريعة.

المبحث الثاني: في اسم صاحب «الوقاية».

المبحث الثالث: في نسب صاحب «الوقاية».

المبحث الرابع: فيما وقع من العلماء من الخلط في نسب صدر الشريعة.

المبحث الخامس: في أسرته العلمية وطلبه للعلم وشيوخه ومَن تفقَّه عليهم.

المبحث السادس: في مكانة الشارح العلمية وثناء العلماء عليه.

المبحث السابع: في تلاميذ الشارح ومنهجه في التدريس.

المبحث الثامن: في مؤلفات الشارح.

المبحث التاسع: في وفاة الشارح ومكان قبره.
প্রথম অধ্যায়: লেখক ও ব্যাখ্যাকারের জীবনী প্রসঙ্গে

এটি একটি ভূমিকা ও কয়েকটি পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত:

ভূমিকা: তাঁরা যে যুগে বসবাস করতেন।

প্রথম পরিচ্ছেদ: সদরুশ শরীআহ-এর উপাধি প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ‘আল-উইকায়া’ গ্রন্থকারের নাম প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ‘আল-উইকায়া’ গ্রন্থকারের বংশপরিচয় প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সদরুশ শরীআহ-এর বংশপরিচয় নিয়ে আলিমদের মাঝে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি পরিবার, জ্ঞান অন্বেষণ, তাঁর উস্তাদগণ এবং যাঁদের নিকট তিনি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ব্যাখ্যাকারের ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলিমগণের প্রশংসা।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: ব্যাখ্যাকারের ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁর পাঠদান পদ্ধতি।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: ব্যাখ্যাকারের রচনাবলী।

নবম পরিচ্ছেদ: ব্যাখ্যাকারের মৃত্যু ও তাঁর কবরের স্থান।
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌تمهيد

عاش المؤلِّفُ والشارحُ في الوقت الذي سيطرَ فيه المغولُ على بلاد ما وراء النهر وعاثوا فيها فساداً ودماراً ولا سيما بخارا؛ إذ خربت على يد جنكيزخان عام (616 هـ)، قال ابن بطوطة(1) عنها: كانت بُخارا قاعدة ما وراء نهر جيحون من البلاد التي خرَّبها جنكيز التتريّ، فمساجدُها الآن ومدارسُها وأسواقُها خربةً إلاَّ القليل، وأهلُها أذلاّء، وشهادتهم لا تقبل بخوارزم وغيرها؛ لاشتهارهم بالتعصّب ودعوى الباطل وإنكار الحقّ، وليس بها اليوم مَن يُعَلِّم الناس شيئاً من العلم ولا مَن له عناية به. انتهى(2).

ثمَّ أعيد بناؤها على يد أوكيدى خان، وهو الابن الثالث لجنكيز خان وولي عهده، جلس على العرش بعد أبيه سنة (624 هـ)، وفي سنة (636 هـ) ثار الشعب ضد المغول وطبقة الملاك، ولكن هذه الثورة أخمدت، وفي سنة (671 هـ) فتح مغول فارس بخارا وظلّوا يعملون فيها السلب والنهب سبعةَ أيّام متواصلة، فدبّ فيها الخراب وتمّ تخريبها بعد ذلك بثلاثة أعوام على يدي الأميرين جوبه وقان، وهما من الأتراك الجغتاي، وظلّت سبعة أعوام لا تدب فيها نسمة، وفي عام (682 هـ) أعاد تعميرها الأمير قيدومسعود بك وجلب إليها السكان، وفي (716 هـ) أغار عليها مغول فارس مرّة أخرى وأخرجوا أكثر أهلها وأسكنوهم إقليم جيحون مرغمين(3).

--------------------------------------------

(1) كانت رحلة ابن بطوطة لبخارا في أوائل القرن الثامن. وابن بطوطة: هو محمد بن عبد الله بن محمد اللواتي الطنجي، أبو عبد الله، المعروف بابن بطوطة، طاف البلاد واتصل بكثير من الملوك والأمراء ومدحهم، وكان ينظم الشعر، واستعان بهباتهم على أسفاره، واستغرقت رحلاته (27) سنة، من مؤلفاته: «تحفة النظار في غرائب الأمصار وعجائب الأسفار»، (403 - 779 هـ). ينظر: «الدرر الكامنة» (3: 480 - 481). «إيضاح المكنون» (1: 262). «هدية العارفين» (2: 169).

(2) من «رحلة ابن بطوطة» (1: 237).

(3) ينظر: «مقدمة تاريخ بخارا» (ص 11). و «علماء النظاميات» (ص 115 - 116).

ভূমিকা

লেখক ও ব্যাখ্যাকার এমন এক সময়ে বসবাস করতেন যখন মঙ্গোলরা মা-ওয়ারা-উন-নহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল এবং সেখানে ধ্বংস ও বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল, বিশেষ করে বুখারায়; কেননা তা ৬১৬ হিজরি সালে চেঙ্গিস খানের হাতে ধ্বংস হয়েছিল। ইবনে বতুতা(১) এ সম্পর্কে বলেন: বুখারা ছিল জাইহুন নদীর ওপারের অঞ্চলের (মা-ওয়ারা-উন-নহর) প্রধান কেন্দ্রগুলোর একটি, যা তাতার চেঙ্গিস ধ্বংস করেছিল। বর্তমানে এর সামান্য কিছু অংশ ব্যতীত মসজিদ, মাদরাসা ও বাজারগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর অধিবাসীরা অপদস্থ এবং খাওয়ারিজমসহ অন্যান্য স্থানে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় না; তাদের গোঁড়ামি, মিথ্যা দাবি এবং সত্যকে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে কুখ্যাতির কারণে। আজ সেখানে এমন কেউ নেই যে মানুষকে ইলম শিক্ষা দেবে বা যার এর প্রতি সামান্যতম মনোযোগ আছে। সমাপ্ত(২)।

এরপর ওগদাই খানের হাতে এটি পুনর্নির্মিত হয়, যিনি চেঙ্গিস খানের তৃতীয় পুত্র এবং তাঁর উত্তরাধিকারী ছিলেন। তিনি ৬২৪ হিজরি সালে তাঁর পিতার পর সিংহাসনে আরোহণ করেন। ৬৩৬ হিজরিতে মঙ্গোল ও ভূস্বামী শ্রেণির বিরুদ্ধে জনগণ বিদ্রোহ করে, কিন্তু এই বিদ্রোহ দমন করা হয়। ৬৭১ হিজরিতে পারস্যের মঙ্গোলরা বুখারা জয় করে এবং টানা সাত দিন সেখানে লুটতরাজ ও লুণ্ঠন চালায়। এর ফলে সেখানে ধ্বংস নেমে আসে এবং এর তিন বছর পর আমীর জুবাহ ও কান-এর হাতে এটি পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, যারা ছিলেন চাগতাই তুর্কিদের অন্তর্ভুক্ত। টানা সাত বছর সেখানে কোনো প্রাণের স্পন্দন ছিল না। ৬৮২ হিজরিতে আমীর কাইদু মাসউদ বেগ এটি পুনরায় আবাদ করেন এবং সেখানে অধিবাসীদের ফিরিয়ে আনেন। ৭১৬ হিজরিতে পারস্যের মঙ্গোলরা পুনরায় সেখানে হামলা চালায় এবং এর অধিকাংশ অধিবাসীকে বের করে দিয়ে তাদের বাধ্য করে জাইহুন অঞ্চলে বসতি স্থাপন করতে(৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে বতুতার বুখারা সফর ছিল অষ্টম শতাব্দীর শুরুর দিকে। ইবনে বতুতা হলেন: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-লাওয়াতি আত-তাঞ্জি, আবু আবদুল্লাহ, যিনি ইবনে বতুতা নামে পরিচিত। তিনি বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন এবং অনেক রাজা ও আমীরদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁদের প্রশংসা করেছেন। তিনি কবিতা রচনা করতেন এবং সফরের খরচের জন্য তাঁদের উপঢৌকনের সহায়তা নিতেন। তাঁর সফরগুলো ২৭ বছর স্থায়ী ছিল। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘তুহফাতুন নুজ্জার ফি গারায়িবিল আমসার ওয়া আজায়িবিল আসফার’। (৪০৩ - ৭৭৯ হিজরি)। দেখুন: ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (৩: ৪৮০ - ৪৮১)। ‘ঈজাহুল মাকনুন’ (১: ২৬২)। ‘হাদিয়্যাতুল আরিফিন’ (২: ১৬৯)।

(২) ‘ইবনে বতুতার সফরনামা’ (১: ২৩৭) থেকে।

(৩) দেখুন: ‘মুকাদ্দিমা তরিখে বুখারা’ (পৃ. ১১) এবং ‘উলামাউল নিজামিয়্যাত’ (পৃ. ১১৫ - ১১৬)।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
هذا الاضطراب الذي مرّت به بُخارا، وتغيّر أحوال أهلها كما وصف ابن بطوطة أدَّى إلى خروج عائلة المحبوبي منها إلى كِرمان إذ توفِّي بها جدَّي صدر الشريعة كما سيأتي، وعليه تكون نشأة صدر الشريعة في كِرمان. والله أعلم.

وسيأتي معنا نصوص تدلُّ على أنّ مكان إقامة صدر الشريعة كان في هرات، ولكنّه كان رغم ذلك على اتصال ببخارا فيذهبُ إليها؛ إذ هي موطن الآباء والأجداد، وكانت وفاته فيها على ما سيأتي.

وهرات في القرن الثامن على ما قال ابن بطوطة: أكبرُ المدن العامرة بخُراسان، ومدن خُراسان العظيمة أربع: ثنتان عامرتان، وهما: هرات ونيسابور، وثنتان خربتان وهما: بلخ ومرو، ومدينة هرات كبيرة عظيمة كثيرة العمارة ولأهلها صلاح وعفاف وديانة، وهم على مذهب الإمام أبي حنيفة رضي الله عنه، وبلدهم طاهر من الفساد. انتهى(1).

أما هرات الآن: فهي المحافظة الثالثة في أفغانستان ـ التي يقطر القلب دماً على ما أصاب المسلمين فيها من قوى الكفر والإلحاد وأذيالهم وما سيصيبهم ـ، وتقعُ هرات إلى الغرب من أفغانستان، وتبعدُ عن كابل (1042 كم)، ومنطقتها خضراء يانعة خلاّبة تروى من نهر هريرود اربوس(2).

وأما بُخارا الآن: فقد قسمت جمهورية بُخارا عام (1924 مـ) بين جمهورية تاجيكستان وعاصمتها دوشنبة، وجمهورية أوزبيكستان وعاصتها طشقند، وجمهورية تركمانستان وعاصمتها عشقاباد، وهذه الجمهوريات الثلاث وقعت تحت سيطرة الاتحاد السوفيتي سابقاً، ومدينة بُخارا إحدى المدن الهامة في جمهورية أوزبيكستان(3).

--------------------------------------------

(1) من «رحلة ابن بطوطة» (1: 245).

(2) ينظر: «هرات تاريخها آثارها» (ص 9).

(3) ينظر: «مقدمة تاريخ بخارا» (ص 14).

বুখারা যে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে এবং এর অধিবাসীদের অবস্থার যে পরিবর্তন হয়েছে—যেমনটি ইবনে বতুতা বর্ণনা করেছেন—তার ফলে মাহবুবি পরিবার সেখান থেকে কিরমানে চলে যায়। সেখানেই সদরুশ শরীয়াহর দাদা ও পরদাদা মৃত্যুবরণ করেন, যা সামনে আসবে। সেই অনুযায়ী, সদরুশ শরীয়াহর বেড়ে ওঠা কিরমানেই হয়েছে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

আমাদের সামনে এমন কিছু পাঠ্য আসবে যা নির্দেশ করে যে, সদরুশ শরীয়াহর আবাসস্থল ছিল হেরাতে। তবে তা সত্ত্বেও তিনি বুখারার সাথে যোগাযোগ রাখতেন এবং সেখানে যাতায়াত করতেন; কেননা সেটি ছিল তাঁর পিতৃপুরুষদের জন্মভূমি। আর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, যা সামনে বর্ণিত হবে।

ইবনে বতুতার ভাষ্যমতে অষ্টম শতাব্দীতে হেরাত ছিল: খোরাসানের জনবহুল শহরগুলোর মধ্যে বৃহত্তম। খোরাসানের বিশাল শহর হলো চারটি: এর মধ্যে দুটি জনবহুল, সেগুলো হলো হেরাত ও নিশাপুর; আর দুটি ধ্বংসপ্রাপ্ত, সেগুলো হলো বলখ ও মার্ভ। হেরাত শহরটি অনেক বড়, বিশাল এবং জনবসতিতে পরিপূর্ণ। এর অধিবাসীরা সৎকর্মশীল, পবিত্র এবং ধার্মিক। তারা ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর মাযহাবের অনুসারী এবং তাদের দেশ কলুষতা থেকে মুক্ত। সমাপ্ত(১)।

আর বর্তমান হেরাত: এটি আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম প্রদেশ—সেখানকার মুসলমানদের ওপর কুফরি ও নাস্তিক্যবাদী শক্তি এবং তাদের অনুসারীদের পক্ষ থেকে যা আপতিত হয়েছে এবং যা হবে, তাতে হৃদয় থেকে রক্ত ঝরে—। হেরাত আফগানিস্তানের পশ্চিমে অবস্থিত এবং কাবুল থেকে এর দূরত্ব ১০৪২ কিমি। এর অঞ্চলটি সজীব সবুজ ও মনোরম, যা হারিরুদ আরবুস নদী থেকে সেচ পায়(২)।

আর বর্তমান বুখারা: ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে বুখারা প্রজাতন্ত্রকে তাজিকিস্তান প্রজাতন্ত্র (রাজধানী দুশানবে), উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্র (রাজধানী তাসখন্দ) এবং তুর্কমেনিস্তান প্রজাতন্ত্রের (রাজধানী আশখাবাদ) মধ্যে বিভক্ত করা হয়েছিল। এই তিনটি প্রজাতন্ত্রই পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বুখারা শহরটি বর্তমানে উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর(৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে বতুতার সফরনামা (১: ২৪৫) থেকে।

(২) দেখুন: 'হেরাত: এর ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন' (পৃ. ৯)।

(৩) দেখুন: 'বুখারার ইতিহাসের ভূমিকা' (পৃ. ১৪)।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌المبحث الأول: لقب صدر الشريعة

غلبَ عليه لقبه: صدر الشريعة؛ أكثر من اسمه، وبه عرف بين الطلبة(1) وفي كتب الفقه والأصول وغيرها، كما لا يخفى على المتتبع، ويبدو لي أن لقبَ صدر الشريعة كان منتشراً في تلك البلاد وفي ذلك العصر وإن لم يكن عُرِفَ به من أهل العلم سوى المُتَرْجَم، وصار عَلَماً عليه، يدلُّ على ذلك كلامُ(2) ابن بطوطة أثناء حديثه في رحلته(3) بين خَوارزم وبُخارا: «وصلنا إلى مدينة الكات … وسمع بقدومي قاضي الكات ويسمَّى صدر الشريعة وكنت لقيته بدار قاضي خَوارزم فجاء إليَّ مسلماً مع الطلبة … »، وهذا غير المترجم له؛ لأنه ذكره بعد صحيفتين بعبارة سيأتي ذكرها تدلّ على أنه غيره.

وسبب إطلاق هذ الألقاب كما نبَّه عليه أصحابُ كتب التراجم(4) أنه غَلَبَ على أهلِ خُراسان وما وراء النهر المغالات في الترفُّع على غيرهم: كشمس الأئمة، وفخر الإسلام، وصدر الإسلام، وصدر جهان، وتاج الشريعة، وبرهان الشريعة، وصدر الشريعة، ونحو ذلك، بخلاف ما غلب على فقهاء العراق من السذاجة في الألقاب والاكتفاء بالنسبة إلى صناعة أو محلّة أو قبيلة أو قرية كالجَصَّاص والقُدوري والكَرْخي والصَّيْمريّ، وهذا في الأزمنة المتأخّرة، وأما في الأزمنة المتقدمة، فكلُّهم بريئون من أمثال ذلك.

--------------------------------------------

(1) ينظر: «كتائب أعلام الأخيار» (ق 287/أ)، و «الفوائد البهية» (ص 185).

(2) وأيضاً كلام أرمينيوس فامبري في «تاريخ بُخارا» (ص 203) الذي ترجمه الدكتور أحمد الساداتي إذ قال: «وبهذا صار رجال الدين بدورهم حماة لمن يعيشون في دائرتهم حتى لنرى ابتداءً من ذلك صدر الشريعة ورؤساء القضاء، بل وكل من يشتهرون بالورع والتقوى يستمتعون في بلاد ما وراء النهر بنفوذ لم تعرف له البلاد الإسلامية الأخرى نظيراً». اهـ. فالعبارة وإن كانت غير مستقيمة، ولا نعرف إذا كان عدم استقامتها من المؤلّف أو المترجم أو الطبّاع، المهمّ أنه ذكر صدر الشريعة، ولم يرد به شخصاً معيَّناً وإنما مجموعة من الناس هم من أهل العلم، فلعلَّه وقع نظره كثيراً على من سمِّي بصدر الشريعة فظنَّ أن مَن كان فقيهاً يسمَّى بذلك، والله أعلم.

(3) رحلة ابن بطوطة» (1: 236).

(4) ينظر: «الفوائد البهية» (ص 409 - 410).

প্রথম পরিচ্ছেদ: সদরুশ শরীয়াহ উপাধি

তাঁর ওপর তাঁর নাম অপেক্ষা তাঁর উপাধি ‘সদরুশ শরীয়াহ’ অধিক প্রাধান্য পেয়েছে। এই উপাধিতেই তিনি তালিবে ইলমদের নিকট(১) এবং ফিকহ, উসুল ও অন্যান্য কিতাবসমূহে পরিচিতি লাভ করেছেন, যা অনুসন্ধিৎসু গবেষকদের নিকট অস্পষ্ট নয়। আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, সদরুশ শরীয়াহ উপাধিটি সেই সব অঞ্চলে এবং সেই যুগে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল, যদিও জীবনীকার (যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে) ব্যতীত অন্য কোনো আলিম এই উপাধিতে তেমন প্রসিদ্ধ হননি এবং এটি তাঁরই সুনির্দিষ্ট পরিচায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইবনে বতুতা তাঁর সফরনামার বর্ণনায়(৩) খাওয়ারিজম ও বুখারার মধ্যবর্তী পথ সম্পর্কে যা বলেছেন তা এর প্রমাণ দেয়: «আমরা কাত শহরে পৌঁছালাম … কাতের কাযী আমার আগমনের সংবাদ পেলেন, তাঁর নাম ছিল সদরুশ শরীয়াহ। আমি তাঁর সাথে খাওয়ারিজমের কাযীর বাসভবনে সাক্ষাৎ করেছিলাম, এরপর তিনি তালিবে ইলমদের সাথে নিয়ে আমার নিকট সালাম বিনিময় করতে আসলেন … »। ইনি আলোচ্য ব্যক্তি (যাঁর জীবনী এখানে আলোচিত হচ্ছে) নন; কারণ ইবনে বতুতা এর দুই পৃষ্ঠা পরে এমন এক বাক্যাংশ উল্লেখ করেছেন যা সামনে আসবে এবং যা প্রমাণ করে যে তিনি অন্য এক ব্যক্তি।

জীবনীগ্রন্থের রচয়িতাগণ এই উপাধিগুলো ব্যবহারের যে কারণ উল্লেখ করেছেন(৪) তা হলো, খুরাসান ও মাওয়ারউন্নাহার (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনে অতিরঞ্জনের প্রবণতা প্রাধান্য লাভ করেছিল; যেমন: শামসুল আইম্মাহ (ইমামদের সূর্য), ফাখরুল ইসলাম (ইসলামের গৌরব), সদরুল ইসলাম, সদর জাহান, তাজুশ শরীয়াহ (শরীয়তের মুকুট), বুরহানুশ শরীয়াহ, সদরুশ শরীয়াহ এবং এই জাতীয় আরও অনেক কিছু। এর বিপরীতে ইরাকের ফকিহদের মধ্যে উপাধির ক্ষেত্রে সরলতা এবং পেশা, এলাকা বা গোত্র ও গ্রামের দিকে সম্বন্ধ করে পরিচিতি লাভ করার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল; যেমন: আল-জাসসাস (চুনকামকারী), আল-কুদুরি, আল-কারখি এবং আস-সাইমারি। এটি মূলত পরবর্তী যুগের অবস্থা; তবে প্রাচীন যুগে তাঁরা সকলেই এই ধরণের বিষয় থেকে মুক্ত ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: «কাতায়িবু আলামিল আখইয়ার» (পত্র ২৮৭/অ), এবং «আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ» (পৃ. ১৮৫)।

(২) সেই সাথে আরমিনিয়াস ভ্যাম্বেরির ‘তারিখে বুখারা’ (পৃ. ২০৩) গ্রন্থের বক্তব্যও দ্রষ্টব্য, যা ডক্টর আহমদ আস-সাদাতী অনুবাদ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: «এভাবেই ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ তাঁদের নিজ নিজ পরিমণ্ডলে বসবাসকারীদের জন্য রক্ষক হয়ে ওঠেন, এমনকি আমরা সেই সময় থেকে সদরুশ শরীয়াহ ও প্রধান বিচারপতিদের দেখতে পাই; বরং যারা তাকওয়া ও পরহেযগারির জন্য পরিচিত ছিলেন, তাঁরা মাওয়ারউন্নাহার অঞ্চলে এমন প্রভাব ভোগ করতেন যার নজির অন্যান্য ইসলামি ভূখণ্ডে দেখা যেত না।» সমাপ্ত। উদ্ধৃতিটি যদিও ভাষাগতভাবে খুব সুসংবদ্ধ নয়, এবং আমরা জানি না যে এই অসংবদ্ধতা মূল লেখকের থেকে, না অনুবাদকের অথবা মুদ্রণজনিত ত্রুটি। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিনি সদরুশ শরীয়াহর কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে বোঝাননি বরং একদল আলিমকে বুঝিয়েছেন। সম্ভবত তাঁর দৃষ্টি এমন অনেকের ওপর পড়েছিল যাঁদের সদরুশ শরীয়াহ উপাধি দেওয়া হতো, তাই তিনি ধারণা করেছিলেন যে প্রত্যেক ফকিহকেই এই উপাধিতে ডাকা হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

(৩) «রিহলাতু ইবনি বতুতা» (১: ২৩৬)।

(৪) দ্রষ্টব্য: «আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ» (পৃ. ৪০৯ - ৪১০)।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وأنكر بعضُ العلماء هذه الألقاب:

منهم: القرطبيُّ في «شرح أسماء الله الحسنى»، فقال: قد دلَّ الكتاب والسنة على المنع من تزكية الإنسان نفسه، قال علماؤنا: ويجري هذا المجرى ما كثر في الديار المصرية وغيرها من بلاد العرب والعجم من نعتهم أنفسهم بالنعوت التي تقتضي التزكية والثناء كزكي الدين، ومحيي الدين، وعلم الدين وشبه ذلك(1).

ومنهم: ابن النحاس(2) في «تنبيه الغافلين» عند ذكر المنكرات: فمنها ما عمَّت به البلوى في الدين من

الكذب الجاري على الألسن وهو ما ابتدعوه من الألقاب: كمحيي الدين، ونور الدين، وعضد الدين، وغياث الدين، ومعين الدين، وناصر الدين، ونحوها من الكذب الذي يتكرر على الألسن حال النداء والتعريف والحكاية، وكل ذلك بدعة في الدين ومنكر. انتهى(3).

ولكن اللكنوي(4) أجابهم بعد ذكر كلامهم بقوله: هذا إذا لم يكن مَن وُصِفَ به أهلاً له أو كان أهلاً وأرادَ به تزكيةَ نفسه. انتهى(5).

ويؤيِّدُ هذا أن مَن لُقِّبَ بهذه الألقاب هم كبارُ العلماء والفقهاء العارفين بأحكام الدين، فلو لم يكن ذلك جائزاً شرعاً لَمَا ارتضوه، وأطلقوه على بعضهم. والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) ينظر: «الفوائد البهية» (ص 410).

(2) وهو أحمد بن إبراهيم بن محمد الدمشقي الدمياطي، محيي الدين، المعروف بابن النحاس، قال السخاوي: كان حريصاً على أفعال الخير مؤثراً للخمول كثير المرابطة والجهاد. من مؤلفاته: «مشارع الأشواق إلى مصارع العشاق»، و «مثير الغرام إلى دار السلام»، و «المنكرات والبدع»، (ت 814 هـ). ينظر: «الضوء اللامع» (1: 203 - 204). «الطبقات السنية» (ص 409).

(3) من «الفوائد البهية» (ص 410).

(4) وهو محمد عبد الحي بن عبد الحليم اللكنوي الأنصاري الحنفي، وهو أحد مجدِّدي المئة الثالثة عشرة الهجرية، له: «حاشية الهداية»، و «التعليق الممجد على موطأ محمد»، و «الرفع والتكميل في الجرح والتعديل»، (ت 1304 هـ). ينظر: «مقدمة التعليق» (1: 109 - 113). «الإمام عبد الحي» (ص 55 - 90). «المنهج الفقهي» (ص 29 - 139).

(5) من «الفوائد البهية» (ص 410).

এবং কিছু আলেম এই উপাধিগুলো অস্বীকার করেছেন:

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আল-কুরতুবী তাঁর «শারহ আসমাইল্লাহিল হুসনা» গ্রন্থে বলেছেন: কিতাব ও সুন্নাহ মানুষকে নিজেকে পবিত্র সাব্যস্ত করা বা আত্মপ্রশংসা করতে নিষেধ করার ব্যাপারে প্রমাণ প্রদান করেছে। আমাদের আলেমগণ বলেছেন: এই হুকুমটি সেই বিষয়ের ওপরও প্রযোজ্য যা মিশরীয় জনপদে এবং আরব ও অনারব অন্যান্য দেশে ব্যাপকভাবে দেখা যায়, যেখানে মানুষ নিজেদের এমন সব বিশেষণে বিশেষায়িত করে যা আত্মপ্রশংসা ও স্তুতির দাবি রাখে। যেমন: জাকিউদ্দিন, মুহিউদ্দিন, আলামুদ্দিন এবং এই জাতীয় অন্যান্য উপাধি(১)।

তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন: ইবনুন নাহহাস(২) তাঁর «তানবিহুল গাফিলিন» গ্রন্থে অপছন্দনীয় কার্যাবলি (মুনকারাত) আলোচনার সময় বলেছেন: সেগুলোর মধ্যে একটি হলো যা দ্বীনের মধ্যে ব্যাপক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং

মানুষের মুখে মুখে মিথ্যা হিসেবে প্রচলিত হয়েছে; আর তা হলো তাদের উদ্ভাবিত এই উপাধিগুলো: যেমন মুহিউদ্দিন, নূরুদ্দিন, আদুদুদ্দিন, গিয়াসুদ্দিন, মুঈনুদ্দিন, নাসিরুদ্দিন এবং এই জাতীয় মিথ্যা যা সম্বোধন, পরিচয় প্রদান বা বর্ণনার সময় মানুষের মুখে বারবার উচ্চারিত হয়। আর এই সব কিছুই দ্বীনের মধ্যে বিদআত এবং মন্দ কাজ (মুনকার)। সমাপ্ত(৩)।

কিন্তু আল-লাখনভী(৪) তাঁদের এই বক্তব্য উল্লেখ করার পর এর জবাবে বলেছেন: এটি তখনই প্রযোজ্য যখন এই উপাধি যার ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে তিনি এর যোগ্য নন, অথবা তিনি এর যোগ্য কিন্তু এর মাধ্যমে তিনি নিজের আত্মপ্রশংসার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। সমাপ্ত(৫)।

আর এই বিষয়টি একে সমর্থন করে যে, যাঁদেরকে এই সব উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে তাঁরা ছিলেন বড় বড় আলেম এবং ফকিহ, যাঁরা দ্বীনের বিধান সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখতেন। সুতরাং এটি যদি শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ না হতো, তবে তাঁরা এতে সম্মত হতেন না এবং একে অপরের ওপর প্রয়োগ করতেন না। আল্লাহ ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «আল-ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা ৪১০)।

(২) তিনি হলেন আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি আদ-দামিয়াতি, মুহিউদ্দিন, যিনি ইবনুন নাহহাস নামে পরিচিত। আস-সাখাবী বলেছেন: তিনি ভালো কাজের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, প্রচারবিমুখ থাকতে পছন্দ করতেন এবং অনেক বেশি সীমান্ত পাহারা ও জিহাদে লিপ্ত থাকতেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: «মাশারিউল আশওয়াক ইলা মাসারিইল উশশাক», «মুছিরুল গারাম ইলা দারিস সালাম» এবং «আল-মুনকারাত ওয়াল বিদা» (মৃত্যু ৮১৪ হিজরি)। দেখুন: «আদ-দউউল লামি» (১: ২০৩-২০৪), «আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা ৪০৯)।

(৩) «আল-ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা ৪১০) থেকে।

(৪) তিনি হলেন মুহাম্মদ আব্দুল হাই বিন আব্দুল হালিম আল-লাখনভী আল-আনসারী আল-হানাফী, তিনি ত্রয়োদশ হিজরি শতকের অন্যতম সংস্কারক (মুজাদ্দিদ)। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: «হাশিয়া আল-হিদায়াহ», «আত-তালিকুল মুমাজ্জাদ আলা মুয়াত্তা মুহাম্মদ», এবং «আর-রাফউ ওয়াত তাকমিল ফিজ জারহি ওয়াত তাদিল» (মৃত্যু ১৩০৪ হিজরি)। দেখুন: «মুকাদ্দিমাতুত তালিক» (১: ১০৯-১১৩), «আল-ইমাম আব্দুল হাই» (পৃষ্ঠা ৫৫-৯০), «আল-মানহাজুল ফিকহি» (পৃষ্ঠা ২৯-১৩৯)।

(৫) «আল-ফাওয়ায়েদুল বাহিয়্যাহ» (পৃষ্ঠা ৪১০) থেকে।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
‌‌المبحث الثاني

اسم صاحب «الوقاية»

اختلف العلماءُ اختلافاً كبيراً في اسم صاحب «الوقاية» بعدما اتّفقوا على أنه جدّ لصدر الشريعة الأصغر عبيدِ الله بن مسعود، وابن لصدر الشريعة الأكبر، وأن لقبه برهان الشريعة، وأن جدَّ صدر الشريعة الصحيح هو تاج الشريعة، وهو شارح «الهداية»(1)، وهذا ما نصّ عليه صدر الشريعة في ديباجة «النقاية» إذ قال: وبعد؛ فإنّ العبد المتوسّل إلى الله بأقوى الذريعة عبيد الله صدر الشريعة بن مسعود بن تاج الشريعة سعد جده، يقول: قد ألّف جدّي ومولاي العالم الربّانيّ، والعامل الصمدانيّ، برهان الشريعة والحقّ والدين: محمود بن صدر الشريعة جزاه الله عنِّي وعن سائر المسلمين خيرَ الجزاء؛ لأجل حفظي كتاب «وقاية الرواية في مسائل الهداية» … الخ(2).

وقال في ديباجة «التوضيح»: وبعد: فإن العبد المتوسّل إلى الله تعالى بأقوى الذريعة عبيد الله بن مسعود ابن تاج الشريعة سعد جده وأنجح جده. انتهى(3). ومثلُه في ديباجة «شرح الوقاية».

فعبارة صدر الشريعة تنصُّ على أن جدَّه الصحيح هو تاج الشريعة، وأن له جداً آخر لقبه برهان الشريعة ألَّف له «الوقاية»، واسمه محمود، فكلامه يحتمل وجهين:

--------------------------------------------

(1) كون تاج الشريعة هو شارح «الهداية» لم ينصّ عليه صدر الشريعة وإنما اتّفق عليه علماء المذهب الحنفي الذي أكثروا من النقل عنه في كتبهم، والاستفادة من تحقيقاته، منهم: العيني في مواضع كثيرة جداً من «البناية»، ومنهم ابن الهمام في (10) مواضع في «فتح القدير» منها (8: 14)، ومنهم قاضي زاده في (93) موضعاً في «نتائج الأفكار» منها (10: 512)، ومنهم ابن نجيم في (22) موضع في «البحر» منها (8: 536)، ومنهم: ملا خسرو في (5) مواضع في «درر الحكام» (1: 252)، ومنهم: شيخ زاده في (3) مواضع في «مجمع الأنهر» منها (1: 468)، ومنهم: الشرنبلالي في (28) موضعاً من «الشرنبلالية» (2: 37)، ومنهم: مؤلفو «الفتاوى الهندية» (3: 9)، ومنهم: الخادمي في (3) مواضع في «بريقة محمودية» منها (2: 101)، ومنهم: ابن عابدين في (11) موضعاً في «رد المحتار» (6: 515) وفي موضعين في «العقود الدرية» منهما (2: 127)، وفي (6) مواضع في «منحة الخالق» منها (2: 38)، وغيرهم.

(2) انتهى من «مختصر الوقاية» المسمَّى بـ «النقاية» (ص 3).

(3) من «التوضيح» (1: 4 - 5).

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

'উইকায়া' প্রণেতার নাম

'উইকায়া' প্রণেতার নাম নিয়ে আলেমদের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে; যদিও তাঁরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তিনি 'সদরুশ শরীআহ আসগর' উবাইদুল্লাহ ইবনে মাসউদের দাদা এবং 'সদরুশ শরীআহ আকবার'-এর পুত্র। তাঁর উপাধি 'বুরহানুশ শরীআহ'। আর সদরুশ শরীআহর প্রকৃত দাদা হলেন 'তাজুশ শরীআহ', যিনি 'হিদায়া' গ্রন্থের ভাষ্যকার(১)। এটিই সদরুশ শরীআহ 'নুকায়া' গ্রন্থের ভূমিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: অতঃপর; আল্লাহর নিকট অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যমে সাহায্যপ্রার্থী বান্দা উবাইদুল্লাহ সদরুশ শরীআহ ইবনে মাসউদ ইবনে তাজুশ শরীআহ সা’দ (যিনি তাঁর দাদা), বলছেন: আমার দাদা ও অভিভাবক, আলিমে রব্বানী ও আমেলে সামদানী, বুরহানুশ শরীআহ ওয়াল হাক্কি ওয়াদ্দীন: মাহমুদ ইবনে সদরুশ শরীআহ (আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে ও সকল মুসলমানের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন) আমার মুখস্থ করার সুবিধার্থে 'উইকায়াতুর রিওয়ায়াহ ফি মাসাইলিল হিদায়া' গ্রন্থটি সংকলন করেছেন... ইত্যাদি(২)।

তিনি 'আত-তাওদীহ' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: অতঃপর; মহান আল্লাহর নিকট শক্তিশালী মাধ্যমে সাহায্যপ্রার্থী বান্দা উবাইদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ইবনে তাজুশ শরীআহ সা’দ (যিনি তাঁর দাদা), তাঁর প্রচেষ্টা সফল হোক। সমাপ্ত(৩)। 'শারহুল উইকায়া' গ্রন্থের ভূমিকাতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

সদরুশ শরীআহর এই বক্তব্য স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, তাঁর প্রকৃত দাদা হলেন তাজুশ শরীআহ, এবং তাঁর আরও একজন দাদা আছেন যাঁর উপাধি বুরহানুশ শরীআহ, যিনি তাঁর জন্য 'উইকায়া' লিখেছেন এবং তাঁর নাম মাহমুদ। সুতরাং তাঁর বক্তব্য দুটি দিক বহন করে:

--------------------------------------------

(১) তাজুশ শরীআহ যে 'হিদায়া'র ভাষ্যকার, তা সদরুশ শরীআহ নিজে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, বরং হানাফী মাযহাবের আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহে প্রচুর পরিমাণে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন ও তাঁর তাহকীকসমূহ দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আল-আইনী, 'আল-বিনায়া' গ্রন্থের বহু স্থানে; ইবনুল হুমাম, 'ফাতহুল কাদীর' গ্রন্থের ১০টি স্থানে, যার মধ্যে রয়েছে (৮: ১৪); কাজী যাদেহ, 'নাতাইজুল আফকার' গ্রন্থের ৯৩টি স্থানে, যার মধ্যে রয়েছে (১০: ৫১২); ইবনে নুজাইম, 'আল-বাহর' গ্রন্থের ২২টি স্থানে, যার মধ্যে রয়েছে (৮: ৫৩৬); মোল্লা খসরু, 'দুরারুল হুক্কাম' গ্রন্থের ৫টি স্থানে (১: ২৫২); শায়খ যাদেহ, 'মাজমাউল আনহুর' গ্রন্থের ৩টি স্থানে, যার মধ্যে রয়েছে (১: ৪৬৮); শুরুনবুলালী, 'আশ-শুরুনবুলালিয়া' গ্রন্থের ২৮টি স্থানে (২: ৩৭); 'আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া'র সংকলকগণ (৩: ৯); খাদেমী, 'বারিকা মাহমুদিয়া'র ৩টি স্থানে, যার মধ্যে রয়েছে (২: ১০১); ইবনে আবিদীন, 'রাদ্দুল মুহতার' গ্রন্থের ১১টি স্থানে (৬: ৫১৫) এবং 'আল-উকুদ আদ-দুররিয়া'র ২টি স্থানে, যার মধ্যে (২: ১২৭), এবং 'মিনহাতুল খালিক' গ্রন্থের ৬টি স্থানে, যার মধ্যে রয়েছে (২: ৩৮), ও অন্যান্যগণ।

(২) 'মুখতাসারুল উইকায়া' থেকে সংগৃহীত যা 'নুকায়া' (পৃষ্ঠা ৩) নামে পরিচিত।

(৩) 'আত-তাওদীহ' (১: ৪ - ৫) থেকে।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
الأول: أن يكون تاج الشريعة هو برهان الشريعة، فيكون اسمه محموداً، ويكون هو شارح «الهداية»؛ لأن كلمة علماء الأحناف اتفقت على أن تاج الشريعة هو شارح «الهداية» كما سبق، وهذا ما اختاره الكَفَوي(1) في «كتائب أعلام الأخيار»، ومشى عليه

في ترجمة تاج الشريعة(2)، وفي ترجمة صدر الشريعة(3)، وابن قُطْلُوبُغا(4)، وابن الحنائي(5)، وطاشكبرى زاده(6)، والزَّركلي(7)، وكذا رأى مرتضى الزَّبيديّ(8) نسبه في «تاريخ بخارا»(9).

--------------------------------------------

(1) وهو محمود بن سليمان الكَفَوِيَ الرُّوميّ الحَنَفِي، من مؤلفاته: «كتائب أعلام الأخيار من فقهاء مذهب النعمان المختار»، و «شرح آداب البحث»، (ت نحو 990 هـ). ينظر: «التعليقات السنية» (ص 19). «الأعلام» (8: 49).

(2) ينظر: «كتائب أعلام الأخيار» (ق 265/أ).

(3) ينظر: «كتائب أعلام الأخيار» (ق 287/أ).

(4) في «تاج التراجم» (ص 203). وابن قطلوبغا هو قاسم بن قُطْلُوبُغَا بن عبد الله السُّودُونيّ المِصْرِي الحَنَفي، أبو العدل، زين الدِّين، من مؤلفاته: «تحفة الأحياء بتخريج أحاديث الإحياء»، «الأصل فِي بيان الفصل والوصل»، و «الترجيح والتصحيح على القدوري»، (802 - 879 هـ). ينظر: «الضوء اللامع» (5: 184 - 190). «البدر الطالع» (45 - 47).

(5) في «طبقات الحنفية» (ق 26/أ). وابن الحنائي هو علي بن أمر الله بن عبد القادر الحميدي الرومي، الشهير بقنالي زاده، سيف الدين، له: «حاشية على الدرر»، و «طبقات الحنفية»، و «حاشية على البيضاوي»، (918 - 979 هـ). ينظر: «الكشف» (2: 119). «مجلة المورد» العددان (3 - 4) مج 10،1981 (ص 486 - 497).

(6) في «مفتاح السعادة» (2: 170، 241). وطاشكبرى زاده هو أحمد بن مصطفى، أبو الخير، عصام الدين، من مؤلفاته: «الشقائق النعمانية في علماء الدولة العثمانية»، و «مفتاح السعادة ومصباح السيادة»، «حواشي على البيضاوي»، (901 - 968 هـ). ينظر: «التعليقات السنية» (ص 123 - 124). «الشقائق» (ص 325 - 331).

(7) في «الأعلام» (4: 354).

(8) وهو محمد بن محمد بن محمد بن عبد الرزاق، الشهير بمرتضى الحسيني الهندي الأصل، الزَّبيدي المصري الحنفي. من مؤلفاته: «عقد الجواهر المنيفة في أدلة مذهب أبي حنيفة»، و «تاج العروس شرح القاموس»، و «إتحاف السادة المتقين في شرح إحياء العلوم»، (1145 - 1205 هـ). ينظر: «معجم المؤلفين» (3: 681). «القول الجازم» (ص 11).

(9) ينظر: «دفع الغواية» (1: 2).

প্রথমত: তাজুশ শরীআহ-ই যেন বুরহানুশ শরীআহ হন, ফলে তাঁর নাম হবে মাহমুদ এবং তিনিই হবেন ‘আল-হিদায়াহ’-এর ব্যাখ্যাকার; কেননা হানাফী আলেমদের বক্তব্য এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, তাজুশ শরীআহ-ই হলেন ‘আল-হিদায়াহ’-এর ব্যাখ্যাকার, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এটিই কাফাওয়ী(১) তাঁর ‘কাতায়িবু আলামিল আখইয়ার’ গ্রন্থে গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তাজুশ শরীআহ(২) ও সদরুশ শরীআহ-এর(৩) জীবনী আলোচনায় এর ওপর ভিত্তি করে চলেছেন। এছাড়া ইবন কুতলুবুগা(৪), ইবনুল হান্নাই(৫), তাশ কুবরা জাদাহ(৬), যিরিকলী(৭) এবং মুরতাজা আয-যাবীদীও(৮) ‘তারীখু বুখারা’(৯) গ্রন্থে তাঁর নসবের (বংশলতিকা) ক্ষেত্রে অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মাহমুদ ইবন সুলায়মান আল-কাফাওয়ী আর-রূমী আল-হানাফী। তাঁর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত: ‘কাতায়িবু আলামিল আখইয়ার মিন ফুকাহায়ি মাযহাবিন নু'মানিল মুখতার’ এবং ‘শারহু আদাবিল বাহস’, (মৃত্যু আনুমানিক ৯৯০ হিজরি)। দ্রষ্টব্য: ‘আত-তালীকাতুস সানিয়্যাহ’ (পৃষ্ঠা ১৯)। ‘আল-আলাম’ (৮: ৪৯)।

(২) দ্রষ্টব্য: ‘কাতায়িবু আলামিল আখইয়ার’ (পত্র ২৬৫/ক)।

(৩) দ্রষ্টব্য: ‘কাতায়িবু আলামিল আখইয়ার’ (পত্র ২৮৭/ক)।

(৪) ‘তাজুত তারাজিম’ (পৃষ্ঠা ২০৩)। ইবন কুতলুবুগা হলেন কাসিম ইবন কুতলুবুগা ইবন আব্দুল্লাহ আস-সুদুনী আল-মিসরী আল-হানাফী, আবু আদল, যাইনুদ্দীন। তাঁর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত: ‘তুহফাতুল আহইয়া বিতাকরীজি আহাদীসিল ইহইয়া’, ‘আল-আসল ফী বায়ানিল ফাসলি ওয়াল ওয়াসলি’ এবং ‘আত-তারজীহু ওয়াত তাসহীহু আলাল কুদুরী’, (৮০২ - ৮৭৯ হিজরি)। দ্রষ্টব্য: ‘আদ-দউউল লামি’ (৫: ১৮৪ - ১৯০)। ‘আল-বাদরুত তালি’ (৪৫ - ৪৭)।

(৫) ‘তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ’ (পত্র ২৬/ক)। ইবনুল হান্নাই হলেন আলী ইবন আমরুল্লাহ ইবন আব্দুল কাদির আল-হুমাইদী আর-রূমী, যিনি কিনালী জাদাহ নামে পরিচিত, সাইফুদ্দীন। তাঁর রয়েছে: ‘হাশিয়াহ আলাদ দুরার’, ‘তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ’ এবং ‘হাশিয়াহ আলাল বায়দাউয়ী’, (৯১৮ - ৯৭৯ হিজরি)। দ্রষ্টব্য: ‘আল-কাশফ’ (২: ১১৯)। ‘মাজাল্লাতুল মাওয়রিদ’ সংখ্যা (৩ - ৪), খণ্ড ১০, ১৯৮১ (পৃষ্ঠা ৪৮৬ - ৪৯৭)।

(৬) ‘মিফতাহুস সাআদাহ’ (২: ১৭০, ২৪১)। তাশ কুবরা জাদাহ হলেন আহমদ ইবন মুস্তফা, আবুল খায়ের, ইসামুদ্দীন। তাঁর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত: ‘আশ-শাকায়িকুন নুমানিয়্যাহ ফী উলামায়িদ দাওলাতিল উসমানিয়্যাহ’, ‘মিফতাহুস সাআদাহ ওয়া মিসবাহুস সিয়াদাহ’ এবং ‘হাওয়াশী আলাল বায়দাউয়ী’, (৯০১ - ৯৬৮ হিজরি)। দ্রষ্টব্য: ‘আত-তালীকাতুস সানিয়্যাহ’ (পৃষ্ঠা ১২৩ - ১২৪)। ‘আশ-শাকায়িক’ (পৃষ্ঠা ৩২৫ - ৩৩১)।

(৭) ‘আল-আলাম’ (৪: ৩৫৪)।

(৮) তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুর রাজ্জাক, যিনি মুরতাজা আল-হুসাইনী নামে পরিচিত, মূলত ভারতীয় বংশোদ্ভূত, আয-যাবীদী আল-মিসরী আল-হানাফী। তাঁর রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত: ‘ইকদুল জাওয়াহিরিল মানীফাহ ফী আদিল্লাতি মাযহাবি আবী হানীফাহ’, ‘তাজুল আরুস শারহুল কামুস’ এবং ‘ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন ফী শারহি ইহয়ায়ি উলূমিদ্দীন’, (১১৪৫ - ১২০৫ হিজরি)। দ্রষ্টব্য: ‘মুজামুল মুয়াল্লিফীন’ (৩: ৬৮১)। ‘আল-কাওলুল জাযিম’ (পৃষ্ঠা ১১)।

(৯) দ্রষ্টব্য: ‘দাফউল গাওয়াইয়াহ’ (১: ২)।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٣١)
والثاني: أن يكون تاج الشريعة هو الجد الصحيح لصدر الشريعة، وهو شارح «الهداية»، ويكون برهان الشريعة هو جدّه الفاسد، واسمه محمود، وتاج الشريعة وبرهان الشريعة، ابنان لصدر الشريعة الأكبر. وهو الذي أختاره لما ذكره صاحب «الكشف»(1) أثناء ذكر شروح «الهداية» نقلاً عن تاج الشريعة في «شرح الهداية» في آخر (كتاب الأيمان) أنه قال: أتمَّ تحريرَ فوائد كتاب الأيمان أبو عبد الله عمر بن صدر الشريعة في آخر شعبان سنة ثلاثٍ وسبعين وستمئة. انتهى(2).

فهذه عبارة صريحة من تاج الشريعة على أن اسمه عمر، وليس محموداً، وأنه ابنٌ لصدر الشريعة الأكبر، وهذا ما اختاره القُهُسْتَانيُّ(3)، وحاجي خليفة(4)، واللَّكْنوي(5)، وإسماعيل باشا(6)، وعمر كحالة(7)، وغيرهم.

--------------------------------------------

(1) وهو مصطفى بن عبد الله القسطنطيني الرومي الحنفي، الشهير بالملا كاتب الجَلبِيّ، والمعروف بحاجي خليفة، من مؤلفاته: «تحفة الكبار في أسفار البحار»، و «تقويم التواريخ»، و «ميزان الصول إلى طبقات الفحول»، (1017 - 1067 هـ). ينظر: «مقالات الكوثري» (ص 542). «الأعلام» (8: 138 - 139). «معجم المؤلفين» (3: 870 - 870).

(2) من «كشف الظنون» (2: 2033).

(3) في «جامع الرموز في شرح النقاية» 1: 10). والقهستاني هو محَمَّدُ الخُرَاسَانِي القُهُسْتَانيّ، شمس الدِّين، المفتي ببخارا، من مؤلفاته: «جامع الرموز في شرح النقاية»، (ت: نحو: 953 هـ). ينظر: «غيث الغمام» (ص 30). «الكشف» (2: 1972). «تذكرة الراشد» (ص 56).

(4) في «الكشف» (2: 2033).

(5) في «الفوائد» (ص 188)، و «مقدمة عمدة الرعاية» (1: 20)، و «دفع الغواية» (1: 5).

(6) في «هدية العارفين» (1: 787،2: 406).

(7) معجم المؤلفين» (1: 552).

দ্বিতীয়টি হলো: তাজউশ শরীয়াহ হবেন সাদরুশ শরীয়াহর সহিহ দাদা, এবং তিনি ‘আল-হিদায়াহ’র ব্যাখ্যাকার; আর বুরহানুশ শরীয়াহ হবেন তাঁর ফাসিদ দাদা, যাঁর নাম মাহমুদ। তাজউশ শরীয়াহ এবং বুরহানুশ শরীয়াহ—উভয়ই সাদরুশ শরীয়াহ আল-আকবারের দুই পুত্র। এটিই আমি পছন্দ করি সেই তথ্যের ভিত্তিতে যা ‘আল-কাশফ’(১)-এর লেখক ‘আল-হিদায়াহ’র ব্যাখ্যাসমূহ আলোচনার সময় ‘শরহুল হিদায়াহ’-তে তাজউশ শরীয়াহর বরাতে (কিতাবুল আইমান)-এর শেষে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ উমর ইবনে সাদরুশ শরীয়াহ ৬৭৩ হিজরি সালের শাবান মাসের শেষে কিতাবুল আইমান-এর ফায়দাসমূহের সংকলন সম্পন্ন করেছেন। সমাপ্ত(২)।

সুতরাং এটি তাজউশ শরীয়াহর একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য যে তাঁর নাম উমর, মাহমুদ নয়; এবং তিনি সাদরুশ শরীয়াহ আল-আকবারের পুত্র। এটিই কুহুস্তানি(৩), হাজি খলিফা(৪), লাখনভি(৫), ইসমাইল পাশা(৬), উমর কাহহালা(৭) এবং অন্যান্যরা গ্রহণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মুস্তফা ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুসতান্তিনি আর-রুমি আল-হানাফি, যিনি মোল্লা কাতিব আল-জালাবি নামে প্রসিদ্ধ এবং হাজি খলিফা নামে পরিচিত। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘তুহফাতুল কিবার ফি আসফারিল বিহার’, ‘তাকউইমুত তাওয়ারিখ’ এবং ‘মিযানুল উসুল ইলা তাবাকাতিল ফুহুল’ (১০১৭ - ১০৬৭ হিজরি)। দেখুন: ‘মাকালাতুল কাওসারি’ (পৃ. ৫৪২), ‘আল-আলাম’ (৮: ১৩৮ - ১৩৯), ‘মুজামুল মুআল্লিফিন’ (৩: ৮৭০ - ৮৭০)।

(২) ‘কাশফুয যুনুন’ থেকে (২: ২০৩৩)।

(৩) ‘জামি’উর রুমুয ফি শরহিন নিকায়াহ’ (১: ১০) গ্রন্থে। কুহুস্তানি হলেন মুহাম্মদ আল-خুরাসানি আল-কুহুস্তানি, শামসুদ্দিন, বুখারার মুফতি। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘জামি’উর রুমুয ফি শরহিন নিকায়াহ’ (মৃত্যু: আনুমানিক ৯৫৩ হিজরি)। দেখুন: ‘গাইসুল গামাম’ (পৃ. ৩০), ‘আল-কাশফ’ (২: ১৯৭২), ‘তাযকিরাতুর রাশিদ’ (পৃ. ৫৬)।

(৪) ‘আল-কাশফ’-এ (২: ২০৩৩)।

(৫) ‘আল-ফাওয়াইদ’ (পৃ. ১৮৮), ‘মুকাদ্দিমা উমদাতুর রিআয়াহ’ (১: ২০) এবং ‘দফউল গওয়ায়াহ’ (১: ৫) গ্রন্থে।

(৬) ‘হাদিয়াতুল আরিফিন’ (১: ৭৮৭, ২: ৪০৬) গ্রন্থে।

(৭) ‘মুজামুল মুআল্লিফিন’ (১: ৫৫২)।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌المبحث الثالث

نسب صاحب «الوقاية»

يتصل نسب صاحب «الوقاية» بعُبادة بن الصامت الصحابي الجليل رضي الله عنه، وممَّن ذكر نسبه القُرشي(1) والتميمي(2) والكفوي(3) والدِّمياطيّ(4)، ووقع بينهما اختلاف في أسماء بعض أجداده، فكان على صورتين:

الأولى: هو ابن صدر الشريعة الأكبر أحمد بن عبيد الله بن إبراهيم بن أحمد بن عبد الملك بن عمر بن عبد العزيز بن محمد بن جعفر بن مروان بن محمد بن أحمد بن محبوب بن الوليد بن عُبادة بن الصامت العُباديّ المَحْبُوبِي البُخَاريّ الحَنَفيّ. هكذا ذكرَه القُرشيّ والتميميّ، والكفوي أوصله إلى عبد العزيز بن محمد.

والثانية: هو ابن صدر الشريعة الأكبر أحمد بن جمال الدين أبي المكارم عبيد الله ابن إبراهيم بن أحمد بن عبد الملك بن عمير بن عبد العزيز بن محمّد بن جعفر بن خلف ابن هارون بن محمّد بن محمّد بن مَحْبُوب بن الوليد بن عُبادة بن الصامت الصحابيّ الأنصاريّ المَحْبوبيّ، قاله عبدُ المولى الدِّمياطيّ في «تعاليق الأنوار على الدرّ المختار»: هكذا رأيتُه في مسلسلات شيخنا السّيدُ مرتضى الحُسينيّ، قال شيخنا: كذا رأيتُ نسبه في «تاريخ بُخارا»(5).

فالعُبادي بضم العين نسبة إلى عُبادة بن الصامت رضي الله عنه.

والمَحْبُوبِيّ نسبة إلى مَحْبُوب أحد أجداده على ما مرّ.

--------------------------------------------

(1) في «الجواهر المضية» (1: 196، 2: 490). والقرشي هو محمد بن عبد القادر بن محمّد القرشي الحنفي، له: «الجواهر المضية في طبقات الحنفية»، و «البستان في مناقب إمامنا النعمان»، و «الدرر المنيفة في الردّ على ابن أبي شيبة عن الإمام أبي حنيفة»، (696 - 775 هـ). ينظر: «الجواهر» (1: 10 - 58). «الفوائد» (ص 168 - 169).

(2) في «الطبقات السنية» (1: 376). والتميمي هو تقي الدين بن عبد القادر التميمي الداري الغزي المصري الحنفي، من مؤلفاته: «الطبقات السنية في تراجم الحنفية»، و «السيف البرّاق في عنق الولد العاق»، و «مختصر يتيمة الدهر»، (ت 1005 هـ). ينظر: «الخلاصة» (1: 479 - 480). «الطبقات السنية» (1: 3 - 5).

(3) في «كتائب أعلام الأخيار» (ق 217/أ).

(4) وهو عبد المولى بن عبد الله بن عبد القادر الدِّمياطي المغربي الحنفي تلميذ الطحطاوي، من مؤلفاته: «تعاليق الأنوار على الدر المختار»، وصفها الإمام اللكنوي بأنها حاشية نفيسة، فرغ منها سنة (1238 هـ) ينظر: «التعليقات السنية» (ص 31). «مقدمة العمدة» (1: 18).

(5) هكذا في «الفوائد» (ص 185 - 186)، و «دفع الغواية» (1: 2)، و «مقدمة عمدة الرعاية» (1: 18).

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

'আল-উইকায়াহ'র লেখকের বংশপরিচয়

'আল-উইকায়াহ'র লেখকের বংশপরিচয় মহান সাহাবী উবাদাহ ইবন সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে মিলিত হয়েছে। যাঁরা তাঁর বংশপরিচয় উল্লেখ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল-কুরাশি(১), আত-তামিমি(২), আল-কাফাবি(৩) এবং আদ-দিময়াতি(৪)। তাঁদের বর্ণনায় তাঁর কিছু পূর্বপুরুষের নামের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, যা দুইভাবে বর্ণিত হয়েছে:

প্রথমটি: তিনি হলেন সদরুশ শারিয়াহ আল-আকবার আহমাদ ইবন উবাইদুল্লাহ ইবন ইবরাহিম ইবন আহমাদ ইবন আব্দুল মালিক ইবন উমর ইবন আব্দুল আজিজ ইবন মুহাম্মদ ইবন জাফর ইবন মারওয়ান ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমাদ ইবন মাহবুব ইবন আল-ওয়ালিদ ইবন উবাদাহ ইবন সামিত আল-উবাদি আল-মাহবুবি আল-বুখারি আল-হানাফি। আল-কুরাশি ও আত-তামিমি এভাবেই উল্লেখ করেছেন এবং আল-কাফাবি একে আব্দুল আজিজ ইবন মুহাম্মদ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।

দ্বিতীয়টি: তিনি হলেন সদরুশ শারিয়াহ আল-আকবার আহমাদ ইবন জামালুদ্দিন আবু আল-মাকারিম উবাইদুল্লাহ ইবন ইবরাহিম ইবন আহমাদ ইবন আব্দুল মালিক ইবন উমাইর ইবন আব্দুল আজিজ ইবন মুহাম্মদ ইবন জাফর ইবন খালাফ ইবন হারুন ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন মাহবুব ইবন আল-ওয়ালিদ ইবন উবাদাহ ইবন সামিত আল-আনসারি আল-মাহবুবি। আব্দুল মাওলা আদ-দিময়াতি 'তালিকুল আনওয়ার আলা আদ-দুররিল মুখতার'-এ বলেন: এভাবেই আমি আমাদের শায়খ সাইয়্যিদ মুরতাজা আল-হুসাইনি-এর মুসালসালাত-সমূহে দেখেছি। আমাদের শায়খ বলেছেন: আমি 'তারিখে বুখারা'-তেও তাঁর বংশপরিচয় এভাবেই দেখেছি(৫)।

'আল-উবাদি' (আইন অক্ষরে পেশসহ) হলো উবাদাহ ইবন সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে সম্পৃক্ততা।

এবং 'আল-মাহবুবি' হলো তাঁর পূর্বোল্লিখিত জনৈক পূর্বপুরুষ মাহবুব-এর দিকে সম্পৃক্ততা।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: 'আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ' (১: ১৯৬, ২: ৪৯০)। আল-কুরাশি হলেন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল কাদির ইবন মুহাম্মদ আল-কুরাশি আল-হানাফি। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি: 'আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ', 'আল-বুস্তান ফি মানাকিবি ইমামিনা নুমান', এবং 'আদ-দুরারুল মুনিফাহ ফির রাদ্দি আলা ইবনি আবি শায়বাহ আনিল ইমামি আবি হানিফাহ' (৬৯৬ - ৭৭৫ হিজরি)। দেখুন: 'আল-জাওয়াহির' (১: ১০ - ৫৮), 'আল-ফাওয়ায়েদ' (পৃ. ১৬৮ - ১৬৯)।

(২) দেখুন: 'আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ' (১: ৩৭৬)। আত-তামিমি হলেন তাকিউদ্দিন ইবন আব্দুল কাদির আত-তামিমি আদ-দারি আল-গাজ্জি আল-মিসরি আল-হানাফি। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: 'আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ ফি তারাজিমিল হানাফিয়্যাহ', 'আস-সাইফুল বাররাক ফি উনুকিল ওয়ালাদিল আক', এবং 'মুখতাসারু ইয়াতিমাতুদ দাহর' (মৃত্যু ১০০৫ হিজরি)। দেখুন: 'আল-খুলাসাহ' (১: ৪৭৯ - ৪৮০), 'আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ' (১: ৩ - ৫)।

(৩) দেখুন: 'কাতায়েবু আলামিল আখইয়ার' (পত্র ২১৭/ক)।

(৪) তিনি হলেন আব্দুল মাওলা ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল কাদির আদ-দিময়াতি আল-মাগরিবি আল-হানাফি, যিনি আত-তহতাবি-এর ছাত্র। তাঁর অন্যতম রচনা হলো 'তালিকুল আনওয়ার আলা আদ-দুররিল মুখতার'। ইমাম লাখনভি এটিকে একটি মূল্যবান টীকা হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ১২৩৮ হিজরিতে সমাপ্ত হয়েছে। দেখুন: 'আত-তালিকাতুস সানিয়্যাহ' (পৃ. ৩১), 'মুকাদ্দিমাতুল উমদাহ' (১: ১৮)।

(৫) 'আল-ফাওয়ায়েদ' (পৃ. ১৮৫ - ১৮৬), 'দাফউল গাওয়াওয়াহ' (১: ২) এবং 'মুকাদ্দিমাতু উমদাতিল রিয়াহ' (১: ১৮)-এ এভাবেই রয়েছে।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
‌‌المبحث الرابع

ما وقع من العلماء من الخلط في نسب صدر الشريعة

إذ تقرّر ما سبق من أنّ نسب صدر الشريعة هو: عبيد الله بن مسعود بن عمر تاج الشريعة بن أحمد صدر الشريعة الأكبر بن عبيد الله جمال الدين أبي المكارم بن إبراهيم بن أحمد … إلى أن يصل إلى عبادة بن الصامت رضي الله عنه فإنّه وقع اضطراب وخلط كبير بين المترجمين لصدر الشريعة:

منهم: قاسم بن قُطْلُوبُغا إذ قال: محمود بن عبيد الله بن محمود. انتهى(1). فجعل عبيد الله والداً لمحمود مع أنه جدُّه ووالده هو أحمد، وجعل والد عبيد الله محموداً مع أن والده اسمه إبراهيم.

ومنهم: طاشكبرى زاده(2) قال كما قال ابن قُطْلُوبُغا، ويبدو أنه اعتمدَ عليه، وجوابه كجوابه. وقال أيضاً: صدر الشريعة عبيد الله بن محمود بن محمد البرهاني. انتهى(3). وفيه أن محمود بن محمد والد لعبيد الله، والصحيح أن والده مسعود بن عمر، وفيه أيضاً: أنه نسبه للبرهاني، وهذه النسبة لم تعرف له، وإنما عرف بها علماء آخرون.

ومنهم: القُهُسْتانيّ إذ قال: عمر بن صدر الشريعة عبيد الله بن محمود بن محمد. انتهى(4). وفيه أن عبيد الله والد عمر، والصحيح أنه جدّه، وأيضاً: أن محمود بن محمد والد عبيد الله، والصواب أن والد عبيد الله هو إبراهيم بن أحمد. وقال أيضاً: محمود بن صدر الشريعة عبيد الله بن محمود بن محمد. انتهى(5). وفيه أن صدر الشريعة الأكبر هو عبيد الله وهو والد محمود، والصحيح أن صدر الشريعة الأكبر هو أحمد، وأن عبيد الله هو جد محمود، وأيضاً: محمود بن محمد والد عبيد الله، والصواب أن إبراهيم بن أحمد هو والد عبيد الله.

--------------------------------------------

(1) من «تاج التراجم» (ص 203).

(2) في «مفتاح السعادة» (2: 170).

(3) من «الشقائق النعمانية» (ص 64).

(4) من «جامع الرموز» (1: 9).

(5) من «جامع الرموز» (1: 10).

চতুর্থ আলোচনা

সদরুশ শরীয়াহর বংশপরিচয় নিয়ে আলেমদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ঘটেছে

যেহেতু পূর্বেই এটি স্থির হয়েছে যে, সদরুশ শরীয়াহর বংশপরিচয় হলো: উবায়দুল্লাহ বিন মাসউদ বিন উমর তাজুশ শরীয়াহ বিন আহমদ সদরুশ শরীয়াহ আল-আকবার বিন উবায়দুল্লাহ জামালুদ্দীন আবুল মাকারিম বিন ইব্রাহিম বিন আহমদ … যা উবাদাহ বিন সামিত (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাই সদরুশ শরীয়াহর জীবনীকারদের মধ্যে এই বংশপরিচয় নিয়ে বড় ধরনের গোলযোগ ও বিভ্রান্তি ঘটেছে:

তাদের মধ্যে রয়েছেন: কাসেম বিন কুতলুবুগা, যেহেতু তিনি বলেছেন: মাহমুদ বিন উবায়দুল্লাহ বিন মাহমুদ। এখানেই সমাপ্ত(১)। তিনি উবায়দুল্লাহকে মাহমুদের পিতা বানিয়েছেন, অথচ তিনি হলেন তাঁর দাদা এবং তাঁর পিতা হলেন আহমদ; আবার তিনি উবায়দুল্লাহর পিতাকে মাহমুদ বানিয়েছেন, অথচ তাঁর পিতার নাম হলো ইব্রাহিম।

তাদের মধ্যে রয়েছেন: তশ কুবরি জাদাহ(২), তিনি ইবনে কুতলুবুগার মতোই বলেছেন এবং মনে হয় তিনি তাঁর ওপরই নির্ভর করেছেন, আর তাঁর উত্তরও ইবনে কুতলুবুগার উত্তরের মতোই। তিনি আরও বলেছেন: সদরুশ শরীয়াহ উবায়দুল্লাহ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আল-বুরহানি। এখানেই সমাপ্ত(৩)। এতে মাহমুদ বিন মুহাম্মদকে উবায়দুল্লাহর পিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ সঠিক হলো তাঁর পিতা মাসউদ বিন উমর। এতে আরও রয়েছে যে, তিনি তাঁকে 'বুরহানি'র দিকে সম্বন্ধিত করেছেন, অথচ এই নিসবতটি (সম্বন্ধ) তাঁর ক্ষেত্রে পরিচিত নয়; বরং অন্য আলেমগণ এই নিসবতে পরিচিত ছিলেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন: আল-কুহুস্তানি, যেহেতু তিনি বলেছেন: উমর বিন সদরুশ শরীয়াহ উবায়দুল্লাহ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ। এখানেই সমাপ্ত(৪)। এতে উবায়দুল্লাহকে উমরের পিতা বলা হয়েছে, অথচ সঠিক হলো তিনি হলেন তাঁর দাদা। এছাড়াও এতে মাহমুদ বিন মুহাম্মদকে উবায়দুল্লাহর পিতা বলা হয়েছে, অথচ সঠিক হলো উবায়দুল্লাহর পিতা হলেন ইব্রাহিম বিন আহমদ। তিনি আরও বলেছেন: মাহমুদ বিন সদরুশ শরীয়াহ উবায়দুল্লাহ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ। এখানেই সমাপ্ত(৫)। এতে সদরুশ শরীয়াহ আল-আকবার হলেন উবায়দুল্লাহ এবং তিনি মাহমুদের পিতা—এমন বলা হয়েছে, অথচ সঠিক হলো সদরুশ শরীয়াহ আল-আকবার হলেন আহমদ এবং উবায়দুল্লাহ হলেন মাহমুদের দাদা। আর মাহমুদ বিন মুহাম্মদকে উবায়দুল্লাহর পিতা বলা হয়েছে, অথচ সঠিক হলো ইব্রাহিম বিন আহমদ হলেন উবায়দুল্লাহর পিতা।

--------------------------------------------

(১) «তাজুত তারাজিম» (পৃ. ২০৩) থেকে।

(২) «মিফতাহুস সা'আদাহ» (২: ১৭০) এ।

(৩) «আশ-শাকাইকুন নু'মানিয়্যাহ» (পৃ. ৬৪) থেকে।

(৪) «জামিউর রুমুজ» (১: ৯) থেকে।

(৫) «জামিউর রুমুজ» (১: ১০) থেকে।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
ومنهم: ابن الحنائي: إذ قال: جمال الدين المحبوبي عبد الله بن إبراهيم. انتهى(1). والصواب أنه عبيد الله لا عبد الله.

ومنهم: القاري(2) إذ قال في حرف العين: عبيد الله بن مسعود تاج الشريعة. انتهى(3). وفيه أن مسعوداً هو تاج الشريعة والصحيح ان تاج الشريعة هو والد مسعود. وقال في حرف الميم: مسعود بن أحمد بن برهان الدين، صدر الشريعة. انتهى(4). وفيه أن صدر الشريعة مسعود، والصواب أن صدر الشريعة عبيد الله بن مسعود، وأيضاً: أن أحمد بن برهان الدين والد مسعود، والصحيح هو عمر بن أحمد هو والد مسعود.

ومنهم: اللكنوي إذ قال: عبيد الله بن أحمد بن عبد الملك. انتهى(5). وفيه أن أحمد والد عبيد الله، والصواب أن والد عبيد الله هو إبراهيم.

ومنهم: الزَّركليّ إذ قال: صدر الشريعة الأصغر ابن صدر الشريعة الأكبر. انتهى(6). وخطؤه بيِّنٌ فصدر الشريعة الأصغر هو ابن مسعود بن عمر تاج الشريعة بن أحمد صدر الشريعة الأكبر.

 

‌‌المبحث الخامس

أسرته العلمية وطلبه للعلم وشيوخه ومن تفقَّه عليهم

نشأ صدر الشريعة في أسرة عريقة النسب على ما مرَّ، ولها مكانتها العلمية المرموقة كما سيأتي بعد قليل عند ترجمة أجداده، ووجد عنايةً كبيرةً منهم ولا سيما من جدِّه مؤلِّف «الوقاية»، إذ ألَّفها من أجلِه لكي يحفظها كما صرَّح في ديباجتِها، وذلك بعد أن أتمَّ دراسة بعض العلوم الأخرى فقال: إنَّ الولدَ الأعزَّ عبيدَ الله صرف الله أيامه

--------------------------------------------

(1) من «طبقات ابن الحنائي» (ق 25/أ).

(2) وهو علي بن سلطان محمد الهَرَوي القَارِيّ الحَنَفي، أبو الحسن، نور الدين، له: «فتح باب العناية بشرح النقاية»، و «مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح»، و «الأثمار الجنية في طبقات الحَنَفِيَّة»، و «شرح مسند الإمام»، (930 - 1014 هـ). ينظر: «الكواكب السائرة» (1: 445 - 446). «طرب الأماثل» (ص 515 - 517). «الإمام علي القاري» (ص 44).

(3) من «الأثمار الجنية في طبقات الحنفية» (ق 36/أ).

(4) من «الأثمار الجنية» (ق 50/ب).

(5) من «النافع الكبير» (ص 51).

(6) من «الأعلام» (4: 354).

তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনুল হানাই। তিনি বলেছেন: জামালুদ্দীন আল-মাহবুবি আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম। সমাপ্ত(১)। সঠিক হলো তিনি উবাইদুল্লাহ, আব্দুল্লাহ নন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন: কারী(২)। তিনি 'আইন' (ع) বর্ণে বলেছেন: উবাইদুল্লাহ বিন মাসউদ তাজুশ শারিয়াহ। সমাপ্ত(৩)। এতে উল্লেখ রয়েছে যে মাসউদ হলেন তাজুশ শারিয়াহ, অথচ সঠিক হলো তাজুশ শারিয়াহ হলেন মাসউদের পিতা। তিনি 'মিম' (م) বর্ণে বলেছেন: মাসউদ বিন আহমাদ বিন বুরহানুদ্দীন, সদরুশ শারিয়াহ। সমাপ্ত(৪)। এতে উল্লেখ রয়েছে যে সদরুশ শারিয়াহ হলেন মাসউদ, অথচ সঠিক হলো সদরুশ শারিয়াহ হলেন উবাইদুল্লাহ বিন মাসউদ। আরও রয়েছে যে, আহমাদ বিন বুরহানুদ্দীন হলেন মাসউদের পিতা, অথচ সঠিক হলো উমর বিন আহমাদ হলেন মাসউদের পিতা।

তাদের মধ্যে রয়েছেন: লাখনভি। তিনি বলেছেন: উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আব্দুল মালিক। সমাপ্ত(৫)। এতে উল্লেখ রয়েছে যে আহমাদ হলেন উবাইদুল্লাহর পিতা, অথচ সঠিক হলো উবাইদুল্লাহর পিতা হলেন ইব্রাহিম।

তাদের মধ্যে রয়েছেন: যিরিকলি। তিনি বলেছেন: সদরুশ শারিয়াহ আল-আসগার (কনিষ্ঠ) হলেন সদরুশ শারিয়াহ আল-আকবার (জ্যেষ্ঠ)-এর পুত্র। সমাপ্ত(৬)। তার ভুলটি স্পষ্ট; কারণ সদরুশ শারিয়াহ আল-আসগার হলেন মাসউদ বিন উমর তাজুশ শারিয়াহ বিন আহমাদ সদরুশ শারিয়াহ আল-আকবারের পৌত্র।

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ

তার ইলমি পরিবার, জ্ঞান অন্বেষণ, তার শায়খগণ এবং যাদের নিকট তিনি ফিকহ অর্জন করেছেন

সদরুশ শারিয়াহ পূর্বোল্লিখিত একটি উচ্চবংশীয় পরিবারে বেড়ে ওঠেন। শীঘ্রই তার পূর্বপুরুষদের জীবনী আলোচনায় আসবে, তাদের ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইলমি অবস্থান। তিনি তাদের কাছ থেকে বড় ধরনের যত্ন লাভ করেছিলেন, বিশেষ করে তার দাদা 'আল-উইকায়াহ'-এর লেখকের কাছ থেকে। তিনি এটি তার জন্যই রচনা করেছিলেন যাতে তিনি তা মুখস্থ করতে পারেন, যেমনটি তিনি এর মুখবন্ধে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এটি তিনি করেছিলেন অন্যান্য কিছু বিজ্ঞানের অধ্যয়ন সম্পন্ন করার পর। তিনি বলেছিলেন: "সবচেয়ে প্রিয় সন্তান উবাইদুল্লাহ—আল্লাহ তার দিনগুলোকে কল্যাণময় করুন..."

--------------------------------------------

(১) ইবনুল হানাই-এর 'তাবাকাত' থেকে (পৃ. ২৫/ক)।

(২) তিনি হলেন আলী বিন সুলতান মুহাম্মদ আল-হারাওয়ী আল-কারী আল-হানাফী, আবুল হাসান, নূরুদ্দীন। তার রচনাবলি: 'ফাতহু বাবিল ইনাইয়াহ বি-শারহিন নকায়াহ', 'মিরকাতুল মাফাতিহ শারহু মিশকাতিল মাসাবিহ', 'আল-আসমারুল জানিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ' এবং 'শারহু মুসনাদিল ইমাম' (৯৩০ - ১০১৪ হি.)। দেখুন: 'আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়ারাহ' (১: ৪৪৫-৪৪৬)। 'তারাবুল আমাসিল' (পৃ. ৫১৫-৫১৭)। 'আল-ইমাম আলী আল-কারী' (পৃ. ৪৪)।

(৩) 'আল-আসমারুল জানিয়্যাহ ফি তাবাকাতিল হানাফিয়্যাহ' থেকে (পৃ. ৩৬/ক)।

(৪) 'আল-আসমারুল জানিয়্যাহ' থেকে (পৃ. ৫০/খ)।

(৫) 'আন-নাফে আল-কাবীর' থেকে (পৃ. ৫১)।

(৬) 'আল-আলাম' থেকে (৪: ৩৫৪)।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
بما يحبُّه ويرضاهُ لما فرغَ من حفظ الكتب الأدبيَّة، وتحقيق لطائف الفضل، ونكت العربية، أحببت أن يحفظ في علم الأحكام كتاباً رائعاً، ولعيون مسائل الفقه راعياً، مقبول الترتيب والنظام، مستحسناً عند الخواص والعوامّ، وما ألفيت في المختصرات ما هذا شأنه، فألفتُ في رواية كتاب «الهداية» ـ وهو كتاب فاخر، وبحر مواج زاخر، كتاب جليل القدر عظيم الشأن، زاهر الخطر، باهر البرهان، قد تمَّت حسناته، وعمَّت بركاته، وبهرت آياته ـ مختصراً جامعاً لجميع مسائله، خالياً عن دلائله، حاوياً لما هو أصح الأقاويل والاختيارات، وزوائد فوائد الفتاوى والواقعات، وما يحتاج إليه من نظم الخلافيات، موجزاً ألفاظه نهاية الإيجاز، ظاهراً في ضبط معانيه، مخايلُ السحر ودلائل الاعجاز، موسوماً بـ «وقاية الرواية بمسائل الهداية»، والله المسؤول أن ينفع حافظيه والراغبين فيه عامةً، والولد الأعزَّ عبيد الله خاصة. انتهى.
...যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। যখন (আমার পুত্র) সাহিত্যবিষয়ক গ্রন্থসমূহ মুখস্থ করা এবং ফযীলতের নিগূঢ় তত্ত্ব ও আরবী ব্যাকরণের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহের গবেষণালব্ধ জ্ঞান অর্জন থেকে অবসর হলেন, তখন আমি পছন্দ করলাম যে, তিনি আহকাম বা বিধিবিধানের জ্ঞানে এমন একটি চমৎকার কিতাব মুখস্থ করবেন যা ফিকহ শাস্ত্রের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালাসমূহের সংরক্ষক হবে, যার বিন্যাস ও শৃঙ্খলা হবে সর্বজনগ্রাহ্য এবং যা বিশিষ্ট ও সাধারণ সবার নিকট সমাদৃত হবে। আমি সংক্ষিপ্ত কিতাবসমূহের মধ্যে এই গুণের অধিকারী কোনো কিতাব পেলাম না। তাই আমি 'হিদায়া' কিতাবের বর্ণনার আলোকে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ সংকলন করলাম—আর এটি (হিদায়া) হলো একটি অত্যুজ্জ্বল কিতাব, একটি উত্তাল ও পরিপূর্ণ সমুদ্র, এক মহান ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন গ্রন্থ, যার সম্মান দীপ্যমান এবং দলীলসমূহ সুষ্পষ্ট, যার কল্যাণসমূহ পূর্ণতা লাভ করেছে, বরকতসমূহ সর্বব্যাপী হয়েছে এবং যার নিদর্শনাবলী মানুষকে অভিভূত করেছে—যা এর (হিদায়ার) সকল মাসয়ালাকে শামিল করে কিন্তু দলীল-প্রমাণ থেকে মুক্ত, যা সর্বাধিক বিশুদ্ধ উক্তি ও মতসমূহ এবং ফাতাওয়া ও ওয়াকিআত (ঘটনাপ্রবাহ) থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত ফায়দাহসমূহকে ধারণ করে এবং মতভেদপূর্ণ মাসয়ালাসমূহের মধ্যে যা কিছু প্রয়োজন তাও এতে বিদ্যমান। এর শব্দাবলী চূড়ান্ত পর্যায়ের সংক্ষিপ্ত, এর অর্থসমূহ সুসংহত করার ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট এবং এতে যাদুর প্রভাব ও অলৌকিকত্বের নিদর্শনাবলী প্রকাশমান। গ্রন্থটির নামকরণ করা হয়েছে ‘উইকায়াতুর রিওয়ায়াহ বি মাসাইলিল হিদায়া’। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর দ্বারা এর মুখস্থকারী ও আগ্রহীদের সকলকে সাধারণভাবে এবং বিশেষ করে অতি প্রিয় পুত্র উবায়দুল্লাহকে উপকৃত করেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
وقال صدر الشريعة في ديباجة «شرح الوقاية»: «وقاية الرِّوايةِ في مسائلِ الهداية» … ألَّفها جَدِّي وأستاذي مولانا الأعظم، أستاذُ علماءِ العالَم، برهانُ الشَّريعةِ والحقِّ والدِّين، محمودُ بنُ صدرِ الشَّريعة، جزاهُ اللهُ عنِّي وعن جميعِ المسلمينَ خيرَ الجزاء؛ لأجلِ حفظي، والمولى المؤلِّفُ لمَّا ألَّفها سَبَقاً سَبَقاً، وكنتُ أجري في ميدانِ حفظِهِ طَلَقَاً طَلَقَاً، حتى اتَّفقَ اتمامُ تأليفِهِ مع اتمامِ حفظي. انتهى.

ومثله قال في ديباجة «مختصر الوقاية» المسمَّاة بـ «النقاية»(1).

ولم يكتف صدر الشريعة على حفظه «الوقاية» فحسب، بل كان ذا اهتمام كبير بتعلّم دقائق العلم، والوقوف على نكاته ولا سيما من جدِّه حتى قال الكفوي(2) عنه: كان ذا عناية بتقييد نفائس جدِّه وجمع فوائده. انتهى. ولاحظت ذلك منه بوضوح في شرحه على «الوقاية» إذ في بعض المسائل يعلِّق، مرجعاً ذلك إلى جدِّه، كما سيأتي في موضعه.

قال الكفوي(3) عن نشأته: نشأ في حجر الفضل ونال العلى، وحمل على أكتاف فحول الفقهاء وأسود العلماء، كفلَ به وربَّاه جدُّه، وعلَّمه في صباه، سعد جدّه وأنجح جده حتى حاز قصب السبق في الفروع والأصول، وكان فارس ميدانه في المعقول والمنقول، أخذ العلم عن جدِّه الإمام الفاضل. انتهى.

ومن أجداده الذين يفخر بهم علماء المذهب الحنفي، وقد ترجموا لهم وجعلوهم في طبقات فقهائهم؛ لِمَا كانوا عليهم من الاعتماد في الفروع والأصول:

الأول

جدُّه الفاسد، مؤلِّف «الوقاية»، ومن تعلَّم ودرَّس عليه: محمود بن أحمد بن عبيد الله

ابن إبراهيم المَحْبُوبيّ البُخَارِيّ الحنفي، برهانُ الشَّريعة(4).

قال الكفوي(5): عالمٌ فاضل، نحريرٌ كامل، بحرٌ زاخر، حبرٌ فاخر، بارع متورع، محقّق مدّقق، صاحب التصانيف الجليلة.

من مؤلفاته: «وقاية الرواية في مسائل الهداية» وسيأتي تفصيل الكلام فيها في فصل الدراسة الخاصّ بها وبشرحها، و «الواقعات»، و «الفتاوى».

وقد أخطأ الكفوي في نسبة «شرح الهداية» له؛ لأنه لأخيه تاج الشريعة عمر، وغلط ابن الحنائيّ(6) في نسبة «معراج الدراية شرح الهداية» له، فإنه للكاكي(7).

ذكر عمر كحالة(8) أنه توفِّي سنة (673 هـ)، وقال إسماعيل باشا(9) توفّي في حدود سنة (673 هـ)(10).

وقال عبد الباقي الخطيب في «المدينة المنورة»: مات في كِرمان، ودفن فيها(11).

--------------------------------------------

(1) النقاية» (ص 3).

(2) في «كتائب أعلام الأخيار» (ق 287/أ).

(3) في «كتائب أعلام الأخيار» (ق 287/أ).

(4) ترجمته في: «طبقات ابن الحنائي» (ق 25/أ). «كتائب أعلام الأخيار» (ق 265/أ-ب). «الكشف» (2: 2020). «الفوائد» (ص 338 - 339)، «مقدمة عمدة الرعاية» (1: 18 - 20). «دفع الغواية» (1: 2 - 6). «هدية العارفين» (2: 406). «معجم المؤلفين» (3: 818). «معجم المطبوعات العربية والمعربة» لإلياس سركيس (1: 1199 - 1200).

(5) في «كتائب أعلام الأخيار» (ق 265/أ).

(6) في «طبقات الحنفية» (ق 25/أ).

(7) وهو محمد بن محمد بن أحمد السنجاري، المعروف بالبُخَارِيّ الكاكي، قوام الدين، ومن مؤلفاته: «عيون المذهب» قال اللكنوي: وهو مختصر نافع، (ت 749 هـ). ينظر: «الجواهر» (4: 294 - 295). «الفوائد» (ص 306). «الكشف» (2: 2033).

(8) في «معجم المؤلفين» (3: 818).

(9) في «هدية العارفين» (2: 406).

(10) وعليه فإن ما وقع من شيخنا وهبي سليمان غاوجي حفظه الله في «التعليق الميسر على الملتقى» (1: 9): في أن وفاته سنة (781 هـ) زلة قلم. والله أعلم.

(11) كما في «الفوائد» (ص 185). «مقدمة عمدة الرعاية» (1: 18 - 19). و «دفع الغواية» (1: 3).

এবং সদরুশ শরীআহ 'শারহুল বিকায়াহ'-এর ভূমিকায় বলেছেন: "'বিকায়াতুর রিওয়ায়াহ ফী মাসাইলিল হিদায়াহ' ... এটি রচনা করেছেন আমার দাদা ও আমার শিক্ষক, আমাদের মহান অভিভাবক, বিশ্বের আলেমদের শিক্ষক, শরীয়াহ, সত্য ও দ্বীনের প্রমাণ, মাহমুদ ইবনে সদরুশ শরীআহ; আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে এবং সমস্ত মুসলমানের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন; আমার মুখস্থ (হিফজ) করার সুবিধার্থে। আর যখন সম্মানিত লেখক এটি একের পর এক পাঠ হিসেবে রচনা করছিলেন, আমিও তাঁর মুখস্থ করার ময়দানে দ্রুত গতিতে দৌড়াচ্ছিলাম, এমনকি তাঁর রচনার সমাপ্তি এবং আমার মুখস্থ করার সমাপ্তি একই সাথে মিলে গেল।" সমাপ্ত।

এবং অনুরূপ কথা তিনি 'মুখতাসারুল বিকায়াহ'-এর ভূমিকায় বলেছেন, যা 'নুকায়াহ' নামে পরিচিত(১)।

সদরুশ শরীআহ কেবল 'বিকায়াহ' মুখস্থ করার ওপরই ক্ষান্ত হননি, বরং ইলমের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো শিক্ষা করা এবং এর রহস্যগুলো উদ্ঘাটন করার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল, বিশেষ করে তাঁর দাদার কাছ থেকে। এমনকি কাফবী(২) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি তাঁর দাদার মূল্যবান আলোচনাগুলো লিপিবদ্ধ করতে এবং তাঁর ফায়দাগুলো সংগ্রহ করতে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন।" সমাপ্ত। আর তাঁর এই বৈশিষ্ট্যটি 'বিকায়াহ'-এর ওপর লেখা তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শারহ) আমার কাছে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে, কেননা কিছু মাসআলায় তিনি টীকা প্রদান করেন এবং এর সূত্র তাঁর দাদার দিকে ফিরিয়ে দেন, যেমনটি যথাস্থানে আসবে।

কাফবী(৩) তাঁর বেড়ে ওঠা সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি শ্রেষ্ঠত্বের কোলে বেড়ে উঠেছেন এবং উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছেন। তিনি বিজ্ঞ ফকীহ ও শ্রেষ্ঠ আলেমদের সান্নিধ্যে লালিত-পালিত হয়েছেন। তাঁর দাদা তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেন ও তাঁকে লালন-পালন করেন এবং শৈশবে তাঁকে শিক্ষা দান করেন। তাঁর দাদার সৌভাগ্য ও তাঁর দাদার প্রচেষ্টায় তিনি সফল হন, এমনকি তিনি ফুরু (শাখা জ্ঞান) ও উসুল (মূলনীতি জ্ঞান) শাস্ত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। তিনি মা’কুল (যুক্তিভিত্তিক জ্ঞান) ও মানকুল (নকলকৃত জ্ঞান) এর ময়দানে একজন দক্ষ অশ্বারোহী ছিলেন। তিনি ইমাম ফাযিলের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেন।" সমাপ্ত।

তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে যাঁদের নিয়ে হানাফী মাযহাবের ওলামায়ে কেরাম গর্ব করেন এবং যাঁদের জীবনী তাঁরা সংকলন করেছেন এবং ফকীহদের স্তরে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; কারণ ফুরু ও উসুল শাস্ত্রে তাঁদের ওপরই নির্ভর করা হতো:

প্রথম

তাঁর দাদা, 'বিকায়াহ' প্রণেতা এবং যাঁর কাছে তিনি শিক্ষা লাভ করেছেন ও পাঠ গ্রহণ করেছেন: মাহমুদ ইবনে আহমদ ইবনে উবাইদুল্লাহ

ইবনে ইব্রাহিম আল-মাহবুবি আল-বুখারি আল-হানাফি, বুরহানুশ শরীয়াহ(৪)।

কাফবী(৫) বলেছেন: "তিনি একজন শ্রেষ্ঠ আলেম, পরিপূর্ণ বিজ্ঞ, এক উত্তাল সমুদ্র, এক গৌরবান্বিত মহাজ্ঞানী, পারদর্শী ও পরহেযগার, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক এবং মহান গ্রন্থসমূহের রচয়িতা।"

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: 'বিকায়াতুর রিওয়ায়াহ ফী মাসাইলিল হিদায়াহ', যা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) সম্পর্কে বিশেষ পরিচ্ছেদে আসবে; এবং 'আল-ওয়াকিআত' ও 'আল-ফাতাওয়া'।

আর কাফবী 'শারহুল হিদায়াহ'-কে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করতে ভুল করেছেন; কারণ এটি তাঁর ভাই তাজুল শরীয়াহ উমরের রচনা। ইবনুল হান্নায়ীও(৬) 'মিরাজুদ দিরায়াহ শারহুল হিদায়াহ'-কে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করতে ভুল করেছেন, কারণ এটি কাকীর(৭) রচনা।

উমর কাহহালাহ(৮) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৬৭৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং ইসমাইল পাশা(৯) বলেছেন যে, তিনি আনুমানিক ৬৭৩ হিজরির দিকে ইন্তেকাল করেন(১০)।

এবং আব্দুল বাকী আল-খতিব 'আল-মদিনাতুল মুনাওয়ারা' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি কিরমানে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়(১১)।

--------------------------------------------

(১) 'আন-নুকায়াহ' (পৃষ্ঠা ৩)।

(২) 'কাতায়িবু আলামিল আখইয়ার' (পত্র ২৮৭/আ)।

(৩) 'কাতায়িবu আলামিল আখইয়ার' (পত্র ২৮৭/আ)।

(৪) তাঁর জীবনী দেখুন: 'তাবাকাতু ইবনিল হান্নায়ী' (পত্র ২৫/আ)। 'কাতায়িবু আলামিল আখইয়ার' (পত্র ২৬৫/আ-ব)। 'আল-কাশফ' (২: ২০২০)। 'আল-ফাওয়াইদ' (পৃষ্ঠা ৩৩৮ - ৩৩৯), 'মুকাদ্দিমা উমদাতুর রিআয়াহ' (১: ১৮ - ২০)। 'দাফুল গাওয়ায়াহ' (১: ২ - ৬)। 'হাদিয়্যাতুল আরিফিন' (২: ৪০৬)। 'মুজামুল মুয়াল্লিফিন' (৩: ৮১৮)। 'মুজামুল মাতবুয়াত আল-আরাবিয়্যাহ ওয়াল মুআররাবাহ' - ইলিয়াস সারকিস (১: ১১৯৯ - ১২০০)।

(৫) 'কাতায়িবু আলামিল আখইয়ার' (পত্র ২৬৫/আ)।

(৬) 'তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ' (পত্র ২৫/আ)।

(৭) তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সিনজারি, যিনি আল-বুখারি আল-কাকী নামে পরিচিত, কিওয়ামুদ্দিন; তাঁর অন্যতম রচনা হলো: 'উয়ুনুল মাজহাব'। লাখনবী বলেন: এটি একটি উপকারী সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ, (ওফাত ৭৪৯ হিজরি)। দেখুন: 'আল-জাওয়াহির' (৪: ২৯৪ - ২৯৫)। 'আল-ফাওয়াইদ' (পৃষ্ঠা ৩০৬)। 'আল-কাশফ' (২: ২০৩৩)।

(৮) 'মুজামুল মুয়াল্লিফিন' (৩: ৮১৮)।

(৯) 'হাদিয়্যাতুল আরিফিন' (২: ৪০৬)।

(১০) সুতরাং আমাদের শায়খ ওয়াহবি সুলাইমান গাওয়াজি (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) 'আত-তালিকুল মুয়াসসার আলাল মুলতাকা' (১: ৯) গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন যে তাঁর মৃত্যু সন ৭৮১ হিজরি, তা কলমের ভুল। আল্লাহই ভালো জানেন।

(১১) যেমনটি রয়েছে 'আল-ফাওয়াইদ' (পৃষ্ঠা ১৮৫), 'মুকাদ্দিমা উমদাতুর রিআয়াহ' (১: ১৮ - ১৯) এবং 'দাফুল গাওয়ায়াহ' (১: ৩) গ্রন্থে।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
الثاني

جدُّه الصحيح، شارح «الهداية»: عمر بن أحمد بن عبيد الله المحبوبي الحنفي، تاج الشريعة، جد صدر الشريعة الأصغر الصحيح(1).

أخذ العلم عن أبيه صدر الشريعة الأكبر أحمد.

قال طاشكبرى زاده(2): عالم فاضل حبر كامل.

من مؤلفاته: «نهاية الكفاية في دراية الهداية»: أوله: نصر من الله وفتح قريب هو المحمود جلّ شأنه … الخ.

ونسب إليه إسماعيل باشا(3): «مآثر الإقبال في مفاخر الشال» في التاريخ، فارسي من البعثة إلى خلافة علي رضي الله عنه.

وقد غلط الشُّرُنْبُلالِيّ(4) في بعض رسائله بنسبة «الكفاية شرح الهداية» له فإنها لجلال الدين الكرلاني.

وذكر حاجي خليفة(5) أنه توفِّي سنة (672 هـ) وتبعه على ذلك عمر كحالة(6)، مع أن حاجي خليفة ذكر بعدها بسطرين نقلاً عن تاج الشريعة كما مر سابقاً أنه أتمَّ كتاب الإيمان من شرحه للـ «هداية» سنة (673 هـ)، فيعلم أن وفاته كانت بعد ذلك، والله أعلم. وذكر إسماعيل باشا(7) أنه وفاته سنة (673 هـ).

وقال عبد الباقي الخطيب في «المدينة المنورة»: مات في كِرمان، ودفن فيها(8).

الثالث

والد جدِّه الصحيح والفاسد، وهو الذي أخذوا العلم عنه: أحمد بن عبيد الله

--------------------------------------------

(1) ترجمته في: «مفتاح السعادة» (2: 240 - 341). «الكشف» (2: 2033). «مقدمة عمدة الرعاية» (1: 18 - 20). «دفع الغواية» (1: 2 - 6). «هدية العارفين» (1: 787). «معجم المؤلفين» (2: 552).

(2) في «مفتاح السعادة» (2: 241).

(3) في «هدية العارفين» (1: 787).

(4) كما نبه على ذلك اللكنوي في «الفوائد» (ص 100 - 101).

(5) في «الكشف» (2: 2033).

(6) في «معجم المؤلفين» (2: 552).

(7) في «هدية العارفين» (1: 787).

(8) كما في «الفوائد» (ص 185). «مقدمة عمدة الرعاية» (1: 18 - 19). و «دفع الغواية) (1: 3).

দ্বিতীয়

তাঁর সহীহ দাদা, 'আল-হিদায়া'র ব্যাখ্যাকার: উমর বিন আহমাদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-মাহবুবি আল-হানাফি, তাজ শারিআহ, সাদরুশ শারিআহ আল-আসগার-এর আপন সহীহ দাদা(১)।

তিনি ইলম অর্জন করেছেন তাঁর পিতা সাদরুশ শারিআহ আল-আকবার আহমাদ থেকে।

তাশ কুবরি জাদাহ(২) বলেন: তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলিম ও পূর্ণাঙ্গ পণ্ডিত।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: 'নিহায়াতুল কিফায়া ফি দিরায়াতিল হিদায়া': এর শুরুতে রয়েছে: আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও নিকটবর্তী বিজয়, মহান আল্লাহ-ই প্রশংসিত... ইত্যাদি।

ইসমাইল পাশা(৩) তাঁর প্রতি সম্বন্ধ করেছেন: ইতিহাসের উপর রচিত 'মাআসিরুল ইকবাল ফি মাফাখিরিশ শাল', যা নবুওয়াত থেকে শুরু করে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফত পর্যন্ত ফারসি ভাষায় রচিত।

আর শুরুনবুলালি(৪) তাঁর কিছু রিসালায় 'আল-কিফায়া শারহুল হিদায়া' কিতাবটিকে তাঁর দিকে নিসবত করে ভুল করেছেন, কারণ এটি জালালুদ্দিন আল-কারলানি-র রচনা।

হাজি খলিফা(৫) উল্লেখ করেছেন যে তিনি ৬৭২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং উমর কাহহালাহ(৬) এ ক্ষেত্রে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। অথচ হাজি খলিফা এর দুই লাইন পরেই তাজ শারিআহ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—যে তিনি ৬৭৩ হিজরি সনে 'হিদায়া'র ব্যাখ্যাগ্রন্থের 'কিতাবুল ইমান' সম্পন্ন করেছেন। সুতরাং জানা গেল যে তাঁর মৃত্যু এর পরেই হয়েছে, আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ। ইসমাইল পাশা(৭) উল্লেখ করেছেন যে তাঁর ইন্তেকাল ৬৭৩ হিজরি সনে।

আব্দুল বাকি আল-খতিব 'আল-মদিনাতুল মুনাওয়ারা' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি কিরমানে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে(৮)।

তৃতীয়

তাঁর সহীহ ও ফাসিদ দাদার পিতা, এবং যাঁর কাছ থেকে তাঁরা ইলম অর্জন করেছেন: আহমাদ বিন উবাইদুল্লাহ

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী রয়েছে: 'মিফতাহুস সাআদাহ' (২: ২৪০-৩৪১), 'আল-কাশফ' (২: ২০৩৩), 'উমদাতুর রিআয়াহ'-এর ভূমিকা (১: ১৮-২০), 'দাফউল গাওয়াওয়াহ' (১: ২-৬), 'হাদিয়াতুল আরিফিন' (১: ৭৮৭), 'মুজামুল মুআল্লিফিন' (২: ৫৫২)।

(২) 'মিফতাহুস সাআদাহ' গ্রন্থে (২: ২৪১)।

(৩) 'হাদিয়াতুল আরিফিন' গ্রন্থে (১: ৭৮৭)।

(৪) যেমনটি লাখনবি 'আল-ফাওয়াইদ' গ্রন্থে (পৃ. ১০০-১০১) সতর্ক করেছেন।

(৫) 'আল-কাশফ' গ্রন্থে (২: ২০৩৩)।

(৬) 'মুজামুল মুআল্লিফিন' গ্রন্থে (২: ৫৫২)।

(৭) 'হাদিয়াতুল আরিফিন' গ্রন্থে (১: ৭৮৭)।

(৮) যেমনটি 'আল-ফাওয়াইদ' (পৃ. ১৮৫), 'উমদাতুর রিআয়াহ'-এর ভূমিকা (১: ১৮-১৯) এবং 'দাফউল গাওয়াওয়াহ' (১: ৩) গ্রন্থে রয়েছে।

(খণ্ড: ١) শারহুল বিকায়াহ - তাহকীক আবুল হাজ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
ابن إبراهيم العُبادي المَحْبُوبيّ البُخاريّ، شمس الدين، صدر الشريعة الأكبر، أو الأوَّل(1).

قال عبد القادر القرشي(2) والتميمي(3): الإمام ابن الإمام الكبير.

قال الكفوي(4): كان من كبار العلماء، بلغ عند أبيه في الفقاهة مبلغاً عظيماً، وله قدرة كاملة في الأصول والفروع.

تفقَّه على: أبيه الإمام الكبير عبيد الله بن إبراهيم.

وتفقه عليه: ابنه محمود بن أحمد المَحْبُوبيّ.

من مؤلَّفاته: «تنقيح(5) العقول في فروق المنقول»(6).

توفِّي سنة (635 هـ)(7).

الرابع

والد والد جدِّه أبي أبيه وأبي أمه، وهو الذي إليه في العلم استنادهم: عبيد الله بن إبراهيم بن أحمد العُباديّ المَحْبُوبِي البُخَاريّ الحَنَفيّ، جمال الدين، المعروف بأبي حنيفة الثاني(8).

--------------------------------------------

(1) ترجمته في: «الجواهر المضية» (1: 196). «تاج التراجم» (ص 115). «كتائب أعلام الأخيار» (238/ب-239/أ). «الطبقات السنية» (1: 276). «الفوائد» (ص 48). «الكشف» (1: 481،2: 1258). «معجم المؤلفين» (1: 191).

(2) في «الجواهر المضية» (1: 196).

(3) في «الطبقات السنية» (1: 276)

(4) في «كتائب أعلام الأخيار» (ق 238/ب).

(5) وقع في «تاج التراجم» (ص 115)، و «الفوائد» (ص 48): تلقيح. وسمَّاه صاحب «معجم المؤلفين» (1: 191): «تلقيح العقود في الفروق بين أهل النقول».

(6) قال صاحب «الكشف» (2: 1258): «فروق الكرابيسي» المسمَّى بـ «تلقيح المحبوبي» ذكره صاحب «الأشباه» في أول الفروق.

(7) انفرد بذكر وفاته صاحب «معجم المؤلِّفين» (2: 191).

(8) ترجمته في: «العبر» (5: 120). «كتائب أعلام الأخيار» (ق 217/أ-218/ب). «النافع الكبير» (ص 51 - 52). «الفوائد» (ص 182 - 183). «الجواهر المضية» (2: 490). «طبقات ابن الحنائي» (ق 25/أ). «الأثمار الجنية» (ق 35/ب).

ইবনে ইবরাহিম আল-উবাদি আল-মাহবুবি আল-বুখারি, শামসুদ্দিন, সদরুশ শরিয়া আল-আকবার বা আল-আউয়াল(১)।

আবদুল কাদির আল-কুরাশি(২) এবং আত-তামিমি(৩) বলেছেন: তিনি ইমামের পুত্র মহান ইমাম।

আল-কাফাবি(৪) বলেছেন: তিনি বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর পিতার নিকট হতে মহান স্তরে পৌঁছেছিলেন এবং উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা) শাস্ত্রে তাঁর পূর্ণ পাণ্ডিত্য ছিল।

তিনি ফিকহ শিক্ষা করেছেন: তাঁর পিতা মহান ইমাম উবাইদুল্লাহ বিন ইবরাহিমের নিকট।

তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন: তাঁর পুত্র মাহমুদ বিন আহমদ আল-মাহবুবি।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: «তানকিহুল উকূল ফি ফুরুকিল মানকুল»(৬)।

তিনি (৬৩৫ হিজরি) সনে ইন্তেকাল করেন(৭)।

চতুর্থ

তাঁর প্রপিতামহের পিতা, অর্থাৎ তাঁর পিতার দাদা এবং তাঁর মাতার দাদা; ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁদের নির্ভরতা তাঁরই দিকে: উবাইদুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন আহমদ আল-উবাদি আল-মাহবুবি আল-বুখারি আল-হানাফি, জামালুদ্দিন, যিনি দ্বিতীয় আবু হানিফা নামে পরিচিত(৮)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী রয়েছে: «আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ» (১: ১৯৬)। «তাজুত তারাজিম» (পৃ. ১১৫)। «কাতাইব আলামিল আখইয়ার» (২৩৮/খ-২৩৯/ক)। «আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ» (১: ২৭৬)। «আল-ফাওয়াইদ» (পৃ. ৪৮)। «আল-কাশফ» (১: ৪৮১, ২: ১২৫৮)। «মুজামুল মুয়াল্লিফিন» (১: ১৯১)।

(২) «আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ» (১: ১৯৬) গ্রন্থে।

(৩) «আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ» (১: ২৭৬) গ্রন্থে।

(৪) «কাতাইব আলামিল আখইয়ার» (পত্র ২৩৮/খ) গ্রন্থে।

(৫) «তাজুত তারাজিম» (পৃ. ১১৫) এবং «আল-ফাওয়াইদ» (পৃ. ৪৮) গ্রন্থে ‘তালকিহ’ শব্দে এসেছে। আর «মুজামুল মুয়াল্লিফিন» (১: ১৯১) এর রচয়িতা একে «তালকিহুল উকূদ ফিল ফুরুক বাইনা আহলিন নুকূল» নামে নামকরণ করেছেন।

(৬) «আল-কাশফ» (২: ১২৫৮) এর রচয়িতা বলেছেন: «ফুরুকুল কারাবিসি» যা «তালকিহুল মাহবুবি» নামে পরিচিত, «আল-আশবাহ» এর রচয়িতা একে ফুরুক শাস্ত্রের শুরুতে উল্লেখ করেছেন।

(৭) কেবল «মুজামুল মুয়াল্লিফিন» (২: ১৯১) এর রচয়িতা তাঁর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছেন।

(৮) তাঁর জীবনী রয়েছে: «আল-ইবার» (৫: ১২০)। «কাতাইব আলামিল আখইয়ার» (পত্র ২১৭/ক-২১৮/খ)। «আন-নাফিউল কাবির» (পৃ. ৫১-৫২)। «আল-ফাওয়াইদ» (পৃ. ১৮২-১৮৩)। «আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ» (২: ৪৯০)। «তাবাকাতু ইবনিল হান্নাই» (পত্র ২৫/ক)। «আল-আসমারুল জানিইয়্যাহ» (পত্র ৩৫/খ)।